বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৪৫ / ১২৪ · ৪,৪০১৪,৫০০ / ১২,৪২১

৪,৪০১.
'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' সময় কাল- 
  1. ১৭৭২ সাল
  2. ১৭৭৫ সাল
  3. ১৭৭০ সাল
  4. ১৭৭৩ সাল
ব্যাখ্যা

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ইংরেজ গভর্নর ছিলেন কার্টিয়ার।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত। -
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে এবং ইংরেজি ১৭৭০ সাল  এই দুর্ভিক্ষ হয় বলে একে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বলা হয়।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়।
- এই দুর্ভিক্ষে তৎকালীন বাংলার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ছিলেন জন কার্টিয়ার।
- দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা এবং পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টিজনিত খরার কারণে ফসল উৎপাদন কম হওয়ায় এই দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৪০২.
নিয়মিত সেনা ব্যাটালিয়ন নিয়ে কয়টি ফোর্স গঠিত হয়?
  1. একটি
  2. দুটি
  3. তিনটি
  4. এগারোটি
ব্যাখ্যা
নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী:
- মুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে দুটি শাখায় বিভক্ত ছিল ১. নিয়মিত বাহিনী ও ২. অনিয়মিত বাহিনী।
১. নিয়মিত বাহিনী:
- ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিটগুলোর বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়। সরকারিভাবে এদের নামকরণ করা হয় এম. এফ. (মুক্তিফৌজ)। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত বাহিনী হিসেবে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীও গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
⇒ প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়মিত সদস্যদের নিয়ে তিনটি বাহিনী গঠন করা হয়। এগুলো হলো:
- মেজর জিয়াউর রহমানের অধীনে জেড ফোর্স,
- খালেদ মোশারফের অধীনে কে ফোর্স এবং
- কে.এম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৪০৩.
'UCEF'- এর কার্যক্রম কিসের সাথে জড়িত?
  1. ক) শিক্ষা
  2. খ) স্বাস্থ্য
  3. গ) বিচার বিভাগ
  4. ঘ) স্থানীয় শাসন
ব্যাখ্যা
• Underprivileged Children's Educational Programme (UCEP) বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয়  এনজিও।
- এর লক্ষ্য দরিদ্র ও কর্মজীবী শিশুকিশোরদের সাধারণ শিক্ষাদানের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা
- ইউসেপ এসক্যাপের তালিকাভুক্ত একটি মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৭০ সালে ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব উপকূল দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
- তখন এলাকার মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার জন্য নিউজিল্যান্ড থেকে লিন্ডসে অ্যালেন চেইনী নামে একজন সেবাকর্মী একটি ব্রিটিশ ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে এ দেশে আসেন।
- ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি গৃহহীন ও দরিদ্র শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে ডেনমার্ক সরকার আর্থিক সহায়তাসহ একটি তিনবছর মেয়াদি প্রকল্প অনুমোদন করে।
- শুরুর দিকে ইউসেপ কমিউনিটি স্কুলের মডেল অনুযায়ী দরিদ্র ও কর্মজীবী শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে। স্কুলবহির্ভূত দরিদ্র শিশুদের জন্য ইউসেপ মডেল সমাদৃত হয়।
- ইউসেপ ১৯৮৩ সালে সাধারণ শিক্ষাদান কর্মসূচির সাথে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করে এবং এ লক্ষ্যে ঢাকায় একটি কারিগরি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে।
- এই সময়ের মধ্যে ইউসেপের শিক্ষা কার্যক্রম চট্টগ্রাম এবং খুলনা শহরে সম্প্রসারিত হয়।
- সমাজকল্যাণ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর অধীনে ১৯৯০ সালে ইউসেপ একটি জাতীয় এনজিও হিসেবে নিবন্ধিত হয়।

সূত্র: UCEP ও বাংলাপিডিয়া
৪,৪০৪.
আওরঙ্গজেব কত খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন?
  1. ১৬৫৮ খিষ্টাব্দে
  2. ১৬৫৯ খিষ্টাব্দে
  3. ১৬৬০ খিষ্টাব্দে
  4. ১৬৬১ খিষ্টাব্দে 
ব্যাখ্যা
• আওরঙ্গজেব:
→ সম্রাট শাহজাহানের জীবদ্দশায় সংঘটিত উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে বিজয়ী হয়ে ১৬৫৮ খিষ্টাব্দে আওরঙ্গজেব বাদশাহ আলমগীর উপাধি নিয়ে মোগল সিংহাসনে বসেন।
→ ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে তিনি একজন অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব।
→ ঐতিহাসিক স্টেন্লি লেনপুল আওরঙ্গজেবকে মোগল বংশের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী শাসক বলেছেন।ৎ
→ তাঁর রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য সর্বাধিক বিস্তার লাভ করেছিল।
→ সম্রাট শাহজাহানের সামরিক সাফল্যের পর আওরঙ্গজেবের শাসনামলে সর্বাপেক্ষা আলোচিত বিষয় ছিল দাক্ষিণাত্য নীতি। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪০৫.
বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম নাটক -
  1. সংশপ্তক
  2. বাংলা আমার বাংলা
  3. একতলা দোতলা
  4. কবর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম নাটক:
- বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম নাটক ছিল ‘একতলা দোতলা’।
- এর নাট্যকার শহীদ মুনীর চৌধুরী।
- প্রযোজক শহীদ মনিরুল আলম।
- ১৯৬৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে টিভিতে সেই নাটক প্রচারিত হয়। নাটকে অভিনয় করেছিলেন ফেরদৌসী মজুমদার।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) কার্যক্রম শুরু করে ১৯৬৪ সালে।
- তখন এটি পরিচিত ছিল ঢাকা টেলিভিশন হিসেবে।
- মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে টেলিভিশনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং এর রাষ্ট্রায়ত্তকরণ করা হয়।
- ১৯৭৫ সালে ডিআইটি ভবন ছেড়ে রামপুরায় টেলিভিশনের নিজস্ব ভবন তৈরি করা হয়।

অন্যদিকে,
- ১৯৭১ সালে শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস ‘সংশপ্তক’ থেকে ধারাবাহিক নাটক সংশপ্তক নির্মাণ শুরু হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ‘বাংলা আমার বাংলা’। নাটকটি লিখেছিলেন ড. ইনামুল হক, প্রযোজনা করেছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।
৪,৪০৬.
ঐতিহাসিক ৬ দফাকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়?
  1. মুখ্য আইন
  2. পিটিশন অব রাইটস
  3. বিল অব রাইটস
  4. ম্যাগনাকার্টা
ব্যাখ্যা
• ৬ দফা:
- ৬ দফা আন্দোলন বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা।
-  ৬ দফা কর্মসূচির ভিত্তি ছিল ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব। পরবর্তীকালে এই ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার হয়।
- ৬ দফাকে ‘ম্যাগনাকার্টা’ বা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদও বলা হয়।

• ৬ দফার দাবিসমূহ নিম্নরূপ:
১. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি।
২. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
৩. মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
৪. রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
৫. বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক ক্ষমতা।
৬. আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র: উৎস: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।
৪,৪০৭.
বাঙালি জাতির 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত -
  1. লাহোর প্রস্তাব
  2. ২১ দফা
  3. ১১ দফা
  4. ৬ দফা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ৭ জুন ছয় দফা দিবস। 
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত। 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪০৮.
কার নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
  3. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ-এর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। 

সলঙ্গা বিদ্রোহ:

- ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তরুণ নেতা মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ-এর নেতৃত্বে তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার সলঙ্গা হাটে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সূচনা ঘটে।
- আন্দোলনরত জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে ব্রিটিশ পুলিশ, নিহত হন কয়েক শ মানুষ।
- নিহতদের ব্রিটিশ পুলিশ সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জে গণকবর দেয়।

⇒ বিদেশি পণ্য বর্জন ও স্বদেশি পণ্য ব্যবহার করার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের সলঙ্গা হাটে গণহত্যা সংঘটিত হয়।
- যুবনেতা মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে সলঙ্গা এলাকায় 

⇒ মূলত জালিয়ান ওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থেকে সূত্রপাত হয় ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের। জালিয়ান ওয়ালাবাগের পথ ধরে ব্রিটিশ বেনিয়াদের নৃশংসতার আরেক রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয় সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায়।

⇒ ২৭ জানুয়ারি ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
• আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ:
- মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ একজন রাজনীতিক। 
- তর্কবাগীশ জন্মেছিলেন ১৯০০ সালের ২৭ নভেম্বরে সলঙ্গাতে।
- স্থানীয় ডায়মন্ড জুবিলী হাইস্কুলে এন্ট্রান্স ক্লাসে অধ্যয়নকালে তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দেন।
- লাহোরের এরশাদ ইসলামিয়া কলেজে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সেরা বাগ্মীর স্বীকৃতি লাভ করার পরে তিনি ‘তর্কবাগীশ’ হিসেবে পরিচিত হন।
- ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। 
- তিনি ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
- ১৯৬৯-এর গণআন্দোলনের পর তিনি ছয়দফা-পন্থি আওয়ামী লীগে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মাওলানা সভাপতিত্ব করেন।
- ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট ঢাকায় তার মৃত্যু হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
৪,৪০৯.
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
  1. ক) বিচারপতি এম ইদ্রিস
  2. খ) বিচারপতি চৌধুরী এটিএম মাসুদ
  3. গ) বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম
  4. ঘ) কেএম নুরুল হুদা
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি এম ইদ্রিস৷
তাঁর কমিশনের মেয়াদ ছিল ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই থেকে ১৯৭৭ সালের ৭ জুলাই ৷
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে এই কমিশন৷।

- বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব পালন করা প্রধান নির্বাচন কমিশনার৷
তিনি ১৯৭৭ সালের ৮ জুলাই দায়িত্ব নেন৷ অব্যাহতি নেন ১৯৮৫ সালের ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি৷ আট বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি ৷

- বর্তমান কমিশন হলো নুরুল হুদা’র কমিশন৷ সিইসি পদে সাবেক সচিব কেএম নুরুল হুদা নিয়োগ পান ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি৷
তাঁর অধীনেই সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন  অনুষ্ঠিত হয় ৷

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও ডয়েচে ভেলে)

৪,৪১০.
মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. ক) বীর শ্রেষ্ঠ
  2. খ) বীর বিক্রম
  3. গ) বীর উত্তম
  4. ঘ) বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা

১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত। যথা-
১. বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন (মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
২. বীর উত্তম ৬৮ জন (মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
৩. বীর বিক্রম ১৭৫ জন (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব) এবং
৪. বীর প্রতীক ৪২৬ জন (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,৪১১.
নিচের কোন জেলা বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. বগুড়া
  2. সিলেট
  3. ফরিদপুর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল । 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪১২.
ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন কে?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ
  2. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  3. মজনু শাহ
  4. মীর নিসার আলী
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিল একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪১৩.
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম নারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে?
  1. নাজমা বেগম
  2. ফেরদৌসী কাদরী
  3. সুলতানা রাজিয়া
  4. নাজনীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম নারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল - নাজমা বেগম।
উৎস: ডেইলি ষ্টার
৪,৪১৪.
The military operation carried out by the Pakistan Army in the erstwhile East Pakistan in March 1971 was named operation.
  1. ক) Searchlight
  2. খ) Jackpot
  3. গ) Blitz
  4. ঘ) Jinnah
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট:
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতের সেনা অভিযানের সাংকেতিক নাম বা কোডনেম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'।

- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় নিম্নোক্ত পরিকল্পনা নেয়া হয়:
একযোগে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে অপারেশন শুরু হবে।
ঢাকার অপারেশনকে শতকরা ১০০ ভাগ সফল করতে হবে। এ জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দখল করতে হবে।
প্রথম পর্যায়ে এ অপারেশনের এলাকা হিসেবে ঢাকা খুলনা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, রংপুর, সৈয়দপুর ও সিলেটকে চিহ্নিত করা হবে। চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর, রংপুর ও কুমিল্লায় প্রয়োজনে বিমানযোগে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
আওয়ামী লীগের মুখ্য সশস্ত্র শক্তির উৎস রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ৩২নং পাঞ্জাব রেজিমেন্ট এক হাজার বাঙালি পুলিশকে নিরস্ত্র করবে।
বিশেষ সার্ভিস গ্রুপের এক প্লাটুন কমান্ডো সৈন্য শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি আক্রমণ ও তাঁকে গ্রেফতার করবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪,৪১৫.
কোন পদক্ষেপটি বেকারত্ব দূর করার জন্য বেশি প্রযোজ্য?
  1. কারিগরি জ্ঞান
  2. শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন
  3. দ্রুত নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর হার বৃদ্ধি
  4. দ্রুত শিল্পায়ন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বেকারত্বের প্রভাব:
১. উৎপাদন ক্ষমতা ও জাতীয় হ্রাস পাচ্ছে। ফলে সময় এবং উপকরণ উভয়েরই অপচয় ঘটছে।
২. বেকারত্ব দেশের মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান ক্রমান্বয়ে হ্রাস করে দিচ্ছে।
৩. বেকারত্ব কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে হতাশা ও ব্যর্থতার জন্ম দিচ্ছে যা সামাজিক সংঘাত ও কলহ সৃষ্টি করে।
8. বেকারত্বের অসহনীয় যন্ত্রণা মানুষকে সামাজিক আইন শৃঙ্খলার প্রতি বীতঃশ্রদ্ধ করে তোলে।
৫. বেকারত্বের ফলে কর্মক্ষম ব্যক্তি সমাজে বৈধ উপায়ে মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, যৌতুক প্রথা, চোরাকারবার, দুর্নীতি প্রভৃতি সমস্যা সৃষ্টি করে।
৬. পুষ্টিহীনতা, স্বাস্থ্যহীনতা, নিরক্ষতা ইত্যাদি সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে বেকারত্ব।
৭. সমস্যা সৃষ্টির ক্ষেত্রে মারাত্ম প্রভাব বিস্তার করে।
৮. নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর হার বৃদ্ধিতে বেকারত্ব সহায়তা করছে।

⇒ বেকার সমস্যা সমাধানের উপায়সমূহ:
- দ্রুত শিল্পায়ন: দেশে অধিক সংখ্যক কল-কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে বেকারত্ব কাটিয়ে ওঠা যায়।
- ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের উন্নতি: আমাদের দেশে মৌসুমী বেকারত্ব দূর করতে হলে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নতি সাধন করতে হবে।
- শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন: বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।
- নারী শিক্ষা প্রসার: নারীদের জন্য উপযুক্ত কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করে তাদেরকে সুশিক্ষিত করে তুলতে হবে।
- কর্ম বিনিময় কেন্দ্র স্থাপন দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মবিনিময় কেন্দ্র স্থাপন করে, বেকারদের তালিকা প্রস্তুত, কাগজে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এর সমাধান করা যায়।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ: জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে হ্রাস করে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করে বেকার সমস্যা অনেকাংশে লাঘব করা যায়।
- দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করে বেকার সমস্যার সমাধান করা যাবে।

উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪১৬.
‘শহিদ সাগর’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) নাটোরে
  2. খ) বগুড়ায়
  3. গ) ফরিদপুরে
  4. ঘ) যশোরে
ব্যাখ্যা
নাটোরের লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেডের ভিতরে একটি ছোট পুকুরের নাম এখন শহিদ সাগর। ১৯৭১ সালের ৫ মে এই ছোট্ট পুকুরের সিড়িঁতে অর্ধ শতাধিক ব্যক্তিকে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে পুকুরটিকে রক্তের সাগরে পরিণত করা হয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শহীদদের স্বজনেরা পুকুরটির নামকরণ করেন শহিদ সাগর।
সূত্র : বাংলাপিডিয়া।
৪,৪১৭.
বাংলাভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনে প্রথম শহিদ কে?
  1. আবদুস সালাম
  2. রফিকউদ্দিন আহমেদ
  3. আবদুল জব্বার
  4. শফিউর রহমান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদ আবদুস সালাম, বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বার, শফিউর রহমান।

⇒ রফিকউদ্দিন আহমদ:
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর সোয়া তিনটা। বাংলাভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনে প্রথম শহিদ রফিকউদ্দিন আহমেদ। ঐদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের মিছিলে পুলিশের গুলিতে রফিক ঘটনাস্থলে শহিদ হন। তাঁকে আজিমপুর গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৪,৪১৮.
পানিপথের কোন যুদ্ধে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কামানের ব্যবহার করা হয়েছিল?
  1. দ্বিতীয় যুদ্ধে
  2. প্রথম যুদ্ধে
  3. তৃতীয় যুদ্ধে
  4. কোনোটিতেই নয়
ব্যাখ্যা

পানি পথের যুদ্ধ:
- পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
- পানি পথে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।


→ পানি পথের প্রথম যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
- পক্ষ: বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- ফলাফল: ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হন এবং নিহত হন্।
- এই যুদ্ধে প্রথম কামানের ব্যাবহার হয়।


→ পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ।
- পক্ষ: আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল: হিমু পরাজিত ও নিহত হন।

→ পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।
- ফলাফল: মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৪১৯.
ঐতিহাসিক ছয় দফার পঞ্চম দফা কী ছিল?
  1. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো
  2. রাজস্ব
  3. বৈদেশিক মুদ্রা
  4. প্রতিরক্ষা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৪২০.
৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন কে?
  1. ক) নূরে আলম সিদ্দিকী
  2. খ) শাজাহান সিরাজ
  3. গ) আ.স.ম. আব্দুর রব
  4. ঘ) আব্দুল কুদ্দুস মাখন
ব্যাখ্যা
৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ। ঐদিনই বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেন ডাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
৪,৪২১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক "ওরা ১১ জন" চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. নাসির উদ্দীন ইউসুফ
  2. জহির রায়হান
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. তানভীর মোকাম্মেল
ব্যাখ্যা
• "ওরা ১১ জন (১৯৭২)":
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’।
- এর পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
- এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, হাসান ইমাম, এ টি এম শামসুজ্জামান, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- সিনেমায় অভিনয় করা ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার ১০ জনই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন।
- তাঁদের মধ্যে আছেন খসরু, মুরাদ, হেলাল, নান্টু। ছবির নামটি প্রতীকী।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং ১৯৬৮-৬৯ সালে ছাত্ররা ১১ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন করে।
- এখান থেকে ছবির নামকরণ হয়েছে ‘ওরা ১১ জন’। 

উৎস: প্রথম আলো- তারিক মনজুর, শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,৪২২.
কীসের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল?
  1. ক) বাঙালী জাতীয়তাবাদ
  2. খ) দ্বি-জাতি তত্ত্ব
  3. গ) অসাম্প্রদায়িকতা
  4. ঘ) স্বাধীনতা সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- সমস্ত পাকিস্তানের জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের (শতকরা ৫৬ ভাগ) ভাষা ছিলো বাংলা।
- কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার নীল নকশার ষড়যন্ত্র শুরু করে।
- এদেশের সমগ্র জনগোষ্ঠী তাদের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে এবং প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠে।
- অবশেষে ১৯৫২ সালের এদেশের ছাত্র- শিক্ষক এবং জনতার সাথে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর পাকিস্তান সরকার বাঙালিদের দাবী মানতে বাধ্য হয়।
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ভাষা আন্দোলনের এ ঘটনার মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪২৩.
মুক্তিযুদ্ধের কোন সেক্টরে কেবল নৌ কমান্ড দ্বারা গঠিত হয়েছিল?
  1. ক) ৮ নং
  2. খ) ৭ নং
  3. গ) ১০ নং
  4. ঘ) ৫ নং
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর।
- দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া
৪,৪২৪.
বারো ভূঁইয়ার প্রধান কে ছিলেন?
  1. ঈশা খাঁ
  2. শের খান
  3. জাহাঙ্গীর খাঁ
  4. ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- বাংলায় কররানী বংশের রাজত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে বাংলার সোনারগাঁ, খুলনা, বরিশাল প্রভৃতি অঞ্চলে কিছুসংখ্যক জমিদার স্বাধীন রাজার মতো রাজত্ব শুরু করে।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলার অধিকাংশই দখল করে নেন। 
- এক দল জমিদার বা ভূস্বামী একযোগে পূর্ব বাংলার ওপর মোগল আক্রমণ প্রতিহত করেন। এরাই বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত।
- বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে সোনারগাঁওয়ের ঈশা খাঁ ছিলেন সর্বাধিক প্রভাবশালী।
- বারো ভূঁইয়াদের প্রধান ছিলেন ঈশা খাঁ।
- আকবরের সেনাপতি মানসিংহ বারবার চেষ্টা করেও ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারেননি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসন আমলেও বারো ভূঁইয়ারা মোগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

উল্লেখযোগ্য বারো ভূঁইয়া:
⇒ বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে সোনারগাঁও এর ঈসা খাঁ ও তার পুত্র মুসা খাঁ, যশোহরের প্রতাপদিত্য, বিক্রমপুরের কেদার রায় ও চাঁদ রায়, বরিশালের কন্দর্প নারায়ণ, ফরিদপুরের মুকুন্দ রাম রায়, নোয়াখালীর লক্ষণ মাণিক্য, নাটোরের কংস নারায়ণ, বাকুড়ার বীর হাম্মীর, ভাওয়ালের ফজল গাজী, চন্দ্রপ্রতাপের চাঁদ গাজ, পুটিয়ার পীতাম্বর রায় এবং দিনাজপুরের প্রমথ রায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়াও বাহাদুর গাজী, সোনা গাজী, ওসমান কান, রাজা ছত্রজিৎ ও রাজা অনন্ত মাণিক্যও বারো ভূঁইয়াদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

ইসলাম খানের আগমন:
- ১৬০৮ সালে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার হয়ে আসেন।
- তার মূল লক্ষ্য ছিল বারো ভূঁইয়াদের দমন করে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
বারো ভূঁইয়াদের পতন:
- বারো ভূঁইয়ারা পরবর্তীতে ইসলাম খানের নেতৃত্বে মুঘল সেনাবাহিনীর হাতে পরাজিত হন।
- মুঘল শাসনের বশ্যতা স্বীকারের মাধ্যমে বাংলায় মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাপিডিয়া।
              ii) ইতিহাস, এসএএস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪২৫.
বাগেরহাট জেলা কার শাসনামলে 'খলিফাত-ই-আবাদ' নামে পরিচিত লাভ করে?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. সুলতান নুসরত শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
  4. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কূল ঘেষে বাগেরহাট জেলার অবস্থান।
বাংলার শাসক যখন নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ(১৪৪২-১৪৫৯) তখন হযরত খানজাহান(রঃ) এ অঞ্চল আবাদ করে নামকরণ করলেন ‘‘খলিফাত-ই-আবাদ’’ বা প্রতিনিধির অঞ্চল। মানুষের কল্যাণে তিনি তৈরী করলেন ষাটগম্বুজসহ অসংখ্য মসজিদ, দীঘি, রাসত্মা ও পত্তন করলেন অগণিত হাট-বাজার। হযরত খানজাহান(রঃ) এর আগমনকাল না জানা গেলেও এ সাধক পুরম্নষ পঞ্চদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বহু ধর্মপ্রাণ অনুসারিদের সাথে নিয়ে যশোর জেলার বার বাজার হয়ে ভৈরব নদী অতিক্রম করে বাগেরহাট পৌঁছান।

উৎস: বাগেরহাট জেলা ওয়েবসাইট।
৪,৪২৬.
চাকমা গ্রামের প্রধান-
  1. ক) হেডম্যান
  2. খ) মৌজা
  3. গ) কারবারি
  4. ঘ) পুঞ্জি
ব্যাখ্যা
- চাকমা শাসন ব্যবস্থায় গ্রাম প্রধানকে বলা হয় কারবারি।
- কারবারির কাজ হলো রাজার পক্ষ গ্রামের বিভিন্ন বিরোধের নিষ্পত্তি করা ।
- এদের রাজার সুপারিশে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

- কয়েকটি গ্রাম নিয়ে একটি মৌজা গঠিত হয়।
- মৌজার প্রধান হলো হেডম্যান।

- কতগুলোর মৌজার সমন্বয়ে গঠিত হয় একটি সার্কেল।
- সার্কেল প্রধান হলো রাজা।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা, বোমাং ও মং নামে মোট ৩টি সার্কেল রয়েছে।

তথ্যসূত্র- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণী।
৪,৪২৭.
১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মোট কত আসন লাভ করেন?
  1. ৩১০
  2. ২৮৮
  3. ২৯৮
  4. ১৬৭
ব্যাখ্যা
♣ সত্তরের নির্বাচন: 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯৭০ সালের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৯৬৯ সালের অভ্যুত্থানে ২৫শে মার্চ আইয়ুব খান পদত্যাগ করলে তাঁর উত্তরসূরি জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের ২৬শে মার্চ - এক বেতার ভাষণে পরবর্তী নির্বাচন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
- যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭০ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

- শেষ পর্যন্ত ৭ই ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদ এবং ১৭ই ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- তবে ১২ই নভেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের উপকূল অঞ্চলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হওয়ায় ঐ সব অঞ্চলে ১৯৭১ সালের ১৭ই জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 

♣ নির্বাচনের ফলাফল: 
- নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি (সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ) আসন আওয়ামী লীগ লাভ করে। 
- ১০ দিন পর অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন লাভ করে।
- সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৩১০ আসনের মধ্যে ২৯৮ টি আসন লাভ করেন।  
- অপরপক্ষে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পশ্চিম পাকিস্তানে ১৪৪টি আসনের মধ্যে ৮৮টি আসন লাভ করে।  

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪২৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন দুই বাহিনী মিলে 'যৌথ বাহিনী' গঠন করে?
  1. বাংলাদেশ সেনাবাহিনী - মুক্তিবাহিনী
  2. পাকিস্থানি বাহিনী - ভারতীয় বাহিনী
  3. মুক্তিবাহিনী - ভারতীয় বাহিনী
  4. বাংলাদেশ বিমানবাহিনী - মুক্তিবাহিনী
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়:

- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য সহযোগিতা করে।
- ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে 'যৌথ বাহিনী' গঠন করে।
- ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে।
- যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪২৯.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কোথায় পাঠ করা হয়?
  1. বৈদ্যনাথতলায়
  2. পল্টন ময়দান
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলা
  4. রেসকোর্স ময়দান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

এর আগে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৮ এপ্রিল এই সরকারের সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪,৪৩০.
কোন মৌর্য রাজা বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিলেন?
  1. বিন্দুসরা
  2. অশোক
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. কেউই নয়
ব্যাখ্যা
সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিন্দুসরার পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন।
- তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন।
- রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের রক্তবন্যা তাঁকে একজন নীতিবান ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।
- ওই সময় থেকেই তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে সম্রাট অশোক অহিংস বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৩১.
মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার কোথায় ছিল?
  1. কালুরঘাটে
  2. বারিয়ার হাটে
  3. হরিনাতে
  4. করিমগঞ্জে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরটি চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- প্রথমে এ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। (১০ এপ্রিল থেকে ২৫ জুন)
- পরে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মেজর রফিকুল ইসলাম। (২৮ জুন থেকে ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি)
- মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- এ সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন প্রায় ১০,০০০ মুক্তিযোদ্ধা। 
- এর মধ্যে ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর প্রায় ২,০০০ নিয়মিত সৈন্য অংশগ্রহণ করেন।
- গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮,০০০ জন।
- এই সেক্টরের গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে বিভক্ত করে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৩২.
Which force conducted 'Operation Kilo Flight' during the Liberation War?
  1. Bangladesh Air Force
  2. Bangladesh Navy Force
  3. Crack Platoon
  4. Guerrilla Force
  5. A & B
ব্যাখ্যা
কিলো ফ্লাইট:
- ১৯৭১ এর সেপ্টেম্বর এর মাঝামাঝি ভারত সরকার অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারকে একটি স্বাধীন বিমান বাহিনী গঠনের জন্য আমেরিকায় তৈরী ১টি পুরানো ডিসি-৩ বিমান, কানাডার তৈরী ১টি অটার বিমান এবং ফ্রান্সের তৈরী ১টি এ্যালুয়েট-৩ হেলিকপ্টার দেয়।
- এর সাথে ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে একটি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরিত্যক্ত রানওয়ে ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
- এই সীমিত সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়।

⇒ বিমান বাহিনী প্রধান হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- সশস্ত্র বিমান বাহিনী গঠনে গোপনীয়তা রক্ষার্থে এর গুপ্ত নাম হয় 'কিলো ফ্লাইট'।
- 'কিলো ফ্লাইটের' অস্তিত্ব বিডি এফ এবং গোটা কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছাড়া আর কেউ জানতেন না।
- কিলো ফ্লাইটে বিমান বাহিনীর পাইলটদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন পি আই এ এবং প্লান্ট প্রটেকশনের পাইলট এসে যোগ দেন।
- বিভিন্ন সেক্টর হতে যুদ্ধরত মোট ৫৮ জন বিমানসেনাকে এই ফ্লাইটে নিয়ে আসা হয়।
- এই ফ্লাইটের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয়া হয় স্কোঃ লীঃ সুলতান মাহমুদকে।
- এই সব অত্যুৎসাহী বিমান বাহিনী সদস্যদের সমন্বয়ে ১৯৭১ এর ২৮ সেপ্টেম্বর সশস্ত্র বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উদ্ধোধন হয়।
- শুরু হয় কঠোর প্রশিক্ষণ।

⇒ এই ফ্লাইট, ঢাকা, চট্টগ্রাম, লালমনিরহাট এলাকায় মোট ৫০টি অভিযান সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করে।
- এদের মধ্যে মোগলহাটে (১৫ অক্টোবর ৭১), লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁয়ে (১৬ অক্টোবর ৭১), চৌগাছায় (২১ নভেম্বর ৭১), গোদনাইল ও পতেঙ্গায় (৩ ডিসেম্বর ৭১), সিলেটে (৪ ডিসেম্বর ৭১), জামালপুরে (৫ ডিসেম্বর ৭১), মেঘনা নদীতে (৬ ডিসেম্বর ৭১), সিলেটে (৭ ডিসেম্বর ৭১) এবং নরসিংদীতে (১১ ডিসেম্বর ৭১) বিমান হামলা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৪,৪৩৩.
কোন সুবাদারের সময় রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়েছিল?
  1. ক) শাহ সুজা
  2. খ) ইসলাম খান
  3. গ) মীর জুমলা
  4. ঘ) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
- ইসলাম খান বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা পর্যালোচনা করে উপলব্ধি করেন যে, রাজধানী রাজমহল থেকে সারা বাংলাদেশের উপর সজাগ দৃষ্টি রাখা সম্ভব নয়।
- এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন এবং এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- বাংলায় মোগল শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন দক্ষ নেতা বাধার সম্মুখীন হন। আকবরের সময় মানসিংহকে নিয়োগ
- দেয়া হলেও তিনি ঈসা খানের কাছে পরাজিত হলে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে জাহাঙ্গীরের সময়
- ইসলাম খান চিশতী সমগ্র বাংলাদেশে মোগল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৩৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল কোনটি?
  1. অপারেশন পদ্মা
  2. অপারেশন নির্মূল
  3. অপারেশন জ্যাকপট
  4. অপারেশন পাইথন
ব্যাখ্যা

অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে  সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।

৪,৪৩৫.
'কোটিবর্ষ' রাজধানী ছিল কোন জনপদের?
  1. রাঢ়
  2. হরিকেল
  3. গৌড়
  4. বঙ্গ
ব্যাখ্যা

রাঢ়: 
- রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
- একটি ছিল দক্ষিণ রাঢ় এবং অন্যটি ছিল উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূক্ষভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূক্ষদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল।

এছাড়াও,  
হরিকেল: 
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।

গৌড়: 
- গুড় উৎপাদনের কেন্দ্র বলে গৌড় নগর ও দেশের নামের উদ্ভব হয়।
- আর হয়ত এই গৌড়নগরকে ঘিরেই পরে গৌড় জনপদ গড়ে উঠেছিল।
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।  

বঙ্গ: 
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- মহাভারত, রামায়ণ ও হরিবংশেও রয়েছে বঙ্গ প্রসঙ্গ।
- মহাভারতের আদি অন্যান্য জনপদের সাথে উচ্চারিত হয়েছে বঙ্গের নাম।
- মহাকবি কালীদাসের রঘুবংশ কাব্যে আছে বঙ্গের অবস্থান ও সীমানা সম্পর্কিত কিছু তথ্য।
- তিনি ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলেছেন। আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির 'গঙ্গরিডাই'।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়। একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৩৬.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৩৭.
নিম্নের কোন প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করা?
  1. NAPE
  2. NCTB
  3. NAEM
  4. NICAR
ব্যাখ্যা
NAPE:
- NAPE-এর পূর্ণরূপ: National Academy for Primary Education.
- প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার প্রশিক্ষিত ও পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে যোগ্যতাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এ সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় দুই বছর মেয়াদি ইন্টারমিডিয়েট ইন এডুকেশন (আইএড) কোর্স পরিচালিত হত।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজগুলো পরিবর্তন হয়ে কলেজ অব এডুকেশন নামে শুরু হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে ময়মনসিংহ কলেজ অব এডুকেশনে কশনে মৌলিক শিক্ষা একাডেমি (Academy for Fundamental Education) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এর নামকরণ করা হয় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ও (National Academy for Primary Education)।
- ২০০৪ সালের ১লা অক্টোবর থেকে একাডেমি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়।

⇒ নেপের প্রশাসনিক ব্যবস্থপনায় নির্বাহী কর্মকর্তা- একজন মহাপরিচালক।
- নেপ পরিচালনার জন্য ১৪ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নরস রয়েছে।

অন্যদিকে,
• NAEM (National Academy for Educational Management) জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি।
• NICAR (National Implementation Committee for Administrative Reform) প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।

উৎস: সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।
৪,৪৩৮.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ছিল মূলত-
  1. শিল্প সংক্রান্ত বন্দোবস্ত
  2. বাণিজ্য সংক্রান্ত বন্দোবস্ত
  3. শাসন সংক্রান্ত বন্দোবস্ত
  4. ভূমি সংক্রান্ত বন্দোবস্ত
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলা হয়।
- ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকে পরিণত করে এবং জমিদাররা জমির মালিকানা স্বত্ব লাভ করে।
- রাজস্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেয়ার ফলে নিয়মিত রাজস্ব প্রদানের বিনিময়ে জমিদার জমিদারী ভোগের চিরস্থায়ী অধিকার লাভ করে।
- এ প্রথা চালু হওয়ার ফলে জমিদারদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়। সরকার স্বয়ং শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- নজরানা ও বিক্রয় ফি সমূহ বাতিল করা হয়।
- খাজনা বাকি পড়লে জমিদারদের ভূমির কিছু অংশ বিক্রি করে রাজস্ব আদায় করার ব্যবস্থা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৩৯.
'তমদ্দুন মজলিস'-এর নেতা জনাব আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন?
  1. রসায়ন বিজ্ঞান
  2. গণিত
  3. ইতিহাস
  4. পদার্থ বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

⇒ 'তমদ্দুন মজলিস'-এর নেতা জনাব আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

♦ তমদ্দুন মজলিশ:
→ তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
→ তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
→ ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
→ মদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল
→ অধ্যাপক আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ তমদ্দুন মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।
→ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে বস্ত্তত তমদ্দুন মজলিশই প্রথম প্রতিবাদ উত্থাপন করে।
→ এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
→ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
→ তমদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
→ ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
→ পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
→ এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। ফলে বাঙালিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৪০.
যুক্তফ্রন্টে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন কোন দলটি ছিল?
  1. নিজাম-ই-ইসলামী
  2. বামপন্থী গণতন্ত্রী দল
  3. আওয়ামী মুসলিম লীগ
  4. কৃষক-শ্রমিক পার্টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পাকিস্তানের মুসলিম লীগ বিরোধী পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী মোর্চা বা জোট গঠন করে।
- এই জোট 'যুক্তফ্রন্ট' নামে পরিচিত।
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্টে মূলত চারটি রাজনৈতিক দল ছিল।

এগুলো হলো:
- মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন: আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন: কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
- মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন: নিজাম-ই-ইসলামী এবং
- হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন: বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৪১.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে কত তারিখ ছিল?
  1. ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ
  2. ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ
  3. ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ
  4. ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
বিজয় দিবস
- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪:৩১ মিনিটে পাক বাহিনীর পক্ষে লে.জেনারেল নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে। 
- বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে দিনটি ছিল  ২৯ অগ্রহায়ণ,১৩৭৮ বঙ্গাব্দ।

উল্লেখ্য, 
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯ টি জেলার মধ্যে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোর, যেটি ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ স্বাধীন হয়।

তথ্যসূত্র- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৪,৪৪২.
বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা হয় কবে?
  1. দ্বাদশ শতকের শুরুতে
  2. ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে
  3. চতুর্দশ শতকের শুরুতে
  4. একাদশ শতকের শেষে
ব্যাখ্যা

• বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা:
- তেরো শতকের শুরুতে তুর্কিসেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলার উত্তর ও উত্তরপশ্চিমাংশে সেন শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন।
- বখতিয়ার খলজি ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে জীবিকার অন্বেষণে গজনিতে আসেন। 
- সেখানকার শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দিন তাকে মাসিক বেতনে সৈন্য বিভাগেনিযুক্ত করেন। 
- বখতিয়ার অল্পসংখ্যক সৈন্য সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য আক্রমণ করতে শুরু করেন।
- এ সময়ে তার কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ভাগ্যান্বেষী মুসলমান তার সৈন্যদলে যোগদান করে।
- ফলে বখতিয়ারের সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
- এভাবে পার্শ্ববর্তী এলাকায় আক্রমণ চালিয়ে তিনি দক্ষিণ বিহারে এক প্রাচীরঘেরা দুর্গের মতো স্থানে আসেন এবং আক্রমণ করেন।
- বিহার দখলের পর বখতিয়ার অনেক ধনরত্নসহ দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- নদীয়ায় আক্রমন করে লক্ষণ সেন কে পরাজিত করে বাংলায় মুসলিম শাসন সূচনা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম, শ্রেণি। 

৪,৪৪৩.
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ চালু করেছিলেন -
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. শায়েস্তা খান
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট বাবর
ব্যাখ্যা
বাংলা নববর্ষ: 
- পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন। 
- এ দিনটি বাংলা নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়। 
- এটি বাঙালি জাতির একটি সর্বজনীন লোক উৎসব। 
- এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। 
- তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতু নির্ভর। 
- এই কৃষি কাজের সুবিধার্থেই মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সন প্রবর্তন করেন। 
- হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। 
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল যা পরে 'বঙ্গাব্দ' নামে পরিচিত হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৪৪.
'সূর্য দীঘল বাড়ি' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. শেখ নিয়ামত শাকের
  2. জহির রায়হান
  3. সুভাষ দত্ত
  4. খান আতা
ব্যাখ্যা
[সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘ক’ গ্রহণ করা হয়েছে।]

• ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ চলচ্চিত্রের পরিচালক হলেন শেখ নিয়ামত আলী এবং মসিহউদ্দিন শাকের।
- আবু ইসহাক রচিত ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি ১৯৭৯ সালে নির্মিত হয়।
- এটি ছিলো সরকারি অনুদানে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র।

---------------------------
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'।
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- হাসু,
- মায়মুন,
- শাফি,
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
- মোরল গদু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৪,৪৪৫.
গাজীপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে-
  1. ক) ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ
  2. খ) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১৯শে মার্চ গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংঘটিত হয়।
- ৭ মার্চের ভাষণের পর আন্দোলন দুর্বল করতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী জয়দেবপুরের দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের তাঁদের অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু বাঙালি সৈন্যরা অস্ত্র জমা না দিয়ে জনতাকে সাথে নিয়ে চান্দিনা-জয়দেবপুর সড়ক অবরোধ করে।
- এতে পাকবাহিনী গুলিবর্ষণ করলে হুরমত, নিয়ামত, কানু মিয়া ও মনু খলিফা নিহত এবং অনেকে আহত হন। পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে ওটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ।
- এটির স্বরণে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় জাগ্রত চৌরঙ্গী নামে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য নির্মিত হয়।

(তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো এবং গাজীপুর জেলা ওয়েবসাইট)

৪,৪৪৬.
জরথুস্ত্র ধর্ম কোথায় প্রচলিত ছিলো?
  1. ক) গ্রিস
  2. খ) মিশর
  3. গ) পারস্য
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
পারস্য সভ্যতার ধর্ম ছিলো জরথুস্ত্র। জরথুস্ত্রের আর্বিভাব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে। পারস্য সম্রাট আরদাশিরের সময় জরথুস্ত্র ধর্ম রাজকীয় মর্যাদা লাভ করে। জরথুস্ত্রবাদীরা ছিলো অগ্নি উপাসক। এদের প্রধান দেবতার নাম আছর মাজদা। ধর্মগ্রন্থের নাম জেন্দাবেস্তা।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৪,৪৪৭.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সময়ে বুদ্ধিজীবীদের উপর হত্যাকান্ড পরিচালিত হয়?
  1. ২৫ মার্চ, ১৯৭১
  2. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. ২৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস:
- বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে মানবতাবিরোধী এই বর্বর কাজে সহায়তা করেছে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চূড়ান্ত পরাজয়ের দুই দিন পূর্বে ১৪ই ডিসেম্বর অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে।
- ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস।
- তাদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকার মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।
৪,৪৪৮.
উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন কে?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. নূরুল আলম
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. কামাল ফারুক
ব্যাখ্যা

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা'র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৪৯.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম এশীয় মুসলিম দেশ কোনটি?
  1. ইরাক
  2. ইরান
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক:
- পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসার পর থেকে জাতির জনকের নেতৃত্বে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্থাপন এবং ক্রমান্বয়ে তা দৃঢ়তর হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশ আমাদের সমর্থন জানালেও আরব দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব, জর্দান, মরক্কো, লিবিয়া পাকিস্তানকে সমর্থন করে গেছে।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আদম মালিকের নিমন্ত্রণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন জুলাই মাসের ৯ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া সফর করেন।
- সফরকালে দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি ও বাণিজ্যসংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়।
- কাবুলে অনুষ্ঠিত ন্যামের প্রস্তুতি কমিটির সভায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে সমর্থনের জন্য ইন্দোনেশিয়াকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

উৎস: ২১ ডিসেম্বর, ২০১৬, কালের কন্ঠ।
৪,৪৫০.
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি ইউরোপের কোন দেশে প্রথমবারের মতো পন্যবাহী জাহাজ যায়?
  1. ক) পর্তুগাল
  2. খ) ইতালি
  3. গ) অস্ট্রিয়া
  4. ঘ) জার্মানি
ব্যাখ্যা
- ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি ইউরোপের দেশ ইতালিতে পন্যবাহী জাহাজ চলাচল। এর আগে ইউরোপে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশের বন্দর হয়ে পাঠানো হত।
- ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বরে ‘ক্যাপ ফ্লোরেস' নামের খালি কন্টেইনারবাহী একটি জাহাজের পরীক্ষামূলক যাত্রা সফল হওয়ায় এবার নিয়মিত যাত্রার অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো কন্টেইনার ভর্তি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি সোঙ্গা চিতা' ইতালির উদ্দেশে চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যায়। 
- চট্টগ্রাম-ইতালি সরাসরি জাহাজ চলাচলের এ সেবা চালু করে ইতালির ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান আরআইএফ লাইন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্যালিপসো কোম্পানিয়া ডি নেভিগেশন।

উৎস: প্রথম আলো আর্কাইভ।
৪,৪৫১.
'৩৬ জুলাই' বলতে কোন দিনটিকে নির্দেশ করা হয়েছে?
  1. ৫ আগস্ট
  2. ১৬ আগস্ট
  3. ৬ আগস্ট
  4. ৪ আগস্ট
ব্যাখ্যা
•‘৩৬ জুলাই’:
- তারিখ: ৫ আগস্ট ২০২৪।
- কর্মসূচি: ‘মার্চ টু ঢাকা’ আহ্বান জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
- আন্দোলনের সূচনা: 
- উদ্দেশ্য: সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি।
- প্রথম কেন্দ্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
- পরবর্তী বিস্তার: দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
- ৩১ জুলাইয়ের পর তারা নতুন সময় গণনা শুরু করে।
- সেই অনুযায়ী ৫ আগস্ট হয়ে ওঠে প্রতীকী "৩৬ জুলাই"।

উৎস: প্রথম আলো।
৪,৪৫২.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন কোন সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন? 
  1. ২নং সেক্টর
  2. ১০নং সেক্টর
  3. উভয়ই
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয়, রুহুল আমিন তাদের অন্যতম।
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্ম ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বাঘচাপড়া গ্রামে।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসে তিনি ২নং সেক্টরে যোগদান করেন।
- পরবর্তীতে ১০নং নৌ সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ই ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রূপসা নদীতে খুলনা শীপইয়ার্ডের কাছে সম্মুখ যুদ্ধে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ পলাশকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় এ বীর সন্তান শহিদ হন।
- নোয়াখালীতে তাঁর জন্মস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ভারত সরকার বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে দুইটি টাগবোট উপহার দেয়। এগুলোকে পরে গানবোটে রূপান্তরিত করা হয়।
- গানবোট দুটির নামকরণ করা হয় 'পদ্মা' ও 'পলাশ'।
- রুহুল আমিন নিয়োগ পান 'পলাশের' ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার হিসেবে।

তথ্যসূত্র -১.বাংলাপিডিয়া।
২.মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।লিংক
৪,৪৫৩.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ধানমন্ডি
  2. শাহবাগ
  3. শেরে বাংলা নগর
  4. আগারগাঁও 
ব্যাখ্যা

• জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর/ July Memorial Museum:  
- অবস্থান: শেরে বাংলা নগর, ঢাকা। 
- ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর গণভবন জনতার দখলে চলে যায়।
- এরপর সরকারি বাসভবন 'গণভবন' -কে রূপান্তর করে তৈরি করা হয়েছে।
- এটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের সংগ্রাম, দলিল-দস্তাবেজ এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলী সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

- ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এটির নির্মাণকাজ চলে।
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর মাধ্যমে এটিকে আইনগত ভিত্তি প্রদান করে। 

উল্লেখ্য, 
- জাদুঘরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হলো সেখানে সংরক্ষিত একটি রেড টেলিফোন, যেখানে শেখ হাসিনার ফোনালাপের অডিও রেকর্ড রাখা হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: 
i) ডেইলি স্টার। 
ii) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। 
iiii) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
iv) প্রথম আলো। 

৪,৪৫৪.
নিচের কোন জেলা হরিকেল জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. কুমিল্লা
  2. ঢাকা
  3. নোয়াখালী
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৫৫.
প্রাচীন তাম্রলিপ্ত জনপদের বর্তমান অবস্থান কোন অঞ্চলে?
  1. ক) বর্ধমান জেলা
  2. খ) মেদিনীপুর জেলা
  3. গ) মুর্শিদাবাদ জেলা
  4. ঘ) রাজশাহী ও দিনাজপুর
  5. ঙ) দিনাজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
হরিকেল জনপদের দক্ষিণে অবস্থিত ছিলো তাম্রলিপ্ত জনপদ। বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্ত -জনপদের প্রাণকেন্দ্র। উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়।
৪,৪৫৬.
কোন বীরশ্রেষ্ঠের দেহাবশেষ ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে?
  1. ক) মোস্তফা কামাল
  2. খ) হামিদুর রহমান
  3. গ) মতিউর রহমান
  4. ঘ) রুহুল আমিন
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান (১৯৫৩-১৯৭১):
- ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা আক্কাস আলী ও মাতা কায়দাছুন নেছা।
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। 
- হামিদুর রহমান মুক্তি বাহিনীর সাহসী সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করছিলেন সিলেট শ্রীমঙ্গল এলাকায়।
- তার পদবী ছিল - সিপাহী।
- যুদ্ধের সেক্টর ছিল - ৪ নং সেক্টর (সিলেট)।

- মুক্তিযুদ্ধে বিরচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ট খেতাবে ভূষিত হন।
- তিনি শহিদ হন - ২৮শে অক্টোবর, ১৯৭১ সালে।
- তার কবর ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ধলইয়ের হাতিমারাছড়া গ্রামে দাফন করে। কিন্তু পরে সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
- ঝিনাইদহ জেলা শহরের স্টেডিয়ামে তার নামে, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তার স্মরনে একটি ডাক টিকিট প্রকাশ করেছে।

তথ্যসূত্র: ঝিনাইদহ জেলার ওয়েবসাইট।
৪,৪৫৭.
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।
ভবে দেও দুঃখ মা, আর কত চাই।।'
- কোন ধরণের সঙ্গীতের উদাহরণ?
  1. ক) কবিগান
  2. খ) পাঁচালি
  3. গ) শ্যামাসঙ্গীত
  4. ঘ) টপ্পাগান
ব্যাখ্যা
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন - রামপ্রসাদ সেন
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গান -
"আমি কি দুঃখেরে ডরাই।
ভবে দেও দুঃখ মা, আর কত চাই।।"

- আরেকটি বিখ্যাত গান:
"মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলতো সোনা।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪৫৮.
বর্তমান রাজশাহী, দিনাজপুর ও রংপুর প্রাচীনযুগে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. হরিকেল
  2. বঙ্গ
  3. বরেন্দ্র
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্র জনপদ:
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম বরেন্দ্র বা বরেন্দ্র ভূমি।
- এটি উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ। 
- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ, দার্জিলিং ও কোচবিহার এক সময় এ জনপদের আওতায় ছিল।

⇒ পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্ররাজ্যের একটি অংশজুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- মৌর্য ও গুপ্ত আমলে প্রাদেশিক কেন্দ্র পুণ্ড্রনগরের অবস্থানও ছিল এই বরেন্দ্র এলাকায়।
- আলেকজান্ডার কানিংহামের মতে, বরেন্দ্রর সীমানা পশ্চিমে গঙ্গা ও মহানন্দা, পূর্বে করতোয়া, দক্ষিণে পদ্মা এবং উত্তরে কুচবিহার ও তরাইয়ের মধ্যে ছিল।

অন্যদিকে,
- বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ' জনপদ গঠিত ছিলো। এই অঞ্চলে বসবাসকারী ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী থেকে ‘বঙ্গ’ নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল। কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৪৫৯.
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন কোন কমিশনের রিপোর্টকে কেন্দ্র করে ঘটে?
  1. সাইমন কমিশন
  2. শরিফ কমিশন
  3. কুদরত-ই-খুদা কমিশন
  4. আতাউর রহমান খান কমিশন
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন: 
- শরিফ কমিশনের রিপোর্টকে কেন্দ্র করে বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন ঘটে। 

- ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের পর শরিফ কমিশন গঠন হয়।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন ড. এস এম শরিফ।
- ২৬ আগস্ট ১৯৫৯ তার প্রতিবেদন দাখিল হয়।
- প্রতিবেদনটির সুপারিশে উচ্চশিক্ষার সংকোচন এবং ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ছিল।
- ছাত্ররা এই সুপারিশগুলিকে সাধারণ মানুষের শিক্ষার সুযোগ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে প্রতিবাদ জানায়।
- ১৯৬০ সালের প্রথম দিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়।
- কিন্তু সামরিক শাসন থাকায় আন্দোলন ক্ষীণ ছিল।
- ১৯৬২ সালে সামরিক আইন প্রত্যাহারের পর শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদন বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।
- ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল আহ্বান করা হয়।
- এদিন ছাত্ররা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
- পুলিশের গুলিতে মোস্তফা ও বাবুল নামে দুজন ঘটনাস্থলে নিহত হয় এবং পরদিন গুলিবিদ্ধ ওয়াজিউল্লাহ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে।
- আন্দোলনের মুখে সরকার কমিশন প্রতিবেদন বাস্তবায়ন স্থগিত ঘোষণা করে।
- এই আন্দোলন ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

উৎস: প্রথম আলো (১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। 
বাংলাপিডিয়া। 
৪,৪৬০.
কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ‘এগারো দফা’ প্রণীত হয়?
  1. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  2. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. চুয়ান্নর প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
  4. একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা

‘উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান’ এর প্রেক্ষাপটে ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ এর পক্ষ থেকে ‘এগারো দফা’ দাবী ঘোষণা করা হয়।
এই এগারো দফার মধ্যে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া, ছয়দফা, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার এবং পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
যার কারণে ‘এগারো দফা’ পূর্ব বাংলার সকল স্তরের জনসাধারণের সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হয়।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৬১.
সম্রাট জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনীর নাম কী?
  1. দাস্তান-ই-জাহাঙ্গীরী
  2. জাহাঙ্গীরীনামা
  3. তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী
  4. শাহনামা
ব্যাখ্যা
- সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁর আত্মজীবনী তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী রচনায় তাঁর শাসনকালের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করেন।

সম্রাট জাহাঙ্গীর
- সম্রাট জাহাঙ্গীর সকল ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
- ফকির, দরবেশ, জ্ঞানী-গুণীদের তিনি সমাদর করতেন।
- সাহিত্য, শিল্পকলা ও চিত্রশিল্পে তাঁর যথেষ্ট অনুরাগ পরিলক্ষিত হয়।
- তুযুক-ই-জাহাঙ্গীরী ছিল তাঁর আত্মজীবনী।
- এখানে সমসাময়িক মোগল ইতিহাসের অনেক মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়।
- তার সময় থেকেই ভারতে ব্রিটিশদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারের সূত্রপাত ঘটে।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৬২.
১৯৭১ সনের কোন তারিখে The Proclamation of Independece জারী করা হয়?
  1. ২৭ মার্চ
  2. ১০ এপ্রিল
  3. ১৪ এপ্রিল
  4. ১৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:

- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা।
১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন ইউসুফ আলী।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৬৩.
বখতিয়ার খলজি বাংলার কোন রাজাকে পরাজিত করেন?
  1. দীনেশ্বর সেন
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. কেশব সেন
  4. সীতাল সেন
ব্যাখ্যা
- বখতিয়ার খলজি লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া দখল করেন।

ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খিলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি দ্বাদশ শতাব্দীতে ভারতবর্ষে আসেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- বাংলা জয় করেন ১৩ শতকে।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলার ইতিহাস; সুলতানি আমল: আব্দুল করিম।
৪,৪৬৪.
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদক কে?
  1. প্রফেসর সালাউদ্দিন আহমেদ।
  2. প্রফেসর এম এন সিদ্দীক।
  3. প্রফেসর শামসুল হুদ।
  4. প্রফেসর ফকরুল আলম।
ব্যাখ্যা
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ:

- অধ্যাপক ফখরুল আলম শিক্ষক পরিচয়ের বাইরে একজন প্রথিতযশা অনুবাদক।
- বাংলা সাহিত্যকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন তিনি।
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' ও 'কারাগারের রোজনামচা' বই দুটি অনুবাদ করেন অধ্যাপক ফখরুল আলম।
- এর মাধ্যমে আমাদের ইতিহাস ও সংগ্রামকে পৃথিবীর সব ভাষাভাষী মানুষের জানার সুযোগ করে দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র - ডেইলী স্টার, আগস্ট ১৪ ২০২০।
৪,৪৬৫.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে বঙ্গবন্ধু কী নামকরণ করেছিলেন?
  1. শেখ মুজিব ও রাষ্ট্র দ্রোহীতা
  2. পাকিস্তান বনাম শেখ মুজিব
  3. রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
  4. ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:

- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আগরতলা মামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করে যে, পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র উদঘাটিত হয়েছে।
- এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজন আওয়ামী লীগ নেতা, সিভিল সার্ভিসের দুইজন বাঙালি কর্মকর্তাসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
- ১৮ জানুয়ারি আরেকটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে উক্ত মামলার ১নং আসামী বলে ঘোষণা করা হয়।
- এই মামলার বিচারের জন্য একটি স্পেশাল ট্রাইবুনাল গঠিত হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'।
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে।
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৬৬.
দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম (The Blood Telegram) গ্রন্থটির লেখক-
  1. রিচার্ড সেশন
  2. মার্কাস ফ্রান্ডা
  3. গ্যারি জে ব্যাস
  4. পল ওয়ালেচ
ব্যাখ্যা
◉  দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম (The Blood Telegram) গ্রন্থটির লেখক গ্যারি জে ব্যাস।

দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম (The Blood Telegram) গ্রন্থ:

- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আমেরিকান অধ্যাপক গ্যারি জে বাসের রচিত বইটির মূল নাম ‘দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, নিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড’।
- তবে ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ হলো আর্চার কেন্ট ব্লাডের একটি তারবার্তা।
- ১৯৭১ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেল ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় কেন্ট ব্লাড যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে তৎকালীন চলমান নৃশংসতা বন্ধে ব্যর্থ হওয়ায় কঠোর ভাষায় একটি টেলিগ্রাম করেন, যা ইতিহাসে ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে পরিচিতি পায়।
- এটি ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সাধারণ বিবেচনায় ‘দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড’ বইটি একজন বিদেশি গবেষকের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিবরণ।
- এ বইটি অন্য যেকোনো বইয়ের চেয়ে আলাদা, স্বতন্ত্র।
- কারণ, সম্ভবত এই বইয়েই প্রথম কোনো পশ্চিমা গবেষক ১৯৭১-এ সংঘঠিত বাংলাদেশের গণহত্যাকে ‘প্রমাণিত গণহত্যা’ হিসেবে বিশ্বের সামনে দাঁড় করানোর প্রয়াস পেয়েছেন।

⇒ শিরোনাম: The Blood Telegram: Nixon, Kissinger, and a Forgotten Genocide।
- লেখক: গ্যারি জে ব্যাস।
- প্রকাশক: Knopf।

উৎস: i) Amazon.com
        ii) মার্চ ২৬, ২০২২, বণিক বার্তা।
৪,৪৬৭.
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে কত তারিখ?
  1. ১ মার্চ ১৯৭১ সালে
  2. ২ মার্চ ১৯৭১ সালে
  3. ৩ মার্চ ১৯৭১ সালে
  4. ৪ মার্চ ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:

- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪,৪৬৮.
তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) সুমিত্রা দেবী
  2. খ) তারামন বিবি
  3. গ) ইলা মিত্র
  4. ঘ) মহাশ্বেতা দেবী
ব্যাখ্যা
বিশ শতকের মধ্যভাগে বাংলায় সংঘটিত তেভাগা আন্দোলন একটি কৃষক আন্দোলন। নাচোলের রানী ইলা মিত্র তেভাগা আন্দোলন একজন নেত্রী। এই আন্দোলন যখন স্তিমিত হয়ে যেতে থাকে তখন ইলা মিত্র এই আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করেন। কৃষকদের নিকট তিনি রানী মা হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৪৬-৪৭ এবং ১৯৪৮-৫০ দুই দফায় রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়। তেভাগা আন্দোলনে দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা নিজেরা।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৪,৪৬৯.
‘পরী বিবি’ কে ছিলেন?
  1. আওরঙ্গজেবের কন্যা।
  2. শায়েস্তা খাঁনের কন্যা।
  3. মুর্শিদকুলি খাঁনের কন্যা।
  4. আওরঙ্গজেবের স্ত্রী।
ব্যাখ্যা
পরী বিবি:

- তিনি বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খান এর কন্যা।
-বাদশাহ আওরঙ্গজেব এর পুত্র মুহম্মদ আজম এর স্ত্রী।
- বাংলাদেশ সরকারের কাটরার ওয়াকফ পরিদপ্তরে সংরক্ষিত শায়েস্তা খানের নিজস্ব অছিয়তনামা থেকেই শায়েস্তা খানের কন্যা হিসেবে বিবি পরীকে (ইরান দুখত্ রহমত বানু) চিহ্নিত করা যায়।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে মসজিদের পূর্ব দিকে বিবি পরীকে সমাহিত করা হয়। শায়েস্তা খান কন্যার সমাধির উপর একটি সুদৃশ্য সৌধ নির্মাণ করেন।

তথ্যসুত্র- বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৭০.
মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র রংপুর বিভাগ নিয়ে কত নং সেক্টর গঠিত হয়েছিল?
  1. ৪ নং
  2. ৬ নং
  3. ৯ নং
  4. ১১ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এটি ছিলো যুদ্ধ পরিচালনার একটি সামরিক কৌশল।
- ১৯৭১ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই সেক্টর গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

• ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

• ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

• ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

• ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৭১.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
  2. তাজউদ্দিন আহম্মদ
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. খন্দকার মোস্তাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন।
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

সূত্র: Banglapedia
৪,৪৭২.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কত সালে গঠিত হয়?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০০২ সালে
  3. ২০০৩ সালে
  4. ২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:

- ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়।
- সর্বপ্রথম বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভবনে ৩ টি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরম্ভ হয়।
- মন্ত্রণালয়ের কাজের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত ও মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্বিঘ্নে সেবা প্রদানের সুবিধার্থে ২০০২ সালে বিআরটিবি ভবন,এলেনবাড়ী, তেজগাঁও-এ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্থানান্তরিত হয়।
- বর্তমান ঠিকানা সচিবালয় লিংক রোড, ঢাকার সরকারি পরিবহন পুলভবনের ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলায় গত ১০/১০/২০০৬ তারিখ হতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৪,৪৭৩.
নিচের কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিলো?
  1. ক) চেমসফোর্ড-মন্টেগু সংস্কার আইন
  2. খ) চট্টগ্রাম অস্ত্রগার লুন্ঠন
  3. গ) লক্ষ্ণৌ চুক্তি
  4. ঘ) সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ
ব্যাখ্যা

- ১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে লক্ষ্ণৌ শহরে একই সময়ে ও স্থানে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে উভয় দল ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কার প্রশ্নে সমঝোতার অংশ হিসেবে লক্ষ্ণৌ চুক্তি সম্পাদন করে।
- এই চুক্তিতে কংগ্রেস প্রথমবারের মতো মুসলমানদের জন্যে পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা মেনে নেয়।
অন্যদিকে,
- চেমসফোর্ড-মন্টেগু সংস্কার আইন : ১৯১৯ সালে
- চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন : ১৯৩০ সালে
- সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ : ১৯৩২ সালে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)

 
৪,৪৭৪.
বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের নাম কী?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু
  2. খ) মহানায়ক
  3. গ) রাজনীতির কবি
  4. ঘ) আমি মুজিব বলছি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ও ভারত সরকার যৌথ প্রযোজনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিক উপলক্ষ্যে তার জীবনী নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে।
গত ২১ জানুয়ারি ২০২১ ভারতের মুম্বাইয়ে চলচ্চিত্রটির শুটিং শুরু হয়।
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক শ্যাম বেনেগাল।
- চিত্রনাট্য রচয়িতা শ্যামা জাইদি।
অভিনয় শিল্পীবৃন্দ:
- বঙ্গবন্ধু চরিত্রে : আরেফিন শুভ
- বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চরিত্রে : তিশা (বড়বেলা) এবং দিঘি (ছোটবেলা)
- বঙ্গবন্ধুর মায়ের চরিত্রে : দিলারা জামান
- বঙ্গবন্ধুর বাবার চরিত্রে : চঞ্চল চৌধুরী
- শেখ হাসিনা চরিত্রে : নুসরাত ফারিয়া (ছোটবেলা) এবং জান্নাতুল সুমাইয়া (বড়বেলা)
- আইয়ুব খান চরিত্রে : মিশা সওদাগর।
(সুত্র: বিবিসি বাংলা, ঢাকা ট্রিবিউন এবং লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার)
৪,৪৭৫.
অপারেশন জ্যাকপট কী?
  1. পাকিস্তানি বাহিনীর বিশেষ অভিযান
  2. মুক্তিযুদ্ধে-নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
  3. ভারতীয় বাহিনীর বিশেষ অভিযান
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ডো বাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- ১৯৭১ সালের ১৬ই অগাস্ট প্রথম প্রহরে দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মোংলা, এবং দুইটি নদী বন্দর  চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অভিযানকে মুক্তিযোদ্ধারা সফল অভিযান বলে বর্ণনা করেন, কারণ এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- এ অভিযানে অংশগ্রহণকারী কোন গেরিলা শত্রুপক্ষের হাতে ধরা পড়েননি।

উৎস: বিবিসি নিউজ।[লিঙ্ক]

৪,৪৭৬.
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কে?
  1. ফজলে হাসান আবেদ
  2. আখতার হামিদ খান
  3. মোহাম্মদ ইব্রাহিম
  4. ফজলুর রহমান খান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড):

- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে পল্লী উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রায়োগিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত একটি স্বায়ত্তশাসিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- এটি ১৯৫৯ সালে কুমিল্লা জেলার কোর্টবাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আখতার হামিদ খান।
- বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর কার্যক্রম একটি বোর্ড অব গভর্নর্স কর্তৃক পরিচালিত হয়। 
- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এ বোর্ডের চেয়ারম্যান।
- প্রশাসনিকভাবে বার্ড স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত। মহাপরিচালক
বার্ডের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা।
- এছাড়াও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় অবস্থিত।
- এই একাডেমীর মূল দায়িত্ব প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনা ও পরামর্শ সেবা প্রদান
করা।

তথ্যসূত্র- বার্ড ও আরডিএ ওয়েবসাইট।
৪,৪৭৭.
বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে কে সর্বপ্রথম নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেছিলেন?
  1. ক) আলী মর্দান খলজি
  2. খ) গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি
  3. গ) মুহম্মদ শিরান খলজি
  4. ঘ) আলাউদ্দিন জানি
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি ১২১২ থেকে ১২২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর স্বাধীন সুলতান হিসেবে বাংলা শাসন করেন।
তিনিই সর্বপ্রথম বাংলায় নৌবাহিনী গঠন করেন। নিজের নামে মুদ্রা চালু করেন।
তিনি তাঁর পূর্বের শাসক আলি মর্দান খলজির মতো স্বাধীন শাসক ছিলেন।
১২২৭ খ্রিষ্টাব্দে যুবরাজ নাসিরুদ্দিন মাহমুদ লখনৌতি আক্রমণ করলে ইওজ খলজি পরাজিত ও নিহত হন।
[সূত্রঃ নবম-দশম শ্রেণি (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
৪,৪৭৮.
বিখ্যাত ‘মারি চুক্তি’ কত সালে সম্পাদিত হয়েছিল?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৫৭ সালে
ব্যাখ্যা

মারি চুক্তি:
- ১৯৫৫ সালে বিখ্যাত 'মারি চুক্তি' সম্পাদিত হয়েছিল। 

⇒ স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদ পাকিস্তান সংবিধান রচনায় ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় গণপরিষদ ১৯৫৫ সালের ৭ জুলাই মারিতে প্রথম অধিবেশনে মিলিত হয়। এ অধিবেশনে পাকিস্তানের সকল প্রদেশের নেতাগণ, বিশেষ করে মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগ ও যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ সংবিধান সম্পর্কে একটি আপোস চুক্তি সম্পাদন করেন।
- এটি 'মারি চুক্তি' নামে খ্যাত।
- মারি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এ. কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী, চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, আতাউর রহমান খান ও মোস্তাক হোসেন গুরমানী।

⇒ এ চুক্তির বিষয়বস্তু ছিল নিম্নরুপ -
- পাকিস্তানে দুটি প্রদেশ থাকবে। একটি গঠিত হবে 'পূর্ব বাংলা' নাম পরিবর্তন করে পূর্ব পাকিস্তান' নামে এবং পশ্চিম পাকিস্তানের সকল প্রদেশকে নিয়ে একটি ইউনিট গঠিত হবে এবং এর নাম হবে  'পশ্চিম পাকিস্তান।
- প্রদেশ দুটিতে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হবে।
- উভয় প্রদেশে সংখ্যাসাম্য নীতি' (Principle of Parity) অনুসরণ ও কার্যকর করা হবে।
- যুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
- বাংলা ও উর্দু উভয়ই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।

⇒ মারি চুক্তি সম্পাদনের পর ১৯৫৫ সালের ১১ আগস্ট চৌধুরী মোহাম্মদ আলী প্রধানমন্ত্রী হন।
- তার মন্ত্রিপরিষদের অন্যতম সদস্য ছিলেন এ. কে. ফজলুল হক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বিরোধী দলের নেতা।
- মারি চুক্তির আলোকে ১৯৫৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পশ্চিম পাকিস্তানের সকল প্রদেশকে একত্রিত করে একটি প্রদেশ গঠন করা হয়।
- অতঃপর ১৯৫৬ সালের ৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় গণপরিষদে 'পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের' বিল উত্থাপন করা হয়।
- ২ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি দিলে সংবিধান বলবৎ হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) সংগ্রামের নোটবুক।
iii) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস। 

৪,৪৭৯.
জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়া হয়-
  1. ২৯ মার্চ, ১৯৭০
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  3. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু' উপাধি:
- ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তি দেয়া হয় রাজবন্দীদেরও।
- শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি লাভে ঢাকায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) শেখ মুজিবকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেয়া হয়।
- পাঁচ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে উক্ত সমাবেশে ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদের প্রস্তাবনায় শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- উক্ত সভাতেই ‘জয় বাংলা' স্লোগানের উদ্ভব ঘটে।
- সভায় ‘বঙ্গবন্ধু’ ছয়দফা ও এগার দফা দাবি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৪৮০.
ঐতিহাসিক ২১দফা দাবির প্রথমটি কী ছিল?
  1. ক) শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার
  2. খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক
  4. ঘ) বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা
ব্যাখ্যা
• একুশ দফা: 
- একুশ দফা  ১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পূর্ববাংলায় মুসলিম লীগ শাসনের অবসানকল্পে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর  যুক্তফ্রণ্ট নামে এক নির্বাচনী মোর্চা গঠিত হয়।
- এ মোর্চা গঠনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন কৃষক-শ্রমিক পার্টির সভাপতি এ.কে ফজলুল হক, আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- যুক্তফ্রণ্টের পক্ষ থেকে ২১টি প্রতিশ্রুতি সম্বলিত যে নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করা হয় তা-ই ২১-দফা নামে পরিচিত।
⇒ এ ২১দফা দাবির প্রথমটি ছিল 'বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে'। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৪,৪৮১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর. এম আবু তাহের কত নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ৬ নং সেক্টর
  2. ৮ নং সেক্টর
  3. ৯ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০-১৭ জুলাই কলকাতায় তাজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যুদ্ধাঞ্চলের অধিনায়কদের সম্মেলনে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
এগারোটি সেক্টর হলো:
১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর জিয়াউর রহমান এবং মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশবিশেষ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর খালেদ মোশাররফ এবং মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
৫ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা
- সেক্টর কমান্ডার : উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর নাজমুল হক এবং সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর এম. এ জলিল এবং মেজর এম. এ মঞ্জুর
১০ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সমুদ্র ও নৌ অঞ্চল
- সেক্টর কমান্ডার : নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর এম. আবু তাহের এবং স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৪,৪৮২.
কোন আন্দোলন চলাকালীন শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. অসহযোগ আন্দোলন
  3. ছয় দফা আন্দোলন
  4. শিক্ষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও অসহযোগ আন্দোলন
- ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর ৩ মার্চ, ১৯৭১ জাতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইয়াহিয়া খান ১ মার্চেই সেই অধিবেশন স্থগিত করেন।
- এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন, যা ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অসহযোগ মানে সহযোগিতা না করা। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পূর্ব বাংলার জনগণ তৎকালীন ইয়াহিয়া সরকারের সব রকম সরকারি নির্দেশ অমান্য করে।
- এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ে ও ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়।
- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৪,৪৮৩.
মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয় কবে?
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বিভিন্ন খেতাব প্রদান করা হয়। 
- স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই খেতাব দেওয়া হয়।
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৪৮৪.
বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ মুক্তি পায় -
  1. ১৯৬২ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
চলচ্চিত্র :
- পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সবাক বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য  চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ মুক্তি পায় ১৯৫৬ সালের ৩ আগষ্ট।
- ১৯৫৬ সালে ১টি ছবি মুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু করা হয়। 
- এর প্রযোজনায় ছিলেন নুরুজ্জামান, শহীদুল আলম, কলিমউদ্দিন আহমেদ, এম এ হাসান ও আব্দুল জব্বার খান।
- পরিচালকের নিজের লেখা নাটক ডাকাত অবলম্বনে এ ছবির কাহিনী তৈরি হয়।
- ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে বিল পাশের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (ইপিএফডিসি) প্রতিষ্ঠত হয়।
- এফডিসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর।
৪,৪৮৫.
ব্রিটিশ শাসন বিরোধী ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা 'স্বাধীনতা লড়াই' ছিল -
  1. ফরায়েজী আন্দোলন
  2. নীল বিদ্রোহ
  3. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ:
- ব্রিটিশ শাসন বিরোধী ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা 'স্বাধীনতা লড়াই' ছিল সিপাহী বিদ্রোহ।

⇒ ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
• পরোক্ষ কারণ: 
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।

• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৮৬.
'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর গায়ক জর্জ হ্যারিসন কোন বাদক দলেন সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. পিঙ্ক ফ্লয়েড
  2. কুইন
  3. বিটলস
  4. স্কোরপিয়ন
ব্যাখ্যা
কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের মুখে যুদ্ধ বিরতি ঘটিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে বাধাগ্রস্ত করতে জাতিসংঘে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
- তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের অনেক সদস্য, বিভিন্ন সংবাদপত্র, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা পালন করে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- রবি শঙ্করের আহবানে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন কন্সার্টে যোগ দেন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।

উল্লেখ্য,
- জর্জ হ্যারিসন 'বিটলস'-এর সদস্য ছিলেন।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
         ii) ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১, প্রথম আলো।
৪,৪৮৭.
১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি কার সভাপতিত্বে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়? 
  1. শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক
  2. আবুল কাশেম
  3. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা

একুশে ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত আন্দোলন: 
- খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রধান মন্ত্রীর পদ ছেড়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন।
- ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনিও জিন্নাহর মতো ঘোষণা করেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।'
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে ৪ ফেব্রুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করা হয়।
- ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৪৮৮.
উপমহাদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা রহিত করেন কে?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা

দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। 
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৪৮৯.
'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়েছিল-
  1. লন্ডনে
  2. নিউইয়র্কে
  3. ফ্লোরেন্সে
  4. ওয়াশিংটনে
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে জর্জ হ্যারিসনের তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'।
- জর্জ হ্যারিসনকে অনুষ্ঠানটি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন বিখ্যাত সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

৪,৪৯০.
অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১৯
  2. ১৯২০
  3. ১৯২১
  4. ১৯২২
ব্যাখ্যা

অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- মহাত্মা গান্ধীকে ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নতুন দিল্লির একটি সুবৃহৎ প্রাসাদ বিড়লা হাউসের প্রাঙ্গনে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাঁর ঘাতক ছিলেন নাথুরাম গডসে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) ব্রিটানিকা।

৪,৪৯১.
নিচের সুলতানি শাসকদের মধ্যে কার শাসনকাল সবার আগে?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. জালাল উদ্দিন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৪২ সাল থেকে ১৩৫৮ সাল পর্যন্ত শাসন করে।
বাকিরা তার পরের শাসক।
সিকান্দার শাহ (১৩৫৮-১৩৯৩), গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (১৩৯৩-১৪১১), জালাল উদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৪১৫ এবং ১৪১৮-১৪৩১) এবং নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৪৫২-১৪৫৯) সময় পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৪৯২.
কোন সংগঠন পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের 'নিউক্লিয়াস' হিসেবে পরিচিতি পায়?
  1. তমদ্দুন মজলিশ
  2. স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ
  3. বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার পরিষদ
  4. সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
⇒ 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের 'নিউক্লিয়াস' হিসেবে পরিচিতি পায়।

স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ:

- ১৯৬২ সালে কয়েকজন ছাত্রনেতা গোপনে ছাত্রদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন।
- তারা মনে করতেন পাকিস্তানের কাঠামোয় বাঙালির জাতিসত্তার বিকাশ সম্ভব নয়।
- এই সংগঠনটি ছিল 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' নামে পরিচিত।
- সংগঠনের নেতৃত্ব দেন সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক এবং কাজী আরেফ আহমেদ।

উল্লেখ্য,
-পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগে দুটি মতাদর্শ বিদ্যমান ছিল—
১. মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নিজস্ব রাজনৈতিক ধারা।
২. মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রতি ঝোঁক।
- সাম্রাজ্যবাদবিরোধী তিন ছাত্রনেতা ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগের ভেতরে গোপন সংগঠন 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' গঠন করেন।
- এই সংগঠন পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের 'নিউক্লিয়াস' হিসেবে পরিচিতি পায়।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো নিউজ।
৪,৪৯৩.
ভাষা আন্দোলনের সূচনার সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত সংগঠন -
  1. ছাত্রলীগ
  2. গণতান্ত্রিক যুবলীগ
  3. তমদ্দুন মজলিস
  4. পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিস:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়ন বিজ্ঞানের অধ্যাপকদ্বয় আবুল কাসেম ও নুরুল হক ভূঁইয়া ধূমায়িত অসন্তোষকে সাংগঠনিক রূপদানের প্রচেষ্টায় ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস গঠন করেন। নবগঠিত তমদ্দুন মজলিসই ভাষা আন্দোলনের গোড়াপত্তন করে।
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাষ্ট্রভাষা বাংলার প্রশ্নটিকে অধ্যাপক আবুল কাসেম তার দিবারাত্রির স্বপ্ন করে তুলেছিলেন। ভাষা আন্দোলনের নির্ভীক মুখপত্র সাপ্তাহিক সৈনিকেরও তিনি প্রতিষ্ঠাতা।
- ‘তমদ্দুন মজলিসের প্রথম গঠনতন্ত্র রচিত হয়েছিল ১৯৪৮ সালে, আর তা ছাপা হয় ১৯৫০ সালে। এরপর ১৯৫২ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তখনকার কেন্দ্রীয় পরিষদের কয়েকটি বৈঠকে মূল গঠনতন্ত্রের কয়েকটি ধারা সংশোধিত হয়। বিভিন্ন সময়ে সংশোধিত এ গঠনতন্ত্র প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে।
- তমদ্দুন মজলিসের প্রথম গঠনতন্ত্রে চারটি উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়। ক) কুসংস্কার গতানুগতিকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা দূর করে সুস্থ ও সুন্দর তমদ্দুন গড়ে তোলা। খ) যুক্তিবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত সর্বাঙ্গ সুন্দর ধর্মভিত্তিক সাম্যবাদের দিকে মানবসমাজকে এগিয়ে নেয়া। গ) মানবিক মূল্যবোধের ওপর সাহিত্য ও শিল্পের মারফত নতুন সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা এবং ঘ) নিখুঁত চরিত্র গঠন করে গণজীবনের উন্নয়নে সহায়তা করা।
- তমদ্দুন মজলিস গঠন সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর আহ্বায়ক ও তমদ্দুন মজলিসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শামসুল আলম বলেন, ‘পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে তমদ্দুন মজলিস ছিল একটি চমকে দেয়া বিপ্লবী নাম। ভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিস এবং এর মুখপত্র সৈনিকের এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে।
- ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাসেমের উদ্যোগে সাপ্তাহিক সৈনিকের যাত্রা হয়। এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট কথাশিল্পী শাহেদ আলী। অন্যতম সম্পাদক ছিলেন এনামুল হক। সৈনিক একই সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কলম যুদ্ধ চালাত। সাপ্তাহিক সৈনিক বিভিন্ন সময়ে যেসব বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে তাতেও সৈনিকের আদর্শ সম্পর্কে একটা বক্তব্য উঠে আসত। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া। 
ii) বণিকবার্তা। 

৪,৪৯৪.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. মজনু শাহ্
  3. মুহাম্মদ মুহসীনউদ্দীন দুদু
  4. মীর কাসিম
ব্যাখ্যা
• ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ।

• ফরায়েজি আন্দোলন:
হাজী শরীয়তউল্লাহ  দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন। দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে। ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন। এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।

• হাজী শরীয়তউল্লাহ :
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ।
- তিনি বাংলার একজন ইসলামি সংস্কারক।
- বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর নামানুসারে শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন। সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
৪,৪৯৫.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল -
  1. ক) ৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  2. খ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  3. গ) ১৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  4. ঘ) ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
• পতাকা:
- প্রথম পতাকা উত্তোলন ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- প্রথম নকশাকার – শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)
- প্রথম আনুষ্ঠানিক উত্তোলন – ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন – কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত – ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস
৪,৪৯৬.
মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চীফ অব স্টাফ কে ছিলেন?
  1. কর্নেল এম.এ.জি ওসমানী
  2. লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম.এ রব
  3. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকার
  4. মেজর জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তানি সৈন্যদের কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার অদম্য বাসনায় ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীরা মুক্তিবাহিনীতে যোগদান করে যুদ্ধের কৌশল, অস্ত্র চালনা ও বিস্ফোরক সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
- প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বিভিন্ন সেক্টরে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিয়োজিত করা হয়।
- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে বাংলাদেশ বাহিনীর সদরদপ্তর স্থাপিত হয়।
- ১২ এপ্রিল থেকে এই সদরদপ্তর কার্যক্রম শুরু করে।
- লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম.এ রব এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকারকে যথাক্রমে চীফ অব স্টাফ এবং ডেপুটি চীফ অব স্টাফ নিয়োগ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৪৯৭.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয় ১৭৯৩ সালের--
  1. ক) ২৫শে মার্চ
  2. খ) ২২শে মার্চ
  3. গ) ২৭শে মার্চ
  4. ঘ) ২৩শে মার্চ
ব্যাখ্যা
• ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসকে ভারতের গভর্নর জেনারেল ও সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেয়ার পর তিনি ১৭৯৩ সালে ২২শে মার্চ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
• ঐ বছর ২২শে মার্চ নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে বন্দোবস্ত চালু করা হয়, তাকেই ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৪৯৮.
উপমহাদেশে রেল যোগাযোগ চালু হয় কত সালে?
  1. ১৮৫৩ সালে
  2. ১৮৫৬ সালে
  3. ১৮২২ সালে
  4. ১৮৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসি:
-উপমহাদেশে ইংরেজ শাসকদের মাঝে সব চেয়ে সাম্রাজ্যবাদী ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।
- তিনি ১৮৫৩ সালে উপমহাদেশে রেল যোগাযোগ চালু করেন।
- তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা আইন পাস করেন।
- তিনি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করেন।
- ১৮৫০ সালে তিনি কলকাতা থেকে ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপন করেন।
উল্লেখ্য :
- বাংলাদেশে দর্শনা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রথম রেল লাইন স্থাপন করা হয়-১৮৬২ সালে।
- বিশ্বের প্রথম রেল লাইন স্থাপিত হয়- লন্ডনে।

উৎস: ইতিহাস,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৪,৪৯৯.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হন কোন শিক্ষক?
  1. ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
  2. ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা
  3. ড. শামসুজ্জোহা
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

◉ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের ওপর সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ ঠেকাতে তিনি সামনে এগিয়ে যান এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন।

অন্যদিকে,
- ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা এবং মুনীর চৌধুরী—তিনজনই ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহিদ হন। তাঁদের মৃত্যু বাঙালি জাতির জন্য গভীর শোকের বিষয় হলেও, তা গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নয়। তাই প্রশ্নের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে ড. শামসুজ্জোহাই সঠিক উত্তর

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- শহিদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ  সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।

৪,৫০০.
মুক্তিযুদ্ধকালে বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সর্বশেষ শহীন হন কে?
  1. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  2. সিপাহী হামিদুর রহমান
  3. ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ
  4. সিপাহী মোস্তফা কামাল
ব্যাখ্যা

• বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- ১৯৪৯ সালে বরিশাল জেলায় জন্ম।
- বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ৭ নং সেক্টরে যুদ্ধরত অবস্থায় বিজয়ের মাত্র ২ দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ হন।
- বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে তিনি সর্বশেষ শহীদ হন।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনমসজিদ প্রাঙ্গনে তার সমাধি রয়েছে।

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে প্রথম শহিদ হন বীরশ্রেষ্ট্র আব্দুর রউফ।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সিপাহী হামিদুর রহমান সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।