ব্যাখ্যা
- ২য় বৃহত্তম স্থলবন্দর হলো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৬ / ৭২ · ৫০১–৬০০ / ৭,১৯১
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line):
- দ্রাঘিমারেখার নিয়মানুসারে মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে অগ্রসর হলে প্রতি ১০ দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময়ের ব্যবধান হয়।
- আমরা জানি ০° দ্রাঘিমার ঠিক উল্টো দিকে ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা।
- আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line—IDL) হলো উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত একটি কাল্পনিক রেখা, যা ক্যালেন্ডারের “এক দিন” এবং “পরের দিন”-কে আলাদা করে।
- এটি সাধারণভাবে ১৮০° দ্রাঘিমারেখার কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে গেছে, তবে দেশ/দ্বীপকে একদিনে রাখার সুবিধার জন্য কিছু জায়গায় পূর্ব-পশ্চিমে বাঁক নিয়েছে।
- কেউ যদি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রম করে পূর্ব দিকে (eastbound) যায়, তাহলে তাকে ক্যালেন্ডার থেকে ১ দিন কমাতে হয়—অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা কমে।
- আর কেউ যদি পশ্চিম দিকে (westbound) যায়, তাহলে তাকে ক্যালেন্ডারে ১ দিন যোগ করতে হয়—অর্থাৎ তারিখ একদিন এগিয়ে যায়।
উৎস:
১। ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
২। Time and date ওয়েবসাইট।
ব্রহ্মপুত্র নদ:
- হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ।
- এরপর এটি তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
উল্লেখ্য,
- ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা যমুনা নামে পরিচিত।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
• প্রাচীনতম মানচিত্র:
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পরিচিত মানচিত্রটি প্রাচীন Babylon নগরীর, যা বর্তমান ইরাক–সিরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত ছিল।
- এই মানচিত্রটির নাম ইমাগো মুন্ডি (Imago Mundi)।
- এটি আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে, অর্থাৎ যিশু খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ছয় শতাব্দী আগে নির্মিত হয়।
- মানচিত্রটি হাতে আঁকা কাগজের ছিল না।
- বরং এটি পোড়ামাটির একটি ফলকের ওপর খোদাই করা ছিল।
- যদিও একে পৃথিবীর প্রাচীনতম মানচিত্র বলা হয়, বাস্তবে এটি সমগ্র পৃথিবীর নয়—মূলত ব্যাবিলন নগরী ও তার আশপাশের এলাকার চিত্রই এতে উপস্থাপিত হয়েছে।
- এই ব্যাবিলনীয় মানচিত্রটি ছিল বৃত্তাকার আকৃতির।
- এতে ব্যাবিলনকে কেন্দ্রস্থলে দেখানো হয়েছে এবং Euphrates River নদীকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- এতে চারপাশের বিশ্বকে একটি বৃত্তাকার সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত রূপে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা প্রাচীন মানুষের ভৌগোলিক ধারণাকে প্রতিফলিত করে।
উৎস: দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা [লিঙ্ক]।
বাংলাদেশ ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি (ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি) প্রথম স্বাক্ষরিত হয় ১৬ মে, ১৯৭৪ সালে। বাংলাদেশ অনুমোদন করে ১৯৭৪ সালে কিন্তু ভারত তখন অনুমোদন করেনি।
৬ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হয় এবং ৭ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় সংসদের লোকসভায় বিলটি পাস হয়।
চুক্তিটি কার্যকর হয় ১ আগস্ট ২০১৫ সালে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিট মহল বিনিময় হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
- এডাম’স পিক শ্রীলংকায় অবস্থিত।
শ্রীলংকা:
- দাপ্তরিক নাম: ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক অফ শ্রীলংকা।
- পূর্ব নাম: সিলন- ১৯৭২ সালে "শ্রীলংকা" নাম গ্রহণ করে।
- প্রশাসনিক রাজধানী: শ্রী জয়বর্ধনপুর কোট্টে।
- বাণিজ্যিক রাজধানী: কলম্বো।
- ভাষা: সিংহলি ও তামিল (দুটি রাষ্ট্রভাষা),
- ধর্ম: বৌদ্ধ প্রধান ধর্ম।
- মুদ্রা: শ্রীলংকান রুপি (LKR)।
- ভৌগোলিক অবস্থান: ভারত মহাসাগরে, দক্ষিণ এশিয়ায়, ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের নিকটে।
- সংবিধান: ১৯৭৮ সালে বর্তমান সংবিধান গৃহীত।
- আইনসভা: এককক্ষবিশিষ্ট সংসদ (Unicameral Parliament)
- প্রশাসনিক বিভাগ: ৯টি প্রদেশ ও ২৫টি জেলা।
- এডাম’স পিক হলো শ্রীলংকার একটি পবিত্র পাহাড়,
- অবস্থান: শ্রীলংকার কেন্দ্র-পশ্চিম অংশে, সবারাগামুওয়া প্রদেশে (Sabaragamuwa Province)
- এটি শ্রীলংকার অন্যতম বিখ্যাত ও পবিত্র পর্বত শৃঙ্গ।
উৎস: ব্রিটানিকা।
বাংলাদেশের উষ্ণতম ও শীতলতম স্থান:
- উষ্ণতম স্থান: নাটোর জেলার লালপুর।
- শীতলতম স্থান: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল।
- উষ্ণতম মাস: এপ্রিল।
- শীতলতম মাস: জানুয়ারি।
সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড় (Anti-cyclone)।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- সাধারণত মার্চ ও নভেম্বর মাসে আমাদের দেশে প্রায় প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।
• সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত। যেমন-
- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
- ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন,
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই,
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলিছ,
- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- বাংলাদেশ ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
• বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
- বাংলাদেশের জলবায়ু "ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু" নামে পরিচিত।
- এটি মূলত কর্কটক্রান্তি রেখা দ্বারা মধ্যভাগে অতিক্রমিত হওয়ার কারণে এবং মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাবে গঠিত হয়।
- ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মৌসুমী স্রোত এদেশের দক্ষিণ-প্রান্তবর্তী বঙ্গোপসাগর দিয়ে অতিক্রম করে এখানে।
- মৌসুমি বায়ুর কারণে এখানে তিনটি প্রধান ঋতু দেখা যায়: গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শীতকাল।
- শুষ্ক ও আরামদায়ক শীতকাল এবং উষ্ণ ও আদ্রগ্রীষ্মকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ঠ্য।
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
- তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
- এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং এটি বছরের উষ্ণতম মাস।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পানামা খাল:
- বিশ্ব বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- পানামা প্রজাতন্ত্রের বুক চিরে বয়ে চলা কৃত্রিম খালটি জাহাজ চলাচলের জন্য ১৯০৪ সালে খনন করা হয় যেটি বিশ্ববাসীর কাছে পানামা খাল হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
- ১৯০৪ সালে এর খনন কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৪ সালে সমাপ্ত হয়।
- পানামা খালের দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৯০ মিটার পর্যন্ত।
- তবে গভীর জলভাগ থেকে এর দৈর্ঘ্য হিসেব করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৮২ কিলোমিটার।
- গভীরতা স্থানভেদে ৪৬ থেকে ৮৫ ফুট।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ কে পৃথক করেছে।
- এই খাল নির্মাণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পুর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজ গুলোর পথ প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার হ্রাস পেয়েছে।
তথ্যসূত্র - এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ২৬.০১⁰ সেলসিয়াস।
- গড় বৃষ্টিপাত ২০৩⁰ সেন্টিমিটার।
- উষ্ণতম মাস: এপ্রিল, গড় তাপমাত্রা ২৮° সেলসিয়াস।
- শীতলতম মাস: জানুয়ারি, গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।
⇒ দেশের উষ্ণতম স্থান: লালপুর, নাটোর।
- শীতলতম স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা: সিলেট।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়: লালাখাল, সিলেট।
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়: লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা: কক্সবাজার।
- সর্ব উত্তরের জেলা: পঞ্চগড়।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা: রাঙামাটি।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা: নারায়নগঞ্জ।
উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র:
- ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) কর্তৃক বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়।
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত।
- এর আয়তন ৬.৬৮ বর্গ কিলোমিটার।
- এই বেসিনে কয়লার মোট মজুদ ৩৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
- এখানে বিটুমিনাস কয়লা পাওয়া যায়।
• বিটুমিনাস কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে-
- ফিক্সড কার্বন-৪৮.৪০%,
- এ্যাশ- ১২.৪০%,
- ভোলাটাইল মেটার-২৯.২০%,
- মোট ময়েশ্চার-১০%,
- ক্ষতিকারক উপাদান সালফারের পরিমাণ-০.৫৩% এবং
- তাপ দহন ক্ষমতা-১১,০৪০ বিটিউ পার পাউন্ড।
উৎস: বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল) ওয়েবসাইট।
বিভিন্ন দেশের সীমানা:
- ডুরান্ড লাইন - পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- ম্যাকমোহন লাইন ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানা। -
- রেডক্লিফ লাইন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
- লাইন অব ডিমারকেশন পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব কন্ট্রোল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল চীন ও ভারত মধ্যে সীমানা।
- পার্পল লাইন - ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
- সনোরা লাইন মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যকার সীমানা।
উৎস- Britannica.com.
দেশের একমাত্র খনিজ তেলক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- এ তেলক্ষেত্রে তেলের মোট মজুতের পরিমাণ প্রায় ১০ মিলিয়ন ব্যারেল যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুতের পরিমাণ প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল।
- ১৯৮৭ সালের জানুয়ারি মাসে হরিপুর তেলক্ষেত্র থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
-দেশের একমাত্র তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্স সফলভাবে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে নিয়োজিত রয়েছে।
উৎস:https://mpemr.gov.bd/ (জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ)
- সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকার ১১টি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।
সাহারা মরুভূমি:
- প্রায় ৯,২০০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সাহারা মরুভূমিকে বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণ (গরম) মরুভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- আয়তনের দিক থেকে এটি তৃতীয় বৃহত্তম মরুভূমি,
- শুধুমাত্র অ্যান্টার্কটিকা ও আর্কটিকের মেরু মরুভূমির পরেই অবস্থান।
- এবং এটি আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় ৩১% অংশ দখল করে রেখেছে।
- সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকার ১১টি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।
- এই দেশগুলো হলো: আলজেরিয়া, মিশর, লিবিয়া, সুদান, মরক্কো, তিউনিশিয়া, চাঁদ, মালি, নাইজার, মরিতানিয়া, পশ্চিম সাহারা।
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। [লিঙ্ক]
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মামলা হয় নেদারল্যান্ডস এ অবস্থিত স্থায়ী সালিশি আদালতে (Permanent Court of Arbitration-PCA)।
- এই সমুদ্রসীমা নির্ধারণী মামলার রায় হয় ২০১৪ সালের ৮ জুলাই।
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধ ছিল ২৫,৬০২ বর্গকিলোমিটার।
- এই মামলার রায়ে বাংলাদেশ পায় ১৯,৪৬৭ বর্গকিলোমিটার।
- লালমাই পাহাড় টারশিয়ারি যুগের অন্তর্ভুক্ত নয় । এটি প্লাইস্টোসিনকালের অন্তর্গত পাহাড়।
- অন্যদিকে তাজিং ডং, কেওক্রাডং ও ছাতক পাহাড় টারশিয়ারী যুগের পাহাড়।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়, লালমাই পাহাড় এই ভূমিরূপের অন্তর্গত।
• লালমাই পাহাড়:
- এটি প্লাইস্টোসিনকালে বা প্রায় ২৫ হাজার বছর আগে গঠিত একটি ভূমিরূপ।
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার।
- গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।
তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- ১৮০° পূর্ব দ্রাঘিমা এবং ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা মূলত একই। একেই বলে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা।
- আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমের সময় পশ্চিমগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন যোগ এবং পূর্বগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন বিয়োগ হবে।
• মূল মধ্যরেখা:
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কল্পিত রেখাকে ০° দ্রাঘিমা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বই হলো সেই স্থানের দ্রাঘিমাংশ।
- প্রতি ১০ দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময় ব্যবধান হয়।
তথ্যসূত্র: NASA ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
• ভূমিকম্প:
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে।
- কোনো স্থানের ভূকম্পনের জন্য ফল্ট লাইন এবং টেকনিক স্ট্রেস ফিল্ড গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
- যদিও বাংলাদেশ প্লেট বাউন্ডারির মধ্যে নয়, তথাপি ভূপ্রাকৃতিক অবস্থান ও বিন্যাসের স্বকীয়তা বাংলাদেশকে ভূমিকম্প মণ্ডলের আশপাশেই ফেলেছে।
- বাংলাদেশকে ভূকম্পনের তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে।
- সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জোন হিসেবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু কিছু স্থান যেমন: সিলেট, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার উল্লেখযোগ্য।
- ঢাকা ও চট্টগ্রাম মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ।
- পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সর্বাপেক্ষা কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত।
- আবহাওয়া দপ্তর ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রামে একটি ভূকম্পন মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করে।
- এটিই দেশের একমাত্র মানমন্দির।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii)প্রথম আলো।
সিডর:
- ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর।
- এই ঘূর্ণিঝড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়, ধ্বংস হয় মানুষের ঘরবাড়ি।বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নামটি ঠিক করে।
- যার অর্থ চোখ।
- আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার।
- তবে এ সময় দমকা হাওয়ার বেগ উঠছিল ঘণ্টায় ৩০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।
- সিডরের প্রভাবে উপকূলে ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।
তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৫ নভেম্বর ২০২১।
• গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ:
- গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি অসাধারণ বৈচিত্র্য এবং সৌন্দর্যের স্থান।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম এবং দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর ব্যবস্থা,
- গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং বৃহত্তম রিফ কমপ্লেক্স, যা উত্তর-পশ্চিম-দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ১,২৫০ মাইল (২,০০০ কিলোমিটার) জুড়ে বিস্তৃত। রিফটি ১০ থেকে ১০০ মাইল (১৬ থেকে ১৬০ কিলোমিটার) পর্যন্ত বিস্তৃত এবং প্রস্থে ৩৭ থেকে ১৫৫ মাইল (৬০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার) পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়।
- প্রায় ১৩৫,০০০ বর্গমাইল (৩৫০,০০০ বর্গকিলোমিটার) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ তার জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত এবং এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
উৎস: ব্রিটানিকা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। সুতরাং দুর্যোগকে কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
• পূর্বপ্রস্তুতি:
- পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা পথ নাটক অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র, টর্চ-ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।
• প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহন, যেমন- বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত স্কুল ও ঘরবাড়ি নির্মাণ, নদী খনন ইত্যাদি বুঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যথেষ্ট ব্যয়বহুল, যা বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে বৈদেশিক সাহায্য ব্যতীত তৈরি করা কষ্টসাধ্য। অপরদিকে, অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- দুর্যোগ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম অপেক্ষাকৃত স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।
• প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
• সাড়াদান:
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।
• পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুন:নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়।
• উন্নয়ন:
- দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা আবশ্যক।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
আল্পস পর্বত:
- আল্পস পর্বত ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি একটি বিস্তৃত পর্বতমালা যা দক্ষিণ-মধ্য ইউরোপে অবস্থিত।
- অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, লিচেনস্টাইন, মোনাকো, স্লোভেনিয়া এবং সুইজারল্যান্ড নামে আটটি আল্পাইন দেশ জুড়ে রয়েছে এই পর্বতমালা।
- আল্পস পর্বতশ্রেণী প্রায় ১,২০০ কিমি অর্ধচন্দ্রাকার আকারে বিস্তৃত।
- আল্পস এক ধরনের ভঙ্গিল পর্বত।
- আল্পস পর্বতমালাকে তিনটি বিস্তৃত ভাগে ভাগ করা যায়: পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিম আল্পস।
- এটি একটি অবিচ্ছিন্ন পর্বতশ্রেণী এবং বিভিন্ন উচ্চতা এবং গভীরতার অসংখ্য চূড়া এবং উপত্যকা নিয়ে গঠিত।
- সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনে অবস্থিত ২২.৬ কিমি দীর্ঘ আলেচ হিমবাহটি আল্পসের বৃহত্তম হিমবাহ।
- এই পর্বতমালা দক্ষিণ ফ্রান্সের মোনাকোর কাছে ভূমধ্যসাগরের উত্তর থেকে সুইজারল্যান্ড, তারপর উত্তর ইতালি হয়ে দক্ষিণ জার্মানি এবং অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।
- আল্পস পর্বতশ্রেণি আলবেনিয়ায় রুক্ষ অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের উপকূলে শেষ হয়েছে।
উৎস:Worldatlas এবং ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ভূত্বক (Earth's Crust):
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূঅভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় ভূত্বকের পুরুত্ব সবচেয়ে কম; গড়ে ২০ কিলোমিটার।
- ভূত্বক তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিলোমিটার পুরু।
- সিয়াল (Sial) স্তর: সাধারণভাবে মহাদেশীয় ভূত্বকের এ স্তরকে সিয়াল (Sial) স্তর বলে, যা সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI) দ্বারা গঠিত।
- সিমা (Sima) স্তর: এটি সিয়াল স্তরের তুলনায় ভারী এবং এর প্রধান খনিজ উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত।
- অনুমান করা হয় যে, এ ব্যাসল্ট স্তরই সারা পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ ও গভীর সমুদ্র তলদেশে বিদ্যমান।
- ভূত্বকের উপরের ভাগেই বাহ্যিক অবয়বগুলো দেখা যায়। যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইত্যাদি।
- ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
• সুয়েজ খাল-
- মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত সুয়েজ খাল মনুষ্য নির্মিত একটি কৃত্রিম খাল।
- খালটি ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের মাঝে সংযোগ স্থাপন করে।
- ১৮৫৯ সালে শুরু হয়ে দশ বছর ধরে চলে এই খনন কাজ।
- ১৮৬৯ সালে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয় এটি।
- মিশর ১৯৫৬ সালে সুয়েল খালকে জাতীয়করণ করে।
উৎস: Suez Canal Authority.
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সমূহের ব্যাস ২০০-৭০০ কি.মি হয় এবং গভীরতা হয় ১২-১৬ কি.মি পর্যন্ত।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় কেন্দ্রের ভিতরের দিকে বায়ুচাপ দ্রুত কমতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগ বয়ে আনে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
• প্রকারভেদ: টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
• ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
• খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
তথ্যসূত্র: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।