বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৩৩ / ৭২ · ৩,২০১৩,৩০০ / ৭,১৯১

৩,২০১.
বাংলাদেশে বছরের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. মার্চ
  2. জুন
  3. এপ্রিল
  4. জুলাই
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে জলবায়ু ও ঋতু:
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত: ২০৩ সেন্টিমিটার।
- বার্ষিক গড় তাপমাত্রা: ২৬°C।
- বাংলাদেশ মূলত ষড়ঋতুর দেশ, তবে প্রধান তিনটি ঋতু লক্ষ্য করা যায়: গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল ও শীতকাল। 
- বছরের উষ্ণতম মাস: এপ্রিল। এই মাসের গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮°C।
- বছরের শীতলতম মাস: জানুয়ারি। এই মাসের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৭.৭°C। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,২০২.
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান কোথায়?
  1. ৫° থেকে ১০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে
  2. ১৫° থেকে ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে
  3. ৩০° থেকে ৪০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে
  4. ২৩° থেকে ৬৬° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে
ব্যাখ্যা

• নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের দেশসমূহ সারা বছর সূর্যের তাপ পায় বলে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- সেই সাথে উর্বর মৃত্তিকা এবং জলবায়ুর প্রভাবে চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
- এখানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২০৩.
বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস একত্রে শতকরা কতভাগ জায়গা জুড়ে রয়েছে?
  1. ক) ৯০.৭১ শতাংশ
  2. খ) ৯৩.৯৮ শতাংশ
  3. গ) ৯৭.৭৫ শতাংশ
  4. ঘ) ৯৮.৭৩ শতাংশ
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল বিভিন্ন প্রকারের গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত। বিশুদ্ধ ও শুষ্ক বায়ুর প্রধান দুইটি উপাদানের নাম নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। এই দুটি গ্যাস একত্রে মিলে বায়ুমন্ডলের ৯৮.৭৩ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে এবং বাকি ১.২৭ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে অন্যান্য গ্যাসীয় উপাদান। এই ১.২৭ শতাংশ জায়গা জুড়ে থাকা গ্যাসীয় উপাদানগুলো হলো নিষ্ক্রিয় গ্যাস যেমন- ওজোন, জেনন, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্রিপটন, হিলিয়াম, নিয়ন ইত্যাদি। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,২০৪.
নিচের কোন জেলায় টারশিয়ারি যুগের পাহাড় আছে?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) সুনামগঞ্জ
  4. ঘ) বগুড়া
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড় আছে - সুনামগঞ্জ জেলায়।

বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক শ্রেণিবিভাগ:

- অবস্থান, ভূমির গঠন ও ভূ-তাত্ত্বিক সময়কাল অনুসারে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে প্রধানত তিনটি বৃহৎ শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছে বলে এগুলোকে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বলা হয়।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শ্লেট জাতীয় প্রস্তর এবং কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে মনে করা হয়।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অবস্থান:
- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ছোট-বড় পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। 

এছাড়াও - 
কুমিল্লা, রাজশাহী এবং বগুড়ায় আছে প্লাইস্টোসিনকালের পাহাড়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২০৫.
দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. জুলাই
  2. জানুয়ারি
  3. এপ্রিল
  4. মার্চ
ব্যাখ্যা
- দক্ষিণ গোলার্ধ (Southern Hemisphere) পৃথিবীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশগুলো অবস্থিত।
- এছাড়াও, এই গোলার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল প্রভৃতি দেশসহ কিছু অঞ্চল রয়েছে।
- এখানকার ঋতু ও জলবায়ু উত্তর গোলার্ধের থেকে ভিন্ন।
- প্রতি বছর ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- ২১ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও সবচেয়ে বড় রাত হয়। 
- দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস জানুয়ারি এবং শীতলতম মাস জুলাই।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা ডটকম।
৩,২০৬.
বাংলাদেশের কোন বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক কোন সীমান্ত সংযোগ নেই?
  1. সিলেট
  2. রাজশাহী
  3. ঢাকা
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

• বর্তমানে বাংলাদেশে কার্যকর বিভাগ সংখ্যা ৮টি।
• এর মধ্যে ৬ বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।
• ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
উৎসঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।

৩,২০৭.
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতে কোন ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটে?
  1. অনুবাত
  2. অনুপাদিত
  3. প্রতিপদ
  4. প্রতিবাত
ব্যাখ্যা
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।
- পর্বত অতিক্রমকারী বায়ু যদি পর্বতের অপর পাশে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে পৌঁছায় তখন ঐ বায়ুতে জলীয়বাষ্প কমে থাকে। ঐ বায়ু নিচে নামার ফলে আরও উষ্ণ এবং শুষ্ক হয়ে উঠে বলেই ঐ স্থানে বৃষ্টিপাত হয় না।
- এই বৃষ্টিহীন স্থানকে বলা হয় বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২০৮.
নিচের কোনটি নিরক্ষীয় জলবায়ুর দেশ নয়?
  1. মালয়েশিয়া
  2. সৌদি আরব
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. ফিলিপাইন
ব্যাখ্যা
সৌদি আরব নিরক্ষীয় জলবায়ুর দেশ নয়। 

নিরক্ষীয় জলবায়ু
:
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান করে।

⇔ অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২০৯.
কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে না?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. সুনামি
  3. তুষারপাত
  4. অগ্নিকাণ্ড
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ (Disaster):
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- দুর্যোগ একটি এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচণ্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।

বিশ্বব্যাপী দুর্যোগের প্রকারভেদ: পৃথিবীতে সাধারণত দুই ধরনের দুর্যোগ ঘটে:
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ: এ ধরনের দুর্যোগ প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত হয়, যেমন:
- বন্যা
- ভূমিকম্প
- ঘূর্ণিঝড়
- সুনামি
- তুষারপাত ইত্যাদি।

২. মানবসৃষ্ট দুর্যোগ: এই ধরনের দুর্যোগ মানব কর্মকাণ্ডের কারণে সংঘটিত হয়, যেমন:
- জলাবদ্ধতা
- অগ্নিকাণ্ড
- রাসায়নিক দূষণ
- যুদ্ধ
- পারমাণবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

তথ্যসুত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,২১০.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকর হয় কবে?
  1. ১ আগস্ট, ২০১৬ সাল
  2. ১ আগস্ট, ২০১৫ সালে
  3. ৩০ আগস্ট, ২০২৪ সালে
  4. ১ জুলাই, ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাথে ভারতের ছিটমহল সমস্যা ও সমাধান:

• ছিটমহল দ্বারা এমন অঞ্চল বা ভূখণ্ডকে বোঝায় যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অবস্থিত অন্য কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত এলাকা। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই অন্য রাষ্ট্রের এ ধরণের ছিটমহল রয়েছে। যেমন ভারত- বাংলাদেশ ছিটমহল।
• বাংলাদেশের সাথে ভারতের ছিটমহল সমস্যার উদ্ভব হয়: ১৬ আগস্ট, ১৯৪৭ সালে।
• সমস্যা-সমাধানে মুজিব-ইন্ধিরা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৬ মে, ১৯৭৪ সালে।
• চুক্তি কার্যকর হয়: ১ আগস্ট, ২০১৫ সালে।

ছিটমহল বিনিময়ের ফলাফল:
• বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তি বলে আর কোনো ছিটমহলের অস্তিত্ব নেই। 
• প্রথম বাংলদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় কুড়িগ্রামের দশিয়ারছড়া ছিটমহলে,
• দশিয়ারছড়া ছিটমহলের বর্তমান নাম মুজিব-ইন্ধিরা ইউনিয়ন,


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো এবং বিবিসি পত্রিকা রিপোর্ট। 
৩,২১১.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের কয়টি রাজ্যের সীমান্ত আছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,২১২.
বাংলাদেশে কোন মাসের গড় তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে?
  1. নভেম্বর
  2. অক্টোবর
  3. ডিসেম্বর
  4. জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ুর সাধারণ চিত্র:
- গড় বার্ষিক তাপমাত্রা ২৬.১০ (৭৯° ফা.)।
- গড় তাপমাত্রার পার্থক্য (দিবারাত্রি) ৯° সে, 
- গড় মাসিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪°সে. (৯৩° ফা.) এপ্রিল মাসে; 
- গড় মাসিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ডিসেম্বরে ১৪° সে (৫৭° ফা.) 
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৮৭৫ মিলিমিটার;
- গড়ে বছরে ১৩৬ দিন ০.১ মিলিমিটারের অধিক বৃষ্টিপাত হয়;
- ডিসেম্বর বছরের শুষ্কতম মাস হিসাবে বিবেচিত (গড় বৃষ্টিপাত ৫ মিলিমিটার);
- সর্বাধিক আর্দ্র মাস হল আগস্ট (গড় বৃষ্টিপাত ৩৩৭ মিলিমিটার)
- গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৫.৫%।
- গড় মাসিক আদ্রতা মার্চে ৪৫% জুন-জুলাইয়ে ৭৯% এর উন্নীত হয়;
- বাংলাদেশে বছরে কোনাে তুষার দিবস নেই।

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, দেশের শীতলতম মাস - জানুয়ারি।
৩,২১৩.
সিনাই উপদ্বীপ নিয়ে যুদ্ধ হয় কোন দুটি দেশের মধ্যে?
  1. ক) মিশর ও ইসরাইল
  2. খ) সিরিয়া ও ইসরায়েল
  3. গ) ইসরাইল ও লেবানন
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

সিনাই উপদ্বীপ মিশরে অবস্থিত ত্রিভুজ আকৃতির একটি উপদ্বীপ।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল সিনাই উপদ্বীপ দখল করে নেয়। ১৯৭৩ সালে মিশর সিনাই উপদ্বীপ দখলে নিতে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ১৯৭৯ সালের ইসরাইল ও মিশরের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয়।
১৯৮২ সালে চুক্তির আওতায় ইসরাইল তাদের সেনাদের প্রত্যাহার করে নেয়।

উৎসঃ Aljajera.com

৩,২১৪.
পৃথিবীর উচ্চতম রাজধানীর নাম কী?
  1. প্যারিস
  2. লাপাজ
  3. বোগোতা
  4. কিটো
ব্যাখ্যা
বলিভিয়ার রাজধানী:
-বলিভিয়ার রাজধানী লাপাজ পৃথিবীর উচ্চতম রাজধানী।
-দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যভাগের একটি দেশ যা আন্দিজ পর্বতমালায় অনেক উঁচুতে অবস্থিত।
-এজন্য দেশটিকে পৃথিবীর ছাদ নামে অনেক সময় ডাকা হয়।
-সরকারিভাবে বলিভিয়ার রাজধানীর নাম শুক্রে,তবে লাপাজ দেশটির প্রশাসনিক রাজধানী ও বলিভিয়া সরকারের প্রধান কর্মস্থল।
-প্রায় ৩৬০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত বিশ্বের উচ্চতম রাজধানী।

অন্যদিকে,
-দ্বিতীয় উচ্চতম রাজধানী হচ্ছে ইকুয়েডরের কিটো।

তথ্যসূত্র: Britannica.com
৩,২১৫.
দক্ষিণ গোলার্ধে কোনো স্থানে মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি ৪৫° এবং বিষুবলম্ব ১০° দক্ষিণ। ঐ স্থানের অক্ষাংশ কত?
  1. ৩৫° দক্ষিণ
  2. ৪৫° দক্ষিণ
  3. ৫৫° দক্ষিণ
  4. ২৫° দক্ষিণ
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণ গোলার্ধে অক্ষাংশ নির্ণয় করার সূত্র হলো:
- অক্ষাংশ = ৯০°−(মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি) + বিষুবলম্ব (দক্ষিণ হলে -, উত্তর হলে +)। 

- এখানে, মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি = ৪৫°,
- বিষুবলম্ব = ১০° দক্ষিণ।

∴ অক্ষাংশ = ৯০°− ৪৫°+ ১০°
= ৪৫°+১০°
=৫৫°দক্ষিণ অক্ষাংশ  

- অতএব, ঐ স্থানের অক্ষাংশ = ৫৫° দক্ষিণ।

উৎস: মানচিত্র পঠন ও ব্যবহার, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২১৬.
IPCC -এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১০০ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা কত ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়েছে?
  1. ০.১° সেলসিয়াস
  2. ১.০° সেলসিয়াস
  3. ০.৫° সেলসিয়াস
  4. ০.৬° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
- জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য গঠিত Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC)-এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট (AR4) অনুযায়ী, জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের প্রভাব অনেক মারাত্মক এবং তা ধীরে ধীরে বেড়েই চলছে। 
- পৃথিবীর তাপমাত্রা গত ১০০ বছরে প্রায় ০.৬° সেলসিয়াস বেড়েছে। 
- ১৯৬১-২০০৩ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা গড়ে প্রতি বছরে ১.৮ সেন্টিমিটার করে বেড়েছে। 
- ১৯৯৫-২০০৬ পর্যন্ত ১২ বছরের মধ্যে ১১ বছরই প্রচন্ড গরম পড়েছে। পরবর্তী দুই দশকে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা প্রতি দশ বছরে গড়ে ০.২°-০.৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাবে। 
- ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১°-৬.৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। 
- ২০৮০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। 
- প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়, আইলা, সিডর, নার্গিস, ক্যাটরিনার মতো ভয়াবহ দুর্যোগ আরো ঘন ঘন হবে এবং তার মাত্রা আরো ভয়ানক হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২১৭.
বিশ্বের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত অ্যাঞ্জেল ফলস কোথায় অবস্থিত?
  1. ব্রাজিল
  2. ভেনিজুয়েলা
  3. ইকুয়েডর
  4. কানাডা
ব্যাখ্যা

উচ্চতম জলপ্রপাত: 
- বিশ্বের উচ্চতম জলপ্রপাত হলো অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত।
- এটির উচ্চতা ৯৭৯ মিটার।
- এটি ভেনেজুয়েলায় অবস্থিত।

এছাড়াও, 
গুয়ারিয়া জলপ্রপাত: 
- পানি পতনের দিক থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম জলপ্রপাত।
- ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে সীমান্তে অবস্থিত।

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত: 
- বিশ্বের সবচেয়ে চওড়া জলপ্রপাত।
- এটি জাম্বিয়ায় অবস্থিত কিন্তু জিম্বাবুয়ের ভিক্টোরিয়া সিটি প্রান্ত থেকে সবচেয়ে ভালো ভাবে দেখা যায়।

নায়াগ্রা জলপ্রপাত: 
- আয়তনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত।
- এটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থিত।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও প্রত্রিকা রিপোর্ট। 

৩,২১৮.
পদ্মা নদীর উপনদী কোনটি?
  1. কপোতাক্ষ
  2. পুনর্ভবা
  3. করতোয়া 
  4. আত্রাই
ব্যাখ্যা

পদ্মা নদী:
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- দেশের তিন বিভাগের ১২টি জেলায় প্রবাহিত নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।
- পদ্মার অপর নাম কীর্তিনাশা।
- ভারতের মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে গঙ্গা নদী উৎপত্তি লাভ করেছে।
- রাজশাহীর কাছে কুষ্টিয়ার উত্তর প্রান্ত দিয়ে পদ্মা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- তারপর রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- অতঃপর তিন নদীর মিলিত স্রোত বঙ্গোপসাগরে ঢুকেছে।

⇒ পদ্মা নদীর শাখা নদী: মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব, মাথাভাঙ্গা, কুমার, কপোতাক্ষ, শিবসাত, পশুর, বড়াল, গড়াই, ইছামতি ইত্যাদি।
- পদ্মা নদীর উপনদী: মহানন্দা, ট্যাঙ্গন, পুনর্ভবা, নগর, কুলিক।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,২১৯.
আরাকান পাহাড় হতে উৎপন্ন নদী কোনটি?
  1. সাঙ্গু নদী
  2. গোমতী নদী
  3. কর্ণফুলি নদী
  4. ফেনী নদী
ব্যাখ্যা
সাঙ্গু নদী:
- সাঙ্গু নদী (Sangu River) বাংলাদেশের দক্ষিণে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত একটি পাহাড়ি নদী।
- শঙ্খ নদী নামেও এটি পরিচিত।
- এটি কর্ণফুলীর পর চট্টগ্রাম বিভাগের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ২৯৪ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১১৯ মিটার। 
- এই নদীর উৎপত্তি মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়ে।
- বান্দরবান জেলা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও বাঁশখালীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এটি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে।
- ১৮৬০ সালে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের গেজেটিয়ার প্রকাশকালে ব্রিটিশ শাসকরা ইংরেজিতে এটিকে সাঙ্গু নাম দেন।
- তবে মারমা সম্প্রদায়ের ভাষায় সাঙ্গুকে ‘রিগ্রাই থিয়াং’ অর্থাৎ স্বচ্ছ পানির নদ বলা হয়।
- সাঙ্গু নদী বান্দরবানের দক্ষিণাঞ্চলে সৃষ্টি হয়ে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমে বাঁক নিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে শেষ হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- নাফ নদীর উৎপত্তিস্থল ও মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ে।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,২২০.
বাংলাদেশের তামাবিল সীমান্তের সাথে ভারতের কোন শহরটি অবস্থিত?
  1. করিমগঞ্জ
  2. পেট্রাপোল
  3. বজ্রপুর
  4. ডাউকি
ব্যাখ্যা
• তামাবিল স্থলবন্দর:
- গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন সীমান্তবর্তী এলাকা তামাবিল।
- তামাবিল স্থল শুল্ক বন্দর দিয়েই ভারত থেকে কয়লা আমদানী করা হয়।
- তামাবিলের অপর প্রান্তে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি শহরটি অবস্থিত।
- তামাবিল থেকে মেঘালয় রাজ্যের শিলং পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

সূত্র: গোয়াইনঘাট উপজেলা ওয়েবসাইট।
৩,২২১.
পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়জাত ভূমির আকৃতি কেমন থাকে?
  1. 'ভি' আকৃতি
  2. নদীর বাঁক
  3. গিরিসংকট
  4. বর্তুলাকার গর্ত
ব্যাখ্যা
নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ (Erosional Features of River):
- নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় এবং নতুন নতুন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।
- পার্বত্য অবস্থায় নদীর ক্ষয়কার্য অত্যন্ত বেশি হয়।
- নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ অনেক ধরণের হয়।
- যেমন:
১. 'ভি' আকৃতি উপত্যকা ('V' shaped Valley),
২. জলপ্রপাত (Waterfall),
৩. গিরিসংকট (Ravine),
৪. গিরিখাত (Gorge),
৫. নদীপ্রপাত (Rapid),
৬. নদীর বাঁক (Meanders),
৭. বর্তুলাকার গর্ত (Pot Holes) ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
⇒ 'ভি' আকৃতি উপত্যকা ('V' shaped Valley):
- পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়জাত ভূমি 'ভি' আকৃতি উপত্যকা হয়ে থাকে।
- পার্বত্য অঞ্চলের শিলা তুলনামূলকভাবে কঠিন থাকে।
- সেখানে নদীর স্রোতের গতিবেগ বেশি থাকায় নদী পার্শ্বক্ষয়ের তুলনায় তলদেশের ক্ষয়সাধন অধিক হয়।
- এ সময় পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার মধ্যভাগ অধিক ক্ষয় হতে হতে কালক্রমে ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের ন্যায় রূপধারণ করে।
- এজন্য এ ধরনের উপত্যকাকে ‘V’ আকৃতির উপত্যকা বলে।
- পরবর্তীতে ধীরে ধীরে পার্শ্বদিকে ক্ষয়ের পরিমাণ বেশি হলে উপত্যকা ক্রমান্বয়ে প্রশস্ত হতে থাকে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২২২.
বাংলাদেশের 'লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান' কী ধরনের বনভূমি?
  1. পত্র পতনশীল জাতীয়
  2. ক্রান্তীয় আর্দ্র পত্র পতনশীল জাতীয়
  3. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ জাতীয়
  4. স্রোতজ বনভূমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনভূমি:
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

⇔ ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

⇒ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।
- ১৯২৫ সালে বনায়ন করে সৃষ্ট বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে।
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ জাতীয় বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।
- বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেষ্টের মতো এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সূর্যের আলোর জন্য প্রতিযোগিতা করে এ বনের গাছপালা খুব উঁচু হয়ে থাকে, এবং অনেক ওপরে ডালপালা ছড়িয়ে চাঁদোয়ার মত সৃষ্টি করে।
- এই বন এতই ঘন যে মাটিতে সূর্যের আলো পড়েনা বললেই চলে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,২২৩.
বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে?
  1. মেসোমন্ডল
  2. স্ট্রাটোমন্ডল
  3. ট্রপোমন্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমন্ডল: 
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন হওয়ায় এ স্তর জীবজগতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- ফলে আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এবং এই স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুর সব রকমের বৈচিত্র্য দেখা যায়।
- এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে।
- এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫০ সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২২৪.
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল কোন দুর্যোগের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ?
  1. ক) ভূমিকম্প
  2. খ) লবণাক্ততা
  3. গ) খরা
  4. ঘ) নদী ভাঙন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এ অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।

(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,২২৫.
পৃথিবীর ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি প্রাপ্ত ধাতু হলো-
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. পারদ
  3. তামা 
  4. সিলিকন
ব্যাখ্যা

অ্যালুমিনিয়াম: 
- অ্যালুমিনিয়াম (প্রতীক: Al) একটি হালকা, রুপালি সাদা রঙের ধাতু, যা পর্যায় সারণীর ১৩ নম্বর গ্রুপে (বোরন গ্রুপ) অন্তর্ভুক্ত।
- এটি পৃথিবীর ভূত্বকের সবচেয়ে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
- যা ভূত্বকের ওজনের প্রায় ৮.১%- ৮.২%।
- ব্যবহৃত অ-আয়রন ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়।
- আবিষ্কার: ১৮২৫ সালে ডেনিশ পদার্থবিদ হ্যান্স খ্রিস্টিয়ান ওর্স্টেড অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডকে পটাশিয়াম অ্যামালগাম দিয়ে রিডিউস করে অশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়াম আলাদা করেন।
- ১৮২৭ সালে জার্মান রসায়নবিদ ফ্রিডরিখ ওয়োলার পটাশিয়াম ব্যবহার করে অ্যালুমিনিয়াম পাউডার এবং ছোট গোলক তৈরি করেন।
- ১৮০৯ সালে ব্রিটিশ রসায়নবিদ স্যার হামফ্রি ডেভি ফিউজড অ্যালুমিনা ইলেকট্রোলাইসিস করে আয়রন-অ্যালুমিনিয়াম মিশ্রধাতু তৈরি করেন এবং এটিকে "অ্যালুমিনিয়াম" নাম দেন।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৩,২২৬.
'শেখ হাসিনা ধরলা সেতু' কোন কোন জেলার সেতুবন্ধন করেছে?
  1. ক) মুন্সিগঞ্জ_মানিকগঞ্জ
  2. খ) টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ
  3. গ) কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট
  4. ঘ) রাঙ্গামাটি - বন্দরবান
ব্যাখ্যা
'শেখ হাসিনা ধরলা সেতু' কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট জেলার সেতুবন্ধন করেছে। ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু। উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
৩,২২৭.
পূর্ববঙ্গ জমিদারি দখল ও প্রজাসত্ব আইন কত সালে প্রবর্তিত হয়?
  1. ক) ১৯৪৮ সালে
  2. খ) ১৯৫২ সালে
  3. গ) ১৯৫৮ সালে
  4. ঘ) ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ জমিদারি দখল ও প্রজাসত্ব আইন (১৯৫০ খ্রি.)
গণদাবির কারণে মুসলিম লীগ সরকার ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চ পূর্ববঙ্গ জমিদারি দখল ও প্রজাসত্ব বিল উপস্থাপন করে। বহুবিতর্কের পর ১৯৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে বিলটি আইনে পরিণত হয়। এ আইনের ফলে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,২২৮.
'ডলোরাইট' কোন ধরনের শিলা?  
  1. অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা
  2. বহিঃজ আগ্নেয় শিলা
  3. পাললিক শিলা
  4. রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা

১. আগ্নেয় শিলা:
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল।
- এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।

আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা:
- ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম, রং গাঢ়।
- এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি।

(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা:
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা।
- এর দানাগুলো স্থূল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

২. পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে। উদাহরণ: চুনাপাথর, বেলেপাথর, কয়লা, শেল, কাদাপাথর ইত্যাদি।

৩. রূপান্তরিত শিলা:
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস এবং কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

৩,২২৯.
 'সোনাদিয়া দ্বীপ' কোথায় অবস্থিত?
  1. টেকনাফ
  2. হাতিয়া
  3. মহেশখালি
  4. কুতুবদিয়া
ব্যাখ্যা

• সোনাদিয়া দ্বীপ:
- কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত।
- মহেশখালীর দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে সোনাদিয়ার অবস্থান।
- সোনাদিয়া দ্বীপটি মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত।
- ঘটিভাঙ্গা নামে একটি খাল মহেশখালী দ্বীপের সাথে একসময় সোনাদিয়াকে বিচ্ছিন্ন রাখলেও খালের ওপর সেতু নির্মিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে।

উৎস: কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট।

৩,২৩০.
তিব্বতের মানস সরোবরে কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে?
  1. করতোয়া
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. ধলেশ্বরী
  4. আত্রাই
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা:
- তিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়েছে।
- আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি এক সময়ে ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর-পশ্চিমদিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো।
- কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার একটি শাখা নদীর সৃষ্টি হয়।
- এই নতুন স্রোত ধারাটি যমুনা নামে পরিচিত হয়।
- এটি দক্ষিণে গোয়ালন্দ পর্যন্ত যমুনা নদী বলে পরিচিত।
- যমুনার শাখা নদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখা নদী-বুড়িগঙ্গা।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের উপনদী।
- করতোয়া ও আত্রাই হলো যমুনার উপনদী।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,২৩১.
'আবু মুসা দ্বীপ' কোথায় অবস্থিত?
  1. আরব সাগরে
  2. ক্যারিবিয়ান সাগরে
  3. ওমান সাগরে
  4. পারস্য উপসাগরে
ব্যাখ্যা
• 'আবু মুসা দ্বীপ':
- 'আবু মুসা দ্বীপ' অবস্থিত পারস্য উপসাগরে।
- এটি ইরানের সিরি দ্বীপ থেকে ৩১ মাইল পূর্বে, বান্দার-ই লেঙ্গেহ ইরানের মূল ভূখণ্ডের বন্দর থেকে প্রায় ৪২ মাইল দক্ষিণে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে ৪০ মাইল পূর্বে অবস্থিত।
- এই দ্বীপে বেশ কয়েকটি মিঠা পানির কূপ রয়েছে। 
- এই দ্বীপ নিয়ে বিরোধ রয়েছে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে।
- বর্তমানে দ্বীপটি ইরানের দখলে রয়েছে।

উৎস ব্রিটানিকা।
৩,২৩২.
টর্নেডো সৃষ্টি হয় কোথায়?
  1. গভীর সমুদ্রে
  2. উপকূলীয় অঞ্চলে
  3. স্থলভাগে
  4. বৃষ্টিবহুল স্থানে
ব্যাখ্যা
- টর্নেডো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা স্থলভাগে সৃষ্টি হয়। স্থলভাগে নিম্নচাপ সৃষ্টির ফলে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু প্রবল বেগে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে টর্নেডোতে রূপ নেয়।
- সাধারণত ঝড়ের গতিবেগ ১০০ কিলোমিটারের অধিক হলে তা টর্নেডো হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- টর্নেডোর স্থায়ীত্ব স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও এর তাণ্ডবের মাত্রা থাকে অত্যধিক।
(তথ্যসূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,২৩৩.
কালবৈশাখী ঝড় কোথায় আঘাত হানে?
  1. ফসলি জমিতে
  2. ভূমিতে
  3. সমুদ্রে
  4. নদীতে
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী:

- বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় সুপরিচিত।
- কালবৈশাখী ঝড় বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে সংঘটিত হয়।
- কালবৈশাখী ঝড় ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ ভূ-পৃষ্ঠের উপর আঘাত হানে।
- কালবৈশাখীকে বায়ুপুঞ্জ বজ্রঝড় অথবা পরিচলনগত বজ্রঝড় নামেও আখ্যায়িত করা যায়।
- বাংলাদেশে কালবৈশাখী সৃষ্টির প্রধান কারণ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু যা ঊর্ধ্বে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত আরোহন করে থাকে এবং এ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা অপেক্ষাকৃত শীতল ও শুষ্ক বায়ুর সঙ্গে মিলিত বা মুখোমুখি হয়।
- উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ছোটনাগপুর মালভূমিতে সৃষ্টির পর পূর্বদিকে ধাবিত হয়ে বাংলাদেশের সীমায় উপস্থিত হয়। বিপরীতধর্মী ও অসম এ দু বায়ুপ্রবাহের মুখোমুখি হওয়ার ফলে প্রাক-কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বজ্র-বিদ্যুৎপূর্ণ ঝড় সৃষ্টি হয়।
- এই ঝড় বৈশাখ মাসে কখনও চৈত্র মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক হতে আসে বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বা গ্রীষ্মকালীন উত্তর পশ্চিম ঝড় বা বজ্রবিদ্যুৎপূর্ণ ঝড়বৃষ্টি বলা হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৩৪.
ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরি সক্রিয় অঞ্চল 'রিং অফ ফায়ার' কোন মহাসাগরীয় অববাহিকাকে ঘিরে আছে?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. আর্কটিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

রিং অফ ফায়ার (Ring of Fire):
- রিং অফ ফায়ার হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকাকে ঘিরে থাকা অশ্বখুরাকৃতি ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরি সক্রিয় অঞ্চল। 
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার (২৪,৯০০ মাইল)।
- পুরো অঞ্চল জুড়ে অসংখ্য সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থাকায় একে “রিং অফ ফায়ার” বলা হয়।
- এই অঞ্চল দ্বীপমালার সারি যেমন টোঙ্গা ও নিউ হেব্রিডিস, ইন্দোনেশীয় দ্বীপপুঞ্জ, ফিলিপাইন, জাপান, কুরিল দ্বীপপুঞ্জ ও আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, এবং আর্ক-আকৃতির ভূ-আকৃতি যেমন উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূল ও আন্দেস পর্বতমালা অনুসরণ করে বিস্তৃত। 

উল্লেখ্য,
- বিশ্বের অধিকাংশ ভূমিকম্প, সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর প্রায় সবকটি এবং বিশ্বের প্রায় ৭৫% সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এই অঞ্চলে ঘটে। 
- ১৮০০ সালের পর থেকে রিং অফ ফায়ারের ভেতরে সংঘটিত প্রধান আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতের মধ্যে রয়েছে মাউন্ট টাম্বোরা (১৮১৫), ক্রাকাতোয়া (১৮৮৩), নোভারুপটা (১৯১২), মাউন্ট সেন্ট হেলেন্স (১৯৮০), মাউন্ট রুইজ (১৯৮৫) ও মাউন্ট পিনাতুবো (১৯৯১)। 
- এছাড়া এই অঞ্চলে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে রয়েছে চিলি ভূমিকম্প (১৯৬০, ২০১০), আলাস্কা ভূমিকম্প (১৯৬৪), জাপান ভূমিকম্প (২০১১) এবং ২০০৪ সালের ভয়াবহ ভারত মহাসাগরীয় সুনামি সৃষ্টিকারী ভূমিকম্প।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,২৩৫.
হিমাঙ্ক শিশিরাঙ্কের উপরে থাকলে ঘনীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জলীয়বাষ্প পরিণত হয় না-
  1. ক) বৃষ্টিতে
  2. খ) কুয়াশায়
  3. গ) শিশিরে
  4. ঘ) তুষারে
ব্যাখ্যা

বায়ু যত বেশি উষ্ণ হবে তত বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় যতটুকু পরিমাণ জলীয়বাষ্প বায়ুতে থাকলে বায়ু এর চেয়ে বেশি জলীয়বাষ্প আর ধারণ করতে পারে না সেই অবস্থায় ঐ বায়ুকে বলা হয় সম্পৃক্ত বা পরিপৃক্ত বায়ু।
এই সম্পৃক্ত বায়ু যখন শীতল হতে থাকে তখন তা আর অধিক পরিমাণে জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে না। এ পরিস্থিতিতে জলীয়বাষ্পের কিছু অংশ পানিতে পরিণত হয় এবং এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ঘনীভবন।
বায়ু যে উষ্ণতায় জলীয়বাষ্পরূপে ঘনীভূত হয় তাকে বলা হয় শিশিরাঙ্ক। তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেলে তখন ঘনীভূত জলীয়বাষ্প কঠিন আকার ধারণ করে তুষার ও বরফরূপে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়।
তবে হিমাঙ্ক শিশিরাঙ্কের উপরে থাকলে ঘণীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৃষ্টি, কুয়াশা ও শিশিরে পরিণত হয়।
সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৩,২৩৬.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে বদ্বীপ অবস্থিত?
  1. উত্তর-পূর্ব
  2. উত্তর-পশ্চিম
  3. দক্ষিণ-পূর্ব
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম
ব্যাখ্যা

• ব-দ্বীপ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে ব-দ্বীপ গঠিত হয়েছে।
- কুষ্টিয়া, যশোর, রাজশাহী, পাবনা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ এবং খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ফরিদপুর এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীগুলো এ অঞ্চলের উপর অথবা পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- ফলে সর্বদা এ অঞ্চল নদী বিধৌত পলি দ্বারা প্লাবিত।
- নদীর মোহনায় অনেকগুলো দ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ ও তালপট্টি।
- এ অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলো হল পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, গড়াই, আড়িয়াল খাঁ, কপোতাক্ষ, মধুমতি ইত্যাদি।
- ফলে পূর্ব অংশের ভূমি প্রায় প্রতিবছর প্লাবিত থাকে।
- অপরদিকে, খুলনা ও পটুয়ালালি জেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের প্রধান বনাঞ্চল সুন্দরবন।

উৎস: ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৩৭.
নিচের কোনটি বন্যা মোকাবিলায় অ-অবকাঠামোগত কার্যক্রমের অংশ?
  1. ক) বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ
  2. খ) বাঁধ নির্মাণ
  3. গ) বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বন্যা মোকাবিলায় ভবিষ্যত অগ্রাধিকার:
- অবকাঠামোগত (বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, বাঁধ নির্মাণ, রাস্তা উঁচুকরণ ইত্যাদি) ও অ-অবকাঠামোগত (বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় জনসাধারনের  সম্পৃক্ততা, টেকসই ও সমন্বিত প্রয়াস ইত্যাদি) কার্যক্রম জোরদারকরণ। 
- নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং নদী শাসনে সরকারের পরিকল্পনার সাথে জনসাধারণের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ। 
- বন্যাঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ। 
- বন্যা নিয়ন্ত্রণে নির্মিত স্লুইস গেইট কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিধায় এর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। 
- বন্যা ও নদী ভাঙনে গৃহহীন পরিবারসমূহকে দুর্যোগ সহনীয় গৃহ প্রদান। 
-উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড (রাস্তাসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ) যাতে বন্যার ঝুঁকি সৃষ্টি না করে সে জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন। 
- বন্যা পূর্বাভাস প্রদানের জন্য প্রযুক্তি ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ 
- বন্যা মোকাবিলায় আন্ত:দেশীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণ
- বন্যা প্রস্তুতি কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা
 
উৎস: modmr.portal.gov.bd/
৩,২৩৮.
ইতালির ভিসুভিয়াস একটি-
  1. ক) নিষ্ক্রিয় আগ্নেয়গিরি
  2. খ) মৃত আগ্নেয়গিরি
  3. গ) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি
  4. ঘ) জলপ্রপাত
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন সাধনকারী প্রক্রিয়া বা শক্তিগুলোর মধ্যে অগ্নুৎপাত অন্যতম।
- যে আগ্নেয়গিরি থেকে মাঝে মাঝে বা সবসময় অগ্নুৎপাত হয় তাকে সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি বলে। যেমনঃ
• ইতালির ভিসুভিয়াস,
• হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া,
• কোটোপ্যাক্সি ইত্যাদি।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৩৯.
কোন কোন জেলা নিয়ে সুন্দরবনের বিস্তৃতি?
  1. ক) সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট
  2. খ) বরগুনা, খুলনা ও সাতক্ষীরা
  3. গ) বাগেরহাট,বরগুনা ও খুলনা
  4. ঘ) সাতক্ষীরা, খুলনা ও পটুয়াখালি
ব্যাখ্যা
- সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
- সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ বা ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের অংশে পড়েছে। সুন্দরবনের বাকি অংশ ভারতে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় সু্ন্দরবন অবস্থিত।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি এবং বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
৩,২৪০.
সরকার পরিবেশ দূষণ রোধে সারাদেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে কবে?
  1. ক) ২০০০ সালে
  2. খ) ২০০১ সালে
  3. গ) ২০০২ সালে
  4. ঘ) ২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা
• পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ: সরকার পরিবেশ দূষণ রোধে ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে ঢাকা শহরে এবং একই সালের মার্চ থেকে সারাদেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। পরিবেশ অধিদপ্তর নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ যাতে ব্যবহার হতে না পারে সে লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। পাশাপাশি সরকার জনগণকেও সচেতন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,২৪১.
ভূ-গর্ভে মণ্ডল আছে-
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা

- সৃষ্টির সময় পৃথিবী ছিল একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড।
- এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমে ক্রমে শীতল হয়ে ঘনীভূত হয়।
- এই সময় পৃথিবীর বাইরের ভারী উপাদানগুলো এর কেন্দ্রের দিকে জমা হয়। আর হালকা উপাদান গুলো ভরের তারতম্য অনুসারে নিচের থেকে উপরে স্তরে স্তরে জমা হয়। পৃথিবীর এই বিভিন্ন স্তরকে মণ্ডল বলে।
- ভূ-গর্ভে ৩টি মণ্ডল রয়েছে।
যথা:
১. অশ্মমণ্ডল,
২. গুরুমণ্ডল ও
৩. কেন্দ্রমণ্ডল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৪২.
'ভাওয়ালের গড়' অবস্থিত কোন জেলায়? 
  1. গাজীপুর 
  2. রাজশাহী
  3. নীলফামারী
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

• মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
 - টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
- এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- মাটির রং লালচে ও ধূসর।

• বরেন্দ্রভূমি:
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত।
- প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৪৩.
হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় নিম্নের কোন পাহাড়টির সৃষ্টি হয়েছে?
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  2. প্লাইস্টোসিনকালের পাহাড়
  3. সাম্প্রতিককালের পাহাড়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৪৪.
নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. মকরক্রান্তি রেখা
  2. দ্রাঘিমাংশ
  3. অক্ষাংশ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

অক্ষাংশ:
- নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলা হয়।
- ভূ-পৃষ্ঠে কোনো একটি স্থানের প্রকৃত দূরত্ব জানতে হলে এর অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করা প্রয়োজন।
- অক্ষাংশ নির্ণয় করতে হলে, পৃথিবীর অভ্যন্তরে ঠিক মধ্যবিন্দু অর্থাৎ কেন্দ্র থেকে উক্ত স্থানটির কৌণিক দূরত্ব পরিমাপ করতে হবে।
- এক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে নিরক্ষরেখা বরাবর একটি রেখা কল্পনা করা হয়, যেটি নিরক্ষীয় তল সৃষ্টি করে।
- নিরক্ষীয় তল থেকে উত্তর মেরু বিন্দুর কৌণিক দূরত্ব ৯০০। অতএব, উত্তর মেরুর অক্ষাংশের মান হলো ৯০° উত্তর অক্ষাংশ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,২৪৫.
বায়ুমন্ডলের নিম্নচাপ বলয় কয়টি?
  1. ৭টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের নিম্নচাপবলয় ৩ টি এবং উচ্চচাপবলয় ৪টি।

বায়ুচাপ বলয়:

- ভূ-পৃষ্ঠে নানা প্রকার ও আকৃতির বায়ুচাপ বলয় দেখতে পাওয়া যায়।
- ভূপৃষ্ঠে প্রধানত ৭টি চাপ বলয় রয়েছে।
- এদের ৩টি নিম্নচাপ বলয় ও ৪টি উচ্চচাপ বলয়।
এগুলো হলো:
১.নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়,
২.উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৩.দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৪. কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়,
৫.মকরীয় উচ্চচাপ বলয়,
৬.উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
৭.দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল ১ম পত্র বই (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
৩,২৪৬.
বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত কোনটি?
  1. নাইয়াগ্রা জলপ্রপাত
  2. ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত
  3. অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত
  4. ইয়োসেমিটি জলপ্রপাত
ব্যাখ্যা

অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত (Angel Falls):
- অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত এবং পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।
- অবস্থান: ভেনেজুয়েলা, দক্ষিণ আমেরিকা।
- এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ জলপ্রপাত।
- এর উচ্চতা প্রায় ৯৭৯ মিটার (৩,২১২ ফুট), অবিচ্ছিন্ন পতনের উচ্চতা প্রায় ৮০১ মিটার।
- উৎপত্তি নদী: চুরুন নদী (Churun River) থেকে প্রবাহিত।
- পর্বতমালা: এয়াংটেপুই (Auyán-Tepui) মাউন্টেন।
- পরিবেশ: আশেপাশের অঞ্চল ঘন বনভূমি ও টেপুই প্লাটো দ্বারা আবৃত।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,২৪৭.
'চির শান্তির শহর' নামে পরিচিত কোনটি?
  1. ভেনিস
  2. নিউইয়র্ক
  3. এথেন্স
  4. রোম
ব্যাখ্যা
• চির শান্তির শহর:
- 'চির শান্তির শহর' নামে পরিচিত ইতালির রাজধানী রোম।

এছাড়াও,
- The city of flowering trees: জিম্বাবুয়ের হারারেকে।
- City of Golden gate: যুক্তরাষ্ট্রের স্যানফ্রান্সিসকো।
- City of light: ফ্রান্সের প্যারিস।
- City of motor cars: যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট।
- City of canals: ইতালির ভেনিস।
- Pink city: ভারতের জয়পুর।
- Big apple: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক।

উৎস: Britannica.
৩,২৪৮.
নিচের কোনটি দ্বারা টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত?
  1. বেলেপাথর, শেল ও কদম
  2. মার্বেল ও গ্রানাইট
  3. কাদা মাটি
  4. চুনাপাথর
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৪৯.
'বাফিন দ্বীপ' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. কানাডা
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. জাপান
  4. যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
বাফিন দ্বীপ (Baffin Island):
- উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডার সবচেয়ে বড় দ্বীপ বাফিন।
- 'বাফিন দ্বীপ' কানাডার নুনাভাট অঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দ্বীপ।
- আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপটির আয়তন ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৫১ বর্গকিলোমিটার।
- এটি গ্রিনল্যান্ড এবং কানাডার মূল ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- সতেরো শতকের ব্রিটিশ অভিযাত্রী উইলিয়াম বাফিনের নামে নামকরণ করা দ্বীপটি পড়েছে উত্তর কানাডার নুনাভাট অঞ্চলে।

উৎস: Britannica.
৩,২৫০.
বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান 'আখাইনঠং' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান: 

• সর্ব উত্তরের অবস্থান
- স্থান: বাংলাবান্ধা।
- উপজেলা: তেঁতুলিয়া।
- জেলা: পঞ্চগড়।

• সর্ব পূর্বের অবস্থান
- স্থান: আখাইনঠং।
- উপজেলা: থানচি।
- জেলা: বান্দরবান।

• সর্ব পশ্চিমের অবস্থান
- স্থান: মনাকষা।
- উপজেলা: শিবগঞ্জ।
- জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

• সর্ব দক্ষিণের অবস্থান
- স্থান: ছেড়াদ্বীপ (সেন্ট মার্টিন দ্বীপ)।
- উপজেলা: টেকনাফ।
- জেলা: কক্সবাজার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,২৫১.
নিরক্ষীয় তল থেকে দক্ষিণ মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোন কত?
  1. ৩৬০°
  2. ০°
  3. ৯০°
  4. ১৮০°
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় তল থেকে দক্ষিণ মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোন- ৯০° কোন।

• অক্ষরেখা (Latitude):
- পৃথিবীর গোলাকৃতি কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ (Axis) বা মেরুরেখা বলে।
- এই অক্ষের উত্তর-প্রান্ত বিন্দুকে উত্তর মেরু বা সুমেরু এবং দক্ষিণ-প্রান্ত বিন্দুকে দক্ষিণ মেরু বা কুমেরু বলে।
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে।
- একে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার উত্তর-দক্ষিণে পৃথিবীকে সমান দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
- নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ দিকের অর্ধেককে দক্ষিণ গোলার্ধ বলে।
- এই নিরক্ষরেখাকে ০° ধরে উত্তর দিকে ও দক্ষিণ দিকে দুই মেরু পর্যন্ত ৯০° বা এক সমকোণ ধরা হয়।
- পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির জন্য নিরক্ষরেখা বৃত্তাকার, তাই এ রেখাকে নিরক্ষবৃত্তও বলে।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরাল যে রেখাগুলো রয়েছে সেগুলো হলো অক্ষরেখা।
- এই অক্ষরেখাগুলো আসলে কল্পনা করা হয়েছে।
- এদের সমাক্ষরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণে অবস্থিত কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে (Angular Distance) ঐ স্থানের অক্ষাংশ বলে।
- একই গোলার্ধের একই অক্ষাংশ মানসমূহের সংযোগ রেখাকে অক্ষরেখা বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৩,২৫২.
বাংলাদেশ কপ-২৮ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের সমন্বিতভাবে কাজ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে -
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ও কপ-২৮ সম্মেলন:
-বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অত্যন্ত বিপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পক্ষে কার্যকর ভূমিকা পালনে এবারের কপ-২৮ সম্মেলনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিষ্পত্তিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ।

সেগুলো হলো:-
১. প্রথম গ্লোবাল স্টকটেক অবশ্যই ১.৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন, ভবিষ্যৎ উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও কংক্রিট মাইলফলকসহ সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।
২. অধিক বিপদাপন্ন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ অ্যাড্রেস করার লক্ষ্যে কপ-২৮ সম্মেলনে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড অপারেশনালাইজ’ করা এবং এর ‘ডিটেইল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ ঠিক করা।
৩. অভিযোজনসংক্রান্ত বৈশ্বিক লক্ষ্য ‘গ্লোবাল গোল অন অ্যাডাপ্টেশন’-এর কাঠামো তৈরি বা প্রণয়ন; সদস্য দেশগুলোকে অবশ্যই ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য তাদের এনডিসিতে বর্ণিত ২০৩০ প্রশমন লক্ষ্যমাত্রাকে শক্তিশালীকরণ এবং এনডিসি বাস্তবায়নের জন্য এলডিসি দেশগুলোর অর্থায়ন বাড়ানো।
৪. উন্নত দেশগুলোকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়া নিশ্চিত করা; জলবায়ু অর্থায়নের সংজ্ঞা চূড়ান্ত করা।
৫. অভিযোজন অর্থায়ন দ্বিগুণ করা; জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ২০২৫ পরবর্তী সময়ে জলবায়ু অর্থায়নের জন্য ‘নিউ কালেক্টিভ কোয়ান্টিফাইড গোল অন ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ণ এবং প্রথম আলো, বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।
৩,২৫৩.
বায়ুমন্ডল কাকে বলে?
  1. মাধ্যাকর্ষণের কেন্দ্রে বায়ুর অস্তিত্ব
  2. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর প্রবাহ মাত্রা
  3. ভূ-পৃষ্ঠ ও তার চারিদিকের বায়বীয় আবরণ
  4. বায়ুর উর্ধ্বমুখী চাপ
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল:
- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমন্ডল।
- পৃথিবী এবং মানুষ, প্রাণি অর্থাৎ জীবজগতের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই বায়ুমন্ডল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- মূলত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উর্ধ্ব দিকে যে বায়বীয় আস্তরণ তাই বায়ুমন্ডল নামে পরিচিত।
- এই মন্ডলটি নানা প্রকার গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত।
- পৃথিবীর আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে এ বায়ুমন্ডল পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে।
- বায়ুমন্ডল কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে পারে না বরং কিছুটা পশ্চাতে পড়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৫৪.
দক্ষিণ আমেরিকার সর্বশেষ স্বাধীন দেশ কোনটি? [মার্চ, ২০২৬] 
  1. ভেনিজুয়েলা
  2. বলিভিয়া
  3. সুরিনাম
  4. পেরু
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ আমেরিকা:
- দক্ষিণ আমেরিকা হলো বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ।
- এটি উত্তরে এবং উত্তর-পশ্চিমে ক্যারিবিয়ান সাগর, উত্তর-পূর্ব, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত।
- মহাদেশের মোট আয়তন প্রায় ৬,৮৭৮,০০০ বর্গমাইল (১৭,৮১৪,০০০ বর্গকিমি)।

- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে ১২টি সার্বভৌম দেশ রয়েছে।
- প্রধান দেশগুলো হলো:
- আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গায়ানা, প্যারাগুয়ে, পেরু, সুরিনাম, উরুগুয়ে এবং ভেনিজুয়েলা। 
- এর মধ্যে ব্রাজিল বৃহত্তম দেশ, আর সুরিনাম ক্ষুদ্রতম দেশ।
- দক্ষিণ আমেরিকার সর্বশেষ স্বাধীন দেশ হলো সুরিনাম।
- এটি ১৯৭৫ সালের ২৫ নভেম্বর নেদারল্যান্ডস থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
- এই মহাদেশের স্থলবেষ্টিত (landlocked) দেশ হলো- বলিভিয়া ও প্যারাগুয়ে।

- দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘতম পর্বতমালা হলো আন্দিজ পর্বতমালা।
- এর পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত চিলি পৃথিবীর দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে সরু দেশ।
- এই মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো অ্যাকনকাগুয়া পর্বত (আর্জেন্টিনা)।
- এবং নিম্নতম স্থান হলো লাগুনা দেন কার্বন (আর্জেন্টিনা)
- বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ হলো টিটিকাকা হ্রদ, যা দক্ষিন আমেরিকার পেরু ও বলিভিয়ার সীমান্তে অবস্থান করে।
- এই মহাদেশের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট হলো আমাজন বন। 
- তাছাড়া এই মহাদেশেই অবস্থিত ইকুয়েডর চির বসন্তের দেশ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: Britannica ও World Atlas. 

৩,২৫৫.
’Cloudburst' কীসের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. পরিবেশ
  2. সংস্কৃতি
  3. রাজনীতি
  4. অর্থনীতি
ব্যাখ্যা

- ক্লাউডবার্স্ট হলো হঠাৎ প্রবল ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা, যা অল্প সময়ের মধ্যে (সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে এক ঘণ্টা) অত্যন্ত উচ্চমাত্রায় বৃষ্টিপাত ঘটায়।
​- এতে বৃষ্টির হার ঘণ্টায় প্রায় 100 মিমি (৪ ইঞ্চি) বা তার বেশি হতে পারে।
​- এই ধরনের বৃষ্টি সাধারণত বজ্রঝড় বা কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে ঘটে এবং পাহাড়ি অঞ্চল বা অস্থিতিশীল বায়ুমণ্ডলে বেশি দেখা যায়।
- ​​ ক্লাউডবার্স্ট প্রায়ই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনে।
- এটি পরিবেশের সাথে সম্পৃ্ক্ত।

​উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,২৫৬.
কোন অক্ষরেখা বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে অতিক্রম করেছে?
  1. ৮৮.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  2. ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  3. ২৬.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ২০.৫° উত্তর অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা) অতিক্রম করেছে।
- পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের, পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,২৫৭.
নিচের কোন দেশটির সাথে আফগানিস্তানের স্থলসীমান্ত নেই?
  1. চীন
  2. উজবেকিস্তান
  3. ভারত
  4. ইরান
ব্যাখ্যা
- আফগানিস্তান মধ্য দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র।
- দেশটির সাথে মোট ৬টি দেশের স্থলসীমান্ত রয়েছে।
এগুলো হলো:
- পাকিস্তান
- ইরান
- তুর্কমেনিস্তান
- তাজিকিস্তান
- উজবেকিস্তান এবং
- চীন।
- ভারতের সাথে আফগানিস্তানের স্থলসীমান্ত নেই। তবে পাকিস্থান অধিকৃত কাশ্মিরের গিলগিট-বালটিস্তানের সাথে আফগানিস্তানের স্থলসীমান্ত রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৩,২৫৮.
নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয় সেই মিলিত স্থানকে কী বলা হয়?
  1. ক) নদীর উৎস
  2. খ) নদী অববাহিকা
  3. গ) নদীর মোহনা
  4. ঘ) দোয়াব অঞ্চল
ব্যাখ্যা
নদীর মোহনা (Mouth): নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয় সেই মিলিত স্থানকে নদীর মোহনা বলে।

• নদীর উৎস (Source): নদীর উৎপত্তিস্থলকে নদীর উৎস বলে ।

• দোয়াব অঞ্চল: দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে দোয়াব অঞ্চল বলে ।

• নদীসঙ্গম (Confluence): পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদীগুলো নিজ নিজ পথে প্রবাহিত হয়। এক সময় ঐ নদীগুলো একটি অপরটির সাথে মিলিত হয়। ফলে মিলিত স্রোতধারা ক্রমশ অধিকতর বড় হয়। এভাবে দুই বা ততোধিক নদীর মিলন স্থলকে নদীসঙ্গম বলে ।

• নদী অববাহিকা (River Basin): মূল নদী, বিভিন্ন শাখানদী ও উপনদী প্রভৃতির মধ্য দিয়ে যে সকল স্থানের বা অঞ্চলের পানিরাশি প্রবাহিত হয় তখন এ অঞ্চলকে ঐ নদীর অববাহিকা বলে। যেমন- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সিন্ধু নদের অববাহিকা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৫৯.
ড্রেক প্যাসেজ (Drake Passage) যুক্ত করেছে -
  1. ভারত ও আটলান্টিক মহাসাগরকে
  2. প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে
  3. আর্কটিক এবং দক্ষিণ মহাসাগরকে
  4. ভূমধ্যসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরকে
ব্যাখ্যা
ড্রেক প্যাসেজ (Drake Passage):
- ড্রেক প্যাসেজ ১০০০ কি.মি. প্রশ্বস্ত একটি গভীর জলরাশি যা আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- এটি কেপহর্ন (দক্ষিণ আমেরিকার সর্বদক্ষিণের বিন্দু) ও দক্ষিণ শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের (ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চল, অ্যান্টার্কটিকা পেনিনসুলার উত্তরে) মধ্যে অবস্থিত।
- পানামা খাল চালুর পূর্বে এই প্যাসেজ বিশ্ব বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
- ইংরেজ নাবিক স্যার ফ্রান্সিস ড্রেকের নামানুসারে এই প্যাসেজের নামকরণ করা হয়।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৩,২৬০.
ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখাকে কী বলে?
  1. আইসোহাইট
  2. আইসোহেলাইন
  3. আইসোবার
  4. আইসোথার্ম
ব্যাখ্যা
গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাল্পনিক রেখা:
- আইসোবার: ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা।
- আইসোহেলাইন: সমুদ্রের সম লবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানের সংযোগকারী রেখা।
- আইসোথার্ম: ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
- আইসোহাইট: ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
- আইসোবাথ: সামুদ্রিক সমগভীরতা রেখা।
- আইসোজিওথার্ম: ভূগর্ভস্থ সমোষ্ণ রেখা।
- আইসোশেশমল: সমভূমিকম্প তীব্রতা রেখা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,২৬১.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়?
  1. গারো পাহাড়  
  2. খাসিয়া
  3. চিকনাগুল
  4. মোদকমুয়াল
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ  হচ্ছে— মোদকমুয়াল (১,০০০ মিটার) ও পিরামিড (৯১৫ মিটার), তাজিওডং (বিজয়),কিওক্রাডং।
- রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম তাজিওডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হচ্ছে কিওক্রাডং, যার উচ্চতা ১,২৩০ মিটার।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো বেলে পাথর, কর্দম ও শেল পাথর দ্বারা গঠিত।

অন্যদিকে, 
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ :চিকনাগুল, খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া প্রধান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৬২.
রকি, আল্পস ও আন্দিজ  ______ পর্বত।
  1. ল্যাকোলিথ
  2. ক্ষয়জাত
  3. ভঙ্গিল
  4. আগ্নেয়
ব্যাখ্যা
• পর্বত :
- সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১০০০মিটারের বেশি উঁচু, সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে যায়।

পর্বতের প্রকৃতির ভিত্তিতে প্রধান গঠন ও উৎপত্তি:
পর্বত প্রধানত ৪ প্রকার, যা হলো:
 - ভঙ্গিল পর্বত,
 - আগ্নেয় পর্বত,
 - চ্যুতি-স্তুপ পর্বত, ও
 - ল্যাকোলিথ পর্বত।

• ভঙ্গিল পর্বত:
 - ভঙ্গ বা ভাঁজ থেকে ভঙ্গিল শব্দটির উৎপত্তি।
 - এটি কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে এবং এ প্রকার পর্বত গঠিত হয়।
 - ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ভাঁজ বা ভঙ্গ।
 - পৃথিবীর উচ্চতম অধিকাংশ পর্বত এ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
 -  উদাহরণ: এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৬৩.
কোন সময়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়?
  1. ক) এপ্রিল-মে
  2. খ) জুন-জুলাই
  3. গ) সেপ্টেম্বর-নভেম্বর
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
৩,২৬৪.
হোয়াংহো নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. ব্ল্যাক ফরেস্ট
  2. কুয়েনলুন পর্বত
  3. আন্দিজ পর্বত
  4. কারাকোরাম পর্বত
ব্যাখ্যা

- চীনের কুয়েনলুন পর্বত থেকে হোয়াংহো নদীর উৎপত্তি হয়েছে, এটি চীনের অন্যতম প্রধান নদী। 

বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল:
- যুক্তরাষ্ট্রের মিনোসোটার হ্রদ থেকে মিসিসিপি নদীর উৎপত্তি হয় এবং এটি উত্তর আমেরিকার দীর্ঘতম নদীগুলোর মধ্যে একটি।
- ইউরোপের দানিয়ুব নদী ব্ল্যাক ফরেস্ট থেকে উৎপন্ন হয়ে মহাদেশজুড়ে বিস্তৃত।
- অস্ট্রেলিয়ার মারে ডার্লিং নদী কোমিয়াস্কে অঞ্চল থেকে প্রবাহিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক অঞ্চল গঠন করেছে।
- ভারত ও বাংলাদেশে প্রবাহিত তিস্তা নদীর উৎপত্তি সিকিমের পর্বত অঞ্চলে। 
- দক্ষিণ আমেরিকার বিখ্যাত আমাজান নদীর উৎস আন্দিজ পর্বতমালায়।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.

৩,২৬৫.
কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ কোন দুটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত?
  1. নেপাল ও চীন
  2. ভারত ও ভুটান
  3. নেপাল ও ভারত
  4. ভারত ও চীন
ব্যাখ্যা

কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ:
- কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ ভারত এবং নেপালের সীমান্তে অবস্থিত। 
- এটি পূর্ব হিমালয়ে অবস্থিত, উত্তর-পূর্ব ভারতের সিকিম রাজ্য এবং পূর্ব নেপালের সীমান্তে অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং ভারতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।
- এর উচ্চতা ৮,৫৮৬ মিটার।
- এই পর্বতটি গ্রেট হিমালয় পর্বতমালার অংশ।

উৎস: Britannica.

৩,২৬৬.
বাংলাদেশের এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য:
  1. বন্যা নিয়ন্ত্রণ
  2. পানি নিষ্কাশন
  3. পানি সেচ
  4. উপরের তিনটি (ক, খ ও গ)
ব্যাখ্যা
এফসিডিআই প্রকল্প:
- FCDIP-এর পূর্ণরপ Flood Control, Drainage and Irrigation Projects.
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects) অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- ১৯৯৮ সালের মতো মারাত্মক পর্যায়ে গেলে বন্যা কবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৭০% এ গিয়ে পৌঁছতে পারে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।
- Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P. O. No. 59 of 1972) - এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Board সংক্রান্ত বিধানাবলী রহিত করিয়া পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০০০ নামে পরিচিত।

⇒ এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য -
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
- পানি নিষ্কাশন ও
- সেচ প্রকল্প।

উৎস: বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।
৩,২৬৭.
গোবি মরুভূমি কোন দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত?
  1. চীন ও পাকিস্তান
  2. চীন ও মঙ্গোলিয়া
  3. ভারত ও নেপাল
  4. কাজাখস্তান ও চীন
ব্যাখ্যা
গোবি মরুভূমি:
-
গোবি মরুভূমি এশিয়ার বৃহত্তম মরুভূমি।
- এবং গোটা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম মরুভূমি।
- উত্তর ও উত্তরপূর্ব চীন এবং দক্ষিণ মঙ্গোলিয়ার অংশে অবস্থিত।
- গোবি সাধারণত পাথুরে ও খরাময় মরুভূমি,
- যেখানে বালির চেয়ে পাথর এবং ছোট বড় কঙ্কর বেশি দেখা যায়।
- এটি বেশিরভাগই সমতল থেকে কিছুটা উঁচু বা পার্বত্য এলাকা নিয়ে গঠিত।

বিখ্যাত কিছু মরুভূমির অবস্থান:
- থর মরুভূমি: ভারত ও পাকিস্তান।
- মোজাবে মরুভূমি: যুক্তরাষ্ট্র,
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা,
- গোবি মরুভূমি: চীন ও মঙ্গোলিয়া।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩,২৬৮.
যমুনা নদীর উপনদী কোনটি?
  1. করতোয়া
  2. ডাকাতিয়া
  3. ধলেশ্বরী
  4. হালদা
ব্যাখ্যা
যমুনা (Jamuna):
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- আজকের চঞ্চলা যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে এসে ওই শীর্ণকায় খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী।
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়।
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,২৬৯.
কক্সবাজার ছাড়া বাংলাদেশের আর একটি আকর্ষণীয় ও পর্যটন অনুকূল সমুদ্র সৈকত-
  1. ক) নোয়াখালীর ছাগলনাইয়া
  2. খ) চট্টগ্রামের বাঁশখালি
  3. গ) খুলনার মংলা
  4. ঘ) পটুয়াখালীর কুয়াকাটা
ব্যাখ্যা
- পটুয়াখালী জেলাকে বলা হয় সাগরকন্যা।
- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি।
- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা।
- একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।
উৎসঃ পটুয়াখালী জেলার ওয়েবসাইট।
৩,২৭০.
পটুয়াখালীর জলবায়ু কীরুপ?
  1. ক) চরমভাবাপন্ন
  2. খ) সমভাবাপন্ন
  3. গ) মৃদুভাবাপন্ন
  4. ঘ) নিয়তভাবাপন
ব্যাখ্যা
সমুদ্র থেকে দূরত্ব:
• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহের মধ্যে সমুদ্র হতে দূরত্ব অন্যতম। সমুদ্র হতে দূরত্ব জলবায়ুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
• জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
যেমন - কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন
• সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়। এ কারণে সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন ও দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়। 

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭১.
গ্রিন হাউস প্রভাব কী?
  1. ক) সবুজ গাছপালা
  2. খ) সবুজ ভবনের নাম
  3. গ) কাঁচের তৈরি ঘর
  4. ঘ) উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে বড় ভূমিকা পালন করছে। এক্ষেত্রে বায়ুমন্ডল হলো গ্রিনহাউসের বা কাঁচ ঘরের কাঁচের দেয়াল বা ছাদের মত। পৃথিবীতে আসা সূর্যালোক ভূপৃষ্ঠ শোষণ করে ও বায়ুমন্ডল উত্তপ্ত করে৷ মানুষের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ যেমন- কাঠ কয়লা পোড়ানো, গাছ কাটা, কলকারখানার ধোঁয়া ইত্যাদি কারণে বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন ইত্যাদির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এ গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রিনহাউস গ্যাস। বায়ুমন্ডলে সৃষ্টি হচ্ছে ক্রমশ পুরু একটি (গ্রিনহাউস) গ্যাসের স্তর বা চাদর৷ এর ফলে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ছেড়ে দেয়া তাপ পুনরায় ফেরত যায়না। তাপ শোষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং ক্রমশ উষ্ণতা বৃদ্ধি পেতে থাকছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াই হলো গ্রিনহাউস প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৩,২৭২.
পৃথিবীতে কয়টি মহাসাগর আছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
মহাসাগর (Ocean):
- উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ জলরাশি বা পানিরাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে।
- পৃথিবীতে মোট পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে।
- যথা:
i) প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean),
ii) আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean),
ii) ভারত মহাসাগর ( Indian Ocean),
iv) উত্তর মহাসাগর (North Ocean),
v) দক্ষিণ মহাসাগর (South Ocean)।

প্রশান্ত মহাসাগর: 
- মহাসাগরসমূহের মধ্যে আয়তন এবং গভীরতার দিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর সবচেয়ে বড়।
- এর আয়তন ১৬ কোটি ৬০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এবং গড় গভীরতা, ৪,২৭০ মিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যবর্তী।

আটলান্টিক মহাসাগর:
- আয়তনের দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান দ্বিতীয়।
- এর আয়তন ৮ কোটি ২৪ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এবং গভীরতার দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান তৃতীয়।
- এর গড় গভীরতা ৩,৯৩২ মিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকা।

ভারত মহাসাগর:
- ভারত মহাসাগরের আয়তন ৭ কোটি ৩৬ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- গভীরতার দিক থেকে ভারত মহাসাগরের স্থান দ্বিতীয়।
- ভারত মহাসাগরের গড় গভীরতা ৩,৯৬২ মিটার।
- অবস্থান: আফ্রিকা, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া।

উত্তর মহাসাগর:
- পৃথিবীর উত্তর মেরুর চারদিকে উত্তর মহাসাগর রয়েছে এর আয়তন ১ কোটি ৫০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এবং গভীরতা ৮২৪ মিটার।
- অবস্থান: পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ।

দক্ষিণ মহাসাগর:
- দক্ষিণ মেরুতে দক্ষিণ মহাসাগরের আয়তন ১ কোটি ৪৭ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এবং এর গড় গভীরতা ১৪৯ মিটার।
- অবস্থান: এন্টার্কটিকা ও ৬০ দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অংশ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭৩.
কোন রেখা প্রবাহিত হওয়ার ফলে বাংলাদেশ ক্রান্তীয় জলবায়ুর অন্তর্গত?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
ট্রপিক অব ক্যান্সার:
- ট্রপিক অব ক্যান্সার বা কর্কটক্রান্তি রেখা।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে (চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) অতিক্রম করেছে।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে, ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

⇒ বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৭৪.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় "সাড়াদান" ধাপের কাজ কী?
  1. ত্রাণ ও পুনর্বাসন
  2. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  3. প্রশমন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সাড়াদান:
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৭৫.
অস্ট্রেলিয়ার নিকটে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. উইলি উইলিস
  2. টাইফুন
  3. পাপাগ্যালোস
  4. বাগুই
ব্যাখ্যা

ঘূর্নিঝড় (Cyclone):
- ঘূর্ণিঝড় মানে ঘূর্ণায়মান প্রচণ্ড বাতাস।
- সাইক্লোন শব্দটি সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন ক্যাপ্টেন হেনরী পিডিংটন ১৮৪৮ সালে।
- এর মূল উৎস হচ্ছে গ্রীক শব্দ 'কাইক্লোস' (Kyklos) যার অর্থ সাপের প্যাঁচ। 
- আমাদের দেশে সাইক্লোনকে কখনো কখনো আবার তুফানও বলা হয়। 
- ঘূর্ণিঝড়ের উৎস সমুদ্র। এজন্য একে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় বলা হয়।

উল্লেখ্য, ঘূর্নিঝড়ের স্থানীয় নাম:
- উত্তর ভারত মহাসাগর: সাইক্লোন বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন (বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর)। 
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর: হারিকেন (Hurricane)। 
- উত্তর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর: টাইফুন (Typhoon)। 
- অস্ট্রেলিয়ার নিকটে: উইলি উইলিস (Willy-willies)। 
- উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর: পাপাগ্যালোস (Papagallos)। 
- ফিলিপাইনের নিকট: বাগুই (Baguios)। 
- মাদাগাস্কারের নিকট: ট্রোভাডোজ (Trovadoes)। 

উৎস: বাংলাদেশ ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক এন্ড টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন সেন্টার।

৩,২৭৬.
বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত-
  1. ক) ২০৩ মিলিমিটার
  2. খ) ২৬০০ মিলিমিটার
  3. গ) ২৮০ মিলিমিটার
  4. ঘ) ২০৩০ মিলিমিটার
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয় ৮০%।
- জুন থেকে অক্টোবর মাসে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় ৭০ থেকে ৮০%
‌- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালাখালে।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।
- বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার বা ২০৩০ মিলিমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৭৭.
গ্রিনিচ মানমন্দির কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) চীন
  2. খ) জাপান
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
গ্রীনিচ মানমন্দির:
- গ্রীনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত। 
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গেছে।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয়।
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।
- গ্রীনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

- যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময় অপেক্ষা বাংলাদেশের সময় ৬ ঘন্টা বেশি।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০×৪=৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং গ্রীনিচ মানমন্দির ওয়েবসাইট।
৩,২৭৮.
তারুয়া সমুদ্র সৈকত কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কক্সবাজার
  2. চট্টগ্রাম
  3. ভোলা
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
তারুয়া সমুদ্র সৈকত:
- তারুয়া সমুদ্র সৈকত (Tarua Sea Beach) ভোলা জেলার চর ফ্যাশন উপজেলার সর্ব দক্ষিনে অবস্থিত ঢালচরের সর্ব দক্ষিণের ভূখন্ড।
- প্রায় ৭কি.মি. দীর্ঘ এই তারুয়া সমুদ্র সৈকতের একপাশে বঙ্গোপসাগর আর অন্যপাশে বিসস্তূর্ণ চারণভূমি, যার শেষ হয়েছে তারুয়া সৈকত সংলগ্ন ম্যানগ্রোভ বনে।
- হরিণ, বণ্য মহিষ, বানর, লাল কাকড়া সহ বৈচিত্র্যময় প্রাণীর বসবাস এই দ্বীপে।
- ১৯৬৫ সালের দিকে জেগে উঠা চরফ্যাশন শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্ন এ চরটি ঢালচর ভেঙ্গে পূর্ব ঢালচর হিসাবে পরিচিত হলেও এটিকে পরে তারুয়া সমুদ্র সৈকত নাম করণ করেন স্থানীয়রা।
- তারুয়া দ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,২৭৯.
আগ্নেয় ও পাললিক শিলা রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলা সৃষ্টি হয়?
  1. আদি শিলা
  2. স্তরীভূত শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. অস্তরীভূত শিলা 
ব্যাখ্যা
রূপান্তরিত শিলা:
- ভূ-আন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্পসহ অন্যান্য রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে এক নতুন ধরনের শিলার সৃষ্টি করে, যাকে রূপান্তরিত শিলা বলা হয়।
যেমন-কাঁদা রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিসে পরিণত হয়। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৮০.
পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দেশ কোনটি?
  1. মোনাকো
  2. সান মারিনো
  3. ভ্যাটিকান সিটি
  4. নাউরু
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দেশ হল ভ্যাটিকান সিটি।

ভ্যাটিকান সিটি: 
- এটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট স্বাধীন রাষ্ট্র, 
- ভ্যাটিকান সিটির আয়তন ০.৪৯ বর্গকিলোমিটার।
- ভ্যাটিকান সিটির স্বাধীন সার্বভৌমত্ব ১৯২৯ সালের লেটারান চুক্তিতে স্বীকৃত হয়েছিল।
- ১৯২৯ সালে ইতালির সরকারের সঙ্গে লাতেরান চুক্তির আওতায় এই পোপীয় রাষ্ট্রের সৃষ্টি।
- ভ্যাটিকান সিটি ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের অন্যতম তীর্থস্থান।
- এই দেশ ২০০৪ সাল থেকে ইউরোকে মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ করেছে আর এর অফিশিয়াল ভাষা হচ্ছে লাতিন।

সূত্র: ব্রিটানিকা। 

৩,২৮১.
সবচেয়ে বেশি রাবার বাগান রয়েছে কোন অঞ্চলে?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) টাংগাইল-শেরপুর
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৯ সালে  জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) বাংলাদেশে রাবার চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করে এবং এদেশের জলবায়ু ও মাটি রাবার চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী তাই বাণিজ্যিকভাবে রাবার চাষ করার সুপারিশ করে।
- ১৯৬১ সালে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় বাণিজ্যিকভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেটের পার্বত্য এলাকায় রাবার চাষ শুরু করা হয়।
- বনবিভাগ ১৯৬০ সালে ২৮৭ হেক্টর জমিতে রাবার চাষের একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারের রামুতে ৩০ একর এবং চট্টগ্রামের রাউজানে ১০ একর মোট ৪০ একর বাগান সৃষ্টির মাধ্যমে এদেশে রাবার চাষের যাত্রা শুরু হয়।

- বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রাবার বাগান আছে চট্টগ্রাম জোনে।
- এই অঞ্চলে রাবার বাগানের সংখ্যা ৮ টি। 
- সিলেট জোন (৪টি বাগান
- টাংগাইল-শেরপুর জোন (৫টি বাগান)

- বর্তমানে বিএফআইডিসির ১৮ টি বাগানে ৩,৮৬,০০০ টি রাবার গাছের মধ্যে ২ লক্ষাধিক গাছ উৎপাদনশীল।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ রাবার বোর্ড এবং সমকাল।
৩,২৮২.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ কোনটি?
  1. লালমাই পাহাড়
  2. মধুপুর ও ভাওয়াল গড়
  3. গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চল
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়শ্রেণী
ব্যাখ্যা
- ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশে তিন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়।
এগুলো হলোঃ
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
- প্লাবন সমভূমি।
- এদের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী। আনুমানিক প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বে এগুলো গঠিত হয়।
- দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলা জুড়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী অবস্থিত।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,২৮৩.
আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় নয় কোনটি?
  1. কিওক্রাডং
  2. লালমাই
  3. তাজিনডং
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
i) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

ii) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

অন্যদিকে,
- লালমাই পাহাড় প্লাইস্টোসিনযুগের পাহাড়। এটি আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় নয়।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,২৮৪.
ভূমিকম্প সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ক) পাহাড়ের ভূমিধ্বস
  2. খ) টেকটোনিক্স প্লেটের বিচলন
  3. গ) ভূত্বকের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণ
  4. ঘ) পৃথিবীর ঘূর্ণন
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক্স (Plate Tectonics): 
ভূতাত্ত্বিক মতবাদ অনুসারে ভূত্বক প্রধানত সাতটি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত, যেগুলি নিম্নস্থ ভ্রাম্যমান উষ্ণ গুরুমন্ডলীয় পদার্থের ওপর ভাসছে। প্লেটের বিচলন (movement) ও পারস্পরিক ক্রিয়া ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পর্বত সৃষ্টি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ভূতাত্ত্বিক ঘটনাবলীর নিয়ন্ত্রক বলে ধারণা করা হয়।

তিন ধরনের পারস্পরিক প্লেট সীমানার কথা জানা যায়। যথা: সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা, অপসারী সীমা ও পরিবর্তক চ্যুতি সীমা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৩,২৮৫.
কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নয়?
  1. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  2. বনাঞ্চল ধ্বংস
  3. খরা বৃদ্ধি
  4. সুপেয় পানি দূষণ
ব্যাখ্যা
জলবাযু পরিবর্তন প্রভাব:

- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে।
- সঠিকভাবে কোনো ঋতুতেই আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না।
- বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনেরই নেতিবাচক প্রভাব।
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৮৬.
ভূ-ত্বকের প্রধান উপাদান-
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান অক্সিজেন (৪২.৭%)।

• ভূত্বকের অন্যান্য উপাদান সমূহ:
- সিলিকন (২৭.৭%),
- অ্যালুমিনিয়াম (৮.১%),
- আয়রন বা লোহা (৫.১%),
- ক্যালসিয়াম (৩.৭%),
- সোডিয়াম (২.৮%),
- পটাসিয়াম (২.৬%) এবং
ম্যাগনেসিয়াম (২.১%)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৮৭.
আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে কোন খাল?
  1. ক) গ্র্যান্ড খাল
  2. খ) পানামা খাল
  3. গ)  সুয়েজ খাল
  4. ঘ) গোটা খাল
ব্যাখ্যা
• পানামা খাল:
- আটালান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে পানামা খাল।
- পানামা খালটির নির্মাণ ১৯০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছিল এবং ১৯১৪ সালে শেষ হয়েছিল।
- ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত পানামা খালটি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- ১৯৭৯ সালের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা প্রজাতন্ত্রের যৌথ সংস্থা খালটির নিয়ন্ত্রণ করে।
- ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র পানামার কাছে খালটি পুরোপুরি হস্তান্তর করে।

সূত্র- ব্রিটানিকা।
৩,২৮৮.
কোন দুটি দেশের সীমান্তে মহাকালী নদীটির অবস্থান?
  1. ক) বাংলাদেশ ও ভারত
  2. খ) ভারত ও চীন
  3. গ) ভারত ও নেপাল
  4. ঘ) বাংলাদেশ ও মিয়ানমার
ব্যাখ্যা
- মহাকালী নদী ভারত ও নেপালের সীমান্তে অবস্থিত।
- এটি দেশ দুটির মাঝে সীমানা হিসেবে চিহ্নিত।
- ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে অবস্থিত নদীটির উৎপত্তিস্থল নিয়ে নেপালের সাথে ভারতের দ্বন্দ্ব চলছে।

সূত্র:- আনন্দবাজার।
৩,২৮৯.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরটি ভূ-ত্বকের সবচেয়ে নিচে অবস্থিত?
  1. ক) মেসোমন্ডল
  2. খ) স্ট্রাটোমন্ডল
  3. গ) এক্সোমন্ডল
  4. ঘ) ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
• এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
• ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
• ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪০ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
• ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না। ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৩,২৯০.
বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, কারণ -
  1. ক) ভূমির ঢাল নেই বলে
  2. খ) বায়ুর চাপ নিম্নাঞ্চলে বেশি হওয়ায়
  3. গ) সমুদ্র পৃষ্ঠ উত্তপ্ত হওয়ায়
  4. ঘ) বায়ুপ্রবাহ হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে
ব্যাখ্যা
• পবর্তের অবস্থান, ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে জলবায়ুর প্রকৃতিতে পার্থক্য দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উত্তরে পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলবায়ুতে প্রভাব বিস্তার করে। যেমন - গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু যখন হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন নেপাল, বাংলাদেশ, ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অধিক হয়।
• তবে এই বায়ুপ্রবাহ হিমালয় অতিক্রম করতে না পারায় উত্তর পাহাড়ের ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না।
• একইভাবে শীতকালে শীতল সাইবেরীয় বায়ু উচ্চ হিমালয় পবর্তে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে উত্তর ঢালে এ সময় বৃষ্টিপাত হয় না। এ সময়ে দক্ষিণে শীতের তীব্রতা ইউরোপের থেকে কম হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৯১.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে বজ্রপাত ঘটে?
  1. তাপমণ্ডল 
  2. মেসোমণ্ডল
  3. ট্রপোস্ফিয়ার
  4. স্ট্রাটোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল:
- প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমণ্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

• ট্রপোস্ফিয়ার:
- গ্রিক শব্দ ট্রপো (Tropo) কথার অর্থ হল পরিবর্তন।
- বায়ুমণ্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত, সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- বায়ুমণ্ডলের একেবারে নীচের স্তরে অবাধে তাপীয় মিশ্রণ ঘটে বলে, একে ট্রপোস্ফিয়ার বলে।
- বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ঘটে থাকে।
- এ স্তরে ৭৮% নাইট্রোজেন, ২১% অক্সিজেন এবং ১% আর্গন, জলীয় বাষ্প এবং কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে।
- ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে বলে ট্রপোপজ।
- ট্রপোপজ স্তরে বায়ুর উষ্ণতা একই রকম থাকে বলে, একে সমতাপ অঞ্চল বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৯২.
চা চাষের জন্য কোন জলবায়ু প্রয়োজন?
  1. শীতল ও শুষ্ক
  2. উষ্ণ ও আর্দ্র
  3. শীতল ও আর্দ্র
  4. উষ্ণ ও শুষ্ক
ব্যাখ্যা

চা (Tea): 
- বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে চা অন্যতম।
- দেশে উৎপাদিত চা-এর প্রায় বেশিরভাগ বিদেশে রপ্তানি হয়।
- পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমিতে চা ভালো হয়। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেটে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে।
- এছাড়া চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চা চাষ হচ্ছে।
- চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন।
- ১৬ থেকে ১৭ সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,২৯৩.
'আল্পস' কোন ধরনের পর্বত?
  1. আগ্নেয়
  2. চ্যুতি-স্তূপ
  3. উত্থিত ক্ষয়জাত
  4. ভঙ্গিল
ব্যাখ্যা
পর্বত (Mountain):
- ভূ-পৃষ্ঠের অতি উচ্চ, সুবিস্তৃত এবং খাড়া ঢাল বিশিষ্ট শিলাস্তুপকে পর্বত বলে।
- পর্বত সাধারণত ৬০০ মিটারের বেশি উচ্চতা সম্পন্ন হয়।
- তবে পর্বতের উচ্চতা সমুদ্র সমতল থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- কোনো কোনো পর্বত বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে, যেমন- পূর্ব আফ্রিকার কিলিমানজারো।
- পর্বত গঠনের প্রক্রিয়াকে ওরোজেনেসিস (Orogenesis) বলে।
- পৃথিবীর প্রতিটি পর্বত দেখতে বাহ্যিকভাবে স্বতন্ত্র হলেও উৎপত্তিগত ও গঠন প্রকৃতির দিক দিয়ে এদের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পর্বতকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা-
ক. ভঙ্গিল পর্বত,
খ. আগ্নেয় পর্বত,
গ. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত এবং,
ঘ. উত্থিত ক্ষয়জাত পর্বত।

উল্লেখ্য,
⇒ ভঙ্গিল পর্বত (Folded Mountain):
- পাললিক শিলাস্তর আনুভূমিক আলোড়ন বা মহাদেশীয় পর্বতের সংকোচনের ফলে কুঞ্চিত হয়ে ঢেউয়ের আকারে যে পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- চার ধরনের পর্বতের মধ্যে ভঙ্গিল পর্বত সর্বাধিক বিস্তৃত।
- অভিসারী প্লেট সীমানায় সংকোচনজনিত চাপে এ ধরনের পর্বত গঠিত হয় বলে এর শিলা কাঠামো ভাঁজ ও চ্যুতিযুক্ত।
- ভঙ্গিল পর্বত সাধারণত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত।
-যেমন: এশিয়ার হিমালয়, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ, উত্তর আমেরিকার রকি এবং ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,২৯৪.
‘টিটিকাকা হ্রদ‘ কোথায় অবস্থিত?
  1. ভেনিজুয়েলা
  2. পেরু
  3. কলম্বিয়া
  4. চিলি
ব্যাখ্যা
• টিটিকাকা হ্রদ:
- টিটিকাকা হ্রদ পেরু এবং বলিভিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদ।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৮১০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
- এটিকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ বড় হ্রদগুলির মধ্যে একটি।

- ঐতিহাসিক এবং ভূতাত্ত্বিকরা বিশ্বাস করেন যে এটি প্রায় তিন মিলিয়ন বছরের পুরানো।
- হ্রদটির পরিমাপ ৮,৩০০ বর্গ কিলোমিটার বা ৩,২০০ বর্গ মাইল এবং এর প্রস্থ বিন্দুতে ৮০ কিলোমিটার বা ৫০ মাইল।
- হ্রদ সিস্টেমটি আসলে তার সরু প্রণালী দ্বারা দুটি ভাগে বিভক্ত যা টিকুইনা নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩,২৯৫.
‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সুন্দরবনের দক্ষিণে
  2. খ) টেকনাফের দক্ষিণে
  3. গ) পদ্মা এবং যমুনার সংযােগস্থলে
  4. ঘ) মেঘনার মােহনায়
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু দ্বীপ: 
- বঙ্গবন্ধু দ্বীপ (যা পুটুনির দ্বীপ নামেও পরিচিত) বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার সুন্দরবনের অংশ 'দুবলার চর' থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ।
- ১৯৯২ সালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রথম নতুন জেগে ওঠা একটি চরের দেখা পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত, মালেক ফরাজী নামের এক মৎস শিকারী।

- এ সময় তিনি জনমানবহীন এ দ্বীপের নাম দেন ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’ এবং সেখানে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে আসেন।
- পরবর্তীতে ২০০৪ সালের পর থেকে দ্বীপটির আয়তন ক্রমেই বড় হচ্ছে এবং না ডুবে স্থিতিশীল অবস্থায় আসছে।
- এ দ্বীপের বর্তমান আয়তন প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটারের মতো।
- সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই মিটার উঁচু দ্বীপটি । 

তথ্যসূত্র:- প্রথম আলো।
৩,২৯৬.
'সাড়াদান' বলতে কোন ধরনের কার্যক্রমকে বুঝায়?
  1. দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন পরিকল্পনা প্রণয়ন
  2. দুর্যোগের অব্যবহিত পরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
  3. দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহকে চিহ্নিতকরণ
  4. দুর্যোগ পূর্ব সময়ে উদ্ধার কার্যে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংগ্রহ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,২৯৭.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত সাধারণত কোথায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে?
  1. ক) বায়ুতুল মোকাররম -ঢাকা
  2. খ) শাহ মখদুম মসজিদ -রাজশাহী
  3. গ) জাতীয় ঈদগাহ্ -ঢাকা
  4. ঘ) শোলাকিয়া -কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
শোলাকিয়া ঈদ জামাত
- বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অন্যতম সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর    উত্তর তীরে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঐতিহ্যবাহী এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকা রিপোর্ট
৩,২৯৮.
’সাত পাহাড়ের শহর’ নামে কোন শহরটি পরিচিত?
  1. প্যারিস
  2. রোম
  3. লিসবন
  4. ইস্তাম্বুল
ব্যাখ্যা
ভৌগলিক উপনাম: 
- রোম, ইতালির রাজধানী।
-  রোম কে “সাত পাহাড়ের শহর” (City of Seven Hills) বলা হয়।
- কারণ প্রাচীন রোম শহরটি গঠিত হয়েছিল সাতটি ছোট ছোট পাহাড় বা টিলার উপর ভিত্তি করে।
• প্রাচীন রোম নগরটি নিচের সাতটি পাহাড়ের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়-
- Aventine Hill,
- Caelian Hill,
- Capitoline Hill,
- Esquiline Hill,
- Palatine Hill,
- Quirinal Hill,
- Viminal Hill. 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৩,২৯৯.
বাংলাদেশের কোন জেলায় রেলপথ নেই?
  1. ক) মাদারিপুর
  2. খ) ভৈরববাজার
  3. গ) টাঙ্গাইল
  4. ঘ) হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
মাদারীপুর জেলায় রেলপথ নেই
এছাড়াও, আরও যেসব অঞ্ছলে কোন রেলপথ নেই - 
   - খাগড়াছড়ি
   - রাঙামাটি
   - বান্দরবান
   - বরিশাল
  - পটুয়াখালী
  - শরীয়তপুর
  - মেহেরপুর
  - কক্সবাজার 
  - লক্ষ্মীপুর

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম - দশম শ্রেণি)
৩,৩০০.
ভৌগোলিক ভাবে বাংলাদেশের কোন জেলার মধ্যে দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে?
  1. মাগুড়া
  2. নাটোর
  3. সিরাজগঞ্জ
  4. ফেনী
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- এটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে (কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ) অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।