বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৩৮ / ৭২ · ৩,৭০১৩,৮০০ / ৭,১৯১

৩,৭০১.
বাংলাদেশের সবচেয়ে কম আদ্রতার স্থান কোনটি?
  1. দিনাজপুর
  2. নাটোর
  3. পাবনা
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রায় সারা বছর জুড়েই উচ্চ আর্দ্রতা বিরাজমান থাকে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ স্থানে মার্চ-এপ্রিল মাসে সর্বাপেক্ষা কম আর্দ্রতা পরিলক্ষিত হয়। মার্চ মাসে দিনাজপুরে সর্বনিম্ন গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা (৫৭%) পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাসমূহে নিম্নতম আর্দ্র মাসগুলি হচ্ছে জানুয়ারি থেকে মার্চ। এ এলাকায় সর্বনিম্ন মাসিক আর্দ্রতা রেকর্ড করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মার্চ মাসে (৫৮.৫%)। জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে দেশের সর্বত্র আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০%-এর অধিক থাকে। জুলাই অথবা আগস্ট মাসে সম্পৃক্তি ঘাটতি (saturation deficit) সবচেয়ে কম হয়ে থাকে। সেপ্টেম্বর মাসে আর্দ্রতা চরমে পৌঁছে, এসময় বৃষ্টিপূর্ণ দিনের সংখ্যাও খুব বেশি হয় না। ভ্যাপসা গরম আবহাওয়ায় মানুষ অতীষ্ট হয়ে ওঠে।
বার্ষিক গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিসীমাটি হল কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৭৮.১% থেকে পাবনায় সবনিম্ন ৭০.৫% পর্যন্ত।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৩,৭০২.
নিচের কোন দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত?
  1. হাওয়াই দ্বীপ
  2. মাদাগাস্কার দ্বীপ
  3. আন্দামান দ্বীপ
  4. ফিজি দ্বীপ
ব্যাখ্যা
বঙ্গোপসাগর: 
- বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের উত্তর-পূর্বাংশ গঠন করে।
- এটি দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করা হয়েছে।
- এবং এর পূর্বদিকে অবস্থিত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ দ্বারা এটি বর্মা সাগর (আন্দামান সাগর) থেকে পৃথক হয়েছে।
- বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ সীমানা শুরু হয় শ্রীলঙ্কার সাঙ্গামান কান্দা থেকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা পর্যন্ত।
• বঙ্গোপসাগর ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন এশীয় দেশ- 
- উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিমে ভারত,
- পূর্বে মিয়ানমার,
- উত্তরে বাংলাদেশ,
- দক্ষিণ-পশ্চিমে শ্রীলঙ্কা,
- এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইন্দোনেশিয়া।
- ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ বঙ্গোপসাগরের পূর্ব দিকে অবস্থান করে।
- এই উপসাগর ঘিরে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম বনভূমি সুন্দরবন এবং সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত  কক্সবাজার।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩,৭০৩.
বিলোনিয়া স্থলবন্দর কোন জেলার অন্তর্গত?
  1. পঞ্চগড়
  2. কুমিল্লা
  3. ফেনী
  4. যশোর
ব্যাখ্যা
বিলোনিয়া স্থলবন্দর:
- বাংলাদেশের বাণিজ্যনগরী হিসাবে পরিচিত চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যতম একটি জেলা ফেনী।
- এ জেলার অন্তর্গত পরশুরাম উপজেলার উত্তর সীমান্তে রয়েছে বাংলাদেশের ১১তম স্থলবন্দর বিলোনিয়া স্থলবন্দর।
- এটি বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত;
- ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া সীমান্তে অবস্থিত।
- এর বিপরীতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুহুরীঘাট এলসিএস রয়েছে;  
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখ বিলোনিয়া শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণা করা হয়; 
- ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখ বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়;
- রাজধানী ঢাকা হতে বিলোনিয়া স্থলবন্দরের দূরত্ব প্রায় ১৫৬ কি.মি.। 

তথ্যসূত্র:  জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং যুগান্তর। লিঙ্ক 
৩,৭০৪.
মিয়ানমার থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা কত?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদী:
- আন্তঃসীমান্ত নদী ৫৭টি। 
- ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৫৪ টি।
- মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৩ টি।
- এগুলো হলো - নাফ, সাঙ্গু, মাতামুহুরী। 
- দুবার ভারতে ও বাংলাদেশে প্রবেশ করে আত্রাই, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন নদী। 
- বাংলাদেশে উৎপত্তি হয়ে ভারতে যাওয়া নদী ১ টি (কুলিখ)।
- বাংলাদেশে উৎপত্তি ও সমাপ্তি হওয়া নদী ১ টি (হালদা)।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও যৌথ নদী কমিশনের ওয়েবসাইট।
৩,৭০৫.
বাংলাদেশের কোন মাস শীতলতম বলে বিবেচিত?
  1. এপ্রিল
  2. জানুয়ারি
  3. ডিসেম্বর
  4. নভেম্বর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের শীতলতম মাস: 
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি।

- এই মাসে দেশের গড় তাপমাত্রা সাধারণত ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস হয়ে থাকে।
- এই মাসে দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা অনেক কম থাকে, এবং দেশের শীতলতম জেলা সিলেট এবং শ্রীমঙ্গল অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশি অনুভূত হয়।

অন্যদিকে,
- এপ্রিল মাস উষ্ণতম মাস হিসেবে পরিচিত, এ সময় গড় তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌঁছায়।

সূত্র: বাংলিপিডিয়া।
৩,৭০৬.
সাভানা কীসের নাম?
  1. ক) মরুভূমি
  2. খ) তৃণভূমি
  3. গ) পর্বত
  4. ঘ) মালভূমি
ব্যাখ্যা
- সাভানা হলো আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে অবস্থিত একটি বিস্তৃত তৃণভূমি। এটির আয়তন প্রায় ৫০ লক্ষ বর্গমাইল।
- এটি সাহারা মরুভূমি ও কালাহারি মরুভূমির মধ্যবর্তী স্থানে সুদান, দক্ষিণ সুদান, কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশজুড়ে বিস্তৃত।
(তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক)
৩,৭০৭.
গোবী মরুভূমি বিস্তৃত -
  1. ক) রাশিয়া ও জাপান
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
  3. গ) ভারত ও পাকিস্তান
  4. ঘ) মঙ্গোলিয়া ও চীন
ব্যাখ্যা
• গোবী মরুভূমি (Gobi Desert) মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত একটি বিশাল মরুভূমি।
• মরুভূমিটির অবস্থান মঙ্গোলিয়া ও চীন - দুই দেশে বিস্তৃত।
• মরুভূমিটি আনুমানিক ১৩ লক্ষ (১২ লক্ষ ৯৫ হাজার) বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট।

•বিখ্যাত কিছু মরুভূমির অবস্থান - 
- থর মরুভূমি : ভারত ও পাকিস্তান।
- গোবি মরুভূমি : চীন ও মঙ্গোলিয়া
- মোজাবে মরুভূমি : যুক্তরাষ্ট্র
- সাহারা মরুভূমি : আফ্রিকা

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৩,৭০৮.
বাংলাদেশে কত ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়?
  1. ৩ ধরনের
  2. ৪ ধরনের
  3. ৫ ধরনের
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশে তিন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়।
এগুলো হলো:-
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
৩। প্লাবন সমভূমি।

- এদের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী।
- আনুমানিক প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বে এগুলো গঠিত হয়।
- দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলা জুড়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী অবস্থিত।
- দেশের মোট আয়তনের প্রায় ২০ শতাংশ অঞ্চল টারশিয়ারি যুগে গঠিত।

- উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমি, টাঙ্গাইল-গাজীপুর-ময়মনসিংহ অঞ্চলের মধুপুর ও ভাওয়াল গড় এবং কুমিল্লার লালমাই পাহাড় হলো প্লাইস্টোসিনকালের ভূমিরূপ।

- বাকী সমগ্র অঞ্চল সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।
- দেশের মোট ভূমির প্রায় ৮০ শতাংশই সাম্প্রতিককালের প্লাবন ভূমিরূপ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় , নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭০৯.
The biggest desert of the world is ______.
  1. ক) Great Victoria
  2. খ) Sahara
  3. গ) Kalahari
  4. ঘ) Tabermaa
  5. ঙ) None
ব্যাখ্যা
সাহারা মরুভূমি:
- পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উষ্ণ মরুভূমি সাহারা মরুভূমি।
- সাহারা মরুভূমিকে আফ্রিকার দুঃখ বলা হয়।
- পাটাগোনিয়ান মরুভূমি অবস্থিত আর্জেন্টিনা ও চিলিতে।
- কালাহারি মরুভূমিও আফ্রিকায় অবস্থিত।।
- সোনোরান মরুভূমি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে অবস্থিত।

উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট।
৩,৭১০.
'হামহাম' জলপ্রপাত অবস্থিত-
  1. বান্দরবানে
  2. খাগড়াছড়িতে
  3. কক্সবাজারে
  4. মৌলভীবাজারে
ব্যাখ্যা

- হামহাম ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত মৌলভীবাজারে অবস্থিত।
- শৈলপ্রপাত জলপ্রপাত বান্দরবানে অবস্থিত।
- আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- রিছাং ঝর্না খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- হিমছড়ি কক্সবাজারে অবস্থিত।

উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৩,৭১১.
What is the length of the coast line of Bay of Bengal?
  1. ক) 719 km
  2. খ) 716 km
  3. গ) 715 km
  4. ঘ) 718 km
ব্যাখ্যা
- বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার 
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার (১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার)।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১২.
বায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে জলীয় বাষ্পের পরিমান-
  1. ক) সমান
  2. খ) বাড়ে
  3. গ) কোনটি নয়
  4. ঘ) কমে
ব্যাখ্যা
- বায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্পের পরিমান বাড়ে।
- যদিও বায়ু নিদির্ষ্ট পরিমাণ জলীয়বাষ্পে ধারণ করতে পারে।
- কোন নিদির্ষ্ট উষ্ণতায় বায়ু যে পরিমাণ জলীয়বাষ্পে ধারণ করতে পারে, সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্পে বায়ুতে থাকলে বায়ু আর অধিক জলীয়বাষ্পে গ্রহণ করতে পারে না, তখন তাকে সম্পৃক্ত বা পরিপৃক্ত বায়ু বলে।
- বায়ু যে উষ্ণতায় জলীয়বাষ্পে ঘনীভূত হয় তাকে শিশিরাঙ্ক বলে।
- তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেলে তখন ঘণীভূত জলীয়বাষ্পে কঠিন আকার ধারণ করে এবং তুষার ও বরফ ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণী। 
৩,৭১৩.
ঘূর্ণিঝড়ের চোখের চারপাশে কী বিরাজ করে?
  1. নিম্নচাপ
  2. স্থিরবায়ু
  3. মধ্যচাপ
  4. উচ্চচাপ
ব্যাখ্যা

- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখ'-এ নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে ।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস :

- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেযোগ্য।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখ'-এ নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে ।
- ফলে বাহিরের অংশ হতে উচ্চচাপ যুক্ত বায়ু প্রবল বেগে ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তন করতে করতে ঝড়ের কেন্দ্রভাগে নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়।
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলভাগ ফানেল আকৃতির হওয়ার কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের উপকূলে, বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭১৪.
বাংলাদেশে সাধারণত ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়-
  1. এপ্রিল - মে 
  2. জুন - জুলাই
  3. জুলাই - আগস্ট
  4. ফেব্রুয়ারি - মার্চ
ব্যাখ্যা

• ঘূর্ণিঝড়:
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়।
- এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে।
- এটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতো।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭১৫.
'ভিসুভিয়াস' কোন ধরনের আগ্নেয়গিরি-
  1. ক) জীবন্ত আগ্নেয়গিরি
  2. খ) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি
  3. গ) নিষ্ক্রিয় আগ্নেয়গিরি
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন সাধনকারী প্রক্রিয়া বা শক্তিগুলোর মধ্যে অগ্নুৎপাত অন্যতম।
- যে আগ্নেয়গিরি থেকে মাঝে মাঝে বা সবসময় অগ্নুৎপাত হয় তাকে সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি বলে
যেমন:
• ইতালির ভিসুভিয়াস,
• হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া,
• কোটোপ্যাক্সি ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭১৬.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয়-
  1. মেঘালয়
  2. আসাম
  3. মিজোরাম
  4. মণিপুর
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি।
• রাজ্যগুলো হলোঃ
- আসাম,
- মিজোরাম,
- ত্রিপুরা,
- মেঘালয় ও
- পশ্চিমবঙ্গ।
• মণিপুর ও নাগাল্যান্ড বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্য নয়।
উৎসঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।

৩,৭১৭.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা কোনটি?
  1. ভোলাহাট
  2. শিবগঞ্জ
  3. রায়গঞ্জ
  4. গোমস্তাপুর
ব্যাখ্যা

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৩,৭১৮.
সমুদ্র সমতল থেকে স্বল্প উচ্চতা বিশিষ্ট ভূমিরূপকে কী বলা হয়?
  1. সমভূমি
  2. মালভূমি
  3. পর্বত
  4. সমুদ্র
ব্যাখ্যা
সমভূমি:
→ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে স্বল্প উচ্চতায় মৃদু ঢালবিশিষ্ট সুবিস্তৃত ভূমিকে সমভূমি বলে।
→ বিভিন্ন ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যেমন- নদীপ্রবাহ, হিমবাহ ও বায়ুর ক্ষয় ও সঞ্চয় ক্রিয়ার ফলে সমভূমির সৃষ্টি হয়।
মৃদু ঢাল ও স্বল্প বন্ধুরতার জন্য সমভূমি কৃষিকাজ, বসতি নির্মাণ, রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য খুবই উপযোগী।
→ বিশ্বে সমভূমি অঞ্চলে সর্বাপেক্ষা ঘন জনবসতি গড়ে উঠেছে।
→ উৎপত্তির ধরনের ভিত্তিতে সমভূমিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায় যেমন-ক্ষয়জাত সমভূমি ও সঞ্চয়জাত সমভূমি। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১৯.
বাংলাদেশের জলবায়ু সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
  1. জলবায়ু উষ্ণ, আর্দ্র
  2. জলবায়ু সমভাবাপন্ন
  3. এদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়
  4. বছরের উষ্ণতম মাস মার্চ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র এবং সমভাবাপন্ন।
- দেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এবং মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব অধিক থাকায় সামগ্রিকভাবে এদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়।
- এখানকার জলবায়ুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মৌসুমী বায়ু। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
- বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঋতু দেখা যায়। এগুলো হলো - গ্রীষ্মকাল, বষার্কাল এবং শীতকাল।
- এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং এটি বছরের উষ্ণতম মাস।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৭২০.
নৃতাত্তিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত কোন নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) মঙ্গোলীয়
  2. খ) অ্যালপাইন
  3. গ) আদি-অস্ট্রেলীয়
  4. ঘ) নার্কিড
ব্যাখ্যা

- অস্ট্রোলয়েড প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী। নৃতত্ত্ববিদগণ এদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলে মনে করেন। এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়। প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জাতি হলো দ্রাবিড়।
- বাংলার আদি জনগণের অধিবাসিরা নিষাদ জাতির অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলা আদি অধিবাসীগণ অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির বড় অংশ হলো মঙ্গোলয়েড।

৩,৭২১.
বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) ভোলা
  2. খ) নোয়াখালী
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
• সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং 
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। 
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। 
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান। 

টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। 

 কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা।

- সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে সময় নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। 

দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সরকারি তথ্যে দ্বীপের আয়তন ১৩ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ রয়েছে।
- তবে গবেষণায় বলা হয়েছে ৮ বর্গকিলোমিটার।

⇒ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- পরীক্ষায় যদি ৮ বর্গ কিলোমিটার না থাকে তখন ১৭ বর্গ কিলোমিটার বা ১৩ বর্গ কিলোমিটার উত্তর করবেন, অথবা অপশন বিবেচনায় উত্তর করবেন।

সূত্র: টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট,  কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট, সময় নিউজ ও দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট।
৩,৭২২.
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর গ্রীষ্মকালের বৈশিষ্ট্য কী?
  1. ঠান্ডা ও বৃষ্টিবহুল
  2. প্রচণ্ড তুষারপাত
  3. প্রবল ঘূর্ণিঝড়
  4. উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা

ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০০-৪৫০ অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এছাড়াও তুরস্ক, স্পেন, গ্রিস, দক্ষিণ ফ্রান্স, ইতালি, ইসরাইল, সিরিয়া, দক্ষিণ ও পশ্চিম যুগোশ্লাভিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তভুক্ত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে আরও যে দেশসমূহ রয়েছে সেগুলো হলো- লেবানন, পর্তুগাল, আলবেনিয়া এবং দ্বীপসমূহ হলো কর্ষিকা, মাল্টা, সাইপ্রাস ইত্যাদি।
- এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, দক্ষিণ আমেরিকার চিলির মধ্যভাগ এবং উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তগত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০০- ২৮০ সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এই জলবায়ু অঞ্চলে যে বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্য তা হলো- এখানে সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৮ সে.মি থেকে ৭৫ সে.মি।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।
- বৃষ্টিপাত অধিক বলে এখানে শীতকালীন বৃক্ষ যেমন- জলপাই, কর্ক, তুঁত, নিম, পাইন গাছের উৎপত্তি লক্ষ্যণীয়। কম বৃষ্টি হয় এমন স্থানে ঝোপঝাড় জন্মে।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭২৩.
নিচের কোন নদীটি প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র?
  1. নাফ নদী
  2. গৌমতী নদী
  3. তিতাস নদী
  4. হালদা নদী
ব্যাখ্যা

চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
এটি খাগড়াছড়ি থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে। হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
সম্প্রতি সরকার এই নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করেছে।
সূত্রঃ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

৩,৭২৪.
পরিবেশ অনুসারে বাস্তুসংস্থান প্রধানত কয় ধরনের?
  1. দুই ধরনের
  2. তিন ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. পাঁচ ধরনের
ব্যাখ্যা
• পরিবেশ অনুসারে বাস্তুসংস্থান প্রধানত দু'ধরনের।

• বাস্তুতন্ত্র:
- প্রাকৃতিক পরিবেশে উদ্ভিদ এবং প্রাণী এই দুই ধরনের জীবের সাথে জড় পদার্থের মধ্যে যে শক্তি আর বস্তুর আদান-প্রদান হয়, তাকে বলা হয় মিথস্ক্রিয়া, আর এ ধরনের মিথস্ক্রিয়ায় আন্তঃসম্পর্ক ঘটে, পৃথিবীর এরকম যেকোনো অঞ্চলই হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র।
- যেকোনো বাস্তুতন্ত্রের শক্তির মূল উৎস সূর্য।
- সূর্য থেকে যে পরিমাণ আলো এবং তাপশক্তি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় তার 2% সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে।
- বাস্তুতন্ত্রের প্রথম স্তরের খাদকেরা সবুজ উদ্ভিদের পাতা, কাণ্ড, ফুল, ফল, বীজ বা মূল খেয়ে জীবন ধারণ করে।

• বাস্তুসংস্থানের প্রকারভেদ:
- পরিবেশ অনুসারে বাস্তুসংস্থান প্রধানত দু'ধরনের। যথা- স্থলজ বাস্তুসংস্থান ও জলজ বাস্তুসংস্থান।
- এছাড়া মানুষ কৃত্রিমভাবে বিভিন্ন ধরনের বাস্তুসংস্থানের সৃষ্টি করতে পারে।

• স্থলজ বাস্তুসংস্থান (Terrestrial ecosyestem):
- স্থলজ বাস্তুসংস্থান আবার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন তৃণভূমির বাস্তুসংস্থান, বনভূমির বাস্তুসংস্থান, মরুভূমির বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি।

• জলজ বাস্তুসংস্থান (Aquatic ecosystem):
- জলজ বাস্তুসংস্থান বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন পুকুরের বাস্তুসংস্থান, নদ-নদী বাস্তুসংস্থান ও সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২৫.
‘দেবতাখুম’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. মৌলভীবাজার
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
দেবতাখুম:
- 'খুম' অর্থ হচ্ছে জলাধার।
- দেবতাখুম বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত।
- দেবতাখুম মূলত তারাছা নামের একটি খালের অংশ, যার দুই পাশে পাহাড় দিয়ে ঘেরা এবং গভীর পানির পাথুরে জায়গা।
- স্থানীয়দের মতে, খুমের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০-৬০০ ফুট এবং এই খুমের কিছু জায়গা প্রায় ৫০ ফুট গভীর।
- এই খুমের দুইপাশে রয়েছে বিশাল জঙ্গল।
- উঁচু পাহাড়ের কারণে খুমের ভিতর সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছায় না, তাই খুমের যত ভিতরে যাওয়া যায় ততই শীতল মনে হয়।
- দেবতাখুম বান্দরবানের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটক কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৭২৬.
বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ নয় কোনটি?
  1. গবেষণা জাহাজ না থাকা
  2. ঘনঘন বন্যা
  3. দক্ষ জনশক্তির অভাব
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
Blue economy:
- সুনীল অর্থনীতি বা Blue economy হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি।
- সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি।

Blue economy বা সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রসমূহ:
- মৎস্য আহরণ,
- জাহাজ চলাচল ও জাহাজ ব্যবস্থাপনা, বন্দর এবং সামুদ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহায়ক,
- পরিসেবা,
- সামুদ্রিক জৈবপ্রযুক্তি,
- খনিজ পদার্থ,
- সামুদ্রিক নবায়নযোগ্য শক্তি,
- সামুদ্রিক পণ্য,
- সামুদ্রিক পর্যটন ও অবকাশ,
- সামুদ্রিক স্থাপনা নির্মাণ,
- সামুদ্রিক বাণিজ্য,
- সামুদ্রিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি,
- শিক্ষা এবং গবেষণা।

বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ:
- পর্যাপ্ত নীতিমালার ও সঠিক কর্মপরিকল্পনার অভাব।
- দক্ষ জনশক্তির অভাব।
- প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব।
- সম্পদের পরিমাণ ও মূল্য সম্পর্কে সঠিক তথ্যের অভাব।
- মেরিন রিসোর্সভিত্তিক পর্যাপ্ত গবেষণা না হওয়া।
- ব্লু-ইকোনমি সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগের অভাব।
- সমুদ্রে গমন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য গবেষণা জাহাজ না থাকা।

উৎস: i) United Nation ওয়েবসাইট।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৭২৭.
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত?
  1. ১২ কিলোমিটার
  2. ২০০ কিলোমিটার
  3. ৩৭০.৪০ কিলোমিটার
  4. ৭১৬ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা:
বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য: ৭১৬ কিলোমিটার।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা: ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা: ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।

আমরা জানি,
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার
- তাহলে, ২০০ নটিক্যাল মাইল × ১.৮৫২ কিলোমিটার = ৩৭০.৪০ কিলোমিটার
- অর্থাৎ, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

উল্লেখ্য,
- অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা: এটি মহীসোপানের সেই অংশ, যেখানে একটি দেশ সকল প্রাকৃতিক সম্পদের মালিক। মাছ, খনিজ, প্রবালসহ সব সম্পদ ব্যবহারের অধিকার সংশ্লিষ্ট দেশের।
- রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা: এটি ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে দেশটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। বিদেশি নৌযান বা সেনা প্রবেশ আইনত নিষিদ্ধ, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে অনুমতি প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২৮.
ইজিয়ান সাগর এর সাথে মর্মর সাগর সংযোগকারী প্রণালীর নাম-
  1. বসফরাস
  2. বেরিং
  3. জিব্রাল্টার
  4. দার্দানেলিস
ব্যাখ্যা

দার্দানেলিস প্রণালী ইজিয়ান সাগর মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে এবং আনাতোলিয়া (তুরস্ক) ও ইস্তাম্বুল(তুরস্ক) কে পৃথক করেছে।

উৎসঃ ভূগোল(৯ম-১০ম)

৩,৭২৯.
ধলেশ্বরী নদীর শাখা কোনটি?
  1. ক) শীতলক্ষ্যা
  2. খ) বুড়িগঙ্গা
  3. গ) বংশী
  4. ঘ) ধরলা
ব্যাখ্যা
ধলেশ্বরী নদী:
- ধলেশ্বরী নদী টাঙ্গাইল জেলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যমুনা থেকে সৃষ্ট একটি শাখা নদী। 
- নদীটির প্রবাহ সর্পিলাকৃতি।
- এর দুটি শাখা রয়েছে। 
- প্রধান শাখাটি মানিকগঞ্জের উত্তর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মানিকগঞ্জের দক্ষিণে অপর শাখা কালীগঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। 
- বুড়িগঙ্গা ধলেশ্বরী নদীর একটি শাখা নদী।
- নারায়ণগঞ্জের কাছে ধলেশ্বরী শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে এবং আরও দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে ষাটনলের কাছে মেঘনা নদীতে পতিত হয়ে এর নিজস্ব পরিচয় হারায়। 
- নদীটির সর্বমোট দৈর্ঘ্য ১৬০ কিমি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৩০.
ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি রয়েছে-
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) আয়রন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) সিলিকন
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%,
- সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%,
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৩১.
সাহারা মরুভূমিতে কোন বায়ুপ্রবাহের প্রভাব দেখা যায়?
  1. মেরু বায়ু 
  2. পশ্চিমা বায়ু
  3. অয়ন বায়ু
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

অয়ন বায়ু (The Trade Winds):
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্র অনুসারে এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে।
- প্রাচীনকালে পরিচালিত বাণিজ্য জাহাজগুলো এ বায়ুপ্রবাহের দিক অনুসরণে যাতায়াত করত বলে এগুলোকে অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
- উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু ঘণ্টায় প্রায় ১৬ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু প্রায় ২২.৫৪ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী হলে অত্যধিক তাপে উষ্ণ ও হালকা হয়ে ঊর্ধ্বে উঠে যায়।
- তখন নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর অনুভূমিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ৫° অক্ষাংশ পর্যন্ত একটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- এ বলয়কে নিরক্ষীয় শান্ত বলয় (Doldrum) বলে।
- পৃথিবীর বড় বড় মরুভূমি যেমন-সাহারা, কালাহারি মরুভূমিতে অয়ন বায়ুপ্রবাহের প্রভাব দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৩২.
কোন অঞ্চলে সারাবছর পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়?
  1. উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল
  2. উপক্রান্তীয় অঞ্চল
  3. নিরক্ষীয় অঞ্চল
  4. ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন প্রক্রিয়ায় সারাবছর বৃষ্টিপাত হয়।
পরিচলন প্রক্রিয়ায় দিনের বেলায় সূ্র্যকিরণের জন্যে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সরাসরি উপরে উঠে উপরের শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগ অপেক্ষা জলভাগের বিস্তৃতি অধিক এবং এখানে সূর্য সর্বদা লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এখানকার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ সব সময় বেশি থাকে।

ফলে এই হালকা জলীয়বাষ্প উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর বিকেল অথবা সন্ধ্যায় পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত ঘটায়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৭৩৩.
যে বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে না তাকে কী বলে?
  1. ক) পরিপৃক্ত বায়ু
  2. খ) শুষ্ক বায়ু
  3. গ) আর্দ্র বায়ু
  4. ঘ) সম্পৃক্ত বায়ু
ব্যাখ্যা
- যে বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে না তাকে শুষ্ক বায়ু বলে।
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ুকে আর্দ্র বায়ু বলা হয়।
- উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতাও ‍বৃদ্ধি পায়।
কোন নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বায়ু যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্প বায়ুতে থাকলে বায়ু আর জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে না। তখন এই বায়ুতে পরিপৃক্ত বা সম্পৃক্ত বায়ু বলে।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৭৩৪.
নিম্নের কোন কারণে খরা দেখা দিতে পারে?
  1. পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা
  2. নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ
  3. এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাব
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
খরা:
- সাধারণত খরা বলতে কোনো এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে ভূমিতে পানির অনুপস্থিতিকে বুঝায়।
- অর্থাৎ কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়।
- এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- বিগত অর্ধ শতকের ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক মাত্রায় খরা দেখা দেয়।

⇒ বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র: রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

⇒ খরার কারণ:
১. সময়মতো বৃষ্টিপাতের অভাব;
২. পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা;
৩. অপরিকল্পিতভাবে বনভূমি উজাড়;
৪. নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ;
৫. এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাব প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩৫.
V-20-এর উদ্যোক্তা সংস্থা কোনটি?
  1. UNDP
  2. CVF
  3. IMFD 
  4. World Bank
ব্যাখ্যা

V-20:
- Vulnerable Twenty (V20) হলো একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম, যা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে একত্রিত করে।
- এটি ২০১৫ সালের অক্টোবরে পেরুর লিমা তে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি মূলত এই দেশের অর্থমন্ত্রীদের জন্য সহযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
- এর উদ্ভাবক সংস্থা হলো- Climate Vulnerable Forum (CVF)।

- এতে প্রাথমিকভাবে ২০টি দেশ যুক্ত ছিল যারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- প্রথম ২০টি দেশ হলো: আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, ভুটান, কোস্টা রিকা, ইথিওপিয়া, ঘানা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মালদ্বীপ, মাদাগাস্কার, নেপাল, ফিলিপাইন, রুয়ান্ডা, সেন্ট লুসিয়া, দক্ষিণ সুদান, পূর্ব তিমুর, টুভালু, তানজানিয়া, ভিয়েতনাম।
- ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এর সদস্য সংখ্যা ৭০টি দেশ। 
- V20 গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের প্রায় ২০% জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে এবং বৈশ্বিক নির্গমনের প্রায় ৫% উৎপন্ন করে।
- এটি জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) এর Climate Vulnerable Forum-এর সাথে সরাসরি যুক্ত।
- বাংলাদেশ ২০২০–২০২২ সালে এই গ্রুপের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে।

উৎস: V20 অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

৩,৭৩৬.
বাংলাদেশে অবস্থিত সুন্দরবনের আয়তন কত বর্গ কি.মি.?
  1. ক) ৫,৬৫৫ বর্গ কি.মি.
  2. খ) ৫,৮৯৫ বর্গ কি.মি.
  3. গ) ৬,০১৭ বর্গ কি.মি.
  4. ঘ) ৬,৩২০ বর্গ কি.মি.
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ। সুন্দরবনের বাকি অংশ ভারতে অবস্থিত।

- সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ও একক ম্যানগ্রোভ বনভূমি। এটি ইউনেস্কো ঘোষিত এটি বিশ্ব এতিহ্য এবং এটি রামসার সাইট।

- সুন্দরবনের প্রধান বৃ্ক্ষ সুন্দরী থেকে সুন্দরবন নামকরণ হয়েছে। এখানে পৃথিবী বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার বসবাস করে।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ ওয়েবসাইট)
৩,৭৩৭.
পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য কত?
  1. ১ মিনিট
  2. ২ মিনিট
  3. ৩ মিনিট
  4. ৪ মিনিট
ব্যাখ্যা
গ্রিনিচ মান সময়:
- গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় ৬ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ +৬ ঘন্টা।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- অর্থাৎ ২০ দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৮ মিনিট।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী ও ব্রিটানিকা।
৩,৭৩৮.
লেবানন কোন মহাদেশের অংশ?
  1. ইউরোপ
  2. আফ্রিকা
  3. এশিয়া
  4. উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
• লেবানন:
- লেবানন এশিয়া মহাদেশের পশ্চিম এশিয়ার একটি রাষ্ট্র।
- এ দেশটির রাজধানী বৈরুত।
- ভৌগোলিকভাবে দেশটির উত্তর ও পূর্বে সিরিয়া, দক্ষিণে ইসরাইলের (ফিলিস্তিন) সীমানা দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর ও সাইপ্রাস।
- এটি মধ্যপ্রাচ্যের লেভান্ট অঞ্চলের অংশ।
-  রাষ্ট্রের সরকারী ভাষা আরবি, অন্যদিকে ফরাসীও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত; সারা দেশে আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড আরবির পাশাপাশি লেবানিজ আরবি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট, World Atlas.
৩,৭৩৯.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষিত-
  1. হালদা নদী
  2. ইছামতী
  3. অড়িয়াল খাঁ
  4. সুরমা
ব্যাখ্যা
• হালদা নদী: 
- হালদা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার একটি নদী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বাটনাতলী পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎসারিত হয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরপূর্ব কোণ দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে। 
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষিত- হালদা নদী। 
- হালদা নদী হলো দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র।
- প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউসের মতো কার্প জাতীয় মাতৃমাছ প্রচুর পরিমাণ ডিম ছাড়ে।  
- হালদার প্রধান উপনদী ধুরুং খুবই খরস্রোতা।

তথ্যসূত্র: হাটহাজারী উপজেলা।
৩,৭৪০.
নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস নয় কোনটি?
  1. জলপ্রবাহ
  2. জৈব শক্তি
  3. নিউক্লীয় শক্তি
  4. ভূ-তাপ
ব্যাখ্যা

'নিউক্লীয় শক্তি' নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস নয়।

নবায়নযোগ্য শক্তি:

- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
- এই শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না।
- বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস যেমন: সূর্যের আলো ও তাপ, বায়ু প্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈব শক্তি (জৈবভর), ভূ-তাপ, সমুদ্র তরঙ্গ, সমুদ্র-তাপ, জোয়ার-ভাটা, শহুরে আবর্জনা, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

• অনবায়নযোগ্য শক্তি:
- অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-renewable Energy) হলো যে সম্পদ প্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবে নবায়ন হয় না এমনকি মানুষ ও নবায়ন করতে পারে না।
- যেমন: প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, নিউক্লীয় শক্তি, খনিজ তেল ইত্যাদি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৪১.
চুনাপাথর পাওয়া যায়-
  1. ক) চাপাইনবাবগঞ্জ
  2. খ) পিরোজপুর
  3. গ) ঝালকাঠি
  4. ঘ) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
• চুনাপাথর:
- চুনাপাথর: সুনামগঞ্জ জেলার টাকেরঘাট, লালঘাট ও বাগলিবাজার, সিলেট জেলার জাফলং, কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিন, জয়পুরহাট জেলার জয়পুরহাট ও জামালগঞ্জ, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড এবং চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় চুনাপাথর পাওয়া যায়।
- বাংলাদেশের চুনাপাথরের সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ১২৯ মিলিয়ন টনের অধিক।
 - সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়।
 এছাড়া
গ্লাস, ব্রিসিং পাউডার, সাবান, কাগজ পেইন্ট প্রভৃতি শিল্পেও চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৩,৭৪২.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০' এ ২০৩০ সালের মধ্যে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য কতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-২০৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়।
- সেন্ডাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০: সাতটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে যাতে নতুন করে দুর্যোগের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা যায়।

⇒ চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখাগুলো হলো:
- দুর্যোগের ঝুঁকি বোঝা।
- দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করা।
- স্থিতিস্থাপকতার জন্য দুর্যোগ হ্রাসে বিনিয়োগ করা।
- কার্যকর প্রতিক্রিয়ার জন্য এবং পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন এবং পুনর্গঠনে 'বিল্ড ব্যাক বেটার' এর জন্য দুর্যোগের প্রস্তুতি বাড়ানো।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয়।
৩,৭৪৩.
ভূমিকম্পের সঙ্গে কোনটি ঘটার আশঙ্কা থাকে?
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. সুনামি
  3. বন্যা
  4. অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami):
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদরপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সুনামির (কারন হলো সমুদ্রতলের ভূমিকম্প।
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- সুনামির উৎপত্তি সমুদ্রতলে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

⇒ সুনামি সৃষ্টির কারণ:
- সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও সুনামি সৃষ্টি হয়ে থাকে। এছাড়া পারমানবিক বিস্ফোরণ, ভূমিধ্বস, উল্কাপিন্ডের পতন ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে যে ঢেউয়ের সৃষ্টি করে তা প্রবলবেগে উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়।
- গভীর সমুদ্রে সুনামির উৎপত্তিস্থলে সুনামির উচ্চতা মাত্র কয়েক সে.মি. উঁচু কিন্তু উপকূলে সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা ৩০-৫০ মিটার উঁচু আকার ধারণ করে।
- এ ছাড়া ভূ-অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া হতে থাকে। এভাবে কখনো কোনো একটি প্লেট অপর প্লেটের দিকে অনবরত ধাক্কা দিতে থাকলে সমুদ্রের তলদেশে সুনামির সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৭৪৪.
টারশিয়ারি যুগে গঠিত নয় -
  1. ক) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
  2. খ) আসামের লুসাই পাহাড়
  3. গ) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
  4. ঘ) বরেন্দ্র অঞ্চলের টিলাসমূহ
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
• বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
• পাহাড়গুলাে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগােত্রীয়।
• এ পাহাড়গুলাে বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

• এ অঞ্চলের পাহাড়গুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।।

(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ 
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার ৫ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলাে স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলাের উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
- এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।  

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৪৫.
ট্রপিক অব ক্যান্সার বাংলাদেশের কোন জেলার উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে?
  1. কুমিল্লা
  2. রাঙামাটি
  3. ঝিনাইদহ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ট্রপিক অব ক্যান্সার:
- ট্রপিক অব ক্যান্সার বা কর্কটক্রান্তি রেখা।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে (চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) অতিক্রম করেছে।

⇒ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৭৪৬.
কোন অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি বেশি দেখা যায়?
  1. কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে
  2. উপকূলীয় অঞ্চলে
  3. বরেন্দ্র অঞ্চলে
  4. পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়। 
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

এছাড়াও,
• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি: 
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

• স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত। 
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। 
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৪৭.
আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. কঙ্গো নদী
  2. নাইজার নদী
  3. নীল নদ
  4. জাম্বেসি নদী
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- নীল আফ্রিকা ও বিশ্বের দীর্ঘতম নদী।
- এটি বিশ্বের বিষুবরেখার দক্ষিণ থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে মিশেছে।
- মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ৬,৬৫০ কিলোমিটার (৪,১৩২ মাইল)।
- নীল অববাহিকায় অন্তর্ভুক্ত দেশ:তানজানিয়া, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো, কেনিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, সুদান এবং মিশর।
- নীল নদের সর্বাধিক দূরবর্তী উৎস হল কাগেরা নদী, যা বুরুন্ডিতে অবস্থিত।
- নীল নদ আফ্রিকার অর্থনীতি ও কৃষিতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে, বিশেষত মিশরের সভ্যতার বিকাশে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য,
- কঙ্গো নদী আফ্রিকার ২য় দীর্ঘতম নদী। 

উৎস: Britannica.
৩,৭৪৮.
'লিমা' কোন দেশের রাজধানী?
  1. ক) তুর্কেমেনিস্তান
  2. খ) আজারবাইজান
  3. গ) ফিলিপাইন
  4. ঘ) পেরু
ব্যাখ্যা
লিমা পেরুর রাজধানী।

• অপরদিকে-
- ফিলিপাইনের রাজধানী- ম্যানিলা।
- আজারবাইজানের রাজধানী- বাকু।
- তুর্কেমেনিস্তানের রাজধানী- আশখাবাদ।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা
৩,৭৪৯.
‘সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা’ কোন জেলায় অবস্থিত? 
  1. সিলেট
  2. মৌলভীবাজার 
  3. রাঙামাটি
  4. চট্টগ্রাম 
ব্যাখ্যা

• সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা:
- অবস্থান: জাফলং, গোয়াইনঘাট, সিলেট।
- এটি জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে ১ কিমি পশ্চিমে, খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। 
- এর স্থানীয় নাম মায়াবী ঝর্ণা।
- এই অবিরাম ধারার মোট তিনটি ধাপ রয়েছে, যার মধ্যে তৃতীয় ধাপে এমন একটি সুড়ঙ্গ রয়েছে যার অন্য প্রান্ত এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি।

তথ্যসূত্র: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
ii) প্রথম আলো।

৩,৭৫০.
নিচের কোনটি প্রতিবেশগত সংকাটাপন্ন এলাকা?
  1. বালু নদী
  2. গুলশানবারিধারা লেক
  3. মারজাত বাওড়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

- মারজাত বাওড়, গুলশানবারিধারা লেক,  বালু নদী প্রতিবেশগত সংকাটাপন্ন এলাকা।

• প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা: 

• ভূপ্রাকৃতিক অনুকূল অবস্থার কারণে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ।
- কিন্তু অপরিণামদর্শী কর্মকান্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নানান ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন।
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

• এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। 
- সুন্দরবন: সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চতুর্দিকে ১০ কিমি বিস্তৃত এলাকা।
- কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত: গ্রাম, কৃষিজমি, পাহাড়, জঙ্গল, বনভূমি, সমুদ্রসৈকত, খাড়ি, বালিয়াড়ি, ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় জলাভূমিসহ উপকূলীয় এলাকা
 - সেন্টমার্টিন দ্বীপ: বালিয়াড়ি, পাথরময় জোয়ার-ভাটা অঞ্চল, উপকূলীয় জলাভূমি ও কোরালসহ সামুদ্রিক দ্বীপ।
- সোনাদিয়া দ্বীপ: ম্যানগ্রোভ, খাড়ি ও বালিয়াড়িসহ উপকূলীয় দ্বীপ।
- হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশানবারিধারা লেক,  বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৩,৭৫১.
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করে কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা?
  1. ক) UNFCCC
  2. খ) IPCC
  3. গ) UNESCO
  4. ঘ) WMO
ব্যাখ্যা

IPCC
IPCC - এর পূর্ণরূপ Intergovernmental Panel on Climate Change। এটি জাতিসংঘ এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় অঙ্গ যার প্রধান উদ্দেশ্য জলবায়ু পরিবর্তন, এর প্রভাব ও এর ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এবং এই ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে কর্মপন্থা - ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করে। বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস নিয়ে কাজ করা এই সংস্থাটি গ্রীণ হাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস এবং এর ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতি বছর বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে নিবন্ধ (Scientific Article) প্রকাশ করে থাকে।
⤇ বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (World Meteorological Organization - WMO), জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (United Nations Environment Programme - UNEP) এবং বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক কাউন্সিল (International Council of Scientific Unions) ১৯৮৫ সালে গ্রীণহাউস গ্যাস নিঃসরণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বিষয়ক চলমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যবেক্ষণ ও এ সম্পর্কে মতামত (Recommendations) প্রদানের জন্য “Advisory Group on Greenhouse Gases” নামে একটি প্যানেল গঠন করে।
১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে IPCC - একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সংস্থা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।
উৎসঃ Live MCQ content (Upcoming) ও IPCC website.

৩,৭৫২.
সুয়েজ খাল যুক্ত করেছে কোন দুই সাগরকে?
  1. কৃষ্ণ সাগর ও ভূমধ্যসাগর
  2. ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
  3. লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগর
  4. লোহিত সাগর ও কৃষ্ণ সাগর 
ব্যাখ্যা

সুয়েজ খাল:  
- সুয়েজ খালের গুরুত্ব মিশরের অর্থনীতিতে অপরিসীম। 
- ফরাসি ব্যক্তিত্ব ফার্দিন্যান্ড ডি লেসসেপস এর নির্দেশনায় সুয়েজ খাল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় ১৮৬৯ সালে।
- মিশর এটি জাতীয়করণ করে ১৯৫৬ সালে।
- সুয়েজ খাল সংযুক্ত করেছে ভূ-মধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরকে।
- এই জলপথের একপ্রান্তে রয়েছে পোর্ট সৈয়দ বন্দর এবং অপরপ্রান্তে সুয়েজ বন্দর।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জাহাজ চলাচলের পথগুলির মধ্যে একটি।

 উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৩,৭৫৩.
38th parallel is border of which two countries?
  1. South Vietnam and North Vietnam
  2. North Korea and South Korea
  3. Libya and Sudan
  4. Egypt and Sudan
  5. Iran and Iraq
ব্যাখ্যা
৩৮তম প্যারালাল উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সিমানা নির্দেশ করে।

বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক সীমারেখা:
- ১০ ডিগ্রী চ্যানেল: আন্দামান ও নিকোবর,
- ১৬তম প্যারালাল: নামিবিয়া ও অ্যাঙ্গোলা,
- ১৭তম প্যারালাল: উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম,
- ২০তম প্যারালাল: লিবিয়া ও সুদান,
- ২২তম প্যারালাল: মিশর ও সুদান।
- ২৪তম প্যারালাল: ভারত ও পাকিস্তান,
- ২৫তম প্যারালাল: মৌরিতানিয়া এবং মালি,
- ৩১তম প্যারালাল: ইরাক ও ইরান,
- ৩৭তম প্যারালাল: ভারত ও মায়ানমার,
- ৩৮তম প্যারালাল: উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া,
- ৪৯তম প্যারালাল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা,
- ৮⁰ চ্যানেল: ভারত (মিনিকয় দ্বীপ) ও মালদ্বীপ,

উৎস: Britannica.
৩,৭৫৪.
Which is the smallest river in Bangladesh?
  1. Gorai River
  2. Louhajang River
  3. Buriganga River
  4. Gangina River
ব্যাখ্যা
দেশের ক্ষুদ্রতম নদী:
- বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের নদ-নদী: সংজ্ঞা ও সংখ্যাবিষয়ক সেমিনার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন দেশের নদ-নদীর সংখ্যা ও তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।
- দেশে বর্তমানে জীবন্ত নদ-নদীর সংখ্যা ১০০৮।
- সব মিলিয়ে দেশে ২২ হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ নদীপথ রয়েছে।
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- দেশের তিন বিভাগের ১২টি জেলায় প্রবাহিত নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।
- পদ্মার পর দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী খুলনা বিভাগের ইছামতী নদী।
- চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৩৪ কিলোমিটার।
- এর পরই রয়েছে বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সাঙ্গু বা শঙ্খ নদী।
- এর দৈর্ঘ্য ২৯৪ কিলোমিটার।
- দেশের ক্ষুদ্রতম নদী বলা হয়েছে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলায় অবস্থিত গাঙ্গিনা নদীকে।
- এর দৈর্ঘ্য ০.০৩২ কিলোমিটার।
- সবচেয়ে বেশি ৩৬টি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী মেঘনা।
- সবচেয়ে বেশি নদ-নদী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, ২২২টি। 
- জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নদী রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়, ৯৭টি।

উৎস: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৩,৭৫৫.
কোন মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা সবচেয়ে কম?
  1. ক) বেলে মাটি
  2. খ) এঁটেল মাটি
  3. গ) দোআঁশ মাটি
  4. ঘ) এর কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

বালু মাটিতে বিদ্যমান মাটির কণাগুলো আকারে বড় হয়।
এদের মধ্যে কোন আঠালো ভাব নেই।
ফলে শুষ্ক অবস্থায় এরা ঝরঝরে হয়।
এদের কণাগুলো বড় হওয়ায় এদের মধ্যে ফাঁকা জায়গা বেশি থাকে এবং এই ফাঁকা স্থানে বেশি পরিমাণে বাতাস থাকে।
বালু মাটি সহজেই পানি শোষণ করতে পারে তবে পানি ধরে রাখতে পারে না।
এজন্য বালুমাটি সহজেই শুষ্ক হয়ে যায়।
বালুমাটিতে জৈব উপাদান সামান্য পরিমাণ থাকে।
ফলে এতে ফসল উৎপাদন ভাল হয় না।
বালুমাটি দানাযুক্ত ও হাতে নিলে এদের অমসৃণ ভাব অনুভূত হয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (উন্মুক্ত)।

৩,৭৫৬.
নিচের কোন দেশটির সমুদ্রতট নেই?
  1. ক) সিরিয়া
  2. খ) কম্বোডিয়া
  3. গ) প্যারাগুয়ে
  4. ঘ) সিয়েরা লিওন
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত অপশনসমূহের মধ্যে প্যারাগুয়ে স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র। অর্থাৎ প্যারাগুয়ের কোন সমুদ্রতট বা সমুদ্রসৈকত নেই।
- প্যারাগুয়ে ব্যতীত বলিভিয়া দক্ষিণ আমেরিকার অপর একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র।
অন্যদিকে,
- সিরিয়া (সমুদ্রবন্দর-লাতাকিয়া), কম্বোডিয়া (সমুদ্রবন্দর-সিহানুকভিল) এবং সিয়েরা লিওনের (সমুদ্রবন্দর-ফ্রিটাউন) সমুদ্রতট রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
৩,৭৫৭.
চাবাহার কোন দেশর সমুদ্রবন্দর?
  1. ক) পাকিস্তান
  2. খ) ইরান
  3. গ) মিশর
  4. ঘ) সিরিয়া
ব্যাখ্যা
- চাবাহার ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। এটি ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত।
- ভারত সরকার চাবাহার বন্দর দিয়ে মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বন্দরটিতে বিনিয়োগ করেছে।
- অন্যদিকে, চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোরের প্রেক্ষাপটে চীন সরকারও চাবাহার বন্দরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করছে।
- সম্প্রতি সুয়েজ খালের বিকল্প রুট হিসেবে ইরান সরকার চাবাহার বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব উত্থাপন করে।
(সূত্র: আল জাজিরা)
৩,৭৫৮.
'গিবসন মরুভূমি' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. কানাডা
  2. নিউজিল্যান্ড
  3. দক্ষিণ আফ্রিকা
  4. অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা

গিবসন মরুভূমি: 
- গিবসন মরুভূমি (Gibson Desert) অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশাল মরু অঞ্চল,
- যা আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপনের জন্য পরিচিত।
- অবস্থান: পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত;
- লিটল স্যান্ডি মরুভূমি, গ্রেট স্যান্ডি মরুভূমি এবং গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি দ্বারা ঘেরা।
- আয়তন: প্রায় ১৫৫,০০০ বর্গ কিলোমিটার (১৫৬,০০০ কিমি²);
- অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম মরুভূমি, যা দেশের মোট আয়তনের ২.০%।
জলবায়ু: সাধারণত গরম; গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৪০°সে-এর উপরে, শীতকালে ন্যূনতম ৬°সে।
- ১৮৭৪ সালে অন্বেষণকারী অ্যালফ্রেড গিবসনের নামে নামকরণ, যিনি এই মরুভূমিতে হারিয়ে যান এবং কখনো পাওয়া যায়নি।

•বিভিন্ন দেশের কয়েকটি বিখ্যাত মরুভূমি: 
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা (১১টি দেশ জুড়ে)
- আরবীয়ান মরুভূমি: এশিয়া (আরব উপদ্বীপ)
- গোবি মরুভূমি: এশিয়া (মঙ্গোলিয়া, চীন)
- প্যাটাগোনিয়ান মরুভূমি: দক্ষিণ আমেরিকা (আর্জেন্টিনা)
- গ্রেট ভিক্টোরিয়া  মরুভূমি: অস্ট্রেলিয়া
- কালাহারি মরুভূমি: আফ্রিকা (নামিবিয়া, বতসোয়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা)।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 

৩,৭৫৯.
বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় কোনটি?
  1. চিম্বুক পাহাড়
  2. ফুরমোন পাহাড়
  3. গারো পাহাড়
  4. চন্দ্রনাথ পাহাড়
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এবং বৃহত্তম পাহাড় ময়মনসিংহের গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণী।
- গারো পাহাড় মূলত পূর্ব গারো পাহাড়, পশ্চিম গারো পাহাড় এবং দক্ষিণ গারো পাহার এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ৮৯°৫০´ পূর্ব হতে ৯০°৫০´ পূর্ব অক্ষাংশ এবং ২৮°০৮´ উত্তর হতে ২৬°০১´ উত্তর  দ্রাঘিমাংশে এর আয়তন প্রায় ৮১৬৭ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাসমূহ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলসমূহ এই পাহাড়ের পাদদেশীয় পালিজ সমৃদ্ধ।
 
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হচ্ছে তাজিংডং।
- এটি বিজয় নামেও পরিচিত।
- স্থানীয় ভাষায় তাজিং অর্থ বড় আর ডং অর্থ পাহাড়। একত্রে বড় পাহাড় বা তাজিংডং।
- তাজিংডং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে সাইচল পর্বতসারিতে অবস্থিত। 
তাজিংডং এর উচ্চতা:
- ১২৩১ মি. বা ৪০৩৯ ফুট [সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল]।
- ১৩৭২ মি. বা ৪৫০০ ফুট [সূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন]। 
- ১০০৩ মিটার [সূত্র: জেলা প্রশাসক কার্যালয়, বান্দরবান]।

- বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং (রুমা, বান্দরবান)।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উচু পাহাড় হচ্ছে গারো পাহাড়।
 
নিম্নে পাহাড় ও পর্বতের মধ্যকার পার্থক্য নিম্নে দেওয়া হলো -
পাহাড় (Hill)
সমুদ্রতল থেকে ৬০০-১০০০ মিটার উঁচু স্বল্প বিস্তৃত শিলাস্তূপ পাহাড় নামে পরিচিত। পর্বতের তুলনায় পাহাড় নিচু ও কম আয়তনের হয়। যেমন—গারো পাহাড়, রাজা পাহাড় ও চন্দ্রনাথ পাহাড়।

পর্বত (Mountain)
সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপ পর্বত নামে পরিচিত। পর্বতের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার মিটার হতে পারে। যেমন—কিলিমানজারো ও হিমালয় পর্বতমালা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি এবং প্রথম আলো আর্কাইভ, কালেরকণ্ঠ ।
৩,৭৬০.
জাপানের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় কী নামে পরিচিত?
  1. সাইক্লোন
  2. টাইফুন 
  3. হারিকেন
  4. টর্নেডো
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
- ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন,
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই,
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলি,
- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৬১.
পৃথিবীর প্রশস্ততম নদী কোনটি?
  1. নীল নদ
  2. আমাজন নদী 
  3. মিসিসিপি নদী
  4. ইয়াংসি নদী
ব্যাখ্যা

- আমাজন নদী পৃথিবীর অন্যতম প্রশস্ততম নদী।
-  আমাজন নদী বিশাল আমাজন অববাহিকার মধ্য দিয়ে ৪,০০০ মাইলেরও বেশি বিস্তৃত। শুষ্ক মৌসুমে এর গড় প্রস্থ ৪.৫ মাইল, শুধুমাত্র আমাজন নদীই প্রায় ১৮,০০০ বর্গমাইল ভূমি জুড়ে বিস্তৃত,

আমাজন নদী: 
- আমাজন নদী বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৪০০ কিলোমিটার।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী, আয়তন বা প্রবাহের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- আমাজন নদী দক্ষিণ আমেরিকার ছয়টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত: ব্রাজিল, পেরু এবং কলম্বিয়া, বলিভিয়া  , ইকুয়েডর , ভেনেজুয়েলা  ।
- নদীটি আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়।
- নদীর চারপাশের অঞ্চল, আমাজন রেইনফরেস্ট, অত্যন্ত জীববৈচিত্র্যপূর্ণ।
- নদীর তীরবর্তী বনে অনেক প্রজাতি বাস করে।
- নদীর জলাশয়ও প্রাণে সমৃদ্ধ।
- বিশ্বের পরিচিত সমস্ত প্রজাতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমাজন অঞ্চলে বাস করে।
- আমাজন নদীতে হাজার হাজার মাছের প্রজাতি পাওয়া যায়।
- নদীতে বিরল আমাজন নদীর ডলফিন, ওটার, ম্যানাটি এবং অ্যানাকোন্ডা পাওয়া যায়।
- এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি বিশিষ্ট সরীসৃপ প্রজাতি নদীর জলে পাওয়া যায়।

উৎস: i) world population review.
ii) ব্রিটানিকা।

৩,৭৬২.
ইংরেজি Map শব্দটি কোন ভাষা থেকে উদ্ভূত?
  1. ক) গ্রিক
  2. খ) হিব্রু
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) ল্যাটিন
ব্যাখ্যা
- ইংরেজি Map শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Mappa থেকে এসেছে।
- ল্যাটিন ভাষায় Mappa মানে হলো কাপড়ের টুকরো। আগেরকার দিনে কাপড়ের উপরই ম্যাপ বা মানচিত্র আঁকা হতো।
- পৃথিবী বা কোন অঞ্চল বা এর অংশবিশেষকে কোন সমতল ক্ষেত্রের উপর অঙ্কন করাকে মানচিত্র বলে।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-৩৩)
৩,৭৬৩.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ঘটে থাকে?
  1. এক্সোস্ফিয়ার
  2. আয়োনোস্ফিয়ার
  3. ট্রপোস্ফিয়ার
  4. মেসোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ঘটে থাকে। 

ট্রপোস্ফিয়ার
- গ্রিক শব্দ ট্রপো (Tropo) কথার অর্থ হল পরিবর্তন।
- দৈনন্দিন আবহাওয়ায় আমরা যেরকম বিভিন্ন পরিবর্তন অনুভব করি, এই বায়ুস্তরেও সে ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।
- বায়ুমণ্ডলের একেবারে নীচের স্তরে অবাধে তাপীয় মিশ্রণ ঘটে বলে, একে ট্রপোস্ফিয়ার বলে। 
- এ স্তরে ৭৮% নাইট্রোজেন, ২১% অক্সিজেন এবং ১% আর্গন, জলীয় বাষ্প এবং কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে। 
- ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে বলে ট্রপোপজ।
- ট্রপোপজ স্তরে বায়ুর উষ্ণতা একই রকম থাকে বলে, একে সমতাপ অঞ্চল বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৬৪.
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ কত তারিখে বাংলাদেশে আঘাত হানে?
  1. ২২ মে, ২০২৪
  2. ২৪ মে, ২০২৪
  3. ২৬ মে, ২০২৪
  4. ২৮ মে, ২০২৪
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’:
- ২৬ মে, ২০২৪ সালের রাত ৮টার দিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে।
- ঘূর্ণিঝড়টির বিস্তৃতি ছিল প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
- ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর নামকরণ করেছে ওমান।
- আরবিতে যার অর্থ বালি।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল।

উল্লেখ্য,
- বিশ্ব আবহওয়া সংস্থার অধিভুক্ত প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো পরপর প্রয়োগ করা হয়।
- আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, যে মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়-তার অববাহিকায় থাকা দেশগুলো নামকরণ করে।
- পৃথিবীতে মোট ১১টি সংস্থা ঝড়ের নামকরণ করে থাকে।
- Q, U, X, Y ও Z- এই ৫টি অক্ষর বাদ দিয়ে ইংরেজি বর্ণমালার ২১টি অক্ষর ব্যবহার করে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়।
- 'রিমাল' ছাড়াও অদূর ভবিষ্যতে আসন্ন উত্তর ভারতীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামগুলো হলো- আসনা (পাকিস্তান), ডানা (কাতার), ফেঙ্গাল (সৌদি আরব), শক্তি (শ্রীলঙ্কা), মন্থ (থাইল্যান্ড), সেনিয়ার (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ও দিত্ত্ব (ইয়েমেন)।
- ২০২০ সালে মোট ১৩টি দেশ ১৩টি করে মোট ১৬৯টি নাম দেয়।
- ১৩ টি দেশ হলো: বাংলাদেশ, ভারত, মলদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, আরব-আমিরাত এবং ইয়েমেন।
- ডব্লিওএমও-র ভারতীয় উপমহাদেশের এই সদস্য দেশগুলোই নাম দেয়।

উৎস: i) মে ২৬, ২০২৪, The Daily Star বাংলা।
         ii) ১৭ নভেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৩,৭৬৫.
বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ কোনটি?
  1. বৈকাল হ্রদ
  2. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  3. কাস্পিয়ান সাগর
  4. সুপিরিয়র হ্রদ
ব্যাখ্যা

কাস্পিয়ান সাগর:
- আজারবাইজান, রাশিয়া, কাজাখস্তান, তুর্কিমেনিস্তান ও ইরান জুড়ে অবস্থিত এই কাস্পিয়ান সাগর।
- কাস্পিয়ান সাগর বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- দৈর্ঘ্য ১১৯৯ কিমি)।
- এটি মূলত ভূ-বেষ্টিত সাগর।

উল্লেখ্য,
- বিশ্বের বৃহত্তম সুপেয় পানির হ্রদ- সুপিরিয়র।
- বিশ্বের গভীরতম হ্রদ - বৈকাল হ্রদ।
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ - পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম হ্রদ।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।

৩,৭৬৬.
বায়ু প্রবাহের নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. চাপের ক্রমাবনতি
  2. কোরিওলিস প্রভাব
  3. কেন্দ্র বিমুখী বল
  4. ফেরেলের প্রভাব
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহের নিয়ামক:
- বায়ুপ্রবাহ হলো বায়ুর সমতলীয় চাপের পাথর্য্যের ফল।
- পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি না থাকলে উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে বায়ুর প্রবাহ সরল ও নিয়ত হত।
- বায়ুপ্রবাহের নিয়ামকগুলো নিম্নরূপ-
১. চাপের ক্রমাবনতি,
২. কোরিওলিস প্রভাব,
৩. কেন্দ্র বিমুখী বল,
৪. ঘর্ষণ এবং
৫. মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৬৭.
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশে কী পরিমাণ মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হবে?
  1. ক) ১ কোটি
  2. খ) ২ কোটি
  3. গ) ৩ কোটি
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবঃ (বাংলাদেশ প্রেক্ষিত)
মানবসৃষ্ট নানা রকম কাজকর্ম যা পরিবেশের ক্ষতি করছে সেগুলোই বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। এই সমস্ত কার্যক্রম যেমন শিল্পায়ন, বনাঞ্চল উজাড়, পারমানবিক পরীক্ষা, কৃষির সম্প্রসারণ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, কাঠ-কয়লা পোড়ানো ইত্যাদি দ্বারা নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস গ্যাসই বিশ্ব উষ্ণায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। দিন দিন জলবায়ুপরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে এদেশের প্রাকৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বই

৩,৭৬৮.
’হোক্কাইডো’ দ্বীপটি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. চীন
  2. জাপান
  3. ভিয়েতনাম
  4. ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
• জাপান:
- জাপান একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি রয়েছে।
- এগুলো হলো:
→ শিকোকু,
→ কিউসু, 
→ হনসু ও
→ হোক্কাইডো।

উৎস: Britannica.
৩,৭৬৯.
নিচের কোন দুর্যোগটি ‘Hydro-Metrological'দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত?
  1. ভারি বৃষ্টি
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. ভূমিধস
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
→ বর্ণিত সবগুলোই Hydro-Metrological'দুর্যোগ 

Hydro-meteorological দুর্যোগ:
- Hydro-meteorological শব্দটি দুটি অংশ থেকে গঠিত:
- Hydro এর অর্থ পানি সংশ্লিষ্ট।
- এবং Meteorological অর্থ আবহাওয়া বা জলবায়ু সংক্রান্ত ঘটনা।
- Hydro-meteorological দুর্যোগ বলতে মূলত জলবায়ু ও আবহাওয়াজনিত কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলিকে বোঝায়।
- বন্যা, ভূমিধস উভয় hydro-meteorological দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত।
- এই দুর্যোগগুলো সরাসরি জলবায়ু (Climate) এবং আবহাওয়ার (Weather) পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- প্রধানত বৃষ্টিপাত, বায়ুর গতি, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন এই দুর্যোগগুলির কারণ।
- জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের কিছু উদাহরণ হলো: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, ভারি বৃষ্টি, খরা, তুষারপাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৭০.
ভৌগোলিকভাবে 'Tropic of Cancer' বাংলাদেশের কোন জেলাগুলোর ওপর দিয়ে গেছে?
  1. চাঁদপুর, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  2. কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর 
  3. ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল
  4. রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর 
ব্যাখ্যা

ভৌগোলিকভাবে Tropic of Cancer -কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর জেলার ওপর দিয়ে গেছে।
---------------------
• বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত।
- এটি ২০°৩৪′ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগলিক রেখা অতিক্রম করেছে তার নাম কর্কটক্রান্তি রেখা বা ট্রপিক অব ক্যানসার এবং এটি 90 ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা।

- কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) হলো পৃথিবীর বিষুবরেখা থেকে প্রায় ২৩°২৭′ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত।
- এই অক্ষাংশ হলো সূর্যের সর্বোত্তম উত্তরের অবক্ষয় যখন সূর্য তার কক্ষপথে বিষুবরেখার সমান্তরাল অবস্থায় থাকে।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন সূর্যস্থানান্তর প্রায় জুন ২১ তারিখে ঘটে, তখন সূর্য সরাসরি কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর থাকে।

- বাংলাদেশের কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করা জেলার নামগুলো হলো:
- চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি। 
- বাংলাদেশের ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা ও কর্কটক্রান্তি রেখার ছেদবিন্দু ফরিদপুরে অবস্থিত।

উৎস: Britannica ও বাংলাপিডিয়া। 

৩,৭৭১.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান কোনটি?
  1. শ্যামপুর
  2. মনাকষা
  3. শাহাবাজপুর
  4. কানসাট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
- যেহেতু বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের দ্রাঘিমাংশ ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী স্থান মনাকষা তাইলে আমরা বলতে পারি যে বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী স্থান মনাকষা এর দ্রাঘিমাংশ ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা।

⇒ সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা। ( ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।

⇒ সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।(৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

⇒ সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা। (অক্ষাংশ ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

⇒ সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ। (অক্ষাংশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন
৩,৭৭২.
গ্রিনল্যান্ড ও বাফিন দ্বীপকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী? 
  1. ডেভিস প্রণালী
  2. ফ্লোরিডা প্রণালী 
  3. হাডসন প্রণালী
  4. ইউক্যাটান প্রণালী
ব্যাখ্যা

ডেভিস প্রণালী (Davis Strait)
- অবস্থান: গ্রিনল্যান্ড এবং কানাডার বাফিন দ্বীপের মাঝে অবস্থিত।
- পৃথক করেছে: গ্রিনল্যান্ড ও বাফিন দ্বীপকে।
- সংযুক্ত করেছে: উত্তরে বাফিন উপসাগর এবং দক্ষিণে ল্যাব্রাডর সাগরকে (আটলান্টিক মহাসাগরের অংশ)।

• ফ্লোরিডা প্রণালী (Straits of Florida)
- অবস্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য এবং কিউবার মাঝে অবস্থিত।
- পৃথক করেছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও কিউবাকে।
- সংযুক্ত করেছে: মেক্সিকো উপসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরকে।

• হাডসন প্রণালী (Hudson Strait)
- অবস্থান: কানাডার কুইবেক প্রদেশ এবং বাফিন দ্বীপের মাঝে অবস্থিত।
- পৃথক করেছে: বাফিন দ্বীপ ও কানাডার মূল ভূখণ্ডকে (কুইবেক/ল্যাব্রাডর)।
- সংযুক্ত করেছে: পশ্চিমে হাডসন উপসাগর এবং পূর্বে ল্যাব্রাডর সাগরকে (আটলান্টিক মহাসাগর)।

• ইউক্যাটান প্রণালী
- মেক্সিকো এবং কিউবাকে পৃথক করেছে ইউক্যাটান প্রণালী (Yucatan Channel)।
- এটি মেক্সিকোর ইউক্যাটান উপদ্বীপ এবং কিউবা দ্বীপের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
- সংযুক্ত করেছে: মেক্সিকো উপসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরকে।
- বিশেষত্ব: এটি বিখ্যাত 'গাল্ফ স্ট্রিম' সমুদ্রস্রোতের প্রধান প্রবেশপথ।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,৭৭৩.
মুজিব-ইন্দিরা ইউনিয়নটি কোন জেলায় অবস্থিত
  1. ক) লালমনিরহাট
  2. খ) কুড়িগ্রাম
  3. গ) নীলফামারি
  4. ঘ) পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
মুজিব-ইন্দিরা ইউনিয়ন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত। ২০১৫ সালের ১ আগষ্ট (৩১ জুলাই মধ্যরাতে) ছিটমহল বিনিময়ের পূর্বে এর নাম ছিল ‘দাশিয়ারছড়া’ ছিটমহল।
উৎসঃ প্রথম আলো আর্কাইভ।
৩,৭৭৪.
Where does Padma-Jamuna meet?
  1. ক) In Daulatdia
  2. খ) In Goalanda
  3. গ) In Paturia
  4. ঘ) In Bhairav
ব্যাখ্যা
• যমুনা নদী :
- ১৭৮৯ সালের ভূমিকম্পে ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের যে শাখাটি বের হয়
সেটিই নদী যমুনা।
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে
মিলিত হয়।
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং
- ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৭৫.
সৌরজগতের সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ কোনটি?  
  1. বুধ
  2. মঙ্গল
  3. শুক্র
  4. শনি
ব্যাখ্যা

• শুক্র :
- বুধের মতো শুক্র গ্রহকেও ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়।
- শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়।
- কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না।
- সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন। 
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 

৩,৭৭৬.
গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পটি কোন জেলাগুলোতে বিস্তৃত রয়েছে?
  1. চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর
  2. সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ
  3. কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা
  4. রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, পঞ্চগ্রাম
ব্যাখ্যা

গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প: 
- গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট)  গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে (বাংলাদেশের ভূখন্ডে) সেচের জন্য  বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ  সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
- এর মধ্যে ১,৪২,০০০ হেক্টর জমি সেচযোগ্য।
- উল্লিখিত চারটি জেলার সর্বমোট ১৩টি উপজেলায় এ কার্যক্রম বিস্তৃত।
- উপজেলাগুলি হলো - কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর, ভেড়ামারা, চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহ সদর, হরিণাকুন্ড, শৈলকূপা, মাগুরা সদর, শ্রীপুর এবং দৌলতপুর।
- প্রকল্পের ভৌগোলিক সীমারেখা উত্তরে গঙ্গা ও  গড়াই নদী, পূর্বে গড়াই-মধুমতি, দক্ষিণে  নবগঙ্গা এবং পশ্চিমে মাথাভাঙ্গা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো, গঙ্গা নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে সংযোগ  খাল ও নালার মাধ্যমে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ 

উল্লেখ্য,
- সমগ্র প্রকল্প এলাকাটি দুটি অঞ্চলে বিভক্ত, কুষ্টিয়া অঞ্চল এবং যশোর অঞ্চল।
- পর্ব-১ এর আওতাভুক্ত এলাকা ৮৫,০২০ হেক্টর যার মধ্যে ৪৮,৭০০ হেক্টর ভূমি সেচযোগ্য।
- পর্ব-২ এর আওতাভুক্ত এলাকা ১,১৭,৮১৪ হেক্টর যার মধ্যে ৯৩,৩০০ হেক্টর ভূমি সেচযোগ্য।
- প্রকল্পটির আওতায় সর্বমোট সেচযোগ্য ভূমির পরিমাণ ১,৪২,০০০ হেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৩,৭৭৭.
দৈর্ঘ্যের ক্রমানুসারে কোনটি সঠিক?
  1. নীলনদ - আমাজন - কঙ্গো
  2. নীলনদ - আমাজন - মিসিসিপি
  3. নীলনদ - আমাজন - ইয়াংজি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর দীর্ঘতম ৫টি নদী

- পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী - ‘নীলনদ’।
- বর্তমানে ১০টি দেশ এর আশীর্বাদপুষ্ট। সেগুলো হল- মিসর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, কঙ্গো, তানজানিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া ও উগান্ডা।
- দৈর্ঘ্য - ৬৬৫০ কিলোমিটার।

- দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী - আমাজন।
- দৈর্ঘ্য - ৬৪০০ কিলোমিটার।

- তৃতীয় দীর্ঘতম নদী - ইয়াংজি।
- দৈর্ঘ্য - ৬৪০০ কিলোমিটার।

- চতুর্থ দীর্ঘতম নদী - মিসিসিপি।
- দৈর্ঘ্য - ৫৯৭১ কিলোমিটার।

- পঞ্চম দীর্ঘতম নদী - কঙ্গো।
- দৈর্ঘ্য - ৪৭০০ কিলোমিটার।
- এটি বিশ্বের গভীরতম নদী।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৩,৭৭৮.
বাংলাদেশের শীতলতম স্থান কোন জেলায়?
  1. মৌলভীবাজার
  2. পঞ্চগড়
  3. হবিগঞ্জ
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের আবহাওয়া যুদ্ধ:
- দেশের উষ্ণতম স্থান: লালপুর, নাটোর।
- শীতলতম স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা: সিলেট।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়: লালাখাল, সিলেট।
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়: লালপুর, নাটোর।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৭৭৯.
Climate Vulnerable Forum গঠনে উদ্যোগী দেশ-
  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) ইন্দোনেশিয়া
  3. গ) মালদ্বীপ
  4. ঘ) ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা
- বৈশ্বিক উষ্ণতার নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয় Climate Vulnerable Forum।
- মালদ্বীপের উদ্যোগে ২০০৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর বর্তমান সদস্য ৫৫টি।
- Climate Vulnerable Forum এর বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশ (২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত)।
- বাংলাদেশের পূর্বে সভাপতি ছিল মার্শাল আইল্যান্ড।
৩,৭৮০.
বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ কোনটি?
  1. ক) রাবনাবাদ চ্যানেল
  2. খ) গাবখান চ্যানেল
  3. গ) কাওয়াখালি চ্যানেল
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- গাবখান চ্যানেলটি বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ যা বাংলার  সুয়েজখাল নামে পরিচিত।
- গাবখান চ্যানেল বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত ।
- ঝালকাঠির সুগন্ধা-বিষখালী নদীর সাথে পিরােজপুরের সন্ধ্যা নদীর সংযােগ ঘটিয়েছে ১৬ কিমি দীর্ঘ এ গাবখান চ্যানেল।
- বাংলাদেশের ৩য় সমুদ্র বন্দর ‘পায়রা বন্দর’ পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, বালিয়াতলী, ধূলাসার, ধানখালী ও টিয়াখালী ইউনিয়নের অন্তর্গত রাবনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র:- ঝালকাঠি জেলা ওয়েবসাইট।
৩,৭৮১.
নাইনটি ইস্ট রিজ কী?
  1. ভারত মহাসাগরে নিমজ্জিত শৈলশিরা
  2. টেকটোনিক প্লেট
  3. হিমালয় পর্বতের প্রশাখা
  4. গঙ্গার মূল প্রবাহ ধারা
ব্যাখ্যা
- নাইনটি ইস্ট রিজ হলো বঙ্গোসাগরের দক্ষিণে ভারতের মহাসাগরে নিমজ্জিত একটি শৈলশিরা।
- উত্তর-দক্ষিণে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ বরাবর বেঙ্গল ফ্যান (উপদ্বীপ) ও নিকোবর ফ্যানের মধ্যবর্তী স্থানে সুন্দা ট্রেঞ্চের নিকটে এটি অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগর গঠিত হওয়ার প্রাথমিক কালেই নাইনটি ইস্ট রিজ অস্তিত্ব লাভ করেছে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৩,৭৮২.
নদী প্রবাহের কোন পর্যায়ে প্রধানত সঞ্চয়কার্য সাধিত হয়?
  1. নিম্নগতি
  2. সমগতি
  3. উর্ধ্বগতি
  4. মধ্যগতি
ব্যাখ্যা
পর্বতের উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর প্রবাহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়।
এগুলো হলো:
- উর্ধ্বগতি
- মধ্যগতি
- নিম্নগতি।

উর্ধ্বগতি হলো নদী প্রবাহের প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।

মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়। এ সময় নদীর দুপাশের নিম্নভূমি পলি দ্বারা ভরাট হয়ে প্লাবন সমভূমি গঠন করে।

নদী প্রবাহের বা জীবনচক্রের সর্বশেষ পর্যায় হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়। এ সময় নদীর মোহনায় বালি, কাঁদা প্রভৃতি সঞ্চিত হয়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৭৮৩.
'National Disaster Management Council' (NDMC) এর চেয়ারপারসন কে?
  1. পানিসম্পদ মন্ত্রী
  2. মন্ত্রীপরিষদ সচিব
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ কমিটি হলো NDMC (National Disaster Management Council)।
- এর চেয়ারপারসন প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও আইনের বিষয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।    

সূত্র:- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা - ২০১৫ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। 
৩,৭৮৪.
বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন স্তর কোনটি?
  1. মেসোমন্ডল
  2. এক্সোমন্ডল
  3. স্ট্রাটোমন্ডল
  4. ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে।
- এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৮৫.
আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) ল্যানোস
  2. খ) প্রেইরি
  3. গ) তৈগা
  4. ঘ) সাহিল
ব্যাখ্যা

সাহেল বা সাহিল (Sahel) অঞ্চল বলে অভিহিত পশ্চিম আফ্রিকার সাব সাহারা অঞ্চল।
এই অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হচ্ছে - মৌরিতানিয়া, মালি ও নাইজার প্রভৃতি।

- প্রেইরি (Prairie) - উত্তর আমেরিকার উর্বর তৃণভূমি।
- তৈগা (Taiga) - পূর্ব সাইবেরিয়া অঞ্চলের বনাঞ্চল। আবার উত্তর আমেরিকাতেও তৈগা ধরনের বনাঞ্চল রয়েছে।
- ল্যানোস (Llanos) দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত তৃণভূমি।

৩,৭৮৬.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পেলে দেশের কোন কোন জেলা জলমগ্ন হবে?
  1. ক) ময়মনসিংহ, জামালপুর ও গাজীপুর
  2. খ) কুমিল্লা, সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী
  3. গ) বাগেরহাট, চাঁদপুর ও খুলনা
  4. ঘ) সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
• গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্নভূমি তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে।
• এক্ষেত্রে সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালী জেলা নিম্নাংশসহ উপকূলবর্তী নিম্নভূমি প্লাবিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৮৭.
ইউনেস্কো বাংলাদেশের অন্তর্গত সুন্দরবনকে World Heritage Site হিসেবে ঘোষণা দেয়-
  1. ১৯৯৫ সালে
  2. ১৯৯৬ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৮ সালে
ব্যাখ্যা

• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।
- সুন্দরবন দুটি বন বিভাগে বিভক্ত: সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ ও সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ।
- বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬০১৭ বর্গ কি.মি.।

- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে UNESCO সুন্দরবনের ৩টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে ৭৯৮তম World Heritage Site হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের জলভাগ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হওয়ায় ১৯৯২ সনের ২১ মে থেকে এটি Ramsar Site হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
- টাঙ্গুয়ার হাওর ১০ জুলাই, ২০০০ সালে রামসার সাইটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

উৎস: বন সংরক্ষণ দপ্তর ও রামসার সাইট।

৩,৭৮৮.
সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. ভারত
  2. নেপাল 
  3. ঢাকা 
  4. আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

• SAARC:
-  SAARC এর পুরনরুপ- South Asian Association for Regional Cooperation
-  SAARC হলো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম।
- এটি ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৫ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে এর ৮টি সদস্য দেশ রয়েছে।
- SAARC-এর আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন দেশের নির্দিষ্ট খাতের উন্নয়ন ও গবেষণায় কাজ করে।
- SAARC দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র: গান্ধীনগর, গুজরাত, ভারতে অবস্থিত।

উল্লেখ্য, 
• SAARC-এর আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহ :
- SAARC সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে কলম্বো, শ্রীলংকায়;
- কৃষি ও আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র ঢাকায় অবস্থিত।
- যক্ষ্মা ও এইচআইভি/এইডস কেন্দ্র কাঠমান্ডু, নেপালে অবস্থিত।
- শক্তি কেন্দ্র পাকিস্তানে অবস্থিত।
- বন গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত থিম্পু, ভুটানে;
- মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থিত।
- এবং উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র মালদ্বীপে অবস্থিত। 

উৎস: SAARC Official Website.

৩,৭৮৯.
নদী প্রবাহের কোন পর্যায়ে স্রোতের গতিবেগ সর্বাধিক থাকে?
  1. ক) নিম্নগতি 
  2. খ) উর্ধ্বগতি
  3. গ) মধ্যগতি 
  4. ঘ) ধীরগতি
ব্যাখ্যা
• নদী প্রবাহ:
- পর্বতের উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর প্রবাহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়।
এগুলো হলো:
- উর্ধ্বগতি, মধ্যগতি এবং নিম্নগতি।
- উর্ধ্বগতি হলো প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়।
- সর্বশেষ হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী।
৩,৭৯০.
নিচের কোনটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ?
  1. চীনের বৃষ্টিপাত ও ঝড়
  2. ভিয়েতনামের ঘূর্ণিবাত বায়ু
  3. বাংলাদেশের মৌসুমি বায়ু
  4. মিসরের খামসিন
ব্যাখ্যা
স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৯১.
ঘূর্ণীঝড় 'ফণী'র নামকরণ করে কোন দেশ?
  1. ক) মালয়েশিয়া
  2. খ) ভারত
  3. গ) সুদান
  4. ঘ) বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
৩ মে ২০১৯ বাংলাদেশে আঘাত হানা ঘূর্ণীঝড় 'ফণী'র নামকরণ করে বাংলাদেশ। এই ঝড়ে বাংলাদেশ ১৬ জন ও ভারতে ৩৩ জন মারা যায়। ভারত মহাসাগরে আঘাত হানা ঝড়গুলোর নামকরণ করে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ওমান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের সমন্বয়ে গঠিত WMO/ESCAP প্যানেল।
উৎসঃ বিবিসি
৩,৭৯২.
‘ধরলা ও আত্রাই’ কোন নদীর উপনদী?
  1. মেঘনা
  2. পদ্মা
  3. যমুনা 
  4. কর্ণফুলি 
ব্যাখ্যা

- ‘ধরলা ও আত্রাই’ যমুনা নদীর উপনদী।

যমুনা (ব্রহ্মপুত্র):

- হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের একটি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- তারপর তিব্বত ও আসামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ রংপুর অঞ্চলের কুড়িগ্রামের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জের কাছে এটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়।
- একটি যমুনা নামে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- অপর শাখা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে ময়মনসিংহের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরবের নিকট মেঘনায় পতিত হয়েছে। জানা যায়, দুইশত বৎসর আগে এটিই ব্রহ্মপুত্রের মূল গতিধারা ছিল।

• উপনদী: তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, আত্রাই, কালজানি, তোরসা, জলঢাকা, নাগর, দুপচাপিয়া, যমুনেশ্বরী, রায়ঢাক, ধবলা, ঘাঘট, বাঙালি, বড়াল, গঙ্গা, নারদ নদ, ধবল বা দুধকুমার, তুলসী গঙ্গা, শিব বরনাই।

• শাখা নদী: ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা।

উৎস: অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৯৩.
কোন ঘটনাটি বার্ষিক গতির ফলে ঘটে?
  1. ক) দিবারাত্রির সংগঠন
  2. খ) বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি
  3. গ) দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি
  4. ঘ) জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
পৃথিবী তার কক্ষপথে সূর্যকে একবার পরিক্রমণকে বলে বার্ষিক গতি।

বার্ষিক গতির ফলাফলঃ
১. ঋতু পরিবর্তন,
২. দিবারাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি

• পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর আবর্তন করাকে বলা হয় আহ্নিক গতি। আহ্নিক গতির ফলাফলঃ
১. জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি,
২. পৃথিবীতে দিবারাত্রির সংগঠন,
৩. তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি,
৪. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি,
৫. সময় গণনা বা সময় নির্ধারণ ইত্যাদি।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৯৪.
নিম্নের কোন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়?
  1. কিশোরগঞ্জ
  2. সুনামগঞ্জ
  3. মৌলভীবাজার
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

⇒ আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) The Daily Star বাংলা।
৩,৭৯৫.
কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. ক) ভূমিকম্প
  2. খ) খরা
  3. গ) অগ্ন্যূৎপাত
  4. ঘ) নদীভাঙন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, বজ্রপাত এখানে নিয়মিত ঘটনা। এছাড়া ভূমিকম্প, খরা, ভূমিধ্বসও মাঝে মাঝে সংঘটিত হয়। কোন আগ্নেয়গিরি না থাকায় এখানে অগ্ন্যূৎপাত কিংবা দাবানল সংঘটিত হয় না।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই
৩,৭৯৬.
বাংলাদেশের কোন জেলা সবচেয়ে বেশী নদীবেষ্টিত?
  1. গৌরনদী
  2. পিরোজপুর
  3. বরিশাল
  4. ভোলা
ব্যাখ্যা
- জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন-এর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুসারে, বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত হয়েছে। 
- তবে প্রশ্নটি রিয়েল চাকরি পরীক্ষার প্রশ্ন ছিলো তাই প্রচলিত উত্তর হিসেবে ভোলা উত্তর নেওয়া হলো। 

বাংলাদেশের নদ-নদী:

- নদীমাতৃক বাংলাদেশে ছোট বড় মিলিয়ে ১০০৮ টি নদী প্রবাহিত হচ্ছে।
- পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বাংলাদেশের ৩টি প্রধান নদী।
- দেশে নদীপথ রয়েছে: ২২ হাজার কি.মি.।
- নদ আছে ৪টি (ব্রহ্মপুত্র, কপোতাক্ষ, আড়িয়াল খাঁ ও কুমার)।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা (দৈর্ঘ্য - ৩৪১ কিলোমিটার)।
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম নদী গাঙ্গিনা ( দৈর্ঘ্য- .০৩২ কিলোমিটার)।
- সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী মেঘনা (৩৬টি উপজেলা)।
- সবচেয়ে বেশি নদ-নদী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, ২২২টি।
- সবচেয়ে বেশি নদী রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়, ৯৭টি।



উৎস: জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।
৩,৭৯৭.
লাউয়াছড়া বনে কোন বিরল প্রাণী আছে?
  1. হনুমান
  2. চিতল হরিণ
  3. ভুবন চিল
  4. উল্লুক
ব্যাখ্যা
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। 
- ১৯২৫ সালে বনায়ন করে সৃষ্ট বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে।
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।
- বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেষ্টের মতো এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সূর্যের আলোর জন্য প্রতিযোগিতা করে এ বনের গাছপালা খুব উঁচু হয়ে থাকে, এবং অনেক ওপরে ডালপালা ছড়িয়ে চাঁদোয়ার মত সৃষ্টি করে।
- এই বন এতই ঘন যে মাটিতে সূর্যের আলো পড়েনা বললেই চলে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৩,৭৯৮.
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার মেয়াদকাল -
  1. ক) ২০২০-২০২৫
  2. খ) ২০২১-২০২৫
  3. গ) ২০২২-২০২৬
  4. ঘ) ২০২৩-২০২৭
ব্যাখ্যা
• জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (এনপিডিএম) ২০২১-২০২৫ (National Plan for Disaster Management, NPDM,2021-2025) দুর্যোগ বিষয়ক বাংলাদেশের ভিশন, মিশন এবং জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পদ্ধতির দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনার এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত কৌশলগত পরিকল্পনা।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৭৯৯.
আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ কোনটি?
  1. মালদ্বীপ
  2. মোনাকো
  3. ভ্যাটিকান সিটি
  4. সান মারিনো
ব্যাখ্যা
আয়তনে ছোট দেশ:
- বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ ভ্যাটিকান সিটি।
- আয়তন মাত্র ০.৪৯ বর্গকিমি।
- এটি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং পোপের বাসস্থান হিসেবে পরিচিত।
- এই দেশগুলোর বেশিরভাগই দ্বীপ রাষ্ট্র এবং পর্যটনের উপর নির্ভরশীল।

• বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশসমূহ (আয়তনের ভিত্তিতে): 
১. ভ্যাটিকান সিটি: ০.৪৫ বর্গকিলোমিটার, যা দক্ষিণ ইউরোপ অবস্থিত।
২.মোনাকো: 2.0 বর্গকিলোমিটার, পশ্চিম ইউরোপ অবস্থিত।
৩. নাউরু: ২১ বর্গকিলোমিটার , ওশেনিয়া মহাদেশে অবস্থিত।
৪. টুভালু: ২৬ বর্গকিলোমিটার, ওশেনিয়া মহাদেশে অবস্থিত।
৫. সান মারিনো: ৬১ বর্গকিলোমিটার, দক্ষিণ ইউরোপ অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- এশিয়া মহাদেশে ছোট দেশ: মালদ্বীপ।
- আফ্রিকার ছোট দেশ: সিচেলিস।

উৎস: World Population Review, 2025.
৩,৮০০.
’ক্রাশেনিনিকভ’ আগ্নেয়গিরি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. জাপান 
  2. রাশিয়া
  3. ইউক্রেন
  4. বেলারুশ
  5. আর্মেনিয়া 
ব্যাখ্যা
’ক্রাশেনিনিকভ’ আগ্নেয়গিরি:
- ’ক্রাশেনিনিকভ’ আগ্নেয়গিরি রাশিয়ায় অবস্থিত।
- গত ৩০ জুলাই রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে কামস্কটকা উপদ্বীপে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
- ১৯৫২ সালের পর ওই অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।
- ভূমিকম্পের পরপরই কামস্কটকায় সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ক্লুচেভস্কয়েতে অগ্ন্যুৎপাত হয়।
- এর প্রভাবে একই অঞ্চলের ক্রাশেনিনিকভআগ্নেয়গিরিতে ৬০০ বছর পর অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে।
- ক্রাশেনিনিকভ আগ্নেয়গিরির উচ্চতা ১ হাজার ৮৫৬ মিটার।
- অগ্ন্যুৎপাতের পর সেখানে সর্বোচ্চ ছয় কিলোমিটার উঁচুতে ছাই উড়তে দেখা যায়।

উৎস: প্রথম আলো।[লিঙ্ক]