বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৪১ / ৭২ · ৪,০০১৪,১০০ / ৭,১৯১

৪,০০১.
কোনটি নবায়নযােগ্য সম্পদ?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. চুনাপাথর
  3. বায়ু
  4. কয়লা
ব্যাখ্যা
নবায়নযোগ্য সম্পদ:
- নবায়নযোগ্য সম্পদ (Renewable Energy) হলো এমন শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
- এই শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না।
- বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস যেমন: সূর্যের আলো ও তাপ, বায়ু প্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈব শক্তি (জৈবভর), ভূ-তাপ, সমুদ্র তরঙ্গ, সমুদ্র-তাপ, জোয়ার-ভাটা, শহুরে আবর্জনা, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে,
⇒ অনবায়নযোগ্য সম্পদ:
- অনবায়নযোগ্য সম্পদ (Non-renewable Energy) হলো যে সম্পদ প্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবে নবায়ন হয় না এমনকি মানুষ ও নবায়ন করতে পারে না।
- যেমন: প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর, খনিজ তেল ইত্যাদি।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০০২.
বাংলাদেশের জলবায়ু কোন ধরনের হিসেবে পরিচিত?
  1. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
  2. মেরুক্ষেত্রীয় জলবায়ু
  3. উপসাগরীয় জলবায়ু
  4. শীতপ্রধান জলবায়ু
ব্যাখ্যা

জলবায়ু (Climate)
- বাংলাদেশের জলবায়ু সাধারণত সমভাবাপন্ন।
- দেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রমকরায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে।
- কিন্তু মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এ দেশের জলবায়ুর উপর এত বেশি যে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত।

- মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো বছরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঋতুর আবির্ভাব।
 - এ বিভিন্ন ঋতুতে জলবায়ুর কিছুটা তারতম্য হয়।
- কিন্তু কোনো সময়ই শীতপ্রধান ও গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মতো চরমভাবাপন্ন হয় না।
- উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলাদেশে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬.০১° সেলসিয়াস এবং গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার।
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
(ক) গ্রীষ্মকাল,
(খ) বর্ষাকাল ও
(গ) শীতকাল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪,০০৩.
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কের অগ্রাধিকার খাত-
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
- ১৪-১৮ মার্চ, ২০১৫ সালে জাপানের সেন্দাই শহরে সেন্দায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত। এর পুরো নাম The Sendai Framework for Disaster Risk Reduction।

- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্কের অগ্রাধিকার খাত ৪টি। যথাঃ
১. দুর্যোগ ঝুঁকি বুঝতে পারা।
২. দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ব্যবস্থা জোরদার করা।
৩. দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে বিনিয়োগ।
৪. দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি।

- এর লক্ষ্য ৭টি।
৪,০০৪.
‘বেন নেভিস’ কীসের নাম বোঝায়?
  1. পর্বত
  2. সাগর
  3. মালভূমি
  4. জলপ্রপাত
ব্যাখ্যা

বেন নেভিস: 
- স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ড কাউন্সিল এলাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের সর্বোচ্চ পর্বত।
- এটি গ্র্যাম্পিয়ান পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
- এর চূড়াটি প্রায় ১০০ একর (৪০ হেক্টর) আয়তনের একটি মালভূমি , যার দক্ষিণে সামান্য ঢাল এবং উত্তর-পূর্বে একটি নিছক মুখ রয়েছে।
- বেন নেভিসের চূড়ার উচ্চতার পরিমাপ বছরের পর বছর ধরে কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে।
- ২০১৬ সালে ব্রিটেনের ম্যাপিং সংস্থা অর্ডন্যান্স সার্ভে ১,৩৪৪.৫২৭ মিটার জরিপ করা উচ্চতা ঘোষণা করে এবং বলে যে এটি তার মানচিত্রে ১,৩৪৫ মিটার (৪,৪১৩ ফুট) ব্যবহার করবে।

তথ্যসূত্র - Britannica.

৪,০০৫.
বাংলাদেশের কোন জেলাকে হিমালয়ের কন্যা বলা হয়?
  1. ক) পটুয়াখালী
  2. খ) পঞ্চগড়
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) নীলফামারী
ব্যাখ্যা
• পঞ্চগড় জেলা:
- পঞ্চগড় জেলা আয়তন: ১৪০৪.৬২ বর্গ কিমি।
- অবস্থান: ২৬°০০´ থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°১৯´ থেকে ৮৮°৪৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
- সীমানা: উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, দক্ষিণে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলা, পূর্বে নীলফামারী জেলা, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
- এটি বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা।
- হিমালয়ের পাদদেশে জেলাটির ভৌগলিক অবস্থান হওয়ায় পঞ্চগড়কে বলা হয় হিমালয় কন্যা

উৎস: দৈনিক যুগান্তর রিপোর্ট ও বাংলাপিডিয়া। 
৪,০০৬.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন বাংলাদেশে কত সালে পাস হয়?
  1. ২০০৭ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন পাস হয় ২০১২ সালে।

​বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ক কার্যক্রমকে সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক ও শক্তিশালী করা এবং সকল ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাঠামো গড়িয়া তুলিবার নিমিত্ত বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।
- ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই আইন প্রণীত হয়।
- ২০১২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে।
- বাংলাদেশের সংসদে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২' পাসের মাধ্যমে এই অধিদপ্তর গঠিত হয়।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৪,০০৭.
Reindeer is a lake located in -
  1. Brazil
  2. Canada
  3. Peru
  4. US
ব্যাখ্যা
রেনডিয়ার হ্রদ:

- রেনডিয়ার হ্রদ উত্তর কানাডায় অবস্থিত।
- হ্রদটি ১,১০৬ ফুট (৩৩৭ মিটার) উচ্চতায় অবস্থিত।
- এর দৈর্ঘ্য ১৫২ মাইল (২৪৫ কিমি) এবং প্রস্থ ৩৫ মাইল (৫৬ কিমি)।
- পশম-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৪,০০৮.
জনসংখ্যার ভিত্তিতে বৃহত্তর মুসলিম রাষ্ট্র কোনটি?
  1. ক) পাকিস্তান
  2. খ) সৌদি আরব
  3. গ) মিশর
  4. ঘ) ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
- জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ ইন্দেনেশিয়া
- ৩০ হাজার মুসল্লি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এশিয়ার সর্ববৃহৎ মসজিদ ‘বাইতুর রহমান’ এখানেই অবস্থিত।
- ইন্দোনেশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্র।
- ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপগুলো হচ্ছে-সুমাত্রা, জাভা, বালি ইত্যাদি।

উৎস:- কালের কন্ঠ, Worldatlas
৪,০০৯.
চট্রগ্রাম গ্রীষ্মকালে দিনাজপুর অপেক্ষা শীতল ও শীতকালে উষ্ণ থাকে-
  1. ক) মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে
  2. খ) সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে
  3. গ) স্থল বায়ুর প্রভাবে
  4. ঘ) আয়ন বায়ুর প্রভাবে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থানের কারণে সামুদ্রিক ও স্থল বায়ু নিয়মিত প্রবাহিত হয়। 
সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম গ্রীষ্মকালে দিনাজপুর অপেক্ষা শীতল এবং শীতকালে উষ্ণ থাকে।
 
সমুদ্র হতে দূরত্ব জলবায়ুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন। 
সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়। এ কারণে সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন ও দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়। 
 
স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়। কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি। 
অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সমুদ্রের পানি উত্তপ্ত হতে যে পরিমাণ তাপের দরকার হয় তার সমপরিমাণ মাটি উত্তপ্ত হতে তার থেকে কম তাপ দরকার হয়। তবে সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে। 
এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়। আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়। ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে। 
মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।
 
উৎস : ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,০১০.
দেশের কোন অঞ্চলে সাধারণত বৃষ্টিজনিত কারণে বন্যা হয়?
  1. বৃহত্তর খুলনা ও যশোর
  2. সিলেট অঞ্চল
  3. রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল
  4. চট্টগ্রাম অঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।

বৃহত্তর খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত বন্যা সংঘটিত হয়।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট ও চট্টগ্রাম) আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকা
উপকূলীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা দেখা দেয়।
নদী সংলগ্ন জেলাসমূহে সাধারণত নদীসৃষ্ট বন্যা দেখা যায়।

(তথ্যসূত্র: বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর)
৪,০১১.
ভূপৃষ্ঠের যেকোনো দুটি প্রতিপাদ স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য কত হয়?
  1. ০°
  2. ৯০°
  3. ১৮০° 
  4. ৩৬০°
ব্যাখ্যা

প্রতিপাদ স্থান (Antipode): 
- ভূপৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত কোনো বিন্দুর বিপরীত বিন্দুকে সেই বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান বলে।
- যেমন- ঢাকার প্রতিপাদ স্থান দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্গত চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- প্রতিপাদ স্থান সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের বিপরীতে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান নির্ণয়ের জন্য পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে একটি কল্পিত রেখা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানলে ঐ কল্পিত রেখা যে বিন্দুতে পৃথিবী পৃষ্ঠের বিপরীত পাশে মিলিত হয় সেই স্থানই ঐ বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান। 

⇒ প্রতিপাদ স্থানদ্বয়ের অক্ষাংশ এক, তবে এরা পরস্পর বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান দুইটির অক্ষাংশের মান এক হলেও এদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৮০°।
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো দুটি প্রতিপাদ স্থানের সময়ের পার্থক্য ১২ ঘণ্টা। 
- কোনো স্থান ৪০° উত্তর অক্ষাংশে ও ৫০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত হলে এর প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশ হবে ৪০° দক্ষিণ এবং দ্রাঘিমাংশ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০১২.
চীনের প্রতিবেশী রাষ্ট্র কয়টি?
  1. ক) ১৩ টি
  2. খ) ১৪ টি
  3. গ) ১৫ টি
  4. ঘ) ১৬ টি
ব্যাখ্যা
- চীনের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ১৪ টি। যথা -
রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজিস্তান, তাজিকিস্তান, আফগানস্তান, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, মায়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম এবং উত্তর কোরিয়া।

- চীনের প্রদেশ ২২ টি।

উৎস: Live MCQ লেকচার।
৪,০১৩.
ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়কে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) টাইফুন
  2. খ) সাইক্লোন
  3. গ) উইলি উইলিছ
  4. ঘ) হারিকেন
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত। যেমন-
- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
- ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন,
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই,
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলিছ,
- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

• উৎপত্ত:
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড় (Anti-cyclone)।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- আমাদের দেশে প্রায় প্রতি বছর সাধারণত মার্চ ও নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০১৪.
বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের সীমান্তবর্তী রাজ্যে কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা:
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি। যথা-
- কক্সবাজার,
- রাঙ্গামাটি ও
- বান্দরবান।
- বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের ২টি রাজ্যের সীমান্ত আছে। সেগুলি হল- 
- রাখাইন প্রদেশ (Rakhaing) ও
- চিন (chin) প্রদেশ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমার দুটি দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,০১৫.
নদী যখন সমুদ্র বা হ্রদে পতিত হয়, তখন সেই পতিত স্থানকে কী বলে?
  1. দোয়াব
  2. মোহনা
  3. নদীগর্ভ
  4. নদীসংগম
ব্যাখ্যা

নদী সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা:
নদীর উৎস: যেখান থেকে নদীর উৎপত্তি হয়।
মোহনা: নদী যখন সমুদ্র বা হ্রদে পতিত হয়, সেই স্থানকে মোহনা বলে।
খাঁড়ি: নদীর অধিক বিস্তৃত মোহনাকে খাঁড়ি বলে।
দোয়াব: প্রবহমান দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে দোয়াব বলে।
নদীসংগম: দুই বা একাধিক নদীর মিলনস্থলকে নদীসংগম বলে।

উল্লেখ্য,
উপনদী: ছোট নদী যা কোনো বড় নদীতে পতিত হয়। যেমন— তিস্তা ও করতোয়া হলো যমুনার উপনদী।
শাখানদী: মূল নদী থেকে বের হওয়া নদী। যেমন— কুমার ও গড়াই হলো পদ্মার শাখানদী।
নদী উপত্যকা: যে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় তাকে নদী উপত্যকা বলে।
নদীগর্ভ: নদী উপত্যকার তলদেশকে নদীগর্ভ বলে।
নদী অববাহিকা: উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত শাখাপ্রশাখাসহ যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র বা হ্রদে পতিত হয়, সেই সমগ্র অঞ্চলকে নদীর অববাহিকা বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০১৬.
সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন -
  1. পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝে আসে
  2. চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে আসে
  3. সূর্য পৃথিবীর ছায়ায় পড়ে
  4. সূর্য ও চাঁদ বিপরীত দিকে থাকে
ব্যাখ্যা

সূর্যগ্রহণ:
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন  সূর্যগ্রহণ হয়।
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে।
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে।
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

অন্যদিকে,
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান।
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।

উৎস: i) বিবিসি বাংলা।
ii) প্রথম আলো

৪,০১৭.
নিম্নের কোন দেশটি হর্ন অব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) সোমালিয়া
  2. খ) নাইজেরিয়া
  3. গ) ইথিওপিয়া
  4. ঘ) ইরিত্রিয়া
ব্যাখ্যা
- আফ্রিকা মহাদেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ হলো একটি উপদ্বীপ।
- হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে অবস্থিত দেশসমূহ হলো:
১। ইরিত্রিয়া
২। সোমালিয়া
৩। জিবুতি এবং
৪। ইথিওপিয়া।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৪,০১৮.
নদী বিহীন দেশ কোনটি?
  1. ইরাক
  2. বাহামাস
  3. সিরিয়া
  4. মিশর
ব্যাখ্যা
• নদী বিহীন দেশ:
- পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে যেগুলোর কোনো নদী নেই। অবশ্যই এগুলি বেশিরভাগই মরুভূমির দেশ, যেখানে বৃষ্টিপাত এবং জলের উৎস খুব কম, এবং কোনও বাস্তব নদী বা নদীর তল তৈরি করার জন্য পর্যাপ্ত জলপ্রবাহ নেই।

- স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই এমন দেশগুলি হলো:
- কমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি, কিরিবাতি, নাউরু, টোঙ্গা ও টুভালু।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস। [লিংক ]
৪,০১৯.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) ফরিদপুর
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
• গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নভূমি তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে।
• এক্ষেত্রে সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালী জেলা নিম্নাংশসহ উপকূলবর্তী নিম্নভূমি প্লাবিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০২০.
বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে কয়টি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে। যথা- গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল ও শীতকাল। বাংলাদেশে মার্চ-মে ( ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল। জুন-অক্টোবর ( জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক ) পর্যন্ত বর্ষাকাল এবং নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস ( কার্তিক-ফাল্গুন ) পর্যন্ত সময়কালকে শীতকাল বলা হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৪,০২১.
আগ্নেয় পর্বতের (Volcanic Mountain) উদাহরণ কোনটি?
  1. ব্ল‍্যাক ফরেস্ট
  2. কিলিমাঞ্জারো
  3. হিমালয় পর্বত
  4. বিন্ধ্যা পর্বত
ব্যাখ্যা

আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain) উদাহরণ কেনিয়ার কিলিমাঞ্জারো। 
• পর্বত (Mountains):

- সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটার-এর অধিক উঁচু, সুবিস্তৃত, খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- অপর দিকে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ থেকে ১,০০০ মিটার উঁচু, স্বল্প বিস্তৃত শিলাস্তূপকে পাহাড় বলে।
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত চার প্রকার। যথা:
(ক) ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountains),
(খ) আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountains),
(গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত (Fault-block Mountains) এবং,
(ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত (Dome/Laccolith Mountains)।

• ভঙ্গিল পর্বত:
- পাললিক শিলাস্তর আনুভূমিক আলোড়ন বা মহাদেশীয় পর্বতের সংকোচনের ফলে কুঞ্চিত হয়ে ঢেউয়ের আকারে যে পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
-যেমন: এশিয়ার হিমালয়, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ, উত্তর আমেরিকার রকি এবং ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা।

• আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain):
- আগ্নেয় পর্বত আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়। একে সঞ্চয়জাত পর্বতও বলে। এই পর্বত সাধারণত মোচাকৃতির (Conical) হয়ে থাকে। 
​- আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ হলো- ইতালির ভিসুভিয়াস, কিলিমাঞ্জারো, জাপানের ফুজিয়ামা এবং ফিলিপাইনের পিনাটুবো পর্বত।

• চ্যুতি-স্তূপ পর্বত: 
- ভূআলোড়নের সময় ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রসারণ এবং সংকোচনের সৃষ্টি হয়। এই প্রসারণ এবং সংকোচনের জন্য ভূত্বকে ফাটলের সৃষ্টি হয়। কালক্রমে এ ফাটল বরাবর ভূত্বক ক্রমে স্থানচ্যুত হয়। ভূগোলের ভাষায় একে চ্যুতি বলে। ভূত্বকের এ স্থানচ্যুতি কোথাও উপরের দিকে হয়, আবার কোথাও নিচের দিকে হয়। চ্যুতির ফলে উঁচু হওয়া অংশকে স্তুপ পর্বত বলে।
- ভারতের বিন্ধ্যা ও সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, পাকিস্তানের লবণ পর্বত চ্যুতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।

• ল্যাকোলিথ পর্বত:
- পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা বিভিন্ন গ্যাসের দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে ভূপৃষ্ঠে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো কোনো সময় বাধা পেয়ে এগুলো ভূপৃষ্ঠের উপরে না এসে ভূত্বকের নিচে একস্থানে জমাট বাঁধে। ঊর্ধ্বমুখী চাপের কারণে সস্ফীত হয়ে ভূত্বকের অংশবিশেষ গম্বুজ আকার ধারণ করে। এভাবে সৃষ্ট পর্বতকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে । 
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি।

৪,০২২.
আয়তনে বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ কোনটি?
  1. লেক আসাল
  2. কাস্পিয়ান সাগর
  3. বৈকাল হ্রদ
  4. লেক সুপিরিয়র
ব্যাখ্যা

 কাস্পিয়ান সাগর:
- কাস্পিয়ান সাগর পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ বা স্থল অভ্যন্তরীণ জলাশয় (inland body of water)।
- এটি পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত হৃদ।
- এটি ককেশাস পর্বতমালার পূর্বে এবং মধ্য এশিয়ার বিশাল তৃণভূমির পশ্চিমে অবস্থিত।
- এর নাম প্রাচীন কাস্পি জনগোষ্ঠীর নাম থেকে এসেছে, যারা একসময় ট্রান্সককেশিয়াতে বাস করত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৭২,০০০ বর্গ কি.মি.। এটি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।

এছাড়া,
- সুপিরিয়র বিশ্বের বৃহত্তর স্বাদুপানির হ্রদ যা উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- লেক আসাল পৃথিবীর সবচেয়ে লবণাক্ত হ্রদ যা আফ্রিকার জিবুতিতে অবস্থিত।
- বৈকাল পৃথিবীর গভীরতম ও প্রাচীনতম হ্রদ যা রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত।
- ভিক্টোরিয়া আফ্রিকার বৃহত্তম ও পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম হ্রদ। নীলনদের উৎপত্তি এই হ্রদ থেকে।

উৎস: Britannica.

৪,০২৩.
টারশিয়ারি যুগের ভূ-গঠনের পাহাড় বাংলাদেশের কোন স্থানে রয়েছে?
  1. কুমিল্লা
  2. মৌলভীবাজার
  3. টাঙ্গাইল
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা

⇒ ভূ-প্রকৃতি:
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
- এই পললের পুরুত্ব প্রায় ১৮-২২ কিলোমিটার।
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০২৪.
As per a recent discovery, Earth's High-Energy Electrons may contribute to water formation in which body?
  1. Moon
  2. Mercury
  3. Mars
  4. Sun
  5. None
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী থেকে উচ্চ শক্তির ইলেকট্রন চাঁদে জল তৈরি করতে পারে।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানোয়ার হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএইচ) গবেষকদের নেতৃত্বে তৈরি দলটি চন্দ্রযান-১ থেকে রিমোট সেন্সিং ডেটা বিশ্লেষণ করে আবিষ্কার করেছে পৃথিবীর প্লাজমা স্তর ইলেকট্রনগুলি চাঁদের পৃষ্ঠে শিলা এবং খনিজগুলি ভেঙে যাওয়া বা দ্রবীভূত করা আবহাওয়া প্রক্রিয়াগুলিতে অবদান রাখছে।
- অর্থাৎ পৃথিবীর প্লাজমা শিটে থাকা ইলেকট্রনের ভূমিকা রয়েছে আবহাওয়া প্রক্রিয়ায়। এই ইলেকট্রন চন্দ্রপৃষ্ঠে শিলা বা খনিজগুলি ভেঙে ফেলছে।

তথ্যসূত্র - Open Access Government ওয়েবসাইট।
৪,০২৫.
কোন বায়ু শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়?
  1. শুষ্ক মৌসুমি বায়ু
  2. সমুদ্র বায়ু
  3. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  4. ক্রান্তীয় বায়ু
ব্যাখ্যা

⇒ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়।

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।
- পর্বত অতিক্রমকারী বায়ু যদি পর্বতের অপর পাশে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে পৌঁছায় তখন ঐ বায়ুতে জলীয়বাষ্প কমে থাকে। ঐ বায়ু নিচে নামার ফলে আরও উষ্ণ এবং শুষ্ক হয়ে উঠে বলেই ঐ স্থানে বৃষ্টিপাত হয় না।
- এই বৃষ্টিহীন স্থানকে বলা হয় বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০২৬.
কোন জেলাকে 'সাগর কন্যা' বলা হয়?
  1. বরিশাল
  2. কক্সবাজার
  3. পটুয়াখালী
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
 সাগরকন্যা:
- পটুয়াখালী জেলাকে বলা হয় সাগরকন্যা।
- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি।
- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা।
- একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।
-এছাড়া বাংলার ভেনিস বলা হয় বরিশাল জেলাকে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,০২৭.
জাপানের সবচেয়ে বড় দ্বীপ কোনটি?
  1. হনসু
  2. ওকিনাওয়া
  3. শিকোকু
  4. কিউসু
ব্যাখ্যা
জাপান:
- জাপান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- পূর্বনাম: নিপ্পন।
- রাজধানী: টোকিও।
- প্রধান দ্বীপ: হোক্কাইডো, হনসু, শিকোকু, কিউসু ও ওকিনাওয়া।
- জাপানের সবচেয়ে বড় দ্বীপ: হনসু।

উল্লেখ্য,
- আয়তনে বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়।
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং এর বৃহত্তম হ্রদ বিওয়া হ্রদ এই দ্বীপে অবস্থিত।

উৎস: Worldatlas.
৪,০২৮.
অতিরিক্ত লবণাক্ততার ফলাফল কোনটি?
  1. শহরে অভিগমন
  2. মাছ চাষ বৃদ্ধি
  3. শহরে বনাঞ্চল বৃদ্ধি
  4. কৃষি জমি নষ্ট হওয়া
ব্যাখ্যা
অতিরিক্ত লবণাক্ততার ফলাফল হচ্ছে - কৃষি জমি নষ্ট হওয়া।

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:

- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
- নিম্নে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও যেসব প্রভাব পড়বে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।
→ উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
→ অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
→ দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
→ ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
→ আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
→ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
→ যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
→ এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
→ বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০২৯.
ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী একটি সামুদ্রিক প্রণালী কোনটি?
  1. জিব্রাল্টার প্রণালী
  2. মালাক্কা প্রণালী
  3. ডোভার প্রণালী
  4. পক প্রণালী
ব্যাখ্যা
পক প্রণালী:
- পক প্রণালী ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী একটি সামুদ্রিক প্রণালী।
- এটি বঙ্গোপসাগর ও মান্নার উপসাগরকে একসঙ্গে যুক্ত করেছে।
- প্রণালীটি ৮৫ মাইল দীর্ঘ ।
- এই প্রণালীটি ৪০-৮৫ মাইল প্রশস্ত।
- জাফনা বন্দর, উত্তর শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক কেন্দ্র, এই প্রণালীতে অবস্থিত।
- ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গভর্নর রবার্ট পকের নামে এই প্রণালীর নামকরণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৪,০৩০.
বরিশাল এর প্রাচীন নাম কি?
  1. ক) নদীয়া
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপ
  3. গ) শাহবাজপুর
  4. ঘ) হরিকেল
ব্যাখ্যা
বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল। এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
[সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
৪,০৩১.
মানব-সৃষ্ট বিপর্যয় নয় কোনটি?
  1. রাসায়নিক বিষক্রিয়া
  2. যুদ্ধ
  3. অগ্ন্যুৎপাত
  4. শব্দ দূষণ
ব্যাখ্যা

বিপর্যয়:
- বিপর্যয় বলতে বিপদ বা আপদের সম্ভাবনাকে বুঝায়। 
- যে সকল ঘটনা একটি এলাকার জনগণের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, এমনকি একেবারে ধ্বংস করতে পারে, সে সকল ঘটনাকে বিপর্যয় বলে।
- বিপর্যয় দুই ধরনের হতে পারে। যেমন:
১. প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যেমন-
- ঝড়,
- বন্যা,
- ভূমিকম্প,
- অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
২. মানব-সৃষ্ট বিপর্যয়, যেমন-
- পানি দূষণ,
- বায়ু দূষণ,
- শব্দ দূষণ,
- রাসায়নিক বিষক্রিয়া,
- যুদ্ধ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- বিপর্যয় মানেই দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের আশংকা বা সম্ভাবনা মাত্র। 
- একটি এলাকায় সংঘটিত যে কোনো বিপর্যয় বা আপদ যখন উক্ত এলাকার অধিবাসীগণ তাদের নিজস্ব চেষ্টা ও সম্পদের সাহায্যে মোকাবিলা করতে সক্ষম না হয় কেবল তখনই সেই আপদটি দুর্যোগে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৩২.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কোনটি?
  1. প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি
  2. সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
  3. মহাশুন্যে অভিযান
  4. নতুন সড়কপথ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
→ জলবায়ু পরিবর্তন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি
→ মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।
→ সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
→ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
→ রোগব্যাধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো:-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
২. যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
৩. যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
৪. বিকল্প জ্বালানি যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, পারমানবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা;
৫. প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
৬. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
৭. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৩৩.
বাংলাদেশে শীতকালের সময়কাল -
  1. ক) কার্তিক - অগ্রহায়ণ
  2. খ) ভাদ্র - পৌষ
  3. গ) আশ্বিন - ফাল্গুন
  4. ঘ) কার্তিক - ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
সাধারণত বাংলাদেশে নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে।
আমাদের দেশে শীতকালে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস।
জানুয়ারি শীতলতম মাস এবং এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৩৪.
বাংলাদেশের কয়টি বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ২টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে বাংলাদেশে কার্যকর বিভাগ সংখ্যা ৮টি এবং জেলার সংখ্যা ৬৪টি।
- বাংলাদেশের ৬ টি বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- একটি জেলার সাথে উভয় দেশের সীমানা রয়েছে সেটি হচ্ছে বাংলাদেশের আয়তনে সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি।
- তবে ‘পদ্মা’ ও ‘মেঘনা’ নামে  নতুন দুইটি প্রস্তাবিত বিভাগ রয়েছে

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট ও যুগান্তর পত্রিকা।
৪,০৩৫.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব নয় কোনটি?
  1. জলবায়ু পরিবর্তন
  2. সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
  3. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
  4. মেরু অঞ্চলের বরফ গলন
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব:
জলবায়ু পরিবর্তন
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
মেরু অঞ্চলের বরফ গলন
→ সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
→ রোগব্যাধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।

এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো:-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
২. যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
৩. যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
৪. বিকল্প জ্বালানি যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, পারমানবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা;
৫. প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
৬. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
৭. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

সূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,০৩৬.
বায়ুমন্ডল কাকে বলে?
  1. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর প্রবাহ মাত্রা
  2. বায়ুর উর্ধ্বমুখী চাপ
  3. মাধ্যাকর্ষণের কেন্দ্রে বায়ুর অস্তিত্ব
  4. ভূ-পৃষ্ঠ ও তার চারিদিকের বায়বীয় আবরণ
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল:

- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমন্ডল।
- পৃথিবী এবং মানুষ, প্রাণি অর্থাৎ জীবজগতের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই বায়ুমন্ডল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- মূলত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উর্ধ্ব দিকে যে বায়বীয় আস্তরণ তাই বায়ুমন্ডল নামে পরিচিত।
- এই মন্ডলটি নানা প্রকার গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত।
- পৃথিবীর আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে এ বায়ুমন্ডল পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে।
- বায়ুমন্ডল কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে পারে না বরং কিছুটা পশ্চাতে পড়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৩৭.
নিচের কোনটি বাল্টিক রাষ্ট্র নয়?
  1. এস্তোনিয়া
  2. লিথুয়ানিয়া
  3. সুইডেন
  4. লাতবিয়া
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুইডেন বাল্টিক রাষ্ট্র নয়।

বাল্টিক রাষ্ট্র:
- উত্তর-পূর্ব ইউরোপের বাল্টিক সাগরের পূর্বতীরে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ বাল্টিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত।
- এই অঞ্চলে তিনটি দেশ রয়েছে;
- এস্তোনিয়া,
-  লিথুয়ানিয়া,
- লাতবিয়া।
- বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহ বর্তমানে ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ।

• সুইডেন:
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া উপদ্বীপে অবস্থিত উত্তর ইউরোপের দেশ সুইডেন।
- পশ্চিমে নরওয়ে, উত্তর-পূর্বে ফিনল্যান্ড।
- এবং দক্ষিণ-পূর্বে আছে যথাক্রমে বাল্টিক সাগর ও বথনিয়া উপসাগর।
- আয়তনের সুইডেন উত্তর ইউরোপের বৃহত্তম দেশ।
- ইউরোপের পঞ্চম বৃহত্তম এবং বিশ্বের ৫৫তম বৃহত্তম দেশ।
- ডেনমার্ক, জার্মানি, পোল্যান্ড, রাশিয়া, লিথুয়ানিয়া, লাতভিয়া এবং এস্তোনিয়ার সঙ্গে সুইডেনের সমুদ্রসীমা রয়েছে।

উৎস: Britannica.
৪,০৩৮.
'সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) পটুয়াখালী
  2. খ) বরগুনা
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাগর তীরে অবস্থিত।
যেখানে মােট জমির পরিমান ১০৪১ একর।
পাহাড় ও সাগরের বৈচিত্রময় দৃশ্য, সুদীর্ঘ বালুকাময় সৈকত এ স্থানকে সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত করেছে ।
সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক হবে বাংলাদেশের ট্যুরিজমের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান ও বিনােদনের কাঙ্ক্ষিত স্থান।
সাবরাং ট্যুরিজম পার্কটি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের ট্যুরিজম খাতে এক নতুন দিগন্ত উম্মােচন হবে এবং
প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে প্রায় ৭০,০০০ লােকের কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি হবে। 
উৎস : https://www.beza.gov.bd/
৪,০৩৯.
ইউরোপ মহাদেশ আয়তনে বিশ্বের কততম?
  1. পঞ্চম
  2. চতুর্থ
  3. ষষ্ঠ
  4. সপ্তম
ব্যাখ্যা
মহাদেশ:
• পৃথিবীতে মোট ৭টি মহাদেশ রয়েছে। এদের মধ্যে আয়তন অনুসারে-
• প্রথম – এশিয়া (৪.৪৫৭৯ কোটি বর্গ কিমি)
• দ্বিতীয় – আফ্রিকা (৩.০৩৭ কোটি বর্গ কিমি)
• তৃতীয় – উত্তর আমেরিকা (২.৪৭০৯ কোটি বর্গ কিমি)
• চতুর্থ – দক্ষিণ আমেরিকা (১.৭৮৪ কোটি বর্গ কিমি)
• পঞ্চম – অ্যান্টার্কটিকা (১.৪২ কোটি বর্গ কিমি)
• ষষ্ঠ – ইউরোপ (১.০১৮ কোটি বর্গ কিমি)
• সপ্তম – অস্ট্রেলিয়া (০.৮৫২৫ কোটি বর্গ কিমি)।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৪,০৪০.
’চর নিউটন‘ কোন জেলায় অবস্থিত? 
  1. ভোলা 
  2. চট্টগ্রাম
  3. নোয়াখালী
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

- চর নিউটন ভোলা জেলায় অবস্থিত।

বাংলাদেশের চরসমূহ:

- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি।
– নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন: দুবলার চর, পাটনি চর।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,০৪১.
কততম 'COP' সম্মেলনের মাধ্যমে 'গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড' গঠিত হয়?
  1. ক) COP -17
  2. খ) COP -16
  3. গ) COP -15
  4. ঘ) COP -19
ব্যাখ্যা
গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড
• গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (Green Climate Fund) জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশন ফ্রেমওয়ার্ক (UNFCCC) - কর্তৃক গঠিত একটি তহবিল। শিল্পোন্নত দেশ সমূহের প্রদত্ত চাঁদা থেকে এই তহবিল গঠিত হবে।

এক নজরে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড
• প্রতিষ্ঠাকাল : ২০১০ সাল।
• প্রতিষ্ঠার স্থান : কানকুন, মেক্সিকো।
• প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন : COP-16
• সদরদপ্তর : ইয়েনচিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া (২০১৩ সালে এর স্থায়ী দপ্তর স্থাপিত হয়)
• তহবিলের পরিমাণ : ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

• ২০০৯ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন - এ অনুষ্ঠিত COP - এর ১৫-তম সম্মেলনে (COP-15) গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড তৈরীর অঙ্গীকার করে UNFCCC স্বাক্ষর করা ১৯৭টি পক্ষ।
• ২০১০ সালে মেক্সিকোর কানকুনে COP - এর ১৬-তম সম্মেলনে (COP-16) জলবায়ুর পরিবর্তন - এর প্রভাব মোকাবেলায় এই তহবিল গঠিত হয়।
• ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে অনুষ্ঠিত COP-17 - এ এই তহবিল পরিচালনা সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন ও গ্রহন করা হয়।

তথ্যসূত্র:- গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ওয়েবসাইট।
৪,০৪২.
'নানিয়ারচর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কিশোরগঞ্জ
  2. খ) রাঙামাটি
  3. গ) নোয়াখালী
  4. ঘ) ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
'নানিয়ারচর' অবস্থিত রাঙামাটিতে। কুলিয়ারচর অবস্থিত কিশোরগঞ্জে। চরভদ্রাসন অবস্থিত ফরিদপুরে এবং সুবর্ণচর, ভাসানচর অবস্থিত নোয়াখালীতে। চর লরেন্স, চর শাহাবানী, চর শ্রীজনী, চর কাদিরা, চেঙ্গার চর নোয়াখালী জেলার হাতিয়ায় অবস্থিত। rangamati.gov.bd
৪,০৪৩.
নিচের কোনটি ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র?
  1. ক) কানাডা
  2. খ) ঘানা
  3. গ) দক্ষিণ আফ্রিকা
  4. ঘ) পেরু
ব্যাখ্যা
বিশ্বে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্রের সংখ্যা দুইটি। এগুলো হলো- দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইতালি।
দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরে ‘লেসোথ’ নামের আরেকটি স্বাধীন রাষ্ট্র অবস্থিত।
অন্যদিকে, ইতালির অভ্যন্তরে ‘ভ্যাটিকান সিটি’ ও ‘সানম্যারিনো’ রাষ্ট্রদ্বয় অবস্থিত।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস
৪,০৪৪.
বাংলাদেশ কোন দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. ২০°৩৮′–২৬°৩৪′ উত্তর
  2. ২০°৩৪′–২৬°৩৮′ উত্তর
  3. ৮৮°০১′–৯২°৪১′ পূর্ব
  4. ৮৮°৪১′–৯২°০১′ পূর্ব
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা) অতিক্রম করেছে। পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের, পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,০৪৫.
গড় হিসেবে বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. এপ্রিল
  2. মে
  3. জুন
  4. জুলাই
ব্যাখ্যা

• গ্রীষ্মকাল:
- মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল। এটিই দেশের উষ্ণতম ঋতু।
- এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সে. এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- গড় হিসেবে উষ্ণতম মাস এপ্রিল।
- এ সময়ে সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ থেকে উত্তরদিকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বেশি থাকে।
- গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের ওপর
দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে।
- একই সময়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়।
- এর ফলে একধরনের ঝড়ের সৃষ্টি হয়। এ ঝড়কে কালবৈশাখি (North Westerlies) বলা হয়।
- এছাড়া এপ্রিল ও মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপসমূহের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল প্রায়শ বিভিন্ন প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝাড়ে আক্রান্ত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম  ও দশম শ্রেণি।

৪,০৪৬.
হিমছড়ি কোন শহরের নিকট অবস্থিত?
  1. কক্সবাজার
  2. চট্টগ্রাম
  3. খুলনা
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
• হিমছড়ি: 
- হিমছড়ি কক্সবাজার জেলার উপকন্ঠে অবস্থিত।
- জেলা সদর হতে ৯ কিঃমিঃ দূরে হিমছড়ি অবস্থিত।
- পাহাড়, সমুদ্র ও ঝর্ণা সমন্বিত হিমছড়ি অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এক পর্যটন স্পট।
- পর্যটন মৌসুমে এখানে পর্যটকদের আনাগোণা বেশি পরীলক্ষিত হয়।
- এখানে কয়েকটি প্রাকৃতিক ঝর্ণা (প্রসবণ) রয়েছে।
- ২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে হিমছড়িসহ আশে পাশে অনেক পর্যটন স্পট দারুণভাবে ক্ষতিসাধন হয়।
- সিঁড়ি বেয়ে উঁচু পাহাড়ে উঠে সাগর, পাহাড় ও কক্সবাজারের নৈসর্গিক সৌর্ন্দয অতিসহজে উপভোগ করা যায়।

------------------- 
আরো কয়েকটি ঝর্ণা: 
মাধবকুন্ড: 
- মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় অবস্থিত।

হামহাম: 
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।

শুভলং: 
- রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলায় অবস্থিত।

খৈয়াছড়া: 
- চট্টগ্রামের মিরসরাই-এ অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, হিমছড়ি, coxsbazar.gov.bd.
৪,০৪৭.
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান অক্সিজেনের পরিমাণ?
  1. ১৮.৭১%
  2. ২০.৭১%
  3. ২১%
  4. ২২.১০%
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বায়ুমণ্ডল এর প্রধান দুটি উপাদান।
- বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যা ৭৮.০২%।
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান অক্সিজেনের পরিমাণ ২০.৭১%।
- এ দুটি গ্যাস বায়ুমন্ডলে আয়তনের দিক থেকে একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ।
- বাকি শতকরা ১.২৭ ভাগ অন্যান্য গ্যাস, জলীয়বাষ্প ও কণিকাসমূহ জায়গা জুড়ে আছে।
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যা ০.০১%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%।
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০৪৮.
নিচের কোনটি উঁচু উচ্চতার মেঘ?
  1. ক) স্ট্রেটাস
  2. খ) সিরাস
  3. গ) কিউম্যুলাস
  4. ঘ) নিম্বাস
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:

উঁচু উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা)
৪,০৪৯.
কোন দুইটি দেশ ব্যতীত দক্ষিণ আমেরিকার সবগুলো দেশের সাথে ব্রাজিলের সীমান্ত রয়ে‍ছে?
  1. ক) আর্জেন্টিনা ও ঘানা
  2. খ) কলম্বিয়া ও পেরু
  3. গ) সুরিনাম ও পেরু
  4. ঘ) ইকুয়েডর ও চিলি
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র ব্রাজিল। এছাড়াও জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ। ইকুয়েডর ও চিলি ব্যতীত দক্ষিণ আমেরিকার সবগুলো দেশের সাথে ব্রাজিলের সীমান্ত রয়ে‍ছে। সূত্র- worldatlas ওয়েবসাইট।
৪,০৫০.
কিওক্রাডাং -এর উচ্চতা প্রায়-
  1. ক) ১০১০ মিটার
  2. খ) ১৫৩০ মিটার
  3. গ) ১২৩০ মিটার
  4. ঘ) ১৩৬৪ মিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। এগুলো মূলত রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশে অবস্থিত। অন্যতম উচ্চ পাহাড়চূড়া কেওক্রাডং এর উচ্চতা ১২৩০ মিটার আর সর্বোচ্চ পাহাড়চূড়া তাজিংডং এর উচ্চতা ১২৩১ মিটার। দুটি চূড়াই বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই।
৪,০৫১.
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয় কোনটি?
  1. বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত
  2. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  3. নদী খনন
  4. শস্য বহুমুখীকরণ
ব্যাখ্যা
প্রতিরোধ (Prevention):
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
- তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহন, যেমন- বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত স্কুল ও ঘরবাড়ি নির্মাণ, নদী খনন ইত্যাদি বুঝায়।
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যথেষ্ট ব্যয়বহুল, যা বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে বৈদেশিক সাহায্য ব্যতীত তৈরি করা কষ্টসাধ্য।
- অপরদিকে, অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- দুর্যোগ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম অপেক্ষাকৃত স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

উল্লেখ্য,
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৫২.
'আমাজন বনভূমি' কোন ধরণের বনভূমি?
  1. গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল
  2. ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল
  3. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি
  4. উপক্রান্তীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা
আমাজন বন:
- দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত আমাজন বন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বনাঞ্চল।
- আমাজন পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট।
- এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল।
- এর আয়তন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন বর্গ মাইল।
- এটি ৯ টি দেশ যথা: ব্রাজিল, বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, গায়ানা, সুরিনাম ও ফ্রে গায়ানা জুড়ে বিস্তৃত।
- আমাজন বনকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস ।

উৎস: WWF ওয়েবসাইট। 
৪,০৫৩.
'পদ্মা' নদীর পূর্বনাম কী?
  1. জোনাই
  2. লোহিত্য
  3. দোলাই
  4. কীর্তিনাশা
ব্যাখ্যা
পদ্মা: 

- পদ্মার পূর্বনাম কীর্তিনাশা যা বাংলাদেশের প্রধান নদী। 
- এ নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।  
- এ নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী জেলার কুষ্টিয়ার উত্তর পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে। 
- অতঃপর পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশেছে। 
- বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার।
- পদ্মার শাখানদীগুলোর মধ্যে কুমার, ভৈরব, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, আড়িয়াল খাঁ উল্লেখযোগ্য।
- যমুনা এর পূর্বনাম জোনাই
- ব্রহ্মপুত্র এর পূর্বনাম লোহিত্য
- বুড়িগঙ্গা এর পূর্বনাম দোলাই

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৫৪.
উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩‌ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

• সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১০০০মিটারের বেশি উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
• উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত ৪ প্রকার। যথা-
- ভঙ্গিল পর্বত,
- আগ্নেয় পর্বত,
- চ্যুতি-স্তুপ পর্বত ও
- ল্যাকোলিথ পর্বত।
• ভঙ্গ বা ভাঁজ থেকে ভঙ্গিল শব্দটির উৎপত্তি। কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে। ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্য ভাঁজ। পৃথিবীর উচ্চতম অধিকাংশ পর্বত এ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
• এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০৫৫.
‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আড়াইহাজার
  2. খ) গাজীপুর
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
- ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা’ ময়মনসিংহ জেলার পার্ক রোডে অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৫ সালে যাত্রা শুরু করে।
অন্যদিকে,
- ‘শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর’ নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত যা ১৯৯৬ সালের ১৯ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়।
- বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট)
৪,০৫৬.
নিচের কোন অঞ্চলটি বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল নয়?
  1. চাপাইনবাবগঞ্জ
  2. টাঙ্গাইল
  3. রাজশাহী
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
খরা:
- সাধারণত খরা বলতে কোনো এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে ভূমিতে পানির অনুপস্থিতিকে বুঝায়।
- অর্থাৎ কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়।
- এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র: রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৫৭.
কর্কটক্রান্তি রেখা ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা কোন জেলায় পরস্পরকে ছেদ করেছে?
  1. কক্সবাজার
  2. ঝিনাইদহ
  3. ফরিদপুর
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
 কর্কটক্রান্তি রেখা:
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি। 
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় কর্কটক্রান্তি রেখা ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা পরস্পরকে ছেদ করেছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৪,০৫৮.
বাংলাদেশে কখন সাধারণত সাইক্লোন দেখা যায়?
  1. ক) মার্চ - মে
  2. খ) জুন - সেপ্টেম্বর
  3. গ) অক্টোবর - নভেম্বর
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। 
৪,০৫৯.
বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের নাম কী?
  1. কেওক্রাডাং
  2. গারো
  3. লুসাই
  4. জয়ন্তিকা
ব্যাখ্যা

গারো পাহাড় :
- বাংলাদেশের বৃহত্তম ও সবচেয়ে উঁচু পাহাড় নাম- গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণি।
- মূলত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো-খাসিয়া পর্বতশ্রেণির একটি অংশকে গারো পাহাড় বলে।
- এর কিছু অংশ রয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যে ও বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাগুলো এ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
- গারো পাহাড়ের মোট আয়তন প্রায় আট হাজার ১৬৭ বর্গকিলোমিটার।
- গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম নকরেক, যা ভারত অংশে অবস্থিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৪ হাজার ৬৫২ ফুট বা এক হাজার ৪০০ মিটার।
- মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং এ পাহাড়েই অবস্থিত।
- গারো পাহাড় বিশ্বের অন্যতম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি।

অন্যদিকে,
- তাজিংডং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,০৬০.
এশিয়ার দীর্ঘতম নদীর নাম কী?
  1. অ্যামাজন নদী
  2. হোয়াংহো নদী
  3. ইয়াংসিকিয়াং নদী
  4. দানিয়ুব নদী
ব্যাখ্যা
ইয়াংসিকিয়াং (ইয়াংজি) নদী: 
- ইয়াংসিকিয়াং নদী চীন ও এশিয়ার দীর্ঘতম এবং বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী।

- এর মোট দৈর্ঘ্য ৩,৯১৫ মাইল (৬,৩০০ কিমি)।
- অবস্থান: চীনের মধ্য ও পূর্ব অংশ দিয়ে প্রবাহিত।
- উৎপত্তিস্থল: তিব্বত মালভূমি।
- এটি পূর্ব চীন সাগরে পতিত হয়।
- নদীটি ১০টি প্রদেশ বা অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় বা সীমান্ত গঠন করে।
- নদীর তিন-চতুর্থাংশ অংশ পর্বতশ্রেণীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
- ইয়াংসিকিয়াং নদী চীনের অর্থনীতি, পরিবহন ও কৃষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: Britannica.
৪,০৬১.
নদী প্রবাহের কোন পর্যায়ে ক্ষয়কার্য সাধন অধিক হয়?
  1. ক) নিম্নগতি
  2. খ) উর্ধ্বগতি
  3. গ) মধ্যগতি
  4. ঘ) ধীরগতি
ব্যাখ্যা
- পর্বতের উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর প্রবাহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়।
- উর্ধ্বগতি হলো প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়।
- সর্বশেষ হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,০৬২.
আরব সাগরে সৃষ্ট ‘হামুন’ ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে কোন দেশ?
  1. ইরাক
  2. ইরান
  3. বাহরাইন
  4. শ্রীলঙ্কা
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় 'হামুন’:
- ২১ অক্টোবর ২০২৩-এ বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্যভাগে একটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- সেটাই গভীর নিম্নচাপে ঘনীভূত হয়ে ২৩ অক্টোবর ২০২৩ রাতে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘হামুন’।

উল্লেখ্য,
- প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়ের একটি নাম থাকে।
- ‘হামুন’ নামটি দিয়েছে ইরান।
- ইরানি এই নামটির অর্থ ‘মরুভূমিতে প্রাকৃতিক হ্রদ’ বা বিশাল জলাশয়।
- এই ঘূর্ণিঝড়ের পর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে তার নাম হবে ‘মিধিলি’, এটি মালদ্বীপের দেওয়া।

উৎস: ২৪ অক্টোবর ২০২৩, কালের কন্ঠ। [link]
৪,০৬৩.
জিব্রাল্টার কী?
  1. ক) উপসাগর
  2. খ) প্রণালী
  3. গ) হ্রদ
  4. ঘ) শহর
ব্যাখ্যা
জিব্রাল্টার প্রণালী আটলান্টিক এবং ভূমধ্যসাগরকে সংযুক্ত করেছে এবং আফ্রিকা(মরক্কো) ও ইউরোপ(স্পেন) মহাদেশকে পৃথক করেছে। সূত্রঃ ব্রিটানিকা এনসাইক্লোপিডিয়া।
৪,০৬৪.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান কোনটি?
  1. ক) দুর্যোগ পরবর্তী উন্নয়ন
  2. খ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার
  3. গ) দুর্যোগে সাড়া প্রদান
  4. ঘ) দুর্যোগ প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি। যথা-
১। দুর্যোগ প্রতিরোধ
২। দুর্যোগ প্রশমন
৩। দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন। এই ৩টি কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

• সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মুকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
• দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
• অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৬৫.
প্রাকৃতিক গ্যাস কোন খাতে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়?
  1. শিল্প উৎপাদনে
  2. বিদ্যুৎ উৎপাদনে
  3. সার উৎপাদনে
  4. গৃহস্থালিতে
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশে গ্যাসের ব্যবহারকারিদের ৮টি গ্রাহকশ্রেণি রয়েছে।
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৩৭%, শিল্পে ২৩%, ক্যাপটিভ বিদ্যুতে ১৮%, গৃহস্থালিতে ১০%, সার উৎপাদনে ৭%, সিএনজিতে ৪% এবং বাণিজ্যিক ও চা শিল্পে ১% গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
- কৃষি সেচ মৌসুম, রমজান মাস ও গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের চাহিদা আরো বেশি থাকে। 

উৎস: বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)

৪,০৬৬.
অতীশ দিপঙ্কর বর্তমান কোন জেলার অধিবাসী ছিলেন?
  1. ক) মুন্সিগঞ্জ
  2. খ) নরসিংদী
  3. গ) মানিকগঞ্জ
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (৯৮০-১০৫৩) বৌদ্ধ পন্ডিত, ধর্মগুরু ও দার্শনিক। দশম-একাদশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি পন্ডিত দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা (বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ) এর বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে এক রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
উৎসঃ বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,০৬৭.
ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত কোথায় অবস্থিত?
  1. নেপালের হিমালয়ে
  2. চীনের তিব্বত অঞ্চলে
  3. পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে
  4. ভারতের অরুণাচলে
ব্যাখ্যা

ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত:
- বিশ্বের সবচেয়ে গভীর গিরিখাত ইয়ারলাং সাংপো গ্র্যান্ড গিরিখাত যা চীনের তিব্বত অঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি ব্রহ্মপুত্র গিরিখাত নামেও পরিচিত।
- এই গিরিখাতের গভীরতা সর্বোচ্চ ১৯ হাজার ৭১৪ ফুট এবং এটির দৈর্ঘ্য ৩১৩ মাইলের বেশি।

উল্লেখ্য,
- ইয়ারলাং সাংপো নদীর উৎপত্তিস্থল কৈলাস পর্বতের কাছে। সেখান থেকে এই নদী পূর্ব দিকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মাইল বয়ে গেছে এবং তিব্বতের পেই গ্রামের কাছে গিরিখাতে প্রবেশ করার আগে হিমালয়ের উত্তর অংশে প্রবাহিত হয়েছে।

উৎস: World Atlas. 

৪,০৬৮.
পশ্চিমের “এলিস দ্বীপ" নামে পরিচিত কোনটি?
  1.  আলকাট্রাজ
  2.  এঞ্জেল দ্বীপ
  3.  ট্রেজার আইল্যান্ড
  4. মারিন আইল্যান্ড
ব্যাখ্যা

এঞ্জেল দ্বীপ :
- এঞ্জেল দ্বীপ সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক দ্বীপ।
- এটি উপসাগরের বৃহত্তম দ্বীপ হিসেবে পরিচিত।
- এই দ্বীপটি সান ফ্রান্সিসকো ও টিবুরনের মাঝামাঝি অবস্থানে অবস্থিত।
- টিবুরন উপদ্বীপের দক্ষিণ তীর থেকে প্রায় ১.৬ কিমি ও সান ফ্রান্সিসকো থেকে প্রায় ৫ কিমি উত্তরে অবস্থিত এঞ্জেল দ্বীপটি একসময় "পশ্চিমের এলিস দ্বীপ" নামে পরিচিত ছিল;
- কারণ বিংশ শতকের শুরুতে এখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন স্টেশন পরিচালিত হতো।

উল্লেখ্য,
- এটি মূলত মেরিন কাউন্টির টিবুরন শহরের অধীনে হলেও পূর্বাংশ সান ফ্রান্সিসকো শহর ও কাউন্টির আওতায় পড়ে।
- এখন পুরো দ্বীপটাই মূলত একটি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট পার্ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়;
- শুধু বাতিঘর ও মার্কিন কোস্ট গার্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছোট কয়েকটি অংশ এর বাইরে রয়েছে।

উৎস : Britannica.com

৪,০৬৯.
'MDMR' এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Ministerial Disaster Management and Relief
  2. Ministry of Disaster Management and Relief
  3. Ministerial for Disaster Management and Relief
  4. Ministerial Disaster Management for Relief
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের গৃহীত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামােসমূহ নিম্নরূপ :
- Ministry of Disaster Management and Relief (MDMR)
- National Disaster Management Council (NDMC)
- In-Ministerial Disaster Management Co-ordination Committee (IMDMCC)
- Emergency Operation Centre (EOC)
- Disaster Management Bureau (DMB)

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৭০.
ব্ল্যাক ফরেস্ট কোথায় অবস্থিত?
  1. জাপান
  2. নরওয়ে
  3. জার্মানি
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
• পর্বত (Mountains):
- সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটারের বেশি উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।

• ভঙ্গিল পর্বত:
- ভঙ্গ বা ভাঁজ থেকে ভঙ্গিল শব্দটির উৎপত্তি।
- কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ। 

• আগ্নেয় পর্বত:
- আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়। একে আপ্লেয়জাত সমভূমি সঞ্চয়জাত পর্বতও বলে।
- এই পর্বত সাধারণত মোচাকৃতির (Conical) হয়ে থাকে।
আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ হলো-
- ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমানজারো, জাপানের ফুজিয়ামা এবং ফিলিপাইনের পিনাটুবো পর্বত।

• চ্যুতি-স্থপ পর্বত:
- ভূআলোড়নের সময় ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রসারণ এবং সংকোচনের সৃষ্টি হয়।
- এই প্রসারণ এবং সংকোচনের জন্য ভুত্বকে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
- কালক্রমে এ ফাটল বরাবর ভুত্বক ক্রমে স্থানচ্যুত হয়।
- ভূগোলের ভাষায় একে চ্যুতি বলে। ভুত্বকের এ স্থানচ্যুতি কোথাও উপরের দিকে হয়, আবার কোথাও নিচের দিকে হয়।
- চ্যুতির ফলে উঁচু হওয়া অংশকে স্তূপ পর্বত বলে।

- ভারতের বিন্ধ্যা ও সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট, পাকিস্তানের লবণ পর্বত চ্যুতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৭১.
বিশ্বের দীর্ঘতম সাবমেরিন ফ্যান কোনটি?
  1. সিন্ধু ফ্যান
  2. বেঙ্গল ফ্যান
  3. মেকং ফ্যান
  4. ক্যারিবিয়ান ফ্যান
ব্যাখ্যা
- সাবমেরিন ফ্যান হলো সমুদ্র তলদেশের একটি ভূমিরূপ। নদীবাহিত পলি সমুদ্র তলদেশে সঞ্চিত হয়ে জালের মতো শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত করে সাবমেরিন ফ্যান গড়ে তোলে।
- বঙ্গোসাগরের অবস্থিত বেঙ্গল ফ্যান বিশ্বের দীর্ঘতম সাবমেরিন ফ্যান।
- এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ পায় ১,৪৩০ কিলোমিটার।
- গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র এবং এদের শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে বাহিত পলি সঞ্চিত হয়ে বেঙ্গল ফ্যান গঠিত হয়েছে।
- বেঙ্গল ফ্যানের নিকটেই সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সমুদ্রখাত অবস্থিত।
(ব্রিটানিকা)
৪,০৭২.
বাংলাদেশের সর্বাধিক বনাঞ্চল সম্পন্ন জেলা কোনটি? (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ- ২০২৪)
  1. বাগেরহাট 
  2. বান্দরবান 
  3. রাঙ্গামাটি 
  4. খাগড়াছড়ি 
ব্যাখ্যা

• মোট বনাঞ্চল - ৬৩,৬৩,৩০৯.৩৩ একর বা ২৫,৭৫,১৯৬.০১ হেক্টর।

সর্বাধিক বনাঞ্চল সম্পন্ন জেলা (৫টি)
- রাঙ্গামাটি = ১৩,৭৮,৫৬৪.১৩ একর;
- বান্দরবান =  ৭,৯৭,৫৪১.৪৯ একর;
- বাগেরহাট = ৫,৬৬,৫১২.৯৫ একর;
- খাগড়াছড়ি = ৫৫৪,১১৬.২১ একর;
- খুলনা =  ৫,৬৪,০৮১.৬১ একর।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ- ২০২৪।

৪,০৭৩.
বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের মধ্যে সমুদ্র সীমা বিরোধ কোন সংস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়?
  1. Permanent Court of Justice
  2. International Tribunal for the Law of the Sea
  3. International Court of Justice
  4. Permanent Court of Arbitration
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি: 
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মামলার রায় হয় ২০১২ সালের ১৪ মার্চ।
- জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS) এ সমুদ্রসীমা বিষয়ক এই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।
- এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ লাভ করে ১,১১,৬৩১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা।

অন্যদিকে, 
- PCA (Permanent Court of Arbitration) আদালতে বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।

তথ্যসূত্র:- সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট, বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট।
৪,০৭৪.
যে বায়ু ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে তাকে কী বলে?
  1. মৌসুমী জলবায়ু
  2. নিরক্ষীয় জলবায়ু
  3. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু
  4. মহাদেশীয় জলবায়ু
ব্যাখ্যা

• মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল:
- আরবী ভাষায় মৌসুম শব্দের অর্থ ঋতু।
- তাই যে বায়ুর গতি ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় বা বিভিন্ন দিক থেকে প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে।
- আর এই মৌসুমী বায়ু যেসব অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল বলে। 
- গ্রীষ্মকালে অধিক তাপ ও প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং শীতকালে বৃষ্টিহীন ও শুষ্কতাই এ জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট।
- প্রধানত: ১৫০ হতে ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল অবস্থিত। 
- মহাদেশের পূর্বাঞ্চলসমূহ তথা কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির মধ্যবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। 

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৭৫.
জনসংখ্যা ও আয়তনের ভিত্তিতে সার্কভুক্ত কোন দেশটি সবচেয়ে ছোট?
  1. ক) ভুটান
  2. খ) শ্রীলঙ্কা
  3. গ) মালদ্বীপ
  4. ঘ) নেপাল
ব্যাখ্যা
আয়তনে এশিয়ার এবং দক্ষিণ এশিয়ার তথা সার্কভুক্ত ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র মালদ্বীপ। দেশটির আয়তন প্রায় ৩০০ বর্গ কিলোমিটার।
জনসংখ্যায় এশিয়ার দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম এবং দক্ষিণ এশিয়ার তথা সার্কভুক্ত ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র মালদ্বীপ।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ
৪,০৭৬.
তেল বাণিজ্যের জন্য পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী-
  1. জিব্রাল্টার
  2. ফরমোজা
  3. হরমুজ
  4. বেরিং
ব্যাখ্যা

হরমুজ প্রণালী একটি সরু জলপথ যা পশ্চিমের পারস্য উপসাগরকে পূর্বে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে এবং আরব উপদ্বীপ থেকে ইরানকে পৃথক করেছে।
৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালীটি পারস্য উপসাগরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ওমান ও ইরানকে সংযুক্ত করেছে।
এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য দুটো লেন রয়েছে এবং প্রতিটি লেন দুই মাইল প্রশস্ত।
হরমুজ প্রণালী সংকীর্ণ হতে পারে। কিন্তু জ্বালানী তেল বহনের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ চলাচল করার জন্য হরমুজ প্রণালী যথেষ্ট গভীর এবং চওড়া।
পৃথিবীতে যে পরিমাণ জ্বালানী তেল রপ্তানি হয়, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়।

উৎসঃ ব্রিটানিকা।

৪,০৭৭.
'নর্ড স্ট্রিম-২' পাইপলাইন প্রকল্প কোন সাগরের তলদেশে অবস্থিত?
  1. ক) কাস্পিয়ান সাগর
  2. খ) কৃষ্ণ সাগর
  3. গ) ভূমধ্যসাগর
  4. ঘ) বাল্টিক সাগর
ব্যাখ্যা

নর্ড স্ট্রিম ২ হলো বাল্টিক সাগরের মধ্য দিয়ে রাশিয়া থেকে জার্মানি পর্যন্ত 1,234 কিলোমিটার দীর্ঘ (767 মাইল) প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন।
- নর্ড স্ট্রিম ১- এর অনুরূপ রুট অনুসরণ করে 2011 সালে পাইপলাইনের নির্মাণ শুরু হয়েছিল।
- 2015 সালে চালু হওয়া নর্ড স্ট্রিম 2 পাইপলাইনটি বাল্টিক সাগরের মাধ্যমে সরাসরি রাশিয়া এবং জার্মানির সাথে সংযোগ স্থাপন করে।
- দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের বিলম্বের কারণে নির্মাণে বেশ কয়েক বছর লেগেছে।
- নর্ড স্ট্রিম ২- এর অল্প কিছু জ্বালানি প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।
- পাইপলাইনের মালিক গাজপ্রম।
- এটি একটি রাশিয়ান রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি।
- গ্যাস আমদানির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এটি প্রয়োজন।
- জার্মানির জ্বালানি খাত পাইপলাইনটিকে একটি কার্যকর বাণিজ্যিক প্রকল্প হিসেবেও দেখে।

উৎস: The Nord Stream 2 pipeline - European Parliament, europa.eu.

৪,০৭৮.
বায়ুমন্ডলের কত ভাগ উপাদান ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ?
  1. প্রায় ৯০ ভাগ
  2. প্রায় ৯৫ ভাগ
  3. প্রায় ৯৭ ভাগ
  4. প্রায় ৯৯ ভাগ
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল: 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডল বিস্তৃত।
- বায়ুমন্ডলের প্রায় ৯৭ ভাগ উপাদানই ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ
- তাই মানুষ, উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর উপর এর প্রভাব অত্যন্ত বেশি।
- বায়ুমণ্ডল প্রধানত তিন প্রকার উপাদান দ্বারা গঠিত। যেমন- বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা ও কণিকা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,০৭৯.
মুজিবনগর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) পশুর
  2. খ) ভৈরব
  3. গ) রুপসা
  4. ঘ) কপোতাক্ষ
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার। এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। 
মুজিবনগর ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত।

ভৈরব নদী
(Bhairab River) যশোর-খুলনা এলাকার দীর্ঘতম নদী। 
মালদহের যেস্থানে শ্রুতকীর্তি গঙ্গায় পড়েছে, তারই অপর পাড়ে ভৈরবের উৎপত্তি। বেশ কিছু পথ অতিক্রম করার পর ভৈরব গঙ্গার অপর এক দক্ষিণগামী শাখানদী জালাঙ্গী নদীর সঙ্গে মিশেছে। 
পরবর্তীতে ভৈরব মেহেরপুরের পশ্চিম পাশ দিয়ে সুবলপুর গ্রামের কাছে মাথাভাংগার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। দর্শনা রেলস্টেশনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ থেকে ভৈরব নদী মাথাভাংগা নদী থেকে বিচ্যুত হয়ে যশোরে প্রবেশ করে কোটচাঁদপুর পর্যন্ত পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে পরে দক্ষিণমুখী হয়েছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
৪,০৮০.
বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল কোনটি?
  1. বিল ডাকাতিয়া
  2. ভবদহ বিল
  3. আড়িয়াল বিল
  4. চলন বিল
ব্যাখ্যা
চলন বিল:

- চলন বিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল।
- সমৃদ্ধতম জলাভূমিগুলির একটি।
- দেশের সর্ববৃহৎ এ বিল বিভিন্ন  খাল বা জলখাত দ্বারা পরস্পর সংযুক্ত অনেকগুলি ছোট ছোট বিলের সমষ্টি।
- বর্ষাকালে এগুলি সব একসঙ্গে একাকার হয়ে প্রায় ৩৬৮ বর্গ কিমি এলাকার একটি জলরাশিতে পরিণত হয়।
- বিলটি সংলগ্ন তিনটি জেলা রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ-এর অংশবিশেষ জুড়ে অবস্থান করছে।
- চলন বিল সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা দুটির অধিকাংশ স্থান জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা ও গুমনী নদীর উত্তর পাড়ের মধ্যে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪,০৮১.
পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. ইয়াংজি
  2. মিসিসিপি
  3. নীল নদ
  4. কঙ্গো
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস ।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত: সাদা নীল এবং নীল নীল।

অন্যান্য দীর্ঘতম নদীসমূহ,
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- ইয়াংজি নদীর দৈর্ঘ্য- ৬৩০০ কি.মি।
- মিসিসিপি নদীর দৈর্ঘ্য- ৫৯৭১ কি.মি।
- কঙ্গো নদীর দৈর্ঘ্য ৪৭০০ কি.মি।

তথ্যসূত্র- Britannica.com & Worldatlas.com
৪,০৮২.
বায়ুমণ্ডলের স্তর কয়টি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ঠ্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৮৩.
বাংলাদেশের কত ভাগ ভূমি নদীবিধৌত বিস্তীর্ণ সমভূমি?
  1. প্রায় ৯০ ভাগ
  2. প্রায় ৮০ ভাগ
  3. প্রায় ৬৫ ভাগ
  4. প্রায় ৭০ ভাগ
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি: 
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০% ভূমি নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- সমতল ভূমির উপর দিয়ে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হওয়ার কারণে এখানে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়।
- বছরের পর বছর এভাবে বন্যার পানির সঙ্গে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। ।
- সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভূমি খুবই উর্বর।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,০৮৪.
সমুদ্রপৃষ্ঠ ৪৫ সে.মি বৃদ্ধি পেলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে climate refugee হবে?
  1. ৩ কোটি
  2. ৩.৫ কোটি
  3. ৪ কোটি
  4. ৪.৫ কোটি
ব্যাখ্যা

climate refugee:
- মেরু অঞ্চল এবং পর্বতশৃঙ্গের জমে থাকা বরফ দ্রুত গলতে থাকার কারণে জাতিসংঘের আন্তঃসরকার জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (আইপিসিসি) এর মতে ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বাড়তে পারে।
- আর এর ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের ৩.৫ কোটি মানুষ।

অন্যদিকে,
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির বর্তমান হার অব্যাহত থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১১ থেকে ৩৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
- গ্রিনল্যান্ড ও পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকায় বড়সড় কোনো ভাঙন দেখা দিলে এটা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।
 - পৃথিবীর দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ সমুদ্রোপকূল থেকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করে।
- তাই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

৪,০৮৫.
হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময়কালীন পাহাড়সমূহ বাংলাদেশের বর্তমান মোট ভূমির কত অংশ জুড়ে বিস্তৃত ?
  1. ৮ %
  2. ১০ %
  3. ১১ %
  4. ১২ %
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি
- অপার্থিব সৌন্দর্যের এই বাংলাদেশ ঋতু-রুপে যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি তার ভুমিরুপেরও আছে বৈচিত্র্য। 
- ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশ কে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে । যথা - 
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
২. প্লাইস্টোসিন কালের সোপান ভূমি।
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২% অংশ জুড়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ রয়েছে। 
- আজ থেকে প্রায় ৭০ মিলিয়ন বা ৭ কোটি বৎসর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় এসব পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এই টারশিয়ারি যুগ আজ থেকে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর থেকে ২০ লক্ষ বছর আগে পর্যন্ত  বিস্তৃত। 
- অবস্থান অনুসারে বাংলাদেশের টারশিয়ারি পাহাড়কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা –
১. উত্তর-পূর্বাঞ্চল এর পাহাড়।
২. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এর পাহাড়।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমি , ময়মনসিংহ ও টাংগাইলের মধুপুর , গাজীপুরের  ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লার লালমাই পাহাড় প্লাইস্টোসিন কালে ( আজ থেকে প্রায় ২৫০০০ বছর পূর্বে) গঠিত ভূমিরূপ । বাংলাদেশের মোট ভূমির ৮% এই যুগে গঠিত । 
- বাকি ৮০% ভূমিই সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

তথ্যসূত্র – ভূগোল ও পরিবেশ (বাউবি), বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (নবম দশম শ্রেণি)।
৪,০৮৬.
বিশুদ্ধ বায়ুর প্রায় ৯৯% কোন দুটি গ্যাস দ্বারা গঠিত?
  1. নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
  3. অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল (Atmosphere):
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে প্রায় বায়ুমণ্ডলের ১০,০০০ কি. মি. পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত।
- পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব এবং পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার জন্য বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলোচ্য ইউনিটে বায়ুমণ্ডলের উপাদান ও বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
- বায়ুমণ্ডল জলীয় বাষ্প, ধুলিকণা এবং বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থের সংমিশ্রণে গঠিত।
- বিশুদ্ধ বায়ুর ৯৯ শতাংশই নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন দ্বারা গঠিত।
- বায়ুর বিভিন্ন গ্যাসের মধ্যে কার্বন ডাইঅক্সাইড এর পরিমাণ ০.০০৩ শতাংশ হলেও এটি বায়ুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- এর মূল কারণ পৃথিবী থেকে বিকিরণকৃত তাপশক্তি শোষণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে।


তথ্যসূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৮৭.
কোরিওলিস প্রভাব কোন দিকে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন করে?
  1. পৃথিবীর অক্ষের দিকে
  2. উত্তর গোলার্ধে বাম দিকে
  3. দক্ষিণ গোলার্ধে ডান দিকে
  4. উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে
ব্যাখ্যা
কোরিওলিস প্রভাব:
- ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী, বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনকারী শক্তিকেই কোরিওলিস প্রভাব বা কোরিওলিস শক্তি বলা হয়।
- এটি পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের কারণে কোনো চলমান বস্তুর ওপর সৃষ্ট দিক পরিবর্তন, যা গোলার্ধভিত্তিক পরিবর্তন ঘটে।
- কোরিওলিস প্রভাবের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
১. এটি বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে এবং সর্বদা লম্বভাবে কার্যকর।
২. কোরিওলিস শক্তি বায়ুর গতির উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
৩. কোরিওলিস প্রভাব মেরুতে সবচেয়ে বেশি এবং বিষুবীয় এলাকায় অস্তিত্ব লোপ পায়।

পৃথিবীর আবর্তন:
- পৃথিবী তার আহ্নিক গতি অনুযায়ী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এই ঘূর্ণনের ফলে সমুদ্রের পানিরাশি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোত তৈরি হয়।
- ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী, সমুদ্র স্রোতও পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের প্রভাবে:
- উত্তর গোলার্ধে স্রোত ডান দিকে (ঘড়ির কাঁটার দিকে) বেঁকে প্রবাহিত হয়, যেমন উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে স্রোত বাম দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে) প্রবাহিত হয়, যেমন ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত স্রোত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৮৮.
সুপ্রাচীন ‘ম্যানলি লেক’ কোথায় অবস্থিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. নিউজিল্যান্ড
ব্যাখ্যা

ম্যানলি লেক:
- যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডেথ ভ্যালি’ উপত্যকায় অবস্থিত লাখো বছর পুরনো ম্যানলি লেক।
- এর ইতিহাস ছড়িয়ে আছে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৮৬ হাজার বছর আগের সময়ে।
- এটি পুরো উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে নিচু ভূখণ্ড- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৮২ ফুট নিচে এর অবস্থান।
- গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, একসময় ম্যানলি লেকের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৬০ কিলোমিটার।

সম্প্রতি,
- ডেথ ভ্যালি এলাকায় টানা ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় হ্রদটি আবার জেগে উঠেছে।

তথ্যসূত্র- প্রথম আলো। [link]

৪,০৮৯.
বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস-
  1. ক) এপ্রিল
  2. খ) জুন
  3. গ) জুলাই
  4. ঘ) মে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস - এপ্রিল এবং শীতলতম মাস - জানুয়ারি,
উষ্ণতম জেলা - রাজশাহী এবং শীতলতম জেলা - সিলেট,
উষ্ণতম স্থান - লালপুর, নাটোর এবং শীতলতম স্থান - শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৪,০৯০.
উত্তর গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম রাত কত তারিখ?
  1. ২১ মার্চ
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ জুন
  4. ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• উত্তর গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম রাত ২১ জুন।

• ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- একই দিন উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম রাত ও ছোট দিন।

• ২১ জুন উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও সবচেয়ে ছোট রাত । 
- এদিন দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও সবচেয়ে বড় রাত।

• ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪,০৯১.
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়িত্ব কমানো এবং পূর্বপ্রস্তুতিকে কী বলা হয়?
  1. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
  2. দুর্যোগ পূর্বাভাস
  3. দুর্যোগ উদ্ধার
  4. দুর্যোগ প্রশমন
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ীত্ব হ্রাস এবং দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
- এ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি।
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

⇒ উল্লেখ্য:
- পুনরুদ্ধার, সাড়াদান, পূর্বপ্রস্তুতি প্রভৃতি অল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।
- প্রশমন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদান।

⇒ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদানসমূহ:
• দুর্যোগ প্রতিরোধ,
• দুর্যোগ প্রশমন এবং
• দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।

⇒ দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
• সাড়াদান,
• পুনরুদ্ধার ও
• উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

৪,০৯২.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপান কোথায় দেখা যায়?
  1. সিলেট
  2. লালমাই
  3. রাঙামাটি
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমিতে প্লাইস্টোসিনকালের সোপান দেখা যায়।

• বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।

• মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।  এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি। সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

• লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার। গড় উচ্চতা ২১ মিটার।

অন্যদিকে,
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৯৩.
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের সংখ্যা মোট কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

• ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্ৰ:
- বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি।

- সেগুলো হলো:
- রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫),
- গাজীপুরের তালিবাবাগ (১৯৮২),
- ঢাকার মহাখালী (১৯৯৫),
- সিলেট (১৯৯৭)।

- ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাঙামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহটি কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাসস।

৪,০৯৪.
মহীভাবক আলোড়নের ফলে কী সৃষ্টি হয়?
  1. মরুভূমি
  2. সমুদ্র
  3. পাহাড়
  4. মালভূমি
ব্যাখ্যা
• মহীভাবক আন্দোলন (Epeirogenic Movement)):
- মহীভাবক আন্দোলন মহাদেশসমূহের ভূ-পৃষ্ঠে লম্বভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করে মালভূমি, চ্যুতি, চ্যুতি ভৃগু তট, স্রস্ত উপত্যকা, স্তূপ পর্বত প্রভৃতি ভূমিরূপ তৈরি করে।
যেমন-
→ পূর্ব আফ্রিকা ও জর্ডানের স্রস্ত উপত্যকাসমূহ,
→ রাইন নদীর স্রস্ত উপত্যকা।
→ এছাড়াও উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগরের দ্বীপসমূহ মহীভাবক আন্দোলনের ফলে ভূ-ভাগ নিমজ্জিত হয়ে গঠিত হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৯৫.
বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কত?
  1. ০.৪১ শতাংশ
  2. ১.৪৯ শতাংশ
  3. ১.৭২ শতাংশ
  4. ২.৪১ শতাংশ
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল:
- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমন্ডল।
- বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি।

বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানসমূহ:
- নাইট্রোজেন : ৭৮.০২ শতাংশ।
- অক্সিজেন : ২০.৭১ শতাংশ।
- আরগন : ০.৮০ শতাংশ।
- জলীয়বাষ্প ০.৪১ শতাংশ
- কার্বন ডাই-অক্সাইড ০.০৩ শতাংশ।
- অন্যান্য গ্যাস ০.০২ শতাংশ।
- ধূলিকণা ও কণিকা ০.০১ শতাংশ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৯৬.
পাললিক শিলার উদাহরণ কোনটি?
  1. ব্যাসল্ট
  2. কেওলিন
  3. গ্রানাইট
  4. ডলোরাইট
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks):
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- বৃষ্টি, বায়ু, তুষার, তাপ, সমুদ্রের ঢেউ প্রভৃতি শক্তির প্রভাবে আগ্নেয় শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত ও বিচূর্ণীভূত হয়ে রূপান্তরিত হয় এবং কাঁকর, কাদা, বালি ও ধুলায় পরিণত হয়।
- ক্ষয়িত শিলাকণা জলস্রোত, বায়ু এবং হিমবাহ দ্বারা পরিবাহিত হয়ে পলল বা তলানিরূপে কোনো নিম্নভূমি, হ্রদ এবং সাগরগর্ভে সঞ্চিত হতে থাকে।
- পরবর্তীতে ঐসব পদার্থ ভূগর্ভের উত্তাপে ও উপরের শিলাস্তরের চাপে জমাট বেঁধে কঠিন শিলায় পরিণত হয়।
- পাললিক শিলা ভূপৃষ্ঠের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ দখল করে আছে।
- তবে মহাদেশীয় ভূত্বকের আবরণের ৭৫ ভাগই পাললিক শিলা।
- পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে।
- স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে।
- বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর ও কেওলিন পাললিক শিলার উদাহরণ।
- জীবদেহ থেকে উৎপন্ন হয় বলে কয়লা ও খনিজ তেলকে জৈব শিলাও বলে।
- অনেক পাললিক শিলার মধ্যে নানাপ্রকার উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর দেহাবশেষ বা জীবাশ্ম দেখা যায়।

পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
- পাললিক শিলা স্তরীভূত, নরম ও হালকা এবং সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়।
- এই শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।

উল্লেখ্য, ব্যাসল্ট, গ্রানাইট ও ডলোরাইট আগ্নেয় শিলার উদাহরণ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,০৯৭.
গারো পাহাড় কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ময়মনসিংহ
  3. কক্সবাজার
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
• গারো পাহাড়:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এবং বৃহত্তম পাহাড় ময়মনসিংহের গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণী।
- গারো পাহাড় মূলত পূর্ব গারো পাহাড়, পশ্চিম গারো পাহাড় এবং দক্ষিণ গারো পাহার এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ৮৯°৫০´ পূর্ব হতে ৯০°৫০´ পূর্ব অক্ষাংশ এবং ২৮°০৮´ উত্তর হতে ২৬°০১´ উত্তর দ্রাঘিমাংশে এর আয়তন প্রায় ৮১৬৭ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাসমূহ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলসমূহ এই পাহাড়ের পাদদেশীয় পালিজ সমৃদ্ধ।
- গারো পাহাড়ের উত্তর এবং উত্তর পশ্চিমে রয়েছে আসাম এবং পূর্বে মেঘালয়ে খাসি পাহাড়।
- গারো পাহাড় মূলত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারোখাসি পাহাড়শ্রেণীর অন্তর্গত, মেঘালয়ের রাজধানী শিলং এখানে অবস্থিত।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট জেলা সমূহের ওয়েবসাইট।
৪,০৯৮.
বাংলাদেশের কোন জেলার সাথে মিয়ানমারের স্থলসীমান্ত রয়েছে?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) ফেনী
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি।
- এদের মধ্যে ভারতের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সাথে মিয়ানমারের স্থলসীমান্ত রয়েছে।
- রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের স্থলসীমান্ত রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৪,০৯৯.
সমুদ্র সমতল থেকে নিচের কোন জেলার উচ্চতা সবচেয়ে বেশি?
  1. বগুড়া
  2. দিনাজপুর
  3. ময়মনসিংহ
  4. যশোর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- তিনদিকের মূলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি বাংলাদেশকে একটি উর্বর কৃষিপ্রধান দেশে পরিণত করেছন
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অসংখ্যা ছোট-বড় নদী সারা দেশে জালের ন্যায় ছড়িয়ে আছে।
- এসব নদী সমতল ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় প্রতি বছর বন্যার সৃষ্টি হয়।
- এভাবে বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমি উত্তর দিক থেকে ক্রমশ ঢালু হয়ে দক্ষিণে প্রায় সমুদ্র সমতলে মিশেছে।
- দক্ষিণের সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত।
- সমুদ্র সমতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার, বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার, ময়মনসিংহের উচ্চতা ১৮ মিটার, নারায়নগঞ্জ ও যশোরের উচ্চতা ৮ মিটার।
- এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি।
- স্থানীয়ভাবে এসব জলাভূমি ও নিম্নভূমিকে বিল, ঝিল বা হাওড় বলে।
- রাজশাহীর চলনবিল, ঢাকার আড়িয়াল বিল, গোপালগঞ্জের বিল এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও শেরপুর জেলার বিল ও হাওড় অন্যতম।
- মেঘনা নদীর মোহনায় রয়েছে হাতিয়া ও সদ্বীপ।
- এছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে আরোও কিছু ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে।
- এসব দ্বীপের মাটি উর্বর এবং মানব বসতির উপযোগী।

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
• পাদদেশীয় সমভূমি,
• বন্যাপ্রবণ সমভূমি,
• স্রোতজ সমভূমি,
• উপকূলীয় সমভূমি,
• ব-দ্বীপ সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১০০.
বিখ্যাত অপেরা হাউজ কোথায় অবস্থিত?
  1. সিউল
  2. টোকিও
  3. সিডনি
  4. মেলবোর্ন
ব্যাখ্যা
সিডনি অপেরা হাউজ:
- সিডনি অপেরা হাউজ স্থায়ী অবকাঠামোবিশেষ। 
- অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বন্দরে এর অবস্থান। 
- ১৯৫৯ সালে এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
- প্রশান্ত মহাসাগরের পাড়ে প্রায় সাড়ে চার একর জায়গার ওপর নৌকার পাল আকৃতি স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। 
- স্থাপনাটির দৈর্ঘ্য ৬০০ ফুট ও প্রস্থ ৩৯৪ ফুট। 
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে স্থাপনাটির সর্বোচ্চ স্থানটির উচ্চতা ২১৩ ফুট, যা প্রায় ২২ তলা ভবনের সমান উঁচু।
- অনেক ধরনের অনুষ্ঠান এখানে অনুষ্ঠিত হয়। 
- অপেরা হাউজটি মহাসাগরের এক প্রান্তে তৈরী করা হয়েছে যা দেখতে অনেকটা উপত্যকার মতো।
- এতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষের আসন রয়েছে।
- ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় এটিকে ২০০৭ সালে অন্তর্ভুক্ত করে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।