বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৪০ / ৭২ · ৩,৯০১৪,০০০ / ৭,১৯১

৩,৯০১.
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দ্বীপ কোনটি?
  1. গ্রিনল্যান্ড
  2. নিউ গিনি
  3. ব্রুনেই
  4. আইসল্যান্ড
ব্যাখ্যা
গ্রিনল্যান্ড:
- গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত একটি সুবৃহৎ দ্বীপ।
- গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দ্বীপ।
- এটি ডেনমার্কের একটি স্ব-নিয়ন্ত্রিত অংশ হিসেবে স্বীকৃত।
- দ্বীপটির অধিকাংশই সুমেরীয় বৃত্তের উত্তর অংশে অবস্থিত।

আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean):

- এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- এ মহাসাগর আয়তনে প্রশান্তমহাসাগরের প্রায় অর্ধেক হলেও গুরুত্ব সর্বাধিক।
- কারণ পৃথিবীর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান অংশ এ মহাসাগর দিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
- গড় গভীরতা ৩,৯৩২ মিটার এবং সর্বাধিক গভীরতা ৯,১৮৮ মিটার।
- আটলান্টিক মহাসাগর তুলনামূলকভাবে প্রশান্তমহাসাগরের চেয়ে কম প্রশস্ত এবং উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ইংরেজি S অক্ষরের মতো বিস্তৃত।
- এ মহাসাগরের পূর্বদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ এবং পশ্চিমে উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ অবস্থিত।
- আর্কটিক সাগরসহ এটি সবচেয়ে লম্বা মহাসাগর যা উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে যুক্ত করেছে।
- স্থলভাগ সংলগ্ন অনেকগুলো অগভীর সাগর যেমন- আর্কটিক, বাল্টিক, ক্যারাবিয়ান, ভূ-মধ্যসাগর এবং মেক্সিকো উপসাগর রয়েছে।
- এ মহাসাগরে পতিত নদীগুলোর মধ্যে আমাজান এবং কঙ্গো অন্যতম।
- আটলান্টিক মহাসাগরে বেশ কিছু দ্বীপ রয়েছে।
- এর মধ্যে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড অন্যতম।
- এছাড়াও রয়েছে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ স্যান্ডউইচ, আইসল্যান্ড, সেন্ট পল বক দ্বীপ প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯০২.
The Golan Heights is located on the border of which country?
  1. Israel and Syria
  2. Egypt and Israel
  3. France and Egypt
  4. Egypt and Syria
  5. None of these
ব্যাখ্যা
গোলান মালভূমি:
- ১১৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি মালভূমি যা গোলান পর্বতমালার অংশ।
- এটি সিরিয়া-ইসরাইল সীমান্তে অবস্থিত।
- এটি ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার একটি অংশ ছিল।
- সেই বছর, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গোলান মালভূমিতে প্রবেশ করে।
- ১৯৮১ সালে ইসরায়েলি সরকার গোলান হাইটসকে সংযুক্ত করে, বা ঘোষণা করে যে এলাকাটি ইসরায়েলের একটি অংশ।
- এর উত্তরে লেবানন এবং দক্ষিণে জর্ডান অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৭ সালের তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল গোলান মালভূমির দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে নেয়।
- পরবর্তীতে, ১৯৭৩ সালে চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল এটি ফেরত দেয়।
- গোলান মালভূমিতে সিরিয়া-ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি রেখা ‘পার্পল লাইন' নামে পরিচিত।

উৎস: Britannica.
৩,৯০৩.
নিচের কোন উপাদানটি ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) সিলিকন
  3. গ) অ্যালুমিনিয়াম
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%,
- সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%,
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯০৪.
বায়ুমন্ডলের ওজোনের শতকরা ৭৫ ভাগ স্তর বহন করে -
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল
  2. খ) ট্রপোমন্ডল
  3. গ) মেসোমণ্ডল
  4. ঘ) তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল:
• প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমণ্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

• ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না।
- ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।

• ট্রপোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- ট্রপোমন্ডল ভূ-পৃষ্ঠ হতে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে ট্রপোপজ বলে যার গভীরতা অনেক কম।
- এই স্তরে উচ্চতা যত বাড়তে থাকে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা ততই কমতে থাকে। এই উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপ কমে যাওয়ার প্রবনতাকে বলা হয় স্বাভাবিক তাপ হ্রাস।
- ট্রপোমন্ডলে সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়।
- ট্রপোমন্ডলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায় ও নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়।
- এ স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত সকল প্রক্রিয়া সাধারণত ঘটে।
- ট্রপোমন্ডলে ধূলিকণা থাকে এবং বায়ুমন্ডলের ওজোনের শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯০৫.
বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্থল সীমানা রয়েছে ভারতের কোন রাজ্যের সাথে? 
  1. পশ্চিম বঙ্গ
  2. আসাম 
  3. মেঘালয়
  4. মিজোরাম
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্থল সীমানা রয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যের সাথে।

• বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত:

- বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সাথে সংযুক্ত। যথা:
- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- বাংলাদেশের সাথে মেঘালয়ের স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা প্রায় ৪৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- আসামের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ২৬৪ কিলোমিটার।
- ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ৮৭৪ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্থলসীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ, যা প্রায় ২,২৬২ কিলোমিটার।
- সর্বমোট স্থল সীমানা ৪১৫৬ কিলোমিটার।

উৎস: বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড। এবং MAPs of India. [link]

৩,৯০৬.
ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করতে কয়টি মুজিব কেল্লা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?
  1. ৬৫০
  2. ৫৫০
  3. ৭৫০
  4. ৪৫০
ব্যাখ্যা
- ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে রক্ষা করতে দেশের ১৪৮ উপজেলায় ৫৫০টি মুজিব কেল্লা নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এর মাধ্যমে উপকূল অঞ্চলের দুর্গত জনগণ ও প্রাণিসম্পদকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
- পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে।
- এছাড়া বছরের অন্য সময় জনসাধারণের খেলার মাঠ, সামাজিক অনুষ্ঠান ও হাটবাজার হিসেবেও এসব স্থান ব্যবহার করা যাবে।
- উপকূলবর্তী অঞ্চলে  ৪,২৯১টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে।
উৎস: bonikbarta.net
৩,৯০৭.
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য দেশের মোট আয়তনের শতকরা কত ভাগ বনভূমি থাকা আবশ্যক?
  1. ক) ১২ ভাগ
  2. খ) ১৫.৮ ভাগ
  3. গ) ১৯ ভাগ
  4. ঘ) ২৫ ভাগ
ব্যাখ্যা

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোন দেশের মোট আয়তনের ন্যূনতম ২৫ ভাগ বনভূমি থাকতে হয়।
তবে বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের শতকরা ১৭ ভাগ।
সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯০৮.
ভিয়েনা শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) টেমস
  2. খ) দানিয়ুব
  3. গ) রাইন
  4. ঘ) ভলগা
ব্যাখ্যা

টেমস নদীর তীরে অবস্থিত- লন্ডন শহর; রাইন নদীর তীরে অবস্থিত- জার্মানির বন শহর;
ভলগা নদীর তীরে অবস্থিত- মস্কোসহ রাশিয়ার ১১টি শহর;
দানিয়ুব নদীর তীরে অবস্থিত- অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা শহর।

সোর্সঃ ব্রিটানিকা

৩,৯০৯.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিলেট
  3. ঢাকা
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বাভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯১০.
বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন কোনটি?
  1. আমাজন
  2. সুন্দরবন
  3. মিসিসিপি
  4. রেড ডেল্টা বেসিন
ব্যাখ্যা

• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট।
-  এটি বাংলাদেশ ও ভারতজুড়ে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। 
- যার প্রায় ৬০ ভাগ বাংলাদেশ অংশে পড়েছে। 
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী।
- সুন্দরবন রামসার সাইট এবং ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের একটি।

(সূত্রঃ ইউনেস্কো ওয়েবসাইট ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক)

৩,৯১১.
সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্র গ্রহের কত দিন সময় লাগে?
  1. ১৮০ দিন
  2. ২২৫ দিন
  3. ২৬০ দিন
  4. ৩৩০ দিন
ব্যাখ্যা
শুক্র (Venus):
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯১২.
বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত কোথায় ঘটে?
  1. বালুখালী, রাঙ্গামাটি
  2. কালাপাহাড়, মৌলভীবাজার
  3. লালাখাল, সিলেট
  4. মীরসরাই, চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
বার্ষিক বৃষ্টিপাতে শীর্ষ জেলা: 
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, 
- বাংলাদেশে অঞ্চল ভেদে বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাতের তারতম্য রয়েছে।
- পশ্চিম-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে এর পরিমাণ ১৫০০ মিমি, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে ৩০০০ মিমি।
- সুরমা উপত্যকা এবং পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের হার অতি উচ্চ।
- সিলেটে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪১৮০ মিমি, মেঘালয় মালভূমির পাদদেশ সংলগ্ন সুনামগঞ্জে এর পরিমাণ ৫৩৩০ মিমি এবং লালাখাল (জৈন্তিয়াপুর উপজেলা) নামক স্থানে ৬৪০০ মিমি।
- বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ঘটে থাকে এই লালাখালে।
- মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা থেকে সরাসরি উত্তর দিকে মাত্র ১৬ কিমি দূরে অবস্থিত।
- চেরাপুঞ্জিতে বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বিস্ময়কর রকমের বেশি, ১০৮২০ মিমি। 

জেলার ওয়েবসাইট অনুসারে,
- সিলেট জেলার বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাত: ৩৩৩৪ মিমি.। 
- চট্টগ্রাম জেলার বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৩,১৯৪ মিমি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৯১৩.
কোনটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যবর্তী সীমানা হিসেবে বিবেচিত ?
  1. ইউরাল পর্বতমালা
  2. পিরিনিজ পর্বতমালা
  3. অ্যাটলাস পর্বতমালা
  4. কারাকোরাম পর্বতমালা
ব্যাখ্যা
⇒ ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যবর্তী সীমানা হিসেবে বিবেচিত- ইউরাল পর্বতমালা। 

⇒ ইউরাল পর্বতমালা:
- ইউরাল পর্বত এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সীমানা।
- এটি রাশিয়ায় অবস্থিত এবং দেশটিকে ইউরোপীয় ও এশীয় অংশে বিভক্ত করেছে।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার।

 অন্যদিকে, অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পর্বতমালা:
- কারাকোরাম পর্বতমালা দক্ষিণ এশিয়ার অংশ এবং এটি পাকিস্তান, ভারত, ও চীনের মধ্যে বিস্তৃত।
- পিরেনিজ পর্বত স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যে সীমান্ত তৈরি করেছে।
- অ্যাটলাস পর্বতমালা মরক্কো, আলজেরিয়া এবং তিউনিসিয়ার মধ্যে বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস ওয়েবসাইট।
৩,৯১৪.
‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ যার সঙ্গে যুক্ত -
  1. বন্য প্রাণী সংরক্ষণ
  2. জলবায়ু পরিবর্তন
  3. ভূরাজনীতি
  4. গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ যার সঙ্গে যুক্ত জলবায়ু পরিবর্তন। অন্যদিকে, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ, ভূরাজনীতি, গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া  এগুলো পরিবেশ সংক্রান্ত হলেই ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’-এর সাথে যুক্ত নয়।

ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০:

- ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ একটি শতবর্ষী পরিকল্পনা। 
- জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ নামে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।
- দেশের কাঙ্ক্ষিত আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি, মৎস্য, বনায়ন, পানি ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ শীর্ষক একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, যা ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে এনইসি কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।
- এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল, যা পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

উৎস: i) পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।
৩,৯১৫.
সংঘর্ষ বৃষ্টিতে কোন দুটি বায়ু মুখোমুখি হয়?
  1. ক) শীতল ও নাতিশীতোষ্ণ
  2. খ) উষ্ণ ও শীতল
  3. গ) ঘন ও শিশিরাঙ্ক
  4. ঘ) বরফ কণা ও গরম বায়ু
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো- উষ্ণ ও শীতল। 

বৃষ্টিপাত

- বৃষ্টিপাত হলো কোনো অঞ্চলের আবহাওয়ার একটি অবস্থা যা নানা ধরনের আবহাওয়ার উপাদানসমূহের উপর নির্ভরশীল। 
- স্বাভাবিকভাবে মেঘ যখন আকাশে ভাসতে থাকে তখন তা ঘনীভূত হয়ে ফোঁটা ফোঁটা আকারে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হলে তাকে বলা হয় বৃষ্টিপাত (Rainfall

সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত:
- শীতল ও উষ্ণ বায়ুপুঞ্জ যখন মুখোমুখি হয় তখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং শিশিরাঙ্কে পৌঁছায়।
- আরও ঘনীভূত হয়ে বায়ুপুঞ্জের সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রকার বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।
- এই ধরনের বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯১৬.
নিচের কোনটি বন্যা নিয়ন্ত্রণের সাধারণ ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা
  2. নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা
  3. নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
  4. শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া
ব্যাখ্যা
- শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণের সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার অন্তর্গত। 

বন্যা নিয়ন্ত্রণের সাধারণ ব্যবস্থাপনা (General management): 

(১) সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা।
(২) নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা।
(৩) নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
(৪) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
(৫) পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন করা এবং সেচের পানি সংরক্ষণ করা।
(৬) প্রতি বছর বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,৯১৭.
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP) কোন সংস্থার সাথে যৌথভাবে পরিচালিত হয়?
  1. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
  2. বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
  3. অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ
  4. আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা
ব্যাখ্যা

CPP: 
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP) একটি যৌথ উদ্যোগ যা বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) একসঙ্গে পরিচালনা করে থাকে।
- এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ঘূর্ণিঝড়সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা প্রদান।
- ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় দেখা যায়, BDRCS এবং CPP যৌথভাবে পূর্বাভাসের ভিত্তিতে তহবিল সক্রিয় করে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে।
- তাদের Early Action Protocol অনুযায়ী দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতির জন্য IFRC-এর Forecast-based Action Fund থেকে অর্থ সংগ্রহ করে কার্যক্রম চালানো হয়।
- তারা ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে খাদ্য, পানি এবং জরুরি সামগ্রী সরবরাহ করে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে জনগণকে পৌঁছে দেয়।

সূত্র: Bangladesh Red Crescent Society ওয়েবসাইট। 

৩,৯১৮.
অক্ষাংশ হিসেবে "গর্জনশীল চল্লিশা" অবস্থান কোনটি?
  1. ৪০ ডিগ্রি দক্ষিণ থেকে ৪৭ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ
  2. ৪০ ডিগ্রি উত্তর থেকে ৪৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ
  3. ৪১ ডিগ্রি দক্ষিণ থেকে ৫০ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ
  4. ৪৮ ডিগ্রি দক্ষিণ থেকে ৫০ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
⇒ পশ্চিমা বায়ু:
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে অয়ন বায়ু ব্যতীত আরও দুটি বায়ুপ্রবাহ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ুপ্রবাহকে পশ্চিমা বায়ু বলে।
⇒ উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অধিক বলে স্থানীয় কারণে পশ্চিমা বায়ুর সাময়িক বিরতি ঘটে। কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে পশ্চিমা বায়ু প্রবলবেগে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। এজন্য এই বায়ুপ্রবাহকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু (Brave west winds) বলে।
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি। এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring forties) বলে।

সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩,৯১৯.
UDMC এর পূর্ণ রূপ হলো-
  1. Universal Disaster Management Committee.
  2. Union Disaster Management Committee.
  3. Upazila Disaster Management Committee
  4. Unity of Disaster Management Council
ব্যাখ্যা

UDMC:
- UDMC এর পূর্ণ রূপ হলো Union Disaster Management Committee.
- ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় UDMC.

• বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের পূর্ণরূপ:
- DDMC এর পূর্ণরূপ District Disaster Management Committee.
- NDMAC এর পূর্ণরূপ National Disaster Management Advisory Committee.
- UZDMC এর পূর্ণরূপ Upazila Disaster Management Committee.
- NDMC এর পূর্ণরূপ National Disaster Management Council.

সূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।

৩,৯২০.
IPCC-এর মতে, কত সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে?
  1. ২০৩০ সাল
  2. ২০৪০ সাল
  3. ২০৫০ সাল
  4. ২০৫৫ সাল
ব্যাখ্যা
IPCC-এর তথ্য অনুসারে ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের কারণে মাত্রাতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে তাতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
- আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।

⇒ IPCC-এর তথ্য অনুসারে ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
- ফলে এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দেবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
- উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
- যা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে অনুভূত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

⇒ ADB-এর একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায়, উষ্ণায়নের বর্তমান ধারা ২০৫০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ায় শস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
- জলবায়ুর অন্য আনুষঙ্গিক পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ১৫০ কোটির বেশি মানুষ সরাসরি পানি ও খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে।
- ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এ শতকের শেষ নাগাদ বিশ্বে চাষাবাদ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।

⇒ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজি (MIT) অর্থনীতিবিদদের নতুন গবেষণা অনুসারে বিশ্ব উষ্ণায়ন ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেবে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯২১.
ইংলিশ চ্যানেলকে উত্তর সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে কোন প্রণালী?
  1. বসফরাস প্রণালী
  2. দার্দানেলিস প্রণালী
  3. ডোভার প্রণালী
  4. মোজাম্বিক প্রণালী
ব্যাখ্যা

ডোভার প্রণালী: 
- এটি একটি সংকীর্ণ জলপ্রণালী যা ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের মধ্যে অবস্থিত।
- এই প্রণালী ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে পৃথক করেছে।
- ইংলিশ চ্যানেলকে উত্তর সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই ডোভার প্রণালী।
- এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম সামুদ্রিক পথ, যেহেতু ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে প্রধান নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এর নিচ দিয়ে চ্যানেল টানেল নির্মাণ করা হয়েছে।
- যা রেলপথের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে সংযুক্ত করে।

অন্যদিকে,
- মোজাম্বিক প্রণালী – ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিক কে পৃথক করেছে। 
- বসফরাস প্রণালী- সংযুক্ত করেছে: কৃষ্ণ সাগর ও মরমর সাগর। আর এশিয়া ও ইউরোপ অংশকে পৃথক করেছে
- দার্দানেলিস প্রণালীপ্রণালী- মর্মর সাগর ও ইজিয়ান সাগরকে যুক্ত করেছে। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৩,৯২২.
ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত কয়টি?
  1. ৯ টি
  2. ১০ টি
  3. ১১ টি
  4. ১২ টি
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড়ের সময় সতর্কতা ও বিপদ বুঝানোর জন্য ১১টি সংকেত রয়েছে।
- তার মধ্যে প্রথম চারটি সতর্কতা ও স্থানীয় সংকেত। বাকিগুলো বিপদ সংকেত।
নিম্নে ১১টি সংকেতের অর্থ দেওয়া হলঃ

১ নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত:
জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার (কি.মি.)। ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হবে।
২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত:
দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।
৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত:
বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কি.মি. হতে পারে।
৪ নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত:
বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১-৬১ কি.মি.। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।
৫ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৬ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৭ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৮ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
৯ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
১০ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি.বা তার বেশি হতে পারে।
১১ নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত:
আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

উৎস: ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) ওয়েবসাইট ও বিবিসি বাংলা।
৩,৯২৩.
The largest water falls system in the world is
  1. ক) Angel Falls
  2. খ) Havasupai Falls
  3. গ) Victoria Falls
  4. ঘ) Niagara Falls
ব্যাখ্যা
Victoria Falls is one of the largest waterfalls in the world that is situated about midway on the course of the Zambezi River along the boundary between Zambia and Zimbabwe in southern Africa.
- It is to be noted that the Victoria Falls is the world’s “largest” waterfall and not the “tallest” nor the “widest” falls. This spectacular waterfall is also considered one of the 7 natural wonders of the world.
 
Source: World atlas Website 
৩,৯২৪.
বাফিন উপসাগর এবং ল্যাব্রাডর সাগর কে যুক্ত করেছে-
  1. ফ্লোরিডা প্রণালী
  2. তাতার প্রণালী
  3. বসফরাস প্রণালী
  4. ডেভিস প্রণালী
ব্যাখ্যা
ডেভিস প্রণালী:
• বাফিন উপসাগর এবং ল্যাব্রাডর সাগর কে যুক্ত করেছে ডেভিস প্রণালী।
• ডেভিস প্রণালি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে, কানাডার বাতুশ দ্বীপপুঞ্জ ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
 
• তাতার প্রণালী: জাপান সাগর ও ওখোটস্ক সাগর কে যুক্ত করেছে।

• মেক্সিকো উপসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগর কে যুক্ত করেছে ফ্লোরিডা প্রণালী।

• মর্মর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে বসফরাস প্রণালী।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৯২৫.
জলীয়বাষ্প যখন বায়ুস্তরের ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ঘনীভূত হয়ে ধোঁয়ার আকারে ভাসতে থাকে তখন তাকে কী বলে?
  1. ক) শিশিরাংক
  2. খ) বায়ুর আর্দ্রতা
  3. গ) বায়ুর প্রবাহ
  4. ঘ) কুয়াশা
ব্যাখ্যা
• কুয়াশা: জলীয়বাষ্প যখন বায়ুস্তরের ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ঘনীভূত হয়ে ধোঁয়ার আকারে ভাসতে থাকে তখন তাকে কুয়াশা বলে।

• কুয়াশার বৈশিষ্ট্য: বায়ুর তাপমাত্রা শিশিরাংকের নিচে নেমে গেলে কুয়াশা সৃষ্টি হয়। বায়ুমন্ডলের বিকিরণ, তাপ পরিবহন এবং শীতল ও উষ্ণ বায়ুর সংমিশ্রণের ফলে কুয়াশা সৃষ্টি হয়। কুয়াশা মানবজীবনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রকার প্রভাব বিস্তার করে । যেমন-

১। সামুদ্রিক জাহাজ, উড়োজাহাজ, সড়কপথে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়।
২। কুয়াশার জলকণা ভূ-পৃষ্ঠের বিকীর্ণ তাপকে শোষণ করে বায়ুকে উষ্ণ রাখে। তবে শীতপ্রধান দেশে কুয়াশা জন্য শস্যের ক্ষতি হয়।
৩। কুয়াশা ঘন হয়ে ইলশেগুড়ির মত জলকণা বর্ষণ হলে তাকে বলা হয় কুঞ্জঝটিকা।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯২৬.
সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বনভূমি কোনটি?
  1. রেমা কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
  2. চর কুকরি-মুকরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
  3. চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
  4. টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
ব্যাখ্যা
রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য:
- রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার খুব কাছে এবং ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত সংলগ্ন।
- এটি সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বনভূমি।

⇒ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক পাহাড়ি বনাঞ্চল রেমা-কালেঙ্গা।
- ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন এ অভয়ারণ্যের একদিকে ভারতীয় সীমান্ত ও অন্য তিন দিকে বিস্তীর্ণ চা বাগান ঘেরা।
- রেমা–কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এটির আরো সম্প্রসারণ করা হয়।
- বর্তমানে এই অভয়ারণ্যের আয়তন প্রায় ১৭৯৫.৫৪ হেক্টর।
- ব্যবস্থাপনার কারণে বন বিভাগ র্কতৃক এ বনাঞ্চলকে রেমা, কালেঙ্গা, ছনবাড়ি ও রশিদপুর—চারটি বিটে ভাগ করা হয়েছে।
- বিস্তীর্ণ এ অঞ্চলটি যেহেতু প্রাকৃতিক বনাঞ্চল, এজন্য বনের দেখভালের জন্য রয়েছে ১১টি ইউনিট ও ৭টি ক্যাম্প।

⇒ বর্তমানে এই বনে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৬৭ প্রজাতির পাখি, ৭ প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা-লতাগুল্ম পাওয়া যায়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
৩,৯২৭.
বায়ুমন্ডলের আনুমানিক বয়স কত বছর?
  1. ক) ৩৫০ কোটি
  2. খ) ৪০০ কোটি
  3. গ) ৪৫০ কোটি
  4. ঘ) ৫০০ কোটি
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডল:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমন্ডল।
- বায়ুমন্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere|। বায়ুমন্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ। এটি আমরা দেখতে পাইনা কিন্তু অনুভব করতে পারি।
- বায়ুমন্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে। তবে বায়ুকঠিন ভুমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে।
বিজ্ঞানীগণের ধারণা, বায়ুমন্ডলের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর।
বায়ুমন্ডল ভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমন্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে।
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডল বিস্তৃত। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯২৮.
'নদী ভাঙ্গন' সমস্যা বাংলাদেশের কোন নদীতে অধিক পরিমানে পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) সুরমা নদীতে
  2. খ) যমুনা নদীতে
  3. গ) কপোতাক্ষ নদীতে
  4. ঘ) নাফ নদীতে
ব্যাখ্যা
- যমুনা একটি বিনুনি আকৃতির নদী যার তীরের উপাদানসমূহ ভাঙনের পক্ষে খুবই সংবেদনশীল। 
- ব্রহ্মপুত্র নদী মধুপুর গড়ের পশ্চিম দিকে যমুনা নদীর ধারায় এসে পড়ার কারণে নদীটির গড় প্রস্থ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটেছে। 
- ১৯১৪ সালে যমুনা নদীর রেকর্ডকৃত নিম্নতম গড় প্রস্থ ছিল ৫.৬ কিমি। 
- স্থানীয় পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রস্থ ১৫ কিমি ছাড়িয়ে যায় এবং সর্বনিম্ন স্থানীয় প্রস্থ প্রায় ১.১ কিমি সীমিত ছিল। 
- ১৯৭৩-২০০০ সময়কালে নদীটির প্রশস্ত হওয়ার হার বছরে ১২৮ মিটার (বাম তীরে ৬৮ মিটার ও দক্ষিণ তীরে ৬০ মিটার)। 
- ১৯৮৪-৯২ সময়কালে প্রশস্তায়নের বাৎসরিক হার বেড়ে ১৮৪ মিটারে দাঁড়ায় যার মধ্যে বাম তীরে ১০০ মিটার ও দক্ষিণ তীর বরাবর ৮৪ মিটার । এ সময়কালে নদীর গড় প্রস্থ ৯.৭ থেকে ১১.২ কিমি বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
৩,৯২৯.
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০২ সালে
ব্যাখ্যা
বেলা:
- বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (Bangladesh Environmental Lawyers Association) সংক্ষেপে বেলা।
- বাংলাদেশের একটি বেসরকারি আইনজীবী সংগঠন।
- ১৯৯২ সালে পরিবেশ সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সংগঠনটি বাংলাদেশে শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরিবেশ রক্ষায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
- আইনজীবী জনাব মহিউদ্দিন ফারুক বেলা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ২০০৩ সালে, এটি জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) 'গ্লোবাল ৫০০ রোল অফ অনার'-এ স্থান পায়।

অন্যদিকে -
- বাংলাদেশের পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন বাপা।
- বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রিজিলিয়েন্স ফান্ড (বিসিসিআরএফ) একটি মাল্টি-ডোনার ট্রাস্ট ফান্ড যা বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু অভিযোজন তহবিল সংগ্রহ এবং বিতরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
- বাংলাদেশ পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনের নাম বিইএমএফ।

উৎস: Bangladesh Environmental Lawyers Association এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৩,৯৩০.
দুইদেশের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী একমাত্র জেলা কোনটি?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট ৩২টি।  
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙ্গামাটি।
- তার মধ্যে - ভারতের সাথে ৩০টি জেলার এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি (কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান) জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- অর্থাৎ রাঙ্গামাটি একমাত্র জেলা যার সাথে ভারত ও মিয়ানমার ২টি দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে।

⇒ অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি। যথা- আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।
- উত্তরে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশ।
- পূবে - ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম প্রদেশ এবং মিয়ানমার।
- দক্ষিণে - বঙ্গোপসাগর, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (ভারত), মিয়ানমার।
- পশ্চিমে - ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৩১.
নামিবিয়া ও অ্যাঙ্গোলাকে পৃথককারী সীমারেখা কোনটি?
  1. ১৭তম প্যারালাল
  2. ৩৮তম প্যারালাল
  3. ১৬তম প্যারালাল
  4. ২৪তম প্যারালাল
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক সীমারেখা:
- ম্যাকমোহন লাইন: ভারত ও চীন,
- র‍্যাডক্লিফ লাইন: ভারত ও পাকিস্তান,
- ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান,
- তিন বিঘা করিডোর: ভারত ও বাংলাদেশ,
- লাইন অব কন্ট্রোল (LOC ): ভারত ও পাকিস্তান,
- লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC ): ভারত ও চীন,
- ১০ ডিগ্রী চ্যানেল: আন্দামান ও নিকোবর,
- ১৬তম প্যারালাল: নামিবিয়া ও অ্যাঙ্গোলা,
- ১৭তম প্যারালাল: উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম,
- ২৪তম প্যারালাল: ভারত ও পাকিস্তান,
- ২৮তম প্যারালাল: ভারত ও পাকিস্তান,
- ৩৭তম প্যারালাল: ভারত ও মায়ানমার,
- ৩৮তম প্যারালাল: উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া,
- ৪৯তম প্যারালাল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা,
- ৮⁰ চ্যানেল: ভারত (মিনিকয় দ্বীপ) ও মালদ্বীপ,
- ইংলিশ চ্যানেল: ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স,
- ওডার-নাইসে লাইন: পূর্বতন পূর্ব জার্মানি ও পোল্যান্ড,
- গ্রেট চ্যানেল: ভারত (আন্দামান, নিকোবর) ও সুমাত্রা,
- ডানকান প্যাসেজ: গ্রেট আন্দামান ও লিটন আন্দামান,
- ম্যাগিনট লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স,
- ম্যানারহেম রেখা: রাশিয়া ও ফিনল্যান্ড,
- লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেন,
- সিগফ্রেড লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স,
- হিনডেন বার্গ লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ড।

উৎস: i) Britannica.
ii) WorldAtlas.
৩,৯৩২.
বাংলাদেশের লোকশিল্প জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ময়নামতি
  2. খ) সোনারগাঁও
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) পাহাড়পুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ লোক ও কারু শিল্প যাদুঘর:
- সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর রাজধানী ঢাকা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলায় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের লোকশিল্পের সংরক্ষণ, বিকাশ  ও সর্বসাধারণের মধ্যে লোকশিল্পের গৌরবময় দিক তুলে ধরার জন্য ১৯৭৫ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকার বিশাল এলাকা নিয়ে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন।
- সোনারগাঁয়ের “বড়সর্দারবাড়ি” নামে পরিচিত একটি প্রাচীন জমিদার প্রাসাদে এই জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে।এখানে আরো রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, কারুপল্লী ও একটি বিশাল লেক।
তথ্যসূত্র: নারায়ণগঞ্জ জেলার ওয়েবসাইট।
৩,৯৩৩.
কোন খালটি ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে?
  1. কিয়েল খাল
  2. পানামা খাল
  3. করিন্থ খাল
  4. সুয়েজ খাল
ব্যাখ্যা

সুয়েজ খাল: 
- পৃথিবীর দীর্ঘতম কৃত্রিম খাল হলো সুয়েজ খাল।
- সুয়েজ খাল নির্মাণের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ফরাসি প্রকৌশলী ফার্দিনান্দ দে লেসেপ্স।
- সুয়েজ খালের খনন কাজ শুরু হয় ১৮৫৯ সালে এবং 
- এটি চালু হয় ১৮৬৯ সালে।
- এই খাল লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করেছে।
- ১৯৫৬ সালে মিশর সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করে। 
- মিশরের এই জাতীয়করণের ফলেই দ্বিতীয় আরব–ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। 

অন্যদিকে,
• কিয়েল খাল:
- জার্মানিতে অবস্থিত এই খালটি উত্তর সাগর ও বাল্টিক সাগরকে সংযুক্ত করে।
- এটি ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ।

• পানামা খাল:
- মধ্য আমেরিকায় অবস্থিত।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করে।
- এটি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে পরিচিত।

• করিন্থ খাল:
- গ্রিসে অবস্থিত এই খালটি পেলোপোনিজ উপদ্বীপকে মূল ভূমি থেকে আলাদা করে।
- এটি ছোট হলেও স্থানীয় ও পর্যটন নৌযান চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: Britannica.

৩,৯৩৪.
’হাকালুকি হাওর’ কোথায় অবস্থিত?
  1. কিশোরগঞ্জ
  2. সুনামগঞ্জ
  3. হবিগঞ্জ
  4. মৌলভীবাজার 
ব্যাখ্যা

হাকালুকি হাওর:

- হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তর হাওর।
- এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ২৪°৩৫´-২৪°৪৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০১´-৯২°০৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত।
- হাওরের ৪০% বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত।
- হাকালুকি হাওরের বিশাল জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী এবং পানাই নদী।
- হাকালুকি হাওরে প্রায় ২৩৮টি বিল রয়েছে।
- জীববিজ্ঞানীদের মতে, হাকালুকি হাওরে ১৫০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, ১২০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ বিলুপ্ত প্রায়। 
- এখানে প্রতি বছর শীতকালে প্রায় ২০০ বিরল প্রজাতির অতিথি পাখির সমাগম ঘটে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৩৫.
বাংলাদেশের দ্বিতীয় তেলক্ষেত্রটি অবস্থিত-
  1. ক) বরমচালে
  2. খ) হরিপুরে
  3. গ) কৈলাশটিলায়
  4. ঘ) রশিদপুরে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সিলেট জেলার হরিপুরে ১৯৮৬ সালে প্রাকৃতিক গ্যাসের সপ্তম কূপে তেল পাওয়া গেছে। এ কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৬০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়। অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রামের তেল শোধনাগারে পরিশোধন করা হয়। পরিশোধিত তেল থেকে কোরোসিন, বিটুমিন, পেট্রোল ও অন্যান্য দ্রব্য পাওয়া যায়। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার বরমচালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় তেলক্ষেত্রটি অবস্থিত। দৈনিক প্রায় ১,২০০ ব্যারেল তেল উত্তোলিত হয় এই তেলক্ষেত্রটি থেকে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সমগ্র বাংলাদেশের জ্বালানি তেল মজুদ ব্যবস্থা উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, বিপনন ও জ্বালানি তেল আমদানি ও মজুদ করে থাকে। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,৯৩৬.
১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতি বরাবর তীব্র ভূমিকম্পের ফলে কোন নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল?
  1. মেঘনা
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. সুরমা
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra):
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
- ধরলা ও তিস্তা প্রধান উপনদী।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের মাটির নিচে ভূমিকম্পের দুটি বড় উৎস আছে।
- একটি হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের ডাউকি চ্যুতি বা ফাটল (ফল্ট)।
- ১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- আরেকটি হচ্ছে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ভূ-অভ্যন্তরে বিস্তৃত একটি সাবডাকশন অঞ্চল।
- এই অঞ্চলজুড়ে সক্রিয় আছে অসংখ্য চ্যুতির শাখা (স্প্লে ফল্ট)।
- সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাটি ইন্দো-বার্মা পর্বতমালার অংশ।
- আজ থেকে প্রায় ৮০০ বছর আগে এই সাবডাকশন অঞ্চলে একটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল।
- তাতে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে প্রবাহিত নদীটি গতিপথ পাল্টে এখনকার মেঘনা নদীতে সরে এসেছে।

এছাড়াও,
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ছিল একটি ডুবো দ্বীপ।
- ১৭৬২ সালে এক বড় ভূমিকম্পে দ্বীপটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন মিটার ওপরে উঠে আসে। 

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ২০ জুলাই, ২০১৯, প্রথম আলো।
৩,৯৩৭.
বাংলাদেশের একমাত্র উৎপাদনশীল কঠিন শিলার খনি কোথায় অবস্থিত?
  1. দিনাজপুর
  2. জয়পুরহাট
  3. পঞ্চগড়
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

কঠিন শিলা (Hard Rock):
- পাললিক শিলা থেকে পৃথক এবং সাধারণভাবে শক্ত, ঘন, কেলাসিত আগ্নেয় অথবা রূপান্তরিত শিলাকে কঠিন শিলা বলে।
- বাংলাদেশের একমাত্র উৎপাদনশীল কঠিন শিলার খনি মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি।
- এটি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়ায় অবস্থিত।
- এটি একটি ভূ-গর্ভস্থ খনি যা থেকে গ্রানাইট বা কঠিন শিলা উত্তোলন করা হয়।
- আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৭৪।
- বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়: ২০০৭ সালের ২৫ মে। 
- গভীরতা: ১২৮ মিটার।
- মজুদ: ১৭১ মেট্রিক টন।

উল্লেখ্য,
- দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত মধ্যপাড়া খনির ভূগর্ভ থেকে প্রতিদিন তিন শিফটে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর সফলতার সাথে উত্তোলন করা যায়।
- দেশে এই কঠিন শিলা থেকে উত্তোলিতে পাথর খুবই উন্নত মানের এবং দেশের উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য মজবুত ও টেকসই।

উৎস: i) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। 

৩,৯৩৮.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের কোন রাজ্যের স্থলসীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ?
  1. মেঘালয়
  2. ত্রিপুরা
  3. আসাম
  4. পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত:
- বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সাথে সংযুক্ত। যথা:
- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- বাংলাদেশের সাথে মেঘালয়ের স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা প্রায় ৪৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- আসামের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ২৬৪ কিলোমিটার।
- ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ৮৭৪ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্থলসীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ, যা প্রায় ২,২৬২ কিলোমিটার।
- সর্বমোট স্থল সীমানা ৪১৫৬ কিলোমিটার।

উৎস: বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড। 

৩,৯৩৯.
ইউফ্রেটিস নদীর অন্য নাম কী?
  1. ক) নীলনদ
  2. খ) দজলা
  3. গ) টাইগ্রিস
  4. ঘ) ফোরাত
ব্যাখ্যা
- ইউফ্রেটিস নদীর অন্য নাম হচ্ছে ফোরাত নদী

• মেসোপটেমীয় সভ্যতা (Mesopotamian Civilization):
- বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসােপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (তৎকালীন দজলা ও ফোরাত) নদীর তীরে।
- টাইগ্রিস নদীর অন্য নাম - দজলা এবং ইউফ্রেটিস নদীর অপর নাম - ফোরাত নদী।

- মেসোপটেমীয় কথাটি দ্বারা বুঝায় দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- সুপ্রাচীন মেসোপটেমিয়া বর্তমান সময়ের ইরাক ও সিরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত এবং এই এলাকাকে সভ্যতার আঁতুরঘর হিসেবে ধরা হয়।

- মেসােপটেমীয় সভ্যতার চারটি পর্ব ছিল।
সেগুলাে হলাে -
- সুমেরীয় সভ্যতা,
- ব্যবিলনীয় সভ্যতা,
- অ্যাশিরীয় সভ্যতা ও
- ক্যালডীয় সভ্যতা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৯৪০.
কুমিল্লা জেলা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) পশুর
  2. খ) গোমতী
  3. গ) সুরমা
  4. ঘ) তিস্তা
ব্যাখ্যা
• গোমতী নদী:
- গোমতী নদী (Gumti River)  ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর-পূর্বপ্রান্তীয় পার্বত্য অঞ্চল ডুমুর নামক স্থান থেকে উৎপন্ন।
- নদীটি উৎস থেকে পার্বত্যভূমির মধ্য দিয়ে ১৫০ কিমি সর্পিল পথ পার হয়ে কুমিল্লা সদর উপজেলার কটক বাজারের কাছে বাংলাদেশ ভূখন্ডে প্রবেশ করেছে।
- বাংলাদেশে প্রবেশের পর এটি আকাবাঁকা প্রবাহপথে কুমিল্লা শহরের উত্তর প্রান্ত এবং  ময়নামতীর পূর্ব প্রান্ত অতিক্রম করে বয়ে চলেছে। প্রবাহপথের উত্তর দিকে বুড়িচং উপজেলাকে ডানে রেখে এটি দেবিদ্বার উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কোম্পানীগঞ্জ বাজারে পৌঁছেছে। ময়নামতি থেকে কোম্পানীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার।
- কোম্পানীগঞ্জ থেকে পশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে নদীটি শেষাবধি দাউদকান্দি উপজেলার শাপটা নামক স্থানে এসে  মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে।
- কোম্পানীগঞ্জ এবং দাউদকান্দির মধ্যে নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ কিলোমিটার। বাংলাদেশ ভূখন্ডে গোমতী নদীর মোট দৈর্ঘ্য ১৩৫ কিমি। গোমতীর গুরুত্বপূর্ণ উপনদীসমূহের একটি  ডাকাতিয়া এবং এর শাখা নদীর নাম বুড়ি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৪১.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল?
  1. বেরিবাঁধ নির্মাণ
  2. নদী শাসন
  3. প্রশিক্ষণ প্রদান
  4. আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি
ব্যাখ্যা
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি খুবই ব্যয়বহুল।
অন্যদিকে,
- গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ প্রদান প্রভৃতি অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল যা দরিদ্র দেশগুলোর জন্যে উপযোগী।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৯৪২.
কতটি জেলা নিয়ে দেশের হাওর বেসিন গঠিত?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. সাতটি
  4. নয়টি
ব্যাখ্যা
- দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭টি জেলা নিয়ে বাংলাদেশের হাওর বেসিন বা হাওরাঞ্চল গঠিত।
জেলাসমূহ হলো:
- সিলেট
- সুনামগঞ্জ
- মৌলভীবাজার
- হবিগঞ্জ
- নেত্রকোনা
- কিশোরগঞ্জ
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
- হাওরাঞ্চলে মোট ৩৭৩টি হাওর রয়েছে যার মোট আয়তন ৮,৫৮,৪৬০ হেক্টর।
- এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাওর রয়েছে সিলেটে ১০৫টি।
- সবচেয়ে বড় হাওর হলো সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে বিস্তৃত হাকালুকি হাওর।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
৩,৯৪৩.
আমেরিকাকে এশিয়া থেকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী?
  1. ফ্লোরিডা
  2. পক
  3. জিব্রাল্টার
  4. বেরিং
ব্যাখ্যা

বেরিং প্রণালী:
-বেরিং প্রণালী হল প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে উত্তরের অংশ।
- এই প্রণালী এশিয়া মহাদেশ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশ পৃথক করেছে।
- দেশ হিসেবে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পৃথক করেছে এই প্রণালী।
- বেরিং প্রণালী এবং সাগর উভয়েরই নামকরণ করা হয়েছিল ভিটাস বেরিংয়ের সম্মানে।
- বেরিং প্রণালী তুলনামূলকভাবে অগভীর। 
- এর গড় গভীরতা ৫০ মিটার। এটি গভীরতম বিন্দুতে মাত্র ৯০ মিটার গভীর।
- প্রণালীতে ডায়োমেড দ্বীপপুঞ্জ এবং সেন্ট লরেন্স দ্বীপপুঞ্জসহ অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com

৩,৯৪৪.
'ভলগা' নদীর অবস্থান কোন দেশে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. রাশিয়া
  3. ইতালি
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

- ভলগা নদী রাশিয়ায় অবস্থিত।

• ভলগা নদী (Volga River):
- উৎপত্তি: মস্কোর উত্তরে ভ্যালডাই হিলস।
-পতিত হয়েছে:  ক্যাসপিয়ান সাগরে, দক্ষিণে প্রায় ৩,৫৩০ কিমি দূরে।
- নদীর মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ৩,৫৭,০০০ মাইল।
- এটি প্রায় ২০০ উপনদী, ১,৫১,০০০ নদী ও স্থায়ী ও অস্থায়ী নালা সমন্বিত।

- এটি ইউরোপের দীর্ঘতম নদী এবং পশ্চিম রাশিয়ার প্রধান নৌপথ।
- এটি রাশিয়ার ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থল এবং দেশের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল উৎস।
- ভলগা নদীর অববাহিকা ইউরোপীয় রাশিয়ার প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ এলাকায় বিস্তৃত এবং এটি প্রায় রাশিয়ার জনসংখ্যার অর্ধেকের আবাসস্থল।
- অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি বিশ্বের প্রধান নদীর মধ্যে গণ্য।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

৩,৯৪৫.
কোনটি মৃত আগ্নেয়গিরি?
  1. জাপানের ফুজিয়ামা
  2. পোপো আগ্নেয়গিরি
  3. ইতালির ভিসুভিয়াস
  4. উল্লিখিত সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি:
- ভূ-গর্ভস্থ তাপ ও চাপের পরিবর্তনের ফলে ভূ-অভ্যন্তরস্থ উত্তপ্ত ও গলিত বিভিন্ন পদার্থ যেমন: উষ্ণ বাষ্প, গলিত শিলা, কাঁদা, ধাতু, ভষ্ম ইত্যাদি প্রবলবেগে ভূ-ত্বকের নিচের অংশে চাপ প্রয়োগ করে। এমতাবস্থায়, ভূ-ত্বকের দুর্বল স্থান বা ফাটলসমূহের ভিতর দিয়ে উক্ত পদার্থগুলো উৎক্ষিপ্ত হয়ে বহু দুর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ভূ-পৃষ্ঠের ঐ ছিদ্র পথ বা ফাটলের চারপাশে উক্ত পদার্থগুলো জমাট বেঁধে ক্রমশ উঁচু পর্বতের ন্যায় ভূমিরূপ গঠন করে। এইরূপ পর্বতকে আগ্নেয়গিরি বলা হয়।

⇒ পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিসমূহকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়।
ক. সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano),
খ. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant Volcano) এবং
গ. মৃত আগ্নেয়গিরি (Extinct Volcano)।

• সক্রিয় আগ্নেয়গিরি:
- সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো সেই সব আগ্নেয়গিরি যেখান থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হয়।
- সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দুই ধরনের।
- যেমন- যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে অবিরত লাভা নির্গত হয় সেগুলো অবিরাম আগ্নেয়গিরি। যেমন: ভূ- মধ্যসাগরের লিপারী দ্বীপের স্ট্রম্বলী আগ্নেয়গিরি।
- অন্যদিকে যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর মাঝে মাঝে অগ্ন্যুৎপাত হয়, তাকে সবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন: ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি।

• সুপ্ত আগ্নেয়গিরি:
- সুপ্ত আগ্নেয়গিরি সমূহ থেকে বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময়ে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে। যেমন: জাপানের ফুজিয়ামা।

• মৃত আগ্নেয়গিরি:
- মৃত আগ্নেয়গিরিসমূহ থেকে পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে না।
- যেমন: পোপো আগ্নেয়গিরি।
- মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে বৃষ্টির পানি জমে হ্রদ সৃষ্টি হলে, তাকে আগ্নেয় হ্রদ (Vent) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৪৬.
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ অনুসারে, ঢাকা শহর কোন ধরনের ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সর্বাধিক ভূমিকম্প প্রবণ
  2. মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ
  3. উচ্চ ভূমিকম্প প্রবণ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূমিকম্প অঞ্চল:
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ এ, দেশকে চারটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে মাটির গতিবিধি বিভিন্ন স্তরের।
অঞ্চল ১: Z = ০.১২
অঞ্চল ২: Z = ০.২
অঞ্চল ৩: Z = ০.২৮
অঞ্চল ৪: Z = ০.৩৬

- প্রতিটি অঞ্চলে একটি সিসমিক জোন সহগ (Z) রয়েছে, যা মাটির সর্বোচ্চ বিবেচিত ত্বরণ (PGA) নির্দেশ করে।
- এই ত্বরণ কঠোর মাটি/শিলা (সাইট ক্লাস SA) এর জন্য g (মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ) এর এককে মাপা হয়।

• গুরুত্বপূর্ণ শহরের ভূমিকম্প তথ্য:
- অঞ্চল ৪ (সর্বাধিক ভূমিকম্প প্রবণ): উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট) অন্তর্ভুক্ত। PGA = ০.৩৬g।
- ঢাকা শহর: মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২)।
- চট্টগ্রাম শহর: উচ্চ ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২৮)।

ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এ, 
১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূকম্পনীয় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-
অঞ্চল ১: (মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৭); উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
অঞ্চল ২: (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৬); মধ্য অঞ্চল
অঞ্চল ৩: (কম ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৫); দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০। 

৩,৯৪৭.
ইংলিশ চ্যানেল কোন দুইটি মহাসাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগর
  2. আটলান্টিক ও প্রসান্ত মহাসাগর
  3. উত্তর সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
  4. ভূমধ্যসাগর ও লোহিত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

ইংলিশ চ্যানেল:
- আটলান্টিক মহাসাগরের একটি অংশ ইংলিশ চ্যানেল।
- এটি উত্তর ফ্রান্স থেকে গ্রেট ব্রিটেনের দ্বীপকে পৃথক করে।
- উত্তর সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে এই ইংলিশ চ্যানেল।

উল্লেখ্য, 
- এটি প্রায় ৫৬৩ কিমি দীর্ঘ এবং প্রস্থ ২৪০ কিমি ।
- এই চ্যানেলের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ হলো ডোভার প্রণালী।
- পূর্বদিকে এর বিস্তার কমে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার হয়ে যায় এবং সেখানে এটি ডোভার প্রণালীর মাধ্যমে উত্তর সাগরের সাথে সংযুক্ত।
- ইংলিশ চ্যানেলের প্রধান দ্বীপগুলির মধ্যে আছে আইল অভ ওয়াইট এবং চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,৯৪৮.
পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়জাত ভূমির আকৃতি কেমন থাকে?
  1. নদীর বাঁক
  2. ভি আকৃতি
  3. গিরিসংকট
  4. ডি আকৃতি
ব্যাখ্যা

নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ (Erosional Features of River):
- নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় এবং নতুন নতুন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।
- পার্বত্য অবস্থায় নদীর ক্ষয়কার্য অত্যন্ত বেশি হয়।

• 'ভি' আকৃতি উপত্যকা ('V' shaped Valley):
- পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়জাত ভূমি 'ভি' আকৃতি উপত্যকা হয়ে থাকে।
- পার্বত্য অঞ্চলের শিলা তুলনামূলকভাবে কঠিন থাকে।
- সেখানে নদীর স্রোতের গতিবেগ বেশি থাকায় নদী পার্শ্বক্ষয়ের তুলনায় তলদেশের ক্ষয়সাধন অধিক হয়।
- এ সময় পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার মধ্যভাগ অধিক ক্ষয় হতে হতে কালক্রমে ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের ন্যায় রূপধারণ করে।
- এজন্য এ ধরনের উপত্যকাকে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা বলে।
- পরবর্তীতে ধীরে ধীরে পার্শ্বদিকে ক্ষয়ের পরিমাণ বেশি হলে উপত্যকা ক্রমান্বয়ে প্রশস্ত হতে থাকে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৪৯.
ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গ কোন স্তরে বাধা পেয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে?
  1. এক্সোমণ্ডল
  2. আয়নমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমণ্ডল (Thermosphere):
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমণ্ডল বলে।
- এই মণ্ডলে বায়ুস্তর অত্যন্ত হালকা ও চাপ ক্ষীণ।
- তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে আয়নমণ্ডল (Ionosphere) বলে।

তাপমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০° সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
- তাপমণ্ডলের উপরের স্তরে তাপমাত্রার পরিমাণ প্রায় স্থির থাকে।
- তীব্র সৌর বিকিরণে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মির সংঘাতে এই অংশের বায়ু আয়নযুক্ত হয়। 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বিভিন্ন বেতারতরঙ্গ আয়নমণ্ডলের বিভিন্ন আয়নে বাধা পেয়ে পুনরায় ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। 

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৫০.
সুমাত্রা দ্বীপ কোন দেশের অংশ?
  1. ক) ভারত
  2. খ) মরিশাস
  3. গ) ইন্দোনেশিয়া
  4. ঘ) মালয়েশিয়া
ব্যাখ্যা
সুমাত্রা ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত একটি দ্বীপ। যার আয়তন ১৮৪,৯৫৪ বর্গ মাইল। এককভাবে ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ হিসেবে সুমাত্রা বৃহত্তম (এ অঞ্চলে নিউগিনি আর বোর্নিও সুমাত্রার চেয়ে বড় হলেও এসব দ্বীপে অন্য দেশের অংশ রয়েছে)।
Source: worldatlas
৩,৯৫১.
বাংলাদেশে কোন ধরণের ভূপ্রকৃতি সবচেয়ে বেশি অঞ্চলজুড়ে দেখা যায়?
  1. সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি
  2. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮০% সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।
- এটি বাংলাদেশকে কৃষিতে সমৃদ্ধ করেছে।
- হিমালয় পাদদেশীয় সমভূমি, প্লাবন সমভূমি, ব-দ্বীপ সমভূমি, উপকূলীয় সমভূমি, স্রোতজ সমভূমি প্রভৃতি অংশে ভাগ করা যায়।

• বাংলাদেশকে ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।
এগুলো হলো-
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৫২.
হাডসন বে কোন দেশে অবস্থিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র 
  2. কানাডা
  3. দুবাই 
  4. মেক্সিকো 
ব্যাখ্যা
হাডসন বে: 
- উপসাগর বলতে একটি নিম্নচাপযুক্ত, উপকূলীয় জলাশয়কে বোঝায় যা সরাসরি অন্য একটি প্রধান জলাশয়ের সাথে সংযুক্ত থাকে যেমন একটি হ্রদ, মহাসাগর বা বৃহত্তর উপসাগর।
- এগুলি বিভিন্ন উপায়ে গঠিত হতে পারে এবং তাদের গঠনের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে আকারে পরিবর্তিত হতে পারে।
- হাডসন বে উত্তর-পূর্ব কানাডায় অবস্থিত। 
- হাডসন উপসাগর হল লবণাক্ত জলাশয়ের একটি বৃহৎ অংশ এবং বঙ্গোপসাগরের পরে গ্রহের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপসাগর (বে) ।
- ১,২৩০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হাডসন উপসাগর বিশ্বের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ (মহাদেশীয়) সমুদ্র।
- সমুদ্রের নিষ্কাশন এলাকা আরও বড় এবং ৩,৮৬১,৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ।
- হাডসন উপসাগর প্রায় ১,৩৭০ কিমি লম্বা এবং ১,০৫০ কিমি প্রশস্ত এবং তুলনামূলকভাবে অগভীর, যার গড় গভীরতা প্রায় ১০০ মিটার।

উৎস: World Atlas.
৩,৯৫৩.
বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর অতিক্রম করা রেখাটি কী নামে পরিচিত?
  1. ক) কর্কটক্রান্তি রেখা
  2. খ) মকরক্রান্তি রেখা
  3. গ) ৯০ ডিগ্রি দক্ষিণ-পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
  4. ঘ) ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
• সাড়ে ২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা (ট্রপিক অব ক্যান্সার) দেশের মধ্যভাগ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর অতিক্রম করেছে।
• রেখা দুটি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় পরস্পরকে অতিক্রম করেছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৫৪.
বাংলাদেশের বৃহত্তম রেলওয়ে জংশন কোথায় অবস্থিত?
  1. সৈয়দপুর
  2. ঈশ্বরদী
  3. পার্বতীপুর
  4. কমলাপুর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বৃহত্তম রেলওয়ে জংশন ঈশ্বরদী।
- আখাউড়া বাংলাদেশের অন্যতম রেলওয়ে জংশন। 
- বাংলাদেশের বৃহত্তম রেল কারখানা- সৈয়দপুর
- বাংলাদেশের বৃহত্তম রেল স্টেশন- কমলাপুর
 
উৎস : বাংলাদেশ রেলওয়ে ওয়েবসাইট
৩,৯৫৫.
লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগর কে যুক্ত করে-
  1. বাব এল মান্দেব প্রণালী
  2. বেরিং প্রণালী
  3. দার্দনেলিস প্রণালী
  4. বসফরাস প্রণালী
ব্যাখ্যা

• বাব এল মান্দেব প্রণালী :
- লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগর কে যুক্ত করে।
- আফ্রিকা এবং এশিয়া মহাদেশ কে বিভক্ত করে।

​অন্যদিকে,
​• বেরিং প্রণালী = বেরিং সাগর এবং উত্তর সাগরকে যুক্ত করে।
• ​দার্দনেলিস প্রণালী = ইজিয়ান সাগর এবং মর্মর সাগরকে যুক্ত করে।
• বসফরাস প্রণালী = কৃষ্ণসাগর এবং মর্মর সাগর।

​উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,৯৫৬.
বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির কত শতাংশ সূর্য হতে আসে?
  1. ৯০ শতাংশ
  2. ৯৪ শতাংশ
  3. ৯৮ শতাংশ
  4. ৯৯.৯৭ শতাংশ
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭ শতাংশ সূর্য হতে আসে।

বায়ুমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডল বায়ুর বিভিন্ন স্তর।
- বায়ুমণ্ডলের বায়ুর বিভিন্ন স্তরের সাথে এবং ওপরের বায়ুর সাথে সংলগ্ন নিচের বায়ুকে ক্রমাগত চাপ প্রদান করে।
- এ কারণে পৃথিবীতে ভূ-ত্বকের নিকটস্থ বায়ুর স্তর খুবই ঘন।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে প্রায় বায়ুমণ্ডলের ১০,০০০ কি. মি. পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত।

⇒ বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানসমূহ:
- নাইট্রোজেন: ৭৮.০২ শতাংশ।
- অক্সিজেন: ২০.৭১ শতাংশ।
- আর্গন: ০.৮০ শতাংশ।
- জলীয়বাষ্প: ০.৪১ শতাংশ।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড: ০.০৩ শতাংশ।
- অন্যান্য গ্যাস: ০.০২ শতাংশ।
- ধূলিকণা ও কণিকা: ০.০১ শতাংশ।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
        ii) National Oceanic and Atmospheric Administration (.gov)
৩,৯৫৭.
নিচের কোন দেশটির সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে?
  1. পাকিস্তান
  2. চীন
  3. মিয়ানমার 
  4. ভুটান 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত: 
- বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
- ভারত এবং অন্যটি মিয়ানমার সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের ঢাকা ও  বরিশাল বিভাগের সাথে কোন সীমান্ত নেই।
- ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের সকল জেলার সাথে সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের সংযোগ নেই- বান্দরবন ও কক্সবাজার।

উৎসঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।

৩,৯৫৮.
ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে প্রধানত বাংলাদেশকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে? 
  1. ৪টি 
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা

ভূ-প্রকৃতি:
- ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ,
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি,

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এসকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে খ্যাত।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা- (ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও (খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভ, মি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভ, মি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি।
- এর কিছুসংখ্যক পরিত্যক্ত অশ্বখুরাকৃতি নদীখাত।
- স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওড় বলে।
- এদের মধ্যে চলনবিল, মাদারিপুর বিল ও সিলেট অঞ্চলের হাওড়সমূহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৫৯.
হাকালুকি হাওরকে 'পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' (ECA) ঘোষণা করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০১ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা

হাকালুকি হাওর:
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি হাওর। এটি বাংলাদেশের এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি।
- এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত। হাওরের ৪০% বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত।

• হাকালুকি হাওরের বিশাল জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী এবং পানাই নদী। এই জলরাশি হাওরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কুশিয়ারা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। বর্ষাকালে হাওর সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে বিশাল রূপ ধারন করে, এই সময় পানির গভীরতা হয় ২-৬ মিটার।
- হাকালুকি হাওরে প্রায় ২৩৮টি বিল রয়েছে। প্রায় সারাবছরই বিলগুলিতে পানি থাকে।
- হাকালুকি হাওরের বিলগুলিতে বিভিন্ন জাতের বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। তবে এক সময়ের অন্যতম আকর্ষণীয় Swamp Forest অর্থাৎ জলময় নিম্নভূমির বনাঞ্চল এখন আর তেমন নেই।
- জীববিজ্ঞানীদের মতে, হাকালুকি হাওরে ১৫০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, ১২০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ বিলুপ্ত প্রায়। এখানে প্রতি বছর শীতকালে প্রায় ২০০ বিরল প্রজাতির অতিথি পাখির সমাগম ঘটে।

উল্লেখ্য,
 - হাকালুকি হাওরকে ১৯৯৯ সালে 'পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' (ECA) ঘোষণা করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,৯৬০.
ইস্ট লন্ডন কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. গ) কানাডা
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
East London is a city on the Indian Ocean, in South Africa’s Eastern Cape.
Source: britannica.com
৩,৯৬১.
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন কত সালে কার্যকর করা হয়?
  1. ২০১৬ সালে
  2. ২০১৭ সালে
  3. ২০১৮ সালে
  4. ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন ২০১৭:
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং এর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন ২০১৭ জারী করা হয়েছে।
- ৩০ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ থেকে তা কার্যকর হয়েছে।
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য জীববৈচিত্র্য বিষয়ক জাতীয় কমিটি থেকে ইউনিয়ন জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- বিগত ১৬ জুলাই ২০১৯ তারিখে উক্ত আইনের আওতায় গঠিত কমিটিগুলোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।

জাতীয় পরিবেশ নীতি, ২০১৮:
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জসমূহকে বিবেচনায় নিয়ে ৩ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮ চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। 
- ২০১৯ সালে তা প্রকাশিত হয়।
- নতুনভাবে গৃহীত জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮-তে পূর্বের ১৫টি খাতসহ আরও ৯টি খাত/ক্ষেত্রের মধ্যে পাহাড় প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ এবং জীবনিরাপত্তা, প্রতিবেশবান্ধব পর্যটন, ইত্যাদি খাতসমূহকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩
৩,৯৬২.
নিচের কোন স্তরটি ব্যাসল্ট অঞ্চল (Basalt Zone) নামে পরিচিত? 
  1. কেন্দ্রমন্ডল
  2. গুরুমণ্ডল
  3. অশ্বমন্ডল 
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
ব্যাসল্ট অঞ্চল (Basalt Zone): 

- কেন্দ্র মন্ডলের বহিঃভাগ থেকে অশ্বমন্ডলের (ভূ-ত্বকের) নিম্ন স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরকে গুরুমন্ডল বলে। 
- এটি পৃথিবীর আয়তনের শতকরা ৮২ ভাগ এবং ওজনের শতকরা ৬৮ ভাগ দখল করে আছে। 
- গুরুমন্ডলের স্তরটি প্রায় ২.৮৮৫ কি.মি. পুরু। 
- সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতি ভারী ধাতুগুলোর সংমিশ্রণেই এই মন্ডলটি গঠিত।
- এর উপরের অংশের ১৪৪৮ কি.মি. (৯০০ মাইল) ব্যাসল্ট জাতীয় উপাদানে গঠিত। 
- এই জন্যই গুরুমণ্ডলের স্তরকে ব্যাসল্ট অঞ্চল (Basalt Zone) বলা হয়। 
- সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা এই মন্ডলটি গঠিত বলে একে সিমা (Sima) ও বলা হয়।

উৎস: ভুমিরূপবিদ্যা, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৩,৯৬৩.
তৃণভূমি বায়োম কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
  2. খ) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  3. গ) মেরু অঞ্চলে
  4. ঘ) ক+খ
ব্যাখ্যা
নাতিশীতােষ্ণ এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলে যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২৫° হতে ৪৫° সে.মি. সে সব অঞ্চলে তৃণভূমি বায়ােম অবস্থিত। (রেফারেন্সঃ একাদশ- দ্বাদশ শ্রেনীর ভূগোল)
৩,৯৬৪.
পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট কয়টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত?
  1. ৬টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
আমাজন বন:
- পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট আমাজন।
- এই বনাঞ্চল দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।
- এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল।
- এর আয়তন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন বর্গ মাইল।
- আমাজন নদী সহ অনেক নদী বনের পাশ দিয়ে গেছে।
- আমাজন রেইনফরেস্টে পাওয়া গেছে ১৬,০০০ প্রজাতি এবং ৩৯০ বিলিয়ন বিভিন্ন রকমের গাছ যারা প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর ধরে টিকে রয়েছে।
- ইওসিন যুগে এই বনের বিকাশ ঘটেছিল।
- আমাজন বনকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস।

⇒ আমাজন বন ৯টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত।
- ৯টি দেশ: ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনিজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা।
- এর মধ্যে আমাজন বনের ৬৪% রয়েছে ব্রাজিলে।

উৎস: World Atlas.
৩,৯৬৫.
Mount Kinabalu পর্বতমালা কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) ভারত
  2. খ) চীন
  3. গ) মালয়েশিয়া
  4. ঘ) ইতালি
ব্যাখ্যা

কিনাবালু পর্বত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে অবস্থিত একটি বিশিষ্ট পর্বত।
পূর্ব মালয়েশিয়ার সাবাহ প্রদেশে এটির অবস্থান।
কিনাবালু বোর্নিও দ্বীপের ক্রোকার পর্বতশ্রেনীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, মালয় দ্বীপপুঞ্জের সর্বোচ্চ পর্বত এবং মালয়েশিয়ায় সর্বোচ্চ পর্বত।

৩,৯৬৬.
রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়গুলো কোন ধরনের পাহাড়ের অন্তর্গত?
  1. প্লাইস্টোসিন কালের পাহাড়
  2. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  3. সাম্প্রতিক কালের পাহাড়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

⇔ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং
খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ

⇒ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

⇒ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৬৭.
পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর কোনটি?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. উত্তর মহাসাগর
ব্যাখ্যা
• প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean):
- প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও গভীর মহাসাগর।
- এটি পৃথিবীর মোট জলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ১৬৫,২৫০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৬৩,৮০০,০০০ বর্গমাইল), যা আটলান্টিক মহাসাগরের প্রায় দ্বিগুণ। 
- গড় গভীরতা: প্রায় ৪,২৮০ মিটার (১৪,০৪০ ফুট)
- সর্বাধিক গভীর স্থান: মারিয়ানা খাত, যা পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর স্থান (~১০,৯২৮ মিটার)।

- পূর্বে: উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা। 
- পশ্চিমে: এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। 
- উত্তরে: আর্কটিক মহাসাগর। 
- দক্ষিণে: অ্যান্টার্কটিকা। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৯৬৮.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের পাহাড়ি নদী?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. কর্ণফুলী
  4. সাঙ্গু
ব্যাখ্যা
সাঙ্গু নদী (Sangu River):
- সাঙ্গু নদী (Sangu River) বাংলাদেশের দক্ষিণে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত একটি পাহাড়ি নদী
- শঙ্খ নদী নামেও এটি পরিচিত।
- এটি কর্ণফুলীর পর চট্টগ্রাম বিভাগের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী।
- বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে কয়টি নদীর উৎপত্তি তার মধ্যে সাঙ্গু নদী অন্যতম।

⇒ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার মদক এলাকার পাহাড়ে এ নদীর জন্ম।
- বান্দরবান জেলা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও বাঁশখালীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এটি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে।

উল্লেখ্য
- অপশনের বাকি ৩টি বাংলাদেশের পাহাড়ি নদী নয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৯৬৯.
নিচের কোন পর্বতের কোন শৃঙ্গ থাকে না-
  1. ক) ভঙ্গিল পর্বত
  2. খ) ল্যাকোলিথ পর্বত
  3. গ) চ্যুতি স্তূপ পর্বত
  4. ঘ) আগ্নেয় পর্বত
ব্যাখ্যা
ল্যাকোলিথ পর্বত : পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা বিভিন্ন গ্যাসের দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে ভূপৃষ্ঠে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনা কোনাে সময় বাধা, পেয়ে এগুলাে ভূপূষ্ঠের উপরে না এসে ভূত্বকের নিচে একস্থানে জমাট বাধে। উর্ধ্বমুখী চাপের কারণে স্ফীত হয়ে ভূত্বকের অংশবিশেষ গম্বুজ আকার ধারণ করে। এভাবে সৃষ্ট পর্বতকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে। ঢাল সামান্য খাড়া স্বল্প অঞ্চলব্যাপী বিস্তৃত। এ পর্বতের কোনাে শৃঙ্গ থাকে না। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ। (রেফারেন্সঃ নবম দশম শ্রেণির ভূগোল)
৩,৯৭০.
মধুপুর গড় অঞ্চলের প্রধান বৃক্ষ-
  1. সেগুন
  2. গর্জন
  3. শাল
  4. মেহগনি
ব্যাখ্যা

মধুপুর গড়:
- মধুপুর গড় বাংলাদেশের কেন্দ্রভাগে অবস্থিত একটি বৃহৎ উত্থিত এলাকা।
- এই গড়ের দক্ষিণাংশ ভাওয়াল গড় এবং উত্তরাংশ মধুপুর গড় নামে পরিচিত।
- ভূতাত্ত্বিকভাবে এই অঞ্চলটি একটি সোপান এলাকা, যা সংলগ্ন প্লাবনভূমির তুলনায় এক থেকে দশ মিটার উঁচু।
- মধুপুর গড়ের মোট বিস্তার ৪,২৪৪ বর্গ কিমি।
- টাঙ্গাইল-গাজীপুর ও নরসিংদীর অধিকাংশ ভূমির গঠন একই রকম, যা মধুপুর গড় নামে পরিচিত।
- বনের প্রধান বৃক্ষ শাল, যার ফলে এই বনের নামকরণ হয় শালবন।
- কোচ এবং মান্ডা (গারো) নামক দুটি উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর বাস এই মধুপুর গড়ে, যারা মধুপুরের শালবনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।
- কোচ উপজাতী বাংলাদেশের প্রাচীনতম জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম।

উৎস:  বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১।

৩,৯৭১.
ভূগোলের প্রধান শাখা কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা

ভূগোলের প্রধান শাখা ২ টি।
যথাঃ প্রাকৃতিক ভূগোল ও মানব ভূগোল।



সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৭২.
ITCZ-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Inter-tropical Circulation Zone
  2. Intra-tropical Cyclone Zone
  3. Inter-tropical Convergence Zone
  4. International Tropical Climate Zone
ব্যাখ্যা
ITCZ:
- ITCZ-এর পূর্ণরূপ: Inter-tropical Convergence Zone.
- উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাণিজ্য বায়ুর মিলন অঞ্চলকে আন্তঃক্রান্তীয় মিলন অঞ্চল বা ITCZ বলে।
- এটি পৃথিবীর নিরক্ষরেখার কাছাকাছি একটি নিম্নচাপের অঞ্চল।
- এই বায়ু একত্রিত হওয়ার ফলে উষ্ণ এবং আর্দ্র বাতাস উপরে উঠে যায় যা ঘন ঘন বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি করে।

⇒ এর প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- এটি সূর্যের অবস্থান অনুসারে ঋতুভিত্তিকভাবে সরে যায়।
- এখানে আয়ন বায়ুর অভিসরণ ঘটে, শক্তিশালী ঊর্ধ্বগামী বায়ুপ্রবাহ তৈরি হয় এবং ভারী বৃষ্টিপাত হয়। 
- এই অঞ্চলটি পৃথিবীর বেশ কিছু ট্রপিক্যাল এলাকায়, যেমন আফ্রিকা, এশিয়া, ও লাতিন আমেরিকাতে, বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে এবং এটি গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

উৎস: i) Britannica.
ii) National Oceanic and Atmospheric Administration (.gov).
৩,৯৭৩.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তর দিয়ে জেট বিমান চলাচল করে?
  1. ক) ট্রপোমন্ডল (Troposphere)
  2. খ) স্ট্রেটোমন্ডল (Stratosphere)
  3. গ) মেসোমন্ডল (Mesosphere)
  4. ঘ) তাপমন্ডল (Thermosphere)
ব্যাখ্যা

- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়।
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো রকম জলীয়বাষ্প থাকে না।
- ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়-বৃষ্টি থাকেনা বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি

 

৩,৯৭৪.
মৃত আগ্নেয়গিরি 'মাউন্ট পোপা' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. গুয়েতেমালা 
  2. মিয়ানমার 
  3. ইন্দোনেশিয়া 
  4. চিলি
ব্যাখ্যা

মৃত আগ্নেয়গিরি 'মাউন্ট পোপা':
- পোপা আগ্নেয়গিরি মিয়ানমারে অবস্থিত।
- এটি মধ্য মিয়ানমারের পেগু পর্বতমালার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত।
- এটি একটি বিলুপ্ত বা মৃত আগ্নেয়গিরি।
- এটি প্রায় ৪,৯৮১ ফুট (১,৫১৮ মিটার) উঁচু।
- বিশ্বাস করা হয় এখানে ৩৭ জন আত্মার (Nats) বাস, যাদের জন্য অনেক মন্দির ও স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে।

উৎস: Britannica.

৩,৯৭৫.
তিস্তা বাঁধ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) লালমনিরহাট
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) সিরাজগঞ্জ
  4. ঘ) চুয়াডাঙ্গা
ব্যাখ্যা
তিস্তা বাঁধ লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলাধীন দুয়ানি নামক স্থানে তিস্তা নদীর উপর নির্মিত।
সুত্রঃ বাংলাপিডিয়া
৩,৯৭৬.
অতীতে দুর্যোগে কোনটিকে সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো
  1. দুর্যোগ প্রতিরোধ
  2. দুর্যোগ প্রশমন
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. সাড়াদান
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: 
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,৯৭৭.
পৃথিবীর আনুমানিক ব্যাস কত?
  1. প্রায় ১০,৬৬৭ কিলোমিটার
  2. প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার
  3. প্রায় ১৪,৬৬৭ কিলোমিটার
  4. প্রায় ১৬,৬৬৭ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

পৃথিবী (Earth):
- পৃথিবী আমাদের বাসভূমি।
- এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর।
- চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমন্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৭৮.
আয়তনে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর কোনটি?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. দক্ষিণ মহাসাগর
  3. উত্তর মহাসাগর
  4. ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
মহাসাগর (Ocean):
- উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ জলরাশি বা পানিরাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে।
- পৃথিবীতে মোট পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে।
- যথা:
i) প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean), 
ii) আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean),
ii) ভারত মহাসাগর (Indian Ocean),
iv) উত্তর মহাসাগর (Arctic Ocean),
v) দক্ষিণ মহাসাগর (Southern Ocean)।

প্রশান্ত মহাসাগর:
- মহাসাগরসমূহের মধ্যে আয়তন এবং গভীরতার দিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর সবচেয়ে বড়।
- এর আয়তন ১৬,৮৭,২৩,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যবর্তী।

আটলান্টিক মহাসাগর:
- আয়তনের দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান দ্বিতীয় এবং গভীরতার দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান তৃতীয়।
- এর আয়তন ৮,৫১,৩৩,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকা।

ভারত মহাসাগর:
- ভারত মহাসাগরের আয়তন ৭,০৫,৬০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- অবস্থান: আফ্রিকা, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া।

দক্ষিণ মহাসাগর:
- পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে দক্ষিণ মহাসাগর অবস্থিত।
- দক্ষিণ মহাসাগরের আয়তন ২,১৯,৬০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- অবস্থান: এন্টার্কটিকা ও ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অংশ।

উত্তর মহাসাগর:
- পৃথিবীর উত্তর মেরুর চারদিকে উত্তর মহাসাগর রয়েছে এর আয়তন ১,৫৫,৫৮,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- অবস্থান: পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ।
- এটি আয়তনে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর।

উৎস: Britannica.
৩,৯৭৯.
দক্ষিণ আমেরিকার কোন দেশ 'চির বসন্তের দেশ' হিসেবে পরিচিত?
  1. চিলি
  2. ইকুয়েডর
  3. কলম্বিয়া
  4. প্যারাগুয়ে
ব্যাখ্যা
ইকুয়েডর:
- দেশটির নামের অর্থ "নিরক্ষীয় অঞ্চল"।
- ইকুয়েডর উত্তর-পশ্চিম দক্ষিণ আমেরিকার দেশ। 
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার চির বসন্তের দেশ।
- এর রাজধানীর নাম কুইটো।
- বর্তমানে ইকুয়েডর যা আছে তার বেশিরভাগই ইনকা সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত।
- ইকুয়েডর নিরক্ষরেখায় অবস্থিত , সিয়েরা ব্যতীত বেশিরভাগ দেশই আর্দ্র গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ু অনুভব করে।
- ওরিয়েন্ট সারা বছর ধরে একটি অস্থির সামুদ্রিক গ্রীষ্মমন্ডলীয় বায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয়।

তথ্যসূত্র: Britannica.com
৩,৯৮০.
একটি দেশের মোট আয়তনের কত শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন?
  1. ১৫-২০%
  2. ২০-২৫%
  3. ৩০-৩৫%
  4. ৩৫-৪০%
ব্যাখ্যা

❐ একটি দেশের মোট আয়তনের ২০-২৫% বনভূমি থাকা প্রয়োজন।

বন:
- বন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।
- একটি দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য দেশের মোট আয়তনের কমপক্ষে শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কারণ ভূমির ক্ষয়রোধ, ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি, জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা, বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতির জন্য বনভূমি থাকা প্রয়োজন।

⇒ বাংলাদেশের বনভূমিকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়; যথা- ১। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি; ২। সিলেটের বনাঞ্চল; ৩। সুন্দরবন; ৪। মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি এবং ৫। দিনাজপুর ও রংপুরের বনভূমি।
- বাংলাদেশের বনভূমিতে যেসব বৃক্ষ দেখা যায় তার মধ্যে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, গর্জন, সেগুন, চাপালিস, গামারি, শিরীষ, শাল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়া সুন্দরবনে গোলপাতা এবং সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনে প্রচুর বাঁশ ও বেত পাওয়া যায়।
- ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, নৌকা, রেলওয়ের স্লিপার, খুঁটি প্রভৃতি তৈরিতে এসব গাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়।
- বন থেকে আমরা জ্বালানি কাঠও পেয়ে থাকি। বন হতে মধু, মোম, গোলপাতা, কাঠ প্রভৃতি সংগ্রহ করে অনেক লোক জীবিকা নির্বাহ করে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কি.মি. এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৩ লক্ষ হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৫.৫৮%।
- বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রত বনভূমির পামিাণ প্রায় ১৬ লক্ষ হেক্টর যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭৪।
- বাংলাদেশের বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পারিমাণ দেশের মোট আয়তনের ২২.৩৭%।

উৎস: i) অর্থনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
iii) ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৮১.
কোন অঞ্চলে সাধারণত সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়? 
  1. ক্রান্তীয় অঞ্চলে
  2. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  3. মেরু অঞ্চলে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়

নিরক্ষীয় অঞ্চল: 

- নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে।
- দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে।
- এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে (Equatorial region) স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারাবছর লম্বভাবে পড়ে।
- এ দুটি কারণে এখানকার বায়ুমন্ডলে সারাবছর জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে।
- জলীয়বাষ্প হালকা বলে সহজেই তা উপরে উঠে গিয়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর প্রতিদিনই বিকেল অথবা সন্ধ্যার সময় এরূপ বৃষ্টিপাত হয়।
- নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ সময়ে এই অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠ যথেষ্ট উত্তপ্ত হলেও উপরের বায়ুমন্ডল বেশ শীতল থাকে।
- ফলে ভূপৃষ্ঠের জলাশয়গুলো থেকে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে পতিত হয়।

উৎস: ভগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৩,৯৮২.
বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো -
  1. এক্সোমন্ডল
  2. স্ট্রাটোমন্ডল
  3. ট্রপোমন্ডল
  4. মেসোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• ট্রপোমন্ডল
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪০ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না। ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।

সূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৮৩.
উত্তর আমেরিকার কলোরাডো মালভূমি কোন ধরনের মালভূমি?
  1. আগ্নেয়জাত মালভূমি
  2. চ্যুতি-সৃষ্ট মালভূমি
  3. পাদদেশীয় মালভূমি
  4. পর্বত-মধ্যবর্তী মালভূমি
ব্যাখ্যা
মালভূমি:
- সমুদ্র সমতল থেকে অতি সুউচ্চ, বিস্তীর্ণ, প্রায় সমতল ভূমিরূপকে মালভূমি বলে।
- সমুদ্র পৃষ্ট হতে মালভূমির উচ্চতা কয়েকশত মিটার হতে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ ও ভূ- পৃষ্ঠস্থ বিভিন্ন ভূমি গঠন প্রক্রিয়ার কারণে মালভূমির সৃষ্টি হতে পারে।
- যেমন: পাত সঞ্চালন, ভূ-আন্দোলন, ভূ-পৃষ্ঠের ক্ষয়সাধন, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ও লাভা সঞ্চয়ের মাধ্যমে মালভূমি গঠিত হয়ে থাকে।
- পৃথিবীর মোট ভূমির শতকরা পাঁচ ভাগ জুড়ে মালভূমি অবস্থিত।

⇒ উৎপত্তির ধরণ অনুসারে পৃথিবীর মালভূমি সমূহকে প্রধান তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। যেমন:
• ভূ-গাঠনিক মালভূমি (Tectonic Plateau),
• সঞ্চয়জাত মালভূমি (Depositional Plateau) ,
• ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট মালভূমি (Erosional Plateau)।

⇒ অবস্থান, আকার-আকৃতি, গঠন প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে মালভূমি সমূহকে প্রধানতঃ ছয় ভাগে বিভক্ত করা যায়।
(ক) পর্বত-মধ্যবর্তী মালভূমি বা পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (Intermontane Plateau),
(খ) পাদদেশীয় মালভূমি (Piedmont Plateau),
(গ) চ্যুতি-সৃষ্ট মালভূমি (Horst Plateau),
(ঘ) লাভা বা আগ্নেয়জাত মালভূমি (Lava Plateau),
(ঙ) ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট মালভূমি (Erosional or Residual Plateau),
(চ) শীল্ড বা মহাদেশীয় মালভূমি (Shield or Continental Plateau)। 

⇔ পাদদেশীয় মালভূমি:
- উচ্চ পর্বতগাত্র থেকে নদী, হিমবাহ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থ সমূহ পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে যে মালভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে পাদদেশীয় মালভূমি বলে।
- এ ধরনের মালভূমির একপাশে সাধারনতঃ সমভূমি বা সমুদ্র থাকে।
- উত্তর আমেরিকার কলোরাডো মালভূমি একটি পাদদেশীয় মালভূমি।

উৎস: ভূমিরূপ বিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৮৪.
কিয়েভ শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. দানিয়ুব
  2. সীন
  3. রাইন
  4. নিপার
ব্যাখ্যা
কিয়েভ ইউক্রেনের রাজধানী। এটি নিপার (Dnieper) নদীর তীরে অবস্থিত।
নিপার নদীর উৎপত্তি রাশিয়ার ভলদাই পর্বত থেকে। এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার। দৈর্ঘ্যে এটি ইউরোপের চতুর্থ দীর্ঘতম নদী। রাশিয়া, বেলারুশ ও ইউক্রেনের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিপার নদী কৃষ্ণসাগরে পতিত হয়েছে।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
৩,৯৮৫.
বাংলাদেশের কোন জেলা আসামের অন্তর্গত ছিল?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) রংপুর
  4. ঘ) মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

দেশভাগের পূর্বে বৃহত্তর সিলেট জেলা আসামের সাথে যুক্ত ছিলো।
কিন্তু সিলেট ছিলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে ভারত বা পাকিস্তানে যোগদান ইস্যুতে সিলেটে গণভোট হয়।
১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত গণভোটে সিলেটের অধিকাংশ জনগণ পাকিস্তানে যোগদানের পক্ষে রায় দিলে সিলেট দেশভাগের সময় পাকিস্তানে যোগ দেয়।
(সূত্রঃ বিবিসি বাংলা)

৩,৯৮৬.
বাংলাদেশের উষ্ণ পানির ঝর্না কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সীতাকুণ্ড
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) মিলানছড়ি
  4. ঘ) রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উষ্ণ পানির ঝর্না - সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।
বাংলাদেশের শীতল পানির ঝর্না - হিমছড়ি, কক্সবাজার।
শৈলপ্রপাত ঝর্না - মিলানছড়ি, বান্দরবান। শুভলং ঝর্না - রাঙামাটি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় অবস্থিত। এর উৎপত্তি বড়লেখা থানার পাথুরিয়া পাহাড় থেকে।
৩,৯৮৭.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সিলিকা বালি পাওয়া যায় না?
  1. হবিগঞ্জ
  2. কুমিল্লা
  3. সিলেট
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় সিলিকা পাওয়া যায়নি।

সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু:
- সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু প্রধানত কাচ প্রস্তুতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রং, অগ্নিচুল্লির ইপ্টক এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য তৈরিতে সিলিকা বালু ব্যবহৃত হয়।
- খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা, ২০১২-এর বিধি ২ (২৫) অনুযায়ী যে সমস্ত বালুতে ৯০% এর অধিক সিলিকন-ডাই-অক্সাইড (SiO2) রয়েছে সে বালুকে ‘‘সিলিকা বালু” বলা হয়। বাংলাদেশের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট এবং কুমিল্লা জেলায় সিলিকা বালু পাওয়া পায়।

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৮৮.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে সাধারণত আকস্মিক বন্যা দেখা যায়?
  1. দক্ষিণাঞ্চল
  2. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  3. পশ্চিমাঞ্চল
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

• আকস্মিক বন্যা:
 - বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
- আকস্মিক বন্যা অনেক কিছুর কারণে ঘটতে পারে, কিন্তু প্রায়শই বজ্রঝড় থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হয়। বাঁধ বা লেভি ব্রেক, এবং/অথবা কাদা ধ্বসের (ডেব্রিস ফ্লো) কারণে আকস্মিক বন্যা ঘটতে পারে।
- বৃষ্টিপাতের তীব্রতা, বৃষ্টিপাতের অবস্থান ও বন্টন, জমির ব্যবহার এবং ভূ-সংস্থান, গাছপালা এবং বৃদ্ধি/ঘনত্ব, মাটির ধরন এবং মাটির জল-বস্তু সবই নির্ধারণ করে যে কত দ্রুত আকস্মিক বন্যা ঘটতে পারে এবং এটি কোথায় প্রভাব ফেলতে পারে। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও  National Weather Service & The Daily Star বাংলা।
৩,৯৮৯.
হিমালয় পর্বতমালার উদ্ভব কোন দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে হয়েছে?
  1. ইউরেশিয়ান ও আফ্রিকান
  2. ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান ও ইউরেশিয়ান
  3. আমেরিকান ও ইউরেশিয়ান
  4. প্যাসিফিক ও ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান
ব্যাখ্যা

◉ হিমালয় পর্বতমালার উদ্ভব ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে হয়েছে।

• ইউরেশিয়ান প্লেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় কনটিনেন্টাল প্লেট, যা ইউরোপ এবং এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
• ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান প্লেট (বা ইন্ডিয়ান প্লেট) ভারতীয় উপমহাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়া অন্তর্ভুক্ত করে। 
- এটি উত্তর দিকে চলমান হয়ে ইউরেশিয়ান প্লেটের সাথে সংঘর্ষ করে, যা হিমালয় গঠনের প্রধান কারণ।

• আমেরিকান ও ইউরেশিয়ান':
- আমেরিকান' বলতে সম্ভবত নর্থ আমেরিকান (North American) বা সাউথ আমেরিকান (South American) প্লেট বোঝানো হয়েছে। 
- নর্থ আমেরিকান প্লেট উত্তর আমেরিকা এবং আটলান্টিকের অংশ কভার করে, যখন সাউথ আমেরিকান প্লেট দক্ষিণ আমেরিকা।
- হিমালয়ের সাথে এদের কোনো যোগ নেই।

• প্যাসিফিক ও ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান:
- প্যাসিফিক প্লেট প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে অবস্থিত ।
- 'রিং অফ ফায়ার'-এর জন্য দায়ী, যেখানে সাবডাকশনের ফলে আন্দিজ (Andes) বা জাপানের পর্বত গঠিত হয়। 
- ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সাথে এর সীমান্তে জাভা ট্রেঞ্চ (Java Trench) আছে, যা ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির কারণ, কিন্তু কোনো পর্বতমালা গঠন হয়নি। 

- আফ্রিকান প্লেট ইউরেশিয়ানের সাথে সংঘর্ষ করে মরক্কো থেকে ইউরোপীয় পর্বত গঠন করে, কিন্তু হিমালয়ের জন্য নয়।

∴ সুতরাং সঠিক উত্তর: ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান ও ইউরেশিয়ান।

সোর্স: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা।

৩,৯৯০.
ব্ল্যাক ফরেস্ট থেকে কোন নদীর উৎপত্তি ঘটেছে?
  1. ক) কঙ্গো নদী
  2. খ) রাইন নদী
  3. গ) ভলগা নদী
  4. ঘ) দানিয়ুব নদী
ব্যাখ্যা
- ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত জার্মানিতে অবস্থিত। এই পর্বত থেকে দানিয়ুব নদীর উৎপত্তি হয়েছে।
- দানিয়ুব ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী যা ইউরোপের ১০টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কৃষ্ণসাগরে পতিত হয়েছে।
- দানিয়ুবকে আন্তর্জাতিক নদী বলা হয়।
অন্যদিকে,
- ভলগা নদীর উৎপত্তি রাশিয়ার ভলদাই পর্বত থেকে।
- কঙ্গো নদীর উৎপত্তি পূর্ব আফ্রিকান রিফ ও ট্যাঙ্গানিকা হ্রদ থেকে।
- রাইন নদীর উৎপত্তি সুইস আল্পস পর্বত থেকে।
(তথ্যসূত্রঃ ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস এবং ব্রিটানিকা)
৩,৯৯১.
জাতিসংঘের মতে, পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কত ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে?
  1. ১ ফুট
  2. ৩ ফুট
  3. ৫ ফুট
  4. ৭ ফুট
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: 
- মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের কারণে মাত্রাতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস অর্থাৎ কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসগুলো নির্গমনের কারণে বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের যে ধারা শুরু হয়েছে, তাতে বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। 
- এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে।
- অন্যান্য দেশ এ ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ার আগেই বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ে গেছে।
- আগামী দিনগুলোতে এর মাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে তাতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে
- আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,৯৯২.
বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে কোন উপাদান প্রায় অনুপস্থিত?
  1. মিথেন
  2. ইথেন
  3. প্রোপেন
  4. সালফার
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস অধিক বিশুদ্ধ যার মধ্যে প্রায় ৯৫% থেকে ৯৯%-ই মিথেন এবং সালফার প্রায় অনুপস্থিত।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের গড় গঠন হচ্ছে মিথেন ৯৭.৩৩ ভাগ, ইথেন ১.৭২ ভাগ, প্রোপেন ০.৩৫ ভাগ এবং অবশিষ্ট ০.১৯ ভাগে রয়েছে উচ্চতর হাইড্রোকার্বনসমূহ।
- অধিকাংশ গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাসই শুষ্ক, তবে অল্প কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কনডেনসেটের উপস্থিতিসহ আর্দ্র গ্যাস পাওয়া গিয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,৯৯৩.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক ২০০৯ সালে মোট কতটি ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- ১) মরুকরণ। ২) বন্যা। ৩) ঝড়। ৪) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। ৫) কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা। 

বৈশ্বিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকা:
- বন্যা ঝুঁকি: বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
- ঝড় ঝুঁকি: ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
- মরুকরণ ঝুঁকি: মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, ইরাক, কেনিয়া, ইরান।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ঝুঁকি: সব নীচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিশর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
- কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ঝুঁকি: সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

উল্লেখ্য, 
- এই তালিকার ৫টি ভাগের মধ্যে ৩টিতে বাংলাদেশের নাম রয়েছে, এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৯৪.
প্যারিস শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) সেইন
  2. খ) টেমস
  3. গ) দানিয়ুব
  4. ঘ) জর্ডান
ব্যাখ্যা
প্যারিস শহর ফ্রান্সের রাজধানী। 
- এটি দেশের উত্তর-মধ্য অংশে অবস্থিত।
- প্রায় ৭৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ইংলিশ চ্যানেল নদীর মুখ থেকে ২৩৩ মাইল (৩৭৫ কিমি) উজানে সেইন নদীর তীরে অবস্থিত।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৩,৯৯৫.
আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাসাগর কোনটি?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. উত্তর মহাসাগর 
  3. দক্ষিণ মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

উত্তর মহাসাগর (Arctic Ocean):
- উত্তর মহাসাগরকে অনেক ক্ষেত্রে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি সাগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- উত্তর মহাসাগর উত্তর মেরুর বেশির ভাগ অংশকে আচ্ছাদিত করে রেখেছে।
- উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়া এ তিনটি মহাদেশের উত্তর দিকে অবস্থিত উত্তর মহাসাগর যা উত্তর মেরু অঞ্চল নামে পরিচিত।
- উত্তর মহাসাগর বা আর্কটিক মহাসাগর প্রায় সারা বছর ধরে বরফ দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মহাসাগর।
- উত্তর মহাসাগরের আয়তন প্রায় ১ কোটি ৪১ লক্ষ বর্গ কি. মি.।
- এবং গড় গভীরতা প্রায় ৯৩০ মিটার।

অন্যদিকে,
- বিশ্বের বৃহত্তম মহাসাগর হলো প্রশান্ত মহাসাগর।
- বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর হলো বঙ্গোপসাগর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৯৬.
পদ্মা ও মেঘনা নদীর মিলনস্থলের নাম কী?
  1. গোয়ালন্দ
  2. চাঁদপুর
  3. ভোলা
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী:
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।
- নদীটি তিন বিভাগের ১২টি জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- প্রবেশ পথ - শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
- পদ্মা নদী চাঁদপুর জেলায় মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও চাঁদপুর জেলা ওয়েবসাইট।
৩,৯৯৭.
বাংলাদেশের ফুসফুস হিসেবে কোনটিকে আখ্যায়িত করা হয়?
  1. সুন্দরবনকে
  2. বঙ্গোপসাগরকে
  3. মধুপুরের বনভূমিকে
  4. পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়সমূহকে
ব্যাখ্যা
• সুন্দরবন:
→ বাংলাদেশের দক্ষিণ সীমায় বঙ্গোপসাগর এবং তার কূল বরাবর সমতট ভূমিতে গাছগাছালি দিয়ে ঘেরা সবুজের আস্তরণ।
→ দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে বাংলাদেশের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত সুন্দরবন।
→ সুন্দরবন হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রীষ্ম-অঞ্চলীয় (ম্যানগ্রোভ) বনভূমি। 

তথ্যসূত: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৯৯৮.
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নদী কোনটি?
  1. দানিয়ুব 
  2. মারে
  3. ভলগা 
  4. রাইন 
ব্যাখ্যা
মারে নদী: 
- মারে নদী অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নদী এবং মারে-ডার্লিং অববাহিকার মূল প্রবাহ।
- এটি দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া জুড়ে স্নোই পর্বতমালা থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরে পৌঁছাতে প্রায় ১,৫৭০ মাইল (২,৫৩০ কিমি) পথ অতিক্রম করে।
- উৎপত্তিস্থল: দ্য পাইলট পর্বতের কাছে, মাউন্ট কসিউস্কো, দক্ষিণ-পূর্ব নিউ সাউথ ওয়েলস। 
- নদীর প্রবাহপথ: পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইটে পতিত হয়। 
- নদীর নামকরণ: উপনিবেশ সচিব স্যার জর্জ মারে-এর নামে
- মোট অববাহিকা এলাকা: প্রায় ৪,০৯,৮৩৫ বর্গমাইল (১,০৬১,৪৬৯ বর্গ কিমি)
- গড় বার্ষিক জলপ্রবাহ: মাত্র ৩১ ঘনফুট (০.৮৯ ঘনমিটার) প্রতি সেকেন্ড
- মারে নদী কেবল একটি প্রাকৃতিক জলপথ নয়, বরং এটি অস্ট্রেলিয়ার কৃষি, জলব্যবস্থা ও জনবসতির বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: Britannica.
৩,৯৯৯.
বাংলাদেশের লাগা উত্তরে অবস্থিত-
  1. নেপাল ও ভুটান
  2. পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম
  3. পশ্চিমবঙ্গ ও কুচবিহার
  4. পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের —পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্যের অবস্থান।
------------------------------------- 
• বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থান:

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
- যেহেতু বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের দ্রাঘিমাংশ ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী স্থান মনাকষা তাহলে আমরা বলতে পারি যে বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী স্থান মনাকষা এর দ্রাঘিমাংশ ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা।

উল্লেখ্য,
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৫) অতিক্রম করেছে। পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের, পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।

সীমান্তবর্তী স্থান:
⇒ সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা। ( ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।

⇒ সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।(৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

⇒ সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা। (অক্ষাংশ ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

⇒ সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ। (অক্ষাংশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০০০.
সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ কোনটি?
  1. ইউরেনাস
  2. মঙ্গল
  3. শনি 
  4. বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা

সূর্য (Sun):
- সূর্য একটি নক্ষত্র। এটি একটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের নক্ষত্র।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতিষ্ক।

উল্লেখ্য,
- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ।
- সূর্য থেকে গ্রহগুলো দূরত্ব অনুযায়ী পর পর যেভাবে রয়েছে তা হলো বুধ (Mercury), শুক্র (Venus), পৃথিবী (Earth), মঙ্গল (Mars), বৃহস্পতি (Jupiter), শনি (Saturn), ইউরেনাস (Uranus) এবং নেপচুন (Neptune)।
- গ্রহদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃহস্পতি এবং ছোট বুধ।
- বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি বেশ উজ্জ্বল এবং কোনো যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই দেখা যায়।
- ইউরেনাস ও নেপচুন এতটা কম উজ্জ্বল যে দূরবীক্ষণ ছাড়া এদের দেখা যায় না।

বৃহস্পতি (Jupiter):
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ। একে গ্রহরাজ বলে।
- এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার।
- আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।