বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৯৩ / ১২৪ · ৯,২০১৯,৩০০ / ১২,৪২১

৯,২০১.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান কোনটি?
  1. সোমপুর বিহার
  2. ময়নামতি
  3. মহাস্থানগড়
  4. সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড়ের বিস্তীর্ণ ধবংসাবশেষ প্রাচীর পুন্ড্রবর্ধনভূক্তির রাজধানী পুন্ড্রনগরেরসুদীর্ঘ প্রায় আড়াই হাজার বছরের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের এক নীরব স্বাক্ষী।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান।

অন্যদিকে -
সোনারগাঁও:
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের মধ্যে শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সোনারগাঁও একটি গৌরবময় জনপদ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।

সোমপুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

ময়নামতি:
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৯,২০২.
ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  2. খুলনা
  3. কুমিল্লা
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম:

- ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম কুমিল্লা জেলার কান্দিরপাড়ে অবস্থিত।
- এটি মূলত প্রথম শ্রেণী ও লিস্ট ‘এ’ তালিকার ক্রিকেটের মাঠ।
- বর্তমানে স্টেডিয়াটি ব্যবহৃত হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলের জন্য।
- বসুন্ধরা কিংস এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এই স্টেডিয়ামকে তাদের হোম ভেন্যু করেছে।
- এই স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’র (২ নবেম্বর, ১৮৮৬-২৯ মার্চ, ১৯৭১) নামে।
- যিনি একজন বাঙালী আইনজীবী, সমাজকর্মী, ভাষা সৈনিক ও রাজনীতিবিদ।
- ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে তিনি অধিবেশনের সকল কার্যবিবরণী ইংরেজী ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাতেও রাখার দাবি উত্থাপন করেন।
- মাঠটি আয়তন ১০৫/৬৮ মিটার।

তথ্যসূত্র - দৈনিক জনকন্ঠ, ২৪ জানুয়ারি ২০২১।
৯,২০৩.
বাংলাদেশে প্রথম ভ্যাট চালু হয় কবে?
  1. ক) ১৯৯১
  2. খ) ১৯৭৩
  3. গ) ১৯৮৬
  4. ঘ) ১৯৯৬
ব্যাখ্যা
• VAT:
- বাংলাদেশের প্রথম ভ্যাট (VAT- Value Added Tax, মূল্য সংযোজন কর) চালু হয়- ১ জুলাই, ১৯৯১ সালে
- ভ্যাট বা মূসক একটি পরোক্ষ কর।
- ভ্যাট থেকে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় হয়।
- বাংলাদেশ সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় আসে আয়কর থেকে।

উৎস: NBR ওয়েবসাইট।
৯,২০৪.
বঙ্গভঙ্গের ফলে পশ্চিম বাংলার রাজধানী কোথায় স্থাপন করা হয়?
  1. ঢাকা
  2. কলকাতা
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. উড়িষ্যা
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫-১৯১১ সাল):
- ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। 
- বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। 
- প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা। 
- অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কলকাতা।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার ফলে বাংলার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। 
- পূর্ব বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপরদিকে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায় উচ্চবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে। 
- বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন ক্রমে স্বদেশী আন্দোলনে রূপ নেয়।
- শেষ পর্যন্ত রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে ১৯১১ সালে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২০৫.
সিরিল জন র‌্যাডক্লিফ কোন দুটি বাউন্ডারি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন?
  1. ক) বেঙ্গল ও পাঞ্জাব
  2. খ) ভারত ও পাকিস্তান
  3. গ) আসাম ও বেঙ্গল
  4. ঘ) ভারত ও বার্মা
ব্যাখ্যা
- ব্রিটিশ সরকার ১৯৪৭ সালে ভারত শাসন আইনের অধীনে সিরিল জন র‌্যাডক্লিফকে ভারতে দুটি সীমানা নির্ধারণকারী কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে।
- কমিশন দুটি হলো ‘বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন’ এবং ‘পাঞ্জাব বাউন্ডারি কমিশন’।

- ১৯৪৭ সালের ৩ জুন র‌্যাডক্লিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন এবং ৮ জুলাই ভারত আসেন।
- তিনি ভারত বিভাগ, নতুন দুটি রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের মানচিত্র এবং আন্তর্জাতিক সীমা নির্দেশ করে তাঁর রিপোর্ট পেশ করেন। - তাঁর পরিকল্পনা ভারতের ইতিহাসে র‌্যাডক্লিফ রোয়েদাদ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,২০৬.
Architect of National Monument (স্মৃতিসৌধ) of Bangladesh is :
  1. ক) Hamidur Rahman
  2. খ) Quamrul Hasan
  3. গ) Syed Mainul Hosain
  4. ঘ) F. R. Khan
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাভারে অবস্থিত যা সম্মিলিত প্রয়াস নামেও পরিচিত। এটির স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন।
- ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় স্মৃতসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ১৯৮২ সালের ১৬ ডিসেম্বর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এটি উদ্বোধন করেন।
- জাতীয় স্মৃতিসৌধে মোট সাতটি স্তম্ভ রয়েছে যা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি। 
৯,২০৭.
প্রাচীনকালে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জনপদ কোনটি?
  1. বঙ্গ
  2. সমতট
  3. পুণ্ড্র
  4. তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা

তাম্রলিপ্ত:
- হরিকেলের উত্তরে ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার (প্রাচীন যুগে মিধুনাপুর নামে পরিচিত) তমলুক শহরই ছিল প্রাচীন তাম্রলিপ্তি নগরস্থল।
- বর্তমান শহরটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রূপনারায়ণের তীরে অবস্থিত।
- সমুদ্র উপকূলবর্তী এ এলাকা ছিল খুব নিচু ও আর্দ্র।
- নৌ চলাচলের জন্য জায়গাটি ছিল খুবই উওম।
- প্রাচীনকালে তাম্রলিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং তাম্রলিপ্তি শহরকে ‘তান-মো-লি-তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- সাত শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) বাংলাপিডিয়া।

৯,২০৮.
Bangladesh Rice Research Institute কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৬৬ সালে
  2. খ) ১৯৬৮ সালে
  3. গ) ১৯৭০ সালে
  4. ঘ) ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
- Bangladesh Rice Research Institute (BRRI) গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত।
- উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত এবং চাষাবাদের কলাকৌশল উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ১৯৭০ সালের ১ অক্টোবর BRRI প্রতিষ্ঠিত হয়।
- BRRI বর্তমান পর্যন্ত ধানের মোট ১০৬টি আধুনিক জাত উদ্ভাবন করেছে।
(তথ্যসূত্রঃ Bangladesh Rice Research Institute ওয়েবসাইট)
৯,২০৯.
‍রূপসা নদীর উপর নির্মিত খান জাহান আলী সেতুর দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) ১৩০০ মিটার
  2. খ) ১৩৬০ মিটার
  3. গ) ১৪০০ মিটার
  4. ঘ) ১৪৬০ মিটার
ব্যাখ্যা
খান জাহান আলী সেতু:

- রূপচাঁদ সাহার কাটা খালটি আজ বিশাল রূপসা নদী।
- যা দেখে জীবনানন্দ দাশ মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন: “রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেড়া পালে ডিঙ্গা বায়; রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে।
- সেই রূপসা নদীর ওপর একটি সেতু হয়েছে লোকে বলে রূপসা সেতু।
- পোশাকি নাম খানজাহান আলী সেতু।
- সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৩৬০ মিটার।

তথ্যসূত্র - খুলনা জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৯,২১০.
মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. কে এম সফিউল্লাহ
  2. জেনারেল নিয়াজী
  3. জনাব কাদের সিদ্দিকী
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য,
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সকালে মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য বিনা শর্তে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

এছাড়াও,
- এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ, ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।
- প্রতি বছর এই দিনটি "বিজয় দিবস" হিসাবে পালিত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি। 
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯,২১১.
ভাস্কর্য জননী ও গর্বিত বর্ণমালা এর স্থপতি কে?
  1. ক) মর্তুজা বশীর
  2. খ) মৃণাল হক
  3. গ) হামিদুজ্জামান খান
  4. ঘ) অখিল পাল
ব্যাখ্যা
- জননী ও গর্বিত বর্ণমালা ভাস্কর্যটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক।
- এটি অবস্থিত শাহবাগের পরীবাগে।
- এর ভাস্কর মৃণাল হক। 

তথ্যসূত্র: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইট।
৯,২১২.
ধর্মপাল কোন ধর্মাবলম্বী ছিলেন?
  1. খ্রিস্টান
  2. জৈন
  3. বৌদ্ধ
  4. হিন্দু
ব্যাখ্যা
• ধর্মপাল:
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন ধর্মপাল।
- ধর্মপাল বাংলার পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা।
- পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পুত্র ও উত্তরাধিকারী ধর্মপাল পালদের উদীয়মান প্রতিপত্তির যুগের সূচনা করেন।
- পাল শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গোপালের হাত ধরে।
- গোপাল রাজ্য প্রতিষ্ঠার সূচনা করলেও পাল সাম্রাজ্যকে সুসংহত করেন গোপালের পুত্র ধর্মপাল।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
- বিক্রমশীল বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের কৃতিত্ব তাঁর।
- নয় শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত সমগ্র ভারতে এটি ছিল বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র।
- এছাড়া পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারও ধর্মপালের আরেক কীর্তি।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৯,২১৩.
২০২৬ সালের ‘বর্ষপণ্য’ কোনটি?
  1. আসবাবপত্র
  2. পেপার ও প্যাকেজিং প্রডাক্ট
  3. চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য
  4. কৃষিজাত প্রক্রিয়াজাত পণ্য
ব্যাখ্যা

• ২০২৬ সালের বর্ষপণ্য : 
- পেপার ও প্যাকেজিংকে চলতি বছরের বর্ষপণ্য ঘোষণা করে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধন করা হয়েছে।
- 'পেপার ও প্যাকেজিং প্রডাক্টকে ২০২৬ সালের বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
- বর্ষপণ্য ঘোষণার ফলে পেপার প্যাকেজিং শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং রফতানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। 

উল্লেখ্য, 
- ২০২৫ সালের 'বর্ষপণ্য' ছিলো আসবাবপত্র বা ফার্নিচার। 

উৎস: বনিক বার্তা।

৯,২১৪.
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে?
  1. হামিদুজ্জামান খান
  2. শামিম শিকদার
  3. তানভীর কবির
  4. আব্দুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত। এর স্থপতি তানভীর কবির।
১৯৭১ সালে মুজিবনগরে অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণের স্মৃতি রক্ষার্থে এটি নির্মিত হয়।

১৯৭৪ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এবং ১৯৮৭ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এটি উদ্বোধন করেন।

এই সৌধে ২৩টি ত্রিকোণাকৃতি স্তম্ভ রয়েছে যা পাকিস্তান আমলের ২৩ বছরকে নির্দেশ করে। সামগ্রিকভাবে এতে উদীয়মান সূর্যের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়কে বুঝানো হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৯,২১৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকারের চিফ অব স্টাফ কে ছিলেন?
  1. কর্নেল (অব) এম. এ. জি ওসমানী
  2. মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খোন্দকার
  4. কর্নেল (অব) এম. এ. রব
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- এস.এ সামাদ ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।
- উপ-সেনাপতি ছিলেন এ.কে খন্দকার।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৯,২১৬.
বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয় কত সালে?
  1. ১৯ জুলাই ১৯০৫
  2. ১ সেপ্টেম্বর ১৯০৫
  3. ১৬ অক্টোবর ১৯০৫
  4. ১২ ডিসেম্বর ১৯০৬
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভঙ্গ কার্যকর: 
- ১৯০৩ সালে লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনা প্রবল গণ অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বাঙালি এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে।
- ১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লর্ড কার্জন পূর্ব বঙ্গ সফরে আসেন।
- ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে প্রদত্ত বিভিন্ন ভাষণে তিনি নতুন প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের বেশি সুযোগ-সুবিধা লাভের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
- ফলে পূর্ব বঙ্গেরমুসলমানদের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে।
- এমতাবস্থায় কার্জন ১৯০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনাটি অনুমোদনের জন্য ভারত সচিবের কাছে পাঠান।
- ১৯ জুলাই পরিকল্পনাটি সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করা হয়।
- পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়।
- নতুন প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তারা কার্জনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।

এছাড়াও,
 - অন্যদিকে উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।
- কংগ্রেস এর বিরুদ্ধে একটি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
- শেষ পর্যন্ত সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে।

উৎস: সমাজ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২১৭.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রবর্তন করেন কে?
  1. ক) লর্ড ডালহৌসি
  2. খ) লর্ড রিপন
  3. গ) লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. ঘ) লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
- লর্ড কর্নওয়ালিসকে কোম্পানির শাসন দুর্নীতিমুক্ত ও সুসংগঠিত করতে ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
ভারতের গভর্নর জেনারেল ও সেনা প্রধানের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়।
- তিনি ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- ঐ বছর ২২ মার্চ নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলা হয়।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং একসালা বন্দোবস্ত করে ভূমিব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে। 

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯,২১৮.
'তমুদ্দিন মজলিস' কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল?
  1. ক) হাসান ইকবাল
  2. খ) আবুল কালাম
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিস:
 - 'তমদ্দুন মজলিস' ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র।
উল্লেখ্য - তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠার তারিখ নিয়ে তথ্যকল্পদ্রুমের ৭নং পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 
৯,২১৯.
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে কোন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ইউনিসেফ
  2. ইউনেস্কো
  3. ইউএনডিপি
  4. ইউনিকো
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ১৯৭১-এ প্রদত্ত ১৮ মিনিটের ভাষণটি তাঁর স্বভাবসুলভ তাৎক্ষণিক বক্তব্য ছিল, পূর্বে তৈরি করা বক্তৃতা নয়।
- এটিকে অনেকেই রাজনীতির কবিতা বলে থাকেন।
- তাঁর এই ভাষণকে তুলনা করা হয় আব্রাহাম লিংকন, উইনস্টন চার্চিল, মার্টিন লুথার কিং ও পেরিক্লিসের মহতী যুগান্তকারী ভাষণগুলোর সাথে।
- এর মহত্ত্ব ও বিরাটত্বের কারণে ২০১৭ সনের অক্টোবরে জাতিসংঘের এডুকেশন, কালচার ও সাইন্টিফিক অর্গানাইজেশন, ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের অসাধারণ ভাষণটিকে পৃথিবীর অন্যতম ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
- ভাষণে মূলত ৪ দফা দাবি তোলা হয়।
• মার্শাল ল প্রত্যাহার,
• সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
• রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
• জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৯,২২০.
ঢাকা সর্ব প্রথম কবে বাংলার রাজধানী হয়?
  1. ১২০৬ সালে
  2. ১৫২৬ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৫১০ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা সুবার রাজধানী:
- বাংলা ছিল মুঘলদের অন্যতম সুবা।
- বার ভূঁইয়াদের দমনের পর সমগ্র বাংলায় সুবাদারি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সতের শতকের প্রথম দিক থেকে আঠার শতকের শুরু পর্যন্ত ছিল সুবাদারি শাসনের স্বর্ণযুগ।
- রাজমহলের যুদ্ধে জয়ী হয়ে মুঘলরা পুরো বাংলার উপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে মনোনিবেশ করে।
- এ লক্ষে সম্রাট জাহাঙ্গীর সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে (১৬০৮-১৬১৩ খ্রি.) বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ দেন।
- সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বার ভূঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ঢাকাকে বাংলা সুবার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, 
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পূর্বে ঢাকা ১৬১০, ১৬৬০, ১৯০৫ ও ১৯৪৭ সালে মোট চারবার বাংলার রাজধানীর মর্যাদা পায়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২২১.
মুক্তিবাহিনীর প্রথম ব্রিগেড কোনটি?
  1. এস ফোর্স
  2. কে ফোর্স
  3. এন ফোর্স
  4. জেড ফোর্স
ব্যাখ্যা
• জেড ফোর্স:
- জেড ফোর্স  নামে পরিচিত মুক্তিবাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।

- এই ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘জেড’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

•এস ফোর্স:
‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন সফিউল্লাহ।

• কে ফোর্স:
 -‘কে ফোর্স’ ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে ৭ই অক্টোবর গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন খালেদ মোশাররফ।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘কে’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,২২২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে অভিযুক্ত করা হয় কখন?
  1. ক) ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি
  2. খ) ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি
  3. গ) ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন
  4. ঘ) ১৯৬৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
• বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
• মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
• ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন ৩৫ জনকে আসামি করে পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারায় মামলার শুনানি শুরু হয়।
• মোট ১০০টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। সরকার পক্ষে মামলায় ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন সাক্ষীর তালিকা আদালতে পেশ করা হয়। 
• এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,২২৩.
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন জনপদের নাম কী?
  1. ক) গৌড়
  2. খ) পুন্ডু নগর
  3. গ) হরিকেল
  4. ঘ) সমতট
ব্যাখ্যা
পুন্ড্র জনপদ
• প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র। পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
• পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
• সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
• পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল। রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
• ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুন্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুন্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
• পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।

অন্যদিকে,              
• সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
• গৌড়- মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান ও চাপাইনবাবগঞ্জ।
• হরিকেল -  সিলেট, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৯,২২৪.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ইশতেহারের মুখ্য রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২২৫.
‘জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) খান আতাউর রহমান
  2. খ) গাজী মাযহারুল আনোয়ার
  3. গ) গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার
  4. ঘ) গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের গান:

- জয় বাংলা বাংলার জয় গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- গানটির সুরকার হলেন আনোয়ার পারভেজ।

এছাড়াও,
- গোবিন্দ হালদার একটি ফুলকে বাচাবো বলে, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, পূর্বদিগন্তে সূর্য উঠেছে প্রভৃতি গানের রচয়িতা।
- সব কটা জানালা খুলে দাও না গানটির গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু।
- জনতার সংগ্রাম চলবেই গানটি সিকান্দার আবু জাফর রচিত।
- সালাম সালাম হাজার সালাম গানটি ফজলে এ খোদা রচিত।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রণোদনা : গান, দৈনিক ভোরের কাগজ, ৩০ মে ২০১৯।
৯,২২৬.
তালপাতার পুঁথিচিত্র কোন যুগের অন্যতম নিদর্শন?
  1. পাল
  2. সেন
  3. দেব
  4. কুষাণ
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশ:
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছে।
- সুশাসন, জনকল্যাণ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, উন্নত জীবনবোধ ইত্যাদি বাংলায় সর্বপ্রথম পালরাই প্রতিষ্ঠিত করে।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল, দেবপাল, মহিপাল নামে অনেক পাল রাজারা বাংলা শাসন করেছেন।
- তালপাতার পুঁথিচিত্র পাল যুগের নিদর্শন।
- তালপাতার উপরে চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন।
- বর্তমানে দুর্লভ এই পান্ডুলিপি কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৯,২২৭.
বাংলাদেশ জাতিসংঘের কততম সদস্য?
  1. ক) ১৩৫ তম
  2. খ) ১৩৬ তম
  3. গ) ১৩৭ তম
  4. ঘ) ১৩৮ তম
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘ:
- বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘে যোগদান করে - ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে।
⇒ বাংলাদেশ জাতিসংঘের - ১৩৬ তম সদস্য।
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন - ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে।
- বাংলাদেশকে প্রথম জাতিসংঘ সংস্থায় সদস্যরূপে স্বাগত জানায় - বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট ও ইতিহাস ইতিহাস ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২২৮.
কোন ফরাসি মন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতীয় উপমহাদেশে 'ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠিত হয়?
  1. লুই-তেরো
  2. শুল ম্যাজারিন
  3. কোলবার্ট
  4. কার্ডিনাল রিশেলিউ
ব্যাখ্যা
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- উপমহাদেশে ফরাসিদের আগমন সবার শেষে।
- ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি মন্ত্রী কোলবার্টের পৃষ্ঠপোষকতায় 'ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠিত হয় এবং ভারতবর্ষে বাণিজ্য শুরু করে।
- প্রথমে তারা মুম্বাইয়ের সুরাটে ও পরে পন্ডিচেরীতে কুঠি স্থাপন করে।
- অল্পদিনের মধ্যেই তারা বাংলার চন্দননগরে আরও একটি কুঠি স্থাপন করে। এছাড়া কারিকল, মসলিপট্টম, কাশিমবাজার এবং বালেশ্বরেও তাদের কুঠি ছিল।
- ফরাসিরা উপমহাদেশে প্রায় একশ বছর বাণিজ্য করে।
- ইংরেজগণ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ফরাসিদের চন্দননগর এবং ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরী কুঠি দখল করে নেয়।
- স্বদেশে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে বিবাদের জের হিসেবে এখানেও বিবাদ চলতে থাকে। কিন্তু ইংরেজগণ উন্নততর সামরিক শক্তি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে নেয়।
- পরপর তিনটি কর্ণাটক যুদ্ধে ফরাসিরা পরাজিত হলে ফরাসিদের সাম্রাজ্য ও বাণিজ্য বিস্তার সফল হয়নি।
- এর ফলস্বরূপ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে উপমহাদেশ থেকে বিদায় নিতে হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২২৯.
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এন. ডি. এফ) গঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৬০ সালে
  2. ১৯৬১ সালে
  3. ১৯৬২ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
এন. ডি. এফ:
- এন. ডি. এফ এর পূর্ণরূপ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
- এটি গঠিত হয় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে।
- ১৯৬২ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
- আওয়ামী লীগ, নেজামে ইসলাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, কাউন্সিল মুসলিম লীগ ও নূরুল আমিনের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ মিলে বা এন. ডি. এফ গঠিত হয়।
- এই ফ্রন্ট ১৯৬২ সালে গঠিত হয়।
- এই ফ্রন্টের উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ১৯৫৬ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়া।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৩০.
'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।' - উক্তিটি কার?
  1. ক) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খ) খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. গ) লিয়াকত আলী খান
  4. ঘ) টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা সম্পর্কে জিন্নাহর দম্ভোক্তি:

- গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স (ঘোড়দৌড়) ময়দানের জনসভায় এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কনভোকেশনে ছাত্র-শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, 'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা' (Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan)।
- জিন্নাহর এ বক্তব্য পেশের সময় উপস্থিত ছাত্ররা 'না' 'না' ধ্বনি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানান।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৯,২৩১.
ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয় -
  1. ১৬০২ সালে
  2. ১৬০৫ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৬১২ সালে
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

উল্লেখ্য,
- জনপদ হিসেবে ঢাকার গোড়াপত্তন হয় ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে।
- শহর হিসেবে এর গোড়াপত্তন হয় ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে।
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Business Standard.
৯,২৩২.
ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা কে?
  1. আবদুল কুদ্দুস
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. রুহুল কুদ্দুস
  4. শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন। এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
- ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা - রুহুল কুদ্দুস। তিনি একজন পাকিস্তান সিএসপি কর্মকর্তা ছিলেন। 

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা - প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা - কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা - মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা - রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা - বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা - আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও 'মূলধারা ’৭১।
৯,২৩৩.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটির বর্তমান সুরের স্রষ্টা কে?
  1. আবদুল লতিফ
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. মহাদেব সাহা 
ব্যাখ্যা

"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।।
ছেলে হারা শত মায়ের অশ্রু
গড়ায়ে ফেব্রুয়ারি।।
আমার সোনার দেশের
রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি।।"

- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটি লিখেছেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
- গানটি ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে তৈরি করা হয়েছে।
- গানটিতে প্রথম সুর দিয়েছিলেন আব্দুল লতিফ।
- পরে আলতাফ মাহমুদ ১৯৫৪ সালে নতুন করে সুর দেন, যা আজও প্রচলিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯,২৩৪.
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ “দ্য ট্যাংক ব্যাটল অব শিরোমণি” গ্রন্থের লেখক -
  1. ক) এনামুল হক স্বপন
  2. খ) মনিরুজ্জামান খান
  3. গ) গাজী সাইফুল হাসান
  4. ঘ) মহিবুল ইসলাম লিটন
ব্যাখ্যা
“দ্য ট্যাংক ব্যাটল অব শিরোমণি” গ্রন্থের লেখক - গাজী সাইফুল হাসান।

- “শিরোমণি ট্যাংক যুদ্ধ” বিশ্বের সেরা কিছু ট্যাংক যুদ্ধের মধ্যে অন্যতম এবং একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের শেষ যুদ্ধক্ষেত্র।
- মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বর্ণনায় বিশিষ্ট লেখক গাজী সাইফুল হাসান তার ‘দ্য ট্যাংক ব্যাটল অব শিরোমণি' বইয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

- ১৯৭১ সালের মধ্য ডিসেম্বরে খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলাধীন আটরা-গিলতালা ইউনিয়নের শিরোমণি নামক স্থানে পাকিস্তানি সেনাদের সাথে সংগঠিত যুদ্ধটি লোকমুখে, মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রে কিংবা ঐতিহাসিক বা লেখকদের লেখনীতে যুদ্ধটি শিরোমণির যুদ্ধ বা শিরোমণির ঐতিহাসিক যুদ্ধ বা শিরোমণির ট্যাংক যুদ্ধ নামে সমধিক পরিচিত।

তথ্যসূত্র: নিউজ ইনসাইড।
৯,২৩৫.
বাংলাদেশের বাইরে শহীদ হয়েও যিনি দেশপ্রেমের জন্য বীর শ্রেষ্ঠ উপাধি লাভ করেন তিনি হলেন-
  1. ক) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
  2. খ) মোহাম্মদ হামিদুর রহমান
  3. গ) মোহাম্মদ রুহুল আমিন
  4. ঘ) মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ট মতিউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে পাকিস্তানে থাকাকালে তিনি যুদ্ধে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বৈমানিক মতিউর পিআইএ-এর একটি বোয়িং বিমান ছিনতাই করে দেশে আসার পথে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২০ আগস্ট সিন্ধু প্রদেশের মরু অঞ্চলে শহীদ হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রবল আকাংখা সত্ত্বেও শেষপর্যন্ত তা পূরণ না হলেও তাঁর বিমান দখলের চাঞ্চল্যকর ঘটনা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ এই ভূমিকার কথা বিবেচনা করেই তাঁকে বীর শ্রেষ্ঠ খেতাব দেয়া হয়। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৩৬.
‘বাঙলা’ চলচ্চিত্রটি কোন উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত?
  1. ক) যাত্রা
  2. খ) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) ওঙ্কার
ব্যাখ্যা
• ওঙ্কার:
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত প্রথম উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস তেইশ নম্বর তৈলচিত্র।
• যাত্রা- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,২৩৭.
Palestine সমস্যার ব্যাপারে বাংলাদেশের নীতি-
  1. ক) নিরপেক্ষ
  2. খ) Palestinian-দের পক্ষে
  3. গ) মিশরীয় নীতিবাদের পক্ষে
  4. ঘ) উপরিউক্ত কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্যালেস্টাইন সমস্যায় বাংলাদেশ সবসময়ই প্যালেস্টাইনের প্রতি সমর্থন জুগিয়ে আসছে, এমনকি এজন্য এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের সাথে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্কও স্থাপন করে নি।
৯,২৩৮.
স্বাধীনতা যুদ্ধে "মেজর এম.এ মঞ্জুর" কোন সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ৬ নং সেক্টর
  2. ৮ নং সেক্টর
  3. ৯ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার কতগুলো সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
মুক্তিকালীন ১১টি সেক্টরের কমান্ডারগণ:
১ নং সেক্টর:
- মেজর জিয়াউর রহমান
- মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- মেজর খালেদ মোশাররফ
- মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
- মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
- ক্যাপ্টেন এ রব
৫ নং সেক্টর:
- মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- মেজর নাজমুল হক
- সুবেদার মেজর এ. রব
- মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
- মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- মেজর এম.এ জলিল
- মেজর এম.এ মঞ্জুর
- মেজর জয়নাল আবেদীন
১০ নং সেক্টর: কোন নিয়মিত সেক্টর ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- মেজর এম. আবু তাহের
- স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।

উল্লেখ্য,
৮ নং সেক্টর  এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়।
সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে (১৮ আগস্ট থেকে) মেজর এম.এ মঞ্জুর। এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে।
সেক্টরের সৈন্যদের মধ্যে ৩০০০ ছিল নিয়মিত বাহিনী এবং ২৫০০০ গেরিলা সৈন্য।

অন্যদিকে, ৯ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন - মেজর এম.এ জলিল।
পরবর্তীতে, ডিসেম্বরে মাসে চূড়ান্ত আক্রমণের পূর্বে এই সেক্টরকে ৮ নং সেক্টরের সঙ্গে একীভূত করা হয় এবং এর দায়িত্ব অর্পিত হয় মেজর মঞ্জুরের উপর।


(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
৯,২৩৯.
কত খ্রিস্টাব্দে কোম্পানি বাংলা বিহার উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে?
  1. ক) ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৭৬৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
কোম্পানির দেওয়ানি লাভ:
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের পর প্রকৃতপক্ষে ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব লাভে সক্ষম হয়।
- বক্সারের যুদ্ধে বাংলার নবাব, অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লীর সম্রাটের পরাজয় ইংরেজ শক্তিকে এই ক্ষমতা লাভের সুযোগ করে দেয়।
- বক্সারের যুধের পর ক্লাইভ দ্বিতীয়বার (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ) ভারতবর্ষে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
- ক্লাইভ দেশ থেকে ফিরে অযোধ্যার পরাজিত নবাবের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন।

- তার বিনিময়ে আদায় করে নেন কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুটি।
- যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করেন পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি দান করা হয়।
- এর বিনিময়ে ছাব্বিশ লক্ষ টাকা নবাব প্রতিবছর সম্রাটকে পাঠাবেন।
- এই টাকা নিয়মিত পাঠাবার জামিনদার হবে কোম্পানি।
- ইতিহাসে এটি এলাহাবাদ চুক্তি নামে পরিচিত। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৪০.
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন কবে?
  1. ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি
  2. ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৬৯ সালের  ১৮ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাবলিঃ
- আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়।
- ১৯৬৯ সালের  ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
- সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে।
উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৪১.
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কোন বৃহৎ শক্তিধর দেশ জাতিসংঘে ভেটো দেয়?
  1. চীন
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. রাশিয়া
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে ভেটো প্রদান:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। 
- বর্তমানে সোভিয়েত ইউনিয়ন নাম রাশিয়া।
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো দেয় রাশিয়া।
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে।
- এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন বার ই ভেটো দেয়।

উল্লেখ্য, 
-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।
- চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তখন বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল তখন ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৪২.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন -
  1. সোবানশাহ
  2. চেরাগ আলী শাহ
  3. করিম শাহ
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৪৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয় কোন সেক্টর নিয়ে?
  1. ক) ১০ নং সেক্টর
  2. খ) ১১ নং সেক্টর
  3. গ) ৮ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৯ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৯,২৪৪.
কোন পাল রাজা নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন?
  1. ধর্মপাল
  2. দেবপাল
  3. গোপাল
  4. মহীপাল
ব্যাখ্যা
দেবপাল (৮২১-৮৬১ খ্রিস্টাব্দ):
- ধর্মপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র দেবপাল (৮২১ খ্রি.) ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
- দেবপাল ভারতবর্ষের উৎকল, হৃন, কম্বোজ, গাড়োয়াল, রাষ্ট্রকূট, প্রতিহার, প্রাগজ্যোতিষপুর এবং সমতটের রাজাদের পরাজিত করেন।
- এর ফলে সমগ্র উত্তর ভারতে তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাজ্য বিস্তারে তার মন্ত্রী দর্ভপাণির কূটনীতি এবং মন্ত্রী কেদার মিত্র মিশ্রের বুদ্ধি বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে।
- তবে বাংলার হরিকেল অঞ্চল তার অধীনতার বাইরে থেকে যায়।
- পরবর্তীকালে সমতটে চন্দ্রবংশের উত্থান ঘটে।
- পালরাজাদের মধ্যে দেবপাল সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা ছিলেন।
- তবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হিসেবে পাল রাজারা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চেয়ে বুদ্ধিমত্তা ও কূটনীতির সাফল্যের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিতেন।
- দেবপাল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, এছাড়া নালন্দায় তিনি একটি বৌদ্ধ বিহারও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৪৫.
‘ছয় দফায়’ কোন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না?
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা
  2. মুদ্রা ও অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা
  3. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  4. বিচারিক ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
৬ দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলের নেতারা একটি সম্মেলনের আহবান করেন যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- এই ৬ দফার মধ্যে ৩ টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩ টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক দাবি ছিল।
- বঙ্গবন্ধু এই ৬ দফা কে “আমাদের বাঁচার দাবি” হিসেবে আখ্যা দেন।
- ঐতিহাসিক এই ৬ দফাকে ‘ম্যাগনাকার্টা’র সাথে তুলনা করা হয়।

• ছয়টি দফা হলো-
১। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা,
২। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
৩। মুদ্রা ও অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা,
৪। রাজস্ব, কর বা শুল্ক সংক্রান্ত ক্ষমতা,
৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা,
৬। আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা,

===============
- ‘ছয় দফায়’ বিচারিক ক্ষমতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৪৬.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানকালীন 'জুলুম প্রতিরোধ দিবস' পালন করা হয়-
  1. ৬ ডিসেম্বর
  2. ৭ ডিসেম্বর
  3. ৯ ডিসেম্বর
  4. ১১ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

• ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
⇒ ১৯৬৮ সালের নভেম্বরে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহর এবং গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও নিম্ন-আয়ের পেশাজীবীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের মধ্যে, ইতিহাসে তা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। 
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা-পরবর্তীকালের সর্ববৃহৎ গণজাগরণ।
- আটষট্টির ছাত্র অসন্তোষ গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয় মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানী ঘোষিত গভর্নর হাউস ঘেরাও ও পরবর্তী দিনগুলোর কর্মসূচির মাধ্যমে।
- ৬ ডিসেম্বর ‘জুলুম প্রতিরোধ দিবস’ পালনের জন্য মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন  ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), তোয়াহার নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক ফেডারেশন এবং আবদুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতি যৌথ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পল্টন ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করে।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- আসাদউজ্জামান বা শহীদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহীদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবর রহমান সহ সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,২৪৭.
মধ্যযুগে মুসলিম সুলতানদের বাংলার রাজধানী ছিল-
  1. পাহাড়পুর
  2. সোনারগাঁও 
  3. মহাস্থানগড়
  4. জাহাঙ্গীরনগর
ব্যাখ্যা

সোনারগাঁও:
- নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পাশে প্রায় আড়াই কিলোমিটার উত্তরে সোনারগাঁও অবস্থিত।
- বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের মধ্যে শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সোনারগাঁও একটি গৌরবময় জনপদ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯,২৪৮.
বাংলাদেশের কোন জেলার পূর্বনাম বিক্রমপুর ছিল?
  1. কুমিল্লা
  2. বগুড়া
  3. মুন্সীগঞ্জ
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানের পূর্বনাম:
মুন্সীগঞ্জের পূর্বনাম - বিক্রমপুর,
বগুড়ার পূর্বনাম - পুণ্ড্রনগর,
বাগেরহাটের পূর্বনাম - খলিফাবাদ,
খুলনার পূর্বনাম - জাহানাবাদ,
বরিশালের পূর্বনাম - চন্দ্রদ্বীপ/ ইসমাইলপুর,
চট্টগ্রামের পূর্বনাম - ইসলামাবাদ,
ময়মনসিংহের পূর্বনাম - নসিরাবাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,২৪৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জন্ম গ্রহণ করেন কোথায়?
  1. ক) হুগলী
  2. খ) মেদেনীপুর
  3. গ) মুর্শিদাবাদ
  4. ঘ) ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পাণ্ডিত্য, শিক্ষা বিস্তার, সমাজ সংস্কার, দয়া ও তেজস্বিতায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন উনিশ শতকের বাংলায় একক ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর প্রজ্ঞা ছিল অসাধারণ আর হৃদয় ছিল বাংলার কোমলমতি মায়েদের মতো।
- এই অসাধারণ যুগ প্রবর্তকের জন্ম হয়েছিল ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে মেদেনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে।
- ফলে শিশু ঈশ্বরচন্দ্র সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তার গ্যাস বাতির নিচে বসে পড়াশোনা করতেন।
- তিনি ইংরেজি সংখ্যা গণনা শিখেছিলেন তাঁর বাবার সঙ্গে গ্রামের বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে কলকাতায় আসার সময়, রাস্তার পাশের মাইল ফলকে লেখা সংখ্যার হিসেব গুণতে গুণতে।
- অসাধারণ মেধা আর অধ্যাবসায়ের গুণে তিনি মাত্র একুশ বছর বয়েসে সংস্কৃত সাহিত্য, ব্যাকরণ, বেদান্ত, স্মৃতি, অলঙ্কার শাস্ত্র ইত্যাদি বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জ করেছিলেন।
- তিনি বাংলা গদ্যসাহিত্যকে নবজীবন দান করেন।
- এ জন্য তাঁকে বাংলা গদ্যসাহিত্যের জনক বলা হয়। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শিশুদের লেখাপড়া সহজ করার জন্য তিনি রচনা করেন বর্ণ পরিচয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ।
- সংস্কৃত ভাষা শিক্ষাকে সহজ করার জন্য তিনি ব্যাকরণের উপক্রমণিকা রচনা করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৫০.
দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র নিম্নের কোনটি?
  1. ক) ধীরে বহে মেঘনা
  2. খ) চিত্রা নদীর পাড়ে
  3. গ) হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. ঘ) নদীর নাম মধুমতী
ব্যাখ্যা
- 'চিত্রা নদীর পাড়ে' চলচ্চিত্রটি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত
- এটির পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল।
- ছবিটি ১৯৯৮ সালে মুক্তি পায়।
- এটি শ্রেষ্ঠ সিনেমা ও শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ মোট সাতটি ক্যাটাগরিতে ১৯৯৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
- নদীর নাম মধুমতি, হাঙর নদী গ্রেনেড এবং ধীরে বহে মেঘনা হলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।

উৎস: বাংলা ট্রিবিউন এবং চিত্রা নদীর পাড়ে চলচ্চিত্র।
৯,২৫১.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজাইনার কে?
  1. জয়নাল আবেদীন
  2. এ এন সাহা
  3. রফিকুন্নবী
  4. কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে রয়েছে লাল বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপরের দিকে লেখা আছে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ', নিচে লেখা 'সরকার' এবং বৃত্তের পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- এ মনোগ্রামের ডিজাইনার এ এন এ সাহা।

অন্যদিকে,
- কামরুল হাসান জাতীয় প্রতীক ও পতাকার ডিজাইনার।
- সৈয়দ মাইনুল হোসেন জাতীয় স্মৃতিসৌধের ডিজাইনার।
- বিমান মল্লিক প্রথম ডাকটিকিটের ডিজাইনার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট।
৯,২৫২.
”জুলাই ঘোষণাপত্র” কত তারিখে ঘোষনা করা হয়?
  1. ২ই আগস্ট, ২০২৫
  2.  ৩ই আগস্ট, ২০২৫
  3.  ৮ই আগস্ট, ২০২৫
  4.  ৫ই আগস্ট, ২০২৫
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- ৫ই আগস্ট, ২০২৫, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে '৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
- ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা।
- ঘোষণাপত্রে মোট ২৮টি দফা রয়েছে, যার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

উৎস: জুলাই ঘোষণাপত্র।

৯,২৫৩.
মুজিবনগর সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়াবলি ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. তাজউদ্দীন আহমদ
  2. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. এম মনসুর আলী
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ: 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)। 
- তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
- খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
- এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯,২৫৪.
সংবিধানের ১৩৭নং ধারায় প্রতিষ্ঠিত সংস্থা কোনটি?
  1. পরিকল্পনা কমিশন
  2. আণবিক শক্তি কমিশন
  3. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
  4. বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন প্রধানত বিভিন্ন সরকারি চাকুরি ও পদে নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- সংস্থাটি সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা ও আপিলের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত।
- বাংলাদেশের সংবিধানের পাঁচটি অনুচ্ছেদ সংবলিত একটি অধ্যায়ে কমিশনের গঠনপ্রণালী ও কার্যাবলি নির্দেশিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়োগ প্রদান করেন।
- বর্তমানে মো. সোহরাব হোসাইন এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত আছেন।

উল্লেখ্য,
- ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা,
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ এবং
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
         ii) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট।
৯,২৫৫.
আগরতলা মামলার বিচারকার্যে ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. এস.এ.রহমান
  2. এম.আর.খান
  3. মকসুমুল হাকিম
  4. টি.এইচ.খান
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৫৬.
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী'র নেতৃত্বে কোন জোট গড়ে উঠে?
  1. ক) কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি
  2. খ) ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট
  3. গ) মহাজোট
  4. ঘ) জাতীয় ঐক্য মোর্চা
ব্যাখ্যা
১৯৬২ সালের ৮ জুন পাকিস্তানে সামরিক শাসন প্রত্যাহার হলে রাজনীতির অধিকার ফিরে আসে এবং আইয়ুব খান কনভেনশন মুসলিমলীগ নামে রাজনৈতিক দল গঠন করে। এতে করে সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে আইয়ুববিরোধী বৃহত্তর মোর্চা গঠনের আহবান জানায়। তার আহবানে সাড়া দিয়ে আওয়ামীলীগ, নেজামে ইসলাম, ন্যাপ, কাউন্সিল মুসলিমলীগ এবং নুরুল আমীন নেতৃত্বাধীন মুসলিমলীগ মিলে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা এনডিএফ গঠন করে। দ্রুত এই জোটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলেও সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর এর গুরুত্ব হ্রাস পেতে শুরু করে। যার কারণে ১৯৬৪ সালে আওয়ামীলীগ এই ফ্রন্ট থেকে বেড়িয়ে আসে। ১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একক প্রার্থী প্রদানের লক্ষ্যে পুনরায় ২ জুন সকল বিরোধী দল কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি বা কপ গঠন করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯,২৫৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য 'অপরাজেয় বাংলা'-এর স্থপতি কে?
  1. হামিদুর রহমান
  2. নিতুন কুন্ডু
  3. শামীম শিকদার
  4. সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় বাংলা:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য অপরাজেয় বাংলা।
- অপরাজেয় বাংলার স্থপতি সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ
- ভাস্কর্যটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সম্মুখ প্রাঙ্গনে অবস্থিত।
- ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর এটি উদ্বোধন করা হয়।
- অপরাজেয় বাংলা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯,২৫৮.
যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচনী ইশতেহার ছিল -
  1. ক) ৬ দফা
  2. খ) ৮ দফা
  3. গ) ১১ দফা
  4. ঘ) ২১ দফা
ব্যাখ্যা
 যুক্তফ্রন্ট
- যুক্তফ্রণ্ট ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
- এ চারটি দল হলো আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্ট চারটি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।
- নির্বাচনে ৩০৯টি আসনের ২২৩টি আসনে জয় লাভ করে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৫৯.
'একাত্তরের বর্ণমালা' বইটির রচয়িতা কে?
  1. ক) এম আর আখতার মুকুল
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) রাবেয়া খাতুন
  4. ঘ) মেজর রফিকুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘একাত্তরের বর্ণমালা’ বইটির রচয়িতা এম আর আখতার মুকুল।
তার রচিত অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে:
- আমি বিজয় দেখেছি
- মুজিবের রক্ত লাল প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- সুফিয়া কামাল রচিত বই: একাত্তরের ডায়েরি
- রাবেয়া খাতুন রচিত বই:
- একাত্তরের নিশান
- ফেরারি সূর্য
- বাগানের নাম মালিনীছড়া
- মেজর রফিকুল ইসলাম রচিত বই:
- একাত্তরের বিজয় গাথা
- শেখ মুজিব ও স্বাধীনতা সংগ্রাম
- প্রতিরোধের প্রথম প্রহর প্রভৃতি।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – ড. সৌমিত্র শেখর)
৯,২৬০.
সপ্তম শতকে কোন পরিব্রাজক প্রাচীন জনপদ সমতটে এসেছিলেন?
  1. পাণিনী
  2. হিউয়েন সাঙ
  3. ফার্দিনান্দ ম্যাগিলান
  4. ফা হিয়েন
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা- পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৬১.
বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৬ দাবী উত্থাপন করে কোথায়?
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) দিল্লীতে
  3. গ) লাহোরে
  4. ঘ) করাচিতে
  5. ঙ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন

১৯৯৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে লাহোরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ছয় লক্ষ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। ছয়দফা রচিত হয় লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে।

ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি

১ম দফাঃ শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি।
২য় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
৩য় দফাঃ মুদ্রা ও অর্থ বিষয়ক ক্ষমতা।
৪র্থ দফাঃ কর বা রাজস্ব বিষয়ক ক্ষমতা।
৫ম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
৬ষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

এছাড়াও 

৬ দফা উত্থাপন করা হয় মোট ৩বার। উত্থাপনকারী- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রথমবার ৫-৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে লাহোরের বিরোধী দলীয় সম্মেলনে।
দ্বিতীয়বার ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ সালে অনানুষ্ঠানিকভাবে।
তৃতীয়বার ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয় লাহোরে।
বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা পূর্ব পাকিস্তানের ম্যাগনাকার্টা বলা হয়- ৬ দফাকে।
ছয় দফা দিবস পালিত হয়ে আসছে- ৭ জুন।
ছয় দফার অর্থনীতি বিষয়ক দাবি- ৩টি (৩য়, ৪র্থ, ৫ম)।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুগান্তর ও প্রথম আলো পত্রিকা।
৯,২৬২.
শিক্ষাক্রমের উপাদান কোনগুলো?
  1. ক) উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু , পদ্ধতি ও মূল্যায়ন
  2. খ) লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ,বিষয়বস্তু ও মূল্যায়ন
  3. গ) লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি
  4. ঘ) উদ্দেশ্য , প্রান্তিক যোগ্যতা, বিষয়বস্তু ও মূল্যায়ন ।
ব্যাখ্যা
শিক্ষাক্রমের উপাদান চারটি। যেমন- উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু, পদ্ধতি ও মূল্যায়ন।
৯,২৬৩.
ঢাকার বিখ্যাত 'তারা মসজিদ' নির্মাণ করেন কে?
  1. মির্জা আহমদ খান
  2. মির্জা গোলাপ পীর
  3. মির্জা গোলাম পীর
  4. মির্জা গোলাম জান
ব্যাখ্যা

তারা মসজিদ:
- তারা মসজিদ পুরানো ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত।
- সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙা তারায় খচিত এ মসজিদ নির্মিত হয় আঠারো শতকের প্রথম দিকে।
- মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) ঢাকার বিখ্যাত ‘তারা মসজিদ’ তৈরি করেন।
- ১৯২৬ সালে, ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন। সে সময় জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয় মসজিদটির মোজাইক কারুকাজে।
- মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১.৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭.৯৮ মিটার)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

৯,২৬৪.
সাংবাদিকতা বিভাগে একুশে পদক-২০২৩ অর্জন করেন কে?
  1. ক) মো. শাহ আলমগীর
  2. খ) এম. এ. মালেক
  3. গ) ড. মনিরুজ্জামান
  4. ঘ) মনতাজ উদ্দিন
ব্যাখ্যা
একুশে পদক-২০২৩
- 'একুশে পদক' বাংলাদেশের দ্বিতীয় সম্মানজনক বেসামরিক পুরস্কার।
- ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সালে এই পদকের প্রচলন করা হয়।
- বাংলাদেশ সরকারের ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়' এই পুরস্কার ঘোষণা করে।
- ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় 'একুশে পদক-২০২৩' এর জন্য ১৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ২টি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। 
- পদকপ্রাপ্তরা হলেন:
- ক্রমিক নং ⇒ ক্ষেত্র ⇒পদকপ্রাপ্তের নাম:
১। ভাষা আন্দোলন ⇒ খালেদা মনযুর-ই-খুদা
২। ভাষা আন্দোলন ⇒ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ. কে. এম. শামসুল হক (মরণোত্তর)
৩। ভাষা আন্দোলন ⇒ মো. মজিবুর রহমান 
8। শিল্পকলা (সঙ্গীত) ⇒ মনোরঞ্জন ঘোষাল
৫। শিল্পকলা (সঙ্গীত) ⇒ গাজী আবদুল হাকিম
৬। শিল্পকলা (সঙ্গীত) ⇒ ফজল-এ-খুদা (মরনোত্তর)
৭। শিল্পকলা (অভিনয়) ⇒ মাসুদ আলী খান
৮। শিল্পকলা (অভিনয়) ⇒ শিমুল ইউসুফ 
৯। শিল্পকলা (আবৃতি) ⇒ জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় 
১০। শিল্পকলা (চিত্রকলা) ⇒ নওয়াজীশ আলী খান 
১১। শিল্পকলা (চিত্রকলা) ⇒ কনক চাঁপা চাকমা 
১২। মুক্তিযুদ্ধ ⇒ মমতাজ উদ্দীন (মরণোত্তর)
১৩। সাংবাদিকতা ⇒ মো. শাহ আলমগীর (মরণোত্তর)
১৪। শিক্ষা ⇒ অধ্যাপক ড. মযহারুল ইসলাম (মরণোত্তর)
১৫। শিক্ষা ⇒ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর 
১৬। সমাজসেবা ⇒ মো. সাইদুল হক 
১৭। সমাজসেবা ⇒ বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন 
১৮। রাজনীতি ⇒ অ্যাড. মঞ্জুরুল ইসলাম (মরণোত্তর)
১৯। রাজনীতি ⇒ আকতার উদ্দিন মিয়া (মরণোত্তর)
২০। ভাষা ও সাহিত্য ⇒ ড. মনিরুজ্জামান 
২১। গবেষণা ⇒ ড. মো. আবদুল মজিদ।  

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, ফেব্রুয়ারি ২০২৩। 
৯,২৬৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র -
  1. জাগ্রত বাংলা
  2. বাংলাদেশ
  3. স্বাধীন বাংলা
  4. জয়বাংলা
ব্যাখ্যা
 জয়বাংলা:
- জয়বাংলা, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র।
- পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
- এর লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।
- পত্রিকাটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশনা, তথ্য, বেতার ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত হয়।
- সাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।
- কলকাতার পার্ক সার্কাসের ২১/১ বালু হাক্কাক লেনে ছিল জয়বাংলা পত্রিকার অফিস দপ্তর।
- পত্রিকাটি মুদ্রিত হয় শিয়ালদহ রেলস্টেশনের অদূরে অবস্থিত মুজিবনগর জয়বাংলা প্রেসে।
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে পত্রিকাটি প্রকাশ করেন সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি আবদুল মান্নান ‘আহমদ রফিক’ ছদ্মনামে।
- জয়বাংলা পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় মুদ্রিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা।
- পত্রিকাটি ১৯৭১ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে -
- মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকার মধ্যে ‘স্বাধীন বাংলা’ ছিল অন্যতম।
- ‘জাগ্রত বাংলা’ ছিল মুক্তিফৌজের সাপ্তাহিক মুখপত্র। পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১ জুন।
- সাপ্তাহিক ‘বাংলাদেশ’ পত্রিকাটি ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটিতে অধিকৃত বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখের কাহিনী, মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা, মুক্তি সংগ্রামের গতি-প্রকৃতি, ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনৈতিক কথিকা-সংবলিত প্রবন্ধ ও সংবাদ নিখুঁতভাবে প্রকাশ করা হতো। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ৯ ডিসেম্বর ২০২১, দৈনিক জনকণ্ঠ। [link]
৯,২৬৬.
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদ নন -
  1. ক) আসাদ
  2. খ) সালাম
  3. গ) বরকত
  4. ঘ) শফিউর
ব্যাখ্যা

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রেুয়ারি১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান দিতে দিতে বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরে সমবেত হলে পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দিতে কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করলে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ বাধে।
এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি বর্ষণ করলে আবদস সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার প্রমুখ শহীদ হন। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শোভাযাত্রায় পুলিশ গুলি করলে শফিউর রহমান নিহত হন।

অন্যদিকে,
১৯৬৯ সালের ১৪ই জানুয়ারির হরতাল ও ১৮ই জানুয়ারির ধর্মঘটে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২০শে জানুয়ারি ছাত্ররা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালন করে। হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান নিহত হন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৯,২৬৭.
কলাবতী শাড়ি কোথায় তৈরি করা হয়?
  1. রাঙামাটি
  2. মৌলভীবাজার
  3. হবিগঞ্জ
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
কলাবতী শাড়ি:
- কলাগাছের সুতা দিয়ে বোনা হলো ‘কলাবতী’ শাড়ি।
- মৌলভীবাজারে ১৯৯২ সাল থেকে মণিপুরি শাড়ি বানাচ্ছেন কারিগর রাধাবতী দেবী।
- দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কলাগাছের তন্তু থেকে মণিপুরী নকশার এই শাড়ি তৈরি করেন মৌলভীবাজারের তাঁতশিল্পী রাধাবতী দেবী। 
- দৃষ্টিনন্দন শাড়ির নাম রাখা হয়েছে ‘কলাবতী’
- প্রথমবারের মত কলাগাছ থেকে পাওয়া সুতা দিয়ে বান্দরবানে বানানো হয়েছে শাড়ি।
- লম্বায় সাড়ে তের হাত এবং আড়াই হাত প্রস্থের শাড়িটি বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তৈরি করেছেন মণিপুরি তাঁত শিল্পী রাঁধাবতী দেবী।
- সব মিলে শাড়ি বানাতে ১০ থেকে ১২ দিন লেগেছে।

উৎস: ২ এপ্রিল, ২০২৩, প্রথম আলো।
৯,২৬৮.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মোট কতজন মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় খেতাব দেয়া হয়?
  1. ক) ৬৭৬ জন
  2. খ) ১৭৫ জন
  3. গ) ৪২৬ জন
  4. ঘ) ৭৫ জন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মোট ৬৭৬ জন কে মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় খেতাব দেয়া হয়। 

• ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৯,২৬৯.
আসাদ গেট কোন স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়?
  1. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
  3. ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন
  4. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
আসাদ গেট ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়।

আসাদ গেট:
- শহীদ আসাদ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।

- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
- এভাবে ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে হয় ‘আসাদ এভিনিউ’।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,২৭০.
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ –পুস্তিকার রচয়িতা নন কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) কাজী মোতাহার হোসেন
  4. ঘ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দিন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয়।
এই পুস্তিকার নিবন্ধন সমূহের লেখক ছিলেন,
কাজী মোতাহার হোসেন
অধ্যাপক আবুল কাশেম এবং
আবুল মনসুর আহমদ।
পুস্তিকাটি সম্পাদনা করেন অধ্যাপক আবুল কাশেম।
এই পুস্তিকায় বাংলা ভাষাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা এবং পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে ধরা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৯,২৭১.
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের পদবী কী ছিল?
  1. সিপাহী
  2. ক্যাপ্টেন
  3. লেফটেন্যান্ট
  4. ল্যান্স নায়েক
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ:

- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এর পদবী ছিল ল্যান্স নায়েক।
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্ম ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬, যশোর জেলার অর্ন্তঃগত নড়াইল মহকুমার মহিষখোলা গ্রামে।
- ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯, তদানিন্তন ইপিআর-এ সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর গঠন হলে তাঁর উপর ন্যস্ত হয় ৮নং সেক্টরের দায়িত্ব।
- বরনীতে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার জীবন রক্ষা করেন।
- ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১, সুতিপুর প্রতিরক্ষা অবস্থানের সামনে ষ্ট্যান্ডিং পেট্রোলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ নস্যাৎ করে দেন প্রায় একাই।
- আহত অবস্থায় অধীনস্থ সৈনিকদের নিরাপদে পিছনে পাঠিয়ে দেন এবং শত্রুর মোকাবেলা অব্যাহত রাখার সময় শাহাদাত বরণ করেন।
- পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্র যশোরের কাশীপুরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।
 
তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,২৭২.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সামরিক সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল?
  1. ৯ টি
  2. ১১ টি
  3. ১৫ টি
  4. ১৭ টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।

- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৭৩.
আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. লিওনিদ রেজনেভ
  2. আলেস্কি কেসিগিন
  3. আন্দ্রেই গ্রেমিকো
  4. নিকলাই পদানী
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়:

- সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট : নিকোলাই পোদগর্নি;
- সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী : অ্যালেক্সি কোসিগিন;
- সোভিয়েত ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী : আন্দ্রেই গ্রেমিকো;
- জাতিসংঘে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিনিধি : ইয়াকভ মালিক।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৯,২৭৪.
বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাসে সর্বাধিককাল রাজত্ব করেন-
  1. ক) সিকান্দার শাহ
  2. খ) গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ
  3. গ) শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা

- সিকান্দার শাহ (১৩৫৮-১৩৯৩ খ্রিঃ)
- শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দার শাহ (১৩৫৮-১৩৯৩ খ্রিঃ) বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- সিকান্দার শাহ বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাসে সর্বাধিককাল রাজত্ব করেন। সুদীর্ঘ ৩৫ বছরের শাসনকালে তিনি বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- পান্ডুয়ার আদিনা মসজিদের সন্নিকটে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
- শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৪২ সাল থেকে ১৩৫৮ সাল পর্যন্ত শাসন করে।
- গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ (১৩৯৩-১৪১১ খ্রি.)।
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ১৪৯৪ -১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনী ও বাংলাপিডিয়া।

৯,২৭৫.
বঙ্গ রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ কোথায় পাওয়া গেছে?
  1. কুমিল্লা
  2. বগুড়া
  3. গোপালগঞ্জ
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
বঙ্গ জনপদ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির ‘গঙ্গরিডাই'।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়। একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল। সেজন্যে ‘বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- মুদ্রা ও লিপিতাত্ত্বিক প্রমাণের আলোকে ধরা হয়, খ্রিস্টীয় ৬ শতকে স্বাধীন বঙ্গরাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
- মুদ্রা ও লিপিমালায় এ রাজ্যের তিনজন রাজার নাম জানা যায় গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব।
- বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া এলাকা থেকেই অধিকাংশ লিপি পাওয়া গেছে।
- অন্যদিকে গোপচন্দ্রের জয়রামপুর তাম্রশাসন পাওয়া গেছে উড়িষ্যায়, মল্লসারুল তাম্রশাসন পাওয়া গেছে পশ্চিমবঙ্গে যা থেকে স্বাধীন বঙ্গরাজ্যের বিস্তৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯,২৭৬.
প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় কখন?
  1. সেপ্টেম্বর ১৯৪৭
  2. ডিসেম্বর ১৯৪৭
  3. জানুয়ারি ১৯৪৮
  4. ফেব্রুয়ারি ১৯৪৯
ব্যাখ্যা

- আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহবায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা (দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’) হলে এর আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় যার আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া এবং ভাষা আন্দোলনে ঢাকা : আহমদ রফিক)

৯,২৭৭.
ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা শহীদ হন-
  1. ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে
  2. ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলনে
  3. ৬৬ এর ছয়-দফা আন্দোলনে
  4. ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে
ব্যাখ্যা

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সেনাবাহিনী বেয়োনেট চার্জ করে ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহাকে হত্যা করে।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এবং প্রক্টর ছিলেন। আন্দোলনরত ছাত্রদের বাচাঁতে গিয়ে তিনি নিজেই শহীদ হন।
তার মৃত্যুর ফলে আইয়ুর বিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও আইয়ুব খান পদত্যাগে বাধ্য হন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া]

৯,২৭৮.
মুজিবনগর সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদে কয়টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছিল?
  1. ক) ৩ টি
  2. খ) ৪ টি
  3. গ) ৫ টি
  4. ঘ) ৬ টি
ব্যাখ্যা

- একাত্তরের ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করার জন্য আওয়ামী লীগসহ পাঁচটি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় ৮ সদস্যের 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ'।
- এই পরিষদের নেতৃবৃন্দ মূলত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একাত্তরের ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত মুজিবনগর সরকারকেই সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছিল।
- আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করায় বিশ্বব্যাপী মুজিবনগর সরকার একটিই বার্তা দিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবি বাঙালির সর্বজনীন; কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক কোনো বিষয় নয়।
- ভারতের কলকাতায় গঠন করা হয় 'জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি', যা 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ' নামে পরিচিতি লাভ করে।

৮ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিতে ছিলেন -
- আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমেদ।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন-
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)

উৎস- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক এবং নবম - দশম শ্রেণীর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৭৯.
বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কবে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি
  2. ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ
  3. ১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ
  4. ১৯৭৩ সালের ১৮ই মার্চ
ব্যাখ্যা
♣ বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন, ১৯৭৩: 
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ।  
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর গণপরিষদ ভেঙে দেয়া হয়।
- স্বাধীনতা লাভের স্বল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সরকার সাধারণ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে গণতন্ত্রের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে ।
- জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮ আসনে জয়লাভ করেন। 

- বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। 

- ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়। 
- সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়।
- এই সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন।
- ১৯৭৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' (বাকশাল) নামে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করেন। 
- এই দলের চেয়ারম্যান হলেন বঙ্গবন্ধু এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন এম. মনসুর আলী। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৮০.
স্বাধীনতার পর কত সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন।
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই স্যার এ. এফ. রহমানের উদ্যোগে তিন আবাসিক হলে (মুসলিম হল, জগন্নাথ হল ও ঢাকা হল) ছাত্র সংসদ গঠন করা হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় পরে গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে বাংলাদেশের 'দ্বিতীয় সংসদ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা দাবি, ১৯৬৯ সালের গণ–অভ্যুত্থান কিংবা নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ঐতিহাসিক সংগ্রামে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে।

⇒ হল ছাত্র সংসদের সাফল্যের পর ১৯২২-২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (Dacca University Student's Union) গঠিত হয়। প্রত্যেক হল থেকে তিনজন ছাত্র এবং একজন শিক্ষক আর উপাচার্যের মনোনীত একজন শিক্ষক এই নিয়ে সংসদ। শিক্ষকদের মধ্যে একজন সভাপতি হতেন।
- ১৯৪৪-৪৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদের নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করে। এই গঠনতন্ত্রের অধীনে ১৯৪৫-৪৬ সালে উপাচার্য পিজে হার্টগ পদাধিকারবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি হন।

স্বাধীনতার পর ডাকসুর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ডাকসুর সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মাহবুবুর জামান।

উলেখ্য,
- ২০২৫ সালে ৩৮তম ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস: i) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট। 
ii) The Daily Star Bangla.

৯,২৮১.
বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত নারী বিচারপতি হলেন -
  1. নাজমুন আরা সুলতানা
  2. জিনাত আরা
  3. কৃষ্ণা দেবনাথ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টে আপিল বিভাগে নারী বিচারপতি হয়েছেন এখন পর্যন্ত ৩ জন। উনারা হলেন:
- নাজমুন আরা সুলতানা,
- জিনাত আরা ও
- কৃষ্ণা দেবনাথ।

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।
• বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রথম হিন্দু নারী বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ।

উৎস: সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট।
৯,২৮২.
জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে ’বঙ্গবন্ধু’ খেতাবে ভূষিত করেন কে?
  1. আ.স.ম. আব্দুর রব
  2. তোফায়েল আহমেদ
  3. নূরে আলম সিদ্দিকী
  4. এ.কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
• শেখ মুজিবুর রহমান:
- ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল ছাত্র সমাবেশে লাখো শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে তোফায়েল আহমেদ
- ১৯৬৯ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল বন্দীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
- ১৯৬৯ সালে ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আওয়ামী লীগের এক জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের নাম রাখেন ‘বাংলাদেশ’। 

- ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে পাঁচ দফা স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ।
- ঐদিনই বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেন ডাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৮৩.
বাংলার ইতিহাসে কররানি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. আসগর কররানি
  2. দাউদ কররানি
  3. সুলেমান কররানি
  4. তাজ খান কররানি
ব্যাখ্যা

• কররানি শাসন:
- কররানি উপাধি ধারী আফগানরা হচ্ছে একটি আফগান গোত্র।
- সর্দার তাজ খান কররানি বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন ১৫৬৪ খ্রি.।
- তিনি এক সময় শেরশাহের অধীনে চাকরি করতেন।
- আদিল শাহের আমলে তাজ খান বাংলার তাণ্ডায় জায়গীরদার হিসেবে ছিলেন।
- তিনি বাংলার অধিপতি হওয়ার এক বছরের মধ্যে মারা যান (১৫৬৫ খ্রি.)।

অপরদিকে, 
- তাজ খানের তাঁর ভাই সুলেমান কররানি সাত বছর বাংলার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।
- তাঁর আমলে বাংলায় অপেক্ষাকৃত সুশাসন ও শান্তি বিরাজ করেছে।
- গৌড় নগরী বাসযোগ্যতা হারালে সুলেমান কররানি তান্ডাতে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯,২৮৪.
বৌদ্ধ ধর্মের কনস্ট্যানটাইন বলা হয় কাকে?
  1. বানভট্র
  2. অশোক
  3. মেগাস্থিনিস
  4. সেলুকাস
ব্যাখ্যা
অশোক 
- মৌর্য বংশের প্রথম রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের ছেলে বিন্দুসার। পাটালিপুত্র ছিল মৌর্য বংশের রাজধানী।
- বাবা বিন্দুসার এবং মা সুবোধরাঙ্গীর ছেলে ছিলেন অশোক।
- তার আসল নাম ছিল দেবাঙ্গপ্রিয় প্রিয়দর্শী আশোক।
- ২৬৮ খ্রিষ্টপূর্বে মৌর্য বংশের ২য় সম্রাট এবং ৩য় শাসক হিসেবে অশোকের রাজ্যাভিষেক হয়।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য যখন মগদে তার শাসনামল শুরু করেন তখন ভারত ১৬টি জনপদে বিভক্ত ছিল।
- ২৬১ খ্রিষ্টপূর্বে কলিঙ্গের সাথে মগদের বিধ্বংসী যুদ্ধ হয়।
- এই সাম্রাজ্যটি অনেক শক্তিশালী ছিল বলে তার পূর্বসূরিরা এটি দখল করতে পারেনি।
- অশোক প্রথমে রাজনৈতিকভাবে চেষ্টা করেন। তাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি যুদ্ধের পথ বেছে নেন।
- এই যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ সৈনিক নিহত এবং প্রায় ২ লাখ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়।
- যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে অশোক বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন।
- তখন থেকেই অশোক বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার শুরু করেন এবং যুদ্ধ করা ছেড়ে দেন।
- এজন্য অশোককে বৌদ্ধ ধর্মের কনস্ট্যানটাইন বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,২৮৫.
বরেন্দ্রভূমি কোন জেলার মধ্যে বিস্তৃত ছিল?
  1. রাজশাহী, পাবনা, কুমিল্লা
  2. দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী
  3. সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী
  4. গোপালগঞ্জ, বরিশাল
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্র জনপদ: 
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটিও উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- পুন্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৮৬.
সুলতানী আমলে সিলেটের নাম কী ছিল?
  1. শ্রীহট্ট
  2. শাহজালালপুর
  3. কামরুপ
  4. জালালাবাদ
ব্যাখ্যা

সিলেট:
- সিলেটের উত্তরে ভারতের খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়, দক্ষিণে মৌলভীবাজার জেলা, পূর্বে ভারতের কাছাড় ও করিমগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা।
- সিলেট জেলা ১৭৭২ সালের ১৭ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- সুলতানী আমলে সিলেটের নাম ছিল জালালাবাদ। 
- ১৪ শতকে ইয়েমেনের সাধক পুরুষ হযরত শাহজালাল (র.) সিলেট জয় করেন এবং ইসলাম প্রচার শুরু করেন।
- নানকার বিদ্রোহ সিলেটের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। 
- সিলেট বা শ্রীহট্ট (সমৃদ্ধ হাট) বহু আগে থেকেই একটি বর্ধিষ্ণু বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বর্তমান ছিল।

⇒ সিলেট সুরমা নদীর তীরে অবস্থিত।
- সিলেটের প্রধান ও দীর্ঘতম নদী সুরমা (৩৫০ কিঃ মিঃ), অপর বৃহৎ নদী হলো কুশিয়ারা।
- এ জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে মোট ৮২টি হাওর-বিল রয়েছে।
- এগুলোর মধ্যে সিংগুয়া বিল (১২.৬৫ বর্গ কিমি), চাতলা বিল (১১.৮৬ বর্গ কিমি) উল্লেখযোগ্য।

উৎস: সিলেট জেলা ওয়েবসাইট।

৯,২৮৭.
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার কে উদ্বোধন করেন?
  1. আবুল বরকতের মা
  2. শফিউর রহমানের মা
  3. আবুল বরকতের বাবা
  4. শফিউর রহমানের বাবা
ব্যাখ্যা

প্রথম শহিদ মিনার:
- ঢাকায় প্রথম শহিদ মিনার নির্মিত হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের সামনে।
- নির্মিত হয়: ২৩ ফ্রেবুয়ারি, ১৯৫২ সালে।
- এর ডিজাইনার ছিলেন- ডা. বদরুল আলম।
- ২৪শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে শহিদ শফিউর রহমানের পিতা মৌলভি মাহবুবুর রহমান এ শহিদ মিনার টি উদ্ধোধন করেন।


কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গ কারীদের স্মরণে নির্মিত হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে।
- নির্মিত হয়: ১৯৬৩ সালে।
- স্থপতি: হামিদুর রহমান ও সহকর্মী ছিলেন- নভেরা আহমেদ।
- স্তম্ভ রয়েছে- ৫ টি।
- ভাষা শহিদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের উদ্বোধন করেন (১৯৬৩ সালে)

উৎস: ঢাকা জেলা অফিস, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৯,২৮৮.
নিচের কোন ক্ষেত্রে পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে?
  1. ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
  2. জেলা পরিষদ নির্বাচন
  3. সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন
  4. জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা
- নির্বাচন ব্যবস্থা প্রধানত দুই প্রকার। যথা: প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা এবং পরোক্ষ ব্যবস্থা।
- প্রত্যক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় জনগণ বা ভোটাররা তাদের ভোটের মাধ্যমে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচিত করে।
বাংলাদেশে এরূপ নির্বাচনের মধ্যে রয়েছে:
- জাতীয় সংসদ নির্বাচন
- ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
- উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
- সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচন প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় জনগণ বা ভোটাররা তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে প্রথমে নির্বাচনমণ্ডলী তৈরি করে এবং নির্বাচকমণ্ডলীরা পরবর্তীতে তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে।
বাংলাদেশে এরূপ নির্বাচন হলো:
- জেলা পরিষদ নির্বাচন
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
- সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন প্রভৃতি।
- জেলা পরিষদ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট জেলার সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে জেলা পরিষদের সদস্যদের নির্বাচন করে থাকে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯,২৮৯.
নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে পায়ে পায়ে ফুটবলকে গড়িয়ে সামনের দিকে নেয়াকে কী বলে?
  1. ক) ট্যাকলিং
  2. খ) ট্র্যাপিং
  3. গ) ড্রিবলিং
  4. ঘ) কিকিং
ব্যাখ্যা
ফুটবল
- ফুটবল খেলা পৃথিবীর জনপ্রিয় খেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- আধুনিক ফুটবল খেলার উৎপত্তি হচ্ছে ইংল্যান্ডে। 
- সব দেশে একই নিয়মে খেলার জন্য ১৯০৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ‘ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ডি ফুটবল এসোসিয়েশন' বা ফিফা (FIFA) গঠিত হয়।
- এই সংগঠনের মাধ্যমে ফুটবল খেলা বিশ্বের প্রায় সব দেশে প্রসার লাভ করেছে।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) গঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের ফুটবল খেলার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা।
- ফিফার সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত।
- আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফুটবল খেলার আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের ব্যবস্থা করে থাকে।
- এই খেলা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৭টি আইন রয়েছে।
ট্র্যাপিং: হাত ছাড়া শরীরের যে কোনো অংশ দিয়ে থামিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনাকে ট্র্যাপিং বলে।
ড্রিবলিং: নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে পায়ে পায়ে ফুটবলকে গড়িয়ে সামনের দিকে নেয়াকে ড্রিবলিং বলে। 
কিকিং: পা দিয়ে বলে লাথি মারাকে কিকিং বলে।
হেডিং: মাথার সাহায্যে বল খেলাকে হেডিং বলে।
ট্র্যাকলিং: বিপক্ষের কাছ থেকে বলকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার নামই ট্যাকলিং।
গোলকিপিং: বিপক্ষের আক্রমণে গোল হতে না দেয়াকে গোলকিপিং বলে। 

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৯০.
কোন সুবাদারের আমলকে বাংলায় মুঘলদের ‘স্বর্ণযুগ’ বলে অভিহিত করা হয়-
  1. ক) মীর জুমলা
  2. খ) শায়েস্তা খান
  3. গ) শাহ সুজা
  4. ঘ) ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাহদার নিযুক্ত হন। তিনি চট্টগ্রাম জয় করে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ। ঢাকায় অনেক ইমারত নির্মাণ করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের ‘স্বর্ণযুগ’ বলে অভিহিত করা হয়। তন্মধ্যে ছোট কাটরা, হোসেনী দালান, চকবাজার মসজিদ, লালবাগ দুর্গের পরী বিবির মাজার, রায়ের বাজারের সন্নিকটে সাত গম্বুজ মসজিদ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)।
৯,২৯১.
কোন যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন?
  1. পানিপথের যুদ্ধ
  2. হিদাসপিসের যুদ্ধ
  3. কলিঙ্গের যুদ্ধ
  4. তরাইনের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

- কলিঙ্গ যুদ্ধের ব্যাপক রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্রাট অশোককে গভীরভাবে ব্যথিত করে, এর ফলে তিনি যুদ্ধনীতি ত্যাগ করে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।  

সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন।
- তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন।
- রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- তিনি অনেক জনহিতকর কাজ করেন।
- তিনি ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোকের রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে আমূল পরিবর্তন আসে।
- কলিঙ্গ যুদ্ধের রক্তবন্যা তাঁকে একজন নীতিবান ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।
- ওই সময় থেকেই তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
- জীবনের অবশিষ্ট সময় অহিংস ধর্ম তাঁর পথপ্রদশর্কের ভূমিকা পালন করে।
- সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- অশোকের প্রচারিত ধর্মের মূল বিষয় ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীবে দয়া, সত্যবাদিতা ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৯২.
'সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি' কোনটিকে বলা হয়?
  1. কর্ণফুলী কাগজ কল
  2. কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র
  3. রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু
  4. কাপ্তাই হ্রদ
ব্যাখ্যা
সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি:
- সিম্বল অব রাঙ্গামাটি' হিসেবে পরিচিত রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু।
- বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স সেতুটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। 

উল্লেখ্য -
- কাপ্তাই হ্রদের পানি পরিমাপ করে থাকে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। 

উৎস: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৯,২৯৩.
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) ক্রীতদাসের হাসি
  2. খ) জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. গ) দুই সৈনিক
  4. ঘ) নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস: 
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নম হইতে বিদায়

- 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসে তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক সাশক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়ছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- এটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে রচিত এবং ১৯৬২ সালে প্রকাশিত। 
- ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- প্রাচীন কাহিনী, ঘটনা ও চরিত্রের রূপকে লেখক সমকালীন রাজনীতিতে স্বৈরাচারী চরিত্র ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,২৯৪.
কত সালে বক্সারের যুদ্ধ সংগঠিত হয়?
  1. ক) ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন
  2. খ) ১৭৬০ সালের ২২ অক্টোবর
  3. গ) ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর
  4. ঘ) ১৭৬৬ সালের ২৯ জুলাই
ব্যাখ্যা

- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে বাংলার নবাব মীর কাশিম, মুঘল সম্রাট শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সম্মিলিত বাহিনীর সাথে মেজর মনরো নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর যুদ্ধ হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়।
- - বক্সারের যুদ্ধকে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের নিকট হারানো বাংলার স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধারের শেষ প্রচেষ্টা বিবেচনা করা হয়।
- এই যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার নামমাত্র টিকে থাকা স্বাধীনতা পুরোপুরি বিনষ্ট হয়। ভারতে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ আরও সুগম হয়।
- যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়ে নিদারুণ দুঃখকষ্ট ও দারিদ্র ভোগ করে ১৭৭৭ সালের ৬ জুন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে শাজাহানাবাদের এক অখ্যাত পল্লীতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন মীর কাসিম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।

৯,২৯৫.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল -
  1. ক) ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  2. খ) ৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  3. গ) ১৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  4. ঘ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
• পতাকা:
- প্রথম পতাকা উত্তোলন ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- প্রথম নকশাকার – শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)
- প্রথম আনুষ্ঠানিক উত্তোলন – ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন – কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত – ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
৯,২৯৬.
সমতটের রাজধানী ছিল-
  1. ক) বড় কামতা
  2. খ) ছোট কামতা
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
প্রাচীন যুগে বাংলা জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম সম্মৃদ্ধ জনপদ ছিল সমতট।
যারা অধিভূক্ত ছিল বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চল। এই অঞ্চলের রাজধানী ছিল বড় কামতা।
উৎস-বাংলাপিডিয়া।
৯,২৯৭.
কি কারণে বাংলাদেশ থেকে নীলচাষ বিলুপ্ত হয়?
  1. নীলচাষ নিষিদ্ধ করার ফলে
  2. নীলকরদের অত্যাচারের ফলে
  3. নীলচাষীদের বিদ্রোহের ফলে
  4. কৃত্রিম নীল আবিষ্কারের ফলে
ব্যাখ্যা
নীল বিদ্রোহ: 
- ১৭৭০ থেকে ১৭৮০ সালের মধ্যে ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে নীল চাষ শুরু হয় কারণ এ সময় নীল ব্যবসা ছিল খুবই লাভজনক।
- নীল চাষের জন্য কৃষকদের অগ্রিম অর্থ গ্রহণে ( দাদন ) বাধ্য করা হতো এবং পরে নীল চাষে রাজি না হলে কৃষকের উপরে চরম অত্যাচার চালানো হতো।
- ফরিদপুর, যশোর, ঢাকা, পাবনা, রাজশাহী, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো। 

- জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নীল চাষের খরচও বৃদ্ধি পায় ফলে চাষীরা নীল চাষের প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের ওপরে নির্যাতন চালানো হতো।
- নীল চাষীরা ১৮৫৯ সালে নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ গড়ে তোলেন। 
- এ নীল বিদ্রোহের অত্যাচারের কথা দীনবন্ধু মিত্রের লেখা ‘নীলদর্পণ’ নাটকের কাহিনীর মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 

- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই।
- হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই। 

- চাষীদের এ বিদ্রোহের কারণে ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ‘ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন’ গঠন করে নীল চাষকে কৃষকদের ‘ইচ্ছাধীন’ বলে ঘোষণা দেয় যার পরিপ্রেক্ষিতে নীল বিদ্রোহের অবসান হয়।
- পরবর্তীতে কৃত্রিম নীল আবিষ্কৃত হওয়ায় ১৮৯২ সালে এদেশে নীল চাষ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৯৮.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. তিতুমীর 
  2. মীর নিসার আলী
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  4. মজনু শাহ 
ব্যাখ্যা

ফরায়েজি আন্দোলন:

• ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তুল্লাহ।
• জন্ম: ১৭৮২ সালে।
• জন্মস্থান: বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে। 
• তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
• ‘ফরায়েজি’ শব্দটি আরবি 'ফরজ' (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যারা ফরজ পালন করেন তাঁরাই ফরায়েজি।
• বাংলায় যাঁরা হাজী তুল্লাহর অনুসারী ছিলেন, ইতিহাসে শুধু তাদেরকেই ফরায়েজি বলা হয়ে থাকে। 
• হাজী শরীয়তুল্লাহ ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ ‘বিধর্মীর দেশ' বলে ঘোষণা করেন।
• জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের ওপর অত্যাচার শুরু করলে প্রজাদের রক্ষার জন্য তিনি লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। 
• ১৮৩৯ সালে তাঁর ওপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। 
• ১৮৪০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 
• তাঁর মৃত্যুর পর ফরায়েজি আন্দোলনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁর যোগ্য পুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দিন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া। তিনি ১৮১৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। 
• তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।  
৯,২৯৯.
মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা কত নং সেক্টরের অধীন ছিল?
  1. ক) ৩নং সেক্টর
  2. খ) ৪নং সেক্টর
  3. গ) ২নং সেক্টর
  4. ঘ) ৬নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

২ নং সেক্টরঃ
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে। নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৯,৩০০.
'অপারেশন কিলো ফ্লাইট' পরিচালনা করে-
  1. মুক্তিবাহিনী
  2. মিত্র বাহিনী
  3. নৌবাহিনী
  4. বিমান বাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন কিলো ফ্লাইট:
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস।
- ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অপারেশনগুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম।
- এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা।
- ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ডেইলি স্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২।