বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ৭২ · ৫০১৬০০ / ৭,১৯১

৫০১.
বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর-
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) বেনাপোল
  3. গ) হিলি
  4. ঘ) asd
ব্যাখ্যা
- দেশের প্রধান ও বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল যশোর জেলায় অবস্থিত।
- ২য় বৃহত্তম স্থলবন্দর হলো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৫০২.
ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী সামুদ্রিক প্রণালী কোনটি?
  1. জিব্রাল্টার প্রণালী
  2. পক প্রণালী
  3. বেরিং প্রণালী
  4. ডোভার প্রণালী
ব্যাখ্যা
পক প্রণালী:

- পক প্রণালী ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী একটি সামুদ্রিক প্রণালী।
- এটি বঙ্গোপসাগর ও মান্নার উপসাগরকে একসঙ্গে যুক্ত করেছে।
- প্রণালীটি ৮৫ মাইল দীর্ঘ ।
-এই প্রণালীটি ৪০-৮৫ মাইল প্রশস্ত।
- জাফনা বন্দর, উত্তর শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক কেন্দ্র, এই প্রণালীতে অবস্থিত।
- ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গভর্নর রবার্ট পকের নামে এই প্রণালীর নামকরণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫০৩.
বাংলাদেশে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু নিয়মিত প্রবাহিত হয় কেন?
  1. বায়ুর গতিপথে পর্বতের অবস্থানের জন্য
  2. তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য
  3. চাপ বলয়ের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য
  4. নিরক্ষীয় নিম্ন ও উচ্চচাপ বলয়ের জন্য
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য বায়ু সর্বদা একস্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়।
- ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল বায়ু চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
- বায়ুপ্রবাহ সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৪.
নিচের কোনটি ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তন?
  1. ক) বায়ুপ্রবাহ
  2. খ) আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. গ) ভূকম্পন
  4. ঘ) পৃথিবীর অভ্যন্তরে সংকোচন
ব্যাখ্যা
ধীর পরিবর্তন :
ধীর পরিবর্তন হলো আকস্মিক পরিবর্তনের একেবারেই বিপরীত অবস্থা।
অনেকগুলো প্রাকৃতিক শক্তি যেমন— সূর্যতাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদী, হিমবাহ প্রভৃতি দ্বারা যে পরিবর্তন ধীরে ধীরে সংঘটিত হয় তাকে ধীর পরিবর্তন বলে।

আকস্মিক পরিবর্তন :
পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ এখনও উত্তপ্ত ও গলিত অবস্থায় রয়েছে। এসব উত্তপ্ত বস্তুর মধ্যে তাপ ও চাপের পার্থক্য হলে ভূত্বকে যে আলোড়ন ঘটে তাকে ভূআলোড়ন বলে। 
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূকম্পন, পৃথিবীর অভ্যন্তরের সংকোচন, ভূগর্ভের তাপ ও অন্যান্য প্রচণ্ড শক্তির ফলে ভূপৃষ্ঠে হঠাৎ যে পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকে আকস্মিক পরিবর্তন বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৫.
খুলনা, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে কোন সমভূমি গঠিত?
  1. স্রোতজ সমভূমি
  2. বন্যাপ্রবণ সমভূমি
  3. ব-দ্বীপ সমভূমি
  4. পাদদেশীয় সমভূমি
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড় এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র দেশ সাম্প্রতিককালের পলি দ্বারা গঠিত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- এই প্লাবন সমভূমির বয়স ১২,০০০ বছরের কম।
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা প্রভৃতি প্রধান নদীসহ অসংখ্য উপনদী এবং শাখানদী জালের ন্যায় সমগ্র দেশে ছড়িয়ে রয়েছে।
- নদীগুলো সমতল ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় প্রতি বছর বন্যার সৃষ্টি হয়।
- মাঝে মাঝে বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। বিস্তীর্ণ এ অঞ্চলের মাটি খুবই উর্বর এবং আবাদী।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি দেশের উত্তরাংশ থেকে ক্রমেই ঢালু হয়ে দক্ষিণে প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত।

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• পাদদেশীয় সমভূমি:
 হিমালয় পর্বত হতে বাহিত পলল দ্বারা গঠিত রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।

• বন্যাপ্রবণ সমভূমি:
 ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট জেলার বন্যাপ্রবণ সমভূমি।

• স্রোতজ সমভূমি:
খুলনা, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।

• উপকূলীয় সমভূমি:
নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি। 

• ব-দ্বীপ সমভূমি:
- ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৬.
মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) রংপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ এর কিছু গবেষণা কেন্দ্র এবং তাদের অবস্থান:
মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র - ময়মনসিংহ।
আলু গবেষণা ইনস্টিটিউট - রংপুর।
তাঁত গবেষণা বোর্ড - নরসিংদী।
পাট গবেষণা কেন্দ্র - ঢাকা।
তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউট - যশোর।
মসলা গবেষণা কেন্দ্র - বগুড়া।
নদী গবেষণা কেন্দ্র - ফরিদপুর।
রাবার গবেষণা বোর্ড - কক্সবাজার।
ডাল গবেষণা কেন্দ্র - ঈশ্বরদী, পাবনা।
রেশম গবেষণা কেন্দ্র - রাজশাহী।
ছাগল গবেষণা ইনস্টিটিউট - সিলেট।
হাঁস-মুরগী গবেষণা ইনস্টিটিউট - নারায়ণগঞ্জ।
কলা গবেষণা ইনস্টিটিউট - রামপাল, বাগেরহাট।
চামড়া গবেষণা ইনস্টিটিউট - হাজারীবাগ, ঢাকা।
বন গবেষণা কেন্দ্র - চট্টগ্রাম।
ইলিশ মাছ ও নদীর মাছ গবেষণা কেন্দ্র - চাঁদপুর।
ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট - জয়দেবপুর, গাজীপুর।
চা গবেষণা কেন্দ্র - শ্রীমঙ্গল, সিলেট।
তামাক গবেষণা ইনস্টিটিউট - রংপুর।
গম গবেষণা কেন্দ্র - দিনাজপুর।
আম গবেষণা কেন্দ্র - চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫০৭.
বৈকাল হ্রদ কোন দেশে অবস্থিত?
  1. মিশর
  2. কানাডা
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
বৈকাল হ্রদ:
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক জলরাশিকে হ্রদ (Lake) বলে।
- বৈকাল হ্রদ অবস্থিত - রাশিয়া।
এছাড়াও -
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ অবস্থিত - আফ্রিকায়।
- সুপিরিয়র হ্রদ অবস্থিত - যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৮.
লন্ডনের গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর মূল মধ্যরেখার মান -
  1. ০°
  2. ২৩.৫°
  3. ১৮০°
  4. ৩৬০°
ব্যাখ্যা
 গ্রিনিচ মানমন্দির:
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা ০° দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘন্টা, অর্থাৎ বাংলাদেশের সময় ৬ ঘন্টা আগে।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৯.
ব্রহ্মপুত্র কোথায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?
  1. ক) লালমনিরহাট
  2. খ) ভুরুঙ্গামারী
  3. গ) নীলফামারী
  4. ঘ) কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র নদ:

- কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরপূর্ব দিক এবং আসামের (ভারত) ভবানীপুরের পূর্ব দিক দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- প্রথমে দক্ষিণ দিকে এবং পরবর্তীতে দক্ষিণপূর্ব দিকে মোড় নিয়ে মধুপুর গড়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরব বাজারের কাছে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিতভাবে ব্রহ্মপুত্র নদ বঙ্গীয় বদ্বীপ গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে চলেছে। দেশের প্রধান নদনদীর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা সর্বাধিক শক্তিশালী। - গঙ্গা নদীর তুলনায় ক্ষুদ্রতর নিষ্কাশন অববাহিকা থাকা সত্ত্বেও ব্রহ্মপুত্র-যমুনার রয়েছে অধিকতর নতিমাত্রা, অধিকতর প্রবাহ এবং গঙ্গার তুলনায় এটি অধিকতর পলি বহন ও ধারণ করে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫১০.
কীভাবে নবায়যোগ্য সম্পদ বৃদ্ধি করা যায়?
  1. উত্তর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে
  2. সংরক্ষণের মাধ্যমে
  3. কর্তব্যপরায়ণ হয়ে
  4. জীবনাচরণের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• সম্পদ সংরক্ষণর উপায়:
→ সম্পদ সংক্ষেণের অর্থ প্রাকৃতিক সম্পদের এমন ব্যবহার, যাতে ঐ সম্পদ যথাসম্ভব অধিকসংখ্যক লোকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী সর্বাধিক মঙ্গল নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়।
→ সংরক্ষণ ধারণার অপর নাম জীবনাচরণ। শিক্ষা, মানবিক বৃত্তি, সত্যাচরণ, ন্যায়বিধান, সত্যানুসন্ধান, কর্তব্যপরায়ণতা বা প্রকৃতির প্রতি ভলোবাসার অপর নাম সংরক্ষণ।
→ অর্থনীতিবিদদের মতে, সম্পদ অসীম নয়, সসীম। তাই সম্পদ ব্যবহারের উত্তর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।
→ উত্তর ব্যবস্তপনার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য সম্পদের বৃদ্ধি সম্ভবপর। পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনাই উত্তর ব্যবস্থাপনা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১১.
The country with highest population density is:
  1. ক) China
  2. খ) Japan
  3. গ) Monaco
  4. ঘ) Bangladesh
  5. ঙ) India
ব্যাখ্যা
ঘনবসতিপূর্ণ দেশ:

- বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট ২০২৩ অনুযায়ী পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ মোনাকো।
- অপশনে মেকাও না থাকায় সঠিক উত্তর হবে- মোনাকো।
- দেশটির জনসংখ্যার ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বসবাসকারী লোকসংখ্যা ১৮,১৪৯ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম - গ্রীন্ডল্যান্ডে।
- পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ১০ দেশ: মেকাও, মোনাকো, সিঙ্গাপুর, হংকং, জিব্রাল্টার, বাহরাইন, মালদ্বীপ, মাল্টা, বাংলাদেশ, সিন্ট মার্টেন।

এছাড়াও,
- চীনের সীমানার ভেতরে স্বায়ত্ত্বশাসিত একটি এলাকা ম্যাকাও৷ ১৯ বছর আগে চীনের কাছে এই পর্তুগিজ উপনিবেশটি হস্তান্তরিত হয়। এর আয়তন ১১ দশমিক ৮ বর্গমাইল৷ এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২২ হাজার ৪’শ ৭৭ জন ৷ মাকাও-এর অসংখ্য ক্যাসিনো আকর্ষণ করে ট্যুরিস্টদের৷ এটিকে এশিয়া মহাদেশের ’লাস ভেগাস’ ও বলা হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট ২০২৩ এবং বিজনেস ইনসাইডার পত্রিকা রিপোর্ট।
৫১২.
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রম করে পূর্ব দিকে গেলে সময় কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
  1. ২৪ ঘণ্টা কমে
  2. ১২ ঘণ্টা কমে 
  3. ১২ ঘণ্টা বাড়ে
  4. কোনো পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line): 
- দ্রাঘিমারেখার নিয়মানুসারে মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে অগ্রসর হলে প্রতি ১দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময়ের ব্যবধান হয়।
- আমরা জানি ০° দ্রাঘিমার ঠিক উল্টো দিকে ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা।
- আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line—IDL) হলো উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত একটি কাল্পনিক রেখা, যা ক্যালেন্ডারের “এক দিন” এবং “পরের দিন”-কে আলাদা করে।
- এটি সাধারণভাবে ১৮০° দ্রাঘিমারেখার কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে গেছে, তবে দেশ/দ্বীপকে একদিনে রাখার সুবিধার জন্য কিছু জায়গায় পূর্ব-পশ্চিমে বাঁক নিয়েছে।
- কেউ যদি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রম করে পূর্ব দিকে (eastbound) যায়, তাহলে তাকে ক্যালেন্ডার থেকে ১ দিন কমাতে হয়—অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা কমে।
- আর কেউ যদি পশ্চিম দিকে (westbound) যায়, তাহলে তাকে ক্যালেন্ডারে ১ দিন যোগ করতে হয়—অর্থাৎ তারিখ একদিন এগিয়ে যায়।

উৎস:
১। ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
২। Time and date ওয়েবসাইট। 

৫১৩.
ব্রহ্মপুত্র নদ মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে কোথায়?
  1. চাঁদপুর
  2. গোয়ালন্দ
  3. ভৈরব বাজার
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদ:
- হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ।
- এরপর এটি তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।

উল্লেখ্য,
- ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা যমুনা নামে পরিচিত।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৫১৪.
বায়ুর চাপ বলয়ের উৎপত্তি হয়-
  1. ক) কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে
  2. খ) উষ্ণতা ও জলীয়বাষ্পের তারতম্যের প্রভাবে
  3. গ) পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
উষ্ণতা ও জলীয়বাষ্পের তারতম্য এবং পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে বায়ুর চাপ বলয়ের উৎপত্তি হয়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৫১৫.
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গঙ্গা নদীর একমাত্র উপনদী কোনটি?
  1. ক) মহানন্দা
  2. খ) আত্রাই
  3. গ) করতোয়া
  4. ঘ) ধরলা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গঙ্গা নদীর সমগ্র প্রবাহপথই 'পদ্মা' নামে বহুল পরিচিত, যদিও তা সঠিক নয়। বাংলাদেশে এর উপনদী কেবল একটি যা মহানন্দা নামে পরিচিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৫১৬.
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশের কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
  1. রংপুর
  2. বগুড়া
  3. ঠাকুরগাঁও
  4. সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা
• গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়া:
- বিশ্বে অতিরিক্ত শিল্পায়নের কারণে গ্রিনহাউস প্রুতিক্রিয়ার ফলো আমাদের দেশের সমদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালি জেলার অনেক অংশ সমুদ্রের জলমগ্ন হয়ে পড়বে।
- এছাড়া ভূনিম্নস্থ পানিতে লোনা পানি প্রবেশ করছে।
- ফলে স্বাভাবিক উদ্ভিদ জন্মানোর পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৭.
বাব-এল-মান্দেব প্রণালী কোন দুটি স্থলভাগের মাঝে অবস্থিত?
  1. সৌদি আরব ও ইরান
  2. সোমালিয়া ও ওমান
  3. সুদান ও সৌদি আরব
  4. ইয়েমেন ও জিবুতি
ব্যাখ্যা
বাব এল-মান্দেব প্রণালী:
-বাব এল-মান্দেব প্রণালী আরব এবং আফ্রিকা (দক্ষিণ-পশ্চিম) মধ্যবর্তী প্রণালী।
- ইয়েমেন ও জিবুতি/ইরিত্রিয়া দুটি স্থলভাগের মাঝে অবস্থিত।
- এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগর (দক্ষিণ-পূর্ব) এর সাথে সংযুক্ত করে।
- এশিয়া-আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে বাব এল-মান্দেব প্রণালী।
- প্রণালীটি ৩২ কিমি প্রশস্ত এবং পেরিম দ্বীপ দ্বারা দুটি চ্যানেলে বিভক্ত। পশ্চিম চ্যানেলটি ২৬কিমি জুড়ে এবং পূর্ব দিকে ৩ কিমি প্রশস্ত।
- প্রণালীটির আরবি নামের অর্থ 'কান্নার দ্বার'।

উৎস: Britannica.com
৫১৮.
আফ্রিকার কিলিমাঞ্জারো কোন জাতীয় পর্বত?
  1. ভঙ্গিল
  2. ক্ষয়জাত
  3. আগ্নেয়
  4. চ্যুতি-স্তূপ
ব্যাখ্যা
- আফ্রিকা মহাদেশের কিলিমাঞ্জারো, জাপানের ফুজিয়ামা, ইতালির ভিসুভিয়াস, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মওনালোয়া ও মওনাকেয়া হলো আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ।
- ভূঅভ্যন্তরস্থ ম্যাগমা লাভা হিসেবে অগ্ন্যুৎপাতের জন্যে উদগিরিত হয়ে জমাটবদ্ধ হয়ে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি করে।
(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল)
৫১৯.
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পরিচিত মানচিত্রটি কোন নগরীর?
  1. চীনের 
  2. এথেন্সের
  3. ব্যাবিলনের 
  4. ইরানের
ব্যাখ্যা

প্রাচীনতম মানচিত্র:
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পরিচিত মানচিত্রটি প্রাচীন Babylon নগরীর, যা বর্তমান ইরাক–সিরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত ছিল।
- এই মানচিত্রটির নাম ইমাগো মুন্ডি (Imago Mundi)।
- এটি আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে, অর্থাৎ যিশু খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ছয় শতাব্দী আগে নির্মিত হয়।
- মানচিত্রটি হাতে আঁকা কাগজের ছিল না।
- বরং এটি পোড়ামাটির একটি ফলকের ওপর খোদাই করা ছিল।
- যদিও একে পৃথিবীর প্রাচীনতম মানচিত্র বলা হয়, বাস্তবে এটি সমগ্র পৃথিবীর নয়—মূলত ব্যাবিলন নগরী ও তার আশপাশের এলাকার চিত্রই এতে উপস্থাপিত হয়েছে।

- এই ব্যাবিলনীয় মানচিত্রটি ছিল বৃত্তাকার আকৃতির।
- এতে ব্যাবিলনকে কেন্দ্রস্থলে দেখানো হয়েছে এবং Euphrates River নদীকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- এতে চারপাশের বিশ্বকে একটি বৃত্তাকার সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত রূপে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা প্রাচীন মানুষের ভৌগোলিক ধারণাকে প্রতিফলিত করে।

উৎস: দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা [লিঙ্ক]। 

৫২০.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়?
  1. ক) ভূমিকম্প
  2. খ) অগ্ন্যুৎপাত
  3. গ) বায়ুদূষণ
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বিপর্যয় মানেই দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের আশঙ্কা বা সম্ভাবনা মাত্র। যে বিপর্যয়ে মানুষের কোনো হাত নেই তাকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে। যেমন- ভূমিকম্প, কালবৈশাখী ঝড়, অগ্নুৎপাত ইত্যাদি। আর মানবসৃষ্ট বিপর্যয় হচ্ছে- যুদ্ধ, বায়ুদূষণ, রাসায়নিক বিক্রিয়া ইত্যাদি।
৫২১.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপটি প্রবাল দ্বীপ নামে খ্যাত?
  1. কুতুবদিয়া
  2. হাতিয়া
  3. সেন্টমার্টিন
  4. নিঝুম দ্বীপ
ব্যাখ্যা
- দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হলো- সেন্টমার্টিন।
- সেন্টমার্টিনের অপন নাম- নারিকেল জিঞ্জিরা।
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ হলো মহেশখালী।
- কুতুবদিয়া দ্বীপে বাতিঘর রয়েছে।
- সন্দ্বীপে প্রাচীনকালে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ হতো।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন
৫২২.
কপ-২১ অনুষ্ঠিত হয় -
  1. ক) প্যারিসে
  2. খ) কিয়োটাতে
  3. গ) জেনেভাতে
  4. ঘ) নাইরোবিতে
ব্যাখ্যা
২০১৫ সালে প্যারিসে ২১ তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ-২১) ১৯৫ টি দেশের ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্যারিস চুক্তি শীর্ষক একটি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক চুক্তি গৃহীত হয়।
উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।
৫২৩.
ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত চুক্তি কবে সাক্ষরিত হয়?
  1. ক) ১৬ মে, ১৯৭৪
  2. খ) ১৬ মার্চ, ১৯৭৪
  3. গ) ১৬ জুন, ১৯৭৪
  4. ঘ) ১৬ জুলাই, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি (ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি) প্রথম স্বাক্ষরিত হয় ১৬ মে, ১৯৭৪ সালে। বাংলাদেশ অনুমোদন করে ১৯৭৪ সালে কিন্তু ভারত তখন অনুমোদন করেনি‌।
৬ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হয় এবং ৭ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় সংসদের লোকসভায় বিলটি পাস হয়।
চুক্তিটি কার্যকর হয় ১ আগস্ট ২০১৫ সালে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিট মহল বিনিময় হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫২৪.
এডাম’স পিক কোন দেশে অবস্থিত? 
  1. ভারত 
  2. নেপাল
  3. থাইল্যান্ড
  4. শ্রীলংকা 
ব্যাখ্যা

- এডাম’স পিক শ্রীলংকায় অবস্থিত।

শ্রীলংকা: 
- দাপ্তরিক নাম: ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক অফ শ্রীলংকা।
- পূর্ব নাম: সিলন- ১৯৭২ সালে "শ্রীলংকা" নাম গ্রহণ করে।
- প্রশাসনিক রাজধানী: শ্রী জয়বর্ধনপুর কোট্টে।
- বাণিজ্যিক রাজধানী: কলম্বো।
- ভাষা: সিংহলি ও তামিল (দুটি রাষ্ট্রভাষা), 
- ধর্ম: বৌদ্ধ প্রধান ধর্ম।
- মুদ্রা: শ্রীলংকান রুপি (LKR)।
- ভৌগোলিক অবস্থান: ভারত মহাসাগরে, দক্ষিণ এশিয়ায়, ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের নিকটে।
- সংবিধান: ১৯৭৮ সালে বর্তমান সংবিধান গৃহীত।
- আইনসভা: এককক্ষবিশিষ্ট সংসদ (Unicameral Parliament)
- প্রশাসনিক বিভাগ: ৯টি প্রদেশ ও ২৫টি জেলা।
- এডাম’স পিক হলো শ্রীলংকার একটি পবিত্র পাহাড়,
- অবস্থান: শ্রীলংকার কেন্দ্র-পশ্চিম অংশে, সবারাগামুওয়া প্রদেশে (Sabaragamuwa Province)
- এটি শ্রীলংকার অন্যতম বিখ্যাত ও পবিত্র পর্বত শৃঙ্গ।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৫২৫.
বাংলাদেশের উষ্ণতম ও শীতলতম মাস - 
  1. জানুয়ারি ও এপ্রিল 
  2. মার্চ ও ডিসেম্বর
  3. এপ্রিল ও জানুয়ারি
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের উষ্ণতম ও শীতলতম স্থান:
- উষ্ণতম স্থান: নাটোর জেলার লালপুর।
- শীতলতম স্থান: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল।
- উষ্ণতম মাস: এপ্রিল।
- শীতলতম মাস: জানুয়ারি।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫২৬.
সাঙ্গু ভ্যালী কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) রাঙ্গামাটি
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
সাঙ্গু ভ্যালি অবস্থিত - চট্টগ্রাম।

অন্যদিকে,
- হালদা ভ্যালি : খাগড়াছড়ি
- সাজেক ভ্যালি : রাঙামাটি
- বালিশিরা ভ্যালি : মৌলভীবাজার।
- ভেঙ্গি ভ্যালি - রাঙামাটি 
- নাপিত খালি ভ্যালি - কক্সবাজার

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫২৭.
অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে ঘূর্ণিঝড়কে কী নামে ডাকা হয়?
  1. হারিকেন
  2. টাইফুন
  3. উইলি উইলিছ
  4. বাগুই
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়: 
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড় (Anti-cyclone)।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- সাধারণত মার্চ ও নভেম্বর মাসে আমাদের দেশে প্রায় প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

• সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত। যেমন-
- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
- ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন,
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই,
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলিছ,
- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৮.
Radcliffe line is a boundary line between_____.
  1. ক) India and Bangladesh
  2. খ) India and China
  3. গ) India and Pakistan
  4. ঘ) India and Nepal
ব্যাখ্যা
• ব্রিটিশ সরকার ১৯৪৭ সালে ভারত শাসন আইনের অধীনে সিরিল জন র‌্যাডক্লিফকে ভারতে দুটি সীমানা নির্ধারণকারী কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে।
- কমিশন দুটি হলো ‘বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন’ এবং ‘পাঞ্জাব বাউন্ডারি কমিশন’।

- ১৯৪৭ সালের ৩ জুন র‌্যাডক্লিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন এবং ৮ জুলাই ভারত আসেন।
- তিনি ভারত বিভাগ, নতুন দুটি রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের মানচিত্র এবং আন্তর্জাতিক সীমা নির্দেশ করে তাঁর রিপোর্ট পেশ করেন।
- তাঁর পরিকল্পনা ভারতের ইতিহাসে র‌্যাডক্লিফ রোয়েদাদ হিসেবে পরিচিত।
 
- তাঁর প্রস্তাবনায় ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হয়ে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫২৯.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কোনটি?
  1. নতুন সড়কপথ সৃষ্টি
  2. মহাশুন্যে অভিযান
  3. সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন
  4. সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
→ জলবায়ু পরিবর্তন।
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
→ মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।
সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন
→ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
→ রোগব্যাধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো:-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
২. যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
৩. যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
৪. বিকল্প জ্বালানি যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, পারমানবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা;
৫. প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
৬. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
৭. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩০.
'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' কী?
  1. ক) বদ্বীপ
  2. খ) প্রতিবাত ঢাল
  3. গ) গিরিখাত
  4. ঘ) নৌঘাঁটি
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground):
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো। মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে। বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
- সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডটি বঙ্গোপসাগরের ১৪ কিলোমিটার প্রশস্ত গভীর সমুদ্রের উপত্যকা। এই উপত্যকার গভীরতম রেকর্ড করা অঞ্চলটি প্রায় ১৩৫০ মি।
- সাবমেরিন উপত্যকাটি বেঙ্গল ফ্যান বা বঙ্গ পাখার অংশ, বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন পাখা।
- 'বেঙ্গল ফ্যান' ভূমি রূপটি পাওয়া যায় বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৫৩১.
বাংলাদেশ কোন ধরনের জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?  
  1. ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় জলবায়ু
  2. উপক্রান্তীয় জলবায়ু
  3. নিরক্ষীয় জলবায়ু
  4. ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। 

• বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
- বাংলাদেশের জলবায়ু "ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু" নামে পরিচিত।
- এটি মূলত কর্কটক্রান্তি রেখা দ্বারা মধ্যভাগে অতিক্রমিত হওয়ার কারণে এবং মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাবে গঠিত হয়।
- ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মৌসুমী স্রোত এদেশের দক্ষিণ-প্রান্তবর্তী বঙ্গোপসাগর দিয়ে অতিক্রম করে এখানে।
- মৌসুমি বায়ুর কারণে এখানে তিনটি প্রধান ঋতু দেখা যায়: গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শীতকাল।
- শুষ্ক ও আরামদায়ক শীতকাল এবং উষ্ণ ও আদ্রগ্রীষ্মকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ঠ্য।
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
- তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
- এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং এটি বছরের উষ্ণতম মাস।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩২.
Which of the following district of Bangladesh does not have the expansion of 'Sal Forest'?
  1. Tangail
  2. Jamalpur
  3. Cumilla
  4. Rangamati
  5. Dinajpur
ব্যাখ্যা
শালবন:
- শাল একটি বহুবর্ষজীবী পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ।
- শালবন এক ধরনের বনভূমি যেখানে শালগাছ মুখ্য উদ্ভিদ প্রজাতি।
- বনের শ্রেণীবিন্যাসে শালবনকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র পত্রঝরা বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- শালগাছের উচ্চতা হয় ২৫ মিটার পর্যন্ত এবং পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ হওয়ায় শীতকালে বেশির ভাগ গাছের পাতা ঝরে যায়।
- তারপর বসন্তে পাতা ও ফুলের সমারোহে ভরে ওঠে শালবন।
- গড়ন ও আকৃতির কারণে শালগাছের পাতা আলাদাভাবেই চেনা যায়। 

⇒ ভারতেই এই শ্রেণীর বনভূমি প্রায় ১৩০ লক্ষ হেক্টর জায়গা দখল করে আছে।
- বাংলাদেশ এবং নেপালে রয়েছে মোট ১০ লক্ষ হেক্টরের বেশি স্থান জুড়ে এ ধরনের বনভূমি।

⇒ বাংলাদেশে মোট শালবন এলাকা প্রায় ১,২১,০০০ হেক্টর অর্থাৎ দেশের বনভূমির শতকরা প্রায় ৩২ ভাগ।
- শালবন দেশের মাত্র কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো।
- বেশির ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- এ ছাড়া কুমিল্লা জেলায় এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জামালপুর, রংপুর ও রাজশাহী জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে শালবন দেখা যায়।
- এ বনাঞ্চল ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গড় নামে পরিচিত।
- ‘মধুপুর গড়’ নামেই এটি সুপরিচিত।

⇒ ভাল জাতের শালকাঠ বাড়িঘর তৈরি, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, নৌকা ও রেলের স্লিপার তৈরি এবং অন্যান্য নির্মাণ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- শালগাছের কাণ্ড ‘শাল দামার’, ‘রাল’ বা ‘ধুম’ নামে পরিচিত এক ধরনের সুগন্ধি আঠার উৎস।
- এই আঠা নৌকার ছিদ্র বন্ধ করতে, কার্বন পেপার, টাইপ করার যন্ত্রের ফিতা, বার্নিশ এবং রং তৈরির উপাদান হিসেবে কাজে লাগে।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাপিডিয়া। 
৫৩৩.
'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' কী নামে পরিচিত?
  1. গিরি খাদ
  2. বেঙ্গল ফ্যান
  3. গঙ্গা খাদ
  4. উমা খাদ
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground):

- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বেঙ্গল ফ্যান ভূমিরূপটি পাওয়া যায় বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডটি বঙ্গোপসাগরের ১৪ কিলোমিটার প্রশস্ত গভীর সমুদ্রের উপত্যকা।
- এই উপত্যকার গভীরতম রেকর্ড করা অঞ্চলটি প্রায় ১৩৫০ মিটার।
- সাবমেরিন উপত্যকাটি বেঙ্গল ফ্যান বা বঙ্গ পাখার অংশ, বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন পাখা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫৩৪.
বাংলাদেশের সর্বাধিক আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা -
  1. চাঁদপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. বরিশাল
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
আর্সেনিক:
- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic)।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হলো ০.০১ মিলিগ্রাম। তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে।
- বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম।

উল্লেখ্য,
- চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।
- ১৯৯৩ সালে চাপাইনবাবগঞ্জে দেশে প্রথম নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি চিহ্নিত হয়।

উৎস: i) ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
ii) কালের কন্ঠ।

৫৩৫.
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ বিন্দু-
  1. মাউন্ট হিলাবি
  2. বেন্টলে সাবগ্লাসিয়াল
  3. ভিনসন ম্যাসিফ
  4. কিলিমানজারো
ব্যাখ্যা
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ: 
-  দক্ষিণ গোলার্ধে, দক্ষিণ মেরু ঘিরে অবস্থিত। 
-  প্রায় ১৪ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার (দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে বড়)।
-  বরফে আবৃত পর্বতমালা, মালভূমি, হিমবাহ এবং বরফস্তর।
- পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল, শুষ্ক এবং বায়ুমণ্ডলহীন মহাদেশ; তাপমাত্রা -১০°C থেকে -৮০°C পর্যন্ত।
- স্থলজ প্রাণী খুবই কম; তবে কিছু পাখি (যেমন: পেঙ্গুইন), সিল, মাছ এবং সমুদ্রজীব রয়েছে।
- ৭০টিরও বেশি গবেষণা কেন্দ্র পরিচালনা করে।
- বৈশ্বিক জলবায়ু ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে;
- পৃথিবীর ৭০% মিঠা জল এখানে বরফরূপে সংরক্ষিত।
- সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্ত (উশুয়া, আর্জেন্টিনা) থেকে নৌপথে প্রবেশ
- এটি একমাত্র মহাদেশ যেখানে কোনো দেশ নেই এবং শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ব্যবহৃত।
- অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ভিনসন ম্যাসিফ।

অন্যদিকে,
- মাউন্ট হিলাবি, বার্বাডোসের সর্বোচ্চ বিন্দু।
- এটি আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
- স্থলভাগের সর্বনিম্ন বিন্দু: বেন্টলে সাবগ্লাসিয়াল ট্রেঞ্চ।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫৩৬.
ভূ-পৃষ্ঠ হতে কত কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডল বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে?
  1. ক) ৭০ কিলোমিটার
  2. খ) ৮০ কিলোমিটার
  3. গ) ৯০ কিলোমিটার
  4. ঘ) ১০০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
• সমমন্ডল ও বিষমমন্ডল:
- সমমন্ডল বা হোমোস্ফিয়ার এর বৈশিষ্ট্য হলো যে এই মন্ডলে ভূ-পৃষ্ঠ হতে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুস্তরে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত প্রায় সমান থাকে।
- এই সমমন্ডলের মধ্যেই বায়ুমন্ডলের প্রথম তিনটি স্তর অর্থাৎ
ট্রপোমন্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডল অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৭.
কত সালে সেন্টমার্টিনকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ১৯৯৭ সালে
  2. ১৯৯৮ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
সেন্ট মার্টিন মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া:
- সমুদ্র সম্পদের টেকসই আহরণের লক্ষে বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে ২০২২ সালে ‘সেন্ট মার্টিন মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া’ ঘোষণা করেছে সরকার।

⇒ বৈশ্বিকভাবে হুমকির মুখে থাকা প্রবাল, গোলাপী ডলফিন, হাঙ্গর, রে মাছ, সামুদ্রিক কাছিম, সামুদ্রিক পাখি, সামুদ্রিক ঘাস, সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র্য এবং এদের আবাসস্থল সংরক্ষণ; সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই আহরণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার মানোন্নয়ন; ব্লু ইকোনমি সমৃদ্ধকরণ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-১৪) অর্জনের লক্ষ্যে এই সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে সাগরের বুকে ৮ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ছোট্ট প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন।
- এ দ্বীপ সামুদ্রিক কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্র। এছাড়া এখানে ৬৮ প্রজাতির প্রবাল, ১৫১ প্রজাতির শৈবাল, ১৯১ প্রজাতির মোলাস্ট বা কড়ি জাতীয় প্রাণী, ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৩৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, পাঁচ প্রজাতির ডলফিন, চার প্রজাতির উভচর প্রাণী, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১৭৫ প্রজাতির উদ্ভিদ, দুই প্রজাতির বাদুড়সহ নানা প্রজাতির প্রাণীর বসবাস ছিল এককালে।

এছাড়াও,
- জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনের ৫৯০ হেক্টর এলাকাকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করেছিল সরকার।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলা ট্রিবিউন।
৫৩৮.
আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে কোনটি?
  1. সুয়েজ খাল
  2. হরমুজ প্রণালী
  3. পানামা খাল
  4. মালাক্কা প্রণালী
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- বিশ্ব বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- পানামা প্রজাতন্ত্রের বুক চিরে বয়ে চলা কৃত্রিম খালটি জাহাজ চলাচলের জন্য ১৯০৪ সালে খনন করা হয় যেটি বিশ্ববাসীর কাছে পানামা খাল হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
- ১৯০৪ সালে এর খনন কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৪ সালে সমাপ্ত হয়।
- পানামা খালের দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৯০ মিটার পর্যন্ত।
- তবে গভীর জলভাগ থেকে এর দৈর্ঘ্য হিসেব করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৮২ কিলোমিটার।
- গভীরতা স্থানভেদে ৪৬ থেকে ৮৫ ফুট।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ কে পৃথক করেছে।
- এই খাল নির্মাণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পুর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজ গুলোর পথ প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার হ্রাস পেয়েছে।

তথ্যসূত্র - এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৫৩৯.
নিচের কোনটি গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার সম্ভাব্য ফলাফল?
  1. ক) সমুদ্র স্তরের উচ্চতা হ্রাস
  2. খ) সমুদ্র স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি
  3. গ) নদী নাব্যতা কমে যাওয়া
  4. ঘ) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সমূহ জলমগ্ন হবে।
• ফলাফল স্বরূপ এই অঞ্চলের মানুষদের বৃহৎ অংশ উস্বাস্তুতে পরিণত হবে।
• বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলেও জনসংখ্যার আধিক্য থাকায় এই উদ্বাস্তু সমস্যার আশু সমাধান সম্ভব হবে না। ফলস্বরূপ এটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় রূপ নেবে।    

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা। 
৫৪০.
দুটি প্রাচীন নদীর নাম-
  1. সুরমা, কর্ণফুলী
  2. রেবা, বেত্রবতী
  3. বুড়িগঙ্গা, মহানন্দা
  4. পদ্মা, মেঘনা
ব্যাখ্যা
• অপশনে উল্লেখিত নদীগুলোর মধ্যে রেবা ও বেত্রবতী নদী সবচেয়ে প্রাচীন।

রেবা নদী:
- রেবা নদী মূলত নর্মদা নদীর আরেকটি নাম।
- নর্মদা নদী , মধ্য ভারতের নদী যা সবসময় আরব সাগর এবং গঙ্গা (গঙ্গা) নদী উপত্যকার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
- দ্বিতীয় শতাব্দীর গ্রীক ভূগোলবিদ টলেমি নদীটিকে নামদে নামে অভিহিত করেছিলেন।
- এই নদী ভারতের অন্যতম পবিত্র এবং প্রাচীন নদী, যা মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাট রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আরব সাগরে পতিত হয়েছে।

বেত্রবতী নদী:
- বেত্রবতী নদী হল বেতওয়া নদীর আরেকটি নাম। বেতওয়া নদী মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- এই নদীর উল্লেখ মহাকাব্য মহাভারত এবং অন্যান্য প্রাচীন সাহিত্যে পাওয়া যায়, যা এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব নির্দেশ করে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৫৪১.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত কোন স্থানে হয়?
  1. শ্রীমঙ্গল
  2. লালাখাল
  3. লালপুর
  4. বিছানাকান্দি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ২৬.০১⁰ সেলসিয়াস।
- গড় বৃষ্টিপাত ২০৩⁰ সেন্টিমিটার।
- উষ্ণতম মাস: এপ্রিল, গড় তাপমাত্রা ২৮° সেলসিয়াস।
- শীতলতম মাস: জানুয়ারি, গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।

⇒ দেশের উষ্ণতম স্থান: লালপুর, নাটোর।
- শীতলতম স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা: সিলেট। 
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়: লালাখাল, সিলেট।
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়: লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা: কক্সবাজার।
- সর্ব উত্তরের জেলা: পঞ্চগড়।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা: রাঙামাটি।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা: নারায়নগঞ্জ।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৪২.
কীসের স্রোতে নদীখাত গভীর হয়?
  1. ক) সমুদ্রস্রোত
  2. খ) নদীস্রোত
  3. গ) বানের স্রোত
  4. ঘ) জোয়ার-ভাটার স্রোত
ব্যাখ্যা
নদীখাত হল প্রবাহিত পানির শক্তির ফলে গঠিত একটি সরু বা চওড়া, গভীর বা অগভীর, সোজা বা বাঁকা সুষম ঢাল বিশিষ্ট প্রাকৃতিক পথ যার মধ্য দিয়ে ধীর বা প্রবলবেগে সারা বছর বা স্বল্প সময়ে পানি প্রবাহিত হয়। জোয়ার ভাটার স্রোতে নদীখাত গভীর হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং জাগোনিউজ।
৫৪৩.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে?
  1. ৬ মিনিট
  2. ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  3. ৭ মিনিট ১৭ সেকেন্ড
  4. ৯ মিনিট
ব্যাখ্যা
• সূর্য:
- সূর্য একটি নক্ষত্র।
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে।
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড বা ৮.৩২ মিনিট।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৪.
সিলেট এলাকায় কি ধরণের বৃষ্টিপাত হয়?
  1. পরিচলন বৃষ্টি
  2. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  3. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি
  4. সংঘর্ষ বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ:
- মোট ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪টি ভাগে বিভক্ত।
- এই ৪টি প্রকারভেদ হলো, 
১। পরিচলন বৃষ্টিপাত: ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে প্রচুর জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়।
- এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজা নিচে নেমে আসে।
- এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টি। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এই সব এলাকার উর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। 
২। শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত: জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়। 
৩। ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত: ঘূর্ণিবাত কেন্দ্রের বায়ু যখন উপরে উঠে যায় তখন তাপমাত্রা হ্রাস পায় ও শীতল হয়।
- এ সময় বায়ুতে থাকা জলীয়বাষ্প অতিরিক্ত ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত ঘটায়।
৪। সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত: শীতল ও উষ্ণ বায়ুপুঞ্জ যখন মুখোমুখি হয় তখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং শিশিরাঙ্কে পৌঁছায়।
- আরও ঘনীভূত হয়ে বায়ুপুঞ্জের সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রকার বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত। এই ধরনের বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৪৫.
নিম্নের বাংলাদেশের কোন অঞ্চল শাল বৃক্ষের জন্য বিখ্যাত?
  1. সুন্দরবন
  2. পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল
  3. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
  4. সিলেটের পাহাড়ি বনভূমি
ব্যাখ্যা
মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
- এটি প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি।
- এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- এই বনভূমির প্রধান বৃক্ষ হলো শাল বা গজারি। শাল গাছের আধিক্যের কারণে এই বনভূমি শালবন নামে পরিচিত।
- শুষ্ক মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) শাল গাছের পাতা ঝরে যায় বলে একে পত্রঝরা বনও বলা হয়।
- এ ছাড়া রয়েছে হরিতকি, বহেরা, কড়ই, শিমুল, অর্জুন ইত্যাদি প্রজাতির বৃক্ষ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৬.
নিচের কোনটি আপদ?
  1. খরা
  2. ভূমিকম্প
  3. বন্যা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা, যা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে হতে পারে।
এর ফলে মানুষের জীবন ও জীবিকার মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
আপদ কোনো দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের সম্ভাব্য কারণ।
যেমন: বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, নদী ভাঙ্গন, সুনামি ইত্যাদি হলো আপদ।
কিন্তু এই আপদগুলো যখন প্রাণহানি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস করে জীবন ও জীবিকার অপূরণীয় ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করে তখনই তা দুর্যোগে পরিণত হয়। 

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৭.
মানবসৃষ্ট দুর্যোগ নয় কোনটি?
  1. ক) যুদ্ধ
  2. খ) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
  3. গ) নদীভাঙন
  4. ঘ) মরুকরণ
ব্যাখ্যা
মানুষের সৃষ্ট কারণে বা মানুষের অবহেলা, ভুলভ্রান্তি বা অভিপ্রায় থেকে যে দুর্যোগের সৃষ্টি হয় তাই মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। যেমনঃ যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি৷ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৫৪৮.
মনু নদী প্রকল্প কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চাঁদপুর
  2. মৌলভীবাজার
  3. হবিগঞ্জ
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
FCDI এর প্রধান সেচ প্রকল্পগুলো হচ্ছে:
• গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জিকে প্রজেক্ট) - কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনিয়াদহ, মাগুড়া।
• ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা প্রকল্প(DND প্রজেক্ট) - বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল।
• কর্ণফুলী বহুমুখী প্রকল্প - রাঙ্গামাটি
• উপকূলীয় বেরিবাঁধ প্রকল্প - উপকূলের ১৪ টি জেলা।
• উত্তরাঞ্চল নলকূপ প্রকল্প - দিনাজপুর ও ঠঁকুরগাও।
• মেঘনা- ধনাগোদা প্রকল্প - চাঁদপুর।
• মনু নদী প্রকল্প - মৌলভীবাজার
• খোয়াই নদী প্রকল্প - হবিগঞ্জ

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৪৯.
নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. শীতল ও ভারী
  2. উষ্ণ ও হাল্কা
  3. উষ্ণ ও ভারী
  4. শীতল ও হাল্কা
ব্যাখ্যা
• নিরক্ষীয় অঞ্চল:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানি উষ্ণ ও হাল্কা হয়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ পানি আয়তনে বৃদ্ধি পায় ও হালকা বলে সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়।
- অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
- এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫০.
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কী ধরনের কয়লা পাওয়া যায়?
  1. লিগনাইট
  2. বিটুমিনাস
  3. পীট
  4. অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা

বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র: 
- ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) কর্তৃক বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়।
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত।
- এর আয়তন ৬.৬৮ বর্গ কিলোমিটার।
- এই বেসিনে কয়লার মোট মজুদ ৩৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
- এখানে বিটুমিনাস কয়লা পাওয়া যায়। 

• বিটুমিনাস কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে-
- ফিক্সড কার্বন-৪৮.৪০%,
- এ্যাশ- ১২.৪০%, 
- ভোলাটাইল মেটার-২৯.২০%, 
- মোট ময়েশ্চার-১০%, 
- ক্ষতিকারক উপাদান সালফারের পরিমাণ-০.৫৩% এবং 
- তাপ দহন ক্ষমতা-১১,০৪০ বিটিউ পার পাউন্ড। 

উৎস: বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল) ওয়েবসাইট।

৫৫১.
সনোরা লাইন কোন দুটি দেশের মধ্যকার সীমানা? 
  1. পর্তুগাল ও স্পেন
  2. মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র
  3. ভারত ও পাকিস্তান
  4. ইসরাইল ও সিরিয়া
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন দেশের সীমানা:
- ডুরান্ড লাইন - পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- ম্যাকমোহন লাইন ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানা। -
- রেডক্লিফ লাইন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
- লাইন অব ডিমারকেশন পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব কন্ট্রোল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল চীন ও ভারত মধ্যে সীমানা।
- পার্পল লাইন - ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
- সনোরা লাইন মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যকার সীমানা।

উৎস- Britannica.com.

৫৫২.
সর্বপ্রথম খনিজ তেল পাওয়া যায় কোথায় ?
  1. ফেঞ্চুগঞ্জ
  2. হরিপুর
  3. বিয়ানীবাজার
  4. কৈলাসটিলা
ব্যাখ্যা

দেশের একমাত্র খনিজ তেলক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।

- এ তেলক্ষেত্রে তেলের মোট মজুতের পরিমাণ প্রায় ১০ মিলিয়ন ব্যারেল যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুতের পরিমাণ প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল।

- ১৯৮৭ সালের জানুয়ারি মাসে হরিপুর তেলক্ষেত্র থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।

-দেশের একমাত্র তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্স সফলভাবে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে নিয়োজিত রয়েছে।

উৎস:https://mpemr.gov.bd/ (জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ)

৫৫৩.
প্রধান বীজ উৎপাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. BADC
  2. BINA
  3. BRRI
  4. BARI
ব্যাখ্যা
BADC:

- বাংলাদেশের প্রধান সরকারি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC)।
- এটি কৃষি উপকরণ সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান৷
- এর অংশ হিসেবে BADC বিভিন্ন ফসলের উফশী বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষক পর্যায়ে মানসম্মত সার সরবরাহ করে থাকে।
- ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন দেশ স্বাধীনের পর BADC নামধারণ করে।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - BADC ওয়েবসাইট।
৫৫৪.
গ্রীনিচের দ্রাঘিমা কত ডিগ্রী?
  1. ০°
  2. ২৩.৫°
  3. ৬৬.৫°
  4. ১২০°
ব্যাখ্যা
মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian):
- মূল মধ্যরেখা প্রকৃতপক্ষে লন্ডনের গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত এক দ্রাঘিমা রেখা।
- ১৮৮৪ সালে এই দ্রাঘিমা রেখাকে মূলমধ্য রেখা হিসেবে স্থির করে এই রেখার পূর্ব ও পশ্চিমে অন্য দ্রাঘিমা রেখাগুলোর মান নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রীনিচ মান মন্দির বরাবর যে কল্পিত দ্রাঘিমা রেখা রয়েছে সেটির মান (০°) ধরা হয়।
- প্রতি ১° দ্রাঘিমান্তরে ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য হয়।
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৫.
পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ কোনটি?
  1. মানস সরোবর
  2. কাস্পিয়ান সাগর
  3. ডেড সী
  4. বৈকাল
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ হলো কাস্পিয়ান সাগর।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদও। 
- এটি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।
- সুপিরিয়র বিশ্বের বৃহত্তর স্বাদুপানির হ্রদ যা উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- লেক আসাই পৃথিবীর সবচেয়ে লবণাক্ত হ্রদ যা আফ্রিকার জিবুতিতে অবস্থিত।
- বৈকাল পৃথিবীর গভীরতম ও প্রাচীনতম হ্রদ যা রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত।
- ভিক্টোরিয়া আফ্রিকার বৃহত্তম ও পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম হ্রদ। নীলনদের উৎপত্তি এই হ্রদ থেকে।

সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৫৫৬.
ঘুমধুম সীমান্ত কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা
  2. সিলেট
  3. বান্দরবান
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
ঘুমধুম সীমান্ত:
- ঘুমধুম সীমান্ত বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার অন্তর্গত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন।
- এর উত্তরে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন ও সোনাইছড়ি ইউনিয়ন; পশ্চিমে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়ন, উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন, রত্নাপালং ইউনিয়ন, রাজাপালং ইউনিয়ন ও পালংখালী ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে ও পূর্বে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ অবস্থিত।
- মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮৩ কিলোমিটার।
- এর বড় অংশ পড়েছে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায়।
- সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত–সংলগ্ন এলাকায় যুদ্ধ জোরালো করেছে আরাকান আর্মিসহ কয়েকটি গোষ্ঠী। 
- তুমব্রু ও ঘুমধুমের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কে এলাকা ছেড়েছেন।  

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো।
৫৫৭.
নিম্নের কোন মরুভূমি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত?
  1. মোজাবে মরুভূমি
  2. গোবি মরুভূমি
  3. আতাকামা মরুভূমি
  4. পাতাগোনিয়া মরুভূমি
ব্যাখ্যা
- মোজাবে মরুভূমি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাংশ জুড়ে অবস্থিত এবং কিছু অংশ নেবাদা, এরিজোনা, উটাহ অঙ্গরাজ্যে জুড়ে বিস্তৃত।  

• বিশ্বের বিখ্যাত কিছু মরুভূমি ও তাদের অবস্থান হলো:
- থর মরুভূমি: ভারত ও পাকিস্তানে অবস্থিত।
- গোবি মরুভূমি: চীন ও মঙ্গোলিয়াতে বিস্তৃত।
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকাতে, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উষ্ণ মরুভূমি।
- আতাকামা মরুভূমি: চিলিতে অবস্থিত। 
- পাতাগোনিয়া মরুভূমি: চিলি ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিস্তৃত।

সূত্র: ব্রিটানিকা। 
৫৫৮.
সাহারা মরুভূমি কতটি দেশের মধ্য বিস্তৃত রয়েছে? 
  1. ১১টি
  2. ৯টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি 
ব্যাখ্যা

 - সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকার ১১টি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।

সাহারা মরুভূমি:

- প্রায় ৯,২০০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সাহারা মরুভূমিকে বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণ (গরম) মরুভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- আয়তনের দিক থেকে এটি তৃতীয় বৃহত্তম মরুভূমি,
- শুধুমাত্র অ্যান্টার্কটিকা ও আর্কটিকের মেরু মরুভূমির পরেই অবস্থান।
- এবং এটি আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় ৩১% অংশ দখল করে রেখেছে।
- সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকার ১১টি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।
- এই দেশগুলো হলো: আলজেরিয়া, মিশর, লিবিয়া, সুদান, মরক্কো, তিউনিশিয়া, চাঁদ, মালি, নাইজার, মরিতানিয়া, পশ্চিম সাহারা।
 
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। [লিঙ্ক]

৫৫৯.
বাংলাদেশের কোন বনভূমি শালবৃক্ষের জন্য বিখ্যাত? 
  1. সিলেটের বনভূমি
  2. পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি
  3. ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি
  4. খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমি
ব্যাখ্যা
• মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি:
- উত্তরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ উচ্চভূমি বিস্তৃত। 
- ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বনভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। 
- এটি প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি। 
- বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ এ উচ্চভূমি শাল বা গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র।
- এজন্য এটি গজারী বা শালবৃক্ষের বনভূমি হিসেবেও পরিচিত।
- এ বনভূমি ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমির অন্তর্গত।

অন্যদিকে,
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গর্জন, জারুল, শিমুল, গামার ইত্যাদি।
- বরেন্দ্র বনভূমি হচ্ছে ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬০.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের প্রদেশ কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিচিতি:
- বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ।
- এই দেশের ভূখণ্ডগত বিস্তৃতি ১৪৭, ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। 
- বাংলাদেশ ৮টি বিভাগ রয়েছে। 
- এগুলো হলো বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগ।
- এসকল বিভাগের অধীনে রয়েছে ৬৪টি জেলা।  
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি। 
- ভারতের সাথে ৩০টি ও মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- রাঙ্গামাটি জেলার সাথে উভয় দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- মিয়ানমারের আরাকান ও চিন; এই দুই রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা রয়েছে।

সূত্র- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৬১.
কোন আদালতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমুদ্রসীমার মীমাংসা হয়?
  1. ক) আন্তর্জাতিক বিচার আদালত
  2. খ) বিশেষ সালিশি আদালত
  3. গ) সমুদ্র বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল
  4. ঘ) স্থায়ী সালিশি আদালত
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ বনাম ভারতের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মামলা হয় নেদারল্যান্ডস এ অবস্থিত স্থায়ী সালিশি আদালতে (Permanent Court of Arbitration-PCA)।
- এই সমুদ্রসীমা নির্ধারণী মামলার রায় হয় ২০১৪ সালের ৮ জুলাই।
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধ ছিল ২৫,৬০২ বর্গকিলোমিটার।
- এই মামলার রায়ে বাংলাদেশ পায় ১৯,৪৬৭ বর্গকিলোমিটার।

৫৬২.
টারশিয়ারি যুগের অন্তর্ভুক্ত নয় কোন পাহাড়?
  1. তাজিং ডং
  2. কেওক্রাডং
  3. লালমাই
  4. ছাতক
ব্যাখ্যা

- লালমাই পাহাড় টারশিয়ারি যুগের অন্তর্ভুক্ত নয় । এটি প্লাইস্টোসিনকালের অন্তর্গত পাহাড়। 
- অন্যদিকে তাজিং ডং, কেওক্রাডং ও ছাতক পাহাড় টারশিয়ারী যুগের পাহাড়।

• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। 
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর। 
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। 
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। 
- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়, লালমাই পাহাড় এই ভূমিরূপের অন্তর্গত।

• লালমাই পাহাড়: 
- এটি প্লাইস্টোসিনকালে বা প্রায় ২৫ হাজার বছর আগে গঠিত একটি ভূমিরূপ।
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার।
- গড় উচ্চতা ২১ মিটার। 
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৩.
নিচের কোন দেশটি সর্বাধিক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. পর্তুগাল
  2. ইকুয়েডর
  3. ফিনল্যান্ড
  4. দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
অবস্থান ও গঠনগত কারণে পৃথিবীর সর্বত্র ভূমিকম্পের প্রবণতা সমান নয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেটের বাহিরের দিকের সীমানা বরাবর অঞ্চল, ভূমধ্যসাগরের উত্তর-পূর্ব উপকূল এবং মধ্য এশিয়া অঞ্চল বিশ্বের মধ্যে ভূমিকম্পের জন্যে সর্বাধিক ঝুকিপূর্ণ।

এই অঞ্চলে অবস্থিত ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলো হলো:
- চিলি
- পেরু
- ইকুয়েডর
- যুক্তরাষ্ট্র
- জাপান
- ফিলিপাইন
- ইন্দোনেশিয়া
- ইরান
- আফগানিস্তান
- চীন
- ইতালি
- অ্যালিউশান দ্বীপপুঞ্জ প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকা মহাদেশ এবং পর্তুগাল, ফিনল্যান্ডসহ উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ ভূমিকম্পের জন্যে ঝুকিপূর্ণ নয়।

(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৫৬৪.
‘কাস্পিয়ান সাগর’ কয়টি দেশের সীমান্তে স্পর্শ করেছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
কাস্পিয়ান সাগর:
- কাস্পিয়ান সাগর (Caspian Sea) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্তঃমহাদেশীয় হ্রদ।
- এটি সাগরের মতো দেখতে হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে একটি হ্রদ।
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগরের আয়তন ৩,৮৬,৪০০ বর্গ কিলোমিটার।
-  এটি পাঁচটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত: রাশিয়া, কিরগিজস্তান, আজারবাইজান, ইরান এবং তুর্কমেনিস্তান।
- এটি এশিয়া-ইউরোপের মাঝে, ককেসাস পর্বতমালার পূর্বে ও মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত।
- এর উত্তরে কাজাখস্তান, পশ্চিমে আজারবাইজান, দক্ষিণে ইরান এবং দক্ষিণ-পূর্বে তুর্কমেনিস্তান ঘিরে আছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৫৬৫.
নিচের কোনটি ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয় বায়ু?
  1. লু
  2. সাইমুম
  3. বোরা
  4. পাম্পেরু
ব্যাখ্যা
স্থানীয় বায়ু (Local Wind):
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কিংবা তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ভূপৃষ্ঠের স্থানে স্থানে স্থানীয় বায়ুর উৎপত্তি হয়।

কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ: 
- রকি পর্বতের চিনুক (Chinook),
- ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল (Mistral),
- আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু (Pampero),
- আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা (Bora),
- উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরক্কো (Sirocco),
- আরব মালভূমির সাইমুম (Simoom),
- মিসরের খামসিন (Khamsin) ও
- ভারতীয় উপমহাদেশের লু (Loo)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৬৬.
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমের সময় পশ্চিমগামী যানের জন্য কী করতে হয়?
  1. ১ দিন যোগ
  2. ১ দিন বিয়োগ
  3. ২ দিন যোগ
  4. কোনো পরিবর্তন নেই
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা: 
- ১৮০° পূর্ব দ্রাঘিমা এবং ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা মূলত একই। একেই বলে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা।
- আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমের সময় পশ্চিমগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন যোগ এবং পূর্বগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন বিয়োগ হবে।

• মূল মধ্যরেখা: 
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কল্পিত রেখাকে ০° দ্রাঘিমা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বই হলো সেই স্থানের দ্রাঘিমাংশ।
- প্রতি ১০ দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময় ব্যবধান হয়। 

তথ্যসূত্র: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি। 

৫৬৭.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চল সবচেয়ে বেশি  ভূমিকম্পপ্রবণ?
  1. ঢাকা
  2. রাজশাহী
  3. সিলেট
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা

• ভূমিকম্প:
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে।
- কোনো স্থানের ভূকম্পনের জন্য ফল্ট লাইন এবং টেকনিক স্ট্রেস ফিল্ড গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
- যদিও বাংলাদেশ প্লেট বাউন্ডারির মধ্যে নয়, তথাপি ভূপ্রাকৃতিক অবস্থান ও বিন্যাসের স্বকীয়তা বাংলাদেশকে ভূমিকম্প মণ্ডলের আশপাশেই ফেলেছে। 
- বাংলাদেশকে ভূকম্পনের তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে।
- সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জোন হিসেবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু কিছু স্থান যেমন: সিলেট, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার উল্লেখযোগ্য।
- ঢাকা ও চট্টগ্রাম মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ।
- পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সর্বাপেক্ষা কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত।
- আবহাওয়া দপ্তর ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রামে একটি ভূকম্পন মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করে।
- এটিই দেশের একমাত্র মানমন্দির।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
          ii)প্রথম আলো।

৫৬৮.
'বুড়িমারী' স্থলবন্দর অবস্থিত-
  1. ক) কুড়িগ্রামে
  2. খ) ময়মনসিংহে
  3. গ) হবিগঞ্জে
  4. ঘ) লালমনিরহাটে
ব্যাখ্যা
লালমনিরহাটে 'বুড়িমারী' স্থলবন্দর অবস্থিত। পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বুড়িমারী সীমান্তে এই স্থলবন্দরটির অবস্থান। ১৯৮৮ সালে ভারত, ভুটান এবং নেপালের সঙ্গে স্থলপথে মালামাল আমদানী ও রপ্তানির সুবিধার্থে বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট এলাকায় এই বন্দরটি চালু করা হয়।
৫৬৯.
বাংলাদেশের কোন উপজেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্ত বিদ্যমান?
  1. দিঘিনালা
  2. বিলাইছড়ি
  3. টেকনাফ
  4. নাইক্ষংছড়ি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার বড়থলি ইউনিয়নে ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার তিন দেশের সীমান্ত মিলিত হয়েছে।
(তথ্যসূত্র: স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়)
৫৭০.
কোনটি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয়?
  1. আসাম
  2. ত্রিপুরা
  3. মিজোরাম
  4. মনিপুর
ব্যাখ্যা
মনিপুর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয়।

বাংলাদেশের সীমানা:
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- তিনদিকের মূলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সাতটি রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্স বলা হয়।
- রাজ্যগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- ভারতের মোট ৫টি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- এগুলো হলো: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭১.
কোন জাতীয় আগ্নেয়গিরি দেখতে ব্যাঙের ছাতার মত বা গম্বুজাকৃতির হয়ে?
  1. শেইন্ড আগ্নেয়গিরি
  2. সিন্ডারকোন আগ্নেয়গিরি
  3. মিশ্র কোন আগ্নেয়গিরি
  4. ফুজিয়ামা আগ্নেয়গিরি
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি:
- উদগিরিত লাভার ধরন এবং আগ্নেয়গিরির গঠনের উপর ভিত্তি করে শ্রেণী বিভাগ-
ক) শেইন্ড (Sheild) আগ্নেয়গিরি: এ জাতীয় আগ্নেয়গিরির লাভা বহুদূর ব্যাপী বিস্তৃত এবং দেখতে কিছুটা ব্যাঙের ছাতার মত বা গম্বুজাকৃতির
-এর ঢাল সাধারণত গোড়ার দিকে ৫ এবং ওপরের দিকে ১৫ এর বেশি হয়; প্রধানত ব্যাসল্ট দিয়ে গঠিত।
-হাওয়াই দ্বীপের মনালোয়া, কিলাউয়া এর অন্যতম উদাহরণ।

খ) সিন্ডারকোন (Cinder Cone) আগ্নেয়গিরি: সিন্ডারকোন সাধারণত খাড়া ঢাল বিশিষ্ট (প্রায় ৩০০-৪০০) এবং আকারে ছোট হয় (৩০০ মি. এর বেশি নয়)।
-প্রায়ই নিকটবর্তী বৃহৎ আগ্নেয়গিরির পাশে গঠিত হয়।
- মেক্সিকোর পেরিকোটন এর উদাহরণ। আগ্নেয়গিরির একটা অন্যতম ঘটনা হল অগ্নুৎপাত।

গ) মিশ্র কোন (Composite Cone) আগ্নেয়গিরি: জাপানের ফুজিয়ামা এবং ফিলিপাইনের মাউট মেওন এ ধরনের আগ্নেয়গিরি।
- এই শ্রেণীর আগ্নেয়গিরি আকারে বড়, প্রায় সমান পুরুত্ব বিশিষ্ট লাভা শিলার খন্ডের স্তুপে গঠিত।
- প্রথমে নিঃশব্দে চটচটে আঠালো জ্যান্ডেসাইটিক লাভা, পরে কঠিন শিলা টুকরা, ধুলিকণা, উত্তপ্ত গ্যাস এবং শেষে পুনরায় আঁঠালো লাভা এর ওপর জমা হয়।
- এ জন্য একে মিশ্র কোণ আগ্নেয়গিরি বলা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭২.
ব্লু ইকোনমি কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. নীল আকাশ
  2. সমুদ্র
  3. পাহাড়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
Blue economy:
- সুনীল অর্থনীতি বা Blue economy হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি।
- সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি।

⇒ বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ:
- পর্যাপ্ত নীতিমালার ও সঠিক কর্মপরিকল্পনার অভাব।
- দক্ষ জনশক্তির অভাব।
- প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব।
- সম্পদের পরিমাণ ও মূল্য সম্পর্কে সঠিক তথ্যের অভাব।
- মেরিন রিসোর্সভিত্তিক পর্যাপ্ত গবেষণা না হওয়া।
- ব্লু-ইকোনমি সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগের অভাব।
- সমুদ্রে গমন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য গবেষণা জাহাজ না থাকা।

উৎস: i) United Nation ওয়েবসাইট।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৭৩.
সমবৃষ্টিপাতযুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে কী বলা হয়?
  1. আইসোহাইট
  2. আইসোপ্লিথ
  3. আইসোথার্ম
  4. আইসোবার
ব্যাখ্যা
সমরেখ পদ্ধতি:
- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

উল্লেখ্য,
⇒ সমোষ্ণ রেখা (Isotherm line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

⇒ সমচাপ রেখা (Isobar line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

⇒ সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line):
- সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

উৎস: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৪.
ট্রান্স ককেসিয়ান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত -
  1. ক) আজারবাইজান
  2. খ) ফিলিপাইন
  3. গ) তাইওয়ান
  4. ঘ) জিবুতি
ব্যাখ্যা
ককেশাস পর্বতমালার দক্ষিণে ট্রান্সককেশাস অঞ্চল অবস্থিত। এর মোট আয়তন প্রায় ১.৮৭ লক্ষ বর্গকিমি। এই অঞ্চলে তিনটি স্বাধীন রাষ্ট্র তথাঃ জর্জিয়া, আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান অবস্থিত।
(সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৫৭৫.
বাংলাদেশে বর্তমানে কয়টি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা রয়েছে? (সেপ্টেম্বর, ২০২৪)
  1. ৯টি
  2. ১১টি
  3. ১৩টি
  4. ২১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

⇒ এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। 
৫৭৬.
ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু ইউরোপের মতো শীতল হয় না কেন?
  1. মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে
  2. শীতকালে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়
  3. হিমালয় পর্বতের কারণে
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
পর্বতের অবস্থান (Location of the mountains):
- উচ্চ পার্বত্যময় এলাকা বায়ুপ্রবাহের পথে বাধা হলে এর প্রভাব জলবায়ুর উপর পরিলক্ষিত হয়।
- যেমন- মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উত্তরে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত হিমালয় পর্বতে বাধা পাওয়ায় বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- অপরদিকে শীতকালে মধ্য এশিয়ার শীতল বায়ু হিমালয় অতিক্রম করতে পারে না।
- তাই ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু ইউরোপের মতো তত শীতল হয় না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৭৭.
বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে -
  1. ১৯° উত্তর অক্ষরেখা
  2. ২৩° উত্তর অক্ষরেখা
  3. ২৭° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ৩১° উত্তর অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা:
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত।
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- ২৩° উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া
৫৭৮.
বাংলাদেশের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে -
  1. ৭ নভেম্বর, ২০০৭
  2. ১৫ নভেম্বর, ২০০৭
  3. ১৭ নভেম্বর, ২০০৭
  4. ২১ নভেম্বর, ২০০৭
ব্যাখ্যা

সিডর:
- ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর।
- এই ঘূর্ণিঝড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়, ধ্বংস হয় মানুষের ঘরবাড়ি।বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নামটি ঠিক করে।
- যার অর্থ চোখ।
- আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার।
- তবে এ সময় দমকা হাওয়ার বেগ উঠছিল ঘণ্টায় ৩০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।
- সিডরের প্রভাবে উপকূলে ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৫ নভেম্বর ২০২১।

৫৭৯.
উত্তমাশা অন্তরীপ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. খ) চিলি
  3. গ) পর্তুগাল
  4. ঘ) সোমালিয়া
ব্যাখ্যা
- উত্তমাশা অন্তরীপ : দক্ষিণ আফ্রিকা
- হর্ন অন্তরীপ : চিলি
- মরিস জেসাপ অন্তরীপ : গ্রিনল্যান্ড
- গার্দাফুই অন্তরীপ : সোমালিয়া
- কন্যাকুমারী অন্তরীপ : ভারত
- ট্রাফালগার অন্তরীপ : স্পেন।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৫৮০.
গ্রেট বেরিয়াররিফ কোথায় অবস্থিত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর 
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর 
  4. পারস্য উপসাগর
ব্যাখ্যা

• গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ:
- গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি অসাধারণ বৈচিত্র্য এবং সৌন্দর্যের স্থান।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম এবং দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর ব্যবস্থা, 
- গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং বৃহত্তম রিফ কমপ্লেক্স, যা উত্তর-পশ্চিম-দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ১,২৫০ মাইল (২,০০০ কিলোমিটার) জুড়ে বিস্তৃত। রিফটি ১০ থেকে ১০০ মাইল (১৬ থেকে ১৬০ কিলোমিটার) পর্যন্ত বিস্তৃত এবং প্রস্থে ৩৭ থেকে ১৫৫ মাইল (৬০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার) পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়।
- প্রায় ১৩৫,০০০ বর্গমাইল (৩৫০,০০০ বর্গকিলোমিটার) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ তার জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত এবং এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৫৮১.
নিচের কোনটি দুর্যোগ প্রতিরোধের উদাহরণ? 
  1. বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত
  2. শস্য বহুমুখীকরণ
  3. জরুরি অবস্থার জন্য ঔষধপত্র প্রস্তুত রাখা
  4. ত্রাণ বিতরণ
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। সুতরাং দুর্যোগকে কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন। 

• পূর্বপ্রস্তুতি:
- পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা পথ নাটক অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র, টর্চ-ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

• প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহন, যেমন- বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত স্কুল ও ঘরবাড়ি নির্মাণ, নদী খনন ইত্যাদি বুঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যথেষ্ট ব্যয়বহুল, যা বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে বৈদেশিক সাহায্য ব্যতীত তৈরি করা কষ্টসাধ্য। অপরদিকে, অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- দুর্যোগ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম অপেক্ষাকৃত স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

• প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

• সাড়াদান:
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

• পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুন:নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়।

• উন্নয়ন:
- দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা আবশ্যক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮২.
নিম্নের কোন দেশে 'আল্পস পর্বত' অবস্থিত?
  1. ফ্রান্স
  2. জার্মানি
  3. ইতালি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আল্পস পর্বত:
- আল্পস পর্বত ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি একটি বিস্তৃত পর্বতমালা যা দক্ষিণ-মধ্য ইউরোপে অবস্থিত।
- অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, লিচেনস্টাইন, মোনাকো, স্লোভেনিয়া এবং সুইজারল্যান্ড নামে আটটি আল্পাইন দেশ জুড়ে রয়েছে এই পর্বতমালা।
- আল্পস পর্বতশ্রেণী প্রায় ১,২০০ কিমি অর্ধচন্দ্রাকার আকারে বিস্তৃত।
- আল্পস এক ধরনের ভঙ্গিল পর্বত।
- আল্পস পর্বতমালাকে তিনটি বিস্তৃত ভাগে ভাগ করা যায়: পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিম আল্পস।
- এটি একটি অবিচ্ছিন্ন পর্বতশ্রেণী এবং বিভিন্ন উচ্চতা এবং গভীরতার অসংখ্য চূড়া এবং উপত্যকা নিয়ে গঠিত।
- সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনে অবস্থিত ২২.৬ কিমি দীর্ঘ আলেচ হিমবাহটি আল্পসের বৃহত্তম হিমবাহ।
- এই পর্বতমালা দক্ষিণ ফ্রান্সের মোনাকোর কাছে ভূমধ্যসাগরের উত্তর থেকে সুইজারল্যান্ড, তারপর উত্তর ইতালি হয়ে দক্ষিণ জার্মানি এবং অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।
- আল্পস পর্বতশ্রেণি আলবেনিয়ায় রুক্ষ অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের উপকূলে শেষ হয়েছে।

উৎস:Worldatlas এবং ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৩.
মহাদেশীয় ভূত্বকের স্তরকে কি বলে?
  1. সিয়াল
  2. ভূত্বক
  3. সিমা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ভূত্বক (Earth's Crust):
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূঅভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় ভূত্বকের পুরুত্ব সবচেয়ে কম; গড়ে ২০ কিলোমিটার।
- ভূত্বক তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিলোমিটার পুরু।
- সিয়াল (Sial) স্তর: সাধারণভাবে মহাদেশীয় ভূত্বকের এ স্তরকে সিয়াল (Sial) স্তর বলে, যা সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI) দ্বারা গঠিত।
- সিমা (Sima) স্তর: এটি সিয়াল স্তরের তুলনায় ভারী এবং এর প্রধান খনিজ উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত।
- অনুমান করা হয় যে, এ ব্যাসল্ট স্তরই সারা পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ ও গভীর সমুদ্র তলদেশে বিদ্যমান।
- ভূত্বকের উপরের ভাগেই বাহ্যিক অবয়বগুলো দেখা যায়। যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইত্যাদি।
- ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৫৮৪.
সুয়েজ খাল কোন দুটি সাগরকে সংযুক্ত করে?
  1. কাস্পিয়ান সাগর ও আরব সাগর 
  2. দক্ষিণ সাগর ও চীনা সাগর
  3. ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগর
  4. ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগর
ব্যাখ্যা

• সুয়েজ খাল- 
- মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত সুয়েজ খাল মনুষ্য নির্মিত একটি কৃত্রিম খাল। 
- খালটি ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের মাঝে সংযোগ স্থাপন করে।
- ১৮৫৯ সালে শুরু হয়ে দশ বছর ধরে চলে এই খনন কাজ।
- ১৮৬৯ সালে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয় এটি।
- মিশর ১৯৫৬ সালে সুয়েল খালকে জাতীয়করণ করে।

উৎস: Suez Canal Authority.

৫৮৫.
বাংলাদেশের কোন জেলার সাথে ভারতের তিনটি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে?
  1. লালমনিরহাট
  2. সিলেট
  3. কুড়িগ্রাম
  4. রাঙামটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত:
- বাংলাদেশ ও ভারত ১৯৪৭ সালের র‍্যাডক্লিফ লাইন দ্বারা বিভক্ত।
- বাংলাদেশের প্রায় তিনদিকেই ভারতের অবস্থান।
- মোট ৩২ টি সীমান্তবর্তী জেলার মধ্যে ৩০ টি জেলার সাথে ভারতের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের ৫ টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। যথা- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
- তন্মধ্যে একমাত্র কুড়িগ্রাম জেলার সাথে তিনটি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে।
- কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের কুচবিহার জেলা, পূর্বে ভারতের আসাম প্রদেশের ধুবড়ী ও মেঘালয় রাজ্যের তুরা পার্বত্য জেলা।
- আন্তর্জাতিক সীমারেখা রয়েছে ২৭৮.২৮ কিলোমিটার। 
 

উৎস: কুড়িগ্রাম জেলার সরকারি ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৫৮৬.
ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে বলা হয়- 
  1. চোখ
  2. মোখা 
  3. ঢেউ
  4. ফণী
ব্যাখ্যা

- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।

• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সমূহের ব্যাস ২০০-৭০০ কি.মি হয় এবং গভীরতা হয় ১২-১৬ কি.মি পর্যন্ত।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় কেন্দ্রের ভিতরের দিকে বায়ুচাপ দ্রুত কমতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগ বয়ে আনে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৭.
ইউফ্রেটিস নদীর অপর নাম কী?
  1. ফোরাত
  2. টাইগ্রিস
  3. বিতাস্তা
  4. দজলা
ব্যাখ্যা
ইউফ্রেটিস নদী:
- ইউফ্রেটিস নদী দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘতম নদী। 
- এর আরেক নাম ফোরাত।
- এর উৎপত্তি তুরস্কতে হয়ে ইরাক ও সিরিয়ার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দজলা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- তারপর শাত ইল আরব নামে পরিচিত পারস্য উপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নদীর তীরঘেঁষা প্রধান শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে সিরিয়ার রাক্কা ও দাইর আজ জর, ইরাকের রামাদি। 

উল্লেখ্য,
- এই নদী দুটির (ইউফ্রেটিস নদী ও টাইগ্রিস নদী) অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতা।
- প্রাচীন সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয় এবং আসিরীয় সভ্যতাগুলোও এখানে বিকাশ লাভ করেছে।

উৎস: Britannica.
৫৮৮.
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত-
  1. হাড়িয়াভাঙ্গা নদী
  2. নাফ নদী
  3. হালদা নদী
  4. কর্ণফুলী নদী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমানা: 
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য।
- পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা , মিজোরাম রাজ্য ও মিয়ানমার।
- পশ্চিমে -ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত - হাড়িয়াভাঙ্গা নদী।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত - নাফ নদী।
- দক্ষিণে- বঙ্গপোসাগর।
- দক্ষিণ বঙ্গপোসাগরের তটরেখার দৈর্ঘ্য - ৭১৬ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের মোট সীমানারেখা - ৪,৭১১ কিলোমিটার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের মোট সীমানা রেখা - ৩৭১৫ কিলোমিটার
- বাংলাদেশে - মিয়ানমারের সীমানা রেখা - ২৮০ কিলোমিটার

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ - নবম ও দশম শ্রেণি
৫৮৯.
মেঘের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. মেঘ হলো তুষারকণার সাথে কুয়াশার মিলিত রূপ
  2. মেঘ হলো জলীয়বাষ্পের ঘনীভূত রূপ
  3. মেঘ অসংখ্য জলকণা ও বরফকণার সৃষ্টি
  4. মেঘ ও বজ্রঝড় একই বস্তু নয়
ব্যাখ্যা
মেঘ:
- 'মেঘ ও বজ্রঝড় একই বস্তু নয়' মেঘের বৈশিষ্ট্য নয়।
- বায়ুতে ভাসমান জলীয়বাষ্প কোনো কারণে শীতল হলে অতিক্ষুদ্র পানিকণা ও তুষার কণায় পরিণত হয়ে বায়ুমন্ডলের সূক্ষ্ম ধূলিকণায় আশ্রয় নিয়ে ভেসে বেড়ায়।
- বাতাসে ভাসমান এরূপ ছোট ছোট পানিকণা বা তুষারকণাকে মেঘ বলে।
- বায়ুতে সর্বদা জলীয়বাষ্প থাকে।
- নদ-নদী, সমুদ্র, হ্রদ, জলাশয়, বৃক্ষ প্রভৃতি হতে বাষ্পীভবনের দ্বারা বায়ু জলীয়বাষ্প গ্রহণ করে থাকে।
- বায়ু অপেক্ষা জলীয়বাষ্প হাল্কা হওয়ায় জলীয়বাষ্প ঊর্ধ্বে উঠে যায়।
- বায়ুমন্ডলের ঊর্ধ্বভাগ অপেক্ষাকৃত শীতল এবং বায়ুর চাপ কম।
- জলীয়বাষ্প বেশি চাপ হতে কম চাপে নীত হলে তা আয়তনে বেড়ে যায় এবং অপেক্ষাকৃত শীতল হয়।
- এ কারণে বায়ু ঊর্ধ্বে উঠলে শীতল হয় এবং জলীয়বাষ্প পানিকণা বা বরফ কণায় পরিণত হয়।
- এ পানিকণা বা বরফকণা হালকা বলে আকাশে ভাসমান ধূলিকণায় আশ্রয় নিয়ে ভেসে বেড়ায় এবং মেঘের সৃষ্টি হয়।
- মেঘের প্রকারভেদ (Types of Couds): উচ্চতা অনুসারে মেঘকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যথা-
• উঁচু মেঘ,
• মধ্যম উঁচু মেঘ,
• নিচু মেঘ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯০.
East London কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) ইংল্যান্ড
  2. খ) দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) জার্মানি
ব্যাখ্যা
East London is a city on the Indian Ocean, in South Africa’s Eastern Cape.

Source: britannica.com
৫৯১.
The humidity of air measured in percentage is called -
  1. ক) Absolute humidity
  2. খ) Specific humidity
  3. গ) Relative humidity
  4. ঘ) None of these
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক আর্দ্রতা
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা হলো কোন স্থানের বায়ুকে ঐ তাপমাত্রায় সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্পের প্রয়োজন হয় এবং বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকে তার অণুপাত।
- আর্দ্রতা পরিমাপ করা হয় রিলেটিভ হিউমিডিটিতে।
- উষ্ণ বায়ু ঠান্ডা বাতাসের চেয়ে বেশি জলীয় বাষ্প (আর্দ্রতা) ধারণ করতে পারে.
- তাই একই পরিমাণ নির্দিষ্ট আর্দ্রতার সাথে, বাতাস শীতল হলে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি হবে এবং বায়ু উষ্ণ হলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম হবে।

অন্যদিকে -
- আমরা বাইরে যা 'অনুভূত' করি তা হল বাতাসে আর্দ্রতার প্রকৃত পরিমাণ (পরম আর্দ্রতা)।

উৎস: Discussion on Humidity - National Weather Service, National Weather Service (gov).
৫৯২.
কোন সালে বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র: প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো সিলেটের হরিপুরে।
• ১৯৫৫ সালে সর্বপ্রথম এখানে গ্যাসের খোঁজ পাওয়া যায়। ১৯৫৭ সালে প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।
• বাংলাদেশে সর্বপ্রথম তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে। 
• ১৯৮৭ সনে এই তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশ তেলযুগে পদার্পন করে।
• বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস।

⇒ অন্যদিকে,
বাংলাদেশে প্রথম ১৯৮৫ সালে দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়াতে কয়লা খনির সন্ধান পাওয়া যায়।
• ১৯৮৯ সালে রংপুর জেলার খালাশপীর নামক স্থানে এবং
• ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরের দীঘিপাড়াতে পার্মিয়ান যুগের গন্ডোয়ানা কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কার করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৯৩.
বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে কী নামে পরিচিত?
  1. টিলা
  2. ঢিবি
  3. খাড়ি
  4. গিরি
ব্যাখ্যা

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।

• প্রকারভেদ: টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
• ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। 
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।

• খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

তথ্যসূত্র: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯৪.
বায়ু প্রবাহ সৃষ্টির কারণ-
  1. ক) বায়ুর চাপ
  2. খ) সমুদ্র স্রোত
  3. গ) বায়ুর তাপ
  4. ঘ) বায়ুর আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠের কোন স্থানে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সেখানকার বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। এতে করে সেই স্থানে বায়ুর চাপ হ্রাস পায় বা নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
এর ফলে বায়ুর উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে সেই নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ু দ্রুতগতিতে ছুটে আসে যা বায়ু প্রবাহ নামে পরিচিত।
অর্থাৎ বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৯৫.
শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে কোন বায়ু প্রবাহিত হয়?
  1. মৌসুমি বায়ু
  2. পশ্চিমা বায়ু
  3. শুষ্ক মহাদেশীয় বায়ু
  4. আর্দ্র মহাদেশীয় বায়ু
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ (Wind movement):
- বায়ুপ্রবাহ কোনো এলাকার জলবায়ুর উপরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- যেমন- বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে শুষ্ক মহাদেশীয় বায়ু প্রবাহিত হওয়ার কারণে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৯৬.
নিচের কোনটি পদ্মা নদীর উপর নির্মিত সেতু?
  1. লালন শাহ সেতু
  2. হার্ডিঞ্জ ব্রিজ
  3. পদ্মা সেতু
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
লালন শাহ সেতু:  
- লালন শাহ সেতু ঈশ্বরদী হার্ডিঞ্জ ব্রীজের অদূরে পদ্মা নদীর উপর নির্মাণ করা হয়।
- সেতুটি নির্মাণ শুরু হয় ২০০৩ সালে।
- সেতুটির দৈর্ঘ্য ১.৮ কিমি এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ: 
- হার্ডিঞ্জ ব্রিজ বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রেলসেতু।
- ২৪ হাজার ৪০০ শ্রমিক-কর্মচারীর পাঁচ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই ব্রিজ।
- পাবনা জেলার পাকশী রেলস্টেশনের দক্ষিণে পদ্মা নদীর ওপর এই সেতু অবস্থিত।
- তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নাম অনুসারে এই সেতুর নামকরণ করা হয়।
- হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার। ব্রিজের ওপর দুটি ব্রডগেজ রেললাইন রয়েছে।

পদ্মা সেতু:  
- পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মিত একটি বহুমুখী সেতু।
- এই সেতু দিয়ে যুগপৎভাবে যানবাহন ও ট্রেন চলাচল করে।
- এর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটে।
- পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।
- দ্বিতলবিশিষ্ট এই সেতু নির্মিত হয়েছে কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে যার ওপর দিয়ে যানবাহন আর নিচে দিয়ে ট্রেন চলাচল করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৯৭.
পৃথিবীর গভীরতম সাগর কোনটি?
  1. দক্ষিণ চীন সাগর
  2. ক্যারিবিয়ান সাগর
  3. মেক্সিকো উপসাগর
  4. বঙ্গোপসাগর
ব্যাখ্যা
ক্যারিবিয়ান সাগর - পৃথিবীর গভীরতম সাগর,
দক্ষিণ চীন সাগর - পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর,
বঙ্গোপসাগর -পৃথিবীর বৃহত্তম উপসাগর।

উৎস: ওয়ার্ন্ড এটলাস।
৫৯৮.
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ পৃথক করেছে কোন দুটি সাগরকে?
  1. বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগর
  2. বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান সাগর
  3. ভারত মহাসাগর এবং আন্দামান সাগর
  4. জাভা সাগর এবং আন্দামান সাগর
ব্যাখ্যা
• আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ:
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ যা বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান সাগরকে পৃথক করে।
- দুটি প্রধান দ্বীপগুচ্ছ নিয়ে গঠিত, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।
- এই দ্বীপপুঞ্জগুলো বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।
- এবং ভারতের অধীনস্থ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মোট ৫৭২টি দ্বীপ রয়েছে্
- যার মধ্যে মাত্র ৩৮টিতে স্থায়ী জনবসতি রয়েছে।

উল্লেখ্য
- ২০০৪ সালে, ভারত মহাসাগরে সংঘটিত হয়।
-  শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামি এই দ্বীপপুঞ্জে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ করে।

উৎস: World Atlas.
৫৯৯.
নিম্নের কোনটি সমুদ্রস্রোতের কারণ?
  1. পৃথিবীর আবর্তন
  2. লবণাক্ততার তারতম্য
  3. বাষ্পীভবনের তারতম্য
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সমুদ্রস্রোত:
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।
- অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায় উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে শীতল ল্যাব্রাডার স্রোত, এ কারণে শীতল ইউরোপীয় স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম ইউরোপীয় উপকূলের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

⇒ সমুদ্রস্রোতের কারণ:
- বায়ুপ্রবাহ,
- পৃথিবীর আবর্তন,
- উষ্ণতার তারতম্য,
- লবণাক্ততার তারতম্য,
- স্থলভাগের অবস্থান,
- শৈলশিরার অবস্থান,
- বাষ্পীভবনের তারতম্য,
- সমুদ্রের গভীরতা।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০০.
টেংরাগিরি বন কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বরগুনা
  2. মৌলভীবাজার
  3. বাগেরহাট
  4. শেরপুর
ব্যাখ্যা
টেংরাগিরি বন:
- টেংরাগিরি বনাঞ্চলটি সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল।
- বনটি বরগুনার তালতলী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই বনাঞ্চলের আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৪ একর।
- দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্বাসমূলীয় বন স্থানীয়ভাবে ফাতরার বন নামে পরিচিত।
- পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী-দক্ষিণের এই তিন বড় নদ-নদী এখান থেকে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- দেশের নদ-নদীতে সাগর থেকে উঠে আসা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ৬০ ভাগ এখান দিয়ে আসা-যাওয়া করে।
- এই বনাঞ্চলের ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার দূরে গোড়াপদ্মা উপকূলীয় সবুজবেষ্টনী এবং ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে পাথরঘাটা উপজেলায় হরিণঘাটা সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবস্থিত।
- বনাঞ্চল থেকে বঙ্গোপসাগরের দূরত্ব দেড় কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- মাছের প্রজনন ও চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে শত শত জেলে বন বিভাগকে ম্যানেজ করে ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে প্রতিদিন মাছ ধরায় একদিকে দেশের বিশাল মৎস্যভান্ডার শূন্য হচ্ছে, অপর দিকে হুমকির মুখে পড়ছে শ্বাসমূলীয় এই বনাঞ্চল।

উৎস: বন অধিদপ্তর।