বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৫১ / ৭২ · ৫,০০১৫,১০০ / ৭,১৯১

৫,০০১.
কোনটি 'ট্রপিক অব ক্যান্সার' নামে পরিচিত?
  1. ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  2. ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা
  3. ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
ট্রপিক অব ক্যান্সার:
- ট্রপিক অব ক্যান্সার বা কর্কটক্রান্তি রেখা।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে (কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ) অতিক্রম করেছে।

⇒ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে -
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- সুমেরুবৃত্ত: ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখা।
- কুমেরুবৃত্ত: ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,০০২.
জৈবিক দুর্যোগের (Biological hazard) মধ্যে নিচের কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. কোভিড-১৯
  3. বজ্রপাত
  4. ভূমিধ্বস
ব্যাখ্যা

জৈবিক দুর্যোগ (Biological hazard):
- জৈবিক দুর্যোগ (Biological hazard) হলো এমন ধরনের দুর্যোগ যা জীবাণু, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী অথবা অন্যান্য সংক্রামক এজেন্টের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
- এই ধরনের দুর্যোগ সাধারণত মহামারির আকারে দেখা দেয় এবং সমাজের সবস্তরের মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- জৈবিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোভিড-১৯ মহামারি, ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া প্রাদুর্ভাব, ২০০৭ সালের বার্ড ফ্লু, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু জ্বরের ব্যাপক বিস্তার।
- এছাড়াও সোয়াইন ফ্লু, জিকা ভাইরাস ইত্যাদিও জৈবিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত।
- এধরনের দুর্যোগ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চরম চাপে ফেলে, জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়।
- তাই জৈবিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা অপরিহার্য। 

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,০০৩.
নীল নদের অববাহিকায় কয়টি দেশ অবস্থিত?
  1. ক) ১০ টি
  2. খ) ১১ টি
  3. গ) ১২ টি
  4. ঘ) ১৩ টি
ব্যাখ্যা
- নীল নদ হলো বিশ্বের দীর্ঘতম নদী, যাকে আফ্রিকান নদীর জনক বলা হয়।
- এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,১৩২ মাইল (৬,৬৫০ কিলোমিটার)।
- নীলনদ অববাহিকায় ১১ টি দেশ অবস্থিত - তানজানিয়া, ইরিত্রিয়া, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, কেনিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, সুদান এবং মিশর।

অপরদিকে,
- আমাজন হলো বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২,০৯,১০৩ ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হয় বলে একে বিশ্বের বৃহত্তম (largest) নদী বলা হয়।

বিশ্বের শীর্ষ দীর্ঘতম নদীসমূহের তালিকা নিম্নরূপ :
১) নীল নদ - ৬,৬৫০ কিমি
২) আমাজন নদী - ৬,৪০০ কিমি
৩) ইয়াংসিকিং -৬,৩০০ কিমি
৪) মিসিসিপি/মিসৌরি নদী - ৬,২৭৫কিমিত

উৎস: ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৫,০০৪.
বিশ্ব প্রাণী দিবস হচ্ছে -
  1. ক) ২৪ অক্টোবর
  2. খ) ২২ জুন
  3. গ) ৪ অক্টোবর
  4. ঘ) ২২ মার্চ
ব্যাখ্যা
World Animal Day is an international day of action for animal rights and welfare celebrated annually on October 4.
[source: worldanimalday.org.uk]
৫,০০৫.
নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. চাঁদপুর
  3. ফরিদপুর
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট: 
- নদী মাতৃক বাংলাদেশ একটি অতি জটিল ব-দ্বীপ।
- তৎকালীন সরকার ১৯৪৮ সালে ঢাকার গ্রীণরোডে প্রায় ১২ একর জমির উপর ‘‘হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী’’ নামে একটি গবেষণাগার স্থাপন করে।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৮ সালে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে এবং ‘‘হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী’’ প্রতিষ্ঠানটি ইহার সহিত একীভূত করে।
- পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সনের ৫৩নং আইন বলে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কে একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্ব-শাসিত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন হতে আলাদা করে সরাসরি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে।
- ১৯৮৯ সালে ফরিদপুর শহরের উপকন্ঠে ৮৬ একর জমির উপর এক মনোরম পরিবেশে নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৫,০০৬.
নিচের কোন জেলাতে প্লাস্টোসিন চত্বরভূমি রয়েছে?
  1. ক) চাঁদপুর
  2. খ) পিরোজপুর
  3. গ) মাদারীপুর
  4. ঘ) গাজীপুর
ব্যাখ্যা
আজ থেকে প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। ঐ সময়ে গঠিত ভূমিরূপ প্লাইস্টোসিন কালের ভূমি নামে পরিচিত।
বাংলাদেশে অবস্থিত প্লাইস্টোসিন কালের ভূমিরূপগুলো হলো:
- রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর ও জয়পুরহাট জেলার বরেন্দ্রভূমি
- ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলায় অবস্থিত মধুপুর ও ভাওয়াল গড়
- কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়।
- দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮ শতাংশ হলো প্লাইস্টোসিন কালে গঠিত ভূমিরূপ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-৬০)
৫,০০৭.
বাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব-
  1. মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি
  2. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  3. কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:

• জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নিম্নে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও যেসব প্রভাব পড়বে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।

১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
৮. যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৯. এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
১০. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,০০৮.
বাংলাদেশের কোন জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়?
  1. কুমিল্লা
  2. নেত্রকোনা
  3. নোয়াখালি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বন্যা:
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
- এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।

- বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

সূত্র - বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা: বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। 
৫,০০৯.
বিশ্বের সবচেয়ে গভীরতম হ্রদ কোনটি?
  1. বৈকাল হ্রদ
  2. ক্রেটার হ্রদ
  3. ক্যাস্পিয়ান সাগর
  4. টাঙ্গানিকা হ্রদ
ব্যাখ্যা
বৈকাল হ্রদ:
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক জলরাশিকে হ্রদ (Lake) বলে।
- এটলাস ডটকমে বিশ্বের গভীরতম ১০টি হ্রদের তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে গভীরতম হ্রদ রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ।
- ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই হ্রদের বয়স আড়াই কোটি বছরের বেশি। সে হিসেবে এটি বিশ্বের প্রাচীনতম হ্রদও।
- এটির গভীরতা ৫ হাজার ৩৮৭ ফুট।
- বৈকাল হ্রদ বিশ্বের অহিমায়িত স্বাদু পানির ২০ শতাংশ ধারণ করে।
- হ্রদে ৬০ প্রজাতির মাছ আছে। আছে এক প্রজাতির সিল, যা বিশ্বের আর কোথাও পাওয়া যায় না।

তথ্যসূত্র- ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট। [link]
৫,০১০.
কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী কোনটি?
  1. নাফ নদী
  2. হাড়িবাঙ্গা নদী
  3. কাপ্তাই নদী
  4. ফেনী নদী
ব্যাখ্যা

কর্ণফুলী নদী:  
- বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চালের প্রধান নদী ।
- উৎপত্তিস্থল- লুসাই পাহাড়।
- দৈর্ঘ্য- ৩২০ কি.মি.।
- নদীটি চট্টগ্রামের মধ্যদিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী হলো- কাপ্তাই, হালদা, কাসালায়ং, রাঙখিয়াং,
- চট্টগ্রাম বন্দর কর্ণফুলি নদীর তীরে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,০১১.
কোন গ্রহের আকার এবং আকৃতি অনেকটা পৃথিবীর সাথে মেলে?
  1. মঙ্গল
  2. শুক্র
  3. ইউরেনাস
  4. নেপচুন
ব্যাখ্যা
শুক্র (Venus):
- শুক্র গ্রহকে পৃথিবীর যমজ গ্রহ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- কারণ এটির আকার এবং আকৃতি অনেকটা পৃথিবীর সাথে মেলে।
- এটির গঠনও অনেকটা একই রকমের।
- শুক্র গ্রহে বিশাল পাহাড়, সমতল ভূমি ও অনেক আগ্নেয়গিরি রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন।

উল্লেখ্য,
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
        ii) প্রথম আলো।
৫,০১২.
নিম্নের কোনটি ইউরোপ মহাদেশের দীর্ঘতম নদী হিসেবে বিবেচিত?
  1. ভলগা
  2. ওলগা
  3. মারে 
  4. দানিয়ুব
ব্যাখ্যা

ইউরোপ মহাদেশ:
- ইউরোপ মহাদেশ আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম মহাদেশ।
- এর আয়তন ৯৯ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৯৯ বর্গকিলোমিটার।
- ইউরোপ মহাদেশের উত্তরে উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণে ভুমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগর, পূর্বে কাস্পিয়ান সাগর, ইউরাল নদী ও ইউরাল পর্বত এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত।
- আয়তনে বৃহৎ রাশিয়া (১,৭০,৭৫,৪০০ বর্গকিলোমিটার) এবং ক্ষুদ্রতম ভ্যাটিকান (০.৪৪ বর্গকিলোমিটার)।
- এশিয়া এবং ইউরোপ উভয় মহাদেশে রাশিয়ার অবস্থান হলেও এটি ইউরোপ মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত।
- এ মহাদেশের দীর্ঘতম নদী ভলগা (৩,৫৩০ কিলোমিটার)।
- ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শিল্প প্রধান দেশ যুক্তরাজ্য।
- এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশকে একত্রে ইউরেশিয়া বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৫,০১৩.
মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও লাওস সীমান্তে মাদক উৎপাদনকারী অঞ্চলকে কী বলে?
  1. ক) গোল্ডেন ক্রিসেন্ট
  2. খ) ট্রায়াঙ্গেল ক্রিসেন্ট
  3. গ) গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

The Golden Crescent is a key area of illegal opium growth spanning Western, Central, and South Asia. It covers the mountains of Afghanistan, Iran, and Pakistan.
It should not be confused with the Golden Triangle which is the only other significant region of illegal opium growing area.
It is easy to differentiate the two by geographical coverage because the Golden Triangle covers South East Asia at the borders of Laos, Thailand, and Myanmar.
Source: worldatlas

৫,০১৪.
'আলোকবর্ষ' নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. ভর
  2. দূরত্ব
  3. সময়
  4. তীব্রতা
ব্যাখ্যা
- 'আলোকবর্ষ' দূরত্ব সাথে সম্পর্কিত। 

নক্ষত্র (Stars):

- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে।
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। খালি চোখে আমরা মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখতে পাই। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়।
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে।
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না।
- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে।
- কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে।

- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্‌টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,০১৫.
পানামা খাল কোন দুটি মহাসাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর
  3. প্রশান্ত মহাসাগর ও দক্ষিণ মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- বিশ্ব বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- পানামা প্রজাতন্ত্রের বুক চিরে বয়ে চলা কৃত্রিম খালটি জাহাজ চলাচলের জন্য ১৯০৪ সালে খনন করা হয় যেটি বিশ্ববাসীর কাছে পানামা খাল হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
- ১৯০৪ সালে এর খনন কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৪ সালে সমাপ্ত হয়।
- পানামা খালের দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৯০ মিটার পর্যন্ত।
- তবে গভীর জলভাগ থেকে এর দৈর্ঘ্য হিসেব করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৮২ কিলোমিটার।
- গভীরতা স্থানভেদে ৪৬ থেকে ৮৫ ফুট।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।
- উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ কে পৃথক করেছে পানামা খাল।
- এই খাল নির্মাণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পুর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজ গুলোর পথ প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার হ্রাস পেয়েছে।

তথ্যসূত্র - এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৫,০১৬.
মন্ট্রিল প্রটোকল কার্যকর হয়-
  1. ক) ১৯৮৭ সালে
  2. খ) ১৯৮৮ সালে
  3. গ) ১৯৮৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা

- মন্ট্রিল প্রটোকল ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
- এই প্রটোকল কার্যকর হয় ১৯৮৯ সালে।
- এই প্রটোকলের বিষয়বস্তু ছিল বায়মণ্ডলের ওজোন স্তরকে রক্ষা বিষয়ক প্রটোকল।
- এর পুরো নাম: Montreal Protocol on Substance that Deplete the Ozone Layer।
- বাংলাদেশ এটি অনুমােদন করে ১৯৯০ সালে।

৫,০১৭.
'বাইক্কা বিল' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) যশোর
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) নাটোর
  4. ঘ) কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
শ্রীমঙ্গলে অবস্থতি বাইক্কা বিল হাইল হাওরের প্রাণ। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাখি ও মাছের অভয়াশ্রম। এই শ্রীমঙ্গল উপজেলা অবস্থিত মৌলভীবাজার জেলায়। উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,০১৮.
কামচাটকা উপদ্বীপ নামটি কোন মহাদেশের সাথে জড়িত?
  1. ক) এশিয়া
  2. খ) আফ্রিকা
  3. গ) ইউরোপ
  4. ঘ) আটলান্টিক
ব্যাখ্যা
শীতল কামচাটকা স্রোতের প্রভাবে এশিয়ার পূর্ব উপকূলে কামচাটকা উপদ্বীপের শীতলতা বৃদ্ধি পায়। (রেফারেন্স- ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি)
৫,০১৯.
গ্রিনিচ মানমন্দিরের উপর দিয়ে কোন রেখা অতিক্রম করেছে?
  1. কর্কটক্রান্তি রেখা
  2. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
  3. মূল মধ্যরেখা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian):
- মূল মধ্যরেখা প্রকৃতপক্ষে লন্ডনের গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত এক দ্রাঘিমা রেখা।
- ১৮৮৪ সালে এই দ্রাঘিমা রেখাকে মূলমধ্য রেখা হিসেবে স্থির করে এই রেখার পূর্ব ও পশ্চিমে অন্য দ্রাঘিমা রেখাগুলোর মান নির্ধারণ করা হয়।

⇒ গ্রিনিচ মান:

- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে। 
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘন্টা।
- অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,০২০.
পৃথিবীর প্রধান ধান উৎপাদনকারী দেশ কোনটি?
  1. ক) চীন
  2. খ) শ্রীলঙ্কা
  3. গ) বাংলাদেশ
  4. ঘ) ভারত
ব্যাখ্যা
ধান উৎপাদনে শীর্ষ দেশ চীন। 
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। 
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। 
 
In the 2020/2021 crop year, China produced over 148 million metric tons of milled rice, a higher volume than any other country.
 India came in second place with 122 million metric tons of milled rice in that crop year.
উৎস: statista.com
৫,০২১.
‘বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক-২০২১’ অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কততম?
  1. সপ্তম
  2. অষ্টম
  3. চতুর্থ
  4. নবম
ব্যাখ্যা
• আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘জার্মান ওয়াচে’ প্রকাশিত,
- ‘বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক-২০২১’ অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।
- জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত জাতিসংঘের আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এখনই কমানো না গেলে বিশ্ববাসীকে খুব শিগ্গির এর খারাপ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
- সেদিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থা মোটেই সুবিধাজনক নয়।
- বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, পৃথিবীর মোট গ্রিনহাউজ গ্যাসের মাত্র শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ নিঃসরিত হয় বাংলাদেশে।
- মূলত ভৌগোলিকভাবে এ দেশের অবস্থান, অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও সামাজিক সুরক্ষার অপর্যাপ্ততা বাংলাদেশকে আরও ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
- উন্নত দেশগুলো ৮৬ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। 

উৎস:  দৈনিক যুগান্তর।
৫,০২২.
নিচের কোনটি ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষ নয়?
  1. শাল
  2. কড়ই
  3. হিজল
  4. গরান
ব্যাখ্যা
- গরান ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষ নয়। 

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:

- চাপালিশ, ময়না, তেলসুর প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।                                     
- গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায় না।

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:

- শাল, কড়ই, হিজল প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।           
- গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায়।
   
স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- সুন্দরি, গরান, গেওয়া, ধুন্দল, কেওড়া প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।    
- স্রোতময় মিঠা ও নোনা পানির সংযোগস্থলে জন্মে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০২৩.
নিচের কোনটি মানব সৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. নদীভাঙন
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. রাসায়নিক দূষণ
  4. খরা
ব্যাখ্যা

- রাসায়নিক দূষণ মানব সৃষ্ট  দুর্যোগ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ

- প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
- যেমন: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির, ইত্যাদি।

• মানব- সৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
- যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকাণ্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা,
বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,০২৪.
পাদদেশীয় পলল সমভূমি বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. উত্তর দক্ষিণাঞ্চল
  2. দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল
  3. উত্তর পশ্চিমাঞ্চল
  4. দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা

পাদদেশীয় পলল সমভূমি:
- পাদদেশীয় পলল সমভূমি মূলত পলি সঞ্চয়ের ফলে গঠিত।
- অবস্থান: বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল।
- এই অঞ্চলটি কৃষিকাজের জন্য উপযোগী।
- সমুদ্র সমতল থেকে উচ্চতা: প্রায় ৩০.৫ মিটার।
- পাদদেশীয় পলল সমভূমির মোট আয়তন: প্রায় ৪,০০০ বর্গকিলোমিটার।

• অন্তর্ভুক্ত জেলা
- পঞ্চগড়
- ঠাকুরগাঁও
- দিনাজপুর
- নীলফামারী
- লালমনিরহাট
- কুড়িগ্রাম
- রংপুর
- গাইবান্ধা

• প্রধান নদী
- তিস্তা
- করতোয়া
- আত্রাই

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,০২৫.
এশিয়ার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. সিন্ধু
  2. ইয়াংসিকিয়াং
  3. গঙ্গা
  4. হোয়াংহো
ব্যাখ্যা

• ইয়াংজি/ ইয়াংসিকিয়াং নদী (Yangtze River):
- চীন এবং এশিয়ার দীর্ঘতম নদী এবং বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী।
- দৈর্ঘ্য: ৩,৯১৫ মাইল (৬,৩০০ কিমি)।
- নদীর বেসিন প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি) পশ্চিম থেকে পূর্ব এবং ৬০০ মাইল (১,০০০ কিমি) উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- নদীটি তিব্বতের প্লেটোর উৎস থেকে বের হয়ে পূর্ব চীনা সাগরে পতিত হয়।
- নদী ১০টি চীনা প্রদেশ বা অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বা তাদের সীমান্ত হিসাবে কাজ করে।
- নদীর প্রায় ৭৫% পথ পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।

• প্রধান উপনদীসমূহ:
- বাম তীরে: ইয়ালুং, মিন, জিয়ালিং, হান নদী।
- ডান তীরে: উ, ইউয়ান, শিয়াং, গ্যান নদী।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৫,০২৬.
কোন প্রণালীকে তার বিপদসংকুল নৌপথের জন্য “মৃত্যুকূপ” নামে অভিহিত করা হয়?
  1. বাব-আল-মান্দেব প্রণালী
  2. মালাক্কা প্রণালী
  3. হরমুজ প্রণালী
  4. বসফরাস প্রণালী
ব্যাখ্যা

বাব-আল-মান্দেব প্রণালী :
- বাব-আল-মান্দেব প্রণালী হলো একটি সংকীর্ণ সামুদ্রিক প্রণালি যা ইয়েমেন (এশিয়া) ও জিবুতি (আফ্রিকা)-কে পৃথক করেছে।
- এটি লোহিত সাগর  ও আডেন উপসাগর (Gulf of Aden)-এর সংযোগকারী পথ।
- এই প্রণালির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ কিলোমিটার। 
- এটি ইউরোপ-এশিয়া-বাণিজ্য রুটের একটি কৌশলগত স্থানে অবস্থিত।
- বাব আল-মান্দেব প্রণালীকে “মৃত্যুকূপ” বলা হয় কারণ এর আরবি নামের আক্ষরিক অর্থই “অশ্রুর দ্বার” বা “মৃত্যুর প্রবেশদ্বার”।
- এই নামের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে।
- প্রথমত, প্রাচীন আরব কাহিনিতে বলা হয় যে, আফ্রিকা থেকে আরব উপদ্বীপে যাত্রাকালে এই প্রণালী পার হতে গিয়ে বহু লোক ডুবে প্রাণ হারিয়েছিল।
- দ্বিতীয়ত, অতীতে প্রণালীটি ছিল দিকনির্দেশনার দিক থেকে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ, যার ফলে নৌযাত্রায় বিপদের মাত্রা ছিল বেশি এবং এর ফলে বহু নাবিকের মৃত্যু ঘটত।

উৎস : Britannica.

৫,০২৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে ব্যয়বহুল ধাপ কোনটি?
  1. পুনরুদ্ধার
  2. সাড়াদান
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. প্রশমন
ব্যাখ্যা
« দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদানসমূহ:
• দুর্যোগ প্রতিরোধ,
• দুর্যোগ প্রশমন এবং
• দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।

• প্রশমন:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রশমন স্তরটি বেশি ব্যয়বহুল।
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ শস্য বহুমুখীকরণ।
- ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন।
- অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে,
- পুনরুদ্ধার, সাড়াদান, পূর্বপ্রস্তুতি প্রভৃতি অল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০২৮.
নিম্নলিখিত কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. ভূমিকম্প
  4. রাসায়নিক দূষণ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ (Disaster):
- দুর্যোগ হলো এমন একটি বিপর্যয়, যা নির্দিষ্ট এলাকার অধিকাংশ জনগণকে বিপদাপন্ন করে তোলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়।
- এটি স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রচণ্ড বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

বিশ্বের যেকোনো দেশে সাধারণত দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়:
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক শক্তির কারণে সংঘটিত দুর্যোগকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে। উদাহরণ— অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়।
২. মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানব কর্মকাণ্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে। উদাহরণ— জলাবদ্ধতা, অগ্নিকাণ্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ।

সুতরাং, উল্লিখিত প্রশ্নে 'রাসায়নিক দূষণ' প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্তর্ভুক্ত নয়।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০২৯.
বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) ভোলা
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) বান্দরবান
  4. ঘ) রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
• কাপ্তাই বাঁধ:
- কাপ্তাই বাঁধ বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত।
- কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে সৃষ্ট কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্মিত এটি।
- ১৯৬২ সালে চালু হয়।

- এটি মাটি ভরাট করে নির্মিত ৬৭০.৬ মিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ।
 - বাঁধটি ৪৫.৭ মিটার উঁচু যা  সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৬ মিটার (এম.এস.এল) উচ্চতার সমান।
- এর চূড়ার সর্বোচ্চ প্রস্থ ৭.৬ মিটার ও পাদদেশের প্রস্থ ৪৫.৭ মিটার। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,০৩০.
গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধে কোন দিকে অস্ত যায়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম
  2. উত্তর-পশ্চিম
  3. পশ্চিম
  4. উত্তর- পূর্ব
ব্যাখ্যা
২১শে জুন উত্তর গোলার্ধে ও দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যের অবস্থান:
- সূর্যের চর্তুদিকে পৃথিবীর পরিভ্রমণের সময় পৃথিবী ২১ শে জুন তারিখে পৃথিবীর কক্ষপথের এমন এক স্থানে এসে পৌঁছে, যখন উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সর্বাপেক্ষা বেশি (২৩.৫০) ঝুঁকে থাকে।
- অর্থাৎ কর্কটক্রান্তি রেখায় সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- ২১ শে জুন উত্তর গোলার্ধ সূর্যের নিকটতম স্থানে অবস্থান করে।
- তখন উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।
- যার ফলে গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে দেশগুলোতে সূর্য উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে উদিত হয় এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে দিয়ে অস্ত যায়।
- অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিকে অস্ত যায়।

- যার ফলে দেখা যায়, ২১ শে জুন উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় এবং রাত্রি সবচেয়ে ছোট হয়।

অপরদিকে,
- বিপরীতক্রমে এই সময়ে দক্ষিণ মেরু বা মকর ক্রান্তিতে পৃথিবী সূর্য হতে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে থাকে।
- দক্ষিণ গোলার্ধে, এই দিনটি সবচেয়ে ছোট এবং রাত্রি সবচেয়ে বড় হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন হওয়ার কারণ এই দিনে সূর্য ও দক্ষিণ গোলার্ধের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,০৩১.
দেশের ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমিতে কোন বৃক্ষের আধিক্য রয়েছে?
  1. গেওয়া
  2. গজারি
  3. গর্জন
  4. কড়ই
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বৃষ্টিবহুল উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমির আধিক্য রয়েছে।
এ বনের উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে চাপালিশ, তেলসুর, গর্জন, উড়িআম, ঢাকিজাম, সিভিট, সেগুন, গামার, চম্পা, জারুল, বৈলাম প্রভৃতি।
এছাড়া এ বনাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বাঁশ ও বেত পাওয়া যায়।
অন্যদিকে গেওয়া গাছ সুন্দরবনে এবং গজারি ও কড়ই সাধারণত শালবনে দেখতে পাওয়া।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বনবিভাগ)
৫,০৩২.
'র‍্যাডক্লিফ লাইন' কোন দুইটি দেশের সীমারেখা?
  1. ভারত ও পাকিস্তানের
  2. ভারত ও চীনের
  3. পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের
  4. ইসরাইল ও লেবাননের
ব্যাখ্যা

র‍্যাডক্লিফ লাইন:
- 'র‌্যাডক্লিফ লাইন' ভারত-পাকিস্তান দুটি দেশের চিহ্নিত সীমারেখা ।
- র‍্যাডক্লিফ লাইন বা র‍্যাডক্লিফ রেখা হল ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশ ও বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে বিভাজন করে নবগঠিত ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারনকারী রেখা৷
- এটি এই রেখার পরিকল্পক স্যার শেরিল র‌্যাডক্লিফ এর নামে নামাঙ্কিত৷
- তিনি প্রায় ৮.৮ কোটি মানুষের বসতি ও সর্বমোট ১, ৭৫, ০০০ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃৃত বাংলা ও পাঞ্জাব উভয় প্রদেশের জনবিন্যাসগত সুষ্ঠু বিভাজন পরিকল্পনার যুগ্মসভাপতি হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন৷
- ১৭ই আগস্ট ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত বিভাজন সংক্রান্ত সীমানা নির্ধারন রেখার অন্তিম পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়৷
- বর্তমানে এই রেখাটির পশ্চিমভাগ ভারত - পাকিস্তান সীমান্ত ও পূর্বভাগ বাংলাদেশ - ভারত সীমান্ত নামে পরিচিত৷

• বিশ্বের বিখ্যাত সীমারেখা:
- ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা রেখা- লাইন অব কন্ট্রোল।
- ভারত ও চীনের সীমানা রেখা (কাশ্মীর সীমান্তে)- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল।
- বর্তমানে ডুরান্ড লাইন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা চিহ্নিতকরণ রেখা।
- ম্যাকমোহন লাইন- স্যার ম্যাকমোহন কর্তৃক চিহ্নিত ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানা রেখা।
- সনোরা লাইন- যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সীমানা চিহ্নিতকরণ রেখা।
- লাইন অব ডিমারকেশন- পর্তুগাল ও স্পেনের সীমানা চিহ্নিতকরণ রেখা।
- ব্লু লাইন- ইসরাইল ও লেবাননের সীমানা চিহ্নিতকরণ রেখা।

উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।

৫,০৩৩.
মধ্যম উচ্চতার মেঘ কোনটি?
  1. ক) সিরাস
  2. খ) অল্টোস্ট্রেটাস
  3. গ) স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
  4. ঘ) স্ট্রাটাস
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:

উঁচু উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা)
৫,০৩৪.
বাংলাদেশে ভূমিকম্প প্রস্তুতি এবং সচেতনতা সংক্রান্ত কমিটি কোনটি?
  1. ক) EIPAC
  2. খ) OSHE
  3. গ) EPAC
  4. ঘ) JMREMP
ব্যাখ্যা
- EPAC এর পূর্ণরূপ Earthquake Preparedness and Awareness Committee.
- ভূমিকম্প প্রস্তুতি এবং সচেতনতার জন্য এই কমিটি গঠিত হয় ২০০৯ সালে 
- এই কমিটির চেয়ারম্যান হলেন খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। 
 
উৎস: ddm.portal.gov.bd
৫,০৩৫.
‘টিটিকাকা হ্রদ‘ কোথায় অবস্থিত?
  1. কলম্বিয়া
  2. চিলি
  3. বলিভিয়া
  4. ভেনিজুয়েলা
ব্যাখ্যা
• টিটিকাকা হ্রদ:
- টিটিকাকা হ্রদ পেরু এবং বলিভিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদ।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৮১০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
- এটিকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ বড় হ্রদগুলির মধ্যে একটি।

- ঐতিহাসিক এবং ভূতাত্ত্বিকরা বিশ্বাস করেন যে এটি প্রায় তিন মিলিয়ন বছরের পুরানো।
- হ্রদটির পরিমাপ ৮,৩০০ বর্গ কিলোমিটার বা ৩,২০০ বর্গ মাইল এবং এর প্রস্থ বিন্দুতে ৮০ কিলোমিটার বা ৫০ মাইল।
- হ্রদ সিস্টেমটি আসলে তার সরু প্রণালী দ্বারা দুটি ভাগে বিভক্ত যা টিকুইনা নামে পরিচিত।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৫,০৩৬.
লিলি ফুলের দেশ- 
  1. মিশর
  2. কানাডা
  3. তাইওয়ান
  4. বাহরাইন
ব্যাখ্যা

ভৌগলিক উপনাম:
- সোনালী প্যাগোডার দেশ: মিয়ানমার।
- লিলি ফুলের দেশ: কানাডা।
- ক্যাঙ্গারুর দেশ: অস্ট্রেলিয়া।
- সিল্ক রুটের দেশ: ইরান।
- মার্বেলের দেশ: ইতালি।
- পঞ্চম ড্রাগনের দেশ: তাইওয়ান।
- তামার দেশ: জাম্বিয়া।
- পিরামিডের দেশ: মিশর।
- প্রাচীরের দেশ: চীন।
- ভূমিকম্পের দেশ: জাপান।

উৎস: Britannica.com

৫,০৩৭.
কান্তজীর মন্দির কোন নদীর পাড়ে অবস্থিত?
  1. ক) যমুনা
  2. খ) ঢেপা
  3. গ) নাখা
  4. ঘ) ইছামতী
ব্যাখ্যা
কান্তজীর মন্দির ইটের তৈরী অষ্টাদশ শতাব্দীর মন্দির। দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ১২ মাইল উত্তরে এবং দিনাজপুর-তেতঁলিয়া সড়কের প্রায় এক মাইল পশ্চিমে ঢেপা নদীর পারে এক শান্ত নিভৃতগ্রাম কান্তনগরে এ মন্দিরটি স্থাপিত। Source: dinajpur.gov.bd
৫,০৩৮.
আলুটিলা পাহাড় কোথায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. বান্দরবান
  3. রাঙ্গামাটি
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
- আলুটিলা পাহাড় খাগড়াছড়িতে অবস্থিত। 
- খাগড়াছড়ি শহর থেকে ৮কিঃ মিঃ পশ্চিমে আলুটিলা পাহাড় চূড়ায় আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র।
- খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ পথে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র।
- আলুটিলা গুহা অন্যতম আকর্ষণ কেন্দ্র। 
- আলুটিলা বাংলাদেশের একটি অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী পর্যটন স্পট। 
- এ পর্যটন কেন্দ্রে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, বিশ্রাম কক্ষ ও বসার সু-ব্যবস্থাসহ গুহায় যাওয়ার পথে সিঁড়ি করা হয়েছে।
- পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে খাগড়াছড়িকে দেখা যায়। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৫,০৩৯.
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
  1. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  2. টাঙ্গাইল
  3. কুষ্টিয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
খরা:
- সাধারণত খরা বলতে কোনো এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে ভূমিতে পানির অনুপস্থিতিকে বুঝায়।
- অর্থাৎ কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়।
- এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- বিগত অর্ধ শতকের ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক মাত্রায় খরা দেখা দেয়।

বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র: রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

⇒ খরার কারণ:
১. সময়মতো বৃষ্টিপাতের অভাব;
২. পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা;
৩. অপরিকল্পিতভাবে বনভূমি উজাড়;
৪. নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ;
৫. এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাব প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৪০.
প্লেট টেকটোনিক ধারণাটি কোনটির সাথে জড়িত?
  1. ভূমিকম্প
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. খরা
  4. নদী ভাঙন
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত।
- এগুলোকে প্লেট বলা হয়।

⇒ এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে।
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়।
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে।
- কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে।

⇒ একটি প্লেটের সাথে আরেকটি প্লেট যেখানে মেশে সেখানেই বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে।
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়।
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়।
- এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। এ
- কেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে।
- একেই ভূমিকম্প বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫,০৪১.
ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি কোথায় অবস্থিত?
  1. মেক্সিকো
  2. জাপান
  3. ইতালি
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
- ভিসুভিয়াস পর্বত (ইতালীয়: Monte Vesuvio, লাতিন ভাষায়: Mons Vesuvius) ইতালির নেপলস উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি আগ্নেয়গিরি
- নেপলস থেকে ৯ কিলোমিটার পূর্বে সমুদ্রউপকূলের খুব কাছে এর অবস্থান।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৫,০৪২.
নদী প্রবাহের কোন পর্যায়ে স্রোতের গতিবেগ সর্বাধিক থাকে?
  1. ক) নিম্নগতি
  2. খ) ঊর্ধ্বগতি
  3. গ) মধ্যগতি
  4. ঘ) ধীরগতি
ব্যাখ্যা
পর্বতের উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর প্রবাহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়।
এগুলো হলো:
- উর্ধ্বগতি
- মধ্যগতি এবং
- নিম্নগতি

উর্ধ্বগতি হলো প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।

মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়।

সর্বশেষ হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,০৪৩.
ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি-
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. একই থাকে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:

• ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে। 
• ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলে।
• কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে।
• ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
• ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
• যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৪৪.
'কিলাওয়েয়া' আগ্নেয়গিরির অবস্থান কোথায়?
  1. ক) সিসিলি দ্বীপে
  2. খ) ভূমধ্যসাগরে
  3. গ) হাওয়াই দ্বীপে
  4. ঘ) ইন্দোনেশিয়ায়
ব্যাখ্যা
হাওয়াই দ্বীপের সবচাইতে শক্তিশালী আগ্নেয়গিরি হল কিলাওয়েয়া।
- ১৯৮৩ সাল থেকে এর পূর্ব অংশ থেকে সারাক্ষণই লাভা বের হয়।
- কিলাওয়েয়ার লাভাকে বলা হয় বিশ্বের সবচাইতে গরম।
- জ্বালামুখের আশপাশে রয়েছে নালার মতো।

সূত্র: World Atlas ও বিবিসি বাংলা। 
৫,০৪৫.
নিচের কোনটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা?
  1. তুরাগ নদী
  2. সোনাদিয়া দ্বীপ
  3. মারজাত বাওড়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- ভূপ্রাকৃতিক অনুকূল অবস্থার কারণে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ।
- কিন্তু অপরিণামদর্শী কর্মকান্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নানান ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন।
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। 
- সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়,  গুলশানবারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]

৫,০৪৬.
নিচের কোনটি আটলান্টিক মহাসাগরের উপসাগর? 
  1. মেক্সিকো উপসাগর
  2. ওমান উপসাগর
  3. এডেন উপসাগর
  4. পারস্য উপসাগর 
ব্যাখ্যা

• আটলান্টিক মহাসাগরের সাগর এবং উপসাগরসমূহ: 
- বাল্টিকসাগর, কৃষ্ণ সাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর, ভূমধ্যসাগর, উত্তরসাগর, লাব্রাডর সাগর, মেক্সিকো উপসাগর।

• ভারত মহাসাগরের সাগর এবং উপসাগরসমূহ:
- আরবসাগর, লোহিতসাগর, আন্দামানসাগর, জাভাসাগর, টাইমুরসাগর, বঙ্গোপসাগর, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর, এডেন উপসাগর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৫,০৪৭.
ইয়াংসিকিয়াং এর উৎপত্তিস্থল -
  1. তিব্বতের মালভূমি
  2. আল্পস পর্বতমালা
  3. আলাস্কা পর্বত
  4. পামির মালভূমি
ব্যাখ্যা
ইয়াংসিকিয়াং:

- এশিয়া ও চীনের দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং।
- এটি পৃথিবীর ৩য় দীর্ঘতম নদী।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ৩,৯১৫ মাইল (৬,৩০০ কিমি)।
- এর অববাহিকা, পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি) এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬০০ মাইল (১,০০০ কিমি) এরও বেশি সময় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- তিব্বতের মালভূমি এর উৎপত্তিস্থল এবং পতিত হয়েছে পূর্ব চীন সাগরে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৫,০৪৮.
বিশ্বের বৃহত্তম উপদ্বীপ কোনটি?
  1. আলাস্কা উপদ্বীপ
  2. ইন্দোচীন
  3. আফ্রিকার হর্ন
  4. আরব উপদ্বীপ
ব্যাখ্যা

আরব উপদ্বীপ:
- আরব উপদ্বীপ হলো বিশ্বের বৃহত্তম উপদ্বীপ।
- এর আয়তন ১,২৫০,০০৬ বর্গ মাইল।
- এটি এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত।
- এবং আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত একটি বিস্তীর্ণ আরব অঞ্চল।
- আরব উপদ্বীদের উত্তর অংশটি খ্রিস্টপূর্ব ৫২৫-৪০০ পর্যন্ত পারস্য সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।
- দক্ষিণ অংশটি প্রাচীন ইয়েমেন, সাবা ও শিমার রাজত্বের অধীন ছিল।
- এর পূর্বদিকে আরব উপসাগর,
- পশ্চিমে লোহিত সাগর,
- উত্তর-পশ্চিমে এডেন উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং
- দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভারত মহাসাগর অবস্থিত।

• বিশ্বের বৃহত্তম উপদ্বীপ:
1. আরব উপদ্বীপ,
2. ডেকান (ভারতীয়) উপদ্বীপ,
3. ইন্দোচীন,
4. আফ্রিকার হর্ন,
5. আলাস্কা উপদ্বীপ।

উৎস: World Atlas.

৫,০৪৯.
ফ্লোরিডা প্রণালী কোন দুটি দেশের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে? 
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
  3. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
  4. যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা

• ফ্লোরিডা প্রণালী: 
- এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ যা মেক্সিকো উপসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে যুক্ত করে।
- ফ্লোরিডা প্রণালী যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবাকে পৃথক করেছে।  
- এটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা কীজের (Florida Keys) উত্তরে এবং কিউবার দক্ষিণে অবস্থিত, যা পূর্বদিকে বাহামাস দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি একটি L-আকৃতির চ্যানেল যা ফ্লোরিডা উপদ্বীপকে কিউবা এবং গ্রেট বাহামা ব্যাঙ্ক থেকে পৃথক করে।



- ১৫১৩ সালে স্প্যানিশ অভিযাত্রী জুয়ান পন্সে দে লিওন প্রথমবার এই প্রণালী দিয়ে যাত্রা করেন।
এখান দিয়ে ফ্লোরিডা কারেন্ট (Florida Current) প্রবাহিত হয়, যা গাল্ফ স্ট্রিমের প্রারম্ভিক অংশ।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

৫,০৫০.
‘বাঙালি’ নামের নদীটি বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) বগুড়া
  2. খ) ফরিদপুর
  3. গ) গোপালগঞ্জ
  4. ঘ) কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
‘বাঙালি’ নদী:
- বাঙালি নদী বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গাইবান্ধা, বগুড়া এবং সিরাজগঞ্জ জেলার একটি নদী।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ১৮৩ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১৪৩ মিটার।
- নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। 
- হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি জাতির নামে বাংলাদেশের একমাত্র নদী এটি।
- বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা 'পাউবো' কর্তৃক পাথরাজ নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৭৯।
- ২০০৭ সালে নদীটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে যমুনা নদীর সঙ্গে নদীটির মিশে যাবার আশঙ্কায়।
- এর ফলে এলাকার ব্যাপক ভৌগোলিক পরিবর্তন হতে পারে।
- বাঙালি নদীর উৎপত্তি নীলফামারী জেলার তিস্তা নদী থেকে।
- উৎস থেকে নদীটি ঘাঘট নামে গাইবান্ধায় প্রবাহিত হয়।
- গাইবান্ধায় এসে এটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে যায়।
- একটি শাখা পশ্চিমে ঘাঘট নামে প্রবাহিত হয়ে শেরপুরে করতোয়া নদীতে গিয়ে পড়ে; অপর শাখা বাঙালি নামে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে গিয়ে বগুড়ায় আবারো দুটি শাখায় বিভক্ত হয়।
- এই শাখা দুটি যথাক্রমে যমুনা ও করতোয়ায় গিয়ে পড়ে।
- বাঙালি নদীর অনেক শাখা নদী আছে যথা: বেলাল, মানস, মধুখালি, ইছামতি, ভলকা এবং অন্যান্য।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,০৫১.
নিম্নের কোনটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি?
  1. জাপানের ফুজিয়ামা
  2. ইরানের কোহিসুলতান
  3. হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি:
- ভূত্বকের শিলাস্তর সর্বত্র একই ধরনের কঠিন বা গভীর নয়। কোথাও নরম আবার কোথাও কঠিন। কোনো কোনো সময় ভূগর্ভের চাপ প্রবল হলে শিলাস্তরের কোনো দুর্বল অংশ ফেটে যায় বা সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়। ভূপৃষ্ঠের দুর্বল অংশের ফাটল বা সুড়ঙ্গ দিয়ে ভূগর্ভের উষ্ণ বায়ু, গলিত শিলা, ধাতু, ভস্ম, জলীয়বাষ্প, উত্তপ্ত পাথরখন্ড, কাদা, ছাই প্রভৃতি প্রবলবেগে ঊর্ধ্বে উৎক্ষিপ্ত হয়। ভূপৃষ্ঠে ঐ ছিদ্রপথ বা ফাটলের চারপাশে ক্রমশ জমাট বেঁধে যে উঁচু মোচাকৃতি পর্বত সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয়গিরি বলে। আগ্নেয়গিরির মুখকে জ্বালামুখ এবং জ্বালামুখ দিয়ে নির্গত গলিত পদার্থকে লাভা বলে।

⇒ আগ্নেয়গিরির প্রকারভেদ (Types of Volcanoes): অগ্ন্যুৎপাতের ভিত্তিতে আগ্নেয়গিরিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
১। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano): যেসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এখনও বন্ধ হয়নি, তাকে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন- হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া।
২। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant Volcano): যেসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত অনেককাল আগে বন্ধ হয়ে গেছে; তাদেরকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন- জাপানের ফুজিয়ামা।
৩। মৃত আগ্নেয়গিরি (Extinct Volcano): যেসব আগ্নেয়গিরি দীর্ঘকাল ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা নেই, সেগুলোকেই মৃত আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন- ইরানের কোহিসুলতান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 
৫,০৫২.
বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যার কত শতাংশ চরম তাপমাত্রা প্রবাহের ঝুঁকিতে থাকবে?
  1. প্রায় ৯০ শতাংশ
  2. প্রায় ৭০ শতাংশ
  3. প্রায় ৮০ শতাংশ
  4. প্রায় ৫০ শতাংশ
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংকের "Risk and Resilience: Helping People and Firms Adapt in South Asia" রিপোর্ট:
- প্রকাশিত হয়:  জুন, ২০২৫।
- ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার (বাংলাদেশসহ) মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০% (প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মানুষ) চরম তাপের ঝুঁকিতে থাকবে।
- এই ঝুঁকি উত্তাপ তরঙ্গের ফলে স্বাস্থ্য সমস্যা, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসের কারণ হবে।
- বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উচ্চতম তাপ-ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যার হিসেবে,
- যেখানে ২০২৪ সালেই উত্তাপ-সম্পর্কিত ক্ষতি GDP-এর ০.৪% (প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার) হয়েছে।
- রিপোর্টটি জলবায়ু অভিযোজনের জন্য আর্থিক সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত-কর্মক্ষেত্রীয় প্রস্তুতির উপর জোর দিয়েছে, যাতে এই ঝুঁকি মোকাবেলা করা যায়।

উৎস: বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট।[লিঙ্ক]

৫,০৫৩.
কখন কর্কট সংক্রান্তি ঘটে?
  1. ২১ মার্চ
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ ডিসেম্বর
  4. ২২ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ:

- ২১ জুন উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট রাত ও সবচেয়ে বড় দিন এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে।
- এ সময় উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে থাকে।
- সে কারণে এই সময় উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য ও তাপমাত্রাও বেশি হয়ে থাকে।
- অর্থাৎ উত্তর গোলার্ধে ২১ জুন দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত হয়।
- ২১ জুন সূর্য উত্তরায়ণের শেষ সীমায় পৌঁছায়, একে কর্কটসংক্রান্তি বলে।

অন্যদিকে,
- ২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে।
- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর : পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান থাকে।
- নিরক্ষরেখা বলতে পৃথিবীর মেরুগুলো থেকে সমান দূরে অবস্থিত পৃথিবীপৃষ্ঠ প্রদক্ষিণকারী একটি কাল্পনিক বৃত্তকে বোঝায়।
- অর্থাৎ এটি একটি কাল্পনিক রেখা যা পৃথিবীর মাঝ বরাবর এবং উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরু থেকে দুরত্বে কল্পনা করা হয়।
- যা পৃথিবীকে দক্ষিণ গোলার্ধ এবং উত্তর গোলার্ধে ভাগ করে।
- এই রেখাটির মান ০ ডিগ্রি। এখানে দিন রাত সর্বত্র সমান।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,০৫৪.
মরুভূমিতে দিনে প্রচন্ড গরম এবং রাতে প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভূত হওয়ার কারণ কী?
  1. ক) বৃষ্টিহীনতা
  2. খ) অধিক তাপমাত্রা
  3. গ) বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম
  4. ঘ) বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা বেশি
ব্যাখ্যা
মৃত্তিকার গঠন বা বুনট সূর্যতাপ সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রস্তর বা বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম। এজন্য তা দ্রুত উত্তপ্ত এবং দ্রুত শীতল হয়। তাই মরুভূমিতে দিনে প্রচন্ড গরম এবং রাতে প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভূত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
৫,০৫৫.
'কসমিক ইয়ার' বলতে কোনটি বুঝায়? 
  1. ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  2. সূর্যের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  3. পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  4. চাঁদের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
ব্যাখ্যা
- সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি-ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। 
- এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে, এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে। 
- অর্থাৎ, ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫,০৫৬.
ইরাকের প্রাচীন নগরী 'ব্যাবিলন' কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) নীলনদ
  2. খ) ইউফ্রেটিস
  3. গ) টাইগ্রিস
  4. ঘ) শাত-ইল-আরব
ব্যাখ্যা
তৃতীয় সহস্রাব্দের শেষের দিকে মেসোপটেমিয়ার ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত, ইরাকের প্রাচীন নগরী ব্যাবিলনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।
- যা ইরাকের বাগদাদ থেকে প্রায় ৫৫ মাইল কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত 
- এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে চিহ্নিত। 

খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেই সময় আরাে কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই নগর সভ্যতাগুলাের আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, একই ভূখণ্ডে গড়ে ওঠার কারণে এদেরকে একত্রে মেসােপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসােপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত। 
- মেসােপটেমীয়ার অন্তর্ভুক্ত সভ্যতাসমূহ প্রাচীন মেসােপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
যেমন: সুমেরীয়, ব্যবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা।


উৎস: Britannica এবং মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৫৭.
কোন গ্রহকে পশ্চিমাকাশে 'সন্ধ্যাতারা' এবং পূর্বাকাশে 'শুকতারা' রূপে দেখা যায়?
  1. মঙ্গল 
  2. বুধ
  3. বৃহস্পতি
  4. শুক্র
ব্যাখ্যা

• শুক্র (Venus): 
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন। 
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার। 
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় 'শুকতারা'। 
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় 'সন্ধ্যাতারা'। 
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,০৫৮.
লেনিনগ্রাড এর বর্তমান নাম কী?
  1. ক) প্রোট্রোগ্রাড
  2. খ) সেন্ট পিটার্সবার্গ
  3. গ) পিটার্সবার্গ
  4. ঘ) মস্কো
ব্যাখ্যা
- লেনিনগ্রাড এর বর্তমান নাম সেন্ট পিটার্সবার্গ। 
- সেন্ট পিটার্সবার্গ একটি প্রধান ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর।
- সেন্ট পিটার্সবার্গ রাশিয়ার মস্কো থেকে প্রায় 400 মাইল (640 কিমি) উত্তর-পশ্চিমে। 
- এটি রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান শহর।
- 1703 সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ রাশিয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা 
৫,০৫৯.
এশিয়ার দীর্ঘতম নদী কোনটি? 
  1. অ্যামাজন
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. ইয়াংসিকিয়াং
  4. হোয়াংহো
ব্যাখ্যা
ইয়াংসিকিয়াং নদী:
- ইয়াংসিকিয়াং নদী 3,915 মাইল (6,300 কিমি) দীর্ঘ।
- এটি চীন এবং এশিয়া উভয়েরই দীর্ঘতম নদী।
- বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী।

অন্যান্য অপশন:
অ্যামাজন:
- অ্যামাজন বিশ্বের বৃহত্তম ও দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।

ব্রহ্মপুত্র:
- ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তি হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গের নিকট।
- উৎপত্তিস্থল থেকে এর দৈর্ঘ্য ২৯০০ কিলোমিটার।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখা হচ্ছে যমুনা।

হোয়াংহো:
- হোয়াংহো চীনের দ্বিতীয় এবং বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম নদী।
- এর অপর নাম পীত নদী।
- এর সর্বমোট দৈর্ঘ্য ৫৪৬৪ কিলোমিটার।

উৎস: i) Britannica.
ii) ময়মনসিংহ বিভাগ ওয়েবসাইট, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,০৬০.
বিশ্বের উচ্চতম জলপ্রপাত কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ব্রাজিল
  2. আর্জেন্টিনা
  3. গুয়াতেমালা
  4. ভেনেজুয়েলা
ব্যাখ্যা
অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত:
- বিশ্বের উচ্চতম জলপ্রপাত হলো অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত।
- এটি ভেনেজুয়েলায় অবস্থিত।
- এটির উচ্চতা ৯৭৯ মিটার।
- এটি পানি পতনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম জলপ্রপাত।

উৎস: Britannica.
৫,০৬১.
জনসংখ্যায় পৃথিবীর বৃহত্তম শহর কোনটি?
  1. ক) বেইজিং
  2. খ) নিউইয়র্ক
  3. গ) ইস্তাম্বুল
  4. ঘ) টোকিও
ব্যাখ্যা
World Population Review অনুসারে বর্তমানে জনসংখ্যায় পৃথিবীর বৃহত্তম শহর টোকিও, এরপরেই অবস্থান নয়া দিল্লী এবং সাংহাই শহরের।
৫,০৬২.
থর মরুভূমি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
  2. খ) চীন ও মঙ্গোলিয়া
  3. গ) ভারত ও পাকিস্তান
  4. ঘ) দক্কিণ আফ্রিকা ও সোমালিয়া
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত কিছু মরুভূমির অবস্থান - 
• থর মরুভূমি : ভারত ও পাকিস্তান
• গোবি মরুভূমি : চীন ও মঙ্গোলিয়া
• মোজাবে মরুভূমি : যুক্তরাষ্ট্র
• সাহারা মরুভূমি : আফ্রিকা

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৫,০৬৩.
কোনটি জলবায়ু অভিবাসনের “ধাক্কা” (Push Factor) হিসেবে বিবেচিত?
  1. উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  2. উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা
  3. শহরের বাণিজ্যিক সুযোগ
  4. ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু অভিবাসন:
- জলবায়ু অভিবাসন হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- জলবায়ু পরিবর্তন মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে অভিবাসনের দিকে ধাবিত করছে, 
- জলবায়ু অভিবাসন যেভাবে প্রভাবিত করে:
• বাস্তুচ্যুতি ও স্থানচ্যুতি:
- হঠাৎ বা ধীরে ধীরে ঘটে যাওয়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ যেমন: ঘূর্ণিঝড়, দীর্ঘস্থায়ী খরা, মরুকরণ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে হয়।
- বিশেষ করে উপকূলীয় এবং কৃষিনির্ভর এলাকায় এটি বেশি দেখা যায়।।

• অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ‘ধাক্কা’ এবং ‘টান’ দু’টি উপাদান কাজ করে।
- প্রতিকূল জলবায়ু যেমন: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মানুষকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে (ধাক্কা);
- আর উন্নত সুযোগ-সুবিধা মানুষকে অন্য স্থানে টানে (টান)।
- ফলে শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং শহুরে পরিষেবার ওপর চাপ বাড়ে।
• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অভিবাসনের একটি বড় কারণ।

উল্লেখ্য, 
• অর্থনৈতিক প্রভাব ও জীবিকা হ্রাস:
- কৃষি-নির্ভর অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দেয়, যার ফলে মানুষের আয় কমে যায়।
• সম্পদের অভাব এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত বিপর্যয়:
- এই বিপর্যয় অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত করে, যা মানুষকে কাজের সন্ধানে স্থানান্তরিত হতে প্ররোচিত করে।
• খাদ্য ও জল নিরাপত্তা: 
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খাদ্য ও জলের অভাব দেখা দেয়, যা মানুষের ফসলের ক্ষতি ও সম্পদের অভাব মানুষের আয় কমিয়ে দেয়।
- এবং খাদ্য ও পানীয় জলের নিরাপত্তা হ্রাস করে।
- এই পরিস্থিতি মানুষকে নতুন কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবন খোঁজার জন্য বাধ্য করে।

উৎস: 
১. ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. Britannica.
৩. কালের কন্ঠ। 

৫,০৬৪.
বাংলাদেশের কোন জেলা মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তযুক্ত হলেও ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নেই?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙামাটি
  3. সিলেট
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

বান্দরবান জেলা মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করলেও ভারতের সঙ্গে এর কোনো সীমান্ত নেই।
--------------------------- 
• সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি।
- এর মধ্যে ৩০টি জেলা ভারতের সঙ্গে সীমান্তযুক্ত; 
- আর ৩টি জেলা মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে—এগুলো হলো বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজার।

- এই তিন জেলার মধ্যে রাঙামাটি একটি বিশেষ জেলা;
- কারণ এটি বাংলাদেশের একমাত্র জেলা যেখানে ভারত (ত্রিপুরা ও মিজোরামের অংশ) এবং মিয়ানমার—উভয় দেশের সঙ্গেই সীমান্ত রয়েছে;
- ফলে রাঙামাটি একটি ত্রি-সীমান্ত সংযোগকারী জেলা হিসেবে পরিচিত।

- অন্যদিকে, বান্দরবান জেলা কেবল মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে, ভারতের সঙ্গে এর কোনো সীমান্ত নেই।
- একইভাবে, কক্সবাজারও শুধুমাত্র মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তযুক্ত;
- ভারতের সঙ্গে এর কোনো সীমান্ত নেই, কারণ জেলার দক্ষিণ ও পশ্চিমাংশ বঙ্গোপসাগরের দিকে উন্মুক্ত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৫,০৬৫.
এশিয়ার ভূখণ্ডে ইউরোপের সাথে সীমারেখা নির্ধারণ করে কোন পর্বতমালা?
  1. হিমালয়
  2. আর্কটিক সার্কেল
  3. ককেশাস 
  4. ইউরাল
ব্যাখ্যা

এশিয়া মহাদেশ:
- এশিয়া মহাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ও জনবহুল মহাদেশ। 
- এর মোট আয়তন প্রায় ৪৪,৬১৪,০০,০০০ বর্গকিমি (এশিয়ান রাশিয়া এবং ককেশীয় দ্বীপপুঞ্জসহ, তবে নিউ গিনি বাদে), যা পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
- এটি পূর্ব ও উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। 
- এশিয়া মহাদেশে স্বাধীন দেশ আছে ৪৪ টি আর সার্বভৌম দেশ হচ্ছে ৪৯ টি। 
- এশিয়া মহাদেশের সর্বশেষ স্বাধীন রাষ্ট্র হলো পূর্ব তিমুর।
- পূর্ব তিমুর ২০০২ সালের ২০ মে ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

- ভূগোলিক বৈশিষ্ট্যে এশিয়ায় রয়েছে পৃথিবীর ছাদ খ্যাত পামির মালভূমি।
- এশিয়ার দীর্ঘতম নদী হলো ইয়াংসিকিয়াং (চীন)।
- বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৫০ মিটার বা ২৯,০৩৫ ফুট) এশিয়ায় অবস্থিত।
- পৃথিবীর স্থলভাগের সর্বনিম্ন স্থান হলো মৃত সাগর, যা এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত।
- এছাড়া, বিশ্বের গভীরতম মহাদেশীয় হ্রদ বৈকাল হ্রদ এশিয়ায় অবস্থিত, যার গভীরতা ১,৬২০ মিটার।
- এশিয়ার বৃহত্তম মরুভূমি হলো গোবি মরুভূমি।
- আর বৃহত্তম সাগর হলো দক্ষিণ চীন সাগর।

- ভূখণ্ডের সীমারেখা নির্ধারণে ইউরাল পর্বতমালা ইউরোপের সাথে এশিয়ার সীমানা চিহ্নিত করে।
- এশিয়ার কিছু দেশ দ্বীপপুঞ্জ আকারে রয়েছে- যেমন জাপান, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া।
- আয়তনের দিক থেকে এশিয়ার বৃহত্তম দেশ হলো চীন। 
- আর আয়তনের দিক থেকে এশিয়ার ক্ষুদ্রতম দেশ হলো মালদ্বীপ।
---------------------------------- 
উল্লেখ্য,
- এশিয়ার দেশগুলো অঞ্চলভিত্তিকভাবে বণ্টিত:
• দক্ষিণ এশিয়া:
- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান। 

• পূর্ব এশিয়া:
- চীন, জাপান, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান। 

• দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া:
- ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার, তিমুর

• পশ্চিম এশিয়া (মধ্যপ্রাচ্য):
- ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ইয়েমেন, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, তুরস্ক, সাইপ্রাস, ইসরায়েল

• মধ্য এশিয়া ও অন্যান্য:
- কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, জর্জিয়া, রাশিয়া। 

উৎস: Britannica. 

৫,০৬৬.
’বরেন্দ্রভূমি’ বাংলাদেশের কোন ভূ-অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. প্লাবন সমভূমি
  2. প্লাইস্টোসিনকালের উচ্চভূমি
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  4. স্রোতজ বনভূমি
ব্যাখ্যা

• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ: 
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• বরেন্দ্রভূমি:
দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত। 
প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।

• মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
 সমভূমি থেকে এরউচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
মাটির রং লালচে ও ধূসর।

• লালমাই পাহাড়:
কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫,০৬৭.
দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র কোনটি?
  1. বড়পুকুরিয়া
  2. জামালগঞ্জ
  3. ফুলবাড়ী
  4. খালাসপীর
ব্যাখ্যা
কয়লা ক্ষেত্র:
- বাংলাদেশে আবিস্কৃত মোট কয়লা ক্ষেত্র ৫টি।
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে।

দেশের কয়লা খনিসমূহ হলো:
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫।
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫।
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯।
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭।
• জামালগঞ্জ: আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জয়পুরহাট, জিএসবি, ১৯৬২।

উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৫,০৬৮.
Malacca Strait কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আফ্রিকা মহাদেশে
  2. খ) দক্ষিণ এশিয়াতে
  3. গ) প্রশান্ত মহাসাগরে
  4. ঘ) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে
ব্যাখ্যা
Malacca Strait
- মালাক্কা প্রণালী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে মালয় উপদ্বীপ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত একটি সমুদ্রপ্রণালী।
- মালাক্কা প্রণালীর উত্তরে ভারত মহাসাগরের আন্দামান সাগরকে দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
- প্রণালীটি উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এর বিস্তার ৬০ কিলোমিটার থেকে ৪৮০ কিলোমিটার।
- প্রণালীটির দক্ষিণ প্রান্তে অনেকগুলি দ্বীপ আছে।
- ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যকার সমুদ্র বাণিজ্য এর মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়।
- মালাক্কা প্রণালীর উপকূলে অবস্থিত প্রধান বন্দরগুলির মধ্যে আছে মালয় উপদ্বীপের পেনাং, পোর্ট সোয়েটেনহাম ও মালাক্কা, এবং সুমাত্রা দ্বীপের বেলাওয়ান বন্দর।
- সিঙ্গাপুর এই প্রণালীর দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
৫,০৬৯.
পানামা খাল কোন দুটি মহাসাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর এবং আরব সাগর 
  2. ভারত মহাসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগর 
  3. আটলান্টিক মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভূমধ্যসাগর
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- এটি বিশ্বের দুটি সবচেয়ে কৌশলগত কৃত্রিম জলপথের মধ্যে একটি, যা পানামা প্রজাতন্ত্রের মালিকানাধীন ও পরিচালিত।
- এটি একটি লক-টাইপ খাল, যা আটলান্টিক মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর সংযুক্ত করে।
- উপকূল থেকে উপকূল পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য: প্রায় ৪০ মাইল (৬৫ কিমি)।
- উদ্বোধন: আগস্ট, ১৯১৪।
• নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসন:
- ১৯১৪-১৯৭৯: খালটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃত্বে পরিচালিত।
- ১৯৭৯: পানামা খাল কমিশন নামে মার্কিন ও পানামার যৌথ সংস্থা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ।
- ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯: খালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পানামা সরকারের কাছে হস্তান্তরিত।
- বর্তমান প্রশাসন: পানামা খাল কর্তৃপক্ষ, যা কেবল পানামা সরকারের কাছে জবাবদিহি করে।

উৎস: Britannica.

৫,০৭০.
পাশাপাশি অবস্থিত দুইটি নদীর মধ্যবর্তী অপেক্ষাকৃত উঁচু পলল সমভূমি অঞ্চলকে কী বলা হয়?
  1. নদীসঙ্গম
  2. নদী উপত্যকা
  3. দোয়াব
  4. নদীগর্ভ
ব্যাখ্যা
নদীর বিভিন্ন অংশ ও গতিপথ:
দোয়াব: পাশাপাশি অবস্থিত দুইটি নদীর মধ্যবর্তী অপেক্ষাকৃত উঁচু পলল সমভূমি অঞ্চলকে দোয়াব বলে।
যেমন: গঙ্গা ও যমুনার মধ্যবর্তী দোয়াব অঞ্চল।
নদীসঙ্গম: দুই বা ততোধিক নদীর মিলনস্থলকে নদীসঙ্গম বলে। যেমন: পদ্মা ও যমুনার
মিলনস্থল গোয়ালন্দ উক্ত দুই নদীর নদীসঙ্গম অঞ্চল।
উপনদী: পর্বত বা হ্রদ থেকে ছোট নদী উৎপন্ন হয়ে কোনো বড় নদীতে পতিত হলে তাকে সেই বড়
নদীর উপনদী বলে। বাংলাদেশের তিস্তা ও করতোয়া হলো যমুনা নদীর উপনদী।
শাখানদী: মূল নদী থেকে যে সকল নদী বের হয় তাকে শাখানদী বলে। বাংলাদেশের কুমার ও
গড়াই হলো পদ্মা নদীর শাখানদী।
নদী উপত্যকা: উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত যে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় সে খাতকে
উক্ত নদী উপত্যকা বলে।
নদীগর্ভ: নদী উপত্যকার তলদেশকে নদীগর্ভ বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৭১.
বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন সংস্থা কে সংক্ষেপে কি বলা হয়?
  1. বিটিসিএল
  2. বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট
  3. এ্যাটোমিক এনার্জি কমিশন
  4. স্পারসো
ব্যাখ্যা
SPARRSO:
- SPARRSO এর পূর্ণরূপ: Space Research and Remote Sensing Organization.
- বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন সংস্থা বা স্পারসো।
- স্পারসো হলো একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা যা জ্যোতির্বিদ্যা গবেষণা এবং বাংলাদেশে মহাকাশ প্রযুক্তির প্রয়োগের সাথে জড়িত।
- স্পারসো পরিবেশগত এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত গবেষণায় JAXA, NASA এবং ESA-এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।
- স্পারসো হলো বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সংস্থা।
- এটি ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।
- এটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দিতে কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- কোম্পানিটি ল্যান্ডস্যাট এবং এনওএ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করে ভূমি জরিপ চালাচ্ছে।
- বাংলাদেশের স্যাটেলাইট চিত্র স্পারসো-এর তত্ত্বাবধানে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,০৭২.
পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে
  2. উত্তর গোলার্ধে বাম দিকে
  3. দক্ষিণ গোলার্ধে ডান দিকে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আবর্তন:
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।

⇒ আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। 
- যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ু প্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।

⇒ একটি অঞ্চলে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে একটি কেন্দ্রাভিমুখী ঘূর্ণায়মান প্রচন্ড বায়ুপ্রবাহ থেকেই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীতমুখী অর্থাৎ উত্তরাভিমুখী এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণাভিমুখী প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৭৩.
বাংলাদেশে প্রথম কোথায় চীনামাটির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. দিনাজপুরের মধ্যপাড়া
  2. চট্টগ্রামের সাতকানিয়া
  3. নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিজয়পুর
  4. নওগাঁর পত্নীতলা
ব্যাখ্যা

চীনামাটি:
- চীনামাটি বা কেওলিন (Kaolin) হলো একধরণের উন্নতমানের সাদা কর্দম খনিজ, যা মূলত সিরামিক, টাইলস এবং তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে তৈরি করা হয়, ফলে এটি অত্যন্ত শক্ত, অভেদ্য এবং স্বচ্ছ প্রকৃতির হয়। 
- একে সাদা মাটিও বলা হয়। 
- এটি সিরামিক শিল্প, টেবিলওয়্যার (চায়ের সেট), স্যানিটারি ওয়্যার (টয়লেট), এবং কাগজ শিল্পে ফিলার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- বাংলাদেশে প্রথম ১৯৫৭ সালে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর এলাকায় চীনামাটির সন্ধান পাওয়া যায়।
- এটি দেশের সবচেয়ে বড় চীনামাটি বা সাদামাটির খনি অবস্থিত।
- এছাড়া শেরপুরের নালিতাবাড়ী, চট্টগ্রামের হাইদগাঁও ও সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জত এবং দিনাজপুরের মধ্যপাড়া, নওগাঁ জেলার পত্নীতলা ও ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া। 
ii) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।

৫,০৭৪.
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে সময় লাগে -
  1. ১৫ হাজার বছর
  2. ২৫ হাজার বছর
  3. ৩৩ হাজার বছর
  4. ৪৮ হাজার বছর
ব্যাখ্যা
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- আমাদের গ্যালাক্সির নাম মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি একটি স্পাইরাল বা সর্পিল গ্যালাক্সি।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- অর্থাৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৫ হাজার বছর।
- গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি অত্যন্ত উজ্জ্বল।
- এর বেশির ভাগ অংশই ঢাকা পড়ে আছে হাইড্রোজেন গ্যাসে।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৫ হাজার বছর।

উৎস: Britannica. 
৫,০৭৫.
সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রটি কোথায় অবস্থিত?
  1. সিলেটে
  2. ভোলায়
  3. চট্টগ্রামে
  4. বঙ্গোপসাগরে
ব্যাখ্যা
→ সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রটি বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।

সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একমাত্র উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র।
- এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিঃশেষ ও পরিত্যক্ত হয় ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর।
- সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৯৬ সালে ব্রিটিশ তেল কোম্পানি কেয়ার্ন এনার্জি কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়।
- কোম্পানিটি ১৯৯৮ সালে সেখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু করে।
- ২০০৭-০৮ সালে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদনে ধস নামে।

উল্লেখ্য,
- পেট্রোবাংলার এমআইএস রিপোর্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রায় ৪৮৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হয়।

তথ্যসূত্র:  প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক] 
৫,০৭৬.
বাংলাদেশের উপকূলীয় সমভূমিতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী যে ধরনের বন্যা কবলিত হয় তার নাম - 
  1. নদীজ বন্যা
  2. আকস্মিক বন্যা
  3. বৃষ্টিজনিত বন্যা
  4. জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

⇒ মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

⇒ আকস্মিক বন্যা:
বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

⇒ জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে আরেক ধরণের বন্যা দেখা যায়, যার নাম জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা।
- ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছাস জনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর সমুদ্রের পানি উপকূলীয় অঞ্চল সমূহকে প্লাবিত করে এই ধরনের বন্যার সৃষ্টি করে।
- সংক্ষিপ্ত স্থিতিকাল বিশিষ্ট এই বন্যার উচ্চতা সাধারণত ৩ থেকে ৬ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং ভূ-ভাগের নিষ্কাশন প্রণালীকে আবদ্ধ করে ফেলে।

⇒ নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৫,০৭৭.
ইসরাইল ও জর্ডানকে বিভক্তকারী সীমারেখা কোনটি?
  1. পার্পল লাইন
  2. সনােরা লাইন
  3. গ্রিন লাইন
  4. ম্যাকমোহন লাইন
ব্যাখ্যা

• গ্রিন লাইন : ইসরাইল ও জর্ডানের মধ্যকার সীমারেখা।

এছাড়াও-
- ভারত-চীনের মধ্যে চিহ্নিত সীমারেখা - ম্যাকমোহন লাইন।
- মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রকে বিভক্তকারী সীমারেখা- সনােরা লাইন।
- ইসরাইল ও সিরিয়াকে বিভক্তকারী সীমারেখা - পার্পল লাইন হলো  

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫,০৭৮.
বাংলাদেশে বার্ষিক সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত নিম্নের কোন স্টেশনে রেকর্ড করা হয়?
  1. সিলেট
  2. টেকনাফ
  3. কক্সবাজার
  4. সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বার্ষিক সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত সিলেটে রেকর্ড করা হয়।

বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রকৃতি:
- বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান তিনটি প্রকৃতির স্বাতন্ত্র্য পরিলক্ষিত হয়।
- যথা শীতকাল, গ্রীষ্মকাল ও বর্ষাকাল।
- সাধারণত বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এ দেশের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করায় ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে।
- আবার মৌসুমী বায়ুর প্রভাব এ দেশের জলবায়ুর উপর এত বেশি যে বাংলাদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুও বলা হয়।
- ক্রান্তীয় জলবায়ুর প্রধান প্রকৃতি হলো বছরের বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন ঋতু যথা গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্তের আবির্ভাব।
- শীতপ্রধান এবং গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মতো বাংলাদেশের তাপমাত্রা কখনই চরমভাবাপন্ন হয় না।
- বাংলাদেশে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার।
- তবে সর্বনিম্ন গড় বৃষ্টিপাত রাজশাহী অঞ্চলের লালপুরে (১১৭.৫ সেন্টিমিটার) এবং সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত সিলেট অঞ্চলের লালখানে (৬৩৭.৫ সেন্টিমিটার) পরিলক্ষিত হয়।

উল্লেখ্য,
- দেশের উষ্ণতম স্থান: লালপুর, নাটোর।
- শীতলতম স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা: সিলেট।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়: লালাখাল, সিলেট।
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়: লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা: কক্সবাজার।
- সর্ব উত্তরের জেলা: পঞ্চগড়।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা: রাঙামাটি।
- আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা: নারায়নগঞ্জ।

উৎস: i) বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
          iii) ২৪ জুন, ২০২৪, বণিক বার্তা। 
৫,০৭৯.
নিচের কোনটি সাত পাহাড়ের শহর হিসেবে পরিচিত?
  1. রোম
  2. এথেন্স
  3. ভেনিস
  4. কিটো
ব্যাখ্যা
দেশ:
• রাজধানী:
- ইতালির রাজধানী রোম।

• সাতটি পাহাড়:
- এ নগরীতে সাতটি পাহাড় রয়েছে, যা হলো অ্যাভেনটাইন, কেইলিয়ান, ক্যাপিটোলাইন, ইসকুইলিন, প্যালেটাইন, কুইরিনাল ও ভিমিনাল।

• পাহাড়গুলোর গুরুত্ব:
- এই পাহাড়গুলো নগরীর ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে, এজন্য রোম নগরীকে সাত পাহাড়ের শহর বলা হয়

• বিশেষত্ব:
- রোম চির শান্তির শহর এবং নীরব শহর ও বলা হয়।

অন্যদিকে,
- ভেনিস: নিশ্চুপ সড়কের শহর।
- কিটো: চির বসন্তের শহর।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৫,০৮০.
ফারাক্কা বাঁধ চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা
- ফারাক্কা বাঁধ চালু হয় ১৯৭৫ সালে। 

ফারাক্কা বাঁধ:
- ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গা নদীর উপর অবস্থিত একটি বাঁধ।
- ভারতের হুগলী নদীতে পানি সরবরাহ এবং কলকাতা বন্দরটি সচল করার জন্য ১৯৭৪ সালে এই ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
- এর অবস্থান বাংলাদেশ থেকে ১৬.৫ কিলোমিটার উজানে ভারতের ভূখণ্ডে গঙ্গা নদীর ওপরে।
- ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রথম পরিকল্পনা করে ১৯৫১ সালে।
- ১৯৬১ সালে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
- প্রাথমিকভাবে নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭০ সালে।
- ২১ এপ্রিল, ১৯৭৫ থেকে এই বাঁধ চালু হয়।

ফারাক্কা পানি চুক্তি:
- ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশে পানির প্রবাহ কমতে থাকার প্রেক্ষাপটে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তি হয়।
- চুক্তিতে বলা হয়েছে, নদীতে ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম পানি থাকলে দুই দেশ সমান সমান পানি ভাগ করে নেবে।
- পানির পরিমাণ ৭০ হাজার কিউসেক থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক হলে ৪০ হাজার কিউসেক পাবে বাংলাদেশ, অবশিষ্ট প্রবাহিত হবে ভারতে।
- আবার নদীর পানির প্রবাহ যদি ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হয় তাহলে ৪০ হাজার কিউসেক পানি পাবে ভারত, অবশিষ্ট পানি প্রবাহিত হবে বাংলাদেশে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও BBC বাংলা।
৫,০৮১.
প্রান্তিক হ্রদ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙ্গামাটি
  3. কক্সবাজার 
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

প্রান্তিক হ্রদ — বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।

প্রান্তিক হ্রদ:
- বান্দরবান জেলা সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান কেরানীহাট সড়কের হলুদিয়ার সন্নিকটে প্রায় ২৫.২৯ একর এলাকা নিয়ে প্রান্তিক হ্রদ গঠিত।
বান্দরবানে অবস্থিত আরো কয়েকটি হ্রদ:
- বগাকাইন হ্রদ বা বগা লেক,
- কিয়াচলং হ্রদ ইত্যাদি।

উৎস: বান্দরবান জেলার ওয়েবসাইট।

৫,০৮২.
'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' প্রণীত হয় কত সালে?
  1. ২০০২ সালে
  2. ২০০৮ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ (৩৪ নং আইন)
- আইন প্রণীত হয়: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২।
- এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত হয়: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
- এর অধীনে তৈরি হয়: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫।
- আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য:
- দুর্যোগ মোকাবেলা কার্যক্রমকে সমন্বিত, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করা।
- সকল প্রকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করা।
- দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করে জনগণের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন- ২০১২ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৫,০৮৩.
In which sea can you find the Galapagos Islands, known for their unique wildlife and Charles Darwins research?
  1. Pacific Ocean
  2. Caribbean Sea
  3. Mediterranean Sea
  4. Arabian Sea
ব্যাখ্যা
গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ:
- পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ বিশ্বের অন্যতম সুন্দর দ্বীপ এবং পর্যটন কেন্দ্র।
- গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জটি দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর উপকূল থেকে প্রায় ১০০০ কিলোমিটার পশ্চিমে নিরক্ষরেখায় অবস্থিত, রাজনৈতিকভাবে এটি ইকুয়েডরের অন্তর্ভুক্ত।
- ভূকম্পন এবং অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট গ্যালাপাগোস প্রায় ১২০টি দ্বীপপুঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত।
- এই দ্বীপপুঞ্জে বৈচিত্র্যময় প্রজাতির বিভিন্ন প্রাণী রয়েছে, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না।
- বিরল প্রজাতির গুইসাপ ইগুয়ানার দুটি শ্রেণি বসবাস করে এখানে।
- গ্যালাপাগোস কচ্ছপ এই দ্বীপগুলোর অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাণবৈচিত্র্য।

উল্লেখ্য,
- চার্লস ডারউইন তাঁর বিখ্যাত বিবর্তনবাদের তত্ত্ব তৈরিতে এখানকার প্রাণীদের নির্বাচন ও পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
- তিনি লক্ষ করেছিলেন, এখানকার কচ্ছপ এবং মকিংবার্ডগুলো একেক দ্বীপে একেক রকম।
- দ্বীপগুলোর বৈচিত্র্যময় বিরল প্রজাতিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই ডারউইন বিবর্তনের পক্ষে প্রমাণ পেতে শুরু করেন, যা তাঁর প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
- গ্যালাপাগোস দ্বীপের অভিজ্ঞতা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাপক গবেষণা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চার্লস ডারউইন ১৮৫৯ সালে প্রকাশ করেন তাঁর বিবর্তনবাদ বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ ‘অন দি অরিজিন অব স্পিসিস’।

উৎস: ৩ ডিসেম্বর ২০২০, দৈনিক ইত্তেফাক। 
৫,০৮৪.
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত আফিম উৎপাদনকারী অঞ্চল কী নামে পরিচিত?
  1. গোল্ডেন ওয়েজ
  2. গোল্ডেন ভিলেজ
  3. গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল
  4. গোল্ডেন ক্রিসেন্ট
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল:
- গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি (মায়ানমার ,থাইল্যান্ড ,লাওস) দেশের সীমান্তে অবস্থিত আফিম উৎপাদনকারী অঞ্চল।
- এদের অবস্থানগত আকৃতি ত্রিভুজের মত।

অন্যদিকে -
- গোল্ডেন ক্রিসেন্ট: আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইরান সীমান্তে অবস্থিত আফিম মাদক উৎপাদনকারী অঞ্চল।
- গোল্ডেন ওয়েজ: বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল সীমান্ত যা মাদক পাচার ও চোরাচালানের জন্য বিখ্যাত ।
- গোল্ডেন ভিলেজ: বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার ২৬ টি গ্রামকে গাঁজা উৎপাদনের জন্য 'গোল্ডেন ভিলেজ' বলা হয়।

উৎস: Britannica.
৫,০৮৫.
বাংলাদেশের নদীর সংখ্যা কত?
  1. ক) ৭০০
  2. খ) ৭১৩
  3. গ) ৪০০
  4. ঘ) ৬০০
ব্যাখ্যা
৯ম-১০ম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই অনুসারে উপনদী, শাখানদী সহ বাংলাদেশের নদীর সংখ্যা ৭০০ টি যার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ২২,১৫৫ কিলোমিটার।
৫,০৮৬.
আয়তনে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ কোনটি?
  1. অ্যান্টার্কটিকা
  2. ইউরোপ
  3. ওশেনিয়া
  4. এশিয়া
ব্যাখ্যা
ওশেনিয়া মহাদেশ:
-ওশেনিয়া মহাদেশ আয়তন: ৮৫,২৫,৯৮৯ বর্গ কিমি. [ পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ]
- জনসংখ্যাঃ ৪,৬০,০৪,৮৬৬
- দীর্ঘতম একক নদী: মারে
- অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের বলা হয়: অ্যাবরিজিন
- উচ্চতম স্থান ও পর্বত: পুঞ্চাক জায়া ও পুনাক জায়া
- নিম্নতম স্থান: আয়ার হ্রদ
⇒ মোট মহাদেশ ৭ টি। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ওশেনিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা।


তথ্যসূত্র: Live MCQ ক্লাস লেকচার এবং ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৮৭.
মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের একমাত্র স্থলবন্দর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বাঁশশালী
  2. খ) উখিয়া
  3. গ) রামু
  4. ঘ) টেকনাফ
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের একমাত্র স্থলবন্দর টেকনাফ। 
টেকনাফ স্থল বন্দরটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত।
এই বন্দরের বিপরীতে মায়ানমারএর মংডু স্থল বন্দর অবস্থিত।

 সূত্রঃ বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ- এর ওয়েবসাইট।
৫,০৮৮.
ভূপৃষ্ঠের সমচাপ সম্পন্ন স্থানসমূহ যোগকারী রেখাকে বলা হয়-
  1. আইসোথার্ম
  2. আইসোবার
  3. আইসোহাইট
  4. আইসােমার
ব্যাখ্যা
- আইসোথার্ম - সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোবার - সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোহাইট - সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।

(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৫,০৮৯.
উত্তমাশা অন্তরীপ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর
ব্যাখ্যা
উত্তমাশা অন্তরীপ:
- উত্তমাশা অন্তরীপ বা Cape of Good Hope।
- এটি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত। 
- এটি দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত কেপ পেনিনসুয়ালার একটি অন্তরীপ।

উল্লেখ্য,
- ভূপৃষ্ঠের কোন অংশ ক্রমশ সরু হয়ে সাগরে প্রবেশ করলে সেই সংকীর্ণ অংশকে অন্তরীপ বলা হয়।
- উত্তমাশা অন্তরীপ নামকরণ করেন পর্তুগিজ অভিযাত্রী বার্থোলোমিউ ডিয়াজ।
- তিনি ১৪৮৮ সালে প্রথম কেপ এলাকায় পৌঁছেন এবং অন্তরীপটির নাম দেন 'কেপ অব স্টর্মস'। 
- পরবর্তী সময় পর্তুগালের দ্বিতীয় জন নামটি পরিবর্তন করে কেপ অব গুড হোপ বা উত্তমাশা অন্তরীপ নামকরণ করেন।

উৎস: Britannica.
৫,০৯০.
'কাস্পিয়ান সাগর' নিম্নের কোন দেশে অবস্থিত?
  1. রাশিয়া
  2. তুর্কমেনিস্তান
  3. ইরান
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

কাস্পিয়ান সাগর:
- কাস্পিয়ান সাগর (Caspian Sea) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্তঃমহাদেশীয় হ্রদ।
- এটি সাগরের মতো দেখতে হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে একটি হ্রদ।
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগরের আয়তন ৩,৮৬,৪০০ বর্গ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- কাস্পিয়ান সাগর পাঁচটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত: রাশিয়া, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, ইরান এবং তুর্কমেনিস্তান।
- এটি এশিয়া-ইউরোপের মাঝে, ককেসাস পর্বতমালার পূর্বে এবং স্তেপ ও মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত।
- এর উত্তরে কাজাখস্তান, পশ্চিমে আজারবাইজান, দক্ষিণে ইরান এবং দক্ষিণ-পূর্বে তুর্কমেনিস্তান ঘিরে আছে।

উৎস: Britannica.

৫,০৯১.
টারশিয়ারি যুগের অর্ন্তভুক্ত উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ স্থানীয়ভাবে কী নামে পরিচিত?
  1. ক) টিলা
  2. খ) জঙ্গল
  3. গ) পাহাড়
  4. ঘ) উচু ভূমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি বর্ণনা
• ভূমির অবস্থা এবং গঠনের সময়ানুক্রমিক দিক হতে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা -
১. টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ,
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। পাহাড়গুলাে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগােত্রীয়। এ পাহাড়গুলাে বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
• রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
• দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
• বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।।

(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ 
• ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার ৫ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
• উত্তরের পাহাড়গুলাে স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত
• এগুলাের উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
• এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।  

তথ্যসূত্র: বাণিজ্যিক ভূগোল, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৯২.
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা -
  1. ১২ নটিক্যাল
  2. ২২.২২ নটিক্যাল
  3. ২২০ নটিক্যাল
  4. ৩৬০ নটিক্যাল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা:
- বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,০৯৩.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অর্ন্তভূক্ত অঞ্চল কোনটি?
  1. কুমিল্লা
  2. ভোলা
  3. সিলেট
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতি (Physiography):
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
- এই পললের পুরুত্ব প্রায় ১৮-২২ কিলোমিটার।
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড় এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র দেশ সাম্প্রতিককালের পলি দ্বারা গঠিত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- এই প্লাবন সমভূমির বয়স ১২,০০০ বছরের কম।
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা প্রভৃতি প্রধান নদীসহ অসংখ্য উপনদী এবং শাখানদী জালের ন্যায় সমগ্র দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। ন
- বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
- এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি। স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওড় বলে।
- রাজশাহী অঞ্চলের চলনবিল, ঢাকার আড়িয়াল বিল, গোপালগঞ্জের বিল, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ এবং শেরপুর জেলার হাওড় ও বিল উল্লেখযোগ্য।
- মেঘনা নদীর মোহনায় হাতিয়া, সন্দ্বীপ, শাহবাজপুর এবং ভোলা জেলায় বেশ কিছু দ্বীপ অবস্থিত। এছাড়া দক্ষিণ উপকূলে আরও কিছু ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৯৪.
'রিছাং ঝর্ণা' বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) রাঙামাটি
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- আলুটিলার ঝর্ণা 'রিছাং ঝর্ণা' নামে পরিচিত।
- 'রিছাং ঝর্ণা' বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত। 
- জেলা সদর থেকে আলুটিলা পেরিয়ে সামান্য পশ্চিমে মূল রাস্তা থেকে উত্তরে ঝর্ণা স্থানের দূরত্ব সাকুল্যে প্রায় ১১কিঃ মিঃ।
- মারমা ভাষায় এর নাম রিছাং ঝর্ণা, ‘রি’ শব্দের অর্থ পানি আর ‘ছাং’ শব্দের অর্থ গড়িয়ে পড়া। 

উৎসঃ খাগড়াছড়ি জেলা ওয়েবসাইট।
৫,০৯৫.
ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমারেখা কোনটি?
  1. সনোরা লাইন
  2. ম্যাকমোহন লাইন 
  3. সিগফ্রিড লাইন
  4. হিন্ডারবার্গ লাইন
ব্যাখ্যা

ম্যাকমোহন লাইন:
- ম্যাকমোহন লাইন হলো পূর্ব হিমালয় অঞ্চলে ভারত ও চীনের (বিশেষত তিব্বত) মধ্যকার একটি ঐতিহাসিক ও কার্যত সীমান্তরেখা।
- এটি ১৯১৪ সালের সিমলা চুক্তির ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারত ও তিব্বতের মধ্যে নির্ধারিত হয়।
- এই রেখা মূলত ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও তিব্বতের সীমানা নির্ধারণ করে।
- ব্রিটিশ ভারতের পররাষ্ট্র সচিব স্যার হেনরি ম্যাকমোহনের নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয়।
- ভুটান অঞ্চল থেকে শুরু করে হিমালয় পর্বতমালা বরাবর ব্রহ্মপুত্র নদের বৃহৎ বাঁক পর্যন্ত এই সীমারেখাটি বিস্তার লাভ করেছে। 
- এই সীমারেখাকে ভারত বৈধ আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- কিন্তু চীন সিমলা চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে আজও এই সীমারেখাকে বিতর্কিত বলে মনে করে ও প্রত্যাখ্যান করে।

অন্যদিকে, 
- মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রকে বিভক্তকারী রেখা হচ্ছে- সনোরা লাইন। 
- জার্মানি ও ফ্রান্সকে বিভক্তকারী সীমারেখা- সিগফ্রিড লাইন। 
- আর জার্মানি ও পোল্যান্ডকে বিভক্তকারী লাইন হচ্ছে- হিন্ডারবার্গ লাইন। 

উৎস: Britannica. 

৫,০৯৬.
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে কোথায় বেশি বৃষ্টিপাত থাকে?
  1. খোলা মাঠে
  2. পাহাড়ের কাছে
  3. সমুদ্র উপকূলে
  4. বনভূমিতে
ব্যাখ্যা
• ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০°-৪৫° অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরোক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০° - ২৮° সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।

সূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৯৭.
মানচিত্রে কয়টি পদ্ধতিতে স্কেল নির্দেশ করা হয়?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৩ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা

মানচিত্রে তিনটি পদ্ধতিতে স্কেল নির্দেশ করা হয়।
১) বর্ণনার সাহায্যে
২) রেখাচিত্রের সাহায্যে
৩) প্রতিভূ অনুপাতের সাহায্যে
(রেফারেন্সঃ নবম দশম শ্রেণির ভূগোল)

৫,০৯৮.
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কোন ধরনের কয়লা পাওয়া যায়?
  1. বিটুমিনাস
  2. অ্যানথ্রাসাইট
  3. পিট
  4. গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা

কয়লা:
- শক্তির অন্যতম উৎস কয়লা।
- বর্তমানে দেশে প্রধান পাঁচটি কয়লা খনি রয়েছে।
- এসব কয়লা খনি থেকে প্রধানত তিন ধরনের কয়লা পাওয়া যায়। যথা-বিটুমিনাস, লিগনাইট ও পীট।
- বিটুমিনাস ও লিগনাইট শ্রেণির কয়লায় ছাই ও গন্ধকের পরিমাণ বেশি এবং কার্বনের পরিমাণ খুবই কম।
- পীট কয়লার উদ্ভব হয় উদ্ভিদ হতে কয়লায় পরিণত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে। 

• বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বিটুমিনাস ধরনের কয়লা পাওয়া যায়।
- উত্তরবঙ্গের বড়পুকুরিয়া, খালাসপীর, ফুলবাড়ী, দিঘিপাড়া এবং জামালগঞ্জ-এই পাঁচটি প্রধান কয়লা ক্ষেত্রে এ জাতীয় উচ্চমানের কয়লার মজুদ রয়েছে।
- বাংলাদশে বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলন হয়।
- বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি হতে প্রাপ্ত কয়লার মান উচ্চ উদ্ধায়ী বিটুমিনাস শ্রেণী হতে সাব বিটুমিনাস শ্রেণীর অন্তর্গত। যার মূল উপাদান হচ্ছে ফিক্সড কার্বন-৪৮.৪০%, এ্যাশ- ১২.৪০%, ভোলাটাইল মেটার-২৯.২০%, মোট ময়েশ্চার-১০%, ক্ষতিকারক উপাদান সালফারের পরিমাণ-০.৫৩% এবং তাপ দহন ক্ষমতা-১১,০৪০ বিটিউ পার পাউন্ড।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে মোট পাঁচটি কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- এগুলো হলো- জামালগঞ্জ (জয়পুরহাট), বড়পুকুরিয়া (দিনাজপুর), খালাশপীর (রংপুর), দিঘীপাড়া (দিনাজপুর) ও ফুলবাড়ি (দিনাজপুর)। এর মধ্যে চারটি কয়লা ক্ষেত্র (জামারগঞ্জ, বড়পুকুরিয়া, খালাশপীর ও দিঘীপাড়া) আবিষ্কার করেছে জিএসবি। 
- এছাড়াও বগুড়া জেলার নন্দীগ্রামের কুচমা, নওগাঁ জেলার পত্নীতলা, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ এবং রংপুর জেলার পীরগঞ্জে কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
ii) বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল) ওয়েবসাইট।
iii) প্রথম আলো।

৫,০৯৯.
পৃথিবীর প্রশস্ততম নদী কোনটি?
  1. নীলনদ
  2. আমাজন
  3. ইয়াংসিকিয়াং
  4. ভলগা
ব্যাখ্যা

আমাজন:
- পৃথিবীর বৃহত্তম এবং প্রশস্ততম নদী আমাজন।
- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- নদীটি ৯টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- এ নদীর অববাহিকায় রয়েছে সেলভা বনভূমি।
- এই নদীর ২০টি উপনদী আছে।
- এই নদী দিয়ে সবচেয়ে বেশি পানি প্রবাহিত হয় (৪.২ মিলিয়ন ঘনফুট/সেকেন্ড)।
- এই নদীর উৎপত্তি গায়ানা মালভূমি এবং পতনস্থল আটলান্টিক মহাসাগর।

অন্যদিকে,
- নীলনদ আফ্রিকা তথা বিশ্বের দীর্ঘতম নদী।
- ইয়াংসিকিয়াং নদ এশিয়া এবং চীনের দীর্ঘতম নদ।
- ভলগা ইউরোপের দীর্ঘতম নদী

উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।

৫,১০০.
সেন্ট এলবা দ্বীপ কোন সাগরে অবস্থিত?
  1. ক) উত্তর মহাসাগর
  2. খ) ভূমধ্যসাগর
  3. গ) দক্ষিণ আটলাটিক মহাসাগর
  4. ঘ) ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
- সেন্ট এলবা দ্বীপ ভূমধ্যসাগরের টিরহেনিয়ান সাগরে অবস্থিত।
- এই দ্বীপে ১৮১৪ সালে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ান বোনাপার্টকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিলো।
- দ্বীপটি বর্তমানে ইতালির অন্তর্ভুক্ত। এটির আয়তন ৮৬ বর্গ মাইল।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)