বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ২৪ / ৭২ · ২,৩০১২,৪০০ / ৭,১৯১

২,৩০১.
পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম কী?
  1. মিল্কিওয়ে
  2. এন্ড্রোমিডা
  3. এনাক্সিমিয়া
  4. অ্যালকিয়োনেস
ব্যাখ্যা
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে আটটি গ্রহ তাদের নিজস্ব কক্ষপথে অবিরত আবর্তন করে।
- পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালক্সি সবকিছু নিয়েই গঠিত হয় মহাবিশ্ব।
- গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের অংশ।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩০২.
'কংস' নদীর উৎপত্তিস্থল কোন পাহাড়ে?
  1. গারো পাহাড়
  2. লুসাই পাহাড়
  3. সীতা পাহাড়
  4. কংস পাহাড়
ব্যাখ্যা

• কংস নদী বা কংশ নদী বা কংসবতী নদী বা কংসাই নদী: 

- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জ জেলার একটি নদী। 
- ভারতের শিলং মালভূমির পূর্বভাগে তুরার কাছে গারো পাহাড়ে এ নদীর উৎপত্তি। 
- উৎস থেকে দক্ষিণদিকে প্রবাহিত হওয়ার পর শেরপুর জেলার উত্তর ভাগে নালিতাবাড়ী উপজেলা সদরের প্রায় ১৬ কিমি উত্তর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। 
- সেখান থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে সোমেশ্বরী নদীতে মিশেছে। কংস ও সোমেশ্বরীর মিলিত স্রোত বাউলাই নদী নামে পরিচিত। 

• বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:

- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- করতোয়া নদীর উৎপত্তিস্থল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল মহালড্রীম, দার্জিলিং।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩০৩.
কেন্দ্রমণ্ডলে কোন দুটি উপাদানের আধিক্য বিদ্যমান?
  1. ক) সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম ও সিলিকন
  3. গ) সিলিকন ও লোহা
  4. ঘ) লোহা ও নিকেল
ব্যাখ্যা
- কেন্দ্রমণ্ডল ভূ-অভ্যন্তরের সবচেয়ে ভেতরের স্তর। এই স্তরের পুরত্ব প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার।
- কেন্দ্রমণ্ডলের উপাদান সমূহের মধ্যে লোহা ও নিকেল প্রধান।
- অন্যান্য উপাদানের মধ্যে পারদ ও সীসা উল্লেখযোগ্য।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৩০৪.
‘সাভানা তৃণভূমি’ নিচের কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. খ) দক্ষিণ সুদান
  3. গ) ইথিওপিয়া
  4. ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা

সাভানা হলো আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে অবস্থিত একটি বিস্তৃত তৃণভূমি। এটির আয়তন প্রায় ৫০ লক্ষ বর্গমাইল।
এটি সাহারা মরুভূমি ও কালাহারি মরুভূমির মধ্যবর্তী স্থানে সুদান, দক্ষিণ সুদান, কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশজুড়ে বিস্তৃত।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ওয়েবসাইট।

২,৩০৫.
‘হাজার হ্রদের দেশ’ বলা হয় কোনটিকে?
  1. ফিনল্যান্ড
  2. নরওয়ে
  3. জাপান
  4. ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
কিছু ভৌগোলিক উপনাম:
• হাজার হ্রদের দেশ: ফিনল্যান্ড।
• হাজার দ্বীপের দেশ: ইন্দোনেশিয়া।
• নিশীথ সূর্যের দেশ: নরওয়ে।
• ম্যাপল পাতার দেশ: কানাডা।
• বজ্রপাতের দেশ: ভুটান।
• সূর্যোদয়ের দেশ: জাপান।
• সমুদ্রের বধু: গ্রেট ব্রিটেন।
• নীল নদের দেশ: মিশর।
• পঞ্চম ড্রাগনের দেশ: তাইওয়ান।

তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২,৩০৬.
নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ কোনটি?
  1. উপত্যকা
  2. প্লাবন সমভূমি
  3. পলল পাখা
  4. পলল কোণ
ব্যাখ্যা

• নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ (Erosional Features of River):
- নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় এবং নতুন নতুন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।
- পার্বত্য অবস্থায় নদীর ক্ষয়কার্য অত্যন্ত বেশি হয়।
- নদীর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ অনেক ধরণের হয়।
- যেমন:
১. 'ভি' আকৃতি উপত্যকা ('V' shaped Valley),
২. জলপ্রপাত (Waterfall),
৩. গিরিসংকট (Ravine), 
৪. গিরিখাত (Gorge),
৫. নদীপ্রপাত (Rapid),
৬. নদীর বাঁক (Meanders),
৭. বর্তুলাকার গর্ত (Pot Holes) ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩০৭.
ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?
  1. সেলসিয়াস স্কেল
  2. রিখটার স্কেল
  3. ক্রমিক স্কেল
  4. অনুপাত স্কেল
ব্যাখ্যা
• ভূমিকম্প (Earthquake) :
- বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগের নাম ভূমিকম্প। ভূমিকম্প হলো খুবই অল্প সময়ের জন্য মাটির কম্পন বা ঝাঁকুনি। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূগর্ভ।

• ভূমিকম্পের কারণঃ
- টেকটনিক প্লেটের স্থানান্তর,
- অগ্ন্যুৎপাত
-  ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
- ভূগর্ভস্থ চাপ বৃদ্ধি বা হ্রাস,
- তাপ বিকিরণ

• ভূমিকম্পের কেন্দ্রঃ
- ভূঅভ্যন্তরে যে স্থানে প্রথম কম্পন হয় (অগভীর কেন্দ্র ০-৭০কি.মি,
- মধ্যপর্যায়ের কেন্দ্র ৭০-৩০০কি.মি, গভীর কেন্দ্র ১৩০০কি.মি)

• উপকেন্দ্রঃ
ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ঠিক সোজা উপরে ভূপৃষ্ঠের স্থান ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রঃ রিখটার স্কেল (মাত্রা ০-১০)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম ও দশম শ্রেণি।
২,৩০৮.
ভারতের সেভেন সিস্টার্স খ্যাত রাজ্যগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন নয় কোনটি?
  1. অরুণাচল
  2. মেঘালয়
  3. মিজোরাম
  4. আসাম
ব্যাখ্যা
সেভেন সিস্টার্স:

- সেভেন সিস্টার্সের অরুণাচল রাজ্যটির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই।
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- রাজ্যগুলো হচ্ছে -আসাম, অরুণাচল, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মণিপুর, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ড।
- ভারতের সেভেন সিস্টারস খ্যাত রাজ্যগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন নয় মণিপুর, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচল রাজ্য।
- ভারতের মোট ৫টি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- এগুলো হলো: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

তথ্যসূত্র - ওয়ার্ল্ড এটলাস।
২,৩০৯.
মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের কতটি জেলার সীমান্ত রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মিয়ানমারের সঙ্গে ৩টি সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে।

• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি।
রাজ্যগুলো হলো: 
- আসাম,
- মিজোরাম,
- ত্রিপুরা,
- মেঘালয় ও
- পশ্চিমবঙ্গ।

এছাড়াও, 
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট ৩০টি জেলা রয়েছে। 
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি। 
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত ৩টি জেলা যুক্ত রয়েছে।  
- রাঙামাটি জেলা ভারত এবং মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী জেলা।  

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও প্রথম আলো।
২,৩১০.
মেঘনা নদীর উপনদীগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত? 
  1. তিস্তা 
  2. আত্রাই 
  3. বাউলাই 
  4. করতোয়া 
ব্যাখ্যা

মেঘনা নদী: 
- মেঘনা নদী বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী।
- এই নদীটি মূলত বরাক নদী থেকে উৎপন্ন হয়।
- বরাক নদী ভারতের পার্বত্য অঞ্চল থেকে জন্ম নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়।
- এই দুটি নদী সিলেট জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের সীমান্তে মারকুলীতে মিলিত হয়ে কালনী নামে পরিচিত হয়।
- এরপর ভৈরব বাজারের কাছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে নদীটি মেঘনা নাম ধারণ করে।

- মেঘনার উপনদীসমূহ হলো-
• বাউলাই, 
• ধলেশ্বরী,
• গোমতি,
• তিতাস,
• মনু,
• ফেনী।

উল্লেখ্য,
- মেঘনা নদী দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে পদ্মা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়।
- আরও দক্ষিণে এটি নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ভোলা দ্বীপের মধ্য দিয়ে মেঘনা লোয়ার নদী নামে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে।
- নদীর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫০ মাইল।
-  নদীটি গভীর এবং প্রবাহ খুব দ্রুত, কখনও কখনও নিজস্ব চ্যানেল এবং বালির তীরে বিভক্ত হয়।
- সারা বছর নৌযান চলাচলের জন্য উপযোগী হলেও ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে বসন্তের জোয়ারে, যখন সমুদ্রের পানি প্রায় ২০ ফুট (৬ মিটার) উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

উৎস:
১. জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
২. Britannica.

২,৩১১.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কোন জেলার সাথে ভারতের কোনো সংযোগ নেই?
  1. বান্দরবান
  2. দিনাজপুর
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা

• সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট ৩২টি।
তার মধ্যে -
- ভারতের সাথে ৩০টি জেলার এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি (কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান) জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- রাঙ্গামাটি একমাত্র জেলা যার সাথে ভারত ও মিয়ানমার ২টি দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা বান্দরবানের সাথে ভারতের কোন সংযোগ নেই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,৩১২.
আগেকার দিনে বাণিজ্য জাহাজগুলো যে বায়ুপ্রবাহের দিক অনুসরণ করে যাতায়াত করত তা হলো -
  1. পশ্চিমা বায়ু
  2. অয়ন বায়ু
  3. মেরু বায়ু
  4. প্রত্যয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা
• অয়ন বায়ু (The Trade Winds):
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্র অনুসারে এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে।
- প্রাচীনকালে পরিচালিত বাণিজ্য জাহাজগুলো এ বায়ুপ্রবাহের দিক অনুসরণে যাতায়াত করত বলে এগুলোকে অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
- উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু ঘণ্টায় প্রায় ১৬ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু প্রায় ২২.৫৪ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী হলে অত্যধিক তাপে উষ্ণ ও হালকা হয়ে ঊর্ধ্বে উঠে যায়।
- তখন নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর অনুভূমিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং নিরক্ষরেখার উভয়দিকে উত্তর-দক্ষিণে ৫° অক্ষাংশ পর্যন্ত একটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- এ বলয়কে নিরক্ষীয় শান্ত বলয় (Doldrum) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩১৩.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা
  2. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. সিলেট
  4. হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা

তিতাস গ্যাসক্ষেত্র:

- গ্যাসক্ষেত্রটিতে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ৭.৫৮২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
- ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেলওয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৬৮ সাল থেকে ক্ষেত্রটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে।
- এটি দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে অবস্থিত।
- তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের মাধ্যমে তিতাস ক্ষেত্রের গ্যাস ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নরসিংদী, নেত্রকোনা, ও কিশোরগঞ্জ জেলায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
-  বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে সিলেটের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে।

উৎস: বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি এবং পেট্রোবাংলা ওয়েবসাইট।

২,৩১৪.
আফ্রিকার বৃহত্তম মিঠা পানির উৎস-
  1. সুপিরিয়র হ্রদ
  2. কাস্পিয়ান সাগর
  3. বৈকাল হ্রদ
  4. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
ব্যাখ্যা

• ভিক্টোরিয়া হ্রদ:
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ আফ্রিকার বৃহত্তম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির উৎস
- এই হ্রদটি কেনিয়া, তানজানিয়া এবং উগান্ডার মধ্যে অবস্থিত, যদিও তানজানিয়া সবচেয়ে বেশি জল ধারণ করে।
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ বৃষ্টিপাত এবং নীল নদ সহ বেশ কয়েকটি নদী থেকে তার জল গ্রহণ করে। 
- এটি ২৬,৬০০ বর্গমাইল পৃষ্ঠভূমি জুড়ে বিস্তৃত, এর গভীরতম স্থানে এর গভীরতা ২৭২ ফুট এবং গড় গভীরতা ১৩০ ফুট। 
- এটি প্রায় ৬৬০ ঘনমাইল জল ধারণ করে।

এছাড়াও,
- বৈকাল হ্রদ: টি বিশ্বের গভীরতম হ্রদ।
- পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ হলো কাস্পিয়ান সাগর।
- উত্তর আমেরিকার সুপিরিয়র বিশ্বের বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ।

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।

২,৩১৫.
'Swatch of No Ground' কোথায় অবস্থিত?
  1. আন্দামান সাগরে
  2. বঙ্গোপসাগরে
  3. আরব সাগরে
  4. লাক্ষাদ্বীপ সাগরে
ব্যাখ্যা
- 'Swatch of No Ground' বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। এটি একটি গভীর সামুদ্রিক খাদ।

Swatch of No Ground: 
- 'Swatch of No Ground' ভূমিরূপটি বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। 
- Swatch of No Ground একটি খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত এবং গঙ্গা খাদ নামেও পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ প্রায় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, এবং তার তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল, তবে পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- এই খাদটি বঙ্গোপসাগরের ১৪ কিলোমিটার প্রশস্ত গভীর সমুদ্রের উপত্যকা, যার গভীরতম রেকর্ড করা অঞ্চলটি প্রায় ১৩৫০ মিটার।
- এটি বেঙ্গল ফ্যান বা বঙ্গ পাখার অংশ, যা বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন পাখা হিসেবে পরিচিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,৩১৬.
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বিশ্বের কততম দীর্ঘতম সীমান্ত?
  1. ৫ম
  2. ৪র্থ
  3. ৩য়
  4. ২য়
ব্যাখ্যা

​ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্ত:
​- বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা বিশ্বের ৫ম দীর্ঘতম সীমান্ত।
​- সীমান্ত দৈর্ঘ্য: ৪১৪২ কিলোমিটার।

​পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত:
১. আমেরিকা ও কানাডা: দৈর্ঘ্য ৮৮৯৩ কিলোমিটার।
২. কাজাকিস্তান ও রাশিয়া: দৈর্ঘ্য ৭৬৪৪ কিলোমিটার।
৩. আর্জেন্টিনা ও চিলি: দৈর্ঘ্য ৬৬৯১ কিলোমিটার।
৪. চীন ও মঙ্গোলিয়া: দৈর্ঘ্য ৪৬৩০ কিলোমিটার।
৫. ভারত ও বাংলাদেশ: দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্থল সীমান্ত হলো স্পেন এবং মরক্কো।

উৎস: World Atlas.

২,৩১৭.
বাংলাদেশের শীতলতম স্থান কোনটি?
  1. সৈয়দপুর
  2. শ্রীমঙ্গল
  3. হিলি
  4. তেঁতুলিয়া
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ২৬.০১⁰ সেলসিয়াস এবং গড় বৃষ্টিপাত ২০৩⁰ সেন্টিমিটার।
- উষ্ণতম মাস: এপ্রিল, গড় তাপমাত্রা ২৮° সেলসিয়াস।
- শীতলতম মাস: জানুয়ারি, গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।

⇒ বাংলাদেশের শীতলতম স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা: সিলেট।

উল্লেখ্য,
- দেশের উষ্ণতম স্থান: লালপুর, নাটোর।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়: লালাখাল, সিলেট।
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হয়: লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা: কক্সবাজার।
- সর্ব উত্তরের জেলা: পঞ্চগড়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৩১৮.
Which of the following is the largest and the deepest ocean of the world?
  1. ক) Arctic
  2. খ) Atlantic
  3. গ) Pacific
  4. ঘ) Indian
ব্যাখ্যা
• প্রশান্ত মহাসাগর:
- পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর
- প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন - ১৬ কোটি ৮৭ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- গড় গভীরতা - গড় - ৪,১৮৮ মি.; সর্বোচ্চ গভীরতা - ১০,৯২০ মি.
- এই মহাসাগরে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রবাল প্রাচীর গ্রেট বেরিয়ার রিফ অবস্থিত।
- ২৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রবাল প্রাচীর অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত‌।
- আর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগরের নাম আটলান্টিক মহাসাগর। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস
২,৩১৯.
সুন্দরবনের কত অংশ বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানায় অবস্থিত?
  1. ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার
  2. ৬,০০০ বর্গ কিলোমিটার
  3. ৫,৫০০ বর্গ কিলোমিটার
  4. ৬,৪০০ বর্গ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
•সুন্দরবন:
- সুন্দরবন বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন।
- সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম। 
- প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৃথিবীর বৃহত্তম নিরবিচ্ছিন্ন জোয়ারধৌত ম্যানগ্রোভ বন ।
- সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা
- এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগণা জেলায় অবস্থিত। 
- সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার বাংলাদেশের অংশে পড়েছে।
- সুন্দরবনের বাকি অংশ ভারতে অবস্থিত।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৩২০.
ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে কী বলা হয়?
  1. ডানা 
  2. চোখ
  3. মোখা 
  4. মূলবিন্দু
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সমূহের ব্যাস ২০০-৭০০ কি.মি হয় এবং গভীরতা হয় ১২-১৬ কি.মি পর্যন্ত।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় কেন্দ্রের ভিতরের দিকে বায়ুচাপ দ্রুত কমতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগ বয়ে আনে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩২১.
সমুদ্র থেকে শীতল ও উচ্চচাপ বায়ু মূলভাগের দিকে প্রবাহিত, কারণ এটি -
  1. মৌসুমি বায়ু
  2. সমুদ্র বায়ু
  3. স্থলবায়ু
  4. স্থানীয় বায়ু
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু:
- উপকূল এলাকায় সকালের সূর্যতাপ স্থানীয় ভূমির তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং নিম্ন চাপের সৃষ্টি করে। এসময় সমুদ্রের কাছের শীতল বায়ু স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয় যাকে বলা হয় সমুদ্র বায়ু।
- সূর্যাস্তের পর সমুদ্রের চেয়ে স্থলভাগ দ্রুত শীতল হয়। এ সময় স্থলভাগে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- স্থলভাগের এই উচ্চচাপ থেকে তখন বায়ু সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয় এবং এই বায়ুপ্রবাহকে বলা হয় স্থলবায়ু।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩২২.
আয়তনে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ-  
  1. রাশিয়া
  2. কানাডা
  3. ভারত
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম দেশসমূহ:
- আয়তনে বৃহত্তম দেশ: রাশিয়া।
- আয়তনে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ কানাডা।

• আয়তনে ক্ষুদ্রতম দেশ: 
- প্রথম: ভ্যাটিকান সিটি,
- দ্বিতীয়: মোনাকো,
- তৃতীয় : নাউরু।

এছাড়া,
- জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম দেশ: ভ্যাটিকান সিটি
- সিচেলিস আফিকার ক্ষুদ্রতম দেশ।

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস ব্রিটানিকা।

২,৩২৩.
বাংলাদেশে সরকারি নির্মাণে পোড়ানো ইটের ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যমাত্রা কোন সালের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ২০২৫ সাল
  2. ২০২৬ সাল
  3. ২০২৮ সাল
  4. ২০৩০ সাল
ব্যাখ্যা
সরকারি নির্মাণে পোড়ানো ইটের ব্যবহার বন্ধ:
- পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ ইটভাটা। এটি বন্ধের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের নতুন ইটভাটার ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।
- অন্যদিকে জেলাগুলোতে অবৈধভাবে স্থাপিত ইটভাটাকে জনস্বার্থে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে ব্লক ইট তৈরির কাজে প্রয়োজনে প্রণোদনা দেবে সরকার। 

উল্লেখ্য,
- ২০২৫ সাল নাগাদ সকল সরকারি নির্মাণে পোড়ানো ইটের ব্যবহার বন্ধ হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক। 
২,৩২৪.
Environmental Refugee কারা?
  1. ঘূর্ণিঝড়ের কারণে নিজ বাস্তুভিটা ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
  2. বন্যার কারণে নিজ বাড়িঘর ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
  3. জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
  4. নদী ভাঙ্গনের ফলে ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
ব্যাখ্যা

• Environmental Refugee(পরিবেশগত শরণার্থী)
জলবায়ু শরণার্থী হলো এমন মানুষ যাদের জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবের কারণে তাদের ঘরবাড়ি এবং সম্প্রদায় ছেড়ে যেতে হয়। জলবায়ু শরণার্থীরা পরিবেশগত শরণার্থী নামে পরিচিত অভিবাসীদের একটি বৃহত্তর গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

⇒ "পরিবেশগত শরণার্থী" শব্দটি এমন অনেক বাক্যাংশের মধ্যে একটি যা তাদের চারপাশের পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ন্যাশনাল ‍জিওগ্রাফি এবং climatemigration.[লিংক]

২,৩২৫.
পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপ্রবণ স্থান কোনটি?
  1. মৌসিনরাম (ভারত)
  2. লালাখাল (বাংলাদেশ)
  3. তুতেনেন্দো (কলম্বিয়া)
  4. ক্রপ রিভার (নিউজিল্যান্ড)
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপ্রবণ স্থান:
​- পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপ্রবণ স্থান ভারতের মেঘালয়ের মৌসিনরাম।
​- এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মেঘালয় রাজ্যের পূর্ব খাসি পার্বত্য জেলায় অবস্থিত। 
​- মেঘালয় রাজ্যের খাসি পাহাড়ের দক্ষিণ ঢালে এর অবস্থানের কারণে এটি প্রচুর বৃষ্টিপাত গ্রহণ করে। 
​- গড় বৃষ্টিপাত বছরে ১১,৮৭২ মিলিমিটার বা ৪৬৭ ইঞ্চি।

​উল্লেখ্য,
​- কিছুদিন আগেও চেরাপুঞ্জি (যা মাওসিনরামের কাছেই অবস্থিত) কে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিবহুল স্থান হিসেবে ধরা হতো।

​উৎস: i) The Times of India.
​ii) BBC.

২,৩২৬.
নিচের কোনটি সাময়িক বায়ু?
  1. অয়ন বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. মেরু বায়ু
  4. পশ্চিমা বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

• সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

• অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩২৭.
"পৃথিবীর ফুসফুস" বলা হয় কোন বনকে?
  1. সিনহারাজা ফরেস্ট
  2. কঙ্গো রেইনফরেস্ট
  3. আমাজন রেইনফরেস্ট
  4. বোর্নিও রেইনফরেস্ট
ব্যাখ্যা

 "পৃথিবীর ফুসফুস" বলা হয় অ্যামাজন রেইনফরেস্টকে।

​আমাজন রেইনফরেস্ট:
- আমাজন রেইনফরেস্ট বিশ্বের সবচেয়ে বড় বনের নাম।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ৯ টি দেশজুড়ে এর অবস্থান।
- আমাজনের বেশিরভাগ অংশ রয়েছে - ব্রাজিলে (৬৪%)।
- আমাজন ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা নামে নয়টি দেশে বিস্তৃত।
- আমাজন রেইনফরেস্ট পৃথিবীর ২০% অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- আমাজন রেইনফরেস্টকে “পৃথিবীর ফুসফুস” বলা হয়।
- আমাজন নদী নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।

উল্লেখ্য,
- কঙ্গো রেইনফরেস্ট: কঙ্গো রেইনফরেস্ট পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইনফরেস্ট। এটি পৃথিবীর ‘দ্বিতীয় ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত।
- সিনহারাজা ফরেস্ট রিজার্ভ: শ্রীলঙ্কার সিনহারাজা ফরেস্ট রিজার্ভ ১৯৭৮ সালে ইউনেসকো দ্বারা অভয়ারণ্য এবং ১৯৯৮ সালে জীববৈচিত্র্য হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।

২,৩২৮.
বারিমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. Atmospher
  2. Hydrosphere
  3. Biosphere
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বারিমণ্ডলের ধারণা:
- বারিমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Hydrosphere. ‘Hydro‘ শব্দের অর্থ পানি এবং ‘sphere’ শব্দের অর্থ মন্ডল।
- পৃথিবীর সকল স্থানেই বারিমণ্ডলের অস্তিত্ব রয়েছে। যেমন - বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসাবে, ভূ-পৃষ্ঠে পানি রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূ-গর্ভে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ তরল পানি হিসাবে।
- পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ রয়েছে সমুদ্রে।

- মাত্র ৩ ভাগ রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূ-গর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা জীবমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলে।
- মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবনাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূ-গর্ভের পানি, বৃষ্টির পানি ও ঝর্ণার পানি মিঠা।
- আয়তন এবং গভীরতার ভিত্তিতে বারিমণ্ডলকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা : ১. মহাসাগর (Ocean) ২. সাগর  (Sea) ৩. উপসাগর (Bay) ৪. হ্রদ (Lake)।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩২৯.
কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হয়?
  1. ক) ফরিদপুর
  2. খ) পাবনা
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
- বিভাগ হিসাবে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হয় ঢাকা বিভাগে ((২৫,৯৫,৭৮১ মে.টন)। দ্বিতীয় – খুলনা (২৪,৪৩,৫২৩ মে.টন)।
- জেলা হিসাবে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হয় ফরিদপুর জেলায় (৭,৩৮,৫৮০ মে.টন)। দ্বিতীয় – পাবনা (৫,১২,৬১৮ মে.টন)।
- পাটের মোট উৎপাদন ৭৭,২৫,০৮৩ মে.টন  যা ১৬,৮৫,৭১১ একর জমিতে চাষ হয়।

তথ্যসূত্র:- কৃষি পরিসংখ্যান গ্রন্থ-২০২১।
২,৩৩০.
তিব্বত মালভূমির দক্ষিণে কোন পর্বতমালা অবস্থিত?
  1. কুনলুন পর্বতমালা
  2. হিমালয় পর্বতমালা
  3. কারাকোরাম পর্বতমালা
  4. হেংতুয়ান পর্বতমালা
ব্যাখ্যা

তিব্বত মালভূমি:
- সমুদ্র সমতল থেকে অতি উচ্চ বিস্তীর্ণ সমভূমিকে মালভূমি বলে। মালভূমি প্রায়ই পর্বতবেষ্টিত হয়।
- পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি হল তিব্বতীয় মালভূমি।
- এটি মধ্য এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার একটি বিশাল উচ্চভূমি।
- তিব্বতীয় মালভূমির আয়তন প্রায় ২,৫০০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৯৬৫,০০০ বর্গমাইল)। 
- এটি সমুদ্রতল থেকে ১৩,০০০ - ১৫,০০০ ফুট (৪,০০০ - ৫,০০০ মিটার) উঁচু।

• তিব্বত মালভূমির উত্তরে রয়েছে ‘কুনলুন’ পর্বত এবং দক্ষিণে হিমালয়; পশ্চিমে কারাকোরাম পর্বতমালা; পূর্বে হেংতুয়ান পর্বতমালা।
- এখানে আরও রয়েছে গাংদেস পর্বতমালা - নাইনকেন তাংগুলা পর্বতমালা এবং এর শাখা।

উল্লেখ্য,
- কারাকোরুম-টাংলা পর্বতমালা: কারাকোরুম-টাংলা পর্বতমালা পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। পর্বতব্যবস্থাটি অনেক সমান্তরাল পর্বতশ্রেণীর সমন্বয়ে গঠিত, যার গড় উচ্চতা ৫০০০ থেকে ৬০০০ মিটার। মূল অংশটি সিনচিয়াং ও কাশ্মীরের সীমান্তে অবস্থিত। এটি চীনের বৃহত্তম নদী - ইয়াংজি নদীর জন্মস্থান।

উৎস: i) Britannica.
ii) World atlas.

২,৩৩১.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অর্ন্তভুক্ত অঞ্চল নয় কোনটি?
  1. ক) রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট
  2. খ) টাঙ্গাইল ও গাজীপুর
  3. গ) গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর
  4. ঘ) রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ
আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিম্নে এসব উচ্চভূমি বর্ণনা করা হলো - 

বরেন্দ্র ভূমি:
• উত্তরবঙ্গের পদ্মা-যমুনার দোআঁশ অঞ্চলের মধ্যভাগে নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে এ সুবিশাল বরেন্দ্র ভূমি অবস্থিত।
• এর আয়তন ৩২৪ বর্গ কি.মি. এবং বঙ্গ অববাহিকায় এটি সর্ববৃহৎ প্লাইস্টোসিন যুগের উচ্চভূমি।
• এ এলাকার ভূমি অসমতল এবং মাটি লাল ও কাঁকরময়। বরেন্দ্র ভূমিতে ধান, পাট, ভুট্টা, পান প্রভৃতির চাষ হয়ে থাকে।

মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
• উত্তরে সাবেক ব্রহ্মপুত্র নদ হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ অঞ্চল বিস্তৃত। এটি প্লাইস্টোসিন যুগে দ্বিতীয় বৃহত্তর উচ্চভূমি। এ উচ্চ উত্থিত অঞ্চলটির মোট আয়তন ৪,১০৫ বর্গ কি.মি. (১,৫৮৫ বর্গ মাইল)।
• টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে অবস্থিত এ অঞ্চলের উত্তরাংশ মধুপুর গড় এবং গাজীপুর জেলায় অবস্থিত এ অঞ্চলের দক্ষিণাংশ ভাওয়ালের গড় নামে পরিচিত।
• এর মাটির রং লাল এবং কংকর মিশ্রিত। ফলে গজারী বন ছাড়া অন্যান্য কৃষি ফসলের জন্য এ মাটি অনুপযুক্ত।
• এ অঞ্চলের ভূমি সমুদ্র হতে গড়ে প্রায় ৬ হতে ৩০ মিটার (১০ হতে ১০০ ফুট) উঁচু।

ময়নামতি ও লালমাই পাহাড়
• কুমিল্লা শহরের ৮ কি.মি. (৫ মাইল) পশ্চিমে ময়নামতি ও লালমাই পাহাড় অবস্থিত।
• এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গ কি.মি.। গড় উচ্চতা ২১ মিটার (৭০ ফুট)। স্থানভেদে এর উচ্চতা ৪৬ মিটার (১৫০ ফুট) হয়ে থাকে।
• এর মটির রং লাল। তাই একে লালমাই পাহাড় বলা হয়। এটি হস্ট শ্রেণীভুক্ত পাহাড় এবং বালি, নুড়ি, কংকর ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

অন্যদিকে,
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
• দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
• বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।।
 
তথ্যসূত্র: বাণিজ্যিক ভূগোল, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৩২.
উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত কত প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩‌ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত ৪ প্রকার। যথা:
১. ভঙ্গিল পর্বত,
২. আগ্নেয় পর্বত,
৩. চ্যুতি-স্তুপ পর্বত ও
৪. ল্যাকোলিথ পর্বত।

- ভঙ্গ বা ভাঁজ থেকে ভঙ্গিল শব্দটির উৎপত্তি। কোমল পাললিক শিলায় ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে। ভঙ্গিল পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্য ভাঁজ। পৃথিবীর উচ্চতম অধিকাংশ পর্বত এ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
- এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৩৩.
লোহিত সাগর এবং আকাবা উপসাগরকে সংযুক্ত করে কোন প্রণালী?
  1. তাতার প্রণালী
  2. ফ্লোরিডা প্রণালী
  3. তিরান প্রণালী
  4. বসফরাস প্রণালী
ব্যাখ্যা

• তিরান প্রণালী:
- তিরান প্রণালী হল সিনাই উপদ্বীপ এবং আরব উপদ্বীপের মধ্যে অবস্থিত সরু প্রণালী বা সমুদ্রপথ, যা লোহিত সাগর এবং আকাবা উপসাগরকে সংযুক্ত করে ।
- প্রণালীর নামকরণ করা হয়েছে নিকটবর্তী তিরান দ্বীপ থেকে,
 
• তাতার প্রণালী: জাপান সাগর ও ওখোটস্ক সাগর কে যুক্ত করেছে।

• মেক্সিকো উপসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগর কে যুক্ত করেছে ফ্লোরিডা প্রণালী।

• মর্মর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে বসফরাস প্রণালী।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২,৩৩৪.
সুয়েজ খাল বর্তমানে কোন দেশের মালিকানাধীন?
  1. মিশর
  2. ফ্রান্স
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
সুয়েজ খাল
- মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে সুয়েজ খাল অবস্থিত।
- এটি একটি কৃত্রিম সামুদ্রিক খাল।
- ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরকে যুক্ত করেছে এই খাল।
- নির্মাণকাল : ২৫ এপ্রিল, ১৮৫৯ - ১৭ নভেম্বর, ১৮৬৯।
- ১৮৬৯ সালে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
- খালটি মিশরের সুয়েজ ক্যানেল অথরিটির মালিকানাধীন।
- এটি ১২০ মাইল বা ১৯৩.৩ কিমি দীর্ঘ।

তথ্য - ব্রিটানিকা।
২,৩৩৫.
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির গড় উচ্চতা কত?
  1. ক) ৯ মিটার
  2. খ) ১১ মিটার
  3. গ) ১৩ মিটার
  4. ঘ) ১৭ মিটার
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:

- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্ৰহ্মপুত্ৰ, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
- এই অঞ্চলের মোট আয়তন ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।
- এ সমভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার।
- প্লাবন সমভূমি পলি দ্বারা গঠিত বলে এ অঞ্চলের মাটির উর্বরতা তুলনামূলকভাবে অন্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি।
- এ এলাকাতে বিচ্ছিন্নভাবে বিল-ঝিল, হাওড়- বাঁওড় ছড়িয়ে রয়েছে যা দেশের ভূ-প্রকৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- দেশের সমগ্র সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি একই ধরনের নয় বলে একে আবার নিম্নলিখিত কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে আলোচনা করা যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৩৬.
’দিবা রাত্রি হ্রাস-বৃদ্ধি’ ঘটে কিসের ফলে?
  1. বার্ষিক গতি
  2. জোয়ার-ভাটা
  3. আহ্নিক গতি
  4. মৌলিক গতি
ব্যাখ্যা
• আহ্নিক গতির ফল (Results of Rotation):
-পৃথিবীতে দিবারাত্রি সংঘটন।
- জোয়ার-ভাটা সৃষ্ট।
- বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি।
- তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি।
- সময় গণনা বা সময় নির্ধারণ।
- উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ সৃষ্টি।

•বার্ষিক গতির ফল (The results of Revolution):বার্ষিক গতির ফল হলো-
(১)দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি,
(২) ঋতু পরিবর্তন।

• দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি:
পৃথিবীর দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ-
(ক) পৃথিবীর অভিগত গোলাকৃতি;
(খ) পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ;
(গ) পৃথিবীর অবিরাম আবর্তন পরিক্রমণ গতি;
(ঘ) পৃথিবীর মেরুরেখার সর্বদা একই মুখে অবস্থান;
(ঙ) পৃথিবীর কক্ষপথে কৌণিক অবস্থান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
২,৩৩৭.
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত জেলা কোনটি?
  1. কক্সবাজার
  2. বান্দরবান
  3. রাঙ্গামাটি
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
কক্সবাজার: 
- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত জেলা কক্সবাজার। 
- কক্সবাজারের প্রাচীন নাম পালংকী ।
- একসময় এটি প্যানোয়া নামে পরিচিত ছিল। প্যানোয়া শব্দটির অর্থ ‘হলুদ ফুল’।
- অতীতে কক্সবাজারের আশপাশের এলাকাগুলো এই হলুদ ফুলে ঝকমক করত। 
- এটি চট্টগ্রাম থেকে ১৫৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। 
- ইংরেজ অফিসার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স ১৭৯৯ খ্রিঃ এখানে একটি বাজার স্থাপন করেন ।
- কক্স সাহেবের বাজার হতে কক্সবাজার নামের উৎপত্তি ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৩৩৮.
নিম্নের কোন অঞ্চলে ট্রপোমন্ডলের বিস্তৃতি সবচেয়ে কম?
  1. ক্রান্তীয় অঞ্চলে
  2. মেরু অঞ্চলে
  3. বিষুব অঞ্চলে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মেরু অঞ্চলে ট্রপোমন্ডলের বিস্তৃতি সবচেয়ে কম।

ট্রপোমন্ডল:
- ট্রপোমন্ডল ভূপৃষ্ঠের নিকটতম স্তর।
- মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রপাত, তুষারপাত সবই এই স্তরে ঘটে।
- তাই এই স্তরকে ক্ষুব্ধমন্ডলও বলা হয়।  
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে এই স্তরের বিস্তৃতি প্রায় ১৬-১৯ কিমি।
- মেরু অঞ্চলে এই স্তরের বিস্তৃতি প্রায় ৮ কিমি।
- বায়ুমণ্ডলের মোট ওজনের প্রায় ৭৫% ই এই স্তর বহন করে। 
- এই স্তরের শেষ প্রান্তের নাম ট্রপোবিরতি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৩৯.
রাঙামাটির ছাদ বলা হয়-
  1. সাজেক ভ্যালি
  2. কাপ্তাই
  3. লংগদু
  4. জাদুপাই
ব্যাখ্যা
সাজেক:

- সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় রাঙামাটির ছাদ।
- সাজেক উপত্যকা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত।
- সাজেক উপত্যকা একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ।
- সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত।
- সাজেক হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল।
- সাজেকের বিজিবি ক্যাম্প বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উঁচুতে অবস্থিত বিজিবি ক্যাম্প।
- সাজেক রুইলুইপাড়া এবং কংলাক পাড়া এই দুটি পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত।
- সাজেকে মূলত লুসাই, পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসী বসবাস করে।

তথ্যসূত্র - রাঙ্গামাটি জেলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২,৩৪০.
পালাউ দ্বীপটি কোন অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত? 
  1. মাইক্রোনেশিয়া
  2. মিলেনেশিয়া
  3. পলিনেশিয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- পালাউ দ্বীপটি মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত।

• মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- নাউরু, পালাউ, কিরিবাতি, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ,মারিয়ানা।

• মেলানেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- সলোমান দ্বীপপুঞ্জ, ফিজি, ভানুয়াতু, পাপুয়া নিউগিনি।

• পলিনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- টোঙ্গা
- টুভ্যালু
- সামোয়াত

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।

২,৩৪১.
কোথায় ‘আলতামিরা গুহা' অবস্থিত?
  1. ক) স্পেন
  2. খ) বাংলাদেশ
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
• আলতামিরা গুহা:
- আলতামিরা গুহাটি উত্তর স্পেনে অবস্থিত।
- গুহাটি তার দুর্দান্ত প্রাগৈতিহাসিক চিত্রকর্ম এবং খোদাইয়ের জন্য বিখ্যাত।
- এটি ক্যান্টাব্রিয়া প্রদেশের বন্দর শহর সান্তান্ডার থেকে ১৯ মাইল (৩০ কিমি) পশ্চিমে অবস্থিত। 
- আলতামিরা ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট মনোনীত হয়েছিল।
- ১৮৬৮ সালে একজন শিকারী দ্বারা আবিষ্কৃত গুহাটি ১৮৭৬ সালে স্থানীয় সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি মার্সেলিনো সানজ ডি সাউতুওলা পরিদর্শন করেছিলেন।
- আলতামিরা গুহাটি ৯৭১ ফুট (২৯৬ মিটার) লম্বা।

উৎস: Encyclopedia Britannica. 
২,৩৪২.
দুর্যোগ প্রশমনের অর্থ কী?
  1. ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা
  2. ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা
  3. পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা
  4. দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা
ব্যাখ্যা
প্রশমন (Mitigation):

- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৪৩.
কোন স্থানের জলবায়ু নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিচের কোনটির কোন ভূমিকা নেই?
  1. ক) সমুদ্রস্রোত
  2. খ) দ্রাঘিমারেখা
  3. গ) পর্বতের অবস্থান
  4. ঘ) উচ্চতা
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত অপশনসমূহের মধ্যে দ্রাঘিমারেখা আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান বা নিয়ামক কোনটিই নয়। অর্থাৎ কোন স্থানের আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ধারণের ক্ষেত্রে দ্রাঘিমারেখার কোন ভূমিকা নেই।

যেসব ভৌগোলিক বিষয়ের তারতম্যের কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় তাদের আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক বলা হয়। আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ হলো:
- অক্ষাংশ
- উচ্চতা
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব
- বায়ুপ্রবাহ
- সমুদ্রস্রোত
- পর্বতের অবস্থান
- ভূমির ঢাল
- মৃত্তিকার গঠন
- বনভূমির অবস্থান প্রভৃতি।

আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহ:
- বায়ুর তাপ
- বায়ুর চাপ
- বায়ু প্রবাহ
- বায়ুর আর্দ্রতা এবং
- বারিপাত বা বৃষ্টিপাত।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৩৪৪.
আয়তনে বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ কোনটি?
  1. কাস্পিয়ান সাগর
  2. লেক সুপিরিয়র
  3. টিটিকাকা হ্রদ
  4. লেক আসাল
ব্যাখ্যা

বৃহত্তম হ্রদ:
- পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ কাস্পিয়ান সাগর যা একটি লবণাক্ত পানির হ্রদ
- এটি ককেশাস পর্বতমালার পূর্বে এবং মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত।
- এটি প্রায় ১২০০ কিমি দীর্ঘ এবং ৩২০ কিমি চওড়া।
- এটি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত যার আয়তন প্রায় ৩.৭২ লক্ষ বর্গকিমি।
- ক্যাস্পিয়ান সাগর বিশ্বের ল্যাকস্ট্রিন জলের ৪০ -৪৪% এর মধ্যে রয়েছে।
- তবে সর্বাধিক লবণাক্ত হ্রদ হলো জিবুতির লেক আসাল। 

অন্যদিকে,
- সুপিরিয়র বিশ্বের বৃহত্তর স্বাদুপানির হ্রদ যা উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত।
- লেক আসাল পৃথিবীর সবচেয়ে লবণাক্ত হ্রদ যা আফ্রিকার জিবুতিতে অবস্থিত।
- বলিভিয়া ও পেরু সীমান্তে অবস্থিত টিটিকাকা পৃথিবীর উচ্চতম হৃদ।
 
উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস। 

২,৩৪৫.
'কালাহারি মরুভূমি' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সোমালিয়া
  2. খ) নামিবিয়া
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
• কালাহারি মরুভূমি:
- কালাহারি মরুভূমির অবস্থান আফ্রিকা মহাদেশের অন্তর্গত দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা এবং নামিবিয়া জুড়ে।
- পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উষ্ণ মরুভূমি সাহারা মরুভূমি। সাহারা মরুভূমিকে আফ্রিকার দুঃখ বলা হয়।
- পাটাগোনিয়ান মরুভূমি অবস্থিত আর্জেন্টিনা ও চিলিতে।
- সোনোরান মরুভূমি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে অবস্থিত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট।
২,৩৪৬.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. টর্নেডো
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. নদীভাঙন
  4. অগ্নিকাণ্ড
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের ধারণা:
- কোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট অবস্থা যখন অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং এর ফলে শস্য ও সম্পদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন তাকে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
- দুর্যোগ দুই ধরনের। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং তার উপর সাধারণত মানুষের হাত থাকে না।
- মানবসৃষ্ট দুর্যোগ অনেকটা মানুষের কর্মকাণ্ডের ফল এবং মানুষ সচেতন ও সতর্ক থাকলে তা থেকে আত্মরক্ষা করতে পারে।
- মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে, পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে এবং সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
- যেমন: যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনভূমি বিনাশ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, মরুকরণ, অগ্নিকাণ্ড, দূষণ প্রভৃতি।
- প্রাকৃতিক কোনো দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় যখন কোনো জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তোলে তখন তাকে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলি।
- যেমন- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,৩৪৭.
'লালমাই পাহাড়' এর ভূপ্রকৃতি কোন ধরনের?
  1. সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি
  2. প্লাইস্টোসিন কালের সোপান সমূহ
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড় সমূহ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ;
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ;
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি। 

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। 

• লালমাই পাহাড়: কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
 • এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৩৪৮.
‘IUCN World Heritage Outlook 4’ অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সর্বাধিকভাবে কোনটির ওপর দেখা যাচ্ছে?
  1. আন্তর্জাতিক অভয়ারণ্য
  2. বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
  3. কৃষি নির্ভর গ্রামীণ এলাকা
  4. সংরক্ষিত বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা

• IUCN World Heritage Outlook 4:
- বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN)-এর সাম্প্রতিক ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ আউটলুক ৪’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন বিশ্বের প্রায় অর্ধেক প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান “উচ্চ” বা “অতি উচ্চ” ঝুঁকিতে রয়েছে। 
- প্রতিবেদনে এই অপরিবর্তনীয় প্রতিবেশব্যবস্থাগুলো রক্ষায় বৈশ্বিক জলবায়ু পদক্ষেপ আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

- প্রতিবেদনটি ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত ২৭১টি প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থান মূল্যায়ন করে দেখতে পেয়েছে যে এর মধ্যে ১১৭টি স্থান (প্রায় ৪৩%) বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের “উচ্চ” বা “অতি উচ্চ” ঝুঁকির সম্মুখীন।
- প্রতিবেদন আরও জানায়, যেসব স্থানে জীববৈচিত্র্যের প্রাচুর্য রয়েছে, সেগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
- ২০১৪ সালে এই স্থানগুলোর ৭১% তুলনামূলক ভালো বা নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫২%, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নিম্ন স্তর।
- সার্বিকভাবে, সংরক্ষণ পরিস্থিতির সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিও ক্রমাগত অবনতি ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: IUCN World Heritage Outlook 4 Report। (Link1) (Link2) 

২,৩৪৯.
সুয়েজ খালের খননকার্য শুরু হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৫৬ সালে
  2. খ) ১৮৫৯ সালে
  3. গ) ১৮৬৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
- সুয়েজ খাল একটি কৃত্রিম সামুদ্রিক খাল যা লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
- ফরাসি প্রকৌশলী ফার্দিনান্দ দ্য লেসেপ্সের উদ্যোগে ১৮৫৯ সালে সুযেজ খালের খননকার্য শুরু হয়। ১৮৬৯ সালের ১৭ নভেম্বর খালটি নৌ চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত‍ করে দেওয়া হয়।
- শুরুতে খালটি ফ্রান্স ও মিশরের জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে মিশর তার ৪৪ ভাগ শেয়ার ব্রিটেনের নিকট বিক্রি করে দেয়।
- ১৯৫৬ সালের ২৬ জুলাই মিশরের গামাল আবদেল নাসের সরকার সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করেন।
- এর ফলে ইসরাইল, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সাথে মিশরের যুদ্ধ বেধে যায় যা ‘দ্বিতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ’ বা ‘সুয়েজ যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।
- বর্তমানে সুয়েজ খাল মিশর সরকারের অধীন ‘সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে সুয়েজ খাল সবদেশের জন্যে সকল ধরনের বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ চলাচলের চন্যে উন্মুক্ত থাকবে।

তথ্যসূত্র:- সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।
২,৩৫০.
ভারতের সেভেন সিস্টার্সভুক্ত কোন রাজ্যের রাজধানী 'ইম্ফল'?
  1. আসাম
  2. অরুনাচল
  3. নাগাল্যান্ড
  4. মণিপুর
ব্যাখ্যা
সেভেন সিস্টার্স:
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- এই সাত রাজ্যের আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩.৭৮ শতাংশ।
- ত্রিপুরার সাংবাদিক জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া সর্বপ্রথম রাজ্যগুলোকে একত্রে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে উল্লেখ করেন।
- ১৯৭২ সালে এই সাত রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্সের মর্যাদা দেওয়া হয়।
- আসামের মাধ্যমে রাজ্যগুলো ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- আগে এসব রাজ্য ভারতের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
- রাজ্যগুলাে হচ্ছে: অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা।

⇒ ভারতের সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যসমূহ ও রাজধানী -
১. আসাম - দিসপুর,
২. মিজোরাম - আইজল,
৩. অরুনাচল - ইটানগর,
৪. মেঘালয় - শীলং,
৫. ত্রিপুরা - আগরতলা, 
৬. মণিপুর - ইম্ফল,
৭. নাগাল্যান্ড - কোহিমা।

উৎস: Ministry of Home Affairs ওয়েবসাইট।
২,৩৫১.
বাংলাদেশের সর্বউত্তরের স্থান কোনটি?
  1. ক) জায়গীর জোত
  2. খ) মনাকাষা
  3. গ) আখানইঠং
  4. ঘ) ছেঁড়া দ্বীপ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমে- চাঁপাইনবাবগ­ঞ্জ(জেলা), শিবগঞ্জ(উপজেলা), মনাকাষা(স্থান)।
বাংলাদেশের সর্ব পূর্বে- বান্দরবান(জেলা), থানচি(উপজেলা), আখানইঠং(স্থান)।
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে- কক্সবাজার(জেলা), টেকনাফ(উপজেলা), সেন্টমার্টিন(ইউনিয়ন), ছেঁড়া দ্বীপ(স্থান)।
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে- পঞ্চগড়(জেলা), তেতুলিয়া(উপজেলা), বাংলাবান্ধা(ইউনিয়ন), জায়গীর জোত(স্থান)।
সূত্রঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,৩৫২.
কোনটি জলবায়ুর পরিবর্তন হ্রাস করে?
  1. কয়লা ও তেলের ব্যবহার
  2. সৌর শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি
  3. বনভূমি ধ্বংস
  4. প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার
ব্যাখ্যা
→ সৌর শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি।

• জলবায়ু পরিবর্তন:

- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ হচ্ছে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি।
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের পরিমাণ কমিয়ে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমানো যায়। 
- এ জন্য কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে।
- নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন- সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ইত্যাদির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
- বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমরা বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইড হ্রাস করতে পারি।
- দৈনন্দিন জীবনে শক্তির ব্যবহার কমিয়েও আমরা কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন কমাতে পারে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৫৩.
SPARRSO কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো?
  1. ক) ১৯৭৭ সালে
  2. খ) ১৯৭৮ সালে
  3. গ) ১৯৭৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
• SPARRSO:
- বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organisations)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: SPARRSO ওয়েবসাইট।
২,৩৫৪.
অ্যান্টার্কটিকা হলো পৃথিবীর কততম বৃহত্তম মহাদেশ?
  1. ৪র্থ
  2. ৫ম
  3. ৬ষ্ঠ
  4. ৭ম
ব্যাখ্যা
অ্যান্টার্কটিকা: 
- অ্যান্টার্কটিকা হলো পৃথিবীর সর্বদক্ষিণে অবস্থিত পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ।
- এর ভূভাগ প্রায় পুরোপুরি একটি বিশাল বরফচাদরে ঢাকা।
- এটি প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন বর্গমাইল (১৪.২ মিলিয়ন বর্গকিমি) আয়তনের একটি বিশাল মহাদেশ।
- মহাদেশটির প্রায় ৯৮ শতাংশই বরফে আবৃত।
- এটি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু, শুষ্ক, বায়ুপ্রবাহপূর্ণ (বাতাসে ভরা), ঠান্ডা এবং বরফাচ্ছন্ন মহাদেশ।
- পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা: উচ্চ বরফাচ্ছাদিত মালভূমি নিয়ে গঠিত।
- পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা: পর্বতময় দ্বীপমালার উপর বিস্তৃত একটি বরফচাদরে আবৃত এলাকা।

উৎস: BRitannica.
২,৩৫৫.
বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (DDM) কবে গঠিত হয়?
  1. ১৯৭৩ সাল
  2. ১৯৯২ সাল
  3. ২০১৫ সাল
  4. ২০১২ সাল
ব্যাখ্যা

‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর':
- বাংলাদেশে ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২’ অনুমোদিত হয়।
- এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো:
• দুর্যোগ মোকাবেলার কার্যক্রমকে সমন্বিত,
• কার্যকর এবং শক্তিশালী করা।
- আইনের মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, প্রস্তুতি, সাড়া প্রদান এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের জন্য একটি কাঠামো গড়ে তোলা হয়।
- এই আইনের ভিত্তিতে দুর্যোগ মোকাবেলা কার্যক্রম সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১২ সালে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম)’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ,
- এর পূর্বে ১৯৭৩ সালে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর এবং ১৯৯২ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো (DMB) কার্যকর ছিল, যা এই আইনের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর'- DDM-এ রূপান্তরিত হয়।

উৎস: Laws of Bangladesh ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২,৩৫৬.
Dead Sea is a _____.
  1. Sea
  2. River
  3. Lake
  4. Canal
ব্যাখ্যা
Dead Sea:
- ডেড সি হলো একটি লবণের হ্রদ।
- এটি দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার ইসরায়েল এবং জর্ডানের মধ্যে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
⇒ Dead Sea এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত উচ্চ লবণাক্ততা, যা এর পানি এমনভাবে অতি লবণাক্ত করে তোলে যে, এতে কোনো জীবন্ত প্রাণী বাস করতে পারে না, তাই এর নাম "মৃত সাগর"।
- এটি পৃথিবীর সবচেয়ে নীচু স্থান, প্রায় ৪৩০ মিটার (১,৪১০ ফুট) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নিচে।
- পানিতে মানুষ ডুবে গেলেও ডেড সি বা মৃত সাগর এমন একটি হ্রদ যেখানে কেউ ডুবে না।
- এর পানি এতটাই ঘণ যে ওই পানিতে কেউ চাইলে শুয়েও থাকতে পারে।
- এতে কোন মাছ উৎপাদন হয় না।
- এই হ্রদটি ইসরায়েল, পশ্চিমতীর ও জর্ডানের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
২,৩৫৭.
'শৈলপ্রপাত' জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) কক্সবাজার
  3. গ) মৌলভীবাজার
  4. ঘ) বান্দরবান
ব্যাখ্যা
• 'শৈলপ্রপাত' জলপ্রপাত বান্দরবানে অবস্থিত।
• হামহাম, ও মাধবকুন্ড জলপ্রপাত মৌলভীবাজারে অবস্থিত।
• আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
• রিছাং ঝর্না খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
• হিমছড়ি কক্সবাজারে অবস্থিত।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
২,৩৫৮.
হিরকানিয়ান বনভূমি নিচের কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ইরান
  2. তুরস্ক
  3. আজারবাইজান
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

•  হিরকানিয়ান বনভূমি: 
- এটি আজারবাইজানের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে ইরানের গোলেস্তান প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই বনভূমি কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিম উপকূল বরাবর প্রায় এক হাজার কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে আছে। 
- ইরানের তিনটি প্রদেশ (গিলান, মাজানদারান ও গোলেস্তান) এবং আজারবাইজানের দুটি জেলা (লেনকোরান ও আস্তারা) জুড়ে অবস্থান করছে।

উল্লেখ্য,
- ৫ জুলাই ২০১৯ সালে ইউনেস্কো ইরানের উত্তরাঞ্চলের হিরকানিয়ান বনভূমিকে 'বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকা'য় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

তথ্যসূত্র: ইউনেস্কোর ওয়েবসাইট।

২,৩৫৯.
নিম্নের কোন মালভূমিটি উত্তর আমেরিকাঞ্চলে অবস্থিত?
  1. পামীর মালভূমি
  2. পাতাগোনিয়া মালভূমি
  3. তিব্বত মালভূমি
  4. কলোরাডো মালভূমি
ব্যাখ্যা
কলোরাডো মালভূমি:
- কলোরাডো মালভূমি উত্তর আমেরিকাঞ্চলে অবস্থিত।
- এটি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি রাজ্য কলোরাডো, নিউ মেক্সিকো, ইউটা এবং অ্যারিজোনাতে বিস্তৃত।
- এই মালভূমিটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক এবং ভূগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে বহু জাতীয় উদ্যান, যেমন গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, আর্চস, ক্যাটেড্রাল ভ্যালি এবং মেসা ভার্ডে অবস্থিত।
- এটি পাদদেশীয় মালভূমি।
- কলোরাডো মালভূমিতে সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ ও গভীর গিরিখাতটির নাম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মালভূমি পামীর মালভূমি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।
- পাতাগোনিয়া দক্ষিণ আমেরিকার পাদদেশীয় মালভূমি।
- তিব্বত, তারিম, বলিভিয়া ও মেক্সিকো হলো পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি।

উৎস: Britannica.
২,৩৬০.
নিচের কোনটি নদী ভাঙ্গনের কারণ?
  1. ক) জলবায়ু পরিবর্তন
  2. খ) বৃক্ষ নিধন
  3. গ) নদীর গতিপথ পরিবর্তন
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
নদীখাতে পানিপ্রবাহের কারণে পার্শ্ব ক্ষয়কে নদী ভাঙ্গন বলে। পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদী ভাঙ্গনে প্রতিবছর প্রচুর ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়। অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে। নদী ভাঙ্গনের কারণগুলো হলো- জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর প্রবাহপথ ও তীব্র গতিবেগ, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, নদীগর্ভে শিলার উপাদান, রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি, বৃক্ষ নিধন, বাহিত শিলার কঠিনতা ও নদীগর্ভে ফাটলের উপস্থিতি।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৬১.
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠের বিন্দুকে বলা হয়-
  1. এপিসেন্টার
  2. এনডোসেন্টার
  3. মিডপয়েন্ট
  4. পিকপয়েন্ট
ব্যাখ্যা

- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র এপিসেন্টার (Epicentre) বলে।

ভূমিকম্প:

- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে।
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয়  সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র এপিসেন্টার (Epicentre) বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

উল্লেখ্য, 
- সম্প্রতি বাংলাদেশে ভূমিকম্প হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫।
- ভূমিকম্প সংঘটনের সময়: ১৮ ঘন্টা ৪৩ মিনিট ৩১ সেকেন্ড (বি.এস.টি) (২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫)
- উৎপত্তিস্থল: অক্ষাংশঃ ২২.০৭° উত্তর, দ্রাঘিমাঃ ৯২.৫১° পূর্ব (রুমা, বান্দরবান)
- উৎপত্তিস্থল হতে দূরত্ব: ২৮৯ কি.মি. (ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র, ঢাকা হতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে)
- ভূমিকম্পের মাত্রা: ৩.৯ রিখটার স্কেল
- ভূমিকম্পের শ্রেণী: মৃদু

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আবহাওয়া অফিস।

২,৩৬২.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপ?
  1. টেকনাফ দ্বীপ
  2. ছেঁড়া দ্বীপ
  3. মহেশখালী দ্বীপ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান হলো ছেড়াদ্বীপ।
- এটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত এবং বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের বিন্দু হিসেবে পরিচিত।
- সর্ব দক্ষিণের উপজেলা হলো টেকনাফ এটি কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত।
- এছাড়া, সর্ব দক্ষিণের জেলা হলো কক্সবাজার।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং। বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি। দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা। বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ। বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা। বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া। বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি। 

২,৩৬৩.
বর্তমানে বাংলাদেশে স্থলবন্দর কয়টি?
  1. ক) ৩৩
  2. খ) ২৩
  3. গ) ২৪
  4. ঘ) ২৫
ব্যাখ্যা
বর্তমানে বাংলাদেশে স্থলবন্দর- ২৪টি। দেশের ২৪ তম স্থলবন্দরের নাম- ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর। আর বর্তমানে দেশে নদীবন্দর ৩৩টি এবং সমুদ্র বন্দর ৩টি। উৎস: bskb.gov.bd
২,৩৬৪.
পৃথিবীর দীর্ঘতম নদীর উৎপত্তিস্থল কোনটি?
  1. লেক টানা
  2. নেভাদো মিসমি পর্বত
  3. কাগেরা নদী
  4. লেক ভিক্টোরিয়া
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত: সাদা নীল এবং নীল নীল।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & Worldatlas.com
২,৩৬৫.
মিয়ানমারের কোন কোন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা রয়েছে?
  1. আরাকান ও কাচিন
  2. আরাকান ও শান
  3. আরাকান ও চিন
  4. আরাকান ও ইরাবতী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ-মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সীমানা
- বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সীমান্তদৈর্ঘ্য ২৭১ কিমি।
- রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার; এই তিন জেলার সাথে মিয়ানমারের সীমানা রয়েছে।
- মিয়ানমারের আরাকান ও চিন; এই দুই রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা রয়েছে।
- নাফ নদী এই দুই দেশকে পৃথক করেছে।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের মোট সীমান্ত - ৫১৩৮ কিমি।
- উপকূলীয় সীমানা - ৭১১ কিমি।
- ভারতের সাথে সীমান্তদৈর্ঘ্য - ৪১৫৬ কিমি।চ
- ভারতের ৫ টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা রয়েছে। এগুলো হলো,
১. পশ্চিমবঙ্গ,
২. আসাম,
৩. ত্রিপুরা,
৪. মেঘালয়,
৫. মিজোরাম

তথ্যসূত্র- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
২,৩৬৬.
আবহাওয়া বিভাগ বিপদের গুরুত্ব অনুযায়ী নদী বন্দরের জন্য কত  ধরনের ঝড় সতর্কীকরণ সংকেত প্রদান করে? 
  1. ১-৬ ধরনের
  2. ১-১০ ধরনের
  3. ১-৭ ধরনের
  4. ১-৪ ধরনের
ব্যাখ্যা

- নদী বন্দরের জন্য ১-৪ ধরনের ঝড় সতর্কীকরণ সংকেত প্রদান করে

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস:

- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরে প্রখর সূর্যতাপে পানি বাষ্পীভূত হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- এরূপ একটি নিম্নচাপ বেশ কয়েকদিন ধরে শক্তি সঞ্চয় করে ও গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়।
- গভীর নিম্নচাপটি থেকে যে কোনো সময়ে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- আবহাওয়া বিভাগ সমুদ্র ও নদী বন্দরের জন্য পৃথক সংকেত প্রচার করে।
- বিপদের গুরুত্ব অনুযায়ী সমুদ্র বন্দরের জন্য এক থেকে দশ (১-১০) ধরনের ও নদী বন্দরের জন্য এক থেকে চার (১-৪) ধরনের ঝড় সতর্কীকরণ সংকেত প্রদান করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৬৭.
পৃথিবীতে সর্বোচ্চ বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত হয় কোথায়?
  1. ক) চেরাপুঞ্জি, ভারত
  2. খ) তুতুনেন্দু, কলম্বিয়া
  3. গ) মৌসিনরাম, ভারত
  4. ঘ) ক্রপ রিভার, নিউজিল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর সর্বোচ্চ বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতসম্পন্ন স্থানসমূহ:
- প্রথম : মৌসিনরাম, মেঘালয় (ভারত) : ১১,৮৭১ মি.মি.
- দ্বিতীয় : চেরাপুঞ্জি, মেঘালয় (ভারত) : ১১,৭৭৭ মি.মি.
- তৃতীয় : তুতুনেন্দু (কলম্বিয়া) : ১১,৭৭০ মি.মি.
- চতুর্থ : ক্রপ রিভার (নিউজিল্যান্ড) : ১১,৫১৬ মি.মি.।
(সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
২,৩৬৮.
নিচের কোনটি মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ এর উদাহরণ নয়?
  1. জলাবদ্ধতা
  2. রাসায়নিক দূষণ
  3. অগ্নিকান্ড
  4. অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
বিপর্যয়:
বিপর্যয় বলতে বিপদ বা আপদের সম্ভাবনাকে বুঝায়। অর্থাৎ যে সকল ঘটনা একটি এলাকার জনগণের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, এমনকি একেবারে ধ্বংস করতে পারে, সে সকল ঘটনাকে বিপর্যয় বলে।

দুর্যোগ (Disaster):
একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে

বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ:

পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়। যেমন:
ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।
২. মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৬৯.
ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে কত সালে সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপের মধ্যবর্তী একটি দ্বীপের অর্ধেক অংশ এক দিনের মধ্যে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়?
  1. ১৮৮২ সালে
  2. ১৮৮৩ সালে
  3. ১৮৮৪ সালে
  4. ১৮৮৫ সালে
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয় গহবর:
- আগ্নেয়গিরির ফলে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো অংশ ধ্বসে গভীর গহবর সৃষ্টি করে।
- ১৮৮৩ সালে সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপের মধ্যবর্তী একটি দ্বীপে ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে একদিনের মধ্যে দ্বীপটির প্রায় অর্ধেক অংশ উৎক্ষিপ্ত হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং বাকী অংশে বৃহৎ একটি গহবর দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৭০.
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে নিয়মিত টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়?
  1. ক) আলাস্কা
  2. খ) ক্যানসাস
  3. গ) ক্যালিফোর্নিয়া
  4. ঘ) ফ্লোরিডা
ব্যাখ্যা
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস রাজ্যে নিয়মিত টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
২,৩৭১.
যমুনা নদীর উপনদী কোনটি?
  1. ক) মহানন্দা
  2. খ) ধলেশ্বরী
  3. গ) পুনর্ভবা
  4. ঘ) করতোয়া
ব্যাখ্যা
- করতোয়া ও আত্রাই নদী হলো যমুনার উপনদী।
- ধলেশ্বরী নদী হলো যমুনার শাখা নদী।
অন্যদিকে,
- মহানন্দা ও পুনর্ভবা হলো গঙ্গা/পদ্মার উপনদী।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া)
২,৩৭২.
বাংলাদেশের মোট আয়তনের তুলনায় প্লাবন সমভূমির পরিমাণ শতকরা কতভাগ?
  1. ক) ৭০ ভাগ
  2. খ) ৮০ ভাগ
  3. গ) ৯০ ভাগ
  4. ঘ) ৯৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
ভূপ্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, প্লাইস্টোসিনকালের ভূমিরূপ এবং সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।
দেশের মোট আয়তনের তুলনায়,
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি – ৮০ ভাগ,
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ – ১২ ভাগ,
প্লাইস্টোসিনকালের ভূমিরূপ – ৮ ভাগ।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৭৩.
পৃথিবীর বৃহত্তম লাইব্রেরি কোনটি?
  1. লন্ডন পাবলিক লাইব্রেরি
  2. লাইব্রেরি অব কংগ্রেস
  3. প্যারিস ন্যাশনাল লাইব্রেরি
  4. ভাটিকান লাইব্রেরি
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর বৃহত্তম লাইব্রেরি অব কংগ্রেস।

বৃহত্তম লাইব্রেরি:
- লাইব্রেরি অব কংগ্রেস ওয়াশিংটন, ডি.সি. তে অবস্থিত।
- এটি ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- লাইব্রেরি অব কংগ্রেস যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় লাইব্রেরি।
- ব্রিটিশ লাইব্রেরি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম লাইব্রেরি।
- ব্রিটিশ লাইব্রেরি গ্রেট বৃটেনের জাতীয় লাইব্রেরি।
- ব্রিটিশ লাইব্রেরি ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

সূত্র - Britannica.
২,৩৭৪.
জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত ‘মাউন্ট ফুজি‘ কোন দ্বীপে অবস্থিত?
  1. শিকোকু
  2. কিউসু
  3. হনসু
  4. হোক্কাইডো
ব্যাখ্যা
• জাপান:
- জাপান একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি রয়েছে।
- এগুলো হলো:
→ শিকোকু,
→ কিউসু, 
→ হনসু ও
→ হোক্কাইডো।

- আয়তনে বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। 
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং এর বৃহত্তম হ্রদ, বিওয়া হ্রদ হনসু দ্বীপে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
২,৩৭৫.
পৃথিবীর বৃহত্তম নিরক্ষীয় বনাঞ্চল-
  1. কঙ্গোলিজ রেইনফরেস্ট
  2. আমাজন রেইনফরেস্ট
  3. হার্ট অব বোর্নিও
  4. পূর্ব অস্ট্রেলিয়ান তাপমাত্রা বন
ব্যাখ্যা

আমাজন বনভূমি:
- পৃথিবীর বৃহত্তম নিরক্ষীয় বনাঞ্চল- আমাজন বনভূমি।
- এই বনভূমি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- আমাজন প্রায় ২,১২৩,৫৬২ বর্গ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- ইওসিন যুগে এই বনের বিকাশ ঘটেছিল।
- আমাজন বনের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত নদীটিও আমাজন নদী হিসেবে পরিচিত।

⇒ আমাজন রেইনফরেস্ট ৯টি দেশে বিস্তৃত।
- দেশগুলো হলো: ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা।
- আমাজন বনের ৬৪ শতাংশ অঞ্চল শুধুমাত্র ব্রাজিলেই অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের ২০ শতাংশ উৎপাদিত হয় আমাজন বনে।
- এই কারনে একে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়।

উৎস: World Atlas.

২,৩৭৬.
জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. ভূমিক্ষয়
  2. দিবাভাগের দৈর্ঘ্য
  3. বনভূমির অবস্থান
  4. ভূমির ঢাল
ব্যাখ্যা
ভূমিক্ষয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক নয়।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক:

- যে সব উপাদান আবহাওয়া এবং জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন সাধন করে তাদেরকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।

⇒ জলবায়ুর নিয়ামক:
১. অক্ষাংশ:
- বায়ুমণ্ডলের তাদের উৎস সূর্য।
- অক্ষাংশ অনুযায়ী সর্যকিরণ কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তীর্যকভাবে পতিত হয়।
- নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে এবং দিন রাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে অধিক উষ্ণতা বিরাজ করে।

২. সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা:
- সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ভূপৃষ্ঠের উচ্চতাও জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
- ফলে উচ্চতার ভিত্তিতে বায়ুর তাপমাত্রায় পার্থক্য দেখা যায়।
- একই অক্ষাংশে অবস্থিত বিভিন্ন স্থানের উচ্চতানুযায়ী তাপমাত্রার তারতম্য হয়ে থাকে।

৩. জল ও স্থলভাগের অবস্থান:
- জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ স্থিতিশীল।
- তাই জল ও স্থলভাগের অবস্থানজনিত কারণে তাপের ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়।
- জলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের একটা অংশ বাষ্পীভবনে ব্যয় হয় কিন্তু স্থলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের খুব একটা অপচয় হয় না।
- ফলে জলভাগের চেয়ে স্থলভাগ অপেক্ষাকৃত উষ্ণ থাকে।

৪. পাহাড়-পর্বতের অবস্থান:
- পাহাড়-পবর্তের অবস্থান জলবায়ুর ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
- পাহাড়-পর্বত কোনো স্থানের তাপ ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. বনভূমির অবস্থান:
- জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো বনভূমি।
- গভীর বনাঞ্চলে সূর্যকিরণ প্রবেশ করতে না পারায় স্থলভাগ উত্তপ্ত হয় না বলে জলবায়ু আর্দ্র থাকে।

৬. সমুদ্র থেকে দূরত্ব:
- সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চল সামুদ্রিক আবহাওয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- কারণ জলভাগ অপেক্ষা সস্থলভাগ দ্রুত উষ্ণ ও শীতল হয়।
- পক্ষান্তরে, সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয় অর্থাৎ গ্রীষ্মে অধিক গরম এবং শীতকালে ব্যাপক শীত পড়ে।

৭. সমুদ্র স্রোত:
- কোনো দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর সমুদ্র স্রোতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শীতল এবং উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উষ্ণ হয়।

৮. বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ুপ্রবাহ জলবায়ুকে বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।
সমুদ্র হতে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় বৃষ্টিপাত হয় এবং উত্তাপ হ্রাস পায়।

৯. বৃষ্টিপাত:
- বৃষ্টিপাত আবহাওয়া ও জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- কোনো স্থানে বৃষ্টিপাত হলে সেখানে উত্তাপ হ্রাস পায়।
- কিন্তু বৃষ্টিপাত না হলে সেখানকার তাপমাত্রা উত্তপ্ত হয়ে যায়।

১০. ভূমির ঢাল:
- কোনো স্থানের জলবায়ুর ওপর ঢালের প্রভাব রয়েছে।
- যে ভূমির ঢাল সূর্যের দিকে থাকে তাতে সূর্যরশ্মি লম্বাভাবে পড়ে।
- ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হয়।
- আবার যে ভূমির ঢাল সূর্যের বিপরীতে থাকে, তাতে সূর্যরশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে। ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হতে পারে না।

১১. জলীয়বাষ্প:
- জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের তাপ সংরক্ষণে সহায়তা করে।
- বেশি জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পৃথিবী থেকে তাপ বিকিরণে বাধার সৃষ্টি করে।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি পরিমাণে থাকলে তা দিনে খুব উষ্ণ ও রাতে খুব শীতল হতে পারে না।

১২. দিবাভাগের দৈর্ঘ্য:
- দিবাভাগে সূর্যের আলোতে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয় এবং রাতে তাপ বিকিরণ করে পৃথিবী শীতল হয়।
- দিন বড় হলে ভূপৃষ্ঠ বেশি উত্তপ্ত হয় এবং ছোট রাতে তাপ বিকিরণের পরিমাণ কম থাকায় বায়ুমণ্ডল ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হতে থাকে।

১৩. বায়ুর আর্দ্রতা:
- যে বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি, সে বায়ু জলবায়ুকে অধিক প্রভাবিত করতে পারে।
- ফলে উক্ত এলাকায় দিনে খুবই গরম পড়ে এবং রাতে খুবই শীত পড়ে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৭৭.
গুরুমন্ডল প্রধানত কোন উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম
  2. কার্বন ও আয়রন
  3. অ্যালুমিনিয়াম ও পটাশিয়াম
  4. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

গুরুমন্ডল:
- কেন্দ্রমন্ডলের ওপর থেকে চতুর্দিকে প্রায় ২৮৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত মন্ডলটিকে গুরুমন্ডল বলে।
- সিলিকন, ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতি ভারী ধাতুর সংমিশ্রণে এ মন্ডলটি গঠিত।
- এর উপরাংশে ১৪৪৮ কিলোমিটার ব্যাসল্ট জাতীয় উপাদান দ্বারা গঠিত বলে একে ব্যাসল্ট অঞ্চল বলে।
- সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম দ্বারা গঠিত বলে একে সিমা বলে।
- গুরুমন্ডলের উপরাংশকে অশ্মমন্ডল বা শিলামন্ডল বলা হয়।
- অশ্মম-ল নানা রকম শীলা ও খনিজ দ্বারা গঠিত।
- এর গভীরতা মহাদেশীয় অঞ্চলের নিচে সর্বাপেক্ষা বেশি এবং মহাসাগরীয় অঞ্চলে সর্বাপেক্ষা কম।
- এর গভীরতা স্থান বিশেষ ৩০ কিলোমিটার থেকে ৬৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ধরা হয়।  

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 

২,৩৭৮.
What is Inuit?
  1. ক) Eskimo of Greenland
  2. খ) Freedom fighters of Albenia
  3. গ) Biggest mountain in the North Arctic
  4. ঘ) None of it
ব্যাখ্যা
গ্রীনল্যান্ডের এস্কিমোদেরকে ইনুইট(ইন্যুট) বলা হয়। এরাই গ্রীনল্যান্ডের প্রধান অধিবাসী।
source: Britannica
২,৩৭৯.
পৃথিবীর কোন নদীতে মাছ হয় না?
  1. ক) জাম্বেসি
  2. খ) জর্ডান
  3. গ) আমাজন
  4. ঘ) দানিয়ুব
ব্যাখ্যা
জর্ডান নদী:
- জর্ডান নদী মাউন্ট হারমোন থেকে উৎপত্তি লাভ করে।
- এটির দৈর্ঘ্য ৩৬০ কিলোমিটার।
- এটি পৃথিবীর যেকোনো নদীর তুলনায় এর উচ্চতা সবচেয়ে কম।
- নদীটি সিরিয়া ও লেবাননের সীমান্তে হারমন পর্বতের ঢালে উঠে গেছে এবং উত্তর ইস্রায়েলের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে গ্যালিল সাগরে।
- এই নদীতে কোন মাছ হয়না।

সুত্রঃ ব্রিটানিকা
২,৩৮০.
লাক্ষা দ্বীপের অবস্থান কোথায়?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. লোহিত সাগর
  3. আরব সাগর
  4. বঙ্গোপসাগর
ব্যাখ্যা
• লাক্ষাদ্বীপ (Lakshadweep):
- লাক্ষাদ্বীপ ভারতের একমাত্র প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ।
- ভারতের  ক্ষুদ্রতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।
- এটি আরব সাগরে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত।
- লাক্ষাদ্বীপের নামটি মালয়ালম ও সংস্কৃত ভাষায় "শত হাজার দ্বীপ" অর্থে ব্যবহৃত হয়। ​

→ দ্বীপের সংখ্যা:
- ৩৬টি দ্বীপ, যার মধ্যে ১২টি প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ (atoll)।
- ৩টি প্রবালপ্রাচীর (reef), এবং ৫টি নিমজ্জিত তীর রয়েছে।

→আবাসযোগ্য দ্বীপ:
- ১০টি দ্বীপে মানুষ বসবাস করে।
- রাজধানী: কবরাতি।

উল্লেখ্য,
 আরব সাগরে অবস্থিত দ্বীপ সমূহ:
- সেন্ট মেরির দ্বীপপুঞ্জ, নেত্রাণী দ্বীপ, সোত্রা দ্বীপ, লাক্ষাদ্বীপ, মাসিরাহ দ্বীপ, খুরিয়া মুরিয়া দ্বীপপুঞ্জ ।

উৎস: World Atlas & Britannica.
২,৩৮১.
বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কত?
  1. ১৭.৪৬%
  2. ২০.৭১%
  3. ২৮.৩১%
  4. ৩১.২৫%
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের উপাদানের পরিমাণ:
উপাদানের নাম ⇒ শতকরা অংশ
- নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২%
- অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১%
- আর্গন ⇒ o.৮০%
- কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩%
- ওজোন ⇒ ০.০০০১%
- অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯%
- জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১%
- ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১%

তথ্যসূত্র - ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৮২.
‘সেন্দাই ফ্রেম ওয়ার্ক সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল-
  1. কোরিয়ায়
  2. কাতারে
  3. কানাডায়
  4. জাপানে
ব্যাখ্যা

২০১৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক : ২০১৫-২০৩০ গৃহিত হয়।
এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়।

(সূত্র: জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কার্যালয়)

২,৩৮৩.
দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও নিচের কোনটির জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম?
  1. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. উচ্চতা
ব্যাখ্যা
উচ্চতা (Altitude):
- সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- এ উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু ধারণ করে।
- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম।
- উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,৩৮৪.
’Mount Kinabalu’ কোন দেশের পর্বতমালা?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. মালয়েশিয়া
  3. জাপান
  4. গ্রিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• Mount Kinabalu:
- মাউন্ট কিনাবালু হল পূর্ব মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের বোর্নিও দ্বীপের একটি উল্লেখযোগ্য পর্বত।
- এটি ক্রোকার রেঞ্জের সর্বোচ্চ শিখর এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩,৪৩৮ ফুট উচ্চতায় মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পর্বত।
- মাউন্ট কিনাবালু টপোগ্রাফিক বিশিষ্টতার দিক থেকে বিশ্বের ২০তম পর্বত।
- মাউন্ট কিনাবালু একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হওয়ায় কিনাবালু পার্ক হিসেবে সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
২,৩৮৫.
বাংলাদেশের নদী প্রণালীসমূহ কয়টি প্রধান ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ২
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের নদীগুলি প্রতিবছর প্রায় ২.৪ বিলিয়ন টন পলি বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করে যার ফলে সমুদ্রমুখ বরাবর গড়ে উঠছে নতুন নতুন ভূমি।
- মৌসুমি বায়ু প্রবাহকালীন নদীগুলি সাগরে অতিরিক্ত পানি নির্গমন করে থাকে।
- এভাবে বিশাল নদী প্রণালীসমূহ একই সঙ্গে দেশের জন্য আশীর্বাদ আবার বিপর্যয় সৃষ্টিকারীও বটে।
- বাংলাদেশের নদী প্রণালীসমূহকে চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা যায়:
        -  (১) ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী প্রণালী
        -  (২) গঙ্গা-পদ্মা নদী প্রণালী
        -  (৩) সুরমা-মেঘনা নদী প্রণালী এবং
        -  (৪) চট্টগ্রাম অঞ্চলের নদীমালা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
২,৩৮৬.
নিচের কোনটি বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ নয়?
  1. মার্গুই
  2. নিকোবর
  3. আবু মুসা
  4. আন্দামান
ব্যাখ্যা

• আবু মুসা পারস্য উপসাগরের দ্বীপ।

• বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal):

- পশ্চিমে ভারত ও শ্রীলংকার পূর্ব উপকূল, উত্তরে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদী দ্বারা সৃষ্ট ব-দ্বীপ এবং পূর্বে মায়ানমার থেকে আন্দামান-নিকোবর পর্যন্ত বিস্তৃত ভূভাগ দ্বারা বঙ্গোপসাগর তিনদিকে আবদ্ধ।
- বঙ্গোপসাগরের আয়তন ২১,৭২,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- এর গড় গভীরতা প্রায় ২,৬০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ৫,২৫৮ মিটার।
- বঙ্গোপসাগরের অন্তর্ভুক্ত ৫৭২ টি দ্বীপ আছে৷
- তন্মধ্যে আন্দামান, নিকোবর, মার্গুই দ্বীপপুঞ্জ অন্যতম৷।
-  ৫৭২টি দ্বীপের মধ্যে ৩৭টিতে অধিবাসী রয়েছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

২,৩৮৭.
পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন কোনটি?
  1. ২১ জুন
  2. ২৩ সেপ্টেম্বর
  3. ২২ ডিসেম্বর
  4. ২৫ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ গোলার্ধ:
- দক্ষিণ গোলার্ধ হল পৃথিবীর দক্ষিণ অংশ।
- ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- ২১ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে ক্ষুদ্রতম দিন ও দীর্ঘতম রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস জানুয়ারি এবং শীতলতম মাস জুলাই।

অন্যদিকে, 
- ২১ জুন উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত।
- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য ঠিক পূর্বদিকে ওঠে এবং ঠিক পশ্চিমদিকে অস্ত যায়। বছরে মাত্র এই দুটি দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) World atlas.

২,৩৮৮.
বাংলাদেশ সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানটি উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে?
  1. সিপিপি
  2. ব্র্যাক
  3. রেডক্রিসেন্ট
  4. প্রশিকা
ব্যাখ্যা
উপকূলীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:

- বাংলাদেশের উপকূল (৭১৬ কি.মি.) অঞ্চল সমুদ্র সমতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা অনবরত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত অসংখ্য নিম্নআয়ের মানুষ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের দুর্যোগ দ্বারা বিপদাপন্ন অবস্থায় পতিত হচ্ছে।
- সুষ্ঠু দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপকূলীয় জনগণের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা (দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষমতা) বৃদ্ধি ও পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
- বাংলাদেশ সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানটি উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি পরিচালনা করে সিপিপি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৮৯.
নিচের কোনটির উপর সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে সময় নির্ধারণ করা হয়?
  1. ক) অক্ষরেখা
  2. খ) মেরুবৃত্তীয় রেখা
  3. গ) দ্রাঘিমারেখা
  4. ঘ) বিষুবরেখা
ব্যাখ্যা
- দ্রাঘিমারেখার উপর সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে সময় নির্ধারণ করা হয়।
- পুরো পৃথিবীকে মোট ৩৬০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখায় বিভক্ত করা হয়েছে।
- প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- মূল মধ্যরেখা বা ০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখাকে প্রমাণ সময় বিবেচনা করা হয়।
- মূল মধ্যরেখার পূর্বদিকে অবস্থিত অঞ্চলসমূহের ক্ষেত্রে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে ৪ মিনিট করে যোগ করে প্রমাণ সময় নির্ণয় করতে হয়।
- মূল মধ্যরেখার পশ্চিমদিকে অবস্থিত অঞ্চলসমূহের ক্ষেত্রে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে ৪ মিনিট করে সময় বিয়োগ করে প্রমাণ সময় নির্ণয় করতে হয়।
- ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত যা প্রশান্ত মহসাগরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-৪১)
২,৩৯০.
আকসাই কোন দুইটি দেশের মধ্যে বিতর্কিত অঞ্চল?
  1. চীন ও নেপাল
  2. চীন ও ভারত
  3. ভারত ও বাংলাদেশ
  4. ভারত ও পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
বিতর্কিত অঞ্চল আকসাই:
- আকসাই ভারত ও চীন এর মধ্যকার এক বিতর্কিত অঞ্চল।
- ১৯৬২ সালের যুদ্ধে আকসাই চীন দখল করেছিল বলে দাবি জানিয়ে আসছে চীন।
- কিন্তু ভারত সেই দাবি মানতে নারাজ।
- ভারতের মতে, এটি ভারতের জম্মু এবং কাশ্মীর রাজ্যের লাদাখের অংশ।
- অপর পক্ষ চীন এর মতে, আকসাই চীন তাদের জিনজিয়াং প্রদেশের অংশ।
- ২০২৩ সালে চীন নতুন যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে গোটা অরুণাচল প্রদেশকে চীনের অংশে ঢোকানো হয়েছে। সেই সঙ্গে মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আকসাই চীনকেও।
- এছাড়াও তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগরকেও চীন তাদের অংশ বলে দাবি করেছে।
- চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস ‘এক্স’ হ্যান্ডেল (সাবেক টুইটার) মারফত জানিয়েছে যে, 'চীনের সীমারেখা ও আন্তর্জাতিক নীতি মেনেই এই মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে।'

তথ্যসূত্র: ১) ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। লিঙ্ক
২) প্রথমআলো (২৯ আগস্ট ২০২৩) লিঙ্ক
২,৩৯১.
নায়াগ্রা জলপ্রপাত কোন দুই দেশের সীমান্তে অবস্থিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
  2. কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র
  3. যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা 
  4. কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা

• নায়াগ্রা জলপ্রপাত:
- নায়াগ্রা জলপ্রপাত উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং কানাডার ওন্টারিওর সীমান্তে অবস্থিত।
- নায়াগ্রা নদী এই জলপ্রপাতটির মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবাহিত হয়।

⇒ এটি পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত জলপ্রপাত।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাতের উচ্চতা প্রায় ৫১ মিটার (১৬৭ ফুট) এবং এটি প্রতি মিনিটে প্রায় ২,৮০০ ঘনমিটার পানি পতিত হয়।
- এটি মূলত তিনটি জলপ্রপাতের সমষ্টি। সবচেয়ে বড় জলপ্রপাতটির নাম হলো হর্সশু ফলস বা কানাডা ফলস। এর পরের ফলসটির নাম আমেরিকান ফলস। অন্যটির নাম ব্রাইডল ভেইল ফলস।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাতের তিন ভাগের এক ভাগ আমেরিকায়। বাকি দুই ভাগ কানাডায়।

উল্লেখ্য,
- স্টবাক জলপ্রপাত: সুইজারল্যান্ড।
- অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত: ভেনিজুয়েলা। 
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত: জিম্বাবুয়ে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

২,৩৯২.
বাংলাদেশের বৃহত্তম ইপিজেড কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) নীলফামারি
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীনে দেশে বর্তমানে ৮টি সরকারি ইপিজেড চালু রয়েছে।
এগুলো হলো:
- চট্টগ্রাম ইপিজেড (প্রথম ও বৃহত্তম)
- ঢাকা ইপিজেড (দ্বিতীয়)
- মংলা ইপিজেড
- কুমিল্লা ইপিজেড
- ঈশ্বরদী ইপিজেড
- উত্তরা ইপিজেড (কৃষিভিত্তিক); নীলফামারি জেলায় অবস্থিত 
- আদমজী ইপিজেড
- কর্ণফুলী ইপিজেড (সর্বশেষ)।
(তথ্যসূত্র: BEPZA ওয়েবসাইট)

২,৩৯৩.
পৃথিবীর বহিরাবরণকে বলা হয়-
  1. ক) কেন্দ্রমণ্ডল
  2. খ) ভূ-ত্বক
  3. গ) গুরুমণ্ডল
  4. ঘ) শিলা
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূ-অভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম; যা গড়ে ২০ কিলোমিটার।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান অক্সিজেন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৩৯৪.
নিচের কোন সংগঠনটি পরিবেশ রক্ষার কাজ করে?
  1. বাপা
  2. ব্র্যাক
  3. আশা
  4. জাগো ফাউন্ডেশন
ব্যাখ্যা
বাপা:
- বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।
- বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য দেশব্যাপী, ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ২০০০ সালে Bangladesh Poribesh Andolon (BAPA) চালু করা হয়েছিল।
- বাংলাদেশের পরিবেশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।
- শহুরে বাতাসের মান হ্রাস পাচ্ছে।
- ভূ-পৃষ্ঠের জলাশয়গুলি দূষিত, সীমাবদ্ধ এবং অবক্ষয়িত হচ্ছে।
- উধাও হয়ে যাচ্ছে বন ও খোলা জায়গা।
- কোলাহল বাড়ছে।
- বিলুপ্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
- এই অবক্ষয়ের প্রক্রিয়াগুলোকে ধীরগতি ও বিপরীতমুখী করা না হলে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক অগ্রগতি ধীরে ধীরে ব্যাহত হবে এবং বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
- বাংলাদেশের পরিবেশ-পন্থী শক্তিরা বাংলাদেশের পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য করণীয় নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (ICBEN) একত্রিত হয়।
- ICBEN ২০০০ এর সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে, BAPA গঠিত হয়।

উৎস: বাপা ওয়েবসাইট।
২,৩৯৫.
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপের নাম কী?
  1. ক) সন্দ্বীপ
  2. খ) মহেশখালী
  3. গ) সেন্টমার্টিন
  4. ঘ) হাতিয়া
ব্যাখ্যা
• সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং 
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। 
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। 
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান। 

টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। 

 কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা।

- সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে সময় নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। 

দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সরকারি তথ্যে দ্বীপের আয়তন ১৩ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ রয়েছে।
- তবে গবেষণায় বলা হয়েছে ৮ বর্গকিলোমিটার।

⇒ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- পরীক্ষায় যদি ৮ বর্গ কিলোমিটার না থাকে তখন ১৭ বর্গ কিলোমিটার বা ১৩ বর্গ কিলোমিটার উত্তর করবেন, অথবা অপশন বিবেচনায় উত্তর করবেন।

সূত্র: টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট,  কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট, সময় নিউজ ও দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট।
২,৩৯৬.
কোনো এলাকাকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা হয় কোন আইনের মাধ্যমে? 
  1. পরিবেশ আদালত আইন, ২০১০
  2. বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫
  3. জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭
  4. জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ :
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন - ১৯৯৫ সালে প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইনটি পরে সংশোধন করা হয়, যা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০১০ নামে পরিচিত।
-  পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের মাধ্যমে - পরিবেশ অধিদপ্তর তৈরি হয়।
-  পরিবেশ অধিদপ্তর  প্রধান হবে-  একজন মহাপরিচালক৷
-  এ আইনের মাধ্যমে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী উৎপাদন, বিক্রয় ইত্যাদির উপর বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
-  ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য উৎপাদন, আমদানি, মওজুদকরণ, বোঝাইকরণ, পরিবহণ, ইত্যাদি সংক্রান্ত বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
-  জাহাজ কাটা বা ভাঙার কারণে সৃষ্ট দূষণ সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ নিষেধ আরোপ করা হয়।
- কোনো এলাকার প্রতিবেশ ব্যবস্থা (ইকো সিস্টেম) সংকটাপন্ন হলে বা হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা সে এলাকাকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করতে পারে।
- জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা অন্য কোনোভাবে শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। 
- সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কাটা যাবে না।

তথ্যসূত্র: Laws of Bangladesh ও প্রথম আলো। 

২,৩৯৭.
পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে
  2. খ) ইউরোপের দক্ষিণ -পশ্চিমে
  3. গ) ইউরোপের পূর্ব-পশ্চিমে
  4. ঘ) ইউরোপের উত্তর-পূর্বে
ব্যাখ্যা
মহীসােপানঃ পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরুপে সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসােপান বলে।
মহীসােপানের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার।
এটি ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
ইউরােপের উত্তর-পশ্চিমে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসােপান অবস্থিত। মহীসােপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম উত্তর অংশ উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে দেখতে পাওয়া যায়।
(রেফারেন্স- ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি)
২,৩৯৮.
কুমিল্লা জেলা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. গোমতী
  2. ডাকাতিয়া
  3. কাঁকরী নদী
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
কুমিল্লা জেলা:
- কুমিল্লা জেলা ২৩°০১' থেকে ২৩°৪৭' ৩৬" উত্তর অক্ষাংশে এবং ৯০°৩৯' থেকে ৯১°২২' পূর্ব দ্রাঘিমাংশে বিস্তৃত।
- কর্কটক্রান্তি রেখা কুমিল্লা জেলা অতিক্রম করেছে।
- এই জেলার কিছু অংশ গঠিত হয়েছে প্লাবন ভূমি দ্বারা এবং কিছু অংশ পাহাড়ি বৈশিষ্ট্যময়, বাকি অংশ সমতলভূমি।
- এ জেলার অধিকাংশ এলাকার ভূ-তাত্ত্বিক গঠন হয়েছে প্লাইস্টোসিন ও হলোসীন বা বর্তমান যুগেই।

⇒ কুমিল্লা জেলা মেঘনা সমভূমি হতে ত্রিপুরা পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- সমুদ্রতীর থেকে ত্রিপুরা পাহাড়ের পাদদেশের গড় উচ্চতা প্রায় ২৫ ফুট, আর মেঘনা সমভূমির পশ্চিম ভাগের গড় উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট।
- সুতরাং জেলার এই সমভূমির ঢাল মৃদু এবং পশ্চিম দিকে কুমিল্লা শহরের পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত, উত্তর-দক্ষিণে প্রলম্বিত লালমাই পাহাড় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার নিম্ন জলাভূমি ব্যতীত সমগ্র সমভূমিটিকে সাধারণ ভাবে পশ্চিম-ঢাল সম্বলিত একটি সমতল ভূমি বলা যেতে পারে।

⇒ কর্কট ক্রান্তি রেখা কুমিল্লা জেলার উপর দিয়ে অতিক্রম করার জন্য এ জেলা ক্রান্তীয় অঞ্চলের অর্ন্তভূক্ত।

⇒ প্রাচীনকালে এটি সমতট জনপদের অন্তর্গত ছিল এবং পরবর্তীতে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ হয়েছিল। 
- ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরবর্তী সময়ে ১৯৬০ সালে ত্রিপুরা জেলার নামকরণ করা হয় কুমিল্লা এবং তখন থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর পদটির নামকরণ হয় ডেপুটি কমিশনার।
- ১৯৮৪ সালে কুমিল্লার দু'টি মহকুমা চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে পৃথক জেলা হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়।

⇒ নদ-নদী:
- কুমিল্লায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নদী রয়েছে।
- এখানে প্রধান নদী গোমতী।
- কুমিল্লা জেলা প্রধানত গোমতী নদীর তীরেই অবস্থিত।
- ডাকাতিয়া, কাঁকরী নামে আরো দুটি নদী ও রয়েছে।
- গোমতীর উৎপত্তি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ী এলাকায়।
- গোমতীর দৈর্ঘ্য ১৩০.১২২ কিলোমিটার।
- এটি কুমিল্লার সদর, বুড়িচং, ব্রা্হ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দাউদকান্দি হয়ে মেঘনায় মিলেছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৩৯৯.
বাংলাদেশের সুন্দরবনের বনাঞ্চলের আয়তন দেশের মোট আয়তনের শতকরা কত ভাগ?
  1. ২.০৫ ভাগ
  2. ৪.০৭ ভাগ
  3. ৬.০৩ ভাগ
  4. ৮.০৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ:
- ম্যানগ্রোভ (Mangrove) বলতে সাধারণভাবে জোয়ারভাটায় প্লাবিত বিস্তির্ণ জলাভূমিকে বোঝায়।
- এ বনের অধিকাংশ এলাকা জোয়ার ভাটার কারণে দিনে দু'বার লোনা পানি দ্বারা বিধৌত হয় বলে একে ম্যানগ্রোভ বন বলা হয়।
- ম্যানগ্রোভ বন হলো উপকূলীয় বন।
- এই বন সুন্দরবন নামে সমধিক পরিচিত।

⇒ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি হয়েছে।
- সুন্দরবন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন।
- সুন্দরবনের ৬২ শতাংশ খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় এবং বাকী অংশ পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলায় অবস্থিত।
- এ বনাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের মোট আয়তনের শতকরা ৪.০৭ ভাগ।
- এ বনের গাছপালা লোনা পানি সহনশীল এবং বৃক্ষসমূহের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম।
- সুন্দরবনের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৬৫১ থেকে ১৭৭৮ মি.মি.।
- এ বনের মাটিতে অতিরিক্ত লবণ ও পচা জৈব পদার্থ থাকায় অক্সিজেনের অভাব ঘটে বলে গাছপালা শ্বাসমূল তৈরী করে।
- বৃক্ষসমূহ চিরহরিৎ।
- ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান প্রধান বৃক্ষ হলো: সুন্দরী, ধুন্দুল, গরান, বাইন, কেওড়া, পশুর, গোলপাতা, হেন্তাল ইত্যাদি।
- বন্যপ্রাণীসমূহের মধ্যে: রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর ইত্যাদি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) কৃষি শিক্ষা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০০.
বর্তমানে বাংলাদেশে নদী বন্দর কয়টি?
  1. ৩৩ টি
  2. ৩৪ টি
  3. ৩৫ টি
  4. ৩৬ টি
ব্যাখ্যা

- বর্তমানে বাংলাদেশে নদী বন্দর ৩৫টি।
- বাংলাদেশের সর্বশেষ নদীবন্দর বালাগঞ্জ, সিলেট।
- ৩৪ তম নদীবন্দর মীরসরাই রাসমতি নদীবন্দর।
- ৩৩ তম নদীবন্দর মেঘাইঘাট নাটুয়াপাড়া, সিরাজগঞ্জ।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী বন্দর নারায়ণগঞ্জ।
উৎসঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট।