বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৪৯ / ১২৪ · ৪,৮০১৪,৯০০ / ১২,৪২১

৪,৮০১.
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড নিম্নের কোনটি উৎপাদন করে?
  1. ক) বিদ্যৎ
  2. খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. গ) ফার্নেস তেল
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র তেল শোধনাগার।
- এটি ১৯৬৮ সালের ৭ মে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে।
- এর বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লক্ষ টন।
- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এটির শতভাগ শেয়ারের মালিক।
- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ও সিঙ্গাপুরে অবস্থিত সেল ইস্টার্ন পেট্রোলিয়াম লিঃ কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ চট্টগ্রামস্থ ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এ অপরিশোধিত খনিজ তেল ও পেট্রোলিয়াম শোধন করে। 
- এখানে উপজাত হিসেবে ন্যাপথা ও ফার্নেস তেল উৎপাদিত হয় যা দেশের চাহিদা পূরণের পর রপ্তানি করা হয়।

উৎসঃ বিপিসি ও ইআরএল ওয়েবসাইট; অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
৪,৮০২.
বন্দুকের গুলি ছুড়ে সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা কে করেন?
  1. ক) বাহাদুর শাহ
  2. খ) নানা সাহেব
  3. গ) মঙ্গল পান্ডে
  4. ঘ) সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি
ব্যাখ্যা
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কতৃক শোষণ, নিপীড়ন ও সৈনিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের পেক্ষাপটে সিপাহিদের নেতৃত্বে সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে নামে এক সিপাহি।
- দ্রুতই এই বিদ্রোহটি  ভারতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল ছিল।
- এই যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন নানা সাহেব, ঝাঁসির রানি লক্ষ্ণীবাঈ, আযোদ্ধার বেগম হজরত মহল, মৌলভি আহমদ উল্লাহসহ ক্ষুব্ধ বঞ্চিত দেশীয় রাজন্যবর্গ। ১৮৫৮ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সব আন্দোলন শেষ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৮০৩.
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের সময় নিচের কে শহীদ হন?
  1. রফিক
  2. কামাল
  3. আসাদ
  4. মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• ৬২ শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূল কারন  শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
- এই কমিশন গঠিত হয়েছিল ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৮ সালে।
- আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারির পর।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ।
- এবং সে কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- ১৯৬২ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। 
- ১৪৪ ধারা জারি করা হয় ঐদিন পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।
- মোস্তফা ও বাবুল নামে দুজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
- পরদিন গুলিবিদ্ধ ওয়াজিউল্লাহ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে।
- ছাত্র আন্দোলনের মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত শরিফ কমিশন রিপোর্টের বাস্তবায়ন স্থগিত ঘোষণা করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রথম আলো।
৪,৮০৪.
প্রাচীন সমতটের রাজধানী-
  1. সুবর্ণপুর
  2. বড় কামতা
  3. মহাস্থানগড়
  4. কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা
• সমতট:
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান।
সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট।
বর্তমানে নোয়াখালি, কুমিল্লা অঞ্চল প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪,৮০৫.
'আমাদের বাঁচার দাবি: ৬-দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক পুস্তিকা প্রচার করা হয় কার নামে?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. খাজা নাজিমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের লাহোরে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। 
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়।
 - ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রচার করা হয়।
- ৬ দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য-পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র।
- ৬ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে এই ফেডারেল রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন দিতে হবে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃমোজাম্মেল হক।
৪,৮০৬.
বর্তমানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বয়স্ক মাসিক ভাতার হার -
  1. ৫৫০ টাকা
  2. ৬০০ টাকা
  3. ৬৫০ টাকা
  4. ৭০০ টাকা
ব্যাখ্যা
বয়স্ক ভাতা:
- দেশের উপার্জনে অক্ষম বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে ‘বয়স্কভাতা’ কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়।
- প্রাথমিকভাবে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলাসহ ১০ জন দরিদ্র বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রতিমাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়।
- পরবর্তীতে দেশের সকল পৌরসভা ও সিটিকর্পোরেশন এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হয়।
- বর্তমান সরকার ২০০৯-১০ অর্থবছরে জনপ্রতি মাসিক ভাতার হার ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় উন্নীত করে।
- ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৫৭ লক্ষ ১ হাজার বয়স্ক ব্যক্তিকে জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়।
- বর্তমানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫৭.০১ লক্ষ থেকে ৫৮.০১ লক্ষ জনে এবং মাসিক ভাতার হার ৫০০ টাকা হতে ৬০০ টাকায় উন্নীতকরণ করা হয়।
- বর্তমানে সকল উপকারভোগীকে নগদ ও বিকাশ এবং এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে জিটুপি পদ্ধতিতে (গভর্মেন্ট টু পারসন) ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

উৎস: i) dss.gov.bd.
         ii) ২০২৩-২৪ জাতীয় বাজেট।
৪,৮০৭.
কোন আমলে 'মসলিন কাপড়' ঢাকায় তৈরি হতো?
  1. পাল আমলে
  2. সেন আমলে
  3. মুঘল আমলে
  4. ইংরেজ আমলে
ব্যাখ্যা
মসলিন কাপড়:
- মসলিন ‘ঢাকাই মসলিন’ নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত এক ধরনের মিহি সুতিবস্ত্র।
- ঢাকা শহর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থানীয় কারিগররা ফুটি কার্পাস নামক তুলা থেকে তৈরি অতি চিকন সুতা দিয়ে মসলিন প্রস্তুত করত।
- মুঘল আমলে প্রাচীন বাংলার গৌরব মসলিন কাপড় ঢাকায় তৈরী হতো।

⇒ মুঘল আমলে বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে ঢাকাই মসলিনের খ্যাতি বেড়ে যায়।
- মুঘল সম্রাট ও অভিজাতরা ঢাকার মসলিন শিল্পের প্রসারে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- সে সময়ে সম্রাট, প্রাদেশিক শাসনকর্তা এবং পদস্থ কর্মকর্তা ও অভিজাতদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর পরিমাণে সূক্ষ্ম মসলিন বস্ত্র সংগ্রহ করা হতো।
- সম্রাট, উজির, নওয়াব ও অভিজাত শ্রেণির জন্য বোনা হতো সূক্ষ্ম ও মিহি বস্ত্র এবং দরিদ্রদের জন্য মোটা ও ভারী কাপড়।
- কাপড়ের সূক্ষ্মতা ও স্বচ্ছতা, উৎপাদনের উৎস এবং ব্যবহারভেদে ঢাকাই মসলিনের মলমল, ঝুনা, রঙ্গ, আবিরাওয়ান, খাস, শবনম, আলাবালি, তনজিব, নয়ন-সুখ, জামদানি ইত্যাদি নাম দেওয়া হতো।
- বিভিন্ন রকম মসলিনের মধ্যে জামদানি এখনো প্রচলিত।

⇒ কথিত আছে, মসলিনে তৈরি করা পোশাকগুলো এতই সূক্ষ্ম ছিল যে ৫০ মিটার দীর্ঘ মসলিনের কাপড়কে একটি দিয়াশলাই বাক্সে ভরে রাখা যেত।

উল্লেখ্য,
- ঢাকাই মসলিনের শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল লন্ডনে ১৮৫০ সালে।
- ইতিমধ্যেই ঢাকাই মসলিনের জিআই স্বত্বের অনুমোদন পাওয়া গেছে। 

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পঞ্চম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
৪,৮০৮.
বাংলাদেশে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' প্রণীত হয় -
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ক কার্যক্রমকে সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক ও শক্তিশালী করা এবং সকল ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাঠামো গড়িয়া তুলিবার নিমিত্ত বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।
- ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই আইন প্রণীত হয়।
- ২০১২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে। 
- বাংলাদেশের সংসদে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২' পাসের মাধ্যমে এই অধিদপ্তর গঠিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৪,৮০৯.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালে সাইমন ড্রিং কোন সংবাদপত্রের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন?
  1. দ্য টাইমস
  2. দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ
  3. দ্য গার্ডিয়ান
  4. দ্য সানডে টাইমস
ব্যাখ্যা

• সাইমন ড্রিং: 
- ১৯৪৫ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম সাইমন ড্রিংয়ের।
 - মাত্র ১৮ বছর বয়স থেকে তিনি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
 - সাংবাদিক হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছেন ২২টি যুদ্ধ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লব।
 - আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রকৃত বন্ধু এবং সহযোদ্ধার।

⇒ দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ কম্বোডিয়া থেকে ঢাকায় আসেন সাইমন ড্রিং।
- ১৯৭১ সালের ২৫মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করার আগে ঢাকায় অবস্থানরত প্রায় অর্ধশত বিদেশি সাংবাদিককে আটকে ফেলে তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে।
- তাদের হোটেল থেকে সরাসরি বিমানে তুলে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় যাতে গণহত্যার কোনো খবর সংগ্রহ করতে না পারে বিশ্ব গণমাধ্যম। তাদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং।
- পাকিস্তানি সামরিক আইন না মেনে তিনি হোটেলে লুকিয়ে পড়েন। শ্বাসরুদ্ধকর ৩২ ঘণ্টা সময় কাটে হোটেলের লবি, ছাদ, বার, কিচেনের মত জায়গায়। পরে তিনি ঘুরে ঘুরে প্রত্যক্ষ করেন গণহত্যার বাস্তব চিত্র। ২৭ মার্চ কারফিউ উঠে গেলে সায়মন ড্রিং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকাসহ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘুরে দেখেন।
- নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম খবর প্রকাশ করেন ৩০ মার্চ ১৯৭১, ডেইলি টেলিগ্রাফে।
- কলকাতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের খবর সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিতেন লণ্ডনের টেলিগ্রাফ পত্রিকায়।
- ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর লন্ডনে ফিরে গেলেও ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত জেনে আবার তিনি ঢাকায় আসেন।
- একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই ব্রিটিশ সাংবাদিককে ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননায় ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার।

তথ্যসূত্র: দৈনিক সমকাল, প্রথম আলো, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা ও সংগ্রামের নোটবুক। 

৪,৮১০.
কোন সংশ্লিষ্টতার কারণে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে আন্দোলন করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়?
  1. ক) কর্ডন প্রথা বিরোধী আন্দোলন
  2. খ) বাংলা ভাষার পক্ষে প্রচারণা
  3. গ) দাওয়ালদের বিপক্ষে আন্দোলন
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশ ভাগের পরপরই দেশের অভ্যন্তরে ধান-চাল চলাচলে ‘কর্ডন প্রথা’ চালু করা হয়। ‘কর্ডন প্রথা’ চালু করা হয়েছিল তৎকালীন পূর্ব-বাংলার ১৭টি জেলাতে। যে সমস্ত জেলায় তখন ‘কর্ডন প্রথা’ চালু ছিল সেসব জেলার বাইরে কোনো ধান-চাল বেসরকারিভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। প্রান্তিক চাষিদের জন্য লড়াই করতে গিয়েই তিনি ১৯৪৮-৪৯ সালে ‘দাওয়াল’ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

এ কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে আন্দোলন করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় এবং  ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২১ শে জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করা হল -
এই সময় খাদ্য সমস্যা দেখা দিয়েছিল কয়েকটা জেলায়। বিশেষ করে ফরিদপুর, কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার জনসাধারণ এক মহাবিপদের সম্মুখীন হয়েছিল। সরকার কর্ডন প্রথা চালু করেছিল। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কোনো খাদ্য যেতে দেওয়া হত না। ফরিদপুর ও ঢাকা জেলার লোক, খুলনা ও বরিশাল ধান কাটবার মরশুমে দল বেঁধে দিনমজুর হিসাবে যেত। এরা ধান কেটে ঘরে উঠিয়ে দিত। পরিবর্তে একটা অংশ পেত। এদের ‘দাওয়াল’ বলা হত। হাজার হাজার লোক নৌকা করে যেত। আসবার সময় তাদের অংশের ধান নিজেদের নৌকা করে বাড়িতে নিয়ে আসত। এমনিভাবে কুমিল্লা জেলার দাওয়ালরা সিলেট জেলায় যেত। এরা প্রায় সকলেই গরিব ও দিনমজুর। প্রায় দুই মাসের জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে এদের যেতে হত। যাবার বেলায় মহাজনদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে সংসার খরচের জন্য দিয়ে যেত। ফিরে এসে ধার শোধ করত। দাওয়ালদের নৌকা খুবই কম ছিল। যাদের কাছ থেকে নৌকা নিত তাদেরও একটা অংশ দিতে হত। যখন এবার দাওয়ালরা ধান কাটতে গেল, কেউ তাদের বাধা দিল না। এরা না গেলে আবার জমির ধান তুলবার উপায় ছিল না। একসাথেই প্রায় সব ধান পেকে যায়, তাই তাড়াতাড়ি কেটে আনতে হয়। স্থানীয়ভাবে এত কৃষাণ একসাথে পাওয়া কষ্টকর ছিল। বহু বৎসর যাবৎ এই পদ্ধতি চলে আসছিল।

ফরিদপুর, ঢাকা ও কুমিল্লা জেলার হাজার হাজার লোক এই ধানের উপর নির্ভর করত। দাওয়ালরা যখন ধান কাটতে যায়, তখন সরকার কোনো বাধা দিল না। যখন তারা দুই মাস পর্যন্ত ধান কেটে তাদের ভাগ নৌকায় তুলে রওয়ানা করল বাড়ির দিকে তাদের বুভুক্ষ মা-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের খাওয়াবার জন্য, যারা পথ চেয়ে আছে, আর কোনো মতে ধার করে সংসার চালাচ্ছে- কখন তাদের, স্বামী, ভাই, বাবা ফিরে আসবে ধান নিয়ে, পেট ভরে কিছুদিন ভাত খাবে, এই আশায়- তখন নৌকায় রওয়ানা করার সাথে সাথে তাদের পথ রোধ করা হল। ‘ধান নিতে পারবে না, সরকারের হুকুম’, ধান জমা দিয়ে যেতে হবে, নতুবা নৌকাসমেত আটক ও বাজেয়াপ্ত করা হবে। সহজে কি ধান দিতে চায়? শেষ পর্যন্ত সমস্ত ধান নামিয়ে রেখে লোকগুলিকে ছেড়ে দেওয়া হল। এ খবর পেয়ে আমার পক্ষে চুপ করে থাকা সম্ভব হল না। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করলাম। সভা করলাম, সরকারি কর্মচারীদের সাথে সাক্ষাৎ করলাম কিন্ত কোনো ফল হল না। এদিকে খোন্দকার মোশতাক আহমদ এই কর্ডনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা শুরু করেছে বলে আমি খবর পেলাম। অনেক সভা-সমিতি, অনেক প্রস্তাব করলাম কোনো ফল হল না। এই লোকগুলি দিনমজুর। দুই মাস পর্যন্ত যে শ্রম দিল, তার মজুরি তাদের মিলল না। আর মহাজনদের কাছ থেকে যে টাকা ধার করে এনেছিল এই দুই মাসের খরচের জন্য, খালি হাতে ফিরে যাওয়ার পরে দেনার দায়ে ভিটাবাড়িও ছাড়তে হল।
... ... ...

৪,৮১১.
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে কখন?
  1. ক) ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে।
- ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে। 
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। 
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। 
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন। 
- বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যূদয় হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। 


উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৮১২.
টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে কোন সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়?
  1. ১৯৬৭ সাল
  2. ১৯৬৯ সাল
  3. ১৯৭৩ সাল
  4. ১৯৭৪ সাল
ব্যাখ্যা
বিশ্ব ইজতেমা:
- বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে শিল্পনগরী টঙ্গীর সুবিশাল ময়দানে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ইজতেমা।
- বিশ্ব ইজতেমা বিশ্ব তাবলিগ জামাতের সর্ববৃহৎ সমাবেশ।
- বাংলাদেশের তাবলিগ জামাতের প্রধান মার্কাজ হলো ঢাকার কাকরাইল মসজিদ।
- এই কাকরাইল মসজিদেই ১৯৪৬ সালে প্রথম বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়।
- ১৯৪৮ সালে অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামে।
- এরপর নারায়ণগঞ্জে ১৯৫৮ সালে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।
- তারপর টঙ্গীর পাগার নামক স্থানে ইজতেমা হয় ১৯৬৬ সালে।
- এরপর ১৯৬৭ সাল থেকে তুরাগ নদের পূর্ব তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বিশ্ব ইজতেমা।
- মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও ইউরোপীয় দেশগুলোসহ বিশ্বের প্রায় ৫০-এর বেশি দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিয়ে থাকেন।
- আখেরি মোনাজাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করে থাকেন।
- বর্তমান বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ১৯৯৫ সালে সরকার স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেয়।

উৎস: ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, কালের কন্ঠ।
৪,৮১৩.
১৯৬২ সালে কোন শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয়?
  1. মনিরুজ্জামান মিয়া শিক্ষা কমিশন
  2. কাদের শিক্ষা কমিশন
  3. কুদরত এ খোদা শিক্ষা কমিশন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:

• ১৯৬২-এর সেপ্টেম্বরে একটি আন্দোলন হয় যা ''বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' নামে পরিচিত। 
• 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' সংঘটিত হয় শরীফ শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে।
• শরীফ শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।
• ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে ২২ টি দফা ছিল।
• ১০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলে ছাত্ররা ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক দেয়। 
• ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে বাবুল, গোলাম মোস্তফা, ওয়াজিউল্লাহ প্রমুখ নিহত হন এবং আহত হয় প্রায় আড়াইশ জন।
• এ আন্দোলনের ফলে সরকার শরীফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত রাখে।
• ১৯৬১ সালের শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। 
• আইয়ুব খান ১৯৬২ সালের ১ মার্চ একটি সংবিধান ঘোষণা করেন। 
• সংবিধানে প্রেসিডেন্টের হাতে সকল ক্ষমতা কেন্দ্রিভূত করা হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮১৪.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে যুক্ত হতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্র শহিদ হয়েছিলেন?
  1. আসাদুজ্জামান
  2. শামসুজ্জোহা
  3. জহরুল হক
  4. জব্বার
ব্যাখ্যা
শহীদ আসাদ:
- শহীদ আসাদ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- তাই ২০ জানুয়ারি 'শহীদ আসাদ দিবস' পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- আসাদ গেট বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের লালমাটিয়ায় অবস্থিত একটি তোরণ।
- এর আগের নাম আইয়ুব গেট। 
- পুলিশের গুলিতে আসাদ শহীদ হলে বিক্ষুদ্ধ জনতা সেই সময়ই ছুটে যান মোহাম্মদপুর তৎকালীন আইয়ুব গেটের সামনে এবং প্রতিবাদের ক্ষুদ্ধ প্রতীক হিসাবে আইয়ুব গেটের নামফলক গুড়িয়ে দিয়ে রক্ত দিয়েই লেখেন আসাদ গেট।
- আসাদের স্মৃতি রক্ষার জন্য ঢাকাবাসী আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে আসাদ গেট রাখেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮১৫.
“জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি” কে ঘোষণা করেন?
  1. তিতুমীর
  2. হাজী মোহাম্মদ মহসীন
  3. দুদু মিয়া
  4. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
ব্যাখ্যা
₻ দুদু মিয়া 
• হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
• ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর জেলায় এবং তার নেতৃত্বে এটি শুরু হয়।
• হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর পুত্র দুদু মিয়া।
• তিনি ধর্মীয় সংস্কারমূলক এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেন।
• দুদু মিয়া ঘোষণা করেন, “জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি”।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
৪,৮১৬.
পরী বিবি কে ছিলেন?
  1. ক) আওরঙ্গজেবের কন্যা
  2. খ) শায়েস্তা খানের কন্যা
  3. গ) মুর্শিদকুলি খানের স্ত্রী
  4. ঘ) সিরাজউদ্দৌলার মাতা
ব্যাখ্যা
• বিবি পরী বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খানের কন্যা ও বাদশাহ আওরঙ্গজেব এর পুত্র মুহম্মদ আজমের স্ত্রী।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮১৭.
১৯৪৮ সালে নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. লাহোর
  2. পেশোয়ার
  3. করাচি
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৮ সালে করাচিতে নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
- আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্যে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি গঠন করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)

৪,৮১৮.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শহিদ মিনার কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  3. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  4. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
দেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনার: 
- দেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
-
এই শহীদ মিনার প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় সেই আত্মত্যাগী ভাষাশহীদদের কথা,
- যারা ভাষার জন্য বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত করেছেন রাজপথ।
- শহীদ মিনারের উচ্চতা ৭১ ফুট, যা দেশের শহীদ মিনারগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
- ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানিয়ে এ শহীদ মিনারের স্তম্ভের উচ্চতা ৭১ ফুট করা হয়েছে।
- শহীদ মিনারের ভিত্তিমঞ্চের ব্যাস রাখা হয়েছে ৫২ ফুট যা ৫২-এর ভাষা আন্দোলনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
- শহীদ মিনারের ভিত্তিমঞ্চে ব্যবহার করা হয়েছে ৮টি সিঁড়ি,
- যা দেশ বিভাগ থেকে শুরু করে আমাদের জাতীয় জীবনের স্বাধীনতা অভিমুখী নানা তাৎপর্যমন্ডিত ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০ ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা পর্যন্ত ৮টি ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রতীক।
- শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভটি তিনটি ভাগে বিভক্ত, যা প্রথমত বাংলা ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি, দ্বিতীয়ত মাটি-মানুষ, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং তৃতীয়ত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক মুক্তি, গণতান্ত্রিক চেতনা প্রভৃতি বিষয়কে নির্দেশ করে।
- ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান শহীদ মিনারটির উদ্বোধন করেন।

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক।[লিঙ্ক]
৪,৮১৯.
যুক্তফ্রন্টের সভাপতি কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. এ. কে. ফজলুল হক
  4. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
যুক্তফ্রন্ট:

- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 
- যুক্তফ্রন্ট গঠন  - ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান অফিস - সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রােডে।
- যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪ টি। এগুলো হলো - 

১। আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী)
২। কৃষক-শ্রমিক পার্টি (এ. কে. ফজলুল হক) 
৩। নেজামে-ই-ইসলাম (মাওলানা আতাহার আলী) 
৪। গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ)

- যুক্তফ্রন্টের সভাপতি - হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- পার্লামেন্টারি বাের্ডের সদস্য - এ.কে. ফজলুল হক, হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক - নৌকা।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৮২০.
অপারেশন সার্চলাইটের নীলনকশা করা হয় কত তারিখে?
  1. ১৮ মার্চ, ১৯৭১
  2. ২২ মার্চ, ১৯৭১
  3. ১৫ মার্চ, ১৯৭১
  4. ২০ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইট:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চ লাইট'।
- ১৭ মার্চ, ১৯৭১ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা  সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- ১৮ই মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন।

- ১৯শে মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্রীকরণ শুরু হয়।
- ২০শে মার্চ সরকার অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ জারি করে। ঐ দিন জেনারেল ইয়াহিয়া খান তার সামরিক উপদেষ্টা হামিদ খান, জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল পিরজাদা, জেনারেল ওমর প্রমুখকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সামরিক প্রস্তুতিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন।
- ২৪শে মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে এম ভি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র ও রসদ খালাস শুরু হয়।
- সব প্রস্তুতি শেষে ২৫শে মার্চ গণহত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়। মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৮২১.
পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণে অস্থায়ী সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কে?
  1. এম. এ. জি. ওসমানী
  2. এ .কে. খন্দকার
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. ব্রিগেডিয়ার মীর শওকত আলী
ব্যাখ্যা

পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণ: 
- সময়: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- স্থান: ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে।
- পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ ভারতীয় ইস্টার্ন কামান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- নিয়াজী পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৮২২.
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে সূচনা হয়-
  1. ধর্মীয় বিভেদ
  2. অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি
  3. রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব
  4. সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা
ব্যাখ্যা

অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সূচনা:
- ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সূচনা হয়।
- ভাষা আন্দোলনের সময় পার্লামেন্টের মধ্যে কংগ্রেস দলীয় হিন্দু নেতৃবৃন্দ ভাষার দাবিতে কথা বলেছেন,
- আর রাজপথে অকংগ্রেসয়ীরা ধর্মীয় ভাঁওতাবাজির বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন।
- ফলে পূর্ববাংলায় হিন্দ-মুসলমান সম্প্রীতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ দলটির নাম থেকে 'মুসলিম' শব্দ বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়।
- ফলে এ ভূখণ্ডে ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সূত্রপাত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৮২৩.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করা হয় -
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৮১ সালে
  4. ১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন খন্দকার মোশতাক আহমদ।
- ক্ষমতা দখল করার পাঁচ দিন পর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন মোশতাক আহমদ।
- মোশতাক আহমদ পরবর্তি প্রায় তিন মাসের মতো ক্ষমতায় ছিলেন।
- মোশতাক আহমদের ৩ মাসের শাসনকালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে আনে।
- মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমস্ত অর্জন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং পাকিস্তানের ভাবধারার পুনঃপ্রতিষ্ঠা শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
৪,৮২৪.
বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় পতাকার ডিজাইনার -
  1. শিব নারায়ণ দাশ
  2. এস এম সুলতান
  3. কামরুল হাসান
  4. আব্দুর রব
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা
-১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো হয়েছিল।
- লাল-সবুজের ভেতরে হলুদ রঙে বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত ছিল সেই পতাকা।
- প্রথম জাতীয় পতাকার ডিজাইনার ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা শিব নারায়ণ দাশ।
- শিব নারায়ণ দাশের তৈরি করা বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত এই পতাকা ধরেই হয়েছিল স্বাধীনতার সংগ্রাম।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সরকার শিল্পী কামরুল হাসানকে পতাকার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলে।
- কামরুল হাসান ওই পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দিয়ে যে পতাকাটি ডিজাইন করেন সেটিই এখন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
- ২ মার্চ পতাকা উত্তোলন দিবস পালন করা হয়।

তথ্য - দৈনিক ইত্তেফাক।
৪,৮২৫.
নূর হোসেন কোন আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান
  3. নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

→ নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিলেন নূর হোসেন।

নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম অধ্যায় নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা
করেন।
- তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নুর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহিদ হয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা৷

৪,৮২৬.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে -
  1. তমদ্দুন মজলিশ
  2. এশিয়াটিক সোসাইটি
  3. বাংলা একাডেমি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮২৭.
বাংলাদেশে কয় ধরনের রেলপথ রয়েছে?
  1. ২ ধরনের
  2. ৩ ধরনের
  3. ৪ ধরনের
  4. ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ রেলওয়ে:
- যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলওয়ে একটি পরিবেশ বান্ধব, নিরাপদ এবং সুলভে মালামাল পরিবহণের নির্ভরশীল মাধ্যম।
- বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের রেললাইনের দৈর্ঘ্য ২,৮৭৭ কিলোমিটার।

- বাংলাদেশে প্রধানত তিন ধরনের রেলপথ রয়েছে। যথা:
১) মিটারগেজ রেলপথ  ২) ব্রডগেজ রেলপথ  ৩) ডুয়েলগেজ রেলপথ

• ব্রডগেজ রেলপথ: ১.৬৮ মিটার প্রস্থ রেলপথকে ব্রডগেজ রেলপথ বলে। ব্রডগেজ রেলপথ যমুনা নদীর পশ্চিমাংশে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে রয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ৬৫৯ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ রয়েছে।

• ডুয়েলগেজ রেলপথ: যমুনা সেতুর উপর দিয়ে জামতৈল থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ৪১০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথ রয়েছে।

• মিটারগেজ রেলপথ: ১ মিটার প্রস্থ রেলপথকে মিটারগেজ রেলপথ বলে। মিটারগেজ রেলপথ যমুনা নদীর পূর্বাংশে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে রয়েছে। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৪,৮২৮.
গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে অন্যতম ভাষা হিসেবে প্রস্তাব করেন কে?
  1. মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
  2. ড. এম আবদুল আলীম
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে অন্যতম ভাষা হিসেবে প্রস্তাব করেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
- এই অধিবেশনে বিরোধী দল দুটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন।"
- "প্রথম প্রস্তাবটিতে বৎসরে অন্তত একবার ঢাকায় পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়। দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল ভাষা বিষয়ক। এটিতে উর্দু ও ইংরেজির সাথে বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহার করার দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পূর্ব বাঙলার প্রতিনিধি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।"
- পরে বিভিন্ন পর্যায়ে মি. দত্ত মোট তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন গণপরিষদে, যার প্রতিটিতেই বাংলাকে সরকারি ভাষা করার প্রস্তাব ছিল।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রস্তাবটি উত্থাপনের একদিন পর ২৫শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদে তুমুল বিতর্ক হয়। প্রস্তাবটির তীব্র বিরোধিতা করেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান।
- মি. দত্তের প্রস্তাবটিই ছিল বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণের জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব।
- পরে পাকিস্তানের শাসকরা ১৯৫৬ সালে দেশটির প্রথম শাসনতন্ত্রে উর্দুর সাথে বাংলাকেও সরকারি ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছিলো, যার মাধ্যমে বাংলা সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলো।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.
৪,৮২৯.
বিখ্যাত ইতিহাস বিষয়ক বই ‘তবকাত-ই-নাসিরী’-এর রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ কাশিম ফিরিস্তা
  2. কুতুব উদ্দিন আইবেক
  3. মিনহাজ-ই-সিরাজ
  4. বখতিয়ার খলজি
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত ইতিহাসবিষয়ক বই ‘তবকাত-ই-নাসিরী’-এর রচয়িতা মিনহাজ-ই-সিরাজ।

তবকাত-ই-নাসিরী:
- তবকাত-ই-নাসিরী মিনহাজ-ই-সিরাজ জুর্জানি রচিত মধ্যযুগের সাধারণ ইতিহাস গ্রন্থ।
- এ গ্রন্থে ইসলামের বিভিন্ন নবী-রসুলের ইতিহাস থেকে শুরু করে মিনহাজ তাঁর নিজের সময় পর্যন্ত ঘটনাবলি বর্ণনা করেছেন।
- বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার ইতিহাস পুনর্গঠনের জন্য এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আকর গ্রন্থ।
- বাংলা মুলুকে মুসলিম শাসনের প্রথম ৫০ বছরের ইতিহাস একমাত্র এ গ্রন্থেই পাওয়া যায়।
- ১২৬০ সালে মিনহাজ-ই-সিরাজ (মিনহাজউদ্দীন আবু ওমর বিন সিরাজউদ্দীন আল-জুযানী) ২৩ খণ্ডে এই বইটি লেখা শেষ করেন।
- মামলুক সালতানাতের অষ্টম সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের নামে ফারসি ভাষায় লেখা এ বইয়ের নামকরণ হয়।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয় থেকে ১২৫৯ সাল পর্যন্ত বাংলার ইতিহাসের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস হলো তবকাত-ই-নাসিরী।

উল্লেখ্য,
- মিনহাজ-ই-সিরাজ ছিলেন দিল্লির কাজি।
- কর্মসূত্রে সুলতানি আমলের বাংলায় এসে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করার পর দিল্লি ফিরে রচনা করেন এই বই।
- দিল্লির সুলতানের বিরুদ্ধে খলজিদের বিদ্রোহ, বখতিয়ার খলজির নেতৃত্বে বাংলায় তুর্কি অধিকার, ব্যর্থ তিব্বত অভিযান ও তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত বাংলার ৫৪ বছরের একমাত্র ইতিহাস এই বই।

এছাড়াও,
- সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের আমল থেকে মুইজ উদ্দিন কায়কোবাদ সময়কাল পর্যন্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
- এ ছাড়া কুতুবুদ্দিন আইবেক, সাইফুদ্দিন সুরী, চেঙ্গিস খানসহ সমসাময়িক মুসলিম বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তি ও নানা ইতিহাস তুলে ধরা হয় বইটিতে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৩০.
কতটি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রতি বছর ‘মুক্তিযোদ্ধা পদক’ দেওয়া হয়?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৯টি
  4. ঘ) ১০টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযোদ্ধা পদক:
মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং চেতনা বিকাশে ব্যক্তি ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাকে সম্মানিত করতে “মুক্তিযোদ্ধা পদক” চালু করা হয়।

- ৯ আগষ্ট ২০২১ ‘মুক্তিযোদ্ধা পদক’ নীতিমালা ২০২১ -এর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

- সাতটি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রতি বছর ১৫ ডিসেম্বর ‘মুক্তিযোদ্ধা পদক’ আনুষ্ঠানিক ভাবে দেওয়া হবে।

(উৎস: Live MCQ বিশেষ সাম্প্রতিক সমাচার: এপ্রিল,২০২১-এপ্রিল,২০২২)
৪,৮৩১.
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে কতজন ইপিআর (বর্তমান - বিজিবি) সদস্য 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত হন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজিবি (তৎকালীন ইপিআর) খেতাব প্রাপ্তদের বিবরণ:
- মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত প্রান্তরে এক অসামান্য অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে বিজিবি (তৎকালীন ইপিআর)।
- একটি আধা সামরিক বাহিনী হয়েও সামান্য সংখ্যক সনাতন অস্ত্রকে সম্বল করে এই বাহিনীর বীর সৈনিকবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধে ৮১৭ বীর সৈনিক ইপিআর সদস্য শহীদ হন।

উল্লেখ্য,
স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ইপিআর বাহিনীর -
- ২ জনকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাবে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়। তারা হলেন -
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ)
,
এছাড়া,
- ৮ জনকে ‘বীর উত্তম’,
- ৩২ জনকে ‘বীর বিক্রম’ এবং ,
- ৭৮ জনকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয় ।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
৪,৮৩২.
আলমগীর কবির নিম্নের কোন চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন?
  1. রূপালী সৈকতে
  2. সংগ্রাম
  3. আবার তোরা মানুষ হ
  4. অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী
ব্যাখ্যা
আলমগীর কবির:
- বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ আলমগীর কবির।
- আলমগীর কবিরের জন্ম রাঙামাটি শহরে ১৯৩৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর।
- ১৯৮৯ সালের ২০ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

⇒ প্রামাণ্যচিত্র দিয়ে পরিচালনা শুরু করলেও স্বাধীনতার পরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করা শুরু করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে তিনি বেশ কটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- তাঁর নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হলো ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩), সূর্যকন্যা (১৯৭৬), সীমানা পেরিয়ে (১৯৭৭), রূপালী সৈকতে (১৯৭৯), মোহনা (১৯৮২), পরিণীতা (১৯৮৪) ও মহানায়ক (১৯৮৫)।
- তাঁর পরিচালিত তিনটি চলচ্চিত্র ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘সীমানা পেরিয়ে’ ও ‘রূপালী সৈকতে’ ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের ‘বাংলাদেশের সেরা ১০ চলচ্চিত্র’র তালিকায় স্থান পেয়েছে।

⇔ রূপালী সৈকতে:
- আলমগীর কবিরের চতুর্থ সিনেমা “রূপালি সৈকতে”।
- আলমগীর কবির “রুপালি সৈকতে” চলচ্চিত্রটি নির্মান করেছিলেন ১৯৭৯ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৩৩.
বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন কে?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
  3. গ) ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) এ এইচ এম কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
• এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
• মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক (পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি)।
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম - উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং পদাধিকারবলে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন)।  
• তাজউদ্দীন আহমদ - প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
• খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
• ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী - অর্থ, শিল্প,বাণিজ্য,পরিবহন ও জাতীয় রাজস্ব মন্ত্রী। 
এ এইচ এম কামারুজ্জামান - স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৩৪.
"ভালো আছি, ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো" - বিখ্যাত এই গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) খান আতাউর রহমান
  2. খ) রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) আপেল মাহমুদ
  4. ঘ) নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
- "ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ" - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লিখা একটি গান। 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ(১৯৫৬-১৯৯১):
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর।
- পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য—উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৩৫.
১৯৫০ সালের ১১ মার্চ গঠিত “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ”-এর আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. ক) গাজীউল হক
  2. খ) অধ্যাপক আবুল কাসেম
  3. গ) আবদুল মতিন
  4. ঘ) অলি আহাদ
  5. ঙ) গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা
১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত সময়কে ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতি পর্ব বলা যায়। এই সময়ে আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে মাওলানা আকরাম খানকে সভাপতি করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ‘পূর্ববাংলা ভাষা কমিটি’ গঠন করে। এই কমিটি গঠনের প্রতিবাদ জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ আবদুল মতিনকে আহবায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৪,৮৩৬.
প্রথমবারের মতো জাতীয় ঔষধ নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল -
  1. ১৯৭৮ সালে
  2. ১৯৮২ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
জাতীয় ঔষধনীতি:
- ১৯৮২ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় ঔষধ নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল।
- এরপর ২০০৫ সালে এই নীতি নবায়ন করা হয় এবং ২০১৬ সালে আবার এই জাতীয় ঔষধ নীতি নবায়ন করা হয়েছে।
প্রথম ঔষধ নীতি অনুসারে ,
[ঔষধ নীতির প্রধান উদ্দেশ্য হলো- অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর ঔষধ প্রস্তুত বন্ধ করা] উত্তর গ্রহণ করা হয়েছে।

• "জাতীয় ঔষধ নীতি, ২০১৬”:
১. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক), ১৫(ঘ) ও ১৮(১) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের বিষয়ে জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২. এক সময় যেখানে চাহিদার প্রায় ৮০% ঔষধ আমদানি করা হত সেখানে বর্তমানে ৯৭% এরও অধিক ঔষধ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত গুণগতমানসম্পন্ন ঔষধ এখন বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশসহ ১১৩টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
৩. বঙ্গবন্ধু দেশে মানসম্মত ওষুধের উৎপাদন বাড়ানো এবং এ শিল্পকে সহযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে 'ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তর' গঠন করেন।
৪. ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রথম জাতীয় ঔষধনীতি প্রণয়ন করে।

জাতীয় ঔষধনীতির লক্ষ্যসমূহ:
১। জনগণ যাতে নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্পন্ন ঔষধ সহজে ক্রয়সাধ্য মূল্যে পেতে পারে তা নিশ্চিত করা।
২। ঔষধের যৌক্তিক ও নিরাপদ ব্যবহার এবং সুষ্ঠু পরিবেশন ব্যবস্থা (Dispensing) নিশ্চিত করা।
৩। স্থানীয় সকল পদ্ধতির ঔষধ প্রস্তুতকারী শিল্পসমূহকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা, যাতে মানসম্পন্ন ঔষধ ও ঔষধের কাঁচামাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়।
৪। দেশের উৎপাদিত ঔষধের রপ্তানি বৃদ্ধি করা।
৫। ঔষধের কার্যকর নজরদারী (Surveillance) ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: dgda.gov.bd, জাতীয় ঔষধনীতি-২০১৬।
৪,৮৩৭.
১৯৭০ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য 'আইন কাঠামো আদেশ' (Legal Framework Order, LFO) ঘোষণা করেন কে? 
  1. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. এ.কে. ফজলুল হক
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. ইস্কান্দার মীর্জা
ব্যাখ্যা
'আইন কাঠামো আদেশ' (Legal Framework Order, LFO):

• ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের ২৮শে মার্চ জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে নির্বাচন সংক্রান্ত আইনগত কাঠামো আদেশ ঘোষণা করেন। 

• আইন কাঠামো আদেশের বিশেষ কিছু দিক:
১. পশ্চিম পাকিস্তানে এক ইউনিট ভেঙে দিয়ে সাবেক প্রদেশগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে যা ১লা জুলাই ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হবে।
২. ১৩ জন মহিলা প্রতিনিধি নিয়ে ৩১৩ আসনের জাতীয় পরিষদ হবে, আর ৬২১ জন সদস্য নিয়ে হবে পাঁচটি প্রাদেশিক পরিষদ।
৩. নির্বাচনে এক ব্যক্তি এক ভোট নীতি গ্রহণ করা হয়।
৪. পাকিস্তানের দুই অংশের আইন ও অর্থনীতি বিষয়ক দায়িত্ব এবং ক্ষমতা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নির্ধারণ করবেন।
৫. ভোটার তালিকা ১৯৭০ সালের জুনের মধ্যে তৈরি হবে।
৬. সংবিধান রচনার জন্য পরিষদের প্রথম অধিবেশন থেকে ১২০ দিনের সময় ধার্য করে দেন। এ সময়ের মধ্যে কাজ সমাধা করতে ব্যর্থ হলে পরিষদ ভেঙে নতুন নির্বাচনের কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, সংবিধান রচনা এবং সংবিধানকে সত্যায়িতকরণ পর্যন্ত সামরিক শাসন বহাল থাকবে। নির্বাচনের নির্দেশনাবলির পাশাপাশি সংবিধানের ভিত্তি সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

• আইনগত কাঠামো আদেশের ২০ নং ধারায় সংবিধানের মূল ছয়টি নীতি বেঁধে দেয়া হয় । যথা :
- ফেডারেল পদ্ধতির সরকার;
- ইসলামি আদর্শ হবে রাষ্ট্রের ভিত্তি;
- প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে প্রত্যক্ষ নির্বাচনে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন;
- মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে;
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার অর্থনৈতিক ও অন্যান্য বৈষম্য দূর করতে হবে;
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪,৮৩৮.
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন কোথায় পাশ হয়? 
  1. রাউন্ড টেবিল কনফারেন্সে
  2. ভারতীয় পার্লামেন্টে
  3. সাইমন কমিশনে
  4. ব্রিটিশ পার্লামেন্টে
ব্যাখ্যা

- ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নতুন ভারত শাসন আইন পাশ হয়।

ভারত শাসন আইন:

- ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন ভারতীয়দের রাজনৈতিক আশা-আকাংখা পূরণে ব্যর্থ হয়।
- ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ১০ বছর পর ভারতের সাংবিধানিক অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য একটি বিধিবদ্ধ কমিশন গঠনের কথা ছিল।
- এমতাবস্থায় ব্রিটিশ সরকার ১৯২৭ সালে স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করে।
- যা সাইমন কমিশন নামে পরিচিত। 
- ১৯২৮ সালে কংগ্রেস নিজেই মতিলাল নেহেরুকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করে।
- এই কমিটি যে রিপোর্ট প্রকাশ করে, তা 'নেহেরু রিপোর্ট' নামে পরিচিত।
- এ রিপোর্টে মুসলমানদের দাবী-দাওয়া পূরণ না হওয়ায় মুসলিম নেতৃবৃন্দ তা বর্জন করেন।
- নেহেরু রিপোর্টের প্রতিবাদে ১৯২৯ সালে মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর চৌদ্দ দফা দাবি পেশ করেন।
- ১৯৩০ সালে শুরু হয়ে তিন দফায় ১৯৩২ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
- ভারতীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতার সম্ভাবনা না দেখে ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রামজে ম্যাকডোনাল্ড একটি সমাধান প্রদান করেন।
- এতে তিনি আইনসভায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বণ্টনসহ ভারতের জন্য একটি ভবিষ্যত সংবিধানের রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- এটি ম্যাকডোনাল্ডের 'সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ' নামে পরিচিত।
- এই ধারাবাহিকতাতে ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নতুন ভারত শাসন আইন পাশ হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৮৩৯.
ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন কোন মুঘল সম্রাট?
  1. সম্রাট বাবর
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতী:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেছিলেন।
- তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- ইসলাম খান চিশতী বার ভূঁইয়াদের দমন করেন।
- সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন ১৬১০ সালে।
- ইসলাম খান চিশতী এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- তিনি বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৮৪০.
বাংলা কত খ্রিস্টাব্দে মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়?
  1. ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৭৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৭৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
মুঘল শাসন:
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার শেষ আফগান শাসক দাউদ খান কররানি মোগল সেনাবাহিনীর হাতে রাজমহলের যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।
- তবে ঢাকাসহ পূর্ব বাংলার কয়েকজন প্রভাবশালী জমিদার মুঘল বাদশার আনুগত্য অস্বীকার করে সতের শতকের প্রথম দশক পর্যন্ত স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৮৪১.
ফররুখ শিয়ারের রাজত্বকালে বাংলার সুবাদার পদ দেয়া হয় -
  1. ক) মুর্শিদকুলী খানকে
  2. খ) রুকনউদ্দিনকে
  3. গ) ইকবালকে
  4. ঘ) সুজাউদ্দিনকে 
ব্যাখ্যা
• সুবাদারি শাসন:
- সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে বার ভুঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারী শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- ১৬১৩ সালে ইসলাম খানের মৃত্যুর পর বেশ কয়েকজন সুবাদার বাংলার শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন।
- তবে ১৬৬০ সালে সুবাদার মীর জুমলা ক্ষমতা গ্রহণ করার পূর্ব পর্যন্ত কোনো সুবাদারই তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে
পারেন নি।

- ফররুখ শিয়ারের রাজত্বকালে মুর্শিদকুলী খান বাংলার সুবাদার পদ দেয়া হয়। এদেশের রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য তিনি খ্যাতিমান হয়ে আছেন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর দুর্বল মোগল সম্রাটগণ দূরবর্তী সুবাগুলোর দিকে তেমন দৃষ্টি দিতে পারেন নি। ফলে এসব অঞ্চলের সুবাদারগণ অনেকটা স্বাধীনভাবে নিজেদের অঞ্চল শাসন করতে থাকেন।
- মুর্শিদকুলী খানও অনেকটা স্বাধীন হয়ে পরেন।
- তিনি নামেমাত্র সম্রাটের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতেন এবং সম্রাটকে বার্ষিক ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা রাজস্ব পাঠাতেন।
-মুর্শিদকুলী খানের পর তাঁর জামাতা সুজাউদ্দিন খান বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- এভাবে বাংলার সুবাদারী বংশগত হয়ে পরে। আর এরই পথ ধরে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন শাসন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৮৪২.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ-এর সমাধিস্থল কোন জেলায়?
  1. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  2. রাঙ্গামাটি
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
• মুন্সী আব্দুর রউফ, বীরশ্রেষ্ঠ:
- জন্ম: ১৯৪৩ সালের ৮ মে, ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার সালামতপুর গ্রামে।।
- খেতাবের সনদ নম্বর ০২।
- মুন্সী আব্দুর রউফ ইপিআর বাহিনীতে চাকরি করতেন।
- তিনি ১৯৬৩ সালে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে যোগ দেন।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। 
- ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম সেক্টরের অধীন ১১ নম্বর উইংয়ে কর্মরত ছিলেন। 
- তিনি সাতজন বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে প্রথম শহীদ।
- তিনি শহীদ ২০ এপ্রিল, ১৯৭১।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধি - রাঙামাটির বুড়িঘাটে।


তথ্যসূত্র: চিরন্তন ৭১, প্রথম আলো।
৪,৮৪৩.
লালন শাহ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) মাগুরা
  2. খ) যশোর
  3. গ) ঝিনাইদহ
  4. ঘ) কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
বাউল সম্রাট লালন শাহ ১৭৭২ সালে ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে অন্য একটি মতে তার জন্ম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে।
তিনি প্রায় দুইহাজার বাউল গান রচনা করেন। কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে লালনের আখড়া অবস্থিত।
এখানেই ১৮৯০ সালে তিনি মারা যান।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৪,৮৪৪.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজাইনার কে?
  1. এন এস সাহা
  2. নিত্যানন্দ সাহা
  3. কামরুল হাসান
  4. মাইনুল হোসেন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম
- লাল বৃত্তের মাঝখানে হলুদ রংঙের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপরে  লেখা ’গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’, নিচে  লেখা ’সরকার’ এবং বৃত্তের দুপাশে ২ টি করে মোট ৪ টি তারকা।
- ডিজাইনার - নিত্যানন্দ সাহা (এনএন সাহা)

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার - কামরুল হাসান।
- জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রে রয়েছে পানিতে ভাসমান একটি শাপলা ফুল, তার উপর ৩ টি পরস্পর সংযুক্ত পাট পত্রক এবং তার দুপাশে ২ টি করে তারকা।  
- সৈয়দ মাইনুল হোসেন জাতীয় স্মৃতিসৌধের ডিজাইনার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৮৪৫.
কোন নদী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রাকৃতিক সীমান্ত গঠন করে?
  1. নাফ নদী 
  2. হাড়িয়াভাঙ্গা নদী
  3. মাতামুহুরী নদী 
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

নাফ নদী:
- নাফ নদী বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার দক্ষিণ-পূর্ব কোণ দিয়ে প্রবাহিত একটি প্রধান নদী।
- এটি মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের কক্সবাজারকে বিভক্ত করে।
- নাফ নদী বাংলাদেশের ও মিয়ানমারের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- নদীটি নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া ও টেকনাফ হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
- নাফ নদীর ডান তীরে বাংলাদেশের টেকনাফ উপজেলা অবস্থিত।
- আর বাম তীরে মিয়ানমারের আকিয়াব বন্দর অবস্থিত।
- নদীটির প্রস্থ ১.৬১ থেকে ৩.২২ কিলোমিটার। 
- নদীটি জোয়ার-ভাটা প্রবণ, যার তীরবর্তী সমভূমি যেমন কদমভূমি চিংড়ি চাষে ব্যবহৃত হয়।

উল্লেখ্য, 
- মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নদীর মধ্যে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী রয়েছে।
- আর বাংলাদেশ ও ভারতকে বিভক্তকারী নদী হচ্ছে- হাড়িয়াভাঙ্গা নদী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৪,৮৪৬.
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল -
  1. ক) ৩৮
  2. খ) ৩৯
  3. গ) ৪০
  4. ঘ) ৪১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনে বর্তমানে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন রয়েছে। (সেপ্টেম্বর, ২০২১)
- সর্বশেষ নিবন্ধিত দল হচ্ছে বাংলাদেশ কংগ্রেস। ৯ মে ২০১৯ সালে নিবন্ধিত হয়।
- ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করে।
- ২০০৮ সালে ৪২টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেয় ইসি।
তার মধ্যে,
- ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল হয় - ২০০৯ সালে।
- ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের নিবন্ধন বাতিল হয় - ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর।
- জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হয় - ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর এবং
- প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি)র নিবন্ধন বাতিল করে - ১৫ ডিসেম্বর ২০২০।
- সর্বশেষ ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে নিবন্ধন বাতিল হয় - জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) দলের।

সূত্রঃ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট ও দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট।
৪,৮৪৭.
নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা কে ছিলেন?
  1. শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. মওলানা আতাহার আলী
  3. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:

- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল 'যুক্তফ্রন্ট' নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। যথা:
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি মওলানা আতাহার আলী।
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৪,৮৪৮.
কোন ঘটনার ফলশ্রুতিতে বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে?
  1. দেশভাগ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. লাহোর প্রস্তাব
  4. যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। ভাষা আন্দোলন বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা।
- ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৮৪৯.
বঙ্গবন্ধু জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্য মনোনীত হন কবে?
  1. ৪ অক্টোবর ১৯৭২ সালে
  2. ৮ অক্টোবর ১৯৭২ সালে
  3. ১০ অক্টোবর ১৯৭২ সালে
  4. ১২ অক্টোবর ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
জুলিও কুরি শান্তি পদক:

- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

তথ্যসুত্র- কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
৪,৮৫০.
বেকার হোস্টেলের সাথে নিচের কোন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট?
  1. মওলানা ভাসানী
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. এ কে ফজলুল হক
  4. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
ব্যাখ্যা
বেকার হোস্টেল:
- ১৯১০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় বেকার হোস্টেল।
- ছাত্রাবাসটি ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১০ সালে এডওয়ার্ড নরম্যান বেকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রাবাসটি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ৮ স্মিথ লেনে অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ডিগ্রি পড়ার সময় এই বেকার হোস্টেলে ছিলেন ১৯৪২-৪৭ সাল পর্যন্ত।
- উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি ১৯৪২ সালে ভর্তি হয়েছিলেন এ কলেজে।
- তিনি ছিলেন ২৪ নম্বর কক্ষে।
- এই ইসলামিয়া কলেজের নাম পরিবর্তন করে এখন নামকরণ করা হয়েছে মৌলানা আজাদ কলেজ।
- ১৯৪৬ সালে বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হন।
- ১৯৪৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই ইসলামিয়া কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে স্নাতক হয়েছিলেন।

উৎস: ২৯ আগস্ট ২০১৯, প্রথম আলো।
৪,৮৫১.
প্রাচীনকালে কুমিল্লা কোন জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. সমতট 
  2. বঙ্গ
  3. হরিকেল
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা

কুমিল্লা জেলা:
- কুমিল্লা জেলা ২৩°০১' থেকে ২৩°৪৭' ৩৬" উত্তর অক্ষাংশে এবং ৯০°৩৯' থেকে ৯১°২২' পূর্ব দ্রাঘিমাংশে বিস্তৃত।
- কর্কটক্রান্তি রেখা কুমিল্লা জেলা অতিক্রম করেছে।
- এই জেলার কিছু অংশ গঠিত হয়েছে প্লাবন ভূমি দ্বারা এবং কিছু অংশ পাহাড়ি বৈশিষ্ট্যময়, বাকি অংশ সমতলভূমি।
- এ জেলার অধিকাংশ এলাকার ভূ-তাত্ত্বিক গঠন হয়েছে প্লাইস্টোসিন ও হলোসীন বা বর্তমান যুগেই।

⇒ কুমিল্লা জেলা মেঘনা সমভূমি হতে ত্রিপুরা পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- সমুদ্রতীর থেকে ত্রিপুরা পাহাড়ের পাদদেশের গড় উচ্চতা প্রায় ২৫ ফুট, আর মেঘনা সমভূমির পশ্চিম ভাগের গড় উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট।
- সুতরাং জেলার এই সমভূমির ঢাল মৃদু এবং পশ্চিম দিকে কুমিল্লা শহরের পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত, উত্তর-দক্ষিণে প্রলম্বিত লালমাই পাহাড় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার নিম্ন জলাভূমি ব্যতীত সমগ্র সমভূমিটিকে সাধারণ ভাবে পশ্চিম-ঢাল সম্বলিত একটি সমতল ভূমি বলা যেতে পারে।

⇒ প্রাচীনকালে এটি সমতট জনপদের অন্তর্গত ছিল এবং পরবর্তীতে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ হয়েছিল। 
- ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরবর্তী সময়ে ১৯৬০ সালে ত্রিপুরা জেলার নামকরণ করা হয় কুমিল্লা এবং তখন থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর পদটির নামকরণ হয় ডেপুটি কমিশনার।
- ১৯৮৪ সালে কুমিল্লার দু'টি মহকুমা চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে পৃথক জেলা হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,৮৫২.
ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রথম দফা কোনটি?
  1. ক) শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি
  2. খ) পররাষ্ট্র সংক্রান্ত
  3. গ) বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  4. ঘ) অর্থ ও মুদ্রা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালিদের অধিকারের সনদ যার মধ্যে বাঙালিদের জীবনের দাবি নিহিত ছিল। নিম্নে ছয় দফা কর্মসূচি উল্লেখ করা হল।
১। শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি: ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচিত হবে। 
২। পররাষ্ট্র সংক্রান্ত: বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ছাড়া সকল বিষয় অঙ্গরাষ্ট্র বা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে। বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা বিষয় ন্যস্ত থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।
৩। অর্থ ও মুদ্রা: দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করার ব্যবস্থা থাকবে। 
৪। শুল্ক সম্বন্ধীয়: সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিবার্হের জন্য আদায়কৃত অর্থের একটা অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে।
৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা: বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। 
৬। আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা: আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলো আধা—সামরিক বাহিনী বা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করতে পারবে। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৮৫৩.
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল টিক্কা খান
  4. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।
৪,৮৫৪.
স্বদেশী আন্দোলনের তাৎপর্য কী ছিল?
  1. দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক চেতনা
  2. ব্রিটিশদের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা
  3. হিন্দু-মুসলমান বিরোধ নিষ্পত্তি
  4. সাম্প্রদায়িকতার উন্মেষ
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলনের তাৎপর্য ছিল দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক চেতনা।

স্বদেশী আন্দোলন:

- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করে যা ‘বঙ্গভঙ্গ’ নামে পরিচিত।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- তাছাড়া এ আন্দোলন শুরুতে তরুণদের দেশপ্রেম, ঔপনিবেশিক শক্তিবিরোধী শাড়িপূর্ণ নিষ্ঠা ও আদর্শ নিয়ে শুরু হলেও ক্রমে তা থেকে চরম ও সশস্ত্র ধারার ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের জন্ম নেয়।
- ফলে ব্রিটিশ শক্তি শেষ পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গ বাতিল করতে বাধ্য হয়।

⇒ স্বদেশী আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন।
- পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলে।
- সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠে বাংলার নিজস্ব তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা।
- অপর দিকে বিলেতি শিক্ষা বর্জন এবং আন্দোলনের সাথে যুক্তদের বিভিন্ন সরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার ফলে প্রয়োজনে গড়ে উঠে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ।
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন।
- তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি।
- যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৮৫৫.
কীসের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল?
  1. সামাজিক চেতনা
  2. দ্বি-জাতি তত্ত্ব
  3. মমত্ববোধ
  4. বাঙ্গালি জাতিয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
→ বাঙ্গালি জাতিয়তাবাদ পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল।
 
• ভাষা আন্দোলন:

- ভাষা আন্দোলন জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটায়।
- পাকিস্তানের ৫৬ ভাগ মানুষের ভাষাছিল বাংলা।
- পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের সাথে ধর্ম  ছাড়া বাঙালীদের  কোন বন্ধন নেই।
- ১৯৫২ সালে আত্মাহুতির মাধ্যমে যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ হয়েছিল।
- সেই চেতনা ১৯৫৪ এর নির্বাচনে ২১ দফার জয় হয়অ
- বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ;
- ঢাকার পল্টন ময়দানে ঘোষণা করেন "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা"।
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ অধিবেশনে;
- বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন পূর্ব বাংলার সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।
- ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে খাজা নাজিমউদ্দিন জিন্নাহর কথার পুনরাবৃত্তি করেন। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য়পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববদ্যালয়।
৪,৮৫৬.
“ওদের ৩০ লাখ মেরে ফেলো। বাদ বাকিরা আমাদের হাত থেকেই খেয়ে বেঁচে থাকবে।” - কার উক্তি?
  1. ক) টিক্কা খান
  2. খ) ইয়াহিয়া খান
  3. গ) আইয়ুব খান
  4. ঘ) উপরের কেউ নন
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight)

২৫ মার্চ ১৯৭১ দিবাগত রাতে পুরো প্রজন্ম নিশ্চিহ্নের চক্রান্ত হিসেবে Operation Searchlight এর মাধ্যমে শুরু হয় পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম গণহত্যা। ২৫ মার্চের কালরাতের নিষ্ঠুরতার প্রস্তাব করা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। ১৮ মার্চ সকালে ঢাকা সেনানিবাসে GOC কার্যালয়ে বসে জেনারেল রাজা ও কুখ্যাত মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী অপারেশনের যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করেন। ঐ পরিকল্পনার ৬টি লক্ষ্য ছিল –

১. সারা পূর্ব পাকিস্তানে একযোগে অপারেশন সার্চলাইট শুরু করতে হবে।
২. সর্বোচ্চ সংখ্যক রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতা। সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষকদের হত্যা করতে হবে।
৩. ঢাকায় অপারেশন ১০০ ভাগ সফল হতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দখল এবং তল্লাশী করতে হবে।
৪. সেনা বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনে যুদ্ধ অস্ত্র প্রয়োজন ব্যবহার করা হবে।
৫. টেলিফোন, টেলিভিশন, রেডিও ও টেলিগ্রাফসহ সকল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে।
৬. অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেড়ে নিয়ে সবল পূর্ব পাকিস্তানি বাঙালি সৈন্য ধ্বংস করতে হবে।

"Operation Searchlight" ছিল সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম। এর লক্ষ্য ছিল একযোগে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রধারী বাঙালি সমাজকে ধ্বংস করাসহ ব্যাপক নরহত্যা চালানো। এটি সম্ভব হলে বাঙালি জাতি অভিযান প্রতিহত করার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে না। তাহলে শেখ মুজিবকে মাথা নত করিয়ে স্বাধীনতার পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধান করা সম্ভব হবে। 

১৯৭২ সালে প্রকাশিত সাংবাদিক রবার্ট পেইনের ম্যাসাকার বইতে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ যেদিন Operation Searchlight প্রস্তাব করা হয় সেদিন ইয়াহিয়া খান বলেছিলেন –

“ওদের ৩০ লাখ মেরে ফেলো। বাদ বাকিরা আমাদের হাত থেকেই খেয়ে বেঁচে থাকবে।”

অপারেশন সার্চ লাইট শুরু হলে ২৬ মার্চ ১ম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো।
৪,৮৫৭.
১৯৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে সাহায্য করেছিলেন-
  1. প্রফুল্ল চন্দ্র সেন
  2. অজয় মুখোপাধ্যায়
  3. সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়
  4. জ্যোতি বসু
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে অজয় মুখোপাধ্যায় আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে সাহায্য করেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের নেতৃবৃন্দ:

প্রেসিডেন্ট: বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি।
প্রধানমন্ত্রী: ইন্দ্রিরা গান্ধী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী: সরদার সরণ সিং।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী: অজয় মুখোপাধ্যায়।
যৌথবাহিনীর সর্বাধিনায়ক: জেনারেল স্যাম মানকেশ।
যৌথবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান: জগজিৎ সিং আরোরা।
জাতিসঙ্গে নিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি: সমর সেন।
৪,৮৫৮.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিত যাত্রাপালা কোনটি?
  1. মিয়া ভাই
  2. বঙ্গবন্ধু
  3. নিঃসঙ্গ লড়াই
  4. খোকা
ব্যাখ্যা
যাত্রাপালা ‘নিঃসঙ্গ লড়াই’:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তৈরি হয়েছে যাত্রাপালা ‘নিঃসঙ্গ লড়াই’।
- পাকিস্তানের লায়ালপুর জেলখানার বন্দি থাকা অবস্থায় তার জীবনীভিত্তিক কাহিনী নিয়েই গড়ে উঠেছে যাত্রাপালাটি।
- এর পালাকার মাসুম রেজা। নির্দেশনা দিয়েছেন সাইদুর রহমান লিপন।
- বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ যাত্রাপালাটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে।
- পালাটি পরিচালনা করছে সাইদুর রহমান লিপন।
- বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করবেন মিঠুন ইসলাম। ইয়াহিয়া চরিত্রে এস এম শফি, জুলফিকার আলী ভুট্টোর চরিত্রে আফসারুজ্জামান রনি অভিনয় করেছেন।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ৯ জানুয়ারি, ২০২২।
৪,৮৫৯.
বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার দাবিতে প্রথম ধর্মঘট হয় কখন?
  1. ১১ মার্চ ১৯৪৭
  2. ১১ মার্চ ১৯৪৮
  3. ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের প্রথম ধর্মঘট: 
১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ঢাকায় সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়, যা ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত।

• ধর্মঘটের পটভূমি ছিল গণপরিষদের ভাষা তালিকা থেকে বাংলা বাদ দেওয়া, মুদ্রা ও ডাকটিকিটে বাংলা ব্যবহার না করা, এবং নৌবাহিনীর নিয়োগ পরীক্ষায় উর্দুকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদ।

• প্রধান দাবি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ও পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

• ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে মিছিল করার সময় শওকত আলী, কাজী গোলাম মাহবুব, শেখ মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হন।
ছাত্রনেতা আব্দুল মতিন, আবদুল মালেক উকিলসহ অনেকে মিছিলে অংশ নেন, এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বড় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

• ১২-১৫ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ধর্মঘট পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৬০.
বঙ্গবন্ধু ‘জুলিও কুরি’ পুরস্কার লাভ করেন ১৯৭২ সালের-
  1. ১৫ জানুয়ারি
  2. ১৮ অক্টোবর
  3. ১০ অক্টোবর
  4. ৭ মার্চ
ব্যাখ্যা
জুলিও কুরি শান্তি পদক:

- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

তথ্যসুত্র- কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
৪,৮৬১.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংঘটিত হয় কোথায়?
  1. হালিশহর, চট্টগ্রাম
  2. জয়দেবপুর, গাজীপুর
  3. মুজিবনগর, মেহেরপুর
  4. নলিতাবাড়ী, শেরপুর
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১৯শে মার্চ গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংঘটিত হয়।
- ৭ মার্চের ভাষণের পর আন্দোলন দুর্বল করতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী জয়দেবপুরের দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের তাঁদের অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু বাঙালি সৈন্যরা অস্ত্র জমা না দিয়ে জনতাকে সাথে নিয়ে চান্দিনা-জয়দেবপুর সড়ক অবরোধ করে।
- এতে পাকবাহিনী গুলিবর্ষণ করলে হুরমত, নিয়ামত, কানু মিয়া ও মনু খলিফা নিহত এবং অনেকে আহত হন। পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে ওটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ।
- এটির স্বরণে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় জাগ্রত চৌরঙ্গী নামে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য নির্মিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো এবং গাজীপুর জেলা ওয়েবসাইট)

 
৪,৮৬২.
পূর্ব বাংলার মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. শিক্ষা আন্দোলন
  3. ছয়দফা আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।

দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

 উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,৮৬৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কত নং সেক্টরের অধীনে ক্র্যাক প্লাটুন গঠিত হয়েছিলো?
  1. ২ নং সেক্টর
  2. ৩ নং সেক্টর
  3. ১০ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ২নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশারফ এই বাহিনী গড়ে তুলেন।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
(তথ্যসূত্র: কালেরকণ্ঠ এবং একাত্তরের দিনগুলি : জাহানারা ইমাম)
৪,৮৬৪.
Which Mughal emperor is laid to rest in Yangon?
  1. Sher Shah
  2. Bahadur Shah
  3. Elias Shah
  4. Babur
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ:
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন সর্বশেষ মুঘল সম্রাট।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মুঘল বংশের পতনের যুগ বলা হয়। 
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৮৬৫.
প্রাচীন বাংলার কোন জনপদ ‘দণ্ডভুক্তি’ নামে পরিচিত ছিলো?
  1. সমতট
  2. চন্দ্রদ্বীপ
  3. তাম্রলিপ্ত
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে তাম্রলিপ্ত অন্যতম। এই জনপদের অবস্থান ছিলো হরিকেল ও রাঢ়ের দক্ষিণে।
- বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমলুক এলাকা ছিলো তাম্রলিপ্ত জনপদের কেন্দ্রস্থল। তাম্রলিপ্ত প্রাচীন বাংলার একটি বিখ্যাত বন্দর ছিলো।
- সপ্তম শতক হতে তাম্রলিপ্ত জনপদ ‘দণ্ডভুক্তি’ নামে পরিচিত হতে থাকে। দণ্ড মানে হলো পথ আর ভুক্তি অর্থ প্রদেশ। সেই সময় উৎকলে যাওয়ার একমাত্র পথ হওয়ায় এই প্রদেশের নাম হয় ‘দণ্ডভুক্তি’।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং আনন্দবাজার পত্রিকা)
৪,৮৬৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'অপারেশন কিলো ফ্লাইট' পরিচালনা করে কোন বাহিনী?
  1. গেরিলা বাহিনী
  2. বিমান বাহিনী
  3. সেনাবাহিনী
  4. নৌবাহিনী
ব্যাখ্যা

→ অপারেশন কিলো ফ্লাইট মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অপারেশনগুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম।

অপারেশন কিলো ফ্লাইট:
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস।
- ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
- এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা।
- ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ডেইলি স্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২।

৪,৮৬৭.
বাংলার নববর্ষ পহেলা বৈশাখ চালু করেছিলেন -
  1. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
  2. ইলিয়াস শাহ
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট বাবর
ব্যাখ্যা
• বাংলা নববর্ষ:
- পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন।
- এ দিনটি বাংলা নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়।
- এটি বাঙালি জাতির একটি সর্বজনীন লোক উৎসব।
- এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা - ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে।
- তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতু নির্ভর।
- এই কৃষি কাজের সুবিধার্থেই মুঘল সম্রাট আকবর — ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।
- নতুন সনটি প্রথমে 'ফসলি সন' নামে পরিচিত ছিল যা পরে 'বঙ্গাব্দ' নামে পরিচিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৬৮.
বাংলাদেশের অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
• ইউনেস্কো বাংলাদেশের চারটি বিষয়কে অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে। এগুলো হলোঃ
- বাউল গান (২০০৮),
- জামদানি শিল্প (২০১৩),
- মঙ্গল শোভাযাত্রা (২০১৭) এবং
- শীতল পাটি (২০১৭)।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
৪,৮৬৯.
কত সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করে?
  1. ১৭৬০ সালে
  2. ১৭৬১ সালে
  3. ১৭৬৪ সালে
  4. ১৭৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
কোম্পানির দেওয়ানি লাভ: 
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করে।
- ১৭৬৫ সালে মীর জাফরের মৃত্যুর পর তার পুত্র নাজিম-উদ-দৌলাকে শর্তসাপেক্ষে বাংলার সিংহাসনে বসানো হয়।
- শর্ত থাকে যে, তিনি তার পিতার মতো ইংরেজদের নিজস্ব পুরাতন দস্তক অনুযায়ী বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে দেবেন এবং দেশীয় বণিকদের অবাধ বাণিজ্যের সুবিধা বাতিল করবেন।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব বা খাজনা ও কর আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব অর্থাৎ দেওয়ানি লাভ করে।
- ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,৮৭০.
'কনর্সাট ফর বাংলাদেশ' আয়োজনকারী জর্জ হ্যারিসন কোন দেশের নাগরিক?
  1. ক) রাশিয়া
  2. খ) যুক্তরাজ্য
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে জর্জ হ্যারিসনের তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'।
-  জর্জ হ্যারিসন ছিলেন যুক্তরাজ্যের নাগরিক।
- জর্জ হ্যারিসনকে অনুষ্ঠানটি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন বিখ্যাত সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৪,৮৭১.
প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার প্রাইমারী এডুকেশন টেকিং ওভার অ্যাক্টের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেন।
- এই আইনের মাধ্যমে তখন ৩৬,১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়।

- ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায় এবং ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

(তথ্যসূত্র: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও আইন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট)
৪,৮৭২.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধে কে পরাজিত ও নিহত হয়?
  1. বাবর
  2. ইব্রাহিম লোদী
  3. হুমায়ুন
  4. শেরশাহ
ব্যাখ্যা

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পক্ষ: সম্রাট বাবঢ় বনাম ইব্রাহিম লোদী। 
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ। 
- পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। 
- প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন। 
- ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। 
- শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন।

এছাড়াও,
- পানিপথের ২য় যুদ্ধ: ১৫৫৬  খ্রিস্টাব্দ।
- পানিপথের ৩য় যুদ্ধ: ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৮৭৩.
ঢাকার আহসান মঞ্জিল কে নির্মাণ করেন?
  1. নবাব আব্দুল লতিফ
  2. নবাব আব্দুল গণি
  3. শায়েস্তা খান
  4. নবাব কুতুব উদ্দিন
ব্যাখ্যা

আহসান মঞ্জিল:
- আহসান মঞ্জিল পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
- এটি পূর্বে ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ।
- বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- এর প্রতিষ্ঠাতা নওয়াব আবদুল গণি। তিনি তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ’র নামানুসারে এর নামকরণ করেন।
- এর নির্মাণকাল ১৮৫৯-১৮৭২ সাল।
- নওয়াব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি নতুন করে নির্মাণ করান।
- ১৯০৬ সালে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়।
- এই প্রাসাদের ছাদের উপর সুন্দর একটি গম্বুজ আছে। এক সময় এই গম্বুজের চূড়াটি ছিল ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৭৪.
লর্ড ডালহৌসি প্রবর্তিত 'স্বত্ববিলোপ নীতি'র মাধ্যমে প্রথম কোন রাজ্যটি ব্রিটিশরা দখল করে?
  1. অযোধ্যা
  2. নাগপুর
  3. সাতারা
  4. ঝাঁসি
ব্যাখ্যা

- লর্ড ডালহৌসি প্রবর্তিত 'স্বত্ববিলোপ নীতি' (Doctrine of Lapse) অনুসারে ব্রিটিশরা প্রথম যে রাজ্যটি দখল করে সাতারা।
- ১৮৪৮ সালে, যখন সেখানকার রাজা কোনো বৈধ পুরুষ উত্তরাধিকারী না রেখে মারা যান। এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য ডালহৌসির একটি প্রধান কৌশল, যার মাধ্যমে একাধিক রাজ্য ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। 

• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রয়োগ:

- স্বত্ববিলোপ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করে ডালহৌসী প্রথমেই ব্রিটিশ প্রভাবাধীন সাতারা রাজ্যটি দখল করেন ১৮৪৮ খ্রিঃ,
- এরপর ১৮৫৩ সালে নাগপুরের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তাঁর রাজ্যটি গ্রাস করা হয়, এক্ষেত্রে ডালহৌসীর যুক্তি ছিল যে, নাগপুর রাজ্যটি নাকি ইংরেজরাই সৃষ্টি করেছিল।
- ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও-এর প্রয়াণ হলে ডালহৌসী তাঁর দত্তক পুত্রকে মেনে নিতে রাজি হলেন না এবং ঝাঁসির রানির মতামতকে উপেক্ষা করেই ঝাঁসি রাজ্যটি দখল করা হল।
এছাড়া ভগৎপুর, করৌলী, সম্বলপুর, উদয়পুর, বাগৎ প্রভৃতি রাজ্যগুলি একই কারণে গ্রাস করা হয়, যদিও উদয়পুর কোম্পানির সৃষ্ট দেশীয় রাজ্য ছিল না।

উৎস: দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস ১ম পত্র বই, বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৭৫.
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কী নামে লিপিবব্ধ করেছে?
  1. ক) The Declaration Of Independence
  2. খ) The best Address to the Nation
  3. গ) The Greatest Leaders Address
  4. ঘ) Worlds Documentary Heritage
ব্যাখ্যা
- ৩০ অক্টোবর ২০১৭ খিস্টাব্দে ইউনেস্কো কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কর্তৃক মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্তিকরণে ওয়ার্ল্ড ডেমোক্রেসি হেরিটেজের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে Worlds Documentary Heritage নামে ইউনেস্কো কর্তৃক মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্তিকরণে ওয়ার্ল্ড ডেমোক্রেসি হেরিটেজের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনন্য এবং অসাধারণ এই কারণে যে, এই ভাষণ সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একতাবদ্ধ করেছিল।
- বঙ্গবন্ধুর সেই জাদুকরী ভাষণ দেশের জনগণের মাঝে এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল যে, সেই সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী সব জনগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ তাদের মনোজাগতিক উদ্দীপনার অংশ হিসাবে পরিগণিত হয়েছিল।
- আর এ কারণেই এ ভাষণের গুরুত্ব অনুধাবন করে ইউনেস্কো কর্তৃক মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার কমিটি চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে সবাই একবাক্যে বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণকে স্বীকৃতির জন্য নির্বাচিত করে।
- মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ স্থান করে নেওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে একটি সুদীর্ঘ পরিকল্পনা ও ইতিহাস।

উৎস:- ইউনেস্কোর ওয়েবসাইট এবং পত্রিকা রিপোর্ট। 
৪,৮৭৬.
'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয় কোন সালে?
  1. ক) ১৯৪৭
  2. খ) ১৯৪৮
  3. গ) ১৯৪৯
  4. ঘ) ১৯৫২
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয় ১ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
- দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
- 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয় ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি। যার আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।

উৎসঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র।

৪,৮৭৭.
“দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পৃথক হিসাব থাকবে এবং অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা রাজ্যের হাতে থাকবে।” - ছয় দফার কত নং দফায় এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
⇨ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৬ ফেবু্রয়ারি ঐতিহাসিক মুক্তির বাণী তথা ‘ছয় দফা’ কর্মসূচি পেশ করেন।
আওয়ামী লীগের ছয় দফা ছিল ঐতিহাসিক দাবি।
⇨ এ ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালিদের অধিকারের সনদ যার মধ্যে বাঙালিদের জীবনের দাবি নিহিত ছিল।

নিম্নে ছয় দফা কর্মসূচি উল্লেখ করা হল:-
১। শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি: ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা হবে। সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির, সর্বদলীয় ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকদের ভোটে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভা গঠিত হবে।

২। পররাষ্ট্র সংক্রান্ত: বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ছাড়া সকল বিষয় অঙ্গরাষ্ট্র বা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে। বৈদেশির সম্পর্ক প্রতিরক্ষা বিষয় ন্যস্ত থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।

৩। অর্থ ও মুদ্রা: দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করার ব্যবস্থা থাকবে। এ রকম
ব্যবস্থা চালু সম্ভব না হলে দুই অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে, তবে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চলের মুদ্রা অন্য অঞ্চলে পাচার না হতে পারে।

৪। শুল্ক সম্বন্ধীয়: সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিবার্হের জন্য আদায়কৃত অর্থের একটা অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে।

৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা:
বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্য সম্পর্কে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর সরকার আলাদা আলোচনা বা সম্পর্ক করতে পারবে।

৬। আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা: আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলো আধা-সামরিক বাহিনী বা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করতে পারবে।


তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৮৭৮.
বঙ্গবন্ধু মোট কতবছর জেলে কাটান?
  1. ক) ৫ বছর
  2. খ) ৯ বছর
  3. গ) ১২ বছর
  4. ঘ) ১৪ বছর
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনে মোট ১২ বছর জেলে কাটান। এর পুরোটাই পাকিস্তানি শাসনামলে। অর্থাৎ পাকিস্তানের ২৪ বছরের শাসনামলের অর্ধেক সময়ই তাকে জেলে টাকাতে হয়েছে।
- বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম ১৯৩৮ সালে তার এক বন্ধুকে সাহায্য করতে গিয়ে প্রথমবার সাতদিন জেল খাটেন।
- রাজনৈতিক কারনে প্রথম জেলে যান ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবিতে হরতালের কর্মসূচি থেকে।
- সর্বশেষ ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ তিনি পাকিস্তান থেকে মুক্তি হয়ে লন্ডন গমন করেন।
(তথ্যসূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
৪,৮৭৯.
বাঙালি ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী নেতা “বাঘা যতীন” কোন অঞ্চল থেকে বিপ্লবী হয়ে ওঠেন?
  1. মেদিনীপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. ফরিদ পুর
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (৭ ডিসেম্বর ১৮৭৯ – ১০ সেপ্টেম্বর ১৯১৫) ছিলেন একজন বাঙালি ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী নেতা।
- তিনি বাঘা যতীন নামেই সকলের কাছে সমধিক পরিচিত।
- ভারতে ব্রিটিশ-বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।
- বাঘা যতীন ছিলেন বাংলার প্রধান বিপ্লবী সংগঠন যুগান্তর দলের প্রধান নেতা।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্বে কলকাতায় জার্মান যুবরাজের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে তিনি জার্মানি থেকে অস্ত্র ও রসদের প্রতিশ্রুতি অর্জন করেছিলেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে 'জার্মান প্লট' তারই মস্তিষ্কপ্রসূত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৪,৮৮০.
বিদেশি ভাষায় প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ছবি 'JK 1971' এর পরিচালক কে?
  1. রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমন
  2. ফখরুল আরেফিন খান
  3. মাসুদ পথিক
  4. নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু
ব্যাখ্যা
বিদেশি ভাষায় প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ছবি 'JK 1971' এর পরিচালক ফখরুল আরেফিন খান।
১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ফ্রান্সের প্যারিসের আর্লি বিমান বন্দরে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) একটি বিমান ছিনতাই করেন ফরাসি এক তরুণ। নাম জঁ ক্যা। এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। 
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।
৪,৮৮১.
ছাত্র-নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে ঘোষিত ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় কবে? 
  1. ১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে
  2. ১৮ জুলাই, ২০২৪ সালে
  3. ৩১ জুলাই, ২০২৪ সালে
  4. ১ আগস্ট, ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা

• 'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচি:
- বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি- কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহিংসতায় অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণহানি হয়েছে।
- এমতাবস্থায় আন্দোলন দমনের জন্য সাধারণ ছাত্র ও আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার চালানো হয়েছে।
- যা রীতিমতো দেশের সংবিধান বিরোধী ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়েছে।
- আর এরই প্রতিবাদে ছাত্ররা তাদের কর্মসূচি 'মার্চ ফর জাস্টিস' পালন করেছে।

⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে।
- ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।

৪,৮৮২.
সম্রাট অশোক মৌর্য বংশের কততম সম্রাট ছিলেন?
  1. চতুর্থ
  2. প্রথম
  3. তৃতীয়
  4. দ্বিতীয়
ব্যাখ্যা
সম্রাট অশোক:
- সম্রাট অশোক ভারতের মৌর্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক ছিলেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩ অব্দে তিনি সিংহাসনে বসেন।
- এর তের বছর পর খ্রিস্টপূর্ব ২৬১ অব্দে অশোক পার্শ্ববর্তী কলিঙ্গ রাজ্য আক্রমণ করেন।
- ভয়াবহ কলিঙ্গ ‍যুদ্ধে সাধারণ মানুষসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়।
- এ ভয়াবহতা সম্রাট অশোকের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
- এতে করে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধ পরিহার করে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির নীতি গ্রহণ করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, স্নাতক শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৮৮৩.
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকা) কোথায় অবস্থিত?
  1. টংগী, গাজীপুর
  2. কোনাবাড়ী, গাজীপুর
  3. পুলের হাট, যশোর
  4. দাউদকান্দি, কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র:
- শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী আইনের সাথে সংঘর্ষে জড়িত বা সংস্পর্শে আসা শিশু বা অভিবাবক কর্তৃক প্রেরীত শিশুদের উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনে একীভূত করার লক্ষ্যে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র পরিচারিত হচ্ছে।
- উন্নয়ন কেন্দ্রসমূহে স্বীকৃত পদ্ধতিতে আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু ও অভিবাবক কর্তৃক প্রেরীত শিশুদের কেইস ওয়ার্ক, গাইডেন্স, কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে মানসিকতার উন্নয়ন, ডাইভারশন ইত্যাদি স্বীকৃত পদ্ধতিতে রক্ষণাবেক্ষণ, ভরণপোষন, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন করে কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে সমাজে পুনর্বাসিত/আদালতের  নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
- এ সকল প্রতিষ্ঠানে মোট আসন সংখ্যা ৬০০ জন।
- সমাজসেবা অধিদফতরের প্রতিষ্ঠান শাখা উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক/ বালিকা) সমূহ পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য,
- শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) গাজীপুরের টংগীতে অবস্থিত।
- শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকা) গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অবস্থিত।
- শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) যশোরের পুলের হাটে অবস্থিত।

উৎস: সমাজসেবা অধিদফতর ওয়েবসাইট। 
৪,৮৮৪.
অপারেশন সার্চ লাইট যে সালে সংঘটিত হয়-
  1. ক) ১৯৬৯
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) ১৯৭৫
  4. ঘ) ১৯৭০
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর 'অপারেশন সার্চ লাইট' পরিচালনা করে।
- এই অপারেশনে ঢাকা শহর জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালানো হয়।
- ১৮ মার্চ ১৯৭১ জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন।
- সব প্রস্তুতি শেষে ২৫ মার্চ এই অপারেশন চালানো হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইটের মূল দায়িত্বে ছিলেন।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৮৮৫.
গণহত্যা জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. খুলনা
  3. রাজশাহী
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
‘১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর:
- ১৯৭১: গণহত্যা নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর খুলনায় অবস্থিত।
- এখানে আছে বাঙালির মুক্তি, স্বাধীনতার স্পৃহা আর মুক্তিযুদ্ধকালের সবচেয়ে মর্মন্তুদ পর্বের অসংখ্য নিদর্শন।
- সেগুলোর সামনে দাঁড়ালে দর্শনার্থীর চোখে ভেসে ওঠে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মমুহূর্তের যন্ত্রণার দিনগুলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের উৎসাহে ২০১৪ সালের ১৭ মে খুলনায় এই জাদুঘর যাত্রা শুরু করে।
- ২০১৫ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগরের ২৬ সাউথ সেন্ট্রাল রোডের দ্বিতল একটি বাড়ি উপহার দেন।
- সংস্কারের পর ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ সেই বাড়িতে স্থানান্তর হয় জাদুঘরটি।
- ১৯৭১ সালের গণহত্যা-নির্যাতনের নিদর্শন সংরক্ষণ, বধ্যভূমি ও গণকবর-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, গণকবর ও বধ্যভূমি চিহ্নিত করা এবং গবেষণা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তারা।

উৎস: ২৭ মার্চ ২০১৯, প্রথম আলো।
৪,৮৮৬.
জুলাই সনদ কবে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
  2. ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
  3. ১৮ অক্টোবর, ২০২৫
  4. ১৯ অক্টোবর, ২০১৫
ব্যাখ্যা

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫:
- ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।

১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা হয়।
- এর ফলে ৫ই আগস্ট, ২০২৪ তারিখে তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার কিছু দোসর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান এবং দীর্ঘকালীন দমনমূলক ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।
- জনগণের বিজয়ের ফল হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

⇒ জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়েছে।
- এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ১৭টি বিষয়ে ৩২টি রাজনৈতিক দল ও জোটের পূর্ণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে ৮৪ দফার জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন; বাকি ৬৭টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ কেউ বিরোধিতা করেছে এবং দিয়েছে নোট অব ডিসেন্ট।

উৎস: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওয়েবসাইট।

৪,৮৮৭.
প্রাচ্যের ভেনিস বলা হয় কোন জেলাকে?
  1. বরিশাল
  2. ভোলা
  3. ফরিদপুর
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের শস্য ভাণ্ডার:
- 'প্রাচ্যের ভেনিস' নামে পরিচিত বরিশাল জেলা।
- বরিশাল জেলাকে বাংলার শস্যভান্ডার বলা হয়।
- কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত এ শহরের পুরাতন নাম চন্দ্রদ্বীপ। 
- বাংলাদেশের শস্য ভাণ্ডার, প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ ও প্রাচ্যের ভেনিস সহ বিভিন্ন নামে পরিচিত এই বরিশাল নগরীতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নদী ও খাল।
- এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ অনেকাংশেই নির্ভরশীল ছিল এইসব নদী ও খালের উপর।
- ধান- নদী -খাল এই তিনে বরিশাল' খ্যাত বরিশাল বিভাগের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
- এ রাজ্য প্রতিষ্ঠার পূর্বে এ অঞ্চল ‘বাকলা' নামে পরিচিত ছিল।
- ‘বাকলা' অর্থ শস্য ব্যবসায়ী যা আরবী শব্দ থেকে আগত। 
- বাংলার শস্য ভান্ডার বরিশাল একদা ‘এগ্রিকালচারাল ম্যানচেস্টার' হিসেবে পরিচিত ছিল।
- প্রাচীনকাল থেকে পলি গঠিত উর্বর এ অঞ্চল ছিল কৃষির জন্য উৎকৃষ্ট এবং বসবাসের জন্য উত্তম।
- কৃষিই ছিল এ দেশের অর্থনীতির মূল উৎস।
- পর্যটক রালফ ফিস ১৫৮০ সালে বাকলাকে অত্যন্ত সম্পদশালী আখ্যায়িত করে এখানকার প্রচুর চাল, কার্পাস, রেশমবস্ত্র ও সুবৃহৎ ঘরের কথা উল্লেখ করেছেন।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,৮৮৮.
সুলতান মাহমুদ কতবার ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন?
  1. ২৭ বার
  2. ২০ বার 
  3. ১৮ বার 
  4. ১৭ বার
ব্যাখ্যা

সুলতান মাহমুদ:
- সুলতান মাহমুদ ছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত।
- মুহম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের প্রায় তিনশ বছর পর গজনির সুলতান মাহমুদ ভারত অভিযান করেন।
- গজনি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আলপ্তগীন। আলপ্তগীনের ক্রীতদাস ও জামাতা গজনীর আমির সবুক্তগীনের পুত্র ছিলেন সুলতান মাহমুদ।
- এ রাজবংশটি ইসলামের ইতিহাসে ‘গজনি রাজবংশ' নামে পরিচিত।
- সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মাত্র ২৭ বছরে ১৭ বার ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযান পরিচালনা করেন।

⇒ সুলতান মাহমুদের সভাকবি ছিলেন মহাকবি ফেরদৌসী।
- ফেরদৌসীর রচিত অমর কাব্যগ্রন্থের নাম শাহনামা।
- ফেরদৌসীকে বলা হয় প্রাচ্যের হোমার।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৮৮৯.
অপারেশন জ্যাকপট কত তারিখে পরিচালিত হয়?
  1. ২২ই জুলাই ১৯৭১ সালে
  2. ৭ই আগস্ট ১৯৭১ সালে
  3. ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে
  4. ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট ১৯৭১ সালে।
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
৪,৮৯০.
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন এম মনসুর আলী। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৮৯১.
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২য় বার গঠিত হয় কখন?
  1. ১ মার্চ, ১৯৪৮
  2. ২ মার্চ, ১৯৪৮
  3. ১ অক্টোবর, ১৯৪৮
  4. ২ অক্টোবর, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

⇒ তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম পুস্তিকা প্রকাশিত হয়।
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।
- ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ১৩ ডিসেম্বর ২০২১, প্রথম আলো।
৪,৮৯২.
বাংলাদেশে মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব-
  1. বীরবিক্রম
  2. বীরশ্রেষ্ঠ
  3. বীরপ্রতীক
  4. বীরউত্তম
ব্যাখ্যা
১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক খেতাব ৪ ভাগে বিভক্ত। যথা-
১. বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন (মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
২. বীর উত্তম ৬৮ জন (মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
৩. বীর বিক্রম ১৭৫ জন (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব) এবং
৪. বীর প্রতীক ৪২৬ জন (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৮৯৩.
ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভায় কোন দফতরের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. স্বরাষ্ট্র ও কৃষি
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. ত্রাণ ও পুনর্বাসন
  4. পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক
ব্যাখ্যা
→ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভায় 'অর্থ ও বাণিজ্য' দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। 

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা ও তাদের দফতর:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: এম. মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমেদ

উল্লেখ্য, 
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড।
৪,৮৯৪.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামিকে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
  4. ঘ) আতাউল গণি উসমানী
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করে। ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় প্রধান আসামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এতে আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে। যার কারণে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)

৪,৮৯৫.
বর্তমানে দেশে মোট জাতীয় উদ্যান আছে ______।
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ১২টি
  3. গ) ১৫টি
  4. ঘ) ১৮টি
ব্যাখ্যা

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এটি ২০০৫ সালে স্থাপিত হয়। এটির মোট আয়তন প্রায় ২৪৩ হেক্টর। এটি সহ বর্তমানে দেশে মোট ১৮টি জাতীয় উদ্যান রয়েছে।
সূত্রঃ বন অধিদপ্তর।

৪,৮৯৬.
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে সর্বপ্রথম বণিজ্য করার উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে প্রথম আগমন করে-
  1. পর্তুগিজ
  2. ওলন্দাজ
  3. ইংরেজ
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
• পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, তাঁর নাম ভাস্কো-ডা-গামা। তিনি ১৪৯৮
- সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- পর্তুগিজরা ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এদেশে আসে কিন্তু ক্রমে তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে মনোনিবেশ করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা উপমহাদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে কুঠি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
- ১৫৩৮ সালে তারা চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্যঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- ১৫৭৯ সালে হুগলী নামক স্থানে তারা উপনিবেশ গড়ে তোলে।
- এরপর তারা উড়িষ্যা এবং বাংলার কিছু অঞ্চলে বসতি সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়।
- বাংলাসহ ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন অংশে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণের ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা থাকলেও পর্তুগিজদের বিভিন্ন অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খান তাদের
- চট্টগ্রাম ও সন্দীপের ঘাঁটি দখল করে বাংলা থেকে বিতাড়ন করেন। তাছাড়া পর্তুগিজরা বাংলায় আগত অন্যান্য
- ইউরোপীয় শক্তির সঙ্গেও পরাজিত হয়। এরপর তারা দেশ ত্যাগ করে।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,৮৯৭.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  2. তমদ্দুন মজলিশ
  3. রাষ্ট্রভাষা কমিটি
  4. পূর্ব বাংলা ছাত্র পরিষদ
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৯৮.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন 'তমদ্দুন মজলিশ' কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
  2. ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
  3. ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
  4. ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।

⇒ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস"।
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর নতুন বাস্তবতায় তমদ্দুন মজলিস কেবল বাংলা ভাষায়ই নয়, বরং একটা সার্বিক জীবন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন ভাষায় একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছিলো।
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- তমদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বেই ১৯৪৭ সালের পহেলা অক্টোবর প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের দোসরা মার্চ তমদ্দুন মজলিশসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের যৌথসভায় শামসুল আলমকে আহ্বায়ক করে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ' নামে নতুন কমিটি হয়েছিলো।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড) অনুসারে, ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ তারিখে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাপিডিয়ার সূত্র অনুসারে, তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর গঠিত হয়।
স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র এই বিষয়ে অন্য যেকোনো রেফারেন্স থেকে অগ্রগণ্য হবে। অপশনে ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ না থাকলে ১ সেপ্টেম্বর উত্তর হবে।

[বিস্তারিত তথ্যকল্পদ্রুম-7]

উৎস: i) ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
iii) স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা- ৪৯।
৪,৮৯৯.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এর আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. ক) আবদুল মতিন
  2. খ) অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা
  3. গ) কাজী গোলাম মাহবুব
  4. ঘ) শামসুল আলম
ব্যাখ্যা
⇨ ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন

অন্যদিকে, 
⇨ ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
⇨ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
⇨ ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
⇨ কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
⇨ এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তথ্যসূত্র:- ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৯০০.
কোনটি স্বাধীন বাংলাদেশে স্থাপিত প্রথম সমুদ্রবন্দর?
  1. ক) মাতারবাড়ী
  2. খ) মোংলা
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) পায়রা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর।
- এটি ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

- বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা সমুদ্রবন্দর।
- এটি ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্রবন্দর পায়রা সমুদ্রবন্দর। 
- এটি ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে।

- স্বাধীন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর।
- এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ২০২৫ সালে।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট বন্দর ওয়েবসাইট।