বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৪০ / ১২৪ · ৩,৯০১৪,০০০ / ১২,৪২১

৩,৯০১.
সম্প্রতি বাংলাদেশে কোন দেশের দূতাবাস খোলা হয়েছে?
  1. ক) কাতার
  2. খ) আর্জেন্টিনা
  3. গ) সুইডেন
  4. ঘ) আজারবাইজান
ব্যাখ্যা
• ঢাকায় আর্জেন্টিনার দূতাবাস:
- ঢাকায় ফের উদ্বোধন করা হলো আর্জেন্টিনার দূতাবাস
- ৪৫ বছর পর সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি,২০২৩) রাজধানীর বনানীতে দেশটির দূতাবাস উদ্বোধন করা হয়।
- এ সময় উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো ক্যাফিয়ারো ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
- এ সফরে ৪৫ বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার দূতাবাস চালু ও দুই দেশের মধ্যে ফুটবল এবং কৃষিতে সহযোগিতাসহ চারটি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সইকরা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।
৩,৯০২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ৯ টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১২ টি
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো। নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল-১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর) এবং ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না, চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর, ঢাকা-২ নং সেক্টর, রাজশাহী-৭ নং সেক্টর, মুজিবনগর-৮ নং সেক্টর, সুন্দরবন-৯ নং সেক্টর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৩,৯০৩.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২০ অনুসারে কোন খাতে সর্বাধিক পরিমাণ শ্রমশক্তি নিয়োজিত?
  1. ক) কৃষি
  2. খ) শিল্প
  3. গ) সেবা
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সার্বিকভাবে, বাংলাদেশের জিডিপি ১৫টি খাত নিয়ে গঠিত।
-জিডিপির সর্ববৃহৎ খাত - সেবাখাত ও ছােট খাত - কৃষিখাত।
-কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎ খাত - কৃষিখাত (৪০.৬% শ্রমশক্তি নিয়োজিত) এবং ছােট খাত -শিল্পখাত(২০.৪% শ্রমশক্তি নিয়োজিত)।
-অর্থনীতি/জিডিপির সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাত, শিল্পখাত; প্রবৃদ্ধির হার- ৬.৪৮%। অন্যদিকে, কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম; প্রবৃদ্ধির হার- ৩.১১%।
-সার্বিকভাবে অর্থনীতি/জিডিপিতে কৃষি ও সেবা খাতের অবদান - ক্রমহ্রাসমান এবং শিল্পখাতের অবদান - ক্রম বর্ধমান।
উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২০।
৩,৯০৪.
‘আগুনের পরশমণি’ চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. খান আতাউর রহমান
  4. তানভীর মোকাম্মেল
ব্যাখ্যা

আগুনের পরশমণি:
- মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘আগুনের পরশমণি’।
- চিত্রনাট্য ও পরিচালনা: হুমায়ূন আহমেদ।
- নির্মিত হয়: ১৯৯৪ সালে।
- মুক্তি পায়: ১৯৯৫ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় মুক্তিবাহিনীর অভিযান আর মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের সংকট ছবিটিতে তুলে ধরেছেন। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, বিপাশা হায়াত, ডলি জহুর ও আরো অনেকে।
- আগুনের পরশমণি চলচ্চিত্রটি ৮টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।
- শাখাগুলো হচ্ছে-
• শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (প্রযোজক হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার (হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা (হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (বিপাশা হায়াত),
• শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (সত্য সাহা),
• শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক (মফিজুল হক),
• শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী (শিলা আহমেদ),
• শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার (হোসনে আরা পুতুল)।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,৯০৫.
চাণক্য কার রাজত্বকালে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন?
  1. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  2. সমুদ্রগুপ্ত 
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

চাণক্য:
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।
- তিনি প্রাচীন তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রনীতির অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উত্থানে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেন।
- তিনিই তরুণ চন্দ্রগুপ্তকে শিক্ষা দিয়েছিলেন।
- চাণক্য চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও তাঁর পুত্র বিন্দুসারের রাজ-উপদেষ্টার কাজ করেছিলেন। 
- চাণক্যকে কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত নামেও অভিহিত করা হয়।
- তিনি প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্রবিজ্ঞান গ্রন্থ অর্থশাস্ত্র-এর রচয়িতা।
- তাঁকেই ভারতের প্রথম অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মনে করা হয়।

• চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
         ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯০৬.
কোন রাজবংশের শাসনামলে 'কৈবর্ত বিদ্রোহ' সংঘটিত হয়েছিল?
  1. গুপ্ত রাজবংশ
  2. পাল রাজবংশ
  3. সেন রাজবংশ
  4. কুষাণ রাজবংশ
ব্যাখ্যা

পাল রাজবংশের শাসনামলে 'কৈবর্ত বিদ্রোহ' সংঘটিত হয়েছিল।

কৈবর্ত বিদ্রোহ:
- কৈবর্ত বিদ্রোহকে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশ এমনকি ভারতবর্ষের প্রথম সফল জনবিদ্রোহ।
- বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামেও অভিহিত করা হয় একে।
- এ সময় পাল বংশের রাজা ছিলেন দ্বিতীয় মহীপাল, যাঁর রাজত্বকাল ধারণা করা হয় ১০৭৫ সাল থেকে ১০৮০ সালের মধ্যে। এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন দিব্যক বা দিব্য। তিনি খুব সম্ভব প্রথম দিকে পালদের একজন রাজকর্মচারী কিংবা সামন্ত ছিলেন। কৈবর্তদের একত্রিত করে একটি শক্তিশালী বাহিনী তৈরি করেন তিনি।
- কৈবর্ত বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয় ধর্মীয় কারণকে। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯০৭.
'বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পুরস্কার' কত সাল থেকে প্রদান করা হয়?
  1. ২০১৬
  2. ২০১৭
  3. ২০১৮
  4. ২০১৯
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পুরস্কার:
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮ জন সরকারি কর্মকর্তা ও দু’টি সরকারি বিভাগকে ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পুরস্কার-২০২৩’ প্রদান করেন।
- জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ পুরস্কার দেন।
- বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, মননশীলতা এবং উদ্ভাবনী প্রচষ্টাকে উৎসাহিত করতে ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির অধীনে পুরষ্কারটি দেয়া হচ্ছে।
- প্রত্যেককে একটি স্বর্ণপদক (১৫ গ্রাম ওজনের) এবং রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামসহ একটি প্রশংসাপত্র দেয়া হয়।
- ব্যক্তিগত অবদানের জন্য ২ লাখ টাকা এবং দলগত অবদানের জন্য ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।

উৎস: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।  [লিঙ্ক]
৩,৯০৮.
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা ছিলেন -
  1. ফৌজদার
  2. শিকদার
  3. সুবাহদার
  4. ওয়াজির
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯০৯.
মুজিবনগর সরকারের বক্তব্য সম্বলিত একটি পত্রকে অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হিসাবে গ্রহণ করে জাতিসংঘের কোন সংস্থা?
  1. ক) সাধারণ পরিষদ
  2. খ) নিরাপত্তা পরিষদ
  3. গ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ
  4. ঘ) অছি পরিষদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার ও জাতিসংঘ

- ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে যুদ্ধ বন্ধ ও বিশ্বশান্তি প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শুরু হয়।
- ৪ ডিসেম্বর নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি দলের নেতা আবু সাঈদ চৌধুরীকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দান প্রশ্নে ব্যাপক বিতর্কের পর তাঁকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেয়া না হলেও তাঁর বক্তব্য সম্বলিত পত্রটি নিরাপত্তা পরিষদের অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হিসাবে গ্রহণ ও বিলি করা হয়।
- অর্থাৎ এটি ছিল এক ধরনের পরোক্ষ স্বীকৃতি। এই প্রথম জাতিসংঘে বাংলাদেশের মানুষের বক্তব্য বাংলাদেশের প্রতিনিধির মাধ্যমে সরাসরি উচ্চারিত হয়।

- তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, জাতিসংঘ হচ্ছে এমন একটি বিশ্ব সংস্থা যেখানে প্রধানত বৃহৎ শক্তিবর্গের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত ও বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বৃহৎ শক্তিবর্গের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় জাতিসংঘ ত্রাণকার্য পরিচালনা ব্যতীত অন্য কোন দায়িত্ব পালনে পুরোপুরিই ব্যর্থ হয়েছিল।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯১০.
বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প কোনটি?
  1. তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প
  2. কর্ণফুলি সেচ প্রকল্প
  3. মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প
  4. ডিএনডি প্রকল্প
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প হলো ⇒ তিস্তা সেচ প্রকল্প, যা তিস্তা ব্যারেজ নামেও পরিচিত।

তিস্তা সেচ প্রকল্প:
- তিস্তা সেচ প্রকল্প হলো বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প।
- নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার সীমানা থেকে ১ কিঃমিঃ দূরে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী নামক স্থানে তিস্তা নদীর উপর তিস্তা ব্যারেজ অবস্থিত।
- এ প্রকল্পটি নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ৫ লক্ষ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করে।
- এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৯ সালে এবং শেষ হয় ১৯৯০ সালে।
- সেচ প্রকল্পটির পরিচালনা ও রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে রয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

⇒ উত্তরাঞ্চল খরাপিড়িত এলাকা হওয়ায় তৎকালিন বৃটিশ আমলে ১৯৩৭ সালে তিস্তা ব্যারেজ নিমার্ণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
- তবে এর মুল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান আমলে।
- ১৯৫৭ সালে নির্মাণ কাজ শুরুর পরিকল্পনা থাকলে রাজনৈতিক অস্থিতিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
- পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৯ সালে ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ১৯৮৫ সালে সৌদি উন্নয়ন তহবিল ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং আবুধাবি উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ২,৫০০কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা ব্যারেজসহ সেচ যোগ্য কৃষিজমি ও জলকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে।
- ২০১৬ সালে ২৬৬ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।

⇒ ব্যারেজের দৈর্ঘ্য ৬১৫ মিটার, গেট ৪৪ টি।
- ক্যানেল হেড রেগুলেটর ১১০ মিটার দীর্ঘ, গেট ৮ টি। সর্বমোট গেট ৫২ টি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৯১১.
কোন সাম্রাজ্যের পতনের ফলে স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে?
  1. গুপ্ত
  2. মৌর্য
  3. পাল
  4. সেন
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্র:
- ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন 'বঙ্গ রাষ্ট্র', অপরটি 'গৌড় রাজ্য।

উল্লেখ্য,
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
- স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের রাজারা তামার পাতে খোদাই করা রাজ নির্দেশ জারি করতেন।
- এগুলোকে তাম্রশাসন বলা হতো।
- এ রকম ৭টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
- স্বাধীন বঙ্গরাজ্যে চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নামের তিনজন রাজা ছিলেন।
- তারা ৫২৫-৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন।
- তারা 'মহাধিরাজ' উপাধি ধারণ করতেন।
- এতে তাদের সার্বভৌম ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়। স্বাধীন বঙ্গের যথেষ্ট যশ, খ্যাতি, প্রভাব ও সমৃদ্ধির কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের নেতৃত্বে বাংলার পুন্ড্র বা পণ্ড্রবর্ধন, গৌড় এবং বঙ্গকে একত্রিত করে একটি বিশাল গৌড় রাজ্য স্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯১২.
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে দুইজন বিদেশি নাগরিক বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তারা হলেন -
  1. মার্শাল জুকুভ ও উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড
  2. আন্দ্রে মালরাক্স ও উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড
  3. জেমস হিলটন ও উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড
  4. এসই ফিনার ও উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে বিদেশি নাগরিকের অবদান:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ফরাসী ঔপন্যাসিক Andre Malraux ও অস্ট্রেলিয় নাগরিক William AS Ouderland বিশেষ অবদান রেখেছিলেন।

⇒ আন্দ্রে মালরাক্স:
- আন্দ্রে মালরাক্স বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভিনদেশী এক সহযোদ্ধা।
- ফ্রান্সের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক ও লেখক।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে ফ্রান্সের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবেও অংশ নেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আন্দ্রে মালরাক্স ফ্রান্সে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
- ফ্রান্স সরকারকে উদ্দেশ্য করে তাঁর আকুতি ছিল: আমাকে একটি যুদ্ধ বিমান দাও, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য শেষ লড়াইটা করতে চাই।
- তাঁর এই আন্দোলন বক্তৃতা, বিবৃতি আন্তর্জাতিক প্রেরণা হয়ে সেসময় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, ১৯৭৩ সালে তাঁকে বাংলাদেশে এনে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

⇒ উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক ডব্লিও এ এস ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ১৯৭০ সালে তিনি বাটা সু কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশে আসেন।
- মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২নং সেক্টরে কাজ করেন।
- তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ, আর্থিক সহায়তা এবং সকল সম্ভাব্য উপায়ে সাহায্য করতেন।
- দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত যান।
- ওই বছরই বাংলাদেশ সরকার তাঁকে চতুর্থ সামরিক খেতাব 'বীরপ্রতীক' প্রদান করে।
- ১৮ মে, ২০০১ সালে তিনি মারা যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৩,৯১৩.
লাহােরে অনুষ্ঠিত OIC শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কবে যােগদান করেন?
  1. ক) ২০-২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  2. খ) ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  3. গ) ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  4. ঘ) ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
ব্যাখ্যা

১৯৭৪ সালের ২২ - ২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (OIC) দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনে বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ (৩২-তম) লাভ করে।

ওআইসি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুঃ
- ১৯৭৪ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ওআইসি মহাসচিবের কাছ থেকে একটি বার্তা এলো বঙ্গবন্ধুর জন্য। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ারি বুমেদিন তাঁর বিশেষ বিমান পাঠিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকে লাহোরে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
- বিমানে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুতেফলিকার নেতৃত্বে আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি দল রয়েছে। দলে কুয়েতের আমিরের বিশেষ দূত হিসেবে আছেন কুয়েতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চান।

- ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রতিনিধিদল ঢাকা এলো ২২ ফেব্রুয়ারি। বঙ্গবন্ধু আলোচনায় জানালেন, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে লাহোর সম্মেলনে যোগদান সম্ভব নয়। আলাপ-আলোচনার পর প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের সঙ্গে ঐকমত্যে উপনীত হলো যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একই সময়ে একযোগে পারস্পরিক স্বীকৃতি দেবে এবং লাহোর ও ঢাকা থেকে এ ঘোষণা একসঙ্গে প্রচার করা হবে—এটাও সিদ্ধান্ত হলো। ২৩ ফেব্রুয়ারি ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল লাহোর যাবে।

- পরবর্তীতে, ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং বঙ্গবন্ধু ২৩ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে যোগ দিতে লাহোর যান।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ওআইসি সম্মেলনে ভাষণ প্রদান করেন।

উৎসঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও ওআইসি ওয়েবসাইট।

৩,৯১৪.
শান্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে জুলিও কুরী পুরস্কার পান?
  1. ক) ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭২
  2. খ) ২৪ মে ১৯৭৩
  3. গ) ২৩ জুন ১৯৭৩
  4. ঘ) ২৩ মে, ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩ মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।দ
৩,৯১৫.
"জি-কে প্রজেক্ট" বাংলাদেশের কয়টি জেলায় সেচ সুবিধা প্রদান করে?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট): 
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার সর্বমোট ১৯৭.৪৮৬ হেক্টর ভূমি জুড়ে বিস্তৃত (পর্ব ১: ৮৪.৯৮৬ হেক্টর এবং পর্ব ২: ১১২.৫০০ হেক্টর)। 
- ১৯৫৪ সালে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬২ সালে এটি আংশিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। 
- ১৯৮১ সালে চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সমাপ্ত হয়, এতে ব্যয় হয় সর্বমোট ৮২৮ মিলিয়ন টাকা (বিরাশি কোটি আশি লক্ষ টাকা)। 
- গঙ্গা থেকে পানি উত্তোলনের জন্য ভেড়ামারায় একটি উত্তোলন কেন্দ্র (পাম্প স্টেশন) রয়েছে। 
- তিনটি প্রধান পাম্পের সর্বমোট উত্তোলন ক্ষমতা ১১০.৪ কিউমেক এবং অপর বারোটি সহায়ক পাম্পের সর্বমোট ক্ষমতা ৪২ কিউমেক। 
- খাল ও নালা কেটে একটি জালিকার মতো বিস্তৃত পানি প্রবাহ প্রণালীর মাধ্যমে ১৪২.০০০ হেক্টর শস্যক্ষেত্রে পানি পরিবাহিত হয়।
 এই প্রণালীর প্রধান খালের দৈর্ঘ্য ১৯৩ কিমি, দ্বিতীয় পর্যায়ভুক্ত খালগুলোর সর্বমোট দৈর্ঘ্য ৪৬৭ কিমি এবং শস্য ক্ষেত্রে পানি পৌঁছে দেওয়ার সর্বশেষ পর্যায়ের নালাগুলির সর্বমোট দের্ঘ্য ৬৩১ কিমি এবং শস্যক্ষেত্রে নির্গম দ্বারের সংখ্যা ৩,৫০০ টি।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
৩,৯১৬.
উপমহাদেশে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন কে?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
সতীদাহ প্রথা: 
- সতীদাহ প্রথা ভারত উপমহাদেশে নিষিদ্ধ করেছিলেন ব্রিটিশ শাসক লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক। 
- রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- ১৮২৯ সালে তিনি "রেগুলেশন XVII" আইন পাস করেন, এর মাধ্যমে হিন্দু বিধবা নারীদের জীবন্ত দাহ করা বা সতীদাহ প্রথা বেআইনি ঘোষণা করা হয়।
- এই আইনে ‘সতীদাহ প্রথা বা হিন্দু বিধবা নারীকে জীবন্ত দাহ বা সমাধিস্থ করা বেআইনি’ বলে ঘোষণা করা হয়।
- লর্ড বেন্টিঙ্ক ছিলেন একজন মানবহিতৈষী সংস্কারপন্থী, এবং তার প্রচেষ্টার ফলে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯১৭.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র নিম্নের কোনটি?
  1. ক) জীবন থেকে নেয়া
  2. খ) সঙ্গম
  3. গ) কখনো আসেনি
  4. ঘ) আবার তোরা মানুষ হ
ব্যাখ্যা
- কথাসাহিত্যিক জহির রায়হান একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তাঁর আসল নাম ছিল মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।

- তাঁর রচিত উপন্যাস:
শেষ বিকেলের মেয়ে (প্রথম উপন্যাস)
আরেক ফাল্গুন (ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক)
বরফ গলা নদী
 আর কতদিন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
কয়েকটি মৃত
তৃষ্ণা
একুশে ফেব্রুয়ারি।

- তাঁর বিখ্যাত চলচ্চিত্র:  
কখনো আসেনি (প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র)
সঙ্গম (বাংলাদেশের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র)
কাঁচের দেয়াল
জীবন থেকে নেওয়া (বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র)
বেহুলা
সোনার কাজল
আনোয়ারা
বাহানা ইত্যাদি।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৯১৮.
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ছয় দফা দাবি সংক্রান্ত পুস্তিকাটির নাম কী ছিলো?
  1. বাংলাদেশের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি
  2. পূর্ব বাংলার বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি
  3. আমাদের বাঁচার চাবি: ৬ দফা কর্মসূচি
  4. আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৯৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন।
- ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে লাহোরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ছয় লক্ষ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। ছয়দফা রচিত হয় লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে।
- এরপর ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ ও প্রচার করা হয়।
- ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সঙ্গে মিল রেখে।
- ছয় দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য ছিল- পাকিস্তান হবে একটা ফেডারেল রাষ্ট্র।

• ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি:
- ১ম দফা: শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি।
- ২য় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
- ৩য় দফা: মুদ্রা ও অর্থ বিষয়ক ক্ষমতা।
- ৪র্থ দফা: কর বা রাজস্ব বিষয়ক ক্ষমতা।
- ৫ম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
- ৬ষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

• এছাড়াও -
- ৬ দফা উত্থাপন করা হয় মোট ৩বার।
- উত্থাপনকারী- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রথমবার ৫-৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে লাহোরের বিরোধী দলীয় সম্মেলনে।
- দ্বিতীয়বার ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ সালে অনানুষ্ঠানিকভাবে।
- তৃতীয়বার ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয় লাহোরে।
- বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা পূর্ব পাকিস্তানের ম্যাগনাকার্টা বলা হয়- ৬ দফাকে।
- ছয় দফা দিবস পালিত হয়ে আসছে- ৭ জুন।
- ছয় দফার অর্থনীতি বিষয়ক দাবি- ৩টি (৩য়, ৪র্থ, ৫ম)।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া, দৈনিক কালের কণ্ঠ।
৩,৯১৯.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান কোনটি?
  1. ক) চরমপাঠ
  2. খ) চরমপত্র
  3. গ) সংবাদ পরিক্রমা
  4. ঘ) ব্রজসাহস
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান ছিল চরমপত্র। 
এই অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান। 
স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি এবং উপস্থাপনা করেন এম আর আখতার মুকুল।

এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি জনগণের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয় এবং জনগণের নৈতিক মনোবল দৃঢ়করণে ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৩,৯২০.
স্কুল টেক্সটবুক বোর্ডের সাথে কোন প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণের মাধ্যমে NCTB গঠিত হয়?
  1. শিক্ষা বোর্ড
  2. বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন
  3. মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর
  4. জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কেন্দ্র
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি):
- এনসিটিবি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৭২--১৯৭৭: ১ম–১০ম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক সংশোধন, পরিমার্জন ও পুনর্লিখন।
- স্বাধীনতা-উত্তর আধুনিক ধ্যান-ধারণা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯৭৮-১৯৭৯: নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী বই প্রণয়নের উদ্যোগ।
- ১৯৮৩: ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও বিতরণ সম্পন্ন।
- ১৯৮৩: “The National Curriculum & Textbook Board Ordinance, 1983 (Ordinance No. LVII of 1983)” জারি।
- ১৯৮৩: স্কুল টেক্সটবুক বোর্ড ও জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন কেন্দ্র একীভূত হয়ে বর্তমান NCTB প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮: ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন, ২০১৮’ জাতীয় সংসদে পাস।

উৎস: NCTB ওয়েবসাইট।

৩,৯২১.
আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন কে?
  1. এম মনসুর আলী
  2. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  3. ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র মানে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়, যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- এই ঘোষণাপত্রটি জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানে ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণা সংযুক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানে ৭ম তফসিলে ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযুক্ত করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৩,৯২২.
চাকমা বিদ্রোহের প্রধান কারণ কোনটি ছিল?
  1. ভূমি সংস্কার
  2. ধর্মীয় নিপীড়ন
  3. মুদ্রায় রাজস্ব দিতে বাধ্য করা
  4. নীল চাষ
ব্যাখ্যা

চাকমা বিদ্রোহ:
- চাকমা বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৭৭৬–১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
- চাকমা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন চাকমা রাজা জুয়ান (জোয়ান) বক্স খান।
- চাকমা রাজাকে মুদ্রায় রাজস্ব দিতে বাধ্য করা এই বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে মুদ্রা অর্থনীতি চালু করার উদ্যোগ চাকমা বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটায়।
- ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে চাকমা জনগণ এই বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করে।
- সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী জুয়ান বক্স ও রানু খান সম্পূর্ণ পাহাড়ি অঞ্চলকে কিছু সময়ের জন্য ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করেন।
- চাকমা বিদ্রোহ পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী প্রতিরোধ আন্দোলন ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৯২৩.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা সন কত ছিল?
  1. ১৩৫৬
  2. ১৩৫৮
  3. ১৩৬৬
  4. ১৩৬৮
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন।
- দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।

⇒ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়:
- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী: খাজা নাজিমউদ্দিন,
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: নুরুল আমিন,
- পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল: গোলাম মুহাম্মদ।
- পূর্ব বাংলার গভর্নর: ফিরোজ খান নুন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৩,৯২৪.
Which is the first sea shore gas field in Bangladesh?
  1. Bakhrabad
  2. Sangu
  3. Semutang
  4. Srikail
  5. None
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র হলো সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র।

সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের সমুদ্রবক্ষে একমাত্র উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র।
- এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিঃশেষ ও পরিত্যক্ত হয় ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর।
- সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৯৬ সালে ব্রিটিশ তেল কোম্পানি কেয়ার্ন এনার্জি কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়।
- কোম্পানিটি ১৯৯৮ সালে সেখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু করে।
- ২০০৭-০৮ সালে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদনে ধস নামে।
 
উল্লেখ্য,
-  পেট্রোবাংলার এমআইএস রিপোর্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রায় ৪৮৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হয়।
 
উৎস: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, প্রথম আলো।
৩,৯২৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র 'মুক্তির গান'-এর পরিচালক কে?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. মিশুক মুনির
  3. জহির রায়হান
  4. তারেক মাসুদ
ব্যাখ্যা

মুক্তির গান:
- ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মুক্তির গান তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র।
- মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা লিয়ার লেভিন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণের অভিপ্রায়ে এদেশের একদল সাংস্কৃতিক কর্মীর সঙ্গ নেন। বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা নামের দলের এই সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের দেশাত্মবোধক ও সংগ্রামী গান শুনিয়ে উজ্জীবিত করতেন। এই শিল্পীদের সাথে থেকে লেভিন প্রায় ২০ ঘণ্টার ফুটেজ সংগ্রহ করেন। যুদ্ধের শেষ দিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান।
- ১৯৯০ সালে তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ নিউইয়র্কে লেভিনের কাছ থেকে এই ফুটেজ সংগ্রহ করেন। এ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য তারা আরো বিভিন্ন উৎস থেকে মুক্তিযুদ্ধের নানা সংরক্ষিত উপাদান সংগ্রহ করেন, বিশ বছর আগের সেই শিল্পীদের সাথে যোগাযোগ করেন। লেভিনের কাছ থেকে প্রাপ্ত ফুটেজের সাথে সংগৃহীত অন্যান্য উপাদান যোগ করে ছবিটি নির্মিত হয়।
- এই চলচ্চিত্রটি ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন৷

৩,৯২৬.
কোন মুঘল সম্রাট 'দিল্লির জামে মসজিদ' নির্মাণ করেন?
  1. বাবর
  2. হুমায়ুন
  3. আকবর
  4. শাহজাহান
ব্যাখ্যা

মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত। 

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯২৭.
বিদেশের কোন মিশনে বাংলাদেশের পতাকা প্রথম কবে উত্তোলন করা হয়?
  1. ক) নিউইয়র্ক
  2. খ) ওয়াশিংটন
  3. গ) লন্ডন
  4. ঘ) কোলকাতা
ব্যাখ্যা
- বিদেশি কোন দুতাবাস হিসেবে ভারতের কোলকাতা মিশনে বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়। 
 
১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল, রবিবার কলকাতার পাকিস্তান ডেপুটি হাইকমিশন অফিসের সব বাঙালি কর্মকর্তা–কর্মচারী একযোগে আনুগত্য প্রকাশ করল বাংলাদেশ সরকারের প্রতি। কার্যালয়ের নাম পাল্টে হয়ে গেল ‘গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক মিশন।’ মিশনের ছাদে ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ হোসেন আলীর নেতৃত্বে ওড়ানো হলো স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়তে শুরু করল।

সূত্রঃ প্রথম আলো।
৩,৯২৮.
‘আমার বন্ধু রাশেদ’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
  1. জাফর ইকবাল
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. মোরশেদুল ইসলাম
  4. আলমগীর কবির
ব্যাখ্যা
আমার বন্ধু রাশেদ:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘আমার বন্ধু রাশেদ’।
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম।
- মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস অবলম্বনে সরকারি অনুদানে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন মোরশেদুল ইসলাম।
- ২০১১ সালে মুক্তি পেয়েছিল সিনেমাটি। 

⇒ প্রেক্ষাপট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মফস্বলের ছোট্ট একটা শহর। আর চরিত্রগুলো কয়েকজন স্কুলছাত্রকে কেন্দ্র করে।
- যার মূল চরিত্র রাশেদ।
- এ ছাড়া ছবিতে দেখা যায়, একাত্তরের উত্তাল দিনগুলো যখন ছোট ছেলেরা বুঝতে পারছে না, রাজনীতি সচেতন রাশেদ তখন ঠিক তার মতো করে সেটা সবাইকে বুঝিয়ে দিচ্ছে।
- একসময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দেশটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ওই ছোট্ট শহরেও তারা এসে হাজির হয়।
- ভয়ংকর এক ধ্বংসলীলার সাক্ষী হয়ে থাকে রাশেদ।

উৎস: প্রথম আলো।
৩,৯২৯.
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কবে প্রথম অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন-
  1. ক) ১৯৪৫ সালে
  2. খ) ১৯৪৩ সালে
  3. গ) ১৯৩৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৩০ সালে
ব্যাখ্যা

- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।
- অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ছিলেন।
- তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- লোকপ্রিয়ভাবে ‘শেরে বাংলা’ বা হক সাহেব রূপে পরিচিত আবুল কাশেম ফজলুল হক বাকেরগঞ্জ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৩০.
মুজিবনগর সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
  1. ক) ৬ জন
  2. খ) ৭ জন
  3. গ) ৮ জন
  4. ঘ) ৯ জন
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন-
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৩১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে প্রথম কারাবরণ করেন?
  1. ১৯৩৮ সালে
  2. ১৯৩৭ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
- বাঙালি জাতির জনক, স্বাধীনতা বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম কারাবরণ সেই ছাত্রজীবনে। 
- বঙ্গবন্ধুর এক সময়ের রাজনৈতিক সচিব, আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ ২০১৭ সালের ৭ মার্চ জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, ৫৪ বছর বয়সের জীবনে বঙ্গবন্ধু চার হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে ছিলেন।
- এর মধ্যে স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ব্রিটিশ আমলে সাতদিন কারাভোগ করেন বঙ্গবন্ধু, বাকি চার হাজার ৬৭৫ দিন তার জেলে কাটে পাকিস্তান আমলে।

প্রথম জেলজীবন:
- ১৯৩৮ সালে গোপালগঞ্জে সহপাঠী বন্ধু আবদুল মালেককে হিন্দু মহাসভার সভাপতির বাড়ি নিয়ে মারপিট করা হয়।
- শেখ মুজিবুর রহমান সেই বাড়িতে গিয়ে ধাওয়া করেন, এসময় সেখানে হাতাহাতিও ঘটে।
- এরপর গ্রেপ্তার হয়ে সাতদিন জেল খাটেন মুজিব।
- পরে মুরুব্বিদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিটমাট হলে মামলা থেকে রেহাই পান তিনি।

উৎস: বিডিনিউজ
৩,৯৩২.
কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে -
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৪৭ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে।
- এরপর আরবিতে বাংলা শিক্ষা দেয়া শুরু হয়।
- চালু হয় এ ধরনের অনেকগুলো শিক্ষাকেন্দ্র।
- সেখানে বয়স্ক ছাত্রদের বিনামূল্যে আরবি হরফের বই দেওয়া হতে থাকে।
- পূর্ববাংলার জনগণ কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানিদের অসাধু উদ্দেশ্য বুঝতে পারে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। ফলে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত সৃষ্টি হতে থাকে।
- প্রথমে এগিয়ে আসে পূর্বপাকিস্তান মুসলিম লীগের 'ভাষা কমিটি'।
- এই কমিটির বক্তব্য ছিল, পূর্ববাংলার মানুষকে অশিক্ষিত বানানোর জন্যই শাসকদের এই ষড়যন্ত্র।
- প্রবল নিন্দা জানায় 'পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ'। প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৩৩.
খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন কে?
  1. মাওলানা শওকত আলী
  2. মাওলানা আতাহার আলী
  3. সৈয়দ আহমদ খান
  4. মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
দুই ভাই মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

একই সময়ে কংগ্রেসের অসহযোগ আন্দোলন ও খিলাফত আন্দোলন সমগ্র ভারতবর্ষে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কে খিলাফত বিলুপ্ত করলে খিলাফত আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৯৩৪.
দেশের প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটি কোথায় নির্মিত হচ্ছে?
  1. কুতুবদিয়া
  2. মহেশখালী
  3. পেকুয়া
  4. উখিয়া
ব্যাখ্যা

- দেশের প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মিত হচ্ছে- কক্সবাজার জেলার পেকুয়ায়।
- দেশের প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটি 'বিএনএস শেখ হাসিনা'।
- ১২ মার্চ ২০১৭ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন (ডুবোজাহাজ) ঘাঁটি ‘বানৌজা শেখ হাসিনা' এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
- নৌবাহিনীর জন্য দুটি সাবমেরিন কেনার জন্য ২০১৪ সালে চীনের সাথে চুক্তি করে বাংলাদেশ।
- ১৪ নভেম্বর ২০১৬ চীনের দালিয়ান প্রদেশের লিয়াওয়ান শিপইয়ার্ডে সাবমেরিন দুটি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সাবমেরিন দুটির নামকরণ করা হয় 'নবযাত্রা' এবং ‘জয়যাত্রা'।

তথ্যসূত্র:- ডেইলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট।
৩,৯৩৫.
কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয় কোন বংশের শাসনামলে?
  1. সেন বংশ
  2. পাল বংশ
  3. গুপ্ত বংশ
  4. চন্দ্র বংশ
ব্যাখ্যা

কৈবর্ত বিদ্রোহ:
- কৈবর্ত বিদ্রোহে যুক্ত হয়েছিল তৎকালীন সামন্তদের একটি বড় অংশ। 
- একে বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামেও অভিহিত করা হয় একে।
- পাল বংশের শাসনামলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।

⇒ এ সময় পাল বংশের রাজা ছিলেন দ্বিতীয় মহীপাল, যাঁর রাজত্বকাল ধারণা করা হয় ১০৭৫ সাল থেকে ১০৮০ সালের মধ্যে।
- এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন দিব্যক বা দিব্য।
- তিনি খুব সম্ভব প্রথম দিকে পালদের একজন রাজকর্মচারী কিংবা সামন্ত ছিলেন।
- দিব্য-এর নেতৃত্বে কৈবর্ত নামে জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ একটি শক্তিশালী বাহিনী তৈরি করেন তিনি।
- এই বিদ্রোহের মাধ্যমে কৈবর্তরা সামন্ত রাজা দিব্যের নেতৃত্বে বরেন্দ্র ভূমিতে পুনরায় নিজেদের সার্বভৌম রাজ্য গড়তে সক্ষম হয়েছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

৩,৯৩৬.
মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি কোন শতাব্দীতে বাংলা জয় করেন?
  1. ১২ শতকের প্রথম দিকে
  2. ১৩ শতকের প্রথম দিকে
  3. ১৩ শতকের শেষ দিকে
  4. ১৪ শতকের প্রথম দিকে
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি

- তের শতকের প্রথম দিকে, ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজি বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দস্ত-ই-মার্গ) এলাকার বাসিন্দা ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়র্ভুক্ত ছিলেন। 
- বখতিয়ার খলজী স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে তিনি গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৩৭.
লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়-
  1. ১৯১৯ সালে
  2. ১৯১৮ সালে
  3. ১৯১৭ সালে
  4. ১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
লক্ষ্মৌ চুক্তি:
- ১৯১৬ সালে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ভারতের শাসনতান্ত্রিক সরকারের নীতির প্রশ্নে লক্ষ্মৌ শহরে যে চুক্তি সম্পাদন করেন সেটি ইতিহাসে লক্ষ্মৌ চুক্তি নামে খ্যাত।
- এ চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে - জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগীতা বৃদ্ধি, স্বরাজ অর্জন ইত্যাদি।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা।
৩,৯৩৮.
উয়ারি-বটেশ্বর প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন কোন জেলায় পাওয়া গিয়েছে?
  1. ক) গাজীপুর
  2. খ) নরসিংদী
  3. গ) শেরপুর
  4. ঘ) ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
 নরসিংদী জেলায় অবস্থিত উয়ারি-বটেশ্বর হলো বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন। 
 
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র নদ বা কয়রা নদীর তীরে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
- নির্মানকাল- ৪৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ।
- গ্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে ২৫০০ বছরের প্রাচীন দুর্গ।
- স্কুল শিক্ষক মুহাম্মদ হানিফ পাঠান উয়ারী বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব প্রথম জনসম্মুখে তুলে ধরেন ১৯৩০ সালে।
- এর খনন কাজ শুরু হয় ২০০০ সালে।

তথ্যসূত্র : বাংলাদেশে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
৩,৯৩৯.
১৯৪৭ সালের দেশভাগ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. চিত্রা নদীর পারে
  2. নদীর নাম মধুমতি
  3. বাঙলা
  4. শ্যামল ছায়া
ব্যাখ্যা

চিত্রা নদীর পারে:
- 'চিত্রা নদীর পারে' চলচ্চিত্রটির পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল।
- ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ চলচ্চিত্রটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মানদণ্ডে সাতটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছিল।
- ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাজন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদের জীবনে যে প্রভাব ফেলেছিল, সেসব কাহিনি নিয়ে নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের অন্যতম চলচ্চিত্র 'চিত্রা নদীর পারে'।
- কাহিনির শুরু ১৯৪৭ দিয়ে এবং শেষ হয় ১৯৬০-এর দশকে।

⇒ ভারতবর্ষ বিভাজন বৃহত্তর স্বার্থে হলেও এই বিভাজনকে পুঁজি করে তৎকালীন সরকারের শোষণের বলি হয়েছিল এ দেশেরই মানুষ।
- নিজস্ব ভিটেমাটি থাকা সত্ত্বেও অনেককে পাড়ি জমাতে হয়েছিল পার্শ্ববর্তী দেশে। বেদখল হয়ে যায় অনেকের নিজস্ব সম্পদ।
- এ রকম কিছু স্পর্শকাতর ব্যাপারই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তানভীর মোকাম্মেল তার 'চিত্রা নদীর পারে' চলচ্চিত্রে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯৯ সালে চলচ্চিত্রটি ৭টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

অন্যদিকে,
- নদীর নাম মধুমতী ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। 
- শহীদুল ইসলাম খোকনের 'বাঙলা' ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তৈরি একটি আধুনিক চলচ্চিত্র।

উৎস: i) সময় নিউজ।
ii) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

৩,৯৪০.
সমগ্র বাংলায় নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করার পর কোন শাসক 'গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. রাজা শশাংক
  2. রাজা হেমন্ত সেন
  3. রাজা বিজয় সেন
  4. রাজা লক্ষ্মণ সেন
ব্যাখ্যা
লক্ষ্মণ সেন:
- লক্ষ্মণসেন (আনু. ১১৭৮-১২০৬ খ্রি)  সেন বংশের তৃতীয় শাসক।
- লক্ষ্মণসেন প্রায় ২৮ বছর রাজত্ব করেন।
- বল্লাল সেন ও রমাদেবীর পুত্র লক্ষ্মণ সেন ১১৭৯ সালে প্রায় ৬০ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেন গৌড়, কলিঙ্গ, কামরূপ ও কাশীতে বিজয় অভিযান পরিচালনা করেছিলেন।
- গৌড় লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালেই পুরোপুরি সেন সাম্রাজ্যভুক্ত হয়েছিল।
- তিনিই সেনদের মধ্যে প্রথম রাজা যিনি ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি ধারণ করেন।
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেনের নদীয়া ত্যাগের মাধ্যমেই বাংলায় হিন্দুশাসনের পতন হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- লক্ষ্মণ সেন একজন বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- তিনি বল্লাল সেনের অসমাপ্ত অদ্ভুতসাগর সমাপ্ত করেছিলেন।
- ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ূধ তাঁর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৪১.
অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনার সার্বিক দায়িত্বে কে ছিলেন
  1. রাও ফরমান আলীর
  2. বিগ্রেডিয়ার আরবাব
  3. জেনারেল টিক্কা খান
  4. ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
• অপারেশন সার্স লাইট:
- ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বাঙালিদের উপর অপারেশন চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট নামক ঐ পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর তত্ত্বাবধানে প্রথম সদর দপ্তরটি গঠিত হয়।
- ৫৭ তম বিগ্রেডের বিগ্রেডিয়ার আরবাবকে ঢাকা নগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায়।
- এবং মেজর জেনারেল খাদিম রাজাকে প্রদেশের অবশিষ্টাংশে অপারেশনের দায়িত্ব দেয়া হয়।
- অপারেশনের সার্বিক দায়িত্বে থাকেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান।
- ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা ওয়ারলেস বসানো জিপ ও ট্রাকে করে ঢাকার রাস্তায় নেমে পড়ে।
- তাদের প্রথম সাঁজোয়া বহরটি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে এক কিলোমিটারের মধ্যে ফার্মগেট এলাকায় ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৪২.
কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
ওয়ারেন হেস্টিংস:
- বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনালের হিসেবে।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত' করেন।
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- গভর্নর পদে নিযুক্ত হয়ে হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সূচনা করেন।

⇒ কলকাতা মাদ্রাসা:
- কলকাতা মাদ্রাসা (পরবর্তীকালে আলিয়া মাদ্রাসা)  ব্রিটিশ শাসনাধীনে ভারতে রাষ্ট্রীয়-ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সর্বপ্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- ১৭৮০ সালে অক্টোবরে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসএটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৭৮০ সালের এপ্রিলে বেঙ্গল প্রেসীডেন্সী সরকার এর পরিচালনা দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- শুরুতে কলকাতা নগরীর শিয়ালদার নিকটে, একটি বাড়ীর বৈঠকখানায় স্থাপিত হলেও ১৮২৭ সালে এর বর্তমান অবস্থান ওয়েলেসলী স্কোয়ারে এটিকে স্থানান্তরিত করা হয়। 
- এর প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন ইসলামি শিক্ষায় বড় পন্ডিত মোল্লা মাজদুদ্দিন। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৪৩.
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৫৯ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক):
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালে তৎকালীন যুক্তফ্রন্ট সরকারের শ্রম, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী থাকাকালীন একটি বিলের মাধ্যমে ‘ইপসিক’ তথা বর্তমান ‘বিসিক’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি খাতের মুখ্য প্রতিষ্ঠান।
- বিসিক সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে উন্নয়নমুখী ও জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে থাকে।
- ফলে বেসরকারি উদ্যোগে সারা দেশে নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠেছে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উদ্দেশ্য:
- উৎপাদন বৃদ্ধি (ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতে স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতার সদ্ধব্যবহার ও নতুন উৎপাদন ক্ষমতা সৃষ্টি),
- কর্মসংস্থান সৃষ্টি,
- দারিদ্র্য বিমোচন,
- ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন,
- অর্থ ও মানব সম্পদের সর্ব্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ,
- দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।

উৎস: বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
৩,৯৪৪.
ইসলাম খান চিশতীকে কে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট অওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতী:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৪৫.
কার মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন?
  1. ক) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. খ) আতাউর রহমান খান
  3. গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. ঘ) আবু হোসেন সরকার
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- বঙ্গবন্ধু ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ এই মন্ত্রিসভায় শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন।
- কিন্তু ১৯৫৭ সালের ৩০ মে দলীয় কাজে মনোনিবেশের জন্যে স্বেচ্ছায় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
- ফজলুল হক নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কৃষি ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
৩,৯৪৬.
সম্মিলিত বিরোধী জোটের (কপ) প্রধান ছিলেন-
  1. মাওলানা ভাসানী
  2. ফাতেমা জিন্নাহ
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. সিরাজুল আলম
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৬ জুলাই, ১৯৬৪ সালে খাজা নাজিমুদ্দিনের বাসভবনে বিরোধীদলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গঠন করে সম্মিলিত বিরোধী জোট (COP - Combined Opposition Party) নামে একটি রাজনৈতিক জোট। এই জোটের প্রধান ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছোট বোন ফাতেমা জিন্নাহ।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৯৪৭.
কোন শাসকের মৃত্যুতে মাৎস্যন্যায়ের সৃষ্টি হয়েছিল?
  1. গোপাল
  2. সমুদ্রগুপ্ত
  3. শশাঙ্ক
  4. অশোক
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মাৎস্যন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন। 
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ। লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান গোপাল।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৪৮.
নিচের কে বীরশ্রেষ্ঠ নন?
  1. ক) মতিউর রহমান
  2. খ) মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  3. গ) মোহাম্মদ আব্দুর রব
  4. ঘ) মুন্সি আব্দুর রউফ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ৭ জনকে সর্বোচ্চ সামরিক পদবী ''বীরশ্রেষ্ঠ' প্রদান করা হয়।

৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ হলেন -
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মতিউর রহমান
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ

উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,৯৪৯.
বাংলার 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' সময় কাল- 
  1. ১১৭৮ বঙ্গাব্দ
  2. ১১৭৪ বঙ্গাব্দ
  3. ১১৭৬ বঙ্গাব্দ
  4. ১১৭৭ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ইংরেজ গভর্নর ছিলেন কার্টিয়ার।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত। -
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) এই দুর্ভিক্ষ হয় বলে একে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বলা হয়।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়।
- এই দুর্ভিক্ষে তৎকালীন বাংলার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় বাংলার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ছিলেন জন কার্টিয়ার।
- দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা এবং পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টিজনিত খরার কারণে ফসল উৎপাদন কম হওয়ায় এই দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৫০.
খিলাফত আন্দোলন প্রেক্ষাপট -
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. অটোমান সাম্রাজ্যের পতন
  3. হিন্দু-মুসলিম বিরোধ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কে খিলাফত বিলুপ্ত করলে খিলাফত আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৯৫১.
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে?
  1. ক) তানভীর কবির
  2. খ) সৈয়দ মাইনুল হোসেন
  3. গ) হুমায়ুন কবির
  4. ঘ) হামিদুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ

১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর। মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের স্থানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য পরবর্তী সময়ে সেখানে নির্মিত হয় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ। এর স্থপতি তানভীর কবির। 

- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭৪ মুজিবনগর দিবসে সৈয়দ নজরুল ইসলাম এই স্মৃতিসৌধ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
- ২৩টি কংক্রিটের ত্রিকোণাকার স্তম্ভ সমন্বয়ে এই স্মৃতিসৌধ নির্মিত। ২৩টি স্তম্ভ পাকিস্তানের ২৩ বছর শাসনের প্রতীক।
- গোলাকার বেদী ভূতল থেকে ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতায় তিনটি ভাগে বিভক্ত। 
- বেদীর একটি অংশ অসংখ্য গোলাকার বৃত্ত দ্বারা স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহিদকে বোঝানো হয়েছে।
- বেদীর অপরাংশ অসংখ্য নুড়ি পাথরে আবৃত। এটি মুক্তিযোদ্ধা সাত কোটি বাঙালির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রতীক।
- মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণের স্থানটি লাল সিরামিকের ইট দ্বারা আয়তক্ষেত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- বেদীতে আরোহণের সোপান নয়টি ধাপে বিভক্ত। সোপানের এই নয়টি ধাপ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতির প্রতীক।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৫২.
ছয় দফা অনুযায়ী কর ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা কার হাতে ছিল?
  1. ক) প্রাদেশিক সরকারের হাতে
  2. খ) কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে
  3. গ) উভয় সরকারের হাতে
  4. ঘ) আয়কর প্রতিষ্ঠানের হাতে
ব্যাখ্যা
 ঐতিহাসিক ছয় দফা 
- ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের নেতৃবৃন্দের এক কনভেনশনে শেখ মুজিবুর রহমান যে ছয়দফা দাবিনামা উত্থাপন করেছিলেন তা আদায়ের জন্য তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ইতিহাসে তা ‘ঐতিহাসিক ছয়দফা আন্দোলন' নামে অভিহিত হয়ে আছে। 
ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি:
১. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি।
২. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
৩. মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থা।
৪. রাজস্ব, কর, শুল্ক ব্যবস্থা।
৫. বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক বাণিজ্য।
৬. প্রতিরক্ষা।

• ৪র্থ দফা:
- সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে।
- তবে কেন্দ্রিয় সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য আদায় কৃত অর্থের একটি অংশ কেন্দ্রিয় সরকার পাবে ।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৯৫৩.
কোন জেলা আক্রমনের মাধ্যমে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন?
  1. ক) নদীয়া
  2. খ) বর্ধমান
  3. গ) পলাশী
  4. ঘ) আসানশোল
ব্যাখ্যা
বাংলায় মুসলিম শাসন:

- নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- তিনি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি  বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৫৪.
কাগমারী সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. টাঙ্গাইল
  2. কুড়িগ্রাম
  3. রংপুর
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

 কাগমারী সম্মেলন:
- ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয় কাগমারী সম্মেলন।
- টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলনের আহ্বায়ক ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রধান অতিথি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- কাগমারী সম্মেলন পূর্ব বাংলা তথা আজকের বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক সম্মেলনে রূপ নেয়।

উল্লেখ্য যে,
- কাগমারী সম্মেলনের মাত্র স্বল্প সময়ের মাথায় আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৫৫.
'বীর প্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একজন মহিলা মুক্তিযােদ্ধা হলেন?
  1. ক) জাহানারা ইমাম
  2. খ) কাঁকন বিবি
  3. গ) ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী
  4. ঘ) তারামন বিবি
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়-
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৮ জন,
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন,
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন।

তার মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী 'বীরপ্রতীক' খেতাব পেয়েছেন।
- ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম ও
- তারামন বিবি।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট
৩,৯৫৬.
ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠান ‘তমদ্দুন মজলিস‘ কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিলো?
  1. ক) কামরুদ্দিন আহমেদ
  2. খ) অধ্যাপক আবুল কাসেম
  3. গ) আবদুল মতিন
  4. ঘ) আবদুস সালাম
ব্যাখ্যা
• তমদ্দুন মজলিস:
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ‘তমদ্দুন মজলিস’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে।
- তমদ্দুন মজলিস স্বাধীনতা লাভের এক মাস পর ৬ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর গঠন করে ‘পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুবলীগ’।

- ১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামে একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করে।
- ১৯৪৭ সালের ৫ ডিসেম্বর করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নূরুল হক ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে তমদ্দুন মজলিস ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৫৭.
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ কোথায় অবস্থিত?
  1. কলকাতা
  2. হুগলি
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. দিল্লি
ব্যাখ্যা

• ইংরেজ :
- ইংল্যান্ড রানি এলিজাবেথের অনুমতি নিয়ে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ১৬০০ সালে ভারত বর্ষে আসে ইংরেজরা ।
- তারা সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন ১৬১২ সালে।
- সম্রাট শাজাহানের সময় বাংলায় প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।
-  কলকাতায় রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নাম অনুসারে, ফোর্ট উলিয়াম দুর্গা নির্মাণ করে হয় ১৭০০ সালে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩,৯৫৮.
২৬ মার্চ কে স্বাধীনতা দিবস ঘোষনা করা হয় -
  1. ১৯৭৮ সালে
  2. ১৯৮০ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা দিবস:
- ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস।
- ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর ২৬ শে মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
- ১৯৮১ সাল থেকে ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

এছাড়াও,
- ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সেজন্যে একে স্বাধীনতা দিবস বলা হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৩,৯৫৯.
ভাষা আন্দোলনের সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) নূরুল আমীন
  2. খ) লিয়াকত আলী খান
  3. গ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. ঘ) খাজা নাজিমুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন
- কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন।
- ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনিও জিন্নাহর মতো ঘোষণা করেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।'
- এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়ে যায়। এবার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্র জনতা।

- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- সংগ্রাম পরিষদ ৪ ফেব্রুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৬০.
বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রাথমিক নাম কী ছিল?
  1. ফসলি সন
  2. তারিখ-ই-এলাহী
  3. হিজরি সন
  4. বাংলা-ই-এলাহি
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ষপঞ্জি:
- বাংলা বর্ষপঞ্জি বা বঙ্গাব্দ প্রবর্তন করেন মুঘল সম্রাট আকবর।
- বঙ্গাব্দ প্রবর্তিত হয় ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে।
- প্রবর্তনের সময় আকবরের রাজত্বের ২৯তম বর্ষ চলছিল।
- বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রাথমিক নাম ছিল তারিখ-ই-এলাহী।
- ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ ‘তারিখ-ই-এলাহী’ বঙ্গাব্দ নামে প্রচলিত হয়।
- নতুন সন প্রবর্তিত হলেও এর গণনা ধরা হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে।
- ৫ নভেম্বর ১৫৫৬ খ্রি.-এই দিনে আকবর দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- বঙ্গাব্দ মূলত রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনিক সুবিধার উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত হয়।
- বাংলা বর্ষপঞ্জি বাংলা অঞ্চলকেন্দ্রিক একটি সৌর-চান্দ্র মিশ্র বর্ষপঞ্জি হিসেবে ব্যবহৃত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৬১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুর কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ৪নং সেক্টর
  2. ৬নং সেক্টর
  3. ৯নং সেক্টর
  4. ১১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এটি ছিলো যুদ্ধ পরিচালনার একটি সামরিক কৌশল।
- ১৯৭১ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই সেক্টর গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

⇒ সেক্টরগুলো:
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম,
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ,
- ৩নং সেক্টর: কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ,
- ৪ নং সেক্টর: মৌলভীবাজার ও সিলেটের পূর্বাংশ,
- ৫নং সেক্টর: সিলেট ও সুনামগঞ্জ,
- ৬নং সেক্টর: রংপুর, দিনাজপুর,
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা,
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর,
- ৯নং সেক্টর: খুলনা, বরিশাল,
- ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৬২.
উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় কার রাজত্বকালে?
  1. বিন্দুসারের
  2. সম্রাট অশোকের
  3. প্রথম চন্দ্রগুপ্তের
  4. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের
ব্যাখ্যা
- উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে।
- মৌর্য রাজবংশ চন্দ্রগুপ্তের হাত দিয়ে শুরু হলেও তার পুত্র বিন্দুসার এবং
- বিন্দুসারের পুত্র অশোকের (খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩-২৩২ অব্দে) শাসনামলে সাম্রাজ্য চূড়ান্তভাবে বিকশিত হয়।
- খ্রিস্টপূর্ব ২৩২ অব্দে অশোকের মৃত্যু পর্যন্ত ৪০ বছর তিনি ভারতবর্ষে রাজত্ব করেন।   
- সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম-দশম শ্রেণি ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৬৩.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন কোন সেক্টরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. ৭নং
  2. ৬নং
  3. ১০নং
  4. ১১নং
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ছিলেন ১০নং সেক্টরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। 

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয়, রুহুল আমিন তাদের অন্যতম।
- তাঁর পদবী ছিল স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার।
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্ম ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বাঘচাপড়া গ্রামে।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসে তিনি ২নং সেক্টরে যোগদান করেন।
- পরবর্তীতে ১০নং নৌ সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রূপসা নদীতে খুলনা শীপইয়ার্ডের কাছে সম্মুখ যুদ্ধে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ পলাশকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় এ বীর সন্তান শহিদ হন।
- সমাধিস্থল: রূপসা ফেরিঘাটের লুকপুরে।
- নোয়াখালীতে তাঁর জন্মস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর রয়েছে।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৬৪.
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল -
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচন:
- ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ লাভ করে।
- নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর।
- এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হয় ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

⇒ ১৯৭০ এর পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।
- আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'নৌকা' প্রতীক নিয়ে ঐতিহাসিক ছয় দফার পক্ষে প্রচারাভিযানে নামেন।
- জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন লাভ করে।

উল্লেখ্য
⇒ ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আসন বন্টন:
- আইনগত কাঠামো আদেশ অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ৩১৩টি নির্ধারণ করা হয়।
- সাধারণ আসন সংখ্যা ৩০০টি এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ১৩টি।
- পূর্ব পাকিস্তানে মোট আসন সংখ্যা ১৬৯টি।
• সাধারণ আসন সংখ্যা ১৬২টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৭টি।

অন্যদিকে,
- পশ্চিম পাকিস্তানে মোট আসন সংখ্যা ১৪৪টি।
• সাধারণ আসন সংখ্যা ১৩৮টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৬টি।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৬৫.
ভারতীয় উপমহাদেশে ’অধীনতামূলক নীতির প্রবর্তক’ কে?
  1. লর্ড বেন্টিংক 
  2. লর্ড ওয়েলেসলী
  3. লর্ড ডালহৌসী
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

•  লর্ড ওয়েলেসলী: 
- ওয়েলেসলী, ১৭৯৮ থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল।
- ১৭৯৮ সালের ১৮ মে ৩৭ বছর বয়সে তাঁকে গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত করা হয়।
- ওয়েলেসলীর সাত বছর শাসনভার ভারতে ব্রিটিশ শক্তি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
- তাঁর নীতি ছিল ভারত থেকে সর্বপ্রকার ফরাসি প্রভাব দূর করা এবং ব্রিটিশদেরকে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করা।- 
- তিনি হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে পরিবর্তন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি গ্রহণ করেন।

• অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি: 
- এ নীতি অনুসারে ভারতীয় রাজ্যসমূহ ব্রিটিশ নয় এমন ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত,
- তাদের রাজ্যে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটি অংশকে ভরণপোষণ ও ব্রিটিশদের নিকট বৈদেশিক বিষয়াবলি সমর্পণ করার মাধ্যমে ব্রিটিশদের নিরাপত্তার অধীনে আসতে বাধ্য হয়। 

অন্যদিকে,
- লর্ড ক্যানিং কাগজি মুদ্রার প্রচলন করেন।
- লর্ড ডালহৌসী বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন।
- লর্ড ডালহৌসী স্বত্ব বিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন। রেললাইনের প্রচলন করেন।
- লর্ড বেন্টিংক সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলী অধীনতা মুলক নীতির প্রবর্তক।

উৎস: ¡) পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ¡¡) বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৬৬.
মাৎসন্যায় কী?
  1. ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা
  2. মাছ বাজার
  3. মাছ ধরার নৌকা
  4. আইন শৃঙ্খলাহীন অরাজক অবস্থা
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায়:
- রাজা শশাঙ্ক এর মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- ছোট ছোট রাজ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং তাদের পারস্পরিক যুদ্ধবিগ্রহের ফলে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়। 
- মাৎস্যন্যায় শব্দের অর্থ: আইন শৃঙ্খলাহীন অরাজক অবস্থা।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের অব্যবহিত পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্য অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় বলে উল্লেখ করা হয়।
- মাৎস্যন্যায় সময়কাল: আনুমানিক ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ।
- মাৎস্যন্যায় সময়: গুপ্ত ও পাল আমলের মধ্যবর্তী তাম্রশাসন যুগ।
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল এ বিশৃঙ্খল অবস্থায় রাজ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং মাৎস্যন্যায় অবসান ঘটান।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম - দশম শ্রেণি।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৬৭.
কত সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়?
  1. ক) ১৯৫৩ সালে
  2. খ) ১৯৫৫ সালে
  3. গ) ১৯৫৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৭ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
এর প্রথম কমিটি:
- সভাপতি : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
- সহ সভাপতি : আতাউর রহমান খান
- সহ সভাপতি : আব্দুস সালাম খান
- যুগ্ম সম্পাদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি টানা চারবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৬ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৫ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগের তৃতীয় সম্মেলনে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট)
৩,৯৬৮.
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার নিচের কোন আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  3. ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন
  4. সত্যাগ্রহ আন্দোলন
ব্যাখ্যা

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার: 
- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।
- তিনি মাস্টারদা সূর্যসেন-এর নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের প্রথম নারী সদস্য ছিলেন।
- ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নেন, যেমন—টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ অফিস ধ্বংস, রিজার্ভ পুলিশ লাইনে আক্রমণ এবং পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ।
- ইউরোপিয়ান ক্লাবটি ‘কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষিদ্ধ’ বলায় এটি ছিল জাতিগত অবমাননার প্রতীক।
- এই ক্লাব আক্রমণে প্রীতিলতা নেতৃত্ব দেন এবং অভিযানের শেষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ধরা পড়ার আগে আত্মহত্যা করেন।  

অন্যদিকে: 
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৩,৯৬৯.
বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'ম্যাডোনা- ৪৩' এর চিত্রকর কে?
  1. এস এম সুলতান
  2. জয়নুল আবেদীন
  3. এম. আর আখতার মুকুল
  4. কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
চিত্রকর্ম:
- ‘ম্যাডোনা-৪৩’ হলো শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।

• তার অন্যান্য চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- সংগ্রাম
- মনপুরা-৭০
- মইটানা
- পইন্যার মা
- নবান্ন
- দুর্ভিক্ষ
- দ্য রেবেল ক্রো প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৭০.
হিমছড়ি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. বান্দরবান
  3. খাগড়াছড়ি
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
হিমছড়ি:

- হিমছড়ি কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত।
- জেলা সদর হতে ৯ কিঃমিঃ দূরে হিমছড়ি অবস্থিত।
- এখানে কয়েকটি প্রাকৃতিক ঝর্ণা রয়েছে।
- ২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে হিমছড়িসহ আশে পাশে অনেক পর্যটন স্পর্ট দারুণভাবে ক্ষতিসাধন হয়।
- সিঁড়ি বেয়ে উঁচু পাহাড়ে উঠে সাগর, পাহাড় ও কক্সবাজারের নৈসর্গিক সৌন্দর্য অতিসহজে উপভোগ করা যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও কক্সবাজার জেলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৩,৯৭১.
বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. বখতিয়ার খলজি
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: 
- ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে ফিরোজাবাদের সিংহাসন অধিকারের মাধ্যমে ইলিয়াস শাহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলার অধিপতি হন।
- সোনারগাঁ ও সাতগাঁও তখনও তাঁর শাসনের বাইরে ছিল।
- ইলিয়াস শাহের স্বপ্ন ছিল সমগ্র বাংলার অধিপতি হওয়া। 
- ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে সাতগাঁও তাঁর অধিকারে আসে।
- ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করে বহু ধনরত্ন হস্তগত করেন। 
- ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ে ইলিয়াস শাহের হাতে পরাজিত হন।
- সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে সমগ্র বাংলার অধিকার সম্পন্ন হয়।
- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতার সূচনা করলেও প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,৯৭২.
১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন?
  1. শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম
  2. কৃষি, বন, সমবায় ও পল্লী
  3. আইন, বিচার ও সংসদ
  4. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা
কোয়ালিশন সরকার:
- ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বে কোয়ালিশন সরকার গঠন করে।
- এই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।
- আওয়ামী লীগের উদ্যোগেই রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলা আনুষ্ঠানিক মর্যাদা লাভ করে, ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘শহিদ দিবস’ ঘোষিত হয় জাতীয় ছুটির দিন, প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ২৪ জুন, ২০২১।
৩,৯৭৩.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর 'চিফ অফ স্টাফ' হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন-
  1. এম এ রব
  2. এ কে খন্দকার
  3. খালেদ মোশারফ
  4. এম এ জি ওসমানী
ব্যাখ্যা
• কর্নেল এম এ রব:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবদুর রব যুদ্ধে যোগ দেন।
- সিলেট অঞ্চলে ৪ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে দুর্ধর্ষ সব যুদ্ধের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন এম এ রব।
- মুজিবনগর সরকার তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ ও সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে নিয়োগ দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধের পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুর রবকে মেজর জেনারেল পদ দেওয়া হয় এবং বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ১৪ নভেম্বর শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

অন্যদিকে,
- এম এ জি ওসমানী মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন এ কে খন্দকার।
- ২নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন খালেদ মোশারফ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৭৪.
প্রাচীন পুন্ড্র জনপদে কোন অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত ছিল না?
  1. কুমিল্লা
  2. বগুড়া
  3. দিনাজপুর
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
কুমিল্লা প্রাচীন পুন্ড্র জনপদে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

পুন্ড্র:

- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তীকালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।

উল্লেখ্য,
- পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৭৫.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ও পাকিস্তানকে সহায়তাকারী দল নয় কোনটি?
  1. ক) খেলাফতে রব্বানী পার্টি
  2. খ) কৃষক শ্রমিক পার্টি
  3. গ) নেজামে ইসলাম
  4. ঘ) ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (NAP)
ব্যাখ্যা

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৯৭৬.
মুক্তিযুদ্ধে যশোর কত নং সেক্টরের অর্ন্তভুক্ত ছিল?
  1. ক) ৭নং
  2. খ) ৮নং
  3. গ) ৯নং
  4. ঘ) ১১নং
ব্যাখ্যা
-১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। 
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- ৮ নং সেক্টর  এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
- এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে।
- সেক্টরের সৈন্যদের মধ্যে ৩০০০ ছিল নিয়মিত বাহিনী এবং ২৫০০০ গেরিলা সৈন্য।
 
উৎস:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৭৭.
বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশাল
  2. খুলনা
  3. ফরিদপুর
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
 
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- তিনি ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন।
- তিনি অসামান্য বীরত্বের সাথে আরগরারহাট, কানসাট, শাহপুর এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং মুক্তাঞ্চল গঠন করেন।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।
 
তথ্যসূত্র -  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৩,৯৭৮.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না কে?
  1. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  2. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
• সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি:
- মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ।
- দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

⇒ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন না।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৭৯.
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে কত স্তরের গ্রেডিং পদ্ধতি চালু রয়েছে?
  1. ৩ স্তর
  2. ৫ স্তর
  3. ৬ স্তর
  4. ৭ স্তর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের গ্রেডিং পদ্ধতি 
- বাংলাদেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতির সর্বশেষ পদ্ধতি হলো  গ্রেডিং পদ্ধতি । 
- ২০০১ সালে ৬স্তর বিশিষ্ট গ্রেডিং পদ্ধতি  অনুমোদন ক্করা হয়। ২০০৩ সালে তা সংস্কার করা হয়।
- বর্তমানে দেশে ৭ স্তরের গ্রেডিং পদ্ধতি চালু রয়েছে।
- এস.এস.সি ও দাখিল পরীক্ষায় গ্রেড পদ্ধতি  প্রবর্তিত হয় ২০০১ সালে।
- এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় প্রথম প্রবর্তিত হয় ২০০৩ সালে।
- গ্রেড পদ্ধতি কে বলা হয় GPA । 
- GPA = Grade Point Average.

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক গ্রেডিং পদ্ধতি 
গ্রেড _________নম্বর 
১) এ+ = ৮০-১০০ (৫.০০ পয়েন্ট) 
২) এ = ৭০-৭৯ (৪.০০ পয়েন্ট) 
৩) এ- = ৬০-৬৯ (৩.৫০ পয়েন্ট)
৪) বি =  ৫০-৫৯ (৩.০০ পয়েন্ট)
৫) সি = ৪০-৪৯ (২.০০ পয়েন্ট)
৬) ডি = ৩৩-৩৯ (১.০০ পয়েন্ট)
৭) এফ = ০-৩২ (০.০০ পয়েন্ট) 
 
উৎস: শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের ওয়েবসাইট। 
৩,৯৮০.
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম প্রচার করেন-
  1. ক) এম.এ. হান্নান
  2. খ) এ.কে. খন্দকার
  3. গ) এম.এ মান্নান
  4. ঘ) জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

বঙ্গবন্ধু বন্দি হওয়ার পূর্বেই চট্টগ্রামস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব এম. এ. হান্নানের নিকট স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী প্রেরণ করেন।
- এম.এ. হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম এবং সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন।
- ২৭ মার্চ কালুরঘাটে স্থাপিত স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র (পরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র) থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।

৩,৯৮১.
ছয় দফার ৬নং দফার আলোচ্য বিষয়টি কোনটি?
  1. ক) প্রতিরক্ষা বিষয়ক
  2. খ) মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক
  3. গ) রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক
  4. ঘ) বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য
ব্যাখ্যা
ছয় দফা
• পাক-ভারত যুদ্ধ সমাপ্ত হলে ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে নিখিল পাকিস্তান জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
• শেখ মুজিবুর রহমান সম্মেলনে যোগদানের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি লাহোর পৌঁছেন।
• এতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীকার আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মোট ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন।

ঐতিহাসিক ছয় দফার দফাসমূহ
• প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
• দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)
• তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
• চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
• পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৮২.
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে আইয়ুব খান কার নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন?
  1. ক) ইস্কান্দার মির্জা
  2. খ) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. গ) জেনারেল টিক্কা খান
  4. ঘ) জুলফিকার আলী ভু্ট্টো
ব্যাখ্যা
• উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগে বাধ্য হন।
• এর আগে ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জাকে জোরপূর্বক সরিয়ে আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৮৩.
স্বদেশী আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রজণীকান্ত সেন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

স্বদেশী আন্দোলন:
- এটি ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশরা বাংলাকে ভেঙ্গে দুটি প্রদেশ তৈরি করে (বঙ্গভঙ্গ)।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়।
- এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য: বিলেতি পণ্য বর্জন।
- পরবর্তীতে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও আন্দোলনের অংশ হয়।
- স্বদেশী আন্দোলনের প্রধান নেতা: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলে।
- বাংলার নিজস্ব শিল্প ও কারখানা গঠন (তাঁত, সাবান, লবণ, চিনি, চামড়ার দ্রব্য)।
- বিলেতি শিক্ষা বর্জনের কারণে নতুন জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
- এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধকারী শ্রেষ্ঠ দেশাত্মবোধক গানগুলো রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং রজণীকান্ত সেন প্রমুখ।
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন।
- তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি।
- যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৮৪.
সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের কোন জেলায়?
  1. ক) বরিশাল
  2. খ) কিশোরগঞ্জ
  3. গ) নড়াইল
  4. ঘ) টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা
বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশর কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়া গ্রামে।
তার পিতা বিখ্যাত সাহিত্যিক সুকুমার রায় এবং পিতামহ সন্দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী।
তবে সত্যজিৎ রায়ের জন্ম ১৯২১ সালের ২ মে কলকাতায়।
তার বিখ্যাত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে:
পথের পাঁচালী (১৯৫৫)
- অপরাজিত (১৯৫৬)
- অশনি সংকেত (১৯৭৩)
- হীরক রাজার দেশে (১৯৮০) ইত্যাদি।
এছাড়া লেখক হিসেবেও তিনি অনেক প্রসিদ্ধ। সত্যজিৎ রায় রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ফেলুদা সিরিজ
- শঙ্কু সিরিজ
- বিষয় চলচ্চিত্র প্রভৃতি।
তিনি ১৯৯২ সালে বিশেষ অস্কার পুরস্কার লাভ করেন। সত্যজিৎ রায় ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৩,৯৮৫.
ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেন কে?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ
  2. দুদু মিয়া
  3. ফকির মজনু শাহ
  4. হাজী শরীয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ফরায়েজি আন্দোলন: 
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিলো একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়ত উল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল।
- ১৮৪০ সালে শরীয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসিন উদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন। 
- ১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৮৬.
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর ভিত্তি করে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্রের নাম কী? 
  1. মাইক
  2. ওরা ১১ জন
  3. রেডিও
  4. স্টপ জেনোসাইড
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্র: 

• বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর ভিত্তি করে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্রের নাম রেডিও। 
• ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে এর আগে কোনো সিনেমা নির্মিত হয়নি।
• ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ দেশজুড়ে মুক্তি পায় ‘রেডিও’।
• মুক্তিযুদ্ধের সময় নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত একটি গ্রামে রেডিও কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, তা নিয়ে এই সিনেমার গল্প। 
• পরিচালক: অনন্য মামুন। 
• অভিনয়শিল্পী: রিয়াজ, জাকিয়া বারী মম, লুৎফর রহমান জর্জ, নাদের চৌধুরী, প্রাণ রায় এবং এলিনা শাম্মীসহ অনেকেই। 
• একটি গ্রামে ঐতিহাসিক সেই ৭ মার্চের ভাষণ শোনাকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির গল্প।

• উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ কিভাবে জন্ম থেকে প্রজন্মে কেমন প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘তর্জনী’।
- এর পরিচালক সোহেল রানা।

• অন্যদিকে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘মাইক’। 
- এটি সরকারি অনুদানে নির্মিত হয়েছে। 
- এতে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, ফেরদৌস আহমেদ ও তানভীন সুইটি।

তথ্যসূত্র: দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৩ এবং ঢাকা টাইমস , ০৭ মার্চ, ২০২৪। 
৩,৯৮৭.
কার সময় থেকে বাংলার সকল অংশের অধিবাসী 'বাঙালি' বলে পরিচিত হয়?
  1. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. আলাউদ্দিন আলী শাহ
  4. রুকনউদ্দিন বরবক শাহ
ব্যাখ্যা
- শাসক হিসেবে ইলিয়াস শাহ ছিলেন বিচক্ষণ ও জনপ্রিয়।
- তাঁর শাসনামলে রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বিরাজিত ছিল।
- ইলিয়াস শাহ লখনৌতির শাসক হিসেবে বঙ্গ অধিকার করলেও গোটা ভূখণ্ডকে একত্রিত করে আঞ্চলিক বৃহত্তর বাংলা সৃষ্টি করেছিলেন।
- এ সময় থেকেই বাংলার সকল অংশের অধিবাসী 'বাঙালি' বলে পরিচিত হয়।
- ইলিয়াস শাহ 'শাহ-ই বাঙ্গালা' ও 'শাহ-ই-বাঙালিয়ান' উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,৯৮৮.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান কত নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪ নং
  2. ৮ নং
  3. ২ নং
  4. ৬ নং
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ৪ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ৪ নম্বর সেক্টর:
- সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল, খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত এলাকা নিয়ে ছিলো ৪ নম্বর সেক্টর।
- এ সেক্টরের প্রথম হেডকোয়ার্টার ছিলো করিমগঞ্জ।
- পরবর্তীতে তা আসামের মাসিমপুরে স্থানান্তর করা হয়।
- প্রথম সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত।
- এরপর দায়িত্ব নেন ক্যাপ্টেন এ. রব।

এছাড়াও,
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল ২ নম্বর সেক্টর।
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ৮ নম্বর সেক্টর।
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ১০ নম্বর সেক্টর (নৌবাহিনী)।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ - ১ নম্বর সেক্টর।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ৭ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৮৯.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মধ্যযুগীয় মসজিদ কোনটি?
  1. ক) কুসুম্বা
  2. খ) বড় সােনা মসজিদ
  3. গ) ষাট গম্বুজ মসজিদ
  4. ঘ) সাত গম্বুজ মসজিদ
ব্যাখ্যা
- খান জাহান আলী ছিলেন একজন মুসলিম ধর্মপ্রচারক এবং বাংলাদেশের বাগেরহাটের একজন স্থানীয় শাসক।
- তিনি রাজা গণেশকে পরাজিত করে বাংলার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেন।
- পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাগেরহাট জেলায় তিনি বাংলাদেশের মধ্যযুগের সবচেয়ে বড় মসজিদ ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নির্মাণ করেন।
- ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে।

সূত্র:  নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৯০.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কতজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়?
  1. ৩৪ জন
  2. ৩৫ জন
  3. ৩৬ জন
  4. ৩৭ জন
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৯১.
'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' কত তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ১৯ জুলাই, ১৯৭১
  2. ২৮ জুলাই, ১৯৭১
  3. ১ আগস্ট, ১৯৭১
  4. ১৯ আগস্ট, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধুদের পাশে এসে দাঁড়ানোর অসাধারণ একটি উদ্যোগের নাম 'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'।
- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজন করা হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক কনসার্টটি।
- ম্যনহাটনের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে হওয়া সেই কনসার্টের অন্যতম দুই উদ্যোক্তা ছিলেন ইংল্যান্ডের সাড়া জাগানো ব্যান্ড দল দ্য বিটলস ব্যান্ডখ্যাত পশ্চিমা সঙ্গীতের অগ্রগণ্য শিল্পী জর্জ হ্যারিসন ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য অংশ সেই কনসার্টের ৫০ বছর পূর্তিতে নিউইয়র্কে আয়োজন করা হয়েছে একটি উৎসবের।
- ৩১ জুলাই শনিবার বিকালে জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে 'ফ্রেন্ডস অব ফ্রিডম' নামে একটি সংগঠন এই উৎসবের আয়োজন করেছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ১৬ জুলাই ২০২১।
৩,৯৯২.
বাংলাদেশ নৌ সদরদপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কুর্মিটোলা , ঢাকা
  2. খ) ভাটিয়ারি , চট্রগ্রাম
  3. গ) বনানী, ঢাকা
  4. ঘ) মহাখালী,ঢাকা
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ নৌ সদরদপ্তর অবস্থিত -বনানী, ঢাকা।
- প্রতীক-কাছি বেস্টিত নোঙ্গর ও এর উপরে শাপলা।
- স্লোগান- শান্তিতে সংগ্রামে সমুদ্রে দুর্জয়।
- সর্বোচ্চ পদ এডমিরাল।
- এয়ার ফোর্স একাডেমি - যশোর {১৯৭৩)
- বিএনএস শেখ হাসিনা কার্যত বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটি। এটি পেকুয়া,কক্সবাজার,চট্রগ্রামে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ওয়েবসাইট।

৩,৯৯৩.
জাতীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বিধানের দায়িত্ব পালন করেন-
  1. সংসদ নেতা
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. চিফ হুইপ
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা

- চিপ হুইপ সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বিধানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
- সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের নেতা।
- মাননীয় স্পিকার জাতীয় সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৯৯৪.
১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট কয়টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে?
  1. ১১টি
  2. ১৫টি
  3. ২১টি
  4. ২৪টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ এর নির্বাচন:
- প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭০ সালে।
- অবশ্য ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ের ফলে দুর্গত ও উপকূলীয় এলাকায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল: ২৪টি।
- নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের মোট আসন সংখ্যা - ৩১০টি।
• সাধারণ আসন - ৩০০টি।
• সংরক্ষিত নারী আসন - ১০টি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৯৫.
জনসংখ্যার ভিত্তিতে মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান-
  1. ক) চতুর্থ
  2. খ) ষষ্ঠ
  3. গ) সপ্তম
  4. ঘ) অষ্টম
ব্যাখ্যা

জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ ইন্দেনেশিয়া। ৩০ হাজার মুসল্লি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এশিয়ার সর্ববৃহৎ মসজিদ ‘বাইতুর রহমান’ এখানেই অবস্থিত।
জনসংখ্যার দিক থেকে মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান- চতুর্থ।
উৎসঃ দৈনিক কালের কন্ঠ।

৩,৯৯৬.
ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার কোন সম্রাটের শাসনামলে ভারত ভ্রমণ করেছিলেন?
  1. আকবর
  2. আওরঙ্গজেব
  3. হুমায়ুন
  4. জাহাঙ্গীর 
ব্যাখ্যা

- ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে ভারত ভ্রমণ করেছিলেন।  

ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার
:
- ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক এবং ভ্রমণকারী।
- তিনি ১৬৫৬ ও ১৬৬৮ সালের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। মুঘল আমলে প্রায় ১২ বছর তিনি ভারতে ছিলেন।
- হিন্দুস্থানের সম্রাট, আমীর ওমরাহ থেকে সকল শ্রেণির মানুষের জীবন, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি, এমন কি সতীদাহ পর্যন্ত নিজের চোখে দেখেছেন।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট শাহজাহান এর পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে দারাকে বন্দি করে কুচকাওয়াজ সহকারে অসম্মানজনকভাবে রাস্তা দিয়ে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বার্নিয়ার সেই সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। 
- তিনি সবচেয়ে কাছে থেকে দেখে সম্রাট দারাশিকো ও আওরঙ্গজেব সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণ বর্ণনা করেছেন।

• ভারতে অবস্থানকালে বার্নিয়ার দুবার বাংলাদেশে এসেছিলেন।
- তিনি উল্লেখ করেন যে, মুগল সাম্রাজ্যের সবগুলি প্রদেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৯৭.
বিকেএসপির নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা
বিকেএসপি:

- বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে প্রকল্প আকারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টস (বিআইএস) প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করে।
- ১৯৭৬ সালে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ১৯৮৩ সালে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) রাখা হয়। 
- বিকেএসপির নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয় ১৯৮৬ সালে।
- সাভারের জিরানীতে ১১৯ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত।
- বিকেএসপি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি বিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানের ৪টি শাখা রয়েছে।প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া বিজ্ঞান এবং একাডেমিক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৯৮.
কোন ভাষা শহীদ ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে শহীদ হননি?
  1. আবুল বরকত
  2. আবদুস সালাম
  3. রফিক উদ্দিন আহমদ
  4. আবদুল জব্বার
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে শহীদ হন আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার।
আবদুস সালাম ঐদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ই এপ্রিল শহীদ হন।
২২ শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা শহীদদের জন্য শোক মিছিল বের করে। আবারও মিছিলের ওপর পুলিশ ও মিলিটারি লাঠি, গুলি ও বেয়োনেট ব্যবহার করে। এতে শফিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন শহীদ হন। অনেকে গ্রেফতার হন।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৯৯.
ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস লিখেন -
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. জহির রায়হান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক ।
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হান এর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০০০.
মুঘল বংশের শেষ সম্রাট কে ছিলেন?
  1. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  2. দ্বিতীয় শাহ আলম
  3. মুহাম্মদ শাহ
  4. ফররুখশিয়ার
ব্যাখ্যা
মুঘল বংশের শাসন:
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মুঘল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মুঘল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।