বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৩৬ / ৭২ · ৩,৫০১৩,৬০০ / ৭,১৯১

৩,৫০১.
বাংলাদেশের সমগ্র মধ্যাঞ্চল কোন জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চল
  2. ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল
  3. ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল
  4. উপক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জলবায়ু অঞ্চলের বিবরণ:
- বাংলাদেশ সমভাবাপন্ন ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত হলেও এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু লক্ষ করা যায়।
- জলবায়ুর তারতম্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে নিম্নোক্ত ছয়টি জলবায়ু অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়। যেমন-

১. ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চল:
- বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলীয় এলাকা ক্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু অঞ্চরের অন্তর্গত।

২. ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া সমগ্র চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চলের অন্তভুক্ত।

৩. ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পটুয়াখালী, নোয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য এলাকা, যশোরের পূর্বাংশ; ঢাকা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের উত্তর-পূর্বাংশ ব্যতীত সমগ্র এলাকা; দক্ষিন-পশ্চিম ও পূর্ব সিলেট; পাবনা ও দক্ষিণ-পূর্ব বগুড়া নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত। অর্থাৎ বাংলাদেশের সমগ্র মধ্যাঞ্চল ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। 

৪. ক্রান্তীয় মৃদু আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- পশ্চিম-দক্ষিণ বগুড়া ও পাবনা, দক্ষিণ দিনাজপুর, সমগ্র রাজশাহী ও কুষ্টিয়া এবং পশ্চিম-উত্তর যশোর অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু গঠিত। বাংলাদেশের মধ্যে এ অঞ্চলই সর্বাপেক্ষা শুষ্ক ও উষ্ণ। 

৫. উপক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চল:
- রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দক্ষিণের সামান্য অংশ ব্যতীত সমস্ত এলাকা এ জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। এখানকার জলবায়ু চরমভাবাপন্ন। অর্থাৎ শীতের সময় অত্যধিক শীত এবং গ্রীষ্মের সময় অত্যধিক গরম পড়ে। 

৬. উপক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ু অঞ্চল:
- সমগ্র সিলেট ও উত্তর-পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চল নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল গঠিত।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫০২.
গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পটি কোন জেলাগুলোতে বিস্তৃত রয়েছে?
  1. কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা
  2. রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, পঞ্চগ্রাম 
  3. চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর
  4. সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা

গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প: 
- গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট)  গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে (বাংলাদেশের ভূখন্ডে) সেচের জন্য  বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ  সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
- এর মধ্যে ১,৪২,০০০ হেক্টর জমি সেচযোগ্য।
- উল্লিখিত চারটি জেলার সর্বমোট ১৩টি উপজেলায় এ কার্যক্রম বিস্তৃত।
- উপজেলাগুলি হলো - কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর, ভেড়ামারা, চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহ সদর, হরিণাকুন্ড, শৈলকূপা, মাগুরা সদর, শ্রীপুর এবং দৌলতপুর।
- প্রকল্পের ভৌগোলিক সীমারেখা উত্তরে গঙ্গা ও  গড়াই নদী, পূর্বে গড়াই-মধুমতি, দক্ষিণে  নবগঙ্গা এবং পশ্চিমে মাথাভাঙ্গা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো, গঙ্গা নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে সংযোগ  খাল ও নালার মাধ্যমে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ 

উল্লেখ্য,
- সমগ্র প্রকল্প এলাকাটি দুটি অঞ্চলে বিভক্ত, কুষ্টিয়া অঞ্চল এবং যশোর অঞ্চল।
- পর্ব-১ এর আওতাভুক্ত এলাকা ৮৫,০২০ হেক্টর যার মধ্যে ৪৮,৭০০ হেক্টর ভূমি সেচযোগ্য।
- পর্ব-২ এর আওতাভুক্ত এলাকা ১,১৭,৮১৪ হেক্টর যার মধ্যে ৯৩,৩০০ হেক্টর ভূমি সেচযোগ্য।
- প্রকল্পটির আওতায় সর্বমোট সেচযোগ্য ভূমির পরিমাণ ১,৪২,০০০ হেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৩,৫০৩.
ব্যাফিন উপসাগরের অবস্থান-
  1. কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে
  2. যুক্তরাজ্য ও আইসল্যান্ডের মধ্যে
  3. আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে
  4. যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের মধ্যে
ব্যাখ্যা
ব্যাফিন উপসাগর (Baffin Bay):
- উত্তর আর্কটিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসাগর, যা কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে অবস্থান করছে।
- এটি অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের অংশ।
- এটি গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূল এবং কানাডার নূনাভুত (Nunavut) অঞ্চলের কিছু অংশ দ্বারা বেষ্টিত।
- এই উপসাগর উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে আর্কটিক মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত।
- ব্যাফিন উপসাগরের প্রধান জলধারা হল বাফিন করিডোর, যা গ্রিনল্যান্ড এবং কানাডার আরেকটি অংশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আর্কটিক মহাসাগরের দিকে চলে যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৫০৪.
নিচের কোনটি পাললিক শিলা?
  1. চুনাপাথর
  2. ব্যাসল্ট
  3. গ্রানাইট
  4. মার্বেল
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ।

পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
১। পাললিক শিলা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়;
২। পাললিক শিলায় জীবাশ্ম পাওয়া যায়;
৩। পাললিক শিলা স্ফটিকাকার নয়;
৪। পাললিকা শিলা হালকা, ভঙ্গুর ও তরঙ্গ বিশিষ্ট।

অন্যদিকে -
- আগ্নেয় শিলা: গ্রানাইট, ব্যাসল্ট।
- রূপান্তরিত শিলা: মার্বেল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৫০৫.
কত সাল থেকে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগৃহীত হয়?
  1. ক) ১৫৪৮
  2. খ) ১৪৪৮
  3. গ) ১৮৪২
  4. ঘ) ১৯৭৮
ব্যাখ্যা
১৫৪৮ সাল থেকেই বাংলাদেশ এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগৃহীত শুরু হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্র উপকেন্দ্রের সঙ্গে তিন ধরনের পরিমাপ সম্পর্কযুক্ত। অগভীর কেন্দ্র (০-৭০ কিলােমিটার), মধ্য পর্যায়ের কেন্দ্র (৭০- ৩০০ কিলােমিটার) এবং গভীর কেন্দ্র (১,৩০০ কিলােমিটার)। সুতরাং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উপকেন্দ্র না থাকলেও সংলগ্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব হিসেবে বাংলাদেশেও ভূকম্পন অনুভূত হয়। (রেফারেন্সঃ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর)
৩,৫০৬.
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে বায়ুর -
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে বায়ুর নাইট্রোজেন (N)। 
- মাটিতে নাইট্রোজেন (N) এর পরিমাণ বৃদ্ধি হয় রাইজোবিয়াম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। 
- মাটিতে নাইটোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড সহ ইত্যাদি বায়ুবীয় পদার্থ উপস্থিত থাকে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫০৭.
নিচের কোন দেশে সর্বাধিক ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে?
  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) ইন্দোনেশিয়া
  3. গ) ব্রাজিল
  4. ঘ) ভারত
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীতে ১০২টি দেশে ম্যানগ্রোভের অস্তিত্ব থাকলেও কেবলমাত্র ১০টি দেশে ৫০০০ বর্গ কিমি এর বেশি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রয়েছে। 
- পৃথিবীর সমগ্র ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ৪৩% ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া এবং নাইজার এ অবস্থিত এবং এদের প্রত্যেকটি দেশে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ২৫% হতে ৬০% ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রয়েছে। 
- বাংলাদেশে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বন (সুন্দরবন) পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত।
 
উৎস : বাংলাপিডিয়া। 
৩,৫০৮.
বঙ্গোপসাগরের কোন দিকে আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান ?
  1. উত্তর দিক
  2. দক্ষিণ-পশ্চিম দিক
  3. দক্ষিণ-পূর্ব দিক
  4. পূর্ব দিক
ব্যাখ্যা

বঙ্গোপসাগর : 
- এটি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় উপসাগর।
- এর মোট আয়তন ২৬,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরের গড় গভীরতা ২,৬০০ মিটার।
- এর সর্বোচ্চ গভীরতা ৪,৬৯৪ মিটার।
- এটি দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করা হয়েছে।
- বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।
- বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ সীমানা শুরু হয় শ্রীলঙ্কার সাঙ্গামান কান্দা থেকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা পর্যন্ত।

• বঙ্গোপসাগর ঘিরে রয়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ- 
- উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিমে ভারত,
- পূর্বে মিয়ানমার,
- উত্তরে বাংলাদেশ,
- দক্ষিণ-পশ্চিমে শ্রীলঙ্কা,
- এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইন্দোনেশিয়া।
- এই উপসাগর ঘিরে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম বনভূমি সুন্দরবন এবং সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত  কক্সবাজার।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৩,৫০৯.
ছাত্রছাত্রী সংখ্যার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় কোনটি?
  1. ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
ছাত্রছাত্রী সংখ্যার উপর ভিত্তি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়।
Source: worldatlas.com
৩,৫১০.
বান্দবান জেলার প্রধানতম নদী কোনটি?
  1. কুশিয়ারা
  2. কর্নফুলী
  3. সাঙ্গু
  4. ঘাঘট
ব্যাখ্যা
- সাঙ্গু নদী বান্দবান জেলার প্রধানতম নদী। স্থানীয়ভাবে শঙ্খ নদী, পাহাড়ি নদী।
- কর্নফুলীর পর এটি চট্টগ্রাম বিভাগের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী।
- বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে কয়টি নদীর উৎপত্তি তার মধ্যে সাঙ্গু নদী অন্যতম।
- মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের থানচি উপজেলারমদক এলাকার পাহাড়ে এ নদীর জন্ম।
- বান্দরবান জেলা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এটি বঙ্গোপসাগরে গিযে মিশেছে।
- উৎসমুখ হতে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত এই নদীর দৈর্ঘ্য ১৭০ কিলোমিটার। 
- বাংলাদেশের বেশির ভাগ নদী উত্তর হতে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে।
- কিন্তু সাঙ্গু নদী বান্দরবানের দক্ষিণাঞ্চলে সৃষ্টি হয়ে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে শেষ হয়েছে। 
- বান্দরবান জেলার আরও অন্যতম দুইটি নদী হল মাতামুহুরী ও বাঁকখালী। 

উৎস: বান্দরবন জেলা ওয়েবসাইট
৩,৫১১.
মারে নদী কোন দেশে অবস্থিত?
  1. কানাডা
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. নিউজিল্যান্ড
ব্যাখ্যা
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নদী:
-অস্ট্রেলিয়ার কৃষিপ্রধান এলাকা গড়ে উঠেছে মারে নদী ধরে।
- মারে নদী, অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নদী এবং মারে-ডার্লিং বেসিনের প্রধান প্রবাহ।
- এটি তুষারময় পর্বতমালা থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া জুড়ে প্রায় 1,570 মাইল (2,530 কিমি) প্রবাহিত হয়।
- ঔপনিবেশিক সেক্রেটারি স্যার জর্জ মারের (Sir George Murray) নামে এই নদীর নামকরণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।
৩,৫১২.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোন স্তরটি বেশি ব্যয়বহুল?
  1. সাড়াদান
  2. পুনরুদ্ধার
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. প্রশমন
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্ৰান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ কালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

প্রশমন (Mitigation):
- দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হয়ে থাকে।
- বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস করা যায়।
- তবে মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫১৩.
পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা কোনটি?
  1. লাইন অব ডিমারকেশন
  2. ব্লু লাইন
  3. ওডার-নেইস লাইন
  4. ডুরান্ড লাইন
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন দেশের সীমানা:
⇒ পার্পল লাইন: ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
⇒ সনেরা লাইন: মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সীমানা।
⇒ ওডার-নেইস লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যকার সীমানা।
⇒ ব্লু লাইন: লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার সীমানা।
⇒ লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
⇒ ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা।
⇒ রেডক্লিফ লাইন: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
⇒ লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল / ম্যাকমোহন লাইন: চীন ও ভারতের মধ্যে সীমানা।
⇒ লাইন অব কন্ট্রোল: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৩,৫১৪.
কোন শহরকে মসজিদের শহর বলা হয়?
  1. ঢাকা
  2. ইস্তাম্বুল
  3. কায়রো
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
গুরুত্বপূর্ন ভৌগলিক উপনাম (শহর)
- উদ্যানের শহর - শিকাগো।
- বিগ এ্যাপল - নিউওইয়র্ক।
- গোলাপী শহর -জয়পুর, রাজস্থান।
- চির বসন্তের নগরী - কিটো, ইকুয়েডর।
- চির শান্তির শহর - রোম।
- নিষিদ্ধ শহর - লাসা, তিব্বত।
- মসজিদের শহর - ঢাকা ও ইস্তাম্বুল।
- মন্দিরের শহর - বেনারস।
- সাত পাহাড়ের শহর - রোম।
- স্বর্ণ নগরী - জোহান্সবার্গ।
- সম্মেলনের শহর - জেনেভা।
- গ্রানাইটের শহর - এভারডিন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৩,৫১৫.
’হাইল হাওর’ কোন দুটি জেলা জুড়ে বিস্তৃত?
  1. মৌলভীবাজার ও সিলেট
  2. সিলেট ও হবিগঞ্জ
  3. নেত্রকোনা ও বরিশাল
  4. মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
হাইল হাওর:
- মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত ‘হাইল হাওর’।
- এই বিশাল জলাধারে রয়েছে ১৪টি বিল এবং পানি নিষ্কাশনের ১৩টি নালা।
- মোট আয়তন ১০ হাজার হেক্টর।
- প্রচুর লতা ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ থাকায় স্থানীয়দের কাছে এটি লতাপাতার হাওর নামেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৫১৬.
গ্রিনিচ মান মন্দির কোথায় অবস্থিত?
  1. রোম
  2. ইস্তাম্বুল
  3. লন্ডন
  4. নিউ ইয়র্ক
ব্যাখ্যা

→ গ্রিনিচ মান মন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত।

গ্রিনিচ মান সময়:
- গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় ৬ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ +৬ ঘন্টা।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- অর্থাৎ ২০ দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৮ মিনিট।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী ও ব্রিটানিকা।

৩,৫১৭.
ভূ-অভ্যন্তরের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে কোন ধরনের দুর্যোগটি সংঘটিত হয়?
  1. ক) কালবৈশাখি ঝড়
  2. খ) বন্যা
  3. গ) নদী ভাঙন
  4. ঘ) অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
• ভূ-অভ্যন্তর উত্তপ্ত বলে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের যে তারতম্য হয়, তাতে ভূ-অভ্যন্তরে প্রচন্ড শক্তির সৃষ্টি হয় এবং ভূ-ত্বকের আকস্মিক ও ধীর পরিবর্তন হয়।
• ভূ-অভ্যন্তরের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি হয়ে থাকে।
• এসব দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ায় দূষণের উদ্ভব হতে পারে। যেমন- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে গ্রাম, শহর ও জনপদ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পম্পেই নগর লাভার নিচে চাপা পড়ে। এছাড়া ছাই, ভস্ম ইত্যাদি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে বাতাস দূষিত করে তোলে।
• আবার ভূমিকম্পের ফলে বহু মানুষ, জীবজন্তু মারা যায় এবং ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়। মৃতদেহসমূহ দ্রুত সরাতে না পারলে তা পচে দুর্গন্ধ এবং রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বায়ু, পানি এবং মৃত্তিকা দূষণ
দেখা দেয়। সুতরাং বলা যায় যে, ভূ-অভ্যন্তরস্থ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট দুর্যোগসমূহ দূষণের কারণ হিসেবে কাজ করে।   

তথ্যসূত্র:- ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫১৮.
বাংলাদেশে বছরের শুষ্কতম মাস কোনটি?
  1. ক) এপ্রিল
  2. খ) মার্চ
  3. গ) ডিসেম্বর
  4. ঘ) জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ুর সাধারণ চিত্র:
- গড় বার্ষিক তাপমাত্রা ২৬.১০ (৭৯° ফা.)।
- গড় তাপমাত্রার পার্থক্য (দিবারাত্রি) ৯° সে, 
- গড় মাসিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪°সে. (৯৩° ফা.) এপ্রিল মাসে; 
- গড় মাসিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ডিসেম্বরে ১৪° সে (৫৭° ফা.) 
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৮৭৫ মিলিমিটার;
- গড়ে বছরে ১৩৬ দিন ০.১ মিলিমিটারের অধিক বৃষ্টিপাত হয়;
- ডিসেম্বর বছরের শুষ্কতম মাস হিসাবে বিবেচিত (গড় বৃষ্টিপাত ৫ মিলিমিটার);
- সর্বাধিক আর্দ্র মাস হল আগস্ট (গড় বৃষ্টিপাত ৩৩৭ মিলিমিটার)
- গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৫.৫%।
- গড় মাসিক আদ্রতা মার্চে ৪৫% জুন-জুলাইয়ে ৭৯% এর উন্নীত হয়;
- বাংলাদেশে বছরে কোনাে তুষার দিবস নেই।

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, দেশের শীতলতম মাস - জানুয়ারি।
৩,৫১৯.
বিষমমণ্ডলের মধ্যে কোন স্তরগুলো অন্তর্ভুক্ত?
  1. ট্রপোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল
  4. স্ট্রাটোমণ্ডল ও তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ:
- ভূ-পৃষ্ঠ ও তার আশেপাশে যে বায়বীয় মন্ডল আবর্তিত আছে তাকে বায়ুমণ্ডল বলে।
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাসীয় উপাদান, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কনিকা দ্বারা গঠিত।
- মূলত বায়ুমণ্ডলের গঠনকারী উপাদানসমূহের প্রকৃতি, উষ্ণতার পার্থক্য অর্থাৎ অন্যান্য সকল বৈশিষ্ট্যের তারতম্যের জন্য বায়ুমণ্ডলকে নানা স্তরে ভাগ করা যায়।
- এই সকল স্তর মূলত ভূ-পৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে মোট পাঁচটি পর্যায়ে রয়েছে।
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরসমূহ হলো-ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল।

⇒ আবার এই সকল স্তরকেও প্রধানত দুইটি স্তরে ভাগ করা হয়। যথা- সমমণ্ডল বা হোমোস্ফিয়ার ও বিষমমণ্ডল বা হেট্যারোস্ফিয়ার।

সমমণ্ডল ও বিষমমণ্ডল:
- সমমণ্ডল বা হোমোস্ফিয়ার এর বৈশিষ্ট্য হলো যে এই মণ্ডলে ভূ-পৃষ্ঠ হতে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুস্তরে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত প্রায় সমান থাকে।
- এই সমমণ্ডলের মধ্যেই বায়ুমণ্ডলের প্রথম তিনটি স্তর অর্থাৎ ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডল অন্তর্ভুক্ত।
- বিষমমণ্ডল এর মধ্যে বায়ুমণ্ডলের বাকী দুইটি স্তর অর্ন্তভুক্ত। এ স্তর দুটি হলো তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল। 
- মূলত এই মণ্ডলটি সমমণ্ডলের উপরে অবস্থিত। সমমণ্ডলের উপরের স্তরে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত অসমান থাকে বলেই একে বিষমমণ্ডল বলা হয়।
- বিষমমণ্ডল প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২০.
নিম্নের কোনটি ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগের উদাহরণ?
  1. খরা
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. বজ্রপাত
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ (Disaster):
- উৎপত্তিগতভাবে দুর্যোগ বলতে এমন একটি অবস্থা বুঝায় যা মানুষকে মন্দ বা অকল্যাণকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করে।
- এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মানুষকে অনেক মূল্য দিতে হয়।
- দুর্যোগ কখনো হঠাৎ সংঘটিত হয় আবার কখনো বা এক বা একাধিক ঘটনা ধীরে ধীরে দুর্যোগ সৃষ্টি করতে পারে।
- আবার অনেক সময় একটি দুর্যোগ একাধিক দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন- ভূমিকম্প থেকে সুনামি হতে পারে।

দুর্যোগের ধরণ:
দুর্যোগ দুই ধরনের হতে পারে। যথা- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ এবং দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ।

১. ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ (Slow Onset Disaster):
- ধীর গতিসম্পন্ন দুর্যোগ হলো এমন একটি অবস্থা, যা মানুষের খাদ্য ও জীবিকানির্বাহের পণ্যসামগ্রী সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত হয়।
- যেমন- খরা, শস্যহানি, কৃষিক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ ইত্যাদি।
- এ ধরনের দুর্যোগ সহজেই চিহ্নিত করা যায় বলে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়।

২. দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগ (Rapid Disaster):
- এ ধরনের দুর্যোগ আকস্মিক ঘটে থাকে বলে তা সহজে প্রতিরোধ করা যায় না।
- দ্রুত গতিসম্পন্ন দুর্যোগের ফলে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং জীবন ও সম্পদহানি ঘটে। যেমন- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২১.
বায়ুমন্ডলের উপাদানসমূহ মূলত কোনগুলো?
  1. বিভিন্ন গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা, কণিকা
  2. জলীয়বাষ্প, কাঁচের কণা, তাপ, চাপ
  3. বিভিন্ন কঠিন পদার্থ, জলীয়বাষ্প ও ধূলা-বালি
  4. ধূলিকণা, তরল পদার্থ, জলের কণা
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের উপাদান:

- পৃথিবীপৃষ্ঠ ও তার চারদিক জুড়ে বায়ুমন্ডল বেষ্টিত।
- এই মন্ডল নানা রকমের গ্যাসের মিশ্রণে গঠিত হয়েছে।
- এই গ্যাসীয় মিশ্রণ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত প্রায় সমান।
- বায়ুমন্ডলে আরও রয়েছে অসংখ্য ধূলিকণার সংমিশ্রণ।
- এই সব কঠিন ও তরল কণিকাকে একত্রে বলা হয় রঞ্জক পদার্থ (Aerosols)।
- বায়ুমন্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই।
- বায়ুমন্ডলের এই সব উপাদান স্বাভাবিক অবস্থায় অনুভব করা যায় না।
- বায়ুমন্ডলের উপাদান বলতে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণকে বুঝায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২২.
পানামা খাল কোন দুটি মহাসাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভূমধ্যসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর এবং আরব সাগর 
  3. ভারত মহাসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগর 
  4. আটলান্টিক মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর 
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- এটি বিশ্বের দুটি সবচেয়ে কৌশলগত কৃত্রিম জলপথের মধ্যে একটি, যা পানামা প্রজাতন্ত্রের মালিকানাধীন ও পরিচালিত।
- এটি আটলান্টিক মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর সংযুক্ত করে।
- উপকূল থেকে উপকূল পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য: প্রায় ৪০ মাইল (৬৫ কিমি)।
- উদ্বোধন: আগস্ট, ১৯১৪।
• নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসন:
- ১৯১৪-১৯৭৯: খালটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃত্বে পরিচালিত।
- ১৯৭৯: পানামা খাল কমিশন নামে মার্কিন ও পানামার যৌথ সংস্থা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ।
- ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯: খালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পানামা সরকারের কাছে হস্তান্তরিত।
- বর্তমান প্রশাসন: পানামা খাল কর্তৃপক্ষ, যা কেবল পানামা সরকারের কাছে জবাবদিহি করে।

উৎস: Britannica.

৩,৫২৩.
বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে কোনটির উপর?
  1. বায়ুর ঘনত্ব
  2. বায়ুর চাপ
  3. বায়ুর আর্দ্রতা
  4. সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
• বায়ুর আর্দ্রতা:
- বায়ুতে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না।
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুর আর্দ্রতার উপর বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে।
- বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে।
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। যথা- পরম আর্দ্রতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা হলো কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৪.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান কয়টি পর্যায় রয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন। এই ৩টি কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

• সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মুকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
• দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
• অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। লিঙ্ক]
৩,৫২৫.
গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস সংক্রান্ত চুক্তি কোনটি?
  1. মন্ট্রিল প্রটোকল
  2. কিয়োটো প্রটোকল
  3. কার্টাগোনা প্রটোকল
  4. বাসেল কনভেশন
ব্যাখ্যা
• কিয়োটো প্রটোকল:
- জাতিসংঘ পরিবেশবিষয়ক কিয়োটো প্রটোকল গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস সংক্রান্ত একটি চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত ১১ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে।
- কিয়োটো প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয় জাপানের কিয়োটোতে।
- কিয়োটো প্রটোকল কার্যকর হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে। 
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ পরিবেশবিষয়ক  কিয়োটো প্রটোকল স্বাক্ষর করে ১৯৯৮ সালে।
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ পরিবেশবিষয়ক  কিয়োটো প্রটোকল প্রত্যাহার করে ২০০১ সালে।
- জাতিসংঘ পরিবেশবিষয়ক কিয়োটো প্রটোকল স্বাক্ষর করে ২০০১ সালে।

উতস : জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩,৫২৬.
অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা

মালভূমি (Plateaus):
- পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তীর্ণ সমতলভূমিকে মালভূমি বলে।
- মালভূমির উচ্চতা শত মিটার থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে। পৃ
- অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমি তিন ধরনের। যথা-
(ক) পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি (Intermontane Plateau),
(খ) পাদদেশীয় মালভূমি (Piedmont Plateau) ও
(গ) মহাদেশীয় মালভূমি (Continental Plateau)।

(ক) পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি:
- এই মালভূমিপর্বতবেষ্টিত থাকে।
- তিব্বত মালভূমি একটি পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি, যার উত্তরে কুনলুন ও দক্ষিণে হিমালয় পর্বত এবং পূর্ব-পশ্চিমেও পর্বত ঘিরে আছে।
- দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া, মধ্য আমেরিকার মেক্সিকো এবং এশিয়ার মঙ্গোলিয়া ও তারিম এ ধরনের মালভূমি (চিত্র ৪.১৮)।

(খ) পাদদেশীয় মালভূমি:
-উচ্চ পর্বত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এর পাদদেশে তলানি জমে যে মালভূমির সৃষ্টি হয় তাকে পাদদেশীয় মালভূমি বলে।
- উত্তর আমেরিকার কলোরাডো এবং দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া পাদদেশীয় মালভূমি।

(গ) মহাদেশীয় মালভূমি:
- সাগর বা নিম্নভূমি পরিবেষ্টিত বিস্তীর্ণ উচ্চভূমিকে মহাদেশীয় মালভূমি বলে।
- এ ধরনের মালভূমির সঙ্গে পর্বতের কোনো সংযোগ থাকে না।
- স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, গ্রিনল্যান্ড, এন্টার্কটিকা এবং ভারতীয় উপদ্বীপ এর অন্যতম উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫২৭.
বাংলাদেশের মোট আয়তনের তুলনায় প্লাবন সমভূমির পরিমাণ শতকরা কতভাগ?
  1. ৬০ ভাগ
  2. ৭০ ভাগ
  3. ৮০ ভাগ
  4. ৯০ ভাগ
ব্যাখ্যা
ভূপ্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, প্লাইস্টোসিনকালের ভূমিরূপ এবং সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।
দেশের মোট আয়তনের তুলনায়,
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি – ৮০ ভাগ
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ – ১২ ভাগ
প্লাইস্টোসিনকালের ভূমিরূপ – ৮ ভাগ।
(সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-৫৯/৬০)
৩,৫২৮.
বঙ্গোপসাগরের কত বৰ্গ কিমি. এলাকাকে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ১২৫০ বর্গ কি.মি.
  2. ১০৫০ বর্গ কি.মি.
  3. ১৭৪৩ বর্গ কি.মি.
  4. ১৩৫০ বর্গ কি.মি.
ব্যাখ্যা
 সেন্টমার্টিন মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা: 
- সময়: ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি।
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১,৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে "মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া (Marine Protected Area - MPA)" হিসেবে ঘোষণা করেছে।
- এর গভীরতা বঙ্গোপসাগরের ৭০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এবং এর আগে ঘোষিত ৫৯০ হেক্টর সংকটাপন্ন এলাকা ছাড়াও নতুন অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

• এই পদক্ষেপের কারণ:
- জীববৈচিত্র্য হ্রাস রোধ।
- অনিয়ন্ত্রিত জাহাজ ও নৌকা চলাচল,
- অতিরিক্ত মাছ ধরা, বর্জ্য ও রাসায়নিক নিক্ষেপ, প্রবাল ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ঠেকাতে।
- গোলাপি ডলফিন, হাঙ্গর, রে মাছ, সামুদ্রিক কাছিম, সামুদ্রিক পাখি, প্রবাল ইত্যাদির আবাসস্থল রক্ষা করা হবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। [লিঙ্ক]
৩,৫২৯.
বাংলাদেশের শীতলতম জেলা কোনটি -
  1. ক) সিলেট
  2. খ) নাটোর
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল।
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা রাজশাহী।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা সিলেট।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।

উৎস: বাংলিপিডিয়া ।
৩,৫৩০.
ADB-এর মতে, উষ্ণায়নের বর্তমান ধারা ২০৫০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার কত মানুষ খাদ্য ও পানির ঝুঁকিতে পড়বে?
  1. ১৫০ কোটির বেশি
  2. ১৭০ কোটির বেশি
  3. ১৮০ কোটির বেশি
  4. ২০০ কোটির বেশি
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের কারণে মাত্রাতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের যে ধারা শুরু হয়েছে তাতে বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।
- আর এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে। 

উল্লেখ্য
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে তাতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
- IPCC-এর তথ্য অনুসারে ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে, ফলে এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দেবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
- এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (ADB) একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায়, উষ্ণায়নের বর্তমান ধারা ২০৫০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার ১৫০ কোটির বেশি মানুষ সরাসরি পানি ও খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে। 
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজি (MIT) অর্থনীতিবিদদের নতুন গবেষণা অনুসারে বিশ্ব উষ্ণায়ন ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেবে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৩১.
৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয় কোনটিকে?
  1. বরিশাল
  2. সিলেট
  3. চট্টগ্রাম
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা
সিলেট:
- সিলেটের পুরাতন ভৌগলিক নাম ছিল শ্রীহট্ট।
- ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয় সিলেটকে। 
- মহান সাধক হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (র.) সহ ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেট একটি প্রাচীন জনপদ।
- চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এর ৬৪০ খ্রিষ্টাব্দের ভ্রমণ বিবরণী থেকে এ জেলা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
- চীন দেশীয় পর্যটক হিউয়েন সাং বলেছেন, ‘‘শ্রীহট্ট একটা প্রাচীন ও গৌরবশালী দেশ’’।
- দশম শতাব্দীতে মহারাজা শ্রীচন্দ্র কর্তৃক উৎকীর্ণ পশ্চিমভাগ তাম্রলিপি থেকে জানা যায় যে, তিনি এ জেলা জয় করেছিলেন।
- ঐতিহাসিকদের ধারণা সিলেট বা শ্রীহট্ট বহু আগে থেকেই একটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- ১৪ শতকে ইয়েমেনের সাধক পুরুষ হযরত শাহজালাল (র.) সিলেট জয় করেন এবং ইসলাম প্রচার শুরু করেন।

উল্লেখ্য,
- ১২ আউলিয়ার দেশ বলা হয় চট্টগ্রামকে। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৫৩২.
'ইকোলজি' শব্দটি কিসের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. অর্থনীতি
  2. পরিবেশ
  3. ঔষধ বিজ্ঞান
  4. জীববিদ্যা
ব্যাখ্যা

• ইকোলজি: 
- ইকোলজি হলো এমনই এক বিজ্ঞান যা জৈব ও অজৈব উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, পারস্পরিক মিথস্ত্রিয়া ব্যাখ্যা করে। 
- জীব ও জড় পরিবেশের এই পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ককেই বলা হয় ইকোলজি বা বাস্তুসংস্থান। 
- পরিবেশ ও জীবের এই সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং মানুষ, জীব ও পরিবেশ একে অন্যের জীবনধারণের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। 

বাস্তুসংস্থানের উপাদান: 
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি। 
যথা- 
ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। 
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৩৩.
বায়ুমণ্ডলের উচ্চতম স্তর কোনটি?
  1. ওজোন স্তর
  2. স্ট্রাটোসফিয়ার
  3. এটমোসফিয়ার
  4. আয়নোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের উচ্চতমস্তর আয়নোস্ফিয়ার।

আয়নোস্ফিয়ার/ তাপমন্ডল (Thermosphere) :
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমন্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার বলে।

- তাপমন্ডলের বৈশিষ্ট্য নিম্নে তুলে ধরা হলো-
ক) তাপমন্ডলের বায়ু খুব হালকা এবং এখানে তাপের পরিবহনও নগণ্য।
খ) তীব্র সৌর বিকিরনে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনী রশ্মির সংঘাতে এই অংশে বায়ু আয়নযুক্ত হয়। এই জন্য একে আয়নমন্ডল বা আয়নোস্ফিয়ার বলা হয়।
গ) পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যে বেতার তরঙ্গ পাঠানো হয় তা এই স্তরের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে।
ঘ) এই স্তরে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০০ সেলসিয়াসে এসে পোঁছায়।
৩,৫৩৪.
Enclosed sea কথাটি কোন মহাসাগরের সাথে যুক্ত?
  1. ক) ভারত মহাসাগর
  2. খ) আটলান্টিক মহাসাগর
  3. গ) উত্তর মহাসাগর
  4. ঘ) দক্ষিণ মহাসাগর
ব্যাখ্যা
বারিমণ্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। পৃথিবীতে পাচটি মহাসাগর রয়েছে, এগুলাে হলাে প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণ মহাসাগর। এর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর বৃহত্তম ও গভীরতম। আটলান্টিক মহাসাগর ভগ্ন উপকূলবিশিষ্টএবং এটি অনেক আবদ্ধ সাগরের (Enclosed sea) সৃষ্টি করেছে।
৩,৫৩৫.
কোনটি কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী দেশ নয়?
  1. ক) জর্ডান
  2. খ) ইউক্রেন
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) জর্জিয়া
ব্যাখ্যা
• Black Sea /কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী দেশ মোট ৬ টি।
• দেশগুলো হলোঃ
- রাশিয়া,
- জর্জিয়া,
- তুরস্ক,
- বুলগেরিয়া,
- রোমানিয়া এবং
- ইউক্রেন।

উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩,৫৩৬.
ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে কোন প্রণালি?
  1. ক) ফরমোজা প্রণালি
  2. খ) বাবেল মান্দেব প্রণালি
  3. গ) বেরিং প্রণালি
  4. ঘ) মালাক্কা প্রণালি
ব্যাখ্যা
মালাক্কা প্রণালি:ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে মালাক্কা প্রণালি।   
আন্দামান সাগর (ভারত মহাসাগর) ও দক্ষিণ চীন সাগর (প্রশান্ত মহাসাগর) কে যুক্ত করেছে।

অন্যদিকে,
- বাবেল মান্দেব প্রণালি: লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে যুক্ত করেছে।
- ফরমোজা প্রণালি: দক্ষিণ চীন সাগর ও পূর্ব চীন সাগরকে যুক্ত করেছে।
- বেরিং প্রণালি: বেরিং সাগর (প্রশান্ত মহাসাগর) ও চুকচি সাগর (উত্তর মহাসাগর) কে যুক্ত করেছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস ও ব্রিটানিকা।
৩,৫৩৭.
যমুনা নদীর উপনদী হচ্ছে -
  1. বুড়িগঙ্গা
  2. ধলেশ্বরী
  3. আত্রাই
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• যমুনা:
- যমুনা নদী মূলত ব্রহ্মপুত্রের শাখা।
- তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতধারাটি যমুনা নামে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দের কাছে এসে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে।
- যমুনা বাংলাদেশের প্রশস্ততম নদী।
- যমুনা নদীর পূর্ব নাম ছিল জোনাই নদী।
- যমুনার শাখানদী হলো- ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা এবং
- উপনদীগুলো হলো- তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, আত্রাই, বাঙ্গালী, কালজানি, ডোরসা, যমুনেশ্বরী, দুধকুমারত, গঙ্গা, তুলসী গঙ্গা, বড়াল, নারদ ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৩৮.
স্পারসো কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৮০ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা

স্পারসো:
- বাংলাদেশ  মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) প্রযুক্তি ভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ বিষয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটির ম্যান্ডেট হচ্ছে- কৃষি, বন, মৎস্য, ভূতত্ত্ব, মানচিত্র অংকন, পানি সম্পদ, ভূমি ব্যবহার, আবহাওয়া, পরিবেশ, ভূগোল, সমুদ্র বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রে মহাকাশ ও দূর অনুধাবন প্রযুক্তিকে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা এবং উক্ত প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারিক প্রয়োগের জন্য গবেষণা কাজ পরিচালনা করা।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধীন স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৮০ সালে।
- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানান্তর করা হয়: ১৯৮৫ সালে।
- ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য স্পারসোকে “ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট” নির্ধারণ করা হয়।
- প্রধান উদ্দেশ্য: প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিবীক্ষণ ও পূর্বাভাস প্রদান করা।
- মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, বন, সমুদ্রবিজ্ঞান, মহাকাশ ও বায়ুমন্ডল, পানিসম্পদ বিষয়ে গবেষণার দ্বারা নিজস্ব সক্ষমতা উন্নীতকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালীকরণ।

তথ্যসূত্র - স্পারসো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

৩,৫৩৯.
গত ০৬/০২/২০২৩ তারিখ সিরিয়া-তুরস্কে সংঘটিত ভূ-কম্পনের উৎপত্তিস্থল কোনটি?
  1. Damascus
  2. Gaziantep
  3. Izmir
  4. Istanbul
ব্যাখ্যা
• তুরস্ক ও সিরিয়ার ভূমিকম্প:

- ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ভোরে তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
- রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। যার উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ১৭.৯ কিলোমিটার।
- সিরিয়া সীমান্তের কাছে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গাজিয়ানটেপ এলাকায় ভূ-কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল।
- তুরস্কের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি।
- আর সিরিয়ায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক এল-মোস্তাফা বেনলামিল জানিয়েছেন, দেশটিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক কোটির বেশি মানুষ।

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।
৩,৫৪০.
হিমালয়ের অবস্থানের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় শীতের তীব্রতা—
  1. ইউরোপের মতোই
  2. ইউরোপের চেয়ে কম
  3. ইউরোপের চেয়ে বেশি
  4. একই রকম
ব্যাখ্যা

জলবায়ুতে ভূ-প্রকৃতির প্রভাব:
- পবর্তের অবস্থান, ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে জলবায়ুর প্রকৃতিতে পার্থক্য দেখা যায়।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উত্তরে পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলবায়ুতে প্রভাব বিস্তার করে।
- যেমন- গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু যখন হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন নেপাল, বাংলাদেশ, ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অধিক হয়। - তবে এই বায়ুপ্রবাহ হিমালয় অতিক্রম করতে না পারায় উত্তর পাহাড়ের ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
- একইভাবে শীতকালে শীতল সাইবেরীয় বায়ু উচ্চ হিমালয় পবর্তে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
- ফলে উত্তর ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
- এ সময়ে দক্ষিণে শীতের তীব্রতা ইউরোপের থেকে কম হয়।
- হিমালয় পবর্তের অবস্থানের জন্য শীতল সাইবেরীয় বায়ুর প্রভাবে হিমালয়ের উত্তরাংশের চীন ভূ-খন্ডে উষ্ণতা-১০° সেলসিয়াস থেকে -৫০° -সেলসিয়াস এবং দক্ষিণে ভারতীয় উপমহাদেশে ২০° সেলসিয়াস থেকে ২৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়।
অতএব বলা যায় যে, ভূ-প্রকৃতির উপর আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ভরশীল।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৪১.
বাংলাদেশের কমপক্ষে কত ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার?
  1. ১৫ ভাগ
  2. ১৭ ভাগ
  3. ২০ ভাগ
  4. ২৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
বনজ সম্পদ:
- বনভূমি ও বনজ সম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।
- প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত অবস্থা ভালো রাখার জন্য যেকোনো দেশের কমপক্ষে শতকরা ২৫ ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার।
- কিন্তু বাংলাদেশের মোট বনভূমি মোট ভূখণ্ডের প্রায় শতকরা ১৭.৬২ ভাগ যা অন্যান্য দেশের তুলনায় কম।
- যেমন আমেরিকায় শতকরা ৩৩.৮৪ ভাগ, জাপানে শতকরা ৬৭ ভাগ, বার্মায় শতকরা ৬৩ ভাগ এবং ভারতে শতকরা ২৩.৭০ ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে।

উৎস: অর্থনীতি, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,৫৪২.
দক্ষিণ আফ্রিকার তৃণভূমির নাম কী?
  1. ভেল্ডস
  2. প্রেইরি
  3. ভেন্ডিকো
  4. সাভানা
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ আফ্রিকার তৃণভূমি:
- ভেল্ডস দক্ষিণ আফ্রিকার চারণভূমি এবং কৃষিজমির জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ভেলড বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে যেমন:  উঁচু মাঠ,  মাঝারি মাঠ, নিচু মাঠ, কাঁটাঝোপ ইত্যাদি।
- মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালকা শীতকাল এবং নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত গরম বা খুব গরম গ্রীষ্মকাল দেখা যায়।

অন্যদিকে,
- উত্তর আমেরিকার তৃণভূমিকে প্রেইরি বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৩,৫৪৩.
পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ কোনটি?
  1. ক) নিউজিল্যান্ড
  2. খ) অস্ট্রেলিয়া
  3. গ) আইসল্যান্ড
  4. ঘ) বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
নদীর মোহনায় কর্দম, পলি ও বালির সঞ্চয়ন, যার আকৃতি মাত্রাহীন ‘ব’ অক্ষরের মতো, তাকে বদ্বীপ (Delta) বলে। বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ। বাংলাদেশের অধিকাংশ ভূখন্ড এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কিছু ভূখন্ডে বিস্তৃত বঙ্গীয় বদ্বীপ ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাংশে অবস্থিত। পুরাতন এবং নবীন বদ্বীপীয় সমভূমিসমূহ বাংলাদেশের ৬৫ ভাগ ভূখন্ড জুড়ে রয়েছে এবং অবশিষ্ট ৩৫ ভাগ ভূখন্ড প্লাবন সমভূমি এবং পাহাড়ি ভূমি দ্বারা গঠিত। বঙ্গীয় বদ্বীপ পৃথিবীর সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলসমূহের মধ্যে একটি। গঙ্গা এবং পদ্মা নদীর প্রবাহ বরাবর দক্ষিণে ফেনী নদীর নিম্ন প্রবাহ পর্যন্ত একটি রেখা অঙ্কন করলে দক্ষিণপূর্বে যে ভূপ্রকৃতি অবশিষ্ট থাকে তাকে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র (যমুনা)-মেঘনা বদ্বীপ বলে আখ্যায়িত করা হয়। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৪৪.
পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত নদী কোনটি?
  1. ক) বুড়িগঙ্গা
  2. খ) Citarum River
  3. গ) গঙ্গা
  4. ঘ) নীলনদ
ব্যাখ্যা
Indonesia is home to the most polluted river in the world, the Citarum River.
Source: worldatlas.com
৩,৫৪৫.
আলুটিলা প্রাকৃতিক গুহা কোথায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি জেলায়
  2. রাঙামাটি জেলায়
  3. বান্দরবান জেলায়
  4. কক্সবাজার জেলায়
ব্যাখ্যা

• আলুটিলা প্রাকৃতিক গুহা:
- আলুটিলা প্রাকৃতিক গুহা খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত। 

- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় এই প্রাকৃতিক গুহার অবস্থান।
- স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের কাছে এটি ‘মাতাই হাকর’ বা ‘দেবতার গুহা’ নামে পরিচিত। 
- পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কের পাশে ‘আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র’।
- এটির অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ ফুট ওপরে।
- গুহাটি দেখতে অনেকটা ভূগর্ভস্থ টানেলের মতো, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫০ ফুট।
- গুহায় যেতে হলে ২৬৬টি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে হয়। 
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় এই প্রাকৃতিক গুহার অবস্থান।

তথ্যসূত্র: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।

৩,৫৪৬.
আয়তনে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ কোনটি?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) রাশিয়া
  3. গ) কানাডা
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
আয়তনে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ হচ্ছে  - রাশিয়া।

এছাড়াও 
আয়তনে বিশ্বের বৃহত্তম ৫ দেশ হচ্ছে -
- প্রথম - রাশিয়া।
- দ্বিতীয় - কানাডা।
- তৃতীয় - চীন।
- চতুর্থ - যুক্তরাষ্ট্র।
- পঞ্চম - ব্রাজিল।

তথ্যসূত্র: worldometer
৩,৫৪৭.
Niagara Falls is located in-
  1. ক) Asia
  2. খ) North America
  3. গ) Australia
  4. ঘ) Africa
ব্যাখ্যা
নায়াগ্রা জলপ্রপাত:

- নায়াগ্রা জলপ্রপাত উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- এটি নায়াগ্রা গর্জের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত, কানাডিয়ান শহর টরন্টোর দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১২১ কিমি এবং ইউএস সিটি অফ বাফেলোর উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ২৭ কিমি দূরে অবস্থিত।
- নায়াগ্রা নদীর উপর অবস্থিত, এই সম্মিলিত জলপ্রপাতগুলির কমপক্ষে ৫০ মিটার উল্লম্ব ড্রপ রয়েছে এবং উত্তর আমেরিকা মহাদেশের সমস্ত জলপ্রপাতগুলির মধ্যে সর্বাধিক প্রবাহের হার রয়েছে।
- দিনের বেলায় প্রতি মিনিটে জলপ্রপাতের ক্রেস্ট লাইনের উপর দিয়ে ১৬৮,০০০ m3 এরও বেশি পানি যায়।
- হর্সশু (কানাডিয়ান) জলপ্রপাত উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবাহ হার।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
৩,৫৪৮.
সেভেন সিস্টার্স রাজ্যের প্রবেশদ্বার বলা হয় কোনটিকে?
  1. গুয়াহাটি
  2. শীলং
  3. ইটানগর
  4. আগরতলা
ব্যাখ্যা
সেভেন সিস্টার্স:
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- রাজ্যগুলাে হচ্ছে: অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা।
- এই সাত রাজ্যের আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩.৭৮ শতাংশ।
- ১৯৭২ সালে এই সাত রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্সের মর্যাদা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- আসামের গুয়াহাটির মাধ্যমে সেভেন সিস্টার্সর্ভুক্ত রাজ্যগুলো ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- তাই এটিকে সেভেন সিস্টার্স রাজ্যের প্রবেশদ্বার বলা হয়।

⇒ সেভেন সিস্টার্স অন্তর্ভুক্ত ৪টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা সংযোগ রয়েছে।
- সেসব হলো: আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, ত্রিপুরা।

⇒ ভারতের সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যসমূহ ও রাজধানী -
১. আসাম - দিসপুর,
২. মিজোরাম - আইজল,
৩. অরুনাচল - ইটানগর,
৪. মেঘালয় - শীলং,
৫. ত্রিপুরা - আগরতলা,
৬. মণিপুর - ইম্ফল,
৭. নাগাল্যান্ড - কোহিমা।

উৎস: Ministry of Home Affairs ওয়েবসাইট।
৩,৫৪৯.
বাংলাদেশের কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান সামগ্রিক প্রভাব কোনটি?
  1. খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি
  2. ফসল উৎপাদন ব্যাহত
  3. কৃষিজমি সম্প্রসারণ
  4. সেচ নির্ভরতা হ্রাস
ব্যাখ্যা

∗ সেক্টরভিত্তিক আঞ্চলিক প্রভাব:
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামক হচ্ছে: 
- তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা ও চরম আবহাওয়া।
- এসব নিয়ামক বাংলাদেশের কৃষিতে অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলছে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও চরম আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
- এবং কৃষি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

- জলবায়ু পরিবর্তনের সামগ্রিক প্রভাব (সকল অঞ্চল): 
• তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ফসলের উৎপাদনশীলতা কমছে; 
• বৃষ্টিপাতের অনিয়মে কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও খরা দেখা দিচ্ছে; 
• আর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও তাপপ্রবাহ কৃষিজীবন ও উৎপাদনকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
- একই সঙ্গে অনিয়মিত বৃষ্টি ও বন্যা ফসল উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটিয়ে সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

অন্যদিকে,
- জলবায়ু পরিবর্তনে খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ে না, বরং ঝুঁকি বাড়ে।
- লবণাক্ততা ও খরার কারণে কৃষিজমি সম্প্রসারিত হচ্ছে না।
- খরা ও অনিয়মিত বৃষ্টির ফলে সেচের ওপর নির্ভরতা কমছে না, বরং বাড়ছে।
----------------------------------
উল্লেখ্য, 
- উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র খরার কারণে আমন, আউশ ও বোরো ধানসহ পাট, ডাল, তেলবীজ, আলু, আখ এবং শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
- উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশে-
• মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে;
• মিঠা পানির সংকট তৈরি হচ্ছে;
• এবং কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
- পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়াতে কৃষকদের দুর্যোগ-সহনশীল ফসলের জাত, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ (যেমন ফেরোমন ফাঁদ) এবং জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

৩,৫৫০.
করতোয়া নদীর উৎপত্তি স্থল কোথায়?
  1. ক) সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল
  2. খ) লুসাই পাহাড়
  3. গ) কৈলাশ শৃঙ্গের মানস হ্রদ
  4. ঘ) বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল:

- করতোয়া নদী সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- পদ্মা নদী গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদী আসামের লুসাই পাহাড়।
- কর্ণফুলী নদী মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয়ের কৈলাশ শৃঙ্গের মানস হ্রদ। 
- সাঙ্গু নদী মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদী খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদী মহালড্রীম, দার্জিলিং থেকে উৎপত্তি স্থল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫১.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল?
  1. বেরিবাঁধ নির্মাণ
  2. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
  3. নদী শাসন
  4. আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি
ব্যাখ্যা
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি খুবই ব্যয়বহুল।
অন্যদিকে,
- গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ প্রদান প্রভৃতি অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল যা দরিদ্র দেশগুলোর জন্যে উপযোগী।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৫৫২.
প্যাটাগোনিয়ান মরুভূমি কোন দেশে অবস্থিত? 
  1. ব্রাজিল
  2. আর্জেন্টিনা
  3. পেরু
  4. দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

প্যাটাগোনিয়ান মরুভূমি (Patagonian Desert):
- প্যাটাগোনিয়ান মরুভূমি, যা প্যাটাগোনিয়ান স্টেপ (Patagonian Steppe) নামেও পরিচিত,
- এটি আর্জেন্টিনার বৃহত্তম মরুভূমি।
- আয়তনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম মরুভূমি।
- এই মরুভূমিটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত।
- এর সিংহভাগ অংশ আর্জেন্টিনায় অবস্থিত এবং কিছু অংশ চিলিতে পড়েছে।

• বিভিন্ন দেশের কয়েকটি বিখ্যাত মরুভূমি: 
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা (১১টি দেশ জুড়ে)
- আরবীয়ান মরুভূমি: এশিয়া (আরব উপদ্বীপ)
- গোবি মরুভূমি: এশিয়া (মঙ্গোলিয়া, চীন)
- গ্রেট ভিক্টোরিয়া  মরুভূমি: অস্ট্রেলিয়া
- কালাহারি মরুভূমি: আফ্রিকা (নামিবিয়া, বতসোয়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা)।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 

৩,৫৫৩.
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্যারিস চুক্তি গৃহীত হয়-
  1. ক) COP-21 সম্মেলনে
  2. খ) UNEP তে
  3. গ) IPCC তে
  4. ঘ) COP-25 সম্মেলনে
ব্যাখ্যা
২০১৫ সালে প্যারিসে ২১ তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ-২১) ১৯৫ টি দেশের ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্যারিস চুক্তি শীর্ষক একটি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক চুক্তি গৃহীত হয়।
উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।
৩,৫৫৪.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান -
  1. প্রশমন
  2. পূর্বপ্রস্তুতি
  3. প্রতিরোধ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি।
- যথা- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্ৰান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ সংঘটনকালীন ও পরবর্তী সময় সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন, উন্নয়ন, প্রতিরোধ, এবং পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হয়।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য তিনটি। এগুলো হলো:
(১) দুর্যোগকালিন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
(২) দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো ও পূর্ণবাসন নিশ্চিত করা এবং
(৩) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,৫৫৫.
যমুনার শাখা নদী কোনটি?
  1. শীতলক্ষ্যা
  2. ধলেশ্বরী
  3. বুড়িগঙ্গা
  4. করতোয়া
ব্যাখ্যা
- যমুনার শাখা নদী ধলেশ্বরী।
- বুড়িগঙ্গা ধলেশ্বরীর শাখা নদী।
- শীতলক্ষ্যা ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- করতোয়া ও আত্রাই যমুনার উপনদী।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৫৫৬.
বাংলাদেশের জলবায়ু কী ধরনের?
  1. আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু
  2. নিরক্ষীয় জলবায়ু
  3. উপ-ক্রান্তীয় জলবায়ু
  4. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন।
- বাংলাদেশের মধ্যভাগে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অধিক হওয়ায় “ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর দেশ” বলা হয়।
- ঋতুভেদে উচ্চ তাপমাত্রা, ভারী বর্ষণ, অত্যাধিক আর্দ্রতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের জলবায়ুতে পরিলক্ষিত হয়।
- সার্বিক বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জলবায়ুকে প্রধানত তিনটি ঋতুতে ভাগ করা যায়,
যথা  - শীতকাল, গ্রীষ্মকাল এবং বর্ষাকাল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৫৭.
ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার উঁচু ভূমিকে বলে -
  1. ক) মধুপুর গড়
  2. খ) বরেন্দ্র ভূমি
  3. গ) লালমাই পাহাড়
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমি : বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮% এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।

প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা-
১. বরেন্দ্রভূমি, 
২. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং
৩. লালমাই পাহাড়।

• নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের। 

• ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় গঠিত। এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ৩০ মিটার।এখানকার মাটি লালচে এবং কংকরময় বলে কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। তবে প্রচুর পরিমাণে আনারস উৎপন্ন হয়। বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ এ উচ্চভূমি গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র। এজন্য এটি গজারী বৃক্ষের বনভূমি হিসেবেও পরিচিত। 

• কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত লালমাই পাহাড়টি বিস্তৃত। এর আয়তন ৩৪ বর্গকিলোমিটার। এই পাহাড়ের গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এ অঞ্চলের মাটির রং লালচে এবং মাটি নুড়ি, বালি ও কংকর নির্মিত ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫৮.
বর্তমানে সৌরজগতে মোট গ্রহ রয়েছে -
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ এবং গ্রহসমূহ:
- মহাকাশের অসংখ্য জ্যোতিষ্ক নিয়ে যে জগতের সৃষ্টি হয়েছে তাকে বিশ্বজগৎ বা বিশ্বভ্রহ্মান্ড বলে।
- সূর্য বিশ্বজগতের কোটি কোটি নক্ষত্রের মধ্যে একটি উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।
- সূর্য ও এর চতুর্দিকে ঘূর্ণনরত জ্যোতিষ্কমন্ডলীকে একত্রে সৌরজগৎ (Solar System) বলে।
- মহাকাশে সূর্যকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট গতিতে, নির্দিষ্ট দূরত্বে, একই সমতলে একইদিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘূনর্ণরত সকল গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধুমকেতু ও উল্কাপিন্ডের সমন্বয়ে সৌরজগত গঠিত হয়েছে।
- সৌরজগতে মোট ৮টি গ্রহ
- যথা: বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন।

উল্লেখ্য,
- প্লুটো গ্রহকে বর্তমানে গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হয় না, কারণ প্লুটো গ্রহের সাথে গ্রহের বৈশিষ্ট্যের মিল নেই।

উৎস: i) NASA (.gov).
        ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৫৯.
ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি কোন ধরনের বনভূমি রয়েছে?
  1. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি
  2. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন
  3. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে। এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে
 -(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি; 
- (খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত। 
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়। 
- গ্রীস্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

উল্লেখ্য,
বনভূমি থেকে যে সম্পদ উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- কোনো দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- কিন্তু বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর কর্তৃক ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ শতকরা প্রায় ১৭.৪৭৯১ ভাগ।

এছাড়াও
⇒ জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
- বাংলাদেশের বনভূমি:
১)ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি,
২) ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি,
৩) স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন,

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,৫৬০.
'Hawaiian Islands' is located in which ocean?
  1. Pacific Ocean
  2. Atlantic Ocean
  3. Indian Ocean
  4. Arctic Ocean
ব্যাখ্যা
হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ:
- হাওয়াই  দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- এই দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে রয়েছে।
- এখানে সাবেক মার্কিন নৌ-ঘাঁটি ছিল যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান আক্রমণ করেছিল।

• গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ:

⇒ প্রশান্ত মহাসাগর:
- পাপুয়া নিউ গিনি, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, পালাউ, নাউরু, তাহিতি, ফিজি, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ ইত্যাদি।

⇒ আটলান্টিক মহাসাগর:
- যুক্তরাজ্য, বাহামা, বারমুডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জ্যামাইকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, কিউবা ইত্যাদি।

⇒ ভারত মহাসাগর:
- মাদাগাস্কার, সেইসিলিশ, মরিশাস, দিয়াগো গার্সিয়া, মালদ্বীপ, আন্দামান ও নিকোবর, মালাগাছি ইত্যাদি।

এছাড়াও,
⇒ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ:
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জকে ভৌগোলিকভাবে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- যথা: মাইক্রোনেশিয়া; মেলানেশিয়া; পলিনেশিয়া।

• মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- নাউরু; পালাউ; কিরিবাতি; মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং মাইক্রোনেশিয়া।

• মেলানেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- সলোমান দ্বীপপুঞ্জ; ফিজি; ভানুয়াতু; ও পাপুয়া নিউগিনি।

• পলিনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- টোঙ্গা; টুভ্যালু ও সামোয়া।

উৎস: World Atlas.
৩,৫৬১.
বাংলাদেশে কোন সময়কাল বর্ষাকাল হিসেবে বিবেচিত?
  1. ক) এপ্রিল থেকে জুন
  2. খ) মে থেকে আগষ্ট
  3. গ) মে থেকে সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) জুন থেকে অক্টোবর
ব্যাখ্যা
• জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে বর্ষাকাল বিরাজ করে।
- জুন মাসের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবাহের মাধ্যমে বর্ষাকালের শুরু হয়। বর্ষাকালে দেশের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
- মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।
- নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতকাল বিরাজ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,৫৬২.
নিচের কোন বায়ুটি সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয়?
  1. মিস্ট্রাল বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. পশ্চিমা বায়ু
  4. পাম্পেরু বায়ু
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যে বায়ু সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
নিয়ত বায়ু তিন প্রকার। যথা:
- অয়ন বায়ু
- পশ্চিমা বায়ু
- মেরু বায়ু।
অন্যদিকে,
- মৌসুমি বায়ু নির্দিষ্ট ঋতুতে প্রবাহিত হয়।
- মিস্ট্রাল ও পাম্পেরু হলো যথাক্রমে ফ্রন্সের মালভূমি এবং দক্ষিণ আমেরিকার পাম্পেরু অঞ্চলে প্রবাহিত স্থানীয় বায়ু।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৫৬৩.
'গঙ্গা খাদ' কোথায় অবস্থিত?
  1. গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে
  2. সন্দ্বীপ চেনেল
  3. বঙ্গোপসাগরে
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground) খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। 
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত। 
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,৫৬৪.
ইন্দোনেশিয়ার সর্বাধিক জনবহুল দ্বীপ কোনটি?
  1. সুমাত্রা
  2. জাভা
  3. সুলাওয়েসি
  4. বোর্নিও
ব্যাখ্যা
• ইন্দোনেশিয়া:
- ১৯ শতকে, ইন্দোনেশিয়া নেদারল্যান্ডের একটি উপনিবেশ ছিল এবং "নেদারল্যান্ডস ইন্ডিজ" নামে পরিচিত ছিল। 
- নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৫ সালে)।
- বৃহত্তম দ্বীপ - সুমাত্রা (আয়তনে)।
- আচেহ প্রদেশ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায়।
- জনবহুল দ্বীপ - জাভা (রাজধানী জাকার্তা অবস্থিত)।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩,৫৬৫.
মালাক্কা প্রণালী কোথায় অবস্থিত?
  1. ইউরোপ মহাদেশে
  2. দক্ষিণ এশিয়াতে
  3. আফ্রিকা মহাদেশ
  4. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে
ব্যাখ্যা
মালাক্কা প্রণালী:
- মালাক্কা প্রণালী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে মালয় উপদ্বীপ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত একটি সমুদ্রপ্রণালী।
- মালাক্কা প্রণালীর উত্তরে ভারত মহাসাগরের আন্দামান সাগরকে দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
- মালাক্কা প্রণালী বঙ্গোপসাগর ও জাভা সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- প্রণালীটি উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এর বিস্তার ৬০ কিলোমিটার থেকে ৪৮০ কিলোমিটার।
- প্রণালীটির দক্ষিণ প্রান্তে অনেকগুলি দ্বীপ আছে ।
- ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যকার সমুদ্র বাণিজ্য এর মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়।
- মালাক্কা প্রণালীর উপকূলে অবস্থিত প্রধান বন্দরগুলির মধ্যে আছে মালয় উপদ্বীপের পেনাং, পোর্ট সোয়েটেনহাম ও মালাক্কা, এবং সুমাত্রা দ্বীপের বেলাওয়ান বন্দর।
- সিঙ্গাপুর এই প্রণালীর দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
৩,৫৬৬.
কোন মহাসাগরকে “Ring of Fire” দ্বারা পরিবেষ্টিত বলা হয়?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. উত্তর মহাসাগর
ব্যাখ্যা

প্রশান্ত মহাসাগর:
- পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ প্রশান্ত মহাসাগর। 
​- এটি পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশের অধিক স্থান জুড়ে বিস্তৃত। 
- এর আয়তন ১৬,৮৭,২৩,০০০ বর্গকিলোমিটার।
​ - গড় গভীরতা ৪,২৭০ মিটার এবং সর্বাধিক গভীরতা ১০,৭৯০ মিটার। 
- অবস্থান: আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যবর্তী।

⇒ প্রশান্ত মহাসাগর দেখতে অনেকটা অসম ত্রিভুজের মতো। 
​- এ মহাসাগর দক্ষিণ দিকে প্রশস্ত এবং উত্তর দিকে ক্রমেই সংকীর্ণ, তবে নিরক্ষরেখা বরাবর সবচেয়ে বেশি প্রশস্ত যা প্রায় ১৬ কিলোমিটার। 
​- প্রশান্ত মহাসাগরকে উত্তর মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে বেরিং প্রণালি। 
​-  প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ: নাউরু; পালাউ; কিরিবাতি; মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মাইক্রোনেশিয়া, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ; ফিজি; ভানুয়াতু, পাপুয়া নিউগিনি, টোঙ্গা; টুভ্যালু ও সামোয়া।
- প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত (Mariana Trench) পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা গভীর খাত। 

​উল্লেখ্য,
​- "Ring of Fire" হলো প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা একটি ভূ-তাত্ত্বিক অঞ্চল, যেখানে অসংখ্য আগ্নেয়গিরি এবং ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকা অবস্থিত। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে একটি ঘোড়ার নালের আকৃতির বেল্ট হিসেবে বিস্তৃত, যা পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল এবং আলাস্কা পর্যন্ত বিস্তৃত।

​উৎস: i) Britannica.
ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৬৭.
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে-
  1. কাজাখস্তান
  2. উত্তর কোরিয়া
  3. লাওস
  4. মঙ্গোলিয়া
ব্যাখ্যা
• পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে -
- আফগানিস্তান, বাহরাইন, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন।

• পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে -
- চীন, জাপান, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মঙ্গোলিয়া (পাশাপাশি হংকং, ম্যাকাও এবং তাইওয়ান)

• দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে - 
- বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা।

• দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে
- ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মায়ানমার (বা বার্মা), ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, পূর্ব তিমুর (বা তিমুর-লেস্টে) এবং ভিয়েতনাম।

উৎস: worldatlas
৩,৫৬৮.
লম্বক প্রণালী সংযুক্ত করেছে - 
  1. ভারত মহাসাগর ও জাভা সাগর
  2. সেলেবস সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগর
  3. আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর
  4. আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগর
ব্যাখ্যা

• লম্বক প্রণালী (Lombok Strait): 
- একটি প্রণালী (Strait) হলো প্রাকৃতিকভাবে গঠিত একটি সংকীর্ণ জলপথ, যা দুটি স্থলভাগের মধ্যে অবস্থান করে এবং দুটি বড় জলরাশিকে সংযুক্ত করে।
- লম্বক প্রণালী ইন্দোনেশিয়ার লম্বক ও বালি দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি ভারত মহাসাগরকে জাভা (বালি) সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। 



- লম্বক প্রণালী ৬০ কিমি দীর্ঘ এবং এর সর্বোচ্চ গভীরতা ২৫০ মিটার (৮২০ ফুট)।
 - এটি প্রায়শই একটি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে ভারি মালবাহী জাহাজ (Bulk Carriers) এবং সুপারট্যাংকারগুলো যেগুলো আরব দেশ থেকে চীনে তেল বা অন্যান্য পণ্য পরিবহন করে।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৩,৫৬৯.
কটকা সমুদ্রসৈকত কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সেন্টমার্টিন দ্বীপ
  2. খ) কুয়াকাটা
  3. গ) সুন্দরবন
  4. ঘ) আনোয়ারা
ব্যাখ্যা
- কটকা সমুদ্রসৈকত সুন্দরবনের বাগেরহাট জেলা অংশে অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি জামতলা সমুদ্রসৈকত নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের বিখ্যাত কিছু সমুদ্রসৈকত:
- কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত : কুয়াকাটা, পটুয়াখালী।
- পারকি সমুদ্রসৈকত : আনোয়ারা, চট্টগ্রাম
- ইনানী, কলাতলী, লাবনী সমুদ্রসৈকত : কক্সবাজার
- পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত : পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
(সূত্র: পর্যটন কর্পোরেশন ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৩,৫৭০.
কোনটির উপর সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয়?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. মকরক্রান্তি রেখা
  3. অক্ষরেখা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা:
- নিরক্ষরেখার (০°) উপর সূর্য সারা বছর প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- নিরক্ষরেখা পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধকে সমান দুই ভাগে বিভক্তকারী কাল্পনিক রেখা।
- এই রেখা বরাবর পৃথিবী আহ্নিক গতির বেগ সর্বাধিক থাকে, এবং সূর্যের রশ্মি সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে।
- এর ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সর্বদা তাপমাত্রা বেশি থাকে এবং উষ্ণতা বিরাজ করে।

উল্লেখ্য, 
- বিশেষ করে, ২১শে মার্চ এবং ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এই দুই দিনে পৃথিবীর সব জায়গায় দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়। এজন্য নিরক্ষরেখায় অধিক তাপমাত্রা অনুভূত হয় এবং এটি পৃথিবীর উষ্ণতম অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৭১.
কোন জেলায় টারশিয়ারি যুগের পাহাড় আছে?
  1. কুমিল্লা
  2. রাজশাহী
  3. সিলেট
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৭২.
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোন দেশ সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে কত দূরত্বের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারবে না?
  1. ১৫০ গজ
  2. ২০০ গজ
  3. ২৫০ গজ
  4. ৩০০ গজ
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক আইন:
- আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো দেশ বেড়া কিংবা স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না।

উল্লেখ্য,
- এই নিয়ম মূলত সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে। শূন্যরেখা এবং এর আশপাশের অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে সমঝোতা এবং অনুমতি প্রয়োজন, যাতে সীমান্তে উত্তেজনা বা অশান্তি সৃষ্টি না হয়।

উৎস: প্রথম আলো।
৩,৫৭৩.
কোন রেখা উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া কে পৃথক করেছে?
  1. ১৭° উত্তর অক্ষরেখা
  2. ২৪° উত্তর অক্ষরেখা
  3. ৩৮° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
৩৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা – উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া
১৭° উত্তর অক্ষরেখা – উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম
২৪° উত্তর অক্ষরেখা – পাকিস্তান ও ভারত
৪৯° উত্তর অক্ষরেখা – যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা।
(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৩,৫৭৪.
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাণিজ্যের বৃহত্তম বাজার কোথায়?
  1. ক) ইইউ
  2. খ) ভারত
  3. গ) কানাডা
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাণিজ্যের বৃহত্তম বাজার কানাডা।
৩,৫৭৫.
চট্রগ্রাম সমুদ্রবন্দর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. কর্ণফুলী
  2. হাড়িয়াভাঙ্গা
  3. নাফ
  4. ফেনী নদী
ব্যাখ্যা
• কর্ণফুলী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী কর্ণফুলী।
- এর উৎপত্তিস্থল লুসাই পাহাড়ে।
- ৩২০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের এ নদীটি চট্টগ্রাম শহরের খুব কাছ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী হচ্ছে কাপ্তাই, হালদা, কাসালাং ও রাঙখিয়াং।
- বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর তীরে অবস্থিত।
- পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এ নদীর গুরুত্ব অধিক।


উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়,
৩,৫৭৬.
দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত নয় কোন দেশটি?
  1. চিলি
  2. ইকুয়েডর
  3. কোস্টারিকা
  4. সুরিনাম
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ:
- দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশ ১২ টি দেশ নিয়ে গঠিত।
- দেশগুলো হচ্ছে - ব্রাজিল, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, পেরু, ভেনেজুয়েলা, চিলি, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, গায়ানা, সুরিনাম।
- আয়তনে এবং জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- ব্রাজিল, গায়ানা এবং সুরিনাম ছাড়া সবকটিতেই স্প্যানিশ সরকারি ভাষা।
- ব্রাজিলের সরকারী ভাষা পর্তুগিজ।
-----------------
- কোস্টারিকা হচ্ছে উত্তর আমেরিকার দেশ।
 
তথ্যসূত্র: ওয়াল্ড এটলাস।
৩,৫৭৭.
নিচের কোন দ্বীপটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত নয়?
  1. মালদ্বীপ
  2. শ্রীলংকা
  3. গ্রীনল্যান্ড
  4. মাদাগাস্কার
ব্যাখ্যা
→ গ্রীনল্যান্ড, ভারত মহাসাগরের অবস্থিত নয়।
- এটি আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।

• ভারত মহাসাগর (Indian Ocean):
- ভারত মহাসাগর এশিয়ার দক্ষিণ অংশকে ঘিরে অবস্থিত।
- এবং আফ্রিকা মহাদেশকে অস্ট্রেলিয়া হতে বিচ্ছিন্ন করেছে।
- ভারত মহাসাগর আয়তনে মহাসাগরগুলোর মধ্যে তৃতীয়।
- এর আয়তন প্রায় ৬ কোটি ৮৬ লক্ষ বর্গ কি. মি.।
- এবং গড় গভীরতা প্রায় ৩,৯৬৩ মিটার।
- ভারত মহাসাগর পৃথিবীর জলভাগের প্রায় ২০% এলাকা জুড়ে অবস্থিত।
- সুন্ডাখাদ (৭,৭২৫ মিটার) এর গভীরতম সমুদ্রখাত।

→ ভারত মহাসাগরের দ্বীপসমূহ:
- আন্দামান এবং নিকোবর,মালদ্বীপ।
- মাদাগাস্কার (পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম দ্বীপ), 
- শ্রীলংকা, মরিশাস, মৌরতানিয়া, ভিক্টেরিয়া।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৭৮.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের সময়সীমা ধরা হয়-
  1. মার্চ থেকে জুন
  2. মার্চ থেকে এপ্রিল
  3. মার্চ থেকে মে
  4. ফেব্রুয়ারী থেকে মে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের গ্রীষ্মকাল (Summer Season):
- বাংলাদেশের উষ্ণতম ঋতু গ্রীষ্মকাল।
- মার্চ থেকে মে (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল ধরা হয়। 
- এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২১° সেলসিয়াস।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল।
- এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি।
- গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কালবৈশাখী ঝড়। কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা রাজশাহী।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা সিলেট।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলিপিডিয়া।
৩,৫৭৯.
নিঝুম দ্বীপ কোথায় অবস্থিত? 
  1. কুতুবদিয়া
  2. হাতিয়া
  3. ভোলা
  4. সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা

• নিঝুম দ্বীপ:
- নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের একটি ছোট্ট দ্বীপ।
- এটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত।
- এর আয়তন ৯১ বর্গ কিলোমিটার।
- নিঝুম দ্বীপ হাতিয়ার মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে নিঝুম দ্বীপের অবস্থান।
- দ্বীপের তিন দিকে সাগর অন্যদিকে মেঘনার মোহনা।
- প্রায় ১৪ হাজার ৫০ একরের দ্বীপটি ১৯৪০ সালের দিকে জেগে ওঠে।
- ওসমান নামের একজন বাথানিয়া তাঁর মহিষের বাথান নিয়ে প্রথম নিঝুম দ্বীপে বসত গড়েন।
- তখন তাঁর নামেই এই চরের নাম হয় ওসমান চর।
- এই দ্বীপে প্রচুর বালুর ঢিবি বা টিলা ছিল বলে স্থানীয় লোকজন এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বাউল্লার চরও বলে ডাকত।
- আবার এ চরে প্রচুর ইচা মাছ (চিংড়ির স্থানীয় নাম) পাওয়া যেত বলে একে ইছামতীর চরও বলা হতো।
- বর্তমানে নিঝুম দ্বীপ হিসেবে পরিচিত হলেও স্থানীয় লোকজন এখনো এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বাউল্লার চর বলেই সম্বোধন করে।
- বাংলাদেশের বন বিভাগ সত্তরের দশকে এই দ্বীপে কার্যক্রম শুরু করে।
- নিঝুম দ্বীপ এখন হরিণের অভয়ারণ্য।
- দ্বীপের বিশেষ আকর্ষণ উভচর প্রজাতির মাছ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,৫৮০.
'টাঙ্গুয়ার হাওর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সুনামগঞ্জ
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) হবিগঞ্জ
  4. ঘ) চট্রগ্রাম
ব্যাখ্যা
টাঙ্গুয়ার হাওর (Tanguar Haor)  
• টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রুপ জলমহালগুলোর অন্যতম। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা এবং তাহিরপুর উপজেলাস্থিত জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ মিঠা পানির এ হাওর বাংলাদেশের ২য় রামসার এলাকা।
• এ হাওরটিতে ছোটবড় ১২০টি বিল রয়েছে। ৪৬টি গ্রামসহ পুরো হাওর এলাকার আয়তন প্রায় ১০০ বর্গ কিমি, এর মধ্যে ২৮০২.৩৬ হেক্টর জলাভূমি রয়েছে।
• কেবল সুনামগঞ্জ নয়, গোটা বাংলাদেশেই হাওরটি শীতের অতিথি পাখিদের ‘স্বর্গরাজ্য’ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর এখানে প্রায় ২০০ প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে।
• টাঙ্গুয়ার হাওরকে ২০০০ সালের ১০ জুলাই ১০৩১তম রামসার সাইট ঘোষণা করা হয়।

তথ্যসূত্র: সুনামগঞ্জ জেলা ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৮১.
জোয়ারভাটায় বিধৌত লবণাক্ত সমতলভূমিকে বলা হয়- 
  1. পার্বত্য বন
  2. শালবন
  3. মধুপুর বন
  4. ম্যানগ্রোভ বন
ব্যাখ্যা

ম্যানগ্রোভ বন: 
-ম্যানগ্রোভ বলতে সাধারণভাবে জোয়ারভাটায় প্লাবিত বিস্তীর্ণ জলাভূমিকে বোঝায়।
- ম্যানগ্রোভ বন  জোয়ারভাটায় বিধৌত লবণাক্ত সমতলভূমি।
- বাংলাদেশের সুন্দরবন এরকম সমুদ্রের লোনা পানির জোয়ার ভাটায় প্লাবিত ম্যানগ্রোভ বন।
-এ আন্তপ্লাবিত জলাভূমি বিভিন্ন স্তরের পারষ্পরিক নির্ভরশীল উপাদানসমূহ যেমন- পানি প্রবাহ, পলি, পুষ্টি উপাদান, জৈব পদার্থ এবং জীবজন্তুর সমন্বয়ে গঠিত।

অন্যদিকে,
- পার্বত্য বন বলতে সাধারণত বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনভূমিকে বোঝায়। 
- মধুপুর বন হলো মধুপুর শালবনের একটি অংশ, যা টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলায় বিস্তৃত।
- শালবন এক ধরনের বনভূমি যেখানে শালগাছ মুখ্য উদ্ভিদ প্রজাতি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৮২.
নিম্নের কোন দুর্যোগটি বাংলাদেশের জনগণের জীবিকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে?
  1. ভূমিকম্প
  2. সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি (Sea level rise)
  3. ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস
  4. খরা বা বন্যা
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি (Sea level rise) দুর্যোগটি বাংলাদেশের জনগণের জীবিকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

সমুদ্রের জলস্তরের বৃদ্ধি:
- বাংলাদেশের উপকূল (৭১৬ কি.মি.) অঞ্চল সমুদ্র সমতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা অনবরত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
- ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত অসংখ্য নিম্নআয়ের মানুষ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের দুর্যোগ দ্বারা বিপদাপন্ন অবস্থায় পতিত হচ্ছে।

লবণাক্ততা বৃদ্ধি:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- লবণাক্ততার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি অংশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা বদলে যাচ্ছে।
- বিগত তিন দশকে খুলনা জেলায় লবণাক্ততা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি, ২১ শতাংশ।
- খুলনার পরেই বাগেরহাট।
- সেখানে লবণাক্ততা বেড়েছে ১৫.৮৮ শতাংশ।
- নড়াইল, যশোর ও গোপালগঞ্জে লবণাক্ততা একেবারেই ছিলনা।
- অথচ সেখানকার জমিতেও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- উপকূল এবং তীরবর্তী এলাকায় ১৪ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় লবণাক্ত মাটি রয়েছে।
- এ অবস্থায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৪৫ সেন্টিমিটার বাড়লে লবণাক্ততা আরো ভিতরের দিকে আসবে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে।
- লবণাক্ততা বর্ষা মৌসুমে ১০ শতাংশ থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা বেড়ে ৪০ শতাংশ হয় (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ২০২০)।
- লবণাক্ততা বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে।
- ১৯৭৩ সালে লবণাক্ততাপূর্ণ অঞ্চল ছিল ৮৩.৩ মিলিয়ন হেক্টর, ২০০০ সালে ১০২ মিলিয়ন হেক্টর এবং ২০০৯ সালে ১০৫.৬ মিলিয়ন হেক্টর এবং ২০১৯ সালে ১০৯.৮ মিলিয়ন হেক্টর (ইউএসবি এবং আইপিএস রিপোর্ট, ২০২০)।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এবং জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি:
- ধারণা করা হয় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে।
- ফলশ্রুতিতে উপকূলীয় অঞ্চলে ভাঙনও বৃদ্ধি পেয়েছে।
- সমুদ্র ভাঙনের কবলে পড়ে কুতুবদিয়া ও সন্দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
- পূর্ব হিমালয় অঞ্চলে বছরে যত পানি প্রবাহিত হয় তার ৯০ শতাংশের অধিক বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়ে।
- ইউএনডিপি ২০১৯ এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৮ সালে চরচঙ্গা স্টেশন হাতিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে ৫.৭৩ মিলিমিটার এবং একই সময়ে হিরণ পয়েন্টে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে ৩.৩৮ মিলিমিটার।

উৎস: i) বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮৩.
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ‘রামসার সাইট’ হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. হাকালুকি হাওর
  2. টাঙ্গুয়ার হাওর
  3. চলন বিল
  4. রাটারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট
ব্যাখ্যা

টাঙ্গুয়ার হাওর:
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- হাওরটি সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায়।
- প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই হাওরের স্থানীয় নাম বেশ মজার, ‘নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল’।
- ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি এই হাওরকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ‘রামসার সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩৮টি ঝরনা নেমে এসে মিশেছে টাঙ্গুয়ার হাওরে।
- হাওরের প্রধান বিল ৫৪টি।, তবে ছোট-বড় মিলে মোট বিল আছে ১০৯টি।
- ভারতের মেঘালয়ের খাসিয়া, জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে সারি সারি হিজল-করচ শোভিত, পাখিদের কলকাকলি মুখরিত টাংগুয়ার হাওর মাছ, পাখি এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর এক বিশাল অভয়াশ্রম।
- এটি একটি মাদার ফিশারী।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) কালের কন্ঠ।

৩,৫৮৪.
জলবায়ু পরিবর্তন শিল্পখাতে কীভাবে প্রভাব ফেলে?
  1. উৎপাদন ও কর্মপরিবেশকে প্রভাবিত করে
  2. শুধুমাত্র আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি করে 
  3. শুধুমাত্র উৎপাদন বৃদ্ধি করে  
  4. কোনো প্রভাব নেই 
ব্যাখ্যা

 ∗ জলবায়ু পরিবর্তন ও শিল্প:
- জলবায়ু পরিবর্তন শিল্পে সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাব ফেলে।
- জলবায়ু পরিবর্তন শিল্পে উৎপাদন হ্রাস, খরচ বৃদ্ধি, আর্থিক ঝুঁকি এবং কর্মপরিবেশের সমস্যা সৃষ্টি করে।
- সরাসরি প্রভাব হলো:
• বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় বা দাবানলের কারণে কারখানা ও অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়া;
- এবং উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া।

- পরোক্ষ প্রভাব হলো:
• কাঁচামাল সরবরাহে বাধা,
• উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি,
• পানির অভাব,
• কর্মীদের স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা হ্রাস
• এবং নতুন নীতি ও প্রযুক্তি গ্রহণের কারণে আর্থিক ঝুঁকি।

উল্লেখ্য,
- বিভিন্ন শিল্পে জলবায়ুর প্রভাব ভিন্নভাবে দেখা যায়।
- বস্ত্র শিল্পে আর্দ্রতা অপরিহার্য, শুষ্ক আবহাওয়ায় সুতা ছিঁড়ে যায়।
- কৃষি-ভিত্তিক শিল্পে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সেচের পানির অভাব ও জমির উর্বরতা কমে যাওয়ায় উৎপাদন হ্রাস পায়।
- পর্যটন শিল্পে প্রাকৃতিক আকর্ষণ যেমন প্রবাল প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হলে পর্যটনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

উৎস: 
১. শিল্পোদ্যোগীয় পরিবেশ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. Britannica.

৩,৫৮৫.
নিম্নের কোন জেলায় চুনাপাথরের মজুদ রয়েছে?
  1. মৌলভীবাজার
  2. জয়পুরহাট
  3. খুলনা
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
চুনাপাথর:
- ১৯৬১ সালে গন্ডোয়ানা কোল অনুসন্ধানের সময় জয়পুরহাটে চুনাপাথরের খনির অনুসন্ধান মেলে।
- দেশের খনিজ সম্পদের জরিপকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ৬০ বছর আগে খোঁজ পাওয়া সেই খনির চুনাপাথর অত্যন্ত উঁচুমানের।
- আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেখান থেকে চুনাপাথর উত্তোলন সম্ভব।
- ভারতসহ অনেক দেশই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক গভীরের খনি থেকে চুনাপাথর তুলছে। কিন্তু অর্থায়নের উৎস না পাওয়ার পাশাপাশি তাপমাত্রা ও ভূগর্ভস্থ পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জের কারণে খনি থেকে চুনাপাথর উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না।
- তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটের খনিতে ৫১৮ থেকে ৫৪৯ মিটার গভীরতায় ১৫ মিটার গড় পুরুত্বের চুনাপাথর মজুদ আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৫৮৬.
'দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী' প্রণয়ন করা হয় কত সালে?
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১৯ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০২০ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
⇒ বাংলাদেশ সরকারের 'দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী' প্রণয়ন করা হয় - ২০১৯ সাল। 

উল্লেখ্য
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: বাংলাদেশে প্রায়শই ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন, শৈত্যপ্রবাহ ও বজ্রপাতসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা করতে হয়।
- বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগের তীব্রতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বাংলাদেশের জাতীয় নীতি, পরিকল্পনা, এবং বিভিন্ন কর্মসুচি প্রণয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে
- বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় রয়েছে-
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২,
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫, 
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ২০২১-২৫,
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা - ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৫৮৭.
মার্বেল কোন ধরনের শীলা? 
  1. আন্তঃজ আগ্নেয় শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. মিশ্র শীলা 
  4. রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা

- মার্বেল রূপান্তরিত শিলা।

রূপান্তরিত শিলা:

- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয়।
- এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।

• রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:

- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
- গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
- কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

অন্যদিকে,

• অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা: 
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

• পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর ও কেওলিন পাললিক শিলার উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৮৮.
'Bogakain Lake' is situated in -
  1. Khagrachori
  2. Rangamati
  3. Cox's Bazar
  4. Bandarban
  5. Chattogram
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভিন্ন লেক ও তাদের অবস্থান:
- বগা লেক : বান্দরবান
- প্রান্তিক লেক : বান্দরবান
- কাপ্তাই লেক : রাঙামাটি
- মহামায়া লেক : চট্টগ্রাম
- ফয়’স লেক : চট্টগ্রাম
- ভাটিয়ারি লেক : চট্টগ্রাম।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৫৮৯.
অনবায়নযোগ্য সম্পদ সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. মজুদ বা যোগান সীমিত
  2. প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত
  3. নতুনভাবে তৈরি হতে দীর্ঘ সময় লাগে
  4. বার বার বা পুনরায় গঠনশীল
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক সম্পদ:
- প্রাকৃতিক সম্পদ হলো প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক উপাদান, যেগুলো মানুষের অভাব পূরণে সক্ষম।
- যেমন- ধান, সূর্যের আলো।

প্রাকৃতিক সম্পদকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. নবায়নযোগ্য সম্পদ, যেমন-সূর্যালোক
২. অনবায়নযোগ্য সম্পদ, যেমন- কয়লা
৩. অন্যান্য সম্পদ, যেমন- প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য।

অনবায়নযোগ্য সম্পদ:
- যে সকল সম্পদের মজুদ বা যোগান সীমিত এবং যেগুলো নতুনভাবে তৈরি হতে দীর্ঘ সময় লাগে সেগুলো হলো অনবায়নযোগ্য সম্পদ।
- যেমন- প্রাকৃতিক গ্যাস।

নবায়নযোগ্য সম্পদ:
- আবার যে সকল সম্পদ বার বার বা পুনরায় গঠনশীল এবং সময়ের ব্যবধানে বিশেষভাবে পরিবর্তনশীল তাদের বলা হয় নবায়নযোগ্য সম্পদ।
- যেমন- জলবিদ্যুৎ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৯০.
নদীবিহীন দেশ কোনটি?
  1. বাহরাইন
  2. ইয়েমেন
  3. লিবিয়া
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নদীবিহীন দেশ:
- পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে যেগুলোর কোনো নদী নেই। অবশ্যই এগুলি বেশিরভাগই মরুভূমির দেশ, যেখানে বৃষ্টিপাত এবং জলের উৎস খুব কম, এবং কোনও বাস্তব নদী বা নদীর তল তৈরি করার জন্য পর্যাপ্ত জলপ্রবাহ নেই।

- স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই এমন দেশগুলি হলো:
- কমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি, কিরিবাতি, নাউরু, টোঙ্গা ও টুভালু।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩,৫৯১.
সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ কোনটি?
  1. শুক্র
  2. বুধ
  3. ইউরেনাস
  4. নেপচুন
ব্যাখ্যা

বুধ (Mercury):
- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার; এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে আসতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন। সুতরাং বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়।
- বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোনো বায়ুমন্ডল ধরে রাখতে পারে না।
- ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাশূন্যযান মেরিনার-১০ বুধের যে ছবি পাঠায় তা থেকে দেখা যায় যে, বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো।
- ভূত্বক অসংখ্য গর্তে ভরা এবং এবড়ো-থেবড়ো। এখানে আছে অসংখ্য পাহাড় ও সমতলভূমি।
- বুধের কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৯২.
উত্তমাশা অন্তরীপ কোন দেশে অবস্থিত?
  1. সোমালিয়া
  2. ইথিওপিয়া
  3. দক্ষিণ আফ্রিকা
  4. নাইজেরিয়া
ব্যাখ্যা

উত্তমাশা অন্তরীপ:
- এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অন্তরীপ।
- অবস্থান: আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত, দক্ষিণ আফ্রিকা।
- ইউরোপ- এশিয়া সমুদ্রপথ আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- আটলান্টিক মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের সংযোগস্থল।
- আবিষ্কারক: বার্তোলোমিউ ডায়াস।
- আবিষ্কারের সাল: ১৪৮৮ খ্রিষ্টাব্দ।

• বিখ্যাত অন্তরীপ ও তাঁদের অবস্থান:
- হর্ন অন্তরীপ : চিলি
- ট্রাফালগার অন্তরীপ : স্পেন
- মরিস জেসাপ অন্তরীপ : গ্রিনল্যান্ড
- গার্দাফুই অন্তরীপ : সোমালিয়া
- কন্যাকুমারী অন্তরীপ : ভারত।

উৎস: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।

৩,৫৯৩.
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা -
  1. ২২০ নটিক্যাল মাইল
  2. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  3. ১২ নটিক্যাল মাইল
  4. ২৪ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা:
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার
- অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার এবং
- ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান এলাকা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার অন্তর্ভূক্ত।    
নোট:- (১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার)। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৯৪.
বাংলাদেশের সর্বাধিক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  2. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  3. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল
  4. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনায় সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।
সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাসমূহ হলো:
- সিলেট
- সুনামগঞ্জ
- মৌলভীবাজার
- হবিগঞ্জ এবং
- ‍বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার উত্তরাংশ।
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ জেলাসমূহ:
- চট্টগ্রাম
- কুমিল্লা
- ঢাকা
- টাঙ্গাইল ও
- রংপুর অঞ্চল।
কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহ:
- বরিশাল
- খুলনা ও
- ফরিদপুর সহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৫৯৫.
শীতকালে বাতাসের সর্বনিম্ন আর্দ্রতা শতকরা কত ভাগ থাকে?
  1. প্রায় ৪০ ভাগ
  2. প্রায় ৩৬ ভাগ
  3. প্রায় ৩০ ভাগ
  4. প্রায় ১৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
 শীতকাল:
- সাধারণত এ দেশে নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক-ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- এ সময় বাতাসের সর্বনিম্ন আর্দ্রতা শতকরা প্রায় ৩৬ ভাগ।

- সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে। জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে।
- উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগত শীতল মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে।
- দেশের উত্তরাঞ্চলের উপর দিয়ে কখনো কখনো তীব্র শীতল বায়ু প্রবাহিত হওয়ার ফলে বেশ শীত অনুভূত হয়।
- উত্তরের হিমালয় পেরিয়ে আসা এই বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,৫৯৬.
নিচের কোনটি বিশ্বব্যাংকের মতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ দেশ?
  1. ক) জাপান
  2. খ) বাংলাদেশ
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) ন্যাদারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ দেশ হলো বাংলাদেশ।
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
এগুলো হলো মরূকরণ, বন্যা, ঝড়, সসমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৯৭.
নিশীথ সূর্যের দেশ -
  1. রাশিয়া
  2. কানাডা
  3. ফিনল্যান্ড
  4. নরওয়ে
ব্যাখ্যা
নিশীথ সূর্যের দেশ: 
- নরওয়ের উত্তরাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে সূর্য মাঝরাতেও অস্ত যায় না,
- যা একটি প্রকৃতির বিস্ময়।
- এই সৌন্দর্যমণ্ডিত ঘটনাই  উপাধি দিয়েছে নিশীথ সূর্যের দেশ।

ভূ-অবস্থান ও অক্ষাংশ:
- নরওয়ের উত্তরাংশ আর্কটিক সার্কেলের ভেতরে অবস্থিত।
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে (মে থেকে জুলাই) এমন সময় আসে যখন সূর্য একেবারেই অস্ত যায় না।

উৎস: ব্রিটানিকা
৩,৫৯৮.
টাঙ্গুয়ার হাওরকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ‘রামসার সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে -
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৯ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ২০০২ সালে
ব্যাখ্যা
রামসার সাইট (Ramsar sites):
- রামসার কনভেনশন (Ramsar Convention) বা রামসার চুক্তি হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি (wetlands) সংরক্ষণ এবং সারা বিশ্বে এসব এলাকার টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- বাংলাদেশের ২টি স্থান রামসার সাইট (Ramsar sites) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
- রামসার সাইট ২টি হলো: সুন্দরবন (১৯৯২), টাঙ্গুয়ার হাওর (২০০০)।

⇒ টাঙ্গুয়ার হাওর:
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- টাঙ্গুয়ার হাওরকে সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ‘রামসার সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি।

উৎস: Ramsar Convention ওয়েবসাইট।
৩,৫৯৯.
কোন নদীর তীরে বাংলাদেশের বৃহত্তম নদীবন্দর অবস্থিত?
  1. মেঘনা
  2. বুড়িগঙ্গা
  3. শীতলক্ষ্যা
  4. পদ্মা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নদীবন্দর
- বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৬ টি নদীবন্দর রয়েছে।
- সর্বশেষ তিনটি নদী বন্দর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে একই দিনে পৃথক পৃথক তিনটি গেজেট আকারে প্রকাশ পায়।
- এগুলো হলো
১. সুলতানগঞ্জ(গোদাগাড়ী) নদী বন্দর, রাজশাহী,
২.নরসিংহপুর আলুবাজার নদী বন্দর, শরিয়তপুর এবং
৩.বাঞ্ছারামপুর (কড়ইকান্দি) নদী বন্দর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

- বাংলাদেশের বৃহত্তম নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জ জেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- শীতলক্ষ্যা নদী উৎপন্ন হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে এবং নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়ার কাছে ধলেশ্বরী নদীতে মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের এককালীন বিখ্যাত মসলিন শিল্প শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- বর্তমানেও নদীর উভয় তীরে প্রচুর পরিমাণে ভারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। ১১০ কিমি দৈর্ঘ্যের এই
- শীতলক্ষ্যা তার পানির স্বচ্ছতা এবং শীতলতার জন্য একদা বিখ্যাত ছিল।

তথ্যসূত্র – বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাপিডিয়া।
৩,৬০০.
সুন্দরবনের পশ্চিমে কোন নদী অবস্থিত?
  1. পশুর
  2. রায়মঙ্গল নদী
  3. তিস্তা
  4. মাতামুহুরী
ব্যাখ্যা
রায়মঙ্গল নদী: 
- ইছামতি-কালিন্দী-রায়মঙ্গল মূলত একই নদী, বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন নামে পরিচিত।
- ইহা একটি জোয়ারে মোহনার নদী। ইছামতি নদী সাতক্ষীরা জেলার পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে কালিন্দী নামে প্রবাহিত হয়ে আরও দক্ষিণে সুন্দরবনের ভিতর প্রবেশের পর রায়মঙ্গল নাম ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- সুন্দরবনের পশ্চিমে রায়মঙ্গল নদী অবস্থিত।
- মোহনায় রায়মঙ্গল নদীর মুখ ফানেলের মতো। একসময় এই পথে স্টিমার সার্ভিস কলকাতা থেকে বরিশাল হয়ে বাংলাদেশের অন্যান্য বন্দরে চলাচল করতো।
- রায়মঙ্গল জোয়ারভাটা দ্বারা প্রভাবিত নদী এবং এর পানি লবণাক্ত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।