বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৪৪ / ১২৪ · ৪,৩০১৪,৪০০ / ১২,৪২১

৪,৩০১.
১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে কে নিহত হন?
  1. আসাদুজ্জামান
  2. ড: শামসুজ্জোহা
  3. জহুরুল হক
  4. মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ:
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্ব পাকিস্তানি নিহত হয়েছিলেন।
- এর মধ্যে শিল্প-কারখানার শ্রমিক ৩৪ জন, ছাত্র ২০ জন, সরকারি কর্মচারী ৭ জন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৫ জন, স্কুল শিক্ষক ১ জন, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের  ১ শিক্ষক নিহত হয়েছিলেন। 
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হোন। 
- তিনি গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- আসাদ দিবস: ২০ জানুয়ারি।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর নামানুসারে আইয়ুব গেইটের নামকরণ করা হয় আসাদ গেইট । 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩০২.
নিচের কোনটি নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল না?
  1. ঢাকা
  2. ফরিদপুর
  3. বগুড়া
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩০৩.
চৈনিক সভ্যতা কোন নদীর তীরে গড়ে উঠে?
  1. ক) হোয়াংহো
  2. খ) দিহাঙ
  3. গ) ইয়াংসিকিয়াং
  4. ঘ) ক + গ
ব্যাখ্যা
চীনে হোয়াংহো ও ইয়াংসিকিয়াং নদীকে কেন্দ্র করে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২ হাজার অব্দে চৈনিক সভ্যতা গড়ে উঠে। এছাড়া দক্ষিণ চীনেও আরেকটি চৈনিক সভ্যতা গড়ে উঠে৷ চৈনিক সভ্যতা এখনো তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রেখে বিরাজমান রয়েছে। চৈনিক সভ্যতা বিকাশে শাং এবং চৌ রাজবংশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : ষষ্ঠ শ্রেণী এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৪,৩০৪.
ঐতিহাসিক '৬ দফায়' যে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না-
  1. বৈদেশিক বাণিজ্য
  2. বিচার ব্যবস্থা
  3. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো
  4. স্বতন্ত্র মুদ্রাব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

• বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ নামে পরিচিত বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ১৯৬৬ সালের ছয় দফার প্রথম দফা ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
• ৬ দফার বাকি দফাগুলো হলো- কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা, মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা, রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা, বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪,৩০৫.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম তারিখ কোনটি?
  1. ক) ১ মার্চ, ১৯১৯
  2. খ) ১৭ মার্চ, ১৯২০
  3. গ) ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭
  4. ঘ) ২১ জুন, ১৯৪১
ব্যাখ্যা
• শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা শেখ সায়েরা খাতুন।
- ৪ কন্যা এবং ২ পুত্র সন্তানের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়।
- মা-বাবা তাঁকে ‘খোকা’ বলে ডাকতেন।
 
• ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টের ভোরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী ও উচ্চাভিলাষী বিশ্বাসঘাতক অফিসারদের হাতে সপরিবারে নিহত হন।
- দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে অন্ধকারতম দিন।
- বাঙালি জাতি এই দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করে এবং সাথে সাথে স্মরণ করে বিশাল হৃদয়ের সেই মহাপ্রাণ মানুষটিকে যিনি তাঁর সাহস, শৌর্য, আদর্শের মধ্য দিয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন বাঙালি জাতির অন্তরে।

তথ্যসূত্র: mujib100.gov.bd
৪,৩০৬.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য 'সিতারা বেগম' কোন উপাধিতে ভূষিত হন?
  1. ক) বীর উত্তম
  2. খ) বীর বিক্রম
  3. গ) বীর প্রতীক
  4. ঘ) বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়-
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৮ জন,
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন,
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন।

তার মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী 'বীরপ্রতীক' খেতাব পেয়েছেন।
- ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম ও
- তারামন বিবি।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট
৪,৩০৭.
বাংলাদেশের কোথায় প্লায়িস্টোসিন কালের সােপান দেখা যায়?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) কুষ্টিয়া
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
আজ থেকে প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। ঐ সময়ে গঠিত ভূমিরূপ প্লাইস্টোসিন কালের ভূমি নামে পরিচিত।
বাংলাদেশে অবস্থিত প্লাইস্টোসিন কালের ভূমিরূপগুলো হলো:
- রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর ও জয়পুরহাট জেলার বরেন্দ্রভূমি
- ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলায় অবস্থিত মধুপুর ও ভাওয়াল গড়
- কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়।
- দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮ শতাংশ হলো প্লাইস্টোসিন কালে গঠিত ভূমিরূপ।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৩০৮.
"অপারেশন কিলো ফ্লাইট" হলো-
  1. সামরিক বিমান অভিযান
  2. সামরিক স্থল অভিযান
  3. সামরিক নৌ অভিযান
  4. সামরিক অস্ত্রাগার লুট অভিযান
ব্যাখ্যা
• অপারেশন কিলো ফ্লাইট:
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম ও ঐতিহাসিক সামরিক বিমান অভিযান।
- ভারত সরকারের দেওয়া তিনটি সিভিলিয়ান বিমানকে যুদ্ধবিমানে রূপান্তর করে এই অভিযান চালানো হয়।
- স্কোয়াড্রন লিডার বদরুল আলমসহ মুক্তিযোদ্ধা পাইলটরা চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে পাকিস্তানি তেলের ডিপোতে সফল হামলা পরিচালনা করেন।
- এই আক্রমণ পাকিস্তানি বাহিনীর যোগাযোগ ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিমান হামলা হিসেবে এটি ছিল এক অনন্য মাইলফলক।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বিবিসি নিউজ।
৪,৩০৯.
বাংলাদেশ কত সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে?
  1. ক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
  2. খ) ১৫ জানুয়ারি ১৯৯২
  3. গ) ০১ জানুয়ারি ১৯৯৫
  4. ঘ) ৩০ ডিসেম্বর ১৯৯৬
ব্যাখ্যা

- বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) বিশ্বের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য জোট। ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি GATT (General Agreement on Tariffs and Trade) এর উত্তরসূরী সংস্থা হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা যাত্রা শুরু করে।
- বাংলাদেশ ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ GATT এর সদস্যপদ লাভ করে। যার কারণে ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যপদ লাভ করে।
(তথ্যসূত্রঃ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ওয়েবসাইট)

৪,৩১০.
ইউনেস্কোর কততম সাধারণ সভায় ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়?
  1. ক) ২৯তম
  2. খ) ৩০তম
  3. গ) ৩২তম
  4. ঘ) ২৮তম
ব্যাখ্যা
- ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সভায় ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে ২০০০ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হতে শুরু করে।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

(সূত্র: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৪,৩১১.
Which historic site, dating back to the 8th century, Is known for its ancient Buddhist Vihara and is considered a UNESCO World Heritage Site In Bangladesh?
  1. Sompur Mahavihara
  2. Odantapura Mahavihara
  3. Mahasthangarh
  4. Jagaddalahant
ব্যাখ্যা
সোমপুর বিহার:

- বাংলাদেশে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে বিবেচিত সোমপুর বিহার।
- নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বিহার।
- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সোমপুর বিহার ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
- পাল রাজবংশের রাজা ধর্মপাল (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষ দিকে এ বিহার নির্মাণ করেন।
- সোমপুর বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিহার।
- এর দৈর্ঘ্য পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট। মূল ভবনে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল।
- এ বিহার ৮০০ জন ভিক্ষুর বাসপোযোগী ছিল।
- এ বিহারে ১২৫নং কক্ষে মাটির পাত্রে খলিফা হারুন-অর-রশিদের শাসনামলের রৌপ্য মুদ্রা পাওয়া যায়।
- কোন সাধক বা ধর্ম প্রচারক মুদ্রাগুলি এখানে এনেছিলেন বলে অনুমান করা হয়।
- পিরামিড আকৃতির এ মঠের উচ্চতা ৭০ ফুট।
- ১টি শূন্যগর্ভ চতুস্কোণ কক্ষকে কেন্দ্র করে এর অন্যান্য সংযোজনীসমূহ গড়ে ওঠেছে। সমগ্র বিহারটি প্রাচীর বেষ্টিত। 

তথ্যসূত্র -  নওগাঁ জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৪,৩১২.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য কতজনকে বীর বিক্রম উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. ১৭৫ জন
  2. ১৭৪ জন
  3. ৬৮ জন
  4. ৬৭ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

⇒ মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
৪,৩১৩.
পায়রা সমুদ্র বন্দর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) পটুয়াখালী
  2. খ) সাতক্ষীরা
  3. গ) পিরোজপুর
  4. ঘ) ভোলা
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

পায়রা সমুদ্র বন্দর বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর।
এটি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত।
Source: patuakhali.gov.bd

৪,৩১৪.
'পিলখানা হত্যাকান্ড' কবে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ২০০৭ সালে
  2. ২০০৮ সালে
  3. ২০০৯ সালে
  4. ২০১০ সালে
ব্যাখ্যা
বিডিআর হত্যাকান্ড:
- ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআর (যা বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি) সদর দপ্তরে বিপথগামী সৈনিকরা নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়।
- ওই বছরের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিপথগামী কিছু বিডিআর সদস্য ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও নারী ও শিশুসহ আরো ১৭ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। 

উল্লেখ্য,
- ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের সময় সংঘটিত পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পুনঃতদন্তে সাত সদস্যের স্বাধীন কমিশন গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
- কমিশনের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.
৪,৩১৫.
কোনটি সামাজিক পরিবর্তনের উপাদান নয়?
  1. ক) শিল্পায়ন
  2. খ) বাসস্থান
  3. গ) নগরায়ন
  4. ঘ) শিক্ষা
ব্যাখ্যা
সামাজিক পরিবর্তন:
- সামাজিক পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সনাতন বা ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি বাদ দিয়ে আধুনিক ও সময়োপযোগী রীতিনীতি গ্রহণ ও চর্চা করা।
- যেমন সনাতন পদ্ধতির চাষাবাদের পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে অভ্যস্ত হওয়া।
- ব্যাপক হারে নারী শিক্ষার বিস্তার।
-  সামাজিক পরিবর্তনের উপাদান: শিল্পায়ন , নগরায়ন ও শিক্ষা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৩১৬.
’অপারেশন সার্চলাইট’ কত তারিখে শুরু হয়?
  1. ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  2. ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ
  3. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ
  4. ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইট:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে ভয়াবহ গণহত্যা অভিযান চালায়, তার নাম ছিল 'অপারেশন সার্চ লাইট'।
​ যদিও হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ এ অভিযান শুরু করেছিল, তবে মূল পরিকল্পনা করা হয়েছিল মার্চ মাসের শুরু থেকেই।
- ১৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার জন্য বৈঠক শুরু হয়, কিন্তু অন্যদিকে পাকিস্তানি সরকার গোপনে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও গোলাবারুদ এনে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক প্রস্তুতি নেয়।
- ১৮ মার্চ টিক্কা খান এবং রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চ লাইট' এর নীলনকশা তৈরি করেন।
- ২৫ মার্চ রাতেই গণহত্যা শুরু করা হয়। এই পরিকল্পনার তত্ত্বাবধান করেন পাকিস্তানের গভর্নর লে. জেনারেল টিক্কা খান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪,৩১৭.
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কয় বছর কার্যকর ছিল?
  1. এক বছর
  2. দুই বছর
  3. পাঁচ বছর
  4. নয় বছর
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান: 
- ১৯৫৫ সালের মার্চ মাসে গভর্নর জেনারেল পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেন।
- পশ্চিম ও পূর্ব অংশের নেতারা একটি সমঝোতায় আসতে সক্ষম হন।
- তারই ভিত্তিতে ১৯৫৬ সালের সংবিধান রচিত হয়।
- এই সংবিধান দুই বছর পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
- ১৯৫৮ সালে প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইসকান্দার মির্জা সামরিক শাসন জারি করলে সংবিধান স্থগিত করা হয়। 
- সেই সঙ্গে পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,৩১৮.
গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ কে ছিলেন?
  1. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  2. শ্রীগুপ্ত
  3. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  4. সমুদ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টীয় তিন শতকের শেষ এবং চার শতকের প্রথমদিকে সম্ভবত প্রথম চন্দ্রগুপ্ত অথবা সমুদ্রগুপ্তের মাধ্যমে বাংলায় গুপ্ত শাসন সম্প্রসারিত হয়।
- শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ।
- এল্যানের মতে, পাটলীপুত্র (মগধের অভ্যন্তরে) নগরের অদূরে শ্রীগুপ্তের রাজত্ব ছিল।
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রথম কুমারগুপ্তের সময় (৪৩২-৪৪৮ খ্রি.) থেকে উত্তর বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে গড়ে ওঠে।
- এটির নাম ছিল তখন ‘পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তি’।
- হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩১৯.
মুজিবনগর সরকার কোন তারিখে শপথ নেয়?
  1. ক) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  3. গ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৪,৩২০.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার কতজন আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে?
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৫ জন
  4. ৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩২১.
জুলাই জাতীয় সনদে কয়টি প্রস্তাব রয়েছে?
  1. ৮২টি
  2. ৮৪টি
  3. ৮৬টি
  4. ৮৮টি
ব্যাখ্যা

জুলাই জাতীয় সনদ:
- ছয়টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ।
- ১৭অক্টোবর, ২০২৫ এ জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
- এর মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত।
- সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্যই জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ১৩ নভেম্বর জারি হয়েছে এবং তা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৪,৩২২.
কোন সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে পরিচিত?
  1. গোপাল পরবর্তী
  2. শশাঙ্ক পূর্ববর্তী
  3. সেন পূর্ববর্তী
  4. শশাঙ্ক পরবর্তী
ব্যাখ্যা
• মাৎস্যন্যায়:
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছে।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল, দেবপাল, মহিপাল নামে অনেক পাল রাজারা বাংলা শাসন করেছেন ।

- ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার শশাঙ্ক পরবর্তী সময়কে নির্দেশ করে।
- মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে খ্যাত।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পাল বংশের শাসন।
- শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩২৩.
মহাস্থানগড় কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. গঙ্গা
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. করতোয়া
  4. মহানন্দা
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।
- মহাস্থানগড় বগুড়ায় জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন পর্যটন কেন্দ্র। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৩২৪.
ভাষা আন্দোলনের কোন সৈনিক ‘ঢাকা হাইকোর্ট’ এর কর্মচারী ছিলেন?
  1. আবদুস সালাম
  2. শফিউর রহমান
  3. রফিক উদ্দীন
  4. জব্বার
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল বের করে। 
- মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও কয়েকজন মাটির বীর সন্তান।
- মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য ভাষা শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে স্মরণ করে জাতি ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

⇒ ভাষা আন্দোলনের শহীদের পরিচিতি:
• ভাষা আন্দোলনের শহিদ আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ২০ নম্বর ব্যারাকের বারান্দায় ছাত্র-জনতার মিছিলে আবুল বরকত শামিল হন। মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। বরকত পেটে গুলিবিদ্ধ হন। মুহূর্তে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁকে আজিমপুর গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।

• ভাষা আন্দোলনের শহিদ শফিউর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ক্লাসের প্রাইভেট ছাত্র ও ঢাকা হাইকোর্টের কর্মচারী। বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পূর্বাহ্ণে ঢাকার নওয়াবপুর রোডে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। শফিউর রহমান তখন সাইকেল যোগে ঐ পথে অফিসে যাচ্ছিলেন। পুলিশ বিক্ষোভ মিছিলের ওপর গুলিবর্ষণ করলে শফিউর রহমান পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঐদিন সন্ধ্যা ৭টায় তিনি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

• ভাষা আন্দোলনের শহিদ আবদুল জব্বার সাধারণ গ্রামীণ কর্মজীবী মানুষ ছিলেন।

• ভাষা আন্দোলনের শহিদ রফিক উদ্দীন আহমদ মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয়  বর্ষের ছাত্র। বাংলাভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনে প্রথম শহিদ রফিকউদ্দিন আহমেদ। ঐদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের মিছিলে পুলিশের গুলিতে রফিক ঘটনাস্থলে শহিদ হন। তাঁকে আজিমপুর গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।

• ভাষা আন্দোলনের শহিদ আবদুস সালাম ডাইরেক্টর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অফিসে রেকর্ড কিপার পদে চাকরি করতেন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪,৩২৫.
বর্তমান মুজিব নগরের পূর্বনাম কি?
  1. চন্দ্রবাড়ি
  2. ভবেরপাড়া
  3. টুংগীপাড়া
  4. শিমুলিয়া
ব্যাখ্যা
- বর্তমান মুজিবনগরের পূর্বনাম ভবেরপাড়া, বৈদ্যনাথতলা।
- মুজিবনগর মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান । 
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী ছিল মুজিবনগর।
- মুজিবনগরের আম্রকাননে ১৭ এপ্রিল সরকারের মন্ত্রী পরিষদ শপথ নিয়েছিল। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
• বাংলাদেশের প্রথম রাজধানীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৩২৬.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়?
  1. রাজশাহী
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
◉ বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।

৩৬০ আউলিয়ার দেশ:
- হযরত শাহজালাল (র.) ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর।
- তিনি ছিলেন ওলিকুল শিরোমণি।
- সিলেট অঞ্চলে তার মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার ঘটে।
- সিলেটের প্রথম মুসলমান শেখ বোরহান উদ্দিন (র.) এর ওপর রাজা গৌড়গোবিন্দের অত্যাচার এবং এর প্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল (র.) ও তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
- এ কারণে সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।
- কেউ কেউ সিলেটকে পূণ্যভূমি অভিধায়ও অভিহিত করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ সিলেট জেলা:
- মহান সাধক হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (র.)সহ ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেট একটি প্রাচীন জনপদ।
- সুলতানী আমলে সিলেটের নাম ছিল জালালাবাদ। 
- নানকার বিদ্রোহ সিলেটের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। 
- সিলেট জেলা ১৭৭২ সালের ১৭ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দেশের সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- দেশে সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয় এই বিভাগে।
- সিলেট জেলা প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, বালুসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদে অনন্য একটি জেলা। 
- দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত সিলেটের লালাখালে হয়ে থাকে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৩২৭.
মৌলিক গণতন্ত্র কী ধরনের শাসনব্যবস্থা?
  1. সরাসরি গণতন্ত্র
  2. সামরিক শাসন
  3. সীমিত গণতন্ত্র
  4. একদলীয় শাসন
ব্যাখ্যা
• আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র: 
- জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে ক্ষমতাকুক্ষিগত করার পর পাকিস্তানের শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোরআমুল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন।
- তিনি প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে এক অদ্ভুত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন।
- তার এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল 'মৌলিক গণতন্ত্র'।
- মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে একধরনের সীমিত গণতন্ত্র, যাতে কেবল নির্দিষ্টসংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল।
- ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়।

• প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা।
- নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যন্ত স্তরগুলো ছিল:
- ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামে) এবং টাউন ও ইউনিয়ন কমিটি (শহরে),
- থানা পরিষদ (পূর্ব পাকিস্তানে), তহসিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে),
- জেলা পরিষদ,
- বিভাগীয় পরিষদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,৩২৮.
সিপাহী হামিদুর রহমানকে কোথায় সমাহিত করা হয়?
  1. যশোরের কাশিপুর নামক স্থানে
  2. মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণ
  4. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে
ব্যাখ্যা
• সিপাহী হামিদুর রহমান:
- সেক্টর: ৪ নং,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান।

অন্যদিকে,
• সিপাহী মোস্তফা কামাল:
- সেক্টর: ২ নং,
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১।
- জন্মস্থান: ভোলা জেলায় দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- সমাধি স্থল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে।

• ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- সেক্টর: ৭ নং,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।
- সমাধিস্থল: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণ।

• ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান:
- বাংলাদেশ বিমান বাহিনী,
- মৃত্যু: ২০ আগস্ট, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান।

• নূর মোহাম্মদ শেখ:
- সেক্টর: ৮ নং,
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: যশোরের কাশিপুর নামক স্থানে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩২৯.
ফকির আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন কে?
  1. ভবানী পাঠক
  2. মুসা শাহ
  3. করিম শাহ
  4. মজনু শাহ
ব্যাখ্যা

• ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন ছিল ব্রিটিশবিরোধী।

- পলাশি যুদ্ধের ১৫–২০ বছর পর এই আন্দোলন শুরু হয়।
- ফকির-সন্ন্যাসীরা মূলত ভিক্ষাবৃত্তি বা মুষ্টি সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত।
- ধর্মীয় উৎসব ও তীর্থস্থান দর্শনের জন্য তারা সারা বছর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করত।
- নিরাপত্তার জন্য তাদের সঙ্গে হালকা অস্ত্রও থাকত।
- বাংলায় ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার আগে তারা স্বাধীন ও মুক্ত ছিল।
- ইংরেজ সরকার তাদের চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করতে থাকে।
- তীর্থস্থান দর্শনের ওপর কর আরোপ করে এবং ভিক্ষা/মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে।
- ফকির-সন্ন্যাসীদের ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করা হতো।
- এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে নেমে পড়ে।
- ফকির দলের নেতার নাম: মজনু শাহ।
- সন্ন্যাসীদের নেতার নাম: ভবানী পাঠক।
- তাদের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি আক্রমণ।
- ১৭৬০ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ সালে মজনু শাহ উত্তর বাংলায় ইংরেজবিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭–১৭৮৬ সালে রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহে মজনু শাহ বহু সংঘর্ষে লিপ্ত হন।
- তাঁর যুদ্ধকৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি: অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
- ইংরেজরা তাকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে পারেননি।
- ১৭৮৭ সালে মজনু শাহ মৃত্যুবরণ করলে নেতৃত্ব নেন: মুসা শাহ, সোবান শাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যস্ত রাখেন।
- ১৮০০ সালে ফকিররা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী পাঠক ১৭৮৭ সালে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে নিহত হন।
- ভবানী পাঠকের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী আন্দোলনের অবসান ঘটে।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

৪,৩৩০.
বঙ্গবন্ধুর কোন ভাষণ ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল' হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে?
  1. ক) ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভাষণ
  2. খ) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভাষণ
  4. ঘ) ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির ভাষণ
ব্যাখ্যা
• ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড (এমওডব্লিউ) কর্মসূচির উপদেষ্টা কমিটি ৭ মার্চের ভাষণসহ মোট ৭৮টি দলিলকে 'মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে' যুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
• 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজ-এ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
• ইউনেস্কো মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ৩০শে অক্টোবর এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
• সেদিনের ১৮ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ''এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম"।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।
৪,৩৩১.
১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট কতটি দল অংশগ্রহণ করে?
  1. ৪টি দল
  2. ৮টি দল
  3. ১২টি দল
  4. ১৬টি দল
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের ব্যালট বাক্সে ব্যবহারের জন্য সরকার চূড়ান্তরূপে মোট ২৪টি প্রতীক নির্দিষ্ট করেন।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ 'হারিকেন' প্রতীক এবং যুক্তফ্রন্ট 'নৌকা' প্রতীক গ্রহণ করে।
- ভোটগ্রহণ ৮ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- নির্বাচন কমিশনার ছিলেন মো. আজফার।
- ১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে।
- মুসলমান আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মুসলিম লীগ, পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলামী, যুবলীগ, গণতন্ত্রী দল, খেলাফতে রব্বানী পার্টি প্রভৃতি।
- অমুসলমান আসনে অংশগ্রহণ করে পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস, তফশিলি ফেডারেশন, গণসমিতি, অভয় আশ্রম (কুমিল্লা), পূর্ব পাকিস্তান সমাজতন্ত্রী দল প্রভৃতি।
- কমিউনিস্ট পার্টির মুসলমান সদস্যগণ মুসলমান আসনে এবং হিন্দু সদস্যগণ হিন্দু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- মুসলমান আসনে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি এবং নেজামে ইসলামী 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে সম্মিলিতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
- হিন্দু আসনে গণসমিতি, অভয় আশ্রম ও পূর্ব পাকিস্তান সমাজতান্ত্রিক দল 'সংখ্যালঘু যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৩২.
১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে গ্রহণের পক্ষে মত দেয় কে?
  1. ক) চৌধুরী খালিকুজ্জামান
  2. খ) মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  3. গ) মাওলানা আব্দুর রশিদ
  4. ঘ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
- ১৯৪৭ সালের ১৭ মে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা চৌধুরী খালিকুজ্জামান এবং একই বছর জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে গ্রহণের পক্ষে মত দেন।

- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন বাঙালি লেখক, বুদ্ধিজীবী এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলার পক্ষে বক্তব্য দেন। পূর্ব বাংলায় ছাত্র ও শিক্ষিত সমাজ রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে পত্র-পত্রিকায় মতামত প্রকাশ করতে শুরু করেন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৩৩.
প্রাচীন 'সমতট' জনপদের বর্তমান অবস্থান -
  1. বরিশাল ও ভোলা
  2. সিলেট, চট্রগ্রাম
  3. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  4. রাজশাহী ও দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
• জনপদ:
- প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিলো।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।

এছাড়াও-
- বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, উন্মুক্ত উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৩৪.
শশাঙ্ক কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
  1. জৈন
  2. শৈব
  3. বৈষ্ণব
  4. বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
- বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নৃপতি শশাঙ্ক সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধের শাসক।
- গুপ্ত শাসনের পর বাংলার গৌড় রাজ্যের তিনি অধিপতি হন।
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্কই বাংলার প্রথম নৃপতি যার ভূমিদান করার মতো এবং মুদ্রা প্রকাশ করার মতো স্বাধীন ক্ষমতা ছিল।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু (শৈব) ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৩৫.
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংগঠিত গণহত্যাকে নিন্দা করে একে ‘মানব ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়' বলে অভিহিত করেছিলেন জাতিসংঘের কোন মহাসচিব?
  1. ক) আন্তোনিও গুতেরেস
  2. খ) কফি আনান
  3. গ) উথান্ট
  4. ঘ) বান কি মুন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতিসংঘ মূলত যুক্ত হয়েছিল মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ; এবং শরণার্থীদের সহায়তা দানের মধ্য দিয়ে।
- ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা চেয়ে তারবার্তা পাঠিয়েছিলেন তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব উথান্টের কাছে।
- সে সময়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির ঢাকাস্থ প্রতিনিধির সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকও করেছিলেন তাঁরা।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের উপর যে গণহত্যা সংঘঠিত হয়, তা সারা বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে সেদিন জাতিসংঘ মহাসচিব উথান্ট এই গণহত্যাকে নিন্দা করে একে ‘মানব ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়' বলে অভিহিত করেছিলেন।

সূত্র: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৩৬.
সোমপুর বৌদ্ধ বিহার কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. দিনাজপুর
  2. জয়পুরহাট
  3. নওগাঁ
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
সোমপুর বৌদ্ধ বিহার:
- নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বিহার।
- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সোমপুর বিহার ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
- ইংরেজ প্রত্নতাত্ত্বিক বুকানন হামিলটন যখন পূর্ব ভারতে জরিপ কাজ পরিচালনা করেন (১৮০৭-১৮১২) তখন তিনি পাহাড়পুরের এই সূতপকে বৌদ্ধ বিহার বলে অনুমান করেন।
- ১৯২৩ সাল থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যমত্ম এর খনন কাজ চলে।
- খনন কালে মাটির একটি সিল থেকে জানা যায় যে, এটি সোমপুর বিহার।
- পাল রাজবংশের রাজা ধর্মপাল (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষ দিকে এ বিহার নির্মাণ করেন।
- সোমপুর বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিহার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,৩৩৭.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ৭টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ও ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ৬৪টি সাব-সেক্টর গঠন করা হয়।
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম–পার্বত্য চট্টগ্রাম; হেডকোয়ার্টার হরিনাতে; কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান ও মেজর রফিকুল ইসলাম।
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর, নোয়াখালি; সদর মেলাঘর; কমান্ডার খালেদ মোশাররফ ও এ.টি.এম. হায়দার।
- ৩নং সেক্টর: সিলেট-শ্রীমঙ্গল এলাকা; কমান্ডার কে.এম. শফিউল্লাহ ও এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
- ৪নং সেক্টর: সিলেট সীমান্ত অঞ্চল; হেডকোয়ার্টার করিমগঞ্জ-মাসিমপুর; কমান্ডার সি.আর. দত্ত ও ক্যাপ্টেন এ রব।
- ৫নং সেক্টর: ডাউকি-দুর্গাপুর এলাকা; হেডকোয়ার্টার বাঁশতলা; কমান্ডার মীর শওকত আলী।
- ৬নং সেক্টর: রংপুর-ঠাকুরগাঁও অঞ্চল; কমান্ডার এম. খাদেমুল বাশার।
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী-বগুড়া এলাকা; কমান্ডার নাজমুল হক, এ. রব, কাজী নূরুজ্জামান।
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া-যশোর-খুলনা এলাকা; কমান্ডার আবু ওসমান ও এম.এ মঞ্জুর।
- ৯নং সেক্টর: বরিশাল-পটুয়াখালী-খুলনার অংশ; হেডকোয়ার্টার টাকি; কমান্ডার এম.এ জলিল, মঞ্জুর, জয়নাল আবেদীন।
- ১০ ও ১১নং সেক্টর: ১০ নং ছিল নৌ-কমান্ডো সেক্টর (নিয়মিত কমান্ডার ছিল না), ১১ নং ছিল ময়মনসিংহ এলাকা; কমান্ডার এম. আবু তাহের ও হামিদুল্লাহ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৪,৩৩৮.
বাংলার প্রাচীন জনপদ সমতটের অবস্থান ছিল কোন অঞ্চলে?
  1. পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা
  2. পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম বাংলা
  3. পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব বাংলা
  4. পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলা
ব্যাখ্যা
সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
- মধ্যবাংলার কিছু অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- রাজ্য রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল কর্মান্ত বা ত্রিপুরা (কুমিল্লা) জেলার ময়নামতির অদূরে বড়োকামতা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৩৯.
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে একমাত্র নিহত কর্ণেলের নাম কী?
  1. কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ
  2. কর্নেল তাহের
  3. কর্নেল সাফায়েত জামিল
  4. কর্নেল শরীফ আহমেদ
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু হত্যা:

- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে নিহত হয় দুই সেনাসদস্য - কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক।
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে একমাত্র নিহত কর্ণেল, কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে।
- বঙ্গবন্ধু ছাড়াও সেই রাতে তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।
- ওই কালরাতেই বিপথগামী সেনাসদস্যদের আরেকটি দল বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগের নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাঁকে এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে।
- এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকেও হত্যা করা হয়।
- ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় বেঁচে যান।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৫ আগস্ট ২০২২।
৪,৩৪০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকান কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাডের বিখ্যাত প্রতিবেদনের নাম কী?
  1. East Pakistan Report
  2. Genocide Memo
  3. Blood Telegram
  4. Dhaka Dispatch
ব্যাখ্যা

⇒ মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকান কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাডের বিখ্যাত প্রতিবেদনের নাম 'The Blood Telegram'।

The Blood Telegram:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আমেরিকান অধ্যাপক গ্যারি জে বাসের রচিত বইটির মূল নাম 'দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, নিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'।
- 'ব্লাড টেলিগ্রাম' হল আর্চার ব্লাডের একটি তারবার্তা।
- ১৯৭১ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেল ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আর্চার ব্লাড যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে তৎকালীন চলমান গণহত্যা বন্ধে ব্যর্থ হওয়ায় একটি টেলিগ্রাম বার্তা পাঠান, যা ইতিহাসে 'ব্লাড টেলিগ্রাম' নামে পরিচিতি পায়।
- 'ব্লাড টেলিগ্রাম' বার্তাটি ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এ বইটি অন্য যেকোনো বইয়ের চেয়ে আলাদা এবং স্বতন্ত্র।
- প্রথম কোনো পশ্চিমা গবেষক ১৯৭১-এ সংঘঠিত বাংলাদেশের গণহত্যাকে 'প্রমাণিত গণহত্যা' হিসেবে বিশ্বের সামনে দাঁড় করানোর প্রয়াস পেয়েছেন।

তথ্যসূত্র - Amazon.com ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৪,৩৪১.
প্রাচীন 'বঙ্গ' জনপদটি বর্তমানে কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল?
  1. খুলনা ও যশোর
  2. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  3. রাজশাহী ও পাবনা
  4. ফরিদপুর ও  পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা

- প্রাচীন 'বঙ্গ' জনপদটি বর্তমানে ফরিদপুর ও  পটুয়াখালী অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল ।

বঙ্গ:

- বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- অনুমান করা হয়, এখানে বঙ্গ বলে একটি জাতি বাস করত।
- তাই জনপদটি পরিচিত হয় বঙ্গ নামে।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গে দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর আর অন্যটি নাব্য। 
- ধারণা করা হয়, ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি এ নাব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- প্রাচীন বঙ্গ জনপদ ছিল খুব শক্তিশালী অঞ্চল।
- বাংলায় মুসলিম শাসন বিস্তারের প্রাথমিক পর্যায়েও 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলকে বোঝানো হতো।

এছাড়াও, 
- কুমিল্লা ও নোয়াখালী সমতট জনপদের অন্তর্ভূক্ত ছিল।
- বর্তমান কুমিল্লা জেলার লালমাই এলাকা ছিল এ অঞ্চলের মূল কেন্দ্র।
- বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইহিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৩৪২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী ছিলেন কে?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। 
- তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

সূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৪৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ১নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কোন স্থানে?
  1. আগরতলা
  2. হরিণা
  3. কালিয়াচক
  4. শিলিগুড়ি
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

⇒ ১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

⇒ ২ নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

⇒ ৩ নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

⇒ ৪নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।
- হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

⇒ ৫ নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।
- হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

⇒ ৬ নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

⇒ ৭ নং সেক্টর:
- রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

⇒ ৮ নং সেক্টর:
- এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। 
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

⇒ ৯ নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

⇒ ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।

⇒ ১১ নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের।
- মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৪,৩৪৪.
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. জেন জি অভ্যুত্থান
  2. তরুণ অভ্যুত্থান
  3. মুনসুন অভ্যুত্থান 
  4. নাগরিক অভ্যুত্থান 
ব্যাখ্যা

• মুনসুন অভ্যুত্থান (Monsoon Revolution):
- ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে মুনসুন অভ্যুত্থান (Monsoon Revolution) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ২০২৪ সালের এই অভ্যুত্থানকে মুনসুন অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকে ‘মনসুন অভ্যুত্থান’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আগামীতে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে মুক্তি ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে তারুণ্যের এই অভ্যুত্থান প্রেরণা জুগিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য,
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
- অতঃপর শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে যার শেষ পরিণতি ঘটে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

তথ্যসূত্র:
i) BBC.
ii) প্রথম আলো। 

৪,৩৪৫.
মুর্শিদকুলি খানকে 'করতলব খান' উপাধি দেয়-
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট বাবর
  3. আলীবর্দী খান
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
মুর্শিদকুলি খান:
- মুর্শিদকুলি খান দক্ষিণ ভারতের একটি দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।
- হাজী শফী ইস্পাহানী ছিলেন দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান।
- তিনি অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন।
- প্রথমে তার নাম রাখা হয় মুহাম্মদ হাদী।
- রাজস্ব আদায়ের কাজে তাঁর অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত সম্রাট আওরঙ্গজেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- কর্মদক্ষতার গুণে আপ্লুত আওরঙ্গজেব তাঁকে হায়দারাবাদের দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে "করতলব খান" উপাধি প্রদান করেন।
- মুর্শিদকুলি খানের উপাধি "করতলব খান"।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র,  এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৪৬.
বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন-
  1. খলজি মালিক
  2. শিহাবউদ্দিন ঘোরি
  3. বতিয়ার খিলজি
  4. আলাউদ্দিন খিলজি
ব্যাখ্যা
• ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি:
- তেরোশতকের প্রথমদিকে তুর্কিসেনাপতি বতিয়ার খিলজি নদীয়া আক্রমণ করেন।
- লক্ষণ সেন পালিয়ে নদীপথে পূর্ববঙ্গের রাজধানী বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে অবস্থান গ্রহণ করেন।
- এরপর বখতিয়ার খিলজি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলা সহজেই দখল করে নেন।
- এরপর বখতিয়ার নদীয়া ত্যাগ করে লক্ষণাবতীর (গৌড়) দিকে অগ্রসর হন।
- তিনি লক্ষণাবতী জয় করে সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন।
- লক্ষণাবতীই মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- গৌড়ের পর বখতিয়ার আরও পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বরেন্দ্র বা উত্তর বাংলায় নিজ অধিকার বিস্তার করেন।
- বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি।
- এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- এ যুগের শাসনকর্তাদের পুরোপুরি স্বাধীন বলা যাবে না। তাঁদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহবোদ্ধা খলজি মালিক, আবার কেউ কেউ তুর্কি বংশের শাসক।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,৩৪৭.
'সালাম সালাম হাজার সালাম' গানটির গায়ক কে?
  1. ক) আব্দুল জব্বার
  2. খ) আব্দুল হাদী
  3. গ) মাহমুদুন্নবী
  4. ঘ) খুরশীদ আলম
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গান ‘সালাম সালাম হাজার সালাম সকল শহিদ স্মরণে’ এর গীতিকার ফজলে এ খোদা।
- ১৯৬৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী তিনি গানটি রচনা করেন।
- গানটির সুরকার ও গায়ক আব্দুল জব্বার
- ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে গানটি প্রথম রেডিওতে প্রচারিত হয়।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।

৪,৩৪৮.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন?
  1. শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম
  2. কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
  3. বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী
  4. জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ১৯৫৪:

- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক - মুখ্যমন্ত্রী (স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, স্বায়ত্তশাসন, নির্বাচন ও পার্লামেন্টারি বিষয়সহ)।
- আবু হোসেন সরকার - অর্থমন্ত্রী।
- আতাউর রহমান খান - খাদ্য ও বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী।
- আবুল মনসুর আহমদ - জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - কৃষিঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী।
- 'যুক্তফ্রন্ট' নেতাগণ ২১ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতেহারকে ২১ দফা কর্মসূচিতে লিপিবদ্ধ করেন।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- মুসলিম লীগের প্রতীক ছিলো 'হারিকেন'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪,৩৪৯.
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা-এর LATA Code কোনটি?
  1. ক) UGHS
  2. খ) DHK
  3. গ) DAC
  4. ঘ) HSIA
ব্যাখ্যা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর:
সাধারণ তথ্য:
- ICAO ID হচ্ছে - VGHS
- IATA CODE হচ্ছে - DAC
- Latitude হচ্ছে - 235036.05N
- Longitude হচ্ছে - 0902352.02E
- TWR FREQ হচ্ছে - 118.3 MHz, 119.3 MHz
- ACC FREQ হচ্ছে - 125.7 MHz, 129.7 MHz
- DVOR হচ্ছে - 112.7 MHz
- NDB হচ্ছে - 298 KHz

তথ্যসূত্র: বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।
৪,৩৫০.
'ষাট গম্বুজ মসজিদ' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. খান জাহান আলী
  2. শাহ বায়েজীদ বোস্তামী
  3. সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. শাহ মখদুম রূপোশ
ব্যাখ্যা

ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- এটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
- ১৫ শতকের দিকে খান জাহান আলী ঐতিহাসিক মসজিদের শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ষাট গম্বুজ মসজিদটিতে ৮১ টি গম্বুজ রয়েছে।
- মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া।
- দেয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট পুরু।
- এ বিশাল মসজিদের চতুর্দিকে প্রাচীর ৮ফুট চওড়া, এর চার কোনে চারটি মিনার আছে।
- মসজিদটি ছোট ইট দিয়ে তৈরী, এর দৈর্ঘ্য ১৬০ফুট, প্রস্থ ১০৮ ফুট, উচ্চতা ২২ফুট।
- মসজিদের পশ্চিম দিকে প্রধান মেহরাবের পাশে একটি দরজাসহ মোট ২৬টি দরজা আছে।
- ইউনেস্কো এ মসজিদটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৪,৩৫১.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ কোথায় গড়ে উঠেছিল?
  1. গাজীপুর
  2.  ময়মনসিংহ
  3. খুলনা
  4. যশোর
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯ মার্চের সশস্ত্র যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক মাইলফলক। 
-  ১৯ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস ।
- ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে ঢাকার উত্তরে জয়দেবপুরে (বর্তমান গাজীপুর) অকুতোভয় মুক্তিকামী বাঙালিরা পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
- ১৯ মার্চের পর সারা বাংলাদেশে স্লোগান ওঠে, ‘জয়দেবপুরের পথ ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘জয়দেবপুরের পথ ধরো, সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করো’।
- ১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ দুপুরে হঠাৎ এক বেতার ভাষণে জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেন।
- এ কথা শোনামাত্রই সারা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। দেশের সর্বত্রই স্লোগান ওঠে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘পিন্ডি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ‘পাঞ্জাব না বাংলা, বাংলা-বাংলা’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’, ‘তুমি কে আমি কে, বাঙালি-বাঙালি’।
- বঙ্গবন্ধু ঢাকায় পূর্বাণী হোটেলে এক সভায় ইয়াহিয়ার ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং ঢাকায় ২ মার্চ ও সারা বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ৩ মার্চ হরতাল আহ্বান করেন এবং ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা আহ্বান করেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ও বনিক বার্তা। (Link1) (Link2)

৪,৩৫২.
‘কারাগারের রােজনামচা' গ্রন্থটির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান -
  1. ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
  2. খ) ইউনিভার্সিটি প্রেস
  3. গ) বাংলা একাডেমি
  4. ঘ) প্রথমা প্রকাশন
ব্যাখ্যা
• কারাগারের রােজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।

- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
৪,৩৫৩.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা কোনটি?
  1. জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
  2. বং থেকে বাংলা
  3. স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
  4. স্বাধীনতা তুমি
ব্যাখ্যা

- 'স্বাধীনতা তুমি' কবি শামসুর রাহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা৷
- 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজ উদ্দিন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক৷
- 'জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল' এবং 'বং থেকে বাংলা' যথাক্রমে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ও রিজিয়া রহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ ও উপন্যাস।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

৪,৩৫৪.
নিচের কোন জেলাটি হরিকেল জনপদের অংশ ছিল?
  1. সিলেট
  2. কুমিল্লা
  3. বগুড়া
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৫৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘অনিল বাগচীর একদিন’ কার?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. মোরশেদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'অনিল বাগচীর একদিন'।

• অনিল বাগচীর একদিন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
- পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা।
- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।
- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।
- অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৫৬.
গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়-
  1. ৫ অক্টবর, ১৯৭২ সালে
  2. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে
  3. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে
  4. ১৪ মার্চ, ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন: ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়: ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেনঃ ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৫৭.
কোন শতকে 'ফরায়েজি আন্দোলন'-এর সূত্রপাত ঘটে?
  1. বিশ শতকে
  2. উনিশ শতকে
  3. আঠারো শতকে
  4. সতেরো শতকে
ব্যাখ্যা
• ফরায়েজি আন্দোলন:

- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,৩৫৮.
'আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা কর্মসূচি' শীর্ষক পুস্তিকাটি কত তারিখে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ৬ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ২১ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ২৩ মার্চ
ব্যাখ্যা
পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির সনদ ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলীয় নেতাদের একটি সম্মেলন আহ্বান করেন। 
- আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু বিরোধীদলীয় নেতাদের সম্মেলন পকিস্তানের লাহোরে পৌছান। 
- বিরোধী দলের সম্মেলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করলে সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ তা প্রত্যাখান করেন। 
- বঙ্গবন্ধু সম্মেলন বর্জন করে সাংবাদিক সম্মেলন করে ছয়দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ঢাকায় চলে আসেন। 
- ২১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নামে 'আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা কর্মসূচি' শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়। 
- ছয় দফাতে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবী। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৫৯.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. গ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এ সরকারের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী এম মনসুর আলী এবং পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৩৬০.
বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন নিয়ে তৈরি করা জাপানি চিত্রকলা কোনটি?
  1. বঙ্গবন্ধু ১৯৭১
  2. বাংলাদেশ অ্যান্ড বঙ্গবন্ধু
  3. ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
 ‘ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু’ 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন নিয়ে তৈরি করা জাপানি চিত্রকলার গ্রাফিক নভেল জাপানের ১৭তম আন্তর্জাতিক মাঙ্গা অ্যাওয়ার্ড আসরে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে।
- ‘ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে এই গ্রাফিক নভেল জাপানি চিত্রকলার ‘মাঙ্গা’ ধরনে নির্মাণ করা হয়েছে।
- এটার রচয়িতা এম ই চৌধুরী শামীম ও জাপানের মাঙ্গা শিল্পী ইওয়ামোতো কেইতা। 

সূত্র- প্রথম আলো।
৪,৩৬১.
প্রাচীন বাংলার কোন জনপদ বাংলাদেশের পূর্বাংশে অবস্থিত ছিল?
  1. গৌড়
  2. পুণ্ড্র
  3. হরিকেল
  4. রাঢ়
ব্যাখ্যা

হরিকেল জনপদ:
- প্রাচীন বাংলার জনপদ হরিকেল বাংলাদেশের পূর্বাংশে অবস্থিত ছিল। এই জনপদটি বর্তমান সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত ছিল।

উল্লেখ্য,
- খ্রিস্টীয় সাত শতকের প্রাচীন ভারতীয় লেখকগণ পূর্বভারতীয় একটি অঞ্চলকে হরিকেল বলে উলে­খ করেন।
- সাত শতকের চৈনিক পরিব্রাজক ই-ৎসিঙ্ হরিকেলের অবস্থানকে ‘পূর্বভারতের পূর্বসীমা’য় নির্দেশ করেন। চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ অঞ্চলের একটি পুরানো মন্দিরে আবিষ্কৃত কান্তিদেবের (খ্রিস্টীয় নয় শতক) অসম্পূর্ণ তাম্রলিপিটি হরিকেল সম্পর্কিত সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য দলিল।
- মহারাজাধিরাজ কান্তিদেব হরিকেলের শাসক ছিলেন।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪,৩৬২.
মুজিব নগর সরকারকে শপথ পাঠ করান কে?
  1. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. সেকান্দার আলী
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৬৩.
বাংলাদেশ সরকার এবং পিসিজেএসএস (PCJSS)-এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. ০৪ ডিসেম্বর ১৯৯৫
  2. ০৬ নভেম্বর ১৯৯৮
  3. ০২ ডিসেম্বর ১৯৯৭
  4. ০৭ ডিসেম্বর ১৯৯৮
ব্যাখ্যা

→ বাংলাদেশ সরকার এবং পিসিজেএসএস (PCJSS)-এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল - ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে।

♦ পার্বত্য শান্তি চুক্তি:
- বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি।
- পাহাড়ি জনগণের দাবি মেনে নিতে সরকারের ব্যর্থতার ফলে তাদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে।
- পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে যোগ হয় শান্তি বাহিনী নামে একটি সামরিক শাখা।
- ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে শান্তি বাহিনী সামরিক দিক থেকে অধিকতর সংগঠিত হয়।
- পার্বত্য শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৪,৩৬৪.
দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র কোথায় আবিষ্কৃত হয়?
  1. নেত্রকোনা
  2. দিনাজপুর
  3. জামালপুর
  4. জয়পুরহাট
ব্যাখ্যা
কয়লাক্ষেত্র:
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- এটিতে কয়লার আনুমানিক মজুদের পরিমাণ ১০৫৪ মেট্রিক টন।
- গভীরতা: ৬৪০-১১৫৮ মিটার। 
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি।
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে।

দেশের কয়লা খনিসমূহ হলো:
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫।
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫।
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯।
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭।
• জামালগঞ্জ: আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জয়পুরহাট, জিএসবি, ১৯৬২ ।

উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৪,৩৬৫.
উপমহাদেশে প্রথম মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  4. লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
- ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড বেন্টিঙ্ক এদেশে গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন।
- তিনি ১৮২৮ থেকে ১৮৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিঙ্কই প্রথম গভর্নর জেনারেল যিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে এদেশে প্রজাদের কল্যাণ সাধনই শাসকের প্রধান কর্তব্য।

- তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সভ্যতার অবাধ প্রসারের পথ উন্মুক্ত হয়।
- তাঁর আমলে ১৮৩৫ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা উপমহাদেশের প্রথম মেডিকেল কলেজ।
- উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সময় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরন আইন ( ১৮২৯ )পাস হয় এতে তিনি রাজা রামমোহন রায় ও প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সমর্থন ও সহায়তা লাভ করেন।
- উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলায় সর্বপ্রথম ‘জুরী ব্যবস্থার’ প্রবর্তন করেন।
- তিনি লর্ড মেকলের সহায়তায় আইন কমিশন গঠন করে ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ তৈরি করেন। 
- তিনি সেনাবাহিনীতে বেত্রাঘাত নিষিদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - ১. ব্রিটানিকা।
২.  বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী।
৪,৩৬৬.
কোন মোগল সুবেদার পর্তুগীজদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করেন?
  1. শায়েস্তা খান
  2. আজম শাহ
  3. মীর জুমলা
  4. শাহ সুজা
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- আবার সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন। 
- তাঁরা জোর করে এদেশেরই অসহায় বালক-বালিকাদের খ্রিস্টান বানাত।
- এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে দাসদাসীরূপে বিক্রি করতো বিদেশের বাজারে।
- পর্তুগিজ সৈন্যরা জোর করে এদেশের মেয়ে বিয়ে করত।

- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগীজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৬৭.
পূর্ব বাংলার নাম ‘পূর্ব পাকিস্তান’ হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৪৭
  2. খ) ১৯৪৮
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫৬
  5. ঙ) ১৯৫৮
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়। এটি ছিল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার সংবিধান। এ সংবিধানের মাধ্যমে ‘পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ নাম ধারণ করে। পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশগুলোকে একত্রিত করে এক ইউনিট গঠন করা হয় এবং নামকরণ করা হয় পশ্চিম পাকিস্তান। পূর্ব বাংলার নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান। সংবিধানে সকল বিষয়ে সংখ্যাসাম্য নীতি স্বীকৃতি হয়। বাংলা এবং উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দেয়া হয়।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৪,৩৬৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. সংগম
  2. মেঘের অনেক রং
  3. মেহেরজান
  4. গেরিলা
ব্যাখ্যা

মেঘের অনেক রং:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র মেঘের অনেক রং।
- হারুনর রশীদ এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন।
- এটি ১৯৭৬ সালে নির্মিত হয়।
- যুদ্ধের সময় রুমা নামের একজন চিকিৎসকের স্ত্রী ধর্ষণের শিকার হয়।
- এরপর সন্তানসহ কীভাবে বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, এর মর্মস্পর্শী চিত্র রয়েছে।
- এতে অভিনয় করেছেন মাথিন, ওমর এলাহী, রওশন আরা, আদনান প্রমুখ।

উৎস: প্রথম আলো।

৪,৩৬৯.
শেখ মুজিবর রহমান কোথায় ৬ দফা কর্মসূচি পেশ করেন? 
  1. পাঞ্জাব
  2. লাহোর
  3. ইসলামাবাদ
  4. করাচি
ব্যাখ্যা
৬ দফা কর্মসূচি:

• শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলের সম্মেলনে ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। 
• তিনি ছয়দফা ভিত্তিক আন্দোলনও গড়ে তোলেন।
• ১৩ মার্চ, ১৯৬৬ আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা কর্মসূচি অনুমোদন করা হয়।
• ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা উত্থাপন করা হয়।
• ছয়দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
• ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় ঘোষিত ১১ দফা দাবির মধ্যে ৬ দফা দাবিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
• ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু ছয়দফাকে নির্বাচনী ম্যান্ডেট হিসেবে ঘোষণা করেন।
• ছয়দফার আন্দোলনে স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৭০.
তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন কী নামে পরিচিত?
  1. ফারায়েজি আন্দোলন
  2. তাহরিক-ই-মুহম্মদীয়া
  3. ওয়াহাবি আন্দোলন
  4. খ+গ
ব্যাখ্যা

ওয়াহাবি আন্দোলন:
- পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় প্রায় একই সময়ে দুটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার আন্দোলনটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
- পশ্চিম বাংলার আন্দোলনের নাম ওয়াহাবি বা ‘তাহরিক-ই-মুহম্মদীয়া'।
- ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিতুমীর।
- ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে এ আন্দোলন শুরু এবং শেষ হয় ১৮৩১ ক্রিস্টাব্দে তিতুমীরের শাহাদাৎ বরণের মধ্য দিয়ে।
- উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজের ধর্মীয়, সামাজিক কুসংস্কার দূর করে মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় অনুশাসন পালনের সঠিক পথ নির্দেশ করাই এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
- বাংলার ওয়াহাবিরাও তিতুমীরের নেতৃত্বে একই উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয়েছিল।
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত 'তাহরিক-ই-মুহম্মদীয়া' আন্দোলন বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তাঁর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনে বহু মুসলমান, বিশেষ করে চব্বিশ পরগনা এবং নদীয়া জেলার বহু কৃষক, তাঁতী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দেয়।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন সুদক্ষ শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী।
- ইংরেজ জমিদার, নীলকরদের দ্বারা নির্যাতিত কৃষকরা দলে দলে তিতুমীরের বাহিনীতে যোগ দিলে ধর্ম সংস্কার আন্দোলন একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ফলে কৃষকদের সংঘবদ্ধতা এবং তিতুমীরের শক্তি বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে উঠে শাসক-শোষক, জমিদার শ্রেণি।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিতুমীর হজকরার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন। দেশের ফিরে তিনি ধর্মীয় সংস্কার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩৭১.
বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল আকিজ জুট মিলস কোথায় অবস্থিত?
  1. গাজীপুর
  2. ঝিনাইদহ
  3. গোপালগঞ্জ
  4. জামালপুর
ব্যাখ্যা
আকিজ জুট মিলস:
- দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি পাটকল আকিজ জুট মিল।
- আকিজ জুট মিলের নির্বাহী পরিচালক শেখ আব্দুল হাকিম।
- এটি মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ-এ অবস্থিত।
- আকিজ গ্রুপের অন্যতম অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আকিজ জুট মিলস্ লিমিটেড দেশের সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের সুতা উৎপাদন ও রফতানিতে শুরু থেকেই তার গুণগতমান বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে।

উৎস:  নভেম্বর ১৫, ২০২২, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৪,৩৭২.
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
  1. চাঙ্কি পান্ডে
  2. মঙ্গল পান্ডে
  3. হারপান সিং
  4. লাল সিং
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।
- ১৮৫৭ সালের সংগ্রামের নানাবিধ কারণ ছিল।
- এসব কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।

• পরোক্ষ কারণ:
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।
• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে। 

সিপাহী বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৭৩.
বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরী ছিলো কোনটি?
  1. মহাস্থানগড়
  2. উয়ারি-বটেশ্বর
  3. রোহিতগিরি
  4. বিক্রমপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরী ছিলো উয়ারি-বটেশ্বর। আনুমানিক প্রায় আড়াইহাজার বছর আগে নরসিংদী জেলার উয়ারি-বটেশ্বরে নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
এটি দ্বিতীয় ভারতীয় সভ্যতার অন্তর্গত। উয়ারি-বটেশ্বর ছিলো একটি নদীবন্দর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র।
(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-৫১/৫২)
৪,৩৭৪.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন কোনটি?
  1. মজিদ খান শিক্ষা কমিশন
  2. বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষা কমিশন
  3. জাতীয় শিক্ষা কমিশন
  4. শামসুল হক শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষা কমিশন (১৯৭২):
- ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন।
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয়।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে,
-  কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

অন্যদিকে,
- মজিদ খান শিক্ষা কমিশন ১৯৮৩ সালে গঠিত।
- বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষা কমিশন- বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর মফিজউদ্দীন আহমদকে প্রধান করে একটি শিক্ষা কমিশন নিয়োগ করে।
- শামসুল হক শিক্ষা কমিশন-  বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ সালের ১৪ জানুয়ারি জারীকৃত এক আদেশবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এম শামসুল হককে চেয়ারম্যান করে ৫৬ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪,৩৭৫.
সপ্তম শতকে গৌড়ের রাজধানী ছিল-
  1. ক) বড়কামতা
  2. খ) কোটিবর্ষ
  3. গ) পুণ্ড্রনগর
  4. ঘ) কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা
‘গৌড়’ নামটি সুপ্রাচীন হলেও এর অবস্থান সম্পর্কে সঠিক ধারণা করা যায়নি। তবে ৬ষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়। সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো। এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
‘সমতট’ এর প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল বড়কামতা।
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র। এ অঞ্চলের রাজধানী পুণ্ড্রনগর। এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং এসএসসি(উন্মুক্ত)]
৪,৩৭৬.
জুলাই গণ অভ্যুত্থানে  'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি পালিত হয় কবে?
  1. ২০২৪ সালের ১ আগস্ট

  2. ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট

  3. ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট

  4. ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট

ব্যাখ্যা

জুলাই গণ অভ্যুত্থান: 
- জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
- পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক জরুরি সিদ্ধান্তে 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি ৬ আগস্ট থেকে পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪) ও প্রথম আলো (৫ আগস্ট ২০২৪)

৪,৩৭৭.
বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয় কবে?
  1. ক) ৬২৪ সালে
  2. খ) ৬২৫ সালে
  3. গ) ৬২৭ সালে
  4. ঘ) ৬৩১ সালে
ব্যাখ্যা
ইসলামের ইতিহাসে বদর যুদ্ধ হলো মুসলমান ও অবিশ্বাসীদের মধ্যে সংঘটিত প্রথম যুদ্ধ বা সামরিক সংঘর্ষ। ৬২৪ সালে মদিনার অদূরে বদর নামক স্থানে মক্কার কুরাইশ বাহিনীর সাথে মুসলমানদের বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী জয় লাভ করে।
৬২৫ সালে উহুদের যুদ্ধ, ৬২৭ সালে খন্দকের যুদ্ধ এবং ৬৩১ সালে তাবুকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস ১মপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৪,৩৭৮.
প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ কোনটি?
  1. সমতট
  2. বঙ্গ
  3. হরিকেল
  4. পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্র প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ।
- পুণ্ড্র 'জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুণ্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ-৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- এখানে গুপ্তদের সুনিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা ছিল।
- পুণ্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,৩৭৯.
সুবাদার শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম দখল করে এর নতুন নাম কী রাখেন? 
  1. জাহাঙ্গীরনগর
  2. ইসলামাবাদ
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা

• মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান:
- পর্তুগিজদের জলদস্যুতা, চাঁদাবাজি এবং বাণিজ্য ও জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে শায়েস্তা খান তাদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করে।
- বিশেষ করে আরাকান জলদস্যুদের সঙ্গে তাদের আঁতাত এবং চট্টগ্রামকে ঘাঁটি করে লুঠতরাজ চালানো মুঘল শাসনের জন্য বড় হুমকি হয়ে ওঠে।
- এর পরিপ্রেক্ষিতে শায়েস্তা খান ১৬৬৫–১৬৬৬ সালে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আরাকান ও পর্তুগিজদের পরাজিত করেন। 
- চট্টগ্রাম বিজয়ের পর ১৬৬৬ সালে শায়েস্তা খান এর নাম পরিবর্তন করে ইসলামাবাদ রাখেন।
- এর মাধ্যমে বাংলায় পর্তুগিজদের প্রভাব প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়।

উল্লেখ্য,
- শায়েস্তা খান ঢাকায় বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ করেন।
- প্রদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মুঘল শাসন সুসংহতকরণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
• লালবাগ কেল্লা (যা কন্যার অকালমৃত্যুর কারণে অসম্পূর্ণ থেকে যায়)।
- লালবাগ কেল্লায় তার মেয়ে পরীবিবির কবর রয়েছে।
• চকবাজারে নির্মাণ করেন ছোট কাটরা,
- এছাড়া ও নির্মাণ করেন শায়েস্তা খান মসজিদ এবং সাত গম্বুজ মসজিদ। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।

৪,৩৮০.
বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন কে?
  1. ক) ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. খ) লর্ড ওয়েলেসলি
  3. গ) লর্ড ক্যানিং
  4. ঘ) লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৩৮১.
বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় শাসন করেছিল কোন রাজ বংশ?
  1. গুপ্ত
  2. চন্দ্র
  3. সেন
  4. পাল
ব্যাখ্যা
- বাংলায় পাল শাসন (৭৫৬-১০৪৬ খ্রি.) বাংলার ইতিহাসে প্রথম দীর্ঘ চারশ বছরব্যাপী শাসন করেছিল পালবংশ।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গোপাল।
- তার বংশধরগণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
- গোপালদেবের আদিবাস বরেন্দ্রভূমিতে।
- এই বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন - ধর্মপাল।
- বাংলায় সেন শাসন (১০৯৮-১২২৩ খ্রি.) ।
- চন্দ্র বংশ (৯০০-১০৪৫ খ্রি.) ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, উন্মুক্ত।
৪,৩৮২.
'আমি বিজয় দেখেছি' বইটির রচয়িতা কে?
  1. রাবেয়া খাতুন
  2. মেজর রফিকুল ইসলাম
  3. এম আর আখতার মুকুল
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই ‘আমি বিজয় দেখেছি’ এর রচয়িতা হলেন এম আর আখতার মুকুল।
তার রচিত অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে:
- একাত্তরের বর্ণমালা
- মুজিবের রক্ত লাল প্রভৃতি।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – ড. সৌমিত্র শেখর)
৪,৩৮৩.
খিলাফত আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কে?
  1. মাওলানা মোহাম্মদ আলী
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. সৈয়দ আহমদ খান
  4. মাওলানা আতাহার আলী
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন। কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- কিন্তু এই যুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে জার্মানির পক্ষে যোগদানের কারণে শাস্তি স্বরূপ তুরস্ককে খণ্ড-বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করা হয়।
- এই আন্দোলনে নেতৃত্বদেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৮৪.
নিচের কোন চলচ্চিত্রের সাথে হুমায়ুন আহমেদের নামটি জড়িত নয়?
  1. শ্রাবণ মেঘের দিন
  2. দুই দুয়ারী
  3. আগুনের পরশমণি
  4. গেরিলা
ব্যাখ্যা

- হুমায়ূন আহমেদ,  (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণে সার্থক
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)। 
- অন্যান্য চলচ্চিত্র :
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০),
- দুই দুয়ারী (২০০১), 
- চন্দ্রকথা (২০০৩), 
- নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭)
- আমার আছে জল (২০০৮)।

- গেরিলা চলচ্চিত্রটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস 'নিষিদ্ধ লোবান' অবলম্বনে নাসিরুদ্দিন ইউসুফ নির্মাণ করেন।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৪,৩৮৫.
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. ক) কাজী গোলাম মাহবুব
  2. খ) আবদুল মতিন
  3. গ) অলি আহাদ
  4. ঘ) গাজীউল হক
ব্যাখ্যা

- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।
- ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দিন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শামসুল আলমকে আহবায়ক করে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন (দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’) করা হয়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় যার আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া এবং ভাষা আন্দোলনে ঢাকা : আহমদ রফিক)
৪,৩৮৬.
সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. মানসিংহ
  2. কৌটিল্য
  3. টোডরমল
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
- চাণক্য খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০ অব্দে জন্ম গ্রহণ করে।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী কৌটিল্য যিনি অতীব বুদ্ধিমান ‘চাণক্য’ বা সম্রাটের প্রাথমিক জীবনের শিক্ষক বিষ্ণুগুপ্ত বলেও পরিচিত।।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতির দিকপাল ও ভারতের ম্যাকিয়াভ্যালি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- চন্দ্রগুপ্তের এবং বিন্দুসারের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল অর্থশাস্ত্র ( ১৫ খন্ডে ) ও চাণক্যনীতি।
- অর্থশাস্ত্র গ্রন্থটি রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতিকৌশলের সার সংক্ষেপ।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ , বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৮৭.
কার সভাপতিত্বে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ' গঠিত হয়।
  1. কাজী গোলাম মাহবুব
  2. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  3. অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া
  4. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়:
- ৩০ জানুয়ারি – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ সভা ও ছাত্র ধর্মঘটের আহ্বান জানায়।
- ৩১ জানুয়ারি – মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ' গঠিত হয়।

- কর্মসূচির মধ্যে ছিল: ৪ ও ২১ ফেব্রুয়ারি হরতাল, জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিল।
- পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেন।
- ২০ ফেব্রুয়ারি – সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভা হয়।

প্রথমে কিছু সদস্য ১৪৪ ধারা ভাঙার বিপক্ষে ছিলেন। কিন্তু আবদুল মতিন, অলি আহাদ, মোহাম্মদ তোহা, গোলাম মাহবুব প্রমুখ নেতারা অমান্যের পক্ষে জোর দেন।
অবশেষে ১৪৪ ধারা অমান্য করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম  ও দশম শ্রেণি।
৪,৩৮৮.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন কোন সেক্টরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. ২নং
  2. ১১নং
  3. ৪নং
  4. ১০নং
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ছিলেন ১০নং সেক্টরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। 

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয়, রুহুল আমিন তাদের অন্যতম।
- তাঁর পদবী ছিল স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার।
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্ম ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বাঘচাপড়া গ্রামে।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসে তিনি ২নং সেক্টরে যোগদান করেন।
- পরবর্তীতে ১০নং নৌ সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রূপসা নদীতে খুলনা শীপইয়ার্ডের কাছে সম্মুখ যুদ্ধে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ পলাশকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় এ বীর সন্তান শহিদ হন।
- সমাধিস্থল: রূপসা ফেরিঘাটের লুকপুরে।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৩৮৯.
The Blood Telegram গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. গ্যারি জে ব্যাস
  2. মার্কাস গ্রান্ডা
  3. পল ওয়ালেচ
  4. রিচার্ড সেশন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা বিষয়ে মার্কিন সাংবাদিক ও অধ্যাপক গ্যারি জে ব্যাস রচিত বিখ্যাত বই হলো 'দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম : নিক্সন-কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগেটেবল জেনোসাইট'।
- এটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়৷
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি গণহত্যা বিষয়ে ঢাকায় কর্মরত তৎকালীন মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিকট যে টেলিগ্রাম প্রেরণ করেন তা ব্লাড টেলিগ্রাম নামে পরিচিত।
- এই বিষয়ের আর্চার কে ব্লাড 'দ্য ক্রোয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ' নামে একটি বই লিখেন।

সূত্র: আমাজন এবং বিডিনিউজ২৪।
৪,৩৯০.
ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার কততম সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করে?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) দ্বিতীয়
  3. গ) তৃতীয়
  4. ঘ) চতুর্থ
ব্যাখ্যা
• OIC:
- ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা OIC
- OIC এর পূর্ণরুপ হচ্ছে - The Organisation of Islamic Cooperation
- এটি হলো মুসলিম দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক জোট
- প্রতিষ্ঠা লাভ করে - ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯ (মরক্কোতে অনুষ্ঠিত রাবাত সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়)।
- OIC এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৭টি।
- দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দুটি দেশ গায়ানা ও সুরিনাম OIC সদস্য।
- ইউরোপ মহাদেশের আলবেনিয়া OIC সদস্য।

- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত OIC-এর দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সর্বপ্রথম অংশগ্রহণ করে এবং এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের পক্ষে অংশগ্রহণ করে।
- OIC এর সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলন মক্কাতে ২০১৯ সালের ৩১ মে অনুষ্ঠিত হয়।
- OIC এর সদর দপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত।
- OIC এর বর্তমান মহাসচিব, এইচ.ই. হিসেইন ইব্রাহিম তাহা (১২ তম)।

- মহাসচিবের মেয়াদ-৫ বছর।
- শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়-তিন বছর পর পর।
- প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়- রাবাত, মরক্কো (১৯৬৯ সালে)।
- অফিসিয়াল ভাষা- তিনটি (আরবি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ।

তথ্যসূত্র: OIC ওয়েবসাইট
৪,৩৯১.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কোন নীতি গ্রহণ করেছিল?
  1. ঘরোয়া নীতি
  2. শান্তি নীতি
  3. পোড়ামাটি নীতি
  4. বিভাজন নীতি
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তান সেনাবাহিনী 'পোড়ামাটি নীতি' অনুযায়ী বাংলাদেশের সব সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে।
- যে কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ঘর-বাড়ি, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির কোনো কিছুই তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি।
- তাদের লক্ষ্য ছিল এই ভূখণ্ডের মানুষদের হত্যা করে কেবল ভূমির দখল নেওয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,৩৯২.
নায়েম (NAEM)-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. National Authority for Education Monitoring
  2. National Alliance for Education Management
  3. National Academy for Educational Management
  4. National Association for Education Management
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (NAEM):
- নায়েম বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র এবং এটি শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে কাজ করে যাচ্ছে।
- NAEM- এর পূর্ণরুপ: National Academy for Educational Management.
- শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে এডুকেশন এক্সটেনশন সেন্টার (EEC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- একটি বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে এটিকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এ রূপান্তর করা হয়।
- নায়েমের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণকে জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বের গুণাবলি দ্বারা সমৃদ্ধ করা।

উৎস: NAEM ওয়েবসাইট।

৪,৩৯৩.
ঐতিহাসিক ৬-দফাকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়?
  1. ক) বিল অব রাইটস
  2. খ) ম্যাগনাকার্টা
  3. গ) পিটিশন অব রাইটস
  4. ঘ) মুখ্য আইন
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন। এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
• ঐতিহাসিক ৬-দফাকে  তুলনা করা হয় ম্যাগনাকার্টা সাথে।
• ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
• আর এটি ২৩ মার্চ ১৯৬৬ অনানুষ্ঠানিক ঘোষিত হয়।
• ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা --রুহুল কুদ্দুস । তিনি একজন সি এস পি কর্মকর্তা। 
 ৬ দফার দাবিসমূহ---
প্রস্তাব - এক : শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি
প্রস্তাব - দুই : কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
প্রস্তাব - তিন : মুদ্রা ও অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা (স্বতন্ত্র  মুদ্রা )।
প্রস্তাব - চার : রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
প্রস্তাব - পাঁচ : বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
প্রস্তাব - ছয় : আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।
৪,৩৯৪.
পাকিস্তানে প্রথম সারাদেশে সামরিক শাসন জারি করেন- 
  1. জেনারেল আইয়ুব খান
  2. ফিরোজ খান নুন
  3. জেনারেল ইস্কান্দার মীর্জা
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

পাকিস্তান শাসনতন্ত্র: 
- পাকিস্তানে ১৯৪৭ হতে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ নয় বছর কোন সংবিধান ছিলো না।
-  ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানের দ্বিতীয় গণপরিষদ একটি সংবিধান প্রণয়ন করে।
- এই সংবিধান  মাত্র আড়াই বছর টিকে ছিলো।
-  রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা সারাদেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- তিনি ১৯৫৬ সালের সংবিধান কেবল স্থগিতই করেননি, তা বাতিল করে দেন।
- এবং বরখাস্ত করেন ফিরোজ খান নুনের সরকারসহ সকল প্রাদেশিক সরকারকে।

উৎস: পৌরনীতি, ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩৯৫.
বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রের সংখ্যা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ টেলিভিশন:

- বাংলাদেশ টেলিভিশন বাংলা ভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন।
- এটি ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার ডিআইটি ভবন (বর্তমান রাজউক ভবন) থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সম্প্রচার শুরু করে।
- ১৯৮০ সাল থেকে বিটিভি রঙিন সম্প্রচার শুরু করে।
- ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র চালু হয়।
- ২০০৪ সালের ১১ই এপ্রিল বিটিভি ওয়ার্ল্ড চালু হয়।
- ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে সমগ্র ভারতে বিটিভি ওয়ার্ল্ডের সম্প্রচার শুরু হয়।
- ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বিটিভি সম্প্রচার শুরু করে।
- বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রের সংখ্যা ২টি। যথা:
• ঢাকা।
• চট্টগ্রাম।
- উপকেন্দ্র বা রিলেকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪টি। এগুলো হলো:
নাটোর, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রংপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, উখিয়া এবং রাঙ্গামাটি।

তথ্যসূত্র - বিটিভি ওয়েবসাইট।
৪,৩৯৬.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে কয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে?
  1. ১২ দফা
  2. ২৪ দফা
  3. ২১ দফা
  4. ১৮ দফা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন দল ও জোট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ২১ দফার দাবিগুলো ভোটারদের মন জয় করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৩৯৭.
প্রামাণ্যচিত্র 'তিতাস পারের মানুষটি: শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত'-এর পরিচালক কে?
  1. খান আতাউর রহমান
  2. গৌতম কৈরী
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. তানভীর মোকাম্মেল
ব্যাখ্যা
তিতাস পারের মানুষটি: শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- চলচ্চিত্রকার তানভীর মোকাম্মেল ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের জীবন ও কর্মের ওপর ‘তিতাস পারের মানুষটি : শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’ শিরোনামে ৭০ মিনিট দৈর্ঘ্যরে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন।
- প্রামাণ্যচিত্রটি প্রযোজনা করেছেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সদস্য-সদস্যরা।
- পাকিস্তান গণপরিষদে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার দাবি উত্থাপন করা সংসদ সদস্য শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ওপর নির্মিত এ প্রামাণ্যচিত্র।

উৎস: ৫ নভেম্বর, ২০২৩, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। 
৪,৩৯৮.
‘বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে কয়টি প্রকল্প গ্রহণ করবে সরকার?
  1. ৫০টি
  2. ৬০টি
  3. ৮০টি
  4. ১০০টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’।
বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে বহু আলোচিত এই পরিকল্পনা ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।
এই পরিকল্পনার মেয়াদ ১০০ বছর।
এটি প্রণয়নে সহায়তা করছে নেদারল্যান্ডস।
‘ডেল্টা প্ল্যান’ নামে বেশি পরিচিত এ মহাপরিকল্পনার অধীনে আপাতত ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ৮০টি প্রকল্প নেবে সরকার, যাতে ব্যয় হবে প্রায় ২৯৭৮ বিলিয়ন টাকা।
[উৎসঃ পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট এবং দৈনিক প্রথম আলো]
৪,৩৯৯.
“আমার দেখা নয়াচীন” গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে?
  1. ক) সংস্কৃত মন্ত্রণালয়
  2. খ) তথ্য মন্ত্রণালয়
  3. গ) দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)
  4. ঘ) বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
•“আমার দেখা নয়াচীন” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চীন ভ্রমণের উপর লেখা গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থটি তার প্রকাশিত তৃতীয় গ্রন্থ।
- ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া চীন যান বঙ্গবন্ধু।
- তার এ সফরের অভিজ্ঞতাই এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।

সূত্র: আমার দেখা নয়াচীন : বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান।
৪,৪০০.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পদবী কী ছিল?
  1. সিপাহী
  2. ল্যান্স নায়েক
  3. ক্যাপ্টেন
  4. হাবিলদার
ব্যাখ্যা
হামিদুর রহমান:
- ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে তিনি জম্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে।
- হামিদুর রহমানের পদবী ছিল সিপাহী।
- ১৯৭১ সালে হামিদুর রহমান মুক্তিবাহিনীর সাহসী সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করছিলেন সিলেট শ্রীমঙ্গল এলাকায়।
- ১৯৭১ সালের ২৮শে অক্টোবর সম্মুখ যুদ্ধে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ট খেতাবে ভূষিত হন।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর ১০ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।