বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৭০ / ১২৪ · ৬,৯০১৭,০০০ / ১২,৪২১

৬,৯০১.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এ নিম্নের কোন শিল্পী অংশগ্রহণ করেননি?
  1. এরিক ক্ল্যাপটন
  2. জর্জ হ্যারিসন
  3. জন লেনন
  4. বব ডিলান
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন, যে ধরণের আয়োজন এর আগে বিশ্বের মানুষ কখনও দেখেনি।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের মতো তারকাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অন্যরকম এক পরিচিতি পায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে।

উল্লেখ্য,
- জন লেনন, রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন এবং বিখ্যাত সব পপ শিল্পী এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
- তবে জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) ১ অগাস্ট ২০২১, BBC।
৬,৯০২.
বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ১৭৬৩ সালে
  2. ১৭৬৪ সালে
  3. ১৭৬৫ সালে
  4. ১৭৬২ সালে
ব্যাখ্যা

• মীর কাসিম ও বক্সারের যুদ্ধ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর মীর জাফরকে সরিয়ে দিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।
- তার মাত্র চার বছরের রাজত্বকাল ১৭৬০ থেকে শুরু হয়ে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হয়েছিল।
- মীর কাসিম নবাব হয়ে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর হয়েছিলেন।
- ইংরেজদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন।

- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার অন্যায় অধিকার থেকে ইংরেজ কর্মচারীরা ব্যক্তিগত ফায়দা নিতে থাকে। 
- এর ফলে নবাবের অনেক আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। তিনি ইংরেজ গভর্নরের কাছে এর প্রতিকার দাবি করেছিলেন।
- তবে তারা এর উপযুক্ত সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মীর কাসিম পরবর্তী সময়ে দেশীয় বণিকদের ওপর থেকেও বাণিজ্য শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। 
- এতে ইংরেজ কোম্পানির কর্মচারীদের অযৌক্তিক সুবিধা পাওয়ার পথ বদ্ধ হলে তারা তা মেনে নিতে পারেনি। 
- নবাব মীর কাসিমের সাথে ইংরেজদের বিরোধ চরমে উঠলে তা পাটনায় সংঘর্ষের রূপ নেয়।
- এরপর ১৭৬৩ সালের ৭ জুলাই নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়। 
- পরপর কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা ও মুঙ্গেরে নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিল।
- নবাব তখন পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। 
- এরপর অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য নিয়ে তিনি বাংলাকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে দু'পক্ষে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। 
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়। 
- নিদারুণ দুঃখকষ্ট ও দারিদ্র ভোগ করে ১৭৭৭ সালের ৬ জুন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে শাজাহানাবাদের এক অখ্যাত পল্লীতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন মীর কাসিম।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯০৩.
সর্ব প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবী উত্থাপন করেন-
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্ব প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবী উত্থাপন করেন।

ভাষা আন্দোলন:

- ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯০৪.
Bangabandhu Sheikh Mujibur Raman's mother's name is -
  1. ক) Sheikh Fazilatunnessa
  2. খ) Sayera Khatun
  3. গ) Amena Khatun
  4. ঘ) Ayesha Begum
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:

- ১৯৪৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে বি.এ পাশ করেন।
- ১৯৪২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ পাশ করেন।
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- তাঁর মায়ের নাম সায়েরা খাতুন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন।১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,৯০৫.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির ভূমিকা লিখেছেন কে?
  1. শমসের মবিন চৌধুরী
  2. এনামুল হক
  3. শেখ হাসিনা
  4. শেখ রেহানা
ব্যাখ্যা
অসমাপ্ত আত্মজীবনী:

- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির ভূমিকা লিখেছেন শেখ হাসিনা।
- এই প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
- বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজি ভাষায়ও এই বইয়ের অনুবাদ হয়েছে। বাংলাদেশে এই বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
- এছাড়া ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে ভারতে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া থেকে এবং পাকিস্তানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস পাকিস্তান থেকে। এছাড়া পাকিস্তানে উর্দু ভাষাতেও এর অনুবাদ বের হবার কথা রয়েছে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।

তথ্যসূত্র - অসমাপ্ত আত্মজীবনী, দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ই আগস্ট ২০২০ এবং বিবিসি বাংলা, ১৯ জুন ২০১২।
৬,৯০৬.
'মুক্তির সনদ' নামে পরিচিত নিচের কোনটি?
  1. ছয় দফা
  2. এগারো দফা
  3. একুশ দফা
  4. চার দফা
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির 'মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালন করা হয়।

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৯০৭.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. মোজাফফর আহমদ
  4. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯০৮.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় -
  1. বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাবেশে
  3. মুজিবনগরে
  4. ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা
প্রথম পতাকা উত্তোলন:
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস। 
- মানচিত্র খচিত পতাকার নকশাকার: শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)।
- ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন: কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
৬,৯০৯.
প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ?
  1. রাঢ়
  2. বঙ্গ
  3. সমতট
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,৯১০.
কার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে?
  1. ক) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. খ) গোলাম রসুল
  3. গ) দুদু মিয়া
  4. ঘ) পরাগল শাহ
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তউল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে ফরায়েজি আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
প্রথমদিকে এটি ছিলো একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন। তবে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং তিনি একে রাজনৈতিক রূপ দেন।
দুদু মিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া)
৬,৯১১.
উন্নত প্রথায় শিক্ষা দেয়া বলতে কী বোঝায়?
  1. শিক্ষা গ্রহণে সাহায্য
  2. ছাত্রদের তৈরি ও পাসে সাহায্য
  3. ক্লাসে প্রশ্ন করা ও পরীক্ষা নেয়া
  4. পাঠ্য বইয়ে যা আছে সে সম্পর্কে বলা
ব্যাখ্যা
পাঠদান পদ্ধতি:
- পাঠদান পদ্ধতিগুলোকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা -
• সনাতন পদ্ধতি।
• আধুনিক পদ্ধতি।

- সনাতন পদ্ধতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
• বক্তৃতা।
• প্রদর্শন।
• টিউটোরিয়াল।
• আবৃত্তি।
• পূর্ব নির্ধারিত পাঠ।
• সর্দার পড়ো ব্যবস্থা।

- আধুনিক পদ্ধতির তালিকায় রয়েছে:
• আলোচনা।
• প্রশ্ন ও উত্তর।
• প্যানেল আলোচনা।
• সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম।
• স্প্রিং বোর্ড।
• বাহ্ ও ব্রেইন স্টর্মিং সেশন।
• ভূমিকাভিনয়।
• সাক্ষাৎকার ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - শিক্ষাদানের নীতি ও শিক্ষাদানের পদ্ধতি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। (লিংক)
৬,৯১২.
ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রথম দফা কি?
  1. ক) রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা
  2. খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) ধর্ম নিরপেক্ষতা
  4. ঘ) মুদ্রা ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে '৬ দফা দাবি' পেশ করেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সাথে মিল রেখে ২৩ মার্চ।
৬ দফার প্রথম দফা ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৬,৯১৩.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' দিয়েছিল-
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ভারত
  3. রাশিয়া
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হওয়ার প্রাক্কালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) এতে ভেটো প্রয়োগ করায় এই প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়ে যায়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল।
- চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।
- অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

উৎস: প্রথম আলো আর্কাইভ ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৯১৪.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার শপথ নেয় কোন তারিখে?
  1. ক) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ২৬ মার্চ , ১৯৭১
  3. গ) ১০ জানুয়ারি , ১৯৭২
  4. ঘ) ১১ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৬,৯১৫.
'শিশুস্বর্গ ও চারুপীঠ' প্রতিষ্ঠাকারী-
  1. ফকির লালন শাহ
  2. কামরুল হাসান
  3. এস. এম. সুলতান
  4. জয়নুল আবেদীন
ব্যাখ্যা

- 'শিশুস্বর্গ ও চারুপীঠ' প্রতিষ্ঠা করেন এস. এম. সুলতান।
- এটি নড়াইলে অবস্থিত।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ‌চিত্রশিল্পঃ
• হত্যাযজ্ঞ,
• চর দখল,
• ধানকাটা ইত্যাদি।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৯১৬.
সর্বস্তরে 'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন' প্রণয়ন করা হয় -
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৮৭ সালে
  4. ১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭:
- ১৯৪৭ সালে ভারত বর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম আঘাতটাই আসে বাংলা ভাষার ওপর।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেই স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়েছিল, যা অঙ্কুরিত হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরিপূর্ণতা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- স্বাধীনতার পরপর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রয়োগের জন্য একাধিক পরিপত্র জারি করা হয়।
- সর্বোপরি ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষার প্রচলন আইন সংসদ কর্তৃক পাশ হয়।

⇒ ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রণয়ন করা হয়।
- ঐ আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখিত হবে।
- এই ধারা মোতাবেক কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন তা হলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হবে।’

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৯১৭.
কোন রাজা স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন? 
  1. রামপাল
  2. শশাঙ্ক
  3. ধর্মপাল 
  4. লক্ষণ সেন 
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:

• শশাঙ্ক ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা।
• তিনি স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।
• এর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। 
• সপ্তম শতকের শুরুতে তিনি রাজ্য গড়ে তোলেন।
• উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হর্ষবর্ধন। 
• তিনি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। 
• তাঁর আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে।
• তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় যা 'মাৎস্যন্যায়' নামে পরিচিত।  
• ধর্মপাল: পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ  রাজা। 
• রামপাল: পাল বংশের সর্বশেষ সফল শাসক।
• লক্ষণসেন: সেন বংশের সর্বশেষ রাজা। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৬,৯১৮.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ছিল কোন শাসনব্যবস্থার পরিণতি?
  1. মারাঠা শাসন
  2. নবাবি শাসন
  3. দ্বৈত শাসন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- দ্বৈত শাসনের সময় প্রশাসনিক অদক্ষতা ও লোভ দুর্ভিক্ষকে বাড়িয়ে তোলে।

• 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- দিউয়ানি ও দ্বৈত শাসনের চূড়ান্ত পরিণাম ছিল বাংলায় 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের' ধ্বংসলীলা।
- একদিকে দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অন্যদিকে অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়।
- পরপর দু'বছর অনাবৃষ্টি ও খরার ফলে ১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় এক প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেয়।
- টাকায় একমণ হতে চাউলের মূল্য বাড়তে বাড়তে টাকায় তিন সেরে এসে দাঁড়ালো।
- খোলাবাজারের খাদ্যশস্য বেশি লাভের আশায় কোম্পানির কর্মচারীরা মজুদ করা শুরু করে।
- খাদ্যের অভাবে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯১৯.
ঢাকার শেষ নবাব ছিলেন -
  1. খাজা আতিকুল্লাহ বাহাদুর
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন বাহাদুর
  3. খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর
  4. খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
ব্যাখ্যা

নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর:
- তিনি ২৬এপ্রিল, ১৮৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ঢাকার পঞ্চম এবং শেষ নবাব।
- তাঁর পিতা ছিলেন নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুরের শাসনামলেই ঢাকার নবাবপরিবারের সম্পদ ও জৌলুশ কমতে থাকে।
- ১৯৫২ সালে ইস্ট পাকিস্তান এস্টেটঅ্যাকিউজিশন অ্যাক্ট দ্বারা যা চূড়ান্তভাবে বর্জন করতে হয়।
- ২১শে নভেম্বর ১৯৫৮ তারিখে নবাব হাবিবুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিভাগ ওয়েবসাইট।

৬,৯২০.
'ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ' প্রতিষ্ঠা হয় কোন শাসকের আমলে?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
• লর্ড ওয়েলেসলি ভারতবর্ষে নবাগত ইংরেজ কর্মচারিদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপন করেন।

• লর্ড ওয়েলেসলি:

- ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি কোম্পানির গভর্নর হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন।
- অধীনতামূলক মিত্রতানীতি প্রবর্তন করেন লর্ড ওয়েলেসলি।
- এই নীতি অনুযায়ী ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে ও নিরাপত্তায় থেকে রাজ্য শাসনে অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো। 
- টিপু সুলতান এই নীতিগ্রহণে অস্বীকার করলে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের নিকট পরাজিত ও নিহত হন। 
- তিনি ইংরেজ অধিকৃত স্থানে জমি জরিপ করার জন্য ড. ফ্রান্সিস বুকাননকে নিযুক্ত করেন।
- তিনি এদেশের কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।  

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৯২১.
‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে -
  1. ক) গণতান্ত্রিক যুবলীগ
  2. খ) তমদ্দুন মজলিশ
  3. গ) মুসলিম লীগ
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক সংসদ 
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন:
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ‘তমদ্দুন মজলিস’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে।
- তমদ্দুন মজলিস সভা-সমিতি ও লেখনীর মাধ্যমে বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত গড়ে তোলে।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নূরুল হক ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে তমদ্দুন মজলিস ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে
- ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামে একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করে - গণতান্ত্রিক যুবলীগ।
-  ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন
করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯২২.
'মতি মসজিদ' কোন মুঘল সম্রাটের সময়ের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি?
  1. সম্রাট শাহজাহান
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট বাবর
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- সমরকুশলী হিসেবে সম্রাট শাহজাহান দক্ষতার পরিচয় দেন।
- মোগল আধিপত্য বিস্তারেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- তাঁর আমলে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুণ্ডায় মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তিনি পর্তুগিজদের দমন করে হুগলী দখল করেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- The Prince of Builder নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯২৩.
পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি কে ছিলেন?
  1. এম. এ. জি. ওসমানী
  2. এ. কে. খন্দকার
  3. জিয়াউর রহমান
  4. কাদের সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডার প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯২৪.
যুক্তফ্রন্ট সরকার কবে শপথ গ্রহণ করে?
  1. ১ এপ্রিল, ১৯৫৪
  2. ২ এপ্রিল, ১৯৫৪
  3. ৩ এপ্রিল, ১৯৫৪
  4. ৪ এপ্রিল, ১৯৫৪
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকার:
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনে জনগণ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে।
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসসিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আর মুসলিম লীগ মাত্র ১টি আসন লাভ করে। বাকি আসন অন্যরা পায়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক সরকার গঠনের রায় লাভ করে।
- জনগণই যে 'সকল ক্ষমতার উৎস'-এই নির্বাচন তা প্রমাণ করে।
- জনগণ এ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে প্রত্যাখ্যান করে এবং পূর্ববাংলায় এর শাসনের অবসান ঘটায়।

⇒ ১৯৫৪ সালের ৩রা এপ্রিল যুক্তফ্রন্টভুক্ত কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা এ.কে. ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলি কাগজের কলে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।
- উল্লেখ্য, পাকিস্তান সরকারের ইন্ধনে ঐ দাঙ্গা হয়েছিল। শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হককে গৃহবন্দি করা হয়। বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এর মাধ্যমে পূর্ববাংলার প্রতি পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর চরম বৈরী মনোভাব প্রকাশ পায়। পূর্ববাংলায় পাকিস্তানের অরাজক শাসন পর্ব শুরু হয়। কেন্দ্র এবং প্রদেশে ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হতে থাকে। দেশ সামরিক শাসনের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯২৫.
'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’ মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়-
  1. ১৯৬৯ সালের ২২ জুন
  2. ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন
  3. ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৬৮ সালের ১৯ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাঃ
১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আইয়ুব খানের সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে। সরকারি নথিতে এই মামলার নাম ছিলো ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’।
-এ মামলায় বঙ্গবন্ধুসহ অভিযুক্ত ছিলেন ৩৫ জন।
-ঢাকা সেনানিবাসে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার কার্য শুরু হয় ১৯৬৮ সালের ১৯শে জুন।
- গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৯২৬.
আইয়ুব খানের সামরিক শাসন কত বছর স্থায়ী হয়েছিল?
  1. প্রায় ৫ বছর
  2. প্রায় ৭ বছর
  3. প্রায় ১০ বছর
  4. প্রায় ১২ বছর
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসন:
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আইয়ুব খানের যোগসাজশে নির্বাচিত সংসদীয় সরকারকে উৎখাত করে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।
- তিনি জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।
- কিন্তু উচ্চাভিলাষী আইয়ুব খান এতেও সন্তুষ্ট ছিলেন না।
- এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট মির্জাকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- এর পরের দিন আইয়ুব খান এক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

⇒ আইয়ুব খান:
- আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা পাকাপাকি করার জন্য ১৩ জন জেনারেলকে বরখাস্ত করেন এবং নিজেকে ভূষিত করেন ফিল্ড মার্শাল উপাধিতে।
- তা ছাড়া রাজধানী করাচি থেকে প্রথমে স্থানাস্তর করেন রাওয়ালপিন্ডিতে, পরে ইসলামাবাদে।
- আইয়ুব খান অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নতুন শিল্প–কলকারখানা নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনকালকে অখণ্ড পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল দশক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- জেনারেল আইয়ুব ১৯৫৯ সালে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে নতুন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন। মৌলিক গণতন্ত্রব্যবস্থায় শাসনকাঠামোকে পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছিল।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৯৬৯ সালে গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আইয়ুব খানের পতন হয় এবং তাঁর পতনের মধ্য দিয়ে মৌলিক গণতন্ত্রব্যবস্থার অবসান ঘটে।

⇒ ১৯৫৮-১৯৬৯ প্রায় ১০ বছর আইয়ুব খানের সামরিক শাসন স্থায়ী হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৬,৯২৭.
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
  2. রাও ফরমান আলী
  3. খাদিম হোসেন রাজা
  4. টিক্কা খান
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।

৬,৯২৮.
২০২১ সালে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শতবর্ষ পালিত হয়?
  1. ক) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) ভিক্টোরিয়া কলেজ
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) ঢাকা কলেজ
ব্যাখ্যা

- ১৯২১ সালের ১ জুলাই পূর্ববঙ্গের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- বঙ্গভঙ্গ রদের পর পূর্ব বাংলার অসন্তুষ্ট মুসলমানদের দাবীর প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯১২ সালের ২৭ মে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নাথান কমিশন গঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন স্যার পি জে হার্টগ।
- ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পালিত হচ্ছে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)

৬,৯২৯.
বরিশাল এর প্রাচীন নাম কি?
  1. ক) নদীয়া
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপ
  3. গ) শাহবাজপুর
  4. ঘ) হরিকেল
ব্যাখ্যা
বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল। এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
[সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
৬,৯৩০.
মুজিব নগর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমদ
  4. ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
সুত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণী।
৬,৯৩১.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. মোজাফফর আহমদ
  4. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৩২.
বেঙ্গল প্যাক্টের মূল উদ্দেশ্য কি ছিল?
  1. ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন
  2. অর্থনৈতিক চুক্তি সম্পাদন করা
  3. হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের ঐক্য 
  4. ভারতের স্বাধীনতা 
ব্যাখ্যা

বেঙ্গল প্যাক্ট:
- ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেঙ্গল প্যাক্ট (১৯২৩) একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও উদার মনের রাজনীতিবিদ।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতবাসীকে মুক্ত ও স্বাধীন করতে হলে হিন্দু-মুসলমান ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অপরিহার্য।
- এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি স্যার আব্দুর রহিম, স্যার আব্দুল করিম, মাওলানা আকরাম খান, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মৌলভী মজিবর রহমান প্রমুখ মুসলমান নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
- এর ফলশ্রুতিতে ১৯২৩ সালে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদিত হয়, যা বেঙ্গল প্যাক্ট নামে পরিচিত।

- চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল-
- হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করা;
- এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া অংশকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে সমানভাবে উন্নয়নের পথ সুগম করা।
- এই চুক্তি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬,৯৩৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'মুজিবনগর' কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) ২ নং
  2. খ) ৮ নং
  3. গ) ১০ নং
  4. ঘ) ১১ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।মুজিব নগর ছিলো ৮ নং সেক্টরের অন্তর্গত।
Source:dhakadiv.gov.bd
৬,৯৩৪.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে রাশিয়া কয়বার ভেটো দেয়?
  1. ১ বার
  2. ২ বার
  3. ৩ বার
  4. ৪ বার
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার অবদান:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে।
- তবে তিনবারই সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সেই প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে, এর ফলে পাকিস্তানপন্থী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

উল্লেখ্য,
- একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে তাদের সপ্তম নৌবহর প্রেরণ করে। এই পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারত মহাসাগরে তাদের নৌবহর মোতায়েন করে এবং সপ্তম নৌবহরের পিছু নেয়। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের কৌশলগত সহায়তা বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৯৩৫.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন কে?
  1. সৈয়দ আজিজুল হক
  2. মওলানা ভাসানী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী 
  4. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

মন্ত্রিসভা গঠন
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত ছিলেন।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী সভার মুখ্যমন্ত্রী হন। 
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রির দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- মে মাসে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। 
- মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই মন্ত্রিসভা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং বর্ধমান হাউজকে বাংলা একাডেমি করার প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করেন। কেন্দ্রীয় সরকার এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬,৯৩৬.
মুক্তিযুদ্ধকালীন 'বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল' কত নং সেক্টরে অবস্থিত ছিল?
  1. ১ নং
  2. ২ নং
  3. ৪ নং
  4. ৯ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল:
- মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় গড়ে উঠেছিল ফিল্ড হাসপাতাল।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় 'বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল' ২ নং সেক্টরে অবস্থিত ছিল।
- বাংলাদেশ হাসপাতাল নামে পরিচিত ওই চিকিৎসাকেন্দ্র।

উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১টি সেক্টরের প্রতিটির হেডকোয়ার্টারের সঙ্গেই একটি করে মেডিকেল ইউনিট ছিল। ২ নম্বর সেক্টর বৃহত্তর নোয়াখালী, কুমিল্লা জেলার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ঢাকা শহর ও ফরিদপুর জেলার পূর্বাংশ নিয়ে বিস্তৃত ছিল। ২ নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল ভারতের আগরতলায়, প্রথমে মতিনগরে, পরে মেলাঘরে। এর নেতৃত্বে ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ। ঢাকায় গেরিলাযুদ্ধের পরিকল্পনা এবং পরিচালনা মূলত এই সেক্টর থেকেই করা হয়েছিল।

- মুক্তিযুদ্ধের সময় আহতদের জটিল ও সমন্বিত চিকিৎসাগুলো দেওয়া হতো মূলত ভারতীয় কোনো হাসপাতালে, তবে স্বতন্ত্রভাবে সম্পূর্ণ বাংলাদেশি জনবলে ও অর্থায়নে পরিচালিত ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’ নামে পরিচিত এই চিকিৎসাকেন্দ্র মুক্তিযুদ্ধের মেডিকেল যুদ্ধের আইকনে পরিণত হয়। বাংলাদেশ হাসপাতালের নেপথ্যের কারিগর হিসেবে যে কয়েকজন চিকিৎসকের নাম বিশেষভাবে জড়িত, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডা. এম এ মোবিন, প্রয়াত ডা. আখতার আহমেদ, ডা. নাজিমুদ্দীন আহমেদ ও ডা. সিতারা বেগম।

- ক্যাপ্টেন আখতার মেজর খালেদের সঙ্গে পরামর্শ করে কুমিল্লা সীমান্তের কাছে আগরতলার শ্রীমন্তপুর এলাকায় আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবার জন্য একটি হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেন। ডা. আখতার ২ নম্বর সেক্টরের সেনা অফিসার থাকার কারণে পদাধিকারবলেই হয়ে যান হাসপাতালের কমান্ডিং অফিসার, তবে মূল কাজকর্ম চালাতেন ডা. নাজিম। একাত্তরের মে মাসের দিকে এই মেলাঘর হাসপাতালে ইংল্যান্ড থেকে এসে যোগ দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ডা. এম এ মোবিন। সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ হাসপাতালে যোগ দেন আর্মি মেডিকেল কোরের ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম।

- ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় অর্জন পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ডা. আখতার, ডা. নাজিম, ডা সিতারা এবং পরামর্শক হিসেবে ডা. মোবিন বাংলাদেশ হাসপাতালে সক্রিয় ছিলেন। ২ নম্বর সেক্টরের অধীন সাবসেক্টরগুলোতে ফার্স্ট এইডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যোদ্ধা থাকতেন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৬,৯৩৭.
সমুদ্র সমতল হতে দিনাজপুর জেলার গড় উচ্চতা কত মিটার?
  1. ৩৭.৫০ মিটার
  2. ৩৫ মিটার
  3. ৩০ মিটার
  4. ২১.৫০ মিটার
ব্যাখ্যা
দিনাজপুর জেলা:

- উত্তরবঙ্গের প্রাচীন ও বৃহত্তম একটি জেলার নাম দিনাজপুর।
- এর পূর্বনাম ছিল গন্ডোয়ানাল্যান্ড।
- দিনাজপুর জেলাটি পূনর্ভবা নদীর তীরে অবস্থিত।
- সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে সবচেয়ে উঁচু ভূমির জেলাটি ৩৭.৫ মিটার উঁচু।
- দিনাজপুর জেলায় কয়লা খনি আছে তিনটি।
- দেশের প্রথম কয়লা শোধনাগার দিনাজপুরেই যার নাম বিরামপুর কয়লা শোধনাগার।
- দেশে প্রথম লোহার খনির খোঁজ পাওয়া যায় দিনাজপুর জেলার হাকিমপুরের ইসবপুর গ্রামে।

তথ্যসূত্র - সময় নিউজ, ১৩ জানুয়ারি ২০২২।
৬,৯৩৮.
‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থার প্রবক্তা ছিলেন কে? 
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. জিয়াউর রহমান
  3. তাজউদ্দীন আহমেদ
  4. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ 
ব্যাখ্যা

- গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থার প্রবক্তা ছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

• গ্রাম সরকার ব্যবস্থা: 
- লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান গঠন করেন গ্রাম সরকার। 
- ব্রিটিশ চৌকিদার মডেলে গ্রাম পুলিশ গঠন করা হয়।   
- এজন্য তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং তাদের নেতৃত্ব, সততা ও কর্মস্পৃহায় অনুপ্রাণিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’ গঠনের।
- এই গ্রাম সরকার গঠনের মাধ্যমে জনগণ নিজেরাই তাদের সমস্যা নির্ধারণ, পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেত। এতে ১৪ জন সদস্য থাকতেন, এর মধ্যে ৬ জন নারী সদস্য থাকতেন।  
- ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদ থানাগুলোকে উপজেলায় উন্নীত করে গঠন করেন উপজেলা পরিষদ।  

তথ্যসূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট।

৬,৯৩৯.
মুজিবনগর সরকারের সচিবালয় কোথায় ছিল?
  1. কলকাতা
  2. ঢাকা
  3. মেহেরপুর
  4. গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন। 
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। 
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান। 
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ মন্ত্রণালয়: এম. মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব, 
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৪০.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'অগ্নিশিখা' অনুষ্ঠানটি কে পরিচালনা করতেন?
  1. বেলাল মোহাম্মদ
  2. এম.আর.আখতার মুকুল
  3. কল্যাণ মিত্র
  4. টি.এইচ সিকদার
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও 'অগ্নিশিখা'
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বেলাল মোহাম্মদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।
- বেতারে প্রচারিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান হলো বজ্রকন্ঠ, চরমপত্র, জল্লাদের দরবার, অগ্নিশিখা, প্রতিধ্বনি প্রভৃতি।
- 'অগ্নিশিখা' অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন টি.এইচ সিকদার।
- এটি ছিল মুক্তিবাহিনীর জন্য অনুষ্ঠান।

এছাড়া,
- ৭ মার্চের ভাষণ সহ বঙ্গবন্ধুর অন্যান্য ভাষণ 'বজ্রকণ্ঠ' নামে প্রচারিত হত।
- ঢাকার আঞ্চলিক ভাষায় প্রচারিত 'চরমপত্র' লিখতেন ও পড়তেন এম.আর.আখতার মুকুল।
- জল্লাদের দরবার পরিচালনা করতেন কল্যাণ মিত্র।

তথ্য- বাংলাপিডিয়া।
৬,৯৪১.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কত তারিখে বুদ্ধিজীবীদের উপর হত্যাকান্ড পরিচালিত হয়?
  1. ২৫ মার্চ, ১৯৭১
  2. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. ২৮ মার্চ, ১৯৭১
  4. ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস:
- বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে মানবতাবিরোধী এই বর্বর কাজে সহায়তা করেছে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চূড়ান্ত পরাজয়ের দুই দিন পূর্বে ১৪ই ডিসেম্বর অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে।
- ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস।
- তাদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকার মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।
৬,৯৪২.
আসাদগেট নামের পটভূমির সাথে জড়িত কোন সন?
  1. ক) ১৯৪৭ সন
  2. খ) ১৯৫২ সন
  3. গ) ১৯৬৯ সন
  4. ঘ) ১৯৭১ সন
ব্যাখ্যা
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ১১ দফা দাবি আদায়ের প্রেক্ষিতে গণ-আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
• গণ-আন্দোলনটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে হওয়ায় ঢাকাবাসী আসাদের স্মৃতি রক্ষার্থে আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে রাখেন আসাদগেট।
• প্রতিবছর ২০ জানুয়ারি আসাদ দিবস পালিত হয়।
৬,৯৪৩.
আইয়ুব খান কাকে চেয়ারম্যান করে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন?
  1. এস. এম.শরীফ
  2. এ.বি.আর. শরীফ
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. জিয়া উদ্দিন 
ব্যাখ্যা

শরীফ কমিশন বিরোধী আন্দোলন: 
- বাষট্টির ছাত্র আন্দোলন নতুন মাত্রা লাভ করে সমসাময়িক শরীফ কমিশনের শিক্ষা সংক্রান্ত রিপোর্টকে কেন্দ্র করে।
- আইয়ুব খান ক্ষমতায় এসে ১৯৫৮ সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক এস.এম. শরীফকে চেয়ারম্যান করে একটি কমিশন গঠন করেন।
- এবং পাকিস্তানের পরবর্তী শিক্ষানীতি সম্পর্কে একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব প্রদান করেন। 
- ১৯৫৯ সালের আগস্ট মাসে কমিশনের রিপোর্ট সরকারের নিকট হস্তান্তর করা হয় এবং ১৯৬২ সালে তা প্রকাশিত হয়।
- কমিশনের রিপোর্টে পাকিস্তানে ষষ্ঠ থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক, উর্দুকে সার্বজনীন ভাষায় রূপান্তর, উর্দু ও বাংলা ভাষার সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠতর করার প্রয়োজনীয়তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
- কমিশন পাকিস্তানের একটি অভিন্ন বর্ণমালার জন্য সুপারিশ করে এবং অবৈতনিক শিক্ষার ধারণাকে অবান্তর বলে ঘোষণা করে।

উৎস: ইতিহাস, এসইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৪৪.
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের অডিও রেকর্ড ধারণ করেন কে?
  1. জেড এম এ মবিন
  2. এস এম তৌহিদ
  3. আমজাদ আলী খন্দকার
  4. সৈয়দ মইনুল আহসান
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়।
- উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
- এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
- ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয়।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে 'World's Documentary Heritage' এর মর্যাদা দিয়ে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
 
উল্লেখ্য,
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণটির শব্দ ধারণ করার দায়িত্ব পড়েছিল মইনুল আহসানের ওপর।
- ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের অডিও রেকর্ড ধারণ করেন সৈয়দ মইনুল। 
- ভাষণটি তৎকালীন সরকারের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর ক্যামেরায় ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
- প্রখ্যাত অভিনেতা আবুল খায়ের ভাষণের ভিডিও ধারণ করেন। 
- ভাষণ ধারণ করতে দুটি ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়। 
 
উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ৮ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো। 
৬,৯৪৫.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ট্রাইব‍্যুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন কে?
  1. এম.আর.খান
  2. মকসুমুল হাকিম
  3. এস.এ.রহমান
  4. টি.এইচ.খান
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:

- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইব‍্যুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইব‍্যুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৪৬.
৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ড. শামসুজ্জোহা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন?
  1. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  2. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
  3. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- ১৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ শামসুজ্জোহা দিবস।
- ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের অগ্রনায়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন ড. শামসুজ্জোহা।
- তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছিল পাক-হানাদার বাহিনী হটাও আন্দোলন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিসহ আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলনে ফুঁসে ওঠা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই শহীদ বুদ্ধিজীবী।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
- তিনিই পাক-হানাদারদের হাতে নিহত প্রথম বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সামনে নির্মিত হয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা স্মৃতি ভাস্কর্য ‘স্ফুলিঙ্গ’।

তথ্যসূত্র - রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট ও দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
৬,৯৪৭.
ঐতিহাসিক 'একুশে ফেব্রুয়ারি' বাংলা কত তারিখ ছিল?
  1. ক) ২৯ মাঘ
  2. খ) ৯ মাঘ
  3. গ) ৩১ পৌষ
  4. ঘ) ৮ ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ৮ ফাল্গুন (বৃহষ্পতিবার), ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ
- একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করেন (২৩ ফেব্রুয়ারি)। 
- শহীদ শফিউরের পিতা ২৪ তারিখে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সেই মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে।
-  ভাষা আন্দোলনের অনুপ্রেরণা আমাদের মুক্তি সংগ্রামের অনুপ্রেরণা। 
- ভাষা আন্দোলন থেকেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে।
- ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। 
- এই স্বীকৃতি ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা বাড়িয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৪৮.
কোন মুঘল সম্রাট বাংলা সন প্রবর্তন করেন?
  1. আকবর
  2. শাহজাহান
  3. বাবর
  4. হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
পহেলা বৈশাখ:
- এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে।
- তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর।
- এই কৃষিকাজের সুবিধার্থেই মুগল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০/১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- তা কার্যকর হয় তাঁর সিংহাসন আরোহণের সময় থেকে (৫ নভেম্বর ১৫৫৬)।
- হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।
- নতুন সনটি প্রথমে 'ফসলি সন' নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত আকবরের সময় থেকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,৯৪৯.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
  4. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৫০.
'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটির সুরকার কে?
  1. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. আনোয়ার পারভেজ
  4. আপেল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
জয় বাংলা বাংলার জয়:
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটিকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণসংগীত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এই গানের সুরকার আনোয়ার পারভেজ।
- গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- আনোয়ার পারভেজ ২০০৬ সালের ১৭ জুন মারা গেছেন।
- এক সাক্ষাৎকারে গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, 'আমার কথার আনোয়ার পারভেজ যে সুরের অলংকার পরিয়ে দিয়েছিলেন, তা মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে।
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটি মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয়টা মাস মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো, ১৬ ডিসেম্বর ২০২০।
৬,৯৫১.
জাতীয় সংসদে হুইপের দায়িত্ব কী?
  1. বিল পাস করা
  2. শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  3. স্পিকারের সাহায্য করা
  4. সংসদ আহ্বান করা
ব্যাখ্যা

- জাতীয় সংসদে হুইপের দায়িত্ব হলো শৃঙ্খলা রক্ষা করা।
- সংসদের হুইপকে ‘সচেতক’ বলা হয়।
- সরকারি ও বিরোধী উভয় দলেই একজন করে চীফ হুইপ থাকেন।
- তাঁদের সহায়তা করার জন্য আরও কয়েকজন হুইপ থাকেন।
- সরকারি ও বিরোধী দলের চীফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপদের পারস্পরিক সমঝোতা ও সুসম্পর্ক সংসদের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র- জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

৬,৯৫২.
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে কোনটি ঐক্যবদ্ধ করে?
  1. একুশ দফা
  2. ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে ঐক্যবদ্ধ করে - ভাষা আন্দোলন।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে সুদুরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।
- পাকিস্তানি রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্দে এটি ছিল বাঙালি জাতির প্রথম বিদ্রোহ।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের ধারা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে।

⇒ ২১ শে ফেব্রুয়ারি মিছিলে গুলি করে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' এবং তরুণ কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ 'স্মৃতির মিনার' শীর্ষক কবিতা রচনা করেন। হাসান হাফিজুর রহমানের 'একুশের সংকলন' ভাষা আন্দোলন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা। আবদুল গাফফার চৌধুরীর 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি', সঙ্গীতশিল্পী আবদুল লতিফে রচনা ও সুরে 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং বাগেরহাটের চারণ কবি শামসুদ্দিন আহমেদ রচনা করেন 'তোরা ঢাকার শহর রক্তে ভাসাইলি' শীর্ষক গান। ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক এবং জহির রায়হান রচনা করেন 'আরেক ফাল্গুন' শীর্ষক উপন্যাস।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এসব কবিতা, গান, নাটক ও উপন্যাস বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পরের বছর থেকে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি বাঙালির শহিদ দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন ঘোষিত হয়।

⇒ বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য:
- প্রথমত: ভাষা আন্দোলন ছিল বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সংগঠিত গণ আন্দোলন। এটি শুধু ভাষার মর্যাদার জন্যই গড়ে ওঠেনি। ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে। অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম পর্যায় হিসেবে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠাকে বাঙালিরা বেছে নেয়। এই বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাই ঘাটের দশকে স্বৈরশাসন বিরোধী ও স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে আন্দোলনে প্রেরণা জোগায়।
- দ্বিতীয়ত: ভাষা আন্দোলনের ফলে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিকাশ ঘটে। এই আন্দোলন দ্বিজাতি তত্ত্বের ধর্মীয় চেতনার মূলে আঘাত হানে। পাকিস্তান সৃষ্টির সাম্প্রদায়িক ভিত্তি ভেঙ্গে বাঙালিরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার আন্দোলন শুরু করে। এর ফলে ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে ওঠে।
- তৃতীয়ত: ভাষা আন্দোলনে মুসলিম লীগ জনগণের মানসিকতা ও স্বার্থ উপেক্ষা করে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে দলটির শোচনীয়ভাবে পরাজয় ঘটে। এর পর আর কোন নির্বাচনে মুসলিম লীগ জয়ী হয়নি।
- চতুর্থত: ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২১ ফেব্রুয়ারি শোক দিবস হিসেবে ছুটি ও শহিদ দিবস ঘোষনা করে। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়। ১৯৬২ সালে সংবিধানে তা বহাল থাকে।
- পঞ্চমত: যুক্তফ্রন্ট পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্য তুলে ধরে, যা ষাটের দশকে আওয়ামী লীগের ছয় দফায় পরিস্ফুটিত হয়। স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয় যার প্রেরণা ছিল ভাষা আন্দোলন।
- ষষ্ঠত: ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস' এর স্বীকৃতি দান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৫৩.
ভারতের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ছিল কারা?
  1. গুপ্তরা 
  2. পালরা 
  3. মৌর্যরা
  4. সেনরা 
ব্যাখ্যা
মৌর্য সাম্রাজ্য: 
- আলেকজান্ডারের ভারত প্রত্যাগমনের মাত্র দুই বছর পর ৩২১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ভারতের এক বিশাল অঞ্চলের ওপর মৌর্য বংশের শাসন চালু করেন।
- বাংলার উত্তরাংশে মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (২৬৯-২৩২ খ্রিষ্টপূর্ব)।
- বাংলা তখন মৌর্যদের একটি প্রদেশে পরিণত হয়েছিল।
- প্রাচীন পুণ্ড্রনগর ছিল এ প্রদেশের রাজধানী।
- উত্তর বঙ্গ ছাড়াও মৌর্য শাসন কর্ণসুবর্ণ (মুর্শিদাবাদ), তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের তমলুক জেলা) ও সমতট (দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা) অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- মৌর্যরা ছিল ভারতের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী শক্তি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,৯৫৪.
বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ এবং আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন -
  1. লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড কারমাইকেল
  3. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  4. ব্যামফিল্ড ফুলার
ব্যাখ্যা
ব্যামফিল্ড ফুলার:
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ এবং আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার।

⇒ তিনি ১৮৮৫ সালে মধ্য প্রদেশের ভূমি জরিপ ও কর নির্ধারণ এবং কৃষিবিষয়ক কমিশনার হিসেবে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস-এ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালে ভাইসরয়ের পরিষদের অতিরিক্ত সদস্য এবং ১৯০১-০২ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারের সচিব ছিলেন।
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গ ও আসামের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদে নিয়োগ লাভের পূর্বে ফুলার আসামের প্রধান কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ভারতে ব্রিটিশ প্রশাসনে সেবা প্রদানের জন্য নাইট উপাধি লাভ করেন।

⇒ বাংলা ও ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫-১৯১১) একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি। কলকাতা ছিল এর রাজধানী। এটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তম প্রদেশ। শাসন কার্যের সুবিধার্থে ব্রিটিশ সরকার বাংলা প্রেসিডেন্সির বিভক্তকরণের কথা চিন্তা করতে থাকে। উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন স্যার রাম্পফিল্ড ফুলার এবং স্যার এন্ড্রু ফ্রেজার। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জনও বহুবার বিষয়টি আলোচনা করেন। অতঃপর ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ সম্পন্ন হয়। সৃষ্টি হয় ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও আসামকে নিয়ে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে' এক নতুন প্রদেশ এবং এর রাজধানী হয় ঢাকা। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৫৫.
কার প্রচেষ্টায় হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের প্রচলন হয়?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সমাজ সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহ প্রচলন এবং বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধকরণে সংগ্রাম করেন।
তার প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসি বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার ছেলের বিয়ে দেন একজন বিধবা'র সাথে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬,৯৫৬.
কোন ইংরেজ শাসক 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন?
  1.  লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা

• চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত  ১৭৯৩ সালে কর্নওয়ালিস প্রশাসন কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার ভূমি মালিকদের মধ্যে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি।
- এ চুক্তির আওতায় জমিদার উপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভূ-সম্পত্তির নিরঙ্কুশ স্বত্বাধিকারী হন।
- এটি ছিল ইংরেজদের একটি সাম্রাজ্যবাদী বিধিব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
- এক্ষেত্রে তারা অনেক সফলতা লাভ করলেও এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষক এমনকি অনেক সম্ভ্রান্ত বনেদি জমিদার সর্বশান্ত হয়ে পড়ে।
- অন্যদিকে নগদ টাকার মালিক ও পুঁজিপতি মহাজনরা রাতারাতি জমিদারে পরিণত হয়।
- নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৯৫৭.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরে কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিল না?
  1. ৯ নং সেক্টর
  2. ১০ নং সেক্টর
  3. ১১ নং সেক্টর
  4. ১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

◉ মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে মোট ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রতিটি সেক্টরের একটি করে সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, তবে ১০ নং সেক্টর ছিল ব্যতিক্রম।

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিল ১০ নং সেক্টরের অধীনে।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৯৫৮.
Martyred freedom fighter Shafi Imam Rumi was a member of which guerrilla group of Mukti Bahini?
  1. Hemayet Bahini
  2. Sovereign Bengal
  3. Baten Bahini
  4. Kaderia Bahini
  5. Crack Platoon
ব্যাখ্যা
ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনাকারী একদল তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত দল, যাঁরা তৎকালীন সময় একটি কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।
- শাফী ইমাম রুমী ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য ছিলেন

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের জুনের মাঝামাঝি সময়ে মায়ের অনুমতি নিয়ে শাফী ইমাম রুমী ভারতে গিয়ে মুক্তিবাহিনীর ক্র্যাক প্লাটুনে যোগ দেন।
- ২৫ আগস্ট ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যরা ঢাকার ধানমন্ডিতে দুর্ধর্ষ এক গেরিলা অপারেশন চালান।
- এরপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডে তোলপাড় শুরু হয়।
- এই অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন শাফী ইমাম রুমী।
- কয়েক দিন পর শাফী ইমাম রুমীসহ তাঁর আরও কয়েকজন সহযোদ্ধা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।
- পরে অমানুষিক নির্যাতনে তিনি শহীদ হন।

অন্যদিকে -
- মুজিব ব্যাটারি বাংলাদেশের প্রথম গোলন্দাজ ইউনিট। এর নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন আব্দুল আজিজ পাশা ও ক্যাপটেন আনোয়ারুল আলম।

উৎস: ৩১ জুলাই ২০২১, প্রথম আলো।
৬,৯৫৯.
''ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট'' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) খুলনায়
  3. গ) চাদঁপুরে
  4. ঘ) ময়মনসিংহে
ব্যাখ্যা
• ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট:
- ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট) চাঁদপুর জেলার বাবুরহাটে অবস্থিত।
- এই ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে মৎস্য সেক্টরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মৎস্য চাষীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এছাড়াও - 
- নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ফরিদপুর শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত।
- সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র অবস্থিত কক্সবাজারে।
- 'বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট' ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্নে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।
৬,৯৬০.
'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার' আসামীদের মধ্যে প্রথম কাকে গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. মকবুল ভুঁইয়া
  2. জহুরুল হক
  3. আমজাদ খাঁ
  4. কৃষ্ণ দুগার
ব্যাখ্যা
 আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।
- তবে এটি 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার' আসামীদের মধ্যে প্রথম সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৬১.
সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ইংরেজরা প্রথম কোন স্থানে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. হুগলি
  2. মাদ্রাজ
  3. সুরাট
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা

ইংরেজদের আগমন ও ক্ষমতা বিস্তার:
- পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ বণিকদের বাণিজ্যিক সাফল্য ও এদেশের বিপুল ধন-সম্পদের বর্ণনা ইংরেজ বণিকদের মনে এদেশে বাণিজ্য করার আগ্রহ সৃষ্টি করে।
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদী সনদ নিয়ে এদেশে বাণিজ্য করতে আসে। 
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে তারা ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে মুম্বাইয়ের নিকট সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ রাজদূত স্যার টমাস রো সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে এসে ইংরেজদের বাণিজ্যের জন্য কিছু সুবিধা আদায় করেন।
- পর্তুগিজরা বাংলা থেকে বিতাড়িত হলে ইংরেজগণ বালেশ্বরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং করমণ্ডল উপকূলে কিছু জমি নিয়ে একটি দুর্গ নির্মাণ করে এবং এ দুর্গই পরে মাদ্রাজ শহরে পরিণত হয়।
- ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে জলপথে ইংরেজগণ হুগলিতে আসে এবং বাংলার সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দে সেখানে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৬২.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ৭টি
  2. ১১টি
  3. ১০টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৬৩.
উপমহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর-
  1. ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার
  2. ড. মাহমুদ হাসান
  3. ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন
  4. স্যার এ. এফ. রহমান
ব্যাখ্যা
• উপ-মহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন - স্যার এ. এফ. রহমান।

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯২০ সালে ভারতীয় বিধানসভায় গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনবলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গঠিত কমিশনের নাম ছিলো নাথান কমিশন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টজ।
- উপ-মহাদেশীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর হলেন স্যার এ. এফ. রহমান।

অন্যদিকে,
- রমেশচন্দ্র মজুমদার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য। 
- ড. মাহমুদ হোসেন : পঞ্চম উপাচার্য (ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি জাকির হোসেনের ভাই)। 
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন বিচারপতি আবু সায়্যিদ চৌধুরী।

• উপাচার্যের সময়কাল:
১. স্যার পি. জে. হার্টগ (১৯২০ - ১৯২৫), 
২. অধ্যাপক জর্জ হ্যারি ল্যাংলি (১৯২৬ - ১৯৩৪), 
৩. স্যার এ. এফ. রাহমান (১৯৩৪ - ১৯৩৬), 
৪. অধ্যাপক রমেশচন্দ্র মজুমদার (১৯৩৭ - ১৯৪২), 
৫. অধ্যাপক মাহমুদ হাসান (১৯৪২ - ১৯৪৮), 
৬. অধ্যাপক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হুসাইন (১৯৪৮ - ১৯৫৩)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
৬,৯৬৪.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় পাকিস্তানের শাসক ছিলেন -
  1. ক) আইয়ুব খান
  2. খ) ইস্কান্দার মির্জা
  3. গ) জুলফিকার আলী ভুট্টো
  4. ঘ) ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠে যা ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৬৫.
বঙ্গভঙ্গের সময় ________ ছিলেন ভারতের গভর্নর জেনারেল।
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা

• বঙ্গভঙ্গের সময় লর্ড কার্জন ছিলেন ভারতের গভর্নর জেনারেল।

• বঙ্গভঙ্গ:
- বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন — লর্ড কার্জন।
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদে হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়, অপর দিকে মুসলমান সম্প্রদায় মর্মাহত এবং হতাশ হয়।
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।

অন্যদিকে,
• লর্ড ওয়েলেসলি ১৭৯৮ থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
• ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বশেষ ভাইসরয় বা রাজপ্রতিনিধি ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। তাঁর সময় ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছিল।
• লর্ড ডালহৌসি ১৮৪৮ সালে স্বত্ব বিলোপ নীতির (ডকট্রিন অব ল্যাপ্স) প্রবর্তন করেন। তবে ডালহৌসির পূর্বেও ব্রিটিশ ভারতে এই নীতির প্রয়োগ ছিলো। ডালহৌসি এই নীতির সর্বাধিক প্রয়োগ করেন।
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসি বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৬৬.
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মিত হয়-
  1. হুগলি
  2. দিল্লী
  3. সোনারগাঁও
  4. কলকাতায়
ব্যাখ্যা
ইংরেজ :
- ইংল্যান্ড রানি এলিজাবেথের অনুমতি নিয়ে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ১৬০০ সালে ভারত বর্ষে আসে ইংরেজরা ।
- তারা সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন ১৬১২ সালে।
 - সম্রাট শাজাহানের সময় বাংলায় প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।
 -  কলকাতায় রাজা উইলিয়ামের নাম অনুসারে, ফোর্ট উলিয়াম দুর্গা নির্মাণ করে হয় ১৭০০ সালে।

উৎস : ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬,৯৬৭.
১ আগস্ট ১৯৭১ সালে কোথায় 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ক) লন্ডন
  2. খ) ওয়াশিংটন
  3. গ) প্যারিস
  4. ঘ) নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১ আগস্ট জর্জ হ্যারিসনের তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ।'
৬,৯৬৮.
সত্তরের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ আওয়ামী লীগ মোট কতটি আসন লাভ করে? 
  1. ১৬৭
  2. ২৯৮
  3. ৩১০
  4. ৩১৩
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল:

• প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭০ সালে। 
• পূর্ব পাকিস্তানে প্রাদেশিক পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট আসন: ৩১০ টি।
• সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ আওয়ামী লীগ মোট ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 
• অন্যদিকে, ৭ ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে সংরক্ষিত ৭টি মহিলা আসনসহ ১৬৯ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 
• মোট প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ৭৫.১০% ভোট পায়
• অপরদিকে প্রাদেশিক পরিষদে ৭০.৪৮% ভোট পায়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৬৯.
'লখনৌতি' কার আমলে বাংলার রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে?
  1. গোপাল
  2. বিজয় সেন
  3. চন্দ্রগুপ্তমৌর্য
  4. বখতিয়ার খলজী
ব্যাখ্যা
লখনৌতি
- লখনৌতি প্রাচীন নাম লক্ষ্মণাবতী।
- মুসলিম শাসনামলে লখনৌতি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- লক্ষ্মণসেনের (১১৭৮-১২০৬ খ্রি) নামানুসারে এই নামকরণ করা হয়। জায়গাটি গৌড় নামেও পরিচিত।
- লখনৌতির অবস্থান বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায়।

উল্লেখ্য, 
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী নদীয়া জয় করার পর পরই লক্ষ্মণাবতীতে আসেন এবং এখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করে মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- লখনৌতি বা লক্ষণাবতী বা গৌড়েই মুসলমান আমলে বাংলার রাজধানীর মর্যাদা লাভ করে। 
- ১২০৬ থেকে ১২১১ খ্রিস্টাব্দ এই ছয় বছর ব্যতীত ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত লখনৌতি মুসলমান শাসকদের রাজধানী ছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬,৯৭০.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় -
  1. ২ মার্চ, ১৯৭১
  2. ৩ মার্চ, ১৯৭১
  3. ৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ১১ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা

প্রথম পতাকা উত্তোলন:
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- এই পতাকা গৃহীত হয় ৬ মার্চ, ১৯৭১।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন: কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।

⇒ সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- মানচিত্র খচিত পতাকার নকশাকার: শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।

উৎস: i) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
ii)  প্রথম আলো।

৬,৯৭১.
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান কে?
  1. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. আবুল কাশেম
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয়।
- সেদিন কুমিল্লার সন্তান ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব তুলেছিলেন।
- তিনি সরকারি কাগজে বাংলা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে সোচ্চার হন।
- তিনি অধিবেশনে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গণপরিষদে যে কার্যবিবরণী লেখা হয় তা ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় লিপিবদ্ধ হয়।
- সমগ্র পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন।
- অধিবেশনে ইংরেজি ও উর্দুর সঙ্গে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি তোলেন তিনি।

উল্লেখ্য,
⇒ ভাষা আন্দোলন:
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।

• তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে? বাংলা নাকি উর্দু‌’।

• ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম পরিচালিত হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন।
- তিনি ‘বাংলা’ ভাষাকেও অধিবেশনের ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

• ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ দ্বিতীয়বারের মতো ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।

• ১৯৪৮ সালে ‘বাংলা ভাষা আরবি হরফে’ লেখার প্রস্তাব দিলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ এর প্রতিবাদ করেন।

• ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টন ময়দানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে এ ঘোষণা দেন।
- এর প্রতিবাদে নতুন করে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়।

উৎস: প্রথম আলো।
৬,৯৭২.
কোন বিভাগে জেলার সংখ্যা কম?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা
রাজশাহী বিভাগ:
- রাজশাহী বিভাগে জেলার সংখ্যা কম।
- প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে রাজশাহী বিভাগের সৃষ্টি হয় ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে।
- তখন বিভাগীয় সদর দপ্তর ছিল মুর্শিদাবাদে।
- ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পুনরায় বিভাগীয় সদর দপ্তর রাজশাহীতে স্থানান্তরিত হয়।
- ষাটের দশকের শুরুতে খুলনা বিভাগ সৃষ্টি হওয়ার পূর্বে বর্তমান খুলনা বিভাগের জেলাগুলিও রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- খুলনা বিভাগ আলাদা হওয়ার পর থেকেই রাজশাহী অঞ্চলের ৮টি (রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরাট) এবং রংপুর অঞ্চলের ৮টি (রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁ ও পঞ্চগড়) মোট ১৬টি জেলা রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- গত ৯ মার্চ ২০১০ তারিখে এক সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলের ৮টি জেলা নিয়ে রংপুর বিভাগ গঠন করায় রাজশাহী অঞ্চলের ৮টি জেলা নিয়ে বর্তমান রাজশাহী বিভাগ নতুন রূপ লাভ করে।

অন্যদিকে,
- ঢাকা বিভাগে ১৩টি জেলা।
- চট্টগ্রাম বিভাগে ১১টি জেলা।
- খুলনা বিভাগে ১০টি জেলা।

তথ্যসূত্র - রাজশাহী বিভাগ ওয়েবসাইট।
৬,৯৭৩.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কত দফা নির্বাচনী ইশতেহার কর্মসূচি ঘোষণা করে?
  1. ১১ দফা
  2. ১৩ দফা
  3. ২১ দফা
  4. ৩১ দফা
ব্যাখ্যা

 • যুক্তফ্রন্ট গঠনের পটভূমি ও ২১ দফা কর্মসূচি:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার জনগণের অসন্তোষ ও মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে এই জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- মওলানা ভাসানীর আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি, হাজী দানেশের গণতন্ত্রী দল এবং খিলাফত-ই-রাব্বানি মিলেই যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া যুক্তফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে, যা আওয়ামী মুসলিম লীগের ৪২ দফার ভিত্তিতে প্রণীত।
- এর মূল রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- এই কর্মসূচিতে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, দুর্নীতি দমন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নসহ জনগণের মৌলিক চাহিদা ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
- এই ২১ দফা কর্মসূচিই জনগণের বিপুল সমর্থন এনে দেয় এবং মুসলিম লীগের বিপরীতে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।

৬,৯৭৪.
ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম কামানের ব্যবহার হয় কোন যুদ্ধে?
  1. ক) পানিপথের ১ম যুদ্ধ
  2. খ) মান্দাসোর যুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের ২য় যুদ্ধ
  4. ঘ) পানিপথের ৩য় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (২১ এপ্রিল, ১৫২৬ খ্রি.)
• পানিপথ বর্তমান ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে হরিয়ানা রাজ্যে অবস্থিত।
• ১৫২৫ খ্রিস্টাব্দে বাবর কাবুল থেকে আগমন করে পাঞ্জাবের শাসক দৌলত খান লোদীকে পরাজিত করে লাহোর তথা সমগ্র পাঞ্জাব অধিকার করেন।
• ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল লোদী বংশের সর্বশেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদী ও জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের মধ্যে ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
• ‘তুযুক-ই-বাবুরী’ বা ‘বাবরনামা’র বিবরণ অনুযায়ী পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের সেনাবাহিনীতে ছিল ১২,০০০ পদাতিক, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অশ্বারোহী ও গোলন্দাজ। এই যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্যবাহিনীতে ছিল ১,০০,০০০ সৈন্য ও ১০০ হস্তী।
• ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে কামানের ব্যবহার করেন।
• এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বাবর ইব্রাহিম লোদীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত ও নিহত করেন।
• পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয় লাভ করার মাধ্যমে লোদী বংশের পতন ঘটে। ফলে উপমহাদেশে সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে এবং মুঘল বংশের রাজত্ব শুরু হয়। 

তথ্যসূত্র:- ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৯৭৫.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার কারাগার জীবনে লেখা দিনপঞ্জির নাম দিয়েছিলেন-
  1. কারাগারের রোজনামচা
  2. থালা বাটি কম্বল জেলখানার সম্বল
  3. অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  4. কারাগারের রাতদিন
ব্যাখ্যা
কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার কারাগার জীবনে লেখা দিনপঞ্জির নাম দিয়েছিলেন থালা বাটি কম্বল জেলখানার সম্বল।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা কারাগারের রোজনামচা নামকরণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে ।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন ।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৬,৯৭৬.
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ- এর পদবী কি ছিল?
  1. ক) সিপাহী
  2. খ) লেফটেন্যান্ট
  3. গ) ক্যাপ্টেন
  4. ঘ) ল্যান্স নায়েক
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বিজিবি (তৎকালীন ইপিআর) বাহিনীর দু’জনকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। তাঁরা হলেন-
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ।
উৎসঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
৬,৯৭৭.
Which international leader described the Pakistany military crackdown in Est Pakistan (March 1971) as "the greatest human disaster in modern times"?
  1. Indira Gandhi
  2. Edward Kennedy
  3. Henry Kissinger
  4. Archer Blood
ব্যাখ্যা

- এডওয়ার্ড কেনেডি পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক অভিযান (মার্চ ১৯৭১) কে 'আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়' হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন
- তিনি ১৯৭১ সালের আগস্টে কলকাতার শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার পরিস্থিতি দেখে গভীরভাবে মর্মাহত হন।
- এই অভিজ্ঞতার কারণে তিনি মার্কিন সরকারের পাকিস্তানকে সহায়তা দেওয়ার নীতির কঠোর সমালোচনা করেন।
- তিনি সিনেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলেন এবং মার্কিন প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেন।
- এই বক্তব্যটি তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
- তাঁর এই ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৯৭৮.
মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে-
  1. ক) ২৫ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ৬ জুন ১৯৭১
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে। এ সরকারের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী)

৬,৯৭৯.
খুলনা বিভাগে জেলা কয়টি?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
  4. ১৩
  5. ১৪
ব্যাখ্যা
খুলনা বিভাগ:

- বাংলাদেশের আটটি বিভাগের মধ্যে একটি এবং এটি দেশের দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থিত।
- আয়তন ২২,২৮৫ বর্গ কিলোমিটার.
- খুলনা বিভাগের সদর দপ্তর খুলনা শহর।
- ঢাকা এবং চট্টগ্রামের পরে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর।
- খুলনা বিভাগ এর পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমানা, উত্তরে রাজশাহী বিভাগ, পূর্বে ঢাকা বিভাগ ও বরিশাল বিভাগ এবং দক্ষিণে বিখ্যাত ম্যানগ্রোভ বন নামে পরিচিত সুন্দরবন সহ বঙ্গোপসাগরের উপর তটরেখা রয়েছে।
- খুলনা বিভাগে জেলা ১০টি।
• কুষ্টিয়া।
• খুলনা।
• চুয়াডাঙ্গা।
• ঝিনাইদহ।
• নড়াইল।
• বাগেরহাট।
• মাগুরা।
• মেহেরপুর।
• যশোর।
• সাতক্ষীরা।

তথ্যসূত্র - খুলনা বিভাগের ওয়েবসাইট।
৬,৯৮০.
দুদকের হেল্পলাইনের নম্বর কত?
  1. ক) ৯৯৯
  2. খ) ১১১
  3. গ) ১০৬
  4. ঘ) ৩৩৩
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ৯ মে দুদক আইন কার্যকরের মাধ্যমে পূর্বেকার দুর্নীতি দমন ব্যুরোর স্থলে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়।

এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত।
একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন কমিশনার নিয়ে দুদক গঠিত।

দুদকের হটলাইন হলো ১০৬
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ৯ ডিসেম্বর।

(তথ্যসূত্র: দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট)
৬,৯৮১.
গজনীর সুলতান মাহমুদ মোট কতবার ভারত আক্রমণ করেন?
  1. ১৫ বার
  2. ১৬ বার
  3. ১৭ বার
  4. ১৮ বার
ব্যাখ্যা

সুলতান মাহমুদ:
- সুলতান উপাধিধারী প্রথম শাসক গজনভির মাহমুদ বা সুলতান মাহমুদ। তাঁর পুরো নাম ইয়ামিনউদ্দৌলা আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে সবুক্তগিন। মাহমুদ-ই জাবুলি নামেও তিনি পরিচিত।
- সুলতান মাহমুদ ছিলেন গজনভি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সবুক্তগিনের (আবু মনসুর সবুক্তগিন) জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- তিনি পূর্ব প্রাদেশিক শহর গজনিকে একটি বৃহৎ সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধশালী রাজধানীতে পরিণত করেন। বর্তমান আফগানিস্তান, পূর্ব ইরান ও পাকিস্তানের একটি বড় অংশজুড়ে তাঁর সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে।
- সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মোট ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন এবং প্রতিবারই বিজয়ী হন।

উল্লেখ্য,
- সুলতান মাহমুদের সভাকবি ছিলেন মহাকবি ফেরদৌসী। ফেরদৌসীর রচিত অমর কাব্যগ্রন্থের নাম শাহনামা। ফেরদৌসীকে বলা হয় প্রাচ্যের হোমার। 

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলা, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৬,৯৮২.
কার নির্দেশনায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিলো?
  1. ক) রাও ফরমান আলী
  2. খ) টিক্কা খান
  3. গ) আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
  4. ঘ) গোলাম আযম
ব্যাখ্যা

বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সবচেয়ে দুঃখখজনক ও মর্মান্তিক যে  ঘটনা হয় সেটি হচ্ছে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড।
- ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পুরো নয় মাস বিশেষত ১০-১৬ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পাক-বাহিনী এ দেশীয় দোসরদের সহায়তায় বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করে অবশেষে হত্যা করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ও যশস্বী শিক্ষকসহ, গবেষক, প্রখ্যাত চিকিৎসক, লেখক-সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বুদ্ধিজীবীদেরকে সুপরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়।
- বুদ্ধিজীবী হত্যা স্পষ্টতই ছিল সামরিক জান্তার নীল নকশার বাস্তবায়ন, যে নীল নকশার লক্ষ্য ছিল বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করে বাঙ্গালি জাতিকে নেতৃত্বহীন ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়ায় পরিণত করা
- ১৪ ডিসেম্বর 'শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস' হিসাবে পালন করে ঐ সময়ে শহীদ হওয়া জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের কিছু তথ্য:
- সার্বিক নির্দেশনা -- পাক বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
- সার্বিক তত্ত্ববধায়নকারী -- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী
- বাস্তবায়নে ছিলো -- ব্রিগেডিয়ার বশির, লেঃ কর্নেল হেজাজী, মেজর আসলাম, মেজর জহুর, ক্যাপ্টেন নাসের, ক্যাপ্টেন কাইউম।
- দেশীয় দোসর -- আলবদরআলশামস বাহিনী
('আলবদর' এর ঘাতকরা ছিলো জামাত ইসলামীর তৎকালীন অঙ্গ ছাত্রসংগঠন 'ইসলামী ছাত্র সংঘ' এর সদস্যরা এবং আলশামস বাহিনীর ঘাতকরা ছিলো মুসলিম লীগ, জামায়েত ইসলামীউর্দুভাষী বিহারীদের সমন্বয়ে গঠিত বাহিনী।)
- ঢাকার মিরপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগ, মোহাম্মদপুর সহ আরো কিছু স্থানে এই হত্যাকন্ড সংঘটিত হয়।

উৎসঃ উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র) বই ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৯৮৩.
ইন্দ্রগুপ্ত নামক বৌদ্ধ শাস্ত্রবিদকে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নিযুক্ত করেছিলেন কে?
  1. বালপুত্রদেব
  2. দেবপাল
  3. মহীপাল
  4. মদনপাল
ব্যাখ্যা

দেবপাল ও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়:
- দেবপাল পালবংশের অন্যতম রাজা ছিলেন।
- তিনি আনুমানিক ৮২১ সালে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি শুধু পিতা ধর্মপালের সাম্রাজ্য রক্ষাই করেননি, বরং সীমানা বৃদ্ধিও করেন।
- মালয় উপদ্বীপের শৈলবংশীয় রাজা বালপুত্রদেব দেবপালের খ্যাতির কথা জানতে পেরে তাঁর নিকট দূত পাঠিয়েছিলেন।
- বালপুত্রদেব ইতোমধ্যেই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মঠ নির্মাণ করেছিলেন।
- তিনি এর স্থায়ী ব্যয় পরিচালনার জন্য পাঁচটি গ্রাম প্রার্থনা করেন। দেবপাল তাঁর অনুরোধ রক্ষা করেন।
- দেবপাল বৌদ্ধ ধর্মের একজন প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি মগধের বৌদ্ধ মঠগুলোর সংস্কার সাধন করেন।
- তিনি নালন্দায়ও কয়েকটি মঠ এবং বুদ্ধগয়ায় একটি বড় মন্দির নির্মাণ করেন।
- ইন্দ্রগুপ্ত নামক জনৈক বৌদ্ধ শাস্ত্রবিদকে তিনি নালন্দার অধ্যক্ষ নিযুক্ত করেন।
- দেবপালের পৃষ্ঠপোষকতায় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্ররূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে তাঁর শাসনামলে উত্তর ভারতে লুপ্তপ্রায় বৌদ্ধ ধর্ম পুনরায় সঞ্জীবিত হয়ে উঠে।
- বৌদ্ধ ধর্মানুরাগী হলেও দেবপাল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
- দেবপালই ছিলেন যথার্থভাবে পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা এবং তাঁর সময়েই পাল সাম্রাজ্য ক্ষমতা ও গৌরবের শীর্ষ-স্থানে উপনীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬,৯৮৪.
বর্তমানে বীরপ্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ৪১৮ জন
  2. ৪২০ জন
  3. ৪২২ জন
  4. ৪২৪ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৯৮৫.
কতটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় -
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৮৬.
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কয় দফা দাবি পেশ করেন?
  1. ৪ দফা
  2. ৬ দফা
  3. ৭ দফা
  4. ৮ দফা
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ভাষণটি ইতিহাসে ‘বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ’ নামে অভিহিত হয়েছে। 

তাঁর বক্তব্যে মূল বিষয় ছিল ৪টি।
যথা-
ক) চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার,
খ) সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া,
গ) গণহত্যার তদন্ত করা এবং
ঘ) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৮৭.
রাজা শশাঙ্ক কোন শতকে গৌড় রাজ্য শাসন করেছিলেন?
  1. ষষ্ঠ
  2. সপ্তম
  3. অষ্টম
  4. নবম
ব্যাখ্যা
রাজা শশাঙ্ক সপ্তম শতকে গৌড় রাজ্য শাসন করেছিলেন।

গৌড় নগরী:

- খ্রিস্টপূর্ব ৭৩০ অব্দে মালদহ অঞ্চলে ভোজ বংশীয় গৌড় নামক জনৈক ব্যক্তি যে রাজ্যের পত্তন করেছিলেন কালক্রমে তাই গৌড় রাজ্য নামে পরিচিত হয়।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।

⇒ শশাঙ্ক:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৮৮.
'BARD' এর পূর্ণরুপ কী?
  1. ক) Bangladesh Academy for Regional Development.
  2. খ) Bangladesh Administrative Regional Development.
  3. গ) Bangladesh Administration Regional Development.
  4. ঘ) Bangladesh Academy for Rural Development.
ব্যাখ্যা
- BARD এর পূর্ণরূপ Bangladesh Academy for Rural Development.
- BARD বা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খান। 
- এটির অবস্থান কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ীতে যা ১৯৫৯ সালের ২৭ মে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বার্ড বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।\
- এটির প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান।

উৎসঃ বার্ড ওয়েবসাইট
৬,৯৮৯.
পায়রা সমুদ্র বন্দর কোন সাল হতে এর কার্যক্রম শুরু করে?
  1. ক) ২০১৩
  2. খ) ২০১৫
  3. গ) ২০১৬
  4. ঘ) ২০১৮
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
২০১৬ সালের অগাস্টে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর হিসেবে পায়রায় পণ্য খালাস কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উৎসঃ বিবিসি বাংলা।
৬,৯৯০.
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ কোন স্থানে গঠিত হয়?
  1. রোজ গার্ডেন ঢাকা
  2. বলদা গার্ডেন ঢাকা
  3. বর্ধমান হাউস ঢাকা
  4. কলকাতা থিয়েটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়।
- মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হক ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
- ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্তি এ চারটি মূলনীতির উপর দলটি পরিচালিত হচ্ছে।
- স্বাধীনতার পর থেকে দেশ পুনর্গঠন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলটি অনবদ্য অবদান রেখেছে।
- ১৯৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনা দলটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৯১.
পলাশীর যুদ্ধের পর কারা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়?
  1. ডাচরা
  2. ফরাসিরা
  3. ইংরেজরা
  4. পর্তুগিজরা 
ব্যাখ্যা

পলাশী যুদ্ধ:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।
- এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে। নবাবের পক্ষে সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ হাজার।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে ছিল মাত্র ৩ হাজার।
- জেতার সব ধরণের সুযোগ সুবিধার পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে। ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়। এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৯২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র-
  1. ক) Stop genocide
  2. খ) Macbeth
  3. গ) A state dream
  4. ঘ) Sultana's Dream
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র Stop Genocide নির্মাণ করেন জহির রায়হান।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়। এটি মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহিত ফুটেজের একটি সম্পাদনা।
- এটিতে বাঙালিদের উপর পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)

৬,৯৯৩.
কোনটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা নয়?
  1. নিঝুম দ্বীপ
  2. মারজাত বাঁওড়
  3. সেন্টমার্টিন দ্বীপ
  4. সুন্দরবন
ব্যাখ্যা
প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা নয় - নিঝুম দ্বীপ।

• প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
→ পরিবেশ অথবা জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হলে ওই এলাকাকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ বলা হয়।
→ ইংরেজিতে বলা হয় - Ecologically Critical Areas (ECAs)
→ সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
→ এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
এলাকাগুলো যথাক্রমে- সুন্দরবন (১৯৯৯), কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত (১৯৯৯), সেন্টমার্টিন দ্বীপ (১৯৯৯), সোনাদিয়া দ্বীপ (১৯৯৯), হাকালুকি হাওর (১৯৯৯), টাঙ্গুয়ার হাওর (১৯৯৯), মারজাত বাঁওড় (১৯৯৯), গুলশান-বারিধারা লেক (২০০১), বুড়িগঙ্গা নদী (২০০৯), তুরাগ নদী (২০০৯), বালু নদী (২০০৯), শীতলক্ষ্যা নদী (২০০৯) ও জাফলং-ডাউকি নদী (২০১৫)।

তথ্যসূত্র: পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
৬,৯৯৪.
ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি কার শাসনামলে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. লর্ড রিপন 
  2. লর্ড মেয়ো 
  3. লর্ড কার্জন 
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা

লর্ড মেয়ো:
- লর্ড মেয়ো ১৮৬৯ থেকে ১৮৭২ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল।
- সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সংস্কার।
- তিনি লবণ কর ও আয়কর বৃদ্ধি করেছিলেন।
- তিনি প্রশাসনে ব্যয় সংকোচন ঘটান এবং প্রাদেশিক সরকারগুলিকে পাঁচ বছরের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থবরাদ্দ করার ব্যবস্থা করে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেন। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যথেষ্ট উন্নত হয়।
- তাঁর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি শুরু হয়
- তিনি দেশে পরিসংখ্যান জরিপের ব্যবস্থা করেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য বিভাগ সৃষ্টি করেন।
- দেশীয় রাজন্যবর্গ ও প্রধানদের সন্তান-সন্ততির লেখাপড়ার জন্য তিনি আজমীরে মেয়ো কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আন্দামান সফরে গিয়ে তিনি জনৈক পাঠান কয়েদির ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৯৯৫.
ব্রিটিশবিরোধী চাকমা বিদ্রোহের নেতা কে?
  1. রোহান বক্স
  2. জোয়ান বক্স
  3. রাস্মিন চাকমা
  4. মঙ্গল পান্ডে
ব্যাখ্যা

• চাকমা বিদ্রোহ (১৭৭৬-১৭৮৯):
- চাকমা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয় চাকমা রাজা জোয়ান বক্স খান ।
- কারণ চাকমা রাজা জুয়ান বক্স মুদ্রার রাজস্ব দিতে বাধ্য করা হয় ।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে মুদ্রা অর্থনীতি প্রচলনের ব্যবস্থা করায় চাকমা বিদ্রোহ সংঘঠিত হয়।
- সরকারি নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, জুয়ান বক্স ও রানু খান সম্পূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৬,৯৯৬.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা কে বাতিল করেন?
  1. গোলাম মোহাম্মদ
  2. মোহাম্মদ আলী
  3. নুরুল আমিন
  4. এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল:
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও ছুটি পালন, শহীদ মিনার নির্মাণ, বর্ধমান হাউসকে বাংলা একাডেমিতে রূপান্তর করা হবে।
- সে সময় 'নিউ ইয়র্ক টাইমস্' পত্রিকার সংবাদদাতা কালাহানকে দেওয়া ফজলুল হকের তথাকথিত সাক্ষাৎকার কেন্দ্রীয় সরকারকে বিচলিত করে তোলে।
- পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ফজলুল হক পূর্ববাংলার স্বাধীনতা ঘোষণার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
- মুখ্যমন্ত্রী ফজলুল হক নানা চেষ্টা করেও কেন্দ্রীয় সরকারকে বোঝাতে ব্যর্থ হন।
- কেন্দ্রীয় সরকার '৫৪ সালের ৩০মে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২(ক) ধারা বলে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বরখাস্ত এবং পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন ঘোষণা করেন।
- এভাবে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে।

কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারী করেন।
- পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি ছিল ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।
- মুসলিম লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রে মাত্র চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে।
- যুক্তফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি।
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৯৭.
কোন বীরশ্রেষ্ঠের দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়?
  1. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ
  2. ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
  3. সিপাহী মোস্তফা কামাল
  4. সিপাহী হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা

- মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত আছেন ২ জন বীরশ্রেষ্ঠ।
- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান।
- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান।

• বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান:
- তার জন্ম ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩, খদ্দখালিশপুর, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ।
- ১৯৭১ সালে আনসারে স্বল্প সময় কাজ করে ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ সেনাবাহিনীর ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- অক্টোবর ১৯৭১, মৌলভীবাজার জেলার ধলই সীমান্ত চৌকি আক্রমণে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- সামনে থেকে যুদ্ধ করতে গিয়ে তিনি শহীদ হন।
- প্রথমে তাকে সমাহিত করা হয় আমবাসা গ্রাম, কমলপুর, ত্রিপুরা, ভারত।
- পরে তার দেহাবশেষ দেশে এনে ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

অন্যদিকে, 
- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান শহীদ হন ২০ আগস্ট ১৯৭১।
- তাকে প্রথমে সমাহিত করা হয় মাসরুর বিমান ঘাঁটি, করাচি, পাকিস্তান।
- পরবর্তীতে ২৪ জুন ২০০৬, ৩৫ বছর পর তার দেহাবশেষ দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৯৯৮.
কোন মুঘল সম্রাটের সমাধি ভূমি মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে?
  1. দ্বিতীয় আকবর
  2. বাহাদুর শাহ জাফর
  3. দ্বিতীয় আলমগীর
  4. আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর:
- বৃটিশ ফৌজি কমিশনের দ্বারা ১৮৫৮ সালে সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের বিচারের নামে এক প্রহসন অনুষ্ঠিত হয়।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, হত্যা ইত্যাদির অভিযোগে অভিযুক্ত করে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
- আর এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয় ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের ইতিহাস।
- ১৮৫৮ সালের অক্টোবরে সপরিবারে নেওয়া হয় রেঙ্গুনের পথে।
- পরিত্যক্ত বাড়ির কক্ষে শুরু হয় ভারতের শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের নির্বাসন। 
- শেষ জীবনে বাহাদুর শাহ নিজের সকল ব্যথা ভুলে থাকতে অধিকাংশ সময় স্রষ্টার ধ্যানে কাটাতেন।
- ১৮৬২ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
- অবশেষে ১৮৬২ সালের ৭ নভেম্বর তিনি নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।
- ইয়াঙ্গুনে ( তৎকালীন রেঙ্গুন) সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর সমাধি।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
৬,৯৯৯.
বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন -
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  3. লর্ড মিন্টো
  4. লর্ড কর্নওয়ালিশ
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদে হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়, অপর দিকে মুসলমান সম্প্রদায় মর্মাহত এবং হতাশ হয়।
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০০০.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির উদ্যোক্তা ছিলেন কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. বদরুদ্দিন উমর
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সমিতির উদ্যোগে মোট সাতটি সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৩ সালের ৮-৯ মে সমিতির সপ্তম ও শেষ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা ও সাহিত্যিক নামে এর দুটি মুখপত্র ছিল।
- লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে কলকাতায় পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি এবং ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ গঠিত হলে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির গুরুত্ব হ্রাস পায়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)