বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ১৫ / ৭২ · ১,৪০১১,৫০০ / ৭,১৯১

১,৪০১.
আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) দেখা দেয় -
  1. ক) ভারী বর্ষণ এবং জলাবদ্ধতার কারণে
  2. খ) জলোচ্ছ্বাসের কারণে
  3. গ) পাহাড়ীয়া ঢলে
  4. ঘ) কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে চার ধরনের বন্যা দেখা যায়:
- উত্তর এবং পূর্বাংশের পাহাড়ীয়া ঢলে এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) দেখা দেয়;
- ভারী বর্ষণ এবং জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষাকালীন বন্যা (Rain Flood) দেখা দেয়;
- জুন-সেপ্টেম্বর মাসে প্রধান নদীগুলোর পলল সমভুমিতে মৌসুমী বন্যা (MonsoonFlood) দেখা দেয়;
- জলোচ্ছ্বাসের সময় উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়। 

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, বিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪০২.
'GMT' দ্বারা কী বোঝায়?
  1. Greenwich Main Time
  2. Global Mean Time
  3. Greenwich Mean Time
  4. General Measurement Time
ব্যাখ্যা

গ্রিনিচ মান:
- GMT-এর পূর্ণরূপ: Greenwich Mean Time.
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে ।
- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪০৩.
বাংলাদেশের ক্রান্তীয় পাতাঝরা বা পত্র পতনশীল অরণ্যের অঞ্চল নয় কোনটি?
  1. ময়মনসিংহ
  2. টাঙ্গাইল
  3. গাজীপুর 
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা

• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি: 
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে। 
• এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলগাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।

- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত। পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৪০৪.
কোনটি স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ নয়?
  1. সুইজারল্যান্ড
  2. ডেনমার্ক
  3. সুইডেন
  4. নরওয়ে
ব্যাখ্যা
স্ক্যান্ডিনেভিয়া:
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া ঐতিহাসিকভাবে স্ক্যান্ডিয়া, উত্তর ইউরোপের অংশ।
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া হলো ইউরোপের উত্তরে অবস্থিত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল।
- স্ক্যান্ডেনেভিয়ান রাষ্ট্র মূলত ৩টি।
- যথা: নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক।
- দেশ তিনটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত দিক থেকে পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত।

⇒ তবে ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং ফারো আইল্যান্ডকেও অনেক ক্ষেত্রে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাষ্ট্র হিসেব গণ্য করা হয়।

অন্যদিকে,
⇒ নর্ডিক অঞ্চল বলতে স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ + ফিনল্যান্ড + আইসল্যান্ডকে বুঝায়।
- স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশগুলো আসলে নর্ডিক অঞ্চলের মধ্যে পরে।

• নর্ডিক অঞ্চলভূক্ত দেশ ৫টি।
- যথা: আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড।

উল্লেখ্য,
- তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে পাতলা জনবহুল উত্তর অঞ্চল, মৎস্য সম্পদের একটি আপেক্ষিক সম্পদ, দীর্ঘ আয়ু এবং উচ্চ স্তরের সাক্ষরতা।

অন্যদিকে,
- সুইজারল্যান্ড স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ নয়।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) Britannica.
১,৪০৫.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন স্তর সবচেয়ে ব্যয়বহুল? 
  1. পুনরুদ্ধার
  2. প্রশমন
  3. পূর্ব প্রস্তুতি
  4. সাড়াদান
ব্যাখ্যা
প্রশমন:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের প্রশমন স্তরটি বেশি ব্যয়বহুল।
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন,
- অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদানসমূহ:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ,
- দুর্যোগ প্রশমন এবং
- দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।
• দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার ও
- উন্নয়ন।

উল্লেখ্য,
- পুনরুদ্ধার, সাড়াদান, পূর্বপ্রস্তুতি প্রভৃতি অল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪০৬.
জাপানিজ শব্দ 'সুনামি' এর অর্থ কী?
  1. বিশালাকৃতির ঢেউ
  2. সামুদ্রিক ঢেউ
  3. পোতাশ্রয়ের ঢেউ
  4. জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami):
- সুনামি (Tsunami) একটি জাপানি শব্দ।
- জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়।
- এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির।
- অতি দ্রুত ফুঁসে ফুলে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
- সুনামির পানির ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে। -
- সুনামি হলো পানির এক মারাত্মক ঢেউ যা সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- পানির নিচে কোনো পারমাণবিক বা অন্য কোনো বিস্ফোরণ, ভূপাত ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সুনামির ক্ষয়ক্ষতি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর আশেপাশে সুনামির ধ্বংসাত্মক লীলা সংঘটিত হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয় তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্মক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৪০৭.
সাধারণত সমুদ্রের তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াসের অধিক হলে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়?
  1. ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone। এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগে বায়ু শান্ত, উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে।
- ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ যখন আসে তখন প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও ঘন মেঘসহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়।
- আর কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থানকারী চোখ শান্ত আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি করে।
- ঘূর্ণিঝড়ের পশ্চাৎভাগে পৌঁছানোর পর আবারও ঘন মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ সময় বায়ু অগ্রবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয়।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের বৈশিষ্ট্য:
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত।এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪০৮.
বিশ্বের বৃহত্তম মরুভূমি কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. উত্তর আমেরিকা মহাদেশে
  2. দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে
  3. আফ্রিকা মহাদেশে
  4. এশিয়া মহাদেশে
ব্যাখ্যা
সাহারা মরুভূমি:
- সাহারা মরুভূমির নামটি এসেছে আরবি শব্দ ‘সাহরা’ থেকে যার অর্থ ‘মরুভূমি’।
- এটি আফ্রিকার প্রায় এক তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে।
- সাহারা হল বিশ্বের বৃহত্তম মরুভূমি, যার আয়তন ৩.৫ মিলিয়ন বর্গ মাইল (৯ মিলিয়ন বর্গ কিমি)।
- মরুভূমিটি আলজেরিয়া, মিশর, মালি, মরক্কো, পশ্চিম সাহারা, তিউনিসিয়া, চাদ, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, নাইজার এবং সুদান সহ ১১টি উত্তর আফ্রিকার দেশের বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে।
- ১৮৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু পাহাড়ী বালির টিলাগুলির জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- এই মরুভূমিতে জলের উৎস বিরল, তবে সাহারায় দুটি নদী এবং বিশটি মৌসুমী হ্রদ রয়েছে।
- সাহারা পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর দ্বারা , উত্তরে আটলাস পর্বতমালা এবং ভূমধ্যসাগর দ্বারা , পূর্বে লোহিত সাগর দ্বারা এবং দক্ষিণে সাহেল দ্বারা সীমাবদ্ধ। 

সূত্র: Worldatlas.com
১,৪০৯.
উত্তর গোলার্ধে ‘বাসন্ত বিষুব’ কবে ঘটে?
  1. ২১শে মার্চ
  2. ২১শে জুন
  3. ২৩শে সেপ্টেম্বর
  4. ২২শে ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
বাসন্ত বিষুব ও শারদ বিষুব:
- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার (০০) উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়। একে বিষুব বলা হয়।
- ২১শে মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল থাকায় এই উত্তর গোলার্ধে বিষুব 'বাসন্ত বিষুব' নামে অভিহিত।
- অপরদিকে, ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করায় উত্তর গোলার্ধে এই বিষুব 'শারদ বিষুব' নামে অভিহিত হয়।

প্রকৃতপক্ষে,
- বাসন্ত বিষুব ও শারদ বিষুব উভয় গোলার্ধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- একটি গোলার্ধে বিষুব অবস্থা চলাকালীন যে ঋতু বিরাজ করে, উক্ত ঋতু অনুসারে ঐ গোলার্ধে বাসন্ত বা শারদ বিষুব হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪১০.
বৈরাগীর ভিটা অবস্থিত-
  1. ক) ময়নামতি
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) মহাস্থানগড়
  4. ঘ) আনন্দ বিহার
ব্যাখ্যা
বৈরাগীর ভিটা:
- বৈরাগীর ভিটা মহাস্থানগড় (পুন্ড্রনগর) নগরদুর্গের মধ্যে অবস্থিত একটি মন্দির এলাকা। 
- এলাকাটি মহাস্থানের উত্তর দুর্গ-প্রাকার থেকে ৭৬ মিটার দক্ষিণে অবস্থিত। 
- ১৯২৮-২৯ সালে খননের ফলে এখানে পাল যুগের প্রাথমিক ও শেষ পর্যায়ের (আট-নয় ও এগারো শতক) দুটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। 
- এ মন্দিরদ্বয়ের উত্তরে একটি উন্মুক্ত অঙ্গনে প্রাচীর ঘেরা আরও কয়েকটি স্থাপত্য কাঠামো পাওয়া গেছে।
- প্রত্নস্থলে লুকিয়ে থাকা গভীর গর্তগুলি পালযুগীয় কাঠামোসমূহের নিচে পরবর্তী গুপ্ত যুগের (ছয় শতক) ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন বহন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৪১১.
পৃথিবীর জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
  2. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল
  3. মেরু দেশীয় অঞ্চল
  4. পার্বত্য ও উচ্চভূমি অঞ্চল
ব্যাখ্যা
জলবায়ু অঞ্চল
- ভূপৃষ্ঠের আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলি প্রায় একই প্রকৃতির, ভূপৃষ্ঠের যেসব স্থানের জলবায়ুর প্রধান উপাদানসমূহ এবং জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য; যেমন- উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, বায়ুর চাপ, বায়ুর বেগ, মেঘ, বাষ্পীভবন প্রভৃতি প্রায় একই ধরনের, সেইসব স্থানকে একত্রে জলবায়ু অঞ্চল বলে।
- পৃথিবীর জলবায়ু অঞ্চল ৪ টি।
- সেগুলো হলো:
১. উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল,
২. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল,
৩. মেরু দেশীয় অঞ্চল,
৪. পার্বত্য ও উচ্চভূমি অঞ্চল।

অন্যদিকে, 
- নিরক্ষরেখার উভয়দিকে 5°-10° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যে বিস্তৃত অঞ্চলের জলবায়ুর প্রধান উপাদানগুলির বৈশিষ্ট্য একইরকম হওয়ায় এই অঞ্চলকে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল বলে।
- কিন্তু নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল পৃথিবীর ৪টি জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়।

উৎস- ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪১২.
একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পৃথিবী উষ্ণায়নের ফলে মোট কত শতাংশ অধিবাসীর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে?
  1. ক) প্রায় ৩০ শতাংশ
  2. খ) প্রায় ২০ শতাংশ
  3. গ) প্রায় ১০ শতাংশ
  4. ঘ) প্রায় ৪০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো- প্রায় ২০ শতাংশ। 

জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব
:
- জলবায়ু পরিবর্তন হলো মানুষের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্মকান্ডের ফলে বায়ুমন্ডলের গঠনগত পরিবর্তন যা নির্দিষ্ট সময়কালে জলবায়ুর উপাদানসমূহের পরিবর্তন ঘটায় এবং প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ভিন্নতা প্রদর্শন করে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। 
- বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব।
- বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় বলেছেন গ্রীনহাউস প্রভাব পৃথিবীর কয়েকটি দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে। যেমন- রাশিয়া, নরওয়ে, কানাডা, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ইত্যাদি। এই সকল এলাকার জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষযোগ্য হয়ে উঠছে।
- কিন্তু পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ দরিদ্র অধিবাসীরা এই গ্রীনহাউসের প্রভাবে নানা রকম দুর্ভোগের মধ্যে পড়বে।
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে এবং বিখ্যাত শহরগুলোও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বাংলাদেশও এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদিও এই জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।
- পৃথিবী উষ্ণায়নের ফলে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের মোট জনসমষ্টির প্রায় ২০ শতাংশ অধিবাসীর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪১৩.
কয়টি জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠিত?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিনটি জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠিত। আশির দশকের প্রথম দিকে দেশব্যাপী প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি স্বতন্ত্র জেলায় বিভক্ত করা হয়। এগুলো হচ্ছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,৪১৪.
'পার্পল লাইন' কোন দুইটি দেশের মধ্যকার সীমানা?
  1. পর্তুগাল ও স্পেন
  2. চীন ও ভারত
  3. ইসরাইল ও সিরিয়া
  4. মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দেশের সীমানা:
- ডুরান্ড লাইন - পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- ম্যাকমোহন লাইন - ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানা।
- রেডক্লিফ লাইন - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
- লাইন অব ডিমারকেশন - পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব কন্ট্রোল - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল - চীন ও ভারতের মধ্যে সীমানা।
- পার্পল লাইন - ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
- সনেরা লাইন - মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সীমানা।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১,৪১৫.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান- 
  1. দুর্যোগ প্রতিরোধ
  2. দুর্যোগ প্রশমন 
  3. দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি
  4.  বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রমকে বোঝায়।
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪১৬.
নিরক্ষরেখার অন্তর্গত দেশগুলোতে কোনটি মাটি ক্ষয়ের কারণ?
  1. অধিক বনাঞ্চল
  2. ঊর্ধ্বমুখী বায়ু প্রবাহ
  3. মেরু বায়ু
  4. অধিক তাপ
ব্যাখ্যা
• নিরক্ষরেখার অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।
- অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টিপাতই এই মাটি ক্ষয়ের কারণ।

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪১৭.
কত সালে পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গুয়ার হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
- পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে। 

প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উল্লেখ্য,
- পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে ইকোলজিকাল ক্রিটিকাল এরিয়া(ইসিএ) বা বিপন্ন প্রতিবেশ এলাকা ঘোষণা করে এবং ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক 'রামসার সাইট' ঘোষণা করা হয়।

সূত্র: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।
১,৪১৮.
বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা কয়টি?
  1. ৩০টি
  2. ৩১টি
  3. ৩২টি
  4. ৩৩টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। যথা:
• ভারত ও
• মিয়ানমার।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা: ৩২টি।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,৪১৯.
বাংলাদেশের কোন স্থানে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক) সিলেটের লালাখালে
  2. খ) নাটোরের লালপুরে
  3. গ) মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ডে
  4. ঘ) রাজশাহীর তানোরে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয় ৮০%।
- জুন থেকে অক্টোবর মাসে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় ৭০ থেকে ৮০%
‌- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালাখালে।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।
- বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার বা ২০৩০ মিলিমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪২০.
বাংলাদেশের স্থলসীমা মিয়ানমারের কতটি রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত?
  1. ৪টি 
  2. ৩টি 
  3. ২টি 
  4. ১টি 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী স্থান :
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলসীমা ভারতের ৫টি রাজ্য-পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
- এবং মিয়ানমারের ২টি রাজ্য-রাখাইন (পূর্বনাম আরাকান) ও চিন প্রদেশ দ্বারা বেষ্টিত।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা-৩২টি।
- এর মধ্যে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩০টি।
- এবং মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ৩টি (রাঙামাটি, বান্দরবন ও কক্সবাজার)।
- বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশেরই যৌথ সীমান্ত রয়েছে।
- চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সাথে এবং ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে ভারতের কোনো স্থলসীমান্ত সংযোগ নেই।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

১,৪২১.
আয়তনে ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম দ্বীপ?
  1. জাভা
  2. সুমাত্রা
  3. বোর্নিও
  4. সুলাওয়েসি
ব্যাখ্যা
• ইন্দোনেশিয়া:
- ১৯ শতকে, ইন্দোনেশিয়া নেদারল্যান্ডের একটি উপনিবেশ ছিল এবং "নেদারল্যান্ডস ইন্ডিজ" নামে পরিচিত ছিল। 
- নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ (১৯৪৫ সালে)।
- ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি (স্বাধীনতার নেতৃত্ব প্রদান) সুকর্ণ।
- বৃহত্তম দ্বীপ - সুমাত্রা (আয়তনে)।
- আচেহ প্রদেশ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায়।
- জনবহুল দ্বীপ - জাভা (রাজধানী জাকার্তায় অবস্থিত)।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১,৪২২.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সিলিকা বালি পাওয়ার যায় না?
  1. হবিগঞ্জ
  2. কুমিল্লা
  3. সিলেট
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় সিলিকা পাওয়া যায়নি।

সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু:
- সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু প্রধানত কাচ প্রস্তুতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রং, অগ্নিচুল্লির ইপ্টক এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য তৈরিতে সিলিকা বালু ব্যবহৃত হয়।

- খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা, ২০১২-এর বিধি ২ (২৫) অনুযায়ী যে সমস্ত বালুতে ৯০% এর অধিক সিলিকন-ডাই-অক্সাইড (SiO2) রয়েছে সে বালুকে ‘‘সিলিকা বালু” বলা হয়। বাংলাদেশের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট এবং কুমিল্লা জেলায় সিলিকা বালু পাওয়া পায়।

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪২৩.
'কালাপানি' কোন দুইটি দেশের মধ্যকার বিতর্কিত অঞ্চল?
  1. পাকিস্তান ও ভারত
  2. চীন ও নেপাল
  3. আফগানিস্তান ও পাকিস্তান
  4. ভারত ও নেপাল
ব্যাখ্যা
কালাপানি:

- কালাপানি অঞ্চল ভারত ও নেপালের মধ্যকার বিতর্কিত একটি অঞ্চল যা উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলায় অবস্থিত।
- বর্তমানে এই অঞ্চল ভারত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
- নেপাল ও ভারতের মধ্যে ১৬ হাজার কিলোমিটারের বেশি খোলা সীমান্ত রয়েছে।
- তার মধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
- বিরোধের কেন্দ্রে থাকা ভূখণ্ডগুলোর মধ্যে কালাপানি, লিপুলেখ এবং সুস্তা অন্যতম।
- নেপালের উত্তর-পশ্চিম অংশে এগুলো অবস্থিত।
- যার দক্ষিণে ভারতের কুমায়ুন এবং উত্তরে চীনের তিব্বত।
- এই ভূখণ্ডটি ভারত, নেপাল ও চীন - তিন দেশের একটি সংযোগস্থল।

তথ্যসূত্র - বিবিসি নিউজ বাংলা, ১৯ মে ২০২০।
১,৪২৪.
কোন মহাসাগরের আকৃতি দেখতে ইংরেজি অক্ষর “S”–এর মতো? 
  1. প্রশান্ত মহাসাগর 
  2. ভারত মহাসাগর
  3. আর্কটিক মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

আটলান্টিক মহাসাগর: 
- আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- এর আকৃতি দেখতে অনেকটা ইংরেজি অক্ষর “S”-এর মতো।
- আটলান্টিক মহাসাগর এর গড় গভীরতা ৩৬৪৬ মিটার।
- এটি ইউরোপ ও আফ্রিকাকে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আলাদা করেছে।
- এর গভীরতম স্থান হলো পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ যা ক্যারিবিয়ান সাগরের মধ্যখানে অবস্থিত।
- পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ এর গভীরতম বিন্দু হচ্ছে Milwaukee Deep.
- Milwaukee Deep এর গভীরতা ৮৩৮০ মিটার।
- এই মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ হচ্ছে- গ্রীনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, বারমুডা, জ্যামাইকা, কিউবা, আয়ারল্যান্ড, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র।
- এ মহাসাগরটি প্রাচীন যুগ থেকেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, উপনিবেশ স্থাপন ও সমুদ্র অভিযানের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে,
• প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর বৃহত্তম এবং গভীরতম মহাসাগর
- আকৃতিতে এটি বৃহদাকার ত্রিভুজ এর মতো দেখতে।
• ভারত মহাসাগর পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম মহাসাগর।
• আর্কটিক মহাসাগর বা উত্তর মহাসাগর হলো পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মহাসাগর। 

উৎস: Britannica. 

১,৪২৫.
আগ্নেয়গিরিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরিকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা যায় । 
১) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি - সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো সেসব আগ্নেয়গিরি যেখান থেকে এখনো অগ্ন্যুৎপাত হয়। উদাহরণঃ ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি
২) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি - সুপ্ত আগ্নেয়গিরি থেকে বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে। উদাহরণঃ জাপানের ফুজিয়ামা
৩) মৃত আগ্নেয়গিরি - মৃত আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা নেই। উদাহরণঃ পোপো আগ্নেয়গিরি

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪২৬.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোন প্রক্রিয়ায় সারাবছর নিয়মিত বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক) পরিচলন
  2. খ) সাইক্লোনিক
  3. গ) শৈলোৎক্ষেপ
  4. ঘ) পরিবহন
ব্যাখ্যা
দিনের বেলায় সূ্র্যকিরণের জন্যে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।

- নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগ অপেক্ষা জলভাগের বিস্তৃতি অধিক এবং এখানে সূর্য সর্বদা লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এখানকার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ সব সময় বেশি থাকে। ফলে এই হালকা জলীয়বাষ্প উপরে উঠে শীতল বায়ু সংস্পর্শে এসে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর বিকাল অথবা সন্ধ্যায় পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি ঘটায়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৪২৭.
জোয়ার-ভাটার প্রধান কারণ কী?
  1. ক) সূর্যের আকর্ষণ
  2. খ) পৃথিবীর আবর্তন
  3. গ) বায়ুপ্রবাহ
  4. ঘ) চাঁদের আকর্ষণ
ব্যাখ্যা
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার ভাটার সৃষ্টি হয়। একটি চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং অন্যটি পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি। মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী মহাকাশে বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতি প্রতিটি জ্যোতিষ্ক পরস্পরকে আকর্ষণ করে। তাই এর প্রভাবে সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। কিন্তু পৃথিবীর উপর সূর্য অপেক্ষা চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি হয়। কারণ সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী সূর্য হতে গড়ে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু পৃথিবী থেকে চন্দ্রের গড় দূরত্ব মাত্র ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর সূর্যের আকর্ষণ শক্তি চন্দ্র অপেক্ষা অনেক কম। ফলে জোয়ার-ভাটার ব্যাপারে সূর্য অপেক্ষা চন্দ্রের প্রভাব বেশি।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪২৮.
বাংলাদেশের কোন জেলার সাথে মিয়ানমারের সীমানা রয়েছে?
  1. কুমিল্লা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাঙামাটি
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

সীমান্ত জেলা:
- বাংলাদেশে বিভাগ রয়েছে ৮টি এবং জেলা ৬৪টি।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা ৩টি।
- রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে।
- এছাড়াও, ৬টি বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

১,৪২৯.
দক্ষিণ গোলার্ধ ও সূর্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব হয়-
  1. ক) ২৩ মার্চ
  2. খ) ২১ জুন
  3. গ) ১ জুলাই
  4. ঘ) ১ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণ গোলার্ধ ও সূর্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব হয় - ২১ জুন। 

• ২১জুন:
→ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন।
→ পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন।
→ পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধ ও সূর্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 
১,৪৩০.
চীনের সাথে নিচের কোন দেশটির স্থলসীমান্ত নেই?
  1. থাইল্যান্ড
  2. আফগানিস্তান
  3. লাওস
  4. উত্তর কোরিয়া
ব্যাখ্যা
চীনের সাথে ১৪টি দেশের স্থলসীমান্ত রয়েছে।
দেশগুলো হলো:
- উত্তর কোরিয়া
- রাশিয়া
- মঙ্গোলিয়া
- কাজাখস্তান
- কিরগিজস্তান
- তাজিকিস্তান
- আফগানিস্তান
- পাকিস্তান
- ভারত
- নেপাল
- ভুটান
- মিয়ানমার
- লাওস
- ভিয়েতনাম।

চীনের সাথে থাইল্যান্ডের স্থলসীমান্ত নেই।

(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
১,৪৩১.
ঘুর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে কোন উক্তিটি সত্য নয়?
  1. পৃথিবীতে তাপের ভারসাম্য রক্ষা করে।
  2. অধিকাংশ ঘুর্ণিঝড় সমুদ্রে মিলিয়ে যায়।
  3. ঘুর্ণিঝড়ের ঘুর্ণন দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে।
  4. ঘুর্ণিঝড় আবহাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
ব্যাখ্যা
ঘুর্ণিঝড়ের ঘুর্ণন উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরুতে থাকে।
ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলে যদিও দুর্যোগের সৃষ্টি হয়, কিন্তু এটি আবহাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা পৃথিবীতে তাপের ভারসাম্য রক্ষা করে।
গড়ে পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। এর অধিকাংশই সমুদ্রে মিলিয়ে যায়, কিন্তু যে অল্প সংখ্যক উপকূলে আঘাত হানে তা অনেক সময়
ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে। 

উৎস: এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১,৪৩২.
জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গঠিত তহবিলের নাম কি?
  1. ক) Bangladesh Climate Change Resilience Fund
  2. খ) Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan
  3. গ) Climate Change Trust Fund
  4. ঘ) National Adaptation Plan
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুঁকি মোকাবেলা ও অভিযোজন কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার জন্য সরকার “Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan (BCCSAP), 2009” প্রণয়ন করে এবং নিজস্ব অর্থায়নে ‘জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল’ গঠন করে।
• বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় “জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড নীতিমালা” ও “জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড আইন, ২০১০” প্রণয়নের পাশাপাশি উন্নয়ন সহোযোগীদের সহায়তায় “Bangladesh Climate Change Resilience Fund (BCCRF)” গঠন করা হয়।  

তথ্যসূত্র:- Bangladesh Climate Change Resilience Fund।
১,৪৩৩.
মৌমাছির চাষ বিষয়ক বিদ্যা-
  1. ক) সেরিকালচার
  2. খ) পিসিকালচার
  3. গ) এপিকালচার
  4. ঘ) এভিকালচার
ব্যাখ্যা
মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যা - এপিকালচার

অন্যদিকে-----
রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে-সেরিকালচার।
মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যা - পিসিকালচার।
চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যা - প্রণকালচার।
মৌমাছির চাষ - এপিকালচার।
রেশমের চাষ - সেরিকালচার।
উদ্যানবিদ্যা - হর্টিকালচার।
পাখিপালন বিদ্যা - এভিকালচার।
সামুদ্রিক মৎস পালনবিদ্যা - মেরিকালচার।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৪৩৪.
কত সালের সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল?
  1. ১৭৮৩ সাল
  2. ১৭৮৭ সাল
  3. ১৮৮৩ সাল
  4. ১৮৮৭ সাল
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চলে, উত্তরে আসামের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে মূলত বৃহদাকার ফাটল ও দুইটি প্লেটের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- ১৫৪৮ সাল থেকে বাংলাদেশে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ শুরু হয়।
- বাংলাদেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাসমূহ ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূ-কম্পন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- আজকের চঞ্চলা যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।

১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৪৩৫.
দুটি স্বাভাবিক চ্যুতির মাঝখানের ভূমি অবনমনের ফলে কোনটি গঠিত হয়?
  1. কবজা উপত্যকা
  2. স্রস্ত উপত্যকা
  3. স্ট্রাইক উপত্যকা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• স্রস্ত উপত্যকা: 
- দুইটি স্বাভাবিক চ্যুতির মাঝখানে কোনো ভূ-ভাগ অবনমিত হয়ে যে নিম্নভূমির সৃষ্টি করে তাকে স্রস্ত উপত্যকা বলে।
- স্রস্তউপত্যকার উভয় দিকের চ্যুতিতল দেয়ালের মত দেখায়।
- এর অপর নাম গ্রাবন।
- জার্মানীর রাইন উপত্যকা, ইসরাইলের মরুসাগর প্রভৃতি স্রস্ত উপত্যকার উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৪৩৬.
'ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল' বলতে কী বোঝায়?
  1. মরুভূমির শুষ্ক বনাঞ্চল
  2. উপকূলীয় স্রোতজ বনভূমি
  3. চিরসবুজ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন
  4. পাহাড়ি অঞ্চলের বনভূমি
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল:
- ম্যানগ্রোভ বলতে সমুদ্র উপকূলে জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত বিস্তীর্ণ জলাভূমিকে বোঝায়।
- এই বন মূলত জোয়ার-ভাটায় বিধৌত লবণাক্ত সমতলভূমি।
- গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও উপউষ্ণ (Tropical and Sub-tropical) উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বনাঞ্চল দেখা যায়।
- ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান বৈশিষ্ট্য এটি লবণ, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা সহনশীল।
- তথ্যমতে, বর্তমানে পৃথিবীতে এ বনাঞ্চলের আয়তন প্রায় ১,৫০,০০০ বর্গ কিমি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে অবস্থিত সুন্দরবন পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,৪৩৭.
আরব মালভূমির স্থানীয় বায়ু কোনটি?
  1. খামসিন
  2. সিরাক্কা
  3. বোরা
  4. সাইমুম
ব্যাখ্যা

স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৩৮.
কান্তজীউ মন্দির কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) জয়পুরহাট
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) রাঙ্গামটি
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
কান্তজীর মন্দির ইটের তৈরী অষ্টাদশ শতাব্দীর মন্দির। দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ১২ মাইল উত্তরে এবং দিনাজপুর-তেতঁলিয়া সড়কের প্রায় এক মাইল পশ্চিমে ঢেপা নদীর পারে এক শান্ত নিভৃতগ্রাম কান্তনগরে এ মন্দিরটি স্থাপিত।
Source: dinajpur.gov.bd
১,৪৩৯.
আঁড়িয়াল বিল কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) যশোর
  2. খ) মানিকগঞ্জ
  3. গ) মুন্সীগঞ্জ
  4. ঘ) পাবনা
ব্যাখ্যা

আড়িয়াল বিল পদ্মা ও ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে অবস্থিত ও মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত একটি অবভূমি। এটি দেশের মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন বিল। এর আয়তন ১৩৬ বর্গ কিলোমিটার।
আড়িয়াল বিলের বেশিরভাগ এলাকাই শুষ্ক ঋতুতে আর্দ্র থাকে এবং বিলে যথেষ্ট পরিমাণ পানি সঞ্চিত থাকে। বর্ষায় পানিতে টইটুম্বুর থাকলেও শীতকালে এটি বিস্তীর্ণ শস্য ক্ষেতে পরিণত হয়।
এছাড়া যশোর জেলায় ভবদহ বিল অবস্থিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,৪৪০.
বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ স্থানীয়ভাবে কী নামে পরিচিত?
  1. ক) পাহাড়
  2. খ) টিলা
  3. গ) উঁচু ভূমি
  4. ঘ) ঢিবি
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। পাহাড়গুলাে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগােত্রীয়। এ পাহাড়গুলাে বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
• রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
• দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
• বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।।

(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ 
• ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার ৫ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
• উত্তরের পাহাড়গুলাে স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
• এগুলাের উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।
• এ পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের ঢালে প্রচুর চা উৎপন্ন হয়।  

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৪৪১.
বিশ্বের বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট কোথায় অবস্থিত?
  1. আফ্রিকা
  2. পূর্ব ইউরোপ
  3. সাইবেরিয়া
  4. দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা
আমাজন বনভূমি বিশ্বের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট। এই বনাঞ্চলের আয়তন প্রায় ২১ লক্ষ বর্গমাইল। এটি দক্ষিণ আমেরিকার ৯টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত।
পৃথিবীতে মোট অক্সিজেনের প্রায় ২০ ভাগ সরবরাহ করে আমাজন রেইনফরেস্ট। যার কারণে এটিকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়।
আফ্রিকার কঙ্গো বেসিন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট।

(তথ্যসূত্র: WEF ওয়েবসাইট)
১,৪৪২.
বাংলাদেশের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কোন জেলায়?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) সুনামগঞ্জ
  4. ঘ) হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। এটির আয়তন প্রায় ১২৫০ হেক্টর।
- ১৯৯৬ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়।
- এখানে গ্রীষ্মমন্ডলীয় চিরহরিৎ ও মিশ্র চিরহরিৎ বনভূমি দেখা যায়।
- উল্লেখযোগ্য পশুপাখি - খাটাস , বনমোরগ , উল্লুক , মেছোবাঘ বন বিড়ালসহ বিভিন্ন জীবজন্তু।
- এর আশেপাশে খাসিয়া ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।

সূত্র: বন বিভাগ ও মৌলভীবাজার জেলার ওয়েবসাইট।
১,৪৪৩.
বৃহস্পতি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের অস্তিত্ব নেই?
  1. হাইড্রোজেন
  2. মিথেন
  3. হিলিয়াম
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
⇒ বৃহস্পতি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের অস্তিত্ব নেই।

বৃহস্পতি (Jupiter):
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বলে একে গ্রহরাজ বলা হয়।
- পৃথিবীর তুলনায় বৃহস্পতি প্রায় ১৩০০ জন বড়।
- সূর্য থেকে গড় দূরত্ব ৭৭ কোটি কিলোমিটার।
- বৃহস্পতির সূর্যের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে সময় লাগে প্রায় ১২ বছর।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, মিথেন এবং হিলিয়াম রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৪৪.
মহীভাবক আলোড়নের ফলে কী সৃষ্টি হয়?
  1. মালভূমি
  2. পর্বত
  3. সমুদ্র
  4. মরুভূমি
ব্যাখ্যা
• মহীভাবক আন্দোলন (Epeirogenic Movement):
- মহীভাবক আন্দোলন মহাদেশসমূহের ভূ-পৃষ্ঠে লম্বভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করে মালভূমি, চ্যুতি, চ্যুতি ভৃগু তট, স্রস্ত উপত্যকা, স্তূপ পর্বত প্রভৃতি ভূমিরূপ তৈরি করে।
যেমন-
→ পূর্ব আফ্রিকা ও জর্ডানের স্রস্ত উপত্যকাসমূহ,
→ রাইন নদীর স্রস্ত উপত্যকা।
→ এছাড়াও উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগরের দ্বীপসমূহ মহীভাবক আন্দোলনের ফলে ভূ-ভাগ নিমজ্জিত হয়ে গঠিত হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৪৫.
Which two countries are separated by Strait of Gibraltar?
  1. Algeria & Portugal
  2. Spain & Algeria
  3. Morocco & Spain
  4. Italy & Libya
  5. Portugal & Morocco
ব্যাখ্যা
জিব্রাল্টার প্রণালী:
- জিব্রাল্টার প্রণালী ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- প্রণালীটি মরক্কো ও স্পেনকে পৃথক করে।
- ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযোজনকারী একমাত্র প্রাকৃতিক পথ।
- জিব্রাল্টার প্রণালী পূর্বে ভূমধ্যসাগরকে পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযোগকারী সমুদ্র প্রণালী।
- এটি উত্তর আফ্রিকাকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের আইবেরীয় উপদ্বীপ থেকে পৃথক করেছে।
- যার গড় গভীরতা ১,২০০ ফুট (৩৬৫ মিটার)।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১,৪৪৬.
বাংলাদেশে কালবৈশাখির ঝড় কখন হয়?
  1. ক) মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
  2. খ) শীতকালে
  3. গ) মৌসুমী বায়ু ঋতুর পরবর্তী সময়ে
  4. ঘ) প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
ব্যাখ্যা
বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জলবায়ু ভিত্তিক ঋতুকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়।
এই ঋতুগুলো হলোঃ
(১) শুষ্ক শীতকাল,
(২) প্রাক-মৌসুমী উষ্ণ গ্রীষ্মকাল,
(৩) গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী বর্ষাকাল, এবং
(৪) শরৎকাল।
- এর মধ্যে 'প্রাক-মৌসুমী উষ্ণ গ্রীষ্মকাল' এর সময়ে কালবৈশাখী ঝড় হয়।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই।
১,৪৪৭.
বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ- 
  1. হোনশু
  2. মালদ্বীপ
  3. গ্রিনল্যান্ড
  4. মাদাগাস্কার
ব্যাখ্যা

গ্রিনল্যান্ড:
- গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ।
- এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- গ্রীনল্যান্ড (স্থানীয় ভাষায় কালালিত নুনাত) পরিচিত এর বিশাল তুন্দ্রা অঞ্চল ও বিশাল হিমবাহের জন্য।
- তাঁরা তাঁদের মাতৃভূমিকে বলেন কালালিত নুনাত, অর্থাৎ "গ্রীনল্যান্ডবাসীদের দেশ”।
- গ্রীনল্যান্ডের রাজধানীর নাম নুক (ডেনিশ ভাষায় গোথহোব)।

অপরদিকে,
- মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।
- নিউ গিনি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ।
- বোর্নিও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ।
- মাদাগাস্কার বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দ্বীপ।

উৎস: Britannica.

১,৪৪৮.
ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু কোন নদীর উপর নির্মিত?
  1. ঘাঘট নদী
  2. শঙ্খ নদী
  3. ফেনী নদী
  4. ধাইজান নদী
ব্যাখ্যা
♦ ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু
- ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চালু হচ্ছে ১.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু।
- ২০২১ সালের মার্চে এই সেতুর উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- ‘মৈত্রী সেতু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগের নতুন পথের সূচনা করবে।
- আগামী দিনে সেতুটি কার্গো ও ট্রান্সশিপমেন্ট ছাড়াও দুই দেশের যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা করবে।’
- ফেনী নদীর উপর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সংযোগস্থলে অবস্থিত এই সেতু।
- চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরত্বে ত্রিপুরার সাব্রুম।  

উৎস: LIVE MCQ সাম্প্রতিক সমাচার (ফেব্রুয়ারি)।
১,৪৪৯.
কোন নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে? 
  1. ব্রহ্মপুত্র
  2. পদ্মা
  3. তিস্তা 
  4. মেঘনা
ব্যাখ্যা

পদ্মা নদী:
- পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী এবং দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে। 
- এটি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন গঙ্গার প্রধান শাখা।
- বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহী পদ্মার উত্তর তীরে অবস্থিত।
- বাংলাদেশে পদ্মা নদী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মানাকোসা ও দুর্লভপুর দিয়ে প্রবেশ করে। 
- পরে গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়;
- এবং চাঁদপুরে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।

- পদ্মার সর্বোচ্চ গভীরতা ১,৫৭১ ফুট (৪৭৯ মিটার);
- এবং গড় গভীরতা ৯৬৮ ফুট (২৯৫ মিটার)।
- এর দৈর্ঘ্য ৩৬৬ কিলোমিটার।
- পদ্মা নদী সর্পিলাকার এবং ভাঙনপ্রবণ হওয়ায় এটি ‘কীর্তিনাশা’ নামেও পরিচিত। 
-------------------
অন্যদিকে, 
• নদীর উৎপত্তি:
- ব্রহ্মপুত্র নদী: হিমালয় পর্বতের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন।
- তিস্তা নদী: ভারতের পর্বত্য অঙ্গরাজ্য সিকিম থেকে উৎপন্ন।
- মেঘনা নদী: ভারতের আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১,৪৫০.
শৈবাল সাগর কোন মহাসাগরে দেখা যায়?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. আর্কটিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর
ব্যাখ্যা
শৈবাল সাগর (Sargasso Sea):
- মহাসাগরের মাঝখানে বিভিন্ন স্রোত মিলিত হয়ে কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে একটি ঘূর্ণস্রোত বা জলাবর্তের সৃষ্টি করে।
- এই বিশাল জলাবর্তের মাঝখানে কোনোরকম জলপ্রবাহ থাকে না বলে স্রোতবিহীন এই অঞ্চলে নানারকম শৈবাল বা শেওলা, আগাছা ও জলজ উদ্ভিদ জন্মায়।
- এইজন্য এই অঞ্চলকে শৈবাল সাগর বলা হয়।

⇒ শৈবাল সাগর (Sargasso Sea) উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যভাগে অবস্থিত একটি অনন্য সামুদ্রিক অঞ্চল।
- এটি বিশ্বের একমাত্র 'সমুদ্র' যার কোনো স্থল সীমানা নেই।
- এটি সম্পূর্ণরূপে চারটি প্রধান সমুদ্রস্রোত দ্বারা বেষ্টিত: গালফ স্ট্রিম (Gulf Stream), উত্তর আটলান্টিক স্রোত (North Atlantic Current), ক্যানারি স্রোত (Canary Current), উত্তর বিষুবীয় স্রোত (North Equatorial Current)।
- এই স্রোতগুলো মিলিত হয়ে কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে একটি ঘূর্ণস্রোত বা জলাবর্তের সৃষ্টি করে।
- এই বিশাল জলাবর্তের মাঝখানে কোনোরকম জলপ্রবাহ থাকে না বলে স্রোতবিহীন এই অঞ্চলে নানারকম শৈবাল বা শেওলা, আগাছা ও জলজ উদ্ভিদ জন্মায়।

উৎস: i) Britannica.
ii) NOAA's National Ocean Service (.gov).
১,৪৫১.
লালমাই পাহাড় কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ময়মনসিংহ
  3. কুমিল্লা
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৫২.
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সংলগ্ন ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নাম কী?
  1. ক) শ্রীমান্তপুর
  2. খ) পেট্রোপোল
  3. গ) ফুলবাড়ী
  4. ঘ) ডাউকি
ব্যাখ্যা
- বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরটি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা সীমান্তে অবস্থিত।
- এর বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়ী সীমান্ত অবস্থিত।
-  স্থলপথে আমদানি রপ্তানি সহজ করার জন্য ১২ জানুয়ারি, ২০০২ সালে বাংলাবান্ধা শুল্ক স্টেশনটিকে স্থলবন্দর ঘোষনা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।
১,৪৫৩.
আয়তনের দিক থেকে এশিয়ার ক্ষুদ্রতম দেশ কোনটি?
  1. ক) ভুটান
  2. খ) মালদ্বীপ
  3. গ) তাইওয়ান
  4. ঘ) ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা

এশিয়ার ক্ষুদ্রতম দেশ হল মালদ্বীপ। এর আয়তন ২৯৮ বর্গ কিলোমিটার।
উল্লেখ্য, মালদ্বীপ বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মুসলিম দেশও বটে। এটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।
সূত্রঃ ব্রিটানিকা।

১,৪৫৪.
নিচের কোন শহরটি 'পিংক সিটি' নামে পরিচিত?
  1. আগ্রা
  2. জয়পুর
  3. দীঘা
  4. মুম্বাই
ব্যাখ্যা
জয়পুর:

- ভারতের জয়পুর শহরটি 'পিংক সিটি' নামে পরিচিত।
- জয়পুর শহর রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী ।
- এটি রাজস্থানের সবচেয়ে জনবহুল শহর।
- শহরটি ১৭২৭ সালে মহারাজা সওয়াই জয় সিং দ্বারা জয়পুর রাজ্যের রাজধানী হিসাবে প্রতিস্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- জয়পুরে মিশ্র হিন্দু-মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে।
- জয়পুর একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
- জয়পুরের বিখ্যাত শিল্প ও কারুশিল্পের মধ্যে রয়েছে গয়না, এনামেল, ধাতুর কাজ, এবং মুদ্রিত কাপড়, সেইসাথে পাথর, মার্বেল এবং হাতির দাঁত খোদাই করা।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১,৪৫৫.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল নয়?
  1. ফেনী
  2. দিনাজপুর
  3. কুষ্টিয়া
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
ফেনী বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল নয়।

খরা:

- সাধারণত খরা বলতে কোনো এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে ভূমিতে পানির অনুপস্থিতিকে বুঝায়।
- অর্থাৎ কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়।
- এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- বিগত অর্ধ শতকের ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক মাত্রায় খরা দেখা দেয়।

⇒ বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র: রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

খরার কারণ:
১. সময়মতো বৃষ্টিপাতের অভাব;
২. পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা;
৩. অপরিকল্পিতভাবে বনভূমি উজাড়;
৪. নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ;
৫. এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাব প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৫৬.
বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র কোনটি?
  1. হালদা নদী
  2. চলন বিল
  3. পশুর নদী
  4. মেঘনা নদী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হলো হালদা নদী
- এটি চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত।
- এটি একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সরকার হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করেছে।

(সূত্রঃ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট)। 
১,৪৫৭.
বাংলাদেশে বছরের কোন মাসের দিনগুলো সবচেয়ে বড় দিন হয়?
  1. ক) মে
  2. খ) জুন
  3. গ) জুলাই
  4. ঘ) ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে জুন মাসের দিনগুলো দীর্ঘতম হয়৷
১,৪৫৮.
বাংলাদেশের জলবায়ু কী ধরনের?
  1. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
  2. আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু
  3. নিরক্ষীয় জলবায়ু
  4. উপ-ক্রান্তীয় জলবায়ু
ব্যাখ্যা

জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থা।
- অর্থাৎ জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের অনেক বছরের বায়ুমন্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক গড় অবস্থা।
- জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো এটি নিয়ত পরিবর্তনশীল নয়।
- আবহাওয়ার থেকে জলবায়ুর পার্থক্য হলো আবহাওয়া কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের স্বল্পস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়।
- জলবায়ু বলতে কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়।
- বাংলাদেশের ‘ক্রান্তীয় মৌসুমি’ জলবায়ুর দেশ।
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৫৯.
কোনটি জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে?
  1. মশা নিধন
  2. মাছ চাষ
  3. বন উজাড়
  4. নগরায়ন
ব্যাখ্যা
• বন উজাড়:
- জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে - বন উজাড়।
- বর্তমানে মানবসৃষ্ট কর্মকান্ডের নেতিবাচক প্রভাবে জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্রের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
- বন্যপ্রাণি নিধন, গাছ কাটা, জমি ভরাট, জলাশয় নষ্ট করা, জীববৈচিত্র্যে হুমকি তৈরি করা, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি এদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আর সে কারণে জীব-ভূ-রাসায়নিক চক্রের রাসায়নিক ও প্রকৃতিগত পরিবর্তন হচ্ছে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৬০.
নিচের কোনগুলো গ্রীনহাউস গ্যাস?
  1. পানি ও তাপ
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন
  3. অক্সিজেন ও ধূলিকণা
  4. নাইট্রোজেন ও পানি
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তন:
- সাধারণভাবে আবহাওয়ার উপাদানসমূহের দীর্ঘমেয়াদে গড় অবস্থার পরিবর্তনকে বুঝায় জলবায়ু।
- বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- বায়ুমন্ডল হলো গ্রীনহাউস বা কাঁচ ঘরের কাঁচের দেয়াল বা ছাদ।
- এবং সূর্যালোক ভূ-পৃষ্ঠ শোষণ করে ও বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে তোলে।
- মিথেন, ওজোন, কার্বন ডাই-অক্সাইড  গ্রীনহাউস গ্যাস।
- বায়ুমন্ডলে তাই গ্রীনহাউস গ্যাসের পুরু চাদর তৈরি হয়েছে।
- কারণ এই সব গ্যাস আর ফিরে যেতে পারে না।
- এই তাপ শোষণের মাত্রা যত বাড়বে পৃথিবীর উষ্ণতা ততই বাড়বে।
- উষ্ণতা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াই হলো গ্রীনহাউস প্রভাব। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৬১.
ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে সংকেত প্রচারে আবহাওয়া বিভাগের সাথে কোন প্রতিষ্ঠানটি সহায়তা করে?
  1. ক) ওয়াসা
  2. খ) নৌ-মন্ত্রনালয়
  3. গ) এশিয়াটিক সোসাইটি
  4. ঘ) স্পারসো
ব্যাখ্যা
⇨ ঘূর্ণিঝড়কালিন সময়ে বাতাসের গতিবেগ, জোয়ার-ভাঁটার সময়কাল, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকার প্রাকৃতিক গঠন ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করে আবহাওয়া বিভাগ জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়।
স্পারসো ও আবহাওয়া বিভাগ রাডারের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা, গতিবেগ ও গতিপথ সম্পর্কে পূর্বাভাস দেবার পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কেও পূবার্ভাস দিয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৬২.
'ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি' বাংলাদেশের কোথায় প্রধানত দেখতে পাওয়া যায়?
  1. ক) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ে
  2. খ) সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিতে
  3. গ) প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি : ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো শীতকালে গাছের
পাতা ঝরে যাওয়া। তবে গ্রীষ্মকালে গাছগুলোতে আবার নতুন কচি পাতা গজায়।
প্লাইস্টোসিনকালের  সোপানসমূহে এ বনভূমির অবস্থান দেখতে পাওয়া যায়। 
পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমিকে প্রধানত দুইটি ভাগে ভাগ করা যায় ।
যথা- মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি এবং রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বনভূমি ।

ক. মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি : ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বনভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
 এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গজারী হওয়ায় এটি গজারী বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত। এর আয়তন প্রায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার।

খ. রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বনভূমি : রংপুর ও দিনাজপুর জেলার প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি অবস্থিত। এখানকার প্রধান বৃক্ষ শাল। এজন্য এটি শাল বৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত। এ বনভূমির আয়তন প্রায় ৩৯ বর্গকিলোমিটার।
 
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
১,৪৬৩.
গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাব-
  1. ক) নেপালে জলাধার নির্মাণ
  2. খ) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের মধ্যে সংযোগ খাল খনন
  3. গ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গঙ্গা বাঁধ নির্মাণ
  4. ঘ) গঙ্গার শাখা নদীসমূহের পানি প্রবাহ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
- গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল নেপালে জলাধার নির্মাণ। 
- বাংলাদেশের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল-নেপালে সাতটি পানি সংরক্ষণাগার স্বাভাবিক উচ্চতায় নির্মাণ করতে পারলে ফারাক্কায় বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে যে পরিমাণ পানি পাওয়া যাচ্ছে তার চেয়ে অতিরিক্ত আরও ৪৫ হাজার কিউসেক পানি বেশি পাওয়া যেত৷
- আর যদি সাতটি পানি সংরক্ষণাগারের মধ্যে অন্য চারটি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা যায় তাহলে অতিরিক্ত আরও ১ লাখ ৮০ হাজার কিউসেক পানি বেশি পাওয়া যাবে৷
- নেপাল থেকে উৎপন্ন কোশি, কর্ণালী ও গন্ধকীর মত গঙ্গা নদীর এইসব গুরুত্বপূর্ণ উপ নদী ফারাক্কায় শুকনো মৌসুমে গঙ্গায় লব্ধ মোট প্রবাহের ৭১ শতাংশ যোগান দেয়৷
- বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি লোক গঙ্গার পানির উপর নির্ভরশীল৷

উৎস: dw.com
১,৪৬৪.
কত ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসেবে কল্পনা করা হয়?
  1. ক) ১৬০°
  2. খ) ১৭০°
  3. গ) ১৮০°
  4. ঘ) ১৮৫°
ব্যাখ্যা
- ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত যা প্রশান্ত মহসাগরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসেবে স্থির করা হয়।
উৎস: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেন সার্ভিস ওয়েবসাইট
১,৪৬৫.
সুন্দরবনের সুন্দরি বৃক্ষকে কোন নামে ডাকা হয়?
  1. Red Beautiful Tree
  2. Looking Tree
  3. Blue Fairy Tree
  4. Looking Glass Tree
ব্যাখ্যা

• সুন্দরবন:
-  সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা জলাভূমির বন হিসেবেও পরিচিত।
- সুন্দরবনের সুন্দরি বৃক্ষকে Looking Glass Tree বলা হয়।
- সুন্দরবনের পূর্বে অবস্থিত বলেশ্বর নদী, যা সুন্দরবনের পূর্ব সীমানা নির্ধারণ করে।
- আর পশ্চিমে অবস্থিত রায়মঙ্গল।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গকিমি।
- এর মধ্যে বাংলাদেশে বিস্তৃত সুন্দরবনের আয়তন ২,৪০০ বর্গমাইল বা ৬২%।

উল্লেখ্য,
• সুন্দরবন যে এলাকাগুলো জুড়ে রয়েছে: সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা।
• সুন্দরবনের অভয়ারণ্য বা restricted area এর মধ্যে রয়েছে: হিরণ পয়েন্ট, আলকী দীপ।

• সুন্দরবনের প্রধান ম্যানগ্রোভ গাছগুলো হলো:
- সুন্দরী, গেওয়া, গড়ান, পশুর, বাইন, হেঁতাল, গোলপাতা, কেওড়া, ধুন্দুল।
-  এই গাছগুলো লবণাক্ত পরিবেশে টিকে থাকে এবং বনটির বাস্তুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• সুন্দরবনের প্রাণীবৈচিত্র্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
- এখানে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
- এছাড়া রয়েছে চিত্রা ও মায়া হরিণ, বানর, বনবিড়াল, সজারু, বন্য শূকর, বিভিন্ন ধরনের পাখি (যেমন মদনটাক, মাছরাঙ্গা, শঙ্খচিল), কুমির, সাপ, গাঙ্গেয় ডলফিন, এবং ভোঁদড়সহ নানা স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ ও জলজ প্রাণী।

উৎস:
১. বন অধিদপ্তর,
২. বাংলাপিডিয়া।

১,৪৬৬.
বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে কয়টি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা হয়েছে।
যথা - গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল ও শীতকাল।
- বাংলাদেশে মার্চ-মে (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল।
- জুন-অক্টোবর (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল এবং
- নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক-ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কালকে শীতকাল বলা হয়।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
১,৪৬৭.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়?
  1. মধ্যাঞ্চল
  2. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল
  3. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  4. উপকূলীয় অঞ্চল
ব্যাখ্যা

খরা:
- সাধারণত খরা বলতে কোনো এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে ভূমিতে পানির অনুপস্থিতিকে বুঝায়।
- অর্থাৎ কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়।
- এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- বিগত অর্ধ শতকের ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক মাত্রায় খরা দেখা দেয়।

বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র: রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

খরার কারণ:
১. সময়মতো বৃষ্টিপাতের অভাব;
২. পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা;
৩. অপরিকল্পিতভাবে বনভূমি উজাড়;
৪. নদীর উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ;
৫. এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাব প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৬৮.
কোন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে হারকিউলেনিয়াম ও পম্পেই নামের দু'টি নগর উত্তপ্ত লাভা ও ভস্মরাশির মধ্যে ডুবে গিয়েছিল?
  1. ইতালির ভিসুভিয়াস
  2. জাপানের ফুজিয়ামা
  3. হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া
  4. ইরানের কোহিসুলতান
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি: 
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম, নগর ও কৃষিক্ষেত্র সব ধ্বংস করে।
- ১৮৭১ সালে ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে হারকিউলেনিয়াম ও পম্পেই নামের দু'টি নগর উত্তপ্ত লাভা ও ভস্মরাশির মধ্যে ডুবে গিয়েছিল।
- আগ্নেয়গিরির কারণে কেবল মানুষের অপকার নয় উপকারও হয়ে থাকে।
- এতে ভূমির উর্বরতাও বৃদ্ধি পায়। যেমন- দাক্ষিণাত্যের লাভা গঠিত কৃষ্ণমৃত্তিকা কার্পাস চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।
- অনেক সময় লাভার সঙ্গে অনেক খনিজ পদার্থ নির্গত হয়।
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাংশে অগ্ন্যুৎপাতের জন্য অধিক পরিমাণে খনিজ দ্রব্য পাওয়া যায়।
- অগভীর সমুদ্রে বা হ্রদে লাভা ও ভস্ম সঞ্চিত হয়ে এরূপ ভূভাগ সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৪৬৯.
নিচের কোনটিকে প্রাথমিক শিলা বলা হয়? 
  1. পাললিক শিলা 
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

আগ্নেয় শিলা: 
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিন্ড ছিল।
- এই গ্যাসপিন্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়।
- পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে।
- এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় তাই এই শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলে।
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই। তাই আগ্নেয় শিলার অপর নাম অন্তরীভূত শিলা।
- এই  শিলার বৈশিষ্ট্য হলো-
- (ক) স্ফটিকাকার, (খ) অন্তরীভূত, (গ) কঠিন ও কম ভঙ্গুর, (ঘ) জীবাশ্ম দেখা যায় না এবং (ঙ) অপেক্ষাকৃত ভারী।
- ব্যাসন্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট , গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ,নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৭০.
নিচের কোন উদ্ভিদ থেকে পেন্সিল তৈরি করা হয়?
  1. ধুন্দল গাছ
  2. গরান গাছ
  3. সুন্দরী গাছ
  4. গেওয়া কাঠ 
ব্যাখ্যা

• ধুন্দল গাছ: 
- ধুন্দল গাছ হলো সুন্দরবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ গাছ।
- সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে ধুন্দল ব্যাপকভাবে জন্মায়।
- এটি সুন্দরবনের উদ্ভিদবৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- এর কাঠ খুবই মূল্যবান।
- ধুন্দল গাছ মাঝারি আকারের এবং চিরহরিৎ, অর্থাৎ বছরের সব সময় সবুজ থাকে।
- এই গাছের আরেকটি পরিচিত নাম হলো ‘ক্যাননবল ট্রি’।
- ধুন্দল গাছকে “Puzzle Fruit Tree” ও বলা হয়।
- ধুন্দলের কাঠ শক্ত কিন্তু হালকা, তাই এটি সহজেই কাটা যায় এবং বিভিন্ন আকারে ছাঁচে ফেলা যায়।
- এই কারণে এটি পেন্সিল তৈরি করার জন্য উপযুক্ত।
- এছাড়াও, ধুন্দলের কাঠ নির্মাণ কাজ এবং নৌকা বানানোর কাজে ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি ঘুন-পোকা প্রতিরোধী।
- ধুন্দল বিভিন্ন প্রাণীর খাদ্য ও আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।
- তবে, কাঠ ও অন্যান্য ব্যবহার বেশি হওয়ায় এবং বন ধ্বংসের কারণে এই গাছের সংখ্যা কমে আসছে।  

অন্যদিকে, 
• গরান গাছের ছাল থেকে রং প্রস্তুত করা হয়।
• সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হচ্ছে সুন্দরী। 
• গেওয়া কাঠ থেকে দিয়াশলাইয়ের কাঠি প্রস্তুত করা হয়। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১,৪৭১.
“অলিভ টারটল” বাংলাদেশের কোন দ্বীপে পাওয়া যায়?
  1. ক) সেন্টমার্টিন
  2. খ) রাঙাবালি
  3. গ) চর আলেকজান্ডার
  4. ঘ) ছেড়াদ্বীপ
ব্যাখ্যা
বিশ্বের দুর্লভ জলপাইরঙা কাছিম বা অলিভ রিডলে টার্টল পাওয়া যায় বাংলাদেশের সেন্টমার্টিনে৷
উৎসঃ দৈনিক যুগান্তর
১,৪৭২.
চট্টগ্রাম গ্রীষ্মকালে দিনাজপুর অপেক্ষা শীতল ও শীতকালে উষ্ণ থাকে-
  1. ক) মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে
  2. খ) সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে
  3. গ) স্থল বায়ুর প্রভাবে
  4. ঘ) আয়ন বায়ুর প্রভাবে
ব্যাখ্যা
সামুদ্রিক বায়ু:

- চট্টগ্রাম গ্রীষ্মকালে দিনাজপুর অপেক্ষা শীতল ও শীতকালে উষ্ণ থাকে সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে
- সামুদ্রিক বায়ু একটি স্থানীয় বায়ু ব্যবস্থা যা দিনের বেলা সমুদ্র থেকে স্থলভাগে প্রবাহ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
- সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যায় সমুদ্রবায়ুর প্রবাহ বেশি দেখা যায়। 
- সমুদ্রবায়ু জলভাগ থেকে আসে বলে আর্দ্র প্রকৃতির হয়
- সমুদ্র বায়ু প্রবাহিত হওয়ার সময় সমুদ্রের ওপর উচ্চ চাপ ও স্থলভাগের ওপর নিম্ন চাপ অবস্থান করে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১,৪৭৩.
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের অপর নাম - 
  1. সোনাদিয়া
  2. সন্দ্বীপ
  3. কুতুবদিয়া
  4. পূর্বাশা দ্বীপ
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ:
- এই দ্বীপের অপর নাম পূর্বাশা দ্বীপ।
- দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার অন্তর্ভূক্ত বঙ্গোপসাগরের অগভীর সামুদ্রিক মহীসোপান এলাকায় জেগে ওঠা একটি উপকূলবর্তী দ্বীপ।
- বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলার বশীরহাট থানার মধ্যকার হাড়িয়াভাঙ্গা নদী দ্বারা চিহ্নিত সীমান্ত রেখা বরাবর দক্ষিণে হাড়িয়াভাঙ্গা মোহনায় অগভীর সমুদ্রে এ ক্ষুদ্র দ্বীপটি গড়ে উঠেছে।
- দ্বীপটির আকৃতি প্রায় গোলাকার এবং ভাটার সময় সমুদ্রের পানি নেমে গেলে এটিকে দেখতে অনেকটা অর্ধচন্দ্রাকৃতির মতো মনে হয়।
- দক্ষিণ তালপট্টির সরাসরি উত্তরে বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড তালপট্টি এবং দক্ষিণে উন্মুক্ত বঙ্গোপসাগর।
- দ্বীপটির বর্তমান আয়তন প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার।
- জোয়ারভাটার উঠানামায় দ্বীপটির জেগে থাকা ভূ-ভাগের আয়তন প্রায় ৭ বর্গ কিমি থেকে ১৪ বর্গ কিমি পর্যন্ত হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে।
- ১৯৭০ সালের নভেম্বরে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় গাঙ্গেয় বদ্বীপাঞ্চলের দক্ষিণ ভাগে আঘাত হানার ঠিক পর পরই দ্বীপটি প্রথম দৃষ্টিগোচর হয়।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৪৭৪.
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বেশি টনের্ডো কোথায় হয়?
  1. দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপ
  2. আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা
  3. উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া
  4. পূর্ব এশিয়া ও আর্কটিক অঞ্চল
ব্যাখ্যা

টর্নেডো:
- টর্নেডো মূলত অতি দ্রুত আবর্তনশীল ক্ষুদ্র আকারের অথচ প্রলয়ঙ্কারী বজ্রঝড়। 
- এটি চোঙ আকৃতির হয়ে থাকে এবং এই বজ্রঝড়ের মধ্যভাগে বায়ু অতিদ্রুত বেগে উপরে উঠতে থাকে।
- এই চোঙ যদি ভূমি স্পর্শ করে তখন ধ্বংসলীলা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। 
- টর্নেডোর ব্যাস ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ১০০ থেকে ৫০০ গজ পর্যন্ত হয়। 
- টর্নেডোর ভিতরে ও বাইরের বায়ু চাপের গড় পার্থক্য প্রায় ২ ইঞ্চি।

টর্নেডোর বৈশিষ্ট্য:
- পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডোপ্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া।
- টর্নেডোতে প্রথমত আকস্মিকভাবে বায়ু চাপের হ্রাস ঘটে বলেই বড় বড় ইমারতে ফাটল ধরে।
- বায়ুর আবর্তন হয় অত্যন্ত দ্রুতবেগে। ফলে বায়ুপ্রবাহের সম্মুখে প্রতি বর্গফুটে বায়ুচাপের পরিমাণ হয় ১৬০ থেকে ১০০০ পাউন্ড।
- টর্নেডোর গতিপথ অর্ধবৃত্তাকার হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো ডানদিকে আবর্তিত হয়।
- টর্নেডোর গতিবেগ ঘন্টায় ৫ হতে ৬৫ মাইল হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ মাইল হয়।
- সমুদ্রের উপর টর্নেডো সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে, মেক্সিকো উপসাগরে এবং চীন ও জাপানের উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়।

উৎস - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৭৫.
গোবী মরুভূমি কোন ধরনের মরুভূমি?
  1. উষ্ণ মরুভূমি
  2. উপক্রান্তীয় মরুভূমি
  3. শীতল মরুভূমি
  4. উপকূলীয় মরুভূমি
ব্যাখ্যা

গোবী মরুভূমি (Gobi Desert):
- অবস্থান: এশিয়া মহাদেশ, উত্তর চীন ও দক্ষিণ মঙ্গোলিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- ধরন: শীতল মরুভূমি (Cold Desert) অর্থাৎ শীতল ও অত্যন্ত শুষ্ক জলবায়ু।
- আয়তন: প্রায় ১,৩০০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৫,০০,০০০ বর্গমাইল)।
- বিশ্বে অবস্থান: পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমিগুলির মধ্যে একটি।
- জলবায়ু বৈশিষ্ট্য: শীতে তাপমাত্রা প্রায় −৪০ °C পর্যন্ত নেমে যেতে পারে এবং গ্রীষ্মে ৪০ °C বা তারও বেশি হতে পারে।
- ভূগোল: অধিকাংশ অংশ পাথুরে বা খড়কুটোর মতো ভূমি; বালির টিলার পরিমাণ সীমিত।
- ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব: সিল্ক রোড ও ডাইনোসরের ফসিলগুলোর জন্য পরিচিত।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১,৪৭৬.
কুমিল্লার লালমাই পাহাড় কোন ভূতাত্ত্বিক যুগের ভূমিরূপ-
  1. ক) প্লাইস্টোসিন যুগের
  2. খ) টারশিয়ারি যুগের
  3. গ) মায়োসিন যুগের
  4. ঘ) ডেবোনিয়ান যুগের
ব্যাখ্যা
আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত লালমাই পাহাড়টির বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৪৭৭.
পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান কোথায় অবস্থিত?
  1. আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্বে
  2. ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে
  3. এশিয়ার পশ্চিম উপকূলে
  4. আমেরিকার পূর্ব উপকূলে
ব্যাখ্যা
মহীসোপান (Continental Shelf):
- পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিয়দংশ ক্রমশ সমুদ্রের পানির মধ্যে বিস্তৃত থাকে। এরূপ ক্রমনিম্ন স্বল্প গভীর নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে।

⇒ মহীসোপান অংশের পানির গভীরতা সাধারণত ২০০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটি এক ডিগ্রি কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে। মহীসোপান অঞ্চলটি সমুদ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। মহাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার ফলে অথবা সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতার তারতম্য হওয়ার কারণে মহীসোপানের সৃষ্টি হয়। আবার অনেক সময় সমুদ্র তরঙ্গ ও ক্ষয়ক্রিয়া মহীসোপান গঠনে সহায়তা করে। মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা প্রায় ৭০ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত।

⇒ মহীসোপানকে সমুদ্রের অগভীর অঞ্চলও বলা হয়।
- মহীসোপান অঞ্চলের সামুদ্রিক সঞ্চয় বেশি আবার মহাদেশীয় ভূ-খন্ডের শেষ প্রান্তবা শেষ সীমাও বলা হয়।
- মহীসোপানকে প্রধান দুইভাগে ভাগ করা যায়; যথা: ১। তটদেশীয় অঞ্চল ২। ঝিনুক অঞ্চল।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭৮.
ভৌগোলিক দিক দিয়ে বিচার করলে পৃথিবীর সমগ্র ভূমিরূপকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রধান ভূমিরূপ (The Main Landforms of the Earth): 
- ভূপৃষ্ঠ সর্বত্র সমান নয়।
- এর আকৃতি, প্রকৃতি এবং গঠনগত বেশ কিছু পার্থক্য আছে।
- ভূমির এই আকৃতি ও গঠনগত বৈশিষ্ট্যকেই ভূমিরূপ বলে।
- ভূপৃষ্ঠের কোথাও রয়েছে উঁচু পর্বত, কোথাও সমতল, কোথাও পাহাড় এবং কোথাও মালভূমি।
- এছাড়া বিভিন্ন স্থানের উচ্চতা, বন্ধুরতা এবং ঢালের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
- ভৌগোলিক দিক দিয়ে বিচার করলে পৃথিবীর সমগ্র ভূমিরূপকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়
- এগুলো হলো- (১) পর্বত, (২) মালভূমি ও (৩) সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৪৭৯.
কোন দুটি দেশের মধ্যে 'নায়াগ্রা জলপ্রপাত' অবস্থিত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা
  2. ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা
  3. নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া
  4. মেক্সিকো এবং কিউবা
ব্যাখ্যা
- 'নায়াগ্রা জলপ্রপাত' যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা এর মধ্যে অবস্থিত। 

নায়াগ্রা জলপ্রপাত:

- নায়াগ্রা জলপ্রপাত উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত জলপ্রপাত।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং কানাডার ওন্টারিওর সীমান্তে অবস্থিত।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাতের তিন ভাগের এক ভাগ আমেরিকায়। বাকি দুই ভাগ কানাডায়।
- নায়াগ্রা নদী এই জলপ্রপাতটির মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবাহিত হয়।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাতের উচ্চতা প্রায় ৫১ মিটার (১৬৭ ফুট) এবং এটি প্রতি মিনিটে প্রায় ২,৮০০ ঘনমিটার পানি পতিত হয়।

উৎস: Britannica.
১,৪৮০.
কোনটি নবায়নযােগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত?
  1. তেল
  2. গ্যাস
  3. ইউরেনিয়াম
  4. বায়ু
ব্যাখ্যা
নবায়নযােগ্য সম্পদ:
- যে জ্বালানি পুনঃপুন ব্যবহার করলে সাধারণত ফুরােয় না এমনকি অদূর ভবিষ্যতেও ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে না, তাকে নবায়নযােগ্য জ্বালানি বলা হয়।
যেমন: সূর্যের আলাে, নদীর বহমান পানি, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বায়ু, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা।

অনবায়নযােগ্য সম্পদ:
- অনবায়নযােগ্য মানে হলাে, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না।
- এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না।
যেমন - তেলগ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম

সূত্র:- পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৮১.
পৃথিবীর প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম খাল কোনটি?
  1. ক) কিয়েল খাল
  2. খ) পানামা খাল
  3. গ) সুয়েজ খাল
  4. ঘ) গ্রান্ড খাল
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম খাল হচ্ছে চীনের গ্রান্ড খাল

অন্যদিকে,
কিয়েল খাল – জার্মানি।
প্রিন্সেস জুলিয়ানা খাল – হল্যান্ড।
গোটা খাল – সুইডেন।
সুয়েজ খাল- মিশর।
পানামা খাল- পানামা।

সূত্র: Britannica
১,৪৮২.
নেপালের জলবায়ুতে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের তারতম্য বিবেচনায় স্পষ্টত কয়টি ঋতু পরিলক্ষিত হয়?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
নেপালের জলবায়ু: 
- নেপালের জলবায়ুতে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের তারতম্য বিবেচনায় স্পষ্টত দুটি ঋতু পরিলক্ষিত হয়।
- জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি থাকে।
- এজন্য এ সময়কালকে বর্ষাকাল হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
- জুলাই মাসে কাঠমন্ডুর তাপমাত্রা থাকে ২৪.৪ ডিগ্রি সে.।
- অন্যদিকে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় অত্যন্ত শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন থাকে।
- এ সময় তাপমাত্রাও বেশ কম থাকে বলে একে শীতকাল হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
- জানুয়ারিতে কাঠমন্ডুর তাপমাত্রা থাকে প্রায় ১০ ডিগ্রি সে.।
- উঁচু পার্বত্য এলাকা হওয়ায় নেপালের কোনো অংশের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় না এবং শীত-গ্রীষ্মের তাপমাত্রার পার্থক্যও খুব বেশি অনুভূত হয় না।
- নেপালের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৪৫ সে.মি. যার প্রায় পুরোটাই সংঘটিত হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৪৮৩.
বাংলাদেশের পূর্বদিকে ভারতের কোন রাজ্যসমূহ অবস্থিত?
  1. পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়
  2. বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ
  3. ত্রিপুরা ও আসাম
  4. মেঘালয় ও অরুণাচল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমানা: 
- বাংলাদেশের সর্বমোট সীমারেখা ৪,৭১১ কিলোমিটার।
- এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৩,৭১৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমারেখার দৈর্ঘ্য ২৮০ কিলোমিটার
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম রাজ্য; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য ও মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙ্গা নদী এবং দক্ষিণ-পূর্বে নাফ নদী ভারত ও মিয়ানমারের সীমানায় অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৮৪.
নদী প্রবাহের কোন পর্যায়ে ক্ষয়কার্য সাধন অধিক হয়?
  1. ক) নিম্নগতি
  2. খ) উর্ধ্বগতি
  3. গ) মধ্যগতি
  4. ঘ) ধীরগতি
ব্যাখ্যা
পর্বতের উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর প্রবাহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়।
এগুলো হলো:
- উর্ধ্বগতি
- মধ্যগতি এবং
- নিম্নগতি

উর্ধ্বগতি হলো প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।

মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়।

সর্বশেষ হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৪৮৫.
'নাইনটি ইস্ট রিজ' কোথায় অবস্থিত?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. আর্কটিক মহাসাগর
  4. ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
মহাসাগর:
- নাইনটি ইস্ট রিজ হলো বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণে ভারত মহাসাগরে নিমজ্জিত একটি শৈলশিরা।
- উত্তর-দক্ষিণে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ বরাবর বেঙ্গল ফ্যান (উপদ্বীপ) ও নিকোবর ফ্যানের মধ্যবর্তী স্থানে সুন্দা ট্রেঞ্চের নিকটে এটি অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগর গঠিত হওয়ার প্রাথমিক কালেই নাইনটি ইস্ট রিজ অস্তিত্ব লাভ করে।
- এই শৈলশিরাটি একটি নির্দিষ্ট উষ্ণস্থানের চিহ্ন।
- এটি ভারতীয় প্লেট এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক ভূত্বকের উভয় দিকে মহীসঞ্চারের (drift) সময় গঠিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।[লিঙ্ক]
১,৪৮৬.
'স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ' কোথায় অবস্থিত?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. দক্ষিণ চীন সাগর
  3. আন্দামান সাগর
  4. ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর
ব্যাখ্যা

• স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ:
- অবস্থান: প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত বিশাল প্রাচীর, শোল, অ্যাটল এবং ছোট ছোট দ্বীপপুঞ্জ ।
- এগুলি মালয়েশিয়ার উত্তরে অবস্থিত এবং ভিয়েতনাম এবং ফিলিপাইনের প্রায় মাঝখানে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে তাদের মালিকানা দাবি করে।
- আয়তন: প্রায় ১৫৮,০০০ বর্গমাইল (৪০৯,০০০ বর্গকিমি) সমুদ্র অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত।
- এদের মধ্যে বেশিরভাগই ডুবে আছে।
- প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ১২টি প্রধান দ্বীপের মধ্যে, বৃহত্তমটি হল ৯০ একর (৩৬ হেক্টর) ইতু আবা।
- আরেকটি, যাকে স্প্রাটলি দ্বীপ বা স্টর্ম আইল্যান্ড বলা হয়, ৯০০ বাই ১,৫০০ ফুট (২৭৫ বাই ৪৫০ মিটার) পরিমাপ করে। 

• ইতিহাস ও কৌশলগত গুরুত্ব:
- ফ্রান্স ১৯৩৩–১৯৩৯ পর্যন্ত দখল করে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান সাবমেরিন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার।
- যুদ্ধ পরের সময় চীনা জাতীয়তাবাদীরা ইতু আবায় গ্যারিসন স্থাপন করে।
- ১৯৪৯ সালে তাইওয়ান, চীন মূল ভূখণ্ড এবং ভিয়েতনাম নিজেদের মালিকানা দাবি করে।
- ১৯৫৫ সালে ফিলিপাইন নৈকট্য ভিত্তিক দাবি যোগ করে।
- ১৯৭০-এর দশকে দক্ষিণ ভিয়েতনাম চীনা দখল ঠেকাতে স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের তিনটি (স্প্রাটলি দ্বীপ সহ) দখল করে।
- তাইওয়ানের সৈন্যরা ইতু আবাতেই থেকে যায়।
- এরপর ফিলিপাইন অবশিষ্ট সাতটি দ্বীপে সৈন্য স্থানান্তর করে এবং পাগাসা দ্বীপে একটি বিমানঘাঁটি (১৯৭৬) নির্মাণ করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১,৪৮৭.
আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া কোনটি?
  1. মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো
  2. মাউন্ট এলব্রাস
  3. মাউন্ট ডেনালি
  4. মাউন্ট অ্যাকনকাগুয়া
ব্যাখ্যা
মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো:
- আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া হলো মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো। 
- এটি উত্তর-পূর্ব তানজানিয়ায় অবস্থিত একটি আগ্নেয়গিরিময় পর্বতমালা।
- এটি কেনিয়ার সীমানার কাছাকাছি অবস্থিত এবং প্রায় ৫০ মাইল (৮০ কিমি) জুড়ে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত।
- এই বিশাল পর্বতমালা গঠিত তিনটি প্রধান নিস্ক্রিয় আগ্নেয়গিরি নিয়ে, যার মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ও সর্বোচ্চ হলো কিবো, যার উচ্চতা ১৯,৩৪০ ফুট (৫,৮৯৫ মিটার)।
- ১৮৮৯ সালে প্রথমবারের মতো জার্মান ভূগোলবিদ হান্স মেয়ার এবং অস্ট্রিয়ান পর্বতারোহী লুডউইগ পোর্টশেলার কিবো শৃঙ্গে আরোহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে পর্বতের উপরের বৃক্ষরেখা এবং ছয়টি বনাঞ্চলীয় করিডোর সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো ন্যাশনাল পার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই পার্কটিকে ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

উৎস: Britannica.
১,৪৮৮.
বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. খুলনা
  2. বাগেরহাট
  3. সুনামগঞ্জ
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

রামসার সাইট:
- রামসার কনভেনশন রামসার চুক্তি হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি (wetlands) সংরক্ষণ এবং সারা বিশ্বে এসব এলাকার টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- বাংলাদেশের ২টি স্থান রামসার সাইট  হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
- রামসার সাইট ২টি হলো: সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর।
- বাংলাদেশের প্রথম রামসার সাইট সুন্দরবন।
- ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবনকে রামসার সাইট (রামসার কনভেনশন কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জলাভূমি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় 'রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর।
- এটি সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি টাঙ্গুয়ার হাওরকে সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় 'রামসার সাইট' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

উৎস: Ramsar Convention ওয়েবসাইট।

১,৪৮৯.
পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী-
  1. ক) আমাজন
  2. খ) সেন্ট লরেন্স
  3. গ) মিসিসিপি
  4. ঘ) নীল
ব্যাখ্যা
নীল নদ হলো বিশ্বের দীর্ঘতম নদী, যাকে আফ্রিকান নদীর জনক বলা হয়। 
এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,১৩২ মাইল (৬,৬৫০ কিলোমিটার) । 
নীলনদ অববাহিকায় অবস্থিত দেশসমূহ হলো - তানজানিয়া, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, কেনিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, সুদান এবং মিশর।

অপরদিকে, আমাজন হলো বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২,০৯,১০৩ ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হয় বলে একে বিশ্বের বৃহত্তম (largest) নদী বলা হয়।

বিশ্বের শীর্ষ দীর্ঘতম নদীসমূহের তালিকা নিম্নরূপ  :
১) নীল নদী - ৬,৬৫০ কিমি
২) আমাজন নদী - ৬,৪০০ কিমি
৩) ইয়াংজি নদী -৬,৩০০ কিমি
৪) মিসিসিপি/মিসৌরি নদী - ৬,২৭৫কিমি
৫) ইয়েনিসে-আঙ্গারা-সেলেঙ্গা নদী - ৫,৫৩৯কিমি
৬) ইয়েলো নদী ৫,৪৬৪কিমি
৭) ওব-ইরটিশ নদী - ৫,৪১০ কিমি
৮) রিও ডি লা প্লাটা-পারানা-রিও গ্র্যান্ডে নদী - ৪,৮৮০কিমি
৯) কঙ্গো-চাম্বেশি নদী ব্যবস্থা - 4,700 কিমি
১০) আমুর নদী - ৪,৪৪৪ কিমি

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১,৪৯০.
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কোথায় অবস্থিত?
  1. আরব সাগরে
  2. বঙ্গোপসাগরে
  3. ভূমধ্যসাগরে
  4. দক্ষিণ চীন সাগরে
ব্যাখ্যা

- বঙ্গোপসাগরে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড  অবস্থিত। 

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড: 

- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত। গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের আরও কিছু বদ্বীপমুখী খাদ দেখতে পাওয়া যায়, যেমন সিন্ধু নদীর মোহনার অদূরে সিন্ধু খাদ, মিসিসিপি বদ্বীপের পশ্চিম পাশে মিসিসিপি খাদ।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- ধারণা করা হয়, বঙ্গোপসাগরের নিচে কান্দা ও উপ-বদ্বীপ উপত্যকার আকারে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সাগর অভিমুখে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সম্প্রসারিত হয়ে আছে।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের দিকে মুখ করে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের মোহনার কাছে বালুচর ও শৈলশিরার অবস্থিতি এই ইঙ্গিতই বহন করে যে, এই খাদ দিয়েই পলল বঙ্গোপসাগরের গভীরতর অংশে বাহিত হয়।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
-এগুলো যথাক্রমে হিমালয়ের দক্ষিণ ও উত্তর দিক থেকে আসছে।
- বর্তমান অবস্থায় স্বল্প পরিমাণের ঘোলাটে স্রোত আর বালি সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের মাধ্যমে মহীসোপান থেকে গভীর সমুদ্রে পলল পরিবহণের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৪৯১.
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (Flood Forecasting & Warning Centre) কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) গাজীপুর
  2. খ) নারায়ণগঞ্জ
  3. গ) চাঁদপুর
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
- ‘বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (Flood Forecasting & Warning Centre)’ হলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন।
- এটি রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের ওয়াপদা ভবনে অবস্থিত যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কাজ হলো বন্যা বিষয়ে আগাম সতর্কতা প্রদান।

উৎস: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ওয়েবসাইট 
১,৪৯২.
কাস্পিয়ান সাগর কোন দুটি মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. এশিয়া ও আফ্রিকা
  2. ইউরোপ ও আফ্রিকা
  3. এশিয়া ও ইউরোপ
  4. উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা
কাস্পিয়ান সাগর:
- কাস্পিয়ান সাগর (Caspian Sea) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্তঃমহাদেশীয় হ্রদ।
- এটি সাগরের মতো দেখতে হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে একটি হ্রদ।
- এটি এশিয়া এবং ইউরোপের মাঝে অবস্থিত।
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগরের আয়তন ৩,৮৬,৪০০ বর্গ কিলোমিটার।
- প্রধান নদী: ভলগা, ইউরাল, কুরা ও তেরেক নদী এতে পানি সরবরাহ করে।

⇒ এটি পাঁচটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত: রাশিয়া, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, ইরান এবং তুর্কমেনিস্তান।
- এটি এশিয়া-ইউরোপের মাঝে, ককেসাস পর্বতমালার পূর্বে এবং স্তেপ ও মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত।

উৎস: World Atlas.
১,৪৯৩.
কোন নদী সর্বাধিক জেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ইছামতি
  2. মেঘনা
  3. যমুনা
  4. পদ্মা
ব্যাখ্যা

সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম - পদ্মা।
- জেলার সংখ্যা - ১২টি।

সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম - মেঘনা।
- উপজেলার সংখ্যা - ৩৬টি।

সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত বিভাগের নাম - ঢাকা।
- নদীর সংখ্যা - ২২২টি।

সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত জেলার নাম - সুনামগঞ্জ।
- নদীর সংখ্যা - ৯৭টি।

উৎস: বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।

১,৪৯৪.
বাংলাদেশে প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. ক) বেতবুনিয়া
  2. খ) গাজীপুর
  3. গ) মহাখালী
  4. ঘ) তালিবাবাদ
ব্যাখ্যা
• বর্তমানে বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথা-
- রাঙ্গামাটি (বেতবুনিয়া)
- গাজীপুর (তালিবাবাদ)
- মহাখালী
- সিলেট
- বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন করেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
১,৪৯৫.
লামার মাইভার পর্বতে কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে?
  1. সাঙ্গু
  2. মাতামুহুরী
  3. ফেনী
  4. নাফ
ব্যাখ্যা
সাঙ্গু, ফেনী, নাফ ও মাতামুহুরী নদী:
- সাঙ্গু নদী উত্তর আরাকান পাহাড় থেকে নির্গত হয়ে বান্দরবান জেলার থানছি উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- এটি ২৯৪ কি.মি. দীর্ঘ।
- পার্বত্য ত্রিপুরায় উৎপত্তি হয়ে ফেনী জেলায় প্রবেশ করেছে ফেনী নদী।
- সন্দ্বীপের উত্তরে ফেনী নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশ মিয়ানমারের সীমান্তে নাফ নদী অবস্থিত।
- এর মোহনা অত্যন্ত প্রশস্ত।
- এই নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ কি. মি।
- লামার মাইভার পর্বতে মাতামুহুরী নদীর উৎপত্তি হয়েছে।
- নদীটি কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার পশ্চিম পাশ ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কি.মি.।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৪৯৬.
সিডর শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) Cyclone
  2. খ) Eye
  3. গ) Ear
  4. ঘ) Wind
ব্যাখ্যা
‘সিডর’ শব্দের অর্থ চোখ এবং ‘করোনা’ শব্দের অর্থ মুকুট। সূত্রঃ প্রথম আলো ও বিবিসি।
১,৪৯৭.
ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে সমুদ্র স্রোত কোন দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়?
  1. বাম দিকে
  2. ডান দিকে
  3. সরলরেখায়
  4. উল্লম্বভাবে
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আবর্তন:
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।
- আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয।
- যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ু প্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।

⇒ একটি অঞ্চলে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে একটি কেন্দ্রাভিমুখী ঘূর্ণায়মান প্রচন্ড বায়ুপ্রবাহ থেকেই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীতমুখী অর্থাৎ উত্তরাভিমুখী এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণাভিমুখী প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৯৮.
বাংলাদেশের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে -
  1. ক) মকরক্রান্তি রেখা
  2. খ) কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. গ) ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা এবং ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
এই দু’টি রেখা ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় পরস্পরকে অতিক্রম করেছে। এখানে বঙ্গবন্ধু মানমন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন)

১,৪৯৯.
নিচের কোন শহরটি দুটি মহাদেশে পড়েছে?
  1. ক) ওরেনবার্গ
  2. খ) ইস্তাম্বুল
  3. গ) কানাককালে
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
রাশিয়া ও তুরস্ক দেশ দুটি এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশে পড়েছে। রাশিয়ার ওরেনবার্গ নগরটি উভয় মহাদেশে পড়েছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুল ও কানাককালে নগর দুটিও উভয় মহাদেশে পড়েছে।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১,৫০০.
নিচের কোনটি নদীবিহীন দেশ নয়?
  1. লিবিয়া
  2. বাহরাইন
  3. ইরাক 
  4. বাহামাস
ব্যাখ্যা

- ইরাক নদীবিহীন দেশ নয়।

• নদী বিহীন দেশ:
- কিছু দেশ এত ছোট যে সেখানে নদী থাকার জায়গাই নেই।
- অনেক ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র, শহর-রাষ্ট্র, অথবা যে-সব দেশে শুধুমাত্র মৌসুমি পানি প্রবাহ ঘটে।
- যা প্রকৃতপক্ষে স্থায়ী নদী হিসেবে বিবেচিত হয় না।
- এই মানদণ্ড অনুযায়ী, বিশ্বে মোট ১৯টি দেশ রয়েছে যেগুলোর মধ্যে কোনো স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই।

• নদী বিহীন দেশগুলো হলো যথা:
- কোমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত,ইয়েমেন,মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি,  কিরিবাটি, নাউরু,  টোঙ্গা, টুভ্যুলু।

উৎস: World Atlas.