ব্যাখ্যা
বার্ষিক গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিসীমাটি হল কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৭৮.১% থেকে পাবনায় সবনিম্ন ৭০.৫% পর্যন্ত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৩৮ / ৭২ · ৩,৭০১–৩,৮০০ / ৭,১৯১
- হামহাম ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত মৌলভীবাজারে অবস্থিত।
- শৈলপ্রপাত জলপ্রপাত বান্দরবানে অবস্থিত।
- আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- রিছাং ঝর্না খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- হিমছড়ি কক্সবাজারে অবস্থিত।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখ'-এ নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে ।
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস :
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেযোগ্য।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখ'-এ নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে ।
- ফলে বাহিরের অংশ হতে উচ্চচাপ যুক্ত বায়ু প্রবল বেগে ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তন করতে করতে ঝড়ের কেন্দ্রভাগে নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়।
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলভাগ ফানেল আকৃতির হওয়ার কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের উপকূলে, বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
• ঘূর্ণিঝড়:
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়।
- এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে।
- এটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতো।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি।
• রাজ্যগুলো হলোঃ
- আসাম,
- মিজোরাম,
- ত্রিপুরা,
- মেঘালয় ও
- পশ্চিমবঙ্গ।
• মণিপুর ও নাগাল্যান্ড বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্য নয়।
উৎসঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।
সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।
সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।
সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।
তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
- অস্ট্রোলয়েড প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী। নৃতত্ত্ববিদগণ এদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলে মনে করেন। এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়। প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জাতি হলো দ্রাবিড়।
- বাংলার আদি জনগণের অধিবাসিরা নিষাদ জাতির অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলা আদি অধিবাসীগণ অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির বড় অংশ হলো মঙ্গোলয়েড।
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০০-৪৫০ অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এছাড়াও তুরস্ক, স্পেন, গ্রিস, দক্ষিণ ফ্রান্স, ইতালি, ইসরাইল, সিরিয়া, দক্ষিণ ও পশ্চিম যুগোশ্লাভিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তভুক্ত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে আরও যে দেশসমূহ রয়েছে সেগুলো হলো- লেবানন, পর্তুগাল, আলবেনিয়া এবং দ্বীপসমূহ হলো কর্ষিকা, মাল্টা, সাইপ্রাস ইত্যাদি।
- এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, দক্ষিণ আমেরিকার চিলির মধ্যভাগ এবং উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তগত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০০- ২৮০ সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এই জলবায়ু অঞ্চলে যে বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্য তা হলো- এখানে সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৮ সে.মি থেকে ৭৫ সে.মি।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।
- বৃষ্টিপাত অধিক বলে এখানে শীতকালীন বৃক্ষ যেমন- জলপাই, কর্ক, তুঁত, নিম, পাইন গাছের উৎপত্তি লক্ষ্যণীয়। কম বৃষ্টি হয় এমন স্থানে ঝোপঝাড় জন্মে।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক।
তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
এটি খাগড়াছড়ি থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে। হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
সম্প্রতি সরকার এই নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করেছে।
সূত্রঃ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
দার্দানেলিস প্রণালী ইজিয়ান সাগর মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে এবং আনাতোলিয়া (তুরস্ক) ও ইস্তাম্বুল(তুরস্ক) কে পৃথক করেছে।
উৎসঃ ভূগোল(৯ম-১০ম)
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%,
- সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%,
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
অয়ন বায়ু (The Trade Winds):
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্র অনুসারে এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে।
- প্রাচীনকালে পরিচালিত বাণিজ্য জাহাজগুলো এ বায়ুপ্রবাহের দিক অনুসরণে যাতায়াত করত বলে এগুলোকে অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
- উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু ঘণ্টায় প্রায় ১৬ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু প্রায় ২২.৫৪ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী হলে অত্যধিক তাপে উষ্ণ ও হালকা হয়ে ঊর্ধ্বে উঠে যায়।
- তখন নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর অনুভূমিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ৫° অক্ষাংশ পর্যন্ত একটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- এ বলয়কে নিরক্ষীয় শান্ত বলয় (Doldrum) বলে।
- পৃথিবীর বড় বড় মরুভূমি যেমন-সাহারা, কালাহারি মরুভূমিতে অয়ন বায়ুপ্রবাহের প্রভাব দেখা যায়।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• V-20:
- Vulnerable Twenty (V20) হলো একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম, যা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে একত্রিত করে।
- এটি ২০১৫ সালের অক্টোবরে পেরুর লিমা তে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি মূলত এই দেশের অর্থমন্ত্রীদের জন্য সহযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
- এর উদ্ভাবক সংস্থা হলো- Climate Vulnerable Forum (CVF)।
- এতে প্রাথমিকভাবে ২০টি দেশ যুক্ত ছিল যারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- প্রথম ২০টি দেশ হলো: আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, ভুটান, কোস্টা রিকা, ইথিওপিয়া, ঘানা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মালদ্বীপ, মাদাগাস্কার, নেপাল, ফিলিপাইন, রুয়ান্ডা, সেন্ট লুসিয়া, দক্ষিণ সুদান, পূর্ব তিমুর, টুভালু, তানজানিয়া, ভিয়েতনাম।
- ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এর সদস্য সংখ্যা ৭০টি দেশ।
- V20 গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের প্রায় ২০% জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে এবং বৈশ্বিক নির্গমনের প্রায় ৫% উৎপন্ন করে।
- এটি জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) এর Climate Vulnerable Forum-এর সাথে সরাসরি যুক্ত।
- বাংলাদেশ ২০২০–২০২২ সালে এই গ্রুপের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে।
উৎস: V20 অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
'নিউক্লীয় শক্তি' নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস নয়।
নবায়নযোগ্য শক্তি:
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
- এই শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না।
- বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস যেমন: সূর্যের আলো ও তাপ, বায়ু প্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈব শক্তি (জৈবভর), ভূ-তাপ, সমুদ্র তরঙ্গ, সমুদ্র-তাপ, জোয়ার-ভাটা, শহুরে আবর্জনা, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
• অনবায়নযোগ্য শক্তি:
- অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-renewable Energy) হলো যে সম্পদ প্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবে নবায়ন হয় না এমনকি মানুষ ও নবায়ন করতে পারে না।
- যেমন: প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, নিউক্লীয় শক্তি, খনিজ তেল ইত্যাদি।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।
এছাড়াও,
• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।
• স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা:
- অবস্থান: জাফলং, গোয়াইনঘাট, সিলেট।
- এটি জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে ১ কিমি পশ্চিমে, খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
- এর স্থানীয় নাম মায়াবী ঝর্ণা।
- এই অবিরাম ধারার মোট তিনটি ধাপ রয়েছে, যার মধ্যে তৃতীয় ধাপে এমন একটি সুড়ঙ্গ রয়েছে যার অন্য প্রান্ত এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি।
তথ্যসূত্র: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।
- মারজাত বাওড়, গুলশানবারিধারা লেক, বালু নদী প্রতিবেশগত সংকাটাপন্ন এলাকা।
• প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
• ভূপ্রাকৃতিক অনুকূল অবস্থার কারণে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ।
- কিন্তু অপরিণামদর্শী কর্মকান্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নানান ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন।
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
• এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- সুন্দরবন: সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চতুর্দিকে ১০ কিমি বিস্তৃত এলাকা।
- কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত: গ্রাম, কৃষিজমি, পাহাড়, জঙ্গল, বনভূমি, সমুদ্রসৈকত, খাড়ি, বালিয়াড়ি, ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় জলাভূমিসহ উপকূলীয় এলাকা
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ: বালিয়াড়ি, পাথরময় জোয়ার-ভাটা অঞ্চল, উপকূলীয় জলাভূমি ও কোরালসহ সামুদ্রিক দ্বীপ।
- সোনাদিয়া দ্বীপ: ম্যানগ্রোভ, খাড়ি ও বালিয়াড়িসহ উপকূলীয় দ্বীপ।
- হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশানবারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।
উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
IPCC
IPCC - এর পূর্ণরূপ Intergovernmental Panel on Climate Change। এটি জাতিসংঘ এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় অঙ্গ যার প্রধান উদ্দেশ্য জলবায়ু পরিবর্তন, এর প্রভাব ও এর ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এবং এই ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে কর্মপন্থা - ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করে। বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস নিয়ে কাজ করা এই সংস্থাটি গ্রীণ হাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস এবং এর ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতি বছর বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে নিবন্ধ (Scientific Article) প্রকাশ করে থাকে।
⤇ বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (World Meteorological Organization - WMO), জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (United Nations Environment Programme - UNEP) এবং বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক কাউন্সিল (International Council of Scientific Unions) ১৯৮৫ সালে গ্রীণহাউস গ্যাস নিঃসরণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বিষয়ক চলমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যবেক্ষণ ও এ সম্পর্কে মতামত (Recommendations) প্রদানের জন্য “Advisory Group on Greenhouse Gases” নামে একটি প্যানেল গঠন করে।
১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে IPCC - একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সংস্থা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।
উৎসঃ Live MCQ content (Upcoming) ও IPCC website.
সুয়েজ খাল:
- সুয়েজ খালের গুরুত্ব মিশরের অর্থনীতিতে অপরিসীম।
- ফরাসি ব্যক্তিত্ব ফার্দিন্যান্ড ডি লেসসেপস এর নির্দেশনায় সুয়েজ খাল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় ১৮৬৯ সালে।
- মিশর এটি জাতীয়করণ করে ১৯৫৬ সালে।
- সুয়েজ খাল সংযুক্ত করেছে ভূ-মধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরকে।
- এই জলপথের একপ্রান্তে রয়েছে পোর্ট সৈয়দ বন্দর এবং অপরপ্রান্তে সুয়েজ বন্দর।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জাহাজ চলাচলের পথগুলির মধ্যে একটি।
উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
বালু মাটিতে বিদ্যমান মাটির কণাগুলো আকারে বড় হয়।
এদের মধ্যে কোন আঠালো ভাব নেই।
ফলে শুষ্ক অবস্থায় এরা ঝরঝরে হয়।
এদের কণাগুলো বড় হওয়ায় এদের মধ্যে ফাঁকা জায়গা বেশি থাকে এবং এই ফাঁকা স্থানে বেশি পরিমাণে বাতাস থাকে।
বালু মাটি সহজেই পানি শোষণ করতে পারে তবে পানি ধরে রাখতে পারে না।
এজন্য বালুমাটি সহজেই শুষ্ক হয়ে যায়।
বালুমাটিতে জৈব উপাদান সামান্য পরিমাণ থাকে।
ফলে এতে ফসল উৎপাদন ভাল হয় না।
বালুমাটি দানাযুক্ত ও হাতে নিলে এদের অমসৃণ ভাব অনুভূত হয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (উন্মুক্ত)।
গিবসন মরুভূমি:
- গিবসন মরুভূমি (Gibson Desert) অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশাল মরু অঞ্চল,
- যা আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপনের জন্য পরিচিত।
- অবস্থান: পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত;
- লিটল স্যান্ডি মরুভূমি, গ্রেট স্যান্ডি মরুভূমি এবং গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি দ্বারা ঘেরা।
- আয়তন: প্রায় ১৫৫,০০০ বর্গ কিলোমিটার (১৫৬,০০০ কিমি²);
- অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম মরুভূমি, যা দেশের মোট আয়তনের ২.০%।
জলবায়ু: সাধারণত গরম; গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৪০°সে-এর উপরে, শীতকালে ন্যূনতম ৬°সে।
- ১৮৭৪ সালে অন্বেষণকারী অ্যালফ্রেড গিবসনের নামে নামকরণ, যিনি এই মরুভূমিতে হারিয়ে যান এবং কখনো পাওয়া যায়নি।
•বিভিন্ন দেশের কয়েকটি বিখ্যাত মরুভূমি:
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা (১১টি দেশ জুড়ে)
- আরবীয়ান মরুভূমি: এশিয়া (আরব উপদ্বীপ)
- গোবি মরুভূমি: এশিয়া (মঙ্গোলিয়া, চীন)
- প্যাটাগোনিয়ান মরুভূমি: দক্ষিণ আমেরিকা (আর্জেন্টিনা)
- গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি: অস্ট্রেলিয়া
- কালাহারি মরুভূমি: আফ্রিকা (নামিবিয়া, বতসোয়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা)।
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
- ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন,
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই,
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলি,
- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- আমাজন নদী পৃথিবীর অন্যতম প্রশস্ততম নদী।
- আমাজন নদী বিশাল আমাজন অববাহিকার মধ্য দিয়ে ৪,০০০ মাইলেরও বেশি বিস্তৃত। শুষ্ক মৌসুমে এর গড় প্রস্থ ৪.৫ মাইল, শুধুমাত্র আমাজন নদীই প্রায় ১৮,০০০ বর্গমাইল ভূমি জুড়ে বিস্তৃত,
আমাজন নদী:
- আমাজন নদী বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৪০০ কিলোমিটার।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী, আয়তন বা প্রবাহের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- আমাজন নদী দক্ষিণ আমেরিকার ছয়টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত: ব্রাজিল, পেরু এবং কলম্বিয়া, বলিভিয়া , ইকুয়েডর , ভেনেজুয়েলা ।
- নদীটি আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়।
- নদীর চারপাশের অঞ্চল, আমাজন রেইনফরেস্ট, অত্যন্ত জীববৈচিত্র্যপূর্ণ।
- নদীর তীরবর্তী বনে অনেক প্রজাতি বাস করে।
- নদীর জলাশয়ও প্রাণে সমৃদ্ধ।
- বিশ্বের পরিচিত সমস্ত প্রজাতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমাজন অঞ্চলে বাস করে।
- আমাজন নদীতে হাজার হাজার মাছের প্রজাতি পাওয়া যায়।
- নদীতে বিরল আমাজন নদীর ডলফিন, ওটার, ম্যানাটি এবং অ্যানাকোন্ডা পাওয়া যায়।
- এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি বিশিষ্ট সরীসৃপ প্রজাতি নদীর জলে পাওয়া যায়।
উৎস: i) world population review.
ii) ব্রিটানিকা।
কাস্পিয়ান সাগর:
- আজারবাইজান, রাশিয়া, কাজাখস্তান, তুর্কিমেনিস্তান ও ইরান জুড়ে অবস্থিত এই কাস্পিয়ান সাগর।
- কাস্পিয়ান সাগর বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- দৈর্ঘ্য ১১৯৯ কিমি)।
- এটি মূলত ভূ-বেষ্টিত সাগর।
উল্লেখ্য,
- বিশ্বের বৃহত্তম সুপেয় পানির হ্রদ- সুপিরিয়র।
- বিশ্বের গভীরতম হ্রদ - বৈকাল হ্রদ।
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ - পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম হ্রদ।
সূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবঃ (বাংলাদেশ প্রেক্ষিত)
মানবসৃষ্ট নানা রকম কাজকর্ম যা পরিবেশের ক্ষতি করছে সেগুলোই বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। এই সমস্ত কার্যক্রম যেমন শিল্পায়ন, বনাঞ্চল উজাড়, পারমানবিক পরীক্ষা, কৃষির সম্প্রসারণ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, কাঠ-কয়লা পোড়ানো ইত্যাদি দ্বারা নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস গ্যাসই বিশ্ব উষ্ণায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। দিন দিন জলবায়ুপরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে এদেশের প্রাকৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বই
• ভৌগোলিকভাবে Tropic of Cancer -কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর জেলার ওপর দিয়ে গেছে।
---------------------
• বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত।
- এটি ২০°৩৪′ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগলিক রেখা অতিক্রম করেছে তার নাম কর্কটক্রান্তি রেখা বা ট্রপিক অব ক্যানসার এবং এটি 90 ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা।
- কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) হলো পৃথিবীর বিষুবরেখা থেকে প্রায় ২৩°২৭′ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত।
- এই অক্ষাংশ হলো সূর্যের সর্বোত্তম উত্তরের অবক্ষয় যখন সূর্য তার কক্ষপথে বিষুবরেখার সমান্তরাল অবস্থায় থাকে।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন সূর্যস্থানান্তর প্রায় জুন ২১ তারিখে ঘটে, তখন সূর্য সরাসরি কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর থাকে।
- বাংলাদেশের কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করা জেলার নামগুলো হলো:
- চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি।
- বাংলাদেশের ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা ও কর্কটক্রান্তি রেখার ছেদবিন্দু ফরিদপুরে অবস্থিত।
উৎস: Britannica ও বাংলাপিডিয়া।
ডেভিস প্রণালী (Davis Strait)
- অবস্থান: গ্রিনল্যান্ড এবং কানাডার বাফিন দ্বীপের মাঝে অবস্থিত।
- পৃথক করেছে: গ্রিনল্যান্ড ও বাফিন দ্বীপকে।
- সংযুক্ত করেছে: উত্তরে বাফিন উপসাগর এবং দক্ষিণে ল্যাব্রাডর সাগরকে (আটলান্টিক মহাসাগরের অংশ)।
• ফ্লোরিডা প্রণালী (Straits of Florida)
- অবস্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য এবং কিউবার মাঝে অবস্থিত।
- পৃথক করেছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও কিউবাকে।
- সংযুক্ত করেছে: মেক্সিকো উপসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরকে।
• হাডসন প্রণালী (Hudson Strait)
- অবস্থান: কানাডার কুইবেক প্রদেশ এবং বাফিন দ্বীপের মাঝে অবস্থিত।
- পৃথক করেছে: বাফিন দ্বীপ ও কানাডার মূল ভূখণ্ডকে (কুইবেক/ল্যাব্রাডর)।
- সংযুক্ত করেছে: পশ্চিমে হাডসন উপসাগর এবং পূর্বে ল্যাব্রাডর সাগরকে (আটলান্টিক মহাসাগর)।
• ইউক্যাটান প্রণালী
- মেক্সিকো এবং কিউবাকে পৃথক করেছে ইউক্যাটান প্রণালী (Yucatan Channel)।
- এটি মেক্সিকোর ইউক্যাটান উপদ্বীপ এবং কিউবা দ্বীপের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
- সংযুক্ত করেছে: মেক্সিকো উপসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরকে।
- বিশেষত্ব: এটি বিখ্যাত 'গাল্ফ স্ট্রিম' সমুদ্রস্রোতের প্রধান প্রবেশপথ।
উৎস: ব্রিটানিকা।
• শুক্র :
- বুধের মতো শুক্র গ্রহকেও ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়।
- শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়।
- কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না।
- সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প:
- গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট) গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে (বাংলাদেশের ভূখন্ডে) সেচের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
- এর মধ্যে ১,৪২,০০০ হেক্টর জমি সেচযোগ্য।
- উল্লিখিত চারটি জেলার সর্বমোট ১৩টি উপজেলায় এ কার্যক্রম বিস্তৃত।
- উপজেলাগুলি হলো - কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর, ভেড়ামারা, চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহ সদর, হরিণাকুন্ড, শৈলকূপা, মাগুরা সদর, শ্রীপুর এবং দৌলতপুর।
- প্রকল্পের ভৌগোলিক সীমারেখা উত্তরে গঙ্গা ও গড়াই নদী, পূর্বে গড়াই-মধুমতি, দক্ষিণে নবগঙ্গা এবং পশ্চিমে মাথাভাঙ্গা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো, গঙ্গা নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে সংযোগ খাল ও নালার মাধ্যমে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ
উল্লেখ্য,
- সমগ্র প্রকল্প এলাকাটি দুটি অঞ্চলে বিভক্ত, কুষ্টিয়া অঞ্চল এবং যশোর অঞ্চল।
- পর্ব-১ এর আওতাভুক্ত এলাকা ৮৫,০২০ হেক্টর যার মধ্যে ৪৮,৭০০ হেক্টর ভূমি সেচযোগ্য।
- পর্ব-২ এর আওতাভুক্ত এলাকা ১,১৭,৮১৪ হেক্টর যার মধ্যে ৯৩,৩০০ হেক্টর ভূমি সেচযোগ্য।
- প্রকল্পটির আওতায় সর্বমোট সেচযোগ্য ভূমির পরিমাণ ১,৪২,০০০ হেক্টর।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে।
- এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।
তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সাহেল বা সাহিল (Sahel) অঞ্চল বলে অভিহিত পশ্চিম আফ্রিকার সাব সাহারা অঞ্চল।
এই অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হচ্ছে - মৌরিতানিয়া, মালি ও নাইজার প্রভৃতি।
- প্রেইরি (Prairie) - উত্তর আমেরিকার উর্বর তৃণভূমি।
- তৈগা (Taiga) - পূর্ব সাইবেরিয়া অঞ্চলের বনাঞ্চল। আবার উত্তর আমেরিকাতেও তৈগা ধরনের বনাঞ্চল রয়েছে।
- ল্যানোস (Llanos) দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত তৃণভূমি।
• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।
- সুন্দরবন দুটি বন বিভাগে বিভক্ত: সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ ও সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ।
- বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬০১৭ বর্গ কি.মি.।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে UNESCO সুন্দরবনের ৩টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে ৭৯৮তম World Heritage Site হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের জলভাগ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হওয়ায় ১৯৯২ সনের ২১ মে থেকে এটি Ramsar Site হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
- টাঙ্গুয়ার হাওর ১০ জুলাই, ২০০০ সালে রামসার সাইটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
উৎস: বন সংরক্ষণ দপ্তর ও রামসার সাইট।
• SAARC:
- SAARC এর পুরনরুপ- South Asian Association for Regional Cooperation
- SAARC হলো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম।
- এটি ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৫ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে এর ৮টি সদস্য দেশ রয়েছে।
- SAARC-এর আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন দেশের নির্দিষ্ট খাতের উন্নয়ন ও গবেষণায় কাজ করে।
- SAARC দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র: গান্ধীনগর, গুজরাত, ভারতে অবস্থিত।
উল্লেখ্য,
• SAARC-এর আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহ :
- SAARC সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে কলম্বো, শ্রীলংকায়;
- কৃষি ও আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র ঢাকায় অবস্থিত।
- যক্ষ্মা ও এইচআইভি/এইডস কেন্দ্র কাঠমান্ডু, নেপালে অবস্থিত।
- শক্তি কেন্দ্র পাকিস্তানে অবস্থিত।
- বন গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত থিম্পু, ভুটানে;
- মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থিত।
- এবং উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র মালদ্বীপে অবস্থিত।
উৎস: SAARC Official Website.
- ‘ধরলা ও আত্রাই’ যমুনা নদীর উপনদী।
যমুনা (ব্রহ্মপুত্র):
- হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের একটি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- তারপর তিব্বত ও আসামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ রংপুর অঞ্চলের কুড়িগ্রামের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জের কাছে এটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়।
- একটি যমুনা নামে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- অপর শাখা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে ময়মনসিংহের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরবের নিকট মেঘনায় পতিত হয়েছে। জানা যায়, দুইশত বৎসর আগে এটিই ব্রহ্মপুত্রের মূল গতিধারা ছিল।
• উপনদী: তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, আত্রাই, কালজানি, তোরসা, জলঢাকা, নাগর, দুপচাপিয়া, যমুনেশ্বরী, রায়ঢাক, ধবলা, ঘাঘট, বাঙালি, বড়াল, গঙ্গা, নারদ নদ, ধবল বা দুধকুমার, তুলসী গঙ্গা, শিব বরনাই।
• শাখা নদী: ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা।
উৎস: অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।