বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৯০ / ১২৪ · ৮,৯০১৯,০০০ / ১২,৪২১

৮,৯০১.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত ইউ কে চিং কোন নৃগোষ্ঠীর?
  1. ক) খাসিয়া
  2. খ) মারমা
  3. গ) গারো
  4. ঘ) ত্র্রিপুরা
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে ইউ কে চিং বীর বিক্রম খেতাব লাভ করেন।
- তিনি মারমা সম্প্রদায়ভুক্ত ও বান্দরবান জেলার বাসিন্দা।
- ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই তিনি মারা যান।
(তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন)
৮,৯০২.
অবসাদ কত প্রকার?
  1. ৫ প্রকার
  2. ২ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৮ প্রকার
ব্যাখ্যা
অবসাদ:

- অবসাদ বলতে দেহ-মনের সামগ্রিক শ্রান্তির অনুভূতিকে বোঝায়।
- ব্যক্তির শক্তি-সামর্থ্য হারানোকে অবসাদ বলে।
- এক্ষেত্রে সমগ্র শরীর ও মন অবসন্ন হয়ে পড়ে।
- প্রকৃতপক্ষে অবসাদ মানুষের স্নায়ুবিক ব্যবস্থার কোন কিছু গ্রহণ করার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া বা পতন হওয়া।
- অবসাদকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
• দৈহিক অবসাদ।
• মানসিক অবসাদ।

তথ্যসূত্র - শিল্প মনোবিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯০৩.
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. ক) জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী
  2. খ) কাদের সিদ্দিকী
  3. গ) জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  4. ঘ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিন আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল নিয়াজী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত মিত্র মুক্তি বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান সেনাপতি জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন।

উৎস:বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়(সপ্তম শ্রেণি)

৮,৯০৪.
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতে কোন বিষয়টি প্রধানভাবে আছে?
  1. ক) বাংলার মানুষের কথা
  2. খ) বাংলার ইতিহাসের কথা
  3. গ) বাংলার প্রকৃতির কথা
  4. ঘ) বাংলার সংস্কৃতির কথা
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংগীত সম্পর্কে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এই গানে দেশের বন্দনা, ঋতু ও ভূ-প্রকৃতির বর্ণনা, দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরা হয়েছে’। সূত্রঃ প্রথম আলো।
৮,৯০৫.
মুক্তিযোদ্ধের পূর্বে মুজিবনগরের নাম কী ছিল?
  1. ক) আকাশডাঙ্গা
  2. খ) মাথাভাঙ্গা
  3. গ) বৈদ্যনাথতলা
  4. ঘ) পলাশডাঙ্গা
ব্যাখ্যা
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার।
- এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। 
- এই সরকারও পরিচিতি লাভ করে মুজিবনগর সরকার নামে।
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- পরে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৯০৬.
১৯৪৮ সালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তৎকালীন পাকিস্তানের একজন নেতা ঘোষণা করেন 'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।' তিনি -
  1. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খাজা নাজিম উদ্দিন
  3. ফিরোজ খান নুন
  4. মোহাম্মদ হোসেন জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা:
- ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব-পাকিস্তান সফরে ঢাকায় আসেন।
- গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কনভোকেশনে ছাত্র-শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, 'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা' (Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan)।
- জিন্নাহর এ বক্তব্য পেশের সময় উপস্থিত ছাত্ররা 'না' 'না' ধ্বনি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানান।

এছাড়াও,
- জিন্নাহর এ ঘোষণা পূর্ববাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- ২৪ মার্চ সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি জানিয়ে জিন্নাহকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। 

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৮,৯০৭.
'Mobarokpur Gas Field' is located in -
  1. ক) Netrokona
  2. খ) Hobigonj
  3. গ) Moulivibazar
  4. ঘ) Pabna
  5. ঙ) None of these
ব্যাখ্যা
- মোবারকপুর গ্যাস ক্ষেত্র পাবনায়  অবস্থিত। 
- ২০১৭ এই গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। 
 
উৎস : সমকাল 
৮,৯০৮.
ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করেন? 
  1. গোলাম মোহাম্মদ
  2. নুরুল আমিন
  3. খাজা নাজিমউদ্দীন
  4. ফিরোজ খান নুন
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন:
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। 
- এই আন্দোলনের সূত্র পাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে। 
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- এই সময় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল ছিলেন গোলাম মোহাম্মদ।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি। 

৮,৯০৯.
'ভাটিয়ালি' কোন অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত?
  1. ময়মনসিংহ
  2. হবিগঞ্জ
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
লোকসঙ্গীত:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত হলো ভাটিয়ালি।
- ভাওয়াইয়া বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসংগীত।
- রংপুর ও কুচবিহার জেলা এই গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গানের বিখ্যাত শিল্পী হলেন আব্বাসউদ্দীন আহমেদ।
- গম্ভীরা হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত।
- ধামাইল গান প্রধানত সিলেটের হাওরাঞ্চলে প্রচলিত মেয়েদের আচার-কেন্দ্রিক নাচ ও গানের নাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৯১০.
ছয় দফা দিবস কবে পালিত হয়? 
  1. ৭ জুন
  2. ৮ জুন
  3. ৫ জুন
  4. ৬ জুন 
ব্যাখ্যা
ছয় দফা দিবস: 

• ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬ দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়।
• ৭ জুন-এ আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গী, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ইপিআরের গুলিতে মনু মিয়া, শফিক, শামসুল হক, মুজিবুল হকসহ মোট ১১ জন বাঙালি নিহত হন।
• প্রতি বছর ৭ই জুন বাংলাদেশে '৬ দফা দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।
• ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
• ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
• ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
• ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
• ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির 'মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৯১১.
সড়ক-ই-আজম বা বিখ্যাত গ্রান্ড ট্রাংক রোডের নির্মাতা-
  1. ক) আকবর
  2. খ) শেরশাহ
  3. গ) মুহম্মদ বিন তোঘলক
  4. ঘ) আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

শূর শাসনের সূত্রপাত করেন আফগান শাসক শের শাহ। বিহারের শাসনকর্তা সুলতান মুহম্মদের মৃত্যুর পর শের শাহ বিহারের শাসন করেন।
১৫৩৮ সালে তিনি বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
শের শাহের আমলের কিছু উল্লেখযোগ্য কীর্তিঃ
- শের শাহ বাংলায় ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করেন।
- তিনি ‘দাম’ নামক মুদ্রার প্রচলন করেন।
- সড়ক-ই-আজম বা বিখ্যাত গ্রান্ড ট্রাংক রোডের নির্মাতা তিনি।
- পাট্টা ও কাবুলিয়াত প্রথা চালু করেন শের শাহ।
[সূত্র- বাংলাপিডিয়া]

৮,৯১২.
'তাম্রশাসন' বলতে কী বোঝায়?
  1. তামার যুগের শাসন
  2. তামার পাতে খোদাই করা আদেশ
  3. তামার যুগের আইন-কানুন
  4. কালো আইন
ব্যাখ্যা
⇒ ষষ্ঠ শতকে বঙ্গ ও গৌড় দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। 
স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের রাজারা তামার পাতে খোদাই করা রাজ নির্দেশ জারি করতেন। এগুলোকে তাম্রশাসন বলা হতো।
⇒ এ রকম ৭টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে। স্বাধীন বঙ্গরাজ্যে চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নামের তিনজন রাজার নাম জানা যায়।
⇒ তারা ৫২৫ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন। সম্ভবত চন্দ্ৰগুপ্ত একাই ৩৩ বছর শাসন করেছেন বলে জানা যায়।
⇒ বঙ্গের রাজাগণ ‘মহাধিরাজ’ উপাধি ধারণ করতেন।
⇒ ৬ষ্ঠ শতাব্দীর শেষের দিকে দাক্ষিণাত্যের চাণক্য রাজ বংশের রাজা কীর্তি বর্মণ দ্বারা বাংলা আক্রান্ত হয়।

উৎস - একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস বোর্ড বই, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯১৩.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলায় কোন বঙ্গাব্দে ঘটে?
  1. ১১৭০
  2. ১১৭৬
  3. ১৭৭০
  4. ১১৭৫
ব্যাখ্যা

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
- বাংলার তথা ভারতের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- ঘটনার বছর: ১১৭৬ বঙ্গাব্দ, ইংরেজি ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ।
- বাংলার জনসাধারণের অবস্থা ক্রমশ শোচনীয় হয়ে ওঠে।
- এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ১ কোটি লোক মারা যায়।
- সেই সময়ে গভর্ণর: লর্ড কার্টিয়ার। 

• কারণ:
- ১১৭০ সালে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট।
- রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈতশাসন নীতি।
- ইংরেজ কর্মচারীদের অত্যাচার, উৎপীড়ন ও শোষণ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৯১৪.
বড় মোটরগাড়িতে ব্যবহারের জন্য পতাকার মাপ -
  1. ১০×৬ ইঞ্চি
  2. ১২×৭ ইঞ্চি
  3. ১৫×৯ ইঞ্চি
  4. ১৮×১২ ইঞ্চি
ব্যাখ্যা
পতাকা ব্যবহারের মাপ:
- ভবনে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো,
• ১০×৬ ফুট (৩.০ বাই ১.৮ মিটার)।
• ৫×৩ ফুট (১.৫২ বাই ০.৯১ মিটার)।
• ২.৫×১.৫ ফুট (৭৬০ বাই ৪৬০ মিলিমিটার)।

মোটরগাড়িতে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো,
• ১৫×৯ ইঞ্চি (৩৮০ বাই ২৩০ মিলিমিটার) (বড় গাড়ীর জন্য)।
• ১০×৬ ইঞ্চি (২৫০ বাই ১৫০ মিলিমিটার) (ছোট এবং মাঝারি আকারের গাড়ীর জন্য)

আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য টেবিল পতাকার মাপ হল,
• ১০×৬ ইঞ্চি (২৫০×১৫০ মিলিমিটার)।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,৯১৫.
কোন পাকিস্তানি কূটনীতিক সর্বপ্রথম পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে দূতাবাসে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন?
  1. ক) নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী
  2. খ) ওয়াশিংটনে নিযুক্ত এ.এম.এ. মুহিত
  3. গ) কলকাতায় নিযুক্ত হোসেন আলী
  4. ঘ) লন্ডনে নিযুক্ত মহিউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
বহির্বিশ্বে মুজিবনগর সরকারের মিশন স্থাপন
- বহির্বিশ্বে মুজিবনগর সরকারের তৎপরতার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হচ্ছে কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক ও স্টকহোম সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন এবং ঐসব স্থানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি নিয়োগ করে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা।

ভারতে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকেই মুজিবনগর সরকার দিল্লি ও কলকাতায় বাংলাদেশের দু'টি মিশন স্থাপন করে।
- নয়াদিল্লিতে মিশন প্রধান ছিলেন হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী এবং কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন জনাব হোসেন আলী।
- ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের পর ১৮ এপ্রিল কলকাতাস্থ পাকিস্তান মিশনের সহকারী কমিশনার জনাব হোসেন আলী ১০ জন সহকর্মীসহ বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং পাকিস্তান মিশন ভবন হতে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
- বিদেশে কলকাতাতেই প্ৰথম বাংলাদেশ মিশন স্থাপিত হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯১৬.
ইসলাম খান চিশতি কোন স্থান থেকে স্থানান্তরিত করে বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থাপন করেন?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. চট্টগ্রাম
  3. সোনারগাঁও
  4. রাজমহল
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতি:
- সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে বাংলা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ সুবাহদার হিসেবে গণ্য করা হয়।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।

উল্লেখ্য,
- ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন।
- নিয়োগ লাভ করে তিনি অনতিবিলম্বে বাংলার তদানীন্তন রাজধানী বিহারের রাজমহল-এ চলে আসেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- তিনি সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
- ইসলাম খান ঢাকাকে সুরক্ষিত করে তিনি ভূঁইয়াদের সব অবস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন এবং ১৬১১ খ্রিস্টাব্দেই মুসা খানসহ বারো ভূঁইয়াদের সবাই ইসলাম খানের নিকট বশ্যতা স্বীকার করেন। 

⇒ সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তিনি লোহার পুল নির্মান করেন এবং ঢাকার ধোলাই খাল খনন করেন।
- বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে রাজমহলে স্থানান্তরিত করেন শাহ সুজা।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৮,৯১৭.
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য রাজধানী ছিল কোনটি?
  1. পাটালিপুত্র
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. বিক্রমপুর
  4. পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- তার সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে, মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়, বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিল কৌটিল্য।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সম্ভবত ২৪ বছর রাজত্ব করেন।
- জৈন সূত্র থেকে জানা যায় যে, পরপর কয়েক বছর অনাবৃষ্টির দরুন দুর্ভিক্ষ হলে চন্দ্রগুপ্ত সিংহাসন ত্যাগ করেন এবং
- তিনি মহীশূরের শ্রাবণবেলগোলা নামক স্থানে অনশন করে জৈন রীতিতে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
       ¡¡) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯১৮.
আওয়ামী লীগের ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়েছিল -
  1. ক) ১৯৬৫ সালে
  2. খ) ১৯৬৬ সালে
  3. গ) ১৯৬৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
• ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।

• সুতরাং, ৬ দফার মধ্যে ৩টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক ছিলো।
- বঙ্গবন্ধু ৬ দফাকে 'আমাদের বাঁচার দাবি' আখ্যা দেন। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৯১৯.
মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে জজ হ্যারিসনের ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয় -
  1. ক) ফ্লোরিডায়
  2. খ) নিউইয়র্কে
  3. গ) ওয়াশিংটনে
  4. ঘ) মস্কোতে
ব্যাখ্যা
‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’

- মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য জর্জ হ্যারিসনের আহবানে সাড়া দিয়ে ওস্তাদ আলী আকবর খান নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এ অংশগ্রহণ করেন।
- সেই অনুষ্ঠানে পন্ডিত রবি শঙ্কর এবং ওস্তাদ আল্লা রাখা খানের সঙ্গে বাজানো ‘বাংলাদেশ ধুন’ এক অসাধারণ সৃষ্টি।

- ১ আগস্ট ১৯৭১ সালে নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
- সেতারবাদক রবিশঙ্কর ও বিখ্যাত সরোদবাদক ওস্তাদ আলি আকবর খান যন্ত্রসঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন। তাদের সাথে তবলায় ছিলেন ওস্তাদ আল্লা রাখা খান। তারা 'বাংলাদেশ ধুন' নামে একটি ধুন পরিবেশন করেন।

- এই কনসার্ট পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সচেতনতা এবং তহবিল সাহায্যের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিলো।


তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮,৯২০.
কোন মুঘল সম্রাটের ইচ্ছানুযায়ী শায়েস্তা খান চট্টগ্রামের নাম ইসলামাবাদ রেখেছিলেন?
  1. শাহজাহান
  2. আকবর
  3. আওরঙ্গজেব
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

সুবেদার শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
-তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৯২১.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনার ছিলেন কে?
  1. এম. ইদ্রিস
  2. আবদুস সাত্তার
  3. খান এ সবুর
  4. ফজলুর রহমান
ব্যাখ্যা

প্রথম জাতীয় নির্বাচন:
- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
- ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম. ইদ্রিস।
- নয় মাসের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারন আসন ও ১৫টি সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮টি আসনে জয়লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট, পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৯২২.
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কোথায়?
  1. কক্সবাজার
  2. কুয়াকাটা
  3. দীঘা
  4. পাটায়া
ব্যাখ্যা
দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত:
- পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত।
- ইংরেজ ক্যাপ্টেন মি. হেরাম কক্স (Captain Hiram Coxs)-এর নামানুসারে এ জায়গার নামকরণ হয় কক্সবাজার।
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার।
- সমুদ্রের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠা সংরক্ষিত বনভূমি সমৃদ্ধ ৯৬ কিলোমিটার পাহাড়ের সারি এখানকার অন্যতম বিরল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বলে বিবেচিত।
- সমুদ্র সৈকতের পথ ধরে ১০-১২ কিলোমিটার দক্ষিণে গেলে হিমছড়ি পিকনিক স্পট।
- এখানকার ঝর্ণা, ঝাউবন, পাহাড় আর বনানীর সৌন্দর্য্য চিত্তাকর্ষক। কক্সবাজারের সন্নিকটেই বৌদ্ধ তীর্থস্থান রামু।
- কক্সবাজারের উত্তর-পশ্চিমে সমুদ্র মাঝে রয়েছে মহেশখালী দ্বীপ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৯২৩.
নিচের কোন রাজনৈতিক দলটি যুক্তফ্রন্টের অংশ ছিলো না?
  1. ক) আওয়ামী মুসলিম লীগ
  2. খ) নেজামে ইসলাম
  3. গ) কৃষক প্রজা পার্টি
  4. ঘ) গণতন্ত্রী দল
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলার চারটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো হলো:
- আওয়ামী মুসলিম লীগ
- নেজামে ইসলাম
- কৃষক শ্রমিক পার্টি এবং
- গণতন্ত্রী দল।
১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৮,৯২৪.
হিউয়েন সাং কোন সময়ে বাংলা ভ্রমণ করেন?
  1. ৬০৫-৬১১ সাল
  2. ৬১৮-৬২২ সাল
  3. ৬৩০-৬৪০ সাল
  4. ৬৬৫-৬৭০ সাল
ব্যাখ্যা
হিউয়েন সাং:
- ফা-হিয়েনের পরবর্তী তীর্থ-ভ্রমণকারী ছিলেন হিউয়েন-সাং।
- তাঁর বিবরণী থেকে সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধের বাংলা সম্পর্কে কিছুটা তথ্য জানা যায়।
- সে সময় উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্ক এবং আসামে ভাস্করবর্মণ শাসন করছিলেন।
- ৬২৯ সালে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য এশিয়ার কুশ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।
- হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।
- কনৌজনগরে পৌঁছে তিনি ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ।
- হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।

⇒ হিউয়েন-সাং ৬৩৮ (৬৩০-৬৪০) সালের দিকে বাংলায় আসেন।
- তাঁর বিবরণী শশাঙ্ক-এর ইতিহাস, বিশেষ করে হর্ষবর্ধনের সঙ্গে তাঁর বৈরিতা এবং শশাঙ্কের ধর্মনীতি সম্পর্কে জানার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- ৬৪৫ সালে হিউয়েন সাং চীনে প্রত্যাবর্তন করলে তাঁকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
- ৬৬৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বৌদ্ধ রচনার অনুবাদে জীবনের বাকি সময় ব্যয় করেন হিউয়েন সাং।

উল্লেখ্য,
- শৈশব থেকেই তিনি ধর্মগ্রন্থ, বিশেষ করে চৈনিক ধ্রুপদি গ্রন্থ ও প্রাচীন জ্ঞানী লোকদের লেখা পাঠে আগ্রহী হন।
- লুওইয়াং নগরে অবস্থানকালে হিউয়েন সাং মাত্র ১৩ বছর বয়সে বৌদ্ধভিক্ষু সম্প্রদায়ে প্রবেশ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯২৫.
১৯৬২ সালের সংবিধান দেশে কোন সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করে?
  1. সংসদীয় শাসন
  2. প্রধানমন্ত্রী শাসিত শাসনব্যবস্থা
  3. প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার
  4. আধা-প্রধানমন্ত্রী শাসিত
ব্যাখ্যা
প্রেসিডেন্সিয়াল বা রাষ্ট্রপতি শাসন পদ্ধতি:
- ১৯৬২ সালের সংবিধান দেশে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার (রাষ্ট্রপতি-শাসিত শাসনব্যবস্থা) পদ্ধতি প্রবর্তন করে।
- প্রেসিডেন্ট মৌলিক গণতন্ত্রীদের ভোটে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন।
- ৩৫ বৎসরের অধিক বয়স্ক মুসলমান ধর্মাবলম্বী এবং জাতীয় সংসদে সদস্য হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য হবে।
- এই সংবিধানে প্রেসিডেন্টকে অতিমাত্রায় নির্বাহী ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতা প্রদান করে।
- তিনি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে জরুরি আইন ঘোষণা, জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা, স্থগিত রাখা কিংবা জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়ার ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
- জাতীয় সংসদে পাস করা বিলে তিনি ভেটো দিতে পারতেন।
- তিনি প্রদেশের গভর্নর ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য নিয়োগ করতেন।
- প্রেসিডেন্টের অনুমোদনক্রমে গভর্নর প্রদেশের মন্ত্রিসভার সদস্য নিযুক্ত করতেন।
- অন্যান্য সকল বড় বড় পদে, যেমন প্রধান সামরিক কর্মকর্তা, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতি, নির্বাচন কমিশনার, কেন্দ্রীয় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগদানের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে ছিল।
- জাতীয় সংসদের অধিবেশন না চলাকালীন সময়ে প্রেসিডেন্ট ছয় মাস মেয়াদের জন্য যেকোন অর্ডিন্যান্স জারি করতে পারতেন।
- পাকিস্তানের নিরাপত্তার স্বার্থে ও দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার্থে দেশের যেকোন নাগরিককে তিনি আটক রাখার হুকুম দিতে পারতেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯২৬.
ঐতিহাসিক ছয় দফার কোন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না-
  1. ক) শাসনতন্ত্র কাঠামো
  2. খ) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  3. গ) স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা
  4. ঘ) স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

ঐতিহাসিক ছয় দফার স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ ছিল না।

১৯৬৬ সালে উত্থাপিত ছয় দফায় উল্লেখিত বিষয়গুলো হলো:
- শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি
- কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
- মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
- কর সংক্রান্ত ক্ষমতা
- বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত ক্ষমতা
- আঞ্চলিক বাহিনী গঠন সংক্রান্ত ক্ষমতা

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,৯২৭.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে কত দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে?
  1. ১০ দফা
  2. ৩০ দফা
  3. ৩৫ দফা
  4. ২১ দফা
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট গঠনের পটভূমি ও ২১ দফা কর্মসূচি:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার জনগণের অসন্তোষ ও মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে এই জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- মওলানা ভাসানীর আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি, হাজী দানেশের গণতন্ত্রী দল এবং খিলাফত-ই-রাব্বানি মিলেই যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া যুক্তফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে, যা আওয়ামী মুসলিম লীগের ৪২ দফার ভিত্তিতে প্রণীত।
- এর মূল রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- এই কর্মসূচিতে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, দুর্নীতি দমন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নসহ জনগণের মৌলিক চাহিদা ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
- এই ২১ দফা কর্মসূচিই জনগণের বিপুল সমর্থন এনে দেয় এবং মুসলিম লীগের বিপরীতে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।
৮,৯২৮.
ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনায় মূল দায়িত্ব পালন করে-
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. গোলাম মুহাম্মদ
  3. রাও ফরমান আলী
  4. নিয়াজি খান
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট: 
- ১৮ই মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন।
- ১৯শে মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্রীকরণ শুরু হয়।
- ২০শে মার্চ সরকার অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ জারি করে।
- ঐ দিন জেনারেল ইয়াহিয়া খান তার সামরিক উপদেষ্টা হামিদ খান, জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল পিরজাদা, জেনারেল ওমর প্রমুখকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সামরিক প্রস্তুতিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন।
- এ সময় প্রতিদিন ৬টি থেকে ১৭টি পর্যন্ত পিআইএ ফ্লাইট বোয়িং ৭০৭ বিমান সৈন্য ও রসদ নিয়ে ঢাকা আসে এবং অসংখ্য সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই হয়ে আসা জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে অপেক্ষা করে।
- ২৪শে মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে এম ভি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র ও রসদ খালাস শুরু হয়।
- ২৫শে মার্চ গণহত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব পালন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম, শ্রেণি।
৮,৯২৯.
'৬২' এর শিক্ষা কমিশনের নাম কী ছিল?
  1. শরিফ কমিশন
  2. কুদরত-ই-খুদা কমিশন
  3. সাইমন কমিশন
  4. হুদা কমিশন
ব্যাখ্যা
শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বিরোধী আন্দোলন (সেপ্টেম্বর, ১৯৬২):
- আইয়ুব খান শিক্ষা সংস্কারের উদ্দেশ্যে ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন।
- তদানীন্তন শিক্ষা সচিব এস.এম. শরীফকে সভাপতি করে গঠিত এগার সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন 'শরিফ কমিশন' নামে অভিহিত।
- কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তার সুপারিশ পেশ করে।

•কমিশনের উল্লেখযোগ্য সুপারিশ ছিল নিম্নরূপ: -
- তিন বছরের বি.এ কোর্স পদ্ধতি চালু করা (এর আগে ছিল দু'বছরের বি.এ পাস কোর্স)।
- স্কুল-কলেজের সংখ্যা সীমিত রাখা।
- শিক্ষা ব্যয়ের শতকরা ৮০ ভাগ অভিভাবককে বহন করতে হবে।
- ৬ষ্ঠ শ্রেণি হতে ডিগ্রি স্তর পর্যন্ত ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক করা হবে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯৩০.
কে অপারেশন সার্চলাইট এর নীল নকশা তৈরি করেন?
  1. মো. আলী জিন্নাহ
  2. টিক্কা খান
  3. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  4. ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর 'অপারেশন সার্চ লাইট' পরিচালনা করে।
- এই অপারেশনে ঢাকা শহর জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালানো হয়।
- ১৮ মার্চ, ১৯৭১ জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন।
- সব প্রস্তুতি শেষে ২৫ মার্চ এই অপারেশন চালানো হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইটের মূল দায়িত্বে ছিলেন।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৮,৯৩১.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,৯৩২.
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে কোন সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. তমদ্দুন মজলিস
  2. ভাষা পরিষদ
  3. মাতৃভাষা পরিষদ
  4. আমরা বাঙালি
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
----------------------- 
• তমদ্দুন মজলিশ:

তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি। এটি ছিলো ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংগঠন।

প্রতিষ্ঠা: ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে।
উদ্দেশ্য: বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা এবং দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা প্রচার করা।

প্রতিষ্ঠাতা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম, যিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মুখপত্র: সাপ্তাহিক "সৈনিক" পত্রিকা; প্রথম প্রকাশিত হয় ১৪ নভেম্বর, ১৯৪৮।

বিশেষ প্রকাশনা: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে, যা ভাষা আন্দোলনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস:
- স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৮,৯৩৩.
স্বাধীন বাংলাদেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়-
  1. ৬ জানুয়ারি, ১৯৭২
  2. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. ৪ এপ্রিল, ১৯৭২
  4. ১২ আগস্ট ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী রাষ্ট্র:
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান (পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে) এবং দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ২৫ মে ১৯৭২।
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ৪ এপ্রিল, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ১৫ মে, ১৯৭২।
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়- ইরাক।
- ইরাক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়- ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।

উৎস: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
৮,৯৩৪.
সার্ভে ও সেটেলমেন্ট ম্যানুয়াল পাস হয় -
  1. ১৯৩৪ সালে
  2. ১৯৩৬ সালে
  3. ১৯৩৫ সালে
  4. ১৯৩৮ সালে
ব্যাখ্যা
সার্ভে ও সেটেলমেন্ট ম্যানুয়াল-১৯৩৫:
- সার্ভে ও সেটেলমেন্ট ম্যানুয়াল পাস হয় ১৯৩৫ সালে।

⇒ এই ম্যানুয়ালটি সার্ভে এবং সেটেলমেন্ট সংক্রান্ত পদ্ধতির প্রধান নিয়মগুলির একটি সংকলন। টেকনিক্যাল নিয়মাবলী " টেকনিক্যাল রুলস এবং ইন্সট্রাকশনস" শিরোনামের পৃথক বইয়ে পাওয়া যাবে। বিভিন্ন ফর্ম, নোটিশ, রিটার্ন, রেজিস্ট্রার ইত্যাদি, যা নির্ধারিত বা নমুনা হিসাবে পুনরায় করা হোক না কেন পরিশিষ্ট X-এ ফর্মের তালিকায় একত্রিত করা হয়েছে, এবং ক্রমিকভাবে সংখ্যাযুক্ত করা হয়েছে। সুবিধার জন্য সেগুলি পাঠ্যের মধ্যে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। সেটেলমেন্ট অপারেশনে ব্যবহৃত অন্যান্য ফর্ম টেকনিক্যাল রুলস এবং ইন্সট্রাকশনে পাওয়া যাবে।

⇒ সার্ভে এন্ড সেটেলমেন্ট অপারেশন সংক্ষেপে সেটেলমেন্ট অপারেশন নিম্নরুপে অভিহিত হবে: এবং চারটি প্রধান শাখা নিয়ে গঠিত হবে:
(ক) জরিপ করা এবং জমির নকসা করা;
(খ) খতিয়ান/স্বত্বলিপি প্রস্তুত করা।
(গ) প্রজাদের দ্বারা প্রদেয় খাজনার নিষ্পত্তি; এবং
(ঘ) ভূমির রাজস্ব নিষ্পত্তি করন।

উৎস: ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৮,৯৩৫.
বর্তমান মুজিবনগরের পূর্বনাম কী ছিল?
  1. ক) চন্দ্রবাড়ি
  2. খ) ভবের পাড়া
  3. গ) টুংগীপাড়া
  4. ঘ) শিমুলিয়া
ব্যাখ্যা
• বর্তমান মুজিবনগরের পূর্বনাম ভবের পাড়া।
• মুজিবনগর মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান । 
• স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী ছিল মুজিবনগর।
মুজিবনগরের আম্রকাননে ১৭ এপ্রিল সরকারের মন্ত্রী পরিষদ শপথ নিয়েছিল। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
• বাংলাদেশের প্রথম রাজধানীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৯৩৬.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য কে? (সেপ্টেম্বর, ২০২৪)
  1. অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল
  2. অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান
  3. অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান
  4. অধ্যাপক মোতাহের হোসেন
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকার রমনা এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এর প্রাথমিক অবকাঠামোর বড় একটি অংশ গড়ে উঠে ঢাকা কলেজের শিক্ষকমণ্ডলী এবং কলেজ ভবনের (বর্তমান কার্জন হল) উপর ভিত্তি করে।
- ৩টি অনুষদ (কলা, বিজ্ঞান ও আইন), ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ জন ছাত্রছাত্রী এবং ৩টি আবাসিক হল নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। (সেপ্টেম্বর, ২০২৪)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙ্গালী উপাচার্য ছিলেন স্যার এ.এফ রহমান।
- ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূরণ করেছে।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৩৭.
জাতীয় স্মৃতিসৌধটি কবে উদ্বোধন করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি
  2. ১৯৮১ সালের ২৬ মার্চ
  3. ১৯৮২ সালের ১৬ ডিসেম্বর
  4. ১৯৮৩ সালের ২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা
 জাতীয় স্মৃতিসৌধ:
- জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাভারে অবস্থিত।
- এর নকশা প্রণয়ন করেছেন স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন।
- এখানে মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের দশটি গণকবর রয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রনায়কগণ সরকারিভাবে বাংলাদেশ সফরে আগমন করলে এই স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন রাষ্ট্রাচারের   অন্তর্ভুক্ত।
- স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিক্রমা বা পর্যায় হিসেবে সাতটি ঘটনাকে বিবেচনা করে সৌধটি নির্মিত হয়েছে।
- ১৯৭২ এর ১৬ই ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হোসেন মুহাম্মাদ এরশাদ এর উদ্বোধন করেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৩৮.
মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. অশোক
  2. বিন্দুসার
  3. চন্দ্রগুপ্ত  
  4. বৃহদ্রথ
ব্যাখ্যা

- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ বংশের শেষ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।  

মৌর্য সাম্রাজ্য:
- মৌর্য সাম্রাজ্যই ভারতের ইতিহাসে প্রথম সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দে ব্যাবিলনে আলেকজান্ডারের মৃত্যু ঘটলে তাঁর অধিকৃত ভারতীয় অঞ্চলে গ্রিকদের মধ্যে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং বিরোধ দেখা দেয়।
- এ সময়ে মগধে নন্দবংশীয় সম্রাট ধননন্দ রাজত্ব করছিলেন।
- তিনি মোটেও জনপ্রিয় ছিলেন না।
- এ অবস্থায় চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য মগধের সিংহাসন দখল করেন এবং উত্তর পশ্চিম ভারত থেকে গ্রিকদের বিতাড়িত করে ভারতে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্য ইতিহাসে মৌর্য সাম্রাজ্য নামে বিখ্যাত।
- মৌর্য সম্রাটরা বহু-বিভক্ত ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- এ বংশের দুজন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও অশোক বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৯৩৯.
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ মন্ত্রীর নাম কী?
  1. ক) জনাব নসরুল হামিদ
  2. খ) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা
  3. গ) ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী
  4. ঘ) জনাব মোঃ ফরহাদ হোসেন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ মন্ত্রী - মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর অধীনে রয়েছে ছয়টি মন্ত্রণালয়।
এগুলো হলো-
১. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ,
২. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়,
৩. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়,
৪. সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ,
৫. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং
৬. মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এছাড়া, 
• ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম - মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী)
• নসরুল হামিদ, এমপি - মাননীয় প্রতিমন্ত্রী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এর ওয়েব সাইট।
৮,৯৪০.
ভাস্কো ডা গামা কোন দেশের অধিবাসী?
  1. ক) পর্তুগীজ
  2. খ) হল্যান্ড
  3. গ) ইংল্যান্ড
  4. ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
বাংলায় পর্তুগীজ আগমন:

- পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো ডা গামা প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মে।
- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- তার এ উপমহাদেশে আগমন ব্যবসায় বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯৪১.
স্বাধীন বাংলা বেতারের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'জল্লাদের দরবার’-এ কার অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হয়?
  1. জেনারেল টিক্কা খান
  2. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. জেনারেল নিয়াজি
  4. জুলফিকার আলী ভুট্টো
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- মুক্তিযুদ্ধ সময়কালে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং অবরুদ্ধ এলাকার জনগণের মনোবল অক্ষুন্ন রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নীতি নির্ধারণী ভাষণসহ জনগণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নির্দেশাবলী প্রচারিত হয়।

⇒ স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো। এই ব্যঙ্গাত্মক সিরিজে তাকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রে চিত্রিত করা হয় এবং এই ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন এম.আর আখতার মুকুল, যিনি নিজেই এর উপস্থাপক ছিলেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি জনগণের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়। এতে একইসঙ্গে ছিল তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও জাতীয়তা বোধের প্রকাশ যা জনগণের নৈতিক মনোবল দৃঢ়ীকরণে ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো

৮,৯৪২.
রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩ অনুযায়ী বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা

রেগুলেটিং এ্যাক্ট:
- ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন ওয়ারেন হেস্টিংস।

• উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ সালে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।

উল্লেখ্য,
- রেগুলেটিং এ্যাক্ট এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৯৪৩.
পাকিস্তানের দ্বিতীয় গণপরিষদে আওয়ামী লীগের সদস্য সংখ্যা কত ছিল? 
  1. ৮০ জন
  2. ৪০ জন 
  3. ১৬ জন 
  4. ১২ জন
ব্যাখ্যা
-  গভর্নর জেনারেল গােলাম মোহাম্মদ ১৯৫৫ সালে এক অধ্যাদেশ বলে পাকিস্তানের দ্বিতীয়   গণপরিষদ গঠন করেন। 
- দ্বিতীয় গণপরিষদ মােট ৮০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। 
   পূর্ব পাকিস্তান -  ৪০ জন 
   পশ্চিম পাকিস্তান- ৪০ জন
- পাকিস্তানের দ্বিতীয় গণপরিষদে আওয়ামী লীগের সদস্য সংখ্যা ছিল - ১২ জন 
- যুক্তফ্রন্ট - ১৬ জন
- কংগ্রেস - ৪ জন 

 তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক
৮,৯৪৪.
মুক্তিযুদ্ধে ‘এস ফোর্স’ এর প্রধান কে ছিলেন?
  1. এ.এম.সফিক
  2. আর.এস.সালেক
  3. কে.এম.সফিউল্লাহ
  4. এম.এন.শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৪৫.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয় পদ অলংকৃত করেন-
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমদ
  3. গ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- ‌তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয় পদ অলংকৃত করেছেন।
৮,৯৪৬.
সর্বপ্রথম কার নেতৃত্বে সিপাহীরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন?
  1. অসীম পান্ডে
  2. মঙ্গল পান্ডে
  3. অমল পান্ডে
  4. কুসল পান্ডে
ব্যাখ্যা
সিপাহী বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চের বিকেল, ব্রিটিশ ভারতের দেশীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ চলছিল ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে।
- প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছিল ‘বিতর্কিত’ এনফিল্ড রাইফেল।
- একজন সিপাহি প্রশিক্ষণের সময় চর্বিযুক্ত কার্তুজ ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানান।
- তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ হয়ে ইংরেজ অফিসারকেই গুলি করে বসেন।
- সেই সিপাহির নাম মঙ্গল পাণ্ডে।
- লেফটেন্যান্ট বফকে গুলি করার সময় সৈনিকদের কেউ কেউ তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও বাকিরা মঙ্গল পাণ্ডের পক্ষ নেন।
- ২৯ মার্চ, ১৮৫৭ খ্রি. ব্যারাকপুরে মঙ্গল পান্ডে নামক জনৈক সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
- তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গীদের প্রাণদন্ডে দন্ডিত করে বিদ্রোহ দমন করতে চেষ্টা করা হয়।

উৎস: ইতিহাস এসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯৪৭.
বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ঢাকা
  3. গাজীপুর
  4. মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর ঢাকার বিজয় সরণিতে অবস্থিত। গত ৬ জানুয়ারি ২০২২ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরকে বঙ্গবন্ধু সামরিক নামকরণের উদ্বোধন করেন।

এটি ১৯৮৭ সালে প্রথমে মিরপুর সেনানিবাসে উদ্বোধন করা হয় এবং ১৯৯২ সালে বিজয় স্মরণীতে স্থানান্তর করা হয়।

(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)
৮,৯৪৮.
মত প্রকাশের অধিকার কোন অধিকারের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নৈতিক অধিকার
  2. সামাজিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. ব্যক্তিগত অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা (১) নৈতিক অধিকার ও (২) আইনগত অধিকার

নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত।
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন: ভিখারীর ভিক্ষা পাবার অধিকার। 

আইনগত অধিকার (Legal Rights):
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- এ অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
- ফলে এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে।
- যেমন: জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি।
- সমাজ ও রাষ্ট্রভেদে এ অধিকারের তারতম্য ঘটে না।
- অর্থাৎ এটি সার্বজনীন। 

আইনগত অধিকারকে নিম্নরূপভাবে ভাগ করা যায়-
ক. সামাজিক অধিকার: জীবন ধারণের অধিকার, সম্পত্তি রক্ষার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার ইত্যাদি।
খ. অর্থনৈতিক অধিকার: কর্মের অধিকার, ন্যায্য মুজুরি পাবার অধিকার, পেশা পছন্দের অধিকার।
গ. রাজনৈতিক অধিকার: ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার।
ঘ. ধর্মীয় অধিকার: প্রত্যেক নাগরিকের তার নিজ ধর্ম পালন, চর্চা, আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হল ধর্মীয় অধিকার। যেমন একজন মুসলিম নাগরিকের অধিকার আছে নামায পড়ার। ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে, কেননা ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।
ঙ. সাংস্কৃতিক অধিকার: প্রত্যেক জাতিরই নিজস্ব ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক-পরিচ্ছেদ থাকে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সংস্কৃতিকে ধারণ, বাহন ও বিকাশ ঘটানোর অধিকার হল সাংস্কৃতিক অধিকার।
চ. ব্যক্তিগত অধিকার: জীবন-ধারণের অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, সুখ-স্বাচ্ছদ্যের অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯৪৯.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার অন্তর্ভুক্ত ছিল -
  1. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন
  2. খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা
  3. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- ২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল।
- সুতরাং এই ২১ দফা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। 

⇒ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ছিল নিম্নরূপ:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯৫০.
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের জন্য কত জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বীরপ্রতীক উপাধি প্রদান করা হয়েছিল?
  1. ১৭৫ জন
  2. ৪২৬ জন
  3. ৭ জন
  4. ৬৮ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।
 
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।
 
তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৫১.
বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা চালু হয় কত তারিখ?
  1. ২ মার্চ, ১৯৭২
  2. ৪ মার্চ, ১৯৭২
  3. ৬ মার্চ, ১৯৭২
  4. ৮ মার্চ, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা:
- ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব ১ ও ১০০ টাকার ব্যাংক নোটের প্রচলন হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশের মুদ্রার নাম রাখা হয় টাকা। বিশ্বের কয়েকটি দেশের মুদ্রার নাম একই ধরনের। তবে বাংলাদেশের মুদ্রা হিসেবে টাকা নামটি স্বতন্ত্র।
- ৪ মার্চ ১৯৭২ তারিখে প্রকাশিত দুটি ব্যাংক নোট ভারতের সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপানো হয়। ১ টাকার ও ১০০ টাকার নোট।
- ১ টাকার নকশায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ কথাটি স্থান পায় এবং তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন সে সময়ের অর্থসচিব কে এ জামান।
- ১০০ টাকার নকশায় দেখা যায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং তাতে লেখা থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০০ টাকার ব্যাংক নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রথম গভর্নর এ এন হামিদ উল্ল্যাহ্ স্বাক্ষরিত।
- ৪ মার্চ ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো পালিত হয়েছে 'টাকা দিবস'।

তথ্যসুত্র - বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ০৪ মার্চ, ২০২১।
৮,৯৫২.
কোন মুঘল সুবেদার চট্টগ্রাম দখল করে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ?
  1. ইসলাম খান
  2. রাজা মানসিংহ
  3. শায়েস্তা খান
  4. মীর জুমলা
ব্যাখ্যা

শায়েস্তা খান (১৬৬৪-১৬৮৮):
 - বাংলার মুগল সুবাহদার।
- ১৬৭৮-৭৯ খ্রিস্টাব্দে এক বছরের সামান্য বেশি সময়ের বিরতিসহ দীর্ঘ ২৪ বছর তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলায় সুবাহদার হিসেবে তাঁর কার্যকালের মেয়াদই দীর্ঘতম।
- ইরানি বংশোদ্ভূত  শায়েস্তাখানের আসল নাম ছিল মির্জা আবু তালিব।
- জাহাঙ্গীর তাঁর রাজত্বের একুশতম বছরে তাঁকে ‘শায়েস্তা খান’ উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- ১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাহদার নিযুক্ত হন।
- প্রধানত চট্টগ্রাম জয়ের জন্যই বাংলায় শায়েস্তা খানের বিশাল খ্যাতি।
- বিখ্যাত সামুদ্রিক বন্দর চট্টগ্রাম চৌদ্দ শতকের মধ্যভাগে সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ দখল করেছিলেন। মাঝে মাঝে আরাকান বা ত্রিপুরা এটি দখল করে নিত।
- সেই বিরতিটুকু ছাড়া তখন থেকেই চট্টগ্রাম মুসলমানদের শাসনাধীন ছিল।
- কিন্তু মুগলদের বাংলা বিজয়ের আগে চট্টগ্রাম আরাকানিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল।
- ১৬৬৬ সালে বাংলার মোঘল শাসক শায়েস্তা খান তাঁর পুত্র বুজুর্গ — ওমেদখানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিজয় সম্পন্ন করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের নাম রাখেন — ইসলামাবাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,৯৫৩.
বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী দিবস কবে?
  1. ক) ২১ অক্টোবর
  2. খ) ২১ নভেম্বর
  3. গ) ২১ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ২১ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী গঠিত হয় ২১ নভেম্বর ১৯৭১ সালে। তাই ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করা হয়।
উৎসঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৮,৯৫৪.
আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কবে জারী করা হয়?
  1. ক) ৭ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ২৫ মার্চ ১৯৭১
  3. গ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা।
বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে একই দিনে আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ নামে একটি আদেশ জারি করেন। স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা রক্ষার্থে এটা করা হয়।
অর্থ্যাৎ ২৬ মার্চ থেকে এটি বলবৎ হয়।

- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।

- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৫৫.
”জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি’’ কথাটি কে বলেছেন?
  1. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. সৈয়দ আহমদ বেরেলভী
  3. তিতুমীর
  4. দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ।
- ফরায়েজি আন্দোলন  শুরু হয় -১৮১৮ সালে।
- এ আন্দোলন কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন দুদু মিয়া।
- দুদু মিয়ার  আসল নাম পীর মুহসীনউদ্দীন আহমদ।
- দুদু মিয়ার নেতৃত্ব ফরায়েজি আন্দোলন সশস্ত্র আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ’’জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি’’ কথাটি  বলেছেন দুদু মিয়া।
- দুদু মিয়া অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছেলেন।
- এবং বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
- দুদু মিয়া বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে খলিফা নিযুক্ত করেন।

অপরদিকে,
- ভারতবর্ষে ওহাবি আন্দোলনের  মতাদর্শ  প্রতিষ্ঠা করেন সৈয়দ আহমেদ বেরেলভী।
- তিতুমীর ১৮৩১ সালে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- এটি নারিকেলবাড়িয়ায় তৈরি করেছিলেন।
- লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্ট  এটি ধ্বংস করে দেন। 

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।
          ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৫৬.
১৭৮১ সালে ফকির মজনু শাহ কোন জঙ্গলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. মধুপুর জঙ্গল
  2. পলাশী আম্রকানন
  3. সুন্দরবন
  4. ভাওয়াল গড়
ব্যাখ্যা
ফকির মজনু শাহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ঐতিহাসিক ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়ক মজনু শাহ।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক। 
- ১৭৮১ সালে মজনু শাহ টাঙ্গাইলের মধুপুর জঙ্গলে আধিপত্য বিস্তার করেন।
- ১৭৮২ সালে ময়মনসিংহের আলপসিং পরগনায় ইংরেজদের সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ফকির ও সন্ন্যাসীরা পরাজিত হন।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন।
- মজনু শাহ মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং নয়া দিগন্ত পত্রিকা রিপোর্ট।
৮,৯৫৭.
ছয় দফার কত নং দফায় পাকিস্তানকে ফেডারেশন করার প্রস্তাব রাখা হয়?
  1. ক) ৩নং
  2. খ) ১নং
  3. গ) ২নং
  4. ঘ) ৪নং
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত। 
ছয়টি দফা নিম্নরূপ:
১.    লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেশনে পরিণত করতে হবে, যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত আইন পরিষদ সার্বভৌম হবে;
২.    ফেডারেল সরকারের হাতে থাকবে শুধু দুটি বিষয়, প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক, এবং অপর সব বিষয় ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত রাজ্যসমূহের হাতে ন্যস্ত থাকবে;
৩.    পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে সমগ্র পাকিস্তানের জন্য ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটিই মুদ্রাব্যবস্থা থাকবে, একটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও দুটি আঞ্চলিক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থাকবে। তবে এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পুঁজি যাতে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতে না পারে তার ব্যবস্থা সম্বলিত সুনির্দিষ্ট বিধি সংবিধানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে;
৪.    দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পৃথক হিসাব থাকবে এবং অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা রাজ্যের হাতে থাকবে। তবে ফেডারেল সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে কিংবা উভয়ের স্বীকৃত অন্য কোনো হারে আদায় করা হবে;
৫.    দুই অংশের মধ্যে দেশিয় পণ্য বিনিময়ে কোনো শুল্ক ধার্য করা হবে না এবং রাজ্যগুলো যাতে যেকোন বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে সংবিধানে তার বিধান রাখতে হবে।
৬.    প্রতিরক্ষায় পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে আধা-সামরিক রক্ষীবাহিনী গঠন, পূর্ব পাকিস্তানে অস্ত্র কারখানা স্থাপন এবং কেন্দ্রীয় নৌবাহিনীর সদর দফতর পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপন করতে হবে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৮,৯৫৮.
বঙ্গবন্ধু রচিত 'কারাগারের রোজনামচা' বইতে কোন সময়ের বর্ণনা রয়েছে?
  1. ক) ১৯৫৩ - ১৯৫৫
  2. খ) ১৯৬২ - ১৯৬৪
  3. গ) ১৯৫৯-১৯৬১
  4. ঘ) ১৯৬৬ - ১৯৬৮
ব্যাখ্যা
- কারাগারের রোজনামচা হলো বঙ্গবন্ধু রচিত দ্বিতীয় প্রকাশিত বই।
- বাংলা একাডেমি ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বইটি প্রকাশ করে।
- এটির ভূমিকা লেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কারান্তরীন থাকালীকান তার জেল জীবনের ডায়েরিকে ‘কারাগারের রোজনামচা’ নামে বই আকারে প্রকাশ করা হয়।
 
১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেবার পর বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা গ্রেফতার হন । ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত বন্দি থাকেন। সেই সময়ে কারাগারে প্রতিদিনের ডায়েরি লেখা শুরু করেন। ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত লেখাগুলি এই বইয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম।

(তথ্যসূত্র: কারাগারের রোজনামচা)
৮,৯৫৯.
স্বাধীনতার প্রথম ডাকটিকিটে ছবির বিষয়বস্তু কোনটি ছিল?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) বঙ্গবন্ধু
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) শহীদ বুদ্ধিজীবী
ব্যাখ্যা
- আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাময়িক সরকার ৮টি ডাকটিকিটের একটি সেট ২৯ জুলাই ১৯৭১ সালে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্য প্রকাশ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ এর পর প্রথম স্মারক ডাকটিকিট ২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৭২, প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের জন্য “শহীদ মিনার” ছবিসহ।
- তারপর বাংলাদেশ ডাকবিভাগ অবিরাম নির্দিষ্ট স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে চলছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা, উত্তরাধিকার ও সংস্কৃতির উপর।
- অদ্যতক বাংলাদেশ ডাকবিভাগ ৭৩২ প্রকার ডাকটিকিট এবং ২৮টি সুভ্যেনির প্রকাশ করেছে।

সুত্রঃ ডাক অধিদপ্তর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
৮,৯৬০.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাটক?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. দুই সৈনিক
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়:
- বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে মেধাবী কবি, নাট্যকার ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক (১৯৩৫- ২০১৬)।
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাটক।
- নাট্যকার পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটকে গ্রাম্য মোড়লের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান ও তার বহুরূপী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
- পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের শোষণ বঞ্চনার নাগপাশ ছিন্ন করে এদেশের মানুষ একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তির সংগ্রামে।
- তবে এক শ্রেণির মানুষ বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচরণ করেছিল।
- নাটকে সেই শ্রেণিচরিত্রকে মুখ্য করে নাট্যকার নির্মাণ করেন রাজাকার চরিত্র।
- এ ছাড়া নাট্যকার সুকৌশলে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ধর্মের ব্যবহার, নারী- নির্যাতন, সাধারণ মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন, মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন এবং সর্বোপরি স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক-দালাল মাতবরের নির্মম পরিণতি উপস্থাপন করেছেন।

উৎস: জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব আর্টস।
৮,৯৬১.
বাংলায় হাবসি শাসনের সময়কাল কত ছিল?
  1. ১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৪৪৭-১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৫৮৭-১৫৯৩ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৫৪৭-১৫৫৩ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
হাবসি শাসন: 
- হাবসি নেতা সুলতান শাহজাদা 'বরবক শাহ' উপাধি নিয়ে প্রথম বাংলার ক্ষমতায় বসেন।
- বাংলায় হাবসি শাসন মাত্র ছয় বছর (১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) স্থায়ী ছিল।
- এ সময় বাংলা অঞ্চলের ইতিহাস ছিল অন্যায়, অবিচার, বিদ্রোহ, ষড়যন্ত্র আর হতাশায় পরিপূর্ণ।
- এ সময়ে চারজন হাবসি সুলতানের মধ্যে সবাইকে হত্যা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮,৯৬২.
দ্বৈত শাসনের ফলে ইংরেজ কোম্পানির হাতে কেন্দ্রীভূত হয় -
  1. রাজস্ব আদায়ের ভার
  2. প্রশাসন পরিচালনার ভার
  3. বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

উল্লেখ্য,
- রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর।
- অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।

⇒ এর ফল হিসেবে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয় ৷
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৯৬৩.
নিচের কোন বাহিনী দ্বারা অপারেশন 'কিলো ফ্লাইট' পরিচালিত হয়?
  1. বিমান বাহিনী
  2. নৌ-বাহিনী
  3. ক্র্যাক প্লাটুন
  4. সেনাবাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন কিলো ফ্লাইট:

- অপারেশন কিলো ফ্লাইট নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস।
- ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অপারেশনগুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম।
- এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা।
- ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

তথ্যসুত্র - ডেইলি স্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২।
৮,৯৬৪.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য কতজন নারীকে বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:

- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।
- মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।
- ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।
৮,৯৬৫.
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন?
  1. ৬নং সেক্টর
  2. ৭নং সেক্টর
  3. ৮নং সেক্টর
  4. ৯নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:

- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে.
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- তিনি ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন।
- তিনি অসামান্য বীরত্বের সাথে আরগরারহাট, কানসাট, শাহপুর এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং মুক্তাঞ্চল গঠন করেন।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৮,৯৬৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হুলিয়া’র নির্মাতা?
  1. ক) চাষি নজরুল ইসলাম
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) তানভীর মোকাম্মেল
  4. ঘ) আলমগীর কবির
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র - হুলিয়া
- এটি নির্মাণ করেন তানভীর মোকাম্মেল। 
- ষাটের দশকে প্রগতিশীল সংগঠনের কর্মীদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যে হুলিয়া বুকে নিয়ে ঘরছাড়া এক তরুণকে নিয়ে লেখা কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতাকে ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে এনেছেন তানভীর মোকাম্মেল।

তানভীর মোকাম্মেলের নদীর নাম মধুমতি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ চলচিত্র
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ চলচ্চিত্র ধীরে বহে মেঘনা-র পরিচালক আলমগীর কবির

উৎসঃ দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট 

৮,৯৬৭.
রাজা পঞ্চম জর্জ কোথায় বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন?
  1. লন্ডন
  2. ঢাকা
  3. কলকাতা
  4. দিল্লি
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গের পটভূমি:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হলেও শেষ পর্যন্ত ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে এর বাস্তবায়ন হয়।
- এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদাহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ।
- এই প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরদিকে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী করা হয় কোলকাতাকে।

বঙ্গভঙ্গ রদ: 

- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে।
- ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনকারীদের দমন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে।
- রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯৬৮.
'পূর্ববাংলা ভাষা কমিটি'র সভাপতি কে ছিলেন?
  1. শামসুল আলম
  2. আবুল হাশেম 
  3. আকরাম খাঁ
  4. নুরুল হক ভূঁইয়া
ব্যাখ্যা

পূর্ব বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি:
- ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার ভাষা কমিটির সভাপতি ছিলেন মাওলানা আকরাম খাঁ। 

⇒ ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত সময়কে ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতি পর্ব বলা যায়। এই সময়ে আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার জনগণের আন্দোলনের মুখে প্রাদেশিক সরকার ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বাংলা ভাষা সংস্কারের জন্য মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁকে সভাপতি এবং কবি গোলাম মোস্তফাকে সম্পাদক করে একটি সংস্কার কমিটি গঠন করে।
- দেড় বছর ব্যাপক আলাপ আলোচনার পর কমিটি সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করে।
- এই রিপোর্টে বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ ও বর্ণমালার প্রচুর সংস্কারের পরামর্শ দেয়া হয়।
- নতুন ভাষার নামকরণ হয় 'সহজ বাংলা'।
- কমিটি রোমান বা উর্দু হরফে বাংলা লেখার প্রশ্নকে কমপক্ষে বিশ বছরের জন্য স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়।
- এ সময়ের মধ্যে উর্দু ভাষাকেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানায়।
- এই রিপোর্টটি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পছন্দ হয়নি বলেই তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৯৬৯.
কত খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

লক্ষ্ণৌ চুক্তি:
-  ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মৌ শহরে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের যৌথ অধিবেশনে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগের মধ্যে লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

⇒ লক্ষ্ণৌ চুক্তির বৈশিষ্ট্য:
১. প্রাদেশিক আইন পরিষদ সমূহ সম্প্রসারণ করার সুপারিশ করা হয়। বৃহৎ প্রদেশের সদস্য সংখ্যা ১২৫ জন এবং ছোট প্রদেশের সদস্য সংখ্যা ৫০ থেকে ৭৫ এর মধ্যে নির্ধারণ করার দাবি করা হয়। এদের মধ্যে পাঁচ ভাগের এক ভাগ মনোনীত সদস্য এবং বাকী পাঁচ ভাগের চার ভাগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার দাবি করা হয়।
২. কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক আইন পরিষদে কোন সম্প্রদায়ের কোনো বিল পাশের ক্ষেত্রে আইনসভায় ঐ সম্প্রদায়ের তিন-চতুর্থাংশ সদস্যের সম্মতির বিধান রাখা হয়। ৩. লক্ষ্ণৌ চুক্তিতে ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
৪. এ চুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এতে সংখ্যানুপাতে অধিক প্রতিনিধিত্বের সুপারিশ করা হয়। অর্থাৎ যেখানে মুসলমানগণ সংখ্যালঘু, সেখানে তাদের আসন সংখ্যা লোকসংখ্যা থেকে বাড়িয়ে দেয়া হবে। আর যেখানে সংখ্যাগুরু সেখানে জনসংখ্যার তুলনায় তারা কম আসন লাভ করবে। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় বাংলা প্রদেশের কথা। বাংলার মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫২.৬ শতাংশ আর মুসলিম আসন বরাদ্দ করা হয় ৪০ শতাংশ। এভাবে বিহার ও উড়িষ্যাতে ২৫ শতাংশ, সেন্ট্রাল প্রদেশে ১৫ শতাংশ, মাদ্রাজে ১৫ শতাংশ, পাঞ্জাবে ৫০ শতাংশ এবং যুক্ত প্রদেশে ৩০ শতাংশ আসন বরাদ্দের কথা বলা হয়।
৫. এ চুক্তিতে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার স্বীকৃতির পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন প্রদানে সম্মতি দেয়া হয়।
৬. ভারতের জন্য স্ব-শাসন কায়েমের লক্ষ্যে কংগ্রেসও মুসলিম লীগ একত্রে আন্দোলন করবে।
৭. প্রদেশসমূহ কেন্দ্রীয় সরকার যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে স্বায়ত্বশাসন ভোগ করবে।
৮. গভর্ণর জেনারেলের শাসন পরিষদের অর্ধেক সদস্য ভারতীয় হবেন। তারা ভারতীয় আইন পরিষদের সদস্য দ্বারা নির্বাচিত হবেন।

⇒ ভারতীয় উপমহাদেশের শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ১৯১৬ সালের লক্ষ্ণৌ চুক্তি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ চুক্তির মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায় সম্মিলিতভাবে ব্রিটিশ সরকারের কাছে নিজেদের দাবি-দাওয়া পেশ করার সুযোগ পায়। প্রথমবারের মতে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচনা করে এই চুক্তি। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে সংগঠিত ও পরিকল্পিত করার জন্য এ চুক্তি করা হয়। লক্ষ্ণৌ চুক্তির মাধ্যমে মুসলমান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার স্বীকৃতি দেয়া হয়। তা সত্ত্বেও বাংলার রক্ষণশীল মুসলিম নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর মূলে ছিল আসন সংখ্যা সমন্বয়ের নিীতি।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৯৭০.
ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ডিরোজিও
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা।
- দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।

উল্লেখ্য,
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন।
- তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি প্রমুখ।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৯৭১.
শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের কয় সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়?
ব্যাখ্যা
প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন:
- চারটি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার হয় ২১ দফা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়ী হয় এবং মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করে।
- নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়ী হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রদত্ত ভোটের ৬৪% লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- সরকারি দল মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
- বাকি ৫টি মুসলিম আসনের ৪টি পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং ১টি পায় খেলাফত-ই-রব্বানী পার্টি।
- এছাড়া মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনের সবকটিই যুক্তফ্রন্ট লাভ করে।
- নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।

⇒ যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:
• মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরেবাংলা এ কে ফজলুল।
• বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
• শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
• কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮,৯৭২.
সমতটের কেন্দ্র ছিল কোনটি?
  1. লালমাই
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. কোটিবর্ষ
  4. মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা

সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৯৭৩.
বাংলাদেশের অর্থায়নে বহির্বিশ্বে প্রথম শহিদ মিনার কোথায় নির্মিত হয়?
  1. ইংল্যান্ড
  2. জাপান
  3. রাশিয়া
  4. ওমান
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিজের অর্থায়নে ২০০৫ সালে জাপানের টোকিওতে শহিদ মিনার নির্মিত হয়। 
দেশের বাহিরে শহিদ মিনার:

- বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহিদ মিনার স্থাপিত হয় ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে। 
- গ্রেট মেনচেস্টারের ওল্ডহ্যামের ওয়েস্টহুড নেবারহুডে তৈরি হয়েছে এ মিনার।
-  ১৯৯৭ সালের ৫ অক্টোবর সেখানকার ‘বাংলাদেশি কালচারাল অ্যান্ড হিস্ট্রি ইন ওল্ডহ্যাম’ সে দেশে শহিদ মিনার নির্মাণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। 
- তাছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৫ সালে জাপানের টোকিওতে শহিদ মিনার নির্মিত হয়। 
- জাপান বাংলাদেশ সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর বৈশাখি মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার সূত্র ধরে বাংলাদেশ সরকার এই শহিদ মিনারটি নির্মাণ করে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৭৪.
'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন কোন শাসক?
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. হর্ষবর্ধন
  3. অশোক
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

কৌলিন্য প্রথা ও বল্লাল সেন:
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, কৌলিন্য প্রথার সাথে বল্লাল সেনের সম্পর্কের তেমন কোনো যুক্তিযুক্ত ভিত্তি নেই।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন।
- ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৯৭৫.
'জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক' প্রণয়নের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. NTRCA
  2. NAEM
  3. NCTB
  4. BANBEIS
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB):
- বাংলাদেশের শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যতম বৃহৎ জাতীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)।
- ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত স্কুল টেকস্টবুক বোর্ড কর্তৃক ১ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণির সকল পাঠ্যপুস্তক সংশোধন, পরিমার্জন ও পুনর্লিখন এবং সেই সাথে একটি নবজাত রাষ্ট্রের জনসাধারণের প্রয়োজনীয় জ্ঞাতব্য বিষয় আধুনিক ধ্যান-ধারণার আলোকে পাঠ্যপুস্তকে সন্নিবেশ করা হয়।
- ১৯৭৮-৭৯ সালে টেক্সটবুক বোর্ড নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- ১৯৮৩ সালের মধ্যে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রচলিত পাঠ্যপুস্তকের স্থলে মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও বিতরণের কাজ সম্পন্ন করে।
- ১৯৮৩ সালে “The National Curriculum & Textbook Board Ordinance 1983 (Ordinance no. LVII of 1983)”  মাধ্যমে স্কুল টেকস্টবুক বোর্ড ও জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কেন্দ্রকে একীভূতকরণের  মাধ্যমে বর্তমান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়।  
- সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন ২০১১ অনুযায়ী বোর্ডের কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও  যুগপোযোগী করার  জন্য গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে “The National Curriculum & Textbook Board Ordinance 1983 (Ordinance no. LVII of 1983)”  সংশোধন ও রহিতক্রমে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন ২০১৮’ বিলটি পাশ হয়।

উৎস: NCTB এর ওয়েবসাইট।

৮,৯৭৬.
কোনটি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম?
  1. ক) নীল বিদ্রোহ
  2. খ) সিপাহী বিদ্রোহ
  3. গ) ফকির সন্ন্যাসি আন্দোলন
  4. ঘ) স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,৯৭৭.
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনামল কোনটি?
  1. ১৩৩২ – ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৩৩৮ – ১৩৪৯ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৩৪২ – ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৩৪৫ – ১৩৬২ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনাকারী।
তিনি ১৩৩৮ সাল থেকে ১৩৪৯ সাল পর্যন্ত সোনারগাঁয়ে রাজত্ব করেন।
তিনিই সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম জয় করেন এবং চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি রাজপথ নির্মাণ করেন।
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের মৃত্যু পর তার পুত্র ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সোনারগাঁও শাসন করেন।
(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, পৃষ্ঠা-৬২/৬৩)
৮,৯৭৮.
পর্তুগিজদের মধ্যে কোন দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন?
  1. কাউন্ট লালী
  2. আলবুকার্ক
  3. ভাস্কো-ডা-গামা
  4. ফ্রান্সিসকো ডি আলমেদা
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয়দের আগমন: 
- ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল তুর্কিরা দখল করে নেয়।
- ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে জলপথে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।
- সুতরাং প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ভিন্ন জলপথ আবিষ্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
- মূলত এ কারণেই ইউরোপীয় শক্তিগুলো সমুদ্রপথে উপমহাদেশে আসার অভিযান শুরু করে।
- পর্তুগিজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, তাঁর নাম ভাস্কো-ডা-গামা।
- তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮,৯৭৯.
কতজন বাংলাদেশী এভারেস্ট জয় করেছেন?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশী এভারেস্ট জয়ী:
- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম এভারেস্ট পর্বত বা মাউন্ট এভারেস্ট (Mount Everest)।
- ১৯৫৩ সালে এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে নেপালের দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব শৈলশিরা ধরে প্রথম এই শৃঙ্গ জয় করেন।
- ১৯৬০ সালের ২৫ মে চীনা পর্বতারোহী ওয়াং ফুঝোউ, গোনপো ও চু ইয়িনহুয়া উত্তর শৈলশিরা ধরে প্রথম শৃঙ্গ জয় করেন।
- সবচেয়ে বেশিবার (২০ বার) এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখেন নেপালের আপা শেরপা।
- বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে ৬৭তম এভারেস্টজয়ী দেশ।
- এখন পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি এভারেস্ট জয় করেছেন।
- প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২৩ মে ২০১০ সালে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহিম।
- নারীদের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশি এভারেস্টজয়ী হচ্ছেন নিশাত মজুমদার।
- তাঁরা হলেন মুসা ইব্রাহীম, এম এ মুহিত, নিশাত মজুমদার, ওয়াসফিয়া নাজরীন ও মো. খালেদ হোসাইন।

উৎস: ৬ ডিসেম্বর, ২০২২, কালের কন্ঠ।
৮,৯৮০.
’কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়? 
  1. পণ্ডিত রবি শংকরের উদ্যোগ নিয়েছিলেন
  2. যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অনুষ্ঠিত হয়
  3. শিল্পী বব ডিলান অংশগ্রহণ করেন
  4. ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ছিল
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ছিল। 

মুক্তিযুদ্ধ কনসার্ট: 

- যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, প্রচার মাধ্যম, কংগ্রেসের অনেক সদস্য এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ছিল;
- তবে মার্কিন শিল্পী, সাহিত্যিক এবং অনেক রাজনীতিবিদ বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন।
- পণ্ডিত রবি শংকরের উদ্যোগে আয়োজিত হয় ।
-  স্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক।
- অনুষ্ঠান: 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'
- দর্শক: অনুষ্ঠানে ৪০,০০০ দর্শকের উপস্থিতি ছিল।
- শিল্পী: জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানসহ বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।
- এই অনুষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ জোগানের ব্যবস্থা হয়।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৯৮১.
তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক কত তারিখে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৯ এপ্রিল
  2. ৪ এপ্রিল
  3. ২৫ ফেব্রুয়ারি
  4. ২৩ মার্চ
ব্যাখ্যা
- হবিগঞ্জের মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
-  ৪ এপ্রিল সকালের মধ্যেই সেনা কর্মকর্তাদের সকলে তেলিয়াপাড়া বাংলোতে উপস্থিত হন।
- ১০টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে ও আগরতলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওমেস সায়গল বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীকে সঙ্গে নিয়ে তেলিয়াপাড়াস্থ সেনা সদরে এসে উপস্থিত হন।
-  ৭ সকাল ১১টায় সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধে ৪ এপ্রিলের এই বৈঠকের গুরুত্ব অপরিসীম।
- হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়ার অবস্থিত।
- এখান থেকেই মুক্তিবাহিনী গঠন, মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা ও রাজনৈতিক সরকার গঠনের প্রস্তাব তথা মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনা হয়।
- তেলিয়াপাড়া রণকৌশল মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন।
বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়া হবে।

উৎস: মাধবপুর উপজেলা, ওয়েব সাইট।
৮,৯৮২.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য কয়জনকে সর্বোচ্চ সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব দেয়া হয়?
  1. ৯ জন
  2. ৭ জন
  3. ৫ জন
  4. ১০ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব:
- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ।

- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব বীরউত্তম।
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
- সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ-৭ জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম- ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম- ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক- ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে।
- বীরশ্রেষ্ঠ: ৭জন
- বীর উত্তম: ৬৭ জন
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন
- বীরপ্রতীক: ৪২৪ জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো পত্রিকা।
৮,৯৮৩.
গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন কবে?
  1. ১৯৪৮ সালের ২৩ অক্টোবর
  2. ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৪৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৪৯ সালের ২৩ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এক অধিবেশনে নিম্নপর্যায় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলাকে গ্রহণের প্রস্তাব গ্রহণ করে।
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- কিন্তু মুসলিম লীগের সদস্যদের ভোটে তা অগ্রাহ্য হয়।
- এই সংবাদ ঢাকায় পৌছুলে এদেশের ছাত্র ও শিক্ষিত সমাজ প্রতিবাদমুখর হয়ে পড়ে।
- তারা বুঝতে পারে মাতৃভাষার মর্যাদা রাখতে হলে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রয়োজন।
- ২৬ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।
- ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯৮৪.
ভাষা শহিদ আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের ছাত্র ছিলেন?
  1. রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  2. ইতিহাস
  3. সমাজ বিজ্ঞান
  4. অর্থনীতি
ব্যাখ্যা
• ভাষা শহিদ আবুল বরকত :
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৩ জুন (মতান্তরে ১৬ জুন) মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর থানার বাবলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম - আবাই।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় আসেন।
- ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন এবং এম.এ শেষ পর্বে ভর্তি হন।
- বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভরত ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে।
- আবুল বরকত গুলিবিদ্ধ ঐ সময় গুলিবিদ্ধ হন এবং মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৮,৯৮৫.
‘সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইল’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. বাউল আব্দুল করিম
  2. হাসন রাজা
  3. লালন শাহ
  4. মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা
- হাসন রাজা মরমি কবি ও সাধক হিসেবে পরিচিত। তার প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী।
- তিনি ১৮৫৪ সালের ২৪ জনিুয়ারি সুনামগঞ্জের লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আঞ্চলিক ভাষা প্রায় এক হাজার গান রচনা করেন।
তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রযেছে:
- ‘লোকে বলে, বলে রে, ঘর বাড়ী ভালা না আমার’
- ‘সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইল’ প্রভৃতি।
- তিনি ১৯২২ সালের ৭ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮,৯৮৬.
মুঘল আমলে পরগনার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে ছিলেন?
  1. ফৌজদার
  2. শিকদার
  3. মুনসিফ
  4. কোটোয়াল
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৯৮৭.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সর্বপ্রথম কোথায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. বিহারে
  2. সুরাটে
  3. চন্দননগরে
  4. মালদহে
ব্যাখ্যা

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।
- এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

৮,৯৮৮.
কত সালে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক অনুমোদন করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালে 
  2. ১৯৭৩ সালে 
  3. ১৯৭৪ সালে 
  4. ১৯৭৫ সালে 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক ১৯৭২ সালে অনুমোদিত হয়।

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকাট
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
- জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান।
- জাতীয় প্রতীকের জন্য মোহাম্মদ ইদ্রিস আঁকেন ভাসমান একটি শাপলা, শিল্পী শামসুল আলম শাপলার দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা সেঁটে দিয়ে প্রতীকটির পরিপূর্ণতা নিয়ে আসেন।
- কামরুল হাসান ও তাঁর দলের করা এই প্রতীকটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি।

⇒ জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি।
- জাতীয় প্রতীকের চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে এই চারটি মূলনীতিকেই বোঝানো হয়েছে।

উলেখ্য,
- সংবিধানের প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র) অনুচ্ছেদে : ৪ (৩)-এ জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) কালের কন্ঠ।

৮,৯৮৯.
ফকির মজনু শাহ নিম্নের কোন আন্দোলনের সাথে জড়িত?
  1. অসহযোগ আন্দোলন
  2. ওয়াহাবি আন্দোলন
  3. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ফকির মজনু শাহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ঐতিহাসিক ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়ক মজনু শাহ।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে। তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে।
- ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে ।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯৯০.
রবার্ট ক্লাইভ কোন মুঘল সম্রাটের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করেন?
  1. বাহাদুর শাহ জাফর
  2. দ্বিতীয় শাহ আলম
  3. আওরঙ্গজেব
  4. ফররুখসিয়ার
ব্যাখ্যা

রবার্ট ক্লাইভ:
- উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ক্লাইভ।
- উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে রবার্ট ক্লাইভের স্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরী গ্রহণ করে স্বীয় কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে।
- রবার্ট ক্লাইভের চারিত্রিক দোষ থাকা সত্বেও উপমহাদেশে ইংরেজ শক্তির গোড়াপত্তনে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না।
- উপমহাদেশের ইতিহাসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে লর্ড ক্লাইভের নাম অবিস্মরণীয়।
- কেননা প্রথম পর্যায়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে কোম্পানিকে রক্ষা করেন।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন। তৃতীয় পর্যায়ে তিনি নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন এবং ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৯৯১.
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সমাধি কোথায়?  
  1. রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস
  2. বিমানবাহিনী হেড কোয়ার্টার
  3. ঢাকা সেনানিবাস
  4. মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান:
- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্ম ২৯শে অক্টোবর ১৯৪১, ঢাকার পৈত্রিক নিবাসে।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের অন্যতম।
- পেশায় ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট।
- ১৯৭১ সালে নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন।
- পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান (কল সাইন ব্লু-বার্ড-১৬৬) ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন।
- অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদত বরণ করেন।
- পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে মশরুর বিমান ঘাটির ৪র্থ শ্রেণীর কবরস্তানে অত্যন্ত অমর্যাদার সাথে দাফন করে।
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৮,৯৯২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কত নম্বর সেক্টরের আওতায় ছিল-
  1. ক) ১ নং
  2. খ) ২ নং
  3. গ) ৩নং
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ নং সেক্টরে ছিলো চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা। ২ নং সেক্টরের অধীনে ছিলো ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ। ৩ নং সেক্টরের অধীনে ছিলো কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ।
Source:dhakadiv.gov.bd
৮,৯৯৩.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ তে কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধু সঙ্গী কে ছিলেন?
  1. ক) আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
  2. খ) মহিউদ্দিন আহমদ
  3. গ) মওলানা ভাসানী
  4. ঘ) খান সাহেব ওসমনা আলী
ব্যাখ্যা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'বায়ান্নর দিনগুলো' তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ (২০১২) গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। এতে দেখা যায় কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী ছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।
উৎসঃ সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৮,৯৯৪.
সিপাহী বিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৮৫৭ সালে।
- এটি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম।
- সংঘটনের সময়: পলাশী যুদ্ধের প্রায় ১০০ বছর পর।
- নেতৃত্ব: প্রধানত সিপাহীরা (উত্তর ও পূর্ব ভারতে বিস্তৃত)।
- ব্যারাকপুরে প্রথম বিদ্রোহ করেন: মঙ্গল পাণ্ডে।
- সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম শহীদ: মঙ্গল পাণ্ডে।
- বিদ্রোহকালীন গভর্নর জেনারেল: লর্ড ক্যানিং।
- ফলাফল: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান।
- কোম্পানি শাসনের অবসান কার্যকর: ১৮৫৮ সালে (ভারত শাসন আইন)।
- স্মৃতিবিজড়িত স্থান: বাহাদুর শাহ পার্ক।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৯৯৫.
বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রথম রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হয় কোথায়?
  1. ক) জগতী থেকে পাকশী
  2. খ) ঈশ্বরদী থেকে সৈয়দপুর
  3. গ) দর্শনা থেকে জগতী
  4. ঘ) পাকশী থেকে চিলাহাটি
ব্যাখ্যা
বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ভাইসরয় লর্ড এলগিনের সময়ে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতী পর্যন্ত ৫৩ কিলোমিটার প্রথম রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হয়।
- ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল লর্ড ডালহৌসির সময়ে মুম্বাইয়ে প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
- ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত বাংলায় প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
- জর্জ স্টিফেনসনের যুগান্তকারী প্রচেষ্টায় ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বের প্রথম ইংল্যান্ডে রেলপথ ব্যবস্থা চালু হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮,৯৯৬.
মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ জারি করা হয় কবে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:

- জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ জারি করেন।
- এ ব্যবস্থায় স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় পুরো পাকিস্তানে মৌলিক গণতন্ত্রীদের সংখ্যা ছিলো ৮০ হাজার।
- মৌলিক গণতন্ত্রীরা প্রথমে নির্বাচিত ও মনোনীত এবং ১৯৬২ সাল থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতো।
- এসব মৌলিক গণতন্ত্রীরা পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচিত করতেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৯৯৭.
'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, অপর কোনো ভাষা নয়' বলেছিলেন-
  1. ক) লিয়াকত আলী খান
  2. খ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. গ) ইস্কান্দার মির্জা
  4. ঘ) খাজা নাজিমুদ্দিন
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে তৃতীয় সপ্তাহে পূর্ব বাংলা সফরে আসেন। ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় তিনি বলেন যে, 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, অপর কোনো ভাষা নয়'। ২৪ মার্চ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি আবারো জোর দিয়ে বলেন যে, 'উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।'
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮,৯৯৮.
কোন তারিখে আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন?
  1. ১৮ জানুয়ারি ১৯৬৯
  2. ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯
  3. ২২ জানুয়ারি ১৯৬৯
  4. ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৯
ব্যাখ্যা

⇒ আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে শহিদ হন ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি।

♦ ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
→ আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে এবং মধ্য জানুয়ারিতে গণআন্দোলনের রূপ নেয়। 
→ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ দেশের সকল মৌলিক গণতন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানালে অনেকেই সে আহ্বানে সাড়া দেন। 
→ ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের সংগে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
→ আইয়ুব পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনী দিয়ে ঐ আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা করেন। 
→ ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
→ আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে যখন প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।

♦ উল্লেখ্য:
→ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে 'এগারো দফা' প্রণীত হয়।
→ এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৯৯৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে 'দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম : নিক্সন-কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগেটেবল জেনোসাইট' বইটি কার লেখা?
  1. ক) সাইমন ড্রিং
  2. খ) আর্চার কে ব্লাড
  3. গ) গ্যারি জে বোস
  4. ঘ) সুখওয়ান্ত সিং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা বিষয়ে মার্কিন সাংবাদিক ও অধ্যাপক গ্যারি জে বোস রচিত বিখ্যাত বই হলো 'দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম : নিক্সন-কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগেটেবল জেনোসাইট'। এটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়৷ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি গণহত্যা বিষয়ে ঢাকায় কর্মরত তৎকালীন মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিকট যে টেলিগ্রাম প্রেরণ করেন তা ব্লাড টেলিগ্রাম নামে পরিচিত। এই বিষয়ের আর্চার কে ব্লাড 'দ্য ক্রোয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ' নামে একটি বই লিখেন।(সূত্রঃ আমাজন এবং বিডিনিউজ২৪)
৯,০০০.
'তবকাত-ই-নাসিরী' গ্রন্থের লেখক -
  1. আবুল ফজল
  2. মিনহাজ-ই-সিরাজ
  3. আব্দুল মালিক ইসামী
  4. সুলতান নাসির-উদ-দীন
ব্যাখ্যা
তবকাত-ই-নাসিরী:
- তবকাত-ই-নাসিরী মিনহাজ-ই-সিরাজ জুর্জানি রচিত মধ্যযুগের সাধারণ ইতিহাস গ্রন্থ।
- এ গ্রন্থে ইসলামের বিভিন্ন নবী-রসুলের ইতিহাস থেকে শুরু করে মিনহাজ তাঁর নিজের সময় পর্যন্ত ঘটনাবলি বর্ণনা করেছেন।
- বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার ইতিহাস পুনর্গঠনের জন্য এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আকর গ্রন্থ।
- বাংলা মুলুকে মুসলিম শাসনের প্রথম ৫০ বছরের ইতিহাস একমাত্র এ গ্রন্থেই পাওয়া যায়।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয় থেকে ১২৫৯ সাল পর্যন্ত বাংলার ইতিহাসের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস হলো তবকাত-ই-নাসিরী। 

উল্লেখ্য,
- মিনহাজ-ই-সিরাজ ছিলেন দিল্লির কাজি।
- কর্মসূত্রে সুলতানি আমলের বাংলায় এসে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করার পর দিল্লি ফিরে রচনা করেন এই বই।
- দিল্লির সুলতানের বিরুদ্ধে খলজিদের বিদ্রোহ, বখতিয়ার খলজির নেতৃত্বে বাংলায় তুর্কি অধিকার, ব্যর্থ তিব্বত অভিযান ও তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত বাংলার ৫৪ বছরের একমাত্র ইতিহাস এই বই।
- মূল্যবান ও বিশদ ভূমিকাসহ বইটির সংশ্লিষ্ট তিনটি অংশ মূল ফারসি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন নিষ্ঠাবান ইতিহাস-গবেষক আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া। 

অন্যদিকে -
- তুর্কি-আফগান যুগে একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক রচনা হলো, আব্দুল মালিক ইসামী রচিত "ফুতুহ-উস-সালাতিন" নামক গ্রন্থ।
- আকবরনামা আবুল ফজল আল্লামী বিরচিত ঐতিহাসিক ঘটনাপঞ্জি সম্বলিত ফার্সি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।