ব্যাখ্যা
- তিনি মারমা সম্প্রদায়ভুক্ত ও বান্দরবান জেলার বাসিন্দা।
- ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই তিনি মারা যান।
(তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন)
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৯০ / ১২৪ · ৮,৯০১–৯,০০০ / ১২,৪২১
মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিন আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল নিয়াজী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত মিত্র মুক্তি বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান সেনাপতি জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
উৎস:বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়(সপ্তম শ্রেণি)
• ভাষা আন্দোলন:
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই আন্দোলনের সূত্র পাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- এই সময় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল ছিলেন গোলাম মোহাম্মদ।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি।
শূর শাসনের সূত্রপাত করেন আফগান শাসক শের শাহ। বিহারের শাসনকর্তা সুলতান মুহম্মদের মৃত্যুর পর শের শাহ বিহারের শাসন করেন।
১৫৩৮ সালে তিনি বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
শের শাহের আমলের কিছু উল্লেখযোগ্য কীর্তিঃ
- শের শাহ বাংলায় ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করেন।
- তিনি ‘দাম’ নামক মুদ্রার প্রচলন করেন।
- সড়ক-ই-আজম বা বিখ্যাত গ্রান্ড ট্রাংক রোডের নির্মাতা তিনি।
- পাট্টা ও কাবুলিয়াত প্রথা চালু করেন শের শাহ।
[সূত্র- বাংলাপিডিয়া]
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
- বাংলার তথা ভারতের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- ঘটনার বছর: ১১৭৬ বঙ্গাব্দ, ইংরেজি ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ।
- বাংলার জনসাধারণের অবস্থা ক্রমশ শোচনীয় হয়ে ওঠে।
- এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ১ কোটি লোক মারা যায়।
- সেই সময়ে গভর্ণর: লর্ড কার্টিয়ার।
• কারণ:
- ১১৭০ সালে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট।
- রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈতশাসন নীতি।
- ইংরেজ কর্মচারীদের অত্যাচার, উৎপীড়ন ও শোষণ।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
সুবেদার শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
-তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রথম জাতীয় নির্বাচন:
- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
- ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম. ইদ্রিস।
- নয় মাসের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারন আসন ও ১৫টি সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮টি আসনে জয়লাভ করেন।
তথ্যসূত্র - নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট, পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
ঐতিহাসিক ছয় দফার স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ ছিল না।
১৯৬৬ সালে উত্থাপিত ছয় দফায় উল্লেখিত বিষয়গুলো হলো:
- শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি
- কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
- মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
- কর সংক্রান্ত ক্ষমতা
- বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত ক্ষমতা
- আঞ্চলিক বাহিনী গঠন সংক্রান্ত ক্ষমতা
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ বংশের শেষ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
মৌর্য সাম্রাজ্য:
- মৌর্য সাম্রাজ্যই ভারতের ইতিহাসে প্রথম সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দে ব্যাবিলনে আলেকজান্ডারের মৃত্যু ঘটলে তাঁর অধিকৃত ভারতীয় অঞ্চলে গ্রিকদের মধ্যে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং বিরোধ দেখা দেয়।
- এ সময়ে মগধে নন্দবংশীয় সম্রাট ধননন্দ রাজত্ব করছিলেন।
- তিনি মোটেও জনপ্রিয় ছিলেন না।
- এ অবস্থায় চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য মগধের সিংহাসন দখল করেন এবং উত্তর পশ্চিম ভারত থেকে গ্রিকদের বিতাড়িত করে ভারতে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্য ইতিহাসে মৌর্য সাম্রাজ্য নামে বিখ্যাত।
- মৌর্য সম্রাটরা বহু-বিভক্ত ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- এ বংশের দুজন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও অশোক বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
সূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- মুক্তিযুদ্ধ সময়কালে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং অবরুদ্ধ এলাকার জনগণের মনোবল অক্ষুন্ন রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নীতি নির্ধারণী ভাষণসহ জনগণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নির্দেশাবলী প্রচারিত হয়।
⇒ স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো। এই ব্যঙ্গাত্মক সিরিজে তাকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রে চিত্রিত করা হয় এবং এই ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন এম.আর আখতার মুকুল, যিনি নিজেই এর উপস্থাপক ছিলেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি জনগণের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়। এতে একইসঙ্গে ছিল তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও জাতীয়তা বোধের প্রকাশ যা জনগণের নৈতিক মনোবল দৃঢ়ীকরণে ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো
রেগুলেটিং এ্যাক্ট:
- ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন ওয়ারেন হেস্টিংস।
• উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ সালে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।
উল্লেখ্য,
- রেগুলেটিং এ্যাক্ট এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
শায়েস্তা খান (১৬৬৪-১৬৮৮):
- বাংলার মুগল সুবাহদার।
- ১৬৭৮-৭৯ খ্রিস্টাব্দে এক বছরের সামান্য বেশি সময়ের বিরতিসহ দীর্ঘ ২৪ বছর তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলায় সুবাহদার হিসেবে তাঁর কার্যকালের মেয়াদই দীর্ঘতম।
- ইরানি বংশোদ্ভূত শায়েস্তাখানের আসল নাম ছিল মির্জা আবু তালিব।
- জাহাঙ্গীর তাঁর রাজত্বের একুশতম বছরে তাঁকে ‘শায়েস্তা খান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাহদার নিযুক্ত হন।
- প্রধানত চট্টগ্রাম জয়ের জন্যই বাংলায় শায়েস্তা খানের বিশাল খ্যাতি।
- বিখ্যাত সামুদ্রিক বন্দর চট্টগ্রাম চৌদ্দ শতকের মধ্যভাগে সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ দখল করেছিলেন। মাঝে মাঝে আরাকান বা ত্রিপুরা এটি দখল করে নিত।
- সেই বিরতিটুকু ছাড়া তখন থেকেই চট্টগ্রাম মুসলমানদের শাসনাধীন ছিল।
- কিন্তু মুগলদের বাংলা বিজয়ের আগে চট্টগ্রাম আরাকানিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল।
- ১৬৬৬ সালে বাংলার মোঘল শাসক শায়েস্তা খান তাঁর পুত্র বুজুর্গ — ওমেদখানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিজয় সম্পন্ন করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের নাম রাখেন — ইসলামাবাদ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র - হুলিয়া
- এটি নির্মাণ করেন তানভীর মোকাম্মেল।
- ষাটের দশকে প্রগতিশীল সংগঠনের কর্মীদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যে হুলিয়া বুকে নিয়ে ঘরছাড়া এক তরুণকে নিয়ে লেখা কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতাকে ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে এনেছেন তানভীর মোকাম্মেল।
তানভীর মোকাম্মেলের নদীর নাম মধুমতি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ চলচিত্র
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ চলচ্চিত্র ধীরে বহে মেঘনা-র পরিচালক আলমগীর কবির
উৎসঃ দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট
পূর্ব বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি:
- ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার ভাষা কমিটির সভাপতি ছিলেন মাওলানা আকরাম খাঁ।
⇒ ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত সময়কে ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতি পর্ব বলা যায়। এই সময়ে আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার জনগণের আন্দোলনের মুখে প্রাদেশিক সরকার ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বাংলা ভাষা সংস্কারের জন্য মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁকে সভাপতি এবং কবি গোলাম মোস্তফাকে সম্পাদক করে একটি সংস্কার কমিটি গঠন করে।
- দেড় বছর ব্যাপক আলাপ আলোচনার পর কমিটি সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করে।
- এই রিপোর্টে বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ ও বর্ণমালার প্রচুর সংস্কারের পরামর্শ দেয়া হয়।
- নতুন ভাষার নামকরণ হয় 'সহজ বাংলা'।
- কমিটি রোমান বা উর্দু হরফে বাংলা লেখার প্রশ্নকে কমপক্ষে বিশ বছরের জন্য স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়।
- এ সময়ের মধ্যে উর্দু ভাষাকেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানায়।
- এই রিপোর্টটি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পছন্দ হয়নি বলেই তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
লক্ষ্ণৌ চুক্তি:
- ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মৌ শহরে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের যৌথ অধিবেশনে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগের মধ্যে লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
⇒ লক্ষ্ণৌ চুক্তির বৈশিষ্ট্য:
১. প্রাদেশিক আইন পরিষদ সমূহ সম্প্রসারণ করার সুপারিশ করা হয়। বৃহৎ প্রদেশের সদস্য সংখ্যা ১২৫ জন এবং ছোট প্রদেশের সদস্য সংখ্যা ৫০ থেকে ৭৫ এর মধ্যে নির্ধারণ করার দাবি করা হয়। এদের মধ্যে পাঁচ ভাগের এক ভাগ মনোনীত সদস্য এবং বাকী পাঁচ ভাগের চার ভাগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার দাবি করা হয়।
২. কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক আইন পরিষদে কোন সম্প্রদায়ের কোনো বিল পাশের ক্ষেত্রে আইনসভায় ঐ সম্প্রদায়ের তিন-চতুর্থাংশ সদস্যের সম্মতির বিধান রাখা হয়। ৩. লক্ষ্ণৌ চুক্তিতে ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
৪. এ চুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এতে সংখ্যানুপাতে অধিক প্রতিনিধিত্বের সুপারিশ করা হয়। অর্থাৎ যেখানে মুসলমানগণ সংখ্যালঘু, সেখানে তাদের আসন সংখ্যা লোকসংখ্যা থেকে বাড়িয়ে দেয়া হবে। আর যেখানে সংখ্যাগুরু সেখানে জনসংখ্যার তুলনায় তারা কম আসন লাভ করবে। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় বাংলা প্রদেশের কথা। বাংলার মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫২.৬ শতাংশ আর মুসলিম আসন বরাদ্দ করা হয় ৪০ শতাংশ। এভাবে বিহার ও উড়িষ্যাতে ২৫ শতাংশ, সেন্ট্রাল প্রদেশে ১৫ শতাংশ, মাদ্রাজে ১৫ শতাংশ, পাঞ্জাবে ৫০ শতাংশ এবং যুক্ত প্রদেশে ৩০ শতাংশ আসন বরাদ্দের কথা বলা হয়।
৫. এ চুক্তিতে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার স্বীকৃতির পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন প্রদানে সম্মতি দেয়া হয়।
৬. ভারতের জন্য স্ব-শাসন কায়েমের লক্ষ্যে কংগ্রেসও মুসলিম লীগ একত্রে আন্দোলন করবে।
৭. প্রদেশসমূহ কেন্দ্রীয় সরকার যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে স্বায়ত্বশাসন ভোগ করবে।
৮. গভর্ণর জেনারেলের শাসন পরিষদের অর্ধেক সদস্য ভারতীয় হবেন। তারা ভারতীয় আইন পরিষদের সদস্য দ্বারা নির্বাচিত হবেন।
⇒ ভারতীয় উপমহাদেশের শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ১৯১৬ সালের লক্ষ্ণৌ চুক্তি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ চুক্তির মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায় সম্মিলিতভাবে ব্রিটিশ সরকারের কাছে নিজেদের দাবি-দাওয়া পেশ করার সুযোগ পায়। প্রথমবারের মতে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচনা করে এই চুক্তি। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে সংগঠিত ও পরিকল্পিত করার জন্য এ চুক্তি করা হয়। লক্ষ্ণৌ চুক্তির মাধ্যমে মুসলমান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার স্বীকৃতি দেয়া হয়। তা সত্ত্বেও বাংলার রক্ষণশীল মুসলিম নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর মূলে ছিল আসন সংখ্যা সমন্বয়ের নিীতি।
উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা।
- দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
উল্লেখ্য,
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন।
- তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি প্রমুখ।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কৌলিন্য প্রথা ও বল্লাল সেন:
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, কৌলিন্য প্রথার সাথে বল্লাল সেনের সম্পর্কের তেমন কোনো যুক্তিযুক্ত ভিত্তি নেই।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন।
- ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB):
- বাংলাদেশের শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যতম বৃহৎ জাতীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)।
- ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত স্কুল টেকস্টবুক বোর্ড কর্তৃক ১ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণির সকল পাঠ্যপুস্তক সংশোধন, পরিমার্জন ও পুনর্লিখন এবং সেই সাথে একটি নবজাত রাষ্ট্রের জনসাধারণের প্রয়োজনীয় জ্ঞাতব্য বিষয় আধুনিক ধ্যান-ধারণার আলোকে পাঠ্যপুস্তকে সন্নিবেশ করা হয়।
- ১৯৭৮-৭৯ সালে টেক্সটবুক বোর্ড নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- ১৯৮৩ সালের মধ্যে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রচলিত পাঠ্যপুস্তকের স্থলে মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও বিতরণের কাজ সম্পন্ন করে।
- ১৯৮৩ সালে “The National Curriculum & Textbook Board Ordinance 1983 (Ordinance no. LVII of 1983)” মাধ্যমে স্কুল টেকস্টবুক বোর্ড ও জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কেন্দ্রকে একীভূতকরণের মাধ্যমে বর্তমান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন ২০১১ অনুযায়ী বোর্ডের কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও যুগপোযোগী করার জন্য গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে “The National Curriculum & Textbook Board Ordinance 1983 (Ordinance no. LVII of 1983)” সংশোধন ও রহিতক্রমে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন ২০১৮’ বিলটি পাশ হয়।
উৎস: NCTB এর ওয়েবসাইট।
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ছিল।
মুক্তিযুদ্ধ কনসার্ট:
- যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, প্রচার মাধ্যম, কংগ্রেসের অনেক সদস্য এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ছিল;
- তবে মার্কিন শিল্পী, সাহিত্যিক এবং অনেক রাজনীতিবিদ বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন।
- পণ্ডিত রবি শংকরের উদ্যোগে আয়োজিত হয় ।
- স্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক।
- অনুষ্ঠান: 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'
- দর্শক: অনুষ্ঠানে ৪০,০০০ দর্শকের উপস্থিতি ছিল।
- শিল্পী: জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানসহ বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।
- এই অনুষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ জোগানের ব্যবস্থা হয়।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।
তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।
- এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।
উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক ১৯৭২ সালে অনুমোদিত হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকাট
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
- জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান।
- জাতীয় প্রতীকের জন্য মোহাম্মদ ইদ্রিস আঁকেন ভাসমান একটি শাপলা, শিল্পী শামসুল আলম শাপলার দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা সেঁটে দিয়ে প্রতীকটির পরিপূর্ণতা নিয়ে আসেন।
- কামরুল হাসান ও তাঁর দলের করা এই প্রতীকটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি।
⇒ জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি।
- জাতীয় প্রতীকের চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে এই চারটি মূলনীতিকেই বোঝানো হয়েছে।
উলেখ্য,
- সংবিধানের প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র) অনুচ্ছেদে : ৪ (৩)-এ জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) কালের কন্ঠ।
রবার্ট ক্লাইভ:
- উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ক্লাইভ।
- উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে রবার্ট ক্লাইভের স্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরী গ্রহণ করে স্বীয় কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে।
- রবার্ট ক্লাইভের চারিত্রিক দোষ থাকা সত্বেও উপমহাদেশে ইংরেজ শক্তির গোড়াপত্তনে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না।
- উপমহাদেশের ইতিহাসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে লর্ড ক্লাইভের নাম অবিস্মরণীয়।
- কেননা প্রথম পর্যায়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে কোম্পানিকে রক্ষা করেন।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন। তৃতীয় পর্যায়ে তিনি নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন এবং ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান:
- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্ম ২৯শে অক্টোবর ১৯৪১, ঢাকার পৈত্রিক নিবাসে।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের অন্যতম।
- পেশায় ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট।
- ১৯৭১ সালে নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন।
- পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান (কল সাইন ব্লু-বার্ড-১৬৬) ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন।
- অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদত বরণ করেন।
- পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে মশরুর বিমান ঘাটির ৪র্থ শ্রেণীর কবরস্তানে অত্যন্ত অমর্যাদার সাথে দাফন করে।
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।
উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সিপাহী বিদ্রোহ:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৮৫৭ সালে।
- এটি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম।
- সংঘটনের সময়: পলাশী যুদ্ধের প্রায় ১০০ বছর পর।
- নেতৃত্ব: প্রধানত সিপাহীরা (উত্তর ও পূর্ব ভারতে বিস্তৃত)।
- ব্যারাকপুরে প্রথম বিদ্রোহ করেন: মঙ্গল পাণ্ডে।
- সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম শহীদ: মঙ্গল পাণ্ডে।
- বিদ্রোহকালীন গভর্নর জেনারেল: লর্ড ক্যানিং।
- ফলাফল: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান।
- কোম্পানি শাসনের অবসান কার্যকর: ১৮৫৮ সালে (ভারত শাসন আইন)।
- স্মৃতিবিজড়িত স্থান: বাহাদুর শাহ পার্ক।
উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
⇒ আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি।
♦ ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
→ আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে এবং মধ্য জানুয়ারিতে গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
→ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ দেশের সকল মৌলিক গণতন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানালে অনেকেই সে আহ্বানে সাড়া দেন।
→ ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের সংগে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
→ আইয়ুব পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনী দিয়ে ঐ আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা করেন।
→ ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
→ আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে যখন প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
♦ উল্লেখ্য:
→ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে 'এগারো দফা' প্রণীত হয়।
→ এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।