বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ২২ / ৭২ · ২,১০১২,২০০ / ৭,১৯১

২,১০১.
কোন ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দৃষ্টি গোচরীভূত হয়?
  1. ক) লেক্সেল
  2. খ) হেইল-বপ
  3. গ) হ্যালির ধূমকেতু
  4. ঘ) কোহুটেক
ব্যাখ্যা
• ধূমকেতু:
- ধূমকেতু এক ধরনের জ্যোতিষ্ক। ধূমকেতুর দুইটি অংশ রয়েছে। যেমন : মস্তক বা কেন্দ্র ও পুচ্ছ। 
- কোনো কোনো ধূমকেতুর মস্তক বা কেন্দ্র গ্রহ অপেক্ষা বড় হয়ে থাকে।
- ধূমকেতুর রয়েছে গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি সুদীর্ঘ পুচ্ছ।
- অধিকাংশ ধূমকেতু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে ছুটে চলে।
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দৃষ্টিগোচরীভূত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১০২.
মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ দুইটির মাঝামাঝি অবস্থানে কোন ধরনের বস্তু রয়েছে?
  1. ক) উল্কা
  2. খ) অ্যাস্টরয়েড
  3. গ) নক্ষত্র
  4. ঘ) ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• গ্রহাণুপুঞ্জ (Asteroids):
- সৌরজগতে মঙ্গল (Mars) ও বৃহস্পতি (Jupiter) এই দুইটি গ্রহের মধ্যবর্তী অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহ (১.৬-৮০৫ বর্গ কি. মি.আয়তন বিশিষ্ট) একত্রে পূঞ্জীভূত হয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এগুলোকে একত্রে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।
- গ্রহাণুপুঞ্জসমূহ একটি বলয়ের মতো ঘিরে থাকে, যা গ্রহাণুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১০৩.
'লাইন অফ কন্ট্রোল' কোন দুটি দেশের সীমান্তবর্তী রেখাকে চিহ্নিত করে?
  1. চীন-ভারত
  2. ভারত-নেপাল
  3. ভারত-পাকিস্তান
  4. আফগানিস্তান-পাকিস্তান
ব্যাখ্যা

• লাইন অফ কন্ট্রোল:
- LOC এর পূর্ণরূপ: Line of Control.
- লাইন অফ কন্ট্রোল ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী রেখা।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু সীমারেখা:
- ভারত-পাকিস্তানকে বিভক্ত করেছে লাইন অফ কন্ট্রোল।
- পাকিস্তান-আফগানিস্তানকে পৃথক করেছে ডুরান্ড লাইন।
- জার্মানি ও ফ্রান্সকে বিভক্ত করেছে সিগফ্রেড লাইন।
- ভারত ও চীন পৃথক করেছে: লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC)। 

 উৎস: ব্রিটানিকা।

২,১০৪.
বাংলাদেশে এ যাবৎকাল পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রধান কয়লার খনি -
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. ছয়টি
  4. আটটি
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ কয়লা ও বাংলাদেশ 
- বাংলাদেশে দ্বিতীয় প্রধান খনিজ পদার্থ - কয়লা।
- বাংলাদেশে এ যাবৎকাল পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রধান কয়লার খনি - পাঁচটি।
- সেগুলোর মধ্যে
১.দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাক্ষেত্র,
২.জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ কয়লাক্ষেত্র,
৩.রংপুর জেলার খালাশপীর কয়লাক্ষেত্র, 
৪. ফুলবাড়ী, দিনাজপুর এবং
৫.দিনাজপুরের দীঘিপাড়ায় অবস্থিত কয়লাক্ষেত্র।

- এই পাঁচটি কয়লাক্ষেত্রে বর্তমানে মোট ২৬৬৫ মিলিয়ন মে. টন কয়লা মজুদ আছে।

এছাড়াও, 
- পীট কয়লা পাওয়া গেছে-ফরিদপুর, খুলনা, সিলেট, বি-বাড়িয়া, এবং ময়মনসিংহ।
- বাংলাদেশে প্রধান খনিজ পদার্থ - প্রাকৃতিক গ্যাস।
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আবি: গ্যাসক্ষেত্র - ২৯ টি। সর্বশেষ ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র, পাবনা।
- সর্বপ্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবি: হয় -১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে।
-  সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র -তিতাস গ্যাসক্ষেত্র।
- সমুদ্র উপকূলীয় গ্যাসক্ষেত্র - সাঙ্গু ও কুতুবদিয়া।

তথ্যসূত্র - খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
২,১০৫.
কোন দেশকে নিশীথ সূর্যের দেশ বলা হয়?
  1. ক) ডেনমার্ক
  2. খ) নরওয়ে
  3. গ) সুইডেন
  4. ঘ) ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা
নিশীথ সূর্যের দেশ নামে পরিচিত নরওয়ে। উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত এখানে সূর্য পুরোপুরি অস্তমিত হয় না। আবার নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সূর্য ওঠেই না।
Source: britannica
২,১০৬.
বাংলাদেশের প্রথম সেচ প্রকল্প কোনটি?
  1. তিস্তা সেচ প্রকল্প
  2. গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প
  3. কাপ্তাই সেচ প্রকল্প
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট):
- কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় অবস্থিত গঙ্গা কপতাক্ষ সেচ প্রকল্প।
- এটি বাংলাদেশে প্রথম সেচ প্রকল্প।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে (বাংলাদেশের ভূখন্ডে) সেচের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
- ১৯৬৯ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,১০৭.
'লেক বোর্গেট' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ফ্রান্স
  2. জার্মানি
  3. সুইজারল্যান্ড
  4. ইতালি
ব্যাখ্যা
লেক বোর্গেট
- বোর্গেট হল ফ্রান্সের বৃহত্তম প্রাকৃতিক হ্রদ।
- একটি রামসার জলাভূমি হ্রদ হিসেবে পরিচিত।
- এটি ৪৪  কিঃমিঃ প্রসারিত হ্রদ।
- পাহাড় এবং পর্বত দ্বারা বেষ্টিত।
- প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে/অক্টোবরের শুরুতে, বোর্গেট হ্রদের রোমান্টিক নাইটস ফেস্টিভ্যাল দুর্দান্ত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

উৎস: Britanica & france-voyage.com.[link]
২,১০৮.
ভূকম্পন সক্রিয় অঞ্চল 'রিং অফ ফায়ার' কোন মহাসাগরীয় অববাহিকায় অবস্থিত?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. আর্কটিক মহাসাগর
  3. প্রশান্ত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

রিং অফ ফায়ার (Ring of Fire):
- রিং অফ ফায়ার হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকাকে ঘিরে থাকা অশ্বখুরাকৃতি ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরি সক্রিয় অঞ্চল। 
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার (২৪,৯০০ মাইল)।
- পুরো অঞ্চল জুড়ে অসংখ্য সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থাকায় একে “রিং অফ ফায়ার” বলা হয়।
- এই অঞ্চল দ্বীপমালার সারি যেমন টোঙ্গা ও নিউ হেব্রিডিস, ইন্দোনেশীয় দ্বীপপুঞ্জ, ফিলিপাইন, জাপান, কুরিল দ্বীপপুঞ্জ ও আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, এবং আর্ক-আকৃতির ভূ-আকৃতি যেমন উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূল ও আন্দেস পর্বতমালা অনুসরণ করে বিস্তৃত। 

উল্লেখ্য,
- বিশ্বের অধিকাংশ ভূমিকম্প, সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর প্রায় সবকটি এবং বিশ্বের প্রায় ৭৫% সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এই অঞ্চলে ঘটে। 
- ১৮০০ সালের পর থেকে রিং অফ ফায়ারের ভেতরে সংঘটিত প্রধান আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাতের মধ্যে রয়েছে মাউন্ট টাম্বোরা (১৮১৫), ক্রাকাতোয়া (১৮৮৩), নোভারুপটা (১৯১২), মাউন্ট সেন্ট হেলেন্স (১৯৮০), মাউন্ট রুইজ (১৯৮৫) ও মাউন্ট পিনাতুবো (১৯৯১)। 
- এছাড়া এই অঞ্চলে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে রয়েছে চিলি ভূমিকম্প (১৯৬০, ২০১০), আলাস্কা ভূমিকম্প (১৯৬৪), জাপান ভূমিকম্প (২০১১) এবং ২০০৪ সালের ভয়াবহ ভারত মহাসাগরীয় সুনামি সৃষ্টিকারী ভূমিকম্প।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২,১০৯.
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা অভিন্ন নদী নয় কোনটি?
  1. ক) সাঙ্গু
  2. খ) মাতামুহুরী
  3. গ) নাফ
  4. ঘ) টাঙ্গন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আন্তর্জাতিক বা আন্তসীমান্ত নদী ৫৭টি।
এর মধ্যে ভারতের সাথে বাংলাদেশের অভিন্ন নদী ৫৪টি এবং মিয়ানমারের সাথে অভিন্ন নদী ৩টি।
মিয়ানামার থেকে বাংলাদেশে আসা অভিন্ন নদী তিনটি হচ্ছে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও নাফ। টাঙ্গন ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন নদী।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২,১১০.
হারিকেন 'ক্যাটরিনা' কোথায় আঘাত হেনেছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ফিলিপাইন
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. তাইওয়ান
ব্যাখ্যা
হারিকেন:
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বেগে প্রবাহিত হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।
- সাফির -সিম্পসন হারিকেন উইন্ড স্কেল হল ১ থেকে ৫ রেটিং বা বিভাগ, হারিকেনের সর্বাধিক স্থায়ী বাতাসের উপর ভিত্তি করে।
- ক্যাটাগরি যত বেশি, হারিকেনের সম্পত্তির ক্ষতির সম্ভাবনা তত বেশি।

অন্যদিকে -
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত। সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'। চীন, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের ঘূর্ণিঝড়কে উইলি উইলি বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- হারিকেন ক্যাটরিনা ছিল একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় যা ২০০৫ সালের আগস্টের শেষের দিকে দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানে।
- হারিকেন এবং এর পরবর্তী সময়ে ১৮০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
- এটি মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবে স্থান পায়।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) NOAA ওয়েবসাইট।
২,১১১.
সিয়াল ও সিমার মধ্যে বিভাজনকারী রেখার নাম কী?
  1. গুটেনবার্গ বিযুক্তি
  2. কনরাড বিযুক্তি
  3. সনোরা লাইন
  4. মোহোবিযুক্তি
ব্যাখ্যা
কনরাড বিযুক্তি:
- Sial ও Sima বিভাজনকারী স্তরকে কনরাড বিযুক্তি রেখা বলে।
- অর্থাৎ ভূ-ত্বকের লঘু ও গুরু শিলান্তরদ্বয় সীমারেখায় মিলিত হয়েছে তাকে কনরাড বিযুক্তি (Conrad Discontinuity) বলে।

⇒ সমুদ্র তলদেশের ভূত্বক প্রধানত ব্যাসল্ট জাতীয় এবং মহাদেশীয় ভূত্বক ফেলসিক স্তরবিহীন, ব্যাসল্ট-এর প্রধান খনিজ উপাদানের নাম সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত। ধারণা করা হয় যে, এ ব্যাসল্ট স্তরই সারা পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ হিসেবে মহাদেশের মেফিক স্তরের নিচে ও গভীর সমুদ্রের তলদেশে বিদ্যমান। ভূ-ত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সে. তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

⇒ ভূ-কম্পীয় তরঙ্গের গতিবেগ লক্ষ্য করে ভূ-ত্বক গঠনকারী শিলাকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-(১) ওপরের লঘুশিলা, (২) মধ্যবর্তী গুরুশিলা ও (৩) নিচে অলিভিন জাতীয় শিলা।
ওপরের লঘুশিলা ভূ-ত্বকের বাইরের স্তর। এর ওপরেই আমরা গাছপালা ও তৃণাদি জন্মাতে দেখি। এ স্তরে গ্রাণাইড শিলার পরিমাণ বেশি তাই এক গ্রানাইট শিলা স্তর বলা হয়। গ্রানাইটে সিলিকা (Silica) ও অ্যালুমিনিয়ামের (Aluminium) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। তাই একে সিয়াল (Sial) স্তর বলে। মহাদেশগুলো প্রধানত এ জাতীয় শিলায় গঠিত।

অন্যদিকে,
• বিযুক্তি রেখা:
- ভূপৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যেখানে যেখানে ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিবেগ পরিবর্তিত হয়,সেই স্থানগুলিকে বিযুক্তি রেখা বলে।
• মোহো বিযুক্তি রেখা:
- ইহা ভূত্বক ও গুরুমন্ডলের মাঝে অবস্থিত। ১৯০৯ সালে একটি ক্রোয়েশিয়ান ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেজা মোহোরোভিচিক দ্বারা মোহোরোভিসিক বিচ্ছিন্নতা আবিষ্কার করেছিলেন। মহাদেশের ভূপৃষ্ঠের নীচে ৩৫ কিলোমিটার এবং সমুদ্রের ভূত্বকের নীচে ৮ কিলোমিটার গভীরতায় অবস্থিত।
• রেপিত্তি বিচ্ছিন্নতা:
- এটি অন্তঃগুরুমন্ডল (ইনার ম্যান্টেল) ও বহিঃ গুরুমন্ডল (আউটার ম্যান্টেল) এর মাঝে অবস্থিত।
•  গুটেনবার্গ বিচ্ছিন্নতা:
- এটি গুরুমন্ডল কেন্দ্রমন্ডল এর মাঝে রয়েছে গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা ( Gutenberg discontinuity)
•  লেহম্যান বিযুক্তি:
- কেন্দ্রমন্ডলের ভিতরের ভাগ অর্থাৎ অন্তঃকেন্দ্রমন্ডল ও বহিঃ কেন্দ্রমন্ডলের মাঝে অবস্থিত লেহমান বিযুক্তি রেখা।

উৎস: ভূমিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১১২.
বায়ুমন্ডলের উপাদানের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে বায়ুমন্ডলকে কয়টি স্তরে ভাগ করা হয়?
  1. ২টি স্তরে
  2. ৩টি স্তরে
  3. ৪টি স্তরে
  4. ৫টি স্তরে
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের স্তরবিন্যাস ও বৈশিষ্ট্য (Atmospheric Layers and Characteristics):
- বায়ুমন্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। যথা-
i) ট্রপোমণ্ডল,
ii) স্ট্রাটোমণ্ডল,
iii) মেসোমণ্ডল,
iv) তাপমণ্ডল ও
v) এক্সোমন্ডল।
- উল্লিখিত স্তরগুলোর প্রথম তিনটি সমমণ্ডল (Homosphere) এবং পরবর্তী দুটি বিষমমণ্ডল (Hetrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,১১৩.
মার্বেল কোন ধরনের শিলা?
  1. ক) আগ্নেয় শিলা
  2. খ) রূপান্তরিত শিলা
  3. গ) পাললিক শিলা
  4. ঘ) মিশ্র শিলা
ব্যাখ্যা
- মার্বেল হলো রূপান্তরিত শিলা।
- রূপান্তরিত শিলা হলো পাললিক ও আগ্নেয় শিলার পরিবর্তিত রূপ যা আগ্নেয় ও পাললিক শিলা হতে ভিন্নধর্মী।
- রূপান্তরিত শিলাগুলোর কয়েকটি উদাহরণ হলোঃ প্লেট, মার্বেল,  কোয়ার্টজাইট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১১৪.
বাংলাদেশের একমাত্র উষ্ণ পানির ঝরর্ণা কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) হিমছড়ি
  2. খ) রিসাং
  3. গ) সীতাকুণ্ড
  4. ঘ) শুভলং
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের একমাত্র উষ্ণ পানির ঝরণা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের একমাত্র শীতল পানির ঝরনা কক্সবাজার হিমছড়িতে অবস্থিত।
- শুভলং ঝরণা রাঙ্গামাটির বরকলে অবস্থিত।
- রিসাং ঝরণা খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- শৈলপ্রপাত ঝরণা বান্দরবানে অবস্থিত।
- তৈদুছড়া ঝরনা খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট।

২,১১৫.
কোনো স্থানে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ- 
  1. কমে
  2. অপরিবর্তিত থাকে
  3. বৃদ্ধি পায় 
  4. বিলুপ্ত হয়
ব্যাখ্যা

• বায়ুর আর্দ্রতা:
- নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ, চাপ ও আয়তনের বায়ুতে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে সম্পৃক্ত অবস্থা বলা হয়। জলীয়বাষ্পজনিত বায়ুচাপ জলীয়বাষ্প চাপ নামে পরিচিত।
- বায়ুতে উপস্থিত এই জলীয়বাষ্প নানা কারণে হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে। যেমন-
১। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প বৃদ্ধি পায়।
২। চাপবৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প হ্রাস পায়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১১৬.
Which river of Bangladesh originates from Tibet?
  1. Brahmaputra
  2. Tista
  3. Padma
  4. Surma
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র:
- ব্রহ্মপদ নদ চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরপূর্ব দিক এবং আসামের (ভারত) ভবানীপুরের পূর্ব দিক দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এই নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী ধরলা ও তিস্তা।
- প্রধান শাখা নদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা।

বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:
- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- করতোয়া নদীর উৎপত্তিস্থল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল মহালড্রীম, দার্জিলিং।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,১১৭.
বঙ্গবন্ধুর গ্রামটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) মধুমতি
  2. খ) কুমার
  3. গ) ভৈরব।
  4. ঘ) বাইগার।
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গােপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বর্তমান গােপালগঞ্জ জেলা সদরের দক্ষিণে ও পশ্চিমে মধুমতি নদী।
- আর 'বাইগার' নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত টুঙ্গিপাড়া গ্রাম।
- মধুমতীর অসংখ্য শাখা নদীর একটি বাইগার নদী।

উৎসঃ গোপালগঞ্জ জেলার ওয়েবসাইট।
২,১১৮.
কোন সংস্থা ভূ-উপগ্রহ চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ করে?
  1. স্পারসো
  2. প্রশিকা
  3. রেড ক্রিসেন্ট
  4. সিপিপি
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা:
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো-এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। 
 
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
- ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ,উদ্ধার ও পূণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)-এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
 
- জরুরি পরিস্থিতিতে আর্তদের চিকিৎসা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পূণর্বাসন কাজে সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসনকে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা দান করা।
- বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।
 
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১১৯.
কোন নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র
  1. সাঙ্গু নদী
  2. পদ্মা নদী
  3. হালদা নদী
  4. কর্নফুলী নদী
ব্যাখ্যা
হালদা নদী:
- হালদা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি নদী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বাটনাতলী পাহাড় হতে উৎপন্ন হয়ে এটি ফটিকছড়ির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।
- এটি কালুরঘাটের নিকটে কর্ণফুলী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- এর মোট দৈর্ঘ্য ৮১ কিলোমিটার।
- এটি দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- হালদা বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যেখান থেকে রুইজাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ) নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়।
- হালদা নদীর প্রজনন সময় হচ্ছে এপ্রিল, মে, জুন এই তিন মাস।
- অমাবস্যা, পূর্ণিমা তিথিতে এখানে রুইজাতীয় মাছ নিষিক্ত ডিম ছাড়ে।
- হালদা হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক।

উৎস: i) ২৪ জানুয়ারি ২০২০, সমকাল।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,১২০.
বাংলাদেশ কোন টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত?
  1. ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান
  2. ইউরেশিয়ান ও বার্মিজ 
  3. বার্মিজ ও ইন্ডিয়ান
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

টেকটোনিক প্লেট:
- পৃথিবীর ভূত্বক কোনো স্থির বা শক্ত একক স্তর নয়; বরং এটি বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত, যেগুলোকে বলা হয় টেকটোনিক প্লেট।
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
- পৃথিবীর ভূত্বক প্রধানত ৭টি প্রধান টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত। 

⇒ পৃথিবীর ভূত্বক ৭টি প্রধান টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত। প্লেটগুলো হলো: প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate), উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate), ইউরেশিয়ান প্লেট (Eurasian Plate), আফ্রিকান প্লেট (African Plate), অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate), ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট (Indo-Australian Plate) ও দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate)।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত হিমালয় পর্বতমালা, যা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্বতশ্রেণী। ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা এবং মেঘনা—এই তিনটি মহান নদী হিমালয় এবং আশেপাশের অন্যান্য পর্বতমালা থেকে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে এসে মিলিত হয়। এই নদীগুলো প্রচুর পরিমাণে কাদা ও বালু জমা করে। এই সমস্ত পলি দিয়ে গঠিত হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বদ্বীপ (ডেল্টা)।
- বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে টেকটোনিকভাবে সক্রিয় অঞ্চলগুলোর একটি। এটি তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত: ভারতীয় প্লেট (Indian Plate), ইউরেশিয়ান প্লেট (Eurasian Plate), এবং বার্মিজ প্লেট (Burmese Plate বা Burma Plate)।
- এই তিনটি প্লেটের সংযোগের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকা।
-  সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম-টেকনাফের চিটাগং-আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট মিলিয়ে দেশটি অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। 

উৎস: i) Worldatlas.
ii) AMERICAN MUSEUM NATURAL HISTORY ওয়েবসাইট।

২,১২১.
প্রেইরি তৃণভূমি কোথায় দেখা যায়?
  1. ক) দক্ষিণ আমেরিকা
  2. খ) ইউরেশিয়া
  3. গ) উত্তর আমেরিকা
  4. ঘ) সাব সাহারা
ব্যাখ্যা
তৃণভূমি হলো ঘাস দ্বারা আচ্ছাদিত সুবিস্তৃত ভূমি। সাধারণত স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তৃণভূমি গড়ে উঠে।

পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু তৃণভূমি:

- প্রেইরি (উত্তর আমেরিকা)
- প্যাম্পাস ও ল্যানোস (দক্ষিণ আমেরিকা)
- সাভানা (আফ্রিকা)
- স্তেপ (পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া) প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ব্রিটানিকা)
২,১২২.
বাংলাদেশের পূর্ব সীমারেখায় অবস্থিত?
  1. ভারত
  2. মিয়ানমার
  3. নেপাল
  4. ভারত ও মিয়ানমার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্ত:
 
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- বাংলাদেশের পশ্চিম ও উত্তর দিকে ভারত , পূর্ব দিকে ভারত ও মিয়ানমার এবং দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।
 
তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,১২৩.
বায়ুমন্ডলের কোন উপাদান অতি বেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে?
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) ওজোন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল। এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে। এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়। এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো রকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক। ঝড়-বৃষ্টি থাকেনা বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি

২,১২৪.
পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রতি ঘন্টায় কত বেগে ঘুরে?
  1. ৬৭,০০০ মাইল
  2. ৬৮,০০০ মাইল
  3. ৬৯,০০০ মাইল
  4. ৭০,০০০ মাইল
ব্যাখ্যা
পৃথিবী:
- পৃথিবীর সুর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার ।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।
- পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রায় ৬৭,০০০ মাইল (১,০৭,০০০ কিলোমিটার) বেগে প্রতি ঘন্টায় ঘুরতে থাকে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।

উৎস: i) NASA (.gov).
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১২৫.
‘শাত-ইল-আরব’ জলপথের অবস্থান কোথায়?
  1. ক) ইরান
  2. খ) ইরাক
  3. গ) পারস্য উপসাগর
  4. ঘ) প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
- ‘শাত-ইল-আরব’ জলপথের অবস্থান পারস্য উপসাগরে।
- এর মালিকানা নিয়ে ইরাক ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
- বর্তমানে এটি ইরানের দখলে রয়েছে। 
- এই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির নাম আলজিয়ার্স চুক্তি।
- ১৩ জুন ১৯৭৫ সালে স্বাক্ষরিত হয় আলজিয়ার্স চুক্তি।
- চুক্তির বিষয়বস্তু ছিল শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে ইরাক ও ইরানের মধ্যে মীমাংসা।
- কিন্তু চুক্তি ভঙ্গ করে ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইরাকের মধ্যে যুদ্ধ চলে।

তথ্যসূত্র:- হিস্টরি.কম এবং ব্রিটানিকা।
২,১২৬.
নদীর অধিক বিস্তৃত মোহনাকে বলা হয়- 
  1. দোয়াব
  2. খাড়ি 
  3. উৎস 
  4. নদী সঙ্গম
ব্যাখ্যা

• নদী:
- উঁচু পর্বত, মালভূমি বা উঁচু কোনো স্থান থেকে বৃষ্টি, প্রস্রবণ, হিমবাহ বা বরফ গলা পানির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্রোতধারার মিলিত প্রবাহ যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে নির্দিষ্ট খাতে প্রবাহিত হয়ে সমভূমি বা নিম্নভূমির উপর দিয়ে কোনো বিশাল জলাশয় বা হ্রদ অথবা সমুদ্রের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন তাকে নদী বলে।
- যেখান থেকে নদীর উৎপত্তি হয় তাকে নদীর উৎস বলে।
- নদী যখন কোনো হ্রদ বা সাগরে এসে পতিত হয়, তখন সেই পতিত স্থানকে মোহনা বলে।
- নদীর অধিক বিস্তৃত মোহনাকে খাঁড়ি বলে।
- প্রবহমান দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে দোয়াব বলে।
- দুই বা ততোধিক নদীর মিলনস্থলকে নদীসংগম বলে।
- পর্বত বা হ্রদ থেকে যেসব ছোট নদী উৎপন্ন হয়ে কোনো বড় নদীতে পতিত হয় তাকে সেই বড় নদীর উপনদী বলে। বাংলাদেশের তিস্তা ও করতোয়া হলো যমুনা নদীর উপনদী।
- মূল নদী থেকে যে সকল নদী বের হয় তাকে শাখানদী বলে। বাংলাদেশের কুমার ও গড়াই হলো পদ্মা নদীর শাখানদী।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১২৭.
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. কাসালং
  2. মাতামুহুরী
  3. কর্ণফুলী
  4. হালদা
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী:
- আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- এটি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির প্রধান নদী।
- কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী কাসালং, হালদা এবং বোয়ালখালী।
- কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে 'কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র' স্থাপন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,১২৮.
বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় নিম্নের কোন লক্ষ্যটি নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. নদী ভাঙন
  2. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
  3. বন্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান:
- ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান ১০০ বছরের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই পরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডস সরকার বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
- ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে এই পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- ডেল্টা প্ল্যানে ছয়টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পনি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন।
- ২০২০ সালের ১ জুলাই ১২ সদস্যের এই কাউন্সিল গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রীকে ডেল্টা কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
- ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য এই মহাপরিকল্পনার প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০৩০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে ৮০টি প্রকল্প।

⇒ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ তে দেশের আটটি হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির মাত্রার উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।
- একই ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির সম্মুখীন জেলাসমূহকে একেকটি গ্রুপের আওতায় আনা হয়েছে যাকে "হটস্পট" (পানি ও জলবায়ু উদ্ভূত প্রায় অভিন্ন সমস্যাবহুল অঞ্চল) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

উৎস: পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।
২,১২৯.
শৈবাল সাগর কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. আর্কটিক মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর
ব্যাখ্যা
আটলান্টিক মহাসাগর:
- পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে এটি অবস্থিত।
- আয়তনের দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান দ্বিতীয় এবং গভীরতার দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান তৃতীয়।
- এর আয়তন ৮,৫১,৩৩,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকা।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম স্থান পোয়ের্তোরিকা ট্রেঞ্চ।
- এর গড় গভীরতা ১১,৯৬২ ফুট এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ২৭,৪৯৩ ফুট।

⇒ শৈবাল সাগর:
- মহাসাগরের মাঝখানে বিভিন্ন স্রোত মিলিত হয়ে কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে একটি ঘূর্ণস্রোত বা জলাবর্তের সৃষ্টি করে।
- এই বিশাল জলাবর্তের মাঝখানে কোনোরকম জলপ্রবাহ থাকে না বলে স্রোতবিহীন এই অঞ্চলে নানারকম শৈবাল বা শেওলা, আগাছা ও জলজ উদ্ভিদ জন্মায়, এইজন্য এই অঞ্চলকে শৈবাল সাগর বলা হয়। 
- আটলান্টিক মহাসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে (১) উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত, (২) উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত এবং (৩) ক্যানারি স্রোত মিলিত হয়ে কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে একটি ঘূর্ণস্রোত বা জলাবর্তের সৃষ্টি করে।
- এই বিশাল জলাবর্তের মাঝখানে কোনোরকম জলপ্রবাহ থাকে না বলে স্রোতবিহীন এই অঞ্চলে নানারকম শৈবাল বা শেওলা, আগাছা ও জলজ উদ্ভিদ জন্মায়।
- এইজন্য এই অঞ্চলকে শৈবাল সাগর বলা হয়।
- আটলান্টিক মহাসাগর ছাড়াও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরেও (১) উত্তর প্রশান্ত-মহাসাগরীয় স্রোত, (২) কুরোশিয়ো বা জাপান স্রোত, (৩) উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত এবং (৪) ক্যালিফোর্নিয়া স্রোতের মাঝখানে প্রকাণ্ড একটি শৈবাল সাগর দেখা যায় ।

উৎস: Britannica.
২,১৩০.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি স্থলসীমান্ত ভারতের কোন রাজ্যের সাথে?
  1. মেঘালয়
  2. আসাম
  3. ত্রিপুরা
  4. পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা

পশ্চিমবঙ্গ:
- বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২,২৬২ কিলোমিটার, যা বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত।
- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের এই দীর্ঘ সীমান্তের কারণে এটি দীর্ঘতম হিসেবে বিবেচিত।

• বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত:
- বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সাথে সংযুক্ত।
- এগুলো হলো পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- বাংলাদেশের সাথে মেঘালয়ের স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা প্রায় ৪৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- আসামের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ২৬৪ কিলোমিটার।
- ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ৮৭৪ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্থলসীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ, যা প্রায় ২,২৬২ কিলোমিটার।
- সর্বমোট স্থল সীমানা ৪১৫৬ কিলোমিটার।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।

২,১৩১.
গ্রীষ্মকালে সূর্য কোন রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়?
  1. কর্কটক্রান্তি রেখা
  2. মকরক্রান্তি রেখা
  3. বিষুব রেখা
  4. অর্কটিক সার্কেল
ব্যাখ্যা

গ্রীষ্মকাল:
- গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার (Tropic of Cancer) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- এটি সাধারণত ২১ জুন বা তার আশেপাশের দিনে ঘটে।
- যে দিনে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় সেই  দিনটিকে উত্তর অয়নান্ত (Summer Solstice) বলা হয়।
- এবং উত্তর গোলার্ধে এই দিনের দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি হয়।
- কর্কটক্রান্তি রেখা ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত এবং এটি সেই উত্তরতম অক্ষাংশ, যেখানে সূর্য সরাসরি মাথার ওপর অবস্থান করতে পারে।
- এই ঘটনা ঘটে কারণ পৃথিবীর অক্ষ টালযুক্ত (axial tilt), যার ফলে গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সর্বাধিক ঝুঁকে থাকে।
- ফলস্বরূপ, কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর সূর্যের আলো খাড়াভাবে পড়ে।

উল্লেখ্য, 
- উত্তর অয়নান্তের সময় উত্তর গোলার্ধের বেশিরভাগ অঞ্চল আলোকিত থাকে।
- এটি গ্রীষ্মকাল নির্দেশ করে।
- এবং ২১ ই জুন উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন হিসেবে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৩২.
বাংলাদেশের 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' কবে প্রণীত হয়?
  1. ২০০৮
  2. ২০০৯
  3. ২০১২
  4. ২০১৫
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' ২০১২ সালে  প্রণীত হয়।

• বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ক কার্যক্রমকে সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক ও শক্তিশালী করা এবং সকল ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাঠামো গড়িয়া তুলিবার নিমিত্ত বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।
- ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই আইন প্রণীত হয়।
- ২০১২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে।
- বাংলাদেশের সংসদে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২' পাসের মাধ্যমে এই অধিদপ্তর গঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,১৩৩.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারণ করে?
  1. তাপমণ্ডল
  2. ট্রপোমন্ডল
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

 মেসোমন্ডল (Mesosphere):
- স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে স্তর রয়েছে তাকে মেসোমন্ডল বা মেসোস্ফিয়ার বলে।
- এই মন্ডলের প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত উষ্ণতা দ্রুত কমতে থাকে।
- ৮০ কিলোমিটারের পরে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করে এবং এই অংশকে বলে মেসোপস বা মেসোবিরতি।
- মেসোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারন করে।
- সাধারণত যে সব উল্কা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে সেগুলো এই স্তরে এসে পড়ে যায়। 

​⇒ ভূ-পৃষ্ঠ ও তার আশেপাশে যে বায়বীয় মন্ডল আবর্তিত আছে তাকে বায়ুমন্ডল বলে।
- বায়ুমন্ডল নানাপ্রকার গ্যাসীয় উপাদান, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কনিকা দ্বারা গঠিত।
- মূলত বায়ুমন্ডলের গঠনকারী উপাদানসমূহের প্রকৃতি, উষ্ণতার পার্থক্য অর্থাৎ অন্যান্য সকল বৈশিষ্ট্যের তারতম্যের জন্য বায়ুমন্ডলকে নানা স্তরে ভাগ করা যায়।
- এই সকল স্তর মূলত ভূ-পৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে মোট পাঁচটি পর্যায়ে রয়েছে।
- বায়ুমন্ডলের এই স্তরসমূহ হলো: ট্রপোমন্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমন্ডল, তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল।

​উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৩৪.
বৈকাল হ্রদ কোন দেশে অবস্থিত?
  1. রাশিয়া
  2. কানাডা
  3. মেক্সিকো
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
• হ্রদ (Lake):
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক জলরাশিকে হ্রদ (Lake) বলে।
- বৈকাল হ্রদ অবস্থিত - রশিয়ায়।

এছাড়াও - 
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ অবস্থিত -  আফ্রিকায়।
- সুপিরিয়র হ্রদ অবস্থিত - যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩৫.
পদ্মার উপনদী কোনটি?
  1. কুলিক
  2. মধুমতি
  3. আড়িয়াল খাঁ
  4. মাথাভাঙ্গা
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী:
- পদ্মার অপর নাম কীর্তিনাশা।
- ভারতের মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে গঙ্গা নদীর উৎপত্তি।
- রাজশাহীর কাছে কুষ্টিয়ার উত্তর প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- তারপর গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- অতঃপর তিন নদীর মিলিত স্রোত বঙ্গোপসাগরে ঢুকেছে।
- শাখা নদী: মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব, মাথাভাঙ্গা, কুমার, কপোতাক্ষ, শিবসাত, পশুর, বড়াল, গড়াই, ইছামতি ইত্যাদি।
- উপনদী: মহানন্দা, ট্যাঙ্গন, পুনর্ভবা, নগর, কুলিক।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,১৩৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা কোনটি?
  1. থানচি
  2. নাইক্ষ্যংছড়ি
  3. আলীকদম
  4. লামা
ব্যাখ্যা

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

২,১৩৭.
নিচের কোনটি স্থানীয় বায়ু?
  1. পার্বত্য বায়ু
  2. স্থলবায়ু
  3. সমুদ্রবায়ু
  4. মেরু বায়ু
ব্যাখ্যা

♦ বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
• নিয়মিত বায়ু।
• স্থানীয় বায়ু।
• সাময়িক বায়ু।
• অনিয়মিত বায়ু।

♦ নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
• অয়ন বায়ু।
• মেরু বায়ু।
• পশ্চিমা বায়ু।

♦ সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
• স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
• মৌসুমি বায়ু।

♦ স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
• পার্বত্য বায়ু।
• উপত্যকা বায়ু।

♦ অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
• ঘূর্ণিবাত বায়ু।
• প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৩৮.
বাংলাদেশের কোথায় চিংড়ি ঝর্ণা (Shrimp Fountain) অবস্থিত?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) রাঙামাটি
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
বান্দরবানে অবস্থিত কয়েকটি ঝর্ণাঃ
ট্রিপল ঝর্ণা (Triple Falls)
ঋজুক ঝর্ণা (Rijuk Falls)
জাদিপাই ঝর্ণা (Jadipai Falls)
চিংড়ি ঝর্ণা (Shrimp Fountain)
জোড়া ঝর্ণা বা যমজ ঝর্ণা (Twin Falls or Double Falls)
রূপমুহুরী ঝর্ণা (Rupmuhuri Falls)
বাকলাই ঝর্ণা (Baklai Falls)
কুমারী ঝর্ণা (Kumari Falls)
দামতুয়া ঝর্ণা(Damtuya Falls)
রেনিক্ষ্যং ঝর্ণা (Renikkhyng Falls)
শৈলপ্রপাত (Shaoilo Propat)
তিনাপ সাইতার (Tinap Saitar)
নাফাখুম (Nafakhum)

উৎসঃ বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট।
২,১৩৯.
কোথায় বাংলাদেশ, ভারত ও মায়ানমারের সীমান্ত পরস্পরকে ছুঁয়েছে?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি। ভারতের সাথে ৩০টি এবং মায়ানমারের সাথে ৩টি।
এর মধ্যে একমাত্র রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মায়ানমার উভয় দেশের সীমান্ত রয়েছে।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন৷
২,১৪০.
কোন বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়?
  1. দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  2. উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  3. দক্ষিণ পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  4. উত্তর পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
মৌসুমি বায়ু:
-মৌসুমি বায়ু এমন এক প্রকার আঞ্চলিক বায়ুপ্রবাহ যা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দিক পরিবর্তন করে।
-এর নামটি আরবি "মত্তসুম" শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ ঋতু।
- বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (গ্রীষ্মকালীন): বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- অন্যদিকে বাংলাদেশে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু (শীতকালীন): শুষ্ক এবং ঠান্ডা।
- দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়

মৌসুমি বায়ুর বৈশ্বিক প্রভাব:
- বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, যা কৃষি উৎপাদনে সহায়ক।
- শীতকালে শুষ্ক বায়ুর প্রভাব কৃষি ও পরিবেশে পরিবর্তন আনে।
- দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি ও জীবনযাত্রার উপর মৌসুমি বায়ুর বিশাল প্রভাব রয়েছে।
- এটি বৃষ্টি সরবরাহ করায় ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে সহায়ক।
- দক্ষিণ এশিয়া ছাড়াও আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়া মৌসুমি বায়ু প্রবাহ দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪১.
‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ কোথায় অবস্থিত?
  1. যমুনা নদীতে
  2. সন্দ্বীপ চ্যানেল
  3. মেঘনার মোহনায়
  4. বঙ্গোপসাগরে
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground)  খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত,
- যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের আরও কিছু বদ্বীপমুখী খাদ দেখতে পাওয়া যায়,
- যেমন সিন্ধু নদীর মোহনার অদূরে সিন্ধু খাদ,
- মিসিসিপি বদ্বীপের পশ্চিম পাশে মিসিসিপি খাদ।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার,
- তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,১৪২.
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রধান শক্তি যোগায় কোনটি?
  1. সমুদ্রের গভীরতা
  2. উচ্চ বায়ুচাপ
  3. উষ্ণ জলরাশি ও আর্দ্র বায়ু
  4. কোরিওলিস বল
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রধান শক্তি যোগায় বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ জলরাশি ও আর্দ্র বায়ু, যা ঘূর্ণিঝড়কে শক্তি জোগায়।
- জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার সময় যে সুপ্ত তাপ নির্গত হয়, তা ঘূর্ণিঝড়কে শক্তিশালী করে তোলে।
- এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর শেলফ (wide shelf) এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, ফলে শক্তিশালী জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়।
- এই উষ্ণ জল এবং নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট বায়ুপ্রবাহ ঘূর্ণিঝড়কে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে চালিত করে ও শক্তি বৃদ্ধি করে উপকূলের দিকে ধেয়ে আনে, যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হয়। 

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস :
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেযোগ্য।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখ'-এ নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে ।
- ফলে বাহিরের অংশ হতে উচ্চচাপ যুক্ত বায়ু প্রবল বেগে ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তন করতে করতে ঝড়ের কেন্দ্রভাগে নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়।
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলভাগ ফানেল আকৃতির হওয়ার কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। - গত তিন দশকে বাংলাদেশের উপকূলে, বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৪৩.
বিশ্বের বৃহত্তম মরুভূমি কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. ইউরোপ
  2. আফ্রিকা
  3. দক্ষিণ আমেরিকা
  4. উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
সাহারা মরুভূমি:
- সাহারা মরুভূমির নামটি এসেছে আরবি শব্দ ‘সাহরা’ থেকে যার অর্থ ‘মরুভূমি’।
- এটি আফ্রিকার প্রায় এক তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে।
- সাহারা হল বিশ্বের বৃহত্তম মরুভূমি, যার আয়তন ৩.৫ মিলিয়ন বর্গ মাইল (৯ মিলিয়ন বর্গ কিমি)।
- মরুভূমিটি আলজেরিয়া, মিশর, মালি, মরক্কো, পশ্চিম সাহারা, তিউনিসিয়া, চাদ, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, নাইজার এবং সুদান সহ ১১টি উত্তর আফ্রিকার দেশের বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে।
- ১৮৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু পাহাড়ী বালির টিলাগুলির জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- এই মরুভূমিতে জলের উৎস বিরল, তবে সাহারায় দুটি নদী এবং বিশটি মৌসুমী হ্রদ রয়েছে।
- সাহারা পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর দ্বারা , উত্তরে আটলাস পর্বতমালা এবং ভূমধ্যসাগর দ্বারা , পূর্বে লোহিত সাগর দ্বারা এবং দক্ষিণে সাহেল দ্বারা সীমাবদ্ধ

তথ্যসূত্র: Worldatlas.com
২,১৪৪.
'ডলোরাইট' কোন ধরনের শিলা?
  1. বহিঃজ আগ্নেয় শিলা
  2. অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. পাললিক শিলা
ব্যাখ্যা

১. আগ্নেয় শিলা:
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল।
- এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।

আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা:
- ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম, রং গাঢ়।
- এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি।

(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা:
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা।
- এর দানাগুলো স্থূল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ।

২. পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে। উদাহরণ: চুনাপাথর, বেলেপাথর, কয়লা, শেল, কাদাপাথর ইত্যাদি।

৩. রূপান্তরিত শিলা:
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস এবং কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৪৫.
বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান কোনটি?
  1. জাফলং 
  2. মাধবপুর 
  3. মালনীছড়া 
  4. মৌলভীবাজার 
ব্যাখ্যা

চা বাগান:
- চা বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান অর্থকরী ফসল।
- চা চাষের জন্য প্রয়োজন—
• উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু (১৬°–১৭° সে. তাপমাত্রা),
• ২৫০ সে.মি. বার্ষিক বৃষ্টিপাত এবং
• আবাদি এলাকায় ৪০% ছায়া।
- চা বাগানে চায়ের চারা সমান্তরালভাবে এবং ছায়াদানকারী গাছের সঙ্গে রোপণ করা হয়।
- পাহাড়ি এলাকা ও প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট অঞ্চল চা চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।

 - বাংলাদেশে চা চাষের ইতিহাস ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে শুরু হয়। 
- এখানে প্রথম চা তৈরি ও পান করা হয়।
- বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয় ১৮৫৪ (মতান্তরে ১৮৫৭) সালে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানে।
- মালনীছড়া বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান;
- এবং উপমহাদেশের প্রাচীনতম চা বাগান।
- উত্তরবঙ্গে চা চাষ প্রথম শুরু হয় পঞ্চগড়ে। 
- পঞ্চগড়ে সম্প্রতি অর্গানিক চা উৎপাদনও শুরু হয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

২,১৪৬.
যমুনা নদী কোথায় পতিত হয়েছে? 
  1. পদ্মায়
  2. বঙ্গোপসাগরে
  3. ব্রহ্মপুত্রে
  4. মেঘনায়
ব্যাখ্যা
• যমুনা নদী:
- যমুনা বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নদীর একটি।
- এটি ব্রহ্মপুত্র নদীর প্রধান শাখা।
- ১৭৮২ থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যে সংঘটিত ভূমিকম্প ও ভয়াবহ বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্রের তৎকালীন গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান কালের যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশ ভূখন্ডে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার দৈর্ঘ্য ২৭৬ কিমি যার মধ্যে যমুনা নদীর দৈর্ঘ্য ২০৫ কিমি।
- নদীটির প্রশস্ততা ৩ কিমি থেকে ২০ কিমি পর্যন্ত। তবে এর গড় প্রশস্ততা প্রায় ১০ কিমি।
- যমুনা নদী — পদ্মা নদীতে পতিত হয় গোয়ালন্দে।
- যমুনার প্রবাহমান জেলাসমূহ-বগুড়া জেলা, সিরাজগঞ্জ জেলা, টাঙ্গাইল জেলা (টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতি এবং ভূঞাপুর উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত) গাইবান্ধা জেলা।
- যমুনার প্রধান উপনদী গুলো হল তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, আত্রাই, সুবর্ণশ্রী (করতোয়া যমুনার দীর্ঘতম এবং বৃহত্তম উপনদী) বাঙালি+যমুনা বগুড়া।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ওয়েবসাইট।
২,১৪৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় পড়ে না কোনটি?
  1. দুর্যোগ প্রতিরোধ
  2. দুর্যোগ প্রস্তুতি
  3. দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার
  4. দুর্যোগ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management): 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তিনটি:
(ক) দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা;
(খ) প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌঁছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,১৪৮.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কোনটি?
  1. নতুন সড়কপথ সৃষ্টি
  2. মহাশুন্যে অভিযান
  3. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
  4. সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
→ জলবায়ু পরিবর্তন।
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
→ মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।
→ সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
→ রোগব্যাধি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৯.
ঘূর্ণিঝড়ের আগে বায়ু কেমন থাকে?
  1. উষ্ণ
  2. আর্দ্র
  3. শীতল
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone।
- এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ।
- বিজ্ঞানী হেনরি পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রথম এ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- যেমন চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন, ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন, ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই, অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলিছ, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

⇒ উৎপত্তি:
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড় (Anti-cyclone)।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- আমাদের দেশে প্রায় প্রতি বছর সাধারণত মার্চ ও নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

⇒- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব ঘটে আবহাওয়াতে।
- ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগে বায়ু শান্ত, উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে।
- ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ যখন আসে তখন প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও ঘন মেঘসহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়।
- আর কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থানকারী চোখ শান্ত আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি করে।
- ঘূর্ণিঝড়ের পশ্চাৎভাগে পৌঁছানোর পর আবারও ঘন মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ সময় বায়ু অগ্রবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয়।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্য:
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৫০.
Which of the following desert is located in Mongolia?
  1. ক) Gobi Desert
  2. খ) Sahara Desert
  3. গ) Takla Makan Desert
  4. ঘ) Kalahari Desert
ব্যাখ্যা
• গোবী মরুভূমি (Gobi Desert) মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত একটি বিশাল মরুভূমি।
• মরুভূমিটির অবস্থান মঙ্গোলিয়া ও চীন - দুই দেশে বিস্তৃত।
• মরুভূমিটি আনুমানিক ১৩ লক্ষ (১২ লক্ষ ৯৫ হাজার) বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট।

• বিখ্যাত কিছু মরুভূমির অবস্থান - 
- থর মরুভূমি : ভারত ও পাকিস্তান।
- গোবি মরুভূমি : চীন ও মঙ্গোলিয়া
- মোজাবে মরুভূমি : যুক্তরাষ্ট্র
- সাহারা মরুভূমি : আফ্রিকা

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
২,১৫১.
বাংলাদেশে কয়টি কয়লা খনি রয়েছে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

• কয়লা:
- বাংলাদেশের কয়লা খনি ৫টি।

- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে গঠিত  বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর বা জি.এস.বি ১৯৮৫ সালে দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়াতে, ১৯৮৯ সালে রংপুর জেলার খালাশপীর নামক স্থানে এবং ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরের দীঘিপাড়াতে পার্মিয়ান যুগের গন্ডোয়ানা কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জি.এস.বি)-এর অব্যাহত প্রচেষ্টায় ৪টি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার যৌথ কোম্পানি বি.এইচ.পি-মিনারেলস আরও একটি কয়লাখনি আবিষ্কার করলে দেশে কয়লাখনির মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৫টিতে।


উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ও বাংলাপিডিয়া। 

২,১৫২.
পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাত -
  1. নায়াগ্রা জলপ্রপাত
  2. ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত
  3. অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত
  4. ইগুয়াজু জলপ্রপাত
ব্যাখ্যা

অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত:
- বিশ্বের উচ্চতম জলপ্রপাত হলো অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত।
- এটি ভেনেজুয়েলায় অবস্থিত।
- এটির উচ্চতা ৯৭৯ মিটার।
- গুয়ারিয়া জলপ্রপাত ব্রাজিল অবস্থিত।
- এটি পানি পতনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম জলপ্রপাত।

অন্যদিকে,
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং কানাডার ওন্টারিওর মাঝে অবস্থিত নায়াগ্রা জলপ্রপাত। এই জলপ্রপাতটি মাত্র ৫১ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট।
- ভিক্টোরিয়া ফলস পৃথিবীর সবচেয়ে চওড়া জলপ্রপাত। এটির উচ্চতা ১০৮ মিটার।
- ইগুয়াজু জলপ্রপাত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সীমান্তে অবস্থিত। এই জলপ্রপাতটি মাত্র ৮১ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট । 

উৎস: Britannica.

২,১৫৩.
ভবদহ বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. যশোর
  2. বরিশাল
  3. নোয়াখালী
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

- ভবদহ যশোর জেলায় অবস্থিত।

যশোর জেলা:
- যশোর জেলায় অবস্থিত নদী সমূহের মধ্যে ভৈরব, চিত্রা, কপোতাক্ষ, হরিহর, দাদরা, বেত্রাবতী, কোদলা ও ইছামতি অন্যতম।
- যশোর জেলার উল্লেখযোগ্য বিল সমূহের মধ্যে রয়েছে :ভবদহ, জলেশ্বর, বকর, হরিণা ইত্যাদি।
- প্রতিষ্ঠাকালের দিক থেকে যশোর বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন জেলা।
- এ জেলা সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় দুইশত বৎসর পূর্বে ১৭৮৬ সালে।
- স্বাধীন যশোর রাজ্যের যারা শাসক ছিলেন তাঁদের মধ্যে মহারাজ বিক্রমমাদিত্য, রাজা প্রতাপাদিত্য, রাজা সীতারাম রায় বিশেষভাবে 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,১৫৪.
বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ-  
  1. ভোলা 
  2. কুতুবদিয়া
  3. সেন্টমার্টিন 
  4. মহেশখালী 
ব্যাখ্যা

মহেশখালী:
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী।
-  দ্বীপ সৃষ্টি: ১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহেশখালী দ্বীপ সৃষ্টি হয়।
- এটি কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা মহেশখালী।
- আয়তন: ৩৬২.১৮ বর্গ কিমি।
- ১৯৮৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসন মহেশখালী থানাকে উপজেলায় রুপান্তরিত করে।
- এখানে কিছু দর্শনীয় স্থান: আদিনাথ মন্দির, মৈনাক পর্বত, সোনাদিয়া দ্বীপ, রাখাইনদের কেয়াং।

অপরদিকে, 
- শাহপরীর দ্বীপ: টেকনাফের সর্ব দক্ষিণে ভূ-ভাগের খুবই নিকটবর্তী একটি দ্বীপ।
- সেন্টমার্টিন: বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ।
- ভোলা: ভোলা বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাচীন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ।

উৎস: জাতীয় তথ্যবাতায়ন। 

২,১৫৫.
টনের্ডোর চোঙের ব্যাস কত?
  1. ১০০-৫০০ গজ
  2. ৩০০-৫০০ গজ
  3. ৫০০-৬০০ গজ
  4. ২০০-৩০০ গজ
ব্যাখ্যা
টর্নেডো:
- টর্নেডো মূলত অতি দ্রুত আবর্তনশীল ক্ষুদ্র আকারের অথচ প্রলয়ঙ্কারী বজ্রঝড়।
- এটি চোঙ আকৃতির হয়ে থাকে এবং এই বজ্রঝড়ের মধ্যভাগে বায়ু অতিদ্রুত বেগে উপরে উঠতে থাকে।
- এই চোঙ যদি ভূমি স্পর্শ করে তখন ধ্বংসলীলা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। তবে চোঙ ভূমি স্পর্শ না করলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয় না।
- টর্নেডোর ব্যাস ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ১০০ থেকে ৫০০ গজ পর্যন্ত হয়।
- টর্নেডোর ভিতরে ও বাইরের বায়ু চাপের গড় পার্থক্য প্রায় ২ ইঞ্চি। তবে কখনো কখনো তা ৫ ইঞ্চি হয়ে যায়।

টর্নেডোর বৈশিষ্ট্য:
১. টর্নেডোতে প্রথমত আকস্মিকভাবে বায়ু চাপের হ্রাস ঘটে বলেই বড় বড় ইমারতে ফাটল ধরে।
২. বায়ুর আবর্তন হয় অত্যন্ত দ্রুতবেগে। ফলে বায়ুপ্রবাহের সম্মুখে প্রতি বর্গফুটে বায়ুচাপের পরিমাণ হয় ১৬০ থেকে ১০০০ পাউন্ড।
৩. টর্নেডোর উত্তোলন ক্ষমতা অনেক ভয়ঙ্কর। ভয়ঙ্কর বেগে টর্নেডোর বায়ু উপরের দিকে উত্থিত হয় এবং পথে যা পায় তাই তুলে নেয়।
৪. ভূমিতে টর্নেডোর রৈখিক গতিবেগ বিভিন্ন টর্নেডোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের হয়। যেমন- উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে আসে।
৫. টর্নেডোর গতিপথ অর্ধবৃত্তাকার হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো ডানদিকে আবর্তিত হয়।
৬. টর্নেডোর গতিবেগ ঘন্টায় ৫ হতে ৬৫ মাইল হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ মাইল হয়।
৭. পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডোপ্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া।
৮. সমুদ্রের উপর টর্নেডো সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে, মেক্সিকো উপসাগরে এবং চীন ও জাপানের উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৫৬.
জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝে কোন প্রণালী অবস্থিত?
  1. মালাক্কা প্রণালী
  2. ফরমোজা প্রণালী
  3. পক প্রণালী
  4. সুন্দা প্রণালী
ব্যাখ্যা
সুন্দা প্রণালী (Sunda Strait): 
- সুন্দা প্রণালী (Sunda Strait) হলো জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক চ্যানেল। 
- এটি জাভা সাগর (প্রশান্ত মহাসাগরের অংশ)কে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
- প্রস্থ: ১৬ থেকে ৭০ মাইল (২৬–১১০ কিমি)। 
- প্রণালীর মধ্যে রয়েছে কয়েকটি আগ্নেয় দ্বীপ, সবচেয়ে বিখ্যাত হলো ক্রাকাটোয়া।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে মিত্রবাহিনী ও জাপানি বাহিনীর মধ্যে একটি নৌ-সংঘর্ষ ঘটে এই প্রণালীতে। 
- এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যা ভারত মহাসাগরকে পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করে
- বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী। 
- সুন্দা প্রণালী শুধুমাত্র ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং ইতিহাস ও প্রকৃতির দিক থেকেও এটি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে।

উৎস: Britannica. 
২,১৫৭.
অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ পর্বতমালার নাম কী?
  1. কুইন মড পর্বতমালা
  2. এলসওয়ার্থ পর্বতমালা
  3. সেনটিনেল পর্বতমালা
  4. ট্রান্সঅ্যান্টার্কটিক পর্বতমালা
ব্যাখ্যা
এলসওয়ার্থ পর্বতমালা:
- অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ পর্বতমালা হলো এলসওয়ার্থ পর্বতমালা।
- এলসওয়ার্থ লম্বায় প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থে ৪৮ কিলোমিটার।
- ১৯৩৫ সালে পর্বতমালাটি আবিষ্কার করেন লিঙ্কন এল্সওয়ার্থ। পরবর্তী কালে তার নামানুসারে পরিচিত পায় এই পাহাড়।
- এই পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল ভিনসন ম্যাসিফ (Vinson Massif), যার উচ্চতা প্রায় ৪,৮৯২ মিটার.
- ভূবিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এল্সওয়ার্থ পর্বতমালায় সারা বছর গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের ৩০ ডিগ্রি নীচে।
- দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি বছরের এই তিন মাসের মধ্যে সেখানে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র- ব্রিটানিকা। [link]
২,১৫৮.
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে নিচের কোন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ক) কিয়োটো প্রটোকল
  2. খ) বাসেল কনভেনশন
  3. গ) অটোয়া চুক্তি
  4. ঘ) মন্ট্রিয়াল প্রটোকল
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্যে দায়ী গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর উদ্দেশ্যে ১৯৯৭ সালের ১১ ডিসেম্বর জাপানের কিয়োটো শহরে কিয়োটো প্রটোকল গৃহিত হয়।
• এর অংশীদার মোট ১৯২টি দেশ ও সংস্থা।
• ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এটি কার্যকর হয়। ২০১২ সালে এর মেয়াদ শেষ হলে দোহা অ্যামেন্ডমেন্টের মাধ্যমে এটির মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।

অন্যদিকে,
• বাসেল কনভেনশন হলো বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃরাষ্ট্রীয় চলাচল নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি।
• মন্ট্রিয়াল প্রটোকল হলো ওজোনস্তরের ক্ষয় সাধনকারী গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাস বিষয়ক প্রটোকল।
• অটোয়া চুক্তি হলো স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক চুক্তি।

তথ্যসূত্র:- UNFCCC ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
২,১৫৯.
বাংলাদেশের সবচেয়ে ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল হলো-
  1. ক) মধ্যাঞ্চল
  2. খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  3. গ) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  4. ঘ) পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের প্রবণতার ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলোঃ ১। মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ - উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা -৭) ২। মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ - মধ্যাঞ্চল (রিখতার স্কেলে তীব্রতা ৬) এবং ৩। কম ঝুঁকিপূর্ণ- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা-৫)।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই
২,১৬০.
বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো -
  1. কাঞ্চনজঙ্ঘা
  2. K2
  3. লোটসে
  4. অন্নপূর্ণা
ব্যাখ্যা
বিশ্বের শীর্ষ ১০টি পর্বত:
১. মাউন্ট এভারেস্ট:
- বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট নেপাল এবং তিব্বতের সীমান্তে হিমালয়ে অবস্থিত।
- এটির উচ্চতা ৮৮৪৮.৮৬ মিটার।

২. K2:
- পাকিস্তান ও চীনের সীমান্তে অবস্থিত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ K2।
- এর আরেক নাম Godwin-Austen।
- এটির উচ্চতা ৮৬১১ মিটার।

৩. কাঞ্চনজঙ্ঘা:
- নেপাল ও ভারতের সীমান্তে অবস্থিত কংচেনজঙ্ঘা।
- এটির উচ্চতা ৮৫৮৬ মিটার।

৪. লোটসে:
- নেপাল এবং তিব্বতের সীমান্তে অবস্থিত লোটসে।
- এটির উচ্চতা ৮৫১৬ মিটার।

5. মাকালু পর্বত:
- নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তে অবস্থিত মাকালু।
- এটির উচ্চতা ৮৪৮৫ মিটার।

6. চো ওয়ু:
- নেপাল এবং তিব্বতের সীমান্তে অবস্থিত চো ওয়ু ।
- এটির উচ্চতা ৮১৮৮ মিটার।

7. ধৌলাগিরি:
- নেপালে অবস্থিত ধৌলাগিরি।
- এটির উচ্চতা ৮১৬৭ মিটার।

৮. মানাসলু:
- নেপালে অবস্থিত মানাসলু।
- এটির উচ্চতা ৮১৬৩ মিটার।

9. নাঙ্গা পর্বত:
- পাকিস্তানে অবস্থিত নাঙ্গা পর্বত।
- এটির উচ্চতা ৮১২৬ মিটার।

10. অন্নপূর্ণা:
- নেপালে অবস্থিত অন্নপূর্ণা।
- এটির উচ্চতা ৮০৯১ মিটার।

উৎস: Worldatlas.
২,১৬১.
'বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি এন্ড একশান প্ল্যান' কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ক) ২০১২
  2. খ) ২০১৫
  3. গ) ২০০৯
  4. ঘ) ২০১৬
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি এন্ড একশান প্ল্যান (BCCSAP) ২০০৯ সালে প্রণীত হয়। 
বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি এন্ড একশান প্ল্যান (BCCSAP) জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি জাতীয় দলিল যেটিতে অভিযোজন এবং সংকট নিরসন উভয়টিরই বর্ণনা রয়েছে। 
স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘ মেয়াদে ছয়টি কৌশলগত ক্ষেত্র বর্ণনা করা হয়েছে:
- খাদ্য নিরাপত্তা,
- সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য; 
- বিশদ পরিসরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্থাপনা; 
- গবেষণা এবং জ্ঞান ব্যবস্থাপনা; 
- সংকট নিরসন ও স্বল্পমাত্রায় কার্বন নিঃসরণ এবং 
- সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গৃহীত ৪৪টি কর্মসূচীর ঘোষণা রয়েছে।
 
বাংলাদেশ সরকার ন্যাশনাল এডাপটেশন প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন ২০০৫, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান ২০০৯, এর ধারাবাহিকতায় নিজস্ব তহবিলে ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে। 
 
 
উৎস: nda.erd.gov.bd/, www.ais.gov.bd/
২,১৬২.
ভূতাত্ত্বিক গঠন অনুযায়ী বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে সবচেয়ে পুরাতন শিলা গঠন পাওয়া যায়?
  1. সিলেট
  2. দিনাজপুর
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. মধ্যভাগের উচ্চভূমি
ব্যাখ্যা

◉  ভূতাত্ত্বিক গঠন অনুযায়ী বাংলাদেশের দিনাজপুর অঞ্চলে সবচেয়ে পুরাতন শিলা গঠন পাওয়া যায়। 

ভূ-গাঠনিক রূপরেখা: 
- বাংলাদেশ দুটি প্রধান ভূ-গাঠনিক ইউনিটে বিভক্ত:
ক) উত্তর পশ্চিমের সুস্থিত প্রাক-ক্যামব্রীয় প্ল্যাটফর্ম ও
খ) দক্ষিণ-পূর্বের মহীখাতীয় অববাহিকা।
- হিঞ্জ অঞ্চল (Hinge zone) নামের একটি সংকীর্ণ উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম প্রবণ অঞ্চল নিয়ে গঠিত একটি তৃতীয় ইউনিট দেশের প্রায় মাঝ বরাবর উপরোক্ত দুটি ইউনিটকে বিভক্ত করে রেখেছে।

⇒ সুস্থিত প্রাক-ক্যামব্রীয় প্ল্যাটফর্ম রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
- প্রাক-ক্যামব্রীয় আগ্নেয় ও রূপান্তরজ ভিত্তিশিলার উপর সীমিত থেকে মাঝারি পুরুত্ববিশিষ্ট পাললিক শিলার আস্তর এর বৈশিষ্ট্য।
- আপেক্ষিক অর্থে এই ইউনিট ভূতাত্ত্বিকভাবে সুস্থিত এবং ভঙ্গিল বিচলনের (Fold movement) কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি। কিছু চ্যুতিবেষ্টিত গ্রস্ত-অববাহিকা প্রাক-ক্যামব্রীয় ভিত্তিশিলার আওতাভুক্ত অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়।
- এই সব অববাহিকা পার্মিয় যুগের (আজ থেকে ২৮৬-২৪৫ মিলিয়ন বছর আগে) কয়লাবাহী শিলার ইউনিট ধারণ করে।
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই সর্বাধিক প্রাচীন পাললিক শিলা।
- বাংলাদেশে প্রাক-ক্যামব্রীয় প্ল্যাটফর্ম দুভাগে বিভক্ত: খুবই অগভীর প্রাক-ক্যামব্রীয় ভিত্তিশিলা (১৩০ থেকে ১০০০ মিটার) বিশিষ্ট উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর অবতল (Rangpur saddle) এবং মাঝারি গভীরতা সম্পন্ন (১-৬ কিমি) দক্ষিণাঞ্চলীয় বগুড়া সোপান। বগুড়া সোপানে পাললিক স্তরসমূহ হিঞ্জ অঞ্চল পর্যন্ত খুব আলতোভাবে দক্ষিণ-পূর্ব বরাবর নতিশীল এবং এরপর হঠাৎ করে এই ঢাল ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রিতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে এবং পাললিক ইউনিটসমূহ অতল গভীরে নেমে দক্ষিণ-পূর্বে গভীর মহীখাতীয় অববাহিকার মধ্যে এসে পড়েছে।

⇒ দক্ষিণ-পূর্বের মহীখাতীয় অববাহিকার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ব্যাপক পুরুত্বের (অববাহিকার কেন্দ্রে সর্বাধিক প্রায় ২০ কিমি) ক্লাসটিক পাললিক শিলা (clastic sedimentary rock), যার অধিকাংশ বেলেপাথর ও টারশিয়ারী যুগের কর্দম শিলা।
- বৃহত্তর ঢাকা-ফরিদপুর-নোয়াখালী-সিলেট-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগর এর অন্তর্গত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,১৬৩.
ভূ-ত্বকের সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) সমৃদ্ধ স্তরটির অপর নাম-
  1. ক) সিমা স্তর
  2. খ) নিফে স্তর
  3. গ) সিয়াল স্তর
  4. ঘ) মোহবিচ্ছেদ স্তর
ব্যাখ্যা
মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) হওয়ায় এই স্তরকে সিয়াল স্তর (Sial) বলা হয়। অপরদিকে, মহাসাগরীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) হওয়ায় এই স্তরকে সিমা স্তর (Sima) নামে অভিহিত করা হয়। ভূ-কম্পন তরঙ্গ থেকে বুঝা যায় যে, কেন্দ্রমন্ডলের বাইরের অংশ অপেক্ষাকৃত তরলাকারে রয়েছে (২,২৭০ কি.মি. পুরু)। লোহা ও নিকেল সমৃদ্ধ এই মন্ডলের গাঠনিক উপাদানের মধ্যে পারদ ও সিসা উল্লেখযোগ্য। নিকেল (Ni) ও লোহার(Fe) প্রাধান্য থাকায় এই স্তরটির নিফে (Nife) স্তর নামে অভিহিত করা হয়। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরবিশে এসএসসি পোগ্রাম (উন্মুক্ত)।
২,১৬৪.
নিচের কোনটি পাললিক শিলা?
  1. ক) কোয়ার্টজাইট
  2. খ) ডলোরাইট
  3. গ) ব্যাসল্ট
  4. ঘ) বেলেপাথর
ব্যাখ্যা
- ভূত্বক গঠিনকারী উপাদানসমূহ শিলা নামে পরিচিত। গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার। যথাঃ
- আগ্নেয় শিলা
- পাললিক শিলা ও
- রূপান্তরিত শিলা।
- এদের মধ্যে পলি সঞ্চিত হয়ে গঠিত শিলা পাললিক শিলা নামে পরিচিত।
পাললিক শিলার মধ্যে রয়েছে:
- বেলেপাথর
- চুনাপাথর
- কাঁদাপাথর
- কয়লা
- কেওলিন
- শেল প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- ডলোরাইট : অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা
- ব্যাসল্ট : বহিঃজ আগ্নেয় শিলা
- কোয়ার্টজাইট : রূপান্তরিত শিলা।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,১৬৫.
মহাসাগরীয় ভূ-ত্বকের কি বলা হয়?
  1. ক) সিয়াল
  2. খ) সিমা
  3. গ) নিফে
  4. ঘ) সিলিকা
ব্যাখ্যা

মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) হওয়ায় এই স্তরকে সিয়াল স্তর (Sial) বলা হয়।
অপরদিকে,
মহাসাগরীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) হওয়ায় এই স্তরকে সিমা স্তর (Sima) নামে অভিহিত করা হয়।

ভূ-কম্পন তরঙ্গ থেকে বুঝা যায় যে, কেন্দ্রমন্ডলের বাইরের অংশ অপেক্ষাকৃত তরলাকারে রয়েছে (২,২৭০ কি.মি. পুরু)।
লোহা ও নিকেল সমৃদ্ধ এই মন্ডলের গাঠনিক উপাদানের মধ্যে পারদ ও সিসা উল্লেখযোগ্য। নিকেল (Ni) ও লোহার(Fe) প্রাধান্য থাকায় এই স্তরটির নিফে (Nife) স্তর নামে অভিহিত করা হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই।

২,১৬৬.
দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত নয় -
  1. ভেনেজুয়েলা
  2. ইকুয়েডর
  3. আর্জেন্টিনা
  4. কিউবা
ব্যাখ্যা
কিউবা হচ্ছে উত্তর আমেরিকার দেশ।

• দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ:
- দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশ ১২ টি দেশ নিয়ে গঠিত।
- দেশগুলো হচ্ছে - ব্রাজিল, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, পেরু, ভেনেজুয়েলা, চিলি, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, গায়ানা, সুরিনাম
- স্বাধীন দেশ - ১২ টি।
- জাতিসংঘভুক্ত দেশ  - ১২ টি
- আয়তনে বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- ব্রাজিল, গায়ানা এবং সুরিনাম ছাড়া সবকটিতেই স্প্যানিশ সরকারি ভাষা।
- ব্রাজিলের সরকারী ভাষা পর্তুগিজ 
 
তথ্যসূত্র: ওয়াল্ড এটলাস।
২,১৬৭.
পৃথিবীর বৃহত্তম খালের অবস্থান কোথায়?
  1. ক) ব্রিটেন
  2. খ) মিশর
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা

- চীনে অবস্থিত বেইজিং-হ্যাংজু গ্র্যান্ড ক্যানেল, যা গ্র্যান্ড ক্যানেল নামে পরিচিত। এটি বিশ্বের দীর্ঘতম কৃত্রিম নদী বা খালই নয়, এটি একটি পর্যটন কেন্দ্রও বটে।
- খালটি বেইজিং থেকে শুরু হয়েছে তিয়ানজিন এবং হেবেল, শানডং, জিয়াংসু এবং ঝেজিয়াং প্রদেশের মধ্য দিয়ে হ্যাংঝো শহরে যাওয়ার আগে, এটি ইয়াংজি এবং হলুদ নদীকে সংযুক্ত করেছে।
- ২০১৪ সালে, গ্র্যান্ড ক্যানেলটি বিশ্ব ঐতিহ্য সম্মেলনের সময় ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়েছিল।

উৎস: World Atlas
২,১৬৮.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা যায়?
  1. উপকূলীয় অঞ্চলে
  2. সিলেট অঞ্চলে
  3. যমুনা অববাহিকায়
  4. ঢাকা শহর অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বাভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৬৯.
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোকে পৃথককারী সীমান্তরেখা- 
  1. সনোরা লাইন
  2. ডুরান্ড লাইন
  3. ম্যাজিনো লাইন
  4. হিন্ডারবার্গ লাইন
ব্যাখ্যা

সনোরা লাইন:
- যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোকে পৃথককারী সীমান্তরেখা সনোরা লাইন।
- এটি মেক্সিকোর সনোরা প্রদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য থেকে পৃথক করেছে।
- ১৮৫৩ সালে এই সীমান্ত রেখা ভাগ করা হয়।

অন্যদিকে,
• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা:
- ওডারনিস লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- সিগফ্রিড লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- হিন্ডারবার্গ লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
- ম্যাজিনো লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।

উৎস: Britannica.

২,১৭০.
কোন শিলা মানুষের দৈনন্দিন কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. আগ্নেয়
  2. খনিজ
  3. রূপান্তরিত
  4. পাললিক
ব্যাখ্যা
• পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাই পাললিক শিলা। পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে সঞ্চিত হয়।
- পাললিক শিলা ভূ-ত্বকের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ। তবে মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের উন্মুক্ত অংশের প্রায় ৭৫ ভাগই পাললিক শিলায় গঠিত।
- স্তরীভূত, জীবাশ্ম বিশিষ্ট, অকেলাসিত, তরঙ্গচিহ্ন ও কোমলতা এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- পাললিক শিলা তিন প্রকার।
- মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পাললিক শিলা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭১.
দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. আর্কটিক সার্কেল
  2. গ্রীষ্মাংশ রেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা

• মকরক্রান্তি রেখা:
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

• কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

• আন্তর্জাতিক তারিখরেখা:
- ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত যা প্রশান্ত মহসাগরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসেবে স্থির করা হয়।

• নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে সমভাবে দুইভাগে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটি নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা নামে অভিহিত।
- এটি সর্ববৃহৎ অক্ষাংশ রেখা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৭২.
বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ কত?
  1. ক) ২৫%
  2. খ) ১৪%
  3. গ) ১৩%
  4. ঘ) ১৭%
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আয়তনের ১৭% এলাকা জুড়ে বনভূমি অবস্থিত। বন বিভাগ নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ ৭৬ হাজার হেক্টর যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭%। বর্তমানে দেশের মোট আয়তনের মোট ১৩.২৮% এলাকা বৃক্ষাচ্ছাদিত।
সূত্রঃ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইট
২,১৭৩.
নিচের কোনটি পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি?
  1. ক) ইন্দোচীন সমভূমি
  2. খ) মধ্য ইউরোপের সমভূমি
  3. গ) গাঙ্গেয় সমভূমি
  4. ঘ) পূর্ব আফ্রিকান সমভূমি
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি হলো মধ্য ইউরোপের সমভূমি।
- ইউরাল পর্বত থেকে শুরু করে পিনেরীজ পর্বতমালা এবং দক্ষিণে আপ্লস পর্বত থেকে উত্তরদিকে স্ক্যান্ডেনিভিয়া পর্যন্ত এই সমভূমি বিস্তৃত৷
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল এবং ব্রিটানিকা)
২,১৭৪.
'পৃথিবীর উৎপত্তি' সম্পর্কে ভূগোলের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. ভূমিরূপবিদ্যা
  2. জলবায়ুবিদ্যা
  3. মৃত্তিকা ভূগোল
  4. জীব ভূগোল
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক ভূগোল (Physical Geography):
- ভূগোলের যে শাখা পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বায়ুমন্ডল ও বারিমন্ডল প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কার্যরত বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।

⇒ প্রাকৃতিক ভুগোলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ নিম্নরূপ:

• ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology):
- ভূমিরূপবিদ্যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, নদ-নদীর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, খনিজ ও শিলা এবং পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে।

• জলবায়ুবিদ্যা (Climatology):
- এ শাখায় বায়ুর গঠন, উপাদান, বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে।

• সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography):
- পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সমুদ্র।
- এ শাখায় সাগর মহাসাগরের তলদেশের ভূমিরূপ, সমুদ্রস্রোত, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব, বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্র পথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

• মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography):
- মৃত্তিকা ভূগোল অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বন্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে।

• জীব ভূগোল (Bio-Geography):
- এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদের বন্টন নিয়ে আলোচনা করে।

• গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography):
- নীরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমন্ডলী, সৌরজগৎ, রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তথ্যসূত্র -' ভুগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৭৫.
৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং কর্কটক্রান্তি রেখা কোন জেলায় মিলিত হয়েছে?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. ফরিদপুর
  3. সিলেট
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা:
- ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা ও কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩°৫ উত্তর অক্ষরেখা) ছেদবিন্দু পড়েছে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়।
- কর্কটক্রান্তি এবং ৯০° দ্রাঘিমার ছেদবিন্দু ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার অবস্থিত।
- চারটি উত্তর দক্ষিণ রেখা এবং তিনটি পূর্ব পশ্চিম রেখা, সব মিলিয়ে ১২ জায়গায় ছেদ করেছে।
- ১২টি বিন্দুর ১০টি বিন্দুই পড়েছে সাগরে-মহাসাগরে, সেখানে কেউ যেতে পারে না।
- এর মধ্যে শুধু দুটি ছেদ বিন্দু পড়েছে স্থলভাগে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,১৭৬.
উত্তর আমেরিকাকে দক্ষিণ আমেরিকার সাথে যুক্ত করেছে?
  1. ক) বেরিং প্রণালী
  2. খ) পানামা যোজক
  3. গ) গ্রেট লেকস্
  4. ঘ) ফ্লোরিডা প্রণালী
ব্যাখ্যা
♦উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো - পানামা যোজক।

• পানামা খাল:
 - পানামা খালটির নির্মাণ কাজ ১৯০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়ে ১৯১৪ সালে শেষ হয়েছিল।
- ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত পানামা খালটি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- ১৯৭৯ সালের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা প্রজাতন্ত্রের যৌথ সংস্থা খালটির নিয়ন্ত্রণ করে।
-  ১৯৯৯ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র পানামার কাছে খালটি পুরোপুরি হস্তান্তর করে।
- খালটি উত্তর আমেরিকার দেশ পানামাতে অবস্থিত।
- আটালান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে আলাদা করেছে পানামা খাল।
- উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে যুক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
২,১৭৭.
নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালে শুরুতে কোন ধরণের বৃষ্টিপাত হয়? 
  1. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
  2. পরিচলন বৃষ্টিপাত
  3. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত
  4. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

- নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ:

- ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- বৃষ্টিপাতকে প্রধানত ৪টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- পরিচলন বৃষ্টিপাত
- শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
- ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত
- সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত

• পরিচলন বৃষ্টিপাত (Conventional Rainfall):
- ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়।
- এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে নিচে নেমে আসে। এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টিপাত।
- পরিচলন বৃষ্টিতে বায়ুর তাপ হ্রাস পেয়ে যখন অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয় তখন এ ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এসব এলাকার ঊর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে।
- নিরক্ষীয় এলাকায় স্থলভাগের থেকে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হয়।
- এই অঞ্চলে হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে।
- হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু যখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আসে তখন পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারা বছরই বিকেলে ও সন্ধ্যায় এ ধরনের বৃষ্টি হয়।
- নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।


২,১৭৮.
৪৯তম সমান্তরাল রেখা কোন দুটি দেশের মধ্যে প্রধান সীমান্ত হিসেবে পরিচিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
  2. যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো
  3. যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স
  4. উত্তর কোরিয়া- দক্ষিণ কোরিয়া
ব্যাখ্যা

৪৯তম সমান্তরাল রেখা (49th parallel north):
- ৪৯তম সমান্তরাল রেখা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যবর্তী সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
- এটি এই দুই দেশের মধ্যে একটি প্রধান আন্তর্জাতিক সীমানা রেখা, যা প্রায় মাইল বিস্তৃত এবং বিশ্বের দীর্ঘতম অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবেও পরিচিত।
- উত্তর গোলার্ধে পৃথিবীকে ঘিরে যে অনেকগুলো কাল্পনিক বৃত্ত আঁকা থাকে, ৪৯তম সমান্তরাল রেখা সেগুলোর মধ্যে একটি। নিরক্ষরেখা থেকে ৪৯ ডিগ্রি উত্তরে যে অক্ষাংশের রেখা আছে, তাকেই বলে ৪৯তম সমান্তরাল অক্ষ রেখা।
- এটি কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, আলবার্টা, সাসকাচোয়ান এবং ম্যানিটোবা প্রদেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, আইডাহো, মন্টানা, নর্থ ডাকোটা এবং মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সীমানা নির্ধারণ করে।
- ১৮১৮ সালের অ্যাংলো-আমেরিকান কনভেনশন এবং ১৮৪৬ সালের ওরেগন চুক্তির মাধ্যমে এই সীমানা নির্দিষ্ট করা হয়েছিল।

উৎস: Britannica.

২,১৭৯.
টারশিয়ারি যুগের অন্তর্ভুক্ত পাহাড় আছে কোন অঞ্চলে?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) রংপুর
  4. ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তভুর্ক্ত।

• ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:
১।টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
২।প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
৩।সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
• এ পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদম দ্বারা গঠিত।
• রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের অন্তভুর্ক্ত।
• এ পাহাড়সমূহ আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো: ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ খ) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
• আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
• এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
• দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
• প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তভুর্ক্ত।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
• এই অঞ্চলের মোট আয়তন ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।
• এ সমভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার।
• প্লাবন সমভূমি পলি দ্বারা গঠিত বলে এ অঞ্চলের মাটির উর্বরতা তুলনামূলকভাবে অন্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮০.
সোনাদিয়া দ্বীপ কেন বিখ্যাত?
  1. ক) মাছের প্রজনন ক্ষেত্র বলে
  2. খ) ঝড়ঝঞ্ঝা কবলিত এলাকা
  3. গ) জনমানবহীন এলাকা বলে
  4. ঘ) সামুদ্রিক মাছ শিকারের জন্য
ব্যাখ্যা

সোনাদিয়া দ্বীপটি মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত। 
- এ দ্বীপকে যাযাবর পাখিদের জন্য ভূ-স্বর্গ বলা যায়। দ্বীপের পশ্চিম দিকে বালুকাময় সমুদ্র সৈকত রয়েছে যেখানে ঝিনুক ও মুক্তা পাওয়া যায়।
- শুষ্ক মৌসুমে এখানে প্রচুর মাছ শুকানো হয় যা দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা হয়।
- সোনাদিয়ার প্যারাবন, চর, খাল ও মোহনা নানা প্রজাতির মাছ ও অমেরুদন্ডী প্রাণীর গুরুত্বপূর্ন আবাসস্থল। দ্বীপটির প্যারাবন সংলগ্ন খালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় যেমন-বাটা, কোরাল, তাইল্যা, দাতিনা, কাউন, পোয়া ইত্যাদি।
- এ দ্বীপ অতিথি পাখি এবং মাছ চাষের জন্য বিখ্যাত।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন

২,১৮১.
নিম্নের কোন নিয়ামকটি একটি অঞ্চলের বা দেশের জলবায়ু নির্ধারণ করে না?
  1. সমুদ্র স্রোত
  2. দ্রাঘিমারেখা
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. জলীয়বাষ্প
ব্যাখ্যা

দ্রাঘিমারেখা কোনো অঞ্চল বা দেশের জলবায়ু নির্ধারণ করে না।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক:
- যে সব উপাদান আবহাওয়া এবং জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন সাধন করে তাদেরকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।

⇒ জলবায়ুর নিয়ামক:
১. অক্ষাংশ:
- বায়ুমণ্ডলের তাদের উৎস সূর্য।
- অক্ষাংশ অনুযায়ী সর্যকিরণ কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তীর্যকভাবে পতিত হয়।
- নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে এবং দিন রাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে অধিক উষ্ণতা বিরাজ করে।

২. সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা:
- সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ভূপৃষ্ঠের উচ্চতাও জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
- ফলে উচ্চতার ভিত্তিতে বায়ুর তাপমাত্রায় পার্থক্য দেখা যায়।
- একই অক্ষাংশে অবস্থিত বিভিন্ন স্থানের উচ্চতানুযায়ী তাপমাত্রার তারতম্য হয়ে থাকে।

৩. জল ও স্থলভাগের অবস্থান:
- জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ স্থিতিশীল।
- তাই জল ও স্থলভাগের অবস্থানজনিত কারণে তাপের ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়।
- জলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের একটা অংশ বাষ্পীভবনে ব্যয় হয় কিন্তু স্থলভাগের ওপর পতিত সূর্য তাপের খুব একটা অপচয় হয় না।
- ফলে জলভাগের চেয়ে স্থলভাগ অপেক্ষাকৃত উষ্ণ থাকে।

৪. পাহাড়-পর্বতের অবস্থান:
- পাহাড়-পবর্তের অবস্থান জলবায়ুর ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
- পাহাড়-পর্বত কোনো স্থানের তাপ ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. বনভূমির অবস্থান:
- জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো বনভূমি।
- গভীর বনাঞ্চলে সূর্যকিরণ প্রবেশ করতে না পারায় স্থলভাগ উত্তপ্ত হয় না বলে জলবায়ু আর্দ্র থাকে।

৬. সমুদ্র থেকে দূরত্ব:
- সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চল সামুদ্রিক আবহাওয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- কারণ জলভাগ অপেক্ষা সস্থলভাগ দ্রুত উষ্ণ ও শীতল হয়।
- পক্ষান্তরে, সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয় অর্থাৎ গ্রীষ্মে অধিক গরম এবং শীতকালে ব্যাপক শীত পড়ে।

৭. সমুদ্র স্রোত:
- কোনো দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর সমুদ্র স্রোতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
 শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শীতল এবং উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উষ্ণ হয়।

৮. বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ুপ্রবাহ জলবায়ুকে বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।
 সমুদ্র হতে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় বৃষ্টিপাত হয় এবং উত্তাপ হ্রাস পায়।

৯. বৃষ্টিপাত:
- বৃষ্টিপাত আবহাওয়া ও জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- কোনো স্থানে বৃষ্টিপাত হলে সেখানে উত্তাপ হ্রাস পায়।
- কিন্তু বৃষ্টিপাত না হলে সেখানকার তাপমাত্রা উত্তপ্ত হয়ে যায়।

১০. ভূমির ঢাল:
- কোনো স্থানের জলবায়ুর ওপর ঢালের প্রভাব রয়েছে।
- যে ভূমির ঢাল সূর্যের দিকে থাকে তাতে সূর্যরশ্মি লম্বাভাবে পড়ে।
- ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হয়।
- আবার যে ভূমির ঢাল সূর্যের বিপরীতে থাকে, তাতে সূর্যরশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে। ফলে সে স্থান বেশি উত্তপ্ত হতে পারে না।

১১. জলীয়বাষ্প:
- জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের তাপ সংরক্ষণে সহায়তা করে।
- বেশি জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পৃথিবী থেকে তাপ বিকিরণে বাধার সৃষ্টি করে।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প বেশি পরিমাণে থাকলে তা দিনে খুব উষ্ণ ও রাতে খুব শীতল হতে পারে না।

১২. দিবাভাগের দৈর্ঘ্য:
- দিবাভাগে সূর্যের আলোতে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয় এবং রাতে তাপ বিকিরণ করে পৃথিবী শীতল হয়।
- দিন বড় হলে ভূপৃষ্ঠ বেশি উত্তপ্ত হয় এবং ছোট রাতে তাপ বিকিরণের পরিমাণ কম থাকায় বায়ুমণ্ডল ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হতে থাকে।

১৩. বায়ুর আর্দ্রতা:
- যে বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি, সে বায়ু জলবায়ুকে অধিক প্রভাবিত করতে পারে।
- ফলে উক্ত এলাকায় দিনে খুবই গরম পড়ে এবং রাতে খুবই শীত পড়ে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৮২.
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয় কোন জেলাকে?
  1. ক) নাটোর
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• বগুড়া জেলা:
- উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয় বগুড়া জেলাকে।
- সুলতান গিয়াস উদ্দিন বলবনের পুত্র সুলতান নাসির উদ্দিন বগড়াগণ ১২৭৯ থেকে ১২৮২ পর্যন্ত এ অঞ্চলের শাসক ছিলেন। তার নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম হয়েছে বগড়া বা বগুড়া।

- বগুড়া বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি  জেলা।
- বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বলা হয়।
- এটি শিল্পের শহর নামে পরিচিত।
- বগুড়া  জেলায় প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস রয়েছে।
- বগুড়া  জেলার মধ্যে বাঙ্গালী, করতোয়া, যমুনা ও নাগর নদী উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র: বগুড়া জেলার ওয়েবসাইট।

২,১৮৩.
আকস্মিক বন্যা বাংলাদেশের কোথায় দেখা যায়?
  1. রংপুর
  2. কুড়িগ্রাম
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

⇒ আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
২,১৮৪.
নিচের কোন দেশে স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই?
  1. লিবিয়া
  2. মোনাকো
  3. নাউরু
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নদীবিহীন দেশ:
- পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে যেগুলোর কোনো নদী নেই। অবশ্যই এগুলি বেশিরভাগই মরুভূমির দেশ, যেখানে বৃষ্টিপাত এবং জলের উৎস খুব কম, এবং কোনও বাস্তব নদী বা নদীর তল তৈরি করার জন্য পর্যাপ্ত জলপ্রবাহ নেই।

- স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই এমন দেশগুলি হলো:
- কমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি, কিরিবাতি, নাউরু, টোঙ্গা ও টুভালু।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
২,১৮৫.
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির প্রধান কারণ কি?
  1. ক) গাছপালা কমে যাওয়া
  2. খ) ভূ-পৃষ্ঠের কার্বনেট শিলার ভাঙন
  3. গ) যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি
  4. ঘ) ব্যাপক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
◉ বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির প্রধান কারণ - ব্যাপক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি।

বিশুদ্ধ বায়ুতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ শতকরা ০.০৩ ভাগ। তবে বায়ুর ৩.০ শতাংশ পর্যন্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড জীবের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু এর বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুতে থাকলে মানুষের শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। কোনো পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ শতকরা ২৫ শতাংশের বেশি হলে সেখানে মানুষসহ কোনো প্রাণির পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।

কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব:

- পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৬০০ কোটির অধিক লোকের বাস। এ হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ১২০ কোটি পাউন্ড কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুতে মিশে যাচ্ছে।

- জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে কলকারখানা ও গাড়ি ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়ে বছরে প্রায় ১৫০০ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুতে মিশে যাচ্ছে। এর ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্বের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

- জনসংখ্যা অধিকহারে বৃদ্ধির ফলে তাদের বাসস্থান, আসবাবপত্র তৈরি ও কৃষি জমি বাড়াতে ব্যাপকহারে বনাঞ্চল ধ্বংস করতে হচ্ছে। ফলে উদ্ভিদের পরিমাণ কমে
যাচ্ছে। এর ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

- বিজ্ঞানীদের এক হিসেবে জানা যায় ১৮৬০ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এ ১০০ বছরে পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ২৮৩ পি.পি.এম (প্রতি মিলিয়নে অংশ) থেকে ৩৩০ পি.পি.এম-এ বেড়ে যায়। এতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ে। গত ৪০ বছরে পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়াতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার আরও বিপদজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

- মানুষ তার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশন, এ্যারোসল ব্যবহার করে থাকে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এসমস্ত যন্ত্রের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এসমস্ত যন্ত্র থেকে CFC (ক্লোরো ফ্লরো কার্বন) গ্যাস নির্গত হয়, যা বায়ুমন্ডলের ওজোন (O3) স্তর ধ্বংসের সহায়ক।


সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮৬.
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপন্ন হয় কোন জেলায়?
  1. ক) ফরিদপুর
  2. খ) রংপুর
  3. গ) জামালপুর
  4. ঘ) শেরপুর
ব্যাখ্যা
২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ফরিদপুর জেলায় পাট উৎপন্ন হয়েছে ৮,৯১,৯৩৮ মেট্রিক টন। যা সারাদেশে সর্বোচ্চ।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় সবচেয়ে বেশী পাট উৎপন্ন হয়।
- বাংলাদেশে সাধারনত দুই প্রকার পাট চাষ করা হয় দেশি এবং তোষা পাট।

সোর্সঃ কৃষি বর্ষগ্রন্থ-২০২০।
২,১৮৭.
৯০ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং কর্কটক্রান্তি রেখা কোথায় মিলিত হয়েছে?
  1. ক) চুয়াডাঙ্গা
  2. খ) মানিকগঞ্জ
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। এই রেখা দুটি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামের ধোপাডাঙ্গা মৌজার একটি ফসলি ক্ষেতের উপর মিলিত হয়েছে। এই স্থানকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানমন্দির' নির্মাণ করতে যাচ্ছে। (সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ৩ জুলাই ২০১৯)
২,১৮৮.
অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি কোনটি?
  1. মাওনা লোয়া
  2. মাউন্ট ইরেবাস
  3. মাউন্ট এটনা
  4. মেরাপি
ব্যাখ্যা

অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ
- অ্যান্টার্কটিকা হলো পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ, যা দক্ষিণ মেরুর চারপাশে কেন্দ্রীভূতভাবে অবস্থিত।
- এর স্থলভাগ প্রায় সম্পূর্ণরূপে ৬,৫০০ ফুট (প্রায় ২,০০০ মিটার) পুরু বরফের চাদর দ্বারা আবৃত।
- মহাদেশটি দুইটি উপমহাদেশে বিভক্ত:
- পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা, যা মূলত উঁচু, বরফে ঢাকা মালভূমি নিয়ে গঠিত।
- এবং পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা, যা প্রধানত বরফে ঢাকা পাহাড়ি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত।

- অ্যান্টার্কটিকার ভূমির আয়তন প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন বর্গমাইল (১৪.২ মিলিয়ন বর্গকিমি)।
- এটি আটলান্টিক, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ অংশ দ্বারা ঘেরা।
- মহাদেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো মাউন্ট ইরেবাস। 
- এই মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হলো মাউন্ট ভিনসন।
- অ্যান্টার্কটিকায় কোনও দেশ নেই।
------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- মাওনা লোয়া (Mauna Loa), হাওয়াই: এটি বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
- মাউন্ট এটনা (Mount Etna), ইতালি: ইউরোপের সবচেয়ে সক্রিয় এবং উঁচু আগ্নেয়গিরি।
- মেরাপি (Merapi), ইন্দোনেশিয়া: এশিয়ার অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি

উৎস: Britannica. 

২,১৮৯.
পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ- 
  1. বৈকাল
  2. কাস্পিয়ান
  3. ডেড সী 
  4. মানস সরোবর
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ- বৈকাল।
-------------------------------------------
• বৈকাল হ্রদ:
- বৈকাল হ্রদ পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর হ্রদ হিসেবে পরিচিত।
- এছাড়াও, এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম হ্রদগুলোর মধ্যে একটি।
- এই হ্রদটি রাশিয়ায় অবস্থিত।
- এর গভীরতা প্রায় ১,৬৪২ মিটার। 

অন্যদিকে,
কাস্পিয়ান সাগর:
- কাস্পিয়ান সাগর- বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তঃমহাদেশীয় হ্রদ।
- সাগরের মতো দেখালেও এটি প্রকৃতপক্ষে একটি হ্রদ।
- আয়তনে এটি পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।

মানস সরোবর:
- মানস সরোবর তিব্বতে কৈলাশ পর্বতের কাছে অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ মিঠাপানির হ্রদ হিসেবে পরিচিত।
- মানস সরোবর বৌদ্ধ ও হিন্দুধর্মের অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।
- কৈলাশ পর্বতমালা থেকে প্রবাহিত জল এই সরোবরেই এসে পৌঁছায়।
- ব্রহ্মপুত্র নদও তিব্বতের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করে।

ডেড সি:
- ডেড সি বা মৃত সাগর ইসরায়েল ও জর্ডানের সীমান্তে অবস্থিত একটি স্থলবেষ্টিত লবণাক্ত হ্রদ। 
- এর পানি এত ঘন যে মানুষ এতে ভেসে থাকতে পারে।
- ডেড সিতে কোনো মাছ বা জলজ প্রাণী নেই।

২,১৯০.
টাইগ্রিস নদী কোথায় পতিত হয়েছে?
  1. ক) ভূমধ্য সাগরে
  2. খ) পারস্য উপসাগরে
  3. গ) আরব সাগরে
  4. ঘ) লোহিত সাগরে
ব্যাখ্যা
টাইগ্রিস নদীর আরেক নাম দজলা। পারস্য শব্দ ‘টিগরা’ থেকেই নাম হয়েছে টাইগ্রিস। তুরস্কের পাহাড় থেকে উত্পত্তি হয়ে নদীটি ইরাকে প্রবাহিত হয়েছে। প্রায় ১৯০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ নদী ইউফ্রেটিসের (ফোরাত নদী) সঙ্গে মিলে পারস্য উপসাগরে গিয়ে ঠেকেছে।
সূত্রঃ কালের কন্ঠ
২,১৯১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের অবস্থান কোথায়?
  1. গাজীপুর
  2. চট্টগ্রাম
  3. মাদারীপুর
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর।
- এটি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলা এবং ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা জুড়ে নির্মিত হচ্ছে যার আয়তন প্রায় ৩০ হাজার একর।
- এখানে প্রায় ১৫ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হবে।
- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বা বেজা এটি বাস্তবায়ন করছে।
(তথ্যসূত্রঃ বেজা ওয়েবসাইট এবং বনিকবার্তা)
২,১৯২.
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল কবে বাংলাদেশে আঘাত হানে?
  1. ক) ৯জুলাই
  2. খ) ৯অক্টোবর
  3. গ) ৮জুন
  4. ঘ) ৯ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
ঘূ্ণঝিড় বুলবুল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমা লে ৯ নভেম্বর ২০১৯ আঘাত হানে। এটির নামকরণ করে পাকিস্তান। এ ঘূর্ণিঝড়ের সময় মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
২,১৯৩.
নিচের কোনটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি?
  1. ক) লিপারি
  2. খ) স্ট্রম্বলি
  3. গ) ফুজিয়ামা
  4. ঘ) ভিসুভিয়াস
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয়গিরির শ্রেণিবিভাগ: 
- পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিসমূহকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। যেমন:
ক. সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano),
খ. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant Volcano) এবং
গ. মৃত আগ্নেয়গিরি (Extinct Volcano)।

ক. সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো সেই সব আগ্নেয়গিরি যেখান থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হয়।
- সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দুই ধরনের।
- যেমন- যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে অবিরত লাভা নির্গত হয় সেগুলো অবিরাম আগ্নেয়গিরি।
- অন্যদিকে যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর মাঝে মাঝে অগ্ন্যুৎপাত হয়, তাকে সবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে।
- যেমন: ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি।

খ. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি সমূহ থেকে বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময়ে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে।
⇒ যেমন : জাপানের ফুজিয়ামা।

গ. মৃত আগ্নেয়গিরিসমূহ থেকে পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে না।
- যেমন: পোপো আগ্নেয়গিরি।
- মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে বৃষ্টির পানি জমে হ্রদ সৃষ্টি হলে, তাকে আগ্নেয় হ্রদ (Vent) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৯৪.
নিম্নের কোনটি সাম্প্রতিককালের ভূ-প্রকৃতির অন্তর্গত?
  1. প্লাবন সমভূমি
  2. পাহাড়
  3. মরুভূমি
  4. সোপান
ব্যাখ্যা

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
 - টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- অসংখ্য ছোট-বড় নদী, বাংলাদেশের সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে।
- সমতলভূমির উপর দিয়ে এ নদীগুলো প্রবাহিত হওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়।
- বছরের পর বছর এভাবে বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
- এ সমভূমি বাংলাদেশের উত্তর অংশ থেকে উপকূলের দিকে ক্রমনিম্ন। 
- সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন-
(ক) রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
(খ)ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও সিলেটের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
(গ) ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।
(ঘ)নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
(ঙ) খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার কিয়দংশ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

২,১৯৫.
আটলান্টিক মহাসাগরকে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে যুক্ত করেছে-
  1. ক) ডেভিস প্রণালী
  2. খ) বেরিং প্রণালী
  3. গ) জিব্রাল্টার প্রণালী
  4. ঘ) পানামা খাল
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর গভীরতম খাল পানামা খাল। এটি আটলান্টিক এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে। এখানে উল্লেখ্য যে দুইটি স্থলভাগকে পৃথক করে প্রণালী এবং দুইটি সমুদ্রকে যুক্ত করে খাল।
সূত্র: Worldatlas
২,১৯৬.
নাসিরাবাদ কোন জেলার পূর্ব নাম?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) নরসিংদী
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
মোগল আমলে মোমেনশাহ নামে একজন সাধক ছিলেন, তাঁর নামেই মধ্যযুগে অঞ্চলটির নাম হয় মোমেনশাহী। ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ'র জন্য এ অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিলেন, সেই থেকেই নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি। নাসিরাবাদ নাম পরিবর্তন হয়ে ময়মনসিংহ হয় একটি ভুলের কারণে। বিশ টিন কেরোসিন বুক করা হয়েছিল বর্জনলাল এন্ড কোম্পানীর পক্ষ থেকে নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এই মাল চলে যায় রাজপুতনার নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এ নিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরবর্তীতে আরো কিছু বিভ্রান্তি ঘটায় রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ রাখা হয়। সেই থেকে নাসিরাবাদের পরিবর্তে ময়মনসিংহ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উৎসঃ ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
২,১৯৭.
নিচের কোন জেলার ভৌগলিক নাম 'সাগরকন্যা'?
  1. কক্সবাজার
  2. চট্টগ্রাম
  3. পটুয়াখালী
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা
সাগরকন্যা:

- পটুয়াখালী জেলাকে বলা হয় সাগরকন্যা।
- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি।
- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা।
- একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,১৯৮.
কোন রেখায় ভিয়েতনামকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছিলো?
  1. ১৭° উত্তর অক্ষরেখা
  2. ২৪° উত্তর অক্ষরেখা
  3. ৩৮° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
- উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম : ১৭° উত্তর অক্ষরেখা
- উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া : ৩৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা
- পাকিস্তান ও ভারত : ২৪° উত্তর অক্ষরেখা
- যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা : ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
২,১৯৯.
এশিয়া মহাদেশের আয়তনে ক্ষুদ্র দেশ কোনটি?
  1. ভুটান
  2. পূর্ব তিমুর
  3. ব্রুনাই
  4. মালদ্বীপ
ব্যাখ্যা
• এশিয়া (Asia):
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ এশিয়া।
- পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক তৃতীয়াংশের কাছাকাছি এশিয়া মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত।
- এর আয়তন ১৭,২২৬,২০০ বর্গ মাইল (৪৪,৬১৪,০০০ বর্গ কিমি)।
- মহাদেশটির উত্তরে উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগর ও আফ্রিকা মহাদেশ এবং পশ্চিমে ভূ-মধ্যসাগর ও ইউরোপ মহাদেশ অবস্থিত।
- এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের মাঝ বরাবর ইউরাল পর্বতমালা অবস্থিত।
- এর মধ্যে আয়তনে চীন বৃহত্তম এবং মালদ্বীপ ক্ষুদ্রতম।
- এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,২০০.
গ্রীষ্মের শেষে উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় যে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় -
  1. হারিকেন
  2. উইলি উইলি
  3. টাইফুন
  4. বাগুই
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মের শেষে উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় যে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় উইলি উইলি।

ঘূর্ণিঝড়:

- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone। এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে, যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ।
- বিজ্ঞানী হেনরি পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রথম এ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- যেমন- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন, ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন, ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই, অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলি, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগে বায়ু শান্ত, উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে।
- ঘূর্ণিঝড়ের পশ্চাৎভাগে পৌঁছানোর পর আবারও ঘন মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ সময় বায়ু অগ্রবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয়।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্য:
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয়।

উৎস: i) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।