বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৩৭ / ১২৪ · ৩,৬০১৩,৭০০ / ১২,৪২১

৩,৬০১.
জাতীয় অর্থনৈতিক পরষিদের নির্বাহী কমিটি (ECNEC) এর প্রধান কে?
  1. ক) অর্থ মন্ত্রী
  2. খ) পরিকল্পনা মন্ত্রী
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
জাতীয় অর্থনৈতিক পরষিদের নির্বাহী কমিটি (ECNEC) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুমোদনের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
৩,৬০২.
সম্রাট আকবর কত বছর বয়সে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন?
  1. ১২
  2. ১৩
  3. ১৪
  4. ১৬
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:

• সম্রাট আকবর ১৩ বছর বয়সে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
• ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি পিতা সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর তিনি জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর নাম ধারণ করে দিল্লির মোগল সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
• সম্রাট আকবর ১৫৬১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬০১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তাঁর রাজ্য জয় ও সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
• এ সময়ের মধ্যে তিনি উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে কৃষ্ণা নদী এবং পশ্চিমে হিন্দুকুশ থেকে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
• ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে আকবর আফগান শাসক আদিল শাহ সুরের সেনাপতি হিমুকে পরাস্ত করেন।
• ১৫৬৭ খ্রিস্টাব্দে আকবর মেবারের রাজধানী চিতোর আক্রমণ করেন। 
• সম্রাট আকবর ১৫৮১ খ্রিস্টাব্দে কাবুল আক্রমণ করেন। 
• ১৬০১ খ্রিস্টাব্দে আকবর দুর্ভেদ্য দুর্গ আসিরগড় অধিকার করেন এটিই ছিল তাঁর সর্বশেষ রাজ্য জয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬০৩.
বাংলাদেশে ভােটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স কত?
  1. ১৮
  2. ১৯
  3. ২০
  4. ২১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগে বর্ণিত "নির্বাচন" অধ্যায়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ১২২: ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা - 
(১) প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার তালিকাভুক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হোন;
(খ) তাহার বয়স আঠারো (১৮) বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁহার সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা বহাল না থাকিয়া থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইবুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হয়ে থাকেন।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী সর্বনিম্ন বয়স - ২৫ বছর,
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স - ৩৫ বছর।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৩,৬০৪.
মুসলিম যুগে 'লক্ষ্মণাবতী' নামে পরিচিত ছিল কোন জনপদ?
  1. বঙ্গ
  2. সমতট
  3. গৌড়
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

গৌড়:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬০৫.
নিচের কোনটি সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত?
  1. ক) গজারি
  2. খ) সুন্দরী
  3. গ) গোলপাতা
  4. ঘ) গরান
ব্যাখ্যা

- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বা স্রোতজ বনভূমি।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।
- সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে রয়েছে:
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- ধুন্দল
- গোলপাতা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ , নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬০৬.
প্রোটেস্টান্টানিজমের সূচনা করেন কে?
  1. ক) সেন্ট অগাস্টিন
  2. খ) মার্টিন লুথার
  3. গ) থমাস একুইনাস
  4. ঘ) সেন্ট পিটার লোম্বার্ড
ব্যাখ্যা
ষোড়শ শতকে জার্মান ধর্মযাজক মার্টিন লুথার প্রচলিত পোপ নিয়ন্ত্রিত চার্চতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন। তার এই প্রতিবাদে মাধ্যমে প্রতিবাদী খ্রিস্টধর্ম বা প্রোটেস্টানিজমের সূচনা ঘটে।
এর অংশ হিসেবে ১৫৪৩-১৫৫৫ সময়ে জার্মানিতে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্টান্টদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়। পরবর্তীতে অগসবার্গের সন্ধির মাধ্যমে এই সংঘাত অবসান হয় এবং খ্রিস্টান প্রোটেস্টেন্ট সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে।
(সূত্রঃ আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩,৬০৭.
জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয় কোন স্থানে?
  1. ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
  2. কাসিমপুর কারাগারে
  3. কেরানিগঞ্জ কারাগারে
  4. ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
ব্যাখ্যা
জেল হত্যা:

- ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগের চারজন সিনিয়র নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাদের এই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি স্মরণার্থে এ দিবস পালন করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব যখন অনেকটা দিশেহারা, সে সময় দলের গুরুত্বপূর্ণ এই চার নেতাসহ অনেককে বন্দি করা হয়েছিল।
- শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীরা দেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পূর্বে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটকরত চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- কতিপয় সেনা কর্মকর্তা পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে আটক এই চার নেতাকে গুলি করে এবং বেয়নেট দিয়ে বিদ্ধ করে হত্যা করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬০৮.
ড. স্মিথ কোন শাসককে 'ভারতীয় নেপোলিয়ন' আখ্যা দিয়েছেন?
  1. কুমার গুপ্ত
  2. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  3. সমুদ্রগুপ্ত
  4. শ্রীগুপ্ত
ব্যাখ্যা
সমুদ্রগুপ্ত:
- সমুদ্রগুপ্ত সম্ভাব্য ৩৩৫ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ৩৮০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে তাঁর মৃত্যু হয়।
- প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে রাজ্য বিজেতারূপে যে সকল সম্রাট খ্যাতি লাভ করেছেন, সমুদ্রগুপ্ত তাঁদের মধ্যে প্রথম সারিতে স্থান পেয়েছেন।
- উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত গাঙ্গেয় উপত্যকার স্থানীয় একটি রাজ্যকে তিনি সর্বভারতীয় এক সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
- প্রাচীন ভারতের তৃতীয় সাম্রাজ্যবাদী পুরুষ হিসাবে সমুদ্রগুপ্ত বিখ্যাত।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয় সম্পর্কে হরিষেণ রচিত এলাহাবাদ প্রশস্তিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
- আর্যাবর্তের সকল রাজাকে পরাজিত করে তিনি 'সর্বরাজোচ্ছেত্তা' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সমুদ্রগুপ্তের সাম্রাজ্য ছিল প্রভুত্ব ও স্বায়ত্ত্বশাসনের এক অপূর্ব সমন্বয়।
- দিগ্বিজয় সম্পন্ন করে তিনি 'অশ্বমেধযজ্ঞ' অনুষ্ঠান করেন এবং এই যজ্ঞের স্মৃতিরক্ষায় স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন করেন।
- তিনি ছিলেন প্রচন্ড সাম্রাজ্যবাদী।
- ড. স্মিথ সম্ভবত এ কারণেই সমুদ্রগুপ্তকে 'ভারতীয় নেপোলিয়ন' আখ্যা দিয়েছেন।
- ভারতের জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, আসমুদ্রহিমাচল বিস্তৃত ভারতভূমিকে এক শাসনে আবদ্ধ করাই ছিল সমুদ্রগুপ্তের লক্ষ।
- কুষাণ সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতের রাজনীতিতে যে শক্তিশূন্যতা দেখা দেয় গুপ্ত সাম্রাজ্য তা দূর করে।
- সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন সাধুব্যক্তিদের আশাস্বরূপ, আর অসাধুদের জন্য প্রলয়। হরিষেণ সমুদ্রগুপ্তকে মানুষের আকৃতিতে দেবতা তুল্য 'অচিন্ত্যপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬০৯.
লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু হয় কত সালে?
  1. ১৬৭৮ সালে
  2. ১৬৭৯ সালে
  3. ১৬৭৩ সালে
  4. ১৬৭২ সালে
ব্যাখ্যা

• লালবাগ কেল্লার ইতিহাসঃ
- লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৭৮ সালে। 
- তৎকালীন মুঘল সম্রাট আজম শাহ এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। 
- যদিও আজম শাহ খুব কম সময়ের জন্যেই মুঘল সম্রাট হিসেবে ছিলেন। 
- তবুও তার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তার এই অসাধারণ কাজটি শুরু করেন।
- উল্লেখ্য আজম শাহ ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এর পুত্র আর সম্রাট শাহ জাহানের নাতি, 
- এই দুর্গ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছরের মাথায় তার বাবার ডাকে তাকে দিল্লিতে চলে যেতে হয় ।
- সম্রাট আজম শাহ চলে যাওয়ার পর দুর্গ নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। 
- তখন এই দুর্গ নির্মাণের কাজ আদৌ সম্পূর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।
- তৎকালীন নবাব শায়েস্তা খাঁ পুনরায় লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করে দেন কাজ থেমে যাওয়ার প্রায় এক বছর পরে। 
- পুরো উদ্যমে আবার কাজ চলতে থাকে দুর্গ নির্মাণের।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,৬১০.
নিচের কোনটি শেরশাহের রাজস্ব সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. পাট্টা
  2. কবুলিয়ত
  3. দাম
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
রাজস্ব সংস্কার:
- রাজস্ব সংস্কার শেরশাহের অন্যতম সফলতা।
- তার আগে রাজস্ব নির্ধারণের জন্য কোনো ভূমি জরিপের ব্যবস্থা ছিল না।
- প্রথমবারের মতো শেরশাহই ভূমি জরিপের ব্যবস্থা করেছিলেন।
- তিনি জমির উর্বরা শক্তির তারতম্য অনুসারে রাজস্ব নির্ধারণ করেছিলেন।
- এক্ষেত্রে শস্য কিংবা নগদ অর্থে রাজস্ব আদায় করা যেত।
- শেরশাহ প্রথম 'পাট্টা' ও 'কবুলিয়ত' প্রথা চালু করেন।
- সরকারের পক্ষ থেকে জমির উপর কৃষকের সত্ত্ব স্বীকার করে পাট্টা দেয়া হতো।
- কৃষকরা তাদের অধিকার, দায়িত্ব ও দাবি বর্ণনা করে কবুলিয়ত নামক দলিল সম্পাদন করে দিত। 

মুদ্রা নীতি:
- ভারতবর্ষের মুদ্রানীতিতে প্রথম উপযুক্ত সংস্কার সাধিত হয় শেরশাহের শাসনকালে।
- তিনি বিশেষ ধরনের রৌপ্য মুদ্রার প্রচলন করেছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি স্বর্ণ মুদ্রারও প্রবর্তন করেছিলেন।
- তিনি 'দাম' নামে নতুন তাম্র মুদ্রার বহুল প্রচলন করেন।
- সিকি, আধুলি, দুয়ানি প্রভৃতি শেরশাহের প্রবর্তিত মুদ্রার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল।
- শেরশাহের মুদ্রাগুলো উপাদানে নির্ভেজাল, ওজনে নির্ভেজাল ও গাঠনিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে অনন্য ছিল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৩,৬১১.
হোসেনি দালান নির্মান করেন কে ?
  1. ক) শায়েস্তা খান
  2. খ) মীর মুরাদ
  3. গ) ইসলাম খান
  4. ঘ) মীর জুমলা
ব্যাখ্যা

- ১৭শ শতকে সম্রাট শাহজাহানের আমলে নির্মাণ করা হয় হোসেনি দালান।
- এটি পুরান ঢাকার চাঁনখারপুল হোসেনি দালান রোডে অবস্থিত।
- প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক এই হোসেনি দালান ইমামবাড়া নামেও পরিচিত।
- হোসেনি দালান বা ইমামবাড়ার প্রাচীরের শিলালিপি থেকে জানা যায়, শাহ সুজার সুবেদারির সময় তার এক নৌ-সেনাপতি মীর মুরাদ এটি নির্মাণ করেন।
- হিজরি ১০৫২ সনে অর্থাৎ ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দের প্রথমে তাজিয়া কোনা নির্মাণ করেন তিনি ।

- ১৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে শায়েস্তা খান হোসেনী দালান নির্মাণ করেন।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া ও নবম-দশম শ্রেণি (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা -৭ম অধ্যায়)।

৩,৬১২.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  2. খ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  3. গ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৩,৬১৩.
২০০০ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে প্রথমবারের মতো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে মোট কয়টি দেশ?
  1. ১৭৮টি
  2. ১৮১টি
  3. ১৮৮টি
  4. ১৯০টি
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো বাংলাদেশের বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভাষার জন্য আত্মত্যাগকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষনা করে।
- প্রতিবছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- ২০০০ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি এ বিশেষ দিবসটিকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে প্রথমবারের মতো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে।
- ইউনেস্কোর পর জাতিসংঘও ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক ইনকিলাব, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭।
৩,৬১৪.
কত সালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়?
  1. ১৯৫৭ সালে
  2. ১৯৫৯ সালে
  3. ১৯৬১ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।

⇒ প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে। শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উচ্চ ও ৬ ফুট চওড়া। মিনার তৈরির তদারকিতে ছিলেন জিএস শরফুদ্দিন (ইঞ্জিনিয়ার শরফুদ্দিন নামে পরিচিত), ডিজাইন করেছিলেন বদরুল আলম। সাথে ছিলেন সাঈদ হায়দার। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, ২২ ফেব্রুয়ারির শহীদ শফিউরেরপিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দশটার দিকে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন। উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।

⇒ বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে। বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। তাঁরই রূপকল্পনা অনুসারে নভেম্বর, ১৯৫৭ সালে তিনি ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,৬১৫.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা কত জন ছিল?
  1. ক) ৩২জন
  2. খ) ৩৩জন
  3. গ) ৩৪জন
  4. ঘ) ৩৫জন
ব্যাখ্যা
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট ‘একটা খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' (Draft Constitution Committee) গঠিত হয়
- এ কমিটিতে সংসদে নারী আসন থেকে বেগম রাজিয়া বানু ছিলেন একমাত্র মহিলা সদস্য।
- কমিটি মোট ৭৪টি বৈঠক মিলিত হয়।
- কমিটি ১৯৭২ সালের ১০ জুন অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধানের প্রাথমিক খসড়া অনুমোদন করে।
- খসড়া সংবিধান নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা শেষে ১১ অক্টোবর কমিটির শেষ সভায় সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
- ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধান বিল আকারে পেশ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।
- বঙ্গবন্ধুর সরকার মাত্র দশ মাসে বাংলাদেশকে একটি সংবিধান উপহার দিতে সক্ষম হয়।
- এটি বঙ্গবন্ধু সরকারের সবচেয়ে বড় সফলতাগুলোর মধ্যে অন্যতম। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬১৬.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র নিচের কোনটি?
  1. অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী
  2. শ্যামল ছায়া
  3. জয়যাত্রা
  4. ওরা এগারো জন
ব্যাখ্যা
ওরা এগারো জন:
- প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন'।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা এগারো জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।
৩,৬১৭.
উইং কমান্ডার এম.কে. বাশার মুক্তিযুদ্ধের কততম সেক্টর প্রধান ছিলেন?
ব্যাখ্যা
৬ নং সেক্টর:

- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
- এই সেক্টরকে পাঁচটি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়। 
- সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল পাটগ্রামের নিকটবর্তী বুড়িমারিতে।
- এটিই ছিল একমাত্র সেক্টর যার হেড কোয়ার্টার ছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩,৬১৮.
কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. '৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন
  3. ছয় দফা
  4. গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাবলি: 
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ফলে এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে। 
- আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে এবং মধ্য জানুয়ারিতে গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
- ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
- ড. জোহার মৃত্যুসংবাদে সারাদেশে এমন ব্যাপক গণবিক্ষোভ সৃষ্টি হয় যে, সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬১৯.
ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনের শহীদ নন-
  1. শহীদ রুস্তম
  2. মতিউর রহমান
  3. রফিক উদ্দিন
  4. আসাদুজ্জামান
ব্যাখ্যা

- রফিক উদ্দিন ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ।
- আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- মতিউর রহমান মল্লিক, সার্জেন্ট জহুরুল হক, মুহম্মদ শামসুদ্দোহা, শহীদ আনোয়ারা বেগম, শহীদ রুস্তম উনারা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬২০.
সংবিধানের কততম সংশোধনীতে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানে সংযোজন করা হয়?
  1. ক) চতুর্দশ
  2. খ) পঞ্চদশ
  3. গ) ষোড়শ
  4. ঘ) সপ্তদশ
ব্যাখ্যা
সংবিধান আইন ২০১১ (পঞ্চদশ সংশোধনী) পাস হয় ২০১১ সালের ২৫ জুন
এই সংশোধনীতে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ও ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানে সংযোজন করা হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৩,৬২১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় কয়টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. একটি
  2. তিনটি
  3. দুইটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স: 

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনকে ১১টি সেক্টর ও তার অধীন অনেক সাব-সেক্টর ছাড়াও তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে বিভক্ত করা হয়।
- ফোর্সের নামকরণ করা হয় ব্রিগেডগুলোর অধিনায়কদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে।

১/  জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে 'জেড' ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

২/ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে 'এস' ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

৩/ খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে 'কে' ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৬২২.
মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর ছিল -
  1. মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায়
  2. ঢাকায়
  3. গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়
  4. কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন। 
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। 
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান। 
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উল্লেখ্য,
মুজিবনগর সরকার:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ মন্ত্রণালয়: এম. মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব, 
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬২৩.
দুই টাকার নোটে কার স্বাক্ষর থাকে?
  1. অর্থ সচিব
  2. বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
  3. অর্থমন্ত্রী
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
 - বর্তমানে দুই টাকা ও পাঁচ টাকা এই দুটি মুদ্রা সরকারি নোট বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নামে ইস্যু করা হয়।
- এতে অর্থ সচিবের স্বাক্ষর থাকে।
- দশ থেকে এক হাজার টাকার নোট ব্যাংক নোট হিসেবে পরিচিত।
- এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে।

উৎস: দৈনিক যুগান্তর। [লিঙ্ক]
৩,৬২৪.
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট কত সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে?
  1. ১৫ সদস্যবিশিষ্ট
  2. ১৪ সদস্যবিশিষ্ট
  3. ১০ সদস্যবিশিষ্ট
  4. ১২ সদস্যবিশিষ্ট
ব্যাখ্যা

নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ: 
- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট ১৪ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের নিরঙ্কুশ জয় শুরু থেকেই মুসলিম লীগ সুনজরে দেখেনি।
- তারা যুক্তফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আরম্ভ করে।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ও বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিলে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
- কেন্দ্রীয় সরকার সুযোগ খুঁজতে থাকে যেকোনো অজুহাতে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করতে।
- ১৯৫৪ সালের ৩০শে মে যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল করে পূর্ব বাংলায় গভর্নরের শাসন জারি করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।

৩,৬২৫.
বাংলার কোন সুলতানের শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হয়?
  1. ক) শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  2. খ) আলাউদ্দিন হােসেন শাহ
  3. গ) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. ঘ) নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
• বাংলার আলাউদ্দিন হুসেন শাহ এর শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হয়। 

• হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে ১৪৯৩ সালে বাংলার সিংহাসনে বসেন - সৈয়দ হোসেন। সুলতান হয়ে তিনি ''আলাউদ্দিন হুসেন শাহ'' উপাধি গ্রহণ করেন।
- এভাবেই বাংলায় ''হুসেন শাহী বংশ'' নামে এক নতুন বংশের শাসনপর্ব শুরু হয়। রাজধানী ছিল - গৌড়।
- বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে হুসেন শাহী আমল (১৪৯৩ - ১৫৩৮) ছিল সবচেয়ে গৌরবময়।
- তিনি বাংলার শ্রেষ্ঠ শাসক হিসাবে পরিগণিত হন।

আলাউদ্দিন হুসেন শাহ: 
• কৃতিত্ব:
- মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসে হোসেন শাহের রাজত্বকাল একটি অত্যুজ্জ্বল অধ্যায়। তার রাজত্বকালে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।
- তিনি কামরূপ ও কামতা জয় করেন। ঊড়িষ্যা ও ত্রিপুরা  রাজ্যের কিছু অংশ তার শাসনভুক্ত হয়। তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতারিত করেন।
- বাংলার রাজনীতি হাবসি দাসদের প্রভাবমুক্ত করেন। প্রশাসন ব্যবস্থা সুদৃঢ় করেন।
- ক্ষমতা গ্রহনের অল্প সময়ের মধ্যে রাজ্যের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।
- দিল্লীর লোদী আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য রাজ্যের সবরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।
- হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি তৈরিতে তার প্রচেষ্টা তৎকালীন সমাজ জীবনকে প্রভাভিত করেছিল।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যানুরাগী। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি ও বিকাশ লাভ করে। তার সময়ের বিখ্যাত কবিরা ছিলেন - রূপ গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, পরাগল খান প্রমুখ।

সূত্র: মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬২৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না?
  1. ৮নং
  2. ৯নং
  3. ১০নং
  4. ১১নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিল ১০ নং সেক্টরের অধীনে।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩,৬২৭.
কোন সুবাদারের সময় থেকে বাংলার নবাবী শাসন শুরু হয়?
  1.  ইসলাম খান
  2.  শায়েস্তা খান
  3. আলীবর্দী খান
  4. মুর্শিদকুলী খাঁন
ব্যাখ্যা

মুর্শিদকুলী খান ও নবাবী আমলের সূচনা:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়। বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- মুর্শিদকুলী খানের প্রাথমিক জীবন খুবই চমকপ্রদ।
- তিনি ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ সন্তান।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- পরে তিনি সুবেদার হন।
- মুর্শিদকুলী খানের রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল যুগোপযোগী।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন। 
- মুর্শিদকুলী খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না।
- তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে কন্যা জিনাত-উন-নেসার স্বামী সুজাউদ্দীন খান (১৭২৭-১৭৩৯ খ্রি.) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সিংহাসনে বসেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬২৮.
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি কোথায় অবস্থিত?
  1. মৌলভীবাজার
  2. রাঙামাটি
  3. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. যশোর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালে বরিশালের দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে বক্সার হিসাবে সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসাবে পদোন্নতি পান।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে।
- বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ কেরন।
- তিনি মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৮ এপ্রিল অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করে।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৩,৬২৯.
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. শামসুল আলম
  3. আবদুল মতিন 
  4. নূরুল হক ভূইয়া
ব্যাখ্যা

• ’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয়।
- এ কমিটি আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠিত হয়,
- যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

এছাড়াও
• 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ',
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালে   ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- যার আহবায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৩০.
শিক্ষা বিভাগের ট্রেনিং এর শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. নায়েম
  2. ইউ.জি.সি
  3. কে.টি.সি
  4. বিয়াম
ব্যাখ্যা
নায়েম:
- দেশের শিক্ষা বিভাগের ট্রেনিংয়ের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান - নায়েম।
-পূর্ণরুপ - National Academy for Educational Management (NAEM)
- এটি ১৯৫৯ সালে স্থাপিত হয়।
- এটির অবস্থান ঢাকার নিউমার্কেটে ঢাকা কলেজের পাশে।
- এখানে সর্বস্তরের শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

তথ্যসূত্র - নায়েম ওয়েবসাইট।
৩,৬৩১.
ঢাকায় সর্বপ্রথম কবে বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়?
  1. ক) ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৩১০ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- ১৬১০ সালের ১৬ জুলাই সুবাদার ইসলাম খান চিশতী সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন এবং নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। এই নাম সম্রাট জীবিত থাকা পর্যন্ত বহাল ছিল।
- এরপর ১৬৫০ সালে সুবাদার শাহ সুজা পুনরায় বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহলে নিয়ে যান।
- কিন্তু ১৬৬০ সালে মীর জুমলা পুনরায় ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন যা ১৭১৭ সাল পর্যন্ত বজায় ছিল।
- ১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- পরবর্তী ১৯০৫ থেকে ১৯১১ এবং ১৯৪৭ সাল থেকে ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে ছিলো।
- ১৯৭১ সাল থেকে ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী।
(সূত্রঃ ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট)
৩,৬৩২.
বাংলাদেশে সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম কে বিজয়ী হয়েছিলেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. বিচারপতি সাহাবুদ্দীন
  3. এম এ জি ওসমানী
  4. আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা
১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটিই ছিল রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন।
- তবে এর আগে সংসদ দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল।
- সেই নির্বাচনে ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান বিজয়ী হয়েছিলেন। 
- তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমএজি ওসমানী গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।

এছাড়াও,
⇒ আতাউর রহমানের নেতৃত্বে দলগুলোর একটি দল নির্বাচন বর্জন করে যার মধ্যে রয়েছে ডেমোক্রেটিক লীগ, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ, জাতীয় দল, জাতীয় লীগ ও কৃষক শ্রমিক পার্টি।

উৎস: i) Britannica.
ii) যুগান্তর।
৩,৬৩৩.
মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. খন্দকার মোশতাক আহমদ
  2. এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
  3. এম. মনসুর আলী
  4. এম.এ.জি ওসমানী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- রাষ্ট্রপতি- শেখ মুজিবুর রহমান
- উপ-রাষ্ট্রপতি- সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি)
- প্রধানমন্ত্রী- তাজউদ্দীন আহমদ
- অর্থমন্ত্রী- ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী- এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী- খন্দকার মোশতাক আহমদ
- প্রধান সেনাপতি- কর্নেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী
- চিফ অব স্টাফ- লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ- গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৩৪.
বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক টাওয়ার কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) প্যারিসে
  2. খ) মিউনিখে
  3. গ) টোকিওতে
  4. ঘ) লন্ডনে
ব্যাখ্যা
- জাপানের টোকিও শহরে অবস্থিত ল্যান্ডমার্ক টাওয়ার ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর উচ্চতা ৯৭১ ফুট।
- বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক টাওয়ার ৭০ তলা বিশিষ্ট।

উৎস:- ব্রিটানিকা। 
৩,৬৩৫.
১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সাথে কোন নামটি জড়িত?
  1. রফিক
  2. তোফায়েল
  3. আসাদ
  4. সালাম
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান

- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- এ সময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা গণঅভ্যুত্থানে নিহতের মধ্যে অন্যতম।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- আগরতলা মামলা বাতিল হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৩৬.
বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি মামলার রায় হয় কত সালে?
  1. ২০১০
  2. ২০১১
  3. ২০১২
  4. ২০১৩
ব্যাখ্যা

সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি: 
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মামলার রায় হয় ২০১২ সালের ১৪ মার্চ।
- জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS) এ সমুদ্রসীমা বিষয়ক এই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।
- এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ লাভ করে ১,১১,৬৩১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা।
অন্যদিকে, 
- PCA (Permanent Court of Arbitration) আদালতে বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।
- ২০১৪ সালের ৭ জুলাই PCA এর রায়ের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।

উৎস: সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট, বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট।

৩,৬৩৭.
কোন আন্দোলনে হিন্দু মুসলিম সবাই সক্রিয়ভাবে যোগদান করেছিল?
  1. অসহযোগ আন্দোলন
  2. ওয়াহাবী আন্দোলন
  3. ফরায়েজি আন্দোলন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন:
→ হিন্দু ও মুসলমানের মিলিত সংগ্রাম হিসেবে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
→ আন্দোলন দুটি ছিল ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম ব্যাপক ও জাতীয় ভিত্তিক গণআন্দোলন।
→ হিন্দু-মুসলমানের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দেয়।
→ এই ঐক্য স্বল্পকালের হলেও সারা ভারতের জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৩৮.
'জমিদারী প্রথা' কখন বিলুপ্ত হয়?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
জমিদারি প্রথা:
- জমিদারি প্রথার বিলোপ  বিশ শতকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ।
- কৃষক রাজনীতি ছিল সম্পূর্ণরূপে জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।
- অধিকাংশ জমিদার হিন্দু ছিলেন বলে পল্লী অঞ্চলের জনসংখ্যার সিংহভাগ মুসলমান কৃষকসমাজ ছিল প্রবলভাবে জমিদারদের বিরোধী।
- ১৯৩৭ সালে সকল রাজনৈতিক দল অঙ্গীকার করে যে, তারা নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে জমিদারি প্রথা বিলোপ করা হবে।
- মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টি এর কোয়ালিশন সরকার জমিদারি প্রথা সম্পর্কে রিপোর্ট দানের জন্য একটি কমিশন গঠন করে।
- ফ্লাউড কমিশন নামে পরিচিত সে কমিশন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাতিলের সুপারিশ করে।
- ১৯৫০ সালে ইস্ট বেঙ্গল স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যাক্ট-এর অধীনে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৩৯.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরে নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিলো না?
  1. ক) ৭ নং সেক্টর
  2. খ) ৮ নং সেক্টর
  3. গ) ৯ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
•  তার মধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
• ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
• যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৪০.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত চরমপত্র এর এর নামকরণ করেন কে?
  1. কামাল লোহানী 
  2. এম আর আখতার মুকুল 
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. আশফাকুর রহমান খান
ব্যাখ্যা

চরমপত্র:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র- থেকে প্রচারিত সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান চরমপত্র।
- চরমপত্র মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র- থেকে প্রচারিত সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান।
- এর নামকরণ করেন বেতার কেন্দ্রের একটি বিভাগের সমন্বয়কারী আশফাকুর রহমান খান।
- এটি রচনা ও প্রচার করেন এম আর আখতার মুকুল।
- এম আর আখতার মুকুল ছাত্রজীবনে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন ভাষাসৈনিক। তিনি বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি তথ্য ও প্রচার অধিকর্তা ছিলেন।
- চরমপত্র হলো একটি কথিকা যা ১৯৭১ সালের ২৫ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো।
- এটির পরিচালক, লেখক ও কথক ছিলেন এম আর আখতার মুকুল।
- ঢাকাইয়া ভাষায় তার এ অনুষ্ঠানটি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিলো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র।

৩,৬৪১.
মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব কে  পালন করেন? 
  1. এ কে খন্দকার
  2. এম এ জি ওসমানী
  3. এম এ রব
  4. কে এম শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের-
- মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ জি ওসমানী।
- মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি/সরকার প্রধান/ ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

এছাড়াও,
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন- সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- এম.মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ওয়েবসাইট। 
৩,৬৪২.
বাংলার দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশের নাম কী?
  1. মৌর্য বংশ
  2. সেন বংশ
  3. পাল বংশ
  4. গুপ্ত বংশ
ব্যাখ্যা
• পাল বংশ:
- বাংলা শাসনকারী সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ হলো পাল বংশ
- ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে গোপাল এ বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর থেকে দ্বাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগ পর্যন্ত প্রায় চারশ বছর ধরে পাল শাসকরা বাংলা শাসন করেন।
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠতম শাসক ছিলেন ধর্মপাল।
- তিনি প্রায় (৭৮১-৮২১ খ্রি.) ৪০ বছর বাংলা শাসন করেন।
- তার উপাধি ছিলো পরমেশ্বর, পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৪৩.
Who is the proponent of 'Young Bengal' movement?
  1. Vivian Derozio
  2. Muhammad Mohsin
  3. Valentino Rossi
  4. Raja Ram Mohan Roy
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:

- 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ডিরোজিও।
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৪৪.
ভারতীয় উপমহাদেশে মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা কে ছিলেন?
  1. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  2. সম্রাট অশোক
  3. রাজা শশাঙ্ক
  4. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য 
ব্যাখ্যা

 মৌর্য সম্রাজ্য:
- গ্রিক লেখকদের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণকালে বর্তমান বাংলাদেশ এলাকায় গঙ্গারিডই নামে সমৃদ্ধশালী রাজ্য ছিল।
- এ রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল গঙ্গা। এ সময়কালকে মৌর্য শাসনামল বলে ধারণা করা হয়।
- পণ্ডিতদের ধারণা হলো, 'গঙ্গারিডই' ছিল বর্তমানকালের বাংলা।
- আর্যদের আগমনের আগেই বাংলায় মৌর্য বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ৩২১ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে ভারতে মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় রাজা অশোকের সময়ে ২৬৯-২৩২ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে। বাংলা ছিল মৌর্যদের একটি প্রদেশ। এর রাজধানী ছিল প্রাচীন পুণ্ড্র নগর।
- মৌর্য শাসনামলে বাংলার রাজা খুবই প্রতাপশালী ছিলেন। তার বিশাল সামরিক বাহিনীতে ৪ হাজার সুসজ্জিত হাতি ছিল।
- কোন কোন ঐতিহাসিক মনে করেন, বিশাল হস্তী বাহিনীর ও সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর খবর শুনে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার বাংলা আক্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেন।
- মৌর্য শাসনামলে বাংলা ছিল ঐশ্বর্যপূর্ণ রাজ্য। 'গঙ্গারিডই' (বাংলার পূর্বনাম) রাজ্যের রাজধানীতে সূক্ষ্ম মসলিন কাপড় তৈরি হতো, যা সুদূর পশ্চিমা দেশে রপ্তানি হতো।
- মৌর্য শাসনামলে বাংলার সীমানা বিস্তৃত হয়। মৌর্য সম্রাট অশোকের সময় প্রাচীন পুণ্ড্ররাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- ফলে উত্তরবঙ্গের এ অঞ্চল তখন মৌর্য শাসনাধীন একটা প্রদেশে পরিণত হয়।

অন্যদিকে,
- প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট অশোক ছিলেন  মৌর্য সম্রাজ্যের একজন রাজা।
- রাজা শশাঙ্ক ছিলেন, বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা। তিনি স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস:
১. বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
২. ইতিহাস ১ম পত্র , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৪৫.
ছয় দফার কোন দফায় লাহোর প্রস্তাবকে ভিত্তি করা হয়েছে?
  1. ক) ২য় দফা
  2. খ) ১ম দফা
  3. গ) ৩য় দফা
  4. ঘ) ৫ম দফা
ব্যাখ্যা

ছয় দফা কর্মসূচি
পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠী কর্তৃক পূর্ব বাংলাকে শোষণের বিরুদ্ধে ছয় দফা কর্মসূচি ছিল তীব্র প্রতিবাদ আর বাঙালির অধিকার আদায়ের সনদ বা মুক্তিসনদ । ছয় দফা কর্মসূচি ছিল নিম্নরূপ :
১ম দফা : লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে । সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির । সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সকল প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটে জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভাগুলো গঠিত হবে ।
২য় দফা : যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের হাতে থাকবে দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়। অবশিষ্ট সকল বিষয় প্রদেশের হাতে থাকবে ।
৩য় দফা : দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে অথবা দেশের দুই অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে। তবে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চলের মুদ্রা ও মূলধন অন্য অঞ্চলে পাচার হতে না পারে।
৪র্থ দফা : সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য আদায় কৃত অর্থের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে ।
৫ম দফা : বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার উপর প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা থাকবে। সকল প্রকার বৈদেশিক চুক্তি ও সহযোগিতার ব্যাপারে প্রাদেশিক সরকার দায়িত্ব পালন করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা যুক্তিযুক্ত হারে উভয় সরকার কর্তৃক মেটানো হবে।
৬ষ্ঠ দফা : আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক সরকারগুলো স্বীয় কর্তৃত্বাধীন আধা সামরিক বাহিনী (প্যারা মিলিশিয়া) গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে ।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৪৬.
সর্বপ্রথমে এদেশীয়দের শাসন ও বিচার সংক্রান্ত উচ্চপদে নিয়োগ করেন -
  1. লর্ড মিন্টো
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড বেন্টিংক
  4. লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৮ -৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিংক প্রথম জীবনে মাদ্রাজ কাউন্সিলের গভর্নর নিযুক্ত হয়ে ১৮০৩ সালে এই উপমহাদেশে আগমন করেন।
- অতঃপর ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দ পুনরায় বেন্টিঙ্ককে গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত করে এদেশে পাঠানো হয় এবং তিনি ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বপদে বহাল ছিলেন।

⇒ বেন্টিঙ্কই সর্বপ্রথমে এদেশীয়দের শাসন ও বিচার সংক্রান্ত উচ্চপদে নিয়োগ করেন।
- তিনি কর্ণওয়ালিস প্রবর্তিত প্রাদেশিক বিচারালয়গুলো তুলে দিয়ে জেলা কালেক্টরের উপর ফৌজদারী মামলার বিচার করার দায়িত্ব দেন। তিনি কয়েকটি জেলাকে একত্রিত করে একটি বিভাগ গঠন করে প্রতিটি বিভাগে একজন করে কমিশনার নিযুক্ত করেন। ডেপুটি এবং জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেটের পদও সৃষ্টি করা হয়। 
- তিনি এদেশীয় বিচারালয়গুলোতে মুসলিম আমল থেকে প্রচলিত ফার্সি ভাষার পরিবর্তে দেশীয় ভাষার প্রচলন শুরু করেন। তিনি বাংলায় সর্বপ্রথম 'জুরী ব্যবস্থার' প্রবর্তন করেন।
- বেন্টিঙ্ক লর্ড মেকলের সহায়তায় আইন কমিশন গঠন করে 'ইন্ডিয়ান পেনাল কোড' তৈরি করেন যা ফৌজদারী মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গাইড বুক হিসাবে স্বীকৃতি পায়। 
- সতীদাহ নিবারণ ও ঠগী দমন হলো বেন্টিঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি। তিনি সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করেন। 
- তিনি ইংরেজি শিক্ষার জন্য প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করেন এবং ফার্সীর পরিবর্তে ইংরেজিকে সরকারি ভাষারূপে ঘোষণা করেন। ঐ বৎসরই (১৮৩৫ খ্রি:) বেন্টিঙ্কের চেষ্টার ফলে পাশ্চাত্য ধারার শিক্ষাদানের জন্য কলকাতায় একটি মেডিক্যাল কলেজ ও বোম্বাইয়ে (বর্তমান মুম্বাই) এলফিনস্টোন ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- এছাড়া বেন্টিঙ্ক এদেশের ভেতরে মালামাল চলাচলের উপর শুল্ক উঠিয়ে দেন। 
- বৈদেশিক নীতি মেনে চলার ক্ষেত্রে বেন্টিঙ্ক নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করে চলার পক্ষপাতি ছিলেন। 
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক সাধারণত হস্তক্ষেপ না করা এবং অনাক্রমণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
- বেন্টিঙ্ক উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং সেখানে রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৪৭.
কোন সেক্টর নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয়?
  1. ক) ৭ নং সেক্টর
  2. খ) ৮ নং সেক্টর
  3. গ) ৯ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• সেক্টর:
 - ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৪৮.
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান কোনটি?
  1. দেবীগঞ্জ
  2. মনাকাষা
  3. শিবগঞ্জ
  4. বাংলাবান্ধা
ব্যাখ্যা

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকাষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৩,৬৪৯.
৪ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ক) মেজর কে এম শফিউল্লাহ
  2. খ) মেজর এ এন এম নুরুজ্জামান
  3. গ) মেজর মীর শওকত আলী
  4. ঘ) মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার কতগুলো সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
মুক্তিকালীন ১১টি সেক্টরের কমান্ডারগণ:
১ নং সেক্টর:
- মেজর জিয়াউর রহমান
- মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- মেজর খালেদ মোশাররফ
- মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
- মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
- ক্যাপ্টেন এ রব
৫ নং সেক্টর:
- মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- মেজর নাজমুল হক
- সুবেদার মেজর এ. রব
- মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
- মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- মেজর এম.এ জলিল
- মেজর এম. এ মঞ্জুর ও
- মেজর জয়নাল আবেদীন
১০ নং সেক্টর: কোন নিয়মিত সেক্টর ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- মেজর এম. আবু তাহের
- স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)

৩,৬৫০.
শশাঙ্কের রাজধানী 'কর্ণসুবর্ণ' বর্তমানে কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. মালদহ জেলায়
  2. মুর্শিদাবাদ জেলায়
  3. রাজশাহী জেলায়
  4. নদীয়া জেলায়
ব্যাখ্যা

গৌড়
- গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়, যার অবস্থান ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে ছিল।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড় রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলায় এর অবস্থান।
- বাংলায় মুসলিম বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।
- মুসলিম যুগেও এ অঞ্চল গৌড় নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৫১.
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে কোন সালে প্রথম দেশে প্রত্যাবর্তন করেন?
  1. ক) ১৯৮০
  2. খ) ১৯৮১
  3. গ) ১৯৮২
  4. ঘ) ১৯৮৩
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর ৬ বছর পর নির্বাসিত জীবন শেষ করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে আসেন।
- তার আগেই ১৯৮১ সালের ১৪ - ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দলীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

উৎস: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওয়ামী-লীগ ওয়েবসাইট।
৩,৬৫২.
জেনারেল এরশাদের শাসনব্যবস্থা কী ধরনের ছিল?
  1. গণতান্ত্রিক
  2. সমাজতান্ত্রিক
  3. সাম্যবাদী
  4. একনায়কতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
জেনারেল এরশাদের শাসনব্যবস্থা: 
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশে তার সামরিক শাসনের সূচনা করেন।
- তখন থেকে দীর্ঘ নয় বছর এরশাদের সামরিক একনায়কত্বের আওতায় বাংলাদেশ শাসিত হয়।
- এরশাদের শাসনকালে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয়।
- এরশাদের সামরিক শাসন অবসানের জন্য এ দেশের মানুষকে ক্রমাগত আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বহু মানুষ প্রাণদান করেছেন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনসমূহের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসনের অবসান ঘটে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হয়।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৫৩.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১ মার্চ ১৯১৯ খ্রি.
  2. ১৭ মার্চ ১৯২০ খ্রি.
  3. ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ খ্রি.
  4. ২১ জুন ১৯৪১ খ্রি.
ব্যাখ্যা
শেখ মুজিবুর রহমান:
- শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ পাশ করেন।
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন।
- ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৫৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ নং সেক্টরের অধীনে ছিল -
  1. ময়মনসিংহ
  2. কুষ্টিয়া
  3. হবিগঞ্জ
  4. যশোর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

⇒ সেক্টরগুলো:
- ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ২ নং সেক্টর,
- হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ: ৩ নং সেক্টর,
- সিলেট জেলার অংশবিশেষ: ৪ নং সেক্টর,
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ: ৫ নং সেক্টর,
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ: ৭ নং সেক্টর,
- কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ৮ নং সেক্টর,
- পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ: ৯ নং সেক্টর,
- সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন: ১০ নং সেক্টর,
- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল: ১১ নং সেক্টর।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
৩,৬৫৫.
খাবার স্যালাইনের উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র
  2. ব্র্যাক
  3. আইসিডিডিআর, বি
  4. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ব্যাখ্যা

ICDDR,B:
- ICDDR, B এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো ওরস্যালাইন।
- আইসিডিডিআর.বি (ICDDR, B/আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ) ঢাকা শহরের মহাখালীতে অবস্থিত চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা এবং সেবা প্রদানকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।
- আনুষ্ঠানিকভাবে এটির আন্তর্জাতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭৯ সালে।
- ICDDR, B এর পূর্ণরূপ হচ্ছে (International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh).
- ICDDR, B এর সদর দপ্তর ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - আইসিডিডিআরবি এর ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৫৬.
বাঙালি জাতির 'মুক্তির সনদ' কোনটি?
  1. ৬ দফা
  2. ১১ দফা
  3. ২১ দফা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- আওয়ামী লীগ এ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ইতিহাসে তা 'ঐতিহাসিক ছয়দফা আন্দোলন' নামে অভিহিত হয়ে আছে।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির 'মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকাটা' হিসাবে পরিচিত। 

ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
• দফা গুলো হলো:
প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৫৭.
ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ কোন সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪ নং
  2. ১ নং
  3. ৮ নং
  4. ৭ নং
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ:
- বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার বীরশ্রেষ্ঠ। 
- যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয়। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে।

• সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ -
⇒ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
- সেক্টর: ৭ নং,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)

⇒ সিপাহী হামিদুর রহমান,
- সেক্টর: ৪ নং,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১

⇒ সিপাহী মোস্তফা কামাল,
- সেক্টর: ২ নং,
- মৃত্যু: এপ্রিল ১৮, ১৯৭১

⇒ মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- সেক্টর: ১০ নং,
- মৃত্যু: ডিসেম্বর ১০, ১৯৭১

⇒ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান,
- বাংলাদেশ বিমান বাহিনী,
- মৃত্যু: আগস্ট ২০, ১৯৭১

⇒ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ,
- সেক্টর: ১ নং,
- মৃত্যু: এপ্রিল ৮, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহীদ)

⇒ নূর মোহাম্মদ শেখ,
- সেক্টর: ৮ নং,
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৩,৬৫৮.
'আমার দেখা নয়াচীন' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা কততম প্রকাশিত গ্রন্থ?
  1. চতুর্থ
  2. দ্বিতীয়
  3. প্রথম
  4. তৃতীয়
ব্যাখ্যা
আমার দেখা নয়াচীন” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চীন ভ্রমণের উপর লেখা গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থটি তার প্রকাশিত তৃতীয় গ্রন্থ।
- ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া চীন যান বঙ্গবন্ধু।
- তার এ সফরের অভিজ্ঞতাই এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।

(সূত্রঃ আমার দেখা নয়াচীন : বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান)
৩,৬৫৯.
'The Gateway of Bangladesh' বলা হয় কোন শহরকে?
  1. পটুয়াখালী
  2. বরগুনা
  3. কক্সবাজার
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

The Gateway of Bangladesh:
- 'The Gateway of Bangladesh' বা বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার বলা হয় চট্টগ্রাম শহরকে।

• চট্টগ্রাম শহর এবং এর বন্দরকে বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার (Gateways to Bangladesh) বলা হয়।
- এটি দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম সামুদ্রিক বন্দর, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। 
- দেশের আমদানী রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র এই চট্টগ্রাম জেলা। এই বন্দরে প্রতি বছর প্রায় ২০বিলিয়ন ডলার রপ্তানী বাণিজ্য হয়ে থাকে, যা আমাদের মোট রপ্তানীর প্রায় ৪৫%। সারা দেশের প্রায় ৪০% ভারী শিল্প গড়ে উঠেছে এই চট্টগ্রাম জেলায়, গড়ে উঠেছে দুইটি রপ্তানী প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা বা EPZ।
- চট্টগ্রাম বন্দর বা 'পোর্ট গ্র্যান্ডে' (Porte Grande)কে উপনিবেশিক আমল থেকেই এই অঞ্চলের বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গণ্য করা হতো। 
- Blue.Business.Beauty- এই ট্যাগলাইনটি চট্টগ্রাম জেলার অনন্য ও অপার বৈচিত্র্য এবং অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে ধারণ করে। ইতিহাস-ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, পাহাড়-নদী-নালা ও সুনীল বঙ্গোপসাগরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শিল্প ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব, সর্বোপরি অনন্য আতিথেয়তা প্রভৃতি মিলিয়ে চট্টগ্রাম হচ্ছে “অপার বৈচিত্র্যের ভাণ্ডার”।

উৎস: চট্টগ্রাম জেলা ওয়েবসাইট। 

৩,৬৬০.
বঙ্গবন্ধুর গ্রামটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) মধুমতি
  2. খ) কুমার
  3. গ) ভৈরব।
  4. ঘ) বাইগার।
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গােপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বর্তমান গােপালগঞ্জ জেলা সদরের দক্ষিণে ও পশ্চিমে মধুমতি নদী।
- আর 'বাইগার' নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত টুঙ্গিপাড়া গ্রাম।
- মধুমতীর অসংখ্য শাখা নদীর একটি বাইগার নদী।

উৎসঃ গোপালগঞ্জ জেলার ওয়েবসাইট।
৩,৬৬১.
ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কারা গঠন করে?
  1. দিনেমার
  2. ওলন্দাজ
  3. পর্তুগিজ
  4. ব্রিটিশ
ব্যাখ্যা
ওলন্দাজ:

- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক 'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- কালিকট, নাগাপট্রম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৬২.
কোন রাজ বংশের আমলে চর্যাপদ রচিত হয়?
  1. ক) সেন বংশ
  2. খ) পাল বংশ
  3. গ) গুপ্ত বংশ
  4. ঘ) মুঘল আমলে
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:

- পাল বংশের আমলে চর্যাপদ রচিত হয়।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।

তথযসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৬৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ১নং সেক্টর
  3. ৪নং সেক্টর
  4. ৮নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

১নং সেক্টর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
​ এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। 
​সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
​ এই সেক্টরের পাঁচটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে: 
​ঋষিমুখ (ক্যাপ্টেন শামসুল ইসলাম); 
​শ্রীনগর (ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান এবং পরে ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান); 
​মনুঘাট (ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান); 
​তবলছড়ি (সুবেদার আলী হোসেন); 
​এবং ডিমাগিরী (জনৈক সুবেদার)। 

​এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
​ এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার। 
​এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৬৪.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং কোন জনপদ ভ্রমণ করে তার বিবরণী লিখে যান?
  1. সমতট
  2. বঙ্গ
  3. হরিকেল
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

হিউয়েন সাং:
- ফা-হিয়েনের পরবর্তী তীর্থ-ভ্রমণকারী ছিলেন হিউয়েন-সাং।
- হিউয়েন-সাং  সাত শতকের চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী। 
- তাঁর বিবরণী থেকে সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধের বাংলা সম্পর্কে কিছুটা তথ্য জানা যায়।
- সে সময় উত্তর ভারতে হর্ষবর্ধন, বাংলায় শশাঙ্ক এবং আসামে ভাস্করবর্মণ শাসন করছিলেন। ৬২৯ সালে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য এশিয়ার কুশ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান। হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন। কনৌজনগরে পৌঁছে তিনি ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন। হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ। হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।

⇒ হিউয়েন-সাং ৬৩৮ সালের দিকে বাংলায় আসেন।
- তাঁর বিবরণী শশাঙ্ক-এর ইতিহাস, বিশেষ করে হর্ষবর্ধনের সঙ্গে তাঁর বৈরিতা এবং শশাঙ্কের ধর্মনীতি সম্পর্কে জানার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- শৈশব থেকেই তিনি ধর্মগ্রন্থ, বিশেষ করে চৈনিক ধ্রুপদি গ্রন্থ ও প্রাচীন জ্ঞানী লোকদের লেখা পাঠে আগ্রহী হন।
- লুওইয়াং নগরে অবস্থানকালে হিউয়েন সাং মাত্র ১৩ বছর বয়সে বৌদ্ধভিক্ষু সম্প্রদায়ে প্রবেশ করেন।

উল্লেখ্য,
- হিউয়েন-সাং-এর গ্রন্থ জিউ জি (সি-উ চি) মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের উপর সর্ববৃহৎ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সম্বলিত গ্রন্থ। বৌদ্ধ গ্রন্থ সংগ্রহ ও বৌদ্ধ ধর্ম নির্দেশনায় ব্যুৎপত্তি অর্জন হিউয়েন-সাং-এর প্রধান উদ্দেশ্য হলেও ভারতে অবস্থানকালে তিনি অন্যান্য কাজও করেছেন। বাংলায় ভ্রমণকৃত বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ছিল প্রধানত কর্ণসুবর্ণের নিকটবর্তী  রক্তমৃত্তিকা,  পুন্ড্রনগর ও এর সংলগ্ন এলাকা,  সমতট ও  তাম্রলিপ্তি। তাঁর বিবরণ বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ব্যাপক সহায়তা করে। কোথাও কোথাও তাঁর বিবরণ পক্ষপাতদোষে দুষ্ট হলেও সাত শতকের বাংলার ইতিহাস, বিশেষ করে শশাঙ্কের শাসনাধীন গৌড় রাজ্য সম্বন্ধে তিনি আলোকপাত করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৬৫.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. গ) এম.মনসুর আলী
  4. ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ, অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম.মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান, প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী, চিফ অব স্টাফ ছিলেন লে. কর্নেল(অব.) আবদুর রব এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুফ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৬৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ১১ টি
  2. ১২ টি
  3. ২৯ টি
  4. ৬৪ টি
ব্যাখ্যা

জেনারেল এম.এ. জি ওসমানী মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের মাধ্যমে যুদ্ধকৌশলের সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টর এবং ৬৪ টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

৩,৬৬৭.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে মাঝখানে অংকিত মানচিত্র কোন রঙের?
  1. লাল
  2. হলুদ
  3. সবুজ
  4. সোনালী
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে রয়েছে লাল বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপরের দিকে লেখা আছে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ', নিচে লেখা 'সরকার' এবং বৃত্তের পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- এ মনোগ্রামের ডিজাইনার এ এন এ সাহা।



উৎস: বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট।

৩,৬৬৮.
'লালমাই' কোন প্রাচীন জনপদের কেন্দ্র ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. হরিকেল
  3. সমতট
  4. পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৬৯.
বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল?
  1. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা
  2. সংবিধান প্রণয়ন
  3. পরিকল্পনা কমিশন গঠন করা
  4. সরকার গঠন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদ :
- সংবিধান রচনার জন্য ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করে। 
- সংবিধান প্রণয়নই ছিল গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য।
- আদেশটি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়।
- এই আদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংবিধান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়। 
- ৪৩০ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
- আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট ‘একটা খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ গঠিত হয়।
- বেগম রাজিয়া বানু ছিলেন এই খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি একমাত্র মহিলা সদস্য।
- এই কমিটি মোট ৭৪টি বৈঠকে মিলিত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১০ জুন অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধানের প্রাথমিক খসড়া অনুমোদন করে।
- ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধান বিল আকারে পেশ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।

উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৭০.
ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন কোন শাসককে?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. মোবারক শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ফিরোজ শাহ
ব্যাখ্যা
⇒ ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:

- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন।
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে।
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন।
- পরে আলী মুবারক বাংলাদেশে চলে আসেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই লখনৌতির শাসনকর্তা কদর খানের প্রধান সেনাপতি হন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাও দখল করেন।
- এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭১.
পাল বংশের শেষ মুকুট বলা হয় কোন শাসককে?
  1. মহীপাল
  2. রামপাল
  3. দেবপাল
  4. ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
রামপাল:

- রামপাল রাজা হয়েই বরেন্দ্র পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- এই সময় কৈবর্তদের নেতা ছিলেন ভীম। প্রথম চেষ্টায় রামপাল ব্যর্থ হন।
- বরেন্দ্র অঞ্চলের উপর রামপালের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তাঁর রাজত্বের শেষের দিকে তিনি কামরূপ এবং উড়িষ্যার উপরও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন।
- রামপালকে পাল বংশের শেষ মুকুট বলা হয়।
- কবি সন্ধ্যাকর নন্দী ‘রামচরিত’ নামে রামপালের জীবনী লিখেন।
- রামপালের মৃত্যুর পর পাল সাম্রাজ্যের গৌরব দ্রুত বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭২.
'জীবনঢুলী' চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. ১৯৪৭-এর দেশভাগ
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
জীবনঢুলী:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র জীবনঢুলী।
- 'জীবনঢুলী'র পরিচালক ছিলেন তানভীর মোকাম্মেল।
- চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে ২০১৩ সালে।

⇒ জীবনঢুলী নিম্নবর্গের একটি হিন্দু ঢাকি ও তার পরিবারের ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতার কাহিনি।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় নিম্নবর্ণের এক ঢাকি জীবনকৃষ্ণ দাস ও তাঁর পরিবারের অভিজ্ঞতার গল্প বলা হয়েছে ‘জীবনঢুলী’ ছবিতে।
- বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত ছবিটিতে চুকনগর গণহত্যাকে তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর বাজার।
- ১৯৭১ সালের ২০ মে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সেখানে এক নৃশংস গণহত্যা চালায়।
- ইতিহাসে তা ‘চুকনগর গণহত্যা’ নামে পরিচিতি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৬৭৩.
১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ড: মুহাম্মদ ইউনূস কোন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন?
  1. অর্থ ও পরিকল্পনা
  2. আইন, বিচার ও সংসদ
  3. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
  4. স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের একপ্রকারের শাসন ব্যবস্থা, যার অধীনে দুইটি নির্বাচিত সরকারের মধ্যবর্তী সময়কালে সাময়িকভাবে অনির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ কোন দেশের শাসনভার গ্রহণ করে থাকে।
- বিএনপি সরকারের পদত্যাগের পর ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে যোগ হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি।
- তখন সাংবিধানিকভাবে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

অন্যান্য উপদেষ্টাগণ ছিলেন -
- ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক মো. শামসুল হক, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, শেগুফতা বখত চৌধুরী, এ জেড এম নাছিরুদ্দিন, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহমান খান।

উল্লেখ্য,
ড: মুহাম্মদ ইউনুস:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ড: মুহাম্মদ ইউনুস বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং পরিবেশ ও বন- এই তিনটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে আমেরিকার ভেনডারবিন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেন পিএইচডি ডিগ্রি।
- ব্যাংকিং-এ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে যুগান্তকারী ধ্যান-ধারণা নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন গ্রামীণ ব্যাংক।
- দেশের দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে মহিলাদের ক্ষুদ্র ঋণ সরবরাহ করে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাংকিং কর্মকান্ডের মূল বৈশিষ্ট্য।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) The Business Standard.
৩,৬৭৪.
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা করেছে কারা?
  1. রাজাকার
  2. আলবদর
  3. আলশামস
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
অবরুদ্ধ বাংলাদেশ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি: 
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ জুড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা নির্যাতন, গণহত্যা আর ধ্বংসলীলায় মেতে উঠে।
- তাদের প্রধান লক্ষ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ এদেশের ছাত্রসমাজ, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়।
- পাকিস্তানিরা বিশ্বাস করত পূর্ব পাকিস্তানের আন্দোলন সংগ্রামের পেছনে ভারতের ইন্ধনে হিন্দুরা কাজ করছে।
- রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনী পৌঁছে যায়।
- মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে।
- পরিকল্পিতভাবে এদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য পাকিস্তানি বাহিনী বরেণ্য সাহিত্যিক, শিল্পী, কবি, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
- পাকিস্তানি বাহিনীকে নির্যাতন, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ইত্যাদি মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা করেছে রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটি।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭৫.
মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  2. খ) এএইচএম কামরুজ্জামান
  3. গ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
উপ রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত ছিলেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দিন আহমেদ।
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন - এএইচএম কামরুজ্জামান।
অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন - ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
খন্দকার মুশতাক আহমেদ - ছিলেন পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি]
৩,৬৭৬.
মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলার সংখ্যা কতটি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। যথা:
• ভারত ও
• মিয়ানমার।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা: ৩২টি।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,৬৭৭.
প্রথম তৈরি 'শহীদ মিনার' উন্মোচন করেন কে?
  1. শামসুল আলম
  2. মাহবুবুর রহমান
  3. আমিনুল ইসলাম
  4. আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা
প্রথম শহীদ মিনার:
- ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ- পূর্ব পাশে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে শহীদ শফিউরের পিতা মাহবুবুর রহমান অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রথম শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দশটার দিকে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন।
- উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- এরপর ঢাকা কলেজেও একটি শহীদ মিনার তৈরি করা হয়, এটিও একসময় সরকারের নির্দেশে ভেঙ্গে ফেলা হয়।

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৩,৬৭৮.
BARD কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৫১ সালে
  2. খ) ১৯৫৫ সালে
  3. গ) ১৯৫৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৬১ সালে
ব্যাখ্যা
BARD (Bangladesh Academy for Rural Development) বা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ীতে অবস্থিত।
- এটির প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খান। বার্ড ১৯৫৯ সালের ২৭ মে প্রতিষ্ঠিত হয়।

- বার্ড বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। এটির প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান।

(তথ্যসূত্র: বার্ড ওয়েবসাইট)
৩,৬৭৯.
এম.এ.জি. ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয় -
  1. ক) ১১ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৪ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
⇨ তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের একটি অধিবেশন আহ্বান করেন। উক্ত অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়।
⇨ এই মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করেন।
⇨ সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়। তাজউদ্দীন আহমদকে
প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহমদ ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য নিয়োগ করা হয়।
⇨ ১১ এপ্রিল এম.এ.জি. ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
⇨ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ বেতারে মন্ত্রিপরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়ে ভাষণ প্রদান করেন।
⇨ ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার এক আম বাগানে মন্ত্রিপরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
⇨ দেশি—বিদেশি প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১ টায় শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই বাংলাদেশকে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি একে একে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর তিন সহকর্মীকে পরিচয় করিয়ে দেন।  

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৮০.
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কে ছিলেন?
  1. শহিদ আবদুস সালাম
  2. শহিদ আবুল বরকত
  3. শহিদ আবদুল জব্বার
  4. শহিদ রফিক উদ্দীন
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনের আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

 ভাষা শহিদ আবুল বরকত:
- ভাষা শহিদ আবুল বরকত ১৯২৭ সালের ১৩ জুন অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে সপরিবার ঢাকায় চলে আসেন।
- তিনি ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে চতুর্থ হয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে একই বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হন।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সংগঠিত আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

অন্যদিকে,
- আবদুল জব্বার সাধারণ গ্রামীণ কর্মজীবী মানুষ ছিলেন।
- রফিক উদ্দীন আহমদ মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
- আবদুস সালাম ডাইরেক্টর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অফিসে রেকর্ড কিপার পদে চাকরি করতেন।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৮১.
অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপি কোথায় সংরক্ষিত আছে?
  1. কলকাতার শিল্প গ্যালারি জাদুঘর
  2. ঢাকা এশিয়াটিক সোসাইটি
  3. পল্লী কবি জসীম উদ্‌দীন সংগ্রহশালা
  4. কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি
ব্যাখ্যা
পাল বংশ:
 - পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল এর মৃত্যুর পর ধর্মপাল পাল বংশের সিংহাসনে বসেন এবং সকল পাল রাজাদের মধ্যে ধর্মপাল ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ সার্বভৌম।
- তিনি পরমেশ্বর, পরমভট্টারক মহারাজধিরাজ উপাধি ধারন করেছিলেন।
-  তিনি বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ছিলেন।

এছাড়াও,
- বিক্রমশীল তার আরেকটি উপাধি এবং ভাগলপুরে তার স্থাপিত একটি বৌদ্ধ বিহার বিক্রমশীল বিহার নামে খ্যাত ছিল।
- পাল চিত্রকলা পাল রাজা প্রথম মহীপালের (খ্রিস্টীয় ৯৮৩) ষষ্ঠ রাজ্যাঙ্কে তালপাতার উপরে চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন। 
- বর্তমানে দুর্লভ এই পান্ডুলিপি কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৮২.
পুলিশী সাহায্য পাওয়ার শর্টকোড কোনটি?
  1. ১০৬
  2. ৩৩৩
  3. ৯৯৯
  4. ১২১
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন সেবায় হেল্পলাইন:
- ৯৯৯: বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার। এখানে বিনামূল্যে ফোন করে আপনি জরুরী মুহুর্তে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এ্যাম্বুলেন্স এর সাহায্য নিতে পারবেন। এছাড়া যে কোন অপরাধের তথ্যও পুলিশকে জানাতে পারবেন।

অন্যদিকে -
- ৩৩৩: জাতীয় তথ্যবাতায়ন কল সেন্টার। বাংলাদেশের যে কোন তথ্য জানতে ও সরকারি কর্মকর্তাদেরর সাথে কথা বলতে কল করুন এই নাম্বারে। 
- ১০৬: দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার। যে কোন দুর্নীতি চোখে পড়লে বিনামূল্যে কল করে জানিয়ে দিন।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৬৮৩.
বর্তমান বৃহত্তর রংপুর প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অংশ ছিল?
  1. সমতট
  2. পুন্ড্র
  3. চন্দ্ৰদ্বীপ
  4. তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা

পুন্ড্র: 
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রধান জনপদ ছিল পুন্ড্র।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত পুন্ড্রদের রাজধানী ছিল পুন্ড্রনগর যা পরবর্তীকালে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত হয়।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের মধ্যে পুন্ড্রই ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। 
- পাথরের চাকতিতে খােদাই করা প্রাপ্ত লিপিগুলােকেই মনে করা হয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি।

প্রাচীন বাংলার অন্যান্য জনপদ:
• বঙ্গ:

- বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ’ জনপদ গঠিত হয়েছিল।
- এই অঞ্চলে বসবাসকারী ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী থেকে ‘বঙ্গ' নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয় ৷

•  রাঢ়:

- রাঢ় জনপদের অবস্থান ছিলো বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে।

• সমতট:
- বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল।

•  বরেন্দ্র:
- বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিল।

•  চন্দ্ৰদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

•  তাম্রলিপ্ত:
- বর্তমান ভারতের মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র। সপ্তম শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

উৎস:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৮৪.
সন্ন্যাসী আন্দোলনের নেতা ছিলেন কে?
  1. নবীন সেন
  2. জু্ম্মা খান
  3. মজনু শাহ
  4. ভবানী পাঠক
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন:
- বাংলায় সংঘটিত ব্রিটিশবিরোধী প্রথম আন্দোলন হলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন।
- আঠারো শতকে ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।

- ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনে সন্ন্যাসীদের নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক
- অন্যদিকে ফকিরদের নেতৃত্বে ছিলেন মজনু শাহ

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৬৮৫.
স্বাধীন গৌড় রাজ্যের রাজধানী কোথায় স্থাপিত ছিল?
  1. পাটালিপুত্র
  2. দন্ডভুক্তি
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. পুন্ড্রনগর
ব্যাখ্যা

স্বাধীন গৌড়রাজ্য:
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটলে পরবর্তী গুপ্তবংশ নামে পরিচিত গুপ্ত উপাধি নেয়া রাজাগণ বাংলা, পশ্চিম বাংলার উত্তরাংশ ও মগধে ক্ষমতা বিস্তার করেছিলেন।
- বিভিন্ন কারণে গুপ্ত বংশের রাজারা দুর্বল হয়ে পড়লে এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে মগধে শশাঙ্ক নামক এক খ্যাতিমান শাসক গৌড় রাজ্যের ক্ষমতা দখল করেন।
- প্রাথমিক যুগে শশাঙ্ক ছিলেন গুপ্ত রাজ মহাসেন গুপ্তের একজন মহাসামন্ত।
- ৬০৬ খ্রিস্টাব্দের আগে কোন এক সময় তিনি গৌড়ের স্বাধীন নরপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তিনি কর্ণসুবর্ণে রাজধানী স্থাপন করেন।
- প্রাথমিক সময়ে স্বাধীন গৌড় রাষ্ট্রের রাজা শশাঙ্ক দণ্ডভুক্তি রাজ্য, উড়িষ্যার উৎকল ও কঙ্গোগ রাজ্য এবং বিহারের মগধ রাজ্য জয় করে তার রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন। পশ্চিমে তার রাজ্য বারানসী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। কামরূপ রাজারাও শশাঙ্কের হাতে পরাজিত হন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৮৬.
প্রাচীন বাংলার সবগুলো জনপদই একত্রে বাংলা নামে পরিচিতি লাভ করে কার আমল থেকে?
  1. ক) সুলতান সিকান্দার শাহ
  2. খ) সুলতান শাহবুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. গ) নবাব সিরাজউদৌল্লা
  4. ঘ) নবাব আলীবর্দী খাঁ
ব্যাখ্যা
- বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হলেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২-১৩৫৮ খ্রি.)।
- তিনি ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহকে পরাজিত করে দুই বাংলাকে এক করে বৃহত্তর বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার সময় থেকেই বাংলায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ‘বাঙালি’ নামে পরিচিত পায়।
- তিনি ‘শাহ-ই বাঙালা’ ও ‘শাহ-ই বাঙালিয়ান’ উপাধি ধারণ করেন।
- তিনি `ইলিয়াস শাহী’ বংশের প্রতিষ্ঠাতা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৬৮৭.
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে -
  1. ৩ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৪ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৫ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৬ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা
জুলাই অভ্যুত্থান:
- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন ৫ জুন, ২০২৪ হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষের শুরু হয়।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে তাদের আন্দোলন শুরু হয়।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়, যার শেষ পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে। ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
৩,৬৮৮.
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কতটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে?
  1. ক) ১১টি
  2. খ) ১৪টি
  3. গ) ১০টি
  4. ঘ) ১৩টি
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩টি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে বাংলাদেশে৷
- বর্তমান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ১৩ তম নির্বাচন কমিশনার ।
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি এম ইদ্রিস।
- তাঁর কমিশনের মেয়াদ ছিল ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই থেকে ১৯৭৭ সালের ৭ জুলাই।
- ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এই কমিশনের অধীনে।
- বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব পালন করা প্রধান নির্বাচন কমিশনার৷।
 
অপরদিকে,
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১১টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, dw.com।
৩,৬৮৯.
‘উয়ারী বটেশ্বর’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা
  2. বগুড়া
  3. দিনাজপুর
  4. নরসিংদী
ব্যাখ্যা
উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী নগরের বাইরে আরো ৫০টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে।
- উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি দুর্গনগর, নগর বা একটি নগর কেন্দ্র।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৬৯০.
অ্যালেন গিন্সবার্গ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর কোন কবিতা রচনা করেছিলেন?
  1. ক) উচ্চারণগুলি শোকের
  2. খ) স্বাধীনতা, উলঙ্গ কিশোর
  3. গ) সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড
  4. ঘ) কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
ব্যাখ্যা
সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড:
- সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড - বিখ্যাত মার্কিন কবি এলেন গিন্সবার্গ রচিত একটি কবিতা যা থেকে পরে গান করা হয়েছিল।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে যশোর রোডে সীমান্তের ওপারে শরণার্থী শিবির ঘুরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তা নিয়ে তিনি লিখেন বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।
- এই কবিতার লাইন সংখ্যা ১৫২ টি। এই দীর্ঘ কবিতার সাথে সুর দিয়ে এটিকে গানে রূপ দিয়েছিলেন তিনি।
- আমেরিকায় ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে কনসার্ট করেছিলেন। এভাবেই বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন গিন্সবার্গ।
- এই কবিতার বাংলা ভাষান্তর করেন খান মোহাম্মদ ফারাবি।     

অন্যদিকে -
- গিন্সবার্গের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা 'আপনার ভিতরের চাঁদের আলো অনুসরণ করুন; পাগলামি লুকাবেন না।'
- 'উচ্চারণগুলি শোকের' আবুল হাসান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা।
- 'স্বাধীনতা, উলঙ্গ কিশোর' নির্মলেন্দু গুণ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা।
- 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' রুদ্র মুহান্মদ শহীদুল্লাহ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা।

উৎস: প্রথম আলো, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬।
৩,৬৯১.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন?
  1. ১নং
  2. ৪ নং
  3. ১০ নং
  4. ১১ নং
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয়, রুহুল আমিন তাদের অন্যতম।
- তাঁর পদবী ছিল স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার।
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্ম ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বাঘচাপড়া গ্রামে।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসে তিনি ২নং সেক্টরে যোগদান করেন।
- পরবর্তীতে ১০নং নৌ সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রূপসা নদীতে খুলনা শীপইয়ার্ডের কাছে সম্মুখ যুদ্ধে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ পলাশকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় এ বীর সন্তান শহিদ হন।
- সমাধিস্থল: রূপসা ফেরিঘাটের লুকপুরে।
- নোয়াখালীতে তাঁর জন্মস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর রয়েছে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৯২.
বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন কে?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড ক্লাইভ
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. রাজা পঞ্চম জর্জ
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হলেও শেষ পর্যন্ত ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে এর বাস্তবায়ন হয়।
- এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদাহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ। প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরদিকে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী করা হয় কোলকাতাকে।
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে।
- ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনকারীদের দমন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে।
- রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৯৩.
‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় কোনটির উদ্যোগে? 
  1. ক) সাহিত্য সংসদ
  2. খ) তমদ্দুন মজলিশ
  3. গ) সংস্কৃতি সংসদ
  4. ঘ) রেনেসাঁ সোসাইট
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ: 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে? বাংলা নাকি উর্দু‌’ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- সেখানে এর বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রতিবাদ করেন।
- তিনি ‘বাংলা’ ভাষাকেও অধিবেশনের ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। 
- 'তমদ্দুন মজলিশের' উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। 
- এর আহ্বায়ক মনোনিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) প্রথম আলো ডেস্ক, ১৩ ডিসেম্বর ২০২১।
৩,৬৯৪.
'আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।' উক্তিটি কার?
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• বহু ভাষাবিদ পণ্ডিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলাভাষা, বাংলা সাহিত্য, বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় একটি ভাষণে বলেছিলেন— ‘আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোনো আদর্শের কথা নয়, এটি একটি বাস্তব কথা। প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ দিয়েছেন যে, তা মালা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকবার জো-টি নেই”।

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৭ম শ্রেণি।
৩,৬৯৫.
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন কোনটি?
  1. কার্জন শিক্ষা কমিশন
  2. ভেলসলি কমিশন
  3. হান্টার কমিশন
  4. স্যাডলার শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

হান্টার কমিশন:
- হান্টার কমিশন সরকারিভাবে ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন হলো হান্টার কমিশন।
- গঠিত: ১৮৮২ সালে।
- প্রধান: স্যার উইলিয়াম হান্টার।
- অন্যান্য সদস্যগণ ছিলেন  আনন্দমোহন বসু, এ.ডব্লিউ ক্রফট্,  ভূদেব মুখোপাধ্যায়, মহারাজা যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর, কাশীনাথ ত্রিম্বক তীলং এবং স্যার সৈয়দ আহমদ খান।

উল্লেখ্য,
- গঠিত হয়েছিল ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড রিপনের আমলে।
- লর্ড রিপনের শাসনকাল: ১৮৮০–১৮৮৪।
- লর্ড রিপন ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং উদারনীতিপ্রিয় ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনির ইতিহাস বই, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা।

৩,৬৯৬.
গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. সমুদ্রগুপ্ত 
  2. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. সম্রাট অশোক
ব্যাখ্যা

• গুপ্ত সাম্রাজ্য:

- আনুমানিক ৩২০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম চন্দ্রগুপ্ত পাটলীপুত্র এলাকা (বর্তমান পাটনায়) গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ধারণা করা হয়, গুপ্ত সাম্রাজ্য বর্তমান পাটনা এলাকায়, যার তৎকালীন নাম পাটলীপুত্র। 
- গুপ্ত বংশের আদি পুরুষেরা বাংলার পশ্চিমাংশে একটি ছোট রাজ্যের সামন্ত অধিপতি ছিলেন।
- পরবর্তীকালে সমগ্র বাংলাই গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্ত হয়।


- বাংলার উত্তরাংশ 'পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তি' নামে একটি প্রদেশ অথবা প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে সংঘটিত হয়েছিল।
- গুপ্ত সম্রাটের নিযুক্ত একজন শাসনকর্তা দ্বারা এটি শাসিত হতো।
- ৫০৭ খ্রিস্টাব্দে মহারাজ বৈন্যগুপ্ত দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা বা সমতট শাসন করতেন।
- প্রথমে তিনি গুপ্ত সম্রাটের অধীনে একজন সামন্ত শাসনকর্তা ছিলেন। 
- পরে সম্ভবত তিনি গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে স্বাধীন স্বতন্ত্র রাজা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

- গুপ্ত যুগের শাসনামলে বাংলা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল। 
- সে সময় বাংলাদেশে প্রচুর স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার প্রচলন ছিল। 
- গুপ্ত শাসনাধীন বাংলাদেশ ছিল বেশ সমৃদ্ধ। 
- ঐতিহাসিকদের মতামত বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায়, প্রাচীন বাংলা সমৃদ্ধশালী ছিল।

উৎস: ইতিহাস-১ম পত্র , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৯৭.
সর্বশেষ সরকারি মেডিকেল কলেজ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কক্সবাজার
  2. সুনামগঞ্জ
  3. হবিগঞ্জ
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে দেশে সরকারি MBBS মেডিকেল কলেজ - ৩৭টি।
- দেশের সর্বশেষ সরকারি মেডিকেল কলেজ - বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ।
- এটি সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। 
উৎস: দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট।
৩,৬৯৮.
বাংলার কোন অঞ্চলে টংক আন্দোলন সংঘটিত হয়?
  1. ক) বৃহত্তর ফরিদপুর
  2. খ) বৃহত্তর খুলনা
  3. গ) বৃহত্তর ময়মনসিংহ
  4. ঘ) বৃহত্তর রংপুর
ব্যাখ্যা
- টঙ্ক প্রথা হলো টাকার পরিবর্তে ধানের মাধ্যমে খাজনা আদায়৷
- বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে এই প্রথা প্রচলিত ছিলো। ধানের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধে কৃষকদেরকে কয়েকগুণ বেশি খাজনা প্রদান করতে হতো। তাই কৃষকরা এই প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে।
- কমরেড মনি সিংহ টঙ্ক আন্দোলনে কৃষকদের নেতৃত্ব দেন।
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাজং সম্প্রদায় টংক আন্দোলন সংঘটিত করে।
- ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হলে টঙ্ক প্রথা উচ্ছেদ হয় এবং টঙ্ক আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
(তথ্যসূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
৩,৬৯৯.
কোন মুঘল সম্রাটের রাজত্বকাল “The Age of Marble” নামে খ্যাত?
  1. ক) সম্রাট বাবর
  2. খ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. গ) সম্রাট শাহজাহান
  4. ঘ) সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান

- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে ‘আবুল মুজাফ্ফর শিহাবুদ্দীন মুহম্মদ শাহজাহান’ উপাধি নিয়ে শাহজাহান আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন।(বাংলাপিডিয়া)
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর শাহজাহান ১৬২৮ খ্রি. ১৪ফেব্রুয়ারি গাজী উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন( ওপেন স্কুল- ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র )।
- মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল “The Age of Marble” নামে খ্যাত।

- তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি ইতিহাসে ‘The Prince of Builders or Engineer King” নামে পরিচিত ।
- সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হচ্ছে সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।  

- সম্রাট শাহজাহানের সময়ে ইংরেজরা বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন ওড়িষার পিপলিতে ।
- পুত্র আওরঙ্গজেব কর্তৃক দীর্ঘ আট বছর আগ্রা দুর্গে অন্তরীণ থেকে ১৬৬৬ খ্রি. ২২ জানুয়ারি ৭৪ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭০০.
বারো ভুঁইয়াদের রাজত্ব ছিল কোন আমলে?
  1. ক) সুলতানী
  2. খ) তুর্কি
  3. গ) আফগান
  4. ঘ) মুঘল
ব্যাখ্যা
বারো ভু্‌ঁইয়া: 
- বাংলার ইতিহাসে ষোড়শ শতক থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলায় যেসব বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি এবং শক্তিশালী সৈন্য ও নৌ-বহর নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তারাই বাংলার ইতিহাসে 'বারো ভুঁইয়া' নামে পরিচিত।
- যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য বারো ভুঁইয়াদের মধ্যে সর্বাধিক সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ছিলেন। ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতাপের ক্ষমতা ও খ্যাতি পুরো ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল।
- বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন সোনার গাঁয়ের জমিদার - ঈসা খাঁ। তার মৃত্যুর পর মোগলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ স্তিমিত হয়ে যায়।


তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।