বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৬০ / ৭২ · ৫,৯০১৬,০০০ / ৭,১৯১

৫,৯০১.
নিম্নের কোনটি মেঘনা নদীর উপনদী নয়?
  1. মনু
  2. গোমতী
  3. আত্রাই
  4. বাউলাই
ব্যাখ্যা

মেঘনা (Meghna): 
- ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে। 
- এর মধ্যে একটি উত্তর সিলেট থেকে সুরমা নামে এবং অন্যটি দক্ষিণ সিলেট থেকে কুশিয়ারা নামে প্রবাহিত হয়ে হবিগঞ্জের কালনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। 
- পরে সুরমা, কুশিয়ারা এবং কালনী নদীর মিলিত স্রোত কালনী নামে কিছুদূর অগ্রসর হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে। 
- এরপর মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে। 
- অত:পর চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরো দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। 
- বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার। 
- মেঘনার উপনদীসমূহের মধ্যে মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম। 
- জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া মেঘনার শাখানদী।

​অন্যদিকে,
​- 'আত্রাই' যমুনা নদীর উপনদী।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯০২.
সোনাদিয়া দ্বীপ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নোয়াখালী
  2. ভোলা
  3. কক্সবাজার
  4. ফেনী
ব্যাখ্যা
সোনাদিয়া দ্বীপ:

- কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত।
- মহেশখালীর দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে সোনাদিয়ার অবস্থান।
- সোনাদিয়া দ্বীপটি মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত।
- দ্বীপটিকে সরকার প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রাখছে।
- এ দ্বীপকে যাযাবর পাখিদের জন্য ভূ-স্বর্গ বলা যায়।
- দ্বীপের পশ্চিম দিকে বালুকাময় সমুদ্র সৈকত রয়েছে যেখানে ঝিনুক ও মুক্তা পাওয়া যায়।
- শুষ্ক মৌসুমে এখানে প্রচুর মাছ শুকানো  হয়  যা দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা হয়।

তথ্যসূত্র - কক্সবাজার জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৫,৯০৩.
প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে কোন রেখাটি অবস্থান করে?
  1. ক) কর্কট ক্রান্তি রেখা
  2. খ) মকর ক্রান্তি রেখা
  3. গ) নিরক্ষরেখা
  4. ঘ) দ্রাঘিমা রেখা
ব্যাখ্যা
• প্রশান্ত মহাসাগর:
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোতের অনুরূপ।
- উপকূল রেখার অবস্থানের বিভিন্নতার কারণে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের স্রোতসমূহের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।
- প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে নিরক্ষরেখা অবস্থান করায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত সমূহকে আঞ্চলিক ভাবে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা: দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত এবং নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত।

অন্যদিকে,
- কর্কটক্রান্তি রেখা বা উত্তর বিষুব পৃথিবীর মানচিত্রে অঙ্কিত প্রধান পাঁচটি অক্ষাংশের একটি।
- এটি বিষুবরেখা হতে উত্তরে অবস্থিত এবং ২৩ ডিগ্রী ২৬ মিনিট ২২ সেকেন্ড অক্ষাংশ বরাবর কল্পিত একটি রেখা।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯০৪.
কোন বনাঞ্চলকে চিরহরিৎ বন বলা হয়?
  1. সুন্দরবন
  2. মধুপুর বনাঞ্চল
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল
  4. লালমাই বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা

পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলকে চিরহরিৎ বন বলা হয়।

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:

- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়। 
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি: 
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত। 
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। 
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯০৫.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়?
  1. ক) উপকূলীয় ভাঙ্গন
  2. খ) ভূমিধ্বস
  3. গ) মরুকরণ
  4. ঘ) মৃত্তিকাক্ষয়
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন হাত থাকে না।
যেমন - বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
 
প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহকে তিনটি বৃহৎ বিভাগভুক্ত করা যেতে পারে যেমন
- বায়ুমন্ডলীয় প্রক্রিয়াসৃষ্ট climatic বাযুমন্ডলীয় দুর্যোগসমূহ (ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, টর্নেডো, হারিকেন, খরা ইত্যাদি), 
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রক্রিয়া সৃষ্ট exogenetic দুর্যোগসমূহ (বন্যা, নদীতীর ভাঙন, উপকূলীয় ভাঙন, ভূমিধ্বস,  মৃত্তিকা ক্ষয় এবং প্রাকৃতিক ভূগর্ভস্থ পানি দূষণ), 
- এবং পৃথিবীপৃষ্ঠের অভ্যন্তরস্থ প্রক্রিয়াসৃষ্ট endogenetic ভূগর্ভস্থ দুর্যোগসমূহ (ভূমিকম্প এবং অগ্ন্যুৎপাত)

মানবসৃষ্ট দুর্যোগঃ
মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
যেমন - যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি৷

উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া।
৫,৯০৬.
উত্তর আমেরিকা মহাদেশ দ্বারা বেষ্টিত উপসাগর কোনটি?
  1. পারস্য উপসাগর
  2. ওমান উপসাগর
  3. এডেন উপসাগর
  4. মেক্সিকো উপসাগর
ব্যাখ্যা
মেক্সিকো উপসাগর (আমেরিকা উপসাগর): 
- উপসাগর হলো স্থলভাগে সমুদ্রের প্রবেশপথ।
- উপসাগরগুলি প্লেট টেকটোনিক্সের ফলে তৈরি হয় এবং সাধারণত উপসাগরের তুলনায় বৃহত্তর এবং গভীরভাবে ইন্ডেন্টেড হয়।
- প্রায়শই এগুলি সরু জলপথ দ্বারা সমুদ্রের সাথে সংযুক্ত থাকে তবে সমস্ত ভৌগোলিক অঞ্চলে এটি সর্বদা পরিলক্ষিত হয় না।
 ১,৫০৭,৬৩৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত মেক্সিকো উপসাগর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি প্রান্তিক সমুদ্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর (গালফ)।
- এটি মূলত উত্তর আমেরিকা মহাদেশ দ্বারা বেষ্টিত।

উল্লেখ্য,
- ২০২৫ সালের জানুয়ারীতে নির্বাহী আদেশ অনুসরণ করে, মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে "আমেরিকা উপসাগর" নামটি গ্রহণ করে যা পূর্বে মেক্সিকো উপসাগর নামে পরিচিত ছিল।
- ফেডারেল সংস্থাগুলি সেই অনুযায়ী নামগুলি আপডেট করেছে, যদিও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এখনও প্রভাবিত হয়নি।
- মানচিত্র সরবরাহকারীরা অবস্থান-ভিত্তিক নামকরণের রূপগুলি চালু করেছে, যা বিতর্কিত নাম পরিবর্তনের বিশ্বব্যাপী ভিন্ন স্বীকৃতি প্রতিফলিত করে।

উৎস: World Atlas.
৫,৯০৭.
লবণাক্ততার কারণে দেশের কোন অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে?
  1. উত্তরাঞ্চল
  2. দক্ষিণাঞ্চল
  3. পূর্বাঞ্চল
  4. পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা
লবণাক্ততা বৃদ্ধি:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- লবণাক্ততার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি অংশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা বদলে যাচ্ছে।
- বিগত তিন দশকে খুলনা জেলায় লবণাক্ততা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি, ২১ শতাংশ।
- খুলনার পরেই বাগেরহাট।
- সেখানে লবণাক্ততা বেড়েছে ১৫.৮৮ শতাংশ।
- নড়াইল, যশোর ও গোপালগঞ্জে লবণাক্ততা একেবারেই ছিলনা।
- অথচ সেখানকার জমিতেও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- উপকূল এবং তীরবর্তী এলাকায় ১৪ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় লবণাক্ত মাটি রয়েছে।
- এ অবস্থায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৪৫ সেন্টিমিটার বাড়লে লবণাক্ততা আরো ভিতরের দিকে আসবে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে।
- লবণাক্ততা বর্ষা মৌসুমে ১০ শতাংশ থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা বেড়ে ৪০ শতাংশ হয় (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ২০২০)।
- লবণাক্ততা বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে।
- ১৯৭৩ সালে লবণাক্ততাপূর্ণ অঞ্চল ছিল ৮৩.৩ মিলিয়ন হেক্টর, ২০০০ সালে ১০২ মিলিয়ন হেক্টর এবং ২০০৯ সালে ১০৫.৬ মিলিয়ন হেক্টর এবং ২০১৯ সালে ১০৯.৮ মিলিয়ন হেক্টর (ইউএসবি এবং আইপিএস রিপোর্ট, ২০২০)।

উৎস: i) বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯০৮.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. পূর্বপ্রস্তুতি
  2. প্রতিরক্ষা
  3. প্রশমন
  4. প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয় প্রতিরক্ষা।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি।
যথা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ,
- দুর্যোগ প্রশমন এবং
- দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।

- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মুকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেঈ সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯০৯.
বায়ু দ্বারা ক্ষয়কার্য অধিক সংঘটিত হয় কোথায়?
  1. মেরুঅঞ্চলে
  2. নদী অববাহিকায়
  3. মরুঅঞ্চলে
  4. উপকূলবর্তী অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের ধীরগতির ক্ষয়কার্যের অন্যতম নিয়ামক হলো বায়ু। বায়ু দ্বারা ক্ষয়কার্যের পরিমাণ সর্বাধিক হয় মরুভূমিতে। মরু এলাকা শুষ্ক, বৃষ্টিহীন ও গাছপালা শূন্য হওয়ায় সেখানকার মাটির সুদৃঢ় নয়। যার কারণে বায়ুপ্রবাহের আঘাতে এই অঞ্চলের শিলা সহজেই বাহিত হয়ে ধীর পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষয় সাধন করে।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৯১০.
বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম নদী কোনটি?
  1. বলেশ্বর নদী
  2. গাঙ্গিনা নদী
  3. কলমদানী নদী
  4. গোবরা নদী
ব্যাখ্যা

দেশের ক্ষুদ্রতম নদী:
- দেশের ক্ষুদ্রতম নদী বলেশ্বর।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ০.২ কিলোমিটার।
- নদীটি ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।

৫,৯১১.
'বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ হ্রাস করা'র সাথে সম্পর্কিত কোনটি?
  1. ক) রামসার কনভেনশন
  2. খ) কিয়োটো প্রটোকল
  3. গ) বাসেল কনভেনশন
  4. ঘ) কার্টাগেনা প্রটোকল
ব্যাখ্যা
কিয়ােটো প্রটোকল ১৯৯৭ সালের ১১ ডিসেম্বর স্বাক্ষর হয়। ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হয়।
২০১২ সালে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে বর্তমানে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানাে হয়। এর বিষয়বস্তু হচ্ছে বায়ুমণ্ডলের কার্বন-ডাই-অক্সাইড/ গ্রীনহাউস গ্যাসের নিঃস্বরণ হ্রাস করা অর্থাৎ বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ হ্রাস করা।
জীবপ্রযুক্তির ব্যবহার দ্বারা পরিমার্জিত প্রাণের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত 'কার্টাগেনা প্রটোকল' ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি কানাডার মন্ট্রিলে গৃহীত হয়, যা কার্যকর হয় ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৩। বাংলাদেশ ২০০০ সালের ২৪ মে এটি স্বাক্ষর এবং অনুমােদন করে ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি।
মন্ট্রিল প্রটোকলের বিষয়বস্তু হচ্ছে বায়মণ্ডলের ওজোন স্তরকে রক্ষা বিষয়ক প্রটোকল।
উৎসঃ ব্রিটানিকা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৯১২.
গ্রেট লেকস (Great Lakes) কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ইতালি
  2. সুইজারল্যান্ড
  3. ফিনল্যান্ড
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

গ্রেট লেকস (Great Lakes):
- গ্রেট লেক উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- এটি মিঠা পানির হ্রদ।
- এটি সেন্ট লরেন্স নদীর মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত।
- গ্রেট লেকের আয়তন প্রায় ৯৪,২৫০ বর্গ মাইল (২৪৪,১০৬ বর্গ কিলোমিটার)।
- এটি কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমানায় বিস্তৃত।

⇒ যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট লেক (Great Lakes) বলতে ৫টি লেক বুঝানো হয়।
⇒ ৫টি লেক বা হ্রদ হলো:
- সুপিরিয়র, মিশিগান, হুরন, এরি এবং অন্টারিও।

⇒ সুপিরিয়র লেক হুরনের সাথে সল্ট সেন্ট মেরি (সেন্ট মেরিস নদী) এবং মিশিগান লেক ম্যাকিনাক প্রণালী হয়ে হুরনের সাথে যুক্ত হয়েছে।
- হুরন লেকের উত্তরে একটি প্রধান খাঁড়ি হল জর্জিয়ান বে, যা সম্পূর্ণ কানাডার মধ্যে অবস্থিত।
- তিনটি উপরের গ্রেট লেক (সুপিরিয়র, মিশিগান এবং হুরন) থেকে জল সেন্ট ক্লেয়ার নদী, লেক সেন্ট ক্লেয়ার এবং ডেট্রয়েট নদীর মধ্য দিয়ে এরি হ্রদে প্রবাহিত হয়, যা নায়াগ্রা নদী এবং নায়াগ্রার মাধ্যমে অন্টারিও হ্রদের সাথে যুক্ত হয়।
- জলপ্রপাত ​পাঁচটি হ্রদ তারপর উত্তর-পূর্ব দিকে সেন্ট লরেন্স নদীর মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবাহিত হয়।

উৎস: Britannica.

৫,৯১৩.
‘Sendai Framework for Disaster Risk Reduction’ কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৩ সালে
  3. ২০১৫ সালে
  4. ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা

Sendai Framework for Disaster Risk Reduction:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।

৫,৯১৪.
বাংলাদেশে বর্ষাকালে কোন বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক্রান্তীয় বায়ু
  2. মহাদেশীয় বায়ু
  3. নিয়ত বায়ু
  4. মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ (Wind movement):
- বায়ুপ্রবাহ কোনো এলাকার জলবায়ুর উপরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- যেমন- বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে শুষ্ক মহাদেশীয় বায়ু প্রবাহিত হওয়ার কারণে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,৯১৫.
দক্ষিণ আমেরিকার কয়টি দেশে সমুদ্রবন্দর নেই?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা

- দক্ষিণ আমেরিকার দুটি দেশে সমুদ্রবন্দর নেই।
- দেশ দুটি হলোঃ প্যারাগুয়ে ও বলিভিয়া।
- এদের নিজস্ব কোনো স্থলবন্দর না থাকার কারণ দেশ দুটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র।
- এদের চারপাশে কোনো সমুদ্র নেই।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৫,৯১৬.
পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি -
  1. ০° অক্ষাংশে
  2. ২৩.৫° অক্ষাংশে
  3. ৬৬.৫° অক্ষাংশে
  4. ৯০° অক্ষাংশে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও অক্ষরেখা:
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।

-  নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। 
- অর্থাৎ পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি ০° অক্ষাংশে।
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।

উল্লেখ্য:
- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরালে উত্তরে ও দক্ষিণে কতকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়। এই রেখাগুলোকে অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা বলে।
- অক্ষরেখাসমূহের দূরত্ব সর্বত্র সমান। নিরক্ষেরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বের মানকে ডিগ্রিতে প্রকাশ করলে তাকে অক্ষাংশ বলে। 
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°,  বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত।
- নিরক্ষরেখা থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরু এবং ৯০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরু।
- এছাড়া ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় কর্কটক্রান্তি এবং ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে বলা হয় মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত এবং কুমেরু বৃত্ত।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯১৭.
বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী কোনটি?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. যমুনা
  4. কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী কর্ণফুলী।

কর্ণফুলী নদী:
- কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রধান নদী।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে।
- বাংলাদেশের প্রবেশের পর রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কর্ণফুলী নদী বঙ্গোপসাগরের পতিত হয়েছে।
- নদীটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২০ কিলোমিটার।
- কর্ণফুলী নদীর মোহনায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর অবস্থিত।
- হালদা, কাসালং প্রভৃতি কর্ণফুলীর উপনদী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,৯১৮.
প্রশান্ত মহাসাগরের গড় গভীরতা-
  1. ক) ৪,২৭০ মিটার
  2. খ) ৪,৭২০ মিটার
  3. গ) ৫,২৭০ মিটার
  4. ঘ) ৫,০৭০ মিটার
ব্যাখ্যা
প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর বৃহত্তম এবং গভীরতম মহাসাগর। এর আয়তন ১৬ কোটি চল্লিশ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এবং গড় গভীরতা ৪২৭০ বর্গমিটার
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী
৫,৯১৯.
আহ্নিক গতির কারণে ভূ-পৃষ্ঠে কোনো একটি স্থানে প্রতিদিন ________ জোয়ার ও _______ ভাটা সংঘটিত হয়।
  1. একবার, একবার
  2. দুইবার, দুইবার
  3. একবার, দুইবার
  4. দুইবার, একবার
ব্যাখ্যা
আহ্নিক গতির ফল ও জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি:
আহ্নিক গতির ফলে পৃথিবীতে বেশ কিছু কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি ।
জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি:
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার (High Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা (Ebb or low Tide) বলে। প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার ভাঁটা সংঘঠিত হয়।
- অর্থাৎ  আহ্নিক গতির কারণে ভূ-পৃষ্ঠে কোনো একটি স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।

- তবে পৃথিবী নিজ অক্ষে অনবরত ঘূর্ণনশীল হওয়ায় আহ্নিক গতির ফলে একটি স্থানের প্রতিদিন
- একই সময়ে জোয়ার-ভাটা সংঘটিত না হয়ে ৫২ মিনিট সময়ের ব্যবধানে সংঘটিত হয়।
- এক মুখ্য জোয়ার চলে যাবার ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট অর্থাৎ প্রায় সাড়ে বার ঘন্টা পরে সেই জায়গায় গৌণ জোয়ার এবং ঐ স্থানের প্রত্যেক জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট অর্থাৎ প্রায় সোয়া ছয় ঘন্টা পরে ভাঁটা হয়।
জোয়ার ভাটার কারণ:
- বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেই এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে জোয়ার ভাটা হয়।
- জোয়ার ভাটা সংঘটনের কারণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- ক. মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব এবং খ. কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম ও ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯২০.
'আচেহ প্রদেশ' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. জাপান
  3. ফিলিপাইন
  4. ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা
• ইন্দোনেশিয়া:
- স্বাধীনতা লাভ করে নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে (১৯৪৫ সালে)।
- ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি (স্বাধীনতার নেতৃত্ব প্রদান) সুকর্ণ।
- বৃহত্তম দ্বীপ - সুমাত্রা (আয়তনে)।
- আচেহ প্রদেশ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায়।
- জনবহুল দ্বীপ - জাভা (রাজধানী জাকার্তা অবস্থিত)।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৫,৯২১.
বাংলাদেশের মধুপুরের চত্বর ও বরেন্দ্রভূমি-
  1. ক) পলল সমভূমি
  2. খ) প্লাবন সমভূমি
  3. গ) সঞ্চয়জাত সমভূমি
  4. ঘ) ক্ষয়জাত সমভূমি
ব্যাখ্যা
ক্ষয়জাত সমভূমি: বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি, যেমন-নদীপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ এবং হিমবাহের ক্ষয়ক্রিয়ার ফলে কোনো উচ্চভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে, নিচুঁ হয়ে ক্ষয়জাত সমভূমির সৃষ্টি হয়। অ্যাপালেশিয়ান পাদদেশীয় সমভূমি, ফিনল্যান্ড ও সাইবেরিয়া সমভূমি এ ধরনের ক্ষয়জাত সমভূমি। বাংলাদেশের মধুপুরের চত্বর ও বরেন্দ্রভূমি দুটি ক্ষয়জাত সমভূমির উদাহরণ। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫,৯২২.
পৃথিবীর ভূত্বকীয় প্রধান টেকটোনিক প্লেট কয়টি? 
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

টেকটোনিক প্লেট:
- পৃথিবীর ভূত্বক কোনো স্থির বা শক্ত একক স্তর নয়; বরং এটি বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত, যেগুলোকে বলা হয় টেকটনিক প্লেট।
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
- পৃথিবীর ভূত্বক প্রধানত ৭টি প্রধান টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত। 
- এগুলো পৃথিবীর পৃষ্ঠের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে। এছাড়াও অনেকগুলো ছোট প্লেট রয়েছে। এই প্লেটগুলোর ধীর গতির কারণে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির মতো ভূতাত্ত্বিক ঘটনা ঘটে। 

⇒ পৃথিবীর ভূত্বক ৭টি প্রধান টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত। প্লেটগুলো হলো:
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate),
- উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate),
- ইউরেশিয়ান প্লেট (Eurasian Plate),
- আফ্রিকান প্লেট (African Plate),
- অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate),
- ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট (Indo-Australian Plate) ও
- দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate)।

উল্লেখ্য,
- সর্বপ্রথম ১৯১২ সালে জার্মান আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগনার ‘কন্টিনেন্টাল ড্রিফট’ নামে একটি তত্ত্ব প্রদান করেন। তাঁর এই তত্ত্বে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে ‘বহুকাল আগে সবগুলো মহাদেশ পরস্পর সংযুক্ত ছিল। একত্রে এদের প্যানজিয়া বা সুপারকন্টিনেন্ট বলা হতো।
- পরে কালের আবর্তে ভূত্বকীয় পাতের নড়াচড়ায় আলাদা আলাদা মহাদেশে বিভক্ত হয়ে যায়।
- পরবর্তী বিজ্ঞানীরা তাঁর এই তত্ত্বটির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন গবেষণা ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আধুনিকতম তত্ত্ব বের করেন, যা সবার কাছে প্লেট টেকটোনিক হিসেবে পরিচিত।
- এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূপৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত। এগুলোকে প্লেট বলে।
- এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের ওপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। এই প্লেটগুলো প্রতিবছর কয়েক সেন্টিমিটার কোনো এক দিকে সরে যায়। বিজ্ঞানীরা এ তত্ত্ব ব্যবহার করে পর্বত সৃষ্টি এবং মহাসাগর ও মহাদেশ সৃষ্টির ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন।

উৎস: Worldatlas.

৫,৯২৩.
ফরমোজার বর্তমান নাম কী?
  1. লাওস
  2. তাইওয়ান
  3. কম্বোডিয়া
  4. পেরু
ব্যাখ্যা
তাইওয়ান:

- তাইওয়ান সরকারীভাবে চীন প্রজাতন্ত্র ফিনিন।
- ফরমোজার বর্তমান নাম তাইওয়ান।
- এটি পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ, যা তাইওয়ান প্রণালীর পূর্বে চীনা মূল ভূখন্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত।
- আয়তন: ১৩,৯৭৬ বর্গ মাইল (৩৬,১৯৭ বর্গ কিমি)।
- ভাষা: ম্যান্ডারিন চাইনিজ (অফিসিয়াল), তাইওয়ানিজ, ফুকিয়েন এবং হাক্কা উপভাষায়ও কথা বলা হয়।
- ধর্ম: বৌদ্ধ ধর্ম, দাওবাদ, কনফুসিয়ানিজম, খ্রিস্টধর্ম।
- মুদ্রা: নতুন তাইওয়ান ডলার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫,৯২৪.
ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী ‘বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের গতির দিক' -
  1. ক) উত্তর গোলার্ধে বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে যায়
  2. খ) উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়
  3. গ) উত্তর গোলার্ধে সোজাসুজি ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
  4. ঘ) উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে সোজাসুজি বেঁকে যায়।
ব্যাখ্যা
 বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য এক স্থান হতে অন্য স্থানে বায়ু প্রবাহিত হয়।
- ভূপৃষ্ঠে সমান্তরালভাবে বায়ু চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণ ৩টি।
- যথা: বায়ুর চাপ ও উষ্ণতার পার্থক্য, পৃথিবীর আবর্তন এবং জলীয়বাষ্প। 
- বায়ু প্রবাহ সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়:
১। উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
২। ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী ‘বায়ুপ্রবাহ বা সমুদ্রস্রোতের গতির দিক সোজাসুজি উত্তর বা দক্ষিণে না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯২৫.
সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশকে ইউনেস্কো কত সালে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের অখণ্ড ম্যানগ্রোভ বনভূমি, এটি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মোহনায় অবস্থিত এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত।
- প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এ বনভূমির মধ্যে ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার অংশ বাংলাদেশে অবস্থিত। এই অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশকে ঘিরে রয়েছে জালের মতো বিস্তৃত সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং লবণাক্ত ম্যানগ্রোভ বনভূমির ছোট ছোট দ্বীপ।
- এটির গুরুত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত; ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবন রামসার স্থান হিসেবে এবং ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর (বাংলাদেশের অংশ) ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

সূত্র: বাগেরহাট জেলা, জাতীয় তথ্য বাতায়ন ওয়েবসাইট।
৫,৯২৬.
ইউরোপ মহাদেশের উচ্চতম স্থান কোনটি?
  1. ভিনসন ম্যাফিস
  2. কিলিমানজারো
  3. এলব্রুস পর্বত
  4. মাউন্ট এলব্রুস
ব্যাখ্যা

⇒ ইউরোপ মহাদেশের উচ্চতম স্থান - মাউন্ট এলব্রুস (Mount Elbrus)।

মাউন্ট এলব্রুস (Mount Elbrus):
- মাউন্ট এলব্রুস ককেশাস পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, যা দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ায় অবস্থিত।
- এটি একটি নিঃশেষিত আগ্নেয়গিরি।
- আগ্নেয়গিরিটি প্রায় ২৫ লাখ বছর আগে গঠিত হয়েছিল।
- এর পূর্ব ঢালে এখনো সালফারযুক্ত গ্যাস নির্গত হয়।
- মাউন্ট এলব্রুসের ৫৩ বর্গমাইল (১৩৮ বর্গ কিমি) এলাকা জুড়ে ২২টি হিমবাহ রয়েছে।
- এই হিমবাহগুলো থেকে কুবান নদী এবং তেরেক নদীর উপনদীগুলো পানি সরবরাহ পায়।
- এটি ককেশাস অঞ্চলের পর্বতারোহণ এবং পর্যটনের একটি প্রধান কেন্দ্র।

এছাড়াও, বিভিন্ন মহাদেশের উচ্চতম স্থান:
- এশিয়া মহাদেশ - মাউন্ট এভারেস্ট।
- আফ্রিকা মহাদেশ - কিলিমানজারো।
- উত্তর আমেরিকা - দেনালি।
- দক্ষিণ আমেরিকা - আকানকাগুয়া পর্বত।
- ওশেনিয়া মহাদেশ - পুঞ্জাক জায়া।
- অ্যান্টার্কটিকা - ভিনসন ম্যাফিস।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।

৫,৯২৭.
সিডর (SIDR) শব্দের অর্থ কি?
  1. Cyclone
  2. Eye
  3. Ear
  4. Wind
ব্যাখ্যা
সিডর:
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নাম ঠিক করে। 
- সিডর (SIDR) শব্দের অর্থ চোখ।

উল্লেখ্য,
- সরকারি তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে ১৯৬০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ৩৫টি বড় ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের হদিস পাওয়া যায়।
- এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক পাঁচটি ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে অন্যতম সিডর।
- এ অঞ্চলে যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে, তার নাম দেওয়া হয় ২০০৪ সালে।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার। 
- সিডরকে ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সবচেয়ে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় বিবেচনা করা হয় ।

উৎস: ১৫ নভেম্বর ২০২১, প্রথম আলো।
৫,৯২৮.
বাংলাদেশের পাহাড়ি বন দেশের মোট আয়তনের কত শতাংশ দখল করে?
  1.  ৯.৩৩%
  2. ১০%
  3. ৮.৫%
  4.  ১১%
ব্যাখ্যা

• পাহাড়ী বন:

- অবস্থান: চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়ী এলাকা।

- পরিমাণ: প্রায় ১৩,৭৭,০০০ হেক্টর যা দেশের আয়তনের ৯.৩৩%। বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত পাহাড়ী বনভূমির পরিমাণ ৬,৭০,০০০ হেক্টর যা বন বিভাগ নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ৪৪%। 

- উদ্ভিদ প্রজাতি: গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, উড়িআম, ঢাকিজাম, সিভিট, সেগুন, গামার, চম্পা, জারুল, বৈলাম প্রভৃতি গাছ এ বনে পাওয়া যায়। এছাড়া এ বনাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বাঁশ ও বেত পাওয়া যায়। 

- বন্যপ্রাণী: এ বনের উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণী হচ্ছে হাতি, চিতাবাঘ, বন্যশুকর, হরিণ, বানর, উল্লুক, অজগর ইত্যাদি। 
- বনের পাখি: উদয়ী পাকরা ধনেশ, বড় র‌্যাকেট ফিঙ্গে, পাতি-ময়না, গলাফোলা ছাতারে ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। Link

৫,৯২৯.
পামীর মালভূমির উচ্চতা প্রায় -
  1. ক) ৭,৬৪৯ মিটার
  2. খ) ৭,৯৪৯ মিটার
  3. গ) ৮,৬৪৯ মিটার
  4. ঘ) ১০,৬৪৯ মিটার
ব্যাখ্যা
▪ পৃথিবীর উচ্চতম মালভূমি হলো পামীর মালভূমি।
▪ এটি মধ্য এশিয়ার তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, চীন ও আফগানিস্তানে অবস্থিত।
▪ পামীর মালভূমির উচ্চতা প্রায় ৭,৬৪৯ মিটার
▪ পামীর মালভূমিকে ‘পৃথিবীর ছাদ’ বলা হয়।

অন্যদিকে
▪ সিরিয়া ও ইসরাইল সীমান্তে অবস্থিত গোলান মালভূমি।
▪ এশিয়ার তিব্বত মালভূমি একটি পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি। এটি উত্তরে কুনলুন পর্বতমালা এবং দক্ষিণে হিমালয় পর্বতমালা দ্বারা বেষ্টিত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা
৫,৯৩০.
বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় কোথায়?
  1. ক) ফেঞ্চুগঞ্জ
  2. খ) ছাতক
  3. গ) সুহিলপুর
  4. ঘ) হরিপুর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস।
- ১৯৫৫ সালে বার্মা ওয়েল কোম্পানি এদেশে সর্বপ্রথম সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৫৭ সাল থেকে গ্যাসের উৎপাদন শুরু হয়।
- বর্তমানে দেশে মোট ২৮টি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: পেট্রোবাংলা ওয়েবসাইট)
৫,৯৩১.
বাংলাদেশে সাধারণত কখন বন্যা হয়ে থাকে?
  1. বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ
  2. পৌষ থেকে ফাল্গুন
  3. আষাঢ় থেকে ভাদ্র
  4. আশ্বিন থেকে মাঘ
ব্যাখ্যা
- বন্যা বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রতি বছর দেশের কোন না কোন স্থানে বন্যা হয়েই থাকে।
- বাংলাদেশে সাধারণত আষাঢ় থেকে ভাদ্র/আশ্বিন মাস বা মধ্য জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বন্যা দেখায় দেয়।
- গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকা দেশের সবচেয়ে বন্যাপ্রবণ এলাকা। এসব এলাকায় মৌসুমী বন্যা হয়ে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ দুর্যোগকোষ : ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়)
৫,৯৩২.
স্টবাক জলপ্রপাত কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ভেনিজুয়েলা
  2. তানজানিয়া
  3. সুইজারল্যান্ড
  4. ব্রাজিল
ব্যাখ্যা
স্টবাক জলপ্রপাত:
- স্টবাক জলপ্রপাত সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।
- ইউরোপীয় মহাদেশে অবস্থিত এই জলপ্রপাতের উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফুট।
- এটি সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ জলপ্রপাত।
- গ্রীষ্মে উষ্ণ বাতাস চারদিকে জল ঘোরা করে, যাতে জলপ্রপাতগুলি সমস্ত দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়াও,
- 'গুয়ারিয়া' জলপ্রপাত ব্রাজিলে অবস্থিত।
- এঞ্জেল জলপ্রপাত ভেনিজুয়েলায় অবস্থিত।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থিত।
- স্ট্যানলি ও লিভিংস্টোন জলপ্রপাত কঙ্গোতে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
৫,৯৩৩.
কোন মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয়?
  1. ক) তারিম মালভূমি
  2. খ) তিব্বত মালভূমি
  3. গ) পামীর মালভূমি
  4. ঘ) গোলান মালভূমি
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর উচ্চতম মালভূমি হলো পামীর মালভূমি।
- এটি মধ্য এশিয়ার তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, চীন ও আফগানিস্তানে অবস্থিত।
- পামীর মালভূমির উচ্চতা প্রায় ৭,৬৪৯ মিটার।
- পামীর মালভূমিকে ‘পৃথিবীর ছাদ’ বলা হয়।
(সূত্র: ব্রিটানিকা)
৫,৯৩৪.
কোন পর্যায়ে দুর্যোগের ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়?
  1. উদ্ধার পর্যায়ে
  2. প্রভাব পর্যায়ে
  3. সতর্কতা পর্যায়ে
  4. পুনর্বাসন পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
পুনর্বাসন পর্যায়ে দুর্যোগের ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- সাধারণভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলতে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার জন্য দুর্যোগ পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে যে কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় সেগুলোর সমন্বিতরূপকে বুঝায়।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বলে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের জন্য বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
- নতুবা দুর্যোগে সবকিছু হারিয়ে মানবজীবন হয়ে উঠে দুর্বিষহ।
- দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত আলোচিত বিষয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য:
১. দুর্যোগকালীন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
২. দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ জনগণের জন্য স্বল্প সময়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ, চিকিৎসাসামগ্রী ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
৩. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র (Disaster Management Cycle):
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় এবং
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়।

⇒ ‘‘পুনর্বাসন’’ অর্থ-
-  দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পূর্বাবস্থায় বা অধিকতর ভাল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা;
- ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মানসিক, অর্থনৈতিক ও ভৌত কল্যাণ সাধনসহ তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকায় স্বাভাবিক জীবন, জীবিকা ও কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনা;
- ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, প্রয়োজনে, অন্যত্র স্থানান্তর করা;
- ক্ষতিগ্রস্ত গবাদি পশু, মৎস্য, ইত্যাদির সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট খামার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা;
- পুকুর, নদী-নালা, খাল, বিল, জলাধারে মৃত মানুষ, গবাদি পশু, মৎস্য, ইত্যাদি অপসারণের ত্বড়িৎ ব্যবস্থা করা এবং এদের বিষাক্ত পানি শোধনের ব্যবস্থা করাসহ মানুষ ও জীব-জন্তুর জন্য বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা;
- ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিষাক্ততা অপসারণের লক্ষ্যে বিষাক্ত জীবাণু ও ময়লা-আবর্জনা পরিস্কারের ব্যবস্থাসহ এটি হতে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

উৎস: i) ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
৫,৯৩৫.
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে পৃথককারী রেখা কোনটি?
  1. র‍্যাডক্লিফ লাইন
  2. ডুরান্ড লাইন
  3. ম্যাকমোহন লাইন
  4. নাথুলা পাস
ব্যাখ্যা
• ডুরান্ড লাইন:
- আফগানিস্তান ও ব্রিটিশ ভারতের মধ্যকার নির্ধারিত সীমান্ত।
- ১৮৯৩ সালে এটি নির্ধারণ করা হয়।
- বর্তমানে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
- ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইন কারাকোরাম পর্বত, খাইবার পাস ইত্যাদি স্থান অতিক্রম করেছে।
- এটি আফগানিস্তানের ১২ টি প্রদেশ এবং পাকিস্তানের ৩ টি প্রদেশে বিস্তৃত।
এছাড়া,
- র‍্যাডক্লিফ লাইন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্তরেখা।
- ম্যাকমোহন লাইন ও লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্তরেখা।


উৎস: ব্রিটানিকা।
৫,৯৩৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু চূড়ার নাম কী?
  1. গারো পাহাড়
  2. তাজিংডং(বিজয়)
  3. কিওক্রাডাং
  4. চন্দ্রনাথ পাহাড়
ব্যাখ্যা

তাজিংডং (বিজয়):

- এটি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়।
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং।
- এটি বিজয় নামেও পরিচিত।
- স্থানীয় ভাষায় তাজিং অর্থ বড় আর ডং অর্থ পাহাড়। একত্রে বড় পাহাড়।
- তাজিংডং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে সাইচল পর্বতসারিতে অবস্থিত।
- তাজিংডং এর উচ্চতা: ১২৩১ মি. বা ৪০৩৯ ফুট [সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল]।
- ১৩৭২ মি. বা ৪৫০০ ফুট [সূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন]।
- ১০০৩ মিটার [সূত্র: জেলা প্রশাসক কার্যালয়, বান্দরবান]।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং (রুমা, বান্দরবান)।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় হচ্ছে গারো পাহাড়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,৯৩৭.
নিচের কোনটি অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধের উদাহরণ?
  1. বেড়িবাঁধ নির্মাণ
  2. নদী খনন
  3. মজবুত ঘরবাড়ি নির্মাণ
  4. গণসচেতনতা বৃদ্ধি 
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 

• প্রতিরোধ (Prevention):
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।

⇒ কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ। যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদিকার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯৩৮.
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন কোন মালভূমির অংশ?
  1. পামীর মালভূমি
  2. কলোরাডো মালভূমি 
  3. তিব্বত মালভূমি 
  4. পাতাগোনিয়া মালভূমি
ব্যাখ্যা

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন:
- বিখ্যাত গিরিখাত গ্রান্ড ক্যানিয়ন উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত কলোরাডো মালভূমির একটি অংশ।
- এই গিরিখাতের মধ্য দিয়ে কলোরাডো নদী বয়ে গেছে।
- গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন মূলত অনুভূমিক স্তরযুক্ত শিলা এবং লাভা প্রবাহ নিয়ে গঠিত।

উল্লেখ্য, কলোরাডো মালভূমি:
- কলোরাডো মালভূমি উত্তর আমেরিকাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি রাজ্য কলোরাডো, নিউ মেক্সিকো, ইউটা এবং অ্যারিজোনাতে বিস্তৃত।
- এই মালভূমিটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক এবং ভূগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে বহু জাতীয় উদ্যান, যেমন গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, আর্চস, ক্যাটেড্রাল ভ্যালি এবং মেসা ভার্ডে অবস্থিত।
- এটি পাদদেশীয় মালভূমি।
- কলোরাডো মালভূমিতে সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ ও গভীর গিরিখাতটির নাম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।

উৎস: Britannica.

৫,৯৩৯.
চীন ও জাপানের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় কী নামে পরিচিত? 
  1. সাইক্লোন
  2. টাইফুন
  3. বাগুই
  4. হারিকেন
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- যেমন- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
- ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন,
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই,
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলিছ,
- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৪০.
বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত কোন ঋতু স্থায়ী হয়?
  1. গ্রীষ্মকাল
  2. বর্ষাকাল
  3. শীতকাল
  4. বসন্তকাল
ব্যাখ্যা
⇒ বর্ষাকাল:
- বর্ষাকাল জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অর্থাৎ বাংলাদেশে বর্ষাকালের সময়সীমা ধরা হয়- জুন থেকে অক্টোবর।
- জুন মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের সাথে বর্ষাকাল শুরু হয়।
- জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আকাশে ৮০-৯০ শতাংশ আর্দ্রতা থাকে।
- এই সময় বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়।
- গড় বৃষ্টিপাত ১১৯ সেন্টিমিটার থেকে ৩৪০ সেন্টিমিটার হতে পারে।

⇒ শীতকাল:
- শীতকালে বাংলাদেশের আকাশ সাধারণত মেঘমুক্ত থাকে এবং সুন্দর আবহাওয়া থাকে।
- সাধারণত নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- শীতকালে উপকূলীয় এবং পাহাড়ি এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।
- এই সময় বৃষ্টিপাত খুব কম হয়, যা বার্ষিক বৃষ্টিপাতের দুই শতাংশের বেশি নয় এবং ১০০ মিলিমিটার এর বেশি হয় না।
- শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে, প্রায় ৩৬ শতাংশ।

⇒ গ্রীষ্মকাল:
- গ্রীষ্মকাল মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত হয়।
- মার্চে আকাশে মেঘের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ থাকে, যা মে মাসে বেড়ে ৫০-৬০ শতাংশে পৌঁছায়।
- গ্রীষ্মকালীন কালবৈশাখী ঝড় বজ্র বিদ্যুৎসহ প্রবল বেগে চলে।
- এর গতি প্রতি ঘণ্টায় ৪০-৮০ কিলোমিটার, কখনও কখনও ১২৮ কিলোমিটারও হতে পারে।
- এই সময়ে গড় বৃষ্টিপাত ৫১০ মিলিমিটার হয়।

তথ্যসূত্র:- অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৪১.
’লালমাই পাহাড়’ কোন ভূ-অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. প্লাবন সমভূমি
  2. প্লাইসটোসিন
  3. টারশিয়ারি
  4. পাদদেশীয় সমভূমি
ব্যাখ্যা
• ভূপ্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূমিকে তিনটি প্রধান ভূ-অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।

- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল,
- প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,
- এবং প্লাবন সমভূমি 

• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি:
- আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের  সময়কে প্লাইস্টানকাল বলে।
• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল
- লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল,
- বরেন্দ্রভূমি,
- মধুপুর ভাওয়ালের গড়। 

• টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল:
-  উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল,
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ।

• প্লাবন সমভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল- 
১. রংপুর দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি ।
২. ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, কুমিল্লা অঞ্চলের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
৩. ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে ব-দ্বিপ সমভূমি।
৪. নোয়খালী ও ফেনী নদীর নিম্ন ভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় সমভূমি।
৫. খুলনা, পটুয়াখালী অঞ্চল ও বরগুনা জেলার অংশবিশেষ স্রোতজ সমভূমি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৫,৯৪২.
নিচের কোন জেলাটির সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) রাঙ্গামাটি
  4. ঘ) কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা:

- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা - ৩২টি।
- ভারত এর সাথে ৩০টি এবং মায়ামারের সাথে ৩টি।
- রাঙ্গামাটির জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সীমানা সংযোগ আছে।
- কক্সবাজার জেলার সাথে মিয়ানমারের সীমানা সংযোগ আছে।
- বান্দরবান জেলার সাথে ভারতের সংযোগ নাই তবে মায়ানমারের সাথে সীমানা সংযোগ আছে।
- খাগড়াছড়ি জেলার সাথে ভারতের সংযোগ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,৯৪৩.
পৃথিবীর গভীরতম স্থান কোন মহাসাগরে রয়েছে- 
  1. আটলান্টিক মহাসগরে
  2. প্রশান্ত মহাসাগরে
  3. ভারত মহাসাগরে
  4. বঙ্গোপসাগরে
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর গভীরতম স্থান প্রশান্ত মহাসাগরে।
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চ (Mariana Trench):
- পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ।
- এর অবস্থান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ ও ফিলিপাইনের মধ্যবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে।
- এর নামকরণ করা হয় নিকটবর্তী মারিয়ানা দ্বীপ ও অস্ট্রিয়ার তৎকালীন রানী মারিয়ানার নামে।
- মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা মাপার উদ্যোগ নেয়া হয় ১৮৭৫ সালে।
- তৎকালীন ব্রিটিশ জরিপ পরিচালনাকারী জাহাজ HMS Challenger।
- তখন গভীরতা নির্ণয় করা হয় ২৬,৮৫০ ফুট।
- পরবর্তীতে আরো কয়েকদফা মাপার পর ২০১০ সালে এর সর্বোচ্চ গভীরতা মাপা হয় ৩৬,০৭০ ফুট।
- বর্তমানে এই গভীরতাই গ্রহণযোগ্য।
- এর গভীরতম অংশকে চ্যালেঞ্জার ডিপ বা Challenger Deep বলা হয়।

উৎস: i) World Atlas.
ii) National Geographic Society.

৫,৯৪৪.
রামসার কনভেনশন কোন দেশে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ইরান
  2. খ) ডেনমার্ক
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) নেদারল্যান্ড
ব্যাখ্যা

ইরানের রামসার শহরে ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জলাভূমি ও তার সম্পদের সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহার বিষয়ক রামসার কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
- রামসার কনভেনশন কার্যকর হয় ১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর।
- রামসারের ডকুমেন্ট অনুসারে - Number of Contracting Parties: 171
বাংলাদেশ ও রামসারঃ
বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের দুটি স্থান রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে -
- সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেষ্ট (২১ মে ১৯৯২) ও
- টাঙ্গুয়ার হাওর (১০ জুলাই ২০০০) রামসার সাইটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
উৎসঃ রামসার ওয়েবসাইট

৫,৯৪৫.
SPARRSO-এর গবেষণা অনুসারে কোন তিনটি দ্বীপ ধীরে ধীরে একত্রিত হচ্ছে?
  1. কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সেন্টমার্টিন
  2. হাতিয়া, নিঝুম দ্বীপ, সন্দ্বীপ
  3. সন্দ্বীপ, স্বর্ণদ্বীপ, ভাসানচর
  4. ভোলা, মনপুরা, সোনার চর
ব্যাখ্যা

SPARRSO:
- SPARRSO এর পূর্ণরূপ: Space Research and Remote Sensing Organization বা বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান।
- বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) প্রযুক্তি ভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ বিষয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটির ম্যান্ডেট হচ্ছে- কৃষি, বন, মৎস্য, ভূতত্ত্ব, মানচিত্র অংকন, পানি সম্পদ, ভূমি ব্যবহার, আবহাওয়া, পরিবেশ, ভূগোল, সমুদ্র বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রে মহাকাশ ও দূর অনুধাবন প্রযুক্তিকে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা এবং উক্ত প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারিক প্রয়োগের জন্য গবেষণা কাজ পরিচালনা করা।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো)- এর গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশের সন্দ্বীপ, স্বর্ণদ্বীপ, ভাসানচর ধীরে ধীরে এক হয়ে যাচ্ছে।
- তিন যুগ ধরে সন্দ্বীপ, জাহাইজ্জার চর (বর্তমান স্বর্ণদ্বীপ) ও ভাসানচর-এই তিন দ্বীপ ধীরে ধীরে এক হয়ে যাচ্ছে।
- নতুন নতুন ভূমির উত্থানের কারণেই এমনটা ঘটছে।
- সন্দ্বীপ বহু বছর ধরেই ক্ষয় ও পলিমাটি জমার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সন্দ্বীপের পাশেই জেগে উঠেছে জাহাইজ্জার চর (বর্তমান স্বর্ণদ্বীপ) ও ভাসানচর।

উৎস: i) বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৫,৯৪৬.
এন্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি-
  1. ক) মাউন্ট ইরেবাস
  2. খ) মাউন্ট সিডলি
  3. গ) মাউন্ট হ্যাম্পটন
  4. ঘ) মাউন্ট বার্লিন
ব্যাখ্যা
এন্টার্কটিকা মহাদেশ আয়তনে বিশ্বে পঞ্চম (আয়তনঃ ১৩,২০৯,০০০ বর্গকিলোমিটার)। মহাদেশটি পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এবং দক্ষিণ মেরুকে কেন্দ্র করে প্রায় বৃত্তাকারে অবস্থিত। এ মহাদেশের চতুর্দিকে দক্ষিণ মহাসাগর অবস্থিত। মহাদেশটি সারা বছর বরফে আচ্ছন্ন থাকে বলে মনুষ্য বসবাসের অনুপযোগী নয় (জনসংখ্যাঃ নেই)। পৃথিবীর মোট জমাটবদ্ধ বরফের ৯০ভাগ এন্টার্কটিকায় রয়েছে। শীতলতম এই মহাদেশে কোনো দেশ নেই। এখানকার উল্লেখযোগ্য প্রাণি অ্যালবাট্রস, পেঙ্গুইন, সীল ইত্যাদি। এ মহাদেশে মস ও শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ জন্মে। মাউন্ট ইরেবাস এই মহাদেশের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এন্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি মাউন্ট সিডলি। সর্বোচ্চ বিন্দু ভিনসন ম্যাসিফ। সর্বনিম্ন বিন্দু বেন্টলে সাবগ্ল্যাসিয়াল ট্রেঞ্চ। সামুদ্রিক পাথর প্রধান সম্পদ। সূত্র- worldatlas ওয়েবসাইট।
৫,৯৪৭.
পৃথিবীতে দিন ও রাত সমান হয় কোন তারিখে?
  1. ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর
  2. ২২ ডিসেম্বর ও ২৩ সেপ্টেম্বর
  3. ২১ জুন ও ২২ ডিসেম্বর
  4. ২১ মার্চ ও ২১ জুন
ব্যাখ্যা

দিন-রাত্রি সমান:
- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার (০°) উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১শে মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল থাকায় এই উত্তর গোলার্ধে বিষুব 'বাসন্ত বিষুব’ (Vernal Spring Equinox) নামে অভিহিত।
- অপরদিকে ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করায় উত্তর গোলার্ধে এই বিষুব ‘শারদ বিষুব' (Autumnal Equinox) নামে অভিহিত হয়।

উল্লেখ্য,
২১ জুন:
- উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত।

২২ ডিসেম্বর:
- উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫,৯৪৮.
বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীরের নাম কী?
  1. আমাজন রিফ
  2. গ্রেট বেরিয়ার রিফ
  3. মেক্সিকো রিফ
  4. আমেরিকান রিফ
ব্যাখ্যা
গ্রেট বেরিয়ার রিফ:
- গ্রেট বেরিয়ার রিফ হলো বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর।
- এটি ২৯০০ এর বেশি একক রিফের সমন্বয়ে গঠিত।
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় শহর কুইন্সল্যান্ডের কোরাল সাগরে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রবাল প্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অবস্থিত।
- অস্ট্রেলিয়ায় কুইন্সল্যান্ডের সমুদ্রতটে গড়ে ওঠা এই প্রবাল প্রাচীরটি প্রায় ৩৪,৪৪,০০০ বর্গ কিলোমিটার স্থান জুড়ে অবস্থিত।
- UNESCO এটিকে ১৯৮১ সালে বিশ্ব হেরিটেজ সাইটেও অন্তর্ভুক্ত করে।

উৎস: World Atlas.
৫,৯৪৯.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটারে- 
  1. ০.০১ মিলিগ্রাম।
  2. ০.০৫ মিলিগ্রাম।
  3. ০.০০৫ মিলিগ্রাম
  4. ০.০০১ মিলিগ্রাম
ব্যাখ্যা

 আর্সেনিক দূষণ:
- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic).
- ৩৩ আণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট আর্সেনিকের আণবিক ভর ৭৪.৯২।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটারে ০.০১ মিলিগ্রাম।
- বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম।
- চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।
- ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আর্সেনিক শনাক্ত করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

উৎস: ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

৫,৯৫০.
কোন ধরনের শিলায় স্তর নেই?
  1. আগ্নেয় শিলায়
  2. বিচূর্ণীত শিলায় 
  3. পাললিক শিলায়
  4. রূপান্তরিত শিলায়
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয় শিলা:
- পৃথিবী জ্বলন্ত অবস্থা থেকে শীতল হবার সময়ে অর্ধগলিত বিভিন্ন খনিজ অত্যন্ত দ্রুত শীতল ও কঠিনাকার ধারণ করে। এইরূপে সৃষ্ট কঠিন পদার্থগুলো আগ্নেয় শিলা নামে অভিহিত।

• আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
→ আগ্নেয় শিলার স্তর নেই অর্থাৎ অস্তরীভূত শিলা;
→ আগ্নেয় শিলায় কোনো জীবাশ্ম নেই;
→ আগ্নেয় শিলা অপ্রবেশ্য;
→ আগ্নেয় শিলা সুদৃঢ় ও সুসংহত। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৫১.
বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন কত?
  1. ক) ৭০,১৬৭ বর্গকিলোমিটার
  2. খ) ২৫,২০৯ বর্গকিলোমিটার
  3. গ) ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার
  4. ঘ) ৪১,৩৬৫ বর্গকিলোমিটার
ব্যাখ্যা
পদ্মা: বাংলাদেশের প্রধান নদী পদ্মা। এ নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন
হয়েছে। এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক দিয়ে অগ্রসর হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট গঙ্গা নামে
সমভূমিতে প্রবেশ করেছে। এখান থেকে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের
মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগিরথী (বা হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে
বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। আর গঙ্গা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর
রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে। এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত
হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশেছে। অত:পর তিন নদীর মিলিত স্রোত মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার।

পদ্মার শাখানদীগুলোর মধ্যে কুমার, ভৈরব, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, আড়িয়াল খাঁ উল্লেখযোগ্য। উত্তর দিক থেকে
আগত উপনদীগুলোর মধ্যে মহানন্দা প্রধান। আর মহানন্দার উপনদীগুলোর মধ্যে রয়েছে পুনর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন,
পাগলা প্রভৃতি।

উৎস: এস.এস.সি. ভূগোল ও পরিবেশ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৫২.
সেন্ট বার্নার্ড গিরিপথ কোন পর্বতমালায় অবস্থিত?
  1. আল্পস 
  2. রকি
  3. আন্দিজ
  4. হিমালয়
ব্যাখ্যা

সেন্ট বার্নার্ড গিরিপথ:
- সেন্ট বার্নার্ড গিরিপথ সুইস আল্পস পর্বতমালায় অবস্থিত।
- এটি সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ গিরিপথ।
- এটি সুইজারল্যান্ড এবং ইতালির সীমান্তে প্রায় ৮,১০০ ফুট বা ২৪৬৯ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
- এটি সুইজারল্যান্ডের মার্টিগনি এবং ইতালির আওস্তা উপত্যকার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
- এটি আল্পস পর্বতমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাস, যা ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে।

উৎস: Britannica.

৫,৯৫৩.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর দিয়ে জেট বিমান চলাচল করে?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. ট্রপোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা

স্ট্রাটোমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়।
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো রকম জলীয়বাষ্প থাকে না।
- ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়-বৃষ্টি থাকেনা বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৫৪.
অনুন্নত দেশসমূহের জন্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন কৌশলটি উপযোগী নয়?
  1. অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন
  2. প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা
  3. প্রচারণা ও সচেতনতা সৃষ্টি
  4. কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে এর ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মধ্যে রয়েছে:
- বেরিবাঁধ নির্মাণ
- আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি
- নদী খনন ইত্যাদি।
এগুলো তুলনামূলক ব্যয়বহুল হওয়ায় অনুন্নত দেশসমূহের জন্যে উপযোগী নয়।

অন্যদিকে
প্রচারণা ও গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ প্রদান প্রভৃতি অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হওয়ায় তা দরিদ্রদেশগুলোর জন্যে উপযোগী।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৯৫৫.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার কারখানা কোনটি?
  1. ক) যমুনা সার কারখানা
  2. খ) ঘোড়াশাল সার কারখানা
  3. গ) ছাতক সার কারখানা
  4. ঘ) ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থার নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে দেশে ৮টি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে উৎপাদন ক্ষমতার দিক থেকে সবচেয়ে বৃহৎ সার কারখানা হলো শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। এটি ২০১৬ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে স্থাপিত হয়। এর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫ লক্ষ ৮১ হাজার মে. টন। এতে মূলত ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়। অন্যদিকে যমুনা সার কারখানা এবং চিটাগাং ইউরিয়া সার কারখানা এর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫ লক্ষ ৬১ হাজার মে. টন। ১৯৬১ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে স্থাপিত দেশের প্রথম সার কারখানা ন্যাচারাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড ২০১৪ সালে বন্ধ হয়ে যায়। একে শাহজালাল সার কারখানার সাথে একীভূত করা হয়। কাফকো সার কারখানা বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ উদ্যোগে ১৯৯২ সালে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়। যমুনা ও কাফকো সার কারখানায় দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থা ওয়েবসাইট)
৫,৯৫৬.
চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি নিচের কোন জেলায় দেখা যায়?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) বান্দরবন
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
যে বনভূমির বৃক্ষের পাতা শীতকালে ঝড়ে যায় না তাকে চিরহরিৎ বনভূমি বলা হয়।
সাধারণত অধিক বৃষ্টিবহুল এলাকায় চিরহরিৎ বনভূমির আধিক্য দেখা যায়।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বৃষ্টিবহুল পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গানাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) , চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি রয়েছে।
এই বনাঞ্চলের আয়তন প্রায় ১৩.৭৭ লক্ষ হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ৯.৩৩ শতাংশ।
এ বনের প্রধান বৃক্ষের মধ্যে গর্জন, চাপালিশ ও তেলসুর উল্লেখযোগ্য।

(সূত্র: বন বিভাগ ওয়েবসাইট)
৫,৯৫৭.
আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিভাগ কোনটি?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
দেশের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক বিভাগ: চট্টগ্রাম এবং ক্ষুদ্রতম: ময়মনসিংহ।
উৎসঃ প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)
৫,৯৫৮.
কোন দ্বীপে পর্তুগিজরা বাস করেছিল?
  1. ক) নিঝুম দ্বীপে
  2. খ) সোনাদিয়া দ্বীপে
  3. গ) পূর্বাশা দ্বীপে
  4. ঘ) মনপুরা দ্বীপে
ব্যাখ্যা
নিঝুম দ্বীপের পূর্ব নাম বাউলার চর বা বালুয়ার চর। মৎস্য আহরণ, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী অঞ্চল এবং অতিথি পাখি আগমনের জন্য নিঝুম দ্বীপ বিখ্যাত।
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের অন্য নাম পূর্বাশা দ্বীপ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপটি হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় অবস্থিত। এর আয়তন ৮ কি.মি.। ২০১০ সালের মার্চ মাসে দ্বীপটি তলিয়ে যায়।
সোনাদিয়া দ্বীপ মৎস্য আহরণ ও অতিথি পাখির জন্য বিখ্যাত। এই দ্বীপে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হবে।
৫,৯৫৯.
মূল মধ্যরেখা থেকে কোনদিকে বাংলাদেশের অবস্থান?
  1. ক) পশ্চিমে
  2. খ) পূর্বে
  3. গ) উত্তরে
  4. ঘ) উত্তর দক্ষিণে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
সেজন্যেই বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য (৯০ × ৪ = ৩৬০ মিনিট) বা ৬ ঘন্টা।
উৎসঃ মাধ্যমিক ভূগোল
৫,৯৬০.
যমুনা নদী কোন নদীর সাথে মিলিত স্রোতধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. তিস্তা
  2. গঙ্গা
  3. পদ্মা
  4. করতোয়া
ব্যাখ্যা

যমুনা:
- যমুনা নদী মূলত ব্রহ্মপুত্র নদীর একটি শাখা।
- এটি গোয়ালন্দের কাছে পদ্মা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- ১৭৮২ থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যে সংঘটিত ভূমিকম্প এবং ভয়াবহ বন্যার কারণে ব্রহ্মপুত্রের তৎকালীন গতিপথ পরিবর্তিত হয়, যা বর্তমান যমুনা নদীর সৃষ্টি করেছে।
- প্রথমে যমুনা নদীর নাম ছিল জোনাই।
- যমুনা নদী তিস্তা নদীর মিলিত স্রোতধারার সঙ্গে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে পদ্মার সাথে যুক্ত হয়েছে।
- যমুনার শাখানদী হিসেবে রয়েছে-
∗ ধলেশ্বরী ও
∗ বুড়িগঙ্গা।
- এছাড়া বিভিন্ন উপনদী রয়েছে, যেমন:
- তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, আত্রাই, বাঙ্গালী, কালজানি, ডোরসা, যমুনেশ্বরী, দুধকুমারত, গঙ্গা, তুলসী গঙ্গা, বড়াল ও নারদ।

উৎস: ভূগোল, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৬১.
সুনামির (Tsunami) কারণ হলো-
  1. জোয়ার ভাটা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পন
  4. চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami):
- সুনামির (Tsunami) কারন হলো সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প।
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ।
- এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ।
- সুনামির উৎপত্তি সমুদ্রতলে।
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদ্রপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৬২.
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোন জেলাগুলোতে সু্ন্দরবন অবস্থিত?
  1. ক) খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা
  2. খ) খুলনা, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরা
  3. গ) নওসিটি, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা
  4. ঘ) খুলনা, প্টুয়াখালী ও সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের অংশ ৬,০১৭ বর্গ কি.মি.আয়তনের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ, দীর্ঘতম লবণাক্ত জলাভূমি এবং জীব বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম।
• এখানে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিদ্যমান, যার মধ্যে আছে ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং বিশ্ব বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার। প্রধান সরীসৃপ জাতিগুলোর মধ্যে আছে নোনা পানির কুমির, অজগর, গোখরা, গুইসাপ, সামুদ্রিক সাপ, গিরগিটি, কচ্ছপ এবং অন্যান্য।
• জলাভূমি হিসাবে রামসার এলাকার সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় সুন্দরবনকে ১৯৯২ সালে ৫৬০ তম রামসার এলাকা হিসাবে যোষণা করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।
• বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় সু্ন্দরবন অবস্থিত।
• সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং খুলনা জেলা ওয়েবসাইট। 
৫,৯৬৩.
বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদানগুলোর শতকরা কতভাগ জলীয়বাষ্প?
  1. ০.০৩%
  2. ০.৪১%
  3. ০.৮০%
  4. ০.৭১%
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere.
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল।
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয়বাষ্পের সংমিশ্রনে গঠিত।

• বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদানগুলোর শতকরা পরিমাণ:
- নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
- অক্সিজেন ২০.৭১%,
- আর্গন ০.৮০%,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎস:
১. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।।
৫,৯৬৪.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো-
  1. ক) সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয়
  2. খ) সারা বছর অধিক তাপ ও বৃষ্টিপাত
  3. গ) বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল ও বৃষ্টিবহুল শীতকাল
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয়। সারা বছর অধিক তাপ ও বৃষ্টিপাত থাকে এবং সারা বছর গ্রীষ্মকাল থাকে। সারা বছরই এ অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হয় বলে এই অঞ্চলে শুষ্ক ঋতু বলে কোন ঋতু নেই। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৫,৯৬৫.
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল কোথায় অবস্থিত?
  1. আটলান্টিক মহাসাগরে
  2. আরব সাগরে
  3. প্রশান্ত মহাসাগরে
  4. ভারত মহাসাগরে
ব্যাখ্যা

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল: 
- বারমুডা ট্রায়াঙ্গল হলো আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিমাংশে ত্রিভুজাকৃতির একটি বিশেষ অঞ্চল।
- এর এক কোণে বারমুডা দ্বীপ আর অন্য দুই প্রান্তে মায়ামি বিচ ও পুয়ের্তে রিকোর সান জুয়ান।
- সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর পাঁচটি টিভিএম অ্যাভেঞ্জার উড়োজাহাজ এবং একটি উদ্ধারকারী উড়োজাহাজ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। সেই থেকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল রহস্য কথাটার চল। এরপরও বেশ কিছু জাহাজ ও উড়োজাহাজ সেখানে নিখোঁজ হয়েছে।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও প্রথম আলো।

৫,৯৬৬.
নিম্নের কোনটি দুর্যোগ প্রশমনের একটি কার্যক্রম?
  1. শস্য বহুমুখীকরণ
  2. মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ
  3. ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

প্রশমন (Mitigation)
- দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ,
- শস্য বহুমুখীকরণ,
- ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ,
- অর্থনৈতিক উন্নয়ন,
- শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ,
- কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর,
- প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯৬৭.
উত্তরাঞ্চলের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে কী নামে পরিচিত?
  1. গিরি
  2. মালভূমি
  3. টিলা
  4. উপত্যকা
ব্যাখ্যা

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
- এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।

উল্লেখ্য,
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৬৮.
এশিয়া ও ইউরোপকে বিভক্তকারী পর্বতমালা -
  1. পিরিনিজ
  2. ইউরাল
  3. কারাকোরাম
  4. অ্যাটলাস
ব্যাখ্যা
পর্বতমালা:
• এশিয়া ও ইউরোপের মাঝে ইউরাল পর্বত অবস্থিত।
- রাশিয়ায় অবস্থিত ইউরাল পর্বত এশিয়া ও ইউরোপকে পৃথক করেছে।
- ইউরাল পর্বত দ্বারা রাশিয়া ইউরোপীয় ও এশীয় অংশে বিভক্ত।
- ইউরাল পর্বতের দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াইহাজার কিলোমিটার।
 
তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৫,৯৬৯.
'Line of Control (LoC)' কোন দুটি দেশের সীমান্তবর্তী রেখা?
  1. ভারত ও চীন
  2. ভারত ও পাকিস্তান
  3. পাকিস্তান ও চীন
  4. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
নিয়ন্ত্রণ রেখা (Line of Control - LoC):
- LoC এর পূর্ণরূপ হলো "লাইন অফ কন্ট্রোল" (Line of Control)।
- LoC মূলত সেই রেখা যা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (POK) এবং ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ অঞ্চলের মধ্যে সীমারেখা চিহ্নিত করে।
- LoC কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সীমান্ত নয়, বরং এটি একটি বাস্তবিক (de facto) সীমান্ত, যা উভয় দেশের মধ্যে সামরিক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশ করে।
- এই রেখাটি প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

উল্লেখ্য,
- LoC-এর সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭-৪৮ সালে প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পরে প্রতিষ্ঠিত Ceasefire Line (CFL) থেকে।
- ১৯৪৯ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয় এবং করাচি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিতে বলা হয়: “জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে একটি পারস্পরিকভাবে সম্মত যুদ্ধবিরতির রেখা স্থাপন করা হবে যা ১ জানুয়ারি ১৯৪৯ থেকে কার্যকর হবে।”
- এরপর ১৯৭২ সালের ২ জুলাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও পাকিস্তানের জুলফিকার আলি ভুট্টো সিমলা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
- এই চুক্তির মাধ্যমে পূর্ববর্তী Ceasefire Line-এর পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) প্রতিষ্ঠিত হয়।

এছাড়া, আন্তর্জাতিক সীমারেখা:
- ম্যাকমোহন লাইন: ভারত ও চীন,
- ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি এবং ব্রিটানিকা।
৫,৯৭০.
তিতাস গ্যাসক্ষেত্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  2. ভোলা
  3. দিনাজপুর
  4. ফেনী
ব্যাখ্যা
তিতাস গ্যাসক্ষেত্র: 
- তিতাস গ্যাস ফিল্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের সদরে অবস্থিত।
- ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানী এ গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। 
- পেট্রোবাংলার সর্বশেষ পুনঃ অনুমান অনুসারে, তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের মোট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ৭,৩৪২.১০ বিলিয়ন ঘনফুট (BCF)।
- গ্যাস ক্ষেত্রটি হতে ১৯৬৮ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন হয়ে আসছে এবং মার্চ ৩১, ২০২৫ পর্যন্ত মোট মজুদের সর্বমোট ৫৫৬৮.৯৫০ বিলিয়ন ঘনফুট বা শতকরা ৭৩.৪৫% গ্যাস উৎপাদন করা হয়েছে।
- তিতাস ফিল্ডের মোট ২৭ (সাতাশ)টি কূপের মধ্যে ০৯ (নয়)টি কূপ ভার্টিক্যাল এবং অবশিষ্ট ১৮ (আঠারো)টি কূপ ডিরেকশনাল।
- এ ফিল্ড থেকে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে গ্যাসের উপজাত হিসেবে গড়ে দৈনিক ৩০২.৫২ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদিত হয়েছে।
- ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এ গ্যাস ক্ষেত্রের কনডেনসেট ও গ্যাসের গড় অনুপাত ০.৫৭৯ ব্যারেল/মিলিয়ন ঘনফুট এবং পানি ও গ্যাসের গড় অনুপাত ০.৮০৫ ব্যারেল/মিলিয়ন ঘনফুট । 

উৎস: বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস্ কোম্পানী লিমিটেড
৫,৯৭১.
আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয়-
  1. সাইক্লোন
  2. টাইফুন
  3. হ্যারিকেন
  4. টর্নেডো
ব্যাখ্যা

- আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় হ্যারিকেন।
- প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় টাইফুন।
- বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় সাইক্লোন।
- সাধারণত স্বল্প সময় নিয়ে স্বল্প এলাকায় টর্নেডো হয়ে থাকে। স্থলভাগে উচ্চচাপ সৃষ্টির কারণে টর্নেডো হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৫,৯৭২.
দুর্যোগ প্রশমন বলে-
  1. ক) দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাসকে
  2. খ) দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকে
  3. গ) পুনরুদ্ধারকে
  4. ঘ) ক ও খ উভয়কেই
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে। বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন, নদী খনন, শস্য বহুমুখীকরণ, মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ ইত্যাদি দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৫,৯৭৩.
ভোলা জেলায় কোন চরগুলো রয়েছে? 
  1. চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার
  2. চর শ্রীজনী ও চর শাহাবানী 
  3. চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি
  4. মুহুরীর চর ও নির্মল চর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের চরসমূহ:
- নদীর মাঝে বা মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে জেগে উঠা ভূখণ্ড চর নামে পরিচিত।
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি।
- নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন: দুবলার চর, পাটনি চর।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,৯৭৪.
মাদারীপুর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) গড়াই
  2. খ) করতোয়া
  3. গ) শীতলক্ষ্যা
  4. ঘ) আড়িয়াল খাঁ
ব্যাখ্যা
- মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
অন্যদিকে,
- শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নারায়নগঞ্জ এবং নরসিংদী জেলা অবস্থিত।
- গড়াই নদীর তীরে কুষ্টিয়া শহর অবস্থিত।
- আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে মাদারীপুর শহর অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৯৭৫.
পৃথিবীর গভীরতম স্থানের নাম কী?
  1. পুয়ের্তো রিকো
  2. সুন্দা ট্রেঞ্চ
  3. মারিয়ানা ট্রেঞ্চ
  4. এন্টার্কটিকা বেসিন
ব্যাখ্যা

প্রশান্ত মহাসাগর:
- পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর।
- এর সর্বোচ্চ গভীরতা ১০,৯২৮ মিটার এবং গড় গভীরতা ৪০৭৯ মিটার।
- প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন- ১৬ কোটি ৬০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- পৃথিবীর গভীরতম স্থান প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চ।
- এই স্থানের গভীরতা ১১০৩৩ মিটার বা ৩৬১৯৯ফুট।
- পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল-প্রাচীর 'গ্রেট বেরিয়ার রীফ' (Great Barrier Reef) প্রশান্ত মহাসাগরের অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপূর্ব উপকূলে অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- আটলান্টিক মহাসাগর ২য় বৃহত্তম মহাসাগর । এর গভীরতম স্থানের নাম ন্যায়ার্স (পোয়ের্তেরিকা)।
- উত্তর বা আর্কটিক মহাসাগর আয়তনে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর ও সর্বাপেক্ষা কম গভীর একটি মহাসাগর।
- ভারত মহাসাগরের গভীরতম স্থানের নাম সুন্দা ট্রেঞ্চ।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।

৫,৯৭৬.
আমাজন নদীর উৎস কোনটি?
  1. ব্রাজিলের গায়ানা হাইল্যান্ড
  2. বলিভিয়ার আলতিপ্লানো
  3. কলম্বিয়ার কর্ডিলেরা
  4. পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা
ব্যাখ্যা

আমাজন নদী:
- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী আমাজন নদী।
- আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য ৬৪০০ কি.মি।
- এটি দক্ষিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী।
- নদীটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশে অবস্থিত, পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে। 
- এই নদীটি - পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় উৎপন্ন হয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্ত হয়েছে।
- আমাজনের মূল স্রোতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্রাজিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৫,৯৭৭.
গ্রীষ্মকালীন মাসগুলোর মধ্যে কোন মাস সর্বাপেক্ষা বৃষ্টিবহুল?
  1. ক) এপ্রিল
  2. খ) মে
  3. গ) জুন
  4. ঘ) জুলাই
ব্যাখ্যা
মার্চ মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মকালীন মাসগুলোর মধ্যে মে মাস সর্বাপেক্ষা বৃষ্টিবহুল। গড়পড়তা প্রতি তিন দিনে এক দিন বৃষ্টি হয়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৫,৯৭৮.
মহীভাবক আলোড়নের ফলে নিম্নের কোনটি সৃষ্টি হয়?
  1. মরুভূমি
  2. সমুদ্র
  3. মালভূমি
  4. পাহাড় 
ব্যাখ্যা

• মহীভাবক আন্দোলন (Epeirogenic Movement)):
- মহীভাবক আন্দোলন মহাদেশসমূহের ভূ-পৃষ্ঠে লম্বভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করে মালভূমি, চ্যুতি, চ্যুতি ভৃগু তট, স্রস্ত উপত্যকা, স্তূপ পর্বত প্রভৃতি ভূমিরূপ তৈরি করে।
যেমন-
- পূর্ব আফ্রিকা ও জর্ডানের স্রস্ত উপত্যকাসমূহ,
- রাইন নদীর স্রস্ত উপত্যকা।
- এছাড়াও উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগরের দ্বীপসমূহ মহীভাবক আন্দোলনের ফলে ভূ-ভাগ নিমজ্জিত হয়ে গঠিত হয়েছে। 

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৭৯.
নাফাখুম ঝর্ণা কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) বান্দরবান
  4. ঘ) রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
- নাফাখুম ঝর্ণা : বান্দরবান
- জাদিপাই ঝর্ণা : বান্দরবান
- শুভলং ঝর্ণা : রাঙামাটি
- হিমছড়ি ঝর্ণা : কক্সবাজার
- খৈয়াছড়া ঝর্ণা : চট্টগ্রাম
- হামহাম ঝর্ণা : মৌলভীবাজার
- সীতাকুণ্ড ঝর্ণা : চট্টগ্রাম।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৫,৯৮০.
নিচের কোন দুটি দেশের মধ্যে পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত বিদ্যমান?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
  2. কাজাখস্তান ও রাশিয়া
  3. আর্জেন্টিনা ও চিলি
  4. চীন ও মঙ্গোলিয়া
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত:
- যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার স্থল সীমান্ত হলো পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত।
- যার দৈর্ঘ্য ৮৮৯৩ কিলোমিটার।

→ উল্লেখ্য:
- ২য় দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমারেখা কাজাখস্তান ও রাশিয়া, যার দৈর্ঘ্য ৭৬৪৪ কিলোমিটার।
- ৩য় দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমারেখা আর্জেন্টিনা ও চিলি, যার দৈর্ঘ্য ৬৬৯১ কিলোমিটার।
- ৪র্থ দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমারেখা চীন ও মঙ্গোলিয়া, যার দৈর্ঘ্য ৪৬৩০ কিলোমিটার।
- ৫ম দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমারেখা ভারত ও বাংলাদেশ, যার দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র - Statistica.com

৫,৯৮১.
ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত ভাগ করা যায়- 
  1. ৪ শ্রেণিতে
  2. ৫ শ্রেণিতে
  3. ৩ শ্রেণিতে
  4. ২ শ্রেণিতে
ব্যাখ্যা

- ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

• ভূপ্রকৃতি বাংলাদেশ:

- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ।
- গঙ্গা নদী পশ্চিম, ব্রহ্মপুত্র নদ উত্তর, সুরমা ও কুশিয়ারা নদী উত্তর-পূর্ব দিক থেকে সুবিশাল ব-দ্বীপের সৃষ্টি করেছে।
- স্থায়ী বসবাসের জন্য সমভূমিই আদর্শ।
- বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- বাংলাদেশে সামান্য পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে।
- ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ,
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯৮২.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন পর্যায়ে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি পুননির্মাণের মাধ্যমে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়?
  1. পুনরুদ্ধার
  2. প্রশমন
  3. সাড়াদান
  4. প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনাই হলো পুনরুদ্ধার।

অন্যদিকে,
দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম, নিরাপদ স্থানে অপসারণ, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাড়াদান পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাঠামোগত ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণই হলো প্রতিরোধ।
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস ও দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিই হলো প্রশমন।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৯৮৩.
'চর লরেন্স' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) নোয়াখালীতে
  2. খ) সুন্দরবনে
  3. গ) রাজশাহীতে
  4. ঘ) ভোলায়
ব্যাখ্যা
চর লরেন্স, চর শাহাবানী, চর শ্রীজনী, চর কাদিরা, চেঙ্গার চর নোয়াখালী জেলার হাতিয়ায় অবস্থিত।
৫,৯৮৪.
যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তা হলো-
  1. আয়ন বায়ু
  2. মৌসুমী বায়ু 
  3. প্রত্যয়ন বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা - 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু এবং 
• অনিয়মিত বায়ু। 

• নিয়ত বায়ু: 
যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
• অয়ন বায়ু, 
• পশ্চিমা বায়ু ও 
• মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৮৫.
নিচের কোনটি যমুনা নদীর শাখানদী?
  1. ধলেশ্বরী
  2. তিস্তা
  3. করতোয়া
  4. আত্রাই
ব্যাখ্যা
• যমুনা (Jamuna):
- ১৭৮৯ সালের ভূমিকম্পে ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের যে শাখাটি বের হয় সেটিই নদী যমুনা।
- যমুনা দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়।
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৮৬.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কোনটি?
  1. জলবায়ু পরিবর্তন
  2. প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি
  3. মেরু অঞ্চলের বরফ গলন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
জলবায়ু পরিবর্তন।
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
→ মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।
→ সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
→ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
→ রোগব্যাধি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৮৭.
সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়- 
  1. অয়ন বায়ু
  2. প্রত্যয়ন বায়ু
  3. নিয়ত বায়ু
  4. মৌসুমী বায়ু
ব্যাখ্যা

নিয়ত বায়ু- সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। 
-------------------------------------
• বায়ুপ্রবাহ:
- ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল বা অনুভূমিকভাবে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ুর চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
- বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রার পার্থক্য বায়ুচাপের ভিন্নতা সৃষ্টি করে।
- তাপমাত্রার পার্থক্য বায়ুপ্রবাহের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে।
- বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ বায়ুচাপের পার্থক্যের উপরও নির্ভরশীল।
- এটি পৃথিবীর পৃষ্ঠে তাপের সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- বায়ু তার তাপমাত্রা ও চাপের পার্থক্যের কারণে সর্বদা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়। 
- এই প্রবাহ কিছু বিশেষ নিয়ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তিত হয়।
- এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে বায়ুর গতিবেগ ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।
- এছাড়াও, ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী- ঘূর্ণায়মান পৃথিবীতে বায়ু সরাসরি উত্তর–দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।

- বায়ুপ্রবাহ সাধারণত চার প্রকার-
১. নিয়ত বায়ু;
২. সাময়িক বায়ু;
৩. স্থানীয় বায়ু;
৪. অনিয়মিত বায়ু। 
--------------------------------------------
নিয়ত বায়ু:
- এই বায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
- নিয়ত বায়ু পুরো বছরজুড়ে একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো নিয়ত বায়ুর দিক নির্ধারণ করে।
- এটি তিন ভাগে বিভক্ত-
১. অয়ন বায়ু,
২. পশ্চিমা বায়ু, 
৩. মেরু বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৮৮.
ডেড সি বা মৃত সাগর কোথায় অবস্থিত?
  1. ইরাক ও সিরিয়া
  2. জর্ডান ও ইসরায়েল
  3. ইরান ও কুয়েত
  4. তুরস্ক ও লেবানন
ব্যাখ্যা
ডেড সি:
- ডেড সি, যা লবণ সাগর নামেও পরিচিত।
- এটি একটি লবণাক্ত হ্রদ যা দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায়,
- জর্ডান এবং ইসরায়েল এর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে ৪৩০.৫ মিটার নিচে অবস্থিত,
- যা একে পৃথিবীর সবচেয়ে নিম্নভূমির স্থলভাগ হিসেবে পরিচিত।
- এর লবণাক্ততা সাধারণ সমুদ্রের চেয়ে প্রায় দশ গুণ বেশি।
- এই হ্রদের একটি প্রধান পানির উৎস হলো জর্ডান নদী,
- তবে এর কোনো প্রাকৃতিক নিষ্কাশন পথ নেই।
- ফলে এটি প্রধানত বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি হারায়।

উৎস: World atlas.
৫,৯৮৯.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ’সাড়াদান’ ধাপের কাজ কী?
  1. প্রশমন
  2. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  3. ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম
  4. দুর্যোগ প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
সাড়াদান (Response):
- সাড়াদান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ মাত্র।
- দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

পূর্বপ্রস্তুতি (Preparedness):
- দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগপূর্ব সময়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাসমূহকে বোঝায়।
- আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা ভূমিকা অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ প্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

পুনরুদ্ধার (Recovery):
- দুর্যোগে সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুননির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বোঝায়।
- এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তার প্রয়োজন হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, অষ্টম শ্রেণি।
৫,৯৯০.
বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেইনফরেস্ট কোনটি?
  1. অ্যামাজন রেইনফরেস্ট
  2. ব্ল্যাকফরেস্ট
  3. সুন্দরবন
  4. কঙ্গো রেইনফরেস্ট
ব্যাখ্যা
অ্যামাজন রেইনফরেস্ট:
- অ্যামাজন বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেইনফরেস্ট। 
- অ্যামাজন রেইনফরেস্ট একটি আর্দ্র ও চওড়া পাতার (Broadleaf) বনভূমি যা দক্ষিণ আমেরিকার অ্যামাজন অববাহিকার অধিকাংশ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।
- এই বনভূমির আয়তন প্রায় ২১,২৩,৫৬১.৮ বর্গমাইল, যা একে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রেইনফরেস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
- এই বনাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে অনেকগুলো নদী, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অ্যামাজন নদী।
- এখানে আনুমানিক ৩৯০ বিলিয়ন গাছ রয়েছে, যেগুলো ১৬,০০০ প্রজাতির মধ্যে বিভক্ত।
- এই বন প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর পুরনো, এবং ইওসিন যুগে (Eocene era) গঠিত হয়েছিল, যখন প্রাণিকুল ও উদ্ভিদজগতের বিবর্তন ও টিকে থাকার অনুকূল পরিবেশ ছিল।
- অ্যামাজন রেইনফরেস্ট শুধু জীববৈচিত্র্য নয়, বরং স্থানীয় ও আঞ্চলিক জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এই বনভূমি নয়টি দেশজুড়ে বিস্তৃত। 
- তবে এসব দেশের মধ্যে ব্রাজিলের অংশেই সবচেয়ে বড় পরিমাণ অ্যামাজনের বনাঞ্চল রয়েছে।

উৎস: World Atlas
৫,৯৯১.
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কোন দুর্যোগটির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে?
  1. ক) ভূমিধস
  2. খ) বজ্রপাত
  3. গ) খরা
  4. ঘ) টর্নেডাে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যু৷
-  এছাড়া ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে বাংলাদেশ৷ বাংলাদেশে বছরে এখন প্রায় তিনশ মানুষ বজ্রপাতে মারা যান৷ 
- এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে ৷
 
উৎস: ডয়েচে ভেলে।
৫,৯৯২.
দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে কত ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে ৩ ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো:-
১। পূর্ব প্রস্তুতি,
২। প্রতিরোধ এবং
৩। প্রশমন। 

• দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো:-
১। সাড়া প্রদান,
২। পুনরুদ্ধার এবং
৩।উন্নয়ন।  

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ২ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৯৩.
কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী দেশ কয়টি? 
  1. ৬টি
  2. ৫টি
  3. ৮টি
  4. ৪টি 
ব্যাখ্যা

• কৃষ্ণ সাগর:
- কৃষ্ণ সাগর পূর্ব ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
• কৃষ্ণ সাগরের তীরে মোট ৬টি দেশ অবস্থিত।
- তুরস্ক, বুলগেরিয়া, জর্জিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, রাশিয়া।
- ইউরোপ মহাদেশ, আনাতোলিয়া এবং ককেশাস পর্বতমালা দ্বারা আবদ্ধ।
- এবং ভূ-মধ্যসাগর হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে মিলেছে।
- এই সাগর ভূ-মধ্যসাগরের সাথে বসফরাস প্রণালি দ্বারা যুক্ত হয়েছে।
- এই প্রণালিটি সরু যার গড় গভীরতা ৭০০ মিটার এবং সর্বনিম্ন গভীরতা ৪০ মিটার।
- কৃষ্ণ সাগরের আয়তন প্রায় ৪.৩৬ বর্গকিলোমিটারG
- এবং গড় গভীরতা ১,৩১১ মিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৫,৯৯৪.
জার্মানি ও ফ্রান্সকে বিভক্তকারী সীমারেখা কোনটি?
  1. ক) সনোরা লাইন
  2. খ) সিগফ্রিড লাইন
  3. গ) ম্যাকনামারা লাইন
  4. ঘ) ডুরান্ড লাই
ব্যাখ্যা
সিগফ্রিড লাইন – জার্মানি ও ফ্রান্স

• সীমারেখা:

- সনোরা লাইন - যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।
- ওডারনিস লাইন – জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- ডুরান্ড লাইন - পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
- হিন্ডারবার্গ লাইন - জার্মানি ও পোল্যান্ডের।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫,৯৯৫.
ব্রহ্মপুত্র নদ কোন জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. কুষ্টিয়া
  3. রাজশাহী
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন নদীর প্রবেশ পথ:
- পদ্মা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- মেঘনা ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- যমুনা ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একাট শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- করতোয়া নদী পঞ্চগড় জেলার ভিটগড়ের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- মহানন্দা নদী পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে।
- কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- ফেনী নদী ফেনী জেলার পূর্ব সীমানা দিয়ে প্রবেশ করে সন্দ্বীপ প্রণালির উত্তরে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নাফ নদী বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমারের সীমানা নির্দেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৯৬.
চ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. প্রশান্ত মহাসাগর
  4. উত্তর মহাসাগর
ব্যাখ্যা
- চ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত একটি বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জ।
- অতীতে এটি মরিশাসের অংশ ছিলো। ১৯৬৫ সালে মরিশাসের স্বাধীনতার বিনিময়ে ব্রিটেন এটি জোরপূর্বক নিয়ে নেয়।
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের মতে চ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের অংশ।
- চ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ওশান টেরিটোরির অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের দিয়াগো গার্সিয়া নৌঘাটি অবস্থিত।
(তথ্যসূত্র: বিবিসি ওয়ার্ল্ড এবং ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৫,৯৯৭.
কোনটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদান কোনটি?
  1. পূর্বপ্রস্তুতি
  2. প্রশমন
  3. প্রতিরোধ
  4. উপরেরর সবকটি
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি।
যথা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ,
- দুর্যোগ প্রশমন এবং
- দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।

- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মুকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেঈ সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৯৮.
বাংলাদেশের বনাঞ্চলের পরিমাণ মোট ভূমির কত শতাংশ?
  1. ক) ১৯ শতাংশ
  2. খ) ১২ শতাংশ
  3. গ) ১৬ শতাংশ
  4. ঘ) ১৩ শতাংশ
ব্যাখ্যা
- একটি দেশের মোট আয়তনের ২০-২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- কিন্তু বাংলাদেশের এ সম্পদের পরিমাণ রয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ।
- বর্তমানে দেশের ৩৫টি জেলায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন বনভূমি রয়েছে।
- বন বিভাগ নিয়ন্ত্রণাধীন বনভূমির পরিমাণ ১,৮৮০,৪৯৩.৭৩ হেক্টর।
- দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ২,৫৭৫,১৯৬.০১ হেক্টর।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (নবম-দশম শ্রেণি), কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ : ২০২০।
৫,৯৯৯.
পৃথিবীর কোন দেশে ভূভাগের সর্বাধিক অংশ পাহাড় দ্বারা আচ্ছাদিত?
  1. ভুটান
  2. তাজিকিস্তান
  3. কিরগিজস্তান
  4. সুইজারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- বিশ্বে আয়তনের তুলনায় সবচেয়ে বেশি পাহাড়ে আচ্ছাদিত দেশ হলো ভুটান, এর প্রায় ৯৮.৮% ভূভাগ পাহাড়ি অঞ্চল। এটি পূর্ব হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এবং “Land of the Thunder Dragon” নামে পরিচিত।

সবচেয়ে বেশি পাহাড় আছে যে দেশে:
- পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি অঞ্চল ভুটানে।
- এর ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ পাহাড়ে আবৃত।
- তিব্বত ও ভারতের মধ্যে স্থলবেষ্টিত এই দেশ।
- পূর্ব হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই দেশটি ‘ল্যান্ড অফ দ্য থান্ডার ড্রাগন’ নামেও পরিচিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০,৭৬০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই দেশ।
- ভুটান বিশ্বের প্রথম কার্বন-নেতিবাচক দেশ হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে।

১। ভুটান – ৯৮.৮%
২। তাজিকিস্তান – ৯১.৯%
৩। কিরগিজস্তান – ৯০.৭%
৪। লেসোথো – ৯০.৫%
৫। মন্টেনেগ্রো – ৮৯.৩%
৬। আর্মেনিয়া – ৮৫.৯%
৭। উত্তর মেসিডোনিয়া – ৮৫.৫%
৮। সুইজারল্যান্ড – ৮৩.৬%
৯। লেবানন – ৮১.১%
১০। নেপাল – ৮০.৭%

সূত্র: Worldatlas.
৬,০০০.
‘সাগরকন্যা’ কোন স্থানের ভৌগলিক উপনাম?
  1. পটুয়াখালী
  2. নিঝুম দ্বীপ
  3. সেন্টমার্টিন
  4. মহেশখালী
ব্যাখ্যা
সাগরকন্যা:
- পটুয়াখালী জেলাকে বলা হয় সাগরকন্যা।
- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি।
- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা।
- একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।