বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ১৯ / ৭২ · ১,৮০১১,৯০০ / ৭,১৯১

১,৮০১.
SAARC Meteorological Research Centre বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে-
  1. ক) ঢাকা থেকে
  2. খ) কাঠমান্ডু থেকে
  3. গ) থিম্পু থেকে
  4. ঘ) নয়া দিল্লী থেকে
ব্যাখ্যা
ঢাকায় অবস্থিত সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ রয়েছে। এটি এখন নয়া দিল্লীতে অবস্থিত সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। সার্ক সচিবালয়ের উদ্যোগে ১৯৯৫ সালের ২ জানুয়ারি সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র (এসএমআরসি) প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালে ভারতের নয়া দিল্লীতে অবস্থিত সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের (এসডিএমসি) অন্তর্ভুক্ত হয়। উৎসঃ প্রথম আলো
১,৮০২.
'গুয়ানতানামো বে' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কানাডা
  2. খ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) কিউবা
  4. ঘ) হাইতি
ব্যাখ্যা
গুয়ানতানামো বে:
- গুয়ানতানামো বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কারাগার।
- ১৯০৩ সালে হাভানা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার নিকট থেকে এটি ইজারা নেয়।
- কারাগারটি ২০০২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূ-খণ্ডের বাইরে কিউবার দক্ষিণ-পূর্ব পাশে ক্যারিবীয় সাগরে এর অবস্থান।
- এই কারাগার বন্দীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত।
- ক্যাম্প সেভেন হলো কিউবায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ানতানামো বে কারাগারের একটি সুরক্ষিত ও গোপনীয় বন্দি শিবির।
- এই শিবিরে ৯/১১ হামলার সাথে জড়িত ও সিআইয়ের অন্যান্য শীর্ষ স্থানীয় অপরাধীদের আটকে রাখা হতো।
- যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিভাগ এই ক্যাম্পটি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

উৎস: Britannica.
১,৮০৩.
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য কতটি দিককে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৭টি 
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। ’আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ঝুঁকি বাড়বে।

- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা যাবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
- ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের পর এদেশের নদীর প্রবাহ অনেক কমে যাবে।

• ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে: 
যথা-
→ বন্যা,
→ ঝড়,
→ মরুকরণ,
→ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং
→ কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।

- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি হয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮০৪.
'অরুণাচল প্রদেশ' কোথায় অবস্থিত?
  1. উত্তর-পূর্ব ভারতে
  2. উত্তর-পশ্চিম ভারতে
  3. দক্ষিণ-পূর্ব ভারতে
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতে
ব্যাখ্যা
অরুণাচল প্রদেশ:
- অরুণাচল প্রদেশ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি অঙ্গরাজ্য।
- এর দক্ষিণে আসাম, পশ্চিমে ভুটান, উত্তর ও উত্তর-পূর্বে চীন, এবং পূর্বে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দেশসমূহ।
- অরুণাচল রাজ্যের রাজধানী: ইটানগর।
- এই রাজ্যের প্রধান নদী হল ব্রক্ষপু্ত্র যা অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং নামে পরিচিত।

উৎস: Britannica.
১,৮০৫.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?
  1. স্ট্রাটোমন্ডল
  2. মেসোমন্ডল
  3. ট্রপোমন্ডল
  4. তাপমন্ডল
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডলের স্তর বিন্যাস:
- বায়ুমন্ডল বিভিন্ন স্তরে স্তরে সজ্জিত।
- বায়ুমন্ডলের স্তরসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর থেকে উপরের দিকে ক্রমশ লঘু হয়।
- উলম্বভাবে (Vertically) বায়ুর তাপমাত্রার বিন্যাসের ভিত্তিতে বায়ুমন্ডলকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-


• ট্রপোমন্ডল: 
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন হওয়ায় এ স্তর জীবজগতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০৬.
যমুনার প্রধান উপনদী-
  1. ধরলা 
  2. শীতলক্ষা
  3. আড়িয়াল খাঁ 
  4. করতোয়া 
ব্যাখ্যা

- যমুনা নদীর প্রধান উপনদী -  করতোয়া ও আত্রাই।

অন্যদিকে,
- ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান উপনদী - ধরলা ও তিস্তা।
- ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান শাখানদী -  বংশী ও শীতলক্ষা
-  পদ্মা নদীর প্রধান শাখা নদী -  কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ।

উৎস: ভূগোল পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৮০৭.
দেশের কোন অঞ্চলে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক) উত্তরাঞ্চলে
  2. খ) পশ্চিমাঞ্চলে
  3. গ) পূর্বাঞ্চলে
  4. ঘ) দক্ষিণাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
দেশের পশ্চিমাঞ্চলে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়। পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে বৃষ্টিপাত ক্রমেই বেশি হয়ে থাকে। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
১,৮০৮.
পদ্মা ও মেঘনা একত্রে কোথায় মিলিত হয়েছে?
  1. ক) মাওয়া
  2. খ) চাঁদপুর
  3. গ) মুন্সীগঞ্জ
  4. ঘ) কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
মেঘনা: 
- আসামের বরাক নদী নাগা-মণিপুর অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলায় প্রবেশ করেছে। 
- উত্তরের শাখা সুরমা পশ্চিম দিকে সিলেট, ছাতক, সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। 
- আজমিরীগঞ্জের কাছে উত্তর সিলেটের সুরমা, দক্ষিণ সিলেটের কুশিয়ারা নদী এবং হবিগঞ্জের কালনী নদী একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। 
- পরে কালনী, সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত প্রবাহ কালনী নামে দক্ষিণে কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে। 
- মেঘনা ভৈরববাজারের দক্ষিণে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে এবং চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। 
- বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চল হচ্ছে ২৯,৭৮৫ বর্গকিলােমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮০৯.
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কোনটি?
  1. গাছপালা বৃদ্ধি পাওয়া
  2. জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া
  3. কল-কারখানা বৃদ্ধি পাওয়া
  4. খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তন হলো মানুষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্মকান্ডের ফলে বায়ুমন্ডলের গঠনগত পরিবর্তন যা নির্দিষ্ট সময়কালে জলবায়ুর উপাদানসমূহের পরিবর্তন ঘটায় এবং প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ভিন্নতা প্রদর্শন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে।
- বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব।
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে এবং বিখ্যাত শহরগুলোও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বাংলাদেশও এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদিও এই জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।
- এভাবে পৃথিবী উষ্ণায়নের ফলে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের মোট জনসমষ্টির প্রায় ২০ শতাংশ অধিবাসীর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে।
- গ্রীনহাউস প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামাজিক, প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নানা রকম অস্থিরতা তৈরি করবে। ফলে তৈরি হবে অর্থনৈতিক মন্দা ও খাদ্যাভাব যা উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের জনগণকে করে তুলবে শরনার্থী।
- উন্নত বিশ্বের অধিবাসীরা যখন আর্থ- সামাজিক উন্নতির শিখরে অবস্থান করবে তখন অনেক দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমষ্টি দারিদ্রসীমার নিচে মানবেতর জীবনযাপন করবে। উদাহরণসস্বরূপ বলা যায় একদিকে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে অপরদিকে অস্ট্রেলিয়ার মত দেশে শীতকাল পূর্বের তুলনায় বর্ষাসিক্ত হওয়ায় শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১০.
‘টাইফুন’ মূলত কোন অঞ্চলে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বোঝায়?
  1. আটলান্টিক মহাসাগরে
  2. উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে
  3. ভারত মহাসাগরে
  4. আর্কটিক মহাসাগরে
ব্যাখ্যা

টাইফুন:
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

⇒ ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone।
- এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ।
- বিজ্ঞানী হেনরি পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রথম এ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য,
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- যেমন- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন, ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন, ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই, অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলি, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: i) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
         ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮১১.
সূর্য তার নিজ কক্ষপথে কত দিনে একবার আবর্তন করে?
  1. প্রায় ২১
  2. প্রায় ২৫
  3. প্রায় ৩৮
  4. প্রায় ৬৫
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun):
- সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত মাঝারি আয়তনের নক্ষত্র সূর্য।
- পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১৩,০০০ কিলোমিটার এবং সূর্যের ব্যাস প্রায় ১৪,০০০০০ কিলোমিটার।
- সূর্যের আয়তন পৃথিবী অপেক্ষা প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড়।
- পৃথিবীর থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার।
- সূর্য তার নিজস্ব গ্যালাক্সির চর্তুদিকে বৃত্তাকার পথে ২০ কোটি বছরে একবার প্রদক্ষিণ করে এবং নিজ কক্ষপথে প্রায় ২৫ দিনে একবার আবর্তন করে।
- সূর্যের কেন্দ্রভাগে তাপমাত্রা ৮ মিলিয়ন থেকে ৪০ মিলিয়ন ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা প্রায় ৫,৭০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। যার দরুন ভূ-পৃষ্ঠে উদ্ভিদ ও প্রাণী বেঁচে থাকে।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১২.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া কোন দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন?
  1. বাংলাদেশ
  2. মালদ্বীপ
  3. কানাডা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: 
- বিশ্বের আবহাওয়া ও ঋতুগত ধরন দিন দিন অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কোনো ঋতুতেই এখন আর আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না। বৃষ্টির সময়ে অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, গরমের সময় ঠান্ডা হাওয়া, আর শীতকালে তপ্ত বাতাস—সব মিলিয়ে একটি এলোমেলো আবহাওয়া আজ বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

- বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, গ্রিনহাউস প্রভাব পৃথিবীর কিছু অঞ্চলের জন্য সুফল বয়ে আনবে। যেমন: কানাডা, রাশিয়া, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে লক্ষ লক্ষ একর জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষাবাদ ও বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠবে।
- কিন্তু এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে সমান সুফল আনবে না। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাবে পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠী। গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশসহ বহু দেশের উপকূলীয় এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সমুদ্র উপকূলবর্তী বহু বিখ্যাত শহর ও জনপদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮১৩.
নিচের কোন উক্তিটি সত্য নয়?
  1. আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা।
  2. আপদ এক ধরণের দুর্যোগ।
  3. ঘূর্ণিঝড় হলো একটি আপদ।
  4. আপদ জীবিকার ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করে।
ব্যাখ্যা
আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা,যা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে হতে পারে।
এর ফলে মানুষের জীবন ও জীবিকার মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
আপদ কোনো দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের সম্ভাব্য কারণ।
যেমন: বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভমিকম্প, নদী ভাঙ্গন, সুনামি ইত্যাদি হলো আপদ।
কিন্তু এই আপদগুলো যখন প্রাণহানি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস করে জীবন
ও জীবিকার অপূরণীয় ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করে তখনই তা দুর্যোগে পরিণত হয়। 

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১৪.
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ১০ কিলোমিটার
  2. ১৫ কিলোমিটার
  3. ১৮ কিলোমিটার
  4. ২৫ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত:
- 'সাগরকন্যা' নামে পরিচিত 'কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত'।
- ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সৈকত বিশিষ্ট কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকত।
- এটি বাংলাদেশের একমাত্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়।
- অবস্থান: পটুয়াখালী জেলা।
- পটুয়াখালী সদর থেকে দূরত্ব: ৭০ কিলোমিটার।
- নারিকেল কুঞ্জ নামে সমুদ্র সৈকতের পাশে দেড় শতাধিক একর নারিকেল বাগান রয়েছে। 

উৎস: পটুয়াখালী জেলার ওয়েবসাইট।

১,৮১৫.
বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার অর্ন্তভুক্ত কোনটি?
  1. নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
  2. দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা
  3. নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা
  4. বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন
ব্যাখ্যা
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার অর্ন্তভুক্ত - দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।

• বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Flood Control Measures)

• সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা (Easy engineering management):
-  নদীর দু'তীরে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর পানি উপচে পড়া বন্ধ করা।
-  দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা।
- রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।
- বন্যা প্রবল অঞ্চলে সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে 'আশ্রয়কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করা।
- শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া।

• সাধারণ ব্যবস্থাপনা (General management):
- সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা।
-  নদীর দু'তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা।
-  নদী-শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
-  বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন।
- পুকুর, নালা, বিল প্রভৃতি খনন করা এবং সেচের পানি সংরক্ষণ করা।
-  প্রতি বছর বন্যা মোকাবেলার জন্য সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

• শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা (Labour intensive and expensive engineering management):
-  ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ খনন করে পানির পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
-  সন্নিহিত স্থানে জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানিপ্রবাহকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভারত থেকে আসা পানিকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করা।
-  সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।
- নদী তীরকে স্থায়ী সুদৃঢ় কাঠামোর সাহায্যে সংরক্ষণ করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,৮১৬.
'অলিভিয়া' বন্দরটি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) কানাডা
  2. খ) জর্ডান
  3. গ) ইউক্রেন
  4. ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা
- 'অলিভিয়া' বন্দরটি ইউক্রেনের।
- রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশের 'বাংলার সমৃদ্ধি' জাহাজটি ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরে আটকা পড়েছিল।
- 'আকাবা' সমুদ্রবন্দর অবস্থিত জর্ডানে।
- 'এডেন' সমুদ্রবন্দর ইয়েমেনে অবস্থিত।
- গ্লাসগো সমুদ্র বন্দর অবস্থিত স্কটল্যান্ডে।
- মন্ট্রিল, কুইবেক, ভ্যাঙ্কুভার সমুদ্রবন্দর অবস্থিত কানাডায়।

উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস ও বিবিসি নিউজ।
১,৮১৭.
দর্শনা স্থলবন্দর সংলগ্ন ভারতীয় স্থলবন্দর-
  1. পেট্রাপোল
  2. কৃষ্ণনগর
  3. মোহাদিপুর
  4. ডাউকি
ব্যাখ্যা

- চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্থলবন্দর সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর স্থলবন্দর।
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর যশোর জেলার বেনাপোল সংলগ্ন ভারতীয় স্থলবন্দর পেট্রাপোল।
- সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর সংলগ্ন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি স্থলবন্দর।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের মোহাদিপুর স্থলবন্দর।

১,৮১৮.
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত কোনটি?
  1. প্রাইয়া দো ক্যাসিনো
  2. পাদ্রে আইল্যান্ড ন্যাশনাল সি-শোর
  3. নাইনটি মাইল বিচ
  4. কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
ব্যাখ্যা
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত:
- বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত হলো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।
- ইংরেজ ক্যাপ্টেন মি. হেরাম কক্স (Captain Hiram Coxs)-এর নামানুসারে এ জায়গার নামকরণ হয় কক্সবাজার।
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার বা ৭৫ মাইল।
- বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত এটি।
- এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ‘প্রাকৃতিক বালুর’ ও অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত বলা হয়। 
- সমুদ্রের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠা সংরক্ষিত বনভূমি সমৃদ্ধ ৯৬ কিলোমিটার পাহাড়ের সারি এখানকার অন্যতম বিরল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বলে বিবেচিত।
- সমুদ্র সৈকতের পথ ধরে ১০-১২ কিলোমিটার দক্ষিণে গেলে হিমছড়ি পিকনিক স্পট।
- এখানকার ঝর্ণা, ঝাউবন, পাহাড় আর বনানীর সৌন্দর্য্য চিত্তাকর্ষক। কক্সবাজারের সন্নিকটেই বৌদ্ধ তীর্থস্থান রামু।
- কক্সবাজারের উত্তর-পশ্চিমে সমুদ্র মাঝে রয়েছে মহেশখালী দ্বীপ।

অন্যদিকে,
- প্রাইয়া দো ক্যাসিনো: বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত এটি। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রসৈকত প্রাইয়া দো ক্যাসিনো। দৈর্ঘ্যে এটি প্রায় ১৫০ মাইলের বেশি। 
- নাইনটি মাইল বিচ: এটা বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত। এ সমুদ্রসৈকতের দৈর্ঘ্য ৯০ মাইল। সৈকতটি অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায়।
- পাদ্রে আইল্যান্ড ন্যাশনাল সি-শোর: যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত পাদ্রে আইল্যান্ড ন্যাশনাল সি-শোর। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণে এর অবস্থান। সৈকতের দৈর্ঘ্য ৭০ মাইল। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের চতুর্থ দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের স্বীকৃতি পেয়েছে পাদ্রে আইল্যান্ড। 

উৎস: i) প্রথম আলো
ii) BBC.
১,৮১৯.
ভারতের বিন্ধ্যা কোন ধরনের পর্বত?
  1. আগ্নেয়
  2. সঞ্চিত
  3. ভঙ্গিল
  4. চ্যুতি-স্তূপ
ব্যাখ্যা
চ্যুতি-স্তূপ পর্বত:
- ভূআলোড়নের সময় ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রসারণ এবং সংকোচনের সৃষ্টি হয়।
- এই প্রসারণ এবং সংকোচনের জন্য ভূত্বকে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
⇒ কালক্রমে এ ফাটল বরাবর ভূত্বক ক্রমে স্থানচ্যুত হয়। ভূগোলের ভাষায় একে চ্যুতি বলে।
- ভূত্বকের এ স্থানচ্যুতি কোথাও উপরের দিকে হয়, আবার কোথাও নিচের দিকে হয়।
- চ্যুতির ফলে উঁচু হওয়া অংশকে স্তূপ পর্বত বলে।

⇒ ভারতের বিন্ধ্যা ও সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, পাকিস্তানের লবণ পর্বত চ্যূতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২০.
ভূত্বকের রাসায়নিক দ্রব্যের দ্রবণের হার কোন অঞ্চলে বেশি সংঘটিত হয়?
  1. পাহাড়ী অঞ্চলে
  2. সমতলে
  3. চুনাপাথর অঞ্চলে
  4. মোহনায়
ব্যাখ্যা
দ্রবণ  (Solution) :
ভূ-ত্বকের রাসায়নিক দ্রব্যসমূহ নদীর পানির সাথে দ্রবীভূত হয়ে নদীর প্রস্তর খন্ডগুলোকে দ্রবীভূত করে।
ফলে প্রস্তর খন্ডসমূহ সহজে ক্ষয় হয়। এ জাতীয় ক্ষয় চুনাপাথর অঞ্চলে বেশি লক্ষ্য করা যায়।
উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এইচ.এস.সি।
১,৮২১.
দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন -
  1. ২১ মার্চ
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

• ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।

- একই দিন উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম রাত ও ছোট দিন।

• ২১ জুন উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও সবচেয়ে ছোট রাত।
- এদিন দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও সবচেয়ে বড় রাত।

• ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৮২২.
গ্রেট বেরিয়ার রিফ কোন দেশের অন্তর্গত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. কানাডা
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. নিউজিল্যান্ড
ব্যাখ্যা
গ্রেট বেরিয়ার রিফ:
- গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ও দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর।
- এটি ২৯০০ এর বেশি একক রিফের সমন্বয়ে গঠিত।
- রিফটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের উপকূল ঘেঁষা প্রশান্ত মহাসাগরের কোরাল সাগরে অবস্থিত।
- UNESCO এটিকে ১৯৮১ সালে বিশ্ব হেরিটেজ সাইটেও অন্তর্ভুক্ত করে।

⇒ প্রশান্ত মহাসাগর দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল থেকে উত্তরে আর্কটিক বৃত্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
- পশ্চিমে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ এবং পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে অবস্থিত।
- পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে।

উৎস: World Atlas.
১,৮২৩.
বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনটি?
  1. পানি উন্নয়ন বোর্ড
  2. ওয়াসা
  3. নদী গবেষণা কেন্দ্র
  4. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে
ব্যাখ্যা
FCDI প্রকল্প:
- FCDI: Flood Control, Drainage and Irrigation Projects 
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প হলো বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প। 
- উদ্দেশ্য: বন্যাপ্রবণ এলাকার ২০% ভূমিকে রক্ষা করা। 
- ১৯৬৪ সালে দেশজুড়ে ৫৮টি বন্যা প্রতিরোধ এবং নিষ্কাশন প্রকল্প সম্বলিত একটি মাস্টার প্ল্যান গৃহীত হয়েছিল।  
- FCDI এর প্রধান প্রধান কয়েকটি সেচ প্রকল্প হলো:
* গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট);
* ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প ;
* কর্ণফুলি বহুমুখী প্রকল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।
১,৮২৪.
বর্ষাকালে বাংলাদেশে কোন মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকে?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম
  2. উত্তর-পশ্চিম
  3. দক্ষিণ-পূর্ব
  4. উত্তর-পূর্ব
ব্যাখ্যা
বর্ষাকালে বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু:
- জুন মাসে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বৃষ্টিপাত-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বর্ষার আগমন হয়।
- এ ঋতুতে উষ্ণ ও জলীয়বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ পশ্চিম বানিজ্য বায়ু অত্যন্ত উত্তপ্ত ভারত মহাসাগরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপাসগরে পৌঁছে।
- এই উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু পরিচলন প্রক্রিয়ার সাহায্যে কিছুটা উর্ধ্বে উঠে আরও উত্তর ও উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হতে থাকে।
- এই আর্দ্র বায়ু মায়ানমার সীমান্তে আরাকান-ইয়োমা পর্বত, উত্তরে মেঘালয় মালভূমি এবং হিমালয় পর্বত গাত্রে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিক বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- দেশের পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশঃ হৃাস পেতে থাকে, যেমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯৮০ মিলিমিটার, ঢাকা ১৮৩০ মি.মি. এবং পাবনায় ১৫০০ মি.মি. (চৌধুরী, ১৯৯৫)।
- এ সময়ে পর্বতের পাদদেশে এবং উপকূলবর্তী এলাকায় সর্বাধিক বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়ে থাকে।
- উদাহরণস্বরূপ, কক্সবাজারে ৩৫৫৬ মি.মি. এবং সিলেটে ৩৯৮৮ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশের মোট বৃষ্টিপাতের পাঁচ ভাগের চারভাগ বৃষ্টিপাত বর্ষাকালে সংঘটিত হয়।
- এ সময়ে বায়ুর আর্দ্রতা শতকরা ৮০ ভাগের উর্ধ্বে থাকে।
- বর্ষাকলে প্রবাহিত দক্ষিণ পশ্চিম বাণিজ্য বায়ুর অপর নাম মৌসুমী বায়ু (South-West Trades)।
- মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এ সময়ে বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয় বলে এই সময়ের জলবায়ুকে মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ভূগোল ও সংখ্যাতাত্ত্বিক ভূগোল, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২৫.
'চুনাপাথর' কোন ধরণের শিলা?
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

পাললিক শিলা:
- পাললিক শিলা কথাটি এসেছে 'পলি' বা 'পলল' থেকে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ। 

⇒ পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
১। পাললিক শিলা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়;
২। পাললিক শিলায় জীবাশ্ম পাওয়া যায়;
৩। পাললিক শিলা স্ফটিকাকার নয়;
৪। পাললিকা শিলা হালকা, ভঙ্গুর ও তরঙ্গ বিশিষ্ট।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮২৬.
সমুদ্র সমতল হতে অতি উচ্চ বিস্তীর্ণ ভূমিকে বলা হয়-
  1. ক) সমভূমি
  2. খ) পর্বত
  3. গ) মালভূমি
  4. ঘ) চ্যুতি
ব্যাখ্যা

- পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তীর্ণ সমতলভূমিকে মালভূমি বলে।
- মালভূমির উচ্চতা শত মিটার থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমির উচ্চতা ৪,২৭০ থেকে ৫,১৯০ মিটার। যেমন: পামির মালভূমি।
- পামির মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮২৭.
শৈবাল সাগর কোথায় অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর
  2. উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর
  3. দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর
  4. উত্তর আটলান্টিক মহসাগর
ব্যাখ্যা
- শৈবাল সাগর বা সারগ্যাসো সাগর উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর একমাত্র সাগর যার কোন তীর নেই। শৈবাল সাগর চারপাশে চারটি সামুদ্রিক স্রোত দ্বারা বেষ্টিত। যার কারণে এর মধ্য প্রবাহহীন ও শান্ত।
- জীবৈচিত্র্যের দিক থেকে এই সাগর অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
- শৈবাল সাগরের মধ্যে শৈবালের আধিক্যের কারণে এটিকে পর্তুগিজরা সারগ্যাসো বা শৈবাল সাগর নামকরণ করে।
- এটির আয়তন প্রায় ৩৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার।
(তথ্যসূত্র: সারগ্যাসো কমিশন ওয়েবসাইট)
১,৮২৮.
নিচের কোনটি মহানন্দা নদীর উপনদী নয়?
  1. পুবর্ভবা
  2. হালদা
  3. ট্যাংগন
  4. নাগর
ব্যাখ্যা

'হালদা' মহানন্দা নদীর উপনদী নয়।

মহানন্দা:

- মহানন্দা নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দার্জিলিং জেলার নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বতে।
- এরপর জলপাইগুড়ি জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের সর্বত্র উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- এরপর বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করেছে।
- অত:পর ভারতের পূর্নিয়া ও মালদহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাপাইনবাবগঞ্জের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করে গোদাগাড়ির কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে।

• মহানন্দার উপনদী:
- পুবর্ভবা,
- নাগর,
- কুলিক,
- ট্যাংগন,
- পাগলা প্রভৃতি।

উল্লেখ্য,
- কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী 'হালদা'।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮২৯.
নিচের কোনটি ক্রান্তীয় পাতাঝরা বনভূমির বৃক্ষ?
  1. শাল
  2. কড়ই
  3. হিজল
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- চাপালিশ, ময়না, তেলসুর প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।
- গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায় না।

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- শাল, কড়ই, হিজল প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।
- গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায়।

স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- সুন্দরি, গরান, গেওয়া, ধুন্দল, কেওড়া প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।
- স্রোতময় মিঠা ও নোনা পানির সংযোগস্থলে জন্মে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩০.
এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ নদী কোনটি?
  1. ইয়াংসিকিয়াং
  2. গঙ্গা
  3. হোয়াংহো 
  4. সিন্ধু
ব্যাখ্যা

• ইয়াংজি/ ইয়াংসিকিয়াং নদী (Yangtze River):
- চীন এবং এশিয়ার দীর্ঘতম নদী এবং বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী। 
- দৈর্ঘ্য: ৩,৯১৫ মাইল (৬,৩০০ কিমি)।
- নদীর বেসিন প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি) পশ্চিম থেকে পূর্ব এবং ৬০০ মাইল (১,০০০ কিমি) উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- নদীটি তিব্বতের প্লেটোর উৎস থেকে বের হয়ে পূর্ব চীনা সাগরে পতিত হয়।
- নদী ১০টি চীনা প্রদেশ বা অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বা তাদের সীমান্ত হিসাবে কাজ করে।
- নদীর প্রায় ৭৫% পথ পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।

• প্রধান উপনদীসমূহ:
- বাম তীরে: ইয়ালুং, মিন, জিয়ালিং, হান নদী।
- ডান তীরে: উ, ইউয়ান, শিয়াং, গ্যান নদী।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

১,৮৩১.
তিস্তা নদী বাংলাদেশের কোন জেলা দিয়ে প্রবেশ করেছে?
  1. লালমনিরহাট
  2. ঠাকুরগাঁও
  3. দিনাজপুর
  4. নীলফামারী
ব্যাখ্যা

তিস্তা:
- ভারতের সিকিমের পাবর্ত্য অঞ্চলে তিস্তা নদী উৎপত্তি হয়েছে।
- এরপর অগ্রসর হয়ে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডিমলা দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- তিস্তা নদীর বর্তমান দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৭ কিলেমিটার এবং চওড়া ৩০০ থেকে ৫৫০ মিটার।
- এ নদীতে তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে। যা এ অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৩২.
কোন ধরনের ভূমিরূপের সাথে 'কাদা আগ্নেয়গিরি' যুক্ত?
  1. কার্স্ট ল্যান্ডফর্ম
  2. হিমবাহী ল্যান্ডফর্ম
  3. টেকটোনিক ল্যান্ডফর্ম
  4. স্ট্র্যাটোভোলকানো ল্যান্ডফর্ম
ব্যাখ্যা
কাদা আগ্নেয়গিরি:
- কাদা আগ্নেয়গিরি সাধারণত টেকটোনিক ল্যান্ডফর্ম বা পেট্রোলিয়াম সংগ্রহের জায়গাগুলির চারপাশে পাওয়া যায়।
- গর্তগুলি সাধারণত অগভীর হয় এবং মাঝে মাঝে কাদা ফুটতে থাকে।
-  এটিতে হাইড্রোকার্বন গ্যাসগুলি বিস্ফোরিত হয়।
-  সুপ্ত দাশগিল মাটির আগ্নেয়গিরি কাস্পিয়ান সাগরের পশ্চিম উপকূলের কাছে আজারবাইজানে অবস্থিত।

উৎস: ব্রিটানিকা ও Sciencedirect.com
১,৮৩৩.
বরেন্দ্রভূমি দেশের কোন অঞ্চলে বিস্তৃত?
  1. পশ্চিম-পূর্বাঞ্চলে
  2. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. উত্তর-পূর্বাঞ্চলে
  4. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
ব্যাখ্যা

বরেন্দ্রভূমি:
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এলাকায় বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত।
- প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।

• মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: 
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
- এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- মাটির রং লালচে ও ধূসর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৩৪.
তিস্তা নদীর উৎপত্তিস্থল- 
  1. সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল
  2. কৈলাস পর্বত, তিব্বত
  3. মানস সরোবর, তিব্বত
  4. গঙ্গোত্রী হিমবাহ, ভারত
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:
- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- তিস্তা নদীর উৎপত্তিস্থল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল হিমালয় পর্বতের দার্জিলিং-এর মহালদিরাম পাহাড়।
 
এছাড়াও,
বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল:
- হোয়াংহো: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ,
- মিসিসিপি: মিনোসোটার হ্রদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,
- দানিয়ুব: ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ,
- মারে ডার্লিং: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্রেলিয়া,
- তিস্তা: সিকিমের পর্বত অঞ্চল,
- আমাজান: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
         ii) Britannica.

১,৮৩৫.
নিচের কোন বিষয়টি প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের সাথে জড়িত?
  1. খরা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. নদী ভাঙন
  4. আগ্নেয়গিরির উদগীরণ
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত।
- এগুলোকে প্লেট বলা হয়।

⇒ এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে।
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়।
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে।
- কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে।

⇒ একটি প্লেটের সাথে আরেকটি প্লেট যেখানে মেশে সেখানেই বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে।
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়।
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়।
- এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে।
- একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে।
- একেই ভূমিকম্প বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৮৩৬.
বাংলাদেশের পূর্বে অবস্থিত নয় –
  1. ক) মেঘালয়
  2. খ) মিজোরাম
  3. গ) আসাম
  4. ঘ) ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য অবস্থিত। উত্তরে মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ এবং পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত। তবে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নয় এরূপ ভারতের মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল রাজ্য বাংলাদেশের পূর্বে অবস্থিত। (সূত্রঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং বাংলাপিডিয়া)
১,৮৩৭.
বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের সর্ব নিম্নভাগ হচ্ছে -
  1. হাইল হাওর
  2. হাকালুকি হাওর
  3. টাংঙ্গুয়া হাওর
  4. বুরবুক হাওর
ব্যাখ্যা
হাওড় অঞ্চল মূলতঃ সিলেটের উত্তর পূর্বাংশের পাহাড়ি অঞ্চল ব্যতীত পুরো এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
এই অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৪৫০৫.২০ বর্গ কি. মি.।
সসার আকৃতির নিম্নভূমি গত ২০০ বছরে প্রায় ৯ থেকে ১২ মিটার নিচে ডেবে গেছে।
হাওড় অঞ্চলটিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: মধ্যভাগ, সুসাং অঞ্চল, মেঘালয়, পাদভূমি অঞ্চল এবং সিলেটের মধ্যভাগের নিম্নভূমি।
মধ্যভাগের উচ্চতা সমুদ্র সমতলের কাছাকাছি।
এ অঞ্চলে বিল ও হাওড়ের বিন্যাস নদীর বিচ্ছিন্ন অংশ, প্রাকৃতিক বাঁধ, নিচু চর ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত।
উচু পাড়গুলিকে কান্দা বলে। সুসাং অঞ্চলে সুসাং পাদদেশিয় সমভূমি এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র  প্লাবন ভূমির মাঝখানে নিম্নভূমি আছে যা বন্যার সময় গভীর পানিতে মগ্ন হয়। মেঘালয় পাদভূমির অঞ্চলে রক্ষা নদী থেকে লুবা নদী পর্যন্ত নিম্নাঞ্চল ও হাওড় অঞ্চলের অন্তর্গত।
এখানে সর্বনিম্ন ভাগ হচ্ছে টাঙ্গুয়া হাওড় এলাকা। মধ্য সিলেটের হাওড় সমূহের মধ্যে হাকালুকি হাওড় অন্যতম।
জুরি ও কুশিয়ারা নদী বাহিত পলি দ্বারা এ হাওড় দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

উৎস: এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৮.
পেনাং কোন দেশের সমুদ্রবন্দর?
  1. ক) দক্ষিণ কোরিয়া
  2. খ) মালয়েশিয়া
  3. গ) ফিলিপাইন
  4. ঘ) সিঙ্গাপুর
ব্যাখ্যা
- পেনাং : মালয়েশিয়ার সমুদ্রবন্দর
- দাভাও, ম্যানিলা : ফিলিপাইনের সমুদ্রবন্দর
- বুশান : দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্রবন্দর
- পোর্ট অব সিঙ্গাপুর : সিঙ্গাপুরের সমুদ্রবন্দর।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
১,৮৩৯.
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বিরামপুর, দিনাজপুর
  2. খ) পার্বতীপুর, দিনাজপুর
  3. গ) চিরিরবন্দর, দিনাজপুর
  4. ঘ) নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ।
• বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি।
• এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত
• এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে।
• এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।  

তথ্যসূত্র:- পার্বতীপুর উপজেলা ওয়েবসাইট।
১,৮৪০.
ভৌগোলিকভাবে 'গুয়াম' বা 'মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ' কোথায় অবস্থিত?
  1. পলিনেশিয়া
  2. নিউজিল্যান্ড
  3. মিলেনেশিয়া
  4. মাইক্রোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোনেশিয়া:
- মাইক্রোনেশিয়া পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- মাইক্রোনেশিয়া বিভিন্ন দেশ এবং অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
- বৃহত্তম দ্বীপ গুয়াম মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত, যার পরিমাপ ৫৬১ বর্গ কিমি।
- গুয়াম মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত দ্বীপ যা গুয়াম এবং উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ উভয়ই নিয়ে গঠিত।
- মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে ক্যারোলিন দ্বীপপুঞ্জ রয়েছে, যেখানে মোট প্রায় ৫০০টি প্রবাল দ্বীপ রয়েছে।
- ক্যারোলিন দ্বীপপুঞ্জ দুটি দেশ, ফেডারেটেড স্টেটস অফ মাইক্রোনেশিয়া এবং পালাউ নিয়ে গঠিত।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১,৮৪১.
সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্র গ্রহের কতদিন সময় লাগে?
  1. ১৬৭ দিন
  2. ২২৫ দিন
  3. ২৮১ দিন
  4. ৩৬৫ দিন
ব্যাখ্যা

শুক্র:
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪২.
বিশ্বের বৃহত্তম গ্রীষ্মমন্ডলীয় রেইনফরেস্ট কোনটি?
  1. সুন্দরবন
  2. কঙ্গো রেইন ফরেস্ট
  3. আমাজান বন
  4. জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট
ব্যাখ্যা

আমাজান বন:
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্ট, যা প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন বর্গকিমি জুড়ে বিস্তৃত।
-  এটি দক্ষিণ আমেরিকার ৯টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত, যার মধ্যে ব্রাজিলে প্রায় ৬০% অংশ রয়েছে।
-  এখানে ৪০,০০০+ উদ্ভিদ, ১,৩০০+ পাখি, ৪০০+ স্তন্যপায়ী, এবং ৩৭৮ প্রজাতির উভচর প্রাণীর আবাস।
-  এটিকে "পৃথিবীর ফুসফুস" বলা হয়, কারণ এটি বিশাল পরিমাণে অক্সিজেন উৎপন্ন করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে।
-  বন উজাড়, কৃষিকাজ, খনি ও অবৈধ লোগিংয়ের কারণে আমাজান বন গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে।
- আমাজান বন বিশ্বের জলবায়ু ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণে।

উৎস: worldrainforests.com

১,৮৪৩.
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন কোনটি?
  1. আমাজন
  2. সুন্দরবন
  3. অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ ম্যানগ্রোভ
  4. কঙ্গো বন
ব্যাখ্যা

ম্যানগ্রোভ:
- ম্যানগ্রোভ হলো উপকূলীয় নোনা জল ও কর্দমাক্ত মাটিতে জন্মানো বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ, যা চরম প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে।
- শ্বাসমূল ও ঠেসমূলযুক্ত এই গাছগুলো উপকূলকে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি ও ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।
- গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপের সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি হয়েছে।
- সুন্দরবনের ৬২ শতাংশ বাংলাদেশে এবং বাকী অংশ ভারতে অবস্থিত।
- এ বনের গাছপালা লোনা পানি সহনশীল এবং বৃক্ষসমূহের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম।
- এ বনের মাটিতে অতিরিক্ত লবণ ও পচা জৈব পদার্থ থাকায় অক্সিজেনের অভাব ঘটে বলে গাছপালা শ্বাসমূল তৈরী করে।
- বৃক্ষসমূহ চিরহরিৎ।
- ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান প্রধান বৃক্ষ হলো: সুন্দরী, ধুন্দুল, গরান, বাইন, কেওড়া, পশুর, গোলপাতা, হেন্তাল ইত্যাদি।
- বন্যপ্রাণীসমূহের মধ্যে: রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর ইত্যাদি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) কৃষি শিক্ষা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪৪.
মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রকে বিভক্তকারী সীমারেখা কোনটি?
  1. ম্যাকমোহন লাইন
  2. ডুরান্ড লাইন
  3. সনোরা লাইন
  4. আলপাইন লাইন
ব্যাখ্যা
সনোরা লাইন:
- যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোকে পৃথককারী সীমান্তরেখা সনোরা লাইন।
- এটি মেক্সিকোর সনোরা রাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যকে আলাদা করে।
- ১৮৫৩ সালে এই সীমান্ত রেখা ভাগ করা হয়।
- সনোরা লাইন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

• গুরত্বপূর্ণ কিছু সীমারেখা:
- আলপাইন লাইন: ইতালি - ফ্রান্স।
- লাইন অব কন্ট্রোল: ভারত-পাকিস্তান।
- ম্যাকমোহন লাইন: ভারত ও চীন।
- কার্জন লাইন: পোল্যান্ড-রাশিয়া।
- ওডারনিস লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- ম্যাজিনো লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।

উৎস: Britannica.
১,৮৪৫.
এশিয়ার কোন দেশে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিদ্যমান?
  1. মঙ্গোলিয়া
  2. আফগানিস্তান
  3. ব্রুনাই
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ুঃ নিরক্ষরেখার আশেপাশের অঞ্চল সমূহে অত্যধিক আদ্রতার কারণে যে ভ্যাপসা গরম আবহাওয়া সারা বছর ধরে বিদ্যমান থাকে তাকে নিরক্ষীয় জলবায়ু বলে। পৃথিবীর মধ্যভাগে বিষুবরেখার আশেপাশে ৯৬৫ কি.মি এলাকা জুড়ে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল বিদ্যমান।
ল্যাটিন আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, আফিকা ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে এই ধরনের জলবায়ু বিদ্যমান। এশিয়ার কয়েকটি দেশ যেমন - মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় এই ধরনের জলবায়ু বিদ্যমান।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল প্রথম পত্র বই (উন্মুক্ত)
১,৮৪৬.
নিচের কোন জেলায় ক্রান্তীয়  চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি দেখা যায়?
  1. ময়মনসিংহ
  2. টাঙ্গাইল 
  3. রাঙামাটি 
  4. দিনাজপুর 
ব্যাখ্যা

• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি: 
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে। 
• এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।

উল্লেখ্য, 
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৮৪৭.
বাংলাদেশের কোন বিভাগের সবগুলো জেলা সীমান্তবর্তী?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রংপুর
  3. খুলনা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
সীমান্তবর্তী জেলা:
→ চট্টগ্রাম বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- চট্ট্রগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি।
→ খুলনা বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া।
→ রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট।
→ রংপুর বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম।
→ ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা।
→ সিলেট বিভাগের সবগুলো জেলাই সীমান্ত সংলগ্ন। জেলাগুলো হলো- সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।
 
তথ্যসূত্র: ডিএমপি নিউজ (সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০)।
১,৮৪৮.
হালদা নদীর উৎপত্তি কোন জেলায়?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

হালদা নদী:
- খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার বদনাতলী পর্বতশ্রেণী থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে হালদা নদী।
- এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উৎপত্তি লাভ করে বাংলাদেশের জলসীমায় সমাপ্তি ঘটেছে।
- হালদা নদী উৎপত্তি লাভ করার পর দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে কালুঘাটের নিকট কর্ণফুলী নদীতে মিলিত হয়েছে।
- কালুরঘাটের কাছে এটি কর্ণফুলী নদীতে এসে মিশেছে।
- এর মোট দৈর্ঘ্য ৮০.৪৫ কিমি। 
- হালদার প্রধান উপনদী ধুরুং খুবই খরস্রোতা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪৯.
কোন ধরনের বনাঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা প্রদান করে?
  1. উপকূলীয় বন
  2. পার্বত্য বন
  3. পত্রপতনশীল বন
  4. চিরহরিৎ বন
ব্যাখ্যা

• উপকূলীয় বন:
- অবস্থান: নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকা।
- পরিমাণ: এ বনের আয়তন ২ লক্ষ হেক্টর যা দেশের আয়তনের ১.৩৬%।
- উদ্ভিদ প্রজাতি: কেওড়া, ছৈলা, বাইন, গোলপাতা ইত্যাদি।প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনের মতো এ বন জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হয়।

- বন্যপ্রাণী: হরিণ, মেছোবাঘ, শিয়াল, বানর, বনবিড়াল, বালিহাঁস ইত্যাদি।
- মৎস্য সম্পদ: এ বন উপকূলীয় মৎস্য ভান্ডারেরও একটি বিরাট উৎস। ভিটকি, পারসে, গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি ইত্যাদি মাছ ও কাঁকড়া পাওয়া যায়।

- বাংলাদেশ বন বিভাগ উপকূলীয় চরাঞ্চলে সফল বনায়ন পদ্ধতির উদ্ভাবক।
- বন বিভাগ ষাটের দশক থেকে উপকূলীয় জেগে ওঠা চরে বনায়ন শুরু করেছে।
- উপকূলীয় চর বনায়ন প্রক্রিয়া বনজ সম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি উপকূলবাসীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা এবং সাগর থেকে ভূমি জেগে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে ।
- এই বনায়নের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর থেকে ১ হাজার ৬০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ভূমি দেশের মূল ভূ-খন্ডের সাথে যুক্ত হয়েছে।
- দেশের মজুদ কার্বন সংরক্ষণের লক্ষ্যে উপকূলবর্তী জেগে ওঠা চরে সৃজিত বনের ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৩৮৮.৮৫ একর সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ।

তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। 

১,৮৫০.
কোনটি স্থানীয় বায়ু?
  1. ক) মৌসুমী বায়ু
  2. খ) নিয়ত বায়ু
  3. গ) মেরু বায়ু
  4. ঘ) সায়মুম বায়ু
ব্যাখ্যা
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও তাপমাত্রার তারতম্যের ফলে সৃষ্ট বায়ু স্থানীয় বায়ু নামে পরিচিত।
স্থানীয় বায়ুসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সায়মুম : আরব মালভূমির স্থানীয় বায়ু
- খামসিন : মিশর
- চিনুক : রকি পর্বত
- সিরক্কো : উ. আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালি
- মিস্ট্রাল : ফ্রান্সের মালভূমি
- পাম্পেরু : আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে
- লু : ভারত প্রভৃতি।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৮৫১.
লোহিত সাগর কোন মহাসাগরের একটি অংশ?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর
ব্যাখ্যা
লোহিত সাগর:
- লোহিত সাগর (Red sea) ভারত মহাসাগরের একটি বিশেষ অংশ। 
- এশিয়া মহাদেশকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে লোহিত সাগর।
- লোহিত সাগর সৌদি আরব (এশিয়া) এবং মিশর (আফ্রিকা) কে পৃথক করেছে।
- এর দক্ষিণে বাব এল মান্দের প্রণালী। 
- লোহিত সাগরে জলে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া আছে, যা বাতাস থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে ট্রিকোডেসামিয়াম রিথ্রিয়াম নামে এক ধরনের অজৈব যৌগ গঠন করে।
- এর রং লাল হওয়ায় এই সাগরের জল লাল দেখায়।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে বিশ্বের ১২ শতাংশ পণ্যবাহী জাহাজ লোহিত সাগর ব্যবহার করে।
- দৈনিক গড়ে ৫০টি জাহাজ ব্যবহার করছে এই জলপথ।
-  ক্লার্কসন রিসার্চ সার্ভিস লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ডিসেম্বরের প্রথমার্ধের তুলনায় ৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
- নভেম্বর, ২০২৩ থেকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করছে।
- বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটটিতে হুতিদের হামলায় পণ্য পরিবহনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

উৎস: i) World Atlas.
         ii) ২১ জানুয়ারি, ২০২৪, কালের কন্ঠ। 
১,৮৫২.
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে পৃথক করেছে কোন নদী? 
  1. কর্ণফুলী নদী
  2. নাফ নদী
  3. শিবসা নদী
  4. হালদা নদী
ব্যাখ্যা

নাফ নদী:
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে পৃথক করেছে নাফ নদী।
- নাফ নদী কক্সবাজার জেলার সর্ব দক্ষিণ-পূর্ব কোণ দিয়ে প্রবাহিত প্রলম্বিত খাঁড়ি সদৃশ নাফ নদী মায়ানমারের আরাকান থেকে কক্সবাজার জেলাকে বিভক্ত করেছে।।
- কক্সবাজার জেলার দক্ষিণে এটি একটি বড় নদী।
- আরাকান ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমা ন্তের অন্যান্য পাহাড় থেকে উৎসারিত নাফ নদী বঙ্গোপসাগরে এসে পড়েছে।
- ১.৬১ কিমি থেকে ৩.২২ কিমি প্রস্থবিশিষ্ট এই নদী জোয়ারভাটা প্রবণ।
- বাংলাদেশের দক্ষিণতম উপজেলা টেকনাফ নাফ নদীর ডান তীরে অবস্থিত।
- মায়ানমারের আকিয়াব বন্দর নাফ নদীর বাম তীরে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৮৫৩.
Which Indian state is located north of Bangladesh?
  1. ক) Meghalaya
  2. খ) West Bengal
  3. গ) Tripura
  4. ঘ) Nagaland
ব্যাখ্যা

-- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলভাগ ভারত এবং মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে অবস্থিত  বঙ্গোপসাগর।
-- বাংলাদেশের পশ্চিমে ভারতের- পশ্চিমবঙ্গ।
--  বাংলাদেশের উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং আসাম ও মেঘালয় রাজ্য
-- পূর্বে আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৪.
আপালেশিয়ান পর্বত কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. উত্তর আমেরিকা
  2. ইউরোপ
  3. অ্যান্টার্কটিকা
  4. এশিয়া
ব্যাখ্যা
আপালেশিয়ান পর্বত:
- আপালেশিয়ান পর্বতমালা উত্তর আমেরিকার পূর্ব অংশে অবস্থিত।
- এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা জুড়ে বিস্তৃত।
- আপালেশিয়ান পর্বতের দৈর্ঘ্য প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি)।
- এটি অ্যালাবামা রাজ্য থেকে শুরু হয়ে নিউফাউন্ডল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে।
- আপালেশিয়ান পর্বত খুবই প্রাচীন, এবং এটি পৃথিবীর অন্যতম পুরনো পর্বত শ্রেণী।

উৎস: Britannica.
১,৮৫৫.
মিয়ানমারের কোন দুইটি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী?
  1. কাচিন ও রাখাইন
  2. রাখাইন ও শান
  3. রাখাইন ও চিন
  4. কাচিন ও কায়াহ
ব্যাখ্যা
মিয়ানমার:
- দেশটি বার্মা নামেও পরিচিত।
- রাজধানী: নেপিদো।
- মুদ্রা: কিয়াট।
- প্রধান ভাষা: বার্মিজ।
- বর্তমান প্রেসিডেন্ট: মিন্ট সোয়ে।
- সীমান্তরক্ষী বাহিনী: বর্ডার গার্ড পুলিশ (BGP)।
- মিয়ানমারের জাতীয় সংসদ দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট।

⇒ প্রশাসনিকভাবে, মিয়ানমার সাতটি রাজ্য, সাতটি অঞ্চল এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত (Nay Pyi Taw)। রাজ্যগুলো হল:
১. কাচিন রাজ্য- (রাজধানী: কাচিন)।
২. কায়াহ রাজ্য- (রাজধানী: লোপেইয়া)।
৩. কিন্টা রাজ্য- (রাজধানী: হেপি)।
৪. চিন রাজ্য- (রাজধানী: হাক্কা)।
৫. মোন রাজ্য- (রাজধানী: মারগু)।
৬. রাখাইন রাজ্য- (রাজধানী: সিতওয়ে)।
৭. শান রাজ্য- (রাজধানী: তালিঙ্গি)।

উল্লেখ্য,
- মিয়ানমারের দুইটি রাজ্য রাখাইন ও চিন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের ২৭১ বর্গকিলোমিটার-এর সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী ৩টি জেলা হলো রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার।

উৎস: Britannica.
১,৮৫৬.
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- বায়ুমণ্ডল এর প্রধান উপাদান দুটি- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যা ৭৮.০২%।
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় প্রধান উপাদান অক্সিজেনের পরিমাণ ২০.৭১%। 
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যা ০.০১%।
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%। 
- বায়ুমন্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ।
- এবং বাকি শতকরা ১.২৭ ভাগ অন্যান্য গ্যাস, জলীয়বাষ্প ও কণিকাসমূহ জায়গা জুড়ে আছে।
- ওজোন গ্যাসের স্তর সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৫৭.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের মোট কয়টি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে?
  1. ৪ টি 
  2. ৫ টি 
  3. ৬ টি 
  4. ৭ টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।

এগুলো হলো:
- পশ্চিমবঙ্গ
- আসাম
- মেঘালয়
- ত্রিপুরা এবং
- মিজোরাম৷
এর মধ্যে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম হলো সেভেন সিস্টার্সভুক্ত।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি জেলার যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,৮৫৮.
নিচের কোন নদীর উপর এখনো কোনো ব্রিজ নির্মিত হয়নি?
  1. আমাজন
  2. নীল নদ
  3. হোয়াংহো
  4. ইরাবতী
ব্যাখ্যা
• আমাজন নদী (Amazon River) পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘতম ও বৃহত্তম নদী, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,৩০০ মাইল (৬,৯২০ কিমি)। এত বিশাল দৈর্ঘ্য সত্ত্বেও, আশ্চর্যজনকভাবে, এই নদীর উপর একটিও স্থায়ী সেতু নেই।​

অন্যদিকে, 
- নীল নদ: এই নদীর উপর বহু সেতু রয়েছে, যেমন কায়রোর কাসর এল নীল ব্রিজ (Qasr El Nil Bridge) এবং ৬ অক্টোবর ব্রিজ (6th October Bridge)। ​Egypt Tours Plus+2Wikipedia+2Wikipedia+2
- হোয়াংহো (হলুদ নদী): চীনের এই নদীর উপরও বহু সেতু রয়েছে, যেমন জিনান হলুদ নদী ব্রিজ (Jinan Yellow River Bridge)। 
- ইরাবতী (আইয়ারওয়াদি) নদী: মিয়ানমারের এই প্রধান নদীর উপরও সেতু রয়েছে, যেমন ইয়াদানাবোন ব্রিজ (Yadanabon Bridge)।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা।
১,৮৫৯.
জলবায়ু পরিবর্তনের মানব সৃষ্ট কারণ কোনটি?
  1. ক) সামুদ্রিক স্রোত
  2. খ) আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. গ) ঘূর্ণিঝড়
  4. ঘ) খনিজ জ্বালানি ব্যবহার
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ: 

» প্রাকৃতিক কারণসমূহ: 
ক. মহাদেশীয় ড্রিফট
খ. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
গ. পৃথিবীর গতি পরিবর্তন
ঘ. সামুদ্রিক স্রোত
ঙ. ঘূর্ণিঝড়

» মানব সৃষ্ট কারণসমূহ: 
ক. কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি /কার্বন নিঃসরণ
খ. খনিজ জ্বালানি ব্যবহার
গ. বাতাসে নাইট্রাস অক্সাইড বৃদ্ধি
ঘ. পাহাড় নিধন
ঙ. বনভূমি উজাড়

উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
১,৮৬০.
নিম্নের কোন জেলায় পাদদেশীয় সমভূমি অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা
  2. ফরিদপুর
  3. দিনাজপুর
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি বাংলাদেশকে একটি উর্বর কৃষিপ্রধান দেশে পরিণত করেছে। 
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অসংখ্যা ছোট-বড় নদী সারা দেশে জালের ন্যায় ছড়িয়ে আছে।
- এসব নদী সমতল ভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় প্রতি বছর বন্যার সৃষ্টি হয়।
- এভাবে বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমি উত্তর দিক থেকে ক্রমশ ঢালু হয়ে দক্ষিণে প্রায় সমুদ্র সমতলে মিশেছে।
- দক্ষিণের সুন্দরবন অঞ্চল প্রায় সমুদ্র সমতলে অবস্থিত।
- সমুদ্র সমতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার, বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার, ময়মনসিংহের উচ্চতা ১৮ মিটার, নারায়নগঞ্জ ও যশোরের উচ্চতা ৮ মিটার।
- এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি।
- স্থানীয়ভাবে এসব জলাভূমি ও নিম্নভূমিকে বিল, ঝিল বা হাওড় বলে।
- রাজশাহীর চলনবিল, ঢাকার আড়িয়াল বিল, গোপালগঞ্জের বিল এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও শেরপুর জেলার বিল ও হাওড় অন্যতম।
- মেঘনা নদীর মোহনায় রয়েছে হাতিয়া ও সদ্বীপ।
- এছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে আরোও কিছু ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে।
- এসব দ্বীপের মাটি উর্বর এবং মানব বসতির উপযোগী। 

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
• পাদদেশীয় সমভূমি:
- হিমালয় পর্বত হতে বাহিত পলল দ্বারা গঠিত রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
• বন্যাপ্রবণ সমভূমি:
- ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট জেলার বন্যাপ্রবণ সমভূমি।
• স্রোতজ সমভূমি:
- খুলনা, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।
- এ অঞ্চলের নদীতে প্লাবন কম হয়, তবে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হয়।
• উপকূলীয় সমভূমি:
- নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
- এখানকার পতেঙ্গা সৈকত, কক্সবাজার সৈকত এবং টেকনাফ সৈকত পর্যটনের জন্য বিশেষ প্রসিদ্ধ।
• ব-দ্বীপ সমভূমি:
- ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৬১.
ITCZ-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Internal-tropical Convergence Zone
  2. Inter-tropical Convergence Zone
  3. Internal-tropical Convergencee Zone
  4. International-tropical Convergence Zone
ব্যাখ্যা
ITCZ:
- ITCZ-এর পূর্ণরূপ: Inter-tropical Convergence Zone.
- এটি হলো পৃথিবীর বিষুব রেখার কাছাকাছি একটি বিশেষ জলবায়ু অঞ্চলের নাম।
- এই অঞ্চলে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাতাস একে অপরের দিকে আসতে থাকে এবং এখানে সাধারণত শক্তিশালী বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাত হয়।

⇒ এর প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- বাতাসের সংঘর্ষ: উত্তর গোলার্ধের ট্রপিক্যাল বাতাস এবং দক্ষিণ গোলার্ধের ট্রপিক্যাল বাতাস এখানে একে অপরকে ঠেকিয়ে আসে। এই সংঘর্ষের ফলে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস উপরে উঠে যায় এবং এটি মেঘ সৃষ্টি করে, যা বৃষ্টি নিয়ে আসে।
- বৃষ্টিপাত: ITCZ এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, বিশেষত গ্রীষ্মকালীন সময়ে।
- ঋতুবর্তী পরিবর্তন: ITCZ-এর অবস্থান বছরের বিভিন্ন সময়ে বদলায়। গ্রীষ্মকালে এটি উত্তর দিকে চলে যায় এবং শীতকালে দক্ষিণ দিকে চলে আসে।
- এই অঞ্চলটি পৃথিবীর বেশ কিছু ট্রপিক্যাল এলাকায়, যেমন আফ্রিকা, এশিয়া, ও লাতিন আমেরিকাতে, বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে এবং এটি গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

উৎস: National Oceanic and Atmospheric Administration (.gov).
১,৮৬২.
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের স্থান কোনটি?
  1. ক) মনপুরা দ্বীপ
  2. খ) সেন্ট মার্টিনস
  3. গ) নিঝুম দ্বীপ
  4. ঘ) দুবলার চর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের:
- স্থান : ছেঁড়া দ্বীপ
- ইউনিয়ন : সেন্ট মার্টিনস
- উপজেলা : টেকনাফ
- জেলা : কক্সবাজার

সর্বউত্তরের:
- স্থান : জায়গীরজোত
- ইউনিয়ন : বাংলাবান্ধা
- উপজেলা : তেঁতুলিয়া
- জেলা : পঞ্চগড়।

সর্বপূর্বের:
- স্থান : আখাইনঠং
- ইউনিয়ন : তিন্দু
- উপজেলা : থানচি
- জেলা : বান্দরবান

সর্বপশ্চিমের:
- স্থান : মনাকষা
- ইউনিয়ন : মনাকষা
- উপজেলা : শিবগঞ্জ
- জেলা : চাপাইনবাবগঞ্জ।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
১,৮৬৩.
মানবসৃষ্ট আপদের উদাহরণ কোনটি?
  1. বজ্রঝড়
  2. নদী ভাঙ্গন
  3. টর্নেডো
  4. অগ্নিকান্ড 
ব্যাখ্যা

⇒ ‘আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
- প্রাকৃতিক আপদ: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি।
- মানবসৃষ্ট আপদ: ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
- কারিগরি আপদ: বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: i) ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।

১,৮৬৪.
নিচের কোনটি বাংলাদেশে আন্তঃসীমান্ত নদী?
  1. রায়মঙ্গল
  2. ঘোড়ামারা
  3. সোনাই
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আন্তঃসীমান্ত নদী (Trans-boundary Rivers):
- আন্তঃসীমান্ত নদী বলতে সাধারণত সেসমস্ত নদীকে বুঝায় যেগুলি অন্তত এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করে। 
- এই সীমা একটি দেশের অভ্যন্তরস্থ বা আন্তর্জাতিক হতে পারে। 
- বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী (Trans-boundary Rivers) রয়েছে। 
- নদী গুলো হল: রায়মঙ্গল, ইছামতী-কালিন্দী, বেতনা-কোদালিয়া, ভৈরব-কপোতাক্ষ, মাথাভাঙ্গা, গঙ্গা, পাগলা, আত্রাই, পুনর্ভবা, তেতুলিয়া, টাংগন, কুলিক বা কোকিল, নাগর, মহানন্দা, ডাহুক, করতোয়া, তালমা, ঘোড়ামারা, দিওনাই-যমুনেশ্বরী, বুড়িতিস্তা, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, জিঞ্জিরাম, চিল্লাখালি, ভোগাই, সোমেশ্বরী, দামালিয়া/যালুখালী, নয়াগাঙ, উমিয়াম, যাদুকাটা, ধলা, পিয়াইন, শারি-গোয়াইন, সুরমা, কুশিয়ারা, সোনাই-বারদল, জুরি, মনু, ধলাই, লংলা, খোয়াই, সুতাং, সোনাই, হাওড়া, বিজনী, সালদা, গোমতী, কাকরাই-ডাকাতিয়া, সিলোনিয়া, মুহুরী, ফেনী, কর্ণফুলি, নিতাই, সাংগু, মাতামুহুরী, এবং নাফ।
- বাংলাদেশ-ভারত আন্ত:সীমান্ত নদী হল ৫৪টি।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্ত:সীমান্ত নদী হল ৩টি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৮৬৫.
ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোন রেখাটি বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে?
  1. আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা
  2.  মূল মধ্যরেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা

- ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে গেছে।

• ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি:
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত।
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- এছাড়া বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।

১,৮৬৬.
সিএফসি গ্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) ক্লোরিন
  2. খ) কার্বন
  3. গ) ফ্লোরিন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
সিএফসি বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন হলো ওজনস্তররের ক্ষতি সাধনকারী কতগুলো গ্যাস। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- কার্বন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, মিথেন, ফ্রেয়ন ইত্যাদি। এদের মধ্যে ক্লোরিন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। (সূত্রঃ দ্য ওজনহোল ওয়েবসাইট)
১,৮৬৭.
কোথায় ভূমিকম্পের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  2. খ) উপকেন্দ্রে
  3. গ) মেরু অঞ্চলে
  4. ঘ) ভূ-পৃষ্ঠে
ব্যাখ্যা
• ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের ফলে আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলা হয়।
• ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বলা হয়। কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে। এই উপকেন্দ্রে ভূমিকম্পের তীব্রতা সর্বাধিক হয়ে থাকে।
• ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের সাধারণত ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে হয়ে থাকে।
• সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয়। তবে ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণয় করা হয় রিখটার স্কেলের সাহায্যে।

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল।
১,৮৬৮.
বায়ুর সমতলীয় চাপের পার্থক্যর প্রধান ফলাফল হলো- 
  1. বায়ুর আদ্রতা 
  2. বায়ু প্রবাহ
  3. আক্ষিক আদ্রতা 
  4. কুয়াশা 
ব্যাখ্যা

বায়ু প্রবাহ: 
- বায়ুপ্রবাহ হলো বায়ুর সমতলীয় চাপের পার্থক্য এর ফলাফল।

- বায়ু ও বাতাসের মধ্যে পার্থক্য আছে। চলমান বায়ু (Air) কে বাতাস (Wind) বলে। 
- ভূ-পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে বায়ু সবসময়ই একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
- ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরাল অর্থাৎ আনুভূমিকভাবে বায়ুর এ সঞ্চালনকে বলা হয় বায়ু প্রবাহ।

• বায়ু সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়-
- নিম্নচাপমন্ডলের উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু যখন উপরে উঠে যায় তখন বায়ুমন্ডলে চাপের অসমতা সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চ তাপমন্ডল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু সবর্দা নিম্নচাপমন্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- পৃথিবীর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে বায়ুর গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
- এ কারণেই বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। একে ফেরেলের সূত্র বলা হয়।

• বায়ুপ্রবাহের নিয়ামক:
- পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি না থাকলে উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে বায়ুর প্রবাহ সরল ও নিয়ত হত। বায়ুপ্রবাহের নিয়ামকগুলো নিম্নরূপ-
১. চাপের ক্রমাবনতি
২. কোরিওলিস প্রভাব
৩. কেন্দ্র বিমুখী বল
৪. ঘর্ষণ এবং
৫. মাধ্যাকর্ষণ শক্তি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, প্রোগ্রাম. উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৬৯.
আমেরিকা ও এশিয়াকে আলাদা করা প্রণালীর নাম কী?
  1. বেরিং প্রণালি
  2. মালাক্কা প্রণালি
  3. হরমুজ প্রণালি
  4. জিব্রাল্টার প্রণালি
ব্যাখ্যা

• পৃথককারী প্রণালি:
- বেরিং প্রণালি পৃথক করেছে আমেরিকাকে-এশিয়া থেকে।
- হরমুজ প্রণালি পৃথক করেছে- সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানকে।
- মালাক্কা প্রণালি পৃথক করেছে- সুমাত্র- মালয়েশিয়াকে।
- বসফরাস প্রণালি পৃথক করেছে- এশিয়া থেকে ইউরোপকে।
- জিব্রাল্টার প্রণালি ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- পক প্রণালি ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী একটি সামুদ্রিক প্রণালি।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা.

১,৮৭০.
আটলান্টিক ও উত্তর সাগরকে যুক্ত করেছে কোন প্রনালী?
  1. পানামা খাল
  2. পক প্রণালী
  3. বেরিং প্রণালী
  4. ডোভার প্রণালী
ব্যাখ্যা
ডোভার প্রণালী:

- ডোভার প্রণালী যুক্তরাজ্যকে ফ্রান্স থেকে পৃথক করেছে।
- এটি ইংলিশ চ্যানেল তথা আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে উত্তর সাগরকে যুক্ত করেছে। 
- প্রণালীটি ১৮ থেকে ২৫ মাইল (৩০ থেকে ৪০ কিমি) প্রশস্ত।
- এর গভীরতা ১২০ থেকে ১৮০ ফুট (৩৫ থেকে ৫৫ মিটার) পর্যন্ত। 
- ডোভার প্রণালীটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত সমুদ্রপ্রণালী।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১,৮৭১.
বাংলাদেশের জলবায়ু কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. তুন্দ্রা জলবায়ু
  2. নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু
  3. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
  4. নিরক্ষীয় জলবায়ু
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া:
- আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য।
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ।
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।
- বাংলাদেশের জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অত্যধিক হওয়ায় বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৭২.
বাংলাদেশের চিরযৌবনা নদী কোনটি?
  1. ক) পদ্মা
  2. খ) মেঘনা
  3. গ) যমুনা
  4. ঘ) কর্ণফুলি
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী:

- বাংলাদেশের চিরযৌবনা নদী মেঘনা।
- মেঘনা নদীতে সব সময় জোয়ার-ভাটা বহমান থাকায় তাকে চিরযৌবনা নদী বলা হয়।
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং প্রশস্ততম নদী মেঘনা।
- চাঁদপুরের পর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত মেঘনা ও পদ্মার মিলিত ধারার নাম মেঘনা।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনা নদীর নাম ছিল বরাক নদী।
- ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় মেঘনা বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়।
- মেঘনার শাখা নদী হল তিতাস ও ডকাতিয়া

তথ্যসূত্র - মাধ্যমিক ভূগোল, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,৮৭৩.
নিম্নের কোনটি বিষমমণ্ডল (Hydrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. স্ট্রাটোমণ্ডল
  3. তাপমন্ডল 
  4. মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

বায়ুমন্ডলের স্তরবিন্যাস ও বৈশিষ্ট্য: 
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
- যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল ।
- উল্লিখিত স্তরগুলোর প্রথম তিনটি সমমণ্ডল (Homosphere)।
- এবং পরবর্তী দুটি বিষমমণ্ডল (Hetrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।

• তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল বিষমমণ্ডল (Hydrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৭৪.
'চর কুকড়ি মুকড়ি' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. নোয়াখালী
  3. লক্ষ্মীপুর
  4. ভোলা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের চরসমূহ:
- নদীর মাঝে বা মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে জেগে উঠা ভূখণ্ড চর নামে পরিচিত।
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি।
- নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন: দুবলার চর, পাটনি চর।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,৮৭৫.
বাংলাদেশে কোথায় ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. ক) চন্দ্রনাথ পাহাড়ে
  2. খ) আলুটিলা পাহাড়ে
  3. গ) লালমাই পাহাড়ে
  4. ঘ) কুলাউড়া পাহাড়ে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার হারাগাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে।
উৎস: মৌলভীবাজার জেলার ওয়েবসাইট।
১,৮৭৬.
সমুদ্র সমতল থেকে কোন শীলাস্তুপ কমপক্ষে কত মিটার উচু হলে একে পর্বত বলা যাবে?
  1. ক) ৫০০
  2. খ) ৬০০
  3. গ) ৯০০
  4. ঘ) ১০০১
ব্যাখ্যা
সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উচু ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শীলাস্তুপকে পর্বত বলে।
সাধারণত ৬০০ - ১০০০ মিটার উচু, স্বল্পবিস্তৃত শীলাস্তুপকে পাহাড় বলে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৭৭.
নিচের কোন নদী মেঘনার শাখানদী?
  1. গোমতী
  2. ডাকাতিয়া
  3. তিতাস
  4. কাসনি
ব্যাখ্যা
মেঘনা (Meghna):
- ভারতের আসামের নাগা-মনিপুর পাহাড়ে বরাক নদী উৎপন্ন হয়ে সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- সুরমা, কুশিয়ারা ও কালনী নদী একত্র হয়ে কালনী নামে কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নামে পরিচিত হয়।
- মেঘনা নদী ভৈরববাজারের কাছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়।
- চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিশে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
- মেঘনার প্রধান উপনদী হলো মনু, বাউলাই, তিতাস, গোমতী ও কাসনি।
- মেঘনার শাখানদী জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া।
- মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৭৮.
বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা নির্ভর করে কোনটির উপর?
  1. বায়ুর চাপ
  2. বায়ুর ঘনত্ব
  3. বায়ুর আর্দ্রতা
  4. বায়ুর প্রকৃতি
ব্যাখ্যা
• বায়ুর আদ্রতা (Humidity):
- বায়ুতে জলায়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না।
- বায়ুর জলায়বাষ্প ধারণ করাকে তাই বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে।
- বায়ুর এই আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার দ্বারা পরিমাপ করা যায়।

উল্লেখ্য,
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার।
- যথা-পরম আর্দ্রতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
- নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপূক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাত আপেক্ষিক আর্দ্রতা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৭৯.
বাংলাদেশ নিচের বৈশ্বিক উষ্ণায়ণের কোন ঝুঁকিতে রয়েছে?
  1. বন্যা
  2. মরুকরণ
  3. ক ও খ 
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- এগুলো হলো: মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১২টি করে দেশের তালিকা:
• বন্যা:
- বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।

• ঝড়:
- ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।

• মরুকরণ:
- মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, শাদ, কেনিয়া, ইরান।

• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি:
- সব নিচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিসর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।

• কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা:
- সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৮০.
গ্রীন হাউস গ্যাসসমূহ নিঃসরণে নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত চুক্তি ''the Kyoto Protocol'' জাতিসংঘ কর্তৃক কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ক) ১৯৯৭ সালে
  2. খ) ১৯৯৮ সালে
  3. গ) ১৯৯৯ সালে
  4. ঘ) ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
• কিয়ােটো প্রটোকল:
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্যে দায়ী গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানাের উদ্দেশ্যে কিয়ােটো প্রটোকল গৃহীত হয়।
- এর অংশীদার মােট ১৯২টি দেশ ও সংস্থা।
- ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ১১ ডিসেম্বর জাপানের কিয়োটো শহরে এই চুক্তি প্রথম গৃহীত হয়।
- ওই সম্মেলনে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ ১৯২টি দেশের মধ্যে কানাডা, দক্ষিণ সুদান ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত ১৯১টি দেশ উপস্থিত ছিল।
- ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এটি কার্যকর হয়।
- বাংলাদেশ কিয়োটো প্রটোকল চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হয় ২০০১ সালের ২২ অক্টোবর এবং কার্যকর হয় ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি।

সূত্র: UNFCCC ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
১,৮৮১.
হাকালুকি হাওর কোন দুটি জেলায় অবস্থিত?
  1. মৌলভীবাজার ও সিলেট
  2. সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ
  3. সিলেট ও সুনামগঞ্জ
  4. হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

হাকালুকি হাওর:
- হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তর হাওর।
- এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ২৪°৩৫´-২৪°৪৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০১´-৯২°০৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত।
- হাওরের ৪০% বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত।
- হাকালুকি হাওরের বিশাল জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী এবং পানাই নদী।
- হাকালুকি হাওরে প্রায় ২৩৮টি বিল রয়েছে।
- জীববিজ্ঞানীদের মতে, হাকালুকি হাওরে ১৫০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, ১২০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ বিলুপ্ত প্রায়। 
- এখানে প্রতি বছর শীতকালে প্রায় ২০০ বিরল প্রজাতির অতিথি পাখির সমাগম ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১,৮৮২.
বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় কত বর্গকিলোমিটার?
  1. ৫,২০৯ বর্গ কিলোমিটার
  2. ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার
  3. ৭,৫৪৮ বর্গ কিলোমিটার
  4. ৮,৪৯২ বর্গ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

সুন্দরবন:
- সুন্দরবন  বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম জোয়ারধৌত গরান বনভূমি (mangrove forest)।
- কর্কটক্রান্তির সামান্য দক্ষিণে ভারত ও বাংলাদেশের উপকূল ধরে বিস্তৃত ২১°৩০´-২২°৩০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০০´-৮৯°৫৫´ পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যবর্তী স্থানে এ বনের অবস্থান।
- বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- নানা ধরনের গাছপালার চমৎকার সমারোহ ও বিন্যাস এবং বন্যপ্রাণীর অনন্য সমাবেশ এ বনভূমিকে চিহ্নিত করেছে এক অপরূপ প্রাকৃতিক নিদর্শন হিসেবে।
- অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের একটি উলে­খযোগ্য কেন্দ্র হিসেবেও এটি বিবেচিত; এখান থেকে সংগৃহীত হয় নানা কাজে ব্যবহার উপযোগী বনবৃক্ষ, আহরিত হয় প্রচুর পরিমাণ মধু, মোম ও মাছ।
- সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাট জেলার অংশবিশেষ জুড়ে বাংলাদেশের সুন্দরবন বিস্তৃত।
- পরস্পর সংযুক্ত প্রায় ৪০০ নদী-নালা, খালসহ প্রায় ২০০টি ছোট বড় দ্বীপ ছড়িয়ে আছে সুন্দরবনে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১,৮৮৩.
কোন খনিজ সম্পদকে ‘তরল সোনা’ বলা হয়?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. কয়লা
  3. পেট্রোলিয়াম
  4. কঠিন শিলা
ব্যাখ্যা

তরল সোনা:
- পেট্রোলিয়ামকে তার উচ্চ বাণিজ্যিক মূল্য এবং বহুমুখী ব্যবহারের কারণে 'তরল সোনা' বলা হয়।

• মাটির নিচে থেকে যে তরল জ্বালানি তোলা হয়, তাকে পেট্রোলিয়াম বলে।
- এই তরলের গুরুত্ব এতটাই যে, পেট্রোলিয়ামকে তরল সোনা আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
- এটি মূলত হাইড্রোকার্বন এবং অন্যান্য কিছু জৈব যৌগের মিশ্রণ।
- এদের মধ্যে কার্বন এবং হাইড্রোজেন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেলকে আংশিক পাতন পদ্ধতিতে পৃথক করা হয়।
- মাটির নিচে থেকে যে তরল জ্বালানি তোলা হয়, তাকে পেট্রোলিয়াম বলে। 

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৮৪.
দেশের কোন বনাঞ্চলকে 'ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি' বলা হয়?
  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল
  2. সুন্দরবন
  3. মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি
  4. বরেন্দ্র বনভূমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ:
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

⇒ ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

⇒ ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

⇒ স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৮৫.
কোন নদী মায়ানমারের আরাকান থেকে কক্সবাজার জেলাকে বিভক্ত করেছে?
  1. হালদা
  2. মাতামুহুরী
  3. সাঙ্গু
  4. নাফ
ব্যাখ্যা
নাফ নদী (Naf River):
- কক্সবাজার জেলার সর্ব দক্ষিণ-পূর্ব কোণ দিয়ে প্রবাহিত প্রলম্বিত খাঁড়ি সদৃশ নাফ নদী মায়ানমারের আরাকান থেকে কক্সবাজার জেলাকে বিভক্ত করেছে।
- কক্সবাজার জেলার দক্ষিণে এটি একটি বড় নদী।
- আরাকান ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের অন্যান্য পাহাড় থেকে উৎসারিত নাফ নদী বঙ্গোপসাগরে এসে পড়েছে।
- ১.৬১ কিমি থেকে ৩.২২ কিমি প্রস্থবিশিষ্ট এই নদী জোয়ারভাটা প্রবণ।
- নদী তীর সংলগ্ন জোয়ার-ভাটা প্রভাবিত উপকূলীয় সমভূমি (যেমন- কদমভূমি) ব্যাপকভাবে চিংড়ি চাষে ব্যবহূত হয়।
- বাংলাদেশের দক্ষিণতম উপজেলা টেকনাফ নাফ নদীর ডান তীরে অবস্থিত।
- মায়ানমারের আকিয়াব বন্দর নাফ নদীর বাম তীরে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৮৮৬.
উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিন -
  1. ২১ মার্চ
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
দিন-রাত্রি সমান:
- ২১ জুন উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে।

অন্যদিকে- 
- ২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে।
- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার (০°) উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১শে মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল থাকায় এই উত্তর গোলার্ধে বিষুব 'বাসন্ত বিষুব’ (Vernal Spring Equinox) নামে অভিহিত।
- অপরদিকে ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করায় উত্তর গোলার্ধে এই বিষুব ‘শারদ বিষুব' (Autumnal Equinox) নামে অভিহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৮৭.
ঢাকা শহর ও আমেরিকার টেক্সাস শহরের সময়ের পার্থক্য ১১ ঘণ্টা হলে, এই দুই স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য কত?
  1. ১৪৫° দ্রাঘিমা
  2. ১৬৫° দ্রাঘিমা
  3. ১৫৫° দ্রাঘিমা
  4. ১৭৫° দ্রাঘিমা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।

সমাধান:
আমরা জানি, ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য হলে দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে ১° ।
∴ ১১ ঘণ্টা (৬৬০ মিনিট) সময়ের পার্থক্য হলে দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে (৬৬০/৪)= ১৬৫° ।

অর্থাৎ ঢাকা শহর ও আমেরিকার টেক্সাস শহরের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৬৫°।

উত্তর: এই দুই স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৬৫° দ্রাঘিমা।
১,৮৮৮.
লিভিংস্টোন জলপ্রপাত কোন দেশে অবস্থিত?
  1. সুইজারল্যান্ড
  2. ভেনিজুয়েলা
  3. কঙ্গো
  4. জিম্বাবুয়ে
ব্যাখ্যা

লিভিংস্টোন জলপ্রপাত:
- লিভিংস্টোন জলপ্রপাত গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত।
- এটি কঙ্গো নদীর একটি বিশাল জলপ্রপাতের ধারা যা কঙ্গোর কিনশাসা এবং মাটাডি শহরের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি কঙ্গো নদীর নিম্ন প্রবাহে অবস্থিত।
- এই জলপ্রপাতটি ৩৫০ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে ৩২টি ছোট-বড় জলপ্রপাত এবং র‌্যাপিডের সমন্বয়ে গঠিত।

এছাড়াও, স্ট্যানলি জলপ্রপাত:
- স্ট্যানলি জলপ্রপাত কঙ্গোতে অবস্থিত।
- স্ট্যানলি জলপ্রপাত ২০০ ফুট উচ্চতা থেকে পতিত হয় ।
- এটি বর্তমানে বোয়ামা নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- স্টবাক জলপ্রপাত: সুইজারল্যান্ড।
- অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত: ভেনিজুয়েলা।
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত: জিম্বাবুয়ে।

উৎস: Britannica.

১,৮৮৯.
ক্রান্তীয় অঞ্চলের এক বৃহৎ অংশে তৃণভূমি ও তার মধ্যে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত গাছ দেখা যায়। এই ধরনের তৃণভূমিকে বলে-
  1. ক) প্রেইরি তৃণভূমি
  2. খ) স্টেপ তৃণভূমি
  3. গ) সাভানা তৃণভূমি
  4. ঘ) পম্পাস তৃণভূমি
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় অঞ্চলের এক বৃহৎ অংশে তৃণভূমি ও তার মধ্যে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত গাছ দেখা যায়। এই ধরনের তৃণভূমিকে সাভানা তৃণভূমি বলে। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
১,৮৯০.
কোনটি গোলাপি শহর নামে পরিচিত?
  1. লক্ষ্ণৌ
  2. যোধপুর
  3. আহমেদাবাদ
  4. জয়পুর
ব্যাখ্যা
জয়পুর: 
- জয়পুর ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।
- ১৮৭৬ সালে প্রিন্স অফ ওয়েলসকে শহরে স্বাগত জানাতে মহারাজা রাম সিং শহরটিকে গোলাপী রঙে সাজিয়ে তুলেছিলেন। 
- লর্ড অ্যালবার্ট প্রথমবারের মতো ‘pink city’ নামটি ব্যবহার করেন
- এইভাবেই শহরের আরেক নাম পিংক সিটি বা গোলাপী শহর নামে পরিচিত হয়।

উৎস: রাজস্থানের ট্যুরিজমের ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]
১,৮৯১.
বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ-
  1. ক) সমভূমি
  2. খ) উচ্চভূমি
  3. গ) মালভূমি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্থায়ী বসবাসের জন্য সমভূমিই আদর্শ। বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। বাংলাদেশে সামান্য পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে।
১,৮৯২.
ঘূর্ণিঝড় হারিকেন পরিমাপের স্কেলের নাম কী?
  1. রিখটার স্কেল
  2. বিউফোর্ট স্কেল
  3. স্যাফির-সিম্পসন স্কেল
  4. মোহস স্কেল
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড় হারিকেন:
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বেগে প্রবাহিত হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।

​⇒ ঘূর্ণিঝড় হারিকেন পরিমাপের স্কেলের নাম স্যাফির-সিম্পসন স্কেল।
- সাফির -সিম্পসন হারিকেন উইন্ড স্কেল হল ১ থেকে ৫ রেটিং বা বিভাগ, হারিকেনের সর্বাধিক স্থায়ী বাতাসের উপর ভিত্তি করে।
- ক্যাটাগরি যত বেশি, হারিকেনের সম্পত্তির ক্ষতির সম্ভাবনা তত বেশি।

​অন্যদিকে,
​- রিখটার স্কেল ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
​- বিউফোর্ট স্কেল বাতাসের গতিবেগ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।
​- মোহস স্কেল খনিজ পদার্থের কঠোরতা পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) NOAA ওয়েবসাইট।

১,৮৯৩.
“পৃথিবীর ফুসফুস” বলা হয় কাকে?
  1. কঙ্গো রেইনফরেস্ট
  2. আমাজন রেইনফরেস্ট
  3. কিনাবালু ন্যাশনাল পার্ক
  4. সিনহারাজা ফরেস্ট রিজার্ভ
ব্যাখ্যা
আমাজন রেইনফরেস্ট:
- আমাজন রেইনফরেস্ট বিশ্বের সবচেয়ে বড় বনের নাম।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ৯ টি দেশজুড়ে এর অবস্থান।
- আমাজনের বেশিরভাগ অংশ রয়েছে - ব্রাজিলে (৬৪%)।
- আমাজন ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা নামে নয়টি দেশে বিস্তৃত।
- আমাজন রেইনফরেস্ট পৃথিবীর ২০% অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- আমাজন রেইনফরেস্টকে “পৃথিবীর ফুসফুস” বলা হয়।
- আমাজন নদী নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।

উল্লেখ্য, 
- কঙ্গো রেইনফরেস্ট: কঙ্গো রেইনফরেস্ট পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইনফরেস্ট। এটি পৃথিবীর ‘দ্বিতীয় ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত।
- কিনাবালু ন্যাশনাল পার্ক: মালয়েশিয়ায় অবস্থিত কিনাবালু ন্যাশনাল পার্ক ২০০০ সালে ইউনেসকো দ্বারা ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- সিনহারাজা ফরেস্ট রিজার্ভ: শ্রীলঙ্কার সিনহারাজা ফরেস্ট রিজার্ভ ১৯৭৮ সালে ইউনেসকো দ্বারা অভয়ারণ্য এবং ১৯৯৮ সালে জীববৈচিত্র্য হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১,৮৯৪.
নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয় সেই মিলিত স্থানকে কী বলে?
  1. ক) নদীর মোহনা
  2. খ) দোয়াব অঞ্চল
  3. গ) নদী উপত্যকা
  4. ঘ) নদীসঙ্গম
ব্যাখ্যা
নদী সম্পর্কিত বিভিন্ন পারিভাষিক শব্দ ও সংজ্ঞা - 

নদীর মোহনা
নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয় সেই মিলিত স্থানকে নদীর মোহনা বলে।

দোয়াব অঞ্চল
দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে দোয়াব অঞ্চল বলে।

উপনদী
বিভিন্ন উৎস হতে যখন ছোট ছোট নদী উৎপত্তি লাভ করে কোনো বড় নদীতে মিলিত হয় তখন এ ছোট নদীগুলোকে সে বড় নদীর উপনদী বলে। যেমন - যমুনার উপনদী করতোয়া, তিস্তা এবং মেঘনার উপনদী সুরমা ও কুশিয়ারা।

নদীসঙ্গম
পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদীগুলো নিজ নিজ পথে প্রবাহিত হয়। এক সময় ঐ নদীগুলো একটি অপরটির সাথে মিলিত হয়। ফলে মিলিত স্রোতধারা ক্রমশ অধিকতর বড় হয়। এভাবে দুই বা ততোধিক নদীর মিলন স্থলকে নদীসঙ্গম বলে।

নদী উপত্যকা
নদীর উৎস হতে মোহনা পর্যন্ত গতিপথে যে স্থানের মধ্য দিয়ে পানিরাশি প্রবাহিত হয় সেই খাতকে উক্ত নদীর উপত্যকা বলে।

নদীগর্ভ বা নদীতট
নদী উপত্যকার তলদেশকে বলা হয় নদীগর্ভ।

জলবিভাজিকা
যে উচ্চভূমি বিভিন্ন নদীজ এলাকাকে আলাদা করে থাকে তাকে জলবিভাজিকা বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
১,৮৯৫.
‘জাফলং’ কোথায় অবস্থিত?
  1. জকিগঞ্জ, সিলেট
  2. গোলাপগঞ্জ, সিলেট
  3. গোয়াইনঘাট, সিলেট
  4. জৈন্তাপুর, সিলেট
ব্যাখ্যা
জাফলং:
- জাফলং বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তর্গত একটি এলাকা।
- জাফলং, সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে, ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, এবং এখানে পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন বলে এই এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত।

⇒ বাংলাদেশের সিলেটের সীমান্তবর্তি এলাকায় জাফলং অবস্থিত।
- এর অপর পাশে ভারতের ডাওকি অঞ্চল।
- ডাওকি অঞ্চলের পাহাড় থেকে ডাওকি নদী এই জাফলং দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।মূলত পিয়াইন নদীর অববাহিকায় জাফলং অবস্থিত।
- জাফলং-এ পাথর ছাড়াও পাওয়া গেছে সাদামাটি বা চীনামাটিও, যদিও সেখানে মাটি বা বালি পরিশোধন করার মতো কোনো অবকাঠামো নেই।
- এই এলাকায় যেমন সাধারণ বাঙালিরা বসবাস করেন, তেমনি বাস করেন উপজাতিরাও।
- জাফলং-এর বল্লা, সংগ্রামপুঞ্জি, নকশিয়াপুঞ্জি, লামাপুঞ্জি ও প্রতাপপুর জুড়ে রয়েছে ৫টি খাসিয়াপুঞ্জি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৮৯৬.
বাংলাদেশে কোন স্টেশনে সর্বোচ্চ বার্ষিক গড় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়?
  1. সিলেট
  2. কক্সবাজার
  3. সন্দ্বীপ
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সিলেটে সর্বোচ্চ বার্ষিক গড় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। 

বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রকৃতি:

- বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান তিনটি প্রকৃতির স্বাতন্ত্র্য পরিলক্ষিত হয়। যথা: শীতকাল, গ্রীষ্মকাল ও বর্ষাকাল।
- সাধারণত বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এ দেশের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করায় ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে।
- আবার মৌসুমী বায়ুর প্রভাব এ দেশের জলবায়ুর উপর এত বেশি যে বাংলাদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুও বলা হয়।

⇒ বাংলাদেশে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার।
- বাংলাদেশে সর্বনিম্ন গড় বৃষ্টিপাত রাজশাহী অঞ্চলের লালপুরে (১১৭.৫ সেন্টিমিটার) এবং সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত সিলেট অঞ্চলের লালাখালে (৬৩৭.৫ সেন্টিমিটার) পরিলক্ষিত হয়।

উৎস: i) বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৮৯৭.
নিচের কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব?
  1. গাছপালা বৃদ্ধি পাওয়া
  2. কল-কারখানা বৃদ্ধি পাওয়া
  3. লবণাক্ততা বৃদ্ধি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 • জলবাযু পরিবর্তন প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে।
- সঠিকভাবে কোনো ঋতুতেই আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না।
- বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব। 
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদিও এই জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৯৮.
উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতমালা কোন ধরনের পর্বত?
  1. ক) আগ্নেয় পর্বত
  2. খ) ল্যাকোলিথ পর্বত
  3. গ) ভঙ্গিল পর্বত
  4. ঘ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
ব্যাখ্যা
• ভঙ্গিল পর্বত (Folded Mountain):
- পাললিক শিলাস্তর আনুভূমিক আলোড়ন বা মহাদেশীয় পর্বতের সংকোচনের ফলে কুঞ্চিত হয়ে ঢেউয়ের আকারে যে পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- চার ধরনের পর্বতের মধ্যে ভঙ্গিল পর্বত সর্বাধিক বিস্তৃত।
- অভিসারী প্লেট সীমানায় সংকোচনজনিত চাপে এ ধরনের পর্বত গঠিত হয় বলে এর শিলা কাঠামো ভাঁজ ও চ্যুতিযুক্ত।
- ভঙ্গিল পর্বত সাধারণত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত।

• বিভিন্ন পর্যায়ে ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি:
ভূ-বিজ্ঞানীগণ ভঙ্গিল পর্বত গঠনে কয়েকটি পর্যায় দেখিয়েছেন।
- প্রথম পর্যায়ে সমুদ্রখাতের উভয় দিক থেকে সংকোচনের ফলে নিম্নাংশ অবনমিত হয় বা নিচে নেমে যায়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে সমুদ্রখাতের অবনমিত অংশে পলি জমা হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে পলির ভারে নিচের দিকে নেমে যায়। ফলে ভূ-অধঃভাঁজের সৃষ্টি হয়।
- তৃতীয় পর্যায়ে অবনমিত খাতের তলদেশ রূপান্তরিত শিলায় পরিণত হয় এবং আগ্নেয়শিলা পলির ভিতরে প্রবেশ করে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে
সংকোচন হ্রাস পায় এবং সম্পূর্ণ খাত উপরে উত্থিত হয়ে পর্বতমালা গঠন করে। যেমন-এশিয়ার হিমালয়, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ, উত্তর আমেরিকার রকি এবং ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৯৯.
জাতিসংঘের মতে, পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের কত শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে?
  1. ৭ শতাংশ
  2. ১০ শতাংশ
  3. ১৪ শতাংশ
  4. ১৭ শতাংশ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশ প্রেক্ষিত (Impact of climate change in Bangladesh):
- মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের কারণে মাত্রাতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস অর্থাৎ কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসগুলো নির্গমনের কারণে বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের যে ধারা শুরু হয়েছে, তাতে বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।
- এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে তাতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
- আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
- ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর তথ্য অনুসারে ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
- ফলে এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দেবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
- উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
- যা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে অনুভূত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১,৯০০.
কোন বিভাগের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত সংযোগ নেই?
  1. খুলনা
  2. রংপুর
  3. বরিশাল
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের ৫টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। এগুলো হলো: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়।
- উল্লেখ্য ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলো হলো – আসাম, মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুনাচল ও ত্রিপুরা। এদের মধ্যে ৪টির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে।

• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি। ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- মিয়ানমারের সাথে যে ৩টি জেলার সীমান্ত রয়েছে এগুলো হলো: রাঙামাটি, বান্দরবন ও কক্সবাজার।
- রাঙামাটি জেলায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তরেখা পরস্পরকে স্পর্শ করেছে। অর্থাৎ এটি তিনদেশের সীমান্ত যুক্ত হওয়া একটি সাধারণ জেলা। ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম উভয় রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ জেলাও রাঙামাটি।
- বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের সাথে কোন দেশের সীমান্ত সংযোগ নেই।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।