বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৭৬ / ১২৪ · ৭,৫০১৭,৬০০ / ১২,৪২১

৭,৫০১.
“The Spirit of Islam” গ্রন্থটি রচনা করেছেন কে?
  1. ক) নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. খ) সৈয়দ আমির আলি
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমির আলি
- ঊনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমির আলি।
- তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও বৈষয়িক উন্নতি করতে ও পাশাপাশি রাজনৈতিক ভাবেও সচেতন করতে চেয়েছেন।
- সৈয়দ আমির আলি ১৮৪৯ সালে হুগলির এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৮৭৩ সালে লন্ডনের লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন।
- পরে ১৮৯০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯০৯ সালে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।

- তিনি ১৮৭৭ সালে কোলকাতায় “সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাাসোসিয়েশন” নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ ‘The Spirit of Islam” এবং “A Short History of the Saracens” -এ ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা ও ইসলামের অতীত গৌরবের কথা তুলে ধরা হয়েছে। 
- তিনি ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানান এবং ১৯১২ সালে মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- তিনি নারী অধিকারের বিষয়েও সচেতন ছিলেন। আধুনিক ভারতের উন্নতির জন্য হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন বলে তিনি বিশ্বাস করতেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৫০২.
১৯৬৯ সালে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. লাহোর
  2. ঢাকা
  3. রাওয়ালপিন্ডি
  4. আগরতলা
ব্যাখ্যা

ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাবলি:
- আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে।
- মধ্য জানুয়ারিতে গণআন্দোলনের রূপ নেয়। 
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। 
- সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে।
- মুক্তি দেয়া হয় রাজবন্দীদেরও।
- মুক্তি দেয়ার পর আন্দোলনের ব্যাপকতা আরো বেড়ে যায়।
- এমনি পরিস্থিতিতে আইয়ুব খান সার্বজনীন ভোটাধিকারের দাবি মেনে নেন এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। 
- এমনকি আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে না দাঁড়ানোরও প্রতিশ্রুতি দেন।
- ১৯৬৯ সালের ১০ই মার্চ রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে বসার আহ্বান জানান যা রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত হয়। 
- মওলানা ভাসানী ও জুলফিকার আলী ভুট্টো উক্ত গোলটেবিল বৈঠক বয়কট করেন। 
-  কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৈঠক ব্যর্থ হয়।

উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭,৫০৩.
ছয় দফা দিবস কবে পালিত হয়?
  1. ৫ জুন
  2. ৬ জুন
  3. ৭ জুন
  4. ৮ জুন
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

- ৭ জুন ছয় দফা দিবস।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫০৪.
সিপাহী মোস্তফা কামাল কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলেন?
  1. ১নং
  2. ২নং
  3. ৩নং
  4. ৪নং
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:

- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৭,৫০৫.
কনৌজের কোন রাজবংশ শশাঙ্কের বিরোধীতা করে?
  1. চন্দ্র
  2. পরবর্তী গুপ্ত
  3. মৌখরী
  4. পুষ্যভূতি
ব্যাখ্যা
⇒  কনৌজের মৌখরী রাজবংশ শশাঙ্কের বিরোধীতা করে।

শশাঙ্ক:

- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৫০৬.
জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল কোনটি?
  1. ক) জাতীয় লীগ
  2. খ) জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল
  3. গ) জাতীয় জনতা পার্টি
  4. ঘ) আজাদী লীগ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ এবং পরিবর্তী সময়কার রাজনৈতিক দলসমূহ: 
- আতাউর রহমান খান কর্তৃক গঠিত জাতীয় লীগ (১৯৭০),
- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ, ১৯৭২),
- জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত জাতীয় জনতা পার্টি (১৯৭৬),
- আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বাধীন গণ আজাদী লীগ (১৯৭৬), 
- খোন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বাধীন গঠিত বাংলাদেশ ডেমোক্র্যাটিক লীগ (১৯৭৬)।

উৎস: Live MCQ লেকচার।
৭,৫০৭.
বুড়িমারী স্থলবন্দরটি কোথায় অবস্থিত?
  1. চুয়াডাঙ্গা
  2. যশোর
  3. লালমনিরহাট
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা

• দেশের স্থলবন্দর:
- বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয় - ১৪ জুন ২০০১ সালে।
- বাংলাদেশের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় - ঢাকা।
- বাংলাদেশের প্রধান স্থলবন্দর - বেনোপোল স্থলবন্দর।

• গুরত্বপূর্ণ স্থলবন্দরের অবস্থান:
• বেনাপোল স্থলবন্দর - বেনাপোল, যশোর।
• বুড়িমারী স্থলবন্দর - পাটগ্রাম, লালমনিরহাট।
• আখাউড়া স্থলবন্দর- আখাউড়া, ব্রাহ্মনবাড়িয়া।
• ভোমরা স্থলবন্দর - ভোমরা, সাতক্ষিরা।
• তামাবিল স্থলবন্দর- গোয়াইনঘাট সিলেট।
• দর্শনা স্থলবন্দর  - দামুরহুদা, চুয়াডাঙ্গা।
• বিলোনিয়া স্থলবন্দর - বিলোনিয়া, ফেনী।
• গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর - হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ।
• রামগড় স্থলবন্দর - রামগড়, খাগড়াছড়ি।
• সোনাহাট স্থলবন্দর - ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ । [লিংক]

৭,৫০৮.
দেশে প্রথমবারের মতো কোন তিনটি জেলাকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ
  2. ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ
  3. চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল
  4. কক্সবাজার, ভোলা, নওগাঁ
ব্যাখ্যা

• পানি সংকটাপন্ন এলাকা:
- দেশে প্রথমবারের মতো ৩টি অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

- বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩-এর ধারা ১৭ ও ১৯-এর আলোকে বিস্তারিত জরিপ ও অনুসন্ধান শেষে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার তিনটি অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে
- ২৫ আগস্ট ঢাকার গ্রিন রোডের ওয়ারপো ভবনের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় পানিসম্পদ পরিষদের নির্বাহী কমিটির ১৮তম সভায় এই তিনটি এলাকাকে সংকটাপন্ন ঘোষণা করা হয়।
 - এ অঞ্চলে মোট ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়ন (৪ হাজার ৯১১টি মৌজা)-এর মধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নকে (১ হাজার ৫০৩টি মৌজা) অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

- চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন (১০৪টি মৌজা) ও একটি পৌরসভা (আটটি মৌজা)-এর মধ্যে তিনটি ইউনিয়ন (সাতটি মৌজা) এবং একটি পৌরসভাকে (পাঁচটি মৌজা) অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ। লিংক

৭,৫০৯.
১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ যে 'গণপরিষদ আদেশ' জারি করা হয় তা কখন থেকে কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছিল?
  1. ক) ২৪ মার্চ, ১৯৭২
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
গণপরিষদ আদেশ
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন। আদেশটি ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সাল থেকে কার্যকর হয়।
• এই আদেশ অনুসারে ডিসেম্বর, ১৯৭০ এবং জানুয়ারি, ১৯৭১ সালে নির্বাচিত প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যগণ গণপরিষদের সদস্য বলে বিবেচিত হয়। মৃত্যু এবং আইনে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার ফলে উভয় পরিষদ মিলে সর্বমোট ৪৬৯ জন সদস্যের স্থলে ৪০৪ জন সদস্য নিয়ে গণপরিষদ গঠিত হয়।
• এই গণপরিষদের উপর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। গণপরিষদ তার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করে। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৫১০.
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে কোথায়?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) পটুয়াখালী
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) লক্ষ্মীপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে।
সমুদ্রবন্দরটি নির্মাণে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করছে জাপান সরকার।
প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ১৭,৭৭৫ কোটি টাকা যার অধিকাংশ জাপানি সংস্থা জাইকা সরবরাহ করবে।
২০২৫ সাল নাগাদ এটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে। এ বন্দরে বার্ষিক প্রায় ৮ লক্ষ কন্টেইনার উঠানামা করবে।
তবে এটি স্বতন্ত্র বন্দর না হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বন্দর হিসেবে কাজ করবে।
(সূত্র: অর্থবিভাগ ওয়েবসাইট)
৭,৫১১.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়েছিলো?
  1. ক) চতুর্থ সংশোধনী
  2. খ) পঞ্চম সংশোধনী
  3. গ) সপ্তম সংশোধনী
  4. ঘ) অষ্টম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

- ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মুশতাক আহমেদ কুখ্যাত ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন।
- এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। তাদের বিচারের আওতায় আনা যাবে না মর্মে ঘোষণা দেয়া হয়।
- ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে গৃহিত সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করে।
- পরবর্তীতে, ১২ নভেম্বর ১৯৯৬ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)

৭,৫১২.
মুজিবনগর সরকারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমদ
  4. ঘ) এএইচএম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল আওয়ামী লীগের প্রধান নেতৃবৃন্দদের সমন্বয়ে অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে। ১৮ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়।

মুজিবনগর সরকারের সদস্যবৃন্দ:

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান : রাষ্ট্রপতি।

- সৈয়দ নজরুল ইসলাম : উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।

- তাজউদ্দিন আহমদ : প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।

- এম মনসুর আলী : অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী।

- এএইচএম কামরুজ্জামান : স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী।

- খন্দকার মোশতাক আহমেদ : পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৭,৫১৩.
বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা কত?
  1. ক) ৬৭৬ জন
  2. খ) ৬৪ জন
  3. গ) ১৭৫ জন
  4. ঘ) ৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৭,৫১৪.
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা কত?
  1. ৩৩০
  2. ৩৪০
  3. ৩৫০
  4. ৩৬০
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা ৩৫০ ( সরাসরি ৩০০ আসন + সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫০)।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ৩০০ সদস্য বিশিষ্ট সর্বোচ্চ আইন পরিষদ।
- প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারের সরাসরি ভোটের ভিত্তিতে প্রতি আসন থেকে একজন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
- সাধারণত প্রতি ৫ বছর অন্তর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৩রা জুলাই, ২০১১ তারিখে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৪৫ হতে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে সর্বোচ্চ আইন পরিষদকে বাংলায় ‘জাতীয় সংসদ’ এবং ইংরেজিতে ‘হাউজ অব্ দ্য নেশন’ বলা হয়েছে।

 সূত্র:  জাতীয় সংসদ ও বাংলাপিডিয়া। 
৭,৫১৫.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে মতিউর রহমান কবে নিহত হয়েছিলেন?
  1. ১৯ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  2. ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  3. ২২ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  4. ২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠে যা ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।

⇒ ১৯৬৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ছাত্রনেতারা দেশব্যাপী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দিলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনেম খান ছাত্র আন্দোলন দমাতে ১৪৪ ধারা জারি করে।
- সরকারি নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) নিহত হলে আন্দোলন আরও তীব্র হয়।
- পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে মিছিল বের করে।
- ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি মিছিলে পুলিশের গুলিতে গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান নিহত হলে এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- তাই ২৪ জানুয়ারিকে গণঅভ্যুত্থান দিবস ঘোষণা করা হয়।

⇒ এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- আগরতলা মামলা বাতিল হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৭,৫১৬.
কোন শাসনামলে প্রাচীন বাংলার গৌরব মসলিন কাপড় ঢাকায় তৈরি হতো?
  1. মুঘল শাসনামলে
  2. পাল শাসনামলে
  3. সেন শাসনামলে
  4. ইংরেজ শাসনামলে
ব্যাখ্যা
মসলিন কাপড়:
- মুঘল আমলে প্রাচীন বাংলার গৌরব মসলিন কাপড় ঢাকায় তৈরী হতো।
- মসলিন বিশেষ এক ধরনের তুলার আঁশ থেকে প্রস্তুতকৃত সূতা দিয়ে বয়ন করা এক প্রকার অতি সূক্ষ্ম কাপড়।
- এটি ঢাকাই মসলিন নামেই পরিচিত।
- ফুটি কার্পাস নামক তুলা থেকে প্রস্তুত অতি চিকন সুতা দিয়ে মসলিন তৈরী করা হতো।
- চড়কা দিয়ে কাটা, হাতে বোনা মসলিনের জন্য সর্বনিম্ন ৩০০ কাউন্টের সুতা ব্যবহার করা হতো।
- নানা কারণে আঠারো শতকের শেষার্ধে বাংলায় মসলিন বয়ন বন্ধ হয়ে গেলেও বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগে পুনরায় বুননের কাজে হাত দেয়া হয় এবং এই শিল্পকে আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
- ঢাকাই মসলিনের শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল লন্ডনে ১৮৫০ সালে।
- এর ১৭০ বছর পর বাংলাদেশে আবার বোনা হলো ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন কাপড়ের শাড়ি।
- মসলিন ঠিক তেমনই ঠিক যেমনটি আগে ছিল আংটির ভেতর দিয়ে গলে যায় আস্ত শাড়ি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৫১৭.
সংবিধান প্রণয়নের প্রথম পদক্ষেপ কোনটি ?
  1. ক) অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি
  2. খ) গণপরিষদ আদেশ জারি
  3. গ) বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
  4. ঘ) সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন:
- বাঙালি জাতি রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রাম ও বহু তাজা প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গঠিত মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতার পর ঢাকা স্থানান্তরিত হয়।
- ঢাকায় এসে এ সরকার প্রকৃত শাসনভার গ্রহণ করে।
- প্রবাসী সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন হয়ে ঢাকায় আসেন।
- তার পরের দিন অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি "বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান অধ্যাদেশ" জারি করা হয়।
- এ আদেশ জারিই হল বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম পদক্ষেপ।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশে একটি নতুন ও সময়োপযোগী সংবিধান প্রণীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৫১৮.
গেরিলা ছবির পরিচালক কে?
  1. নাসির উদ্দীন ইউসুফ
  2. জহির রায়হান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. চাষী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
গেরিলা: 
- নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত ছবি গেরিলা। 
- এই ছবিটি মুক্তি পায় ২০১১ সালে।
- ছবিটিতে অভিনয় করেন শতাধিক শিল্পী।
- প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস।

উৎস: The Daily Star বাংলা (মার্চ ২৬, ২০২০)
৭,৫১৯.
মুজিবনগর সরকারকে শপথ বাক্য কে পাঠ করান?
  1. অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক
  2. এম হোসেন আলী
  3. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার: 
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল প্রণীত ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ ছিল বাংলাদেশের মুক্তি আকাঙ্ক্ষী রাষ্ট্রের প্রথম সংবিধান।
- ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুসারে ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কারণ ঘোষণাপত্রে লেখা হয়েছে- ‘আমাদের এই - স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। 
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ। 
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- পরে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর। 
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
- মুজিবনগর সরকারকে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভাগ করা হয়।
- মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন হয় ১৮ এপ্রিল ১৯৭১।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭,৫২০.
কলকাতায় পড়াকালীন বঙ্গবন্ধু কোন ছাত্রাবাসে ছিলেন?
  1. ইসলামিয়া ছাত্রাবাস
  2. বেকার হোস্টেল
  3. এডওয়ার্ড ছাত্রাবাস
  4. মিশনারি হোস্টেল
ব্যাখ্যা
বেকার হোস্টেল:
- ১৯১০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় বেকার হোস্টেল।
- ছাত্রাবাসটি ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১০ সালে এডওয়ার্ড নরম্যান বেকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রাবাসটি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ৮ স্মিথ লেনে অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ডিগ্রি পড়ার সময় এই বেকার হোস্টেলে ছিলেন ১৯৪২-৪৭ সাল পর্যন্ত।
- উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি ১৯৪২ সালে ভর্তি হয়েছিলেন এ কলেজে।
- তিনি ছিলেন ২৪ নম্বর কক্ষে।
- এই ইসলামিয়া কলেজের নাম পরিবর্তন করে এখন নামকরণ করা হয়েছে মৌলানা আজাদ কলেজ।
- ১৯৪৬ সালে বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হন।
- ১৯৪৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই ইসলামিয়া কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে স্নাতক হয়েছিলেন।

উৎস: ২৯ আগস্ট ২০১৯, প্রথম আলো।
৭,৫২১.
কোন রাজবংশের পতনের পর দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় দেব রাজবংশের উত্থান ঘটে?
  1. নাথ রাজবংশ
  2. রাত রাজবংশ
  3. পাল রাজবংশ
  4. খড়গ রাজবংশ
ব্যাখ্যা

⇒ খড়গ রাজবংশের পতনের পর দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় দেব রাজবংশের উত্থান ঘটে।

দেব রাজবংশ:
- সাত শতকের শেষ ভাগ থেকে আট শতকের প্রথমার্ধে (৭৫০-৮০০খ্রি.) দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গ দেব রাজবংশের অধীনে শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাদের রাজধানী ছিল বর্তমান লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলের দেবপর্বত।
- দেব রাজবংশের চারজন বিখ্যাত রাজার নাম শ্রী শান্তিদেব, শ্রী বীরদেব, শ্রী আনন্দদেব ও শ্রী ভবদেব।
- ময়নামতির শালবন বিহার খনন করে এই রাজবংশের চারটি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
- দেববংশের রাজারা প্রাথমিক যুগের পাল রাজাদের সমসাময়িক ছিলেন।
- পাল রাজারা ময়নামতি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধধর্মের বিকাশ ঘটিয়েছিলেন।
- এর নিদর্শন শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার প্রভৃতির কথা বলা যায়।
- বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও পোড়ামাটির ফলক থেকে দেবপর্বত অঞ্চলে বৌদ্ধধর্ম-কেন্দ্রিক একটি সমৃদ্ধ জনবসতি গড়ে ওঠার বিষয়টি সুস্পষ্ট।
- আনন্দদেব ছিলেন দেব রাজবংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।
- তিনি প্রায় ৩৯ বছর দেবপর্বতের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- তিনি পরমসৌগত, পরমেশ্বর, পরমভট্টারক ও মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করেছিলেন বলে জানা যায়। বাংলাদেশে বিকশিত বৌদ্ধ সংস্কৃতির সাথে দেব রাজবংশের ইতিহাস গুরুত্বের সাথে জড়িয়ে আছে।
- দেব রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতি রাজকীয় মর্যাদা লাভ করেছিল।
- চন্দ্র ও পাল রাজাদের আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করায় বঙ্গ হয়ে উঠেছিল তৎকালীন বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৫২২.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ঢাকার কোন এলাকায় অবস্থিত?
  1. ক) সেগুনবাগিচা
  2. খ) ধানমণ্ডি
  3. গ) মগবাজার
  4. ঘ) বনানী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত নিদর্শন ও স্মারকচিহ্নসমূহ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের স্থান। এটি ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ঢাকাস্থ সেগুনবাগিচার একটি পুরানো দ্বিতল বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রবেশ পথেই রয়েছে ‘শিখা চিরন্তন’, প্রস্তরে উৎকীর্ণ করা আছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অঙ্গীকার: সাক্ষী বাংলার রক্তভেজা মাটি/ সাক্ষী আকাশের চন্দ্রতারা/ ভুলি নাই, শহীদদের কোন স্মৃতি/ ভুলবনা কিছুই আমরা। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৭,৫২৩.
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের দিনে পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. মেজর খালেদ মোশাররফ
  2. জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী
  3. ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
  4. জেনারেল নিয়াজী
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।  তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

⇒ ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সকালে মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য বিনা শর্তে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।
- প্রতি বছর এই দিনটি "বিজয় দিবস" হিসাবে পালিত হয়।

এছাড়াও,
- এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ, ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি। 
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৫২৪.
তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন -
  1. ক) আবুল হাসেম
  2. খ) আবুল কালাম
  3. গ) আবুল কালাম আজাদ
  4. ঘ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ
• প্রতিষ্ঠা - ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর।
• উদ্যোক্তা - অধ্যাপক আবুল কাশেম, পদার্থবিজ্ঞান , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
• অন্য সদস্যরা ছিলেন- কাজী মোতাহার হোসেন,আবুল মনসুর আহমদ
• ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে পুস্তিকা প্রকাশ- ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর।
• প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক- অধ্যাপক আবুল কাশেম।
• প্রথম সভাপতি- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫২৫.
মুজিবনগর সরকারের চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্বে ছিলেন-
  1. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  2. ক্যাপ্টেন এম.মনসুর আলী
  3. লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ, অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম.মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান, প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী, চিফ অব স্টাফ ছিলেন লে. কর্নেল(অব.) আবদুর রব এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
৭,৫২৬.
আইয়ুব খান রোমান হরফে বাংলা লেখার উদ্যোগ নেয় কত সালে?
  1. ১৯৫৮ সালে
  2. ১৯৫৯ সালে
  3. ১৯৬০ সালে
  4. ১৯৬১ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি:

- আইয়ুব খান বাংলা ভাষার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন।
- তিনি রোমান হরফে বাংলা লেখার উদ্যোগ নেন ১৯৫৯ সালে।
- বাংলা একাডেমির তৎকালীন পরিচালক সৈয়দ আলী আহসানের সভাপতিত্বে 'বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি' গঠিত হয়।
- কিন্তু বাঙালি প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী মহলে প্রচন্ড বিরোধিতায় আইয়ুবের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৫২৭.
সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় কোন মুঘল সম্রাটের শাসনামলে?
  1. ক) সম্রাট হুমায়ুন
  2. খ) সম্রাট বাবর
  3. গ) সম্রাট আকবর
  4. ঘ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
• বাংলার বার ভূঁইয়াদের দমন করে এদেশে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালের কৃতিত্বপূর্ণ কার্য।
• সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে সুবাদার ইসলাম খান ‘বারোভূঁইয়া’দের দমন করে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। 
• আর এ কৃতিত্বের দাবিদার সুবাদর ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ খ্রি:)। শাসনভার গ্রহণ করেই তিনি বুঝতে পারেন যে, বার ভূঁইয়াদের নেতা মূসা খানকে দমন করতে পারলেই তাঁর পক্ষে অন্যান্য জমিদারদেরকে বশীভূত করা সহজসাধ্য হবে।
• সেজন্য তিনি রাজমহল হতে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কারণ, মূসা খানের ঘাঁটি সোনারগাঁও ঢাকার অদূরে ছিল।
• বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় আসার পথে ইসলাম খান বেশ কজন জমিদারের আনুগত্য লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫২৮.
ফা-হিয়েন ছিলেন—
  1. গ্রিক ইতিহাসবিদ
  2. আরবি পরিব্রাজক
  3. চীনা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী
  4. রোমান সেনাপতি
ব্যাখ্যা
- ফা-হিয়েন ছিলেন একজন প্রাচীন চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক। 

ফা-হিয়েন:
- ফা-হিয়েন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন ও তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন।
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তাঁর বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।
- তিনি তাঁর ভ্রমণের অধিকাংশ সময়ই মধ্য ভারত বা মগধ পরিভ্রমণ অতিবাহিত করেন।
- তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল সে সময়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি। 

উল্লেখ্য,
- চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
- ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে।
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয় ও  বাংলাপিডিয়া।
৭,৫২৯.
টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ ঘটে কত সালে?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র:
- সুনামগঞ্জের ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক আদালত। - ২০০৫ সালে সংঘটিত ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডার কোম্পানি নাইকোকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (৫১৬ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
- এ নির্দেশ দিয়েছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (ইকসিড)।
- টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খননকাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭জানুয়ারি ও ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

উৎস: সমকাল।

৭,৫৩০.
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২২ অনুযায়ী স্থূল জন্ম হার (প্রতি হাজারে)-
  1. ক) ২১.৩ জন
  2. খ) ২০.৫ জন
  3. গ) ১৯.৩ জন
  4. ঘ) ১৮.১ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২২ অনুসারে,
- সাক্ষরতার হার (৭ বছরের অধিক) ৭৫.২%।
- প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল ৭২.৮ বছর।
- শিশু মৃত্যুহার (প্রতি ১০০০ জীবিত জন্মে) ১ বছরের কম ২১ জন এবং ৫ বছরের কম ২৮ জন।
- দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশ।
- চরম দারিদ্র্যের হার ১০.৫ শতাংশ।
- স্থূল জন্ম হার (প্রতি ১০০০ জনে) ১৮.১ জন।
- স্থূল মৃত্যু হার (প্রতি ১০০০ জনে) ৫.১ জন।
- ডাক্তার ও জনসংখ্যার অনুপাত-২০১৮ = ১:১৭২৪।
৭,৫৩১.
কোন যুগে আগুন আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) প্রাচীন প্রস্তর যুগ
  2. খ) মধ্য প্রস্তর যুগ
  3. গ) নব্য প্রস্তর যুগ
  4. ঘ) তাম্রযুগ
ব্যাখ্যা
আগুনের আবিষ্কার হয় প্রাচীন প্রস্তর যুগে। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১ লক্ষ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০ হাজার অব্দ পর্যন্ত সময়কে প্রাচীন প্রস্তর যুগ ধরা হয়। নব্য প্রস্তর যুগের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো চাকা এবং কৃষিকাজ।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক সমাজবিজ্ঞান ২য়পত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৭,৫৩২.
'সাত গম্বুজ মসজিদ' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) চকবাজার
  2. খ) আরমানিটোলা
  3. গ) মোহাম্মদপুর
  4. ঘ) মিরপুর
ব্যাখ্যা
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত। 
- এটির নির্মাতা মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান। 
- ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এটি নির্মাণ করেন।
- তবে অন্য তথ্যমতে এটির নির্মাতা শায়েস্তা খানের ছেলে বুজুর্গ উদ্দিন (উমিদ)।
- বর্তমানে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আছে।

তথ্য: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৭,৫৩৩.
২০৪১ সাল নাগাদ চরম দারিদ্র্যের হার কত শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যস্থির করা হয়েছে?
  1. ক) ৩ শতাংশ
  2. খ) ২ শতাংশ
  3. গ) ৪ শতাংশ
  4. ঘ) ১ শতাংশ
ব্যাখ্যা
• ২০৪১ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার ৩.০ শতাংশের নিচে এবং চরম দারিদ্র্য হার ১.০ শতাংশের নিচে নামিয়ে লক্ষ্যস্থির করা হয়েছে।
• ২০২০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮.৮ শতাংশ।
• ২০৩১ সালে এটি দাঁড়াবে ৭.০ শতাংশে। 

তথ্যসূত্র:- পরিকল্পনা কমিশন
৭,৫৩৪.
নিচের কোন সংবাদপত্রটি ভাষা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো?
  1. ক) ইত্তেফাক
  2. খ) আজাদ
  3. গ) মর্নিং নিউজ
  4. ঘ) মিল্লাত
ব্যাখ্যা
- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে সংবাদপত্রের ভূমিকা ছিলো অসামান্য। সাপ্তাহিক সৈনিক, ইত্তেফাক, আজাদ, সংবাদ, অগত্যা, মিল্লাত, ইনসাফ, জিন্দেগী, পাকিস্তান অবজারভার প্রভৃতি পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের সমর্থনে জোরালো ভূমিকা পালন করে।
অন্যদিকে,
- ‘মর্নিং নিউজ’ পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকেই তথ্য বিকৃতি করে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৭,৫৩৫.
নিচের কার উপাধি ছিলো ‘ফুয়েরার’?
  1. বেনিতো মুসোলিনী
  2. এডলফ হিটলার
  3. ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো
  4. ফ্রাঁসোয়া দুভেলিয়ে
ব্যাখ্যা
- ফুয়েরার বা নেতা/পথ প্রদর্শক হলো হিটলারের উপাধি ।
- অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ যিনি ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। 
- হিটলার ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর এবং ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সে দেশের ফুয়েরার ছিলেন।
- তার গোপন পুলিশ বাহিনীর নাম গেস্টাপো ।
- তার আত্নজীবনী হলো Mein Kampf ।
- ’যুদ্ধই জীবন,যুদ্ধই সার্ব্জনীন’  তার বিখ্যাত উক্তি।
উৎস: ব্রিটানিকা
৭,৫৩৬.
বর্তমানে বাংলাদেশে কত ধরনের বিদ্যালয়ের মাধ্যমে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার চাহিদা পূরণ করে চলেছে?
  1. ১০ ধরনের
  2. ১১ ধরনের
  3. ১৩ ধরনের
  4. ১৫ ধরনের
ব্যাখ্যা

বর্তমানে দেশে ১১ ধরনের বিদ্যালয়ের মাধ্যমে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার চাহিদা পূরণ করে চলেছে।
যথা:
দেশে প্রাথমিক স্তরে দু'টি উপধারা রয়েছে। (১) সাধারণ ও (২) ধর্মীয় মাদরাসা শিক্ষা।

এ সব নিয়ে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বর্তমানে ১১ (এগার) রকমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যথা:
১. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়;
২. রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়;
৩. রেজিস্টার্ড নয়, এমন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়;
৪. মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়;
৫. এবতেদায়ী মাদরাসা;
৬. দাখিল মাদরাসা ও সংশ্লিষ্ট এবতেদায়ী মাদরাসা;
৭. এন.জি.ও. স্কুল (যেমন- ব্রাক স্কুল);
৮. এক্সপেরিমেন্টাল স্কুল (প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত স্কুল- এ গুলো সরকারি);
৯. কিন্ডার গার্টেন স্কুল;
১০. স্যাটেলাইট স্কুল (প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই এমন গ্রামে ১ম-৩য় শ্রেণি সম্বলিত স্কুল);
১১. কমিউনিটি স্কুল (এলাকাবাসীর অনুদানে একজন শিক্ষক বিশিষ্ট স্কুল)।

সূত্র: স্কুল অব এডুকেশন, এমএড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭,৫৩৭.
শেরশাহ উপমহাদেশে কোন ব্যবস্থা চালু করেন?
  1. রেলওয়ে
  2. টেলিগ্রাফ
  3. ঘোড়ার ডাক
  4. পুলিশ
ব্যাখ্যা

শেরশাহ:
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।
- শের খান ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরজগড়ের যুদ্ধে মাহমুদ শাহ ও জালাল খানের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের খান বাংলা আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করেন। কিন্তু মুগল সম্রাট হুমায়ুন বাংলা অভিমুখে অগ্রসর হলে শের খান বাংলা ত্যাগ করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং বাংলা পুনর্দখল করে খিজির খানকে এর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তী বছর পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত ও ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।

উল্লেখ্য,
- শেরশাহ উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন।
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন। গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৫৩৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ক) ৬ নং
  2. খ) ৭ নং
  3. গ) ৮ নং
  4. ঘ) ৯ নং
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করে। এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়। মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো। এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর। ঢাকা শহর ২নং সেক্টরের অধীন ছিলো। (সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
৭,৫৩৯.
নিম্নের কোনটি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) NDF
  2. খ) DAC
  3. গ) COP
  4. ঘ) NAP
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দ মিলে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন।
-  ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বঙ্গবন্ধু তথা আওয়ামী লীগের ছয় দফা গ্রহণ করে এর সাথে আরও কয়েকটি দাবির সমন্বয়ে ১১দফা দাবি পেশ করে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের ৮টি রাজনৈতিক দল মিলে ‘গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ’-ডাক (Democratic Action Committee - DAC) নামক একটি মোর্চা গঠন করে ৮ দফা দাবি পেশ করে। 
- এরপর ‘ডাক' ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যৌথ প্রচেষ্টায় পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। 
- ‘ডাক’ এর আহ্বানে ২০ জানুয়ারি সারা পূর্ব পাকিস্তানে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। 
- ধর্মঘট চলাকালে পুলিশের গুলিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান নিহত হন। 
- আসাদের মৃত্যুর প্রতিবাদে ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষিত হয়। 
- ২৪ জানুয়ারির পর থেকে লাগাতার আন্দোলন ও হরতালে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে বহুসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হয়। 

উৎস: বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ স্ট্যাডিজ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৫৪০.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কবে গঠিত হয়?
  1. ২০২৪ সালের ১২ জুলাই
  2. ২০২৪ সালের ১ জুন
  3. ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই
  4. ২০২৪ সালের ১ জুলাই
ব্যাখ্যা

জুলাই অভ্যুত্থান:
- বাংলাদেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’।
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে গঠিত হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন ৫ জুন, ২০২৪ হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষের শুরু হয়।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে তাদের আন্দোলন শুরু হয়।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়, যার শেষ পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে। ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

৭,৫৪১.
বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ৬৭২ জন
  2. ৬৭৪ জন
  3. ৬৭৬ জন
  4. ৬৭৮ জন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত। যথা- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।

- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,৫৪২.
সীতাকোট বিহারের অবস্থান -
  1. কুমিল্লায়
  2. দিনাজপুরে
  3. চট্টগ্রামে
  4. বগুড়ায়
ব্যাখ্যা
সীতাকোট বিহার:
- সীতাকোট বিহারের অবস্থান: নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।
- বিহারটিতে মোট ৪১টি প্রায় সমআয়তনের কক্ষ ছিল।
- এই কক্ষগলি একটি প্রশস্ত টানা বারান্দার সংগে যুক্ত ছিল।
- সীতাকোট বিহার আঙ্গিনার মধ্যবর্তী স্থানে কোন প্রধান মন্দির ছিলনা।
- এখানে পাহাড়পুর,শালবন বিহার এবং আনন্দ বিহারের মত ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির ফলক দেখা যায়না।
- তবে আকার আয়তনের দিক থেকে এই বিহারের সংগে বগুড়ায় অবস্থিত ভাসু বিহার এর অনেক মিল রয়েছে।
- সীতাকোট বিহার থেকে প্রাপ্ত দুইটি ব্রোঞ্জ মূর্তির গঠন শৈলী থেকে অনুমান করা যায় যে, এগুলি ৭ম-৮ম শতাব্দীতে তৈরী।
- সময়কাল: - খ্রিঃ ৭-৮ম শতক।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট।
৭,৫৪৩.
সাঁওতাল বিদ্রোহ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ক) ১৮২৪ সালে
  2. খ) ১৮৪২ সালে
  3. গ) ১৮৫৫ সালে
  4. ঘ) ১৮৯০ সালে
ব্যাখ্যা
- সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিলো জমিদার, মহাজন ও পুলিশের বিরুদ্ধে একটি সশস্ত্র বিদ্রোহ।
- ১৮১১, ১৮২০ ও ১৮৩১ সালে কয়েক দফায় সাঁওতালরা বিদ্রোহ করলেও সবচেয়ে ভয়াবহ ও সংগঠিত সাঁওতাল বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৮৫৫-৫৬ সালে।
- রাজমহলের পার্বত্য এলাকায় সংঘটিত এই বিদ্রোহ দমনে ইংরেজ সরকার কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করে।
- সিধু ও কানু নামের দুই ভাই এই বিদ্রোহে নেতৃত্বে দেন।
- কিন্তু ব্রিটিশ সরকার অত্যন্ত কঠোরভাবে এই বিদ্রোহ দমন করে। বিদ্রোহে জড়িতদের অধিকাংশকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। বন্দিদের জোরপূর্বক রেলশ্রমিক বানানো হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭,৫৪৪.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. তাজউদ্দীন আহমদ
  2. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. এম মনসুর আলী
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ: 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)। 
- তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
- খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
- এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৪৫.
'ঋণ সালিশি বোর্ড' কোন আইনের অধীনে স্থাপিত হয়?
  1. ক) বেঙ্গল অ্যাক্ট ৫
  2. খ) বেঙ্গল অ্যাক্ট ৬
  3. গ) বেঙ্গল অ্যাক্ট ৭
  4. ঘ) বেঙ্গল অ্যাক্ট ৮
ব্যাখ্যা
১৯৩৬ সালে বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ডেটরস অ্যাক্ট (১৯৩৬-এর বেঙ্গল অ্যাক্ট ৭)-এর অধীনে ঋণ সালিশি বোর্ড স্থাপিত হয়।

• ঋণ সালিশি বোর্ড:

- বোর্ড অব ইকোনমিক ইনকোয়ারি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৩৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গীয় আইন পরিষদে খাজা নাজিমউদ্দীন একটি বিল উত্থাপন করেন।
- বিলটি বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ডেটরস অ্যাক্ট (১৯৩৬-এর বেঙ্গল অ্যাক্ট ৭) শিরোনামে ১৯৩৬ সালের এপ্রিলে আইন পরিষদে পাস হয়।
- আইনটি ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের দ্বারা মনোনীত স্থানীয় প্রভাবশালী ও শিক্ষিত লোকদের মধ্য থেকে সদস্য নিয়ে ‘বোর্ড’ নামক ঋণবিষয়ক বেশ কয়টি সালিশি সভা স্থাপনের ব্যবস্থা করে দেয়।
- বোর্ডের দায়িত্ব ছিল দু পক্ষেরই কথা শুনে প্রধানত মহাজনদের কাছে ঋণগ্রস্ত কৃষকদের অনাদায়ী ঋণ আনুপাতিক হারে কমানো এবং এভাবে তাদের ওপর থেকে চাপ লাঘব করা।
- ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত এসব বোর্ড সক্রিয় ছিলো।

এছাড়াও,
- ঋণ সালিশি বোর্ড কৃষকদের ঋণের বোঝা থেকে রক্ষা করলেও এর প্রভাবে বাংলার গ্রামীণ ঋণ বাজার দুর্বল হয়ে পড়ে।
- কারণ অনেক মহাজন তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলে।
- এতে করে কৃষি ঋণের অভাবে অনাবাদী জমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
- এটিকে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের অন্যতম একটি কারণ হিসেবে অনেকে মনে করেন।
- ১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- বাংলা ১৩৫০ সালে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় একে পঞ্চাশের মন্বন্তর বলা হয়।
- এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়।
- এই দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৪৬.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী কোন খাতটি বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল?
  1. পর্যটন খাত
  2. পরিবহন খাত
  3. শিল্প খাত
  4. সেবা খাত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জিডিপিতে উৎপাদন ভিত্তিতে ৩ টি বৃহৎ খাত।
- সার্বিক ভাবে ১৯টি খাত রয়েছে।
- বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল খাত - শিল্পখাত।

সেবা খাত:
- সেবা খাতে জিডিপিতে অবদান ৫১.০৪%।
- সেবা খাতের প্রবৃদ্ধির হার ৫.৮০%।

শিল্প খাত:
- শিল্প খাতে জিডিপিতে অবদান ৩৭.৯৫%।
- প্রবৃদ্ধির হার- ৬.৬৬%।

কৃষি খাতের
- কৃষি খাতের অবদান-১১.০২%।
- কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার ৩.২১%।

 উল্লেখ্য,
- জিডিপিতে সর্ববৃহৎ খাত- সেবা খাত।
- ছোট খাত- কৃষি খাত।
- কিন্তু কর্মসংস্থান দিক থেকে বৃহৎ খাত- কৃষি খাত।

উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
৭,৫৪৭.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. এম.এ মঞ্জুর
  2. এ.টি.এম হায়দার
  3. এম খাদেমুল বাশার
  4. কে.এম শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৪৮.
স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় গঠিত সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের আহবায়ক কে ছিলেন? 
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  3. কর্নেল খালেদ মোশাররফ
  4. কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানী
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ:
- ১৯৭১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করার জন্য আওয়ামী লীগসহ পাঁচটি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় ৮ সদস্যের 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ'।
- এই পরিষদের নেতৃবৃন্দ মূলত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একাত্তরের ১০ এপ্রিল শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত মুজিবনগর সরকারকেই সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছিল।
- ভারতের কলকাতায় গঠন করা হয় 'জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি', যা 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ' নামে পরিচিতি লাভ করে।

⇒ সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন:
- আহবায়ক ছিলেন: তাজউদ্দীন আহমেদ।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।

⇒ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন-
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৫৪৯.
ঢাকা শহরে 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা
  2. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  4. জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
• অপারেশন সার্চলাইট:
- অপারেশন সার্চলাইট পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট  অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।
- সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৫০.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের সুশীল সমাজের অংশ?
  1. ক) এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়
  2. খ) বাংলা একাডেমি
  3. গ) আইন ও সালিশ কেন্দ্র
  4. ঘ) দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্বশীল সুশীল সমাজের সংগঠনগুলাের মধ্যে রয়েছে:
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), 
- Centre for Policy Dialogue (CPD), 
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), 
- সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), 
- বেলা 
 
বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
- বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়
- জাতীয় সংসদ
- এটর্নি জেনারেলের কার্যালয় প্রভৃতি।

অন্যদিকে, বাংলা একাডেমি, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন হলো সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।

সূত্রঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী এবং বাংলাদেশ সংবিধান; পত্রিকা রিপোর্ট।
৭,৫৫১.
BARD কোন মন্ত্রণালের অধীন?
  1. ক) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
  2. খ) গণপূর্ত বিভাগ
  3. গ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
  4. ঘ) শিখা মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে পল্লী উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রায়োগিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত একটি স্বায়ত্তশাসিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- এটি ১৯৫৯ সালে কুমিল্লা জেলার কোর্টবাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আখতার হামিদ খান।
- বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর কার্যক্রম একটি বোর্ড অব গভর্নর্স কর্তৃক পরিচালিত হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এ বোর্ডের চেয়ারম্যান।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৭,৫৫২.
কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোককে কোন ধর্ম গ্রহণে প্রভাবিত করে?
  1. জৈন ধর্ম
  2. হিন্দু ধর্ম
  3. বৌদ্ধ ধর্ম
  4. শৈব ধর্ম
ব্যাখ্যা

• সম্রাট অশোক:
- সম্রাট অশোক ভারতের মৌর্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক ছিলেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩ অব্দে তিনি সিংহাসনে বসেন। এর তের বছর পর খ্রিস্টপূর্ব ২৬১ অব্দে অশোক পার্শ্ববর্তী কলিঙ্গ রাজ্য আক্রমণ করেন।
- ভয়াবহ কলিঙ্গ যুদ্ধে সাধারণ মানুষসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়।
- এ ভয়াবহতা সম্রাট অশোকের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এতে করে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধ পরিহার করে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির নীতি গ্রহণ করেন।
-তিনি ঘোষণা করেন 'সব মানুষই আমার সন্তান'।
- সম্রাট অশোক খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৩২ অব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, স্নাতক শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৫৫৩.
কত সালে দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটে?
  1. ১৭৭২ সালে
  2. ১৭৯৩ সালে
  3. ১৭৫০ সালে
  4. ১৭১৮ সালে।
ব্যাখ্যা
• দ্বৈত শাসন :
- দিল্লি কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দেওয়ানি বা খাজনা ও কর আদায়ের ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে। 
- ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়, যার চরম মাসুল দিতে হয় এদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে।
- ১৭৭০ সালে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। 
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন। সারা দেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
-  ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

উুৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭,৫৫৪.
কোন্‌টি স্থানীয় সরকার নয়?
  1. ক) পৌরসভা
  2. খ) পল্লী বিদ্যুৎ
  3. গ) সিটি কর্পোরেশন
  4. ঘ) উপজেলা পরিষদ
ব্যাখ্যা
⇨ বর্তমান বাংলাদেশে শহুরে ও গ্রামীণ দুই ধরনের স্থানীয় সরকার কার্যকর রয়েছে।
• বাংলাদেশে শহরের জন্য দুই স্তর বিশিষ্ট ও
• পল্লীর জন্য তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে।

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:- 

⇨ শহর অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা-
- পৌরসভা এবং
- সিটি কর্পোরেশন।

⇨ গ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা -
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ এবং
- জেলা পরিষদ।

⇨ এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩টি জেলা নিয়ে আঞ্চলিক স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা। 
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আঞ্চলিক পরিষদ-
১. বান্দরবান পাহাড়ী জেলা পরিষদ
২. রাঙ্গামাটি পাহাড়ী জেলা পরিষদ
৩. খাগড়াছড়ি পাহাড়ী জেলা পরিষদ
 
অপরদিকে,
পল্লী বিদ্যুৎ "বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড" এর অধীনে পরিচালিত বিদ্যুৎ বিতরণ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৫৫৫.
ঐতিহ্যবাহী কাগমারী সম্মেলন কোন জেলায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. টাঙ্গাইল
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. পাবনা
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
কাগমারি সম্মেলন:
- কাগমারি সম্মেলন টাঙ্গাইল জেলার কাগমারিতে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন।
- সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। 
- ৭ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিল অধিবেশনে মূল আলোচ্যসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি।
- কিন্তু সিয়াটো ও সেন্টোর সামরিক চুক্তির প্রতি  আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী  হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করলে সম্মেলনে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৫৬.
Who was the speaker of the first national parliament of independent Bangladesh?
  1. Shamsul Huda Chowdhury
  2. Mirza Ghulam Hafiz
  3. Mr Shawkat Ali
  4. Abdul Malek Ukil
  5. Mohammad Mohammadullah
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- সে সময় ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়।
- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ১৫টি।
- বিচারপতি এম ইদ্রিস কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি তে জয়লাভ করে।
- বঙ্গবন্ধু সে সময় ঢাকা-১২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন।
- প্রথম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন মোহাম্মদ উল্লাহ।
- ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বায়তুল্লাহ।
- পরে মুহম্মদুল্লাহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে আবদুল মালেক উকিল স্পিকার নির্বাচিত হন।

উল্লেখ্য,
- ২য় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হয়।
- সেবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ৩০টি।
- ঐ সংসদেই প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ ভোটে একজন নারী সাংসদ সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ খুলনা-১৪ থেকে নির্বাচিত হন।
- প্রথম অধিবেশন বসেছিল ২ এপ্রিল।
- জাতীয় সংসদের প্রতীক শাপলা ফুল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৫৫৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয় কোন সেক্টর দিয়ে?
  1. ক) ৯ নং
  2. খ) ৮ নং
  3. গ) ১১ নং
  4. ঘ) ১০ নং
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)

৭,৫৫৮.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে কতবার তোপধ্বনি দেওয়া হয়?
  1. ১৫ বার
  2. ১৮ বার
  3. ২১ বার
  4. ৩১ বার
ব্যাখ্যা
তোপধ্বনি:
- বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বা বিশেষ দিবসকে তোপধ্বনির (কামান দাগা) মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়।
- ঐতিহাসিকভাবে সামরিক বাহিনীর এই তোপধ্বনির মাধ্যমে সম্মান জানানোর রেওয়াজ রয়েছে।
- তোপধ্বনির মাধ্যমে সামরিক অভিবাদনের প্রথাটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত। 

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে তোপধ্বনির মাধ্যমে শ্রদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক অভিবাদন জানানো হয়।
- দু’টি দিনেই ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়। 
- বিশ্বের অন্যান্য দেশে ২১ বার তোপধ্বনি প্রচলন থাকলেও ব্রিটিশ উপনিবেশিক দেশগুলো এই নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন এনে ৩১ বার নির্ধারণ করে।

অন্যদিকে -
- বাংলাদেশে অন্য কোনও দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান বা আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট কোনও ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা জানাতে ২১ বার তোপধ্বনি দেওয়া হয়।
- বিশ্বব্যাপী সামরিক সম্মান জানাতে ২১ বারই তোপধ্বনি করার বিষয়টি জানা যায়।

উৎস:  ২৬ মার্চ ২০২২, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
৭,৫৫৯.
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. উইলিয়াম হান্টার
ব্যাখ্যা
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস:
- শ্রীরামপুর মিশন ছিল ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে। 
- ১৮০০ সালের ১০ই জানুয়ারি উইলিয়াম কেরি এবং ভ্রাতৃবৃন্দ এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেই বছরই মার্চ মাসে উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস নামে ছাপাখানাটি খোলেন।
- এই মাসেই পঞ্চানন কর্মকারের সহযোগিতায় প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ মথী রচিত মঙ্গল সমাচার ছাপা হয় মিশন প্রেস থেকে।
- বাংলা গদ্য চর্চায় যে সকল প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে খ্রিষ্টান মিশনারীগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘শ্রীরামপুর মিশন' সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। 
- বাংলায় বাইবেল আনুবাদ করে প্রদেশে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারে ব্রতী হয়েছিলেন উইলিয়াম কেরি।
- শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে পরবর্তীকালে রামায়ণ, মহাভারত, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি বহু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল।
- ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে এই মিশন থেকে 'দিগদর্শন' ও 'সমাচার দর্পণ' নামক পত্রিকা দুটি প্রকাশিত হয়। 
- ১৮০০-১৮৩২ সালের মধ্যে শ্রীরামপুর প্রেস থেকে ৪৫টি ভাষায় ২,১২,০০০ বই ছাপা হয়।
- ১৮৪৫ সালে শ্রীরামপুর মিশন বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু এ প্রেস ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৬০.
কোন যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়?
  1. ক) বক্সারের যুদ্ধ
  2. খ) রাজমহলের যুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. ঘ) পানিপথের ‍দ্বিতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• যুদ্ধ:
- ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
- বিহারের বক্সার নামক স্থানে বাংলার নবাব মীর কাশিম, মুঘল সম্রাট শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সম্মিলিত বাহিনী মেজর মনরো'র নেতৃত্বাধীন   ইংরেজ বাহিনীর নিকট পরাজয় বরণ করে।
- এর ফলে বাংলার নামমাত্র টিকে থাকা স্বাধীনতাও পুরোপুরি বিনষ্ট হয়।
- অন্যদিকে ভারতে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ আরও সুগম হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৬১.
ইবনে বতুতা কার রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. ফিরোজ শাহ তুঘলক
  3. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  4. গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
ব্যাখ্যা

ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন। এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)। সেখান থেকে সরাসরি তিনি কামারু (কামরূপ) পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে রওনা হন। 
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান। ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৫৬২.
‘ফাগুন হাওয়ায়’ চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. জহির রায়হান
  2. তৌকির আহমেদ
  3. আতাউর রহমান
  4. চাষী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
ফাগুন হাওয়ায় চলচ্চিত্র:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৈরি করা হয়েছে চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’।
- চলচ্চিত্রের পরিচালক তৌকির আহমেদ।
- এর নামকরণে ফুটে উঠেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন চলাকালে বাংলা মাস ফাল্গুনের নামটি।
- এতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও সিয়াম আহমেদ। অন্যান্য ভূমিকায় রয়েছেন ফজলুর রহমান বাবু, আবুল হায়াত ও রওনক হাসানের মতো অভিনয়শিল্পীরা।

⇒ ফাগুন হাওয়ায় ছবিতে এক মফস্বল শহরে ভাষা আন্দোলনের সময়ে মানুষের ভাবনা, আন্দোলন আর চেতনাকে রূপক অর্থে তুলে ধরেছেন তৌকীর আহমেদ।
- চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে টিটো রহমানের বাংলা ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা ‘বউ কথা কও’ গল্প অবলম্বনে।

উৎস: i) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
ii) প্রথম আলো।
৭,৫৬৩.
মুক্তিযুদ্ধপূর্ব যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. জীবন থেকে নেয়া
  2. ধীরে বহে মেঘনা
  3. ওরা এগারো জন
  4. আবার তোরা মানুষ হ
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধপূর্ব যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেয়া।

জীবন থেকে নেয়া:
- পরিচালক: জহির রায়হান। 
- মুক্তি: ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল (পাকিস্তান)। 
- সময়: ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট (প্রায়)। 
- সংগীত পরিচালক: খান আতাউর রহমান। 
- ১৯৫২ থেকে ১৯৭০— এ সময়ের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। 

⇒ চলচ্চিত্রটির মধ্যে আগামী দিনের উত্তাল বিদ্রোহের অনুপ্রেরণা ছিল। এটি সম্পূর্ণভাবেই রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্র নির্মাতা আলমগীর কবির তাই এ চলচ্চিত্রকে ‘বাংলাদেশের প্রথম জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী চলচ্চিত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণ-অভ্যুত্থান যখন তুঙ্গে, তখন জহির রায়হান জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন। 

⇒ এ চলচ্চিত্রে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির মর্মস্পর্শী চিত্রায়ণ রয়েছে। গানটি পরিবেশনের সময় প্রভাতফেরি দৃশ্য পর্দায় প্রতিফলিত হয়। যে রবীন্দ্র সংগীতটি এ চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে এটি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়। চলচ্চিত্রে দুইটি নজরুল সংগীত ব্যবহৃত হয়। এগুলো হচ্ছে :‘কারার ঐ লৌহ কপাট/ভেঙে ফেল কররে লোপাট/রক্ত জমাট শিকল পূজার পাষাণবেদী।’ এবং ‘এই শিকল-পরা ছল মোদের/এ শিকল পরা ছল।’

অন্যদিকে,
- ‘ধীরে বহে মেঘনা’ ১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটির পরিচালক আলমগীর কবির।
- ‘আবার তোরা মানুষ হ’ এটি হচ্ছে ১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
- ‘ওরা ১১ জন’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র। এর পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। ১৯৭২ সালে এটি নির্মিত হয়। 

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।

৭,৫৬৪.
বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হরিকেল
  2. সমতট
  3. বঙ্গ
  4. গৌড় 
ব্যাখ্যা

সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
- মধ্যবাংলার কিছু অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- রাজা রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল বড়োকামতা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৫৬৫.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি কী বার ছিল? 
  1. শনিবার
  2. মঙ্গলবার
  3. শুক্রবার
  4. বৃহস্পতিবার
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:

• ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
• ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসার কারণ:
- তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায়
- এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে।
• ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন।
• দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।
• ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু ১২ দিন অনশন করে ছিলেন।
• ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে এই দিনটিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালন করা হতো। 

উৎস: শিক্ষক বাতায়ন ও বিবিসি বাংলা নিউজ।
৭,৫৬৬.
ছয় দফা দাবিতে 'কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা' কোন দফার বিষয়বস্তু ছিলো?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) দ্বিতীয়
  3. গ) তৃতীয়
  4. ঘ) চতুর্থ
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে '৬ দফা দাবি' পেশ করেন।
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
- ষষ্ঠ দফা: প্রতিরক্ষা বিষয়ক।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৫৬৭.
১৯৮৩ সালে কত দল নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে জোট গঠিত হয়েছিল?
  1. ৯টি
  2. ১৩টি
  3. ৮টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান – 
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করে দ্বিতীয়বার সামরিক শাসনের সূচনা করেন।
- এই সামরিক শাসন দীর্ঘ নয় বছর স্থায়ী হয় এবং এরশাদের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের ফলে দেশে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চরম দুরবস্থা সৃষ্টি হয়।
- জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে এবং ধীরে ধীরে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

- ১৯৮২ সালের শেষ দিক থেকেই ছাত্র সমাজ এরশাদের প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন।
- বুদ্ধিজীবী মহলও এই আন্দোলনে সক্রিয় সমর্থন প্রদান করেন।
- এর প্রেক্ষিতে ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- এর মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

- ১৯৮৭ সাল নাগাদ আন্দোলনের প্রধান দাবি হয়ে দাঁড়ায় সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা।
- যদিও এরশাদ সরকার তখনও ক্ষমতায় টিকে থাকতে সক্ষম হয়, তবে আন্দোলনের গতি শ্লথ হয়নি।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল, মিছিল, মিটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকে।
- ছাত্র সমাজ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের মধ্য দিয়ে আন্দোলন আরও ব্যাপক রূপ ধারণ করে।

- শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর ‘৮.৭ দল’ এবং ‘৫ দলীয়’ জোট যৌথ ঘোষণা দেয় সামরিক শাসনের পতনের লক্ষ্যে।
- এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই ডিসেম্বর ১৯৯০-এ সফল গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং এরশাদের সামরিক শাসনের অবসান হয়।
- ফলে দেশের জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৫৬৮.
শহিদ আসাদ দিবস পালন করা হয় কবে? 
  1. ১৮ জানুয়ারি
  2. ২০ জানুয়ারি
  3. ২২ জানুয়ারি
  4. ২৩ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা

• ”শহীদ আসাদ দিবস”:
- ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাস্যের বিরুদ্ধে ছাত্রদের অসন্তোষ থেকে আন্দোলন শুরু হয়, যা পরে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র আসাদ।
- ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন।
- এরপর থেকে ২০ জানুয়ারি "শহীদ আসাদ দিবস” হিসেবে পালিত হয়।
- আসাদের স্মরণে ঢাকার মোহাম্মদপুরে 'আইয়ুব গেট' এর পরিবর্তে 'আসাদ গেট' নামকরণ করা হয়।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। 

৭,৫৬৯.
উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন-
  1. ক) আবুল হাশিম
  2. খ) মাওলানা আকরাম খাঁ
  3. গ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) চৌধুরী খালেকুজ্জামান
ব্যাখ্যা
১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশন বসে। এ অধিবেশনে কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দুর সাথে বাংলাকেও গণপরিষদের ভাষা হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব প্রথম রাখেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭,৫৭০.
পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দানের বিল উত্থাপন করেন-
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
পাকিস্তান সৃষ্টির পর উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররা তার প্রতিবাদ করে। এরই অংশ হিসেবে ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারীর রক্তাক্ত ঘটনা ঘটে।
এর ফলে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেল উদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে ১৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬ তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয় এবং ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য - ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এতে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী পেশ করেন। কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,৫৭১.
মীরকাশিম ইংরেজদের হাতে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন -
  1. ক) গিরিয়ার যুদ্ধে
  2. খ) কাটোযার যুদ্ধে
  3. গ) মুঙ্গেরের যুদ্ধে
  4. ঘ) বক্সারের যুদ্ধে
ব্যাখ্যা
- ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে বাংলার নবাব মীর কাশিম, মুঘল সম্রাট শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সম্মিলিত বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ সংঘটিত হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- বক্সারের যুদ্ধে ঈংরেজদের নেতৃত্ব দেন মেজর মনরো।
- এই যুদ্ধে ইংরেজদের নিকট মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
- বক্সারের যুদ্ধকে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের নিকট হারানো বাংলার স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধারের শেষ প্রচেষ্টা বিবেচনা করা হয়।
- এই যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার নামমাত্র টিকে থাকা স্বাধীনতা পুরোপুরি বিনষ্ট হয়। অন্যদিকে, ভারতে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ আরও সুগম হয়।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,৫৭২.
বাংলার প্রথম রাজা শশাঙ্কের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. ক) শ্রীহট্ট
  2. খ) মালদহ
  3. গ) কর্ণসুবর্ণ
  4. ঘ) সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা। তিনি নিজেকে গৌড়েশ্বর পরিচয় দিতেন। শশাঙ্ক একজন সুশাসক ছিলেন। তার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ। তার আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে। বিখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং শৈব ধর্মের অনুসারী রাজা শশাঙ্ককে বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম-দশম শ্রেণি
৭,৫৭৩.
বাংলাদেশের কোন শহরকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হয়?
  1. সিলেট
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. বরিশাল
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম:
- চট্টগ্রামকে ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ বলা হয়। 
- বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর দিয়ে।
- যার কারণে চট্টগ্রামে গড়ে উঠেছে প্রচুর শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
- এর মাধ্যমে ত্বরান্বিত হয়েছে হয়েছে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।
- এই অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারনেই চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীর মর্যাদা লাভ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,৫৭৪.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকারী গেজেটেড ভুক্ত শহিদের সংখ্যা কত?[ আগস্ট, ২০২৫]
  1. ৮৩০জন
  2. ৮৩৬ জন
  3. ৮২৫ জন
  4. ৮২০ জন
ব্যাখ্যা

জুলাই শহিদ: 
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আটজন শহীদের গেজেট বাতিল করেছে সরকার।
​- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অধিশাখা  ৩ আগস্ট তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। 
- বর্তমানে গেজেটড শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।
​- পূর্বে এর সংখ্যা ছিল ৮৪৪ জন।

উল্লেখ্য, 
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের পরিবারকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াও পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন কর্মসূচি নিচ্ছে সরকার।

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক[লিঙ্ক]

৭,৫৭৫.
মৌর্য সাম্রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে ‘ইন্ডিকা’ নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন-
  1. ক) মা-হুয়ান
  2. খ) ফা-হিয়েন
  3. গ) হিউয়েন সাঙ
  4. ঘ) মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা
মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। চন্দ্রগুপ্ত গ্রিকদের আক্রমণ শুধু প্রতিহত নয়, তাদেরকে ভারত থেকে বিতাড়িত করে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার নামানুসারে ভারতবর্ষে খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে যে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় তা মৌর্য সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। চাণক্য ছিলেন তাঁর প্রধানমন্ত্রী। চাণক্য কৌটিল্য ছদ্মনামে ‘অর্থশাস্ত্র’ নামে এক বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন। রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতি কৌশলের সারসংক্ষেপ হচ্ছে এই গ্রন্থ। চন্দ্রগুপ্তের সময়ে গ্রিক পরিব্রাজক মেগাস্থিনিস ভারতবর্ষে আগমন করে ভারতের শাসন প্রকৃতি, ভৌগোলিক বিবরণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ইন্ডিকা’তে লিপিবদ্ধ করেন।
[সূত্রঃ ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি(উন্মুক্ত)]
৭,৫৭৬.
When was 'SPARRSO' established?
  1. ক) In 1977
  2. খ) In 1978
  3. গ) In 1979
  4. ঘ) In 1980
ব্যাখ্যা
• SPARRSO:
- বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organisations)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: SPARRSO ওয়েবসাইট
৭,৫৭৭.
নিচের কোন জেলাটি প্রাচীন বঙ্গ জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) নোয়াখালী
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
বঙ্গ জনপদ:

- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাই বঙ্গদের অঞ্চল।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৫৭৮.
বাংলার সবচেয়ে 'সমৃদ্ধ জনপদ' ছিল কোনটি?
  1. হরিকেল
  2. তাম্রলিপ্ত
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- বলা হয় যে, পুণ্ড্র বলে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর।
- পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি এখানে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই প্রাচীনতম শিলালিপি।

উৎস: বাংলাদেশের  ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।

৭,৫৭৯.
বাংলাদেশে কত বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করা হয়েছে?
  1. ২০ বিঘা
  2. ২৫ বিঘা
  3. ১৫ বিঘা
  4. ১০ বিঘা
ব্যাখ্যা
কৃষি জমির ক্ষেত্রে:
২৫ বিঘা পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) মওকুফ করে দিয়েছে ।
২৫ বিঘার অধিক হতে ১০ একর পর্যন্ত জমির জন্য প্রতি শতাংশ জমির জন্য ৫০ পয়সা করে ।
১০ একরের উধ্বে হলে প্রতি শতাংশ জমির জন্য ১ টাকা হারে খাজনা দিতে হবে ।

উৎস:l and.gov.bd(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয়)
৭,৫৮০.
বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত কোনটি?
  1. লাহোর প্রস্তাব
  2. ৭ মার্চের ভাষণ
  3. ২১ দফা
  4. ৬ দফা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ৬ দফা বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ৭ জুন ছয় দফা দিবস। 
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত। 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৮১.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ এর কথক ছিলেন কে?
  1. ক) কামাল লোহানী
  2. খ) আলী জাকের
  3. গ) আবদুল মান্নান
  4. ঘ) এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘চরমপত্র’ নামের কথিকা অনুষ্ঠানটি ছিলো সর্বাধিক জনপ্রিয়।
এটির পরিচালক, লেখক ও কথক ছিলেন এম আর আখতার মুকুল।
ঢাকাইয়া ভাষায় তার এ অনুষ্ঠানটি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭,৫৮২.
“১১ দফা” প্রণীত হয় কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে?
  1. ক) ১৯৫২ এর আন্দোলন
  2. খ) ১৯৫৪ এর আন্দোলন
  3. গ) ১৯৬৯ এর আন্দোলন
  4. ঘ) ১৯৭১ এর আন্দোলন
ব্যাখ্যা
গণ অভ্যুত্থান:

- ১১ দফা প্রণীত হয় ১৯৬৯ সালে গণ অভ্যুত্থান আন্দোলন এর প্রেক্ষাপটে।
- ১৯৬৯ সালে জানুয়ারী মাসে 'ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' এর পক্ষ থেকে “এগারো দফা” দাবী ঘোষণা করা হয়।
- এই ‘এগারো দফা'পূর্ব বাংলার সকল স্তরের জনসাধারণের সমর্থন লাভ করে কারণ, এই এগারো দফার মধ্যে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া, ছয় দফা, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার এবং পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক বিষয়াদি অন্তভুক্ত ছিলো।
- বাংলা ভাষা আন্দোলন ছিল ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত তৎকালীণ পূর্ব বাংলায় (বর্তমান বাংলাদেশে) সংঘটিত একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন।
- মৌলিক অধিকার রক্ষা কল্পে বাংলা ভাষাকে ঘিরে সৃষ্ট এ আন্দোলনের মাধ্যমে তদানীন্তন পাকিস্তান অধিরাজ্যের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণদাবির বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- ১৯৫৪ সালের মার্চের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের (সর্বমোট আসন ছিল ৩০৯ টি) মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২১৫ টি (পরে স্বতন্ত্র থেকে ৮ জন যোগ দিলে আসন সংখ্যা হয় ২২৩টি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৮৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্য কতজনকে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৭ জন
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ:
- বীর শ্রেষ্ঠ বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার। 
- যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয়। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে।
১। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
- সেক্টর: ৭ নং,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।
২। সিপাহী হামিদুর রহমান,
- সেক্টর: ৪ নং,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১।
৩। সিপাহী মোস্তফা কামাল,
- সেক্টর: ৮ নং,
- মৃত্যু: এপ্রিল ১৮, ১৯৭১।
৪। মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- সেক্টর: ১০ নং,
- মৃত্যু: ডিসেম্বর ১০, ১৯৭১।
৫। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান,
- বাংলাদেশ বিমান বাহিনী,
- মৃত্যু: আগস্ট ২০, ১৯৭১।
৬। ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ,
- সেক্টর: ১ নং,
- মৃত্যু: এপ্রিল ৮,১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহীদ)।
৭। নূর মোহাম্মদ শেখ,
- সেক্টর: ৮ নং,
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৭,৫৮৪.
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড ক্লাইভ
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা

• লর্ড ক্যানিং, 

- লর্ড ক্যানিং, (১৮১২-১৮৬২)  ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ভারতে প্রথম ভাইসরয়। 
- বিখ্যাত রাজনীতিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব জর্জ ক্যানিংয়ের তৃতীয় পুত্র চার্লস জন ক্যানিং ১৮১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং পাটনী, ইটন ও অক্সফোর্ডের ক্রাইস্ট চার্চে শিক্ষা লাভ করেন।

- তাঁর প্রশাসনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।
- রানী প্রকাশ্য ঘোষণা দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করেন।
- যারা এ অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে তাদেরকে যদিও তিনি শাস্তি প্রদান করেন, তবুও তিনি যতদূর সম্ভব ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বাছবিচারহীন প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ পরিহার করেন, এবং এভাবে তিনি ‘ক্ষমাশীল ক্যানিং’ এর উপাধি অর্জন করেন।

- তিনি ইঙ্গ-ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পুনর্গঠিত করেন।
- আয়কর প্রবর্তন, শতকরা দশভাগ হারে সমশুল্ক আরোপ ও বিনিমেয় কাগজের মুদ্রার প্রচলন দ্বারা আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করেন।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এর মাধ্যমে বাংলার চাষীদের যে দুর্দশা ছিল তার কিছুটা দূর করে প্রজাদের অধিক নিরাপত্তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৮৫৯ সালে বাংলায় খাজনা আইন পাস হয়।

- লর্ড ক্যানিং-এর প্রশাসনের শেষদিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৬১ সালে ভারতীয় কাউন্সিল আইন পাস যার দ্বারা বেসরকারি ভারতীয় সদস্যগণ ভাইসরয়ের আইনসভায় মনোনীত হতে পারতেন।

- ১৮৫৭ সালের যুদ্ধের সময়কার গুরুভার ও কঠিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্লান্ত ক্যানিং অবসর গ্রহণ করে ১৮৬২ সালের ১৮ মার্চ ভগ্নস্বাস্থ্যে ভারত ত্যাগ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭,৫৮৫.
কোন মুঘল সম্রাট দিল্লিতে 'দীন-পানাহ ভবন' নির্মাণ করেন?
  1. বাবর
  2. হুমায়ুন
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত।

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৫৮৬.
১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. চৌধুরী মোহাম্মদ আলী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
• কোয়ালিশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকার:

- ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়।
- এর এক সপ্তাহ পর পশ্চিম পাকিস্তানের কয়েকটি দলের সঙ্গে কোয়ালিশন করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী হন।
- এর ফলে ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চৌধুরী মোহাম্মদ আলী পদত্যাগ করেন।
- ১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
- ইস্কান্দার মীর্জার গোপন ষড়যন্ত্রে রিপাবলিকান দলীয় কিছুসংখ্যক সদস্য সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভার উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে মন্ত্রিসভা নাজুক অবস্থার সম্মুখীন হয়।
- ১৯৫৭ সালের ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
৭,৫৮৭.
কার শাসন আমলে 'মাৎস্যন্যায়' এর অবসান ঘটে?
  1. ক) সেন বংশের শাসন আমলে
  2. খ) মোগলদের শাসন আমলে
  3. গ) গোপালের শাসন আমলে
  4. ঘ) খলজি বংশের শাসন আমলে
ব্যাখ্যা
- শশাঙ্কের পর দীর্ঘদিন বাংলায় কোন যোগ্য শাসক ছিল না। 
- ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। 
- সামন্ত রাজারা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকেন। 
- অরাজকতাপূর্ণ সময় (৭ম - ৮ম শতকে) কে পাল তাম্র শাসনে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে। 
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা 'গোপাল' এর শাসনামলে এই মাৎস্যন্যায় এর অবসান ঘটে ও শৃঙ্খলা ফিরে আসে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৫৮৮.
নালন্দায় বিশাল বৌদ্ধমন্দির নির্মাণ করেছিলেন কোন রাজা?
  1. গোপাল
  2. ধর্মপাল
  3. মদনপাল
  4. দেবপাল 
ব্যাখ্যা

পাল শাসন:
- বাংলার প্রথম দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশের পাল বংশ।
- পাল বংশ বাংলায় দৈর্ঘ্য ৪০০ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের  প্রতিষ্ঠাতা: গোপাল।
- শেষ রাজা: মদনপাল।
- গোপাল শাসন করেছিলেন ২৭ বছর (৭৫৬-৭৮১)।
- গোপালের মৃত্যুর পর বাংলার সিংহাসনে বসেন ধর্মপাল।
- পাল রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মপাল। 
- সোমপুর বিহার (নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত) এর প্রতিষ্ঠাতা- রাজা ধর্মপাল।
-  ধর্মপাল রাজত্ব করেন ৪০ বছর।
- ধর্মপালের শাসনকাল ৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দে।
- ধর্মপাল অনুসারী ছিলেন বৌদ্ধধর্মের।
- ধর্মপালের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন দেবপাল।
-  দেবপাল নালন্দায়  বুদ্ধগয়ায় এক বিরাট মন্দির নির্মাণ  করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৭,৫৮৯.
বাংলার আকবর নামে পরিচিত-
  1. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. নিজাম শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি 'বাংলার আকবর হিসেবে' পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব "বৈষ্ণব ধর্ম" প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
          ii) বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৯০.
জুলাই ঘোষণাপত্রের কত নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ আছে?
  1. ২৪ নং
  2. ২৫ নং
  3. ২৭ নং
  4. ২৮ নং
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-  ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল।
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে র ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।
- জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৪ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৭ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য,
- ২৪ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
- ২৫ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
- ২৬ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ুসহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে।
- ২৮ নং ধারা: ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো।

উৎস: প্রথম আলো।

৭,৫৯১.
মুক্তিযুদ্ধে বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত ইউকে চিং কোন সম্প্রদায়ের ছিলেন?
  1. ক) গারো
  2. খ) চাকমা
  3. গ) খাসিয়া
  4. ঘ) মারমা
ব্যাখ্যা
ইউকে চিং (উক্য চিং মারমা):
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মুক্তিযোদ্ধা৷
- তিনি বীরবিক্রম খেতাবে সম্মানিত।
- তিনি মারমা সম্প্রদায়ের লোক।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ইপিআর-এর সদস্য ছিলেন।
- ৬ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৯২.
হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. কৃষ্ণপক্ষ
  2. টেলিভিশন
  3. আমার আছে জল
  4. জয়যাত্রা
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে।
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর অন্যন্যা চলচ্চিত্র গুলো হলো,
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০), দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং আমার আছে জল (২০০৮)

উল্লেখ্য,
- হুমায়ূন আহমেদের ‘কৃষ্ণপক্ষ’ উপন্যাস অবলম্বনে মেহের আফরোজ শাওন 'কৃষ্ণপক্ষ' চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৯৩.
১৯৭১ সালের কোন তারিখে বাংলাদেশে বেতারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়?
  1. ক) ১০ জানুয়ারি
  2. খ) ২২ ডিসেম্বর
  3. গ) ২৬ আগস্ট
  4. ঘ) ১৬ মে
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালে সংগঠিত বাংলাদেশ বেতারের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী-
- ৭ ই মার্চ পাকিস্থান রেডিও ঢাকা কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার।
- ২৬ শে মার্চ স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র নামকরণ করা হয়।
- ২৮ শে মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নামকরণ করা হয়।
- ২৫ শে মে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়।
- ৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্র নামকরণ।
- ২২ শে ডিসেম্বর বাংলাদেশ বেতারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

৭,৫৯৪.
’জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ এর চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
  1. অধ্যাপক কবীর চৌধুরী
  2. অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী
  3. অধ্যাপক সলিমুল্লাহ
  4. অধ্যাপক ইকবাল কবির
ব্যাখ্যা

• জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০:
- স্বাধীনতার পরপরই একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত এ খুদার নেতৃত্বে দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
- উক্ত কমিশন ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ১৯৭৪ সালে গণমুখী আধুনিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
- আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সময়ের প্রয়োজনে এটি সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে।
- সর্বশেষ ২০১০ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়।
- এই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিশীল নেতৃত্বদানে উপযোগী মানবতাবাদী, মননশীল, যুক্তিবাদী, কুসংস্কারমুক্ত, অসম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা।

শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
- এই শিক্ষানীতি সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমুখী, সুলভ, সুসম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞানমনস্ক এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও কৌশল হিসেবে কাজ করবে।
- এই আলোকে শিক্ষার ৩০টি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও নীতিগত তাগিদ নেয়া হয়েছে।

উৎস: সমাজকর্ম প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৫৯৫.
'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয় কোথায়?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্ট :
 - ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেয়।
- এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত পাঁচটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি,
৪. হাজী দানেশের বামপন্থি গণতন্ত্রী দল ও
৫. খিলাফত-ই-রাব্বানি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'। 
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- এই ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৫৯৬.
কোন পরিব্রাজকের ভ্রমণ বৃত্তান্ত ‘ফো-​কুয়ো-কিং’?
  1. ক) মা হুয়ান
  2. খ) ফা-হিয়েন
  3. গ) হিউয়েন সাং
  4. ঘ) মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা

ফা-হিয়েনঃ
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারতবর্ষে আসেন।
-তিনি ১০ বছর ভারতে অবস্থানকালে তাঁর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ৭টি গ্রন্থ রচনা করেন।
-ফা-হিয়েনের ভ্রমন বৃত্তান্ত ‘ফো-কুয়ো-কিং’ নামে পরিচিত। এটি ভারতের ইতিহাসের একটি বিশিষ্ট ও প্রামাণ্য দলিল। বিশেষ করে গুপ্ত সাম্রাজ্যের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে বিশেষ মূল্যবান উপাদান।
উৎসঃ ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।

৭,৫৯৭.
ছয় দফা কর্মসূচি কে ঘোষণা করেন?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. এ কে এম ফজলুল হক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- তিনি লাহোরে এই ঘোষনা দেন।

ছয় দফা কর্মসূচি,
১) লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানের জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। এটি হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা। প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইনসভাগুলো হবে সার্বভৌম ।
২) শুধু দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র বিষয় থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। অবশিষ্ট ক্ষমতা থাকবে প্রদেশগুলোর হাতে।
৩) দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে। অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।
৪) আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে ।
৫) দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসেব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে।
৬) অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী অর্থাৎ মিলিশিয়া ও প্যারা মিলিশিয়া গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৫৯৮.
হিউয়েন সাঙ কার নিকট দীক্ষা গ্রহণ করেন?
  1. ক) বর্ধমান
  2. খ) গৌতম বুদ্ধ
  3. গ) অতীশ দীপঙ্কর
  4. ঘ) শীলভদ্র
ব্যাখ্যা
হিউয়েন সাঙ একজন বিখ্যাত চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী। সপ্তম শতকে ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি উত্তর ভারতের উদ্দেশ্যে চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন। হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে হিউয়েন সাঙ উত্তর ভারতে আসেন।

তিনি নালন্দা মহাবিহারে প্রায় আট বছর অতিবাহিত করে বিহারের বাঙালি অধ্যক্ষ শীলভদ্রের নিকট দীক্ষা গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে তিনি বাংলার বিভিন্ন অংশ এবং দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারত ভ্রমণ করে পুনরায় মধ্য এশিয়া হয়ে চীনে প্রত্যাবর্তন করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭,৫৯৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কয়টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬০০.
১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের প্রধান দিক কী ছিল?
  1. এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন
  2. প্রদেশগুলোতে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের কার্যাদি সুস্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করা
  4. দেশরক্ষা বিভাগ প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করা
ব্যাখ্যা

ভারত শাসন আইন: 
• মার্লি-মিন্টো সংস্কার আইন ভারতীয়দের আশা আকাঙ্খা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।
- লক্ষ্মৌ চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে এক যৌথ প্রস্তাব সরকারের নিকট পেশ করে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতবাসীর সহযোগিতার পুরস্কারস্বরূপ ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত সচিব মন্টেগু ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কমন্সসভায় ঘোষণা করেন যে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত থেকে ভারতবাসী যাতে প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশ গ্রহণ গ্রহণের সুযোগ পেয়ে ক্রমশঃ স্বায়ত্তশাসনের উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারে, সরকার সে নীতিরই পক্ষপাতি।
- তবে তিনি ভারতকে ডিমিনিয়নের মর্যাদা দেয়ার দাবি বাতিল করে দেন।
- এরপর মন্টেগু ও ভারতের বড়লাট চেমসফোর্ড একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেন।
- এর ভিত্তিতেই ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার বা ভারত শাসন আইন পাস করা হয়।
- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনের প্রধান দিক ছিল, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের কার্যাদি যথাসম্ভব সুস্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করা।
- কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে দেশরক্ষা, আইন শৃঙ্খলা, পররাষ্ট্র, অর্থ ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, রেল ও ডাক প্রভৃতি সর্বভারতীয় বিষয়গুলো ন্যস্ত করা হয়।
- প্রদেশের হাতে বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জেল, সেচ, স্থানীয় সরকার প্রভৃতির দায়িত্ব রাখা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।