বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৫৯ / ১২৪ · ৫,৮০১৫,৯০০ / ১২,৪২১

৫,৮০১.
আগরতলা মামলায় রাজসাক্ষী সহ মোট সাক্ষীর সংখ্যা কতজন ছিল?
  1. ২২২ জন
  2. ২২৪ জন
  3. ২২৭ জন
  4. ২২৯ জন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:

- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন, রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮০২.
বাংলাদেশের কোন পাহাড়কে 'পাহাড়ের রানী' বলা হয়?
  1. তাজিংডং
  2. হিমছড়ি
  3. গারো পাহাড়
  4. চিম্বুক পাহাড়
ব্যাখ্যা
• চিম্বুক পাহাড়:
- চিম্বুক পাহাড় অবস্থিত বান্দরবান জেলায়।
- বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুকের পরিচিত অনেক পুরনো। পাহাড়ের এই দৃশ্যটি অতি চমৎকার। এ পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্য যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করবে।
- এটিকে কালাপাহাড়ও বলা হয়।
- এটিকে বাংলাদেশের পাহাড়ের রানী বলা হয়।

উৎস: বান্দরবান জেলার ওয়েবসাইট।
৫,৮০৩.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মুসলিম আসনে যুক্তফ্রন্ট কতটি আসন লাভ করে?
  1. ১৬৯ টি 
  2. ২২৩টি 
  3. ২২৫টি
  4. ২৩৭টি
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন:
- ১৯৫৪ সালের ৮ই মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।
- নির্বাচনে শতকরা ৩৭.১৯ ভাগ ভোটার ভোট দেয়।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন। 

• যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠন:
- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট ১৪ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও তিনি অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- অন্যান্য সদস্যের মধ্যে আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার;
- সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা,
 
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 

৫,৮০৪.
মুক্তিযুদ্ধের ছয় নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. উইং কমান্ডার এম কে বাশার
  2. মেজর কাজী নুরুজ্জামান
  3. মেজর এম আবদুল জলিল
  4. মেজর কে এম শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ৬ নং সেক্টর গঠিত হয়েছিল। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
৬নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন
৫,৮০৫.
ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রথম দফা ছিল-
  1. ক) স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা চালু
  2. খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা
  4. ঘ) বৈদেশিক বাণিজ্য
ব্যাখ্যা
ছয় দফা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শােষণ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘােষণা করেন।
- বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্য ছিল, ছয় দফা দাবি আদায়ের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা ।

• দফা গুলো হলোঃ
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫,৮০৬.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেওয়া জর্জ হ্যারিসন বিশ্বখ্যাত ব্যান্ডের সদস্য ছিলেন?
  1. দ্য বিটলস
  2. পিংক ফ্লয়েড
  3. দ্য রোলিং স্টোন
  4. নির্‌ভানা
ব্যাখ্যা

• কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- পণ্ডিত রবিশংকর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য-বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই অবিস্মরণীয় কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন।
- তাতে মোট ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন। কনসার্টটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।

- কনসার্ট ফর বাংলাদেশে আয়োজক দুই তারকা ছাড়াও অংশ নেন বিটলসের রিংগো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেসটন, লিয়ন রাসেল। রবি শঙ্কর ছাড়াও সরোদ শিল্পী আলী আকবর খান অংশ নিয়েছিলেন এই কনসার্টে।
- এই কনসার্টটি পরিচালনা করেন পল সুইমার। 

- রবি শঙ্কর শুরুতে উদ্যোগটি থেকে বাংলাদেশের জন্য মাত্র ২৫,০০০ ডলার সংগ্রহের আশা করেছিলেন। তবে কনসার্টের টিকিট বিক্রি থেকেই সে সময়ে প্রায় আড়াই লক্ষ ডলারের কাছাকাছি আয় হয়েছিল।
- পরবর্তীতে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ লাইভ' নামে একটি অ্যালবামও প্রকাশ করা হয়।
- সংগৃহীত অর্থ ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থীদের প্রদান করা হয়। 

উৎস: প্রথম আলো এবং বিবিসি।

৫,৮০৭.
আলেকজান্ডারের ভারতবর্ষ আক্রমণের সময় বাংলায় কোন জনপদের উপস্থিতির উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. তাম্রলিপ্ত
  2. গঙ্গারিডি
  3. বঙ্গ
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
গ্রিকবীর আলেকজান্ডার খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬-২৭ অব্দে ভারতবর্ষে আক্রমণ করেন।
তার সময়ে বাংলায় ‘গঙ্গারিডি’ নামে একটি শক্তিশালী জনপদের উপস্থিতির উল্লেখ পাওয়া যায়। পদ্মা ও ভাগীরথী নদীর মধ্যবর্তী স্থানে গঙ্গারিডি রাজ্যের অবস্থান ছিলো। ধারণা করা হয় বঙ্গ জনপদকেই গ্রিকরা গঙ্গারিডি হিসেবে উল্লেখ করেছিলো।
একই সময়ে প্রাসিয়র নামে আরেকটি রাজ্যেরও উল্লেখ পাওয়া যায়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫,৮০৮.
বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর চালু হয়-
  1. ক) ১ জুলাই ১৯৯১
  2. খ) ১০ জুলাই ১৯৯৮
  3. গ) ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯
  4. ঘ) ১ জুলাই ১৯৯৫
ব্যাখ্যা
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়ের খাত মূল্য সংযোজন কর।
- ১৯৯০ সনের মধ্য জুনের কিছু আগে মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯০ (খসড়া) তৈরি করা হয়।
- উক্ত আইনের চূড়ান্ত রূপ তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ৩১ মে ১৯৯১ তারিখে একটি অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করেন।
- অধ্যাদেশের আটটি ধারা (যেগুলি মূসক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হওয়া এবং মূসক কর্তৃপক্ষের নিয়োগ ও ক্ষমতা সংক্রান্ত ছিল) ২ জুন ১৯৯১ থেকে এবং বাকি ধারাগুলি ১ জুলাই ১৯৯১ থেকে কার্যকরী করা হয়।

 উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৫,৮০৯.
অপারেশন সার্চলাইটের সময় ঢাকা শহরের বাইরে নেতৃত্ব দেন কে?
  1. জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  2. লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজি
  3. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  4. জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইট:
- অপারেশন সার্চলাইট পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।
- সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- ঢাকা শহরের বাহিরে নেতৃত্ব দেন জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া।

৫,৮১০.
হাজী মুহম্মদ মহসীনের আদি নিবাস কোথায়?
  1. ক) রোম
  2. খ) পারস্য
  3. গ) জর্ডান
  4. ঘ) চৈনিক
ব্যাখ্যা
- হাজী মুহম্মদ মহসীন ১৭৩২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল মুহম্মদ ফয়জুল্লাহ এবং মায়ের নাম ছিল জয়নাব খানম। তাদের আদি নিবাস ছিল পারস্যে
- দানশীলতার জন্য ইতিহাসে তিনি ‘দানবীর বা বাংলার হাতেম তাই’ নামে পরিচিত। তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর প্রভৃতি স্থানে মাদ্রাসার উন্নতি সাধনে প্রচুর অর্থ দান করেন। তিনি তাঁর সমুদয় অর্থ শিক্ষা বিস্তার চিকিৎসা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য ব্যয় করেন।
- ১৮০৬ সালে মৃত্যুর ছয় বছর পূর্বে তিনি ‘মহসীন ফান্ড’ নামক একটি ফান্ড গঠন করে তার সমস্ত সম্পত্তি জনহিতকর কাজে দান করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৮১১.
দেশের প্রথম পাতাল রেলের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে -
  1. ক) সানচু কোম্পানি লিমিটেড
  2. খ) আকাই হুন্দাই কোম্পানি লিমিটেড
  3. গ) নিপ্পন কোই কোম্পানি লিমিটেড
  4. ঘ) লিক্কন জাই কোম্পানি লিমিটেড
ব্যাখ্যা
এক নজরে পাতাল ট্রেন 
• প্রকল্পের নাম:- ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন-১ (এমআরটি-১)।
• প্রকল্পের মোট ব্যয়:- ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। 
• রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান:- ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
• পরামর্শক প্রতিষ্ঠান:- জাপানের নিপ্পন কোই কোম্পানি লিমিটেড (জেভি)। 
• রুট:- ২টি। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর (বিমানবন্দর রুট) পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার অংশ ভূগর্ভস্থ হবে ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল (পূর্বাচল রুট) পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার হবে উড়াল। 
• স্টেশন সংখ্যা:- বিমানবন্দর রুটে ১২টি ও পূর্বাচল রুটে ৯টি স্টেশন থাকবে।

তথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার নভেম্বর ২০২২
৫,৮১২.
'বাহাদুর শাহ পার্ক' নিম্নের কোনটির সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ক) নীল বিদ্রোহ
  2. খ) সিপাহী বিদ্রোহ
  3. গ) বঙ্গভঙ্গ
  4. ঘ) ভারতছাড় আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- 'বাহাদুর শাহ পার্ক' এর পূর্বনাম ভিক্টোরিয়া পার্ক। 
- ইহা সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান। 
- পুরানো ঢাকা এলাকার সদরঘাটের সন্নিকটে লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত। 
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহিকে। 
- তারপর জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহিদের লাশ এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে। 
- ১৯৫৭ সালে (মতান্তরে ১৯৬১) সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে ভিক্টোরিয়া পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক। 
- সিপাহী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এর শাসন পুনরায় আনার জন্য। তাই তাঁর নামানুসারে এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।
 
উৎস : ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট
৫,৮১৩.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে কতজন মুক্তিযোদ্ধার খেতাব বহাল রয়েছে?
  1. ৬৭২ জন
  2. ৬৭৩ জন
  3. ৬৭৪ জন
  4. ৬৭৫ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮১৪.
নবাব সিরাজউদ্দৌলা কার দৌহিত্র ছিলেন?
  1. মুর্শিদকুলি খাঁন
  2. মীর কাসিম
  3. সুজা উদ্দৌলা
  4. আলীবর্দী খাঁন
ব্যাখ্যা
• সিরাজউদ্দৌলা:
- আলীবর্দী খানের কোনো পুত্র ছিল না।
- তার তিন কন্যা আমেনা, ময়মুনা ও ঘষেটি ।
- ময়মুনা ও আমেনার দুই পুত্র ছিল।
- কিন্তু ঘষেটি বেগমের কোনো পুত্র ছিল না।
- আলীবর্দী খান আমেনার পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন।
- এ কারণে তাঁকেই তাঁর জীবিতকালে বাংলার নবাব পদে মনোনীত করে যান।
- আলীবর্দী খান দৌহিত্য ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।
- সিরাজ ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- তাঁর পিতার নাম মির্জা মুহম্মদ হাসিম মইনুদ্দীন খান।
- ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হয়।
- তখন ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮১৫.
১৯৭১ সালে প্রথম কোন কূটনৈতিক বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন?
  1. কে. এম. শিহাবুদ্দিন
  2. হুমায়ুন রশীদ চৌধূরী
  3. আব্দুস সামাদ
  4. এম মহিউদ্দিন খান
ব্যাখ্যা
প্রথম কূটনৈতিক বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ:
- ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অসাধারণ ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন তৎকালীন দু’জন তরুন বাঙালি কুটনীতিক।
- নয়াদিল্লিস্থ পাকিস্তান হাই কমিশনের সেকেন্ড সেত্রেটারি কে. এম. শিহাবুদ্দিন এবং এসিস্টেন্ট প্রেস এটাচী আমজাদুল হক।
- তাঁরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে সর্বপ্রথম কূটনীতিকের পদ ছেড়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন।

⇒ মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হওয়ার পূবের্ই কে. এম. শিহাবুদ্দিন ও আমজাদুল হকের নয়াদিল্লিতে এক প্রেস কনফারেন্স করে কূটনীতিকের পদ ছেড়ে দেন এবং পাকিস্তান সরকারের অন্যায় অত্যাচারের তীব্র নিন্দা জানান।
- তাঁদের অনুসরণ করে সে সময় ১৯টি দূতাবাসের ১১৫ জন বাঙালি কূটনীতিক বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগরে গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকারের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল সরকার গঠনের একদিন পর কলকাতার পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ হোসেন আলী এবং সব বাঙালি কূটনীতিক ও স্টাফ একযোগে বাংলাদেশের পক্ষে আনুগত্য জানান।
- 'পাকিস্তান ডেপুটি হাইকমিশন' নামফলক নামিয়ে ফেলা হয়।
- সেখানে 'বাঙলা দেশ কূটনৈতিক মিশন' নামফলক লাগিয়ে দেওয়া হয়।
- মিশনের ছাদে ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ হোসেন আলীর নেতৃত্বে ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।
- এর মাধ্যমে প্রথমবারের মত আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়তে শুরু করে।

উৎস: i) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
৫,৮১৬.
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ২০১৮ সাল
  2. ১৯৯৬ সাল
  3. ২০২৪ সাল
  4. ১৯৯০ সাল
ব্যাখ্যা

• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন শুরু করেন।
- এরশাদের শাসনকালে দেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে থাকে।
- এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলতে থাকে।
- বহু মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেন।
- ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসন অবসান ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ ঘটে নি; এরশাদের শাসনের প্রথম থেকেই বিরোধী কার্যক্রম চলতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের শেষ থেকে ছাত্র সমাজ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।
- শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেন।
- ১৯৮৭ সালে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হলেও এরশাদ ক্ষমতায় থাকেন।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল, মিটিং ও হরতাল চালায়।
- সারাদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।
- ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।
- ১৯ নভেম্বর ১৯৯০ সালে সরকার পতনের লক্ষ্যে ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট যৌথ ঘোষণা প্রদান করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এরশাদের ক্ষমতা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৮১৭.
ঐতিহাসিক ২১-দফা দাবির প্রথম দাবিটি কী ছিল?
  1. পূর্ববাংলার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ
  2. বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা
  3. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  4. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।

⇒ এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:

১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৮১৮.
'স্টেলা মেরিস' নির্মাণ করে কোন শিপইয়ার্ড?
  1. খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড
  2. ঢাকা ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস
  3. আনন্দ শিপইয়ার্ড লিমিটেড
  4. ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড
ব্যাখ্যা
জাহাজ নির্মাণ শিল্প  বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শিল্পখাত।
দেশে আনুমানিক ১০,০০০ টন ক্ষমতার আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাহাজ তৈরির ক্ষমতা সম্পন্ন প্রায় ১১ টি স্থানীয় শিপইয়ার্ড রয়েছে

আনন্দ শিপইয়ার্ড এন্ড স্লিপওয়ে লিমিটেড নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনাঘাটে অবস্থিত।
- তবে এর প্রধান কার্যালয় ঢাকার নয়াপল্টনে অবস্থিত।
- এটি ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে। এটির শিপইয়ার্ডের আয়তন প্রায় ৮০ হাজার বর্গমিটার।
- ২০০৮ সালে আনন্দ শিপইয়ার্ড ডেনমার্কে প্রথম স্টেলা মেরিস নামে জাহাজ রপ্তানি করে।
- বাংলাদেশে প্রথম যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ করে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড। 

[উৎস: আনন্দ শিপইয়ার্ড ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া]
৫,৮১৯.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ এর কথক ছিলেন -
  1. আবদুল হান্নান
  2. এম আর আখতার হামিদ
  3. এম আর আখতার মুকুল
  4. কামাল লোহানী
ব্যাখ্যা
• এম. আর আখতার মুকুল (১৯২৯-২০০৪):
- এম আর আখতার মুকুল সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।পরে তিনি ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
- এ সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর রচিত ৬০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

• এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- পল্লী এক্সপ্রেস (অনুবাদ, ১৯৬০),
- রূপালী বাতাস (১৯৭২),
- রূপালী বাতাস সোনালী আকাশ (১৯৭৩),
- মুজিবের রক্তলাল (১৯৭৬),
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি (১৯৮৪),
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন (১৯৮৫),। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫,৮২০.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৬০০ সালে
  2. ১৬০৫ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৬১৫ সালে
ব্যাখ্যা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,৮২১.
‘প্রাণের বান্ধবরে বুড়ি হইলাম তাের কারণে’-গানটির গীতকার
  1. ক) শেখ ওয়াহিদ
  2. খ) কিরণ রায়
  3. গ) শাহ আবদুল করিম
  4. ঘ) কাঙ্গালিনী সুফিয়া
ব্যাখ্যা
'বুড়ি হইলাম তর কারণে', 'আমার মাটির গাছে লাউ ধইরাছে'_এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা গীতিকবি মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওয়াহিদুর রহমান।
ওয়াহিদের রচিত গানের সংখ্যা দেড় হাজারের অধিক। তার গানের বিষয়বস্তু, পরমতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, প্রেমতত্ত্ব, গুরুতত্ত্ব, আঞ্চলিক গান, পল্লীগীতি, মুর্শিদি, ভাটিয়ালি, মারফতি, পদাবলি, কীর্তন। আঞ্চলিক গান রচনায় তিনি ছিলেন বিশেষ আগ্রহী। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত তার গানের সংখ্যা শতাধিক। ‘পরাণের বন্ধুরে/ বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ এবং ‘আমার মাটির গাছে লাউ ধরেছে/লাউটা বড় সোহাগী/লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী’ তার এ গান দুটি বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।


সুত্রঃ কালের কণ্ঠ এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা
৫,৮২২.
'তমদ্দুন মজলিশ' কোন আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. শিক্ষা আন্দোলন
  3. স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- 'তমদ্দুন মজলিশ' ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- পরবর্তীতে ২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিশ' নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৮২৩.
কোন আন্দোলন চলাকালীন প্রথমবারের মত বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়?
  1. ছয় দফা আন্দোলন
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. অসহযোগ আন্দোলন
  4. মহান মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন
- ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর ৩ মার্চ, ১৯৭১ আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে জাতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ইয়াহিয়া খান ১ মার্চেই সেই অধিবেশন স্থগিত করেন।
- এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
- অসহযোগ আন্দোলন ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অসহযোগ মানে সহযোগিতা না করা। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পূর্ব বাংলার জনগণ তৎকালীন ইয়াহিয়া সরকারের সব রকম সরকারি নির্দেশ অমান্য করে।
- এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ে ও ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়।

- ২ মার্চ, ১৯৭১; অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন ঢাবির বটতলায় প্রথমবারের মত বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলিত হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম এই জাতীয় পতাকার ডিজাইন করেন শিব নারায়ণ দাস।
- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের সভায় আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।
- ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যা এদেশের মানুষকে আজও অনুপ্রাণিত করে।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
৫,৮২৪.
ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. হেনরি লুই ডিরোজিও
  2. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন:
- ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা হল - হেনরি লুই ডিরোজিও।
- উনিশ শতকের ত্রিশের দশকে হিন্দু কলেজের শিক্ষক ডিরোজিও বাংলার আধুনিকমনস্ক তরুণদের নিয়ে ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন শুরু করেন।
- এ লক্ষ্যে তিনি ১৮২৮ সালে একাডেমি অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।

অনুসারী:
- তার অনুসারী ছিলেন - রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র প্রমুখ।
- ১৮৩১ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ডিরোজিও মারা যান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি।
৫,৮২৫.
দেশের ২৫তম বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন- (মে - ২৫)
  1. বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম
  2. বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ
  3. বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
  4. বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ রেফাত আহমেদকে বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে সৈয়দ রেফাত আহমেদকে নিয়োগ দিয়েছে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- বিচারপতি সৈয়দ রেফাত ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন।
-  দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল হাই কোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

উৎস : বিডি নিউজ-২৪
৫,৮২৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান -
  1. সোনারগাঁও
  2. ময়নামতি
  3. সোমপুর বিহার
  4. মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা

• মহাস্থানগড়:

- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড়ের বিস্তীর্ণ ধবংসাবশেষ প্রাচীর পুন্ড্রবর্ধনভূক্তির রাজধানী পুন্ড্রনগরের সুদীর্ঘ প্রায় আড়াই হাজার বছরের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের এক নীরব স্বাক্ষী।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান।

অন্যদিকে -
• সোনারগাঁও:
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের মধ্যে শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সোনারগাঁও একটি গৌরবময় জনপদ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।

• সোমপুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

• ময়নামতি:
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,৮২৭.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পর পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  2. খ) ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাত একটা থেকে দেড়টার মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়।
- এর তিনদিন পর ২৯শে মার্চ বঙ্গবন্ধুকে পশ্চিম পাকিস্তানে (করাচি) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধুকে লায়ালপুরে (বর্তমান ফয়সালাবাদ) মিয়ানওয়ালি জেলে আটক রাখা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বিবিসি বাংলা আর্কাইভ।)
৫,৮২৮.
বঙ্গভঙ্গ ব্যবস্থা রহিত করেন-
  1. লর্ড বেন্টিংক
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ রদ:

- বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা ১৯১০ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ভারতের নতুন ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তিনি বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা লক্ষ্য করে বঙ্গভঙ্গ রদের বিষয়ে গোপন তৎপরতা শুরু করেন।
- ব্রিটেনের সম্রাট পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ রদের পক্ষে মত দেন।
- ১৯১১ সালে সম্রাট পঞ্চম জর্জ ও রাণি মেরী ভারত সফরে আসেন।
- এই সফরে সম্রাট পঞ্চম জর্জ আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ফলে কার্জনের বাংলা বিভক্তির ব্যবস্থা বাতিল হয়।
- ঢাকা চট্টগ্রাম, রাজশাহী, প্রেসিডেন্সি ও বর্ধমানের পাঁচটি বাংলা ভাষাভাষী বিভাগ নিয়ে বাংলা প্রদেশ পূনর্গঠন করা হয়।
- ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদাহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ।
- প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরদিকে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী করা হয় কোলকাতাকে।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮২৯.
তমুদ্দিন মজিলিস কোন সালে গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫২ সালে
  3. ১৯৪৭ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
ব্যাখ্যা
• তমদ্দুন মজলিসের ভূমিকা:
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিস' নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।​
- কর্মসূচি: সভা-সমিতি ও লেখনীর মাধ্যমে বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।​
- পুস্তিকা প্রকাশ: ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- যেখানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানানো হয়।

→ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের গঠন: 
- তারিখ: ডিসেম্বর ১৯৪৭​;
- আহ্বায়ক: নূরুল হক ভূঁইয়া​।

এছাড়াও,
- ১৯৪৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সংগ্রাম পরিষদের সাথে আলোচনার পর শিক্ষামন্ত্রীফজলুর রহমান আশ্বাস দেন;
- মানি অর্ডার, ফরম, ডাকটিকিট ও মুদ্রায় ইংরেজি-উর্দুর পাশাপাশি বাংলায় লেখা হবে।
- কিন্তু পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ১৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া বক্তৃতায় সুকৌশলে;
- উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ছাত্রদের মধ্যে হতে 'না' 'না' ধ্বনি সম্বলিত প্রতিবাদ ওঠে।

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫,৮৩০.
পাল বংশে ধর্মপালের পরে রাজা হয়েছেন কে?
  1. দেবপাল
  2. গোপাল
  3. রামপাল
  4. দ্বিতীয় মহীপাল
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশ:
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে।
- এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সময় উত্তর ভারতের আধিপত্য নিয়ে গুর্জর প্রতিহার, রাষ্ট্রকুট ও পালবংশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ধর্মপালের পর রাজা হলেন তাঁর পুত্র দেবপাল।
- তাঁর শাসনামলে পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।
- প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
- রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন।
- তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
৫,৮৩১.
সোমপুর বিহারের নির্মাতা কে?
  1. ক) হর্ষবর্ধন
  2. খ) ধর্মপাল
  3. গ) বিজয় সেন
  4. ঘ) রামপাল
ব্যাখ্যা
পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন ধর্মপাল। তিনি প্রায় ৪০ বছর (৭৮১-৮২১) রাজত্ব করেন। বৌদ্ধধর্মের প্রসারে তিনি নওগা জেলার পাহাড়পুরে সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এখনো পর্যন্ত সোমপুর বিহার ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় বিহার হিসেবে স্বীকৃত। এটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐহিত্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৮৩২.
যশোর অঞ্চলে নীল বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?
  1. ক) বেণী মাধব
  2. খ) বৈদ্যনাথ
  3. গ) বিষ্ণুচরণ
  4. ঘ) দিগম্বর বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
• ১৭৭০-১৭৮০ সালের মধ্যে ইংরেজ আমলে বাংলাদেশে নীল চাষ শুরু হয়। নীল চাষের শুরু দিক থেকেই কৃষকদের উপরে চালানো হতো চরম অত্যাচার। শেষ পর্যন্ত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া নীল চাষিরা ১৮৫৯ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। এসব বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয় নীলচাষিরাই। 
- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামের দুই ভাই।
- হুগলিতে নেতৃত্ব দেয় বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৮৩৩.
বাংলাদেশে ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
  1. পীর মুহসীনুদ্দীন
  2. শাহ ওলিউল্লাহ
  3. মাওলানা কেরামত আলী
  4. হাজী শরীয়তুল্লাহ
ব্যাখ্যা

→ বাংলাদেশে ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্যোক্তা ছিলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ।

ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিল একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৮৩৪.
একুশ দফা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী
  2. আবদুল মান্নান
  3. বিচারপতি আব সায়িদ চৌধুরী
  4. আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে একুশ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। একুশ দফা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।
- এর প্রথম দফা বা দাবী ছিলো বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
এছাড়া অন্যান্য দাবীর মধ্যে ছিলো:
- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
- বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত করা
- অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৮৩৫.
পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি সাত্তার
  2. বিচারপতি সায়েম 
  3. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. বিচারপতি হামদুর রহমান
ব্যাখ্যা

• ১৯৭০ এর নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।

১৯৭০ এর নির্বাচন:

- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ও ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- অবশ্য ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ের ফলে দুর্গত ও উপকূলীয় এলাকায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
- নির্বাচনে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের পূর্ব পাকিস্তান অংশের জন্য ১৬২টি সাধারণ আসন ও ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট বরাদ্দ ছিল ১৬৯টি আসন।
- জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭টি সংরক্ষিত আসন সহ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে।
- প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ৩০০টি সাধারণ আসন ও ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট ৩১০টি আসন বরাদ্দ ছিল।
- প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ ২৮৮টি সাধারন আসন ও ১০টি সংরক্ষিত আসন সহ মোট ২৯৮টি আসন লাভ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৩৬.
প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে কোন জনপদটি খুবই খ্যাতি অর্জন করেছিল?
  1. চন্দ্রদ্বীপ
  2. বঙ্গ
  3. তাম্রলিপ্তি
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা

জনপদ: 
- তাম্রলিপ্তি জনপদ প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে খুবই খ্যাতি অর্জন করেছিল।

- তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার তমলুক),
- চন্দ্রদ্বীপ (বর্তমান বরিশাল জেলার অন্তর্গত),
- বঙ্গাল (বাখেরগঞ্জ ও খুলনা জেলার সমুদ্র লাগোয়া অঞ্চল) উল্লেখযোগ্য।
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৮৩৭.
'বঙ্গভঙ্গ' কালে ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. লর্ড কর্ণওয়ালিশ
  3. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ:
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জনের সময় ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ হয়।
- এ বিভক্তির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাকে 'পূর্ববাংলা ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি প্রদেশে পরিণত করা হয়।
​- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে লা ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের সময় ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

​উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৮৩৮.
অপারেশন সার্চলাইট এর সার্বিক দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. মেজর জেনারেল খাদিম রাজা
  2. মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান
  4. লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট:
- ২৫ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বাঙালিদের উপর অপারেশন চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
- ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক ঐ পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি সদরদপ্তর স্থাপন করা হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর তত্ত্বাবধানে প্রথম সদরদপ্তরটি গঠিত হয়।
- ৫৭তম বিগ্রেডের বিগ্রেডিয়ার আরবাবকে শুধু ঢাকা নগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এবং মেজর জেনারেল খাদিম রাজাকে প্রদেশের অবশিষ্টাংশে অপারেশনের দায়িত্ব দেয়া হয়।
- অপারেশনের সার্বিক দায়িত্বে থাকেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৩৯.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর কে ছিলেন?
  1.  ক্লাইভ
  2. হেস্টিংস
  3. রিপন
  4. কার্টিয়ার
ব্যাখ্যা

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ইংরেজ গভর্নর ছিলেন কার্টিয়ার।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত।
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) এই দুর্ভিক্ষ হয় বলে একে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বলা হয়।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়।
- এই দুর্ভিক্ষে তৎকালীন বাংলার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ছিলেন জন কার্টিয়ার।
- দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা এবং পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টিজনিত খরার কারণে ফসল উৎপাদন কম হওয়ায় এই দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৪০.
কোন এলাকাকে 'Marine Protected Area (MPA)' ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ক) সেন্টমার্টিন
  2. খ) সেন্টমার্টিন এবং এর আশেপাশের এলাকা
  3. গ) পটুয়াখালী ও বরগুনা
  4. ঘ) হিরন পয়েন্ট
ব্যাখ্যা
'Marine Protected Area (MPA):
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও এর আশেপাশের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করা হয়েছে।
- এর আগে ১৯৯৯ সালে ৫৯০ হেক্টর প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ‘সেন্টমার্টিন মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
- নতুন ঘোষণায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও এর আশেপাশের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের ৭০ মিটার গভীর সমুদ্র যোগ হয়েছে।
- অনিয়ন্ত্রিত জাহাজ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকার চলাচল, মাত্রাতিরিক্ত মৎস্য সম্পদ আহরণ, সমুদ্রে বর্জ্য ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ নিক্ষেপ, প্রবাল উপনিবেশ ধ্বংস, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধে এই উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (১২ জানুয়ারি, ২০২২)।
৫,৮৪১.
'মারাইং তং' পাহাড় কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. বান্দরবান
  3. খাগড়াছড়ি
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
মারাইং তং পাহাড়:
- মারাইং তং পাহাড় বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় অবস্থিত।
- এই পাহাড় আরও কয়েকটি নামে পরিচিত। যেমন - মারায়ান তং, মারায়ং তং, মেরাই থং জাদি, মারাইং ডং ইত্যাদি।
- পাহাড়টির উচ্চতা প্রায় ১৬৪০ ফুট।
- এই পাহাড়ের চূড়ায় আছে একটি বৌদ্ধ উপাসনালয়।
- ত্রিপুরা, মারমা, মুরং সহ বেশিকিছু আদিবাসীর বসবাস এই মারায়ন তং পাহাড়ে। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে থাকা আদিবাসী পাড়াগুলাে বিশেষ বৈচিত্রতা যুক্ত করেছে আলীকদমের এই পাহাড়ি সৌন্দর্যে।

তথ্যসূত্র - বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট।
৫,৮৪২.
কে সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
  3. কাজী মুহাম্মদ শফিউল্লাহ
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
⇒ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন খন্দকার মোশতাক আহমদ।

বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন।
- প্রায় তিন মাসের মতো ক্ষমতায় ছিলেন মোশতাক।
- মোশতাকের স্বল্পকালীন শাসনকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে আনে।
- মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমস্ত অর্জন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং পাকিস্তানের ভাবধারার পুনঃপ্রতিষ্ঠা শুরু হয়।
- ক্ষমতা দখল করে পাঁচ দিনের মাথায় মোশতাক স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
৫,৮৪৩.
'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি' কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. গাজীপুর
  3. মুন্সীগঞ্জ
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (NAPE):
- NAPE-এর পূর্ণরূপ: National Academy for Primary Education.
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রশিক্ষন ও গবেষণাধর্মী জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- এটি ময়মনসিংহে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় দুই বছর মেয়াদি ইন্টারমিডিয়েট ইন এডুকেশন (আইএড) কোর্স পরিচালিত হত।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজগুলো পরিবর্তন হয়ে কলেজ অব এডুকেশন নামে শুরু হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে ময়মনসিংহ কলেজ অব এডুকেশনে কশনে মৌলিক শিক্ষা একাডেমি (Academy for Fundamental Education) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এর নামকরণ করা হয় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ও (National Academy for Primary Education)।
- ২০০৪ সালের ১লা অক্টোবর থেকে একাডেমি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়।

⇒ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার প্রশিক্ষিত ও পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে যোগ্যতাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এ সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য।
- নেপের প্রশাসনিক ব্যবস্থপনায় নির্বাহী কর্মকর্তা- একজন মহাপরিচালক।
- নেপ পরিচালনার জন্য ১৪ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নরস রয়েছে। 

উৎস: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (NAPE) ওয়েবসাইট।
৫,৮৪৪.
ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব কবে ও কোথায় উত্থাপিত হয়?
  1. ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ, লাহোরে
  2. ১৯৩৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, দিল্লিতে
  3. ১৯৪৬ সালের ৯ এপ্রিল, কলকাতায়
  4. ১৯৪৭ সালের ৩ জুন, করাচিতে
ব্যাখ্যা

- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ, লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা পাকিস্তান প্রস্তাব নামেও পরিচিত।

লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন। জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না। তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৮৪৫.
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে মুনসুন অভ্যুত্থান (Monsoon Revolution) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  2. অ্যান্তোনিও গুতেরেস
  3. ওয়াকার-উজ-জামান
  4. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠন
ব্যাখ্যা
মুনসুন অভ্যুত্থান (Monsoon Revolution):
- ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে মুনসুন অভ্যুত্থান (Monsoon Revolution) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ২০২৪ সালের এই অভ্যুত্থানকে মুনসুন অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকে ‘মনসুন অভ্যুত্থান’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আগামীতে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে মুক্তি ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে তারুণ্যের এই অভ্যুত্থান প্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য,
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
- অতঃপর শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে যার শেষ পরিণতি ঘটে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
৫,৮৪৬.
ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
  2. আজহারউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
  3. জলিলউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
  4. মহিউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
ব্যাখ্যা
বাবর:
- জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- পিতার দিক থেকে বাবর ছিলেন বিখ্যাত তুর্কি তৈমুর লং-এর অধস্তন পঞ্চম পুরুষ এবং মায়ের দিক থেকে তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান।
- উপমহাদেশে বাবরের প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ মুঘল বংশ নামে পরিচিত হয়েছে মোঙ্গলদের সাথে তাঁর সম্পর্ক থাকার কারণেই।
- বাবর ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে মধ্য এশিয়ার ফারগানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ওমর মির্জা ফারগনার শাসনকর্তা ছিলেন।
- পিতার মৃত্যুর পর বাবর বার বছর বয়সে ফারগানার অধিপতি হন।
- ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে উজবেক শাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথম বারের মতো বাবর কাবুল জয় করেন।
- কাবুল বিজয়ের পরও বাবর পিতৃসিংহাসন পুনরুদ্ধার ও রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভারতবর্ষের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করেন।
- কাবুল অধিকারের পর বাবর ভারত বিজয়ের পরিকল্পনা করেন।
- এসময় ভারতের শাসন ক্ষমতায় ছিলেন লোদী সুলতানরা।
- বাবরের আক্রমণের পূর্বে ভারতের শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহিম লোদী।
- ভারতের কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে বাবর এদেশে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮৪৭.
মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে শপথ বাক্য কে পাঠ করেন?
  1. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. জেনারেল এম. এ জি ওসমানী
  3. আতাউর রহমান খান
  4. এইচ টি ইমাম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:

- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী।
- এম মনসুর আলীকে অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী।
- এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রী করে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম.এ.জি ওসমানী।
- এস.এ সামাদ প্রতিরক্ষা সচিব।
- চীফ অব স্টাফ কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৪৮.
প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে কবে?
  1. ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর
  3. ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি
  4. ১৯৭২ সালের ২৫ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি:
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান এবং দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বিশ্বের তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- একইদিনে চতুর্থ দেশ হিসেবে বুলগেরিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- পোল্যান্ড বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি।
- যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে।
- স্পেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ১২ মে, ১৯৭২ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো এবং নিউইয়র্ক টাইমস।

৫,৮৪৯.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯২১
  2. ১৯২৫
  3. ১৯২৯
  4. ১৯৩৩
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য তিনি ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় ‘সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন’ এবং ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- নওয়াব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।
- ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় আগমন করে তিন দিন অবস্থান করেন।
- ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে একটি মানপত্র প্রদান করেন এবং কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থসংরক্ষণের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
- ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক ইশতেহারে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করা হয়।
- ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।
- নিয়াজ আহমেদ খান একজন শিক্ষাবিদ ও অধ্যাপক।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য।
- এ পদে নিয়োগ লাভের আগে তিনি ঢাবির উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি এবং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (আইইউবি) উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিজ্ঞান অনুষদ এর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়।
- প্রথমে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিত এই তিনটি বিভাগ নিয়ে এই অনুষদ যাত্রা শুরু করে।
- বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে কয়েকটি কেন্দ্র আছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ যে এলাকায় অবস্থিত তাকে বলা হয় কার্জন হল।

উৎস: i) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৫০.
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নারী যোদ্ধাদের মধ্যে কে বীর প্রতীক উপাধি পান?
  1. তারামন বিবি
  2. কাকলী রায়
  3. সুলতানা বেগম
  4. রওশন আরা
ব্যাখ্যা

◉ মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।
- মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।
- ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।

৫,৮৫১.
বাংলাদেশের একমাত্র কিশোরী সংশোধন প্রতিষ্ঠানটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) টঙ্গি
  2. খ) কোনাবাড়ি
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) গাজীপুর
ব্যাখ্যা
জাতীয় কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রঃ কোনাবাড়ী, গাজীপুর।
Source: msw.gov.bd
৫,৮৫২.
Who declared military rule for the first time in Pakistan?
  1. Ayub Khan
  2. Muhammad Ali Jinnah
  3. Khawaja Nazimuddin
  4. Iskandar Ali Mirza
  5. Ghulam Mohammad
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি:
- ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থায় একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন। সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮৫৩.
কোন জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে?
  1. ব্যারাকপুরে
  2. পুরুলিয়া
  3. বর্ধমানে
  4. কলকাতায়
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮৫৪.
শিক্ষক সবচেয়ে বেশি শিখতে পারেন কার কাছ থেকে?
  1. প্রধান শিক্ষক
  2. বই
  3. শুভানুধ্যায়ী
  4. ছাত্র
ব্যাখ্যা
- একজন শিক্ষক সবচেয়ে বেশি শিখতে পারেন বই থেকে।
- একটি বই একজন মানুষকে সহজেই সমৃদ্ধ করে তুলতে পারে।
- একমাত্র বইয়ের মধ্যেই আছে সব ধরনের জ্ঞান। তাই জীবনের জন্য বই প্রয়োজন।
- শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে বই পড়ার অভ্যাস দারুণভাবে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় শিক্ষক বাতায়ন।
৫,৮৫৫.
বাঙালির দৈহিক গড়নে সবচেয়ে বেশি মিল রয়েছে কোন জাতিগোষ্ঠীর সাথে?
  1. ক) মোঙ্গলয়েড
  2. খ) অস্ট্রালয়েড
  3. গ) ককেশয়েড
  4. ঘ) নিগ্রয়েড
ব্যাখ্যা
অস্ট্রোলয়েড
- অস্ট্রোলয়েড  প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী। নৃতত্ত্ববিদগণ এদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলে  মনে করেন। এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়।
- প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত। পন্ডিতদের মতে, অস্ট্রোলয়েডদের আদি বাসস্থান মধ্য ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারত এবং সিংহল থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কাল পরিক্রমায় তাদের একটি দল আদি বাসস্থান ত্যাগ করে বাংলায় অভিবাসন করে। 
এছাড়াও,
-  নেগ্রিটো: প্রস্তরযুগে প্রাচীন ভারতের আদিম মানুষ। বাংলার প্রাচীনতম বং জনগোষ্ঠীর পরবর্তীতে আসে নেগ্রিটো জনগোষ্ঠী।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির বড় অংশ হলো মঙ্গোলয়েড।
- প্রাচীনকালে আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠীর যে চারটি শাখা এখানে বাস করতো তারা হলো- অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নেগ্রিটো ও ভোটচীনীয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৫৬.
নিচের কোনটি একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে রচিত নয়?
  1. ক) মন না মতি
  2. খ) ঘর মন জানালা
  3. গ) আর্তনাদ
  4. ঘ) চিলে কোটার সেপাই
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে ভাষা আন্দোলন নিয়েই বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক এবং প্রবন্ধ রচিত হয়েছে।
এর মধ্যে জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন,
দিলারা হাশেমের ঘর মন জানালা,
আনিস সিদ্দিকীর মন না মতি,
শওকত ওসমানের আর্তনাদ উপন্যাস উল্লেখযোগ্য। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিখ্যাত সৃষ্টি চিলে কোটার সেপাই ’৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থানকে কেন্দ্র করে রচিত।
সূত্র : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৫৭.
মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্যে প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. ক) বীরশ্রেষ্ঠ
  2. খ) বীরপ্রতীক
  3. গ) বীরবিক্রম
  4. ঘ) বীরউত্তম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসমান্য অবদান ও বীরত্বের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করেন। এগুলো হলো বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম এবং বীরপ্রতীক।
এর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব হলো বীর উত্তম।
বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন
বীরউত্তম- ৬৮ জন
বীরবিক্রম – ১৭৫ জন
বীরপ্রতীক – ৪২৬ জন
সূত্র : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইট
৫,৮৫৮.
The first independent Nawab of Bengal -
  1. ক) Alivardi Khan
  2. খ) Alauddin Hussain Shah
  3. গ) Shamsuddin Ilyas Shah
  4. ঘ) Murshid Quli Khan
ব্যাখ্যা
• নবাবী শাসনামল (১৭০৭ - ১৭৫৭):
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলী খান ১৭০৭ সালে নবাবী শাসনের সূচনা করেন।
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদৌলার ইংরেজদের হাতে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় স্বাধীন নবাবী আমল।
- ১৭৬০ - ৬৩ সাল পর্যন্ত মীর কাসিম নবাব ছিলেন।
- ১৭৬৪ সালে তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত নবাব নবাব মীর কাসিম, মোঘল সম্রাট শাহ আলম ও অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা বাহিনীর সাথে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- উক্ত যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলা সহ অন্যান্য অঞ্চলে নবাবী শাসন বিলুপ্ত হয় এবং ইংরেজ উপনেবেশিক যুগ চূড়ান্তভাবে শুরু হয়।

তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৫৯.
বাংলার বারো ভূঁইয়াদের দমন করেন কে?
  1. ইসলাম খান
  2. সম্রাট শাহজাহান
  3. শায়েস্তা খান
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- বাংলায় কররানী বংশের রাজত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে বাংলার সোনারগাঁ, খুলনা, বরিশাল প্রভৃতি অঞ্চলে কিছুসংখ্যক জমিদার স্বাধীন রাজার মতো রাজত্ব শুরু করে।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলার অধিকাংশই দখল করে নেন।
- এক দল জমিদার বা ভূস্বামী একযোগে পূর্ব বাংলার ওপর মোগল আক্রমণ প্রতিহত করেন।
- এরাই বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত।
- বারো ভূঁইয়াদের প্রধান ছিলেন ঈশা খাঁ।
- আকবরের সেনাপতি মানসিংহ বারবার চেষ্টা করেও ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারেননি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসন আমলেও বারো ভূঁইয়ারা মোগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- তবে শেষ পর্যন্ত বারো ভূঁইয়াগণ মুঘল সুবাদার ইসলাম খানের হাতে পরাজিত হন এবং মুঘল বশ্যতা স্বীকার করেন।
- ফলে বাংলায় মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে দক্ষতার সাথে বারভূঁইয়াদের দমন করেন সুবাদার ইসলাম খান।
- ১৬০৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সুবাদার হয়ে আসেন ইসলাম খান চিশতী। তার মূল লক্ষ্য ছিল বারভূঁইয়াদের পরাস্ত করা।
- সুবাদার ইসলাম খান ঢাকায় প্রবেশ করে ঢাকাকে রাজধানী ঘোষণা করেন এবং সম্রাটের নামে তার নতুন নামকরণ করেন - জাহাঙ্গীরনগর। এরপর সেখান থেকে বারভূঁইয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে শুরু করেন।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএএস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৬০.
শশাঙ্কের রাজধানী ছিল -
  1. কোটিবর্ষ
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা

শশাঙ্ক:
- বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নৃপতি শশাঙ্ক সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধের শাসক।
- গুপ্ত শাসনের পর বাংলার গৌড় রাজ্যের তিনি অধিপতি হন।
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্কই বাংলার প্রথম নৃপতি যার ভূমিদান করার মতো এবং মুদ্রা প্রকাশ করার মতো স্বাধীন ক্ষমতা ছিল।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু (শৈব) ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৮৬১.
বাংলাদেশের ঘোষিত 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন' এলাকা-
  1. ক) সোনাদিয়া দ্বীপ
  2. খ) গুলশান-বারিধারা লেক
  3. গ) সুন্দরবন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)
- ভূপ্রাকৃতিক অনুকূল অবস্থার কারণে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ।
- কিন্তু অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নানান ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন।
- ইতোমধ্যে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area - ECA / ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এখন পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
এলাকাগুলো হলো: 
- সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকট, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উৎস: বাংলাদেশের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) - পরিবেশ অধিদপ্তর, portal.gov.bd.
৫,৮৬২.
বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর কোনটি?
  1. পায়রা
  2. মংলা
  3. চট্টগ্রাম
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা

• পায়রা বন্দর:
- পায়রা বন্দর বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর।
- এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্র বন্দর।
- এটি কলাপাড়ার রাবনাবাদ চ্যানেলে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্র বন্দর।
- মংলা বন্দর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর।

তথ্যসূত্র: পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট। (লিংক)

৫,৮৬৩.
'মাৎস্যন্যায়' বাংলার কোন সময়কে নির্দেশ করে?
  1. শশাঙ্ক পরবর্তী
  2. ব্রিটিশ শাসনামল
  3. সেন পরবর্তী
  4. পাল পরবর্তী
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:

- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মান্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ। লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান গোপাল।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮৬৪.
বাংলাদেশে প্রথম কত সালে কয়লা খনির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ক) ১৯৭৫
  2. খ) ১৯৮৫
  3. গ) ১৯৮৭
  4. ঘ) ১৯৯৪
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে প্রথম ১৯৮৫ সালে দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়াতে কয়লা খনির সন্ধান পাওয়া যায়।
- ১৯৮৯ সালে রংপুর জেলার খালাশপীর নামক স্থানে এবং
- ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরের দীঘিপাড়াতে পার্মিয়ান যুগের গন্ডোয়ানা কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কার করে।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৫,৮৬৫.
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন কে?
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) তাজউদ্দিন আহমদ
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
• ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার 
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।

• সুতরাং, ৬ দফার মধ্যে ৩টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক ছিলো।
- বঙ্গবন্ধু ৬ দফাকে 'আমাদের বাঁচার দাবি' আখ্যা দেন। 
- ঐতিহাসিক ৬ দফাকে 'ম্যাগনাকার্টা'র সাথে তুলনা করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৮৬৬.
ইপিআর এর সদস্য ছিলেন-
  1. ক) হামিদুর রহমান
  2. খ) নূর মোহাম্মদ শেখ
  3. গ) রুহুল আমিন
  4. ঘ) মোস্তফা কামাল
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্যে ৭ জন শহীদ কে সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে ৩ জন (সিপাহী হামিদুর রহমান, সিপাহী মোস্তফা কামাল এবং ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর), ইপিআর থেকে ২ জন (ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ) এবং বিমানবাহিনী (ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান) ও নৌবাহিনী (ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন) থেকে একজন করে। এদের মধ্যে সবার আগে মারা যান ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ (৮ এপ্রিল) এবং সবার শেষে মারা যান ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (১৪ ডিসেম্বর)।
সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৫,৮৬৭.
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে কত দফা দাবি উত্থাপিত হয়েছিল? 
  1. ১১ দফা 
  2. ১৪ দফা
  3. ২১ দফা
  4. ২২ দফা
ব্যাখ্যা

- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে ২২দফা দাবি উত্থাপিত হয়েছিল। 

• ৬২-র শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরীফ কমিশনের শিক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
- ৬২-র শিক্ষা কমিশন পশ্চিম পাকিস্তানিদের পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বৃদ্ধি করে।
- ১৯৬১ সালের শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
- গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলন দমনে আইয়ুব সরকার গ্রেপ্তার নির্যাতন চালালে ছাত্র গণআন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
- ১০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলে ছাত্ররা ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক দেয়। 
- ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত এবং কয়েক শত আহত হয়।
- তারপর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস পালিত হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,৮৬৮.
আনুমানিক কত সালে শশাঙ্ক গৌড়ে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ৬০৩ অব্দ
  2. ৬০৬ অব্দ
  3. ৬৩০ অব্দ
  4. ৭৩০ অব্দ
ব্যাখ্যা

গৌড় নগরী:
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের গৌড় রাজ্যের রাজধানী। 
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

উল্লেখ্য,
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৮৬৯.
ঐতিহাসিক ছয় দফায় কোন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিলো না?
  1. স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা
  2. বিচার ব্যবস্থা
  3. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো
  4. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
⇒ ঐতিহাসিক ছয় দফায় বিচার ব্যবস্থা উল্লেখ ছিল না।

 ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
- আর এটি ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা - রুহুল কুদ্দুস। 

দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।
৫,৮৭০.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা কোনটি?
  1. তেঁতুলিয়া
  2. শিবগঞ্জ
  3. থানচি
  4. টেকনাফ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের:
- সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- জেলা পঞ্চগড়।

বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের:
- স্থান আখাইনঠং।
- উপজেলা থানচি।
- জেলা বান্দরবান।

বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের:
- স্থান মনাকষা।
- উপজেলা শিবগঞ্জ।
- জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের:
- স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- উপজেলা টেকনাফ।
- জেলা কক্সবাজার।

উৎস: সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৫,৮৭১.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ৯টি
  2. ১৪টি
  3. ১২টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৭২.
'ভাওয়াইয়া' কোন অঞ্চলের গান?
  1. রংপুর
  2. সিলেট
  3. কুষ্টিয়া
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

ভাওয়াইয়া:
- ভাওয়াইয়া উত্তরবঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার  লোকগীতি।
- রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলা এ গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গান ভাবসমৃদ্ধ বিধায় ‘ভাব’ থেকে ‘ভাওয়াইয়া’ কথাটির উৎপত্তি বলে অনুমিত হয়।
- এ গানের মূল সুর নর-নারীর প্রণয়। প্রণয়ের বিচ্ছেদ জ্বালাই এতে অধিক রূপায়িত হয়।
- ভাওয়াইয়া গান দুই প্রকার- দীর্ঘ সুরবিশিষ্ট ও চটকা সুরবিশিষ্ট।
- প্রথম শ্রেণীর গানে নর-নারীর, বিশেষত নবযৌবনাদের অনুরাগ, প্রেমপ্রীতি ও ভালোবাসার আবেদন ব্যক্ত হয়।
- এরূপ গানের মধ্যে ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’, ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’, ‘কোন দ্যাশে যান মইশাল বন্দুরে’, ‘নউতোন পিরিতির বড় জ্বালা’ ইত্যাদি অধিক জনপ্রিয়।
- অপরপক্ষে চটকা এক প্রকার রঙ্গগীতি।
- এ গান চটুল ও দ্রুত তালের।
- গ্রাম্য ‘চট’ (অর্থ তাড়াতাড়ি) শব্দটির স্ত্রীলিঙ্গান্তর করে ‘চটকা’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।
- এ শ্রেণীর গানে যথেষ্ট হাস্যরসের উপাদান থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৭৩.
কোন দেশের সহায়তায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে?
  1. ভারত
  2. চীন
  3. জাপান
  4. মালয়েশিয়া
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে।
- সমুদ্রবন্দরটি নির্মাণে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করছে জাপান সরকার।
- প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ১৭,৭৭৫ কোটি টাকা যার অধিকাংশ জাপানি সংস্থা জাইকা সরবরাহ করবে।
- ২০২৫ সাল নাগাদ এটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে। এ বন্দরে বার্ষিক প্রায় ৮ লক্ষ কন্টেইনার উঠানামা করবে।
- তবে এটি স্বতন্ত্র বন্দর না হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বন্দর হিসেবে কাজ করবে।
(তথ্যসূত্র: অর্থবিভাগ ওয়েবসাইট)
৫,৮৭৪.
বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর প্রথম সামরিক আইন ঘোষণাকারী কে ছিলেন?
  1. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  2.  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
  3. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  4. আব্দুস সাত্তার
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন।
- প্রায় তিন মাসের মতো ক্ষমতায় ছিলেন মোশতাক।
- মোশতাকের স্বল্পকালীন শাসনকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনে।
- ক্ষমতা দখল করে পাঁচ দিনের মাথায় মোশতাক স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন।
- যারা সামরিক অভ্যুত্থান সংগঠিত করেছিলেন তারা বঙ্গভবনে থেকে 'ক্ষমতা পরিচালনা' করতে থাকেন।
- ফলে সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং ৩ নভেম্বর (১৯৭৫) সেনাবাহিনীর একটি অংশ বিদ্রোহ করে।
- তারা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করে ও তৎকালীন সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানকে অন্তরীণ করে।
- ৫ নভেম্বর খন্দকার মুশতাক পদত্যাগ করলে প্রধান বিচারপতি এ.এস.এম সায়েম রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি ও এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৮৭৫.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করা হয় কবে?
  1. ক) ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬
  2. খ) ০৩ জানুয়ারি ১৯৬৮
  3. গ) ১৯ জুন ১৯৬৮
  4. ঘ) ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করে। ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। বিচারের জন্যে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি এস এ রহমান। অপর দুই সদস্য হলেন এম আর খান এবং মুকসুমুল হাকিম।
বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কৌশুলী ছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী টমাস উইলিয়াম, আব্দুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ। সরকার পক্ষে প্রধান কৌশুলী ছিলেন মঞ্জুর কাদের এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল টি এইচ খান।
এই মামলার ১৭ নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে প্রবল আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫,৮৭৬.
মুজিবনগর সরকারকে কতটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৬ টি
  2. খ) ১২ টি
  3. গ) ১৫ টি
  4. ঘ) ১৭ টি
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
- মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন হয় ১৮ এপ্রিল।
- এদিন মুজিবনগর সরকারকে ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভাগ করা হয়।
- এছাড়া কয়েকটি বিভাগ মন্ত্রিপরিষদের কর্তৃত্বাধীনে থাকে। 

[শুধু মন্ত্রণালয় বললে ১২ টি কিন্তু বিভাগ ও মন্ত্রণালয় বললে ১৫ টি।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৭৭.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
অস্থায়ী সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ করে।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

উল্লেখ্য,
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসেবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিল স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদর দপ্তর ছিল- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৫,৮৭৮.
মুক্তিযুদ্ধকালীন এস ফোর্স এর নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. মেজর কে.এম. সানাউল্লাহ
  2. মেজর শামসুল আলম
  3. মেজর সফিকুর রহমান
  4. মেজর কে.এম. সফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- জেড ফোর্স, কে ফোর্স, এস ফোর্স।

• জেড ফোর্স:
- মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- 'জেড ফোর্স' নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

- এস ফোর্স:
- মেজর কে.এম. সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- 'এস ফোর্স' নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

• কে ফোর্স:
- মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে অক্টোবর মাসে কে ফোর্স গঠিত হয়।
- 'কে ফোর্স' গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ঢাকা জেলা প্রসাশন ওয়েবসাইট।

৫,৮৭৯.
স্বাধীনতার পর জাপান কবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২
  2. ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২
  3. ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২
  4. ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশকে জাপানের স্বীকৃতি:
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জাপান স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করার পর প্রথম যে কয়টি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে, জাপান তার মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমপর্ণের মাধ্যমে নয় মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে।
- বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। বাংলাদেশের বিজয় অর্জনে জাপানিপত্র-পত্রিকায় শিরোনাম করল 'Pakistanis Ink Surrender Papers'.
- ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জাপান এয়ার লাইন্সের একটি বিরাট বিমান নানা সাহায্য সামগ্রী নিয়ে ঢাকা পৌঁছায়। জাপানের জনগণ ও স্কুলের ছেলেমেয়েরা জাপান রেডক্রসের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য এই সাহায্য দান করেন। জাপানি স্কুল শিশুরা তাদের টিফিনের অর্থ বাঁচিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
- ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
-  স্বীকৃতি দান প্রসঙ্গে হায়াকাওয়া বলেন, জাপান স্বাধীন বাংলাদেশকে দ্রুত স্বীকৃতি দিয়েছিল। সিদ্ধান্তটি ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর জাপান কূটনীতির ক্ষেত্রে এই প্রথম স্বতস্ফূর্তভাবে একটা উদ্যোগ নিল।
- ১৯৭২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি: জাপান বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। জাপান বাংলাদেশে দূতাবাসের কার্যক্রম চালু করে। তাকাশি ওয়ামাদা বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রথম জাপানি রাষ্টদূত।

উৎস: i) সংগ্রামের নোটবুক।
ii) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৫,৮৮০.
উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন কে?
  1. রাজ্যবর্ধন
  2. ভাস্করবর্মা
  3. হর্ষবর্ধন
  4. বাণভট্ট
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
→ উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।
→ বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
→ শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। 
→ কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
→ বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
→ তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
→ শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮৮১.
বর্তমানে 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ৪২৩ জন
  2. ৪২৪ জন
  3. ৪২৫ জন
  4. ৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৮২.
ভাষা আন্দোলনের সময় সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন কে?
  1. আবুল কাসেম
  2. অধ্যাপক নুরুল হক ভূইয়া
  3. কাজী গোলাম মাহবুব
  4. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন: 
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সভা হয়।
 - উক্ত সর্বদলীয় সভায় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।

- ২০শে ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকায় পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এছাড়াও, 
- ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠন করা (দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ) হলে এর আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।


উৎস:বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ,নবম-দশম শ্রেণী, এবং বাংলাপিডিয়া 

৫,৮৮৩.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
  3. মনোরঞ্জন ধর
  4. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮৮৪.
হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় কোন শতকে?
  1. প্রথম শতকে
  2. দ্বিতীয় শতকে
  3. তৃতীয় শতকে
  4. চতুর্থ শতকে
ব্যাখ্যা
হরিকেল:

- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮৮৫.
কার শাসনামল থেকে বাংলায় নবাবি শাসন চালু হয়?
  1. মীর জুমলা
  2. মুর্শিদকুলী খান
  3. সুজাউদ্দীন খান
  4. আলীবর্দী খান
ব্যাখ্যা
বাংলার নবাবী শাসন (১৭১৭-১৭৫৭ খ্রি.): 
- মুর্শিদকুলী খানের শাসনামল থেকে বাংলায় নবাবী শাসন চালু হয়। 
- মুর্শিদকুলী খানের শাসনামল (১৭১৭ খ্রি.) থেকে সুবা-বাংলার চরিত্রে কিছু শব্দ ও চরিত্রগত পরিবর্তন আসে।
- সুবাকে তখন 'নিজামত' (নবাবী) এবং সুবাদারকে 'নাজিম' (নবাব) বলা হতো।
- আগে মুঘলরা সুবেদার নিয়োগ করতেন।
- এই সময় (১৭১৭ খ্রি.) থেকে নবাবি প্রাপ্তির বিষয়টি বংশগতভাবে অব্যাহত থাকার নিয়ম করা হয়।
- প্রথা হিসেবে মুঘল সম্রাটদের কাছে একটি আবেদন করা হতো।
- নবাবগণ প্রদেশের স্বাধীন শাসকের মর্যাদা লাভ করেন।
- এর ফলে দিল্লির শাসন ব্যবস্থায় প্রদেশের শাসন ক্ষমতায় পারিবারিক উত্তরাধিকারদের আইনগত বৈধতা লাভ ঘটে যা সুবাদারী শাসনে ছিল না।
- মুর্শিদকুলী খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না।
- নবাবী ব্যবস্থার প্রথম সুযোগ গ্রহণ করেন মুর্শিদকুলী খানের উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁর কন্যার স্বামী।
- তাঁর কন্যা জিনাত-উন-নেসার স্বামী সুজাউদ্দীন খান (১৭২৭-১৭৩৯ খ্রি.) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার মতো তিন প্রদেশের স্বাধীন নবাব-এর মর্যাদা নিয়ে সিংহাসনে বসেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮৮৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুর জেলা কত নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?–
  1. ১০
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর :
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
- প্রত্যেক সেক্টর বেশ কয়েকটি সাব- সেক্টরে বিভক্ত ছিল।
- সেক্টরগুলোর পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো-
• এক নম্বর সেক্টর: চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ফেনী নদী পর্যন্ত এলাকা।
• দুই নম্বর সেক্টর: নোয়াখালী, আখাউড়া, ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত, কুমিল্লা জেলা, সিলেট জেলার হবিগঞ্জ (বর্তমানে জেলা), ঢাকা ও ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ।
• তিন নম্বর সেক্টর: আখাউড়া, ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলা, সিলেট, ঢাকা জেলার অংশবিশেষ ও কিশোরগঞ্জ।
• চার নম্বর সেক্টর: সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল, খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন ছাড়াও পূর্ব ও উত্তর দিকে ডাউকি সড়ক পর্যন্ত অঞ্চল।
• পাঁচ নম্বর সেক্টর: সিলেট জেলার পশ্চিমাঞ্চল, সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সুনামগঞ্জ ময়মনসিংহ সড়ক পর্যন্ত এলাকা।
• ছয় নম্বর সেক্টর: রংপুর জেলা, দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহকুমা (বর্তমানে জেলা)।
• সাত নম্বর সেক্টর: দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া জেলা।
• আট নম্বর সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুরের অধিকাংশ এবং খুলনা জেলার দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত এলাকা।
• নয় নম্বর সেক্টর: দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চল, ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ এবং বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা।
• দশ নম্বর সেক্টর: দশ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো, সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নৌপথ।
• এগার নম্বর সেক্টর: কিশোরগঞ্জ ছাড়া ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা।

[ফরিদপুরের অধিকাংশ ছিল আট নম্বর সেক্টরে কিছু অংশ ছিল দুই নম্বর সেক্টরে তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে আট নম্বর  উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৫,৮৮৭.
কার উদ্যোগে বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. চিত্তরঞ্জন দাস
  3. জওহরলাল নেহরু
  4. সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
ব্যাখ্যা

বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষরিত হয়েছিল দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের উদ্যোগে।

বেঙ্গল প্যাক্ট, ১৯২৩:

- ব্রিটিশ বিরোধী অহিংস খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করলে, মহাত্মা গান্ধী ১৯২২ সালে এ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
- আন্দোলন তুঙ্গে থাকা অবস্থায় তা বন্ধ ঘোষণা করার পর পক্ষে-বিপক্ষে মতামত ব্যক্ত হতে থাকে।
- অপরদিকে, ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী প্রাদেশিক আইনসভার দ্বিতীয় নির্বাচন ১৯২৩ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবার কথা।
- গান্ধীর নেতৃত্বাধীন একটি অংশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিপক্ষে ছিলেন না অপরদিকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের (সি আর দাশ) এর নেতৃত্বাধীন আরেকটি অংশ নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন।
- সি আর দাশের প্রস্তাব কংগ্রেস সম্মেলনে গৃহীত হয়নি এমতাবস্থায়, তিনি তাঁর সমর্থকদের নিয়ে ১৯২২ সালের ৩১শে ডিসেম্বর গঠন করেন স্বরাজ পার্টি।
- সি.আর দাশ ছিলেন সাম্প্রদায়িক ঐক্যের পক্ষের মানুষ। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি ব্রিটিশদের সহযোগিতা করতে চাননি বরং নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্রিটিশদের বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজ প্রদেশ বাংলায় মুসলমান নেতৃবৃন্দের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্যে ১৯২৩ সনে এক চুক্তি সাক্ষর করেন যা বেঙ্গল প্যাক্ট নামে পরিচিত।

⇒ বেঙ্গল প্যাক্টের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. বাংলায় প্রাদেশিক কাউন্সিল নির্বাচনে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায় জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব করবে।
২. স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় পাবে শতকরা ৬০ ভাগ আসন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পাবে শতকরা ৪০ ভাগ আসন।
৩. মুসলমান সম্প্রদায়ের পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার স্বীকৃতি।
৪. সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য শতকরা ৪৫ ভাগ বরাদ্দ করা হয়। যতদিন পর্যন্ত হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের চাকরি লাভের একই অনুপাত অর্জিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য ৮০ ভাগ চাকরি লাভের বিধান রাখা হয়।
৫. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায় এমন কোন কাজ করবে না যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে।

উল্লেখ্য,
- হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল। অনগ্রসর মুসলিম জনগণের উন্নয়নে বেঙ্গল প্যাক্ট নিঃসন্দেহে কার্যকর ছিল। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশের বিরোধীতা ও সি আর দাশের হঠাৎ মৃত্যুতে বেঙ্গল প্যাক্ট মুখ থুবড়ে পড়ে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৮৮৮.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটিতে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি কে ছিলেন?
  1. অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
  2. মনোরঞ্জন ধর
  3. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮৮৯.
'আমার কিছু কথা' বইটির লেখক কে?
  1. কর্নেল সিদ্দিক মালিক
  2. জহির রায়হান
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আমার কিছু কথা:
- 'আমার কিছু কথা' বইটির লেখক শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রকাশনী: শিখা প্রকাশনী।
 
উল্লেখ্য,
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আরো তিনটি গ্রন্থ হলো: ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী', 'কারাগারের রোজনামচা’, ‘আমার দেখা নয়াচীন'।
 
অন্যদিকে -
- মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র  'নাইন মান্থস টু ফ্রিডম'। 
- বিখ্যাত মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কবিতার একটি লাইন Millions of babies in pain।
 
উৎস: আমার কিছু কথা -শেখ মুজিবুর রহমান।
৫,৮৯০.
মুজিবনগর সরকার ছিল -
  1. ক) রাষ্ট্রপতি শাসিত
  2. খ) মন্ত্রিপরিষদ শাসিত
  3. গ) সংসদীয়
  4. ঘ) সামরিক শাসিত
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর: বাংলাদেশের প্রথম সরকার

- ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি), তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তৎকালীন কর্নেল এম এ জি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
- এই দিন ১০ এপ্রিল গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। 
- ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, 'এতদ্বারা আমরা আরো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি যে, শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্র প্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। রাষ্ট্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদেও অধিষ্ঠিত থাকবেন। রাষ্ট্রপ্রধানই সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতার অধিকারী।'

- ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থাকে পরিশুদ্ধ করে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের ব্যবস্থার রূপরেখা প্রণয়ন করেন, যার ফলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
৫,৮৯১.
নিন্মলিখিত কে কাগমারী সম্মেলনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন?
  1. শেরে বাংলা এ, কে, ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
কাগমারী সম্মেলন:
- কাগমারী সম্মেলন ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাঙ্গাইলের সন্তোষে অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলনের আহ্বায়ক ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রধান অতিথি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- এটি পূর্ব বাংলার প্রথম আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্মেলনে পরিণত হয়।

উল্লেখ্য
- সম্মেলনের কিছুদিন পর মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।
- তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) প্রতিষ্ঠা করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৯২.
কত খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা বিহার উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে?
  1. ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৬৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৬৮ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭৬৫ সালে।
- ১৭৬৫ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।

⇒ কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৮৯৩.
‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ (বাকশাল) গঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৩-এর ২৩ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ১৯৭৪-এর ২২ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ১৯৭৪-এর ২৫ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ১৯৭৫-এর ২৪ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৭৫-এর ২৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল ভেঙ্গে দিয়ে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ (বাকশাল) নামে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এই দলের চেয়ারম্যান হলেন বঙ্গবন্ধু এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন এম. মনসুর আলী। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৮৯৪.
অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করে কোন বাহিনী?
  1. মুক্তিবাহিনী
  2. মুক্তিফৌজ
  3. নৌ-কমান্ডো বাহিনী
  4. বিমান বাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:  
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে অত্যন্ত অল্প সময়ে যুদ্ধের গতি সম্পর্কে বিশ্বকে ধারণা দিতে সক্ষম হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পরিচালিত নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত।
- এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে এবং পাকিস্তান বাহিনীর ২৬ টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৯৫.
বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কোথায়?
  1. খুলনা
  2. চট্টগ্রাম
  3. কক্সবাজার
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
- বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্হিত একটি পর্যটন শহর।
- এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত।
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - parjatan.gov.bd
৫,৮৯৬.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন কে?
  1. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. আব্দুল মান্নান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
- বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই হল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
- অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এই আদেশ জারি করেন।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ এই ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিক ভাবে জারি করা হয়।
- এটি ২৬ মার্চ, ১৯৭১ থেকে বলবৎ হয়।

- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।

- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ এ অধ্যাপক ইউসুফ আলী মুজিবনগরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৬ষ্ঠ অফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযুক্ত করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৮৯৭.
বেহুলা-লখিন্দরের বাসর ঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা
  2. বগুড়া
  3. নরসিংদী
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
বেহুলার বাসর ঘর:
- বেহুলা লক্ষিন্দরের বাসর ঘর একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসির স্থাপনা।
- এটি বগুড়া শহর থেকে উত্তরে এবং মহাস্থানগড় থেকে দক্ষিণে গোকুল গ্রামে অবস্থিত।
- স্থানীয়ভাবে এটি বেহুলার বাসর ঘর নামেই অধিক পরিচিত।
- অনেকে এটাকে লক্ষ্মীন্দরের মেধ বলে থাকেন।
- এই ঐতিহাসিক স্তম্ভটির উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট।
- স্তম্ভের পূর্বার্ধে রয়েছে ২৪ কোণ বিশিষ্ট চৌবাচ্চা সদৃশ একটি কক্ষ।

এছাড়াও,
• মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থানগড় অবস্থিত।
- মহাস্থানগড় বগুড়ায় জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন পর্যটন কেন্দ্র।
- এটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর কেন্দ্র মহাস্থানগড়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,৮৯৮.
কোন আইনের দ্বারা উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে?
  1. ভারত শাসন আইন
  2. রাওলাট আইন
  3. রেগুলেটিং অ্যাক্ট
  4. চার্টার অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা

ভারত শাসন আইন:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ভারত শাসন আইন নামক একটি আইন পাস করা হয়।
- এটি ছিল ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল।
- ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট পার্লামেন্ট ইন্ডিয়া অ্যাক্ট আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে রাজ শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
- ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজ্যের উপর ন্যস্ত করা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া। 

৫,৮৯৯.
আসাদুজ্জামান আসাদ কবে পুলিশের গুলিতে নিহত হন?
  1. ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি
  2. ১৯৬৯ সালের ১৮ জানুয়ারি
  3. ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি
  4. ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দ মিলে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন।
- উনসত্তরের উত্তাল সময়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা দাবি ছিল খুবই সময়োপযোগী।
- ৮ই জানুয়ারি পাকিস্তানের ৮টি রাজনৈতিক দল মিলে 'গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ' (ডাক) নামক মোর্চা গঠন করে এবং ৮ দফা দাবি পেশ করে।
- এরপর থেকে 'ডাকসু' ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।
- ডাকসুর আহ্বানে ১৪ই জানুয়ারি সমগ্র পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়।
- ১৮ই জানুয়ারি পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট পালন করে।
- ধর্মঘট চলাকালীন পুলিশের সাথে ছাত্রদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
- ২০শে জানুয়ারি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্ররা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালন করেন।
- হরতাল পালনকালে (১৯৬৯ সালের ২০শে জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৫,৯০০.
বাংলাদেশের প্রথম সংসদীয় গণতন্ত্র কোন সালে প্রবর্তন করা হয়?
  1. ক) ১৯৭২
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) ১৯৯১
  4. ঘ) ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় নির্বাহী প্রধান পদের পরিবর্তন হয়েছে।
- মুজিবনগর সরকারের সময় সরকার প্রধান ছিল রাষ্ট্রপতি।
- স্বাধীনতা অর্জনের পরেই ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- পরবর্তীতে সামরিক শাসকগণ আবার রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা চালু করেন।
- কিন্তু অবশেষে ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়।
- এ ব্যবস্থায় সরকারের কেন্দ্রবিন্দু হলেন প্রধানমন্ত্রী।

উৎস: এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।