বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৬৯ / ১২৪ · ৬,৮০১৬,৯০০ / ১২,৪২১

৬,৮০১.
মুক্তিযুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনীর অবস্থান কোথায় ছিল?
  1. ময়মনসিংহ
  2. টাঙ্গাইল
  3. সিরাজগঞ্জ
  4. মাগুরা
ব্যাখ্যা

আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

৬,৮০২.
মেজর মীর শওকত আলী মুক্তিযুদ্ধে কত নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ১১ নং সেক্টর
  2. ৯ নং সেক্টর
  3. ৭ নং সেক্টর
  4. ৫ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় ।
- মেজর মীর শওকত আলী  ছিলেন ৫ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার।
- এই সেক্টরকে ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।

এছাড়াও,
- মুক্তিযুদ্ধে ৭ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার  ছিলেন -  নাজমুল হক, সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর (পরে লে. কর্নেল) কাজী নুরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধে ৯ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার  ছিলেন ছিলেন মেজর এম এ জলিল এবং মেজর জয়নাল আবেদীন।।
- মুক্তিযুদ্ধে  ১১ নং সেক্টর  এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান । নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু     তাহের ও তারপর ফ্লাইট লেফট্যান্যান্ট (পরে উইং কমান্ডার) এম হামিদুল্লাহ খান।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিবিসি বাংলা নিউজ রিপোর্ট।
৬,৮০৩.
কোন শতকে বাংলার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শশাঙ্ক কর্তৃক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. পঞ্চম
  2. ষষ্ঠ
  3. সপ্তম
  4. অষ্টম
ব্যাখ্যা
প্রাচীন বাংলার ইতিহাস: 
- খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে বাংলার উত্তরাংশ দখল করেন ভারতের মৌর্য সম্রাট অশোক।
- সে সময় পুণ্ড্রনগর (পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তি) হয় মৌর্যদের প্রদেশ। 
- চার শতকে উত্তর বাংলা ও দক্ষিণ-পূর্ববাংলার কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।
- গুপ্তদের পতনের পর সপ্তম শতকে বাংলার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রথম বাঙালি শাসক শশাঙ্ক কর্তৃক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

- একই সময়ে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ববাংলায় বঙ্গ নামে আরেকটি স্বাধীন রাজ্য গড়ে উঠেছিল।
- তাঁর মৃত্যুর পর একশো বছর ধরে বাংলায় অরাজকতা চলতে থাকে।
- যাকে সংস্কৃত ভাষায় বলা হয় মাৎস্যন্যায় যুগ।
- এরপর বাঙালিদের দীর্ঘস্থায়ী রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় আট শতকের মাঝ পর্বে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৬,৮০৪.
বক্সারের যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর নেতৃত্ব দেন কে? 
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. রবার্ট ক্লাইভ 
  3. মেজর হেক্টর মুনরো 
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ।
- পলাশীর যুদ্ধের পর ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী বক্সারের যুদ্ধ পরিচালনা করে। 
- এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

৬,৮০৫.
কার শাসনামলে বাংলার রাজ্যসীমা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়?
  1. ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  2. খ) শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  3. গ) শের-শাহ
  4. ঘ) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময় বাংলার রাজ্যসীমা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়।
- হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে ১৪৯৩ সালে বাংলার সিংহাসনে বসেন - সৈয়দ হোসেন। 
- সুলতান হয়ে তিনি ''আলাউদ্দিন হুসেন শাহ'' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।
- হোসেন শাহের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় মালাধরবসু ‘ভগবদ গীতা’, কৃত্তিবাস ‘রামায়ন' সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন।
- রামায়ন অনুবাদের জন্য হোসেন শাহ তাঁকে *গুনরাজ খাঁ' উপাধি দেন। 

- মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসে হোসেন শাহের রাজত্বকাল একটি অত্যুজ্জ্বল অধ্যায়। তার রাজত্বকালে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।
- তিনি কামরূপ ও কামতা জয় করেন। ঊড়িষ্যা ও ত্রিপুরা  রাজ্যের কিছু অংশ তার শাসনভুক্ত হয়। তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতারিত করেন।
- বাংলার রাজনীতি হাবসি দাসদের প্রভাবমুক্ত করেন। প্রশাসন ব্যবস্থা সুদৃঢ় করেন।
- ক্ষমতা গ্রহনের অল্প সময়ের মধ্যে রাজ্যের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।
- দিল্লীর লোদী আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য রাজ্যের সবরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।
- হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি তৈরিতে তার প্রচেষ্টা তৎকালীন সমাজ জীবনকে প্রভাভিত করেছিল।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যানুরাগী। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি ও বিকাশ লাভ করে। তার সময়ের বিখ্যাত কবিরা ছিলেন - রূপ গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, পরাগল খান প্রমুখ।

তথ্যসূত্র:
১. মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ও বাংলাপিডিয়া।
২. বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬,৮০৬.
বখতিয়ার খলজী বাংলার কোন রাজাকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন?
  1. বল্লাল সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. কেশব সেন
  4. লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা

বখতিয়ার খিলজির নদীয়া অভিযান:
- ১২০৪ সালে লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে তুর্কী বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা করেন।

- বিহারকে মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি পূর্ব দিকে সেনারাজ্য আক্রমণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
- বাংলার সেনবংশীয় বয়োঃবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন।
- সেনদের আদি রাজধানী ছিল ঢাকার বিক্রমপুরে।
- নদীয়া ছিল তাদের দ্বিতীয় রাজধানী।
- বখতিয়ার খিলজি ১২০৪ খ্রি. নদীয়া জয় করেন।
- নদীয়া আক্রমণের সময় বখতিয়ার বাংলার সাধারণ প্রবেশ পথ তেলিয়াগর্হির গিরিপথ দিয়ে না ঢুকে উড়িষ্যার ঝড়খন্ডের জঙ্গলের দূর্গম পথে বাংলায় প্রবেশ করেন।
- তিনি ঘোড়া ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে মাত্র ১৭ বা ১৮ জন অগ্রগামী অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে দ্রুতগতিতে নদীয়ার দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হন।
- মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি রাজপ্রাসাদের রক্ষীদের হত্যা করে প্রাসাদে ঢুকে অতর্কিতে আক্রমণ শুরু করেন।
- ইতিমধ্যে তাঁর মূল বাহিনী এসে পড়ে।
- এ সময় রাজা লক্ষণ সেন মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত ছিলেন।
- তিনি এ আকস্মিক আক্রমণে ভীত হয়ে কোন প্রতিরোধ ছাড়াই পেছনের দরজা দিয়ে নৌকা যোগে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে পালিয়ে যান।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮০৭.
নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিল না কোন সেক্টরে?
  1. ১১নং সেক্টর
  2. ১০নং সেক্টর
  3. ১নং সেক্টর
  4. ৯নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১০ নং সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- মূলত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।
- নদীমাতৃক বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রপথে পাকিস্তানের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া ছিল নৌ-কমান্ডো আক্রমণের উদ্দেশ্য।
- ১০নং সেক্টরের কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।
- অপারেশনের সময় কমান্ডোদের কাজের নিয়ন্ত্রণ থাকত যে এলাকায় অপারেশন পরিচালিত হবে সে এলাকার সেক্টর কমান্ডারের ওপর।
- এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৮০৮.
ভাষা আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন -
  1. ক) আবদুল জব্বার
  2. খ) শফিউর রহমান
  3. গ) রফিক উদ্দিন
  4. ঘ) আবুল বরকত
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে শহীদ হন আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার।
- আবদুস সালাম ঐদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ই এপ্রিল শহীদ হন।
- ২২ ফেব্রুয়ারি পূর্বাহ্ণে ঢাকার নওয়াবপুর রোডে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আবারও বিক্ষোভ মিছিলের ওপর পুলিশ ও মিলিটারি লাঠি, গুলি ও বেয়োনেট ব্যবহার করে।
- এতে শফিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন শহীদ হন এবং অনেকে গ্রেফতার হন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া]
৬,৮০৯.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী সচিবালয় কোথায় ছিল?
  1. ক) ৮ নং থিয়েটার রোড, কলকাতা
  2. খ) মুজিবনগর
  3. গ) করিমগঞ্জ
  4. ঘ) বেনাপোল
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী সচিবালয় ছিল ৮নং থিয়েটার রােড, কলকাতা।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে শুরু হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম যাত্রা। পরবর্তী সময়ে বৈদ্যনাথতলা হয়ে যায় মুজিবনগর। আর তৎকালীন সরকারের অস্থায়ী কার্যালয় ছিল কলকাতার ঐতিহাসিক থিয়েটার রােডের ৮ নম্বর বাড়িটি

- এখন এই সড়কের নামকরণ হয়েছে - শেক্সপিয়ার সরণি। এই বাড়িতে বসেই পরিচালিত হয়েছিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের কার্যক্রম।
- এবার এই থিয়েটার রােডের বাড়ি মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর হিসেবে তৈরির জন্য বাংলাদেশ সরকার, ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে আলােচনা শুরু করেছে।

- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অবশ্য ১৯৭২ সালে এই বাড়ি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তুলে দিয়েছিল শ্রী অরবিন্দ আশ্রমকে।
- এরপর ১৯৭৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এই ভবনের যাত্রা শুরু হয় শ্রী অরবিন্দ ভবন হিসেবে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অষ্টম শ্রেণি।

৬,৮১০.
নিচের কোন বাহিনীর জন্ম ভারতে ?
  1. ক) আফসার বাহিনী
  2. খ) কেবি বাহিনী
  3. গ) নিয়মিত বাহিনী
  4. ঘ) বি এল এফ
ব্যাখ্যা

 বি এল এফ বা মুজিব বাহিনীর জন্ম ভারতে ।

-স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভুমিতে ছাত্র আন্দোলনের অবস্থান ছিল অত্যন্ত দৃঢ়।

 ৬০ দশকের মাঝামাঝি এই ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের পরিকল্পনায় সংগঠিত হয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শের ছাত্রদের সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্ত্ততি সমন্বিত করে।-নেতৃস্থানীয় প্রায় ১০,০০০ (দশ হাজার) ছাত্রকে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

-এই বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল সুজন সিং উবান, যিনি ভারতীয় স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের কমান্ডার (ইন্সপেক্টর জেনারেল) ছিলেন। 

-ভারতের ভূখণ্ডে একটি গোপন স্থানে এই বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো যার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ব্রিগেডিয়ার টি. এস ওবেরয়। কর্নেল বি ডি কুশাল এই বাহিনীর প্রশাসনিক বিষয়াদি দেখাশোনা করতেন।

উৎস:বাংলাপিডিয়া

৬,৮১১.
বাংলাদেশে মর্যাদা অনুসারে ৩য় বীরত্বসূচক খেতাব-
  1. বীর প্রতীক
  2. বীরশ্রেষ্ঠ
  3. বীর উত্তম
  4. বীর বিক্রম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ জনের খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৮১২.
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদের অর্ন্তভুক্ত অঞ্চল কোনটি?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) সিলেট
  3. গ) চট্রগ্রাম
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
পুন্ড্র জনপদ
• প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র। পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
• পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
• সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
• পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল। রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
• ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুন্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুন্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
• পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।

অন্যদিকে,              
• বঙ্গ জনপদ বিস্তৃত ছিল - ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল অঞ্চল নিয়ে।
• বরেন্দ্র - বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী ও পাবনা।
• হরিকেল -  সিলেট, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৮১৩.
অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয় কবে?
  1. ক) ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৮
  2. খ) ১৮ জুলাই, ১৯৭৯
  3. গ) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৯
  4. ঘ) ১০ জানুয়ারি, ১৯৮০
ব্যাখ্যা
‘অপরাজেয় বাংলা’ কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য।
এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সম্মুখ প্রাঙ্গনে অবস্থিত। এটির স্থপতি সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ। ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর এটি উদ্বোধন করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬,৮১৪.
প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. অধ্যাপক নুরুল হক ভূইয়া
  2. আবদুল মতিন
  3. কাজী গোলাম মাহবুব
  4. অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা (দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’) হলে এর আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩০শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া এবং ভাষা আন্দোলনে ঢাকা : আহমদ রফিক)

৬,৮১৫.
আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় কবে?
  1. ২১ মার্চ, ১৯৬৬
  2. ২২ মার্চ, ১৯৬৬
  3. ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
  4. ২৪ মার্চ, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
মুক্তির সনদ:
- বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে খ্যাত 'ছয় দফা' উত্থাপন করা হয় লাহোরে।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দলের এক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ওই কনভেনশনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮১৬.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহে সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল- 
  1. ভবানী পাঠক 
  2. জুম্মা খান
  3. তিতুমীর
  4. বরকত উল্ল্যা 
ব্যাখ্যা

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি - সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে।
- তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে।
- ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
- আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
-১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, - ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য,
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন।
- তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮১৭.
মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় নির্মিত প্রথম ভাস্কর্য কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. গাজীপুর
  3. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  4. সাভার
ব্যাখ্যা
জাগ্রত চৌরঙ্গী:

- মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় নির্মিত প্রথম ভাস্কর্য জাগ্রত চৌরঙ্গী।
- জাগ্রত চৌরঙ্গী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার অবস্থিত।
- জাগ্রত চৌরঙ্গীর স্থপতি খ্যাতিমান ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ১৯ মার্চের সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধে নিহত ও আহত বীরদের অসামান্য আত্মত্যাগের স্মরণে ১৯৭৩ সালে নির্মিত হয়েছিল জাগ্রত চৌরঙ্গী।
- তৎকালীন গাজীপুরে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল আমীন আহম্মেদ চৌধুরী বীরবিক্রম ভাস্কর্যটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
- ২৪ ফুট ৫ ইঞ্চি বেদিসহ জাগ্রত চৌরঙ্গীর উচ্চতা ৪২ ফুট ২ ইঞ্চি। কংক্রিট, গ্রে ও হোয়াইট সিমেন্টের ঢালাইয়ে নির্মিত ভাস্কর্যটিতে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩ নম্বর সেক্টরের ১০০ জন এবং ১১ নম্বর সেক্টরের ১০৭ জন শহীদ সেনা ও মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে।
- ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক সহযোগী হামিদুজ্জামান খানকে নিয়ে ১৯৭২ সালে ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। কাজ শেষ হয় ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ২ ডিসেম্বর ২০২০।
৬,৮১৮.
পাকিস্তানে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন কে?
  1. ক) ইস্কান্দার মির্জা
  2. খ) টিক্কা খান
  3. গ) ফিরোজ খান
  4. ঘ) আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।

• সামরিক শাসন:

- তিনি দেশের সংবিধান বাতিল করেন, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদ ভেঙে দেন এবং মন্ত্রিসভা বাতিল করেন।
- রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
- প্ৰধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- এর কিছুদিনের মধ্যে ২৭শে অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৮১৯.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কতজন মুক্তিযোদ্ধা বীর উত্তম খেতাব পেয়েছিলেন?
  1. ৬৩ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৬৫ জন
  4. ৬৯ জন
ব্যাখ্যা

• বীরত্বসূচক খেতাব;
- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।

- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।

• স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়:

- সর্বোচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীরশ্রেষ্ঠ।
- উচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীর উত্তম।
- প্রশংসনীয় পদমর্যাদার খেতাব →  বীর বিক্রম।
- বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্রের খেতাব →  বীর প্রতীক।

• ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়

• বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন;
• বীর উত্তম- ৬৮ জন;
• বীর বিক্রম- ১৭৫ জন;
• বীর প্রতীক- ৪২৬ জন;

উল্লেখ্য,
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
- বীর উত্তম ৬৭ জন,
- বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
- বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস:
ⅰ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
iii)বাংলাপিডিয়া।

৬,৮২০.
'জমিদারী প্রথা' কত সালে বিলুপ্ত হয়?
  1. ১৯৪৯ সালে
  2. ১৯৪২ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
ব্যাখ্যা

জমিদারি প্রথা:
- জমিদারি প্রথার বিলোপ  বিশ শতকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ।
- কৃষক রাজনীতি ছিল সম্পূর্ণরূপে জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।
- অধিকাংশ জমিদার হিন্দু ছিলেন বলে পল্লী অঞ্চলের জনসংখ্যার সিংহভাগ মুসলমান কৃষকসমাজ ছিল প্রবলভাবে জমিদারদের বিরোধী।
- ১৯৩৭ সালে সকল রাজনৈতিক দল অঙ্গীকার করে যে, তারা নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে জমিদারি প্রথা বিলোপ করা হবে।
- মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টি এর কোয়ালিশন সরকার জমিদারি প্রথা সম্পর্কে রিপোর্ট দানের জন্য একটি কমিশন গঠন করে।
- ফ্লাউড কমিশন নামে পরিচিত সে কমিশন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাতিলের সুপারিশ করে।
- ১৯৫০ সালে ইস্ট বেঙ্গল স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যাক্ট-এর অধীনে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৮২১.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন প্রিয় অনুষ্ঠান কোনটি?
  1. চরম পাঠ
  2. চরমপত্র
  3. সংবাদ
  4. বজ্রকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতারের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান:

- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো।
- এই ব্যঙ্গাত্মক সিরিজে তাকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রে চিত্রিত করা হয় এবং এই ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন এম.আর আখতার মুকুল।
- তিনি নিজেই এর উপস্থাপক ছিলেন।
- এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি জনগণের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়।
- এতে একইসঙ্গে ছিল তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও জাতীয়তা বোধের প্রকাশ যা জনগণের নৈতিক মনোবল দৃঢ়ীকরণে ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,৮২২.
মুজিবনগর সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. এম মনসুর আলী
  4. আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য:
- মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ।
- মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন গণপরিষদের আওয়ামীলীগের হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত ও উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন- তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশপ্রধান মাহবুব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে আনসার, পুলিশ ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত ১২ সদস্যের একটি যৌথ দল।
- শপথগ্রহণের সময় শতাধিক ভারতীয় ও বিদেশি সাংবাদিক এবং প্রচার মাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৬,৮২৩.
বাংলাদেশে বর্তমানে কয়টি পৌরসভা রয়েছে (সেপ্টেম্বর, ২০২৩ পর্যন্ত)?
  1. ৩৩০টি
  2. ৩২৯টি
  3. ৩২৭টি
  4. ৩২৮টি
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার বিভাগ:
- বাংলাদেশে বর্তমানে পৌরসভা রয়েছে ৩৩০টি।
- সিটি কর্পোরেশন রয়েছে ১২ টি।
- জেলা রয়েছে ৬৪টি।

[দ্রষ্টব্য: চাঁদপুরের নারায়ণপুর পৌরসভার নাম স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকাশিত পৌরসভার তালিকাতে নেই। ফলে স্থানীয় সরকার বিভাগের তালিকায় ৩২৯টি পৌরসভার নাম আছে। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল নারায়ণপুর পৌরসভার গেজেট প্রকাশ করে। এই পৌরসভাটির গঠনকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা হয়েছিল এবং ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারি সেই মামলাটি খারিজ হয়।তবে পৌরসভাটির বর্তমানে কার্যক্রম চলছে না।]

উৎস:
১. স্থানীয় সরকার বিভাগ [Link]
২. নারায়ণপুর পৌরসভা সংক্রান্ত [Link]
৬,৮২৪.
‘দােয়েল চত্ত্বর’ স্থাপত্যের স্থপতি কে?
  1. ক) নিতুন কুণ্ডু
  2. খ) আজিজুল জলিল পাশা
  3. গ) শামীম শিকদার
  4. ঘ) হামিদুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
স্থপতি আজিজুল জলিল পাশা দোয়েল পাখিকে নগরবাসীর স্মরণে রাখতে ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে তৈরি করেন 'দোয়েল চত্বর'। আর এটি তৈরি করতে আর্থিক সহায়তা দেয় তৎকালীন রাষ্ট্রায়ত্ত উত্তরা ব্যাংক- যা বর্তমানে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড নামে পরিচিত।
উৎসঃ দৈনিক যুগান্তর
৬,৮২৫.
ভাষা আন্দোলনে শহীদ হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-
  1. ক) রফিক
  2. খ) জব্বার
  3. গ) সালাম
  4. ঘ) বরকত
ব্যাখ্যা

- শহীদ আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৪৮ সালে ভর্তি হোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে।
- ১৯৫২ সালে এম.এ. ২য় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬,৮২৬.
নিউইয়র্কে ‘Concert for Bangladesh’ অনুষ্ঠিত হয় -
  1. ক) ১ আগস্ট ১৯৭১
  2. খ) ৪ আগস্ট ১৯৭১
  3. গ) ৭ আগস্ট ১৯৭১
  4. ঘ) ১০ আগস্ট ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• Concert for Bangladesh:
- বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বিশ্ববাসীর সমর্থন অর্জন ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যার কারণে বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী প্রায় ১ কোটি শরণার্থীদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত সেতার শিল্পী পন্ডিত রবিশঙ্কর এবং তার বন্ধু জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে প্রায় ৪০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ‘দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

-ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্করের অনুরোধে তখন সেই কনসার্টের উদ্যোগ নিয়েছিলেন দ্য বিটলস ব্যান্ডখ্যাত ব্রিটিশ সঙ্গীত তারকা জর্জ হ্যারিসন।

- স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি ও মুজিব বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে নিউইয়র্ক সেই ঐতিহাসিক মেডিসন স্কয়ারেই অনুষ্ঠিত হল ‘গোল্ডেন জুবিলি বাংলাদেশ’ কনসার্ট। 

উৎস: দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা নিউজ।
৬,৮২৭.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৯২ সালের ১৭ মার্চ
  2. খ) ১৯৯০ সালের ২৫ মার্চ
  3. গ) ১৯৯৬ সালের ২২মার্চ
  4. ঘ) ১৯৯৫ সালের ৭ মার্চ
ব্যাখ্যা

১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ঢাকার সেগুনবাগিচায় একটি পুরানো দ্বিতল বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দেশের প্রথম জাদুঘর 'মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর' প্রতিষ্ঠিত হয়।
২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মিত নিজস্ব ভবনে 'মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর' স্থানান্তর করা হয়।
উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবসাইট।

৬,৮২৮.
বাংলাদেশের কোন জেলা দুই দেশের সীমানা দ্বারা বেষ্টিত?
  1. বান্দরবান
  2. কক্সবাজার
  3. রাঙামাটি
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
- একটি ভারত এবং অপরটি মিয়ানমার।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।
৬,৮২৯.
সরকারী ভাষা হিসেবে এদেশে ইংরেজির ব্যবহার শুরু হয় কোন সন থেকে?
  1. ক) ১৭৬৫
  2. খ) ১৮২৪
  3. গ) ১৮৩৫
  4. ঘ) ১৮৫৭
ব্যাখ্যা

১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে লর্ড মেকলের বিখ্যাত Minute-এ প্রথম ভারতে পাশ্চাত্য বিষয়সমূহ শিক্ষাদানের সুপারিশসহ ইংরেজি ব্যবহারের প্রতি সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরে লর্ড বেন্টিঙ্কের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারতীয়দের ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদানের বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করা হয়।
অবশ্য, এর আগেই ভারতীয় ও ব্রিটিশদের মধ্যে প্রথম যোগাযোগের সময় থেকে বাংলায় ইংরেজি শিক্ষা শুরু হয় ইংরেজ প্রতিনিধি ও দেশিয় সহযোগী বানিয়াদের মধ্যে বাণিজ্যিক ভাষা হিসেবে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৩০.
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক সিপাহী হামিদুর রহমান কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৩নং সেক্টর
  4. ৪নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৬,৮৩১.
তমদ্দুন মজলিশ কত সালে গড়ে উঠে?
  1. ক) ১৯৪৫ সালে
  2. খ) ১৯৪৬ সালে
  3. গ) ১৯৪৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:

- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- ২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিশ' নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৮৩২.
কোন খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর সুলতানি শাসনের অবসান হয়?
  1. ক) ১৫২৭
  2. খ) ১৫২৩
  3. গ) ১৫২৬
  4. ঘ) ১৫২৪
ব্যাখ্যা
ইব্রাহিম লোদীর উদ্ধত আচরণ ও কঠোর দমন নীতির ফলে অসন্তুষ্ট আফগান অভিজাত শ্রেণি, পাঞ্জাবের শাসনকর্তা দৌলত খান লোদী এবং ইব্রাহীম লোদীর পিতৃব্য আলম খান এবং রাজপুতনার মেবারের রানা সংগ্রাম সিংহ কাবুলের অধিপতি জহিরুদ্দীন মুহম্মদ বাবরকে ভারত আক্রমণের আহ্বান জানান। উচ্চাভিলাষী এবং সাম্রাজ্যবাদী বাবর এই আহবানে সাড়া দিয়ে ভারত আক্রমণ করেন। ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদী বংশের সর্বশেষ শাসক ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে দিল্লি সালতানাতের পতন ঘোষণা করেন এবং ভারতর্ষে মুঘল শাসনের গোড়াপত্তন করেন।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)
৬,৮৩৩.
ইস্কান্দার মির্জা কবে পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন?
  1. ২৩ মার্চ, ১৯৫৬
  2. ২৭ মার্চ, ১৯৫৬
  3. ৭ অক্টোবর, ১৯৫৮
  4. ২৭ অক্টোবর, ১৯৫৮
ব্যাখ্যা

সামরিক শাসন জারি:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসন ব্যবস্থায় স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়। সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়। মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরোক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চাভিলাষী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮৩৪.
মুজিব নগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. এম. মনসুর আলী
  3. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  4. তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৩৫.
Where was the first trade centre of the British East India Company established in India?
  1. Bombay
  2. Calcutta
  3. Surat
  4. Meerut
  5. Delhi
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।
- এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।
 
উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৩৬.
"যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই” - গানটির গীতিকার কে?
  1. মলয় কুমার
  2. কামরুজ্জামান বাবু
  3. হাসান মতিউর রহমান
  4. নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
• "যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই
যদি রাজপথে আবার মিছিল হতো বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই!” - গানটির গীতিকার হাসান মতিউর রহমান।

- হাসান মতিউর রহমান হলেন বাংলাদেশী লোকসংগীত শিল্পী, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক।
- হাসান মতিউর রহমান দেশে বিদেশে ৩৫০টির বেশি পুরস্কার পেয়েছেন।
- এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই’ এই গানটির জন্য প্রাপ্ত পুরস্কার।
- গানটি গেয়েছেন শিল্পী মলয় কুমার ও সাবিনা ইয়াসমিন।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো ও জাগো নিউজ।
৬,৮৩৭.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় কত সালে?
  1. ১৭৯০ সালে
  2. ১৭৯১ সালে
  3. ১৭৯৩ সালে
  4. ১৭৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলা হয়।
- ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকে পরিণত করে এবং জমিদাররা জমির মালিকানা স্বত্ব লাভ করে।
- রাজস্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়ার ফলে নিয়মিত রাজস্ব প্রদানের বিনিময়ে জমিদার জমিদারী ভোগের চিরস্থায়ী অধিকার লাভ করে।
- এ প্রথা চালু হওয়ার ফলে জমিদারদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়। সরকার স্বয়ং শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- নজরানা ও বিক্রয় ফি সমূহ বাতিল করা হয়।
- খাজনা বাকি পড়লে জমিদারদের ভূমির কিছু অংশ বিক্রি করে রাজস্ব আদায় করার ব্যবস্থা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৩৮.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে এবং কোন শহরে জোট নিরপক্ষে আন্দোলনের শীর্ষ সম্মেলন যোগদান করেন?
  1. ক) ১৯৭৩, আলজিয়ার্স
  2. খ) ১৯৭৪, নয়াদিল্লী
  3. গ) ১৯৭৫, বেলগ্রেড
  4. ঘ) ১৯৭২, কায়রো
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালের ৫-৯ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) চতুর্থ সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও সদস্যপদ লাভ করে।
- ন্যামের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালের ১-৬ সেপ্টেম্বর বর্তমান সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড শহরে।

(সূত্র: ন্যাম ওয়েবসাইট)
৬,৮৩৯.
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি পরিচালনা করেন কে?
  1. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  2. লর্ড মেয়ো
  3. লর্ড ক্যানিং
  4. লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা

লর্ড মেয়ো:
- লর্ড মেয়ো ১৮৬৯ থেকে ১৮৭২ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল।
- সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সংস্কার।
- তিনি লবণ কর ও আয়কর বৃদ্ধি করেছিলেন।
- তিনি প্রশাসনে ব্যয় সংকোচন ঘটান এবং প্রাদেশিক সরকারগুলিকে পাঁচ বছরের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থবরাদ্দ করার ব্যবস্থা করে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেন। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যথেষ্ট উন্নত হয়।
- তাঁর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি (১৮৭০) শুরু হয়।
- তিনি দেশে পরিসংখ্যান জরিপের ব্যবস্থা করেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য বিভাগ সৃষ্টি করেন।
- দেশীয় রাজন্যবর্গ ও প্রধানদের সন্তান-সন্ততির লেখাপড়ার জন্য তিনি আজমীরে মেয়ো কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আন্দামান সফরে গিয়ে তিনি জনৈক পাঠান কয়েদির ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৪০.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কবে জারি করা হয়?
  1. ২ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. ৮ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ১২ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বলতে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে বোঝানো হয়।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষনা সংযুক্ত করা হয়।
- ৭ম তফসিলে ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৪১.
ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ কত সালে সোনারগাঁয়ের শাসন ক্ষমতা দখল করেন?
  1. ১৩৪৯
  2. ১৩৪২
  3. ১৩৩৫
  4. ১৩৩৮
ব্যাখ্যা

• ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ :
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ (১৩৩৮-১৩৪৯) বাংলার সুলতান।
- বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে। 
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি এবং খুব সম্ভবত তুর্কিদের কারাউনা গোত্রীয়।
- তিনি ছিলেন দিল্লির তুগলক সুলতানের অধীনে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা (ওয়ালি) বাহরাম খানের সিলাহদার (অস্ত্রাগারের তত্ত্বাবধায়ক)।
-  ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন এবং স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- স্বীয় মুদ্রায় ফখরুদ্দীন আল-সুলতানুল আযম ফখরুদ্দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন আবুল মুজাফফর মুবারক শাহ আল-সুলতান উপাধি গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৪২.
১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের সময়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন-
  1. কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী
  2. মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. কর্নেল এম. এ. রব
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার
ব্যাখ্যা
♣♣ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়: 
- বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
- বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশ, যে দেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। 
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত আমাদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। 

- বিশেষভাবে ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। 
- পাকিস্তান ৩রা ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।  
- ৬ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়।

♠♠
- যৌথ বাহিনীর সুপরিকল্পিত আক্রমণে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের পূর্বেই হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর নৈতিক পরাজয় ঘটে। 
- অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান);
- পাকিস্তানের ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি প্রায় ৯৩ হাজার সৈন্যসহ বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেন। 
- বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।    

উৎস:
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬,৮৪৩.
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন কে?
  1. ক) জেনারেল টিক্কা খান
  2. খ) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. গ) জেনারেল নিয়াজী
  4. ঘ) জুলফিকার আলী ভুট্টো
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন
- আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের আসন্ন ৩ মার্চের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। 
- সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কোনরূপ আলোচনা না করে অধিবেশন স্থগিত করায় পূর্ব বাংলার জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ ঢাকায় ও ৩ মার্চ সারা পূর্ব পাকিস্তানে হরতালের ডাক দেন।
- বস্তুত ১ মার্চ হতেই পূর্ব বাংলায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়ে যায়।
- জনগণের মারমুখি মনোভাব ও অসহযোগ আন্দোলনে ভীত হয়ে জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৬ মার্চ ঘোষণা করেন, ‘২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসবে। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৮৪৪.
অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি কোন ধরনের রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল?
  1. সরাসরি ব্রিটিশ শাসিত রাজ্য
  2. ফরাসি প্রভাবাধীন রাজ্য
  3. ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্য
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি:
- জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে পরিবর্তন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি গ্রহণ করেন।
- এই নীতি অনুযায়ী ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে ও নিরাপত্তায় থেকে রাজ্য শাসনে অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো।
- এই নীতির মাধ্যমে হায়দ্রাবাদ ও মারাঠারাজ্য কোম্পানির অধীনে আসে।
- টিপু সুলতান এই নীতিগ্রহণে অস্বীকার করলে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের নিকট পরাজিত ও নিহত হন।

⇒ নীতির মূল উদ্দেশ্য:
• নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা: এই নীতির আওতায় ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে থাকার জন্য অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো। অর্থাৎ, তারা নিজেদের রাজ্য শাসনে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন, তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার আওতায়।
• রাজ্যগুলোর অধীনে আসা: এই নীতির মাধ্যমে হায়দ্রাবাদ ও মারাঠা রাজ্যগুলো কোম্পানির অধীনে আসে।
• টিপু সুলতানের প্রতিক্রিয়া: টিপু সুলতান এই নীতি গ্রহণে অস্বীকার করেন, যার ফলস্বরূপ চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত ও নিহত হন।

⇒ লর্ড ওয়েলেসলির ভূমিকা:
• শাসনকাল: লর্ড ওয়েলেসলি ১৭৯৮ থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
• নীতির উদ্দেশ্য: তিনি ভারত থেকে ফরাসি প্রভাব দূর করে ব্রিটিশদেরকে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
• শিক্ষা সংস্কার: অসামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
• সাম্রাজ্যের শক্তি: তাঁর শাসনামল শেষ হওয়ার পরও ওয়েলেসলি ব্রিটিশদের ভারতে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮৪৫.
মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান সেনাপতি এ কে খন্দকারের জন্মস্থান কোথায়? 
  1. ঢাকা
  2. রংপুর
  3. পাবনা
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

• এ কে খন্দকার: 
- এ কে খন্দকারের জন্ম ১৯৩০ সালে বাবার কর্মস্থল রংপুরে। 
- তাঁর আদি নিবাস পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা গ্রামে। 
- ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন ও ১৯৪৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। 
- ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। 
- গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।

- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্তে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম বিমানবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন।
- তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বিমানবাহিনী পুনর্গঠিত হয়। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর প্রধান ছিলেন তিনি।

- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদান রাখার জন্য এ কে খন্দকার ১৯৭৩ সালে ‘বীর উত্তম’ খেতাব এবং ২০১১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে এ কে খন্দকারের লেখা ১৯৭১: ভেতরে বাইরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের আলোচিত একটি গ্রন্থ। 
- ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ (শনিবার) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। 
- তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।


তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। (Link) 

৬,৮৪৬.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন তারিখে বুদ্ধিজীবীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়?
  1. ক) ২৫ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  3. গ) ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ঘ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুই শতেরও বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৬,৮৪৭.
বঙ্গভঙ্গ রদ হয় কত সালে?
  1. ১৯১৬ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৮১১ সালে
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ রদ:
- বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা ১৯১০ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ভারতের নতুন ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তিনি বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা লক্ষ্য করে বঙ্গভঙ্গ রদের বিষয়ে গোপন তৎপরতা শুরু করেন।
- ব্রিটেনের সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদের পক্ষে মত দেন।
- ১৯১১ সালে সম্রাট পঞ্চম জর্জ ও রাণি মেরী ভারত সফরে আসেন।
- ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর সম্রাট পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত অভিষেক অনুষ্ঠানে বঙ্গভঙ্গ রদের কথা ঘোষণা করেন।
- এবং পূর্ববঙ্গকে পশ্চিমবঙ্গের সাথে পুনরায় এক করেন।
- এই সফরে সম্রাট পঞ্চম জর্জ আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ফলে কার্জনের বাংলা বিভক্তির ব্যবস্থা বাতিল হয়।
- ঢাকা চট্টগ্রাম, রাজশাহী, প্রেসিডেন্সি ও বর্ধমানের পাঁচটি বাংলা ভাষাভাষী বিভাগ নিয়ে বাংলা প্রদেশ পুনর্গঠন করা হয়।
- ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৮৪৮.
দ্বৈত শাসনের প্রবর্তক কে?
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
দ্বৈত শাসন:
- রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে।
- রবার্ট ক্লাইভ দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে।
- দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবিত ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- অর্থাৎ যাতে করে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে।
- অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
- সারাদেশে শুরু হয় সীমাহীন বিশৃঙ্খলা।
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৪৯.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম পত্রিকার সম্পাদকের নাম কী?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  3. ফয়েজ উল্লাহ
  4. অধ্যাপক মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সম্পাদনা - “একুশে ফেব্রুয়ারি”।
- এটি ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৬ সালে স্কুলে পড়া অবস্থায় তাঁর প্রথম রচনা একটি ছোটগল্প ‘অশ্রুভেজা পথ চলতে’ সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা।
- এ বছর তিনি ‘ঢাকা প্রগতি লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘ’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং এ বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৫০.
প্রথম কোন যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়?
  1. মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
  2. মতিউর রহমান নিজামী
  3. কাদের মোল্লা
  4. গোলাম আযম
ব্যাখ্যা
যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া:

- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরপরই শুরু হয়েছিল যুদ্ধের সময় খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্যাতনকারী তথা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া।
- এ বিচারে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডসহ ৭৫২ জনের সাজাও হয়েছিল।
- ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তন এবং তার পর দালাল আইন বাতিল হওয়ায় তাদের অধিকাংশই রেহাই পেয়ে যায়।
- স্বাধীনতার ৪২ বছর পর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলানোর মধ্য দিয়ে প্রথম কোনো যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো।

তথ্যসূত্র - কালের কন্ঠ, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩।
৬,৮৫১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবকে কবে অভিযুক্ত করা হয়?
  1. ক) ১৯৬৭ সালের ১৬ জানুয়ারি
  2. খ) ১৯৬৭ সালের ২৪ জানুয়ারি
  3. গ) ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি
  4. ঘ) ১৯৬৮ সালের ২৫ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি এক প্রেসনোটে ঘোষণা করে যে, সরকার ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এক চক্রান্ত উদ্ঘাটন করেছে।
এ ঘোষণায় ২ জন সিএসপি অফিসারসহ ৮ জনের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ পায়। এতে অভিযোগ করা হয় যে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা ভারতীয় সহায়তায় এক সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়াসে লিপ্ত ছিল।
স্বরাষ্ট্র দফতর ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি অপর এক ঘোষণায় শেখ মুজিবুর রহমানকেও এ ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত করে।
তখন এই মামলার নাম হয়- ‘রাষ্ট্রদ্রোহ বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য’। বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় মোট আসামী সংখ্যা ছিল ৩৫ জন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাঃ
১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আইয়ুব খানের সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে।
সরকারি নথিতে এই মামলার নাম ছিলো ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’।
- ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি এক প্রেসনোটে ঘোষণা করে যে, সরকার ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এক চক্রান্ত উদ্ঘাটন করেছে।
এ ঘোষণায় ২ জন সিএসপি অফিসারসহ ৮ জনের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ পায়। এতে অভিযোগ করা হয় যে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা ভারতীয় সহায়তায় এক সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়াসে লিপ্ত ছিল।
- স্বরাষ্ট্র দফতর ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি অপর এক ঘোষণায় শেখ মুজিবুর রহমানকেও এ ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত করে।
- এ মামলায় বঙ্গবন্ধুসহ অভিযুক্ত ছিলেন ৩৫ জন।
- ঢাকা সেনানিবাসে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার কার্য শুরু হয় ১৯৬৮ সালের ১৯শে জুন।
- গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৫২.
কত সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়?
  1. ২০০৭ সালে
  2. ২০০৮ সালে
  3. ২০০৯ সালে
  4. ২০১০ সালে
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র - ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৬,৮৫৩.
With the establishment of the Rooppur nuclear power plant, what is the position of Bangladesh as nuclear power-using country?
  1. 33rd
  2. 51th
  3. 57th
  4. 81th
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নিউক্লিয়ার ক্লাবের ৩৩তম সদস্য:
- পাবনা জেলায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব নিউক্লিয়ার ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন করেন।
- এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে ৩৩তম দেশ হিসেবে নিউক্লিয়ার ক্লাবের সদস্য হয়েছে।
- ঠিকাদার হিসেবে রাশান ফেডারেশনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিমার্ণকারী প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের সাথে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সম্পাদিত General Contract-এর আওতায় বর্তমানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের কাজ চলছে।
- বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ভেসেলের Molten Core Catcher রূপপুর এসে পৌঁছেছে।
- আশা করা যায় যে, ২০২৩ সালের মধ্যে এ বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

উৎস: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬,৮৫৪.
মুজিবনগর দিবস কবে পালন করা হয়?
  1. ১৫ ডিসেম্বর
  2. ১৪ ডিসেম্বর
  3. ১৫ আগষ্ট
  4. ১৭ এপ্রিল
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর দিবস পালন করা হয় ১৭ এপ্রিল।

মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৬,৮৫৫.
কোন প্রতিষ্ঠান ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ক) EU
  2. খ) UNICEF
  3. গ) UNHCR
  4. ঘ) UNESCO
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর তার ৩০তম সাধারণ সভায় ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
এতে ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
উৎসঃ ইউনেস্কো ওয়েসাইট।

৬,৮৫৬.
কয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে DAC(Democratic Action Committee) গঠিত হয়?
  1. ক) ৮টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৯টি
ব্যাখ্যা

- দেশ বিভাগের পর থেকে রাজনৈতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাঙালিরা দারুণ বৈষম্যের শিকার হয়।
- বাঙালির মনে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভের সঞ্চার হতে থাকে।
- এটিতে জ্বালানীর কাজ করে ছয়দফা ভিত্তিক আন্দোলন এবং প্রহসনমূলক আগরতলা মামলা।
- উল্লেখ্য যে আগরতলা মামলার আসামিদের মুক্তির আন্দোলন এক পর্যায় আইয়ূব খান সরকারের উৎখাত আন্দোলনে রূপ নেয়।
- বাঙালির এই আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে পূর্ব পাকিস্তানের ৮ টি বিরোধী রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে ‘গণতান্ত্রিক সংগ্রাম কমিটি' (Democratic Action Committee) সংক্ষেপে DAC নামে একটি ঐক্যজোট গঠন করা হয়।
- পরবর্তীতে ছাত্রদের এগারো দফা আন্দোলন এটির সাথে একাত্ম হলে আন্দোলন দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলে ।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, ওপেন স্কুল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮৫৭.
সেনাবাহিনী কবে প্রথম বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করে?
  1. ক) ১৯ জুলাই, ১৯৭৭
  2. খ) ১০ জুন, ১৯৭৮
  3. গ) ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫
  4. ঘ) ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
• ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেড় দশক কাল বাংলাদেশে সামরিক শাসন চলেছিল। এ সামরিক শাসন ছিল কখনো
প্রত্যক্ষ কখনো পরোক্ষ।
• সামরিক শাসন কালে সংবিধান, আইনের শাসন, বিচার বিভাগ, ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অর্থনীতি সকল ক্ষেত্রেই সামরিক বাহিনীর প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। একে সহায়তা করেছে বেসামরিক আমলাতন্ত্র এবং দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিক চক্র। সামরিকীকরণ প্রক্রিয়ার ফলে বেসামরিক রাজনৈতিক কতৃর্ত্বে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব হয়নি।
১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট প্রথম সামরিক সরকারের শুরু থেকেই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় কতৃর্ত্বসহ সরকার ও প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সামরিকায়নের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়। জেনারেল এরশাদের আমলে এ প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। 

তথ্যসূত্র:- রাষ্ট্রবিজ্ঞান, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৫৮.
In which year was the elderly allowance introduced in Bangladesh?
  1. ক) 1995
  2. খ) 1996
  3. গ) 1997
  4. ঘ) 1998
ব্যাখ্যা
-- বাংলাদেশে বায়োজেষ্ঠ্য ও দুঃস্থ উপার্জনে অক্ষম জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে বয়স্ক ভাতা কর্মসূচী প্রবর্তন করা হয়। 
-- এর কার্যক্রম শুরু হয়- এপ্রিল ১৯৯৮ সালে।


তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৫৯.
বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা কয়টি?
  1. ৩০টি
  2. ৩১টি
  3. ৩২টি
  4. ৩৩টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। যথা:
• ভারত ও
• মিয়ানমার।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা: ৩২টি।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৮৬০.
বাংলাদেশের শিক্ষার কোন স্তরের সাথে PEDP-4 এর সম্পর্ক রয়েছে?
  1. প্রাথমিক শিক্ষা
  2. মাধ্যমিক শিক্ষা
  3. উচ্চ শিক্ষা
  4. ভিত্তিমূলক শিক্ষা
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের শিক্ষার প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের সাথে PEDP-4 এর সম্পর্ক রয়েছে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)

- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (PEDP-4) হলো জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৫ (শুরুতে ২০২৩ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিলো) পর্যন্ত মেয়াদে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, এর প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৮,২৯১.৪৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চার বছর নয় মাসে মোট বরাদ্দের ৪৯.৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রায় ১৮,৫৩৭.০৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৪,৫৮৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১,০৯,৯৮১টি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে ৭৫,৪০৪টি নির্মাণ শেষ এবং ১৯,৯৫২টির কাজ চলমান। 

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর। 

৬,৮৬১.
Who is the designer of our National Flag?
  1. Jainul Abedin
  2. Kamrul Hasan
  3. Quayum Chowdhury
  4. Hashem Khan
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার শিল্পী কামরুল হাসান।
- ১৯৭২ সালে কামরুল হাসান সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের জাতীয় পতাকার নকশা করেন।
- এর পূর্বে ব্যবহৃত মানচিত্র খচিত পতাকাটি ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জহুরুল হক হলের ১১৬ নং কক্ষে শিবনারায়ণ দাস ও আরো কয়েকজন মিলে চূড়ান্ত করেন।
- পতাকাটি ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম রব প্রথম উত্তোলন করেন।
- ১৯৭১ সালের ২৩ শে মার্চ বাংলাদেশের সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকা'র পরিবর্তে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি।
- ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।
- ‘জাতীয় পতাকা' গাঢ় সবুজ রঙের হবে।
- দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত হবে  ১০:৬।
- আয়তক্ষেত্রাকার সবুজ রঙের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত থাকিবে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
          ii) বাংলাপিডিয়া ।
৬,৮৬২.
কোথায় আগরতলা মামলার শুনানি শুরু হয়?
  1. ঢাকা সেন্ট্রাল জেল
  2. কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে
  3. ঢাকা হাইকোর্ট
  4. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য: 
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯শে জুন বেলা এগারোটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- বিচারকাজ চলার সময় পাকিস্তানের উভয় অংশে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে।
- পূর্ব পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি ও আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জোরদার হয়।
- ধীরে ধীরে পূর্ব পাকিস্তানের গণবিক্ষোভ ১৯৬৯ সালে এসে গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়।
- অবশেষে আইয়ুব সরকার পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের কাছে নতি স্বীকার করে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।
- মামলার সকল অভিযুক্ত ২২শে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে মুক্তি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,৮৬৩.
‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে -
  1. আওয়ামী লীগ
  2. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  3. ছাত্রলীগ
  4. ছাত্র ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬,৮৬৪.
স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা কোনটি?
  1. সিলেট
  2. খুলনা
  3. কুমিল্লা
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা:
- স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা ঢাকা।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরাজয় হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর।
- কিন্তু আত্মসমর্পণের পরও পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল।
- ঢাকায় আত্মসমর্পণের ১ সপ্তাহ পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর ২৩ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় কুমিল্লার হোমনা।
- কিন্তু ঢাকার মিরপুর তখনো পাকিস্তানি বাহিনী ও বিহারিদের হাতে পুরোপুরি অবরুদ্ধ।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি এক বিশেষ সামরিক অভিযানের পর ৩১ জানুয়ারি ১২ নম্বর সেকশনের ডি ব্লক ঈদগাহ মাঠে আত্মগোপনকারী পাকিস্তানি সেনা, বিহারি, রাজাকার, আলবদরদের অস্ত্রসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় মিরপুর।

অন্যদিকে -
- খুলনা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- সিলেট জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- কুমিল্লা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১।

উৎস: জানুয়ারি ৩০, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। 
৬,৮৬৫.
বাংলাদেশের সাহিত্যে সর্বোচ্চ পুরষ্কার কোনটি?
  1. ২১শে পদক
  2. স্বাধীনতা দিবস পুরষ্কার
  3. বাংলা একাডেমি পুরষ্কার
  4. শিশু একাডেমি পুরষ্কার
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বাংলাদেশের সাহিত্যে সর্বোচ্চ পুরষ্কার।
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে সামগ্রিক অবদানের জন্য লেখকদের সৃজনী প্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- ১৯৬০ সালে এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়।
- বাংলা সাহিত্যের ১০টি শাখায় এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- প্রতিটি পুরস্কারের মূল্যমান ৩,০০,০০.০০ (তিন লক্ষ) টাকা।
- প্রতি বছর মাসব্যাপী আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার প্রাপ্তদের পুস্কারের অর্থমূল্যের চেক, সম্মাননা পত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

• স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার
- স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার।
- মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার এ পুরস্কার প্রবর্তন করে।

সূত্র: বাংলা একাডেমি ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৬৬.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকস বঙ্গবন্ধুকে ‘পয়েট অব পলিটিক্স’ হিসেবে অভিহিত করে -
  1. ক) ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ
  2. খ) ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল
  3. গ) ১৯৭১ সালের ৮ মে
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ৫ জুন
ব্যাখ্যা
• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকস ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর কভার স্টোরি প্রকাশ করে।
- এই স্টোরিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজনীতির কবি বা পয়েট অব পলিটিক্স’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র:- mujib100.gov.bd
৬,৮৬৭.
কোন মুঘল সম্রাটের রাজত্বকাল “The Age of Marble” নামে খ্যাত?
  1. ক) সম্রাট বারর
  2. খ) সম্রাট শাহজাহান
  3. গ) সম্রাট হুমায়ুন
  4. ঘ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

• মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল “The Age of Marble” নামে খ্যাত।
• তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি ইতিহাসে ‘The Prince of Builders or Engineer King” নামে পরিচিত ।
• সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হচ্ছে সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী • মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৬৮.
৬ দফা দাবি পেশ করা হয়:
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৬৬ সালে
  3. ১৯৬৫ সালে
  4. ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়: ১৯৬৬ সালে। 
----------------- 
ছয় দফা:

- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লাগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ৬ দফা প্রস্তাব এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি গৃহীত হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান বিরোধীদলীয় সম্মেলনে ৬ দফা পেশ করেন।
- ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রচার করা হয়।

ঐতিহাসিক ছয় দফার দফাসমূহ:
• প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
• দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)
• তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
• চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
• পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
• ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৬৯.
কোন যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে মহারাজা অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন?
  1. মেবার যুদ্ধ 
  2. প্লাসি যুদ্ধ
  3. কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ
  4. কলিঙ্গ যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন। তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন।
- রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- তিনি অনেক জনহিতকর কাজ করেন।
- তিনি ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন। প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোকের রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে আমূল পরিবর্তন আসে।
- তিনি কলিঙ্গ যুদ্ধের পরেই রাজ্যজয়ের নীতি বর্জন করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধই তাঁকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে, মানব সংঘ, কল্যাণ ও শান্তির ক্ষেত্রে যুদ্ধ কতটা ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। 
- তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করার পর দেবনামপিয় পিয়দসি (পিয়দসি, অর্থাৎ দেবতাদের প্রিয়জন) শীর্ষক ধর্ম- রাজকীয় উপাধি গ্রহণ করেন এবং নিজেকে শান্তি ও মানবজাতির কল্যাণের কাজে নিবেদিত করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধের রক্তবন্যা তাঁকে একজন নীতিবান ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। ওই সময় থেকেই তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
- সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন। অশোকের প্রচারিত ধর্মের মূল বিষয় ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীবে দয়া, সত্যবাদিতা ইত্যাদি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮৭০.
এক বিদ্যালয়ের সাথে অন্য বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কী বলে?
  1. অন্তঃক্রীড়া
  2. আন্তঃক্রীড়া
  3. লীপ ক্রীড়া
  4. প্রীতিম্যাচ
ব্যাখ্যা
আন্তঃক্রীড়া:

- এই ক্রীড়াসূচি বিদ্যালয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- প্রতিষ্ঠানের চারি দেয়ালের মধ্যে বা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আকারে যে সমস্ত খেলধুলা হয় তা হলো অন্তঃক্রীড়া কর্মসূচি।
- প্রতিষ্ঠানের চারি দেয়ালের বাহিরে বা অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতা আকারে যে সমস্ত খেলধুলা হয় তা হলো আন্তঃক্রীড়া কর্মসূচি।

তথ্যসূত্র - দৈনিক জনকন্ঠ, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
৬,৮৭১.
প্রকৃতির কন্যা বলা হয় -
  1. ক) পঞ্চগড়কে
  2. খ) জাফলংকে
  3. গ) কুয়াকাটাকে
  4. ঘ) বান্দরবানকে
ব্যাখ্যা
• জাফলং: 
- অবস্থান: সিলেটনগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলং এর অবস্থান। 
-  প্রকৃতি কন্যা হিসাবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং
- খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি।
- পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ইনডিয়ান পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরামধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেলপানি,উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও শুনশান নিরবতার কারণে এলাকাটি পর্যটকদেরদারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে। এসব দৃশ্যপট দেখতে প্রতিদিনই দেশী-বিদেশীপর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে।
- প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও জাফলং বিউটি স্পট, পিকনিকস্পট, সৌন্দর্যের রাণী- এসব নামেও পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিত। ভ্রমনপিয়াসীদের কাছে জাফলং এর আকর্ষণই যেন আলাদা। সিলেট ভ্রমনে এসে জাফলং নাগেলে ভ্রমনই যেন অপূর্ণ থেকে যায়।

তথ্যসূত্র: সিলেট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
৬,৮৭২.
'অনিল বাগচীর একদিন' চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. নজরুল ইসলাম খান
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. মোরশেদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
অনিল বাগচীর একদিন:
- 'অনিল বাগচীর একদিন' একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র।
- চলচ্চিত্রটি হুমায়ূন আহমেদের 'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন মোরশেদুল ইসলাম।
- চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেন আরেফ সৈয়দ, জ্যোতিকা জ্যোতি, গাজী রাকায়েত, মিশা সওদাগর।
- ২০১৫ সালে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়।
- চলচ্চিত্রটি ৪০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা, শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক, শ্রেষ্ঠ নারী কণ্ঠশিল্পী, এবং শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।
৬,৮৭৩.
[তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন। বর্তমানে গুরুত্বহীন।] কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদনে সম্প্রতি চীনের সাথে বাংলাদেশের কোন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. বেক্সিমকো
  2. স্কয়ার
  3. ইনসেপটা
  4. এক্‌মি
ব্যাখ্যা
গত আগস্ট, ২০২১ তারিখে করোনাভাইরাস ঠেকাতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত চীনের সিনোফার্মের টিকা যৌথ উৎপাদনের লক্ষ্যে ঢাকায় একটি ত্রি-পক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশের সরকার।
- চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ অব কোম্পানিজ ও চায়না সিনোফার্ম ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার এই চুক্তি স্বাক্ষর করে।

- চুক্তি অনুযায়ী চীন থেকে ভ্যাকসিন উৎপাদনের কাঁচামাল ও উপকরণ বা বাল্ক নিয়ে আসা হবে, যেটি 'সেমি-ফিনিসড' অবস্থায় থাকবে।
- এরপর দেশেই বোতলজাতকরণ, লেবেলিং ও ফিনিশিং করবে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস।
- উৎপাদনের পর সরকার চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত দামে ইনসেপ্টার কাছ থেকে ভ্যাকসিন কিনে নেবে।

উৎস: বিবিসি বাংলা রিপোর্ট।
৬,৮৭৪.
মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. তাজউদ্দীন আহমেদ
  4. আতাউল গণি ওসমানি
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি:

- জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)।
- ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।
- ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৭৫.
জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন কত তারিখে কার্যক্রম শুরু করে?
  1. ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  2. ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  3. ১৫সেপ্টেম্বর ২০২৪
  4. ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
ব্যাখ্যা
• জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন:
-জুলাই বিপ্লবে আহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
-জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে-১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ।
-সংগঠনটির লক্ষ -
• ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
•  জুলাই বিপ্লবে  জীবন উৎসর্গকারী ব্যক্তিদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা।

তথ্যসূত্র: জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এবং প্রথম আলো {লিংক}
৬,৮৭৬.
প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট -
  1. ক) ক্ষেত্রফল
  2. খ) বর্গ
  3. গ) বৃত্ত
  4. ঘ) ত্রিভূজ
ব্যাখ্যা
জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক:
অনুচ্ছেদ-৪:
(১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ ৷ 
(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত ৷ 
(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা ৷ 
(৪) উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে ৷

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান। 
৬,৮৭৭.
ছয় দফার কত নং দফাটি প্রতিরক্ষা বিষয়ক?
  1. ক) দ্বিতীয়
  2. খ) তৃতীয়
  3. গ) চতুর্থ
  4. ঘ) ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত। ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

ছয় দফার দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৭৮.
মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ২ নং সেক্টরে
  2. ৬ নং সেক্টরে
  3. ৮ নং সেক্টরে
  4. ১১ নং সেক্টরে
ব্যাখ্যা
• তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের (বীর উত্তম)।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।
- মৃত্যুবরণ করেন - ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার।
৬,৮৭৯.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমদ
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৮৮০.
১৯৭১ সালে কোথায় পাকিস্তানি বাহিনী অস্ত্র সমর্পণ করে?
  1. ক) ঢাকা সেনানিবাসে
  2. খ) কুমিল্লা সেনানিবাসে
  3. গ) যশোর সেনানিবাসে
  4. ঘ) চট্টগ্রাম সেনানিবাস
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
-  যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- পাকিস্তানি বাহিনী যুদ্ধবন্দী হলেও ঢাকা সেনানিবাসে তাদের অবস্থান ছিল সশস্ত্র এবং জ্যাকব ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের অস্ত্র রাখার অনুমতি দেন।
- ১৯৭১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের গলফ মাঠে অস্ত্র সমর্পণ করে পাকিস্তানি বাহিনীর ৩০ হাজার সৈন্য।
- তাদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। মিত্রবাহিনীর পক্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল সগৎ সিং অস্ত্র গ্রহণ করেন।
- আত্মসমর্পণের দলিলের নাম ছিল ‘ইন্সট্রুমেন্ট অব সারেন্ডার’ । এই ঘটনাকে ফল অব ঢাকা বা ঢাকার পতন বলেও ডাকা হয়।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট এবং  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৮৮১.
অবিভক্ত বাংলায় কার সময়ে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) লর্ড ডানডাস
  2. খ) লর্ড আর্থার জেমস
  3. গ) লর্ড মেয়ো
  4. ঘ) লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
অবিভক্ত বাংলায় প্রথম আনুষ্ঠানিক আদমশুমারি হয় ১৮৭২ সালে লর্ড মেয়োর সময়।
এই আদমশুমারি নানাবিদ কারণে মানসম্মত হয়নি। তবে এই আদমশুমারির মাধ্যমেই বাংলা প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট রাজ্যরূপে বিবেচিত হয়।
এরপর ১৮৮৯ এবং ১৮৯১ সালে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বিবিএস)
৬,৮৮২.
যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভা:
• মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরে বাংলা এ কে ফজলুল।
• বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
• শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
• কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

⇒ ১৯৫৩ সালে  ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।
- ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়, বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৮৩.
জাতিসংঘে উত্থাপিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন সর্বমোট কতবার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে?
  1. ক) ২ বার
  2. খ) ৩ বার
  3. গ) ৪ বার
  4. ঘ) ৫ বার
ব্যাখ্যা
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো প্রয়োগ

পাকিস্তানের পতন অনিবার্য হয়ে উঠলে পতন ঠেকাতে আমেরিকা চেয়েছিল যুদ্ধ বিরতি করাতে। এই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি অস্থায়ী সদস্য নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন ডাকা হলে জর্জ ডব্লিউ বুশ যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন এতে ভেটো প্রয়োগ করে।

- আবারও যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করলে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবারও ভেটো প্রয়োগ করে।

- শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের পরিবর্তে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৭ ডিসেম্বর একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন তৃতীয়বারের মতো ভেটো প্রয়োগ করে।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৮৪.
মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. আ.স.ম. রব
  2. জিয়াউর রহমান
  3. আতাউল গণি ওসমানি
  4. এ.কে. খন্দকার
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি:

- জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)।
- ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।
- ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৮৫.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  2. ছাত্র ইউনিয়ন
  3. তমদ্দুন মজলিশ
  4. রাষ্ট্রভাষা বাংলা কমিটি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৮৬.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী পরিচালিত অভিযান কী নামে পরিচিত?
  1. ক) অপারেশন ক্লিনহার্ট
  2. খ) অপারেশন সার্চলাইট
  3. গ) অপারেশন জ্যাকপট
  4. ঘ) অপারেশন ক্লোজডোর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে যে অভিযানের মাধ্যমে গণহত্যা চালায় তা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত।
এই অভিযানের নীল নকশা প্রস্তুত করেন জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী।
ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলো রাও ফরমান আলী।
২৫শে মার্চ রাতে পাকহানাদার বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায়।
অন্যদিকে,
- অপারেশন ক্লিনহার্ট : ২০০৩ সালে সেনাবাহিনী পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান
- অপারেশন জ্যাকপট : ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ কমান্ডোদের পরিচালিত নৌ অভিযান।
- অপারেশন ক্লোজডোর : ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৮৮৭.
শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয় -
  1. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  3. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  4. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
•উপাধি:
- গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়। 
- মুক্তির পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবর রহমানসহ মামলায় অভিযুক্তদের এক গণসম্বর্ধনা দেয়া হয় এবং শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- এরপর থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা ‘বঙ্গবন্ধু’ নামেই জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
 
উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৮৮.
ভারতের অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. ইন্দিরা গান্ধী
  3. সুভাষচন্দ্র বসু
  4. জওহরলাল নেহেরু
ব্যাখ্যা
মহাত্মা গান্ধী:

- তাঁর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- তিনি ২ অক্টোবর ১৮৬৯ সালে ভারতে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি ধর্মীয় সহনশীলতা এবং অহিংসার মতবাদ গ্রহণ করেছিলেন।
- অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা ও ভারত রাষ্ট্রের জনক মহাত্মা গান্ধী।
- তিনি ১৮৮৮ থেকে ১৮৯১ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডে আইন অধ্যয়ন করেন।
- তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের একটি কার্যকর রাজনৈতিক হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেন।
- অসহযোগ আন্দোলন মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বাধীনে প্রবর্তিত ভারতের একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন।
- ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি অনশনের মাধ্যমে কলকাতায় (কলকাতা) দাঙ্গার অবসান ঘটান।
- ১৯৪৮ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি একজন তরুণ হিন্দু ধর্মান্ধ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৮৯.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কত সালে জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রদান করা হয়?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৩ সালে
  3. গ) ১৯৭৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:

- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ২৩ মে, ১৯৭৩ সালে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

তথ্যসূত্র - কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
৬,৮৯০.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস কবে?
  1. ২ মার্চ
  2. ৭ মার্চ
  3. ২৬ মার্চ
  4. ৩ মার্চ
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা দিবস: 
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।

- ১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ, ডাকসু সহ-সভাপতি আ. স. ম. আব্দুর রব এবং ডাকসু সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মাখন এক বৈঠকে বসে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন। 

- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। 
- সেই থেকে ২ মার্চ ই জাতীয় পতাকা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।  


- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং দি ডেইলি ষ্টার বাংলা (২ মার্চ, ২০২১)।
৬,৮৯১.
বিটিভি ওয়ার্ল্ড চালু হয় কত সালে?
  1. ২০০২ সালে
  2. ২০০৩ সালে
  3. ২০০৪ সালে
  4. ২০০৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ টেলিভিশন:
- বাংলাদেশ টেলিভিশন বাংলা ভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন।
- এটি ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার ডিআইটি ভবন (বর্তমান রাজউক ভবন) থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সম্প্রচার শুরু করে।
- ১৯৮০ সাল থেকে বিটিভি রঙিন সম্প্রচার শুরু করে।
- ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র চালু হয়।
- ২০০৪ সালের ১১ই এপ্রিল বিটিভি ওয়ার্ল্ড চালু হয়।
- ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে সমগ্র ভারতে বিটিভি ওয়ার্ল্ডের সম্প্রচার শুরু হয়।
- ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বিটিভি সম্প্রচার শুরু করে।
- বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রের সংখ্যা ২টি। যথা:
• ঢাকা।
• চট্টগ্রাম।
- উপকেন্দ্র বা রিলে কেন্দ্রের সংখ্যা ১৪টি। এগুলো হলো:
নাটোর, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রংপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, উখিয়া এবং রাঙ্গামাটি।

তথ্যসূত্র - বিটিভি ওয়েবসাইট।
৬,৮৯২.
হিন্দু লেখকগণ কোন মুসলিম শাসককে 'জগৎভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  2. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  3. নুসরত শাহ
  4. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৯৩.
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে কে নেতৃত্ব প্রদান করেন?
  1. এ টি এম হায়দার
  2. এ কে খন্দকার
  3. এ কে নিয়াজী
  4. জগজিৎ সিং অরোরা
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূচনা ঘটিয়েছিল, একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী অভিযান চালিয়ে ঢাকা ও অন্যান্য শহরগুলিতে হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এই অভিযানটি মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়।
- দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
- প্রতি বছর এই দিনটি "বিজয় দিবস" হিসাবে পালিত হয়।

উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন -
- এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ,
- ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং,
- টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী। 

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬,৮৯৪.
অপারেশন সার্চলাইটে কয় ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানি সৈন্য অংশগ্রহণ করে?
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চ লাইট:
- ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের সাথে সমঝোতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেনারেলসহ ঢাকায় আসেন। 
- ১৬ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক চলে।
- ২১ মার্চ ভুট্টো ঢাকায় আসেন এবং আলোচনায় অংশ নেন। 
- ইয়াহিয়া খান ভুট্টোর মতের বিরুদ্ধে যাওয়া সমীচীন মনে করেননি।
- কারণ তখন পাঞ্জাবে ভুট্টোর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। 
- তাছাড়া পাকিস্তান সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য ছিলেন পাঞ্জাব থেকে আগত। 
- পাঞ্জাবিরা কিছুতেই ছয় দফার বাস্তবায়নে সম্মত ছিল না। 
- আওয়ামী লীগও ছয়দফার প্রশ্নে ছাড় দিতে রাজি ছিল না। 
- ইতোমধ্যে ঢাকায় ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে পাকিস্তানী পতাকার পরিবর্তে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। 
- ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনায় কালক্ষেপণ করে অলক্ষ্যে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে সেনাসদস্য ও সামরিক সরঞ্জামাদি আনয়ন করতে থাকে। 
- পাকিস্তান সামরিক জান্তা শক্তির সাহায্যে বাঙালির দমন করার একটি পরিকল্পনা করে রেখেছিল।
- এর নাম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। 
- ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইটে' অংশগ্রহণ করে।
- তারা ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা সংগঠিত করে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৯৫.
কৌলীন্য প্রথার উদ্ভব কোন শাসনামলে হয়েছিল বলে মনে করা হয়?
  1. সেন 
  2. পাল
  3. গুপ্ত
  4. মুঘল 
ব্যাখ্যা

- কৌলীন্য প্রথার উদ্ভব পাল শাসনামলে হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

কৌলীন্য প্রথা:

- রাঢ় ও  বরেন্দ্র এর ব্রাহ্মণদের মধ্যে কৌলীন্য প্রথা অধিক মাত্রায় প্রভাব বিস্তার করেছিল।
- তারা সম্ভবত কান্যকুব্জের পাঁচ ব্রাহ্মণ-রক্ষিতীশ, মেধতিথী, বিতরগ, সুধনিধি এবং সম্ভরি-এর উত্তরসূরি।
- গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক এবং বর্মণ রাজা হরিবর্মণ উভয়েই যথাক্রমে শকদ্বীপী ও বৈদিক ব্রাহ্মণ নিয়ে এসেছিলেন বলে জানা যায়।
- বলা হয়ে থাকে, এ ব্রাহ্মণদের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টির ফলস্বরূপ বাংলায় সামাজিক প্রথা হিসেবে কৌলিন্য প্রথার সূত্রপাত হয়েছে।
- সেন রাজা বল্লালসেনকেও কৌলিন্য প্রথার স্রষ্টা হিসেবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়, যদিও এ দাবির সমর্থনে সেন যুগের কোনো সাহিত্যিক ও উৎকীর্ণলিপি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
- তৃতীয় বিগ্রহপালের বনগাঁ তাম্রশাসনে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তাঁর কর্মকর্তা ঘন্তিস-এর প্রো-পিতামহের মাধ্যমে তাঁর পূর্বপুরুষের সাথে কোলঞ্চ (কান্যকুব্জ) ব্রাহ্মণ কচ্ছ-এর যোগসূত্র ছিল।
- ফলে কৌলীন্য প্রথার উদ্ভব পাল শাসনামলে হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

উল্লেখ্য,
- কুলীন অর্থ হলো উত্তম পরিবার বা সম্ভ্রান্ত বংশজাত। 
- বাচস্পতি মিশ্র-এর মতে, এটি চিহ্নিত হয় আচার (শুদ্ধতা), বিদ্যা (জ্ঞান), বিনয় (শৃঙ্খলাবোধ), প্রতিষ্ঠা (শুদ্ধতার খ্যাতি), তীর্থ-দর্শন (তীর্থযাত্রা), নিষ্ঠা (কর্তব্যনিষ্ঠা), তপস্যা (কঠোর ধ্যান), আবৃত্তি (সমবর্ণে বিবাহ) এবং দান (উদারহস্ত) দিয়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।[লিঙ্ক]

৬,৮৯৬.
তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় কবে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৮২ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা
- ইনডেমনিটি হলো কোন বিচারকার্যকে বাধা প্রধান সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন। কোনো অভিযান বা অভ্যুত্থানের ক্ষয়ক্ষতি আদালতের বহির্ভূত রাখার জন্য আইনসভা যে বিল পাস করে তাকেই ইনডেমনিটি বিল বলে।
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩ বার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়

- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি করে ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন।

- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এরশাদ সরকারের জারিকৃত সকল প্রকার সামরিক আইন,অধ্যাদেশ,বিধি-নির্দেশ ইত্যাদিকে ও বৈধতাদানের উদ্দেশ্য ২য ইনডেমিনিটি বিলটি' ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীতে এটি অন্তর্ভুক্ত' করা হয়।

- ২০০২ সালের অপারেশন ক্লিন হার্টের বৈধতা প্রদান করার জন্য ২০০৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬,৮৯৭.
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কত সদস্য বিশিষ্ট ছিল?
  1. ২৯ সদস্য
  2. ৩৩ সদস্য
  3. ৪০ সদস্য
  4. ৪৪ সদস্য
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রধান মন্ত্রীর পদ ছেড়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন। ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনিও জিন্নাহর মতো ঘোষণা করেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।' এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন নতুন করে শুলুহয়ে যায়। এবার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্র জনতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে। সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে ৪ ফেব্রুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট আহবান করা হয়। ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ২য়, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৬,৮৯৮.
কোন যুগে অস্ট্রিক জাতি বাংলায় বসতি স্থাপন করে?
  1. আর্য যুগে
  2. প্রাক-আর্য যুগে
  3. বৈদিক যুগে
  4. গুপ্ত যুগে
ব্যাখ্যা

বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- নৃতাত্ত্বিক গঠন প্রক্রিয়ার দিক থেকে বাঙালি জাতি হলো একটি সংকর জাতি।
- বাঙালি জাতিধারার নৃতাত্ত্বিক গঠনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকলেও অস্ট্রিক জাতির ভূমিকা সর্বাধিক।
- ইন্দোচীন থেকে আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠীর অন্তর্গত অস্ট্রিক জাতি প্রাক আর্য যুগে বাংলায় বসতি স্থাপন করে।
- এই অস্ট্রিক নরগোষ্ঠী থেকেই বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে।
- অস্ট্রিক নরগোষ্ঠীর সাথে দ্রাবিড় ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে।
- তবে ইতিহাসের নানা পর্যায়ে বাঙালি রক্তপ্রবাহে ভোটচীনীয়, ককেশীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ প্রভৃতি জাতিসত্ত্বার সংমিশ্রণ ঘটেছে।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

• অস্ট্রিক জাতি:
- অস্ট্রিক প্রাচীন বাংলার একটি নৃগোষ্ঠী।
- প্রাচীন বাঙালি জনগোষ্ঠীকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রাক-আর্য বা অনার্য নরগোষ্ঠী ও আর্য নরগোষ্ঠী।
- আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত: নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও ভোটচীনীয়।
- অস্ট্রিক গোষ্ঠী থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়। অস্ট্রিক জাতিকে নিষাদ জাতিগোষ্ঠী নামেও অভিহিত করা হয়।
- অস্ট্রিকদের আদি বাসস্থান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এখান থেকে তারা পূর্ব ভারত, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, শ্রীলঙ্কা এবং অন্যদিকে পাপুয়া নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- অস্ট্রিকদের সংস্কৃতি ও সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। তারা কলা, লাউ, বেগুন, নারকেল, পান, সুপারি, হলুদ, আদা প্রভৃতি ফসলের চাষ করত। সম্ভবত গরু তাদের গৃহপালিত পশু ছিল না।

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 

৬,৮৯৯.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. ক) বীরউত্তম
  2. খ) বীরপ্রতীক
  3. গ) বীরশ্রেষ্ঠ
  4. ঘ) বীরবিক্রম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক – বীরশ্রেষ্ঠ – ৭ জন
দ্বিতীয় বীরত্বসূচক – বীরউত্তম - ৬৮ জন
তৃতীয় বীরত্বসূচক – বীরবিক্রম - ১৭৫ জন
চতুর্থ বীরত্বসূচক - বীরপ্রতীক - ৪২৬ জন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬,৯০০.
প্রাচীন ’মহাস্থানগড়’ কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. তিস্তা
  2. সুরমা
  3. করতোয়া 
  4. কুশিয়ারা
ব্যাখ্যা

মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।
- মহাস্থানগড় বগুড়ায় জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন পর্যটন কেন্দ্র।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।