বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৯৪ / ১২৪ · ৯,৩০১৯,৪০০ / ১২,৪২১

৯,৩০১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী?
  1. ১০ নং
  2. ৯ নং
  3. ৭ নং
  4. ৮ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১০ নং সেক্টরটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল: ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও -বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

অন্যদিকে -
- চট্টগ্রাম: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা: ২ নং সেক্টর,
- রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী: ৭ নং সেক্টর,
- মুজিবনগর: ৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন: ৯ নং সেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩০২.
নিচের কোনটি বেসরকারি পরিবেশ আইনজীবীদের সংগঠন?
  1. ক) CPD
  2. খ) বেলা (BELA)
  3. গ) আসক
  4. ঘ) BLAST
ব্যাখ্যা
- বেলা (BELA) হচ্ছে বাংলাদেশের বেসরকারি পরিবেশ আইনজীবীদের সংগঠন।
- এর পূর্ণরুপ -Bangladesh Environmental Lawyers Association।
- নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা করে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে বিস্ফোরনের কারণে।

- CPD (Centre for Policy Dialogue) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার মূল্যায়ন করে।
- আসক (আইন ও সালিশ কেন্দ্র) বাংলাদেশের প্রথম সারির একটি মানবাধিকার সংগঠন যারা বিশেষভাবে শ্রমিক ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে।

- BLAST (Bangladesh Legal Aid and Service Trust)
- বাংলাদেশের দারিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আইনী সহায়তা দেওয়ার জন্য কাজ করে। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৯,৩০৩.
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. আত্মরক্ষা
  2. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  3. জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যসমূহ:
১. আত্মরক্ষা।
২. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
৩. অন্য রাষ্ট্রের তুলনায় নিজের জাতীয় শক্তিকে রক্ষা ও প্রয়োজনে বৃদ্ধি করা।
৪. নিজস্ব মতবাদে দৃঢ় থাকা।
৫. জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির বৈশিষ্ট্য: 
১. সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়
২. অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা
৩. অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা
৪. বিশ্ব শান্তি 

উৎস: সিভিক এডুকেশন-২, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩০৪.
ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক সরবরাহকৃত সুপেয় পানির উৎস হচ্ছে -
  1. ক) সারফেস ওয়াটার ও গ্রাউন্ড ওয়াটার
  2. খ) রেইন ওয়াটার
  3. গ) গ্রাউন্ড ওয়াটার
  4. ঘ) সারফেস ওয়াটার
ব্যাখ্যা

At present 87% of the supplied water is from ground water abstraction from Dhaka WASA's 605 deep tube wells. The remaining 13% water comes from surface water treatments.
Source: DWASA

৯,৩০৫.
গুপ্তদের সময় রাজতন্ত্র কেমন ছিল?
  1. রাজানির্ভর
  2. মানুষনির্ভর
  3. জমিদারনির্ভর
  4. সামন্তনির্ভর
ব্যাখ্যা
গুপ্তদের সময় রাজতন্ত্র ছিল সামন্তনির্ভর।

গুপ্ত সাম্রাজ্য:

- ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ।
- এল্যানের মতে, পাটলীপুত্র (মগধের অভ্যন্তরে) নগরের অদূরে শ্রীগুপ্তের রাজত্ব ছিল।
- তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে ।
- এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য।

⇒ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রথম কুমারগুপ্তের সময় (৪৩২-৪৪৮ খ্রি.) থেকে উত্তর বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে গড়ে ওঠে।
- এটির নাম ছিল তখন ‘পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তি’।
- গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই বাংলার উত্তরাংশের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।

⇒ এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শ্রীগুপ্তের কথা বলা হলেও প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় প্রথম চন্দ্রগুপ্তকে।
- তাঁর উপাধি ছিল মহারাজাধিরাজ।
- গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয় সমুদ্রগুপ্তকে।
- তিনি সমগ্র বাংলা জয় করেন।
- তাঁকে প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন বলেও অভিহিত করা হয়।

⇒ সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা অধিকৃত হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলার উত্তরাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি ‘প্রদেশ' বা 'ভুক্তি' হিসেবে পরিগণিত হতো।

⇒ গুপ্তদের সময় রাজতন্ত্র ছিল সামন্তনির্ভর।
- এদের রাজাদের অধীনে বড় কোনো অঞ্চলের শাসককে বলা হতো মহাসামন্ত।

⇒ মৌর্যদের মতো গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর।
- হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

উৎস: i) ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৯,৩০৬.
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. ক) মইনুল হোসেন
  2. খ) হামিদুর রহমান
  3. গ) শামীম শিকদার
  4. ঘ) হামিদুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভার আমলে শিল্পী হামিদুর রহমানের পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী মেডিকেল হোস্টেল প্রাঙ্গণের একাংশে শহীদ মিনার তৈরির কাজ শুরু হয়। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৯,৩০৭.
প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. ফজলুর রহমান
  2. শামসুল আলম
  3. নূরুল হক ভূঁইয়া
  4. আবদুল কাদের
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক মনোনীত হন নূরুল হক ভূঁইয়া।
- পরবর্তীকালে এ উদ্দেশ্যে আরও কয়েকটি কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে তমদ্দুন মজলিসের গঠিত প্রথম সংগ্রাম পরিষদটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি সংগ্রাম পরিষদের সাথে আলোচনার পর শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান আশ্বাস দেন যে, মানি অর্ডার, ফরম, ডাকটিকিট ও মুদ্রায় ইংরেজি-উর্দুর পাশাপাশি বাংলায় লেখা হবে।
- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ১৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া বক্তৃতায় সুকৌশলে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ছাত্রদের মধ্যে হতে ‘না’ ‘না’ ধ্বনি সম্বলিত প্রতিবাদ ওঠে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো ২য় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। 
- এ পরিষদের আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৩০৮.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় আবুল মনসুর আহমদ কোন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন?
  1. ক) জনস্বাস্থ্য মন্ত্ৰী
  2. খ) বিচার ও আইন মন্ত্রী
  3. গ) শিক্ষা ও রেজিস্ট্রেশন মন্ত্ৰী
  4. ঘ) কোন পদবি ছিল না
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা, ১৯৫৪

১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর 'যুক্তফ্রন্ট' শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হককে সর্বসম্মতিক্রমে 'সংসদীয় নেতা' নির্বাচন করে। তদানীন্তন পূর্ব বাংলার গভর্নর চৌধুরী খালিকুজ্জামান ২৫ মার্চ শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হককে মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানান। তিনি ৩ এপ্রিল চার সদস্যবিশিষ্ট এবং পরে ১৫ মে আওয়ামী লীগের ৭ জন এবং কৃষক শ্রমিক পার্টির ৩ জনসহ মোট ১৪ জন নিয়ে বর্ধিত মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য -

১. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক - মুখ্যমন্ত্রী (স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, স্বায়ত্তশাসন, নির্বাচন ও পার্লামেন্টারি বিষয়সহ।)
২. আবু হোসেন সরকার - অর্থমন্ত্রী
৩. আতাউর রহমান খান - খাদ্য ও বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী
8. আবুল মনসুর আহমদ - জনস্বাস্থ্য মন্ত্ৰী
৫. শেখ মুজিবুর রহমান - কৃষিঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্ৰী

উল্লেখ্য, 
- 'যুক্তফ্রন্ট' নেতাগণ ২১ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য ১৯৫৪ সালে যুক্তফন্টের নির্বাচনি ইশতেহারকে ২১ দফা কর্মসূচিতে লিপিবদ্ধ করেন।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- মুসলিম লীগের প্রতীক ছিলো 'হারিকেন'।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯,৩০৯.
মেজর আবু তাহের মুক্তিযুদ্ধের সময় কত নং সেক্টরের সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ৮ নং সেক্টর
  2. ৬ নং সেক্টর
  3. ৯ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের জুলাই মাসে ‍মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে ১১ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন প্রথমদিকে মেজর এম. আবু তাহের এবং পরবর্তীতে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।
- ১১ নং সেক্টরের সদরদপ্তর ছিলো মহেন্দ্রগঞ্জ। এই সেক্টরের অধীনে আটটি সাব-সেক্টর ছিলো।

অন্যদিকে,
৬ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন:
- উইং কমান্ডার এম. খাদেমুল বাশার

৮ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন:
- মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
- মেজর এম.এ মঞ্জুর

৯ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন:
- মেজর এম. এ জলিল
- মেজর এম. এ. মঞ্জুর
- মেজর জয়নাল আদেীন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৯,৩১০.
কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়?
  1. ক) গেওয়া
  2. খ) শাল
  3. গ) সুন্দরী
  4. ঘ) কেওড়া
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ:

- শাল ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়।
- 'সুন্দরবন' বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
- সুন্দরবনে মোট ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে যার মধ্য ৩৫টি প্রজাতি হলো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের।
- এই বনের প্রধান উদ্ভিদ হলো সুন্দরী ও গেওয়া।
- এছাড়া অন্যান্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে:
- গরান।
- কেওড়া।
- ধুন্দল।
- বাইন।
- গোলপাতা।
- ওড়া।
- পশুর প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- চাপালিশ উদ্ভিদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯,৩১১.
How many states of India shares its border with Bangladesh?
  1. 3
  2. 5
  3. 7
  4. 4
ব্যাখ্যা
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের সেভেন সিস্টার্সভুক্ত চারটি রাজ্যসহ মোট ৫টি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে।
- এগুলো হলো: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- সেভেন সিস্টার্সভুক্ত মণিপুর, অরুণাচল ও নাগাল্যান্ড রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোনো সীমান্ত সংযোগ নেই।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯,৩১২.
পলাশীর যুদ্ধে কোন ফরাসি সেনাপতি সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন?
  1. দুপ্লেই
  2. কাউন্ট ল্যালি
  3. সিন ফ্রে
  4. মার্কুইস বুসি
ব্যাখ্যা

⇒ পলাশীর যুদ্ধে ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন।

পলাশীর যুদ্ধ:

- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আমবাগানের যুদ্ধে স্বাধীন বাংলার নবাব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হয়।
- ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়।
- প্রতি বছর সে জন্য ২৩ জুন পলাশী দিবস হিসাবে পালিত হয়।
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটতি হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরচিতি।
- ক্লাইভ ১৭৫৭ সালে সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত করেন এবং কলকাতা দখল করেন।
- এই যুদ্ধে সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজতি হন এবং ভারতবর্ষে ইংরজে শাসন প্রতষ্ঠিার পথ সূচিত হয়।
- নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে জগৎশেঠ, মীরজাফর, রায়দুর্লভ ও উমিচাদ।
- নবাবের পক্ষে যুদ্ধ করেন মীরমদন, মোহন লাল ও ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৯,৩১৩.
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান কোন বিমান ছিনিয়ে আনতে গিয়ে শহীদ হন?
  1. ক) এ -৪৪
  2. খ) টি-৩৩
  3. গ) টি-৪৪
  4. ঘ) এক্স-২২
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান:

- টি-৩৩ বিমান ছিনিয়ে আনতে গিয়ে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান।
- “টি-৩৩” বিমানটির ছদ্মনাম ছিলো - ব্লু বার্ড।
- ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে তিনি বিমানটি ছিনতাই করেন।
- চাকুরী জীবনে তিনি এফ-৮৬ জঙ্গী বিমানের পাইলট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে,
- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্ম ২৯শে অক্টোবর ১৯৪১, ঢাকার পৈত্রিক নিবাসে।
- ১৯৬১ সালের ১৫আগস্ট ৩৬তম জিডি (পি) কোর্সে ফ্লাইট ক্যাডেট হিসাবে যোগদান করেন পাকিস্তান বিমান বাহিনী একাডেমি, রিসালপুরে।
- ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সালে তিনি শহীদ হন।
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

উৎস - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়।
৯,৩১৪.
রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. জনসমষ্টি
  2. ভূখন্ড
  3. সরকার
  4. সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের উপাদান:
রাষ্ট্রের চারটি উপাদান থাকে। যথা-
(১) জনসমষ্টি,
(২) ভূ-খন্ড,
(৩) সরকার ও
(৪) সার্বভৌমত্ব।

১। জনসমষ্টি:
- রাষ্ট্র গঠনের প্রথম উপাদান জনসমষ্টি।
- জনসমষ্টি ব্যতীত রাষ্ট্র হতে পারে না।
তবে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যা কত হতে হবে তার কোন ধরা বাঁধা নিয়ম নেই। 

২। ভূখন্ড:
- রাষ্ট্র গঠনের দ্বিতীয় উপাদান হল ভূখন্ড।
- জনসমষ্টিকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভূখন্ড আবশ্যক।
- ভূখন্ড বলতে রাষ্ট্রের ভূমি, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, সামুদ্রিক জলসীমা বোঝায়। 

৩। সরকার:
- রাষ্ট্রের তৃতীয় উপাদান সরকার।
- সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার তিন ধরনের কাজ করে। যথা- আইন সংক্রান্ত, শাসন সংক্রান্ত ও বিচার সংক্রান্ত।
- এ তিন ধরনের কাজের জন্য সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে। যথা- আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ।
- তবে বিশ্বের প্রায় সব সরকার ৩টি বিভাগ নিয়ে গঠিত হলেও সরকারের রূপ ও প্রকৃতি এক নয়।
- যেমন- বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা, আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।

৪। সার্বভৌমত্ব:
- রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সার্বভৌমত্ব।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
- সার্বভৌমত্ব ব্যতীত কোন দেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে না।
- যেমন- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে বাংলাদেশের অন্যান্য উপাদান থাকা সত্ত্বেও সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে নি।

সার্বভৌমত্বের দু'টো দিক রয়েছে। যথা-
(ক) অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব:
- যার দ্বারা রাষ্ট্র তার সীমানার মধ্যে যেকোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর অবাধ ও সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী।
- এ ক্ষমতার মাধ্যমে রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে।

(খ) বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব:
- এ ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩১৫.
১৯৫৪ সালের মে মাসে যুক্তফ্রন্টের কয় সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়?
  1. ৪ সদস্য
  2. ১০ সদস্য
  3. ১৪ সদস্য
  4. ২০ সদস্য
ব্যাখ্যা
মন্ত্রিসভা গঠন: 
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকায় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী সভার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- ১৯৫৪ সালের মে মাসে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।
- মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই মন্ত্রিসভা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং বর্ধমান হাউজকে বাংলা একাডেমি করার প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করেন।
- কেন্দ্রীয় সরকার এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩১৬.
‘ফাগুন হাওয়ায়’ চলচ্চিত্রটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত? 
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ছয় দফা আন্দোলন
  4. গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

• ফাগুন হাওয়ায় চলচ্চিত্র:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৈরি করা হয়েছে চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’।
- চলচ্চিত্রের পরিচালক তৌকির আহমেদ।
- এর নামকরণে ফুটে উঠেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন চলাকালে বাংলা মাস ফাল্গুনের নামটি।
- এতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও সিয়াম আহমেদ। অন্যান্য ভূমিকায় রয়েছেন ফজলুর রহমান বাবু, আবুল হায়াত ও রওনক হাসানের মতো অভিনয়শিল্পীরা।

⇒ ফাগুন হাওয়ায় ছবিতে এক মফস্বল শহরে ভাষা আন্দোলনের সময়ে মানুষের ভাবনা, আন্দোলন আর চেতনাকে রূপক অর্থে তুলে ধরেছেন তৌকীর আহমেদ।
- চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে টিটো রহমানের বাংলা ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা ‘বউ কথা কও’ গল্প অবলম্বনে।

তথ্যসূত্র:
i) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
ii) প্রথম আলো।

৯,৩১৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ'-এর সদস্য ছিলেন -
  1. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. শ্রী মনি সিং
  3. শ্রী মনোরঞ্জন ধর
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ:
- মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ।
- দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- রাজনৈতিকভাবে এই যুদ্ধকে সার্বজনীন করার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সর্বসম্মতিক্রমে একটি "সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ" গঠন করেন।

উল্লেখ্য,
- সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন:
ক) জনাব আব্দুল হামিদ খান ভাসানী (সভাপতি: ন্যাপ ভাসানী),
খ) শ্রী মনি সিং (সভাপতি: বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি),
গ) অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ (সভাপতি: ন্যাপ মোজাফ্ফর),
ঘ) শ্রী মনোরঞ্জন ধর (সভাপতি: বাংলাদেশ জাতীয় কংগ্রেস),
ঙ) জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ (প্রধানমন্ত্রী: পদাধিকারবলে),
চ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ (পররাষ্ট্রমন্ত্রী: পদাধিকারবলে)।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৯,৩১৮.
'বাংলার নৌকা বাইচ' উৎসবের সূচনা করেছিলেন কে?
  1. ক) ইসলাম খান
  2. খ) মীর মুরাদ
  3. গ) শাহবাজ খান
  4. ঘ) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
- ইসলাম খান বাংলায় নিযুক্ত প্রথম মুঘল সুবেদার।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানীর মর্যাদা প্রদান করেন।
- ঢাকার ধোলাই খাল খনন ও নৌকা বাইচের প্রচলন করেন ইসলাম খান।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
৯,৩১৯.
শেরশাহ কোন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন?
  1. তুঘলক
  2. লোদী 
  3. শূর
  4. গজনি
ব্যাখ্যা

শেরশাহ:
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
-  তাঁর প্রকৃত নাম ফরিদ। 

⇒ তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।
- শের খান ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরজগড়ের যুদ্ধে মাহমুদ শাহ ও জালাল খানের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের খান বাংলা আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করেন।
- কিন্তু মুগল সম্রাট হুমায়ুন বাংলা অভিমুখে অগ্রসর হলে শের খান বাংলা ত্যাগ করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং বাংলা পুনর্দখল করে খিজির খানকে এর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তী বছর পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত ও ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।

উল্লেখ্য,
- শেরশাহ উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন।
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন।  গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৯,৩২০.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে বরেন্দ্রভূমি আছে ?
  1. ক) মধুপুর
  2. খ) রংপুর
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্রভূমি (Barind Tract):
- বঙ্গ অববাহিকার বৃহত্তম প্লাইসটোসিন ভূ-প্রাকৃতিক একক।
- অবন্থান- বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা জুড়ে বরেন্দ্রভূমির অবস্থান।
- বরেন্দ্রভূমির নামকরণের পেছনে একাধিক পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। ‘বর’ শব্দের অর্থ হচ্ছে আশীর্বাদ এবং ‘ইন্দ্র’ শব্দের অর্থ দেবতাদের রাজা। অর্থাৎ ইন্দ্রের বর বা ইন্দ্রের আশীর্বাদ থেকে সাধারণভাবে বরেন্দ্র শব্দটির উৎপত্তি।
- বরেন্দ্রভূমির অবস্থান গ্রীষ্মপ্রধান মৌসুমিমন্ডলে। কর্কটক্রান্তি এই ভূমির দক্ষিণে অবস্থান করছে। এই অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণভাবে উষ্ণ ও আর্দ্র।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩২১.
'রোহিতগিরি' নামে পরিচিত -
  1. পাহাড়পুর
  2. ময়নামতি
  3. সোনারগাঁও
  4. মহামুনি বিহার
ব্যাখ্যা
ময়নামতি:
- ময়নামতির পূর্ব নাম রোহিতগিরি।
- এটি কুমিল্লা শহরের প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে বাংলাদেশের পূর্ব সীমায় বিচ্ছিন্ন অনুচ্চ পার্বত্য এলাকা।
- এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ নিদর্শনাদি উন্মোচিত হয়েছে।
- মেঘনা বেসিনের ভাটিতে গোমতী নদী তীরস্থ ময়নামতী গ্রাম থেকে লালমাই রেলস্টেশনের নিকটে চান্দিমুরা পর্যন্ত এই ক্ষুদ্র শৈলশ্রেণি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৭ কিলোমিটার বিস্তৃত।
- এর প্রশস্ততম অংশটি ৪.৫ কিলোমিটার চওড়া এবং সর্বোচ্চ চূড়াটি ৪৫ মিটার উঁচু।
- ১৮৭৫ সালে পাহাড়গুলির মধ্য দিয়ে প্রসারিত পুরানো সড়কটির পুনঃনির্মাণ কালে শ্রমিকরা হঠাৎ কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ঘাটন করে।
- প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি বৌদ্ধ মঠ।
- খননকৃত প্রত্নস্থান খননকৃত প্রত্নস্থানসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শালবন বিহার।
- এটি শৈলরাজির প্রায় কেন্দ্রে বর্তমান কোটবাড়িস্থ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমির সন্নিকটে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩২২.
ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহীদ কে?
  1. শঙ্কু সমজদার
  2. মতিউর রহমান
  3. নূর হোসেন
  4. মনু মিয়া
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্বলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
-  ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহীদ - মনু মিয়া।

অন্যদিকে,
- শঙ্কু সমজদার - মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ। তিনি ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ শহিদ হয়েছিলেন।
- মতিউর রহমান - ২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯ সালে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন।
- নূর হোসেন - নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের শহীদ।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩২৩.
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এর পূর্বনাম কী ছিল?
  1. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
  2. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
  3. সংস্থাপন মন্ত্রণালয়
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়:

⇒ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি মন্ত্রণালয়।
সংস্থাপন মন্ত্রণালয় হলো 'জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়' এর পূর্ব নাম।
⇒ ১৯৮২ সালে Martial Law Committee on Reorganizational Set-up সকল সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর/পরিদপ্তরসহ সকল স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
⇒ সময়ের আবর্তনে কার্যসম্পৃক্ত নামকরণের চাহিদা অনুভূত হওয়ায় ২৮/০৪/১১ সালে তারিখে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (Ministry of Public Administration) করা হয়।

সাংগঠনিক কাঠামো:
- এ মন্ত্রণালয়ে ৯টি অনুবিভাগ, ২৬টি অধিশাখা ও ৭৩টি শাখা/ইউনিট/কোষ রয়েছে।
- তাছাড়া বাংলাদেশ সচিবালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং লোক-প্রশাসন কম্পিউটার কেন্দ্র এ মন্ত্রণালয়ের অধীন।

উৎস: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৯,৩২৪.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ কে?
  1. মতিউর রহমান 
  2. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  3. ড. শামসুজ্জোহা
  4. আসাদুজ্জামান আসাদ
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৯ সালের ২০শে জানুয়ারি ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে শহিদ হলে গণঅভ্যুত্থান নতুন মাত্রা লাভ করে। 

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- আসাদউজ্জামান বা শহিদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।

৯,৩২৫.
বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র প্রথম কে প্রচার করেন?
  1. আ স ম আবদুর রব
  2. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  3. আবদুল মান্নান
  4. এম. এ. হান্নান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ছিল এ দেশের মুক্তিসংগ্রামের মাইলফলক ও প্রেরণার উৎস। 
- বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তি কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হলেও এর বিষয়বস্তু ও নির্দেশনা ছিল একই।
- এই ঘোষণায় বঙ্গবন্ধুর কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব স্বীকৃত হয়েছে।
- ২৫ মার্চ দিবাগত রাত দেড়টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
- গ্রেফতার হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- তিনি এ ঘোষণা ওয়্যারলেসযোগে চট্টগ্রামে প্রেরণ করেন। 
- এজন্যই ২৬ মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস।  
- মূল ঘোষণাটি ছিল ইংরেজিতে। 
- বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্র থেকে একবার এবং সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন। 
- ২৭ মার্চ কালুরঘাটে স্থাপিত স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র (পরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র) থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।

এছাড়া
- আ স ম আবদুর রব সর্বপ্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
- অধ্যাপক ইউসুফ আলী মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করান।
- আবদুল মান্নান মুক্তিযুদ্ধকালীন কোলকাতায় স্থাপিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মূল দায়িত্বে ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩২৬.
নিচের কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) এ কে ফজলুল হক
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) ফজলুর রহমান খান
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪- ১৮৩৩ খ্রি.)
- বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রামমোহন রায় উনিশ শতকের একজন ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- রামমোহন রায় সংবাদ কৌমুদী নামে একটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- ১৮২১ সালে
- পরের বছর ফারসি ভাষায় আরেকটি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- এর নাম ছিল মিরাত উল আখবার।
- তিনি ১৮২৮ সালে ‘ব্রাহ্মসমাজ’  প্রতিষ্ঠা করেন।‘
 - তিনি বিধবা ব কোম্পানির শাসকদের 
- তিনি সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার জন্য কোম্পানির শাসকদের প্রাভাবিত করতে থাকেন।
- তার প্রচেষ্টায়  ১৮২৯ সালে গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে আইন পাশ করে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ( উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৯,৩২৭.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. এম. মনসুর আলী
  4. খন্দকার মোশতাক
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- অর্থমন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী - এএইচএম কামরুজ্জামান।
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী - খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র: - ইতিহাস তৃতীয় পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩২৮.
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের মূল কারণ কী ছিল?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবি
  3. শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি
  4. শুধু সরকারি স্কুলে শিক্ষার সুযোগ
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
- এই কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ।
- এই কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- কমিশন রিপোর্ট দাখিল করেছিল আট মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট ১৯৫৯। 

⇒ ১৯৫৯ সালের শেষ দিকে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- কারণ এর কয়েকটি সুপারিশকে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্চশিক্ষা সংকোচনের জন্য উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়
- যেমন ডিগ্রি কোর্স দুই বছর থেকে তিন বছর করা, কলেজ পর্যায়ে বছর শেষে পরীক্ষা ও তার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী বর্ষে উন্নীত হওয়ার শর্ত, অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফলের শর্ত।
- এগুলোকে ছাত্ররা সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে।
- ফলে রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৯,৩২৯.
ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা বলা হয় কাকে?
  1. ক) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. খ) দুদু মিয়া
  3. গ) মীর লতিফ
  4. ঘ) মজনু শাহ
ব্যাখ্যা
• ফরায়েজী আন্দোলন ঊনিশ শতকে বাংলায় গড়ে ওঠা একটি সংস্কার আন্দোলন।
• প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
• ফরায়েজী শব্দটি ‘ফরজ’ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। কাজেই ফরায়েজী বলতে তাদেরকেই বোঝায় যাদের লক্ষ্য হচ্ছে অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহ কার্যকর করা।
• এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ
• তিনি অবশ্য শব্দটিকে ব্যাপক অর্থে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, অবশ্য পালনীয়ই হোক বা ঐচ্ছিকই হোক, কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত সকল ধর্মীয় কর্তব্যই এর অন্তর্ভুক্ত।
• শরীয়তউল্লাহ হজ্ব পালনের জন্য মক্কায় যান এবং সেখানে বিশ বছর অবস্থান করে হানাফি শাস্ত্রজ্ঞ শেখ তাহির সোম্বলের নিকট ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
• দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান যে, বাংলার মুসলমানদের একটি অংশ বহুবিধ স্থানীয় লোকাচার ও পর্ব-উৎসব পালনে উৎসাহী হয়ে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার প্রতি চরম উদাসীন হয়ে উঠেছেন।
• সে কারণেই তিনি ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন এবং কালক্রমে এ আন্দোলন সমগ্র পূর্ববঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
• ১৮৪০ সালে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসীনউদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তিনি ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
• ১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৩৩০.
সম্রাট অশোক কোন ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন?
  1. শিখ
  2. বৌদ্ধ
  3. জৈন
  4. হিন্দু
ব্যাখ্যা
অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- পিতার রাজত্বকালে অশোক প্রথম জীবনে উজ্জয়িনীর শাসনকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে বিন্দুসার তাঁকে সেখানে পাঠান। বিদ্রোহ দমনের পর তিনি তক্ষশীলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক তাঁর পূর্বসুরীদের মতই 'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি নিজেকে 'দেবনম পিয় পিয় দসী' রূপে পরিচয় দিতেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক সুখ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩৩১.
১৯২০ সালে কে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন?
  1. মাওলানা শওকত আলী
  2. জহরলাল নেহেরু
  3. বিপিনচন্দ্র পাল
  4. মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন:

- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘঠিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩৩২.
'বাংলাদেশে বাজেট; অর্থনীতি ও রাজনীতি' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আ হ ম মোস্তফা কামাল
  2. খ) আকবর আলি খান
  3. গ) রেহমান সোবহান
  4. ঘ) আবুল মাল আবদুল মুহিত
ব্যাখ্যা
আকবর আলি খান

আকবর আলি খান ছিলেন একজন বাংলাদেশি সরকারি আমলা, অর্থনীতিবিদ এবং শিক্ষাবিদ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি হবিগঞ্জের মহুকুমা প্রশাসক বা এসডিও ছিলেন এবং যুদ্ধকালীন সক্রিয়ভাবে মুজিবনগর সরকারের সাথে কাজ করেন। ২০০৬ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। পরবর্তীতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন না হবার আশঙ্কায় তিনি তিনজন উপদেষ্টার সাথে একযোগে পদত্যাগ করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ আকবর আলি খান মৃত্যুবরণ করেন।


আকবর আলি খানের লেখা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ -

- পরার্থপরতার অর্থনীতি, আজব ও জবর আজব অর্থনীতি,
- দারিদ্র্যের অর্থনীতি; অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ,
- বাংলাদেশে বাজেট; অর্থনীতি ও রাজনীতি,
- অবাক বাংলাদেশ;
- বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি,
- পুরানো সেই দিনের কথা (আত্নজীবনী)।  

তথ্যসূত্র:- দৈনিক প্রথম আলো।
৯,৩৩৩.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা 'মাগো ওরা বলে' এর লেখক কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে — আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা — 'মাগো ওরা বলে'।

মাগো ওরা বলে- কবিতা, 
রচয়িতা- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। 

“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
------------------
• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ছিলেন একজন কবি ও সরকারি কর্মকর্তা।
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: 
- সাত নরীর হার,  
- কখনো রং কখনো সুর,  
- কমলের চোখ,  
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,  
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,  
- প্রেমের কবিতা, 
- নির্বাচিত কবিতা,  
- আমার সকল কথা,  
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; ‘মাগো ওরা বলে’ কবিতা।
৯,৩৩৪.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিলো?
  1. ক) সার্জেন্ট শামসুল হক
  2. খ) সার্জেন্ট জহুরুল হককে
  3. গ) কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন
  4. ঘ) মোহাম্মদ আবদুস সামাদ
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৩৫.
ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন' কে লিখেছেন?
  1. জহির রায়হান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. গাফ্ফার চৌধুরী
  4. শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন'।
- উপন্যাসটি লিখেছেন: জহির রায়হান।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক: 'কবর'।
- নাটকটির রচয়িতা: মুনীর চৌধুরী।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৩৩৬.
প্রথম চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারতবর্ষে আসেন-
  1. মৌর্য যুগে
  2. গুপ্ত যুগে
  3. পাল শাসনামলে
  4. সেন শাসনামলে
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারতবর্ষে আসেন। তিনি ১০ বছর ভারতে অবস্থানকালে তাঁর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ৭টি গ্রন্থ রচনা করেন। এর মধ্যে ‘ফো-কুয়ো-কিং’ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সময়ে গ্রিক পরিব্রাজক মেগাস্থিনিস ভারতবর্ষে আগমন করে ভারতের শাসন প্রকৃতি, ভৌগোলিক বিবরণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ইন্ডিকা’তে লিপিবদ্ধ করেন।
হিউয়েন সাং ছিলেন চীন দেশীয় বৌদ্ধ পণ্ডিত। হর্ষবর্ধনের দরবারে তিনি আট বছর কাটান।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণি এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(বোর্ড বই)]

৯,৩৩৭.
‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় কবে?
  1. ২ মে ২০১৮
  2. ১২ মে ২০১৮
  3. ২ জুন ২০১৮
  4. ১২ জুন ২০১৮
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১: 
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১ নির্মাণ করেছে বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থেলেস এলেনিয়া স্পেস। 
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গায়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার রঙের নকশার ওপর ইংরেজিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু- ১। 
- বাংলাদেশ সরকারের একটি মনোগ্রামও রয়েছে এতে।
- বাংলাদেশ সময় ১২ মে, ২০১৮ তারিখ শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট– ১' মহাকাশে পাঠানো হয়।
- ফ্যালকন ৯ রকেটের নতুন সংস্করণ ব্লক ফাইভ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে যাত্রা করে নিজস্ব কক্ষপথে।
- রকেট উৎক্ষেপণের আধা ঘণ্টাখানেক পর স্যাটেলাইটটি কাঙ্ক্ষিত জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে পৌঁছায়।
- এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ ও ডেটা কমিউনিকেশন সেবা পাওয়া যাবে।
- এর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম স্যাটেলাইট সদস্য দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো বাংলাদেশ। 
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হয়েছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা।
- এর মেয়াদ ১৫ বছর।
- এই স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন সংখ্যা ২টি।
-- ট্রান্সপন্ডার রয়েছে ৪০টি।
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৯,৩৩৮.
ঐতিহাসিক ছয় দফার কতটি দফা অর্থ সম্পর্কিত ছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষিত হয় ১৯৬৬ সালে।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা - রুহুল কুদ্দুস।
- ছয় দফার ৩টি দফা অর্থ সম্পর্কিত ছিল।

• দফা গুলো হলোঃ
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯,৩৩৯.
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ভাষণের উপর নির্মিত প্রামান্যচিত্র কোনটি?
  1. অপারেশন উইথ এ্যাকশন
  2. দ্য স্পিচ
  3. দ্য এ্যাকশন
  4. দ্য স্পিচ এন্ড এ্যাকশন
ব্যাখ্যা
♣ বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ:  
• ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণ বিশ্বের ইতিহাসে খ্যাত হয়ে আছে।
• ২৫শে মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি তাঁর ভাষণে উপস্থাপন করেন।
♠ এগুলো হলো:  
১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার;
২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া;
৩. গণহত্যার তদন্ত করা এবং
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।  

♠ ঘোষণায় তিনি বলেন, 'প্রত্যেক গ্রাম, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো এবং তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়াবো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।

♠ তাঁর এ ভাষণ 'স্বাধীন বাংলা বেতার' কেন্দ্র থেকে 'বজ্রকন্ঠ' নামে প্রচারিত হয়, যা বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করে।  

♣♣ 
১৯৭১-এর ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সেই দৃপ্ত ভাষণ নিয়ে গুণী নির্মাতা ফাখরুল আরেফীন নির্মাণ করেছেন তথ্যচিত্র ‘দ্য স্পিচ’।
• আলোচিত এই তথ্যচিত্রটি নির্মিত হয় ২০১০ সালে।
• যেটি বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছিল ইউনেস্কোতে।  

♣ বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেসকো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি; দৈনিক প্রথম আলো (১২ এপ্রিল, ২০২২); সারাবাংলা (৭ই মার্চ, ২০২০) এবং নিউজ বাংলা ২৪ ( ৭ই মার্চ, ২০২১)।
৯,৩৪০.
ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনে শহীদ হন -
  1. ক) ৬ জন
  2. খ) ৭ জন
  3. গ) ১০ জন
  4. ঘ) ১১ জন
ব্যাখ্যা
ছয়দফার প্রতিক্রিয়া
- ১৯৬৬ সালের ১৩ মার্চ আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে ছয় দফা কর্মসূচি গৃহীত হয়।
- বঙ্গবন্ধু ছয় দফাকে ‘আমাদের বাঁচার দাবি' আখ্যায়িত করেন।
- আইয়ুব খানের সরকার প্রচার করতে থাকে যে, ছয় দফা হচ্ছে রাষ্ট্র বিরোধী আন্দোলন।
- তখন রাজনৈতিক নেতাদের উপর শুরু হয় হয়রানি ও নির্যাতন।
- ১৯৬৬ সালের ৮ মে শেখ মুজিবুর রহমানকে দেশরক্ষা আইনে গ্রেফতার করা হয়। 
- নেতাদের মুক্তির দাবিতে ৭ জুন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতালের ডাক দেয়া হয়।
- সরকারের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে প্রতিবাদী মানুষ মিছিল বের করে।
- ধর্মঘটের সময় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টঙ্গী ও তেজগাঁও শিল্প এলাকায় পুলিশের গুলিতে মনু মিয়াসহ ১১ জন শ্রমিক নিহত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩৪১.
বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান দায়িত্ব ছিল কোনটির ওপর?
  1. ক) রাজাকার বাহিনী
  2. খ) আল-বদর বাহিনী
  3. গ) শান্তি কমিটি
  4. ঘ) আল-শামস বাহিনী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশে নির্যাতন, হত্যা, অগ্নিসংযোগ

- রাজাকার বাহিনী ছাড়াও আলবদর নামে আরও একটি ভয়ঙ্কর বাহিনী ছিল। 
- জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসঙ্ঘের সদস্যদের নিয়ে আল-বদর বাহিনী গড়ে তোলা হয়। [অন্যান্য ইসলামী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে আল-শামস বাহিনী গঠিত হয়।]
- বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান দায়িত্ব ছিল আল-বদর বাহিনীর ওপর।
- তাই এই বাহিনী ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও হিংস্র প্রকৃতির।
- আল-বদর বাহিনীর প্রধান ছিল জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির (মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত) মতিউর রহমান নিজামী।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৩৪২.
মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের কয়টি স্তর ছিল?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:
- 'মৌলিক গণতন্ত্র' ব্যবস্থাটি আইয়ুব খানের অভিনব উদ্ভাবন।
- এটি ছিল চারস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা।
- ১৯৫৯ সালে জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ-এর ব্যবস্থা করা।
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের চারটি স্তর ছিল। যথা-
(১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়)।
(২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে)।
(৩) জেলা কাউন্সিল।
(৪) বিভাগীয় কাউন্সিল।

উল্লেখ্য যে,
[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩৪৩.
'ব্রতসাগর' ও 'আচারসাগর' নামক গ্রন্থ কে রচনা করেন?
  1. হলায়ুধ মিশ্র
  2. বল্লাল সেন
  3. বিশ্বরূপ সেন
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
বল্লাল সেন:
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- বল্লাল সেন বিদ্যান ও বিদ্যোৎসাহী রাজা ছিলেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৪৪.
‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’ মামলা প্রত্যাহার করা হয়-
  1. ক) ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি
  2. খ) ১৯৬৮ সালের ২০ জানুয়ারি
  3. গ) ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
বিচারকার্য চলার সময় পাকিস্তানের উভয় অংশে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি ও আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জোরদার হয়। প্রতিবাদী মানুষ আসামীদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিতে থাকে। অচিরেই এই আন্দোলন আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে রূপ লাভ করে। আন্দোলনে নতজানু হয়ে আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি মামলা প্রত্যাহার করে এবং সকল গ্রেফতারকৃত নেতাকে মুক্তি দেয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তিপ্রাপ্ত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে রেসকোর্স ময়দানে এক বিরল গণসংবর্ধনায় ‘বঙ্গবন্ধু’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)।
৯,৩৪৫.
বাংলাদেশের কোন চলচ্চিত্রটি ২০১৬ সালের জন্য শ্রেষ্ঠ বলে মনোনিত হয়েছে?
  1. ক) অজ্ঞাতনামা
  2. খ) আয়নাবাজি
  3. গ) অস্তিত্ব
  4. ঘ) শংখচিল
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৯,৩৪৬.
সিপাহী মোস্তফা কামালের কর্মস্থল ছিল কোথায়?
  1. নৌবাহিনী
  2. সেনাবাহিনী 
  3. বিমান বাহিনী
  4. আনসার
ব্যাখ্যা

• বীরশ্রেষ্ঠ ও তাদের কর্মস্থল:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী।

• বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালে ভোলা জেলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে বক্সার হিসাবে সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসাবে পদোন্নতি পান।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে।
- বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৮ এপ্রিল অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করে।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৯,৩৪৭.
বাংলা একাডেমির মূল ভবনের নাম কী ছিল?
  1. শাপলা ভবন
  2. বর্ধমান হাউস
  3. রক্তজবা
  4. নিকুঞ্জ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি:

- বাংলা একাডেমীর মুল ভবনের নাম ছিল বর্ধমান হাউস।
- বাংলা একাডেমী বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দের ১৭ অগ্রহায়ণ (৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫) ঢাকার বর্ধমান হাউসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালকের নাম- জনাব মুহম্মদ নূরুল হুদা।
- বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন সেলিনা হোসেন।
- আবু হোসেন সরকার ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসে (স্থাপিত ১৯০৬) বাংলা একাডেমীর উদ্বোধন করেন।
- প্রথম মহাপরিচালক প্রফেসর মযহারুল ইসলাম।
- বাংলা একাডেমির প্রথম সভাপতি মাওলানা আঁকরাম খাঁ (১৯৬১ সাল)।
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয় ১৯৬০ সাল থেকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৯,৩৪৮.
১৯৭১ সালে টাঙ্গাইল জেলা কত নং সেক্টরে ছিল?
  1. ক) ৮
  2. খ) ১১
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ২
ব্যাখ্যা
কিশোরগঞ্জ মহকুমা বাদে সমগ্র ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা এবং নগরবাড়ি-আরিচা থকে ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত যমুনা নদী ও তীর অঞ্চল ছিল ১১ নং সেক্টরের এলাকা।
৯,৩৪৯.
যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল কয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।

• দলগুলো ছিল: 
– মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন- আওয়ামী মুসলিম লীগ
– শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক- শ্রমিক পার্টি
– মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন- নেজাম-ই-ইসলামী এবং
– হাজী দানেশের- বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। 

• যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা। 
– ১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
– ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
– ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
– ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
– যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
– যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবির প্রথম দফাটি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী ও ইতিহাস প্রথম পত্র (এইচ এস সি ) বাংলাদেশ ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩৫০.
ভারতবর্ষে মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. অশোক
  2. কৌটিল্য
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. বিন্দুসার 
ব্যাখ্যা

চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত। 
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে। সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে। শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কৌটিল্য বা চাণক্য (চাণক্য, প্রায়ই কৌটিল্য এবং বিষ্ণুগুপ্ত নামে পরিচিত)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৩৫১.
'আদিনা মসজিদ' নির্মাণ করেন কে?
  1. সিকান্দার শাহ
  2. সুলতান ইলিয়াস শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা

সিকান্দর শাহ:
- ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেন।
- তাঁর এ সুদীর্ঘ রাজত্বকালে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সিকান্দর শাহ সুশাসক ও বিদ্যানুরাগী ছিলেন। 
- সুফি শেখ আলাউল হক ও শেখ শরফউদ্দীন ইয়াহিয়ার সাথে সিকান্দর শাহের সৌহার্দ্য ও পত্রালাপ ছিল।
- তাঁর রাজত্বকালে স্থাপত্যশিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয়।
- তাঁর সময় তৈরি আদিনা মসজিদ মধ্যযুগের বাংলার স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৩৫২.
Assad Gate is related to which historical event?
  1. ক) Language movement of 1952
  2. খ) The six-point movement of 1966
  3. গ) Liberation war of 1971
  4. ঘ) 1969 mass coup
ব্যাখ্যা
- শহীদ আসাদ উনিশশত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- আসাদের মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটি গোটা পূর্ব পাকিস্তানে তিনদিনব্যাপী শোক ঘোষণা করে এ ছাড়া কমিটি ঢাকা শহরে হরতাল এবং পরবর্তী চার দিন প্রতিবাদ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
- সরকারের দমন নীতি জনতাকে দাবিয়ে রাখতে পারে নি এবং শেষাবধি প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের পতন ঘটে।
-  আসাদের মৃত্যুতে ঊনসত্তরের গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
এভাবে ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে  ‘আসাদ এভিনিউ’ হয়।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক। 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৫৩.
১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল কবে?  
  1. ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ৮ মার্চ
  2. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল
  3. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মে
  4. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন: 

• ১৯৫৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানত স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে। 
• ৮ মার্চ, ১৯৫৪ তারিখে যুক্তফ্রন্ট  নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল।
• এই নির্বাচনে শতকরা ৩৭.১৯ ভাগ ভোটার ভোট দেয়। 
• ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়। 
• নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে। 
• মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন। 
• ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আসন। 
• পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস ২৪টি, তফসিল ফেডারেশন ২৭টি, খেলাফতে রব্বানী ২টি, খ্রিষ্টান ১টি, বৌদ্ধ ১টি, কম্যুনিস্ট পার্টি ৪টি আসন লাভ করে। 
• মূলত মুসলিম লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা, রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে তাদের অবস্থান, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বিরোধিতা, পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক দুর্গতি ও নেতৃত্বের জনবিচ্ছিন্নতাই মুসলিম লীগের পরাজয়ের কারণ।
• যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়- ৪ঠা ডিসেম্বর, ১৯৫৩ সালে। 
• ১৫ মে, ১৯৫৪ তারিখে পূর্ণাঙ্গ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯,৩৫৪.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ নির্মাতা কে?
  1. চাষী নজরুল ইসলাম
  2. খান আতাউর রহমান
  3. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  4. নারায়ণ ঘোষ মিতা
ব্যাখ্যা
অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী:
- যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা নারীকে মর্যাদাদান এবং যুদ্ধ শিশুদের বরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে এ সিনামায়।
- এর নির্মাতা: সুভাষ মুখোপাধ্যায়।
- এর বিখ্যাত গান: মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে।

কয়েকটি বিখ্যাত  চলচ্চিত্র:
- সংগ্রাম, নাটক নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- আবার তোরা মানুষ হ, চলচ্চিত্রটির প্রযোজক খান আতাউর রহমান। 
- আলোর মিছিল, এই সিনেমার নির্মাতা নারায়ণ ঘোষ মিতা।
- মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র: ওরা ১১ জন।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো।
৯,৩৫৫.
বর্তমানে গেজেটভুক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?  [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. ৬,৫০০ জন
  2. ৬,৬৫০ জন
  3. ৬,৭৫৭ জন
  4.  ৬,৮০০ জন
ব্যাখ্যা

• শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সংখ্যা: 
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে  শহীদ হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করে।
- বর্তমানে গেজেটভুক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মোট সংখ্যা ৬,৭৫৭ জন।
- খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার মোট সংখ্যা ৬৭৬ ।
- মুক্তিযুদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট অনুযায়ী, বর্তমানে গেজেটভুক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছয় হাজার ৭৫৭ জন। 

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার। (Link) 

৯,৩৫৬.
'জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪'-এর কতজন শহিদের নামের গেজেট প্রকাশ করা হয়?
  1. ৮৩৪ জন
  2. ৮৪৮ জন
  3. ৮৫২ জন
  4. ৮৬৬ জন
ব্যাখ্যা
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এর শহীদদের গেজেট:
- ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করেছে।
- সরকারি এ গেজেট অনুযায়ী, ওই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হরিদাস ঠাকুর স্বাক্ষরিত ওই গেজেটে ‘মেডিকেল কেস আইডি’, শহীদদের নাম, বাবার নাম, বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ তহবিল করা হচ্ছে। এ তহবিলের আকার হতে পারে দেড় হাজার কোটি টাকার মতো।
- তহবিল থেকে অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোকে এককালীন অর্থ, মাসিক ভাতা, দেশে-বিদেশে চিকিৎসা খরচ এবং কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) প্রথম আলো।
৯,৩৫৭.
বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রকল্প অনুমোদন সংক্রান্ত সর্বোচ্চ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. পরিকল্পনামন্ত্রী
  4. অর্থমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রকল্প অনুমোদন সংক্রান্ত সর্বোচ্চ নির্বাহী কমিটি হলো ECNEC (Executive Committee of the National Economic Council)।
এটি ১৯৮২ সালে গঠিত হয়। ECNEC এর চেয়ারপার্সন হলেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিকল্প চেয়ারপার্সন অর্থমন্ত্রী।

(তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট)
৯,৩৫৮.
নিচের কোনটির মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানদের মধ্যে পৃথক রাজনীতির উদ্ভব ঘটে?
  1. মর্লি ও মিন্টোর সংস্কার
  2. চেমসফোর্ট-মন্টেগু সংস্কার
  3. ইলবার্ট আইন
  4. রাওলাট আইন
ব্যাখ্যা
- মর্লি ও মিন্টোর সংস্কার চিন্তাগুলো ১৯০৯ সালের ইন্ডিয়া অ্যাক্টে বাস্তবায়িত হয়েছিল।
- জন মর্লি ও লর্ড মিন্টোর নামানুসারেই এই সংস্কারের নামকরণ হয় মর্লি-মিন্টো সংস্কার।
- ইন্ডিয়া অ্যাক্টের প্রধান দিকগুলোর মধ্যে ছিল মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ এবং
- সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইন্ডিয়ার পরিষদে একজন করে ভারতীয়ের অন্তর্ভুক্তি।
- এই সংস্কারের আদৌ কোনও প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের উদ্দেশ্য ছিল না।
- প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যে যাত্রা শুরুই ছিল এর উদ্দেশ্য।
- এ সংস্কারের সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য ছিল মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক নির্বাচকমন্ডলী গঠন।
- সংস্কারের এ ব্যবস্থা থেকেই মুসলমানদের মধ্যে পৃথক রাজনীতির উদ্ভব ঘটে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৫৯.
The rule of India was entrusted to the Queen of England in-
  1. 1857
  2. 1860
  3. 1859
  4. 1858
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
কোম্পানি শাসনের অবসান:
- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের সিপাহী বিপ্লব হয়।
- নানাবিধ কারণে সে গণবিপ্লব ব্যর্থ হলেও এর ফলে ভারতবর্ষে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে।
- কোম্পানি থেকে বৃটিশ রাজের হাতে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ইংরেজদের ভারত শাসন নীতি ও শাসন ব্যবস্থায় বেশকিছু পরিবর্তন সূচিত হয়।
- সে কারণে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ২ আগস্ট বৃটিশ পার্লামেন্ট এক আইন পাশ করে ভারতের শাসনভার ইংল্যান্ডের রাণী ভিক্টোরিয়ার হাতে অর্পণ করে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩৬০.
গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ কে?
  1. কুমারগুপ্ত
  2. সমুদ্রগুপ্ত
  3. চন্দ্রগুপ্ত
  4. শ্রীগুপ্ত
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টীয় তিন শতকের শেষ এবং চার শতকের প্রথমদিকে সম্ভবত প্রথম চন্দ্রগুপ্ত অথবা সমুদ্রগুপ্তের মাধ্যমে বাংলায় গুপ্ত শাসন সম্প্রসারিত হয়।
- শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ।
- এল্যানের মতে, পাটলীপুত্র (মগধের অভ্যন্তরে) নগরের অদূরে শ্রীগুপ্তের রাজত্ব ছিল।
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রথম কুমারগুপ্তের সময় (৪৩২-৪৪৮ খ্রি.) থেকে উত্তর বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে গড়ে ওঠে।
- এটির নাম ছিল তখন ‘পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তি’।
- হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩৬১.
'গম্ভীরা' বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের লোক সংগীত?
  1. বরিশাল
  2. রাজশাহী
  3. খুলনা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা:
- গম্ভীরা গান এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত।
- ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব।
- সাধারণত বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত।

উল্লেখ্য, 
- ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে।
- শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান।
- গম্ভীরা গানের উৎপত্তি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় হিন্দুসমাজে।
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর মালদহ থেকে গম্ভীরা গান রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে আসে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৬২.
নিচের কোনটি রাজা রামমোহন রায়ের প্রকাশিত পত্রিকা নয়?
  1. ক) তুহফাত উল মোয়াহিদ্দীন
  2. খ) সম্বাদ কৌমুদী
  3. গ) মিরাত উল আখবার
  4. ঘ) ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন
ব্যাখ্যা
- তুহফাত উল মোয়াহিদ্দীন রাজা রামমোহন রায়ের প্রকাশিত পত্রিকা নয়।

রাজা রামমোহন:
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় জন্ম গ্রহন করেন।
- তিনি সুফি মতবাদে বিশেষভাবে প্রভাবিত ছেলেন।
- তিনি বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে আছে ‘তুহফাত-উল-মোয়াহিদ্দীন' (একেশ্বরবাদ সৌরভ) ‘মানাজারাতুল আদিয়ান' (বিভিন্ন ধর্মের উপর আলোচনা)।
- তিনি ‘সম্বাদ কৌমুদী’, ‘মিরাত-উল-আখবার' ও ‘ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন' নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয় সভা' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্টা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩৬৩.
‘জয় বাংলা’ কে বাংলাদেশের জাতীয় শ্লোগান হিসেবে কবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়?
  1. ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  2. ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  3. ১ মার্চ ২০২২
  4. ২ মার্চ ২০২২
ব্যাখ্যা
গত ২ মার্চ ২০২২ ‘জয় বাংলা’ কে বাংলাদেশের জাতীয় শ্লোগান হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়:

‘জয় বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হবে। সাংবিধানিক পদাধিকারীরা, দেশে ও দেশের বাইরে কর্মরত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারীরা সব জাতীয় দিবস উদযাপন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় ও সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করবেন। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাত্যহিক সমাবেশ সমাপ্তির পর এবং সভা-সেমিনারে বক্তব্যের শেষে শিক্ষকরা ও ছাত্র-ছাত্রীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করবেন।

২০১৭ সালে আইনজীবী বশির আহমেদ জয় বাংলাকে জাতীয় শ্লোগান করার বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন।

(তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
৯,৩৬৪.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাপ্তাহিক মুখপত্র ছিল কোন পত্রিকা?
  1. সাপ্তাহিক চরমপত্র
  2. সাপ্তাহিক গণকন্ঠ
  3. সাপ্তাহিক জয়বাংলা
  4. সাপ্তাহিক বজ্রকন্ঠ
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা:

• ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র ছিল “সাপ্তাহিক জয়বাংলা”। 
•প্রথম প্রকাশ: ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।
• অফিস দপ্তর: কলকাতার পার্ক সার্কাসের ২১/১ বালু হাক্কাক লেন।
• পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম। 
• লক্ষ্য: মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।
• পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রকাশনার দায়িত্ব ছিল- আবদুল মান্নান এমএন-এর উপর।  

• সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ছিলেন-
- আবদুল গাফফার চৌধুরী, 
- ইবনে গোলাম সামাদ, 
- মাহবুব উল্লাহ চৌধুরী, 
- আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী, 
- মোঃ সলিমুল্লাহ, আসাদ চৌধুরী, 
- আবুল মঞ্জুর, 
- মোহাম্মদ খালেদ, 
- অনু ইসলাম। 
- সম্পাদক মন্ডলীর উপদেষ্টা: মো. জিল্লুর রহমান এমপি। 
• পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন বাঙালি শিল্পপতি পত্রিকাটির প্রকাশনায় আর্থিক সহায়তা দান করেন। 
• পত্রিকার জন্য নিউজপ্রিন্ট কাগজের যোগান দিতেন কলকাতার আনন্দবাজার গ্রুপ।
 
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৬৫.
যুক্তফ্রন্টে কার নেতৃত্বাধীন কোন রাজনৈতিক দল ছিল না?
  1. স্যার সলিমুল্লাহ
  2. হাজী দানেশ
  3. মাওলানা আতাহার আলী
  4. মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পাকিস্তানের মুসলিম লীগ বিরোধী পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী মোর্চা বা জোট গঠন করে।
- এই জোট 'যুক্তফ্রন্ট' নামে পরিচিত।
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্টে মূলত চারটি রাজনৈতিক দল ছিল।

এগুলো হলো:
- মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন: আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন: কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
- মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন: নিজাম-ই-ইসলামী এবং
- হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন: বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩৬৬.
যুক্তফ্রন্টের প্রধান কার্যালয় কোথায় ছিল?
  1. ক) রোজ গার্ডেন, টিকাটুলি, পুরান ঢাকা
  2. খ) সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রােড
  3. গ) আনন্দ গার্ডেন, সদরঘাট
  4. ঘ) জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান
ব্যাখ্যা
- ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর।
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান অফিস সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রােডে

- যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪ টি ।
এগুলো হলো -
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী)
২. কৃষক প্রজাপার্টি (এ. কে. ফজলুল হক)
৩. নেজামে-ই-ইসলাম (মাওলানা আতাহার আলী)
৪. গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ)
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৬৭.
মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত জয়বাংলা পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন কে?
  1. আলী জাকের
  2. কামাল লোহানী
  3. আবদুল মান্নান
  4. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- ‘জয়বাংলা’ হলো মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশনা, তথ্য, বেতার ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় এটি প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১১ মে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রথম সংখ্যায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ছাপা হয়।
- পত্রিকাটির সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন আবদুল মান্নান এবং ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন মাহবুব উল্লাহ চৌধুরী।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : ষষ্ঠখণ্ড)
৯,৩৬৮.
দিঘাপতিয়া রাজবাড়ী কোথায় অবস্থিত?
  1. সোনারগাঁও
  2. ঢাকা
  3. নাটোর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
উত্তরা গণভবন:
- ইতিহাস খ্যাত দিঘাপতিয়া রাজবাড়ী তথা উত্তরা গণভবন নাটোরে অবস্থিত।
- নাটোরের রাণী ভবানী তাঁর নায়েব দয়ারামের উপরে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে দিঘাপতিয়া পরগনা উপহার দেন। 
- ১৯৫২ সালে দিঘাপতিয়ার শেষরাজা প্রতিভানাথ রায় সপরিবারে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে কলকাতায় চলে যান।
- পরবর্তীতে রাজ প্রাসাদটি ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসে।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিঘাপতিয়া রাজবাড়িকে ‘উত্তরা গণভবন’ নামকরণ করেন।
- উত্তরা গণভবন ৪১.৫১ একর জমির উপর অবস্থিত।
- বর্তমানে এই রাজপ্রাসাদ থেকে হারিয়ে যাওয়া রাজা-রাণীর ব্যবহৃত ঐতিহাসিক দ্রব্যসামগ্রী উদ্ধার করে একটি সংগ্রহশালা নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য,
- ঢাকার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র বাসভবন নাটোরের উত্তরা গণভবন।

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯,৩৬৯.
গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. ক) আম্বালা
  2. খ) লুম্বিনি
  3. গ) কাশগড়
  4. ঘ) হরপ্পা
ব্যাখ্যা
বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতমবুদ্ধ খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দে নেপালের লুম্বিনি নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার জন্ম সন নিয়ে মতভেদ রয়েছে। লুম্বিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নিকট একটি পবিত্র স্থান।
(সূত্র: ইউনেস্কো ওয়েবসাইট)
৯,৩৭০.
কারাগারে রোজনামচা প্রবন্ধটিতে কোন সময়কালের কারাস্মৃতি স্থান পেয়েছে?
  1. ক) ১৯৬৬-৬৮
  2. খ) ১৯৬৬- ৭৮
  3. গ) ১৯৬৮-৬৯
  4. ঘ) ১৯৬৫-৬৯
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জেল-জীবন, জেল-যন্ত্রণা, অপরাধীদের কথা, কেন তারা এই অপরাধ জগতে পা দিয়েছিলো, তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ৬ দফার আবেগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা ইত্যাদি এই গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক পত্রিকা নিউজ।
৯,৩৭১.
লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে কার সমাধি অবস্থিত?
  1. ক) শায়েস্তা খান
  2. খ) পরীবিবি
  3. গ) মীর মুরাদ
  4. ঘ) শাহ সুজা
ব্যাখ্যা

- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খানের কন্যা ইরান দুখত রহমত বানু বা পরীবিবির সমাধি অবস্থিত।
- পরীবিবি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র মুহাম্মদ আযমের স্ত্রী।
- সতের শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে সুবাদার মুহাম্মদ আযম লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- পরবর্তীতে শায়েস্তা খান এটির কাজ এগিয়ে নিলেও দুর্গটি পুরোপুরি নির্মাণ করা হয়নি।
- ১৬৮৪ সালে পরীবিরি মৃত্যু হলে এটিকে অপয়া হিসেবে বিবেচনা করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
- এটি আওরঙ্গাবাদ দুর্গ নামেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৭২.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস 
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা

লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।
-
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হচ্ছে- প্রশাসন দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও বাংলার সব জমিদারের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থায়ী চুক্তি।
- এ চুক্তির মাধ্যমে জমিদাররা জমির মালিকানা লাভ করলেও প্রশাসনিক ক্ষমতা হারায়।
- এবং সরকারের দায়িত্ব হয়ে যায় শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা।
- এই চুক্তিতে খাজনা বাকি থাকলে জমিদারদের জমি বিক্রি করে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা ছিল।
- এই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থায় জমিদারদের চিরস্থায়ী স্বত্ব থাকলেও প্রজাদের ওপর রাজস্ব দাবি বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল না।
- জমি বিক্রি, বন্ধক বা দানের অধিকার জমিদারদের ছিল।
- তবে প্রজাদের এই অধিকার দেওয়া হয়নি।
- প্রজারা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে জমি নিলামে বিক্রি হতো। 
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
- কর্নওয়ালিস উপমহাদেশে ইংরেজি জমিদার শ্রেণি গড়তে চাইলেও ইউরোপীয় কাঠামোর মতো কার্যকর হয়নি।

উল্লেখ্য, 
• ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব ও বিচার ব্যবস্থায় নতুনত্ব আনতে ভারতে জেলা প্রশাসন প্রবর্তন করেন।
• লর্ড ওয়েলেসলি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
• লর্ড ডালহৌসি ডকট্রিন অফ ল্যাপ্স ও রেলপথ চালু করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,৩৭৩.
মুক্তিযুদ্ধে কোন সেক্টরের কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলনা?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ১০ নং সেক্টর
  3. ১১ নং সেক্টর
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধে ১০ নং সেক্টরের কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকা ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- প্রতিটি সেক্টরের একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন কমান্ডার নিয়োজিত হয়।

সেক্টরের বিভক্তি:
- সেক্টর নং ১: ৫টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত।
- সেক্টর নং ২: ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর নং ৩: ১০টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর নং ৪: ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর নং ৫: ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর নং ৬: ৫টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর নং ৭: ৮টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর নং ৮: ৭টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর নং ৯: ৩টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর নং ১০: এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
- এটি ছিল প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী।
- সেক্টর নং ১১: ৮টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৭৪.
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপের নাম কী?
  1. নারিকেল জিঞ্জিরা
  2. নিঝুম দ্বীপ
  3. শাহ পরীর দ্বীপ
  4. সোনাদিয়া দ্বীপ
ব্যাখ্যা
• সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং 
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। 
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। 
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান। 

টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। 

 কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা।

- সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে সময় নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। 

দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সরকারি তথ্যে দ্বীপের আয়তন ১৩ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ রয়েছে।
- তবে গবেষণায় বলা হয়েছে ৮ বর্গকিলোমিটার।

⇒ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- পরীক্ষায় যদি ৮ বর্গ কিলোমিটার না থাকে তখন ১৭ বর্গ কিলোমিটার বা ১৩ বর্গ কিলোমিটার উত্তর করবেন, অথবা অপশন বিবেচনায় উত্তর করবেন।

সূত্র: টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট,  কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট, সময় নিউজ ও দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট।
৯,৩৭৫.
বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের অর্থায়নে নির্মিত প্রথম শহিদ মিনার কোথায় অবস্থিত?
  1. ইংল্যান্ড
  2. জাপান
  3. ভারত
  4. কানাডা
ব্যাখ্যা

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিজের অর্থায়নে ২০০৫ সালে জাপানের টোকিওতে শহিদ মিনার নির্মিত হয়। 

• দেশের বাহিরে শহিদ মিনার:
- বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহিদ মিনার স্থাপিত হয় ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে। 
- গ্রেট মেনচেস্টারের ওল্ডহ্যামের ওয়েস্টহুড নেবারহুডে তৈরি হয়েছে এ মিনার।
-  ১৯৯৭ সালের ৫ অক্টোবর সেখানকার ‘বাংলাদেশি কালচারাল অ্যান্ড হিস্ট্রি ইন ওল্ডহ্যাম’ সে দেশে শহিদ মিনার নির্মাণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। 
- তাছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৫ সালে জাপানের টোকিওতে শহিদ মিনার নির্মিত হয়। 
- জাপান বাংলাদেশ সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর বৈশাখি মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার সূত্র ধরে বাংলাদেশ সরকার এই শহিদ মিনারটি নির্মাণ করে।
 
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৭৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক মুখপত্র ছিল -
  1. জয়বাংলা
  2. আজাদ
  3. বঙ্গদর্শন
  4. বেঙ্গল গেজেট
ব্যাখ্যা
জয়বাংলা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র জয়বাংলা।
- পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
- এর লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।
- পত্রিকাটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশনা, তথ্য, বেতার ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত হয়।
- সাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।
- কলকাতার পার্ক সার্কাসের ২১/১ বালু হাক্কাক লেনে ছিল জয়বাংলা পত্রিকার অফিস দপ্তর।
- পত্রিকাটি মুদ্রিত হয় শিয়ালদহ রেলস্টেশনের অদূরে অবস্থিত মুজিবনগর জয়বাংলা প্রেসে।
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে পত্রিকাটি প্রকাশ করেন সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি আবদুল মান্নান ‘আহমদ রফিক’ ছদ্মনামে।
- জয়বাংলা পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় মুদ্রিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা।
- পত্রিকাটি ১৯৭১ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে -
- বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র আজাদ পত্রিকা।
- বঙ্গদর্শন উনিশ শতাব্দীতে প্রকাশিত একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বা সাময়িকপত্র।
- বেঙ্গল গেজেট বাঙালি কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৭৭.
সুন্দরবনে ‘স্মার্ট টহল’ চালু হয় কবে থেকে? 
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১৬ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০১৮ সালে
ব্যাখ্যা
• স্মার্ট টহল :
- ৮-১০ জনের টহল দল গলায় বাইনোকুলার ঝুলিয়ে বুকে গো-প্রো ক্যামেরা বেঁধে এবং বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরে জলে-স্থলে টহলকে স্মার্ট টহল বলে।
- সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইউএসএআইডির অর্থায়নে বাঘ প্রকল্পের সহযোগিতায় ২০১৫ সালের জুন মাস থেকে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে স্মার্ট টহল শুরু হয়।

সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন।
৯,৩৭৮.
বাংলায় সেন বংশের পত্তন করেন কে?
  1. সামন্ত সেন
  2. বিজয় সেন
  3. হেমন্ত সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
- বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর ক্ষমতাদখলের পালাবদলে বার শতকের দ্বিতীয় ভাগে সেন শাসনের সূচনা হয়।
- সেনদের পূর্বপুরষদের আদি বাস ছিল দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটকে।সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে এ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছুটা দ্বিমত লক্ষ্য করা যায়।

সামন্ত সেন: সামন্ত সেন কর্ণাটক থেকে এসে বাংলায় বসতি গড়েন। তিনি কোন রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় তাকে সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বলা গেলেও সেন শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বলা সমীচিন না।

হেমন্ত সেন:  সামন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার ছেলে হেমন্ত সেন পাল রাজা রামপালের অধীনে একজন সামন্ত রাজা ছিলেন। এজন্য অনেকেই তাকে সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বলে আখ্যায়িত করে থাকেন।
৯,৩৭৯.
পাকিস্তান কত তারিখে স্বাধীনতা লাভ করে?
  1. ক) ১৬ আগস্ট
  2. খ) ১৪ আগস্ট
  3. গ) ১৫ আগস্ট
  4. ঘ) ১৮ আগস্ট
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসিত ভারত ভেঙে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- ১৪ আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীন হয়।
- ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯,৩৮০.
বাংলাদেশের সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকা’র পরিবর্তে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো হয় কবে?
  1. ২শে মার্চ,১৯৭১
  2. ১০ জুন,১৯৭১
  3. ২৬শে মার্চ,১৯৭১
  4. ২৩শে মার্চ,১৯৭১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কামরুল হাসান।
১৯৭২ সালে কামরুল হাসান সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের জাতীয় পতাকার নকশা করেন।
এর পূর্বে ব্যবহৃত মানচিত্র খচিত পতাকাটি ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জহুরুল হক হলের ১১৬ নং কক্ষে শিবনারায়ণ দাস ও আরো কয়েকজন মিলে চূড়ান্ত করেন যা ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম রব প্রথম উত্তোলন করেন।
১৯৭১ সালের ২৩ শে মার্চ বাংলাদেশের সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকা’র পরিবর্তে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো হয়।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি
৯,৩৮১.
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. তানভীর কবির
  2. হামিদুর রহমান
  3. শামিম শিকদার
  4. সৈয়দ মঈনুল হোসেন
ব্যাখ্যা
শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৯,৩৮২.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. গ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. ঘ) আবদুল মান্নান 
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

মুজিবনগর সরকার:
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম.এ.জি ওসমানী।
- এস.এ সামাদ প্রতিরক্ষা সচিব
- চীফ অব স্টাফ কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৮৩.
ভারতবর্ষে 'জিজিয়া কর' রহিত করেন কে?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. শাহজাহান
  3. আকবর
  4. হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

• সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মুঘল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর ।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর বাংলার শাসনভার গ্রহন করেন।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- মুঘল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলেই 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে ।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৯,৩৮৪.
মুর্শিদ কুলি খানকে প্রথমে বাংলার কোন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়?
  1. দেওয়ান
  2. সুবাদার
  3. নবাব
  4. নায়েব নাজিম
ব্যাখ্যা
নবাব মুর্শিদ কুলি খান: 
- ১৭০০ সালে বাংলায় আসেন মুর্শিদ কুলি খান।
- তিনি ১৭২৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।
- প্রথমে তাঁকে বাংলার দেওয়ান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- দেওয়ানের কাজ ছিল সুবার রাজস্ব আদায় ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা।
- সম্রাট ফররুখ শিয়ারের রাজত্বকালে ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদ কুলি খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
- মুর্শিদ কুলি খান যখন বাংলায় আগমন করেন, তখন বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছিল।
- এ পরিস্থিতির মুখে তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বাংলায় মুঘল শাসন পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হন।
- স্বীয় ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তিনি বাংলার ইতিহাসের গতি পরিবর্তন করেছিলেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৩৮৫.
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র কী ধরনের ছিল? 
  1. অলিখিত
  2. লিখিত
  3. মৌখিক
  4. প্রথাভিত্তিক
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের সাধারণ বৈশিষ্ট্য

→ বৃহৎ শাসনতন্ত্র: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের প্রথম পরিচয় হল এটি ছিল একটি বৃহৎ শাসনতন্ত্র। মোট ১০৫ পৃষ্ঠার এ শাসনতন্ত্রে একটি প্রস্তাবনা (Preamble), ১৩টি অংশ (Part), ২৩৪টি বিধি (Article) এবং ৬টি তালিকা সন্নিবেশিত ছিল। এ শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছাড়াও প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল। সুতরাং এ শাসনতন্ত্র ছিল আয়তনে বড়।

→ লিখিত শাসনতন্ত্র: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র ছিল লিখিত প্রকৃতির।

→ ইসলামী আদর্শ: ইসলামি আদর্শ ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল মূলত একটি ইসলামি আদর্শ ভিত্তিক শাসনতন্ত্র। এ শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র নামে আখ্যায়িত করা হয়। এর প্রস্তাবনায় ইসলামি সাম্য, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সহনশীলতার নীতি অনুসৃত হয়।

→ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়। এ শাসনতন্ত্রে বলা হয় যে, পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হবে। এতে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকাগুলোর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের বিধান রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে অনুসরণ করা হয়।

→ প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্র: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্রকে বিশ্লেষণ করলে প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র মতে পাকিস্তান ছিল একটি প্রজাতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ শাসনতন্ত্রে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব শাসন চালু করার বিধান রাখা হয়। রাষ্ট্র প্রধান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হতেন।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯,৩৮৬.
পাহাড়পুর কোন শতকে বিখ্যাত নগরী হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল?
  1. ক) পঞ্চম - অষ্টম
  2. খ) নবম - ত্রয়োদশ
  3. গ) ৬ষ্ঠ - দশম
  4. ঘ) সপ্তম - দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
পাহাড়পুর জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। 
- এটি নওগাঁ জেলার একটি বৌদ্ধ ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান। 
- এখানে সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ সংঘারামের ধ্বংস স্তূপ খুঁজে পাওয়া গেছে। 
- আনুমানিক একাশি বিঘা জমিতে বিস্তৃত এই প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ।
- সপ্তম শতক থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত পাহাড়পুর এ দেশের বিখ্যাত নগরী হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল। 
- এ সময় পালরাজাগণ বঙ্গদেশ শাসন করতেন। পাল রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন। 
-  পাহাড়পুরে একটি বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। এটি ইতিহাস প্রসিদ্ধ বিখ্যাত ‘সোমপুর বিহার' বলে প্রমাণিত। 
- পালবংশের রাজা ধর্মপাল কর্তৃক সোমপুর বিহার নির্মিত হয়।
- এটি দৈর্ঘ্যে ৯২২ ফুট এবং প্রস্থে ৯১৯ ফুট বিস্তৃত ছিল। 
- এতে দেওয়াল ঘেসে ভিক্ষুদের জন্য ১১৭টি কক্ষ ছিল। 
- কথিত আছে, সে সময় পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারের মত এত বড় বিহার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আর ছিল না। 
- সম্ভবত এই পাহাড়পুর সোমপুর বিহারের অনুকরণেই ইন্দোনেশিয়ার বোরোবোদুর মন্দির নির্মিত হয়।
 
উৎস : বৌদ্ধধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯,৩৮৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কুমিল্লা শহর কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. এক নম্বর সেক্টর
  2. দুই নম্বর সেক্টর
  3. চার নম্বর সেক্টর
  4. আট নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা
♦ এক নজরে ১১টি সেক্টর এবং সেক্টর কমান্ডার
সেক্টর নং ১
ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী পর্যন্ত ছিল ‘সেক্টর নং ১’। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান এবং জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর রফিকুল ইসলাম। আর এই সেক্টরকে পাঁচটি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
সেক্টর নং ২
ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ২’। এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এটিএম হায়দার। এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
সেক্টর নং ৩
হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৩’ এর আওতায়। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর কেএম শফিউল্লাহ। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন মেজর এএনএম নুরুজ্জামান। আর এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
সেক্টর নং ৪
সিলেট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ৪’। এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর। মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর সিআর দত্ত (পরে মেজর জেনারেলা) এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।
সেক্টর নং ৫
বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় । মেজর মীর শওকত আলী ছিলেন সেক্টর কমান্ডার। এই সেক্টরকেও ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।
সেক্টর নং ৬
দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৬’। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এমকে বাশার। এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।
সেক্টর নং ৭
রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৭’ এর অন্তর্ভুক্ত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনজন -মেজর নাজমুল হক, সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর (পরে লে. কর্নেল) কাজী নুরুজ্জামান। এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর।
সেক্টর নং ৮
কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৮’ এর অন্তর্ভুক্ত। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর (পরে লে.কর্নেল) আবু ওসমান চৌধুরী ও আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর (পরে মেজর জেনারেল) এম এ মঞ্জুর। এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
সেক্টর নং ৯
পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৯’। ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ জলিল এবং তারপর মেজর জয়নাল আবেদীন। এছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন মেজর এম এ মঞ্জুর। এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।
সেক্টর নং ১০
সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন ছিল ‘সেক্টর নং ১০’ এর অধিনে। এ সেক্টরে নৌ কমান্ডোরা যখন যে সেক্টরে মিশনে নিয়োজিত থাকতেন, তখন সে সেক্টরের কমান্ডারের নির্দেশে কাজ করতেন। এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।
সেক্টর নং ১১
কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ১১’। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান । নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু তাহের ও তারপর ফ্লাইট লেফট্যান্যান্ট (পরে উইং কমান্ডার) এম হামিদুল্লাহ খান। এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।

তথ্য সূত্র: বিবিসি 
৯,৩৮৮.
দহগ্রাম ছিটমহল কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. দিনাজপুর 
  2. কুড়িগ্রাম 
  3. যশোর 
  4. লালমনিরহাট
ব্যাখ্যা

দহগ্রাম ছিটমহল:
- লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা।
- এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।
- ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ‘দহগ্রাম ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিগণিত হয়।
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ইজারার মাধ্যমে উক্ত তিন বিঘা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯,৩৮৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ এর মধ্যে ল্যান্স নায়েক ছিলেন-
  1. ক) নূর মোহাম্মদ শেখ
  2. খ) মোহাম্মদ রুহুল আমিন
  3. গ) মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ৭ জনকে সর্বোচ্চ সামরিক পদবী ''বীরশ্রেষ্ঠ' প্রদান করা হয়।
৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ হলেন -
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯,৩৯০.
ঝুমুর নাচ কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নৃত্য?
  1. মারমা
  2. সাঁওতাল
  3. খাসিয়া
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল: 
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর; পরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সাঁওতাল পরগনায়।
- সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মাঝে প্রচলিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মাঝে অন্যতম হলো ঝুমুর গান ও নাচ।
- সাধারণত বিয়ের উৎসব ও করম উসবে সাঁওতালরা ঝুমুর গান ও নাচ পরিবেশন করে থাকে।
- এছাড়া মুন্ডা, ওঁরাও এবং বর্তমানে বাঙালি হিন্দু-মুসলমানদের মাঝেও এই গান ও নাচ জনপ্রিয়। 
- ঝুমুর নাচ রংপুর এবং রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত নাচ।

উৎস:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৩৯১.
How many brigade forces were formed in the Liberation War?
  1. ক) 4
  2. খ) 11
  3. গ) 3
  4. ঘ) 64
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৯২.
'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' কোথায় আয়োজন করা হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্রে
  2. যুক্তরাজ্যে 
  3. জাপানে 
  4. রাশিয়াতে 
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- ব্রিটিশ নাগরিক বিখ্যাত সংগীত শিল্পী জর্জ হ্যারিসন পণ্ডিত রবি শংকর ও আলী আকবর খান মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি ও দানসহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' ৪০,০০০ লোকের সমাগমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডভিত্তিক গান পরিবেশন করেন।
- রবি শংকর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভারতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের সমর্থনে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত কনসার্ট ফর বাংলাদেশ আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন।
- তাঁকে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশিষ্ট ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শরণার্থী শিবিরগুলোয় মানুষের মানবেতর জীবন যাপনের চিত্র তাঁর মনে গভীর দাগ কাটে।
- অনাহার-অর্ধাহারে থাকা শরণার্থীদের জন্য কিছু করার তাগিদ গভীরভাবে অনুভব করেন।
- তিনি তাঁর বন্ধু ও শিষ্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বাংলাদেশে গণহত্যা ও ভারতের শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন-যাপনরত নারী-শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মানুষের সাহায্যার্থে হাত বাড়ানোর অনুরোধ করেন।
- এভাবে তাঁরা উভয় মিলে ১লা আগস্ট ১৯৭১ তারিখে নিউ ইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি বেনিফিট কনসার্ট আয়োজন করেন।
- এই কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ তারা মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থীদের কল্যাণের জন্য ইউনিসেফের হাতে তুলে দেন।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৯৩.
Where was the 1971 'Concert for Bangladesh' held?
  1. Sunflower Square Garden
  2. Madison Square Garden
  3. Mandipur Square Garden
  4. Rose Square Garden
ব্যাখ্যা
কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের মুখে যুদ্ধ বিরতি ঘটিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে বাধাগ্রস্ত করতে জাতিসংঘে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
- তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের অনেক সদস্য, বিভিন্ন সংবাদপত্র, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা পালন করে।
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' আয়োজন করে তা থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন৷
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
         ii) ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১, প্রথম আলো।
৯,৩৯৪.
'কোটিবর্ষ' কোন জনপদের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. সমতট
  3. গৌড়
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা

রাঢ়:
- বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস থেকে বলা যায় যে, রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- তবকত-ই-নাসিরীর বর্ণনায়ও গঙ্গার দক্ষিণে রাঢ়ের অবস্থান নির্দেশিত হয়েছে।
- এই জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
• দক্ষিণ রাঢ়।
• উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সুহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূহ্মদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৩৯৫.
কোন পর্যটক সোনারগাঁও এসেছিলেন?
  1. সিমা কিয়ান
  2. হিউয়েন সাং
  3. ইবনে বতুতা
  4. ফা হিয়েন
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও:
- ১৩৩৫ থেকে ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সোনারগাঁও কখনো বাংলার রাজধানী আবার কখনো পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল।
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্র্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও ভ্রমণ করেন।
- পানামের জমিদারেরা ব্রিটিশ বিরোধী স্বদেশী-আন্দোলন ও মহাত্মা গান্ধীর অহিংস-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক মোহাজের সমস্যা সোনারগাঁওয়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯,৩৯৬.
ফা-হিয়েনের ভ্রমণ কাহিনী থেকে কোন সাম্রাজ্য সম্পর্কে জানা যায়?
  1. সুলতানি সাম্রাজ্য
  2. পাল সাম্রাজ্য
  3. গুপ্ত সাম্রাজ্য
  4. সেন সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
ফা-হিয়েন:
- ফা-হিয়েন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন ও তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন।
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তাঁর বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।
- তিনি তাঁর ভ্রমণের অধিকাংশ সময়ই মধ্য ভারত বা মগধ পরিভ্রমণ অতিবাহিত করেন।
- তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল সে সময়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুক)।

উল্লেখ্য,
- চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
- ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে।
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া। 
৯,৩৯৭.
‘আভুরা সড়ক’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. পাবনা
  2. কিশোরগঞ্জ
  3. সিলেট
  4. সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- ‘আভুরা সড়ক’ অবস্থিত কিশোরগঞ্জ জেলায়।
- এটি হাওরের ভেতর দিয়ে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম এর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে।
- ৮ অক্টোবর, ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সড়কটি উদ্বোধন করেন।
- বর্ষায় হাওরের যে সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং শুকনো মৌসুমে চলাচলের উপযোগী থাকে তাকে স্থানীয় ভাষায় ‘ভুরা সড়ক’ এবং
- বর্ষায়ও যে সড়ক ডুবে যায় না তাকে ‘আভুরা সড়ক’ বলা হয়।
৯,৩৯৮.
Which is the smallest district in Bangladesh in terms of area?
  1. ক) Meherpur
  2. খ) Narayangonj
  3. গ) Barguna
  4. ঘ) None of these
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা রাঙ্গামাটির মোট আয়তন ৬১১৬.১৩ বর্গ কিলোমিটার।
দেশের সবচেয়ে ছোট জেলা নারায়ণগঞ্জ। এর মোট আয়তন ৭৫৬.২৮ বর্গ কিলোমিটার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন
৯,৩৯৯.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
  2. হান্টার কমিশন
  3. শরীফ শিক্ষা কমিশন
  4. কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

• কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন:
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে,
-  কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯,৪০০.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র কে সম্পাদনা করেন?
  1. ড. আনিসুজ্জামান
  2. আনিসুল হক
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর পনেরো খন্ডে রচিত একটি দালিলিক প্রকাশনা।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর ১৫ খণ্ডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রকাশনা। 
- এ দলিলপত্রাদি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মফিজুল্লাহ কবীর ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমানের যৌথ নেতৃত্বে একটি প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক প্রণীত।
- প্রায় সাড়ে তিন লাখ পৃষ্ঠাব্যাপী বিপুলায়তন ও সংগৃহীত উপাত্ত থেকে নির্বাচন করে প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক অনুমোদনের পর কালপঞ্জি অনুসারে বিভিন্ন খন্ডে প্রকাশ করা হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমীর মাধ্যমে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প শুরু হয়।
- প্রকাশনা প্রকল্পে কাজ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনদের নিয়ে গঠিত এক প্রামাণ্যকরণ কমিটি।
- এ খণ্ডগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ও তথ্য-উপাত্ত, স্মৃতিচারণা যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি রয়েছে ১৯০৫-৭১ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের বিশাল পটভূমিও।
- সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার পৃষ্ঠার সংকলন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।