বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ২৮ / ৭২ · ২,৭০১২,৮০০ / ৭,১৯১

২,৭০১.
গ্রিনিচ মানমন্দিরের উপর দিয়ে কোন রেখা অতিক্রম করেছে?
  1. মূল মধ্যরেখা
  2. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
  3. শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
 গ্রিনিচ মান:
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘন্টা।
- অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭০২.
মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের সৃষ্টি হয় বায়ুমণ্ডলের যে স্তরে-
  1. এক্সোমণ্ডল 
  2. মেসোমণ্ডল 
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল 
  4. ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমণ্ডল: 
- মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড় সৃষ্টি হয় বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর ট্রপোমণ্ডলে (Troposphere)।
- এই স্তরটি সরাসরি ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে যুক্ত।
- এখানে আমাদের দৈনন্দিন আবহাওয়ার সকল পরিবর্তন ঘটে, যেমন—মেঘ তৈরি, বৃষ্টি, বজ্রপাত, ঝড়, কুয়াশা ও তুষারপাত।
- ট্রপোমণ্ডলের উচ্চতা নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা যত বাড়ে, তাপমাত্রা তত কমে যায়।
- প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় গড়ে ৬° সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- এ স্তরে বাতাসের ঘনত্ব ও জলীয়বাষ্প বেশি থাকে।
- বায়ুমণ্ডলের ওজনের প্রায় ৭৫ শতাংশ এই স্তরে থাকে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৭০৩.
বিখ্যাত ‘দুবলার চর‘ কোথায় অবস্থিত?
  1. ভোলা
  2. নোয়াখালি
  3. সুন্দরবন
  4. পটুয়াখালি
ব্যাখ্যা
• দুবলার চর:
- চাঁদপাই রেঞ্জের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দুবলার চর।
- কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝে দুবলা একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।
- দুবলার চর মূলত জেলে গ্রাম। 
- সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের সদর দপ্তর বাগেরহাট থেকে মাছ সংগ্রহের পূর্বানুমতিসাপেক্ষে বহরদার ও জেলেরা দুবলার চরে প্রবেশ করে থাকেন।
- প্রতি বছর কার্তিক মাসে (খ্রিস্টীয় নভেম্বর) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রাসমেলা এবং পূণ্যস্নানের জন্যও দ্বীপটি বিখ্যাত।

তথ্যসূত্র: খুলনা জেলার ওয়েবসাইট।
২,৭০৪.
কোন প্রণালী আফ্রিকাকে স্পেন থেকে আলাদা করেছে?
  1. বাব এল মান্দেব প্রণালী
  2. মালাক্কা প্রণালী
  3. জিব্রাল্টার প্রণালী
  4.  বেরিং প্রণালী
ব্যাখ্যা

• জিব্রাল্টার প্রণালী :
- ভূমধ্যসাগরকে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযুক্তকারী চ্যানেল ,
- এটি স্পেন এবং আফ্রিকার মধ্যে অবস্থিত।
- এটি ইউরোপ এবং আফ্রিকা মহাদেশকে বিভক্ত করে।

• বাব এল মান্দেব প্রণালী :
- লোহিত সাগর এবং এডেন সাগর কে যুক্ত করে।
- আফ্রিকা এবং এশিয়া মহাদেশ কে বিভক্ত করে।

• মালাক্কা প্রণালী :
- আন্দামান সাগর ( ভারত মহাসাগর ) এবং দক্ষিণ চীন সাগর ( প্রশান্ত মহাসাগর ) এর মধ্যে সংযোগকারী জলপথ ।
- এটি সুমাত্রা এবংমালয়েশিয়া পৃথক করে।

•  বেরিং প্রণালী :
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশকে বিভক্ত করে।
- প্রশান্ত মহাসাগর এবং উত্তর মহাসাগরকে যুক্ত করে।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং worldatla.

২,৭০৫.
Which river is the longest in the world?
  1. Mississippi River
  2. Nile River
  3. Amazon River
  4. Yangtze River
ব্যাখ্যা
নীল নদ:

- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস ।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত: সাদা নীল এবং নীল নীল।

তথ্যসূত্র- Britannica.com & Worldatlas.com
২,৭০৬.
সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কী নামে পরিচিত?
  1. অক্ষরেখা
  2. বিষুবরেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা:
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত।
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় কর্কটক্রান্তি রেখা ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা পরস্পরকে ছেদ করেছে।

উল্লেখ্য,
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে। 
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা একটি কাল্পনিক রেখা যা পৃথিবীর মাঝ বরাবর এবং উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরু থেকে সমান দুরত্বে কল্পনা করা হয় এবং যা পৃথিবীকে দক্ষিণ গোলার্ধ এবং উত্তর গোলার্ধে ভাগ করে।
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা বা ২৩°৩০′ দক্ষিণ অক্ষাংশকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭০৭.
অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও শুষ্ক আবহাওয়ার ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ কোনটি?
  1. সাইক্লোন
  2. টর্নেডো
  3. খরা
  4. কালবৈশাখী
ব্যাখ্যা
অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘকালীন শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে খরা দেখা দেয়। বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার বৃষ্টিপাত অপেক্ষা অধিক হলে এরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল অধিক খরা প্রবণ।

অন্যদিকে,
সাইক্লোন ও টর্নেডো সৃষ্টির প্রধান কারণ নিম্নচাপ। গ্রীষ্মকালে দেশের উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আগত বায়ুর সংঘর্ষে কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টি হয়।

(তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক সাধারণ বিজ্ঞান এবং দুর্যোগকোষ)
২,৭০৮.
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়িয়া অঞ্চলে আছে—
  1. ক) অবিরাম প্রস্রবণ
  2. খ) সবিরাম প্রস্রবণ
  3. গ) উষ্ণ প্রস্রবণ
  4. ঘ) গেইসার
ব্যাখ্যা
উষ্ণ প্রস্রবণ (Hot Spring): 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিকভাবে বেরিয়ে আসা এক ধরনের উষ্ণ ঝর্নাধারা যার পানির তাপমাত্রা মানব দেহের তাপমাত্রার চেয়ে বেশি।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বক্রেশ্বর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন পার্ক, নিউজিল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের দ্বীপসমূহ, আইসল্যান্ড, ইটালি ও জাপান উষ্ণ প্রস্রবণের জন্য বিখ্যাত। 
- বাংলাদেশে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়িয়া অঞ্চলে আছে- উষ্ণ প্রস্রবণ

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৭০৯.
উত্তর আমেরিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী? 
  1. মাউন্ট এলবার্ট
  2. মাউন্ট লোগান
  3. ডেনালি
  4. মাউন্ট রেনিয়ার
ব্যাখ্যা

• উত্তর আমেরিকা (North America):
- পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ উত্তর আমেরিকা।
- ১৪৯২ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাস উত্তর আমেরিকা আবিষ্কার করেন।
- এ মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান ডেনালি, যা ম্যাককিনলে নামেও পরিচিত।
- পানামা খাল উত্তর আমেরিকাকে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে পৃথক করেছে।
- এ মহাদেশে ছোট-বড় অনেকগুলো দ্বীপ রয়েছে। এর মধ্যে গ্রীনল্যান্ড, নিউফাউন্ডল্যান্ড অন্যতম।
- এ মহাদেশের মধ্য আমেরিকা থেকে মিসিসিপি অববাহিকা পর্যন্ত সুবিস্তৃত সমভূমি অঞ্চলকে প্রচুর পরিমাণে গম উৎপাদনের জন্য ‘বিশ্বের রুটির ঝুড়ি' বলা হয়।
- মিসিসিপি-মিসৌরি এ মহাদেশের দীর্ঘতম নদী।
- আয়তনে সবচেয়ে বড় দেশ কানাডা এবং সবচেয়ে ছোট সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 

২,৭১০.
প্রাচীন কালে লৌহিত্য নামে পরিচিত ছিল -
  1. ক) মেঘনা
  2. খ) ব্রহ্মপুত্র
  3. গ) পদ্মা
  4. ঘ) ধলেশ্বরী
ব্যাখ্যা
• ব্রহ্মপুত্র:
- বাংলাদেশের প্রধান নদ হলো ব্রহ্মপুত্র।
- প্রাচীন কালে এর নাম ছিল লৌহিত্য
- হিমালয়ের উত্তরে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়ে দেওয়ানগঞ্জের পাশ দিয়ে, শেরপুর ও জামালপুরের ভেতর দিয়ে, মধুপুর গড়ের পাশ দিয়ে ময়মনসিংহ জেলাকে দুভাগে ভাগ করে ঢাকা জেলার সোনারগাঁ পর্যন্ত প্রবাহিত।
- ঢাকা জেলার উত্তরে ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখানদী হলো শীতলক্ষা।
- ব্রহ্মপুত্রের পশ্চিমদিক দিয়ে ব্রহ্মপুত্রেরই সমান্তরালে প্রবাহিত হয়ে শীতলক্ষা বর্তমান ঢাকার দক্ষিণে নারায়ণগঞ্জের কাছে এসে ধলেশ্বরীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- আজ এর ধারা ক্ষীণ হলেও উনিশ শতকের গোড়াতেও লক্ষ্মা বেগবতী নদী ছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭১১.
'দোয়াব অঞ্চল' বলতে কী বুঝানো হয়?
  1. ক) দুই বা ততোধিক নদীর মিলন স্থল
  2. খ) দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল
  3. গ) নদী উপত্যকার তলদেশ
  4. ঘ) দুই বা ততোধিক নদীর বিভাজন স্থল
ব্যাখ্যা
নদী সম্পর্কিত বিভিন্ন পারিভাষিক শব্দ ও সংজ্ঞা

নদীর মোহনা
নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয় সেই মিলিত স্থানকে নদীর মোহনা বলে।

দোয়াব অঞ্চল
দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে দোয়াব অঞ্চল বলে।

উপনদী
বিভিন্ন উৎস হতে যখন ছোট ছোট নদী উৎপত্তি লাভ করে কোনো বড় নদীতে মিলিত হয় তখন এ ছোট নদীগুলোকে সে বড় নদীর উপনদী বলে। যেমন - যমুনার উপনদী করতোয়া, তিস্তা এবং মেঘনার উপনদী সুরমা ও কুশিয়ারা।

শাখানদী
কখনো কখনো বড় কোনো নদী হতে স্রোতধারা বের হয়ে অন্য কোনো নদী, সাগর, হ্রদ বা পুনরায় মূল নদীর সাথে মিলিত হয়। এরূপ মূল নদী হতে যে সকল নদী বের হয় তাকে শাখানদী বলে। যেমন - ইছামতি, গড়াই, আড়িয়াল খাঁ প্রভৃতি পদ্মার শাখানদী।

নদীসঙ্গম
পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদীগুলো নিজ নিজ পথে প্রবাহিত হয়। এক সময় ঐ নদীগুলো একটি অপরটির সাথে মিলিত হয়। ফলে মিলিত স্রোতধারা ক্রমশ অধিকতর বড় হয়। এভাবে দুই বা ততোধিক নদীর মিলন স্থলকে নদীসঙ্গম বলে।

নদী অববাহিকা
মূল নদী, বিভিন্ন শাখানদী ও উপনদী প্রভৃতির মধ্য দিয়ে যে সকল স্থানের বা অঞ্চলের পানিরাশি প্রবাহিত হয় তখন এ অঞ্চলকে ঐ নদীর অববাহিকা বলে। যেমন - পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সিন্ধু নদের অববাহিকা।

নদী উপত্যকা
নদীর উৎস হতে মোহনা পর্যন্ত গতিপথে যে স্থানের মধ্য দিয়ে পানিরাশি প্রবাহিত হয় সেই খাতকে উক্ত নদীর উপত্যকা বলে।

নদীগর্ভ বা নদীতট
নদী উপত্যকার তলদেশকে বলা হয় নদীগর্ভ।

জলবিভাজিকা
যে উচ্চভূমি বিভিন্ন নদীজ এলাকাকে আলাদা করে থাকে তাকে জলবিভাজিকা বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭১২.
পৃথিবীর তাপমন্ডল কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর তাপমন্ডল ৫ ভাগে বিভক্ত- 

১) উষ্ণমন্ডল
২) উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল
৩) দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল
৪) উত্তর হিমমন্ডল
৫) দক্ষিণ হিমমন্ডল

তথ্যসূত্র: একাদশ শ্রেনীর  ভূগোল বই।
২,৭১৩.
সুন্দরবন অংশে বাংলাদেশ ভারতকে বিভক্তকারী নদী কোনটি?
  1. ক) নাফ
  2. খ) মাতামুহুরী
  3. গ) ডাকাতিয়া
  4. ঘ) হাড়িয়াভাঙ্গা
ব্যাখ্যা
হাড়িয়াভাঙ্গা: 
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাতক্ষীরা জেলায় সুন্দরবনের মধ্যদিয়ে হাড়িয়াভাঙ্গা নদী প্রবাহিত।
- হাড়িয়াভাঙ্গা নদী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমানা চিহ্নিতকারী একটি নদী।
- হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- কক্সবাজার জেলার নাফ নদী বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত।
- ডাকাতিয়া নদী চাঁদপুরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৭১৪.
বাংলাদেশে সাধারণত কোন কোন মাসে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে?
  1. জানুয়ারী ও মার্চ
  2. মার্চ ও নভেম্বর
  3. এপ্রিল ও মে
  4. মে ও জুন
ব্যাখ্যা
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড় (Anti-cyclone)।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- আমাদের দেশে প্রায় প্রতি বছর সাধারণত মার্চ ও নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭১৫.
‘গর্জনশীল চল্লিশ’ কোন অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. ৪০° থেকে ৪৭° উত্তর 
  2. ৪৫° থেকে ৫৫° উত্তর
  3. ৪২° থেকে ৪৭° দক্ষিণ
  4. ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ 
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণ গোলার্ধে ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্য দিয়ে পশ্চিমা বায়ু কোনো বাধা ছাড়াই উন্মুক্ত সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুর তীব্র আওয়াজের কারণেই একে 'গর্জনশীল চল্লিশ' বলা হয়।

• পশ্চিমা বায়ু: 
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- ৩০° অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেঁষে মেরুর দিকে ৬০° অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়। 
- এসময় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়। 
- উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল। 
- আবার দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ুপ্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু। 
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭১৬.
সাধারণত কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগটি বাংলাদেশ হয়না?
  1. ভূমিকম্প
  2. টর্নেডো
  3. খরা
  4. দাবানল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ।
- তবে বাংলাদেশে কোন আগ্নেয়গিরি না থাকায় এখানে অগ্ন্যূৎপাত কিংবা দাবানল সংঘটিত হয় না।

অন্যদিকে,
বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ হলো:
- বন্যা
- ঘূর্ণিঝড়
- টর্নেডো
- জলোচ্ছ্বাস
- নদীভাঙন
- খরা
- বজ্রপাত
- শৈত্য প্রবাহ
- ভূমিধ্বস প্রভতি।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
২,৭১৭.
নিচের কোনটি ভঙ্গিল পর্বত?
  1. আন্দিজ
  2. রকি
  3. আল্পস
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

♦ পর্বত:
- ভূ-পৃষ্ঠের অতি উচ্চ, সুবিস্তৃত এবং খাড়া ঢাল বিশিষ্ট শিলাস্তুপকে পর্বত বলে।
- পর্বত সাধারণত ৬০০ মিটারের বেশি উচ্চতা সম্পন্ন হয়।
- তবে পর্বতের উচ্চতা সমুদ্র সমতল থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- কোনো কোনো পর্বত বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে, যেমন- পূর্ব আফ্রিকার কিলিমানজারো।
- পর্বত গঠনের প্রক্রিয়াকে ওরোজেনেসিস (Orogenesis) বলে।
- পৃথিবীর প্রতিটি পর্বত দেখতে বাহ্যিকভাবে স্বতন্ত্র হলেও উৎপত্তিগত ও গঠন প্রকৃতির দিক দিয়ে এদের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পর্বতকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
• ভঙ্গিল পর্বত,
• আগ্নেয় পর্বত,
• চ্যুতি-স্তূপ পর্বত,
• উত্থিত ক্ষয়জাত পৰ্বত।

⇒ ভঙ্গিল পর্বত:
- পাললিক শিলাস্তর আনুভূমিক আলোড়ন বা মহাদেশীয় পর্বতের সংকোচনের ফলে কুঞ্চিত হয়ে ঢেউয়ের আকারে যে পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- চার ধরনের পর্বতের মধ্যে ভঙ্গিল পর্বত সৰ্বাধিক বিস্তৃত।
- অভিসারী প্লেট সীমানায় সংকোচনজনিত চাপে এ ধরনের পর্বত গঠিত হয় বলে এর শিলা কাঠামো ভাঁজ ও চ্যুতিযুক্ত।
- ভঙ্গিল পর্বত সাধারণত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত। যেমন:
• এশিয়ার হিমালয়,
• দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ,
• উত্তর আমেরিকার রকি এবং
• ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭১৮.
সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন কোনটি? 
  1. রাতারগুল বন
  2. টেংরাগিরি বন 
  3. শালবন
  4. সুন্দরবন
ব্যাখ্যা

• ‘টেংরাগিরি বনাঞ্চল’ :
- বরগুনার তালতলী উপজেলা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত পর্যন্ত বিস্তৃত এই বন।
- বন বিভাগের খাতায় ‘টেংরাগিরি বনাঞ্চল’ হলেও স্থানীয়ভাবে এটি ‘ফাতরার বন’ নামে পরিচিত।
- ১৯৬৭ সালে এই নামকরণ করা হয়।
- দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বন টেংরাগিরি বনাঞ্চল।
- তখনকার হিসাব অনুযায়ী, বরগুনার বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে চোখজুড়ানো এই বনের আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৪ একর।
- ১৯২৭ সালের জরিপ অনুযায়ী, ১৯৬০ সালের ১২ জুলাই তৎকালীন সরকার এটিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করে।
- লবণাক্ত ও মিষ্টি মাটির অপূর্ব মিশ্রণের কারণে এই বনে গেওয়া, জাম, ধুন্দল, কেওড়া, সুন্দরী, বাইন, করমচা, বলই কেওয়া, গরানগাছের - সমারোহ। এখানে বসত গড়েছে হাজারো প্রজাতির প্রাণী।
- অনাবিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য হওয়ায় এখানে গড়ে উঠেছে সোনাকাটা ইকোপার্ক পর্যটনকেন্দ্র।
- কিন্তু একের পর এক গাছের মৃত্যু প্রকৃতি ও মানুষের এসব আয়োজনকে ভন্ডুল করতে বসেছে।

উৎস: প্রথম আলো এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,৭১৯.
বাংলাদেশের জলবায়ু কোন প্রকৃতির?
  1. উপক্রান্তীয় জলবায়ু 
  2. মৌসুমি জলবায়ু 
  3. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
  4. আর্দ্র জলবায়ু
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন।
- পূর্ব দ্রঘিমারেখা হতে ৯২ডি. ৪১মি. পূর্ব দ্রঘিমারেখার মধ্যবর্তী স্থানে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এদেশের ঠিক মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মৌসুমী স্রোত এদেশের দক্ষিণ-প্রান্তবর্তী বঙ্গোপসাগর দিয়ে অতিক্রম করে এখানে।
- তাই বাংলাদেশকে 'ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর দেশ' বলা হয়।
- ঋতুভেদে উচ্চ তাপমাত্রা, ভারী বর্ষণ, অত্যাধিক আর্দ্রতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের জলবায়ুতে পরিলক্ষিত হয়।
- সার্বিক বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জলবায়ুকে প্রধানত তিনটি ঋতুতে ভাগ করা যায়, যথা-শীতকাল, গ্রীষ্মকাল এবং বর্ষাকাল ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৭২০.
চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলায় পরিণত হয়?
  1. স্লেট
  2. কোয়ার্টজাইট
  3. নিস
  4. মার্বেল
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা:
- রূপান্তরিত শিলা হলো এমন শিলা যা উচ্চ তাপ, প্রচণ্ড চাপ এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান আগ্নেয় বা পাললিক শিলার ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নতুন রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা অত্যন্ত শক্তিশালী ও টেকসই, যা স্ফটিকাকৃতির পুনঃগঠন প্রদর্শন করে।

⇒ রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়।

⇒ রূপান্তরিত শিলার প্রকারভেদ:
ক. আগ্নেয়শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে আগ্নেয়শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: গ্রানাইট থেকে নিস (Gneiss) তৈরি হয়।
খ. পাললিক শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে, পাললিক শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: বেলেপাথর থেকে কোয়ার্টজাইট (Quartzite) তৈরি হয়।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭২১.
১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন অনুযায়ী উপকূলীয় দেশের মহীসোপানের সীমা হবে ভিত্তি রেখা থেকে -
  1. ১২ নটিক্যাল মাইল
  2. ২২ নটিক্যাল মাইল
  3. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩৫০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা

মহীসোপান (Continental Shelf):
- পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিয়দংশ ক্রমশ সমুদ্রের পানির মধ্যে বিস্তৃত থাকে।
- এরূপ ক্রমনিম্ন স্বল্প গভীর নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে।
- ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেশন অনুযায়ী, একটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের মহীসোপানের ( Continental shelf) সীমা হবে ভিত্তি রেখা হতে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল।
- কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্র তার ভিত্তিরেখা (baseline) থেকে সর্বোচ্চ ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অথবা ২,৫০০ মিটার গভীরতার আইসোবাথ (isobath) থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান (continental slope) ভোগ করতে পারবে।
- এটি মূলত আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ (UNCLOS) এর আওতায় আসে, যা উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর মহীসোপান ও মহাদেশীয় শেলফের অধিকার নির্ধারণ করে।
- এই নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রগুলি তাদের উপকূল থেকে মহীসোপান বা মহাদেশীয় শেলফের বিশেষ অংশে অর্থনৈতিক বা গবেষণামূলক অধিকার দাবি করতে পারে।

⇒ মহীসোপান অংশের পানির গভীরতা সাধারণত ২০০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- এটি এক ডিগ্রি কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
- মহীসোপান অঞ্চলটি সমুদ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।
- মহাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার ফলে অথবা সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতার তারতম্য হওয়ার কারণে মহীসোপানের সৃষ্টি হয়।
- আবার অনেক সময় সমুদ্র তরঙ্গ ও ক্ষয়ক্রিয়া মহীসোপান গঠনে সহায়তা করে।
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা প্রায় ৭০ কিলোমিটার।
- এ অংশের বিস্তৃতি সর্বত্র সমান নয়।
- উপকূলভাগের বন্ধুরতার উপর এর বিস্তৃতি নির্ভর করে।
- মহীসোপানের সবচেয়ে উপরের অংশকে উপকূলীয় ঢাল বলে।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) UNCLOS ওয়েবসাইট।

২,৭২২.
কত সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হয়ে নতুন স্রোতধারার সৃষ্টি হয়?
  1. ১৬৮৭ সালে
  2. ১৭৮৭ সালে
  3. ১৭৭৭ সালে
  4. ১৭৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা:
- তিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়েছে।
- আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি এক সময়ে ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর-পশ্চিমদিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো।
- ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার একটি শাখা নদীর সৃষ্টি হয়।
- এই নতুন স্রোত ধারাটি যমুনা নামে পরিচিত হয়।
- এটি দক্ষিণে গোয়ালন্দ পর্যন্ত যমুনা নদী বলে পরিচিত।
- যমুনার শাখা নদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখা নদী-বুড়িগঙ্গা।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের উপনদী। করতোয়া ও আত্রাই হলো যমুনার উপনদী।
- ব্রহ্মপুত্রের দৈর্ঘ্য ২৮৯৭ কি.মি.।
- এর অববাহিকার আয়তন ৫,৮০,১৬০ বর্গ কি.মি. যার ৪৪,০৩০ বর্গ কি.মি. বাংলাদেশে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,৭২৩.
উত্তর গোলার্ধে ধ্রুবতারার উন্নতি কোণ ৪০° হলে ঐ স্থানের অক্ষাংশ কত?
  1. ০° উত্তর 
  2. ৪০° উত্তর 
  3. ৫০° উত্তর 
  4. ৯০° উত্তর 
ব্যাখ্যা

• উত্তর গোলার্ধে ধ্রুবতারা (Polaris)-এর উন্নতি কোণ সরাসরি সেই স্থানের অক্ষাংশ নির্দেশ করে।
- অর্থাৎ ধ্রুবতারার যে কোণে দেখা যায়, সেই কোণই হলো ঐ স্থানের অক্ষাংশ।
- তাই যদি ধ্রুবতারার উন্নতি কোণ ৪০° হয়, তবে স্থানের অক্ষাংশও হবে ৪০° উত্তর।
--------------------------------------------------- 
অক্ষাংশ নির্ণয়:
- অক্ষাংশ নির্ণয়ের পদ্ধতি একটি ভিন্ন প্রাকৃতিক নীতির উপর ভিত্তি করে।
- অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয় সূর্য বা নক্ষত্রের উন্নতি কোণ (উচ্চতা) ব্যবহার করে।
- দুপুরে যখন সূর্য আকাশে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকে, তখন সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উচ্চতা মাপা হয় এবং সেই মান থেকে ৯০° বিয়োগ করে (প্রয়োজনে বিষুবলম্ব যোগ বা বিয়োগ করে) অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়।

- আবার উত্তর গোলার্ধে ধ্রুবতারার উন্নতি কোণ সরাসরি সেই স্থানের অক্ষাংশ নির্দেশ করে।
- যেমন, কোনো স্থানে যদি ধ্রুবতারা ২৩° কোণে দেখা যায়, তবে ঐ স্থানের অক্ষাংশ ২৩° উত্তর।
- নিরক্ষরেখায় ধ্রুবতারা ০° এবং উত্তর মেরুতে ৯০° কোণে দেখা যায়।

উৎস: মানচিত্র পঠন ও ব্যবহার, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭২৪.
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) ১৫৫ কি.মি.
  2. খ) ১৪৫ কি.মি.
  3. গ) ১৩৫ কি.মি.
  4. ঘ) ১২০ কি.মি.
ব্যাখ্যা
বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার। বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার। ইনানী, লাবনী, হিমছড়ি বিচ কক্সবাজারে অবস্থিত।
২,৭২৫.
হালদার প্রধান উপনদী কোনটি?
  1. ফেনী
  2. মাতামুহুরী
  3. ধুরুং
  4. কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
হালদা নদী: 
পার্বত্য চট্টগ্রামের বদনাতলী পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎসারিত হয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর-পূর্ব কোণ দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে। 
কালুরঘাটের কাছে এটি কর্ণফুলী নদীতে এসে মিশেছে। এর মোট দৈর্ঘ্য ৮০.৪৫ কিমি। 
হালদার প্রধান উপনদী ধুরুং খুবই খরস্রোতা।
এটি পার্বত্য এলাকার পাকশমিমুরা রেঞ্জ থেকে বের হয়ে পূর্বদিকে হালদা নদীর প্রায় সমান্তরালে সমগ্র ফটিকছড়ি উপজেলা ঘুরে পূর্ব ধলাই নামক স্থানে হালদা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া
২,৭২৬.
বাংলাদেশের প্রথম কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র -
  1. মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  2. রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  3. বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  4. পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র
ব্যাখ্যা
বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
- এটি একটি কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি দেশের প্রথম কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি ২০০৬ সালে গড়ে ওঠে।
- এর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। 
- কেন্দ্রটিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা ব্যবহার করা হয়।
- এটি পরিচলনা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

অন্যদিকে -
- মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
- রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২০২২ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।
- পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২০২০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।

উৎস: বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়েবসাইট।
২,৭২৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন পর্যায়ে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়? 
  1. ক) পুনরুদ্ধার 
  2. খ) সাড়াদান
  3. গ) প্রশমন 
  4. ঘ) প্রতিরোধ 
ব্যাখ্যা
- দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার ও তল্লাশি, নিরাপদ স্থানে অপসারণ, ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা প্রভৃতি সাড়াদানের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অন্যদিকে,
- দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হলো পুনরুদ্ধার।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৭২৮.
মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বনজ সম্পদ:
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

উৎস: i) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
          ii) ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭২৯.
বিশ্বের বৃহৎ প্রবালপ্রাচীর গ্রেট বেরিয়ার রিফ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর
ব্যাখ্যা

• গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ:
- গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ হল বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর সিস্টেম।
- এটি উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের তীরে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রবাল সাগরে অবস্থিত। 
- এটি আনুমানিক ৩৪৪,৪০০০ কি.মি. বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি ২,৯০০টিরও বেশি পৃথক রিফ সিস্টেম, ৭৬০টি ফ্রেঞ্জ রিফ, ৩০০টি প্রবাল রশ্মি এবং ৯০০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
- এটি অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসী এবং টরেস স্ট্রেইট দ্বীপবাসীরা ব্যবহার করত।

তথ্যসূত্র : Worldatlas.com

২,৭৩০.
বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল 'চলনবিল' ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. প্লাইস্টোসিনকালের সোপান অঞ্চল
  2. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চল
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড় অঞ্চল
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য ভূমি এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলের কিছু পাহাড়ি এলাকা ব্যতীত সমগ্র দেশ সাম্প্রতিককালের নদী বিধৌত পলি দ্বারা গঠিত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।
- এ সমভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার।

⇒ দেশের সমগ্র সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি একই ধরনের নয় বলে একে আবার নিম্নলিখিত কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে আলোচনা করা যায়। যথা:
ক) কুমিল্লার বা ত্রিপুরার সমভূমি,
খ) পাদদেশীয় পলল সমভূমি,
গ) সিলেট অববাহিকা,
ঘ) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি,
ঙ) ব-দ্বীপ।

⇒ গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি:
- বৃহত্তর ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত।
- এই অঞ্চলেও বেশ কিছু বিল ও হাওড় আছে।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল 'চলনবিল' এই এলাকাতে অবস্থিত।
- এ অঞ্চলের অধিকাংশ স্থানই বর্ষার সময় পানিতে প্লাবিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৩১.
কোনটি জলবায়ুর উপাদান নয়?
  1. ক) আর্দ্রতা
  2. খ) উচ্চতা
  3. গ) বারিপাত
  4. ঘ) বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
- কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- কাজেই জলবায়ু কোন একটি অঞ্চলের অনেক দিনের বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক অবস্থা।

- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলোঃ
• বায়ুর তাপ,
• বায়ুর চাপ,
• বায়ুপ্রবাহ
• বায়ুর আর্দ্রতা ও
• বারিপাত।

- অপশনগুলোতে উচ্চতা জলবায়ুর উপাদান নয়। এটি জলবায়ুর নিয়ামক।

- জলবায়ুর নিয়ামকগুলো হলোঃ
• অক্ষাংশ,
• উচ্চতা,
• সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
• বায়ুপ্রবাহ,
• সমুদ্রস্রোত,
• পর্বতের অবস্থান,
• ভূমির ঢাল,
• মৃত্তিকার গঠন,
• বনভূমির অবস্থান ইত্যাদি।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭৩২.
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে অবস্থিত?
  1. ক্যালিফোর্নিয়া
  2. নেভাডা
  3. ইউটা
  4. অ্যারিজোনা
ব্যাখ্যা

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন:
- বিখ্যাত গিরিখাত গ্রান্ড ক্যানিয়ন উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- গ্রান্ড ক্যানিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিম অ্যারিজোনার কলোরাডো উচ্চ মালভূমি অঞ্চলে অবস্থিত।
- এই গিরিখাতের মধ্য দিয়ে কলোরাডো নদী বয়ে গেছে।
- এটি এর চমৎকার আকার এবং রঙের জন্য বিখ্যাত।
- গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন মূলত অনুভূমিক স্তরযুক্ত শিলা এবং লাভা প্রবাহ নিয়ে গঠিত।
- গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে অনেক উপনদীর পাশের গিরিখাত এবং পার্শ্ববর্তী মালভূমিও রয়েছে।

উল্লেখ্য,
⇒ কলোরাডো মালভূমি:
- কলোরাডো মালভূমি উত্তর আমেরিকাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি রাজ্য কলোরাডো, নিউ মেক্সিকো, ইউটা এবং অ্যারিজোনাতে বিস্তৃত।
- এই মালভূমিটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক এবং ভূগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে বহু জাতীয় উদ্যান, যেমন গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, আর্চস, ক্যাটেড্রাল ভ্যালি এবং মেসা ভার্ডে অবস্থিত।
- এটি পাদদেশীয় মালভূমি।
- কলোরাডো মালভূমিতে সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ ও গভীর গিরিখাতটির নাম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।

উৎস: Britannica.

২,৭৩৩.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিল কোনটি?
  1. চলন বিল
  2. সোনাই বিল
  3. ঘুগরার বিল
  4. তাগরাই বিল
ব্যাখ্যা
চলন বিল:
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলের নাম চলনবিল।
- এটি রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, এবং পাবনা জেলা জুড়ে বিস্তৃত।
- নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তৃত অংশ জুড়ে যে জলভূমি, বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে দেখা যায় সেটাই বিখ্যাত চলনবিল।
- ব্রহ্মপুত্র নদ যখন তার প্রবাহপথ পরিবর্তন করে বর্তমান যমুনায় রূপ নেয়, সে সময়েই চলনবিলের সৃষ্টি।
- আসলে চলনবিল অনেকগুলো ছোট ছোট বিলের সমষ্টি। 
- গঠিত হওয়ার সময় চলনবিলের আয়তন ছিল প্রায় ১ হাজার ৮৮ বর্গকিলোমিটার।
- বর্তমানে চলনবিল অনেকখানি হ্রাস পেয়ে আয়তন দাঁড়িয়েছে ১১৫০ বর্গকিলেমিটারে।
- চলনবিলের সবচেয়ে বড় অংশ পড়েছে নাটোর জেলায়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৭৩৪.
ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) নাইজার
  2. খ) কানাডা
  3. গ) জিম্বাবুয়ে
  4. ঘ) আর্জেন্টিনা
ব্যাখ্যা
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তে অবস্থিত।
- এটির উচ্চতা ৩৫৫ ফুট। ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত জাম্বেসি নদীর প্রবাহে অবস্থিত। এই জলপ্রপাত দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৩৩ হাজার ঘন ফুট পানি পতিত হয়।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
২,৭৩৫.
নাফ নদীর দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) ৬০ কিমি
  2. খ) ৬৫ কিমি
  3. গ) ৬২ কিমি
  4. ঘ) ৬৮ কিমি
ব্যাখ্যা
• নাফ দেশের সর্বদক্ষিণে মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্তরেখা বরাবর প্রবাহিত ৬২ কিমি দীর্ঘ একটি নদী।
• নাফ মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় পর্বত শ্রেণী থেকে উৎসারিত হয়ে কক্সবাজার জেলাধীন উখিয়া উপজেলার পালংখালির কাছ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অতঃপর দক্ষিণদিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
• ১.৬১ কিমি থেকে ৩.২২ কিমি প্রস্থ বিশিষ্ট এ নদী জোয়ারভাটা প্রবণ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
২,৭৩৬.
NPDRR এর পূর্ণরূপ -
  1. ক) National Planning for Disaster Risk Resilience
  2. খ) National Platform for Disaster Risk Reduction
  3. গ) National Plan for Disaster Risk and Resilience
  4. ঘ) National Platform for Disaster Risk Recovery
ব্যাখ্যা
MoDMR এর পূর্ণরূপ  - Ministry of Disaster Management and Relief
NDMAC  এর পূর্ণরূপ -  National Disaster Management Advisory Committee
NDMC  এর পূর্ণরূপ - National Disaster Management Council
NOC  এর পূর্ণরূপ - No Objection Certificates
NPDM  এর পূর্ণরূপ - National Plan for Disaster Management
NPDRR  এর পূর্ণরূপ - National Platform for Disaster Risk Reduction
NRP  এর পূর্ণরূপ - National Resilience Programme
 
উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট
২,৭৩৭.
বিশ্বের উচ্চতম জলপ্রপাত কোন দেশে অবস্থিত?
  1. পেরু
  2. দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. ভেনেজুয়েলা
  4. জিম্বাবুয়ে
ব্যাখ্যা
অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত:
- বিশ্বের উচ্চতম জলপ্রপাত হলো অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত।
- এটি ভেনেজুয়েলায় ক্যানাইমা জাতীয় উদ্যানে অবস্থিত।
- এটির উচ্চতা ৯৭৯ মিটার।
- এ জলপ্রপাতের পানি বয়ে গেছে অয়ানতেপুই পর্বতের উপত্যকার ওপর দিয়ে চুরুন নদী হয়ে।
- এটি পানি পতনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম জলপ্রপাত।

উৎস: Britannica.
২,৭৩৮.
বাংলাদেশে মোট কতটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা রয়েছে?
  1. ১১টি
  2. ১৩টি
  3. ১৫টি
  4. ১৭টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

- এলাকাগুলো হলো: 

১) সুন্দরবন
২) কক্সবাজার–টেকনাফ সমুদ্র সৈকত
৩) সেন্টমার্টিন দ্বীপ
৪) সোনাদিয়া দ্বীপ
৫) হাকালুকি হাওর
৬) টাঙ্গুয়ার হাওর
৭) মারজাত বাওড়
৮) গুলশান–বারিধারা লেক
৯) বুড়িগঙ্গা নদী
১০) তুরাগ নদী
১১) বালু নদী
১২) শীতলক্ষ্যা নদী
১৩) জাফলং–ডাউকি নদী


তথ্যসূত্র: i) পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

২,৭৩৯.
কোনটি সবচেয়ে কঠিন খনিজ?
  1. রূপা
  2. হীরা
  3. সোনা
  4. তামা
ব্যাখ্যা
সবচেয়ে কঠিন খনিজ - হীরা।

• খনিজ:
- ভূ-পৃষ্ঠ নানা প্রকার রাসায়নিক মৌলিক উপাদান একত্রে মিলিত হয়ে যে যৌগিক পদার্থের সৃষ্টি করে, তাকে খনিজ বলে।
- তবে কিছু কিছু খনিজ একটি মাত্র মৌল দ্বারাও গঠিত হতে পারে। যেমন- হীরা, সোনা, তামা, রূপা, পারদ ও গন্ধক ।

- এর মধ্যে হীরার কাঠিন্য সবচেয়ে বেশি এবং টেলক এর কাঠিন্য সর্বনিম্ন।
- খনিজ তরল, কঠিন ও বায়বীয় এই তিন ধরনের হয়।
- শিলা ও খনিজের মূল পার্থক্য হচ্ছে খনিজ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানে গঠিত আর বিভিন্ন খনিজের সমন্বয়ে শিলা গঠিত।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৪০.
পলল কোণ ভূমিরূপ কোথায় গঠিত হয়?
  1. ক) পাহাড়ের পাদদেশে
  2. খ) নদীর মোহনায়
  3. গ) দোয়াব অঞ্চলে
  4. ঘ) নদীগর্ভে
ব্যাখ্যা
- পার্বত্য অঞ্চল থেকে কোন নদী হঠাৎ করে সমভূমিতে পতিত হলে সেই নদীবাহিত শিলাচূর্ণ, পলিমাটি পাহাড়ের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে ত্রিকোণ ও হাত পাখা আকৃতির ভূমিরূপ সৃষ্টি করে যা যথাক্রমে পলর কোণ ও পলর পাখা নামে পরিচিত।
- যেসব অঞ্চলের মাটি অধিক পানি শোষণ করতে পারে সেখানে শিলাচূর্ণ বেশিদূর যেতে না পেরে পাহাড়ের পাদদেশে পলল কোণ সৃষ্টি করে।
- মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা কম হলে সেক্ষেত্রে পলল পাখা ভূমিরূপ গঠিত হয়।
- হিমালয়ের পাদদেশে গঙ্গার বিভিন্ন উপনদীর গতিপথে পলল কোণ ও পলল পাখা জাতীয় ভূমিরূপ দেখা যায়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৭৪১.
লোহিত সাগর কোথায় অবস্থিত?
  1.  অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে
  2. ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে 
  3. এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে
  4. আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে
ব্যাখ্যা

• লোহিত সাগর (Red Sea):
- ভারত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
- যা আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
- এটি সুয়েজ প্রণালী ও বাব এল-মানদেব প্রণালীর মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর ও আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত।
• অবস্থান ও সীমান্তবর্তী দেশসমূহ:
- উত্তর সীমা: সিনাই উপদ্বীপ, সুয়েজ উপসাগর ও আকাবা উপসাগর;
- দক্ষিণ সীমা: বাব এল-মানদেব প্রণালী, যা গালফ অব অ্যাডেনের সাথে সংযুক্ত;
- লোহিত সাগরের তীরবর্তী ৬টি দেশ;
- পূর্ব তীর: সৌদি আরব ও ইয়েমেন;
- পশ্চিম তীর: মিশর, সুদান, ইরিত্রিয়া ও জিবুতি।

উল্লেখ্য,
- লোহিত সাগরের উত্তরাংশে অবস্থিত আকাবা উপসাগর (Gulf of Aqaba) এবং সুয়েজ উপসাগর (Gulf of Suez) এর কারণে ইসরায়েল এবং জর্ডানও তীরবর্তী হিসেবে গণ্য হয়। তবে সরাসরি সংযুক্ত নেই লোহিত সাগরের সাথে।

উৎস: Britannica.

২,৭৪২.
'তল্লাশি ও উদ্ধার' কোনটির আওতাভুক্ত?
  1. সাড়াদান
  2. উন্নয়ন
  3. প্রতিরোধ
  4. পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

• সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম -১০ম শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৪৩.
দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে যে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয় -
  1. ক) পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন
  2. খ) সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং প্রশমন
  3. গ) পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং পুনরুদ্ধার
  4. ঘ) সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় এবং
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়।

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় : দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।   
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায় : দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।   

তথ্যসূত্র:- ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৪৪.
ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র নামকরণ করেছে কোন দেশ?
  1. কাতার
  2. ওমান
  3. সৌদি আরব
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র নামকরণ: 
- ২০২৪ সালের অক্টোবরে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয়েছে ‘দানা’।
- এ নামকরণ করেছে কাতার।
- এটি আরবি শব্দ। অর্থ, বড় মুক্তার দানা।
- বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলির নামকরণ করে একটি প্যানেল।
- এ অঞ্চলে যে ঘূর্ণিঝড়গুলো হয়, ২০০২ সাল থেকে এ প্যানেলের সদস্য দেশগুলো সেগুলোর নামকরণ করে থাকে।
- প্রতি চার বছর পর পর সদস্য দেশগুলো বৈঠক করে আগে থেকেই পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে থাকে।
- ইকোনোমিক এন্ড স্যোশাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্যা প্যাসিফিক প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত সদস্য দেশগুলো এই অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের আগাম নামকরণ করে থাকে।
- এই নামকরণই দেশের নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী যেখানে ঘূর্ণিঝড় হয় সেখানে সে নামেই এটি পরিচিত হয়।
- এই তালিকায় রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ইরান, কাতার, ইয়েমেন, ওমান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় প্রবণতা: 
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় প্রবণতার দুটি মৌসুম রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদরা।
- এ মৌসুম দুটির একটি ‘প্রি মুনসুন’ এর আওতায় মার্চ, এপ্রিল, মে এই তিন মাস অন্তর্ভুক্ত।
- আরেকটি ‘পোস্ট মুনসুন’ অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর এ তিন মাস এই মৌসুমের অন্তর্ভুক্ত।
- অক্টোবর মাস ঘূর্ণিঝড় প্রবণ মাস।
- ১৮৯১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অক্টোবরে শুধু ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে ৫১টি।
- অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে ৪৩টি”
- মোট ৯৪টি ঘূর্ণিঝড় এ সময়ে তৈরি হয়েছে।
- এর মধ্যে ১৯টি বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে বলে জানান মি. মল্লিক।
- গতবছর ২১ থেকে ২৫শে অক্টোবরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ হয়েছে।
- এটা চট্টগ্রামে উপকূলের দক্ষিণ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- এর আগের বছর চিত্রা ঘূর্ণিঝড় এ মাসেই তৈরি হয়েছিল।
- এই ঘূর্ণিঝড় দানাও সেই প্রবণতারই অংশ। 

উৎস: বিবিসি বাংলা [২৪ অক্টোবর ২০২৪]
২,৭৪৫.
'সোনাদিয়া দ্বীপ' কোথায় অবস্থিত? 
  1. টেকনাফ
  2. হাতিয়া
  3. মহেশখালী 
  4. কুতুবদিয়া
ব্যাখ্যা

• সোনাদিয়া দ্বীপ:
- কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত।
- আয়তন: প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার
- মহেশখালীর দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে সোনাদিয়ার অবস্থান।
- সোনাদিয়া দ্বীপটি মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত।
- ভূতত্ত্ববিদ ও ভূগোলবিদদের মতে, বাঁকখালী নদীর স্রোতধারা ও মহেশখালী প্রণালীর সঙ্গে সাগরের ঢেউয়ের সংঘর্ষে এই দুই এলাকার ঠিক মাঝে বালি জমে জমে জন্ম নিয়েছে সোনাদিয়া দ্বীপ।
- ঘটিভাঙ্গা নামে একটি খাল মহেশখালী দ্বীপের সাথে একসময় সোনাদিয়াকে বিচ্ছিন্ন রাখলেও খালের ওপর সেতু নির্মিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে।

তথ্যসূত্র: কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট ও ডেইলি স্টার। (Link) 

২,৭৪৬.
ত্রিভুজ আকৃতির মহাসাগর কোনটি?
  1. ক) উত্তর মহাসাগর
  2. খ) ভারত মহাসাগর
  3. গ) প্রশান্ত মহাসাগর
  4. ঘ) আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
• প্রশান্তমহাসাগর (Pacific Ocean):
- পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ প্রশান্তমহাসাগর।
- এটি পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশের অধিক স্থান জুড়ে বিস্তৃত।
- এ মহাসাগরের আয়তন ১৬ কোটি ৬০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- গড় গভীরতা ৪,২৭০ মিটার এবং সর্বাধিক গভীরতা ১০,৭৯০ মিটার।
- এ মহাসাগর উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ দ্বারা বেষ্টিত।
- বিখ্যাত নাবিক ম্যাগেলান (Magellan) এ মহাসাগরের নাম রাখেন প্রশান্তমহাসাগর বা Pacific ocean। 
- প্রশান্তমহাসাগর দেখতে অনেকটা অসম ত্রিভুজের মতো
- প্রশান্তমহাসাগরকে উত্তর মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে বেরিং প্রণালি।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৪৭.
মহাসাগরীয় ভূত্বকে কোন দুটি উপাদানের আধিক্য বিদ্যমান?
  1. লোহা ও নিকেল
  2. সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম ও লোহা
  4. সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন আবরণ দেখা যায় তা ভূত্বক নামে পরিচিত।
- ভূত্বের গড় গভীরতা ২০ কিমি।
- মহাদেশীয় পৃষ্ঠে ভূত্বকের গড় গভীরতা ৩৫ কিমি।
- মহাদেশীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত যা সিয়াল (SiAl) নামে পরিচিত।

- সমুদ্র তলদেশের ভূত্বক ৫ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই স্তরটি সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত যা সিমা (SiMg) নামে পরিচিত।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী) সুয়েজ খাল কোন দুটিকে যুক্ত করেছে?
২,৭৪৮.
'সোনালী প্যাগোডার দেশ’ বলা হয় কোন দেশকে?
  1. থাইল্যান্ড
  2. মিয়ানমার
  3. লাওস
  4. কম্বোডিয়া
ব্যাখ্যা

ভৌগলিক উপনাম:
- সোনালী প্যাগোডার দেশ: মিয়ানমার।
- লিলি ফুলের দেশ: কানাডা।
- ক্যাঙ্গারুর দেশ: অস্ট্রেলিয়া।
- সিল্ক রুটের দেশ: ইরান।
- মার্বেলের দেশ: ইতালি।
- পঞ্চম ড্রাগনের দেশ: তাইওয়ান।
- তামার দেশ: জাম্বিয়া।
- পিরামিডের দেশ: মিশর।
- প্রাচীরের দেশ: চীন।
- ভূমিকম্পের দেশ: জাপান।

উৎস: Britannica.com.

২,৭৪৯.
পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল নয় কোনটি?
  1. দিবা-রাত্রির সংঘটন
  2. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি
  3. জীবজগতের সৃষ্টি ও বংশ বিস্তার
  4. দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন। এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।
- ঢাকায় আহ্নিক গতির বেগ প্রায় ১৬০০ কি.মি./ঘন্টা।

• পৃথিবীতে আহ্নিক গতির ফলাফলসমূহ:
১. দিবা-রাত্রির সংঘটন,
২. জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি;
৩. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি,
৪. তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি এবং
৫. জীবজগতের সৃষ্টি ও বংশ বিস্তার।

• পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ও ঋতু পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৫০.
পদ্মা নদীর উৎপত্তি
  1. ক) হিমালয় পর্বত
  2. খ) লুসাই পাহাড়
  3. গ) হিমালয়ের মানস সরোবরে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নদীসমূহের উৎপত্তিস্থল:

- পদ্মা নদীর উৎপত্তি স্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- ব্রহ্মপুত্র তিব্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ থেকে উৎপত্তি লাভ করে।
- মেঘনা আসামের 'বরাক' নদী নাগা-মনিপুর পাহাড়ের দক্ষিণ থেকে উৎপত্তি লাভ করে।
- কর্ণফুলী নদী আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- করতোয়া নদীর মূলধারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার বৈকুণ্ঠপুর জলাভূমিতে উৎপন্ন হয়েছে।
- খাগড়াছড়ি বাদনাতলী পর্বতশৃঙ্গ হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৫১.
KAFCO কোথায় অবস্তিত?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) খুলনা
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

চট্টগ্রামে অবস্থিত কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড বা কাফকো হলো বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ যৌথ প্রকল্প। বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি সেক্টর, জাপান, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডের যৌথ সহায়তায় ১৯৯৪ সালে কাফকো উৎপাদন শুরু করে। এটি একটি রপ্তানিমুখী সার কারখানা। এটিতে অ্যামোনিয়া সার ও দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়।
(সূত্রঃ কাফকো ওয়েবসাইট)

২,৭৫২.
কোন ঋতুকে বৃষ্টিহীন ঋতু বলে?
  1. ক) শরৎ
  2. খ) হেমন্ত
  3. গ) শীত
  4. ঘ) বসন্ত
ব্যাখ্যা
শীতকাল বৃষ্টিহীন ঋতু এবং ডিসেম্বর শুষ্কতম মাস। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে আগত জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুর প্রভাবে কিছু বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়ে থাকে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২,৭৫৩.
কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে কোন ধরনের পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ভঙ্গিল পর্বত
  2. ল্যাকোলিথ পর্বত
  3. আগ্নেয় পর্বত
  4. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রতল থেকে এক হাজার মিটারের অধিক উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢাল বিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলা হয়। কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলা হয়।
- ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ভাঁজ।
- এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা প্রভৃতি ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৭৫৪.
টাইগ্রিস নদী কোন সাগরে পতিত হয়?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. পারস্য উপসাগর
  3. কৃষ্ণসাগর
  4. লোহিত সাগর
ব্যাখ্যা

• টাইগ্রিস নদী:
- টাইগ্রিস নদী হলো মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক নদী।
- এটি মূলত তুরস্কের পূর্বাঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে সিরিয়া ও ইরাক হয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়।
- টাইগ্রিস নদী তুরস্কের তৌরুস পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়।
- এটি সিরিয়ার একটি ছোট অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মূলত ইরাকের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়।
- ইরাকের দক্ষিণ অংশে টাইগ্রিস নদী ও ইউফ্রেটিস নদী একত্রিত হয়ে একটি নতুন নদী গঠন করে যার নাম শাত আল-আরব (Shatt al-Arab)।
- শাত আল-আরব নদী শেষ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরে পতিত হয়।
- ইরাক ও ইরানের মধ্যে শাত-ইল আরব নিয়ে বিবাদ ছিলো।
- এই নদীটি হাজার বছর ধরে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার (সুমের, আকাদ, ব্যাবিলন ইত্যাদি) প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।
- টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মাঝে অবস্থিত অঞ্চলকে বলা হয় মেসোপটেমিয়া, যার অর্থ “নদীর মাঝে ভূখণ্ড”।

তথ্যসূত্র: National Geographic Society ও ব্রিটানিকা

২,৭৫৫.
ভূমির অবস্থা ও গঠন সময়ের হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিরূপকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ২ ভাগ
  2. খ) ৩ ভাগ
  3. গ) ৪ ভাগ
  4. ঘ) ৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
ভূপ্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশে তিন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়।
এগুলো হলো:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী
- প্লাইস্টোসিনকালের চত্বরভূমি
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭৫৬.
সাধারণত গম চাষের জন্য কী পরিমাণ বৃষ্টিপাত প্রয়োজন?
  1. ৫০-৭৫ সেন্টিমিটার
  2. ১০০-২০০ সেন্টিমিটার
  3. ১৫০-২০০ সেন্টিমিটার
  4. ২০০-২৫০ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
• গম চাষের নিয়ামক :
- তাপমাত্রা: গম চাষের জন্য সাধারণত ১৬° থেকে ২২° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন।
- বৃষ্টিপাত : গম চাষে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হলেও চলে।
- সাধারণত গম চাষের জন্য প্রয়োজন ৫০-৭৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত। এ কারণে বাংলাদেশে বৃষ্টিহীন শীত মৌসুমে পানি সেচের মাধ্যমেও গম চাষ করা হয়।
- মৃত্তিকা: বাংলাদেশের উর্বর দোআঁশ মাটি গম চাষের জন্য বিশেষ সহায়ক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৫৭.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি শাল গাছ আছে?
  1. বাগেরহাট
  2. রাঙামাটি
  3. টাঙ্গাইল
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
শালবন:
- শাল একটি বহুবর্ষজীবী পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ। 
- শালবন এক ধরনের বনভূমি যেখানে শালগাছ মুখ্য উদ্ভিদ প্রজাতি।
- বনের শ্রেণীবিন্যাসে শালবনকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র পত্রঝরা বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- শালগাছের উচ্চতা হয় ২৫ মিটার পর্যন্ত এবং পর্ণমোচীজাতীয় উদ্ভিদ হওয়ায় শীতকালে বেশির ভাগ গাছের পাতা ঝরে যায়।
- তারপর বসন্তে পাতা ও ফুলের সমারোহে ভরে ওঠে শালবন।
- গড়ন ও আকৃতির কারণে শালগাছের পাতা আলাদাভাবেই চেনা যায়।

⇒ ভারতেই এই শ্রেণীর বনভূমি প্রায় ১৩০ লক্ষ হেক্টর জায়গা দখল করে আছে।
- বাংলাদেশ এবং নেপালে রয়েছে মোট ১০ লক্ষ হেক্টরের বেশি স্থান জুড়ে এ ধরনের বনভূমি।

⇒ বাংলাদেশে মোট শালবন এলাকা প্রায় ১,২১,০০০ হেক্টর অর্থাৎ দেশের বনভূমির শতকরা প্রায় ৩২ ভাগ।
- শালবন দেশের মাত্র কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো।
- বেশির ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- এ ছাড়া কুমিল্লা জেলায় এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও রাজশাহী জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে শালবন দেখা যায়।
- এ বনাঞ্চল ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গড় নামে পরিচিত।
- ‘মধুপুর গড়’ নামেই এটি সুপরিচিত।

⇒ ভাল জাতের শালকাঠ বাড়িঘর তৈরি, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, নৌকা ও রেলের স্লিপার তৈরি এবং অন্যান্য নির্মাণ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- শালগাছের কাণ্ড ‘শাল দামার’, ‘রাল’ বা ‘ধুম’ নামে পরিচিত এক ধরনের সুগন্ধি আঠার উৎস।
- এই আঠা নৌকার ছিদ্র বন্ধ করতে, কার্বন পেপার, টাইপ করার যন্ত্রের ফিতা, বার্নিশ এবং রং তৈরির উপাদান হিসেবে কাজে লাগে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৭৫৮.
লালমাই পাহাড় কোন যুগের ভূমিরূপ?
  1. টারশিয়ারি যুগ
  2. সাম্প্রতিককাল
  3. ব্রোঞ্জ যুগ
  4. প্লাইস্টোসিনকাল
ব্যাখ্যা
লালমাই পাহাড় কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত যা লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত বিস্তৃত। এর আয়তন ৩৪ বর্গকিমি এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
এটি প্লাইস্টোসিনকালে বা প্রায় ২৫ হাজার বছর আগে গঠিত একটি ভূমিরূপ।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৭৫৯.
বাংলাদেশের কতটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে? [জুন, ২০২৫]
  1. ১১টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

⇒ এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো হলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উৎস: i) পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
২,৭৬০.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল?
  1. ক) বেরিবাঁধ নির্মাণ
  2. খ) অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা
  3. গ) কাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা
  4. ঘ) আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত উভয় প্রকার প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

- কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি খুবই ব্যয়বহুল। যার কারণে এসব ব্যবস্থা অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যে উপযোগী নয়।

অন্যদিকে,
- গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ প্রদান প্রভৃতি অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হওয়ায এসব ব্যবস্থা দরিদ্রদেশগুলোর জন্যে উপযোগী।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৭৬১.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়-
  1. ক) গ্রীষ্মকালে
  2. খ) শরৎকালে
  3. গ) শীতকালে
  4. ঘ) সারা বছর
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারা বছর লম্বভাবে পড়ে। এ দুটি কারণে এখানকার বায়ুমণ্ডলে সারা বছর জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। জলীয়বাষ্প হাল্কা বলে সহজেই তা উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর প্রতিদিনই বিকেল অথবা সন্ধ্যার সময় এরূপ বৃষ্টিপাত হয়। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
২,৭৬২.
গ্রেট ব্রিটেনের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) ইংল্যান্ড
  2. খ) স্কটল্যান্ড
  3. গ) ওয়েলস
  4. ঘ) নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
গ্রেট ব্রিটেন এবং ইউনাইটেড কিংডম নিয়ে একটা কনফিশন তৈরী হয় অনেকের মধ্যে৷ গ্রেট ব্রিটেন হলো ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলস নিয়ে৷ গ্রেট ব্রিটেনের সাথে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড সংযুক্ত হলে তখন সেটাকে বলে ইউনাইটেড কিংডম।
source: Britannica
২,৭৬৩.
সাগরের সীমা সাধারণত কীভাবে নির্ধারিত হয়?
  1. প্রাকৃতিকভাবে
  2. অর্থনৈতিকভাবে
  3. রাজনৈতিকভাবে
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মহাসাগর ও সাগর:
- পৃথিবীর জলরাশির যে আধার তার প্রধান ক্ষেত্র মহাসাগর ও সাগরসমূহ।
- পৃথিবীতে পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে।
- এর মধ্যে বৃহত্তম প্রশান্তমহাসাগর।
- এটির আয়তন ১৬ কোটি ৬০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এবং ক্ষুদ্রতম হলো দক্ষিণ মহাসাগর যার আয়তন ১ কোটি ৪৭ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।

⇒ মহাসাগরগুলোর গড় গভীরতাও সমান নয়।
- গড় গভীরতা সবচেয়ে বেশি প্রশান্তমহাসাগরের (৪,২৭০ মিটার) এবং সবচেয়ে কম গড় গভীরতা দক্ষিণ মহাসাগরের (১৪৯ মিটার)।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর সাগরসমূহ মহাদেশগুলোর উপকূলভাগে অবস্থিত।
- পৃথিবীতে অনেকগুলো সাগর রয়েছে।
- যেমন: আরব সাগর, পীত সাগর, জাপান সাগর প্রভৃতি।

⇒ সাগরগুলোর আয়তন মহাসাগরের তুলনায় অনেক কম এবং সাগরের সীমা সাধারণত প্রাকৃতিকভাগে নির্ধারিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৬৪.
শ্রমসাধ্য এবং ব্যয়বহুল বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কোনটি?
  1. ক) নদীর তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি
  2. খ) নদী শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
  3. গ) সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা
  4. ঘ) ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর পানি পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
২,৭৬৫.
গ্রানাইট ও গ্যাব্রো কোন ধরনের শিলা? 
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা 
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

আগ্নেয়শিলা (Igneous Rocks):
- আদিম অবস্থায় পৃথিবী উত্তপ্ত গলিত অবস্থায় ছিল।
- সেখান থেকে আস্তে আস্তে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে কঠিন হয়ে যে শিলার উৎপত্তি তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
- অগ্নিময় অবস্থা থেকে এই শিলার সৃষ্টি হয় বলে একে আগ্নেয় শিলা বলা হয়।
- কারণ ইগনিয়াস (Igneous) শব্দের অর্থ আগুন। সকল প্রকার শিলার মধ্যে আগ্নেয়শিলা সর্ব প্রথম সৃষ্টি হওয়ায় একে প্রাথমিক শিলাও (Primary Rock) বলা হয়।
- ইহার মধ্যে স্তর নাই বলে একে অস্তরীভূত শিলাও (Unstratified) বলা হয়।
- উদাহরণ: ব্যাসল্ট, গ্রানাইট, গ্যাব্রো।

অন্যদিকে,
• রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks): 
- আগ্নেয় এবং পাললিক এই উভয় প্রকার শিলা অত্যধিক তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে নুতন এক প্রকার শিলায় পরিণত হয়। 
- উদাহরণ: চুনাপাথর (limestone) পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল (marble)
- বেলেপাথর (sandstone) পরিবর্তিত হয়ে  কোয়ার্টজাইটে (Quartgite)
- কাদা (clay)  পরিবর্তিত হয়ে  স্লেটে (slate)
- গ্রানাইট (granite)  পরিবর্তিত হয়ে নীসে (gneiss)
- কয়লা (coal)পরিবর্তিত হয়ে  গ্রাফাইটে (Graphite) পরিণত হয়।

• পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks):
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রাথমিক শিলাগুলো যুগ যুগ ধরে রৌদ্র, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ সাগর তরঙ্গ প্রভৃতির নানা প্রকার ঘাত প্রতিঘাত ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খন্ড বিখন্ড ও চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে বালি, কাঁকর, কাদা প্রভৃতিতে পরিণত হয়।
- পাললিক শিলা: চুনাপাথর, বেলে পাথর, পাথুরিয়া কয়লা, সৈন্ধব লবন, খড়িমাটি প্রভৃতি।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৭৬৬.
ভারতের মোট প্রদেশ কতটি?
  1. ক) ২৬টি
  2. খ) ২৭টি
  3. গ) ২৮টি
  4. ঘ) ২৯টি
ব্যাখ্যা

বর্তমান ভারতের প্রদেশ সংখ্যা ২৮টি। সর্বশেষ প্রদেশ হচ্ছে তেলেঙ্গানা।
এছাড়া ভারতে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল ৮টি।
উল্লেখ্য যে, ভারতে প্রদেশ ছিল ২৯টি কিন্তু সংবিধানের ৩৭০ নং ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলভুক্ত করায় এখন প্রদেশ সংখ্যা ২৮টি হয়েছে।
সূত্র: ভারতের সরকারি ওয়েবসাইট

২,৭৬৭.
ইউনেস্কো কত তারিখে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ৫ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
  2. ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
  3. ৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
  4. ৮ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি ।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি।
- সেগুলো হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম World Heritage হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।
- সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
- সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে গরান, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
২,৭৬৮.
চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রাচীন নাম-
  1. ক) হরিকেল
  2. খ) পুণ্ড্র
  3. গ) রাঢ়
  4. ঘ) গৌড়
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র-বৃহত্তর বগুড়া (মহাস্থানগড়), রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর।
বঙ্গ- বৃহত্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী।
সমতট- বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী।
গৌড়- মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান ও চাপাইনবাবগঞ্জ।
রাঢ়- পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাংশ।
হরিকেল- সিলেট, চট্টগ্রাম।
২,৭৬৯.
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা কোন দ্বীপে অবস্থিত?
  1. ভিসায়াস
  2. মিন্দানাও
  3. লুজন
  4. হনসু
ব্যাখ্যা
লুজন দ্বীপ: 
- ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- লুজন ফিলিপাইনের বৃহত্তম ও সর্বাধিক জনবহুল দ্বীপ।
- এই দ্বীপে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা অবস্থিত।
- বিশ্বের সপ্তম সর্বোচ্চ দ্বীপ রয়েছে ফিলিপাইনে।
- লুজন, ভিসায়াস এবং মিন্দানাও ফিলিপাইনের প্রধান দ্বীপ।

উৎস: worldatlas.com ও ব্রিটানিকা।
২,৭৭০.
বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রাঙামাটি
  3. কক্সবাজার
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে অবস্থিত। এটি ১৯৬২ সালে চালু হয়।
১৯৫৬ থেকে ১৯৬১ সালে কাপ্তাই খালে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তৈরি জলাধারের পানি প্রবাহের মাধ্যমে এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এই কেন্দ্রের বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
২,৭৭১.
বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের সর্ব নিম্নভাগ হচ্ছে -
  1. ক) হাইল হাওর
  2. খ) হাকালুকি হাওর
  3. গ) টাংঙ্গুয়া হাওর
  4. ঘ) বুরবুক হাওর
ব্যাখ্যা
• হাওড় অঞ্চল:
- হাওড় অঞ্চল মূলত সিলেটের উত্তর পূর্বাংশের পাহাড়ি অঞ্চল ব্যতীত পুরো এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
এই অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৪৫০৫.২০ বর্গ কি. মি.।
সসার আকৃতির নিম্নভূমি গত ২০০ বছরে প্রায় ৯ থেকে ১২ মিটার নিচে ডেবে গেছে।

• হাওড় অঞ্চলটিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: মধ্যভাগ, সুসাং অঞ্চল, মেঘালয়, পাদভূমি অঞ্চল এবং সিলেটের মধ্যভাগের নিম্নভূমি।
- মধ্যভাগের উচ্চতা সমুদ্র সমতলের কাছাকাছি।
- এ অঞ্চলে বিল ও হাওড়ের বিন্যাস নদীর বিচ্ছিন্ন অংশ, প্রাকৃতিক বাঁধ, নিচু চর ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত।
- উচু পাড়গুলিকে কান্দা বলে। সুসাং অঞ্চলে সুসাং পাদদেশিয় সমভূমি এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র  প্লাবন ভূমির মাঝখানে নিম্নভূমি আছে যা বন্যার সময় গভীর পানিতে মগ্ন হয়।
- মেঘালয় পাদভূমির অঞ্চলে রক্ষা নদী থেকে লুবা নদী পর্যন্ত নিম্নাঞ্চল ও হাওড় অঞ্চলের অন্তর্গত। এখানে সর্বনিম্ন ভাগ হচ্ছে টাঙ্গুয়া হাওড় এলাকা
- মধ্য সিলেটের হাওড় সমূহের মধ্যে হাকালুকি হাওড় অন্যতম।
- জুরি ও কুশিয়ারা নদী বাহিত পলি দ্বারা এ হাওড় দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৭২.
বাংলাদেশের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস -
  1. ক) এপ্রিল
  2. খ) মে
  3. গ) জুলাই
  4. ঘ) আগস্ট
ব্যাখ্যা
উষ্ণতম মাস:
- এপ্রিল মাসকে উষ্ণতম মাস হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে।
- এ মাসে দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসে এবং পশ্চিম-মধ্যভাগে তা ৩১° সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
- পশ্চিমাঞ্চলে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা কখনও কখনও ৪০° সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে থাকে।
- রাজশাহী এবং কুষ্টিয়া জেলার কিছু কিছু স্থানে গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াস কিংবা তারও অধিক উঠে থাকে।
- এপ্রিল মাসের পরে গ্রীষ্মকালীন মাসগুলিতে তাপমাত্রা সামান্য হারে হ্রাস পেতে থাকে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৭৭৩.
খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের প্রধান কাঁচামাল কোনটি?
  1. কেওড়া
  2. গেওয়া
  3. সুন্দরী 
  4. ওড়া 
ব্যাখ্যা

সুন্দরবন:
- সুন্দরবন হচ্ছে বাংলাদেশের ফুসফুস।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হচ্ছে সুন্দরি।
- এছাড়া, সুন্দরবন অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে—
- গড়ান, গেওয়া, পশুর, ধুন্দুল, কেওড়া, বাইন, ওড়া, হেন্দাল ও কাঁকড়া প্রভৃতি।

- সুন্দরবনের বনসম্পদকে কেন্দ্র করে কয়েকটি শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো খুলনার নিউজপ্রিন্ট মিল এবং হার্ডবোর্ড মিল।
- হার্ডবোর্ড মিল এর কাঁচামাল হিসেবে সুন্দরী বৃক্ষ ব্যবহৃত হয়।

- খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের প্রধান কাঁচামাল হলো সুন্দরবনের গেওয়া কাঠ।
- এটি নিউজপ্রিন্ট তৈরির জন্য উপযুক্ত কারণ এর ফাইবারের গঠন ও গুণমান কাগজের শক্তি এবং সহনশীলতা নিশ্চিত করে।
- যদিও পরবর্তীতে আখের ছোবড়া ও অন্যান্য বিকল্প কাঁচামালের ব্যবহার চেষ্টা করা হয়েছে;
- তবুও গেওয়া কাঠ মূল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১. বন অধিদপ্তর; 
২. জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

২,৭৭৪.
পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে কোন ধরনের পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে?
  1. আগ্নেয় পর্বত
  2. ল্যাকোলিথ পর্বত
  3. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
  4. ভঙ্গিল পর্বত
ব্যাখ্যা
সমুদ্রতল থেকে এক হাজার মিটারের অধিক উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢাল বিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলা হয়।
কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলা হয়। ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ভাঁজ।
এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা প্রভৃতি ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৭৭৫.
সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্রের সাহায্যে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. ক) সময়
  2. খ) অক্ষাংশ
  3. গ) উষ্ণতা
  4. ঘ) দ্রাঘিমাংশ
ব্যাখ্যা
• অক্ষাংশ:
- আকাশে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্র ব্যবহার করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়।
- অক্ষাংশ নির্ণয়ের সূত্রটি হলো - কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ৯০° মধ্যাহ্নে সূর্যের উন্নতি ± বিষুবলম্ব। 

- সূর্য যেদিন যে অক্ষাংশের উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় সেটিই ঐ দিন উক্ত স্থানের বিষুব লম্ব।
- বিষুব লম্ব ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৭৬.
করতোয়া ও আত্রাই কোন নদীর উপনদী?
  1. ক) পদ্মা
  2. খ) যমুনা
  3. গ) মেঘনা
  4. ঘ) ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা
যমুনা (Jamuna) 
• ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এটি গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্বদিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম নদী।
যমুনার প্রধান উপনদী হলো ধরলা, তিস্তা, করতোয়া ও আত্রাই।
• এছাড়া যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা। 
মেঘনা ভৈরববাজারের দক্ষিণে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে এবং চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• মেঘনা নদীর উপনদীগুলো হলো - শীতলক্ষ্যা, গোমতি, ডাকাতিয়া, ধলেশ্বরী, ব্রহ্মপুত্র।   
• ব্রহ্মপুত্রের শাখানদী - শীতলক্ষ্যা।
২,৭৭৭.
বর্তমানে 'শাখালিন দ্বীপপুঞ্জটি' কোন দেশের দখলে রয়েছে?
  1. ক) রাশিয়া
  2. খ) জাপান
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ শাখালিন।
- শাখালিন দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে রাশিয়ার দখলে রয়েছে এবং এতে রাশিয়ার নৌঘাঁটি রয়েছে।
- এটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ আরেকটি দ্বীপ হচ্ছে কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়া কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
২,৭৭৮.
২০২০ সালের বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সূচকে শীর্ষ দেশ কোনটি?
  1. ইসরাইল
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. দক্ষিণ কোরিয়া
  4. জাপান
ব্যাখ্যা
- আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন প্রকাশিত বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সূচক-২০২০ এ মোট ১৮২টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রিপোর্ট অসুসারে,
- শীর্ষদেশ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- দ্বিতীয় : যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব
- তৃতীয় : এস্তোনিয়া
- সর্বনিম্ন দেশ : উত্তর কোরিয়া
- বাংলাদেশের অবস্থান : ৫৩তম।
(তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন ওয়েবসাইট)
২,৭৭৯.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবান 
  2. রাঙ্গামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম তাজিওডং (বিজয়), উচ্চতা ১২৩১ মিটার। এটি বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।

ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে ভূমিরূপের শ্রেণীবিভাগ:
ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায় -
১) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
২) প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ ও
৩) সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- আজ থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন বছরেরও আগে এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা – দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং উত্তর ও উত্তর–পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম তাজিওডং (বিজয়), উচ্চতা ১২৩১ মিটার।
- এটি বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কিওক্রাডং (১২৩০ মিটার) ।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৭৮০.
In which districts is the 'Tanguar haor' located?
  1. ক) Chittagong
  2. খ) Natore
  3. গ) Sylhet
  4. ঘ) Sunamganj
ব্যাখ্যা
নয় কুড়ি কান্দার ছয় কুড়ি বিল' নামে পরিচিত ও 'রামসার সাইট' হিসেবে পরিচিত টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
২,৭৮১.
নিচের কোনটি স্বাদু পানির হ্রদ?
  1. বৈকাল হ্রদ
  2. কাস্পিয়ান সাগর
  3. আসাল হ্রদ
  4. সাম্বার হ্রদ
ব্যাখ্যা
- রাশিয়ায় অবস্থিত বৈকাল হ্রদ একটি স্বাদু পানির হ্রদ। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম ও গভীরতম হ্রদ।
অন্যদিকে,
- সাম্বার হ্রদ : ভারতের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগর : পৃথিবীর বৃহত্তম ও বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ
- লেক আসাল (জিবুতি) : সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ
(তথ্যসূত্রঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা)
২,৭৮২.
উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম -
  1. ক) বরাক নদী
  2. খ) কীর্তিনাশা নদী
  3. গ) গারোই নদী
  4. ঘ) জোনাই নদী
ব্যাখ্যা
- চাঁদপুরের পর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পদ্মা ও মেঘনার মিলিত ধারার নাম মেঘনা।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী।
- ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় মেঘনা বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে।
- এটি বাংলাদেশের গভীর ও প্রশস্ততম নদী এবং অন্যতম বৃহৎ ও প্রধান নদী।

উৎস: মাধ্যমিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণী এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৭৮৩.
নিচের কোনটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত দেশ?
  1. ফিনল্যান্ড
  2. আইসল্যান্ড
  3. নরওয়ে
  4. চিলি
ব্যাখ্যা

• স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চল:
- এই অঞ্চলের দেশগুলোর ভাষা, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া হচ্ছে ইউরোপের উত্তরাঞ্চলের একটি অঞ্চল।
- এই অঞ্চলে প্রধানত তিনটি দেশ অন্তর্ভুক্ত:
- ডেনমার্ক,
- নরওয়ে,
- সুইডেন।

• নর্ডিক দেশসমূহ:
- স্ক্যান্ডিনেভিয়ার তিনটি দেশ (ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে)+ ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। [লিঙ্ক]

২,৭৮৪.
উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে যে ধরণের বন্যা?
  1. ক) বৃষ্টি জনিত বন্যা
  2. খ) আকস্মিক বন্যা
  3. গ) জলোচ্ছ্বাসজনিত বন্যা
  4. ঘ) নদীজ বন্যা
ব্যাখ্যা
জলোচ্ছ্বাস:
- সমুদ্রে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে অর্থাৎ চোখ বরাবর নিম্নচাপ থাকে। ফলে, উক্ত স্থানের সমুদ্রের পানি ফুলে উঠে এবং ১৫-৪০ ফুট উঁচু হয়ে ঝড়ের সাথে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে।
- এই উঁচু জলরাশি স্থলভাগে আঘাত হানলে তাকে জলোচ্ছ্বাস বলে।
- ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবার সময়ে যদি পূর্ণিমা বা অমাবস্যা থাকে, তাহলে সমুদ্রের পানি আরও ফুলে উঠে এবং প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয়।
- ১৯৭০ সালে ভোলায় ৪০ ফুট এবং ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম উপকূলে ১৫-২০ ফুট জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল।

- জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে।
- তবে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অনেক কার্যকরী পদক্ষেপ নেবার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক হ্রাস পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
২,৭৮৫.
ইউরেনাসের উপগ্রহ নয় কোনটি?
  1. মিরান্ডা
  2. এরিয়েল
  3. আমব্রিয়েল
  4. ডিমোস
ব্যাখ্যা
ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- ইউরেনাসে একদিন সময় লাগে প্রায় ১৭ ঘন্টা।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ ২৮টি।
• এর মধ্যে প্রধান পাঁচটি চাঁদ: মিরান্ডা, এরিয়েল, আমব্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন।

অন্যদিকে,
- মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ দুইটি: ডিমোস ও ফোবোস।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com & NASA ওয়েবসাইট।
২,৭৮৬.
কোন তিন ধরনের কার্যক্রম দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে চালানো হয়?
  1. ক) সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন
  2. খ) সাড়া প্রদান, প্রতিরোধ এবং প্রশমন
  3. গ) পূর্ব প্রস্তুতি, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন
  4. ঘ) পুনরুদ্ধার, প্রতিরোধ এবং প্রশমন
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র 
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় এবং
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়।

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়: দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।   

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়: দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৮৭.
'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' কী?
  1. সামুদ্রিক অববাহিকা
  2. প্রতিবাত ঢাল
  3. বদ্বীপ
  4. চর
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বেঙ্গল ফ্যান ভূমিরূপটি পাওয়া যায় বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডটি বঙ্গোপসাগরের ১৪ কিলোমিটার প্রশস্ত গভীর সমুদ্রের উপত্যকা।
- এই উপত্যকার গভীরতম রেকর্ড করা অঞ্চলটি প্রায় ১৩৫০ মিটার।
- সাবমেরিন উপত্যকাটি বেঙ্গল ফ্যান বা বঙ্গ পাখার অংশ, বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন পাখা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,৭৮৮.
পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিম খাল কোনটি?
  1. বাল্টিক খাল
  2. পানামা খাল
  3. সুয়েজ খাল
  4. গ্রান্ড খাল
ব্যাখ্যা
গ্রান্ড খাল:
- পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিম খাল গ্রান্ড খাল।
- গ্রান্ড খাল চীনের বেইজিং এবং হ্যাংচ্যাং- এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
- গ্রান্ড খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮০০ কি.মি।
- এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
- ৬০৭ সালে গ্রান্ড খাল উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: Britannica.
২,৭৮৯.
ভারতের সেভেন সিস্টার্স কোন অঞ্চলকে বোঝায়?
  1. দক্ষিণ ভারত
  2. উত্তর-পূর্ব ভারত
  3. পশ্চিম ভারত
  4. মধ্য ভারত
ব্যাখ্যা

ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চল:
- ভারতের সেভেন সিস্টার্স বলতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বোঝানো হয়।
- রাজ্যগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম। 
- এই সাত রাজ্যের আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে এদের সংযোগকারী সরু করিডোরটি আসামের গুয়াহাটিতে অবস্থিত যা চিকেন'স নেক নামে পরিচিত।

⇒ সেভেন সিস্টার্স অন্তর্ভুক্ত ৪টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা সংযোগ রয়েছে।
- এগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, ত্রিপুরা।

উল্লেখ্য,
• ভারতের সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যসমূহ ও রাজধানী:
- অরুণাচল প্রদেশ: ইটানগর,
- আসাম: দিসপুর,
- মেঘালয়: শিলং,
- মণিপুর: ইম্ফল,
- মিজোরাম: আইজল,
- নাগাল্যান্ড: কোহিমা,
- ত্রিপুরা: আগরতলা। 

উৎস: i) Britannica.
ii) Ministry of Home Affairs ওয়েবসাইট।

২,৭৯০.
কুয়াকাটা কোথায় অবস্থিত?
  1. খুলনা
  2. বরিশাল
  3. পটুয়াখালী
  4. চাঁদপুর
ব্যাখ্যা
কুয়াকাটা: 
- কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র।
- পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা 'সাগর কন্যা' হিসেবে পরিচিত।
- পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে কুয়াকাটা অবস্থিত।
- ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার, বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার।
- 'কুয়া' শব্দটি এসেছে 'কুপ' থেকে।
- ধারণা করা হয় ১৮ শতকে মুঘল শাসকদের দ্বারা বার্মা থেকে বিতারিত হয়ে আরকানীরা এই অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে।
- তখন এখানে সুপেয় জলের অভাব পূরণ করতে তারা প্রচুর কুয়ো বা কুপ খনন করেছিলনে, সেই থেকেই এই অঞ্চলের নাম হয়ে যায় কুয়াকাটা।
- ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সৈকত বিশিষ্ট কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকত।
- বাংলাদেশের এটাই একমাত্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই ভাল দেখা যায়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৭৯১.
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এশিয়া মহাদেশের কোন দিকে অবস্থিত?
  1. উত্তর-পূর্ব
  2. উত্তর-পশ্চিম
  3. দক্ষিণ-পূর্ব
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলাদেশের সর্বমোট সীমারেখা ৪,৭১১ কিলোমিটার।
- এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৩,৭১৫ কিলোমিটার।
- রাজনৈতিক সমুদ্রসীমার দৈর্ঘ্য ১২ নটিক্যাল মাইল।
- অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমার দৈর্ঘ্য ২০০ নটিক্যাল মাইল।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারেখার দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার এবং
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তটরেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙ্গা নদী এবং দক্ষিণ- পূর্বে নাফ নদী ভারত ও মিয়ানমারের সীমানায় অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৯২.
পৃথিবীর গভীরতম খাত কোনটি?
  1. শুন্ডা খাত
  2. মারিয়ানা খাত
  3. পুয়ের্তো রিকো খাত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মারিয়ানা খাত (Mariana Trench):
- সমুদ্রের তলদেশে মাঝে মাঝে যে সুগভীর খাত থাকে সেগুলোকে গভীর সমুদ্র খাত বলে। 
- এদের গভীরতা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৫,৪০০ মিটারের অধিক থাকে।
- মহাসাগরগুলোর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরে গভীর সমুদ্রখাতের সংখ্যা অধিক। 
- প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত (Mariana Trench) পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা গভীর খাত। 
- এর গভীরতা প্রায় ১১ হাজার মিটার।
- এটি প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ঠিক পূর্বে অবস্থিত। 
- ম্যারিয়ানা খাতের গভীরতম স্থান চ্যালেঞ্জার ডিপ (Challenger Deep) নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
• পোর্টোরিকো খাত আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
• শুন্ডা খাত ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যার গভীরতা ৭,৩০৩ মিটার। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
২,৭৯৩.
গ্রিন হাউজ প্রভাবের জন্য দায়ী -
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. জলীয়বাষ্প
  3. মিথেন 
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউজ প্রভাব:
→ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হলো বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি। এটিকে গ্রিন হাউজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়।
→ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাসকে দায়ী করা হয়।
→ এগুলো হলো: কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন, ওজোন, জলীয়বাষ্প প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৯৪.
হাকালুকি হাওরে কতটি বিল রয়েছে?
  1. ক) প্রায় ২৩২টি
  2. খ) প্রায় ২৩৮টি
  3. গ) প্রায় ২৬৮টি
  4. ঘ) প্রায় ২৮৩টি
ব্যাখ্যা
হাকালুকি হাওর  বাংলাদেশের বৃহত্তর হাওর।
- এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত। 
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত।
- হাকালুকি হাওরের বিশাল জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী এবং পানাই নদী। 
- হাকালুকি হাওরে প্রায় ২৩৮টি বিল রয়েছে। প্রায় সারাবছরই বিলগুলিতে পানি থাকে।
- উল্লেখযোগ্য বিলসমূহ হলো: চাতলা বিল, চৌকিয়া বিল, ডুল­া বিল, পিংলার কোণা বিল, ফুটি বিল, তুরাল বিল, তেকুনি বিল, পাওল বিল, জুয়ালা বিল, কাইয়ারকোণা বিল, বালিজুড়ি বিল, কুকুরডুবি বিল, কাটুয়া বিল, বিরাই বিল, রাহিয়া বিল, চিনাউরা বিল, দুধাল বিল, মায়াজুরি বিল, বারজালা বিল, পারজালা বিল, মুছনা বিল, লাম্বা বিল, দিয়া বিল, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
২,৭৯৫.
আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য -
  1. অস্তরীভূত
  2. জীবাশ্ম নেই
  3. সুদৃঢ়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় শিলা:
- পৃথিবী জ্বলন্ত অবস্থা থেকে শীতল হবার সময়ে অর্ধগলিত বিভিন্ন খনিজ অত্যন্ত দ্রুত শীতল ও কঠিনাকার ধারণ করে।
- এইরূপে সৃষ্ট কঠিন পদার্থগুলো আগ্নেয় শিলা নামে অভিহিত।
- যেমন: গ্রানাইট। 

আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য:
- আগ্নেয় শিলার স্তর নেই অর্থাৎ অস্তরীভূত শিলা;
- আগ্নেয় শিলায় কোনো জীবাশ্ম নেই;
- আগ্নেয় শিলা অপ্রবেশ্য;
- আগ্নেয় শিলা সুদৃঢ় ও সুসংহত। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৯৬.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ২৯°
  2. ৩৪°
  3. ২৭°
  4. ৩২°
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
→ বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২১° সেলসিয়াস
→ শীতকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৯° এবং ১১° সেলসিয়াস।
→ এদেশের গ্রীষ্মকালীন গড় উষ্ণতা ২৭° থেকে ৩২.২° সেলসিয়াস
→ শীতকালীন গড় উষ্ণতা ১৩.২° থেকে ২১° সেলসিয়াস।
→ বর্ষাকালে গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৭৯৭.
নদী বিহীন দেশ কোনটি?
  1. ভুটান
  2. হাঙ্গেরি
  3. মালদ্বীপ
  4. মঙ্গোলিয়া
ব্যাখ্যা

• নদী বিহীন দেশ:
- কিছু দেশ এত ছোট যে সেখানে নদী থাকার জায়গাই নেই।
- অনেক ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র, শহর-রাষ্ট্র, অথবা যে-সব দেশে শুধুমাত্র মৌসুমি পানি প্রবাহ ঘটে।
- যা প্রকৃতপক্ষে স্থায়ী নদী হিসেবে বিবেচিত হয় না।
- এই মানদণ্ড অনুযায়ী, বিশ্বে মোট ১৯টি দেশ রয়েছে যেগুলোর মধ্যে কোনো স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই।

• দেশগুলো হলো:
- কোমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত,ইয়েমেন,মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি,  কিরিবাটি, নাউরু,  টোঙ্গা, টুভ্যুলু।

উৎস: World Atlas.

২,৭৯৮.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপে আদিনাথ পাহাড় রয়েছে?
  1. ক) নিঝুম দ্বীপ
  2. খ) সন্দ্বীপ
  3. গ) মহেশখালী
  4. ঘ) কুতুবদিয়া
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ হলো মহেশখালী। এই দ্বীপে আদিনাথ পাহাড় রয়েছে।
- এছাড়া এখানে আদিনাথ মন্দির রয়েছে।
- মহেশখালী দ্বীপেই মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে।
- দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হলো সেন্টমার্টিন বা নারিকেল জিঞ্জিরা।
- কুতুবদিয়া দ্বীপে বাতিঘর রয়েছে।
- সন্দ্বীপে প্রাচীনকালে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ হতো।

(সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং জাতীয় দৈনিক)
২,৭৯৯.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের -
  1. নদ-নদীর পানি কমে যাবে
  2. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
  3. উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে
  4. উত্তাপ কমে যাবে
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন:
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিশর, ভিয়েতনাম, ফিজি, কিরিবাতি, টুভ্যালু প্রভৃতি দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
- এছাড়া কৃষি জমি লবণাক্ত হয়ে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাবে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮০০.
আটলান্টিক মহাসাগর কোন মহাদেশগুলোর মধ্যে অবস্থিত?
  1. অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকা
  2. আফ্রিকা এবং এশিয়া
  3. এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া
  4. আমেরিকা, ইউরোপ এবং আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean):
- এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে এটি অবস্থিত।
- আয়তনের দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান দ্বিতীয় এবং গভীরতার দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান তৃতীয়।
- এর আয়তন ৮,৫১,৩৩,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকা।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম স্থান পোয়ের্তোরিকা ট্রেঞ্চ।
- এর গড় গভীরতা ১১,৯৬২ ফুট এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ২৭,৪৯৩ ফুট।

⇒ আটলান্টিক মহাসাগর তুলনামূলকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়ে কম প্রশস্ত এবং উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ইংরেজি S অক্ষরের মতো বিস্তৃত।
- এ মহাসাগরের পূর্বদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ এবং পশ্চিমে উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ অবস্থিত।
- আর্কটিক সাগরসহ এটি সবচেয়ে লম্বা মহাসাগর যা উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলকে যুক্ত করেছে।
- স্থলভাগ সংলগ্ন অনেকগুলো অগভীর সাগর যেমন- আর্কটিক, বাল্টিক, ক্যারাবিয়ান, ভূ-মধ্যসাগর এবং মেক্সিকো উপসাগর রয়েছে।
- এ মহাসাগরে পতিত নদীগুলোর মধ্যে আমাজান এবং কঙ্গো অন্যতম।
- আটলান্টিক মহাসাগরে বেশ কিছু দ্বীপ রয়েছে। এর মধ্যে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দ্বীপ গ্রীনল্যান্ড অন্যতম।
- এছাড়াও রয়েছে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ স্যান্ডউইচ, আইসল্যান্ড, সেন্ট পল বক দ্বীপ প্রভৃতি।

উৎস: i) Britannica.
ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।