বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৮৫ / ১২৪ · ৮,৪০১৮,৫০০ / ১২,৪২১

৮,৪০১.
আন্তর্জাতিক কোন সংস্থা ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সংগঠিত জুলাই গণহত্যার তদন্ত কার্যক্রম করে?
  1. Human Rights Watch
  2. OHCHR
  3. Amnesty International
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

জুলাই গণহত্যা:
- জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন (OHCHR) ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সংগঠিত জুলাই গণহত্যার তদন্ত কার্যক্রম করে।
- OHCHR : Office of the United Nations High Commissioner for Human Rights।
- এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা যা ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর কাজ হলো মানবাধিকার রক্ষা, লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ, রিপোর্ট তৈরি, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে সহায়তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
- এর সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।

⇒ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে OHCHR স্বাধীনভাবে জুলাই গণহত্যার তদন্ত করেছে।
- ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
- ১ জুলাই - ১৫ আগস্টের ঘটনা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে ওএইচসিএইচআর। 
- প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বারা সংগঠিত বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্বিচার গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মতো ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠী, সংগঠন এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জড়িত ছিল বলে প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) UN ওয়েবসাইট।

৮,৪০২.
ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত 'তমদ্দুন মজলিস' কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল?
  1. ক) এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া
  2. খ) আবুল কাশেম
  3. গ) আবুল মতিন
  4. ঘ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। 
- এ সংগঠনের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশিত হয়।
- পুস্তিকাটিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৪০৩.
মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ২ নং
  2. খ) ৭ নং
  3. গ) ৮ নং
  4. ঘ) ১১ নং
ব্যাখ্যা
• তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের (বীর উত্তম)।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।
- মৃত্যুবরণ করেন - ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার।
৮,৪০৪.
কোন আমলে সোনারগাঁও বাংলাদেশের রাজধানী ছিল?
  1. ক) সুলতানী আমলে
  2. খ) মুঘল আমলে
  3. গ) পাল আমলে
  4. ঘ) মৌর্য আমলে
ব্যাখ্যা
- সোনারগাঁও - বাংলার প্রাচীন রাজধানী
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে। অন্য ধারণামতে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়। মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্য়ন্ত সোনারগাঁও ছিল - পূর্ববঙ্গের রাজধানী। ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট (parjatan.gov.bd)।
৮,৪০৫.
তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজিতে এম এ জি ওসমানী বাংলাদেশকে কয়টি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করেন?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যে বাহিনীটা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সেটাকেই মুক্তিবাহিনী বলে।
- এটার কয়েকটা ভাগ ছিল।
- যেমন: একটা ভাগে ছিল সেনাবাহিনী, ইপিআর, পুলিশ, আনসার আর আরেকটা অংশে ছিল ছাত্র-জনতা।
- সবাইকে মিলিয়ে বলা হতো মুক্তিবাহিনী।
- মুক্তি বাহিনীর কয়েকটি অংশের একটি ছিল ‘মুজিব বাহিনী’।
- আওয়ামী লীগের চার যুবনেতার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিএলএফ বা বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সই পরে এই নামে পরিচিতি পায়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের একাত্তর সালের ৪ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন।
- সেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল প্রণয়ন করে।
- পরে এটি তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত হয়।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
- ১২-১৭ জুলাই কলকাতায় মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ সম্মেলন হয়, সেখানেই তিনটি নিয়মিত বাহিনী তৈরি এবং বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।

উৎস: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
৮,৪০৬.
কোন সময় মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে?
  1. ক) ৭ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  3. গ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের সদস্যবৃন্দ:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৮,৪০৭.
ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্যে একুশে পদক-২০২১ লাভ করেন কে?
  1. ক) মোতাহার হোসেন তালুকদার
  2. খ) শামছুল হক
  3. গ) আফসার উদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
একুশে পদক-২০২১ প্রাপ্তরা (মোট ২১ জন):
- ভাষা আন্দোলনে : মোতাহার হোসেন তালুকদার (মরণোত্তর), শামছুল হক (মরণোত্তর) ও আফসার উদ্দীন আহমদ (মরণোত্তর)
- শিল্পকলায় : পাপিয়া সারোয়ার (সংগীত), রাইসুল ইসলাম আসাদ (অভিনয়), সালমা বেগম সুজাতা (অভিনয়), আহমেদ ইকবাল হায়দার (নাটক), সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী (চলচ্চিত্র), ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় (আবৃত্তি), পাভেল রহমান (আলোকচিত্র)
- মুক্তিযুদ্ধে : গোলাম হাসনায়েন, ফজলুর রহমান খান ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুমা সৈয়দা ইসাবেলা (মরণোত্তর)
- সাংবাদিকতায় : অজয় দাশগুপ্ত
- গবেষণায় : ড. সমীর কুমার সাহা
- শিক্ষায় : মাহফুজা খানম
- অর্থনীতিতে : ড. মির্জা আব্দুল জলিল
- সমাজসেবায় : প্রফেসর কাজী কামরুজ্জামান
- ভাষা ও সাহিত্যে : কবি কাজী রোজী, বুলবুল চৌধুরী ও গোলাম মুরশিদ।
(সূত্র: ডেইলি স্টার)
৮,৪০৮.
Bangladesh's first 'Rice Museum' has been situated on -
  1. ক) BARI
  2. খ) BADC
  3. গ) BINA
  4. ঘ) BRRI
ব্যাখ্যা
গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) স্থাপন করা হয়েছে দেশের প্রথম ‘রাইস মিউজিয়াম’ (ধান জাদুঘর)। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের দর্শনার্থী, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা এই জাদুঘরে এসে ধান সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা নিয়ে যাচ্ছেন। দেশে উদ্ভাবিত ধানের বিভিন্ন জাতও দেখতে পারছেন তারা।

রাইস মিউজিয়ামটিতে সনাতন থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ে ধান রোপণ, মাড়াই ও কর্তন পর্যন্ত যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হতো ও হচ্ছে, তা প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।

২০১৮ সালে এই রাইস মিউজিয়াম স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার পর উদ্বোধন করা হয় চলতি বছরের ১২ মার্চ। এটি দেশের একমাত্র ও প্রথম রাইস মিউজিয়াম।

উৎসঃ পত্রিকা রিপোর্ট
৮,৪০৯.
পাকিস্তান গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে প্রথমে কোন দুটি ভাষাকে নির্বাচন করা হয়?
  1. ইংরেজি ও বাংলা 
  2. ইংরেজি ও উর্দু
  3. বাংলা ও উর্দু
  4. পাঞ্জাবি ও উর্দু
ব্যাখ্যা

- পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে প্রথমে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়।

• ভাষা আন্দোলন:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ তারিখে'তমাদ্দুন মজলিশ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
- তমাদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
- ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
- কিন্তু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বাঙালিদের দাবি উপেক্ষা করে উর্দুকে পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়।
- যদিও পাকিস্তানের শতকরা মাত্র ৩.২৭ ভাগ লোকের মাতৃভাষা ছিল উর্দুভ
- তথাপি পাকিস্তানের মুদ্রা, ডাকটিকেট, মানি অর্ডার ফরম, রেলের টিকেট প্রভৃতিতে কেবল ইংরেজি ও উর্দুভাষা ব্যবহার করা হয়।
 - পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
- এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৪১০.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান কোন বাহিনীতে ছিলেন?
  1. ইপিআর
  2. বিমানবাহিনী
  3. সেনাবাহিনী
  4. নৌবাহিনী
ব্যাখ্যা
হামিদুর রহমান:

- ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে তিনি জম্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পদবী ছিল সিপাহী।
- ১৯৭১ সালে হামিদুর রহমান মুক্তিবাহিনীর সাহসী সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করছিলেন সিলেট শ্রীমঙ্গল এলাকায়।
- ১৯৭১ সালের ২৮শে অক্টোবর সম্মুখ যুদ্ধে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ট খেতাবে ভূষিত হন।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর ১০ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,৪১১.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৫ জন
  4. ৭ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

নারী বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৪১২.
বাংলাদেশের কয়টি স্থান রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে?
  1. চারটি
  2. তিনটি
  3. দুটি
  4. একটি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ ও রামসারঃ
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের দুটি স্থান রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে -
- সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেষ্ট (২১ মে ১৯৯২) ও
- টাঙ্গুয়ার হাওর (১০ জুলাই ২০০০) রামসার সাইটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

• রামসার কনভেনশন:

- রামসার কনভেনশন হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি,
-'রামসার সাইট' বলতে বোঝায় এমন জলাভূমি (wetlands) যা আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত এবং চুক্তিভুক্ত দেশগুলির দ্বারা সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়।
- এগুলি জলাভূমির সংরক্ষণ এবং তাদের সম্পদের বুদ্ধিমান ব্যবহারের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রদান করে।
- এটি ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত হয়।
-  এই কনভেনশন ২১ ডিসেম্বর, ১৯৭৫ সালে কার্যকর হয়।
- স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৭২টি।
- এর উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি সংরক্ষণ করা।

উৎসঃ রামসার ওয়েবসাইট

৮,৪১৩.
কতটি অনুষদ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা

- ৩টি অনুষদ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:ঃ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু ১ জুলাই ১৯২১ সালে।
- ১৯২১ সালের জুলাই মাসে ৩টি অনুষদের অধীনে (বিজ্ঞান, কলা ও আইন) ১২টি বিভাগ ও ৮৪৭ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বীজ বপন হয়েছিল ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘটনার মধ্য দিয়ে। 
- ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে একদল মুসলিম জনপ্রতিনিধি, যার মধ্যে ‘বাংলার বাঘ’ খ্যাত এ কে ফজলুল হক ও সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী অন্যতম, বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান সর্বপ্রথম ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি।
- স্যার সলিমুল্লাহর দান করা ৬০০ একর জমিতেই ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো,
               ৩০ জুন ২০২১।
৮,৪১৪.
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ্ কখন বৃহত্তর বাংলা শাসন করেন? 
  1. ১৪৯৮-১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে 
  2. ১৪৯৮-১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে 
  3. ১৪৯৮-১৫১৮ খ্রিস্টাব্দে 
  4. ১৪৯৮-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
• সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান। 
• তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হুসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। 
• তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন। 
• তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত। 
• তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 
• তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন। 
• তাঁর সমাধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাঁরই প্রতিষ্ঠিত ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৪১৫.
কিসের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল?
  1. বাঙ্গালী সামাজিক চেতনা
  2. বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
  3. দ্বি-জাতি তত্ত্ব
  4. অসাম্প্রদায়িকতা
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল।
- স্বাধীন বংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। 
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- এই জাতীয়তাবোধের ভিত্তি ছিলো বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্যের সূচনা হয় তা-ই পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিসংগ্রামের মুখ্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিলো।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৮,৪১৬.
'কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট' কয়টি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে?
  1. তিন
  2. চার
  3. পাঁচ
  4. ছয়
ব্যাখ্যা
কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট:
- কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফকে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন।
- বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির অন্তত ছয়টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে তারা।
- এগুলো হলো: বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, ম্রো ও খুমি। 
- তাদের সাংগঠনিক প্রধান নাথান বম।
- নাথান বম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী ছিলেন।
-  তিনি রুমা উপজেলার এডেনপাড়ার অধিবাসী।
- রুমার এডেনপাড়ায় কুকি চিন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (কেএনডিও) নামের একটি বেসরকারি সংগঠনেরও প্রতিষ্ঠাতা তিনি। 
- আত্মপ্রকাশের পর কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি এবং বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা ও আলীকদম উপজেলার সমন্বয়ে পৃথক রাজ্যের দাবি করে।

উল্লেখ্য,
- কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সামরিক শাখা কুকি চিন আর্মি (কেএনএ) পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কর্মরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
- কেএনএফ-এর সামরিক শাখা কেএনএ-এর শতাধিক সদস্য গেরিলা প্রশিক্ষণের জন্য মিয়ানমারের কাচিন প্রদেশে যায়।
- ২০২১ সালে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি দল ফিরে আসে।
- এই দলের সদস্যরাই এখন সেনাবাহিনীর ওপর একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

উৎস: ২০ অক্টোবর ২০২২, বিবিসি বাংলা।
৮,৪১৭.
দেশের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিজিটাল সনদ পেতে যাচ্ছে -
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
  4. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়:
- দেশের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিজিটাল সনদের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
- স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সনদপত্র প্রদানের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
- ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- দেশের একমাত্র ডিজিটাল সনদ প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষ ‘রিলিফ ভ্যালিডেশন লিমিটেড সার্টিফায়িং অথরিটির (আরভিএল সিএ)’ সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়।
- এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল সনদের জন্য অনলাইনে আবেদন, উত্তোলন, ডিজিটাল স্বাক্ষরিত অনন্য পরিচয় বহনকারী সনদ পাবেন।
- আন্তর্জাতিক মানের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা এই ই-সাইন সনদের আওতায় আসবে।

উৎস: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, কালবেলা। [link]
৮,৪১৮.
‘মা হুয়ান’ বাংলায় আগমন করেন তখন বাংলার শাসক ছিলেন?
  1. ক) সুলতান মুহাম্মদ বিন তুগলক
  2. খ) গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ
  3. গ) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  4. ঘ) মীর জুমলা।
ব্যাখ্যা

- মা হুয়ান একজন চীনা পরিব্রাজক।
- তার বাংলায় আগমনের সময় বাংলার শাসক ছিলেন গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ।
- মা হুয়ান পনের শতকের প্রথমার্ধে বাংলায় আসেন।
- ফা হিয়েন বাংলায় আগমনের সময় বাংলার শাসক ছিলেন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৮,৪১৯.
কে বীরশ্রেষ্ঠ নন?
  1. ক) হামিদুর রহমান
  2. খ) মোস্তফা কামাল
  3. গ) মুন্সী আব্দুর রহিম
  4. ঘ) নুর মােহাম্মদ শেখ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ৭ জনকে সর্বোচ্চ সামরিক পদবী ''বীরশ্রেষ্ঠ' প্রদান করা হয়।
৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ হলেন -
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮,৪২০.
মুজিবনগর সরকার কত সদস্য বিশিষ্ট পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে?
  1. ৩ জন
  2. ৫ জন
  3. ৭ জন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
- সদস্য ছিলেন,
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪২১.
বাঙালির জাতীয় ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  3. শিক্ষা আন্দোলন
  4. ছয়দফা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
 ‍মুক্তি সংগ্রাম:
- বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
-ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সময়ে।
-  যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনসংঘটিত হয় ১৯৫৪ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৪২২.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কোনটি?
  1. ক) সৌদি আরব
  2. খ) ইরাক
  3. গ) ইরান
  4. ঘ) মিশর
ব্যাখ্যা

ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।

এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশ ছিল।
অন্যদিকে, ইরান ও কাতার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় যথাক্রমে ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ও ৪ মার্চ এবং সৌদি আরব ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উৎসঃ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।


এছাড়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী কয়েকটি দেশঃ
প্রথম দেশ - ভুটান (৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১); দ্বিতীয় দেশ - ভারত
প্রথম ইউরোপীয় দেশ - পূর্ব জার্মানি; প্রথম আফ্রিকার দেশ - সেনেগাল।
প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ - পূর্ব জার্মানি; প্রথম মুসলিম (অ-আরব) দেশ - সেনেগাল।
প্রথম উপসাগরীয় দেশ - কুয়েত।

৮,৪২৩.
মীর জুমলা নিম্নের কোন স্থাপত্যটি নির্মাণ করেন?
  1. বড় কাটরা
  2. ঢাকা গেইট
  3. লালবাগ কেল্লা
  4. ছোট সোনা মসজিদ
ব্যাখ্যা
ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা।
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।

উল্লেখ্য,
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- সম্প্রতি ঢাকা গেট সংস্কার শেষে নতুন করে উদ্বোধন হয় ঐতিহাসিক ঢাকা গেইট।

অন্যদিকে,
- লালবাগ কেল্লা নির্মাণ করেন শায়েস্তা খান।
- ঢাকায় ‘বড় কাটরা’ নির্মাণ করেন শাহ সুজা।
- ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, বিবিসি বাংলা।
৮,৪২৪.
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কোন সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৭১ সালে
  3. ১৯৭২ সালে
  4. ১৯৯৮ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড:

- ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে (পিও ৫৯) সাবেক ওয়াপদা থেকে পৃথক হয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশকে আলোকিত ও শিল্পায়িত করার দায়িত্ব নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের সমন্বিত সংস্থা হিসেবে মাত্র ৫০০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতাসহ যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।
- বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ১৯৭২ সালের ১ মে যাত্রা শুরু করে।
-  পরবর্তীতে বিউবো’র বিদ্যুৎ সঞ্চালন, উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার পূর্ণ বা অংশবিশেষ অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিকট যেমন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) লিঃ, ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) লিঃ, পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিঃ, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লি: (এপিএসসিএল), ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি) লি:, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) লি:, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাজেকো) লি:, নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লি:, রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লি: (আরপিসিএল) এর নিকট হস্তান্তরিত হয়েছে।
- বিউবো বর্তমানে একক ক্রেতা হিসাবে বিদ্যুতের ক্রয় ও বিক্রয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) লি:, ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) লি:, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) লি:, নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লি: এর এলাকা ব্যতীত দেশের অন্যান্য অংশে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ওয়েবসাইট।
৮,৪২৫.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ৫নং সেক্টর
  3. ৭নং সেক্টর
  4. ৯নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালে বরিশালের দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে বক্সার হিসাবে সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসাবে পদোন্নতি পান।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে।
- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৮ এপ্রিল অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করে।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৮,৪২৬.
‘বঙ্গ জনপদের’ প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় কোন গ্রন্থে?
  1. চর্যাপদ
  2. রামায়াণ
  3. ঐতরেয় আরণ্যক
  4. মেঘদূত
ব্যাখ্যা

- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ, যার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঐতরেয় আরণ্যকে উপজাতির নাম হিসেবে।
- মহাভারত, রামায়ণ ও হরিবংশ গ্রন্থে বঙ্গের নাম উল্লেখ রয়েছে।
- কালীদাসের রঘুবংশ কাব্যে বঙ্গের অবস্থান ও সীমানা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
- কালীদাসের মতে, ভাগীরথী ও পদ্মার মধ্যবর্তী ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপই ছিল বঙ্গদের অঞ্চল।
- এই অঞ্চলটি টলেমির ‘গঙ্গরিডাই’ নামের স্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়—বিক্রমপুর বঙ্গ ও নাব্য বঙ্গ।
- অনুমান করা হয়, ঢাকা, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চল নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- মুসলিম শাসনের প্রাথমিক পর্যায়ে ‘বঙ্গ’ বলতে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অংশ বোঝানো হতো।
- আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে বঙ্গদেশকে ‘বঙ্গাল’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ‘বঙ্গ’ ও ‘আল’ (চওড়া বাঁধ বা উঁচু জমি) শব্দদ্বয়ের যোগে ‘বঙ্গাল’ নামের উৎপত্তি হয়।
- পানি থেকে শস্যক্ষেত রক্ষার জন্য নির্মিত বড় বড় ‘আল’-এর কারণে এ অঞ্চলটি ‘বঙ্গাল’ নামে পরিচিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৪২৭.
'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক' রোডটি অন্য কী নামে পরিচিত ছিল?
  1.  শাহী সড়ক
  2. সড়ক-ই-আজম
  3. বাদশাহী রাস্তা
  4. প্রধান রাজপথ
ব্যাখ্যা

'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক' রোড:
- নির্মাতা: গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক' রোডের নির্মাতা শেরশাহ।
- দৈর্ঘ্য: আড়াই হাজার কিলোমিটার।
- বিস্তার: সোনারগাঁও থেকে পাঞ্জাব বিস্তৃত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম সড়ক।
- এটি নির্মাণ করা হয়- ষোল শতকে।
- মূল পরিকল্পনায় রাজধানী আগ্রাকে পূর্বে সোনারগাঁও, পশ্চিমে দিল্লি ও লাহোর হয়ে মূলতান, দক্ষিণে বোরহানপুর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে যোধপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল।
- সড়ক- ই- আজম নামে পরিচিত এ সড়ক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,৪২৮.
ফকিররা কত সাল থেকে কত সাল পর্যন্ত বাংলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ করেছিল?
  1. ক) ১৭৮১ থেকে ১৮৪০ পর্যন্ত
  2. খ) ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ পর্যন্ত
  3. গ) ১৭৫৭ থেকে ১৮৫৭ পর্যন্ত
  4. ঘ) ১৮১৯ থেকে ১৮৬২ পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০)
• বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ চলে।
• আন্দোলনকারী ফকির-সন্ন্যাসীগণ ছিলেন মাদারিয়া সুফি তরিকার অনুসারী।
• নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীদের সাহায্য চান।
• বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
• সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
• তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
• ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
• ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
• তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে ফকির।
• মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
• মজনু শাহর মত্যুর পর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ।ণ
• ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চুড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি এবং ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪২৯.
জাতীয় শিক্ষা নীতি–২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার স্তর কত পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত
  2. পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত
  3. অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত
  4. দশম শ্রেণি পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

◊ জাতীয় শিক্ষানীতি–২০১০:
- জাতীয় শিক্ষানীতি–২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পূর্বের পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। 
- এর সঙ্গে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা যুক্ত করা হয়েছে। 
- নীতিতে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণিকে প্রাথমিক ও নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিকে মাধ্যমিক স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
- নীতিতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে একটি সমন্বিত স্তর গঠনের পাশাপাশি ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তিমূলক ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। 
- যদিও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন কারণে এটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি;
- তবে সরকার ধীরে ধীরে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

৮,৪৩০.
ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে যেসব আন্দোলন হয়েছিল তার মধ্যে কোনটি প্রধান?
  1. ক) কোরাইশী আন্দোলন
  2. খ) হাসেমী আন্দোলন
  3. গ) সৈয়দ আন্দোলন
  4. ঘ) ফরায়েজী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে যেসব আন্দোলন হয়েছিল তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে - ফরায়েজী আন্দোলন।

ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন দুদু মিয়া।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়াত উল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।

- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
-  শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।

- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। 
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।

- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৩১.
চীন, ভারত ও বাংলাদেশের প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদী, চীন বা তিব্বতে কী নামে পরিচিত? 
  1. ইয়াংসি
  2. লিজিয়াং
  3. হয়াইলি
  4. ইয়ারলাং সাংপো
ব্যাখ্যা

ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo):
- ব্রহ্মপুত্র নদী এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী এবং এটি তিনটি দেশের মধ্যে প্রবাহিত: চীন, ভারত, এবং বাংলাদেশ।
- ব্রহ্মপুত্র নদী চীনের তিব্বত মালভূমিতে উৎপন্ন হয় এবং সেখানে এ নদীকে “ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo) নামে ডাকা হয়।
- পরে এটি ভারতে প্রবেশ করে “সিয়াং” নামে পরিচিত হয় এবং বাংলাদেশে এসে “ব্রহ্মপুত্র” নামে প্রবাহিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি, চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতের ভূখণ্ডে ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo) নদীতে  বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে। - এমন একটি প্রকল্প যা ভারতের ও বাংলাদেশের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বিবিসি নিউজ।

৮,৪৩২.
ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ কত সালে শুরু হয়েছিল?
  1. ১৭৬০ সালে
  2. ১৭৬৬ সালে
  3. ১৭৭৩ সালে
  4. ১৭৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে।
- তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে।
- ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
- আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।

⇒ ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।

- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে ।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৩৩.
মেজর সি. আর দত্ত মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ক) ৪ নং সেক্টর
  2. খ) ৫ নং সেক্টর
  3. গ) ৬ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৩ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে। এর মধ্যে বৃহত্তর সিলেট জেলার দক্ষিণ-পূর্বাংশ নিয়ে ৪ নং সেক্টর গঠিত হয়।
৪ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত বা সি আর দত্ত।
গত ২৫শে আগস্ট ২০২০ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
৮,৪৩৪.
এরশাদ প্রস্তাবিত কোন নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে?
  1. শিক্ষানীতি
  2. স্বাস্থ্যনীতি
  3. শিল্পনীতি
  4. কৃষিনীতি
ব্যাখ্যা
• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান – 
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করে দ্বিতীয়বার সামরিক শাসনের সূচনা করেন।
- এই সামরিক শাসন দীর্ঘ নয় বছর স্থায়ী হয় এবং এরশাদের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের ফলে দেশে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চরম দুরবস্থা সৃষ্টি হয়।
- জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে এবং ধীরে ধীরে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

- ১৯৮২ সালের শেষ দিক থেকেই ছাত্র সমাজ এরশাদের প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন।
- বুদ্ধিজীবী মহলও এই আন্দোলনে সক্রিয় সমর্থন প্রদান করেন।
- এর প্রেক্ষিতে ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- এর মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

- ১৯৮৭ সাল নাগাদ আন্দোলনের প্রধান দাবি হয়ে দাঁড়ায় সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা।
- যদিও এরশাদ সরকার তখনও ক্ষমতায় টিকে থাকতে সক্ষম হয়, তবে আন্দোলনের গতি শ্লথ হয়নি।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল, মিছিল, মিটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকে।
- ছাত্র সমাজ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের মধ্য দিয়ে আন্দোলন আরও ব্যাপক রূপ ধারণ করে।

- শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর ‘৮.৭ দল’ এবং ‘৫ দলীয়’ জোট যৌথ ঘোষণা দেয় সামরিক শাসনের পতনের লক্ষ্যে।
- এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই ডিসেম্বর ১৯৯০-এ সফল গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং এরশাদের সামরিক শাসনের অবসান হয়।
- ফলে দেশের জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৩৫.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কয় দফা দাবি উত্থাপন করে?
  1. ৬ দফা
  2. ১০ দফা
  3. ১৩ দফা
  4. ১১ দফা
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯ সালে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালের সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দ মিলে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- ২২শে মার্চ আইয়ুব খান পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানকে অপসারণ করেন।
- ২৫শে মার্চ আইয়ুব খান সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
-  ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে গ্রাম ও শহরের কৃষক ও শ্রমিকদের মাঝে শ্রেণি চেতনার উন্মেষ ঘটে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
 
৮,৪৩৬.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী গঠিত হয় -
  1. ২৭ নভেম্বর, ১৯৭১
  2. ২৫ নভেম্বর, ১৯৭১
  3. ২৩ নভেম্বর, ১৯৭১
  4. ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ২১ শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করেছিল।
- পাকিস্তান ৩ ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং ভারতীয় বাহিনী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে।
- ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যােগ দেয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনী যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৪৩৭.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা রচনায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন কে?
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচী:
- নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগকে চরম শিক্ষা দেয়ার লক্ষে এ অঞ্চলের কয়েকটি সমমনা দল জোট গঠন করে।
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়
-  নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট প্রতীক হিসেবে বেছে নেয় 'নৌকা' এবং 'বাংলা'কে রাষ্ট্রভাষা ও পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনাধিকারের দাবিসহ ২১ দফাভিত্তিক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- নির্বাচনের প্রাক্কালে বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সমাজের সর্বস্তরের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা সম্বলিত এমনই একটি বিস্তৃত কর্মসূচি গ্রহণ করে।
- এটি রচনায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন আবুল মনসুর আহমদ। 

উৎস: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৩৮.
মংলা বন্দর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. পদ্মা
  2. পশুর
  3. ভৈরব 
  4. মেঘনা 
ব্যাখ্যা

• সমুদ্র বন্দর:
১. চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর:
- চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর।
- এটি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত।

২. মংলা সমুদ্র বন্দর:
- মংলা বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
- এটা দেশের ২য় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর।
- বন্দরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১ ডিসেম্বর, ১৯৫০ সালে।
- এটি পশুর নদী ও মংলা নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত।

৩. পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর:
- বাংলাদেশের ৩য় সমুদ্র বন্দর 'পায়রা বন্দর' পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের তৃতীয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র গভীর সমুদ্র বন্দর।

তথ্যসূত্র:  সংশ্লিষ্ট বন্দরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮,৪৩৯.
ছয়দফা কর্মসূচির উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে স্বীকৃতিদান
  2. শাসন বিভাগ হতে বিচার বিভাগকে পৃথক করা
  3. ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহিদ দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করা
  4. জনগণের অধিকার রক্ষা
ব্যাখ্যা
ছয়দফা কর্মসূচি:
- ছয়দফা কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল জনগণের অধিকার রক্ষা।


উল্লেখ্য,
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয় দফা কর্মসূচীর মূল বক্তব্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।

⇒ ছয়দফা কর্মসূচির দাবিসমূহ:
• প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানের জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। এটি হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা। প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং আইনসভাগুলো হবে সার্বভৌম।

• দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
- শুধু দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র বিষয় থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। অবশিষ্ট সকল বিষয়ের ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে।

• তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
- দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে।
- অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।

• চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
- আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে ।

• পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
- দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসাব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে।

• ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
- অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী অর্থাৎ মিলিশিয়া ও প্যারা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৪৪০.
সুন্দরবনের আয়তন কত?
  1. ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার
  2. ৬৪৭৪ বর্গকিলোমিটার
  3. ৬০৯৫ বর্গকিলোমিটার
  4. ৫৫৬৫ বর্গকিলোমিটার
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:

- সুন্দরবন  বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম জোয়ারধৌত গরান বনভূমি (mangrove forest)।
- কর্কটক্রান্তির সামান্য দক্ষিণে ভারত ও বাংলাদেশের উপকূল ধরে বিস্তৃত ২১°৩০´-২২°৩০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০০´-৮৯°৫৫´ পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যবর্তী স্থানে এ বনের অবস্থান।
- বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- নানা ধরনের গাছপালার চমৎকার সমারোহ ও বিন্যাস এবং বন্যপ্রাণীর অনন্য সমাবেশ এ বনভূমিকে চিহ্নিত করেছে এক অপরূপ প্রাকৃতিক নিদর্শন হিসেবে।
- অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের একটি উলে­খযোগ্য কেন্দ্র হিসেবেও এটি বিবেচিত; এখান থেকে সংগৃহীত হয় নানা কাজে ব্যবহার উপযোগী বনবৃক্ষ, আহরিত হয় প্রচুর পরিমাণ মধু, মোম ও মাছ।
- সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাট জেলার অংশবিশেষ জুড়ে বাংলাদেশের সুন্দরবন বিস্তৃত।
- পরস্পর সংযুক্ত প্রায় ৪০০ নদী-নালা, খালসহ প্রায় ২০০টি ছোট বড় দ্বীপ ছড়িয়ে আছে সুন্দরবনে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৪১.
সম্প্রতি কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী বাহিনীর হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ক) আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত
  2. খ) জেনোসাইট ওয়াচ
  3. গ) জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন
  4. ঘ) হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
ব্যাখ্যা
গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বে গণহত্যা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা জেনোসাইট ওয়াচ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশিদের উপর পাকিস্তানি বাহিনীর সংঘটিত হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষ্যে শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দিনের হোসেনের ছেলে তৌহিদ রেজা নূর এর আবেদনের প্রেক্ষিতে জোনোসাইট ওয়াচ এই স্বীকৃতি প্রদান করে।

(তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর)
৮,৪৪২.
নিচের কে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছিলেন?
  1. ক) জেহাদ হোসেন
  2. খ) ডা. মিলন
  3. গ) নূর হোসেন
  4. ঘ) মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৯ সালে সংঘটিত উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে স্বৈরাচার আইয়ুব খান সরকারের পতন ঘটে। -এই আন্দোলননে ২৪ জানুয়ারি ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণীর ছাত্র মতিউর পুলিশের গুলিতে শহিদ হন।
- একইদিন মকবুল, রুস্তম ও আলমগীর নামে আরও তিনজন শহিদ হন।
- এছাড়া ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান,
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং
- ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।

- অন্যদিকে নূর হোসেন, জেহাদ এবং ডা. মিলন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদ হন।

(সূত্র: বাংলাপিডিয়া, দৈনিক প্রথম আলো এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৮,৪৪৩.
রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয় কাকে?
  1. ক) শাহ আলম
  2. খ) টিপু সুলতান
  3. গ) দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  4. ঘ) মীর কাশিম
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে মিয়ানমারের রেঙ্গুনে নির্বাসন দেওয়া হয়। সেখানেই ১৮৬২ সালে তার ‍মৃত্যু হয়। সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন শেষ মুঘল সম্রাট। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং রোর বাংলা)
৮,৪৪৪.
দ্বিতীয়বারে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মনোনীত হয়েছিলেন কে?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. শামসুল আলম
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- পরিষদে নিম্নলিখিত সংগঠনের প্রত্যেকটি থেকে দুইজন করে প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যথা:
- তমাদ্দুন মজলিশ, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক যুবলীগ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ফজলুল হক মুসলিম হল সহ অন্যান্য ছাত্রাবাস, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ফেডারেশন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৪৫.
বাংলাকে জান্নাতাবাদ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন-
  1. ক) বাবর
  2. খ) জাহাঙ্গীর
  3. গ) হুমায়ুন
  4. ঘ) আকবর
ব্যাখ্যা
মুঘল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট ছিলেন নাসির উদ্দিন মুহাম্মদ হুমায়ুন। ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে হুমায়ুন ভারতীয় উপমহাদেশের মুঘল ভূখণ্ডের শাসক হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে তাঁর বাবার উত্তরাধিকারী হন। তিনি ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসা এবং ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে কনৌজের যুদ্ধে শেরশাহ সুরির কাছে পরাজিত হয়ে মুঘল সাম্রাজ্য হারিয়েছিলেন। কিন্তু সাফাভি রাজবংশর সহায়তায় ১৫ বছর পরে ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে সেগুলি পুনরুদ্ধার করেন। বাংলাকে জান্নাতাবাদ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন হুমায়ুন। সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি) ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৪৬.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী ছিলেন -
  1. মওলানা ভাসানী
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
আগরতলা  ষড়যন্ত্র মামলা:
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আগরতলা মামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। 
- ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করে যে, পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র উদঘাটিত হয়েছে। 
- এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজন আওয়ামী লীগ নেতা, সিভিল সার্ভিসের দুইজন বাঙালি কর্মকর্তাসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 
- ১৮ জানুয়ারি আরেকটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে উক্ত মামলার ১নং আসামী বলে ঘোষণা করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'।
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে। 
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে। 
- প্রকৃতপক্ষে কোনো ষড়যন্ত্র হয়ে থাকলেও তা ছিল বাংলাদেশের মুক্তির জন্য এক প্রচেষ্টা, তাই এটি ষড়যন্ত্র হতে পারে না।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৪৭.
বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান গণপরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়-
  1. ১৯৫৬ সাল
  2. ১৯৫৪ সাল
  3. ১৯৫৭ সাল
  4. ১৯৫৩ সাল
ব্যাখ্যা

 • ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান গণপরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়— ৯ মে ১৯৫৪।
- বাংলা ভাষাকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়— ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৪৪৮.
বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ কত দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন?
  1. ৪ দফা
  2. ৬ দফা
  3. ১০ দফা
  4. ১২ দফা
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
- এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
- এই ভাষণে মোট ৪টি দাবি ও ১০টি নির্দেশনা বা কর্মসূচির উল্লেখ আছে।
-------------------
৭ মার্চ ভিন্ন এক ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু পরবর্তী সাতদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য দশদফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন
যথা -
১. কর না দেওয়ার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে,
২. সকল অফিস ও আদালতে ধর্মঘট চলতে থাকবে,
৩. রেল ও বন্দরসমূহ চালু থাকবে। তবে সেনাবাহিনী চলাচলের কাজে শ্রমিক-কর্মচারীরা সহযোগিতা করবে না
৪. রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে গণআন্দোলনের সংবাদ গোপন রাখা যাবে না,
৫. কেবল স্থানীয় এবং আন্তঃজেলার মধ্যে ট্রাঙ্ক ও টেলিফোন যোগাযোগ চালু থাকবে,
৬. সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে,
৭. কোন মাধ্যমেই ব্যাংক পশ্চিম পাকিস্তানে টাকা পাঠাবে না,
৮. প্রতিদিন সব ভবনের উপর কালো পতাকা ওড়ানো হবে,
৯. অন্য সব ক্ষেত্রে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হল, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে ধর্মঘট আহবান করা হলে তা পালন করতে হবে,
১০. প্রতিটি মহল্লা, ইউনিয়ন, থানা, মহকুমা এবং জেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ইউনিটের নেতৃত্বে একটি করে সংগ্রাম
পরিষদ গঠন করা হবে।
---------------
উক্ত ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খান কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে চারটি পূর্বশর্ত/দাবি আরোপ করেন,
যথা:
ক) অবিলম্বে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করতে হবে,
খ) অবিলম্বে সৈন্যবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে,
গ) প্রাণহানি সম্পর্কে তদন্ত করতে হবে এবং
ঘ) (জাতীয় অধিবেশনের পূর্বেই) জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর কর

[তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।]
৮,৪৪৯.
মহাস্থানগড়ে রয়েছে -
  1. ক) শাহ সুলতান বলখীর মাজার
  2. খ) পরীবিবির মাজার
  3. গ) শাহ্ মখদুমের মাজার
  4. ঘ) আমানত শাহের মাজার
ব্যাখ্যা
• মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ নগর পুন্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান। 
• মহাস্থানগড়ে শাহ সুলতান বলখীর মাজার রয়েছে। 
• সম্রাট অশোকের সময়ের খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি পাওয়া গেছে। 
• স্থানটি বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিমি (৮ মাইল) উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে।

অন্যদিকে, 
• শায়েস্তা খানের কন্যা ছিলেন পরী বিবি। তাঁর আসল নাম ইরান দুখত। পরীবিবির মাজার লালবাগ কেল্লার অভ্যান্তরে দরবারগৃহ থেকে ২৭৫ ফুট পশ্চিমে অবস্থিত।
• হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র:) এর মাজার বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।
• শাহ্ মখদুমের মাজার রাজশাহীতে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৮,৪৫০.
মীর জুমলাকে বাংলার সুবেদার হিসেবে নিয়োগ দেন কে?
  1. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
মীরজুমলা:
- মীরজুমলা বাংলার সুবাহদার।
- জন্মসূত্রে তিনি ছিলেন ইরানি এবং প্রথমে তাঁর নাম ছিল মুহম্মদ সাঈদ।
- মুগল সম্রাটের কাছ থেকে তিনি মুয়াজ্জম খান, খান-ই-খানান, সিপাহ সালার এবং ইয়ার-ই-ওয়াফাদারের মতো বিভিন্ন উপাধি লাভ করেছিলেন। 
- মীর জুমলাকে বাংলার সুবেদার হিসেবে নিয়োগ দেন সম্রাট আওরঙ্গজেব।

⇒ সম্রাট আওরঙ্গজেবের অধীনে মীরজুমলা শাহ সুজার মোকাবিলা করার দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। খাজোয়ার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে শাহ সুজা তান্ডায় পালিয়ে যান এবং ৯ মে ১৬৬০ খিস্টাব্দে ঢাকায় পৌঁছেন। মীর জুমলা খাজোয়া থেকে তান্ডা হয়ে ঢাকা পর্যন্ত শাহ সুজার পশ্চাদ্ধাবন করেন। কিন্তু সুজা ঢাকা থেকে পূর্ব সীমান্ত অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত আরাকানের রাজার কাছে আশ্রয়লাভ করেন। মীরজুমলা ঢাকায় পৌঁছার অল্পদিন পরই বাংলার সুবাহদার হিসেবে তাঁর নিয়োগের রাজকীয় ফরমান লাভ করেন ১৬৬০ খিস্টাব্দে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৫১.
গৌড়ের নাম 'জান্নাতাবাদ' রাখেন কে?
  1. শেরশাহ
  2. জাহাঙ্গীর
  3. হুমায়ুন
  4. বাবর
ব্যাখ্যা

- গৌড়ের চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে হুমায়ুন এর নামকরণ করেন 'জান্নাতবাদ'।

- মুঘল সম্রাট বাবর ও তাঁর পুত্র হুমায়ুন হুসেন শাহি যুগের শেষ দিক থেকেই চেষ্টা করেছিলেন বাংলাকে মুঘল অধিকারে নিয়ে আসতে।
কিন্তু আফগানদের কারণে মুঘলদের এ উদ্দেশ্য প্রথম দিকে সফল হয়নি।
- আফগান নেতা শের খান শূরের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন সম্রাট হুমায়ুন।
- সমগ্র ভারতের অধিপতি হওয়ার স্বপ্ন ছিল শের খানের তাই গোপনে তিনি নিজের শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকেন।
- এ লক্ষ্যে অল্প সময়ের মধ্যে শের খান শক্তিশালী চুনার দুর্গ ও বিহার অধিকার করেন।
- তিনি ১৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দে দুইবার বাংলার রাজধানী গৌড় আক্রমণ করেন।
- এর পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লির মুঘল সম্রাট হুমায়ুন শের খানের পিছু ধাওয়া করে বাংলার রাজধানী গৌড় অধিকার করে নেন।
- গৌড়ের চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে হুমায়ুন এর নামকরণ করেন 'জান্নাতবাদ'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৮,৪৫২.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিষ্ঠাকালীন ভিসি কে ছিলেন?
  1. ক) স্যার এ এফ রহমান
  2. খ) পি জে হার্টস
  3. গ) আর সি মজুমদার
  4. ঘ) বিচারপতি আবু সাইদ 
ব্যাখ্যা
- ১৯২০ সালে ভারতীয় বিধানসভায় গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনবলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
-পি জে  হার্টস ১৯২০ সালের ১লা ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন।
- ১৯২১ সালের ১লা জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক ভাবের কার্যক্রম শুরু করে।
- ঢাকার রমনা এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এর প্রাথমিক অবকাঠামোর বড় একটি অংশ গড়ে উঠে ঢাকা কলেজের শিক্ষকমন্ডলী এবং কলেজ ভবনের (বর্তমান কার্জন হল) উপর ভিত্তি করে। 

- ৩টি অনুষদ (কলা, বিজ্ঞান ও আইন), ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ জন ছাত্র-ছাত্রী এবং ৩টি আবাসিক হল নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকা রিপোর্ট ।
৮,৪৫৩.
নিচের কোন সনে বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়?
  1. ১১৭০ বঙ্গাব্দ
  2. ১৩৪৩ বঙ্গাব্দ
  3. ১৩৫০ বঙ্গাব্দ
  4. ১২৭৬ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৩ সালে বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয় যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। বাংলা ১৩৫০ সালে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় একে পঞ্চাশের মন্বন্তর বলা হয়।
- এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়।
- এ দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ) বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮,৪৫৪.
কয়জনের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়?
  1. ক) ৩৪ জন
  2. খ) ৩৫ জন
  3. গ) ৩৬ জন
  4. ঘ) ৩৭ জন
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ছয় দফা ভিত্তিক বাঙালির জাতীয় চেতনাকে সমূলে বিনষ্ট করার জন্য জেনারেল আইয়ুব খান ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেন।
- প্রকৃতপক্ষে ছয় দফাকে নস্যাৎ করাই এই ষড়যন্ত্রের মুখ্য উদ্দেশ্য।
- ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
- এ মামলাকে পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে।
- ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কুর্মিটোলা সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়।
- মামলায় বলা হয় বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সহযোগিরা ভারতের আগরতলায় গোপন বৈঠকে এক সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
- শাসক গোষ্ঠী শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ‘আগরতলা মামলা দায়ের করে।
- এই মামলায় বলা হয় ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী শেখ মুজিবুর রহমান।
- অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভারতীয় যোগসাজসে এবং ভারতীয় অস্ত্রশস্ত্রের সাহায্যে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান হতে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করেছিল।
- এই মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানের জনপ্রিয়তা এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।
- এই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয় ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৫৫.
বাঙালির জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. ছয় দফা আন্দোলন
  2. এগারো দফা আন্দোলন
  3. শিক্ষা আন্দোলন
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
সংগ্রাম:
- বাঙালির জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সালে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৪৫৬.
তারামন বিবি বীর প্রতীক কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৭ নং
  2. ৯ নং
  3. ১০ নং
  4. ১১ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।
- মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।
- ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি। 

উল্লেখ্য,
- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- তখন ১১ নং সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার আবু তাহের।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তারামন বিবির হাতে তুলে দেন বীর প্রতীক সম্মাননা।
- ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর সবাইকে ছেড়ে যান মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী নারী মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি বীর প্রতীক।

উৎস: i) বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।
         ii) ডিসেম্বর ১, ২০২১, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৮,৪৫৭.
মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী কার্যালয় কোথায় অবস্থিত ছিল?
  1. ক) বৈদ্যনাথতলা, মেহেরপুর
  2. খ) ৩২ নং ধানমন্ডি রোড
  3. গ) ৮ নং থিয়েটার রোড, কলকাতা
  4. ঘ) লন্ডন
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- গঠিত হয়- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সাল।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী সচিবালয় ছিল ৮নং থিয়েটার রােড, কলকাতা।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য নিম্নরুপ:

• মন্ত্রিসভা

- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (পাকিস্তান সামরিক শাসকদের হাতে বন্দি)।
- উপ-রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং
পদাধিকারবলে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ)
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমেদ
- অর্থমন্ত্রী : এম. মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ
- প্রধান সেনাপতি : কর্নেল (অব.) এম.এ.জি. ওসমানী
- চিফ অব স্টাফ : কর্নেল (অব.) আবদুর রব 

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৫৮.
গুলবদন বেগম রচিত গ্রন্থের নাম কী?
  1. তুযুক-ই-জাহাঙ্গীরী
  2. আইন-ই-আকবরী
  3. হুমায়ুননামা
  4. বাবরনামা
ব্যাখ্যা
মুঘল অর্থনীতি:

- মুঘল যুগে ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি ছিল কৃষি।
- মুঘল যুগে ভারতবর্ষে ইউরোপিয় বাণিজ্যের বিকাশ শুরু হয়।
- মুঘল যুগের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে সমকালীন ফার্সি সাহিত্য, ইউরোপিয় পর্যটকদের বিবরণী ইত্যাদি থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যায়।
- তাছাড়া বাবরনামা, হুমায়ুন নামা, আইন-ই-আকবরী গ্রন্থ থেকেও বিশেষ তথ্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- গুলবদন বেগমের হুমায়ুননামা-তে উল্লিখিত মুঘল আমলের আর্থিক সচ্ছলতার প্রসঙ্গ সম্পর্কে বলা যায়।
- মুঘল যুগে কৃষিই ছিল ভারতের জনগণের প্রধান জীবিকা ও সাম্রাজ্যের রাজস্বের প্রধান উৎস।
- মুঘল আমলে জাবতি, গাল্লাবকস, নাসাব প্রভৃতি প্রথা অনুসারে রাজস্ব আদায় হত।
- মুঘল আমলে পণ্যদ্রব্যের দাম খুব কম ছিল।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৫৯.
বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন কবে?
  1. ক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. খ) ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
  3. গ) ৮ জানুয়ারি ১৯৭২
  4. ঘ) ১১ জানুয়ারি ১৯৭২
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের কয়েকদিনের মধ্যেই মুজিবনগর প্রশাসনের সিনিয়র আমলাবৃন্দ (সচিব রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে) ঢাকায় এসে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন।
- ২২ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকারের সদস্যবৃন্দ ঢাকায় আসেন। ঢাকায় পৌছে তাজউদ্দীন আহমেদ তাঁর অবস্থান সুদৃঢ় করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর লন্ডন-দিল্লি হয়ে ১০-০১-৭২ তারিখে বঙ্গবন্ধু ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তাজউদ্দিন আহমদ কর্তৃক প্রবাসী সরকার গঠনের সময়েই বঙ্গবন্ধু ঐ সরকারের প্রেসিডেন্ট মনোনীত হয়েছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তাঁর অনুপস্থিতিতেও বঙ্গবন্ধু সেই পদে বহাল ছিলেন।
- বঙ্গবন্ধু ১০.১.১৯৭২ তারিখে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবেই নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ঢাকায় ফেরার পরদিন (১১.১.৭২ তারিখ রাতে) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ‘অন্তবর্তীকালীন শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২' জারি করেন।
- এই আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধান বিচারপতির কাছে প্রথমে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং পরে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- এভাবেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন।
- তখন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- প্রধান বিচারপতি মনোনীত হন বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ১২ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৬০.
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কত সালে এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের পতন ঘটে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা
এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের পতন:
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
- ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে হামলা চালায় নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের ক্যাডাররা।
- সে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন।
- এর পর সারাদেশের শহর-বন্দর, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

উৎস: i) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বিবিসি বাংলা।
৮,৪৬১.
কর্ণফুলী নদীতে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেলের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) ৩.৪ কিমি
  2. খ) ৩.৫ কিমি
  3. গ) ৩.৬ কিমি
  4. ঘ) ৩.৮ কিমি
ব্যাখ্যা

- চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দেশের প্রথম সুরঙ্গপথ বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মিত হচ্ছে।
- এর দৈর্ঘ্য ৩.৪ কিলোমিটার।
- চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা ও আনোয়ারা উপজেলাকে সংযুক্ত করে এটি নির্মিত হচ্ছে।
- দীর্ঘ টানেলটি নির্মাণে মোট ব্যয় প্রায় দশ হাজার চারশ কোটি টাকা।
- এটি নির্মাণে চীনা সরকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করছে। চায়না কমিউনিকেন্স কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এটি নির্মাণ করছে।
- ২০২২ সালে ডিসেম্বরে এটি যান চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র- সেতু কর্তৃপক্ষ ও প্রথম আলো।

৮,৪৬২.
'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা' ঘোষণা দেন -
  1. ক) লিয়াকত আলী খান
  2. খ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. গ) ফিরোজ খান নুন
  4. ঘ) খাজা নাজিম উদ্দিন
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব-পাকিস্তান সফরে ঢাকায় আসেন।
- ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হলে অনুষ্ঠিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ ঘোষণা করেন, ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা'।
- জিন্নাহর এ ঘোষণা পূর্ববাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- ২৪ মার্চ সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি জানিয়ে জিন্নাহকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। 

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮,৪৬৩.
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. নীলিমা ইব্রাহীম
  2. শাহারিয়ার কবির
  3. জাহানারা ইমাম
  4. রাশেদ খান মেনন
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪)  শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর শৈশবকালে মুসলিম পরিবারের মেয়েদের নিকট আধুনিক শিক্ষালাভের দ্বার উন্মুক্ত ছিল না।
- তবে তিনি তাঁর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পিতা আবদুল আলীর তত্ত্বাবধানে রক্ষণশীলতার বাইরে এসে আধুনিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৬৪.
ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির হাতে বাংলায় কোন শাসনের অবসান ঘটে?
  1. সেন
  2. গুপ্ত
  3. পাল
  4. সুলতানি
ব্যাখ্যা
মুসলমান শাসনের সূচনা:
- সেন শাসনের অবসান ঘটে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির হাতে।
- তিনি রাজা লক্ষ্মণসেনকে পরাজিত করে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন।
- ১২০৪ থেকে ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার পশ্চিমে নদীয়া ও উত্তর বাংলার কিছুটা অংশ বখতিয়ার খলজির দখলে ছিল।
- তারপর ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলা জুড়ে মুসলিম শাসনের বিস্তার ঘটতে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮,৪৬৫.
Universal Pension Scheme has been launched on-
  1. 17 August 2023
  2. 18 August 2023
  3. 19 August 2023
  4. 20 August 2023
ব্যাখ্যা
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন স্কিম বা কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন।
- ফলে চার ধরনের পেনশন স্কিম চালু হলো।
- এগুলো হচ্ছে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা।
- প্রবাস স্কিমটি শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য। প্রগতি স্কিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের জন্য।
- সুরক্ষা স্কিম রিকশাচালক, কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি ইত্যাদি স্বকর্মে নিয়োজিত নাগরিকদের জন্য।
- আর সমতা স্কিম নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য।
- এখন ১৮ বছরের বেশি বয়সী যে কেউ চাঁদা দিয়ে পেনশন-ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবেন।
- পেনশন-ব্যবস্থা পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা অর্থ বিভাগের আওতাধীন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।
- চাঁদাদাতা ৬০ বছর বয়স থেকে পেনশন পাওয়া শুরু করবেন।
- ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে তাঁর নমিনি মূল পেনশনধারীর বয়স ৭৫ হওয়ার বাকি সময় মাসিক ভিত্তিতে পেনশন পাবেন।
- ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার আগে কেউ মারা গেলে জমা হওয়া অর্থ মুনাফাসহ ফেরত পাবেন নমিনি।
- পেনশনের অর্থ বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হবে এবং মাসিক পেনশনের অর্থ আয়করমুক্ত থাকবে।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো। [লিঙ্ক]
৮,৪৬৬.
হিজরী সন গণনা শুরু হয় কোন সালে?
  1. ক) ৬০২ সালে
  2. খ) ৬১৪ সালে
  3. গ) ৬২২ সালে
  4. ঘ) ৬২৪ সালে
ব্যাখ্যা
হিজরি সন:
- হিজরি সন গণণা শুরু হয় ৬২২ খ্রিস্টাব্দ থেকে।
- মহানবী (সা.) আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা পাওয়ার পর ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর মোতাবেক ২৭ সফর মক্কা মুকাররামা থেকে মদিনার উদ্দেশে হিজরত করেন।
- ২৩ সেপ্টেম্বর, ৬২২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ৮ রবিউল আওয়াল কোবায় পৌঁছেন।
- ২৭ সেপ্টেম্বর, ৬২২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১২ রবিউল আওয়াল মদিনা মুনাওয়ারায় পৌঁছেন মহানবী (সা.)।
- এ হিজরতেরই স্মৃতিবহন করে আসছে আমাদের হিজরি সন।

 উৎস: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, Jagonews24।
৮,৪৬৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কতটি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ১১টি
  2. ৬২টি
  3. ৬৪টি
  4. ৬৮টি
  5. ৬৫টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর এবং সাব সেক্টর:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল এবং সুবিধার জন্য হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য সেক্টরগুলোকে আবার ৬৪ টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- এই বিভাজনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যক্রম ও সামরিক অপারেশন সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সহজ হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৪৬৮.
উপমহাদেশে প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ -
  1. সিপাহী বিদ্রোহ
  2. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  3. ফরায়েজি আন্দোলন
  4. স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০)

• বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ চলে।
• আন্দোলনকারী ফকির-সন্ন্যাসীগণ ছিলেন মাদারিয়া সুফি তরিকার অনুসারী।
• নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীদের সাহায্য চান।
• বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
• সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
• তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
• ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। -১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
• তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে ফকির।
• মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
• মজনু শাহর মত্যুর পর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ।ণ
• ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চুড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৬৯.
প্রশিক্ষণ ও গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন কোন প্রতিষ্ঠানের অভিলক্ষ্য? 
  1. শিক্ষা মন্ত্রণালয়
  2. জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি
  3. প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
  4. এনসিটিবি
ব্যাখ্যা

• নেপ পরিচিতি:
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (NAPE) সর্বপ্রথম ১৯৬৯ সনে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এখানে ২ বৎসর মেয়াদি ইন্টারমিডিয়েট ইন এডুকেশন (আই এড) কোর্স পরিচালিত হয়।
- ময়মনসিংহ ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, রংপুর ও যশোরে অনুরূপ আরো পাঁচটি জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) স্থাপিত হয়।
- মহান স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি)গুলো রূপান্তরিত হয়ে কলেজ অব এডুকেশন নামে যাত্রা  শুরু করে ।
- উক্ত কলেজগুলোতে ৩ বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব আর্টস ইন এডুকেশন (বিএ ইন এডুকেশন) কোর্স চালু হয় ।
- ১৯৭৮ সালে ঢাকাস্থ কলেজ অব এডুকেশনটি সরকারী কবি নজরুল কলেজ হিসেবে রূপান্তরিত হয়।
- অন্য চারটি কলেজ অব এডুকেশন (চট্টগ্রাম, ফেণি, রংপুর ও যশোর) টিচার্স ট্রেনিং কলেজে উন্নীত হয়।
- এছাড়া ১৯৭৮ সালে ময়মনসিংহস্থ কলেজ অব এডুকেশনটি "মৌলিক শিক্ষা একাডেমি" (Academy for Fundamental Education) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
-  ১৯৮৫ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)" ।
- ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে একাডেমী স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম  পরিচালনা করে।

• রূপকল্প ( Vision) :  মানসম্মত প্রশিক্ষণ  ও গবেষণা পরিচালনা
• অভিলক্ষ্য (Mission) :  প্রশিক্ষণ ও গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ।

উৎস:  জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (NAPE)।

৮,৪৭০.
মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. ক) এ এইচ এম কামারুজ্জামান
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
• এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
• মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
• মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন।     
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক (পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি)।
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম - উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং পদাধিকারবলে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন)।  
• তাজউদ্দীন আহমদ - প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
• খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
• ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী - অর্থ, শিল্প,বাণিজ্য,পরিবহন ও জাতীয় রাজস্ব মন্ত্রী। 
• এ এইচ এম কামারুজ্জামান - স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৭১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'জয়যাত্রা' পরিচালনা করেছেন কে?
  1. হুমায়ুন আহমেদ
  2. তৌকির আহমেদ
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. মোর্শেদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
জয়যাত্রা:
- জয়যাত্রা ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।
- চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন তৌকির আহমেদ।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ভিত্তিক এই ছবিটি প্রযোজনা ও পরিবেশনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।
- ছবিটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিপাশা হায়াত, আজিজুল হাকিম, মাহফুজ আহমেদ, হুমায়ুন ফরীদি, তারিক আনাম খান, আবুল হায়াত, মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।
৮,৪৭২.
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট সিলেট জেলার কোন উপজেলায় অবস্থিত?
  1. জৈন্তাপুর
  2. কানাইঘাট
  3. গোয়াইনঘাট
  4. কোম্পানিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট:
- রাতারগুল জলাবন বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।
- সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত।
- বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- সারা পৃথিবীতে স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি। 
- ভারতীয় উপমহাদেশে আছে দুটি। একটি শ্রীলংকায়, আরেকটি বাংলাদেশের রাতারগুল। 
- সুন্দর বিশাল এ বনের তুলনা চলে একমাত্র আমাজনের সঙ্গে। 
- আমাজনের মতো এখানকার গাছ বছরে ৪ থেকে ৭ মাস পানির নিচে থাকে।
- এই বন মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও পরবর্তিতে বাংলাদেশ বন বিভাগ, বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের জলসহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে। 
- এছাড়া জলমগ্ন এই বনে রয়েছে হিজল, করচ আর বরুণ গাছ, আছে পিঠালি, অর্জুন, ছাতিম, গুটি জাম, আছে বট গাছও।
- এই বনে সাপের আবাস অনেক বেশি। এছাড়া রয়েছে বানর, গুঁইসাপ, সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙ্গা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল এবং বাজপাখি।
 
উৎস: সিলেট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৮,৪৭৩.
পূর্ববাংলার জন্য পাকিস্তানের মোট জাতীয় আয় থেকে কত অংশ ব্যয় করা হতো?
  1. ক) ষাট ভাগ
  2. খ) সাতাশ ভাগ
  3. গ) পঁচিশ ভাগ
  4. ঘ) পনেরো ভাগ
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৬০ ভাগের বসবাস ছিল পূর্ব পাকিস্তানে। জাতীয় আয়ের মাত্র ২৭ ভাগ ব্যয় করা হতো এ অঞ্চলের জন্য। [সূত্র: ইতিহাস বই, এইচএসসি]
৮,৪৭৪.
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী ছিলেন কে?
  1. শেখ হাসিনা
  2. শেখ রেহানা
  3. আব্দুর রাজ্জাক
  4. মহিতুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু হত্যা:

- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে নিহত হয় দুই সেনাসদস্য - কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক।
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে একমাত্র নিহত কর্ণেল কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে।
- বঙ্গবন্ধু ছাড়াও সেই রাতে তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।
- ওই কালরাতেই বিপথগামী সেনাসদস্যদের আরেকটি দল বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগের নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাঁকে এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে।
- এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকেও হত্যা করা হয়।
- ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় বেঁচে যান।
- ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর দায়মুক্তি আইন বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার।
- ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৫ আগস্ট ২০২২ ও ১৫ আগস্ট ২০২৩।
৮,৪৭৫.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন কে?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. আবু হোসেন সরকার
  4. সৈয়দ আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকায় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী সভার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- মে মাসে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।
- মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা, শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- শেরে বাংলা এবং যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান স্বায়ত্তশাসন আদায়ের ব্যাপারে চেষ্টা চালাতে থাকেন।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই মন্ত্রিসভা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং বর্ধমান হাউজকে বাংলা একাডেমি করার প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৭৬.
কত তারিখে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর
  2. ১৯৯৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর
  3. ১৯৯৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর
  4. ১৯৯৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি:
- হিমালয়ের হিমবাহে উৎপন্ন গঙ্গা নদী।
- গঙ্গা নদী ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের গোয়ালন্দের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- গঙ্গা নদী বাংলাদেশে পদ্মা নামে অভিহিত।
- ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রথম পরিকল্পনা করে ১৯৫১ সালে। 
- এ অঞ্চলের পানিসম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী একটি স্থায়ী  যৌথ নদী কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে এক যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন।
- এ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭২ সালের নভেম্বরে একটি যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়। 
- ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর গঙ্গার পানি বন্টন সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
- ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৭৭.
‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটির কত লাইন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত?
  1. ৮ চরণ
  2. ৬ চরণ
  3. ৪ চরণ
  4. ১০ চরণ
ব্যাখ্যা

 • বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটির প্রথম ১০ চরণ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- এই সঙ্গীত বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গবিরোধী রাজনীতিক, স্বদেশী কর্মী ও বিপ্লবীরা বাঙালি জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যম হিসেবে এই গান প্রচার করেন।
- ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ আয়োজিত এক জনসভায় গানটি গীত হয়।
- ২৩ মার্চ, ১৯৭১ স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা প্যারেডেও গানটি গীত হয়।

⇒ মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার এই গানকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত পরিবেশিত হতো।
- স্বাধীনতার পর সাংবিধানিকভাবে (অনুচ্ছেদ ৪.১) ‘আমার সোনার বাংলা’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রূপে ঘোষিত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার গানটির প্রথম দশ লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে গাওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি গীতবিতানের স্বদেশ পর্বে অন্তর্ভুক্ত।
- এর চরণসংখ্যা ২৫।
- গানের প্রথম ১০ লাইন কণ্ঠসঙ্গীত এবং প্রথম ৪ লাইন যন্ত্রসঙ্গীত হিসেবে পরিবেশনের বিধান রাখা হয়েছে।
- প্রথম চার চরণের যন্ত্রসংগীত বাজানো হয় বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে।
- দেশে ১৯৭৮ সালে জাতীয় সংগীত বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রচিত হয়েছিল।
- ১৯০৫ সালের সঞ্জীবনী পত্রিকায় ও বঙ্গদর্শন পত্রিকায় গানটি প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট কলকাতায় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী একটি সমাবেশে প্রথম গানটি গাওয়া হয়।
- গানটি গীতবিতান গ্রন্থের স্বদেশ অংশের অর্ন্তভুক্ত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া, সংবিধান।

৮,৪৭৮.
অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা কোন যুগের চিত্রশিল্পের নিদর্শন?
  1. মাৎসন্যায়
  2. পাল যুগ
  3. সেন যুগ
  4. সুলতানি যুগ
ব্যাখ্যা
চিত্রশিল্প:
- পাল যুগের পূর্বেকার কোনো চিত্র আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
- কিন্তু প্রাচীনকালেই যে বাংলায় চিত্র অঙ্কনের চর্চা ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
- সাধারণত বৌদ্ধ বিহার ও মন্দিরের দেয়াল সৌন্দর্যময় করার জন্য চিত্রাঙ্কন করার রীতি প্রচলিত ছিল।
- তখনকার দিনে বৌদ্ধ লেখকরা তালপাতা অথবা কাগজে তাদের পুস্তকের পাণ্ডুলিপি তৈরি করতেন।
- এ সকল পুঁথি চিত্রায়িত করার জন্য লেখক ও শিল্পীরা ছোট ছোট ছবি আঁকতেন।
- রেখার সাহায্যে চিত্রাঙ্কনেও প্রাচীন বাংলার শিল্পীরা যথেষ্ট দক্ষতা দেখিয়েছেন।
- রাজা রামপালের রাজত্বকালে রচিত 'অষ্টসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা' পুঁথি বাংলার চিত্রশিল্পের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
- রেখার সাহায্যে চিত্রাঙ্কনের আর একটি দৃষ্টান্ত হলো সুন্দরবনে প্রাপ্ত ডোম্মনপালের তাম্রশাসনের অপর পিঠে উৎকীর্ণ বিষ্ণুর রেখাচিত্র।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৮,৪৭৯.
When did Dhirendranath Datta demand the use of Bengali language along with Urdu in the Constituent Assembly of Pakistan?
  1. ক) 22 February, 1948
  2. খ) 23 February, 1948
  3. গ) 24 February, 1948
  4. ঘ) 25 February, 1948
ব্যাখ্যা
গণপরিষদের ভাষা:
- ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী পেশ করেন।
- কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতায় তার দাবী গৃহিত হয়নি।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি
৮,৪৮০.
বাংলার চুঁচুড়া ও বাকুঁড়ায় বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে কারা?
  1. ওলন্দাজরা
  2. ফরাসিরা
  3. ইংরেজরা
  4. পর্তুগিজরা
ব্যাখ্যা
• ওলন্দাজ বা ডাচ:
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- প্রাচ্য বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক ‘ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া বালেশ্বর, কাশিমবাজার এবং বরানগরেও তাদের কুঠি ছিল।
- প্রথমে ওলন্দাজগণ ইংরেজদের সাথে রেশমী সূতা, সুতি কাপড় চাল, ডাল সোরা ও তামাক এদেশ থেকে রপ্তানি করত এবং অন্যদেশ থেকে এদেশে মসলা আমদানি 
- এ বিরোধ বেশি বেড়ে গেলে ইংরেজগণ ওলন্দাজ কুঠিগুলো দখল করে ফেলে।
- বর্তমান ইন্দোনেশিয়া ওলন্দাজদের কাছ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে। 

সূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৮১.
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসন সহ সর্বমোট আসন সংখ্যা কত?
  1. ৩০০টি
  2. ৩০৭টি
  3. ৩১৩টি
  4. ৩৫০টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আসন বন্টন:

- আইনগত কাঠামো আদেশ অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ৩১৩টি নির্ধারণ করা হয়।
- সাধারণ আসন সংখ্যা ৩০০টি এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ১৩টি।
- পূর্ব পাকিস্তানে মোট আসন সংখ্যা ১৬৯টি।
• সাধারণ আসন সংখ্যা ১৬২টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৭টি।
- পশ্চিম পাকিস্তানে মোট আসন সংখ্যা ১৪৪টি।
• সাধারণ আসন সংখ্যা ১৩৮টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৬টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৮২.
ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ ছিল -
  1. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  2. নাচোল বিদ্রোহ
  3. টঙ্ক বিদ্রোহ
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।

⇒ ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে। তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ। আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে। ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

অন্যদিকে,
- নাচোল বিদ্রোহ (১৯৪৯-১৯৫০) ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলায় একটি কৃষক বিদ্রোহ।
- টঙ্ক আন্দোলন ১৯৪৬-৫০ সালে উত্তর ময়মনসিংহে কৃষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি আন্দোলন। 
- সিপাহি বিদ্রোহ ১৮৫৭ সালের ১০ মে মিরাট শহরে শুরু হওয়া ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীর সিপাহিদের একটি বিদ্রোহ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৮৩.
'এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ শিরোনামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পোস্টারের শিল্পী কে?
  1. জয়নাল আবেদিন
  2. কামরুল হাসান
  3. এস এম সুলতান
  4. সুমনা হাসান
ব্যাখ্যা
এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে:
- বড় বড় চোখ, রক্তলাল জিব আর বিষদাঁত।
- ছবির নিচে ক্যাপশন ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে'।
- ছবিটি পুরো দেশের মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল ইয়াহিয়া নামের এক দানবের সঙ্গে।
- বাংলাদেশের মানুষের চোখে হানাদারের প্রতিকৃতি হয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ওই পোস্টার।
- 'এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ শিরোনামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পোস্টারের শিল্পী কামরুল হাসান।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় কামরুল হাসান তাঁর সহশিল্পীদের বলেছিলেন, যুদ্ধে একজন শিল্পীর হাতিয়ার তাঁর রংতুলি।
- কামরুল হাসান তাঁর হাতিয়ার দিয়ে আঁকেন ইয়াহিয়ার রক্তচোষা দানবমূর্তি।
- শেষে তা হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর স্বরূপ হিসেবেই সারা বিশ্বের কাছে পরিচিতি পায়।
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের কাছেও এ পোস্টার হানাদারের প্রতীক।
- সেগুনবাগিচার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে রাখা আছে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ছাপা এ পোস্টার।

উৎস: ১৫ মার্চ ২০১৫, প্রথম আলো। [link]
৮,৪৮৪.
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কোন শাসনের অবসান ঘটান?
  1. হাবশি
  2. তুর্কি
  3. মুঘল
  4. সেন
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৪৮৫.
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর হটলাইন নাম্বার কোনটি?
  1. ১২১
  2. ৩৩৩
  3. ১৬১২১
  4. ১০৯৩
ব্যাখ্যা
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর:
- জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।
- এটি পণ্য ও পরিষেবার উপর ভোক্তাদের অভিযোগ গ্রহণ ও তা নিষ্পত্তি এবং ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ করার অভিলক্ষ্যে কাজ করে থাকে।
- ইহার প্রধান সদর দপ্তর ঢাকায় অবস্থিত।

কার্যাবলি:
১. বাজার তদারকির মাধ্যমে ভোক্তা-স্বার্থ সংরক্ষণ;
২. ভোক্তাদের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং
৩. জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক সভা, সেমিনার ও ওয়ার্কসপ আয়োজনসহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ।

উল্লেখ্য,
- 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ, ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্য প্রতিরোধ ও তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে বিধান করিবার লক্ষ্যে প্রণীত আইন।
-  ন্যায্য মূল্যে ন্যায্য সেবা ও পণ্য পাওয়া ভোক্তাদের একটি অধিকার।
- এ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিদিনই বাজার তদারকি করে অপরাধ দমনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে এবং ভোক্তাগণ তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হলে এই আইন অনুযায়ী অভিযোগ দায়েরের সুযোগ পাচ্ছেন।
- এই আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ভোক্তা ও ব্যবসায়ীগণ সচেতন হতে শুরু করেছেন।
- জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন সেবা (নম্বর: ১৬১২১)।

উৎস: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
৮,৪৮৬.
‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমেদ
  2. খ) শাহজাহান সিরাজ
  3. গ) এম. ইউসুফ আলী
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- এর আগে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৮ এপ্রিল এই সরকারের সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৮,৪৮৭.
'মহারাজাধিরাজ' উপাধি কারা গ্রহণ করেন?
  1. ইলিয়াস শাহ , তুঘলক ও জালালউদ্দিন
  2. আকবর, হুমায়ুন ও জাহাঙ্গীর
  3. চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মপাল ও গোপাল
  4. চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের তিন রাজা গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।

স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্র:

- ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন 'বঙ্গ রাষ্ট্র', অপরটি 'গৌড় রাজ্য।

উল্লেখ্য,
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
- স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের রাজারা তামার পাতে খোদাই করা রাজ নির্দেশ জারি করতেন।
- এগুলোকে তাম্রশাসন বলা হতো।
- এ রকম ৭টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
- স্বাধীন বঙ্গরাজ্যে চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নামের তিনজন রাজা ছিলেন।
- তারা ৫২৫-৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন।
- তারা 'মহাধিরাজ' উপাধি ধারণ করতেন।
- এতে তাদের সার্বভৌম ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়। স্বাধীন বঙ্গের যথেষ্ট যশ, খ্যাতি, প্রভাব ও সমৃদ্ধির কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের নেতৃত্বে বাংলার পুন্ড্র বা পণ্ড্রবর্ধন, গৌড় এবং বঙ্গকে একত্রিত করে একটি বিশাল গৌড় রাজ্য স্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৮৮.
মৌর্য শাসনামলে পুণ্ড্রবর্ধনের প্রাচীন নাম কী ছিল?
  1. কর্ণসুবর্ণ
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. দেবকোট
  4. তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা

মৌর্য শাসনামলে বাংলা:
- মহাজনপদ যুগের শেষদিকে এসে মগধ অনেক শক্তিশালী হয়ে অন্যান্য প্রায় সকল জনপদকে দখল করে নিতে থাকে।
- ষোড়শ মহাজনপদের শেষদিকে এসে মগধ যখন অধিকাংশ মহাজনপদে তার নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে; তার কিছুদিন পর ৩২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মৌর্যরা ভারতে কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।
- খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে মগধ রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভারতের গয়া আর পাটনা জেলা নিয়ে। কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, বর্তমান বাংলাদেশ পর্যন্ত এর বিস্তার ঘটেছিল।

• মহাস্থানগড়-এর নিকটবর্তী স্থানে প্রাপ্ত একটি শিলালিপির ভাষ্য হতে বাংলাদেশে মৌর্য শাসন বিস্তৃত হয়েছিল বলে ধরা হয়। এই শিলালিপিতে যদিও অশোকের নাম সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে এই লিপির ভাষ্য বিশ্লেষণ করে 'পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তিটির' রাজধানী হিসেবে আজকের বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়কে চিহ্নিত করা হয়।
- পুণ্ড্রবর্ধনের তখনকার নাম ছিল 'পুণ্ড্রনগর'।
- প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হলে খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে উন্নত এক সংস্কৃতির পত্তন করেছিলেন মৌর্য বংশের রাজারা।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে মহাস্থানগড়ে ধারাবাহিকভাবে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন ও মুসলিম যুগের নানা নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে। তাই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং ইতিহাসের বিচারে মহাস্থানগড় অঞ্চলটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৪৮৯.
যুক্তফ্রন্ট মূলত কয়টি দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে মূলত ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'হারিকেন'।
- নির্বাচনে মোট আসন ছিল ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

[বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র ১ম ও ২য় খন্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র অধিক গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৯০.
১৯৭১ সালের ১৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু কত দফা নির্দেশনা ঘোষণা করেন?
  1. ৭ দফা
  2. ১৪ দফা
  3. ২১ দফা
  4. ৩৫ দফা
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৪ মার্চ ইয়াহিয়া খানের ঢাকা আসার প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চলমান আন্দোলন বিষয়ে পূর্বের সকল নির্দেশনা বাতিল করে ৩৫ দফা নতুন নির্দেশনা প্রদান করেন।
- এসব নির্দেশনায় চলমান আন্দোলনের সময় পূর্ব পাকিস্তান কিভাবে চলবে সে সম্পর্কে দিকনির্দেশনা ছিলো।
(তথ্যসূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : দ্বিতীয় খন্ড : ৭৪০-৭৪৭ পৃষ্ঠা)
৮,৪৯১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ”যুদ্ধশিশু”এর পরিচালক কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত
  2. জহির রায়হান
  3. মোরশেদ ইসলাম
  4. বাবুল চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “যুদ্ধশিশু”এর পরিচালকমৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত। 

⇒ কয়েকটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র:
জয় বাংলা - ফখরুল আলম।
• বাঘা বাঙ্গালী - আনন্দ।
• রক্তাক্ত বাংলা - মমতাজ আলী।
• আমার জন্মভূমি - আলমগীর কুমকুম।
• শ্লোগান - কবীর আনোয়ার।
• কার হাসি কে হাসে - আনন্দ।
• নদীর নাম মধুমতী - তানভীর মোকাম্মেল।
• এখনো অনেক রাত - খান আতাউর রহমান।
• ’৭১–এর লাশ’- নাজিরউদ্দীন রিজভী।
• ইতিহাস কন্যা -শামীম আখতার।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো, ১৮ ডিসেম্বর ২০২১।
৮,৪৯২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য 'গোবরা ক্যাম্প' কোথায় স্থাপন করা হয়েছিল?
  1. সিলেটে
  2. ঢাকায়
  3. কলকাতায়
  4. চট্টগ্রামে
ব্যাখ্যা

 মুক্তিযুদ্ধে নারী:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার পার্ক সার্কাস ও পদ্মপুকুরের মাঝামাঝি গোবরা নামের স্থানে শুধু নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল।
- সেটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
- নারী যোদ্ধাদের জন্য অনুরূপ আরো তিনটি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে।
- গোবরা ক্যাম্পে মেয়েদের দেওয়া হতো তিন রকম ট্রেনিং: ১. সিভিল ডিফেন্স, ২. নার্সিং, ৩. অস্ত্র চালনা ও গেরিলা আক্রমণ।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন।
- আগরতলার লেম্বুচোরা ক্যাম্পে মহিলা গেরিলা স্কোয়াড-এর আধুনিক অস্ত্রের উচ্চতর ট্রেনিং হয়।

উল্লেখ্য
- রণাঙ্গনের যোদ্ধা তারামন বিবি বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।
- চিকিৎসার কাজে মহিলা চিকিৎসকগণের গৌরবময় দৃষ্টান্ত ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম। তিনিও বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন।

উৎস: ।) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
     ।।) দৈনিক ইত্তেফাক।[লিঙ্ক]

৮,৪৯৩.
কোন দেশের বাণিজ্যিক কোম্পানি ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করে?
  1. ফ্রান্স
  2. পর্তুগাল
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. ইংল্যান্ড 
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ: 
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সর্বাধিক বিখ্যাত দুর্গ হলো ফোর্ট উইলিয়াম।
- ফোর্ট উইলিয়ামের মাধ্যমেই ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের ঘাঁটি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- বিখ্যাত এই দুর্গটি কলকাতায় অবস্থিত।
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় নিদর্শন এই দুর্গ।

উল্লেখ্য,
- স্যার চার্লস আইয়ার এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- তাঁর উত্তরসূরি জন বিয়ার্ড ১৭০১ সালে ফোর্ট উইলিয়ামের উত্তর-পূর্বাংশের দুর্গপ্রাচীর সংযোজন করেন।
- ১৭০২ সালে তিনি দুর্গের মধ্যভাগে বাণিজ্যকুঠি বা 'গভর্নমেন্ট হাউস' নির্মাণ শুরু করেন, যা ১৭০৬ সালে শেষ হয়।
- এরপর ইংল্যান্ডের রাজার সম্মানে দুর্গটির নামকরণ করা হয় ফোর্ট উইলিয়াম।

⇒ ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানিকে মুম্বাই ইজারা দেন।
- ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে জব চার্নক ভাগীরথী নদীর তীরে ১২০০ টাকার বিনিময়ে কলকাতা, সূতানটি ও গোবিন্দপুর এ তিনটি গ্রামের জমিদারী স্বত্ব কিনে নেন।
- পরবর্তীকালে উপমহাদেশের ভাগ্য নির্ধারণকারী দুর্গ ফোর্ট উইলিয়াম এখানেই নির্মিত হয়।
- ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ফররুখশিয়ারের অনুমতি নিয়ে ইংরেজগণ বাংলা, মাদ্রাজ ও মুম্বাইয়ে বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৪৯৪.
মুজিব নগর সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. খ) অধ্যপক ইউসুফ আলী
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) ড. কামাল হোসেন
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- মেহেরপুর জেলায় মুজিব নগর অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগর সরকার গঠিত হয় -  ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৯৫.
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা শুরু হয় কত সালে?
  1. ১৯৬০ সালে
  2. ১৯৬১ সালে
  3. ১৯৬২ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি:

- বাংলা একাডেমীর মুল ভবনের নাম ছিল বর্ধমান হাউস।
- বাংলা একাডেমী বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দের ১৭ অগ্রহায়ণ (৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫) ঢাকার বর্ধমান হাউসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালকের নাম- জনাব মুহম্মদ নূরুল হুদা।
- বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন সেলিনা হোসেন।
- আবু হোসেন সরকার ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসে (স্থাপিত ১৯০৬) বাংলা একাডেমীর উদ্বোধন করেন।
- প্রথম মহাপরিচালক প্রফেসর মযহারুল ইসলাম।
- বাংলা একাডেমির প্রথম সভাপতি মাওলানা আঁকরাম খাঁ (১৯৬১ সাল)।
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয় ১৯৬০ সাল থেকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৮,৪৯৬.
পলাশীর যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৮৫৬ সালে
  2. ১৮৫৭ সালে
  3. ১৭৫৬ সালে
  4. ১৭৫৭ সালে
ব্যাখ্যা

পলাশী যুদ্ধ:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।
- এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- নবাবের পক্ষে সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ হাজার।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে ছিল মাত্র ৩ হাজার।
- জেতার সব ধরণের সুযোগ সুবিধার পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।
- অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৪৯৭.
মনসুন অভ্যুত্থান কোন দেশের সাথে সম্পর্কিত?
  1. তুরস্ক
  2. বাংলাদেশ
  3. মিশর
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
-  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ভাষণে,  ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গনঅভ্যুত্থানকে মনসুন অভ্যুত্থান আখ্যায়িত করেছেন
-  বাংলাদেশের ‘মনসুন অভ্যুত্থান’ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষকে মুক্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে প্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য :
 
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন
-সরকারি চাকরির সকল প্রকার কোটা বাতিল করে  সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে ৪ অক্টোবর ২০১৮ সালে। ৩০% মুক্তিযুদ্ধ কোটা ফিরে পেতে হাইর্কোটে রিট  করা হলে , হাইকোর্ট কোটা বাতিল প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে দেন।  তারই প্রেক্ষিতে ছাত্ররা  বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনের ডাক দেন। যা পরর্বতীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান  রূপে পরিচিতি পায়। 

উৎস: প্রথম আলো
৮,৪৯৮.
একুশে ফেব্রুয়ারি প্রথম শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয় -
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
প্রথম শহীদ দিবস পালন:
- একুশে ফেব্রুয়ারি প্রথম শহিদ দিবস হিসাবে পালিত হয় ১৯৫৩ সালে।

⇒ ভাষাশহীদদের মহান ত্যাগের কথা স্মরণে ১৯৫৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো পালন করা হয় শহীদ দিবস।
- ওই দিন বিভিন্ন স্তরের ও শ্রেণির মানুষ বিশেষ করে নারীরা খালি পায়ে ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত দীর্ঘ শোভাযাত্রা নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন। এরপর দলে দলে নগরবাসী আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং পরবর্তীতে কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। দিবস উপলক্ষে মানুষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত হতে থাকে।
- বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে ১২টার সময়ে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’ স্লোগান সমেত সুশৃঙ্খল ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে তারা শোকজ্ঞাপক কালো পতাকা, কালো ব্যাজ ধারণ করে অগ্রসর হতে থাকে।

উল্লেখ্য,
- ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।
- ভাষা আন্দোলনের ফলে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিকাশ ঘটে। এই আন্দোলন দ্বিজাতি তত্ত্বের ধর্মীয় চেতনার মূলে আঘাত হানে। পাকিস্তান সৃষ্টির সাম্প্রদায়িক ভিত্তি ভেঙ্গে বাঙালিরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার আন্দোলন শুরু করে। এর ফলে ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে ওঠে।
- ১৯৫৩ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি 'শহিদ দিবস' হিসেবে দেশব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি খালি পায়ে হেঁটে শহিদ মিনারে ফুল অর্পণ করে আমরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস' এর স্বীকৃতি দান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
৮,৪৯৯.
২০২৩ সালের ২১শে মার্চ ভাষা আন্দোলনের কত বছর পূর্ণ হয়েছে?
  1. ক) ৭০ বছর
  2. খ) ৭১ বছর
  3. গ) ৭২ বছর
  4. ঘ) ৭৩ বছর
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিলো ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি।
- ২০২৩ এর ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের ৭১ বছর পূর্ণ হয়েছে।
৮,৫০০.
পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৭ সালে
  2. ১৯৫৮ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা

• সামরিক শাসন জারি :
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসন ব্যবস্থায় একধরণের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরোক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।