বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৬৩ / ১২৪ · ৬,২০১৬,৩০০ / ১২,৪২১

৬,২০১.
'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়েছিল কোন তারিখে?
  1. ক) ১ এপ্রিল
  2. খ) ১ জুলাই
  3. গ) ১ আগস্ট
  4. ঘ) ১ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ

- একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- পণ্ডিত রবিশংকর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য-বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটল্সের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই অবিস্মরণীয় কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন।
- তাতে মোট ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন। কনসার্টটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।

- কনসার্ট ফর বাংলাদেশে আয়োজক দুই তারকা ছাড়াও অংশ নেন বিটলসের রিংগো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেসটন, লিয়ন রাসেল। রবি শঙ্কর ছাড়াও সরোদ শিল্পী আলী আকবর খান অংশ নিয়েছিলেন এই কনসার্টে।
- এই কনসার্টটি পরিচালনা করেন পল সুইমার। 

- রবি শঙ্কর শুরুতে উদ্যোগটি থেকে বাংলাদেশের জন্য মাত্র ২৫,০০০ ডলার সংগ্রহের আশা করেছিলেন। তবে কনসার্টের টিকিট বিক্রি থেকেই সে সময়ে প্রায় আড়াই লক্ষ ডলারের কাছাকাছি আয় হয়েছিল।
- পরবর্তীতে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ লাইভ' নামে একটি অ্যালবামও প্রকাশ করা হয়।
- সংগৃহীত অর্থ ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থীদের প্রদান করা হয়। 

তথ্যসূত্র:- প্রথম আলো এবং বিবিসি।
৬,২০২.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় -
  1. ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
  2. খ) ১১ মার্চ, ১৯৫০
  3. গ) ২ মার্চ, ১৯৪৮
  4. ঘ) ১ অক্টোবর, ১৯৪৭
ব্যাখ্যা
• ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
• কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
• রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ১ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
• দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
• ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি , বাংলাপিডিয়া।
৬,২০৩.
"আমার দেখা নয়াচীন” কে লিখেছেন?
  1. মওলানা ভাসানী
  2. আবুল ফজল
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
আমার দেখা নয়াচীন:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন।
- প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
- সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।

উৎস: ১৪ আগস্ট ২০২০,  প্রথম আলো। 
৬,২০৪.
Which one was the Naval Sector in the liberation war of Bangladesh?
  1. ক) 7
  2. খ) 9
  3. গ) 10
  4. ঘ) 11
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী সেক্টর হল ১০নং সেক্টর।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং  সেক্টরের অধিনে।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- মুজিব নগর কত ৮নং সেক্টরের অধিনে ছিল।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধিনে ছিল।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসুত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,২০৫.
'অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী' চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী:
- স্বাধীনতা-পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় ছবি অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হলেও বিষয়বস্তুতে অনন্যসাধারণ এই চলচ্চিত্রটি।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের চলচ্চিত্র ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’। 

⇒ 'লাঞ্ছিত নারীত্বের মর্যাদা দাও, নিষ্পাপ সন্তানদের বরণ কর'- এই স্লোগানে ১৯৭২ সালে প্রখ্যাত পরিচালক সুভাষ দত্ত নির্মাণ করেন অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী চলচ্চিত্রটি।
- ছবিটি মূলত একজন অভিনেতাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে; যিনি যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে রক্ষা পেতে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যান।
- কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শুরু হয় নিজের বিবেকের দংশন।
- এভাবেই এগিয়ে চলে ছবিটির গল্প।
- এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন ববিতা, উজ্জল, আনোয়ার হোসেনসহ আরো অনেকে।

উৎস: বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ।
৬,২০৬.
১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কত দফাকে নির্বাচনী মেনিফেস্টো হিসেবে ঘোষণা করে?
  1. ১ দফা
  2. ৬ দফা
  3. ১১ দফা
  4. ২১ দফা
ব্যাখ্যা
১৯৭০ এর নির্বাচন:
- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ও ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- অবশ্য ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ের ফলে দুর্গত ও উপকূলীয় এলাকায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
- আওয়ামী লীগ দলীয় সভায় ১৯৭০ সালের ১ এপ্রিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- একই বছরের ১৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের দলীয় নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে 'নৌকা' পছন্দ করেন।
- আওয়ামী লীগ ছয় দফাকে নির্বাচনী মেনিফেস্টো হিসেবে ঘোষণা করে।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের পূর্ব পাকিস্তান অংশের জন্য ১৬০টি সাধারণ আসন ও ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট বরাদ্দ ছিল ১৬৯টি আসন।
- জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭টি সংরক্ষিত আসন সহ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে।
- অবশিষ্ট দুটি আসনের মধ্যে একটি আসন পি.ডি.পি. প্রধান নূরুল আমীন এবং অপর আসনটি লাভ করেন নির্দলীয় প্রার্থী চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় চৌধুরী।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২০৭.
স্বাধীন দেশে প্রথম নাটক মঞ্চায়ন করে কোন নাট্যদল?
  1. থিয়েটার
  2. নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়
  3. আরণ্যক
  4. ঢাকা থিয়েটার
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মঞ্চনাটক:
- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে বড় এক অর্জন যুক্ত হলো—মঞ্চনাটক। মুক্তিযুদ্ধের যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা সেটা মঞ্চের মতো করে আর কোথাও সেভাবে চর্চিত হয়নি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও মানবিকবোধ জাগ্রত করার পেছনে নিরলস পরিশ্রম করেছেন এই অঙ্গনের যোদ্ধারা। এই সংস্কৃতিযোদ্ধাদের বেশির ভাগই ছিলেন রণাঙ্গনের যোদ্ধা। 

⇒ অস্ত্র হাতে যাঁরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে কলকাতায় বিভিন্ন নাট্যদলের নাটক দেখে তাঁদের মনে হলো, নাটক হতে পারে একটি নিয়মিত চর্চার শিল্পমাধ্যম। স্বাধীনতার পরপরই তাঁদের প্রত্যেকেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন মঞ্চে। তাঁদের হাত ধরেই পরবর্তী সময়ে বেড়ে ওঠে ‘গ্রুপ থিয়েটার’ আন্দোলন।

⇒ স্বাধীনতা পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই গঠিত হয় বেশ কয়েকটি নাটকের দল। ১৯৭২ সালেই প্রতিষ্ঠিত হয় নামকরা কয়েকটি নাটকের দল—থিয়েটার, নাট্যচক্র, আরণ্যক, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় [দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬৮ সালে, প্রথম নাটক মঞ্চায়ন ১৯৭২-এ]। পরের বছর গড়ে ওঠে ঢাকা থিয়েটার ও চট্টগ্রাম থিয়েটার। 

⇒ স্বাধীন দেশে প্রথম নাটক মঞ্চায়ন করে আরণ্যক নাট্যদল।
- ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে তারা মঞ্চস্থ করে মুনীর চৌধুরী রচিত ‘কবর’। প্রথম মঞ্চায়নের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন আলী যাকের, সুভাষ দত্ত, ইনামুল হক ও মামুনুর রশীদের মতো শিল্পীরা। তবে দর্শনীর বিনিময়ে প্রথম নাটক মঞ্চায়ন হয় পরের বছর। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নাটকটির নাম ‘বাকি ইতিহাস’, মঞ্চস্থ হয় ১৯৭৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি।
- ‘বাকি ইতিহাস’ নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে দেয় অন্য দলগুলোর জন্য।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) কালের কন্ঠ।

৬,২০৮.
কোন মুঘল সম্রাটের সময় লালবাগ দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল?
  1. ক) আকবর
  2. খ) শাহজাহান
  3. গ) জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময় লালবাগ দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল। 

- লালবাগ দুর্গ মুগল প্রাসাদ দুর্গ। এটি আওরঙ্গাবাদ দুর্গ নামেও পরিচিত।
- পুরাতন ঢাকা নগরীর দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দূর্গটির অবস্থান।
- নদীটি বর্তমানে আরও দক্ষিণে সরে গিয়ে দুর্গ থেকে বেশ খানিকটা দূর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

- যুবরাজ মুহম্মদ আজম বাংলার সুবাহদার থাকাকালীন ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- কিন্তু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই আওরঙ্গজেব তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠান।
- তাঁর উত্তরসূরি শায়েস্তা খান ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করলেও দুর্গের কাজ সমাপ্ত করেন নি।
- ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে শায়েস্তা খানের কন্যা বিবি পরী এখানে মারা গেলে দুর্গটিকে তিনি অপয়া হিসেবে বিবেচনা করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।

উৎস : বাংলাপিডিয়া
৬,২০৯.
মুক্তিবাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি কী নামে পরিচিত?
  1. ​এস ফোর্স
  2. কে ফোর্স
  3. এন ফোর্স
  4. জেড ফোর্স
ব্যাখ্যা

জেড ফোর্স:
- জেড ফোর্স নামে পরিচিত মুক্তিবাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘জেড’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

​এস ফোর্স:
‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন সফিউল্লাহ।

​কে ফোর্স:
-‘কে ফোর্স’ ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে ৭ই অক্টোবর গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন খালেদ মোশাররফ।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘কে’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,২১০.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোথায় ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন?
  1. ঢাকা
  2. লাহোর
  3. রাওয়ালপিন্ডি
  4. ইসলামাবাদ
ব্যাখ্যা
ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- তিনি লাহোরে এই ঘোষনা দেন।

ছয় দফা কর্মসূচি,
১) লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানের জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। এটি হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা। প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইনসভাগুলো হবে সার্বভৌম ।
২) শুধু দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র বিষয় থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। অবশিষ্ট ক্ষমতা থাকবে প্রদেশগুলোর হাতে।
৩) দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে। অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।
৪) আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে ।
৫) দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসেব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে।
৬) অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী অর্থাৎ মিলিশিয়া ও প্যারা মিলিশিয়া গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২১১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. তমদ্দুন মজলিশ
  2. রাষ্ট্রভাষা বাংলা পরিষদ
  3. রাষ্ট্রভাষা বাংলা কমিটি
  4. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২১২.
কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে কে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন?
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. সম্রাট অশোক
  3. বিষ্ণুগুপ্ত
  4. রাজা গোপাল
ব্যাখ্যা
সম্রাট অশোক:
- সম্রাট অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন।
- তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন।
- রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- তিনি ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোকের রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে আমূল পরিবর্তন আসে।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- জীবনের অবশিষ্ট সময় অহিংস ধর্ম (বৌদ্ধ ধর্ম) তাঁর পথপ্রদশর্কের ভূমিকা পালন করে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২১৩.
পরী বিবির আসল নাম কী?
  1. ইরান দুখত
  2. গুলতেকিন
  3. ফাতেমা
  4. গুলবাহার
ব্যাখ্যা
পরী বিবি:
- পরী বিবি বাংলার মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান এর কন্যা।
- বাদশাহ আওরঙ্গজেব এর পুত্র মুহম্মদ আজম এর স্ত্রী।
- তাঁর আসল নাম ইরান দুখত।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে মসজিদের পূর্ব দিকে বিবি পরীকে সমাহিত করা হয়।
- শায়েস্তা খান কন্যার সমাধির উপর একটি সুদৃশ্য সৌধ নির্মাণ করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খান লালবাগ দুর্গ নির্মাণ করেন।
- তিনি ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
- এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ৯ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
৬,২১৪.
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয় কত তারিখ?
  1. ১১ ডিসেম্বর
  2. ১২ ডিসেম্বর
  3. ১৩ ডিসেম্বর
  4. ১৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
বুদ্ধিজীবী হত্যা:

- যৌথ বাহিনীর ঢাকার উপকণ্ঠে আগমণ ও ভারতীয় বিমান বাহিনীর ঢাকা আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ১৪ ডিসেম্বর গভর্ণর মালিকের নেতৃত্বাধীন সরকার পদত্যাগ করে।
- এ সময় পাকিস্তান বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস এর সহযোগিতায় ব্যাপক গণহত্যা চালায়।
- যুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়।
- ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
- বাংলাদেশের ইতিহাস এ ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।
- হত্যাকাণ্ডের শিকার বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২১৫.
ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. খাজা নাজিম উদ্দীন
  2. নুরুল আমিন
  3. লিয়াকত আলী খান
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

 • ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন।
- ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনিও জিন্নাহর মতো ঘোষণা করেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।'
- এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়ে যায়। এবার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্র জনতা।

- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- সংগ্রাম পরিষদ ৪ ফেব্রুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২১৬.
পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কে উপস্থিত ছিলেন?
  1. খালেদ মোশারফ
  2. এ. কে. খন্দকার
  3. তাজউদ্দীন আহমদ
  4. জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডার প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২১৭.
'জয় বাংলা’ কে জাতীয় স্লোগান হিসাবে মন্ত্রিসভায় কত তারিখে অনুমোদন করা হয়?
  1. ক) ২ মার্চ, ২০২২
  2. খ) ৩ মার্চ, ২০২২
  3. গ) ৪ মার্চ, ২০২২
  4. ঘ) ৫ মার্চ, ২০২২
ব্যাখ্যা
‘জয় বাংলা’ স্লোগান:
-  'জয় বাংলা’ কে জাতীয় স্লোগান হিসাবে মন্ত্রিসভায়  অনুমোদন করা হয় - ২ মার্চ, ২০২২
- ২০২০ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট এক রায়ে ‘জয় বাংলা’কে বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে 'জয় বাংলা’ কে জাতীয় স্লোগান হিসাবে মন্ত্রিসভায়  অনুমোদন করা হয় - ২ মার্চ, ২০২২

প্রজ্ঞাপনে বলা হয় - 
- ‘জয় বাংলা” বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হবে।
- সাংবিধানিক পদাধিকারীগণ, দেশে ও দেশের বাইরে কর্মরত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ সকল জাতীয় দিবস উদ্‌যাপন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় ও সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে “জয় বাংলা” স্লোগান উচ্চারণ করিবেন।
- সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাত্যহিক সমাবেশ সমাপ্তির পর এবং সভা-সেমিনারে বক্তব্যের শেষে শিক্ষকগণ ও ছাত্রছাত্রীবৃন্দ 'জয় বাংলা' স্লোগান উচ্চারণ করিবেন।

তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
৬,২১৮.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আল মাহমুদ
  4. মমতাজউদদীন আহমদ
ব্যাখ্যা

রাইফেল রোটি আওরাত:
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঘটে যাওয়া গণহত্যা এবং তার পরবর্তী দিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কাহিনী উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে।
- যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে, প্রত্যক্ষ বাস্তবতার ভেতর তিনি উপন্যাসটি লেখেন।
- যুদ্ধের এমন প্রত্যক্ষ, এমন মৌলিক ব্যাপ্তি সত্যিই বিরল।
- এ উপন্যাস শুধু বিপন্ন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি নয়, রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে উদ্ভাসিত এক নতুন বাংলাদেশ।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সুদীপ্ত শাহীন-ই যেন সেই বাংলাদেশ।
- তিনি ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত হন।

উৎস: প্রথম আলো।

৬,২১৯.
কোন নদীর তীরে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. যমুনা
  2. কাবেরী
  3. সিন্ধু
  4. ভাগীরথী
ব্যাখ্যা
পলাশীর যুদ্ধ:
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২২০.
প্রাচীন বাংলার গৌড় রাজ্য বর্তমানে অবস্থান কোথায়?
  1. কুষ্টিয়া
  2. ময়মনসিংহ
  3. চট্টগ্রাম
  4. মুর্শিদাবাদ
ব্যাখ্যা

গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,২২১.
‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বৎসর' গ্রন্থটির রচিয়তা কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মো. আব্দুল হাই
  3. গ) আতাউর রহমান
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহম্মদ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহম্মদ 
- আবুল মনসুর আহম্মদ ছিলেন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি যে সকল সাময়িক পত্রিকায় কাজ করেন, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সোলতান, মোহাম্মদী, দি মুসলমান, কৃষক, নবযুগ ও ইত্তেহাদ।
- তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
- তিনি ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
- তিনি যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচনী কর্মসূচি ২১-দফার অন্যতম প্রণেতা ছিলেন।
- ১৯৫৪ সালে তিনি ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী নিযুক্ত হন।
- তিনি ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সালে বণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর তিনি কারারুদ্ধ হন এবং ১৯৬২ সালে মুক্তি পান। 
- তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা: আয়না ও ফুড কনফারেন্স।
- তাঁর রচিত উপন্যাস: সত্যমিথ্যা, জীবন ক্ষুধা ও আবে-হায়াৎ।
- তাঁর রচিত স্মৃতিকথা: আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।
- তাঁর আত্মচরিত হল আত্মকথা (১৯৭৮)।

উল্লেখ্য,
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০), স্বাধীনতা দিবস পদক (১৯৭৯) ও নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২২২.
শিক্ষা আন্দোলনে নিহত হন-
  1. ক) ওয়াজিউল্লাহ
  2. খ) আসাদুজ্জামান
  3. গ) মনসুর আলী
  4. ঘ) মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
শরিফ শিক্ষা শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হন- ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ অনেকে। আসাদুজ্জামান ও মতিউর রহমান শহীদ হন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬,২২৩.
কোনটি ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ নামে পরিচিত?
  1. ক) স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
  2. খ) সংবিধান
  3. গ) ছয়দফা
  4. ঘ) এগারো দফা
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ছয় দফা দাবীকে ‘বাঙালির ‍মুক্তির সনদ’ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন। একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহীত হয় এবং ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু সাংবাদিক সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন। ৭ জুন ছয়দফা দিবস।
সূত্র : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২২৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ২ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কে?
  1. এ.টি.এম হায়দার
  2. এ.এন.এম নূরুজ্জামান
  3. চিত্তরঞ্জন দত্ত
  4. এম খাদেমুল বাশার
ব্যাখ্যা

• ১ নং সেক্টর: সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
• ২ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
• ৩ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
• ৪ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।
• ৫ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।
• ৬ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
• ৭ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
• ৮ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
• ৯ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।
• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই সেক্টরের নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।
• ১১ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৬,২২৫.
কালিকট বন্দরে এসে কারা প্রথম পৌছায়?
  1. ইংরেজরা
  2. ওলন্দাজরা
  3. পর্তুগিজরা
  4. ফরাসিরা
ব্যাখ্যা
-পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে সমুদ্রপথে ভারতের কালিকট বন্দরে এসে পৌঁছান। ভাস্কো-দা-গামা আসার পর পর্তুগিজরা উপমহাদেশে আগমন শুরু করে এবং ব্যবসা বাণিজ্য ও যোগাযোগে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- কোচিনে তারা প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ১৫০২ সালে।
 -ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম এসেছিলেন- পর্তুগিজরা।
- বাংলায় কুঠি স্থাপন করে ১৫১৭ সালে
-পর্তুগিজরা বাংলায় ফিরিঙ্গি নামে পরিচিত।

ইংরেজ :
ইংল্যান্ড রানি এলিজাবেথের অনুমতি নিয়ে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ১৬০০ সালে ভারত বর্ষে আসে ইংরেজরা ।
 তারা সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন ১৬১২ সালে।
 সম্রাট শাজাহানের সময় বাংলায় প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।
 তারা কলকাতায় রাজা উইলিয়ামের নাম অনুসারে, ফোর্ট উলিয়াম দুর্গা নির্মাণ করে ১৭০০ সালে

উৎস : এইচএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২২৬.
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ভারতবর্ষে আসেন কারা?
  1. ইংরেজ
  2. ফরাসি
  3. ওলন্দাজ
  4. পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
 পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে সমুদ্রপথে ভারতের কালিকট বন্দরে এসে পৌঁছান।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
 - ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম এসেছিলেন- পর্তুগিজরা।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- উপমহাদেশে আসার অল্পদিনের মধ্যেই তাঁরা এদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে, সিংহলের নানাস্থানে এবং বাংলার হুগলী বন্দরে তাঁদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন। 
- পর্তুগিজরা বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং কুঠিগুলোকে দুর্গে পরিণত করে।
- পর্তুগিজরা চীন, ব্রুনাই, মালাক্কা, হরমুজ, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা প্রভৃতি দেশ থেকে মূল্যবান কাপড়, বাদাম, মসলা, রং, কড়ি, কপূর এনে উপমহাদেশে বিক্রি করতো।
- আর বাংলাদেশ থেকে সূতি ও রেশমী কাপড়, পাট, তামাক, চামড়া, চাল, ডাল, ঘি, তেল, মধু মোম অন্যান্য দেশে নিয়ে যেত।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২২৭.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রথম বছর কতটি দেশ পালন করে?
  1. ১৮৭টি
  2. ১৮৮টি
  3. ১৮৯টি
  4. ১৯০টি
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস:

- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো বাংলাদেশের বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভাষার জন্য আত্মত্যাগকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষনা করে।
- প্রতিবছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- ২০০০ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি এ বিশেষ দিবসটিকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে প্রথমবারের মতো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে।
- ইউনেস্কোর পর জাতিসংঘও ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক ইনকিলাব।
৬,২২৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় নির্মিত 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রের নির্মাতা কে?
  1. আলমগীর কবির
  2. খান আতাউর রহমান
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. সুভাষ দত্ত
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রটির পরিচালক- 'আলমগীর কবির'।

ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩):
- এটির নির্মাতা আলমগীর কবির।
- ভারতীয় মেয়ে অনিতার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়।
- সে ঢাকায় এসে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আরও গভীরভাবে মর্মাহত হয়।
- অভিনয়ে বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান আছে এ ছবিতে।

অন্যদিকে -
- 'আবার তোরা মানুষ হ' চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
- 'আগুনের পরশমণি' হুমায়ূন আহমেদ এর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছায়াছবি।
-  'অরুনোদয়ের অগ্নিসাক্ষী' চলচ্চিত্রের পরিচালক সুভাষ দত্ত। 

উৎস: প্রথম আলো- তারিক মনজুর, শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
৬,২২৯.
দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র 'বিবিয়ানা' আবিষ্কৃত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৯৫
  2. খ) ১৯৯৮
  3. গ) ১৯৯৬
  4. ঘ) ১৯৯৭
ব্যাখ্যা
- প্রাথমিক মজুদের পরিমাণের হিসাবে বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র - বিবিয়ানা।
   - এটি হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।  ১৯৯৮ সালে ইউনোক্যাল এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। 
   - দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র - তিতাস।

- উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদের পরিমাণের হিসাবে দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র - তিতাস।
   - এটি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলায় অবস্থিত।
   - দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র - বিবিয়ানা।

উৎস : বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২১; বাংলাপিডিয়া।
৬,২৩০.
দৌলত খান লোদী কোন রাজ্যের শাসক ছিলেন?
  1. পাঞ্জাব
  2. মালব
  3. কাশ্মীর
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
মুঘল শাসনের পুর্বে:

- বাবরের ভারতবর্ষ আক্রমণের প্রাক্কালে এদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান ছিল।
- তখন দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের শাসক ছিলেন ইব্রাহিম লোদী।
- তিনি অনেকটা দুর্বল শাসক ছিলেন। ফলে অমাত্যবর্গ ও প্রাদেশিক শাসনকর্তাগণের উপর তার নিয়ন্ত্রণ কম ছিল।
- কেন্দ্রীয় শাসনের দুর্বলতার সুযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এসব রাজ্যের মধ্যে পাঞ্জাবের শাসক দৌলত খান লোদী সুলতানের চরম বিরোধিতা করেন এবং ইব্রাহিম লোদীকে সিংহাসনচ্যুত করার জন্য বাবরকে আমন্ত্রণ জানান।
- এমন সংকটপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে বাবর ভারত আক্রমণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৩১.
'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. হেনরি লুই ডিরোজিও
  3. রাধানাথ সিকদার
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা হেনরি লুই ডিরোজিও।

• ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট :
- হেনরি লুই ডিরোজিও ১৮০৯ সালের ১৮ই এপ্রিল কোলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি।
- ডিরোজিও ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ডেভিড ড্রামন্ডের ধর্মতলা একাডেমিতে পড়ালেখা শুরু করেন।
- এই শিক্ষকের আদর্শ ডিরোজিওকে তাঁর শিশুকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রভাবিত করে রেখেছিল।
- বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা।
- বয়সে তরুণ হলেও তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য, দর্শন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
-  ডিরোজিওর অনুসারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি প্রমুখ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ছাত্র না হলেও তাঁর আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। ডিরোজিওর অনুসারীদের আন্দোলন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকেও প্রভাবিত করেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
৬,২৩২.
মাৎস্যন্যায় কোন সময়কালকে নির্দেশ করে?
  1. শশাঙ্ক পরবর্তীকাল
  2. গোপাল পরবর্তীকাল
  3. হর্ষবর্ধন পরবর্তীকাল
  4. সমুদ্রগুপ্ত পরবর্তীকাল
ব্যাখ্যা
• মাৎস্যন্যায়:
- রাজা শশাঙ্ক এর মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- ছোট ছোট রাজ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং তাদের পারস্পরিক যুদ্ধবিগ্রহের ফলে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়।
- বাংলার নৈরাজ্য অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় বলে উল্লেখ করা হয়।
- মাৎস্যন্যায় শব্দের অর্থ: আইন শৃঙ্খলাহীন অরাজক অবস্থা।
- মাৎস্যন্যায় সময়কাল: আনুমানিক ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- মাৎস্যন্যায় সময়: গুপ্ত ও পাল আমলের মধ্যবর্তী তাম্রশাসন যুগ।
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল এ বিশৃঙ্খল অবস্থায় রাজ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং মাৎস্যন্যায় অবসান ঘটান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২৩৩.
তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. প্রফেসর আবুল কাশেম
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং
- এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- এ ঐতিহাসিক পুস্তিকায় সন্নিবেশিত নিবন্ধগুলোতে এদের লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ ও অধ্যাপক আবুল কাশেম বাংলাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
- তাঁরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিও তুলে ধরেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,২৩৪.
আদিনা মসজিদ কোন শাসকের সময়ে নির্মিত হয়?
  1. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. সিকান্দর শাহ
ব্যাখ্যা

→ আদিনা মসজিদ সিকান্দর শাহ এর সময়ে নির্মিত হয়।

সিকান্দর শাহ:
- ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেন।
- তাঁর এ সুদীর্ঘ রাজত্বকালে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সিকান্দর শাহ সুশাসক ও বিদ্যানুরাগী ছিলেন। 
- সুফি শেখ আলাউল হক ও শেখ শরফউদ্দীন ইয়াহিয়ার সাথে সিকান্দর শাহের সৌহার্দ্য ও পত্রালাপ ছিল।
- তাঁর রাজত্বকালে স্থাপত্যশিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয়।
- তাঁর সময় তৈরি আদিনা মসজিদ মধ্যযুগের বাংলার স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২৩৫.
মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ছিলেন কে?
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. এস. আর. বোস
  3. মনোরঞ্জন ধর
  4. মনি সিংহ
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
- সদস্য ছিলেন,
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৩৬.
”জুলাই ঘোষণাপত্র” পাঠ করেন কে?
  1. আসিফ নজরুল ইসলাম
  2. সাহবুদ্দিন আহমেদ
  3. অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
  4. নাহিদ ইসলাম
ব্যাখ্যা

• জুলাই ঘোষণাপত্র:
- ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল।
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে র ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।

⇒ জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৪ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- ২৪ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

উৎস: প্রথম আলো।

৬,২৩৭.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদের নাম কী? 
  1. রিফাত
  2. আহাদ
  3. নাঈম
  4. সাদ
ব্যাখ্যা

• জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ:
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ আব্দুল আহাদ।
- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিহত হয় ৪ বছরের শিশু আব্দুল আহাদ।
- শহীদ আব্দুল আহাদ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আবুল হাসান ও মা সুমি আক্তারের পুত্র।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় ৮ তলার উপর তার বাবা-মায়ের মাঝে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল আব্দুল আহাদ।
- এ সময় বাসার নিচে ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিহত হয় আহাদ।
- সে 'জুলাই সর্বকনিষ্ঠ যোদ্ধা' হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: i) জুলাই আর্কাইভ।
ii) যুগান্তর।

৬,২৩৮.
সম্রাট আকবর বাংলা বিজয় করেন-
  1. ক) ১৫৫৬ সালে
  2. খ) ১৫৬০ সালে
  3. গ) ১৫৭৬ সালে
  4. ঘ) ১৫৮৭ সালে
ব্যাখ্যা
মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট আকবর ছিলেন ভারতবর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। পৃথিবীর ইতিহাসে মহান শাসকদের অন্যতম মহামতি আকবর নামেও পরিচিত তিনি। পিতা সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে আকবর ভারতের শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি মনসবদারী প্রথার প্রচলন করেন, জিজিয়া কর ও তীর্থকর রহিত করেন, বুলান্দ দরওয়াজ ও অমৃতসর স্বর্ণমন্দির নির্মাণ করেন। সম্রাট আকবর বাংলা বিজয় করেন ১৫৭৬ সালে। তাঁর সময়ে সমগ্র বঙ্গ দেশ ‘সুবহ-ই-বাঙ্গালাহ’ নামে পরিচিত ছিল। বাংলায় বার ভূঁইয়াদের অভ্যুত্থান ঘটে আকবরের আমলে। তিনি বাংলা সনের প্রবর্তক ছিলেন। সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি) ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২৩৯.
'এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি' এর রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা 'এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' এর রচয়িতা- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪০.
ছয় দফা আন্দোলনের চতুর্থ দফা কী ছিল?
  1. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  2. মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  3. রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  4. বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
-  ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।

• ছয়টি দফা হলো-
- প্রথম দফা: শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা। 
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা ও অর্থ সম্বন্ধীয় ক্ষমতা। 
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব কর ও শুল্ক বিষয়ক ক্ষমতা। 
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা। 
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৪১.
মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার নেতৃত্ব দেন কে?
  1. মোহাম্মদ সোলায়মান
  2. আব্দুল খালেক
  3. মাহবুব উদ্দিন আহমেদ
  4. শৈলেন্দ্র কিশোর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
◉ মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদানকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন ⎯ মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।
- তিনি একাত্তরে ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশ প্রধান ছিলেন।

মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। এর আগে ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে চার সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ⎯ মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো ⎯ কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
➝ রাষ্ট্রপতি ⎯ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
➝ উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ⎯ সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
➝ প্রধানমন্ত্রী ⎯ তাজউদ্দিন আহমেদ,
➝ অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ⎯ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
➝ স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী ⎯ আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
➝ পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ⎯ খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য:
➝ মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ⎯ আবদুল মান্নান এম.এন.এ।
➝ মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ⎯ গণপরিষদের আওয়ামীলীগের হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
➝ মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত ও উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন ⎯ তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশপ্রধান মাহবুব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে আনসার, পুলিশ ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত ১২ সদস্যের একটি যৌথ দল।
➝ শপথগ্রহণের সময় শতাধিক ভারতীয় ও বিদেশি সাংবাদিক এবং প্রচার মাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৬,২৪২.
অপারেশন সার্চলাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব কাকে দেওয়া হয়?
  1. জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল টিক্কা খান
  4. লে. জেনারেল নিয়াজী
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।

৬,২৪৩.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ২৬ জানুয়ারি ১৯৫২
  2. খ) ২৮ জানুয়ারি ১৯৫২
  3. গ) ২৯ জানুয়ারি ১৯৫২
  4. ঘ) ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক মনোনীত হন কাজী গোলাম মাহবুব
- ২০শে ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকায় পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৪৪.
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৩ এর 'সোশ্যাল সার্ভিস/পাবলিক সার্ভিসেস' বিভাগে পুরস্কার পায় কোন সংস্থা?
  1. আনসার ভিডিপি
  2. বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড
  3. সমাজসেবা অধিদপ্তর
  4. ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা পুরস্কার- ২০২৩:
- ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় বেসামরিক পুরস্কার 'স্বাধীনতা পুরস্কার- ২০২৩' প্রদান করা হয়। 
- পদক প্রাপ্তদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) শামসুল আলম, প্রয়াত লেফটেন্যান্ট এজি মোহাম্মদ খুরশিদ (মরণোত্তর), শহীদ খাজা নিজামউদ্দিন ভূঁইয়া (মরণোত্তর)ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (মায়া) বীর বিক্রম 'স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ' ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
- প্রয়াত ড. মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন আহমেদ (সেলিম আল দীন) (মরণোত্তর) 'সাহিত্য' বিভাগে মনোনীত হয়েছেন এবং পবিত্র মোহন দে ও এএসএম রকিবুল হাসানকে যথাক্রমে 'সাংস্কৃতিক' ও 'ক্রীড়া' বিভাগে মনোনীত করা হয়েছে।
- ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগকে 'সোশ্যাল সার্ভিস/পাবলিক সার্ভিসেস' বিভাগে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
- বেগম নাদিরা জাহান (সুরমা জাহিদ) এবং ড. ফেরদৌসী কাদরীকে 'গবেষণা ও প্রশিক্ষণ' বিভাগে মনোনীত করা হয়েছে।
- এর আগে, গত ৯ মার্চ ২০২৩ তারিখে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

উৎস: দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। [লিঙ্ক]
৬,২৪৫.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কার্পাস বিদ্রোহ সংঘটিত করেছিলো?
  1. ক) সাঁওতাল
  2. খ) মুন্ডা
  3. গ) চাকমা
  4. ঘ) হাজং
ব্যাখ্যা
১৭৭৬ সাল থেকে ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত চাকমাদের বিদ্রোহ কার্পাস বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলার চাষ হতো এবং কর হিসেবে তারা মুঘল শাসকদের তুলা প্রদান করতো। কিন্তু ইংরেজ শাসনামলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পার্বত্য চট্টগ্রামের কার্পাস মহল বেনিয়াদের নিকট ইজারা প্রদান করে। এসব মধ্যস্বত্বভোগীরা কর হিসেবে অধিক পরিমাণ তুলা প্রদানে চাকমাদের বাধ্য করতো।

এতে করে চাকমারা রানু খাঁ, শের দৌলত ও জানবক্সের নেতৃত্বের ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। মোট চারবার চাকমা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
১৭৮৭ সালে চাকমা রাজা ও ইংরেজদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি ফলে কার্পাস বিদ্রোহের অবসান হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস : সিরাজুল ইসলাম এবং দৈনিক প্রথম আলো)
৬,২৪৬.
কোন মুগল সম্রাট 'বাংলা বর্ষপঞ্জি' প্রবর্তন করেন?
  1. ক) সম্রাট আওরঙ্গজেব
  2. খ) সম্রাট আকবর
  3. গ) সম্রাট শাহজাহান
  4. ঘ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
• ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর প্রবর্তন করেন বাংলা বর্ষপঞ্জি
• এই নতুন বর্ষপঞ্জিটি প্রথমে তারিখ-ই-এলাহী নামে পরিচিত ছিল ।
• ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ এটি বঙ্গাব্দ নামে প্রচলিত হয়।
• নতুন এই সালটি আকবরের রাজত্বের ঊনত্রিশতম বর্ষে প্রবর্তিত হলেও তা গণনা করা হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে, কারণ এদিন আকবর দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
• তারিখ-ই-এলাহীর উদ্দেশ্য ছিল আকবরের বিজয়কে মহিমান্বিত করে রাখা এবং একটি অধিকতর পদ্ধতিগত উপায়ে রাজস্ব আদায়ে সহায়তা করা।
• এর পূর্বে মুগল সম্রাটগণ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে হিজরি বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করেতেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪৭.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আইনজীবী ছিলেন কে?
  1. থমাস ডগলাস
  2. অ্যাডওয়ার্ড এনরবি
  3. টমাস উইলিয়াম
  4. মার্শাল ফিল্ড
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন, রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

উল্লেখ্য,
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান। অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪৮.
'সালাম সালাম হাজার সালাম' গানটির গীতিকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আব্দুল জব্বার
  3. ফজল–এ–খোদা
  4. মাহমুদুননবী খুরশীদ আলম
ব্যাখ্যা
'সালাম সালাম হাজার সালাম':
- 'সালাম সালাম হাজার সালাম' গানটির গীতিকার ফজল–এ–খোদা।

⇒ ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত হলেও মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গানটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
- গানটি রচনা করেন ফজল-এ-খোদা।
- এতে সূর দেন কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে আব্দুল জব্বারের কণ্ঠে গানটি ব্যপকভাবে প্রচারিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপর থেকে গানটি বেশি প্রচারিত হলেও মূলত ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণেই এই গান রচিত হয়।
- ২০০৬ সালে বিবিসি কর্তৃক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলা গান হিসেবে শ্রোতা মনোনীত ২০ সেরা গানের মধ্যে ১২তম অবস্থানে অর্ন্তভূক্ত হয় গানটি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪৯.
'বর্গি' নামে পরিচিত ছিল কারা?
  1. ক) আরাকানী জলদস্যু
  2. খ) ডাচ জলদস্যু
  3. গ) পর্তুগিজ জলদস্যু
  4. ঘ) মারাঠি দস্যু
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ ভারতের মারাঠারা বাংলায় ‘বর্গি’ নামে পরিচিত ছিলো।
- মারাঠা সৈন্যবাহিনীর সর্বনিম্ন পদধারী সৈনিকরা ‘বর্গি’ নামে পরিচিত ছিলো। এই বরগি থেকেই বর্গি নামের উদ্ভব।
- ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে গিরিয়ার যুদ্ধে আলীবর্দী সরফরাজকে পরাজিত করে মুঘলদের অনুমোদন ছাড়াই বাংলার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
- তার সময়ে বর্গি নামে পরিচিত মারাঠি দস্যুরা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ করে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল।
- আলিবর্দি খান ১৭৪২ থেকে ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১০ বছর এদের প্রতিরোধ করে দেশছাড়া করতে সক্ষম হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৫০.
বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা হিসেবে কোন দুইটি নোট প্রথম চালু হয়?
  1. ১ টাকা ও ১০০ টাকা
  2. ১০ টাকা ও ৫০ টাকা
  3. ৫০ টাকা ও ১০০ টাকা
  4. ১০০ টাকা ও ৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা:
- ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব ১ ও ১০০ টাকার ব্যাংক নোটের প্রচলন হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশের মুদ্রার নাম রাখা হয় টাকা। বিশ্বের কয়েকটি দেশের মুদ্রার নাম একই ধরনের। তবে বাংলাদেশের মুদ্রা হিসেবে টাকা নামটি স্বতন্ত্র।
- ৪ মার্চ ১৯৭২ তারিখে প্রকাশিত দুটি ব্যাংক নোট ভারতের সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপানো হয়। ১ টাকার ও ১০০ টাকার নোট।
- ১ টাকার নকশায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ কথাটি স্থান পায় এবং তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন সে সময়ের অর্থসচিব কে এ জামান।
- ১০০ টাকার নকশায় দেখা যায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং তাতে লেখা থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০০ টাকার ব্যাংক নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রথম গভর্নর এ এন হামিদ উল্ল্যাহ্ স্বাক্ষরিত।
- ৪ মার্চ ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো পালিত হয়েছে 'টাকা দিবস'।

তথ্যসুত্র - বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ০৪ মার্চ, ২০২১।
৬,২৫১.
উত্তর বঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলের সামন্তবর্গ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে কোন রাজবংশের শাসন আমলে?
  1. ক) পালবংশ
  2. খ) সেনবংশ
  3. গ) মৌর্যবংশ
  4. ঘ) গুপ্তবংশ
ব্যাখ্যা
•পাল বংশের শাসন আমলে সমান্তবর্গ উত্তর বঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলে বিদ্রোহ ঘেষণা করেন।

- তৃতীয় বিগ্রহপালের পুত্র দ্বিতীয় মহীপাল পাল সিংহাসনে আহরণের পর পাল রাজ্যে দুর্যোগ আরও ঘনীভূত হয়। এ সময় উত্তর বঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলের সামন্তবর্গ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ইতিহাসে এ বিদ্রোহ কৈবর্ত বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত।
- এ বিদ্রোহের নেতা ছিলেন কৈবর্ত নায়ক দিব্যোক বা দিব্য। তিনি দ্বিতীয় মহীপালকে হত্যা করে বরেন্দ্র দখল করে নেন এবং নিজ শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- পরবর্তীতে রামপাল যুদ্ধে কৈবর্তরাজ ভীমকে পরাজিত ও নিহত করে উত্তর বঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরায় দখল করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৫২.
বাংলায় আর্যদের আগমন শুরু হয় কত খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে?
  1. ক) খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দে
  2. খ) খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে
  3. গ) খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে
  4. ঘ) খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে
ব্যাখ্যা
- আর্যদের আদি নিবাস ছিলো ইউরাল পর্বতমালার দক্ষিণে বর্তমান ইরান ও কিরগিজস্থানে। সেখান থেকে খ্রিস্টপূর্ব দুই হাজার বছর অব্দে আর্যরা ভারতে আগমন করে।
- আর্যরা বাংলাকে অপবিত্র মনে করতো বিধায় দীর্ঘদিন তারা বাংলা ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি। পরবর্তীতে খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দ থেকে আর্যরা বাংলায় প্রবেশ ও বসতি স্থাপন করতে শুরু করে।
- প্রথমে তারা গাঙ্গেয় উচ্চভূমিতে বসতি স্থাপন করে। পরবর্তীতে গাঙ্গেয় নদী অঞ্চলে আর্যদের প্রভাব বিস্তৃত হলেও এরা বাংলার অনার্য জনগোষ্ঠীর সাথে গভীরভাবে মিশেনি।
- যার কারণে বাঙালি জাতির গঠন প্রক্রিয়ায় অনার্য জাতিগোষ্ঠী ‘অস্ট্রিক ও দ্রাবিড়’দের প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- বাংলায় পাল আমলে আর্য সংস্কৃতি বিকাশ লাভ করে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬,২৫৩.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিখ্যাত ৬ দফা কর্মসূচি সম্বন্ধে সংবাদপত্রে প্রচারিত হয়-
  1. ১৯৫৪
  2. ১৯৬৬
  3. ১৯৬৫
  4. ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিখ্যাত ৬ দফা কর্মসূচি সম্বন্ধে সংবাদপত্রে প্রচারিত হয় ১৯৬৬ সালে।

ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- তিনি লাহোরে এই ঘোষনা দেন।

ছয় দফা কর্মসূচি,
১) লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানের জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। এটি হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা। প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইনসভাগুলো হবে সার্বভৌম ।
২) শুধু দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র বিষয় থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। অবশিষ্ট ক্ষমতা থাকবে প্রদেশগুলোর হাতে।
৩) দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে। অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।
৪) আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে ।
৫) দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসেব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে।
৬) অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী অর্থাৎ মিলিশিয়া ও প্যারা মিলিশিয়া গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৫৪.
কোন রাজবংশ প্রায় চারশ বছর বাংলা শাসন করে?
  1. সেন
  2. গুপ্ত
  3. মৌর্য
  4. পাল
ব্যাখ্যা
বাংলায় পাল শাসন:
- গোপালের উত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয় পাল রাজবংশ।
- প্রায় চারশত বছর ধরে ১৭ জন পাল নৃপতি বাংলা শাসন করেন। 
- উত্থান ও পতনের ক্রমধারায় পাল রাজত্বকালকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়।
- প্রথম পর্যায়কে উদীয়মান প্রতিপত্তির যুগ বলে আখ্যায়িত করা যায়।
- এ যুগের মধ্যে ছিল ধর্মপাল ও দেবপালের রাজত্বকাল।
- এরপর পাল রাজবংশে উৎসাহ ও উদ্যোগের অভাব দেখা যায় এবং শুরু হয় সাম্রাজ্যের অবনতি।
- এই অবস্থার উন্নতি সাধন করে সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের সাফল্য দেখান প্রথম মহীপাল।
- তাই দ্বিতীয় পর্যায়ের নামকরণ করা যায় অবনতি ও পুনরুদ্ধারের পর্যায়।
- কিন্তু মহীপাল কর্তৃক পাল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারকার্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
- অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে সাম্রাজ্য বিপদের সম্মুখীন হয়।
- রামপাল সাম্রাজ্যকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলেন বটে, কিন্তু রামপালের পর পাল বংশীয় শাসন বেশি দিন টিকে থাকেনি।
- তাই তৃতীয় পর্যায়কে অবনতি ও বিলুপ্তির পর্যায় বলে ধরা যায়।

তথ্যসূত্র- ইতিহাস, এসএএইচএল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৫৫.
Bangabandhu's historic speech on March 7 has been included in which schedule of the constitution?
  1. ক) Fourth Schedule
  2. খ) Fifth Schedule
  3. গ) Sixth Schedule
  4. ঘ) Seventh Schedule
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে আরও ৩টি তফসিল সংযোজন করা হয়।
১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে সংযোজন করা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
- প্রথম তফসিলঃ অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিলঃ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিলঃ শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিলঃ ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিলঃ ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিলঃ স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিলঃ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।]
৬,২৫৬.
মুজিবনগর সরকারের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ছিলেন-
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. এম. মনসুর আলী
  3. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
  4. তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা

• ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।
• এই সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপঃ
- রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
- উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম;
- প্রধানমন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ;
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীঃ এম মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান;
- পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ;
- প্রধান সেনাপতিঃ কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী;
- চিফ অব স্টাফঃ কর্নেল (অব.) আব্দুর রব;
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও বিমান বাহিনীর প্রধানঃ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬,২৫৭.
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় -
  1. ক) ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৯৬৯ সালের ২ জুলাই
  3. গ) ১৯৭০ সালের ১ এপ্রিল
  4. ঘ) ১৯৭০ সালের ১৭ অক্টোবর
ব্যাখ্যা

১৯৭০ এর নির্বাচন:
- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ও ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- আওয়ামী লীগ দলীয় সভায় ১৯৭০ সালের ১ এপ্রিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত এবং একই বছরের ১৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের দলীয় নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ পছন্দ করেন।
- জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ২৯৮টি আসন লাভ করে।
-------------------
উল্লেখ্য,
- সাধারণ নির্বাচন পরিচালনার জন্যে ১৯৬৯ সালের ২ জুলাই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে।
- এই কমিশন পাকিস্তানের জন্যে একটি ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং ১৯৭০ সালে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।

৬,২৫৮.
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-এর ভাষণ’ বইটি সংকলন করেছেন কে?
  1. আকরাম আল হোসেন
  2. হাসানুজ্জামান সোহেল
  3. আকরাম হোসেন সামি
  4. শেখ রেহানা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-এর ভাষণ:
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫৮টি ভাষণের সংকলন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-এর ভাষণ’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন।
- বইটির ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী।
- এতে প্রতিটি বক্তৃতার সম্পূর্ণ অডিও সংস্করণের কিউআর কোড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- বইটি প্রকাশ করেছে মাওলা ব্রাদার্স।
- বইটি সংকলন করেছেন আকরাম-আল-হোসেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। [ লিঙ্ক]
৬,২৫৯.
কত সালে শরীফ কমিশনের রিপোর্ট সরকারের নিকট পেশ করা হয়?
  1. ১৯৬৫ সালে
  2. ১৯৫৯ সালে
  3. ১৯৬১ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা
শরীফ শিক্ষা কমিশন:
- ঔপনিবেশিক আমলে প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পূর্ণগঠনের যথাযোগ্য পন্থা সুপারিশ করার জন্য ১৯৫৮ সালে ৩০শে ডিসেম্বর জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।
- এস.এম শরীফকে এ জাতীয় শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়।
- তাঁর নামানুসারে এ কমিশন শরীফ কমিশন নামেও পরিচিত।
- এ কমিশন ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করেন।
- তবে শিক্ষা সম্পর্কে শরীফ কমিশনের প্রতিবেদন ১৯৬২ সালের সবার সামনে প্রকাশিত হলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
- ভাষা আন্দোলনের বিয়োগান্তক স্মৃতি যখন এদেশবাসীর মনে তখনও উজ্জ্বল-ঠিক তখন 'উর্দুকে জনগণের ভাষায় পরিণত করার প্রস্তাব করে।
- আরবি এবং পরে রোমান বর্ণমালায় বা হরফে লিপিবদ্ধ করার প্রস্তাব বাঙালি জনগণ মেনে নিতে পারেনি।
- ছাত্র-শিক্ষক- বুদ্ধিজীবী-তথা সমগ্র বাঙালি জনগণই শরীফ কমিশনের সুপারিশ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২৬০.
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় কবে?
  1. ২৮ মার্চ, ১৯৭২
  2. ১ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. ৪ এপ্রিল, ১৯৭২
  4. ৭ মে, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
⇒ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল।

বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভ:
- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭৪ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
৬,২৬১.
কোন রাজবংশের শাসনামলে নালন্দা মহাবিহারের নির্মাণ হয়?
  1. পাল
  2. গুপ্ত
  3. সেন
  4. মৌর্য
ব্যাখ্যা
নালন্দা মহাবিহার:
- প্রাচীন ভারতের খ্যাতনামা বৌদ্ধ মহাবিহার নালন্দা।
- নালন্দা মহাবিহার সাত শতকে প্রসিদ্ধি অর্জনকারী বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র।
- ধারণা করা হয়, গুপ্ত সম্রাটরা এ মহাবিহারের নির্মাতা। 
- পঞ্চম শতাব্দী থেকে ১২০০ শতাব্দী পর্যন্ত এটি ছিল একটি বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র।
- বিহার প্রদেশের পাটনা থেকে ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং বিহার শরিফ শহরের কাছে এর অবস্থান।
- বিহারটি সম্পর্কে জানা যায় পর্যটক জুয়ান জাং ও ইজিংয়ের লেখা ভ্রমণ-বিবরণী থেকে।
- তাঁরা সপ্তম শতাব্দীতে নালন্দায় ভ্রমণ করেন।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং পড়াশোনার জন্য এখানে কয়েক বছর অতিবাহিত করেন।
- নালন্দার পন্ডিতগণ ছিলেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিখ্যাত।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দায় ছিলেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ।
- শীলভদ্র ছিলেন সর্বপ্রথম বাঙালি বৌদ্ধ শিক্ষক যিনি বাংলার বাইরে এরূপ দুর্লভ সম্মান অর্জন করেন।
- হিউয়েন-সাং নিজেও শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে বিহারটি ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২৬২.
বাংলাদেশ কত সালে জাতিসংঘের LDC তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৫ সালে
  3. গ) ১৯৭৮ সালে
  4. ঘ) ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
- LDC (Least Developed Countries) হলো জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন কর্তৃক ১৯৭১ সালে তৈরিকৃত বিশ্বের সবচেয়ে অনুন্নত দেশসমূহের একটি তালিকা।
- বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে LDC তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
- বর্তমানে LDC তালিকায় ৪৬টি দেশ রয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৬টি দেশ LDC তালিকা থেকে উত্তরণ করতে সমর্থ হয়েছে।
- বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো LDC তালিকা থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে। অর্জিত লক্ষ্যসমূহ ২০২১ সাল পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ থাকায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে LDC তালিকা থেকে উত্তরণ করবে।
(তথ্যসূত্রঃ জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৬,২৬৩.
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. আত্মরক্ষা
  2. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  3. বৈশ্বিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা
  4. জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা
পররাষ্ট্রনীতি (Foreign Policy):
- পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ।
- পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে। 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যসমূহ: 

১. আত্মরক্ষা। 
২. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।  
৩. অন্য রাষ্ট্রের তুলনায় নিজের জাতীয় শক্তিকে রক্ষা ও প্রয়োজনে বৃদ্ধি করা।  
৪. নিজস্ব মতবাদে দৃঢ় থাকা।  
৫. জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করা। 

উৎস: সিভিক এডুকেশন-২, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৬৪.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংকলন গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।
-  ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং এ বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়।
- কর্মজীবনে হাসান হাফিজুর রহমান শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা, সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরে চাকরি এমন বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক  বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। পরে  সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান  (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন। 
-  ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানীদের নিয়ন্ত্রিত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করলেও গণচেতনা ও গণদাবির প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।  


উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া।
৬,২৬৫.
জাতীয় সংসদে বাংলা ভাষাকে জীবনের সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাস হয়েছে কোন সালে?
  1. ১৯৮৪ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৮৭ সালে
  4. ১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭:
- ১৯৪৭ সালে ভারত বর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম আঘাতটাই আসে বাংলা ভাষার ওপর।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেই স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়েছিল, যা অঙ্কুরিত হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরিপূর্ণতা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- স্বাধীনতার পরপর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রয়োগের জন্য একাধিক পরিপত্র জারি করা হয়।
- সর্বোপরি ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষার প্রচলন আইন সংসদ কর্তৃক পাশ হয়। 

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রণয়ন করা হয়।
- ঐ আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখিত হবে।
- এই ধারা মোতাবেক কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন তা হলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হবে।’

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,২৬৬.
পাল শাসনামলে সংঘটিত কৈবর্ত বিদ্রোহের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
  1. ভীম
  2. দিব্য
  3. হরি
  4. মহীপাল
ব্যাখ্যা

কৈবর্ত বিদ্রোহ:
- কৈবর্ত বিদ্রোহকে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশ এমনকি ভারতবর্ষের প্রথম সফল জনবিদ্রোহ।
- বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামেও অভিহিত করা হয় একে।
- এ সময় পাল বংশের রাজা ছিলেন দ্বিতীয় মহীপাল, যাঁর রাজত্বকাল ধারণা করা হয় ১০৭৫ সাল থেকে ১০৮০ সালের মধ্যে।
- এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন দিব্যক বা দিব্য।
- তিনি খুব সম্ভব প্রথম দিকে পালদের একজন রাজকর্মচারী কিংবা সামন্ত ছিলেন।
- কৈবর্তদের একত্রিত করে একটি শক্তিশালী বাহিনী তৈরি করেন তিনি।
- কৈবর্ত বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয় ধর্মীয় কারণকে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২৬৭.
ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপিত হয় -
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৩
  2. খ) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪০
  3. গ) ২৩ মার্চ, ১৯৪৩
  4. ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৪০
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাধারণ সভায় শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

তার প্রস্তাবে বলা হয়,
ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব এলাকাসমূহের মতো যে সকল অঞ্চলে মুসলমানগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ, সে সব অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (স্টেটস) গঠন করতে হবে যার মধ্যে গঠনকারী এককগুলি হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।

২৪শে মার্চ লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে একাধিক রাষ্ট্রের (স্টেটস) পরিবর্তে কেবল একটি রাষ্ট্র (স্টেট) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,২৬৮.
হুমায়ুন ও শেরশাহের মধ্যে চৌসার যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়?
  1. ১৫৩৯ সালে
  2. ১৫৪৩ সালে
  3. ১৫৭৭ সালে
  4. ১৫৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
চৌসার যুদ্ধ:
- ১৫৩৯ সালের ২৬ জুন বিহারের চৌসারে মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ও আফগান নেতা শের খান (পরে শের শাহ সূরি) এর মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে শের খান বিজয়ী হন এবং হুমায়ুন পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
- এর মাধ্যমে মুঘল শাসনের পতন শুরু হয় এবং সূরি বংশের উত্থান ঘটে।

⇒ সম্রাট হুমায়ুন গৌড় পরিত্যাগ করার পূর্বে জাহাঙ্গীর কুলী বেগকে বাংলার শাসনভার অর্পণ করেন।
- হুমায়ুন তাঁর বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে আগ্রা অভিমুখে যাত্রা করলেন।
- কিন্তু দুভার্গ্যক্রমে পথিমধ্যে বক্সারের নিকটবর্তী চৌসা নামক স্থানে শেরখান ও তাঁর আফগান অনুচরেরা সম্রাট হুমায়ুনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন চৌসায় উভয়পক্ষের মধ্যে এক তীব্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে চৌসার যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এই যুদ্ধে হুমায়ুন শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়।
- চৌসার যুদ্ধে শের খানের জয়লাভ ভারতীয় উপমহাদেশে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কেননা এর ফলে শের খানের রাজ্য পশ্চিম দিকে কনৌজ হতে পূর্বে আসাম ও চট্টগ্রাম এবং উত্তর দিকে রোটাস হতে দক্ষিণ দিকে বীরভূম পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে।
- এই যুদ্ধের পর শেরখান শেরশাহ উপাধি ধারণ করেন এবং নিজ নামে মুদ্রা প্রচলন ও পাঠের নির্দেশ প্রদান করেন।
- পক্ষান্তরে এই যুদ্ধে হুমায়ুনের পরাজয়ের মাধ্যমে মুঘলদের সামরিক ও কূটনৈতিক দুর্বলতা প্রস্ফুটিত হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৬৯.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য কোথায় শুরু হয়?
  1. ঢাকা হাইকোর্ট
  2. লাহোর
  3. ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  4. ইসলামাবাদ
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:

- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য"। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৭০.
ঐতিহাসিক 'ছয় দফায়' যে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না -
  1. ক) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  2. খ) ফেডারেল সরকার
  3. গ) মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
  4. ঘ) বিচারিক ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
• ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।

• সুতরাং, ৬ দফার মধ্যে ৩টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক ছিলো। 
- বঙ্গবন্ধু ৬ দফাকে 'আমাদের বাঁচার দাবি' আখ্যা দেন। 
- ঐতিহাসিক ৬ দফাকে 'ম্যাগনাকার্টা'র সাথে তুলনা করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৭১.
‘আমার দেখা নয়াচীন' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ২০১২
  2. ২০১৭
  3. ২০২০
  4. ২০২২
ব্যাখ্যা
আমার দেখা নয়াচীন:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন।
- প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
- সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।
--------------------
বঙ্গবন্ধুর লেখা বইসমূহ:
• অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
- প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- বইটি লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। 
- বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
 
কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধুর লেখা দ্বিতীয় বই কারাগারের রোজনামচা।
- প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে।
- এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন শেখ রেহানা।
- এই বইও বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে রচনা করেন।

উৎস: ১৪ আগস্ট ২০২০,  প্রথম আলো। 
৬,২৭২.
কয়টি রাজনৈতিক দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছিলো?
  1. ক) ৩ টি
  2. খ) ৪ টি
  3. গ) ৫ টি
  4. ঘ) ৬ টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪ টি ।
এগুলো হলো -
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী)
২. কৃষক প্রজাপার্টি (এ. কে. ফজলুল হক)
৩. নেজামে-ই-ইসলাম (মাওলানা আতাহার আলী)
৪. গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ)

- যুক্তফ্রন্টের প্রধান অফিস সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রােডে।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৭৩.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভায় অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন -
  1. তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
  3. এম মনসুর আলী
  4. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য:
- মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ।
- মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন গণপরিষদের আওয়ামীলীগের হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত ও উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন- তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশপ্রধান মাহবুব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে আনসার, পুলিশ ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত ১২ সদস্যের একটি যৌথ দল।
- শপথগ্রহণের সময় শতাধিক ভারতীয় ও বিদেশি সাংবাদিক এবং প্রচার মাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৬,২৭৪.
মুজিবনগর সরকার কত সদস্য বিশিষ্ট পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে?
  1. ৩ জন
  2. ৫ জন
  3. ৭ জন
  4. ৯ জন
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
- সদস্য ছিলেন,
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৭৫.
বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষের নাম কি?
  1. কাঁঠাল গাছ
  2. বট গাছ 
  3. আম গাছ 
  4. জাম গাছ
ব্যাখ্যা

আম গাছ বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয় সমূহ:
- জাতীয় ভাষা: বাংলা।
- জাতীয় সঙ্গীত: আমার সোনার বাংলা(প্রথম ১০ চরণ)।
- জাতীয় পাখি: দোয়েল।
- জাতীয় ফুল: শাপলা।
- জাতীয় পশু: রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
- জাতীয় বন: সুন্দরবন।
- জাতীয় ফল: কাঁঠাল।
- জাতীয় মাছ: ইলিশ।
- জাতীয় মসজিদ: বায়তুল মোকাররম।
- জাতীয় জাদুঘর: জাতীয় জাদুঘর শাহবাগ, ঢাকা।
- জাতীয় পতাকা: সবুজের মাঝে লাল বৃত্ত।
- জাতীয় কবি: কাজী নজরুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,২৭৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী' এর পরিচালক কে?
  1. খান আতাউর রহমান 
  2. সুভাষ দত্ত 
  3. চাষী নজরুল ইসলাম 
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

- অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী এর পরিচালক : সুভাষ দত্ত।
- মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’- জনপ্রিয় এ গানটি ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ সিনেমার।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রায় এক বছর পরই ১৯৭২ সালের ১০ নভেম্বর মুক্তি পায় সিনেমাটি।

অন্যদিকে,
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র-

- Stop Genocide: জহির রায়হান,
- ওরা ১১ জন : চাষী নজরুল ইসলাম,
- আবার তোরা মানুষ হ : খান আতাউর রহমান,
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড : চাষী নজরুল ইসলাম,
- অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী : সুভাষ দত্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,২৭৭.
সিপাহী বিদ্রোহের সূচনাকারী কে ছিলেন?
  1. মঙ্গল পাণ্ডে
  2. কুনওয়ার সিং
  3. চাঙ্কি পান্ডে
  4. লক্ষ্মীবাঈ
ব্যাখ্যা
মঙ্গল পান্ডে:
- মঙ্গল পান্ডে ছিলেন একজন সিপাহি, যার নেতৃত্বে সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সিপাহিদের একটি অংশ বিদ্রোহ করে।
- মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার ব্যারাকপুরে এই বিদ্রোহ শুরু হয়।
- ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ নামে খ্যাত এই বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজ শাসনকে হটিয়ে দিয়ে পুরো ভারতকে দখলদার মুক্ত করা।

⇒ সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৭৮.
ভারত ছাড় আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন কে?
  1. জওহরলাল নেহরু
  2. সুভাষচন্দ্র বসু
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. বল্লভভাই প্যাটেল
ব্যাখ্যা

- গান্ধীর নেতৃত্বেই কংগ্রেস অহিংস আন্দোলনের ডাক দেয়।

ভারত ছাড় আন্দোলন:
- ভারত ছাড় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয় মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে।
- ১৯৪২ ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন।
- ইংরেজ সরকার কোনোভাবেই ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে রাজি ছিল না।
- সরকার এই আন্দোলন দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল।
- ঐ দিনই মধ্য রাতে কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ গান্ধীজি, আবুল কালাম আজাদ, জওহরলাল নেহরুসহ অনেকে গ্রেফতার হন।
- কংগ্রেসকে বেআইনি ঘোষণা করা হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় সব নেতা কারাগারে বন্দি হন।
- নেতৃবৃন্দের গ্রেফতারের কারণে অহিংস আন্দোলন ভয়াবহ সহিংস আন্দোলনে পরিণত হয়।
- ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (বোম্বাইর) অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং পরপরই যতদূর সম্ভব ব্যাপকভাবে অহিংস পথে গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৬,২৭৯.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ৬ নং সেক্টর কোন জেলা নিয়ে গঠিত হয়েছিল?
  1. রংপুর ও দিনাজপুর
  2. যশোর ও খুলনা
  3. ফরিদপুর ও পটুয়াখালী
  4. বগুড়া ও দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

• ৬ নং সেক্টর
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। 
- প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। 
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার। 
- সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল পাটগ্রামের নিকটবর্তী বুড়ীমারিতে। 
- এটিই ছিল একমাত্র সেক্টর যার হেড কোয়ার্টার ছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। 

- এই সেক্টরের পাঁচটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে:
- ভজনপুর (ক্যাপ্টেন নজরুল এবং পরে স্কোয়াড্রন লীডার সদরউদ্দিন ও ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার);
- পাটগ্রাম (প্রথমে কয়েকজন ই.পি.আর জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার কমান্ড করেন। পরে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান;
- সাহেবগঞ্জ (ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ উদ্দিন); 
- মোগলহাট (ক্যাপ্টেন দেলওয়ার); 
 - চিলাহাটি (ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ইকবাল)।

এই সেক্টরের বাহিনী রংপুর জেলার উত্তরাংশ নিজেদের দখলে রাখে।

অন্যদিকে,
- ৭ নং সেক্টর  রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- ৮ নং সেক্টর  এপ্রিল মাসে এই সেক্টর কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা নিয়ে গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,২৮০.
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান কে?
  1. ওয়াটসন
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. কার্টিয়ার
  4. কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
- ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

• দ্বৈত শাসন:
- দিল্লি কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দেওয়ানি বা খাজনা ও কর আদায়ের ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- এতে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে।
- অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলোআনা।
- ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়, যার চরম মাসুল দিতে হয় এদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে।
- ১৭৭০ সালে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন।
- সারা দেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

উল্লেখ,
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ইংরেজি -১৭৭০ সাল।

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি
৬,২৮১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. ক) এস.এ.রহমান
  2. খ) এস.আর.খান
  3. গ) মকসুদুল হাকিম
  4. ঘ) টি.এইচ.খান
ব্যাখ্যা
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন, রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- অন্যদিকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়। এ সময় স্যার টমাস উইলিয়াম ট্রাইবুনালে উপস্থিত ছিলেন ।
- তিনি ৫ জুলাই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিশেষ ট্রাইবুনালের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৮২.
নওগাঁর পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার কে নির্মাণ করেন?
  1. গোপাল
  2. দেবপাল
  3. ধর্মপাল
  4. রামপাল
ব্যাখ্যা

- পাল বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল নওগাঁ জেলায় সুবিখ্যাত সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন, এটি তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বৌদ্ধবিহার ছিল।  

সোমপুর মহাবিহার:
- সোমপুর মহাবিহার প্রাচীন বাংলার একটি বৌদ্ধ বিহার।
- পাহাড়পুরএর উৎখননকৃত বিহার কমপ্লেক্সের সঙ্গে সোমপুর মহাবিহারকে অভিন্ন মনে করা হয়।
- পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল এ বিহার স্থাপন করেন।
- ধ্বংসাবশেষ হতে কিছু মাটির সিল পাওয়া গেছে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৬,২৮৩.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠান কে পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন?
  1. এম এ আজিজ
  2. এম আর আখতার মুকুল
  3. কল্যাণ মিত্র
  4. আবু হেনা মোস্তফা কামাল
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- মুক্তিযুদ্ধ সময়কালে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং অবরুদ্ধ এলাকার জনগণের মনোবল অক্ষুন্ন রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নীতি নির্ধারণী ভাষণসহ জনগণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নির্দেশাবলী প্রচারিত হয়।
- প্রতিদিনের সংবাদসহ যে সমস্ত অনুষ্ঠান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল তার মধ্যে চরমপত্র ও জল্লাদের দরবার অন্যতম।
- যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্রশস্ত্রে পিছিয়ে থাকলেও মনের জোরে অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।
- তাঁদের মনের জোর আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি।
- বিদ্রূপ ও শ্লেষাত্মক অনুষ্ঠানটি রচনা ও উপস্থাপন করেছিলেন সাংবাদিক ও লেখক এম আর আখতার মুকুল।

⇒ স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’। জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো। এই ব্যঙ্গাত্মক সিরিজে তাকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রে চিত্রিত করা হয় এবং এই ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন এম.আর আখতার মুকুল, যিনি নিজেই এর উপস্থাপক ছিলেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি জনগণের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়। এতে একইসঙ্গে ছিল তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও জাতীয়তা বোধের প্রকাশ যা জনগণের নৈতিক মনোবল দৃঢ়ীকরণে ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো

৬,২৮৪.
কাকে পাল বংশের 'শেষ মুকুট' বলে অভিহিত করা হয়?
  1. দ্বিতীয় মহীপাল
  2. শূরপাল
  3. রামপাল
  4. তৃতীয় গোপাল
ব্যাখ্যা
পাল বংশের পতন: 
- দ্বিতীয় মহীপাল (১০৭৫-১০৮০ খ্রি.) উত্তর বঙ্গের বরেন্দ্র বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে নিহত হন।
- তার মৃত্যুর পর তার ছোট ভাই শূরপাল দু'বছর (১০৮০-১০৮২ খ্রি.) রাজত্ব করেন।
- এরপর শূরপালের ছোট ভাই অর্থাৎ মহীপালের ছোটপুত্র রামপাল (১০৮২-১১২৪ খ্রি.) রাজা হয়ে বরেন্দ্র উদ্ধারে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন।
- প্রবল যুদ্ধের পর পিতৃভূমি বরেন্দ্রভমি উদ্ধারের পর রামপাল রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।
- তার রাজ্যের শেষ দিকে তিনি কামরুপ ও উড়িষ্যাতেও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন।
- কবি সন্ধ্যাকর 'রামচরিত' নামে রামপালের জীবনী গ্রন্থ রচনা করেন।
- রামপালকেই পাল বংশের 'শেষ মুকুট' বলে অভিহিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৮৫.
ষাটগম্ভুজ মসজিদ নির্মাণ করেন কে?
  1. ক) হযরত শাহজালাল
  2. খ) পীর খান জাহান আলী
  3. গ) হযরত আমানত শাহ
  4. ঘ) বায়েজিদ বোস্তামী
ব্যাখ্যা
♦উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো - পীর খান জাহান আলী।

• ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাটগম্ভুজ মসজিদ নির্মাণ করেন - পীর খান জাহান আলী।
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাগেরহাটে অবস্থিত।
- ষাট গম্বুজ মসজিদটি বর্তমানে বাগেরহাট শহর থেকে তিন মাইল পশ্চিমে গড়াদীঘির পূর্ব পাড়ে অবস্থিত। এটি নির্মাণ করেন খান জাহান আলী।
- ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত ষাট গম্বুজ মসজিদ, এটি বৃহত্তম মসজিদটি সুলতানি আমলে নির্মিত হয়।
- খান জাহান আলি (উলুঘ খান) এটি নির্মাণ করেন ১৫০০ শতাব্দীতে।
- মসজিদটির মোট গম্বুজ সংখ্যা ৮১ টি ।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,২৮৬.
যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের কোন আইনজীবীকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন?
  1. রবার্ট হেনরি কেইন
  2. টমাস উইলিয়াম এমপি
  3. উইলয়াম গোল্ডিং লেসিং
  4. ফিলিপ পল অ্যান্ডারসন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৮৭.
ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবী কোথায় উত্থাপন করা হয়?
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) লাহোরে
  3. গ) করাচিতে
  4. ঘ) দিল্লীতে
ব্যাখ্যা
ছয় দফা আন্দোলন
- ১৯৯৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন।
- ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে লাহোরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ছয় লক্ষ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।
- ছয়দফা রচিত হয় লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে। 
- ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয় লাহোরে।
- ছয় দফা দিবস পালিত হয়ে আসছে- ৭ জুন।

ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি:
১ম দফা: শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি।
২য় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
৩য় দফা: মুদ্রা ও অর্থ বিষয়ক ক্ষমতা।
৪র্থ দফা: কর বা রাজস্ব বিষয়ক ক্ষমতা।
৫ম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
৬ষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৮৮.
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সাবমেরিন কেবলস অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে কত দূরত্বের ব্যয় বহন করতে হবে? 
  1. ৭০০ কিমি
  2. ৫৭০ কিমি
  3. ৩০০ কিমি
  4. ১৭০ কিমি
ব্যাখ্যা
• চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সাবমেরিন কেবলস অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ১৭০ কিমি দূরত্বের ব্যয় বহন করতে হবে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি):
- বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি যা বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল এর চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে।
- এটি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক তথ্য সুপারহাইওয়ে এর সাথে সংযুক্ত রেখেছে।
- এটি বাংলাদেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল অপারেটর।
- বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ২০০৮ এর ৫বি ধারাবলে কক্সবাজারস্থ ল্যান্ডিং স্টেশনসহ এসএমডব্লিউ-৪ সাবমেরিন ক্যাবলকে বিলুপ্ত বিটিটিবি থেকে আলাদা করে “বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)” নামক একটি নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়।
- এটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে আরজেএসসি হতে ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে “বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)” এ পরিবর্তিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি ওয়েবসাইট, Submarine communication।
৬,২৮৯.
কার প্রচেষ্টায় সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. দ্বারকানাথ ঠাকুর
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়: 
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৮২৯ সালে রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায়, সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয়। 
- বিশেষ করে ইংরেজি, বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় তিনি অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেন।
- তিনি বেদান্তসূত্র ও বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ-করেন।
- তাছাড়া তিনি সম্বাদ কৌমুদী, মিরাতুল আখবার ও ব্রাহ্মণিকাল ম্যাগাজিন নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন।

উল্লেখ্যে,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ প্রথা  চালু হয়।
- দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা।
- সৈয়দ আমীর আলীর সবচেয়ে বিখ্যাত বই হল "দ্য স্পিরিট অফ ইসলাম"।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।
৬,২৯০.
১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান' কার নিকট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন?
  1. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  3. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
♣ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন:  
- ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি দেশে ফেরার আগে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি বাহিনীর বিশেষ বিমানে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হয়।
- অতঃপর ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানে দিল্লি হয়ে তিনি ঢাকায় আসেন।   
- ঢাকায় মহান নেতাকে জানানো হয় অভূতপূর্ব অভিনন্দন। 

- মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরদিনই ১৯৭২ সালের ১১ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভায় দীর্ঘ আলোচনার পর ‘অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারির মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

- ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। নতুন রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।

ঘটনাপ্রবাহ:
বঙ্গবন্ধু প্রথমে রাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দেন। নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে শপথ করান প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। এরপর রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধু ও তাঁর মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে তাজউদ্দীন আহমদ নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণকালে তাজউদ্দীন আহমদ ও তাঁর সহকর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন নতুন রাষ্ট্রপতি। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান এবং তাঁকে জাতির জনক হিসেবে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট। [লিঙ্ক]
৬,২৯১.
কোন সম্রাটগণ উপমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন?
  1. গুপ্ত সম্রাট
  2. মৌর্য সম্রাট
  3. কুষাণ সম্রাট
  4. শুঙ্গ সম্রাট
ব্যাখ্যা
কুষাণ যুগ:
- উপমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন কুষাণ সম্রাটগণ।
- কুষাণ সম্রাট বীম কদফিসেসই সম্ভবত সর্বপ্রথম স্বর্ণমুদ্রা প্রবর্তন করেন যেখানে মুদ্রার উপরিপৃষ্ঠে বেদিতে যজ্ঞরত রাজার প্রতিকৃতি উৎকীর্ণ রয়েছে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ মনে করেন, এই বিশেষ প্রতিকৃতি পার্থিয়ান রাজা গোটার্জেসের স্বর্ণমুদ্রার নকশা দ্বারা প্রভাবিত।
- তবে পরবর্তীকালের কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক ও হুবিষ্ক তাদের স্বর্ণমুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের নকশা ও প্রতীক ব্যবহার করেছেন।

উল্লেখ্য,
- কুষাণ স্বর্ণমুদ্রা ভারতের অন্যান্য স্থানে কুষাণ শাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট মুদ্রা আর বাংলায় প্রাপ্ত কুষাণ মুদ্রার অবস্থানগত পার্থক্য রয়েছে।
- বিশেষত, বাংলা সরাসরি কুষাণ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
- তবুও বাংলা থেকে অগণিত কুষাণ-মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ বাংলার বিভিন্ন প্রত্নস্থান থেকে কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক, হুবিষ্ক ছাড়াও মহানাদ কুষাণ, প্রথম বাসুদেব ও দ্বিতীয় বাসুদেবের স্বর্ণমুদ্রা আবিষ্কার করেছেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৯২.
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র কত সালে প্রবর্তিত হয়?
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র বিল:
- পাকিস্তান সৃষ্টির দীর্ঘ ৯ বছর পর শাসনতন্ত্র বিশেষজ্ঞগণ এ শাসনতন্ত্রটি প্রণয়ন করেছিলেন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- মোট ১০৫ পৃষ্ঠার এ শাসনতন্ত্রে একটি প্রস্তাবনা, ১৩টি অংশ, ২৩৪টি বিধিএবং ৬টি তালিকা সন্নিবেশিত ছিল।
- এ শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছাড়াও প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২৯৩.
৭ই মার্চের ভাষণে মূলত কত দফা দাবি তোলা হয়?
  1. ১ দফা
  2. ২ দফা
  3. ৩ দফা
  4. ৪ দফা
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ১৯৭১-এ প্রদত্ত ১৮ মিনিটের ভাষণটি তাঁর স্বভাবসুলভ তাৎক্ষণিক বক্তব্য ছিল, পূর্বে তৈরি করা বক্তৃতা নয়।
- এটিকে অনেকেই রাজনীতির কবিতা বলে থাকেন।
- তাঁর এই ভাষণকে তুলনা করা হয় আব্রাহাম লিংকন, উইনস্টন চার্চিল, মার্টিন লুথার কিং ও পেরিক্লিসের মহতী যুগান্তকারী ভাষণগুলোর সাথে।
- এর মহত্ত্ব ও বিরাটত্বের কারণে ২০১৭ সনের অক্টোবরে জাতিসংঘের এডুকেশন, কালচার ও সাইন্টিফিক অর্গানাইজেশন, ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের অসাধারণ ভাষণটিকে পৃথিবীর অন্যতম ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
- ভাষণে মূলত ৪ দফা দাবি তোলা হয়।
• মার্শাল ল প্রত্যাহার,
• সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
• রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
• জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬,২৯৪.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
  1. আলীবর্দী খান
  2. সিরাজ-উ-দ্দৌলা
  3. মুর্শিদ কুলি খান
  4. মীর কাসিম
ব্যাখ্যা

নবাবী আমল:
- বাংলায় স্বাধীন নবাবী আমল ১৭০৭-১৭৫৭ সাল।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলী খান ১৭০৭ সালে নবাবী শাসনের সূচনা করেন।
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদৌলার ইংরেজদের হাতে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় স্বাধীন নবাবী আমল।
- ১৭৬০ - ৬৩ সাল পর্যন্ত মীর কাসিম নবাব ছিলেন।
- ১৭৬৪ সালে তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত নবাব নবাব মীর কাসিম, মোঘল সম্রাট শাহ আলম ও অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা বাহিনীর সাথে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- উক্ত যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলা সহ অন্যান্য অঞ্চলে নবাবী শাসন বিলুপ্ত হয় এবং ইংরেজ উপনেবেশিক যুগ চূড়ান্তভাবে শুরু হয়

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,২৯৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ৬ নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. হরিণা 
  2. মেলাঘর 
  3. বাঁশতলা 
  4. বুড়িমারি 
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
= ১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন। 

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন। 

= ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। 

= ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়িমাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

= ৭নং সেক্টর:
-রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নজরুল হক, পরে সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন। 

= ৮নং সেক্টর:
- কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল,
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ১০নং সেক্টর:
- সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

= ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,২৯৬.
বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব স্যাটেলাইট কোনটি?
  1. ক) বিডি স্যাটেলাইট-১
  2. খ) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১
  3. গ) চন্দ্রতরী
  4. ঘ) বাংলাস্যাট-১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব স্যাটেলাইট হলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। ২০১৮ সালের ১১ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানভেরাল থেকে মার্কিন কোম্পানি স্পেসএক্স এর ফ্যালকন-৯ রকেটে করে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটির নির্মাতা ফ্রান্সের থ্যালেস এলিনিয়া। এটির কক্ষপথ হলো ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা।
বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে।
(সূত্র: বিবিসি বাংলা)
৬,২৯৭.
The Exclusive Economic Maritime Zone of Bangladesh -
  1. 322.51 km
  2. 343.14 km
  3. 367.64 km
  4. 370.40 km
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা:

- বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার। 
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৯৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র 'ইনোসেন্ট মিলিয়নস’-এর পরিচালক কে?
  1. জহির রায়হান
  2. আলমগীর কবির
  3. তারেক মাসুদ
  4. বাবুল চৌধুরী
ব্যাখ্যা
প্রামাণ্যচিত্র:
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ১৯৭১ সালে চারটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়।
- এগুলো হলো জহির রায়হানের ‘স্টপ জেনোসাইড’, ‘আ স্টেট ইজ বর্ন’; আলমগীর কবিরের ‘লিবারেশন ফাইটার্স’ ও বাবুল চৌধুরীর ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’।
- এসব প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি মিলিটারির গণহত্যা ও নৃশংসতা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে জানানো।
- এ ছাড়া শরণার্থীদের দেশত্যাগ ও আশ্রয়শিবিরের দুঃখ-যন্ত্রণার কথা উঠে এসেছে এসব প্রামাণ্যচিত্রে।
- জহির রায়হান চারটি প্রামাণ্যচিত্রের নাম দেন ‘জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র’।

⇒ তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ ‘মুক্তির গান’ (১৯৯৫) নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। এখানে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটি ভ্রাম্যমাণ গানের দলের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৭১ সালে মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা লিয়ার লেভিনের ধারণ করা ফুটেজ থেকে এটি তৈরি করা হয়।

উৎস: প্রথম আলো।
৬,২৯৯.
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ এর আহ্বায়ক কে?
  1. এবাদুর রহমান
  2. মো. মাহফুজ আলম
  3. মো. নাহিদ ইসলাম
  4. সারজিস আলম
ব্যাখ্যা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর: 
- গণভবনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’–এর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
- কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন শিক্ষক ও লেখক এবাদুর রহমান।
- আর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. মাহফুজ আলম।
- গত ১৬ বছরে বাংলাদেশে যে নিপীড়নের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে, সেগুলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।
- এর পাশাপাশি এই জাদুঘরে ছাত্র-জনতার বিজয়ের স্মৃতিচিহ্নও সংরক্ষণ করা হবে।
- জাদুঘরে ‘আয়নাঘর’-এর একটি রেপ্লিকা তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে। স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের পাশাপাশি গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবেও এই জাদুঘরকে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
- এই জাদুঘর শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য নয়, সারা বিশ্বের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

উৎস: প্রথম আলো (২ নভেম্বর ২০২৪)
৬,৩০০.
মুঘল শাসন ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা -
  1. শিকদার
  2. পাদশাহ
  3. ফৌজদার
  4. সুবাহদার
ব্যাখ্যা
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা ও শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।