বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৯১ / ১২৪ · ৯,০০১৯,১০০ / ১২,৪২১

৯,০০১.
ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী দুদু মিয়ার পুরো নাম কী?
  1. ক) নেসার আলী
  2. খ) মুহাম্মদ মহসীন উদ্দীন
  3. গ) মীর লতিফ
  4. ঘ) শওকত বেগ
ব্যাখ্যা
- ফরায়েজী আন্দোলন  ঊনিশ শতকে বাংলায় গড়ে ওঠা একটি সংস্কার আন্দোলন।
- প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- ফরায়েজী শব্দটি ‘ফরজ’ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। কাজেই ফরায়েজী বলতে তাদেরকেই বোঝায় যাদের লক্ষ্য হচ্ছে অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহ কার্যকর করা।
- এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ।
- তিনি অবশ্য শব্দটিকে ব্যাপক অর্থে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, অবশ্য পালনীয়ই হোক বা ঐচ্ছিকই হোক, কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত সকল ধর্মীয় কর্তব্যই এর অন্তর্ভুক্ত।
- শরীয়তউল্লাহ হজ্ব পালনের জন্য মক্কায় যান এবং সেখানে বিশ বছর অবস্থান করে হানাফি শাস্ত্রজ্ঞ শেখ তাহির সোম্বলের নিকট ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান যে, বাংলার মুসলমানদের একটি অংশ বহুবিধ স্থানীয় লোকাচার ও পর্ব-উৎসব পালনে উৎসাহী হয়ে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার প্রতি চরম উদাসীন হয়ে উঠেছেন।
- সে কারণেই তিনি ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন এবং কালক্রমে এ আন্দোলন সমগ্র পূর্ববঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- ১৮৪০ সালে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসীনউদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তিনি ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
- ১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৯,০০২.
তেলিয়াপাড়া রণকৌশল কীসের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. গণঅভ্যুত্থান
  4. অপারেশন ক্লিনহার্ট
ব্যাখ্যা

• হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়ার অবস্থিত।
- এখান থেকেই  মুক্তিবাহিনী গঠন, মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা ও রাজনৈতিক সরকার গঠনের প্রস্তাব তথা মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনা হয়।
• তেলিয়াপাড়া রণকৌশল মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন।
- বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়া হবে।

উৎস: মাধবপুর উপজেলা, ওয়েব সাইট।

৯,০০৩.
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. মুর্শিদাবাদ
  3. কলকাতা
  4. আগ্রা
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ:
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সর্বাধিক বিখ্যাত দুর্গ হলো ফোর্ট উইলিয়াম।
- ফোর্ট উইলিয়ামের মাধ্যমেই ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের ঘাঁটি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- বিখ্যাত এই দুর্গটি কলকাতায় অবস্থিত।
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় নিদর্শন এই দুর্গ।
- ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নামে নামকরণ করা হয়েছে ।
- অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকদের মতো ইংরেজ বণিকদেরকেও এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎসাহিত করে; ইংল্যান্ডের একদল বণিক ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' নামে একটি বণিক সংঘ গঠন করে।
- এই সংঘটি ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি একচেটিয়া বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুরাট, আগ্রা, আহমদাবাদ, মসলিপট্টমে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে এদেশে তাদের ভিত্তি মজবুত করে ফেলে।
- বাংলার সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলিতে একটি বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কাশিমবাজার, ঢাকা, মালদহেও তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
- ভাগীরথী নদীর তীরের তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করেই কোলকাতা নগরীর জন্ম হয়।
- এখানেই কোম্পানি ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যন্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়মের নাম অনুসারে নির্মাণ করে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,০০৪.
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতীক 'বলাকা’র নকশা কে করেন?
  1. ক) জয়নুল আবেদীন
  2. খ) কামরুল হাসান
  3. গ) মােস্তফা মনােয়ার
  4. ঘ) মুর্তজা বশীর
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
- তখন প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল অ্যারো বাংলা ইন্টারন্যাশনাল।
- পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নাম দেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
- বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই প্রখ্যাত শিল্পী কামরুল হাসান বিমানের লোগো বলাকার ডিজাইন করেন।

উৎস: www.ekushey-tv.com/
৯,০০৫.
কুয়াকাটা কোন জেলার অন্তর্গত?
  1. বরিশাল
  2. খুলনা
  3. পটুয়াখালী
  4. কক্সবাজার
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
কুয়াকাটা:

- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র।
- পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা 'সাগর কন্যা' হিসেবে পরিচিত।
- পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে কুয়াকাটা অবস্থিত।
- কুয়াকাটা সাগর-সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার। 
- কুয়াকাটা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের নিকট একটি তীর্থ স্থান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯,০০৬.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার কত জন আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে?
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৫ জন
  4. ৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৯,০০৭.
দেশের একমাত্র পাথর খনি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মুন্সিগঞ্জ
  2. খ) যশোর
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) মৌলবীবাজার
ব্যাখ্যা
• পাথর খনি:
- দেশের একমাত্র এ কঠিন শিলা খনি
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার ১০নং হরিরামপুর ইউনিয়নের ৮নং ওযার্ডে মধ্যপাড়া গ্রামে এই পাথর খনিটি অবস্থিত।
- বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) কর্তৃক ১৯৭৪ সালে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকায় ভূ-গর্ভের ১২৮-১৩৬ মিঃ গভীরতায় গ্রানাইট পাথর আবিস্কৃত হয়।
- পরবর্তীতে মেসার্স এস এনসি, লিমিটেড কানাডা কর্তৃক ১৯৭৭ সালে ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন এবং মেসার্স নিপ্পন কোই, জাপান কর্তৃক আার্থিক ও মার্কেট সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়।
- ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স নামনাম সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ সাল হতে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের কাজ শুরু করে।
- বিস্ফোরক দ্রব্য ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে আছে একমাত্র পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড।
- মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি হল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম শিলা খনি অঞ্চল গুলির একটি।

তথ্যসূত্র: দিনাজপুর জেলার ওয়েবসাইট। 
৯,০০৮.
How many women were awarded the title of "Veer Pratik" for their heroic contribution in the Liberation War?
  1. 1
  2. 2
  3. 3
  4. 4
  5. 175
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।

⇒ মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।

⇒ ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।
৯,০০৯.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বপ্রথম কততম কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন?
  1. ক) একাদশ
  2. খ) দশম
  3. গ) ত্রয়োদশ
  4. ঘ) ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা
আওয়ামী লীগের সভাপতিবৃন্দ : 
- আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সেল (সিআরআই) সূত্রে জানা যায়, দলের প্রথম সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত চারটি কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন। 
 
এরপর ওই বছর একটি বিশেষ কাউন্সিলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ। ১৯৬৪ সালে দলের পঞ্চম কাউন্সিলে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি পদে ছিলেন ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত। 
 
ওই বছর ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলের সভাপতি হন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি পদে ছিলেন। 
 
১৯৭৪ সালে দশম কাউন্সিলে সভাপতি হন এ এইচ এম কামরুজ্জামান। ১৯৭৫ সালে ঘাতকের গুলিতে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত হন তিনি। 
এরপর ১৯৭৮ সালে কাউন্সিলে সভাপতি হন আবদুল মালেক। তিনি ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছিলেন। 
 
১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে দলের সভাপতি পদে আছেন শেখ হাসিনা। দলের ১৩তম কাউন্সিলে তিনি প্রথম সভাপতি হন। সর্বশেষ ২০তম কাউন্সিলেও তিনি একই পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
 
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর ৬ বছর পর নির্বাসিত জীবন শেষ করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে আসেন।
- তার আগেই ১৯৮১ সালের ১৪ - ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দলীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
 
উৎস: প্রথম আলো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
৯,০১০.
বর্তমানে বীর প্রতীক খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত জন?
  1. ক) ৪২৪ জন
  2. খ) ১৭৫ জন
  3. গ) ৬৮ জন
  4. ঘ) ১৭৪ জন
ব্যাখ্যা
• বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন। 

এছাড়াও,
তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৯,০১১.
পাকিস্তান বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় কত সালে? 
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
ওআইসি’র লাহোর সম্মেলন ও বাংলাদেশের স্বীকৃতি:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো শুরুতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
- তবে দুই বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তিনি সিদ্ধান্ত বদল করেন।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রতিনিধি দল ওআইসি’র (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স) দ্বিতীয় সম্মেলনে যোগ দিতে লাহোর যান।
- লাহোর বিমানবন্দরে শেখ মুজিবকে ২১ বার তোপধ্বনি, গার্ড অব অনার, এবং বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত বাজিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের পর এটি ছিল শেখ মুজিবের প্রথম পাকিস্তান সফর।
- ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭২ সালে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলে ভুট্টো একাধিক দেশের সাথে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
- তবে ১৯৭৪ সালে মুসলিম দেশগুলোর চাপ এবং যুদ্ধবন্দীদের প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কারণে ভুট্টো এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
- লাহোর সম্মেলনে শেখ মুজিবের অংশগ্রহণ এবং পাকিস্তানের স্বীকৃতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করে।

উৎস: বিবিসি বাংলা (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪)
৯,০১২.
১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘কপ বা সম্মিলিত বিরোধী দল’ এর প্রার্থী ছিলেন-
  1. ক) ফাতেমা জিন্নাহ
  2. খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খান বিরোধী একক প্রার্থী দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কাউন্সিল মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি দল মিলে ‘সম্মিলিত বিরোধী দল’ বা ‘COP(কপ)- Combined Opposition Party’ নামে একটি জোট গঠন করে। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কপের প্রার্থী হিসেবে ফাতেমা জিন্নাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মৌলিক গণতন্ত্রীদের নিরঙ্কুশ সমর্থনে আইয়ুব খান ফাতেমা জিন্নাহকে সহজেই পরাজিত করতে সক্ষম হন। তিনি দ্বিতীয় বারের মত প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৯,০১৩.
উপ-মহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য কে?
  1. ড. সৈয়দুর রহমান 
  2. ড. ওসমান গণি
  3. স্যার এ. এফ. রহমান
  4. ড. মাহমুদ হাসান
ব্যাখ্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- উপ-মহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান উপাচার্য ছিলেন স্যার এ. এফ. রহমান।
উল্লেখ্য,
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯২০ সালে ভারতীয় বিধানসভায় গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনবলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গঠিত কমিশনের নাম ছিলো নাথান কমিশন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টজ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯,০১৪.
মৌলিক অধিকারের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সংবিধানে উল্লেখ থাকে
  2. সরকার কর্তৃক অলঙ্ঘনীয়
  3. ক ও খ উভয়ই
  4. সরকার কর্তৃক লঙ্ঘনীয়
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকার:
- যে সব অধিকার সংবিধানে উল্লেখ থাকে এবং সরকার কর্তৃক অলঙ্ঘনীয় সেগুলোকে মৌলিক অধিকার বলে।
- এসব সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার রাষ্ট্রের সংবিধানে উল্লেখ থাকে।
- মৌলিক অধিকারের মাধ্যমে নাগরিকরা সুসভ্যভাবে জীবন-যাপন করতে পারে।
- এ অধিকার সরকারের স্বৈরাচার রোধ করে।
- যে কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংবিধানে মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত থাকে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০১৫.
Where was the Martyred Intellectuals Memorial built?
  1. University of Dhaka
  2. Rayerbazar killing ground
  3. Mirpur, Dhaka
  4. Savar, Dhaka
ব্যাখ্যা

• শহিদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ:
- বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত বুদ্ধিজীবিকে হত্যাকরা হয়। 
-পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে মানবতাবিরোধী এই বর্বর কাজে সহায়তা করেছে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী।
-পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চূড়ান্ত পরাজয়ের দুই দিন পূর্বে ১৪ই ডিসেম্বর অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে।
- তাঁদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকার মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। 
- এর স্থপতি ছিলেন মোস্তফা আলী কুদ্দুস। ১৯৭২ সালে এই স্মৃতিসৌধের নির্মাণকাজ শেষ হয়।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,০১৬.
পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক নির্বাচন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৪ সালে
  3. গ) ১৯৫৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৭ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বংলার চারটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। এই জোটের প্রতীক ছিল নৌকা।
নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে সরকার গঠন করে। যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত হন এ কে ফজলুল হক। ব্যর্থতার অজুহাত তুলে ৩০ মে ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে কেন্দ্রের শাসন জারি করে। যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভার মেয়াদ ছিল ৫৬ দিন।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,০১৭.
১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক নির্বাচন মোট কতটি আসনে হয়েছিলো?
  1. ৩০৯
  2. ২৫৭
  3. ৩০১
  4. ২৯৮
ব্যাখ্যা

•যুক্তফ্রন্ট এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক নির্বাচন (১৯৫৪ সাল)
⇒  ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মুসলিম লীগ সরকার পরাজয়ের আশঙ্কায় নানা টালবাহানা করে নির্বাচনের তারিখ বারবার পিছিয়ে দেয়। অবশেষে সরকার পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ধার্য 
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে ৩০৯টি আসনে নির্বাচন হয়।
- নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।

⇒ নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে (আওয়ামী লীগ এককভাবে ১৪৩টি জয়ী হয় এবং প্রদত্ত ভোটের ৬৪% লাভ করে।
- সরকারি দল মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন যা প্রদত্ত ভোটের ২৭% মাত্র।
- বাকি ৫টি মুসলিম আসনের ৪টি পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং ১টি পায় খেলাফত-ই-রব্বানী পার্টি।
- এছাড়া মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনের সবকটিই যুক্তফ্রন্ট লাভ করে।
- নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,নবম ও দশম শ্রেণি।

৯,০১৮.
বঙ্গবন্ধুকে কখন “জুলিও কুরী” শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়?
  1. ২০ মে, ১৯৭৩
  2. ২১ মে, ১৯৭২
  3. ২২ মে, ১৯৭২
  4. ২৩ মে, ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুকে "জুলিও কুরী" পুরস্কার প্রদান:

পুরস্কার প্রদান তারিখ: ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে।

পুরস্কার:
বিশ্ব শান্তি পরিষদ শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জুলিও কুরী' শান্তি পদকে ভূষিত করে।

মনোনয়ন:
১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। এই পদকটি ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত হয়।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান:
১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

তথ্যসূত্র:
- কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামী লীগ ওয়েবসাইট।
৯,০১৯.
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে 'পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস' কতটি আসন লাভ করে?
  1. ১৭টি
  2. ২১টি
  3. ২৪টি
  4. ২৭টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:

- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত ৪টি দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
- এ চারটি দল হলো,
• আওয়ামী লীগ।
• কৃষক শ্রমিক পার্টি।
• নেজামে ইসলাম।
• গণতন্ত্রী দল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানত স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন। 
- ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন।
• ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আসন।
• পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস ২৪টি।
• তফসিল ফেডারেশন ২৭টি।
• খেলাফতে রব্বানী ২টি।
• খ্রিস্টান ১টি, বৌদ্ধ ১টি, কম্যুনিস্ট পার্টি ৪টি আসন লাভ করে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০২০.
'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের' আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. আবুল কাশেম
  2. আব্দুল মতিন
  3. গোলাম মাহবুব
  4. ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লা
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন: 
- ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন জিন্নাহর অনুকরণে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা প্রদান করেন।
- এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০শে জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে।
- আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- ৩১শে জানুয়ারি কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে নতুনভাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।
- ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়।
- ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ হরতাল পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,০২১.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. মে. জে. সফিউল্লাহ
  2. মে. জে. জিয়াউর রহমান
  3. লে. জে. এইচ. এম. এরশাদ
  4. জে. আতাউল গনি ওসমানী
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি/সরকার প্রধান/মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তিনি পাকিস্তানে বন্দী থাকার কারনে অস্থায়ী/ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন - উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস -১ম পত্র বই ও বাংলাপিডিয়া।
৯,০২২.
প্রাচীনকালে হরিকেল জনপদের অন্তর্গত ছিল-
  1. ঢাকা
  2. নীলফামারী
  3. ফরিদপুর
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
প্রাচীন বাংলার জনপদ:
- হরিকেল:
- সপ্তম শতকের লেখকরা হরিকেল নামে অপর একটি জনপদের বর্ণনা করেছেন।
- এ জনপদের অবস্থান ছিল বাংলার পূর্ব প্রান্তে।
- সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই জনপদ বিস্তৃত ছিল।

অন্যদিকে,
- সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে সমতটের অবস্থান।
- কেউ কেউ মনে করেন, সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত বলা হতো সমতট।
- কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে বড় কামতা এর রাজধানী ছিল।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটিও উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- অনুমান করা হয়, পুন্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইহিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,০২৩.
মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী সচিবালয় কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. মেহেরপুর
  2. কলকাতা
  3. ঢাকা
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার:
- ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তান হতে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের অধিকাংশ সদস্য প্রতিবেশি দেশ ভারতে আশ্রয় নেন। 
- তারা একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন। 
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়। 
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন। সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং দেশে-বিদেশে সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের সদস্যদের শপথ পাঠ করান । 
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন। 
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সচিবালয় কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০২৪.
১৯৪৭ সালে পাকিস্তানে মোট জনসংখ্যার শতকরা কত ভাগ মানুষের ভাষা ছিল বাংলা?
  1. ৯৮ ভাগ 
  2. ৬২ ভাগ 
  3. ৫৬ ভাগ 
  4. ৪৯ ভাগ 
ব্যাখ্যা

১৯৪৭ সালের ভাষাগত পরিসংখ্যান:
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় পাকিস্তানের ভাষাগত জনসংখ্যার একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, মোট জনসংখ্যার
- ৫৬% বাংলা,
- ২৮.০৪% পাঞ্জাবি, 
- ৫.৮% সিন্ধি, 
- ৭.১% পশতু, 
- ৭.২% উর্দু এবং 
- বাকি অন্যান্য ভাষাভাষী নাগরিক। 
- এর থেকে দেখা যায় উর্দু ছিল পাকিস্তানি ভাষাভাষির দিক থেকে ৩য় স্থানে। 

উল্লেখ্য, 
- তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের জনসংখ্যার ৪.৪০ কোটির মধ্যে ৪.১৩ কোটি ছিল বাংলা ভাষাভাষী।
- এখানে ৯৮% বাংলা এবং মাত্র ১.১% ছিল উর্দু ভাষী।
- অথচ বাংলা ভাষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়। - কিন্তু সংগ্রামের ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি জাতি মাতৃভাষার ওপর এ আঘাতের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

উৎস: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,০২৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুর জেলা কত নং সেক্টরে ছিল?
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯,০২৬.
বাংলাদেশকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত’ বা ‘ধনসম্পদপূর্ণ নরক’ বলে অভিহিত করেন-
  1. ক) ফা-হিয়েন
  2. খ) ইবনে বতুতা
  3. গ) মেগাস্থিনিস
  4. ঘ) হিউয়েন সাং
ব্যাখ্যা
মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন। ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে বাংলার জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রাচুর্য ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেশটিকে বসবাসের জন্য খুবই আকর্ষণীয় বললেও, এদেশের আবহাওয়া তাঁর পছন্দ হয়নি। এজন্য বাংলাদেশকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত’ অর্থাৎ ‘প্রাচুর্যপূর্ণ নরক’ বলে অভিহিত করেছন। সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
৯,০২৭.
কোন সম্রাটের দ্বারা শায়েস্তা খান বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত হন?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. শাহজাহান
  3. আওরঙ্গজেব
  4. বাহাদুর শাহ
ব্যাখ্যা

শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের প্রকৃত নাম ছিল আবু তালিব।
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে শায়েস্তা খান নাম দেন। শায়েস্তা খান সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা ছিলেন।
- ১৬৬৩ সালে বাংলার সুবাদার মীর জুমলার মৃত্যু হলে ১৬৬৪ সালে আওরঙ্গজেব শায়েস্তা খানকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত করেন।

উল্লেখ্য,
- সিংহাসনে আরোহণের পর আওরঙ্গজেব তাঁকে উচ্চতর পদমর্যাদা দান করেন এবং উত্তরাধিকার যুদ্ধে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ আমীর-উল-উমারা (আমীরদের বা অভিজাতদের প্রধান) উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- শায়েস্তা খান ৬৩ বছর বয়সে প্রথম বাংলায় আসেন।
- দুই দফায় ২২ বছর তিনি বাংলা শাসন করেন। প্রথমে ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ সাল এবং দ্বিতীয় বার ১৬৮০ থেকে ১৬৮৮ সাল পর্যন্ত যা ছিল মুঘল আমলে বাংলার দীর্ঘতম শাসনকাল। 
- শায়েস্তা খানের বিজয়াভিযানের মধ্যে চট্টগ্রাম বিজয় উল্লেখযোগ্য।
- ১৪৫৯ সালে আরকান রাজ চট্টগ্রামকে বাংলার সুলতানদের নিকট থেকে দখল করে নিয়েছিলেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,০২৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ প্রভৃতিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ক) ৭ক নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ৭খ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ৮ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৬ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

- সংবিধানের ৭ক নং অনুচ্ছেদ অনুসারে শক্তি প্রয়োগ বা অন্যকোন অসাংবিধানিক পন্থায় সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ কিংবা এরূপ কর্মের উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকা বা এরূপ কর্মে সহযোগিতা ও অনুসমর্থন প্রদান প্রভৃতিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়।
- সংবিধানের ৭খ নং অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
- ৬ নং অনুচ্ছেদ : নাগরিকত্ব
- ৮ নং অনুচ্ছেদ : মূলনীতিসমূহ।

(সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)

৯,০২৯.
‘ছয়দফা‘ কখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ক) ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  2. খ) ২২ মার্চ, ১৯৬৬
  3. গ) ২০ এপ্রিল, ১৯৬৬
  4. ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- ২৩শে মার্চ ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে, বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপনের জের ধরে গ্রেপ্তার হন।

- ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফা দাবী এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবীতে হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়।
- এর ফলশ্রুতিতে ৭ জুনকে ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
৯,০৩০.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ‘চরমপত্র‘ কে উপস্থাপন করতেন?
  1. গাজী মাজহারুল ইসলাম
  2. গোলাপ হায়দার চৌধুরি
  3. এম. আর. আখতার মুকুল
  4. আপেল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র :
-স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
-১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ফলে এটি অচল হয়ে যায়।
-২৫ মে তারিখ কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং একই দিনে সেখানে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে।
-স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন - আবদুল মান্নান ।
- এম.আর আখতার মুকুল, এর উপস্থাপক ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯,০৩১.
During liberation 'Afsar Battalion' was active in -
  1. Mymensingh
  2. Rangpur
  3. Barisal
  4. Comilla
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৯,০৩২.
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতন কোন সালে ঘটে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা

• এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের পতন:
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
- ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে হামলা চালায় নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের ক্যাডাররা।
- সে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন।
- এর পর সারাদেশের শহর-বন্দর, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বিবিসি বাংলা।

৯,০৩৩.
মুক্তিযুদ্ধে কোন সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল হরিনাতে?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৩নং সেক্টর
  4. ৪নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ৬৪টি সাব-সেক্টর গঠন করা হয়।
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম–পার্বত্য চট্টগ্রাম; হেডকোয়ার্টার হরিনাতে; কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান ও মেজর রফিকুল ইসলাম।
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর, নোয়াখালি; সদর মেলাঘর; কমান্ডার খালেদ মোশাররফ ও এ.টি.এম. হায়দার।
- ৩নং সেক্টর: সিলেট-শ্রীমঙ্গল এলাকা; কমান্ডার কে.এম. শফিউল্লাহ ও এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
- ৪নং সেক্টর: সিলেট সীমান্ত অঞ্চল; হেডকোয়ার্টার করিমগঞ্জ-মাসিমপুর; কমান্ডার সি.আর. দত্ত ও ক্যাপ্টেন এ রব।
- ৫নং সেক্টর: ডাউকি-দুর্গাপুর এলাকা; হেডকোয়ার্টার বাঁশতলা; কমান্ডার মীর শওকত আলী।
- ৬নং সেক্টর: রংপুর-ঠাকুরগাঁও অঞ্চল; কমান্ডার এম. খাদেমুল বাশার।
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী-বগুড়া এলাকা; কমান্ডার নাজমুল হক, এ. রব, কাজী নূরুজ্জামান।
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া-যশোর-খুলনা এলাকা; কমান্ডার আবু ওসমান ও এম.এ মঞ্জুর।
- ৯নং সেক্টর: বরিশাল-পটুয়াখালী-খুলনার অংশ; হেডকোয়ার্টার টাকি; কমান্ডার এম.এ জলিল, মঞ্জুর, জয়নাল আবেদীন।
- ১০ ও ১১নং সেক্টর: ১০ নং ছিল নৌ-কমান্ডো সেক্টর (নিয়মিত কমান্ডার ছিল না), ১১ নং ছিল ময়মনসিংহ এলাকা; কমান্ডার এম. আবু তাহের ও হামিদুল্লাহ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯,০৩৪.
তারামন বিবি কোন সেক্টরের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ৭নং সেক্টর
  3. ৯নং সেক্টর
  4. ১১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

 • মুক্তিযুদ্ধে নারী, শিশু ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী:
- মুক্তিযুদ্ধে নারীদের বিশেষ অবদানের জন্য দুজন মহিলাকে বীরত্বসূচক 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রদান করা হয়।
- তারা হলেন-ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম (২নং সেক্টর) এবং তারামন বিবি (১১নং সেক্টর)।
- খেতাবহীন বীর মহিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের কাঁকন বিবি পরিচিত, যার আসল নাম ছিল কাঁকাত হেনিনচিতা।
- তিনি 'মুক্তিবেটি' নামেও পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনা বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লাখ নারী।
- এই নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয়ভাবে 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৯,০৩৫.
জনসংখ্যা ও গৃহায়ন শুমারি ২০২২ অনুযায়ী কোন বিভাগে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) রংপুর
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
জনসংখ্যা ও গৃহায়ন শুমারি ২০২২:

- জনসংখ্যা ও গৃহায়ন শুমারি ২০২২-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২২%।
- ২০০১ সালে বাংলাদেশে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ছিল ১.৫৮% যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে ২০১১ সালে ১.৩৭% এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে ১.২২% এ উপনীত হয়।
- বিভাগভিত্তিক জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার লক্ষ করলে দেখা যায় যে, ২০২২ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১.৭৪%।
- বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন ০.৭৯%।

তথ্যসূত্র - জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদন।
৯,০৩৬.
কে ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. শামস-ই-সিরাজ আফীফ
  4. ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহ
ব্যাখ্যা

শামস-ই-সিরাজ আফীফ ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ:

- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করলেও সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভ করেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই- সিরাজ আফীফ ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ" এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,০৩৭.
NILG এর পূর্ণরূপ-
  1. National Information Legal Guide
  2. National Institute of Local Government
  3. National Identity Licence Guide
  4. National Industrial League Group
ব্যাখ্যা
• NILG:
- জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি)
- NILG-এর পূর্ণরুপ - National Institute of Local Government 
- বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সম্পৃক্ত মানব সম্পদের উন্নয়নে নিয়োজিত একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৯ সালের ১ জুলাই “ইস্ট পাকিস্তান গভর্ণমেন্ট এডুকেশনাল এ- ট্রেনিং ইনস্টিটিউশনস অর্ডিন্যান্স” ১৯৬১ অনুসারে স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।

- ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি)।
- প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি) আইন, ১৯৯২ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৯,০৩৮.
Who among the following had led the Aligarh Movement?
  1. Sir Sayyid Ahmad Khan
  2. Maulana Muhammad Ali
  3. Syed Ameer Ali
  4. Altaf Hussain
  5. Nawab Abdul Latif
ব্যাখ্যা
আলীগড় আন্দোলন:
- আলীগড় আন্দোলন হচ্ছে আলীগড়ভিত্তিক সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলন।
- স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে আলীগড় আন্দোলন সংঘটিত হয়। 

⇒ ১৮৭৫ সালে সৈয়দ আহমদ খান আলীগড়ে 'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।
- এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর আলীগড় ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- সৈয়দ আহমদ খান এ আলীগড় কলেজকে কেন্দ্র করে অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- ইতিহাসে এটিই 'আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ।
- এ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করে।
- পরবর্তীকালে আলীগড় কলেজ ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৩৯.
মুঘল আমলের রাষ্ট্র ভাষা কী ছিল?
  1. উর্দু
  2. বাংলা
  3. আরবি
  4. ফার্সি
ব্যাখ্যা
• মুঘল আমল:
- ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা - জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।
- মুঘল যুগে ভারতীয় সমাজ ছিল সামন্ততান্ত্রিক।
- মুঘল আমলে রাষ্ট্র ভাষা ছিল - ফার্সি। 
- মুঘল সম্রাট আকবর দীন-ই-ইলাহী ধর্মমত চালু করেন। 
- মুঘল সম্রাটদের মধ্যে সর্বপ্রথম আত্মজীবনী লেখেন - সম্রাট বাবর।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৪০.
জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে 'আমার সোনার বাংলা' গানের কতটি চরণ নির্ধারিত?
  1. ১০টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

জাতীয় সঙ্গীত

- বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হলো ‘আমার সোনার বাংলা’।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৬ সালে রচনা করেন।
- গানটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
- বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) বিরোধী আন্দোলনে গানটি দেশপ্রেম জাগানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত প্রচার হতো।
- স্বাধীনতার পর সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪.১ অনুযায়ী গানটি জাতীয় সঙ্গীত ঘোষিত হয়।
-  ১৯৭২ সালের ১৩ই জানুয়ারি বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে 'আমার সোনার বাংলা'র প্রথম দশ চরণ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্বাচিত হয়।
- গানের প্রথম ১০ ছত্র কণ্ঠসঙ্গীত হিসেবে নির্ধারিত।
- গানের প্রথম ৪ ছত্র যন্ত্রসঙ্গীত হিসেবে পরিবেশনের বিধান রয়েছে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাপিডিয়া।
iii) বিবিসি।

৯,০৪১.
বিক্রমাদিত্য কার উপাধি ছিল?
  1. ১ম চন্দ্রগুপ্ত
  2. ২য় চন্দ্রগুপ্ত
  3. শ্রীগুপ্ত
  4. ভিনসেন্ট স্মিথ
ব্যাখ্যা

 • দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত:
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই গুপ্ত সাম্রাজ্য উন্নতি ও গৌরবের চরম শিখরে পৌঁছেছিল।
- সমুদ্রগুপ্তকে যদি গুপ্ত সাম্রাজ্যের বিস্তারকর্তা বলা যায় তবে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তকে এই সাম্রাজ্যের সংগঠক বলা চলে।
- তিনি ছিলেন একজন বীরযোদ্ধা ও সুদক্ষ শাসক।
- সামরিক প্রতিভার পাশাপাশি সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতিও তাঁর ছিল প্রগাঢ় অনুরাগ।
- বিদ্যোৎসাহী সম্রাট হিসেবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- মহাকবি কালিদাস ছিলেন তাঁর সমকালীন।
- নব-রত্নের বেশ কয়েকজন তাঁর সভা অলংকৃত করতেন।
- তিনি 'বিক্রমাদিত্য' বা 'শক্তির সূর্য' উপাধী গ্রহণ করেন।
- এই উপাধীর কারণে অনেকেই দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তকে 'কিংবদন্তীর বিক্রমাদিত্য' হিসেবে মনে করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,০৪২.
'আদিনা মসজিদ' কোন শাসকের তৈরী?
  1. ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ
  2. আলাউদ্দীন আলী শাহ
  3. জালাল উদ্দীন শাহ
  4. সিকান্দর শাহ
ব্যাখ্যা
সিকান্দর শাহ:
- ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেন।
- তাঁর এ সুদীর্ঘ রাজত্বকালে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সিকান্দর শাহ সুশাসক ও বিদ্যানুরাগী ছিলেন। 
- সুফি শেখ আলাউল হক ও শেখ শরফউদ্দীন ইয়াহিয়ার সাথে সিকান্দর শাহের সৌহার্দ্য ও পত্রালাপ ছিল।
- তাঁর রাজত্বকালে স্থাপত্যশিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয়।
- তাঁর সময় তৈরি 'আদিনা মসজিদ' মধ্যযুগের বাংলার স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৪৩.
১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করেন-
  1. ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ সালে
  2. ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ সালে
  3. ১ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  4. ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
• সত্তরের নির্বাচন ও জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতকরণ:
- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম এবং শেষ সাধারণ নির্বাচন।
- সমগ্র পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ছিল ৩১৩ টি, যার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের আসন সংখ্যা ছিল ১৬৯ টি (৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ)।
- এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসন লাভকরে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করে।
- তিনি ৩ মার্চ, ১৯৭১ এ অনুষ্ঠাতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ১ মার্চ স্থগিত করেন।
- ৩ মার্চ (১৯৭১) অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং পরদিন সারাদেশে হরতাল ডাকেন।
- তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- ২ এবং ৩ মার্চ হরতালের ফলে সকল সরকারি কর্মকাণ্ড অচল হয়ে পড়ে।
- পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ৩ মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় পল্টন ময়দানে আয়োজিত জনসভায় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গ্রহণ করে।
- সভায় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে 'স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি' শীর্ষক একটি ইশতেহার প্রচার করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯,০৪৪.
কোনটি ‘দোয়েল’ নামে পরিচিত নয়?
  1. ক) একটি উন্নত জাতের ইক্ষু
  2. খ) একটি উন্নত জাতের গম
  3. গ) এক ধরনের পাখি
  4. ঘ) একটি ল্যাপটপ
ব্যাখ্যা
টেশিস তৈরি করেছিলো স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ দোয়েল। কৃষিশিক্ষা বোর্ডবই এবং কৃষি তথ্য সার্ভিস অনুসারে দোয়েল হচ্ছে গমের একটি জাত৷ এবং বাংলাদেশের জাতীয় পাখিও দোয়েল। সুতরাং, 'দোয়েল উন্নত জাতের ইক্ষু নয়' হবে সঠিক উত্তর৷
৯,০৪৫.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড হেস্টিংস 
  3. লর্ড বেন্টিংক 
  4. লর্ড ডালহৌসি 
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত: 
- কোম্পানির শাসন দুর্নীতিমুক্ত ও সুসংগঠিত করতে ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসকে ভারতের গভর্নর জেনারেল ও সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়।
- তিনি ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- ঐ বছর ২২শে মার্চ নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে বন্দোবস্ত চালু করা হয়, তাকেই 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯,০৪৬.
২৬ মার্চ ১৯৭১-এর স্বাধীনতা ঘোষণা বঙ্গবন্ধু জারী করেন-
  1. বেতার/রেডিওর মাধ্যমে
  2. ওয়্যারলেসের মাধ্যমে
  3. টেলিগ্রামের মাধ্যমে
  4. টেলিভিশনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর স্বাধীনতা ঘোষণা বঙ্গবন্ধু জারী করেন- ওয়্যারলেসের মাধ্যমে। 
----------------------------------- 
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা: 
• ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড শুরু করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনই স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
• ২৫ মার্চ রাত দেড়টার পর (অর্থাৎ ২৬ মার্চ) পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে বন্দী হবার পূর্বেই বঙ্গবন্ধু টি.এন্ড.টি ও ই.পি.আর (বর্তমান বি.জি.বি)-এর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে স্বাধীনতার ঘোষণা পৌঁছে দেন।

-------------------- 
স্বাধীনতা দিবস:
- ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস।
- ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর ২৬ শে মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
- ১৯৮১ সাল থেকে ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

• স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

তথ্যসূত্র: হাসান হাফিজর রহমান (সম্পাদিত), বাংলাদেেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া।
৯,০৪৭.
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী 
  2. ঢাকা
  3. ময়মনসিংহ 
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ):
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ময়মনসিংহে অবস্থিত।
- এটি সর্বপ্রথম জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- মহান স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি)গুলো রূপান্তরিত হয়ে কলেজ অব এডুকেশন নামে যাত্রা শুরু করে।
- ১৯৭৮ সালে ময়মনসিংহস্থ কলেজ অব এডুকেশনটি "মৌলিক শিক্ষা একাডেমি" (Academy for Fundamental Education) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)"।
- এই একাডেমি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে।

উৎস: নেপ ওয়েবসাইট।

৯,০৪৮.
তেলিয়াপাড়া বাংলোয় অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠকে নেতৃত্বে দেন কে?
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. কর্নেল ওসমানী
  3. কর্নেল ফারুক
  4. কর্নেল খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
• তেলিয়াপাড়া রণকৌশল:
 - তেলিয়াপাড়া বাংলোয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার গঠনের পূর্বে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন সিলেট জেলার (বর্তমান হবিগঞ্জ জেলা) তেলিয়াপাড়ায় এক চা বাগানের ব্যবস্থাপকের বাংলোতে কর্নেল ওসমানীর নেতৃত্বে ২৭ জন সেনা কর্মকর্তা, আনসার, পুলিশ, সিএসপি অফিসার এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের নিয়ে যে যুদ্ধ কৌশল প্রস্তুত করা হয়েছিল, সেটি 'তেলিয়াপাড়া রণকৌশল' নামে পরিচিত।

উৎস: মাধবপুর উপজেলা ওয়েবসাইট।
৯,০৪৯.
সমতট জনপদটি কোন কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল?
  1. ঢাকা ও ময়মনসিংহ
  2. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  3. রাজশাহী ও বগুড়া
  4. বরিশাল ও পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা

• সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,০৫০.
বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি কোথায় অবস্থিত?
  1. পাবনা
  2. গাজীপুরে
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. নরসিংদী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরী:
- বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি গাজীপুরে অবস্থিত।
- এটি একটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যধর্মী প্রতিষ্ঠান।
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক যন্ত্রাংশ তৈরি ও যুক্তকরণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯,০৫১.
'জয় বাংলা, বাংলার জয়' গানটির সুর করেন কে?
  1. আপেল মাহমুদ
  2. রথীন্দ্রনাথ রায়
  3. সমর দাস
  4. আনোয়ার পারভেজ
ব্যাখ্যা
জয় বাংলা, বাংলার জয়:
- ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানটিকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণসংগীত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্রনির্বিশেষে এই গানকে আরাধ্য করেই মুক্তির পথে এগিয়ে যায় সমগ্র বাঙালি। এই গান স্বাধীন বাংলা বেতারের সূচনা সংগীত; জাতীয় স্লোগানও বটে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধে কালজয়ী ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানটি সারা জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে, সেই গানের সুরস্রষ্টা আনোয়ার পারভেজ।
-  গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। 

উল্লেখ্য,
‘জয় বাংলা বাংলার জয়
জয় বাংলা বাংলার জয়
হবে হবে হবে হবে নিশ্চয়
কোটি প্রাণ এক সাথে জেগেছে অন্ধ রাতে
নতুন সূর্য ওঠার এই তো সময়...’

উৎস: প্রথম আলো।
৯,০৫২.
ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনের শহীদ -
  1. ক) সালাম
  2. খ) ভানুসিংহ
  3. গ) মনুমিয়া
  4. ঘ) শফিউর
ব্যাখ্যা
ছয়দফার প্রতিক্রিয়া
- ১৯৬৬ সালের ১৩ মার্চ আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে ছয় দফা কর্মসূচি গৃহীত হয়।
- বঙ্গবন্ধু ছয় দফাকে ‘আমাদের বাঁচার দাবি' আখ্যায়িত করেন।
- আইয়ুব খানের সরকার প্রচার করতে থাকে যে, ছয় দফা হচ্ছে রাষ্ট্র বিরোধী আন্দোলন।
- তখন রাজনৈতিক নেতাদের উপর শুরু হয় হয়রানি ও নির্যাতন।
- ১৯৬৬ সালের ৮ মে শেখ মুজিবুর রহমানকে দেশরক্ষা আইনে গ্রেফতার করা হয়। 
- নেতাদের মুক্তির দাবিতে ৭ জুন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতালের ডাক দেয়া হয়।
- সরকারের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে প্রতিবাদী মানুষ মিছিল বের করে।
- ধর্মঘটের সময় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টঙ্গী ও তেজগাঁও শিল্প এলাকায় পুলিশের গুলিতে মনু মিয়াসহ ১১ জন শ্রমিক নিহত হয়।

অন্যদিকে -
- সালাম, শফিউর ভাষা আন্দোলনের শহীদ।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৫৩.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস না হওয়ার প্রধান কারণ - 
  1. সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো
  2. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো
  3. ভারতের আপত্তি
  4. চীনের অনুপস্থিতি
ব্যাখ্যা

- সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো দেওয়ায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হয়নি।
- এটি বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক বিজয় ছিল।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিনবারই ভেটো দেয়।
- এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।

৯,০৫৪.
বাংলাদেশে আইনপ্রণয়নে আইনসভা বা জাতীয় সংসদের পর মূখ্য ভূমিকা পালন করে -
  1. মন্ত্রীসভা
  2. সচিবালয়
  3. বিচার বিভাগ
  4. রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

আইন প্রণয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা মুখ্য ভূমিকা পালন করে আইনসভা। বাংলাদেশে আইনসভা জাতীয় সংসদ নামে পরিচিত।
যেকোন ধরনের সরকারি আইন প্রণয়নের দায়িত্ব সংসদের উপর ন্যস্ত। আইনসভার পরেই আইন প্রণয়নে মন্ত্রিসভার ভূমিকা মুখ্য।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করতে পারেন।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী

৯,০৫৫.
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে 'হেমায়েত বাহিনী' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করেছে?
  1. টাঙ্গাইল
  2. ময়মনসিংহ
  3. সিরাজগঞ্জ
  4. গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৯,০৫৬.
প্রাচীন বাংলার নিদর্শন সোমপুর বিহার কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বগুড়া
  2. নওগাঁ
  3. রাজশাহী
  4. জয়পুরহাট
ব্যাখ্যা
সোমপুর বিহার:
- অবস্থান: নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বিহার।
-  নির্মাতা: রাজবংশের রাজা ধর্মপাল  অষ্টম শতকের শেষ দিকে এ বিহার নির্মাণ করেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- সোমপুর বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিহার।
- মোট ৭০.৩১ একর জমির উপর সোমবার বিহার অবস্থিত। 
- পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭ টি কক্ষ ছিল।
-  বেলে পাথরের চামুণ্ডা মূর্তি, লাল পাথরের দণ্ডায়মান শীতলা মূর্তি, কৃষ্ণ পাথরের বিষ্ণুর খণ্ডাংশ, কৃষ্ণ পাথরের দণ্ডায়মান গণেশ, বেলে পাথরের কীর্তি মূর্তি, দুবলহাটির মহারাণীর তৈলচিত্র পাওয়া গেছে এখানে।
- ১০ম শতাব্দীর শেষভাগে পাল বংশীয় রাজা মহিপাল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন ও সোমপুর বিহার মেরামত করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে। 

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প।
৯,০৫৭.
ইউরোপীয়দের মধ্যে কারা প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে?
  1. ফরাসিরা
  2. পর্তুগিজরা
  3. ডাচরা
  4. ইংরেজরা
ব্যাখ্যা

চট্টগ্রাম:
- চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও বাণিজ্যিক রাজধানী।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত।

⇒ ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে
- পর্তুগিজরা প্রথমে জন দ্য সিলভিরার নেতৃত্বে ১৫১৭ সালে এবং পরে আলফন্সো দ্য মিলোর নেতৃত্বে ১৫২৭ সালে চট্টগ্রাম দখলের ব্যর্থ চেষ্টা করে। 
- তারা বাংলার সুলতান মাহমুদ শাহকে সাহায্য করার বিনিময়ে তার কাছ থেকে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়েরও অধিকার লাভ করে। 
- এটিকে পর্তুগিজরা পোর্টো গ্র্যান্ডে নামকরণ করেন।
- জোয়াও ডি ব্যারোস ১৫৫২ সালে 'বাংলা রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ধনী শহর' হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। 
- সাতগাঁও বন্দরের নামকরণ হয় ‘পোর্টো পেকুইনে’।
- ১৬৬৫-৬৬ সালে বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম অভিযান করে অতর্কিত আক্রমণে বন্দরটি দখল করে নেন।
- চট্টগ্রাম ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) Britannica.

৯,০৫৮.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহতদের সরকারিভাবে কী নামে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে?
  1. জুলাই যোদ্ধা
  2. জুলাই সৈনিক
  3. অকুতোভয় বীর
  4. জুলাই কমরেড
ব্যাখ্যা
• 'জুলাই যোদ্ধা':
- গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ১৪০১ জনকে "জুলাই যোদ্ধা" স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।
- অতি গুরুতর ৪৯৩ জন আহতকে 'ক' শ্রেণিতে এবং গুরুতর আহত ৯০৮ জনকে 'খ' শ্রেণিতে রেখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তালিকা প্রকাশ করে।
- গেজেটে আহতদের মেডিকেল কেস আইডি, নাম, বাবা-মায়ের নাম ও স্থায়ী ঠিকানা প্রকাশ করা হয়।
- আহতদের ধরন ভেদে 'গ' শ্রেণির তালিকাও প্রকাশ করবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
- এসব তালিকা ধরে গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের আর্থিকভাবে সহায়তা করবে সরকার।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও যুগান্তর। 
৯,০৫৯.
বাংলায় হাবসি শাসনের স্থায়িত্বকাল কত বছর ছিল?
  1. ক) দশ বছর
  2. খ) নয় বছর
  3. গ) ছয় বছর
  4. ঘ) আট বছর
ব্যাখ্যা
- বাংলায় হাবসি শাসন মাত্র ছয় বছর (১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) স্থায়ী ছিল। এ সময়ে চারজন হাবসি সুলতান ক্ষমতায় আসেন, তাদের মধ্যে তিনজনকেই হত্যা করা হয়।
- হাবসি নেতা সুলতান শাহাজাদা ‘বরকত শাহ’ উপাধি নিয়ে প্রথম বাংলার ক্ষমতায় বসেন। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই তিনি সেনাপতি মালিক আন্দিলের হাতে নিহত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,০৬০.
সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের জন্য 'ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট' (NDF) গঠন করেন কে?
  1. ক) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  2. খ) নুরুল আমীন
  3. গ) মাওলানা ভাসানী
  4. ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
NDF গঠন

১৯৬২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আইয়ুব বিরোধী ও গণতন্ত্রের সপক্ষ শক্তিসমূহের একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট গঠিত হয়। এ ফ্রন্টের নামকরণ করা হয় National Democratic Front, যা সংক্ষেপে NDF নামেই সমধিক পরিচিতি অর্জন করে।

NDF-এর সরকার বিরোধী তথা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ড রাজনীতি সচেতন মানুষকে আগ্রহী ও আশাবাদী করে তোলে। NDF-এর স্বপ্নদ্রষ্টা ও মূল নেতা ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

NDF গঠিত হলে প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান ভীত ও বিচলিত হয়ে পড়েন এজন্যই NDF গঠনের মাত্র এক সপ্তাহ পর করাচিতে সোহরাওয়ার্দীকে 'জননিরাপত্তা আইনে' গ্রেপ্তার করা হয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯,০৬১.
বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন প্রথম ব্যবহৃত হয়েছে
  1. অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রেজেনেকা-কোভিশিল্ড
  2. সিনোভ্যাক্সের করোনাভ্যাক
  3. ফাইজারের বায়োএনটেক
  4. জনসন এন্ড জনসন-জনসেন
ব্যাখ্যা
- ২৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে দেশে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু হয়।
- ওই দিন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন নার্সকে টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
- ভারত থেকে উপহার হিসেবে আসা সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ টিকা দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো। [লিঙ্ক]
৯,০৬২.
What was the 'Third point' of the six point movement?
  1. Powers relating to revenue, taxation, or duties
  2. Currency or money-related power
  3. Powers of Central Government
  4. Power to form regional armies
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনাকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।

• দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

 উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯,০৬৩.
সাত গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন কে?
  1. শায়েস্তা খাঁ
  2. উমিদ খাঁ
  3. মুর্শিদ কুলি খাঁ
  4. সুজা উদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
• সাত গম্বুজ মসজিদ: 
- অবস্থান: ঢাকা, মোহাম্মদপুর (কাটাসুর-বাঁশবাড়ী সড়কের পাশে)।
- নির্মাণকাল: ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ।
- নির্মাতা: উমিদ খাঁ (মোগল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর পুত্র)।
- গম্বুজ সংখ্যা: ৭টি (৩টি বড় গম্বুজ ও ৪টি অনু গম্বুজ)।
- মিনার সংখ্যা: ৪টি (চার কোণায়)।
- মসজিদটি লালবাগ কেল্লার মসজিদ ও খাজা আম্বর মসজিদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।
৯,০৬৪.
ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল কত ‍দিন?
  1. ক) ৫৬
  2. খ) ১৫
  3. গ) ১৪
  4. ঘ) ৫৫
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা: 
১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র---এ কে ফজলুল হক
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার--আবু হোসেন সরকার
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী---আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরি
৪. সৈয়দ আজিজুল হক--শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
• পরবর্তীতে ১৫ মে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। 

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন। ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
৯,০৬৫.
হিউয়েন সাঙ কোন সময়ে সমতটে এসেছিলেন?
  1. ৫ম শতকে
  2. ৬ষ্ঠ শতকে
  3. ৭ম শতকে
  4. ৮ম শতকে
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৬৬.
পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. গোপাল
  2. রামপাল
  3. ধর্মপাল
  4. দেবপাল
ব্যাখ্যা

পাল রাজবংশ:
- পাল বংশ আট শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় চারশত বছর বাংলা ও বিহারে শাসনকারী রাজবংশ।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে। এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

⇒ গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন। তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

⇒ পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। পালযুগে বৌদ্ধ ধর্ম প্রসার লাভ করেছিল তিববত, জাভা, সুমাত্রা ও মালয়েশিয়াতে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,০৬৭.
সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয় কত সালে?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে।
- ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা প্রণীত 'বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন' ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।
- ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ সালে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।
- ১৯৯২ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধীনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তথ্যসূত্র - প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৯,০৬৮.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশের নাগরিক?
  1. ক) ইতালি
  2. খ) অস্ট্রেলিয়া
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) কানাডা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক হলেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।

তিনি ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ওডারল্যান্ড ২নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। তিনি ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৯,০৬৯.
’কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেননা-
  1. রবিশঙ্কর
  2. অ্যালেন গিন্সবার্গ
  3. জর্জ হ্যারিসন
  4. বব ডিলান
ব্যাখ্যা
• ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- পণ্ডিত রবিশঙ্কর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য–বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন।
- এতে অংশ নিয়েছিলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর, ওস্তাদ আলী আকবর খান, ওস্তাদ আল্লা রাখা।
- পশ্চিমের তারকাদের মধ্যে জর্জ হ্যারিসন ছাড়া ছিলেন রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, লিওন রাসেল, বিলি প্রেস্টন প্রমুখ।
- ৪০ থেকে ৫০ হাজার দর্শনার্থীর এ অনুষ্ঠান থেকে সংগৃহীত হয়েছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ দশমিক ৫০ ডলার।

• অ্যালেন গিন্সবার্গ, ছিলেন একজন মার্কিন কবি ও গীতিকার।
- ১৯৭১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে নৌকায় করে বাংলাদেশের যশোর সীমান্তে পৌঁছান।
- তিনি সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসকারী উদ্বাস্তুদের দুর্দশা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান
- এবং দেশে ফিরে 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড' নামক একটি কবিতা লিখেন, যা নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়।

উৎস: প্রথম আলো।
৯,০৭০.
কার নামানুসারে কুমিল্লা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন "ময়নামতি" নামকরণ হয়েছে?
  1. পাহাড়ের নামানুসারে
  2. রাজা মানিক চন্দ্রের নামানুসারে
  3. রাজা শ্রীভবদেব নামানুসারে
  4. রাজা মানিক চন্দ্রের স্ত্রীর নামানুসারে
ব্যাখ্যা
→ রাজা মানিক চন্দ্রের স্ত্রীর নামানুসারে  নামকরণ হয় ময়নামতি।

• ময়নামতি:

- ময়নামতি বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্ম ও প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
- কুমিল্লা শহরের সাত কিলোমিটার পশ্চিমে কোটবাড়িতে বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি অবস্থিত।
- এখান থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে ময়নামতির শালবন বিহার ধ্বংসাবশেষ।
- সমগ্র প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকাটি ময়নামতি-লালমাই পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ১১ মাইল এলাকা জুড়ে অবস্থিত।

• উৎপত্তি ও নামকরণ:

- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ময়নামতিতে ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়।
- অষ্টম-দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ময়নামতিতে বৌদ্ধধর্ম কেন্দ্র করে এক উন্নত সভ্যতার বিকাশলাভ ঘটে।
- ১৯৫৫-৫৬ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এখানে জরিপ কাজ করে।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন হিসেবে ৫৪টি স্থান সংরক্ষণ করার জন্য চিহ্নিত করে।
- অষ্টম শতাব্দীতে রাজা বুদ্ধদেব ময়নামতি বিহার প্রতিষ্ঠা করেন বলে ধারণা করা হয়।
- ৯ম ও ১০ম শতকে এ অঞ্চলে চন্দ্রবংশীয় বৌদ্ধ রাজাদের আধিপত্য ছিল।
- চন্দ্রবংশীয় রাজাদের মধ্যে প্রখ্যাত ছিলেন রাজা মানিক চন্দ্র।
- রাজা মানিক চন্দ্র স্ত্রী রাণী ময়মনামতি।
- রাণী ময়নামতির নামানুসারে এ স্থানের নামকরণ হয় ময়নামতি।

উৎস: সমাজ বিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৭১.
মুজিবনগর সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের আহবায়ক ছিলেন-
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা

একাত্তরের ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করার জন্য আওয়ামী লীগসহ পাঁচটি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় ৮ সদস্যের 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ'
- এই পরিষদের নেতৃবৃন্দ মূলত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একাত্তরের ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত মুজিবনগর সরকারকেই সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছিল।
- আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করায় বিশ্বব্যাপী মুজিবনগর সরকার একটিই বার্তা দিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবি বাঙালির সর্বজনীন; কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক কোনো বিষয় নয়।
- ভারতের কলকাতায় গঠন করা হয় 'জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি', যা 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ' নামে পরিচিতি লাভ করে।

৮ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিতে ছিলেন -
- আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমেদ।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন-
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)

উৎস- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক এবং নবম - দশম শ্রেণীর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,০৭২.
জাতীয় ই-তথ্যকোষ উদ্বোধন করা হয় কবে?
  1. ক) ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১
  2. খ) ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১১
  3. গ) ১৬ ডিসেম্বর ২০১১
  4. ঘ) ১০ জানুয়ারি ২০১০
ব্যাখ্যা
জাতীয় ‘ই-তথ্যকোষ’ উদ্বোধন হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১ তে। জীবন ও জীবিকাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় তথ্যের সমন্বয়ে জাতীয় ই-তথ্যকোষ তৈরি করা হয়েছে।
এই তথ্যকোষে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন ও মানবাধিকার, পর্যটন, কর্ম সংস্থান, নাগরিক সেবা, কৃষি উদ্যোগ, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে বাংলা ভাষায় তথ্য সন্নিবেশ করা হয়েছে।
উৎসঃ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং দৈনিক পত্রিকার রিপোর্ট
৯,০৭৩.
কোন দেশের অধিবাসীদের দিনেমার বলা হয়?
  1. আয়ারল্যান্ড
  2. নিউজিল্যান্ড
  3. ডেনমার্ক
  4. নেদারল্যান্ডস
ব্যাখ্যা
• দিনেমার:
→ ডেনমার্কের অধিবাসীদের দিনেমার বলা হয়।
→ ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে দিনেমারগণ উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে এবং দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুরে ও কলকাতার শ্রীরামপুরে তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
→ অবশেষে দিনেমারগণ কোনো প্রকার বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই এদেশ থেকে চিরতরে বিদায় নেয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৭৪.
স্বাধীন দেশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় কত সালে?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভ:
- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭৪ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
৯,০৭৫.
স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. চরমপত্র
  2. জল্লাদের দরবার
  3. মীর জাফরের রোজনামচা
  4. মুক্তির গান
ব্যাখ্যা

- 'মুক্তির গান' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র।

•স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- বস্তুত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল:
• 'চরমপত্র',
• 'জল্লাদের দরবার',
• মীর জাফরের রোজনামচা।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রিপোর্ট।

৯,০৭৬.
পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়-
  1. ক) দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে
  2. খ) লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে
  3. গ) দিল্লি কনভেনশনের মাধ্যমে
  4. ঘ) চৌদ্দ দফার ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা

লাহোর প্রস্তাবে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তার দ্বিজাতিতত্ত্বের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তবে, লাহোর প্রস্তাবে সরাসরি পাকিস্তান রাষ্ট্রের কথা বলা হয়নি, বরং ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব এলাকাসমূহের মতো যে সকল অঞ্চলে মুসলমানগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ, সে সব অঞ্চলে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (স্টেটস্) গঠন করার কথা বলা হয়েছে। তবে, ১৯৪৬ সালে দিল্লীতে অনুষ্ঠিত মুসলিম লিগের একটা কনভেনশনে জিন্নাহ ‘সার্বভৌম পাকিস্তান রাষ্ট্র’ গঠনের কথা বলেন।
নবম-দশম শ্রেণির বইতে, এক লাইনে দিল্লির ঐ কনভেনশন এবং আরেক লাইনে দ্বিজাতিতত্ত্বের কারণে পাকিস্তান সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেয়াটা কঠিন। ‘পাকিস্তান সৃষ্টি’ সুদীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা অনেকগুলো ঘটনা এবং রাজনৈতিক চিন্তার চূড়ান্ত পরিণতি। নির্দিষ্ট কোন সম্মেলন তথা অনুষ্ঠানে সরাসরি নেয়া কোন সিদ্ধান্ত থেকে দেশভাগ হয়নি। সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে পাকিস্তানের সৃষ্টির পেছনে দ্বিজাতিতত্ত্ব মূল উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করেছে। আবার এই দ্বিজাতিতত্ত্বও পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করতে অনেক সময় নিয়েছে। আমরা সঠিক উত্তর হিসেবে ‘ক) দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে’ এটাকে ধরলাম।
বিসিএসেও এমন প্রশ্ন প্রায়ই দেয়া হয় যেগুলো নিয়ে তাত্বিকদের মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে তর্ক চলে আসছে। এই প্রশ্নেও তেমনি চাইলেই তর্ক করা সম্ভব।
সুত্রঃ ইতিহাস বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া এবং Live MCQ এডমিন প্যানেল।

৯,০৭৭.
'মাৎস্যন্যায়' বাংলার কোন সময়কালকে নির্দেশ করে?
  1. চন্দ্রগুপ্ত পূর্ববর্তী
  2. শশাঙ্ক পূর্ববর্তী
  3. লক্ষ্মণ সেন পরবর্তী
  4. গোপাল পূর্ববর্তী
ব্যাখ্যা
- 'মাৎস্যন্যায়' রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পরবর্তী এবং গোপালের পূর্ববর্তী সময়কে নির্দেশ করে।  
 
মাৎস্যন্যায়:
- সংস্কৃত শব্দ মাৎস্যন্যায়ের আক্ষরিক অর্থ ‘মাছের ন্যায়’।
- মাছেদের জগতে যেমন বড় মাছ ছোট ছোট মাছ খেয়ে ফেলে; তেমনি মানবসমাজে দুর্বলরা সবলদের হাতে, ক্ষমতাহীনরা শোষিত হয় ক্ষমতাবানদের হাতে।
- ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে।
- রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
- সে সময় বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে উল্লেখ করা হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের সময়টি ছিল মোটামুটিভাবে ৬৫০-৭৫০ সালের মধ্যকার প্রায় ১০০ বছর।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে। এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ। পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৭৮.
কাকে হত্যা চেষ্টার দায়ে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি হয়েছিল?
  1. এন্ড্রু ফ্রেজার
  2. জেনারেল ডায়ার
  3. ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. কিংস ফোর্ড
ব্যাখ্যা
ক্ষুদিরাম বসু:
- তিনি ১৮৮৯ সালে মেদিনীপুর জেলার হাবিবপুর গ্রামে ক্ষুদিরামের জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালের মার্চে মেদিনীপুরের এক কৃষি ও শিল্পমেলায় রাজদ্রোহমূলক ইস্তেহার বণ্টনকালে ক্ষুদিরাম প্রথম পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের প্রয়োজনভিত্তিক কঠোর সাজা ও দমননীতির কারণে কলকাতার প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড বাঙালিদের অত্যন্ত ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
- ১৯০৮ সালে ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকীর উপর এ দায়িত্ব পড়ে।
- ভুলবশত অন্য গাড়িতে বোমা পড়ায় এক ইংরেজ মহিলা ও তার মেয়ে মারা যান।
- এ ঘটনার পর ক্ষুদিরাম ওয়ানি রেলস্টেশনে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।
- তিনি বোমা নিক্ষেপের সমস্ত দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নেন।
- ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট মুজফ্ফরপুর জেলে তার ফাঁসি কার্যকর হয়।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯,০৭৯.
'ফোর্ট উইলিয়াম' দুর্গ কোথায় নির্মিত হয়েছিল? 
  1. দিল্লী 
  2. কলকাতা
  3. হায়দ্রাবাদ
  4. মাদ্রাজ
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ: 
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সর্বাধিক বিখ্যাত দুর্গ হলো ফোর্ট উইলিয়াম।
- ফোর্ট উইলিয়ামের মাধ্যমেই ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের ঘাঁটি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- বিখ্যাত এই দুর্গটি কলকাতায় অবস্থিত।
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় নিদর্শন এই দুর্গ।
- বাস্তবে দুটি ফোর্ট উইলিয়াম ছিল : একটি পুরনো, অন্যটি নতুন। পুরনো দুর্গটি ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির সূচনাকালের সৃষ্টি।
- স্যার চার্লস আইয়ার এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- তাঁর উত্তরসূরি জন বিয়ার্ড ১৭০১ সালে ফোর্ট উইলিয়ামের উত্তর-পূর্বাংশের দুর্গপ্রাচীর সংযোজন করেন।
- ১৭০২ সালে তিনি দুর্গের মধ্যভাগে বাণিজ্যকুঠি বা 'গভর্নমেন্ট হাউস' নির্মাণ শুরু করেন, যা ১৭০৬ সালে শেষ হয়।
- এরপর ইংল্যান্ডের রাজার সম্মানে দুর্গটির নামকরণ করা হয় ফোর্ট উইলিয়াম।
- ১৯৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করে ফোর্ট উইলিয়াম দখল করেন এবং ইংরেজদের তাড়িয়ে দেন।
- পরে পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজরা জয়ী হলে উপমহাদেশে ইংরেজদের অবস্থান সংহত হতে থাকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৯,০৮০.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কতজন মুক্তিযােদ্ধাকে ' বীর উত্তম' খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ৬৩  জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৭৫ জন
  4. ১৭৫ জন
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।

৯,০৮১.
শালবন বিহারের নির্মাতা কে?
  1. ধর্মপাল
  2. রাজা মানিক্য চন্দ্র
  3. শ্রীভবদেব
  4. দয়ারাম রায়
ব্যাখ্যা

শালবন বিহার:
- কুমিল্লার ময়নামতিতে খননকৃত সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার অন্যতম প্রধান।
- কোটবাড়িতে বার্ডেরকাছে লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এ বিহারটির অবস্থান।
- বিহারটির আশপাশে এক সময় শাল-গজারির ঘন বন ছিল বলে এ বিহারটির নামকরণ হয়েছিল শালবন বিহার। 
- ধারণা করা হয় যে খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন। 
- শালবন বিহারের প্রতিটি বাহু ১৬৭.৭ মিটার দীর্ঘ। 
- বিহারে ঢোকা বা বের হওয়ার মাত্র একটাই পথ ছিল।
- বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে। 
- এই কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিদ্যাশিক্ষা ও ধর্মচর্চা করতেন।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রৌঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে।
- এগুলো বাংলাদেশের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯,০৮২.
ভারতবর্ষের কোন মুঘল সম্রাট সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট হুমায়ুন
  3. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  4. সম্রাট বাবর
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর ভারতবর্ষের সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন। 

সম্রাট আকবর:

- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

এছাড়াও,
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

⇒ সম্রাট আকবর সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৮৩.
’মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. আব্দুল জব্বার খান
  2. তারেক মাসুদ
  3. হুমায়ুন আহমেদ
  4. নাসির উদ্দিন ইউসুফ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র:
- বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র পরিচালক আব্দুল জব্বার খান।
- মুখ ও মুখোশ চলচ্চিত্র পরিচালক আব্দুল জব্বার খান।
- ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতা হীরালাল সেন।
- বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জনক আব্দুল জব্বার খান।

⇒ উল্লেখ্য,
হুমায়ন আহমেদ:
- আগুনের পরশমণি।
- শ্রাবণ মেঘের দিন।
- নয় নম্বর বিপদ সংকেত।

তারেক মাসুদ:
- মাটির ময়না।
- মুক্তির গান।
- আদম সুরত।

উৎস: দৈনিক কালের কণ্ঠ।
৯,০৮৪.
আকবরের শেষ সমরাভিযান কোনটি?
  1. ক) বাংলা বিজয়
  2. খ) হলদিঘাটের যুদ্ধ
  3. গ) আসির গড়ের যুদ্ধ
  4. ঘ) কাবুল ও কান্দাহার বিজয়
ব্যাখ্যা
আকবরের শেষ সমরাভিযান ছিল - আসির গড়ের যুদ্ধ

• সম্রাট আকবর:
- ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি পিতা সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর মাত্র ১৩ বছর বয়সে জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর নাম ধারণ করে দিল্লির মোগল সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সম্রাট আকবর ১৫৬১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬০১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তাঁর রাজ্য জয় ও সাম্রাজ্য বিস্তৃতি নীতি অব্যাহত রাখেন। 
- সম্রাট আকবরের ক্ষমতা গ্রহণের সময় মোগল রাজত্ব পাঞ্জাব, দিল্লী ও আগ্রার মধ্যে সীমিত ছিল।

- আকবর দীর্ঘ ৪০ বছর সমরাভিযান পরিচালনা করে তাঁর রাজ্য উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে কৃষ্ণানদী এবং পশ্চিমে হিন্দুকুশ থেকে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেন।
- এই বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য সম্রাট আকবর সম্মুখ সমরের পাশাপাশি কখনও কখনও ক‚টনীতিরও আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন।
- ১৬০১ খ্রিস্টাব্দে আকবর দুর্ভেদ্য দুর্গ আসিরগড় অধিকার করেন।

- আসিরগড়ই ছিল আকবরের সর্বশেষ রাজ্য জয়।
- তিনি আহমদনগর, বেরার ও খান্দেশ নিয়ে একটি সুবাহ গঠন করেন এবং যুবরাজ দানিয়েলকে এই সুবাহর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- এভাবে দক্ষিণে কৃষ্ণানদী পর্যন্ত আকবরের সাম্রাজ্য বিস্তৃত হলো। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৮৫.
'বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি' কোথায় অবস্থিত?
  1. গাজিপুরের কালিয়াকৈর
  2. ময়মনসিংহের ফুলপুর
  3. নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার
  4. যশোরের শার্শা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু হাই টেক সিটি:
- বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরে অবস্থিত।
- দেশে হাইটেক শিল্প তথা তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ‘বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইন-২০১০’ (আইন নং-৮)-এর দ্বারা বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছে।
- বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি হলো বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের প্রথম প্রকল্প।
- ৩৫৫ একর জমি নিয়ে দেশের বৃহত্তম হাই-টেক সিটি।
 
উল্লেখ্য,
- ১৯৯৯ সালের ১৭ জুন বিনিয়োগ বোর্ডের ১২ তম সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাই-টেক পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। 
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯,০৮৬.
প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ১৩টি
  3. ১৭টি
  4. ১৯টি
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক শিক্ষার পরিমার্জিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ১৩টি 
প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক, মানবিক, নান্দনিক, আধ্যাত্মিক ও আবেগিক বিকাশ সাধন এবং তাদের দেশাত্ববোধে, বিজ্ঞানমনস্কতায়, সৃজনশীলতায় ও উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শনে উদ্বুদ্ধ করা।
প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য:
১. আল্লাহ তা'য়ালা/সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস ও শিশুর মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা এবং সকল ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।
২. শেখার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির মাধ্যমে শিশুর কল্পনা-শক্তি, সৃজনশীলতা ও নান্দনিকবোধের উন্মেষে সহায়তা করা।
৩. বিজ্ঞানের নীতি-পদ্ধতি ও প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন, সমস্যা সমাধানে তার ব্যবহার এবং বিজ্ঞানমনস্ক ও অনুসন্ধিৎসু করে গড়ে তুলতে সহায়তা করা।
৪. ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতার বিকাশ এবং নিজেকে প্রকাশ করতে সহায়তা করা।
৫. গাণিতিক ধারণা, যৌক্তিক চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করা।
৬. সামাজিক ও সুনাগরিক হওয়ার গুণাবলি এবং বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে সহায়তা করা।
৭. ভালো-মন্দের পার্থক্য অনুধাবনের মাধ্যমে সঠিক পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করা।
৮. অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া, পরমতসহিষ্ণুতা, ত্যাগের মনোভাব ও মিলেমিশে বাস করার মানসিকতা সৃষ্টি করা।
৯. প্রতিকূলতা মোকাবেলার মাধ্যমে শিশুর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করা।
১০. নিজের কাজ নিজে করার মাধ্যমে শ্রমের মর্যাদা উপলব্ধি ও আত্মমর্যাদা বিকাশে সহায়তা করা।
১১. প্রকৃতি, পরিবেশ ও বিশ্বজগৎ সম্পর্কে জানতে ও ভালবাসতে সহায়তা করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করা।
১২. নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে সচেষ্ট করা।
১৩. জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভালোবাসতে সাহায্য করা।


উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন (লিংক) ।
৯,০৮৭.
হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে কোন চীনা পরিব্রাজক ভারতে এসেছিলেন?
  1. ফা-হিয়েন
  2. ই-ৎ সিঙ
  3. হিউয়েন সাং
  4. মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা
হিউয়েন সাং:
- ফা-হিয়েনের পরবর্তী চীনা তীর্থ-ভ্রমণকারী ছিলেন হিউয়েন-সাং।
- সে সময় উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্ক এবং আসামে ভাস্করবর্মণ শাসন করছিলেন।
- ৬২৯ সালে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য এশিয়ার কুশ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।

⇒ হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।

- কনৌজনগরে পৌঁছে তিনি ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ।
- হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৮৮.
নিচের কোন পাহাড় টারশিয়ারি যুগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. তাজিং ডং
  2. কেওক্রাডং
  3. লালমাই
  4. ছাতক 
ব্যাখ্যা

- লালমাই পাহাড় প্লাইস্টোসিনকালের অন্তর্গত পাহাড়।
- অন্যদিকে তাজিং ডং, কেওক্রাডং ও ছাতক পাহাড় টারশিয়ারী যুগের পাহাড়।

• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:

- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়, লালমাই পাহাড় এই ভূমিরূপের অন্তর্গত।

• লালমাই পাহাড়: 
- এটি প্লাইস্টোসিনকালে বা প্রায় ২৫ হাজার বছর আগে গঠিত একটি ভূমিরূপ।
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার।
- গড় উচ্চতা ২১ মিটার। 
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,০৮৯.
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করে?
  1. ৮নং সেক্টর
  2. ৪নং সেক্টর
  3. ৭নং সেক্টর
  4. ৬নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর মুক্তিযুদ্ধের ৭ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যার খবর পেয়ে তিনি দেশত্যাগ করে ভারতে যান এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।
- ৭ নম্বর সেক্টরের, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
- তিনি মুক্তাঞ্চল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত করার সময় অসামান্য বীরত্ব দেখান।
- ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাদের স্নাইপার গুলিতে তিনি শহিদ হন।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব "বীরশ্রেষ্ঠ" প্রদান করে।

অপরদিকে,
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান:
- জন্মস্থান বর্তমান ঝিনাইদহ জেলা মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- অংশরত মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর: ৪নং সেক্টর।
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর ১৯৭১ সাল।
- সমাধি স্থান: মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান।

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোস্তফা কামাল:
- জন্মস্থান ভোলা জেলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজিপুর গ্রামে।
- অংশরত মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর: ২ নং সেক্টর।
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল ১৯৭১ সাল।
- সমাধি স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে।

বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নুর মুহাম্মদ শেখ:
- জন্মস্থান নড়াইল জেলার মহেষ খোলা গ্রামে।
- অংশরত মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:৮ নং সেক্টর।
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সাল।
- সমাধি স্থান: যশোরের কাশিপুর নামক স্থানে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ওয়েবসাইট।
৯,০৯০.
শিক্ষা সংস্কারের উদ্দেশ্যে গঠিত 'শরিফ কমিশন' এর সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
  1. ৯ জন
  2. ১০ জন
  3. ১১ জন
  4. ১২ জন
ব্যাখ্যা
শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বিরোধী আন্দোলন (সেপ্টেম্বর, ১৯৬২):
- আইয়ুব খান শিক্ষা সংস্কারের উদ্দেশ্যে ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন।
- তদানীন্তন শিক্ষা সচিব এস.এম.শরীফকে সভাপতি করে গঠিত এগার সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন 'শরিফ কমিশন' নামে অভিহিত।
- কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তার সুপারিশ পেশ করে।

কমিশনের উল্লেখযোগ্য সুপারিশ ছিল নিম্নরূপ:
- তিন বছরের বি.এ কোর্স পদ্ধতি চালু করা (এর আগে ছিল দু'বছরের বি.এ পাস কোর্স)।
- স্কুল-কলেজের সংখ্যা সীমিত রাখা।
- শিক্ষা ব্যয়ের শতকরা ৮০ ভাগ অভিভাবককে বহন করতে হবে।
- ৬ষ্ঠ শ্রেণি হতে ডিগ্রি স্তর পর্যন্ত ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক করা হবে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৯১.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন কে?
  1. শামসুল আলম
  2. অধ্যাপক নূরুল হক ভূঞা
  3. আবদুল মতিন
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ২রা মার্চ ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামেও পরিচিত) এবং আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
৯,০৯২.
মেজর মীর শওকত আলী মুক্তিযুদ্ধে কত নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ৫ নং সেক্টর
  2. ৬ নং সেক্টর
  3. ৭ নং সেক্টর
  4. ৮ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় ।
- মেজর মীর শওকত আলী  ছিলেন ৫ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার।
- এই সেক্টরকে ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৯৩.
স্বাধীনতা সনদ কে রচনা করেছিলেন?
  1. ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম
  2. ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম
  3. ড. কামাল হোসেন
  4. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা সনদ:

- স্বাধীনতা সনদের ঘোষণাটি আইনের ভাষায় রচিত এবং তা রচনা করেছিলেন ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম।
- নবগঠিত বাংলাদেশ সরকার এবং চলমান স্বাধীনতা সংগ্রামকে আইনগত ভিত্তি দেয়ার জন্য ‘স্বাধীনতার সনদ' ঘোষণা করা হয়।
- এর মাধ্যমে মুজিবনগর প্রশাসনের সকল কর্মকাণ্ডের বৈধকরণ করা হয়।
- এই সনদে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদন দেয়া হয়।
- এই সনদটি যে জাতিসংঘ ঘোষিত আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায় সংক্রান্ত সনদের আলোকে বৈধ ছিল তাও যুক্তি দিয়ে উপস্থাপন করা হয়।
- সনদে যুক্তি উপস্থাপন করে উল্লেখ করা হয় যে, আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয় পরিষদের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র এলাকা এবং সম্মিলিত পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে শাসন করার আইনগত অধিকার অর্জন করেছিল।
- পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে প্রদেয় প্রতিশ্রুতি আদায় থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তারা নিজেদের একত্রিত করার একটি আইনগত অধিকার অর্জন করেছে। এই অধিকার বলেই ঘোষিত স্বাধীনতার সনদ বৈধতা পেয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,০৯৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিমের অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. রকিবুল হাসান
  2. জাকারিয়া পিন্টু
  3. প্রতাপ শংকর হাজরা
  4. অমর নাথ সিং
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের একটি ফুটবল দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত অর্জন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ফুটবল খেলায় অংশ নেয়।
- এই দলটি ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’ নামে পরিচিত ছিল।
- পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধকালীন প্রথম ফুটবল দল এটি।
- মূল পরিকল্পনাটা ছিলো শামসুল হকের।
- জুন মাসে কলকাতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি এবং যারা সারা ভারতজুড়ে খেলে সমর্থন আদায় করবে আমাদের স্বাধীন বাংলার স্বীকৃতির জন্য।
- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু।
- আর সহ-অধিনায়ক ছিলেন প্রতাপ শংকর হাজরা।
- কোচ ও ম্যানেজার ছিলেন যথাক্রমে ননি বসাক ও তানভীর মাজহারুল তান্না। 
- ম্যাচ খেলা থেকে অর্জিত পাঁচ লাখ ভারতীয় রুপি ক্রীড়া সমিতি জমা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ফান্ডে।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে যারা ছিলেন: 
- জাকারিয়া পিন্টু (অধিনায়ক), প্রতাপ শঙ্কর হাজরা (সহ-অধিনায়ক), আলী ইমাম, মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অমলেশ সেন, আইনুল হক, নিহার কান্তি দাস, শেখ আশরাফ আলী, বিমল কর, শাহজাহান আলম, মনসুর আলী লালু, কাজী সালাউদ্দিন, এনায়েতুর রহমান, সুভাষ সাহা, কে এম নওশেরুজ্জামান, ফজলে সাদাইন খোকন, আবুল হাকিম, তসলিমউদ্দিন শেখ, আমিনুল ইসলাম, আবদুল মমিন জোয়ারদার, মনিরুজ্জামান পেয়ারা, সাত্তার, প্রাণ গোবিন্দ কুন্ডু, মুজিবর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) খন্দকার নুরুন্নবী, লুৎফর রহমান, সাইদুর রহমান প্যাটেল, অনিরুদ্ধ চ্যাটার্জি, সনজিব কুমার দে, মাহমাদুর রশিদ, দেওয়ান মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন, নিহার কান্তি দাস।

তথ্যসূত্র - ২৬ মার্চ ২০২২, সময় নিউজ।
৯,০৯৫.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ধলই, কমলগঞ্জ
  2. খ) গোয়ালপাড়া, শার্শা
  3. গ) বাগমারা, রূপসা
  4. ঘ) চিংড়ি খাল, নানিয়ারচর
ব্যাখ্যা
- বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর খুলনা জেলার রূপসা নদীর তীরে পাকবাহিনীর গোলাবর্ষণে আহত অবস্থায় রাজাকারদের হাতে শাহাদাতবরণ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ তাকে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে সমাহিত করে।
অন্যদিকে,
- বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামে শহীদ হন।
- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই গ্রামে শহীদ হন।
- বীরশ্রেষ্ঠ ‌ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরের চিংড়ি খাল এলাকায় শহীদ হন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৯,০৯৬.
অপারেশন কিলো ফ্লাইটের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
  1. মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া
  2. পাকিস্তানি বাহিনীর তেল ডিপো ও সরবরাহ লাইন ধ্বংস করা
  3. ভারতীয় বিমান বাহিনীকে সহায়তা করা
  4. পাকিস্তানি নৌবাহিনীকে আক্রমণ করা
ব্যাখ্যা

অপারেশন কিলো ফ্লাইট:
- কিলো ফ্লাইট ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমান গঠনের সাংকেতিক নাম।
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর বিমান উইংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান ছিল।
- এটি মূলত একটি দুঃসাহসিক বিমান হামলা যা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়।
- এই অপারেশনের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর তেল ডিপো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সরবরাহ লাইন ধ্বংস করা, সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়ানো।

⇒ ১৯৭১ এর সেপ্টেম্বর এর মাঝামাঝি ভারত সরকার অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারকে একটি স্বাধীন বিমান বাহিনী গঠনের জন্য আমেরিকায় তৈরী ১টি পুরানো ডিসি-৩ বিমান, কানাডার তৈরী ১টি অটার বিমান এবং ফ্রান্সের তৈরী ১টি এ্যালুয়েট-৩ হেলিকপ্টার দেয়।
- এর সাথে ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে একটি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরিত্যক্ত রানওয়ে ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
- ২৮ সেপ্টেম্বর মুক্তিবাহিনীর ডিপুটি চিফ অফ স্টাফ এ কে খন্দকারের নেতৃত্বে ৯ জন পাইলট ও ৪৭ জন গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের সমন্বয়ে যাত্রা শুরু হয় মুক্তিবাহিনীর এয়ার উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর।
- বিমান বাহিনী প্রধান হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

⇒ এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা। ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) The Daily Star বাংলা।

৯,০৯৭.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. কবর
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. একুশে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক ।
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হান এর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,০৯৮.
মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ-
  1. ক) শম্ভু সরকার
  2. খ) সন্তু নাথ
  3. গ) নূর হোসেন
  4. ঘ) শঙ্কু সমজদার
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শঙ্কু সমজদার। তাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে ঢাকার জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন মারা যান।
- এ সময় তার গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিলো ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র ‍মুক্তি পাক’।

(সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় , বাংলাপিডিয়া)

৯,০৯৯.
ঐতিহাসিক ছয় দফায় কয়টি মুদ্রার কথা হয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

• ছয় দফার তৃতীয় দফাটি হলো মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক।
• এ দফায় দুটি প্রস্তাব করা হয়। যথা:
- সহজ ও অবাধ বিনিময়যোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য প্রচলন করতে হবে।
- এজন্য দুই প্রদেশে দুইটি পৃথক স্টেট ব্যাংক থাকবে এবং মুদ্রা ও  ব্যাংক পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে। অথবা,
- একটি  কেন্দ্রীয় ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই প্রদেশে দুটি রিজার্ভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং দুই প্রদেশের জন্য অভিন্ন মুদ্রা প্রচলন করতে হবে।
- তবে এ ক্ষেত্রে সংবিধানে এমন বিধান থাকতে হবে যাতে এক প্রদেশের মুদ্রা অন্য প্রদেশে পাচার না হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ ওপেন স্কুল।
৯,১০০.
When was Permanent Settlement established in British India?
  1. in 1791
  2. in 1792
  3. in 1793
  4. in 1739
  5. in 1731
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং ‘একসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।
- কিন্তু এ দুটি বন্দোবস্ত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়নি।
- এমতাবস্থায় গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৭৯৩ সালে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক নতুন প্রথার প্রবর্তন করেন।
- ইতিহাসে এটি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- এটি ছিল ইংরেজদের একটি সাম্রাজ্যবাদী বিধিব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
- এক্ষেত্রে তারা অনেক সফলতা লাভ করলেও এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষক এমনকি অনেক সম্ভ্রান্ত বনেদি জমিদার সর্বশান্ত হয়ে পড়ে।
- অন্যদিকে নগদ টাকার মালিক ও পুঁজিপতি মহাজনরা রাতারাতি জমিদারে পরিণত হয়।
- নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয় ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।