বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৪৮ / ১২৪ · ৪,৭০১৪,৮০০ / ১২,৪২১

৪,৭০১.
পাল রাজবংশের উত্থান ঘটে কোন শতকে?
  1. ষষ্ঠ শতক
  2. সপ্তম শতক
  3. অষ্টম শতক
  4. নবম শতক
ব্যাখ্যা

পাল রাজবংশ:
- পাল রাজবংশের উত্থান ঘটে ৮ম শতকের মাঝামাঝি সময়ে (আনুমানিক ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে)।
- রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘ একশ বছরের (মাৎস্যন্যায়) অরাজকতা দূর করতে গোপাল এই বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই রাজবংশ ৮ম থেকে ১২শ শতক পর্যন্ত বাংলা ও বিহার শাসন করেছিল। 
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

⇒ গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন। তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭০২.
ওআইসির কততম শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন?
  1. প্রথম
  2. তৃতীয়
  3. চতুর্থ
  4. দ্বিতীয়
ব্যাখ্যা

- ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা- OIC (Organization of Islamic Co-operation) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।
- এর সদরদপ্তর অবস্থিত সৌদি আরবের জেদ্দায়। ওআইসির বর্তমান সদস্য দেশ ৫৭ টি।
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য পদ লাভ করে।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
উৎসঃ ওআইসি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।

৪,৭০৩.
১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান কে?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. লর্ড বেন্টিংক
  4. কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে।
- নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুন্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭০৪.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ কত বছরব্যাপী হয়েছিল?
  1. ক) ১৭৬০ থেকে ১৭৭১ সাল পর্যন্ত
  2. খ) ১৭৬০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত
  3. গ) ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত
  4. ঘ) ১৭৮৭ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।

- ফকির মজনু শাহের যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ১৭৬০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। 
- অপরদিকে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন।
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন ভবানী-পাঠক।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭০৫.
একুশ দফার মুখ্য রচয়িতা ছিলেন -
  1. ক) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) আবুল মনসুর আহমেদ
  4. ঘ) ড. এস এম হোসাইন
ব্যাখ্যা
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার ছিল ২১ দফা।

• একুশ দফা:

- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ‘একুশ দফা’ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- একুশ দফা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমদ।
- একুশ দফার প্রথম দাবীটি ছিলো বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
- এছাড়া অন্যান্য দাবীর মধ্যে ছিলো:
- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত করা।
- অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭০৬.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রতীক কী ছিল?
  1. হারিকেন
  2. নৌকা
  3. চাঁদ
  4. তারকা
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচন: 
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের ব্যালট বাক্সে ব্যবহারের জন্য সরকার চূড়ান্তরূপে মোট ২৪টি প্রতীক নির্দিষ্ট করেন।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ 'হারিকেন' প্রতীক এবং যুক্তফ্রন্ট 'নৌকা' প্রতীক গ্রহণ করে।
- ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারকে পাঁচ মাইলের বেশি হাঁটতে না হয় সেদিকে লক্ষ রেখে বুথ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- গেজেটেড অফিসার, কলেজের প্রফেসর, হাই স্কুল ও হাইমাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসার নিযুক্ত করা হয়।
- কোনো ভোটার যাতে একবারের বেশি ভোট দিতে না পারে সেজন্য ভোটদান কালে তার আঙুলে অমোচনীয় (যা সহজে ওঠেনা) কালির ছাপ দেওয়ার বিধান করা হয়।
- ভোটগ্রহণ ৮ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- নির্বাচন কমিশনার ছিলেন মো. আজফার।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭০৭.
নিচের কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ?
  1. ক) তেলসুর
  2. খ) গরান
  3. গ) আকাশি
  4. ঘ) গজারি
ব্যাখ্যা
- ম্যানগ্রোভ হলো সমুদ্র উপকূলের লোনা পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের শ্বাসমূল থাকে।
- বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
এ বনে জন্মানো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সুন্দরী
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- গোলপাতা ইত্যাদি।
-অন্যদিকে,
- গজারী বা শাল, তেলসুর ও আকাশি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ)
৪,৭০৮.
বারো ভূঁইয়া কাদের বলা হত?
  1. দিল্লীর ১২জন বাদশাহ
  2. সুলতানী আমলের ১২ জন সেনাপতি
  3. মোগল আমলের ১২ জন সেনাপতি
  4. বড় বড় স্বাধীন জমিদার
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাংলার স্থানীয় প্রধান ও জমিদার মুগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। 
- প্রকৃতপক্ষে বাংলায় আফগান শাসনামল ও মুগল শক্তির উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে এদেশের বিভিন্ন এলাকা বহু সামরিক প্রধান, ভূঁইয়া এবং জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- তারা কখনও যৌথভাবে এবং বেশিরভাগ সময় পৃথকভাবে মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন এবং স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন শাসকরূপে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা শাসন করেছিলেন।
- বারো ভূঁইয়া বলা হত বাংলার বড় বড় স্বাধীন জমিদারকে।
- বারো ভূঁইয়া বলতে বারজন প্রসিদ্ধ ভূ-স্বামী বুঝালেও আসলে এসব জমিদারদের সংখ্যা ছিল অনেক।

এছাড়াও,
- তাঁরা সম্মিলিতভাবে মুঘল আধিপত্যের বিরুদ্ধে সম্রাট আকবরের খ্যাতনামা সমর নায়কদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন।
- মুসলমান এবং হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন এ জমিদারগণ।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএএস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৪,৭০৯.
প্রাচীন মিশরের প্রথম নরপতি কে?
  1. ক) মেনেস
  2. খ) নেকতাবেনো
  3. গ) খুফু
  4. ঘ) আখেমেনিডস
ব্যাখ্যা
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশ যা আমাদের কাছে পরিচিত ইজিপ্ট বা মিশর নামে।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে মিশরে প্রথম সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
- যার একটি ছিল উত্তর মিশর (নিম্ন মিশর) অপরটি ছিল দক্ষিণ মিশর (উচ্চ মিশর)।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৩২০০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত সময়ে নীলনদের অববাহিকায় একটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- সে সময়টা প্রাচীন মিশরের ইতিহাসে প্রাক-রাজবংশীয় যুগ বলে পরিচিত।
- এ সময় থেকে মিশর প্রাচীন সভ্যতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করে।
- প্রথম রাজবংশের শাসন আমল শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দ থেকে। তখন থেকে মিশরের ঐতিহাসিক যুগের শুরু।
- একই সময়ে নিম্ন ও উচ্চ মিশরকে একত্রিত করে ‘নারমার’ বা ‘মেনেস’ একাধারে মিশরের প্রথম নরপতি এবং পুরােহিত হন।
- তিনি প্রথম ফারাও এর মর্যাদাও লাভ করেন। এরপর থেকে ফারওদের অধীনে মিশর প্রাচীন বিশ্ব সভ্যতার অগ্রগতিতে একের পর এক উল্লেখযােগ্য অবদান রাখতে শুরু করে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭১০.
'তমুদ্দিন মজলিস' এর মুখপত্র 'সৈনিক' পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন -
  1. কামরুদ্দীন আহমদ
  2. আবুল কালাম
  3. শাহেদ আলী
  4. আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

৪,৭১১.
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনে কে শহিদ হয়েছিলেন?
  1. মোস্তফা
  2. বাবুল
  3. ওয়াজিউল্লাহ
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
- এই কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ।
- এই কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- কমিশন রিপোর্ট দাখিল করেছিল আট মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট ১৯৫৯।

⇒ ক্ষমতায় এসেই আইয়ুব খান (অক্টোবর ১৯৫৮) সামরিক শাসন জারি করেছিলেন, এ সময় সব ধরনের রাজনীতি ছিল নিষিদ্ধ।
- ছাত্ররাজনীতি স্থায়ীভাবে নিষেধ করার মধ্যে সবাই আইয়ুবের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার মতলব আঁচ করেছিলেন।

 উল্লেখ্য,
- কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শরিফ আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে আইয়ুবের শিক্ষক ছিলেন।
- ১৯৫৯ সালে শরিফ কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- তবে সামরিক আইন জারি থাকায় তখন আন্দোলন তেমন জোরদার হতে পারেনি।
- ১৯৬২ সালে সামরিক আইন প্রত্যাহার হওয়ায় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।
- আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে ১৪৪ ধারার মধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়।
- এদিন ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে, পুলিশের বাধার মুখেও ছাত্রদের মিছিল এগিয়ে গেলে পুলিশ গুলি চালায়।
- এতে মোস্তফা ও বাবুল নামের দুজন ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং পরদিন গুলিবিদ্ধ ওয়াজিউল্লাহ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ছাত্র আন্দোলনের মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত শরিফ কমিশন রিপোর্টের বাস্তবায়ন স্থগিত ঘোষণা করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৪,৭১২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামিকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. ক) ক্যাপ্টেন শওকত আলীকে
  2. খ) ফ্লাইট সার্জেন্ট মফিজুল্লাহকে
  3. গ) সার্জেন্ট জহুরুল হককে
  4. ঘ) ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হককে
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ১৭ নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে করে গণআন্দোলন আরো প্রবল হয় এবং ফলশ্রুতিতে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাপিডিয়া]
৪,৭১৩.
"Bangladesh Fisheries Research Institute" is located in -
  1. ক) Cox-Bazar
  2. খ) Mymensingh
  3. গ) Chandpur
  4. ঘ) Khulna
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট:

- ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্নে 'বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট' অবস্থিত। পূর্বে এটি ছিল চাঁদপুরে।
- বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাঁচটি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে।
- নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এবং ১৯৮৪ সালে এটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) হাইড্রলিক গবেষণাগার হিসেবে পরিবৃদ্ধি লাভ করে। 
- সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র অবস্থিত কক্সবাজারে।
- ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট অবস্থিত চাঁদপুরে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭১৪.
বাংলাদেশের মোট সমুদ্রসীমা কত?
  1. ক) ১৪৩৪৩৭ বর্গ কিমি
  2. খ) ১১৮৮১৩ বর্গ কিমি
  3. গ) ১৪৩৮১৩ বর্গ কিমি
  4. ঘ) ১৮৮৮১৩ বর্গ কিমি
ব্যাখ্যা
- মিয়ানমার ও ভারতের সাথে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বাংলাদেশ ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার টেরিটোরিয়াল সমুদ্র,
- ১২ নটিক্যাল মাইল রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা,
- ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল,
- চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে পেরেছে।
৪,৭১৫.
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন কখন পাস হয়?
  1. ক) ২১ জানুয়ারি, ১৯৯১
  2. খ) ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫
  3. গ) ২৭ মার্চ, ১৯৯৬
  4. ঘ) ১০ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার মূলত অবাধ ও নিরপেক্ষ সাধারণ নির্বাচনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলগুলির প্রবল আন্দোলনের মুখেই জন্ম নিয়েছিল।
- ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি বৈধকরণের ফলে বাংলাদেশ বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
- ১৯৯৬ সালের ২১ মার্চ ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয় এবং ২৬ মার্চ ২৬৮-০ ভোটে বিলটি পাস হয়।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

- নিকটতম হিসাবে ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ কে সঠিক উত্তর ধরা হলো।
- অপশনে ২৬ মার্চ, ১৯৯৬ থাকলে সেটিই উত্তর হবে।

৪,৭১৬.
'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয় কখন?
  1. ক) ১ জুলাই, ১৯৭১
  2. খ) ১ আগস্ট, ১৯৭১
  3. গ) ২০ আগস্ট, ১৯৭১
  4. ঘ) ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
• একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
• পণ্ডিত রবিশংকর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য-বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটল্সের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই অবিস্মরণীয় কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন। তাতে মোট ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন। কনসার্টটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
• কনসার্ট ফর বাংলাদেশে আয়োজক দুই তারকা ছাড়াও অংশ নেন বিটলসের রিংগো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেসটন, লিয়ন রাসেল। রবি শঙ্কর ছাড়াও সরোদ শিল্পী আলী আকবর খান অংশ নিয়েছিলেন এই কনসার্টে।
• এই কনসার্টটি পরিচালনা করেন পল সুইমার। 

তথ্যসূত্র:- চিরন্তন ৭১, প্রথম আলো এবং বিবিসি বাংলা।
৪,৭১৭.
মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি
  3. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী:
- জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)।
- ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।
- ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪,৭১৮.
যুদ্ধ কৌশলগত কারণে মুক্তিবাহিনীতে গঠিত ‘জেড ফোর্স’ ব্রিগেডের অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান
  2. লে. কর্নেল খালেদ মোশাররফ
  3. লে. কর্নেল কে. এম. শফিউল্লাহ
  4. মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিবাহিনীতে Z, S, K ফোর্স নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স ছিল।
- এগুলো তেলিয়াপাড়া রণকৌশল অনুযায়ী গঠিত হয়েছিল।
- তেলিয়াপাড়া রণকৌশল হল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পরিকল্পনা;
- যেখানে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মিলিত আক্রমণের কৌশল তৈরি করা হয়।

Z ফোর্স-
- Z ফোর্স গঠিত হয় ৭ জুলাই ১৯৭১।
- এর অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান। 
- সদর দপ্তর ছিল তেলঢালায়।
- জিয়াউর রহমানের নামের প্রথম অক্ষর অনুযায়ী এই ফোর্স এর নাম Z ফোর্স রাখা হয়। 
- Z ফোর্স প্রধানত পূর্বাঞ্চলে সামরিক নেতৃত্ব দেয়; 
- এবং সেক্টর ২, ৩ ও ৪ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করত।
- ফোর্সটি মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত ব্রিগেড গঠন এবং সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
---------------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
S ফোর্স-
- লে. কর্নেল কে. এম. শফিউল্লাহ- S ফোর্স এর অধিনায়ক ছিলেন। 
- S ফোর্স গঠিত হয় সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে।
- এর সদর দপ্তর ছিল হাজামারায়।
- S ফোর্স উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করত এবং সেক্টর ৫, ৬ ও ৭ তত্ত্বাবধান করত।
- এর মূল লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের কাঠামোগত নেতৃত্ব প্রদান এবং সেক্টরভিত্তিক লড়াইকে সুসংগঠিত করা।

K ফোর্স-
- K ফোর্স এর অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল খালেদ মোশাররফ। 
- K ফোর্স গঠিত হয় ১৪ অক্টোবর ১৯৭১।
- এর সদর দপ্তর ছিল আগরতলায়।
- K ফোর্স দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করত এবং সেক্টর ৮, ৯ ও ১১ এর দায়িত্ব পালন করত।
- ফোর্সটি মুক্তিযুদ্ধের জন্য নিয়মিত ব্রিগেড গঠন ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।

উৎস: বনিক বার্তা ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা। 

৪,৭১৯.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ কে ছিলেন?
  1. শঙ্কু সমজদার
  2. শহীদুল ইসলাম লালু
  3. মনুমিয়া
  4. হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
শহীদুল ইসলাম লালু:
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন শহীদুল ইসলাম লালু।
- তিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে মহান স্বাধনীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ন অবদান রেখে বীর প্রতীক খেতাব পেয়ে ছিলেন।
- শহিদুল ইসলাম লালু বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১১ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিবাহিনী ছাড়াও দেশের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটি সশস্ত্র আঞ্চলিক বাহিনী গড়ে ওঠে।
- এর মধ্যে কাদেরিয়া বাহিনী অন্যতম।
- এ বাহিনীর একটি দলের সঙ্গে ছিলেন শহীদুল ইসলাম।
- শহীদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ী ছিলো সুখী পলাশপাড়া, গোপালপুর, টাঙ্গাইল।
- শুরুতে তিনি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য- সহযোগিতা, অস্ত্র-গোলাবারুদ বহন ও সংবাদ সংগ্রহের কাজ করতেন।
- পরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরায় অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন।

অন্যদিকে -
- ছয়দফা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মনুমিয়া।
- মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ হন শঙ্কু সমজদার।
- বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ হামিদুর রহমান।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৭২০.
পদ্মা সেতুর মোট স্প্যানের সংখ্যা -
  1. ক) ৪০টি
  2. খ) ৪১টি
  3. গ) ৪২টি
  4. ঘ) ৪৩টি
ব্যাখ্যা
পদ্মা সেতু:
- পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতু একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। 
- এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু। 
- সেতুটি মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, লৌহজংকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। 
- এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত উত্তর-পুর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।
- সেতুতে মোট পাইল রয়েছে ২৭২টি।
- পদ্মা সেতু তৈরি করা হয়েছে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় করে।
- পদ্মা সেতুর মোট স্প্যান ৪১টি, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। 
- পদ্মা সেতুর মোট পিলার রয়েছে ৪২টি।
- পদ্মা সেতুর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স ১৮ দশমিক ৩০ মিটার।
- ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে প্রথম স্প্যান বসানো হয়।
- ১০ ডিসেম্বর ২০২০ সালে শেষ স্প্যান বসানো হয়।
- ২৫ জুন ২০২২ সালে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উৎস: The Daily Star বাংলা, জুন ২৫, ২০২২।
৪,৭২১.
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. জাকারিয়া পিন্টু
  2. শংকর হাজরা
  3. কাজী সালাউদ্দিন
  4. লুৎফর রহমান
  5. মনসুর আলী লালু
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের একটি ফুটবল দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত অর্জন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ফুটবল খেলায় অংশ নেয়।
- এই দলটি ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’ নামে পরিচিত ছিল।
- পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধকালীন প্রথম ফুটবল দল এটি।
- মূল পরিকল্পনাটা ছিলো শামসুল হকের।
- জুন মাসে কলকাতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি এবং যারা সারা ভারতজুড়ে খেলে সমর্থন আদায় করবে আমাদের স্বাধীন বাংলার স্বীকৃতির জন্য।
- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু।
- আর সহ-অধিনায়ক ছিলেন প্রতাপ শংকর হাজরা।
- কোচ ও ম্যানেজার ছিলেন যথাক্রমে ননি বসাক ও তানভীর মাজহারুল তান্না। 
- ম্যাচ খেলা থেকে অর্জিত পাঁচ লাখ ভারতীয় রুপি ক্রীড়া সমিতি জমা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ফান্ডে।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে যারা ছিলেন:
- জাকারিয়া পিন্টু (অধিনায়ক), প্রতাপ শঙ্কর হাজরা (সহ-অধিনায়ক), আলী ইমাম, মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অমলেশ সেন, আইনুল হক, নিহার কান্তি দাস, শেখ আশরাফ আলী, বিমল কর, শাহজাহান আলম, মনসুর আলী লালু, কাজী সালাউদ্দিন, এনায়েতুর রহমান, সুভাষ সাহা, কে এম নওশেরুজ্জামান, ফজলে সাদাইন খোকন, আবুল হাকিম, তসলিমউদ্দিন শেখ, আমিনুল ইসলাম, আবদুল মমিন জোয়ারদার, মনিরুজ্জামান পেয়ারা, সাত্তার, প্রাণ গোবিন্দ কুন্ডু, মুজিবর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) খন্দকার নুরুন্নবী, লুৎফর রহমান, সাইদুর রহমান প্যাটেল, অনিরুদ্ধ চ্যাটার্জি, সনজিব কুমার দে, মাহমাদুর রশিদ, দেওয়ান মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন, নিহার কান্তি দাস।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ২৬ মার্চ ২০২২, সময় নিউজ।

৪,৭২২.
মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমদ
  4. ঘ) এএইচএম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।

মুজিবনগর সরকারের সদস্যবৃন্দ:

রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য-প্রতিরক্ষামন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।


(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪,৭২৩.
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (BARD) কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বগুড়া
  2. খ) রংপুর
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) ১৯৫৯ সালের ২৭ মে পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
- BARD (Bangladesh Academy for Rural Development) বা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খান।
- এটির অবস্থান কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ীতে।
- বার্ড বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটির প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান।

সোর্সঃ বার্ড ওয়েবসাইট।

৪,৭২৪.
বাংলাদেশের রাজধানী কোথায়?
  1. ঢাকা উত্তর
  2. ঢাকা দক্ষিণ
  3. ঢাকা
  4. শেরে বাংলা নগর
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের অনুচ্ছেদ ৫ অনুসারে, প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা।

⇒ এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

উল্লেখ্য,
- জনপদ হিসেবে ঢাকার গোড়াপত্তন হয় ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে।
- শহর হিসেবে এর গোড়াপত্তন হয় ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে।
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
৪,৭২৫.
Who is the composer of the song 'Joy Bangla, Banglar Joy'?
  1. ক) Gazi Mazharul Anwar
  2. খ) Anwar Parvez
  3. গ) Salil Chowdhury
  4. ঘ) Sudhin Dasgupta
ব্যাখ্যা
জয় বাংলা বাংলার জয়
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটিকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণসংগীত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্রনির্বিশেষে এই গানকে আরাধ্য করেই মুক্তির পথে এগিয়ে যায় সমগ্র বাঙালি।
- এই গান স্বাধীন বাংলা বেতারের সূচনা সংগীত; জাতীয় স্লোগানও বটে।
- এই গানের সুরস্রষ্টা আনোয়ার পারভেজ।
- গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- আনোয়ার পারভেজ ২০০৬ সালের ১৭ জুন মারা গেছেন।
- এক সাক্ষাৎকারে গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘আমার কথার আনোয়ার পারভেজ যে সুরের অলংকার পরিয়ে দিয়েছিলেন, তা মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে।
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটি মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয়টা মাস মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
- এ গান একটি যুদ্ধ, এ গান একটি স্বপ্ন, এ গান একটি বাস্তবতা।
- এ গানেই দেশের সব চাওয়ার কথা, মুক্তির স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।
১৬ ডিসেম্বর ২০২০।
৪,৭২৬.
পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিপক্ষে ছিল কে?
  1. মোহনলাল
  2. মীরমদন
  3. জগতশেঠ
  4. সিনফ্রে
ব্যাখ্যা

পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭):
- সংঘটিত হয়: ২৩ জুন ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ।
- স্থান: ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগান।
- পক্ষসমূহ: নবাব সিরাজউদ্দৌলা বনাম ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
- ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্ব: রবার্ট ক্লাইভ।
- নবাবের পক্ষে ছিলেন: মীরমদন, মোহনলাল, ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- নবাবের পরাজয়ের প্রধান কারণ: মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা।
- ফলাফল: সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু।
- বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম হয়।
- মীরজাফর বাংলার নবাব নিযুক্ত হন।
- ক্ষমতা থাকে রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- জগৎ শেঠ বাংলার অত্যন্ত ধনী ব্যাংকার ফতেহ চাঁদকে আঠারো শতকের প্রথমার্ধে ‘জগৎ শেঠ’ বা বিশ্বের ব্যাংকার উপাধি প্রদান করা হয়।
- তিনি ও তার সম্পর্কিত ভাই মহারাজা স্বরূপ চাঁদ নওয়াব আলীবর্দী খান এর সময়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন।
- আলীবর্দীর উত্তরাধিকারী সিরাজউদ্দৌলা এ পরিবারের দুভাইকে বৈরী করে তোলেন।
- ফলে তারা তার বিরুদ্ধে ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন এবং পলাশীর যুদ্ধ এর আগে ও পরে তাদেরকে বিপুল অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন।
- বাংলার জনগণ বিশ্বাস করে যে, জগৎ শেঠের অর্থ আর ইংরেজদের তলোয়ার মিলে বাংলায় মুসলিম শাসনের পতন ঘটিয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৭২৭.
'তবকত-ই-নাসিরীর' বর্ণনায় গঙ্গার দক্ষিণে কোন জনপদের অবস্থান নির্দেশিত হয়েছে?
  1. সমতট
  2. বঙ্গ
  3. রাঢ়
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
রাঢ়:
- বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস থেকে বলা যায় যে, রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- তবকত-ই-নাসিরীর বর্ণনায়ও গঙ্গার দক্ষিণে রাঢ়ের অবস্থান নির্দেশিত হয়েছে।
- এই জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
• দক্ষিণ রাঢ়।
• উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূহ্মদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭২৮.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয় কোনটি?
  1. আসাম
  2. বিহার
  3. ত্রিপুরা
  4. মেঘালয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্ত:

- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি। যথা- আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয়- বিহার।
- উত্তরে- ভারতের পশ্চিবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশ।
- পুবে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম প্রদেশ এবং মিয়ানমার।
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (ভারত), মিয়ানমার।
- পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি।
 
তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭২৯.
‘ওকি গাড়িয়াল ভাই কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়ারে’ - কোন প্রকারের গান?
  1. ক) ভাটিয়ালি
  2. খ) জারি
  3. গ) ভাওয়াইয়া
  4. ঘ) সারি
ব্যাখ্যা
‘ওকি গাড়িয়াল ভাই কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়ারে’ - ভাওয়াইয়া গানের উদাহরণ- 
- ভাওয়াইয়া  উত্তরবঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার  লোকগীতি।
- রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলা এ গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গান সুরলালিত্যে ভরপুর এবং এর একটি নিজস্ব গীতরীতি আছে।
- এ গানের মূল সুর নর-নারীর প্রণয়। প্রণয়ের বিচ্ছেদ জ্বালাই এতে অধিক রূপায়িত হয়।
- মৈশাল, গাড়োয়ান, মাহুত প্রমুখ এই প্রণয়গীতির নায়ক।
- আধ্যাত্মিক চেতনাসমৃদ্ধ ভাওয়াইয়া গানও পরিলক্ষিত হয়।
যেমন: ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’, ‘ছাড় রে মন ভবের খ্যালা’ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৩০.
শিক্ষা বিভাগের ট্রেনিং এর শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. বিয়াম
  2. নায়েম
  3. ইউ.জি.সি
  4. কে.টি.সি
ব্যাখ্যা

নায়েম:
- দেশের শিক্ষা বিভাগের ট্রেনিংয়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান - নায়েম।
- পূর্ণরূপ - National Academy for Educational Management (NAEM)
- এটি ১৯৫৯ সালে স্থাপিত হয়।
- এটির অবস্থান ঢাকার নিউমার্কেটে ঢাকা কলেজের পাশে।
- এখানে সর্বস্তরের শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

তথ্যসূত্র - নায়েম ওয়েবসাইট।

৪,৭৩১.
Who was awarded the Bangladesh Independence Award for his contribution in the Liberation War?
  1. ক) Pranab Mukherjee
  2. খ) William A. S. Ouderland
  3. গ) Nikolai Podgorny
  4. ঘ) Indira Gandhi
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অবদান:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ সরকার তিন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করে। 
- এর মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা প্রদান করা হয় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে।
- এছাড়া ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখার্জি সহ মোট ১৫ জনকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয় ৩১২ জন ব্যক্তি ও ১০টি সংগঠনকে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট
৪,৭৩২.
বাংলার প্রাচীন আদি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোন নরগোষ্ঠীর প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল?
  1. ককেশীয়
  2. নিগ্রীয়
  3. মঙ্গোলীয়
  4. অষ্ট্রেলীয় 
ব্যাখ্যা

• বাঙালি জাতি:
- বাঙালি জাতি একটি মিশ্রিত জাতি, যা নানা যুগে বিভিন্ন নরগোষ্ঠীর মেলবন্ধনের ফলে গঠিত হয়েছে। 
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলায় পৃথিবীর চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর (নিগ্রীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় ও অষ্ট্রেলীয়) শাখার আগমন ঘটেছে।
- বাংলার প্রাচীন জনগুলির মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষীরাই সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাচীন সময়ে আদি অষ্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠী—যেমন সাঁওতাল, বাঁশফোড়, রাজবংশী—এ অঞ্চলে বাস করত। 
- পরবর্তীতে আর্য, পারস্য-তুর্কিস্তান, গুপ্ত, সেন, বর্মণ, তুর্কি, আফগান, মুগল, ইংরেজ, আর্মেনীয় প্রভৃতি বহু জাতির আগমন বাঙালি রক্তে নতুন মিশ্রণ ঘটায়।
- এমনকি পাকিস্তান যুগ ও বর্তমান বিশ্বায়নের সময়েও এই শংকর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
- সুতরাং, বাঙালি জাতি ইতিহাসভিত্তিক ও বৈচিত্র্যময় রক্তের মিশ্রণের ফলশ্রুতিতে একটি শংকর জাতি হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া [লিংক]।

৪,৭৩৩.
জেনারেল এরশাদ কার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন?
  1. হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
  2. শাহাবুদ্দীন আহমেদ
  3. মওদুদ আহমেদ
  4. সৈয়দ মাহমুদ হোসেন
ব্যাখ্যা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতিষ্ঠা:
- এরশাদ বিরোধী আন্দোলন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
- সারাদেশে আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করলে সরকার ২৭ নভেম্বর ১৯৯০ জরুরি অবস্থা জারি ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- তবে দমনমূলক ব্যবস্থায় আন্দোলন দমানো সম্ভব হয়নি। বরং বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ জনগণ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
- জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করে জনগণ রাস্তায় নেমে এরশাদের পদত্যাগ দাবি করে।
- সামরিক বাহিনী এরশাদকে সমর্থন প্রত্যাহার করলে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন।
• ৩ ডিসেম্বর ১৯৯০: এরশাদ একই দিনে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেন। আন্দোলনরত দলগুলো এরশাদের এই ঘোষণাকে অপকৌশল হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে।
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৯০: এরশাদ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
• ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০: উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমেদ পদত্যাগ করেন।
- তিন-জোটের মনোনীত প্রার্থী, প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদকে উপ-রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হয়।
- এরশাদ জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে বিচারপতি শাহাবুদ্দীনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
- এর মাধ্যমে এরশাদের শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি দেশের প্রথম অসামরিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের উদাহরণ।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৩৪.
'প্রতিরক্ষা' ঐতিহাসিক ছয় দফার কততম দফায় অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ৩য়
  2. ৪র্থ
  3. ৫ম
  4. ৬ষ্ঠ
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৩৫.
বাংলাদেশের সাথে কয়টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে?
  1. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৭৩৬.
শফিউর রহমান কবে শহীদ হন?
  1. ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি
  2. ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
- মাতৃভাষার দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন- আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার এবং আহত হন কয়েকজন ছাত্রীসহ অনেকে।
- সে সময়ে গণপরিষদের অধিবেশন চলছিল।
- গুলির খবর পেয়ে আবদুর রশীদ তর্কবাগীশসহ আইন পরিষদের কয়েকজন সদস্য অধিবেশন ত্যাগ করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
- ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
- ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা শহীদদের জন্য শোক মিছিল বের করে।
- আবারও মিছিলের ওপর পুলিশ ও মিলিটারি লাঠি, গুলি ও বেয়োনেট ব্যবহার করে।
- ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শফিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন শহীদ হন।
- যে স্থানে ছাত্রদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল সেই স্থানে ছাত্ররা সারারাত জেগে ২৩ ফেব্রুয়ারিতে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে।
- পুলিশ শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে দেয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের প্রতিবাদে ঢাকা শহরে ২৩ ফেব্রুয়ারি হরতাল পালিত হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফুলার রোডে একজন কিশোর নিহত হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৩৭.
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে 'RTC' এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Round Table Conference
  2. Round and Transport Corporation
  3. Royal Technical Committee
  4. Rawalpindi Technical Committee
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে 'RTC' এর পূর্ণরূপ Round Table Conference।

৭ই মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়।
- উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
- এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
- ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয়:
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে বলেছেন - 'আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ১০ তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স ডাকব।

⇒ বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা 'We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History' শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে 'World's Documentary Heritage' এর মর্যাদা দিয়ে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণকে ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, প্রথম আলো।
          ii) সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৩৮.
বাংলার রাজধানী হিসাবে 'সোনারগাঁও' এর গোড়াপত্তন কে করেছিলেন?
  1. ক) ঈশা খাঁ
  2. খ) সম্রাট আকবর
  3. গ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) মানসিংহ
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও

- সোনারগাঁও বাংলার প্রাচীন রাজধানী।
- বর্তমান ঢাকা থেকে ২৭ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সোনারগাঁও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। 
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে। 
- বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন ঈসা খাঁ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়। 
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্যন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী। 
- ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- সোনারগাঁও-এর আরেকটি নাম ছিল পানাম।

উৎস: সোনারগাঁও---বাংলার-প্রাচীন-রাজধানী, parjatan.gov.bd.
৪,৭৩৯.
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) মেহেরপুর
  2. খ) কুষ্টিয়া
  3. গ) চুয়াডাঙ্গা
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত। এর নকশাকার তানভীর কবির। ১৯৭১ সালে মুজিবনগরে অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণের স্মৃতি রক্ষার্থে এটি নির্মিত হয়। ১৯৭৪ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এবং ১৯৮৭ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এটি উদ্বোধন করেন। এই সৌধে ২৩টি ত্রিকোণাকৃতি স্তম্ভ রয়েছে পাকিস্তান আমলের ২৩ বছরকে নির্দেশ করে। সামগ্রিকভাবে এতে উদীয়মান সূর্যের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়কে বুঝানো হয়।
Source: Banglapedia
৪,৭৪০.
১৯৪৮ সালের ১৫ মার্চ খাজা নাজিমুদ্দিন সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে কত দফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন?
  1. ক) ৫ দফা
  2. খ) ৬ দফা
  3. গ) ৮ দফা
  4. ঘ) ৯ দফা
ব্যাখ্যা
- আন্দোলনের তীব্রতার প্রেক্ষিতে ১৫ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী নাজিমুদ্দিন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে ৮ দফা চুক্তিতে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, তদন্ত কমিটি গঠন, শিক্ষার মাধ্যম বাংলা ও ব্যবস্থাপক সভায় রাষ্ট্রভাষা সংক্রান্ত বিষয় উত্থাপনে রাজি হন।

- চুক্তিগুলো ছিল-
- ভাষার প্রশ্নে গ্রেপ্তার করা সবাইকে মুক্তি প্রদান করা হবে।
- পুলিশি অত্যাচারের বিষয়ে তদন্ত করে একটি বিবৃতি প্রদান করা হবে।
- বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার জন্য পূর্ব বাংলার আইন পরিষদে একটি বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
- সংবাদপত্রের উপর হতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
- আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
- ২৯ ফেব্রুয়ারি হতে জারিকৃত ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করতে হবে।
- পূর্ব বাংলার সরকারি ভাষা হিসাবে ইংরেজি উঠে যাবার পর বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসাবে প্রবর্তন করা হবে।
- রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন " রাষ্ট্রের দুশমনদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয় নাই" এই মর্মে মুখ্যমন্ত্রী ভুল স্বীকার করে বক্তব্য দিবেন।
 
- তড়িঘড়ি করে তাঁর চুক্তি সম্পাদনের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল জিন্নাহর আসন্ন ঢাকা
সফর যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

উৎস: ইতিহাস, এইচএসএল প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৪১.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান [অক্টোবর, ২০২৪] ভাইস চ্যান্সেলর একজন -
  1. পদার্থ বিজ্ঞানী
  2. রসায়নবিদ
  3. ফার্মেসি বিজ্ঞানী
  4. লোক প্রশাসক
ব্যাখ্যা
তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন ছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপটের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রশ্নটি মডিফাই করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:

- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য তিনি ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় ‘সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন’ এবং ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- নওয়াব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।
- ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় আগমন করে তিন দিন অবস্থান করেন।
- ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে একটি মানপত্র প্রদান করেন এবং কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থসংরক্ষণের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
- ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক ইশতেহারে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করা হয়।
- ১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান হয়ে আসছে।

উল্লেখ্য,
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।
- নিয়াজ আহমেদ খান একজন শিক্ষাবিদ, লোক প্রশাসক ও অধ্যাপক।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য।
- এ পদে নিয়োগ লাভের আগে তিনি ঢাবির উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি এবং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (আইইউবি) উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: i) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৪২.
যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন কে?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
⇒ যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 
- যুক্তফ্রন্ট গঠন  - ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান অফিস - সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রােডে।
- যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪ টি। এগুলো হলো - 

১। আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী)
২। কৃষক-শ্রমিক পার্টি (এ. কে. ফজলুল হক) 
৩। নেজামে-ই-ইসলাম (মাওলানা আতাহার আলী) 
৪। গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ)

- যুক্তফ্রন্টের সভাপতি - হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- পার্লামেন্টারি বাের্ডের সদস্য - এ.কে. ফজলুল হক, হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক - নৌকা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৪৩.
চৌসার যুদ্ধ কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. শের খান ও বাবর
  2. হুমায়ুন ও শের খান
  3. শের শাহ ও আকবর
  4. হুমায়ুন ও জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
চৌসার যুদ্ধ:
- ১৫৩৯ সালের ২৬ জুন বিহারের চৌসারে মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ও আফগান নেতা শের খান (পরে শের শাহ সূরি) এর মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে শের খান বিজয়ী হন এবং হুমায়ুন পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
- এর মাধ্যমে মুঘল শাসনের পতন শুরু হয় এবং সূরি বংশের উত্থান ঘটে।

⇒ সম্রাট হুমায়ুন গৌড় পরিত্যাগ করার পূর্বে জাহাঙ্গীর কুলী বেগকে বাংলার শাসনভার অর্পণ করেন।
- হুমায়ুন তাঁর বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে আগ্রা অভিমুখে যাত্রা করলেন।
- কিন্তু দুভার্গ্যক্রমে পথিমধ্যে বক্সারের নিকটবর্তী চৌসা নামক স্থানে শেরখান ও তাঁর আফগান অনুচরেরা সম্রাট হুমায়ুনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন চৌসায় উভয়পক্ষের মধ্যে এক তীব্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে চৌসার যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এই যুদ্ধে হুমায়ুন শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়।
- চৌসার যুদ্ধে শের খানের জয়লাভ ভারতীয় উপমহাদেশে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কেননা এর ফলে শের খানের রাজ্য পশ্চিম দিকে কনৌজ হতে পূর্বে আসাম ও চট্টগ্রাম এবং উত্তর দিকে রোটাস হতে দক্ষিণ দিকে বীরভূম পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে।
- এই যুদ্ধের পর শেরখান শেরশাহ উপাধি ধারণ করেন এবং নিজ নামে মুদ্রা প্রচলন ও পাঠের নির্দেশ প্রদান করেন।
- পক্ষান্তরে এই যুদ্ধে হুমায়ুনের পরাজয়ের মাধ্যমে মুঘলদের সামরিক ও কূটনৈতিক দুর্বলতা প্রস্ফুটিত হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৪৪.
'তারা মসজিদ'-এর নির্মাতা কে?
  1. নবাব আব্দুল গণি 
  2. শায়েস্তা খান 
  3. মির্জা আহমদ জান
  4. শেখ এনায়েত উল্লাহ
ব্যাখ্যা

তারা মসজিদ:
- বাংলাদশের পুরানো ঢাকার আরমানিটোলা-র আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত ‘তারা মসজিদ’।
- খ্রিষ্টীয় আঠারো শতকে ঢাকার জমিদার মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।
- তারা মসজিদের আরও কিছু প্রচলিত নাম আছে, যেমন, মির্জা গোলাম পীরের মসজিদ বা সিতারা মসজিদ।
- মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১.৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭.৯৮ মিটার)।

⇒ সতের শতকে দিল্লি, আগ্রা ও লাহোরে নির্মিত মোঘল স্থাপত্য শৈলী অনুসরণে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
- মসজিদের কোথায়ও এর তৈরির সময় উল্লেখ নেই বলে কবে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়, তার সুস্পষ্ট কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
- তবে, মসজিদটি তৈরির পর ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে মির্জা গোলাম পীর মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন।
- এই সময় মসজিদটির আকার বৃদ্ধি করা হয়।
- ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে এই মসজিদটির পুনরায় সংস্কার করা হয়।
- এই সময় পুরনো একটি মেহরাব ভেঙে দুটো গম্বুজ আর তিনটি নতুন মেহরাব বানানো হয়।
- সব মিলিয়ে বর্তমানে এর গম্বুজ সংখ্যা পাঁচটিতে দাঁড়িয়েছে।
- এর ফলে মসজিদের জায়গা সম্প্রসারিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৪,৭৪৫.
ইউনেস্কো কবে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে?
  1. ১৯৯৭ সালের ৭ নভেম্বর
  2. ১৯৯৭ সালের ১৭ নভেম্বর
  3. ১৯৯৯ সালের ৭ নভেম্বর
  4. ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: 
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ভাষা আন্দোলন ও ভাষাশহীদদের স্মরণে পালিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার দাবিতে ঢাকায় কয়েকজন ছাত্র-জনতা শহীদ হন।
- তাঁদের স্মরণে ২০০০ সাল থেকে এ দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রস্তাবে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করা হয়।
- এ প্রস্তাবে মাতৃভাষার উন্নয়ন ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। 
- ইউনেস্কো সদস্য দেশগুলো এ দিনে ভাষাবিষয়ক প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
- এটি ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত ঐতিহ্যের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংহতি জাগ্রত করে।
- দিবসটি ১৯৫২ সালের ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি বিশ্বমানবতার শ্রদ্ধা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৪,৭৪৬.
বাংলাদেশের প্রথম আর্টিলারি ইউনিট বা ভারী অস্ত্র-সংবলিত ইউনিট হলো -
  1. ক) মায়া ক্র‍্যাক প্লাটুন
  2. খ) মুজিব বাহিনী
  3. গ) মুজিব ব্যাটারি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মুজিব ব্যাটারি

মুজিব ব্যাটারি হলো বাংলাদেশের প্রথম আর্টিলারি ইউনিট বা ভারী অস্ত্র-সংবলিত ইউনিট, যাকে ফার্স্ট ফিল্ড রেজিমেন্ট বলা হয়। 

১৯৭১ সালের ২২ জুলাই ৬টি কামান নিয়ে ভারতের কোনাবান অঞ্চলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কে ফোর্সের অধীনে ইউনিট প্রথম প্রতিষ্ঠা লাভ করে, যাকে মেজর খালেদ মোশাররফ মুজিব ব্যাটারি নামে নামকরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসা গোলন্দাজ বাহিনীর ৮০ জন বাঙালি সদস্যকে নিয়ে ত্রিপুরায় এই বাহিনী গঠিত হয়। 

মুক্তিযুদ্ধকালে এই ইউনিটটি কাইয়ুমপুর, কসবা, সালদা নদী, আখাউড়া, নাজিরহাট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে লক্ষ্যভেদী ফায়ারের মাধ্যমে মুক্তিবাহিনীর বিজয়কে ত্বরান্বিত করে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৪৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কাদেরিয়া বাহিনী কোন অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল?
  1. টাঙ্গাইলে
  2. নড়াইলে
  3. বরিশালে
  4. চট্টগ্রামে
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী: 
- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।
- এসব সংগঠন স্থানীয়ভাবে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
- যেমন: টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনী, মাগুরার আকবর বাহিনী ইত্যাদির কথা স্মরণীয় হয়ে আছে।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে দেশকে পাকিস্তানিদের দখলমুক্ত করার জন্য রণক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছেন, অনেকে আহত হয়েছেন, অনেকে দেশের জন্যে প্রাণ দিয়েছেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,৭৪৮.
কোনটি পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক শিল্পের শ্রেণী বিভাজন?
  1. ক) হলুদ
  2. খ) কমলা
  3. গ) নীল
  4. ঘ) সাদা
ব্যাখ্যা
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র
- বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ প্রতিরোধে পরিবেশ অধিদপ্তর জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সহযোগিতার মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প/কারখানা/শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।
- অন্যদিকে পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
- ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ক্ষুদ্র, মাঝারি কিংবা বৃহৎ সব ধরনের ব্যবসায় কিংবা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করতে গেলে এই ছাড়পত্র অত্যাবশ্যক। 
- পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে পরিবেশের উপর প্রভাব বিস্তার এবং অবস্থান অনুযায়ী শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসমূহ চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত:
ক) সবুজ।
খ) কমলা-ক।
গ) কমলা-খ।
ঘ) লাল।

উৎস: পরিবেশগত-ছাড়পত্রের-জন্য-প্রয়োজনীয়-কাগজপত্র, doe.gov.bd.
৪,৭৪৯.
বাংলা ভাগের জন্য সীমানা নির্ধারণ কমিশনের প্রধান ছিলেন -
  1. ক) সি.সি. বিশ্বাস
  2. খ) এস.এ. রহমান
  3. গ) আবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম
  4. ঘ) সিরিল রেডক্লিফ
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৭ সালের ৩০ জুন পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানা নির্ধারণের জন্যে বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন গঠিত হয়। এই কমিশনের সদস্য ছিলো পাঁচজন। এরা হলেন-
- সিরিল রেডক্লিফ (চেয়ারম্যান)
- বিচারপতি বিজন কুমার মুখার্জী
- বিচারপতি সি.সি. বিশ্বাস
- বিচারপতি আবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম
- বিচারপতি এস.এ. রহমান।

• কমিশনের চেয়ারম্যান সিরিল র‌্যাডক্লিফের নামানুসারে এই কমিশন রেডক্লিফ কমিশন নামে অধিক পরিচিত।
১২ আগস্ট ১৯৪৭ রেডক্লিফ কমিশন ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর গুরুত্ব প্রদান করে তাদের প্রস্তুতকৃত রিপোর্ট প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড।
৪,৭৫০.
How many seats were secured by Juktofront in 1954?
  1. 167
  2. 213
  3. 223
  4. 309
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে মূলত ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'হারিকেন'।
- নির্বাচনে মোট আসন ছিল ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

[বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র ১ম ও ২য় খন্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র অধিক গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৫১.
ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) ৪৪২৭ কি.মি.
  2. খ) ২৭১১ কি.মি.
  3. গ) ৫১৩৮ কি.মি.
  4. ঘ) ৪১৫৬ কি.মি.
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে।
- বাংলাদেশের সর্বমোট ৫১৩৮ কিলোমিটার সীমারেখা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সর্বমোট স্থলসীমা ৪৪২৭ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সীমানা ২৭১ কিলোমিটার (২৮০ কিলোমিটার মাধ্যমিক ভূগোল)।
- বাংলাদেশের উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশ ও ভারতের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৪১৫৬ কিলোমিটার।

উৎসঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।
৪,৭৫২.
মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার কোথায় ছিল? 
  1. তিনকোনা
  2. আগরতলা
  3. করিমগঞ্জ
  4. হরিনা
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল- হরিনা।

• ১নং সেক্টর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
- এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৫৩.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  4. এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে এবং এই সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ-
রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম;
প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ;
অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীঃ এম মনসুর আলী;
স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান,
পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ;
প্রধান সেনাপতিঃ কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী;
চিফ অব স্টাফঃ কর্নেল (অব.) আব্দুর রব এবং
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং বিমান বাহিনীর প্রধানঃ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪,৭৫৪.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য শুরু হয় কোথায়?
  1. লাহোর সুপ্রিম কোর্ট
  2. ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  3. ঢাকা দায়রা জজ আদালত
  4. ইসলামাবাদ হাইকোর্ট
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”।
- তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

সূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
৪,৭৫৫.
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে সাহায্য করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরের দিকে কোন নৌবহর প্রেরণ করে?
  1. ৮ম নৌবহর
  2. ৬ষ্ঠ নৌবহর
  3. ৫ম নৌবহর
  4. ৭ম নৌবহর
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে সাহায্য করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরের দিকে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।

মুক্তিযুদ্ধে ভেটো প্রদান:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। 
- বর্তমানে সোভিয়েত ইউনিয়ন নাম রাশিয়া।
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো দেয় রাশিয়া।
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে।
- এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন বার ই ভেটো দেয়।

উল্লেখ্য, 
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।
- চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তখন বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল তখন ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।

উৎস: ¡)বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡)প্রথম আলো পত্রিকা।[লিঙ্ক]

৪,৭৫৬.
'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন কে?
  1. মিশুক মুনীর
  2. তারেক মাসুদ
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
ব্যাখ্যা
মাটির ময়না:
- মাটির ময়না বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি বাংলাদেশী ফিচার চলচ্চিত্র।
- এটি ২০০২ সালে বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায়।
- 'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনা করেছেন তারেক মাসুদ।
- চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে মাসুদের ছেলেবেলার অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে।
- এই চলচ্চিত্রের মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নুরুল ইসলাম বাবলু, রাসেল ফরাজী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, রোকেয়া প্রাচী, শোয়েব ইসলাম এবং লামিসা আর রিমঝিম।
- ২০০২ সালের ১৫ মে ৫৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সময় নিউজ, ১৩ এপ্রিল ২০২২।
৪,৭৫৭.
পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত পূজা কোনটি?
  1. পত্যেন পূজা
  2. খোজিং পূজা
  3. লুসেই পূজা
  4. পুথিয়ান পূজা
ব্যাখ্যা

⇒ পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত খোজিং পূজা।

পাংখোয়া:
- পাংখোয়া বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাংখোয়া অন্যতম।
- পার্বত্য রাঙামাটি জেলার সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এবং পাশ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাংখোয়া জাতির বসবাস রয়েছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ।
- প্রকৃতি উপাসনাও পাংখোয়া সমাজে প্রচলিত।
- তাদের সৃষ্টিকর্তার নাম ‘পত্যেন’।
- তাদের প্রধান উপাস্য দেবতার নাম ‘খোজিং’।
- খোজিং পূজা শ্রাবণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
- এই পূজা পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পাংখোয়া সমাজে পিতাই পরিবারের প্রধান।
- পিতার মৃত্যুর পর পুত্রসন্তানরা পারিবারিক বিষয়-আশয়ের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী দুটো গোত্রে বিভক্ত পাংখোয়া ও ভানজাঙ।
- ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও পূজাপার্বণ নিয়ে পাংখোয়াদের নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠীতেই মৃতদেহ কবর দেওয়ার রীতি প্রচলিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৪,৭৫৮.
ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কে?
  1. কর্নওয়ালিস
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. কার্টিয়ার
  4. ওয়াটসন
ব্যাখ্যা

রবার্ট ক্লাইভ:
- উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ক্লাইভ।
- উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে রবার্ট ক্লাইভের স্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরী গ্রহণ করে স্বীয় কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে।
- রবার্ট ক্লাইভের চারিত্রিক দোষ থাকা সত্বেও উপমহাদেশে ইংরেজ শক্তির গোড়াপত্তনে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না।
- উপমহাদেশের ইতিহাসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে লর্ড ক্লাইভের নাম অবিস্মরণীয়।
- কেননা প্রথম পর্যায়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে কোম্পানিকে রক্ষা করেন।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন। তৃতীয় পর্যায়ে তিনি নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন এবং ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৫৯.
'মৌলিক গণতন্ত্র' ব্যবস্থায় বেসিক ডেমোক্র্যাট কত ছিল?
  1. মোট ৫০ হাজার
  2. মোট ৬০ হাজার
  3. মোট ৭০ হাজার
  4. মোট ৮০ হাজার
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্রের স্তরগুলো হচ্ছে:
- ইউনিয়ন কাউন্সিল,
- থানা কাউন্সিল,
- জেলা কাউন্সিল এবং
- বিভাগীয় কাউন্সিল।

• ছোট ছোট শহরে টাউন কমিটি এবং বড় বড় শহরে পৌরসভা গঠনের বিধান করা হয়।
- এই কাঠামোর সর্ব নিম্নস্তর ইউনিয়ন কাউন্সিল এবং পৌরসভা বা টাউন কমিটি জনগণের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল।
- এর ওপরের স্তরগুলো পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে গঠিত ছিল।
- মৌলিক গণতন্ত্রের সর্ব নিম্নস্তরে যে ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান মিলে।
- এদের সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার। এদেরকে বেসিক ডেমোক্রাট বা সংক্ষেপে বি.ডি. মেম্বার বলা হতো।
- এই ৮০ হাজার বি.ডি. মেম্বার দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে নির্বাচিত করতেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৬০.
'বাহাদুর শাহ পার্ক' নিচের কোন ঘটনার স্মৃতি বহন করে?
  1. আলীগড় আন্দোলন
  2. সিপাহি বিদ্রোহ
  3. নীল বিদ্রোহ
  4. ভারত ছাড় আন্দোলন
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ পার্ক:
- বাহাদুর শাহ পার্ক বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত।
- ১৮৫৮ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে এই স্থানের নামকরণ হয় ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’।
- পার্কটি আন্টাঘর ময়দান নামে পরিচিত ছিল।
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহিকে।
- তারপর জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহিদের লাশ এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে।
- ১৯৫৭ সালে (মতান্তরে ১৯৬১) সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এর শাসন পুনরায় আনার জন্য।
- তাই তাঁর নামানুসারে এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৭৬১.
হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের বিধান কোন আইনে করা হয়েছিল?
  1. মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন-১৯০৯
  2. মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন, ১৯১৯
  3. বেঙ্গল প্যাক্ট, ১৯২২
  4. ভারত শাসন আইন, ১৯৩৫
ব্যাখ্যা
মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন-১৯০৯:
- ভারতবর্ষের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে ১৯০৯ সালের ভারত শাসন আইন যা মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ক্রমাগত ভারতীয়দের প্রতিনিধিত্ব বিধানের দাবি উত্থাপন করতে থাকে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলন জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার উম্মেষ ঘটায়।
- অন্যদিকে, ভারতের মুসলমান সম্প্রদায়ও রাজনৈতিকভাবে নিজেদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করে 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ'। এমনই এক পটভূমিতে ব্রিটিশ সরকারের ভারত সচিব লর্ড মর্লি এবং ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর উদ্যোগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৯০৯ সালের মর্লি-মিন্টো আইন পাশ হয়।

⇒ মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. এ আইন দ্বারা কেন্দ্রীয় আইনসভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। গভর্ণর জেনারেল ও তাঁর নির্বাহী পরিষদের ৭ জন সদস্য ছাড়াও সর্বাধিক ৬০ জন অতিরিক্ত সদস্য এতে অন্তর্ভুক্ত হন।
২. প্রাদেশিক আইনসভাসমূহেরও সম্প্রসারণ করা হয়। বড় প্রদেশের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ৫০ জন এবং ছোট প্রদেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ জন সদস্য থাকার বিধান করা হয়।
৩. এ আইন দ্বারা কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক উভয় আইনসভার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। সদস্যরা বাজেট বা অর্থ বিল নিয়ে আলোচনা করার অধিকার লাভ করে।
৪. এ আইনে মুসলমান সম্প্রদায়ের দাবী অনুযায়ী তাদের জন্য 'পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা' প্রবর্তন করা হয়।
৫. কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন সভাগুলোতে নির্বাচনের মাধ্যমে ভারতীয় বেসরকারি সদস্যগণ নির্বাচনের বিধান করা হয়। তবে অধিকাংশ সদস্যই নির্বাচিত হতেন পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে।
৬. এই প্রথমবার প্রাদেশিক আইনসভাসমূহে সরকারি সদস্যদের স্থলে বেসরকারি সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা হয়।
৭. এ আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মত গভর্ণর জেনারেল ও গভর্ণরের নির্বাহী পরিষদে ভারতীয়দের অন্তর্ভুক্ত করার বিধান করা হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৬২.
‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ চলচ্চিত্রটির নির্মাতা কে?
  1. নাসির উদ্দিন ইউসুফ
  2. তারেক মাসুদ
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. মান্নান হীরা
ব্যাখ্যা

একাত্তরের ক্ষুদিরাম:
- ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মান্নান হীরা। 

⇒ মান্নান হীরা রচিত ও পরিচালিত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’। 
- মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে নির্মিত এই পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র।
- এতে অভিনয় করবেন মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু, ড. ইনামুল হক, মোমেনা চৌধুরী, ছবি, ফিরোজ আল মামুন, সাজু প্রমুখ। শিশু শিল্পী চরিত্রে অভিনয় করবেন স্বচ্ছ, রুদ্র, শাকিল, অন্তরা, মধুমনি প্রমুখ।
- ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শুরু হয়। 

উৎস: প্রথম আলো।

৪,৭৬৩.
'পাঙন' উপজাতির মূল বসবাস কোথায়?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) মৌলভীবাজার
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র মুসলিম উপজাতি গোষ্ঠী পাঙন।
- এদের বসবাস মৌলভীবাজার জেলায়।
উৎসঃ মৌলভীবাজার জেলার ওয়েবসাইট।
৪,৭৬৪.
পূর্ববঙ্গ জমিদারি প্রথা কবে উচ্ছেদ করা হয়?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ জমিদারি প্রথা ১৯৫০ সালে উচ্ছেদ করা হয়।

পূর্ববঙ্গ জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ ১৯৫০:

- ১৯৩৯ সালে ফ্রান্সিস ফ্লাউড-কে চেয়ারম্যান করে ভূমি রাজস্ব কমিশন নিয়োগ দেওয়া হয়।
- রাজস্ব আয়কারী সকল সম্পত্তি সরকার কর্তৃক হুকুমদখলের সুপারিশসহ এই কমিশন ১৯৪০ সালে তার প্রতিবেদন পেশ করে।
- দেশ বিভাগের পর পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিল প্রণয়ন করে ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চ তা প্রকাশ করা হয়।
- এই কমিশনের সুপারিশমালার ওপর ভিত্তি করেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ পাশ হয়।
- তারপর এই বিলটিকে আইন পরিষদের বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়।
- এই পরিপ্রেক্ষিতে বিলটি পাস হওয়ার পর ১৬ মে ১৯৫১ সালে বিলে প্রয়োজনীয় অনুমোদনমূলক সম্মতি পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য,
- ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং ‘একসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।
- কিন্তু এ দুটি বন্দোবস্ত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়নি।
- এমতাবস্থায় গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৭৯৩ সালে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক নতুন প্রথার প্রবর্তন করেন।
- ইতিহাসে এটি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' নামে পরিচিত।
- এটি ছিল ইংরেজদের একটি সাম্রাজ্যবাদী বিধিব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
- নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে।
⇒ ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৬৫.
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ জেলা পর্যায়ে কোন কর্মকর্তার অধীনে কাজ করেন?
  1. ক) জেলা জজ
  2. খ) চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  3. গ) দায়রা জজ
  4. ঘ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে কাজ করেন।
Source: puthia.rajshahi.gov.bd
৪,৭৬৬.
শাহ আমানত বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম-এর IATA কোড কী?
  1. CGP
  2. CTG
  3. SAC
  4. CSA
ব্যাখ্যা
শাহ আমানত বিমানবন্দর:
- ১৯৪০ সালে চট্টগ্রাম বিমানঘাঁটি নির্মাণ করা হয়।
- স্বাধীনতার পর এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচলের সাথে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে পরিণত হয়।
- এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর।
- বিমানবন্দরটি বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত হয়।
- ১৯৯০ সালে এটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে ওঠে।
- এটি এম এ হান্নান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম নামে যাত্রা শুরু করে।
- ২০০৫ সালের এপ্রিলে এর নাম পরিবর্তন করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম করা হয়।
• এর ICAO ID কোড - VGEG.
• এর IATA কোড - CGP.
• এর Latitude - 221525.28N.
• এর Longitude - 0914919.95E.

তথ্যসূত্র - শাহ আমানত বিমানবন্দর ওয়েবসাইট।
৪,৭৬৭.
নিচের কোনটি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি?
  1. ক) নেকটার
  2. খ) পিটিআই
  3. গ) নায়েম
  4. ঘ) নেপ
ব্যাখ্যা
- জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র এবং এটি শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে কাজ করে যাচ্ছে। 
- নায়েমের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণকে জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বের গুণাবলি দ্বারা সমৃদ্ধ করা। 
- শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকল্পনা, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও গবেষণার উন্নয়নের ক্ষেত্রে নায়েম প্রধান ভূমিকা পালন করছে। 
- শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে এডুকেশন এক্সটেনশন সেন্টার (EEC) প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- একটি বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে এটিকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এ রূপান্তর করা হয়। 
 
অপরদিকে, 
NAPE (National Academy for Primary Education) হলো জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি।
NACTAR(National Computer Training and Research Academy) হলো জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি। 
PTI (Primary Teachers' Training Institute ) হলো প্রাথমিক  শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। 
 
(তথ্যসূত্র: নায়েম ও সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট)
৪,৭৬৮.
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন বসেছিলো কোথায়?
  1. ক) কলকাতা
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) মুম্বাই
  4. ঘ) লখনৌতি
ব্যাখ্যা
১৮৮৫ সালের ডিসেম্বরে কংগ্র্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে মুম্বাইয়ে। এতে সভাপতিত্ব করেছিলেন বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি।

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হলো সর্বভারতীয় প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন। এটি ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৪,৭৬৯.
১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ স্বৈরাচারী আইয়ুব শাসনের অবসানের পর কে রাষ্ট্র প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
  1. জুলফিকার আলী ভূট্টো
  2. লিয়াকত আলী খান
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সূচনা:

- ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ স্বৈরাচারী আইয়ুব শাসনের অবসানের পর ইয়াহিয়া খান রাষ্ট্র প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- আইয়ুব খানের নিকট থেকে ক্ষমতা গ্রহণের সময় ইয়াহিয়া খান ১৯৬২ সালের সংবিধান বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।
- স্বভাবতঃই নির্বাচন অনুষ্ঠান ও জাতীয় পরিষদ গঠন সম্পর্কিত বিষয়গুলো তিনি সামরিক আইনের অধীনে বিভিন্ন ঘোষণার মাধ্যমে জারি করেন।
- ১৯৬৯ সালের ২৮ নভেম্বর বেতার ভাষণে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে ইয়াহিয়া খান দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
• তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের এক ইউনিট ব্যবস্থা বাতিল করে সেখানে চারটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করেন।
• এক ব্যক্তি এক ভোট' এই নীতিতে ভোট হবে বলে ঘোষণা দেন। প্রথম সিদ্ধান্তটি পাকিস্তানের আঞ্চলিকতাবাদে বিশ্বাসী জনগণকে সন্তুষ্ট করে। দ্বিতীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি মেনে নেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৭০.
বঙ্গবন্ধু প্রথম কত সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন?
  1. ক) ১৯৪৯ সালে
  2. খ) ১৯৫৩ সালে
  3. গ) ১৯৫৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- ১৯৫৫ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগের তৃতীয় সম্মেলনে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
আওয়ামীলীগের প্রথম কমিটি:
- সভাপতি : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
- সহ সভাপতি : আতাউর রহমান খান
- সহ সভাপতি : আব্দুস সালাম খান
- যুগ্ম সম্পাদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- যুগ্ম সম্পাদক : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
-------
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো দলটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
- তিনি টানা চারবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
-------
১৮-২০ মার্চ, ১৯৬৬ তারিখে আওয়ামীলীগের ষষ্ঠ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- এই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন - তাজউদ্দিন আহমেদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট।

৪,৭৭১.
পাকিস্তানি বাহিনী কোথায় আত্মসমর্পন করেছিল?
  1. ক) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  2. খ) পিলখানায়
  3. গ) রাজারবাগে
  4. ঘ) রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৬-১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়। ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন। সূত্র - বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৭২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সরকারের চীফ অব স্টাফ কে ছিলেন?
  1. ক) কর্ণেল (অব) এম এ জি ওসমানী
  2. খ) মেজর খালেদ মোশারফ
  3. গ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খোন্দকার
  4. ঘ) কর্ণেল (অব) এম এ রব
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- মুক্তিবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
- মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

(উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৪,৭৭৩.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে কত দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়? 
  1. ১১ দফা
  2. ১৬ দফা
  3. ২১ দফা
  4. ১২ দফা
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার:
- ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবির প্রথম দাবি ছিল বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- একুশ দফা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমদ।
- একুশ দফার প্রথম দাবীটি ছিলো বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৭৭৪.
ঐতিহাসিক ছয় দফা কে ঘোষণা করেন?
  1. ক) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  2. খ) মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৭৫.
ঐতিহাসিক ছয় দফা কোন সালে পেশ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১৯৭০ সালে
  2. খ) ১৯৬৭ সালে
  3. গ) ১৯৬৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন

১৯৯৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে লাহোরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ছয় লক্ষ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। ছয়দফা রচিত হয় লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে।

ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি

১ম দফাঃ শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি।
২য় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
৩য় দফাঃ মুদ্রা ও অর্থ বিষয়ক ক্ষমতা।
৪র্থ দফাঃ কর বা রাজস্ব বিষয়ক ক্ষমতা।
৫ম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
৬ষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

এছাড়াও 

৬ দফা উত্থাপন করা হয় মোট ৩বার। উত্থাপনকারী- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রথমবার ৫-৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে লাহোরের বিরোধী দলীয় সম্মেলনে।
দ্বিতীয়বার ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ সালে অনানুষ্ঠানিকভাবে।
তৃতীয়বার ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয় লাহোরে।
বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা পূর্ব পাকিস্তানের ম্যাগনাকার্টা বলা হয়- ৬ দফাকে।
ছয় দফা দিবস পালিত হয়ে আসছে- ৭ জুন।
ছয় দফার অর্থনীতি বিষয়ক দাবি- ৩টি (৩য়, ৪র্থ, ৫ম)।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৭৬.
নিচের কোনটি বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য ছিল?
  1. হরিকেল
  2. সমতট
  3. পুণ্ড্র
  4. বঙ্গ
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৭৭.
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় কাকে?
  1. ক) সম্রাট শাহজাহান
  2. খ) সম্রাট বাবর
  3. গ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
• সম্রাট আকবরের মন্ত্রীসভার অর্থমন্ত্রী ছিলেন- টোডরমল।
সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা
• ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর উপাধি নিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।

আকবরের মন্ত্রীসভা
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আবুল ফজল।
- অর্থমন্ত্রী ছিলেন টোডরমল।
- সেনাপ্রধান ছিলেন মান সিংহ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৭৮.
আসাদগেট নামের পটভূমির সাথে জড়িত কোন সন?
  1. ১৯৪৭ সন
  2. ১৯৫২ সন
  3. ১৯৬৯ সন
  4. ১৯৭১ সন
ব্যাখ্যা
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ১১ দফা দাবি আদায়ের প্রেক্ষিতে গণ-আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
• গণ-আন্দোলনটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে হওয়ায় ঢাকাবাসী আসাদের স্মৃতি রক্ষার্থে আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে রাখেন আসাদগেট।
• প্রতিবছর ২০ জানুয়ারি আসাদ দিবস পালিত হয়।
৪,৭৭৯.
ছয় দফা দিবস পালিত হয় -
  1. ক) ২১ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ২৩ মার্চ
  3. গ) ১৭ এপ্রিল
  4. ঘ) ৭ জুন
ব্যাখ্যা
ছয় দফা দিবস
- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লাগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬ দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়।
- প্রতি বছর ৭ই জুন বাংলাদেশে '৬ দফা দিবস' পালন করা হয়।
- এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গী, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ইপিআরের গুলিতে মনু মিয়া , শফিক, শামসুল হক, মুজিবুল হকসহ মোট ১১ জন বাঙালি নিহত হন।

অন্যদিকে -
- ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ৬ দফা প্রস্তাব এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি গৃহীত হয়।
- ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা উত্থাপন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।

উৎস: প্রথম আলো, ০৭ জুন, ২০২০।
৪,৭৮০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. নিকোলাই পদগোর্নি
  2. লিওনিদ ব্রেজনেভ
  3. ইউরি আন্দ্রোপভ
  4. মিখাইল গর্বাচেভ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ছিলেন নিকোলাই পদগোর্নি। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা: 
- যুক্তরাষ্ট্র: পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে সমর্থন করেছিল।
- চীন: পাকিস্তানের প্রতি নৈতিক সমর্থন দিলেও সামরিক হস্তক্ষেপ করেনি।
- ভারত: সামরিক, কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করে।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া): ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়েছিল।
- ২৫ মার্চ ১৯৭১: পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার পর সোভিয়েত ইউনিয়ন উদ্বেগ প্রকাশ করে।
- ২ এপ্রিল ১৯৭১: সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট পদগোর্নি ইয়াহিয়া খানকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেন।
- জুলাই ১৯৭১: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের গোপন চীন সফর, যা ভারতকে উদ্বিগ্ন করে তোলে।
- ৯ আগস্ট ১৯৭১: ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ভারতকে কূটনৈতিক ও সামরিক নিরাপত্তা প্রদান করে।
- ডিসেম্বর ১৯৭১: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে, সোভিয়েত ইউনিয়ন কূটনৈতিকভাবে ভারতের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১: বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে, যেখানে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
- সোভিয়েত কূটনৈতিক শক্তি এবং ভারতীয় সামরিক সহায়তার ফলে পাকিস্তান পরাজিত হয়।

উৎস:  বিবিসি বাংলা (১৩ মার্চ ২০২২)
৪,৭৮১.
পরীবিবি কে ছিলেন?
  1. আওরঙ্গজেবের কন্যা 
  2. শায়েস্তা খানের কন্যা
  3. মুর্শিদকুলি খানের স্ত্রী
  4. আজিমুসশানের মাতা 
ব্যাখ্যা

পরী বিবি:
- তিনি বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খান এর কন্যা।
- বাদশাহ আওরঙ্গজেব এর পুত্র মুহম্মদ আজম এর স্ত্রী।
- বাংলাদেশ সরকারের কাটরার ওয়াকফ পরিদপ্তরে সংরক্ষিত শায়েস্তা খানের নিজস্ব অছিয়তনামা থেকেই শায়েস্তা খানের কন্যা হিসেবে বিবি পরীকে (ইরান দুখত্ রহমত বানু) চিহ্নিত করা যায়।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে মসজিদের পূর্ব দিকে বিবি পরীকে সমাহিত করা হয়। শায়েস্তা খান কন্যার সমাধির উপর একটি সুদৃশ্য সৌধ নির্মাণ করেন।

তথ্যসুত্র- বাংলাপিডিয়া।

৪,৭৮২.
নিচের কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিলো?
  1. অসহযোগ আন্দোলন
  2. মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
  3. ভারত ছাড় আন্দোলন
  4. সিমলা ডেপুটেশন
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত ঘটনাসমূহের মধ্যে সিমলা ডেপুটেশন সবার আগে সংঘটিত হয়।

১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর ভারতীয় মুসলমানদের ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগা খানের নেতৃত্বে সিমলায় বড়লাট লর্ড মিন্টোর সাথে সাক্ষাত করেন।
তারা মুসলমানদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া বড়লাটের নিকট পেশ করে। এটিই সিমলা ডেপুটেশন নামে পরিচিত।
অন্যদিকে,
- মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন : ১৯০৯ সাল
- অসহযোগ আন্দোলন : ১৯২১ সাল
- ভারত ছাড় আন্দোলন : ১৯৪২ সাল।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৪,৭৮৩.
কত খ্রিস্টাব্দে দিনেমারগণ উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে?
  1. ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৬১৭ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৬১৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৬১৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• দিনেমার:
→ ডেনমার্কের অধিবাসীদের দিনেমার বলা হয়।
১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে দিনেমারগণ উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে এবং দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুরে ও কলকাতার শ্রীরামপুরে তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
→ অবশেষে দিনেমারগণ কোনো প্রকার বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই এদেশ থেকে চিরতরে বিদায় নেয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৮৪.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ডেপুটি চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব কে পালন করেন?
  1. ক) খন্দকার মোশতাক আহমদ
  2. খ) লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
  3. গ) কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
  4. ঘ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার।
ব্যাখ্যা
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার।

-    বাংলাদেশ সরকার(মুজিবনগর সরকার)

রাষ্ট্রপতি (সর্বাধিনায়ক) ⇒ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উপ-রাষ্ট্রপতি ⇒ সৈয়দ নজরুল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রী ⇒ তাজউদ্দিন আহমদ
অর্থমন্ত্রী ⇒ ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী ⇒ এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ⇒ খন্দকার মোশতাক আহমদ
প্রধান সেনাপতি ⇒ কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
চিফ অব স্টাফ ⇒ লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ⇒ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৭৮৫.
‘মাল জামিনী’ রাজস্ব ব্যবস্থা প্রচলন করেন কে?
  1. ক) নবাব মুর্শিদকুলী খান
  2. খ) নবাব আলীবর্দী খান
  3. গ) সুবেদার ইসলাম খান
  4. ঘ) সুবেদার শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদকুলী খান। ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে উড়িষ্যার নায়েব সুবাদার এবং পরের বছর বিহারের দেওয়ান নিযুক্ত করেন। ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী বাংলার সুবাদার হন। কার্যত এ সময় থেকেই বাংলার নবাবী আমলের শুরু। তিনি বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। মুর্শিদকুলী কর্তৃক প্রবর্তিত রাজস্ব ব্যবস্থার নাম ছিল ‘মাল জামিনী'। সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৮৬.
ঐতিহাসিক ছয় দফার শেষ দফাটি কী ছিল?
  1. প্রতিরক্ষা
  2. রাজস্ব
  3. বাণিজ্য
  4. বৈদেশিক মুদ্রা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৮৭.
দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. জুলফিকার আলী ভুট্টো 
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. গোলাম মোহাম্মদ 
  4. আইয়ুব খান 
ব্যাখ্যা

দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
- দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- তিনি ১৯৪০ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের মূল ভিত্তি হিসেবে এই তত্ত্বটি প্রস্তাব করেন।
- দ্বিজাতি তত্ত্ব অনুযায়ী, ভারতীয হিন্দু এবং মুসলিম সমাজ দুটি আলাদা জাতি, যার সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, এবং ঐতিহাসিক পার্থক্য রয়েছে।
- তিনি মনে করতেন যে, হিন্দু ও মুসলিমরা একত্রে একটি সাধারণ রাষ্ট্রের অধীনে বাস করতে সক্ষম নয়, কারণ তাদের মধ্যে মৌলিকভাবে ভিন্ন জাতিগত পরিচয় রয়েছে।
- জিন্নাহর মতে, মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের প্রয়োজন ছিল, যেখানে তারা নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারবে।

⇒ ১৯৩৯ সালে জিন্নাহ্ তাঁর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন।
- পরবর্তী বছর লাহোরে মুসলিম লীগের ঘোষণায় এরই প্রতিধ্বনি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্।
- এ অধিবেশনেই বাংলার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এতে বলা হয় যে, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা এদেশে কার্যকর বা মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি একটি নিম্নবর্ণিত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৭৮৮.
সরকারি দল ও মন্ত্রিসভাকে চাপে রাখার জন্যে বিরোধী দল কর্তৃক গঠিত মন্ত্রিসভাকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) বিরোধীদলীয় মন্ত্রিসভা
  2. খ) ট্যাকনোক্রাট মন্ত্রিসভা
  3. গ) ছায়া মন্ত্রিসভা
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বিকল্প সরকার হলো বিরোধীদল।
- গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া হল বিরোধী দলের কাজ ।
- বিরোধী দলের সমালোচনার ভয়ে সরকার জনকল্যাণমুখী কাজে নিয়োজিত থাকে।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদে বিরোধী দল কর্তৃক গঠিত মন্ত্রিসভা ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ নামে পরিচিত।
- সরকারি দল ও মন্ত্রিসভাকে চাপে রাখার জন্যে বিরোধী দল কর্তৃক ছায়া মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- সরকারের মন্ত্রিসভার আদলে বিরোধী দলের বিভিন্ন সাংসদের সমন্বয়ে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করা হয়।
- অধিকাংশ দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যকে ছায়া মন্ত্রী বলা হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে এখনো এই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠে নি।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪,৭৮৯.
ঢাকা কত সালে প্রথম বাংলার রাজধানী হিসেবে স্থাপিত হয়েছিল?
  1. ১৬০১ সালে 
  2. ১৬০২ সালে 
  3. ১৬১০ সালে 
  4. ১৬১২ সালে
ব্যাখ্যা

ঢাকা ১৬১০ সালে প্রথম বাংলার রাজধানী হিসেবে স্থাপিত হয়েছিল।

রাজধানী ঢাকা:
- রাজধানী ঢাকা বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

⇒ মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী ১৬ জুলাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়। 
- এর আগে সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো বিহারের রাজমহল।
- বারো ভূইয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাকে করতলগত করতে ১৫৭৬ থেকে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বারবার চেষ্টা চালানো হয়। এরপর সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতীকে রাজমহলের সুবেদার নিযুক্ত করেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

উল্লেখ্য,
- জনপদ হিসেবে ঢাকার গোড়াপত্তন হয় ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে।
- শহর হিসেবে এর গোড়াপত্তন হয় ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে।
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) The Business Standard.

৪,৭৯০.
বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ভারতীয় মিত্রবাহিনী কবে বাংলাদেশ ছেড়ে যায়?
  1. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. ২০ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. ১৪ জানুয়ারি, ১৯৭২
  4. ১২ মার্চ, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
ভারতীয় মিত্রবাহিনী:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানী বাহিনী ঢাকায় গণহত্যা চালানোর পর পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
- কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক কোটি শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবস্থান নেয়।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার ভারতের মাটিতে বসেই পরিচালিত হতো।
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা ভারতের মাটিতেই প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং ভারত তাদের অস্ত্র সরবরাহ করেছে।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তির পর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন।
- বাংলাদেশে আসার পূর্বে বাংলাদেশ থেকে মিত্রবাহিনী সদস্যদের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বঙ্গবন্ধু দিল্লিতে যাত্রবিরতি করে।
- দিল্লির বিমানবন্দরে অর্ভ্যথনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
- সেদিন ভারতীয় সেনাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ইন্দিরা গান্ধী।
- ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কলকাতায় ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বঙ্গবন্ধুকে জানান- ইয়োর এক্সেলেন্সি, ১৭ মার্চের আগেই সর্বশেষ ভারতীয় সেনাটিও বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসবে।
- এরপর, ১৯৭২ সালের ১২ মার্চ, ভারতীয় সৈন্যরা বাংলাদেশ থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে ওয়েবসাইট।
৪,৭৯১.
দিল্লি সালতানাতের প্রথম স্বাধীন সুলতান কে?
  1. গিয়াস উদ্দিন খলজি
  2. শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
  3. মুহাম্মাদ ঘুরি
  4. কুতুবুদ্দিন আইবেক
ব্যাখ্যা
কুতুবুদ্দিন আইবেক: 
- কুতুবুদ্দিন দিল্লি সালতানাতের প্রথম স্বাধীন সুলতান।
- মুহাম্মাদ ঘুরির প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জয় করেন।
- সুলতান হওয়ার পর অবশ্য তিনি আর কোন নতুন অঞ্চল জয় করতে পারেন নি।
- তবে পূর্ব অধিকৃত অঞ্চলে তিনি শান্তি কায়েম করতে সক্ষম হন। তিনি সুশাসন প্রবর্তন করেন। বলা হয় তাঁর কঠোর শাসনে মেষ ও নেকড়ে বাঘ একঘাটে পানি পান করতো। দেশে চুরি-ডাকাতি ছিল না বললেই চলে। নব বিজিত দেশে এ'রকম আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা কম কৃতিত্বের কথা নয়।

উল্লেখ্য: 
- কুতুবউদ্দীন ছিলেন অত্যন্ত দানশীল। তাঁকে 'লাখ-বশ' বলা হতো। বিখ্যাত দাতা হাতেম তাঈ-র সাথে তাঁকে তুলনা করা হতো। তিনি ধর্মভীরু মুসলমান ছিলেন। কিন্তু ধর্মীয় কারণে কোন হিন্দুকে তিনি উৎপীড়ণ করেন নি। তিনি বহু হিন্দুকে রাজকাজে নিয়োগ করেন। জ্ঞানী-গুণীগণ তাঁর দ্বারা সমাদৃত হতো। তিনি বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। তিনি স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

- দিল্লীর "কুয়ত- উল-ইসলাম” এবং আজমীরের "আড়াই-দিনকা-ঝোঁপড়া” নামক মসজিদ দুটি তাঁর শাসনামলে নির্মিত হয়। বিখ্যাত কুতুব মিনারের নির্মাণ কাজও তাঁর সময়ই শুরু হয়। যদিও এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় তাঁর জামাতা ইলতুতমিসের শাসনামলে। 

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৯২.
জাতীয় স্মৃতিসৌধে কয়টি জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়াল আছে?
  1. সাতটি
  2. ছয়টি
  3. আটটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা

জাতীয়স্মৃতিসৌধ
- মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ নাম না-জানা শহিদের অমরস্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
- এটি ঢাকা শহর থেকে ৩৫ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে সাভারে অবস্থিত।
- স্থপতি মঈনুল হোসেনের নকশা অনুযায়ী জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।
- সাতটি জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়ালের মাধ্যমে ছোট থেকে বড় হয়ে ধাপে ধাপে সৌধটি ১৫০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছে।
- মূল স্মৃতিসৌধে সাত জোড়া দেয়াল, মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক।
-  এই রাজনৈতিক ঘটনাগুলো হলো ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১।
- বলার অপেক্ষা রাখে না, এই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সালের মধ্যেই আমাদের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস নিহিত।
- ১৯৫২সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনার ফলেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙেবাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৭৯৩.
"পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৪৭ সালে 
  2. ১৯৪৮ সালে 
  3. ১৯৪৯ সালে 
  4. ১৯৫১ সালে 
ব্যাখ্যা

• তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

৪,৭৯৪.
বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. ক্যাপ্টেন এলিস
  2. মেজর এডামস
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. মেজর মনরো
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:
-  ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা কাউন্সিল নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। মেজর এডামসের নেতৃত্বে প্রেরিত ইংরেজ বাহিনীর কাছে গিরিয়া, কাটোয়া ও উদয়নালার যুদ্ধে নবাব শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন।
- ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে সম্মিলিত বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের নেতৃত্ব দেন- মেজর মনরো।
- এই যুদ্ধে ইংরেজদের নিকট মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
- বক্সারের যুদ্ধকে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের নিকট হারানো বাংলার স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধারের শেষ প্রচেষ্টা বিবেচনা করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন - লর্ড ক্লাইভ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৯৫.
৬ দফা কর্মসূচী উত্থাপন করা হয় কবে?
  1. ক) ১৯৬৪ সালে
  2. খ) ১৯৬৫ সালে
  3. গ) ১৯৬৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৭ সালে
ব্যাখ্যা
- পাক-ভারত যুদ্ধ সমাপ্ত হলে ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে নিখিল পাকিস্তান জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমান সম্মেলনে যোগদানের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি লাহোর পৌঁছেন।
- এতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীকার আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মোট ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন।

ঐতিহাসিক ছয় দফার দফাসমূহ
- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)
বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ছাড়া সকল বিষয় অঙ্গরাষ্ট্র বা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে। বৈদেশিক
সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা বিষয় ন্যস্ত থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।

- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৭৯৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কোন সেক্টরের অধীন ছিল?
  1. চার নম্বর সেক্টর
  2. তিন নম্বর সেক্টর
  3. দুই নম্বর সেক্টর
  4. এক নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর:
- ২ নং সেক্টর  ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। 
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। 
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। 
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ টি এম হায়দার। 
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
এছাড়া,
- ১ নং সেক্টর  চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং তৎকালীন নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- ৩ নং সেক্টর  উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- ৪নং সেক্টর  উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
  
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৯৭.
কত সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণচীনে অনুষ্ঠিত শান্তি সম্মেলনে অংশ নেন?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের পর পরই শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালে চীনে যান।
- পিস কনফারেন্স অব দ্য এশিয়ান এ্যান্ড প্যাসিফিক রিজিওন্স-এ পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে নয়াচীন সফর করেন।
- তিনি পাকিস্তান শান্তি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে চীন যান।
- বিশ্বের মোট ৩৭টি দেশ তাতে অংশগ্রহণ করে।
- তার এই চীন ভ্রমণ সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় কারণ সম্মেলনে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা প্রদান করেন।
- সেখানে অনেকে ইংরেজীতে বক্তৃতা করলেও তিনি বাংলা ভাষায় বক্তৃতা করেন।
- এবং তাঁর বাংলা ভাষার এ ভাষণটি ছিল দেশের বাইরে অবাঙালী ভূখণ্ডে প্রথম কোন বাঙালীর বাংলা ভাষণ। 

সূত্র: দৈনিক জনকন্ঠ (লিঙ্ক)।
৪,৭৯৮.
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবনের কত সাল পর্যন্ত ঘটনাবলী স্থান পেয়েছে?
  1. ক) ১৯৫৫ সাল
  2. খ) ১৯৬২ সাল
  3. গ) ১৯৬৬ সাল
  4. ঘ) ১৯৬৯ সাল
ব্যাখ্যা
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এটি ১৯৬৬-৬৯ সময়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকাবস্থায় তিনি লেখেন।
এই বইয়ে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তার জীবনের ঘটনাবলী স্থান পেয়েছে।
বইটি ২০১২ সালে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড প্রকাশ করে। এটির ভূমিকা লিখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সময় পর্যন্ত বইটি ১৪টি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।
(সূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং প্রথম আলো)
৪,৭৯৯.
Which is the only coral island in Bangladesh?
  1. ক) Saint Martin
  2. খ) Hatiya
  3. গ) Kutubdia
  4. ঘ) Moheshkhali
ব্যাখ্যা
• সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং 
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। 
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। 
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান। 

টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। 

 কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা।

- সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে সময় নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। 

দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সরকারি তথ্যে দ্বীপের আয়তন ১৩ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ রয়েছে।
- তবে গবেষণায় বলা হয়েছে ৮ বর্গকিলোমিটার।

⇒ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- পরীক্ষায় যদি ৮ বর্গ কিলোমিটার না থাকে তখন ১৭ বর্গ কিলোমিটার বা ১৩ বর্গ কিলোমিটার উত্তর করবেন, অথবা অপশন বিবেচনায় উত্তর করবেন।

সূত্র: টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট,  কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট, সময় নিউজ ও দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট।
৪,৮০০.
বলধা গার্ডেন কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. খুলনা
  3. কুমিল্লা
  4. ঢাকা
  5. সিলেট
ব্যাখ্যা
বলধা গার্ডেন:
- বলধা গার্ডেন ঢাকা শহরের ওয়ারী এলাকায় অবস্থিত একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন।
- ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বাংলার এ অঞ্চলের এটি অন্যতম প্রাচীন উদ্যান।
- ভাওয়াল জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ১৯০৯ সালে বাগানটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাগানের দুটি অংশ বৃহত্তর সিবিলি (Cybele) ও ক্ষুদ্রতর সাইকি (Psyche)।
- নরেন্দ্র নারায়ণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে দুর্লভ প্রজাতির গাছপালা এনে বাগানটি ক্রমাগত সমৃদ্ধ করেছেন, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর বাগানের উন্নয়ন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
- ১৯৬২ সালে এটি সাবেক পূর্ব পাকিস্তান সরকারের কাছে হস্তান্তরিত হয় এবং বন বিভাগের ওপর সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বর্তায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।