বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৪৩ / ১২৪ · ৪,২০১৪,৩০০ / ১২,৪২১

৪,২০১.
ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর কে ছিলেন?
  1. খাজা নাজিমউদ্দীন
  2. ফিরোজ খান নুন
  3. নুরুল আমিন
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। 
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি।

৪,২০২.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. জোছনা ও জননীর গল্প
  2. তিতাস একটি নদীর নাম
  3. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  4. আর্তনাদ
ব্যাখ্যা

জোছনা ও জননীর গল্প:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস জোছনা ও জননীর গল্প।
- জোছনা ও জননীর গল্প বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে হুমায়ুন আহমেদ রচিত একটি উপন্যাস।

উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক হুমায়ুন আহমেদ রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: শ্যামল ছায়া (১৯৭৪), আগুনের পরশমণি (১৯৮৬), অনিল বাগচীর একদিন (১৯৯২), ১৯৭১ (১৯৯৩), জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪) প্রভৃতি। 

অন্যদিকে,
- তিতাস একটি নদীর নাম অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস। এই উপন্যাসে গ্রামের দরিদ্র মালো শ্রেণীর লোকজনের দুঃখ-দুর্দশার কাহিনী ফুটিয়ে তুলেছেন।
- কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি'।
- শওকত ওসমান রচিত 'আর্তনাদ' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো ভাষা আন্দোলন। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।

৪,২০৩.
বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় কবে?
  1. ১৯৮১ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
আদমশুমারি
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। 
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি। 
- এই পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬ টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে আদমশুমারি হয়েছিল।
-  সাধারণত প্রতি ১০ বছর পর পর আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- ৬ষ্ঠ আদমশুমারি ২০২২ সালের ১৫-২১ জুন জনশুমারি ও গৃহগণনা নামে অনুষ্ঠিত হয়।
- জনশুমারি পরিচালনা করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)। 

উল্লেখ্য, 
- লর্ড মেয়ো ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন এবং তার শাসনামলেই ১৮৭২ সালে উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৪,২০৪.
অপারেশন সার্চ লাইট এর সার্বিক দায়িত্বে কে ছিল?
  1. জেনারেল টিক্কা খান
  2. জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  3. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  4. জেনারেল এএকে নিয়াজী
ব্যাখ্যা
• অপারেশন সার্চ লাইট:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে ভয়াবহ গণহত্যা অভিযান চালায়, তার নাম ছিল 'অপারেশন সার্চ লাইট'। যদিও হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ এ অভিযান শুরু করেছিল, তবে মূল পরিকল্পনা করা হয়েছিল মার্চ মাসের শুরু থেকেই।
- ১৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার জন্য বৈঠক শুরু হয়, কিন্তু অন্যদিকে পাকিস্তানি সরকার গোপনে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও গোলাবারুদ এনে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক প্রস্তুতি নেয়।
- ১৮ মার্চ টিক্কা খান এবং রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চ লাইট' এর নীলনকশা তৈরি করেন।
- ২৫ মার্চ রাতেই গণহত্যা শুরু করা হয়।
- এই পরিকল্পনার তত্ত্বাবধান করেন পাকিস্তানের গভর্নর লে. জেনারেল টিক্কা খান। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪,২০৫.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করাহ য়?
  1. আট
  2. দশ
  3. এগার
  4. পনের
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

⇒ সেক্টরগুলো:
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম,
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ,
- ৩নং সেক্টর: কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ,
- ৪ নং সেক্টর: মৌলভীবাজার ও সিলেটের পূর্বাংশ,
- ৫নং সেক্টর: সিলেট ও সুনামগঞ্জ,
- ৬নং সেক্টর: রংপুর, দিনাজপুর,
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা,
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর,
- ৯নং সেক্টর: খুলনা, বরিশাল,
- ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,২০৬.
'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে? বাংলা নাকি উর্দু‌’ পুস্তিকা প্রকাশ করে কে?
  1. পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টি
  2. তমদ্দুন মজলিশ
  3. পাকিস্তান গণপরিষদ
  4. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

• তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে? বাংলা নাকি উর্দু‌’।

• ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম পরিচালিত হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন।
- তিনি ‘বাংলা’ ভাষাকেও অধিবেশনের ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

• ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ দ্বিতীয়বারের মতো ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।

• ১৯৪৮ সালে ‘বাংলা ভাষা আরবি হরফে’ লেখার প্রস্তাব দিলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ এর প্রতিবাদ করেন।

• ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টন ময়দানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে এ ঘোষণা দেন।
- এর প্রতিবাদে নতুন করে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়।

উৎস: প্রথম আলো।
৪,২০৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বার্থে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে কোন দেশ ভেটো প্রদান করেছিল?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  3. চীন
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধকালীন বৃহৎশক্তি সমূহ:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়।
- এই প্রস্তাব তিনবার উত্থাপিত হয়।
- কিন্তু প্রতিবারই সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সেই প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে।
- ফলে পাকিস্তানপন্থী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।

৪,২০৮.
বীরশ্রেষ্ঠ পদকপ্রাপ্তদের সংখ্যা কত?
  1. সাত
  2. আট
  3. ছয়
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ৭ জনকে সর্বোচ্চ সামরিক পদবী 'বীরশ্রেষ্ঠ' প্রদান করা হয়।

৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ হলেন -
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান, 
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, 
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, 
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান, 
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ, 
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ। 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২০৯.
প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক হিসেবে কাকে নিযুক্ত করেন?
  1. আইয়ুব খান
  2. ফিরোজ খান
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. ওমরাও খান
ব্যাখ্যা

১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন
→ ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করেন।
→ তিনি দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
→ তিনি দেশের সংবিধান বাতিল করেন।
→ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদ ভেঙে দেন।
→ মন্ত্রিসভা বাতিল করেন।
→ রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
→ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে।
→ ‍তিনি মেজর জেনারেল ওমরাও খানকে পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত করেন।
→ এর কিছুদিনের মধ্যে ২৭শে অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪,২১০.
বঙ্গবন্ধু কত সালে ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন?
  1. ১৯৬৪ সালে
  2. ১৯৬৫ সালে
  3. ১৯৬৬ সালে
  4. ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন।

একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহীত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন।

৭ জুন ছয়দফা দিবস পালিত হয়।
ছয়দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪,২১১.
ছোট সোনা মসজিদ কে নির্মাণ করেন?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. মীর জুমলা
  3. শায়েস্তা খান
  4. শাহ সুজা
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ছোট সোনা মসজিদ ‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’ বলে আখ্যায়িত।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।

⇒ তার শাসনামলে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।
- হুসেন শাহ কামরূপ ও কামতা জয় করেন।
- ঊড়িষ্যা এবং ত্রিপুরার কিছু অংশ তার শাসনাধীন আসে।
- এছাড়া তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

⇒ তিনি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রতি স্থাপনের জন্য প্রচেষ্টা চালান, যা তৎকালীন সমাজজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
- হুসেন শাহ সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার শাসনামলে বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটে।
- তার সময়ের বিখ্যাত কবিদের মধ্যে ছিলেন রূপ গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, এবং পরাগল খান।

অন্যদিকে,
- লালবাগ কেল্লা নির্মাণ করেন শায়েস্তা খান।
- ঢাকায় ‘বড় কাটরা’ নির্মাণ করেন শাহ সুজা।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪,২১২.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম নারী হুইপ কে?
  1. সাগুফতা ইয়াসমিন
  2. খালেদা খানম
  3. শিরিন শারমিন চৌধুরী
  4. মাহবুব আরা বেগম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম নারী হুইপ খালেদা খানম।
তিনি ১৯৯৬ সালে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে নির্বাচিত সদস্য। জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় নারী হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি।
২০০৯ সালে সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথম নারী হুইপ। আর জাতীয় সংসদের তৃতীয় নারী হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি। তিনি ২০১৯ সালে সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে দ্বিতীয় নারী হুইপ।
উৎসঃ জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট।
৪,২১৩.
গাড়ি চলে না চলে না, চলে না রে.... গানটির গীতিকার কে?
  1. বাপ্পা মজুমদার
  2. সঞ্জীব চৌধুরী
  3. হাছন রাজা
  4. শাহ আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
গানটির -
ধরন: ব্যান্ড।
গীতিকার: শাহ আবদুল করিম।
সুরকার: অজ্ঞাত।
গেয়েছেন: সঞ্জীব চৌধুরী।
অ্যালবাম: হৃদয়পুর।

তথ্যসূত্র: lyrics.khichuri.net
৪,২১৪.
দেশের একমাত্র সরকারি কুমির প্রজনন কেন্দ্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) কক্সবাজার
  3. গ) খুলনা
  4. ঘ) পিরোজপুর
ব্যাখ্যা
- খুলনা জেলার করমজলে সরকারিভাবে পরিচালিত দেশের একমাত্র কুমির প্রজনন কেন্দ্র অবস্থিত।
- এটি একটি লোনা পানির কুমির প্রজনন কেন্দ্র।
- বন বিভাগের অধীনে ২০০৫ সালে এখানে কুমির প্রজনন কার্যক্রম শুরু হয়।
- তবে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম কুমির খামার গড়ে উঠে ময়মনসিংহে।
(তথ্যসূত্র: খুলনা ও ময়মনসিংহ জেলা ওয়েবসাইট এবং বিডিনিউজ)
৪,২১৫.
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মুসলিম লীগ কতটি আসন লাভ করে?
  1. ক) ৯টি
  2. খ) ১৭টি
  3. গ) ২৭টি
  4. ঘ) ৩৬টি
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ পূর্ব বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি। এর মধ্যে মুসলিম আসন ছিলো ২৩৭টি। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন লাভ করে। অন্যদিকে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে। এ নির্বাচনে তৎকালীন মুসলিম লীগ মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন সহ মুসলিম লীগের প্রথম সারির অধিকাংশ নেতা পরাজিত হন।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : প্রথমপত্র – উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৪,২১৬.
কোন সম্রাট ইংরেজদের প্রথম বাংলায় কুঠি নির্মাণের অনুমতি প্রদান করে?
  1. সম্রাট হুমায়ুন
  2. সম্রাট শাহজাহান
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে সনদপত্র নিয়ে একদল ইংরেজ বণিক কর্তৃক ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে তথা ভারতবর্ষে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬৩৩ সালে সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে বাংলায় প্রথম হরিহরপুরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ,নবম-দশম শ্রেনি এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২১৭.
১৯১৬ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় ছিলেন -
  1. ক) লর্ড কার্জন
  2. খ) লর্ড মিন্টো
  3. গ) লর্ড চেমসফোর্ড
  4. ঘ) লর্ড হার্ডিঞ্জ
ব্যাখ্যা
চেমসফোর্ড, লর্ড (১৮৬৮-১৯৩৩) 
১৯১৬ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল। পুরো নাম ফ্রেডারিক জন থেসিয়ার (Frederic John Thesiger)। 
-  ১৯০৫ সালে তিনি ব্যারন হন, ১৯০৫ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড এবং ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলসের গভর্নর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। 
- ১৯১৬ সালে তিনি ভারতের ভাইসরয় হিসেবে লর্ড হার্ডিঞ্জ-এর স্থলাভিষিক্ত হন। মেসোপটেমিয়ায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর পরাজয় এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ যত এগোতে থাকে ভারতীয়দের তত পরিমাণ অসন্তোষ বৃদ্ধিকে অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে সাথে নিয়ে ভারতে তাঁর শাসনকাল শুরু হয়। 
- ব্রিটিশদের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ভারতীয়দের আনুগত্যের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ভারতীয় বিষয়াদি দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্রিটিশ রাজ্য সচিব এডউইন মন্টেগু হাউস অব কমন্সে ঘোষণা করেছিলেন যে, ভারতে ব্রিটিশ সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ‘ভারতে ক্রমান্বয়ে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সফলকাম হওয়া।
- ১৯১৮ সালে ভারত সচিব এডউইন মন্টেগু ও ভাইসরয় লর্ড চেমসফোর্ডের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় যা মন্টেগু-চেমসফোর্ড রিপোর্ট নামে পরিচিত। 
- এই রিপোর্টে অভিমত ব্যক্ত করা হয় যে, প্রাদেশিক আইনসভায় পরোক্ষ নির্বাচনের পরিবর্তে যতদূর সম্ভব সম্প্রসারিত ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা উচিত। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
৪,২১৮.
বাংলাদেশের বীরত্বসূচক উপাধিগুলোর মধ্যে কোনটির স্থান মর্যাদার দিক থেকে দ্বিতীয়?
  1. ক) বীর উত্তম
  2. খ) বীর প্রতীক
  3. গ) বীর বিক্রম
  4. ঘ) বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম এবং বীরপ্রতীক।
এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ। সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি পান ৭ জন, দ্বিতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরউত্তম’ পান ৬৮ জন, তৃতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরবিক্রম’ পান ১৭৫ জন এবং চতুর্থ বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরপ্রতীক’ পান ৪২৬ জন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৪,২১৯.
সম্প্রতি লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য কোন বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত হয়েছে?  [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. APM Terminals
  2. DP World
  3. PSA International
  4. Hutchison Port Holdings
ব্যাখ্যা

• লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মানে ৩৩ বছরের চুক্তি: 
- চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং ৩০ বছরের জন্য এটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। 
- এ প্রতিষ্ঠানটি এপি মোলার মার্সক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
 - সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় এ টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ৫৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে কোম্পানিটি।
- মূল কনসেশন চুক্তিটি ৩৩ বছরের। এর মধ্যে নির্মাণে ৩ বছর এবং বাকি ৩০ বছর পরিচালনার।
 - শর্ত পূরণ হলে আরও ১৫ বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ আছে।

তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও প্রথম আলো।

৪,২২০.
কৃষিকাজের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন হয় কবে?
  1. ক) ১৫৪৮ খ্রিস্টাব্দ
  2. খ) ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দ
  3. গ) ১৫৪৯ খ্রিস্টাব্দ
  4. ঘ) ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

- হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- এটি প্রবর্তন করেন সম্রাট আকবর।
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০/১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন এবং তা কার্যকর হয় তাঁর সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে (৫ নভেম্বর ১৫৫৬)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৪,২২১.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ৪(১) নং
  2. ৪(২) নং
  3. ৪(৩) নং
  4. ৪(৫) নং
ব্যাখ্যা

• জাতীয় প্রতীক:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(৩) নং অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বলা হয়েছে
- ডিজাইনার- কামরুল হাসান।
- ব্যবহারের অধিকার রয়েছে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী।
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি।
- এ তিনটি উপাদানের উপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হলো অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।

৪,২২২.
Bangladesh's only small-ethnic freedom fighters who received the title of which community?
  1. ক) Chakma
  2. খ) Hajong
  3. গ) Marma
  4. ঘ) Manipuri
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মুক্তিযোদ্ধা:

- ইউকে চিং (উক্য চিং মারমা) মুক্তিযুদ্ধে বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মুক্তিযোদ্ধা।
- তিনি মারমা সম্প্রদায়ের লোক।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ইপিআর-এর সদস্য হিসেবে ৬ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪,২২৩.
'September on Jessore Road' কবিতাটির রচয়িতা-
  1. জর্জ হ্যারিসন 
  2. মাইকেল জ্যাকসন
  3. অ্যালেন গিন্সবার্গ
  4. বব ডিলান
ব্যাখ্যা

• 'September on Jessore Road' কবিতাটির রচয়িতা- অ্যালেন গিন্সবার্গ।

• September on Jessore Road:
- এটি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা ১৫২ লাইনের একটি long poem.
- এই patriotic poem টি রচনা করেন American poet ও activist Allen Ginsberg.
- কবিতাটিতে ১৫২টি লাইন থাকলেও এটি সেই সময়ের ২৬৬ দিনের যুদ্ধ ও হৃদয়বিদারক বেদনা তুলে ধরে।
- এই কবিতাটির শুরু এবং শেষ একই সুরে বেজে ওঠে, যা যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট একটি ভয়াবহ মানবিক সংকটের প্রতিধ্বনি করে।
- কবি নিজেই এখানে বর্ণনাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখেন, যিনি বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের মাঝে সরেজমিনে পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছেন।

• Allen Ginsberg (1926-1997):
- ছিলেন একজন মার্কিন কবি এবং বিট প্রজন্মের (Beat Generation) অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব।
- অ্যালেন গিন্সবার্গ আমেরিকার সাহিত্যে Beat Movement-এর অন্যতম কণ্ঠস্বর।
- তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা হলো “Howl” (1956), যেখানে তিনি আধুনিক সমাজের ভণ্ডামি, যুদ্ধ, ভোগবাদ, মানসিক অস্থিরতা ও যৌন স্বাধীনতা নিয়ে প্রতিবাদ করেন।
- তিনি কবিতার মাধ্যমে স্বাধীনতা, প্রতিবাদ এবং মুক্তচিন্তার প্রতীক হয়ে ওঠেন।

• Notable works:
- Howl (Epic poem),
- The Letters of Allen Ginsberg,
- Planet News,
- Reality Sandwiches,
- Wait Till I’m Dead: Uncollected Poems,
- The Fall of America: Poems of These States, 1965-1971, etc.

Source: Britannica.

৪,২২৪.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল-
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
  3. গ) চীন
  4. ঘ) দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।
উৎসঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,২২৫.
বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৬ নং
  2. ৭ নং
  3. ৮ নং
  4. ৯ নং
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- তিনি বরিশাল জেলায় ১৯৪৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি বিজয়ের মাত্র ২ দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ হন।
- বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর যুদ্ধ করেন ৭ নং সেক্টরে।
- তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সর্বশেষ শহীদ হন।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গনে তার সমাধি রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪,২২৬.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কতজনকে ‘বীরোত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ৬০ জন
  2. খ) ৬৮ জন
  3. গ) ৭২ জন
  4. ঘ) ৭৮ জন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৬৮ জনকে ‘বীরোত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। 

• বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন। 

- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম- ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন

• ১৯৯২ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে বীরত্বসূচক খেতাব প্রাপ্তদের পদক ও রিবন প্রদান করা হয়।
- ২০০১ সালের ৭ মার্চ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক পুরস্কার এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪,২২৭.
‘Bhatiali’ songs represent which regions of Bangladesh?
  1. Rajshahi and Rangpur
  2. Mymensingh and Sylhet
  3. Dhaka and Sylhet
  4. Mymensingh and Rangpur
ব্যাখ্যা

• ভাটিয়ালি গান:
-  ভাটিয়ালি এক ধারার  লোকগীতি।
-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য সুরের দীর্ঘ টান ও লয়।
- প্রচলিত মতে মাঝিমাল্লাদের গান থেকে ভাটিয়ালি সুরের উৎপত্তি।
- নিকট অতীতে নদীবিধৌত বাংলাদেশে সাধারণত নদীর ভাটির স্রোতে নৌকা বাইতে মাঝিদের তেমন বেগ পেতে হতো না।
- তাই সেই অবসর ও আনন্দে তারা লম্বা টানে গলা ছেড়ে গান গাইত। কালক্রমে এই গানই ভাটিয়ালি গান নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলায় এই গান বিশেষভাবে প্রচলিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৪,২২৮.
নৃশংস ঐতিহাসিক জেলহত্যার ঘটনা ঘটে কোন সালের কত তারিখে?
  1. ১৯৭১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর
  2. ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর
  3. ১৯৭১ সারের ৩ নভেম্বর
  4. ১৯৭৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক নৃশংস জেলহত্যা:
- ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর এক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে।
- দিনটি জাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় ও বেদনাবিধুর দিন।
- এই নির্মম ঘটনার ঠিক আগে একই বছরের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ এই চার সহকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
- ঘটনার পরদিনই ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। 
- বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী সভার সবচাইতে ঘৃণিত বিশ্বাসঘাতক সদস্য হিসেবে পরিচিত তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ ও বঙ্গবন্ধুর ২ খুনি কর্নেল (বহিষ্কৃত) সৈয়দ ফারুক রহমান এবং লে. কর্নেল (বহিষ্কৃত) খন্দকার আব্দুর রশীদ জেলখানায় জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

উল্লেখ্য,
- প্রতিবছর ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

উৎস: ৩ নভেম্বর ২০১৩, প্রথম আলো।
৪,২২৯.
উপমহাদেশের প্রথম নির্বাক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) মুখ ও মুখোশ
  2. খ) জামাই ষষ্ঠী
  3. গ) আলি বাবা ও চল্লিশ চোর
  4. ঘ) ধ্রুব
ব্যাখ্যা
আলিবাবা ও চল্লিশ চোর
- ‘আলী বাবা ও চল্লিশ চোর’ হলো উপমহাদেশের প্রথম নির্বাক চলচ্চিত্র
- চলচ্চিত্রটি হীরালাল সেন পরিচালিত।
- ১৯০০ সাল থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত হীরালাল সেন নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির সংখ্যা ৪০টি।
- তিনি ১৯০৪ সালে উপমহাদেশের প্রথম নির্বাক ছবি আলীবাবা ও চল্লিশ চোর নির্মাণ করেন। 

অন্যদিকে,
- অমরেন্দ্রনাথ চৌধুরী পরিচালিত ‘জামাই ষষ্ঠী’ হলো উপমহাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র।
- পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ ভূখণ্ডের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র হলো ‘মুখ ও মুখোশ’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ।
৪,২৩০.
নিপাের্ট (NIPORT) কী ধরনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান?
  1. জনসংখ্যা গবেষণা
  2. নদী গবেষণা
  3. মিঠাপানি গবেষণা
  4. বন্দর গবেষণা
ব্যাখ্যা
NIPORT:
- এটি হচ্ছে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- এর পূর্ণরুপ - National Institute of Population Research and Training.
- এটি ১৯৭৭ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয় যা ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।
- নিপোর্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।

তথ্যসূত্র - NIPORT ওয়েবসাইট।
৪,২৩১.
বর্তমানে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বীরাঙ্গনার সংখ্যা-
  1. ৪১৭ জন
  2. ৪৩৮ জন
  3. ৪৫৩ জন
  4. ৪৭৬ জন
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত আরো ২১জন বীরাঙ্গনাকে নারী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- ২৪ আগস্ট ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ স্বীকৃতি প্রদান করে গ্যাজেট প্রকাশ করে।
- এ পর্যন্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া মোট বীরাঙ্গণার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩৮ জন।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।

৪,২৩২.
পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলা ভাষার দাবি প্রথম উত্থাপন করেন কে?
  1. আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
  2. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  4. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাংলা ভাষা প্রস্তাব:
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
- উক্ত অধিবেশনে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য।
- তিনি গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি পেশ করেন।
- প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে বাংলার স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
- প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন।
- মুসলিম লীগের অন্যান্য সদস্যরাও প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে।
- প্রবল বিরোধিতার কারণে বাংলা ভাষা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি বাতিল ঘোষিত হয়।
- এই ঘটনা ভাষা আন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনাবিন্দু হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি)।

৪,২৩৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরে নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না?
  1. ৭ নং
  2. ৯ নং
  3. ১০ নং
  4. ১১ নং
ব্যাখ্যা
১০ নং সেক্টর: 
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে ১০নং সেক্টর গঠিত হয়।
- দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।
- ১০ নং সেক্টরে নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো, সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪,২৩৪.
শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের নাম ‘বাংলাদেশ’ রাখেন কবে?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
  3. ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯
  4. ৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু:
- ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র গণআন্দোলন শুরু হয়। 
- গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল বন্দীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। 
- ১৯৬৯ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল ছাত্র সমাবেশে লাখো শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে। 
- এ অনুষ্ঠানে তৎকালীন ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ ডাকসু'র পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আওয়ামী লীগের এক জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের নাম রাখেন ‘বাংলাদেশ’।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৩৫.
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস কবে পালন করা হয়?
  1. ক) ১২ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৪ ডিসেম্বর
  3. গ) ১৫ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১৮ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস:
- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৪ ডিসেম্বর পালন করা হয়।
- বুদ্ধিজীবী হত্যা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।
- ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুইশর বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়।
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির উদ্দেশে বাংলাদেশে শোকাবহ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪,২৩৬.
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কুষ্টিয়া
  2. যশোর
  3. বাগেরহাট
  4. মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ:

- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের স্থানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য পরবর্তী সময়ে সেখানে নির্মিত হয় একটি স্মৃতিসৌধ।
- মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পরেই বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগরকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্যোগ নেয়।
- মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত।
- ১৯৭৩ সালের ৩১ আগস্ট সরকার মুজিবনগরে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের নির্দেশ দেয়।
- ১৯৭৪ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এ প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
- ২০.১০ একর জমির উপর স্মৃতিসৌধটি স্থাপিত।
- ২৩টি কংক্রিটের ত্রিকোণাকার স্তম্ভ সমন্বয়ে এ স্মৃতিসৌধ নির্মিত।
- স্থপতি তানভীর কবিরের নকশায় এ সৌধটিকে উদীয়মান সূর্যের প্রতীক বলে মনে হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও মেহেরপুর জেলা ওয়েবসাইট।
৪,২৩৭.
বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ কোনটি?
  1. কয়লা
  2. চুনাপাথর
  3. সাদামাটি
  4. গ্যাস
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো — প্রাকৃতিক গ্যাস।

অন্যদিকে, 
- ১৯৫৫ সালে বার্মা ওয়েল কোম্পানি এদেশে সর্বপ্রথম সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৫৭ সাল থেকে গ্যাসের উৎপাদন শুরু হয়।
- দেশে বর্তমানে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৯টি।
- বাংলাদেশের অন্যান্য খনিজ সম্পদের মধ্যে কয়লা, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, গন্ধক, খনিজতেল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী এবং পেট্রোবাংলা, প্রথম আলো।
৪,২৩৮.
ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র 'সৈনিক' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মহিউদ্দিন আহমদ
  2. শাহেদ আলী
  3. আ.ব.ম. সফিউল্লাহ
  4. মোহাম্মদ আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র: 
- ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র 'সৈনিক' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন শাহেদ আলী।
- ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর 'সৈনিক' পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- এটি 'তমুদ্দিন মজলিশ' সংগঠনের উদ্যোগে প্রকাশিত হতো, এর লক্ষ্য ছিল বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা।
- পত্রিকাটি বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত গঠন করতে লেখকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- পরে, এর সম্পাদক হিসেবে আবদুল গফুর ও সানাউল্লাহ নুরী দায়িত্ব পালন করেন।
- 'সৈনিক' পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ও প্রথম আলো আর্কাইভ।
৪,২৩৯.
কার নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়?
  1. চৌধুরী খালেকুজ্জামান
  2. ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
  3. ড. মুহাম্মদ এনামুল
  4. অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
• আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।

তমদ্দুন মজলিশ:
- এটি ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম পুস্তিকা প্রকাশিত হয়।
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক মনোনিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

অধ্যাপক আবুল কাশেম:
- আবুল কাশেম (১৯২০-১৯৯১) শিক্ষাবিদ, ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ, লেখক।
- তিনি ১৯৪৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) এবং ১৯৪৫ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। 
- আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তিনি ছিলেন এর সাধারণ সম্পাদক। এই সংগঠনের মাধ্যমেই সর্বপ্রথম তিনি বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদানের দাবি উত্থাপন করেন।

উৎস: ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৪০.
ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিবাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে - 
  1. ক) ১৯৭১ সালের ২১শে জুলাই
  2. খ) ১৯৭১ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২১শে অক্টোবর
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ: 
- বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের প্রথম দেশ, যে দেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত আমাদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে।
- বিশেষভাবে ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে।
- পাকিস্তান ৩রা ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- ৬-১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয় ৷

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম - দশম শ্রেণি। 
৪,২৪১.
নিচের কোন রাজনৈতিক দলটি যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত ছিলো না?
  1. ক) কৃষক শ্রমিক পার্টি
  2. খ) নেজামে ইসলাম
  3. গ) খেলাফত রাব্বানী
  4. ঘ) গণতন্ত্রী দল
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলার চারটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট নামে নির্বাচনি জোট গঠিত হয়।
দলগুলো হলো:
- আওয়ামী মুসলিম লীগ
- কৃষক শ্রমিক পার্টি
- নেজামে ইসলাম
- গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জোট ২৩৭টি ‍মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে।
- আবুল হাশিম নেতৃত্বাধীন খেলাফত রাব্বানী পার্টি যুক্তফ্রন্ট জোটের অন্তর্ভুক্ত ছিলো না।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪,২৪২.
কোন আফ্রিকান দেশ বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি দেয়?
  1. সিয়েরা লিওন
  2. গাম্বিয়া
  3. গ্যাবন
  4. সেনেগাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বীকৃত লাভ:

- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
৪,২৪৩.
কর্ণফুলী কাগজকলে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়-
  1. ক) বাঁশ
  2. খ) আখের ছোবড়া
  3. গ) পাটকাঠি
  4. ঘ) ধানের খড়
ব্যাখ্যা

বর্তমানে বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থার অধীনে দেশে একটিমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত কাগজকল চালু রয়েছে।
এটি হলো রাঙামাটির চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত কর্ণফুলী পেপার মিল।
কাঁচামাল হিসেবে এতে বাঁশ ব্যবহার করা হয়।
সূত্রঃ বিসিআইসি ওয়েবসাইট, দৈনিক প্রথম আলো এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০।

৪,২৪৪.
বাঙালির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) ৬ দফাকে
  2. খ) ২১ দফাকে
  3. গ) ১১ দফাকে
  4. ঘ) ৩৫ দফাকে
ব্যাখ্যা
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের চরম অবহেলা এবং সীমাহীন বৈষম্যের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু সোচ্চার হন। তিনি ১৯৬৬ সালে ঘোষণা করেন পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা। তিনি ছয় দফাকে ‘আমাদের বাঁচার দাবি’ বলে আখ্যায়িত করেন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)।
৪,২৪৫.
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৩নং সেক্টর
  4. ৪নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৪,২৪৬.
ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৫৬ সালে
  2. ১৭৫৭ সালে
  3. ১৮৫৭ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম: 
- পলাশি যুদ্ধের এক'শ বছর পর ১৮৫৭ সালে ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহিদের নেতৃত্বে যে সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক শোষণ, সামাজিকভাবে হেয় করা, সর্বোপরি ভারতীয় সৈনিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এসবই এই সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
- বিদ্রোহের আগুন প্রথমে জ্বলে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে নামে এক সিপাহি।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
- বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,২৪৭.
বরেন্দ্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল কোন রাজার সময়ে?
  1. ক) বল্লাল সেন
  2. খ) ধর্মপাল
  3. গ) দ্বিতীয় মহিপাল
  4. ঘ) হেমন্ত সেন
ব্যাখ্যা

বরেন্দ্র বিদ্রোহ পালরাজা দ্বিতীয় মহীপালের (আনু. ১০৭৫-১০৮০ খ্রি.) রাজত্বকালে সংঘটিত হয়। এই বিদ্রোহ কৈবর্ত বিদ্রোহ নামে পরিচিত । 
- এ বিদ্রোহের ফলে দ্বিতীয় মহীপালের মৃত্যু ঘটে এবং কৈবর্ত প্রধান দিব্যের হাতে বরেন্দ্রের (উত্তর বাংলা) অধিকার চলে যায়। বরেন্দ্র বিদ্রোহ সম্পর্কে জানার একমাত্র উৎস হচ্ছে সন্ধ্যাকর নন্দীর বিখ্যাত কাব্যরামচরিতম। 
- এ কাব্যের প্রধান বিষয় হলো বরেন্দ্রের পতন এবং রামপাল কর্তৃক তা পুনরুদ্ধার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৪,২৪৮.
ধর্মপাল কত বছর রাজত্ব করেন?
  1. ক) ৩৫ বছর
  2. খ) ৩৭ বছর
  3. গ) ৪০ বছর
  4. ঘ) ৪৪ বছর
ব্যাখ্যা
ধর্মপাল:

- ধর্মপাল হচ্ছেন পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।
- তিনি প্রায় ৪০ বছর রাজত্ব করেন।
- বাংলার ইতিহাসে ধর্মপালই প্রথম রাজা যিনি সর্বপ্রথম উত্তর ভারতীয় রাজনীতিতে স্বল্পকালের জন্য হলেও কিছু সাফল্য অর্জন করেন। ধর্মপালের সময়ে বাংলা নতুন শক্তি ও উদ্দীপনার প্রতীক হয়েছিল।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ছিলেন এবং তিনি অনেক বিহারের প্রতিষ্ঠাতা।
- সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন ধর্মপাল
- রাজশাহী বিভাগের বর্তমান নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন।বরেন্দ্র অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে প্রতিষ্ঠিত এই বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সমগ্র ভারতবর্ষের মধ্যে সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ বিহার। এই জন্যে এটি মহাবিহার নামে পরিচিত। 
- পালবংশের অন্যতম রাজা দেবপাল ছিলেন ধর্মপালের পুত্র।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৪৯.
প্রতাপ আদিত্য কে ছিলেন?
  1. ক) বাংলার বারো ভুঁঞাদের একজন
  2. খ) রাজপুত রাজা
  3. গ) বাংলার শাসক
  4. ঘ) মোগল সেনাপতি
ব্যাখ্যা
বাংলার ইতিহাসে ষোড়শ শতক থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলায় যেসব বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি এবং শক্তিশালী সৈন্য ও নৌ-বহর নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তারাই বাংলার ইতিহাসে 'বারো ভুঁইয়া' নামে পরিচিত।

যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য বারো ভুঁইয়াদের মধ্যে সর্বাধিক সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ছিলেন।

১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতাপের ক্ষমতা ও খ্যাতি পুরো ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল।
বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন সোনার গাঁয়ের জমিদার ঈসা খাঁ।
তার মৃত্যুর পর মোগলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ স্তিমিত হয়ে যায়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৪,২৫০.
মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫৭৯ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৪৮৪ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- 'বাংলা নববর্ষ' পহেলা বৈশাখ চালু করেন সম্রাট আকবর
- ৫ নভেম্বর ১৫৫৬ তার সিংহাসন আরোহনের দিন হতে তা কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি, প্রোগ্রাম। 
৪,২৫১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পিআইএ-এর বিমান ছিনতাইয়ের ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমাটির নাম কি? 
  1. ফ্লাইট হাইজ্যাক ১৯৭১
  2. জেঁ কে ১৯৭১
  3. এ জে ৭১ 
  4. রানওয়ে ৭১
ব্যাখ্যা

• 'জেঁ কে ১৯৭১': 
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র, যা ১৯৭১ সালে ফরাসি তরুণ জঁ ক্যুয়ে (Jean Kay) কর্তৃক পিআইএ-এর বিমান ছিনতাইয়ের সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
- তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।  
- এটি ২০২৩ সালে মুক্তি পায়।
- পরিচালক: ফখরুল আরেফিন খান।
- প্রযোজনা: চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়েছে ভারতের কলকাতার পার্পল স্টুডিওতে।

- ফরাসি নাগরিক জাঁ কে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (PIA) একটি ৭০৭ বোয়িং বিমান হাইজ্যাক করেন। তিনি ২০ টন মেডিকেল সাপ্লাই এবং রিলিফ সামগ্রী লোড করার দাবি করেন, যাতে এগুলো বাংলাদেশের শরণার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছানো যায়। গল্পে যুদ্ধের মানবিক সংকট, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, হাইজ্যাকের সময়ের টেনশন এবং ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে জাঁ কে-এর উদ্দেশ্য দেখানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: 
i) The Daily star. (Link)
ii) The Daily Observer. (Link) 
iii) Times of India. 

৪,২৫২.
‘ময়ূর সিংহাসন’ কে নির্মাণ করেছিলেন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

সম্রাট শাহজাহান:
- সম্রাট শাহজাহান হলেন মুগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুত্র।
- তিনি  ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন জাহাঙ্গীরের উত্তরাধিকারী হিসেবে।
- তিনি পৃথিবীর স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ সমাধিসৌধ 'আগ্রার তাজমহল' নির্মাণ করেন।
- তিনি আগ্রায় মতি মসজিদ, দিল্লিতে লাল কেল্লা ও জামে মসজিদও নির্মাণ করেন; শাহজাহানাবাদ নামে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট শাহজাহান ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করেন।
- তিনি ইংরেজদের বঙ্গদেশে কুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন।
- ১৬৫৮ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পুত্র আওরঙ্গজেব তাকে বন্দী করেন এবং বন্দী অবস্থায় ১৬৬৬ সালে আগ্রা দূর্গে তার মৃত্যু হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
          ii) ইতিহাস ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৫৩.
মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের ধারণক্ষমতা কত?
  1. ক) ২৯২ টন
  2. খ) ২২০ টন
  3. গ) ২০০ টন
  4. ঘ) ১২০ টন
ব্যাখ্যা
মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের ধারণক্ষমতা ২০০ টন। এর স্থায়িত্বকাল ধরা হয়েছে ১০০ বছর৷
উৎসঃ দৈনিক ইত্তেফাক
৪,২৫৪.
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার কে ছিলেন?
  1. মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ
  2. শাহ আবদুল হামিদ
  3. হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদের স্পিকার:
- সভাধ্যক্ষ বা স্পিকার হলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সভা পরিচালক বা প্রিসাইডিং অফিসার
- স্পিকার সংসদ অধিবেশনের কাজকর্ম পরিচালনা করেন।
- তিনি সভার নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা করেন।
- কোনো সদস্য নিয়মবহির্ভূত আচরণ করলে তাকে সভাধ্যক্ষবরখাস্ত করতে পারেন।
- তিনি অনাস্থা প্রস্তাব, মুলতুবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব ও নিয়মানুযায়ী দৃষ্টি-আকর্ষণী বিজ্ঞপ্তি সহ বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপনের অনুমতি দেন।
- অধিবেশনে কোন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে তাও স্পিকার স্থির করেন।
- বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। 

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আবদুল হামিদ।

উৎস: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ওয়েবসাইট।
৪,২৫৫.
মুজিবনগর- এর পূর্বনাম কী ছিল?
  1. মেহেরপুর
  2. চন্দ্রনাথ
  3. স্বরূপকাঠি
  4. বৈদ্যনাথ তলা
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৪,২৫৬.
'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল' গানের গীতিকার কে?
  1. আপেল মাহমুদ
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. আব্দুল জব্বার
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গানগুলো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা যুগিয়েছে।

গানসমূহ:
⇒ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: সমর দাস।
- গানটি কয়েকজন শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে প্রচার করা হয়।

⇒ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: আপেল মাহমুদ।

⇒ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর:
- কথা ও সুর: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়।

⇒ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: স্বপ্না রায়।

⇒ সালাম সালাম হাজার সালাম:
- গীতিকার: ফজলে খোদা।
- সুরকার: আব্দুল জব্বার।
- শিল্পী: আব্দুল জব্বার।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৪,২৫৭.
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয় কখন?
  1. ক) ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫
  2. খ) ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩
  3. গ) ১২ নভেম্বর ১৯৯৬
  4. ঘ) ১৯ ডিসেম্বর ১৯৯৯
ব্যাখ্যা
১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মুশতাক আহমেদ কুখ্যাত ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করেন।
এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। তাদের বিচারের আওতায় আনা যাবে না মর্মে ঘোষণা দেয় হয়।

১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে গৃহীত সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করে।

পরবর্তীতে, ১২ নভেম্বর ১৯৯৬ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে। যার ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করা সম্ভব হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪,২৫৮.
নোয়াখালী জেলার পূর্ব নাম কি?
  1. ক) সুর্বণ গ্রাম
  2. খ) সুধারাম
  3. গ) লাকসাম
  4. ঘ) পাটগ্রাম
ব্যাখ্যা

নোয়াখালীর নামকরণ: ১৭৬০ এর দশকের শেষের দিকে নোয়াখালীর নামের উৎপত্তি হয়।তখন আওরঙ্গজেব ছিলেন দিল্লির সম্রাট। পার্বত্য ত্রিপুরার পাহাড় থেকে উৎসারিত ডাকাতিয়া নদীর বন্যায় ঘন ঘন প্লাবিত হতো ভুলুয়ার উত্তর এবং পূর্বাঞ্চল। বন্যার হাত থেকে এখানকার কৃষি অঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য কুমিল্লার ফৌজদারের তত্ত্বাবধানে ডাকাতিয়া থেকে রামগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, চৌমুহনীর মধ্য দিয়ে একটি নতুন খাল কেটে বন্যার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলো মেঘনা ও ফেণী নদীর সঙ্গমস্থলে।
সুদীর্ঘ এই খালটি খননের পর ভুলুয়া ভূখন্ডের নতুন নাম হলো নোয়াখালী, অর্থাৎ নতুন খালের দেশ। ‘নতুন’ শব্দের স্থানীয় লোকজ নাম ‘নোয়া’ থেকেই মোঘল যুগে কাটা খালটি ‘নোয়াখাল’ লোকমুখে এই অঞ্চলটিকে অভিহিত করেছে নোয়াখালী নামে।
১৮২১ সালে নোয়াখালীকে পৃথক জেলা গঠন করলেও ভুলুয়া নামেই এ জেলার পরিচিতি ছিল। ১৮২২ সালের ২৯ মার্চ গভর্ণর দ্বিতীয় হেস্টিংস স্বপরিষদে নোয়াখালীকে একটি পৃথক জেলার মর্যাদা দান করেন। কিন্তু ভুলুয়া রাজ্যের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য নবঘোষিত জেলার নামকরণ করা হয় ভুলুয়া।
১৮৬৮ সাল হতে সরাসরি এ অঞ্চলের নামকরণ করা হয় নোয়াখালী। ১৯৮৪ সালে নোয়াখালী জেলা ভেঙ্গে লক্ষীপুর ও ফেণী নামে আলাদা দুটি জেলা গঠিত ।
সুধারাম (সদর) থানা: আয়তন এবং জনসংখ্যার দিক থেকে সদর থানাটি নোয়াখালী জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম থানা হিসেবে পরিচিত। ১৮৬১ সালে এটি একটি থানা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ থানাটির পূর্বে ‘সুধারাম’ থানা হিসেবে পরিচিতি ছিল।
- ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এ থানা নোয়াখালী সদর থানা হিসেবে পুন:নামকরণ করা হয়।
উৎসঃ সরকারী তথ্য বাতায়ন 

৪,২৫৯.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির প্রধান কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
  3. গ) আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৬০.
মুজিবনগর সরকারের ‘ক্যাবিনেট সচিব’ ছিলেন -
  1. ক) এইচ টি ইমাম
  2. খ) খন্দকার আসাদুজ্জামান
  3. গ) আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. ঘ) লুৎফর রহমান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের ‘ক্যাবিনেট সচিব’ ছিলেন - এইচ টি ইমাম।

• মুজিবনগর সরকার:

- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

- মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলের - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৬১.
'অবৈতনিক শিক্ষার ধারণা বস্তুত অবাস্তব কল্পনা মাত্র' কোন শিক্ষা কমিশন এই রিপোর্ট পেশ করে?
  1. নূর শিক্ষা কমিশন
  2. হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন
  3. আজাদ শিক্ষা কমিশন
  4. শরিফ শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
- 'অবৈতনিক শিক্ষার ধারণা বস্তুত অবাস্তব কল্পনা মাত্র' শরিফ শিক্ষা কমিশন এই রিপোর্ট পেশ করে।

উল্লেখ্য,
- এই কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ।
- এই কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- কমিশন রিপোর্ট দাখিল করেছিল আট মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট ১৯৫৯।
- ১৯৫৯ সালের প্রথম দিকে শরিফ কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- ১৯৬২ সালে সামরিক আইন প্রত্যাহার হওয়ায় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।
- আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে ১৪৪ ধারার মধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। 
- বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে, এ শিক্ষা আন্দোলন নিঃসন্দেহে ইতিহাসের বাঁক ফেরানো ঘটনা।
- বস্তুত এ আন্দোলনের পর থেকে ছাত্রসমাজ কখনো চুপচাপ থাকেনি।
- তারা বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করেছে এবং সরকারবিরোধী চেতনাকে বেগবান করেছে।

উৎস: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, প্রথম আলো। [link]
৪,২৬২.
বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি-
  1. কামরুল ইসলাম
  2. হামিদুর রহমান
  3. মঈনুল ইসলাম
  4. শামীম শিকদার
ব্যাখ্যা

স্থাপত্য নকশা: 
- যুক্তফ্রন্ট সরকার কর্তৃক ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র স্বতঃস্ফূর্তভাবে একুশে ফেব্রুয়ারি পালিত হয়।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি।
- ১৯৫৭ সালে তিনি ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়।
- এ নকশায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলের সম্মুখভাগের বিস্তৃত এলাকা এর অন্তর্ভূক্ত ছিল।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: ঢাকা জেলা অফিস ওয়েবসাইট।

৪,২৬৩.
বাকল্যান্ড বাঁধ কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. তুরাগ নদীর তীরে
  2. শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে
  3. পদ্মা নদীর তীরে
  4. বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে
ব্যাখ্যা
বাকল্যান্ড বাঁধ: 
- বাকল্যান্ড বাঁধ ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি শহর পরিবেষ্টনী বাঁধ।
- ১৮৬৪ সনে তৎকালীন নগর কমিশনার সি.টি বাকল্যান্ড এই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন।
- কার্গো ও যাত্রীবাহী স্টিমার চলাচল সুগম করার জন্য পাড়ের নিম্নভাগে পলি প্রতিরোধ করা এবং প্লাবন ও ভাঙন থেকে ঢাকা শহর রক্ষা প্রকল্পের অধীনে এই বাঁধ নির্মিত হয়।
- এ প্রকল্পের জন্য প্রথম চাঁদা দাতাদের মধ্যে ছিলেন খাজা আব্দুল গণি এবং ভাওয়াল জমিদার কালীনারায়ণ রায়।
- প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধ নির্মিত হয়।

এছাড়াও,
- ভারত টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করেছে বরাক নদীতে।
- টিপাইমুখ বাঁধ মণিপুর রাজ্য।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প তিস্তা সেচ প্রকল্প।
- দেশের প্রথম সেচ প্রকল্প গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প।
- ডিএনডি প্রকল্প - ঢাকা - নারায়ণগঞ্জ - ডেমরা প্রকল্প।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,২৬৪.
পরী বিবি কে ছিলেন?
  1. শায়েস্তা খানের কন্যা
  2. আওরঙ্গজেবের কন্যা
  3. মুর্শিদকুলি খানের স্ত্রী
  4. শায়স্তা খানের স্ত্রী
ব্যাখ্যা
♠ পরী বিবি:
- তিনি বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খান এর কন্যা।
- বাদশাহ আওরঙ্গজেব এর পুত্র মুহম্মদ আজম এর স্ত্রী।
- বাংলাদেশ সরকারের কাটরার ওয়াকফ পরিদপ্তরে সংরক্ষিত শায়েস্তা খানের নিজস্ব অছিয়তনামা থেকেই শায়েস্তা খানের কন্যা হিসেবে বিবি পরীকে (ইরান দু রহমত বানু) চিহ্নিত করা যায়।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে মসজিদের পূর্ব দিকে বিবি পরীকে সমাহিত করা হয়। শায়েস্তা খান কন্যার সমাধির উপর একটি সুদৃশ্য সৌধ নির্মাণ করেন।

তথ্যসুত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪,২৬৫.
ঢাকার প্রাচীন নাম কি?
  1. জাহাঙ্গীরনগর
  2. ইসলামপুর
  3. সোনারগাঁ
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- ঢাকার প্রাচীন নাম জাহাঙ্গীরনগর।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের জীবিতকাল পর্যন্ত এ নাম বজায় ছিলো।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,২৬৬.
ইস্কান্দার মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত করে কে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
  1. ফিরোজ খান নুন
  2. আইয়ুব খান
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. লিয়াকত আলী খান
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসন জারি:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসন ব্যবস্থায় একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।

উল্লেখ্য,
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৬৭.
৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত ব্রিগেড ফোর্স কোনটি?
  1. এম ফোর্স
  2. কে ফোর্স
  3. এস ফোর্স
  4. আর ফোর্স
  5. জেড ফোর্স
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৬৮.
'কবি জসীমউদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার' এর জন্য কে মনোনীত হন?
  1. ক) সালমা খাতুন
  2. খ) মোহাম্মদ রফিক
  3. গ) নাসির উদ্দিন
  4. ঘ) জামাল আহমেদ
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত ২০২৩ সালের 'কবি জসীমউদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার' এর জন্য মনোনীত হন কবি মোহাম্মদ রফিক
- ১ জানুয়ারী ২০২৩ বাংলা একাডেমি তাঁর নাম ঘোষণা করে। 
- ২০১৯ সাল থেকে শুরু করে প্রতি দুই বছর পরপর 'কবি জসীমউদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার' দিয়ে আসছে বাংলা একাডেমি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার ফেব্রুয়ারি, ২০২৩। 
৪,২৬৯.
পদ্মা সেতুর কোন কোন পিলারের উপর প্রথম স্প্যানটি বসানো হয়েছে?
  1. ক) ৩৪ ও ৩৫
  2. খ) ৩৫ ও ৩৬
  3. গ) ৩৬ ও ৩৭
  4. ঘ) ৩৭ ও ৩৮
ব্যাখ্যা
পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ৪১টি স্টিলের স্প্যান ব্যবহৃত হয়েছে।
খুঁটির সংখ্যা ৪২টি। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার।
২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির উপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়।
সর্বশেষ স্প্যানটি বসানো হয় চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বর ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির উপর।
মূল পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার।

(সূত্র: প্রথম আলো)
৪,২৭০.
খিলাফত আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করা
  2. ব্রিটিশদের ভারত থেকে বিতাড়ন করা
  3. মদিনায় নতুন খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা
  4. খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষা করা
ব্যাখ্যা

- খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষা করা খিলাফত আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ।

খিলাফত আন্দোলন: 

- খিলাফত ইসলামের একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। মদীনায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম।
- খিলাফত রাজনৈতিক বিবর্তনের ধারায় দামেস্ক, বাগদাদ, কায়রো ও কর্ডোভা হয়ে তুরস্কের অটোমান সুলতানদের অধিকার যায়।
- এ মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অধিকারী হওয়ায় বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মুসলমানদের মত তুরস্কের সুলতান খলিফার প্রতি ভারতীয় মুসলমানদের আনুগত্য ও সম্মানবোধ অনেক দিন থেকেই ছিল।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) শুরু হলে তুরস্ক নিজের স্বার্থে মিত্র শক্তির (ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়া ইত্যাদি) বিরুদ্ধে অক্ষ শক্তির (জার্মানী, ইটালী ইত্যাদি) পক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ায় ভারতীয় মুসলমানরা রাজনৈতিকভাবে হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে।
- এমতাবস্থায় চতুর ব্রিটিশদের প্ররোচনায় ভারতীয় মুসলমানগণ এ শর্তে যুদ্ধে যোগদান করেন যে, যুদ্ধ শেষে ব্রিটিশরা তুরস্কের খিলাফতের মর্যাদা রক্ষা করবে, এর কোন ক্ষতি করবে না।
- কিন্তু যুদ্ধে অক্ষ শক্তি তথা তুরস্ক পরাজিত হলে এবং ব্রিটিশদের মারমুখি অবস্থানের কারণে মুসলমানগণ খলিফার মর্যাদা রক্ষা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার ব্যাপারে শংকিত হয়ে পড়েন।
- এমতাস্থায় খলিফার মর্যাদা ও খিলাফত রক্ষার দাবীতে ভারতীয় মুসলমানগণ যে আন্দোলন গড়ে তোলে, ইতিহসে এ আন্দোলন 'খিলাফত আন্দোলন' নামে পরিতি।
- আলী ভ্রাতৃদ্বয় (মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী), মওলানা আবুল কালাম আযাদ, ড. এম.এ. আনসারী, হযরত মোহানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক প্রমুখের নেতৃত্বে এ আন্দোলন পরিচালিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৭১.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার খসড়া কে প্রণয়ন করেন?
  1. আবুল কাশেম
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. ফজলুল হক
  4. মওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন দল ও জোট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ২১ দফার দাবিগুলো ভোটারদের মন জয় করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৭২.
মৌলিক গণতন্ত্রের প্রথম স্তর ছিল-
  1. জেলা পরিষদ
  2. বিভাগীয় পরিষদ
  3. ইউনিয়ন পরিষদ 
  4. থানা পরিষদ
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র :
→ জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর পাকিস্তানের শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোরআমুল  পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন। তিনি প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে এক অদ্ভুত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন। তার এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল 'মৌলিক গণতন্ত্র'।

→ মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে একধরনের সীমিত গণতন্ত্র।
→ যাতে কেবল নির্দিষ্টসংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল।
→ ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়।
→ প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা।
যথা:
(১) ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামে) এবং টাউন ও ইউনিয়ন কমিটি (শহরে),
(২)থানা পরিষদ (পূর্ব পাকিস্তানে), তহসিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে),
(৩) জেলা পরিষদ,
(৪)বিভাগীয় পরিষদ।

→ এই পরিষদগুলোতে নির্বাচিত ও মনোনীত উভয় ধরনের সদস্য থাকত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা।

৪,২৭৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ক) ৬ নং সেক্টর
  2. খ) ৭ নং সেক্টর
  3. গ) ৮ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৯ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।

এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়। মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
৮নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।
- ঢাকা শহর ২নং সেক্টরের অধীন ছিলো।

(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
৪,২৭৪.
রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী কোনটি ছিল?
  1. কর্ণসুবর্ণ
  2. কোটিবর্ষ
  3. মহাস্থানগড়
  4. ময়নামতি
ব্যাখ্যা

রাঢ় জনপদ:
- রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো। এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- রাঢ় জনপদটি ২টি অংশে বিভক্ত ছিল। দক্ষিণ রাঢ় এবং উত্তর রাঢ় নিয়ে ছিল রাঢ় জনপদ। এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।

• অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- বৌদ্ধ পুঁথি ও বিদেশী পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তৎকালে তাম্রলিপ্তি একটি বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৭৫.
‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে কবে?
  1. ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি
  2. ১৯৬৯ সালের ১৫ জানুয়ারি 
  3. ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি 
  4. ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী 
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ:
-  ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি গঠিত হয় ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’।  
-  এর লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির বাস্তবায়ন।
- ও প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান। 
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংগঠন ও সুসংবদ্ধকরণ এবং নেতৃত্ব প্রদানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে হত্যা করা হয় ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি।
- ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া। 

৪,২৭৬.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য কতজন?
  1. ক) ৬৭
  2. খ) ৪৮
  3. গ) ৬৮
  4. ঘ) ৫০
ব্যাখ্যা

১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

এবার আমাদের প্রশ্নে আসা যাক,
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদক প্রাপ্ত -
সেনাবাহিনী - ৪৮ [লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিমকে বাদ দিয়ে]
নৌ বাহিনী - ৮
বিমান বাহিনী - ৬
গণবাহিনী - ৫

এছাড়া, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হন কর্ণেল জামিল। তিনি ২০০৯ সালে বীর উত্তম উপাধি পান।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী থেকে - ৪৮ জন
এবং কর্ণেল জামিলসহ ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী থেকে - ৪৯ জন

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।

৪,২৭৭.
দেশের বাহিরে বঙ্গবন্ধুর প্রথম স্থায়ী প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে কোথায়?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ইতালি
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) কানাডা
ব্যাখ্যা
দেশের বাহিরে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্র্যাম্যাক শহরে বঙ্গবন্ধুর স্থায়ী প্রতিকৃতি (ম্যুরাল) স্থাপন করা হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট ২০২০ এটি উদ্বোধন করা হয়।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৪,২৭৮.
কোন অধিদপ্তরকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ক্লাস্টারে লিডিং অধিদপ্তর হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে?
  1. সমাজসেবা অধিদপ্তর
  2. স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর
  3. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর
  4. পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর
ব্যাখ্যা
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়:
- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের পিছিয়েপড়া এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কল্যাণ, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন সাথে সংশ্লিষ্ট একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়।
- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, এসিডদগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় একইসাথে দেশব্যাপী গ্রামীণ এবং শহুরে উভয় এলাকায় সমাজের পিছিয়েপড়া, অনগ্রসর অংশ, বেকার, ভূমিহীন, অনাথ, দুঃস্থ, ভবঘুরে, নিরাশ্রয়, সামাজিক, বুদ্ধিমত্তা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দরিদ্র, অসহায় রোগী, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নে বহুমাত্রিক এবং নিবিড় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত দপ্তর ও সংস্থাসমূহের মাধ্যমে এ সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তর:
- সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নে যে সকল মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর কাজ করে থাকে তার মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর অন্যতম।
- সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল (NSSS) -২০১৫ এ সমাজসেবা অধিদপ্তরকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ক্লাস্টারে লিডিং অধিদপ্তর হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। 

উৎস: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৪,২৭৯.
পাকিস্তানের গণপরিষদে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি কে জানিয়েছিলেন?
  1. আবদুল মতিন
  2. তমিজউদ্দিন খান
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. নুরুল হক
ব্যাখ্যা
• ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮৬-১৯৭১):
- ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
-  ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।

- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভার সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ অনুসরণে তিনি মুক্তি সংঘ নামে একটি সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা গঠন করেন। 
- ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এতে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারেরও প্রস্তাব পেশ করেন। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২৮০.
বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক কে ছিলেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ
  2. নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
  3. জালালউদ্দিন মাহমুদ
  4. সিরাজউদ্দিন মাহমুদ
ব্যাখ্যা
তুর্কি শাসন:
- ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
- বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ।
- এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
- বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
- দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
- দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৮১.
যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় কবে?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৪৭ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি এবং
৪. হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।

উল্লেখ্য,
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- আওয়ামী মুসলিম লীগের নির্বাচনী কর্মসূচির ৪২ দফার প্রধান প্রধান দাবি নিয়ে।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

নোট: [বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র ১ম ও ২য় খণ্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৮২.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য কয়জনকে সর্বোচ্চ সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব দেয়া হয়?
  1. ৮ জন
  2. ৭ জন
  3. ১০ জন
  4. ৯ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২৮৩.
'মৌলিক গণতন্ত্র' ব্যবস্থায় বেসিক ডেমোক্র্যাট কত ছিল?
  1. ৬০ হাজার
  2. ৭০ হাজার
  3. ৮০ হাজার
  4. ৯০ হাজার
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্রের স্তরগুলো হচ্ছে:
- ইউনিয়ন কাউন্সিল,
- থানা কাউন্সিল,
- জেলা কাউন্সিল এবং
- বিভাগীয় কাউন্সিল।

• ছোট ছোট শহরে টাউন কমিটি এবং বড় বড় শহরে পৌরসভা গঠনের বিধান করা হয়।
- এই কাঠামোর সর্ব নিম্নস্তর ইউনিয়ন কাউন্সিল এবং পৌরসভা বা টাউন কমিটি জনগণের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল।
- এর ওপরের স্তরগুলো পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে গঠিত ছিল।
- মৌলিক গণতন্ত্রের সর্ব নিম্নস্তরে যে ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান মিলে।
- এদের সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার। এদেরকে বেসিক ডেমোক্রাট বা সংক্ষেপে বি.ডি. মেম্বার বলা হতো।
- এই ৮০ হাজার বি.ডি. মেম্বার দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে নির্বাচিত করতেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৮৪.
‘অলাতচক্র’ চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু কোন জাতীয় ইতিহাসকে তুলে ধরে?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. দেশ ভাগ 
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

অলাতচক্র:
- দেশের প্রথম থ্রিডি সিনেমা ‘অলাতচক্র’।
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফার উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে।
- এটি পরিচালনা করেছেন হাবিবুর রহমান।

⇒ ‘অলাতচক্র’ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমা।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ ছবিতে তায়েবা চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও দানিয়েল চরিত্রে আহমেদ রুবেল।

উৎস: i) The Daily Star Bangla.
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।

৪,২৮৫.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে কত দফা ছিল?
  1. ৬ দফা
  2. ১১ দফা
  3. ১৮ দফা
  4. ২১ দফা
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৪ সালের পাকিস্তানের পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে গঠিত বিরোধী দলগুলোর একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনী জোট হলো যুক্তফ্রন্ট। 
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। দলগুলো ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল। 
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা। ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- মাওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে এটি 'একুশ দফা' কর্মসূচির ভিত্তিতে বিশাল জয় লাভ করে। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৮৬.
BNFE-এর পূর্ণরূপ কী? 
  1. Bangladesh National Formal Education.
  2. Bureau of National Formal Education.
  3. Bangladesh Non-Formal Examination.
  4. Bureau of Non-Formal Education.
ব্যাখ্যা

• উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো,(Bureau of Non-Formal Education-BNFE)
- ২০০৫ সালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিলুপ্ত হয় এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো গঠন করা হয়।
- সবার জন্য শিক্ষা-র জাতীয় ও আন্তর্জাতিক লক্ষ্য পূরণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০০৬ সালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে। - এ শিক্ষানীতির সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্যাবলির মধ্যে রয়েছে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সাব-সেক্টর তৈরি, শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিতকরণ এবং চাহিদামূলক, অর্থ উপার্জনোপযোগী ও  যথার্থ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি অংশীদারি এবং সহযোগিতাপূর্ণ কর্মপদ্ধতি তৈরি করা।
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে দেশে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের লক্ষ্য ঘোষণা করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো বেশ কয়েকটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,২৮৭.
মুক্তিযুদ্ধে বীরপ্রতীক খেতাব প্রাপ্ত কাঁকন বিবি কোন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ছিলেন?
  1. খাসিয়া
  2. চাকমা
  3. মারমা
  4. গারো 
ব্যাখ্যা

কাঁকন বিবি: 
- কাঁকন বিবির মূল নাম- কাঁকাত হেনিনচিতা।
- কাঁকন বিবি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর কাঁকন ওরফে নূরজাহান নামে পরিচিত হন।
- কাঁকন বিবি ছিলেন খাসিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের একজন বাঙালি নারী মুক্তিযোদ্ধা।
- তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি ‘মুক্তিবেটি’ নামে পরিচিত ছিলেন।
- কাঁকন বিবি প্রায় ২০টি যুদ্ধে অংশ নেন। 
- তিনি মুক্তিবাহিনীর হয়ে ৫ নং সেক্টরে গুপ্তচরের কাজ করেছেন।
- স্বাধীনতার ২৫ বছর পর, ১৯৯৬ সালে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করেন।
- জীবদ্দশায় তিনি বীরপ্রতীক খেতাবের সুবিধা পুরোপুরি ভোগ করতে পারেননি।
- তিনি ১০৩ বছর বয়সে ২১ মার্চ, ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা [ লিঙ্ক]। 

৪,২৮৮.
What is the national game of Bangladesh?
  1. ক) Football
  2. খ) Cricket
  3. গ) Baseball
  4. ঘ) Kabaddi
ব্যাখ্যা
কাবাডি:

- বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি।
- বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- কাবাডি খেলাকে জাতীয় খেলার মর্যাদা দেয়া হয় ১৯৭২ সালে।
- ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সফররত ভারতীয় কাবাডি দলের সঙ্গে প্রথম কাবাডি টেস্ট খেলে।
- ১৯৭৮ সালে এশিয়ান অ্যামেচার কাবাডি ফেডারেশন গঠন করা হয়।
- ১৯৮০ সালে সফলভাবে প্রথম এশীয় কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয় এবং এতে ভারত চ্যাম্পিয়ন ও বাংলাদেশ রানার্স আপ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪,২৮৯.
চট্টগ্রাম ও স্বন্দীপ থেকে পর্তুগীজদের উচ্ছেদ করেন বাংলার কোন শাসক?
  1. ক) ইসলাম খান
  2. খ) শাহ সুজা
  3. গ) কাসেম খান জুয়েনী
  4. ঘ) শায়েস্তা খান
  5. ঙ) মীর জুমলা
ব্যাখ্যা
পর্তুগীজরা আরও নানা প্রকার অপরাধমূলক কাজ করত। তাঁরা জোর করে এদেশেরই অসহায় বালক-বালিকাদের খ্রিস্টান বানাত। এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে দাস দাসীরূপে বিক্রি করতো বিদেশের বাজারে। পর্তুগীজ সৈন্যরা জোর করে এদেশের মেয়ে বিয়ে করত। তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগীজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন। সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন। সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও স›দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৪,২৯০.
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রাপ্ত এর সংখ্যা কতজন?
  1. ক) ১১
  2. খ) ৭
  3. গ) ২২
  4. ঘ) ১৭৫
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ৭ জনকে সর্বোচ্চ সামরিক পদবী ''বীরশ্রেষ্ঠ' প্রদান করা হয়।
৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ হলেন -
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,২৯১.
পাকিস্তানের ২য় সংবিধান ঘোষণা করেন কে?
  1. ইস্কান্দার আলী মির্জা
  2. আইয়ুব খান
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. জুলফিকার আলী ভুট্টো
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের ২য় সংবিধান:
- ১৯৬২ সালের মার্চ মাসে আইয়ুব খান পাকিস্তানের নতুন সংবিধান ঘোষণা করেন।
- ১৯৬২ সালের ১ মার্চ সংবিধান ঘোষণা করা হলে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং ক্লাশ বর্জন শুরু করে।
- ১৯৬২ সালের ৮ জুন পাকিস্তানের দ্বিতীয় সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- ঐদিন সামরিক আইন তুলে নেয়া হয়।
- এর ফলে রাজনীতিবিদগণ ও ছাত্র সংগঠনগুলো প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ পায়।
- এ সংবিধানটি ছিল এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক।
- এই সংবিধানে কেন্দ্র ও প্রদেশের আইনসভা মন্ত্ৰী পরিষদ ও গভর্নরের ক্ষমতাকে সংকুচিত করে প্রেসিডেন্টের হাতে সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়।
- এতে বিচার বিভাগের ক্ষমতাও খর্ব করা হয়।
- ঢাকাকে নাম মাত্র দ্বিতীয় রাজধানীর মর্যাদা দেওয়া হয়।
- এটি পাকিস্তানের ২য় সংবিধান।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৯২.
'পানিপথ প্রান্তর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মুলতানের অদূরে
  2. খ) দিল্লির অদূরে
  3. গ) পেশোয়ারের অদূরে
  4. ঘ) তুর্কির অদুরে
ব্যাখ্যা
- ভারতবর্ষে বাবুরের প্রাথমিক বিজয় তাঁকে দিল্লীর সিংহাসন দখলের জন্য উৎসাহিত করে।
- সে লক্ষে তিনি দিল্লীর অদূরে ঐতিহাসিক পানিপথ প্রান্তরে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ১২ এপ্রিল দিল্লীর লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদীর সাথে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হন।
- বাবুর তাঁর আজীবনী তুযুক-ই-বাবুরী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এ সময়ে তাঁর সাথে বার হাজার সৈন্য ছিল।
- তাঁর জ্যৈষ্ঠপুত্র হুমায়ুনও তাঁর সাথে যোগদান করেন।
- এ যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ।
- পানিপথ প্রান্তরে বাবুর প্রতিরক্ষা কৌশল হিসেবে পরিখা খনন করেন এবং কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন।
- এ যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী প্রাণপণ যুদ্ধ করেও পরাজিত ও নিহত হন।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৯৩.
তিতুমীর বাঁশের কেল্লা কোথায় নির্মাণ করেন?
  1. কলকাতা
  2. নদীয়া
  3. নারিকেলবাড়িয়া
  4. সরফরাজপুর
ব্যাখ্যা
• তিতুমীরের কৃষক বিদ্রোহ: 
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর (১৭৮২-১৮৩১) পশ্চিম বাংলার চব্বিশ পরগনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- নদীয়া জেলার জমিদারের লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান হিসেবে কাজ করেন।
-  ওহাবী আন্দোলনের নেতা সৈয়দ আহমদ বেরেলভির সান্নিধ্য লাভ করেন। 
-  জমিদার, নীলকর ও ব্রিটিশ বাহিনীর নির্মম অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন।
- শীঘ্রই পশ্চিম বাংলার বিশাল অঞ্চল জুড়ে তিতুমীরের নেতৃত্বে কৃষক বিদ্রোহ দেখা দেয়।
- অত্যাচারী নীলকর, জমিদার ও ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে একাধিক জায়গায় তিতুমীরের বাহিনীর সংঘর্ষ হয়।
- চূড়ান্ত সংঘর্ষ বাঁধে বারাসাতের অদূরে নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে।
- নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে শাসকগোষ্ঠির আক্রমণের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

অপরদিকে,
- আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত কর্ণেল সুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ বাহিনী।
- কামানের গোলার আঘাতে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এ সম্মুখ যুদ্ধে ৫০ জন সহযোদ্ধাসহ তিতুমীর শহীদ হন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৪,২৯৪.
ইতিহাসের জনক বলা হয় -
  1. ক) হেরোডোটাস
  2. খ) ইরাটথেনিস
  3. গ) এরিস্টটল
  4. ঘ) টলেমি
ব্যাখ্যা
• ইতিহাসের জনক:
- প্রাচীন গ্রিসের ঐতিহাসিক হেরোডোটাসকে ‘ইতিহাসের জনক’ বলা হয়।
- তিনি সর্বপ্রথম গ্রিক হিস্টরিয়া (Historia) শব্দটি ব্যবহার করেন। তার মতে ইতিহাস হলো যা সত্যিকার অর্থে ছিলো বা সংঘটিত হয়েছিলো তা অনুসন্ধান করা ও লেখা।
- খুকুভাইডিসকে ‘বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের জনক’ বলা হয়।
- জার্মান ঐতিহাসিক লিওপোল্ড ফন র‌্যাংককে ‘আধুনিক ইতিহাসের জনক’ বলা হয়।

উৎস: , নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা।
৪,২৯৫.
ভাষা আন্দোলনের সময়কালে পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) খাজা নাজিমুদ্দিন
  2. খ) লিয়াকত আলী খান
  3. গ) নূরুল আমীন
  4. ঘ) আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের সময়কালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমুদ্দিন এবং মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নূরুল আমীন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)।
৪,২৯৬.
যুক্তফ্রন্টে মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন দল কোনটি ছিল?
  1. নিজাম-ই-ইসলামী
  2. কৃষক-শ্রমিক পার্টি
  3. বামপন্থী গণতন্ত্রী দল
  4. আওয়ামী মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পাকিস্তানের মুসলিম লীগ বিরোধী পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী মোর্চা বা জোট গঠন করে।
- এই জোট 'যুক্তফ্রন্ট' নামে পরিচিত।
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্টে মূলত চারটি রাজনৈতিক দল ছিল।

⇒ এগুলো হলো:
- মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন: আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন: কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
- মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন: নিজাম-ই-ইসলামী এবং
- হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন: বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৯৭.
ক্র্যাক প্লাটুন কী?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধত্তোর অস্ত্র উদ্ধার অভিযান
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা সংগঠন
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ অভিযান
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ২নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশারফের উদ্যোগে এই গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলা হয়।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন:
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ।

তথ্যসূত্র: দৈনিক সমকাল।

৪,২৯৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় দুর্ধর্ষ গেরিলা দল ‘হেমায়েত বাহিনী’ কোন এলাকায় গড়ে উঠেছিল?
  1. মৌলভীবাজার
  2. বরিশাল
  3. টাঙ্গাইল
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

মুক্তিবাহিনী গঠন ও কার্যক্রম:
- মুজিবনগর সরকার সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী। 

⇒ নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী:
- মুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে দুটি শাখায় বিভক্ত ছিল ১. নিয়মিত বাহিনী ও ২. অনিয়মিত বাহিনী।
১. নিয়মিত বাহিনী:
- ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিটগুলোর বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়। সরকারিভাবে এদের নামকরণ করা হয় এম. এফ. (মুক্তিফৌজ)। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত বাহিনী হিসেবে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীও গড়ে তোলে।
২. অনিয়মিত বাহিনী:
- ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, কৃষক ও সকল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে অনিয়মিত বাহিনী গঠিত হয়। এই বাহিনীর সরকারি নামকরণ ছিল 'গণবাহিনী' বা এফ. এফ. (ফ্রিডম ফাইটার বা মুক্তিযোদ্ধা)। তাদের নিজ নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হতো। এছাড়া ছাত্রলীগের বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে গঠিত হয় 'মুজিববাহিনী'। কমিউনিস্ট পার্টি ন্যাপ (মোজাফফর), ন্যাপ (ভাসানী) ও ছাত্র ইউনিয়নের আলাদা গেরিলা দল ছিল।

⇒ আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে ওঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল), আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ), বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল), হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল), হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ), আকবর বাহিনী (মাগুরা), লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা) ও জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

৪,২৯৯.
পদ্মা ও ভাগিরথী নদীর মধ্যবর্তী স্থানে কোন রাজ্যের অবস্থান ছিলো?
  1. ক) সমতট
  2. খ) বরেন্দ্র
  3. গ) হরিকেল
  4. ঘ) গঙ্গারিডি
ব্যাখ্যা
পদ্মা ও ভাগীরথী নদীর মধ্যবর্তী স্থানে গঙ্গারিডই নামক রাজ্যের অবস্থান ছিলো। আলেকজান্ডার কর্তৃক ভারত আক্রমণের সময় এ রাজ্য অস্তিত্বশীল ছিলো বলে অনুমান করা হয়। একই সময়ে প্রাসিয়র নামে আরেকটি রাজ্যেরও অস্তিত্ব ছিলো। হরিকেল জনপদ সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত, সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল এবং বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,৩০০.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব-
  1. মুর্শিদ কুলি খান
  2. আব্বাস আলী মীর্জা
  3. মীর কাসিম
  4. সিরাজউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
নবাব মুর্শিদকুলি খান: 
- ১৭০০ সালে বাংলায় আসেন মুর্শিদ কুলি খান।
- তিনি ১৭২৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।
- প্রথমে তাঁকে বাংলার দেওয়ান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- দেওয়ানের কাজ ছিল সুবার রাজস্ব আদায় ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা।
- সম্রাট ফররুখ শিয়ারের রাজত্বকালে ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদ কুলি খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর দুর্বল মুঘল সম্রাটগণ দূরবর্তী সুবাগুলোর দিকে তেমন দৃষ্টি দিতে পারেননি।
- আঠারো শতকের বাংলায় মুঘল শাসনের ইতিহাস নিজামত বা নবাবি আমলরূপে পরিচিত।
- আর প্রায় স্বাধীন শাসকগণ পরিচিত হন 'নবাব' হিসেবে।
- মুর্শিদ কুলি খান বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব। 
- তিনি ঢাকা থেকে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।

উল্লেখ্য,
-  বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।