বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৪৬ / ৭২ · ৪,৫০১৪,৬০০ / ৭,১৯১

৪,৫০১.
বিশ্বের কোন দেশে সর্বাধিক ভূমিকম্প হয়?
  1. নেপাল
  2. ভুটান
  3. জাপান
  4. দক্ষিণ কোরিয়া
ব্যাখ্যা
• ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল:
- অধিকাংশ ভূমিকম্প (শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ) পৃথিবীর অল্প কিছু জায়গায় সংঘটিত হয়।
- যেমন: পৃথিবীর বৃত্তচাপীয় দ্বীপমালা জাপান, ফিলিপাইন, নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালা ও সামুদ্রিক শৈলশিরাসমূহ। 
- ভূমিকম্পের সংখ্যার দিক থেকে জাপান বিশ্বে প্রথম।

উল্লেখ্য: 
- বছরে প্রায় গড়ে ৭,৫০০টি ভূমিকম্প হয় জাপানে।
- জাপানের পর সর্বাধিক ভূমিকম্প হয় ইতালিতে, গড়ে প্রায় ৫০০টি।
- এছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও চিলি এবং আমেরিকার গুয়েতেমালায় অধিক ভূমিকম্প হয়।

সূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫০২.
মঙ্গল গ্রহকে বলা হয়-
  1. ক) গ্রহরাজ
  2. খ) লালগ্রহ
  3. গ) সবুজগ্রহ
  4. ঘ) ক্ষুদ্রগ্রহ
ব্যাখ্যা

- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি।
- ইউরেনাসকে সবুজগ্রহ,
- বুধকে ক্ষুদ্রগ্রহ,
- মঙ্গলকে লালগ্রহ,
- বৃহস্পতিকে গ্রহরাজ বলে।

- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই।
- পৃথিবীর উপগ্রহ ১টি (চাঁদ)
- মঙ্গলের উপগ্রহ দুইটি (ফোবস ও ডিমোস)।
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ শনির।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপগ্রহ বৃহস্পতির।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৫০৩.
 নিম্নের কোনটি সমুদ্রস্রোতের কারণ?
  1. বাষ্পীভবনের তারতম্য
  2. লবণাক্ততার তারতম্য
  3. পৃথিবীর আবর্তন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সমুদ্রস্রোত:
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।
- অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায় উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে শীতল ল্যাব্রাডার স্রোত, এ কারণে শীতল ইউরোপীয় স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম ইউরোপীয় উপকূলের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

⇒ সমুদ্রস্রোতের কারণ:
- বায়ুপ্রবাহ,
- পৃথিবীর আবর্তন,
- উষ্ণতার তারতম্য,
- লবণাক্ততার তারতম্য,
- স্থলভাগের অবস্থান,
- শৈলশিরার অবস্থান,
- বাষ্পীভবনের তারতম্য,
- সমুদ্রের গভীরতা।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫০৪.
ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমি কী ধরনের মালভূমি?
  1. চ্যুতি মালভূমি
  2. পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি
  3. ক্ষয়জাত মালভূমি
  4. আগ্নেয় মালভূমি
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয় মালভূমি:
→ অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূ-ত্বকের কোনো ফাটল বা আগ্নেয়গিরির ছিদ্র পথে ভূ-গর্ভ হতে লাভা প্রবাহ ভূ-পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় ঠান্ডা হয়ে কঠিন অবস্থা ধারণ করে যে ভূমির সৃষ্টি হয় তাকে আগ্নেয়জাত মালভূমি বলে। যেমন- ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,৫০৫.
বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো -
  1. মেসোমন্ডল
  2. ট্রপোমন্ডল
  3. স্ট্রাটোমন্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• ট্রপোমন্ডল
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪০ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না। ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।

সূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫০৬.
নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয়, সেই মিলিত স্থানকে নদীর ______ বলে।
  1. উৎস
  2. মোহনা
  3. দোয়াব
  4. অববাহিকা
ব্যাখ্যা

নদী সম্পর্কিত বিভিন্ন পারিভাষিক শব্দ:

​নদীর উৎস (Source): 
​নদীর উৎপত্তিস্থলকে নদীর উৎস বলে।

​নদীর মোহনা (Mouth): 
​নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয় সেই মিলিত স্থানকে নদীর মোহনা বলে।

​দোয়াব অঞ্চল: 
​দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে দোয়াব অঞ্চল বলে।

​উপনদী (Tributary): 
​বিভিন্ন উৎস হতে যখন ছোট ছোট নদী উৎপত্তি লাভ করে কোনো বড় নদীতে মিলিত হয় তখন এ ছোট নদীগুলোকে সে বড় নদীর উপনদী বলে। যেমন- যমুনার উপনদী করতোয়া, তিস্তা এবং মেঘনার উপনদী সুরমা ও কুশিয়ারা।

​শাখানদী (Distributary): 
​কখনো কখনো বড় কোনো নদী হতে স্রোতধারা বের হয়ে অন্য কোনো নদী, সাগর, হ্রদ বা পুনরায় মূল নদীর সাথে মিলিত হয়। এরূপ মূল নদী হতে যে সকল নদী বের হয় তাকে শাখানদী বলে। যেমন- ইছামতি, গড়াই, আড়িয়াল খাঁ প্রভৃতি পদ্মার শাখানদী।

​নদীসঙ্গম (Confluence): 
​পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদীগুলো নিজ নিজ পথে প্রবাহিত হয়। এক সময় ঐ নদীগুলো একটি অপরটির সাথে মিলিত হয়। ফলে মিলিত স্রোতধারা ক্রমশ অধিকতর বড় হয়। এভাবে দুই বা ততোধিক নদীর মিলন স্থলকে নদীসঙ্গম বলে।

নদী অববাহিকা (River Basin): 
​মূল নদী, বিভিন্ন শাখানদী ও উপনদী প্রভৃতির মধ্য দিয়ে যে সকল স্থানের বা অঞ্চলের পানিরাশি প্রবাহিত হয় তখন এ অঞ্চলকে ঐ নদীর অববাহিকা বলে। যেমন- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সিন্ধু নদের অববাহিকা।

​তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫০৭.
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC ২০২০) অনুসারে, বাংলাদেশে কয়টি ভূমিকম্প জোন রয়েছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

BNBC 2020 অনুযায়ী বাংলাদেশকে মোট ৪টি Seismic Zone–এ ভাগ করা হয়েছে। জোন যত বাড়ে, ভূমিকম্পের ঝুঁকি তত বেশি—এবং সেই অনুযায়ী স্ট্রাকচারাল ডিজাইনও শক্ত হতে হয়।

BNBC রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের ভূ-কম্পন অঞ্চল:
- বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC-2020) একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা।
- সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো:

১. Zone-I (Low Seismic Risk Zone): কম ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.12 

২. Zone-II (Moderate Seismic Risk Zone): মধ্যম ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2

৩. Zone-III (High Seismic Risk Zone): উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28

৪. Zone-IV (Very High Seismic Risk Zone): অত্যন্ত ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36

উল্লেখ্য, 
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বইয়ের সর্বশেষ সংস্করণে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রির্পোর্ট অনুসারে, ভূমিকম্পের প্রবণতার ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩টি অঞ্চলে ভাগ করে দেখানো হয়েছে।

উৎস: হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

৪,৫০৮.
বিশ্বের সর্বাধিক বনাঞ্চল রয়েছে কোন দেশে? 
  1. যুক্তরাষ্ট্রে
  2. অস্ট্রেলিয়ায়
  3. রাশিয়ায়
  4. ব্রাজিলে
ব্যাখ্যা
বিশ্বের সর্বাধিক বনাঞ্চল:
- বিশ্বের সর্বাধিক বনাঞ্চল রয়েছে রাশিয়ায়।
- বিশ্বের বৃহত্তম এই দেশে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ বনভূমির অবস্থান।
- রাশিয়ার মোট ভূমির ৪৫ শতাংশ বন দ্বারা আচ্ছাদিত।
- এখানে প্রায় ৮১৫ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি বিদ্যমান।
- এছাড়া ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, অস্ট্রেলিয়া এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো হলো অন্যান্য দেশ যেখানে ১০০ মিলিয়ন হেক্টরের অধিক বনাঞ্চল রয়েছে।
--------------------

রাশিয়া:
- আয়তনে বিশ্বের বিশ্বের বৃহত্তম দেশ - রাশিয়া।
- বর্তমান প্রেসিডেন্ট - ভ্লাদিমির পুতিন।
- তার রাজনৈতিক দলের নাম - ইউনাইটেড রাশিয়া।
- রাশিয়ার সাথে ১৪ টি দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- রাশিয়ায় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে - ১৯১৭ সালে।
- বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র - সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয় - ১৯২২ সালে।
- রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বাসভবন - ক্রেমলিন।
- রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ - ৬ বছর।
- সোভয়েত ইউনিয়নের স্থায়িত্বকাল - ১৯২২-১৯৯১ সাল।
- USSR (Union of Soviet Socialist Republic) বিলুপ্ত হয় - ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯১ সালে।
- রাশিয়ায় রুশ বিপ্লব সংঘঠিত হয় - ১৯১৭ সালে।

উৎস: Worldatlas [লিঙ্ক]
৪,৫০৯.
সুন্দরবনের কয়টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• সুন্দরবন:
- অবস্থান: খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর একক বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন হচ্ছে আমাদের সুন্দরবন। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে এ বন অবস্থিত।
- পরিমাণ: প্রায় ৬,০১,৭০০ হেক্টর যা দেশের আয়তনের ৪.১৩% এবং বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ৩৮.১২%।
- উদ্ভিদ প্রজাতি: সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, পশুর, বাইন, কাকড়া ইত্যাদি এ বনের প্রধান প্রধান বৃক্ষ প্রজাতি।
- বন্যপ্রাণী: এ বনের উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণী হচ্ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, বানর, শুকর, কুমির, ডলফিন, গুইসাপ, অজগর, হরিয়াল, বালিহাঁস, গাংচিল, বক, মদনটাক, মরালিহাঁস, চখা, ঈগল, চিল মাছরাঙা ইত্যাদি।

- নদী/খাল: এ বনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত প্রধান প্রধান নদীগুলো হলো- পশুর, শিবসা, বলেশ্বর, রায়মংগল ইত্যাদি। তাছাড়া শত শত খাল এ বনের মধ্যে জালের মতো ছড়িয়ে আছে।
- মাছ: শুধু বৃক্ষসম্পদ নয়, এ বন মৎস্য সম্পদেরও এক বিরাট আধার। ইলিশ, লইট্টা, ছুরি, পোয়া,  রূপচাঁদা, ভেটকি, পারসে, গলদা, বাগদা, চিতরা ইত্যাদি মাছ পাওয়া যায়।
- বিশ্ব ঐতিহ্য: সুন্দরবনের ৩ টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য নিয়ে গঠিত ১,৩৯,৭০০ হেক্টর বনাঞ্চলকে ইউনেস্কো ১৯৯৭ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য,
সুন্দরবনের ৩ টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রয়েছে।
- ১) সুন্দরবন ইষ্ট বন্যপ্রানী  অভয়ারণ্য, ২) সুন্দরবন ওয়েস্ট বন্যপ্রানী অভয়ারণ্য, ৩) সুন্দরবন সাউথ বন্যপ্রানী  অভয়ারণ্য।

তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। (লিংক)(লিংক২)

৪,৫১০.
পূর্বাশা দ্বীপের অপর নাম কি?
  1. নিঝুম দ্বীপ
  2. সন্দ্বীপ
  3. দক্ষিণ তালপট্টি
  4. কুতুবদিয়া
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ:
- এই দ্বীপের অপর নাম পূর্বাশা দ্বীপ বা নিউ মুর আইল্যান্ড।

- এটি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার অন্তর্ভূক্ত বঙ্গোপসাগরের অগভীর সামুদ্রিক মহীসোপান (continental shelf) এলাকায় জেগে ওঠা একটি উপকূলবর্তী দ্বীপ।
- বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলার বশীরহাট থানার মধ্যকার হাড়িয়াভাঙ্গা নদী দ্বারা চিহ্নিত সীমান্ত রেখা বরাবর দক্ষিণে হাড়িয়াভাঙ্গা মোহনায় অগভীর সমুদ্রে এ ক্ষুদ্র দ্বীপটি গড়ে উঠেছে।
- দ্বীপটি মূলত গঙ্গা-পদ্মা নদীপ্রণালী-এর বিভিন্ন শাখা নদীর পলল অবক্ষেপণের ফলে গড়ে উঠেছে।
- হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মূল স্রোতধারা দ্বীপটির পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে রেডক্লিফ রোয়েদাদের ভিত্তিতে।
- রেডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী নদী বিভাজিত সীমান্তের ক্ষেত্রে ‘নদীর মূল স্রোতধারার মধ্যরেখা নীতি’ (Mid-channel flow principle)-কে দুই দেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
- ‘নদীর মূল স্রোতধারার মধ্যরেখা নীতি’ (Thalweg doctrine) অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতের স্থানীয় সীমানা-বিভাজক হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মূল স্রোতধারার মধ্যরেখা সুস্পষ্টভাবেই দক্ষিণ তালপট্টির পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
- এসকল বিষয় বিবেচনা করে খুলনা জেলা প্রশাসন এবং জরিপ বিভাগ দ্বীপটিকে নিজ প্রশাসনিক সীমানায় অন্তর্ভূক্ত করে দলিলপত্রে দ্বীপটিকে দক্ষিণ তালপট্টি নামে নথিভুক্ত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৫১১.
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (IOM) এর মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কত মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে?
  1. ১৩.৩ মিলিয়ন 
  2. ২৫ মিলিয়ন
  3. ১০ মিলিয়ন
  4. ১৫ মিলিয়ন
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তন: 
- বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃত।
- ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (IOM) এর মতে, জলবায়ু সংক্রান্ত প্রভাবের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ১৩.৩ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
- এই ক্রমবর্ধমান সংকট সত্ত্বেও, জলবায়ু-প্ররোচিত বাস্তুচ্যুতদের স্বীকৃতি দেয় বা তাদের অধিকার রক্ষা করে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি বা নীতি কাঠামো নেই।

উৎস: ডেইলি স্টার। [লিঙ্ক]

৪,৫১২.
ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী কোনটি বায়ুপ্রবাহের দিক?
  1. দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে ও উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে
  2. উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের ডান দিকে
  3. উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
  4. উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী, "বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়।"
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু ও 
• অনিয়মিত বায়ু। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,৫১৩.
নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. ইরাবদী মায়ানমারের একটি নদী
  2. গােবী মরুভূমি ভারতে অবস্থিত
  3. থর মরুভূমি ভারতের পশ্চিমাংশে অবস্থিত
  4. সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশে অবস্থিত
ব্যাখ্যা
গোবি মরুভূমি:
- গোবি মরুভূমি (Gobi Desert) মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত একটি বিশাল মরুভূমি।
- মরুভূমিটির অবস্থান মঙ্গোলিয়া ও চীন - দুই দেশে বিস্তৃত।
- গোবি মরুভূমি দৈর্ঘ্য - ১০০০ মাইল (১৬০০ কিমি) এবং প্রস্থ - ৩০০ থেকে ৬০০ মাইল (৫০০ থেকে ১০০০ কিমি)।
- এই মরুভূমির আয়তন আনুমানিক ১৩ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।

অন্যদিকে,
• সাজেক ভ্যালি:
- সাজেক উপত্যকা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত।
- সাজেক উপত্যকা একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ।
- এটি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত।
- এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত।
- সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় রাঙ্গামাটির ছাদ।

এছাড়াও,
⇒ মরুভূমি ও এদের অবস্থান:
- থর মরুভূমি: ভারত ও পাকিস্তান।

⇒ ইরাবদী মিয়ানমারের দীর্ঘতম নদী। 

উৎস: Britannica.
৪,৫১৪.
সাগরকন্যা কোন এলাকার ভৌগোলিক নাম?
  1. টেকনাফ
  2. কক্সবাজার
  3. পটুয়াখালী
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা
সাগরকন্যা:
- পটুয়াখালী জেলাকে বলা হয় সাগরকন্যা।
- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি।
- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা।
- একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, পটুয়াখালী জেলার ওয়েবসাইট।
৪,৫১৫.
বঙ্গবন্ধু মানমন্দিরের অবস্থান কোথায়?
  1. ২৩.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা ও ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখার ছেদবিন্দুতে
  2. ২৩.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা ও ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যবিন্দুতে
  3. ২৩.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা ও ৯০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখার ছেদবিন্দুতে
  4. ২৩.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা ও ৯০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখার মধ্যবিন্দুতে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু মানমন্দির
- ২৩.৫ উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কট ক্রান্তি রেখা বলে।
- এ রেখাটি ১১টি জেলার ভেতর দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- এগুলো হল চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা , রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ , নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- ৯০ পূর্ব দ্রাঘিমারেখাও বাংলাদেশের উপর দিয়ে অতিক্রম করে।
- কর্কট ক্রান্তি(২৩.৫ উত্তর অক্ষরেখা) এবং ৯০ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ছেদ করেছে।
- এই ছেদবিন্দুতেই নির্মাণ করা হবে বঙ্গবন্ধু মানমন্দির।
- প্রতি বছর জুন মাসের ২১ তারিখ দুপুর ১২টার সময় কেউ যদি এই স্থানে দাঁড়ায় এবং আকাশে মেঘ না থাকে তাহলে আবিষ্কার করবে সূর্য ঠিক মাথার উপর এবং সেজন্য সেখানে তার কোনো ছায়া পড়ছে না। 

উল্লেখ্য, 
- পৃথিবীতে তিনটি পূর্ব পশ্চিম বিস্তৃত রেখা আছে, সেগুলো হলো কর্কট ক্রান্তি, মকর ক্রান্তি ও বিষুব রেখা।
- ঠিক এ রকম চারটি উত্তর দক্ষিণ বিস্তৃত রেখা আছে, সেগুলো হলো শূন্য ডিগ্রি, ৯০ ডিগ্রি, ১৮০ ডিগ্রি এবং ২৭০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা।
- চারটি উত্তর দক্ষিণ রেখা এবং তিনটি পূর্ব পশ্চিম রেখা, সব মিলিয়ে বারো জায়গায় ছেদ করেছে।
- ১২টি বিন্দুর ১০টি বিন্দুই পড়েছে সাগরে মহাসাগরে।
- এর মধ্যে শুধু দুইটি ছেদবিন্দু পড়েছে স্থলভাগে। এর একটি পড়েছে সাহারা মরুভূমিতে আর অন্য বিন্দুটি বাংলাদেশে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। 

তথ্যসূত্র- একটি স্বপ্ন, ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।
৪,৫১৬.
জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে কয় শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়?
  1. দুই শ্রেণিতে
  2. তিন শ্রেণিতে
  3. চার শ্রেণিতে
  4. ছয় শ্রেণিতে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনাঞ্চল (Forest of Bangladesh):
বনভূমি থেকে যে সম্পদ উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- কোনো দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।

⇒ বাংলাদেশের বনভূমি:
১)ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২) ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩) স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪,৫১৭.
নিম্নের কোন দেশটি ‘মেলানেশিয়া’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. টুভ্যালু
  2. সামোয়া
  3. ভানুয়াতু
  4. টোঙ্গা
ব্যাখ্যা

• মিলেনেশিয়া: 
"মেলানেশিয়া" শব্দটি গ্রীক থেকে এসেছে এবং এর অর্থ "কালো দ্বীপ"।
- মেলানেশিয়া দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি অঞ্চল যা প্রায় ২,০০০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
• এই অঞ্চলের দেশগুলো হলো:
১. পাপুয়া নিউগিনি,
২. সলোমন দ্বীপপুঞ্জ,
৩. ভানুয়াতু এবং
৪. ফিজি।

• ওশেনিয়া মহাদেশ:

- অঞ্চলভিত্তিক ওশেনিয়ার দেশসমূহ:
- অস্ট্রেলিয়া ১. অস্ট্রেলিয়া।
- নিউজিল্যান্ড- ১. নিউজিল্যান্ড।
- মাইক্রোনেশিয়া ১. মাইক্রোনেশিয়া, ২. কিরিবাতি ৩. নাউরু, ৪. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, ৫. পালাউ।
- বৃহত্তম দ্বীপ গুয়াম মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত, যার পরিমাপ ৫৬১ বর্গ কিমি।

• পলিনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- টোঙ্গা
- টুভ্যালু ও
- সামোয়া।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৪,৫১৮.
ভারতের কোন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে?
  1. পশ্চিমবঙ্গ
  2. মেঘালয়
  3. ত্রিপুরা
  4. আসাম
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমার ২টি দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের ৫টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়।
- ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো হলো: আসাম, মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুনাচল ও ত্রিপুরা। এদের মধ্যে ৪টির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। সেভেন সিস্টার্সভুক্ত মণিপুর, অরুণাচল ও নাগাল্যান্ড রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোনো সীমান্ত সংযোগ নেই।

• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি: ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার (রাঙামাটি, বান্দরবন ও কক্সবাজার) সীমান্ত রয়েছে।
- রাঙামাটি জেলায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তরেখা পরস্পরকে স্পর্শ করেছে। অর্থাৎ এটি তিনদেশের সীমান্ত যুক্ত হওয়া একটি সাধারণ জেলা।
- বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের সাথে কোন দেশের সীমান্ত সংযোগ নেই।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৪০৯৭ কিলোমিটার।
- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত দৈর্ঘ্য: ২২১৭ কিলোমিটার।
- অন্যদিকে আসাম (২৬৭.৫ কিলোমিটার), মেঘালয় (৪৪৩ কিমি), ত্রিপুরা (৮৫৬ কিলোমিটার)।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) PIB ওয়েবসাইট।

৪,৫১৯.
অবস্থান অনুসারে বাংলাদেশের টারশিয়ারি পাহাড়কে কত ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ২ ভাগে
  2. খ) ৪ ভাগে
  3. গ) ৫ ভাগে
  4. ঘ) ৮ ভাগে
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ,
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

অবস্থান অনুসারে বাংলাদেশের টারশিয়ারী পাহাড়কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা -
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়,
- উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়।

বাংলাদেশের মোট ভূমির,
- ১২% টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
- ৮% প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ এবং
- ৮০% সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫২০.
নিচের কোনটি ক্ষয়জাত সমভূমি?
  1. ক) সুন্দরবন
  2. খ) বরেন্দ্রভূমি
  3. গ) মেঘনা প্লাবিত সমভূমি
  4. ঘ) হাতিয়া
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অল্প উঁচু মৃদু ঢালবিশিষ্ট সুবিস্তৃত ভূমিকে সমভূমি বলে। উৎপত্তিগতভাবে সমভূমি সঞ্চয়জাত ও ক্ষয়জাত দু’ভাবে গঠিত।
- বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা উচ্চভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্ষয়জাত সমভূমি গঠিত হয়।
ক্ষয়জাত সমভূমির উদাহরণ:
- বরেন্দ্রভূমি
- মধুপুর ও ভাওয়াল গড়
- অ্যাপালেশিয়ান পাদদেশীয় সমভূমি
- ফিনল্যান্ড
- সাইবেরিয়া প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সুন্দরবন, হাতিয়া ও মেঘনা প্লাবিত সমভূমি হলো নদী দ্বারা সৃষ্ট সঞ্চয়জাত সমভূমি।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৫২১.
'লাল করিডোর' অঞ্চল চিহ্নিত হয় -
  1. বাংলাদেশে
  2. নেপালে
  3. ভুটানে
  4. ভারতে
ব্যাখ্যা
• 'লাল করিডোর' অঞ্চলটির অবস্থান ভারতে।

- ভারতের পূর্ব ও দক্ষিণের যেসব এলাকায় মাওবাদী বা নকশালপন্থীদের ব্যাপক তৎপরতা রয়েছে, সে এলাকা ‘লাল করিডর’ বলে পরিচিত।
- নকশালি গ্রুপ বলতে যা বোঝায়, তা হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মাওবাদী) সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ে গঠিত দল।
- তারা মাওবাদী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ শিবির ও গণ-আদালত পরিচালনা করে থাকে।
- গণ-আদালত হচ্ছে সরকারের অনুমোদনহীন আদালত, যেখানে মাওবাদীরা নিজস্ব নিয়মে বিচার পরিচালনা করে।
- ভারতে ১৯৬৭ সালে প্রণীত ‘বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধবিষয়ক আইন’ বলে নকশালদের সব ধরনের সংগঠন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ।
- ‘লাল করিডর’ যেসব রাজ্যের মধ্য দিয়ে গেছে, সেগুলো হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, ওডিশা, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র প্রদেশ ও উত্তর প্রদেশ।

সূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট [লিঙ্ক]।
৪,৫২২.
বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয় মোট বৃষ্টিপাতের-
  1. ৫০%
  2. ৬০%
  3. ৭০%
  4. ৮০%
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয় ৮০%।
- জুন থেকে অক্টোবর মাসে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় ৭০ থেকে ৮০%
‌- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালাখালে।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।
- বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার বা ২০৩০ মিলিমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৫২৩.
‘বেঙ্গল ফ্যান’-ভূমিরূপটি কোথায় অবস্থিত?
  1. টারশিয়ারি পাহাড়ে
  2. সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে
  3. সুন্দরবনে
  4. ভারত মহাসাগরে
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground):

- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বেঙ্গল ফ্যান ভূমিরূপটি পাওয়া যায় বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডটি বঙ্গোপসাগরের ১৪ কিলোমিটার প্রশস্ত গভীর সমুদ্রের উপত্যকা।
- এই উপত্যকার গভীরতম রেকর্ড করা অঞ্চলটি প্রায় ১৩৫০ মিটার।
- সাবমেরিন উপত্যকাটি বেঙ্গল ফ্যান বা বঙ্গ পাখার অংশ, বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন পাখা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪,৫২৪.
দিনের কোন নির্দিষ্ট সময়ে কিংবা বছরের কোন নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জলভাগ ও স্থলভাগের তাপের তারতম্যের জন্য সৃষ্টি হয় তাকে বলে-
  1. ক) নিয়ত বায়ু
  2. খ) সাময়িক বায়ু
  3. গ) স্থানীয় বায়ু
  4. ঘ) অনিয়মিত বায়ু
ব্যাখ্যা
দিনের কোন নির্দিষ্ট সময়ে কিংবা বছরের কোন নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জলভাগ ও স্থলভাগের তাপের তারতম্যের জন্য সৃষ্টি হয় তাকে সাময়িক বায়ু বলে। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৪,৫২৫.
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. চাঁদপুর
  3. বরিশাল
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট:
- গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং মেঘনা নদীর পলিতে গঠিত বাংলাদেশ।
- ১৯৪৮ সালে ঢাকার গ্রীণ রোডে “হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরি” প্রতিষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীনতার পরে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার “নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট” প্রতিষ্ঠা করে।
- ১৯৮৯ সালে ফরিদপুরে ৮৬ একর জমিতে এই প্রতিষ্ঠানটি নির্মিত হয়।
- অর্থাৎ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ফরিদপুর জেলায় অবস্থিত।

- ১৯৯০ সালের ৫৩ নং আইনের মাধ্যমে এটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এটি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে আলাদা হয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ফরিদপুর জেলা ওয়েবসাইট।
৪,৫২৬.
ট্রপোমণ্ডলে সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় কত তাপমাত্রা হ্রাস পায়?
  1. ৪.৫° সেলসিয়াস
  2. ৬.৫° সেলসিয়াস
  3. ৭.৫° সেলসিয়াস
  4. ৫.৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
ট্রপোমণ্ডল: 
- এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে। মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)।
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
(ক) ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়
(খ) উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়।
(গ) নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে।
(ঘ) ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমন্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে।
(ঙ) যে উচ্চতায় তাপমাত্রা বন্ধ হয়ে যায় তাকে ট্রপোবিরতি বলে। এখানে তাপমাত্রা-৫৪° সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,৫২৭.
বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ কোনটি?
  1. ক) কাওয়াখালি চ্যানেল
  2. খ) জালালাবাদ চ্যানেল
  3. গ) গাবখান চ্যানেল
  4. ঘ) রাবনাবাদ চ্যানেল
ব্যাখ্যা
• গাবখান চ্যানেলটি বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ যা বাংলার সুয়েজখাল নামে পরিচিত।
• গাবখান চ্যানেল বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত ।
• ঝালকাঠির সুগন্ধা-বিষখালী নদীর সাথে পিরােজপুরের সন্ধ্যা নদীর সংযােগ ঘটিয়েছে ১৬ কিমি দীর্ঘ এ গাবখান চ্যানেল।
• বাংলাদেশের ৩য় সমুদ্র বন্দর ‘পায়রা বন্দর’ পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, বালিয়াতলী, ধূলাসার, ধানখালী ও টিয়াখালী ইউনিয়নের অন্তর্গত রাবনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ঝালকাঠি জেলা ওয়েবসাইট।
৪,৫২৮.
নিচের কোন জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে?
  1. চাঁদ
  2. শুক্র
  3. ডিমোস
  4. লুব্ধক
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ ও ভূ-মন্ডল:
⇒মহাবিশ্বের মহাকাশে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, নীহারিকা, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ও উল্কা ইত্যাদিকে জ্যোতিষ্ক বলে।
-যে সকল জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে তাদেরকে নক্ষত্র বলে। যেমন: সূর্য, লুব্ধক, প্রক্সিমা সেন্টরাই।
- পৃথিবীর আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম হল লুব্ধক। লুব্ধক একটি জোড়া বা যুগ্মতারা।
উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে শুধু লুব্ধক এর নিজস্ব আলো আছে,
-বাকি অপশনের শুক্র একটি গ্রহ এবং চাঁদ ও ডিমোস দুইটি উপগ্রহ যারদের  নিজস্ব আলো নেই।


উল্লেখ্য,
-আলোকবিহীন জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলে। যেমন-পৃথিবী, সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়।
- গ্রহসমূহের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান নিজস্ব আলোকবিহীন জ্যোতিষ্ককে উপগ্রহ বলে। যেমন- চাঁদ, পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- ডিমোস এবং ফোবোস নামক মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ রয়েছে।
- মহাকাশে কখনও কখনও কোন জ্যোতিষ্ক কিছু দিনের জন্য দেখা যায় আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। এসব জ্যোতিষ্ক কে ধূমকেতু বলে। যেমন- হ্যালির ধূমকেতু।
- সুদূর আকাশে স্বল্প আলোকিত মেঘের মত আস্তরণকে নীহারিকা বলে। এগুলো আসলে হালকা গ্যাসের অতিকায় পিণ্ড।
- একটি নীহারিকার মাঝে কোটি কোটি নক্ষত্র থাকতে পারে।
- মেঘমুক্ত রাতের আকাশে কোটি কোটি নক্ষত্রকে উত্তর দক্ষিণে বিস্তৃত দীপ্তমান পথের মত দেখায় বলে একে ছায়াপথ বলে।
- মহাশূন্যের কোটি কোটি নক্ষত্র, ধূলিকণা ও বিশাল বাষ্পকুন্ডসহ নীহারিকার এক একটি দলকে বলা হয় গ্যালাক্সি।
- একটিমাত্র গ্যালাক্সিতেই প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি নক্ষত্র রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন।
- বিজ্ঞানীরা বিশ্বভ্রহ্মান্ডে কয়েক হাজার কোটি গ্যালাক্সির আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫২৯.
সমমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত নয় নিচের কোনটি?
  1. ট্রপোমন্ডল
  2. এক্সোমন্ডল
  3. মেসোমন্ডল
  4. স্ট্রাটোমন্ডল
ব্যাখ্যা

'এক্সোমন্ডল' সমমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত নয়।

বায়ুমন্ডলের স্তর বিন্যাস:

- বায়ুমন্ডল বিভিন্ন স্তরে স্তরে সজ্জিত।
- বায়ুমন্ডলের স্তরসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর থেকে উপরের দিকে ক্রমশ লঘু হয়।
- উলম্বভাবে (Vertically) বায়ুর তাপমাত্রার বিন্যাসের ভিত্তিতে বায়ুমন্ডলকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- ট্রপোমন্ডল,
- স্ট্রাটোমন্ডল,
- মেসোমন্ডল,
- তাপমন্ডল ও
- এক্সোমন্ডল।

উল্লেখ্য,
- বায়ুমন্ডলের উপরিউক্ত স্তরগুলোর মধ্যে প্রথম তিনটি (ট্রপোমন্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডল) সমমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত।
- শেষের দুইটি (তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল) বিষমমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত।



উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৩০.
কর্ণফুলির প্রধান উপনদী -
  1. ক) হালদা
  2. খ) কাসালং
  3. গ) বোয়ালখালি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী
• কর্ণফুলী নদী আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এরপর রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এটি চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান নদী।
• এ নদীর দৈর্ঘ্য ২৭৪ কিলোমিটার। কর্ণফুলির প্রধান উপনদী কাসালং, হালদা ও বোয়ালখালি
• রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
• দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৩১.
বিশ্বের চিনির ভান্ডার নামে কোন দেশটি পরিচিত?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. গাম্বিয়া
  3. কিউবা
  4. প্যারাগুয়ে
ব্যাখ্যা
ভৌগলিক উপনাম: 
- বিশাল আখ চাষ, ঐতিহাসিক চিনি উৎপাদন, ও রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতির কারণে কিউবাকে “বিশ্বের চিনি ভাণ্ডার” বলা হয়।
- কিউবার প্রধান অর্থকরী ফসল: আখ।
- কিউবার প্রধান কৃষিপণ্য হলো আখ।
- দেশটির উষ্ণ আবহাওয়া ও উর্বর মাটি আখ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- ১৮শ ও ১৯শ শতাব্দীতে কিউবা ছিল বিশ্বের বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী দেশ।
- উপনিবেশিক যুগে স্প্যানিশরা কিউবায় ব্যাপকভাবে আখ চাষ শুরু করে এবং তা ইউরোপে রপ্তানি করত।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪,৫৩২.
বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. ক) জানুয়ারি
  2. খ) মার্চ
  3. গ) এপ্রিল
  4. ঘ) জুলাই
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস : এপ্রিল
- শীতলতম মাস : জানুয়ারি
- বৃষ্টিবহুল মাস : জুলাই
- উষ্ণতম স্থান : লালপুর (নাটোর)
- শীতলতম স্থান : শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)।
(তথ্যসূত্রঃ নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়)
৪,৫৩৩.
বাংলাদেশের সঙ্গে নিম্নলিখিত কোন দেশের Maritime boundary বিদ্যমান রয়েছে?
  1. ক) মিয়ানমার
  2. খ) থাইল্যান্ড
  3. গ) নেপাল
  4. ঘ) দক্ষিণ কোরিয়া
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সাথে সমুদ্রসীমা আছে দুটি দেশেরঃ ভারত এবং মিয়ানমার। তাদের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে কয়েকবছর আগে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয় নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত Permanent Court Arbitration (PCA) বা স্থায়ী সালিশী আদালতে। ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ এ আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালত শুনানি শেষে ৭ জুলাই ২০১৪ রায় প্রদান করে। এতে বিরোধপূর্ণ ২৫,৬০২ বর্গ কিমি সমুদ্রসীমার মধ্যে বাংলাদেশ ১৯,৪৬৭ এবং ভারত ৬,১৩৫ বর্গকিমি এলাকা পায়। এর আগে ২০১২ সালে ১৪ই মার্চ ITLOS বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্রসীমার রায় প্রদান করে। Permanent Court Arbitration (PCA) ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদস্য সংখ্যা ১২২ টি। বাংলাদেশ ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল এর সদস্য হয়।

উৎসঃ মাধ্যমিক ভূগোল

৪,৫৩৪.
আরব উপদ্বীপ এশিয়া মহাদেশের কোন দিকে অবস্থিত?
  1. ক) উত্তর পশ্চিম
  2. খ) পশ্চিম
  3. গ) উত্তর পূর্ব
  4. ঘ) দক্ষিণ পূর্ব
ব্যাখ্যা
- আরব উপদ্বীপ বিশ্বের বৃহত্তম উপদ্বীপ।
- এর আয়তন প্রায় ১২.৫ লক্ষ বর্গমাইল।
- জর্ডান ও ইরাকসহ এতে নয়টি দেশ অবস্থিত। এর মধ্যে আয়তনে বৃহত্তম দেশ সৌদি আরব এবং ক্ষুদ্রতম বাহরাইন।
- এটি এশিয়া মহাদেশের পশ্চিম দিকে অবস্থিত

সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৪,৫৩৫.
’গ্রিনল্যান্ড’ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. এন্টার্কটিকা মহাসাগর
  2. আর্কটিক মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
• গ্রিনল্যান্ড :
- গ্রিনল্যান্ড হল বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ। 
- বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটি তার বিশাল হিমবাহের জন্য পরিচিত।
- এটি আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- রাজধানী: নুউক।
- অফিসিয়াল ভাষা: গ্রিনল্যান্ডিক (ড্যানিশ এবং ইংরেজিও সাধারণত কথ্য)
- গ্রিনল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক অংশ গ্রিনল্যান্ডের জাতীয় উদ্যান হিসেবে সুরক্ষিত।

উৎস: National Geographic Kids,
৪,৫৩৬.
সম্প্রতি বিশ্ববিখ্যাত ২৫টি ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের কোন স্থানটি?
  1. ক) বাগেরহাট
  2. খ) বরগুনা
  3. গ) সাতক্ষীরা
  4. ঘ) চট্রগ্রাম
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন স্থাপনার জন্য বিশ্ববিখ্যাত ২৫টি ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদের শহর বাগেরহাট।
- মসজিদের শহর বাগেরহাট এ তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশের একমাত্র স্থান। 
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির মুখে থাকা সাংস্কৃতিকভাবে উল্লেখযোগ্য এসব স্থানের তালিকা করেছে ‘ওয়ার্ল্ড মনুমেন্টস ওয়াচ’।
- ওয়ার্ল্ড মনুমেন্টস ওয়াচ মূলত ওয়ার্ল্ড মনুমেন্টস ফান্ড (ডব্লিউএমএফ) দিয়ে পরিচালিত একটি প্রকল্প।
- বিশ্বজুড়ে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ যেসব স্থান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ভারসাম্যহীন পর্যটন ও কম প্রচারের কারণে পিছিয়ে পড়ছে; সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে সহায়তা দেওয়া এবং এসব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে ডব্লিউএমএফ।
- সম্প্রতি ডব্লিউএমএফ ২০২২ সালের এ তালিকা প্রকাশ করেছে।
- ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতি দুই বছর পরপর তারা এ তালিকা প্রকাশ করে আসছে। 

তথ্যসূত্র- সাম্প্রতিক সমাচার এপ্রিল ২০২২।
৪,৫৩৭.
দক্ষিণ গোলার্ধে শীতলতম মাস কোনটি?
  1. জানুয়ারি
  2. এপ্রিল
  3. জুলাই
  4. নভেম্বর
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ গোলার্ধ্য: 

- দক্ষিণ গোলার্ধতে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশগুলো অবস্থিত।
- এছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল প্রভৃতি দেশ সহ কিছু অঞ্চল এই অংশে অবস্থিত।
- ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- ২১ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও সবচেয়ে বড় রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস - জানুয়ারি এবং শীতলতম মাস জুলাই।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com & Britannica.com
৪,৫৩৮.
ময়মনসিংহের পূর্বনাম কী ছিল?
  1. ক) নসিরাবাদ
  2. খ) ইসলামাবাদ
  3. গ) বিক্রমপুর
  4. ঘ) পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানের পূর্বনাম:
মুন্সীগঞ্জের পূর্বনাম - বিক্রমপুর
বগুড়ার পূর্বনাম - পুণ্ড্রনগর
বাগেরহাটের পূর্বনাম - খলিফাবাদ
খুলনার পূর্বনাম - জাহানাবাদ
বরিশালের পূর্বনাম - চন্দ্রদ্বীপ/ ইসমাইলপুর
চট্টগ্রামের পূর্বনাম - ইসলামাবাদ
ময়মনসিংহের পূর্বনাম - নসিরাবাদ
৪,৫৩৯.
'শুভলং ঝর্ণা' কোথায় অবস্থিত?
  1. বাঘাইছড়ি
  2. বিলাইছড়ি
  3. লংগদু
  4. বরকল
ব্যাখ্যা
শুভলং ঝর্ণা:
- শুভলং ঝর্ণা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলায় অবস্থিত।
- রাঙ্গামাটি সদর হতে শুভলং ঝর্ণার দুরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার।
- শুকনো মৌসুমে শুভলং ঝর্নায় খুব সামান্য পানি থাকে।
- বর্ষা মৌসুমে শুভলং ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে কাপ্তাইয়ের জলে গিয়ে মেশে।

উল্লেখ্য,
- রাঙামাটির অন্যান্য কিছু দর্শনীয় স্থান- হ্রদ, চাকমা রাজবাড়ি, রাজবন বৌদ্ধ বিহার, পর্যটন ঝুলন্তত ব্রিজ, ফুরামোন পর্বত, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ও জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৪০.
The waterfall 'Victoria' is on the river _________.
  1. ক) Amazon
  2. খ) Missouri
  3. গ) St Lawrence
  4. ঘ) Zambezi
ব্যাখ্যা
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত আফ্রিকা মহাদেশের দুটি দেশ জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের সীমানায় অবস্থিত পৃথিবীর দীর্ঘতম জলপ্রপাত।
- দুই দেশের সীমান্তবর্তী নদী ‘জাম্বেজি’ থেকেই এর উৎপত্তি। 
- পানি পড়ার সময় প্রচণ্ড আওয়াজ হয় বলে এর স্থানীয় নাম ‘মোজি-ওয়া-তুনিয়া’। 
- উচ্চতা প্রায় ১০৮ মিটার এবং চওড়ায় প্রায় ১,৭০৩ মিটার। 
- প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯৩৫ ঘনমিটার পানি নিচে গড়িয়ে পড়ে। 
- ১৮৫৫ সালে ব্রিটিশ অভিযাত্রী ডেভিড লিভিংস্টোন জলপ্রপাতটি দেখে এর নামকরণ করেন রাণী ভিক্টোরিয়ার নামে। 
- সে সময় থেকেই ভিক্টোরিয়া ফলস নামে পরিচিতি পায়। 
- ২০১৩  সালে জিম্বাবুয়ে সরকার পুনরায় এর নামকরণ করে ‘মোজি-ওয়া-তুনিয়া ফলস’। 
- জলপ্রপাতের অন্যতম আকর্ষণীয় দৃশ্য এখানকার জলীয়বাষ্পে আলো পড়ে রংধনুর সৃষ্টি হওয়া। 
- ১৯৮৯ সালে ইউনেসকো ‘ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত’ এবং ‘মোজি-ওয়া-তুনিয়া জলপ্রপাত’ উভয় নামেই বিশ্ব ঐতিহ্যর অন্তভুক্ত করে।
 
উৎস: Britannica.
৪,৫৪১.
পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটে তাকে কী বলে? 
  1. ঘূর্ণি বৃষ্টি
  2. পরিচলন বৃষ্টি
  3. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  4. মৌসুমি বৃষ্টি
ব্যাখ্যা

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain):
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি গমনপথে কোনো উঁচু পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায়, তাহলে ঐ বায়ু উপরের দিকে উঠে যায়। তখন জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ক্রমশ প্রসারিত হয় এবং পর্বতের উঁচু অংশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward slope) বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।

• পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain):
- দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে। এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।

• বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি (Frontal Rain):
- শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি উপস্থিত হলে উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু একে অপরের সঙ্গে মিশে না গিয়ে তাদের মধ্যবর্তী এলাকায় অদৃশ্য বায়ুপ্রাচীরের (Front) সৃষ্টি করে।
- সংলগ্ন এলাকায় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় ফলে শিশিরাঙ্কের সৃষ্টি হয়। ফলে উভয় বায়ুর সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটে, একে বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি বলে।

• ঘূর্ণি বৃষ্টি (Cyclonic Rain):
- কোনো অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে জলভাগের উপর থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ এবং স্থলভাগের উপর থেকে শুষ্ক শীতল  - বায়ু ঐ একই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে অনুভূমিকভাবে ছুটে আসে।
-  বায়ু ভারী বলে উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর উপর ধীরে ধীরে উঠতে থাকে।
- জলভাগের উপর থেকে আসা উষ্ণ বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে।
- ঐ বায়ু শীতল বায়ুর উপরে উঠলে তার ভিতরে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে ঘূর্ণি বৃষ্টি বলে।
- এই বৃষ্টিপাত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শীতকালে এরূপ বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৫৪২.
নিচের কোন স্থানীয় বায়ুটির উৎপত্তি আরব মালভূমি থেকে?
  1. ক) বোরো
  2. খ) খামসিন
  3. গ) সাইমুম
  4. ঘ) চিনুক
ব্যাখ্যা
- কোন স্থানের তাপ ও চাপের পার্থক্যের কারণে স্থানীয়ভাবে যে বায়ু প্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে স্থানীয় বায়ু বলে।
বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় বায়ু:
- সাইমুম : আরব মালভূমি থেকে উৎপন্ন স্থানীয় বায়ু।
- চিনুক : রকি পর্বতের মাঝামাঝি এলাকায় প্রবাহিত
- খামসিন : মিশরীয় স্থানীয় বায়ু
- সিরক্কো : সাহারা ও লিবিয়া
- বোরো : আড্রিয়াটিক সাগর।
- লু : ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয় বায়ু।

(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৫৪৩.
নিচের কোনটি পাললিক শিলা?
  1. ক) বেলেপাথর
  2. খ) কাঁকর
  3. গ) ব্যাসল্ট
  4. ঘ) বালি
ব্যাখ্যা
বেলেপাথর, কয়লা,শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর, কেওলিন পাললিক শিলার উদাহরণ। জীবদেহ থেকে উৎপন্ন হয় বলে কয়লা ও খনিজ তেলকে জৈব শিলাও বলে। (রেফারেন্স - বাংলাপিডিয়া)
৪,৫৪৪.
হিম শৈল কী?
  1. কৃত্রিমভাবে জমাট বাঁধা বরফ
  2. হিমালয় চূঁড়ায় জমাট বাঁধা বরফ
  3. সমুদ্রস্রোতে ভেসে আসা বিশাল বরফখন্ড
  4. গ্রিনল্যান্ডে জমাট বাঁধা রবফ
ব্যাখ্যা
হিম শৈল:

- শীতল সমুদ্র স্রোতের গতিপথে যেসব হিমশৈল ভেসে আসে সেগুলোর কারণে জাহাজ চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়।
- কিন্তু উষ্ণ স্রোতের কারণে আটলান্টিক মহাসাগরের উভয় উপকূল ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ।
- যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ ১৯১২ সালে হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে প্রথম যাত্রাতেই সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিল। 

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৪৫.
তারুয়া দ্বীপ বাংলাদেশের কোথায় অবস্থিত?
  1. নোয়াখালী
  2. ভোলা
  3. কক্সবাজার
  4. বরগুনা
ব্যাখ্যা
তারুয়া দ্বীপ: 
- তারুয়া দ্বীপ বাংলাদেশের ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের দক্ষিণে অবস্থিত একটি সমুদ্র সৈকত।
- প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর আগে সাগরে জেগে ওঠা এই দ্বীপটি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
- এখানে হরিণ, বন্য মহিষ, বানর, লাল কাঁকড়াসহ বিভিন্ন প্রাণীর বসবাস রয়েছে।  

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপ: 
নিঝুম দ্বীপ:
- নিঝুম দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত একটি ছোট দ্বীপ।
- এটি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত।
- একসময় এটিকে বলা হতো চর ওসমানী, বালুয়ার চর, গোল্ডেন আইল্যান্ড
- নিঝুম দ্বীপ মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত।

মনপুরা দ্বীপ:
- মনপুরা দ্বীপ হচ্ছে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর এলাকার উত্তরদিকে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি দ্বীপ।
- এটি ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় কিছুটা অংশ জুড়ে অবস্থিত।
- এই দ্বীপের আয়তন ৩৭৩ বর্গ কিলোমিটার।

এছাড়াও, 
- বরিশাল বিভাগে অবস্থিত বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা, যা দ্বীপ জেলা নামে পরিচিত।
- এই জেলার পূর্ব নাম দক্ষিণ শাহবাজপুর। 

সূত্র: বাসস ও প্রথম আলো। 
৪,৫৪৬.
সুনীল অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ নয় কোনটি?
  1. ক) অপরিকল্পিত ট্যুরিজম
  2. খ) দুর্বল সমুদ্র ব্যবস্থাপনা
  3. গ) পরিকল্পিত মৎস শিকার
  4. ঘ) সামুদ্রিক দূষণ
ব্যাখ্যা
- ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি হচ্ছে সমুদ্র সম্পদনির্ভর অর্থনীতি। সাগরের জলরাশি ও এর তলদেশের বিশাল সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি। 
- ব্লু ইকোনমি সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন বেলজিয়ামের অর্থনীতিবিদ গ্রুন্টার পাউলি।
- ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথম এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

- পরবর্তীতে ২০১০ সালে তার ব্লু ইকোনমি বইয়ে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
- তবে বৈশ্বিকভাবে ২০১২ সালের ২০-২২ জুন রিও ডি জেনেরিও শহরে অনুষ্ঠিত রিও+২০ সম্মেলনে ব্লু ইকোনমি ধারণাটি গুরুত্ব লাভ করে।
- বিশ্বব্যাংক আধুনিক ব্লু ইকোনোমির সংজ্ঞায় বলেছে - ব্লু ইকোনোমি হলো টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সামুদ্রিক পরিবেশের সুরক্ষা করে সমুদ্রের ব্যবহারযোগ্য সকল ধরণের সম্পদ সঠিকমাত্রায় ব্যবহার করা। এখানে, ইকোনোমি শুধু ব্যবসায়িক দিক বুঝায় না, বরং সমুদ্রের জীবন্ত প্রাণীদের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখাও বুঝায়।
- ২০১৪ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমারের নিকট থেকে সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর বঙ্গোপসাগরে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ব্লু ইকোনমির বড় অংশীদার হয়।  বিশাল সমুদ্রজয়ের পর সমুদ্র অর্থনীতি ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু হয় বাংলাদেশের।
- বাংলাদেশের 'ব-দ্বীপ পরিকল্পনা - ২১০০' বাস্তবায়নে ব্লু ইকোনমির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্লু ইকোনোমির চ্যালেঞ্জসমূহ:
- শক্তিশালী সমুদ্রনীতির অভাব
- দুর্বল সমুদ্র ব্যবস্থাপনা
- সামুদ্রিক দূষণ
- অপরিকল্পিত উপকূলীয় উন্নয়ন
- প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির অভাব
- অপরিকল্পিত মৎস শিকার
- অপরিকল্পিত ট্যুরিজম ইত্যাদি।
 

উৎস: SDG ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট (আর্টিকেল), ফিন্যানসিয়াল এক্সপ্রেস রিপোর্ট।
৪,৫৪৭.
কোন শিলা মানুষের দৈনন্দিন কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) আগ্নেয়
  2. খ) পাললিক
  3. গ) রূপান্তরিত
  4. ঘ) খনিজ
ব্যাখ্যা
• পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাই পাললিক শিলা। পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়।
- পাললিক শিলা ভূ-ত্বকের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ। তবে মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের উন্মুক্ত অংশের প্রায় ৭৫ ভাগই পাললিক শিলায় গঠিত।
- স্তরীভূত, জীবাশ্ম বিশিষ্ট, অকেলাসিত, তরঙ্গচিহ্ন ও কোমলতা এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- পাললিক শিলা তিন প্রকার।
- মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পাললিক শিলা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৪৮.
ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় তাকে কী বলে?
  1. সমোষ্ণ রেখা
  2. সমচাপ রেখা
  3. সমবর্ষণ রেখা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সমরেখ পদ্ধতি:
- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

উল্লেখ্য,
সমোষ্ণ রেখা (Isotherm line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

সমচাপ রেখা (Isobar line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line):
- সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

সূত্র: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৪৯.
হিমালয় পর্বতমালা কোন দুটি ভূ-তাত্ত্বিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ইউরেশীয় এবং আফ্রিকান
  2. ভারতীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয়
  3. ইউরেশীয় এবং ভারতীয়
  4. আফ্রিকান এবং অ্যান্টার্কটিক 
ব্যাখ্যা

হিমালয় পর্বতমালা:
- হিমালয় এশিয়ার একটি পর্বতমালা।
- এটি অনেকগুলো পর্বতের সমন্বয়ে গঠিত যা তিব্বতীয় মালভূমি থেকে ভারতীয় উপমহাদেশকে পৃথক করেছে।
- ভূ-তত্ত্ববিদদের ধারণা অনুযায়ী, ভারতীয় প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে হিমালয় সৃষ্টি হয়েছে।
- বিশ্বের তিনটি প্রধান নদী- সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গার উৎপত্তি হয়েছে এই পর্বতমালা থেকেই।
- হিমালয়ের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম মাউন্ট এভারেস্ট। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এভারেস্টের উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার বা ২৯,০৩২ ফুট।

উল্লেখ্য,
- হিমালয় পর্বতমালার উত্তর-পশ্চিমে হিন্দুকুশ এবং কারাকোরাম পর্বতমালা এবং উত্তরে তিব্বতের উচ্চ ও বিশাল মালভূমি অবস্থিত ।
- হিমালয় পর্বতমালা মূলত ভারত, চীন, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান এই দেশগুলতে বিস্তৃত ।

উৎস: i) Britannica।
ii) National Geographic।

৪,৫৫০.
পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশীয় ভূখণ্ড (supercontinent) কী নামে পরিচিত?
  1. প্যারাশিয়া
  2. প্যানজিয়া
  3. মেসোজোয়িক
  4. পেলিওজয়িক
ব্যাখ্যা
বৃহত্তম মহাদেশীয় ভূখণ্ড (supercontinent):
- পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশীয় ভূখণ্ড (supercontinent) প্যানজিয়া (Pangaea) নামে পরিচিত।

- বিজ্ঞানী ওয়েগনারের মতে, ইন্ডিয়া, সাউথ আমেরিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা একসঙ্গে জড়ো হয়ে গন্ডোয়ানাল্যান্ড গঠন করে।
- নর্দান আমেরিকা, ইউরোপ, নর্থ ও মিড এশিয়া লরেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
- এই দুই ভূখণ্ড গন্ডোয়ানাল্যান্ড ও লরেশিয়া মিলে যে সুবিশাল স্থলভাগ গঠন করেছিল সেটির নামই প্যানজিয়া।
- এই প্যানজিয়াই হলো বর্তমানকালের দৃশ্যমান মহাদেশগুলোর আদি-অকৃত্রিম রূপ।
- আলফ্রেড ওয়েগনার এই প্যানজিয়াকে ঘিরে থাকা বিশাল জলভাগের নামকরণ করেছিলেন প্যানথালাসা।
- এটি প্রাচীনকালকার একটি বৃহৎ ভূতাত্ত্বিক মহাদেশ ছিল, যা বর্তমানে পৃথক পৃথক মহাদেশে বিভক্ত হয়ে গেছে।
- প্যানজিয়া (Pangea) প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন বছর আগে একত্রিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন মহাদেশের বিচ্ছেদ ঘটে, যার ফলস্বরূপ বর্তমানের মহাদেশগুলো সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- একটি সুপারকন্টিনেন্ট হলো এমন এক ভূমিভাগ যা পৃথিবীর অধিকাংশ বা সবগুলো ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত।
- এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, বর্তমান আফ্রিকা ও ইউরেশিয়া মহাদেশগুলি একত্রে গঠন করা ভূমিভাগও একটি সুপারকন্টিনেন্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
- পৃথিবীর সর্বশেষ সুপারকন্টিনেন্ট Pangea ছিল, যা পৃথিবীর প্রধান ভূখণ্ডগুলির প্রায় সবগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছিল এবং এটি সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত সুপারকন্টিনেন্ট।

(A supercontinent is a landmass made up of most or all of Earth's land. By this definition, the landmass formed by present-day Africa and Eurasia could be considered a supercontinent. The most recent supercontinent to incorporate all of Earth's major—and perhaps best-known—landmasses was Pangea.)

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইট।
৪,৫৫১.
জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০ এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে জলবায়ু সুরক্ষার জন্য প্রতিবছর কত অর্থ সংগ্রহ (mobilise) করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
  2. ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
  3. ১.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
  4. ১.৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
ব্যাখ্যা

• COP:
- COP এর পূর্ণরূপ Conference of the Parties.
- জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের রূপরেখা।
- COP সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন UNFCCC এর দেশগুলো।
- COP-28 অনুষ্ঠিত হয় ৩০ নভেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এ ।
-  COP-29 অনুষ্ঠিত হয় আজারবাইজানের বাকু তে ১১ নভেম্বর - ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ।
- সর্বশেষ, COP-30 অনুষ্ঠিত হয়েছে বেলেম, ব্রাজিল(১০-২১ নভেম্বর, ২০২৫ সাল)।
- ২০২৬ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ আয়োজন করতে যাচ্ছে তুরস্ক।

• জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০ এর অর্জন ও লক্ষ্যমাত্রা:
- বৃহৎ অর্থায়ন: জলবায়ু রক্ষায় ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতি বছর ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার জোগাড় করা।
- অভিযোজন খাতে সহায়তা: জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য অর্থায়ন ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বিগুণ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তিনগুণ করা।
- নতুন উদ্যোগ: জলবায়ু লক্ষ্য বাস্তবায়নে গতি আনতে Global Implementation Accelerator এবং Belém Mission to 1.5°C নামে নতুন উদ্যোগ শুরু করা।
- Belém Gender Action Plan গৃহীত: জলবায়ু সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী ও মেয়েদের কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিশ্চিত করা।
- Tropical Forests Forever Fund: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে, ৫৩টি দেশ এতে যুক্ত হয়েছে, এবং মোট তহবিলের ২০ শতাংশেরও বেশি সরাসরি আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় কমিউনিটির জন্য বরাদ্দ।

উৎস:
i) UN News. 
ii) UNFCCC website.

৪,৫৫২.
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কে মোট কতটি লক্ষ্য (Target) নির্ধারিত হয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কে মোট ৭টি লক্ষ্য (Target) নির্ধারিত হয়েছে।

• সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:

- ২০১৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-২০৩০ গৃহীত হয়।
- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়।

সূত্র: জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয়।
৪,৫৫৩.
নিচের কোন দেশটি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত নয়?
  1. চিলি
  2. বলিভিয়া
  3. পর্তুগাল
  4. ইকুয়েডর
ব্যাখ্যা
- পর্তুগাল ইউরোপে অবস্থিত।

পর্তুগাল:
- পর্তুগালের ভূমধ্যসাগর বরাবর উপকূলরেখা নেই।
- পর্তুগাল আইবেরিয়ান উপদ্বীপের পশ্চিম উপকূলে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত।
- এর আয়তন ৯২,২২৫ বর্গ কিমি।
- দেশটির রাজধানী: লিসবন।
- প্রশাসনিকভাবে, অ্যাজোরস এবং মাদেইরার আটলান্টিক দ্বীপপুঞ্জ পর্তুগালের অংশ।

অন্যদিকে:
- বলিভিয়া, চিলি, ইকুয়েডর - দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত। 

উৎস: Worldatlas.com & Britannica.com.
৪,৫৫৪.
পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি হলো-
  1. উপত্যকা
  2. সমভূমি
  3. মালভূমি
  4. মরুভূমি
ব্যাখ্যা
মালভূমি:
- মালভূমি হলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং সমতল বা কিছুটা ঢালু একটি বিস্তৃত ভূখণ্ড।
- এটি চারপাশের এলাকা থেকে অনেকটা উঁচুতে অবস্থিত,
- কিন্তু তার উপরের পৃষ্ঠ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমতল বা ঢালু হয়।

অপরদিকে,
- উপত্যকা হল পাহাড় বা পর্বতমালার মধ্যে অবস্থিত একটি দীর্ঘায়িত নিম্নভূমি অঞ্চল।
- যা সাধারণত একটি নদী বা স্রোত ধারণ করে।
- হ্রদ হল একটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট, অপেক্ষাকৃত বড় জলের অংশ যা শুষ্ক ভূমি দ্বারা বেষ্টিত একটি অববাহিকায় স্থানান্তরিত হয়।
- মরুভূমি বলতে বোঝায় অত্যন্ত শুস্ক, বৃষ্টিবিরল ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বালি দিয়ে আবৃত অঞ্চল। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৪,৫৫৫.
বাবেল মান্দেব প্রণালী কোন দুইটি সাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. পার্সিয়ান উপসাগর ও আন্দামান সাগর
  2. লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর
  3. লোহিত সাগর ও আন্দামান সাগর
  4. আরব উপসাগর ও বঙ্গোপসাগর
ব্যাখ্যা

বাবেল মান্দেব প্রণালী:
- বাবেল মান্দেব প্রণালী এশিয়া মহাদেশ এবং আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে পৃথকীকরণের জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করে। 
- এই প্রণালীটি আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী একটি প্রণালী। 
- এটি দুই মহাদেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা সঠিকভাবে তাদের বিভক্ত করে।
- এর অবস্থান: ইয়েমেন (আরব উপদ্বীপ) এবং ডিজিবুতি‑ইথিওপিয়ার অংশ (আফ্রিকা)।
- আরবী বাব এল মান্দেবের অর্থ দুর্দশার দুয়ার।
- ইংরেজিতে প্রণালীটিকে কখনও কখনও মান্দাব প্রণালী হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- বাব এল মান্দেব লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল হয়ে ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে কাজ করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪,৫৫৬.
খরা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের কৃষি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. উত্তর পশ্চিমাঞ্চল 
  2. পূর্ব দক্ষিণাঞ্চল
  3. পশ্চিম দক্ষিণাঞ্চল
  4. মধুপুর অঞ্চল
ব্যাখ্যা

ফসল উৎপাদনে খরার প্রভাব:
- বাংলাদেশে ফসল উৎপাদনে খরা অন্যতম একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
- ফসলের বৃদ্ধি পর্যায়ে গড় বৃষ্টিপাতের অভাবে মাটিতে পানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়।
- কম বৃষ্টিপাত ও অধিক হারে মাটি থেকে পানি বাষ্পীভূত হওয়ার ফলে কৃষিক্ষেত্রে খরার প্রভাব দেখা দেয়।
- দেশে প্রতি বছর ৩০-৪০ লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার খরায় কবলিত হয়ে থাকে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু অংশে তীব্র খরা প্রবণ এলাকা।
রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার কিছু অংশ মাঝারি খরাপ্রবণ এলাকা।
তবে বর্তমানে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা অববাহিকায় খরার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

৪,৫৫৭.
কোন দেশকে মার্বেলের দেশ বলা হয়?
  1. ক) কানাডা
  2. খ) ইতালি
  3. গ) কোরিয়া
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা

- ইতালি কে বলা হয় মার্বেলের দেশ। এছাড়া ইতালিকে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্রও বলা হয়।
- ইতালি ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকাকে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র বলা হয়।

৪,৫৫৮.
উত্তর আমেরিকা মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে আলাস্কা কোন প্রণালী দ্বারা এশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন?
  1. জিব্রাল্টার প্রণালী
  2. ডেনমার্ক প্রণালী
  3. ইংলিশ চ্যানেল
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

উত্তর আমেরিকা: 
- উত্তর আমেরিকা হলো বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ।
- এর অধিকাংশ অঞ্চল আর্কটিক সার্কেল এবং কর্কটক্রান্তির মধ্যে অবস্থিত।
- মহাদেশটি উত্তরে আর্কটিক মহাসাগর, পূর্বে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণে ক্যারিবিয়ান সাগর এবং পশ্চিমে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর দ্বারা সীমাবদ্ধ।

- উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব দিকে, গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ড নামের দুটি বড় দ্বীপ আছে। এই দ্বীপগুলোকে মূল ইউরোপীয় দেশ ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রণ করে। এই দ্বীপগুলোকে মহাদেশের মূল অংশ থেকে আলাদা করেছে একটি জলরাশি, যাকে ডেনমার্ক প্রণালী বলা হয়।
- আর উত্তর আমেরিকা মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে, আলাস্কা নামের অংশটি এশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে খুব সরু বেরিং প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। 

- উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো মাউন্ট ম্যাককিনলে (ডেনালি);
- এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০,৩১০ ফুট (৬,১৯০ মিটার)।
- আর সর্বনিম্ন স্থান হলো ডেথ ভ্যালি, ক্যালিফোর্নিয়া, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৮২ ফুট (৮৬ মিটার) নীচে অবস্থিত।
- এই মহাদেশের বিখ্যাত জলপ্রপাত হলো নায়াগ্রা জলপ্রপাত, যা নায়াগ্রা নদীর উপর অবস্থিত এবং উত্তর-পূর্ব উত্তর আমেরিকার অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান।

- উত্তর আমেরিকার বৃহত্তম দেশ (আয়তনে) হলো কানাডা, এবং জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র।
- আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় দিক থেকে ক্ষুদ্রতম দেশ হলো সেন্ট কিটস এবং নেভিস।

- মহাদেশে মোট ২৩টি স্বাধীন দেশ অবস্থিত, যেগুলোকে তিনটি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা যায়:
• উত্তর আমেরিকা: ৩টি দেশ – মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা।

• মধ্য আমেরিকা: ৭টি দেশ – এল সালভেদর, হন্ডুরাস, বেলিজ, গুয়াতেমালা, নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা, পানামা। 

• ক্যারিবিয়ান অঞ্চল: ১৩টি দেশ – বাহামা, বার্বাডোস, কিউবা, ডোমিনিকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, গ্রানাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারমুডা।

উৎস: World Atlas ও Britannica. 

৪,৫৫৯.
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিম্নের কোন পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ সবচেয়ে ফলপ্রসূ হবে?
  1. ক) কমিউনিটি পর্যায়ে
  2. খ) জাতীয় পর্যায়ে
  3. গ) উপজেলা পর্যায়ে
  4. ঘ) আঞ্চলিক পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
জাতীয়, উপজেলা বা আঞ্চলিক পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেয়ে কমিউনিটি পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা সবচেয়ে বেশি ফলপ্রস্যু হবে।
ব্যক্তি পর্যায়ে মানুষকে সচেতন করার চেয়ে দলগতভাবে মানুষকে সচেতন করা হলে সেটি অধিক ফলপ্রসূ হয়।
৪,৫৬০.
কোথায় ‘বেঙ্গল ফ্যান’ ভূমিরূপটি অবস্থিত?
  1. সিলেট অঞ্চলে
  2. বঙ্গোপসাগরে 
  3. হিমালয়ের পাদদেশে
  4. চট্টগ্রাম পাহাড়ের পাদদেশে
ব্যাখ্যা
• গঙ্গা গিরিখাত:
- বঙ্গোপসাগরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিরূপ হলো গঙ্গা অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of no Ground) নামে পরিচিত।
- এটি একটি অত্যন্তখাড়া তীর বিশিষ্ট সামুদ্রিক গিরিখাত, যা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রলম্বিত হয়ে বঙ্গোপসাগরের গভীর তলদেশের সাথে মিশেছে।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড জোয়ার- ভাটা, পললের গতিবিধি ও অবক্ষেপন, পানির গতি-প্রকৃতি প্রভৃতির উপর প্রভাব বিস্তার করে।
- গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীবাহিত পলি সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের মধ্য দিয়ে টারবিডিটি স্রোতের মাধ্যমে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার দক্ষিণে নিয়ে আসে।
- এ পলি মিশ্রিত স্রোত বঙ্গোপসাগরের তলদেশে অগভীর খাতের সৃষ্টি করে শিরা- উপশিরার ন্যায় বেষ্টনি তৈরি করেছে।
- এটি ‘বেঙ্গল ফ্যান’ (Bengal Fan) বা ‘গাঙ্গেয় ফ্যান' (Ganges Fan) নামে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৬১.
বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মহাসাগর কোনটি?
  1. উত্তর মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. দক্ষিণ মহাসাগর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• উত্তর মহাসাগর (Arctic Ocean):
- উত্তর মহাসাগরকে অনেক ক্ষেত্রে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি সাগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- উত্তর মহাসাগর উত্তর মেবুর বেশির ভাগ অংশকে আচ্ছাদিত করে রেখেছে।
- উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়া এ তিনটি মহাদেশের উত্তর দিকে অবস্থিত উত্তর মহাসাগর যা উত্তর মেরু অঞ্চল নামে পরিচিত।
- উত্তর মহাসাগর বা আর্কটিক মহাসাগর প্রায় সারা বছর ধরে বরফ দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মহাসাগর।
- উত্তর মহাসাগরের আয়তন প্রায় ১ কোটি ৪১ লক্ষ বর্গ কি. মি.।
- এবং গড় গভীরতা প্রায় ৯৩০ মিটার।


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৬২.
পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ কোনটি?
  1. গ্রেট সল্ট লেক
  2. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  3. কাস্পিয়ান সাগর
  4. সুপিরিয়র হ্রদ
ব্যাখ্যা
কাস্পিয়ান সাগর:
- কাস্পিয়ান সাগর পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ ও
- এটি বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- অর্থাৎ নামের সাথে সাগর থাকলেও কাস্পিয়ান সাগর একটি হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগর ককেশাস পর্বতমালার পূর্বে এবং মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ মাঠের পশ্চিমে অবস্থিত।
- কাস্পিয়ান সাগর পাঁচটি দেশ দ্বারা সীমান্তবর্তী: তুর্কমেনিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, আজারবাইজান এবং রাশিয়া।

এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কিছু হ্রদ: 
- পৃথিবীর উচ্চতম হ্রদ হলো টিটিকাকা,
- বৈকাল (রাশিয়া) পৃথিবীর প্রাচীনতম ও গভীরতম হ্রদ।
- সুপিরিয়র পৃথিবীর বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৪,৫৬৩.
দেশে প্রথম রাবার বাগান গড়ে উঠে কোথায়?
  1. রামু
  2. সীতাকুন্ড
  3. মালিনীছড়া
  4. বেতবুনিয়া
ব্যাখ্যা
১৯৬০ সালে বনবিভাগের উদ্যোগে কক্সবাজার জেলার রামুতে ৩০ একর এবং চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে ১০ একর জমিতে প্রথম রাবার বাগান গড়ে তোলা হয়। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে রাবার চাষ শুরু হয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম, সিলেট ও টাঙ্গাইল-শেরপুর অঞ্চলে মোট ১৭টি রাবার বাগান রয়েছে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন ওয়েবসাইট)
৪,৫৬৪.
নিম্নলিখিত পর্বতগুলির মধ্যে কোনটি আগ্নেয় পর্বত নয়?
  1. পিনাটুবো 
  2. কিলিমানজারো
  3. ভিসুভিয়াস
  4. হেনরী
ব্যাখ্যা

- যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত ল্যাকোলিথ পর্বতের উদাহরণ। 

• আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain):

- আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়।
- একে সঞ্চিত পর্বতও বলে। 
- এই পর্বত সাধারণত মোচা আকৃতির হয়ে থাকে। 
 আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ হল:
- ইতালির ভিসুভিয়াস 
- কেনিয়ার কিলিমানজারো। 
- জাপানের ফুজিয়ামা 
- ফিলিপাইনের পিনাটুবো পর্বত। 

• ল্যাকোলিথ পর্বত:
- ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা বিভিন্ন উপায়ে ভূ-পৃষ্ঠে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে। 
- যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৬৫.
নিচের কোন দেশে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিদ্যমান নয়?
  1. ব্রুনাই
  2. বাংলাদেশ
  3. ফিলিপাইন
  4. পেরু
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- পৃথিবীর জলবায়ুর পাথর্য্যের জন্য সূর্যের অবস্থান একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
- কারণ তাপমাত্রা প্রাপ্তির ধরনের উপর আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রকৃতির পার্থক্য তৈরি হয়।
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

অবস্থান ও দেশসমূহ:
- বাংলাদেশে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিদ্যমান নয়।
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৬৬.
এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত কোন মহাসাগর?
  1. ক) আটলান্টিক মহাসাগর
  2. খ) উত্তর মহাসাগর
  3. গ) ভারত মহাসাগর
  4. ঘ) প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা ভারত মহাসাগর পরিবেষ্টিত। (রেফারেন্সঃ ওয়ার্ল্ড ম্যাপ)
৪,৫৬৭.
নিচের কোনটি নদীবন্দর নয়?
  1. চিলমারী
  2. ছাতক
  3. তামাবিল
  4. ইলিশা
ব্যাখ্যা
নদীবন্দর (River ports):
- নদীবন্দরের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গোয়ালন্দ, বরিশাল, খুলনা, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, মোহনগঞ্জ, চাঁদপুর, ঝালকাঠি, আরিচা, আজমিরীগঞ্জ ও মাদারিপুর উল্লেখযোগ্য।
- চিলমারী নদী বন্দর, ছাতক নদী বন্দর, ইলিশা নদী বন্দর।
- বাণিজ্য, পণ্য ও যাত্রী পরিবহণ করে বাংলাদেশ নৌপথ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
- তামাবিল একটি স্থল বন্দর। 
- তবে গোয়াইনঘাট নদীবন্দর রয়েছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৫৬৮.
বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য-
  1. ৬ ঘন্টা
  2. ৫ ঘন্টা
  3. ৫.৫ ঘন্টা
  4. ৪ ঘন্টা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রমাণ সময়:
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য ৬ ঘন্টা অগ্রবর্তী।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে
- গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৬৯.
নিচের কোন প্রণালীটি রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আলাদা করেছে?
  1. বেরিং প্রণালী
  2. জিব্রাল্টার প্রণালী
  3. বসফরাস প্রণালী
  4. পক প্রণালী
ব্যাখ্যা

• বেরিং প্রণালী:
- বেরিং প্রণালী হল প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে উত্তরের অংশ এবং এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাকে, বিশেষ করে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আলাদা করেছে।
- বেরিং প্রণালী এবং সাগর উভয়েরই নামকরণ করা হয়েছিল ভিটাস বেরিংয়ের সম্মানে।
- বেরিং প্রণালী তুলনামূলকভাবে অগভীর, যার গড় গভীরতা ৫০ মিটার। এটি গভীরতম বিন্দুতে মাত্র ৯০ মিটার গভীর।
- প্রণালীতে ডায়োমেড দ্বীপপুঞ্জ এবং সেন্ট লরেন্স দ্বীপপুঞ্জসহ অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com

৪,৫৭০.
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের দ্বীপ কোনটি?
  1. চর কুকরি মুকরি
  2. সেন্ট মার্টিন
  3. নিঝুম দ্বীপ
  4. সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত - সেইন্টমার্টিন দ্বীপ।
• সেন্ট মার্টিন:
- এটি একটি ইউনিয়ন যা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার অন্তর্গত।
- ''সেইন্টমার্টিন দ্বীপ'' বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এর আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার।
- স্থানীয়দের কাছে এটি ''নারিকেল জিঞ্জিরা'' নামে পরিচিত। এর 'ছেড়াদ্বীপ' বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের স্থান।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান - চাঁপাইনবাবগঞ্জ (জেলা), শিবগঞ্জ (উপজেলা), মনাকাষা (স্থান)।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে- পঞ্চগড় (জেলা), তেতুলিয়া (উপজেলা), বাংলাবান্ধা (ইউনিয়ন), জায়গীর জোত (স্থান)।
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বে- বান্দরবান (জেলা), থানচি (উপজেলা), আখানইঠং( স্থান)।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৫৭১.
বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্ববৃহৎ কারখানা কোথায়?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) পাকশি
  3. গ) সৈয়দপুর
  4. ঘ) আখাউড়া
ব্যাখ্যা
- দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা - সৈয়দপুর।

- এখানে আরও একটি রেলওয়ে কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই কারখানাটিতে তৈরি হবে সম্পূর্ণ রেলওয়ে ক্যারেজ বা কোচ। এই কারখানাটি বর্তমান কারখানার উত্তর পাশে দার্জিলিং গেটসংলগ্ন এলাকায় গড়ে তোলা হবে ওই কোচ নির্মাণ কারখানা।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো ও বাংলাপিডিয়া
৪,৫৭২.
ঢাকায় সর্বপ্রথম কবে বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়?
  1. ক) ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৬২৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- ১৬১০ সালের ১৬ জুলাই সুবাদার ইসলাম খান চিশতী সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন এবং নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। এই নাম সম্রাট জীবিত থাকা পর্যন্ত বহাল ছিল।
- এরপর ১৬৫০ সালে সুবাদার শাহ সুজা পুনরায় বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহলে নিয়ে যান।
- কিন্তু ১৬৬০ সালে মীর জুমলা পুনরায় ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন যা ১৭১৭ সাল পর্যন্ত বজায় ছিল।
- ১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- পরবর্তী ১৯০৫ থেকে ১৯১১ এবং ১৯৪৭ সাল থেকে ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে ছিলো।
- ১৯৭১ সাল থেকে ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী।
(সূত্রঃ ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট)
৪,৫৭৩.
কোন ধাপটিতে দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো তৈরি করা হয়?
  1. পুনরুদ্ধার
  2. উন্নয়ন
  3. সাড়াদান
  4. পূর্বপ্রস্তুতি
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের উন্নয়ন (Development) ধাপে দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো তৈরি করা হয়।
- এই ধাপে মূল লক্ষ্য হল দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সেগুলির মাধ্যমে দুর্যোগের জন্য সহনশীল অবকাঠামো ও নীতিমালা তৈরি করা।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
• টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ: দুর্যোগের সময় টেকসই ও স্থিতিশীল অবকাঠামো তৈরি করা যা সহজেই ধ্বংস না হয়।
• জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা: ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ।
• সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম: দুর্যোগের পরেও সমাজ ও অর্থনীতি শক্তিশালীভাবে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা।
• এই ধাপটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার চক্রের পরবর্তী ধাপগুলোর (যেমন সাড়াদান, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান) মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উন্নত ও নিরাপদ ভবিষ্যত তৈরি করার দিকে নির্দেশিত।

সূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৫৭৪.
বর্তমানে বাংলাদেশে কয়টি কয়লা ক্ষেত্র বিদ্যমান?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
কয়লা ক্ষেত্র:
- বাংলাদেশে আবিস্কৃত মোট কয়লা ক্ষেত্র ৫টি।
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে।
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।

দেশের কয়লা খনিসমূহ হলো:
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯।
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭।
• জামালগঞ্জ: আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জয়পুরহাট, জিএসবি, ১৯৬২।
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫।
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫।

সূত্র: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৪,৫৭৫.
ঢাকা বিভাগে জেলার সংখ্যা কতটি?
  1. ১২টি
  2. ১৩টি
  3. ১৪টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা
- ঢাকা বিভাগে বর্তমানে জেলার সংখ্যা ১৩টি।
এগুলো হলো:
- ঢাকা
- নারায়ণগঞ্জ
- গাজীপুর
- মুন্সিগঞ্জ
- মানিকগঞ্জ
- নরসিংদী
- কিশোরগঞ্জ
- টাঙ্গাইল
- মাদারীপুর
- শরীয়তপুর
- ফরিদপুর
- রাজবাড়ী
- গোপালগঞ্জ।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৪,৫৭৬.
নিচের কোন জেলাটি ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. নেত্রকোনা
  2. জামালপুর
  3. শেরপুর
  4. কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
চারটি জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত।
এগুলো হলো:
ময়মনসিংহ
নেত্রকোনা
শেরপুর এবং
জামালপুল।
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ জেলা বৃহত্তর ময়মনসিংহের অংশ হলেও ঢাকা বিভাগে রয়ে যায়। ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর ময়মনসিংহ বিভাগের গেজেট প্রকাশিত হয়।
(সূত্র: ময়মনসিংহ বিভাগ ওয়েবসাইট)
৪,৫৭৭.
বাংলাদেশে সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল কোনগুলো? 
  1. রাজশাহী, পাবনা, বরিশাল
  2. সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর
  3. খুলনা, যশোর, বরগুনা
  4. কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা 
ব্যাখ্যা

• ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল:
- ২০২০ সালের National Building Code অনুসারে, বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে:
• খুবই গুরুতর ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল,
• গুরুতর ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল,
• মাঝারি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল,
• এবং কম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল।
- সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো:
• উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগ।
- এসব জায়গায় ইন্ডিয়ান ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগ বড় ধরনের কম্পনের সম্ভাবনা বাড়ায়। 
- তাছাড়া, উত্তর-পূর্বাঞ্চলও (মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান) সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ডাউকি ফল্টের মতো বড় সক্রিয় ফল্টলাইন এখানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• দেশের পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বের কিছু জেলা, যেমন: খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, সিলেট, ফরিদপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোনে রয়েছে। 
- এই অঞ্চলগুলোতে ভূমিকম্পের প্রভাব তীব্র (Z=0.2).

• মধ্য ও উত্তর-পশ্চিমের কিছু অংশ, যেমন: ঢাকা, পাবনা, দিনাজপুর, নোয়াখালী, বগুড়া ও আশেপাশের অঞ্চল মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ জোনের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানে ঝুঁকির মাত্রা: Z=0.20, (Seismic Zone Coefficient).
- ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ এবং দুর্বল নির্মাণশৈলীর কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

• সাধারণত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, যেমন: বরিশাল, খুলনা, যশোর, রাজশাহী,সাতক্ষীরা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা কম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। 
- এখানে ভূমিকম্পের প্রভাব: Z=0.12, (Seismic Zone Coefficient).

উৎস:
১. হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট;
২. BBC Website;
৩. প্রথম আলো পত্রিকা।

৪,৫৭৮.
রুই জাতীয় মাছ কোন সময় হালদা নদীতে ডিম পাড়ে?
  1. ভাদ্র মাসে প্রচন্ত গরমের সময়
  2. বর্ষাকালে
  3. বৈশাখ মাসে প্রচন্ড গরমের পর ভারী বৃষ্টি হলে
  4. শীতের প্রারম্ভে
ব্যাখ্যা
মৎস্য ক্ষেত্রে জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের প্রভাব:
- পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে দ্রুত পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় মৎস্য চাষের সময়কাল কমে যায় এবং মাছের আকার ছোট হয়।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কম বৃষ্টিপাতের ফলে পুকুরের পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় মাছ সহজে রোগাক্রান্ত হচ্ছে এবং মাছের মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- ঘন ঘন আকস্মিক বন্যা, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস হওয়ার কারণে মৎস্য পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় মৎস্য চাষে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে উপকূলীয় এলাকার স্বাদু পানির মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাচ্ছে।
- বৈশাখ মাসে বাংলাদেশে প্রচন্ড গরমের পর ভারী বৃষ্টি শুরু হলে রুই জাতীয় মাছ হালদা নদীতে ডিম পাড়ে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে একদিকে ডিমের পরিপক্কতার সময় এগিয়ে আসছে অন্যদিকে বৃষ্টিপাতে দেরি হওয়ায় মাছের শরীরবৃত্তীয় অবস্থায় পরিবর্তনে মাছের ডিম পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৭৯.
বাংলাদেশের কোন নদীতে সবচেয়ে বেশি ভাঙন ঘটে?
  1. ক) যমুনা
  2. খ) ব্রহ্মপুত্র
  3. গ) মেঘনা
  4. ঘ) পদ্মা
ব্যাখ্যা
নাসার সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশের পদ্মা নদী বাংলাদেশ ও বিশ্বের সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ নদী। নাসার তথ্য মতে ১৯৬৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গত ৫০ বছরে পদ্মায় ৬৬০ বর্গকিমি এলাকা ভাঙনের শিকার হয়েছে।
অন্যদিকে বিজ্ঞান সাময়িকী স্প্রিংগার নেচার এর মতে বিগত ১০৫ বছরে পদ্মা নদী দ্বারা ভাঙনের পরিমাণ ১৭৪৯ বর্গকিমি। মাদারীপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও ফরিদপুরে সবচেয়ে বেশি ভাঙন হয়।
(সূত্র: প্রথম আলো, ১৬ আগস্ট ২০২০)
৪,৫৮০.
ট্রপোমণ্ডলে প্রতি কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপমাত্রা কত হ্রাস পায়?
  1. ৪.৫° সেলসিয়াস
  2. ৬.৫° সেলসিয়াস
  3. ৭.৫° সেলসিয়াস
  4. ৯.৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Troposphere): 
(ক) ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
(খ) উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়।
(গ) নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে।
(ঘ) ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমন্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে।
(ঙ) যে উচ্চতায় তাপমাত্রা বন্ধ হয়ে যায় তাকে ট্রপোবিরতি বলে। এখানে তাপমাত্রা-৫৪° সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,৫৮১.
নদী ভাঙনের কারণ নয় নিচের কোনটি?
  1. ক) জলবায়ু পরিবর্তন
  2. খ) নদীর গতিপথ পরিবর্তন
  3. গ) রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি
  4. ঘ) ভুমিকম্প
ব্যাখ্যা
নদীখাতে পানিপ্রবাহের কারণে পার্শ্ব ক্ষয়কে নদীভাঙন বলে।
পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়। অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে।

নদীভাঙনের কারণ - 
- জলবায়ু পরিবর্তন।
- নদীর প্রবাহপথ ও তীব্র গতিবেগ।
- নদীর গতিপথ পরিবর্তন।
- নদীগর্ভে শিলার উপাদান ।
- রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি।

তথ্যসুত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৮২.
ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ যখন আসে তখন কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থানকারী চোখ কিরকম পরিস্থিতি তৈরি করে?
  1. দমকা বাতাস ও ঘন ঘন মেঘ
  2. স্থিতিশীল আবহাওয়া
  3. মুষলধারে বৃষ্টিপাত
  4. শান্ত আবহাওয়া
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্য:
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত।
- এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয়।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব ঘটে আবহাওয়াতে।
- ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগে বায়ু শান্ত, উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে।
- ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ যখন আসে তখন প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও ঘন মেঘসহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়।
- আর কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থানকারী চোখ শান্ত আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি করে।
- ঘূর্ণিঝড়ের পশ্চাৎভাগে পৌঁছানোর পর আবারও ঘন মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ সময় বায়ু অগ্রবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয়।

উৎস: i) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৮৩.
কোন ধরনের ভূ-গর্ভস্থ পদার্থ জমাট বেঁধে আগ্নেয়শিলা সৃষ্টি হয়?
  1. ক) পানি
  2. খ) বালু
  3. গ) ম্যাগমা
  4. ঘ) ভষ্ম 
ব্যাখ্যা
ম্যাগমা জমাট বেঁধে আগ্নেয়শিলা সৃষ্টি হয়?
 
• আগ্নেয়শিলা (Igneous Rocks):

- পৃথিবী জ্বলন্ত অবস্থা থেকে শীতল হবার সময়ে অর্ধগলিত বিভিন্ন খনিজ অত্যন্ত দ্রুত শীতল ও কঠিনাকার ধারণ করে। এইরূপে সৃষ্ট কঠিন পদার্থগুলো আগ্নেয়শিলা নামে অভিহিত।
- আবার ভূমিকম্পের বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূ-গর্ভস্থ উত্তপ্ত অর্ধগলিত ম্যাগমা ভূ-পৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে। ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে এলে, তাকে লাভা বলে। লাভা শীতল হয়ে জমাট বেঁধে আগ্নেয়শিলার সৃষ্টি হয়।
- পৃথিবী সৃষ্টির আদিতে এই শিলার সৃষ্টি হওয়ায় একে প্রাথমিক শিলা বা আদি শিলা (Primary Rock) বলা হয়।
যেমন- ব্যাসল্ট, গ্রানাইট ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৮৪.
GMT-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Global Mean Time
  2. Greenwich Mean Time
  3. General Meridian Time
  4. Great Mean Time
ব্যাখ্যা

গ্রিনিচ মান:
- GMT-এর পূর্ণরূপ: Greenwich Mean Time.
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয়।
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে
- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৫৮৫.
পরপর দুটি জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত?
  1. প্রায় ৬ ঘণ্টা
  2. প্রায় ৮ ঘণ্টা
  3. প্রায় ১২ ঘণ্টা
  4. প্রায় ১৪ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাটা:
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়।
- এর কারণ মূলত দুটি।
- যথা: চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি (যা মূলত মহাকর্ষ শক্তি) এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি।
- সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার (Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান হলো প্রায় ১২ ঘণ্টা। 
- জোয়ারের ৬ ঘন্টা পরে ভাঁটা হয়। 

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৮৬.
রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা এক বেড়ে গেলে তার শক্তি কতগুণ বাড়ে?
  1. ৮ গুণ
  2. ১০ গুণ
  3. ২২ গুণ
  4. ২৮ গুণ
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র (Centre বা Focus) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।

⇒ ভূমিকম্প নির্ণয় যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।
- ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে।
- এই রিখটার স্কেলে এক মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে তার শক্তি ১০ গুন বেড়ে যাওয়া।
- রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি। 

⇒ সিসমোমিটারে ধারণকৃত তরঙ্গ বিস্তারের পরিমাপের অনুপাতকে রিখটার স্কেলে ১০ভিত্তিক লগারিদমে প্রকাশ করা হয়।
- ১০ভিত্তিক লগারিদমে প্রকাশের অর্থ হলো এই স্কেলের প্রতি এককের পার্থক্য ১০।
- অন্যদিকে, রিখটার স্কেলে প্রতিটি ইউনিটের স্কেলের বৃদ্ধিতে পূর্ববর্তী সংখ্যা দ্বারা উপস্থাপিত তুলনায় প্রায় ৩১ গুণ বেশি শক্তি নিঃসরণ করে।

⇒ ভূমিকম্পের প্রধান কারণ:
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত।
- এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

⇒ ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
- শিলাচ্যুতি,
- তাপ বিকিরণ,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
- ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস,
- হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি।

⇒ অধিকাংশ ভূমিকম্প (শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ) পৃথিবীর অল্প কিছু জায়গায় সংঘটিত হয়।
- যেমন: পৃথিবীর বৃত্তচাপীয় দ্বীপমালা জাপান, ফিলিপাইন, নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালা ও সামুদ্রিক শৈলশিরাসমূহ।
- ভূমিকম্পের সংখ্যার দিক থেকে জাপান বিশ্বে প্রথম।
- বছরে প্রায় গড়ে ৭,৫০০টি ভূমিকম্প হয় জাপানে।
- জাপানের পর সর্বাধিক ভূমিকম্প হয় ইতালিতে, গড়ে প্রায় ৫০০টি।
- এছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও চিলি এবং আমেরিকার গুয়েতেমালায় অধিক ভূমিকম্প হয়।

⇒ ২০২০ সালে 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) প্রকাশিত রির্পোটে সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে।
- অঞ্চলগুলো হলো:
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।

উৎস: i) ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৪,৫৮৭.
'ভাওয়াইয়া' মূলত কোন অঞ্চলের লোকসংগীত?
  1. ময়মনসিংহ
  2. সিলেট
  3. রাজশাহী
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

- 'ভাওয়াইয়া' মূলত রংপুর অঞ্চলের গান।
- মূলত গরুর গাড়ি চালকদের মুখে এ গান শোনা যায়।
- 'গম্ভীরা' বৃহত্তর রাজশাহী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) অঞ্চলের গান।
- 'জারি গান' মূলত ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চলের গান। এটি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে গানের প্রতিযোগিতা।
- 'ভাটিয়ারী' মূলত ময়মনসিংহ অঞ্চলের গান।
- 'লেটো' মূলত ময়মনসিংহ অঞ্চলের গান।
- 'চটকা' রংপুর অঞ্চলের গান।

৪,৫৮৮.
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) চট্রগ্রাম
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) গাজীপুর
  4. ঘ) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত।
Source: safariparkgazipur.info.bd
৪,৫৮৯.
মধ্য আমেরিকার কোন দেশে স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই?
  1. ক) কোস্টারিকা
  2. খ) নিকারাগুয়া
  3. গ) কলাম্বিয়া
  4. ঘ) এস সালভাদর
ব্যাখ্যা

কোস্টারিকা দেশটির নিজস্ব কোন সেনাবাহিনী নেই। দেশটির সমস্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব দেশটির পুলিশ বাহিনীর উপর ন্যস্ত।
১৯৪৮ সালে গৃহযুদ্ধ বাধে দেশটিতে। যুদ্ধ-বিগ্রহের ক্ষতি ও ভয়াবহতার স্মৃতি তাদের সেনাবাহিনী ছাড়া পথচলার স্বপ্ন দেখায়। তখন থেকেই দেশটিতে কোনো সেনাবাহিনী গড়ে ওঠেনি।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা

৪,৫৯০.
মধ্য এশিয়ার দেশের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
মধ্য এশিয়ার দেশ:
- মধ্য এশিয়ার দেশের সংখ্যা ৫টি।
• কাজাখস্তান,
• কিরগিজস্তান,
• তাজিকিস্তান,
• তুর্কমেনিস্তান এবং
• উজবেকিস্তান।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
৪,৫৯১.
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাচঁ
  4. ঘ) ছয়
ব্যাখ্যা
• ভূ-প্রকৃতি:
- ভূ-গাঠনিক অবস্থা এবং গঠন সময় অনুযায়ী বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
নিম্নে ভূ-প্রকৃতির প্রকারভেদ দেখানো হলো-
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৯২.
নিচের কোন দ্বীপটি জাপানে অবস্থিত নয়?
  1. হোক্কাইডো
  2. কিউসু
  3. শিকোকু
  4. বোর্নিও
ব্যাখ্যা
• জাপান:
- জাপান একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি রয়েছে।
- এগুলো হলো:
→ শিকোকু,
→ কিউসু, 
→ হনসু ও
→ হোক্কাইডো।

- আয়তনে বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। 
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং এর বৃহত্তম হ্রদ, বিওয়া হ্রদ এই দ্বীপে অবস্থিত।

উৎস: Britannica & world Atlas.
৪,৫৯৩.
ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে কত ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ে?
  1. ২০° সেলসিয়াস
  2. ১০° সেলসিয়াস
  3. ৩০° সেলসিয়াস
  4. ১৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• ভূত্বক (Earth's Crust):
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- তৃঅভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় ভূত্বকের পুরুত্ব সবচেয়ে কম; গড়ে ২০ কিলোমিটার।
- ভূত্বক মহাদেশের তলদেশে গড়ে ৩৫ কিলোমিটার এবং সমুদ্র তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিলোমিটার পুরু।
- সাধারণভাবে মহাদেশীয় ভূত্বকের এ স্তরকে সিয়াল (Sial) স্তর বলে, যা সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI) দ্বারা গঠিত।
- এটি সিয়াল স্তরের তুলনায় ভারী এবং এর প্রধান খনিজ উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত।
- অনুমান করা হয় যে, এ ব্যাসল্ট স্তরই সারা পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ ও গভীর সমুদ্র তলদেশে বিদ্যমান।
- ভূত্বকের উপরের ভাগেই বাহ্যিক অবয়বগুলো দেখা যায়।
যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইত্যাদি।
- ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৪,৫৯৪.
পাতাগোনিয়ান মরুভূমি কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. এশিয়া
  2. আফ্রিকা
  3. দক্ষিণ আমেরিকা
  4. ইউরোপ
ব্যাখ্যা

পাতাগোনিয়ান মরুভূমি:
-  এটি বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম মরুভূমি।
- পাতাগোনিয়ান মরুভূমি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত। 
- এ মরুভূমি বিস্তৃত আর্জেন্টিনা ও চিলি উভয় দেশে।
- এটি দেখতে বেশ সুন্দর হওয়ায় বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে বেশি পরিচিত।
- এ মরুভূমির দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে আন্দিজ পর্বতমালা।
- আর পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর।
- প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসেন।
- প্রায় ৬ লাখ ৭৩ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে মরুভূমিটি বিস্তৃত। 
- অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী এ মরুভূমিতে দেখা যায়।

উৎস: Worldatlas.

৪,৫৯৫.
যখন চাঁদ, সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝে সরল রেখায় অবস্থান করে তখন কী হয়?
  1. চন্দ্ৰগ্ৰহণ
  2. সূর্যগ্রহণ
  3. পূর্ণিমা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সূর্যগ্রহণ:
- সূর্যগ্রহণ তখনই ঘটে যখন চাঁদ সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝে ঠিক সরল রেখায় অবস্থান করে, যার ফলে চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে এবং আমরা সূর্যকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে দেখতে পাই না।
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে।
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে।

চন্দ্ৰগ্ৰহণ:
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান।
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।

পূর্ণিমা:
- পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে।

অমাবস্যা:
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

উৎস: ৪ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা। [link]
৪,৫৯৬.
কোন জলবায়ু অঞ্চলকে আমাজানীয় জলবায়ু বলা হয়?
  1. ক) মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল
  2. খ) ক্রান্তীয় সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল
  3. গ) ক্রান্তীয় মহাদেশীয় জলবায়ু অঞ্চল
  4. ঘ) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার উভয় পার্শ্বে ৫° উত্তর ও দক্ষিন অক্ষাংশের মধ্যে যে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করে তাকে নিরক্ষীয় জলবায়ু বলে।
- আর পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে এ জলবায়ু বিরাজ করে তাকে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল বলে।
- বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় এ জলবায়ু দেখা গেলেও আমাজান নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এ জলবায়ুর প্রভাব বেশী দেখা যায় বলে একে আমাজানীয় জলবায়ু ও বলে।
- সাধারনত: নিরক্ষ রেখার উভয় আর্শ্বে পৃথিবীর মধ্যভাগের প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত রয়েছে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৯৭.
পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর কোনটি?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. এন্টার্কটিকা মহাসাগর
ব্যাখ্যা
আটলান্টিক মহাসাগর:
- পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে এটি অবস্থিত।
- আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- এর আয়তন ৮১,৭৬০,০০০ বর্গ কিমি।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম স্থান পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ।
- এর গড় গভীরতা ১১,৯৬২ ফুট এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ২৭,৪৯৩ ফুট।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৪,৫৯৮.
জলবায়ুর নিয়ামক কোনটি নয়?
  1. অক্ষাংশ
  2. বায়ুর চাপ
  3. উচ্চতা
  4. পর্বতের অবস্থান
ব্যাখ্যা
জলবায়ুর নিয়ামক (Factors of Climate):
- অক্ষাংশ,
- উচ্চতা,
- সমুদ্রস্রোত,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- ভূমির ঢাল,
- পর্বতের অবস্থান প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো:
- বায়ুর তাপ
- বায়ুর চাপ
- বায়ু প্রবাহ
- বায়ুর আর্দ্রতা এবং
- বারিপাত।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৯৯.
বায়ুমণ্ডল ও মহাশূন্যের মধ্যবর্তী রেখাটির নাম কী?
  1. বিষুবরেখা
  2. ট্রপোপজ
  3. কারমান লাইন
  4. কলোরাডো লাইন
ব্যাখ্যা

• কারমান লাইন:
- কারমান লাইন হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং মহাশূন্যের মধ্যে কাল্পনিক সীমারেখা।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার (৫০ থেকে ৬২ মাইল) উপরে অবস্থিত।
- এই রেখা হল বায়ুমণ্ডলের উপরের সীমা, যার ওপরে বিমান চলাচল কার্যকরভাবে সম্ভব নয় এবং সেখানে মহাকাশের শর্ত প্রাধান্য পায়।
- এই ধারণাটি হাঙ্গেরীয় আমেরিকান প্রকৌশলী এবং পদার্থবিদদের কাছ থেকে উদ্ভূত হয়েছিলতাই তার নামে এটার নামকরণ করা হয়েছে।
 
অন্যদিকে,
• বিষুবরেখা:
- বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা (Equator) হলো পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু থেকে সমান দূরত্বে অবস্থিত ০° অক্ষাংশের একটি কাল্পনিক রেখা, যা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুটি সমান গোলার্ধে ভাগ করে।

• ট্রপোপজ:
- ট্রপোপজ (Tropopause) হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর ট্রপোস্ফিয়ার এবং এর উপরের স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী একটি পাতলা ট্রানজিশনাল বা সীমানা স্তর।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪,৬০০.
পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা থেকে কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে?
  1. ইগুয়াসু নদী
  2. আমাজন নদী
  3. প্যারাগুয়ে
  4. রিও নেগ্রো
ব্যাখ্যা

আমাজন নদী:
- আমাজন নদী হলো দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।
- আমাজন নদী দৈর্ঘ্য অনুযায়ী বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী (নীল নদীর পর)।
- এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০০০ মাইল (৬,৪০০ কিমি)।
- এই নদীটি ব্রাজিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উত্তর-পূর্ব উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী ব্যবস্থা হিসেবেও পরিচিত।
- এই নদীর উৎপত্তি ঘটে পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা থেকে।
- এর প্রবাহ দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশ অতিক্রম করে- যার মধ্যে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং বিশেষভাবে ব্রাজিল অন্তর্ভুক্ত।

উল্লেখ্য,
- আয়তন ও জলপ্রবাহের দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী।
- মহাকাশ থেকেও এর বাদামী জলের ধারা দেখা যায়, যা আটলান্টিকের নীল জলের সঙ্গে মিশে যায়।
- এর অববাহিকা (watershed) পৃথিবীর সবচেয়ে বড়।
- এছাড়া এর প্রবাহের আয়তন এবং অববাহিকার ক্ষেত্রফলের দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম নিষ্কাশন ব্যবস্থা।
-------------------------------
অন্যদিকে, 
• ব্রাজিলে নদ-নদীর সংখ্যা অনেক এবং এগুলো দেশের ভূপ্রকৃতি ও জলব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• ইগুয়াসু নদী- বিশ্ববিখ্যাত ইগুয়াসু জলপ্রপাতের জন্য পরিচিত।

• প্যারাগুয়ে নদী- প্যারাগুয়ে–পারানা–প্লাটা নদী ব্যবস্থার একটি অংশ।
- এটি দক্ষিণ ব্রাজিলের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশনে সহায়তা করে এবং নৌপরিবহনে ভূমিকা রাখে।

• রিও নেগ্রো- আমাজন নদীর বৃহত্তম বাম উপনদী।
- এটি বিপুল পরিমাণ পানি আমাজন নদীতে সরবরাহ করে এবং আমাজন অববাহিকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

উৎস: Britannica.