বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৫৩ / ৭২ · ৫,২০১৫,৩০০ / ৭,১৯১

৫,২০১.
নিচের কোনটি মানব সৃষ্ট দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. ক) ভূমিধস
  2. খ) রাসায়নিক বিস্ফোরণ
  3. গ) জিকা ভাইরাস
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট কারণে বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ অবক্ষয়ের দরুন বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগের শিকার হচ্ছে বিশ্ববাসী।
- দুর্যোগের ধরন ও দুর্যোগ সৃষ্টির কারণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের দুর্যোগ ও দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা হয়েছে। যথা- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ, মানব সৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ এবং জৈবিক দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ (Natural Disaster Risk Environment): বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, ভূমিধস, ভূমিকম্প ও বজ্রপাত প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। 

• মানব সৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি (Human made Disaster Risk): বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারের কারণে চামড়া শিল্প, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, রাসায়নিক শিল্পে প্রায় দুর্ঘটনা হয়। ২০১৯ সালে ঢাকায় চকবাজার এলাকায় রাসায়নিক বিস্ফোরণে ৭০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালে সারাদেশে ভবনধ্বসে ২৬ জন মানুষ মারা যায়।

• জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকি (Biological Disaster): সম্প্রতির কোভিড-১৯ সহ বিগত বছরগুলোতে যেমন ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া, ২০০৭ সালে ব্রার্ড ফ্লু, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্ভূক্ত । এছাড়াও ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লু নিপাহ, জিকা ভাইরাসের আক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্গত।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২০২.
কোনটি তাপের প্রধান উৎস?
  1. বায়ুপ্রবাহ
  2. বায়ুর চাপ
  3. সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি
  4. সূর্যালোক
ব্যাখ্যা
• তাপবলয়:
- সূর্য থেকে আসা সৌররশ্মিই তাপের প্রধান উৎস।
- তাপবলয় বা তাপমণ্ডল মূলত ৫ টি ভাগে বিভক্ত।
- সমোষ্ণরেখা দ্বারা কোনো স্থানের তাপের বিন্যাস ও বৈশিষ্ট্য জানা যায়।

এগুলো হলো-
→ উষ্ণমণ্ডল,
→ উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল,
→ দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল,
→ উত্তর হিমমণ্ডল এবং
→ দক্ষিণ হিমমণ্ডল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২০৩.
দেশের একমাত্র পাথর খনি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মধ্যপাড়া, দিনাজপুর
  2. খ) লালাখান, সিলেট
  3. গ) থানচি, বান্দরবান
  4. ঘ) দুলালপুর, নরসিংদী
ব্যাখ্যা
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ গ্রানাইট পাথরের খনি।
- ১৯৭৪ সালে মাটির নিচে ১২৮-১৩৬ মিটার গভীরতায় খনিটি আবিষ্কৃত হয়।
- মধ্যপাড়া খনির ১ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় শিলা মজুদের পরিমাণ ২০ কোটি ১৬ লাখ টন এবং উত্তোলনযোগ্য শিলার পরিমাণ ১০ কোটি ১৩ লাখ টন।
- ২০০৭ সাল থেকে এ খনির পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজে উন্নতমানের এ কঠিন শিলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
- মধ্যপাড়া খনিটির দায়িত্বে নিয়োজিত পেট্রোবাংলার অঙ্গসংগঠন মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি।
- জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) নামের একটি কোম্পানি চুক্তির মাধ্যমে বর্তমানে খনি পরিচালনা ও পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

তথ্যসূত্র:- যুগান্তর এবং বনিক বার্তা।
৫,২০৪.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের পূর্ব সীমারেখায় অবস্থিত? 
  1. ভারত ও নেপাল
  2. ভারত ও মিয়ানমার
  3. বঙ্গপোসাগর
  4. ভারত ও ভুটান
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমা:
- বাংলাদেশের পূর্ব সীমারেখায় অবস্থিত ভারত ও মিয়ানমার।

- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য;
- পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য ও মিয়ানমার;
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত।
- বাংলাদেশের সর্বমোট সীমারেখা ৪,৭১১ কিলোমিটার।
- এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৩,৭১৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারেখার দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫,২০৫.
বাংলাদেশের কোন বিভাগের সবগুলো জেলা সীমান্তবর্তী?
  1. রংপুর
  2. ময়মনসিংহ
  3. সিলেট
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশে মোট বিভাগ ৮টি তার মধ্যে ২টি বিভাগের সবগুলো জেলা সীমান্তবর্তী।
- বিভাগগুলো হলো - ময়মনসিংহ ও সিলেট।
- ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা।
- সিলেট বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,২০৬.
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৪ ভাগে
  2. খ) ৫ ভাগে
  3. গ) ২ ভাগে
  4. ঘ) ৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা - পাহাড়িয়া অঞ্চল, সোপান অঞ্চল এবং সমভূমি অঞ্চল।
বাংলাদেশের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়। বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকার গড় উচ্চতা ২০৫০ ফুট।
অবস্থান অনুসারে বাংলাদেশের টারশিয়ারি পাহাড়কে ২ভাগে ভাগ করা হয়।
বরেন্দ্রভূমি হলো প্লাইস্টোসিনকালের সোপান।
উৎস : বাংলাপিডিয়া
৫,২০৭.
ভারতীয় কোন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোনো সীমান্ত নেই?
  1. ত্রিপুরা
  2. মিজোরাম
  3. আসাম
  4. মণিপুর 
ব্যাখ্যা

- ভারতের মণিপুর রাজ্যের সাথে বাংলাদেশ কোনো সীমান্ত সংযোগ নেই।

• বাংলাদেশের সাথে ভারতের সেভেন সিস্টার্সভুক্ত চারটি রাজ্যসহ মোট ৫টি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো:
- পশ্চিমবঙ্গ,
- আসাম,
- মেঘালয়,
- ত্রিপুরা এবং
- মিজোরাম৷

- উল্লেখ্য,
- সেভেন সিস্টার্সভুক্ত মণিপুর, অরুণাচল ও নাগাল্যান্ড রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই।

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।

৫,২০৮.
কোনটি আয়তনে ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম দ্বীপ?
  1. ক) সুমাত্রা
  2. খ) জাভা
  3. গ) সুলাওয়েসি
  4. ঘ) বোর্নিও
ব্যাখ্যা
• ইন্দোনেশিয়া:
- ১৯ শতকে, ইন্দোনেশিয়া নেদারল্যান্ডের একটি উপনিবেশ ছিল এবং "নেদারল্যান্ডস ইন্ডিজ" নামে পরিচিত ছিল। 
- নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৫ সালে)।
- ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি (স্বাধীনতার নেতৃত্ব প্রদান) সুকর্ণ।
- অন্য নাম - বাংকর্ণ 
- জেনারেল সুহার্তো (১৯৬৮-১৯৯৮) মোট ৩২ বছর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন।

 - মেঘবতী সুকর্ণপুত্রী (২০০১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত)।
- তিনি মুসলিম বিশ্বের প্রথম নির্বাচিত মহিলা প্রধান।

- বৃহত্তম দ্বীপ - সুমাত্রা (আয়তনে)।
- আচেহ প্রদেশ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায়।
- জনবহুল দ্বীপ - জাভা (রাজধানী জাকার্তায় অবস্থিত)।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৫,২০৯.
সুন্দরবন সংলগ্ন ভারতের কোন রাজ্যে রয়েছে?
  1. আসাম
  2. পশ্চিম বঙ্গ
  3. মেঘালয়
  4. মিজোরাম
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি।
- যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম।
- প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৃথিবীর বৃহত্তম নিরবিচ্ছিন্ন জোয়ারধৌত ম্যানগ্রোভ বন।
- সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা।
- এটি ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগণা জেলায় অবস্থিত।
- সমগ্র সুন্দরবনের প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে স্থিত।

 উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,২১০.
ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে-
  1. জিব্রাল্টার প্রণালী
  2. বাবেল মান্দেব
  3. বসফরাস প্রণালী
  4. হরমুজ প্রণালী
ব্যাখ্যা
• পৃথককারী গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী:
- বেরিং প্রণালী পৃথক করেছে আমেরিকাকে-এশিয়া থেকে।
- হরমুজ প্রণালী পৃথক করেছে- সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানকে।
- মালাক্কা প্রণালী পৃথক করেছে- সুমাত্রা- মালয়েশিয়াকে।
- বসফরাস প্রণালী পৃথক করেছে- এশিয়া থেকে ইউরোপকে।
- জিব্রাল্টার প্রণালী ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- পক প্রণালী ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী একটি সামুদ্রিক প্রণালী।

উৎস: ব্রিটানিকা
৫,২১১.
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা কত?
  1. ১,২০০ মেগাওয়াট
  2. ২,৪০০ মেগাওয়াট
  3. ৩,৬০০ মেগাওয়াট
  4. ৪,২০০ মেগাওয়াট
ব্যাখ্যা

• রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Rooppur Nuclear Power Plant – RNPP):
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে, পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত।
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। 
- এটি দুটি ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটে বিভক্ত।
- প্রতিটি ইউনিট VVER-1200 রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

- কেন্দ্রটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পরমাণু শক্তি কমিশন।
- এবং নির্মাণ কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটোম এর প্রকৌশল বিভাগ এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট।
- মূল নির্মাণ চুক্তি ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের সাথে এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়;
- যার বাস্তবায়ন সময়কাল ধরা হয় ৭ বছর, এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মেয়াদকাল ৬০ বছর।
- ২০১৮ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
- ৫ অক্টোবর ২০২৩ রাশিয়া বাংলাদেশকে কেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম সরবরাহ করে।
- এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয় পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৫,২১২.
সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর মিলিত স্রোতের নাম কী?
  1. ক) বোরাক
  2. খ) যমুনা
  3. গ) বুড়িগঙ্গা
  4. ঘ) মেঘনা
ব্যাখ্যা
• নদী:
- হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার মারকুলী নামক স্থানে কুশিয়ারা পুনরায় সুরমার সঙ্গে মিলিত হয়ে কালনী নাম ধারণ করে দক্ষিণ দিকে ভৈরব উপজেলার ভৈরববাজার পর্যন্ত প্রবাহিত হওয়ার পর সুরমার অপর শাখা ধনুর সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে প্রবাহিত হয়েছে। মারকুলীর উজানে কুশিয়ারা কিছুটা জায়গা জুড়ে বিবিয়ানা নদী নামেও পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,২১৩.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ২৯° সেলসিয়াস
  2. ৩৪° সেলসিয়াস
  3. ২৭° সেলসিয়াস
  4. ৩২° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
→ বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২১° সেলসিয়াস
→ শীতকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৯° এবং ১১° সেলসিয়াস।
→ এদেশের গ্রীষ্মকালীন গড় উষ্ণতা ২৭° থেকে ৩২.২° সেলসিয়াস
→ শীতকালীন গড় উষ্ণতা ১৩.২° থেকে ২১° সেলসিয়াস।
→ বর্ষাকালে গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২১৪.
প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক সমৃদ্ধ 'মৎসখনি' হিসাবে পরিচিত কোন নদী?
  1. পদ্মা নদী
  2. হালদা নদী
  3. কর্ণফুলী নদী
  4. মেঘনা নদী
ব্যাখ্যা

• হালদা নদী:
- হালদা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি নদী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বদনাতলী পাহাড় হতে উৎপন্ন হয়ে এটি ফটিকছড়ির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।
- এটি কালুরঘাটের নিকটে কর্ণফুলী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- এর মোট দৈর্ঘ্য ৮১ কিলোমিটার।
- এটি দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- হালদা বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যেখান থেকে রুইজাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ) নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়।
- হালদা নদীর প্রজনন সময় হচ্ছে এপ্রিল, মে, জুন এই তিন মাস।
- অমাবস্যা, পূর্ণিমা তিথিতে এখানে রুইজাতীয় মাছ নিষিক্ত ডিম ছাড়ে।
- হালদা হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক।

উল্লেখ্য,
- হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
- এতে হালদা নদী জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ঐতিহ্যগত স্থান হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হবে।
- হালদায় মাছের অভয়াশ্রমের পাশাপাশি প্রকৃতিতে আসবে নতুন প্রাণ।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সমকাল পত্রিকার নিউজ।

৫,২১৫.
কত তারিখে পৃথিবীতে দিনরাত্রি সমান হয়?
  1. ২১ মার্চ
  2. ২২ ডিসেম্বর
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয়সহ উত্তর-পূর্বে আসাম পাহাড়ী অঞ্চল রয়েছে এবং এর মাঝে বাংলাদেশ নীচু সমতল ভূমি।
- এরূপ অবস্থানের জন্য বাংলাদেশে দুটি রূপে মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব দেখা যায়।
- পৃথিবীর দিনরাত্রি সর্বত্র সমান ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর।

এছাড়াও,
- উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত : ২২ ডিসেম্বর।
- দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত : ২২ ডিসেম্বর।
- উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত : ২১ জুন।
- দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত : ২১ জুন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৫,২১৬.
ট্রপোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. বায়ুর উষ্ণতা দ্রুত বৃদ্ধি
  2. বেতার তরঙ্গের প্রতিফলন
  3. অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ
  4. উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপের হ্রাস
ব্যাখ্যা

• ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
- এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভুপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে। 
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়। 
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)। 
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 

ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। 
- উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়। 
- নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে। 
- ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমণ্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে। 
- যে উচ্চতায় তাপমাত্রা বন্ধ হয়ে যায় তাকে ট্রপোবিরতি বলে। এখানে তাপমাত্রা - ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,২১৭.
মর্মর সাগর – কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করে কোন প্রণালী? 
  1.  তিরান প্রণালী
  2. দার্দানেলেস প্রণালী
  3. বাব এল মান্দেব প্রণালী
  4. বসফরাস প্রণালী
ব্যাখ্যা

বসফরাস প্রণালী:
- বসফরাস প্রণালী এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যবর্তী অঞ্চলের একটি অংশের সীমানা নির্দেশ করে।
- এটি তুরস্কের ইস্তানবুল শহরকে পৃথক করেছে।
- প্রণালীটিকে তাই ইস্তাম্বুল প্রণালীও বলা হয়।
- এই প্রণালীটি বিশ্বের নৌ চলাচলের ব্যবহৃত সবচেয়ে সরু জলপথ।
- মর্মর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে বসফরাস প্রণালী।
- এই প্রণালী এশিয়া থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছে।

অন্যদিকে,

• তিরান প্রণালী: লোহিত সাগর এবং আকাবা উপসাগরকে সংযুক্ত করে ।
• দারদানেলিস প্রণালী : এটি এজিয়ান সাগরকে মারমারা সাগরের সাথে সংযুক্ত করে।
• এডেন – লোহিত সাগরকে যুক্ত করে- বাব এল মান্দেব প্রণালী।

উৎস: Britannica.

৫,২১৮.
রাসায়নিক দূষণ কোন প্রকারের দুর্যোগ?
  1. মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ
  2. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  3. মহাকাশীয় দুর্যোগ
  4. ভূ-অভ্যন্তরস্থ প্রতিক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ 
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক দূষণ - মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

• বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ:
- পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়।
যেমন: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগ: প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।

• মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ: মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২১৯.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়?
  1. ক) বায়ু দূষণ
  2. খ) অগ্ন্যুৎপাত
  3. গ) ভূমিকম্প
  4. ঘ) বন্যা
ব্যাখ্যা
- বায়ু দূষণ এটি মানব-সৃষ্ট বিপর্যয় কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়।
- বিপর্যয় : বিপর্যয় বলতে বিপদ বা আপদের সম্ভাবনাকে বুঝায়।
- যে সকল ঘটনা একটি এলাকার জনগণের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, এমনকি একেবারে ধ্বংস করতে পারে, সে সকল ঘটনাকে বিপর্যয় বলে। 
• বিপর্যয় দুই ধরনের হতে পারে যেমন :
- প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যেমন-ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
- মানব-সৃষ্ট বিপর্যয়, যেমন-পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, রাসায়নিক বিষক্রিয়া, যুদ্ধ ইত্যাদি।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ : এসএসসি প্রোগ্রাম (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৫,২২০.
জুম চাষ হয়---
  1. ক) বরিশালে
  2. খ) ময়মনসিংহে
  3. গ) খাগড়াছড়িতে
  4. ঘ) দিনাজপুরে
ব্যাখ্যা
জুষ চাষ হলো স্থানান্তর চাষাবাদ যা সাধারণত পাহাড়ী এলাকায় করা হয়। এ পদ্ধতিতে ঢালু পাহাড়ে জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করা হয়।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা এখনো কিছু কিছু এলাকায় জুষ চাষ করে।
- এছাড়া সিলেট অঞ্চলে খাসিয়া এবং ময়মনসিংহে গারোদের মধ্যেও জুম চাষ প্রচলিত ছিলো।
(সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫,২২১.
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে কতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

• সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন’ একটি বৈশ্বিক চুক্তি, যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে দুর্যোগ পরিকল্পনা, মোকাবিলা ও পুনর্বাসনে সহায়তার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
- ২০১৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক : ২০১৫-২০৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়।
- এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে বিপর্যয়ের পরিমাণ ৪০ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক দপ্তর (ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন-ইউএনডিআরআর)।

উৎস: জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয় ও UNDP ওয়েবসাইট।

৫,২২২.
নিচের কোনটি উপসাগর নয়?
  1. পারস্য সাগর
  2. বঙ্গোপসাগর
  3. মেক্সিকো সাগর
  4. ভূমধ্যসাগর
ব্যাখ্যা
উপসাগর:
তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে জল তাকে উপসাগর (Bay) বলে।
- যথা- বঙ্গোপসাগর, পারস্য উপসাগরমেক্সিকো উপসাগর ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
⇒ মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তনবিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর (Sea) বলে।
- যথা- ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর, জাপান সাগর ইত্যাদি।
⇒ চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে হ্রদ (Lake) বলে।
- যথা- রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত সুপিরিয়র হ্রদ ও আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৫,২২৩.
তিন বিঘা করিডোরের আয়তন কত?
  1. ক) ১৭৮ মিটার X ৮৫ মিটার
  2. খ) ১৮৩ মিটার X ৮৭ মিটার
  3. গ) ১৮৭ মিটার X ৯৩ মিটার
  4. ঘ) ১৭৫ মিটার X ৭১ মিটার
ব্যাখ্যা

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আর একটি অনন্য উদাহরণ হচ্ছে তিন বিঘা করিডোর। বিশ্বের কোথাও এমন আরেকটি নজির নেইযেখানে কোন দেশের একটি অংশ তার অপর অংশের সাথে অন্য একটি দেশের করিডোরের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়েছে। এটি হচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবংবাংলাদেশ সীমান্তের ১৭৮ মিটার x ৮৫ মিটার পরিমাপের একটি ভূ-খন্ড। করিডোরটি, যেটি দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা (বাংলাদেশ) ছিটমহলগুলোকে বাংলাদেশের মূল ভূ-খন্ডের (পাটগ্রাম থানা) সঙ্গে এবং কুচলিবাড়িকে (ভারত) মেখলিগঞ্জ শহরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যেবন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির একটি সত্যিকারের সংযোগস্থলে পরিণত হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের জনগণ সমানভাবে করিডোরটি ব্যবহার করে, যা প্রকৃতপক্ষে দুটি দেশের জনগণের বন্ধুতা ও সৎ প্রতিবেশীসুলভ পরিবেশে একত্রে বসবাস করার একটি মূর্ত প্রতীক।
উৎসঃ ভারতীয় সরকারের ওয়েবসাইট [click here]

৫,২২৪.
ইউরেনাসকে বলা হয়-
  1. ক) গ্রহরাজ
  2. খ) লালগ্রহ
  3. গ) সবুজগ্রহ
  4. ঘ) ক্ষুদ্রগ্রহ
ব্যাখ্যা

- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি।
- ইউরেনাসকে সবুজগ্রহ,
- বুধকে ক্ষুদ্রগ্রহ,
- মঙ্গলকে লালগ্রহ,
- বৃহস্পতিকে গ্রহরাজ বলে।

৫,২২৫.
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং বাংলাদেশে আঘাত হানে কবে?
  1. ১৪ই এপ্রিল ২০২৩
  2. ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
  3. ১৪ই মে ২০২৩
  4. ২৪শে অক্টোবর ২০২২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য ঘূর্ণিঝড়সমূহ:
ভোলা - ১২ নভেম্বর, ১৯৭০
সিডর - ১৫ নভেম্বর, ২০০৭
আইলা - ২৫শে মে, ২০০৯
মহাসেন - ১৬ই মে ২০১৩
কোমেন - ২৯ জুলাই ২০১৫
মোরা - ৩০শে মে ২০১৭
ফণী - ২মে ২০১৯
আম্ফান - ২০শে মে ২০২০
সিত্রাং - ২৪শে অক্টোবর ২০২২
মোখা - ১৪ই মে ২০২৩

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিসি বাংলা।
৫,২২৬.
পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্র স্রোত প্রবাহিত হয়-
  1. উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে
  2. দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে
  3. পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে
  4. পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে
ব্যাখ্যা
• নিয়ত বায়ু:
- পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যে বায়ু সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- নিয়ত বায়ু তিন প্রকার।যথা-

১. পশ্চিমা বায়ু:
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে অয়ন বায়ু ব্যতীত আরও দুটি বায়ুপ্রবাহ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্র স্রোত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ুপ্রবাহকে পশ্চিমা বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অধিক বলে স্থানীয় কারণে পশ্চিমা বায়ুর সাময়িক বিরতি ঘটে।
- কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমান বেশি বলে পশ্চিমা বায়ু প্রবলবেগে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। এজন্য এই বায়ুপ্রবাহকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু বলে।
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি। এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশা বলে।

২. অয়ন বায়ু:
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে যে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তা অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
- প্রাচীনকালে বাণিজ্য জাহাজসমূহ এই বায়ু অনুসরণ করে চলাচল করতো বিধায় এই বায়ুকে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়।
- অয়ন বায়ু এক প্রকার নিয়ত বায়ু যা সারাবছর একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু প্রবাহিত হয় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে।

৩. মেরু বায়ু :
- মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় থেকে অতি শীতল ও ভারী বায়ু উত্তর গেলার্ধে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
- এ প্রবাহদ্বয়কে উত্তর সুমেরু বায়ু ও দক্ষিণ কুমেরু বায়ু বলে।

উৎস:
১. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২২৭.
অক্ষাংশ নির্ণয়ের পদ্ধতি নয় কোনটি?
  1. সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে
  2. গ্রিনিচের সময় দ্বারা
  3. ধ্রুবতারার সাহায্যে
  4. ক ও গ উভয়
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ (Latitude) ও দ্রাঘিমাংশ (longitude) নির্ণয়ের পদ্ধতি:
অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়:-(উন্নতি কোণ ব্যবহার করে)
১। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে [সূত্র: অক্ষাংশ = ৯০° – (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি +/- বিষুবলম্ব)]
২। ধ্রুবতারার সাহায্যে [সূত্র: অক্ষাংশ = ধ্রুবতারার উন্নতি (নিরক্ষরেখায় ০° ও মেরুতে ৯০°)]

দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করা হয়:-(সময়ের পার্থক্য ব্যবহার করে)
১। স্থানীয় সময়ের পার্থক্য দ্বারা
২। গ্রিনিচের সময় দ্বারা
সূত্র: প্রতি ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য = ১° দ্রাঘিমার পার্থক্য। সময়ের হিসেবে গ্রিনিচের পূর্বদিকের দেশগুলো এগিয়ে থাকে এবং পশ্চিম দিকের দেশগুলো পিছিয়ে থাকে।
[বাংলাদেশ গ্রিনিচ থেকে ৯০° পূর্বে তাই বাংলাদেশে সময় ৬ ঘন্টা এগিয়ে]

তথ্যসূত্র: Live MCQ ক্লাস লেকচার এবং ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২২৮.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড় কোন উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. শিলা ও কাঁকর
  2. কাদা ও কংক্রিট
  3. চুনাপাথর ও বালু
  4. বেলেপাথর, শেল ও কর্দম
ব্যাখ্যা
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছে বলে এগুলোকে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বলা হয়।
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অবস্থান:
- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ছোট-বড় পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। 

⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
১। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

২। উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস:
i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,২২৯.
'গ্রেট বেরিয়ার রীফ' (Great Barrier Reef) কোথায় অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. গ্রীনল্যান্ড
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
গ্রেট বেরিয়ার রীফ (Great Barrier Reef):
- পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল-প্রাচীর 'গ্রেট বেরিয়ার রীফ' (Great Barrier Reef) অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপূর্ব উপকূলে অবস্থিত।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০০ কি.মি.।
- গ্রেট বেরিয়ার রীফের সর্বাধিক প্রস্থ ৬৫ কি.মি.।
- অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্য বরাবর প্রশান্ত মহাসাগরে গ্রেট বেরিয়ার রীফ অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চার্যের একটি।

অপরদিকে, 
- আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ হচ্ছে ওশেনিয়া/ অস্ট্রেলিয়া।
- ওশেনিয়া/অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ এর সবচেয়ে বড় দেশ অস্ট্রেলিয়া।
- অস্ট্রেলিয়া একটি ল্যাটিন শব্দ– যার অর্থ দক্ষিণাঞ্চল।
- ওশেনিয়া বা অস্ট্রেলিয়া এশিয়া মহাদেশের দক্ষিনে অবস্থিত দক্ষিন গোলার্ধের একটি দেশ।
- অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণতম মাস জানুয়ারি এবং শীতলতম মাস জুলাই।
- ওশেনিয়ায় মোট ১৪টি দেশ রয়েছে।
- অস্ট্রেলিয়া ওশেনিয়ার বৃহত্তম এবং জনবহুল দেশ।
- ওশেনিয়া হল একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল যা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া এবং পলিনেশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরের উপ-অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে।
- অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় হ্রদ গ্রেট ভিক্টোরিয়া।

তথ্যসূত্র: গ্রেট বেরিয়ার রীফ অর্গানাইজেশন ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৫,২৩০.
শাল কোন বনভূমির প্রধান বৃক্ষ?
  1. সিলেট অঞ্চলের বনভূমি
  2. সুন্দরবন
  3. মধুপুর ও ভাওয়াল গড়
  4. পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা
- টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত বনভূমি শালবন নামে পরিচিত।
- এই বনভূমির প্রধান বৃক্ষ হলো শাল বা গজারি। শাল গাছের আধিক্যের কারণে এই বনভূমি শালবন নামে পরিচিত।
- শালবন একটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি। যার কারণে শীতকালে এই বনের গাছের পাতা ঝড়ে যায়।
- শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর।
(তথ্যসূত্রঃ বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
৫,২৩১.
নিচের কোন পাহাড় টারশিয়ারি যুগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. তাজিং ডং
  2. কেওক্রাডং
  3. লালমাই
  4. ছাতক 
ব্যাখ্যা

- লালমাই পাহাড় প্লাইস্টোসিনকালের অন্তর্গত পাহাড়।
- অন্যদিকে তাজিং ডং, কেওক্রাডং ও ছাতক পাহাড় টারশিয়ারী যুগের পাহাড়।

• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:

- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়, লালমাই পাহাড় এই ভূমিরূপের অন্তর্গত।

• লালমাই পাহাড়: 
- এটি প্লাইস্টোসিনকালে বা প্রায় ২৫ হাজার বছর আগে গঠিত একটি ভূমিরূপ।
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার।
- গড় উচ্চতা ২১ মিটার। 
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,২৩২.
মানুষের আবাসভূমি হিসেবে পৃথিবীর বর্ণনাকে ভূগােল বলেছেন কে?
  1. ক) অধ্যাপক হেগেল
  2. খ) অধ্যাপক লিও
  3. গ) ইরাটসথেনিস
  4. ঘ) অধ্যাপক ম্যাকনি
ব্যাখ্যা
Geography' শব্দটির অর্থ পৃথিবীর বর্ণনা। পৃথিবী আবার মানুষের আবাসভূমি। অধ্যাপক ম্যাকনি (Professor E. A. Macnee) মানুষের আবাসভূমি হিসেবে পৃথিবীর আলােচনা বা বর্ণনাকে বলেছেন ভূগােল। তাঁর মতে ভৌত ও সামাজিক পরিবেশে মানুষের কর্মকাণ্ড ও জীবনধারা নিয়ে যে বিষয় আলােচনা করে তাই ভূগােল। অধ্যাপক ডাডলি স্ট্যাম্পের (Professor L. Dudley Stamp) মতে, পৃথিবী ও বর্ণনাই হলাে ভূগােল। কোনাে কোনাে ভূগােলবিদ ভুগােলকে বলেছেন পৃথিবীর বিবরণ, কেউ বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান। অধ্যাপক কার্ল রিটার (Professor Carl Rittcr) ভূগােলকে বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান। (রেফারেন্সঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল)
৫,২৩৩.
২১শে জুন সূর্য কোন অক্ষাংশে বরাবর লম্বভাবে কিরণ দেয়?
  1. ০° অক্ষাংশে
  2. ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ
  3. ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ
  4. ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফল ও দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি:
⇒ পৃথিবী নিজ কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে ২১শে জুন তারিখে এমন অবস্থানে আসে যে, ঐ দিন উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ বরাবর সূর্য রশ্মি লম্বভাবে পতিত হয়।
- অর্থাৎ সূর্য ২১শে জুন তারিখে ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ বরাবর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- ২১ শে জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধে সর্বাপেক্ষা বড় দিন (১৪ ঘণ্টা) ও সর্বাপেক্ষা ছোট (১০ ঘণ্টা) রাত হয়ে থাকে।
- সূর্যের এই অবস্থানকে সূর্যের উত্তরায়ণ বলে।
- এ সময়ে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকায় দীর্ঘ দিবাভাগ ও অপেক্ষাকৃত কম দীর্ঘ রাত্রি সংঘটিত হয়।
- এ সময়ে সূর্যের কিরণ দীর্ঘ সময় যাবৎ ভূ-পৃষ্ঠ ও তৎসংলগ্ন বায়ুস্তরকে অত্যন্ত উত্তপ্ত করে তোলে।
- ফলে এপ্রিল মাসের প্রথম ভাগ থেকে জুন মাসের শেষ ভাগ পর্যন্ত উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।
- অপরদিকে দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে অধিক দূরত্বে অবস্থান করায় সে সময়ে ঐ গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।
- সূর্য উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা পর্যন্ত লম্বভাবে কিরণ দিতে পারে।
- অতএব ২১ শে জুন ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখায় সূর্যের উত্তরায়ণকে কর্কট সংক্রান্তি বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৩৪.
নিচের কোনটি রূপান্তরিত শিলা নয়?
  1. ক) কেওলন
  2. খ) গ্রাফাইট
  3. গ) নিস
  4. ঘ) কোয়াটজাইট
ব্যাখ্যা
• রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
⇒ যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।
- এ শিলা সূদুর অতীতকালের প্লেট সঞ্চারণের সাক্ষ্য বহন করে।
- রূপান্তরিত শিলা মার্বেল পাথর, শ্লেট, গার্নেট ইত্যাদির মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৩৫.
চলন বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে কোন নদী?
  1. ক) আত্রাই
  2. খ) মহানন্দা
  3. গ) বাঙ্গালি
  4. ঘ) করতোয়া
ব্যাখ্যা
• চলন বিল:
- চলনবিলের মধ্য দিয়ে আত্রাই নদী প্রবাহিত হয়েছে।
- চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আত্রাই নদী হুরাসাগর নদীর সাথে মিলিত হয়ে বাঘাবাড়ির নিকট যমুনা নদীতে পতিত হয়েছে।
- চলন বিল (Chalan Beel) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল এবং সমৃদ্ধতম জলাভূমিগুলির একটি।
- বিলটি সংলগ্ন তিনটি জেলা রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ-এর অংশবিশেষ জুড়ে অবস্থান করছে।
- এটি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা দুটির অধিকাংশ স্থান জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা ও গুমনী নদীর উত্তর পাড়ের মধ্যে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,২৩৬.
আরব মরুভূমিতে প্রবাহিত বায়ুর নাম-
  1. ক) টাইফুন
  2. খ) খামসিন
  3. গ) সাইমুম
  4. ঘ) সিরোক্কো
ব্যাখ্যা

• তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে উৎপত্তি হয় স্থানীয় বায়ুর।
• কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ:
- আরব মরুভূমিতে সাইমুম।
- ভারতীয় উপমহাদেশের লু।
- উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরক্কো।
- মিশরের খামসিন।
- আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,২৩৭.
গ্রিন হাউজ ইফেক্টের ফলে কী কী হতে পারে?
  1. ক) মেরু অঞ্চলের বরফ গলবে
  2. খ) কৃষি জমির উর্বরতা বিনষ্ট হবে
  3. গ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে মেরু অঞ্চলসহ অন্যান্য স্থানে সঞ্চিত থাকা বরফ গলতে শুরু করবে।
যার কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর স্থলভাগের অনেক নিম্নভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হবে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার ফলে খরা দেখা দিবে। সমুদ্রের পানির কারণে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হবে।
(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)।
৫,২৩৮.
গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদীর নাম কি?
  1. মেঘনা
  2. সিমসাং
  3. বরাক
  4. ফাইপি
ব্যাখ্যা
গারো পাহাড়:
- বাংলাদেশের বৃহত্তম ও সবচেয়ে উঁচু পাহাড় গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণি।
- মূলত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো-খাসিয়া পর্বতশ্রেণির একটি অংশকে গারো পাহাড় বলে।
- এর কিছু অংশ রয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যে ও বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাগুলো এ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
- গারো পাহাড়ের মোট আয়তন প্রায় আট হাজার ১৬৭ বর্গকিলোমিটার।
- গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম নকরেক, যা ভারত অংশে অবস্থিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৪ হাজার ৬৫২ ফুট বা এক হাজার ৪০০ মিটার।
- গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদীটির নাম সিমসাং।
- মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং এ পাহাড়েই অবস্থিত।
- তবে গারো পাহাড়ের প্রধান শহর তুরা।
- গারো পাহাড় বিশ্বের অন্যতম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি।

অন্যদিকে -
- তাজিংডং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।

উৎস: i) ৫ অক্টোবর, ২০২২, কালের কন্ঠ।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,২৩৯.
চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজারের পাহাড়সমূহ কোন যুগের পাহাড়?
  1. আধুনিক যুগের
  2. প্লাইস্টোসিনকালের
  3. সাম্প্রতিক কালের
  4. টারশিয়ারি যুগের
ব্যাখ্যা
• ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো:
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- এ পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদম দ্বারা গঠিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তভুর্ক্ত।
- এ পাহাড়সমূহ আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ;
খ) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

উল্লেখ্য,
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তভুর্ক্ত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৪০.
সিলিকন ভ্যালি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. জার্মানি
  3. ইতালি
  4. চীন
ব্যাখ্যা
সিলিকন ভ্যালি:
- সিলিকন ভ্যালি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তিপণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত একটি জরুরি উপাদান সিলিকন।
- এই সিলিকন থেকেই সারাবিশ্বের প্রযুক্তির রাজধানী সিলিকন ভ্যালির নামকরণ করা হয়েছে।
- আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত সিলিকন ভ্যালিতে আছে প্রায় কয়েক হাজার প্রযুক্তি-প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়।
- ফেসবুক, গুগল ও অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি দানবের সদরদপ্তরও এই সিলিকন ভ্যালিতে।
- বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করা হয় সরাসরি সিলিকন ভ্যালি থেকে।

উৎস: Britannica.
৫,২৪১.
নিচের কোনটি বলকান দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. নেদারল্যান্ডস
  2. ক্রোয়েশিয়া
  3. কসোভো
  4. রােমানিয়া
ব্যাখ্যা
বলকান রাষ্ট্র:
- বলকান হলো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত একটি পার্বত্য অঞ্চল।
- বলকান পর্বতমালার পাদদেশ বা বলকান পেনিনসুলায় অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

এই অঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ হলো:
- ক্রোয়েশিয়া,
- স্লোভেনিয়া,
- কসোভো,
- মন্টিনিগ্রো,
- বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা,
- রােমানিয়া,
- বুলগেরিয়া,
- সার্বিয়া,
- উত্তর মেসিডোনিয়া,
- আলবেনিয়া।

উল্লেখ্য,
- গ্রিস এবং তুরস্কের কিছু অংশও বলকান অঞ্চলে অবস্থিত।

সূত্র: ব্রিটানিকা
৫,২৪২.
নদীর মোহনাতে প্রচুর পরিমাণে পলি সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে কী ধরনের সমভূমি বলা হয়?
  1. ক) উপকূলীয়
  2. খ) সামুদ্রিক
  3. গ) হিমবাহ
  4. ঘ) ব-দ্বীপ
ব্যাখ্যা
নদীর মোহনাতে প্রচুর পরিমাণে পলি সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয় ব-দ্বীপ সমভূমি বলা হয়।

• ব-দ্বীপ:

- নদীর গতিপথের সর্বশেষ পর্যায়ে অর্থাৎ সমুদ্রে পতিত হওয়ার পূর্বে নদীর গতি সর্বাধিক মন্থর থাকে এবং পানিতে পলির পরিমাণ থাকে সর্বাধিক। ফলে নদীর মোহনাতে প্রচুর পরিমাণে পলি সঞ্চিত হয়।
- এ পলি সঞ্চিত হতে হতে বাংলা মাত্রাহীন ‘ব’ এর মতো যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে ব-দ্বীপ বলে
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, পাকিস্তানের সিন্ধু, মিশরের নীল, ব্রহ্মদেশের ইরাবতী, চীনের ইয়াংসি, হোয়াংহো, উত্তর আমেরিকার মিসিসিপি, ইতালির পো প্রভৃতি নদীর মোহনায় বিস্তীর্ণ ব-দ্বীপ গঠিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৪৩.
১৭৮৭ সালের পূর্বে যমুনা 'ব্রহ্মপুত্র' নামে কোন দিক দিয়ে প্রবাহিত হত?
  1. ক) দক্ষিণ
  2. খ) পূর্ব
  3. গ) উত্তর
  4. ঘ) পশ্চিম
ব্যাখ্যা
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা সমভূমি:
- গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র মেঘনা নদী বিধৌত প্লাবন সমভূমি বর্ষায় প্রায় পানিতে প্লাবিত হয়।
- তিস্তা পলল পাখা থেকে শুরু করে পদ্মা নদীর উত্তর তীর এবং মেঘনা নদীর পশ্চিম তীর পর্যন্ত এ সমভূমি বিস্তৃত ।
- প্লাষ্টোসিন ১মিটার যুগের সোপান ব্যতীত পুরা অঞ্চল নদী বিধৌত সমভূমি। 
- এর উত্তর-পূর্বাংশে সিলেটের হাওড় অঞ্চল অবস্থিত। উত্তর প্রান্ত ঘেষে শিলং মালভূমির পাদদেশের টিলাসমূহ এবং এদের মধ্যদিয়ে অসংখ্য স্বল্প বিস্তার সমৃদ্ধ পলল পাখা রয়েছে।
- ১৭৮৭ সালের পূর্বে যমুনা ব্রহ্মপুত্র নামে পূর্ব দিক দিয়ে প্রবাহিত হত।
- ফলে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর সমভূমি দেশের উত্তর মধ্য অঞ্চলে সুবিস্তৃত। 
 
উৎস: এইচ এসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
 
৫,২৪৪.
কিউবা কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. উত্তর মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর
ব্যাখ্যা

কিউবা:
- সরকারি নাম: কিউবান রেপাবলিক।
- রাজধানী: হাভানা (Havana)।
- অবস্থান: ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ রাষ্ট্র।
- আয়তন: প্রায় ১০৬,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- ভাষা: স্প্যানিশ (সরকারি ভাষা)।
- মুদ্রা: কিউবান পেসো।
- ধর্ম: প্রধানত ক্যাথলিক এবং অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায়।
- শাসন ব্যবস্থা: একদলীয় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

• ভৌগোলিক অবস্থান:
- আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- দক্ষিণে মেক্সিকো, উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা প্রদেশের নিকটে।
- পূর্বে হাইতি, পুয়ের্তো রিকো সহ অন্যান্য ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের পাশে্

উল্লেখ্য
- স্পেনের উপনিবেশ ছিল ১৫০০ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত।
- ১৯০২ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ।
- ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রো নেতৃত্বে বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: Britannica, World Atlas. 

৫,২৪৫.
নিচের কোনটি মেঘনা নদীর উপনদী?
  1. ধরলা
  2. ডাকাতিয়া
  3. মহানন্দা
  4. তিস্তা
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী: 
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী।
- মেঘনার উৎপত্তি: আসামের লুসাই পাহাড় হতে বরাক নদী নামে।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলা দিয়ে।
- সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হয়েছে আজমিরীগঞ্জে এবং নামধারণ করেছে কালনী।
- কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতের নাম: মেঘনা (ভৈরববাজার)।
- উপনদী: ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া, বাউলাই।

অপরদিকে,
- ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra) নদের প্রধান উপনদী: ধরলা ও তিস্তা।
- পদ্মা নদীর উপনদী: মহানন্দা, ট্যাঙ্গন, পুনর্ভবা, নগর, কুলিক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,২৪৬.
উপসাগর হলো সাধারণত- 
  1. তিনদিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত
  2. একদিকে সাগর বা মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত 
  3. উপসাগরের পানি সাগর বা মহাসাগরে তুলনায় শান্ত হয়
  4. বর্ণিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

উপসাগর (Bay/Gulf):
- উপসাগর হলো সাধারণত তিনদিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত এবং একদিকে সাগর বা মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত লবণাক্ত জলভাগ।
- স্থলভাগের অভ্যন্তরে ব্যাপক অনুপ্রবেশের কারণে উপসাগরের পানি সাধারণত সাগর বা মহাসাগরের তুলনায় শান্ত হয়।
- আবার উপসাগরগুলো অন্য কোন উপসাগরের সঙ্গেও সংযুক্ত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ জেমস উপসাগর হাডসন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত।
- অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত এবং অধিকতর গভীর উপসাগরগুলোকে ইংরেজিতে গালফ (gulf) বলা হয়।
- যেমন-পারস্য উপসাগর (Persian Gulf)।
- আবার অপেক্ষাকৃত ছোটো আকারের খাড়া পাড় বিশিষ্ট উপসাগরগুলো ইংরেজিতে জর্ড নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের একটি উপসাগর (Bay)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ব্রিটানিকা।

৫,২৪৭.
নিচের কোন জেলায় মধুপুর বন অবস্থিত?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) সিলেট 
ব্যাখ্যা
- মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: উত্তরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ উচ্চভূমি বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলটি টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে গঠিত। 
- এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি। 
- বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ এ উচ্চভূমি গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র। এজন্য এটি গজারী বৃক্ষের বনভূমি হিসেবেও পরিচিত। 

  উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম - দশম শ্রেণি।
৫,২৪৮.
জলবায়ু পরিমাপ করতে কত বছরের আবহাওয়ার পরিবর্তনকে বিবেচনায় নিতে হয়?
  1. ক) ১০
  2. খ) ১৫
  3. গ) ২৫
  4. ঘ) ৩০
ব্যাখ্যা
কোনো স্থানের একটি নির্দিষ্ট দিনের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
৫,২৪৯.
একই পরিমাণ বৃষ্টিপাত অঞ্চলসমূহকে যে কাল্পনিক রেখার সাহায্যে দেখানো হয় তার নাম-
  1. ক) আইসােপ্লিথ
  2. খ) আইসোহাইট
  3. গ) আইসােহ্যালাইন
  4. ঘ) আইসোথার্ম
ব্যাখ্যা

ভূ-পৃষ্ঠের সমান বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলগুলো মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখার সাহায্যে দেখানো হয় সেই রেখাকে সমবর্ষণ বা আইসোহাইট (Isohyets) রেখা বলে।
এছাড়া,
- আইসোথার্ম : সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোবার : সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোহেলাইন : সমুদ্রের সমলবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা

সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল-বিওবি এবং সায়েন্সডিরেক্ট ওয়েবসাইট।

৫,২৫০.
সমান উষ্ণতাবিশিষ্ট স্থানগুলোকে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা সংযুক্ত করা হয় তাকে কী বলে?
  1. সমবর্ষণ রেখা
  2. সমচাপ রেখা
  3. সমোষ্ণ রেখা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সমরেখ পদ্ধতি:
- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যেমন সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

• সমোষ্ণ রেখা:
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

• সমচাপ রেখা:
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

• সমবর্ষণ রেখা:
- সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

উৎস: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৫১.
কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত?
  1. অগ্ন্যুৎপাত
  2. রাসায়নিক দূষণ
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- রাসায়নিক দূষণ,
- মরুকরণ,
- অগ্নিকাণ্ড,
- যুদ্ধ,
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ,
- জলাবদ্ধতা সৃষ্টি,
- বন উজারকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প,
- অগ্ন্যুৎপাত,
- খরা,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নদীভাঙন,
- তুষারপাত,
- ঘূর্ণিঝড়,
- বন্যা ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অষ্টম শ্রেণি।
৫,২৫২.
নিঝুমদ্বীপ কোন নদীর মোহনায় অবস্থিত?
  1. মেঘনা
  2. কর্ণফুলী
  3. হাড়িয়াভাঙ্গা
  4. রায়মঙ্গল
ব্যাখ্যা
নিঝুম দ্বীপ:
- নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত।
- এর আয়তন ৯১ বর্গ কিলোমিটার।
- এটি বঙ্গোপসাগরের বুকে মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা এই চর হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে দুই কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
- দ্বীপের তিন দিকে সাগর অন্যদিকে মেঘনার মোহনা।
-  ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল দ্বীপটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।

উল্লেখ্য,
- প্রায় ১৪ হাজার ৫০ একরের দ্বীপটি ১৯৪০ সালের দিকে জেগে ওঠে।
- ওসমান নামের একজন বাথানিয়া তাঁর মহিষের বাথান নিয়ে প্রথম নিঝুম দ্বীপে বসত গড়েন। তখন তাঁর নামেই এই চরের নাম হয় ওসমান চর।
- এই দ্বীপে প্রচুর বালুর ঢিবি বা টিলা ছিল বলে স্থানীয় লোকজন এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বাউল্লার চরও বলে ডাকত।
- আবার এ চরে প্রচুর ইচা মাছ (চিংড়ির স্থানীয় নাম) পাওয়া যেত বলে একে ইছামতীর চরও বলা হতো।
- নিঝুম দ্বীপ এখন হরিণের অভয়ারণ্য।
- দ্বীপের বিশেষ আকর্ষণ উভচর প্রজাতির মাছ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,২৫৩.
মরু এলাকায় কোনটির দ্বারা সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ক্ষয়ীভবন হয়ে থাকে?
  1. বৃষ্টিপাত
  2. সূর্যরশ্মি
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ক্ষয়ীভবন:
- ভু-ত্বকের উপরের শিলারাশি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদীপ্রবাহ, হিমবাহ ও সাগর তরঙ্গ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে অবিরত ক্ষয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট ক্ষয়জাত পদার্থ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পরিবাহিত ও স্থানান্তরিত হয়। এভাবে প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ভূ-ত্বকের শিলারাশির ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্ষয়ীভবন বলে।
- সূর্যরশ্মি, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদীপ্রবাহ, হিমবাহ ও সাগর তরঙ্গ প্রভৃতি ক্ষয়ীভবনের প্রাকৃতিক নিয়ামক।

বায়ুপ্রবাহ:
- মরু এলাকায় বায়ুপ্রবাহের দ্বারা সর্বাধিক ক্ষয়ীভবন হয়।
- মরুভূমিতে গাছপালা না থাকায় মৃত্তিকা ও শিলারাশির দৃঢ়তা খুবই কম। যার দরুণ ভূ-ত্বকের উপরিভাগ থেকে শিলারাশি ও মৃত্তিকা বায়ুর সাথে অন্যত্র চলে যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৫৪.
উইলিয়াম মরিস ডেভিসের ভূমিরূপ মতবাদ কে গাণিতিক মডেলের সাহায্যে ব্যাখ্যা করেছেন?
  1. স্ট্রাবো
  2. কে জে. গ্রেগরী
  3. আল-কিন্দি
  4. আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্‌ড্‌ট্
ব্যাখ্যা
ভূমিরূপ মতবাদ:
- উইলিয়াম মরিস ডেভিসের মতে, ভূমিরূপ হলো ভূ-প্রাকৃতিক উপাদান সমূহের গঠন আকৃতি (Structure), গঠন প্রক্রিয়া (Process) ও সময়ের (Time) এক সমন্বয়।
- কে জে. গ্রেগরী ডেভিসের এই মতবাদকে একটি গাণিতিক মডেল (Mathematical Model) এর সাহায্যে ব্যাখ্যা করেছেন।
মতবাদটি হল: F = ƒ(MP)t, যেখানে, F = ভূমিরূপ (Landform), f =অপেক্ষক (Function of), M=পদার্থ (Geomaterials), P=প্রক্রিয়া (Process), t = সময় (Time) সাথে পরিবর্তনের।

- উপরের গাণিতিক সমীকরণটি থেকে বোঝা যায় যে, একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে যে সকল ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য গুলো পরিলক্ষিত হয়, সেগুলো মূলত ঐ অঞ্চলের নানা ধরনের ভূ-পদার্থ সমূহের মধ্যকার নানা প্রক্রিয়ায় সংঘটিত রূপ।
- একটি দীর্ঘ সময় ব্যাপী এই ভূমিগঠন প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।লিঙ্ক 
৫,২৫৫.
সিলেট জেলার হরিপুরে খনিজ তেল আবিষ্কৃত হয় কবে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৬৬ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা

খনিজ তেল (Petroleum):
- বর্তমান যান্ত্রিক যুগে খনিজ তেল একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। 
​- শক্তি, তাপ এবং আলো উৎপাদনের কাজে খনিজ তেল ব্যবহার করা হয়। 
​- খনিজ তেল পরিশোধন করে ডিজেল, কেরোসিন, গ্যাসোলিন, প্যারাকিন, বিটুমিন প্রভৃতি পাওয়া যায়। 
​- ১৯৮৬ সালে সিলেট জেলার হরিপুরে প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের সপ্তম কূপে বাংলাদেশে প্রথম তেল পাওয়া যায়। 
​- একূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৬০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়।
​- মৌলভীবাজার জেলার বরমচালে দৈনিক প্রায় ১২০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হয়।
​- এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে খনিজ তেল পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে বিশেষজ্ঞগণ ধারণা করছেন। 

​উল্লেখ্য,
- ​বাংলাদেশের জ্বালানি তেল মজুদ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, বিপনন এবং চাহিদা অনুযায়ী আমদানির কাজ সম্পাদন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। 
​- অপরিশোধিত খনিজ তেল চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারী শোধনাগারে পরিশোধন করা হয়।

​তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,২৫৬.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পুনরুদ্ধার বলতে নিচের কোন পর্যায়কে বোঝানো হয়েছে?
  1. দুর্যোগপূর্বকালীন পর্যায়
  2. দুর্যোগকালীন পর্যায়
  3. দুর্যোগ পরবর্তী পর্যায়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র 
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,২৫৭.
নিম্নের কোনটি বাল্টিক রাষ্ট্র নয়?
  1. লাটভিয়া
  2. অস্ট্রিয়া
  3. লিথুয়ানিয়া
  4. এস্তোনিয়া
ব্যাখ্যা
বাল্টিক রাষ্ট্র:
- বাল্টিক রাষ্ট্র বলতে ইউরোপের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল তথা বাল্টিক সাগরের পূর্ব তীরে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহকে বুঝায়।
- এই অঞ্চলে তিনটি দেশ রয়েছে।
- দেশগুলো হলো: এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া।

এছাড়াও,
- বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহে আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতার জন্য কিছু আন্তঃসরকার সংস্থা রয়েছে।

⇒ বাল্টিক সাগর:
- বাল্টিক সাগর ইউরোপের উত্তরাংশে অবস্থিত।
- এর চারদিকে স্ক্যান্ডিনেভীয় উপদ্বীপ, ইউরোপ মহাদেশের মূল ভূখণ্ড এবং ডেনমার্কের দ্বীপসমূহ অবস্থিত।
- পূর্বে এটি উত্তর মহাসাগরের সাথে যুক্ত।
- কৃত্রিম শ্বেত সাগর খালের মাধ্যমে এটি শ্বেত সাগরের সাথে যুক্ত।
- বাল্টিক সাগরের সাথে যেসব দেশের সরাসরি সীমানা রয়েছে: ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, রাশিয়া, সুইডেন।

উৎস: Britannica.
৫,২৫৮.
প্রবহমান দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে কী বলে?
  1. মোহনা
  2. দোয়াব
  3. নদীসংগম
  4. নদীর উৎস
ব্যাখ্যা
- নদীর উৎস: যেখান থেকে নদীর উৎপত্তি হয় তাকে নদীর উৎস বলে।
- মোহনা: নদী যখন কোনো হ্রদ বা সাগরে এসে পতিত হয়, তখন সেই পতিত স্থানকে মোহনা বলে। নদীর অধিক বিস্তৃত মোহনাকে খাঁড়ি বলে।
- দোয়াব: প্রবহমান দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে দোয়াব বলে।
- নদীসংগম: দুই বা ততোধিক নদীর মিলনস্থলকে নদীসংগম বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,২৫৯.
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’ আঘাত হানে কবে?
  1. ১৯৮৮ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’:
- ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’ আঘাত হানে।
- এর প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
- সাইক্লোনটি চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে। ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়।
- এ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৬ জন।
- তবে বেসরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। মারা যায় ২০ লাখ গবাদি পশু।
- প্রায় ১ কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়। ক্ষতি হয়েছিল ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।

তথ্যসূত্র- বাসস। [LINK]
৫,২৬০.
নিচের কোন সালে বাংলাদেশে প্রলয়ঙ্কারি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানেনি?
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ২০০৪ সালে
  4. ২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

• ২০০৪ সালে বাংলাদেশে কোন প্রলয়ঙ্কারি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে নি।

• বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির একটি আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে কোনো কোনোটি মারাত্মক ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করে।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭ সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়।
- এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
- এটি উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে।
- এটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতো।
- বিগত অর্ধশতাব্দীতে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানে।
- এর মধ্যে ১৯৭০, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০৭, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় অন্যতম।
- জীবনহানির দিকে থেকে সবচেয়ে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ১৯৭০ এবং ১৯৯১ সালে সংঘটিত হয়।
 - ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লক্ষাধিক, ১৯৯১ সালে ১.৪০ লক্ষ, ২০০৭ সালে ১০ হাজার এবং ২০০৯ সালে ৭ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে। ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় জেলাসমূহ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
 - এসব জেলার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,২৬১.
'আড়িয়াল বিল' কোথায় অবস্থিত?
  1. মানিকগঞ্জে
  2. মুন্সীগঞ্জে
  3. রুপগঞ্জে
  4. হবিগঞ্জে
ব্যাখ্যা
আড়িয়াল বিল:

- আড়িয়াল বিল পদ্মা নদী ও ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে অবস্থিত ও মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্তর্গত একটি অবভূমি।
- এটি দেশের মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন বিল।
- আড়িয়াল বিলের বেশিরভাগ এলাকাই শুষ্ক ঋতুতে আর্দ্র থাকে এবং বিলে যথেষ্ট পরিমাণ পানি সঞ্চিত থাকে।
- বর্ষায় পানিতে টইটুম্বুর থাকলেও শীতকালে এটি বিস্তীর্ণ শস্য ক্ষেতে পরিণত হয়।

তথসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,২৬২.
বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী রাষ্ট্র কয়টি?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী রাষ্ট্র ৫টি। দেশগুলো হলো:
- বাংলাদেশ, 
- ভারত, 
- মিয়ানমার,
- শ্রীলঙ্কা, 
- ইন্দোনেশিয়া

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৫,২৬৩.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত তাজিংডং এর উচ্চতা কত ?
  1. প্রায় ১২৬০ মিটার
  2. প্রায় ৪০৩৯ মিটার
  3. প্রায় ২০৩১ মিটার
  4. প্রায় ১২৩১ মিটার
ব্যাখ্যা

তাজিংডং এর উচ্চতা:
- ১২৩১ মি. বা ৪০৩৯ ফুট [সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল]।
- ১৩৭২ মি. বা ৪৫০০ ফুট [সূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন]। 
- ১০০৩ মিটার [সূত্র: জেলা প্রশাসক কার্যালয়, বান্দরবান]।

- বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং (রুমা, বান্দরবান)।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উচু পাহাড় হচ্ছে গারো পাহাড়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি

৫,২৬৪.
বাংলাদেশ সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানটি উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে?
  1. বিএনসি
  2. সিপিপি
  3. প্রশিকা
  4. রেড ক্রিসেন্ট
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সরকারের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বা Cyclone Preparedness Programme (সিপিপি) প্রতিষ্ঠানটি উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে। 

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বা Cyclone Preparedness Programme (সিপিপি): 
- ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় এর পর দীর্ঘ দুই মাসের অধিক সময়কাল উপকূলীয় অঞ্চল পরিদর্শনের পর মিঃ হেগষ্ট্রম ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির’ রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- তদানীন্তন বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা, নোয়াখালী জেলা, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) জেলা ও পটুয়াখালী জেলার মেটি ২৩ টি থানায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হয়।
- ১,৯৭২ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে ২৩ টি থানার ১৮৬ টি ইউনিয়নের আওতাধীন ১,৯২৭ টি ইউনিটের মোট ১৯,২৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন কাজ সম্পন্ন হয়।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: 
- দুর্যোগে সারা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
- দুর্যোগে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা।
- সমাজ কল্যাণে ও মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের দক্ষতা, স্পৃহা, অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি ও আত্মত্যাগী মনোভাব সৃষ্টি করা।
- দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রম শক্তিশালী এবং উন্নয়ন করা।
- ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর স্বেচ্ছাসেবক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
- দুর্যোগে দ্রুত সারা প্রদানের জন্য বেতার যোগাযোগ শক্তিশালী করা।
- আবহাওয়ার সতর্ক সংকেত বোধগম্য ও প্রতিষ্ঠিত করা এবং ঘূর্ণিঝড় সংকেত এর সহিত সস্পৃক্ত জনসাধারণকে কার্যকরী সাড়া প্রদানে নিশ্চিত করা।

- সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহ যেমন- অক্সফাম, ডিজাস্টার, ফোরাম, কেয়ার বাংলাদেশ, কারিতাস, প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি (বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি কেন্দ্র) ইত্যাদি সংস্থার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
- এছাড়া রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে রেডক্রিসেন্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,২৬৫.
কোন গ্যাসক্ষেত্র থেকে স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি গ্যাস উত্তোলন করা হয়?
  1. তিতাস
  2. বিয়ানীবাজার
  3. কৈলাশটিলা
  4. বিবিয়ানা
ব্যাখ্যা
বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র:
- ১৯৯৮ সালে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়।
- আমেরিকান তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি ইউনিকল উপমহাদেশের বৃহত্তম এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে।

উল্লেখ্য,
- পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের ২২টি গ্যাসক্ষেত্রের ১১৩টি কূপ দিয়ে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।
- এসব কূপ থেকে ১ হাজার ৭১৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হয়েছে।
- স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি গ্যাস উত্তোলন করা হয় সিলেটের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে।
- মার্কিন কোম্পানি শেভরনের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই গ্যাসক্ষেত্রের ২৬টি কূপ দিয়ে দৈনিক ৭৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে,
- দেশীয় কোম্পানি বাপেক্স আটটি গ্যাসক্ষেত্রের ১৫টি কূপ দিয়ে ১১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ করছে, এই গ্যাসক্ষেত্রগুলো হচ্ছে সালদা, ফেঞ্চুগঞ্জ, শাহবাজপুর, সেমুতাং, শ্রীকাইল, বেগমগঞ্জ ও রূপগঞ্জ।
- সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি (এসজিএফএল) সিলেট, কৈলাশটিলা-১, কৈলাশটিলা-২, রশিদপুর ও বিয়ানীবাজার এই পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রের ১১টি কূপ দিয়ে দৈনিক ১১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ করছে।
- বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি (বিজিএফসিএল) পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রের ৪৪টি কূপ দিয়ে দৈনিক ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ করছে। গ্যাসক্ষেত্রগুলো হচ্ছে তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী এবং ম্যাগনামা। এর মধ্যে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রটি সবচেয়ে পুরোনো।

উৎস: i) ১৯ এপ্রিল ২০২৪, কালবেলা।
        ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,২৬৬.
পৃথিবীর বৃহত্তম লবনাক্ত পানির হ্রদ কোনটি?
  1. ক) বৈকাল
  2. খ) কাস্পিয়ান
  3. গ) সুপিরিয়র
  4. ঘ) টিটিকাকা
ব্যাখ্যা
- কাস্পিয়ান সাগর পৃথিবীর বৃহত্তম ও বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগর ককেশাস পর্বতমালার পূর্বে এবং মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ মাঠের পশ্চিমে অবস্থিত।
- কাস্পিয়ান সাগর পাঁচটি দেশ দ্বারা সীমান্তবর্তী: কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আজারবাইজান এবং রাশিয়া।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর উচ্চতম হ্রদ হলো টিটিকাকা
- বৈকাল (রাশিয়া) পৃথিবীর প্রাচীনতম ও গভীরতম হ্রদ।
- সুপিরিয়র পৃথিবীর বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ।
- লেক আসাল (জিবুতি) সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ।

উৎস: ব্রিটানিকা 
৫,২৬৭.
লাউয়াছড়া কী ধরনের বন?
  1. ম্যানগ্রোভ বন
  2. পর্ণমোচী বন
  3. চিরহরিৎ বন
  4. তৈগা বন
ব্যাখ্যা

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- লাউয়াছড়া মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি চিরহরিৎ বা মিশ্র চিরসবুজ ক্রান্তীয় রেইনফরেস্ট।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।
- ১৯২৫ সালে বনায়ন করে সৃষ্ট বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেষ্টের মতো এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সূর্যের আলোর জন্য প্রতিযোগিতা করে এ বনের গাছপালা খুব উঁচু হয়ে থাকে, এবং অনেক ওপরে ডালপালা ছড়িয়ে চাঁদোয়ার মত সৃষ্টি করে।
- এই বন এতই ঘন যে মাটিতে সূর্যের আলো পড়েনা বললেই চলে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,২৬৮.
নিচের কোনটির দ্বারা ‍ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তন সংঘটিত হয়?
  1. ক) ভূমিকম্প
  2. খ) বৃষ্টিপাত
  3. গ) অগ্ন্যূৎপাত
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠ সর্বদা পরিবর্তনশীল। যে সমস্ত কার্যাবলির কারণে প্রাকৃতিকভাবে ‍ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয় তা ভূ-প্রক্রিয়া নামে পরিচিত।
- ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন ধীর ও আকস্মিক দুভাবে সংঘটিত হয়ে থাকে।
ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তন যেসব শক্তির দ্বারা সংঘটিত হয় সেগুলো হলো:
- সূর্যতাপ
- বায়ুপ্রবাহ
- বৃষ্টিপাত
- নদী
- হিমবাহ প্রভৃতি।
- ধীর পরিবর্তন সাধারণত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে হয়ে থাকে।
অন্যদিকে,
- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি কারণে ভূপৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তন সাধিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,২৬৯.
ভূপৃষ্ঠে চাপ বলয় কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
বায়ুচাপ বলয়:
- ভূ-পৃষ্ঠে নানা প্রকার ও আকৃতির বায়ুচাপ বলয় দেখতে পাওয়া যায়।
- ভূপৃষ্ঠে প্রধানত ৭টি চাপ বলয় রয়েছে।
- এদের ৩টি নিম্নচাপ বলয় ও ৪টি উচ্চচাপ বলয়।
এগুলো হলো:
১.নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়,
২.উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৩.দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৪. কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়,
৫.মকরীয় উচ্চচাপ বলয়,
৬.উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
৭.দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল ১ম পত্র বই (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
৫,২৭০.
সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে কম কোন মহাদেশে?
  1. আফ্রিকা
  2. এশিয়া
  3. ইউরোপ
  4. উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
• সমভূমি:
→ সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে।
→ সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
→ সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
→ পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি।
→ মানুষের আবাস এবং অর্থনৈতিক কামকান্ড সমভূমিতে সংঘটিত হয়।
→ সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
 → আফ্রিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে কম।
→ ইউরেশিয়ার উত্তরাংশ জুড়ে পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি অবস্থিত।
 
তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৭১.
শালবন কী ধরনের বনভূমি?
  1. পত্রপতনশীল
  2. চিরহরিৎ
  3. সরলবর্গীয়
  4. স্রোতজ
ব্যাখ্যা
- শালবন একটি পত্রপতনশীল বা পর্ণমোচী বৃক্ষের বনভূমি। অর্থাৎ শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝড়ে যায়।
- শাল বা গজারি এই বনের প্রধান বৃক্ষ।
- শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর।
- টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকা জুড়ে শালবন বিস্তৃত।
(তথ্যসূত্রঃ বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
৫,২৭২.
আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় -
  1. ক) হ্যারিকেন
  2. খ) টাইফুন
  3. গ) সাইক্লোন
  4. ঘ) টর্নেডো
ব্যাখ্যা
• আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় হ্যারিকেন
- প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় টাইফুন।
- বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় সাইক্লোন।
- সাধারণত স্বল্প সময় নিয়ে স্বল্প এলাকায় টর্নেডো হয়ে থাকে। স্থলভাগে উচ্চচাপ সৃষ্টির কারণে টর্নেডো হয়।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
 
৫,২৭৩.
এশিয়া মহাদেশ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশ পৃথক করেছে কোনটি?
  1. সুয়েজ খাল
  2. মালাক্কা প্রণালী
  3. পক প্রণালী
  4. বেরিং প্রণালী
ব্যাখ্যা

বেরিং প্রণালী:
-বেরিং প্রণালী হল প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে উত্তরের অংশ।
- এই প্রণালী এশিয়া মহাদেশ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশ পৃথক করেছে।
- দেশ হিসেবে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পৃথক করেছে এই প্রণালী।
- বেরিং প্রণালী এবং সাগর উভয়েরই নামকরণ করা হয়েছিল ভিটাস বেরিংয়ের সম্মানে।
- বেরিং প্রণালী তুলনামূলকভাবে অগভীর। 
- এর গড় গভীরতা ৫০ মিটার। এটি গভীরতম বিন্দুতে মাত্র ৯০ মিটার গভীর।
- প্রণালীতে ডায়োমেড দ্বীপপুঞ্জ এবং সেন্ট লরেন্স দ্বীপপুঞ্জসহ অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com

৫,২৭৪.
সাইক্লোনের সময় উত্তর গোলার্ধে বাতাস কোনদিকে ঘুরতে থাকে?
  1. প্রথমে ঘড়ির কাটার দিকে ও পরে বিপরীত দিকে
  2. ঘড়ির কাটার দিকে
  3. ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
  4. প্রথমে ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ও পরে কাটার দিকে
ব্যাখ্যা
সাইক্লোন:
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।

⇒ সাধারণভাবে ঘূর্ণিঝড় একটি নিম্নচাপ সংক্রান্ত আবহাওয়া অবস্থা।
- যেখানে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ তার কেন্দ্রে আশপাশের এলাকার তুলনায় কম থাকে, বাতাস ভেতরের দিকে ঘুরতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে। 

উৎস: i) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
৫,২৭৫.
নিচের কোন অঞ্চলে 'কালিজিরা' ধান বেশি উৎপাদিত হয়?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা

- 'কালিজিরা' ধান মূলত বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মিরসরাই আবাদ হয়।
- 'বিরই' ধান মূলত বাংলাদেশের ময়মনসিংহ অঞ্চলে আবাদ হয়।
- 'বালাম' ধান মূলত বাংলাদেশের বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলে আবাদ হয়।
- 'চিনিগুড়া' ধান মূলত বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় আবাদ হয়।
- 'হরিধান' মূলত বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলায় আবাদ হয়।
- কাটারিভোগ বাংলাদেশের একটি সুগন্ধি চাল। এটি প্রধানত দিনাজপুর এলাকায় পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র:- কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং dinajpur.gov.bd.

৫,২৭৬.
পরিবেশ দূষণের কৃত্রিম কারণ কোনটি?
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. গাছপালা নিধন
  4. ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
• পরিবেশ দূষণ (Environment Pollution):
→ পরিবেশে জীবের স্বাভাবিক অবস্থা বা জীবনযাত্রায় বিঘ্ন সৃষ্টিতে সক্ষম ক্ষতিকর অবস্থার নাম দূষণ।
→ অন্যদিকে পানি, বাতাস, মৃত্তিকা বা পরিবেশের কোনো উপাদানের ভৌত, রাসায়নিক বা জৈবিক যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিবর্তনই প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণ।
→ মানুষের বহুমুখী কর্মকান্ডই পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে বড় কারণ।

• প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণ:
→ প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে। যথা-
ক. প্রাকৃতিক কারণ এবং খ. মানবসৃষ্ট কারণ।

→ প্রাকৃতিক কারণ:
১. বন্যা ও খরা, 
২. ভূমিকম্প, 
৩. ঘূর্ণিঝড়,
৪. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।

→ মানবসৃষ্ট কারণ:
১. গাছপালা নিধন
২. পাহাড় কর্তন।
৩. অপরিকল্পিত নগরায়ন।
৪. কীটনাশক ব্যবহার।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৭৭.
পৃথিবীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় কোথায়?
  1. চেরাপুঞ্জি
  2. সান অ্যান্তোনিও
  3. মৌসিনরাম
  4. ইমেইশান
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর সর্বোচ্চ বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতসম্পন্ন স্থানসমূহ:
- প্রথম : মৌসিনরাম, মেঘালয় (ভারত) : ১১,৮৭১ মি.মি.
- দ্বিতীয় : চেরাপুঞ্জি, মেঘালয় (ভারত) : ১১,৭৭৭ মি.মি.
- তৃতীয় : তুতুনেন্দু (কলম্বিয়া) : ১১,৭৭০ মি.মি.
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৫,২৭৮.
চিহুয়ান কোন ধরনের মরুভূমি?
  1. ক) উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি
  2. খ) উপকূলীয় মরুভূমি
  3. গ) শুষ্ক প্রায় মরুভূমি
  4. ঘ) শীতল মরুভূমি
ব্যাখ্যা
চিহুয়ান উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি।

• উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি:

- আমেরিকার চিহুয়ান, সোনোরান, মোজাভি ও গ্রেট বেসিন মূলত এই প্রকারের মরুভূমি।
- এসব মরুভূমি সারা বছরই খুব উষ্ণ ও শুষ্ক থাকে।
- গ্রীষ্মকালে খুব গরম হয় এবং শীতকালে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।

- এখানে গড় তাপমাত্রা ২০-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ ৪৩-৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কখনো সর্বনিম্ন ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ নেমে আসে।
- এ ধরনের মরুভূমিতে সর্বোচ্চ ২৮ সেমি বৃষ্টিপাত হয়।
- মাটি সাধারণত পাথুরে হয়ে থাকে। এ মরুভূমিতে গাছপালা খুব কম।
- প্রাণিকূলের মধ্যে ক্যাঙ্গারু, ইঁদুর, পোকামাকড়, সরীসৃপ জাতীয় কিছু প্রাণি দেখতে পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৭৯.
বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনের নাম কী?
  1. ক) সবুজ বনায়ন
  2. খ) সবুজায়ন
  3. গ) গ্রিন পিস
  4. ঘ) বাপা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (BAPA) 2000 সালে বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য একটি দেশব্যাপী, ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য চালু করা হয়েছিল।
- বাংলাদেশের পরিবেশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। শহুরে বাতাসের মান হ্রাস পাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত। ভূ-পৃষ্ঠের জলাশয়গুলি দূষিত, সীমাবদ্ধ এবং অবক্ষয়িত হচ্ছে। কঠিন, তরল, বায়বীয় এবং বিপজ্জনক বর্জ্য উপচে পড়ছে। উধাও হয়ে যাচ্ছে বন ও খোলা জায়গা। কোলাহল বাড়ছে। বিলুপ্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। দূষণের কারণে স্বাস্থ্যের অবস্থা খারাপ হচ্ছে।
- এই অবক্ষয়ের প্রক্রিয়াগুলোকে ধীরগতি ও প্রত্যাবর্তন না করা হলে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক অগ্রগতি ধীরে ধীরে বাধাগ্রস্ত হবে এবং বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

- এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের পরিবেশ-পন্থী শক্তিরা বাংলাদেশের পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য করণীয় নির্ধারণের জন্য জানুয়ারী 2000 সালে বাংলাদেশ পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (ICBEN) একত্রিত হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবেশ 2000-এর উপর ঢাকা ঘোষণাপত্র গৃহীত হয় এবং দেশের সকল আন্তরিক পরিবেশ-পন্থী শক্তিকে যোগদান ও একসঙ্গে কাজ করার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়
- ICBEN 2000 এর সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে, BAPA গঠিত হয়।

উৎস: BAPA ওয়েবসাইট। 
৫,২৮০.
পানামা খাল কোন দুইটি মহাসাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর
  2. প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক ও উত্তর মহাসাগর
  4. উত্তর ও প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- পানামা খাল (Panama Canal) হলো একটি কৃত্রিম জলপথ, যা মধ্য আমেরিকার পানামা প্রদেশে অবস্থিত।
- এটি উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
- এটি প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করেছে পানামা খাল।
- এই খালটি পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুট এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
- পানামা খাল নির্মাণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- পানামা খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮২ কিলোমিটার।
- এটি পরিচালনা করে পানামা খাল কর্তৃপক্ষ, যা পানামার একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।

⇒ ১৯০৩ সালে কলম্বিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে পানামা।
- ১৯০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র পানামা খালের নির্মাণের দায়িত্ব নেয়।
- খরচ হয় ৩৮ কোটি ডলার।
- ১৯১৪ সালের ১৫ আগস্ট পানামা খাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
- ১৯৭৭ সালে দেশটি পানামার সঙ্গে একটি চুক্তি করে খালটি তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য।
- ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দুই দেশ যৌথভাবে পানামা খাল নিয়ন্ত্রণ করে।
- ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পানামার কাছে এ খাল আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
- ১৯৭৭ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার স্বাক্ষরিত এক চুক্তির আওতায় ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র খালটির মালিকানা পানামার কাছে হস্তান্তর করে।

উৎস: Britannica.

৫,২৮১.
'Bangladesh Climate and Disaster Risk Atlas' প্রতিবেদন অনুসারে, নিচের কোনটি বন্যা প্রবণ জেলা?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. ঘ) নরসিংদী
ব্যাখ্যা
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) কর্তৃক প্রকাশিত Bangladesh Climate and Disaster Risk Atlas অনুসারে -
দেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রবণ জেলা - ৩টি।
- কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী।

বন্যা প্রবণ জেলা - ১১টি।
- টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও চাঁদপুর।


আকস্মিক বন্যা ও ভূমিকম্প ঝুঁকি প্রবণ জেলা - ৬টি।
- সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ।


দেশে খরাপ্রবণ জেলা - ১৩টি।
- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও গাজীপুর। 


খরার সঙ্গে বন্যা প্রবণ জেলা - ৬টি।
- রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও কুষ্টিয়া।


বন্যা ও ভূমিকম্প প্রবণ জেলা - ৬টি।
- লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও জামালপুর।


লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ জেলা - ১৬টি।
- যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।
৫,২৮২.
বাংলাদেশের উচ্চতম পাহাড়ের নাম কী?
  1. সীতাকুণ্ড পাহাড়
  2. কুলাউড়া পাহাড়
  3. গারো পাহাড়
  4. লালমাই পাহাড়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের পাহাড়:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এবং বৃহত্তম পাহাড় গারো পাহাড়।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ জেলাসমূহ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
- গারো পাহাড়ের উত্তর এবং উত্তর পশ্চিমে রয়েছে আসাম এবং পূর্বে মেঘালয়ে খাসি পাহাড়।
- আয়তন প্রায় ৮১৬৭ বর্গ কিলোমিটার।
- গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদীটির নাম সিমসাং।
- নদীটির উৎপত্তি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪০০ মিটার উচ্চতায় নকরেক অঞ্চলে, পরবর্তীতে নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রবাহিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং বা বিজয়, যা বান্দরবানে অবস্থিত এবং উচ্চতা ১২৩১ মিটার।
- চন্দ্রনাথ পাহাড় চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত এবং যা হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান।

সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২৮৩.
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের কত শতাংশ ভূমি প্লাবিত হতে পারে?
  1. ১০ শতাংশ 
  2. ১১ শতাংশ 
  3. ১৭ শতাংশ 
  4. ২২ শতাংশ 
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ:
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জিডিপির দুই শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ২১০০ সাল নাগাদ এই হার বৃদ্ধি হবে নয় শতাংশ।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের ১৭ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং একই সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে দেশের মোট উৎপাদনের ৩০ শতাংশ হ্রাস পাবে।
- এর ফলে প্রায় ২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। 
- এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাবে যা ৩২% ভূমিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
- উপকূলীয় এলাকার ২৭% মানুষ বর্তমানে বন্যার ঝুঁকিতে আছে। 
- তাছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- এ ছাড়া অনিয়মিত বৃষ্টি, নদীভাঙন, খরা ও ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ ইতিমধ্যে কৃষি, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

উল্লেখ্য,
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে প্রতি বছর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় গড়ে ৩ দশমিক ৪২ মিলিমিটার।

উৎস: i) Transparency International Bangladesh ওয়েবসাইট।
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।

৫,২৮৪.
পানামা খাল কোন দুটি জলরাশিকে সংযুক্ত করে?
  1. আর্কটিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- এটি বিশ্বের দুটি সবচেয়ে কৌশলগত কৃত্রিম জলপথের মধ্যে একটি, যা পানামা প্রজাতন্ত্রের মালিকানাধীন ও পরিচালিত।
- এটি একটি লক-টাইপ খাল, যা আটলান্টিক মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর সংযুক্ত করে।
- উপকূল থেকে উপকূল পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য: প্রায় ৪০ মাইল (৬৫ কিমি)।
- উদ্বোধন: আগস্ট, ১৯১৪।

নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসন:
১৯১৪–১৯৭৯: খালটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃত্বে পরিচালিত।
১৯৭৯: পানামা খাল কমিশন নামে মার্কিন ও পানামার যৌথ সংস্থা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ।
৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯: খালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পানামা সরকারের কাছে হস্তান্তরিত।
বর্তমান প্রশাসন: পানামা খাল কর্তৃপক্ষ, যা কেবল পানামা সরকারের কাছে জবাবদিহি করে।

উৎস:  Britannica.

৫,২৮৫.
সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. বাংলাদেশ
  2. নেপাল
  3. ভারত
  4. ভুটান
ব্যাখ্যা
সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ভারতের গুজরাটের গান্ধীনগরে অবস্থিত।
সার্ক:
- গঠিত হয়: ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ সালে।
- সচিবালয়: কাঠমান্ডু, নেপাল।
- সার্কভুক্ত দেশের সংখ্যা: ৮ টি।
- ২০০৬ সালের অক্টোবরে ভারতের নয়াদিল্লিতে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- ২০১৬ সালে সার্ক আবহাওয়া কেন্দ্র, সার্ক বন কেন্দ্র এবং সার্ক উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রকে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের সাথে একীভূত করা হয়।
- তখন এটির কার্যালয় নয়াদিল্লি থেকে গুজরাটের গান্ধীনগরে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র গুজরাটের গান্ধীনগরে অবস্থিত।

সার্কের অন্যান্য আঞ্চলিক কেন্দ্রেসমূহ:
- সার্ক কৃষি কেন্দ্র- ঢাকা, বাংলাদেশ।
- সার্ক যক্ষ্মা ও এইডস কেন্দ্র- কাঠমান্ডু, নেপাল।
- সার্ক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র- কলম্বো, শ্রীলঙ্কা।
- সার্ক জ্বালানি কেন্দ্র- ইসলামাবাদ, পাকিস্তান।

উৎস: সার্ক ওয়েবসাইট।
৫,২৮৬.
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল -
  1. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  2. দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  4. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।

উল্লেখ্য,
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু অংশ খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
এই অঞ্চলে খরার কারণগুলো নিম্নরূপ:
স্বল্প বৃষ্টিপাত: এই অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কম। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে মাটি আর্দ্রতা হারায় এবং কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তীব্র গ্রীষ্মকাল: উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যার ফলে মাটির আর্দ্রতা দ্রুত হ্রাস পায় এবং খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
জলবায়ুর পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরণে পরিবর্তন আসছে, যা খরার প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে।
নদীপ্রবাহের হ্রাস: এই অঞ্চলে নদীপ্রবাহের পরিমাণ কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নেমে যায়, যার ফলে কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় পানি সংকট দেখা দেয়।
আবহাওয়ার চক্র: এই অঞ্চলের আবহাওয়ার চক্রের কারণে খরার প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে রবি ফসলের সময় মাটির আর্দ্রতা কম থাকে, যার ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী ও ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
৫,২৮৭.
জাফনা দ্বীপ এর অবস্থান কোন দেশে?
  1. ক) ইউক্রেন
  2. খ) শ্রীলংকা
  3. গ) লেবানন
  4. ঘ) জাপান
ব্যাখ্যা
শ্রীলঙ্কার তামিল-অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর জাফনা। তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর ৩৭ বছরব্যাপী লড়াইয়ের সময় উত্তর-পূর্ব শ্রীলঙ্কার জাফনা উপদ্বীপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই গৃহযুদ্ধে অন্তত এক লাখ মানুষ নিহত হয়। তাদের অধিকাংশই তামিল সম্প্রদায়ের।

সূত্রঃ প্রথম আলো
৫,২৮৮.
সমুদ্র সমতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা কত?
  1. ২৫ মিটার
  2. ৮ মিটার
  3. ৩৭.৫০ মিটার
  4. ২০ মিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশের আয়তন: ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি.।
- পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ: বাংলাদেশ।
- মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় গাজীপুর, ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইলে অবস্থিত।
- সমুদ্রতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে ঢাকার উচ্চতা ২৫ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে নারায়নগঞ্জ এবং রাজশাহীর উচ্চতা ৮ মিটার।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৫,১৩৮ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কি.মি.।
- কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ১৫৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,২৮৯.
তিস্তা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে কোন নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. সুরমা
ব্যাখ্যা
তিস্তা নদী:
- তিস্তা নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী।
- এটি ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত একটি নদী।
- তিস্তা সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি বিভাগের প্রধান নদী।
- একে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের জীবনরেখাও বলা হয়।
- সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর বাংলাদেশে প্রবেশ করে তিস্তা ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

⇒ হিন্দু পুরাণ অনুসারে এটি দেবী পার্বতীর স্তন থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে নদীটির বাংলা নাম তিস্তা এসেছে ‘ত্রি-সে্রাতা’ বা ‘তিন প্রবাহ’ থেকে।
- সিকিম হিমালয়ের ৭,২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত চিতামু হ্রদ থেকে এই নদীটি সৃষ্টি হয়েছে।
- এটি দার্জিলিং -এ অবস্থিত শিভক গোলা নামে পরিচিত একটি গিরিসঙ্কটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নদীটি নীলফামারী জেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

⇒ অষ্টাদশ শতকের প্রায় শেষ পর্যন্ত এই ধারাটি বিভিন্ন নদীপ্রবাহের মাধ্যমে গঙ্গা নদীতে প্রবাহিত হতো।
- ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দের অতিবৃষ্টি একটি ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি করেছিল এবং সেই সময় নদীটি গতিপথ পরিবর্তন করে লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম এবং গাইবান্ধা জেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে চিলমারী নদীবন্দরের দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদে পতিত হয়।
- তিস্তা একসময় করতোয়া নদীর মাধ্যমে গঙ্গার সঙ্গে সংযুক্ত ছিল এবং এর অংশবিশেষ এখনও বুড়ি তিস্তা নামে পরিচিত।

⇒ তিস্তার মাসিক গড় পানি অপসারণের পরিমাণ ২,৪৩০ কিউসেক।
- ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে তিস্তার ভারতীয় অংশে গজলডোবায় স্থাপিত বাঁধের সবগুলি গেটবন্ধ বন্ধ করে দেয়া হলে তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশে পানিপ্রবাহ শূন্যে নেমে আসে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,২৯০.
ভূ-অভ্যন্তরস্থ কোন স্তরটি অত্যধিক তাপ ও চাপে আঠালো অবস্থায় রয়েছে?
  1. বহিঃ কেন্দ্রমণ্ডল
  2. অন্তঃস্থ কেন্দ্রমণ্ডল
  3. গুরুমণ্ডল
  4. অশ্মমণ্ডল
ব্যাখ্যা
• গুরুমণ্ডল (Mantle):
- অশ্মমণ্ডলের অব্যবহিত পর থেকে ভূ-অভ্যন্তরে প্রায় ২,৮৮৫ কি.মি. পর্যন্ত পুরুত্ব বিশিষ্ট স্তরটিকে গুরুমণ্ডল বলে।
- এই স্তরটির গাঠনিক উপাদানগুলো হলো-সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ।
- অত্যধিক তাপ ও চাপে গুরুমণ্ডলের উপাদানগুলো কঠিন ও তরলের মাঝামাঝি আঠালো অবস্থায় রয়েছে।

- গুরুমণ্ডলের প্রধান স্তর দুইটি হলো-
→ (ক) লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সিলিকেট খনিজ দ্বারা তৈরি উর্ধ্ব গুরুমণ্ডল (৭০০ কি.মি. বিস্তৃত) এবং
→ (খ) আয়রন অক্সাইড, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড ও সিলিকন অক্সাইড সমৃদ্ধ নিম্ন গুরুমন্ডল। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৯১.
বাংলাদেশে কোন সময় সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়?
  1. গ্রীষ্মকাল
  2. বর্ষাকাল
  3. শীতকাল
  4. কোন সময়েই নয়
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মকাল:
- বাংলাদেশে মার্চ থেকে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল।
- এ সময় সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- ফলে এ ঋতুতে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উষ্ণ ঋতু হলো গ্রীষ্মকাল।
- এ সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১° সেলসিয়াস। 
- কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্যের উত্তরায়ণের জন্য বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,২৯২.
নিচের কোনটি পদ্মা নদীর উপনদী?
  1. কুমার
  2. পাগলা
  3. গড়াই
  4. ভৈরব
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী:
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা। গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি পদ্মা নদীর প্রধান শাখানদী।
- পুনর্ভবা, নাগর, পাগলা, কুলিক ও ট্যাংগন মহানন্দার পদ্মা নদীর উপনদী।

উল্লেখ্য,
- মহানন্দার উপনদীগুলোর মধ্যে রয়েছে পুনর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন, পাগলা প্রভৃতি।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী ধরলা ও তিস্তা। আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
- মেঘনার উল্লেখযোগ্য উপনদী হলো মনু, বাউলাই, তিতাস, গোমতী এবং শাখানদী জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া।
- যমুনার প্রধান উপনদী হলো করতোয়া ও আত্রাই। এছাড়া যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরবিশে এসএসসি পোগ্রাম (উন্মুক্ত)।
৫,২৯৩.
কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা পরিমাপে 'ফুজিতা স্কেল' ব্যবহৃত হয়?
  1. বন্যা
  2. টর্নেডো
  3. দাবানল
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ফুজিতা স্কেল:
- ফুজিতা স্কেল (Fujita Scale), যা F-স্কেল হিসেবেও পরিচিত, এটি টর্নেডোর তীব্রতা এবং ক্ষতির স্তরের জন্য ব্যবহৃত একটি স্কেল।
- এটি ১৯৭১ সালে জাপানি আবহাওয়াবিদ তাতসুয়া থিওডোর ফুজিতা (Tetsuya Theodore Fujita) দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।
- এই স্কেলটি টর্নেডোর শক্তি এবং তার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করে।
- ফুজিটা স্কেল বাতাসের শক্তি এবং ক্ষতির ক্ষয়ক্ষতি স্থাপনের চেষ্টা করে।

⇒ ফুজিটা স্কেলে টর্নেডোগুলিকে F0 থেকে F5 পর্যন্ত শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যেখানে F0 হলো সবচেয়ে দুর্বল এবং F5 হলো সবচেয়ে শক্তিশালী। 

উল্লেখ্য,
• টর্নেডো:
- টর্নেডো এক ধরনের ঝড়, যা বায়ুস্তম্ভের আকারে সৃষ্ট প্রচণ্ড বেগে ঘূর্ণায়মান ঝড় যা মেঘ (সাধারণত কিউমুলোনিম্বাস, ক্ষেত্রবিশেষে কিউমুলাস) এবং পৃথিবীপৃষ্ঠের সাথে সংযুক্ত থাকে।
- টর্নেডোর আকৃতি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি দৃশ্যমান ঘনীভূত ফানেল আকৃতির হয়, যার চিকন অংশটি ভূপৃষ্ঠকে স্পর্শ করে এবং এটি প্রায়শই বর্জ্যের মেঘ দ্বারা ঘিরে থাকে।
- সাধারণত কোন স্থানে নিম্নচাপ বা লঘুচাপ সৃষ্টি হলে ওই স্থানের উষ্ণ বাতাস উপরের দিকে উঠে যায় এবং তখন ওই শূন্য জায়গা পূরণের জন্য চারদিকের শীতল বাতাস দ্রুত বেগে ধাবিত হয়।
- কালবৈশাখীর মতো এভাবেই টর্নেডোর উৎপত্তি হয়। তবে কালবৈশাখীর মতো বজ্রঝড়ের সাথে আবহাওয়ার আরও কিছু উপাদান যোগ হয়ে তৈরি হয় এ টর্নেডো।
- এটি মূলত স্থলভাগে তৈরি হওয়া একটি বায়ুচাপ যা প্রচণ্ড বেগে ঘুরতে থাকে এবং খুব স্বল্প সময়ের জন্য সক্রিয় থাকে।
- টর্নেডোর বায়ুপ্রবাহ হচ্ছে ঘূর্ণন এবং বাতাসের প্রচণ্ড গতিবেগের জন্যই এর ধ্বংসক্ষমতা অনেক বেশি।
- বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টর্নেডো দেখতে সরু ফানেলের মতো হয়, যার চিকন অংশটি ভূমি স্পর্শ করে। যদিও টর্নেডো বিভিন্ন আকার কিংবা আকৃতির হতে পারে।
- শীতের শেষ থেকে বর্ষার শুরু এই সময়টাতেই টর্নেডো হানা দেয় বেশি। কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে এক ঘণ্টা পর্যন্ত। তবে অধিকাংশই স্থায়ী হয় মিনিট দশেক।
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঞ্চলে টর্নেডো বেশি হয়ে থাকে।
- অনেক সময় একটি টর্নেডো থেকে একাধিক টর্নেডো তৈরি হতে পারে যাকে টর্নেডো পরিবার বলা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) Britannica.
৫,২৯৪.
বাংলাদেশের বনাঞ্চলের পরিমাণ মোট ভূমির কত শতাংশ?
  1. ১৯ শতাংশ
  2. ১২ শতাংশ
  3. ১৬ শতাংশ
  4. ৯ শতাংশ
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
------------------------
বনাঞ্চল:

- বাংলাদেশের মোট আয়তনের ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ এলাকায় বনভূমি রয়েছে।
সুতরাং,
সে হিসেবে উত্তর ১৬ শতাংশ ধরা হয়েছে।

- এর মধ্যে বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
- বাংলাদেশে সংরক্ষিত বনের পরিমাণ ১৫.৫ লক্ষ হেক্টর।
- বাংলাদেশের বনাঞ্চলের মোট আয়তন ২৫৭৫১৯৬.০১ হেক্টর বা ২৫.৭৫ লক্ষ হেক্টর।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি. এবং বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৬ লক্ষ হেক্টর।
- ভৌগলিক অবস্থান ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের বনাঞ্চল রয়েছে।
- যেমন- পাহাড়ী বন, প্রাকৃতিক ম্যনগ্রোভ বন, সৃজিত উপকূলীয় বন, শাল বন, জলাভূমির বন ইত্যাদি।
- বর্তমানে দেশের মোট আয়তনের মোট ১৩.২৮% এলাকা বৃক্ষাচ্ছাদিত।
- বনভূমি ছাড়াও দেশের গ্রাম এলাকায় প্রচুর গাছপালা রয়েছে।

উৎস: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট, প্রথম আলো রিপোর্ট (৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪)।
৫,২৯৫.
কোনটির দ্বারা আকস্মিকভাবে ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন সংঘটিত হয়?
  1. বিচূর্ণীভবন
  2. নগ্নীভবন
  3. ভূমিকম্প
  4. অপসারণ
ব্যাখ্যা
- প্রাকৃতিকভাবে ভূপৃষ্ঠ পরির্তনের প্রক্রিয়া দুটো। এগুলো হলো:
- আকস্মিক পরিবর্তন ও
- ধীর পরিবর্তন।

আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প
- অগ্ন্যুৎপাত

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,২৯৬.
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিবেদন অনুসারে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের কত শতাংশ মানুষ চরম বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. ১০ শতাংশ
  2. ১২ শতাংশ
  3. ১৮ শতাংশ
  4. ২৬ শতাংশ
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিবেদন অনুসারে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের ১৮ শতাংশ মানুষ চরম বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও দারিদ্র্য:
- জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী ১০৯টি দেশের ৬৩০ কোটির মধ্যে ১১০ কোটি (প্রায় ১৮ শতাংশ) চরম বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে বসবাস করছে।
- এই দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা ৯০ কোটি মানুষ সরাসরি জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা বিশ্বের মোট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ শতাংশের সমান। 
⇒ ১৭ অক্টোবর ২০২৫, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে। 
- প্রভার্টি হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (ওপিএইচআই) বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮৮ কোটি ৭ লাখ মানুষ সরাসরি অন্তত  একটি জলবায়ু সমস্যার সম্মুখীন।
- এর মধ্যে ৬০ কোটি ৮ লাখ মানুষ চরম তাপে, ৪৭ কোটি ৭ লাখ মানুষ দূষণে, ৪৬ কোটি ৫ লাখ মানুষ বন্যায় এবং ২০ কোটি ৭ লাখ মানুষ খরায় ভুগছে।
- প্রায় ৬৫ কোটির বেশি মানুষ অন্তত দুই ধরনের ঝুঁকিতে, ৩০ কোটির বেশি মানুষ তিন বা চার ধরনের বিপদের সম্মুখীন এবং ১ কোটি ১ লাখ মানুষ ১ বছরে চারটি বিপদেরই সম্মুখীন হয়।
- ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দারিদ্র্য ও জলবায়ু বিপদের যুগপৎ উপস্থিতি এখন বৈশ্বিক সংকটের অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শিশুমৃত্যু হার, বাসস্থান, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ এবং  শিক্ষার মতো মৌলিক সূচক।
-  ভয়ের বিষয় হলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ গোলার্ধের নিম্ন আয়ের দেশগুলো থেকে প্রায় ১৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে পারেন। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ অঞ্চলে।

উৎস: i) বণিক বার্তা। [link]
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।

৫,২৯৭.
মালাক্কা প্রণালী সংযুক্ত করেছে -
  1. উত্তর সাগর ও বেরিং সাগর
  2. টির ইনিয়ান ও আইওনিয়ান সাগর
  3. ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
  4. বঙ্গোপসাগর ও জাভা সাগর
ব্যাখ্যা
মালাক্কা প্রণালী:
- মালাক্কা প্রণালী ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।
- উত্তরে ভারত মহাসাগরের আন্দামান সাগরকে দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
- বঙ্গোপসাগর ও জাভা সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- প্রণালীটি ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- প্রণালীটির দক্ষিণ প্রান্তে অনেকগুলি দ্বীপ আছে ।
- মালাক্কা প্রণালীর উপকূলে অবস্থিত প্রধান বন্দরগুলির মধ্যে আছে মালয় উপদ্বীপের পেনাং, পোর্ট সোয়েটেনহাম ও মালাক্কা, এবং সুমাত্রা দ্বীপের বেলাওয়ান বন্দর।
- সিঙ্গাপুর এই প্রণালীর দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত।

অন্যদিকে -
- বেরিং প্রণালী এশিয়া এ আমেরিকাকে পৃথক করেছে এবং উত্তর সাগর ও বেরিং সাগরকে সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- জিব্রাল্টার প্রণালি আফ্রিকা থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছ এবং ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- মেসিনা প্রণালী ইটালী – সিসিলি পৃথক করেছে এবং টির ইনিয়ান – আইওনিয়ান সাগরকে সংযুক্ত করেছে।

উৎস: Britannica.
৫,২৯৮.
টিপাইমুখ বাঁধ ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?
  1. নাগাল্যান্ড
  2. মিজোরাম
  3. মণিপুর
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
টিপাইমুখ বাঁধ: 
- বাংলাদেশে রয়েছে ৫৪টি আন্তসীমান্ত নদী,
- যার বেশির ভাগই এসেছে ভারত থেকে।
- বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১০০ কিলোমিটার উজানে ভারতের বরাক নদীর ওপর নির্মিতব্য বাঁধটিই টিপাইমুখ বাঁধ নামে পরিচিত।
- টিপাইমুখ বাঁধ, ভারতের মণিপুর রাজ্যে বরাক নদীর উপর নির্মিত একটি প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
- এই স্থানটি তুইভাই নদী ও বরাক নদীর সঙ্গমস্থল থেকে ৫০০ মিটার ভাটিতে এবং বাংলাদেশ সীমানা থেকে ২০০ কিলোমিটার উজানে।
- এই বরাক নদীই বাংলাদেশে প্রবেশের আগে দুই ভাগ হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে প্রবেশ করেছে।

উৎস: কালের কণ্ঠ। 
 
৫,২৯৯.
কোন দেশটি নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয়?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. নেপাল
  3. ব্রুনাই
  4. ফিলিপাইন
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় - নেপাল।

• নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

• অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।

- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩০০.
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়া ঘূর্ণিঝড়টির নাম কী?
  1. ক) সিডর
  2. খ) নার্গিস
  3. গ) আইলা
  4. ঘ) সুনামি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সমূহের মধ্যে সিডর অন্যতম। ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর সিডর খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে আঘাত হানে।
- এর গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় প্রায় ২২৩ কিলোমিটার। সিডর জোয়ারের সময় আঘাত না হানায় এতে কম এলাকা প্লাবিত হয়।
- ফলে এতে প্রাণহানির সংখ্যা ছিলো তুলনামূলক কম। ৬-১০ হাজার মানুষ এতে প্রাণ হারায়। কিন্তু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিলো অত্যধিক।
- সিডরকে ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সবচেয়ে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় বিবেচনা করা হয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা