বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ১২ / ৭২ · ১,১০১১,২০০ / ৭,১৯১

১,১০১.
কোনটি কোনাে এলাকার জলবায়ুর উপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. ক) সমুদ্রস্রোত
  2. খ) পর্বতের অবস্থান
  3. গ) ভূমির ঢাল
  4. ঘ) বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ কোনাে জায়গার জলবায়ুর উপরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনাে এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। যেমন- বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। আবার শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে শুষ্ক মহাদেশীয় বায়ু প্রবাহিত হওয়ার কারণে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। (রেফারেন্সঃ নবম দশম শ্রেণির ভূগোল)
১,১০২.
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা নিচের কোনটি?
  1. সনেরা লাইন
  2. পার্পল লাইন
  3. ডুরান্ড লাইন
  4. রেডক্লিফ লাইন
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দেশের সীমানা:

- ডুরান্ড লাইন - পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- ম্যাকমোহন লাইন - ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানা।
- রেডক্লিফ লাইন - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
- লাইন অব ডিমারকেশন - পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব কন্ট্রোল - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল - চীন ও ভারত মধ্যে সীমানা।
- পার্পল লাইন - ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
- সনেরা লাইন - মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যকার সীমানা।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১,১০৩.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত?
  1. ১৮° সে.
  2. ১৫°সে.
  3. ২১° সে.
  4. ২৩° সে.
ব্যাখ্যা
জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ু প্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও বার্ষিক তাপমাত্রার ভিত্তিতে ৩টি প্রধান ঋতুতে ভাগ করা যায়।
- যথা: গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শীতকাল 
• গ্রীষ্মকাল:
- মার্চ থেকে মে মাস (ফান্ডুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এ সময়কেই
গ্রীষ্মকাল ধরা হয়।
- গ্রীষ্মকালে গড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং
-সর্বনিম্ন ২১° সেলসিয়াস।
- গড় তাপমাত্রা মধ্য এপ্রিল ও মে মাসে সর্বাধিক বৃদ্ধি পায় যা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।
- গ্রীষ্মকালেই কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় দেখা যায়।
- মার্চ-এপ্রিল মাসের কালবৈশাখী অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- এ সময় গড় বৃষ্টিপাত ৫১ সে.মি এবং বাংলাদেশের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের শতকরা ২০ ভাগ গ্রীষ্মকালে হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৪.
বাংলাদেশের কোন জেলায় লোহার মজুদ রয়েছে?
  1. নওগাঁ
  2. দিনাজপুর
  3. শেরপুর
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামে দেশের প্রথম লোহা খনি আবিষ্কার করে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)। ২০১৯ সালে এই খনি আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এখানে উন্নত মানের ম্যাগনেটাইট রয়েছে বলে জিএসবি জানায়।

(তথ্যসূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো)
১,১০৫.
নিচের কোনটি অর্থকরী ফসল নয়?
  1. ক) ইক্ষু
  2. খ) ভুট্টা
  3. গ) তুলা
  4. ঘ) ফুল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কৃষিজ ফসলকে প্রধান দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা :
১. খাদ্যশস্য (ধান, গম, ডাল, তেলবীজ, আলু, ভুট্টা, সবজি ও ফলমূল)।
২. অর্থকরী ফসল (পাট, চা, ইক্ষু, তুলা, তামাক ও ফুল)।

তন্মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধান এবং প্রধান অর্থকরী ফসল পাট। 

উৎস: এস.এস.সি. ভূগোল ও পরিবেশ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,১০৬.
সুন্দরবনের পূর্বে যে নদী অবস্থিত -
  1. রায়মঙ্গল
  2. মাতামুহুরী
  3. বলেশ্বর
  4. রূপসা
ব্যাখ্যা

• সুন্দরবন:
- বাংলাদেশ এবং ভারত জুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবনের বৃহত্তর অংশটি (৬২%) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত। 
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর; পূর্বে বলেশ্বর নদী আর উত্তরে বেশি চাষ ঘনত্বের জমি বরাবর সীমানা। 
- উঁচু এলাকায় নদীর প্রধান শাখাগুলো ছাড়া অন্যান্য জলধারাগুলো সর্বত্রই বেড়িবাঁধ ও নিচু জমি দ্বারা বহুলাংশে বাঁধাপ্রাপ্ত।
- এটি সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী অঞ্চল জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশে। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে সুন্দরবন অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: খুলনা জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১,১০৭.
কোন সাগর এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে?
  1. পীত সাগর
  2. কাম্পিয়ান সাগর
  3. লোহিত সাগর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
লোহিত সাগর:
- এশিয়া মহাদেশকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে লোহিত সাগর।
- লোহিত সাগর সৌদি আরব (এশিয়া) এবং মিশর (আফ্রিকা) কে পৃথক করেছে।

⇒ লোহিত সাগর (Red sea) ভারত মহাসাগরের একটি বিশেষ অংশ।
- এর দক্ষিণে বাব এল মান্দের প্রণালী।
- লোহিত সাগরে জলে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া আছে, যা বাতাস থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে ট্রিকোডেসামিয়াম রিথ্রিয়াম নামে এক ধরনের অজৈব যৌগ গঠন করে।
- এর রং লাল হওয়ায় এই সাগরের জল লাল দেখায়।

উৎস: World Atlas.
১,১০৮.
পাললিক শিলায় -
  1. স্তর নেই, জীবাশ্ম আছে 
  2. স্তর আছে, জীবাশ্ম নেই 
  3. স্তর ও জীবাশ্ম আছে
  4. স্তর ও জীবাশ্ম কোনটিই নেই।
ব্যাখ্যা

• পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ।

পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
১। পাললিক শিলা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়;
২। পাললিক শিলায় জীবাশ্ম পাওয়া যায়;
৩। পাললিক শিলা স্ফটিকাকার নয়;
৪। পাললিকা শিলা হালকা, ভঙ্গুর ও তরঙ্গ বিশিষ্ট।

অন্যদিকে -
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা।
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১০৯.
নিচের কোনটি সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ নয়?
  1. প্লাবন সমভূমি
  2. পলল পাখা
  3. জলপ্রপাত
  4. পাদদেশীয় পলল সমভূমি
ব্যাখ্যা
- পলল পাখা ও পলল কোণ, পাদদেশীয় পলল সমভূমি, প্লাবন সমভূমি, বদ্বীপ প্রভৃতি হলো নদী দ্বারা সৃষ্ট সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ।
-অন্যদিকে
- ভি আকৃতির উপত্যকা, গিরিখাত ও ক্যানিয়ন, জলপ্রপাত প্রভৃতি নদী দ্বারা সৃষ্ট কতগুলো ক্ষয়জাত ভূমিরূপ।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী : পৃ্ষ্ঠা- ৬০/৬১)
১,১১০.
আর্দ্রতা শব্দটি বায়ুতে কিসের উপস্থিতির পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়-
  1. জলবায়ুর
  2. জলীয় বাষ্পের
  3. কুয়াশার
  4. ধূলিকণা ও শিশির বিন্দুর
ব্যাখ্যা
আর্দ্রতা (Humidity):
- আর্দ্রতা শব্দটি বায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির পরিমাণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- বায়ুতে অন্যান্য গ্যাসের তুলনায় জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অতি নগণ্য, আয়তন হিসাবে যা শূন্য থেকে শতকরা চার ভাগের ও কম হয়ে থাকে, কিন্তু আবহাওয়া তথা জলবায়ুতে এ সামান্য পরিমাণ জলীয় কণার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।

- নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ, চাপ ও আয়তনের বায়ুতে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে সেই পরিমাণ জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিকে সম্পৃক্ত (Saturation) অবস্থা বলে। জলীয়বাষ্পজনিত বায়ুচাপ জলীয়বাষ্পচাপ নামে পরিচিত। 

- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। যেমন,
১. চাপবৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়;
২. তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে বৃদ্ধি পায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম,  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১১.
Find the odd one out-
  1. ক) Caspian Sea
  2. খ) Dead Sea
  3. গ) Baikal
  4. ঘ) Pacific ocean
ব্যাখ্যা
এখান একমাত্র প্রশান্ত মহাসাগর ছাড়া বাকিগুলো হ্রদ৷
Source: worldatlas
১,১১২.
কোনটি নবায়নযােগ্য সম্পদ?
  1. প্রাকৃতিক কয়লা
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. ইউরেনিয়াম
  4. সূর্যের আলাে
ব্যাখ্যা

নবায়নযােগ্য শক্তি (Renewable Energy):
- যে জ্বালানি পুন: পুন ব্যবহার করলে সাধারণত ফুরােয় না এমনকি অদূর ভবিষ্যতেও ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে না, তাকে নবায়নযােগ্য জ্বালানি বলা হয়।
যেমন: সূর্যের আলাে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বায়ু, নদীর বহমান পানি, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা।

অনবায়নযােগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy):
অনবায়নযােগ্য মানে হলাে, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না।
যেমন: তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১১৩.
বৈরাগীর ভিটা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) নাটোর
ব্যাখ্যা
বৈরাগী ভিটা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত।
এটি আনুমানিক ২৫০০ বছর পুরনো। সম্প্রতি এই ভিটায় ১৪০০ বছর আগের একটি স্থাপনার নিদর্শন পাওয়া গেছে। এর পূর্বেও এখানে তিনটি বৌদ্ধমন্দিরের সন্ধান পাওয়া যায়।

সূত্র: দৈনিক নয়াদিগন্ত
১,১১৪.
যশোর জেলায় অবস্থিত বিল কোনটি?
  1. ক) হাইল
  2. খ) ভবদহ
  3. গ) পাথর চাওলি
  4. ঘ) আড়িয়াল
ব্যাখ্যা
যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় অবস্থিত - ভবদহ বিল।
অন্যদিকে,
- আড়িয়াল বিল অবস্থিত - মুন্সীগঞ্জ জেলায় ও
- বাইক্কা বিল, হাইল বিল অবস্থিত - মৌলভীবাজার জেলায়।

উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর ওয়েবসাইট।
১,১১৫.
নিচের কোনটি বাল্টিক রাষ্ট্র নয়?
  1. ক) লিথুয়ানিয়া
  2. খ) এস্তোনিয়া
  3. গ) বুলগেরিয়া
  4. ঘ) লাটভিয়া
ব্যাখ্যা
বাল্টিক সাগর ইউরোপের উত্তর উপকূলে অবস্থিত। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ বাল্টিক রাষ্ট্র নামে পরিচিত। লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া বাল্টিক রাষ্ট্র নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
বুলগেরিয়া বলকান অঞ্চলে অবস্থিত।

(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
১,১১৬.
খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল কোনটি?
  1. ক) সাতক্ষীরা
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
 ⇨ ২০১৬ সালে প্রকাশিত 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) রিপোর্টে প্রথম সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
⇨ সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন  অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো -
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল।)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.12

তথ্যসূত্র: BNBC প্রকাশিত Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট।
১,১১৭.
নিচের কোনটি স্ক্যান্ডেনেভিয়ান রাষ্ট্র নয়?
  1. ডেনমার্ক
  2. সুইডেন
  3. নরওয়ে
  4. হাঙ্গেরি
ব্যাখ্যা
• স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ:
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া হলো ইউরোপের উত্তরে অবস্থিত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল।
- স্ক্যান্ডেনেভিয়ান রাষ্ট্র মূলত ৩টি।
- যথা - নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক।
- তবে ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং ফারো আইল্যান্ডকেও অনেক ক্ষেত্রে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাষ্ট্র হিসেব গণ্য করা হয়।

• নর্ডিক অঞ্চল বলতে স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ + ফিনল্যান্ড + আইসল্যান্ডকে বুঝায়।
অর্থাৎ, স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশগুলো আসলে নর্ডিক অঞ্চলের মধ্যে পরে।

• নর্ডিক অঞ্চলভূক্ত দেশ ৫টি।
যথা - আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড।

উৎস: Worldatlas.com ও Britannica.com।
১,১১৮.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিংডং কোন ভূপ্রকৃতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
  2. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  4. উপকূলীয় সমভূমি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিংডং টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহর অন্তর্ভুক্ত।

⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% এলাকা নিয়েটারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- আজ থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন বছরেরও আগে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
যথা-
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ।
- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান,খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়),যার উচ্চতা ১,২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

• উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,১১৯.
বায়ুমন্ডলের উপাদানসমূহ মূলত কোনগুলি?
  1. ক) জলীয়বাষ্প, কাঁচের কণা, তাপ, চাপ
  2. খ) বিভিন্ন গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা, কণিকা
  3. গ) ধূলিকণা, তরল পদার্থ, জলের কণা
  4. ঘ) বিভিন্ন কঠিন পদার্থ, জলীয়বাষ্প ও ধূলা-বালি
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের উপাদানসমূহ মূলত - বিভিন্ন গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা, কণিকা।

• বায়ুমন্ডলের উপাদান:

- পৃথিবীপৃষ্ঠ ও তার চারদিক জুড়ে বায়ুমন্ডল বেষ্টিত। এই মন্ডল নানা রকমের গ্যাসের মিশ্রণে গঠিত হয়েছে।
- এই গ্যাসীয় মিশ্রণ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত প্রায় সমান।

- বায়ুমন্ডলে আরও রয়েছে অসংখ্য ধূলিকণার সংমিশ্রণ। এই সব কঠিন ও তরল কণিকাকে একত্রে বলা হয় রঞ্জক পদার্থ (Aerosols)।
- বায়ুমন্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই। তাই বায়ুমন্ডলের এই সব উপাদান স্বাভাবিক অবস্থায় অনুভব করা যায় না।
- সুতরাং বায়ুমন্ডলের উপাদান বলতে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণকে বুঝায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২০.
লবণাক্ততার প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে কোন ধরণের প্রতিকূলতা দেখা যাচ্ছে?
  1. জমি কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে
  2. সুপেয় পানির অভাব দেখা দিচ্ছে
  3. মিঠা পানির মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

লবণাক্ততা (Salinity):
- লবণাক্ততা বলতে মাটি ও পানিতে লবণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে বুঝায়।
- সাধারণত লবণাক্ততার মাত্রা পরিমাপ করা হয় Parts Per Thousand বা পিপিটি (PPT) দ্বারা।
- সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততার গড় মাত্রা ৩৫পিপিটি অর্থাৎ ১ কিলোগ্রাম পানিতে প্রায় ৩৫ গ্রাম লবণ থাকে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি ও পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- বঙ্গোপসাগরের পানি জোয়ারের সময় নদীর মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমিতে প্রবেশ করে লবণাক্ততা সৃষ্টি করে।
- সাধারণত আগস্ট মাস থেকে লবণাক্ততা শুরু হয় এবং ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।
- উপকূলীয় ১৬টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় লবণাক্ততা দেখা যায়।
- এর মধ্যে সর্বাধিক লবণাক্ততায় আক্রান্ত খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা জেলা।
- এছাড়া বরিশাল, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, ফেনী প্রভৃতি জেলা লবণাক্ততায় আক্রান্ত।

লবণাক্ততার কারণ:
- সাধারণত উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমি ও পানিতে লবণাক্ততার জন্য জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়।
- আর সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য মানুষের বহুমুখী কর্মকাণ্ডকেই দায়ী করা হয়।

⇒ লবণাক্ততার প্রভাব -
১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমি কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে উৎপাদন হ্রাস পাওয়া;
২. সুপেয় পানির অভাব দেখা দেওয়া;
৩. উদ্বাস্তু লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি;
৪. সম্পদহানি ও দারিদ্রতা বৃদ্ধি;
৫. বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া;
৬. ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি;
৭. মিঠা পানির মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস;
৮. গাছপালায় মড়ক লাগা ও ফসলের গোড়া পচে যাওয়া;
৯. সামাজিক বন্ধনে শিথিল হওয়া প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১২১.
বাংলাদেশে মোট কতটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৩টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি।
- রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫),
- গাজীপুরের তালিবাবাগ (১৯৮২),
- ঢাকার মহাখালী (১৯৯৫),
- সিলেট (১৯৯৭)।

দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ: রাঙামাটির বেতবুনিয়া উপগ্রহ:
- ১৯৭০ সনের ০৩ জানুয়ারী তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান, এইচপিকে, বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
- পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৪ জুন ১৯৭৫ সনে বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাসস।

১,১২২.
পৃথিবীর মোট সঞ্চিত বরফের কত শতাংশ এন্টার্কটিকায় বিদ্যমান?
  1. ৭০ শতাংশ
  2. ৮০ শতাংশ
  3. ৯০ শতাংশ
  4. ৯৮ শতাংশ
ব্যাখ্যা

এন্টার্কটিকায় পৃথিবীর মোট সঞ্চিত বরফের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ বিদ্যমান। ৫৩ লক্ষ বর্গমাইল জুড়ে বিস্তৃত এই বরফ আচ্ছাদনের গড় গভীরতা প্রায় ৩ মাইল।
পৃথিবীর মোট স্বাদু পানির ৭০ ভাগ এন্টার্কটিকায় বিদ্যমান।
(উৎসঃ ইউএসএ ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন ওয়েবসাইট)

১,১২৩.
পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম -
  1. অ্যালকিয়োনেস
  2. এনাক্সিমিয়া
  3. এন্ড্রোমিডা
  4. আকাশগঙ্গা
ব্যাখ্যা
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে আটটি গ্রহ তাদের নিজস্ব কক্ষপথে অবিরত আবর্তন করে।
- পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালক্সি সবকিছু নিয়েই গঠিত হয় মহাবিশ্ব।
- গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের অংশ।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
        ii) ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, নিউজবাংলা২৪।
১,১২৪.
ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয় -
  1. ক) অয়ন বায়ু
  2. খ) মৌসুমী বায়ু
  3. গ) পশ্চিমা বায়ু
  4. ঘ) নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
• মৌসুমী জলবায়ু: মৌসুম একটি আরবী শব্দ যার অর্থ ঋতু। সুতরাং ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে। আর এই মৌসুমী বায়ু যে অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল বলে ।

• মৌসুমী বায়ুর উৎপত্তি:
- স্থলভাগ ও জলভাগের তাপমাত্রার তারতম্যের কারনে মৌসুমী বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- মৌসুমী বায়ু এক এক ঋতুতে এক এক দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিন-পূর্ব মৌসুমী বায়ু সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয় এবং এর প্রভাবে স্থলভাগে বৃষ্টিপাত হয়।
- আবার শীতকালে দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এই বায়ু প্রবাহিত হয় যা শুষ্ক থাকে এবং এই শুস্ক বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত খুব কম হয়।

• মৌসুমী বায়ুর অবস্থান: প্রধানত ১৫° হতে ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল অবস্থিত। অর্থাৎ মহাদেশের পূর্বাঞ্চলসমূহ তথা কর্কটক্রান্তি ও মকর ক্রান্তির মধ্যবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।

সূত্র: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৫.
পৃথিবীর প্রাচীনতম 'ফিঙ্কে' নদী কোন দেশে অবস্থিত?
  1. বেলজিয়াম
  2. নেদারল্যান্ডস
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. সুইজারল্যান্ড
ব্যাখ্যা

ফিঙ্কে নদী:
- ধারণা করা হয়, অস্ট্রেলিয়ার ফিঙ্কে নদী পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন নদী।
- এটির বয়স ৩৫ থেকে ৪০ কোটি বছর। 
- এটি উত্তরাঞ্চলের ম্যাকডোনেল রেঞ্জের জিয়েল পর্বতের দক্ষিণ দিক থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- নদীর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ মাইল (৬৪০ কিমি)।
- অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগণ এই নদীকে ‘লারাপিনটা’ নামে ডাকে।
- বর্তমানে শুধু ভারী বৃষ্টির সময় নদীটি প্রবাহিত হয় এবং নদীর পানি লেক আইয়ার বেসিনে গিয়ে পড়ে। বছরের বেশির ভাগ সময় এটি শুকনা থাকে।

তথ্যসূত্র- ব্রিটানিকা, প্রথম আলো।

১,১২৬.
সমূদ্র উপকূল রেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে কী বলে?
  1. ক) মহীসোপান
  2. খ) মহীঢাল
  3. গ) নিমজ্জিত শৈলশিলা
  4. ঘ) সমুদ্রখাত
ব্যাখ্যা
• মহীসোপান:
- পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারিদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের মধ্যে নেমে গেছে এরূপ সমূদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে ‘মহীসোপান’ বলে।
- মহীসোপানের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার।
- মহীসোপান ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে। 
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার।
- ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২৭.
ভারতের সাথে বাংলাদেশের অচিহ্নিত সীমান্ত এলাকা কোনটি?
  1. ক) তামাবিল
  2. খ) পঞ্চগড়
  3. গ) মুহুরীর চর
  4. ঘ) রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ-ত্রিপুরা (ভারত) সেক্টর
- বাংলাদেশ-ত্রিপুরা (ভারত) সেক্টরের আর্ন্তজাতিক সীমানার মোট দৈর্ঘ্য ৮৭৪ কি.মি.।
- এ সেক্টরে  ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার  মুহুরী নদী এলাকায় ২ কি.মি. ছাড়া অবশিষ্ট সকল সীমান্তে পিলার নির্মাণের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- ১০-১১ নভেম্বর ২০১১, জরিপ মৌসুমে যৌথ জরিপ করে মুহুরী নদী এলাকার ইনডেক্স ম্যাপ প্রস্তুত করে উভয় দেশের কারিগরী পর্যায়ে স্বাক্ষর করা হয়েছে।
- এ সেক্টরের মোট ২.০০ কি.মি. অমিমাংসীত মুহুরীর চর এলাকায় ভারতের বিলোনিয়া শহর রক্ষা বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের নিমিত্ত বাঁশের খুঁটি স্থাপন করে সীমানা রিলে করা হয়েছে।
- উভয় দেশের সরকারের সম্মতি পেলে সরজমিনে পাকা পিলার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক পত্রের মাধ্যমে ভারতের সংসদে চুক্তি এবং প্রটোকল অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত অমিমাংসিত এলাকায় কোন ধরনের কর্মসূচী প্রনয়ণ না করার জন্য অনুরোধ করেছেন।

উৎস: ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১,১২৮.
উত্তর গোলার্ধে বায়ুপ্রবাহ ডান দিকে বেঁকে যায়, কারণ হলো-
  1. ক) পৃথিবীর আবর্তন
  2. খ) কেন্দ্রাতিগ বল
  3. গ) মাধ্যাকর্ষণ শক্তি
  4. ঘ) বায়ু তাপ ও চাপের জন্য
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠে বায়ুর গতিবিক্ষেপের ফলে নিয়ত বায়ুগুলো যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। বৈজ্ঞানিক ফেরেল সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন যে আবর্তন ঘটিত শক্তির প্রভাবেই বায়ুপ্রবাহের এরূপ দিক পরিবর্তন হয়। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
১,১২৯.
কর্কটক্রান্তি রেখা পৃথিবীর কোন অক্ষাংশে অবস্থিত?
  1. ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ
  2. ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ
  3. ২৩.৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
  4. ২৩.৫° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ
ব্যাখ্যা

• কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা: 
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫০ উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে।
- আমাদের বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে।

• অক্ষ, অক্ষরেখা ও নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ (Axis) বলে।
- এ অক্ষের উত্তর-প্রান্ত বিন্দুকে উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ-প্রান্ত বিন্দুকে দক্ষিণ মেরু বলা হয়।
- পৃথিবীর মানচিত্রে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য পূর্ব-পশ্চিমে যে কতকগুলো কাল্পনিক রেখা অঙ্কন করা হয় তাকে অক্ষরেখা বলে।
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা।
- পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির জন্য এ রেখা বৃত্তাকার, তাই এ রেখাকে নিরক্ষবৃত্তও বলা হয়।
- নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই ভাগে ভাগ করেছে।
- নিরক্ষরেখার উত্তর দিকের পৃথিবীর অর্ধেককে উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণ দিকের অর্ধেককে দক্ষিণ গোলার্ধ বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

১,১৩০.
চামড়া পাকা করার জন্য চামড়া শিল্পে কী ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সুন্দরবনের গরান ও বাবুল গাছের বাকল
  2. খ) সুন্দরবনের গোলপাতা
  3. গ) সুন্দরবনের গেওয়া গাছের পাতা
  4. ঘ) গর্জন, সেগুন ও চাপালিশ গাছের বাকল
ব্যাখ্যা
• চামড়া শিল্প:
সুন্দরবনের গরান ও বাবুল গাছের বাকল চামড়া পাকা করার জন্য চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
এছাড়াও -
বাঘ, হরিণ, গুইসাপ, অজগর সাপ প্রভৃতি প্রাণীর চামড়াও শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে -
• কাগজ শিল্প:
- রাঙ্গামাটি জেলার কর্ণফুলী কাগজের কল স্থানীয় বাঁশ সম্পদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত কাগজ ও মন্ড তৈরির কারখানাটি সিলেটের সাবাই ঘাসকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে।

• নিউজপ্রিন্ট কারখানা:
- সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর ভিত্তি করে খুলনার নিউজপ্রিন্ট কারখানাটি গড়ে উঠেছে।

• দিয়াশলাই শিল্প :

- সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর নির্ভর করে দিয়াশলাই শিল্প গড়ে উঠেছে। এছাড়া কদম ও শিমুল গাছের কাঠ এই শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

• রেয়ন শিল্প:

- চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনার রেয়ন কারখানাটি স্থানীয় বনভূমির নরম কাঠ ও বাঁশের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩১.
নিচের কোন এলাকার জলবায়ু অধিক মৃদুভাবাপন্ন?
  1. বান্দরবান
  2. রাজশাহী
  3. ঢাকা
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
মৃদুভাবাপন্ন:
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন: কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।

উল্লেখ্য,
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন ও দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,১৩২.
ফারাক্কা বাঁধ কোন নদীর উপর অবস্থিত?
  1. কর্ণফুলী নদী
  2. তিস্তা নদী
  3. ব্রহ্মপুত্র নদ
  4. গঙ্গা নদী
ব্যাখ্যা

ফারাক্কা বাঁধ:
- ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গা নদীর উপর অবস্থিত একটি বাঁধ।
- ভারতের হুগলী নদীতে পানি সরবরাহ এবং কলকাতা বন্দরটি সচল করার জন্য ১৯৭৪ সালে এই ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
- যার অবস্থান বাংলাদেশ থেকে মাত্র ১৬.৫ কিলোমিটার উজানে ভারতের ভূখণ্ডে গঙ্গা নদীর ওপরে।
- ১৯৬১ সালে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
- ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের শেষ হয় ১৯৭৫ সালে।
- সেই বছর ২১ এপ্রিল থেকে বাঁধ চালু হয়।
- বাঁধটিতে মোট ১০৯টি গেট রয়েছে।
- ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশে পানির প্রবাহ কমতে থাকার প্রেক্ষাপটে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তি হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা নিউজ।

১,১৩৩.
লালমাই পাহাড় নিচের কোনটির অন্তর্ভুক্ত?
  1. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
  2. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  4. প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমি:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮% এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়।
- এই সময়ের আন্তঃবরফ গলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে এসব চত্বরভূমি গঠিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।
- প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,১৩৪.
চলন বিল (Chalan Beel) কোথায় অবস্থিত?
  1. পাবনা ও নাটোর
  2. নাটোর ও বগুড়া
  3. সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া
  4. সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধা
ব্যাখ্যা
চলন বিল:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলের নাম চলনবিল।
- এটি রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, এবং পাবনা জেলা জুড়ে বিস্তৃত।
- নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তৃত অংশ জুড়ে যে জলভূমি, বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে দেখা যায় সেটাই বিখ্যাত চলনবিল।
- শুকনা মৌসুমে এসব বিলে জল থাকে না।
- জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলনবিল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।
- ব্রহ্মপুত্র নদ যখন তার প্রবাহপথ পরিবর্তন করে বর্তমান যমুনায় রূপ নেয়, সে সময়েই চলনবিলের সৃষ্টি।
- বর্তমানে চলনবিল অনেকখানি হ্রাস পেয়ে আয়তন দাঁড়িয়েছে ১১৫০ বর্গকিলেমিটারে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১৩৫.
দুর্যোগ চলাকালীন জরুরি সাহায্য ও উদ্ধার কার্যক্রম কোন ধাপের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. সাড়াদান 
  2. প্রস্তুতি 
  3. পুনরুদ্ধার
  4. উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ হলো এমন একটি আকস্মিক এবং গুরুতর ঘটনা, যা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে ঘটে এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের   ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র হলো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
- এর ছয়টি ধাপ রয়েছে: প্রতিরোধ, প্রশমন, প্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, এবং উন্নয়ন।
- এই চক্রে ঝুঁকি হ্রাস থেকে শুরু করে দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্গঠন পর্যন্ত সব কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত।
- সাড়াদান ধাপে দুর্যোগ চলাকালীন খাদ্য, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, 
• প্রতিরোধ (Prevention): দুর্যোগ ঘটতেই না পারে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ, যেমন: বন্যাপ্রতিরোধী বাঁধ নির্মাণ।
• প্রশমন (Mitigation): দুর্যোগের প্রভাব কমানোর দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ, যেমন: ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন তৈরি।
• প্রস্তুতি (Preparedness): দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি নেওয়া, যেমন: মহড়া, ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রাখা, পরিকল্পনা তৈরি।
• সাড়াদান (Response): দুর্যোগ চলাকালীন বা সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সাহায্য প্রদান, যেমন: উদ্ধার, খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা।
• পুনরুদ্ধার (Recovery): দুর্যোগের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা, যেমন: অবকাঠামো ও অর্থনীতি পুনর্গঠন।
• উন্নয়ন (Development): ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি হ্রাস ও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি, যা পরবর্তী চক্রের প্রস্তুতি ও প্রশমনে সাহায্য করে।
- এই ধাপগুলো চক্রাকারে চলতে থাকে, যার মূল লক্ষ্য মানুষের জীবন, সম্পদ রক্ষা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৩৬.
হালদা ভ্যালি কোথায় অবস্থিত?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা
• হালদা ভ্যালি অবস্থিত — খাগড়াছড়ি।

অন্যদিকে,
- সাজেক ভ্যালি - রাঙামাটি,
- বালিশিরা ভ্যালি - মৌলভীবাজার, 
- সাঙ্গু ভ্যালি - চট্টগ্রাম, 
- ভেঙ্গি ভ্যালি - রাঙামাটি,
- মিরিঞ্জা ভ্যালি - বান্দরবান জেলা, 
- নাপিত খালি ভ্যালি - কক্সবাজার।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক পত্রিকা।
১,১৩৭.
নিচের কোনটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ-
  1. ক) লিপারী দ্বীপের ষ্ট্রম্বলী আগ্নেয়গিরি
  2. খ) ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি
  3. গ) জাপানের ফুজিয়ামা আগ্নেয়গিরি
  4. ঘ) ইরানের কোহিসুলতান আগ্নেয়গিরি
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যুৎপাতের ভিত্তিতে পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিসমূহকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। যেমন: সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, সুপ্ত আগ্নেয়গিরি এবং মৃত আগ্নেয়গিরি।
সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হলো সেই সব আগ্নেয়গিরি যেখান থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হয়। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দুই ধরনের। যেমন- যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে অবিরত লাভা নির্গত হয় সেগুলো অবিরাম আগ্নেয়গিরি। যেমন: ভূ-মধ্যসাগরের লিপারী দ্বীপের ষ্ট্রম্বলী আগ্নেয়গিরি, ক্যালিফোর্নিয়ার আগ্নেয়গিরি। অন্যদিকে যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর মাঝে মাঝে অগ্ন্যুৎপাত হয়, তাকে সবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে। যেমন: ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি, সিসিলি আগ্নেয়গিরি। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি সমূহ থেকে বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময়ে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে। যেমন : জাপানের ফুজিয়ামা। মৃত আগ্নেয়গিরিসমূহ থেকে পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে না। যেমন: পোপো আগ্নেয়গিরি, ইরানের কোহিসুলতান, মেক্সিকোর পে্রিকোটিন আগ্নেয়গিরি। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরবিশে এসএসসি পোগ্রাম(উন্মুক্ত)।
১,১৩৮.
নিচের কোনটি প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
  2. লালমাই পাহাড়
  3. বরেন্দ্রভূমি
  4. তাজিনডং
ব্যাখ্যা
- তাজিনডং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।
- এটি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়।

অন্যদিকে, 
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:

- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়: 

• বরেন্দ্রভূমি:
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত।
- প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।

•মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: 
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
- এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- মাটির রং লালচে ও ধূসর।

• লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৩৯.
আল্পস পর্বত কোন শ্রেণির পর্বতের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ভঙ্গিল পর্বত
  2. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
  3. আগ্নেয় পর্বত
  4. ক্ষয়জাত পর্বত
ব্যাখ্যা

ভঙ্গিল পর্বত:
- স্তরীভূত পাললিক শিলাস্তরে পার্শ্বচাপের ফলে ভাঁজ সৃষ্টি হয়ে যে পর্বতের উৎপত্তি ঘটে, তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলা হয়।
- সাধারণত সমুদ্রের গভীরে অবনমিত অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ পলি সঞ্চিত হয়।
- উপর্যুপরি পলির ভারে সেই অঞ্চল আরও নিম্নমুখী হয়।
- পরবর্তীকালে পার্শ্ববর্তী কঠিন ভূমিখণ্ড থেকে প্রবল পার্শ্বচাপের কারণে শিলাস্তরে উর্ধ্বভাঁজ ও অধঃভাঁজের সৃষ্টি হয়।
- বিস্তৃত এলাকাজুড়ে এই ভাঁজযুক্ত ভূমিরূপের সমষ্টিতেই ভঙ্গিল পর্বতের গঠন সম্পন্ন হয়।
- এশিয়ার হিমালয় পর্বত, ইউরোপের আল্পস পর্বত, উত্তর আমেরিকার রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৪০.
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র কোন সংস্থার অধীন?
  1. আবহাওয়া অধিদপ্তর
  2. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর
  3. পানি উন্নয়ন বোর্ড
  4. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন।
- এটি রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কাজ হলো বন্যা বিষয়ে আগাম সতর্কতা প্রদান।
(তথ্যসূত্রঃ বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ওয়েবসাইট)
১,১৪১.
বর্তমানে দেশের মোট পৌরসভা কয়টি?
  1. ক) ৩৩০টি
  2. খ) ৩২৯টি
  3. গ) ৩২৮টি
  4. ঘ) ৩২৭টি
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে দেশে মোট পৌরসভা ৩৩০টি
- সর্বশেষ পৌরসভা শ্যামনগর, সাতক্ষীরা।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
১,১৪২.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমে কোনটি অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ তালপট্টি
  2. আখাইনঠং
  3. শিবগঞ্জ
  4. মনাকষা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
- যেহেতু বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের দ্রাঘিমাংশ ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী স্থান মনাকষা তাইলে আমরা বলতে পারি যে বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী স্থান মনাকষা এর দ্রাঘিমাংশ ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা।
•  সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা। (৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।
• সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং। (৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।
• সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা। (অক্ষাংশ ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।
 সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ। (অক্ষাংশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১৪৩.
কোনটি পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি?
  1. গাঙ্গেয় সমভূমি
  2. সিন্ধু সমভূমি
  3. মধ্য ইউরোপের সমভূমি
  4. পূর্ব আফ্রিকান সমভূমি
ব্যাখ্যা
সমভূমি:
- সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়।
- তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে।
- পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি।
- সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
- সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।

⇒ সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- আফ্রিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে কম।
- ইউরেশিয়ার উত্তরাংশ জুড়ে পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি অবস্থিত।

• মধ্য ইউরোপের সমভূমি
- পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি মধ্য ইউরোপের সমভূমি।
- ইউরাল পর্বত থেকে শুরু করে পিনেরীজ পর্বতমালা এবং দক্ষিণে আল্পস পর্বত থেকে উত্তরদিকে স্ক্যান্ডেনিভিয়া পর্যন্ত এই সমভূমি বিস্তৃত।

উৎস: i) Britannica.
ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৪.
বাংলাদেশের তামাবিল সীমান্তের সাথে ভারতের কোন শহরটি অবস্থিত?
  1. ক) ডাউকি
  2. খ) করিমগঞ্জ
  3. গ) জাফলং
  4. ঘ) চেরাপুঞ্জি
ব্যাখ্যা
গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন সীমান্তবর্তী এলাকা - তামাবিল।
- তামাবিল স্থল শুল্ক বন্দর দিয়েই ভারত থেকে কয়লা আমদানী করা হয়।
- তামাবিলের অপর প্রান্তে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের - ডাউকি বাজার।
- তামাবিল থেকে মেঘালয় রাজ্যের শিলং পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সিলেট থেকে তামাবিলের দূরত্ব ৫৫ কি.মি.।

উৎস: গোয়াইনঘাট উপজেলা ওয়েবসাইট
১,১৪৫.
ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে কত দূরে অবস্থিত?
  1. ক) ১৯.৩ কিমি
  2. খ) ২১.০ কিমি
  3. গ) ২৪.৭ কিমি
  4. ঘ) ১৬.৫ কিমি
ব্যাখ্যা
ফারাক্কা বাঁধ:
- কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ঠিক রাখা এবং ভাগীরথী ও গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ যাতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে ফারাক্কা ব্যারাজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার।
- বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত থেকে মাত্র ১৬.৫ কিলোমিটার দূরে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা নামক স্থানে গঙ্গা নদীর উপর এই বাঁধ অবস্থিত।
- বাঁধটিতে মোট ১০৯টি গেট রয়েছে।
- ১৯৬১ সালে গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
- প্রাথমিকভাবে নির্মাণকাজ শেষ হয় – ১৯৭০ সালে।
- তবে ব্যবহার উপযোগী করতে পুরোপুরিভাবে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে।
- পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয় ১৯৭৫ সালে।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো নিউজ।
১,১৪৬.
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান কোনটি?
  1. তামাবিল
  2. বাংলাবান্ধা
  3. দর্শনা
  4. বেনাপোল
ব্যাখ্যা

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

১,১৪৭.
'গাবখান চ্যানেলের' অবস্থান বাংলাদেশের কোন জেলায়?
  1. ঝালকাঠি
  2. ঝিনাইদহ
  3. কুড়িগ্রাম
  4. গাইবান্ধা
ব্যাখ্যা

• গাবখান চ্যানেল:
- গাবখান চ্যানেল বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত।
- ঝালকাঠির সুগন্ধা-বিষখালী নদীর সাথে পিরােজপুরের সন্ধ্যা নদীর সংযােগ ঘটিয়েছে গাবখান চ্যানেল।
- গাবখান চ্যানেলটি বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম নৌপথ যা বাংলার সুয়েজখাল নামে পরিচিত।
- এর ঝালকাঠি অংশে সুগন্ধা, বিষখালী ও ধানসিঁড়ি নদীর মোহনা এবং পিরোজপুর অংশে কচা নদী।
- এর দৈর্ঘ্য ১৮ কিলোমিটার। 

- ঝালকাঠি জেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা গাবখান নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি ৫ম বাংলাদেশ-চীনমৈত্রী সেতু হিসেবে পরিচিত যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গাবখান চ্যানেলের উপর দিয়ে।
- ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য ১৯১২ সালে ব্রিটিশরা ঝালকাঠি পৌর শহরের গাবখান থেকে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াঝড়ি পর্যন্ত খনন করে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,১৪৮.
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী টর্নেডো কোন জেলায় সংঘটিত হয়?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. নাটোর
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা
মানিকগঞ্জ টর্নেডো:
- মানিকগঞ্জ জেলায় ২৬ এপ্রিল, ১৯৮৯ সালে আঘাত হানে। আনুমানিক ১,৩০০ জন প্রাণহানি ঘটায়, এটি রেকর্ড করা ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে মারাত্মক টর্নেডো ছিল।
- স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টর্নেডো আঘাত হানে এবং দৌলতপুর এলাকা থেকে পূর্ব দিকে সাটুরিয়া ও মানিকগঞ্জ সদরের এলাকায় চলে আসে - একটি অঞ্চল যেটি প্রচণ্ড খরায় ভুগছিল ।
- এটি প্রায় ২.৫ বর্গ মাইল (৬ বর্গ কিমি) এলাকার মধ্যে সমস্ত বিল্ডিংকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়।
- ১৯৭৩ সালের ১৭ এপ্রিল মানিকগঞ্জ অঞ্চলে আরেকটি টর্নেডো কমপক্ষে ৬৮১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

এছাড়া,
- টর্নেডো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা স্থলভাগে সৃষ্টি হয়। স্থলভাগে নিম্নচাপ সৃষ্টির ফলে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু প্রবল বেগে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে টর্নেডোতে রূপ নেয়।
- সাধারণত ঝড়ের গতিবেগ ১০০ কিলোমিটারের অধিক হলে তা টর্নেডো হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- টর্নেডোর স্থায়ীত্ব স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও এর তাণ্ডবের মাত্রা থাকে অত্যধিক।
- স্পেনীয় এবং লাতিন ভাষার সমন্বয়ে Tornado শব্দের উৎপত্তি।
- টর্নেডো শব্দের অর্থ বজ্রঝড়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী, Britannica.
১,১৪৯.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গের নাম কী?
  1. তাজিংডং
  2. চিম্বুক
  3. কেওক্রাডং
  4. মোদকটং
ব্যাখ্যা
তাজিংডং:

- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং।
- এটি বিজয় নামেও পরিচিত।
- স্থানীয় ভাষায় তাজিং অর্থ বড় আর ডং অর্থ পাহাড়। একত্রে বড় পাহাড় বা তাজিংডং।
- বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় এর অবস্থান।
- তাজিংডং পর্বতের উচ্চতা প্রায় ১২৩১ মিটার।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭।
১,১৫০.
বাংলাদেশের কোন বনভূমি শালবৃক্ষের জন্য বিখ্যাত?
  1. ক) সিলেটের বনভূমি
  2. খ) বরেন্দ্র বনভূমি
  3. গ) ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি
  4. ঘ) পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি
ব্যাখ্যা
মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি:
- উত্তরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ উচ্চভূমি বিস্তৃত। 
- ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বনভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। 
- এটি প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি। 
- বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ এ উচ্চভূমি শাল বা গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র।
- এজন্য এটি গজারী বা শালবৃক্ষের বনভূমি হিসেবেও পরিচিত।
- এ বনভূমি ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমির অন্তর্গত।

অন্যদিকে,
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গর্জন, জারুল, শিমুল, গামার ইত্যাদি।
- বরেন্দ্র বনভূমি হচ্ছে ক্রান্তীয় পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৫১.
নিচের কোন নদীটি বাংলাদেশে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় সমাপ্ত হয়েছে?
  1. কর্ণফুলী নদী
  2. করতোয়া নদী
  3. সাঙ্গু নদী
  4. নাফ নদী
ব্যাখ্যা
সাঙ্গু নদী:
- সাঙ্গু নদী (Sangu River) বাংলাদেশের দক্ষিণে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত একটি পাহাড়ি নদী।
- শঙ্খ নদী নামেও এটি পরিচিত।
- এটি কর্ণফুলীর পর চট্টগ্রাম বিভাগের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ২৯৪ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১১৯ মিটার।
- এই নদীর উৎপত্তি মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়ে।
- বান্দরবান জেলা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও বাঁশখালীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এটি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে।
- ১৮৬০ সালে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের গেজেটিয়ার প্রকাশকালে ব্রিটিশ শাসকরা ইংরেজিতে এটিকে সাঙ্গু নাম দেন।
- তবে মারমা সম্প্রদায়ের ভাষায় সাঙ্গুকে ‘রিগ্রাই থিয়াং’ অর্থাৎ স্বচ্ছ পানির নদ বলা হয়।
- সাঙ্গু নদী বান্দরবানের দক্ষিণাঞ্চলে সৃষ্টি হয়ে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমে বাঁক নিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে শেষ হয়েছে।

অন্যদিকে,
- নাফ নদী উৎপন্ন হয়েছে মিয়ানমারের আরাকান পর্বত থেকে এবং বঙ্গোপসাগরে এসে পড়েছে।
- কর্ণফুলী নদী ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি লাভ করে বাংলাদেশের প্রবেশের পর রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কর্ণফুলী নদী বঙ্গোপসাগরের পতিত হয়েছে।
- করতোয়া নদী উৎপন্ন হয়েছে বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায়। অতঃপর এই নদীর জলধারা বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে আত্রাই নদীতে পতিত হয়েছে।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
        ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১৫২.
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাসাগর কোনটি?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. প্রশান্ত মহাসাগর
  4. আর্কটিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
প্রশান্ত মহাসাগর: 
- প্রশান্ত মহাসাগর দক্ষিণে আন্টার্কটিকা থেকে উত্তর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বে অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম মহাসাগর, যা পৃথিবীর মোট পৃষ্ঠের এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত।
- মোট আয়তন: ৬৩.৮ মিলিয়ন বর্গমাইল (১৬৫.২৫ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার)।
- গড় গভীরতা: ১৪,০৪০ ফুট (৪,২৮০ মিটার)।
- প্রশান্ত মহাসাগর বিশ্বের বৃহত্তম জলভাগ, যা বৈশ্বিক আবহাওয়া ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: Britannica.
১,১৫৩.
নিম্নের কোন দেশে ম্যানগ্রোভ বনভূমি রয়েছে?
  1. ভারত
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ব্রাজিল
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিশ্বের শীর্ষ বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন:
1. সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ: বাংলাদেশে অবস্থিত।
2. পিচাভারম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট: ভারতের তামিলনাড়ুতে অবস্থিত।
3. ফ্লোরিডা ম্যানগ্রোভ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
4. বাহিয়া ম্যানগ্রোভ: উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলে অবস্থিত।
5. গোদাবরী-কৃষ্ণ ম্যানগ্রোভ: অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণ-গুন্দুর জেলায় অবস্থিত।

উৎস: i) UNESCO ওয়েবসাইট।
ii) বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
১,১৫৪.
জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত 'মাউন্ট ফুজি' কোন দ্বীপে অবস্থিত?
  1. হোক্কাইডো
  2. কিউসু
  3. শিকোকু
  4. হনসু
ব্যাখ্যা
• জাপান:
- জাপান একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি রয়েছে।
- এগুলো হলো:
→ শিকোকু,
→ কিউসু, 
→ হনসু ও
→ হোক্কাইডো।

- আয়তনে বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। 
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং এর বৃহত্তম হ্রদ, বিওয়া হ্রদ এই দ্বীপে অবস্থিত।

উৎস: Britannica & world Atlas.
১,১৫৫.
ট্রপোমন্ডল মেরু অঞ্চলে কত কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত?
  1. ১৯ কিমি প্রায়
  2. ৮ কিমি প্রায়
  3. ১৬ কিমি প্রায়
  4. ৫ কিমি প্রায়
ব্যাখ্যা
ট্রপোমন্ডল
- ট্রপোমন্ডল ভূপৃষ্ঠের নিকটতম স্তর।
- মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রপাত, তুষারপাত সবই এই স্তরে ঘটে।
- তাই এই স্তরকে ক্ষুব্ধমন্ডলও বলা হয়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে এই স্তরের বিস্তৃতি প্রায় ১৬-১৯ কিমি।
- মেরু অঞ্চলে এই স্তরের বিস্তৃতি প্রায় ৮ কিমি।
- বায়ুমণ্ডলের মোট ওজনের প্রায় ৭৫% ই এই স্তর বহন করে। 
- এই স্তরের শেষ প্রান্তের নাম ট্রপোবিরতি। 

উল্লেখ্য, 
বায়ুমণ্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমন্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৬.
বন অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ শতকরা প্রায় -
  1. ১৫.৫৮  ভাগ
  2. ১৬.৫৮  ভাগ
  3. ১৭.৫৮  ভাগ
  4. ১৮.৫৮  ভাগ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ:
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কি.মি. এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৩ লক্ষ হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৫.৫৮%।
- বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রত বনভূমির পামিাণ প্রায় ১৬ লক্ষ হেক্টর যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭৪।
- বাংলাদেশের বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পারিমাণ দেশের মোট আয়তনের ২২.৩৭%।
- ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের বনাঞ্চল রয়েছে।
- যেমন: পাহাড়ী বন, প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন, সৃজিত উপকূলীয় বন, শালবন, জলাভূমির বন ইত্যাদি।

উৎস:  i) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। [link]
          ii) ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৭.
‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’ কোন ধরনের ভূগোল?
  1. ক) প্রাকৃতিক ভূগোল
  2. খ) মানব ভূগোল
  3. গ) ক + খ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ভূগোল প্রধান শাখা ২টি।
যথা -
ক) প্রাকৃতিক ভূগোল (Physical geography)
খ) মানব ভূগোল (Human geography)

প্রাকৃতিক ভূগোলের (Physical geography) ৫টি অংশ।
যথা -
১. ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology)
২. জলবায়ুবিদ্যা (Climatology)
৩. জীবভূগোল (Biogeography)
৪. মৃত্তিকা ভূগোল (Soil geography)
৫. সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography)

আবার, মানব ভূগোলের ৮টি অংশ।
যথা -
১. অর্থনৈতিক ভূগোল
২. জনসংখ্যা ভূগোল
৩. আঞ্চলিক ভূগোল
৪. রাজনৈতিক ভূগোল
৫. সংখ্যাতাত্ত্বিক ভূগোল
৬. পরিবহন ভূগোল
৭. নগর ভূগোল
৮. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management)

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই।

১,১৫৮.
নিচের কোন জেলায় টারশিয়ারি যুগের পাহাড় আছে?
  1. কুমিল্লা
  2. মৌলভীবাজার
  3. রাজশাহী
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড় আছে -মৌলভীবাজার।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছে বলে এগুলোকে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বলা হয়।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শ্লেট জাতীয় প্রস্তর এবং কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে মনে করা হয়।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অবস্থান:
- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ছোট-বড় পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। 

এছাড়াও - 
- কুমিল্লা, রাজশাহী এবং বগুড়ায় আছে প্লাইস্টোসিনকালের পাহাড়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৯.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য:
→ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য তিনটি।
এগুলো হলো:
→ দুর্যোগকালিন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
→ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে দ্রæত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো ও পূণর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
→ দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬০.
আফ্রিকার কোন অঞ্চল নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল?
  1. সাহারা মরুভূমি
  2. কালাহারি মরুভূমি
  3. কঙ্গো নদীর অববাহিকা
  4. মাগরেব অঞ্চল
ব্যাখ্যা

- আফ্রিকার  কঙ্গো নদীর অববাহিকা নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল।

• নিরক্ষীয় জলবায়ু:

- নিরক্ষীয় অঞ্চলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল উষ্ণ জলবায়ু।
- এই অঞ্চলের জলবায়ু  সবসময় জলবায়ু একই রকম থাকে।
- দিন রাত্রির মধ্যে তেমন পার্থক্য নাই।
- ঋতুর পরিবর্তন এই অঞ্চলে দেখা যায় না। ফলে সবসময় গ্রীষ্মঋতু পরিলক্ষিত হয়।
- দিনের প্রথমদিকে জলবায়ু আরামদায়ক।

বিশ্বের নিম্নোক্ত অঞ্চলের দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল: 

• দক্ষিণ আমেরিকা:
- দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর পূর্ব উপকূল। আমাজান নদীর অববাহিকা, ইকুয়েডর, কলম্বিয়ার দক্ষিণাংশ এবং পেরুর উত্তর পশ্চিমাঞ্চল।

• মধ্য আমেরিকা:
- মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, নিকারাগুয়া, হুগুরাস, কোষ্টারিকা।

• আফ্রিকা:
- কঙ্গো নদীর অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় অঞ্চল।

• দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া:
- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইনের দক্ষিণ দ্বীপ পুঞ্জাঞ্চল।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬১.
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি কোথায় দেখা যায়?
  1. নদী স্রোত অঞ্চলে
  2. শুষ্ক অঞ্চলে
  3. কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে
  4. অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি:
- বাংলাদেশের খাগড়াঝড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনাঞ্চাল বিস্তৃত।
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।

⇒ ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
- এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
(খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৬২.
রংপুর জেলার রানীপুকুর ও পীরগঞ্জে কোন খনিজ আবিষ্কৃত হয়েছে?
  1. চুনাপাথর
  2. তামা
  3. পেট্রোলিয়াম
  4. চীনামাটি
ব্যাখ্যা
তামা (Copper):
- তামা একটি অধাতব খনিজ।
- তামার তৈজসপত্র এক সময় বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে খুবই জনপ্রিয় ছিল এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি বড় ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত।
- বিভিন্ন প্রকার তৈজসপত্র, বৈদ্যুতিক তার, ক্রু-নাট, ডেকোরেশন সরঞ্জামসহ বিভিন্ন কাজে তামা ব্যবহার করা হয়। 
- রংপুর জেলার রানীপুকুর ও পীরগঞ্জ এবং দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার সঙ্গে তামার সন্ধান পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য,
⇒ কঠিন শিলা বা পাথর (Hard Rock or Stone):
- ১৯৬৬ সালে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার রানীপুকুর নামক স্থানে প্রায় ১৮২ মিটার মাটির নিচে প্রথম কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া যায়।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থানার মধ্যপাড়ায় ১২১ মিটার মাটির নিচে কঠিন শিলা রয়েছে যা ২০০৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়।
- মধ্যপাড়ায় গ্রানোডায়োরাইট, কোয়ার্টজ, ডায়োরাইট, নিস্ ইত্যাদি কঠিন শিলা পাওয়া যায়।
- এছাড়া নওগাঁ জেলার পত্নীতলা, সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ এবং পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় কঠিন শিলা পাওয়া গেছে।
- রেললাইন, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, নদীর বাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে কঠিন শিলা ব্যবহৃত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ভূগোল ও সংখ্যাতাত্ত্বিক ভূগোল, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১৬৩.
পৃথিবীতে দিবারাত্রি সমান হয় কোন তারিখে?
  1. ২১ জুন ও ২৩ সেপ্টেম্বর 
  2. ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর
  3. ২৩ এপ্রিল ও ২১ সেপ্টেম্বর
  4. ২২ ডিসেম্বর ও ১৭ মার্চ
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর দিন রাত:
- উত্তর গোলার্ধে ২১ জুন দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত হয়।
- ২২ ডিসেম্বর সূর্য এমনভাবে কোণ করে থাকে তাতে দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন এবং উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন হয়।
- ২২ এডিসেম্বর সূর্য দক্ষিণায়নের শেষ সীমায় পৌঁছায়, একে মকরসংক্রান্তি বলে।
- এ সময় সূর্যের রশ্মি ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ অর্থাৎ মকরক্রান্তির উপর লম্বভাবে পতিত হয়।
- ২৩ সেপ্টেম্বর পুনরায় ২১ মার্চের মতো সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। সেদিন সর্বত্র দিবারাত্রি সমান থাকে।
- ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আবার সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে কিরণ বেশি দিতে থাকে।
- ২১ মার্চ এবং ২৩ সেপ্টেম্বর এই দুদিন পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান হয়। সেদিনকে বিষুব (Equinox) বলে।
- ২১ মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল তাই একে বাসন্ত বিষুব (Vernal equinox) বলে।
- ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল। তাই ঐ দিনকে শারদ বিষুব (Autumnal equinox) বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,১৬৪.
‘ফরিদপুর‘ প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) সমতট
  2. খ) বঙ্গ
  3. গ) হরিকেল
  4. ঘ) রাঢ়
ব্যাখ্যা
 বঙ্গ জনপদ:
-  প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিলো। এর মধ্যে বঙ্গ জনপদ ছিলো অন্যতম।
 - বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি। 
- অন্যদিকে,
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- রাঢ় জনপদের অবস্থান ছিলো বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৬৫.
নিচের কোন দেশটি পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ?
  1. ক) অস্ট্রেলিয়া
  2. খ) বাংলাদেশ
  3. গ) ইন্দোনেশিয়া
  4. ঘ) আইসল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• ভূ-প্রকৃতি (Physiography):
⇒ বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
- এই পললের পুরুত্ব প্রায় ১৮-২২ কিলোমিটার ।

• ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, 
২। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, দশম শ্রেণি- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৬.
নিচের কোন জেলার মধ্য দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. খুলনা
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা:
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত।
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৬৭.
পদ্মা ও মেঘনা কোথায় মিলিত হয়েছে?
  1. গোয়ালন্দ
  2. আজরিমিগঞ্জ
  3. চাঁদপুর
  4. ভৈরববাজার
ব্যাখ্যা

▪ পদ্মা ও যমুনার মিলনস্থল : গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
▪ পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থল : চাঁদপুর
▪ সুরমা ও কুশিয়ারার মিলনস্থল : আজরিমিগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
▪ ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার মিলনস্থল : চিলমারি (কুড়িগ্রাম)
▪ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার মিলনস্থল : ভৈরববাজার (কিশোরগঞ্জ)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,১৬৮.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরকে স্ট্রাটোস্ফিয়ার বলা হয়?
  1. প্রথম স্তর
  2. দ্বিতীয় স্তর
  3. তৃতীয় স্তর
  4. চতুর্থ স্তর
ব্যাখ্যা

স্ট্রাটোমন্ডল:
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি এমনই একটি স্তর যা জলীয়বাষ্পবিহীন।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।
- স্ট্রাটোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ অনেক কম।
- এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনী রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
- এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
- পৃথিবীতে প্রাণিজগতের বসবাসের উপকারী পরিবেশ তৈরিতে এই স্তরের ভূমিকা রয়েছে। এই স্তরেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে নেয়া হয়।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
- এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে এবং তা স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছায়।

উৎস:  ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬৯.
নিচের কোনটি বায়ুমন্ডলের তাপবলয় নয়?
  1. উষ্ণমন্ডল
  2. উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল
  3. দক্ষিণ হিমমন্ডল
  4. অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা

• তাপমন্ডল: বায়ুমন্ডলের তাপবলয়কে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। উষ্ণমন্ডল
২। উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল
৩। দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল
৪। উত্তর হিমমন্ডল এবং
৫। দক্ষিণ হিমমন্ডল।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ সর্বত্র সমানভাবে কাজ করে না।
- নিম্নে আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ আলোচনা করা হলো-
১। অক্ষাংশ
২। উচ্চতা
। সমুদ্র থেকে দূরত্ব
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান
৫। সমুদ্রস্রোত
৬। ভূমির ঢাল
৭। ভূ-প্রকৃতি
৮। বায়ুপ্রবাহ
৯। বায়ুর চাপ এবং
১০। বনভূমির অবস্থান।

উৎস: ভুগোল ১ম পত্র,এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৭০.
আমেরিকার 'চিহুয়ান' কোন ধরনের মরুভূমি?
  1. ক) শুষ্ক প্রায় মরুভূমি
  2. খ) উপকূলীয় মরুভূমি
  3. গ) শীতল মরুভূমি
  4. ঘ) উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি
ব্যাখ্যা
মরুভূমি
মরুভূমি বলতে বুঝায় অত্যন্ত শুষ্ক, বৃষ্টিবিরল ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বালি দ্বারা আবৃত অঞ্চল। কোনো একটি বৃহৎ এলাকা যে প্রক্রিয়ায় শুষ্কতায় পরিবর্তিত হয় সে প্রক্রিয়াকে মরুকরণ বলে। মরুভূমি বসবাসের জন্য অত্যন্ত অনুপযোগী। মরুভূমির দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য খুব বেশি। দিনে তাপমাত্রা অনেক বৃদ্ধি পায় এবং রাতে তাপমাত্রা অনেক কমে যায়।

মরুভূমির শ্রেণিবিভাগ
মরুভূমি প্রধানত চার প্রকার। যথা - 
১. উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি
২. শুষ্ক প্রায় মরুভূমি
৩. উপকূলীয় মরুভূমি এবং
৪. শীতল মরুভূমি।

উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি
• আমেরিকার চিহুয়ান, সোনোরান, মোজাভি ও মূলত এই প্রকারের মরুভূমি।
• এসব মরুভূমি সারা বছরই খুব উষ্ণ ও শুষ্ক থাকে। গ্রীষ্মকালে খুব গরম হয় এবং শীতকালে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।
• এখানে গড় তাপমাত্রা ২০-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সবোর্চ্চ ৪৩-৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কখনো সর্বনিম্ন ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ নেমে আসে।
• এ ধরনের মরুভূমিতে সবোর্চ্চ ২৮ সেমি বৃষ্টিপাত হয়। মাটি সাধারণত পাথুরে হয়ে থাকে। এ মরুভূমিতে গাছপালা খুব কম। • প্রাণিকূলের মধ্যে ক্যাঙ্গারু, ইঁদুর, পোকামাকড়, সরীসৃপ জাতীয় কিছু প্রাণি দেখতে পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭১.
ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একমাত্র পূর্বাভাস কেন্দ্র কোনটি?
  1. ক) স্পারসাে
  2. খ) নাসা
  3. গ) হু
  4. ঘ) আই.ইউ.সি.এন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো স্পারসো (SPARRSO)
- SPARRSO এর পূর্ণরূপ Space Research and Remote Sensing Organisation)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁও-য়ে অবস্থিত।

(তথ্যসূত্রঃ SPARSO ওয়েবসাইট)।
১,১৭২.
কোন দেশ পানামা খালের খনন কাজে তত্ত্বাবধান করেছিল?
  1. জার্মানি
  2.  যুক্তরাজ্য
  3. পানামা
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
• পানামা খাল:
 - পানামা খালটির নির্মাণ কাজ ১৯০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়ে ১৯১৪ সালে শেষ হয়েছিল।
- ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত পানামা খালটি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- ১৯৭৯ সালের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা প্রজাতন্ত্রের যৌথ সংস্থা খালটির নিয়ন্ত্রণ করে।
-  ১৯৯৯ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র পানামার কাছে খালটি পুরোপুরি হস্তান্তর করে।
- খালটি উত্তর আমেরিকার দেশ পানামাতে অবস্থিত।
- আটালান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে পানামা খাল।
- উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে।

উৎস:- ব্রিটানিকা।
১,১৭৩.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারা বছর কোন ধরনের বৃষ্টিপাত হয়-
  1. ক) ঘূর্ণি বৃষ্টি
  2. খ) পরিচলন বৃষ্টি
  3. গ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  4. ঘ) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে প্রচুর জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়। এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজা নিচে নেমে আসে। এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টি। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এই সব এলাকার উর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। নিরক্ষীয় এলাকায় স্থলভাগের থেকে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হয়। এই অঞ্চলে হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু যখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আসে তখন এই রকম পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারাবছরই সন্ধ্যা ও বিকালে এইরূপ বৃষ্টি হয়। নাতিশীতোষ্ণমন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,১৭৪.
কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সুনামির সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিত?
  1. সমুদ্রের উপকূলে জোয়ার
  2. সমুদ্রে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত
  3. সমুদ্রে প্রবল ঘূর্ণিঝড়
  4. সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
সুনামি:
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো "হারবার ওয়েভ" বা পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিরূপের আকস্মিক পরিবর্তনকারী শক্তি আগ্নেয়গিরি এবং ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠে বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এরূপ বিশাল ঢেউকে সুনামি বলে।
- সুনামি সৃষ্টির কারণ ও সুনামির গতিবিধি সমুদ্রতলে জিও টেকটোনিক (Geo-techtonic) প্রক্রিয়ার দরুণ ভূ-আন্দোলনের ফলে যে কম্পন হয় তা প্রধানত দু'ভাবে হয়ে থাকে।
- যথা সমান্তরালভাবে ও উলম্বভাবে।
- সুনামির সময় সমুদ্রতলে উলম্ব আলোড়ন হয়।
- এর ফলে সমুদ্রতলের ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থান বিশাল অঞ্চলজুড়ে বসে যায় বা কোনো স্থান খাড়াভাবে ওপরে উঠে আসে ও সমুদ্রতলে ফাটলের সৃষ্টি করে যার ফলে তলদেশের সমতা নষ্ট হয়।
- দ্রুত সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির সমতা রক্ষার জন্য পানিরাশির প্রচন্ড উলম্বচাপের সৃষ্টি হয়।
- ফলশ্রুতিতে উপরিভাগের পানির সমতা রক্ষার জন্য সুনামি সৃষ্টি হয়।
- সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও সুনামি সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- সুনামির ফলে প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৫.
হরিপুর তেলক্ষেত্র কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৮৬ সালে
  4. ১৯৮৭ সালে
ব্যাখ্যা

হরিপুর খনিজ তেলক্ষেত্র:
- হরিপুর তেলক্ষেত্র বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্র। 
- এটি ১৯৮৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের জৈন্তাপুরের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৭ নম্বর কূপে আবিষ্কৃত হয়। 
- ১৯৮৭ সালে তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
- প্রাথমিক জরিপের হিসাব অনুযায়ী, হরিপুর তেলক্ষেত্রে অন্তত ১ কোটি (বা ১০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে।
- ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত এই সাত বছরে তেলক্ষেত্রটি থেকে মোট প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ তেলক্ষেত্রে যে মজুত, তার মাত্র ৫ শতাংশ তেল উত্তোলন করা হয়। মাটির নিচে রয়ে যায় বাকি প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল।
- ১৯৯৪ সাল থেকে তেল উৎপাদনে স্থগিত হয়ে যায়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।

১,১৭৬.
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. সারা বছর তুষারপাত হয়
  2. সারা বছর গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়
  3. গ্রীষ্মে শুষ্ক ও শীতে বৃষ্টিপাত হয়
  4. তাপমাত্রার তারতম্য অনেক বেশি হয়
ব্যাখ্যা

নিরক্ষীয় জলবায়ু:
-  নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান করে।

⇒ অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত। সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত। বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত। এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

⇒ নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। অত্যধিক সূর্য তাপ ও আর্দ্রতা এবং সামান্য মেঘাচ্ছন্নতার জন্য তাপমাত্রার পার্থক্য কম। এই অঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে। শীতের প্রকোপ একদম নেই বললেই চলে।
১. সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে।
২. অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি। দৈনিক প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, বিশেষ করে পরিচলন বৃষ্টি। 
৩. অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
৪. অধিক উত্তাপ এ অঞ্চলে স্থায়ী নিম্নচাপ তৈরি করে এবং উপক্রান্তীয় উষ্ণ চাপ বলয়ের অয়ন বায়ু এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। 
৫. এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৭৭.
সমুদ্রের সম-লবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানের সংযোগকারী রেখাকে কী বলা হয়?
  1. ক) আইসোহাইট
  2. খ) আইসোবার
  3. গ) আইসোথার্ম
  4. ঘ) আইসোহেলাইন
ব্যাখ্যা

- আইসোহেলাইন : সমুদ্রের সম লবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানের সংযোগকারী রেখা।
- আইসোথার্ম : ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোবার : ‍ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোহাইট : ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)

১,১৭৮.
শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের আধিক্য রয়েছে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. আর্গন
  4. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
শুক্র গ্রহ:
• সৌরজগতে মোট আটটি গ্রহ রয়েছে।
• এগুলো হলো: বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, শনি, বৃহস্পতি, ইউরেনাস এবং নেপচুন।
• এদের মধ্যে শুক্র সূর্যের দ্বিতীয় নিকটতম ও পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ।
• শুক্র গ্রহকে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা এবং ভোরে পূর্ব আকাশে শুকতারা হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়।
• শুক্রের আকাশে বছরে দুইবার সূর্য উদিত ও অস্ত যায়।
• শুক্রের বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের আধিক্যের কারণে এসিড বৃষ্টি হয়ে থাকে।
• বুধ গ্রহের ন্যায় শুক্রেরও কোন উপগ্রহ নেই।

উল্লেখ্য,
• সৌরজগতের গ্রহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রহ হলো বৃহস্পতি।
• সবচেয়ে ছোট গ্রহ বুধ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় : নবম-দশম শ্রেণি এবং নাসা।
১,১৭৯.
কতটি পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে বিভক্ত করা যায়?
  1. পাঁচটি
  2. চারটি
  3. তিনটি
  4. দুইটি
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি। যথা-
১। দুর্যোগ প্রতিরোধ
২। দুর্যোগ প্রশমন
৩। দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:  
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:
- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়।
- এগুলো হলো: পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।
- এই ৩টি কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:-
- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়।
- এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মুকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি

১,১৮০.
নবায়নযোগ্য শক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. কয়লা
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. সৌরশক্তি
  4. খনিজ তেল
ব্যাখ্যা
- সৌরশক্তি হলো প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া শক্তি যা অবিরামভাবে পাওয়া যায় এবং নিঃশেষ হয় না, এটি নবায়নযোগ্য শক্তি।

নবায়নযোগ্য শক্তি:
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
- এই শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না।
- বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস যেমন: সূর্যের আলো ও তাপ, বায়ু প্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈব শক্তি (জৈবভর), ভূ-তাপ, সমুদ্র তরঙ্গ, সমুদ্র-তাপ, জোয়ার-ভাটা, শহুরে আবর্জনা, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনবায়নযোগ্য শক্তি:
- অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-renewable Energy) হলো যে সম্পদ প্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবে নবায়ন হয় না এমনকি মানুষ ও নবায়ন করতে পারে না।
- যেমন: প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, নিউক্লীয় শক্তি, খনিজ তেল ইত্যাদি।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮১.
ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা আন্ত:সীমান্ত নদী কয়টি?
  1. ৪৮ টি
  2. ৫০ টি
  3. ৫৭ টি
  4. ৫৪ টি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ যোথ নদী কমিশন:
- বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রায় ৪০৫টি নদী প্রবাহিত হচ্ছে।
- এর মধ্যে ৫৭ টি আন্তঃসীমান্ত নদী।
- আন্তঃসীমান্ত নদীর মধ্যে ৫৪টি নদী ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে 
- মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা নদী ৩ টি।
-  যথা:- নাফ, সাঙ্গু, মাতামুহুরী। 
- ৫৪ টির মধ্যে ৫১টি নদী বস্তুতঃপক্ষে তিনটি বৃহৎ নদী গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার অববাহিকাভুক্ত।
- বাংলাদেশে উৎপত্তি হয়ে ভারতে যাওয়া নদী ১ টি (কুলিখ)।
- বাংলাদেশে উৎপত্তি ও সমাপ্তি হওয়া নদী ১টি (হালদা)।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের স্ট্যাটিউট (Statute) স্বাক্ষরিত হয়।

উৎস: যৌথ নদী কমিশন।[Link]
১,১৮২.
নিচের কোনটি এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী নয়? 
  1. কার্বন মনোঅক্সাইড
  2. সালফার ডাইঅক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন অক্সাইড
  4. সালফিউরিক এসিড 
ব্যাখ্যা

- কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী নয়। 

• এসিড বৃষ্টি: 

- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে। 

- এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ি দাবানল, বজ্রপাত, গাছপালার পচন, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
- এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সালফার ডাই অক্সাইড বের হয়, যা পরে বাতাসের অক্সিজেন ও বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন করে।
- একইভাবে বিভিন্ন শিল্প কারখানা বিশেষ করে কয়লা বা গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ইট ভাটা, যানবাহন, চুলা ইত্যাদি উৎস থেকে সালফার ডাই অক্সাইড বের হয়, যা এসিডে পরিনত হয় এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি তৈরি করে। 
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে। 

• এসিড বৃষ্টির কারণ: 
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন- NO, NO2). 
- এর মূলে তিনটি এসিডের (H2SO3, H2SO4, HNO3 এর) ভূমিকা রয়েছে; যা প্রাইমারি বায়ুদূষক SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (NOx) হতে উৎপন্ন হয়। 
 
- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়। 
 
তথ্যসূত্র: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।  

১,১৮৩.
শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম কোন শহরে অবস্থিত?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- শহীদ চান্দু” স্টেডিয়াম বগুড়া শহরে অবস্থিত।
- এই স্টেডিয়ামে প্রথম ২০০৬ সালে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মধ্যে টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
- এই স্টেডিয়াম এর ধারন ক্ষমতা ২০, ০০০জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকা রিপোর্ট
১,১৮৪.
ওডার নদী-
  1. পূর্ব-মধ্য ইউরোপের নদী
  2. পূর্ব-মধ্য এশিয়ার নদী
  3. উত্তর-মধ্য আফ্রিকার নদী
  4. উত্তর-মধ্য এশিয়ার নদী
ব্যাখ্যা
ওডার নদী:

• এটি পূর্ব-মধ্য ইউরোপের নদী।
• এটি বাল্টিক সাগরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নদীগুলির মধ্যে একটি।
• এর উৎস থেকে চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে।
• এটি পোল্যান্ড এবং জার্মানির মধ্যে সীমানা তৈরি করে।
• ওডার নদীর মোট দৈর্ঘ্য ৫৩১ মাইল (৮৫৪ কিলোমিটার), যার মধ্যে ৪৬১ মাইল পোল্যান্ডে অবস্থিত।
• আয়তন: ৪৬০০০০ বর্গ মাইল (১১৯,০০০ বর্গ কিলোমিটার), যার প্রায় ৯০ শতাংশ পোলিশ অঞ্চলে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 
১,১৮৫.
'বাংলার দার্জিলিং' হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. চিম্বুক
  2. তাজিনডং
  3. কেওক্রাডাং
  4. সাকা হাফং
ব্যাখ্যা

চিম্বুক পাহাড়:
- বাংলাদেশের পাহাড়ের রানী হিসেবে পরিচিত চিম্বুক পাহাড়।
- বান্দরবান শহর থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত চিম্বুক পাহাড়। 
- এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম পাহাড়।
- বান্দরবান জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের অবস্থান।
- বাংলার দার্জিলিং খ্যাত এই চিম্বুক পাহাড়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,১৮৬.
চীনের দুঃখ নামে পরিচিত কোনটি?
  1. ক) মেকং নদী
  2. খ) হোয়াংহো নদী
  3. গ) মেনাম নদী
  4. ঘ) ইয়াংসিকিয়াং নদী
ব্যাখ্যা
হোয়াংহো নদী
- হোয়াংহো নদী এশিয়া ও চীনের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- এটি সিংহাই প্রদেশের বায়ান হার পর্বতের উত্তরাংশে উৎপত্তি হয়ে পীত সাগরে পতিত হয়েছে।
- এর অপর নাম পীত নদী।
- নদীটি চীনের দুঃখ নামে পরিচিত।
- প্রাচীন চীনে প্রায়ই এই নদীর পানি ছাপিয়ে উঠে আশপাশের সব কিছু ভাসিয়ে দিত বলে একে চীনের দুঃখ বলা হয়।
- এর সর্বমোট দৈর্ঘ্য ৫৪৬৪ কিলোমিটার।
- ইতিহাসে ২৬ বার এই নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে।
- এর ফলে প্রত্যেকবারই চীনের জনগণের জীবনে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা।
- আধুনিক চীন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর চীন সরকার এই নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধকে আরো মজবুত করে।
- এখানে চীনের প্রাচীনতম সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- লানজে, বাত্তথৌ, যেমষ্ঠে, জিনোন প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ শহর-বন্দর এ নদীর তীরে অবস্থিত।
- এই নদী ৯টি প্রদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শানতুং প্রদেশের দংইং শহরের বোহাই সাগরে গিয়ে মিশেছে।

উৎস: i) কালের কন্ঠ, ১২ জুলাই, ২০১৯।
        ii) Britannica.
১,১৮৭.
'আমাজন বনভূমি' কোন ধরণের বনভূমি?
  1. উপক্রান্তীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল
  2. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি
  3. ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল
  4. গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা
আমাজন বন:
- দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত আমাজন বন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বনাঞ্চল।
- আমাজন পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট।
- এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল।
- এর আয়তন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন বর্গ মাইল।
- এটি ৯ টি দেশ যথা: ব্রাজিল, বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, গায়ানা, সুরিনাম ও ফ্রে গায়ানা জুড়ে বিস্তৃত।
- আমাজন বনকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস।

তথ্যসূত্র - WWF ওয়েবসাইট ও Worldatlas.com
১,১৮৮.
নিচের কোন নদীটি সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে?
  1. মাতামুহুরী
  2. পশুর
  3. আত্রাই
  4. সাঙ্গু
ব্যাখ্যা
পশুর নদী:
- পশুর নদী (Pasur River) সুন্দরবনের এক অতি বৃহৎ নদী, প্রকৃতপক্ষে রূপসা নদীরই বর্ধিত রূপ।
- খুলনার দক্ষিণে ভৈরব বা রূপসা নদী আরও দক্ষিণে মংলা বন্দরের কাছে পশুর নামে প্রবাহিত হয়ে ত্রিকোনা ও দুবলা দ্বীপ দুটির ডানদিক দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- মংলার দক্ষিণে পশুর সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 
- নদীটি খুব গভীর এবং সারা বৎসরই নাব্য থাকে বলে এর মধ্য দিয়ে সামুদ্রিক জাহাজ প্রবেশ করতে পারে।
- এই নদীর তীরেই মংলা সমুদ্রবন্দর অবস্থিত। 
- পশুর ও এর শাখা-প্রশাখাগুলো সবই জোয়ারভাটা দ্বারা প্রভাবিত। 

এছাড়াও,
মহানন্দা (Mahananda):
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দার্জিলিং জেলার নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বতে। এরপর জলপাইগুড়ি জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের সর্বত্র উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা দিয়ে প্রবেশ করেছে। এরপর বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করেছে। অত:পর ভারতের পূর্ণিয়া ও মালদহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাপাইনবাবগঞ্জের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করে গোদাগাড়ির কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে। মহানন্দার উপনদী
পুবর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন, পাগলা প্রভৃতি।

সাঙ্গু (Shangu):
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত আরাকান পাহাড় থেকে সাঙ্গু নদী উৎপত্তি হয়েছে। এরপর চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪৪ কিলোমিটার।

হালদা (Haldha):
- খাগড়াছড়ি জেলার বাদনাতলী পর্বতশৃঙ্গ থেকে হালদা নদী উৎপন্ন হয়েছে। এরপর দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে কালুরঘাটের নিকট কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।

ফেনী (Feni):
- ফেনী নদী ভারতের ত্রিপুরা পার্বত্য অঞ্চলে উৎপত্তি হয়েছে। এরপর ফেনী জেলার পূর্ব সীমানা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সন্দ্বীপ প্রণালির উত্তরে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। ফেনী নদীটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক জেলা ফেনীর নামে পরিচিত।

নাফ (Knaf):
- নাফ নদীর উৎপত্তি স্থল মিয়ানমার। এ নদী বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমার সীমানা নির্দেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। নাফ নদীর মোহনা অত্যন্ত প্রশস্ত। উৎপত্তিস্থল থেকে বঙ্গোপসাগরে পতিত হওয়া পর্যন্ত এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ কিলোমিটার।

মাতামুহুরী (Matamuhuri):
- মাতামুহুরী নদীর উৎপত্তিস্থল লামার মাইভার পর্বত। উৎপত্তির পর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার নিকট দিয়ে পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিলোমিটার।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পঞ্চম শ্রেণি।
১,১৮৯.
আকস্মিক বন্যায় কোন অঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়?
  1. ক) বরেন্দ্র অঞ্চল
  2. খ) হাওরাঞ্চল
  3. গ) সুন্দরবন
  4. ঘ) উপকূল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।

- বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

অন্যদিকে,
- বৃহত্তর খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত বন্যা দেখা যায়।
- উপকূলীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা দেখা দেয়।
- নদী সংলগ্ন জেলাসমূহে নদীসৃষ্ট বন্যা দেখা যায়।

(তথ্যসূত্র: বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর)
১,১৯০.
'সমুদ্রস্রোত' সৃষ্টির প্রধান কারণ কী?
  1. বায়ুপ্রবাহ
  2. পৃথিবীর আবর্তন
  3. সমুদ্রজলের লবণাক্ততার তারতম্য
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সমুদ্রস্রোত:
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।
- অর্থাৎ সমুদ্রস্রোত বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায় উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলকে শীতল রাখে শীতল ল্যাব্রাডার স্রোত, এ কারণে শীতল ইউরোপীয় স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম ইউরোপীয় উপকূলের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

⇒  'সমুদ্রস্রোত' সৃষ্টির প্রধান কারণ:
- বায়ুপ্রবাহ,
- পৃথিবীর আবর্তন,
- উষ্ণতার তারতম্য,
- লবণাক্ততার তারতম্য,
- স্থলভাগের অবস্থান,
- শৈলশিরার অবস্থান,
- বাষ্পীভবনের তারতম্য,
- সমুদ্রের গভীরতা।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৯১.
জিব্রাল্টার প্রণালী যুক্ত করেছে-
  1. আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ক্যারিবিয়ান সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগর
  4. দক্ষিণ চীন সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

• জিব্রাল্টার প্রণালী:
- জিব্রাল্টার প্রণালী ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।
- যুক্ত করেছে: ভূমধ্যসাগরকে পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযোগকারী সমুদ্র প্রণালী।
- এটি উত্তর আফ্রিকাকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের আইবেরীয় উপদ্বীপ থেকে পৃথক করেছে।
- প্রণালীটি মরক্কো ও স্পেনকে পৃথক করে।
- যার গড় গভীরতা ১,২০০ ফুট (৩৬৫ মিটার)।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১,১৯২.
আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কোন রেখাটি অতিক্রম করেছে?
  1. ক) মকরক্রান্তি রেখা
  2. খ) নিরক্ষরেখা
  3. গ) কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. ঘ) আন্তর্জাতিক তারিখরেখা
ব্যাখ্যা
- আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে গ্যাবন, কঙ্গো, কেনিয়া ও সোমালিয়ার উপর দিয়ে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বা শূন্য ডিগ্রি অক্ষরেখা অতিক্রম করেছে।
অন্যদিকে,
- আফ্রিকার উত্তরাংশ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা বা সাড়ে তেইশ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা অতিক্রম করেছে।
- আফ্রিকার দক্ষিণ ভাগ দিয়ে মকরক্রান্তি রেখা বা সাড়ে তেইশ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষরেখা অতিক্রম করেছে।
- আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বা ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
১,১৯৩.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের ভুমি উচু?
  1. ক) দক্ষিণ অঞ্চল
  2. খ) উত্তর অঞ্চল
  3. গ) পূর্ব অঞ্চল
  4. ঘ) পশ্চিম অঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূমি উত্তর অংশ থেকে দক্ষিণের দিকে ক্রমশ নিম্ন।
১,১৯৪.
বাংলাদেশের পাহাড়শ্রেণি ভূ-তাত্ত্বিক যুগের ভূমিরূপ হচ্ছে-
  1. প্লাইস্টোসিন যুগের
  2. টারশিয়ারী যুগের
  3. মায়োসিন যুগের
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের পাহাড়শ্রেণী ভূতাত্ত্বিকভাবে টারশিয়ারি যুগের।

• বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশের ভূতত্ত্ব তিন ধরণের।যথা-
-  টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের পাহাড়শ্রেণী ভূতাত্ত্বিকভাবে টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে মনে করা হয়।
- বাংলাদেশে অবস্থিত টারশিয়ারি যুগের পাহাড়গুলোকে আবার দুইটি ভাগে বিভক্ত।যথা-

i) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে অবস্থিত পাহাড়সমূহ নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।

ii) বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ছোট-বড় পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৯৫.
মধুপুর ভাওয়ালের গড় কোন ভূ- অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত?
  1. প্লাবন সমভূমি
  2. প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি
  3. টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল
  4. উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল
ব্যাখ্যা
• ভূপ্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূমিকে তিনটি প্রধান ভূ-অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল, প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,এবং প্লাবন সমভূমি ।
- আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টানকাল বলে।
- প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল- লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল, বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ভাওয়ালের গড়।
- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল - উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ- রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, কক্সবাজার,ও চট্টগ্রাম, জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ গড় উচ্চতা - ৬১০ মিটার।
- উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তারাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার পাহাড় গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।
- উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহের গড় উচ্চতা - ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড় গুলো স্থানীয় ভাবে টিলা নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিতি, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,১৯৬.
বাংলাদেশের বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্রটি কোন বছরে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯৬৫ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা

বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র: 
- বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) কর্তৃক ১৯৮৫ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা ক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়।
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত।
- এর আয়তন ৬.৬৮ বর্গ কিলোমিটার।
- এই বেসিনে কয়লার মোট মজুদ ৩৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
- এখানে বিটুমিনাস কয়লা পাওয়া যায়। 

• বিটুমিনাস কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে-
- ফিক্সড কার্বন-৪৮.৪০%,
- এ্যাশ- ১২.৪০%, 
- ভোলাটাইল মেটার-২৯.২০%, 
- মোট ময়েশ্চার-১০%, 
- ক্ষতিকারক উপাদান সালফারের পরিমাণ-০.৫৩% এবং 
- তাপ দহন ক্ষমতা-১১,০৪০ বিটিউ পার পাউন্ড। 

উৎস: বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল) ওয়েবসাইট।

১,১৯৭.
বাংলাদেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় স্থাপিত হচ্ছে?
  1. ক) পাবনা
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) কুষ্টিয়া
  4. ঘ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৭ সালে।
উৎসঃ বিবিসি।

১,১৯৮.
নিচের কোন নিয়ামকটি একটি অঞ্চলের বা দেশের জলবায়ু নির্ধারণ করে না?
  1. দ্রাঘিমারেখা
  2. সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা
  3. পাহাড়-পর্বতের অবস্থান
  4. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
ব্যাখ্যা

• দ্রাঘিমারেখা জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক নয়।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক:
- যে সব উপাদান আবহাওয়া এবং জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন সাধন করে তাদেরকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।

⇒ জলবায়ুর নিয়ামক:
১. অক্ষাংশ,
২. সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা,
৩. জল ও স্থলভাগের অবস্থান,
৪. পাহাড়-পর্বতের অবস্থান,
৫. বনভূমির অবস্থান,
৬. সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
৭. সমুদ্র স্রোত,
৮. বায়ুপ্রবাহ,
৯. বৃষ্টিপাত,
১০. ভূমির ঢাল, 
১১. জলীয়বাষ্প:
১২. দিবাভাগের দৈর্ঘ্য,
১৩. বায়ুর আর্দ্রতা, 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৯৯.
হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় বাংলাদেশের কোন পাহাড়টি সৃষ্টি হয়েছে?
  1. তাজিনডং
  2. মোদকমুয়াল
  3. কেওক্রাডং
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কেওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উল্লেখ্য,
- বান্দরবান জেলার বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে অবস্থিত পাহাড় 'মোদক মুয়াল' যা টারশিয়ারি যুগের পাহাড়। এটিও হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২০০.
একটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের মহীসোপানের (Continental Shelf) সীমা ভিত্তিরেখা থেকে সর্বোচ্চ কত হতে পারে?
  1. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  2. ২২০ নটিক্যাল মাইল
  3. ৩০০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩৫০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা
মহীসোপানের (Continental Shelf) সীমা হবে ভিত্তিরেখা থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল।

মহীসোপান:

- মহীসোপান হল সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত একটি ঢালু অঞ্চল, যা মহাদেশীয় প্রান্ত থেকে গভীর সমুদ্রের দিকে বিস্তৃত।
- এটি সাধারণত মহাদেশীয় প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে গভীর সমুদ্রীয় সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- এই অঞ্চলটি সমুদ্রের অগভীর অঞ্চল হিসাবেও পরিচিত।
- মহীসোপানের গড় সর্বোচ্চ গভীরতা ২০০ মিটার এবং মহীসোপান ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার। মহাদেশের উপকূল যদি বিস্তৃত সমভূমি হয়, তবে মহীসোপান অধিক প্রশস্ত হয়।
- মহাদেশের উপকূল পর্বত বা মালভূমি থাকলে মহীসোপান সংকীর্ণ হয়।

⇒ মহাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার ফলে অথবা সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতার তারতম্য হওয়ার কারণে মহীসোপানের সৃষ্টি হয়।
- আবার অনেক সময় সমুদ্র তরঙ্গ ও ক্ষয়ক্রিয়া মহীসোপান গঠনে সহায়তা করে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেশন অনুযায়ী, একটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের মহীসোপানের ( Continental shelf) সীমা হবে ভিত্তি রেখা হতে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল।
- কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্র তার ভিত্তিরেখা (baseline) থেকে সর্বোচ্চ ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অথবা ২,৫০০ মিটার গভীরতার আইসোবাথ (isobath) থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান (continental slope) ভোগ করতে পারবে।
- এটি মূলত আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ (UNCLOS) এর আওতায় আসে, যা উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর মহীসোপান ও মহাদেশীয় শেলফের অধিকার নির্ধারণ করে।
- এই নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রগুলি তাদের উপকূল থেকে মহীসোপান বা মহাদেশীয় শেলফের বিশেষ অংশে অর্থনৈতিক বা গবেষণামূলক অধিকার দাবি করতে পারে।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র ,এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) UNCLOS ওয়েবসাইট। [link]