বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৫০ / ১২৪ · ৪,৯০১৫,০০০ / ১২,৪২১

৪,৯০১.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সংখ্যা কতজন ছিল?
  1. ক) ৬ জন
  2. খ) ৭ জন
  3. গ) ৮ জন
  4. ঘ) ৯ জন
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯০২.
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর অরাজকতার সময়কালকে কার তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. গোপাল
  2. রামপাল
  3. ধর্মপাল
  4. মহীপাল
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায়: 
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর এক'শ বছর বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিলেন না।
- ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিরাজমান ছিল।
- একদিকে হর্ষবর্ধন ও ভাস্কর বর্মণের আক্রমণ অন্যদিকে ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে।
- কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো তখন কেউ ছিল না।
- এ অরাজকতার সময়কালকে ধর্মপালের 'খালিমপুর' তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- পুকুরে বড় মাছ ছোট মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে বলে 'মাৎস্যন্যায়'।
- শব্দটি প্রথম কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল।
- বাংলার সবল অধিপতিরা 'মাৎস্যন্যায়'-এর মতো ছোট রাজ্যগুলোকে গ্রাস করছিলেন।
- অষ্টম শতকের মাঝামাঝি এ অরাজকতার অবসান ঘটে পাল রাজাদের উত্থানের মধ্য দিয়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,৯০৩.
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয় কখন?
  1. ক) ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫
  2. খ) ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯
  3. গ) ১২ নভেম্বর ১৯৯৬
  4. ঘ) ১৭ ডিসেম্বর ১৯৯৯
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মুশতাক আহমেদ কুখ্যাত ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করেন।
- এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। তাদের বিচারের আওতায় আনা যাবে না মর্মে ঘোষণা দেয় হয়।
- ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে গৃহিত সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করে।
- পরবর্তীতে, ১২ নভেম্বর ১৯৯৬ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে। যার ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করা সম্ভব হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪,৯০৪.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে স্বীকৃতি দেয় কোন সংগঠন?
  1. NSDP
  2. UNESCO
  3. HKI
  4. IDE
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি:

- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম। 
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনন্য এবং অসাধারণ এই কারণে যে, এই ভাষণ সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একতাবদ্ধ করেছিল।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে World's Documentary Heritage এর মর্যাদা দিয়ে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে। 
- তৎকালীন শিক্ষা সচিব ও শিক্ষামন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের এ ঐতিহাসিক ভাষণকে ওয়ার্কশপে উপস্থাপনের জন্য উৎসাহিত করেন। 
- মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ স্থান করে নেওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে একটি সুদীর্ঘ পরিকল্পনা ও ইতিহাস।

তথ্যসূত্র - i) জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ..., mofa.gov.bd.
               ii) যুগান্তর, ০৭ মার্চ, ২০২১।
৪,৯০৫.
ছয় দফার কোন দফাটি রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি সংক্রান্ত?
  1. প্রথম দফা
  2. দ্বিতীয় দফা
  3. তৃতীয় দফা
  4. চতুর্থ দফা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯০৬.
অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান কোনটি?
  1. চট্রগ্রাম
  2. কুমিল্লা
  3. সিলেট
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
• দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান, অতীশ
- অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (৯৮০-১০৫৩) বৌদ্ধ পন্ডিত, ধর্মগুরু ও দার্শনিক।
- দশম-একাদশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি পন্ডিত দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে এক রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা কল্যাণশ্রী এবং মাতা প্রভাবতী দেবী। তাঁর বাল্যনাম ছিল চন্দ্রগর্ভ।
- মায়ের নিকট এবং স্থানীয় বজ্রাসন বিহারে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি বিখ্যাত বৌদ্ধ গুরু জেতারির নিকট  বৌদ্ধধর্ম ও শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।
- এ সময় তিনি সংসারের প্রতি বিরাগবশত গার্হস্থ্যজীবন ত্যাগ করে ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের সঙ্কল্প করেন।
- এ উদ্দেশ্যে তিনি পশ্চিম ভারতের কৃষ্ণগিরি বিহারে গিয়ে রাহুল গুপ্তের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন,
- বৌদ্ধশাস্ত্রের আধ্যাত্মিক গুহ্যবিদ্যায় শিক্ষালাভ করে ‘গুহ্যজ্ঞানবজ্র’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- মগধের ওদন্তপুরী বিহারে মহাসাংঘিক আচার্য শীলরক্ষিতের নিকট দীক্ষা গ্রহণের পর তাঁর নতুন নামকরণ হয় ‘দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান’।
- একত্রিশ বছর বয়সে তিনি আচার্য ধর্মরক্ষিত কর্তৃক সর্বশ্রেষ্ঠ ভিক্ষুদের শ্রেণিভুক্ত হন।
- পরে দীপঙ্কর মগধের তৎকালীন শ্রেষ্ঠ আচার্যদের নিকট কিছুকাল শিক্ষালাভ করে শূন্য থেকে জগতের উৎপত্তি এ তত্ত্ব (শূন্যবাদ) প্রচার করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৯০৭.
কাকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র‘ হিসেবে অবিহিত করা হয়?
  1. ক) সৈয়দ আমীর আলীকে
  2. খ) এ কে ফজলুল হককে
  3. গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে
  4. ঘ) নওয়াব আব্দুল লতিফকে
ব্যাখ্যা
• হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী:
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও শিক্ষিত মানুষের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
- বাংলাদেশের তিনি ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র' নামেই পরিচিত
- রাজনীতিতে মানবিক মূল্যবোধ ও মেধার গুনুত্ব বিবেচনায় তিনি কোন আপোস করেন নি।
- দেশপ্রেম, মানব-কল্যাণ ও গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ সাধক হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী এ দেশের রাজনীতিতে ধ্রুবতারার জ্যোতি নিয়ে বিরাজ করতে থাকবেন।

সূত্র: সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯০৮.
বাকশাল সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একক জাতীয় দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ বা বাকশাল গঠিত হয়৷ একইসাথে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। এতে রাষ্ট্রপতি হন বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী হন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। বাকশালের সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী৷
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৪,৯০৯.
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়—
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে 
  4. ১৯৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- এ শাসনতন্ত্রকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা হয়।
- সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর পাকিস্তান শাসনতন্ত্র লাভ করে।
- ১৯৫৫ সালে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়।
- দ্বিতীয় গণপরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- ৭ জুলাই ১৯৫৫ সালে দ্বিতীয় গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এ পরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিল ৮০ জন।
- প্রথম গণপরিষদ শাসনতন্ত্র প্রণয়নে ব্যর্থ হয়েছিল।
- সেই ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় গণপরিষদ শাসনতন্ত্র রচনায় উদ্যোগ নেয়।
- ৯ জানুয়ারি ১৯৫৬ তারিখে গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়।
- বিলের ওপর আলোচনা ও সমালোচনা চলে।
- আলোচনার পর ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে গণপরিষদ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- ২ মার্চ ১৯৫৬ সালে গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- ২৩ মার্চ ১৯৫৬ সালে শাসনতন্ত্র গৃহীত ও কার্যকর হয়।
-  এই শাসনতন্ত্রটি ইতিহাসে ‘১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র’ নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯১০.
ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাসের নাম কী?
  1. একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. একুশের গল্প
  3. কবর
  4. আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক ।
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হান এর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৯১১.
বাংলার কোন সুলতানের সাথে পারস্যের কবি হাফিজের পত্রালাপ হত?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ ও পারস্যের কবি হাফিজের সাথে সম্পর্ক:
- সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের একজন উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- তিনি নিজেও কাব্যচর্চা করতেন এবং ফারসি কবিতা রচনায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন।
- রিয়াজ-উস-সালাতিনের বর্ণনায় জানা যায় যে,পারস্যের প্রখ্যাত কবি হাফিজের সাথে তাঁর পত্রালাপ হত।
- তিনি তাঁকে বাংলায় আসার আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন।
- রিয়াজের একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, একদা আজম শাহ এমন গুরুতর অসুস্থ হন যে তাঁর বাঁচার কোন সম্ভাবনা ছিল না।
- এজন্য তিনি তাঁর হারেমের প্রিয় তিনজন মহিলা সরবা, গুল ও লালা কে তাঁর মৃত্যুর পর মৃতদেহের গোসলের দায়িত্ব দেন।
- সৌভাগ্যক্রমে সুলতান সুস্থ হয়ে উঠলে হারেমের অন্য মহিলারা তাদেরকে ঈর্ষা করে গাস্সালিন বা শবরজকিনী বলে বিদ্রুপ করত।
- তারা সুলতানের কাছে অভিযোগ করলে সুলতান তাঁদের প্রশংসা করে কবিতার একটি পংক্তি রচনা করেন।
- কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও দ্বিতীয় পংক্তিটি রচনা করতে না পেরে তিনি কবি হাফিজকে এটি রচনার জন্য অনুরোধ জানান।
- কবি হাফিজ দ্বিতীয় পংক্তিটি রচনা করে পাঠান।
- এ পত্রে একটি কবিতায় গিয়াসউদ্দিনের প্রশংসা করে কবি সুলতানকে ভারতবর্ষের তোতাপাখি বলে উল্লেখ করেছেন। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯১২.
ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য কোনটি ?
  1. ক) অপরাজেয় বাংলা
  2. খ) বাংলার অঙ্গীকার
  3. গ) মোদের গরব
  4. ঘ) দুরন্ত
ব্যাখ্যা

রাজধানীর বাংলা একাডেমির আঙিনায় 'মোদের গরব' ভাস্কর্যটি অবস্থিত। ভাষা শহীদদের সম্মানে ভাস্কর্যটি তৈরি করা হয়।
- 'অমর একুশ' ভাস্কর্যটি বাঙালিকে স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলা ভাষা আন্দোলন। 
- ভাস্কর্যটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিমূলক ভাস্কর্য গুলোর মধ্যে অন্যতম।
- ২০০৭ সালে ভাস্কর্যটির নকশা ও নির্মাণ করেন খ্যাতিনামা ভাস্কর শিল্পী অখিল পাল।

 উৎস: বাংলাপিডিয়া

৪,৯১৩.
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন কতজন ক্রিকেটার?
  1. ক) ২ জন
  2. খ) ৫ জন
  3. গ) ৩ জন
  4. ঘ) ৪ জন
ব্যাখ্যা
- টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন ৪জন ক্রিকেটার। 
- তাঁরা হলেন- 
১। আমিনুল ইসলাম বুলবুল 
২। মোহাম্মদ আশরাফুল 
৩। আবুল হাসান রাজু এবং 
৪। জাকির হাসান।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, ফেব্রুয়ারি ২০২৩। 
৪,৯১৪.
ছয়দফা কর্মসূচিতে ছিল -
  1. ক) বাংলাদেশ পরিচালনার ছয়টি নীতি বা কৌশল।
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার ছয়টি কৌশল।
  3. গ) পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবী।
  4. ঘ) পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবী।
ব্যাখ্যা
ছয়দফা কর্মসূচিতে ছিল -  পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবী।

• ছয় দফা:

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলীয় নেতারা একটি সম্মেলন আহ্বান করেন।
- আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু লাহোরে পৌছান।
- বিরোধী দলের সম্মেলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করলে সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ তা প্রত্যাখান করেন৷ বঙ্গবন্ধু সম্মেলন বর্জন করে সাংবাদিক সম্মেলন করে ছয়দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ঢাকায় চলে আসেন।
- ২১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নামে 'আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা কর্মসূচি' শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯১৫.
Mujibnagar Government was formed on -
  1. 10 April 1971
  2. 11 April 1971
  3. 17 April 1971
  4. 21 April 1971
  5. 25 April 1971
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
 
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
• রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
• উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
• প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ। 
• অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: এম মনসুর আলী।
• স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: এএইচএম কামারুজ্জামান।
• পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমদ।
 
উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র: তৃতীয় খণ্ড।
৪,৯১৬.
ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪নং
  2. ৮নং
  3. ৭নং
  4. ২নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েকমুন্সী আব্দুর রব- ১নং সেক্টর।
- সিপাহি মোস্তফা কামাল- ২নং সেক্টর।
- স্কোয়াড্রন ইন্জিনিয়ার রুহুল আমিন- ১০নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ- ৮নং সেক্টর।
- সিপাহি হামিদুর রহমান- ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গির- ৭নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান- কোনো সেক্টরে ছিলেন না।

উৎস: মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৪,৯১৭.
বাংলা সন অনুযায়ী ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কোন তারিখ ছিল?
  1. ৮ ফাল্গুন ১৩৫৭
  2. ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮
  3. ৯ ফাল্গুন ১৩৫৭
  4. ১০ ফাল্গুন ১৩৫৮
ব্যাখ্যা

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:
- ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় এই দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন।
- দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪,৯১৮.
বাংলাদেশের পার্লামেন্টের প্রতীক কী?
  1. ক) পদ্মফুল 
  2. খ) শাপলা
  3. গ) দোয়েল
  4. ঘ) টাইগার
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের পার্লামেন্টের প্রতীক হলো শাপলা। 
- শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুলও বটে।
- দোয়েল বাংলাদেশের জাতীয় পাখি এবং
- বাঘ বাংলাদেশের জাতীয় পশু।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৯১৯.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কতটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪,৯২০.
মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন -
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. ঘ) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
⇨ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
⇨ ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
⇨ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
⇨ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
⇨ মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন ইউসুফ আলী
⇨ ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯২১.
In which year, Kabaddi was adopted as the national Game of Bangladesh?
  1. 1971
  2. 1972
  3. 1974
  4. 1976
ব্যাখ্যা
কাবাডি: 
• বাংলাদেশে কাবাডি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা। 
• এ খেলা গ্রামাঞ্চলে অধিকতর জনপ্রিয় হওয়ায় একে গ্রামবাংলার খেলাও বলা হয়। 
• কোনো কোনো স্থানে কাবাডিকে আবার হাডুডু খেলাও বলে। 

• ১৯৭২ সালে হাডুডু খেলাকে কাবাডি নামকরণ করা হয় এবং এ খেলাকে জাতীয় খেলার মর্যাদা দেওয়া হয়।

• ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ অ্যামেচার কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়।
• ফেডারেশন এ খেলার বিভিন্ন নিয়মকানুন তৈরি করে। 
• ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সফররত ভারতীয় কাবাডি দলের সঙ্গে প্রথম কাবাডি টেস্ট খেলে।  

• বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ১৯৯০ সালের এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো কাবাডি অন্তর্ভুক্ত হয়। 
• বাংলাদেশ তাতে অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথমবারের মতো রৌপ্য পদক লাভ করার গৌরব অর্জন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৪,৯২২.
নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোন ইংরেজ সেনাপতির নিকট পরাজিত হন?
  1. হেনরি রাইফেল
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. উইলিয়াম হেস্টিংস
  4. টমাস রোয়ান
ব্যাখ্যা
পলাশীর যুদ্ধ: 
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশী যুদ্ধের সময় ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের নিকট পরাজিত হন।
- সিরাজউদ্দৌলাকে অনেক অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়।
- এর মধ্যে মীর জাফর- নবাবের সেনাপতি, তার বিশ্বাসঘাতকতা করে ইংরেজদের সাথে হাত মেলায়।
- ইংরেজরা মীর জাফরের সাহায্য নিয়ে পলাশী যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে।
- নবাবের সেনাপতি মীর মদন ও ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকলেও, মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সিরাজউদ্দৌলা এই যুদ্ধে পরাজিত হন এবং ১৭৫৭ সালে মোহাম্মদী বেগের হাতে নিহত হন। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
৪,৯২৩.
'চরমপত্র' রচনার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন কে?
  1. ক) জাহানারা ইমাম
  2. খ) রাবেয়া খাতুন
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
'একাত্তরের বর্ণমালা' এম আর আখতার মুকুলের লেখা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার চরমপত্রের জন্য বিখ্যাত।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
৪,৯২৪.
বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম শহীদ-
  1. ক) শহীদ আব্দুল জব্বার
  2. খ) শহীদ আবুল বরকত
  3. গ) শহীদ শফিউর রহমান
  4. ঘ) রফিকউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা

- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম শহীদ রফিকউদ্দিন আহমদ রফিক।
- তিনি মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার পারিল গ্রামের উত্তরপাড়ায় ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম আব্দুল লতিফ এবং মাতার নাম রাফিজা খাতুন।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪,৯২৫.
রবার্ট ক্লাইভ কত সালে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন?
  1. ১৭৬২ সালে
  2. ১৭৬৩ সালে
  3. ১৭৬৫ সালে
  4. ১৭৬৭ সালে
ব্যাখ্যা
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।

⇒ এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯২৬.
গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার ছিল কত সদস্য বিশিষ্ট?
  1. ক) ৪ সদস্য
  2. খ) ৫ সদস্য
  3. গ) ৬ সদস্য
  4. ঘ) ৭ সদস্য
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন:
- বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দনি আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে ১০ এপ্রিল একটি অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
- ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তান হতে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের অধিকাংশ সদস্য প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
- ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী এসব নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে সর্বসম্মতিক্রমে স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল নতুন সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে।
- ১২ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতারে গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ৬ সদস্য বিশিষ্ট অস্থায়ী সরকার গঠনের সংবাদ প্রচার করা হয়।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয় ।

• অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণ:
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন।
- তদানিন্তন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার (বর্তমানে জেলা) বৈদ্যনাথতলা (বর্তমানে মুজিবনগর) গ্রামে শতাধিক দেশী-বিদেশী সাংবাদিক, কতিপয় নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সদস্য ও কয়েক হাজার সাধারণ জনতার উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী শপথ পাঠ করান।
- শপথ অনুষ্ঠানে তিনি একটি ঘোষণাপত্রও পাঠ করেন।
- এ ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কার্যকর বলে উল্লেখ
করা হয়।

• অস্থায়ী সরকারের সদস্য ও তাদের দফতর:
১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: রাষ্ট্রপতি
২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম: উপ-রাষ্ট্রপতি
৩. তাজউদ্দিন আহমদ: প্রধানমন্ত্ৰী 
8. খন্দকার মোশতাক আহমদ: পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্ৰী
৫. এম. মনসুর আলী: অর্থমন্ত্রী
৬. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান: স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী

• উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে আটক থাকায় উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার প্রদান করা হয়।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯২৭.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান কোন শাসকের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. লিয়াকত আলী খান
  3. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

• ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
⇒ ১৯৬৮ সালের নভেম্বরে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহর এবং গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও নিম্ন-আয়ের পেশাজীবীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের মধ্যে, ইতিহাসে তা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। 

- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা-পরবর্তীকালের সর্ববৃহৎ গণজাগরণ।
- আটষট্টির ছাত্র অসন্তোষ গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হয় মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানী ঘোষিত গভর্নর হাউস ঘেরাও ও পরবর্তী দিনগুলোর কর্মসূচির মাধ্যমে।
- ৬ ডিসেম্বর ‘জুলুম প্রতিরোধ দিবস’ পালনের জন্য মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন  ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), তোয়াহার নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক ফেডারেশন এবং আবদুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতি যৌথ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পল্টন ময়দানে এক জনসভার আয়োজন করে।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- আসাদউজ্জামান বা শহীদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহীদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবর রহমান সহ সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৯২৮.
মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন কে?
  1. তোফায়েল আহমদ
  2. আ স ম আবদুর রব
  3. শাহজাহান সিরাজ
  4. আবদুল কুদ্দুস মাখন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
- ২রা মার্চ ঢাকা শহর এবং ৩রা মার্চ থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
- ২৫ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে অসহযোগ আন্দোলন সমাপ্ত হয়।
- ২রা মার্চ ছাত্র নেতাদের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় প্রথম মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন ডাকসু সহ-সভাপতি আ. স. ম. আব্দুর রব।
-  এজন্য ২রা মার্চ জাতীয় পতাকা দিবস।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রথম আলো।
৪,৯২৯.
মুর্শিদ কুলী প্রবর্তিত রাজস্ব ব্যবস্থার নাম ছিল-
  1. ক) নানকর
  2. খ) ভূমিকর
  3. গ) জিজিয়া
  4. ঘ) মালজামিনী
ব্যাখ্যা
বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদকুলী খান। ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী বাংলার সুবাদার হন। কার্যত এ সময় থেকেই বাংলার নবাবী আমলের শুরু। তিনি বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। মুর্শিদকুলী কর্তৃক প্রবর্তিত রাজস্ব ব্যবস্থার নাম ছিল ‘মাল জামিনী'। সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস, এসএসএইচএল)।
৪,৯৩০.
In which district is Tanguar Haor located?
  1. ক) Sylhet
  2. খ) Sunamganj
  3. গ) Moulvibazar
  4. ঘ) Kishoreganj
ব্যাখ্যা
টাঙ্গুয়ার হাওর:

- টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলাধীন ১০টি মৌজা নিয়ে বিস্তৃত একটি হাওর।
- এ হাওরটিতে ছোটবড় ১২০টি বিল রয়েছে।
- ৪৬টি গ্রামসহ পুরো হাওর এলাকার আয়তন প্রায় ১০০ বর্গ কিমি, এর মধ্যে ২৮০২.৩৬ হেক্টর জলাভূমি রয়েছে।
- প্রতি বছর এখানে প্রায় ২০০ প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে।
- এখানে ১৪০টিরও বেশি প্রজাতির স্বাদুপানির মাছ পাওয়া যায়।
- টাঙ্গুয়ার হাওরে ২০৮ প্রজাতির পাখি, ১৫০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ৩৪ প্রজাতির সরীসৃপ ও ১১ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৩১.
আওয়ামী লীগের ছয়-দফা কত সালে পেশ করা হয়েছিল?
  1. ১৯৬৭ সালে
  2. ১৯৬৬ সালে
  3. ১৯৬৫ সালে
  4. ১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লাগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ৬ দফা প্রস্তাব এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি গৃহীত হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান বিরোধীদলীয় সম্মেলনে ৬ দফা পেশ করেন।
- ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রচার করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি,  যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৪,৯৩২.
বাংলার প্রথম স্বাধীন শাসক শশাঙ্কের রাজধানী নাম কী?
  1. চন্দ্রনগর
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. গৌড়
  4. পুন্ড্রনগর
ব্যাখ্যা

শশাঙ্ক:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- সময়কাল: সপ্তম শতকের শুরু। 
- স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা: আনুমানিক ৬০৬ খ্রি.।
- রাজ্য: গৌড় রাজ্য।
- রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাংশ, বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত।
- রাজধানী: কর্ণসুবর্ণ। 
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।
- শশাঙ্ক ৬৩৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৩৩.
রাজ মহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৭৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• রাজ মহলের যুদ্ধ:
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহলে মোগল বাহিনীর সাথে যুদ্ধে হয় দাউদ কররানির।
- এ যুদ্ধে দাউদ পরাজিত ও বন্দি হন। পূর্ববর্তীকালে সন্ধি ভঙ্গের অপরাধে দাউদ খানকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়। এভাবে কররানি শাসনের অবসান।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৩৪.
গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয় -
  1. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. এ কে ফজলুল হক
  4. সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
• হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও শিক্ষিত মানুষের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
- বাংলাদেশের তিনি ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র' নামেই পরিচিত।
- রাজনীতিতে মানবিক মূল্যবোধ ও মেধার গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি কোন আপোস করেন নি।
- দেশপ্রেম, মানব-কল্যাণ ও গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ সাধক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এ দেশের রাজনীতিতে ধ্রুবতারার জ্যোতি নিয়ে বিরাজ করতে থাকবেন।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৩৫.
কলিঙ্গ যুদ্ধের ফলে কোন রাজার রাজ্য শাসন নীতির পরিবর্তন ঘটে?
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. সম্রাট অশোক
  3. সমুদ্র গুপ্ত
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়।
- যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
- এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান।
- অশোকের প্রচারিত ধর্ম বৌদ্ধ ধর্ম ছিল না। তাঁর প্রচারিত ধর্মের মূল বিষয় ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীবে দয়া, সত্যবাদিতা ইত্যাদি।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, স্নাতক শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৩৬.
বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী কে?
  1. ক) এএইচ এম কামারুজ্জামান
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমদ
  3. গ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি - জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুজিবনগর সরকার তথা বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বা উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
তাজউদ্দিন আহমেদ - প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী - প্রথম অর্থমন্ত্রী
এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান ছিলেন - প্রথম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪,৯৩৭.
বাংলার নবাবী শাসনের সূচনা করেন কে?
  1. সুজাউদ্দৌলা
  2. সিরাজউদৌলা
  3. মুর্শিদ কুলি খান
  4. আলীবর্দী খান
ব্যাখ্যা

নবাবী আমল:
- বাংলায় স্বাধীন নবাবী আমল ১৭০৭-১৭৫৭ সাল।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলী খান ১৭০৭ সালে নবাবী শাসনের সূচনা করেন।
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদৌলার ইংরেজদের হাতে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় স্বাধীন নবাবী আমল।
- ১৭৬০ থেকে ৬৩ সাল পর্যন্ত মীর কাসিম নবাব ছিলেন।
- ১৭৬৪ সালে তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত নবাব নবাব মীর কাসিম, মোঘল সম্রাট শাহ আলম ও অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা বাহিনীর সাথে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- উক্ত যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলা সহ অন্যান্য অঞ্চলে নবাবী শাসন বিলুপ্ত হয় এবং ইংরেজ উপনেবেশিক যুগ চূড়ান্তভাবে শুরু হয়

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৩৮.
বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন- 
  1. শহীদ আবুল বরকতের মা
  2. শহীদ শফিউরের মা
  3. শহীদ আব্দুস সালামের বাবা
  4. শহীদ শফিউরের বাবা
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার:
- অবস্থান: ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে।
- বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশাকার/স্থপতি হলেন হামিদুর রহমান।
- ১৯৫৬ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশে হামিদুর রহমানের নকশায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
- ১৯৬৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য, 
- শহিদ মিনার প্রথম নির্মিত হয় ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। 
- শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উচ্চ ও ৬ ফুট চওড়া।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন। 
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ঢাকা জেলা ওয়েব সাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৩৯.
'মুজিব: একটি জাতির রূপকার' চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন কে?
  1. শামা জাইদি
  2. অতুল তিওয়ারি
  3. শ্যাম বেনেগাল
  4. শ্যাম নীতিশ
ব্যাখ্যা
মুজিব: একটি জাতির রূপকার (MUJIB: THE MAKING OF A NATION):

- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র 'মুজিব: একটি জাতির রূপকার'।
- চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৩ অক্টোবর ২০২৩ সালে।
- ১৯ মে ২০২২ সালে ফ্রান্সে ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রাথমিক ট্রেলার মুক্তি পায়।
- বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ভারতের খ্যাতিমান নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল।
- এর নির্মাণ ব্যয় ৮৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ মোট অর্থের ৫০ কোটি ও ভারত ৩৩ কোটি টাকা দিয়েছে।
- এর চিত্রনাট্য রচনা করেছেন শামা জাইদি ও অতুল তিওয়ারি।
- এটি বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি তিনটি ভাষায় করা হয়েছে।
- চলচ্চিত্রটিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো প্রতিবেদন।
৪,৯৪০.
অধীনতামূলক মিত্রতানীতি প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড বেন্টিং
ব্যাখ্যা
⇒ অধীনতামূলক মিত্রতানীতি প্রবর্তন করেন লর্ড ওয়েলেসলি।

লর্ড ওয়েলেসলির সময়ে শাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি কোম্পানির গভর্নর হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন।
- তিনি রাজ্য শাসনের পরিবর্তে রাজ্য বিস্তারের দিকেই বেশি আগ্রহী ছিলেন।
- রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় তাঁর অবদান নিতান্তই সামান্য। সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি বেশকিছু সংস্কার করে গেছেন।
- তিনি ইংরেজ অধিকৃত স্থানে জমি জরিপ করার জন্য ড. ফ্রান্সিস বুকাননকে নিযুক্ত করেন।
- তিনি এদেশের কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
- ওয়েলেসলি বিচার ব্যবস্থার বেশকিছু সংস্কার করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলি ভারতবর্ষে নবাগত ইংরেজ কর্মচারিদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপন করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৪১.
কোয়ালিশন মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন -
  1. ক) কৃষি
  2. খ) শিক্ষা
  3. গ) শিল্প
  4. ঘ) স্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- বঙ্গবন্ধু ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ এই মন্ত্রিসভায় শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন।
- কিন্তু ১৯৫৭ সালের ৩০ মে দলীয় কাজে মনোনিবেশের জন্যে স্বেচ্ছায় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
- ফজলুল হক নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কৃষি ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
৪,৯৪২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সাব সেক্টর কয়টি ছিল?
  1. ৬০
  2. ৬২
  3. ৬৪
  4. ৬৬
ব্যাখ্যা
- যুদ্ধ শুরু হবার পর সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থার অধীন যুদ্ধ-অঞ্চল (সেক্টর) গঠন এবং এ লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বয় সভা আয়োজনের জন্য মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কর্নেল ওসমানীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয় যুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রিসভা।
- সে অনুযায়ী মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন দলের কমান্ডারদের নিয়ে ১১ থেকে ১৭ জুলাই আহ্বান করা হয় প্রথম সম্মেলন।
- প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডের (বর্তমানে শেকসপিয়ার সরণি) অফিস ভবনে তার সভাপতিত্বে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। 
- সম্মেলনে সুষ্ঠুভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে সারাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
- পাশাপাশি সেক্টরগুলোকেও ভাগ করা হয় ৬৪টি সাব-সেক্টরে।
- তিনটি উদ্দেশ্য সামনে রেখে এই সেক্টরগুলো গঠন করা হয়।
- প্রথমত, সেক্টরগুলোর সীমানা নির্ধারণ; দ্বিতীয়ত, গেরিলা যোদ্ধাদের সংগঠিত করা এবং তৃতীয়ত, নিয়মিত বাহিনী সংগঠিত করা।

উৎস: দৈনিক সমকাল। [লিঙ্ক]
৪,৯৪৩.
সর্বশেষ জাতীয় জনসংখ্যা নীতি প্রণীত হয় কত সালে? (জানুয়ারি-২০২৬)
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৮ সালে
  3. ২০২২ সালে
  4. ২০২৫ সালে
ব্যাখ্যা

'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫:
- ২৪ জুলাই ২০২৫ সালে 'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫' প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
- রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের এক অনুষ্ঠানে এই নতুন জনসংখ্যা নীতি প্রকাশ করা হয়।
- প্রতিবছর ১১ জুলাই জনসংখ্যা দিবস পালন কর হলেও অনিবার্য কারণে মন্ত্রণালয় গতকাল এই দিবস পালন করেছে।
- এর আগে জনসংখ্যা নীতি ছিল ২০১২ সালের।

- এই নীতির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০৬১ সালের পর আর বাড়বে না।
- তখন দেশের জনসংখ্যা হবে ২১ কোটি।
- ২০৬২ সাল থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে এবং মোট জনসংখ্যা কমতে থাকবে।
- ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ জনসংখ্যার লভ্যাংশের যে সুযোগ পেয়ে আসছে তা অব্যাহত থাকবে ২০৬১ সাল পর্যন্ত।
- তখন সমাজে প্রবীণ মানুষের হার অনেক বেশি থাকবে।

- মানবাধিকার, ন্যায্যতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, জেন্ডার সমতা, বৈষম্যহীনতা, স্বেচ্ছা সম্মতি ও অবহিত পছন্দ, তথ্য প্রাপ্তি, গোপনীয়তা, সেবার মান ও অংশীদারত্ব–অংশগ্রহণকে ২০২৫ সালের জনসংখ্যা নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
• জনসংখ্যার আধিক্য রোধকল্পে বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় জনসংখ্যা নীতি প্রণীত হয়- ১৯৭৬ সালে

উৎস: বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫ ও প্রথম আলো।

৪,৯৪৪.
মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য কয় সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠণ করা হয়েছিলো?
  1. ক) ৭ সদস্য
  2. খ) ৮ সদস্য
  3. গ) ৯ সদস্য
  4. ঘ) ১০ সদস্য
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন-
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৪৫.
কোন দেশের অধিবাসীদের 'ডাচ' বা ওলন্দাজ বলা হয়?
  1.  ইংল্যান্ডের
  2. হল্যান্ডের
  3. বেলজিয়ামের
  4. স্পেনের
ব্যাখ্যা

ওলন্দাজ বা ডাচ:
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- প্রাচ্য বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক 'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া বালেশ্বর, কাশিমবাজার এবং বরানগরেও তাদের কুঠি ছিল।
- প্রথমে ওলন্দাজগণ ইংরেজদের সাথে রেশমী সূতা, সুতি কাপড় চাল, ডাল সোরা ও তামাক এদেশ থেকে রপ্তানি করত এবং অন্যদেশ থেকে এদেশে মসলা আমদানি করত।
- ইংরেজদের সাথে তাদের যে বাণিজ্য চুক্তি হয় তা দু'বছরের মধ্যে ভেঙ্গে গিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
- অন্যদিকে বাংলার শাসনকর্তাদের সাথেও তাদের প্রবল বিরোধ দেখা দেয়।
- এ বিরোধ বেশি বেড়ে গেলে ইংরেজগণ ওলন্দাজ কুঠিগুলো দখল করে ফেলে।
- আর এভাবে ওলন্দাজদের বাণিজ্যিক সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁরা উপমহাদেশ ছেড়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় চলে যায়।
- সেখানে তাঁরা উপনিবেশ স্থাপন করে।
- ফলে এদেশে ইংরেজদের শক্তি বেড়ে যায়।
- বর্তমান ইন্দোনেশিয়া ওলন্দাজদের কাছ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৪৬.
নিম্নের কোন ভাষা শহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. রফিক উদ্দীন
  2. আবদুস সালাম
  3. আবদুল জব্বার
  4. আবুল বরকত
ব্যাখ্যা

আবুল বরকত:
- ভাষা আন্দোলনের শহিদ আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

 অন্যদিকে,
- শফিউর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ক্লাসের প্রাইভেট ছাত্র ও ঢাকা হাইকোর্টের কর্মচারী।
- আবদুল জব্বার সাধারণ গ্রামীণ কর্মজীবী মানুষ ছিলেন।
- রফিক উদ্দীন আহমদ মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয়  বর্ষের ছাত্র।
- আবদুস সালাম ডাইরেক্টর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অফিসে রেকর্ড কিপার পদে চাকরি করতেন।
- আবদুল আউয়াল ছিলেন রিকশাচালক।
- মো. অহিউল্লাহ ছিলেন শিশু শ্রমিক।

⇒ ভাষা শহিদ আবুল বরকত ১৯২৭ সালের ১৩ জুন অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে সপরিবার ঢাকায় চলে আসেন।
- তিনি ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে চতুর্থ হয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে একই বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হন।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সংগঠিত আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
- ভাষা আন্দোলনে আত্মদানের স্বীকৃতি স্বরূপ আবুল বরকতকে ২০০০ সালে একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল বের করে। 
- মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও কয়েকজন মাটির বীর সন্তান।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৪৭.
ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন কে?
  1. ভাস্কো-দ্য-গামা
  2. আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল
  3. বার্থলমিউ দিয়াজ
  4. আল বুকার্ক
ব্যাখ্যা
- বাংলায় ইউরোপীয়দের মধ্যে সবার আগে আসে পর্তুগিজরা।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করার কয়েক দশক পর থেকেই বাংলায় পর্তুগিজদের আগমন ঘটে।
-  আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। কলম্বাস বিখ্যাত ইতালীয় নাবিক ছিলেন।
 
- উপমহাদেশে আসার অল্পদিনের মধ্যেই তাঁরা এদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে, সিংহলের নানাস্থানে এবং বাংলার হুগলী বন্দরে তাঁদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন। 
- তাঁদের নৌ ও সেনাবাহিনী খুব শক্তিশালী ছিল।

- বাংলায় সবার শেষে আগমন করে ফরাসিরা।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী;  বাংলাপিডিয়া; ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় )
৪,৯৪৮.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ঢাকা 
  2. কুমিল্লা 
  3. চট্টগ্রাম 
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ:
- ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের জয়দেবপুরের জনগণ সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল।
- এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। 

⇒ ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চে ঢাকা ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার থেকে আকস্মিকভাবে পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার জাহান জেবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি রেজিমেন্ট জয়দেবপুরের (গাজীপুর) দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য পৌঁছে যায়।
- এ খবর জানাজানি হতেই বিক্ষুব্ধ জনতা জয়দেবপুরে এক প্রতিরোধ সৃষ্টি করে।
- সশস্ত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করলে অকুস্থলেই শহীদ হন অনেকে।
- এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৪৯.
ঢাকার 'ধোলাই খাল' কে খনন করেন?
  1. ইসলাম খান
  2. শায়েস্তা খান
  3. মীর জুমলা
  4. পরিবিবি
ব্যাখ্যা

ধোলাই খাল:
- এটি পুরানো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক আবাসিক এলাকা।
- তৎকালীন ঢাকার প্রধান জলপথ ও নগর রক্ষা পরিখা ছিল এ ধোলাই খাল।
- নগর রক্ষার পরিখা নির্মাণ ও জলপথ হিসেবে ব্যবহারের জন্য ঢাকার প্রথম সুবেদার ইসলাম খান ধোলাই খাল খনন করিয়েছিলেন।
- অতীতে ধোলাই খাল শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এবং ঐতিহাসিক  লালবাগ দুর্গ, আহসান মঞ্জিল ও  বড় কাটরা এবং ছোট কাটরাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এর চারপাশে গড়ে ওঠে।
- খালটি শহরকে সুরক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগের সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে খনন করা হয়। 
- ১৮৩২ সালে মি. ওয়াল্টার নামে ঢাকার একজন কালেক্টর নারায়ণগঞ্জ যাতায়াতের সুবিধার্থে খালটির উপর একক স্প্যানের একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করেন।
- এটি ছিল সে সময়ের প্রকৌশল সাফল্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
- ১৮৬৭ সালে খালে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর টোল আরোপ করা হয়।
- সময়ের বিবর্তনে কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্ববহ জলপথটি পার্শ্ববর্তী বাড়িঘর থেকে নিক্ষিপ্ত ময়লা-আবর্জনা দিয়ে স্থানে স্থানে ভরাট হয়ে যায়।
- খালটির কিছু অংশ এখনও উন্মুক্ত স্থান হিসেবে দেখা যায়।
- কিন্তু পুরানো ঢাকায় এটিকে একটি ভূগর্ভস্থ নর্দমায় রূপান্তর করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৫০.
নীল নদের উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. ক) ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  2. খ) কুনকুন পর্বত
  3. গ) পামির মাল্ভূমি
  4. ঘ) আন্দিজ পর্বতমালা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে মিশরের নীল নদের উৎপত্তি। 
- এটি বিভিন্ন দেশ হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে ভূ-মধ্যসাগরে এসে পড়েছে। 
- ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস বলেছেন- মিশর হচ্ছে ‘নীল নদের দান’, এই নদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। 
- মিশরের অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিনির্ভর।
- প্রাক-রাজবংশীয় যুগে মিশর কতগুলো ছোট নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল যা ‘নোম’ নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪,৯৫১.
ভোলা জেলার পূর্ণনাম কি?
  1. শাহবাজপুর
  2. বাকলা
  3. সমতট
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা

ভোলা জেলা:
- গাঙ্গেয় অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত দেশের একমাত্র দ্বীপ ভোলা। 
- এটি ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ (Queen Island of Bengal)’ নামে পরিচিত। 
- বরিশাল বিভাগের পূর্ব অংশ ভোলা জেলা।
- ভোলা জেলার পূর্ব নাম দক্ষিণ শাহবাজপুর।
- এটি মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত। হিমালয় থেকে নেমে আসা ৩টি প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র বাহিত পলি দিয়ে মোহনায় গড়ে উঠেছে এ দ্বীপ। তেঁতুলিয়া নদী একে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করেছে। 

উল্লেখ্য,
- ভোলা ইলিশ মাছ, মহিষের দুধের দই, নারিকেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য বিখ্যাত। 
- চর কুকরি মুকরি, মনপুরা দ্বীপ ভোলা জেলার অন্তর্গত।

উৎস: ভোলা জেলা ওয়েবসাইট।

৪,৯৫২.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হন কত বছর বয়সে?
  1. ক) ৩৪ বছর
  2. খ) ৩৬ বছর
  3. গ) ৩৯ বছর
  4. ঘ) ৩১ বছর
ব্যাখ্যা
৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হয় ২১ দফার ভিত্তিতে।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চানদলীয় জোট যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ৪ এপ্রিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
- ১৪ মে এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন। তখন তার বয়স ছিলো ৩৪ বছর। 
- তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।

উৎসঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪,৯৫৩.
ব্রিটিশ আমলে কোন আন্দোলন হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতি হওয়ার জন্য দায়ী?
  1. ক) ভারত ছাড় আন্দোলন
  2. খ) স্বদেশী আন্দোলন
  3. গ) ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন
  4. ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের উগ্রপন্থিদের নেতৃত্বে যে বয়কট আন্দোলন সংগঠিত হয় তা স্বদেশী আন্দোলন নামে পরিচিত। এই আন্দোলনের মূল বিষয় ছিলো ইংরেজদের সবকিছু বয়কট ও স্বদেশী সবকিছুর ব্যবহার।
- বাংলার মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি বরং এর বিরোধিতা করে। যার কারণে এই আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।
- বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতির যে সূচনা হয়, স্বদেশী আন্দোলনের ফলে তা আরো তিক্ত হয়। যার চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৯৫৪.
'বঙ্গবন্ধু টানেল' কোন দুটি অংশগকে যুক্ত করবে?
  1. ক) পতেঙ্গা - আনোয়ারা
  2. খ) কতোয়ালি - আনোয়ারা
  3. গ) দোহাজারি - কক্সবাজার
  4. ঘ) পটিয়া - চকোরিয়া
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু টানেল
• দেশের ফাস্ট ট্র্যাক মেগাপ্রকল্পের একটি বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ।
• চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম টানেল।
• জাপানি সংস্থা জাইকা প্রথম কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণের সুপারিশ করে।
• ১৪ অক্টোবর ২০১৭ বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং চীন সরকারের পক্ষ থেকে দ্য এক্সিম ব্যাংক অব চায়না এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ঐ দিনই টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
• মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৪ কিমি এবং উভয় পাশের সংযোগ সড়ক ৫.৩৫ কিমি।
• চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম টানেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মিত হচ্ছে। এটি চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা ও আনোয়ারা ‍উপজেলাকে সংযুক্ত করবে।
• টানেলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন্স কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (CCCC)।
• এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ এবং এটি ২০২২ সালে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
৪,৯৫৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হেমায়েত বাহিনী কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. বরিশাল
  2. মানিকগঞ্জ
  3. সিরাজগঞ্জ
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

৪,৯৫৬.
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে প্রথম শহীদ হন -
  1. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  2. হামিদুর রহমান
  3. মুন্সী আব্দুর রউফ
  4. মোহাম্মদ মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• মুন্সী আব্দুর রউফ, বীরশ্রেষ্ঠ:
- জন্ম: ১৯৪৩ সালের ৮ মে, ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার সালামতপুর গ্রামে।।
- বাবা মুন্সী মেহেদি হোসেন, মা মুকিদুননেছা।
- খেতাবের সনদ নম্বর ০২।
- মুন্সী আব্দুর রউফ ইপিআর বাহিনীতে চাকরি করতেন।
- তিনি ১৯৬৩ সালে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে যোগ দেন।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। 
- ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম সেক্টরের অধীন ১১ নম্বর উইংয়ে কর্মরত ছিলেন। 
- তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে প্রথম শহীদ।
- তিনি শহীদ ২০ এপ্রিল, ১৯৭১।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধি - রাঙামাটির বুড়িঘাটে।

তথ্যসূত্র: চিরন্তন ৭১, প্রথম আলো।
৪,৯৫৭.
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের দরবারে কৌটিল্য ছিলেন-
  1. ক) অর্থমন্ত্রী
  2. খ) সেনাপতি
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) পরিব্রাজক
ব্যাখ্যা
আলেকজান্ডারের মৃত্যুর অব্যহিত পরেই একের পর এক গ্রিক অধিকৃত অঞ্চলসমূহ জয়লাভ করেন মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তার নামানুসারে ভারতবর্ষে খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে যে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় তা মৌর্য সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। চাণক্য ছিলেন তাঁর প্রধানমন্ত্রী। চাণক্য কৌটিল্য ছদ্মনামে ‘অর্থশাস্ত্র’ নামে এক বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন। রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতি কৌশলের সারসংক্ষেপ হচ্ছে এই গ্রন্থ। [সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি) ও বাংলাপিডিয়া]
৪,৯৫৮.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রদত্ত ১ নম্বর খেতাব কোনটি?
  1. বীর উত্তম
  2. বীরশ্রেষ্ঠ
  3. বীর প্রতীক
  4. বীর বিক্রম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৫৯.
যুক্তফ্রন্টের কর্মসূচি কী ছিল?
  1. ক) ৬ দফা
  2. খ) ১১ দফা
  3. গ) ২১ দফা
  4. ঘ) ১৫ দফা
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৬ সালের পর ১৯৫১ সালে প্রদেশগুলোতে নিবার্চন হবার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশগুলোতে নিবার্চন দিলেও পূর্ব বাংলাতে নিবার্চন দেয়নি। এর কারণ মুসলিম লীগের সম্ভাব্য পরাজয়ের ভয়।
• ১৯৪৮-৪৯ সালে কয়েকটি উপনিবার্চনে পরাজয়ে তাদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল।
• ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়।
• শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং হোসেন সোহরাওয়াদীর্র নেতৃত্বে ২১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট গড়ে ওঠে।
• আওয়ামী লীগ, কৃষক প্রজা পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল একজোট হয়ে ২১ দফা কর্মসুচিকে নিয়ে নিবার্চনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৬০.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চল '৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি' হিসেবে পরিচিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. খুলনা
  3. সিলেট 
  4. বাগেরহাট
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের - সিলেট অঞ্চলকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।

৩৬০ আউলিয়ার দেশ:
- হযরত শাহজালাল (র.) ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর।
- তিনি ছিলেন ওলিকুল শিরোমণি।
- সিলেট অঞ্চলে তার মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার ঘটে।
- সিলেটের প্রথম মুসলমান শেখ বোরহান উদ্দিন (র.) এর ওপর রাজা গৌড়গোবিন্দের অত্যাচার এবং এর প্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল (র.) ও তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
- এ কারণে সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।
- কেউ কেউ সিলেটকে পূণ্যভূমি অভিধায়ও অভিহিত করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ সিলেট জেলা:
- মহান সাধক হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (র.)সহ ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেট একটি প্রাচীন জনপদ।
- সুলতানী আমলে সিলেটের নাম ছিল জালালাবাদ। 
- নানকার বিদ্রোহ সিলেটের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। 
- সিলেট জেলা ১৭৭২ সালের ১৭ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দেশের সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- দেশে সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয় এই বিভাগে।
- সিলেট জেলা প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, বালুসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদে অনন্য একটি জেলা। 
- দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত সিলেটের লালাখালে হয়ে থাকে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,৯৬১.
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ক অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে মিয়ানমারকে কয়টি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে?
  1. ৩টি
  2. ২টি
  3. ৫টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাগুলো হচ্ছে:
- আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ক অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে মিয়ানমারকে ৪টি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে।

১. গণহত্যা সনদের বিধি-২ অনুযায়ী মিয়ানমারকে তার সীমানার মধ্যে রোহিঙ্গাদের হত্যা, জখম বা মানসিকভাবে আঘাত করা, পুরো জনগোষ্ঠী বা তার অংশবিশেষকে নিশ্চিহ্ন করা এবং তাদের জন্মদান বন্ধের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ থেকে অবশ্যই নিবৃত্ত থাকতে হবে।

২. মিয়ানমারকে অবশ্যই তার সীমানার মধ্যে সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো অনিয়মিত সশস্ত্র ইউনিট বা তাদের সমর্থনে অন্য কেউ যাতে গণহত্যা সংঘটন, গণহত্যার ষড়যন্ত্র, প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে গণহত্যার জন্য উসকানি দেওয়া, গণহত্যার চেষ্টা করা বা গণহত্যার সহযোগী হতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. গণহত্যা সনদের বিধি ২–এর আলোকে গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত সব সাক্ষ্যপ্রমাণ রক্ষা এবং তার ধ্বংস সাধনের চেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে।

৪. এই আদেশ জারির দিন থেকে চার মাসের মধ্যে আদালতের আদেশ অনুযায়ী মিয়ানমার যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, তা আদালতকে জানাতে হবে। এরপর থেকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস পরপর এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে হবে।

তথ্যসূত্র - চ্যানেল আই অনলাইন, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০।
৪,৯৬২.
অপারেশন জ্যাকপট বলতে বুঝায় -
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের অভিযান
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর অভিযান
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর অভিযান
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধে ক্র‍্যাক প্লাটুনের অভিযান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত।
- এদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়।
- এতে পাকবাহিনীর ২৬টি নৌযান ধ্বংস হয়।
- মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এ অপারেশনে অংশ নেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৬৩.
বিখ্যাত ’গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক ’ রোডটি বাংলাদেশের কোন অঞ্চল থেকে শুরু হয়েছে?
  1. কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি
  2. ঢাকা জেলার পূর্বাচল
  3. যশোর জেলার ঝিকরগাছা
  4. নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
’গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক ’ রোড:
- নির্মাতা: গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক ’ রোডের নির্মাতা শেরশাহ।
- দৈর্ঘ্য: আড়াই হাজার কিলোমিটার।
- বিস্তার: সোনারগাঁও থেকে পাঞ্জাব বিস্তৃত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম সড়ক।
- এটি নির্মাণ করা হয়- ষোল শতকে।
- মূল পরিকল্পনায় রাজধানী আগ্রাকে পূর্বে সোনারগাঁও, পশ্চিমে দিল্লি ও লাহোর হয়ে মূলতান, দক্ষিণে বোরহানপুর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে যোধপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল।
- সড়ক- ই- আজম নামে পরিচিত এ সড়ক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৪,৯৬৪.
Which of the following is known as 'Black Gold'?
  1. Radioactive sand
  2. Shrimp
  3. Uranium
  4. Jute
  5. Gold
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু খনিজ:
- কক্সবাজারে তেজস্ক্রিয় বালু পাওয়া যায় যাকে ‘কালো সোনা’ বলা হয়।
- বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পাহাড়ে ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- বাংলাদেশের একমাত্র গন্ধক খনি অবস্থিত চট্টগ্রামের কুতুবদিয়ায়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের White Gold হিসেবে পরিচিত চিংড়ি মাছ।
- পাটকে সোনালী আশ বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৪,৯৬৫.
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শাফি ইমাম রুমী মুক্তিবাহিনীর কোন গেরিলা দলের হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন?
  1. ক্র্যাক প্লাটুন
  2. কাদেরিয়া বাহিনী
  3. বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স
  4. ঢাকা গেরিলা
ব্যাখ্যা
শহীদ শাফী ইমাম রুমী:

- শাফী ইমাম রুমী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন গেরিলাযোদ্ধা।
- শহীদ জননীখ্যাত জাহানারা ইমামের বড় ছেলে।
- ছেলে রুমী শহীদ হওয়ার জন্য জাহানারা ইমাম শহীদ জননী উপাধী পান।
- ১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ শরীফ ও জাহানারা ইমামের উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬৮ সালে স্টার মার্কস নিয়ে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
- তিনি সেক্টর ২-এর অধীনে মেলাঘরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
- এই সেক্টরটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন খালেদ মোশাররফ ও রশিদ হায়দার।
- প্রশিক্ষণ শেষ করে শাফী ইমাম রুমী ঢাকায় ফেরত আসেন এবং ক্র্যাক প্লাটুনে যোগ দেন।
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনাকারী একটি সংগঠন।
- রুমী ও তাঁর দলের ঢাকায় আসার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন হামলা করা।
- ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট তিনি তার নিজের বাড়িতে কাটান এবং এই রাতেই বেশ কিছু গেরিলাযোদ্ধার সঙ্গে পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ২৯ মার্চ ২০২০।
৪,৯৬৬.
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে প্রকাশিত পুস্তিকার সাথে জড়িত ছিলেন না -
  1. নূরুল হক
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দিন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয়।
- এই পুস্তিকার সাথে জড়িত ছিলেন-
সম্পাদক- অধ্যাপক আবুল কাশেম।
অন্যান্য লেখক -কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ।
- তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। এর আহবায়ক মনোনীত হন নূরুল হক ভূঁইয়া।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৬৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকারের চিফ অব স্টাফ কে ছিলেন?
  1. ক) কর্নেল (অব) এম. এ .জি ওসমানী
  2. খ) মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. গ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
  4. ঘ) কর্নেল (অব) এম এ রব
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের-
রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন- সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- তাজউদ্দিন আহমদ,
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- এম.মনসুর আলী,
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
প্রধান সেনাপতি ছিলেন- কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
চিফ অব স্টাফ ছিলেন- লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব এবং
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন- গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪,৯৬৮.
বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন নিচের কে ?
  1. ক) ইকবাল
  2. খ) আসাদ
  3. গ) সালাম
  4. ঘ) নুর হোসেন
ব্যাখ্যা

- রফিক উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, আবুল বরকত প্রমুখ ভাষা আন্দোলনের শহীদ।
- আবদুস সালাম (১৯২৫-১৯৫২) একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনের শহীদদের মধ্যে একজন। ভাষা শহীদদের মধ্যে তিনিই সর্বশেষ মারা যান।
- আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯৬৯.
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে কে ক্ষমতাচ্যুত হন?
  1. বেগম খালেদা জিয়া
  2. হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ 
  3. শেখ হাসিনা
  4. জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে ক্ষমতাচ্যুত হন- জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ।

• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন শুরু করেন।
- এরশাদের শাসনকালে দেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে থাকে।
- এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলতে থাকে।
- বহু মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেন।
- ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসন অবসান ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ ঘটে নি; এরশাদের শাসনের প্রথম থেকেই বিরোধী কার্যক্রম চলতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের শেষ থেকে ছাত্র সমাজ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।
- শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেন।
- ১৯৮৭ সালে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হলেও এরশাদ ক্ষমতায় থাকেন।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল, মিটিং ও হরতাল চালায়।
- সারাদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।
- ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।
- ১৯ নভেম্বর ১৯৯০ সালে সরকার পতনের লক্ষ্যে ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট যৌথ ঘোষণা প্রদান করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এরশাদের ক্ষমতা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৭০.
আওয়ামীলীগের ঐতিহাসিক ছয় দফার দ্বিতীয় দফা-
  1. স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা চালু
  2. ফেডারেল সরকার
  3. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  4. রাষ্ট্রভাষা বাংলা
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৭১.
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়?
  1. এককেন্দ্রিক ব্যবস্থা
  2. যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা
  3. সামরিক ব্যবস্থা
  4. সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের সাধারণ বৈশিষ্ট্য

→ বৃহৎ শাসনতন্ত্র: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের প্রথম পরিচয় হল এটি ছিল একটি বৃহৎ শাসনতন্ত্র। মোট ১০৫ পৃষ্ঠার এ শাসনতন্ত্রে একটি প্রস্তাবনা (Preamble), ১৩টি অংশ (Part), ২৩৪টি বিধি (Article) এবং ৬টি তালিকা সন্নিবেশিত ছিল। এ শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছাড়াও প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল। সুতরাং এ শাসনতন্ত্র ছিল আয়তনে বড়।

→ লিখিত শাসনতন্ত্র: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র ছিল লিখিত প্রকৃতির।

→ ইসলামী আদর্শ: ইসলামি আদর্শ ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল মূলত একটি ইসলামি আদর্শ ভিত্তিক শাসনতন্ত্র। এ শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র নামে আখ্যায়িত করা হয়। এর প্রস্তাবনায় ইসলামি সাম্য, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সহনশীলতার নীতি অনুসৃত হয়।

→ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়। এ শাসনতন্ত্রে বলা হয় যে, পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হবে। এতে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকাগুলোর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের বিধান রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে অনুসরণ করা হয়।

→ প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্র: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্রকে বিশ্লেষণ করলে প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র মতে পাকিস্তান ছিল একটি প্রজাতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ শাসনতন্ত্রে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব শাসন চালু করার বিধান রাখা হয়। রাষ্ট্র প্রধান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হতেন।

→  সংসদীয় ব্যবস্থা: সংসদীয় ব্যবস্থা ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এ শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানে সংসদীয় শাসন প্রবর্তনের বিধান রাখা হয়। আরও বলা হয় যে, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা হবে প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী। শাসনতন্ত্র মতে মন্ত্রিসভা আইনসভার নিকট দায়ী থাকত।

→ মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি: এ শাসনতন্ত্রে জনগণের মৌলিক অধিকারের উল্লেখ ছিল। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারে আদালতের প্রয়োজনীয় ভূমিকার কথা স্বীকার করা হয়।

→  এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র কেন্দ্র ও প্রদেশে এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করে। এ শাসনতন্ত্রে উল্লেখ করা হয় যে, পাকিস্তানের আইনসভা হবে এক কক্ষবিশিষ্ট। কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সমস্যা সমাধান ও আলোচনার জন্য এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার বিধান রাখা হয়।

→  বিচার বিভাগের প্রাধান্য: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রকে বিশ্লেষণ করলে বিচার বিভাগের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
এ শাসনতন্ত্রের বিচার বিভাগের প্রাধান্য স্বীকৃতি পায়। আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিচার বিভাগই ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার প্রধান কবচ। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিচার বিভাগের প্রাধান্য স্বীকার করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,৯৭২.
মুজিবনগরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে কত তারিখে?
  1. ক) ১০ ই মার্চ
  2. খ) ১৭ ই এপ্রিল
  3. গ) ১৬ শে মার্চ
  4. ঘ) ১৭ ই মে
ব্যাখ্যা

• ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।
• এই সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ-
- রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
- উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম;
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ;
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীঃ এম মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ;
- প্রধান সেনাপতিঃ কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী;
- চিফ অব স্টাফঃ কর্নেল (অব.) আব্দুর রব এবং
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং বিমান বাহিনীর প্রধানঃ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪,৯৭৩.
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদে বাংলা ভাষার জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করেন কত সালে?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা'র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন। 
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।


তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৯৭৪.
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস-
  1. ২৬ মার্চ
  2. ১৪ ডিসেম্বর
  3. ১৬ ডিসেম্বর
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস:
- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৪ ডিসেম্বর পালন করা হয়।
- বুদ্ধিজীবী হত্যা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।
- ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুই শতেরও বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়।
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির উদ্দেশে বাংলাদেশে শোকাবহ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৭৫.
১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে কে নিহত হন?
  1. ড: শামসুজ্জোহা
  2. জহুরুল হক
  3. আসাদুজ্জামান
  4. মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯ -এর আন্দোলন বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সেজন্য এ আন্দোলন গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান নামে অভিহিত হয়েছে।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হল।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে। আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৭৬.
কতটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলার চারটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট নামে নির্বাচনি জোট গঠিত হয়।
যুক্তফ্রন্টের দলগুলো হলো:
- আওয়ামী মুসলিম লীগ
- কৃষক শ্রমিক পার্টি
- নেজামে ইসলাম
- গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জোট ২৩৭টি ‍মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪,৯৭৭.
'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়েছিল কার নির্দেশনায়?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১ মার্চ “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয় । “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” - এর সদস্যগণ হলেন -
১. নুরে আলম সিদ্দিকী (সভাপতি, ছাত্রলীগ)
২. শাজাহান সিরাজ (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ)
৩. আ. স. ম. আব্দুর রব (সহ-সভাপতি, ডাকসু)
৪. আব্দুল কুদ্দুস মাখন (সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু)
• এই ৪ ছাত্র নেতাকে মুক্তিযুদ্ধের ৪ খলিফা বলা হত।

তথ্যসূত্র বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম - দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৭৮.
কাগমারি সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) সিরাজগঞ্জ
  3. গ) টাঙ্গাইল
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
কাগমারি সম্মেলন হলো ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার কাগমারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের চতুর্থ কাউন্সিল ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে দলটির বাম ও ডানপন্থী সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর ফলে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী ‍লীগের বামপন্থী সদস্যরা ১৯৫৭ সালের ১৮ মার্চ দল থেকে বেড়িয়ে যায়।

- পরবর্তীতে, ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৯৭৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় কার নেতৃত্বে?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. কর্ণেল সফিউল্লাহ
  4. মেজর আবু তাহের
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধে তিনটি ফোর্স গঠিত হয়।
→ জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় এবং ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

→‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডট।
- দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন মেজর কে এম সফিউল্লাহ।

→ ‘কে ফোর্স’ মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে গঠিত হয়।
- ৪র্থ, ৯ম এবং ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৮০.
মুজিব নগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ছিল। 
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৮১.
'একজাতি একরাষ্ট্র' কোন তত্ত্বের মূলমন্ত্র?
  1. ক) কৃষকপ্রজা তত্ত্ব
  2. খ) স্বদেশি তত্ত্ব
  3. গ) দ্বিজাতি তত্ত্ব
  4. ঘ) প্রজাস্বত্ব
ব্যাখ্যা

- দ্বিজাতি তত্ত্বের মূলমন্ত্র একজাতি একরাষ্ট্র।
- হিন্দু ও মুসলিম জনগণ দুটি পৃথক ধর্মীয় দর্শন, সামাজিক আচার-আচরণ এবং সাহিত্যের অধিকারী।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দাবি করেন যে, ''ভারতের হিন্দু ও মুসলমানরা দুটি পৃথক জাতি। ভারতের মুসলমানরা একটি পৃথক জাতি। তাই তাদের প্রয়োজন একটি পৃথক আবাসভূমি ও রাষ্ট্রের।'' তাই একটি জাতির জন্য একটি রাষ্ট্র দরকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪,৯৮২.
বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত তারামন বিবি মুক্তিযুদ্ধে কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ১১নং
  2. খ) ১০নং
  3. গ) ৯নং
  4. ঘ) ৮নং
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের বীর উত্তম। 
- তারামন বিবি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধার উৎসাহে।
- তারামনের বয়স যখন মাত্র ১৩ কিংবা ১৪ তখন তিনিই তারামনকে ক্যাম্পে রান্নাবান্নার জন্য নিয়ে আসেন।
- তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার নদী-তীরবর্তী অঞ্চল মোহনগঞ্জ, তারাবর, কোদালকাটি ও গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়িতে অগ্রবর্তী দলের হয়ে কয়েকটি সশস্ত্র যুদ্ধে বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন।  তারামন অনেক যুদ্ধে পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অংশ নেন। 
- ১৯৭৩ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবির সাহসীকতা ও বীরত্ব পূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে “বীর প্রতীক” উপাধিতে ভূষিত করেন।
- কিন্তু এরপর ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি।
- ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাঁকে খুঁজে বের করেন এবং নারী সংগঠনগুলো তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- অবশেষে ১৯৯৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর পরিবেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেয়া হয়।

উৎস:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৯৮৩.
এডমন্ড বার্ক কাকে মানবজাতির শত্রু বলে অভিহিত করেন?
  1. ক) ওয়ারেন হেস্টিংসকে
  2. খ) লর্ড ওয়েলেসলিকে
  3. গ) লর্ড কর্ণওয়ালিসকে
  4. ঘ) লর্ড ডালহৌসিকে
ব্যাখ্যা

- এডমন্ড বার্ক মানবজাতির শত্রু বলে অভিহিত করেন ওয়ারেন হেস্টিংসকে।
- এডমন্ড বার্ক ভারতে দুঃশাসনের জন্য হেস্টিংসকে দায়ী করেন।
- ১৭৮৬ সালে বার্ক কমন্স সভায় হেস্টিংসের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবও আনয়ন করেন।
- তবে, ঐতিহাসিকগণ বার্ক কর্তৃক হেস্টিংসের এরকম বর্ণনায় পুরোপুরি একমত নন।

৪,৯৮৪.
শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন -
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৩ সালে
  3. গ) ১৯৫৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫৩ সালে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং একজন বাঙালি নেতা হিসেবে তাঁর উত্থান হয়। 
• ১৯৫৫ সালে সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সব ধর্মের মানুষের অন্তর্ভুক্তি এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি প্রত্যাহার করে নাম রাখা হয় 'আওয়ামী লীগ'।
• ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
• ১৯৫৫ সালের  ৬ সেপ্টেম্বর শেখ মুজিবুর রহমান পুনরায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সূত্র: mujib100.gov.bd
৪,৯৮৫.
৩৬৫ দিনে বছর কোন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান?
  1. ক) গ্রিক সভ্যতা
  2. খ) সিন্ধু সভ্যতা
  3. গ) মিশরীয় সভ্যতা
  4. ঘ) রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা
- মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর।
- সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্য, পানি প্রবাহের মাপ, জোয়ার-ভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
- এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অঙ্কশাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ।
- মিশরীয়রা অঙ্কশাস্ত্রের দুইটি শাখা জ্যামিতি ও পাটিগণিতের প্রচলন করেন।
- তারা যোগ, বিয়োগ ও ভাগেরও ব্যবহার করতে পারত ।
- মিশরীয়রা ৪২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করেন এবং ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসেবও তাদের আবিষ্কার
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্যঘড়ি, ছায়াঘড়ি ও জলঘড়ি আবিষ্কার করে। 

- ধর্মের কারণে মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল।
- তারা পরলোক বিশ্বাস করত এবং ফারাওরা পরবর্তী জন্মেও রাজা হবেন এই বিশ্বাস তাদের ছিল।
- তাই তারা ফারাওদের দেহ তাজা রাখার পদ্ধতি আবিষ্কার করে  ও মমি তৈরি শুরু করে। 
- চিকিৎসাশাস্ত্রেও প্রাচীন মিশরীয়রা বিশেষ অগ্রগতি লাভ করেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৮৬.
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন নূর হোসেন শহীদ হন কবে?
  1. ক) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৮
  2. খ) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৭
  3. গ) ১০ নভেম্বর, ১৯৯০
  4. ঘ) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৯
ব্যাখ্যা
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে ঢাকার জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন মারা যান। এ সময় তার গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিলো ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র ‍মুক্তি পাক’।
- নূর হোসেন ব্যতীত নাজিউর রহমান জেহাদ এবং ডা. শামসুল আলম মিলন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মারা যান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৪,৯৮৭.
'জুলাই জাতীয় সনদ' স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কয়টি দলের নেতা অংশ নেন?
  1. ২০টি
  2. ২২টি
  3. ২৫টি 
  4. ২৮টি
ব্যাখ্যা

• জুলাই জাতীয় সনদ:
- জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
- ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ (শুক্রবার) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই সনদ সই হয়।
- প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং যে ২৫টি দলের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে, সেই দলগুলো হলো:

১। লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)
২। খেলাফত মজলিস
৩। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন
৪। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)
৪। নাগরিক ঐক্য
৬। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)
৭। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
৮। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
৯। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
১০। গণসংহতি আন্দোলন
১১। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)
১২। গণ অধিকার পরিষদ (জিওপি)
১৩। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি
১৪। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট / জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপার)
১৫। জাতীয় পার্টি / বাংলাদেশ এলডিপি (১২ দলীয় জোট)
১৬। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
১৭। গণফোরাম
১৮। জাকের পার্টি
১৯। জাতীয় গণফ্রন্ট
২০। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি
২১। বাংলাদেশ লেবার পার্টি
২২। ভাসানী জনশক্তি পার্টি
২৩। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ
২৪। ইসলামী ঐক্যজোট
২৫। আমজনতার দল

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। (Link)

৪,৯৮৮.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম আফ্রিকান দেশ কোনটি?
  1. সুদান
  2. উগান্ডা
  3. সিয়েরা লিওন
  4. সেনেগাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভ:

- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
৪,৯৮৯.
বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর কোন বংশের শাসনের সূচনা হয়?
  1. দেব
  2. সেন
  3. গুপ্ত
  4. মৌর্য
ব্যাখ্যা
সেন বংশ:
- বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের শেষের দিকে সেন বংশের শাসনের সূচনা হয়।
- সেন বংশের শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হেমন্ত সেন।
- বিজয় সেনের সময়েই বাংলাদেশে সেন বংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- সেন বংশের সর্বশেষ শাসক লক্ষ্মণ সেন ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজির আক্রমণে নদীয়া ত্যাগ করেন এবং বাংলায় সেন বংশের শাসনের পতন হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৯০.
কোন মুঘল সম্রাটের শাসনামলে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  3. সম্রাট হুমায়ূন
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

উল্লেখ্য,
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী ১৬ জুলাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।
- এর আগে সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো বিহারের রাজমহল।
- বারো ভূইয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাকে করতলগত করতে ১৫৭৬ থেকে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বারবার চেষ্টা চালানো হয়। এরপর সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতীকে রাজমহলের সুবেদার নিযুক্ত করেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Business Standard.
৪,৯৯১.
বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হন কে?
  1. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. সুভাষ চন্দ্র বোস
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- বিবিসি বাংলা ২০০৪ সালে শ্রোতাদের জরিপের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০ জন বাঙালির একটি তালিকা করে।
তালিকা:
- প্রথম : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- দ্বিতীয় : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- তৃতীয় : কাজী নজরুল ইসলাম
- চতুর্থ : শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
- পঞ্চম : সুভাষ চন্দ্র বোস
- ষষ্ঠ : বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
- সপ্তম : জগদীশ চন্দ্র বসু
- অষ্টম : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- নবম : আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- দশম : রাজা রামমোহন রায়
- ১১তম : মীর নিসার আলী তিতুমীর
- ১২তম : লালন শাহ
- ১৩তম : সত্যজিৎ রায়
- ১৪তম : অমর্ত্য সেন
- ১৫তম : বায়ান্নর ভাষা শহিদ
- ১৬তম : মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
- ১৭তম : স্বামী বিবেকানন্দ
- ১৮তম : অতীশ দীপঙ্কর
- ১৯তম : জিয়াউর রহমান
- ২০তম : হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
(তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা)
৪,৯৯২.
ইংরেজরা কত বছর ভারতবর্ষ শাসন করে?
  1. দুইশ বছর
  2. তিনশ বছর
  3. চারশ বছর
  4. একশ বছর
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ শাসন:
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত হয়।
- তারপর থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রায় দুইশ বছর ইংরেজরা ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করে।

উৎস:  নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা।
৪,৯৯৩.
বাংলা লোকসাহিত্য সংশ্লিষ্ট ‘আলকাপ’ হলো এক প্রকার?
  1. ক) কর্মসংগীত
  2. খ) পালাগান
  3. গ) সারিগান
  4. ঘ) বিবেকের গান
ব্যাখ্যা

- আলকাপ গান পালাগানের একটি শাখা।
- সাধারণত পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও মালদহ এবং বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে এ গানের প্রচলন বেশি।
- আলকাপ একটি দলীয় ও মিশ্র প্রকৃতির সঙ্গীত প্রদর্শন। এতে নাচ, গান, কথা, ছড়া, অভিনয় ইত্যাদির মিশ্রণ আছে। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৪,৯৯৪.
তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন-
  1. ক) আনোয়ারা বেগম
  2. খ) সুমিত্রা দেবী
  3. গ) মহাশ্বেতা দেবী
  4. ঘ) ইলা মিত্র
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন।
- ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৯৫.
কৈবর্ত বিদ্রোহের নেতা ছিল কে?
  1. ক) কৈবর্ত
  2. খ) অশোক
  3. গ) দিব্য
  4. ঘ) কানু কৈবর্ত
ব্যাখ্যা
রাজা দ্বিতীয় মহিপালের (৯৯৫-১০৪৩) শাসনামলে কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়। অনেকে শুধু জেলে সম্প্রদায়কে কৈবর্ত বললেও প্রকৃতপক্ষে জেলে, কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষকে সাধারণত কৈবর্ত বলা হতো।
পাল রাজাদের এক সামন্ত দিব্যর নেতৃত্বে কৈবর্তরা রাজ্যের বরেন্দ্রীয় অংশ দখল করে নেয়।
রাজা দ্বিতীয় মহীপাল কৈবর্তবাহিনীকে আক্রমন করতে দিয়ে নিজে নিহত হন।
উৎস - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৯৯৬.
ভারতে গঠিত সর্বপ্রথম সমাজতান্ত্রিক দল -
  1. ক) কংগ্রেস
  2. খ) কমিউনিস্ট পার্টি
  3. গ) নিখিল বঙ্গ প্রজা পার্টি
  4. ঘ) কৃষক প্রজা পার্টি
ব্যাখ্যা
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম দিকের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে,
- ১৮৮৫ সালে বৃটিশ ভারতে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

সর্বপ্রথম সমাজতান্ত্রিক দল ছিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি। ১৯২৫ সালে এ সংগঠনটি গঠিত হয়।

উৎস: Live MCQ লেকচার।
৪,৯৯৭.
বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের সুরকার কে?  
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের রণসংগীত
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা।
- চল চল চল, উর্ধ্বগগনে বাজে মাদল.. বাংলাদেশের রণসংগীত।
- রণসংগীতটির গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী কাজী নজরুল।
-  রণসঙ্গীতটি 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।
- 'নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৯৯৮.
মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ কোথায় গড়ে তোলা হয়?
  1. যশোরে
  2. গাজীপুরে
  3. টাঙ্গাইলে
  4. মুজিবনগরে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ:
- ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে ঢাকার উত্তরে জয়দেবপুরে (বর্তমান গাজীপুর) অকুতোভয় মুক্তিকামী বাঙালিরা পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
- ১৯ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জাহানজেব ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যদের সতর্কতা ও রাস্তায় আন্দোলনকারীদের দেখে অস্ত্র জমা নেওয়ার আশা ত্যাগ করে ঢাকায় ফিরছিলেন।
- এ সময় ছাত্র-জনতা জয়দেবপুরের রেলক্রসিং এলাকা ও চান্দনা চৌরাস্তায় তাদের বাধা দেন।
- এ সময় পাকিস্তনি বাহিনী গুলি ছুড়লে ছাত্র-জনতা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
- পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন হুরমত, নিয়ামত, কানু মিয়া ও মনু খলিফা। আহত হন আরও অনেকে।
- এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রাম। তখন স্লোগান ওঠে ‘জয়দেবপুরের পথ ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’।
- পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে ওটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ।

বিশেষ তথ্য:
- ১৯ মার্চের বীরত্বকে অমর করে রাখতে ১৯৭২-১৯৭৩ সালে গাজীপুরের চৌরাস্তায় একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়।
- ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ নামের এই ভাস্কর্য মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ভাস্কর্য।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৯৯.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম ইউরোপীয় দেশ কোনটি?
  1. ক) পূর্ব জার্মানি
  2. খ) রাশিয়া
  3. গ) পোল্যান্ড
  4. ঘ) যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম পূর্ব জার্মানি ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বাংলাদশেকে স্বীকৃতি দান করে। তাছাড়া রাশিয়া ২৪ জানুয়ারি ১৯৭২ ; পোল্যান্ড ১২ জানুয়ারি ১৯৭১ ও যুক্তরাজ্য ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। [সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন]
৫,০০০.
বখতিয়ার খিলজির জাতিগত পরিচয় কী ছিল?
  1. আফগান
  2. তুর্কি
  3. আরবি
  4. পারসি
ব্যাখ্যা

বখতিয়ার খিলজি:
- ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ -বিন- বখতিয়ার খিলজি নদীয়া জয় করে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজি সমগ্র নদীয়া জয় করেন।
- তিনি জাতিতে তুর্কিদের খিলজি সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- তবে তিনি আফগানিস্তানের গরমিশ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।
- ভারতবর্ষে ভাগ্যের অন্বেষণে এসে শেষ পর্যন্ত অযোধ্যার শাসক মালিক হুশাম উদ্দিনের রাজ্যের পূর্ব সীমান্তে সীমান্তরক্ষীর কাজ পান।
- তিনি গৌড় বা লক্ষণাবতী (লখনৌতি) জয় করে সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন।
- তার শাসন কেন্দ্র ছিল লক্ষণা বতীতে।
- বখতিয়ার খলজির শাসনামলে বাংলায় যথেষ্ট সংখ্যক মসজিদ, মাদ্রাসা এবং খানকাহ (অতিথিশালা) তৈরি করা হয়।
- ১২০৬ সালে তিনি তিব্বত অভিযানে বের হয়ে ব্যর্থ হন, দিনাজপুরের দেবকোটে ফিরে আসার পর এখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।