বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা / ১২৪ · ৪০১৫০০ / ১২,৪২১

৪০১.
’আদিনা মসজিদ‘ নির্মাণ করেন কে?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. সিকান্দার শাহ
  4. সুলতান ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগ: 
- মধ্যযুগে বাংলার সুলতানদের রাজধানী প্রথমে ছিল গৌড়,
- পরে পান্ডুয়া এবং এরপর আবার গৌড়।
- কাজেই এ দুই শহরেই মুসলিম ঐতিহ্যের স্থাপত্য নিদর্শন গড়ে উঠেছিল।
- ১৩৬৯ সালে সুলতান সিকান্দার শাহ 'আদিনা মসজিদ' নির্মাণ করেন।
- এ মসজিদের উত্তর পাশে সিকান্দার শাহের কবর নির্মিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য, 
- 'পাঁচ পীরের দরগাহ' সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি স্থাপত্যকলার একটি সুন্দর নিদর্শন।
- বারদুয়ারী মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন হোসেন শাহ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪০২.
কোন মুঘল সম্রাট ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. বাবর
  3. আকবর
  4. হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতী:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৩.
'কণিষ্ক' কোন বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন?
  1. পাল
  2. মৌর্য
  3. গুপ্ত
  4. কুষাণ
ব্যাখ্যা
কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৪.
বাংলাদেশের ছয় ঋতুর সঠিক অনুক্রম কোনটি?
  1. গ্রীষ্ম, বর্ষা, বসন্ত, হেমন্ত, শীত ও শরৎ
  2. বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত ও গ্রীষ্ম
  3. শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা
  4. গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ছয় ঋতুর সঠিক অনুক্রম হলো: গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।

বাংলাদেশ ষড়ঋতু:
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এদেশে ঋতুর আবির্ভাব ঘটে এবং সেগুলি পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
- ভৌগোলিক অবস্থানের দরুণ এখানকার জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ।
- যদিও বাংলাদেশের জলবায়ু প্রধানত উপক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির তথা উষ্ণ ও আর্দ্র, তথাপি প্রচলিত বাংলা বর্ষপঞ্জিতে বছরকে ছয়টি ঋতুতে বিভক্ত করা হয়েছে।
- যথা:
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।
প্রতি দু মাস অন্তর ঋতু বদল হয়।
উল্লেখ্য যে,
সব সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ঋতুপরিবর্তন সীমাবদ্ধ থাকে না, কখনও কখনও কোনো কোনো ঋতুর শুরু ও শেষ কিংবা ব্যাপ্তিতে পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪০৫.
রাষ্ট্রের মূল উপাদান নয় -
  1. জনসমষ্টি
  2. সার্বভৌমত্ব
  3. সরকার
  4. শিক্ষা
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র গঠনের উপাদান:
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রদত্ত রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের কয়েকটি উপাদান লক্ষ্য করা যায়।
- রাষ্ট্রের মূল উপাদান চারটি।
- এগুলো হল- জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখন্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব।
- এদের যেকোন একটি অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হওয়া সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, 
- জনগণের সার্বিক কল্যাণে রাষ্ট্র নানাবিধ কাজ করে থাকে যে গুলোকে রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজ বা কল্যাণমূলক কাজ বলা হয়।
- শিক্ষার বিস্তার বা স্বাস্থ্য সেবা দান হচ্ছে তত্ত্বগতভাবে ঐচ্ছিক কাজ।
- বর্তমানে কালে অবশ্য এই কাজগুলো রাষ্ট্রের জন্য অবশ্যপালনীয় হিসাবে বিবেচিত।

উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৬.
ইংরেজ ও নবাব সিরাজউদ্দৌলার মধ্যে পলাশীর যুদ্ধের তারিখ কোনটি?
  1. ২৩ জুন, ১৭৫৭
  2. ২৩ জুন, ১৭৫৬
  3. ২৩ জুন, ১৭৫৮
  4. ২১ মে, ১৭৫৫
ব্যাখ্যা

• পলাশীর যুদ্ধ: 
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র 'মুক্তির গান' কে পরিচালনা করেছেন?
  1. তারেক মাসুদ
  2. নাসির উদ্দিন ইউসুফ
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. আলমগীর কবির
ব্যাখ্যা
মুক্তির গান:
- 'মুক্তির গান' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র।
- এই প্রামাণ্যচিত্র তারেক মাসুদ ও তার স্ত্রী ক্যাথেরিন মাসুদ পরিচালনা করেন।

- প্রামাণ্যচিত্রটি ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায়।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য চলচ্চিত্রটি প্রশংসিত হয়েছে।
- এটি দক্ষিণ এশিয়া চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিশেষ উল্লেখ পুরস্কার এবং ২০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কার লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে একাত্তরের যীশু, গেরিলা প্রভৃতি প্রধান।
- চাষী নজরুল ইসলাম ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, প্রভৃতি সিনেমা নির্মাণ করেন।
- আলমগীর কবির পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘রূপালি সৈকত’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘লিবারেল ফাইটার্স’, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’ প্রভৃতি প্রধান।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪০৮.
পাল চিত্রকলা বর্তমানে কোথায় সংরক্ষিত আছে?
  1. কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি
  2. বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
  3. সোনারগাঁও জাদুঘর
  4. মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর
ব্যাখ্যা
পাল চিত্রকলা বর্তমানে কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে।

পাল চিত্রকলা:
- পাল চিত্রকলা পাল রাজা প্রথম মহীপালের (খ্রিস্টীয় ৯৮৩) ষষ্ঠ রাজ্যাঙ্কে তালপাতার উপরে চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন।
- বর্তমানে দুর্লভ এই পান্ডুলিপি কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে।
- পরবর্তী দুশ বছরে চিত্রসম্বলিত আরও বেশ কিছু পান্ডুলিপি পাওয়া যায়।
- এগুলিকে ‘পাল মিনিয়েচার’ বলে অভিহিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পান্ডুলিপিসমূহ তালপাতায় লেখা ও চিত্রায়িত করা হয়েছে।
- তালপাতা ভঙ্গুর, এ কারণে অনেক পুথিচিত্র বর্তমানে জীর্ণ হয়ে পড়েছে।
- তুলনামূলক বিচারে দেখা যায় যে, পাল যুগের চিত্রালঙ্কৃত পান্ডুলিপিসমূহ উন্নতমানের তালপাতার (শ্রীতাড়) উপর অনুলিখিত ও চিত্রালঙ্কৃত করা হতো।
- এ চিত্রকলার অঙ্কন-নৈপুণ্য এতই উন্নত যে, এগুলিকে বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাথমিক নিদর্শন বলে মনে হয় না। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪০৯.
ইংরেজদের বিরুদ্ধে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন কে?
  1. ক) দুদু মিয়া
  2. খ) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  3. গ) সাইয়িদ মীর নিসার আলী
  4. ঘ) মুহাম্মদ মুহসিন উদ্দিন
ব্যাখ্যা
- তিতুমীরের প্রকৃত নাম সাইয়িদ মীর নিসার আলী
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার বশিরহাট মহকুমার চাঁদপুর (মতান্তরে হায়দারপুর) গ্রামে ১৭৮২ সালে তাঁর জন্ম। 
- তিতুমীর ইংরেজ ও ‍জমিদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর জন্যে ১৮৩১ সালের অক্টোবর মাসে নারকেলবাড়িয়ায় এক দুর্ভেদ্য বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী, ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করে।
- তিনি তাঁর মুজাহিদ বাহিনীতে বিপুল সংখ্যক মুজাহিদ নিয়োগ করে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দান করেন। 
- অচিরেই তিনি চবিবশ পরগনা, নদীয়া ও ফরিদপুর জেলায় স্বীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিতুমীর তাকি ও গোবরডাঙার জমিদারদের নিকট কর দাবি করলে তারা ইংরেজদের শরণাপন্ন হন। কলকাতা থেকে এক ইংরেজ বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরিত হয়। কিন্তু ইংরেজ ও জমিদারদের সম্মিলিত বাহিনী মুজাহিদদের নিকট শোচনীয় পরাজয় বরণ করে। 
- অবশেষে লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী, ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর ইংরেজ বাহিনী মুজাহিদদের উপর আক্রমণ চালায়।
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর কামানের গোলায় তিতুমীরের বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিতুমীর শহিদ হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৪১০.
১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে?
  1. ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
  2. মুসলিম লীগ
  3. পিপলস পার্টি
  4. আওয়ামী লীগ
ব্যাখ্যা
জাতীয় পরিষদ নির্বাচন:
- ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন (৭টি মহিলা আসনসহ) লাভ করে। 
- বাকি দু'টি আসনের মধ্যে ১টি লাভ করে পিডিপি নেতা নুরুল আমীন এবং অপর আসনটি লাভ করেন নির্দলীয় প্রার্থী রাজা ত্রিদিব রায় চৌধুরী। 
- জাতীয় পরিষদের ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কতজন রাজসাক্ষী ছিল?
  1. ১১ জন
  2. ১২ জন
  3. ১৩ জন
  4. ১৪ জন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১২.
কতটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
  1. ক) তিনটি
  2. খ) চারটি
  3. গ) পাঁচটি
  4. ঘ) ছয়টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলার চারটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট নামে নির্বাচনি জোট গঠিত হয়।
যুক্তফ্রন্টের দলগুলো হলো:
- আওয়ামী মুসলিম লীগ
- কৃষক শ্রমিক পার্টি
- নেজামে ইসলাম
- গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জোট ২৩৭টি ‍মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪১৩.
বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় কোথায়?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসভায়
  2. কলকাতাস্থ বাংলাদেশ মিশনে
  3. বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে
  4. ৭ মার্চের জনসভায়
ব্যাখ্যা
• প্রথম জতীয় পতাকা উত্তোলন:
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের পশ্চিম গেটে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয়।
- সেদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব।
- সেই পতাকার মাঝখানে হলুদ বৃত্ত ছিল। আর বৃত্তের মধ্যে ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র।
- সেই থেকে প্রতি বছর ২ মার্চ জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস পালন করা হয়।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চে তার বাসভবনে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।

- ১৯৭২ সালে শিবনারায়ণ দাশের ডিজাইন করা পতাকা থেকে মানচিত্রটি বাদ দেওয়া হয়। 
- পতাকার মাপ, রং ও তার ব্যাখ্যাসহ একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয় পটুয়া কামরুল হাসানকে। 
- কামরুল হাসান আমাদের জাতীয় পতাকার যে রূপ দিয়েছিলেন সেটিই বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের প্রতীক।
-  বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।
 
উৎস: বিডিনিউজ ও প্রথম আলো রিপোর্ট।
৪১৪.
গৌড়ের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. কোটিবর্ষ
  2. সোনারগাওঁ
  3. মহাস্থানগড়
  4. কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা
• গৌড় :
- প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল।
- গৌড় রাজ্য ছিল একটি স্বাধীন রাজ্যের ।
- যার অবস্থান ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে ছিল।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড় রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।

এছাড়া ও,
• রাড়দেশ এর রাজধানী ছিল - কোটিবর্ষ।
• সোনারগাঁও - বাংলার প্রাচীন রাজধানী।

উৎস : ইতিহাস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৫.
কার সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়?
  1. মির জাফর
  2. মীর কাসিম
  3. শুজা‑উদ‑দীন
  4. মুর্শিদকুলী খান
ব্যাখ্যা
মুর্শিদকুলী খান:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়। বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন। পরে তিনি সুবেদার হন।
- মুর্শিদকুলী খানের রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল যুগোপযোগী।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৬.
ঐতিহাসিক ছয় দফার ২য় দফা কী ছিল?
  1. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি
  2. কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা
  3. মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক
  4. রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪১৭.
এ.কে.ফজলুল হক কত সালে পূর্ব বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন?
  1. ১৯৫৪ সাল
  2. ১৯৫৫ সাল
  3. ১৯৫৬ সাল
  4. ১৯৫২ সাল
ব্যাখ্যা

এ.কে. ফজলুল হক (১৮৭৩–১৯৬২)
- তিনি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কলকাতার মেয়র ছিলেন।
-  তিনি ১৯৩৭–১৯৪৩ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি ১৯৫৬–১৯৫৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক।
- তিনি ‘শেরে বাংলা’ বা ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪১৮.
কোন সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলন অব্যাহত ছিল?
  1. ১৯৫২ সাল
  2. ১৯৫৩ সাল
  3. ১৯৫৪ সাল
  4. ১৯৫৬ সাল
ব্যাখ্যা
- গণপরিষদ বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়ে একটি বিল পাস করে।
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলন অব্যাহত ছিল।
- পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অনুমোদনের মাধ্যমে এই আন্দোলন তার লক্ষ্য অর্জন করে।
- জাতীয় পরিষদে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬) এক পর্যায়ে এর সদস্য ফরিদপুরের আদেলউদ্দিন আহমদের (১৯১৩-১৯৮১) দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব  অনুযায়ী বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
- ১৯৫২ সালের পর থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার জন্য বাঙালিদের সেই আত্মত্যাগকে স্মরণ করে দিনটি উদ্যাপন করা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে।
- এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনকে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪১৯.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধে পরাজিত হয়েছেন কে?
  1. ইব্রাহীম লোদী
  2. বিক্রমাদিত্য
  3. জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর
  4. বৈরাম খান
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ।
- পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন।
- প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন।
- ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন।
- শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২০.
কোনটিতে নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহের অবদান নেই-
  1. ক) বারদুয়ারী
  2. খ) কদম রসুল ভবন
  3. গ) বাগেরহাটের মিঠাপুকুর
  4. ঘ) ছোট সোনা মসজিদ
ব্যাখ্যা
নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ (শাসনকাল ১৫১৯-১৫৩৩খ্রি.) ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র। গৌড়ের বারদুয়ারী বা বড় সোনা মসজিদ ও কদম রসুল ভবনের স্থাপত্য শিল্পে অবদান রাখেন তিনি। তিনি বাগেরহাটের মিঠাপুকুর এর নির্মাতা। আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে নির্মিত হয় গৌড়ের ‘ছোট সোনা’ মসজিদ ও গুমতিদ্বার। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৪২১.
মুজিবনগর সরকারের 'স্বাস্থ্য, শ্রম ও সমাজকল্যাণ' মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) এএইচএম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
এখানে, অর্থনীতি বিষয়ক ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে বলতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে বুঝানো হয়েছে।

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।

মুজিবনগর সরকার:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ
(তার অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিলো - প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী)
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪২২.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র?
  1. ধীরে বহে মেঘনা
  2. কলমিলতা
  3. আবার তােরা মানুষ হ
  4. হুলিয়া
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র - হুলিয়া।
- এটি নির্মাণ করেন তানভীর মোকাম্মেল। 
- ষাটের দশকে প্রগতিশীল সংগঠনের কর্মীদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যে হুলিয়া বুকে নিয়ে ঘরছাড়া এক তরুণকে নিয়ে লেখা কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতাকে ক্যামেরার ফ্রেমে তুলে এনেছেন তানভীর মোকাম্মেল।

অন্যদিকে,
ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩):
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রটির পরিচালক- 'আলমগীর কবির'।
- ভারতীয় মেয়ে অনিতার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়।
- সে ঢাকায় এসে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আরও গভীরভাবে মর্মাহত হয়।
- অভিনয়ে বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান আছে এ ছবিতে।

আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩): 
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
- এ চলচ্চিত্রে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
- বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ববিতা, রোজী আফসারী, রওশন জামিলসহ অনেকে।
- এখানে আছে উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও তরুণদের কার্যকলাপ এবং একজন আদর্শবাদী অধ্যক্ষের দৃঢ়তা।

কলমীলতা -মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পরিচালক - শহীদুল হক খান।

উৎস:
- প্রথম আলো (২০২১) পত্রিকা রিপোর্ট।
৪২৩.
সমতটের বর্তমান অবস্থান কোথায়?
  1. বগুড়া ও রাজশাহী 
  2. বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল
  3. বরিশাল
  4. ঢাকা ও ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

সমতট:
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালীর সমতল অঞ্চলে ছিল সমতটের অবস্থান।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- রাজা রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল বড়োকামতা।

অন্যদিকে, 
- বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ' জনপদ গঠিত ছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪২৪.
পাল রাজবংশ কত বছর রাজত্ব করেন?
  1. প্রায় একশ বছর
  2. প্রায় দু'শ বছর
  3. প্রায় তিনশ বছর
  4. প্রায় চারশ বছর
ব্যাখ্যা

পাল রাজবংশ:
- পাল বংশ আট শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় চারশত বছর বাংলা ও বিহারে শাসনকারী রাজবংশ।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে। এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। পালযুগে বৌদ্ধ ধর্ম প্রসার লাভ করেছিল তিববত, জাভা, সুমাত্রা ও মালয়েশিয়াতে।

⇒ গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন। তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৫.
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে -
  1. তুর্কিদের আক্রমনে
  2. হুনদের আক্রমণে
  3. গ্রীকদের আক্রমনে
  4. প্রাকৃতিক দুর্যোগে
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টীয় তিন শতকের শেষ এবং চার শতকের প্রথমদিকে সম্ভবত প্রথম চন্দ্রগুপ্ত অথবা সমুদ্রগুপ্তের মাধ্যমে বাংলায় গুপ্ত শাসন সম্প্রসারিত হয়।
- শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ।
- এল্যানের মতে, পাটলীপুত্র (মগধের অভ্যন্তরে) নগরের অদূরে শ্রীগুপ্তের রাজত্ব ছিল।
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রথম কুমারগুপ্তের সময় (৪৩২-৪৪৮ খ্রি.) থেকে উত্তর বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে গড়ে ওঠে।
- এটির নাম ছিল তখন ‘পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তি’।
- হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৬.
কতজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে 'বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার' - ১৪২৫ ও ১৪২৬ প্রদান করা হয়?
  1. ক) ১৫
  2. খ) ২৫
  3. গ) ২৯
  4. ঘ) ৪৪
ব্যাখ্যা
• কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৪৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে 'বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার' - ১৪২৫ ও ১৪২৬ দেয়া হয়েছে।
• এর মধ্যে ১৪২৫ সালের জন্য ১৫ ব্যক্তি ও সংগঠনকে এবং ১৪২৬ সালের জন্য ২৯ ব্যক্তি ও সংগঠনকে এ পুরস্কার দেয়া হবে।

তথ্যসূত্র:- লাইভ এম সি কিউ সাম্প্রতিক সমাচার, অক্টোবর - ২০২২।      
৪২৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ' শহর কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ৭ নং সেক্টর 
  2. ৯ নং সেক্টর
  3. ১১ নং সেক্টর
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এটি ছিলো যুদ্ধ পরিচালনার একটি সামরিক কৌশল।
- ১৯৭১ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই সেক্টর গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

⇒ সেক্টরগুলো:
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম,
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ,
- ৩নং সেক্টর: কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ, 
- ৪ নং সেক্টর: মৌলভীবাজার ও সিলেটের পূর্বাংশ, 
- ৫নং সেক্টর: সিলেট ও সুনামগঞ্জ, 
- ৬নং সেক্টর: রংপুর, দিনাজপুর,
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা,
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর,
- ৯নং সেক্টর: খুলনা, বরিশাল,
- ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪২৮.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন -
  1. রাষ্ট্রভাষা বাংলা পরিষদ
  2. রাষ্ট্রভাষা বাংলা কমিটি
  3. তমদ্দুন মজলিশ
  4. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৪২৯.
'আগুনের পরশমণি' চলচ্চিত্রের উপজীব্য বিষয় কী?
  1. ধর্মীয়
  2. সামাজিক
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
  4. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক
ব্যাখ্যা
আগুনের পরশমণি:

- মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘আগুনের পরশমণি’।
- দর্শকনন্দিত এই ছবির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ।
- ১৯৯৪ সালে সরকারি অনুদানে নির্মিত হয় এ ছবি। মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় মুক্তিবাহিনীর অভিযান আর মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের সংকট ছবিটিতে তুলে ধরেছেন। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, বিপাশা হায়াত, ডলি জহুর ও আরো অনেকে।
- আগুনের পরশমণি ছবিটি ৮টি শাখায় অর্জন করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
- শাখাগুলো হচ্ছে- শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (প্রযোজক হুমায়ূন আহমেদ), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার (হুমায়ূন আহমেদ), শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা (হুমায়ূন আহমেদ), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (বিপাশা হায়াত), শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (সত্য সাহা), শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক (মফিজুল হক), শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী (শিলা আহমেদ), শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার (হোসনে আরা পুতুল)।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৩০.
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি' শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি
  2. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
  4. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা

সুলতানি শাসন:
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলা প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন।
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। 
- এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ ‘বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় ‘বাঙালি' নামে।
- তাঁরা জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে শাসনকার্যে ও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করেন।
- ইলিয়াসশাহী সুলতানগণ আরবদেশ, চীন ও পারস্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন।
- ইলিয়াসশাহী আমলে বাংলার কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল।
- ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ ১৬৩৮ সালে পূর্ব বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এর রাজধানী হয় সোনারগাও।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩১.
মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. আতাউল গণি ওসমানী
  2. জিয়াউর রহমান
  3. কে.এম. শফিউল্লাহ
  4. খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা

জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী:
- জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)।
- ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।
- ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৪৩২.
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কয়টি স্তরে বিভক্ত?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা
- বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তিন স্তরবিশিষ্ট।
- সেগুল হলো: প্রাথমিক স্তর, মাধ্যমিক স্তর এবং উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তর।
- সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হয় ৫ বছর মেয়াদী প্রাথমিক, ৭ বছর মেয়াদী মাধ্যমিক (এর মধ্যে ২ বছর মেয়াদী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়)।
- বাংলাদেশে তৃতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদি।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয় হলো শিক্ষার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দফতর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, bangladesh.gov.bd.

৪৩৩.
বঙ্গভঙ্গের কারণে কোন প্রদেশের সৃষ্টি হয়েছে?
  1. বাংলা ও বিহার
  2. পূর্ববঙ্গ ও আসাম
  3. ঢাকা ও কলকাতা
  4. আসাম ও উড়িষ্যা
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ: 
- বঙ্গভঙ্গ ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর ব্রিটিশ গভর্নর-জেনারেল লর্ড কার্জনের শাসনামলে কার্যকর হয়।
- এটি অবিভক্ত বাংলার তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল।
- ১ সেপ্টেম্বর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর করা হয়।  
- বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশ,
- এর রাজধানী স্থাপন করা হয় ঢাকায়।

অন্যদিকে,
- পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ, যার রাজধানী ছিল কলকাতা। 
- আন্দোলনের চাপে ব্রিটিশ সরকার শেষ পর্যন্ত ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে, লর্ড হার্ডিঞ্জের শাসনামলে, রাজা পঞ্চম জর্জের ঘোষণার মাধ্যমে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। এর ফলে পুনরায় বাংলা একত্রিত হয়, তবে ব্রিটিশ সরকার দিল্লিকে ভারতের নতুন রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে।

সূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩৪.
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. মেকলে শিক্ষা কমিশন
  2. কার্জন শিক্ষা কমিশন
  3. স্যাডলার শিক্ষা কমিশন
  4. হান্টার শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

প্রথম শিক্ষা কমিশন: 
- ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন হলো হান্টার শিক্ষা কমিশন।
- এটি ১৮৮২ সালে স্যার উইলিয়াম হান্টারকে প্রধান করে গঠিত হয়।
- এই কমিশনে মোট সাতজন সদস্য ছিলেন এবং এটি ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড রিপনের আমলে গঠিত হয়েছিল।

উল্লখ্য, 
- লর্ড লিটনের পদত্যাগের পর লর্ড রিপন ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন।
- তার শাসনকাল ছিল ১৮৮০ থেকে ১৮৮৪ সাল।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী ছিলেন এবং ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে উদারনীতি গ্রহণ করেন।  

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনির ইতিহাস বই, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা।

৪৩৫.
মোগল সম্রাট আকবরের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. জিজিয়া কর রহিত করেন
  2. বাংলা সন প্রবর্তন করেন
  3. দীন-ই-ইলাহি ধর্মের প্রবর্তন করেন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) Britannica.
৪৩৬.
ঈশা খাঁ কে ছিলেন?
  1. ক) দিল্লির বাদশাহ
  2. খ) বাংলার বারো ভূঁইয়ার একজন
  3. গ) সুবেহ বাংলার শাসক
  4. ঘ) মুর্শিদাবাদের নবাব
ব্যাখ্যা
আকবরনামা’য় প্রাপ্ত ভাটিতে মুগলদের যুদ্ধবিগ্রহের বিবরণ অনুযায়ী ভূঁইয়াদের নিম্নলিখিত তালিকা প্রস্ত্তত করা যেতে পারে: (১) ঈসা খান মসনদ-ই-আলা, (২) ইবরাহিম নরল, (৩) করিমদাদ মুসাজাই, (৪) মজলিস দিলওয়ার, (৫) মজলিস প্রতাপ, (৬) কেদার রায়, (৭) শের খান, (৮) বাহাদুর গাজী, (৯) তিলা গাজী, (১০) চাঁদ গাজী, (১১) সুলতান গাজী, (১২) সেলিম গাজী, (১৩) কাসিম গাজী।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৪৩৭.
আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সময়কালে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন-
  1. ক) ফিরোজ খান
  2. খ) ইয়াহিয়া খান
  3. গ) মোনায়েম খান
  4. ঘ) টিক্কা খান
ব্যাখ্যা

১৯৬২ সালের ২৮ অক্টোবর হতে ১৯৬৯ সালের ২২ মার্চ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন মোনায়েম খান ।
- তিনি ১৯৬২ হতে ১৯৬৯ সালের মধ্যে ছাত্রদের শিক্ষা আন্দোলন, আওয়ামী লীগের ছয়দফা কর্মসূচি, ১১ দফা আন্দোলন, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন।
- তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রবল গণআন্দোলনের চাপে আইয়ুব খান ১৯৬৯ সালের ২২শে মার্চ মোনায়েম খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৩৮.
সম্রাট আকবর কত খ্রিস্টাব্দে দ্বীন-ই-ইলাহী প্রবর্তন করেন?
  1. ১৫৮২ সালে
  2. ১৫৮৩ সালে
  3. ১৫৮৪ সালে
  4. ১৫৮৫ সালে
ব্যাখ্যা
• সম্রাট আকবর:
– সম্রাট আকবর ১৫৮২ সালে ‘দীন-ই-ইলাহী’ নামে একেশ্বরবাদমূলক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। 
– সকল ধর্মের সারবস্তু নিয়ে এই ধর্মত গঠিত হয়।
–  এই ধর্মমতের কালেমা ছিল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আকবর খলিফাতুল্লাহ’।
 
• দ্বীন-ই-ইলাহী রীতি-নীতি, বিধানগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১. এই ধর্মের অনুসারীগণ পরস্পর দেখা হলে, ‘আসসালামু আলাইকুম’ এর পরিবর্তে ‘আল্লাহু আকবার’ এবং প্রত্যুত্তরে ‘ওয়া আলাইকুম আস্সালাম’ না বলে ‘জাল্লাজালালুহু’ বলা।
২. এই ধর্মীয় বিধান অনুসারে মৃত্যুর পরে নয়, মৃত্যুর পূর্বেই দাওয়াত বা আমন্ত্রণের ব্যবস্থা করা।
৩. সভ্যগণ নিজ নিজ জন্মদিন পালন এবং ভোজের আয়োজন করবেন।
৪. সভ্যগণ ভিক্ষা প্রদান করবেন কিন্তু ভিক্ষা গ্রহণ করবেন না।
৫. এই ধর্মমত গ্রহণে কাউকে বাধ্য করা হবে না। 

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৪৩৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন জেলা ১১ নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ময়মনসিংহ
  2. বরিশাল
  3. দিনাজপুর
  4. সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

⇒ নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল: ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও -বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

• সেক্টরগুলো:
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম,
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ,
- ৩নং সেক্টর: কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ,
- ৪ নং সেক্টর: মৌলভীবাজার ও সিলেটের পূর্বাংশ,
- ৫নং সেক্টর: সিলেট ও সুনামগঞ্জ,
- ৬নং সেক্টর: রংপুর, দিনাজপুর,
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা,
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর,
- ৯নং সেক্টর: খুলনা, বরিশাল,
- ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৪০.
When did India Recognise Bangladesh?
  1. ক) 5 December 1971
  2. খ) 6 December 1971
  3. গ) 7 December 1971
  4. ঘ) 8 December 1971
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান:
- ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১।
- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৬ ডিসেম্বর গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল একটি দিন।
- এদিন প্রথম দেশ হিসেবে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- লোকসভার অধিবেশনে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দানের ঘোষণা করেন।
- এসময় লোকসভার সদস্যরা দাঁড়িয়ে ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষণাকে স্বাগত জানান।
- একইসঙ্গে লোকসভার অধিবেশনে হর্ষধ্বনির সঙ্গে 'জয় -বাংলা' স্লোগান উচ্চারিত হয়।
- এদিন ইন্দিরা গান্ধী অধিবেশনে তার বক্তব্যে বলেন, 'বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানি স্বৈরতান্ত্রিক ও গণহত্যা নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।'

উল্লেখ্য,
- একই দিনে ভুটান ও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উৎস: ৬ ডিসেম্বর, ২০২১, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৪৪১.
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ কোন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন?
  1. খিলাফত আন্দোলন
  2. সিপাহি বিদ্রোহ
  3. ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট
  4. ফরায়েজি আন্দোলন
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন:

- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন। কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্বদেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪৪২.
দিনেমার কাদের বলা হয়?
  1. ফরাসী অধিবাসীদের
  2. হল্যান্ডের অধিবাসীদের
  3. ডেনমার্কের অধিবাসীদের
  4. পর্তুগালের অধিবাসীদের
ব্যাখ্যা

দিনেমার:
- দিনেমার বলা হয় ডেনমার্কের অধিবাসীদের।
- দিনেমারগণ উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে।
- তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুরে ও কলকাতার শ্রীরামপুরে।

অন্যদিকে,
- ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয় হল্যান্ডের অধিবাসীদের।
- ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে।
- বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক ‘ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।

উৎস: ইতিহাস,প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'আকবর বাহিনী' গঠিত হয় কোন অঞ্চলে?
  1. ক) টাঙ্গাইল
  2. খ) ফরিদপুর
  3. গ) ঝিনাইদহ
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সকল গেরিলা বাহিনী গঠিত হয় তা হলো:
- ফরিদপুরের হেমায়েত বাহিনী,
- টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনী,
- সিরাজগঞ্জে রফিক মির্জা বাহিনী,
- ঝিনাইদহের আকবর বাহিনী,
- বরিশালের কুদ্দুস বাহিনী,
- ময়মনসিংহের আফসার বাহিনী প্রভৃতি।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৪৪৪.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নের প্রধান ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. আতাহার আলীর
  2. আবুল ফজলুল হক
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের গঠন ও ১৯৫৪ সালের নির্বাচন:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- উক্ত নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়।
- এই ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মোট আসন ছিল ৩০৯টি।
- যুক্তফ্রন্ট মোট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- নির্বাচনে বিজয়ের পর শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র:- স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৫.
১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষে বাংলায় কত লোকের মৃত্যু ঘটে?
  1. ক) এক-তৃতীয়াংশ
  2. খ) এক-পঞ্চমাংশ
  3. গ) এক-চতুর্থাংশ
  4. ঘ) দুই-তৃতীয়াংশ
ব্যাখ্যা
• ১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষে বাংলায় এক-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যু ঘটে। 

- ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে বক্সারের যুদ্ধে উপমহাদেশের তিন শক্তি দিল্লীর সম্রাট শাহ আলম, অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা, বাংলার নবাব মীর কাশিমের পরাজয় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা দখল এবং অর্থনেতিক শোষণের পথ খুলে দেয়।
- কোম্পানির ক্ষমতা লাভের আগেই এ অঞ্চলের ব্যবসায় বাণিজ্য শিল্পের ক্ষতি করে নিজেদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে।
- দেশীয় শাসকদের দুর্বলতার সুযোগে কোম্পানির ক্ষমতা দখল, দেওয়ানি লাভ এ অঞ্চলের জনগণের জন্য চরম দুর্ভাগ্যের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে।
- এর ফলে যে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয় তার ফল ভোগ করতে হয় জনগণকে।
- ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানির চরম অর্থনৈতিক শোষণে নিঃস্ব হয়ে যায় বাংলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠি যারা কৃষি কার্যের সঙ্গে যুক্ত।
- ফলে ভেঙ্গে পড়ে কৃষি ব্যবস্থা, দেখা দেয় সারা বাংলা ব্যাপী ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- ইতিহাসে এই দুর্ভিক্ষ ছিয়াত্তরের মন্বান্তর নামে পরিচিত। যাতে মৃত্যুবরণ করে বাংলার একতৃতীয়াংশ মানুষ।
- কোম্পানির শোষণে, কোম্পানির স্বার্থে ধ্বংস করা হয় বাংলার বস্ত্রসহ অন্যান্য শিল্প। 
- কৃষি ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার ফলে বাংলার অর্থনীতি পরিপূর্ণভাবে ভেঙ্গে পড়ে। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৬.
১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্তির সময় ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. লর্ড ওয়াভেল
  3. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
লর্ড মাউন্টব্যাটেন:
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
- ভাইসরয় হিসেবে তাঁর কার্যকাল সংক্ষিপ্ত হলেও এই সময়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।

উল্লেখ্য,
- তিনি গভর্নর জেনারেল হিসেবে ১৯৪৭ সালের আগস্ট থেকে ১৯৪৮ সালের জুন পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।
- লর্ড স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- মাউন্টব্যাটেন কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরও ভারত বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন।
- মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালে ‘আর্ল’ উপাধি প্রাপ্ত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৪৭.
'হাঙর নদী গ্রেনেড' চলচ্চিত্রের পটভূমি কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. ঊনসত্তরেরে গণঅভ্যুত্থান
  4. ১৯৪৭-এর দেশভাগ
ব্যাখ্যা
হাঙর নদী গ্রেনেড:
- সেলিনা হোসেনের গল্প অবলম্বনে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র হাঙর নদী গ্রেনেড।
- এর পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
- এর কাহিনিতে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে একজন মা তার বাক্প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেয় পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে।

উল্লেখ্য,
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

উৎস: প্রথম আলো।
৪৪৮.
উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।” - উক্তিটি কে করেছিলেন?
  1. খাজা নাজিম উদ্দিন
  2. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. নুরুল আমিন
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৪৮ সালের ১৯শে মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন।

- তিনি ২১শে মার্চ রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এবং ২৪শে মার্চ কার্জন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ঘোষণা করেন,
“উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা”।

- উভয় জায়গাতেই তার এই ঘোষণায় উপস্থিত জনতা ও ছাত্ররা 'না না' ধ্বনি দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা। নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৯.
বাংলাদেশে জিওলজিক্যাল সার্ভে অনুযায়ী সম্প্রতি কোন জেলায় লোহার খনি পাওয়া গেছে?
  1. ফরিদপুর
  2. দিনাজপুর
  3. রাজশাহী
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রথম লোহার খনি:
- দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় দেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান মিলেছে।
- উপজেলার ইসবপুর গ্রামে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) এ খনির সন্ধান পেয়েছে।
- জিএসবি জানিয়েছে, খনিটিতে উন্নত মানের লোহার আকরিক (ম্যাগনেটাইট) রয়েছে।
- লোহার পাশাপাশি খনিটিতে মূল্যবান কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে বলে জানান জিএসবি কর্মকর্তারা।
- ভূগর্ভের ১ হাজার ৩০০ ফুট থেকে ১ হাজার ৬৫০ ফুটের মধ্যে লোহার একটি স্তর পাওয়া গেছে।
- খনিটির আয়তন প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার।
- খনিতে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন টন লোহাসহ মূল্যবান পদার্থ রয়েছে।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম লোহার খনি।

উৎস: ১৮ জুন ২০১৯, প্রথম আলো।
৪৫০.
নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮৮ সালে
  2. ১৯৮৯ সালে
  3. ১৯৯০ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট:

- অসংখ্য বিনুনি শাখা প্রশাখা সহ গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা এ ৩টি অন্যতম প্রধান ও সুবৃহৎ আন্তর্জাতিক নদীমালা কর্তৃক বাহিত পলিতে গঠিত এ বাংলাদেশ।
- এই বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার ১৯৪৮ সালে ঢাকার গ্রীণরোডে প্রায় ১২ একর জমির উপর “হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী” নামে একটি গবেষণাগার স্থাপন করে।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে ব্যাপক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৮ সালে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে এবং “হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী” প্রতিষ্ঠানটি ইহার সহিত একীভূত করে।
- ১৯৮৯ সালে ফরিদপুর শহরের উপকণ্ঠে ৮৬ একর জমির উপর এক মনোরম পরিবেশে নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে পানি সম্পদ সেক্টরে বহুমুখী গবেষণা কার্যক্রম উত্তরোত্তর বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সনের ৫৩নং আইন বলে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কেএকটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্ব-শাসিত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
- বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন হতে আলাদা করে সরাসরি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ফরিদপুর জেলা ওয়েবসাইট।
৪৫১.
সোমপুর বিহার কোথায় অবস্থিত?
  1. নওগাঁ
  2. বগুড়া
  3. রাজশাহী
  4. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
সোমপুর বিহার:
- অবস্থান: নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত।
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে।
- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।
- পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুণ্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়) এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার।
- এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
৪৫২.
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে সাধারণ আসন সংখ্যা কত ছিল?
  1. ১৬০টি
  2. ১৬২টি
  3. ১৬৭টি
  4. ১৬৯টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আসন বন্টন:
- আইনগত কাঠামো আদেশ অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ৩১৩টি নির্ধারণ করা হয়।
- সাধারণ আসন সংখ্যা ৩০০টি এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ১৩টি।
- পূর্ব পাকিস্তানে মোট আসন সংখ্যা ১৬৯টি।
• সাধারণ আসন সংখ্যা ১৬২টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৭টি।
- পশ্চিম পাকিস্তানে মোট আসন সংখ্যা ১৪৪টি।
• সাধারণ আসন সংখ্যা ১৩৮টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৬টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৩.
হামিদুজ্জামান খান কোন ভাস্কর্যের স্থপতি?
  1. ক) সাবাস বাংলাদেশ
  2. খ) জাতীয় স্মৃতিসৌধ
  3. গ) স্টেপস
  4. ঘ) মিশুক
ব্যাখ্যা
- হামিদুজ্জামান খান হলেন একজন বাংলাদেশী ভাস্কর।
- তিনি ১৯৮১ সালে বঙ্গভবনে 'পাখি পরিবার',
- ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমিতে 'মুক্তিযোদ্ধা',
- ১৯৮৮ সালে আশুগঞ্জ জিয়া সারকারখানায় 'জাগ্রত বাংলা'এবং
- ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল অলিম্পিক পার্কে 'স্টেপস' (সিঁড়ি) নির্মাণ করেন।
- "His piece titled ‘Steps’ has found a permanent place in the Seoul Olympic Park in Korea."

Source: Bengal Foundation
৪৫৪.
প্রাচীন হরিকেল জনপদ কোন কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল?
  1. ঢাকা-ময়মনসিংহ
  2. কুমিল্লা-নোয়াখালী
  3. খুলনা-বরিশাল
  4. সিলেট-পার্বত্য চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৫.
বাংলাদেশের প্রথম কূটনৈতিক মিশন কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. নিউইয়র্ক
  2. ওয়াশিংটন ডিসি
  3. লন্ডন
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা
কূটনৈতিক মিশন:
- মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিদেশে অবস্থান করা বাংলাদেশিরাও দেশের জন্য লড়াই করেছেন।
- নয়াদিল্লি, কলকাতা, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক এবং লন্ডন বিশ্বের এই ৫টি বড় শহরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কূটনীতিকরা দেশের পক্ষে বিদেশি জনমত গঠনে কাজ করেছিলেন।
- একাত্তরের ওই সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে কূটনীতিকরাও দেশের পক্ষে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন।
- ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল কলকাতায় সর্বপ্রথম বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন খোলা হয়।
- ওই সময়ে কলকাতার উপ হাইকমিশনার মো. হোসেন আলী এবং তৃতীয় সচিব আনোয়ারুল করিম চৌধুরী বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে কলকাতার পাকিস্তান হাইকমিশনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং হাইকমিশনটিকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন হিসেবে ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য,
- বিদেশের মাটিতে এভাবেই সর্বপ্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তেলন করা হয়।
- এরপর ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল কলকাতায় তৃতীয় সচিব কাজী নজরুল ইসলাম, সহকারি প্রেন এটাচে মাকসুদ আলী এবং প্রথম সচিব রফিকুল ইসলাম চৌধুরী পাকিস্তানের চাকড়ি প্রত্যাহার করে বাংলাদেশের পক্ষে যোগ দেন।

উৎস: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৪৫৬.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন-
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র  প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা।
বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে একই দিনে আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ নামে একটি আদেশ জারি করেন। স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা রক্ষার্থে এটা করা হয়।
অর্থ্যাৎ ২৬ মার্চ থেকে এটি বলবৎ হয়।

- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।

- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া।

৪৫৭.
সর্বশেষ মুঘল সম্রাট ছিলেন কে?
  1. শাহ আলম
  2. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর
  3. আওরঙ্গজেব
  4. শাহজাহান
ব্যাখ্যা
মুঘল সাম্রাজ্যের পতন:
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মুঘল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মুঘল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্য পতনের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বহিঃআক্রমন প্রভৃতি বিষয়কে দায়ী করা হয়।
- পারস্য সম্রাট নাদির শাহ এবং পরবর্তীকালে আফগান রাজা আহমদ শাহ আবদালীর দিল্লি আক্রমণ ও লুণ্ঠনে মুঘল সাম্রাজ্য দুর্দশায় ও পতনুম্মুখ হয়ে পড়ে।
- এমনি মুমূর্ষ অবস্থায় ইংরেজ শক্তির ক্ষমতা দখল করার ফলে মুঘল সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৮.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটির গীতিকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. আহসান হাবীব
  4. আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে। 
- ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।

৪৫৯.
আইয়ুব খান নিম্নের কোন ব্যবস্থাটি চালু করেছিলেন?
  1. রাজতন্ত্র
  2. সমাজতন্ত্র
  3. সংসদীয় গণতন্ত্র
  4. মৌলিক গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খান:
- আইয়ুব খান সামরিক শাসন যাত্রার ২১ দিনের মাথায় ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজে প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন।

⇒ ক্ষমতাদখলের পর আইয়ুব খান কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন করেন। ১৯৫৯ সালে 'পোডো' (PODO) এবং 'এবডো' (EBDO) নামক দুটি আদেশ জারি করে রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ ও নির্বাচনে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেন।

⇒ জেনারেল আইয়ুব ১৯৫৯ সালে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে নতুন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন। 
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় শাসনকাঠামোকে ৪টি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছিল। ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা ছিল সর্বনিম্ন স্তর এবং এর সদস্যদের বলা হতো ‘মৌলিক গণতন্ত্রী’। ১৯৬৫ সালে পরোক্ষ নির্বাচনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগে নির্বাচিত ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী এ নির্বাচনে নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে কাজ করেন। এ নির্বাচনে বিরোধীদলীয় জোটের প্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহকে পরাজিত করে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

⇒ আইয়ুব খানের আবিষ্কৃত মৌলিক গণতন্ত্রব্যবস্থা দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পায়নি এবং আইয়ুব খানের স্বপ্নও সফল হয়নি। ১৯৬৯ সালে গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আইয়ুব খানের পতন হয় এবং তাঁর পতনের মধ্য দিয়ে মৌলিক গণতন্ত্রব্যবস্থার অবসান ঘটে।
- ২৪ মার্চ ১৯৬৯ ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হন।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৪৬০.
‘অন্ধকুপ হত্যা’ নামক কল্প কাহিনীর জনক কে?
  1. ক) হলওয়েল
  2. খ) ড্রেক
  3. গ) রবার্ট ক্লাইভ
  4. ঘ) ওয়াটসন 
ব্যাখ্যা
• ‘অন্ধকূপ হত্যা’ :
- কথিত আছে নবাব সিরাজউদ্দৌলার আদেশে ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে ১৮×১৪ চওড়া বিশিষ্ট ছোট কক্ষে রাখা হয়েছিল।
- জুন মাসের প্রচন্ড গরমে এদের মধ্যে  ১২৩ জন শ্বাসবন্ধ হয়ে মারা যায়। বাকী ২৩ জন কোনো রকমে বেঁচে যায়।
- হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত এ কাহিনী ‘অন্ধকূপ হত্যা’ নামে পরিচিত।
- ‘অন্ধক‚প-হত্যা’ কাহিনীর পেছনে কোনো ঐতিহাসিক সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায় না। শুধু নবাবের বিরুদ্ধে ইংরেজদেরকে উত্তেজিত করার জন্য এটি একটি কল্পিত-কাহিনী মাত্র। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬১.
সম্প্রতি বাংলাদেশের কোন জেলাকে হাম-রুবেলার ‘রেড জোন' হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. কক্সবাজার
  2. বান্দরবন
  3. খাগড়াছড়ি
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
২০২০ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজার জেলাকে শিশু রোগ হাম-রুবেলার ‘রেড জোন' হিসেবে সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয় ।
প্রতি ১০ হাজারে একজন শিশু আক্রান্ত হলে সেই জেলা বা উপজেলাকে সরকারিভাবে ‘রেডজোন’ ঘোষণা করা হয়।
এ সংখ্যা অতিক্রম করায় সরকারিভাবে কক্সবাজার জেলাকে হাম-রুবেলার ‘রেড জোন' ঘোষণা করা হয়।

উৎস: দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট
৪৬২.
তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র- 'সাপ্তাহিক সৈনিক' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদকমন্ডলির সভাপতি ছিলেন-
  1. শাহেদ আলী
  2. আবদুল গফুর
  3. আবুল কাশেম
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

• তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। 
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

৪৬৩.
বাংলাদেশের প্রধান জাহাজ নির্মাণ কারখানা কোথায় অবস্থিত?
  1. খুলনা
  2. বরিশাল
  3. পটুয়াখালী
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
জাহাজ নির্মাণ শিল্প:
- জাহাজ নির্মাণ শিল্প  বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শিল্পখাত। 
- বাংলাদেশের প্রধান জাহাজ নির্মাণ কারখানা খুলনায় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের ২০০ এর মতো জাহাজ নির্মাণ কোম্পানি রয়েছে যেগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও খুলনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
- বর্তমানে দেশে নৌপথে ছোট-বড় ১২৫০০ অধিক সংখ্যক জলযান মালামাল ও যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।
- এই সকল নৌযান তৈরিতে ২০টি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও ১০০টি স্থানীয় মানের শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ড রয়েছে। 
- আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিপইয়ার্ডগুলো বছরে গড়ে ১০০টি জাহাজ নির্মাণে সক্ষম।
- দেশে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০,০০০ DWT ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ নির্মাণ হচ্ছে। 
- বাংলাদেশে বঙ্গোপসাগরের একটি দীর্ঘ উপকূলীয় সীমারেখা ছাড়াও প্রায় ৭০০টি ছোট-বড় নদী রয়েছে। 
- দেশের তিন-চতুর্থাংশ মালামাল নৌপথে পরিবহন হয়।
- ২০০৮ সালে বাংলাদেশ জাহাজ রপ্তানি শুরু করে। 
- বিগত কয়েক বছরে দেশের শিপইয়ার্ডগুলো ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশে ৪০টি জাহাজ রপ্তানি করে ১৮০ মিলিয়ন ডলার আয়ের মাধ্যমে দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ভাবমূর্তি উন্নয়নে অবদান রেখেছে। 

উৎস: বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৪৬৪.
ঐতিহাসিক ছয় দফার কতটি দফা অর্থ সম্পর্কিত ছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষিত হয় ১৯৬৬ সালে।
- ছয় দফার ৩টি দফা অর্থ সম্পর্কিত ছিল।

দফা সমূহ:
- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৬৫.
কোন বিদেশী বণিকরা চট্টগ্রামের নামকরণ করেন পোর্টো গ্র্যান্ডে?
  1. পর্তুগীজ
  2. ফরাসি
  3. ডাচ
  4. ব্রিটিশ
ব্যাখ্যা
চট্টগ্রাম:
- চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও বাণিজ্যিক রাজধানী।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে।
- পর্তুগিজরা প্রথমে জন দ্য সিলভিরার নেতৃত্বে ১৫১৭ সালে এবং পরে আলফন্সো দ্য মিলোর নেতৃত্বে ১৫২৭ সালে চট্টগ্রাম দখলের ব্যর্থ চেষ্টা করে।
- তারা বাংলার সুলতান মাহমুদ শাহকে সাহায্য করার বিনিময়ে তার কাছ থেকে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়েরও অধিকার লাভ করে।
- এটিকে পর্তুগিজরা পোর্টো গ্র্যান্ডে নামকরণ করেন।
- জোয়াও ডি ব্যারোস ১৫৫২ সালে 'বাংলা রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ধনী শহর' হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।
- সাতগাঁও বন্দরের নামকরণ হয় ‘পোর্টো পেকুইনে’।
- ১৬৬৫-৬৬ সালে বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম অভিযান করে অতর্কিত আক্রমণে বন্দরটি দখল করে নেন।
- চট্টগ্রাম ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) Britannica.
৪৬৬.
কোন মোঘল সম্রাটের সময়ে ঢাকা প্রথম রাজধানী হয়?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী ১৬ জুলাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের জীবিতকাল পর্যন্ত এ নাম বজায় ছিলো।
- এর আগে সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো বিহারের রাজমহল। 
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতীকে রাজমহলের সুবেদার নিযুক্ত করেন।
- তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা সুবা বাংলার রাজধানী হলেও সুবা বাংলার রাজধানী বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে। 
- শাহ সুজা'র পতনের পর ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- এরপর দীর্ঘকাল পর ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা আবার তার গুরুত্ব ফিরে পায়।
- বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসামও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৬৭.
মুক্তিযুদ্ধে 'এস' ফোর্সের অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. মেজর খালেদ মোশাররফ
  2. মেজর কে. এম সফিউল্লাহ
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিবাহিনীকে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে ভাগ করা হয়েছিল।
- ফোর্সের নামকরণ করা হয় ব্রিগেডগুলোর অধিনায়কদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে।

• ব্রিগেড ফোর্সগুলোর নাম হলো:
- 'কে' ফোর্স, যার অধিনায়ক ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ।
- 'এস' ফোর্স, যার অধিনায়ক ছিলেন মেজর কে. এম সফিউল্লাহ।
-  'জেড' ফোর্স, যার অধিনায়ক ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।

উল্লেখ্য, 
- সামরিক ও বেসামরিক জনগণকে একত্রিত করে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়।
- মুক্তিবাহিনী দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল: নিয়মিত বাহিনী এবং অনিয়মিত বাহিনী।
- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল।
- গণবাহিনীতে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেক্টরে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।
- নিয়মিত বাহিনীতে ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্র বাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছিল।
- ১৪ এপ্রিল, কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশ বাহিনীর হেড কোয়ার্টার কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে স্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৮.
মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান কে?
  1. ধর্মপাল
  2. দেবপাল
  3. রামপাল
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায়:
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে।
- এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সময় উত্তর ভারতের আধিপত্য নিয়ে গুর্জর প্রতিহার, রাষ্ট্রকুট ও পালবংশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ধর্মপালের পর রাজা হলেন তাঁর পুত্র দেবপাল।
- তাঁর শাসনামলে পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।
- প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
- রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন।
- তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উৎম: ইতহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৯.
How many districts are there in our country?
  1. 66
  2. 60
  3. 64
  4. 19
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ:
- বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ।
- এই দেশের ভূখণ্ডগত বিস্তৃতি ১৪৭, ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার, যা গ্রীসের চাইতে সামান্য বড়।
- বাংলাদেশ ৮টি মূল প্রশাসনিক অঞ্চল সমন্বয়ে গঠিত, যা বিভাগ নামে পরিচিত। এগুলো হলো বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগ।
- এ সকল বিভাগের অধীনে রয়েছে ৬৪টি জেলা
- এই ৬৪টি জেলাকে বিভক্ত করা হয়েছে মোট ৪৯৫টি উপজেলায়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৭০.
সতীদাহ প্রথা হলো-
  1. ক) বিধবা বিবাহ প্রথা
  2. খ) সহমরণ প্রথা
  3. গ) বহুবিবাহ প্রথা
  4. ঘ) ধর্মান্তর প্রথা
ব্যাখ্যা
- সতীদাহ প্রথা হলো হিন্দু সমাজের একটি সহমরণ প্রথা যেখানে স্বামীর শবের সাথে বিধবা স্ত্রীকেও দাহ করা হতো।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৯ সালে আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা রহিত করেন।
- তবে এ প্রথা পুরোপুরি বন্ধ হয় উনিশ শতকের শেষ দিকে।
- রাজা রামমোহন রায়সহ আরো কিছু ভারতীয় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৪৭১.
কার সভাপতিত্বে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়?
  1. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. কাজী গোলাম মাহবুব
  3. অধ্যাপক আবুল কাসেম
  4. অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
• তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।
• ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
• ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
• ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

এছাড়াও,
- ১৯৫২ সালের ৩০শে জানুয়ারি বিকেলে বার লাইব্রেরী হলে ঢাকার ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিবিদ ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক নিযুক্ত করে একটি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠন করা হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়। এটিই ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৪৭২.
ঐতিহাসিক ছয় দফা কে ঘোষণা করেন?
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক
  3. গ) মাওলানা ভাসানী
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয়দফা দাবি
- ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের নেতৃবৃন্দের এক কনভেনশনে শেখ মুজিবুর রহমান যে ছয়দফা দাবিনামা উত্থাপন করেছিলেন তা আদায়ের জন্য তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ইতিহাসে তা ‘ঐতিহাসিক ছয়দফা আন্দোলন' নামে অভিহিত হয়ে আছে। 
- তিনি ছয়দফা ভিত্তিক আন্দোলনও গড়ে তোলেন।
- ছয়দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
- ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় ঘোষিত ১১ দফা দাবির মধ্যে ৬ দফা দাবিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু ছয়দফাকে নির্বাচনী ম্যান্ডেট হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ছয়দফার আন্দোলনে স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৩.
কোন যুগে প্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে?
  1. পাল যুগে
  2. সেন যুগে
  3. গুপ্ত যুগে
  4. মৌর্য যুগে
ব্যাখ্যা
নালন্দা মহাবিহার 
- ভারতের বিহারে অবস্থিত নালন্দা মহাবিহার প্রাচীন ভারতের একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। এটিকে পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় বিবেচনা করা হয়।
- ধারণা করা হয় যে, গুপ্ত সম্রাটগণই নালন্দা মহাবিহারের নির্মাতা এবং সম্রাট প্রথম কুমারগুপ্তই সম্ভবত এক্ষেত্রে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- বাঙালি বৌদ্ধ পণ্ডিত শীলভদ্র ৬৩৫ সালে নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ শীলভদ্রের নিকট শিক্ষা লাভ করেন।
- হিউয়েন-সাং-এর ভ্রমণের ৩০ বছরের মধ্যে ই-ৎসিঙ (৬৭৫ থেকে ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১০ বছর এখানে শিক্ষাগ্রহণ করেন) সহ কমপক্ষে ১১ জন কোরীয় ও চৈনিক তীর্থযাত্রীসহ বিশিষ্টজনেরা নালন্দা ভ্রমণ করেন বলে জানা যায়।
- বারো শতকের দিকে নালন্দা তার গুরুত্ব হারায়। 

রেফারেন্স: বাংলাপিডিয়া
৪৭৪.
নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বেগম রোকেয়া পদক-২০২৩ লাভ করেন কে?
  1. রণিতা বালা।   
  2. চিকিৎসক হালিদা হানুম আখতার। 
  3. খালেদা একরাম (মরণোত্তর)
  4. কামরুন্নেছা আশরাফ দিনা (মরণোত্তর)
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া পদক-২০২৩:
- নারী কল্যাণ সংস্থা ১৯৯১ সাল থেকে রোকেয়া পদক দেওয়া শুরু করে। ১৯৯৬ সাল থেকে সরকারিভাবে ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবসে এই পদক দেওয়া শুরু হয়।
- ২০২৩ সালের পদকপ্রাপ্তরা হলেন -
→ নারী শিক্ষায় - খালেদা একরাম (মরণোত্তর)।    
→ নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় - চিকিৎসক হালিদা হানুম আখতার।    
→ নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে - কামরুন্নেছা আশরাফ দিনা (মরণোত্তর)।
→ পল্লী উন্নয়নে - রণিতা বালা।   
→ নারী জাগরণে উদ্বুদ্ধকরণে - নিশাত মজুমদার।

তথ্যসূত্র: মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৪৭৫.
২৫ মার্চ ১৯৭১-এর গণহত্যার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশি সাংবাদিক কে ছিলেন?
  1. মার্ক টালি
  2. এ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস
  3. সাইমন ড্রিং
  4. মাইকেল লরেন্ট
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং:
- সাইমন ড্রিং (জন্ম ১৯৪৫) একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক ও পরিচালক এবং ২৫শে মার্চ বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশী সংবাদদাতা।
- তিনি লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল, দ্য সানডে টাইমস, নিউজউইক, বিবিসি টেলিভিশন রেডিও নিউজ, রয়টার প্রভৃতি গণমাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন।
- ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে চালুকৃত প্রথম বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশন-এর তিনি যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। 

⇒ দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ কম্বোডিয়া থেকে ঢাকায় আসেন সাইমন ড্রিং।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট নামে বাঙালিদের ওপরে সশস্ত্র আক্রমণ ও গণহত্যা, ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ইত্যাদি পটভূমিতে শুরু হয় ৯ মাসব্যাপী বাঙালিদের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, যাতে ৩০ লক্ষ বাঙালিকে জীবনদান ও কয়েক লক্ষ মা-বোনকে সম্ভ্রম বিসর্জন দিতে হয়।

⇒ ২৫শে মার্চ রাতে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পূর্বে শাহবাগস্থ তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ২শর মতো বিদেশী সাংবাদিককে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কঠোর প্রহরায় বিশেষ কক্ষে আবদ্ধ করে রাখে। তাঁদের মধ্যে লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রতিনিধি সাইমন ড্রিংও ছিলেন।
- সকলকে পরের দিন প্লেনে তুলে পাঠিয়ে দেয়া হলেও সাইমন ড্রিং ও এসোসিয়েটেড প্রেসের ফটোগ্রাফার মাইকেল লরেন্ট  লুকিয়ে থেকে নিজেদের সাময়িকভাবে রক্ষা করতে সক্ষম হন।
- ২৭শে মার্চ কিছু সময়ের জন্য কারফিউ তুলে নেয়া হলে তাঁরা দুজন ঢাকা শহরে বেড়িয়ে পড়েন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল (বর্তমান জহুরুল হক হল), জগন্নাথ হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধুর ৩২নং ধানমন্ডির বাস ভবন, রেসকোর্সের কালীবাড়ি মন্দির, পুরনো ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাসহ ২৫শে মার্চ রাত থেকে শুরু করে পাকহানাদারদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত ঢাকা নগরীর বিভিন্ন স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাইমন ড্রিং একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন।
- এটি ৩০শে মার্চ, ১৯৭১ লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'Tanks Crush Revolt in Pakistan 7,000 slaughtered: Homes burned' শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় তিন কলামে সাইমন ড্রিং (তখন বয়স ২৭)-এর ছবিসহ সবিস্তার ছাপা হয়।
- বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৫শে মার্চের হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশী সাংবাদিকের এটিই ছিল প্রথম প্রতিবেদন।
- এটি প্রকাশিত হওয়ার পর ঢাকায় সে রাতে ও পরবর্তী দুদিন পাকবাহিনী কী নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল, সে সম্বন্ধে বিশ্ববাসী জানতে পারে।

উৎস: i) সংগ্রামের নোটবুক।
ii) দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা।

৪৭৬.
মুক্তিযুদ্ধে মোট সাব-সেক্টর কয়টি ছিল?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ৫৪ টি
  3. গ) ৬৪ টি
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টর ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়। ৬৪ ট সাব-সেক্টর পরবর্তীতে ৬৪ টি জেলা হয়। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
৪৭৭.
মাওলানা ভাসানী সেতু কোন নদীর উপর অবস্থিত?
  1. ধলেশ্বরী
  2. করতোয়া
  3. তিস্তা
  4. কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা

মাওলানা ভাসানী সেতু:
- গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে ‘মওলানা ভাসানী সেতু’। 
- সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৪৯০ মিটার ও প্রস্থ ৯.৬০ মিটার।
- মোট ৩০টি পিলার ও ৩১টি স্প্যান।
- সেতুটির লেন সংখ্যা ২টি। 
- এটি একটি প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার সেতু।
- সেতুটির মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। 

⇒ বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওফিড) অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা।
- সেতুটির মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। 

উৎস: প্রথম আলো।

৪৭৮.
'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আপেল মাহমুদ
  2. খ) আবদুল হাদী
  3. গ) গোবিন্দ হালদার
  4. ঘ) আব্দুল জব্বার
ব্যাখ্যা
গোবিন্দ হালদার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত গান-
'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না।',
'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি....',
'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে.....'
৪৭৯.
শরিফ শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শরিফ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়
  3. করাচি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
- এই কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ।

উল্লেখ্য,
- কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শরিফ আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে আইয়ুবের শিক্ষক ছিলেন।
- ১৯৬০ সালের প্রথম দিকে শরিফ কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- তবে সামরিক আইন জারি থাকায় তখন আন্দোলন তেমন জোরদার হতে পারেনি।
- ১৯৬২ সালে সামরিক আইন প্রত্যাহার হওয়ায় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।
- আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে ১৪৪ ধারার মধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়।
- এদিন ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে, পুলিশের বাধার মুখেও ছাত্রদের মিছিল এগিয়ে গেলে পুলিশ গুলি চালায়।
- এতে মোস্তফা ও বাবুল নামের দুজন ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং পরদিন গুলিবিদ্ধ ওয়াজিউল্লাহ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ছাত্র আন্দোলনের মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত শরিফ কমিশন রিপোর্টের বাস্তবায়ন স্থগিত ঘোষণা করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৪৮০.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কয়টি আসন লাভ করে?
  1. ক) ২২৩টি
  2. খ) ১৫০টি
  3. গ) ২৪০টি
  4. ঘ) ৩০৯টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন:

- যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে। 
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ পূর্ব বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন লাভ করে।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিলো নৌকা।
- নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৪৮১.
কতটি জেলা নিয়ে ঢাকা বিভাগ গঠিত?
  1. ১২টি
  2. ১৩টি
  3. ১৪টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিভাগ:

- ১৮২৯ সালে ঢাকা বিভাগ গঠিত হয়।
- ১৮৬৪ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয় এবং ১৯৬০ সালে এটিকে টাউন কমিটিতে রূপান্তর করা হয়।
- ১৯৭২ সালে টাউন কমিটি বিলুপ্ত করে পৌরসভায় রূপান্তর করা হয় এবং ১৯৮৩ সালে একে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়।
- ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হয়।
- ঢাকা বিভাগে জেলার সংখ্যা ১৩টি।
- উপজেলার সংখ্যা ৮৯টি।
- সংসদীয় আসন ৭০টি।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিভাগ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৪৮২.
তমুদ্দিন মজলিস সংগঠনটি কিসের সাথে জড়িত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. শাসনতন্ত্র আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের পটভূমি:
- ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হয়। তৎকালীন পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের একটি অংশে পরিণত হয়।
- পাকিস্তান নামক এই নতুন রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী প্রথমেই বাঙালিকে শোষণ করার কৌশল হিসেবে বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হানে।
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
- সে সময় মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতারা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মতামত দেন।
- তখনই আবদুল হক ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ বাংলার বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী ও লেখকগণ এর প্রতিবাদ করেন।
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়।
- তমদ্দুন মজলিস ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে।
- যেখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
- তমুদ্দিন মজলিস সংগঠনটি ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৮৩.
কার সময়ে বাংলা প্রদেশকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয়?
  1. ক) লর্ড চেমসফোর্ড
  2. খ) লর্ড কার্জন
  3. গ) লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. ঘ) লর্ড মিন্টু
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তৎকালীন বড়লাট লর্ড কার্জন বিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করেন যা ‘বঙ্গভঙ্গ’ নামে পরিচিত।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করে এবং সহিংস আন্দোলন শুরু করে। ফলে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে লর্ড হার্ডিঞ্জের সময়ে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- এতে করে ১৯১২ সালের ১ এপ্রিল পুনরায় দুই বাংলা একত্রিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৮৪.
তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন?
  1. রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  2. পদার্থবিজ্ঞান
  3. সমাজকল্যান 
  4. লোক প্রশাসন
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলনের পটভূমি:
- ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়।
- তৎকালীন পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের একটি অংশে পরিণত হয়।
- পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা, সংস্কৃতি কোনো কিছুরই মিল ছিল না।
- পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) দুইটি ভূখণ্ডকে এক করা হয় শুধু ধর্মের ভিত্তিতে।
- উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মতামত দেন।
- তখনই ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ বাংলার বুদ্ধিজীবী, লেখকগণ এর প্রতিবাদ করেন।
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- এবং একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশিত হয়।
- পুস্তিকাটিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৮৫.
প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অবস্থান মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল?
  1. গৌড়
  2. রাঢ়
  3. হরিকেল
  4. বঙ্গ
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- 'গৌড়' নামটি সুপরিচিত হলেও প্রাচীনকালে ঠিক কোথায় গৌড় জনপদটি গড়ে উঠেছিল তা জানা যায়নি।
- তবে ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৮৬.
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধিস্থল কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. যশোর
  2. চাপাইনবাবগঞ্জ
  3. ঢাকা
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা

• বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধিস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- 'বীরশ্রেষ্ঠ' মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
- পিতা আব্দুল মোতালেব হাওলাদার ছিলেন কৃষক ও শৌখিন গাইয়ে এবং মা সাফিয়া বেগম ছিলেন গৃহিণী।
- পিতার আর্থিক দৈন্যতার কারণে মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে মামার বাড়ি মুলাদি উপজেলার পাতারচর গ্রামে গমন করেন।
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- তার পোস্টিং হয় ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরে।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করা হয়।
- তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউস সংলগ্ন নবনির্মিত রাস্তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর' সড়ক নামকরণ করা হয়। 

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৪৮৭.
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ কে?
  1. সাফকাত সামির
  2. আব্দুল আহাদ
  3. শাহেদ আলম 
  4. রিজভী রহমান
ব্যাখ্যা

জুলাই আন্দোলনে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ:
- ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ আব্দুল আহাদ।

⇒ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিহত হয় ৪ বছরের শিশু আব্দুল আহাদ। 
- শহীদ হওয়া সবচেয়ে ছোট শিশুর বয়স ৪ বছর। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে নিজ বাসার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিল সে। পরদিন ২০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

⇒ আহাদের মতোই বাসায় থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে আরও তিন শিশু।
- তারা হলো রাজধানীর মিরপুরে সাফকাত সামির (১০), উত্তরায় নাঈমা সুলতানা (১৫) ও নারায়ণগঞ্জে রিয়া গোপ (৬)।

উল্লেখ্য,
- জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে কমপক্ষে ১৩৩ শিশু শহীদ হয়েছে। তাদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শ্রমে নিয়োজিত শিশুরাও রয়েছে। এই শিশুদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল ১১৭ জন।

এছাড়াও,
- শিশু বলতে ১৮ বছরের কম বয়সীদের বোঝানো হয়েছে। বাংলাদেশের শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী সবাই শিশু।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী, শহীদের সংখ্যা এখন ৮৩৬ জন।

উৎস: i) জুলাই আর্কাইভ।
ii) প্রথম আলো।

৪৮৮.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে কারাগারে রাজবন্দী অবস্থায় ‘আমার দেখা নয়াচীন’ গ্রন্থের পান্ডুলিপি রচনা করেন?
  1. ১৯৫২
  2. ১৯৫৩
  3. ১৯৫৪
  4. ১৯৫৫
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর লেখা বইসমূহ:

- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বই কারাগারের রোজনামচা ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন শেখ রেহানা। এই বইও বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে রচনা করেন।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেলখানার জীবনের ওপর লেখা বইয়ের নাম ‘৩০৫৩ দিন’।
- বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে।
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কারা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা বিভাগের তদারকিতে বইটি প্রকাশিত হয়েছে।
- বঙ্গবন্ধুর লেখা তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।
- ১৯৫৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে রাজবন্দী হিসেবে বন্দী থাকা অবস্থায় এ বইয়ের লিপিবদ্ধ স্মৃতিকথা গুলো তুলে ধরেছিলেন

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ই আগস্ট ২০২০, দৈনিক কালের কন্ঠ, ৩০ জুলাই, ২০১৮ ও দৈনিক ইত্তেফাক, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
৪৮৯.
মোগল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট কে ছিলেন?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  3. শাহ আলম
  4. ফররুখশিয়ার
ব্যাখ্যা
মোগল সাম্রাজ্যের পতন:

- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোগল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মোগল সাম্রাজ্য পতনের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বহিঃআক্রমন প্রভৃতি বিষয়কে দায়ী করা হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯০.
ইস্কান্দার মীর্জাকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন কে?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. আইয়ুব খান
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখল: 
- ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন।
- ১৯৫৮ সালের ২৭শে অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মীর্জাকে উৎখাত ও দেশত্যাগে বাধ্য করে ক্ষমতা দখল করেন।
- তিনি নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করে যেসব পদক্ষেপ নেন তা হলো:
১. নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা,
২. পূর্ব ঘোষিত ১৯৫৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন স্থগিত করা,
৩. দুর্নীতি ও চোরাচালান দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা ও
৪. রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৯১.
মুজিবনগরে ১৯৭১ সালের কোন তারিখ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়েছিলো?
  1. ক) ২৬ মার্চ
  2. খ) ১০ এপ্রিল
  3. গ) ১৭ এপ্রিল
  4. ঘ) ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
[সূত্র : বাংলাপিডিয়া ]

৪৯২.
১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়?
  1.  ৪ 
  2. ১০
  3. ১১
  4. ক+গ
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ: 
- যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে প্রথমে ১০ এপ্রিল ৪টি সামরিক জোনে এবং পরবর্তীকালে জুলাইতে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল যারা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- দেশের ছাত্র, যুবক, কৃষক, নারী, রাজনৈতিক দলের কর্মী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এই বাহিনীতে।
- আতাউল গণি ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি।
- তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস- এর বাঙালি সদস্য সমন্বয়ে গঠিত সৈন্য ব্যাটেলিয়ান ই পি আর পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মুক্তি বাহিনীর নিয়মিত বাহিনী গঠন করা হয়। 
- নিয়মিত সেনা ব্যাটেলিয়ান পরে তিনটি বিগ্রেডে পরিণত হয় যথাক্রমে এস ফোর্স, জেড ফোর্স এবং কে ফোর্স।
   
উৎসঃ  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৩.
২১ ফেব্রুয়ারির পূর্বে রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালিত হতো-
  1. ২৩ ফেব্রুয়ারি
  2. ১১ মার্চ
  3. ১৪ আগস্ট
  4. ২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা

প্রথম রাষ্ট্রভাষা দিবস:
- ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ একটি অবিস্মরণীয় ও যুগান্তকারী দিন।
- ২১ ফেব্রুয়ারির পূর্বে ১১ মার্চই রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালিত হতো।
- ১৯৪৯, ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চের ঘটনার পরের বছর (১৯৪৯) প্রথমবারের মতো দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত আন্দোলনের আগপর্যন্ত, অর্থাৎ ১৯৫১ সাল পর্যন্ত, ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল।

উৎস: i) প্রথম আলো।
         ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

৪৯৪.
Two foreign nationals, among others, who played valiant roles for Bangladesh during the Liberation War of 1971, are -
  1. Andre Marty and William AS Ouderland
  2. Andre Malraux and William AS Ouderland
  3. Marshal Zukuv and Andre Gide
  4. James Hilton and SE Finer
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে বিদেশি নাগরিকের অবদান:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ফরাসী ঔপন্যাসিক Andre Malraux ও অস্ট্রেলিয় নাগরিক William AS Ouderland বিশেষ অবদান রেখেছিলেন।

⇒ আন্দ্রে মালরাক্স:
- আন্দ্রে মালরাক্স বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভিনদেশী এক সহযোদ্ধা।
- ফ্রান্সের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক ও লেখক।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে ফ্রান্সের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবেও অংশ নেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আন্দ্রে মালরাক্স ফ্রান্সে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
- ফ্রান্স সরকারকে উদ্দেশ্য করে তাঁর আকুতি ছিল: আমাকে একটি যুদ্ধ বিমান দাও, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য শেষ লড়াইটা করতে চাই।
- তাঁর এই আন্দোলন বক্তৃতা, বিবৃতি আন্তর্জাতিক প্রেরণা হয়ে সেসময় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, ১৯৭৩ সালে তাঁকে বাংলাদেশে এনে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

⇒ উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক ডব্লিও এ এস ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ১৯৭০ সালে তিনি বাটা সু কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশে আসেন।
- মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২নং সেক্টরে কাজ করেন।
- তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ, আর্থিক সহায়তা এবং সকল সম্ভাব্য উপায়ে সাহায্য করতেন।
- দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত যান।
- ওই বছরই বাংলাদেশ সরকার তাঁকে চতুর্থ সামরিক খেতাব 'বীরপ্রতীক' প্রদান করে।
- ১৮ মে, ২০০১ সালে তিনি মারা যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৪৯৫.
BIDA এর পূর্ণরূপ -
  1. ক) Bangladesh Investment and Development Agency
  2. খ) Bangladesh Investment Development Authority
  3. গ) Bangladeshi Investor and Developer Association
  4. ঘ) Bangladesh Investor and Developer Authority
ব্যাখ্যা
- BIDA এর পূর্ণরূপ Bangladesh Investment Development Authority.
- (BIDA) বা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটি ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। 

- BIDA’র চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
- এটির কাজ হলো বেসরকারি বিনিয়োগ বিশেষত বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সুবিধাদি প্রদান করা।

(সূত্রঃ বেপজা ওয়েবসাইট)
৪৯৬.
আজকে (২৩ মার্চ, ২০২৪) বাংলা মাসের কত তারিখ?
  1. ৯ চৈত্র ১৪৩০
  2. ৯ ফাল্গুন ১৪২৯
  3. ১০ চৈত্র ১৪৩০
  4. ১১ চৈত্র ১৪২৯
ব্যাখ্যা
- এই প্রশ্নটির পরিক্ষা যেদিন হয়েছিলো সেদিনের তারিখ জানতে চাওয়া হয়েছে। 
- পরিক্ষার তারিখটি ছিল শনিবার ০৯ই চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২৩শে মার্চ ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ, ১২ রমজান ১৪৪৫ হিজরি।

তথ্যসূত্র: BANGLA DATE TODAY.
৪৯৭.
আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কবে জারি করা হয়?
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
[সূত্র : বাংলাপিডিয়া ]
৪৯৮.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে কে?
  1. আইয়ুব খান সরকার
  2. মোনায়েম খান সরকার
  3. জুলফিকার আলী ভুট্টো সরকার
  4. ইয়াহিয়া খান সরকার
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:

- ১৯৬৮ সালের আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৯৯.
'ধনধান্য পুষ্প ভরা' - দেশাত্মবোধক গানটির রচিয়তা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 
- গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল। 
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটির ১৯০৯ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম প্রথম নাটক রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নারী মুক্তিযােদ্ধা কতজন?
  1. ক) ৫৭০ জন
  2. খ) ৪৫০ জন
  3. গ) ৩০৭ জন
  4. ঘ) ২০৩ জন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ। নারী-পুরুষনির্বিশেষে সবাই–ই সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।

- গত ১৮ নভেম্বর ২০১২ জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ২০৩ জন নারী অংশ নিয়েছিলেন ।
- পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ২১ জন নারী ছিলেন দিনাজপুরের ।
- এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৫ , যশোর ও গোপালগঞ্জে ৯ , সুনামগঞ্জ ও পঞ্চগড়ে ৮ , সিলেট ও বরিশালে ৭ জন নারী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন ।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ৩ জন।

উৎস: ইনকিলাব রিপোর্ট