বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৪১ / ১২৪ · ৪,০০১৪,১০০ / ১২,৪২১

৪,০০১.
পানিপথ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) দিল্লির অদূরে
  2. খ) মুলতানের অদূরে
  3. গ) পেশোয়ারের অদূরে
  4. ঘ) সিন্ধুর অদূরে
ব্যাখ্যা
পানিপথ উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের একটি শহর। এটি দিল্লি থেকে ৯০ কি.মি. উত্তরে যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জহিরুদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ হয় ১৫৫৬ সালে , পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ হয় ১৭৬১ সালে।
উৎস : ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতি (একাদশ-দ্বাদশ)
৪,০০২.
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) সর্বপ্রথম কী নামে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. কলেজ অব এডুকেশন
  2. জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি)
  3. জাতীয় শিক্ষা একাডেমি
  4. প্রাইমারি টিচার্স ইনস্টিটিউট
ব্যাখ্যা

নেপ:
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিকে সংক্ষেপে নেপ বলা হয়।
- নেপ সর্বপ্রথম ১৯৬৯ সনে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এখানে ২ বৎসর মেয়াদি ইন্টারমিডিয়েট ইন এডুকেশন (আই এড) কোর্স পরিচালিত হয়।
- ময়মনসিংহ ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, রংপুর ও যশোরে অনুরূপ আরো পাঁচটি জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) স্থাপিত হয়।
- জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি)গুলো রূপান্তরিত হয়ে কলেজ অব এডুকেশন নামে যাত্রা শুরু করে মহান স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে।
- ময়মনসিংহস্থ কলেজ অব এডুকেশনটি ১৯৭৮ সালে "মৌলিক শিক্ষা একাডেমি" (Academy for Fundamental Education) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)"।
- ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে একাডেমি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

 উৎস: নেপ ওয়েবসাইট।

৪,০০৩.
ঢাকা স্বাধীনতা যুদ্ধে কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) সেক্টর ১
  2. খ) সেক্টর ২
  3. গ) সেক্টর ৩
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকা ২ নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। 
- এছাড়া নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ ২ নং সেক্টরের অধীনে ছিল।
- এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ ও সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিলেন মেজর হায়দার।


উৎস: dhakadiv.gov.bd
৪,০০৪.
কোন মুঘল সুবেদার চট্টোগ্রামের নাম রাখেন ইসলামাবাদ?
  1. ক) ইসমাইল খাঁ
  2. খ) রাজা মানসিংহ
  3. গ) মীর জুমলা
  4. ঘ) শায়েস্তা খাঁ
ব্যাখ্যা

- মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন। তাঁর সুবাদারী শাসনকাল দুপর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম দফায় ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ খ্রি: পর্যন্ত এবং শেষে ১৬৭৯ থেকে ১৬৮৮ খ্রি: পর্যন্ত তিনি বাংলার সুবাদার ছিলেন।
শায়েস্তা খানের কীর্তি-
- চট্টগ্রাম জয় করে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ।
- সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন।
- তিনি বাংলা থেকে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন।
- তাঁর আমলে নির্মিত স্থাপত্য কর্মের মধ্যে ছােট কাটারা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির সমাধিসৌধ, হােসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।

৪,০০৫.
প্রবাসী সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কে পাঠ করেন?
  1. ক) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  2. খ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলা)।

তথ্যসূত্র: - ইতিহাস তৃতীয় পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০০৬.
টিএসপি সার কারখানা কোথায় অবস্থিত?
  1. পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম
  2. ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট
  3. সরিষাবাড়ী, জামালপুর
  4. পলাশ, নরসিংদী
ব্যাখ্যা
টিএসপি সার কারখানা:
- অবস্থান: পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
- এটি দেশের একমাত্র ফসফেটিক সার কারখানা।
- টিএসপি কমপ্লেক্স লিঃ এর স্থাপনা তৎকাতলীন পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইপিআইডিসি’র) সময়ে আরম্ভ হলেও ১৯৭৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়।
- এ ফ্যাক্টরীর বার্ষিক উত্‍পাদন ক্ষমতা ১,০০,০০০  মেট্রিক টন।

উৎস: বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
৪,০০৭.
বহিঃবিশ্বে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক প্রকাশিত পত্রিকার নাম কী?
  1. প্রবাসী
  2. সৈনিক
  3. জয়বাংলা
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
• মজিবনগর সরকারের প্রকাশিত পত্রিকা:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পত্র-পত্রিকা প্রকাশ করা হয়। গণমাধ্যম হিসেবে মূল্যবান অবদান রেখেছে এসব পত্র-পত্রিকা।
- সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘সাপ্তাহিক জয়বাংলা’।
- আব্দুল মান্নান এম.এন.এ. ছিলেন এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি এবং জিল্লুর রহমান এম.এন.এ. ছিলেন প্রধান সম্পাদক।
- ১১ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর এটি প্রকাশিত হতো।

এছাড়াও -
- বহিঃবিশ্বে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার 'বাংলাদেশ' নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করে।
- গেরিলা আক্রমণ ও সম্মুখ সমরসহ মুক্তিযোদ্ধাদের নানা ধরনের তৎপরতার খবরের পাশাপাশি এই পত্রিকাগুলোতে থাকতো বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম ও নির্দেশাবলী, রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দের বিবৃতি ও তৎপরতা, প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন ও আন্দোলনের খবর এবং বাঙালি কুটনীতিকদের কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণী।

[নোট: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘সাপ্তাহিক জয়বাংলা’। বহিঃবিশ্বে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার 'বাংলাদেশ' নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করে।]

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০০৮.
উইং কমান্ডার এম কে বাশার মুক্তিযুদ্ধের কততম সেক্টর প্রধান ছিলেন?
  1. ৭ নং সেক্টর
  2. ৯ নং সেক্টর
  3. ৩ নং সেক্টর
  4. ৬ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

• সেক্টর ও সেক্টর কমান্ডার সমূহ 
• ১নং সেক্টর:
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।

• ৫ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

• ৬ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর:
- নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই সেক্টরের নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪,০০৯.
বাংলাদেশের প্রথম ফিশ ওয়ার্ল্ড একুরিয়াম কোথায় অবস্থিত ?
  1. ক) পটুয়াখালী
  2. খ) সুনামগঞ্জ
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- সাগরের পাহাড়, গুহা, তলদেশ উঁচু নিচু আর এলোমেলো সাগর পথ পাড়ি দিতে দুই ঘন্টা সময় ব্যয় করতে হবে।
- এমন  এ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণ বিনোদনের জন্য দেশে প্রথমবারের মতো ফিস ওয়ার্ল্ড এ্যাকুরিয়াম হয়েছে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলায়। যা কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে সংযোজন হয়েছে বিনোদনের নতুন ধাপ।
- বেসরকারিভাবে এটি তৈরি করেন রেডিয়েন্ট গ্রুপ।
- এটি মালেশিয়ার টেকনিক্যাল প্রকৌশলির সহায়তায় নির্মিত হয়েছে। 
- এই এ্যাকুরিয়ামে বঙ্গোপসাগরের থাকা বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মৎস্য সংক্ষণ করা হয়েছে। 
- অচেনা এবং বিলুপ্ত প্রায় অনেক মাছও রয়েছে। সাগরের বিলুপ্ত মাছ বিভিন্ন প্রাণী সংরক্ষণে একটি জাদুঘরও করা হচ্ছে। 
- কক্সবাজারে স্থাপিত এটিই হচ্ছে দেশের প্রথম সামুদ্রিক ফিস এ্যাকুরিয়াম।
৪,০১০.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন -
  1. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২-২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫
  2. ১২ জানুয়ারি ১৯৭২-২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫
  3. ১২ জানুয়ারি ১৯৭২-১৫ আগস্ট ১৯৭৫
  4. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২-১৫ আগস্ট ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন:
• পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য (১৯৪৮),
• পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদকদের একজন (১৯৪৯),
• আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৩-১৯৬৬) ),
• আওয়ামী লীগের সভাপতি (১৯৬৬-১৯৭৪),
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত অনুপস্থিতিতে),
• বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (১২ জানুয়ারি ১৯৭২-২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫),
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (২৫ জানুয়ারী ১৯৭৫-১৫ আগস্ট ১৯৭৫)।
- তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল অসন্তুষ্ট সেনা কর্মকর্তার হাতে নিহত হন।
- তার দুই কন্যা ছাড়া তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করা হয় যারা সে সময় বিদেশে অবস্থান করছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৪,০১১.
পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. আবুল হাশিম
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. মাওলানা আকরাম খান
  4. খাজা নাজিমউদ্দিন
ব্যাখ্যা
ভারতে ও স্বাধীন পাকিস্তানের জন্ম:
- ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে 'ভারতীয় স্বাধীনতা আইন' পাস হয়।
- এই আইন বলে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- স্বাধীনতা লাভের সময় পাকিস্তানকে ৫টি প্রদেশে বিভক্ত করা হয়েছিল।
- পাকিস্তানের পূর্বাংশে ছিল পূর্ববাংলা নামক ১টি প্রদেশ এবং পশ্চিমাংশে ছিল ৪টি প্রদেশ। যথা পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ।
- ১৯৫৫ সালে পূর্ববাংলা প্রদেশের নাম পরিবর্তন করে করা হয় পূর্ব পাকিস্তান।
- পাকিস্তানের মোট ভূখণ্ডের শতকরা ৮৪.৩ ভাগ আয়তন ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের এবং মাত্র ১৫.৭ ভাগ আয়তন ছিল পূর্ব পাকিস্তানের।
- পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- তিনি লিয়াকত আলী খানকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন।
- ব্রিটিশ আমলে বাংলা নামক যে প্রদেশ ছিল তা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বাংলা নামক দুটি অংশে বিভক্ত করে এবং পশ্চিম বাংলাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত এবং পূর্ববাংলাকে পাকিস্তানের অংশ বলে ঘোষণা করে।
- তখন ঢাকায় পূর্ব বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়।
- পূর্ববাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন খাজা নাজিমউদ্দিন।
- প্রথম গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার ফ্রেডারিক বোর্ণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০১২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ১৭টি
  4. ঘ) ১৮টি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০-১৭ জুলাই কলকাতায় তাজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যুদ্ধাঞ্চলের অধিনায়কদের সম্মেলনে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
এগারোটি সেক্টর হলো:
১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর জিয়াউর রহমান এবং মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশবিশেষ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর খালেদ মোশাররফ এবং মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
৫ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা
- সেক্টর কমান্ডার : উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর নাজমুল হক এবং সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর এম. এ জলিল এবং মেজর এম. এ মঞ্জুর
১০ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সমুদ্র ও নৌ অঞ্চল
- সেক্টর কমান্ডার : নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর এম. আবু তাহের এবং স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৪,০১৩.
প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' কবে গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে
  2. ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে
  3. ১৯৪৮ সালের জানুয়ারী মাসে
  4. ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- এ সংগঠনের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশিত হয়।
- পুস্তিকাটিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। 
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'।
- এর আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঞা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৪,০১৪.
বঙ্গবন্ধু কোথায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন?
  1. ক) পল্টন ময়দান
  2. খ) আরমানিটুলা ময়দান
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) রেসকোর্স ময়দান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১লা মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করলে পূর্ব পাকিস্তানে তার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর অংশ হিসেবে ৭ই মার্চ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (সাবেক রেসকোর্স ময়দান) একটি জনসভার আয়োজন করা হয়।

এই জনসভাতেই বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন। এই ভাষণে ২৫শে মার্চ পুনরায় ঘোষিত জাতীয় পরিষদের যোগদানের পূর্বশর্ত হিসেবে বঙ্গবন্ধু চারটি দাবী উত্থাপন করেন।

এগুলো হলো:
- সামরিক আইন প্রত্যাহার করা
- ‍নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা
- সেনাবাহিনীর গণহত্যার তদন্ত করা
- সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।

৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রারে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-১৬ এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
৪,০১৫.
মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র নারী কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. তারামন বিবি
  2. সেতারা বেগম
  3. কাকন বিবি
  4. আশালতা বৈদ্য
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র নারী কমান্ডার:
- মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র নারী কমান্ডার আশালতা বৈদ্য।

⇒ আশালতা বৈদ্যের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি।
- মুক্তিযুদ্ধের বছর তার বয়স ছিল মাত্র পনের বছর।
- মাত্র ১৫ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধের ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরে কোটালীপাড়া সীমানা সাব-সেক্টরের কমান্ডার হেমায়েত উদ্দিনের বাহিনীতে যোগ দেন
- তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে হেমায়েত বাহিনী/৭১ গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, বরিশাল অঞ্চলে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং একমাত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

উৎস: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৪,০১৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন অঞ্চলে আফসার বাহিনী গঠিত হয়?
  1. সিরাজগঞ্জ
  2. টাঙ্গাইল
  3. ময়মনসিংহ
  4. গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ ও সমর্থনের বাইরে অঞ্চল ভিত্তিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল বেশকিছু আঞ্চলিক মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে গড়ে ওঠা কিছু উল্লেখযোগ্য মুক্তিবাহিনী:
আফসার বাহিনী – ভালুকা, ময়মনসিংহ অঞ্চল।
কাদেরিয়া, বাতেন বাহিনী – টাঙ্গাইল অঞ্চল।
হেমায়েত বাহিনী – গোপালগঞ্জ।
হালিম বাহিনী – মানিকগঞ্জ।
আকবর বাহিনী – মাগুরা।
লতিফ মীর্জা বাহিনী – সিরাজগঞ্জ ও পাবনা।
জিয়া বাহিনী – সুন্দরবন এলাকা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৪,০১৭.
মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে কাকে?
  1. সিকান্দার শাহ
  2. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
  3. ইলিয়াস শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ছোট সোনা মসজিদ ‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’ বলে আখ্যায়িত।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।

⇒ তার শাসনামলে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।
- হুসেন শাহ কামরূপ ও কামতা জয় করেন।
- ঊড়িষ্যা এবং ত্রিপুরার কিছু অংশ তার শাসনাধীন আসে।
- এছাড়া তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

⇒ তিনি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রতি স্থাপনের জন্য প্রচেষ্টা চালান, যা তৎকালীন সমাজজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
- হুসেন শাহ সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার শাসনামলে বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটে।
- তার সময়ের বিখ্যাত কবিদের মধ্যে ছিলেন রূপ গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, এবং পরাগল খান।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪,০১৮.
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. হামিদুর রহমান
  2. মৃণাল হক
  3. কামরুল হাসান
  4. শামীম শিকদার
ব্যাখ্যা
শহিদ মিনার:

- শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহিদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহিদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহিদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহিদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৪,০১৯.
বাংলাদেশে প্রথম করােনা রােগী সনাক্ত হয় কবে?
  1. ক) ৬ মার্চ, ২০২০
  2. খ) ৭ মার্চ, ২০২০
  3. গ) ৮ মার্চ, ২০২০
  4. ঘ) ১৭ মার্চ, ২০২০
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে ৮ মার্চ ২০২০ সর্বপ্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়।
- ১৮ মার্চ ২০২০ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম রোগী মারা যায়।
- ১৮ মার্চ ২০২০ তারিখে দেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
- ২৬ মার্চ ২০২০ তারিখে করোনা ইস্যুতে সারাদেশ ব্যাপী প্রথমবারের লকডাউন ঘোষণা করা হয়।
- ২৭ জানুয়ারি ২০২১ বাংলাদেশে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কুর্মিটোলা হাসপাতালের সেবিকা রুনো ভেরোনিকা কস্তা ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটি উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।
- ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখ থেকে সারাদেশ কোভিড-১৯ রোগের প্রতিষেধক টিকাদান শুরু হয়।

(তথ্যসূত্র: করোনা ইনফো, বাংলাদেশ সরকার এবং বিবিসি বাংলা)
৪,০২০.
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা ছিলেন -
  1. ফৌজদার
  2. সুবাহদার
  3. শিকদার
  4. ওয়াজির
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০২১.
কৌলীন্য প্রথা বাংলার সেন বংশের কোন রাজা প্রবর্তন করেন?
  1. বিজয় সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. লক্ষ্মণ সেন
  4. হেমন্ত সেন
ব্যাখ্যা

• বল্লাল সেন:
- সেন বংশের দ্বিতীয় রাজা বল্লাল সেন।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন। কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০২২.
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী কোন আসামীর বীরত্বসূচক খেতাব বাতিল করা হয়?
  1. ক) শরিফুল হক ডালিম
  2. খ) নূর চৌধুরী
  3. গ) মোসলেম উদ্দিন খান
  4. ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
৪,০২৩.
বাংলাদেশের কোথায় প্লায়িস্টোসিন কালের সােপান দেখা যায়?
  1. ক) সুন্দরবন
  2. খ) সোয়াম্প ফরেস্ট
  3. গ) মধুপুর ও ভাওয়াল গড়
  4. ঘ) পার্বত্য চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
আজ থেকে প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। ঐ সময়ে গঠিত ভূমিরূপ প্লাইস্টোসিন কালের ভূমি নামে পরিচিত।
বাংলাদেশে অবস্থিত প্লাইস্টোসিন কালের ভূমিরূপগুলো হলো:
- রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর ও জয়পুরহাট জেলার বরেন্দ্রভূমি
- ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলায় অবস্থিত মধুপুর ও ভাওয়াল গড়
- কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়।
- দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮ শতাংশ হলো প্লাইস্টোসিন কালে গঠিত ভূমিরূপ।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,০২৪.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড় কোন ধরনের শিলায় গঠিত?
  1. চুনাপাথর, স্লেট ও গ্রানাইট
  2. বেলে পাথর, স্লেট ও কর্দম
  3. ব্যাসল্ট ও লাভা
  4. মার্বেল ও বেলে পাথর 
ব্যাখ্যা

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:  
- ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ভূমিরূপ হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
- সার্বিকভাবে, টারশিয়ারি যুগের পাহাড়গুলো ভাঁজ করা পাহাড় বা ফোল্ড মাউন্টেন হিসেবে পরিচিত।
- হিমালয় পর্বতের উত্থানের সময়, প্রায় দুই কোটি বছর আগে এই পাহাড়গুলোর সৃষ্টি হয়।
- দীর্ঘকাল ধরে প্রাকৃতিক ভূমিক্ষয়ের ফলে এসব পাহাড়ের উচ্চতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে।
- এবং ক্ষয়প্রাপ্ত উপাদান আশপাশের এলাকায় জমে নতুন সমতল ভূমি ও মৃত্তিকা গঠনে সহায়তা করেছে।
- বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১২ শতাংশ এলাকাজুড়ে এই টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বিস্তৃত।
- বাংলাদেশে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় প্রধানত রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

- ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে এসব পাহাড়কে মূলত দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়—
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়-
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়গুলোর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত।
- এখানে পাহাড়ের গড় উচ্চতা প্রায় ৬১০ মিটার।
- এদের গঠন আসামের লুসাই ও মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়শ্রেণির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়গুলো বেলে পাথর, স্লেট ও কর্দমের সংমিশ্রণে গঠিত।
- এখানেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিনডং বা বিজয় অবস্থিত, যার উচ্চতা ১২৩১ মিটার।

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়-
- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা অঞ্চলে ছোট-বড় বিচ্ছিন্ন পাহাড় ও টিলার উপস্থিতি দেখা যায়।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো সাধারণত কোনো সুসংগঠিত গিরিশ্রেণি তৈরি করেনি। 
- এদের উচ্চতা তুলনামূলকভাবে কম, সাধারণত ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৪,০২৫.
দেশের প্রথম পাতাল রেলের রুট কোনটি?
  1. ক) বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর
  2. খ) বিমানবন্দর থেকে মতিঝিল
  3. গ) খিলক্ষেত থেকে আগারগাঁও
  4. ঘ) কুড়িল থেকে কমলাপুর
ব্যাখ্যা
পাতাল রেলের যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ
৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁচবে সময়, বাঁচবে পরিবেশ, যানজট কমাবে মেট্রোরেল এই স্লোগান নিয়ে দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্পের ভৌত কাজ আগামী ডিসেম্বরে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

এক নজরে পাতাল ট্রেন 
• প্রকল্পের নাম:- ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন-১ (এমআরটি-১)।
• প্রকল্পের মোট ব্যয়:- ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। 
• রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান:- ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
• পরামর্শক প্রতিষ্ঠান:- জাপানের নিপ্পন কোই কোম্পানি লিমিটেড (জেভি)। 
• রুট:- ২টি। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর (বিমানবন্দর রুট) পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার অংশ ভূগর্ভস্থ হবে ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল (পূর্বাচল রুট) পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার হবে উড়াল। 
• স্টেশন সংখ্যা:- বিমানবন্দর রুটে ১২টি ও পূর্বাচল রুটে ৯টি স্টেশন থাকবে।

তথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, নভেম্বর ২০২২।
৪,০২৬.
বাংলাদেশে মর্যাদা অনুসারে ৩য় বীরত্বসূচক খেতাব-
  1. বীরপ্রতীক
  2. বীরশ্রেষ্ঠ
  3. বীরউত্তম
  4. বীরবিক্রম
ব্যাখ্যা
• ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে — সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

• মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
যথা-
- বীরশ্রেষ্ঠ (মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
- বীর উত্তম (মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
- বীর বিক্রম (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব) এবং
- বীর প্রতীক (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।
----------------
বিশেষ তথ্য- খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা:
• ১ম উপাধি: বীরশ্রেষ্ঠ, ৭ জন,
• ২য় উপাধি: বীর উত্তম, ৬৮ জন,
• ৩য় উপাধি: বীর বিক্রম, ১৭৫ জন এবং
• ৪র্থ উপাধি: বীর প্রতীক, ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।

- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

তথ্যসূত্র:- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,০২৭.
ছয়দফার কোন দফায় পাকিস্তানের দুই অংশের জন্যে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পৃথক হিসাব থাকার বিষয়টি উল্লেখিত রয়েছে?
  1. তৃতীয় দফা
  2. চতুর্থ দফা
  3. পঞ্চম দফা
  4. ষষ্ঠ দফা
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন।
ছয়দফা দাবীসমূহ হলো:
প্রথম দফা:
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেশনে পরিণত করতে হবে, যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত আইন পরিষদ সার্বভৌম হবে
দ্বিতীয় দফা:
- ফেডারেল সরকারের হাতে থাকবে শুধু দুটি বিষয়, প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক, এবং অপর সব বিষয় ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত রাজ্যসমূহের হাতে ন্যস্ত থাকবে
তৃতীয় দফা:
- পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে সমগ্র পাকিস্তানের জন্য ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটিই মুদ্রাব্যবস্থা থাকবে, একটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও দুটি আঞ্চলিক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থাকবে। তবে এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পুঁজি যাতে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতে না পারে তার ব্যবস্থা সম্বলিত সুনির্দিষ্ট বিধি সংবিধানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে
চতুর্থ দফা:
- দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পৃথক হিসাব থাকবে এবং অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা রাজ্যের হাতে থাকবে। তবে ফেডারেল সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে কিংবা উভয়ের স্বীকৃত অন্য কোনো হারে আদায় করা হবে
পঞ্চম দফা:
- দুই অংশের মধ্যে দেশিয় পণ্য বিনিময়ে কোনো শুল্ক ধার্য করা হবে না এবং রাজ্যগুলো যাতে যেকোন বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে সংবিধানে তার বিধান রাখতে হবে।
ষষ্ঠ দফা:
- প্রতিরক্ষায় পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে আধা-সামরিক রক্ষীবাহিনী গঠন, পূর্ব পাকিস্তানে অস্ত্র কারখানা স্থাপন এবং কেন্দ্রীয় নৌবাহিনীর সদর দফতর পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপন করতে হবে।

- ১৯৬৬ সালের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহীত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন।
- ৭ জুন ‘ছয়দফা দিবস’ পালিত হয়।
- ছয়দফা দাবী কে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪,০২৮.
Who was the proponent of the 'Young Bengal Movement'?
  1. Henry Luis Derojio
  2. Perichad Mitra
  3. Willium kery
  4. Dadavai Nouroji
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০২৯.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ‘গরান' বনভূমি কোন বিভাগে অবস্থিত?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) সিলেট
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
গরান বনভূমি:

- বৃহত্তর খুলনা বিভাগ প্রাকৃতি সম্পদে সমৃদ্ধ।
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ‘গরান' বনভূমি সুন্দরবন এ বিভাগে অবস্থিত।
- এ বিভাগের দক্ষিণাংশ জুড়ে সুন্দরবনের অবস্থান।
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম “ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট” বা লবনাক্ত জলাভূমির বন।
- পৃথিবীতে এটি একটি বিরল জাতির বন। 
- বনটি বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি।
- এই বন থেকে প্রচুর রাজস্ব আয় হয়।
- এ বন খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা প্রভৃতি জেলাকে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,০৩০.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কতটি মুসলিম আসনে জয় লাভ করে?
  1. ২২৭টি
  2. ২২৩টি
  3. ২২৫টি
  4. ২১৩টি
ব্যাখ্যা

-  ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম আসনে ২১৫টি ও স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ৮ জন যুক্তফ্রন্টে যোগদান করে ফলে যুক্তফ্রন্ট সর্বমোট ২২৩টি আসন লাভ করে। 

যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল: 
- নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- তখনকার যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা, মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে আসতে অনীহা প্রভৃতি কারণে ভোটদানের হার কম ছিল।
- নির্বাচনী ফলাফল ঘোষিত হয় ২ এপ্রিল।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন।
- নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলমান আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২১৫টি, মুসলিম লীগ ৯টি, খেলাফতে রব্বানী পার্টি ১টি এবং স্বতন্ত্র ১২টি আসন।
- মুসলমান আসনে স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ৮ জন যুক্তফ্রন্টে ও ১ জন মুসলিম লীগে যোগদান করেন।
- যুক্তফ্রন্টের শরিকদলগুলোর মধ্যে আসনসংখ্যা নিম্নরূপ হয়: আওয়ামী লীগ ১৪২, কৃষক-শ্রমিক পার্টি ৪৮, নেজামে ইসলামী ১৯, গণতন্ত্রী দল ১৩ (১টি আসনে দলীয় পরিচয় অস্পষ্ট)।
- ৭২টি অমুসলমান আসনের ২৪টিতে জাতীয় কংগ্রেস, ২৭টিতে তফশিলি ফেডারেশন (রসরাজ মন্ডল গ্রুপ), সংখ্যালঘু যুক্তফ্রন্ট ১৩টি (এর মধ্যে গণতন্ত্রী দল ৩টি), কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, বৌদ্ধ ২টি, খ্রিস্টান ১টি এবং স্বতন্ত্র ১টি আসনে জয়লাভ করে।

উৎস:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৩১.
বেঙ্গল প্যাক্টের রূপকার কে?
  1. পন্ডিত মতিলাল নেহেরু
  2. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. শরৎচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ:
- সি. আর দাশ নামেও পরিচিত দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কলকাতায় জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর পৈতৃক নিবাস ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের অন্তর্গত তেলিরবাগ গ্রামে।
- ভবানীপুরের লন্ডন মিশনারী সোসাইটি স্কুল থেকে ১৮৮৬ সালে এন্ট্রান্স পাশ করার পর চিত্তরঞ্জন দাশ কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে বি. এ. ডিগ্রী লাভ করেন।
- ১৮৯৪ সালে তিনি ব্যারিস্টারি পরীক্ষা পাশ করে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
- বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে তিনি রাজনীতিতে জড়িত হন। 
- অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে মহাত্না গান্ধীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি লাভজনক আইনজীবির পেশা পরিত্যাগ করে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আরো বেশী সোচ্চার হয়ে ওঠেন।
- পরবর্তীতে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে স্বরাজ পার্টি গঠন করেন।
- ১৯২৩ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পূর্বে তিনি নিজ প্রদেশে মুসলমান সম্প্রদায়ের সাথে একটি চুক্তি করেন যা ’বেঙ্গল প্যাক্ট' নামে পরিচিত।
- 'বেঙ্গল প্যাক্ট' এ সরকারি চাকুরিতে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়।
- যতদিন মুসলমানরা ৫৫ শতাংশে না পৌঁছায়, ততদিন পর্যন্ত মোট সরকারি চাকুরির ৮০ ভাগ মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়।
- দেশবন্ধু ১৯২৫ সালের ১৬ জুন অসুস্থ অবস্থায় দার্জিলিংয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৩২.
সম্রাট বাবরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. তুজুক-ই-বাবুরী
  2. তুঘলক-ই- বাবুরী
  3. তুজুরুক-ই-বাবুরী
  4. তুরুজু-ই-বাবুরী
ব্যাখ্যা
⇒ সম্রাট বাবরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তুজুক-ই-বাবুরী'।

বাবর:
- জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- পিতার দিক থেকে বাবর ছিলেন বিখ্যাত তুর্কি তৈমুর লং-এর অধস্তন পঞ্চম পুরুষ এবং মায়ের দিক থেকে তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান।
- উপমহাদেশে বাবরের প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ মুঘল বংশ নামে পরিচিত হয়েছে মোঙ্গলদের সাথে তাঁর সম্পর্ক থাকার কারণেই।
- বাবর ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে মধ্য এশিয়ার ফারগানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ওমর মির্জা ফারগনার শাসনকর্তা ছিলেন।
- পিতার মৃত্যুর পর বাবর বার বছর বয়সে ফারগানার অধিপতি হন।
- ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে উজবেক শাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথম বারের মতো বাবর কাবুল জয় করেন।
- কাবুল বিজয়ের পরও বাবর পিতৃসিংহাসন পুনরুদ্ধার ও রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভারতবর্ষের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করেন।
- কাবুল অধিকারের পর বাবর ভারত বিজয়ের পরিকল্পনা করেন।
- এসময় ভারতের শাসন ক্ষমতায় ছিলেন লোদী সুলতানরা।
- বাবরের আক্রমণের পূর্বে ভারতের শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহিম লোদী।
- ভারতের কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে বাবর এদেশে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৩৩.
ছয় দফার তৃতীয় দফা কী সম্পর্কে ছিল?
  1. প্রতিরক্ষা
  2. বাণিজ্য
  3. মুদ্রা
  4. ট্যাক্স
ব্যাখ্যা
ছয় দফার তৃতীয় দফা:
এই দফায় মুদ্রা সম্পর্কে দুটি বিকল্প প্রস্তাব দেয়া হয়। এর যে কোনো একটি গ্রহণের প্রস্তাব রাখা হয়:
(ক) পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুইটি সম্পূর্ণ পৃথক অথচ সহজে বিনিয়োগযোগ্য মুদ্রার প্রচলন করতে হবে। এই ব্যবস্থা অনুসারে কারেন্সি কেন্দ্রের হাতে থাকবে না, আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে। দুই অঞ্চলের জন্য দুইটি স্বতন্ত্র 'স্টেট' ব্যাংক থাকবে।
(খ) দুই অঞ্চলের জন্য একই কারেন্সি থাকবে। এই ব্যবস্থায় মুদ্রা কেন্দ্রের হাতে থাকবে। কিন্তু এ অবস্থায় শাসনতন্ত্রে এমন সুনির্দিষ্ট বিধান থাকতে হবে যাতে পূর্ব পাকিস্তানের মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তনে পাচার হতে না পারে। এই বিধানে পাকিস্তানের একটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে। দুই অঞ্চলে দুইটি পৃথক রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে।

অন্যান্য দফা: 
প্রথম দফা: ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানকে একটি সত্যিকার ফেডারেশনরূপে গড়তে হবে। 
দ্বিতীয় দফা: ফেডারেশন সরকারের এখতিয়ারে কেবল দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্রীয় ব্যাপার এই দুটি বিষয় থাকবে। অবশিষ্ট সমস্ত বিষয় স্টেটসমূহের (বর্তমান ব্যবস্থায় যাকে প্রদেশ বলা হয়) হাতে থাকবে।
চতুর্থ দফা: সকল প্রকার ট্যাক্স-খাজনা-কর ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক সরকারের হাতে। 
পঞ্চম দফা:. এই দফায় বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যাপারে শাসনতান্ত্রিক বিধানের সুপারিশ করা হয়।
ষষ্ঠ দফা: এই দফায় পূর্ব পাকিস্তানে মিলিশিয়া বা প্যারা মিলিটারি রক্ষীবাহিনী গঠনের সুপারিশ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৩৪.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির ১৭নং দফা কি ছিল?
  1. বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি করার দাবি
  2. পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীন রাজ্য ঘোষণার দাবি
  3. শহিদদের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে শহিদ মিনার নির্মাণ
  4. কৃষকদের জমি বিনামূল্যে বিতরণ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়- ৪ ডিসেম্বর,১৯৫৩।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ছিল ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের আগে ঘোষিত একটি নির্বাচনী ইশতেহার।
- এই ২১ দফা ভাষা আন্দোলনের চেতনার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটায়।
- এই কর্মসূচির প্রথম ও প্রধান দফা ছিল—বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
- এর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ভাষাগত অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরা হয়।
- আর ১৭নং দফা ছিল- রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ ঘটনাস্থলে শহিদ মিনার নির্মাণ করা এবং শহিদদের পরিবারবর্গকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

উল্লেখ্য,
- এই ২১ দফা কর্মসূচির খসড়া প্রণয়ন করেন আবুল মনসুর আহমদ।
- এটি ছিল এ. কে. ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত একটি সম্মিলিত রাজনৈতিক কর্মসূচি।
- এই কর্মসূচি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
The Daily Star Bangla.

৪,০৩৫.
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার মূল নকশাকার কে?
  1. তোফায়েল আহমেদ
  2. শিবনারায়ণ দাস
  3. আ স ম আব্দুর রব
  4. সিরাজুল ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রদের পক্ষে পতাকাটি উত্তোলন করেছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ২ মার্চ ২০২২ ও দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২ মার্চ ২০২৩। 
৪,০৩৬.
ঐতিহাসিক 'ছয়-দফা' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন—
  1. ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬
  2. ২৩ মার্চ ১৯৬৬
  3. ২৬ মার্চ ১৯৬৬
  4. ৩১ মার্চ ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।

- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,০৩৭.
স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মূলত কোন ঘটনার প্রেক্ষাপটে?
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. ফরায়েজি আন্দোলন
  3. অসহযোগ আন্দোলন
  4. খিলাফত আন্দোলন
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলন:
- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মূলত বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। 

⇒ বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হলে কংগ্রেসের উগ্রপন্থী অংশের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে উঠে, তাকেই স্বদেশী আন্দোলন বলা হয়। এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন। পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- স্বদেশী আন্দোলন ক্রমশ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলে। একই সঙ্গে দেশী পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করে। ফলে বিলেতি পণ্যের চাহিদা কমে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠে বাংলার নিজস্ব তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা। অপর দিকে বিলেতি শিক্ষা বর্জন এবং আন্দোলনের সাথে যুক্তদের বিভিন্ন সরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার ফলে প্রয়োজনে গড়ে উঠে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন।

⇒ মুসলমান সমাজ স্বদেশী আন্দোলন থেকে দূরে থাকার কারণে আন্দোলন জাতীয় রূপলাভে ব্যর্থ হয়। তাছাড়া সাধারণ মানুষ, এমনকি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিম্নবর্ণের লোকজন, দারিদ্র সমাজ এই আন্দোলনের মর্ম বুঝতে ব্যর্থ হয়।
- এ আন্দোলনের মাধ্যমে বিলেতি দ্রব্য বর্জন সফল হয়নি। কারণ কোলকাতার অবাঙালি মাড়ওয়ারি ব্যবসায়ী এবং বাংলার গ্রাম গঞ্জের ব্যবসায়ীরা এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়নি।
- সর্বোপরি এই আন্দোলন গোপন সশস্ত্র সংগ্রামের পথে অগ্রসর হলে জনগণ আন্দোলন থেকে দূরে সরে যায়।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যকার সম্পর্কের তিক্ততা আরো বৃদ্ধি পায়, যার পরিণতি হচ্ছে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে সম্প্রদায় ভিত্তিতে ভারত বিভক্তি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৩৮.
কলিঙ্গ যুদ্ধের পর সম্রাট অশোক কোন ধর্ম গ্রহণ করেন?
  1. জৈন
  2. বৌদ্ধ
  3. শৈব
  4. হিন্দু
ব্যাখ্যা
অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- পিতার রাজত্বকালে অশোক প্রথম জীবনে উজ্জয়িনীর শাসনকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে বিন্দুসার তাঁকে সেখানে পাঠান। বিদ্রোহ দমনের পর তিনি তক্ষশীলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক তাঁর পূর্বসুরীদের মতই 'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি নিজেকে 'দেবনম পিয় পিয় দসী' রূপে পরিচয় দিতেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক সুখ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৩৯.
আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সিটি কর্পোরেশন কোনটি?
  1. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
  2. ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
  3. গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন
  4. চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন
ব্যাখ্যা
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন:
- গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের গাজীপুর জেলায় অবস্থিত স্থানীয় সরকার সংস্থা।
- এটি বাংলাদেশের একটি পৌর প্রশাসন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- গাজীপুর আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় সিটি কর্পোরেশন।
- গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ৩২৯.৫৩ বর্গকিলোমিটার।
- ৫৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত।

অন্যদিকে, 
- রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ৯৬.৭২ বর্গ কিমি।
- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ১৯৬.২২বর্গ কি.মি।
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ১০৯.২৫১ বর্গ কি.মি।
- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ১৫৫.৪ বর্গ কিমি।
- কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ৫৩.০৪ বর্গ কিমি।
- নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ৭২.৪৩ বর্গ কিমি।
- ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ৯১.৩১৫ বর্গ কি.মি.।
- বরিশাল সিটি  কর্পোরেশনের আয়তন ৪৫ বর্গকিলোমিটার।
- সিলেট সিটি  কর্পোরেশনের আয়তন ২৬.৫০ বর্গকিলোমিটার।
- খুলনা সিটি  কর্পোরেশনের আয়তন ৪৫.৬৫ বর্গকিলোমিটার।
- রংপুর সিটি  কর্পোরেশনের আয়তন ২০৩.৬৩ বর্গকিলোমিটার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,০৪০.
জীবন থেকে নেয়া ছবিতে প্রতীকী কাহিনীর মধ্য দিয়ে কী চিত্রিত করা হয়?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  2. পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসন
  3. গণহত্যার চিত্র
  4. দেশভাগের চিত্র
ব্যাখ্যা
- জহির রায়হান পরিচালিত ছবি ‘জীবন থেকে নেয়া’।
- ছবিটি জহির রায়হানের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ১৯৭০ সালে মুক্তি পেয়েছিল।
- জীবন থেকে নেয়া ছবিতে প্রতীকী কাহিনীর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেন নি।
- পাকিস্তানি সামরিক জান্তার গণহত্যার চিত্র সম্বলিত স্টপ জেনোসাইড ছবিটি পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- জহির রায়হানের উর্দু ছবি সঙ্গম ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন ছবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
প্রথম আলো (১৬ ডিসেম্বর ২০২৩)
৪,০৪১.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয় কবে?
  1. ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১২০১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করার মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম/তুর্কি শাসনের সূত্রপাত ঘটে।
- ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের পূর্বপর্যন্ত বাংলায় মুসলিম শাসন অব্যাহত ছিলো।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,০৪২.
পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. নূরুল আমিন
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. লিয়াকত আলী খান
  4. খাজা নাজিমউদ্দিন
ব্যাখ্যা
প্রথম গভর্নর:
- পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। 
- তিনি লিয়াকত আলী খানকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। 
- ব্রিটিশ আমলে বাংলা নামক যে প্রদেশ ছিল তা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বাংলা নামক দুটি অংশে বিভক্ত করে।
- পশ্চিম বাংলাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত এবং পূর্ববাংলাকে পাকিস্তানের অংশ বলে ঘোষণা করে। 
- পূর্ববাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন খাজা নাজিমউদ্দিন।
- পূর্ববাংলার প্রথম গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার ফ্রেডারিক বোর্ণ।
- ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মৃত্যুবরণ করলে পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। 
- তখন নূরুল আমিনকে পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৪৩.
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ৩নং সেক্টর
  2. ৫নং সেক্টর
  3. ৭নং সেক্টর
  4. ৯নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে.
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- তিনি ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন।
- তিনি অসামান্য বীরত্বের সাথে আরগরারহাট, কানসাট, শাহপুর এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং মুক্তাঞ্চল গঠন করেন।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৪,০৪৪.
প্রাচীন বাংলায় 'সমতট' বর্তমান কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল?
  1. ঢাকা ও কুমিল্লা
  2. ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা
  3. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  4. ময়মনসিংহ ও জামালপুর
ব্যাখ্যা

সমতট জনপদ:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা-পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী ‘লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।
- হিউয়েন সাঙ কোন সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৪৫.
সত্তরের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম
  2. বিচারপতি এম ইদ্রিস
  3. বিচারপতি এটিএম মাসুদ
  4. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
ব্যাখ্যা
সত্তরের নির্বাচন:
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেশটির কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারভিত্তিক প্রত্যক্ষ নির্বাচন প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর।
- ১৯৪৭-১৯৫৮ সময়কালে পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
- ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত দেশে সামরিক আইন চালু ছিল।
- ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ লাভ করে।

উল্লেখ্য,
⇒ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। ফলে সেদিন থেকেই নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৪৬.
ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস কবে?
  1. ২৬ মার্চ
  2. ৭ জুন
  3. ১ আগস্ট
  4. ২৩ জুন
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা দিবস: 
ছয় দফা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১১ দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়। 

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ছয় দফা উত্থাপন করেন।
- পরবর্তীতে ১৮-২০ মার্চ ১৯৬৬ আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সভায় ৬ দফা গৃহিত হয়।
- পরবর্তীতে, বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপনের জের ধরে গ্রেপ্তার হন।
- ৭ জুন ছয় দফা দাবী এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবীতে হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়।
-  ছয় দফার সমর্থনে ১৯৬৬ সালের ১৩ মে আওয়ামী লীগ আয়োজিত পল্টনের জনসভায় ৭ জুন হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
- ৭ জুনকে ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
- ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।  
৪,০৪৭.
কোন গোষ্ঠী থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে?
  1. নেগ্রিটো
  2. দ্রাবিড়
  3. অস্ট্রিক
  4. মঙ্গোলীয়
ব্যাখ্যা
বাঙালি জাতির উদ্ভব ও বিকাশ:
- বাংলার প্রাচীন জনগোষ্ঠীকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ১. প্রাক আর্য বা অনার্য জনগোষ্ঠী ও ২. আর্য জনগোষ্ঠী।
- প্রাচীন বাংলায় আর্যদের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত অনার্যদের বসতি ছিল; তাই প্রাক আর্য বা অনার্য জনগোষ্ঠীই বাঙালি জাতির আদি পুরুষ।
- অনার্য জনগোষ্ঠীর উৎপত্তি হয় নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও মঙ্গোলীয়, বা ভোটচীনীয় জনগোষ্ঠীর মিশ্রণে।
- নৃতাত্ত্বিকদের ধারণা অস্ট্রিক গোষ্ঠী থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে।
- অস্ট্রিক নরগোষ্ঠীর সাথে দ্রাবিড় ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে।
- পরবর্তীতে নানা পর্যায়ে বাঙালিদের মধ্যে ভোটচীনীয়, ককেশীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ প্রভৃতি জাতিসত্ত্বার সংমিশ্রণ ঘটেছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাঙালির ইতিহাস : নিহারঞ্জন রায়।
৪,০৪৮.
বাংলার সর্বশেষ পাল রাজা কে?
  1. ক) মহীপাল
  2. খ) মদনপাল
  3. গ) রামপাল
  4. ঘ) কুমারপাল
ব্যাখ্যা
- বাংলার পাল রাজবংশের সর্বশেষ রাজা হলেন মদনপাল। তিনি ১১৪৩ খ্রি. থেকে ১১৬১ খ্রি. পর্যন্ত শাসন করেন।
- মদনপালকে পরাজিত করে বিজয় সেন উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলায় সেন শাসনের সূচনা করেন।
- পাল বংশ প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ যারা প্রায় চারশ বছর বাংলা শাসন করে।
- ৭৫০ সালে গোপাল মাৎস্যনায় অবস্থার অবসান ঘটিয়ে পাল শাসনের সূত্রপাত করেন। গোপাল ৭৫০ খ্রি. থেকে ৭৮১ খ্রি. পর্যন্ত শাসন করেন।
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠতম শাসক ছিলেন ধর্মপাল। তিনি প্রায় (৭৮১-৮২১ খ্রি.) ৪০ বছর বাংলা শাসন করেন। তার উপাধি ছিলো পরমেশ্বর, পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,০৪৯.
গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল উয়ারী-বটেশ্বর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. দিনাজপুর
  2. চট্টগ্রাম
  3. বগুড়া
  4. নরসিংদী
ব্যাখ্যা

উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী নগরের বাইরে আরো ৫০টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে।
- উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি দুর্গনগর, নগর বা একটি নগর কেন্দ্র।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,০৫০.
কে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শহীদ নন?
  1. ক) সালাম
  2. খ) জব্বার
  3. গ) আসাদ
  4. ঘ) বরকত
ব্যাখ্যা
- রফিক উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, আবুল বরকত প্রমুখ ভাষা আন্দোলনের শহীদ।
- আবদুস সালাম (১৯২৫-১৯৫২) একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনের শহীদদের মধ্যে একজন। ভাষা শহীদদের মধ্যে তিনিই সর্বশেষ মারা যান।
- আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি
৪,০৫১.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট কত সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠন করে?
  1. ৮ জন
  2. ১০ জন
  3. ১২ জন
  4. ১৪ জন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র- এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার- আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী- আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প - সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৪,০৫২.
সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে দণ্ডভুক্তি থেকে চিল্কাহ্রদ পর্যন্ত এলাকাকে রাজ্যভুক্ত করেন কে?
  1. হর্ষবর্ধন
  2. শশাঙ্ক
  3. রাজ্যবর্ধণ
  4. মহাসেন
ব্যাখ্যা
• শশাঙ্ক:
→ রাজ্য জয়:
→ শশাঙ্ক গৌড়ের সিংহাসনে আরোহণ করার পর নিজ রাজ্যের সীমা বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করেন। তিনি প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দণ্ডভুক্তি (মেদিনীপুর), উৎকল (উত্তর উড়িষ্যা) ও কঙ্গোদ (দক্ষিণ উড়িষ্যা) নিজ রাজ্যভুক্ত করেন।
→ শশাঙ্কের রাজ্য দক্ষিণে উড়িষ্যার চিল্কা হ্রদ পর্যন্ত ছিল। শশাঙ্ক পশ্চিমে তাঁর সৈন্যবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হলে প্রথমে মগধ ও পরে বারানসী রাজ্য তাঁর কাছে পরাজয় স্বীকার করে। ফলে উভয় অঞ্চলই শশাঙ্কের রাজ্যভুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৫৩.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে অঙ্কিত শিল্পকর্মের নাম কী?
  1. অকুতোভয়
  2. উন্নত মমশির
  3. নির্ভীক
  4. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
ব্যাখ্যা
• ইতিহাসের অম্লান তরুণ শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে অঙ্কিত শিল্পকর্মের 'উন্নত মম শির'।
- এই চিত্রকলা অঙ্কন করেছেন শিল্পী শহীদ কবির।

• শহীদ আবু সাঈদ:

- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদ।
- ১৬ই জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন চলাকালে একজন পুলিশ সদস্যের গুলিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
-  তাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ বলে আখ্যায়িত করে।

উৎস: প্রথম আলো।
৪,০৫৪.
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক পাশকৃত রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩ এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. কোম্পানির লাভ বৃদ্ধি
  2. সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান
  3. ভারতে নতুন উপনিবেশ স্থাপন
  4. কোম্পানি ও কর্মচারীদের দূর্নীতি রোধ
ব্যাখ্যা
রেগুলেটিং এ্যাক্ট (১৭৭৩ খ্রি:):
- উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।

⇒ ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হওয়ার পর ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থের সরকার সর্বপ্রথম বাংলা তথা ভারত শাসন বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস করে।
- ১৭৭৩ সালে প্রণীত রেগুলেটিং অ্যাক্ট ভারতীয় উপমহাদেশের সাংবিধানিক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।
- এই অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলা এবং অন্যান্য প্রেসিডেন্সির শাসনভার ও নিয়ন্ত্রণ একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে ন্যস্ত হয়, যা ‘বাংলার গভর্নর জেনারেল ও ফোর্ট উইলিয়ম কাউন্সিল’ নামে পরিচিত ছিল।
- ভারতীয় উপমহাদেশে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে।
- এই আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন ও দায়িত্ব সংজ্ঞায়িত করে দেওয়া হয়।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়।
- এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো কোম্পানি ও তার কর্মচারীদের দূর্নীতি রোধ করা।
- কিন্তু তা সত্ত্বেও দূর্নীতি রোধ হয়নি।

⇒ রেগুিলেটিং এ্যাক্ট এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- এ রেগুলেটিং এ্যাক্ট এর দোষ-ত্রুটি থাকলেও তা উপমহাদেশের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাপিডিয়া।
              ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৫৫.
Which French general fought for Sirajuddaula in the battle of Palashi?
  1. ক) Berner
  2. খ) Rossi
  3. গ) Sinfrey
  4. ঘ) Remy
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:

- পলাশীর যুদ্ধে ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন।
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলা ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়। অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- পলাশী যুদ্ধের সুদূর প্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা। এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৫৬.
মেগাস্থিনিস কোন দেশের ইতিহাসবিদ ছিলেন?
  1. মরক্কো
  2. ইতালি
  3. চীন
  4. গ্রীস
ব্যাখ্যা

• মেগাস্থিনিস:
- মেগাস্থিনিস প্রাচীন গ্রীসের একজন ইতিহাসবিদ এবং কূটনীতিক।
- তিনি এশিয়া মাইনরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গ্রিক সেনাপতি সেলিউকাস খ্রিষ্টপূর্ব ৩০২ অব্দে তাকে দূত হিসেবে প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজদরবারে প্রেরণ করেছিলেন।
- তিনি কয়েক বছর এ দেশে অবস্থান করে মৌর্য শাসন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা ইন্ডিকা নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪,০৫৭.
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কয়টি জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস আছে?
  1. ১৯টি
  2. ২০টি
  3. ১৮টি
  4. ২১টি
ব্যাখ্যা
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর:
- ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি অধিদপ্তর।
- এটি বাংলাদেশের সকল জমির রেকর্ড নথি সংরক্ষণ করে।
- এটি সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন।
- এর সদরদপ্তর ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত।
- অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক মো: সাইদুর রহমান।

⇒ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ২১টি জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস আছে।

উৎস: ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৪,০৫৮.
লর্ড বেন্টিঙ্ক কবে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন?
  1. ক) ১৮১৫ সালে
  2. খ) ১৮২১ সালে
  3. গ) ১৮২৯ সালে
  4. ঘ) ১৮৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
সতীদাহ প্রথা হলো হিন্দু সমাজের একটি প্রথা যেখানে স্বামীর শবের সাথে বিধবা স্ত্রীকেও দাহ করা হতো। ভারতীয় হিন্দু সমাজে যুগ যুগ ধরে এই প্রথা প্রচলিত ছিলো।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৯ সালে আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা রহিত করেন। তবে এ প্রথা পুরোপুরি বন্ধ হয় উনিশ শতকের শেষ দিকে।

রাজা রামমোহন রায়সহ আরো কিছু ভারতীয় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৪,০৫৯.
মুক্তিযুদ্ধে 'ক্র্যাক প্লাটুন' কোন শহরে সক্রিয় ছিল?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) খুলনা
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-
• কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল),
• আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা,ময়মনসিংহ),
• বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল),
• হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল),
• হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ), আকবর বাহিনী (মাগুরা),
• লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা) ও
• জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্ৰ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি। 
৪,০৬০.
'ভারতেশ্বরী হোমস' এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. পি সি সরকার
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাদার তেরেসা
  4. আর পি সাহা
ব্যাখ্যা
ভারতেশ্বরী হোমস:
• ধরন: নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
• প্রতিষ্ঠাতা: রণদা প্রসাদ সাহা (আর পি সাহা)।
• নামকরণ: প্রতিষ্ঠাতার পিতামহী ভারতেশ্বরী দেবীর নামানুসারে।
• অবস্থান: টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে।
• প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯৪৫ খ্রি.; উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাক্রম বিদ্যমান।
• অর্জন/স্বীকৃতি: 'স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২০'।
৪,০৬১.
প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় -
  1. ইরাক
  2. সেনেগাল
  3. ইরান
  4. সৈদি আবর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী গুরুত্বপূর্ণ দেশসমূহ:
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান। একই দিনে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত।
- বিশ্বের তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ওই একইদিনে চতুর্থ দেশ হিসেবে বুলগেরিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- পোল্যান্ড বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি।
- প্রথম মুসলিম ও আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেনেগাল স্বীকৃতি দেয় ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২।
- প্রথম উত্তর আমেরিকান দেশ হিসেবে বার্বাডোস স্বীকৃতি দেয় ২০ জানুয়ারি ১৯৭২।

উৎস: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ প্রতিদিন এবং নিউইর্য়ক টাইমস আর্কাইভস।
৪,০৬২.
বাংলার প্রথম রাজা কে ছিলেন?
  1. ক) শশাঙ্ক
  2. খ) গোপাল
  3. গ) লক্ষ্মণ সেন
  4. ঘ) ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা। তিনি নিজেকে গৌড়েশ্বর পরিচয় দিতেন। শশাঙ্ক একজন সুশাসক ছিলেন। তার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ। তার আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে। বিখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং শৈব ধর্মের অনুসারী রাজা শশাঙ্ককে বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম-দশম শ্রেণি
৪,০৬৩.
রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয় কোন সালে?
  1. ক) ১৯৪৭ সালে
  2. খ) ১৯৪৮ সালে
  3. গ) ১৯৪৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। এর আহব্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া। সূত্রঃ বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৬৪.
'এলাহাবাদ চুক্তি' কার কার মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. মীর কাশিম ও রবার্ট ক্লাইভ
  2. সুজাউদ্দৌলা ও রবার্ট ক্লাইভ
  3. রবার্ট ক্লাইভ ও দ্বিতীয় শাহ আলম
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস ও শাহ আলম
ব্যাখ্যা

• এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে ১৭৬৫ সালে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে  রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।

⇒ কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৬৫.
বাংলাকে ‘বুলগাকপুর’ হিসেবে সম্বোধন করার কারণ ছিল-
  1. ক) বিচিত্র সৌন্দর্য্য
  2. খ) ধন সম্পদপূর্ণ স্থান
  3. গ) বিদ্রোহের নগরী
  4. ঘ) অনেকগুলো নদী থাকার কারণে
ব্যাখ্যা
বাংলা প্রদেশ সর্বদাই দিল্লি সুলতানদের মাথা ব্যাথার কারণ ছিল। কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতা এবং বাংলার স্বতন্ত্র ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলার শাসকগণ সুযোগ পেলেই কেন্দ্রীয় শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠতেন। যে কারণেই বাংলাকে বলা হত বিদ্রোহীর নগরী বা বুলগাকপুর। ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী এই নাম দিয়েছিলেন। [সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
৪,০৬৬.
বাঙালির জাতীয় ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) শিক্ষা আন্দোলন
  3. গ) ছয়দফা আন্দোলন
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
- বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সময়ে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,০৬৭.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির নাম কী?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) তাজউদ্দিন আহ্‌মেদ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। এটিই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,০৬৮.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চট্টগ্রামের শাসনভার লাভ করে -
  1. ১৭৫২ সালে
  2. ১৭৬০ সালে
  3. ১৭৪৮ সালে
  4. ১৭৭২ সালে
ব্যাখ্যা
চট্টগ্রাম:
- চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও বাণিজ্যিক রাজধানী।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম চট্টগ্রামে আগমন করে।
- পর্তুগিজরা প্রথমে জন দ্য সিলভিরার নেতৃত্বে ১৫১৭ সালে এবং পরে আলফন্সো দ্য মিলোর নেতৃত্বে ১৫২৭ সালে চট্টগ্রাম দখলের ব্যর্থ চেষ্টা করে।
- তারা বাংলার সুলতান মাহমুদ শাহকে সাহায্য করার বিনিময়ে তার কাছ থেকে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়েরও অধিকার লাভ করে।
- এটিকে পর্তুগিজরা পোর্টো গ্র্যান্ডে নামকরণ করেন।
- জোয়াও ডি ব্যারোস ১৫৫২ সালে 'বাংলা রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ধনী শহর' হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।
- সাতগাঁও বন্দরের নামকরণ হয় ‘পোর্টো পেকুইনে’।
- ১৬৬৫-৬৬ সালে বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম অভিযান করে অতর্কিত আক্রমণে বন্দরটি দখল করে নেন।
- চট্টগ্রাম ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) Britannica.
৪,০৬৯.
দেশের মাথাপিছু আয় কোন প্রতিষ্ঠান প্রাক্কলন ও প্রকাশ করে?
  1. বাংলাদেশ ব্যাংক
  2. বিবিএস
  3. নিপোর্ট
  4. ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ
ব্যাখ্যা
BBS:

- BBS এর পূর্ণরুপ - Bangladesh Bureau of Statistics.
- - বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বাংলাদেশের জনমিতি, অর্থনীতি, এবং অন্যান্য ঘটনার পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা এবং তথ্য পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা এটি বাংলাদেশ সরকারের সকল ধরনের জরিপ কার্যক্রম চালায় এবং তথ্য প্রদান করে।
- প্রতিষ্ঠা লাভ করে - ১৯৭৪ সালের আগস্ট মাসে।
- সদর দপ্তর - ঢাকা, বাংলাদেশ।
- দেশের মাথাপিছু আয় প্রাক্কলন ও প্রকাশ করে - বিবিএস।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৪,০৭০.
মহাত্মা গান্ধী অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন কত সালে?
  1. ১৯১৯ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯৪২ সালে
  4. ১৯৪৩ সালে
ব্যাখ্যা
• অসহযোগ আন্দোলন:
- রাউলাট আইন ও জালিয়ান ওয়ালাবাগের হত্যাকান্ড (১৯১৯)-এর প্রতিবাদে মহাত্মা গান্ধী ১৯২০ সালের ১০ মার্চ অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
- গান্ধীজী হিংসাত্মক পথ বর্জন এবং সত্যাগ্রহ নীতিকে সামনে রেখে অসহযোগ আন্দোলন শুরু কর্মসূচি গ্রহণ করেন‌।
- এ আন্দোলন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল- খেতাব ও সরকারি পদ ত্যাগ করা, ব্রিটিশ সংশ্লিষ্ট পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া, ব্রিটিশ আদালত বর্জন করে নিজস্ব সালিশি আদালত প্রতিষ্ঠা করা, স্বদেশী বস্ত্র ব্যবহার করা ইত্যাদি।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- অসহযোগ আন্দোলনের সাফল্য ও লক্ষ লক্ষ ভারতীয় এ আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রস্ত করে তোলে।
- উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধী গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৭১.
স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে কোনটি স্থাপিত হয়?
  1. ক) রাজসিক বিহার
  2. খ) শিখা চিরন্তন
  3. গ) জাগ্রত চৌরঙ্গী
  4. ঘ) স্বোপার্জিত স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্ণ হয় তথা রজতজয়ন্তী উদযাপন হয়। একে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৯৭ সালের ২৬শে মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তন স্থাপন করা হয়। এ স্থানেই ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন। রাজসিক বিহার ঢাকার ৪০০ বছর পূর্তিতে বাংলামটরে স্থাপন করা হয়। জাগ্রত চৌরঙ্গী গাজীপুর চৌরাস্তায় স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য। স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ১৯৮৯ সালে টিএসসি সড়কদ্বীপে স্থাপন করা হয়। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪,০৭২.
'অপারেশন সার্চলাইট' এর নীলনকশার সার্বিক তত্ত্বাবধান করে কে?
  1. টিক্কা খান
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. জুলফিকার আলী ভুট্টো
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চ লাইট: 

• ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে এই দেশের মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করা শুরু করে। 
অপারেশন সার্চ লাইট এর সার্বিক তত্ত্বাবধান করে গভর্নর লে. জে টিক্কা খান।
• ১৮ মার্চ, ১৯৭১ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী ও মেজর খাদিম হোসেন নীলনকশা তৈরি করে। 
• ঢাকা শহরের দায়িত্বে ছিল: মেজর রাও ফরমান আলী।
• ঢাকার বাইরে দায়িত্বে ছিল: মেজর খাদিম হোসেন রাজা।
• ১৬ মার্চ, ১৯৭১: ইয়াহিয়া সরকার পূর্ব পাকিস্তানে গোলাবারুদ ও অস্ত্র সরবরাহ শুরু করে। 
• ১৯ মার্চ, ১৯৭১: বাঙালি সেনাদের নিরস্ত্রীকরণ শুরু এবং সার্চ লাইটের নীল নকশা অনুমোদন।
• ২৪ মার্চ, ১৯৭১: চট্টগ্রাম বন্দরে এমভি সোয়াত থেকে অস্ত্র খালাস শুরু করে।
• ২৫ মার্চ, ১৯৭১: গণহত্যা চালাতে পাকিস্তান সেনাদের উদ্দেশ্যে টিক্কা খান বলে, “এদেশের মানুষ চাই না, মাটি চাই।"

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৭৩.
রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটিই ছিল রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন।
- এর আগে সংসদ দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল।
- সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান বিজয়ী হয়েছিলেন।
- তিনি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের ব্যানারে অংশ নিয়ে ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
- তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমএজি ওসমানী গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
- জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি।
- তিনি ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ থেকে ৩০ মে ১৯৮১ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৪,০৭৪.
পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে কখন?
  1. ক) ১৯৪৭ সালের ১০ এপ্রিল
  2. খ) ১৯৪৭ সালের ১০ মে
  3. গ) ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট
  4. ঘ) ১৯৪৭ সালের ১০ আগস্ট
ব্যাখ্যা
• পাকিস্তান গণপরিষদ পাকিস্তান রাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালে গঠিত হয়।
- গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে ১৯৪৭ সালের ১০ আগস্ট করাচিতে।
- ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট ১৯৪৭-এর শর্তানুযায়ী দুটি গণপরিষদের একটি স্থাপিত হয় ভারতে এবং অপরটি পাকিস্তানে।
- ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তান গণপরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন।
-ভারতের স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী গণপরিষদের দুটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ছিল: দেশের সংবিধান প্রণয়ন এবং তা কার্যকর করার পূর্ব পর্যন্ত একটি ফেডারেল আইনসভা (সংসদ) হিসেবে কাজ করা।

সোর্স: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রফেসর মোঃ মজাম্মেল হক) এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,০৭৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মিশন স্থাপিত হয় কোথায়?
  1. নয়াদিল্লি
  2. লন্ডন
  3. কলকাতা
  4. নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম মিশন স্থাপিত হয় কলকাতায়।
- এদিন কলকাতায় অবস্থিত পাকিস্তান উপ-দূতাবাসের তৎকালীন ডেপুটি হাইকমিশনার এম হোসেন আলী পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
(তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার)
৪,০৭৬.
বাংলাদেশ ফল গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বগুড়া
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) গাজীপুর
  4. ঘ) পাবনা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার বিনোদপুরে ফল গবেষণা ইনস্টিটিউট অবস্থিত।
- ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপকেন্দ্র হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়।
- মসলা গবেষণা কেন্দ্র বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ।
- ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ।
- ডাল গবেষণা ইনস্টিটিউট পাবনা জেলার ঈশ্বরদী।

উৎস:- কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৪,০৭৭.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধি লাভ করে কত জন?
  1. ক) ৭ জন
  2. খ) ৬৮ জন
  3. গ) ১৭৫ জন
  4. ঘ) ৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

==================
উল্লেখ্য,
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

অর্থ্যাৎ, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে।
এর মধ্য,
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- বীর উত্তম: ৬৭ জন
- বীরবিক্রম : ১৭৪ জন
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
৪,০৭৮.
৬০ বছর পূর্তিকে কী বলা হয়?
  1. সুবর্ণ জয়ন্তী
  2. হীরক জয়ন্তী
  3. রজত জয়ন্তী
  4. প্লাটিনাম জয়ন্তী
ব্যাখ্যা
জয়ন্তী:

- জুবিলীর (Jubilee) অর্থ হলো উত্সব মুখর পরিবেশে জন্মতিথি পালন। আর এটাকে বাংলায় বলা হয় জয়ন্তী।
-  ২৫ বছর পূর্তিকে বলা হয় : রজত জয়ন্তী।
- ৫০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : সুবর্ণ জয়ন্তী / স্বর্ণ জয়ন্তী।
- ৬০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : হীরক জয়ন্তী।
- ৭৫ বছর পূর্তিকে বলা হয় : প্লাটিনাম জয়ন্তী।
- ১০০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : শতবর্ষ।
- ১৫০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : সার্ধশত।
- ২০০ বছর পূর্তিকে বলা হয় : দ্বিশতবর্ষ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,০৭৯.
বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন করেন কে?
  1. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড ডালহৌসী
  4. লর্ড ওয়েলেসলী
ব্যাখ্যা
বিধবা বিবাহ আইন:
- বিধবা বিবাহ  আইন প্রবর্তন করেন লর্ড ডালহৌসী।
- এই আইন প্রণয়ন করেন -১৮৫৪ সালে।
- বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়- ১৮৫৬ সালে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহের জন্য সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ ও বহু বিবাহ নিষিদ্ধের পাশাপাশি বিধবা বিবাহ জন্য সংগ্রাম করেন
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার ছেলের সাথে বিধবা বিবাহ দিয়েছিলেন।

⇒ এছাড়াও,
- লর্ড ডালহৌসী  স্বত্ব বিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন।
- রেললাইনের প্রচলন করেন।

⇒ অপরদিকে,
- লর্ড বেন্টিংক সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন।
- লর্ড ক্যানিং কাগজি মুদ্রার প্রচলন করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলী অধীনতা মুলক নীতির প্রবর্তক।
- ব্রিটিশদের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী বড়োলাট।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৮০.
যুক্তফ্রন্ট সরকার কত দিন ক্ষমতায় ছিল?
  1. ক) ৭৩
  2. খ) ৫৬
  3. গ) ৫৪
  4. ঘ) ৬২
ব্যাখ্যা

১৯৫৩ সালের চারটি প্রধান দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা এবং ২১ দফা দাবির ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। একুশ দফার প্রথম দাবি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকার করা।
১৯৫৪ সালের ১১ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক নির্বাচনে ২৩৭ টি আসনের মধ্যে ২২৩ আসনে জয়লাভ করে পূর্ব বাংলায় মন্ত্রিসভা গঠন করে। মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী হন এ.কে ফজলুল হক।
বঙ্গবন্ধু হন কৃষি,সমবায়, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল করে কেন্দ্রের শাসন জারি করেন। যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়-নবম দশম শ্রেণি।

৪,০৮১.
বাংলাদেশের জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিমালা কবে প্রণীত হয়েছে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা
- ২০১১ সালের ৩১ মে তারিখে যে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিটি জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয়।
- ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধনীতি প্রনয়ণ হয়েছিল।
- ওষুধনীতির মতো ১৯৯০ সালের প্রস্তাবিত প্রথম জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির প্রাণপুরুষও ছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। 

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রথম আলো
৪,০৮২.
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় ভাষা দিবস হিসেবে পালন হত-
  1. ২২ ফ্রেব্রুয়ারি
  2. ১১ মার্চ
  3. ৭ মার্চ
  4. ১৩ মার্চ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দেলন-১৯৪৮
 - ২১ মার্চ ১৯৪৮ রেসকোর্স ময়দানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর পূর্ব পাকিস্তান সফর উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি বিশাল সমাবেশে জিন্নাহ বলেন, ‘উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হইবে, অন্য কোনো ভাষা নহে।
 - ২৪ মার্চ তারিখে কার্জন হলে অনুষ্ঠিত ঢাবি’র সমাবর্তনে তিনি পুনরায় ঘোষণা করেন ‘Urdu and Urdu alone shall be the state language of Pakistan.
-  ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচীতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে,পূর্ব পাকিস্তানের কংগ্রেস দলের সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে পরিষদের অন্যতম ভাষা করার দাবি জানান। 
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ঘটিত হয়- ২ মার্চ ১৯৪৮ (আহ্বায়ক - শামছুল হক)
-  ২৬ ও ২৯ ফ্রেবুয়ারি ১৯৪৮ - রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।
- ১১মার্চ  ১৯৪৮ - রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামের পক্ষ থেকে বাংলা ভাষা দিবস ঘোষণা কারা হয়।
- ১১মার্চ  ১৯৪৮ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদার দাবিতে প্রথম ধর্মঘট হয়।
- ১৫ মার্চ পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী খাজা নিজামুদ্দি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাথ ৮ দফা চুক্তি করেন। 

উৎস
:  মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ, ইতিহাস বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৪,০৮৩.
সর্বশেষ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১ অনুসারে, বাংলাদেশের মোট জন্যসংখ্যা -
  1. ক) ১৬ কোটি ৮২ লাখ
  2. খ) ১৬ কোটি ২৮ লাখ
  3. গ) ১৬ কোটি ২৪ লাখ
  4. ঘ) ১৬ কোটি ৪২ লাখ
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১ অনুসারে,
- বাংলাদেশের মোট জন্যসংখ্যা - ১৬ কোটি ৮২ লাখ। 
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার - ১.৩৭%
- জনসংখ্যা ঘনত্বের হার - ১১৪০
- গড় আয়ুষ্কাল - ৭২.৮ বছর 
- স্বাক্ষরতার হার - ৭৫.২%।
৪,০৮৪.
"অপারেশন জ্যাকপট" পরিচালনা করেন কারা?
  1. সেনা বাহিনী
  2. পুলিশ বাহিনী
  3. বিমান বাহিনী
  4. নৌ-কমান্ডো বাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- মুক্তিযুদ্ধে জয় ত্বরান্বিত করার অন্যতম বড় আরেকটি পদক্ষেপ ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ডো বাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল এটি।
- ১৯৭১ সালের ১৬ই অগাস্ট প্রথম প্রহরে দেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়।
- পাকিস্তানি বাহিনীর নৌযান ধ্বংস এবং নৌ-যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টির মাধ্যমে পাকিস্তানি সৈন্য চলাচল, সমর-সরঞ্জাম ও রসদ পরিবহন ব্যহত করা ছিল ওই অপারেশনের প্রধান লক্ষ্য।
- এটি অত্যন্ত সফল সফল অভিযান ছিল। কারণ এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- এছাড়া বিদেশী জাহাজ ধ্বংস হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই খবর গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়।
- ফলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে কোন যুদ্ধ হচ্ছে না বলে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রচারণা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৮৫.
১৯৭১ সালে জর্জ হ্যারিসন কার আহবানে বাংলাদেশ কনসার্টে যোগ দেন?
  1. ডিপি ধর
  2. রবি শঙ্কর
  3. ললিত কুমার
  4. মার্ক এন্থনি
ব্যাখ্যা
কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের মুখে যুদ্ধ বিরতি ঘটিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে বাধাগ্রস্ত করতে জাতিসংঘে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
- তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের অনেক সদস্য, বিভিন্ন সংবাদপত্র, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা পালন করে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- রবি শঙ্করের আহবানে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন কন্সার্টে যোগ দেন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
         ii) ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১, প্রথম আলো।
৪,০৮৬.
“একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার” -গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) গাজী মাজহারুল আনোয়ার
  2. খ) নজরুল ইসলাম বাবু
  3. গ) আপেল মাহমুদ
  4. ঘ) সাবিনা ইয়াসমিন
ব্যাখ্যা
“একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার” -গানটির গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু।

তার রচিত অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে:
- 'সব কটা জানালা খুলে দাও না'
- ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা’
- ‘ও আমার আট কোটি ফুল দেইখো গো মালি’ প্রভৃতি।

উৎস: প্রথম আলো।
৪,০৮৭.
দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য সরাসরি জানাতে চালুকৃত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইন -
  1. ১০৬
  2. ১০৩
  3. ৩৩৩
  4. ৯৯৯
ব্যাখ্যা

 দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য সরাসরি জানাতে এখন থেকে চালু হলো দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইন ‘১০৬’।
-
বিনা খরচে এবং যে কোন মোবাইল বা টেলিফোন থেকে এই নাম্বারে কল করে দুদককে দুর্নীতির তথ্য, অভিযোগ জানানো যাবে।অফিস চলাকালীন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই নম্বরে ফ্রি কল করে দুর্নীতির তথ্য জানানো যাবে।

বিভিন্ন সেবায় হটলাইন:
- ৯৯৯: বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস। 
- ১০৬: দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার।
- ১৬৪৩০: সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার।
- ১৬১২৩: কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন।
- ১০৯: নারী ও শিশু নির্যাতন অথবা পাচারের ঘটনা প্রতিরোধে কল সেন্টার।
- ১০৯৮: শিশু সহায়তামুলক কল সেন্টার।
- ৩৩৩: জাতীয় তথ্যবাতায়ন কল সেন্টার।
- ১৬২৬৩: বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য কল সেন্টার।
- ১৬১০৮: মানবাধিকার সহায়ক কল সেন্টার।
- ১৬২৫৬: আপনার ইউনিয়নের সকল তথ্য জানতে কল করুন ইউনিয়ন সহায়তামুলক কল সেন্টারে।
- ১৩১: বাংলাদেশ রেলওয়ে কল সেন্টার।
- ১০৫: জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য কল সেন্টার।
- ১০০: বিটিআরসি কল সেন্টার।
- ১৬৪২০: বিটিসিএল কল সেন্টার।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,০৮৮.
শহিদ আসাদ কোন আন্দোলনে শহিদ হন? 
  1.  ভাষা আন্দোলন 
  2. ছয় দফা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান: 
-  ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ  হয়। 

-  আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে যখন প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
- ড. জোহার মৃত্যসংবাদে সারাদেশে এমন ব্যাপক গণবিক্ষোভ সৃষ্টি হয় যে, সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয়।

উল্লেখ্য,
- আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে এবং মধ্য জানুয়ারিতে গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
- আইয়ুববিরোধী মিছিল মিটিং সভা সমাবেশ নিত্যদিনকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। আন্দোলন কেবলমাত্র ঢাকা শহরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তা পল্লীগ্রামসহ সকল মফস্বল শহরেও বিস্তৃত হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,০৮৯.
স্থাপত্য ক্যাটাগরিতে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২২ অর্জন করেন কে?
  1. ক) তানভীর করিম
  2. খ) সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ
  3. গ) সৈয়দ মাইনুল হোসেন 
  4. ঘ) মোস্তফা আলী কুদ্দুস
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২২:
- ‘স্বাধীনতা পুরস্কার' বাংলাদেশের জাতীয় এবং “সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার”।
- দেশ ও জাতির কল্যাণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
- বাংলাদেশ সরকারের 'মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ' থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- ১৮ মার্চ, ২০২২ তারিখে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৫টি ক্যাটাগরিতে ৯ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও ২টি প্রতিষ্ঠানকে 'স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২২ প্রদান করে বাংলাদেশ সরকারের 'মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ'।
- ২০২২ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন-

- ক্যাটাগরি ⇒ পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান
১। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ⇒ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী, শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা (বীর বিক্রম), জনাব আব্দুল জলিল, জনাব সিরাজ উদদীন আহমেদ, মরহুম মোহাম্মদ ছহিউদ্দিন বিশ্বাস এবং মরহুম সিরাজুল হক।
২। চিকিৎসাবিদ্যা ⇒ অধ্যাপক ডাঃ কনক কান্তি বড়ুয়া, অধ্যাপক ডাঃ মো. কামরুল ইসলাম।
৩। স্থাপত্যমরহুম স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন। 
৪। গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ⇒ বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI)।
৫। শতভাগ বিদ্যুতায়নে সাফল্য ⇒ বিদ্যুৎ বিভাগ। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ ডাইনামিক প্যানেল, বাংলাদেশ বিষয়াবলি। 
৪,০৯০.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
  2. শরীফ শিক্ষা কমিশন
  3. হান্টার কমিশন
  4. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন:
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন 'জাতীয় শিক্ষা কমিশন'।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে,
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৪,০৯১.
ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন হয়-
  1. ক) বিট্রিশ আমলে
  2. খ) মুঘল আমলে
  3. গ) সুলতানা আমলে
  4. ঘ) নবাবী আমলে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারন করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করে মোঘল যুগে।
• আকবর নামা গ্রন্থে ঢাকা একটি থানা (সামরিক ফাঁড়ি) হিসেবে এবং আইন-ই- আকবরী গ্রন্থে সরকার বাজুহার একটি পরগনা হিসেবে ঢাকা বাজু উল্লিখিত হয়েছে।
• ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করে জাহাঙ্গীরনগর।
• প্রশাসনিকভাবে জাহাঙ্গীরনগর নামকরণ হলেও সাধারণ মানুষের মুখে ঢাকা নামটিই থেকে যায়। সকল বিদেশী পর্যটক এবং বিদেশী কোম্পানির কর্মকর্তারাও তাদের বিবরণ এবং চিঠিপত্রে ঢাকা নামটি ব্যবহার করেন।
• ঢাকার সমৃদ্ধি ও স্থাপত্য সমূহ মূলত মোঘল যুগেই শুরু হয়।

তথ্যসূত্র: ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট ও মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই।
৪,০৯২.
বাংলাদেশ টেলিভিশন সর্বপ্রথম কোন ভবন থেকে সম্প্রচার শুরু করে?
  1. ক) জাতীয় বেতার ভবন
  2. খ) ডিআইটি ভবন
  3. গ) রামপুরা টিভি ভবন
  4. ঘ) আদমজী কোর্ট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ টেলিভিশন বাংলা ভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন। এটি ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার ডিআইটি ভবন (বর্তমান রাজউক ভবন) থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সম্প্রচার শুরু করে।

১৯৭৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এটিকে রামপুরায় নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয় এবং ৬ মার্চ থেকে পুনরায় সম্প্রচার শুরু করে।

১৯৮০ সাল থেকে বিটিভি রঙিন সম্প্রচার শুরু করে। ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিটিভি চট্টগ্রামকেন্দ্র চালু হয়। ২০০৪ সালের ১১ই এপ্রিল বিটিভি ওয়ার্ল্ড চালু হয়।

২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে সমগ্র ভারতে বিটিভি ওয়ার্ল্ডের সম্প্রচার শুরু হয়। ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বিটিভি সম্প্রচার শুরু করে।
বিটিভি তার ১৪টি উপ/রিলে কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৯৫ ভাগ এলাকায় টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার বজায় রেখেছে।

(তথ্যসূত্র: বিটিভি ওয়েবসাইট)
৪,০৯৩.
বঙ্গ জনপদ বিস্তৃত ছিল -
  1. বরিশাল
  2. ফরিদপুর
  3. ঢাকা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৯৪.
ইলবার্ট বিল প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

ইলবার্ট বিল: 
- ইলবার্ট বিল ১৮৮৩ সালে লর্ড রিপনের শাসনামলে উত্থাপিত হয়।
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় হিসেবে উদারপন্থী চিন্তাধারার জন্য পরিচিত ছিলেন।
- ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করে বিচার বিভাগে সমতা আনয়নের উদ্দেশ্যে এই বিলটি উত্থাপন করা হয়।
- বিলটি উত্থাপন করেন লর্ড রিপনের আইনমন্ত্রী সি. পি. ইলবার্ট। তবে বিলটি ইউরোপীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়, যারা ভারতীয় বিচারকদের অধীনে বিচার হতে রাজি ছিল না।
- অবশেষে ইউরোপীয়দের চাপে লর্ড রিপন বিলটি সংশোধন করে জুরি ব্যবস্থার শর্তে পাস করেন।
- এই বিতর্ক ভারতীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত গড়ে তোলে।
- পরবর্তীতে এটি ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৮৩) ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (১৮৮৫) প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৪,০৯৫.
সিপাহি বিদ্রোহের সূত্রপাত কোথায় হয়েছিল? 
  1. কানপুর
  2. ব্যারাকপুর
  3. মিরাট
  4. লখনৌ
ব্যাখ্যা

• সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,০৯৬.
কোন আমল থেকে সমগ্র বাংলাদেশের অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে?
  1. পাল আমল
  2. গুপ্ত আমল
  3. ইলিয়াস শাহী আমল
  4. হোসেন শাহী আমল
ব্যাখ্যা
ইলিয়াস শাহী আমল: 
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন।
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্র করতে পারেননি।
- তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে।
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ স্থানীয় জনগণের মন জয় করার জন্য উদারনৈতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁরা জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে শাসনকার্যে ও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করেন।
- তাঁরা দেশীয় ভাষা ও সাহিত্যের সমাদর এবং দেশীয় কবিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- তাঁদের উদার নীতির ফলে বাংলাদেশে সামাজিক জীবনে এক নতুন ধারার সৃষ্টি হয়েছিল।
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ আরবদেশ, চীন ও পারস্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন।
- ইলিয়াস শাহী আমলে বাংলার কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,০৯৭.
প্রাচীন জনপদ সমতটের প্রধান কেন্দ্র কোনটি ছিল?
  1. পুন্ড্রনগর
  2. ত্রিপুরা
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. বড় কামতা
ব্যাখ্যা
সমতটঃ

⇒ পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
⇒ প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য। মধ্যবাংলার কিছু অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
⇒ রাজ্য রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল কর্মান্ত বা ত্রিপুরা (কুমিল্লা) জেলার ময়নামতির অদূরে বড় কামতা।
⇒ হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।
⇒ হিউয়েন সাঙ বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৯৮.
গারো পাহাড় কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ময়মনসিংহ
  3. কক্সবাজার
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
• গারো পাহাড়:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এবং বৃহত্তম পাহাড় ময়মনসিংহের গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণী।
- গারো পাহাড় মূলত পূর্ব গারো পাহাড়, পশ্চিম গারো পাহাড় এবং দক্ষিণ গারো পাহার এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ৮৯°৫০´ পূর্ব হতে ৯০°৫০´ পূর্ব অক্ষাংশ এবং ২৮°০৮´ উত্তর হতে ২৬°০১´ উত্তর  দ্রাঘিমাংশে এর আয়তন প্রায় ৮১৬৭ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাসমূহ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলসমূহ এই পাহাড়ের পাদদেশীয় পালিজ সমৃদ্ধ।
- গারো পাহাড়ের উত্তর এবং উত্তর পশ্চিমে রয়েছে আসাম এবং পূর্বে মেঘালয়ে খাসি পাহাড়।
- গারো পাহাড় মূলত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারোখাসি পাহাড়শ্রেণীর অন্তর্গত, মেঘালয়ের রাজধানী শিলং এখানে অবস্থিত। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট জেলা সমূহের ওয়েবসাইট।
৪,০৯৯.
জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  2. আবদুর রহমান বিশ্বাস
  3. শাহাবুদ্দীন আহমেদ
  4. জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

→ জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন জিয়াউর রহমান।

১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটিই ছিল রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন।
- সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান৷
- তিনি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের ব্যানারে অংশ নিয়ে ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
- তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এমএজি ওসমানী।
- তিনি ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্ট।

৪,১০০.
আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় -
  1. ক) ঐতিহাসিক ২১ দফায়
  2. খ) ঐতিহাসিক ৬ দফায়
  3. গ) পাকিস্তানের ১ম সংবিধানে
  4. ঘ) পাকিস্তানের ২য় সংবিধানে
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়। 
- এ সংবিধানের মাধ্যমে পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্র নাম ধারণ করে। 
- পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশগুলোকে একত্রিত করে পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তান নাম দেয়া হয়। 
- সংবিধানে দুই প্রদেশের পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং সকল বিষয়ে সংখ্যাসাম্য নীতি স্বীকৃত হয়। 
- বাংলা এবং উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়

সূত্র: ইতিহাস, ওপেন স্কুল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।