বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৬৮ / ১২৪ · ৬,৭০১৬,৮০০ / ১২,৪২১

৬,৭০১.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন হলে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা ডিজাইন করা হয়?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল
  2. শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল
  3. ফজলুল হক মুসলিম হল
  4. মাস্টারদা' সূর্যসেন হল
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- আয়তাকার এই পতাকার অনুপাত হচ্ছে অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

⇒ ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পতাকা উত্তোলন করেন সে পতাকার আদলে মুজিবনগর সরকার জাতীয় পতাকার নমুনা নির্ধারণ করেন।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।
- তিনি একজন ছাত্রনেতা ও স্বভাব আঁকিয়ে ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১১৬ নং কক্ষে রাত এগারটার পর পুরো পতাকার নকশা সম্পন্ন করেন।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।

উল্লেখ্য
- শিব নারায়ন প্রথম ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন।
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন অংশগ্রহণ করে কারাবরণ করেন তিনি।
- তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। 
- ১৯৭০ সালের ৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত ছাত্রদের এক সামরিক কুচকাওয়াজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অংশ গ্রহণের কথা ছিল।
- এ লক্ষ্যে ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ১০৮ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা আসম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, কাজী আরেফ আহমদ, মার্শাল মনিরুল ইসলাম পতাকার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসেন।
- বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা স্বপন কুমার চৌধুরী, জগন্নাথ কলেজের ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা শিবনারায়ণ দাশ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সাধারণ সম্পাদক হাসানুল হক ইনু ও ছাত্রনেতা ইউসুফ সালাউদ্দিন।
- ছাত্র নেতারা এই বাহিনীর একটি পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।
- সভায় কাজী আরেফের প্রাথমিক প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে আলোচনা শেষে সবুজ জমিনের ওপর লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।
- কামরুল আলম খান তখন ঢাকা নিউমার্কেটের এক বিহারি দরজির দোকান থেকে বড় এক টুকরো সবুজ কাপড়ের মাঝে লাল একটি বৃত্ত সেলাই করে আনেন।
- এরপর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতুমীর হলের ৩১২ নম্বর কক্ষের এনামুল হকের কাছ থেকে অ্যাটলাস নিয়ে ট্রেসিং পেপারে আঁকা হলো পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র।
- শিবনারায়ণ দশ পরিশেষে নিপুণ হাতে মানচিত্রটি এঁকে দেন লাল বৃত্তের মাঝে।
- এ পতাকাই পরবর্তীতে ১৯৭১-এর ২মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় উত্তোলিত হয়।

উৎস: i) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
ii) প্রথম আলো।
৬,৭০২.
দ্বৈত শাসনের ফলে কোন দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়?
  1. ছিয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ
  2. উনসত্তরের দুর্ভিক্ষ
  3. সত্তরের দুর্ভিক্ষ
  4. ঊনিশর দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
• দ্বৈত শাসন:
- দিল্লি কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দেওয়ানি বা খাজনা ও কর আদায়ের ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- এতে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে।
- অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলোআনা।
- ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়, যার চরম মাসুল দিতে হয় এদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে।
- ১৭৭০ সালে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন।
- সারা দেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

উল্লেখ,
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ইংরেজি -১৭৭০ সাল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
৬,৭০৩.
৭ মার্চের ভাষণটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে -
  1. ক) ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  2. খ) ৩০ অক্টোবর, ২০১৭ সালে
  3. গ) ২২ অক্টোবর, ২০১৭ সালে
  4. ঘ) ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে - ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর।

• ৭ই মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসের অসামান্য ও অপরিহার্য এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। 
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রদত্ত ভাষণ।
- এই ভাষণের মাধমে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাঙালি জাতির প্রতি স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।

৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি:
- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা "We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History" শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।

- কেবল তাই নয়, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে World's Documentary Heritage এর মর্যাদা দিয়ে International Memory of the World Register-এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বাঙালি জাতির স্বাধীনতার প্রতীক এই দূরদর্শী ভাষণের স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক মহত্তর অর্জন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭০৪.
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে নিহত সেনাসদস্য -
  1. সৈয়দ মাহবুবুল হক
  2. নঈম খান
  3. আবুল কালাম
  4. মকবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু হত্যা:
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে নিহত হয় দুই সেনাসদস্য - কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে।
- বঙ্গবন্ধু ছাড়াও সেই রাতে তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।
- ওই কালরাতেই বিপথগামী সেনাসদস্যদের আরেকটি দল বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগের নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাঁকে এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে।
- এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকেও হত্যা করা হয়।
- ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় বেঁচে যান।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৫ আগস্ট ২০২২।
৬,৭০৫.
কোন আমলে সিলেটের নাম জালালাবাদ ছিল?
  1. ক) সেন
  2. খ) তুর্কী
  3. গ) সুলতানী
  4. ঘ) মৌর্যযুগে
ব্যাখ্যা
সিলেট
- সিলেট একটি প্রাচীন জনপদ।
- সুলতানী আমলে সিলেটের নাম ছিল জালালাবাদ।
- দশম শতাব্দীতে মহারাজা শ্রীচন্দ্র কর্তৃক উৎকীর্ণ পশ্চিমবাগ তাম্রলিপি থেকে জানা যায় যে, তিনি সিলেট জয় করেছিলেন।
- ঐতিহাসিকদের ধারণা, সিলেট বা শ্রীহট্ট (সমৃদ্ধ হাট) বহু আগে থেকেই একটি বর্ধিষ্ণু বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বর্তমান ছিল।
- প্রাচীন শ্রীহট্টে বিপুল হারে বাঙালি অভিবাসন হয়েছিল।
- ১৪ শতকে ইয়েমেনের সাধক পুরুষ হযরত শাহজালাল (র.) সিলেট জয় করেন এবং ইসলাম প্রচার শুরু করেন।
- মোগল যুগে পাঠান বীর খাজা ওসমান সিলেটের স্থানীয় সামন্তদের সহায়তায় আক্রমণকারী মোগলদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।
- ১৮৫৭ সালে বিদ্রোহের সময়ে সিলেটে বিদ্রোহীরা বৃটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ব্যর্থ হয়।

উৎস: সিলেট জেলার পটভূমি, sylhet.gov.bd.
৬,৭০৬.
পাকিস্তান বাহিনী কত হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন?
  1. ৯০ হাজার
  2. ৯১ হাজার 
  3. ৯২ হাজার
  4. ৯৩ হাজার
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ঃ 
- মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর। 
- মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে ৬-১৬ ডিসেম্বর। 
- যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।
- বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যূদয় হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

উৎসঃ  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭০৭.
কোন সময়ে ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ৩২০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ৩২১ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ৩২২ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ৩২৪ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য: 
- ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
- এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য।
- গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই বাংলার উত্তরাংশের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা অধিকৃত হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলার উত্তরাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি 'প্রদেশ' বা 'ভুক্তি' হিসেবে পরিগণিত হতো।
- মৌর্যদের মতো গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,৭০৮.
নিম্নের কোন দু'টি দেশের সাথে বাংলাদেশের সীমানা রয়েছে?
  1. ক) নেপাল ও ভারত
  2. খ) ভারত ও ভুটান
  3. গ) মায়ানমার ও ভারত
  4. ঘ) ভারত ও শ্রীলংঙ্কা
ব্যাখ্যা
আয়তন ও সীমা
-  মায়ানমার ও ভারত দুইটি দেশের সাথে বাংলাদেশের সীমানা রয়েছে। 
- পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।
- উত্তরে ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়।
- পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং সেই সঙ্গে মায়ানমার।
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।
- আন্তর্জাতিক স্থলসীমার দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৪০০ কিমি।
- এর মধ্যে ৯২ শতাংশ ভারতের সঙ্গে এবং বাকি ৮ শতাংশ মায়ানমারের সঙ্গে। 
- উপকূলীয় সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৪৮৩ কিলোমিটারের অধিক। 
- ভূখন্ডগত সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল (২২.২২ কিমি) এবং অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল (৩৭০.৪০ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬,৭০৯.
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী নারী ও পুরুষের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স কত?
  1. ১৮ ও ২০
  2. ১৮ ও ২১
  3. ২১ ও ২৪
  4. ২১ ও ১৮
ব্যাখ্যা
বাল্য বিবাহ নিরোধ বিল-২০১৭:

নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স যথাক্রমে ১৮ এবং ২১ বছর নির্ধারণ।
বাল্য বিয়ে নিরোধে প্রয়োজনীয় বিধান করে সংসদে বাল্য বিবাহ নিরোধ বিল-২০১৭ পাস হয়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন।
বিলে বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি বাল্য বিয়ে প্রতিরোধের জন্য জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও এর কার্যাবলী নির্ধারণের বিধান করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৭১০.
৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন দফাটি পেশ করেন?
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
  2. মার্শাল ল প্রত্যাহার
  3. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  4. আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
- ভাষণটি ইতিহাসে ‘বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ’ নামে অভিহিত হয়েছে। 

• ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয় -
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

উল্লেখ্য, ৬ দফা দাবির - 
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭১১.
কোন ঘটনার মাধ্যমে সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে?
  1. ৬ দফা আন্দোলন
  2. ১৯৫৪ সালের নির্বাচন
  3. বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- বাঙালির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
- ছয় দফা ও পরবর্তীতে ১১ দফা কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয় ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৬৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ছাত্রনেতারা দেশব্যাপী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দিলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনেম খান ছাত্র আন্দোলন দমাতে ১৪৪ ধারা জারি করে।
- সরকারি নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- এ আন্দোলনে সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭১২.
আধুনিক ভারতের ইতিহাসে প্রথম শিক্ষা কমিশন কোনটি?
  1. ক) নাথান কমিশন
  2. খ) হান্টার কমিশন
  3. গ) সাইমন কমিশন
  4. ঘ) উড কমিশন
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- সরকারিভাবে ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন (১৮৮২) নামে পরিচিত।
- এটি ছিল আধুনিক ভারতের ইতিহাসে প্রথম শিক্ষা কমিশন।
- ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে উইলিয়ম হান্টারকে চেয়ারম্যান করে প্রথম ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন নিয়োগ করেন।
- এই কমিশন সরকারি অনুদান ব্যবস্থার মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যক্তি উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেয়া, স্কুলে অভ্যন্তরীণ ও প্রবেশিকা পরীক্ষা অনুষ্ঠান এবং মাধ্যমিক স্কুলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে।
- ১৯০১ সালে সিমলায় অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান কনফারেন্সের পর লর্ড কার্জন একটি সরকারি সিদ্ধান্তের আদলে ১৯০৪ সালে তাঁর শিক্ষানীতি প্রকাশ করেন।
- এই শিক্ষানীতিতে হাইস্কুল পর্যায়ে বিশেষত পাবলিক স্কুলে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষালাভের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১৩.
নিখিল পাকিস্তান শিক্ষক সম্মেলনে আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাবের প্রতিবাদ করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. আবুল কাসেম
  3. এ কে ফজলুল হক
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর প্রতিবাদ করেন।
- আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিবাদ জানায়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষাসংগ্রাম পরিষদ কমিটি গঠিত হয়।
- তাঁর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।

৬,৭১৪.
সিলেটের প্রধান ও দীর্ঘতম নদী -
  1. ক) কুশিয়ারা
  2. খ) সুরমা
  3. গ) যদুকাটা
  4. ঘ) সারি গোয়াইন
ব্যাখ্যা
সিলেট
- সিলেটকে অঞ্চলকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।
- সিলেট জেলা ১৭৭২ সালের ১৭ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সিলেটের উত্তরে ভারতের খাসিয়া, জৈন্তিয়া পাহাড় (ভারতের মেঘালয় রাজ্য),দক্ষিণে মৌলভীবাজার জেলা,পূর্বে ভারতের কাছাড় ও করিমগঞ্জ জেলা (ভারতের আসাম রাজ্য) ও পশ্চিমে সুনামগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ জেলা।
- সিলেট জেলার আয়তন ৩,৪৫২.০৭ বর্গ কি.মি বা ১৩৩২.০০ বর্গমাইল।
- সিলেট জেলায় প্রধানত মণিপুরি,পাত্র,খাসিয়া,চাকমা,ত্রিপুরা,সাঁওতাল উপজাতি বসবাস করে।
- বৃহত্তর সিলেট জেলায় ৩৬টি নদী বিদ্যমান।
- সিলেটের প্রধান ও দীর্ঘতম নদী সুরমা (৩৫০ কি.মি.)।
- অপর বৃহৎ নদী হলো কুশিয়ারা, এছাড়াও রয়েছে সারি, পিয়াইন।
- সিলেটে ছোট বড় মিলিয়ে মোট ৮২টি হাওর - বিল আছে।

উৎস: সিলেট জেলা, sylhet.gov.bd.
৬,৭১৫.
কোন ঘটনার মধ্যেদিয়ে ভারতে ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে?
  1. ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন
  2. সিপাহি বিদ্রোহ
  3. ফরায়েজি আন্দোলন
  4. নীল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
 - বিদ্রোহের আগুন প্রথমে জ্বলে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে নামে এক সিপাহি।
- দ্রুত এইবিদ্রোহ মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ,মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
- বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা,চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট,কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর,রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয়।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
-তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 

৬,৭১৬.
এলাহাবাদ চুক্তি কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. মীর কাশিম ও রবার্ট ক্লাইভ
  2. সুজাউদ্দৌলা ও রবার্ট ক্লাইভ
  3. রবার্ট ক্লাইভ ও দ্বিতীয় শাহ আলম
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস ও শাহ আলম
ব্যাখ্যা

এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে ১৭৬৫ সালে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে  রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।

⇒ কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭১৭.
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি হয় কবে?
  1. ১৬ জুন, ২০২১
  2. ০৬ জুন, ২০২১
  3. ২৬ জুন, ২০২১
  4. ৩০ জুন, ২০২১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিল:
• জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার খুনির মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিল করেছে সরকার।
এ বিষয়ে ০৬ জুন, ২০২১ রোজ রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

♣ যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন;
 • লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫),  
• লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০),
• লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং
• নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো (০৬ জুন, ২০২১)।
৬,৭১৮.
ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনায় মূল দায়িত্ব পায়-
  1. জেনারেল আবরার হোসেন
  2. রাও ফরমান আলী
  3. নিয়াজি খান
  4. গোলাম মুহাম্মদ
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট: 
- ১৮ই মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন।
- ১৯শে মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্রীকরণ শুরু হয়।
- ২০শে মার্চ সরকার অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ জারি করে।
- ঐ দিন জেনারেল ইয়াহিয়া খান তার সামরিক উপদেষ্টা হামিদ খান, জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল পিরজাদা, জেনারেল ওমর প্রমুখকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সামরিক প্রস্তুতিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন।
- এ সময় প্রতিদিন ৬টি থেকে ১৭টি পর্যন্ত পিআইএ ফ্লাইট বোয়িং ৭০৭ বিমান সৈন্য ও রসদ নিয়ে ঢাকা আসে এবং অসংখ্য সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই হয়ে আসা জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে অপেক্ষা করে।
- ২৪শে মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে এম ভি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র ও রসদ খালাস শুরু হয়।
- ২৫শে মার্চ গণহত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম, শ্রেণি।


৬,৭১৯.
নিচের কোন জনপদটি মুসলিম যুগে লক্ষণাবতী নামে পরিচিত ছিল?
  1. ক) রাঢ় জনপদ
  2. খ) হরিকেল জনপদ
  3. গ) বঙ্গ জনপদ
  4. ঘ) গৌড় জনপদ
ব্যাখ্যা
গৌড় জনপদ:

- গৌড় জনপদ  প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল। 
- মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমান নিয়ে ছিল প্রাচীন গৌড় রাজ্য। 
- গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়’ আবার কখনো লক্ষণাবতী নামে পরিচিত ছিল।
- আদি অভিলেখর মধ্যে খ্রিস্টীয় ৫৫৪ অব্দে উৎকীর্ণ মৌখরি বংশীয় রাজা ঈশান বর্মণের হরাহ লিপিতে গৌড়বাসীর উল্লেখ পাওয়া যায়।
- কোনো একসময় গৌড়ের অবস্থান উপকূলীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- সাত শতকের প্রথম দিকে গৌড়ের অত্যন্ত শক্তিশালী রাজা শশাঙ্কের উত্থান গৌড়ের রাজ্যসীমার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ছিরুটি অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। আর একারণেই মুর্শিদাবাদ গৌড়ের কেন্দ্রবিন্দু বলে পরিগণিত হয়।
- তেরো শতকে বাংলার মুসলমান সুলতানদের শাসনাধীন সমগ্র অঞ্চলই গৌড় নামে পরিচিত ছিল। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭২০.
ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্টের অবস্থান কোন নদীর মুখে?
  1. ধলাই নদী
  2. করতোয়া নদী
  3. যমুনা নদী
  4. তিস্তা নদী
ব্যাখ্যা

• ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট:
- সিলেট নগরী থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জ।
- ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি ঝর্ণাগুলো থেকে যে নদীর উৎপত্তি হয়ে ভোলাগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে সেই নদীর নাম ধলাই নদ।
- পাহাড় থেকে ঝর্ণার পানির স্রোতে এই নদী বেয়েই সাদা পাথর নেমে আসে।
 - ধলাই নদের উৎসমুখের এই জায়গার নাম ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট।
- পরিবেশবিদ ও স্থপতি ইকবাল হাবিবের মতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এই স্থানের গুরুত্ব অপরিসীম।
 - কেননা স্বচ্ছ পানির এ আধার এই এলাকার বেশ কিছু স্থানের খাবার পানির চাহিদা মেটায়।

তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর।

৬,৭২১.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  2. খ) ঢাকা নিউজ
  3. গ) ঢাকা প্রকাশ
  4. ঘ) রঙ্গপুর বার্তাবহ
ব্যাখ্যা
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা হলো ‘ঢাকা নিউজ’।
এটি ছিলো ইংরেজি ভাষার একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা যা ১৮৫৬ সালের ১৮ এপ্রিল প্রথম প্রকাশিত হয়।
এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন আলেকজান্ডার ফর্বেস। ১৮৬৯ সালে এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত ঢাকা প্রকাশ যা ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ প্রথম প্রকাশিত হয়।
রঙ্গপুর বার্তাবহ (১৮৪৭ সালের আগস্টে প্রকাশিত) বাংলাদেশ ভূখণ্ড থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৬,৭২২.
সম্প্রতি যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি মি উই-৬ কনসাের্টিয়ামের ল্যান্ডিং স্টেশন কোথায় হবে?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) কক্সবাজার
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) কুয়াকাটা
ব্যাখ্যা
- দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপিত হবে - কক্সবাজারে।
- দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বাংলাদেশ যে ক্যাবলে যুক্ত হবে - SEA-ME-WE-6
- এর আগে  ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন SEA-ME-WE-5 এর সাথে সংযুক্ত হয়।
উৎস: দৈনিক পত্রিকা।
৬,৭২৩.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কে ছিলেন?
  1. ক) নুরুল আমিন
  2. খ) অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী
  3. গ) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. ঘ) অধ্যাপক ফজলুল হালিম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন। ১৯৭১ সালে জেনেভায় অবস্থানকালে পূর্ব পাকিস্তানে পাকবাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে তিনি উপাচার্য পদে ইস্তফা দেন। মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে জেনেভা থেকে তিনি লন্ডন যান এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সচেষ্ট হন। স্বাধীনতার পর বিচারপতি চৌধুরী ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৬,৭২৪.
বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় মোট আসামির সংখ্যা কত ছিলো?
  1. ৩২জন
  2. ৩৪জন
  3. ৩৫জন
  4. ৩৬জন
ব্যাখ্যা
১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ এই মামলার মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন

অন্য অভিযুক্তরা হলেন:
- কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন
- স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান
- প্রাক্তন এলএস সুলতান উদ্দিন আহমেদ
- সিডিআই নূর মোহাম্মদ
- আহমেদ ফজলুর রহমান সিএসপি
- ফ্লাইট সার্জেন্ট মাহফিজউল্লাহ
- প্রাক্তন কর্পোরাল আবুল বাশার
- মোহাম্মদ আবদুস সামাদ
- প্রাক্তন হাবিলদার দলিল উদ্দিন
- রুহুল কুদ্দুস সিএসপি
- ফ্লাইট সার্জেন্ট মো. ফজলুল হক
- ভূপতিভুষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী
- বিধানকৃষ্ণ সেন
- সুবেদার আব দুর রাজ্জাক
- প্রাক্তন হাবিলদার ক্লার্ক মুজিবুর রহমান
- প্রাক্তন ফ্লাইট সার্জেন্ট মো. আবদুর রাজ্জাক
- সার্জেন্ট জহুরুল হক
- মো. খুরশীদ
- খান মোহাম্মদ শামসুর রহমান সিএসপি
- হাবিলদার আজিজুল হক
- মাহফুজুল বারী
- সার্জেন্ট শামসুল হক
- শামসুল আলম এএমসি
- ক্যাপ্টেন মো. আবদুল মোতালেব
- ক্যাপ্টেন এ শওকত আলী মিয়া
- ক্যাপ্টেন খন্দকার নাজমুল হুদা এএমসি
- ক্যাপ্টেন এ.এন.এম নুরুজ্জামান
- সার্জেন্ট আবদুল জলিল
- মো. মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী
- লে. এস.এম.এম রহমান
- প্রাক্তন সুবেদার এ.কে.এম তাজুল ইসলাম
- মোহাম্মদ আলী রেজা
- ক্যাপ্টেন খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ এএমসি এবং
- লে. আবদুর রউফ।

ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
মামলার বিচারের জন্যে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি এস এ রহমান। অপর দুই সদস্য হলেন এম আর খান এবং মুকসুমুল হাকিম

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কৌশুলী ছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী টমাস উইলিয়াম, আব্দুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
সরকার পক্ষের কৌশুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল টি এইচ খান।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে করে আন্দোলন আরো প্রবল হয় এবং এর ফলে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬,৭২৫.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন?
  1. রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  4. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
শহিদ আবু সাঈদ:
- আবু সাঈদকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- ২০০১ সালে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আবু সাঈদ।

তথ্যসূত্র - পত্রিকা রিপোর্ট।
৬,৭২৬.
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরকারি গেজেটভুক্ত শহীদের সংখ্যা কত?
  1. ৮৩৬
  2. ৮৪৬
  3. ৮৫২
  4. ৮৬০
ব্যাখ্যা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরকারি গেজেটভুক্ত শহীদ:
- জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের গেজেট অনুসারে, জুলাই  গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬।

⇒ "জুলাই যোদ্ধা" অর্থ জুলাই গণ অভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা উক্ত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে আহত ছাত্র-জনতা।
- এছাড়া "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ" অর্থ "তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা উক্ত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি।"

উল্লেখ্য,
- ৮৩৪ জনের নাম শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গেজেট প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে সেখানে যুক্ত করা হয় আরও ১০ জনের নাম।
- গত ৩০শে জুন, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ছিল ৮৪৪ জন।
- তবে সরাসরি জুলাই আন্দোলনে যুক্ত না থাকা এবং চারজনের নাম গেজেটে দুইবার উল্লেখ থাকায় গত ৩রা অগাস্ট, ২০২৫ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তালিকা থেকে আটজনের নাম বাতিল করে।
- মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।

এছাড়াও,
- জুলাই  গণঅভ্যুত্থানে  ৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১০ জনের নাম শহীদ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। 
- শহীদ ১০ জন নারীর মধ্যে ৭ জন ঢাকায়, ২ জন নারায়ণগঞ্জে ও ১ জন সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৭ জনই গুলিবিদ্ধ হন নিজ বাসার বারান্দা ও ছাদে। ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন সড়কে।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ প্রথম নারী নাঈমা সুলতানা। 

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) বিবিসি।
iii) প্রথম আলো।

৬,৭২৭.
ময়মনসিংহ গীতিকার কোন পালাটি 'আলাল-দুলালের পালা' হিসেবে পরিচিত?
  1. দেওয়ানা মদিনা
  2. কঙ্ক ও লীলা
  3. মলুয়া
  4. মহুয়া
ব্যাখ্যা
'দেওয়ানা মদিনা' পালা: 
-  লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
- ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭২৮.
কোন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পূর্ববঙ্গ থেকে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়েছিলো?
  1. ক) ফ্লাউড কমিশন
  2. খ) হান্টার কমিশন
  3. গ) নাথান কমিশন
  4. ঘ) ইন্ডিগো কমিশন
ব্যাখ্যা
ভূমি রাজস্ব সংক্রান্ত সমস্যাবলির সংস্কারের লক্ষ্যে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকার ১৯৩৮ সালে স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউডকে প্রধান করে ফ্লাউড কমিশন গঠন করে।

এই কমিশন ১৯৪০ সালের ২ মার্চ তার রিপোর্ট পেশ করে। রিপোর্টে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা তথা জমিদারি ব্যবস্থা বাতিল ও ভূমির উপর কৃষকদের অধিকার পুনস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও ১৯৫০ সালের পূর্বে ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ সমূহ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে ১৯৫১ সালে জমিদারী প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা বাতিল হয়।

অন্যদিকে,

ইন্ডিগো কমিশন (১৮৬০) : নীল বিদ্রোহ
হান্টার কমিশন (১৮৮২) : শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার
নাথান কমিশন (১৯১২) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬,৭২৯.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ কে?
  1. রফিক 
  2. জব্বার 
  3. বরকত
  4. সালাম
ব্যাখ্যা

প্রথম ভাষাশহীদ:
- একুশের প্রথম ভাষাশহীদ রফিকউদ্দিন আহমদ।
- তিনি ছিলেন মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাবার নাম আবদুল লতিফ এবং মায়ের নাম রাফিজা খানম। রফিক উদ্দিনের জন্ম ১৯২৬ সালে, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায়।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি শহীদ হন।
- ঘটনার সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের কারণে ছাত্ররা ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যারাকে আশ্রয় নেন।
- ওই সময় পুলিশের গুলিতে তাঁর মাথার খুলি উড়ে যায়।
- মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তখনই মারা যান তিনি। ম্যাজিস্ট্রেট ওবায়দুল্লাহর উপস্থিতিতে তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান আজিমপুর মসজিদের ইমাম হাফেজ আবদুল গফুর। আত্মীয়স্বজনকে না জানিয়ে গোপনে আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

⇒ ভাষাশহীদ রফিক ২০০০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক পান।

উৎস: প্রথম আলো।

৬,৭৩০.
‘গঙ্গাখাদ’ নামে পরিচিত -
  1. রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট
  2. সুন্দরবন
  3. টাঙ্গুয়ার হাওড়
  4. সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।
- এটি ১৪ কিলোমিটার ব্যাপী বঙ্গোপসাগরের গভীর খাদ। 
- এটি সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। 
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- এই এলাকাটি বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিন এবং তিমির মতো বিপন্ন প্রাণীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড ‘গঙ্গাখাদ’ নামেও পরিচিত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৩১.
কত সালে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর করা হয়?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে।
- ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা প্রণীত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন' ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- অন্যদিকে এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২১ আগস্ট, ১৯৯০ ইং ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কোস/সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীতে ৩১ নভেম্বর, ১৯৯২ ইং তারিখে এর নামকরণ করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট'।
- তার পূর্বে ১ জানুয়ারি, ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮ টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৬,৭৩২.
“খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়” গানের রচয়িতা কে?
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. হাসন রাজা
  3. লালন শাহ
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

 বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা, গায়ক লালন শাহ।
- লালনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, কিন্তু নিজ সাধনাবলে তিনি হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের শাস্ত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করেন। তাঁর রচিত গানে সেই জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।
- আধ্যাত্মিক ভাবধারায় তিনি প্রায় দুহাজার গান রচনা করেন। তাঁর গান মরমি ব্যঞ্জনা ও শিল্পগুণে সমৃদ্ধ। সহজ-সরল শব্দময় অথচ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্মস্পর্শী তাঁর গানে মানব জীবনের আদর্শ, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
- লালন শাহ এর প্রচলিত স্কেচটি অঙ্কন করেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

তাঁর জনপ্রিয় কিছু গান:
- আমি অপার হয়ে বসে আছি
- সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে
- জাত গেলো জাত গেলো বলে
- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়
- আপন ঘরের খবর লে না
- আমারে কি রাখবেন গুরু চরণদাসী
- মন তুই করলি একি ইতরপনা
- এই মানুষে সেই মানুষ আছে
- যেখানে সাঁইর বারামখানা
- বাড়ির কাছে আরশিনগর
- আমার আপন খবর আপনার হয় না
- দেখ না মন,ঝকমারি এই দুনিয়াদারী
- ধর চোর হাওয়ার ঘরে ফান্দ পেতে
- সব সৃষ্টি করলো যে জন
- সময় গেলে সাধন হবে না
- আছে আদি মক্কা এই মানব দেহে
- তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে
- এসব দেখি কানার হাট বাজার
- মিলন হবে কত দিনে
- কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৩৩.
বাংলায় “ঋণ সালিশি আইন” কার আমলে প্রণীত হয়?
  1. ক) এইচ. এস. সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) এ. কে. ফজলুল হক
  3. গ) খাজা নাজিম উদ্দিন
  4. ঘ) নুরুল আমিন
ব্যাখ্যা

অবিভক্ত বাংলার জাতীয় নেতা আবুল কাশেম ফজলুল হক তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতার জন্য ছিলেন সুপরিচিতি। তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

সর্বভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফজলুল হক। তাঁর আপোষহীন ন্যায়নীতি ও অসামান্য বাকপটুতার কারণে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন শেরে বাংলা (বাংলার বাঘ) নামে। সর্বভারতীয় রাজনীতির পাশাপাশি গ্রাম বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

প্রথম মন্ত্রিসভার আমলে (১৯৩৭-১৯৪১) এ কে ফজলুল হক কৃষকদের দুঃখকষ্ট মোচনের জন্য কিছু প্রশংসনীয় কাজ করেছিলেন।

- তিনি ‘Bengal Agricultural Debtors' Act’ (১৯৩৮) কার্যকর করে উচ্চহারে সুদ নেয় এমন মহাজনদের কবল থেকে দরিদ্র কৃষকদের রক্ষা করেন। তিনি বাংলার সব এলাকায় ঋণ সালিশি বোর্ডও স্থাপন করেছিলেন।
- ‘Money Lenders' Act’ (১৯৩৮) এবং ১৯৩৮ সালের ‘Bengal Tenancy (Amendment) Act’ কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটিয়েছিল।
- স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউডিকে সভাপতি করে ১৯৩৮ সালের ৫ নভেম্বর বাংলা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ‘ল্যান্ড রেভেনিউ কমিশন’ ১৯৪০ সালের ২১ মার্চ চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করে। এটি ছিল দেশের ভূমিব্যবস্থা সম্পর্কিত সবচেয়ে মূল্যবান দলিল। ১৯৩৮ সালের আইন দ্বারা ১৮৮৫ সালের প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন করা হয়েছিল এবং এর দ্বারা খাজনা বৃদ্ধির সকল ধারা দশ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। এটি রায়তদের উপর প্রথাগতভাবে জমিদারগণ কর্তৃক ধার্যকৃত সব ধরনের আবওয়াব ও সেলামির (কর) বিলোপ সাধন করে। জমিদারকে কোনো হস্তান্তর-ফি না দিয়ে রায়তরা তাদের জমি হস্তান্তর করার অধিকার লাভ করে।
- এ আইন বকেয়া খাজনার সুদের হার ১২.৫০% থেকে ৬.২৫%-এ হ্রাস করে। নদীর ভাঙ্গনে হারানোর ২০ বছরের মধ্যে চারবছরের খাজনা দিয়ে রায়তরা নদী-সিকস্তি (নদীর ভাঙনের ফলে লুপ্ত জমির পুন জেগে ওঠা) জমির মালিকানার অধিকার লাভ করে।
- হক তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সময় জনগণকে প্রতিশ্রুত ডাল-ভাতের কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত করতে না পারলেও তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের প্রথম মেয়াদে কার্যকর রক্ষা বহু আইন কৃষকদের বোঝা কিছুটা লাঘব করতে সাহায্য করেছিল।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং পত্রিকা রিপোর্ট।

৬,৭৩৪.
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানসূচক সর্বোচ্চ খেতাব কি?
  1. ক) বীরবিক্রম
  2. খ) বীরশ্রেষ্ঠ
  3. গ) বীরপ্রতীক
  4. ঘ) বীরউত্তম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্যে ৭ জন শহীদ কে সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে ৩ জন (সিপাহী হামিদুর রহমান, সিপাহী মোস্তফা কামাল এবং ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর), ইপিআর থেকে ২ জন (ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ) এবং বিমানবাহিনী (ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান) ও নৌবাহিনী (ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন) থেকে একজন করে। এদের মধ্যে সবার আগে মারা যান ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ (৮ এপ্রিল) এবং সবার শেষে মারা যান ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (১৪ ডিসেম্বর)।
(সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
৬,৭৩৫.
মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর কত নম্বর সেক্টরের অধীন ছিল?
  1. ক) ১ নম্বর
  2. খ) ৫ নম্বর
  3. গ) ৮ নম্বর
  4. ঘ) ১০ নম্বর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে ‍মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- বর্তমান মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
- ৮ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।
- ঢাকা শহর ২নং সেক্টরের অধীন ছিলো।

(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
৬,৭৩৬.
নিম্নের নামগুলির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে 'বীর প্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা কে?
  1. ক) বেগম সুফিয়া কামাল
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) সেতারা বেগম
  4. ঘ) জাহানারা বেগম
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়-
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৮ জন,
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন,
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন।

তার মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী 'বীরপ্রতীক' খেতাব পেয়েছেন।
- ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম
- তারামন বিবি।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট
৬,৭৩৭.
সিপাহী হামিদুর রহমান কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ২নং
  2. ৪নং
  3. ৮নং
  4. ৬নং
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ৪ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

এছাড়াও,

- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল - ২ নম্বর সেক্টর।
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ - ৮ নম্বর সেক্টর।
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন - ১০ নম্বর সেক্টর (নৌবাহিনী)।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ - ১ নম্বর সেক্টর।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর - ৭ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৩৮.
মেহেরপুর জেলার উপজেলার সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
• মেহেরপুর জেলা:
- মেহেরপুর জেলার উপজেলার সংখ্যা - ৩ টি।
- উপজেলাসমূহের নাম- মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলা।
- এটি ০৩টি উপজেলা, ০৩টি থানা, ০২টি পৌরসভা (১টি ‌‍'ক' শ্রেণীর, ১টি 'খ' শ্রেণীর), ১৮টি ইউনিয়ন, ১৯৯টি মৌজা, ২৫৯টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। 

তথ্যসূত্র: মেহেরপুর জেলার ওয়েবসাইট।
৬,৭৩৯.
বরেন্দ্রভূমির অবস্থান কোন জনপদের মধ্যে ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. পুণ্ড্র
  3. গৌড়
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা

বরেন্দ্রভূমির অবস্থান পুণ্ড্র জনপদের মধ্যে ছিল।

বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্র উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- ঐতিহাসিকদের মতে বর্তমান রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ এবং দার্জিলিং ও কোচবিহারসহ গঠিত সমগ্র অঞ্চল বরেন্দ্র এলাকা।
- সন্ধ্যাকর নন্দীর 'রামচরিত-কাব্য'-এ গঙ্গা ও করতোয়া নদীর মধ্যভাগকে বরেন্দ্রী নামে অভিহিত করা হয়েছে।

⇒ পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাচীনতম।
- মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিকরা বরেন্দ্রিকে বলতেন বরীন্দ্র।
- পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। 
- প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর। এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।
 
উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম।

৬,৭৪০.
মুজিবনগর সরকারকে শপথ বাক্য কে পাঠ করান?
  1. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক
  3. এম হোসেন আলী
  4. তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার: 
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল প্রণীত ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ ছিল বাংলাদেশের মুক্তি আকাঙ্ক্ষী রাষ্ট্রের প্রথম সংবিধান।
- ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুসারে ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কারণ ঘোষণাপত্রে লেখা হয়েছে- ‘আমাদের এই - স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। 
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ। 
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- পরে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর। 
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
- মুজিবনগর সরকারকে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভাগ করা হয়।
- মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন হয় ১৮ এপ্রিল ১৯৭১।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৪১.
উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কার আমলে?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড মেয়ো
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
লর্ড মেয়ো: 
- লর্ড মেয়ো ১৮৬৯ থেকে ১৮৭২ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল।
- তাঁর নাম রাখা হয় রির্চাড সাউথওয়েল বুর্ক। 
- তাঁর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি (১৮৭২) শুরু হয়।
- তিনি দেশে পরিসংখ্যান জরিপের ব্যবস্থা করেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য বিভাগ সৃষ্টি করেন।

অন্যদিকে, 
- লর্ড ক্যানিং ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৪২.
কোন মৌর্য সম্রাটের রাজত্বকালে প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়?
  1. সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত
  2. সম্রাট বিন্দুসার
  3. সম্রাট অশোক
  4. সম্রাট বৃহদ্রথ
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র 'জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুণ্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ-৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- এখানে গুপ্তদের সুনিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা ছিল।
- পুণ্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৭৪৩.
পূর্ব বাংলার প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কয়টি আসন লাভ করে?
  1. ক) ২৩৭টি
  2. খ) ২২৩টি
  3. গ) ১৪৩ টি
  4. ঘ) ১৪৫টি
ব্যাখ্যা
পাকিস্তান সৃ্ষ্টির পর ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ পূর্ব বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফল:-
• মোট আসন : ৩০৯টি
• মুসলিম আসন : ২৩৭টি
• অমুসলিম আসন : ৭২টি
• যুক্তফ্রন্ট লাভ করে : ২২৩টি আসন

অন্যদিকে, 
যুক্তফ্রন্টের প্রাপ্ত ২২৩ টি আসনের মধ্যে দলওয়ারী প্রাপ্ত আসন:-
• আওয়ামী মুসলিম লীগ - ১৪৩ টি
• কৃষক শ্রমিক পার্টি - ৪৮ টি
• নেজামে ইসলাম  - ১৯ টি
• গণতন্ত্রী পার্টি  - ১৩ টি

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৪৪.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্যে ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন কে?
  1. মকসুমুল হাকিম
  2. এম.আর.খান
  3. আতাউর রহমান খান
  4. এস.এ.রহমান
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:

- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৪৫.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন-
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা

• চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
• ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
• ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
• চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়। বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
• ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৭৪৬.
মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ দলিল কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?
  1. পল্টন ময়দানে
  2. রেসকোর্স ময়দানে
  3. কলকাতায়
  4. মিরপুর
ব্যাখ্যা

আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর:
- লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী (১৯১৫-২০০৪) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের অধিনায়ক।
- তিনি ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ কম্যান্ডের নিকট পরাজয় স্বীকার করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকাল পাঁচটা এক মিনিটে রমনা রেসকোর্সে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যৌথ কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তান বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৪৭.
'ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ'-কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড কর্ণওয়ালিস
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা

লর্ড ওয়েলেসলি:
- ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি কোম্পানির গভর্নর হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন।
- তিনি রাজ্য শাসনের পরিবর্তে রাজ্য বিস্তারের দিকেই বেশি আগ্রহী ছিলেন।
- রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় তাঁর অবদান নিতান্তই সামান্য। সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি বেশকিছু সংস্কার করে গেছেন।
- তিনি ইংরেজ অধিকৃত স্থানে জমি জরিপ করার জন্য ড. ফ্রান্সিস বুকাননকে নিযুক্ত করেন।
- ওয়েলেসলি বিচার ব্যবস্থার বেশকিছু সংস্কার করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলি ভারতবর্ষে নবাগত ইংরেজ কর্মচারিদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপন করেন।

⇒ লর্ড ওয়েলেসলির ভূমিকা:

• শাসনকাল: লর্ড ওয়েলেসলি ১৭৯৮ থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
• নীতির উদ্দেশ্য: তিনি ভারত থেকে ফরাসি প্রভাব দূর করে ব্রিটিশদেরকে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
• শিক্ষা সংস্কার: অসামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য 'ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
• সাম্রাজ্যের শক্তি: তাঁর শাসনামল শেষ হওয়ার পরও ওয়েলেসলি ব্রিটিশদের ভারতে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৪৮.
Who is the author of 'September on Jessore road'?
  1. George Harrison
  2. Allen Ginsberg
  3. Ringo Star
  4. Leon Russel
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী নাগরিকদের ভূমিকা:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক সমাজ বাঙালিদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে।
- যুক্তরাষ্ট্র সরকার পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও সেদেশের নাগরিকেরা বাঙালিদের সমর্থনে সরকারের ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করেছিল যে, মার্কিন সরকার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি।
- যুক্তরাজ্যের নাগরিকেরা বাঙালিদের সংগে রাস্তায় নেমেছেন।
- পাকিস্তানে সিভিল সমাজের অনেকেই বাঙালিদের সমর্থন করতে গিয়ে জেলে গেছেন।
- অস্ট্রেলিয়ার এক কবি বাঙালি শরণার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সরকারের দানের পরিমাণ বৃদ্ধির দাবিতে অনশন করেছেন।
- বুয়েনস আয়ার্সে নোবেলজয়ী লেখক বোহের্স, রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্য বুদ্ধিজীবী ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো বাংলাদেশের সমর্থনে মিছিল করেছেন।
- জর্জ হ্যারিসন, রিংগো স্টার, লিয়ন রাসেল, ওস্তাদ রবিশঙ্কর প্রমুখ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ারে বাঙালিদের জন্য কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন।
- জন বেজ বাংলাদেশের জন্য গেয়েছিলেন।
- অ্যালেন গিনসবার্গ বাংলাদেশের জন্য 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড' শিরোনামে কবিতা লিখেছেন।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৪৯.
‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ বা ‘বাকশাল’–এর কাঠামো ঘোষণা করা হয় কখন?
  1. ক) ১৯৭৫ সালের ৭ জুন
  2. খ) ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালের ৮ জুন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ৭ জুন একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা ‘বাকশাল’–এর কাঠামো ঘোষণা করা হয়।
- সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ১১৭-ক অনুচ্ছেদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একটি নতুন ‘জাতীয় দল’ গঠন করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
- ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হওয়ার কথা।
- ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাই আর বাকশাল কার্যকর হয় নি।

সোর্স: বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৫০.
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া বিদেশি নাগরিক মাদার মারিও ভেরেনজি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. ইতালি
  3. আমেরিকা
  4. কানাডা
ব্যাখ্যা
⇒ মারিও ভেরেনজি: 
- ইতালীয় ধর্মযাজক মারিও ভেরেনজি।
- ভেরেনজি যশোর ফাতিমা ক্যাথলিক হাসপাতালের চারজন ইতালীয় যাজকের একজন ছিলেন।
- সকলেই জাভেরিয়ান আদেশের সদস্য ছিলেন।
- বাংলাদেশের যশোর জেলায় স্থাপিত খ্রিস্টান চার্চের দায়িত্ব পালনকালে ৪ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন।
- তাকে যশোর ক্যাথলিক হাসপাতালের মাঠে সমাহিত করা হয়।
 
সূত্র: ডেইলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট।
৬,৭৫১.
১৯৯৭ সালে গঠিত জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সভাপতি -
  1. এ এস এইচ কে সাদেক
  2. আজাদ চৌধুরী
  3. মুস্তফা চৌধুরী
  4. শামসুল হক
ব্যাখ্যা
শামসুল হক শিক্ষা কমিশন, ১৯৯৭:
- কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন ১৯৭৪ সালে তাদের রিপোর্ট দাখিল করে।
- কিন্ত অনিবার্য কারণবশত এ কমিটির সুপারিশ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
- শিক্ষাকে জাতীয় প্রয়োজনের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ করা এবং জ্ঞানের সমসামায়িক উন্নয়নের সাথে সমন্বয়ের জন্য গুণগত পরিবর্তন করার জন্য সরকার প্রফেসর শামসুল হককে প্রধান করে ৫৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে।
- এই কমিটি দেশের জন্য প্রযোজ্য একটি কার্যসিদ্ধিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার লক্ষে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
- এই কমিশনের রিপোর্ট মন্ত্রিপরিষদে দাখিল করা হলে তা পর্যালোচনা করার জন্য একটি মন্ত্রিপরিষদ কমিটি গঠন করা হয়।
- পরবর্তিতে মন্ত্রিপরিষদ কমিটি কর্তৃক রিভিউ  রিপোর্টটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৭৫২.
মোঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) বাবর
  2. খ) হুমায়ুন
  3. গ) শাহজাহান
  4. ঘ) আকবর
ব্যাখ্যা

ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম দিকে ভারতবর্ষের অরাজক রাজনৈতিক অবস্থার সুযোগ গ্রহণ করে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবুর এদেশে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি মাত্র চার বছর রাজত্ব করেন।
রাজত্বকালের পুরো সময়েই তিনি যুদ্ধ বিগ্রহে ব্যস্ত ছিলেন।
তাই তিনি বংশধরদের জন্য একটি সুসংগঠিত রাজ্য রেখে যেতে পারেননি।
এ কারণে হুমায়ুন সিংহাসনে আরোহণ করার পরই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন।
দিল্লীর সিংহাসন তাঁর হাত-ছাড়া হয়ে যায়।
তবে দীর্ঘ পনের বছর পর হুমায়ুন দিল্লীর সিংহাসন পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছিলেন।
উৎসঃ ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (উন্মুক্ত)।

৬,৭৫৩.
বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয় -
  1. ক) ১৮৬৯ সালে
  2. খ) ১৮৫৪ সালে
  3. গ) ১৮৯৯ সালে
  4. ঘ) ১৮৬২ সালে
ব্যাখ্যা
- ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল লর্ড ডালহৌসির সময়ে মুম্বাইয়ে প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
- ডালহৌসির সময়েই ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত বাংলায় প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
- বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ভাইসরয় লর্ড এলগিনের সময়ে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতী পর্যন্ত ৫৩ কিলোমিটার প্রথম রেলব্যবস্থা চালু হয়।
- জর্জ স্টিফেনসনের যুগান্তকারী প্রচেষ্টায় ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বের প্রথম ইংল্যান্ডে রেলপথ ব্যবস্থা চালু হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬,৭৫৪.
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকাটি প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
  2. খ) ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮
  3. গ) ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮
  4. ঘ) ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
ব্যাখ্যা
• পুস্তিকার নাম - ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’। 
• প্রকাশ - ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। 
• সম্পাদক -  অধ্যাপক আবুল কাশেম।
• অন্যান্য লেখক - কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ।  
• ‘তমদ্দুন মজলিশ’ এর প্রথম সভাপতি - দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ। 

বিঃদ্রঃ - ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকাটি কখন প্রকাশিত হয় জানতে চাইলে ১৬ সেপ্টেম্বর উত্তর হবে। আর যদি ১৬ সেপ্টেম্বর না থাকে তাহলে হবে ১৫ সেপ্টেম্বর। 

তথ্যসূত্র:- স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৫৫.
অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ গভর্নর ছিলেন কে?
  1. ক) স্যার ফ্রেডেরিক বোর্ন
  2. খ) স্যার ব্যামফিল্ড ফোলার
  3. গ) ফ্রেডেরিক বারোজ
  4. ঘ) লর্ড অকল্যান্ড
ব্যাখ্যা
অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ গভর্নর ছিলেন স্যার ফ্রেডেরিক জন বারোজ।
তিনি ১৯৪৬-১৯৪৭ মেয়াদে বাংলার শেষ গভর্নর ছিলেন।
অন্যদিকে ব্যামফিল্ড ফুলার ছিলেন পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস)
৬,৭৫৬.
'বাসু বিহার' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) নওগাঁ
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) বগুড়া
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার সীতাকোট বিহার এটি দিনাজপুরে অবস্থিত।
- সোমপুর বিহার বা পাহাড়পুর, হলুদ বিহার ও জগদ্দল বিহার নওগাঁ তে অবস্থিত।
- বাসু বিহার বগুড়ায় অবস্থিত।
- শালবন বিহার কুমিল্লায় অবস্থিত।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত অধিদপ্তর।

৬,৭৫৭.
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. রাজশাহী
  3. ময়মনসিংহ
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
-  ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায় এবং ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও দৈনিক প্রথম আলো, ০১ নভেম্বর ২০১৪।

৬,৭৫৮.
তমুদ্দিন মজলিশের নেতা অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন?
  1. রসায়ন
  2. পদার্থবিজ্ঞান 
  3. রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  4. গনিত
ব্যাখ্যা

তমুদ্দিন মজলিশ:
-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তমুদ্দিন মজলিশ মূলত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ।
- তমুদ্দিন মজলিসের লক্ষ ছিল, কুসংস্কার দুর করে যুক্তিবাদের উপর সত্য সুন্দর ও মানবীয় মুল্যবোধ ভিত্তিক শিল্প ও সাহিত্যের মাধ্যমের দেশ ও সমাজ কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
- তমদ্দুন মজলিশের বাংলা মুখপত্র ছিল সাপ্তাহিক সৈনিক
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৫৯.
বাংলাদেশে ২০০ টাকার নোট কবে প্রথম চালু করা হয়?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০০৮ সালে
  3. ২০১৮ সালে
  4. ২০২০ সালে
ব্যাখ্যা
৪ মার্চ, ১৯৭২ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ১ টাকা ও ১০০ টাকার নোট চালু করা হয়।
- ১৯৭২ সালে ১, ৫, ১০ ও ১০০ টাকার নোট প্রচলন হয়।
- ১৯৭৫ সালে : ৫০ টাকার নোট
- ১৯৭৭ সালে : ৫০০ টাকার নোট
- ১৯৮০ সালে : ২০ টাকার নোট
- ১৯৮৯ সালে : ২ টাকার নোট
- ২০০৮ সালে : ১০০০ টাকার নোট
- ২০২০ সালে : ২০০ টাকার নোট।

সূত্র: প্রথম আলো।
৬,৭৬০.
সিপাহী মোস্তফা কামালকে কোথায় সমাহিত করা হয়?
  1. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে
  2. চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণ
  3. মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান
  4. যশোরের কাশিপুর নামক স্থানে
ব্যাখ্যা
• সিপাহী মোস্তফা কামাল:
- সেক্টর: ২ নং,
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১।
 - জন্মস্থান: ভোলা জেলায় দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে। 
- সমাধি স্থল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে।

অন্যদিকে,
• ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- সেক্টর: ৭ নং,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।
- সমাধিস্থল: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণ।

সিপাহী হামিদুর রহমান:
- সেক্টর: ৪ নং,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান

• ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান,
- বাংলাদেশ বিমান বাহিনী,
- মৃত্যু: ২০ আগস্ট, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান।

• নূর মোহাম্মদ শেখ:
- সেক্টর: ৮ নং,
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: যশোরের কাশিপুর নামক স্থানে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৬১.
ঢাকা থেকে সরাসরি নোয়াখালী যাওয়ার আন্তঃমহানগরীয় ট্রেনটির নাম-
  1. ক) এগার সিন্দুর এক্সপ্রেস
  2. খ) পারাবত এক্সেপ্রেস
  3. গ) উপকূল এক্সপ্রেস
  4. ঘ) সৈকত এক্সপ্রেস
ব্যাখ্যা
According to the website of BR এগারো সিন্দুর এক্সপ্রেস ঢাকা-কিশোরগঞ্জ, পারাবত এক্সপ্রেস ঢাকা-সিলেট এবং উপকূল এক্সপ্রেস ঢাকা-নোয়াখালি রুটে চলাচল করে।
৬,৭৬২.
বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে কে সর্বপ্রথম নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেছিলেন?
  1. আলী মর্দান খলজি
  2. গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি
  3. মুহম্মদ শিরান খলজি
  4. আলাউদ্দিন জানি
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি ১২১২ থেকে ১২২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর স্বাধীন সুলতান হিসেবে বাংলা শাসন করেন।
তিনিই সর্বপ্রথম বাংলায় নৌবাহিনী গঠন করেন। নিজের নামে মুদ্রা চালু করেন।
তিনি তাঁর পূর্বের শাসক আলি মর্দান খলজির মতো স্বাধীন শাসক ছিলেন।
১২২৭ খ্রিষ্টাব্দে যুবরাজ নাসিরুদ্দিন মাহমুদ লখনৌতি আক্রমণ করলে ইওজ খলজি পরাজিত ও নিহত হন।
[উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
৬,৭৬৩.
সিরাজউদ্দৌলা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন কবে? 
  1. ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৪৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৬৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

• সিরাজউদ্দৌলা:
- আলীবর্দী খানের কোনো পুত্র ছিল না।
- তার তিন কন্যা আমেনা, ময়মুনা ও ঘষেটি ।
- ময়মুনা ও আমেনার দুই পুত্র ছিল।
- কিন্তু ঘষেটি বেগমের কোনো পুত্র ছিল না।
- আলীবর্দী খান আমেনার পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন।
- এ কারণে তাঁকেই তাঁর জীবিতকালে বাংলার নবাব পদে মনোনীত করে যান।
- আলীবর্দী খান দৌহিত্য ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।
- সিরাজ ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- তাঁর পিতার নাম মির্জা মুহম্মদ হাসিম মইনুদ্দীন খান।
- ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হয়।
- তখন ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৬৪.
লালন ফকিরের জন্মস্থান কোথায়?  
  1. ক) ঝিনাইদহ
  2. খ) সিলেট
  3. গ) মেহেরপুর
  4. ঘ) মাগুরা
ব্যাখ্যা
- লালন ফকির ১৭৭২ সালে (১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে (মতান্তরে ভাঁড়রা গ্রাম, কুমারখালী, কুষ্টিয়া) জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক। 
- বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই বাঙালি লালন সাঁই, লালন শাহ ও মহাত্মা লালন নামেও পরিচিত।
- তার গানের মাধ্যমেই উনিশ শতকে বাউল গান বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তাকে বাউল সম্রাট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৭৬৫.
বর্তমান বরিশাল জেলা প্রাচীন কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. রাঢ়
  2. চন্দ্রদ্বীপ
  3. সমতট
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
চন্দ্রদ্বীপ:
- প্রাচীন বাংলায় একটি ক্ষুদ্র জনপদের নাম হলো চন্দ্রদ্বীপ।
- বর্তমান বরিশাল জেলাই ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখণ্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড  বই। 
৬,৭৬৬.
বঙ্গবন্ধু সেতুতে যান চলাচল শুরু হয় কোন সালে?
  1. ১৯৯৮ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু সেতু ১৯৯৮ সালের জুনে উন্মুক্ত করা হয়। 
- এই সেতুর যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ের ভুয়াপুর এবং পশ্চিম পাড়ে সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করেছে।
 - এটি ১৯৯৮ সালে নির্মাণকালীন সময়ে পৃথিবীর ১১তম বৃহত্তম সেতু এবং বর্তমানে এটি দক্ষিণ এশিয়ার ৬ষ্ঠ বৃহত্তম সেতু। 
- এটি যমুনা নদীর উপর দিয়ে নির্মিত যা বাংলাদেশের প্রধান তিনটি সেতুর একটি এবং পানি প্রবাহের উপর ভিত্তি করে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম।
- বঙ্গবন্ধু সেতু যা বাংলাদেশের পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে কৌশলগত সেতুবন্ধন তৈরী করেছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
৬,৭৬৭.
জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ এর মূলভিত্তি ছিল -
  1. ক) পাকিস্তান জাতীয়তাবাদ
  2. খ) ভারতীয় জাতীয়তাবাদ
  3. গ) বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ
  4. ঘ) লাহোর প্রস্তাব
ব্যাখ্যা
জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব
• জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
• তবে মুসলিম লীগ সভাপতি এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ বা 'Two Nations Theory' র মূলকথা।
• জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ ছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাবের মূলভিত্তি। যদিও লাহোর প্রস্তাবে ‘পাকিস্তান’
কিংবা ‘দ্বিজাতি তত্ত্বের’ কথা উল্লেখ ছিল না।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৬৮.
সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানীর নাম কী ছিল?
  1. গৌড়
  2. সোনারগাঁও
  3. জাহাঙ্গীরনগর
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
• সোনারগাঁও - বাংলার প্রাচীন রাজধানী
- নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোগড়াপাড়া ক্রসিং থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার উত্তরে সোনারগাঁও অবস্থিত।
- সবুজ বন-বনানী আর অনুপম স্থাপত্যশৈলীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য়ের নান্দনিক ও নৈসর্গিক পরিবেশে ঘেরা বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- অন্য ধারণামতে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের মধ্যে শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সোনারগাঁও একটি গৌরবময় জনপদ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানী ছিল প্রথমে সোনারগাঁও (১৩৩৮-১৩৫২ খ্রি.)।
- পরে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় গৌড়ে (১৪৫০-১৫৬৫ খ্রি.)।
- সুলতানি আমলে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এবং সর্বশেষ  রাজধানী গৌড় ছিল। সে আলোকে গৌড়  উত্তর নেওয়া হয়েছে।


এছাড়াও,
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্য়ন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- সোনারগাঁও-এর আরেকটি নাম ছিল পানাম।
- পানাম নগরের নির্মিত ভবনগুলো ছোট লাল ইট দ্বারা তৈরী।
- ইমারতগুলো কোথাও একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন, আবার কোথাও সন্নিহিত।
- অধিকাংশ ভবনই আয়তাকার এবং উত্তর দক্ষিণে বিস্তৃত।দীর্ঘ একটি সড়কের উভয় পাশে দৃষ্টিনন্দন ভবন স্থাপত্যের মাধ্যমে পানামনগর গড়ে উঠেছিল।
- উভয় পাশে মোট ৫২টি পুরোনো বাড়ী এই ক্ষুদ্র নগরীর মূল আকর্ষণ।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া (লিংক)।
৬,৭৬৯.
মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী -
  1. তাজউদ্দীন আহমদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  4. ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
→ মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী - খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত (অস্থায়ী) রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি)।
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী: এএইচএম কামারুজ্জামান (আবুল হাসানাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান)।
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী।
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৬,৭৭০.
মুজিবনগর সরকার কখন শপথ গ্রহণ করে?
  1. ক) ১০ই এপ্রিল ১৯৭১
  2. খ) ১৪ই এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১৭ই এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১লা এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
৬,৭৭১.
বাঙালির জাতীয় ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. শাসনতন্ত্র আন্দোলন
  4. শিক্ষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
মুক্তি সংগ্রাম:
- বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
-ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- শাসনতন্ত্র আন্দোলন সংঘটিত হয়  ১৯৫৬ সালে।
- যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন সংঘটিত হয় ১৯৫৪ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৭২.
বাংলায় চিরস্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?
  1. কর্নওয়ালিস
  2. ক্লাইভ
  3. জন মেয়ার
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা:
- বাংলায় চিরস্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন লর্ড কর্নওয়ালিস।

উল্লেখ্য,
- গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং ‘একসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।
- কিন্তু এ দুটি বন্দোবস্ত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়নি।
- এমতাবস্থায় গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৭৯৩ সালে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক নতুন প্রথার প্রবর্তন করেন।
- ইতিহাসে এটি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' নামে পরিচিত।
- এটি ছিল ইংরেজদের একটি সাম্রাজ্যবাদী বিধিব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
- এক্ষেত্রে তারা অনেক সফলতা লাভ করলেও এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষক এমনকি অনেক সম্ভ্রান্ত বনেদি জমিদার সর্বশান্ত হয়ে পড়ে।
- অন্যদিকে নগদ টাকার মালিক ও পুঁজিপতি মহাজনরা রাতারাতি জমিদারে পরিণত হয়।
- নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয় ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [link]
৬,৭৭৩.
বহির্বিশ্বে মুজিবনগর সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে কাকে নিয়োগ করা হয়?
  1. বিচারপতি এস. এ. রহমান
  2. হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী
  3. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. বিচারপতি আবু সাদাত সায়েম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের বিশেষ দূত:
- ১৯৭০-৭১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য দ্বারা মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য ।
- মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম) বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে।
- এসব মিশন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে।
- এই সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমতসৃষ্টি ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৭৪.
উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কার শাসনামলে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড মেয়ো
  3. লর্ড রিপন 
  4. লর্ড  ক্যানিং
ব্যাখ্যা

• লর্ড মেয়ো:
- লর্ড মেয়ো ১৮৬৯ - ৭২ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- তিনি মেয়ো-র পঞ্চম আর্ল-এর পুত্র।
- পিতার উত্তরাধিকারী ষষ্ঠ আর্ল ভারতে আসেন লর্ড মেয়ো হিসেবে এবং তাঁর অব্যবহিত পূর্বসূরিদের অনুসৃত অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অব্যাহত রাখেন।

উল্লেখ্য,
- ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি লর্ড মেয়োর শাসনামলে অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৮৭২ সালে লর্ড মেয়োর উদ্যোগে এই প্রথম অ-সমলয় আদমশুমারি পরিচালিত হয়েছিল।
- তিনি ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৭৫.
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে? (ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)
  1. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
  2. ওবায়দুল হাসান
  3. হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
  4. মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন
ব্যাখ্যা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়: ৮ আগস্ট, ২০২৪ সালে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- শপথ গ্রহণের স্থান: বঙ্গভবন।
- মোট উপদেষ্টা: ২১ জন।
- নারী উপদেষ্টা: ৪ জন।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও পত্রিকা রিপোর্ট।
৬,৭৭৬.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন তারিখে বুদ্ধিজীবীদের ওপর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়?
  1. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
  3. ২৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ড:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
- ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুই শতেরও বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।

উল্লেখ্য,
- ২৫ মার্চ গনহত্যা চালায় পাকিস্তানী বাহিনী।
- যা অপারেসন সার্চ লাইট নামে অভিযান পরিচালনা করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৬,৭৭৭.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) হুয়ামুন আজাদ
  3. গ) আলতাফ মাহমুদ
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস:

- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক ।
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হান এর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৭৮.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচনী ইশতেহারে কয়টি দফা ছিল? 
  1. ১১টি 
  2. ২১ টি
  3. ২৬টি
  4. ৩১টি 
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৭৯.
হান্টার কমিশন-এর প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. শিক্ষা সংস্কার
  2. দৈনিক ৮ ঘন্টা কর্মঘন্টা নির্ধারণ
  3. রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি
  4. প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

⇒ হান্টার কমিশন গঠন:
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৮০.
লুসাই নৃ-গোষ্ঠী কোন ধর্মাবলম্বী?
  1. হিন্দু
  2. খ্রিস্টান
  3. মুসলিম
  4. বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা
লুসাই:
- লুসাই নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে: চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব), মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে), পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৮১.
‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’ গানটির গীতিকার কে?
  1. খান আতাউর রহমান
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আব্দুল গফফার চৌধুরী
  4. নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
• খান আতাউর রহমান:
- তিনি গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিচালক ও অভিনেতা।
- ১৯২৮ সালের ১১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- চলচ্চিত্রের সঙ্গে খান আতাউর যুক্ত হন জং কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে।
- 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রের ‘এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে’ কিংবা ‘এ কি সোনার আলোয়’, ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’ এর মত জনপ্রিয় গানগুলো খান আতাউরের লেখা।
- খান আতাউর পরিচালনা শুরু করেন ১৯৬৩ সালে ‘অনেক দিনের চেনা’ চলচ্চিত্র দিয়ে।
- ১৯৯৭ সালে সর্বশেষ তিনি ‘এখনো অনেক রাত’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
- একই বছর ১২ই ডিসেম্বর চলচ্চিত্রটি মুক্তির দিনও ধার্য করেছিলেন।
- কিন্তু তার আগেই ১ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তার পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ‘রাজা সন্ন্যাসী’,
- ‘আবার তোরা মানুষ হ’,
- ‘দিন যায় কথা থাকে’,
- ‘আরশি নগর’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা নিউজ টুয়েন্টি ফোর ও প্রথম আলো।
৬,৭৮২.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন সম্রাটের অনুমতি নিয়ে প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. আওরঙ্গজেব 
  2. মুর্শিদকুলি খাঁ
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. শাহবাজ খান
ব্যাখ্যা

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।
- এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
          ii) বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৮৩.
শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা দাবি ঘোষণা করেন কত তারিখে?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  2. ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
  3. ৬ এপ্রিল, ১৯৬৬
  4. ৭ জুন, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয়দফা: 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা রুহুল কুদ্দুস।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।

উল্লেখ্য,
- প্রতিবছর ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা পালিত হয়।
- ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন আওয়ামী লীগের ডাকে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় হরতাল চলাকালে পুলিশ ও ইপিআর নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালায়।
- এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, মুজিবুল হকসহ অনেকে শহীদ হন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii)  ৭ জুন ২০২৩, প্রথম আলো।
৬,৭৮৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৭
  3. গ) ১১
  4. ঘ) ১৪
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে। ১১ এপ্রিল তা পুর্নগঠন করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৬,৭৮৫.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হয়-
  1. ক) ১৯৯৬ সালে
  2. খ) ২০২০ সালে
  3. গ) ২০২১ সালে
  4. ঘ) ২০২২ সালে
ব্যাখ্যা
- ২০২১ সালে বাংলাদেশর স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে সুবর্ণজয়্তী উদযাপিত হচ্ছে।
- ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলো। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ হানাদার মুক্ত হয়।
- ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তিতে রজতজয়ন্তী পালিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া)
৬,৭৮৬.
২০০০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বের মোট কতটি দেশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে?
  1. ১৮৫টি
  2. ১৮৬টি
  3. ১৮৭টি
  4. ১৮৮টি
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস:

- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো বাংলাদেশের বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভাষার জন্য আত্মত্যাগকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষনা করে।
- প্রতিবছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- ২০০০ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি এ বিশেষ দিবসটিকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে প্রথমবারের মতো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে।
- ইউনেস্কোর পর জাতিসংঘও ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক ইনকিলাব, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭।
৬,৭৮৭.
শাহ আমানত বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম-এর ICAO ID কোড কোনটি?
  1. CTEG
  2. SEAC
  3. CSAE
  4. VGEG
ব্যাখ্যা
শাহ আমানত বিমানবন্দর:
- ১৯৪০ সালে চট্টগ্রাম বিমানঘাঁটি নির্মাণ করা হয়।
- স্বাধীনতার পর এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচলের সাথে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে পরিণত হয়।
- এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর।
- বিমানবন্দরটি বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত হয়।
- ১৯৯০ সালে এটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে ওঠে।
- এটি এম এ হান্নান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম নামে যাত্রা শুরু করে।
- ২০০৫ সালের এপ্রিলে এর নাম পরিবর্তন করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম করা হয়।
• এর ICAO ID কোড - VGEG.
• এর IATA কোড - CGP.
• এর Latitude - 221525.28N.
• এর Longitude - 0914919.95E.

তথ্যসূত্র - শাহ আমানত বিমানবন্দর ওয়েবসাইট।
৬,৭৮৮.
ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ কাকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' বলে উল্লেখ করেছেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি
  4. সিকান্দার শাহ
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: 
- ইলিয়াস শাহ ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম বাংলার অধিপতি হয়ে ফিরোজাবাদে নিজের অবস্থানকে সুসংহত করে রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন।
- তিনি প্রথমে সাতগাঁও-এর দিকে রাজ্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করেন।
- এজন্য তিনি ১৩৪৬ সালের মধ্যে সাতগাঁও সহ সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলায় নিজ আধিপত্য বিস্তার করেন।
- ইলিয়াস শাহ তাঁর রাজ্যের পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত ত্রিভৃত অধিকার করেন।
-তিনি ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপালে অভিযান করে ইলিয়াস শাহ অতঃপর পূর্ব বাংলায় একটি সাফল্যজনক বিজয়াভিযান প্রেরণ করেন।
- ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভকরেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ" এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৮৯.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কয়টি আসন লাভ করে?
  1. ১৬৭টি
  2. ১৯৩টি
  3. ২২৩টি
  4. ২৬৭টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে মূলত ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'হারিকেন'।
- নির্বাচনে মোট আসন ছিল ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৯০.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় রাজসাক্ষীসহ কতজন সাক্ষী ছিলেন?
  1. ২১৫ জন
  2. ২২১ জন
  3. ২২৭ জন
  4. ২৩৪ জন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:

- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- অন্যদিকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৯১.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  3. মোজাফফর আহমদ
  4. তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৯২.
মুক্তিযুদ্ধে কোন বীরশ্রেষ্ঠ আগস্ট মাসে শহীদ হন?
  1. ক) সিপাহী হামিদুর রহমান
  2. খ) ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
  3. গ) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
  4. ঘ) ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠদের শাহাদাতের তারিখ:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ৮ এপ্রিল ১৯৭১
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ১৮ এপ্রিল ১৯৭১
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : ২০ আগস্ট ১৯৭১
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ২৮ অক্টোবর ১৯৭১
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন : ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১।

(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
৬,৭৯৩.
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন কে?
  1. টিক্কা খান
  2. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন: 
- ৭ই মার্চের ভাষণের পরদিন থেকে সারা দেশে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়ে যায়।
- দেশের স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, কল-কারখানা সব বন্ধ হয়ে যায়।
- বিক্ষুব্ধ জনতা পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ করতে থাকে।
- খাজনা-ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়।
- এমন পরিস্থিতিতে ইয়াহিয়া খান টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিয়োগ করেন।
- ১০ই মার্চ সরকার এক সামরিক আদেশ জারি করে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
- কিন্তু এর পরও পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের জনগণ অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখে।
- ১৩ই মার্চ সরকার পুনরায় সামরিক আইন জারি করে।
- ১৪ই মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো একটি অবাস্তব প্রস্তাবের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ফর্মুলা দেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,৭৯৪.
বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস কোন তারিখে পালিত হয়? 
  1. ১২ মে
  2. ১৭ সেপ্টেম্বর
  3. ১৮ জুন
  4. ২১ আগষ্ট
ব্যাখ্যা

শিক্ষা দিবস:
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য একটি কমিশন গঠনের ঘোষণা দেন,যা ৫ জানুয়ারি ১৯৫৯ সালে কার্যকর হয়। 
- কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষা বিভাগের সচিব এস এম শরীফ।
- পূর্ব পাকিস্তানের চারজন সদস্যসহ মোট ১১ জনের এই কমিশনকে জাতীয় শিক্ষা সংক্রান্ত কমিশন বা “শরিফ কমিশন” বলা হয়।
- ২৬ আগস্ট ১৯৫৯ কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রতিবেদনে শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এবং বলা হয় যে জনগণের ঐতিহ্যগত শিক্ষা চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতে হবে। 
- এছাড়াও বাংলা বর্ণমালার পরিবর্তে রোমান বর্ণমালা, উর্দু ভাষা প্রয়োগ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ইংরেজি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়া হয়।
- প্রতিবেদনের বিরোধিতায় পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে।
- ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি শাসন ও শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুল এবং অনেক অজ্ঞাতনামা ছাত্র।
- তাদের স্মরণে ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা- নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক)।

৬,৭৯৫.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে মাঝখানে কী রয়েছে?
  1. শাপলা
  2. জাতীয় পতাকা
  3. বাংলাদেশের মানচিত্র
  4. তারকা
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে রয়েছে লাল বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপরের দিকে লেখা আছে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ', নিচে লেখা 'সরকার' এবং বৃত্তের পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- এ মনোগ্রামের ডিজাইনার এ এন এ সাহা।

উৎস: বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট।

৬,৭৯৬.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. খাজা নাজিমউদ্দীন
  2. লিয়াকত আলী খান
  3. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. ইস্কান্দর মির্জা
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন: 
- ভাষা আন্দোলন ছিল বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে সংগঠিত এক গণআন্দোলন।
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু ঘোষণার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে দাবি ওঠে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করার।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' শ্লোগানে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ গুলি চালায়, যার ফলে রফিক, জববার, বরকতসহ অনেকে শহীদ হন।
- আন্দোলন আরও তীব্র হয় এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগকে স্মরণ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। 

উল্লেখ্য, 
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দিন।
- ১৯৫২ সালে গভর্নর ছিলেন গোলাম মুহাম্মদ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৬,৭৯৭.
সাইমন ড্রিং ১৯৭১ সালে কোন পত্রিকার প্রতিবেদক হিসেবে বাংলাদেশে আসেন?
  1. দ্য টাইমস
  2. দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ
  3. দ্য গার্ডিয়ান
  4. দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং:
- সাইমন ড্রিং (জন্ম ১৯৪৫) ব্রিটিশ সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক ও পরিচালক এবং ২৫শে মার্চ বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশী সংবাদদাতা।
- তিনি লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল, দ্য সানডে টাইমস, নিউজউইক, বিবিসি টেলিভিশন রেডিও নিউজ, রয়টার প্রভৃতি গণমাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন।
- ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে চালুকৃত প্রথম বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশন-এর তিনি যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। 

⇒ দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ কম্বোডিয়া থেকে ঢাকায় আসেন সাইমন ড্রিং।
- ১৯৭১ সালের ২৫মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করার আগে ঢাকায় অবস্থানরত প্রায় অর্ধশত বিদেশি সাংবাদিককে আটকে ফেলে তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। তাদের হোটেল থেকে সরাসরি বিমানে তুলে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় যাতে গণহত্যার কোনো খবর সংগ্রহ করতে না পারে বিশ্ব গণমাধ্যম। তাদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং। পাকিস্তানি সামরিক আইন না মেনে তিনি হোটেলে লুকিয়ে পড়েন। শ্বাসরুদ্ধকর ৩২ ঘণ্টা সময় কাটে হোটেলের লবি, ছাদ, বার, কিচেনের মত জায়গায়। পরে তিনি ঘুরে ঘুরে প্রত্যক্ষ করেন গণহত্যার বাস্তব চিত্র। ২৭ মার্চ কারফিউ উঠে গেলে সায়মন ড্রিং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকাসহ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘুরে দেখেন।
- নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম খবর প্রকাশ করেন ৩০ মার্চ ১৯৭১, ডেইলি টেলিগ্রাফে।
- কলকাতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের খবর সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিতেন লণ্ডনের টেলিগ্রাফ পত্রিকায়।
- ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর লন্ডনে ফিরে গেলেও ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত জেনে আবার তিনি ঢাকায় আসেন।
- একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই ব্রিটিশ সাংবাদিককে ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননায় ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা।
iii) সংগ্রামের নোটবুক।

৬,৭৯৮.
মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন -
  1. ক) এ কে খন্দকার
  2. খ) কর্নেল এম এ রব
  3. গ) এম এ জি ওসমানী
  4. ঘ) মেজর জামিল
ব্যাখ্যা
• মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
• মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
• মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৯৯.
বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকেট এর ডিজাইনার কে ছিলেন?
  1. ক) নিতুন কুন্ডু
  2. খ) কাইয়ুম চৌধুরী
  3. গ) বিমান মল্লিক
  4. ঘ) কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকার বেশ কয়েকটি ফিল্ড পোস্ট অফিস চালু করে এবং মুক্তাঞ্চলের ডাকঘরসমূহের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর পরিবহণ ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডাকবিভাগকে ন্যস্ত করে।
ডাকটিকিট ডিজাইনার বিমান মল্লিক আটটি ডাকটিকিটের ডিজাইন করেন এবং তা ১৯৭১ সনের জুনে মুজিবনগর সরকারের কাছে পাঠান এবং সেগুলি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।

৬,৮০০.
আসাদ গেট কোন স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়?
  1. ক) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  4. ঘ) ছয়দফা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
আসাদ গেট ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়।

আসাদ গেট:

- শহীদ আসাদ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
- এভাবে ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে হয় ‘আসাদ এভিনিউ’
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।