বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৭৮ / ১২৪ · ৭,৭০১৭,৮০০ / ১২,৪২১

৭,৭০১.
১নং সেক্টর কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়েছিল?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ঢাকা
  3. ময়মনসিংহ
  4. নৌ-সেক্টর
ব্যাখ্যা
১নং সেক্টর:   
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- এই সেক্টরের পাঁচটি সাব-সেক্টর ছিল। 
- এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
- এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭০২.
Who is the female freedom fighter who received the title of 'Bir Protik' in the liberation war?
  1. ক) Kakon Bibi
  2. খ) Nilima Ibrahim
  3. গ) Jahanara Begum
  4. ঘ) Taramon Bibi
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়-
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৮ জন,
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন,
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন।

তার মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী 'বীরপ্রতীক' খেতাব পেয়েছেন।
- ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম ও
- তারামন বিবি।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট
৭,৭০৩.
পারস্যের প্রখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে কার পত্রালাপ হতো?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. সুলতান সিকান্দার শাহ
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ: 
- সুলতান সিকান্দার শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র গিয়াসউদ্দিন 'আজম শাহ' (১৩৯৩-১৪১১ খ্রিষ্টাব্দ) উপাধি গ্রহণ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- ইলিয়াস শাহ ও সিকান্দার শাহ যুদ্ধবিগ্রহ ও স্বাধীনতা রক্ষায় নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
- কিন্তু গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের কৃতিত্ব ছিল অন্যত্র।
- তিনি তাঁর প্রজারঞ্জক ব্যক্তিত্বের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন।
- শিক্ষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের যথেষ্ট সুখ্যাতি ছিল।
- কবি-সাহিত্যিকগণকে তিনি সমাদর ও শ্রদ্ধা করতেন।
- তিনি কাব্যরসিক ছিলেন এবং বাংলার সুলতান হলেও নিজে ফার্সি ভাষায় কবিতা রচনা করতেন।
- পারস্যের প্রখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭,৭০৪.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ’রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম’ পরিষদের আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. আবুল বরকত
  2. আবদুল মতিন
  3. গোলাম আযম
  4. রফিকুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন কর্মসূচি: 

- ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে আকরাম খানকে সভাপতি করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী 'পূর্ববাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করে।
- এই কমিটি গঠনের প্রতিবাদ জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
- ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- সেপ্টেম্বর মাসে গণপরিষদ কর্তৃক গঠিত মূলনীতি কমিটির সুপারিশে বলা হয়, 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু'।
- ১৯৫১ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান আততায়ীর হাতে নিহত হন।
- তখন তাঁর স্থলে প্রধানমন্ত্রী হন খাজা নাজিমুদ্দিন।
- ১৯৫২ সালে ঢাকায় খাজা নাজিমুদ্দিনের এক উক্তিকে কেন্দ্র করে ভাষা আন্দোলন নতুন মাত্রা ও সর্বাত্মক রূপলাভ করে।


উৎস: ইতিহাস, এইচএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৭০৫.
নিচের কোন কর্মসূচিকে ম্যাগনাকার্টা হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ১১ দফা
  2. ২১ দফা
  3. ৬ দফা
  4. ৪ দফা
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ৬ দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলার কারণ - এটি বাঙালির ন্যায্য অধিকারের সনদ।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ - মনু মিয়া।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭০৬.
মুক্তিযুদ্ধে নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান-
  1. ক) অপারেশন সার্চ লাইট
  2. খ) অপারেশন ক্লোজডোর
  3. গ) অপারেশন জ্যাকপট
  4. ঘ) অপারেশন ক্লিনহার্ট
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত। এদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২৬ টি নৌযান ধ্বংস হয়। মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এ অপারেশনে অংশ নেয়। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৭,৭০৭.
বাংলাদেশের স্বাধিনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়-
  1. ক) ৭ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  3. গ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন। [সূত্র : বাংলাপিডিয়া ]
৭,৭০৮.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত বছর বয়সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন?
  1. ১৮ বছর
  2. ১৯ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ২১ বছর
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: 
- ১৯২০ শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা শেখ সায়েরা খাতুন। 
- ৪ কন্যা এবং ২ পুত্রসন্তানের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়। 
- মা-বাবা তাঁকে আদর করে ‘খোকা’ বলে ডাকতেন।
- ১৯২৭ সালে সাত বছর বয়সে শেখ মুজিবুর রহমান গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে তাঁর স্কুল জীবন আরম্ভ করেন। 
- নয় বছর বয়সে তিনি গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। 
- পরবর্তীকালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন। 
- ছাত্র আন্দোলন এবং রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে ওঠার আগে অন্য আরো দশজন কিশোরের মত শেখ মুজিবুর রহমান খেলার মাঠকেই বেশি ভালোবাসতেন।
- ফুটবল খেলার প্রতি ছিল তাঁর দুরন্ত টান। 
- একজন মেধাবী ফুটবলার হিসেবে কৈশোরে কুড়িয়েছিলেন অসামান্য খ্যাতি। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলাগুলোতে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ মুজিবুর রহমান নিয়মিত পুরস্কৃত হতেন।
- ১৯৩৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ১৮ বছর বয়সে শেখ ফজিলাতুন্নেসা (রেনু)-কে বিয়ে করেন। 
- তাঁরা দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এর জনক-জননী ছিলেন। 

উৎস: বঙ্গবন্ধুর জীবন ভিত্তিক তথ্য, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের সরকারি ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]।
৭,৭০৯.
হযরত শাহজালাল কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. ক) ইরান
  2. খ) ইরাক
  3. গ) ইয়েমেন
  4. ঘ) আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর : ইয়েমেন

হযরত শাহজালাল: 
- ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সুফি ও দরবেশ হযরত শেখ শাহজালাল মুজার্রাদ ইয়ামনী (রাহ:)।
- উনার পুরো নাম শেখ শাহ জালাল, কুনিয়াত মুজাররাদ।
- ৭০৩ হিজরী মোতাবেক ১৩০৩ খ্রিষ্টীয় সালে ৩২ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে অধুনা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
- সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের শাসনামলে বিখ্যাত সুফি ব্যক্তিত্ব হযরত শাহ জালাল বাংলায় আসেন।
- শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের সিলেট অভিযানকালে হযরত শাহ জালাল তাঁর সাথে মিলিত হয়ে সিলেটের রাজা গৌরগোবিন্দকে পরাজিত করেন। 
- বিশেষ করে হযরত শাহজালালের কারণে সিলেট অঞ্চলে ইসলামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার হয়।
- হযরত শাহজালাল (র.) আরবের ইয়েমেনের অধিবাসী ছিলেন। তাঁর পিতা মাহমুদ বিন মোহাম্মদ ছিলেন কোরায়শ বংশের একজন সম্মানিত ব্যক্তি।

[সূত্র- বাংলাপিডিয়া ও সিলেট জেলা ওয়েব সাইড]

৭,৭১০.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৯টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ১০টি
  4. ঘ) ১২টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।

- সেক্টর নং ১ -  ৫টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
- সেক্টর নং ২ -  এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর নং ৩ - এই সেক্টরে ছিল ১০টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৪ - এই সেক্টরে ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৫ - ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।
- সেক্টর নং ৬ - এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৭ -  এই সেক্টরে ছিল ৮টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৮ -  এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৯ - এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ১০ - এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।
- সেক্টর নং ১১ -  এই সেক্টরকে ৮টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭১১.
ঢাকা যখন জাহাঙ্গীরনগর বগুড়া তখন -
  1. বরেন্দ্র
  2. পাহাড়পুর
  3. মহাস্থানগড়
  4. পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
মুঘল আমলে, ঢাকার নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর
তখন বগুড়ার নাম ছিল মহাস্থানগড়
৭,৭১২.
ঐতিহাসিক ছয়দফার কয়টি দফা অর্থনীতি বিষয়ক ছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয়দফা: 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।

দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

 উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭,৭১৩.
স্বত্ব বিলোপ নীতির প্রবর্তক- 
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
স্বত্ববিলোপ নীতি:
- প্রাচীন হিন্দু রীতির উচ্ছেদ ঘটিয়ে বৃটিশ শক্তির উপর নির্ভরশীল দেশীয় রাজ্যগুলো কুক্ষিগত করার জন্য যে নতুন নীতি উদ্ভাবিত হয়েছিল তাই স্বত্ব বিলোপ নীতি নামে পরিচিত।
- এ নীতির অর্থ হলো এই যে, ইংরেজ আশ্রিত ও অনুগৃহীত কোনো দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তাঁর রাজ্য বৃটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবে;
- কোনো পালিত পুত্রের অধিকার স্বীকার করা হবে না।
- স্বত্ব বিলোপনীতি প্রবর্তন করেন লর্ড ডালহৌসি।

এছাড়াও,
- রেললাইন প্রচলন করেন।
- বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন।

অন্যদিকে,
- লর্ড ক্যানিং: কাগজী মুদ্রার প্রচলন।
- লর্ড ওয়েলেসলি: অধীনতা মূলক  মিত্রা নীতির প্রবর্তন।
- ওয়ারেন হেস্টিংস:  দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার বিলোপ সাধন।
- পাঁচশালা ভূমির বন্দোবস্ত।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭১৪.
আর্যদের আদি নিবাস ছিলো কোথায়?
  1. ক) তিব্বত মালভূমি
  2. খ) ইউরাল পর্বতের দক্ষিণে
  3. গ) ইন্দোচীন
  4. ঘ) দক্ষিণ ভারত
ব্যাখ্যা
আর্যদের আদি নিবাস ছিলো ইউরাল পর্বতমালার দক্ষিণে বর্তমান ইরান ও কিরগিজস্থানে। সেখান থেকে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় দুই হাজার অব্দে আর্যরা পশ্চিম প্রদেশ দিয়ে ভারতে আগমন করে।
প্রথম তারা সিন্ধু তীরে বসতি স্থাপন করে। পরবর্তীতে সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলায় আর্যদের আগমন শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব এক হাজার অব্দ থেকে।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ব্রিটানিকা)
৭,৭১৫.
শিশুতোষ চলচ্চিত্র 'ছুটির ঘণ্টা'-এর পরিচালক কে?
  1. আজিজুর রহমান
  2. তানভীর আহমেদ
  3. নূর-ই আলম
  4. মোরশেদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
ছুটির ঘণ্টা:
- ছুটির ঘণ্টা ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী শিশুতোষ চলচ্চিত্র।
- ছবিটি পরিচালনা করেছেন আজিজুর রহমান।

⇒ ১৯৮০ সালে নির্মিত হয় ‘ছুটির ঘণ্টা’ ছবিটি।
- প্রযোজনা করেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান সংগীত পরিচালক সত্য সাহা।
- পরিচালক আজিজুর রহমান।
- ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক, শওকত আকবর, খান আতাউর রহমান, শাবানা, সুজাতা, এ টি এম শামসুজ্জামান, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, শিশুশিল্পী সুমন। 

⇒ ঈদের ছুটি ঘোষণার দিন স্কুলের বাথরুমে সবার অজান্তে তালাবদ্ধ হয়ে আটকে পড়ে একটি ১২ বছর বয়সের ছাত্র।
- আর তালাবদ্ধ বাথরুমে ১১ দিনের ছুটি শেষ হওয়ার প্রতীক্ষার মধ্যে দিয়ে হৃদয়বিদারক নানা ঘটনা ঘটে।
- অমানবিক কষ্ট সহ্য করার পর কীভাবে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, এমনই একটি করুণ ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে ছবিতে।

উৎস: প্রথম আলো।
৭,৭১৬.
কে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) আতাউল গণি ওসমানী
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমদ
  5. ঙ) লে. কর্ণেল (অব.) আবদুর রব
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি/সরকার প্রধান/মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি পাকিস্তানে বন্দী থাকার কারনে অস্থায়ী/ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন - উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি পদাধিকারবলে সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন - আতাউল গণি ওসমানী।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস -১ম পত্র বই।
৭,৭১৭.
খিলাফত আন্দোলনের যুগপৎ কোন আন্দোলনটি সংঘটিত হয়?
  1. ক) স্বদেশী আন্দোলন
  2. খ) অসহযোগ আন্দোলন
  3. গ) ভারত ছাড় আন্দোলন
  4. ঘ) আলীগড় আন্দোলন
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খেলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত। মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ খেলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

একই সময়ে (১৯২০ সালের ১ আগস্ট থেকে) চেমসফোর্ড-মন্টেগু সংস্কার আইন, রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড প্রভৃতি ইস্যুতে গান্ধীর ডাকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন পরিচালিত হয়। এই আন্দোলন ছিলো একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন।

এ দুটি আন্দোলন তখন সমগ্র ভারতবর্ষে ব্যাপক সাড়া ফেলে। চৌরিচৌরা বিক্ষোভকারীদের দ্বরা ২৫ জন পুলিশ সদস্যদের পুড়িয়ে মারা হলে মহাত্মা গান্ধী ১৯২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত করে দেন। অন্যদিকে, ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের খেলাফত বিলুপ্ত করলে খেলাফত আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,৭১৮.
দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. কুতুবউদ্দিন আইবেক
  2. শামস-উদ্দিন ইলতুৎমিশ
  3. গিয়াসউদ্দিন বলবন
  4. ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা
শামস-উদ্দিন ইলতুৎমিশ:
- ইলতুৎমিশ দাস হিসেবে জীবন শুরু করেন। নানা প্রভুর হাত ঘুরে শেষ পর্যন্ত তিনি কুতুবউদ্দিনের অধীনে আসেন। কুতুবউদ্দিন তাঁর গুণে মুগ্ধ হন। তাঁকে মুক্তি দিয়ে সুলতান তাঁর সাথে নিজ কন্যার বিয়ে দেন এবং তাঁকে বদায়ুনের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। কুতুবউদ্দিনের মৃত্যুর পর আরাম শাহ সুলতান হন। আমিরদের অনুরোধে অযোগ্য আরাম শাহকে পরাজিত করে ইলতুৎমিশ সিংহাসনে বসেন। তিনি নব গঠিত দিল্লি সালতানাতকে নানা বিপদ থেকে রক্ষা করেন। তিনি ইয়ালদুজ, কুবাচা ও ইওয়াজের বিরোধিতা নির্মূল করেন। এর ফলে লাহোর, সিন্ধু-মুলতান এবং বাংলার উপর দিল্লির কর্তৃত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি কৌশলে চেঙ্গিস খানের সম্ভাব্য আক্রমণ থেকেও ভারতকে রক্ষা করেন। বিদ্রোহী হিন্দু রাজাদের দমন করে তিনি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করেন।
- তাঁকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭১৯.
‘ত্রিশক্তির সংঘর্ষ' কোন রাজার শাসনামলে সংঘটিত হয়?
  1. দেবপাল
  2. ধর্মপাল
  3. রামপাল
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা
• ধর্মপাল:
- ধর্মপাল হচ্ছেন পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।
- তিনি প্রায় ৪০ বছর রাজত্ব করেন।
- বাংলার ইতিহাসে ধর্মপালই প্রথম রাজা যিনি সর্বপ্রথম উত্তর ভারতীয় রাজনীতিতে স্বল্পকালের জন্য হলেও কিছু সাফল্য অর্জন করেন। ধর্মপালের সময়ে বাংলা নতুন শক্তি ও উদ্দীপনার প্রতীক হয়েছিল।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ছিলেন এবং তিনি অনেক বিহারের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি রাজশাহী বিভাগের বর্তমান নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
- বরেন্দ্র অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে প্রতিষ্ঠিত এই বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সমগ্র ভারতবর্ষের মধ্যে সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ বিহার। এই জন্যে এটি মহাবিহার নামে পরিচিত।
- পালবংশের অন্যতম রাজা দেবপাল ছিলেন ধর্মপালের পুত্র।
- ৬৪৭ সালে রাজা হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর পর কনৌজের সিংহাসনের ওপর আধিপত্য স্থাপনকে কেন্দ্র করে পাল, প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূটের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয় তা-ই ইতিহাসে ত্রিশক্তির সংঘর্ষ বা ত্রি-শক্তির সংগ্রাম নামে পরিচিত। এটি ধর্মপালের শাসনামলে সংঘটিত হয়। 

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কালের কণ্ঠ।
৭,৭২০.
বাংলা কত সনে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ঘটে?
  1. ১৭৭০ সনে
  2. ১৭৭৬ সনে
  3. ১১৭০ সনে
  4. ১১৭৬ সনে
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- কোম্পানির মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের ভাষায় ‘দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতিসত্য।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- ইংরেজ সরকার বাংলার জনগণকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
- বরং ১৭৬৫-৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল। ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭২১.
বাঙালি জাতির প্রধান অংশ কোন জনগোষ্ঠী থেকে গড়ে উঠেছে?
  1. নেগ্রিটো
  2. দ্রাবিড়
  3. অস্ট্রিক
  4. আর্য
ব্যাখ্যা

◉ বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে অস্ট্রিক জনগোষ্ঠী থেকে, যাদের আরেক নাম নিষাদ জাতি। তারা প্রায় ৫০০০ বছর আগে ইন্দোচীন থেকে বাংলায় এসে বসতি স্থাপন করে। 

বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- নৃতাত্ত্বিক গঠন প্রক্রিয়ার দিক থেকে বাঙালি জাতি হলো একটি সংকর জাতি।
- বাঙালি জাতিধারার নৃতাত্ত্বিক গঠনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকলেও অস্ট্রিক জাতির ভূমিকা সর্বাধিক।
- বাঙালি জাতির প্রধান অংশ অস্ট্রিক জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- ইন্দোচীন থেকে আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠীর অন্তর্গত অস্ট্রিক জাতি প্রাক আর্য যুগে বাংলায় বসতি স্থাপন করে।
- এই অস্ট্রিক নরগোষ্ঠী থেকেই বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে।
- অস্ট্রিক নরগোষ্ঠীর সাথে দ্রাবিড় ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে।
- তবে ইতিহাসের নানা পর্যায়ে বাঙালি রক্তপ্রবাহে ভোটচীনীয়, ককেশীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ প্রভৃতি জাতিসত্ত্বার সংমিশ্রণ ঘটেছে।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

সূত্র: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া, বাঙালির ইতিহাস, নিহারঞ্জন রায়।

৭,৭২২.
BARD কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) শিবগঞ্জ, বগুড়া
  2. খ) কোটবাড়ী, কুমিল্লা
  3. গ) সাভার, ঢাকা
  4. ঘ) সখিপুর, টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা
BARD (Bangladesh Academy for Rural Development) বা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ীতে অবস্থিত।
এটির প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খান। বার্ড ১৯৫৯ সালের ২৭ মে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বার্ড বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এটির প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান।

(তথ্যসূত্র: বার্ড ওয়েবসাইট)
৭,৭২৩.
মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাদায়ী গান ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ এর শিল্পী কে ছিলেন?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আপেল মাহমুদ
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান 'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি':
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’ গানটি দারুণভাবে প্রেরণা জুগিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের।
- ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ গানটির গীতিকার গোবিন্দ হালদার।
- গানটির শিল্পী আপেল মাহমুদ। 
- আপেল গানটি রেকর্ড করেন এবং স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে তাঁর কণ্ঠেই গানটির প্রচার শুরু হয়।
- ‘জয়বাংলার গান’ রূপে পরিচিত গোবিন্দ হালদারের সঙ্গীতগুলো  'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' থেকে প্রচারিত হত। 
 
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। 

৭,৭২৪.
জাতীয় অধ্যাপক নির্ধারণ কমিটির সভাপতি কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. পিএসসি চেয়ারম্যান
  4. শিক্ষামন্ত্রী
ব্যাখ্যা
 ‘বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নিয়োগ নীতিমালা-২০২৩’
- নীতিমালা অনুযায়ী চার সদসস্যের মনোনয়ন কমিটিতে চেয়ারম্যান থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী।
- মনোনয়ন কমিটিতে অন্য দুই জন সদস্য থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত দুই জন মন্ত্রী।
- এছাড়া সদস্য হিসেবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য থাকবেন চার সদস্যের এই কমিটিতে।

নিয়োগ
- জাতীয় অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মনোনয়ন কমিটির কাছে প্রতিটি পদের বিপরীতে তিন জন করে যোগ্য ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করবে।
- মনোনয়ন কমিটি প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে জাতীয় অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন দেবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য এই মনোনয়ন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পেশ করা হবে।
- রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ নিয়োগ পত্র জারি করবে।

নিয়োগের শর্ত
- উচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন প্রথিতযশা অধ্যাপক যিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তার গবেষণা ও ব্যুৎপত্তির জন্য স্বীকৃতি লাভ করেছেন এবং জাতীয় ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
- এছাড়াও যিনি নিজেকে সক্রিয়ভাবে গবেষণায় রত রাখতে সক্ষম, সেই ধরনের অধ্যাপক এই পদের জন্য নির্বাচিত হবেন।
- একই সময়ে অনধিক চার জনকে জাতীয় অধ্যাপক পদে নিয়োগ করা যাবে।
- অনধিক ৭৫ বৎসর বয়স্ক যোগ্য অধ্যাপক জাতীয় অধ্যাপক পদের জন্য মনোনীত হবেন।
- তবে মনোনয়ন কমিটি বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন অধ্যাপকের ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা শিথিল করতে পারবে।
- জাতীয় অধ্যাপক পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন।
- তবে মনোনয়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ করা যাবে।
- রাষ্ট্রপতি যেকোনও সময় নিয়োগ আদেশ বাতিল করতে পারবেন। 

উৎস:  ‘বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নিয়োগ নীতিমালা-২০২৩’ (লিংক)।
৭,৭২৫.
'কর্ণসুবর্ণ' কোন জনপদের রাজধানী ছিল?
  1. সমতট
  2. গৌড়
  3. বঙ্গ
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
⇒ গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।

গৌড়:

- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭২৬.
নোয়াখালীর পূর্বনাম -
  1. ক) নাসিরাবাদ
  2. খ) পূর্বাশা
  3. গ) সুধারাম
  4. ঘ) সুবর্ণগ্রাম
ব্যাখ্যা
নোয়াখালীর নামকরণ: ১৭৬০ এর দশকের শেষের দিকে নোয়াখালীর নামের উৎপত্তি হয়।তখন আওরঙ্গজেব ছিলেন দিল্লির সম্রাট। পার্বত্য ত্রিপুরার পাহাড় থেকে উৎসারিত ডাকাতিয়া নদীর বন্যায় ঘন ঘন প্লাবিত হতো ভুলুয়ার উত্তর এবং পূর্বাঞ্চল। বন্যার হাত থেকে এখানকার কৃষি অঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য কুমিল্লার ফৌজদারের তত্ত্বাবধানে ডাকাতিয়া থেকে রামগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, চৌমুহনীর মধ্য দিয়ে একটি নতুন খাল কেটে বন্যার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলো মেঘনা ও ফেণী নদীর সঙ্গমস্থলে।
সুদীর্ঘ এই খালটি খননের পর ভুলুয়া ভূখন্ডের নতুন নাম হলো নোয়াখালী, অর্থাৎ নতুন খালের দেশ। ‘নতুন’ শব্দের স্থানীয় লোকজ নাম ‘নোয়া’ থেকেই মোঘল যুগে কাটা খালটি ‘নোয়াখাল’ লোকমুখে এই অঞ্চলটিকে অভিহিত করেছে নোয়াখালী নামে।
১৮২১ সালে নোয়াখালীকে পৃথক জেলা গঠন করলেও ভুলুয়া নামেই এ জেলার পরিচিতি ছিল। ১৮২২ সালের ২৯ মার্চ গভর্ণর দ্বিতীয় হেস্টিংস স্বপরিষদে নোয়াখালীকে একটি পৃথক জেলার মর্যাদা দান করেন। কিন্তু ভুলুয়া রাজ্যের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য নবঘোষিত জেলার নামকরণ করা হয় ভুলুয়া।
১৮৬৮ সাল হতে সরাসরি এ অঞ্চলের নামকরণ করা হয় নোয়াখালী। ১৯৮৪ সালে নোয়াখালী জেলা ভেঙ্গে লক্ষীপুর ও ফেণী নামে আলাদা দুটি জেলা গঠিত ।
সুধারাম (সদর) থানা: আয়তন এবং জনসংখ্যার দিক থেকে সদর থানাটি নোয়াখালী জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম থানা হিসেবে পরিচিত। ১৮৬১ সালে এটি একটি থানা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ থানাটির পূর্বে ‘সুধারাম’ থানা হিসেবে পরিচিতি ছিল।
- ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এ থানা নোয়াখালী সদর থানা হিসেবে পুন:নামকরণ করা হয়।

উৎস:- সরকারী তথ্য বাতায়ন।
৭,৭২৭.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য কোন দুই নারীকে 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. তারামন বিবি ও ময়মুনা বিবি
  2. সিতারা বেগম ও ময়মুনা বিবি
  3. তারামন বিবি ও সিতারা বেগম
  4. ময়মুনা বিবি ও তারামন বিবি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব: 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব পেয়েছেন, তাঁদের একজন ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং অন্যজন তারামন বিবি। 
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর দীর্ঘ ২৫ বছর লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন তারামন বিবি। তাঁর নাম ছিল শুধু গেজেটের পাতায়।
- তারামন বিবি মুক্তিবাহিনীর ১১ নম্বর সেক্টরের একটি দলের সঙ্গে ছিলেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে। নাম ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’। এখানে ডা. জাফরউল্লাহ, ডা. মোবিন, ডা. আখতার, ডা. সিতারা বেগমসহ আরও অনেক চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী ও সেবিকা নিয়োজিত ছিলেন।

উৎস: চিরন্তন ১৯৭১, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৭,৭২৮.
সমতট জনপদ কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল?
  1. ঢাকা ও ময়মনসিংহ
  2. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  3. রাজশাহী ও বগুড়া
  4. বরিশাল ও পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা

সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৭২৯.
'ষাটগম্বুজ মসজিদ' কার আমলে নির্মিত হয়?
  1. ক) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. খ) নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ
  3. গ) সিকান্দার শাহ
  4. ঘ) জালালুদ্দিন মাহমুদ
ব্যাখ্যা
- নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ (১৪৩৫-১৪৫৯) ছিলেন বাংলার সুলতান এবং সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ এর বংশধর। 
- ১৪৩৫ সালে নাসিরুদ্দীন আবুল মুজাফফর মাহমুদ শাহ উপাধি নিয়ে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- তাঁর সিংহাসনারোহণের ফলে প্রায় তেইশ বছর (১৪১২-১৪৩৫ খ্রি.) বিরতির পর ইলিয়াস শাহী বংশ পুনরায় বাংলার শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শান্তিপ্রিয় লোক ছিলেন। তাঁর রাজত্বকালে বাংলা দিল্লি সালতানাতের সাথে কোন যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয় নি।
 
তাঁর রাজত্বকালে নির্মিত মসজিদগুলির মধ্যে বাগেরহাটের খান জাহানের ষাটগম্বুজ মসজিদ, মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গীপুরে সরফরাজ খানের নির্মিত দুটি মসজিদ (১৪৪৩), গৌড়ের নিকটবর্তী এলাকায় জনৈক হিলালী কর্তৃক নির্মিত মসজিদ (১৪৫৫), ঢাকার বখত বিনত মসজিদ (১৪৫৫) এবং ভাগলপুরে খুরশীদ খানের মসজিদ (১৪৪৬) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
 
 বাগেরহাটে খান জাহান আলীর সমাধিসৌধ এবং হজরত পান্ডুয়ায় জনৈক আল্লামার সমাধিসৌধ তাঁর রাজত্বকালে নির্মিত হয়।
 
উৎস : বাংলাপিডিয়া 
৭,৭৩০.
বাংলাদেশের সরকার কর্তৃক এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হিসেবে কোনটি চিহ্নিত হয়েছে?
  1. নিরক্ষরতা
  2. দুর্নীতি
  3. বেকারত্ব
  4. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
জনসংখ্যা সমস্যা:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম অঙ্গীকার হলো সকল নাগরিকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।
- ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- জনসংখ্যা সমস্যাকে এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে ১৯৭৬ সালে একটি জনসংখ্যা নীতি প্রণয়ন করা হয়।

উল্লেখ্য
- বাংলাদেশের সরকার কর্তৃক এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- ১৯৭৬ সালে তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি জনসংখ্যা বিস্ফোরণকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে ঘোষণা করেন এবং এর সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। 

উৎস: i) পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। [link]
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭৩১.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিলো -
  1. চব্বিশ পরগনা
  2. হুগলী
  3. ফরিদপুর
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন
- উনিশ শতকের প্রথমদিকে হাজী শরীয়তউল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলন শুরু করেন।
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিলো একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের কেন্দ্র ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল। 
- ১৮৪০ সালে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসিন উদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
- ১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৩২.
কোন বিদেশী বণিকরা চট্টগ্রামের নাম রাখেন 'পোর্টো গ্র্যান্ডে'?
  1. পর্তুগিজরা
  2. ওলন্দাজরা
  3. ফরাসিরা
  4. ইংরেজরা
ব্যাখ্যা
চট্টগ্রাম:
- চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও বাণিজ্যিক রাজধানী।[
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে।
- পর্তুগিজরা প্রথমে জন দ্য সিলভিরার নেতৃত্বে ১৫১৭ সালে এবং পরে আলফন্সো দ্য মিলোর নেতৃত্বে ১৫২৭ সালে চট্টগ্রাম দখলের ব্যর্থ চেষ্টা করে। 
- তারা বাংলার সুলতান মাহমুদ শাহকে সাহায্য করার বিনিময়ে তার কাছ থেকে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়েরও অধিকার লাভ করে। 
- এটিকে পর্তুগিজরা পোর্টো গ্র্যান্ডে নামকরণ করেন।
- জোয়াও ডি ব্যারোস ১৫৫২ সালে 'বাংলা রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ধনী শহর' হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। 
- সাতগাঁও বন্দরের নামকরণ হয় ‘পোর্টো পেকুইনে’।
- ১৬৬৫-৬৬ সালে বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম অভিযান করে অতর্কিত আক্রমণে বন্দরটি দখল করে নেন।
- চট্টগ্রাম ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উৎস: Britannica.
৭,৭৩৩.
জাতীয় সংসদের ১নং আসনটি বাংলাদেশের কোন জেলায়?
  1. কক্সবাজার
  2. পঞ্চগড়
  3. রাঙামাটি
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদের ১নং ও ২নং আসন দুটি পঞ্চগড় জেলায়।
২৯৪-২৯৭ নং আসনগুলো কক্সবাজার জেলায়।
২২৯-২৩৪ নং আসনগুলো সিলেট জেলায়
এবং ৩০০ নং আসনটি রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত।
উৎসঃ জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট।
৭,৭৩৪.
'বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল' প্রকল্পটি কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত কার্যক্রম?
  1. পরিকল্পনা
  2. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  3. ডাক ও টেলিযোগাযোগ
  4. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি):
- বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি যা বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল এর চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে।
- এটি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক তথ্য সুপারহাইওয়ে এর সাথে সংযুক্ত রেখেছে।
- এটি বাংলাদেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল অপারেটর।
- বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ২০০৮ এর ৫বি ধারাবলে কক্সবাজারস্থ ল্যান্ডিং স্টেশনসহ এসএমডব্লিউ-৪ সাবমেরিন ক্যাবলকে বিলুপ্ত বিটিটিবি থেকে আলাদা করে “বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)” নামক একটি নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়।
- এটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে আরজেএসসি হতে ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে “বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)” এ পরিবর্তিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি ওয়েবসাইট।
৭,৭৩৫.
সোনারগাঁও এর পূর্ব নাম -
  1. ক) জাহাঙ্গীরনগর
  2. খ) ভুলুয়া
  3. গ) রামপুর বোয়ালিয়া
  4. ঘ) সুবর্ণগ্রাম
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও:
- সোনারগাঁও বাংলার প্রাচীন রাজধানী।
- বর্তমান ঢাকা থেকে ২৭ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সোনারগাঁও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। 
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে। 
- বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন ঈশা খাঁ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়। 
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্যন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী। 
- ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- সোনারগাঁও এর আরেকটি নাম ছিল পানাম।

অন্যদিকে -
- ঢাকার পূর্ব নাম জাহাঙ্গীরনগর।
- নোয়াখালীর পূর্ব নাম ভুলুয়া।
- রাজশাহীর পূর্ব নাম রামপুর বোয়ালিয়া।

উৎস: parjatan.gov.bd.
৭,৭৩৬.
শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন?
  1. ১৯৫৪
  2. ১৯৫৩
  3. ১৯৫৫
  4. ১৯৪৯
ব্যাখ্যা
১৯৫৩
- ৯ জুলাই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে শেখ মুজিব দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
- পাকিস্তান গণপরিষদের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে মওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে ঐক্যের চেষ্টা হয়।
- এই লক্ষ্যে ১৪ নভেম্বর দলের বিশেষ কাউন্সিল ডাকা হয় এবং এতে যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

১৯৫৪
- ১০ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩ আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ১৪৩টি আসন।
- বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের আসনে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ওয়াহিদুজ্জামানকে ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন।
- ১৫ মে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ৩০ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা বাতিল করে দেয়।
- ৩০ মে বঙ্গবন্ধু করাচী থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং গ্রেফতার হন। ২৩ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি লাভ করেন।

১৯৫৫
- ৫ জুন বঙ্গবন্ধু গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে ২১ দফা ঘোষণা করা হয়।
- ২৩ জুন আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা না হলে দলীয় সদস্যরা আইনসভা থেকে পদত্যাগ করবেন।

- ২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ প্রত্যাহার করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
উৎস: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট
৭,৭৩৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় কোন তারিখে?
  1. ৭ এপ্রিল
  2. ১০ এপ্রিল
  3. ১৩ এপ্রিল
  4. ১৮ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৭,৭৩৮.
সিপাহী বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?
  1. স্বত্ববিলোপ নীতি
  2. উচ্চ ভূমি রাজস্ব
  3. এনফিল্ড রাইফেলের টোটা
  4. সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

- এনফিল্ড রাইফেলের টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মেশানোর গুজব সিপাহীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে, যা বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল।

সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য, 
এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
• পরোক্ষ কারণ:
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।

• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৭৩৯.
'নতুন কুঁড়ি' নামক অনুষ্ঠানের রূপকার কে?
  1. মুস্তাফা মনোয়ার
  2. তানভীর কবির
  3. সাগর জাহান
  4. মুস্তফা হায়দার
ব্যাখ্যা
মুস্তাফা মনোয়ার:
- মুস্তাফা মনোয়ার বাংলাদেশের একজন গুণী চিত্রশিল্পী।
- চিত্রশিল্পে স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণ ও বাংলাদেশে নতুন শিল্প আঙ্গিক পাপেটের বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
- গুণী এই শিল্পী জন্মেছিলেন ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলা মহকুমার শ্রীপুর থানার অন্তর্গত নাকোল গ্রামে মাতুলালয়ে।
- মুস্তাফা মনোয়ার টেলিভিশন নাটকে অতুলনীয় কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।
- দ্বিতীয় সাফ গেমসের মিশুক নির্মাণ এবং ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনের লাল রঙের সূর্যের প্রতিরূপ স্থাপনাসহ শিল্পের নানা পরিকল্পনায় তাঁর সৃজনী ও উদ্ভাবনী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
- শিশু প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে বিটিভি থেকে প্রচারিত জনপ্রিয় ‘নতুন কুঁড়ির’ রূপকার তিনি।
- ১৯৭৩ সালে মুস্তাফা মনোয়ার ‘রক্তকরবী’ নাটক তৈরি করেছিলেন।
- তিনি ২০০৪ সালে শিল্পকলায় অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন।
- ১৯৯০ সালে টিভি নাটকের জন্য পান টেনাশিনাস পদক।
- চারুশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। 

উৎস: ১৬ জুন, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৭,৭৪০.
'উন্নত মম শির' চিত্রকর্মটি জুলাই বিপ্লবের কোন শহীদকে নিয়ে অঙ্কিত?
  1. আবু সাঈদ 
  2. মীর মুগ্ধ
  3. রাকিব হাসান 
  4. ফারহান ফাইয়াজ
ব্যাখ্যা

উন্নত মম শির:
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদকে নিয়ে অঙ্কিত শিল্পকর্মের নাম উন্নত মম শির।

⇒ ইতিহাসের অম্লান তরুণ আবু সাঈদকে নিয়ে এই অনবদ্য চিত্রকলা অঙ্কন করেছেন শিল্পী শহীদ কবির।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনের সড়কে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আবু সাঈদ।
- তিনি ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: প্রথম আলো।

৭,৭৪১.
নিচের কোন সংগঠনটি ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে?
  1. বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
  2. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  3. স্বাধীনতা সংগ্রাম কমিটি
  4. ছাত্র ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:

- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭,৭৪২.
তমুদ্দিন মজলিস সংগঠনটি কোন সংগ্রামের সাথে জড়িত?
  1. ছয়দফা আন্দোলন
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. গণঅভ্যুত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৭৪৩.
'নানকার বিদ্রোহ' কোন অঞ্চলের আন্দোলন ছিল?
  1. সিলেট
  2. রংপুর
  3. রাজশাহী
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
নানকার বিদ্রোহ:
- 'নানকার বিদ্রোহ' সিলেট অঞ্চলের একটি কৃষক-আন্দোলন, যা ১৮ আগস্ট ১৯৪৯ সালে সংঘটিত হয়।
- জমিদারের ভূমিদাসদের একটি প্রথাকে 'নানকার প্রথা' বলা হতো।
- বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ১৯৫০ সালে জমিদারপ্রথা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
- নানকার ছিল এক বর্বর শ্রম শোষণের প্রথা।
- 'নান' ফারসি শব্দ, এর অর্থ রুটি এবং 'কার' অর্থ জোগান বা কাজ করা; অর্থাৎ 'নানকার' শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয় সেসব কর্মীকে, যারা খাবারের বিনিময়ে কায়িক শ্রম দান করেন।
- এই নানকার প্রজারা ছিল ভূমিমালিকের হুকুমদাস; প্রজাই নয়, তাদের স্ত্রী-সন্তানরাও বংশানুক্রমে ভূমিমালিকের দাস হতো।

উল্লেখ্য, 
নাচোল বিদ্রোহ: - নাচোল উপজেলার জমিদারদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল কৃষকদের বিদ্রোহের নেত্রীর নাম ইলা মিত্র।
-কিংবদন্তিতুল্য কৃষক নেত্রী ইলা মিত্রের নেতৃত্বে ১৯৪৯-৫০ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত নাচোল উপজেলার জমিদারদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল কৃষকদের বিদ্রোহ সংঘটিত হয় যা ইতিহাসে নাচোল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। 

নীল বিদ্রোহ: - নীল চাষীদের উপর কোম্পানীর ক্রমাগত অত্যাচারের ফলে নীল চাষিরা ১৮৫৯ সালে বিদ্রোহ করে। ১৮৫৯-৬০ সাল নীল বিদ্রোহের সময়।
-১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার নীল কমিশন গঠন করে এবং কমিশনের সুপারিশে নীল চাষের বিষয়টি কৃষকের ইচ্ছাধীন বলে ঘোষনা করে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক। [লিঙ্ক] ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
৭,৭৪৪.
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে কত তারিখে?
  1. ক) ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর
  2. খ) ১৯৭১ সালের ২০শে নভেম্বর
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২১শে মার্চ
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ২৫শে নভেম্বর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর। 

- বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ।
- বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশ, যে দেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত আমাদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে।
- বিশেষভাবে ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- পাকিস্তান ৩রা ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- ৬-১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয় ৷

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি। 
৭,৭৪৫.
কোন আমলে ফরাসি পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ভারতে এসেছিলেন?
  1. পাল আমলে
  2. মৌর্য আমলে
  3. গুপ্ত আমলে
  4. মুঘল আমলে
ব্যাখ্যা
ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার:
- ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক এবং ভ্রমণকারী।
- তিনি ১৬৫৬ ও ১৬৬৮ সালের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।
- মুঘল আমলে প্রায় ১২ বছর তিনি ভারতে ছিলেন।
- হিন্দুস্থানের সম্রাট, আমীর ওমরাহ থেকে সকল শ্রেণির মানুষের জীবন, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি, এমন কি সতীদাহ পর্যন্ত নিজের চোখে দেখেছেন।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট শাহজাহান এর পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে দারাকে বন্দি করে কুচকাওয়াজ সহকারে অসম্মানজনকভাবে রাস্তা দিয়ে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বার্নিয়ার সেই সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন।
- বার্নিয়ারের মূল ভ্রমণবৃত্তান্ত ফরাসি ভাষায় লিখিত ও প্রকাশিত।
- Travels in The Mogul Empire, AD 1656-68 শিরোনামে আরচিবল্ড কনস্টেবল (Archibald Constable) পুস্তকটি ১৮৯১ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ও ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- সেই সময় থেকে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় পুস্তকটি অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৪৬.
হযরত শাহজালাল কোন শাসকের রাজত্বকালে বাংলায় আসেন?
  1. রুকনুদ্দিন কায়কাউস
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  4. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
- সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের শাসনামলে বিখ্যাত সুফি ব্যক্তিত্ব হযরত শাহ জালাল বাংলায় আসেন।
- শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের সিলেট অভিযানকালে হযরত শাহ জালাল তাঁর সাথে মিলিত হয়ে সিলেটের রাজা গৌরগোবিন্দকে পরাজিত করেন।
- সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের সময় একদিকে রাজত্বের সীমানা বৃদ্ধি পেয়েছিল অপরদিকে এসময় বাংলায় ইসলাম প্রচারের গতিও বেড়ে যায়।
- বিশেষ করে হযরত শাহজালালের কারণে সিলেট অঞ্চলে ইসলামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার হয়।
[সূত্র- বাংলাপিডিয়া]
৭,৭৪৭.
কোন শাসনামলে বাংলাভাষী অঞ্চল ‘বাঙ্গালা’ নামে পরিচিতি লাভ করে?
  1. মৌর্য
  2. মুসলিম
  3. পাল
  4. সেন
ব্যাখ্যা

বাংলাভাষী অঞ্চলটি 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিতি লাভ করে মূলত শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৪ শতকের মাঝামাঝি) এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সালতানাতের আমলে, যখন তিনি সমগ্র বাংলা অঞ্চলকে একত্রিত করে 'শাহ-ই-বাঙ্গালা' বা 'সুলতান-ই-বাঙ্গালা' হিসেবে পরিচিতি পান। 

বাংলাদেশের ইতিবৃত্ত:
- আজকের বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিম বাংলার অধিকাংশ এলাকাকে প্রাচীনকালে বলা হতো 'বাংলা'।
- তবে প্রাচীন যুগে এই সম্পূর্ণ দেশটির একক নাম বাংলা ছিল না।
- হিন্দু ও বৌদ্ধদের শাসনকালে এই দেশ অনেকগুলো অংশে বিভক্ত ছিল।
- প্রত্যেকটি অংশের ছিল ভিন্ন ভিন্ন নাম।
- মধ্যযুগে যখন এদেশে মুসলমান শাসকদের অধিকারে আসে তখন থেকে দেখা যায় দেশটির নামের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসছে।
- বাংলা ভাষায় কথা বলা লোকেরা যে অঞ্চলে বাস করত এসময়ে তারই নাম হয় বাংলা।

⇒ মুসলমান শাসন যুগ অর্থাৎ মধ্য যুগের শুরুর দিকে মুসলিম শাসক ও ইতিহাস লেখকগণ 'বঙ্গ বা বাঙলা (বাংলা)' বলতে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাকে বুঝাতেন। এ যুগের সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াসশাহ প্রথম পুরো বাংলাকে নিজের অধিকারে আনেন। ইতিহাস লেখকগণ তখন তাঁকে উপাধি দেন 'শাহ-ই-বাঙ্গালা' এবং 'সুলতানই বাঙ্গালা'।
- এ সময় থেকেই পুরো দেশটি বাংলা নামে পরিচিত হয়। রাঢ় ও লক্ষণাবতীর (গৌড়) লোকেরা ইলিয়াস শাহের সময় থেকেই বাঙালি বলে পরিচিত হতে থাকে।

⇒ অনেককাল পরে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজদের অধিকারে চলে যায় এদেশ।
- ধীরে ধীরে পুরো ভারতের ক্ষমতা দখল করে ইংরেজরা।
- আমাদের এদশেটি ব্রিটিশদের একটি প্রদেশে পরিণত হয়।
- ইংরেজরা তখন এই প্রদেশকে বলত 'বেঙ্গল'। বেঙ্গল নামটি ছিল ইংরেজি ভাষায় আর বাংলা ভাষায় বলা হতো বাংলাদেশ। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটো দেশের জন্ম হয়। এ সময় পূর্ব বাংলা হয়ে যায় পাকিস্তানের অংশ আর পশ্চিম বাংলা হয় ভারতের অংশ। পরে পূর্ব বাংলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় পূর্ব পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকে দুই অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য, জাতিগত এবং সংস্কৃতিগত স্বতন্ত্র সত্তাগুলো ক্রমশ প্রকট হতে থাকে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ স্বাধীন হওয়ার আকঙ্ক্ষায় ১৯৭১ এর ২৬ মার্চে ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। তখন থেকে এদেশবাসী তাদের দেশেন নাম দেয় 'বাংলাদেশ'। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে। তখন থেকে 'বাংলাদেশ' একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাম হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৭৪৮.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্যে ছিল-
  1. বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিশ্রুতি
  2. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. দ্রব্যমূল্য হ্রাস কর্মসূচি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের কর্মসূচি:
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্যে পূর্ববাংলার সাধারণ কৃষক-শ্রমিক সকলের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছিল।
- যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার জনগণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
• যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার: 
- বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিশ্রুতি,
- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, দ্রব্যমূল্য হ্রাস কর্মসূচি ।

অন্যদিকে,
- মুসলিম লীগ স্বায়ত্তশাসন, বাংলা ভাষা বিরোধী ভাবমূর্তি গড়ে তোলে।
- মুসলিম লীগ কেবল এই প্রচার চালায় 'ইসলাম বিপন্ন'।
- মুসলিম লীগের মুখপত্র দৈনিক আজাদ যথার্থই এ দলের পরাজয়ের জন্য বাংলাভাষা প্রশ্নকে সঠিকভাবে মোকাবেলা না করা, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের প্রতি অবহেলা,
- পূর্ববাংলার অর্থনৈতিক দুর্গতি, সাধারণ জনগণ থেকে মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের বিচ্ছিন্নতাকে দায়ী করে।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগ নেতাদের বিভিন্ন দুর্নীতি, দোষ-ত্রুটি জনগণের সামনে উপস্থাপন করে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৭৪৯.
১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলার প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম আসন সংখ্যা ছিল কতটি? 
  1. ২২৩টি
  2. ২২২টি
  3. ৩০০টি
  4. ২৩৭টি
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট গঠন: 
-  ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
-  যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে।
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসলিম আসন ছিল।
- যুক্তফ্রন্ট পায় ২২৩টি।
- মুসলিম লীগ মাত্র ১টি আসন লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৭৫০.
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কোন কূটনীতিক প্রথম বাংলাদেশ বিষয়ে মার্কিন নীতির সমালোচনা করেন?
  1. ক) আর্চার ব্লাড
  2. খ) এডওয়ার্ড কেনেডি
  3. গ) মনডেল
  4. ঘ) গালাকার
ব্যাখ্যা
সরকারি আমলাদের ভূমিকা

মার্কিন প্রশাসনের অন্দরমহলের কিছু আমলা বিশেষ করে পররাষ্ট্র দপ্তরের কিছু আমলা এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কর্মচারীগণ মার্কিন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বা পাকিস্তান ঘেঁষা নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। 

ঢাকার কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড ১৯ জন কূটনীতিবিদের স্বাক্ষরসহ ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দপ্তরকে এক কড়া পত্রে জানান যে, 'মার্কিন নীতি শুধু নৈতিকভাবেই অগ্রহণযোগ্য নয়, বরং মার্কিন স্বার্থেরও পরিপন্থী।'


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭৫১.
”জাতীয় চিত্রশালা বাংলাদেশ” কোথায় অবস্থিত?
  1. সাভার
  2. আগারগাঁও
  3. শাহবাগ
  4. সেগুনবাগিচা
ব্যাখ্যা

 শিল্পকলা একাডেমি:
- বাংলাদেশের 'ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি (জাতীয় চিত্রশালা)' সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমীতে অবস্থিত।
-  বাংলাদেশের শিল্পকলা একাডেমির একটি চারুকলা গ্যালারি।
- এতে জয়নুল আবেদিন এবং কামরুল হাসানের মতো জাতীয় শিল্পীদের শিল্পকর্ম রয়েছে।
- রূপকল্প - শিল্প সংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ।
- বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বাংলাদেশে সংস্কৃতিচর্চার একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ওয়েবসাইট।

৭,৭৫২.
বঙ্গবন্ধুর মায়ের নাম কী?
  1. ক) বেগম ফজিলাতুন্নেসা
  2. খ) সায়েরা খাতুন
  3. গ) শাহেদা আক্তার
  4. ঘ) রাবেয়া বেগম
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর মায়ের নাম : সায়েরা খাতুন
পিতার নাম : শেখ লুৎফর রহমান
দাদার নাম : শেখ আবদুল হামিদ
নানার নাম : শেখ আবদুল মজিদ
স্ত্রীর নাম : বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব (রেণু)।

(তথ্যসূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
৭,৭৫৩.
বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়-
  1. ক) ২ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
  3. গ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• পতাকা:
- প্রথম পতাকা উত্তোলন ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- প্রথম নকশাকার – শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)
- প্রথম আনুষ্ঠানিক উত্তোলন – ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন – কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত – ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
৭,৭৫৪.
'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে? 
  1. তারেক মাসুদ
  2. আলমগীর কবীর
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. মুস্তফা মনোয়ার
ব্যাখ্যা

মাটির ময়না:
- ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগে, স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে পূর্ব পাকিস্তানের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র মাটির ময়না।
- এটি একটি পরিবারের গল্প, যেখানে ধর্মীয় গোঁড়ামি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, এবং মানবিকতার সংঘাত ও সমন্বয় অপূর্ব নান্দনিকতায় উঠে এসেছে।
- এর পরিচালক তারেক মাসুদ।
- চলচ্চিত্রটি ২০০২ সালে মুক্তি পায়।
- কান চলচ্চিত্র উৎসবে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতেছিল চলচ্চিত্রটি।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হলেও মাদ্রাসা শিক্ষা, ধর্মানুভূতি-ধর্মান্ধতার মতো বিষয় উঠে আসায় একুশ শতকেও ছবিটি অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক।

⇒ ‘মাটির ময়না’ (২০০২) তারেক মাসুদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
- এ ছবির জন্য তিনি ২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ডিরেক্টরস ফোর্থনাইটসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো

৭,৭৫৫.
উইং কমান্ডার এম.কে. বাশার মুক্তিযুদ্ধের কততম সেক্টর প্রধান ছিলেন?
  1. ক) 5
  2. খ) 6
  3. গ) 7
  4. ঘ) 8
ব্যাখ্যা
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ৬ নং সেক্টর গঠিত হয়েছিল।
- প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- ৬নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৫৬.
বাংলাকে ”জান্নাতবাদ” নাম ঘোষণা করেন-
  1. মুঘল সম্রাট আকবর
  2. মুঘল সম্রাট হুমায়ুন
  3. মুঘল সম্রাট বাবর
  4. মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন:
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুন প্রায় ৯ মাস  বাংলায় অবস্থান করেন এবং আবহাওয়া চমৎকার লাগায় বাংলাকে জান্নাতাবাদ নাম ঘোষণা করেন।
- হুমায়ুনের রাজত্বকাল দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্ব: ১৫৩০-১৫৪০খ্রিস্টাব্দ।
- দ্বিতীয় পর্ব: ১৫৫৫-১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ।
- মুঘল বংশের দ্বিতীয় শাসক।
- মধ্যখানে ১৫৪০-১৫৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি শের শাহের কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে পারস্য আশ্রিত ছিলেন।
- ১৫৩৯ সালে চৌসার যুদ্ধে এবং ১৫৪০ সালে কনৌজের যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন।
- ১৫৫৫ সালে পারস্যর সহায়তায় তিনি মোঘল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন।
- কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত ১৫৫৬ সালে ২৬ জানুয়ারি গ্রন্থাগারের সিঁড়ি থেকে পরে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

⇒অপরদিকে,
- মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও তার পিতা বাবর।
- হুমায়ুনের পুত্র মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট আকবর।
- সম্রাট জাহাঙ্গির নিজের নামে মুদ্রা প্রচলন করেন।

উৎস: ¡) ইতিহাস ১ম পত্র: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ¡¡)  বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৫৭.
বর্তমানে বীরপ্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ৪২৩ জন
  2. ৪২৪ জন
  3. ৪২৫ জন
  4. ৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৫৮.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস
  2. একুশে ফেব্রুয়ারি
  3. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু
  4. একুশের গল্প
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
- সে সময় মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতারা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মতামত দেন।
- তখনই আবদুল হক ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ বাংলার বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী ও লেখকগণ এর প্রতিবাদ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন  তমুদ্দুন মজলিস গঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দিন মজলিশ।
- তমুদ্দুন মজলিস ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে। 
- যেখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭,৭৫৯.
'কোটিবর্ষ' কোন জনপদের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল?
  1. রাঢ়
  2. গৌড়
  3. সমতট
  4. পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা
রাঢ়:
- বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস থেকে বলা যায় যে, রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- তবকত-ই-নাসিরীর বর্ণনায়ও গঙ্গার দক্ষিণে রাঢ়ের অবস্থান নির্দেশিত হয়েছে।
- এই জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
• দক্ষিণ রাঢ়।
• উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূহ্মদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।

প্রাচীন জনপদের রাজধানী:
- গৌড় জনপদের রাজধানী: কর্ণসুবর্ণ।
- সমতট জনপদের রাজধানী: বড়কামতা।
- পুণ্ড্র জনপদের রাজধানী: পুণ্ড্রনগর/পুণ্ড্রবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭৬০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য অপরাজেয় বাংলা-এর স্থপতি কে ছিলেন?
  1. সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ
  2. হামিদুজ্জামান
  3. শ্যামল চৌধুরী
  4. তানভীর কবির
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় বাংলা:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য অপরাজেয় বাংলা।
- অপরাজেয় বাংলার স্থপতি সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ
- ভাস্কর্যটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সম্মুখ প্রাঙ্গনে অবস্থিত।
- ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর এটি উদ্বোধন করা হয়।
- অপরাজেয় বাংলা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,৭৬১.
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয় কোথায়?
  1. ক) মুজিবনগর
  2. খ) পল্টন ময়দান
  3. গ) রেসকোর্স ময়দান
  4. ঘ) কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে বিকালে ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল ছাত্র জনসভা।
- এ সভায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ বঙ্গবন্ধুর সামনে পাঠ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার এবং সভার ঘোষণাপত্র ও প্রস্তাব পাঠ করেন এম এ রশিদ।  

তথ্যসূত্র:- অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
৭,৭৬২.
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় -
  1. ১ মার্চ
  2. ২ মার্চ
  3. ৩ মার্চ
  4. ৪ মার্চ
ব্যাখ্যা
একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে ২ মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে লাগাতারভাবে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
- যা ইতিহাসে 'মার্চের অসহযোগ আন্দোলন' নামে পরিচিত হয়ে আছে।
- ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে দিগনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- এছাড়া আওয়ামী লীগ বিভিন্ন নির্দেশের মাধ্যমে এ আন্দোলন পরিচালনা করে।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- কিন্তু সরকার গঠনে আহবান জানানোর পরিবর্তে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমান এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক' আখ্যা দেন এবং এর প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন।

উল্লেখ্য,
- শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন ১ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে।
- ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় ২ মার্চ তারিখে। সেদিন শুধু ঢাকায় এই আন্দোলন শুরু হয়।
- সমগ্র বাংলাদেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় ৩ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে।

[বিস্তারিত জানার জন্য Live MCQ তথ্যকল্পদ্রুম-৩১ দেখুন।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৬৩.
কোন রাজার শাসনামলে নালন্দা মহাবিহার প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. প্রথম কুমারগুপ্ত
  2. হর্ষবর্ধন
  3. ধর্মপাল
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা

নালন্দা মহাবিহার:
- প্রাচীন ভারতের খ্যাতনামা বৌদ্ধ মহাবিহার নালন্দা।
- বিহার প্রদেশের পাটনা থেকে ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং বিহার শরিফ শহরের কাছে এর অবস্থান।
- সাত শতকে নালন্দা মহাবিহার প্রসিদ্ধি অর্জনকারী বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র।
- ধারণা করা হয়, গুপ্ত সম্রাটরা এ মহাবিহারের নির্মাতা।
- নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রথম কুমারগুপ্তের রাজত্বকালে (৪১৫-৪৫৫ খ্রিষ্টাব্দ) ৪২৭ খ্রিষ্টাব্দে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- নালন্দার নাম ব্যাখ্যা করে অভয় কে বলেছিলেন, এটি 'নালম' (পদ্ম যা জ্ঞানের প্রতীক) এবং 'দা' (যার অর্থ দেওয়া)-র সংমিশ্রণ থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো জ্ঞানের সম্প্রসারণ।
- স্কন্দগুপ্তের রাজত্বকালে (৪৫৫-৪৬৭ খ্রিষ্টাব্দ) মিহিরকুলের নেতৃত্বে হুনরা নালন্দাকে প্রথমবার ধ্বংস করে। 

⇒ পঞ্চম শতাব্দী থেকে ১২০০ শতাব্দী পর্যন্ত এটি ছিল একটি বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র। 
- বিহারটি সম্পর্কে জানা যায় পর্যটক জুয়ান জাং ও ইজিংয়ের লেখা ভ্রমণ-বিবরণী থেকে।
- তাঁরা সপ্তম শতাব্দীতে নালন্দায় ভ্রমণ করেন।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং পড়াশোনার জন্য এখানে কয়েক বছর অতিবাহিত করেন।
- নালন্দার পন্ডিতগণ ছিলেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিখ্যাত।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দায় ছিলেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ।
- শীলভদ্র ছিলেন সর্বপ্রথম বাঙালি বৌদ্ধ শিক্ষক যিনি বাংলার বাইরে এরূপ দুর্লভ সম্মান অর্জন করেন।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে বিহারটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) BBC.

৭,৭৬৪.
ভারত ছাড় আন্দোলনের সূচনা হয় কত সালে?
  1. ১৯৪২ সালে
  2. ১৯৪৩ সালে
  3. ১৯৪৪ সালে
  4. ১৯৪৫ সালে
ব্যাখ্যা

ভারত ছাড় আন্দোলন:
- ১৯৪২ সাল ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন।
- ইংরেজ সরকার কোনোভাবেই ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে রাজি ছিল না।
- সরকার এই আন্দোলন দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল।
- ঐ দিনই মধ্য রাতে কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ গান্ধীজি, আবুল কালাম আজাদ, জওহরলাল নেহরুসহ অনেকে গ্রেফতার হন।
- কংগ্রেসকে বেআইনি ঘোষণা করা হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় সব নেতা কারাগারে বন্দি হন।
- নেতৃবৃন্দের গ্রেফতারের কারণে অহিংস আন্দোলন ভয়াবহ সহিংস আন্দোলনে পরিণত হয়।
- ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (বোম্বাইর) অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং পরপরই যতদূর সম্ভব ব্যাপকভাবে অহিংস পথে গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৬৫.
ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা সদস্যরা মূলত কোন এলাকায় অপারেশন পরিচালনা করত?
  1. সীমান্ত এলাকায়
  2. কক্সবাজারে
  3. চট্টগ্রামে
  4. ঢাকায়
ব্যাখ্যা
'ক্র্যাক প্লাটুন':
- মুক্তিযুদ্ধে স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ।
- এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নং সেক্টরের অধীন অংশ নেয়।
- ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দার।
- ঢাকা শহরে এটি ৮২ টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- এরা "হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে তাঁদের অপারেশন পরিচালনা করতো।
- এই প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন:
- শহীদ জননী জাহানার ইমাম, শহীদ রুমি ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, পপ সম্রাট আজম খান প্রমুখ।
 
 উৎস:  বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভস, দ্যা দেইলি স্টার বাংলা।
৭,৭৬৬.
১৯৭১ সালে 'অপারেশন সার্চ লাইট'-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কে ছিলেন?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. মেজর খাদিম হোসেন রাজা
  3. মেজর রাও ফরমান আলী
  4. লে. জে. টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চ লাইট:
- সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন: গভর্নর লে. জে. টিক্কা খান।
- ঢাকা শহরের দায়িত্বে: মেজর রাও ফরমান আলী।
- ঢাকার বাইরে দায়িত্বে: মেজর খাদিম হোসেন রাজা।
- ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের সাথে সমঝোতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেনারেলসহ ঢাকায় আসেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ - ২৪ মার্চ পর্যন্ত মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক চলে।
- ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইট-এ' অংশগ্রহণ করে।
- তারা ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা সংগঠিত করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭৬৭.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য কতজনকে বীরপ্রতীক খেতাব প্রদান করা হয়েছিল?
  1. ৬৮
  2. ১৭৫
  3. ৪২৬
  4. ৬৭৬
ব্যাখ্যা
• বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৭,৭৬৮.
’জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ কোন ক্লাস পর্যন্ত সম্প্রসারনের কথা উল্লেখ করেন?
  1. ষষ্ঠ শ্রেণি
  2. পঞ্চম শ্রেণি
  3. অষ্টম শ্রেণি
  4. সপ্তম শ্রেণি
ব্যাখ্যা
• জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ :

• প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা:
- শিশুদের জন্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করার আগে শিশুর অন্তর্নিহিত অপার বিস্ময়বোধ, অসীম কৌতুহল, আনন্দবোধ ও অফুরন্ত উদ্যমের মতো সর্বজনীন মানবিক বৃত্তির সুষ্ঠু বিকাশ এবং প্রয়োজনীয় মানসিক ও দৈহিক প্রস্তুতিগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। 
- কাজেই ৫+ বছর বয়স্ক শিশুদের জন্য প্রাথমিকভাবে এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হবে।
- পরবর্তীকালে তা ৪+ বছর বয়স্ক শিশু পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। 

• প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ও বাস্তবায়ন :
- প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে আট বছর অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সম্প্রসারন করা হবে। এটি বাস্তবায়নে দু'টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অবকাঠামোগত আবশ্যকতা মেটানো এবং প্রয়োজনীয়সংখ্যক উপযুক্ত শিক্ষকের ব্যবস্থা করা
• ২০১১-১২ অর্থ বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত চালু করার জন্য অনতিবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে:
- প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার নতুন শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষক নির্দেশিকা প্রণয়ন করা:
- প্রাথমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষকের জন্য শিক্ষাক্রম বিস্তারসহ শিখন-শেখানো কার্যক্রমের ওপর ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা;
- শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাস করা।

উৎস : জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০
৭,৭৬৯.
অপারেশন সার্চলাইটের নীলনকশা তৈরি করেন- 
  1. রাও ফরমান আলী
  2. গোলাম মুহাম্মদ
  3. টিক্কা খান
  4. ক+গ
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইট:
- ১৮ই মার্চ ১৯৭১ সালে টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন।
- ১৯শে মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্রীকরণ শুরু হয়।
- ২০শে মার্চ সরকার অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ জারি করে।
- ঐ দিন জেনারেল ইয়াহিয়া খান তার সামরিক উপদেষ্টা হামিদ খান, জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল পিরজাদা, জেনারেল ওমর প্রমুখকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সামরিক প্রস্তুতিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন।
- এ সময় প্রতিদিন ৬টি থেকে ১৭টি পর্যন্ত পিআইএ ফ্লাইট বোয়িং ৭০৭ বিমান সৈন্য ও রসদ নিয়ে ঢাকা আসে এবং অসংখ্য সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই হয়ে আসা জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে অপেক্ষা করে।
- ২৪শে মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে এম ভি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র ও রসদ খালাস শুরু হয়।
- ২৫শে মার্চ গণহত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম, শ্রেণি।

৭,৭৭০.
নিচের কোন ব্যক্তি ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান আন্দোলনের শহীদ নন?
  1. জহুরুল হক
  2. বরকত
  3. মতিউর
  4. আসাদ
ব্যাখ্যা
বরকত ছিলেন ভাষা আন্দোলনের শহীদ।

ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান:    

- ডাকসুর আহ্বানে ১৯৬৯ সালের ১৪ই জানুয়ারি সমগ্র পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়। 
- ২০শে জানুয়ারি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্ররা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালন করেন।
- হরতাল  পালনকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। 
- আসাদের হত্যার প্রতিবাদে ২২, ২৩ ও ২৪ তারিখে ব্যাপক কর্মসূচী ঘোষিত হয়। 
- আবারও পুলিশের গুলিতে ২৪শে জানুয়ারি নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর নিহত হয় এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়।
- আউয়ুব গেইটের নাম করা হয় আসাদ গেইট এবং বঙ্গভবনের সামনের উদ্যানের নাম করা হয় মতিউর রহমান শিশু উদ্যান।
- ২৪শে জানুয়ারির পর থেকে লাগাতার আন্দোলন ও হরতালে বহু মানুষ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত ও আহত হয় ।
- ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- ১৮ই ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে বেয়োনেট চার্জ করে হত্যা করে।
- ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যিন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং এর মাধ্যমেই গণঅভ্যুত্থানের সমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য,
- ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস এর রচিত উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭)।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৭৭১.
আইয়ুব খান গণঅভ্যুত্থান ঠেকানোর জন্য ১৯৬৯ সালে গোল টেবিল বৈঠক আহ্বান করেন -
  1. ক) লাহোর
  2. খ) রাওয়ালপিন্ডি
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) করাচি
ব্যাখ্যা
গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য

- ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন পাকিস্তানের রাজনীতিতে বিশেষ করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ গণআন্দোলনের ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদ সুসংগঠিত হয়ে ওঠে। এ আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচার বিরোধী মানসিকতা জনগণের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত হয়। জনগণ সর্বস্ব ত্যাগ স্বীকারের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়।

- আন্দোলনের তীব্রতায় আইয়ুব সরকার জনগণের নিকট নতি স্বীকার করে এবং ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাওয়ালপিন্ডিতে একটি সর্বদলীয় গোল টেবিল বৈঠক ডাকতে বাধ্য হন। এ গোলটবিল বৈঠকে তিনটি বিষয়ে নেতৃবর্গ ঐকমত্যে পৌঁছান। যথা-

- যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন পদ্ধতির প্রবর্তন,
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং
- প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭৭২.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন-
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. জেনারেল এম এ জি ওসমানী
  3. কর্নেল এম এ রব 
  4. এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগরের পূর্বনাম ছিলো - বৈদ্যনাথতলা।
-  শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন - অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে পদাধিকারবলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন - শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রবাসী সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমদ।
- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন - জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- এবং মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া

৭,৭৭৩.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনবার্সন মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমদ
  3. গ) এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
  4. ঘ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,৭৭৪.
প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন' মুক্তি পায় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

ওরা এগারো জন:
- প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন'।
- চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭২ সালে।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা এগারো জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।

৭,৭৭৫.
স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. বিদেশি শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়
  2. বিলেতি শিক্ষা গ্রহন করা হয়
  3. বিলেতি পণ্য বর্জন
  4. হিন্দু-মুসলমানের হাজার বছরের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে
ব্যাখ্যা

স্বদেশী আন্দোলন:
- ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হবার পর বিপ্লবী তৎপরতার মাধ্যমে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকেই স্বদেশি আন্দোলন বলা হয়।
- এ আন্দোলনের মূল কর্মসূচি ছিল দুইটি-বয়কট ও স্বদেশী।
- 'বয়কট' আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন।
- বয়কট শুধু বিলেতি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বিলেতি শিক্ষা বর্জনও কর্মসূচিতে যুক্ত হয়।
- এই আন্দোলনের আরেকটি ইতিবাচক দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। 
- এর ফলে দেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা স্থাপনের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- বাংলার ধনী ব্যক্তিরা কলকারখানা স্থাপন করতে থাকেন।

• স্বদেশি আন্দোলনের অন্যতম দিক হচ্ছে, এই আন্দোলনের কারণে হিন্দু-মুসলমানের হাজার বছরের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
- বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে ভাঙন শুরু হয় স্বদেশি আন্দোলনের মাধ্যমে তা আরো তিক্ত হয়। 
- ফলে সম্পর্কের এই ভাঙন এতদঞ্চলের রাজনীতি, সমাজ ও জাতীয় কর্মকাণ্ডের সকল ক্ষেত্রে সর্বাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে থাকে,
- যা শেষ হয় ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের মধ্য দিয়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৭৭৬.
ভারত বাংলাদেশকে কত তারিখে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. ৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান:
- ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৬ ডিসেম্বর গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল একটি দিন।
- এদিন প্রথম দেশ হিসেবে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- লোকসভার অধিবেশনে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দানের ঘোষণা করেন।
- এসময় লোকসভার সদস্যরা দাঁড়িয়ে ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষণাকে স্বাগত জানান।
- একইসঙ্গে লোকসভার অধিবেশনে হর্ষধ্বনির সঙ্গে 'জয় -বাংলা' স্লোগান উচ্চারিত হয়।
- এদিন ইন্দিরা গান্ধী অধিবেশনে তার বক্তব্যে বলেন, 'বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানি স্বৈরতান্ত্রিক ও গণহত্যা নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।'

উল্লেখ্য,
- একই দিনে ভুটান ও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উৎস: ৬ ডিসেম্বর, ২০২১, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৭,৭৭৭.
'Stop Genocide' প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটির স্থায়িত্বকাল কত মিনিট?
  1. ২০ মিনিট
  2. ৪৮ মিনিট
  3. ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট
  4. ১ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট
ব্যাখ্যা
Stop Genocide:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র Stop Genocide.
- নির্মাতা জহির রায়হান।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়।
- মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া স্টক ফুটেজ ও নিউজ রিলের ছবির ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় স্টপ জেনোসাইড।
- একজন চলচ্চিত্র-নির্মাতা হিসেবে জহির রায়হান দুনিয়ার মানুষকে বাংলাদেশে চলতে থাকা গণহত্যার খবর জানান দেওয়ার এক বড় দায়িত্ব কাঁধে নেন।
- বিভিন্ন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে লেনিনের একটি বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় ছবিটি।
- ২০ মিনিটের এই ছবিতে বাংলাদেশের মানুষ আছে, এর প্রকৃতি আছে, আছে পাকিস্তানিদের অত্যাচার, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগের দৃশ্য।

উল্লেখ্য,
- জহির রায়হান চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর লিখিত অন্যান্য বইগুলি হচ্ছে শেষ বিকেলের মেয়ে, হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী এবং আর কত দিন।
- তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
৭,৭৭৮.
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন কে?
  1. গোলাম মোহাম্মদ
  2. মোহাম্মদ আলী বগুড়া
  3. চৌধুরী খালিকুজ্জামান
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল 'যুক্তফ্রন্ট' নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। যথা:
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি: শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি: মওলানা আতাহার আলী।
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল: হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

→ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র- এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার- আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী- আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প - সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হয়।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৭,৭৭৯.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ৫ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর রফিকুল ইসলাম
  2. মেজর মীর শওকত আলী
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. মেজর খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

⇒ ৫ নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।
- হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

উল্লেখ্য,
• ১নং সেক্টর: সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
• ২ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
• ৩ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
• ৪নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।
• ৬ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
• ৭ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
• ৮ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
• ৯ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।
• ১০ নং সেক্টর: নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
• ১১ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৮০.
নীল কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন কে?
  1. ক) রেভারেন্ড জে. সেল
  2. খ) ডব্লিউ এফ. ফারগুসন
  3. গ) ডব্লিউ এস. সিটনকার
  4. ঘ) চন্দ্রমোহন চ্যাটার্জী
ব্যাখ্যা
নীল বিদ্রোহের ফলে ব্রিটিশ সরকার ১৮৬০ সালের ৩১শে মার্চ নীল কমিশন গঠন করে। নীল কমিশনের সদস্যরা হলেন:
ডব্লিউ এস. সিটনকার - চেয়ারম্যান
রেভারেন্ড জে. সেল - মিশনারী প্রতিনিধি
ডব্লিউ এফ. ফারগুসন - নীলকরদের প্রতিনিধি
আর টেম্পল - সরকারি প্রতিনিধি
চন্দ্রমোহন চ্যাটার্জী - জমিদারদের প্রতিনিধি।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭,৭৮১.
ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম কী?
  1. গুপ্ত সাম্রাজ্য
  2. মৌর্য সাম্রাজ্য
  3. মগধ সাম্রাজ্য
  4. পাল সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা

• চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য :
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
       ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৭৮২.
Stop Genocide প্রামাণ্য চিত্রের নির্মাতা কে?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. জহির রায়হান
  4. তারেক মাসুদ
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র Stop Genocide নির্মাণ করেন জহির রায়হান।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়। এটি মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত ফুটেজের একটি সম্পাদনা।
- এটিতে বাঙালিদের উপর পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)
৭,৭৮৩.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) অনীল বাগচীর একদিন
  3. গ) দণ্ডকারণ্য
  4. ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক। বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক-
রাজার জন্মদিনে, চিঠি, দণ্ডকারণ্য, পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য, মানুষ, নষ্ট ছেলে, মিলিটারি, আপনি কে? ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৭৮৪.
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কত বছর কার্যকর ছিল?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ সালের সংবিধান:

- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়।
- এই সংবিধান কার্যকর ছিল মাত্র দুই বছর।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করলে সংবিধান স্থগিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,৭৮৫.
কোন রাজবংশের শাসনামলে ‘আনন্দবিহার’ তৈরি হয়?
  1. দেব বংশ
  2. সেন বংশ
  3. পাল বংশ
  4. চন্দ্র বংশ
ব্যাখ্যা

আনন্দবিহার:
- আনন্দবিহার প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে সমৃদ্ধ কুমিল্লার নিকটবর্তী কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
- এ বিহার ময়নামতিতে আবিষ্কৃত সৌধমালার মধ্যে সর্ববৃহৎ।
- এ এলাকার সর্ববৃহৎ পুষ্করিণীসহ আনন্দবিহার কমপ্লেক্সটি সাত শতকের শেষ বা আট শতকের প্রথম দিকের কোনো এক সময়ে প্রথম দেববংশের তৃতীয় শাসক শ্রী আনন্দ দেব কর্তৃক নির্মিত হয়।

⇒ দেববংশীর রাজা ভবদেব এই বিহারটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঐ সময় বিহারটি এশিয়ার জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিগণিত হয়।
- সেই সময় একে বিশ্বিবদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়।
- তার প্রমাণ হলো, বিখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং আনন্দ বিহারে আসেন এবং তিনি এখানে প্রায় ৪০০০ ভিক্ষু ও ময়নামতি অঞ্চলে ৩৫টি শিক্ষাকেন্দ্র দেখতে পান।
- যার কারণে তিনি কুমিল্লাবাসীকে প্রবল শিক্ষানুরাগী বলে আখ্যায়িত করেন।
- প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে ভারতের নালন্দের পর এশিয়ার দি¦তীয় বৃহত্তম শিক্ষাকেন্দ্র ছিলো লালমাই-ময়নামতি অঞ্চল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭,৭৮৬.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ১০
  2. ১১
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
• সেক্টর নং ১: ৫টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
• সেক্টর নং ২: এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
• সেক্টর নং ৩: এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ৪: এই সেক্টরে ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ৫: ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।
• সেক্টর নং ৬: এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ৭: এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর। 
• সেক্টর নং ৮: এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ৯: এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।
• সেক্টর নং ১০: এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।
• সেক্টর নং ১১: এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৭,৭৮৭.
কত সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে অনুমোদন করা হয়?
  1. ক) ১৯৫২
  2. খ) ১৯৫৫
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫৬
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের একুশে  ফ্রেব্রুয়ারি  ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- সরকার ১৪৪ ধারা জারি করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা দুজন দুজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে থাকে।
- বেলা ১১ টায় ছাত্রসভা শুরু হয়।
- সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- ১৪৪ ধারা ভাঙার পন্থা হিসেবে দশজন দশজন করে ছাত্র রাস্তায় মিছিল বের করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
- অনেকেই এদিন গ্রেফতার হন। পুলিশ মিছিলকারীদের উপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে ছাত্ররা মেডিকেল হোস্টেলের প্রধান ফটকের কাছে জমায়েত হন।
- মেডিকেল হোস্টেলের নিকটেই ছিল জগন্নাথ হলের অডিটোরিয়াম যেখানে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সভা বসত।
- আন্দোলনকারী ছাত্রদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববাংলা আইন পরিষদে যোগদানকারী সদস্যদের কাছে বাংলা ভাষার দাবির কথা পৌঁছে দেয়া যেন তাঁরা অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিষয়ে সুপারিশ গ্রহণ করেন।
- শহীদ সালাম শহীদ রফিক শহীদ জব্বার শহীদ বরকত ২১ ফেব্রয়ারিতে পুলিশের গুলিতে আহত কেউ কেউ ঘটনার বেশ কিছুদিন পর মৃত্যুবরণ করেন।
- সারাদেশে ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত অনেক নেতা গ্রেপ্তার হন।
- তবে ১৯৫২ সালের পর প্রতি বছর ২১ ফ্রেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে।
-১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে উর্দু ও বাংলাকে পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে অনুমোদন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে।
৭,৭৮৮.
Which was the first organization to initiate the Language Movement in East Pakistan?
  1. Purbo-Bangla Sahitya Sangsad
  2. Tamaddun Majlish
  3. Krishak Praja Party
  4. Dhaka University Central Students’ Union
ব্যাখ্যা

• তমদ্দুন মজলিশ:
-  পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে সেটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হ্য ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই।
-  সে সময় মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতারা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মতামত দেন।
- তখনই ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ বাংলার বুদ্ধিজীবী, লেখকগণ এর প্রতিবাদ করেন।
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন
- এ সংগঠনের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশিত হয়।
- পুস্তিকাটিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৭৮৯.
পলাশী যুদ্ধের ফলাফল কি ছিল?
  1. কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. ভারতবর্ষের পরাধীনতার সূত্রপাত
  3. মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:

- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- পলাশীর যুদ্ধে ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলা ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়। অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- পলাশী যুদ্ধের সুদূর প্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা। এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭৯০.
আসাদ গেট নিচের কোন ঘটনার সাথে জড়িত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. ছয় দফা আন্দোলন
  3. শিক্ষা আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
আসাদ গেট:
- শহীদ আসাদ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
- এভাবে ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে হয় ‘আসাদ এভিনিউ’।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৯১.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথম ভাষণ দেন কে?
  1. ভিভি গিরি
  2. প্রণব মুখার্জী
  3. মার্শাল জোসেফ টিটো
  4. ইন্দিরা গান্ধী
ব্যাখ্যা
- ৩১ জানুয়ারি ১৯৭৪ সালে যুগোস্লাভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসেফ টিটো জাতীয় সংসদে কোন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথম ভাষণ দেন।
- ১৮ জুন ১৯৭৪ সালে ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিভি গিরি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ভাষণ দেন।
উল্লেখ্য,
২০১৩ সালে ভারতের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী বাংলাদেশ সফরকালে জাতীয় সংসদে ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়।
উৎসঃ জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও বিবিসি বাংলা প্রতিবেদন।
৭,৭৯২.
মুজিবনগর সরকারের সচিবালয়ের প্রধান সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. রুহুল কুদ্দুস
  2. কামাল হোসেন
  3. আলী আহসান
  4. হুমায়ুন রশীদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো:
- মুজিবনগর সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- জনাব রুহুল কুদ্দুস প্রধান সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন।
- সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জুলাই মাসে (১৯৭১) বাংলাদেশকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- এগুলোর নাম দেয়া হয় জোনাল কাউন্সিল।
- মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণাকারী প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যদের প্রত্যক্ষভোটে ১১ জন আঞ্চলিক চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে একজন করে আঞ্চলিক প্রশাসক বা জোনাল এডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ত্রাণ, প্রকৌশল, পুলিশ, তথ্য ও হিসাব কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭৯৩.
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দফায় কী উল্লেখ ছিল?
  1. শিক্ষাক্ষেত্রে মাতৃভাষার ব্যবহার
  2. পূর্ব বাংলায় কৃষি সংস্কার
  3. পূর্ব বাংলার জন্য আলাদা মুদ্রানীতি
  4. রাষ্ট্রভাষা বাংলা হতে হবে
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট: 
- ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হয় ২১ দফার ভিত্তিতে।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিলো।

যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা,
২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল। সুতরাং এই ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সূত্র: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭৯৪.
How many seats are reserved for women in the Parliament of Bangladesh?
  1. 30
  2. 45
  3. 50
  4. 10
  5. None
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনসভা।
- এককক্ষ বিশিষ্ট এ আইনসভার সদস্য সংখ্যা ৩৫০।
- যার মধ্যে ৩০০ জন সংসদ সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন এবং অবশিষ্ট ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। 
- জাতীয় সংসদের প্রধান হলেন স্পিকার।
- বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চমভাগে জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে।
- জাতীয় সংসদের প্রতীক শাপলা ফুল।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রতীক দুপাশে ধানের শীষবেষ্টিত শাপলার দুপাশে দুটি করে চারটি তারকা এবং প্রতীকের অপরের দিকে 'বাংলাদেশ' ও নিচের দিকে 'জাতীয় সংসদ' লেখা। 
 
উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
৭,৭৯৫.
মধ্যযুগে মুসলিম সুলতানদের বাংলার রাজধানী ছিল-
  1. মহাস্থানগড়
  2. চন্দ্রদ্বীপ
  3. উয়ারী বটেশ্বর
  4. সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও:
- নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পাশে প্রায় আড়াই কিলোমিটার উত্তরে সোনারগাঁও অবস্থিত।
- বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের মধ্যে শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সোনারগাঁও একটি গৌরবময় জনপদ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,৭৯৬.
চন্দ্র বংশের কোন রাজার উপাধি ছিল ‘মহারাজধিরাজ’?
  1. ক) শ্রীচন্দ্র
  2. খ) পূর্ণচন্দ্র
  3. গ) সুবর্ণচন্দ্র
  4. ঘ) ত্রৈলোক্যচন্দ্র
ব্যাখ্যা
চন্দ্র বংশ দশ শতকের শুরু থেকে প্রায় দেড়শত বছর দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা (বঙ্গ ও সমতট) শাসন করে। পূর্ণচন্দ্র এবং সুবর্ণচন্দ্র হরিকেল রাজার অধীনে রোহিতাগিরির (সম্ভবত লালমাই অঞ্চল) সামন্ত ছিলেন। সুবর্ণচন্দ্রের পুত্র ত্রৈলোক্যচন্দ্র (আনুমানিক ৯০০-৯৩০ খ্রি.) ছিলেন এ বংশের প্রথম স্বাধীন রাজা। তিনি সমতটে বংশের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন। দেবপর্বত ছিল তাদের ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল। বঙ্গের অংশ বিশেষ এবং চন্দ্রদ্বীপের উপর তিনি ধীরে ধীরে তাঁর ক্ষমতার বিস্তার ঘটান এবং ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করেন। [সুত্র- বাংলাপিডিয়া]
৭,৭৯৭.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ইস্কান্দর মির্জা
  2. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. লিয়াকত আলী খান
  4. খাজা নাজিমউদ্দীন
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
​- ভাষা আন্দোলন ছিল বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে সংগঠিত এক গণআন্দোলন।
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু ঘোষণার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে দাবি ওঠে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করার।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' শ্লোগানে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ গুলি চালায়, যার ফলে রফিক, জববার, বরকতসহ অনেকে শহীদ হন।
- আন্দোলন আরও তীব্র হয় এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগকে স্মরণ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দিন।
- ১৯৫২ সালে গভর্নর ছিলেন গোলাম মুহাম্মদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৭,৭৯৮.
BRAC কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৮৩ সালে
ব্যাখ্যা
BRAC (Bangladesh Rural & Advancement Committee) বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও বা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। ১৯৭২ সালে প্রয়াত স্যার ফজলে হাসান আবেদ BRAC প্রতিষ্ঠা করেন।
BRAC বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নয়টির অধিক দেশে কাজ করছে।

(তথ্যসূত্র: BRAC ওয়েবসাইট)
৭,৭৯৯.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
  2. এম মনসুর আলী
  3. তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৭,৮০০.
কোন প্রাচীন পরিব্রাজক তাম্রলিপ্ত বন্দর পরিদর্শন করেছিলেন?
  1. হিউয়েন সাং
  2. আল-বিরুনি
  3. ইবনে বতুতা
  4. মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা

তাম্রলিপ্ত:
- হরিকেলের উত্তরে ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার (প্রাচীন যুগে মিধুনাপুর নামে পরিচিত) তমলুক শহরই ছিল প্রাচীন তাম্রলিপ্তি নগরস্থল।
- বর্তমান শহরটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রূপনারায়ণের তীরে অবস্থিত।

⇒ প্রাচীনকালে তাম্রলিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং তাম্রলিপ্তি শহরকে ‘তান-মো-লি-তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- সাত শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।