বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৪৮ / ৭২ · ৪,৭০১৪,৮০০ / ৭,১৯১

৪,৭০১.
পৃথিবীর মণ্ডল তিনটির নাম হচ্ছে-
  1. ক) অশ্মমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল ও বারিমণ্ডল
  2. খ) অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও বারিমণ্ডল
  3. গ) অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল
  4. ঘ) অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডল
ব্যাখ্যা
সৃষ্টির সময় পৃথিবী ছিল একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমে ক্রমে শীতল হয়ে ঘনীভূত হয়।
এই সময় পৃথিবীর বাইরের ভারী উপাদানগুলো এর কেন্দ্রের দিকে জমা হয়। আর হালকা উপাদান গুলো ভরের তারতম্য অনুসারে নিচের থেকে উপরে স্তরে স্তরে জমা হয়। পৃথিবীর এই বিভিন্ন স্তরকে মণ্ডল বলে।
ভূ-গর্ভের রয়েছে ৩টি মণ্ডল। যথা- অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডল।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭০২.
নিম্নের কোন দেশটির সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে?
  1. চীন
  2. পাকিস্তান
  3. থাইল্যান্ড
  4. মায়ানমার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৫) অতিক্রম করেছে।
- পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- তিনদিকের মূলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৭০৩.
ভঙ্গিল পর্বত এর উদাহরণ কোনটি?
  1. দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ
  2. উত্তর আমেরিকার রকি
  3. ইউরোপের আল্পস
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
ভঙ্গিল পর্বত (Folded Mountain):
- পাললিক শিলাস্তর আনুভূমিক আলোড়ন বা মহাদেশীয় পর্বতের সংকোচনের ফলে কুঞ্চিত হয়ে ঢেউয়ের আকারে যে পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- চার ধরনের পর্বতের মধ্যে ভঙ্গিল পর্বত সর্বাধিক বিস্তৃত।
- এ ধরনের পর্বত এর শিলা কাঠামো ভাঁজ ও চ্যুতিযুক্ত।
- ভঙ্গিল পর্বত সাধারণত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত। 
- যেমন-এশিয়ার হিমালয়, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ, উত্তর আমেরিকার রকি এবং ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭০৪.
কোনটি আহ্নিক গতির ফলাফল নয়?
  1. ঋতু পরিবর্তন
  2. জোয়ার-ভাটা
  3. দিবা-রাত্রির সংঘটন
  4. সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি
ব্যাখ্যা

⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে 'ঋতু পরিবর্তন' আহ্নিক গতির ফলাফল নয়।

⇒ পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী নিজ অক্ষের চারপাশে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তিত হয়, যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে প্রতি ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা প্রায় ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তিত হয়।
- এই সময়কে সৌরদিন এবং পৃথিবীর ঘূর্ণনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- আহ্নিক গতির মূল কারণ হলো: পৃথিবীর আবর্তন ও পৃথিবীর আকৃতি।
- পৃথিবীর আকৃতি পুরোপুরি গোলাকার নয়। এটি নিরক্ষরেখার কাছে কিছুটা স্ফীত এবং মেরু অঞ্চলে কিছুটা চাপা।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সবচেয়ে বড় হওয়ায় এখানে আহ্নিক গতির গতি সর্বোচ্চ। এই গতি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার।
- আহ্নিক গতি পৃথিবীর দিন ও রাতের পরিবর্তন এবং সময়ের পার্থক্য সৃষ্টি করে, যা আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

⇒ আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ:
- দিবা-রাত্রির সংঘটন,
- জোয়ার-ভাটা,
- বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি।

⇒ ঋতু পরিবর্তন হলো বার্ষিক গতির ফলাফল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭০৫.
'পুন্ড্রনগর' কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) ব্রহ্মপুত্র
  2. খ) করতোয়া
  3. গ) আত্রাই
  4. ঘ) ইছামতি
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল। পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল। 

উৎস: বিবিএস, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭০৬.
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র কীসের অধীন?
  1. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
  2. কৃষি মন্ত্রণালয়
  3. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
  4. পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এটি ঢাকায় অবস্থিত যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এটির প্রধান কাজ হলো বন্যা বিষয়ে আগাম সতর্কতা প্রদান করা।

(তথ্যসূত্র: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ওয়েবসাইট)
৪,৭০৭.
খাইবার গিরিপথ কোথায় অবস্থিত?
  1. পাকিস্তান-ইরান
  2. ইরান-আফগানিস্তান
  3. আফগানিস্তান-চীন
  4. পাকিস্তান-আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
খাইবার গিরিপথ:
- স্পিন ঘর পর্বতের উত্তরাংশের অবস্থিত খাইবার গিরিপথ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এর মধ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিবেচিত
- প্রাচীন সিল্ক রোডের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই গিরিপথটি মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ।
- কৌশলগত সামরিক স্থান হিসেবেও এ পথ পরিচিত।
- খাইবার পাস সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার ৫১০ ফুট উঁচু। দৈর্ঘ্য ৫৩ কিলোমিটার।
- গিরিপথের উত্তরে মুল্লাগোরি উপজাতিদের বসবাস।
- দক্ষিণে বসতি স্থাপন করেছে আফ্রিদি উপজাতিরা।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক রিসোর্স লাইব্রেরী এবং কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
৪,৭০৮.
নিচের কোনটি বন্যার মানবসৃষ্ট কারণ?
  1. পাহাড়ি বরফগলা পানি
  2. নদীর গতিপথে বাধা প্রদান
  3. নদীর আকাবাঁকা গতিপথ
  4. নদীর পানি প্রবাহ ক্ষমতা কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা

বন্যা:
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কুল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- বন্যার কারণ ২টি।
• প্রাকৃতিক কারণ।
• মানবসৃষ্ট কারণ।

⇒ প্রাকৃতিক কারণ:
- বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি,
- ভৌগোলিক অবস্থান, ভূমিরূপের গঠন ও প্রকৃতি,
- পাহাড়ি বরফগলা পানি,
- নদীর আকাবাঁকা গতিপথ,
- নিম্নচাপের ফলে ভারী বর্ষণ,
- বর্ষা মৌসুমে নদীর অতিরিক্ত পানি,
- নদীর পানি প্রবাহ ক্ষমতা কমে যাওয়া,
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন প্রভৃতি।

⇒ মানবসৃষ্ট কারণ:
- নদীর গতিপথে বাধা প্রদান,
- খাল ও নালা ভরাট করে ফেলা,
- অপরিকল্পিতভাবে রাস্তাঘাট নির্মাণ,
- নদীর তলদেশ ভরাট করে ফেলা,
- বনজ সম্পদ ধ্বংস করা,
- প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে অপরিকল্পিতভাবে নদীশাসন করা,
- উজানে পানি প্রত্যাহার বা বাঁধ নির্মাণ,
- পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - ভুগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭০৯.
হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্বের প্রধান কারণ কী?
  1. এটি বিশ্বের সামরিক ঘাঁটির প্রধান কেন্দ্র
  2. এটি পর্যটনের জন্য বিখ্যাত
  3. এটি মৎস্য শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
  4. এটি বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০% পরিবহন করে
ব্যাখ্যা
হরমুজ প্রণালী:
- এই চ্যানেলটি ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি।
- আরব উপদ্বীপ থেকে ইরানকে পৃথক করেছে।
- হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ ৩৩ কিলোমিটার। সবচেয়ে প্রশস্ত অংশ ৯৫ কিলোমিটার।
- এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য দুটো লেন রয়েছে এবং প্রতিটি লেন দুই মাইল প্রশস্ত।

⇒ বৈশ্বিক তেল–বাণিজ্যের অপরিহরণীয় পথ হচ্ছে হরমুজ প্রণালি। 
- ইরানের উপকূলঘেঁষা এই চ্যানেলের মাধ্যমে জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ পারস্য উপসাগর ও আরব সাগর সংযুক্ত হয়েছে। শুধু ইরানই নয়, পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে এ পথের ওপর।
- যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) এক প্রতিবেদন অনুসারে, এ পথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়, বৈশ্বিক বাণিজ্যের যা প্রায় ২১ শতাংশ।

⇒ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৭০ শতাংশেরই ভোক্তা দক্ষিণ এশিয়া।
- এর মধ্যে রয়েছে চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ফিলিপাইন।
- এ ছাড়া বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮০-১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক সংঘাতের সময় উভয় দেশই পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
- এই পর্বটি ‘ট্যাংকার যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। 

উৎস: i) Britannica.
ii) Al Jazeera.
৪,৭১০.
পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ কোনটি?
  1. গ্রীনল্যান্ড
  2. আইসল্যান্ড
  3. শ্রীলঙ্কা
  4. বাংলাদেশ 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি:
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ।

- সমগ্র বাংলাদেশ সামান্য পাহাড়ি অঞ্চল, সীমিত উঁচুভূমি এবং নদী বিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি নিয়ে গঠিত।
- এদেশের ভূপ্রকৃতি নিচু ও সমতল।
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি সমভাবাপন্ন।
- জলবায়ুর উপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব খুব বেশি।
- তাই বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঋতুর আগমন ঘটে।
- বিভিন্ন ঋতুতে এ দেশের জলবায়ুর তারতম্যের কারণে আমরা কখনো গরম আবার কখনো শীত অনুভব করি।
- জলবায়ুর কারণে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ফলে অতিবৃষ্টি, অকাল বন্যা, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪,৭১১.
পার্বত্য চট্টগ্রামে কয়টি জেলা আছে?
  1. ক) ৩ টি
  2. খ) ৫ টি
  3. গ) ৭ টি
  4. ঘ) ৯ টি
ব্যাখ্যা
- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিনটি জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠিত।
- আশির দশকের প্রথম দিকে দেশব্যাপী প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি স্বতন্ত্র জেলায় বিভক্ত করা হয়। 
- জেলাগুলো হচ্ছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৪,৭১২.
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপর নিচের কোন প্রভাবটি পড়ে?
  1. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট
  2. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস
  3. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

⇒ নিম্নে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও যেসব প্রভাব পড়বে সেগুলো উল্লেখ করা হলো:
১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
৮. যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৯. এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
১০. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি। 

এছাড়াও
- অতিবৃষ্টি, বন্যা, শহরে জলাবদ্ধতা, বনভূমি উজাড় হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের এ সকল সমস্যা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
- তাই এদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা তথা উদ্ভিদ ও প্রাণিকূলের জীবনরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭১৩.
সেন্ট মার্টিনকে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১৯ সালে
  4. ২০২২ সালে
ব্যাখ্যা

সেন্ট মার্টিন মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া:
- অনিয়ন্ত্রিত জাহাজ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকার চলাচল, মাত্রাতিরিক্ত মত্স্য সম্পদ আহরণ, সমুদ্রে বর্জ্য ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ নিক্ষেপ, প্রবাল উপনিবেশ ধ্বংস, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ৭০ মিটার গভীর সমুদ্রের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গ কিমি এলাকাকে ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করা হয়েছে।

• বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ধারা ১৩ (১) ও ১৩ (২)-এর ক্ষমতাবলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলাধীন বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন দ্বীপকে ‘সেন্টমার্টিন মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া’ ঘোষণা করে।
- এ মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়াটি এখন পর্যন্ত দেশের সর্ববৃহৎ এবং দ্বিতীয় মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া।
- প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিকভাবে হুমকির মুখে থাকা প্রবাল, গোলাপী ডলফিন, হাঙ্গর, রে মাছ, সামুদ্রিক কাছিম, সামুদ্রিক পাখি, সামুদ্রিক ঘাস, সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র্য এবং এদের আবাসস্থল সংরক্ষণ; সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই আহরণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার মানোন্নয়ন; ব্লু ইকোনমি সমৃদ্ধকরণ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-১৪) অর্জনের লক্ষ্যে এই সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- মিয়ানমার সীমান্তের কাছে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন।
- দ্বীপটি কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনের ৫৯০ হেক্টর এলাকাকে ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করেছিল সরকার।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বণিক বার্তা।

৪,৭১৪.
ইউরোপ মহাদেশের উচ্চতম স্থান কোনটি?
  1. পুঞ্জাক জায়া
  2. ভিনসন ম্যাফিস
  3. এলব্রুস পর্বত
  4. কিলিমানজারো
ব্যাখ্যা
⇒ ইউরোপ মহাদেশের উচ্চতম স্থান - মাউন্ট এলব্রুস (Mount Elbrus)।

মাউন্ট এলব্রুস (Mount Elbrus):

- মাউন্ট এলব্রুস ককেশাস পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, যা দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ায় অবস্থিত।
- এটি একটি নিঃশেষিত আগ্নেয়গিরি।
- আগ্নেয়গিরিটি প্রায় ২৫ লাখ বছর আগে গঠিত হয়েছিল।
- এর পূর্ব ঢালে এখনো সালফারযুক্ত গ্যাস নির্গত হয়।
- মাউন্ট এলব্রুসের ৫৩ বর্গমাইল (১৩৮ বর্গ কিমি) এলাকা জুড়ে ২২টি হিমবাহ রয়েছে।
- এই হিমবাহগুলো থেকে কুবান নদী এবং তেরেক নদীর উপনদীগুলো পানি সরবরাহ পায়।
- এটি ককেশাস অঞ্চলের পর্বতারোহণ এবং পর্যটনের একটি প্রধান কেন্দ্র।

এছাড়াও, বিভিন্ন মহাদেশের উচ্চতম স্থান:
- এশিয়া মহাদেশ - মাউন্ট এভারেস্ট।
- আফ্রিকা মহাদেশ - কিলিমানজারো।
- উত্তর আমেরিকা - দেনালি।
- দক্ষিণ আমেরিকা - আকানকাগুয়া পর্বত।
- ওশেনিয়া মহাদেশ - পুঞ্জাক জায়া।
- অ্যান্টার্কটিকা - ভিনসন ম্যাফিস।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৪,৭১৫.
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত - 
  1. সেন্টমার্টিন
  2. দক্ষিণ তালপট্টি
  3. নিঝুম দ্বীপ
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত।
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে।
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অঞ্চল:
→ বাংলাদেশের সর্বপূর্বের স্থান - আখাইনঠং।
→ বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের স্থান - বাংলাবান্ধা।
→ সর্ব দক্ষিণের স্থান - ছেঁড়া দ্বীপ/সেন্টমার্টিন।
→ সর্ব পশ্চিমের স্থান - মনাকষা।

সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৭১৬.
দুর্যোগ প্রশমন বলতে কী বোঝায়?
  1. দুর্যোগের পর ত্রাণ বিতরণ
  2. দুর্যোগের পর পুনর্বাসন কার্যক্রম
  3. দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়িত্ব হ্রাস এবং পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ
  4. দুর্যোগের সময় উদ্ধার অভিযান
ব্যাখ্যা

♦ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ীত্ব হ্রাস এবং দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
- এ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি।
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

⇒ উল্লেখ্য:
- পুনরুদ্ধার, সাড়াদান, পূর্বপ্রস্তুতি প্রভৃতি অল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।
- প্রশমন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদান।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদানসমূহ:
• দুর্যোগ প্রতিরোধ,
• দুর্যোগ প্রশমন এবং
• দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
• সাড়াদান,
• পুনরুদ্ধার ও
• উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

৪,৭১৭.
পানামা খালের খনন কোন সালে শুরু হয়? 
  1.  ১৮৫৯
  2.  ১৮৬৯
  3.  ১৯০৪
  4.  ১৯১৪
ব্যাখ্যা

পানামা খাল :
- পানামা খাল পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম খাল।
- ১৯০৪ সালে পানামা খাল খনন করা শুরু হয়।
- ১৯১৪ সালে এটি চালু করা হয়।
- পানামা খাল উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাকে পৃথক করেছে;
- এবং আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর কে যুক্ত করেছে। 

উল্লেখ্য,
- পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ ১৯৯৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পানামার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
- খালটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা খনন করা হয়েছিল।
- এই হস্তান্তর টরিয়োস-কার্টার চুক্তি এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
- এই চুক্তি নিশ্চিত করেছিল যে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালের মধ্যে খালের সম্পূর্ণ মালিকানা ও পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ পানামার হাতে চলে যাবে।
- চুক্তিগুলি স্বাক্ষরিত হইয়েছিল মার্কিন রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টার এবং পানামার জেনারেল ওমর টোরিজোস এর মধ্যে।

উৎস : 
প্রথম আলো;
Britannica.

৪,৭১৮.
'মধুপুর ও ভাওয়াল' গড়ের অবস্থান কোথায়?
  1. ক) টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর
  2. খ) টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা
  3. গ) কুমিল্লা, সিলেট ও চট্রগ্রাম
  4. ঘ) রাজশাহী, নওগাঁ এবং রংপুর
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
• আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলা হয়।
• এ অঞ্চলের মাটির রং লালচে ও ধূসর হওয়ায় অন্যান্য অঞ্চলের মাটি হতে সহজেই পৃথক করা যায়। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় এর অন্তর্ভুক্ত।
• প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান বা উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিম্নে প্লাইস্টোসিনকালের এসব সোপান বর্ণনা করা হলো:- 

বরেন্দ্রভূমি 
রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের রংপুর, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। এটি বঙ্গ অববাহিকায় স্নাইস্টোসিনকালের সর্ববৃহৎ উচ্চভূমি। প্লাবন সমভূমি থেকে বরেন্দ্রভূমির গড় উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ অঞ্চলের মৃত্তিকা অসমতল। বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ উচ্চভূমি কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে। ধান এখানকার প্রধান কৃষিজ ফসল। এছাড়া পাট, ভু্ট্টা প্রভৃতি উৎপন্ন হয়।

মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
উত্তরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ উচ্চভূমি বিস্তৃত। এ অঞ্চলটি টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে গঠিত। এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। এটি প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি। এখানকার মাটি লালচে এবং কংকরময় বলে কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। তবে প্রচুর পরিমাণে আনারস উৎপন্ন হয়। বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ এ উচ্চভূমি গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র। এজন্য এটি গজারী বৃক্ষের বনভূমি হিসেবেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭১৯.
সুন্দরবনের চারপাশে কত কিলোমিটার এলাকাকে প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ৮ কিলোমিটার
  2. ১০ কিলোমিটার
  3. ১২ কিলোমিটার
  4. ১৪ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উল্লেখ্য,
- সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন। 
- সারা দেশের মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর আনুমানিক মোট প্রজাতি ১১ হাজার ৮০০টির মধ্যে সুন্দরবনেই আছে ২ হাজার ২০০।
- বৈশ্বিকভাবে বিপদাপন্ন ৩১টির বেশি প্রজাতি আছে এখানে।
- সুন্দরবনে মোট উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা ৩৩৪। 
- বিশ্বের মোট ৪৮ প্রজাতির শ্বাসমূলীয় বৃক্ষের মধ্যে সুন্দরবনেই রয়েছে ১৯টি। 
- সুন্দরবনের প্রায় ৬২ শতাংশ বাংলাদেশে।
- পৃথিবীর বেশির ভাগ ম্যানগ্রোভ বনে দুই থেকে তিন প্রজাতির শ্বাসমূল রয়েছে। আর সুন্দরবনে ছয় ধরনের শ্বাসমূল দেখা যায়, যা বনটিকে স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে।
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ৫ এর ক্ষমতাবলে সুন্দরবনের ৫২ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য ও চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) ঘোষণা করা হয়েছে।

উৎস: i) পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৪,৭২০.
বাংলাদেশে বন্যার প্রধান কারণ -
  1. ক) বদ্বীপ এলাকায় বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা অবস্থিত
  2. খ) দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা সমুদ্রসমতল থেকে ৫ মি. এর কম উঁচু
  3. গ) বর্ষাকালে, জোয়ারের এবং জলোচ্ছ্বাসের সময় খুব সহজে প্লাবিত হয়
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি নিয়মিত চিত্র।
- পৃথিবীর তিনটি বৃহত্তম নদী- গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনার বদ্বীপ এলাকায় বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা অবস্থিত।
- বন্যার সময়, এ নদীগুলো থেকে সম্মিলিতভাবে ১৮০,০০০ মি./সে. পানি এবং প্রায় দুই বিলিয়ন টন পলল নিঃসরণ হয়।
- এদেশের অধিকাংশ ভূপ্রকৃতি সমতল ও নিম্নভূমি এবং দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা সমুদ্রসমতল থেকে ৫ মি. এর কম উঁচু।
- সেকারণে বর্ষাকালে, জোয়ারের এবং জলোচ্ছ্বাসের সময় খুব সহজে প্লাবিত হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, বিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭২১.
বিশ্ব পানি দিবস কবে?
  1. ক) ২২ এপ্রিল
  2. খ) ২২ মে
  3. গ) ১৬ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ২২ মার্চ
ব্যাখ্যা
২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস। ২২ এপ্রিল বিশ্ব ধরিত্রী দিবস। ২২ মে বিশ্ব জীববৈচিত্র দিবস। ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজনস্তর সংরক্ষণ দিবস।
(সূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৪,৭২২.
জোয়ার-ভাটার তেজকটাল কখন হয়?
  1. পূর্ণিমাতে
  2. অমাবস্যায়
  3. অষ্টমীতে
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটার তেজকটাল:
- পূর্ণিমা ও অমাবস্যার তিথিতে পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এ সময় চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণের জন্য জোয়ারের পানি খুব বেশি ফুলে ওঠে। ফলে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় একে তেজকটাল বলে।

অন্যদিকে,
- অষ্টমীর তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তাই চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাঁটা হয়। চন্দ্র পৃথিবীর নিকট থাকায় তার কার্যকরী শক্তি সূর্য অপেক্ষা বেশি। কিন্তু চন্দ্রের আকর্ষণে যে জোয়ার হয়, সূর্যের আকর্ষণের তা বেশি স্ফীত হতে পারে না। ফলে মরা কটাল হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭২৩.
বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ২৮০ কিলোমিটার
  2. ৭২৪ কিলোমিটার
  3. ৭১১ কিলোমিটার
  4. ৮৬৫ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল:

- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। 
- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ অনুসারে, 
• বাংলাদেশের সর্বমোট ৫১৩৮ কিলোমিটার সীমারেখা রয়েছে। 
• বাংলাদেশের সর্বমোট স্থলসীমা ৪৪২৭ কিলোমিটার।
• বাংলাদেশের উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কিলোমিটার। 
• বাংলাদেশ ও ভারতের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৪১৫৬ কিলোমিটার এবং
• বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ২৭১ কিলোমিটার। 
- জাতীয় তথ্য বাতায়ন অনুসারে, বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় সীমার দৈর্ঘ্য- ৭১১ কি.মি.।
- মাধ্যমিক ভূগোল বইয়ের তথ্যানুসারে, 
• বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৪,৭১১ কিলোমিটার।
•  ভারতের সাথে ৩,৭১৫ কিলোমিটার এবং 
•  মিয়ানমারের সাথে ২৮০ কিলোমিটার। 

তথ্যসূত্র: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট, মাধ্যমিক ভূগোল, এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৭২৪.
‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত জেলা কোনটি?
  1. কক্সবাজার
  2. ভোলা
  3. পটুয়াখালী
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা

ভোলা:
- ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত ভোলা জেলা।
- ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ যা বাংলা করলে ‘বাংলাদেশের দ্বীপের রাণী’ হয়।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা।
- ভোলা জেলার পূর্ব নাম দক্ষিণ শাহবাজপুর।
- হিমালয় থেকে নেমে আসা ৩টি প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র বাহিত পলি দিয়ে মোহনায় গড়ে উঠেছে এ দ্বীপ।
- জেলাটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

৪,৭২৫.
আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) হিমালয়
  2. খ) আন্দিজ
  3. গ) রকি
  4. ঘ) ভিসুভিয়াস
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় পর্বত : আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা, দীর্ঘকাল ধরে একই জায়গায় সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় পর্বতের
সৃষ্টি করে।  যেমন - জাপানের ফুজিয়ামা, হাওয়াই দ্বীপের মওনালোয়া, ইতালির ভিসুভিয়াস, আফ্রিকার কিলিমানজারো ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭২৬.
সুরমা ও কুশিয়ারা- এই দুই নদীর মিলিত স্রোতের নাম কী?
  1. কুশিয়ারা
  2. নবগঙ্গা
  3. বরাক
  4. কালনী
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী:
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী।
- ভারতের নাগা-মনিপুর ইলবিভাঙ্গিকার দক্ষিণ ঢালে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুই শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- উত্তরের শাখা সুরমা পশ্চিম দিকে ছাতক, সিলেট ও সুনামগঞ্জের উপর দিয়ে ধীর ও সর্পিল গতিতে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে অগ্রসর হয়েছে।
- দক্ষিণের থানা মনু মুখের কাছে দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে।
- সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত প্রবাহ কালনী নামে দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে।
- মেঘনা ভৈরব বাজারে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম হয়ে চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- উপনদী: ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৭২৭.
ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়কে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) টাইফুন
  2. খ) সাইক্লোন
  3. গ) উইলি উইলিছ
  4. ঘ) হারিকেন
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত। যেমন-
- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
- ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন,
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই,
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলিছ,
- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

• উৎপত্তি:
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড় (Anti-cyclone)।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- আমাদের দেশে প্রায় প্রতি বছর সাধারণত মার্চ ও নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭২৮.
সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে কোন দেশে?
  1. কানাডা
  2. চীন
  3. রাশিয়া
  4. ব্রাজিল
ব্যাখ্যা
বিশ্বে মোট বনভূমির পরিমাণ ৪.০৬ বিলিয়ন হেক্টর যা পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় ৩১ ভাগ।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে রাশিয়ায় ৮১৫ মিলিয়ন হেক্টর যা পৃথিবীর প্রায় ২০.১ শতাংশ।
দ্বিতীয় সর্বাধিক বনভূমি রয়েছে ব্রাজিলে (৪৯৭ মিলিয়ন হেক্টর - ১২.২ শতাংশ)। তৃতীয় কানাডা (৩৪৭ মিলিয়ন হেক্টর - ৮.৫ শতাংশ)।
(উৎসঃ বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ওয়েবসাইট)
৪,৭২৯.
'আড়িয়াল খাঁ' কোন নদীর শাখা নদী?
  1. পদ্মা নদী
  2. কর্ণফুলী নদী
  3. মেঘনা নদী
  4. যমুনা নদী
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী:
- কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি পদ্মা নদীর প্রধান শাখা নদী। 
- পুনর্ভবা, নাগর, পাগলা, কুলিক মহানন্দার উপনদী।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা। গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে পড়েছে।
- এরপর ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগীরথী (হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- গঙ্গা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর দৌলতদিয়ার নিকট যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- গঙ্গার মূল ধারা হওয়াতে দৌলতদিয়া পর্যন্ত এই নদীটি গঙ্গা নদী নামেই পরিচিত।
- তবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর থেকেই স্থানীয়ভাবে অনেকে একে পদ্মা নামে চেনে।
- গঙ্গা ও যমুনার মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এই তিন নদীর মিলিত প্রবাহ মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন হচ্ছে ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪,৭৩০.
উত্তর গোলার্ধে ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস কিভাবে প্রবাহিত হয়?
  1. কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে
  2. বাইরের থেকে কেন্দ্রের দিকে
  3. শুধুমাত্র উপরের দিকে
  4. পশ্চিম থেকে পূর্ব
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। দ্রুত উর্দ্ধগামী বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে প্রবল ঘূর্ণিবায়ু বাইরের থেকে কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। পরে প্রচন্ড শক্তিতে বায়ু আবর্তনের মাধ্যমে উপরের দিকে উঠতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৩১.
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কোন যুগের সৃষ্টি?
  1. টারশিয়ারি যুগ
  2. সাম্প্রতিককাল
  3. প্লাইস্টোসিন কাল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground)  খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। 
- এটি প্লাইস্টোসিন কালে সৃষ্টি হয়েছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত। 
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
-  সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৪,৭৩২.
দার্দানেলিস প্রণালি সংযুক্ত করেছে- 
  1. ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগর
  2. এজিয়ান ও মর্মর সাগর
  3. মর্মর সাগর ও কৃষ্ণসাগর
  4. কৃষ্ণসাগর ও কাম্পিয়ান সাগর
ব্যাখ্যা

 • দার্দানেলিস প্রণালী:
- দার্দানেলিস প্রণালী হলো উত্তর-পশ্চিম তুরস্কে অবস্থিত একটি সংকীর্ণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
- এটি কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
- এটি এশিয়া ও ইউরোপকে পৃথক করে।
- এছাড়া, এশিয়া মাইনরের আনাতোলিয়াকে ইউরোপের গ্যালিপোলি উপদ্বীপ থেকে আলাদা করে।
- এই প্রণালী এজিয়ান সাগরকে মর্মর সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে, যা পরে বসফরাস প্রণালীর মাধ্যমে কৃষ্ণ সাগরের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- ফলে কৃষ্ণ সাগরের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর জন্য এটি বিশ্বের সঙ্গে একমাত্র সমুদ্র সংযোগ হিসেবে কাজ করে।
- সংযোগটি হলো: এজিয়ান সাগর → মর্মর সাগর → বসফরাস প্রণালী → কৃষ্ণ সাগর।
- প্রাচীনকালে দার্দানেলিস প্রণালী হেলেস্পন্ট নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: Britannica.

৪,৭৩৩.
'বোর্নিও দ্বীপে'র অধিকাংশ মালিকানা কোন দেশের?
  1. মালয়েশিয়া
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. ব্রুনাই
  4. পালাউ
ব্যাখ্যা
• বোর্নিও দ্বীপ:
- যার আয়তন ২,৮৮,৮৬৯বর্গ মাইল।
- এর শাসন ও অঞ্চল ব্রুনাই এবং মালয়েশিয়ার সাথে ভাগ করা হয়।
- ইন্দোনেশিয়া এই দ্বীপের ৭৩% মালিকানাধীন। মালয়েশিয়ার ২৬% এবং ব্রুনাই ১% এই দ্বীপের মালিক।
- দ্বীপের ইন্দোনেশিয়ান অংশটিকে প্রায়শই কালিমান্তান হিসাবে উল্লেখ করা হয়। 

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৪,৭৩৪.
'চর কুকড়ি মুকড়ি' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কক্সবাজার
  2. পটুয়াখালী
  3. বরিশাল
  4. ভোলা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের চরসমূহ:
- নদীর মাঝে বা মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে জেগে উঠা ভূখণ্ড চর নামে পরিচিত।
- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি।
- নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন: দুবলার চর, পাটনি চর।

উল্লেখ্য,
- সংশ্লিষ্ট দ্বীপের জন্ম হয় আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে, তৎকালীন ব্রিটিশ রাজ পুত্রের জন  মানবহীন এবং গভীর বনের মধ্যে কুকুর ও মেকুর (বিড়াল) এর সাথে ১৮৮২ খ্রিঃ সাক্ষাতের পর উহার নাম করন করা হয় কুকরী মুকরী।

তথ্যসূত্র:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও কুকরী-মুকরী ইউনিয়ন ওয়েবসাইট।  [লিঙ্ক]
৪,৭৩৫.
পরিচলন বৃষ্টি বেশি হয় কোন অঞ্চলে?
  1. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  2. শীতপ্রধান অঞ্চলে
  3. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
  4. মেরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা

পরিচলন বৃষ্টি:
- দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে জল বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শ এ এসে ওই জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে।
- এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারাবছর লম্বভাবে পড়ে।
- এ দুটি কারণে এখানকার বায়ুমণ্ডলে সারাবছর জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে।
-জলীয়বাষ্প হাল্কা বলেই সহজেই তা উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরুপে ঝরে পড়ে।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর প্রতিদিনই বিকেল অথবা সন্ধ্যার সময় এরূপ বৃষ্টিপাত হয়।
- নাতিশীতোষ্ণমন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।

৪,৭৩৬.
সর্বপ্রথম কত সালে বার্মা অয়েল কোম্পানি সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা
সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র: 
-  বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস।
- ১৯৫৫ সালে বার্মা অয়েল কোম্পানি এদেশে সর্বপ্রথম সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- ১৯৫৭ সাল থেকে গ্যাসের উৎপাদন শুরু হয়।
- দেশে বর্তমানে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৯ টি।
- বাংলাদেশের অন্যান্য খনিজ সম্পদের মধ্যে কয়লা, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, গন্ধক, খনিজ তেল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য, 
- সম্প্রতি সিলেটের হরিপুরে পুরোনো গ্যাসকূপ (সিলেট-৭) সংস্কার করতে গিয়ে নতুন করে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- এ কূপ থেকে প্রতিদিন অন্তত ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী এবং পেট্রোবাংলা, প্রথম আলো।
৪,৭৩৭.
ঢাকা থেকে কোনো একটি স্থান ৪০°২০′ পশ্চিম দ্রাঘিমায় অবস্থিত। ঢাকায় যখন সকাল ৭টা, তখন উক্ত স্থানের স্থানীয় সময় কত?
  1. সকাল ৯টা ৪১ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  2. সকাল ৪টা ১৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড
  3. সকাল ২টা ৪১ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  4. সকাল ৫টা ২০ মিনিট ৪০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

•  স্থানীয় সময়:
- আকাশে সূর্যের অবস্থান থেকে যে সময় নির্ণয় করা হয় তাকে স্থানীয় সময় বলে।
- সূর্য একই সময় একাধিক দ্রাঘিমার ওপর অবস্থান না করায় বিভিন্ন দ্রাঘিমায় স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয়।
- প্রতি ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট;
- এবং প্রতি ১′ (মিনিট) দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ সেকেন্ড।

- এখানে দ্রাঘিমার ব্যবধান ৪০°২০′ পশ্চিম।
- সময়ের পার্থক্য = (৪০ × ৪) মিনিট + (২০ × ৪) সেকেন্ড, 
= ১৬০ মিনিট + ৮০ সেকেন্ড, 
= ১৬১ মিনিট ২০ সেকেন্ড [৬০ সেকেন্ড = ১ মিনিট], 
= ২ ঘণ্টা ৪১ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 

- স্থানটি ঢাকার পশ্চিমে অবস্থিত, তাই সেখানে সময় ঢাকার তুলনায় কম হবে।

- অতএব,
- স্থানীয় সময় = ৭:০০:০০ − ২:৪১:২০ [০ সেকেন্ড থেকে ২০ সেকেন্ড বিয়োগ সম্ভব নয়, তাই ১ মিনিট ধার নিই],
∴ ৭:০০:০০ → ৬:৫৯:৬০; 
- এখন বিয়োগ করি —
- ৬:৫৯:৬০ - ২:৪১:২০ 
- ৬০ − ২০ = ৪০ সেকেন্ড,
- ৫৯ − ৪১ = ১৮ মিনিট, 
- ৬ − ২ = ৪ ঘণ্টা।
- অর্থাৎ ৪ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।

সুতরাং, উত্তর: সকাল ৪টা ১৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।

উৎস: মানচিত্র পঠন ও ব্যবহার, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৩৮.
পার্বত্য চট্রগ্রাম ও সিলেটের পাহাড় সমূহ কোন যুগের সৃষ্ট?
  1. ক) মায়োসিন যুগের
  2. খ) সাম্প্রতিককালের
  3. গ) প্লাইস্টোসিনকালের
  4. ঘ) টারশিয়ারী যুগের
ব্যাখ্যা
উচ্চতা ও ভূমিরূপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:
১. টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি

টারশিয়ারী যুগের পাহাড় সমূহ আবার দুইভাগে বিভক্ত। 
ক. দক্ষিন-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান জেলা এবং চট্রগ্রাম জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত)
খ. উত্তর- পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ (সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ও হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত)

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪,৭৩৯.
মিরিঞ্জা ভ্যালি কোথায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
মিরিঞ্জা ভ্যালি:
- মিরিঞ্জা ভ্যালি বান্দরবান জেলার লাম উপজেলায় অবস্থিত।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ ফিট উপরে মিরিঞ্জা পাহাড়।

উল্লেখ্য,
- বান্দরবান এর লামা বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র। 
- এখানের অপরম্নপ প্রাকৃতিক শোভা, বয়ে চলা পাহাড়ী আঁকা-বাঁকা মাতামুহুরী নদী, দুঃখি ও সম্মুখ পাহাড়ের উঁচু চুড়া, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থমান হিসেবে পরিচিত সাবেক বিলছড়ি মহামুনি বৌদ্ধ বিহার ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ইত্যাদি দেশ-বিদেশের ভ্রমন বিলাসী পর্যটকদের সহজে আকৃষ্ট করে। 

উৎস: i) ৭ অক্টোবর ২০১৯, প্রথম আলো।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৭৪০.
বাংলার ভেনিস বলা হয় কোন শহরকে? 
  1. বরিশাল
  2. চাঁদপুর
  3. ভোলা
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
বাংলার ভেনিস:
- বরিশালকে বাংলার ভেনিস বলা হয়।
- প্রাচীন চন্দ্র দ্বীপের বর্তমান নাম - বরিশাল।
- বরিশাল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি শহর।
- কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহর।

সূত্র - বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রত্রিকা রিপোর্ট। 
৪,৭৪১.
বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ দেশের মোট আয়তনের কত শতাংশ?
  1. ২০.৬%
  2. ১৮.৬%
  3. ২৫.৬%
  4. ১৫.৬%
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বনাঞ্চল:
- বনভূমি থেকে যে সম্পদ উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- কোনো দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৫ লক্ষ ৭৫ হাজার হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের ১৫.৫৮%।
-  বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১০.৭৪%।
- জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
যেমন:
• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি।
• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
• স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বন অধিদপ্তর [লিংক]।
৪,৭৪২.
উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
  1. মাউন্ট এলবার্ট
  2. মাউন্ট লোগান
  3. ডেনালি
  4. মাউন্ট হুইটনি
ব্যাখ্যা

উত্তর আমেরিকা (North America):
- পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ উত্তর আমেরিকা।
- ১৪৯২ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাস উত্তর আমেরিকা আবিষ্কার করেন।
- এ মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান ডেনালি, যা ম্যাককিনলে নামেও পরিচিত।
- পানামা খাল উত্তর আমেরিকাকে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে পৃথক করেছে।
- এ মহাদেশে ছোট-বড় অনেকগুলো দ্বীপ রয়েছে। এর মধ্যে গ্রীনল্যান্ড, নিউফাউন্ডল্যান্ড অন্যতম।
- এ মহাদেশের মধ্য আমেরিকা থেকে মিসিসিপি অববাহিকা পর্যন্ত সুবিস্তৃত সমভূমি অঞ্চলকে প্রচুর পরিমাণে গম উৎপাদনের জন্য ‘বিশ্বের রুটির ঝুড়ি' বলা হয়।
- মিসিসিপি-মিসৌরি এ মহাদেশের দীর্ঘতম নদী।
- আয়তনে সবচেয়ে বড় দেশ কানাডা এবং সবচেয়ে ছোট সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com

৪,৭৪৩.
ভূ-ত্বকে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে -
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) লৌহ
ব্যাখ্যা
ভূ-ত্বক: 
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম ।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।

ভূ-ত্বকে,
অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%,
সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%,
অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%,
লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%,
ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%
সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%,
পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং
ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।
-
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৪৪.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমির আধিক্য রয়েছে?
  1. টাঙ্গাইল-গাজীপুর
  2. বরেন্দ্রভূমি
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. সুন্দরবন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বৃষ্টিবহুল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায় ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমির আধিক্য রয়েছে।
এটি দেশের বৃহত্তম বনাঞ্চল। এ বনের উদ্ভিদের মধ্যে চাপালিশ, তেলসুর প্রভৃতি প্রধান।
তবে এ বনাঞ্চলের কম বৃষ্টিবহুল এলাকায় পত্রপতনশীল বৃক্ষের উপস্থিতি দেখা যায়।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ)
৪,৭৪৫.
পৃথিবীর পৃষ্ঠে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত মোট দ্রাঘিমারেখার সংখ্যা কত?   
  1. ৯০টি 
  2. ১২০টি
  3. ১৮০টি
  4. ৩৬০টি 
ব্যাখ্যা

• ১৮০° দ্রাঘিমারেখা:
- যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে দ্রাঘিমাংশ প্রকাশ করা হয়, তাকে দ্রাঘিমারেখা বলে।
- পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সংযোগকারী কাল্পনিক রেখাসমূহ দ্রাঘিমারেখা।
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের নিকটবর্তী গ্রীনিচ নামক স্থানে একটি মান মন্দির বরাবর যে দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে, তাকে মূল দ্রাঘিমারেখা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- এই মূল মধ্যরেখাটির মান ০° ধরে নেয়া হয় এবং প্রতি ১০ অন্তর অন্তর একটি করে দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়।
- মূল মধ্যরেখা বরাবর সমস্ত পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে দুইভাগে বিভক্ত করা হয়।
- মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্বে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০ টি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়।
- অপরদিকে মূল মধ্য রেখা থেকে পশ্চিমে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০ টি পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়।
- পৃথিবী পৃষ্ঠে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত মোট দ্রাঘিমারেখার সংখ্যা ৩৬০টি।
- পৃথিবী গোলাকৃতির হওয়ার ১৮০° পূর্ব ও ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা মূলত একই মধ্যরেখার পড়ে।
- এই ১৮০° দ্রাঘিমারেখাটি আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা হিসাবে চিহ্নিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,৭৪৬.
পৃথিবীর গলিত অবস্থার পর শীতল হয়ে যে শিলা গঠিত হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. পাললিক শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা
  3. প্রাকৃতিক শিলা
  4. আগ্নেয় শিলা
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks):
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।

যেমন:
- ব্যাসন্ট,রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট, গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ইত্যাদি আগ্নেয় শিলার উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৪,৭৪৭.
‘প্যারা বন’ বলতে কোন ধরনের বনকে বোঝানো হয়? 
  1. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বন 
  2. ক্রান্তীয় পাতাঝরা বন 
  3. উপকূলীয় বন 
  4. মিঠাপানির জলাভূমির বন 
ব্যাখ্যা

• উপকূলীয় বন:
- অবস্থান: নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকা।
- পরিমাণ: এ বনের আয়তন ২ লক্ষ হেক্টর যা দেশের আয়তনের ১.৩৬%।
- উদ্ভিদ প্রজাতি: কেওড়া, ছৈলা, বাইন, গোলপাতা ইত্যাদি।প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনের মতো এ বন জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হয়।

- বাংলাদেশ বন বিভাগ উপকূলীয় চরাঞ্চলে সফল বনায়ন পদ্ধতির উদ্ভাবক।
 - বন বিভাগ ষাটের দশক থেকে উপকূলীয় জেগে ওঠা চরে বনায়ন শুরু করেছে।

-  এ বন কে প্যারা বন ও বলা হয়।
 - উপকূলীয় চর বনায়ন প্রক্রিয়া বনজ সম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি উপকূলবাসীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা এবং সাগর থেকে ভূমি জেগে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে ।
 - এই বনায়নের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর থেকে ১ হাজার ৬০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ভূমি দেশের মূল ভূ-খন্ডের সাথে যুক্ত হয়েছে।
- দেশের মজুদ কার্বন সংরক্ষণের লক্ষ্যে উপকূলবর্তী জেগে ওঠা চরে সৃজিত বনের ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৩৮৮.৮৫ একর সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ।

তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। 

৪,৭৪৮.
নিচের কোনটি আরব মালভূমির স্থানীয় বায়ু?
  1. সায়মুম
  2. সাহারা
  3. সিরক্কো
  4. খামসিন
ব্যাখ্যা
• স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও তাপমাত্রার তারতম্যের ফলে সৃষ্ট বায়ু স্থানীয় বায়ু নামে পরিচিত।
স্থানীয় বায়ুসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সায়মুম : আরব মালভূমির স্থানীয় বায়ু
- খামসিন : মিশর
- চিনুক : রকি পর্বত
- সিরক্কো : উ. আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালি
- মিস্ট্রাল : ফ্রান্সের মালভূমি
- পাম্পেরু : আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে
- লু : ভারত প্রভৃতি।


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী ও ব্রিটানিকা।
৪,৭৪৯.
বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি-
  1. আরব মরুভূমি
  2. সাহারা মরুভূমি
  3. কালাহারি মরুভূমি
  4. থর মরুভূমি
ব্যাখ্যা

সাহারা মরুভূমি:
- প্রায় ৯,২০০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সাহারা মরুভূমিকে বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণ (গরম) মরুভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- আয়তনের দিক থেকে এটি তৃতীয় বৃহত্তম মরুভূমি,
- শুধুমাত্র অ্যান্টার্কটিকা ও আর্কটিকের মেরু মরুভূমির পরেই অবস্থান।
- এবং এটি আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় ৩১% অংশ দখল করে রেখেছে।
- সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকার ১১টি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।
- এই দেশগুলো হলো: আলজেরিয়া, মিশর, লিবিয়া, সুদান, মরক্কো, তিউনিশিয়া, চাঁদ, মালি, নাইজার, মরিতানিয়া, পশ্চিম সাহারা।

অপরদিকে,
- এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম মরুভূমি এবং এশিয়ার বৃহত্তম মরুভূমি।
-  কালাহারি মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত।
- থর মরুভূমি, ভারতীয় উপমহাদেশে ঘূর্ণায়মান বালির পাহাড়ের শুষ্ক অঞ্চল।
 
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৪,৭৫০.
বিশ্বের দীর্ঘতম খাল 'গ্র্যান্ড খাল' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ভারত
  2. মিসর
  3. চীন
  4. ইরান
ব্যাখ্যা

গ্র্যান্ড খাল:
- গ্র্যান্ড খাল চীনের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলকে যুক্ত করা বিশ্বের প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম খাল।
- দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৭৫০ কিমি, নির্মাণ শুরু প্রায় ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, বর্তমান আকার সুই ও সাং রাজবংশে সম্পন্ন।
- উদ্দেশ্য হলো পানি পরিবহন, বাণিজ্য ও কৃষি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- খালটি Beijing থেকে Hangzhou পর্যন্ত শহরগুলোকে যুক্ত করেছে।
- ২০১৪ সালে এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪,৭৫১.
হাকালুকি হাওরের বিস্তৃতি-
  1. ক) বড়লেখা
  2. খ) কুলাউড়া
  3. গ) ফেঞ্চুগঞ্জ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- হাকালুকি হাওর  বাংলাদেশের বৃহত্তর হাওর।
- এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ২৪°৩৫´-২৪°৪৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০১´-৯২°০৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত। হাওরের ৪০% বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত।
- হাকালুকি হাওরের বিশাল জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী এবং পানাই নদী। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৫২.
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে-
  1. ক) পার্বত্য চট্টগ্রাম
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশকে ভূকম্পনের তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে।
- সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জোন হিসেবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু কিছু স্থান যেমন: সিলেট, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার উল্লেখযোগ্য
- ঢাকা ও চট্টগ্রাম মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সর্বাপেক্ষা কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত।
- ১৯৭৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যতবার পাঁচ বা তার বেশি মাত্রায় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে, তার প্রায় সব কটির উৎপত্তিস্থল সিলেট, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার এলাকায়।
- এসব অঞ্চলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মাত্রার ভূকম্পনের পূর্বাভাস উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।
৪,৭৫৩.
গারো পাহাড় কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নেত্রকোনা
  2. টাঙ্গাইল
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
• গারো পাহাড় – :
- ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার অন্তর্গত গারো পাহাড় বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর অঞ্চল।
- এখানে অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড় রয়েছে, যেগুলোর উচ্চতা আনুমানিক ৫০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত।
- পাহাড়ের ঘন সবুজ বন, শান্ত পরিবেশ এবং মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

- গারো পাহাড় ঘন বন-জঙ্গলে আচ্ছাদিত এবং এখানে একটি বিস্তৃত সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে, যার আয়তন প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার।
- এই সংরক্ষিত বনভূমিতে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান শালগাছ জন্মে।
- এছাড়াও অসংরক্ষিত বনও রয়েছে, যেগুলোতেও প্রচুর সেগুন, শাল, বাঁশ, বেতসহ নানা জাতের বৃক্ষ দেখা যায়।

- এখানে নানা প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ, বন্য হাতি, ময়না এবং ধনেশ পাখির দেখা মেলে। এ
- ছাড়াও এই পাহাড়ি অঞ্চলে বেশ কিছু নদ-নদী প্রবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে ভোগাই, নিতাই এবং সোমেশ্বরী নদী উল্লেখযোগ্য।

- গারো পাহাড় শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার নয়, এটি একটি জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এলাকা, যা দেশের পরিবেশ ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

উৎস: হালুয়াঘাট উপজেলা ওয়েব সাইট।
৪,৭৫৪.
কোনো একটি অঞ্চলের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার সামগ্রিক গড় অবস্থাকে কী বলা হয়?
  1. জলবায়ু
  2. বারিপাত
  3. বায়ুর আর্দ্রতা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ু:
- আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য।
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ।
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।
- বাংলাদেশের জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অত্যধিক হওয়ায় বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৫৫.
'চিকেনস নেক' কোন দুটি অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে?
  1. উত্তর ও দক্ষিণ ভারত
  2. মূল ভারত ও উত্তর-পূর্ব ভারত
  3. মূল ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব ভারত
  4. ভারত ও বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

• চিকেন নেক:
- 'চিকেন নেক' হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর।

⇒ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাকি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে যে সরু অংশটা, সেটাই আসলে ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা চিকেন নেক নামে পরিচিত।
- ভারতের মানচিত্রে শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত এই করিডরটা অনেকটা বাঁকানো মুরগির ঘাড়ের মতো দেখায় বলে এই জায়গাটাকে অনেকে ‘চিকেনস নেক’ বলেও বর্ণনা করেন।
- এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশটা মাত্র ২১ কিলোমিটার চওড়া, যার আশেপাশেই রয়েছে অন্তত চারটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত।
- এর সঙ্গে উত্তরে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ ও ভুটান এবং উত্তরে চীন সীমান্ত।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

৪,৭৫৬.
বাংলাদেশে বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ -
  1. ১৫.৫৮ শতাংশ
  2. ১৭.৬১ শতাংশ
  3. ১০.৭৪ শতাংশ
  4. ২২.৪২ শতাংশ
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ

- একটি দেশের মোট আয়তনের তুলনায় ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক।
- কিন্তু বাংলাদেশের মোট আয়তনের মাত্র ১৫.৫৮ শতাংশ এলাকায় বনভূমি রয়েছে।
- এর মধ্যে বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১০.৭৪ শতাংশ। 
- বাংলাদেশের মোট বনভূমি - ২২.৪২ লক্ষ হেক্টর (৫৫.৪ লক্ষ একর)।
- একক বনভূমি হিসাবে দেশের বৃহত্তম বনভূমি - সুন্দরবন (৬০১৭ বর্গ কিমি)।
- দেশের বৃহত্তম বনাঞ্চল - চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্রগ্রাম এর বনাঞ্চল।

- দিন দিন এদেশে বনভূমির পরিমাণ আশংকাজনক হারে কমছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্বক হুমকি।
- এই থেকে পরিত্রাণে জাতীয় পর্যায়ে রক্ষনাবেক্ষন এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও বৃক্ষরোপন বৃদ্ধি ও বৃক্ষনিধন হ্রাসে আমাদের সচেতন হতে হবে।

তথ্যসূত্র - পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৪,৭৫৭.
নিচের কোনটি বলকান রাষ্ট্র নয়? 
  1. আলবেনিয়া
  2. বুলগেরিয়া
  3. সাইপ্রাস 
  4. ক্রোয়েশিয়া
ব্যাখ্যা

- সাইপ্রাস বলকান রাষ্ট্র নয়।
- সাইপ্রাস হল ভূমধ্যসাগরের একটি দ্বীপ, যা ইউরোপের অন্তর্গত এবং এটি তৃতীয় বৃহত্তম ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র।

বলকান রাষ্ট্র: 

- বলকান রাষ্ট্র বলতে বোঝায় সেই দেশগুলোকে যেগুলো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বালকান উপদ্বীপে অবস্থিত।
• বালকান উপদ্বীপভুক্ত দেশসমূহ;
- আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, কসোভো, মন্টিনিগ্রো, উত্তর মেসিডোনিয়া ,রোমানিয়া (আংশিক) সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া (আংশিক)।

উল্লেখ্য,
- গ্রিস ও তুরস্ককে বালকান থেকে বাদ দেওয়া হয়।
- পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড ও ডেনমার্ক এই দেশগুলো পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপে অবস্থিত এবং বলকান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৪,৭৫৮.
কত সালে স্পারসোকে মহাকাশ সংক্রান্ত “ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট” হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
→ সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৯৯৫ সালে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

স্পারসো:
- স্পারসো প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।
- ১৯৮০ সালে এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হলেও, ১৯৮৫ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানান্তরিত হয়।
- ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২৯ নম্বর আইন দ্বারা এটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
- এছাড়া, ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পারসোকে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য "ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট" হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
- মহাকাশ প্রযুক্তির গবেষণা ও প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ, আবহাওয়া এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখাই এর মূল লক্ষ্য।

সূত্র: স্পারসো ওয়েবসাইট।
৪,৭৫৯.
পাট চাষের জন্যে উপযোগী তাপমাত্রা -
  1. ১৫০ - ৩০° সেলসিয়াস
  2. ১৫০ - ৩৩° সেলসিয়াস
  3. ১৬০ - ২৮° সেলসিয়াস
  4. ১৮০ - ৩৩° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

পাট চাষ:
- উর্বর দো-আঁশ মাটি পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
- তবে বেলে ও এঁটেল মাটি ছাড়া সব জমিতেই পাট চাষ করা যায়।
- তবে যে জমিতে বর্ষার শেষের দিকে পলি পড়ে সে জমি পাট চাষের জন্য উত্তম।
- তোষা পাট উঁচু জমিতে এবং দেশী পাট উঁচু ও নিচু দু'ধরনের জমিতেই চাষ করা যায়।
- পাট চাষের জন্যে উপযোগী তাপমাত্রা ১৮০ - ৩৩° সেলসিয়াস

⇒ পাট আঁশপ্রধানত দুটি প্রজাতি, সাদাপাট (Corchorus capsularis) ও তোষাপাট (Corchorus olitorius) থেকে উৎপন্ন হয়।
- ৫.০-৮.৬ পর্যন্ত অম্লমানের (pH) মাটিতে পাট ফলানো যায়।
- ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, যশোর, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জামালপুর অঞ্চলে পাট চাষের পরিমান বেশি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৬০.
পদ্মা নদী কোথায় যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে?
  1. চাঁদপুর
  2. রাজবাড়ি
  3. মাদারীপুর
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

পদ্মা:
- বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান নদী পদ্মা।
- এই নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে প্রবেশ করেছে।
- এরপর উত্তর প্রদেশ এবং বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগিরথী (বা হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- অন্যদিকে, মূল গঙ্গা নদীটি রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর আরো অগ্রসর হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- এই দুই নদীর মিলিত স্রােত পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- এ মিলিত স্রোত মেঘনা নামে বরিশাল ও নোয়াখালী জেলা হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের পরিমাণ প্রায় ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ২৩.১৭%।
- কুমার, ভৈরব, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ, ইছামতি, কপোতাক্ষ, চিত্রা পদ্মার উল্লেখযোগ্য শাখানদী। 
- উত্তর দিক থেকে আগত নদীসমূহের মধ্যে মহানন্দা এর প্রধান উপনদী।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৬১.
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হলো-
  1. ক) হালদা নদী
  2. খ) তিস্তা নদী
  3. গ) মেঘনা নদী
  4. ঘ) হাকালুকি হাওড়
ব্যাখ্যা
চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
এটি খাগড়াছড়ি থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।
হালদা নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম। সম্প্রতি সরকার এই নদীকে ''বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ'' ঘোষণা করেছে।
উৎসঃ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট
৪,৭৬২.
নিচের কোনটি দুর্যোগ প্রশমনের উদাহরণ?
  1. ত্রাণ বিতরণ
  2. বাঁধ নির্মাণ
  3. সংবাদ প্রচার
  4. মানুষের সরিয়ে নেওয়া
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান:
১. দুর্যোগ প্রতিরোধ:
দুর্যোগের সম্ভাবনা বা ঝুঁকি কমাতে যে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা দুর্যোগ প্রতিরোধের অংশ। এর মধ্যে পূর্বাভাস ব্যবস্থা, সতর্কতা কার্যক্রম এবং প্রতিরোধী কাঠামো তৈরি করা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

২. দুর্যোগ প্রশমন:
দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য দুর্যোগ প্রশমনের কাজ করা হয়। এটি সরাসরি দুর্যোগের তীব্রতা কমানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ, যেমন বাঁধ নির্মাণ, নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করা।

৩. দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি:
দুর্যোগের প্রাক্কালে সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জনগণকে সচেতন করা, দুর্যোগের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি তৈরি করা এবং উপকরণ সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়গুলির অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৬৩.
খুলনা কাগজ কলের মূল কাঁচামাল হিসেবে কোন উপাদানটি ব্যবহৃত হতো?
  1. বাঁশ
  2. লতা–গুল্ম তন্তু
  3. গেওয়া কাঠ
  4. পুনর্ব্যবহৃত কাগজ
ব্যাখ্যা

∗ খুলনা নিউজপ্রিন্ট:
- খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল ছিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাগজ শিল্প।
- ১৯৬০–এর দশকের শেষ দিকে খুলনার রূপসা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নদীর নিকটবর্তী হওয়ায় কাঠসহ প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পরিবহনে সুবিধা থাকায় এটি দ্রুত শিল্পায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
- খুলনা কাগজ কলের মূল কাঁচামাল হিসেবে গেওয়া কাঠ ব্যবহৃত হতো।
- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল:
• দেশের নিউজপ্রিন্ট আমদানিনির্ভরতা কমানো,
• খুলনা অঞ্চলে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং
• কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
- তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, আর্থিক লোকসান এবং কাঁচামালের ঘাটতির ফলে মিলটি ক্রমে অচল হয়ে পড়ে;
- এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৯৩ সালে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 
- যদিও সরাসরি মিলের কার্যক্রম জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত ছিল না;
- কিন্তু, খুলনা অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদী ভাঙন, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি এবং পানির ঘাটির মতো সমস্যা কাঁচামাল সরবরাহ ও শ্রমিকদের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করেছিল।
 
উৎস:
1. The Daily Star;
2. দৈনিক ইনকিলাব।

৪,৭৬৪.
What is the limit of exclusive economic zone in the sea?
  1. ক) 12 Nautical Miles
  2. খ) 350 Nautical Miles
  3. গ) 354 Nautical Miles
  4. ঘ) 200 Nautical Miles
ব্যাখ্যা
সীমানা:

- উপকূল হতে অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার (১ নটিক্যাল মাইল = ১.১৫ মাইল বা ১.৮৫২ কিলোমিটার)।
- আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল এবং সন্নিহিত এলাকা ১৮ নটিক্যাল মাইল।
- পূর্ব থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশের বিস্তৃতি প্রায় ৪৪০ কিলোমিটার।
- দেশের মোট সীমারেখা ৪,৭১২ কিলোমিটার।
- দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের তটরেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৬৫.
সাত গুম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) বাগেরহাট
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) রাজশাহী
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত মুঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ। এই মসজিদটি চারটি মিনারসহ সাতটি গম্বুজের কারনে মসজিদের নাম হয়েছে 'সাতগম্বুজ মসজিদ'। এটি মোঘল আমলের অন্যতম নিদর্শন। ১৬৮০ সালে মোগল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর আমলে তার পুত্র উমিদ খাঁ মসজিদটি নির্মান করান। মসজিদটি লালবাগ দূর্গ মসজিদ এবং খাজা আম্বর মসজিদ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
৪,৭৬৬.
রাজশাহীর উত্তরাংশ, বগুড়ার পশ্চিমাংশ, রংপুর ও দিনাজপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত‒
  1. বরেন্দ্রভূমি
  2. প্লাবনভূমি
  3. পললগঠিত সমভূমি
  4. চলনবিল
ব্যাখ্যা

• রাজশাহীর উত্তরাংশ, বগুড়ার পশ্চিমাংশ, রংপুর ও দিনাজপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত‒ বরেন্দ্রভূমি।

• জনপদগুলোর অবস্থান:
- গৌড় জনপদ: বর্তমান চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বহরমপুর এলাকায় এটি বিস্তৃত ছিলো।
- বঙ্গ জনপদ: বঙ্গ জনপদ অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহের কিছু অংশ।
- পুণ্ড্র জনপদ: বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ: বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।

- হরিকেল জনপদ: সিলেট ও চট্টগ্রামের অংশবিশেষ ছিলো।
- চন্দ্রদ্বীপ জনপদ: বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
- সমতট জনপদ: বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- তাম্রলিপ্ত: মেদিনীপুর।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৭৬৭.
কক্সবাজার ছাড়া বাংলাদেশের আর একটি আকর্ষণীয় ও পর্যটন অনুকূল সমুদ্র সৈকত-
  1. নোয়াখালীর ছাগলনাইয়া
  2. চট্টগ্রামের বাঁশখালি
  3. খুলনার মংলা
  4. পটুয়াখালীর কুয়াকাটা
ব্যাখ্যা
• কক্সবাজার ছাড়া বাংলাদেশের আর একটি আকর্ষণীয় ও পর্যটন অনুকূল সমুদ্র সৈকত- পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত।

• কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত:
- কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র।
- পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা "সাগর কন্যা" হিসেবে পরিচিত।

অবস্থান: 
- পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে কুয়াকাটা অবস্থিত।
- ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার, বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার।
- পূর্বে গজমতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পশ্চিমে কুয়াকাটার বনভূমি, উত্তরে কলাপাড়া জনপদ ও দক্ষিণে বিশাল বঙ্গোপসাগর।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, কুয়াকাটা।
৪,৭৬৮.
কোন বায়ু কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপে প্রবাহিত হয়?
  1. অয়ন বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. পশ্চিমী বায়ু
  4. পাহাড়ি বায়ু
ব্যাখ্যা

অয়ন বায়ু :
- অয়ন বায়ু হলো এমন একটি নির্দিষ্ট ধরনের বায়ু যা কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বছর নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয়।
- এটিকে বাণিজ্য বায়ু নামেও ডাকা হয়।
 • বৈশিষ্ট্য:
- প্রবাহের দিক: কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় (২৫°–৩৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ) থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় (০°–১০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ) দিকে প্রবাহিত হয়।
- প্রকৃতি: নিয়মিত ও স্থায়ী বায়ুপ্রবাহ।
- মেঘ: অগভীর পুঞ্জীভূত মেঘ দেখা যায়।
- বৃষ্টিপাত: বায়ু যত দুর্বল হয়, পার্শ্ববর্তী স্থলভাগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তত বেশি থাকে।

উৎস : 
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৭৬৯.
নাগর ও ট্যাংগন কোন নদীর উপনদী?
  1. ক) মহানন্দা
  2. খ) করতোয়া
  3. গ) কর্ণফুলী
  4. ঘ) সুরমা
ব্যাখ্যা
মহানন্দা
• হিমালয়ের পাদদেশে দার্জিলিং এর নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বত হতে মহানন্দা নদী উৎপত্তি হয়েছে।
• ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে।
•অত:পর ভারতের পূর্ণিয়া ও মালদহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাপাইনবাবগঞ্জের নিকট বাংলাদেশে পুনরায় প্রবেশ করে গোদাগাড়ির কাছে পদ্মার মিলিত হয়েছে।
নাগর, ট্যাংগন ও পুণর্ভবা এর উপনদী।
• বাংলাদেশে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৬ কিমি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৭০.
নিচের কোনটিকে শারদ বিষুব বলা হয়?
  1. ক) ২১ মার্চ
  2. খ) ২১ জুন
  3. গ) ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখায় সূর্যের গমনকে বিষুব বলা হয়।
২৩শে সেপ্টেম্বর দক্ষিণায়নের অংশ হিসেবে সূর্য নিরক্ষরেখায় অবস্থান করে। এতে ২৩শে সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়। এই দিনটিকে শারদ বিষুব বলা হয়।

সূর্যের উত্তরায়ণের সময় ২১শে মার্চ সূর্য নিরক্ষরেখায় অবস্থান করে। এতে করে ২১শে মার্চও পৃথিবীর দিন-রাত্রি সমান থাকে। এই দিনটিকে মহাবিষুব বলা হয়।
আবার এইদিন (২১ মার্চ) থেকে উত্তর গোলার্ধে বসন্ত শুরু হয় বিধায় একে বাসন্ত বিষুব বলা হয়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং ব্রিটানিকা)
৪,৭৭১.
বাংলাদেশের সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র কোনটি?
  1. বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র
  2. তিতাস গ্যাসক্ষেত্র
  3. হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র
  4. সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র: 
- বাংলাদেশের সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র হলো হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র,
- এটি ১৯৫৫ সালে সিলেট জেলায় আবিষ্কৃত হয়।
- প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে।
- দেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্র,
- এটি ১৯৯৬ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়।
- এছাড়া, দেশের প্রথম সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র হলো সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র।
- বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ২৯টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে।[ফেব্রুয়ারি - ২০২৫]  
- সর্বশেষ আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র হলো ভোলার ইলিশা-১, এটি দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।

৪,৭৭২.
বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. ক) মে
  2. খ) মার্চ
  3. গ) এপ্রিল
  4. ঘ) জুন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
• বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঋতু দেখা যায়। এগুলো হলো - গ্রীষ্মকাল, বষার্কাল এবং শীতকাল।  
এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং এটি বছরের উষ্ণতম মাস
• জানুয়ারি শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৭৩.
'শাহবাজপুর দ্বীপ' বর্তমানে কী নামে পরিচিত?
  1. মহেশখালী
  2. সেন্ট মার্টিন
  3. নিঝুম দ্বীপ
  4. ভোলা
ব্যাখ্যা
শাহবাজপুর দ্বীপ বর্তমানে ভোলা দ্বীপ নামে পরিচিত। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ।

ভোলা:
- ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত ভোলা জেলা।
- ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ যা বাংলা করলে ‘বাংলাদেশের দ্বীপের রাণী’ হয়।

⇒ বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা।
- ভোলা জেলার পূর্ব নাম দক্ষিণ শাহবাজপুর।
- হিমালয় থেকে নেমে আসা ৩টি প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র বাহিত পলি দিয়ে মোহনায় গড়ে উঠেছে এ দ্বীপ।
- জেলাটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।
৪,৭৭৪.
উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রার কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথম বৃদ্ধি পায়, পরে কমে
ব্যাখ্যা

উচ্চতা:
- উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা তত বেশি হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- উচ্চতার জন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায়।
- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতা ভিন্নতার জন্য এদের জলবায়ু ভিন্নরকম হয়।
- দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এর তাপমাত্রা অনেক কম।

উল্লেখ্য,
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ হলো-
১। অক্ষাংশ
২। উচ্চতা 
৩। সমুদ্র থেকে দূরত্ব 
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান
৫। সমুদ্রস্রোত
৬। ভূমির ঢাল 
৭। ভূ-প্রকৃতি 
৮। বায়ুপ্রবাহ
৯। বায়ুর চাপ এবং 
১০। বনভূমির অবস্থান।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৭৫.
বাংলাদেশের কোন জেলাটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সংলগ্ন নয়?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. কুমিল্লা
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের বান্দরবান জেলাটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সংলগ্ন অবস্থান নয়।

ভারতের রাজ্য: 
• বাংলাদেশের সংলগ্ন জেলা 
- আসাম ৪টি (কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার)
- ত্রিপুরা ৭টি (ফেনী, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি)
- মেঘালয়: ৪টি (নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর)
- মিজোরাম: ১টি (রাঙ্গামাটি)
- অপরদিকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের জেলা ৯টি। যথা: মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর চব্বিশ পরগোনা, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, কুচবিহার ও দার্জিলিং।
- বাংলাদেশ সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের চিন প্রদেশের মংডু শহর অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৪,৭৭৬.
সমুদ্রস্রোত প্রধানত কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৫ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ২ প্রকার
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রস্রোত:
- একস্থান থেকে অন্যস্থানে মহাসাগর ও সাগরের পানির নির্দিষ্ট ও নিয়মিত প্রবাহকে মহাসাগরীয় স্রোত বা সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে।
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে।
-  ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি করে এবং সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।
- উষ্ণতার তারতম্য অনুযায়ী সমুদ্রস্রোতকে প্রধান দুইভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: উষ্ণ স্রোত ও শীতল স্রোত।

→ সমুদ্র স্রোতের কারণ:
- নিম্নলিখিত কারণে সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি হয়। যথা:
১. বায়ুপ্রবাহ (Wind Movement);
২. পৃথিবীর আবর্তন (Rotation of Earth);
৩. তাপমাত্রার তারতম্য (Variation in Temparature);
৪. লবণাক্ততার তারতম্য (Variation in Salinity);
৫. স্থলভাগের অবস্থান (Presence of Landmasses);
৬. অসম বাষ্পীভবন (Unequal Evaporation);
৭. সমুদ্রের গভীরতা (Depth of the Ocean);

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৭৭.
উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাকে বিচ্ছিন্ন করেছে -
  1. ইংলিশ চ্যানেল
  2. পানামা খাল
  3. সুয়েজ খাল
  4. দার্দানেলিস প্রণালী
ব্যাখ্যা
পানামা খাল:
- পানামা খাল (Panama Canal) হলো একটি কৃত্রিম জলপথ, যা মধ্য আমেরিকার পানামা প্রদেশে অবস্থিত।
- এটি উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
- এটি প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করেছে পানামা খাল।
- এই খালটি পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুট এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
- খালটি তৈরি করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র।
- পানামা খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮২ কিলোমিটার।

⇒ ১৯০৪ সালে, যুক্তরাষ্ট্র পানামা খালের নির্মাণের দায়িত্ব নেয় এবং ১৯১৪ সালে এটি শেষ হয়।
- এটি চালু হলে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম জলপথ হিসেবে পরিগণিত হয়।
- ১৯৭৭ সালে দেশটি পানামার সঙ্গে একটি চুক্তি করে খালটি তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য।
- খালটি ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পানামা ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- ১৯৭৭ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার স্বাক্ষরিত এক চুক্তির আওতায় ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র খালটির মালিকানা পানামার কাছে হস্তান্তর করে।

উৎস: Britannica.
৪,৭৭৮.
আয়তন ও জনসংখ্যায় আফ্রিকার সবচেয়ে ছোট দেশ-
  1. ক) সুরিনাম
  2. খ) সিচেলিস
  3. গ) আলজেরিয়া
  4. ঘ) নাইজেরিয়া
ব্যাখ্যা
আয়তনে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ হল আফ্রিকা মহাদেশ। আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা অতিক্রম করেছে। এ মহাদেশের উত্তরে ভূ-মধ্যসাগর, দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগর এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত। আয়তনে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ আলজেরিয়া। জনসংখ্যায় আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ নাইজেরিয়া। জনসংখ্যায় ও আয়তনে আফ্রিকার সবচেয়ে ছোট দেশ সিচেলিস। সূত্র- worldatlas ওয়েবসাইট।
৪,৭৭৯.
'কিলিমানজারো' কোন ধরনের পর্বত?
  1. ল্যাকোলিথ
  2. আগ্নেয়
  3. ভঙ্গিল
  4. চ্যুতি-স্তূপ
ব্যাখ্যা
পর্বত (Mountains):
- সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটার-এর অধিক উঁচু, সুবিস্তৃত, খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- অপর দিকে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ থেকে ১,০০০ মিটার উঁচু, স্বল্প বিস্তৃত শিলাস্তূপকে পাহাড় বলে।
- পর্বতের ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর, ঢাল খুব খাড়া এবং সাধারণত চূড়া বিশিষ্ট হয়।
- কোনো কোনো পর্বত বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে, যেমন- পূর্ব আফ্রিকার কিলিমানজারো।
- আবার কিছু পর্বত অনেকগুলো পৃথক শৃঙ্গসহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে অবস্থান করে, যেমন- হিমালয় পর্বতমালা।

• পর্বতের প্রকারভেদ:
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত চার প্রকার। যথা:
(ক) ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountains),
(খ) আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountains),
( গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত (Fault-block Mountains) এবং
(ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত (Dome/Laccolith Mountains)।

⇒ আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain):
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ ক্রিয়াকলাপের জন্য ম্যাগমা লাভা হিসাবে উদগিরিত হয়ে চারদিকে সঞ্চিত হয়।
- পরবর্তীতে জমে ঠান্ডা হয়ে যে শিলাস্তূপের সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে।
- লাভার প্রকৃতির ওপর আগ্নেয় পর্বতের বিস্তৃতি ও আকৃতি নির্ভর করে।
- আগ্নেয় পর্বতের উৎপত্তি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভূ-আলোড়নের জন্য ভূ-ত্বকের দুর্বল অংশের ফাটলের মধ্য দিয়ে ভূ-গর্ভস্থ উত্তপ্ত লাভা, নানা প্রকার গ্যাস ও বাষ্প, ছাই, ধাতু ইত্যাদি প্রবল বেগে বেরিয়ে আসে।
- এই উত্তপ্ত লাভা ফাটলের চতুর্দিকে সঞ্চিত হতে হতে উঁচু পর্বতের সৃষ্টি করে।
- যেমন- জাপানের ফুজিয়ামা, হাওয়াই দ্বীপের মওনালোয়া, ইতালির ভিসুভিয়াস, আফ্রিকার কিলিমানজারো ইত্যাদি।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৮০.
মেরু জলবায়ু অঞ্চলকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
মেরু জলবায়ুসমূহ:
→ এ জলবায়ুতে বছরের বেশিরভাগ সময় তাপমাত্রা হিমাংকের নিচে থাকে। ফলে উদ্ভিজ্জের জন্ম ও বৃদ্ধির জন্য গ্রীষ্মকালের স্থায়িত্ব ও উত্তাপের প্রাচুর্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
 → উষ্ণতম মাসের গড় তাপমাত্রা ১০° সে. এর কম থাকে।
→ এই জলবায়ু মূলত দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা: ১. তুন্দ্রা অঞ্চল এবং ২. চিরস্থায়ী বরফের আচ্ছাদনজনিত জলবায়ু।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৮১.
কোন নদীটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?
  1. পদ্মা 
  2. মেঘনা 
  3. যমুনা 
  4. ইছামতী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের নদ-নদী:
- নদীমাতৃক বাংলাদেশে ছোট বড় মিলিয়ে ১০০৮ টি নদী প্রবাহিত হচ্ছে।
- পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বাংলাদেশের ৩টি প্রধান নদী।
- দেশে নদীপথ রয়েছে: ২২ হাজার কি.মি.।
- নদ আছে ৪টি। এগুলো হলো ব্রহ্মপুত্র, কপোতাক্ষ, আড়িয়াল খাঁ ও কুমার।

উল্লেখ্য,
- পদ্মা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী (দৈর্ঘ্য - ৩৪১ কিলোমিটার)।
- সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী মেঘনা (৩৬টি উপজেলা)।
- সবচেয়ে বেশি নদ-নদী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, ২২২টি।
- সবচেয়ে বেশি নদী রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়, ৯৭টি।

উৎস: জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

৪,৭৮২.
নিচের কোনটি গ্রিন হাইজ গ্যাস?
  1. ক) হাইড্রোজেন সালফাইড
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) নাইট্রাস অক্সাইড
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
⇨ হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন।
⇨ গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।   

তথ্যসূত্র:- পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,৭৮৩.
নিচের কোনটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি?
  1. ক) মাওনাকেয়া
  2. খ) ফুজিয়ামা
  3. গ) কোহিসুলতান
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যুৎপাতের ভিত্তিতে আগ্নেয়গিরিকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. সক্রিয় আগ্ন্যেয়গিরি - হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া, মাওনাকেয়া।
২. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি - জাপানের ফুজিয়ামা
৩. মৃত আগ্নেয়গিরি - ইরানের কোহিসুলতান

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই।

৪,৭৮৪.
নিম্নলিখিত কোনটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ECA) এলাকা?
  1. হাকালুকি হাওর
  2. মেরজাত বাওড়
  3. টাঙ্গুয়ার হাওর
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক - বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। 
- এ পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

• এলাকাগুলো:
- সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৪,৭৮৫.
বাংলাদেশের FCDI প্রকল্পের উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. পানি সেচ
  2. বন্যা নিয়ন্ত্রণ
  3. পানি নিষ্কাশন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
FCDI প্রকল্প:
- FCDIP-এর পূর্ণরপ Flood Control, Drainage and Irrigation Projects.
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects) অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।

⇒ Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P. O. No. 59 of 1972) - এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Board সংক্রান্ত বিধানাবলী রহিত করিয়া পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০০০ নামে পরিচিত।

⇒ এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য -
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
- পানি নিষ্কাশন ও
- সেচ প্রকল্প।

উৎস: বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।
৪,৭৮৬.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন কোরীয় উপদ্বীপকে কোন সমান্তরাল রেখায় ভাগ করে?
  1. ৮° অক্ষরেখা
  2. ২৮° অক্ষরেখা
  3. ৩৮° অক্ষরেখা
  4. ৪১° অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
• ৩৮° অক্ষরেখা:
- ১৯১০ সাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত কোরিয়া উপদ্বীপ জাপানের অধীনে ছিল।
- কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হওয়ার ফলে ১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রশাসন কোরীয় উপদ্বীপকে ৩৮° সমান্তরাল রেখায় ভাগ করে।
- ফলে কোরিয়া বিভক্ত হয়ে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া গঠন করে।
- উত্তর কোরিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে এবং দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে চলে যায়।
- ১৯৪৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্ম হয়।

• বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক সীমারেখা:
- ১০ ডিগ্রী চ্যানেল: আন্দামান ও নিকোবর,
- ২৮তম প্যারালাল: ভারত ও পাকিস্তান,
- ৮⁰ চ্যানেল: ভারত (মিনিকয় দ্বীপ) ও মালদ্বীপ,

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৪,৭৮৭.
বাংলাদেশের কয়টি নদ আছে?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের নদ-নদী
- নদীমাতৃক বাংলাদেশে ছোট বড় মিলিয়ে ১০০৮ টি নদী প্রবাহিত হচ্ছে।
- পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বাংলাদেশের ৩টি প্রধান নদী।
- দেশে নদীপথ রয়েছে: ২২ হাজার কি.মি.।
- নদ আছে ৪টি।
- এগুলো হলো ব্রহ্মপুত্র, কপোতাক্ষ, আড়িয়াল খাঁ ও কুমার।

উল্লেখ্য,
- পদ্মা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী (দৈর্ঘ্য - ৩৪১ কিলোমিটার)।
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম নদী গাঙ্গিনা ( দৈর্ঘ্য- .০৩২ কিলোমিটার)।
- সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী মেঘনা (৩৬টি উপজেলা)।
- সবচেয়ে বেশি নদ-নদী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, ২২২টি।
- সবচেয়ে বেশি নদী রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়, ৯৭টি।

উৎস: জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

৪,৭৮৮.
নাফ নদী মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে কোন উপজেলার মধ্য দিয়ে?
  1. ক) উখিয়া
  2. খ) রামু
  3. গ) পেকুয়া
  4. ঘ) কুতুবদিয়া
ব্যাখ্যা
• নাফ দেশের সর্বদক্ষিণে মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্তরেখা বরাবর প্রবাহিত ৬২ কিমি দীর্ঘ একটি নদী।
• নাফ মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় পর্বত শ্রেণী থেকে উৎসারিত হয়ে কক্সবাজার জেলাধীন উখিয়া উপজেলার পালংখালির কাছ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অতঃপর দক্ষিণদিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
• ১.৬১ কিমি থেকে ৩.২২ কিমি প্রস্থ বিশিষ্ট এ নদী জোয়ারভাটা প্রবণ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৮৯.
আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ কী?
  1. অস্তরীভূত শিলা
  2. স্তরীভূত শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. আদি শিলা
ব্যাখ্যা
• রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।
- এ শিলা সূদুর অতীতকালের প্লেট সঞ্চারণের সাক্ষ্য বহন করে।
- রূপান্তরিত শিলা মার্বেল পাথর, শ্লেট, গার্নেট ইত্যাদির মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৯০.
পাখির চর কোথায় অবস্থিত?
  1. ভোলা
  2. সুন্দরবন
  3. সন্দ্বীপ
  4. হাতিয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বিভিন্ন চরের অবস্থান
চর মানিক - ভোলা
চর জব্বর - ভোলা
চর নিউটন - ভোলা
চর কুকরী মুকরী-  ভোলা
চর সাকুচিয়া -  ভোলা
চর গজারিয়া-  লক্ষীপুর
চর আলেকজান্ডার-  লক্ষীপুর
উড়ির চর-  নোয়াখালী
দুবলার চর- সুন্দরবনের দক্ষিণে
পাখির চর - সুন্দরবন 
মহুরীর চর-  ফেনী
নির্মল চর- রাজশাহী

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৯১.
'UNDRR' কী বিষয়ক সংস্থা?
  1. ক) জলবায়ু
  2. খ) সমুদ্র
  3. গ) বন্যপ্রাণী
  4. ঘ) দুর্যোগ
ব্যাখ্যা

- United Nations Office for Disaster Risk Reduction (UNDRR) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে।
- এটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জাতীয় কর্মকৌশল বাস্তবায়ন।
- এর সদরদপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।
উৎস: UNDRR'র ওয়েবসাইট।

৪,৭৯২.
রাতারগুল বনের অবস্থান কোথায়?
  1. সিলেট
  2. কিশোরগঞ্জ
  3. কক্সবাজার
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
রাতারগুল হলো একটি জলাভূমির বন। এটি সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত।
এর আয়তন প্রায় ২০৫ হেক্টর। এ বনের প্রধান বৃক্ষের মধ্যে হিজল, করচ, বরুন ও পিটালী উল্লেখযোগ্য। এ বনের বৃক্ষ বছরের প্রায় অর্ধেক সময় আংশিক জলমগ্ন থাকে।
(সূত্র: বন বিভাগ ওয়েবসাইট)
৪,৭৯৩.
'উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম'-এর সীমান্ত নির্দেশ করে -
  1. ১৭তম প্যারালাল
  2. ২৪তম প্যারালাল
  3. ৩৮তম প্যারালাল
  4. ৪৯তম প্যারালাল
ব্যাখ্যা
'উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম'-এর সীমান্ত নির্দেশ করে ১৭তম প্যারালাল।

বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক সীমারেখা:

- ১০ ডিগ্রী চ্যানেল: আন্দামান ও নিকোবর,
- ১৬তম প্যারালাল: নামিবিয়া ও অ্যাঙ্গোলা,
- ১৭তম প্যারালাল: উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম,
- ২০তম প্যারালাল: লিবিয়া ও সুদান,
- ২২তম প্যারালাল: মিশর ও সুদান।
- ২৪তম প্যারালাল: ভারত ও পাকিস্তান,
- ২৫তম প্যারালাল: মৌরিতানিয়া এবং মালি,
- ৩১তম প্যারালাল: ইরাক ও ইরান,
- ৩৭তম প্যারালাল: ভারত ও মায়ানমার,
- ৩৮তম প্যারালাল: উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া,
- ৪৯তম প্যারালাল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা।

উৎস: Britannica.
৪,৭৯৪.
মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ দুইটির মাঝামাঝি অবস্থানে কোন ধরনের বস্তু রয়েছে?
  1. উল্কা
  2. গ্রহাণুপুঞ্জ
  3. নক্ষত্র
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• গ্রহাণুপুঞ্জ (Asteroids):
- মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ দুইটির মাঝামাঝি অবস্থানে গ্রহাণুপুঞ্জ (Asteroids) রয়েছে।
- সৌরজগতে মঙ্গল ও বৃহস্পতি এই দুইটি গ্রহের মধ্যবর্তী অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহ একত্রে পূঞ্জীভূত হয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
- এগুলোকে একত্রে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।
- গ্রহাণুপুঞ্জসমূহ একটি বলয়ের মতো ঘিরে থাকে, যা গ্রহাণুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত।

• অন্যান্য অপশনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা:
- উল্কা মহাশূন্যে বিচরণরত ক্ষুদ্রাকৃতি বিশিষ্ট কঠিন বস্তু।
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে।
- ধূমকেতু হলো ধুলো, বরফ ও গ্যাসের তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু। এই বস্তু মূলত সৌরজগতের একটি ছোট্ট অংশ, যেটি সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘোরে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৯৫.
কোনটি পদ্মা নদীর শাখানদী নয়?
  1. গড়াই
  2. কুমার
  3. মহানন্দা
  4. মাথাভাঙ্গা
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে 'মহানন্দা' পদ্মা নদীর শাখানদী নয়।
- 'মহানন্দা' পদ্মা নদীর প্রধান উপনদী।

পদ্মা (Padma):

- পদ্মা বাংলাদেশের প্রধান নদী।
- এ নদী ভারতের মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে গঙ্গা নামে উৎপন্ন হয়েছে।
- গঙ্গা নদী রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- কুষ্টিয়ার কাছে এসে এটি পদ্মা নামে পরিচিত হয়।
- রাজবাড়ির গোয়ালন্দে যমুনার সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশে যায়।
- এরপর তিনটি নদীর মিলিত ধারা মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
- গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার।
- পদ্মার শাখানদীগুলোর মধ্যে কুমার, ভৈরব, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, আড়িয়াল খাঁ উল্লেখযোগ্য।
- পদ্মার উপনদীগুলোর মধ্যে মহানন্দা প্রধান। 
- মহানন্দার উপনদীগুলোর মধ্যে রয়েছে পুনর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন, পাগলা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৯৬.
মহামুনি বিহার কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে
  2. খ) চট্টগ্রামের রাউজানে
  3. গ) জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে
  4. ঘ) সিলেটের হবিগঞ্জে
ব্যাখ্যা
• মহামুনি বিহার চট্টগ্রামের রাউজানে অবস্থিত।

মহামুনি বিহার:
- রাউজান উপজেলার ২০০ বছরের ঐতিহাসিক প্রাচীন নিদর্শন মহামুনি বিহার।
- 'চাইঙ্গা ঠাকুর' নামের এক বৌদ্ধ ধর্মগুরু এই বিহারে ১৮০৫ মতান্তরে ১৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে মহামানব গৌতম বুদ্ধের মূর্তি স্থাপন করেন।
- এ কারণে গৌতম বুদ্ধের নামে এ বিহারের নামকরণ করা হয় মহামুনি মন্দির।
- এই মন্দিরটির কারণে মহামুনি গ্রাম ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র তীর্থস্থানে পরিণত হয়।
- এ মন্দিরকে কেন্দ্র করে মং সার্কেল রাজা ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে মহামুনি মন্দির চত্বরে মেলার প্রবর্তন করেন, যা চৈত্র মাসের শেষ দিন থেকে শুরু হয়। 

উৎস: সমকাল পত্রিকা।
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ- ১৪ এপ্রিল, ২০১৮।
৪,৭৯৭.
এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী?
  1. বেরিং 
  2. বাব এল-মান্দেব 
  3. মালাক্কা 
  4. বসফরাস 
ব্যাখ্যা

• বাব এল-মান্দেব প্রণালী (Bab el-Mandeb Strait):
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী এশিয়া থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- বাব এল-মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী একটি প্রণালী।

অন্যদিকে,
• বেরিং প্রণালী এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশ দুটিকে পৃথক করেছে ।
- এবং প্রশান্ত মহাসাগর ও আর্কটিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- এটি রাশিয়া (এশিয়া মহাদেশের অংশ) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার মধ্যে অবস্থিত।

• বসফরাস প্রণালী:
- মর্মর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে বসফরাস প্রণালী।
- এই প্রণালী এশিয়া থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছে।

• মালাক্কা প্রণালী:
- মালাক্কা প্রণালী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে মালয় উপদ্বীপ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি সুমাত্রাকে মালয়েশিয়া উপদ্বীপ থেকে পৃথক করেছে।
- এটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.

৪,৭৯৮.
ডোকলাম উপত্যকা নিম্নের কোন দেশের সাথে সংযুক্ত নয়?
  1. ভারত
  2. নেপাল
  3. ভুটান
  4. চীন
ব্যাখ্যা
ডোকলাম উপত্যকা নেপালের সাথে সংযুক্ত নয়।

ডোকলাম উপত্যকা:
- ডোকলাম উপত্যকা ভারত, ভুটান এবং চীনের সংযোগস্থলে অবস্থিত।
- এই এলাকার উত্তরে চীনের চুম্বি উপত্যকা। পশ্চিম প্রান্তে ভারতের সিকিম। দক্ষিণ ও পূর্বে ভুটানের অবস্থান।
- প্রতিটি দেশই ডোকলাম উপত্যকাকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.
৪,৭৯৯.
মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে কোন সময় বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক) জুলাই থেকে অক্টোবর
  2. খ) মে থেকে অক্টোবর
  3. গ) জুন থেকে সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) জুন থেকে অক্টোবর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু
⇨ বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র এবং সমভাবাপন্ন।
⇨ দেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এবং মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব অধিক থাকায় সামগ্রিকভাবে এদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়।
⇨ এখানকার জলবায়ুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মৌসুমী বায়ু। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়
⇨ বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
⇨ বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঋতু দেখা যায়। এগুলো হলো - গ্রীষ্মকাল, বষার্কাল এবং শীতকাল।  
⇨ এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং এটি বছরের উষ্ণতম মাস।
⇨ জানুয়ারি শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৮০০.
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতি (Physiography):
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
- এই পললের পুরুত্ব প্রায় ১৮-২২ কিলোমিটার।
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।