বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৮৮ / ১২৪ · ৮,৭০১৮,৮০০ / ১২,৪২১

৮,৭০১.
২৫ মার্চ রাতের শেষ প্রহরে কে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন?
  1. এম.এ হান্নান
  2. মেজর জিয়াউর রহমান
  3. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:

- একটি অতীব সংকটময় অবস্থার মোকাবেলায় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে সামরিক বাহিনীর আক্রমণের অব্যবহিত পূর্বে এবং পাকিস্তান বাহিনী কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রেফতারের প্রাক্কালে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার বার্তাটি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে প্রচারের জন্য মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পরে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়।
- মার্চ মাসের ২৬ ও ২৭ তারিখে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র (পরের নামকরণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র) থেকে বঙ্গবন্ধুর নামে স্বাধীনতার আরও দুটি ঘোষণা প্রচার করা হয়।
- একটি প্রচারিত হয় চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.এ হান্নান কর্তৃক এবং অন্যটি মেজর জিয়াউর রহমান কর্তৃক।
- ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী বৈদ্যনাথতলায় (পরবর্তী নাম মুজিবনগর) এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে গণপরিষদ সদস্য অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- এ ঘোষণার মাধ্যমে নবগঠিত আইন পরিষদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭০২.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট কতটি আসনে জয়লাভ করে?
  1. ৩০৬টি
  2. ৩০৭টি
  3. ৩০৮টি
  4. ৩০৯টি
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় নির্বাচন:

- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
- এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পূর্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত মুজিবনগর সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করেন।
- নয় মাসের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। 
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারন আসন ও ১৫টি সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ২টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ১টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা ৬টি আসনে জয়লাভ করে।
- বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয় 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৭০৩.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে খেতাবপ্রাপ্ত ডব্লিউ এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশে জন্ম গ্রহণ করেন?
  1. ক) অস্ট্রেলিয়া
  2. খ) নেদারল্যান্ড
  3. গ) ফিনল্যান্ড
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক হলেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে
- তিনি ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ২০০১ সালের ১৮ মে ওডারল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।

৮,৭০৪.
পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ করে-
  1. ক) ১৯৫৪ সালে
  2. খ) ১৯৫৬ সালে
  3. গ) ১৯৫৮ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৭ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়। এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এর আগে ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ দলীয় জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেলউদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
- ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৭০৫.
'এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি' এর রচয়িতা-
  1. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. শামসুর রাহমান
  3. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা 'এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' এর রচয়িতা হলেন মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৮,৭০৬.
পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসনের রূপরেখা ছয় দফার প্রথম দফা-
  1. ক) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  2. খ) স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা চালু
  3. গ) প্যারা মিলিশিয়া গঠন
  4. ঘ) রাষ্ট্রভাষা বাংলা
ব্যাখ্যা

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন হরতালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগের মনু মিয়া, মজিবুল্লাহ, শফিক, শামসুল হকসহ ১১ জন। ৬ দফা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হন সিলেটের মনু মিয়া। বর্তমানে ৭ জুন ছয় দফা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
ছয়টি দফা হলো-

১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮,৭০৭.
বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে কারা প্রথম এসেছিল?
  1. ইংরেজরা
  2. ফরাসীরা
  3. ওলন্দাজরা
  4. পর্তুগিজরা
ব্যাখ্যা
• বাংলায় ইউরোপীয় বণিকেদের মধ্যে, 
- পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
- পনেরো শতকের শুরু থেকেই তারা বাণিজ্যের জন্য দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা শুরু করে।
- ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে ভাস্কো ডা গামার কালিকটে পৌঁছার কয়েক দশক পরে বাংলায় পর্তুগিজদের আগমন ঘটে।
- প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল হলেও তাদের অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপের ঘাঁটি দখল করে, তাদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন।
- তাছাড়া পর্তুগিজরা এদেশে আগত ইউরোপীয় অন্যন্য শক্তির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হয়ে এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।

পর্তুগিজদের নিয়ে আরো কিছু তথ্য: 
• পর্তুগালের অধিবাসীরা পর্তুগিজ বা ফিরিঙ্গি নামে পরিচিত। 
• ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
• আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। 
• উপমহাদেশে আগমন- ১৪৯৮ 
• বাংলায় আগমন- ১৫১৬ ( হুগলি )
• বাংলায় প্রথম কুঠি-১৫১৭ ( হুগলি )
• বাংলা ত্যাগ-১৬৬৬ চট্রগ্রাম থেকে 
• ভারত ত্যাগ-১৯৬১ গয়া থেকে।
------------------------- 
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- তারা ‘ডাচ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে বাণিজ্যের উদ্দেশে ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে আসে।
- ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা বিদরার যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ফলে ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে শেষ পর্যন্ত সকল বাণিজ্যকেন্দ্র গুটিয়ে তারা এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।
- ওলন্দাজদের মতোই দিনেমার বা ডেনমার্কের অধিবাসী একদল বণিক বাণিজ্য করার জন্য ‘ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে।
- এদেশে লাভজনক ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়ে ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই দিনেমাররা এদেশ ত্যাগ করে।
- ইউরোপীয়দের মধ্যে সবার শেষে আসেন ফরাসিরা।
• ইংরেজরা বাংলায় আগমন-১৬০০ সালে।
• ফরাসিরা বাংলায় আগমন-১৬৭৪ সালে। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৭০৮.
Bangladesh's first AI news anchor 'Aparajita' presented news on which television channel?
  1. Independent Television
  2. Ekattor television
  3. Channel 24
  4. Somoy News
ব্যাখ্যা
- দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংবাদ পাঠ করলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপরাজিতা।
- ১৯ জুলাই ২০২৩ তারিখে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল 'চ্যানেল ২৪' এর সন্ধ্যা ৭টার বুলেটিনে যুক্ত হয়ে সংবাদ উপস্থাপন করে অপরাজিতা।
- সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে সংবাদ সঞ্চালনা করা হচ্ছে।
- চলতি বছরের এপ্রিলে ‘ফেদা’ নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দিয়ে সংবাদ পাঠ করায় কুয়েত নিউজ।
- গত ৯ জুলাই ভারতের একটি বেসরকারি টেলিভিশন, ওড়িশা টেলিভিশন লিমিটেড (ওটিভি) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দিয়ে সংবাদ পাঠ করায়।
- যার নাম ছিল লিসা।

উৎস: দি ডেইলি স্টার। [লিঙ্ক]
৮,৭০৯.
'তাহরিক ই মুহম্মদীয়া' আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কে?
  1. মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন
  2. করিম শাহ
  3. মীর নিসার আলী
  4. চেরাগ আলী শাহ
ব্যাখ্যা
তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন তাহরিক ই মুহম্মদীয়া।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে যখন ওয়াহাবি আন্দোলনের (তাহরিক ই মুহম্মদীয়া) জোয়ার চলছে, তখন পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের নেতৃত্বে এই আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তিতুমীর হজ করার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।এই যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭১০.
বঙ্গবন্ধুর গ্রামটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত ?
  1. মধুমতি
  2. বাইগার
  3. কুমার
  4. ভৈরব
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর গ্রামটি বাইগার নদীর তীরে অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর বই 'শেখ মুজিব আমার পিতা' বইয়ে তাঁর গ্রাম নিয়ে লিখেছেন, 'বাইগার নদীর তীর ঘেঁষে ছবির মতো সাজানো সুন্দর একটি গ্রাম।
- সে গ্রামটির নাম টুঙ্গিপাড়া।
- বাইগার নদী এঁকে বেঁকে গিয়ে মিশেছে মধুমতি নদীতে।
- এই মধুমতি নদীর অসংখ্য শাখা নদীর একটি বাইগার নদী।'

সূত্র: শেখ মুজিব আমার পিতা গ্রন্থ। 
৮,৭১১.
কার নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলন সংঘটিত হয়?
  1. অরবিন্দ ঘোষ
  2. সুভাষচন্দ্র বসু
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯৩০ সালে ভারতবর্ষ জুড়ে আইন অমান্য আন্দোলন সংঘটিত হয়।
চেমসফোর্ড-মন্টেগু আইনের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার ভারতের জন্যে নতুন সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সায়মন কমিশন গঠন করে। এতে কোন ভারতীয় প্রতিনিধি না থাকায় কংগ্রেস এই কমিশন বয়কট করে।
এর অংশ হিসেবেই আইন অমান্য আন্দোলন সংঘটিত হয়। এই আন্দোলন ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত চলে। তবে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮,৭১২.
১৯৪৮ সালে গঠিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন -
  1. কাজী গোলাম মাহবুব
  2. নূরুল হক ভূঁইয়া
  3. আবদুল মতিন
  4. শামসুল আলম
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

⇒ ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

⇒ ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৮,৭১৩.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র “ওরা এগারো জন” এর পরিচালক কে?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. জাহির রায়হান
  4. রবি রঞ্জন
ব্যাখ্যা

ওরা এগারো জন:
- প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন'।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- এই চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- জয়দেবপুরে ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল।
- এর চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয়।
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো।

৮,৭১৪.
কোন তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল?
  1. ৭ মার্চ ১৯৭১
  2. ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  3. ২৬ মার্চ ১৯৭১
  4. ১০ জানুয়ারি ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ ঘোষণা প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসাবে কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮,৭১৫.
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট কোন আইন পাস হয়?
  1. ভারত ভাগ আইন
  2. যুদ্ধবিরতি আইন
  3. ভারত শাসন আইন
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় আইন সভা:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ভারত শাসন আইন নামক একটি আইন পাস করা হয়।
- এই আইনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয়।
- ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজ্যের উপর ন্যস্ত করা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

⇒ ভারতবর্ষে ১৭৭২ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর আওতায় চার সদস্য বিশিষ্ট গভর্নর জেনারেল অ্যান্ড কাউন্সিলকে ক্ষুদ্র পরিসরের আইনসভা বলা যেতে পারে।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৬১ সালে ভারত সরকারকে বাংলায় প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভা স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- এর ফলে ১৮৬১ সালের ১আগস্ট ভারতীয় কাউন্সিল আইন ঘোষিত হয়।
- বঙ্গীয় আইনসভা প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

⇒ ১৮৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গীয় আইনসভার কার্যক্রম শুরু হয়।
- এই আইনসভায় লেফটেনেন্ট গভর্নর পদাধিকার বলে সভাপতি, ১২ জন মনোনীত সদস্য, যার মধ্যে চারজন মাত্র বাঙালি ছিলেন, বাকি ৮ জনের ৪ জন সরকারি সদস্য, ৪ জন বেসরকারি সদস্য ছিলেন।
- ১৮৯২ সালে ১৩ জনের স্থলে এই সভার সদস্য ২১ জন করা হলো।
- তবে এই প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার বিধান ছিল না।
- কিন্তু তারপরও বাংলার প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভাই বাংলাকে গণতান্ত্রিক আইনসভার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭১৬.
মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শত্রুমুক্ত হয় কোন জেলা?
  1. ঢাকা
  2. গাজীপুর
  3. যশোর
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে যশোর জেলা:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথম যশোর জেলা শত্রুমুক্ত হয়।
- যশোর জেলা প্রথম শত্রুমুক্ত হয়- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ১১টি সেক্টরের মধ্যে যশোর ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে।
- মূলত বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়া জেলা, ফরিদপুর ও খুলনা জেলার কিছু অংশ ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন।
- ৮ নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে।
- এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ও মেজর এম. এ মঞ্জুর।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ যশোরের গোয়ালহাটি গ্রামে শহিদ হন।

উৎস: যশোর জেলার ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৭১৭.
ছয় দফাকে ‘আমাদের বাঁচার দাবি’ বলে আখ্যায়িত করেন-
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. ঘ) মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
ছয় দফাকে পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির সনদ বা বাঙালির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।
-১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের সম্মেলেনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি পেশ করলে সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ তা প্রত্যাখ্যান করেন। বঙ্গবন্ধু সম্মেলন বর্জন করেন এবং ছয়দফা সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ করে ঢাকায় ফিরে আসেন।
-১৯৬৬ সালের ১৮-২০ মার্চ আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সভায় ৬ দফা গৃহিত হয়।
-শেখ মুজিবুর রহমান এই ছয় দফাকে ‘আমাদের বাঁচার দাবি’ বলে আখ্যায়িত করেন।
উৎসঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,৭১৮.
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন কে?  
  1. আসাদ 
  2. নূর হোসেন
  3. আবু সাঈদ 
  4. শামসুজ্জোহা 
ব্যাখ্যা

⇒ নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন নূর হোসেন। 

• নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম অধ্যায় নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নুর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহিদ হন।

অন্যদিকে, 
- আসাদ ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান বিরোধী গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
- আবু সাঈদ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
- শামসুজ্জোহা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে ১৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ হন।  

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা। 

৮,৭১৯.
কোন মুঘল সম্রাটের আমলে সুবাদার ইসলাম খান বারভূঁইয়াদের দমন করেন?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. শাহজাহান
  3. জাহাঙ্গীর
  4. আকবর
ব্যাখ্যা
বাংলায় সুবাদারী প্রতিষ্ঠা:
- মোগল সম্রাট আকবর তাঁর সাম্রাজ্যকে অনেকগুলো প্রদেশে ভাগ করেছিলেন।
- এই প্রদেশগুলোকে বলা হতো 'সুবা'।
- সুবার শাসনকর্তাকে বলা হতো সুবাদার।
- আকবরের সময় থেকে বাংলায় সুবাদার নিয়োগ করা শুরু হয়।
- তবে বারভূঁইয়াদের দাপটে বাংলায় মোগল সুবা শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পারেনি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে দক্ষতার সাথে বারভূঁইয়াদের দমন করেন সুবাদার ইসলাম খান।
- তিনি ঢাকায় রাজধানী স্থাপন করেন।
- এরপর থেকে বাংলার সুবাদারদের মাধ্যমে পুরো বাংলায় মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮,৭২০.
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা কত?
  1. ক) ৪০০ মেগাওয়াট
  2. খ) ৬০০ মেগাওয়াট
  3. গ) ৮০০ মেগাওয়াট
  4. ঘ) ১২০০ মেগাওয়াট
ব্যাখ্যা
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হল বাংলাদেশের একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নের এক হাজার ৪১৪ একর জমিতে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
- ৬০০ মেগাওয়াট এর মোট দুটি ইউনিট তৈরি হবে।
- প্রতি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৬০০ মেগাওয়াট।
- জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে মাতারবাড়ির এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রকল্প।
- বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনায় মাতারবাড়িকে ‘বিদ্যুৎ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা রয়েছে।
- ২৯ জুলাই, ২০২৩ তারিখে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলো কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় কয়লাভিত্তিক মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট।
- এই ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ৬০০ মেগাওয়াট।
- পরীক্ষামূলক উৎপাদনের শুরুতে ৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। 

উৎস: ২৯ জুলাই, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৮,৭২১.
বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা কত?
  1. ১০ হাজার টাকা
  2. ১২ হাজার টাকা
  3. ১৫ হাজার টাকা
  4. ২০ হাজার টাকা
ব্যাখ্যা
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা:
- মুক্তিযুদ্ধা ভাতা হল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত ভাতা বা সুবিধা।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং এ যুদ্ধে সম্পূর্ণ বাংলাদেশী জনতাকে সম্মান করা হয়।
- মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান ও আদরের সাথে বিভিন্ন সুবিধা ও ভাতা প্রদান করা হয়।
- ২০২১ - ২২ অর্থবছরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা বাড়ানো হয়েছে।
- ১ জুলাই, ২০২১ সাল থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা বাবদ প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ভিন্ন হয়ে থাকে।
- একজন বীর শ্রেষ্ঠ বা তার পরিবার মাসিক ৩০ হাজার টাকা ভাতা পেয়ে থাকেন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৮,৭২২.
প্রাচীন বাংলার কোন জনপদটি ' বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি নামে পরিচিত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. পুন্ড্র
  3. বরেন্দ্র
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা
প্রাচীন বাংলার রাঢ় জনপদ' বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি নামে পরিচিত ছিল।

রাঢ় জনপদ:
- রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।

⇒ রাঢ় জনপদটি ২টি অংশে বিভক্ত ছিল।
- দক্ষিণ রাঢ় এবং উত্তর রাঢ় নিয়ে ছিল রাঢ় জনপদ।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।

⇒ রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- বৌদ্ধ পুঁথি ও বিদেশী পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তৎকালে তাম্রলিপ্তি একটি বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭২৩.
উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

রবার্ট ক্লাইভ:
- রবার্ট ক্লাইভ উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- কর্মজীবন শুরু: তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকরি গ্রহণ।
- অবদান: স্বীয় প্রচেষ্টায় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ: এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর (সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সঙ্গে)।
- চুক্তির ফলাফল: বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ; দ্বৈত শাসন প্রবর্তন।
- চারিত্রিক দোষ থাকা সত্ত্বেও: ইংরেজ শক্তির গোড়াপত্তনে অবদান অপরিসীম।
- পদবী/সম্মান: উপমহাদেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা।
- কৌশল: প্রথমে দাক্ষিণাত্যে কোম্পানি রক্ষা, দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলা জয়, তৃতীয় পর্যায়ে নবাব ও সম্রাট নিয়ন্ত্রণ।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭২৪.
পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা কার নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়?
  1. ক) আগা খান
  2. খ) নবাব সলিমুল্লাহ
  3. গ) মহসীন-উল-হক
  4. ঘ) নবাব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন একটা প্রদেশ সৃষ্টি করেন। এ প্রদেশের রাজধানী ছিল ঢাকা। বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়। পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা এতে খুশী হলেও বাংলার বর্ণ হিন্দুরা এর বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলে। ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনকারীদের দমন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭২৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ পান -
  1. ক) ফরিদ আহমদ দুলাল
  2. খ) তাপস মজুমদার
  3. গ) সুভাষ সিংহ রায়
  4. ঘ) মুহাম্মদ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ পান - মুহাম্মদ শামসুল হক।

• বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার:
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয় - ১৯৬০ সাল থেকে।
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার  লাভ করেন ১৫জন ব্যাক্তি।
- ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ২০২২ ঘোষণা করা হয়।
- ১১টি বিভাগে মোট ১৫জন এ পুরস্কার লাভ করেন।

• বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ পাচ্ছে -
- কবিতায়- ফারুক মাহমুদ ও তারিক সুজাত।
- কথাসাহিত্যে তাপস মজুমদার ও পারভেজ হোসেন।
- প্রবন্ধ বা গবেষণায় মাসুদুজ্জামান।
- অনুবাদে আলম খোরশেদ।
- নাটকে মিলন কান্তি দে ও ফরিদ আহমদ দুলাল।
- শিশুসাহিত্যে ধ্রুব এষ।

- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায়- মুহাম্মদ শামসুল হক।
- বঙ্গবন্ধুবিষয়ক- গবেষণায় সুভাষ সিংহ রায়।
- বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞানে মোকারম হোসেন।
- আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা বা ভ্রমণ কাহিনীতে ইকতিয়ার চৌধুরী এবং
- ফোকলোরে আবদুল খালেক ও মুহম্মদ আবদুল জলিল।

তথ্যসূত্র: বাংলা একডেমি ওয়েবসাইট
৮,৭২৬.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন কে?
  1. কাজী গোলাম মাহবুব
  2. অধ্যাপক নূরুল হক ভূঞা
  3. শামসুল আলম
  4. আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ২রা মার্চ ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামেও পরিচিত) এবং আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো। (link)
৮,৭২৭.
বঙ্গবন্ধু ছয়দফা প্রথম কোথায় উত্থাপন করেন?
  1. আন্টাঘর ময়দানে
  2. লাহোরে বিরোধীদলগুলোর সম্মেলনে
  3. পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে
  4. রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা
- ‘ছয়দফা’ দাবী কে ‘ম্যাগনাকর্টা’ বা ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বলা হয়।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ‘ছয়দফা’ দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন।
- ৭ জুন ‘ছয়দফা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৮,৭২৮.
স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় মুক্তিবাহিনীর চিফ অব স্টাফ কে ছিলেন?
  1. এম এ জি ওসমানী
  2. লে. কর্নেল (অব.) আব্দুর রব
  3. এ কে খন্দকার
  4. খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭২৯.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন?
  1. ওয়ারী ক্লাব
  2. ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব
  3. ঢাকা অফিসার্স ক্লাব
  4. উদয়ন ক্লাব
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু:

- বঙ্গবন্ধু ১৯৪০ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত টানা আট বছর ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের জার্সি গায়ে স্ট্রাইকার পজিশনে খেলেছেন।
- ১৯৪৩ সালে বগুড়ায় আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে বঙ্গবন্ধুর অধিনায়কত্বে শিরোপা জিতেছিল ওয়ান্ডারার্স।
- পুরান ঢাকার কলতাবাজার ও চকবাজারের বাসিন্দারা মিলে ১৯৩৭ সালে গড়ে তোলেন ঢাকা ওয়ান্ডারার্স।
- অল্প দিনের মধ্যেই এটি দেশের জনপ্রিয় ক্লাবে পরিণত হয়।
- ফুটবল–হকিতে গঠিত হয় শক্তিশালী দল। এই ক্লাবই ১৯৫০, ১৯৫১, ১৯৫৩, ১৯৫৪, ১৯৫৫, ১৯৫৬ ও ১৯৬০ সালে ঢাকা ফুটবল লিগের শিরোপা জিতেছিল।
- পঞ্চাশের দশকে ওয়ান্ডারার্সের টানা চারবার লিগ শিরোপা জেতার রেকর্ড আজও দেশের ফুটবলের এক দুর্দান্ত ইতিহাস হয়ে আছে।
- তখন ক্লাবটির এমন শক্তিশালী হওয়ার পেছনে অগ্রণী ভূমিকা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৭ মার্চ ২০২০।
৮,৭৩০.
জীবন তরী একটি?
  1. ভাসমান লাইব্রেরী
  2. ভাসমান দোকান
  3. ভাসমান নার্সারী
  4. ভাসমান হাসপাতাল
ব্যাখ্যা
জীবন তরী:
- ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসে ‘জীবন তরী’ নামে পরিচিত বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের একটি ভাসমান হাসপাতাল চালু করে।
- দেশের প্রধান প্রধান নদীর ধারের মানুষ, যারা শহর বা নগরে খুব কমই যেতে পারে, তাদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- ‘জীবন তরী’ ভাসমান হাসপাতালটি সাধারণ চিকিৎসা এবং শল্য চিকিৎসা দুধরনেরই স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও সেবা প্রদান করে।
- এখানে জটিল চক্ষুরোগ এবং নাক-কান-গলা (ENT)-র চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচার ও পঙ্গুত্বরোধের জন্য অর্থোপেডিক রোগ সংক্রান্ত শল্য চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থায় এটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল হিসেবেও সেবাদান করে থাকে।
- একজন প্রশাসক ছাড়াও তিনজন সার্বক্ষণিক চিকিৎসক (চক্ষু, অর্থোপেডিক এবং নাক-কান-গলা), ছয়জন নার্স, প্যাথলজি ও রেডিওলজির জন্য টেকনিশিয়ান, প্রশাসনিক সহকারী, স্বাস্থ্য শিক্ষক, রক্ষণাবেক্ষণ তত্ত্বাবধায়ক এবং চারজন সাহায্যকারী কর্মচারী এই হাসপাতালটিতে কর্মরত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৩১.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কতটি আসন লাভ করে?
  1. ৩০৯টি
  2. ২৩৮টি
  3. ২২৩টি
  4. ২১৩টি
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন ও ফলাফল:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানত স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।
- এই নির্বাচনে শতকরা ৩৭.১৯ ভাগ ভোটার ভোট দেয়।
- ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
- বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আসন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৩২.
‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বা মহাদুর্ভিক্ষ হয় ইংরেজি -
  1. ক) ১১৭৬ সালে
  2. খ) ১১৭০ সালে
  3. গ) ১৭৭০ সালে
  4. ঘ) ১৭৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈতশাসন নীতি এবং ইংরেজ কর্মচারীদের অত্যাচার, উৎপীড়ন এবং শোষনের ফলে বাংলার জনসাধারণের অবস্থা ক্রমশ শোচনীয় হয়ে যায় এবং ১১৭০ সালে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে বাংলায় প্রচন্ড খাদ্যাভাব দেখা দেয়।
এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় ১ কোটি লোক মারা যায় । বাংলা ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজী - ১৭৭০ সাল ) সংঘটিত এই দুর্ভিক্ষ "ছিয়াত্তরের মন্বন্তর" নামে পরিচিত।
এই সময় বাংলার গভর্ণর ছিল লর্ড কার্টিয়ার।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৩৩.
১৯৭১ সালে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনা করে কোন ব্যান্ড? 
  1. বিটলস
  2. রোলিং স্টোনস
  3. কুইনস 
  4. লেড জেপেলিন
ব্যাখ্যা

• 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ': 
- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ারে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য ছিলো কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের শরনার্থীদের সহায়তা করা।
- কনসার্ট ফর বাংলাদেশের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকর।
- এই অনুষ্ঠানে মার্কিন ব্যান্ডদল 'বিটলস' পারফর্ম করে।
- এতে জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান, রিঙ্গো স্টার প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশর আকবর আলী খাঁ, তবলাবাদক ওস্তাদ আল্লারাখা প্রমুখ এতে যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট ও দৈনিক জনকণ্ঠ। 

৮,৭৩৪.
জনাব এফ আর খান বাংলাদেশের জন্য গৌরব। তিনি কি ছিলেন?
  1. ক) স্থপতি
  2. খ) ক্যান্সার চিকিৎসক
  3. গ) আণবিক বিজ্ঞানী
  4. ঘ) কম্পিউটার বিজ্ঞানী
ব্যাখ্যা
বিশ্বখ্যাত স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং স্থপতি এফ আর খান (ফজলুর রহমান খান)।
- তিনি পৃথিবীর অন্যতম উচ্চ ভবন শিকাগোর সিয়ার্স টাওয়ার (বর্তমানে উইলস টাওয়ার)-এর নকশা প্রণয়ন করেন।
- তাকে বিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলী বলা হয়।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮,৭৩৫.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কোন্‌ সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) ২ (দুই) নম্বর
  2. খ) ৩ (তিন) নম্বর
  3. গ) ৪ (চার) নম্বর
  4. ঘ) ৫ (পাঁচ) নম্বর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরসমূহ:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।

- ২ নং সেক্টরের অন্তর্ভূক্ত অঞ্চল - ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে - ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন - প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য সেক্টর: 
সেক্টর নং - ১:
- ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী পর্যন্ত ছিল ‘সেক্টর নং ১’।
- ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান এবং জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর রফিকুল ইসলাম।
- আর এই সেক্টরকে পাঁচটি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।

সেক্টর নং - ৩:
- হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৩’ এর আওতায়।
- এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর কেএম শফিউল্লাহ। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন মেজর এএনএম নুরুজ্জামান।
- আর এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।

সেক্টর নং - ৪:
- সিলেট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ৪’। এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।
- মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর সিআর দত্ত (পরে মেজর জেনারেলা) এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।

সেক্টর নং - ৫:
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় ।
- মেজর মীর শওকত আলী ছিলেন সেক্টর কমান্ডার।
- এই সেক্টরকেও ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।

সেক্টর নং - ৬:
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৬’।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এমকে বাশার। এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।

সেক্টর নং - ৭:
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৭’ এর অন্তর্ভুক্ত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনজন -মেজর নাজমুল হক, সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর (পরে লে. কর্নেল) কাজী নুরুজ্জামান।
- এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর।

সেক্টর নং - ৮:
- কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৮’ এর অন্তর্ভুক্ত।
- এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর (পরে লে.কর্নেল) আবু ওসমান চৌধুরী ও আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর (পরে মেজর জেনারেল) এম এ মঞ্জুর।
- এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।

সেক্টর নং - ৯:
- পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৯’।
- ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ জলিল এবং তারপর মেজর জয়নাল আবেদীন। এছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন মেজর এম এ মঞ্জুর।
- এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।

সেক্টর নং - ১০:
- সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন ছিল ‘সেক্টর নং ১০’ এর অধীনে।
- এ সেক্টরে নৌ কমান্ডোরা যখন যে সেক্টরে মিশনে নিয়োজিত থাকতেন, তখন সে সেক্টরের কমান্ডারের নির্দেশে কাজ করতেন।
- এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।

সেক্টর নং - ১১:
- কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ১১’।
- ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।
- নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু তাহের ও তারপর ফ্লাইট লেফট্যান্যান্ট (পরে উইং কমান্ডার) এম হামিদুল্লাহ খান।
- এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।

উৎস: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া এবং BBC বাংলা প্রতিবেদন।
৮,৭৩৬.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেন কোথায়?
  1. ক) লাহোরে
  2. খ) করাচিতে
  3. গ) ইসলামাবাদে
  4. ঘ) ঢাকায়
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
• ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।

• সুতরাং, ৬ দফার মধ্যে ৩টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক ছিলো। 
- বঙ্গবন্ধু ৬ দফাকে 'আমাদের বাঁচার দাবি' আখ্যা দেন। 
- ঐতিহাসিক ৬ দফাকে 'ম্যাগনাকার্টা'র সাথে তুলনা করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭৩৭.
Law of the Sea Convention অনুযায়ী উপকূল থেকে কতদূর পর্যন্ত Exclusive Economic Zone হিসেবে গণ্য? 
  1. ২২ বর্গ মাইল
  2. ৪৪ নটিক্যাল মাইল
  3. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩৭০ মাইল
ব্যাখ্যা

⇒ Law of the Sea Convention অনুযায়ী উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত Exclusive Economic Zone হিসেবে গণ্য।

EEZ:
- EEZ এর পূর্ণরূপ Exclusive Economic Zone.
- Exclusive Economic Zone হল একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল।
- এটি উপকূলীয় রাষ্ট্রের বেসলাইন থেকে শুরু হয়।
-  UNCLOS ধারা ৫৭ অনুযায়ী এর সীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিমি, অর্থাৎ ≈ ৩৭০.৪ কিমি।
- এই অঞ্চলে রাষ্ট্রের সম্পদ আহরণের সার্বভৌম অধিকার আছে।
- মৎস্য, তেল-গ্যাস, খনিজ, বিদ্যুৎ উৎপাদন সবই নিয়ন্ত্রণ করে রাষ্ট্র।
- অন্য রাষ্ট্র এখানে নৌচলাচল ও ওভারফ্লাইট করতে পারে।
- তবে সম্পদ ব্যবহারে অনুমতি লাগে উপকূলীয় রাষ্ট্রের।

তথ্যসূত্র - UNCLOS এর ওয়েবসাইট।

৮,৭৩৮.
বল্লাল সেন কর্তৃক রচিত গ্রন্থ নিচের কোনটি? 
  1. আচারসাগর
  2. ব্রতসাগর
  3. দানসাগর
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
বল্লাল সেন: 

বল্লাল সেন “ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর” নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন। (লক্ষ্মণ সেন বল্লাল সেনের অসমাপ্ত অদ্ভুতসাগর গ্রন্থ সমাপ্ত করেছিলেন।
• সেন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা বিজয় সেনের পুত্র ছিলেন বল্লাল সেন। 
• সিংহাসনে আরোহণ : আনুমানিক ১১৬০ সালে। 
• তিনি দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
• তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
• বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন। 
• কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৩৯.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নির্ভর সিনেমার নাম কী?
  1. আমি শেখ মুজিব
  2. মুজিব: একজন জাতীয় নায়ক
  3. অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  4. মুজিব: একটি জাতির রূপকার
ব্যাখ্যা
মুজিব: একটি জাতির রূপকার:
⇒ ১৩ অক্টোবর ২০২৩ – দেশের সিনেমা হলগুলোতে মুক্তি পায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীনির্ভর সিনেমা ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার।

উল্লেখ্য,
 ইংরেজিতে নাম:- MUJIB: THE MAKING OF A NATION.
⇒ মুজিব: একটি জাতির রূপকার’:
⇒ ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ ১৩ অক্টোবর সারা দেশে মুক্তি পায়।
⇒ বঙ্গবন্ধুর জীবন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম ও ১৯৭৫ সালের মর্মন্তুদ ঘটনাকে এই চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে।
⇒ বাংলাদেশ ভারত যৌথ প্রযোজনার এই মুভিটি পরিচালনা করেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল।
⇒২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি ভারতের মুম্বাই ফিল্ম সিটিতে শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে সিনেমা নির্মাণ।
⇒ প্রথমে এই জীবনীচিত্রের নাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধু', পরে কয়েকটি নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠালে তিনি 'মুজিব' নামটি পছন্দ করেন।
⇒ চলচ্চিত্রটিতে শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেন আরিফিন শুভ।
⇒ কিশোর বয়সের চরিত্রে অভিনয় করে দিব্য জ্যোতি।

অন্যদিকে-
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘চিরঞ্জীব মুজিব’।

তথ্যসূত্র -Live MCQ সালতামামি ২০২৩, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৮,৭৪০.
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম নারী শহীদ কে ছিলেন?
  1. তহমিনা রহমান
  2. রুবিনা সুলতানা
  3. নাঈমা সুলতানা
  4. শারমিন আক্তার
ব্যাখ্যা
• জুলাই গণঅভ্যুত্থান:
- ৮৪৪ জন জুলাই শহীদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে।
- এর মধ্যে ৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১০ জন নারীর নাম রয়েছে।
- শহীদ ১০ জন নারীর মধ্যে ৭ জন ঢাকায়, ২ জন নারায়ণগঞ্জে ও ১ জন সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
- প্রথম নারী শহীদ নাঈমা সুলতানা।
- সময়:  ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর উত্তরার বাসার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

 উৎস: প্রথম আলো।[লিঙ্ক]
৮,৭৪১.
বাংলাদেশের জাতীয় ফলের নাম কী?
  1. আম
  2. কাঁঠাল
  3. লিচু
  4. পেয়াঁরা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের:
- জাতীয় ফল : কাঁঠাল
- জাতীয় পাখি : দোয়েল
- জাতীয় গাছ : আম গাছ
- জাতীয় মাছ : ইলিশ
- জাতীয় ফুল : শাপলা
- জাতীয় পশু : রয়েল বেঙ্গল টাইগার
- জাতীয় দিবস : ২৬শে মার্চ।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া)
৮,৭৪২.
'মাৎস্যন্যায়' বিরাজমান ছিলো কোন শতকে?
  1. ক) ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে
  2. খ) ৬ষ্ঠ-৭ম শতকে
  3. গ) ৭ম-৮ম শতকে
  4. ঘ) ৮ম-৯ম শতকে
ব্যাখ্যা
৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলা অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন।
পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এ সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনটিই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলা হয়।
৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো।
৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,৭৪৩.
বঙ্গভঙ্গ রদ কালে ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড ওয়াভেল
ব্যাখ্যা

• বঙ্গভঙ্গ:
 - ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর-  লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এ বিভক্তির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাকে 'পূর্ববাংলা ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি প্রদেশে পরিণত করা হয়।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের সময় ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৭৪৪.
মুসলিম রেঁনেসার অগ্রদূত বলা হয় -
  1. ক) নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ আমীর আলী
  3. গ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. ঘ) সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা
• মুসলিম রেঁনেসার অগ্রদূত:
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।

• এসব গ্রন্থের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে-
(১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং
(২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন।
- এ গ্রন্থ দুটি পণ্ডিত হিসেবে আমীর আলীকে অমরত্ব দান করেছে।
- আমীর আলী তাঁর লেখায় ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দান করেছেন।
- মুসলমানদের গৌরবময় অতীতের প্রতি বারংবার অঙ্গুলি নির্দেশ করে মুসলিম সমাজকে আত্মসচেতন করার চেষ্টা করেছেন।
- তাঁর এ চেষ্টায় হতাশাগ্রস্ত মুসলিম সমাজে প্রাণের সঞ্চার ঘটে।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৪৫.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলার কোন বিপ্লবী জার্মান থেকে অস্ত্র সাহায্যের আশ্বাস পান?
  1. ক) অরবিন্দ ঘোষ
  2. খ) প্রফুল্য চাকি
  3. গ) বাঘা যতীন
  4. ঘ) বারীন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলায় বিপ্লবীদের মধ্যে একদল বিদেশ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে সম্মুখ যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে থেকে ক্ষমতা দখলের নীতি গ্রহণ করে।
- এঁদের মধ্যে ছিলেন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘা যতীন, ডা. যদুগোপাল মুখোপাধ্যায়, নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য প্রমুখ।
-  নরেন্দ্র নাথ পরে এম.এন.রায় নামে বিখ্যাত হন। 
- তাঁরা ইংরেজ বিরোধী শক্তি জার্মানি থেকে অস্ত্র সাহায্যের আশ্বাস পান। 
- কিন্তু ইংরেজ সরকার বিপ্লবীদের এ চক্রান্তের কথা আগেই জেনে যাওয়ায় জার্মানির জাহাজ আসার পথ রুদ্ধ হয়। 
- এ দিকে বাঘা যতীন ও তাঁর কয়েকজন সঙ্গী উড়িষ্যার বালেশ্বরে জার্মান জাহাজের উপস্থিতির আশায় হাজির হয়েছিলেন। 
- তাঁদের আগমনের সংবাদ পেয়ে কলিকাতা থেকে পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্ট একদল সশস্ত্র পুলিশ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।
- বাঘা যতীন ও তাঁর সহকর্মীদের সাথে পুলিশ বাহিনীর গুলি বিনিময়কালে চিত্ত প্রিয় নামের একজন বিপ্লবী নিহত হন। 
- অন্য তিন আহত সহকর্মীসহ বাঘা যতীন ধরা পড়েন এবং বন্দী অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে । 
- তাঁর দুই সহকর্মীর ফাঁসি হয় এবং একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
 
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮,৭৪৬.
কোন রাতে পবিত্র কুরআন নাযিল হয়?
  1. শবে মিরাজ রাতে
  2. শবে বরাত রাতে
  3. শবে কদর রাতে
  4. ঈদের রাতে
ব্যাখ্যা
কোরআন নাজিল:

- লাইলাতুল কদর কোরআন নাজিলের রাত।
- ৬১০ সালের এ রাতেই মক্কার নুর পর্বতের হেরা গুহায় ধ্যানরত অবস্থায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নিকট ফেরেশতাদের সরদার হজরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে সর্বপ্রথম কোরআন নাজিল হয়।
- আল্লাহ লাইলাতুল কদরের রাতকে সব রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র - প্রতিদিনের সংবাদ, ০৯ মে, ২০২১।
৮,৭৪৭.
মোট কয়জনকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি দেয়া হয়?
  1. ক) ৬
  2. খ) ৭
  3. গ) ৮
  4. ঘ) ৯
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম এবং বীরপ্রতীক। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ। সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি পান ৭ জন, দ্বিতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরউত্তম’ পান ৬৮ জন, তৃতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরবিক্রম’ পান ১৭৫ জন এবং চতুর্থ বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরপ্রতীক’ পান ৪২৬ জন।<br/(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮,৭৪৮.
The only foreign freedom fighter who was titled as Bir Protik -
  1. William A. S. Ouderland
  2. Jeorge Harrison
  3. Mark David
  4. Alen Ginsberg
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক ডব্লিও এ এস ওডারল্যান্ড।
- তিনি ৬ ডিসেম্বর, ১৯১৭ সালে হল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২নং সেক্টরে কাজ করেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৮,৭৪৯.
নিম্নের কোন ব্যক্তি মুঘল সম্রাট ছিলেন না?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. দ্বিতীয় শাহ আলম
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ:
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করলেও সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়। এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- ঐতিহাসিক শামস-ই- সিরাজ আফীফ ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ" এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

অন্যদিকে,
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের চতুর্থ সম্রাট। .জাহাঙ্গীর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট আকবর-এর পুত্র।
- ১৭০৭ খ্রি. সম্রাট আওরঙ্গজেব মৃত্যুবরণ করেন। আওরঙ্গজের পরবর্তী মুঘল শাসকগণ হলেন যথাক্রমে;
১। বাহাদুর শাহ (১৭০৭-১২),
২। জাহান্দর শাহ (১৭১২-১৩),
৩। ফররুখ শিয়ার (১৭১৩-১৯),
৪। মুহাম্মদ শাহ (১৭১৯-৪৮),
৫। আহমদ শাহ (১৭৪৮-৫৪),
৬। দ্বিতীয় আলমগীর (১৭৫৪-৫৯),
৭। দ্বিতীয় শাহ আলম (১৭৫৯-১৮০৬),
৮। দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-৩৭),
৯। দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ (১৮৩৭-৫৮)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৫০.
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শাফি ইমাম রুমী মুক্তিবাহিনীর কোন গেরিলা দলের সদস্য ছিলেন?
  1. ক্র্যাক প্লাটুন
  2. বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স
  3. ঢাকা গরিলা
  4. কাদেরীয় বাহিনী
ব্যাখ্যা
ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনাকারী একদল তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত দল, যাঁরা তৎকালীন সময় একটি কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।
- শাফী ইমাম রুমী ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের জুনের মাঝামাঝি সময়ে মায়ের অনুমতি নিয়ে শাফী ইমাম রুমী ভারতে গিয়ে মুক্তিবাহিনীর ক্র্যাক প্লাটুনে যোগ দেন।
- ২৫ আগস্ট ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যরা ঢাকার ধানমন্ডিতে দুর্ধর্ষ এক গেরিলা অপারেশন চালান।
- এরপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডে তোলপাড় শুরু হয়।
- এই অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন শাফী ইমাম রুমী।
- কয়েক দিন পর শাফী ইমাম রুমীসহ তাঁর আরও কয়েকজন সহযোদ্ধা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।
- পরে অমানুষিক নির্যাতনে তিনি শহীদ হন।

অন্যদিকে -
- মুজিব ব্যাটারি বাংলাদেশের প্রথম গোলন্দাজ ইউনিট। এর নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন আব্দুল আজিজ পাশা ও ক্যাপটেন আনোয়ারুল আলম।

উৎস: ৩১ জুলাই ২০২১, প্রথম আলো।
৮,৭৫১.
ইলবার্ট বিলের বিষয়বস্তু কী?
  1. ব্রিটিশদের দ্বারা পরিচালিত বাণিজ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ।
  2. ইউরোপীয় অপরাধীদের ভারতীয় বিচারকদের দ্বারা বিচার করার বিধান।
  3. ভারতীয় কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ।
  4. ভারতীয় সংবাদপত্রের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ।
ব্যাখ্যা

- ইলবার্ট বিলের বিষয়বস্তু হচ্ছে - ইউরোপীয় অপরাধীদের ভারতীয় বিচারকদের দ্বারা বিচার করার বিধান। 

ইলবার্ট বিল:

- ইলবার্ট বিল ১৮৮৩ সালে সেন্ট্রাল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের আইন-সদস্য স্যার সি.পি ইলবার্ট কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি আইন ছিল।
- এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিচারকদের কাছে ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া।
- বিলটি ভারতীয় এবং ইউরোপীয় বিচারকদের মধ্যে সমমর্যাদা স্থাপন করতে চেয়েছিল।
- তবে, ইউরোপীয়রা এই প্রস্তাবকে তীব্রভাবে বিরোধিতা করে, কারণ তারা মনে করত যে এতে তাদের শাসক অবস্থানে আঘাত আসবে।
- ইলবার্ট বিল বিতর্ক ভারতের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের দিকে উদ্বুদ্ধ করে, এটা পরবর্তীতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের দিকে নিয়ে যায়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৮,৭৫২.
নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে শক্তিশালী এক বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন কে?
  1. দুদু মিয়া
  2. তিতুমির
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. সৈয়দ আহমদ শহীদ
ব্যাখ্যা
তিতুমিরের সংগ্রাম: 
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমির চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজে এক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল।
- বাংলায় তার দুইটি ধারা প্রবহমান ছিল।
- যার একটি ওয়াহাবি বা মুহাম্মদিয়া আন্দোলন, অপরটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে খ্যাত।
- বাংলার ওয়াহাবিরা তিতুমিরের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল।
- তিতুমিরের নেতৃত্বে পরিচালিত তারিখ-ই-মুহাম্মদিয়া বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- ১৮৩১ সালে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমির নির্মাণ করেন শক্তিশালী এক বাঁশের কেল্লা।
- গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন সুদক্ষ শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮,৭৫৩.
মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতির দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. আতাউল গণি ওসমানি
  3. তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি:

- জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)।
- ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।
- ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৫৪.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।

এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপ রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী - এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী - খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী।
৮,৭৫৫.
কোন প্রতিষ্ঠানটি জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডস-২০২০ লাভ করে?
  1. ক) ডাক ও টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর
  2. খ) ভূমি মন্ত্রণালয়
  3. গ) দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. ঘ) প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ‘ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ লাভ করেছে বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়।
- ভূমি মন্ত্রণালয় 'ই-মিউটেশন' কার্যক্রমের জন্য ‘স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিকাশ’ ক্যাটাগরিতে 'ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড ২০২০' পেয়েছে।
- প্রতিবছর ২৩শে জুন জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষ্যে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৮,৭৫৬.
’পোড়ামাটির শিল্প’ কী নামে পরিচিত?
  1. ধাতবশিল্প
  2. মৃণ্ময়শিল্প
  3. পাথরশিল্প
  4. কাঠশিল্প
ব্যাখ্যা

পোড়ামাটির শিল্প:
- পোড়ামাটির শিল্প  মৃণ্ময়শিল্প বা ভাস্কর্যের সর্বপ্রাচীন নমুনা, যাতে বাঙালি শিল্পিরা বিশেষ নৈপুণ্য অর্জন করেছিল।
- পোড়ামাটির শিল্পদ্রব্য শিল্পিদের সৃষ্টি-আকাঙ্ক্ষাকে যেমন পূরণ করত, তেমনি সাধারণ মানুষও তাদের গৃহস্থালি বা ধর্মীয় কর্মযজ্ঞে এর ব্যবহার করত।
- কাদা-মাটিকে সূর্যের তাপে অথবা আগুনে পুড়িয়ে নিয়ে শক্ত এবং টেকসই করা হতো।
- আর এভাবেই প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে মানুষ পোড়ামাটির সামগ্রী তাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে আসছে।
- এই শিল্পরীতিটি প্রাচীনকাল থেকে সমগ্র প্রাথমিক মধ্যযুগ ও মধ্যযুগ পর্যন্ত, এমনকি কিছু কিছু হিন্দু স্থাপত্যে এর প্রয়োগ উনিশ শতকের মাঝামাঝি কাল পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।
- এই শিল্পটি ছোট মাটির ছোট মূর্তি, ভাস্কর্য ইত্যাদি প্রায় সব রকমের ফর্মেই লক্ষ করা যায়।
- তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো পোড়ামাটির ফলক।
- ইটের স্থাপত্যের বহির্ভাগের অলঙ্করণে ব্যবহূত পোড়ামাটির প্যানেল ও ফ্রিজ দক্ষিণ এশিয়ার শিল্প জগতে বাংলার গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

উৎস:  বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৫৭.
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে নিহতদের মধ্যে নিচের মধ্যে কে অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. বাবুল
  3. ওয়াজিউল্লাহ
  4. জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বিরোধী আন্দোলন (সেপ্টেম্বর, ১৯৬২):
- আইয়ুব খান শিক্ষা সংস্কারের উদ্দেশ্যে ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন।
- তদানীন্তন শিক্ষা সচিব এস.এম.শরীফকে সভাপতি করে গঠিত এগার সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন 'শরিফ কমিশন' নামে অভিহিত।
- কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তার সুপারিশ পেশ করে।
- কমিশনের এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ বিক্ষুব্ধ হয়।
- ঢাকা কলেজের ছাত্ররা 'ডিগ্রি স্টুডেন্টস ফোরাম' নামক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে।
- এই সংগঠনের নামে ঢাকা শহরের অন্যান্য কলেজের ছাত্ররা আন্দোলন পরিচালনা করে।
- পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আন্দোলনে যোগ দেয়।
- তখন সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে করা হয় 'ইস্ট পাকিস্তান স্টুডেন্টস ফোরাম'।
- ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল আহ্বান করা হয়।
- হরতালের দিন ছাত্র জনতা মিলিতভাবে রাস্তায় নেমে পড়ে।
- মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হলে বাবুল, বাসকন্টাক্টর গোলাম মোস্তফা ও গৃহভৃত্য ওয়াজিউল্লাহ নিহত হয়।
- তখন রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই আন্দোলনে অংশ নেননি।
- ছাত্রদের আন্দোলনের ফলেই সরকার শরীফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত করে।
- এই আন্দোলনের তাৎপর্য এই যে, পরবর্তীকালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে ছাত্ররাই প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।

অন্যদিকে 
- আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন সার্জেন্ট জহুরুল হক।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৫৮.
বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা কত জন?
  1. ৬৭২ জন
  2. ৬৭৪ জন
  3. ৬২৪ জন
  4. ৬৭৫ জন
ব্যাখ্যা
• বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৮ জন,
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন,
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন।

এছাড়াও,
তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী],
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম),
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক),
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)।

বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন,
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন,
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৮,৭৫৯.
In which district 'Ratargul Swamp Forest' is located?
  1. Sylhet
  2. Gopalganj
  3. Kurigram
  4. Panchagar
ব্যাখ্যা
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট:
- রাতারগুল জলাবন বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।
- রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত।
- বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি।
- ভারতীয় উপমহাদেশে আছে দুটি। একটি শ্রীলংকায়, আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল।
- সুন্দর বিশাল এ বনের তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের সঙ্গে।
- আমাজনের মতো এখানকার গাছ বছরে ৪ থেকে ৭ মাস পানির নিচে থাকে।
- এই বন মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও পরবর্তিতে বাংলাদেশ বন বিভাগ, বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের জলসহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে।
- এছাড়া জলমগ্ন এই বনে রয়েছে হিজল, করচ আর বরুণ গাছ, আছে পিঠালি, অর্জুন, ছাতিম, গুটি জাম, আছে বট গাছও।
- এই বনে সাপের আবাস অনেক বেশি। এছাড়া রয়েছে বানর, গুঁইসাপ, সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙ্গা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল এবং বাজপাখি।

তথ্যসূত্র - সিলেট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
৮,৭৬০.
মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. এ কে খন্দকার
  2. মেজর জিয়াউর রহমান
  3. জেনারেল এম এ জি ওসমানী
  4. কর্নেল মোশাররফ
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগরের পূর্বনাম ছিলো - বৈদ্যনাথতলা।
-  শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন - অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে পদাধিকারবলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন - শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রবাসী সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমদ।
- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন - জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- এবং মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া

৮,৭৬১.
কোন ভাষা শহীদ 'ঢাকা হাইকোর্ট' এর কর্মচারী ছিলেন?
  1. আবদুস সালাম
  2. শফিউর রহমান
  3. আবদুল আউয়াল
  4. রফিক উদ্দীন
ব্যাখ্যা
•ভাষা শহীদ:
- ২৪শে জানুয়ারী ১৯১৮ সালে কোননগর, হুগলী, চব্বিশ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গে ভাষা শহীদ শফিউর রহমান জন্মগ্রহণ করেন।
- শফিউর রহমান ছিলেন ঢাকা হাইকোর্টের হিসাবরক্ষণ শাখার কেরানি।
- শফিউর রহমানের রক্তমাখা শার্ট, কোট, জুতা সংরক্ষণ করা হয়।
- বর্তমানে এগুলো বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

অন্যদিকে,
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন আবুল বরকত।
- আব্দুস সালাম ছিলেন সরকারের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি।
- আবদুল জব্বার ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামের এক কৃষক পরিবারের সন্তান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বিডিনিউজ পত্রিকা রিপোর্ট।
৮,৭৬২.
‘তুমব্রু সীমান্ত’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবান
  2. সিলেট
  3. কক্সবাজার
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
• ‘তুমব্রু সীমান্ত’:
- তুমব্রু সীমান্ত বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে অবস্থিত।
- এই সীমান্তে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে প্রায় গোলাগুলি হয়। 
- তুমব্রু সীমান্তের কোনারপাড়া শূন্যরেখায় খালে ব্রিজ নির্মাণ করছে মিয়ানমার। 
- রোহিঙ্গাদের শূন্যরেখা থেকে তাড়িয়ে দেয়ার কৌশল হিসেবে এ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।

সূত্র: প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার।
৮,৭৬৩.
ঐতিহাসিক ছয় দফার দ্বিতীয় দফা কী ছিল?
  1. কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা
  2. মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক
  3. রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক
  4. বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষিত হয় ১৯৬৬ সালে।

দফা সমূহ:
- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৬৪.
মহাস্থানগড় কোন জেলার অন্তর্গত?
  1. রাজশাহী
  2. বগুড়া
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
• মহাস্থানগড়: বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি: 
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থানগড় অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড়ের বিস্তীর্ণ ধ্বংসাবশেষ প্রাচীর পুণ্ড্রবর্ধনভূক্তির রাজধানী পুন্ড্রনগরেরসুদীর্ঘ প্রায় আড়াই হাজার বছরের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের এক নীরব স্বাক্ষী।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান।
 
উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৬৫.
উপজাতিদের বর্ষবরণ উৎসবকে সামগ্রিকভাবে কি বলা হয়?
  1. সোহরাই
  2. বৈসাবি
  3. ওয়াংগালা
  4. সংগ্রাই
ব্যাখ্যা

বৈসাবি
- বৈসাবি  বাংলাদেশে তিন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু এই তিন নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে বৈসাবি নামের উৎপত্তি। 
- তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করে বাংলা নববর্ষ।
- পুরনো বছরের কালিমা আর জীর্ণতাকে ধুয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় তারা। 
- আদিবাসীরা বর্ষবরণ উৎসব পালন করে বিভিন্ন নামে।
- কেউ বৈসু, কেউ সাংগ্রাই আবার কেউ বিজু।
- বর্ষবরণ উৎসবকে ত্রিপুরারা বৈসু, মারমারা সাংগ্রাই ও চাকমারা বিজু বলে অভিহিত করে এবং এগুলি বৈসাবি নামে পরিচিত।
- সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি পালিত হয় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়।

অন্যদিকে,
- শুদুমাত্র গারোদের প্রধান উৎসবের নাম ওয়াংগালা।
- শুদুমাত্র মারমাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম সাংগ্রাই।
- সাঁওতালদের সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম সোহরাই।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৮,৭৬৬.
পদ্মা সেতু প্রকল্পতে কোন দেশের কোম্পানী কাজ করে?
  1. ক) জাপান
  2. খ) চীন
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) জার্মানী
ব্যাখ্যা

- পদ্মা সেতু প্রকল্পতে চীনের একটি কোম্পানী কাজ করে।


পদ্মা সেতু:
- মূল সেতুর কাজ করেছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড
- পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার।
- পদ্মা সেতু বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু। সেতুটি মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, লৌহজংকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত উত্তর-পুর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- মাওয়া প্রান্তের দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৬১৭ কিলোমিটার।
- জাজিরা প্রান্তের দৈর্ঘ্য ১০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র - দ্যা ডেইলী স্টার,
               ২৫ জুন ২০২২।
৮,৭৬৭.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. আট
  2. দশ
  3. এগার
  4. পনের
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

সেক্টরগুলো:
- ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ২ নং সেক্টর,
- হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ: ৩ নং সেক্টর,
- সিলেট জেলার অংশবিশেষ: ৪ নং সেক্টর,
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ: ৫ নং সেক্টর,
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ: ৭ নং সেক্টর,
- কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ৮ নং সেক্টর,
- পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ: ৯ নং সেক্টর,
- সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন: ১০ নং সেক্টর,
- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল: ১১ নং সেক্টর।

উৎস: ২৬ মার্চ ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
৮,৭৬৮.
মুক্তিযোদ্ধা সিতারা বেগম কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ২ নং
  2. ৪ নং
  3. ৭ নং
  4. ১১ নং
ব্যাখ্যা
নারী মুক্তিযোদ্ধা সেতারা বেগম:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল।
- এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে।
- নাম ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’।
- এটি প্রথমে স্থাপিত হয় সীমান্তসংলগ্ন ভারতের সোনামুড়ায়।
- পরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তা স্থানান্তর করা হয় আগরতলার কাছাকাছি বিশ্রামগঞ্জে। 
- ডা. সিতারা বেগম জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশ হাসপাতালে যোগ দেন।
- পরে হাসপাতালের সিও (কমান্ডিং অফিসার) কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। 
- আহত মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল চাঙা রাখতে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা যে অবদান রেখেছেন, তা সত্যিই স্মরণীয়।

উৎস:  ১৬ জুন ২০২১, প্রথম আলো।
৮,৭৬৯.
বাংলায় সুবাদারি শাসন সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় কার মাধ্যমে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. মীর জাফর
  3. মুর্শিদ কুলি খান
  4. ইসলাম খান চিশতি 
ব্যাখ্যা

বাংলায় মুঘল শাসন:
- মুঘল সুবাদারি শাসন (১৫৭৬–১৭৫৭ খ্রি.) বলতে বাংলায় বিভিন্ন প্রতিনিধির মাধ্যমে মুঘলদের সরাসরি শাসনকে বোঝায়।
- শাসনকার্য পরিচালনার সুবিধার্থে মুঘল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত করা হয়েছিল।
- মুঘল প্রদেশগুলো ‘সুবা’ নামে পরিচিত ছিল।
- সুবার প্রধানকে সুবাদার, সাহিব-ই-সুবাহ, নাজিম, ফৌজদার-ই-সুবা প্রভৃতি নামে ডাকা হতো।
- বাংলা ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবা।
- বার ভূঁইয়াদের দমনের পর সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সতের শতকের প্রথম দিক থেকে আঠার শতকের শুরু পর্যন্ত সময়কে সুবাদারি শাসনের স্বর্ণযুগ বলা হয়।
- রাজমহলের যুদ্ধে জয়ী হয়ে মুঘলরা পুরো বাংলায় আধিপত্য বিস্তারে মনোনিবেশ করে।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতিকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ দেন।
- ইসলাম খান চিশতি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বার ভূঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে বাংলা সুবার রাজধানী ঘোষণা করেন।
- ১৬১৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর কাশিম খান চিশতি (১৬১৩–১৬১৭ খ্রি.) বাংলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পরবর্তীতে ইব্রাহিম খান ফতেহ জঙ্গ (১৬১৭–১৬২৪ খ্রি.) বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
- এরপর দারার খান (১৬২৪–১৬২৫ খ্রি.), মহব্বত খান (১৬২৫–১৬২৬ খ্রি.), মুকাররম খান (১৬২৬–১৬২৭ খ্রি.) এবং ফিদাই খান (১৬২৭–১৬২৮ খ্রি.) দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৭০.
সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন কে?
  1. মুসা খান
  2. শায়েস্তা খান
  3. মীর জুমলা
  4. ইসলাম খান
ব্যাখ্যা

- ১৬১০ সালের ১৬ জুলাই সুবাদার ইসলাম খান চিশতী সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন এবং নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর।
- এই নাম সম্রাট জীবিত থাকা পর্যন্ত বহাল ছিল।
-এরপর ১৬৫০ সালে সুবাদার শাহ সুজা পুনরায় বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহলে নিয়ে যান।
-কিন্তু ১৬৬০ সালে মীর জুমলা পুনরায় ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন যা ১৭১৭ সাল পর্যন্ত বজায় ছিল।
-১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- পরবর্তী ১৯০৫ থেকে ১৯১১ এবং ১৯৪৭ সাল থেকে ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে ছিলো।
-১৯৭১ সাল থেকে ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী।

উৎস: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট

৮,৭৭১.
বাংলার কোন সুলতানের শাসনকালকে 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়?
  1. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. রুকনুদ্দিন বারবক শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা

- আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে বাংলায় শান্তি, সমৃদ্ধি, এবং শিল্প-সাহিত্যের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছিল, তাই তার শাসনকালকে প্রায়শই 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়।  

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বাংলায় হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি আরাকান ও চট্টগ্রাম দখল করেন।
- তার সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হতো।
- তিনি বাংলাকে রাজদরবারের ভাষা হিসেবে স্থান দেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- তাকে নৃপতি তিলক, জগৎভূষণ, কৃষ্ণাবতার বলা হতো।
- তার শাসনামলকে বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- তিনি অনেক জনকল্যাণমূলক কাজও করেন।
- তিনি গরিব-দুঃখীদের জন্যে দেশে অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন ও পানির কূপ খনন করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- তিনি বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যদেবকে সম্মান করতেন এবং তাঁকে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারে সুবিধা দিয়েছিলেন।
- তার সময়ে বিজয়গুপ্ত পদ্মপুরাণ বা মনসা মঙ্গল, বিপ্রদাস মনসা বিজয় এবং যশোরাজ খান শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্য রচনা করেন।
- মালাধর বসু শ্রীমদ্ভাগবত বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন।
- তিনি শ্রীকৃষ্ণ বিজয় নামে আর একটি কাব্যও রচনা করেন।
- তাঁর রাজত্বকালে গৌড়ের 'ছোট সোনা' মসজিদ নির্মিত হয়।
- দীর্ঘ ২৬ বছর রাজত্ব করার পর আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৭২.
ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. ক) লর্ড ওয়াভেল
  2. খ) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  3. গ) লর্ড কার্জন
  4. ঘ) লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
- ১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের (সনদ আইন) মাধ্যমে বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে উন্নীত করা হয়।
এর ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

- ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল হলেন লর্ড ক্যানিং
- সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনভার সরাসরি নিজের হাতে ‍তুলে নেয়। এতে গভর্নর জেনারেলের পরিবর্তে ভাইসরয় নিয়োগ প্রদান শুরু হয়।
- সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিংকে প্রথম ভাইসরয় হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে,
- ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বশেষ ভাইসরয় বা রাজপ্রতিনিধি ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। তাঁর সময় ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই।
৮,৭৭৩.
‘ইয়ং বেঙ্গল’ গোষ্ঠীর মুখপত্ররূপে কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বঙ্গদূত
  2. খ) জ্ঞানান্বেশণ
  3. গ) জ্ঞানাংকুর
  4. ঘ) সংবাদপ্রভাকর
ব্যাখ্যা
'জ্ঞানান্বেষণ'(১৮৩১) পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।যা 'ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠীর মুখপত্ররূপে প্রকাশিত হয়। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৭৭৪.
কোন পর্যটক বাংলাকে 'দোযখপুর নিয়ামত' বলে আখ্যা দেন?
  1. ক) ইবনে বতুতা
  2. খ) ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. গ) বখতিয়ার খলজি
  4. ঘ) হিউয়েন সাং
ব্যাখ্যা
- ইবনে বতুতার ভ্রমণকালে বাংলার সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ছিলেন একজন খ্যাতিমান নরপতি। 
- ইবনে বতুতা সোনারগাঁয়ের সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ও লক্ষ্ণৌতির সুলতান আলাউদ্দিন আলী শাহের মধ্যকার তীব্র সংঘর্ষের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছেন।
- ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে বাংলার জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন।
- তিনি বলেছেন, 'জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রাচুর্য ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেশটিকে বসবাসের জন্য খুবই আকর্ষণীয় করে তুলেছে।'
- কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া এবং তার সঙ্গে ভ্যাপসা গরম বিশেষত গ্রীষ্মকালে নদীনালা থেকে উদ্ভূত দাবদাহ এতটাই পীড়াদায়ক ছিল যে, বিদেশিরা যে একে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত’ অর্থাৎ 'প্রাচুর্যপূর্ণ নরক' বলে অভিহিত করত। 


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৭৫.
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসাবে পালন করে কোন দিনটিকে?
  1. ক) ১৯ জুলাই
  2. খ) ২১ জুলাই
  3. গ) ২৪ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ১৬ অক্টোবর
  5. ঙ) ২১ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের সেনা-নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমন চালায়। সেই দিন থেকেই দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। বর্তমানে এই দিনটিকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসাবে পালন করে থাকে।
৮,৭৭৬.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কোন দেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে?
  1. চীন
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ভারত
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

• সোভিয়েত ইউনিয়ন:
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল, যদিও তার ভূমিকা প্রধানত কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সমর্থনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
- সেই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং এই ভেটো প্রয়োগের ফলে পাকিস্তানের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকে।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ে সাহায্য করে এবং মুক্তিযুদ্ধের ন্যায্যতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে। 

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সামরিক এবং কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দিচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা প্রদান করেছিল।
- চীন জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলেছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৭৭.
বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার পর ঢাকায় আসেন ১৯৭২ সালের কত তারিখে? 
  1. ৮ জানুয়ারি
  2. ৯ জানুয়ারি
  3. ১০ জানুয়ারি
  4. ১১ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়।
- বঙ্গবন্ধু ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন গমন করেন।
- সেখান থেকে দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় আসেন।
- ১০ জানুয়ারিকে বঙ্গবন্ধুর ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,৭৭৮.
সংসদীয় গণতন্ত্রে শাসন বিভাগের সকল ক্ষমতা কার কাছে ন্যস্ত থাকে?
  1. স্পিকারের
  2. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
  3. রাষ্ট্রপতির
  4. প্রধানমন্ত্রীর
ব্যাখ্যা

• সরকারের অঙ্গ সংগঠন তিনটি। যথা-
- আইন বিভাগ,
- শাসন বিভাগ ও
- বিচার বিভাগ।
• রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
• তিনি আইন পরিষদের নিকট দায়ী নন।
• কিন্তু সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হলো নামমাত্র প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হলেন শাসন বিভাগ তথা নির্বাহী বিভাগের প্রধান।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮,৭৭৯.
১৯৩৭ সালের বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা কত ছিল?
  1. ২২৩টি
  2. ২৫০টি
  3. ৩৫৫টি
  4. ২০৪টি
ব্যাখ্যা

• ১৯৩৭ সালের নির্বাচন ও রাজনৈতিক দলসমূহ:
- ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৯৩৬ সাল হতে ভারতের অন্যান্য প্রদেশের মতো সারা বাংলায় নির্বাচনের তোড়জোর আরম্ভ হয়।
- নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলায় তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়।
- বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ছিল ২৫০টি। 

•  রাজনৈতিক দল তিনটি হচ্ছে-
ক. জিন্নাহর নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত মুসলিম লীগ;
খ. এ.কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-প্রজা পার্টি এবং
গ. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৮০.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত 'গেরিলা' চলচ্চিত্রটি কোন লেখকের রচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
গেরিলা:
- গেরিলা ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র।
- এটি 'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার' পেয়েছে।
- নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে চলচ্চিত্রটি।
- যৌথভাবে চিত্রনাট্য রচনা করেছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও এবাদুর রহমান।

উল্লেখ্য,
- নাসির উদ্দিন ইউসুফ একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা।
- তিনি নাট্য নির্দেশক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংগঠক।
- তার বিভিন্ন চলচ্চিত্রের মধ্যে একাত্তরের যীশু, গেরিলা ও আলফার উল্লেখযোগ্য।
- রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক (২০২০) সহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরষ্কার-সম্মাননা পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ১৮ ডিসেম্বর ২০২১।
৮,৭৮১.
BDF কী?
  1. জাতীয় অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল
  2. দাতাগোষ্ঠীর ফোরাম
  3. বসত বাড়ির উপর আরোপিত কর
  4. বিনিয়োগ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি
ব্যাখ্যা
- BDF (Bangladesh Development Forum) হলো বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বা দাতাদের একটি ফোরাম যা ১৯৭৪ সালে গঠিত হয়।
- শুরুতে এটির নাম ছিলো ‘বাংলাদেশ এইড গ্রুপ’। ১৯৯৭ সালে এর নামকরণ হয় 'প্যারিস কনসোর্টিয়াম গ্রুপ' এবং ২০০২ সালে এর নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম।
-(BDF) এর সমন্বয় করে থাকে বিশ্বব্যাংক।
- প্রথমদিকে এর বৈঠক প্যারিসে অনুষ্ঠিত হলেও ২০০৩ সাল থেকে এর বৈঠক নিয়মিতভাবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
- ২০২০ সালের ২৯-৩০ জানুয়ারি ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম (বিডিএফ) এর সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ ইআরডি ওয়েবসাইট)
৮,৭৮২.
অসহযোগ আন্দোলনের সূত্রপাত হয় কত সালে?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯৩০ সালে
  3. ১৯১৮ সালে
  4. ১৯২১ সালে
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- মহাত্মা গান্ধীকে ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নতুন দিল্লির একটি সুবৃহৎ প্রাসাদ বিড়লা হাউসের প্রাঙ্গনে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাঁর ঘাতক ছিলেন নাথুরাম গডসে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, Britannica.
৮,৭৮৩.
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ কত নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪নং
  2. ১নং
  3. ৭নং
  4. ৮নং
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠদের যুদ্ধ কালীন সেক্টর:

• মুন্সী আব্দুর রব- ১নং সেক্টর।
• সিপাহি মোস্তফা কামাল- ২নং সেক্টর।
• স্কোয়াড্রন ইন্জিনিয়ার রুহুল আমিন- ১০নং সেক্টর।
• ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ- ৮নং সেক্টর।  
• সিপাহি হামিদুর রহমান- ৪নং সেক্টর। 
• ক্যাপ্টেন  মহিউদ্দীন জাহাঙ্গির- ৭নং সেক্টর।
• ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর  রহমান- কোনো সেক্টরে ছিলেন না।

উৎস: মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৮৪.
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে কী নামে প্রচারিত হয়?
  1. ক) চরমপত্র
  2. খ) বজ্রকণ্ঠ
  3. গ) প্রতিধ্বনি
  4. ঘ) দৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ‘বজ্রকণ্ঠ’ নামে প্রচারিত হয়। তিনি ঘোষণা করেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ৪টি। যথা: ১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার, ২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া, ৩. গণহত্যার তদন্তকরা এবং ৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
[সূত্রঃ বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
৮,৭৮৫.
১৯৭১ সালে ‘The Concert for Bangladesh’ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. চট্টগ্রাম
  2. কলকাতা
  3. লন্ডন
  4. নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা
The Concert for Bangladesh:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের মুখে যুদ্ধ বিরতি ঘটিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে বাধাগ্রস্ত করতে জাতিসংঘে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
- তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের অনেক সদস্য, বিভিন্ন সংবাদপত্র, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা পালন করে।
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' আয়োজন করে তা থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন৷
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।

উৎস:
i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১, প্রথম আলো।
৮,৭৮৬.
বঙ্গবন্ধুর 'স্বাধীনতার ঘোষণা' ২৬ মার্চ চট্রগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে কে প্রথম প্রচার করেন?
  1. ক) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. খ) এম এ হান্নান
  3. গ) মেজর জিয়াউর রহমান
  4. ঘ) মেজর রফিকুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা:-
- বঙ্গবন্ধু বন্দি হওয়ার পূর্বেই চট্টগ্রামস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব এম. এ. হান্নানের নিকট বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী প্রেরণ করেন।
- বাণীটি স্বাধীনতার দলিলপত্র তৃতীয় খন্ডে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা (বাংলা অনুবাদ): ‘আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। এই আমার শেষ কথা। যে যেখানেই থাকুন না কেন সকলের প্রতি
আমার আবেদন রইল, যার কাছে যা আছে তাই নিয়ে দখলদার বাহিনীর মোকাবিলা করুন এবং বাংলার মাটি থেকে পাক
দখলদার বাহিনীকে সমূলে উৎখাত করে চুড়ান্ত বিজয় না-হওয়া পর্যন্ত লড়ে যান’। 
এম.এ. হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার করেন।
২৭ মার্চ কালুরঘাটে স্থাপিত স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র (পরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র) থেকে মেজর জিয়াউর
রহমান বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। এই ঘোষণাটিও স্বাধীনতার দলিলপত্রে
অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৮৭.
কোন বিরোধপূর্ণ স্থান কে কেন্দ্র করে ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে পাক-ভারত যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. বাংলা
  2. কাশ্মীর
  3. পাঞ্জাব
  4. তাসখন্দ
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ:

- ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টির পর কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
- ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই কাশ্মীরকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করত।
- কাশ্মীর সমস্যাকে কেন্দ্র করে ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়।
- ৬ আগস্ট পাকিস্তান বাহিনী ভারত আক্রমণ করলে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়।
- ৬ সেপ্টেম্বর ভারত লাহোর আক্রমণে অগ্রসর হয়।
- ১৭ দিন যুদ্ধের পর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২৩ সেপ্টেম্বর যুদ্ধ বিরতি ঘোষিত হয়।
- ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত 'তাসখন্দ চুক্তি'র মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৮৮.
Which sultan's reign of Bengal is called Golden Age?
  1. ক) Ghiyasuddin Azam Shah
  2. খ) Alauddin Hossain Shah
  3. গ) Shamsuddin Ilyas Shah
  4. ঘ) Nasiruddin Mahmud Shah
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ও বাংলার স্বর্ণযুগ:-
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহের শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হয়।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- শাসন ব্যবস্থার ব্যাপারে তিনি উদার নীতি গ্রহণ করেন।
- তিনি মুসলমান ও হিন্দুদেরকে সমান চোখে দেখতেন এবং যোগ্যতানুসারেই সব সম্প্রদায়ের লোককে উচ্চ রাজপদে নিয়োগ
করতেন।

-  তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
- বড় সোনা মসজিদ, গৌড় ছোট সোনা মসজিদ, গৌড় বাংলাভাষায়ও অনেক গ্রন্থ রচিত হয়।
- এ সময়ে বিজয়গুপ্ত পদ্মপুরাণ বা মনসা মঙ্গল, বিপ্রদাস মনসা বিজয় এবং যশোরাজ খান শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্য রচনা করেন।

- মালাধর বসু শ্রীমদ্ভাগবত বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন।
- তিনি শ্রীকৃষ্ণ বিজয় নামে আর একটি কাব্যও রচনা করেন।
- তাঁর রাজত্বকালে নির্মিত মসজিদসমূহের মধ্যে গৌড়ের ‘ছোট সোনা’ মসজিদ বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।
- মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাসে সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন।
- দীর্ঘ ২৬ বছর রাজত্ব করার পর আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৮৯.
BDF এর পূর্ণরূপ-
  1. Bangladesh Developing Forum
  2. Bangladesh Developing Formation
  3. Bangladesh Development Forum
  4. Bangladesh Development Formation
ব্যাখ্যা
BDF:
- BDF এর পূর্ণরূপ- Bangladesh Development Forum.
- বিডিএফ হলো বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বা দাতাদের একটি ফোরাম ১৯৭৪ সালে গঠিত হয়।
- তখন এর নাম ছিলো বাংলাদেশ এইড গ্রুপ।
- ১৯৯৭ সালে এর নাম হয় 'প্যারিস কনসোর্টিয়াম গ্রুপ' এবং ২০০২ সালে এর নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম।
- প্রথমদিকে এর বৈঠক প্যারিসে অনুষ্ঠিত হলেও ২০০৩ সাল থেকে এর বৈঠক নিয়মিতভাবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
- বিশ্বব্যাংক এই ফোরামের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে।

তথ্যসূত্র - ইআরডি ওয়েবসাইট।
৮,৭৯০.
কোন যুদ্ধে জয়ের পর শেরশাহ রাজধানী গৌড় থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করেন?
  1. ক) বিলগ্রাম
  2. খ) সুরুজগড়
  3. গ) চৌসা
  4. ঘ) খানুয়া 
ব্যাখ্যা
• শেরশাহের শাসন:
- চৌসার যুদ্ধজয় শেরশাহের সিংহাসনে বসার পথ করে দিয়েছিল।
- যুদ্ধজয়ের পরপর শেরশাহ সবার আগে গৌড় পুনরুদ্ধার করেন। গৌড় থেকেই তিনি হুমায়ুনের বিরুদ্ধে অগ্রসর হয়েছিলেন।
- এরপর বিলগ্রামের যুদ্ধে হুমায়ুনের পরাজয়ের পর শেরশাহ গৌড় থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তর করেছিলেন
- তখন থেকে বাংলা দিল্লির অধীনে একটি প্রদেশে পরিণত হয়।
- খিজির খাঁ নামক একজন কর্মকর্তাকে বাংলা প্রদেশের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
এদিকে ১৫৪১ খ্রিস্টাব্দে খিজির খাঁ বাংলার ভূতপূর্ব সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের কন্যাকে বিয়ে করে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে শেরশাহ বাংলা অভিযান করে খিজির খাঁকে বন্দি করেন।
- তিনি খিজির খাঁ’র স্থলে কাজী ফজীলতকে গৌড়ের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৯১.
মুজিব নগর সরকারের কয়টি মন্ত্রণালয় ছিল?
  1. ১০ টি
  2. ১১ টি
  3. ৮ টি
  4. ১২ টি
ব্যাখ্যা
•মুজিবনগর সরকার:
-  ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন।
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর।
- এবং দেশে-বিদেশে সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল।
- এসব বিভাগের মাধ্যমে যুদ্ধকালে সামরিক ও বেসামরিক যাবতীয় প্রশাসন পরিচালিত হয়।
- এবং ৯ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- মাওলানা ভাসানী ছিলেন কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য। 


উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৯২.
অশোক কোন বংশের সম্রাট ছিলেন?
  1. মৌর্য
  2. গুপ্ত
  3. সেন
  4. পাল
ব্যাখ্যা
⇒ অশোক মৌর্য বংশের সম্রাট ছিলেন।

অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- পিতার রাজত্বকালে অশোক প্রথম জীবনে উজ্জয়িনীর শাসনকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে বিন্দুসার তাঁকে সেখানে পাঠান। বিদ্রোহ দমনের পর তিনি তক্ষশীলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক তাঁর পূর্বসুরীদের মতই 'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি নিজেকে 'দেবনম পিয় পিয় দসী' রূপে পরিচয় দিতেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক সুখ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৯৩.
'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচি কবে পালিত হয়?
  1. ২৯ জুলাই, ২০২৪
  2. ৩০ জুলাই, ২০২৪
  3. ৩১ জুলাই, ২০২৪
  4. ১ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা
'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচি:
- বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি- কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহিংসতায় অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণহানি হয়েছে।
- এমতাবস্থায় আন্দোলন দমনের জন্য সাধারণ ছাত্র ও আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার চালানো হয়েছে।
- যা রীতিমতো দেশের সংবিধান বিরোধী ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়েছে।
- আর এরই প্রতিবাদে ছাত্ররা তাদের কর্মসূচি 'মার্চ ফর জাস্টিস' পালন করেছে।

⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে।
- ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।
৮,৭৯৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) জাগ্রত চৌরঙ্গী
  3. গ) অপরাজেয় বাংলা
  4. ঘ) স্বাধীনতা সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য হলো গাজীপুর চৌরাস্তায় নির্মিত ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’।
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ সংঘটিত হয় গাজীপুরে ১৯শে মার্চ ১৯৭১। এ চেতনার অংশ হিসেবে ১৯৭৩ সালে এটি স্থাপিত হয়।
- এর ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক। এটির উচ্চতা ৪২ ফুট ২ ইঞ্চি।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং গাজীপুর জেলা ওয়েবসাইট)
৮,৭৯৫.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. এম মনসুর আলী
  3. খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  4. তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,৭৯৬.
মুজিবনগর সরকারের আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) খন্দকার মোশতাক আহমদ
  2. খ) এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
  3. গ) ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার।
- এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে। 
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকারও পরিচিতি লাভ করে মুজিবনগর সরকার নামে।
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয় ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়।

-     বাংলাদেশ সরকার(মুজিবনগর সরকার)

রাষ্ট্রপতি (সর্বাধিনায়ক) ⇒ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উপ-রাষ্ট্রপতি ⇒ সৈয়দ নজরুল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রী ⇒ তাজউদ্দিন আহমদ
অর্থমন্ত্রী ⇒ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী ⇒ এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ⇒ খন্দকার মোশতাক আহমদ
প্রধান সেনাপতি ⇒ কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
চিফ অব স্টাফ ⇒ লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ⇒ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭৯৭.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন-
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2.  খাজা নাজিমউদ্দিন
  3. এ.কে. ফজলুল হক
  4.  নূরুল আমিন
ব্যাখ্যা

অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন- এ.কে. ফজলুল হক।
------------------- 
• এ. কে. ফজলুল হক:
- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক।
- তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ–কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তা ইতিহাসে বিখ্যাত লক্ষ্ণৌ চুক্তি নামে পরিচিত।
- পরে ১৯২৫ সালে তিনি বাংলার মন্ত্রিসভার সদস্য মনোনীত হন।
- কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি ১৯২৭ সালে কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন।

- ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি যুক্তফ্রন্ট দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- পরবর্তীতে ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- বাংলার এই প্রখ্যাত নেতা শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
----------------
অন্যদিকে, 
- ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন- নূরুল আমিন। 
- ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- খাজা নাজিম উদ্দীন। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮,৭৯৮.
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ এর মাজার কোথায় অবস্থিত?
  1. নদীয়া
  2. মুর্শিদাবাদ
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
• গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ'র সমাধি বাংলাদেশে সুলতানি আমলের টিকে থাকা একটি প্রাচীনতম সৌধ।
• প্রস্তর নির্মিত শবাধার সম্বলিত এ সমাধিসৌধ সোনারগাঁয়ের শাহ চিলাপুরে অবস্থিত এবং বাংলার ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ-এর সমাধি বলে কথিত।

• গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ:

- গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ (১৩৮৯-১৪১০/৭৯২-৮১৩ হিজরি) বাংলার প্রথম ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান।
- রাজ্যের বিস্তৃতির চেয়ে তিনি রাজ্যকে সুদৃঢ় করার দিকে বেশি মনোযোগ দেন।
- তিনি তাঁর রাজত্বের প্রথম দিকে শুধু কামরূপএ অভিযান করে তা দখল করেন এবং কামরূপের উপর কয়েক বছর তাঁর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য 'ইউসুফ জোলেখা' রচনা করেন।
- সম্ভবত সুলতান কৃত্তিবাসকেও বাংলায় রামায়ণ লেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৯৯.
বাংলাদেশে মশলা গবেষণা কেন্দের অবস্থান-
  1. ক) খুলনা
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) রাজবাড়ী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে মশলা গবেষণা কেন্দ্রের অবস্থান বগুড়ার শিবগঞ্জে।
সূত্র: spiceresearch.bogra.gov.bd
৮,৮০০.
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস কবে?
  1. ক) ২১ জানুয়ারী
  2. খ) ১৪ই ডিসেম্বর
  3. গ) ১৪ই জানুয়ারী
  4. ঘ) ৭ই মার্চ
ব্যাখ্যা
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস:
- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৪ ডিসেম্বর পালন করা হয়।
- বুদ্ধিজীবী হত্যা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।
- ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুই শতেরও বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়।
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির উদ্দেশে বাংলাদেশে শোকাবহ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।