বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৭৭ / ১২৪ · ৭,৬০১৭,৭০০ / ১২,৪২১

৭,৬০১.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় -
  1. ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে
  2. খ) ২৭ জানুয়ারি, ১৯৪৯ সালে
  3. গ) ৩১ মার্চ, ১৯৫১ সালে
  4. ঘ) ২১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:
৩১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। 
– কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
– রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়– ১ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
– দ্বিতীয় বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়-  ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামছুল আলম।

তথ্যসূত্র: - ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC Programme, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬০২.
মোগল বংশের শেষ সম্রাট কে ছিলেন?
  1. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  2. শাহ আলম
  3. জহিরউদ্দিন বাবর
  4. মুহাম্মদ শাহ
ব্যাখ্যা

মোগল সাম্রাজ্যের পতন: 
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোগল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- মোগল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর। 
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মোগল সাম্রাজ্য পতনের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বহিঃআক্রমন প্রভৃতি বিষয়কে দায়ী করা হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬০৩.
গণপরিষদে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৫৩
  2. খ) ১৯৫৪
  3. গ) ১৯৫৫
  4. ঘ) ১৯৫৬
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৯ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
• ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ দলীয় জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেলউদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
• ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়। এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৬০৪.
কোন দেশের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বলা হয়?
  1. হল্যান্ড
  2. ইংল্যান্ড
  3. পর্তুগাল
  4. ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:

- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মে।
- তার এ উপমহাদেশে আগমন ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- তারা ‘ডাচ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে বাণিজ্যের উদ্দেশে ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে আসে।
- ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা বিদরার যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ফলে ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে শেষ পর্যন্ত সকল বাণিজ্যকেন্দ্র গুটিয়ে তারা এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।
- ওলন্দাজদের মতোই দিনেমার বা ডেনমার্কের অধিবাসী একদল বণিক বাণিজ্য করার জন্য ‘ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে।
- এদেশে লাভজনক ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়ে ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই দিনেমাররা এদেশ ত্যাগ করের

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬০৫.
বাঙালি পন্ডিত অতীশ দীপঙ্কর নিম্নের কোন মহাবিহারের আচার্যপদে নিযুক্ত হন?
  1. ক) সোমপুর মহাবিহার
  2. খ) মহা কারণিক বৌদ্ধ বিহার
  3. গ) বিক্রমশিলা মহাবিহার
  4. ঘ) জগদ্দল মহাবিহার
ব্যাখ্যা
- অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (৯৮০-১০৫৩) বৌদ্ধ পন্ডিত, ধর্মগুরু ও দার্শনিক। 
- দশম-একাদশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি পন্ডিত দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে এক রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা কল্যাণশ্রী এবং মাতা প্রভাবতী দেবী। তাঁর বাল্যনাম ছিল চন্দ্রগর্ভ।
- মায়ের নিকট এবং স্থানীয় বজ্রাসন বিহারে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি বিখ্যাত বৌদ্ধ গুরু জেতারির নিকট  বৌদ্ধধর্ম ও শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। এ সময় তিনি সংসারের প্রতি বিরাগবশত গার্হস্থ্যজীবন ত্যাগ করে ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের সঙ্কল্প করেন। 
- এ উদ্দেশ্যে তিনি পশ্চিম ভারতের কৃষ্ণগিরি বিহারে গিয়ে রাহুল গুপ্তের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং বৌদ্ধশাস্ত্রের আধ্যাত্মিক গুহ্যবিদ্যায় শিক্ষালাভ করে ‘গুহ্যজ্ঞানবজ্র’ উপাধিতে ভূষিত হন। 
- মগধের ওদন্তপুরী বিহারে মহাসাংঘিক আচার্য শীলরক্ষিতের নিকট দীক্ষা গ্রহণের পর তাঁর নতুন নামকরণ হয় ‘দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান’। 
 
- একত্রিশ বছর বয়সে তিনি আচার্য ধর্মরক্ষিত কর্তৃক সর্বশ্রেষ্ঠ ভিক্ষুদের শ্রেণিভুক্ত হন। 
- পরে দীপঙ্কর মগধের তৎকালীন শ্রেষ্ঠ আচার্যদের নিকট কিছুকাল শিক্ষালাভ করে শূন্য থেকে জগতের উৎপত্তি এ তত্ত্ব (শূন্যবাদ) প্রচার করেন।
 
- ১০১১ খ্রিস্টাব্দে শতাধিক শিষ্যসহ দীপঙ্কর মালয়দেশের সুবর্ণদ্বীপে গিয়ে আচার্য চন্দ্রকীর্তির নিকট ১২ বছর বৌদ্ধশাস্ত্রের যাবতীয় বিষয় অধ্যয়ন করেন এবং ৪৩ বছর বয়সে মগধে ফিরে আসেন। 
- মগধের তখনকার প্রধান প্রধান পন্ডিতদের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় ও বিতর্ক হয়। 
- বিতর্কে তাঁর বাগ্মিতা, যুক্তি ও পান্ডিত্যের কাছে তাঁরা পরাজিত হন। 
- এভাবে ক্রমশ তিনি একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী পন্ডিতের স্বীকৃতি লাভ করেন। এ সময় পালরাজ প্রথম মহীপাল সসম্মানে তাঁকে বিক্রমশিলা (ভাগলপুর, বিহার) মহাবিহারের আচার্যপদে নিযুক্ত করেন। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
৭,৬০৬.
বাংলাদেশের প্রথম সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. অধ্যপক ইউসুফ আলী
  2. এম এ হান্নান
  3. মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- মেহেরপুর জেলায় মুজিব নগর অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগর সরকার গঠিত হয় - ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।
৭,৬০৭.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশের প্রধান উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
  1. জর্জ হ্যারিসন
  2. বব ডিলান
  3. বিলি প্রেস্টন
  4. জন লেনন
ব্যাখ্যা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- বাংলাদেশের জনগণের সাহায্যার্থে কিছু করার জন্য তিনি প্রথম যোগাযোগ করেন জনপ্রিয় বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।

উল্লেখ্য,
- ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শুরু হয়েছিল পণ্ডিত রবিশঙ্করের একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়ে।
- এ কনসার্টের জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন ‘বাংলাদেশ ধুন’ বলে নতুন একটি সুর।
- আর তাঁর সঙ্গে সরোদে যুগলবন্দী ছিলেন ওস্তাদ আলী আকবর খান।
- তবলায় সহযোগিতা করেছিলেন বিখ্যাত আল্লারাখা।
- তানপুরায় ছিলেন কমলা চক্রবর্তী। সেদিন ম্যাডিসন স্কয়ারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রতিবাদী গানের রাজা বব ডিলান। 
- সেদিন বব ডিলানের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছিলেন জর্জ হ্যারিসন, ব্যাস লিওন রাসেল ও ট্যাম্বুরিন রিঙ্গো স্টার।
- সে অনুষ্ঠানে বিটলসের অন্যতম সদস্য রিঙ্গো স্টার, লিওন রাসেল, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, ডন প্রেস্টন প্রমুখ গান গেয়েছেন, গিটার বাজিয়েছেন।

এছাড়াও,
- জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC।

৭,৬০৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র ব্যতিক্রমী সেক্টর কোনটি?
  1. ক) ১১ নং
  2. খ) ৮ নং
  3. গ) ১০ নং
  4. ঘ) ৪ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী সেক্টর হল ১০ নং সেক্টর (নৌ সেক্টর)। একে ৩টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। এ সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলেন না। এটি সরাসরি প্রধান সেনাপতির অধীনে ছিল।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৭,৬০৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয়েছিল কোন সেক্টরে?
  1. ১১ নং
  2. ৮ নং
  3. ১০ নং
  4. ৬ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।
- নদীমাতৃক বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রপথে পাকিস্তানের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া ছিল নৌ-কমান্ডো আক্রমণের উদ্দেশ্য।
- ১০নং সেক্টরের কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।
- অপারেশনের সময় কমান্ডোদের কাজের নিয়ন্ত্রণ থাকত যে এলাকায় অপারেশন পরিচালিত হবে সে এলাকার সেক্টর কমান্ডারের ওপর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৬১০.
ছোট সোনা মসজিদ কোন আমলের স্থাপত্য নিদর্শন?
  1. সেন
  2. মুঘল
  3. সুলতানি
  4. ব্রিটিশ
ব্যাখ্যা
ছোট সোনা মসজিদ:
- ছোট সোনা মসজিদ 'সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন' বলে আখ্যায়িত।
- মধ্যযুগের সুলতানি আমলের গৌড়নগরীর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ।
- মসজিদটিকে বলা হতো ‘গৌড়ের রত্ন’।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রধানতম নিদর্শন হচ্ছে ছোট সোনামসজিদ।
- মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯) নির্মিত হয় সোনামসজিদ।
- প্রধান প্রবেশ পথের উপরিভাগে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়।

⇒ সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ছোট সোনা মসজিদ ‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’ বলে আখ্যায়িত।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৭,৬১১.
কোন ঘটনার পর ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. বক্সারের যুদ্ধ
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. বঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা

- ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ রাজ সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে।  

সিপাহী বিদ্রোহ:
- ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর। 

- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৬১২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ১২টি
  3. গ) ০৯ টি
  4. ঘ) ১১ টি
ব্যাখ্যা
 - ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। এই সেক্টরগুলোকে আবার ৬৪ টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
-  যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬১৩.
ঈসা খান কোন অঞ্চলের জমিদার ছিলেন?
  1. ক) বিক্রমপুর
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপ
  3. গ) সোনারগাঁও
  4. ঘ) ভাওয়াল
ব্যাখ্যা
মুঘল আমলে পূর্ববঙ্গের জমিদারগণ বারোভূঁইয়া নামে পরিচিত ছিলো। এদের নেতা ছিলেন ঈসা খান। ঈসা খান সোনারগাঁওয়ের জমিদার ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তারপুত্র মুসা খান সোনারগাঁওয়ের জমিদার হন।
বারোভূঁইয়াদের অন্যতম চাঁদ রায় ও কেদার রায় ছিলেন বিক্রমপুর বা মুন্সিগঞ্জের জমিদার। চন্দ্রদ্বীপের জমিদার ছিলেন পরমানন্দ রায়। ভাওয়ালের জমিদার ছিলেন বাহাদুর গাজি।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,৬১৪.
১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে 'অপারেশন সার্চ লাইট' পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিলেন -
  1. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  2. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. জেনারেল টিক্কা খান
  4. মো. আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর 'অপারেশন সার্চ লাইট' পরিচালনা করে।
- এই অপারেশনে ঢাকা শহর জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালানো হয়।
- ১৮ মার্চ, ১৯৭১ জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন।
- সব প্রস্তুতি শেষে ২৫ মার্চ এই অপারেশন চালানো হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইটের মূল দায়িত্বে ছিলেন।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৭,৬১৫.
ভাগীরথী নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থান ছিল কোন জনপদের?
  1. গৌড়
  2. রাঢ়
  3. বঙ্গ
  4. সমতট
ব্যাখ্যা
• রাঢ় জনপদ :
- রাঢ় জনপদ ভাগীরথী নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ছিল।

- এ উত্তর রাঢ় ও দক্ষিণ রাঢ় নামে দুভাগে বিভক্ত ছিল রাঢ়দেশ।
- এর রাজধানী ছিল কোটীবর্ষ।
- রাঢ়ের এক বড় অংশ সুম্ম নামেও পরিচিত ছিল।
- রাঢ়ের দক্ষিণে বর্তমান মেদিনীপুর জেলায় 'তাম্রলিপ্তি' ও 'দণ্ডভুক্তি' নামে দুটি ছোট বিভাগ ছিল। 

• গৌড় :
- গৌড় রাজ্য ছিল একটি স্বাধীন রাজ্যের ।
- যার অবস্থান ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে ছিল।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড় রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। 

• বঙ্গ :
-  বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি এ নাব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

• সমতট :
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ সমতটের অবস্থান।
- চীন দেশের পর্যটক হিউয়েন সাং সপ্তম শতকের মাঝামাঝিতে সমতট ভ্রমণ করে একটি বিবরণী লেখেন। 
- সমতটের অন্তর্গত ছিল বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালি অঞ্চল। 

উৎস : ইতিহাস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬১৬.
সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ গঠিত হয় -
  1. ১ জুন, ২০২৪
  2. ১ জুলাই, ২০২৪
  3. ৫ জুন, ২০২৪
  4. ৫ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা

জুলাই অভ্যুত্থান:
- বাংলাদেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’।
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে গঠিত হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন ৫ জুন, ২০২৪ হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষের শুরু হয়।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে তাদের আন্দোলন শুরু হয়।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়, যার শেষ পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে। ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

৭,৬১৭.
বাংলাদেশের কোন নেতা কলকাতা করপোরেশনের মেয়র ছিলেন?
  1. ক) মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. খ) শের-এ বাংলা এ কে ফজলুল হক
  3. গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. ঘ) এদের কেউই নন
ব্যাখ্যা
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি কলকাতার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন ১৯৩৫ সালে।
- অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ছিলেন।
- তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- লোকপ্রিয়ভাবে ‘শেরে বাংলা’ বা হক সাহেব রূপে পরিচিত আবুল কাশেম ফজলুল হক বাকেরগঞ্জ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৭,৬১৮.
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রথম কোন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্যপদ লাভ করে?
  1. ক) জাতিসংঘ
  2. খ) কমনওয়েলথ
  3. গ) ওআইসি
  4. ঘ) বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ প্রথম কোন আন্তর্জাতিক সংগঠন হিসেবে কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল। ১৭ আগস্ট ১৯৭২ বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের সদস্যপদ লাভ করে। ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওআইসি এবং ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
(সূত্রঃ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর ওয়েবসাইট)
৭,৬১৯.
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ এর সাথে পত্রালাপ হতো কোন কবির?
  1. ক) হাফিজ
  2. খ) আলাওল
  3. গ) ফেরদৌসি
  4. ঘ) ওমর খৈয়াম
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ (১৩৮৯-১৪১০/৭৯২-৮১৩ হিজরি)  বাংলার প্রথম ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান। 
- সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিজে বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- তিনি বিদ্বান লোকদের খুব সমাদর করতেন। মাঝে মাঝে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় কবিতা লিখতেন।
- পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ ছিল।
- একবার তিনি হাফিজের নিকট কবিতার একটি চরণ লিখে পাঠান এবং কবিতাটিকে পূর্ণ করার জন্য কবিকে অনুরোধ জানান।
- তিনি তাঁকে বাংলায় আসার আমন্ত্রণও জানান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৬২০.
১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. মীর জুমলা
  3. শাহ সুজা
  4. ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ায় পূর্বে ঢাকা বাংলার রাজধানী ছিল চারবার।
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পূর্বে ঢাকা ১৬১০, ১৬৬০, ১৯০৫ ও ১৯৪৭ সালে মোট চারবার বাংলার রাজধানীর মর্যাদা পায়।

উল্লেখ্য,
- ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন।
- নিয়োগ লাভ করে তিনি অনতিবিলম্বে বাংলার তদানীন্তন রাজধানী বিহারের রাজমহল-এ চলে আসেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- তিনি সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
- ইসলাম খান ঢাকাকে সুরক্ষিত করে তিনি ভূঁইয়াদের সব অবস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন এবং ১৬১১ খ্রিস্টাব্দেই মুসা খানসহ বারো ভূঁইয়াদের সবাই ইসলাম খানের নিকট বশ্যতা স্বীকার করেন।

এছাড়াও,
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন।
- শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৭,৬২১.
তিন বিঘা করিডোর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রংপুর
  2. কুড়িগ্রাম
  3. নীলফামারী
  4. লালমনিরহাট
ব্যাখ্যা
তিন বিঘা করিডোর:
- তিন বিঘা করিডোর হলো ভারতের মালিকানাধীন তিন বিঘা জমির মধ্যে অবস্থিত একটি স্বতন্ত্র ভূমি।
- এই তিন বিঘা করিডর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমা ও বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত।
- ছিটমহল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতার সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।
- ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ‘দহগ্রাম ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিগণিত হয়.
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ইজারার মাধ্যমে উক্ত তিন বিঘা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়।
- তিন বিঘা করিডোর তিস্তা নদীর তীরে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,৬২২.
বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন বাংলার কোন শাসক?
  1. ক) আলাউদ্দিন আলী শাহ
  2. খ) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. গ) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. ঘ) ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
ব্যাখ্যা
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক’, ‘জগৎভূষণ’, ‘কৃষ্ণাবতার’ প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- তিনি সুফি ও দরবেশদেরকে শ্রদ্ধা করতেন। 
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
বড় সোনা মসজিদ, গৌড় ছোট সোনা মসজিদ, গৌড় বাংলাভাষায়ও অনেক গ্রন্থ রচিত হয়।
- যেমন রূপ গোস্বামী সুলতানের উৎসাহে বিদগ্ধ মাধব ও ললিত মাধব নামে দুটি বই লেখেন। এ সময়ে বিজয়গুপ্ত পদ্মপুরাণ বা মনসা মঙ্গল, বিপ্রদাস মনসা বিজয়
- এবং যশোরাজ খান শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্য রচনা করেন।
- মালাধর বসু শ্রীমদ্ভাগবত বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন।
- তিনি শ্রীকৃষ্ণ বিজয় নামে আর একটি কাব্যও রচনা করেন।
- আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বাংলায় হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। 

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও  বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬২৩.
'কৌলিন্য প্রথা' নিম্নের কোন সেন রাজার সাথে সম্পর্কিত?
  1. বল্লাল সেন 
  2. লক্ষ্মণ সেন 
  3. বিজয় সেন
  4. হেমন্ত সেন 
ব্যাখ্যা

বল্লাল সেন:
- বল্লাল সেন হলো সেন বংশের ২য় রাজা।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

উল্লেখ্য,
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। 
- সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।

⇒ কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- ব্রাহ্মণগণ এ প্রথা প্রবর্তনের উদ্যোক্তা ছিলেন।
- তাঁরা তাঁদের দাবি প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এ প্রথার একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি দেখানোর জন্য প্রচার করেন যে, সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।

উল্লেখ্য,
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬২৪.
সেন বংশের কোন রাজা কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন?
  1. লক্ষ্মণ সেন
  2. বিজয় সেন
  3. হেমন্ত সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
বল্লাল সেন:
- সেন বংশের দ্বিতীয় রাজা হলো বল্লাল সেন।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।

উল্লেখ্য,
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।
- সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬২৫.
তেভাগা আন্দোলনের সাথে নিচের কোন নামটি জড়িত?
  1. হাজী দানেশ
  2. ইলা মিত্র
  3. অমল সেন
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন।
- ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
        ii) ১৮ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো।
৭,৬২৬.
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ বাংলায় কোন শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন?
  1. সেন
  2. পাল
  3. হাবশি
  4. মুঘল
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬২৭.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ –গানটির বর্তমান সুরকার কে?
  1. আবদুল লতিফ
  2. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ -গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
এটির প্রথম সুরকার ছিলেন আব্দুল লতিফ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭,৬২৮.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেন কে?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. মোনায়েম খান
  3. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ৩ জানুয়ারী, ১৯৬৮ সালের আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়।
- মামলার নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’। তবে এটি ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র’ মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৬২৯.
কোন বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিস্থল পাকিস্তানের করাচিতে ছিলো?
  1. ক) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
  2. খ) সিপাহী হামিদুর রহমান
  3. গ) ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) সিপাহী মোস্তফা কামাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব পাওয়া বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে করাচির মাসরুর এয়ার বেসের চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
২০০৬ সালের ২৩ জুন মতিউর রহমানের দেহাবশেষ পাকিস্তান হতে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁকে পূর্ণ মর্যাদায় ২৪শে জুন শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৭,৬৩০.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ‘তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি' গানটি কে রচনা করেন?
  1. ক) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. খ) শিব নারায়ণ দাস
  3. গ) আবদুল লতিফ
  4. ঘ) ড. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিত রচিত সাহিত্যকর্ম:
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'।
- সঙ্গীতশিল্পী আবদুল লতিফ রচনা ও সুর করেন 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং ‘তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি'র মতো সঙ্গীত।
- ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক।
- জহির রায়হান রচনা করেন ‘আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬৩১.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এক ব্যক্তি দম্ভোক্তি করে, যা বলেছিল নিম্নরূপঃ 'লোকটি এবং তার দল পাকিস্তানের শক্র, এবার তারা শাস্তি এড়াতে পারবে না।' এ দম্ভোক্তিকারী ব্যাক্তি কে ছিল?
  1. জেনারেল নিয়াজী
  2. জেনারেল টিক্কা খান
  3. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  4. জেনারেল হামিদ খান
ব্যাখ্যা
• উল্লিখিত উক্তিটি করেছিলেন - পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও সেনা প্রশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে, জেনারেল ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশে গণহত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ দেন।

তিনি এই ধরনের দম্ভোক্তি করেছিলেন যে,
"লোকটি এবং তার দল পাকিস্তানের শত্রু, এবার তারা শাস্তি এড়াতে পারবে না"।

উৎস: বিভিন্ন পত্রিকা রিপোর্ট।
৭,৬৩২.
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর কত জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ৪৩ জন
  2. ৫৪৬ জন
  3. ৬৭২ জন
  4. ৬৭৬ জন
ব্যাখ্যা
বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়। 
- ১৬ মে, ১৯৭২ মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- সেগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ পদমর্যাদার খেতাব: বীরশ্রেষ্ঠ,
- উচ্চ পদমর্যাদার খেতাব: বীর উত্তম,
- প্রশংসনীয় পদমর্যাদার খেতাব: বীর বিক্রম,
- বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্রের খেতাব: বীর প্রতীক।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাবের জন্য নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ পূর্বের ৪৩ জনসহ মোট ৫৪৬ জন মুক্তিযোদ্ধা খেতাবের জন্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খেতাব তালিকায় স্বাক্ষর করেন।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৯৯২ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে বীরত্বসূচক খেতাব প্রাপ্তদের পদক ও রিবন প্রদান করা হয়।
- ২০০১ সালের ৭ মার্চ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক পুরস্কার এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য,
-  ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৬৩৩.
চার স্তর বিশিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন কে?
  1. আইয়ুব খান
  2. ইস্কান্দার মির্জা
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. জুলফিকার আলী ভূট্টো
ব্যাখ্যা

• মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন:
- ১৯৫৮ সালে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানের শাসন কাঠামো এবং রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন।
- ১৯৫৯ সালের অক্টোবর মাসে আইয়ুব খান গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে একটি নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন।
- তাঁর এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল ‘মৌলিক গণতন্ত্র'।
- এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংখ্যক লোক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার লাভ করে।
- এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের দুই অঞ্চল থেকে ৪০ হাজার করে ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য নির্বাচন করা হয়।
- আইয়ুব খান ৪ স্তর বিশিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন।
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় নিম্ন থেকে উচ্চ স্তরগুলো ছিল : ১. ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামে) এবং টাউন ও ইউনিয়ন কমিটি (শহরে), ২. থানা পরিষদ (পূর্ব বাংলায়) এবং তহশিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে), ৩. জেলা পরিষদ, ৪. বিভাগীয় পরিষদ।
- এই পরিষদগুলোতে নির্বাচিত এবং মনোনীত উভয় ধরনের সদস্য থাকতেন।
- এরাই জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ভোট দানের ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থা ভোটে আইয়ুব খান পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

[উল্লেখ্য যে, [শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে।]

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭,৬৩৪.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সরকারিভাবে কবে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি
  2. ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
  3. ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি
  4. ১৯৭২ সালের ২৭ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা: 
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত।
- সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় একই রকম দেখতে একটি পতাকা ব্যবহার করা হতো, যেখানে মাঝের লাল বৃত্তের ভেতর হলুদ রংয়ের একটি মানচিত্র ছিল।
- ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশের পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়। 
- পতাকার উভয় পাশে সঠিকভাবে মানচিত্রটি ফুটিয়ে তোলার অসুবিধা পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলার অন্যতম কারণ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,৬৩৫.
কোন শাসকের পরাজিত করার পর সমগ্র বাংলা অঞ্চলে মুঘল সুবাদারি প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. পাল বংশ
  2. বারোভূঁইয়া
  3. সেন বংশ 
  4. কাররানি বংশ
ব্যাখ্যা

• বাংলায় মুঘল শাসন (১৫৭৬-১৭৫৭ সাল):
- সুবাদারি ও নবাবি-এ দুই পর্বে বাংলায় মুঘল শাসন অতিবাহিত হয়।
- বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করার পর সমগ্র বাংলা অঞ্চলে মুঘল সুবাদারি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুঘল প্রদেশগুলো 'সুবা' নামে পরিচিত ছিল।
- বাংলা ছিল মুঘলদের অন্যতম সুবা। সতেরো শতকের প্রথম দিক থেকে আঠারো শতকের শুরু পর্যন্ত ছিল সুবাদারি শাসনের স্বর্ণযুগ।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর দিল্লির দুর্বল উত্তরাধিকারীদের সময়ে মুঘল শাসন শক্তিহীন হয়ে পড়ে।
- এ সুযোগে বাংলার সুবাদারগণ প্রায় স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন করতে থাকেন।
- মুঘল আমলের এই যুগ 'নবাবি আমল' নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৬৩৬.
ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু কোন কারাগারে থাকাকালীন সময়ে তাঁর সহযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে আমরন অনশন করেন?
  1. ক) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার
  2. খ) ফরিদপুর কারাগার
  3. গ) গাজীপুর কারাগার
  4. ঘ) নারায়ণগঞ্জ কারাগার
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য অবিস্মরণীয় দিন। এদিন ভাষার দাবিতে প্রথম হরতাল পালিত হয়। এটাই হলো পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম হরতাল। হরতালের নেতৃত্ব দেন শেখ মুজিবুর রহমান।
- ওইদিন তিনি পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এটি ছিল পাকিস্তানে কোনো প্রথম রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার। (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: জীবন ও রাজনীতি, প্রকাশক বাংলা একাডেমি)।  
- পাঁচ দিন কারাবন্দি থেকে ১৫ মার্চ সন্ধ্যায় মুক্তি পান তিনি।
- ১৯৫২ সালের ১৬-২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফরিদপুর কারাগারে থাকাকালীন সময়ে সহযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে আমরন অনশন করেন ।
- ১৯৫৬ সালের  ১৭ জানুয়ারি আইন পরিষদের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু সংসদের দৈনন্দিন কার্যসূচি বাংলা ভাষায় মুদ্রণের দাবি জানান।

- ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলা ভাষাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি।
- ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমান অফিসের কাজে বাংলা প্রচলনের প্রথম সরকারি নির্দেশ জারি করেন।          

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতিহাস,এস এস এইচ এল,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৩৭.
নীল বিদ্রোহের সাথে কার নাম জড়িত?
  1. তিতুমীর
  2. মঙ্গলপাণ্ডে
  3. নবীন মাধব
  4. মজনু শাহ্‌
ব্যাখ্যা
নীল বিদ্রোহ:

- ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ নীলকরদের সীমাহীন অত্যাচার শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে নীল চাষিরা যে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাই ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে খ্যাত।
- এর নেতৃত্ব দিয়েছিল স্থানীয় পর্যায়ের সাধারণ কৃষকরা।
- বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নেতা স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ সংগ্রাম পরিচালিত করে। এ আন্দোলনে যশোর অঞ্চলের কৃষকদের নেতৃত্ব দেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই। হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার এবং নদীয়ায় মেঘনা সর্দার।
- এই নেতৃত্ব এতটাই শক্তিশালী এবং সুসংহত ছিল যে শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে সরকার 'ইন্ডিগো কমিশন' বা 'নীল কমিশন' গঠন করে।
- এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নীলচাষ করা, না করা কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয় এবং ‘ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট' বাতিল করা হয়।
- ফলে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৩৮.
গম্ভীরা গানের উৎপত্তি কোন অঞ্চল থেকে?
  1. রংপুর
  2. মালদহ 
  3. ময়মনসিংহ
  4. বাকুঁড়া
ব্যাখ্যা

• গম্ভীরা:
- গম্ভীরা গান এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত।
- সাধারণত বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত।
- ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব।
- ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে।
- শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান।
- গম্ভীরা গানের উৎপত্তি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় হিন্দুসমাজে।
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর মালদহ থেকে গম্ভীরা গান রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে আসে।

এছাড়াও,
⇒ বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসঙ্গীত:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত হলো ভাটিয়ালি।
- ভাওয়াইয়া বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসংগীত। রংপুর ও কুচবিহার জেলা এই গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গানের বিখ্যাত শিল্পী হলেন আব্বাসউদ্দীন আহমেদ।
- গম্ভীরা হলো চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত।
- ধামাইল গান প্রধানত সিলেটের হাওরাঞ্চলে প্রচলিত মেয়েদের আচার-কেন্দ্রিক নাচ ও গানের নাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭,৬৩৯.
Song of Bangladesh গানের রচয়িতা কে?
  1. জর্জ হ্যারিসন
  2. বব ডিলান
  3. এলেন গিন্সবার্গ
  4. জোয়ান বায়েজ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর গণহত্যা ও বর্বরতা নিয়ে মার্কিন শিল্পী জোয়ান বায়েজ Song of Bangladesh শিরোনামের বিখ্যাত গানটি রচনা করেন।
তিনি নিজেই এটিতে সুর ও কণ্ঠ দেন। প্রথমে গানটির শিরোনাম ছিলো The Story of Bangladesh.
জোয়ান বায়েজ সম্প্রতি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে গানটির কপিরাইট স্বত্ব প্রদান করেন।

(তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর)
৭,৬৪০.
বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ভাষণের সময়কালে পূর্ব পাকিস্তানে যে আন্দোলন চলছিল সেটি হলো :
  1. ক) ইসলামাবাদের সামরিক সরকার পদত্যাগের আন্দোলন
  2. খ) পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন
  3. গ) প্রেসিডেন্ট ইয়াহহিয়ার পদত্যাগ আন্দোলন
  4. ঘ) মার্শাল 'ল' পদত্যাগের আন্দোলন
ব্যাখ্যা
আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারাদেশে হরতাল পালিত হয়। ৩ মার্চ পল্টন ময়দানের বিশাল জনসভায় তিনি সারা পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই আন্দোলনের পটভূমিতে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে সমবেত উত্তাল জনসমুূদ্রে জাতির উদ্দেশ্যে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দান করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৭,৬৪১.
ঢাকা-জলপাইগুড়ি রুটে চালু হওয়া ট্রেনের নাম কী?
  1. সোনালী এক্সপ্রেস
  2. মিতালী এক্সপ্রেস
  3. মৈত্রী এক্সপ্রেস
  4. সুবর্ণজয়ন্তী এক্সপ্রেস
ব্যাখ্যা
মিতালী এক্সপ্রেস:
- ঢাকা-জলপাইগুড়ি রুটে চালু হওয়া ট্রেনের নাম মিতালী এক্সপ্রেস।
- ট্রেনটি সপ্তাহে চার দিন চলাচল করে।
- ট্রেনটি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে সোম ও বৃহস্পতিবার ছাড়ে।
- বিপরীত দিকে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ছাড়ে রোববার ও বুধবার।
- এতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চারটি কেবিন কোচ ও চারটি চেয়ার কার আছে। 
- ভারতের রেলমন্ত্রী ও বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী ভারতের দিল্লীতে এটি উদ্বোধন করেন।
- মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি থেকে বাংলাদেশের ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্য দিয়ে চলাচল করে।
- ট্রেনটি হলদিবাড়ি (ভারত)- চিলাহাটি (বাংলাদেশ) রুট দিয়ে চলাচল করে।

উৎস: ১ জুন ২০২২, যুগান্তর।
৭,৬৪২.
কোন শাসক সর্বপ্রথম বাংলায় মুদ্রা প্রচলন করেন?
  1. ক) গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  2. খ) শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  3. গ) ঈশা খাঁ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ সর্বপ্রথম বাংলায় মুদ্রা প্রচলন করেন। 
- ১২০০ হতে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ অঞ্চলে মুসলিম যুগের শাসনামল লক্ষ করা যায়।
-  ইতিহাসে এ সময়কে স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- এসময়ে নৌ-শিল্পের কিছুটা প্রসার ঘটে। রণতরীসহ পালতোলা যাত্রীবাহী বিভিন্ন ধরনের নৌকা এসময় তৈরী হয়েছিল।
- চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নও এসময় হয়েছিল। 
- ১৩০১ খ্রিস্টাব্দে শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ বিনিময় প্রথা রহিত করে সোনারগাঁয়ে প্রথম মুদ্রার প্রচলন করেন। 
- বখতিয়ার-এর বঙ্গ বিজয় থেকে শুরু করে ইংরেজ রাজত্ব প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত এ ভূখন্ডের অর্থনীতির মৌলিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। 
 
- মধ্যযুগে শেরশাহের আমলে সমগ্র রাজত্বকে কতগুলো সরকার এবং পরগণায় বিভক্ত করা হয়। তখন জমির উৎপাদিত ফসলের এক-চতুর্থাংশ খাজনা হিসাবে কৃষকরা দিত। 
 
- বাদশা আকবরের আমলে ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে রাজা টোডরমল এ অঞ্চলের রাজস্ব বন্দোবস্তের তালিকা প্রস্তুত করেন।
 
উৎস : অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম;  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,৬৪৩.
কোন জেলার সঙ্গে বিদেশের সীমনা নেই?
  1. ক) ফরিদপুর
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) বান্দরবান
  4. ঘ) যশোর
ব্যাখ্যা
সীমান্তবর্তী জেলা:

- ফরিদপুর জেলার সঙ্গে বিদেশের সীমনা নেই।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট ৩২টি।
- ভারতের সাথে সীমান্ত আছে ৩০টি জেলার।
- মিয়ানমারের সাথে ৩টি (কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান) জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- রাঙ্গামাটি একমাত্র জেলা যার সাথে ভারত ও মিয়ানমার ২টি দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬৪৪.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা কত তারিখ ছিল?
  1. ৯ মাঘ, ১৩৫৮
  2. ৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮
  3. ১২ পৌষ, ১৩৫৮
  4. ১৩ ফাল্গুন, ১৩৫৮
ব্যাখ্যা

• একুশে ফেব্রুয়ারি:
- একুশে ফেব্রুয়ারি  শহীদ দিবস ও  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- এটি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের একাধারে মর্মান্তিক ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন।
- ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮, বৃহস্পতিবার) বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে অনেক তরুণ শহীদ হন।
- তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম, বরকত সহ অনেকেই।
- তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬৪৫.
ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবি ছিল-
  1. ক) আইয়ুব খান বিরোধী
  2. খ) খাজা নাজিমুদ্দিন বিরোধী
  3. গ) জুলফিকার আলী ভুট্টো বিরোধী
  4. ঘ) ইয়াহিয়া খান বিরোধী
ব্যাখ্যা
ছাত্র সমাজের ১১ দফা কর্মসূচি

- ১৯৬৬ সালের ছয় দফার জনপ্রিয়তা দেখে আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- এ মামলার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সমাজ আইয়ুব খান বিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।

- এরই প্রেক্ষিতে ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) কার্যালয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), জাতীয় ছাত্র ফেডারেশনের একাংশ (দোলন গ্রুপ) ও ডাকসুর উদ্যোগে ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয় এবং সাংবাদিক সম্মেলন করে 'এগার দফা কর্মসূচি' বা দাবি ঘোষণা করে।
- ১১ দফা দাবির মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা অন্তর্ভুক্ত ছিল। 
-  ১১ দফা আন্দোলন পরিণত হয় গণঅভ্যুত্থানে। 

ছাত্র সমাজের ১১ দফা কর্মসূচি নিম্নরূপ:-

১. জাতীয় শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট (হামুদুর রহমান কমিশন) এবং বিশ্ববিদ্যালয় কালাকানুন বাতিল ঘোষণা, ছাত্র ও অন্যান্য ফি কমিয়ে শিক্ষার ব্যয় সঙ্কোচ করতে হবে।
২. সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩. ছয় দফা দাবির ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রদান করতে হবে।
৪. বেলুচিস্তান, সিন্ধু ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে স্বায়ত্তশাসন দানের পর পশ্চিম পাকিস্তানে সাব-ফেডারেশন গঠন করতে হবে।
৫. ব্যাংক, বিমা ও বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে হবে।
৬. কৃষকের করভার লাঘব করতে হবে।
৭. শিল্প-শ্রমিকদের অধিক মজুরি প্রদান করতে হবে।
৮. পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৯. জরুরি অবস্থাসহ জন-নিরাপত্তা আইন, জরুরি আইন ও অন্যান্য দমনমূলক আইন রহিতকরণ করতে হবে।
১০. স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ এবং ‘সিয়াটো' ও 'সেন্টো' নামক সামরিক জোট হতে বের হয়ে আসতে হবে।
১১. সকল রাজবন্দীর মুক্তি এবং তথাকথিত আগরতলা মামলাসহ সকল রাজনৈতিক মামলার অবসান ঘোষণা, সকল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হুলিয়া প্রত্যাহার করতে হবে।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৭,৬৪৬.
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের সময়ে তৎকালীন শিক্ষা সচিব কে ছিলেন?
  1. হামুদুর রহমান
  2. এস.এম. শরীফ
  3. মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ
  4. আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- আইয়ুব খান শিক্ষা সংস্কারের উদ্দেশ্যে ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন।
- তৎকালীন শিক্ষা সচিব এস.এম. শরীফকে সভাপতি করে গঠিত ১১ জন সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন 'শরিফ কমিশন' নামে অভিহিত।
- কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তার সুপারিশ পেশ করে। কমিশনের উল্লেখযোগ্য সুপারিশ ছিল নিম্নরূপ:
• তিন বছরের বি.এ কোর্স পদ্ধতি চালু করা (এর আগে ছিল দু'বছরের বি.এ পাস কোর্স)।
• স্কুল-কলেজের সংখ্যা সীমিত রাখা।
• শিক্ষা ব্যয়ের শতকরা ৮০ ভাগ অভিভাবককে বহন করতে হবে।
• ৬ষ্ঠ শ্রেণি হতে ডিগ্রি স্তর পর্যন্ত ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক করা হবে।
- কমিশনের এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ বিক্ষুব্ধ হয়।
- ঢাকা কলেজে সর্বপ্রথম আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- ঐ কলেজের ছাত্ররা 'ডিগ্রি স্টুডেন্টস ফোরাম' নামক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে।
- এই সংগঠনের নামে ঢাকা শহরের অন্যান্য কলেজের ছাত্ররা আন্দোলন পরিচালনা করে।
- পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আন্দোলনে যোগ দেয়।
- তখন সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে করা হয় 'ইস্ট পাকিস্তান স্টুডেন্টস ফোরাম'।
- এক পর্যায়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ নেতৃত্বের হাতে চলে যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৪৭.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয় কত সালে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন।
- ১৯৭৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয়।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা, ১০ আগস্ট, ২০১০।
৭,৬৪৮.
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন এর কাজ নিচের কোনটি?
  1. বিভিন্ন সরকারি চাকুরি ও পদে নিয়োগ দান
  2. সরকারি কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান
  3. সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, পদায়ন, বদলি করা প্রভৃতি
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন:
- প্রধানত বিভিন্ন সরকারি চাকুরি ও পদে নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- সংস্থাটি সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা ও আপিলের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত। 
- 'সিভিল' বা 'পাবলিক' সার্ভিস কমিশন গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ প্রদান এবং চাকুরি সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে সকল সিদ্ধান্ত যাতে মেধা ও সমদর্শিতার নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয় তা নিশ্চিতকরণ।
- বাংলাদেশে এই সংস্থা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন নামে অভিহিত।

উৎস: বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ওয়েবসাইট।
৭,৬৪৯.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল -
  1. ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  2. ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  3. ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  4. ২১ মার্চ, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
• পতাকা:
- প্রথম পতাকা উত্তোলন ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- প্রথম নকশাকার – শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)
- প্রথম আনুষ্ঠানিক উত্তোলন – ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন – কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত – ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
৭,৬৫০.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ২০১০
  2. ২০১১
  3. ২০১২
  4. ২০১৫
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রথম প্রকাশিত হয় — ২০১২ সালে।

• অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম বই 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বইটির ভূমিকা লিখেছেন শেখ হাসিনা।
- এই প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
- বাংলাদেশে এই বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
- এছাড়া ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে ভারতে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া থেকে এবং পাকিস্তানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস পাকিস্তান থেকে। এছাড়া পাকিস্তানে উর্দু ভাষাতেও এর অনুবাদ বের হবার কথা রয়েছে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান।
৭,৬৫১.
আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা কোনটি?
  1. নরসিংদী
  2. বরিশাল
  3. রাঙামাটি
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
রাঙামাটি জেলা:
- আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা রাঙামাটি।
- বিস্তৃত পাহাড়, ঝর্ণা, নদী, হ্রদ, বনানীর অপরূপ সমাহারে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের একটি জেলা হচ্ছে জেলা রাঙ্গামাটি।
- এটি চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা।
- রাঙ্গামাটির উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম, দক্ষিণে বান্দরবান, পূর্বে মিজোরাম ও পশ্চিমে চট্রগ্রাম ও খাগড়াছড়ি।
- দেশের এক মাত্র রিক্সা বিহীন শহর, হ্রদ পরিবেষ্টিত পর্যটন শহর এলাকা।
- এ জেলায় চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খেয়াং, চাক্, পাংখোয়া, লুসাই, সুজেসাওতাল, রাখাইন সর্বোপরি বাঙ্গালীসহ ১৪টি জনগোষ্ঠি বসবাস করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,৬৫২.
সংশপ্তক ভাস্কর্যের ভাস্কর কে?
  1. হামিদুজ্জামান খান
  2. নিতুন কুন্ডু
  3. হামিদুর রহমান
  4. আব্দুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা

সংশপ্তক:
- মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে নির্মিত ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক’।
- মুক্তিযুদ্ধে অকুতোভয় বাঙালির বীরত্বগাথার স্মারক এই ভাস্কর্য।।
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ভবনের সামনে ভাস্কর্যটির অবস্থান।
- চার স্তরের লাল সিরামিক ইটের বেদির ওপর ব্রোঞ্জের তৈরি ভাস্কর্যের উচ্চতা ১৫ ফুট।
- ২৬ মার্চ, ১৯৯০ সালে ভাস্কর্য স্থাপিত হয়।
- এর ভাস্কর স্থপতি হামিদুজ্জামান খান।
- ভাস্কর্যটিতে মূর্ত হয়েছে যুদ্ধে শত্রুর আঘাতে এক হাত ও এক পা হারিয়েও বন্দুক হাতে লড়ে যাওয়া এক বীরের প্রতিকৃতি। যিনি পঙ্গুত্ববরণ করেও নির্ভীক এবং যুদ্ধে জয়লাভে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৭,৬৫৩.
প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে কোনটি সমৃদ্ধ জনপদ ছিল?
  1. ময়নামতি
  2. মহাস্থানগড়
  3. পাহাড়পুর
  4. উয়ারী-বটেশ্বর
ব্যাখ্যা

পুন্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তীকালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬৫৪.
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কবে গঠিত হয়?
  1. ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
  2. ৮ মার্চ ১৯৭২
  3. ৮ এপ্রিল ১৯৭২
  4. ৮ জুন ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন মূলত বিভিন্ন সরকারি পদ ও চাকরি নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- এই কমিশন গঠিত হয় ৮ এপ্রিল ১৯৭২
- ৮ এপ্রিল সিভিল সার্ভিস দিবস হিসাবে পালিত হয়।
- বর্তমানে মোট ২৬ টি ক্যাডার রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি সাধারণ ও ১২টি পেশাগত/কারিগরি ক্যাডার।
- ১৯৭৭ সালের ২২ ডিসেম্বর এই কমিশনের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট।
৭,৬৫৫.
মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৬
  2.  ১৯৫৮
  3. ১৯৫৯ 
  4. ১৯৬২
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র :
→ জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর পাকিস্তানের শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোরআমুল  পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন। তিনি প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে এক অদ্ভুত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন। তার এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল 'মৌলিক গণতন্ত্র'। 

→ মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে একধরনের সীমিত গণতন্ত্র।
→ যাতে কেবল নির্দিষ্টসংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল।
→ ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়।
→ প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা।
যথা: 
(১) ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামে) এবং টাউন ও ইউনিয়ন কমিটি (শহরে),
(২)থানা পরিষদ (পূর্ব পাকিস্তানে), তহসিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে), 
(৩) জেলা পরিষদ,
(৪)বিভাগীয় পরিষদ। 

→ এই পরিষদগুলোতে নির্বাচিত ও মনোনীত উভয় ধরনের সদস্য থাকত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা।

৭,৬৫৬.
মুক্তিযুদ্ধে ২ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর খালেদ মোশাররফ
  2. মেজর জিয়াউর রহমান
  3. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকার
  4. আব্দুর রব
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
- এই সেক্টরে ছয়টি সাব-সেক্টর ছিল।
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৬৫৭.
শেখ আলাউদ্দীন চিশতিকে ‘ইসলাম খান’ উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
- সুবাদার ইসলাম খান চিশতি (১৬০৮-১৬১৩) পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য বাংলার মুগল সুবাহদার ছিলেন।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।
- ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন ।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৭,৬৫৮.
মুর্শিদ কুলি খান প্রবর্তিত ভূমি বন্দোবস্ত ব্যবস্থাটি কী নামে পরিচিত?
  1. মনসবদারি প্রথা
  2. মালজামিনি প্রথা
  3. কবুলিয়ত প্রথা
  4. পাট্টা প্রথা
ব্যাখ্যা
মুর্শিদ কুলি খান: 
- মুর্শিদ কুলি খান দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়-বাণিজ্যে প্রসারের গুরুত্ব বিশেষভাবে উপলব্ধি করেছিলেন।
- ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বাংলায় একটি নতুন ভূমি বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- তার প্রবর্তিত এ ব্যবস্থাটি 'মালজামিনি' প্রথা নামে পরিচিত।
- জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ইংরেজ, ফরাসি ও পারসিক ব্যবসায়ীদের তিনি উৎসাহ প্রদান করতেন।
- ব্যবসায়ীরা যাতে নির্দিষ্ট হারে প্রচলিত কর প্রদান করে এবং তাদের প্রতি যাতে কোনো অবিচার করানা হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছিল।
- কলকাতা, চুঁচুড়া ও চন্দননগর বিভিন্ন বিদেশি বণিকদের ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
- ১৭২৭ খ্রিষ্টাব্দে মুর্শিদ কুলি খান মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য, 
- ভূমি ব্যবস্থাপনায় 'কবুলিয়ত' ও 'পাট্টা' প্রথা প্রচলন করেন শেরশাহ।
- মনসবদারি প্রথা প্রচলন করেন সম্রাট আকবর। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭,৬৫৯.
সীতাকোট বিহার তৈরীর সময়কাল কোনটি?
  1. খ্রিঃ ১ম-২য় শতক
  2. খ্রিঃ ৪র্থ-৫ম শতক
  3. খ্রিঃ ৭ম-৮ম শতক
  4. খ্রিঃ ৯ম-১০ম শতক
ব্যাখ্যা

সীতাকোট বিহার:
- দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় সীতাকোট বিহার অবস্থিত।
- বিহারটিতে মোট ৪১টি প্রায় সমআয়তনের কক্ষ ছিল।
- এই কক্ষগলি একটি প্রশস্ত টানা বারান্দার সংগে যুক্ত ছিল।
- সীতাকোট বিহার আঙ্গিনার মধ্যবর্তী স্থানে কোন প্রধান মন্দির ছিলনা।
- এখানে পাহাড়পুর,শালবন বিহার এবং আনন্দ বিহারের মত ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির ফলক দেখা যায়না।
- তবে আকার আয়তনের দিক থেকে এই বিহারের সংগে বগুড়ায় অবস্থিত ভাসু বিহার এর অনেক মিল রয়েছে।
- সীতাকোট বিহার থেকে প্রাপ্ত দুইটি ব্রোঞ্জ মূর্তির গঠন শৈলী থেকে অনুমান করা যায় যে, এগুলি ৭ম-৮ম শতাব্দীতে তৈরী।
- সময়কাল: - খ্রিঃ ৭-৮ম শতক।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট।

৭,৬৬০.
বঙ্গবন্ধু কত সনে প্রথম মন্ত্রীসভার সদস্য নির্বাচিত হন?
  1. ক) ১৯৫৪ সনে
  2. খ) ১৯৭১ সনে
  3. গ) ১৯৪৮ সনে
  4. ঘ) ১৯৫৬ সনে
ব্যাখ্যা
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হয় ২১ দফার ভিত্তিতে।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চানদলীয় জোট যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ৪ এপ্রিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
- ১৪ মে এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন। তখন তার বয়স ছিলো ৩৪ বছর। 
- তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭,৬৬১.
'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল' গানটির রচয়িতা কে?
  1. সমর দাস
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আপেল মাহমুদ
  4. স্বপ্না রায়
ব্যাখ্যা
⇒ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: সমর দাস।
- গানটি কয়েকজন শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে প্রচার করা হয়।

⇒ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: আপেল মাহমুদ।

⇒ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: স্বপ্না রায়।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।
৭,৬৬২.
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪নং সেক্টর 
  2. ৮নং সেক্টর
  3. ৭নং সেক্টর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েকমুন্সী আব্দুর রব- ১নং সেক্টর।
- সিপাহি মোস্তফা কামাল- ২নং সেক্টর।
- স্কোয়াড্রন ইন্জিনিয়ার রুহুল আমিন- ১০নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ- ৮নং সেক্টর।
- সিপাহি হামিদুর রহমান- ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গির- ৭নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান- কোনো সেক্টরে ছিলেন না।

উৎস: মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৭,৬৬৩.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হয় কবে?
  1. ৩ মার্চ, ১৯৭১
  2. ৭ মার্চ, ১৯৭১
  3. ১৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম স্থাপিত হয়েছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাটে।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হয় ২৬ মার্চ, ১৯৭১।
- ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রটি পাকিস্তান হানাদার বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণের স্বীকার হয়।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে।
- চরমপত্র সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন এম আর আখতার মুকুল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬৬৪.
দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার আবিষ্কার করে?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার:
- প্রি-পেইড মিটার এক ধরনের বিশেষ বৈদ্যুতিক মিটার যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে মিটার হতে ধীরে ধীরে টাকা কেটে নেয়া হয় এবং টাকা শেষ হয়ে গেলে মিটারটি এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
- অতঃপর বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হলে পুনরায় মিটারটি রিচার্জ করতে হয়।
- প্রি-পেইড মিটার দুই প্রকারঃ স্মার্ট কার্ড ও কী-প্যাড প্রি- পেইড মিটার।
- ২০০৯ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুতে প্রি-পেইড মিটারিং স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ সরকার। 
- প্রি-পেইড মিটার দেওয়ার কার্যক্রম প্রথম শুরু হয় বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকে।
- বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার আবিস্কার করেন।

উৎস: i) ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড (ডিপিডিসি।
         ii) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। 
৭,৬৬৫.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. একুশের গল্প
  3. কবর
  4. জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
• জীবন আমার বোন।
এটি মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
অন্যদিকে,
• জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন।
• জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ছোটগল্প -  একুশের গল্প।
• মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক - কবর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৬৬৬.
মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায়?
  1. সেন্টমার্টিন
  2. সন্দ্বীপ
  3. মহেশখালী
  4. কুয়াকাটা
ব্যাখ্যা
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র: 
- মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হল বাংলাদেশের একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। 
- এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নের ১,৪১৪ একর জমিতে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। 
- ৬০০ মেগাওয়াট এর মোট দুটি ইউনিট তৈরি হবে। 
- মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১২০০ ইউনিট। 
- জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে মাতারবাড়ির এই বিদ্যুৎকেন্দ্র। 
- বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনায় মাতারবাড়িকে ‘বিদ্যুৎ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা রয়েছে। 
- ২৯ জুলাই, ২০২৩ তারিখে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। 
- পরীক্ষামূলক উৎপাদনের শুরুতে ৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। 

উৎস: ২৯ জুলাই, ২০২৩, দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকা। 
৭,৬৬৭.
অশোকের রাজ্য শাসন নীতির পরিবর্তন ঘটে কোন যুদ্ধের পরে?
  1. সিংহলী যুদ্ধ
  2. কলিঙ্গ যুদ্ধ
  3. মহীশূরের যুদ্ধ
  4. মগধের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। 
- এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। 
- অশোকের প্রচারিত ধর্ম বৌদ্ধ ধর্ম ছিল না। তাঁর প্রচারিত ধর্মের মূল বিষয় ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীবে দয়া, সত্যবাদিতা ইত্যাদি। 
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।
 
সূত্র: ইতিহাস প্রথমপত্র, স্নাতক শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৬৮.
দেশের প্রথম কমিউনিটি বেতার কোনটি?
  1. রেডিও ফুর্তি
  2. রেডিও মেঘনা
  3. রেডিও টুডে
  4. রেডিও পদ্মা
ব্যাখ্যা
রেডিও পদ্মা:
- দেশের প্রথম কমিউনিটি বেতারের নাম 'রেডিও পদ্মা'।
- রাজশাহী থেকে এই কমিউনিটি বেতার রেডিও পদ্মা’র আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু হয়েছে।
- আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু হয়েছে ৭ অক্টোবর ২০১১ তারিখে। 

উল্লেখ্য,
- পদ্মা নদীকে ঘিরে বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি, জীবন ধারা, জ্ঞান, গরিমা গড়ে উঠেছে।
- এই কারণে এই রেডিও স্টেশনের নামকরণ করা হয়েছে এই নদীকে নিয়ে।

⇒ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিসিডি বাংলাদেশ) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক একটি জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র।
- প্রতিষ্ঠানলগ্ন থেকে সিসিডি দেশের উত্তরাঞ্চলে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক মিডিয়ার সক্ষমতা বাড়নো এবং যোগাযোগ মাধ্যমকে মানুষের কল্যাণার্থে ব্যবহারে উৎসাহ যোগানোর লক্ষ্যে নানা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
- সিসিডি’র মূল লক্ষ্য হচ্ছে গণমাধ্যম ও তথ্য প্রযুক্তিকে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কণ্ঠ জাগরণে ব্যবহারে উৎসাহ যোগানো, সর্বস্তরের মানুষের তথ্যগত ক্ষমতায়নে প্রয়াস চালানো।
- এই লক্ষ্য অর্জনের একটি সামাজিক উদ্যেগ হচ্ছে রেডিও পদ্মা।

উৎস: রেডিও পদ্মা ওয়েবসাইট।
৭,৬৬৯.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
  2. ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. ফরাসউদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন।
- স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৬ সালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭,৬৭০.
আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান কত তম?
  1. ৯০ তম
  2. ৯৫ তম
  3. ১০৯ তম
  4. ১৯৫ তম
ব্যাখ্যা

World Atlas ও Worldometer এর তথ্য মতে,
- আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান - ৯৪ তম।
- অপশনে ৯৪ না থাকায় অপশন বিবেচনায় ৯৫ উত্তর নেওয়া হল।

আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর শীর্ষ ৫টি দেশ হলো:

১) রাশিয়া – ১৭,০৯৮,২৪২ কিমি²
২) কানাডা – ৯,৯৮৪,৬৭০ কিমি²
৩) চীন – ৯,৭০৬,৯৬১ কিমি²
৪) যুক্তরাষ্ট্র – ৯,৩৭২,৬১০ কিমি²
৫) ব্রাজিল – ৮,৫১৫,৭৬৭ কিমি²

উৎস: World Atlas ও Worldometer।(Link)

৭,৬৭১.
জুলাই গণহত্যা সংক্রান্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে কোন সংস্থা?
  1. Human Rights Watch
  2.  Amnesty International
  3. UNDP
  4. OHCHR
ব্যাখ্যা

→ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) সংস্থাটি বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্তের জন্য একটি তথ্যানুসন্ধানকারী দল পাঠায়। এই দলটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে OHCHR একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

→ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে ওএইচসিএইচআর বাংলাদেশে এসে ওই তদন্ত করেছিলো।

• জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) তদন্ত প্রতিবেদনে  উল্লেখ করা হয়েছে:

→ বাংলাদেশে গত জুলাই-অগাস্টে প্রায় ১৪০০ জনের মতো নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগের মৃত্যু হয়েছে রাইফেল ও শটগানের গুলিতে। ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

→ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ রিপোর্ট প্রকাশ করেন।

উৎস: বিবিসি।

৭,৬৭২.
ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন কোন শতকে সংঘটিত হয়?
  1. ক) ষোল শতকে
  2. খ) সতের শতকে
  3. গ) আঠারো শতকে
  4. ঘ) উনিশ শতকে
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন:

- আঠারো শতকে ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনে সন্ন্যাসীদের নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক।
- অন্যদিকে ফকিরদের নেতৃত্বে ছিলেন মজনু শাহ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬৭৩.
কোন গ্রন্থে বাংলাকে ‘বুলগাকপুর’ বা বিদ্রোহের নগরী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) কিতাবুল রেহালা
  2. খ) ইবনে জুযাই
  3. গ) তারিখ-ই-ফিরোজশাহী
  4. ঘ) আকবরনামা
ব্যাখ্যা
- বাংলায় ঘন ঘন বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার জন্য দিল্লির ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারাণী তার ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’ গ্রন্থে বাংলার নাম দিয়েছিলেন ‘বুলগাকপুর’ বা বিদ্রোহের নগরী।
- বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রথম পর্যায়ে (১২০৪-১৩৩৮ খ্রি.) বাংলার শাসকগণ পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না।
- তারা দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলা শাসন করতেন।
- তবে এই সময়ের শাসকগণ প্রায়ই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন। কিন্তু দিল্লির সুলতানদের বারবার আক্রমণে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ফলে বাংলায় এই সময়ে মুসলিম শাসন ছিলো বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলাপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৭৪.
ঐতিহাসিক 'ছয় দফায়' কোন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিলো না?
  1. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  2. বিচার ব্যবস্থা
  3. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো
  4. স্বতন্ত্র মুদ্রাব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয় দফার স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ ছিল না।

• ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
- আর এটি ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা - রুহুল কুদ্দুস। 

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।
৭,৬৭৫.
কতজন সদস্য নিয়ে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়?
  1. ক) ৩০ জন
  2. খ) ৩৫ জন
  3. গ) ৪০ জন
  4. ঘ) ৪৫ জন
ব্যাখ্যা

- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

তথ্যসূত্র :- ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় , বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণী।

৭,৬৭৬.
২ নং সেক্টর এর প্রথম সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. মেজর এ.টি.এম হায়দার
  4. মেজর কে.এম শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর: 
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
- এই সেক্টরের ছয়টি সাব-সেক্টর ছিল। 
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।
- শহরাঞ্চলের গেরিলারা ঢাকা শহরে কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৭,৬৭৭.
প্রাচীনকালে 'সমতট' বলতে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলকে বোঝানো হতো?
  1. নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল
  2. কুমিল্লা ও ঢাকা অঞ্চল
  3. বগুড়া ও দিনাজপুর অঞ্চল
  4. নোয়াখালী ও বরিশাল অঞ্চল
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিলো।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, উন্মুক্ত উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৭৮.
বাংলা নামের উৎপত্তির বিষয়টি কোন গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে?
  1. ক) তুযুক-ই-আকবরী
  2. খ) আকবরনামা
  3. গ) আইন-ই-আকবরী
  4. ঘ) আলমগীরনামা
ব্যাখ্যা
আইন-ই-আকবরী
- আইন-ই-আকবরী  মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- আকবরনামা একটি ইতিহাস গ্রন্থ।
- সুষ্ঠু প্রশাসন প্রবর্তন ও কার্যকর করার জন্য সম্রাট আকবর যে আইন ও নীতি প্রবর্তন করেন তা আইন-ই-আকবরীতে উল্লিলখিত হয়েছে।
- আকবরনামার অংশবিশেষ হলেও আইন-ই-আকবরী এককভাবেই এক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ।
- আইন-ই-আকবরীতে উল্লিখিত তথ্যসমূহ বাংলার ইতিহাস পুনর্গঠনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
- এ গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল।
- কারণ এ দেশের প্রাচীন রাজাগণ সারাদেশে চওড়া ‘আল’ নির্মাণ করতেন।
- সেজন্যে ‘বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৭৯.
জাতীয় শোক দিবস পালিত হয় -
  1. ১৫ আগস্ট
  2. ২১ আগস্ট
  3. ১৪ ডিসেম্বর
  4. ২৫ মার্চ
ব্যাখ্যা
• জাতীয় শোক দিবস:
- জাতীয় শোক দিবস বাংলাদেশে পালিত একটি জাতীয় দিবস।
- প্রতিবছরের ১৫ আগস্ট জাতীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দিবসটি শোকের সাথে পালন করা হয়।
- এ দিবসে কালো পতাকা উত্তোলন ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে বাংলাদেশ ও স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।
- তাই এই দিন জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়।

অন্যদিকে -
- ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস।
- ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,৬৮০.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ কত দফা দাবি উপস্থাপন করেছিল?
  1. ৪ দফা
  2. ৬ দফা
  3. ১১ দফা
  4. ২১ দফা
ব্যাখ্যা

• সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ:
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির বাস্তবায়ন এবং প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি সংগ্রাম পরিষদ।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংগঠন ও সুসংবদ্ধকরণ এবং নেতৃত্ব প্রদানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৬৯ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ, বিশেষত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মেনন], পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মতিয়া], ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (DUCSU) আট জন ছাত্রনেতা সম্মিলিতভাবে গঠন করেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
- ১৪ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এগারো দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

⇒ সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা শহর।
- কিন্তু তাদের প্রদত্ত কর্মসূচি অন্যান্য বিভাগীয় শহর এবং জেলা শহরের ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের জনগণ পালন করে। এমনকি পশ্চিম পাকিস্তানের ছাত্ররাও এগারো দফার সমর্থনে আন্দোলন করে।
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবানে ২৪ জানুয়ারির হরতাল পালনের সময় ময়মনসিংহে ২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়। 
-  এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং আগরতলা মামলা বাতিল হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৭,৬৮১.
বাঙালির জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. ছয় দফা আন্দোলন
  2. শিক্ষা আন্দোলন
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. এগারো দফা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
সংগ্রাম:
- বাঙালির জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সালে।
- এগারো দফা ঘোষনা করা হয় ১৯৭১ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬৮২.
যশোর অঞ্চলে নীল বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার
  2. নবীন মাধব ও বেণী মাধব
  3. মেঘনা সর্দার
  4. মঙ্গল পাণ্ডে
ব্যাখ্যা

নীল বিদ্রোহ:
- সূচনা: ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দ।
- কারণ: ইংরেজ নীলকরদের সীমাহীন অত্যাচার, শোষণ ও বঞ্চনা।
- নেতৃত্ব: স্থানীয় সাধারণ কৃষকরা।
- যশোর অঞ্চলে নেতৃত্ব: নবীন মাধব ও বেণী মাধব।
- হুগলিতে নেতা: বৈদ্যনাথ সর্দার ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় নেতা: মেঘনা সর্দার।
- নেতৃত্বের প্রভাব: এতটাই শক্তিশালী যে ইংরেজরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে গঠন: ‘ইন্ডিগো কমিশন’ (নীল কমিশন)।
- কমিশনের সুপারিশ: নীলচাষ করা বা না করা কৃষকের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে।
- আইন সংশোধন: ‘ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট’ বাতিল।
- ফলাফল: নীল বিদ্রোহের অবসান। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬৮৩.
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কোথায় গঠিত হয়?
  1. কলকাতা
  2. নাগাল্যান্ড
  3. ঢাকা
  4. আগরতলা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী:
-ভারতের নাগাল্যান্ডের দিমাপুরে ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠিত হয়।
- এর সংগঠক ছিলেন এয়ার কমোডর এ.কে খন্দকার।
- স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বদরুল আলম, ক্যাপ্টেন খালেক, সাত্তার, শাহাবুদ্দিন, মুকিত, আকরাম, শরফুদ্দিন এবং ৬৭ জন বিমানসেনা নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়।
- তাদের সম্বল ছিল মাত্র কয়েকটি ডাকোটা, অটার টাইপ বিমান এবং অ্যালুভেট হেলিকপ্টার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৬৮৪.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন কে?
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. এ. কে. ফজলুল হক
  3. মওলানা ভাসানী
  4. শামসুল হক খান
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
- নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন দল ও জোট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ২১ দফার দাবিগুলো ভোটারদের মন জয় করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬৮৫.
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয় কোন সংস্থার মাধ্যমে?
  1. ক) International Tribunal for the Law of the Sea
  2. খ) Permanent Court of Arbitration
  3. গ) International Tribunal of Justice
  4. ঘ) Commission on the Limits of the Continental Shelf
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মামলার রায় হয় ২০১২ সালের ১৪ মার্চ।
- জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS) এ সমুদ্রসীমা বিষয়ক এই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।
- এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ লাভ করে ১,১১,৬৩১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের মহীসোপান সংক্রান্ত বিরোধ জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণসংক্রান্ত CLCS (Commission on the Limits of the Continental Shelf) এ বিচারাধীন রয়েছে।
- বাংলাদেশ ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে CLCS এ নিজেদের মহীসোপান সীমা দাবী করে আবেদন জমা দেয়।
- সম্প্রতি ভারত সরকার বাংলাদেশের দাবীর প্রেক্ষিতে CLCS এ আপত্তিপত্র জমা দেয়।
অন্যদিকে,
- PCA (Permanent Court of Arbitration) আদালতে বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।

তথ্যসূত্র:- সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট।
৭,৬৮৬.
জুলাই জাতীয় সনদে কয়টি প্রস্তাব রয়েছে?
  1. ৭২টি
  2. ৭৮টি
  3. ৮৪টি
  4. ৮৯টি
ব্যাখ্যা

জুলাই জাতীয় সনদ:
- ছয়টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ৷
- ১৭অক্টোবর, ২০২৫ এ জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
- এর মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত।
- সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্যই জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ১৩ নভেম্বর জারি হয়েছে এবং তা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৭,৬৮৭.
সমুদ্রপথে প্রথম উপমহাদেশে আগত পর্তুগিজ নাবিক কে ছিলেন?
  1. বার্তোলোমিউ ডায়াজ
  2. ভাস্কো দা গামা
  3. আলবুকার্ক
  4. কলম্বাস
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ: 
- পর্তুগিজদের মধ্যে প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, ভাস্কো-ডা-গামা।

- তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।

উল্লেখ্য,
- সপ্তম শতক থেকে এ অঞ্চলের সঙ্গে আরব বণিকদের ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল একচেটিয়া।
- তারা বাণিজ্য করত মূলত সমুদ্রপথে।
- ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল তুর্কিরা দখল করে নেয়।
- ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে জলপথে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬৮৮.
পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন কে?
  1. ইস্কান্দার মির্জা
  2. আইয়ুব খান
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. ফিরোজ খান
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি:
- ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কার্যকর হয়।
- এই সংবিধানে পাকিস্তানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্থানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থায় একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া
৭,৬৮৯.
উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেছিলেন কে? 
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড হার্ডিঞ্জ
ব্যাখ্যা

লর্ড ক্যানিং:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- ভারতে তাঁর কর্তব্যপালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৫৯ সালে তাঁকে 'আর্ল' (Earl) মর্যাদায় উন্নীত করা হয়।
- ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে,
-  লর্ড মিন্টো ১৮০৭ থেকে ১৮১৩ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল।
- পুরো নাম গিলবার্ট ইলিয়ট, প্রথম আর্ল অব মিন্টো। 
- তিনি ভারতের রেল ব্যবস্থা প্রবর্তন ও গঙ্গা খাল খননের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৭,৬৯০.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে কয়টি ধানের শীষ আছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা। 
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
- জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান।
- সংবিধানের প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র) অনুচ্ছেদে : ৪ (৩)-এ জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে।

⇒ ভাসমান শাপলাটি এঁকেছেন মোহাম্মদ ইদ্রিস ও এর দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা যুক্ত করেছেন শামসুল আলম।
- কামরুল হাসান ও তাঁর দলের করা এই প্রতীকটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি।
- জাতীয় প্রতীকের চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে এই চারটি মূলনীতিকেই বোঝানো হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭,৬৯১.
‘লোকে বলে, বলে রে, ঘর বাড়ী ভালা না আমার’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. শাহ আব্দুল করিম
  2. মনসুর বয়াতি
  3. হাসন রাজা
  4. লালন শাহ
ব্যাখ্যা
- হাসন রাজা মরমি কবি ও সাধক হিসেবে পরিচিত। তার প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী।
- তিনি ১৮৫৪ সালের ২৪ জনিুয়ারি সুনামগঞ্জের লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় এক হাজার গান রচনা করেন।

তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রযেছে:
- ‘লোকে বলে, বলে রে, ঘর বাড়ী ভালা না আমার’
- ‘সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইল’ প্রভৃতি।

- তিনি ১৯২২ সালের ৭ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৭,৬৯২.
ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন -
  1. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. লর্ড ওয়াভেল
  3. লর্ড লিটন
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
লর্ড মাউন্টব্যাটেন:
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- এই পদে আসীন থাকাকালে (১৯৪৭-এর আগস্ট থেকে ১৯৪৮-এর জুন পর্যন্ত) তিনি ভারতীয় রাজন্যবর্গকে হয় ভারতীয় ইউনিয়ন, না হয় পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

⇒ ভাইসরয় হিসেবে তাঁর কার্যকাল সংক্ষিপ্ত হলেও এই সময়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।
- স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। এই পদে আসীন থাকাকালে (১৯৪৭-এর আগস্ট থেকে ১৯৪৮-এর জুন পর্যন্ত) তিনি ভারতীয় রাজন্যবর্গকে হয় ভারতীয় ইউনিয়ন, না হয় পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

উল্লেখ্য,
- তিনি ১৯৭৯ সালের ২৭ আগস্ট আয়ারল্যান্ডের অদূরে ডোনেগাল বে-তে তাঁর নৌযানে এক বিস্ফোরণে নিহত হন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) Britannica.
৭,৬৯৩.
কে পূর্ব বাংলার নামকরণ বাংলাদেশ করেন?
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’।
তিনি বলেন, “একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। ... একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। ... জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশ”।
সূত্রঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।

৭,৬৯৪.
নিম্নের কোন প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২২ অর্জন করে?
  1. ক) গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডব্লিউএমআরআই
  2. খ) বিদ্যুৎ বিভাগ
  3. গ) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পুরস্কার।
- জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ২টি প্রতিষ্ঠান এ পুরস্কার লাভ করে।
- সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। 

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ

১. বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী
২. শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা (বীর বিক্রম)
৩. আবদুল জলিল
৪. সিরাজ উদ্দীন আহমেদ
৫. মরহুম মোহাম্মদ ছহিউদ্দিন বিশ্বাস
৬. মরহুম সিরাজুল হক।

চিকিৎসাবিদ্যা

৭. অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া
৮. অধ্যাপক মো. কামরুল ইসলাম

স্থাপত্য

৯. মরহুম স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন।

গবেষণা ও প্রশিক্ষণ

১০. গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডব্লিউএমআরআই)

বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান ও শতভাগ বিদ্যুতায়নের স্বীকৃতি স্বরূপ:
১১. বিদ্যুৎ বিভাগ

তথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, এপ্রিল - ২০২২।
৭,৬৯৫.
বাংলাদেশের কোন নারী মুক্তিযোদ্ধা 'মুক্তিবেটি' নামে পরিচিত?
  1. ক) কাঁকন বিবি
  2. খ) সিতারা বেগম
  3. গ) তারামন বিবি
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহীম 
ব্যাখ্যা
- নারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি খাসিয়া সম্প্রদায়ের।
- তিনি 'মুক্তিবেটি' নামে পরিচিত।
- তার জন্ম ১৯৪৮ সালে সুনামগঞ্জ জেলার এক খাসিয়া পরিবারে। 
- পরবর্তীতে তিনি ইসলামধর্ম গ্রহণ করে প্রথমে একজন বাঙালি এবং পরে একজন পাকিস্তানিকে বিয়ে করেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৫ নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করেন। 
- এক পর্যায়ে তিনি পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
- কাঁকন বিবি কে ১৯৯৭ সালে মৌখিক ভাবে বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হলেও তার গেজেট প্রকাশিত হয়নি।
- ২০১৮ সালের ২১শে মার্চ তিনি মারা যান।

(সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং পত্রিকা রিপোর্ট)
৭,৬৯৬.
রাজা রামমোহন রায় কে ’রাজা’ উপাধি দিয়েছেলেন কে?
  1. সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট হুমায়ুন
  4. রাজা পঞ্চম জর্জ
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় পশ্চিম বাংলার রাধানগর গ্রামে এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত ছিলেন।
-  তিনি হিন্দি ও তাঁর মাতৃভাষা বাংলা ছাড়াও  যেমন সংস্কৃত, আরবি ও ফারসিতে উল্লেখযোগ্য ব্যুৎপত্তি লাভ করেন।
- একেশ্বরবাদ বানী প্রচারে রামমোহন রায় আত্মীয় সভা গঠন করেন ।
- ১৮২২ সালে  অ্যাংলো হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট দ্বিতীয় আকবর রাজা রামমোহন রায়কে রাজা উপাধি দেন।
- ১৮২৫ সালে বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, গঙ্গা সাগরে সন্তান বিসর্জন, শিশুকন্যা হত্যার প্রতিবাদ করেন।
- তার প্রচেষ্টায় ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করেন।
- তাকে ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
- ব্রাহ্ম সমাজ নামের পরিবর্তে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করা হয় ১৮৪৩ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৬৯৭.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সর্বপ্রথম উত্তোলন করেন কে?
  1. আ ক ম আব্দুল রব
  2. সিরাজুল আলম খান
  3. আ স ম আব্দুর রব
  4. তোফায়েল আহমেদ
ব্যাখ্যা

জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রদের পক্ষে পতাকাটি উত্তোলন করেছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।

সূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ২ মার্চ ২০২২ ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ২ মার্চ ২০২৩।

৭,৬৯৮.
প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের কয়টি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল । 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৯৯.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার কে?
  1. মাইনুল হোসেন
  2. কামরুল হাসান
  3. শিবনারায়ণ দাশ
  4. সমর দাশ
ব্যাখ্যা

জাতীয় প্রতীক:
- জাতীয় প্রতীক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতীক।
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার- কামরুল হাসান।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি
পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে তারকা।
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি।
- এ তিনটি উপাদানের উপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হলো অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৭,৭০০.
স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রু মুক্ত জেলা কোনটি?
  1. কুষ্টিয়া
  2. ঢাকা
  3. কুমিল্লা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
শত্রুমুক্ত জেলা:
- স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা ঢাকা।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরাজয় হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর।
- কিন্তু আত্মসমর্পণের পরও পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল।
- ঢাকায় আত্মসমর্পণের ১ সপ্তাহ পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর ২৩ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় কুমিল্লার হোমনা।
- কিন্তু ঢাকার মিরপুর তখনো পাকিস্তানি বাহিনী ও বিহারিদের হাতে পুরোপুরি অবরুদ্ধ।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি এক বিশেষ সামরিক অভিযানের পর ৩১ জানুয়ারি ১২ নম্বর সেকশনের ডি ব্লক ঈদগাহ মাঠে আত্মগোপনকারী পাকিস্তানি সেনা, বিহারি, রাজাকার, আলবদরদের অস্ত্রসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় মিরপুর।

অন্যদিকে,
- কুষ্টিয়া জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১১ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- সিলেট জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- কুমিল্লা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১।

তথ্যসূত্র - জানুয়ারি ৩০, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।