ব্যাখ্যা
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৩৭ / ১২৪ · ৩,৬০১–৩,৭০০ / ১২,৪২১
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বা স্রোতজ বনভূমি।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।
- সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে রয়েছে:
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- ধুন্দল
- গোলপাতা ইত্যাদি।
তথ্যসূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ , নবম-দশম শ্রেণি।
• লালবাগ কেল্লার ইতিহাসঃ
- লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৭৮ সালে।
- তৎকালীন মুঘল সম্রাট আজম শাহ এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- যদিও আজম শাহ খুব কম সময়ের জন্যেই মুঘল সম্রাট হিসেবে ছিলেন।
- তবুও তার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তার এই অসাধারণ কাজটি শুরু করেন।
- উল্লেখ্য আজম শাহ ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এর পুত্র আর সম্রাট শাহ জাহানের নাতি,
- এই দুর্গ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছরের মাথায় তার বাবার ডাকে তাকে দিল্লিতে চলে যেতে হয় ।
- সম্রাট আজম শাহ চলে যাওয়ার পর দুর্গ নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
- তখন এই দুর্গ নির্মাণের কাজ আদৌ সম্পূর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।
- তৎকালীন নবাব শায়েস্তা খাঁ পুনরায় লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করে দেন কাজ থেমে যাওয়ার প্রায় এক বছর পরে।
- পুরো উদ্যমে আবার কাজ চলতে থাকে দুর্গ নির্মাণের।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
- ১৭শ শতকে সম্রাট শাহজাহানের আমলে নির্মাণ করা হয় হোসেনি দালান।
- এটি পুরান ঢাকার চাঁনখারপুল হোসেনি দালান রোডে অবস্থিত।
- প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক এই হোসেনি দালান ইমামবাড়া নামেও পরিচিত।
- হোসেনি দালান বা ইমামবাড়ার প্রাচীরের শিলালিপি থেকে জানা যায়, শাহ সুজার সুবেদারির সময় তার এক নৌ-সেনাপতি মীর মুরাদ এটি নির্মাণ করেন।
- হিজরি ১০৫২ সনে অর্থাৎ ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দের প্রথমে তাজিয়া কোনা নির্মাণ করেন তিনি ।
- ১৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে শায়েস্তা খান হোসেনী দালান নির্মাণ করেন।
সূত্র- বাংলাপিডিয়া ও নবম-দশম শ্রেণি (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা -৭ম অধ্যায়)।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
⇒ প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে। শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উচ্চ ও ৬ ফুট চওড়া। মিনার তৈরির তদারকিতে ছিলেন জিএস শরফুদ্দিন (ইঞ্জিনিয়ার শরফুদ্দিন নামে পরিচিত), ডিজাইন করেছিলেন বদরুল আলম। সাথে ছিলেন সাঈদ হায়দার। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, ২২ ফেব্রুয়ারির শহীদ শফিউরেরপিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দশটার দিকে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন। উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
⇒ বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে। বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। তাঁরই রূপকল্পনা অনুসারে নভেম্বর, ১৯৫৭ সালে তিনি ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
- রফিক উদ্দিন ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ।
- আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- মতিউর রহমান মল্লিক, সার্জেন্ট জহুরুল হক, মুহম্মদ শামসুদ্দোহা, শহীদ আনোয়ারা বেগম, শহীদ রুস্তম উনারা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি।
নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ:
- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট ১৪ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের নিরঙ্কুশ জয় শুরু থেকেই মুসলিম লীগ সুনজরে দেখেনি।
- তারা যুক্তফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আরম্ভ করে।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ও বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিলে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
- কেন্দ্রীয় সরকার সুযোগ খুঁজতে থাকে যেকোনো অজুহাতে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করতে।
- ১৯৫৪ সালের ৩০শে মে যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল করে পূর্ব বাংলায় গভর্নরের শাসন জারি করে।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।
মুর্শিদকুলী খান ও নবাবী আমলের সূচনা:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়। বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- মুর্শিদকুলী খানের প্রাথমিক জীবন খুবই চমকপ্রদ।
- তিনি ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ সন্তান।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- পরে তিনি সুবেদার হন।
- মুর্শিদকুলী খানের রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল যুগোপযোগী।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।
- মুর্শিদকুলী খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না।
- তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে কন্যা জিনাত-উন-নেসার স্বামী সুজাউদ্দীন খান (১৭২৭-১৭৩৯ খ্রি.) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সিংহাসনে বসেন।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• ’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয়।
- এ কমিটি আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠিত হয়,
- যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।
এছাড়াও
• 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ',
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।
⇒ ১৯৪৮ সালে ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- যার আহবায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি:
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মামলার রায় হয় ২০১২ সালের ১৪ মার্চ।
- জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS) এ সমুদ্রসীমা বিষয়ক এই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।
- এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ লাভ করে ১,১১,৬৩১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা।
অন্যদিকে,
- PCA (Permanent Court of Arbitration) আদালতে বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।
- ২০১৪ সালের ৭ জুলাই PCA এর রায়ের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।
উৎস: সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট, বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট।
চরমপত্র:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র- থেকে প্রচারিত সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান চরমপত্র।
- চরমপত্র মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র- থেকে প্রচারিত সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান।
- এর নামকরণ করেন বেতার কেন্দ্রের একটি বিভাগের সমন্বয়কারী আশফাকুর রহমান খান।
- এটি রচনা ও প্রচার করেন এম আর আখতার মুকুল।
- এম আর আখতার মুকুল ছাত্রজীবনে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন ভাষাসৈনিক। তিনি বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি তথ্য ও প্রচার অধিকর্তা ছিলেন।
- চরমপত্র হলো একটি কথিকা যা ১৯৭১ সালের ২৫ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো।
- এটির পরিচালক, লেখক ও কথক ছিলেন এম আর আখতার মুকুল।
- ঢাকাইয়া ভাষায় তার এ অনুষ্ঠানটি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিলো।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র।
মৌর্য সম্রাজ্য:
- গ্রিক লেখকদের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণকালে বর্তমান বাংলাদেশ এলাকায় গঙ্গারিডই নামে সমৃদ্ধশালী রাজ্য ছিল।
- এ রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল গঙ্গা। এ সময়কালকে মৌর্য শাসনামল বলে ধারণা করা হয়।
- পণ্ডিতদের ধারণা হলো, 'গঙ্গারিডই' ছিল বর্তমানকালের বাংলা।
- আর্যদের আগমনের আগেই বাংলায় মৌর্য বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ৩২১ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে ভারতে মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় রাজা অশোকের সময়ে ২৬৯-২৩২ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে। বাংলা ছিল মৌর্যদের একটি প্রদেশ। এর রাজধানী ছিল প্রাচীন পুণ্ড্র নগর।
- মৌর্য শাসনামলে বাংলার রাজা খুবই প্রতাপশালী ছিলেন। তার বিশাল সামরিক বাহিনীতে ৪ হাজার সুসজ্জিত হাতি ছিল।
- কোন কোন ঐতিহাসিক মনে করেন, বিশাল হস্তী বাহিনীর ও সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর খবর শুনে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার বাংলা আক্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেন।
- মৌর্য শাসনামলে বাংলা ছিল ঐশ্বর্যপূর্ণ রাজ্য। 'গঙ্গারিডই' (বাংলার পূর্বনাম) রাজ্যের রাজধানীতে সূক্ষ্ম মসলিন কাপড় তৈরি হতো, যা সুদূর পশ্চিমা দেশে রপ্তানি হতো।
- মৌর্য শাসনামলে বাংলার সীমানা বিস্তৃত হয়। মৌর্য সম্রাট অশোকের সময় প্রাচীন পুণ্ড্ররাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- ফলে উত্তরবঙ্গের এ অঞ্চল তখন মৌর্য শাসনাধীন একটা প্রদেশে পরিণত হয়।
অন্যদিকে,
- প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট অশোক ছিলেন মৌর্য সম্রাজ্যের একজন রাজা।
- রাজা শশাঙ্ক ছিলেন, বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা। তিনি স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
উৎস:
১. বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
২. ইতিহাস ১ম পত্র , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ছয় দফা কর্মসূচি
পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠী কর্তৃক পূর্ব বাংলাকে শোষণের বিরুদ্ধে ছয় দফা কর্মসূচি ছিল তীব্র প্রতিবাদ আর বাঙালির অধিকার আদায়ের সনদ বা মুক্তিসনদ । ছয় দফা কর্মসূচি ছিল নিম্নরূপ :
১ম দফা : লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে । সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির । সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সকল প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটে জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভাগুলো গঠিত হবে ।
২য় দফা : যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের হাতে থাকবে দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়। অবশিষ্ট সকল বিষয় প্রদেশের হাতে থাকবে ।
৩য় দফা : দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে অথবা দেশের দুই অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে। তবে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চলের মুদ্রা ও মূলধন অন্য অঞ্চলে পাচার হতে না পারে।
৪র্থ দফা : সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য আদায় কৃত অর্থের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে ।
৫ম দফা : বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার উপর প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা থাকবে। সকল প্রকার বৈদেশিক চুক্তি ও সহযোগিতার ব্যাপারে প্রাদেশিক সরকার দায়িত্ব পালন করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা যুক্তিযুক্ত হারে উভয় সরকার কর্তৃক মেটানো হবে।
৬ষ্ঠ দফা : আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক সরকারগুলো স্বীয় কর্তৃত্বাধীন আধা সামরিক বাহিনী (প্যারা মিলিশিয়া) গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে ।
উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।
সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।
সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকাষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।
সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।
তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার কতগুলো সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
মুক্তিকালীন ১১টি সেক্টরের কমান্ডারগণ:
১ নং সেক্টর:
- মেজর জিয়াউর রহমান
- মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- মেজর খালেদ মোশাররফ
- মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
- মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
- ক্যাপ্টেন এ রব
৫ নং সেক্টর:
- মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- মেজর নাজমুল হক
- সুবেদার মেজর এ. রব
- মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
- মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- মেজর এম.এ জলিল
- মেজর এম. এ মঞ্জুর ও
- মেজর জয়নাল আবেদীন
১০ নং সেক্টর: কোন নিয়মিত সেক্টর ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- মেজর এম. আবু তাহের
- স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
গৌড়
- গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়, যার অবস্থান ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে ছিল।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড় রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলায় এর অবস্থান।
- বাংলায় মুসলিম বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।
- মুসলিম যুগেও এ অঞ্চল গৌড় নামে পরিচিত ছিল।
উৎস: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ICDDR,B:
- ICDDR, B এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো ওরস্যালাইন।
- আইসিডিডিআর.বি (ICDDR, B/আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ) ঢাকা শহরের মহাখালীতে অবস্থিত চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা এবং সেবা প্রদানকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।
- আনুষ্ঠানিকভাবে এটির আন্তর্জাতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭৯ সালে।
- ICDDR, B এর পূর্ণরূপ হচ্ছে (International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh).
- ICDDR, B এর সদর দপ্তর ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত।
তথ্যসূত্র - আইসিডিডিআরবি এর ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।
The Gateway of Bangladesh:
- 'The Gateway of Bangladesh' বা বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার বলা হয় চট্টগ্রাম শহরকে।
• চট্টগ্রাম শহর এবং এর বন্দরকে বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার (Gateways to Bangladesh) বলা হয়।
- এটি দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম সামুদ্রিক বন্দর, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- দেশের আমদানী রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র এই চট্টগ্রাম জেলা। এই বন্দরে প্রতি বছর প্রায় ২০বিলিয়ন ডলার রপ্তানী বাণিজ্য হয়ে থাকে, যা আমাদের মোট রপ্তানীর প্রায় ৪৫%। সারা দেশের প্রায় ৪০% ভারী শিল্প গড়ে উঠেছে এই চট্টগ্রাম জেলায়, গড়ে উঠেছে দুইটি রপ্তানী প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা বা EPZ।
- চট্টগ্রাম বন্দর বা 'পোর্ট গ্র্যান্ডে' (Porte Grande)কে উপনিবেশিক আমল থেকেই এই অঞ্চলের বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গণ্য করা হতো।
- Blue.Business.Beauty- এই ট্যাগলাইনটি চট্টগ্রাম জেলার অনন্য ও অপার বৈচিত্র্য এবং অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে ধারণ করে। ইতিহাস-ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, পাহাড়-নদী-নালা ও সুনীল বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শিল্প ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব, সর্বোপরি অনন্য আতিথেয়তা প্রভৃতি মিলিয়ে চট্টগ্রাম হচ্ছে “অপার বৈচিত্র্যের ভাণ্ডার”।
উৎস: চট্টগ্রাম জেলা ওয়েবসাইট।
১নং সেক্টর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
এই সেক্টরের পাঁচটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে:
ঋষিমুখ (ক্যাপ্টেন শামসুল ইসলাম);
শ্রীনগর (ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান এবং পরে ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান);
মনুঘাট (ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান);
তবলছড়ি (সুবেদার আলী হোসেন);
এবং ডিমাগিরী (জনৈক সুবেদার)।
এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।
উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
হিউয়েন সাং:
- ফা-হিয়েনের পরবর্তী তীর্থ-ভ্রমণকারী ছিলেন হিউয়েন-সাং।
- হিউয়েন-সাং সাত শতকের চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তাঁর বিবরণী থেকে সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধের বাংলা সম্পর্কে কিছুটা তথ্য জানা যায়।
- সে সময় উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্ক এবং আসামে ভাস্করবর্মণ শাসন করছিলেন। ৬২৯ সালে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য এশিয়ার কুশ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান। হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন। কনৌজনগরে পৌঁছে তিনি ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন। হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ। হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।
⇒ হিউয়েন-সাং ৬৩৮ সালের দিকে বাংলায় আসেন।
- তাঁর বিবরণী শশাঙ্ক-এর ইতিহাস, বিশেষ করে হর্ষবর্ধনের সঙ্গে তাঁর বৈরিতা এবং শশাঙ্কের ধর্মনীতি সম্পর্কে জানার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- শৈশব থেকেই তিনি ধর্মগ্রন্থ, বিশেষ করে চৈনিক ধ্রুপদি গ্রন্থ ও প্রাচীন জ্ঞানী লোকদের লেখা পাঠে আগ্রহী হন।
- লুওইয়াং নগরে অবস্থানকালে হিউয়েন সাং মাত্র ১৩ বছর বয়সে বৌদ্ধভিক্ষু সম্প্রদায়ে প্রবেশ করেন।
উল্লেখ্য,
- হিউয়েন-সাং-এর গ্রন্থ জিউ জি (সি-উ চি) মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের উপর সর্ববৃহৎ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সম্বলিত গ্রন্থ। বৌদ্ধ গ্রন্থ সংগ্রহ ও বৌদ্ধ ধর্ম নির্দেশনায় ব্যুৎপত্তি অর্জন হিউয়েন-সাং-এর প্রধান উদ্দেশ্য হলেও ভারতে অবস্থানকালে তিনি অন্যান্য কাজও করেছেন। বাংলায় ভ্রমণকৃত বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ছিল প্রধানত কর্ণসুবর্ণের নিকটবর্তী রক্তমৃত্তিকা, পুন্ড্রনগর ও এর সংলগ্ন এলাকা, সমতট ও তাম্রলিপ্তি। তাঁর বিবরণ বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ব্যাপক সহায়তা করে। কোথাও কোথাও তাঁর বিবরণ পক্ষপাতদোষে দুষ্ট হলেও সাত শতকের বাংলার ইতিহাস, বিশেষ করে শশাঙ্কের শাসনাধীন গৌড় রাজ্য সম্বন্ধে তিনি আলোকপাত করে।
উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
জেনারেল এম.এ. জি ওসমানী মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের মাধ্যমে যুদ্ধকৌশলের সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টর এবং ৬৪ টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
• রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে রয়েছে লাল বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপরের দিকে লেখা আছে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ', নিচে লেখা 'সরকার' এবং বৃত্তের পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- এ মনোগ্রামের ডিজাইনার এ এন এ সাহা।
উৎস: বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট।
বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদ :
- সংবিধান রচনার জন্য ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করে।
- সংবিধান প্রণয়নই ছিল গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য।
- আদেশটি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়।
- এই আদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংবিধান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়।
- ৪৩০ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
- আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট ‘একটা খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ গঠিত হয়।
- বেগম রাজিয়া বানু ছিলেন এই খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি একমাত্র মহিলা সদস্য।
- এই কমিটি মোট ৭৪টি বৈঠকে মিলিত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১০ জুন অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধানের প্রাথমিক খসড়া অনুমোদন করে।
- ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধান বিল আকারে পেশ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। যথা:
• ভারত ও
• মিয়ানমার।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা: ৩২টি।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।
তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ভাষা আন্দোলনের আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।
ভাষা শহিদ আবুল বরকত:
- ভাষা শহিদ আবুল বরকত ১৯২৭ সালের ১৩ জুন অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে সপরিবার ঢাকায় চলে আসেন।
- তিনি ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে চতুর্থ হয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে একই বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হন।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সংগঠিত আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
অন্যদিকে,
- আবদুল জব্বার সাধারণ গ্রামীণ কর্মজীবী মানুষ ছিলেন।
- রফিক উদ্দীন আহমদ মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
- আবদুস সালাম ডাইরেক্টর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অফিসে রেকর্ড কিপার পদে চাকরি করতেন।
উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
পুন্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রধান জনপদ ছিল পুন্ড্র।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত পুন্ড্রদের রাজধানী ছিল পুন্ড্রনগর যা পরবর্তীকালে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত হয়।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের মধ্যে পুন্ড্রই ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- পাথরের চাকতিতে খােদাই করা প্রাপ্ত লিপিগুলােকেই মনে করা হয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি।
প্রাচীন বাংলার অন্যান্য জনপদ:
• বঙ্গ:
- বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ’ জনপদ গঠিত হয়েছিল।
- এই অঞ্চলে বসবাসকারী ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী থেকে ‘বঙ্গ' নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয় ৷
• রাঢ়:
- রাঢ় জনপদের অবস্থান ছিলো বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে।
• সমতট:
- বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
• বরেন্দ্র:
- বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিল।
• চন্দ্ৰদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
• তাম্রলিপ্ত:
- বর্তমান ভারতের মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র। সপ্তম শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।
উৎস:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
স্বাধীন গৌড়রাজ্য:
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটলে পরবর্তী গুপ্তবংশ নামে পরিচিত গুপ্ত উপাধি নেয়া রাজাগণ বাংলা, পশ্চিম বাংলার উত্তরাংশ ও মগধে ক্ষমতা বিস্তার করেছিলেন।
- বিভিন্ন কারণে গুপ্ত বংশের রাজারা দুর্বল হয়ে পড়লে এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে মগধে শশাঙ্ক নামক এক খ্যাতিমান শাসক গৌড় রাজ্যের ক্ষমতা দখল করেন।
- প্রাথমিক যুগে শশাঙ্ক ছিলেন গুপ্ত রাজ মহাসেন গুপ্তের একজন মহাসামন্ত।
- ৬০৬ খ্রিস্টাব্দের আগে কোন এক সময় তিনি গৌড়ের স্বাধীন নরপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তিনি কর্ণসুবর্ণে রাজধানী স্থাপন করেন।
- প্রাথমিক সময়ে স্বাধীন গৌড় রাষ্ট্রের রাজা শশাঙ্ক দণ্ডভুক্তি রাজ্য, উড়িষ্যার উৎকল ও কঙ্গোগ রাজ্য এবং বিহারের মগধ রাজ্য জয় করে তার রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন। পশ্চিমে তার রাজ্য বারানসী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। কামরূপ রাজারাও শশাঙ্কের হাতে পরাজিত হন।
উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
হান্টার কমিশন:
- হান্টার কমিশন সরকারিভাবে ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন হলো হান্টার কমিশন।
- গঠিত: ১৮৮২ সালে।
- প্রধান: স্যার উইলিয়াম হান্টার।
- অন্যান্য সদস্যগণ ছিলেন আনন্দমোহন বসু, এ.ডব্লিউ ক্রফট্, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, মহারাজা যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর, কাশীনাথ ত্রিম্বক তীলং এবং স্যার সৈয়দ আহমদ খান।
উল্লেখ্য,
- গঠিত হয়েছিল ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড রিপনের আমলে।
- লর্ড রিপনের শাসনকাল: ১৮৮০–১৮৮৪।
- লর্ড রিপন ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং উদারনীতিপ্রিয় ছিলেন।
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনির ইতিহাস বই, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা।
• গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- আনুমানিক ৩২০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম চন্দ্রগুপ্ত পাটলীপুত্র এলাকা (বর্তমান পাটনায়) গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধারণা করা হয়, গুপ্ত সাম্রাজ্য বর্তমান পাটনা এলাকায়, যার তৎকালীন নাম পাটলীপুত্র।
- গুপ্ত বংশের আদি পুরুষেরা বাংলার পশ্চিমাংশে একটি ছোট রাজ্যের সামন্ত অধিপতি ছিলেন।
- পরবর্তীকালে সমগ্র বাংলাই গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্ত হয়।
- বাংলার উত্তরাংশ 'পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তি' নামে একটি প্রদেশ অথবা প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে সংঘটিত হয়েছিল।
- গুপ্ত সম্রাটের নিযুক্ত একজন শাসনকর্তা দ্বারা এটি শাসিত হতো।
- ৫০৭ খ্রিস্টাব্দে মহারাজ বৈন্যগুপ্ত দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা বা সমতট শাসন করতেন।
- প্রথমে তিনি গুপ্ত সম্রাটের অধীনে একজন সামন্ত শাসনকর্তা ছিলেন।
- পরে সম্ভবত তিনি গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে স্বাধীন স্বতন্ত্র রাজা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- গুপ্ত যুগের শাসনামলে বাংলা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল।
- সে সময় বাংলাদেশে প্রচুর স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার প্রচলন ছিল।
- গুপ্ত শাসনাধীন বাংলাদেশ ছিল বেশ সমৃদ্ধ।
- ঐতিহাসিকদের মতামত বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায়, প্রাচীন বাংলা সমৃদ্ধশালী ছিল।
উৎস: ইতিহাস-১ম পত্র , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।