বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৬৪ / ১২৪ · ৬,৩০১৬,৪০০ / ১২,৪২১

৬,৩০১.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে কোন স্বৈরশাসকের পতন ঘটে? 
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. আইয়ুব খান
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. জেনারেল নওয়াজ শরীফ
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন:
- ১৯৬৯ সালে গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রভাব: ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন
- এর পূর্বে তিনি 'ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা' তুলে নেন।
- জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয় ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে।
- গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ববাংলার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনার বিকাশ ঘটে।

উল্লেখ্য,
⇒ ১৯৫৮ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন ও পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।
- ইস্কান্দার মির্জা জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।
- এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট মির্জাকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- এর পরের দিন আইয়ুব খান এক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা পাকাপাকি করার জন্য ১৩ জন জেনারেলকে বরখাস্ত করেন এবং নিজেকে ভূষিত করেন ফিল্ড মার্শাল উপাধিতে।
- তা ছাড়া রাজধানী করাচি থেকে প্রথমে স্থানাস্তর করেন রাওয়ালপিন্ডিতে, পরে ইসলামাবাদে।
- জেনারেল আইয়ুব ১৯৫৯ সালে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে নতুন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৮-১৯৬৯ প্রায় ১০ বছর আইয়ুব খানের সামরিক শাসন স্থায়ী হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৩০২.
ইরানের কবি হাফিজের সাথে পত্রালাপ হয়েছিল বাংলার কোন সুলতানের?
  1. ক) গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ
  2. খ) আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
  3. গ) ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ
  4. ঘ) ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিজে বিদ্বান ও কবি ছিলেন। তিনি বিদ্বান লোকদের খুব সমাদর করতেন। মাঝে মাঝে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় কবিতা লিখতেন। পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ ছিল। একবার তিনি হাফিজের নিকট কবিতার একটি চরণ লিখে পাঠান এবং কবিতাটিকে পূর্ণ করার জন্য কবিকে অনুরোধ জানান। তিনি তাঁকে বাংলায় আসার আমন্ত্রণও জানান। হাফিজ দ্বিতীয় চরণটি রচনা করে কবিতাটি পূর্ণ করে পাঠান। তিনি সুলতানের নিকট একটি গজলও লিখে পাঠান। গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ বাংলা সাহিত্যের উন্নতির ক্ষেত্রেও যথেষ্ট অবদান রাখেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনা করেন। সম্ভবত সুলতান কৃত্তিবাসকেও বাংলায় রামায়ণ লেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
Source: Banglapedia
৬,৩০৩.
বাংলার শেষ স্বাধীন সুলতান কে ছিলেন?
  1. ক) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. খ) আলীবর্দী খাঁ
  3. গ) বৈরাম খাঁ
  4. ঘ) গিয়াসউদ্দীন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর :  গিয়াসউদ্দীন মাহমুদ শাহ 

গিয়াসউদ্দীন মাহমুদ শাহ: 
- গিয়াসউদ্দীন মাহমুদ শাহ (১৫৩৩-১৫৩৮)  বাংলার হোসেন শাহী বংশের শেষ সুলতান।
- তিনি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র সুলতান আলাউদ্দীন ফিরুজকে হত্যা করে ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং পাঁচ বছর শাসন করেন।
- ১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁওয়ে যে স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেছিলেন ১৫৩৮ সালে গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটে।
- ১৫৩৮ সালে শেরশাহ গৌড় দখল করে বাংলায় আফগানি শাসনের সূত্রপাত করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৩০৪.
মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ দেয় কে?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি
  2. খ) জাতীয় সংসদ
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) সুপ্রিমকোর্ট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৬ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদেরকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগদানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারো পরামর্শ গ্রহণ না করলেও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ গ্রহণ করে থাকেন।

মন্ত্রীসভা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাধীন থাকে। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ, দপ্তর বন্টন, নিয়োগ ও অব্যাহতি প্রভৃতি প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে মন্ত্রিসভাও ভেঙে যায়।

মন্ত্রিসভার সদস্যগণ একক ও যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকেন। মন্ত্রিসভার সদস্যগণ জাতীয় সংসদের সদস্যদের থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে মন্ত্রিসভার এক-দশমাংশ সদস্য সাংসদ নয় এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া যায়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৩০৫.
যুক্তফ্রন্ট এর ২১ দফার কত দফায় ‘পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন‘ এর কথা হয়েছে ?
  1. ক) ১ দফায়
  2. খ) ৯ দফায়
  3. গ) ১৯ দফায়
  4. ঘ) ১৫ দফায়
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের ইশতেহারের ২১ দফার গুরুত্বপূর্ণ দফা: 
• ১ নং দফা:  রাষ্ট্রভাষা বাংলা
 বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে।
• ৯ নং দফা: অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা ।
 দেশের সর্বত্র অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন এবং শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন ও ভাতার ব্যবস্থা।
• ১৫ নং দফা : বিচার বিভাগের স্বাধীনতা 
বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা।
• ১৬ নং দফা : বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা  
 বর্ধমান হাউসের পরিবর্তে কম বিলাসের বাড়িতে যুক্তফ্রন্টের প্রধান মন্ত্রীর অবস্থান করা এবং বর্ধমান হাউসকে প্রথমে ছাত্রাবাস ও পরে বাংলা ভাষার গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭ নং দফা: শহিদ মিনার নির্মাণ  
 রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ ঘটনাস্থলে শহিদ মিনার নির্মাণ করা এবং শহিদদের পরিবারবর্গকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
 • ১৯ নং দফা : পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন
 লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ববঙ্গের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং দেশরক্ষা, পররাষ্ট্র ও মূদ্রা ব্যতীত সকল বিষয় পূর্ববঙ্গ সরকারের অধীনে আনয়ন, দেশরক্ষা ক্ষেত্রে স্থলবাহিনীর হেডকোয়ার্টার পশ্চিম পাকিস্তানে এবং নৌবাহিনীর হেডকোয়ার্টার পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপন এবং পূর্ব পাকিস্তানে অস্ত্রনির্মাণ কারখানা স্থাপন ও আনসার বাহিনীকে সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত করা।

SOURCE: পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
৬,৩০৬.
'অলিভ টারটল' বাংলাদেশের কোন দ্বীপে পাওয়া যায়?
  1. সেন্টমার্টিন
  2. রাঙ্গাবালি
  3. চর আলেকজান্ডার
  4. ছেড়াদ্বীপ
ব্যাখ্যা
◉ অলিভ টারটল' বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপে পাওয়া যায়।

অলিভ টারটল:
- অলিভ টারটল হলো জলপাই রঙের কচ্ছপ।
- এই প্রজাতির কচ্ছপ প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগর এলাকার উষ্ণ পানিতে বাস করে।
- বাংলাদেশে এই প্রজাতির কচ্ছপের প্রধান আবাসস্থল হলো সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য দ্বীপপুঞ্জ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।
- অলিভ টারটল' বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপে পাওয়া যায়।
- দেশের একমাত্র এই প্রবাল দ্বীপ সামুদ্রিক কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্রও।
- বঙ্গোপসাগর উপকূল থেকে বিপন্নপ্রায় এসব কাছিম এখন বিলুপ্তির পথে।

উৎস: i) Britannica.
         ii) ৫ জানুয়ারি ২০১৯, ইত্তেফাক।
৬,৩০৭.
বক্সারের যুদ্ধ সংগঠিত হয় কোথায়?
  1. ক) উড়িষ্যা
  2. খ) বাংলা
  3. গ) বিহার
  4. ঘ) ঝাড়খন্ড
ব্যাখ্যা
- বক্সারের যুদ্ধ সংগঠিত হয় বিহারে।

বক্সারের যুদ্ধ:
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে। 
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়। মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,৩০৮.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. শামসুল হক
  2. গাজীউল হক
  3. আব্দুল মতিন
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলি:
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা জমায়েত হতে থাকে।
- সরকার ১৪৪ ধারা জারি করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা দুজন দুজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে থাকে।
- বেলা ১১ টায় ছাত্রসভা শুরু হয়। সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- এই বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক। 
- বক্তব্য রাখেন শামসুল হক, মোহাম্মদ তোয়াহা, কাজী গোলাম মাহবুব, খালেক নেওয়াজ ও আবদুল মতিন।
-  সভাপতি ১০ জন করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের নির্দেশ দেন।
- পুলিশ মিছিলকারীদের উপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে ছাত্ররা মেডিকেল হোস্টেলের প্রধান ফটকের কাছে জমায়েত হন।
- মেডিকেল হোস্টেলের নিকটেই ছিল জগন্নাথ হলের অডিটোরিয়াম যেখানে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সভা বসত।
- আন্দোলনকারী ছাত্রদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববাংলা আইন পরিষদে যোগদানকারী সদস্যদের কাছে বাংলা ভাষার দাবির কথা পৌঁছে দেয়া যেন তাঁরা অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিষয়ে সুপারিশ গ্রহণ করেন।
- ছাত্ররা দলবদ্ধ হয়ে শ্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ বাহিনী এসে তাদের তাড়া করে এবং ছাত্রদের উপর কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে ছাত্ররা ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে।
- এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন। ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দৈনিক ইত্তেফাক, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
৬,৩০৯.
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) ১৯৫৯ সালে
  2. খ) ১৯৬২ সালে
  3. গ) ১৯৬৩ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হিসেবে পরিচিত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের বৈরুত শহরে মারা যান।
তিনি ১৮৯২ সালে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৬-৪৭ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬-৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া বিভিন্ন সময় সময় তিনি ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬,৩১০.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নয়? 
  1. আবার তোরা মানুষ হ
  2. ধীরে বহে মেঘনা
  3. নদীর নাম মধুমতি
  4. কখনো আসেনি
ব্যাখ্যা

- কখনো আসেনি ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি সামাজিক চলচ্চিত্র।
​- চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন জহির রায়হান।
​- পরিচালক হিসেবে এটিই জহির রায়হানের প্রথম চলচ্চিত্র।
- তার কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা। 

​অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র,
​- আবার তোরা মানুষ হ : চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
​- ধীরে বহে মেঘনা: পরিচালনা করেছেন আলমগীর কবির।
- নদীর নাম মধুমতি: তানভীর মোকাম্মেল।

​​উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ফিল্ম আর্কাইভ।

৬,৩১১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামিকে গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. সার্জেন্ট শামসুল হককে
  2. সার্জেন্ট জহুরুল হককে
  3. মাহবুব উদ্দিন চৌধুরীকে
  4. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনকে
ব্যাখ্যা
⇒ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণ অভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
 
তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩১২.
পূর্ব পাকিস্তানে 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি' গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় -
  1. ১ মার্চ, ১৯৭১
  2. ২ মার্চ, ১৯৭১
  3. ৩ মার্চ, ১৯৭১
  4. ৭ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
১৯৭১ এর অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সরকার গঠনে মত দিতে অস্বীকার করেন।
- জাতীয় সংসদের নির্ধারিত অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ১ মার্চ, ১৯৭১ দেশব্যাপী অসহযোগের আহবান জানান।
- সর্বস্তরের জনগণ একবাক্যে বঙ্গবন্ধুর এই আহবানে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের সমস্ত প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অচল করে তোলে।
- ২রা মার্চ ১৯৭১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা প্রদর্শিত হয়।
- ৩রা মার্চ ১৯৭১ এ রেসকোর্স ময়দানে 'স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ'-এর পক্ষ থেকে 'স্বাধীনতার ইশতেহার' পাঠ করা হয়।
- এই ইশতেহারে 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি' গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তান সামরিক বাহিনী পরিচালিত সরকার জাতীয় পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে কোন সমাধান না দেওয়ায়, ৭ই মার্চ ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু রহমান রেসকোর্স ময়দানে সমগ্র বাঙালি জাতিকে এক দিকনির্দেশনী ভাষণে সর্বপ্রকার পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত হতে আহবান জানান।
- এই ভাষণে তিনি বলেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।"
- ২রা মার্চ ১৯৭১ থেকে পূর্ব বাংলার সমস্ত প্রশাসনিক কাজকর্ম চলতে থাকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে।
- ২৩শে মার্চ ১৯৭১ সকালে পল্টন ময়দানে জয় বাংলা বাহিনীর এক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
- অনুষ্ঠান শেষে এই বাহিনীর নেতৃবৃন্দ মিছিল সহকারে বাংলাদেশের পতাকাসহ বঙ্গবন্ধু ভবনে প্রবেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়িতে এই পতাকা উত্তোলন করেন।
- ২৩শে মার্চ, ১৯৭১ পূর্ব বাংলার প্রতিটি শহরে পাকিস্তান দিবসের অনুষ্ঠান বর্জিত হয় এবং পাকিস্তানের পতাকার পরিবর্তে বাংলাদেশের পতাকা উড়তে দেখা যায়।
- ২৪শে মার্চ ১৯৭১ সামরিক শাসকগণ হেলিকপ্টার যোগে সমস্ত সেনানিবাসে এই আক্রমণের পরিকল্পনা হস্তান্তর করে।
- ২৫শে মার্চ ১৯৭১ রাত ১১টায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিত আক্রমণ করে।
- সেনাবাহিনীর হাতে বঙ্গবন্ধু রাত ১২টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডি বাসভবন থেকে বন্দী হবার পূর্বে তিনি বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করেন। 

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬,৩১৩.
মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা দল 'ক্র্যাক প্লাটুন' কোন শহরে সক্রিয় ছিল?
  1. চট্রগ্রাম
  2. খুলনা
  3. ঢাকা
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
• ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ক্র্যাক প্লাটুন দলটি গঠন করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন ২নং সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশাররফ, বীরউত্তম এবং এটিএম হায়দার বীরউত্তম।
- এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ২নং সেক্টরের অধীন একটি স্বতন্ত্র গেরিলা দল ছিল যারা আসলে গণবাহিনীর অংশ বলে পরিচিত।

 - ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকা শহরে ছোটো বড় মিলিয়ে মোট ৮২টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ।
৬,৩১৪.
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ কোন তারিখে ইউনেস্কোর “মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল” রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ২০ অক্টোবর, ২০১৭
  2. ২৫ অক্টোবর, ২০১৭
  3. ৩১ অক্টোবর, ২০১৭
  4. ৩০ অক্টোবর, ২০১৭
ব্যাখ্যা
- ৩০ অক্টোবর ২০১৭ খিস্টাব্দে ইউনেস্কো কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কর্তৃক মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্তিকরণে ওয়ার্ল্ড ডেমোক্রেসি হেরিটেজের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনন্য এবং অসাধারণ এই কারণে যে, এই ভাষণ সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একতাবদ্ধ করেছিল।

Source: Jugantor
৬,৩১৫.
মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা দল 'ক্র্যাক প্লাটুন' কোন শহরে সক্রিয় ছিল?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) চট্রগ্রাম
  3. গ) খুলনা
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
• ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ক্র্যাক প্লাটুন দলটি গঠন করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন ২নং সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশাররফ, বীরউত্তম এবং এটিএম হায়দার বীরউত্তম।
- এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ২নং সেক্টরের অধীন একটি স্বতন্ত্র গেরিলা দল ছিল যারা আসলে গণবাহিনীর অংশ বলে পরিচিত।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ।
৬,৩১৬.
মৌলিক গণতন্ত্রের স্তর ছিল -
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:
- জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হয়েই নিজের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভিত্তি সুদৃঢ় ও সুনিশ্চিত করার জন্য তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে প্রধান পদক্ষেপ হলো 'মৌলিক গণতন্ত্র' নামে এক নতুন পদ্ধতি চালু।
- তাঁর মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশে ৪ স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন গড়ে তোলার কথা বলা হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের ৪০ হাজার এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ৪০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে বিধান করা হয়।

[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুকে মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু  পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে  মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬,৩১৭.
চৌসার যুদ্ধে কে পরাজিত হয়েছিলেন?
  1. শেরশাহ
  2. সম্রাট হুমায়ুন
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট বাবর
ব্যাখ্যা

চৌসার যুদ্ধ (১৫৩৯): 
- সম্রাট হুমায়ুন গৌড় পরিত্যাগ করার পূর্বে জাহাঙ্গীর কুলী বেগকে বাংলার শাসনভার অর্পণ করেন।
- বক্সারের নিকটবর্তী চৌসা নামক স্থানে শেরখান ও তাঁর আফগান অনুচরেরা সম্রাট হুমায়ুনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন চৌসায় উভয়পক্ষের মধ্যে এক তীব্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে চৌসার যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এই যুদ্ধে হুমায়ুন শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়।
- শেরখানের নেতৃত্বে আফগান বাহিনী মুঘল বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
- চৌসার যুদ্ধে শের খানের জয়লাভ ভারতীয় উপমহাদেশে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- কেননা এর ফলে শের খানের রাজ্য পশ্চিম দিকে কনৌজ হতে পূর্বে আসাম ও চট্টগ্রাম এবং উত্তর দিকে রোটাস হতে দক্ষিণ দিকে বীরভূম পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে।
- এই যুদ্ধের পর শেরখান শেরশাহ উপাধি ধারণ করেন এবং নিজ নামে মুদ্রা প্রচলন ও পাঠের নির্দেশ প্রদান করেন।
- পক্ষান্তরে এই যুদ্ধে হুমায়ুনের পরাজয়ের মাধ্যমে মুঘলদের সামরিক ও কূটনৈতিক দুর্বলতা প্রস্ফুটিত হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩১৮.
বঙ্গবন্ধুর 'স্বাধীনতার ঘোষণা' চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম কে প্রচার করেন?
  1. ক) এম এ হান্নান
  2. খ) হায়দার আলী
  3. গ) ফজলুল হক
  4. ঘ) আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
• স্বাধীনতার ঘোষণা:
- গ্রেফতার হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
ঘোষণাটি ইংরেজিতে ছিলো যেন বিশ্ববাসী বুঝতে পারে।
- স্বাধীনতার এ ঘোষণা বাংলাদেশের সকল স্থানে তদানীন্তন ইপিআর এর ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে প্রচার করা হয়৷
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্র থেকে একবার এবং সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩১৯.
Who was the last Mughal Emperor?
  1. Bahadur Shah
  2. Humayun
  3. Shahjahan
  4. Akbar
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ:
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন সর্বশেষ মুঘল সম্রাট।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মুঘল বংশের পতনের যুগ বলা হয়। 
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩২০.
ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. জেনারেল ব্যামফিল্ড ফুলার
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. স্যার চার্লস স্টুয়ার্ট বেইলি
ব্যাখ্যা

- লর্ড মাউন্টব্যাটেন তিনি ভারতের শেষ ভাইসরয়।

• ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় / গভর্নর:
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গভর্নর: লর্ড ক্লাইভ।
- শেষ গভর্নর: লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
- প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিল- লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
-শেষ গভর্নর জেনারেল: লর্ড ক্যানিং।
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয়: লর্ড ক্যানিং।
- শেষ ভাইসরয়: লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
- লর্ড লিটন, বাংলার গভর্নর (১৯২২-১৯২৭) এবং স্বল্প সময়ের জন্য ভারতের অস্থায়ী ভাইসরয়।
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের ক্রমবিকাশের ক্ষেত্রে লর্ড রিপন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

এছাড়াও,
- পূর্ব বাংলার ও আসামের প্রথম লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্যার জেনারেল ব্যামফিল্ড ফুলার।
- পূর্ব বাংলার ও আসামের শেষ লেফটেন্যান্ট জেনারেল- স্যার চার্লস স্টুয়ার্ট বেইলি।

উৎস: ইতিহাস, (প্রথম পত্র) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩২১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কোন প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়?
  1. ক) আলোর মিছিল
  2. খ) একাত্তরের যীশু
  3. গ) ইনোসেন্ট মিলিয়নস
  4. ঘ) হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কলকাতায় মোট চারটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়।
এগুলো হলো:
- স্টপ জেনোসাইড (জহির রায়হান)
- এ স্টেট ইজ বর্ন (জহির রায়হান)
- লিবারেশন ফাইটার্স (আলমগীর কবির)
- ইনোসেন্ট মিলিয়নস (বাবুল চৌধুরী)।

পাকিস্তানী বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যাকে বিশ্বে তুলে ধরা এসব চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিলো। জহির রায়হান এই চারটি চলচ্চিত্রের নামকরণ করেছিলেন জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র হিসেবে।

অন্যদিকে,

- একাত্তরের যীশু : ১৯৯৩ সালে
- হাঙর নদী গ্রেনেড : ১৯৯৭ সালে
- আলোর মিছিল : ১৯৭৪।

(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)
৬,৩২২.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণ দলিলে কে স্বাক্ষর করে?
  1. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  2. মেজর জেনারেল রাও ফরমান
  3. কর্নেল ওসমানী
  4. লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ কে নিয়াজী
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য,
- ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল এ কে নিয়াজিকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান।
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি ও প্রথম আলো।

৬,৩২৩.
ময়মনসিংহ কত নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ৫ নং সেক্টর
  2. ৭ নং সেক্টর
  3. ৯ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১১ নং সেক্টর:  
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের।
- মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়।
- মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।
- এই সেক্টরে প্রায় ২৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেছে।
- এই সেক্টরে আটটি সাব-সেক্টর।  
- এই সেক্টরে ব্যাপক গেরিলা অপারেশন পরিচালিত হয়।
- টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী তার জেলায় ১৬০০০ গেরিলা যোদ্ধা সংগঠিত করেন এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৩২৪.
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা সাইমন ড্রিং কোন পত্রিকায় বাংলাদেশের গণহত্যার প্রতিবেদন প্রকাশ করেন?   
  1. ডেইলি টেলিগ্রাফ
  2. ডেইলি মেইল
  3. নিউজ উইকস
  4. রয়টার্স
ব্যাখ্যা

• অপারেশন সার্চলাইট ও সাইমন ড্রিং:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা চালায়।
- ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এ গোপনে অবস্থান করে এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
- পরে ৩০ মার্চ, ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'ট্যাংকস ক্রাশ রিভোল্ড ইন পাকিস্তান' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাকবাহিনীর এর বর্বরতা বহির্বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- ২০২১ সালের ১৬ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা।
iii) সংগ্রামের নোটবুক।

৬,৩২৫.
সুন্দরবন কোন ধরনের বন?
  1. ক) রেইন
  2. খ) ম্যানগ্রোভ
  3. গ) কনিয়ার
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ বন:

- সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বন।
- ম্যানগ্রোভ বলতে উপকূলীয় বনভূমিকে বুঝায়।
- ম্যানগ্রোভ বলতে সাধারণভাবে জোয়ারভাটায় প্লাবিত বিস্তির্ণ জলাভূমিকে বোঝায়।
- ম্যানগ্রোভ বন জোয়ারভাটায় বিধৌত লবনাক্ত সমতলভূমি।
- উষ্ণমন্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমন্ডলীয় অক্ষাংশের আন্তপ্লাবিত আবাসস্থলের সমন্বয়ে ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম গঠিত।
- এ আন্তপ্লাবিত জলাভূমি বিভিন্ন স্তরের পারষ্পরিক নির্ভরশীল উপাদানসমূহ যেমন- পানি প্রবাহ, পলি, পুষ্টি উপাদান, জৈব পদার্থ এবং জীবজন্তুর সমন্বয়ে গঠিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,৩২৬.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি কে ছিলেন?
  1. ক) এম. এ. জি. ওসমানী
  2. খ) তাজউদ্দিন আহমদ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) এ.কে ফজলুুল হক
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারী। এতে বঙ্গবন্ধু সহ ৩৫ জনকে আসামী করা হয়। কিন্তু প্রবল গণ আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী এ মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং আসামীদের মুক্তি দিতে পাক সরকার বাধ্য হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী বোর্ড বই
৬,৩২৭.
১৯৫৬ সালের সংবিধান কত বছর চালু ছিল?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ সালের সংবিধান:

- পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন দ্বারা নতুন রাষ্ট্র পরিচালিত হতে থাকে।
- ১৯৪৬ সালের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে পাকিস্তান গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এই গণপরিষদের দায়িত্ব ছিল একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
- ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে সংবিধান রচনার জন্য একটি মূলনীতি কমিটি গঠন করা হয়।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়।
- এটি ছিল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার সংবিধান।
- ১৯৫৬ সালে এ সংবিধানের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার নাম পরিবর্তন করে 'পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্র' করা হয়।
- এই সংবিধান চালু ছিল মাত্র দু বছর।
- ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে সংবিধান স্থগিত করা হয়।
- সংবিধান স্থগিত করার সাথে সাথে পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩২৮.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য শুরু হয় কোথায়?
  1. ঢাকা দায়রা জজ আদালত
  2. ইসলামাবাদে
  3. লাহোরে
  4. ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'। 
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে। 
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬,৩২৯.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল?
  1. ১১টি
  2. ২১টি
  3. ৫৪টি
  4. ৬৪টি
ব্যাখ্যা
  ₻ মুক্তিযুদ্ধ
- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টর ও ৬৪ টি সাবসেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে নৌ সেক্টর ছিলো ১০নং সেক্টর।
- ঢাকা শহর ২নং সেক্টর এবং মুজিবনগর ৮নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
-সেক্টর প্রধানরা সেক্টর কমান্ডার নামে পরিচিত। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী। 
৬,৩৩০.
ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সর্বাধিক সাম্রাজ্যবাদী বিবেচনা করা হয় কাকে?
  1. ক) ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. খ) লর্ড ক্যানিং
  3. গ) লর্ড ডালহৌসি
  4. ঘ) লর্ড হার্ডিঞ্জ
ব্যাখ্যা

- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী বিবেচনা করা হয় লর্ড ডালহৌসিকে।
- তার শাসনের মূলনীতিই ছিলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রসার ও সুদৃঢ়করণ। তিনি ১৮৪৮ সাল থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- তিনি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন এবং এর মাধ্যমে ঝাঁসি, সাঁতারা, ছোট নাগপুর, উদয়পুর, সম্বলপুর, অযোধ্যা প্রভৃতি রাজ্য জোরপূর্বক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।
- তবে তার সময়ে রেললাইন ও টেলিগ্রাফ চালু হয় এবং বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়নের মতো অনেক উন্নয়ন ও সংস্কারও সাধিত হয়।
- ডালহৌসি ব্যতীত লর্ড ওয়েলেসলি এবং রবার্ট ক্লাইভকেও ঘোর সাম্রাজ্যবাদী বিবেচনা করা হয়।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)

৬,৩৩১.
'আমি শেখ মুজিব' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আনিসুর রহমান
  2. আনিসুল হক
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. ড. মযহারুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
আমি শেখ মুজিব:
- 'আমি শেখ মুজিব' গ্রন্থটির রচয়িতা আনিসুর রহমান।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি জাতির আধুনিক রূপকার, একটি রাষ্ট্রের স্থপতি।
- প্রত্যন্ত জনপদ টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নিয়ে কিভাবে তিনি ধাপে ধাপে বাঙালির জাতিরাষ্ট্রের স্থপতি হলেন, দেশ ও দেশের মানুষকে মুক্তির পথ দেখালেন, তার অনেকটা নানাভাবে উঠে এসেছে।
- বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তাঁর মনের কি অবস্থা, তা কিছুটা ঘটনা পরস্পরায়, কিছুটা কল্পনায়, গদ্যে পদ্যে মিলিয়ে লেখা এপিক মনোলগ ’আমি শেখ মুজিব।
- মহাকাব্য ও মঞ্চনাটকের বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রেখে স্বগতসংলাপটিতে ভারতবর্ষের বিশ শতকের ইতিহাসের ঘটনাক্রম এবং বাংলাদেশের জন্মের গল্প উপজীব্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন লেখক আনিসুর রহমান।
- তিনি জানান, মহাকাব্যের নায়ক বঙ্গবন্ধুর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে স্বগতসংলাপটি শেষ হয়েছে।
- এপিক মনোলগটির মূল বাংলা ভাষ্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আর্টস বিভাগ ২০১৬ সালে প্রথম প্রকাশ করে।
- বাংলাদেশের অনন্যা প্রকাশনী পরে এটি বই আকারে প্রকাশ করে।
- ইতোমধ্যে ‘এপিক মনোলগটি কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, নাট্যকলার পাঠ্যসূচিত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং মঞ্চায়িত হয়েছে।

উৎস: i) আমি শেখ মুজিব।
         ii) ১৪ ডিসেম্বর ২০২২, বাসস।
৬,৩৩২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় কবে?
  1. ১৬ এপ্রিল ১৯৬৮ সালে
  2. ১৯ এপ্রিল ১৯৬৮ সালে
  3. ২১ এপ্রিল ১৯৬৮ সালে
  4. ২৪ এপ্রিল ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:

- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য"। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ.রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬,৩৩৩.
এসডিজি ৪ (SDG 4)–এর মূল লক্ষ্য কী?
  1. স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন
  2. মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা
  3. দারিদ্র্য বিমোচন
  4. পরিবেশ সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

♠ এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো:
-
SDG-এর পূর্ণরূপ হলো Sustainable Development Goals (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা)।
- এতে মোট ১৭টি লক্ষ্য রয়েছে।
- এটি জাতিসংঘের একটি বৈশ্বিক লক্ষ্য যা ২০৩০ সালের মধ্যে সকল মানুষের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
- এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর ৪ নম্বর লক্ষ্য হলো মানসম্মত শিক্ষা (Quality Education).
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো : সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা।

উল্লেখ্য, 
-  এই লক্ষ্যের মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো:
• ২০৩০ সালের মধ্যে সব ছেলে-মেয়ের জন্য বিনামূল্যে, সমান ও মানসম্মত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা।
•  শিশুর প্রাথমিক বিকাশ, যত্ন ও মানসম্মত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় সকল শিশুর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
•  নারী-পুরুষ সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, যাতে তারা শিক্ষার মাধ্যমে উন্নত জীবন অর্জন করতে পারে।
• কর্মসংস্থান, ভালো চাকরি এবং উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জনে যুবক ও প্রাপ্তবয়স্কদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
• লিঙ্গ বৈষম্য ও প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুসহ দুর্বল জনগোষ্ঠীর শিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
• সব যুবক ও প্রাপ্তবয়স্ককে সাক্ষরতা এবং মৌলিক গণিত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা।
•  মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা, শান্তি ও অহিংসা, বিশ্ব নাগরিকত্ব এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ধারণা সম্পর্কিত শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
• শিশু ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা এবং যোগ্য শিক্ষকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।
- এই সব লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে সবাই উন্নত জীবন লাভ করতে পারবে এবং দেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি হবে।

উৎস: Sustainable Development Official Website.

৬,৩৩৪.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করা হয় ১৯৭১ এর -
  1. ২ মার্চ
  2. ৪ মার্চ
  3. ৭ মার্চ
  4. ৩ মার্চ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে বিকালে ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল ছাত্র জনসভা।
- এ সভায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ বঙ্গবন্ধুর সামনে পাঠ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার এবং সভার ঘোষণাপত্র ও প্রস্তাব পাঠ করেন এম এ রশিদ।
- এ ইশতেহারে বলা হয় ‘৫৪ হাজার ৫০৬ বর্গ মাইল বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকার সাত কোটি মানুষের জন্য আবাসভূমি হিসেবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাম বাংলাদেশ।

⇒  স্বাধীনতার ইশতেহারে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের তিনটি লক্ষ্য চিহ্নিত করা হয়।
- লক্ষ্য তিনটি হলো:
১. স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে পৃথিবীর বুকে একটি বলিষ্ঠ বাঙালি জাতি সৃষ্টি করা হবে,
২. স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করা হবে এবং
৩. স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন করে ব্যক্তি, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ নির্ভেজাল গণতন্ত্র কায়েম করা হবে।

উল্লেখ্য,
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয়।
- এ সভায় বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচিত করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৩৩৫.
কোন ভাষা সৈনিক ১৯৫২ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়?
  1. বরকত
  2. সালাম
  3. রফিক
  4. শফিউর
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন: 
- ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন জিন্নাহর অনুকরণে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা প্রদান করেন।
- এর প্রতিবাদে ছাত্র সমাজ ৩০শে জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে।
- আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- ৩১শে জানুয়ারি কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে নতুনভাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। 
- ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়।

- ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং ঐদিন রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- কারাবন্দি নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২১শে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি পালনে ছাত্র ও আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতা-কর্মীদের ডেকে পরামর্শ দেন।
- ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সহবন্দি মহিউদ্দিন আহমেদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফরিদপুর জেলে স্থানান্তর করা হয়।

- সেখানে মহিউদ্দিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজবন্দিদের মুক্তি ও রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করলে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। 
- ২০শে ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
- আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

- ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় (বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের পাশে) একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। 
- একপর্যায়ে পুলিশ গুলি বর্ষণ করলে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন।
- ২২শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশাল শোক র‍্যালি বের হয়। সেখানে পুলিশের হামলায় শফিউর রহমান শহিদ হন।
- শহিদদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকায় ২৩শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে এবং শফিউরের পিতাকে দিয়ে ঐ দিনই তা উদ্বোধন করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩৩৬.
‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি
ব্যাখ্যা
• শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ:
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল ‘বিজয় তোরণ’।
- গত বছরের ৩০ জুন ওই নামে নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনও করা হয়।
- ৫ আগস্টের পর নির্মাণাধীন ওই ফটকের নাম ‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ রাখেন শিক্ষার্থীরা।
- লাল রং দিয়ে দেয়ালে তাঁরা নামটি লিখেও রাখেন।
- সেই নামেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক গতকাল রোববার দুপুরে উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় নিহত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমানের (মুগ্ধ) স্মৃতি রক্ষার্থে ‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ নামকরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)।
- গত বছরের মার্চে স্নাতক শেষ করে তিনি খুলনা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান।
- ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
- মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আন্দোলনরত ক্লান্ত-শ্রান্ত শিক্ষার্থী-জনতাকে ‘ভাই, পানি লাগবে? পানি?’ বলছিলেন।

উৎস: প্রথম আলো।
৬,৩৩৭.
পাকিস্তানি বাহিনী কোথায় আত্মসমর্পণ করেছিল?
  1. ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  2. পিলখানায়
  3. রেসকোর্স ময়দানে
  4. রাজারবাগে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য,
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সকালে মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য বিনা শর্তে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।
- প্রতি বছর এই দিনটি "বিজয় দিবস" হিসাবে পালিত হয়।

এছাড়াও,
- এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ, ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৩৮.
সুজন সংগঠনটি প্রথম কী নামে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. ইএফই
  2. সিএফই
  3. পিএফই
  4. এসএফই
ব্যাখ্যা
সুজন:
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ১২ নভেম্বর ২০০২ তারিখে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।

উল্লেখ্য,
- প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করলেও, পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
- ‘সুজন’ দাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো এনজিও নয়।
- এটি একটি নির্দলীয় স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক উদ্যোগ।
- একদল সচেতন নাগরিকের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা থেকেই এর সৃষ্টি।
- এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে ও অর্থায়নেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উৎস: সুজন ওয়েবসাইট।
৬,৩৩৯.
বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয় কোন যুদ্ধের মাধ্যমে?
  1. বক্সারের যুদ্ধ
  2. পলাশীর যুদ্ধ
  3. পানিপথের যুদ্ধ
  4. হলদিঘাটের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।
- এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- নবাবের পক্ষে সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ হাজার।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে ছিল মাত্র ৩ হাজার।
- জেতার সব ধরণের সুযোগ সুবিধার পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।
- অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে,
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে। এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে বাবর ও ইব্রাহিম লোদীর মধ্যে সংগঠিত হয়। যুদ্ধে লোদী পরাজিত হন এবং মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত করেন বাবর। 
- ১৫৭৬ সালের ১৮ জুন রাজস্থানের রাজসমন্দ জেলার হলদিঘাটিতে মেবার ও মোঘলদের মধ্যে হওয়া যুদ্ধটি ইতিহাসে হলদিঘাটের বা হলদিঘাটির যুদ্ধ নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৪০.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্য মোট কতজনকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ১৭৫ জন
  2. ১৭৬ জন
  3. ১৭৭ জন
  4. ১৭৮ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৪১.
মৌর্য ও গুপ্ত বংশের রাজধানী ছিল-
  1. মহাস্থানগড়
  2. গৌড়
  3. সোনারগাঁও
  4. ময়নামতি
ব্যাখ্যা

• পুন্ড্রবর্ধন জনপদ:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলোর মধ্যে পুন্ড্রবর্ধন অন্যতম।
- এ জনপদের রাজধানী ছিলো বর্তমান বগুড়া জেলায় অবস্থিত পুন্ড্রনগর বা মহাস্থানগড়।
- পরবর্তীতে মৌর্য এবং গুপ্ত শাসনামলেও বাংলার রাজধানী ছিলো মহাস্থানগড় বা পুন্ড্রনগর।
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলোর মধ্যে পুন্ড্রনগর ছিলো সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং এখানে প্রাপ্ত শিলালিপি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো বলে স্বীকৃত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৩৪২.
মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় যে লিপির উদ্ভব হয় তার নাম কী?
  1. ক) হায়ারোগ্লিফিক
  2. খ) ইউনিফর্ম
  3. গ) কিউনিফর্ম
  4. ঘ) আরামীয়
ব্যাখ্যা
মেসােপটেমীয় সভ্যতা:
- ইরাকের টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর তীরের উর্বর ভূমিতে মেসােপটেমীয় সভ্যতার জন্ম হয়েছিল।
- 'মেসােপটেমিয়া' শব্দের অর্থ হচ্ছে দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- এই অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকটি সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল।
- মেসসাপটেমিয়াতে একটি বিশেষ ধরনের লিপির উদ্ভব হয়। এর নাম কিউনিফর্ম।
- মিশরের মতাে পিরামিড তৈরি না হলেও চমৎকার ধর্মমন্দির তৈরি হয়েছিল। একে বলা হয় জিরাত।
- মেসােপটেমিয়ার সবকটি সভ্যতাই নানা ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিল। এর মধ্যে পুরাতন ব্যাবিলনের রাজা হাম্মুরাবি প্রণীত আইন সংকলন ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
- এশেরীয়রা যুদ্ধবিদ্যায় ছিল খুবই পারদর্শী ছিল।
- নতুন ব্যাবিলন নগরটি ছিল ৫৬ মাইল দীর্ঘ দেয়াল দিয়ে ঘেরা। সম্পূর্ণ দেয়ালের উপর বাগান করা হয়েছিল।
- ইতিহাসে তা ব্যাবিলনের শূন্যউদ্যান নামে পরিচিত।
- এছাড়াও দালানকোঠা নির্মাণ, মূর্তি তৈরি, বিজ্ঞান চর্চা ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে মেসােপটেমীয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৬,৩৪৩.
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে কবে সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করা হয়?
  1. ক) ১৯৭৫ সালে
  2. খ) ১৯৭৯ সালে
  3. গ) ১৯৮০ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মুশতাক আহমেদ কুখ্যাত ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করেন।
- এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। তাদের বিচারের আওতায় আনা যাবে না মর্মে ঘোষণা দেয় হয়।
- ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে গৃহিত সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করে।
- পরবর্তীতে, ১২ নভেম্বর ১৯৯৬ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে। যার ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করা সম্ভব হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬,৩৪৪.
বর্তমানে বীর উত্তম খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত জন?
  1. ক) ৭৫ জন
  2. খ) ৭৪ জন
  3. গ) ১৭৪ জন
  4. ঘ) ৬৭ জন
ব্যাখ্যা
• বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।

- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল:
(ক) সর্বোচ্চ পদ,
(খ) উচ্চ পদ,
(গ) প্রশংসনীয় পদ,
(ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।

- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন। 

• এছাড়াও,
- তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।

• এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

• বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
বীর উত্তম - ৬৭ জন। 
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন। 
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৬,৩৪৫.
আফ্রিকার কোন দেশ বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি দেয়?
  1. গাম্বিয়া
  2. গ্যাবন
  3. সিয়েরা লিওন
  4. সেনেগাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বীকৃত লাভ:
- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
৬,৩৪৬.
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কোথায় গঠিত হয়?
  1. আগরতলা
  2. কলকাতা
  3. আসাম
  4. নাগাল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী: 
- নাগাল্যান্ডের দিমাপুরে ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠিত হয়।
- এর সংগঠক ছিলেন এয়ার কমোডর এ.কে খন্দকার।
- স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বদরুল আলম, ক্যাপ্টেন খালেক, সাত্তার, শাহাবুদ্দিন, মুকিত, আকরাম, শরফুদ্দিন এবং ৬৭ জন বিমানসেনা নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়।
- তাদের সম্বল ছিল মাত্র কয়েকটি ডাকোটা, অটার টাইপ বিমান এবং অ্যালুভেট হেলিকপ্টার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৪৭.
বাংলা ভাষাকে দেশের সর্বস্তরে ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইন পাশ করা হয় কোন সালে? 
  1. ১৯৭৩ সালে 
  2. ১৯৮০ সালে 
  3. ১৯৮৭ সালে 
  4. ১৯৯০ সালে 
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাশ: 
- বাংলাদেশের সংবিধানে তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা'।
বাংলাদেশে বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে (সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইনানুগ কার্যক্রম ইত্যাদি) ব্যবহারের জন্য "বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭" পাস করা হয়েছে ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ।
- এই আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এ আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সোয়াল- জওয়াব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখিতে হবে।
- ' ৩(২) ধারায় আরও বলা হয়েছে, উল্লেখিত কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন, তাহলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে।'
- ধারা ৩ ( বলছে, ‘যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইন অমান্য করেন তাহলে উক্ত কার্যের জন্য তিনি সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোজাম্মেল হক এবং প্রথম আলো ।

৬,৩৪৮.
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কে?
  1. ক) মিজানুর রহমান শেলী
  2. খ) প্রফেসর মিজানুর রহমান
  3. গ) নাসিমা বেগম
  4. ঘ) কাজী রিয়াজুল হক
ব্যাখ্যা

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান - নাসিমা বেগম।
তাঁর পূর্বে চেয়েরম্যান ছিলেন অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

উৎসঃ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওয়েবসাইট।

N.B: We've updated the info based on the main question.

৬,৩৪৯.
নিচের কোন সালটি অধিবর্ষ ( Leap Year) না?
  1. ক) ১৮০০
  2. খ) ২০০৪
  3. গ) ২০১৬
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

অধিবর্ষ বের করার নিয়মঃ

শর্ত-১ঃ সালটি যদি ৪ দিয়ে নিঃশেষে বিভাজ্য হয় এবং ১০০ দিয়ে না হয় তাহলে অধিবর্ষ। যেমন, ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ ।

অথবা, শর্ত-২ঃ সালটি যদি ৪, ১০০ এবং ৪০০ সবগুলো দিয়েই নিঃশেষে বিভাজ্য হয় তাহলে অধিবর্ষ। যেমন, ১৬০০, ২০০০ এবং ২৪০০।

শর্ত-২ মানতে না পারায় কিছু সাল অধিবর্ষ নয়। যেমন- ১৭০০, ১৮০০, ১৯০০, ২১০০, ২২০০, ২৩০০ ইত্যাদি।
আমরা ছোটবেলা থেকেই জানি, শুধু ৪ দিয়ে নিঃশেষে বিভাজ্য হলেই কোন সাল অধিবর্ষ হয়। আসলে শুধু ৪ নয়, অধিবর্ষের সাথে ১০০ এবং ৪০০ সংখ্যাগুলোও জড়িত।

এখন আমরা এর “Behind the scene” জানবোঃ
আমরা সবাই জানি ৩৬৫ দিনে এক বছর ধরা হলেও, আরো ৫ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট ১২ সেকেন্ড অবশিষ্ট থেকে যায়। এই অতিরিক্ত সময় যোগ হয়ে হয়ে ৪ বছর পর পর ফেব্রুয়ারি মাসের সাথে এক দিন যোগ হয়ে ২৯ দিন হয়।
এই ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট ১২ সেকেন্ডকে যদি দশমিকে প্রকাশ করি তা হয় ৩৬৫.২৪২৫ দিন।
অর্থাৎ, ৩৬৫.২৪২৫ = ৩৬৫ + (১/৪) – (১/১০০) + (১/৪০০) ।
তাই দেখা গেছে যে, চার বছর পর পর লিপ-ইয়ার ধরলে প্রতি চারশ বছরে ৩ দিন (প্রায় ৭২ ঘন্টা) সময় বেশি ধরা হয়ে যায়। এই সমস্যার সমাধানের জন্য যেসব বছর ১০০ দ্বারা বিভাজ্য, কিন্তু ৪০০ দ্বারা নয় তাদের লিপ-ইয়ার বা অধিবর্ষের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়।
উৎসঃ নাসা, মাইক্রোসফট, ব্রিটানিকা ইত্যাদি।

৬,৩৫০.
Under which Sector Dhaka was during our Liberation War in 1971?
  1. ক) 3
  2. খ) 2
  3. গ) 4
  4. ঘ) 1
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

- চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর
- ঢাকা-২ নং সেক্টর
- রাজশাহী-৭ নং সেক্টর
- মুজিব নগর-৮ নং সেক্টর
- সুন্দরবন-৯ নং সেক্টর
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল-১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)
-১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না

সূত্র: ঢাকা বিভাগের ওয়েবসাইট।
৬,৩৫১.
মুক্তিযুদ্ধকালে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান কে ছিলেন?
  1. ক) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. খ) বিচারপতি এ এস এম সায়েম
  3. গ) এম আর সিদ্দিকী
  4. ঘ) রবি শংকর ঘোষ
ব্যাখ্যা

- ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ছিলেন এম আর সিদ্দিকী।

এম.আর সিদ্দিকী (১৯২৬-১৯৯২)  শিল্পপতি, রাজনীতিক।
- এম.আর সিদ্দিকী ১৯৬২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
- এ ছাড়া ১৯৬৪-১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
- তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালে তিনি চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং চট্টগ্রাম জেলা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন। চট্টগ্রামের প্রতিরোধ যুদ্ধে তিনি সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে তাঁকে পূর্বাঞ্চলীয় জোনাল কম্যান্ডের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়।
- বিদেশে প্রবাসী সরকারের পক্ষে জনমত গঠনের জন্য মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি জুলাই মাসে আমেরিকা সফর করেন।

- বিদেশে অন্যান্য বাংলাদেশ মিশনগুলোর প্রধান ছিলেন কলকাতায় হোসেন আলী, দিল্লিতে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্যে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৫২.
Who was the Governor General of India at the time of the Sepoy Mutiny?
  1. Lord Canning
  2. Lord Ripon
  3. Lord Dalhousie
  4. Lord Hardings
  5. Lord Lytton
ব্যাখ্যা
সিপাহী বিদ্রোহ:
- সিপাহী বিদ্রোহের সময় ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।


উল্লেখ্য,
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
• পরোক্ষ কারণ:
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।
• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে।

⇔ লর্ড ক্যানিং:
- ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় লর্ড জন ক্যানিং।
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল এবং ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ভারতে প্রথম ভাইসরয় ছিলেন।
- তাঁর প্রশাসনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৫৩.
পদ্মা সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা -
  1. ক) ৪১টি
  2. খ) ৪২টি
  3. গ) ৪৩টি
  4. ঘ) ৪৪টি
ব্যাখ্যা
পদ্মা সেতু:
- পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতু একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। 
- এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু। 
- সেতুটি মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, লৌহজংকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। 
- এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত উত্তর-পুর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।
- সেতুতে মোট পাইল রয়েছে ২৭২টি।
- পদ্মা সেতু তৈরি করা হয়েছে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় করে।
-পদ্মা সেতুর মোট স্প্যান ৪১টি, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। 
- পদ্মা সেতুর মোট পিলার রয়েছে ৪২টি।
- পদ্মা সেতুর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স ১৮ দশমিক ৩০ মিটার।
- ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে প্রথম স্প্যান বসানো হয়।
- ১০ ডিসেম্বর ২০২০ সালে শেষ স্প্যান বসানো হয়।
- ২৫ জুন ২০২২ সালে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উৎস: জুন ২৫, ২০২২, The Daily Star বাংলা।
৬,৩৫৪.
ঢাকায় নিচের কোন সংস্থাটির সদরদপ্তর অবস্থিত?
  1. ক) SAARC
  2. খ) ESCAP
  3. গ) BIMSTEC
  4. ঘ) ACU
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে যেসব সংস্থার সদরদপ্তর অবস্থিত:
- IJSG
- CIRDAP
- BIMSTEC
- SAARC Agricultural Centre প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- SAARC সদরদপ্তর : কাঠমুণ্ডু, নেপাল
- ESCAP সদরদপ্তর : ব্যাংকক, থাইল্যান্ড
- ACU সদরদপ্তর : তেহরান, ইরান।

(তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট)
৬,৩৫৫.
উডের ডেসপ্যাচ কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫৩ সালে
  2. ১৮৫৪ সালে
  3. ১৮৫৫ সালে
  4. ১৮৫৭ সালে
ব্যাখ্যা

উডের ডেসপ্যাস: 
- উডের শিক্ষা ডেসপ্যাস ইংরেজ আমলের শিক্ষা ক্ষেত্রের একটি দলিল।
- উপমহাদেশে শিক্ষা বিস্তারের জন্য এই ডেসপ্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে।
- এই ডেসপ্যাসের সুবাদে ১৮৫৫ সালে এদেশে ৫টি বিভাগে শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এ শিক্ষা বিভাগের প্রধান ছিলেন জন শিক্ষা পরিচালক, ইংরেজিতে বলা হতো Director of Public Instruction (DPI)।
- এ পদটি ১৯৮০ সন পর্যন্ত বাংলাদেশেও চলে আসছিল।
- এর অধীনে ছিলেন কিছু পরিদর্শক।
- এ ডেসপ্যাসে প্রাথমিক শিক্ষার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়।
- ফলে পরবর্তীতে বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এর পাশাপাশি শিক্ষা প্রশিক্ষণের জন্য ১৮৫৭ সালে ঢাকায় এবং ১৮৬৯ সালে চট্টগ্রামে নরমাল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় যা বর্তমানে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩৫৬.
তালিবাবাদ উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রটি চালু হয়?
  1. ক) ১৯৮০ সালে
  2. খ) ১৯৮১ সালে
  3. গ) ১৯৮২ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। বেতবুনিয়া (রাঙ্গামাটি), ১৯৭৫; তালিবাবাদ (গাজীপুর), ১৯৮২; মহাখালী (ঢাকা), ১৯৯৫ এবং সিলেট, ১৯৯৭।
উৎসঃ দৈনিক পত্রিকা এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন
৬,৩৫৭.
এস ফোর্স ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন-
  1. মেজর খালেদ মোশাররফের
  2. মেজর জিয়াউর রহমান
  3. মেজর জেনারেল চিত্ত রঞ্জন দত্ত
  4. মেজর কেএম সফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• জেড ফোর্স : 
• ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় এবং ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।

• এস ফোর্স :
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন মেজর কেএম সফিউল্লাহ।

• কে ফোর্স :
- ৪র্থ, ৯ম এবং ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে কে ফোর্স গঠিত।
- মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয়।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৫৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয় কোন ব্রিগেড ফোর্স?
  1. কে ফোর্স
  2. এস ফোর্স
  3. জেড ফোর্স
  4. এল ফোর্স
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩৫৯.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে প্রসিকিউটর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. স্যার টমাস উইলিয়াম
  3. উইলিয়াম হান্টার
  4. উইলিয়াম জোন্স
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে প্রসিকিউটর হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৬০.
‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত' কে চালু করেন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা

ওয়ারেন হেস্টিংস:
- উপমহাদেশে বৃটিশ শক্তিকে সুদৃঢ় করার পেছনে হেস্টিংসের অবদান অনস্বীকার্য।
- ক্লাইভের শাসন ব্যবস্থার ফলে যখন বাংলার সামাজিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত করুণ, ঠিক সে মুহূর্তে হেস্টিংস এদেশের শাসনভার গ্রহণ
করেন।
- ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত' এবং ‘একসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।
- কিন্তু এ দুটি বন্দোবস্ত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়নি।
- রাজস্ব বিভাগের দুর্নীতি দূর করতে ও এর সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য রাজকোষ মুর্শিদাবাদ হতে কলকাতায় স্থানান্তর করে একটি রাজস্ব
বোর্ড গঠন করেন।
- রাজস্ব খাতে আয় বৃদ্ধির জন্য তিনি পাঁচ বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ মূল্যে জমিদারী ইজারা দেয়ার নিয়ম প্রবর্তন করেন। যা ‘পাঁচসালা বন্দোবস্তু’ নামে পরিচিত।
- এ ব্যবস্থার মাধ্যমে জমিদারগণ প্রজাদের উপর জোর জুলুম করে অর্থ আদায় করতো। ফলে প্রজাদের দু:খ দুর্দশার সীমা ছাড়িয়ে যায়। 

উল্লেখ্য,
- গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৭৯৩ সালে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক নতুন প্রথার প্রবর্তন করেন। ইতিহাসে এটি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' নামে পরিচিত।
- এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
- এক্ষেত্রে তারা অনেক সফলতা লাভ করলেও এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষক এমনকি অনেক সম্ভ্রান্ত বনেদি জমিদার সর্বশান্ত হয়ে পড়ে।
- অন্যদিকে নগদ টাকার মালিক ও পুঁজিপতি মহাজনরা রাতারাতি জমিদারে পরিণত হয়।
- নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয় ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
          ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩৬১.
মুক্তিযুদ্ধে ২ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন-
  1. খালেদ মোশাররফ
  2. জিয়াউর রহমান
  3. ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম
  4. মেজর কেএম সফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা

• ২ নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
- এই সেক্টরে ছয়টি সাব-সেক্টর ছিল। যথা: গঙ্গাসাগর, মন্দভাগ, সালদা নদী, মতিনগর, নির্ভয়পুর, রাজনগর।
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৬২.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) কখনো আসেনি
  2. খ) আবার তোরা মানুষ হ
  3. গ) সঙ্গম
  4. ঘ) জীবন থেকে নেওয়া
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক জহির রায়হান একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক।
• তাঁর আসল নাম ছিল মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- শেষ বিকেলের মেয়ে (প্রথম উপন্যাস),
- আরেক ফাল্গুন (ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক),
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- কয়েকটি মৃত,
- তৃষ্ণা,
- একুশে ফেব্রুয়ারি।
• তাঁর বিখ্যাত চলচ্চিত্র-
- কখনো আসেনি (প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র),
- সঙ্গম (বাংলাদেশের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র),
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেওয়া (বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র),
- বেহুলা,
- সোনার কাজল,
- আনোয়ারা,
- বাহানা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৩৬৩.
কার ঘোষণার মাধ্যমে বঙ্গ ভঙ্গ ঘটে?
  1. রাজা পঞ্চম জর্জ
  2. লর্ড ক্লাইভ
  3. লর্ড ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ :
- বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯০৫ সালের পূর্বে 'বাংলা প্রেসিডেন্সি' ছিল ভারতের সর্ববৃহৎ প্রদেশ।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
- ঘোষনা করেন বড় লাট লর্ড কার্জন। 

- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ'।
- ঢাকায় এ নতুন প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয়।
- পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ’ প্রদেশ। এর রাজধানী হয় কলিকাতা । 

- বঙ্গভঙ্গের পর নবগঠিত ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের' গভর্নর নিযুক্ত হন এনডু ফ্রেজার।
- নবাব স্যার সলিমুল্লাহ্ বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে পূর্ববঙ্গের মুসলমান জনগণকে সংগঠিত করেন। 

- ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে।
- রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লী দরবারে এ ঘোষণা দেন।  

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং
           ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩৬৪.
রক্তদহ বিল কোথায় অবস্থিত?
  1. নাটোর
  2. নওগাঁ
  3. ভোলা
  4. সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা
রক্তদহ বিল:
- রক্তদহ বিল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি অন্যতম বৃহৎ বিল।
- এটি নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলায় অবস্থিত।
- বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায়ও পড়েছে বিলটির অংশবিশেষ।
- নওগাঁর রানীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার যেকোনো অংশ থেকে নৌকা নিয়ে ভেসে যাওয়া যায় বিলের গভীরে।

উল্লেখ্য,
- কোনো এক ব্রিটিশ সাহেব ও স্থানীয় জমিদারের অত্যাচারে কৃষকেরা ফুঁসে উঠেছিলেন।
- কৃষক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ফকির মজনু শাহ।
- জমিদার ব্রিটিশ সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্রোহ দমনে নওগাঁর রানীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিল ভোমরা এলাকার কড়ইল জঙ্গলে অভিযান চালান।
- ব্রিটিশ শাসক ও জমিদারের বাহিনী ধরে ফেলে বিদ্রোহীদের।
- তারপর এই বিলের ধারে নিয়ে একে একে হত্যা করা হয় তাঁদের।
- বিদ্রোহী মানুষদের তাজা রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল বিলের পানি।
- বিলের সেই রক্তরাঙা পানির কারণে লোকমুখে এই বিলের নাম হয়ে গিয়েছিল ‘রক্তদহ বিল’।

উৎস: ১৩ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো। [link]
৬,৩৬৫.
মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান
  4. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:

• রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
• উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
• প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ। 
• অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: এম মনসুর আলী।
• স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র: তৃতীয় খণ্ড।
৬,৩৬৬.
বাংলা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ সুবাহদার হিসেবে গণ্য করা হয় কাকে ?
  1. ক) ইসলাম খান চিশতি
  2. খ) শাহ সুজা
  3. গ) মীর জুমলা
  4. ঘ) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
- সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে বাংলা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ সুবাহদার হিসেবে গণ্য করা হয়।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি। 
-  ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন । 
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং  ঢাকাকে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এর নাম করেন  জাহাঙ্গীরনগর। 
- সম্রাট  জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তিনি লোহার পুল নির্মান করেন এবং দোলাই খাল খনন করেন।
- বাংলার রাজধানী  ঢাকা থেকে  রাজমহলে স্থানান্তরিত করেন শাহ সুজা । 
- মুগল সম্রাটের কাছ থেকে মীর জুমলা  মুয়াজ্জম খান, খান-ই-খানান, সিপাহ সালার এবং ইয়ার-ই-ওয়াফাদারের মতো বিভিন্ন উপাধি লাভ করেছিলেন।
- বাংলায় সুবাহদার হিসেবে শায়েস্তা খানের কার্যকালের মেয়াদই দীর্ঘতম।

উৎস- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি এবং বাংলাপিডিয়া । 
৬,৩৬৭.
কত সালে বাংলাকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি: 
- বাংলাকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি ১৯৫৬ সালে দেয়া হয়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহীত হয়, বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এর আগে, ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি প্রদান করে।
- এরপর, ১৯৫৬ সালে জাতীয় পরিষদে বাংলা ও উর্দু উভয়কে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।  

উল্লেখ্য, 
 - বাংলা ভাষাকে জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাস করা হয় ১৯৮৭ সালে।  

ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন, এটি ১৯৪৭ সালে শুরু হয়ে ১৯৫২ সালে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রস্তাব দিলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন ছিলো এবং তাদের প্রকাশিত পুস্তিকায় আন্দোলনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 

৬,৩৬৮.
প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক, সর্বজনীন ও বাধ্যতামূলক করার জন্য সুপারিশ করে -
  1. ক) শরীফ কমিশন
  2. খ) সার্জেন্ট কমিশন
  3. গ) কুদরত-ই-খুদা কমিশন
  4. ঘ) স্যাডলার কমিশন
ব্যাখ্যা
• কুদরাত-ই-খুদা কমিশন:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে।
- ১৯৭৪ সালে কুদরাত-ই-খুদা প্রণীত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন’ ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে।

- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- অন্যদিকে এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২১ আগস্ট, ১৯৯০ইং ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কোস/সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়।

- পরবর্তীতে ৩১ নভেম্বর, ১৯৯২ ইং তারিখে এর নামকরণ করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট’।
- ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।
- তার পূর্বে ১ জানুয়ারি, ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে - ৬৮ টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রথম আলো আর্কাইভ।
৬,৩৬৯.
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হয়েছিলেন কে?
  1. জেহাদ হোসেন
  2. নূর হোসেন
  3. ডা. মিলন
  4. মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান দিবস।
- পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের করে।
- মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে নিহত হন নবকুমার ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান।
- জনতার রুদ্ররোষ এবং গণ-অভ্যুত্থানের জোয়ারে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সবাইকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
- পতন ঘটে আইয়ুবের স্বৈরতন্ত্রের। অপশাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তাই ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান আজও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। 
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং
- ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন। 

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক ও প্রথম আলো।
৬,৩৭০.
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর কোন স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে?
  1. বঙ্গ
  2. রাঢ়
  3. গৌড়
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর বঙ্গ ও গৌড় স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।

গুপ্ত সাম্রাজ্য:

- ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ।
- এল্যানের মতে, পাটলীপুত্র (মগধের অভ্যন্তরে) নগরের অদূরে শ্রীগুপ্তের রাজত্ব ছিল।
- তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে ।
- এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য।

⇒ প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রথম কুমারগুপ্তের সময় (৪৩২-৪৪৮ খ্রি.) থেকে উত্তর বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে গড়ে ওঠে।
- এটির নাম ছিল তখন ‘পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তি’।
- গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই বাংলার উত্তরাংশের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।

⇒ সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা অধিকৃত হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলার উত্তরাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি ‘প্রদেশ' বা 'ভুক্তি' হিসেবে পরিগণিত হতো।

⇒ মৌর্যদের মতো গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর।
- হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

উল্লেখ্য,
⇒ বঙ্গ ও গৌড়:
- ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন ‘বঙ্গ রাজ্য’, অপরটি ‘গৌড় রাজ্য।
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
- স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের রাজারা তামার পাতে খোদাই করা রাজ নির্দেশ জারি করতেন।
- এগুলোকে তাম্রশাসন বলা হতো।
- এ রকম ৭টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
- স্বাধীন বঙ্গরাজ্যে চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নামের তিনজন রাজার নাম জানা যায়।
- তারা ৫২৫ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন।
- সম্ভবত চন্দ্ৰগুপ্ত একাই ৩৩ বছর শাসন করেছেন বলে জানা যায়।
- বঙ্গের রাজাগণ ‘মহাধিরাজ’ উপাধি ধারণ করতেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৬,৩৭১.
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ কোনটি?
  1. মহাস্থানগড়
  2. পাহাড়পুর
  3. ময়নামতি
  4. উয়ারী বটেশ্বর
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হলাে পুণ্ড্র।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড়ের বিস্তীর্ণ ধবংসাবশেষ প্রাচীর পুন্ড্রবর্ধনভূক্তির রাজধানী পুন্ড্রনগরেরসুদীর্ঘ প্রায় আড়াই হাজার বছরের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের এক নীরব স্বাক্ষী।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ।

অন্যদিকে -
পাহাড়পুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

ময়নামতি:
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।

উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৩৭২.
আওয়ামী লীগের ছয় দফার প্রথম দফা কোনটি?
  1. ক) প্রতিরক্ষা বিষয়ক
  2. খ) রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক
  3. গ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  4. ঘ) মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয় দফার দফাসমূহ:

- আওয়ামী লীগের ছয় দফার প্রথম দফা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
 - দ্বিতীয় দফা ( কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৭৩.
যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল কয়টি দল নিয়ে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত ৪টি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
- এ চারটি দল হল আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।

[বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি  দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র ১ম ও ২য় খন্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র অধিক গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র।
৬,৩৭৪.
১৯৬৯ সালে নিম্নের কোন সংঘঠন ১১দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে?
  1. ক) সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ
  2. খ) সম্মিলিত রাজনৈতিক দল
  3. গ) ছাত্র সংগ্রাম কমিটি
  4. ঘ) সম্মিলিত বিরোধী জোট
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ)-এর নেতৃবৃন্দ ‘ছাত্র সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করে এবং তাদের ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
-  ১১ দফার মধ্যে ১৯৬৬ সালে  শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন সম্পর্কিত ৬ দফার সাথে ছাত্র সমস্যাকেন্দ্রিক দাবি দাওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থ সংক্রান্ত দাবিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 
- বস্ত্তত ১১ দফা কর্মসূচীর মাধ্যমে ছাত্র নেতৃবৃন্দ যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তা ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি আন্দোলনগত ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- তাছাড়া এসময় থেকেই শেখ মুজিবের মুক্তি ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রাধান্য পেতে শুরু করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-সহ ছাত্র সংগ্রাম কমিটির পূর্ব বাংলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঊনসত্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
৬,৩৭৫.
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু পরবর্তী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য কতদফা কর্মসূচির ঘোষণা দেন?
  1. ক) ৬ দফা
  2. খ) ৪ দফা
  3. গ) ৭ দফা
  4. ঘ) ১০ দফা
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ
⇨ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাঙ্গালির ইতিহাসের এক মহেন্দ্রক্ষণ। সকাল থেকেই ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ছাত্র-জনতা-অবাল-বৃদ্ধ-বণিতা-দলে দলে সমবেত হতে থাকে।
⇨ বিকাল ৩ঃ২০ মিনিট নাগাদ প্রায় ১০ লাখ জনতা ময়দানে সমবেত হয়।
⇨ এই ভাষণের শব্দসংখ্যা ছিল ১১০৫ টি ।
⇨ ভাষণের সময় বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে রেখেছিল সিরাজুল আলম খান, আ স ম আবদুর রব, তোফায়েল আহমেদ, মহিউদ্দিন, শেখ ফজলুল হক মনি। 

⇨ বঙ্গবন্ধু তার ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণে ৪টি দাবি উত্থাপন করেন। যথা−
(ক) সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
(খ) সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
(৩) গণহত্যার তদন্ত ও বিচার করতে হবে।
(৪) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

⇨ ৭ মার্চ ভিন্ন এক ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু পরবর্তী সাতদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য দশদফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দফাগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো:-

১. কর না দেওয়ার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে,
২. সকল অফিস ও আদালতে ধর্মঘট চলতে থাকবে,
৩. রেল ও বন্দরসমূহ চালু থাকবে। তবে সেনাবাহিনী চলাচলের কাজে শ্রমিক-কর্মচারীরা সহযোগিতা করবে না,
৪. রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে গণআন্দোলনের সংবাদ গোপন রাখা যাবে না,
৫. কেবল স্থানীয় এবং আন্তঃজেলার মধ্যে ট্রাঙ্ক ও টেলিফোন যোগাযোগ চালু থাকবে,
৬. সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে,
৭. কোন মাধ্যমেই ব্যাংক পশ্চিম পাকিস্তানে টাকা পাঠাবে না,
৮. প্রতিদিন সব ভবনের উপর কালো পতাকা ওড়ানো হবে,
৯. অন্য সব ক্ষেত্রে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হল, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে ধর্মঘট আহŸান করা হলে তা পালন করতে হবে,
১০. প্রতিটি মহল্লা, ইউনিয়ন, থানা, মহকুমা এবং জেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ইউনিটের নেতৃত্বে একটি করে সংগ্রাম
পরিষদ গঠন করা হবে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৭৬.
শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. তোফায়েল আহমেদ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. খন্দকার মোস্তফা হারুন
  4. মাওলানা ভাষানী
ব্যাখ্যা
• শেখ মুজিবুর রহমান:
- ১৯৬৯ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল বন্দীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
- ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল ছাত্র সমাবেশে লাখো শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে তোফায়েল আহমেদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৭৭.
Who was the first Home Minister of Mujibnagar Government of Bangladesh?
  1. Syed Nazrul Islam
  2. Tajuddin Ahmad
  3. M. Mansoor Ali
  4. AHM Kamruzzaman
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগর সরকার গঠিত হয় -  ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি।
- তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।
- এম মনসুর আলী- অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান- স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৭৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কোন তারিখে যৌথ বাহিনী গঠিত হয়েছিল?
  1. ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
  2. ২৫ নভেম্বর, ১৯৭১
  3. ৩০ নভেম্বর, ১৯৭১
  4. ১ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা

◉ মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ভারতের সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী মিলে একত্রে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য একটি যৌথ কমান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২১ নভেম্বর, ১৯৭১ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ বাহিনী গঠিত হয়।

যৌথ কমান্ড গঠন:
- মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে 'যৌথ কমান্ড' গঠন করে।
- সময়: ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর।
- লেফটেন্যান্ট জেনারেন জগজিৎ সিং অরোরার নেতৃত্বে এই বাহিনী গঠিত হয়।
- ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতে আক্রমণ করলে ভারত সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
- ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ভারতীয় বাহিনী মুক্তিবাহিনীর সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই যৌথ কমান্ড এর নিকট পাক-বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৭৯.
নিচের কোনটি যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভূক্ত রাজনৈতিক দল?
  1. ক) নেজামে-ই-ইসলাম
  2. খ) মুসলিম লীগ
  3. গ) কংগ্রেস
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪ টি । এগুলো হলো -
১। আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী)
২। কৃষক প্রজাপার্টি (এ. কে. ফজলুল হক)
৩। নেজামে-ই-ইসলাম (মাওলানা আতাহার আলী)
৪। গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ)

- যুক্তফ্রন্টের প্রধান অফিস সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রােডে।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৮০.
কোন জনপদের কথা "ঐতরেয় আরণ্যক" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. রাঢ়
  2. বঙ্গ
  3. গৌড়
  4. সমতট
ব্যাখ্যা
⇒ বঙ্গ জনপদের কথা "ঐতরেয় আরণ্যক" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

বঙ্গ জনপদ:
- বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে, যেখানে এটি একটি উপজাতি হিসেবে উল্লেখিত।
- বঙ্গ ছিল একটি প্রাচীন জনপদ।
- ভাগীরথী ও পদ্মা নদীর মধ্যবর্তী ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ অঞ্চলই ছিল বঙ্গ।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চল উল্লেখ আছে: বিক্রমপুর বঙ্গ ও নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা, ফরিদপুর ও বরিশাল ছিল নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলায় মুসলিম শাসনের শুরুর দিকে 'বঙ্গ' বলতে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল বোঝানো হতো।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৮১.
স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্য কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) বাংলা একাডেমি
  4. ঘ) মুজিবনগর
ব্যাখ্যা
স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সড়ক দ্বীপে অবস্থিত। এটির স্থপতি শামীম শিকদার
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ভাস্কর্যটি ১৯৮৮ সালে স্থাপিত হয়।

(তথ্যসূত্র: দৈনিক ভোরের কাগজ)
৬,৩৮২.
জাতীয় সংসদের নেতা কে?
  1. চীফ হুইপ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের নেতা হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তার নেতৃত্বেই জাতীয় সংসদে আইন প্রণীত হয় এবং তার পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করে থাকেন।
- তিনি বাংলাদেশের সরকার এবং মন্ত্রিসভার প্রধান। তার নেতৃত্বে সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হয়। এজন্যে তাকে ‘সরকারের স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করা।
অন্যদিকে,
- স্পিকার হলেন জাতীয় সংসদের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাদেশ সংবিধান)
৬,৩৮৩.
How many economic points were there in the historical six points?
  1. ক) 2
  2. খ) 3
  3. গ) 4
  4. ঘ) 5
ব্যাখ্যা
–পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে পূর্ব বংলার জনগণকে মুক্ত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী লাহোরে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
 -- ছয় দফার অর্থনীতি বিষয়ক দফা ছিল ৩ টি
দফাগুলো নিম্নরুপ:

১. দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে। অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।
২. আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে।
৩. দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসেব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী।
৬,৩৮৪.
ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন কে কে?
  1. নবীন মাধব ও বেণী মাধব
  2. মজনু শাহ ও ভবানী পাঠক
  3. তিতুমীর ও গোলাম রসুল 
  4. শরীয়তউল্লাহ ও দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা

ফকির মজনু শাহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ। আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- ঐতিহাসিক ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন মজনু শাহ।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন।
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে। তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে ।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩৮৫.
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. তারেক মাসুদ
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. তানভীর মোকাম্মেল
ব্যাখ্যা
হাঙর নদী গ্রেনেড:
- সেলিনা হোসেনের গল্প অবলম্বনে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র হাঙর নদী গ্রেনেড।
- এর পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
- এর কাহিনিতে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে একজন মা তার বাক্প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেয় পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে।

উৎস: প্রথম আলো।
৬,৩৮৬.
প্রাচীন বাংলার 'হরিকেল' জনপদ অঞ্চলভুক্ত এলাকা -
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) পার্বত্য চট্টগ্রাম
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ঐতিহাসিকদের মতে, পূর্ববঙ্গের এই (হরিকেল) জনপদটি বর্তমানের চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট ও ত্রিপুরা (ভারত) নিয়েই গঠিত ছিল।
• হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।
- খ্রিস্টীয় সাত শতকের প্রাচীন ভারতীয় লেখকগণ পূর্বভারতীয় একটি অঞ্চলকে হরিকেল বলে উলে­খ করেন।
- এটি পূর্ববঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য।
- সাত শতকের চৈনিক পরিব্রাজক  ইৎ সিঙ্ হরিকেলের অবস্থানকে ‘পূর্বভারতের পূর্বসীমা’য় নির্দেশ করেন।
- নয় শতকের সাহিত্য কর্ম কর্পূরমঞ্জরীতে এ বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায়।
- এতে হরিকেলের রমণীগণকে পূর্ব বঙ্গীয় নারীাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- চট্টগ্রাম নগরের নাসিরাবাদ এলাকার একটি প্রাচীন মন্দিরে প্রাপ্ত তাম্রলিপি হরিকেল সম্পর্কে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য দলিল।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৮৭.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটিতে আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
  3. তাজউদ্দীন আহমেদ
  4. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৮৮.
১৯৭১ সালে 'The Concert for Bangladesh' কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) লন্ডন
  2. খ) নয়াদিল্লি
  3. গ) ওয়াশিংটন ডিসি
  4. ঘ) নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তহবিল সংগ্রহে নিউইয়র্কে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজন হয়েছিল।
- এই সঙ্গীতানুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন পণ্ডিত রবি শঙ্কর। 
- তিনি ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেন। 
- এই সময় তিনি ব্রিটিশ সঙ্গীত শিল্পী এবং বিটলের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনকে এই বিষয়ে উৎসাহী করে তোলেন। 
- এই আয়োজনে তিনি ভারতবর্ষ এবং পাশ্চাত্য অন্যান্য আরও বহু বিখ্যাত শিল্পীদের একত্রিত করেন।
- এঁদের মধ্যে ছিলেন উল্লেখযোগ্য সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব ছিলেন বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, জোয়ান বায়েজ, আল্লা রাখা খাঁ ও ওস্তাদ আলী আকবর খান।
- ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১ আগষ্ট, তাঁর প্রধান সহযোগী এবং বন্ধু জর্জ হ্যারিসনকে সঙ্গে নিয়ে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ারে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ নামে ঐতিহাসিক কনসার্টের আয়োজন করেন। 


উৎস: Concert for Bangladesh, George Harrison.
৬,৩৮৯.
স্বপ্নের পদ্মা সেতু কত তারিখে উদ্ধোধন করা হয়?
  1. ক) ২৩ জুন, ২০২২
  2. খ) ২৪ জুন, ২০২২
  3. গ) ২৫ জুন, ২০২২
  4. ঘ) ২৬ জুন, ২০২২
ব্যাখ্যা
২৫ জুন ২০২২ মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক ও বঙ্গবন্ধুর ম্যূরাল-১ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, জুলাই ২০২২
৬,৩৯০.
মুক্তিযুদ্ধে ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ কোন শহরে সক্রিয় ছিল?
  1. চট্টগ্রাম
  2. খুলনা
  3. ঢাকা
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
ক্র্যাক প্লাটুন:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা ছিল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ২নং সেক্টরের অধীন।
- সে সময়ে ঢাকার সম্ভাবনাময় তরুণরা এই সেক্টরে গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে পাকিস্তান বাহিনীর সুদৃঢ় শক্তি কেন্দ্র ঢাকায় নানা অপারেশন শুরু করে।
- ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে ভারতে প্রশিক্ষণ নেয়া তরুণ গেরিলারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনসহ ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় সফল অভিযান চালায়।
- ক্র্যাক প্লাটুন নামে পরিচিত এই গেরিলাদের একের পর এক অপারেশনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী।
- আবু বকর, হাফিজ, জুয়েল, আজাদ, বদি, রুমিসহ তরুণ গেরিলাদের এ সব অভিযান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সে সময় তুলেছিল তুমুল আলোড়ন।
- ক্র্যাক প্লাটুন দলটি গঠন করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন ২নং সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশাররফ, বীরউত্তম এবং এটিএম হায়দার বীরউত্তম।
- এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ২নং সেক্টরের অধীন একটি স্বতন্ত্র গেরিলা দল ছিল যারা আসলে গণবাহিনীর অংশ বলে পরিচিত।
- এই বাহিনীর সদস্যরা ভারতের ‘মেলাঘর’ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
- এই প্রশিক্ষণে গ্রেনেড ছোড়া, আত্মগোপন করা, অতর্কিত হামলা প্রভৃতি শেখানো হয়েছে।
- ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকা শহরে ছোটো বড় মিলিয়ে মোট ৮২টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- যার বেশির ভাগই চরম দুঃসাহসী এবং অচিন্তনীয় ছিল।
- তারা মূলত ৫-৬ জনের একেকটা দলে থাকত এবং অভিযান পরিচালনা করত।
- কয়েকটা অপারেশন ছাড়া তাদের প্রায় প্রতিটা অভিযানে কোন পূর্বপরিকল্পিত প্লান থাকত না।
- ক্র্যাক প্লাটুনের কয়েকটি বড় অপারেশন হলো- অপারেশন ফ্লায়িং ফ্ল্যাগস, অপারেশন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, স্টেট ব্যাংক অপারেশন, ডেস্টিনেশন আননোন, অপারেশন তোপখানা রোড ইউএস ইনফরমেশন সেন্টার, অপারেশন গ্যানিজ পেট্রলপাম্প, অপারেশন যাত্রাবাড়ী পাওয়ার স্টেশন, অপারেশন সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন, অপারেশন আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন, অপারেশন ফার্মগেট চেক পয়েন্ট, অপারেশন দাউদ পেট্রলপাম্প, অপারেশন উলন পাওয়ার স্টেশন।

উৎস: দৈনিক জনকণ্ঠ। [লিঙ্ক]
৬,৩৯১.
নৃতাত্তিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত কোন নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) মঙ্গোলীয়
  2. খ) অ্যালপাইন
  3. গ) আদি-অস্ট্রেলীয়
  4. ঘ) নার্কিড
ব্যাখ্যা

- অস্ট্রোলয়েড প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী। নৃতত্ত্ববিদগণ এদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলে মনে করেন। এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়। প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জাতি হলো দ্রাবিড়।
- বাংলার আদি জনগণের অধিবাসিরা নিষাদ জাতির অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলা আদি অধিবাসীগণ অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির বড় অংশ হলো মঙ্গোলয়েড।

৬,৩৯২.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) ড. মুনীর চৌধুরী
  3. গ) আবদুল লতিফ
  4. ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিত রচিত সাহিত্যকর্ম:

- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'।
- সঙ্গীতশিল্পী আবদুল লতিফ রচনা ও সুর করেন 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং ‘তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি'র মতো সঙ্গীত।
- ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক।
- জহির রায়হান রচনা করেন ‘আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩৯৩.
মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন কবে?
  1. ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে
  2. ৪ এপ্রিল ১৯৭১ সালে
  3. ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে
  4. ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৯৪.
চাকমা বিদ্রোহ কোন সমকালের মধ্যে সংঘটিত হয়?
  1. ক) ১৭৭৭ - ১৭৮৭ সাল
  2. খ) ১৭৬৫ - ১৭৭৫ সাল
  3. গ) ১৭৮৩ - ১৭৯৩ সাল
  4. ঘ) ১৭৯৯ - ১৮০৯ সাল
ব্যাখ্যা
১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যভাগে চাকমারা প্রথমবার বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই বিদ্রোহের নায়ক ছিলেন চাকমা দলপতি রাজা সের দৌলত ও তাঁর সেনাপতি রামু খাঁ। প্রথম বিদ্রোহের পর রামু খাঁর পুত্র জানবকস খাঁর নেতৃত্বে ১৭৮২ সালে ও ১৭৮৪ সালে দুটি বিদ্রোহ হয়। এরপর দ্বিতীয় শের দৌলত খাঁর নেতৃত্বে ১৭৮৭ সালে আরেকটি বিদ্রোহ হয়। [সূত্র: কালের কণ্ঠ]
৬,৩৯৫.
গৌড়ের 'আদিনা মসজিদ' নির্মাণ করেন কোন শাসক?
  1. সিকান্দর শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা
সিকান্দর শাহ:
- ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেন।
- তাঁর এ সুদীর্ঘ রাজত্বকালে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সিকান্দর শাহ সুশাসক ও বিদ্যানুরাগী ছিলেন।
- সুফি শেখ আলাউল হক ও শেখ শরফউদ্দীন ইয়াহিয়ার সাথে সিকান্দর শাহের সৌহার্দ্য ও পত্রালাপ ছিল।
- তাঁর রাজত্বকালে স্থাপত্যশিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয়।
- তাঁর সময় তৈরি আদিনা মসজিদ মধ্যযুগের বাংলার স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৯৬.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সূত্রপাত হয় কী বিষয়কে কেন্দ্র করে? 
  1. ছাত্রসমাজের অসন্তোষকে
  2. সামরিক বাহিনীর অসন্তোষকে
  3. রাজনৈতিক নেতাদের অসন্তোষকে
  4. সরকারি কর্মকর্তাদের অসন্তোষকে
ব্যাখ্যা

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
১৯৬৮ সালের নভেম্বরে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহর এবং গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও নিম্ন-আয়ের পেশাজীবীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের মধ্যে, ইতিহাসে তা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। 
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা-পরবর্তীকালের সর্ববৃহৎ গণজাগরণ।
- আটষট্টির ছাত্র অসন্তোষ গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয় মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানী ঘোষিত গভর্নর হাউস ঘেরাও ও পরবর্তী দিনগুলোর কর্মসূচির মাধ্যমে।
- ৬ ডিসেম্বর ‘জুলুম প্রতিরোধ দিবস’ পালনের জন্য মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন  ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), তোয়াহার নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক ফেডারেশন এবং আবদুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতি যৌথ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পল্টন ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করে।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- আসাদউজ্জামান বা শহীদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহীদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবর রহমান সহ সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৯৭.
ন্যাশনাল কার্ড স্কিম 'টাকা পে' উদ্বোধন করা হয় -
  1. ৬ নভেম্বর, ২০২৩
  2. ৩ নভেম্বর, ২০২৩
  3. ৫ নভেম্বর, ২০২৩
  4. ১ নভেম্বর, ২০২৩
ব্যাখ্যা
পে কার্ড:
- ১ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে এই ডেবিট কার্ডের উদ্বোধন হয়।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘টাকা পে’ কার্ড।
- এটি ভিসা, মাস্টারকার্ড ও অ্যামেক্সের মতো আন্তর্জাতিক কার্ড সেবার একটি স্থানীয় বিকল্প।
- প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক, বেসরকারি খাতের দি সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক টাকা পে কার্ড সেবা চালু করেছে।
- টাকা পে কার্ডের লেনদেন নিষ্পত্তি হবে শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ অব বাংলাদেশ (এনপিএসবি)–এর মাধ্যমে। 
- ভবিষ্যতে টাকা পে কার্ড ভারতেও ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
- শুরু থেকেই দেশের সব এটিএম, পয়েন্টস অব সেলস ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৬,৩৯৮.
ইবনে বতুতা রচিত কোন গ্রন্থে চতুর্দশ শতকে বাংলার আর্থ সামাজিক অবস্থার চিত্র পাওয়া যায়?
  1. ইবনে জুযাই
  2. আল রিহানুল
  3. আন-নহর আম্রাতক
  4. কিতাবুল রেহালা
ব্যাখ্যা
- ইবনে বতুতা মরোক্কোর পর্যটক ছিলেন।
- তিনি ১৩৩৪ সালে ভারতে ও ১৩৪৬ সালে বাংলায় ভ্রমণ করেন।
- তাঁর লিখিত বিখ্যাত গ্রন্থ কিতাবুল রেহালা বা সফরনামা
- তাঁর ‘কিতাবুল রেহালা’ নামক গ্রন্থে সমসাময়িক বাংলায় আর্থ-সামাজিক অবস্থার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
-  ইবনে বতুতা সিলেটের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
- তিনি বাংলার নামকরণ করেন ‘দোযখ-ই-পুর নিয়ামত’ বা প্রাচুর্যপূর্ণ নরক।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৯৯.
৬৫০-৭৫০ সময়কাল নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) মাৎস্যন্যায়
  2. খ) অন্ধকার যুগ
  3. গ) কৈবর্ত্য বিদ্রোহ
  4. ঘ) ধর্মীয় স্বর্ণ যুগ
ব্যাখ্যা
• শশাঙ্কের মৃত্যুর পরবর্তী একশ বছর (৬৫০-৭৫০) বাংলায় কোনো স্থায়ী সরকার ছিলো না বললেই চলে।
• সমগ্র দেশ অভ্যন্তরীণ কলহ- কোন্দলে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন এবং বৈদেশিক আক্রমণে পর্যুদস্ত হয়েছে।
• গোপাল-এর উত্থানের আগে খ্রিস্টীয় আট শতকের মাঝামাঝি সময়ের রাজনৈতিক অবস্থাকে পাল আমলের একটি লিপিতে (খালিমপুর তাম্রশাসন) 'মাৎস্যন্যায়' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 
• ৭ম-৮ম শতকের পাল তাম্র শাসনের নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে উল্লেখ করা হয়।
• এ অরাজকতা ও নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের আবির্ভাব হয়।
• পাল তাম্রশাসনে উল্লেখ পাওয়া যায় যে, গোপাল উল্লিখিত অরাজক অবস্থার (মাৎস্যন্যায়ম) অবসান ঘটান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,৪০০.
'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়েছিল-
  1. ক) ওয়াশিংটনে
  2. খ) ব্রাসেলসে
  3. গ) নিউইয়র্কে
  4. ঘ) লন্ডনে
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে জর্জ হ্যারিসনের তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'।
- জর্জ হ্যারিসনকে অনুষ্ঠানটি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন বিখ্যাত সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।