বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৩৫ / ১২৪ · ৩,৪০১৩,৫০০ / ১২,৪২১

৩,৪০১.
মেজর জিয়াউর রহমান কোন বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন?
  1. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র
  2. কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র
  3. চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র
  4. রেডিও পাকিস্তান, চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা ঘোষণা:
- ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রথম প্রহরেই মেজর জিয়াউর রহমান নিজেকে প্রভিশননাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তানের স্বৈরশাসক ইয়াহিয়ার নির্দেশে তার সামরিক বাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ২৫ মার্চ কালরাতে।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আক্রমণ শুরু হয় গভীর রাতে। জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হল, রোকেয়া হলে চালানো হয় হত্যা ও পাশবিক নির্যাতন। এছাড়া পিলখানা, ইপিআর সদর দপ্তর, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আক্রমণ করে নির্বিচার হত্যা চালানো হয়। একইভাবে গণহত্যা চলেছিল পুরনো ঢাকায়, কচুক্ষেত, তেজগাঁও, ইন্দিরা রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে, রায়েরবাজার, গণকটুলি, ধানমণ্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান প্রভৃতি স্থানে।
- ঢাকার ন্যায় দেশের অন্যান্য শহরেও পাকিস্তানি বাহিনী ব্যাপক গণহত্যা শুরু করে।
- এ পরিস্থিতিতে ২৬শে মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- এরপর তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- তাঁর স্বাধীনতা ঘোষণা এবং এর প্রতি বাঙালি সামরিক, আধাসামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমর্থন ও অংশগ্রহণের খবরে স্বাধীনতাকামী জনগণ উজ্জীবিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪০২.
ছয় দফার কতটি দফা অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট নয়?
  1. ৪টি
  2. ৩টি
  3. ২টি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- এই ৬ দফার মধ্যে ৩ টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩ টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক দাবি ছিল।

ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।

• দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

 উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৪০৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে প্রেরিত ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’-এর বিষয় কী ছিল?
  1. Crisis in South Asia
  2. Human Rights in East Pakistan
  3. Dissent From U.S. Policy Toward East Pakistan
  4. U.S. Foreign Policy Review
ব্যাখ্যা

• 'ব্লাড টেলিগ্রাম'/The Blood Telegram:
- আর্চার কেন্ট ব্লাড (Archer Kent Blood) ছিলেন একজন মার্কিন কূটনীতিক, যিনি ১৯৭১ সালে ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তানের মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
- ২৫ মার্চের ভয়ংকর গণহত্যার সাক্ষী ছিলেন ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন কনসাল জেনারেল আরচার ব্লাড ও তার সহকর্মীরা।
- তারা মার্চ মাসজুড়ে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে ক্যাবল পাঠান, জানান এই ভয়াবহ গণহত্যার খবর।
- ব্লাড ও তার সহকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে তাদের নৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়ে ৬ এপ্রিল একটি টেলিগ্রাম করেন, যা ইতিহাসে ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে পরিচিত। 
- এই টেলিগ্রাম ছিল একটি প্রতিবাদ, যা এখনো আমেরিকান ফরেন সার্ভিস একাডেমীতে নবীশদের পড়ানো হয়। 
- এটির শিরোনাম বা বিষয় ছিল "Dissent From U.S. Policy Toward East Pakistan" / ''পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কিত মার্কিন নীতির বিরোধিতা'' । 
- এই তারবার্তাটি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দমনমূলক অভিযানের বিরুদ্ধে মার্কিন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিল।
 - এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন সরকারের নৈতিক দেউলিয়াত্বের (moral bankruptcy) অভিযোগ তুলেছিল এবং পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত নৃশংসতাকে 'জেনোসাইড' বা 'গণহত্যা' হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আমেরিকান অধ্যাপক গ্যারি জে বাসের  'দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড' নামে একটি বই রয়েছে। 

তথ্যসূত্র:
i) Department of State, United States of America. (Link) (Link) 
ii) Daily Star. (Link) (Link) 
iii) Washington Post. (Link)
iv) Prothom Alo. (Link) 

৩,৪০৪.
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কে নিয়োগ পেয়েছেন?
  1. মো. নাজমুল আমিন মজুমদার
  2. মো. সুজায়েত উল্লাহ
  3. মোবাশ্বের মোনেম
  4. ড. নূরুল কাদির
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
------------------- 
পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান:

নতুন চেয়ারম্যান: মোবাশ্বের মোনেম।

নতুন সদস্যদের নাম:

- মো. নাজমুল আমিন মজুমদার, 
- মো. সুজায়েত উল্লাহ,
- ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, 
- ড. নুরুল কাদির।

সূত্র: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৩,৪০৫.
'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড' কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ডেইলি টেলিগ্রাফ
  2. দ্য সানডে টাইমস
  3. রয়টার
  4. নিউইয়র্ক টাইমস
ব্যাখ্যা

সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড (September on Jessore Road):
- সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড- বিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের কবি এলেন গিন্সবার্গ রচিত একটি কবিতা। 

⇒ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানীরা এদেশে হামলা করলে প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশী জনগণ অস্থায়ী শরণার্থী হিসেবে ভারতে গমন করে। সে সময় নিরাপদে ভারতের ভূখণ্ডে অস্থায়ীভাবে প্রবেশের পথ হিসেবে শরণার্থীরা বেছে নেয় এই যশোর রোডকে।
- ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ ভারতের কলকাতা থেকে নৌকায় করে বাংলাদেশের যশোর সীমান্তে পৌছান।
- সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসকারী উদ্বাস্তুদের দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। 
- দেশে ফিরে গিন্সবার্গ একটি কবিতা লেখেন: 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড'।
- এই কবিতার লাইন সংখ্যা ১৫২ টি।
- এই দীর্ঘ কবিতার সাথে সুর দিয়ে এটিকে গানে রূপ দিয়েছিলেন তিনি।
- আমেরিকায় ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে কনসার্ট করেছিলেন। 
- ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর কবিতাটি নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত হয়।

উৎস: প্রথম আলো।

৩,৪০৬.
১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে কে নিহত হন?
  1. আসাদুজ্জামান
  2. মতিউর রহমান
  3. ড. শামসুজ্জোহা
  4. সার্জেন্ট জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯ -এর আন্দোলন বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
- সেজন্য এ আন্দোলন গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান নামে অভিহিত হয়েছে।
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্ব বাংলা/পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের ঘোষিত ১১ দফা দাবির মধ্যে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হল।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে। আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪০৭.
বাংলার আদি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাদের সংখ্যায় বেশি ছিল?  
  1. আর্য
  2. অষ্ট্রিক 
  3. মঙ্গোলীয়
  4. ককেশীয়
ব্যাখ্যা

• বাঙালি জাতি:
- বাঙালি জাতি একটি মিশ্রিত জাতি, যা নানা যুগে বিভিন্ন নরগোষ্ঠীর মেলবন্ধনের ফলে গঠিত হয়েছে। 
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলায় পৃথিবীর চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর (নিগ্রীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় ও অষ্ট্রেলীয়) শাখার আগমন ঘটেছে।
- বাংলার প্রাচীন জনগুলির মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষীরাই সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাচীন সময়ে আদি অষ্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠী—যেমন সাঁওতাল, বাঁশফোড়, রাজবংশী—এ অঞ্চলে বাস করত। 
- পরবর্তীতে আর্য, পারস্য-তুর্কিস্তান, গুপ্ত, সেন, বর্মণ, তুর্কি, আফগান, মুগল, ইংরেজ, আর্মেনীয় প্রভৃতি বহু জাতির আগমন বাঙালি রক্তে নতুন মিশ্রণ ঘটায়।
- এমনকি পাকিস্তান যুগ ও বর্তমান বিশ্বায়নের সময়েও এই শংকর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
- সুতরাং, বাঙালি জাতি ইতিহাসভিত্তিক ও বৈচিত্র্যময় রক্তের মিশ্রণের ফলশ্রুতিতে একটি শংকর জাতি হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৩,৪০৮.
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের থানা কোনটি?
  1. শিবগঞ্জ
  2. থানচি
  3. তেঁতুলিয়া
  4. টেকনাফ
ব্যাখ্যা

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের থানা তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৩,৪০৯.
হিন্দু লেখকগণ কোন শাসককে 'কৃষ্ণাবতার' উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. চন্দ্রগুপ্ত
  2. বিক্রমাদিত্য
  3. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪১০.
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ সংবিধানের কোন তফসিলে উল্লেখ রয়েছে?
  1. চতুর্থ
  2. পঞ্চম
  3. ষষ্ঠ
  4. সপ্তম
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে নতুন করে ৩টি তফসিল যুক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭ টি তফসিল রয়েছে।
- প্রথম তফসিল – অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল – রাষ্টপতি নির্বাচন।
- তৃতীয় তফসিল – শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল – ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবালী।
- পঞ্চম তফসিল – ১৯৭১সালের ৭মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল -১৯৭১সালের ২৫মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল- ১০এপ্রিল ১৯৭১ এর মুজিবনগর সরকারের জারিকৃ্ত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস:-  বাংলাদেশের সংবিধান।
৩,৪১১.
১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট কতটি দল অংশগ্রহণ করে?
  1. ৪টি দল
  2. ৮টি দল
  3. ১৬টি দল
  4. ২৪টি দল
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের ব্যালট বাক্সে ব্যবহারের জন্য সরকার চূড়ান্তরূপে মোট ২৪টি প্রতীক নির্দিষ্ট করেন।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ 'হারিকেন' প্রতীক এবং যুক্তফ্রন্ট 'নৌকা' প্রতীক গ্রহণ করে। 
- ভোটগ্রহণ ৮ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- নির্বাচন কমিশনার ছিলেন মো. আজফার। 

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ও জোট:
- ১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে।
- মুসলমান আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মুসলিম লীগ, পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলামী, যুবলীগ, গণতন্ত্রী দল, খেলাফতে রব্বানী পার্টি প্রভৃতি।
- অমুসলমান আসনে অংশগ্রহণ করে পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস, তফশিলি ফেডারেশন, গণসমিতি, অভয় আশ্রম (কুমিল্লা), পূর্ব পাকিস্তান সমাজতন্ত্রী দল প্রভৃতি।
- কমিউনিস্ট পার্টির মুসলমান সদস্যগণ মুসলমান আসনে এবং হিন্দু সদস্যগণ হিন্দু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- মুসলমান আসনে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি এবং নেজামে ইসলামী 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে সম্মিলিতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
- হিন্দু আসনে গণসমিতি, অভয় আশ্রম ও পূর্ব পাকিস্তান সমাজতান্ত্রিক দল 'সংখ্যালঘু যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪১২.
‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে-
  1. আওয়ামী লীগ
  2. ছাত্র ইউনিয়ন
  3. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  4. সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:

- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৪১৩.
'কপোতাক্ষ' কোন নদীর শাখানদী?
  1. যমুনা নদী
  2. গড়াই নদী
  3. ভৈরব নদী
  4. মেঘনা নদী
ব্যাখ্যা

• ভৈরব নদী:
 - ভৈরব অর্থ ভয়াবহ। একসময় গঙ্গা ও পদ্মা নদীর মূল প্রবাহ এই নদকে প্রমত্তা রূপ দিয়েছিল।
- সেই থেকেই নামটির উৎপত্তি।
- খুলনা ও যশোর শহর এই নদীর তীরে অবস্থিত।
- ভৈরব নদী যশোর-খুলনা এলাকার দীর্ঘতম নদী। 
- মালদহের যেস্থানে শ্রুতকীর্তি গঙ্গায় পড়েছে, তারই অপর পাড়ে ভৈরবের উৎপত্তি।
- ভৈরব নদের দৈর্ঘ্য ২৫০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৬০ মিটার এবং এর প্রকৃতি সর্পিলাকার।

- চলার পথে ভৈরব বহু নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। 
- নদীটির উল্লেখযোগ্য দুটি শাখা হচ্ছে ইছামতি ও কপোতাক্ষ।
- কালিগংগার পর বৈখালী পর্যন্ত কালিন্দী নদী নামে পরিচিত। 
- তারপর মোহনার নিকট এই নদী রায়মংগল নামে পরিচিত। 
- পূর্বে রায়মংগল এবং পশ্চিমে হাড়িয়াভাংগা মোহনা দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। 

- এই নদের তীরে খুলনা, যশোর শহর ছাড়াও রয়েছে মুজিবনগর, মেহেরপুর, গাড়াবাড়িয়া, চুয়াডাঙা, বড়বাজার, কোটচাঁদপুর, চৌগাছা, দৌলতপুর ও বাগেরহাট। 
- সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে নদটি পবিত্র। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও কালের কণ্ঠ।  (Link1) (Link2) (Link3)

৩,৪১৪.
সম্রাট হুমায়ুন কে ছিলেন?
  1. আকবরের পিতা
  2. বাবরের পিতা
  3. জাহাঙ্গীরের পিতা
  4. শাহজাহানের পিতা
ব্যাখ্যা
- হুমায়ুন ছিলেন বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র ও আকবরের পিতা। তিনি বাবরের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন।

সম্রাট হুমায়ুন:
- মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ুন।
- বাবরের শাসনামলে হুমায়ুন বাদাখশান, হিসার ফিরোজা এবং সম্বলের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- পিতা বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর মাত্র ২৩ বছর বয়সে পিতৃ মনোনয়ন অনুসারে হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।

উল্লেখ্য,
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আকবর এর প্রথম পুত্র জাহাঙ্গীর তাঁর পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে নূরুদ্দীন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর উপাধি গ্রহণ করে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর সময়ে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।

সূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
৩,৪১৫.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত হয় কত নং সেক্টর?
  1. ক) ২নং সেক্টর
  2. খ) ৩ নং সেক্টর
  3. গ) ৬ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৮ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

২ নং সেক্টরঃ
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে। নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,৪১৬.
ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি চালু হয় কার শাসনামলে?
  1. ক) জন ক্যানিং
  2. খ) লর্ড মেয়ো
  3. গ) লর্ড রিপন
  4. ঘ) লর্ড ডাফরিন
ব্যাখ্যা
লর্ড মেয়োর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি চালু হয় ১৮৭২ সালে।
• লর্ড রিপনকে ভারতীয় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের জনক বলা হয়।
• ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় লর্ড জন ক্যানিং ১৮৬১ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র এইচ এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৪১৭.
মাথাপিছু আয়ার দিক হতে বাংলাদেশ কী ধরনের দেশ?
  1. ক) উন্নত আয়ের
  2. খ) উচ্চমধ্যম আয়ের
  3. গ) নিম্নমধ্যম আয়ের
  4. ঘ) নিম্ন আয়ের
ব্যাখ্যা
Worldbank, UN হতে প্রাপ্ত তথ্যমতে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উত্তরণের সকল শর্ত পূরণ করে ২০১৫ সালে এবং নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা (lower middle-income country status) লাভ করে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ এখনই হয়ে যায়নি। ‘বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ’—এ ঘোষণা আসার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। ঘোষণাটি দেবে জাতিসংঘ।
উৎসঃ Worldbank, UN, দৈনিক প্রথম আলো
৩,৪১৮.
বাংলাদেশের কোন জেলার সাথে দুইটি দেশের সীমান্ত রয়েছে?
  1. রাঙামাটি
  2. কক্সবাজার
  3. খাগড়াছড়ি 
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

সীমান্ত জেলা:
- বাংলাদেশে বিভাগ রয়েছে ৮টি এবং জেলা ৬৪টি।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা ৩টি।
- রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে।
- এছাড়াও, ৬টি বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

৩,৪১৯.
ছবিসহ ভোটার তালিকা ও আইডি কার্ড প্রথম ব্যবহার করা হয়-
  1. সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
  2. অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
  3. নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
  4. দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে ছবিসহ ভোটার তালিকা ও আইডি কার্ড প্রথম ব্যবহার করা হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।
- এই নির্বাচনে 'না' ভোটও যুক্ত করা হয়েছিল।
উৎসঃ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
৩,৪২০.
বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম কত সালে বহির্বিশ্বে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়?
  1. ১৯৯৭ সালে
  2. ১৯৯৮ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৯৭ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম শহীদ মিনার তৈরি করা হয়।

বহির্বিশ্বে শহীদ মিনার:

- বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহীদ মিনার স্থাপিত হয় ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে। 
- গ্রেট মেনচেস্টারের ওল্ডহ্যামের ওয়েস্টহুড নেবারহুডে তৈরি হয়েছে এ মিনার।
-  ১৯৯৭ সালের ৫ অক্টোবর সেখানকার ‘বাংলাদেশি কালচারাল অ্যান্ড হিস্ট্রি ইন ওল্ডহ্যাম’ সে দেশে শহীদ মিনার নির্মাণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। 
- তাছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৫ সালে জাপানের টোকিওতে শহীদ মিনার নির্মিত হয়। 
- জাপান বাংলাদেশ সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর বৈশাখি মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার সূত্র ধরে বাংলাদেশ সরকার এই শহীদ মিনারটি নির্মাণ করে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৪২১.
ভারতীয় উপমহাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তক-
  1. ক) ক্যানিং
  2. খ) লিটন
  3. গ) কার্জন
  4. ঘ) রিপন
ব্যাখ্যা
- ভারতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তক লর্ড রিপন।
- লর্ড লিটনের পদত্যাগের পর লর্ড রিপন ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন। তার শাসনকাল ১৮৮০ থেকে ‌১৮৮৪ সাল।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী ছিলেন এবং ভারতবাসীর আশা আকাঙ্খার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে উদারনীতি অবলম্বন করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সংস্কার কাজ হচ্ছে-
- আফগান সীমান্ত সমস্যার সমাধান,
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
- শিক্ষা কমিশন গঠন (হান্টার কমিশন),
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমূলক আইন, রাজ্বস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন,
- ফ্যাক্টরি আইন (দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের নিয়ম) ইত্যাদি।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনীর ইতিহাস বই, অধ্যাপক মো: গোলাম মোস্তফা।
৩,৪২২.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) এইচ এম কামারুজ্জামান
  3. গ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  4. ঘ) অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

 • কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
→ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
→ মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
→ মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
→ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
→ এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
→ খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪২৩.
মুক্তিযুদ্দের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে বিভক্ত করেছিলো?
  1. ক) ৯টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ১২টি
  4. ঘ) ১৩টি
  5. ঙ) ১১টি
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার কতগুলো সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
মুক্তিকালীন ১১টি সেক্টরের কমান্ডারগণ:
১ নং সেক্টর:
- মেজর জিয়াউর রহমান
- মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- মেজর খালেদ মোশাররফ
- মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
- মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
- ক্যাপ্টেন এ রব
৫ নং সেক্টর:
- মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- মেজর নাজমুল হক
- সুবেদার মেজর এ. রব
- মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
- মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- মেজর এম.এ জলিল
- মেজর এম. এ মঞ্জুর ও
- মেজর জয়নাল আবেদীন
১০ নং সেক্টর:
কোন নিয়মিত সেক্টর ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- মেজর এম. আবু তাহের
- স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)

৩,৪২৪.
কোন সম্রাট ইংরেজদের বঙ্গদেশে কুঠি নির্মাণের অনুমতি দেয়?
  1. সম্রাট শাহজাহান
  2. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  4. সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

ইংরেজদের আগমন ও ক্ষমতা বিস্তার:
- পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ বণিকদের বাণিজ্যিক সাফল্য ও এদেশের বিপুল ধন-সম্পদের বর্ণনা ইংরেজ বণিকদের মনে এদেশে বাণিজ্য করার আগ্রহ সৃষ্টি করে।
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদী সনদ নিয়ে এদেশে বাণিজ্য করতে আসে। 
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে তারা ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে মুম্বাইয়ের নিকট সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ রাজদূত স্যার টমাস রো সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে এসে ইংরেজদের বাণিজ্যের জন্য কিছু সুবিধা আদায় করেন।
- পর্তুগিজরা বাংলা থেকে বিতাড়িত হলে ইংরেজগণ বালেশ্বরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং করমণ্ডল উপকূলে কিছু জমি নিয়ে একটি দুর্গ নির্মাণ করে এবং এ দুর্গই পরে মাদ্রাজ শহরে পরিণত হয়।
- ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে জলপথে ইংরেজগণ হুগলিতে আসে এবং বাংলার সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দে সেখানে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে।

• সম্রাট শাহজাহান:

- মুগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুত্র সম্রাট শাহজাহান।
- তিনি জাহাঙ্গীরের উত্তরাধিকারী হিসেবে ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- দাদা আকবরের মতো তিনিও তার সাম্রাজ্য প্রসারিত করতে আগ্রহী ছিলেন।
- ১৬৫৮ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পুত্র আওরঙ্গজেব তাকে বন্দী করেন এবং বন্দী অবস্থায় ১৬৬৬ সালে আগ্রা দূর্গে তার মৃত্যু হয়।
- তিনি পৃথিবীর স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ সমাধিসৌধ 'আগ্রার তাজমহল' নির্মাণ করেন।
- তিনি আগ্রায় মতি মসজিদ, দিল্লিতে লাল কেল্লা ও জামে মসজিদও নির্মাণ করেন; শাহজাহানাবাদ নামে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করেন।
- তিনি ইংরেজদের বঙ্গদেশে কুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) ইতিহাস ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪২৫.
সৈয়দ আমীর আলী কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন?
  1. লন্ডনের লিঙ্কন্স ইন
  2. ঢাকা ল কলেজ
  3. কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. প্রেসিডেন্সি কলেজ 
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আমীর আলী:
→ সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।

→ উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী।
→ তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন। 
→ তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ও বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের লিঙ্কন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন। 
→ তিনি ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
→ ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।

তথ্যসূত্র: বাংলাশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪২৬.
আওয়ামী লীগের ৬-দফা পেশ করা হয়েছিল - 
  1. ১৯৬৬ সালে
  2. ১৯৬৭ সালে
  3. ১৯৬৮ সালে
  4. ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়: ১৯৬৬ সালে। 
----------------- 
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লাগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ৬ দফা প্রস্তাব এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি গৃহীত হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান বিরোধীদলীয় সম্মেলনে ৬ দফা পেশ করেন।
- ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রচার করা হয়।

ঐতিহাসিক ছয় দফার দফাসমূহ:
• প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
• দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)
• তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
• চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
• পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
• ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪২৭.
বাংলাদেশের আদি অধিবাসীদের মধ্যে দ্বিতীয় প্রাচীনতম -
  1. ক) নেগ্রিটো
  2. খ) অস্ট্রিক
  3. গ) মোঙ্গলীয়
  4. ঘ) দ্রাবিড়
ব্যাখ্যা
• আদি অধিবাসী:
- পৃথিবীর বহু জাতি বাংলায় অনুপ্রবেশ করেছে, অনেকে আবার বেরিয়েও গেছে, তবে পেছনে রেখে গেছে তাদের আগমনের অকাট্য প্রমাণ।
- প্রাচীনকালে আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠীর যে চারটি শাখা বাংলায় বাস করতো তারা হলো:
- অস্ট্রিক,
- দ্রাবিড়,
- নেগ্রিটো ও
- ভোটচীনীয়।

• সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয় অনুসারে -
এ অঞ্চলে প্রথম অস্ট্রিক জনগোষ্ঠীর লোকরা আসে এবং সেটি সম্ভবত পাঁচ-ছয় হাজার বছর পূর্বে ইন্দোচীন থেকে।

• সরকারি সাইট শিক্ষক বাতায়ন (teachers.gov.bd) অনুসারে -
এ অঞ্চলে প্রথম আসে নিগ্রপ্রতিম খর্বাকায় মানুষ, যাদেরকে নেগ্রিটো বলা হয়।

• বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে - 
বাংলার প্রাচীনতম বং জনগোষ্ঠীর পরবর্তী নেগ্রিটো জনগোষ্ঠীর পরে  বাংলায় অস্ট্রোলয়েডদের আগমন ঘটে বলে অনুমিত হয়।

*** বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে আমরা প্রাচীন জনগোষ্ঠীর হিসেবে প্রথমে নেগ্রিটো এবং দ্বিতীয় হিসেবে অস্ট্রিক বা অস্ট্রলয়েড গ্রহণ করছি।
সে অনুসারে সঠিক উত্তর হবে - অস্ট্রিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৪২৮.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. খুলনা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর:

- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক একটি জাদুঘর।
- এটি বাংলাদেশের একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
- এটি ঢাকার এফ-১১/এ-বি, সিভিক সেক্টর, আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।
- এই জাদুঘরের উদ্বোধন হয় ১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ।
- মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ বস্তু আছে এই জাদুঘরে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় ওয়েবসাইট।
৩,৪২৯.
মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর প্রথম কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. ক) কলকাতা
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) দিল্লি
  4. ঘ) মুজিবনগর
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার

- মুজিবনগর সরকার গঠন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল।
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।
- দেশী-বিদেশী ১২৭ জন সাংবাদিক ও কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল।
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।

- পরবর্তীকালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়।
- কারণ, মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের মাত্র ২ ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমা বর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৩০.
DAP এর পূর্ণাঙ্গ রূপ কোনটি?
  1. Dhaka Area Plan
  2. Detailed Area Plan
  3. Development Area Plan
  4. Dhanmondi Area Plan
ব্যাখ্যা
ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান:

- DAP এর পূর্ণাঙ্গ রূপ Detailed Area Plan.
- পরিকল্পনা শাখা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অন্যতম গুরূত্বপূর্ণ শাখা যা রাজউকের অন্যতম প্রধান একটি কার্যাবলী তথা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িত।
- ১৫২৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ঢাকা মহানগরীর ভবিষ্যত উন্নয়নে পরিকল্পনা শাখা পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি নীতি নির্ধারণী কাজের সাথে জড়িত।
- ১৯৫৯ সালে প্রণীত ঢাকার প্রথম মাস্টার প্ল্যান থেকে শুরু করে বর্তমান খসড়া ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (২০১৬-২০৩৫) সমূহ স্বাধীনতা উত্তর ঢাকার উপর চাপ মোকাবেলাসহ রাজধানীবাসীর জন্য উন্নত, বাসযোগ্য নগরী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
- ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নতুন করে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
- যার মেয়াদ হবে ২০১৬-২০৩৫ সাল পর্যন্ত।

তথ্যসূত্র - রাজউক অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৩,৪৩১.
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডার সংখ্যা-
  1. ২৬
  2. ২৭
  3. ২৮
  4. ৩১
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (BCS) ক্যাডার সংখ্যা — ২৬ টি। 

- বাংলাদেশ গেজেটে ১৩ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত এস.আর.ও. নম্বর-৩৩৫-আইন/২০১৮ অনুযায়ী,
- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ইকোনমিক) ক্যাডারকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের সাথে একীভূত করা হয়েছে।
- বর্তমানে ক্যাডার সংখ্যা ২৬টি।
----------------- 
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নির্বাচন করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে তার প্রতিরূপ সংস্থাসমূহের মতো প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত মানব সম্পদ পরিকল্পনায় উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি জনপ্রশাসন ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভূমিকা পালন করছে।
- কর্ম কমিশন দেশব্যাপি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করে।
- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডার ২৬টি।

বিসিএস-এর ২৬টি ক্যাডারের নাম:
১. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন),
২. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি),
৩. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (আনসার),
8. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (নিরীক্ষা ও হিসাব),
৫. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সমবায়),
৬. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (শুল্ক ও আবগারি),
৭. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পরিবার পরিকল্পনা),
৮. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (মৎস্য),
৯. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (খাদ্য),
১০. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পররাষ্ট্র),
১১. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বন),
১২. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা),
১৩. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (স্বাস্থ্য),
১৪. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (তথ্য),
১৫. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পশু সম্পদ),
১৬. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পুলিশ),
১৭. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ডাক),
১৮. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল),
১৯. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (গণপূর্ত),
২০. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (রেলওয়ে প্রকৌশল),
২১. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক),
২২. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সড়ক ও জনপথ),
২৩. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পরিসংখ্যান),
২৪. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কর),
২৫. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কারিগরি শিক্ষা),
২৬. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বাণিজ্য)।

উৎস: বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন (bpsc.gov.bd)।
৩,৪৩২.
মুসলমান নারীদের লেখা প্রথম বাংলা সাহিত্যকর্ম 'রূপজালাল' এর লেখক ছিলেন -
  1. বেগম রোকেয়া
  2. সেলিনা হোসেন
  3. সুফিয়া কামাল
  4. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- অবিভক্ত ভারতীয় রক্ষণশীল মুসলিম নারীদের মধ্যে এক উজ্জল নক্ষত্র নওয়াব ফয়জুন্নেসা।
- সততা, মহানুভবতা, সাহিত্য সাধনা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
- জনকল্যাণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ইংল্যান্ডের তৎকালীন মহারানী ভিক্টেরিয়া তাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৮৩৪ সালে ত্রিপুরা জেলার (বর্তমানে কুমিল্লা) লাকসাম থানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বীয় প্রতিভা বলে দ্রুত বিদুষী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- দানবীর হাজী মোঃ মুহসীনের জনহিতকর কার্যবলীর সাথে তাঁর দানশীলতাকে তুলনা করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য,
- তিনিই এক মাত্র ভারতীয় মহিলা যিনি ব্রিটিশ কর্তৃক ভারতীয়দের জন্য দেওয়া শ্রেষ্ঠতম সম্মান নওয়াব উপাধি লাভ করেন।
 
তাঁকে নারী শিক্ষার অগ্রদূত বলা যায়:
- নারী শিক্ষার জন্য নিজ গ্রামে এম. ই. স্কুল, কুমিল্লায় ফয়জুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল ও একটি পাঠশালা, পশ্চিমগাঁও এ স্বীয় কন্যার নামে বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় তাঁর অমর কীর্তি।পশ্চিমগাঁও এ স্বীয় কন্যার নামে বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয় তাঁর অমর কীর্তি।
- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ স্থাপনেও তিনি সাহায্যের হাত বাড়ায়। 

সহিত্য সাধনা:
- তাঁর সাহিত্য কর্মের অন্যতম নিদর্শণ রূপজালাল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কোন মুসলমান মহিলা প্রকাশিত ১৮৭৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৩৩.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী 
  3. গ) খন্দকার মোস্তাক
  4. ঘ) এএইচএম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
• ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। 
• মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার কাঠামো ছিলঃ
- রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; 
- উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম; 
- প্রধানমন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ;
- অর্থমন্ত্রীঃ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান;
- পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ; 
- প্রধান সেনাপতিঃ কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী; 
- চিফ অব স্টাফঃ কর্নেল (অব.) আব্দুর রব এবং 
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং বিমান বাহিনীর প্রধানঃ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।

উৎসঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
৩,৪৩৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরটির সদরদপ্তর বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ছিল?
  1. ২ নং
  2. ৬ নং
  3. ৮ নং
  4. ১১ নং
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
⇒ ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর রফিকুল ইসলাম। 

⇒ ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর এটিএম হায়দার।

⇒ ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর কে এম শফিউল্লাহ, মেজর এএনএম নুরুজ্জামান। 

⇒ ৪ নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর চিত্তরাজন দত্ত, ক্যাপ্টেন এ রব।

⇒ ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর মীর শওকত আলী। 

⇒ ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়িমাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার: উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার। 

⇒ ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর নজরুল হক, সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামান। 

⇒ ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, মেজর এম এ মঞ্জুর।

⇒ ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর এম জলিল, মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীন।

⇒ ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল।

⇒ ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৪৩৫.
চলতি অর্থবছরে গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের করমুক্ত আয়সীমা কত নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ক) ৪,৫০,০০০ টাকা
  2. খ) ৪,২৫,০০০ টাকা
  3. গ) ৪,৬০,০০০ টাকা
  4. ঘ) ৪,৭৫,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৩,০০,০০০ টাকা‌।
• নারী, তৃতীয় লিঙ্গ ও ৬৫ বছরের উর্ধ্ব করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৩,৫০,০০০ টাকা।
• প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের করমুক্ত আয়সীমা ৪,৫০,০০০ টাকা।
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের করমুক্ত আয়সীমা ৪,৭৫,০০০ টাকা

তথ্যসূত্র:- জাতীয় বাজেট, ২০২২-২৩। 
৩,৪৩৬.
মুক্তিবাহিনী কয় ভাগে বিভক্ত ছিল?
  1. দুই ভাগে
  2. তিন ভাগে
  3. চার ভাগে
  4. এগার ভাগে
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী
- মুজিবনগর সরকার পরিকল্পিত উপায়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য সামরিক ও বেসামরিক সকল জনগণকে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করে।
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী।
- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।
-নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা। এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- মুজিবনগর সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে প্রথমে ৪ টি যুদ্ধাঞ্চলে ভাগ করে। পরে আরো ৩টি ভাগ করা হয়। ফলে মোট যুদ্ধাঞ্চল ছিল ৭টি।
- S ফোর্স, K ফোর্স ও Z ফোর্স নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
-এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সমগ্র বাংলাদেশ ১১ টি সেক্টর ছিল , যেখানে মোট ১৬ জন সেক্টর-কমান্ডার ছিলেন।

তথ্যসূত্র- বিবিসি নিউজ।
৩,৪৩৭.
নিম্নের কার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অভিশংসন আনা হয়েছিল?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. ব্যামফিল্ড ফুলার
ব্যাখ্যা

ওয়ারেন হেস্টিংস:
- ব্রিটিশ আমলে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনারেল হিসেবে।
- ১৭৭৩ সালে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হলে বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সেই হিসেবে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস।

⇒ গভর্নর পদে নিযুক্ত হয়ে হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সূচনা করেন।
-  ওয়ারেন হেস্টিংস ইংরেজদের শত্রু মারাঠাদের আশ্রয়ে বাস করার অজুহাতে সম্রাট শাহ আলমকে দেয় বার্ষিক ছাব্বিশ লক্ষ টাকা বন্ধ করে দেন এবং সম্রাটের নিকট হতে 'বারানসীর সন্ধি' দ্বারা এলাহাবাদ ও কারা জেলা দু'টি অযোধ্যার নবাবকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রদান করেন।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত' করেন। তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- তিনি বিচার বিভাগকে রাজস্ব বিভাগ হতে পৃথক করে প্রত্যেক জেলায় একটি করে দিওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত স্থাপন করেন। 
- গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল। 

⇒ পদত্যাগ ও ইমপীচমেন্ট:
- হেস্টিংসের কার্যকালের শেষ দিকে ইংল্যান্ডে তাঁর বিরুদ্ধে নানা প্রকার অভিযোগ ও অপবাদ প্রকাশ পেতে থাকে। ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে হেস্টিংস পদত্যাগ করে দেশে ফিরে যান। উইলিয়াম পিট ও লর্ড জান্ডাসের চেষ্টার ফলে হেস্টিংসকে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়। বিশেষ করে চৈৎ সিংহ, অযোধ্যার বেগমদের প্রতি অসদাচারণ ও অত্যাচারের অভিযোগ ছিল গুরুতর। সাত বৎসর ধরে বিচারের পর হেস্টিংস অভিযোগ হতে মুক্ত হলেন বটে, কিন্তু আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যয় সংকুলান করতে গিয়ে তিনি একেবারে সর্বস্বান্ত হলেন। পিট ও ডান্ডাসের বিরোধিতার ফলে তাঁর ভাতাও বন্ধ করে দেয়া হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BBC.

৩,৪৩৮.
ছয় দফাকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়?
  1. ম্যাগনাকার্টা
  2. পিটিশন অব রাইটস
  3. মুখ্য আইন
  4. মুক্তির প্রথা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা
- ৬ দফা আন্দোলন বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা।
- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লাগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৬ দফা দাবি পেশ করেন।

- ৬ দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য-পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র।
- ৬ দফাকে ‘ম্যাগনা কার্টা’ বা বাঙালি জাতির 'মুক্তির সনদ'ও বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- ম্যাগনা কার্টা হল ইংরেজদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদানকারী একটি দলিল যা রাজা জন তার বিদ্রোহী ব্যারন বা অভিজাতদের চাপে ১৫ জুন, ১২১৫ সালে স্বাক্ষর করেছিলেন।
- এটিকে বলা হয় ব্রিটিশ গঠনতন্ত্রের বাইবেল।
- এর শর্ত গুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে, রাজা প্রতিনিধি স্থানীয় লোকদের অনুমোদন ছাড়া কারো স্বাধীনতায় এবং সম্পত্তিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

উৎস:  অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাপিডিয়া এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি,  যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।।
৩,৪৩৯.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  2. এএইচএম কামরুজ্জামান
  3. এম মনসুর আলী
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

• মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
→ রাষ্ট্রপতি - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
→ উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
→ প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ
→ অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী - এম মনসুর আলী
→ স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী - এএইচএম কামরুজ্জামান
→ পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী - খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড।
৩,৪৪০.
স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ইশতেহার কোথায় পাঠ করা হয়?
  1. পল্টন ময়দান
  2. রেসকোর্স ময়দান
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলা
  4. বৈদ্যনাথতলা
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই পরিষদের উদ্যোগেই ২রা মার্চ ১৯৭১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বতলায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ৩রা ১৯৭১ মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ পাঁচদফা স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন।
- একই সমাবেশ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে "জাতির জনক" অভিধায় ভূষিত করা হয়।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : দ্বিতীয় খণ্ড এবং বাংলাপিডিয়া)
৩,৪৪১.
বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণাটি যে ভাষায় দিয়েছিলেন-
  1. বাংলা
  2. হিন্দু
  3. ইংরেজি
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার আগে ইপিআর ওয়্যারলেসে চট্টগ্রামে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন। ঘোষণাটি ছিল ইংরেজিতে যাতে বিশ্ববাসী শুনতে পারে।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৪৪২.
বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়-
  1. ক) ২০ জানুয়ারি
  2. খ) ২২ জানুয়ারি
  3. গ) ২৪ জানুয়ারি
  4. ঘ) ১৮ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয় ২৪ জানুয়ারি। ১৯৬৯ সালের এই দিনে নিহত ঢাকার বকশীবাজারের নবকুমার ইনস্টিটিউটের দশম শ্রেণীর ছাত্র মতিউর, রুস্তম ও খুলনায় আরও ৩ জন। এই দিনটি কে স্মরণ করে রাখার জন্য ২৪ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালিত হয়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
৩,৪৪৩.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক গুরু কে ছিলেন?
  1. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- ১৯৪৭ সালে ভারত এবং পাকিস্তানের পাশাপাশি তৃতীয় রাষ্ট্র হিসেবে স্বতন্ত্র, স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে আন্দোলনে যোগ দেন।
- যদিও এই উদ্যোগ বাতিল হয় কিন্তু পরবর্তীতে এটিই একজন জাতির পিতার স্বপ্নের রাষ্ট্র গড়ার ভিত্তি হয়ে ওঠে। 
- অন্যান্যদের মত ভারত ভাগের পরপরই শেখ মুজিবুর রহমান তড়িঘড়ি করে পূর্ববঙ্গে (পূর্ব পাকিস্তানে) আসেন নি, বরং কয়েক সপ্তাহ তিনি কলকাতায় অবস্থান করেন।
- বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে মহাত্মা গান্ধীর শান্তি মিশনে যোগ দেন।
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলা হয়। তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। 
- পরে পাকিস্তান সৃষ্টি হলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যাদের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল, তাদের মধ্যে একজন  হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
এছাড়া,
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
- হাজী মোহাম্মদ দানেশ ছিলেন বামপন্থী রাজনীতিবিদ।

উৎস: মুজিব জন্মশতবর্ষ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৩,৪৪৪.
শিশু কীসের মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে পারে?
  1. পরিবার
  2. প্রতিবেশী
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  4. খেলা ও পড়ার সাথি
ব্যাখ্যা

শিশুর সামাজিকীকরণের কতিপয় মাধ্যম ও এর গুরুত্ব বর্ণনা:-

• খেলা ও পড়ার সাথি: 
⇒ শিশুর সামাজিকীকরণে খেলা ও পড়ার সাথির ভূমিকা কম নয়।
- শিশু খেলা ও পড়ার সাথির সাথে মেলামেশা করে নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে পারে।
- ভালো-মন্দ গুণাবলির সমালোচনা শুনে সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচরণ শিখতে পারে।
- তবে মন্দ খেলা ও পড়ার সাথি অনেক সময় শিশুকে বিপথগামী করতে পারে।
- তাই খেলা ও পড়ার সাথি নির্বাচনে আমরা সচেতন হব।

এছাড়াও,
• শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: 
⇒ শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি কতগুলো সামাজিক আদর্শও শিখে থাকে। এসব আদর্শ হচ্ছে-শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্ববোধ, নিয়মানুবর্তিতা, শ্রদ্ধাবোধ, সহযোগিতা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক ভালোবাসা ইত্যাদি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে শিশু বৃহত্তর সমাজের

• প্রতিবেশী: 
⇒ আমাদের বাড়ির আশপাশে যারা বসবাস করেন তারা হলো আমাদের প্রতিবেশী। পাশাপাশি বাড়িগুলোর সমবয়সী শিশুদের নিয়ে একটি প্রতিবেশী দল গড়ে উঠতে পারে, যার মাধ্যমে আমরা পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা, সমতা, ঐক্য প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষার্জন করতে পারি।

• পরিবার: 
⇒ শিশুর সামাজিকীকরণ শুরু হয় পরিবার থেকে। শিশুর চারিত্রিক গুণাবলি পারিবারিক পরিবেশে বিকশিত হয়। সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ, আত্মত্যাগ, ভালোবাসা প্রভৃতি সামাজিক গুণাবলি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, বোর্ড বই।

৩,৪৪৫.
বাংলাদেশে সর্বশেষ আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) জাফরগঞ্জ
  2. খ) জাকেরহাট
  3. গ) জাফলং
  4. ঘ) জকিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র ২৮টি।
- সর্বশেষ আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র – জকিগঞ্জ, সিলেট।
- বর্তমানে উৎপাদনরত আছে - ২০টি।

উৎস: Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার, জুলাই ২০২২।
৩,৪৪৬.
ভারত ছাড় আন্দোলন শুরু হয়েছিল কত সালে?
  1. ১৯৩৫ সালে
  2. ১৯৪২ সালে
  3. ১৯৪০ সালে
  4. ১৯৩২ সালে
ব্যাখ্যা

- ভারত ছাড় আন্দোলন ১৯৪২ সালে হয়।

ভারত ছাড় আন্দোলন:

- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ক্রিপস মিশন প্রস্তাব সব মহল প্রত্যাখ্যান করলে সমগ্র ভারত ব্যাপী তীব্র গণঅসন্তোষ দেখা দেয়।
- উপমহাদেশের বাইরে এ সময় পৃথিবী ব্যাপী চলছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ।
- জার্মানির মিত্র রাষ্ট্র জাপানের ভারত আক্রমণের আশঙ্কায় ভারতীয়দের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
- গান্ধীজি ভারতে ব্রিটিশ সরকারের উপস্থিতিকে এই আক্রমণের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
- সুতরাং ব্রিটিশ সরকার ভারত ছাড়লে জাপানের ভারত আক্রমণের পরিকল্পনার পরিবর্তন হতে পারে।
- এই চিন্তা করে তিনি ইংরেজদের ভারত ছেড়ে যেতে বলেন।
- শুরু হয় কংগ্রেসের 'ভারত ছাড়' আন্দোলন।
- ভারত ছাড় আন্দোলন ১৯৪২ সালে হয়।
- মহাত্মা গান্ধীর ডাকে এই আন্দোলনে জনগণ ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির এক অধিবেশনে তিনি তাঁর দৃঢ় ঘোষণায় উল্লেখ করেন 'আমি অবিলম্বে স্বাধনিতা চাই।
- ঐ দিনই মধ্য রাতে কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ গান্ধীজি, আবুল কালাম আজাদ, জওহরলাল নেহরুসহ অনেকে গ্রেফতার হন।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৪৭.
বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. ক) দয়াল নিহালানি
  2. খ) রাজকুমার হিরানী
  3. গ) শ্যাম বেনেগাল
  4. ঘ) শ্যামা জায়েদী
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে।
গত ২১ জানুয়ারি ২০২১ ভারতের মুম্বাইয়ে এই সিনেমার ‍শুটিং শুরু হয়।
- পরিচালক ভারতের শ্যাম বেনেগাল
- সহযোগী পরিচালক দয়াল নিহালানি
- চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন অতুল তিওয়ারি এবং শ্যামা জায়েদী।
- বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করবেন আরিফিন শুভ। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে আরও ৪৯ জন বাংলাদেশি তারকা অভিনয় করবেন।
(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো)
৩,৪৪৮.
 অপারেশন সার্চলাইট এর বর্বরতা বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরেন কে?
  1. লিওন ব্রোরা
  2. সাইমন কিং
  3.  ডাব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
  4. সাইমন ড্রিং
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট -
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা চালায়।
- ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এ গোপনে অবস্থান করে এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
- পরে ৩০ মার্চ, ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'ট্যাংকস ক্রাশ রিভোল্ড ইন পাকিস্তান' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাকবাহিনীর এর বর্বরতা বহির্বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- ২০২১ সালের ১৬ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

অন্যদিকে,
অপারেশন জ্যাকপট
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট ১০ নং সেক্টরে নৌবাহিনী পরিচালিত প্রথম অভিযান 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- এই রাতে নৌ-কমান্ডোরা পাকবাহিনীর ২৬ টি জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দিয়েছিলেন।

উৎস- দৈনিক প্রথম আলো ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৪৯.
অবিভক্ত বাংলার সর্বপ্রথম রাজা কাকে বলা হয়?
  1. ক) অশােক
  2. খ) শশাঙ্ক
  3. গ) মেগদা
  4. ঘ) ধর্মপাল
ব্যাখ্যা

সপ্তম শতকের প্রারম্ভে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্ক উত্তর বাংলায় একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন যা ‘গৌড়রাজ্য’ নামে পরিচিত।
- এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
- উত্তর বাংলা থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত স্বাধীন গৌড়রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
- ৫৯৪-৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড়রাজ্য শাসন করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

খেয়াল করুন, অশোক একজন সম্রাট ছিলেন, রাজা নন। একটি সাম্রাজ্যে অনেকগুলো রাজ্য থাকে। তেমনি, একজন সম্রাটের অধীনে কয়েকজন রাজা থাকতে পারেন।
৩,৪৫০.
বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ছয় দফা আন্দোলন
  4. গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।

• বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পর্যায় গুলো হলো-
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন;
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন;
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন;
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন;
- ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন;
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং
- ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ।

উৎস- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৪৫১.
“ঘেটুপুত্র কমলা” চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. ক) মোর্শেদুল আলম
  2. খ) সুভাষ দত্ত
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) চাষী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদের সর্বশেষ নির্মিত চলচ্চিত্র 'ঘেটুপুত্র কমলা' যা ২০১২ সালে নির্মিত হয়েছিল। তাঁর নির্মিত অন্যান্য চলচ্চিত্র- আগুনের পরশমনি, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, শ্যামল ছায়া, আমার আছে জল।
এছাড়াও তিনি নিজে পরিচালনা করেননি কিন্তু তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এরকম কিছু চলচ্চিত্রঃ শঙ্খনীল কারাগার, দারুচিনি দ্বীপ, নন্দিত নরকে।

৩,৪৫২.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন কার নেতৃত্বে গঠিত হয়?
  1. ড. আলমগীর মাহমুদ
  2. ড. মনিরুজ্জামান মিঞা
  3. ড. কুদরাত-ই-খুদা
  4. ড. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা

 - ড. কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়।

কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন:

⇒ সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মানবসম্পদের উন্নয়নে শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
- দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে স্বাধীন দেশের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- এই লক্ষ্যে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।

এছাড়াও,
- শিক্ষা ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে ৯০০ কলেজ ভবন ও ৪০০ হাইস্কুল পুননির্মাণ করা হয়।
- প্রথমবারের মতো সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় শিক্ষকদের পাওনা ৯ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়।
- সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের জন্য জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৫৩.
বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপ ২০২০ মোট কয়টি দল অংশ নিয়েছিল?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
- পাঁচদল নিয়ে ২৪ নভেম্বর ২০২০ থেকে শুরু হয় বঙ্গবন্ধু টি-২০ টুর্নামেন্ট।
- প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় বেক্সিমকো ঢাকা এবং মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী।
- ১৮ ডিসেম্বর ফাইনালে চট্টগ্রামকে ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতে জেমকন খুলনা।

উৎস: দৈনিক সমকাল। [লিঙ্ক]
৩,৪৫৪.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন?
  1. ক) প্রেসিডেন্সি কলেজ
  2. খ) ইসলামিয়া কলেজ
  3. গ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. ঘ) রিপন কলেজ
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:

- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৫৫.
নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত কোন নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) নার্কিড
  2. খ) মঙ্গোলীয়
  3. গ) অ্যালপাইন
  4. ঘ) আদি-অস্ট্রেলীয়
ব্যাখ্যা
• নরগোষ্ঠী:
- অস্ট্রোলয়েড প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী।
- নৃতত্ত্ববিদগণ বাংলাদেশের মানুষদের আদি অস্ট্রেলীয় বলে মনে করেন।
- এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়।
- প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত।

- বাংলাদেশের প্রাচীন জাতি হলো দ্রাবিড়।
- বাংলার আদি জনগণের অধিবাসিরা নিষাদ জাতির অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলা আদি অধিবাসীগণ অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির বড় অংশ হলো মঙ্গোলয়েড।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেনি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৫৬.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয় কবে?
  1. ১৫২০ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৩২ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ।
- পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন।
- প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন।
- ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন।
- শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৫৭.
পূর্ব পাকিস্তানে মৌলিক গণতন্ত্রের সংখ্যা কত ছিল?
  1. ক) ৩০,০০০
  2. খ) ৮০,০০০
  3. গ) ৪০,০০০
  4. ঘ) ৬০,০০০
ব্যাখ্যা
• মৌলিক গণতন্ত্র:
১৯৫৯ সালের অক্টোবরের ঘোষণা অনুসারে পাকিস্তানে মৌলিক গণতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এর মাধ্যমে দেশে একটি চার স্তর বিশিষ্ট পিরামিড আকৃতির কাঠামো সৃষ্টি করা হয়।
স্তরগুলো হচ্ছে
১. ইউনিয়ন কাউন্সিল,
২. থানা কাউন্সিল,
৩. জেলা কাউন্সিল
৪. বিভাগীয় কাউন্সিল।

» ছোট ছোট শহরে টাউন কমিটি এবং বড় বড় শহরে পৌরসভা গঠনের বিধান করা হয়।
»  এই কাঠামোর সর্ব নিম্নস্তর  ইউনিয়ন কাউন্সিল এবং পৌরসভা বা টাউন কমিটি জনগণের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল। এর ওপরের স্তরগুলো পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে গঠিত ছিল।
» মৌলিক গণতন্ত্রের সর্ব নিম্নস্তর যে ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান মিলে।
»  এদের সংখ্যা ছিল পূর্ব পাকিস্তানে ৪০ হাজার এবং পশ্চিম  পাকিস্তানে ৪০,০০০ করে মোট ৮০ হাজার। এদেরকে বেসিক ডেমোক্রাট বা সংক্ষেপে বি.ডি. মেম্বার বলা হতো।
»  এই ৮০ হাজার বি.ডি. মেম্বার দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে নির্বাচিত করতেন। ফলাফলকে বানচাল করা যায়। 

SOURCE: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় , সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) প্রোগ্রাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৪৫৮.
১৯৪৮ সালে রেসকোর্স ময়দানে এবং কার্জন হলে 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা' একথা বলেন কে? 
  1. খাজা নাজিমুদ্দিন
  2. লিয়াকত আলী খান
  3. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন (১৯৪৮-১৯৫২):

• ১৯৪৭ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করা হয়।
• ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে সমগ্র পাকিস্তানে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা দানের দাবি তোলা হয়। 
• প্রবল দাবির মুখে পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ভাষার দাবি মেনে নেন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে এক চুক্তি করেন।
• ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্সে এবং ২৪ মার্চ কার্জন হলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব ঘোষণা করেন। 
• ১৯৫০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান কর্তৃক গণপরিষদে পেশকৃত 'মূলনীতি কমিটির' রিপোর্টে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 
• ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা প্রদান করেন। 
• খাজা নাজিমুদ্দিনের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় প্রতিবাদ দিবস পালিত হয়। 
• ৩১ জানুয়ারি সর্বদলীয় কর্মী সমাবেশে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কার্যকরী পরিষদ' গঠিত হয়। 

তথ্যসূত্র: পাকিস্তানি শাসন, শোষণ এবং পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন, পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৫৯.
বাংলাদেশের 'স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন-
  1. আ. স. ম. আব্দুর রব
  2. মোঃ ইউসুফ আলী
  3. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
♣ স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে। 

- ১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ, ডাকসু সহ-সভাপতি আ. স. ম. আব্দুর রব এবং ডাকসু সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মাখন এক বৈঠকে বসে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন। 

- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। 

- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে 'স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ' ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- এদিনের এ ছাত্র-গণ জমায়েতে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৪৬০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক ডব্লিও এ এস ওডারল্যান্ড কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
  1. ক) বেলজিয়াম
  2. খ) ইতালি
  3. গ) অস্ট্রেলিয়া
  4. ঘ) হল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক ডব্লিও এ এস ওডারল্যান্ড ৬ ডিসেম্বর, ১৯১৭ সালে হল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- তাঁর জাতীয়তা ছিল অস্ট্রেলিয়।
- মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২ নং সেক্টরে কাজ করেন।
- ১৯৭০ সালে তিনি বাটা সু কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশে আসে।
- ১৮ মে, ২০০১ সালে তিনি মারা যান।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৩,৪৬১.
পাকিস্তান গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দানের বিল উত্থাপন করেন কে?
  1. ক) আতাউর রহমান খান
  2. খ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
পাকিস্তান সৃষ্টির পর উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররা তার প্রতিবাদ করে। এরই অংশ হিসেবে ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারীর রক্তাক্ত ঘটনা ঘটে।
এর ফলে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আওয়ামীলীগ দলীয় জাতীয় পরিষদ সদস্য ‘আদেলউদ্দিন আহমেদ’ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে ১৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬ তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয় এবং ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান প্রথমগণপরিষদ অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন। কিন্তু মুসলিম লীগের সদস্যদের ভোটে তা অগ্রাহ্য হয়।

(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৪৬২.
৬-দফা দাবি কোথায় উত্থাপিত হয়?
  1. ঢাকা
  2. লাহোর
  3. দিল্লি
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়: ১৯৬৬ সালে। 
- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লাগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ৬ দফা প্রস্তাব এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি গৃহীত হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান বিরোধীদলীয় সম্মেলনে ৬ দফা পেশ করেন।
- ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রচার করা হয়।

ঐতিহাসিক ছয় দফার দফাসমূহ:
• প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
• দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)
• তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
• চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
• পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
• ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৬৩.
কোন মোগল সম্রাট ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন?
  1. বাবর
  2. হুমায়ূন
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতী:
- মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মোগল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মোগল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মোগল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৬৪.
NCTB-এর পূর্ণরূপ -
  1. National Curriculum & Textbook Board
  2. National Curriculum & Text Book
  3. National Communication & Textbook Board
  4. National Curriculum & Training Board
ব্যাখ্যা
NCTB:
- জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, যা এনসিটিবি নামে পরিচিত।
- NCTB-এর পূর্ণরূপ: National Curriculum & Textbook Board.
- এনসিটিবি বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্যে গঠিত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জনের জন্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এবং যা জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসারে পাঠ্যপুস্তক ও অন্যান্য শিখন উপকরণের উন্নয়ন ও পরিমার্জনের কাজ করে থাকে।

উৎস: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ওয়েবসাইট। 
৩,৪৬৫.
ফা হিয়েনের আগমনকালে ভারতের রাজা ছিলেন -
  1. ক) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. খ) হর্ষবর্ধন
  3. গ) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  4. ঘ) গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ
ব্যাখ্যা
• ফা-হিয়েন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (৩৮০-৪১৩খ্রি.) এর সময় বাংলায় আসেন।
• ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে ফা-হিয়েন ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
• গোবি, খোটান, পামির মালভূমি এবং গান্ধারন দেশ অতিক্রম করে তিনি ৪০১ খ্রিস্টাব্দে ভারতে প্রবেশ করেন।
• তিনি টানা ১০ বছর ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছিলেন।
• ফা-হিয়েনের ভ্রমন বৃত্তান্ত ‘ফো-কুয়ো-কিং’ নামে পরিচিত।
• এটি ভারতের ইতিহাসের একটি বিশিষ্ট ও প্রামাণ্য দলিল।

অন্যদিকে,
▪ বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।
▪ মা হুয়ান চীনা পরিব্রাজক। গিয়াস উদ্দীন আজম শাহের সময় বাংলায় আসেন।
▪ মেগাস্থিনিস (গ্রিস) রাজকীয় দূত হিসেবে ভারতীয় রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের (স্যান্ড্রাকোটাস) রাজদরবারে দায়িত্ব পালন করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৬৬.
দেশের সর্বশেষ গ্যাসক্ষেত্র (২৯তম) কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) জকিগঞ্জ, সিলেট
  2. খ) ছাতক, সুনামগঞ্জ
  3. গ) সদর, ভোলা
  4. ঘ) রশিদপুর, হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• দেশের সর্বশেষ অর্থাৎ ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র ইলিশা-১:  
- রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস অনুসন্ধান সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) ভোলা সদর উপজেলায় নতুন একটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে।
- ভোলার ইলিশা-১ কূপটি দেশের নতুন গ্যাসক্ষেত্র (২৯তম)।
- এটি ভোলা জেলার তৃতীয় গ্যাসক্ষেত্র।
- সেখানকার অন্য দুটি হলো শাহবাজপুর ও ভোলা নর্থ গ্যাসক্ষেত্র।
- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন গ্যাসক্ষেত্রটিতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত রয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে।
- বাংলাদেশি মুদ্রায় এই গ্যাসের বাজারমূল্য ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কূপ থেকে দৈনিক ২০-২২ মিলিয়ন গ্যাস উত্তোলন করা যাবে।
- সম্প্রতি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গাজপ্রম বাপেক্সের হয়ে কূপটি খনন করে। 

• উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে বাপেক্স।
- একই সংস্থা ২০১৮ সালে আবিষ্কার করে ভোলার দ্বিতীয় গ্যাসক্ষেত্র—ভোলা নর্থ।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট- ২২ মে, ২০২৩,  লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, জুন ২০২৩।
৩,৪৬৭.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্রাম কোনটি?
  1. বুড়িচং
  2. বানিয়াচং
  3. বুড়িমারি
  4. কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্রাম:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্রাম হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং।

⇒ বানিয়াচং গ্রামের আয়তন প্রায়  ৪৮২.৪৬ বর্গ কিলোমিটার এবং এখানে ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে।  
- বানিয়াচং গ্রাম এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে পরিচিত।
- প্রশাসন থানা গঠিত হয় ১৭৯০ সালে। বর্তমানে এটি উপজেলা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,৪৬৮.
মুজিবনগর সরকার শপথ নিয়েছিলো-
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ২৬ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ৩০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
উৎসঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
৩,৪৬৯.
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. গাজীউল হক
  2. শামসুল আলম
  3. কাজী গোলাম মাহবুব
  4. আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলি:

- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা জমায়েত হতে থাকে।
- সরকার ১৪৪ ধারা জারি করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা দুজন দুজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে থাকে।
- বেলা ১১ টায় ছাত্রসভা শুরু হয়। সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- এই বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।
- বক্তব্য রাখেন শামসুল হক, মোহাম্মদ তোয়াহা, কাজী গোলাম মাহবুব, খালেক নেওয়াজ ও আবদুল মতিন।
- সভাপতি ১০ জন করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের নির্দেশ দেন।
- পুলিশ মিছিলকারীদের উপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে ছাত্ররা মেডিকেল হোস্টেলের প্রধান ফটকের কাছে জমায়েত হন।
- মেডিকেল হোস্টেলের নিকটেই ছিল জগন্নাথ হলের অডিটোরিয়াম যেখানে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সভা বসত।
- আন্দোলনকারী ছাত্রদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববাংলা আইন পরিষদে যোগদানকারী সদস্যদের কাছে বাংলা ভাষার দাবির কথা পৌঁছে দেয়া যেন তাঁরা অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিষয়ে সুপারিশ গ্রহণ করেন।
- ছাত্ররা দলবদ্ধ হয়ে শ্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ বাহিনী এসে তাদের তাড়া করে এবং ছাত্রদের উপর কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে ছাত্ররা ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে।
- এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন। ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দৈনিক ইত্তেফাক, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
৩,৪৭০.
মুক্তিযুদ্ধে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪নং সেক্টর
  2. ৫নং সেক্টর
  3. ৬নং সেক্টর
  4. ৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে.
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- তিনি ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন।
- তিনি অসামান্য বীরত্বের সাথে আরগরারহাট, কানসাট, শাহপুর এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং মুক্তাঞ্চল গঠন করেন।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।

তথ্যসূত্র -  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৩,৪৭১.
প্রাচীন 'চন্দ্রদ্বীপ' এর বর্তমান নাম কী?
  1. নোয়াখালী
  2. বরিশাল
  3. ভোলা
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

• চন্দ্রদ্বীপ:
- প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক রাজ্য ছিল না।
- বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল।
- যেমন: পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, বঙ্গ, সমতট, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, রাঢ় ইত্যাদি।
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

অন্যদিকে,
• সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
• হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
• বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৭২.
১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে কোন যুদ্ধে আকবর আফগান শাসক আদিল শাহ সুরের সেনাপতি হিমুকে পরাস্ত করেন?
  1. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  2. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  3. হলদিঘাটের যুদ্ধ
  4. চৌসার যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ: 
- ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে আকবর আফগান শাসক আদিল শাহ সুরের সেনাপতি হিমুকে পরাস্ত করেন।
- মুঘল শাসনের ইতিহাসে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল চূড়ান্ত মীমাংসাত্মক যুদ্ধ।
- এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ভারতে মুঘল শক্তি স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ভারতে আফগানদের আধিপত্যের অবসান হয়।
- এর ফলে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত ভিত্তি দৃঢ়ভাবে স্থাপিত হয় এবং মুঘল সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ প্রশস্ত হয়।

আকবরের মেবার আক্রমণ: 
- ১৫৬৭ খ্রিস্টাব্দে আকবর মেবারের রাজধানী চিতোর আক্রমণ করেন।
- উদয়সিংহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র প্রতাপসিংহ ও পৌত্র অমরসিংহ মোগলদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালান।
- প্রতাপসিংহ ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে হলদিঘাটের যুদ্ধে এবং ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দে অমরসিংহ মানসিংহের নিকট পরাজয় বরণ করেন।
- আকবর তাঁর জীবদ্দশায় সমগ্র মেবার মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন নি।

- চৌসা ও বিলগ্রামের যুদ্ধে শেরশাহ মোগল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৭৩.
কোন জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে?
  1. বাঁকুড়া
  2. বীরভূম
  3. হুগলি
  4. বর্ধমান
ব্যাখ্যা

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৭৪.
মুক্তিযুদ্ধের ঠিক পূর্ববর্তী ঘটনা কোনটি?
  1. এগারো দফা দাবি
  2. গণঅভ্যুত্থান
  3. সত্তরের নির্বাচন
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন ১৯৭১:
- শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত আন্দোলন।
- ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- সরকার গঠনে আহবান জানানোর পরিবর্তে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমান এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দেন এবং এর প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন।
- আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জনগণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে।
- নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তরে সামরিক সরকারের গড়িমসি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক দল পাকিস্তান পিপল্স পার্টির সরাসরি অসহযোগিতার ফলে শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
- অসহযোগ আন্দোলনের পরিণতিতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং নয়মাস যুদ্ধের পর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

অন্যদিকে,
- এগারো দফা দাবি ১৯৬৯ সালে ঘোষণা হয়।
- গণঅভ্যুত্থান হয় ১৯৬৯ সালে।
- সত্তরের নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৭৫.
মুজিবনগর দিবস কত তারিখে?
  1. ১০ এপ্রিল
  2. ১৭ এপ্রিল
  3. ১১ এপ্রিল
  4. ১৮ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর দিবস:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস।

এছাড়াও,
- মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত।
- ১৯৭৩ সালের ৩১ আগস্ট সরকার মুজিবনগরে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের নির্দেশ দেয়।
- ১৯৭৪ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এ প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও মেহেরপুর জেলা ওয়েবসাইট।
৩,৪৭৬.
মুক্তিযুদ্ধপূর্ব যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. জীবন থেকে নেয়া
  2. আগুনের পরশমণি
  3. ওরা এগারো জন 
  4. গেরিলা
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধপূর্ব যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেয়া।

জীবন থেকে নেয়া:
- পরিচালক: জহির রায়হান।
- মুক্তি: ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল (পাকিস্তান)।
- সময়: ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট (প্রায়)।
- সংগীত পরিচালক: খান আতাউর রহমান।
- জহির রায়হান পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি সরাসরি যুদ্ধভিত্তিক না হলেও এটি তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে, যা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরিতে সহায়ক ছিল।
- ১৯৫২ থেকে ১৯৭০- এ সময়ের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে।

⇒ চলচ্চিত্রটির মধ্যে আগামী দিনের উত্তাল বিদ্রোহের অনুপ্রেরণা ছিল।
- এটি সম্পূর্ণভাবেই রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন চলচ্চিত্র।
- চলচ্চিত্র নির্মাতা আলমগীর কবির তাই এ চলচ্চিত্রকে 'বাংলাদেশের প্রথম জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী চলচ্চিত্র' বলে অভিহিত করেছেন। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণ-অভ্যুত্থান যখন তুঙ্গে, তখন জহির রায়হান জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।

অন্যদিকে,
- ওরা এগারো জন (১৯৭২): এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র, যা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই নির্মিত হয়েছিল।
- আগুনের পরশমণি (১৯৯৫): হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
- গেরিলা (২০১১): নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত এটিও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।

৩,৪৭৭.
তিন বিঘা করিডোর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. লালমনিরহাট
  2. কুড়িগ্রাম
  3. গাইবান্ধা
  4. নীলফামারী
ব্যাখ্যা

তিনবিঘা করিডোর:
- লালমনিরহাট জেলায় তিনবিঘা করিডোর অবস্থিত।

- লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল ছিল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা।
- এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি 'প্যাসেজ ডোর' এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে 'তিন বিঘা ২ করিডোর' নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশ আমল পর্যন্ত তিন বিঘা হস্তান্তর প্রশ্নে  প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের অনেক বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম  উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন 'দহগ্রাম ইউনিয়ন' হিসেবে পরিগণিত হয় এবং ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ আগস্ট এখানে ইউনিয়ন পরিষদের শুভ উদ্বোধন ঘটে।
 - ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ইজারার মাধ্যমে উক্ত তিন বিঘা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়।
- ২০১১ খ্রি. তারিখে ঢাকাতে অনুষ্ঠিত হাসিনা-মনমোহন বৈঠকে স্বাক্ষরিত লা চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশীদের যাতায়াতের জন্য তিনবিঘা করিডোর বর্তমানে ২৪ ঘন্টা খোলা রাখা হচ্ছে।

উৎস: লালমনিরহাট জেলা ওয়েবসাইট।

৩,৪৭৮.
হোসেনী দালান কে নির্মাণ করেন?
  1. মীর মুরাদ
  2. ইসলাম খান
  3. মীর জুমলা
  4. শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
হোসেনী দালান:
- হোসেনী দালান পুরানো ঢাকায় অবস্থিত শিয়া সম্প্রদায়ের একটি ইমারত।
- এটি মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল।
- শাহ সুজার শাসনকালে জনৈক মীর মুরাদ প্রথম এ ইমারত নির্মাণ করেন বলে মনে করা হয়।

⇒ ৬১ হিজরির ১০ মুহররম তারিখে ইরাকের কারবালার যুদ্ধে আল-হোসেনের শহীদত্বকে স্মরণ করার জন্য ইমারত নির্মাণ করা ছিল শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত একটি সাধারণ রীতি।
- শাহ সুজার শাসনকালে জনৈক মীর মুরাদ প্রথম এ ইমারত নির্মাণ করেন বলে মনে করা হয়।
- শাহ সুজা নিজে সুন্নি মুসলমান হলেও শিয়াদের মধ্যে প্রচলিত রীতিনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করতে আগ্রহী ছিলেন।
- সৈয়দ মুরাদ একদা স্বপ্নে আল হোসেনকে একটি ‘তাজিয়াখানা’ নির্মাণ করতে দেখে এই ইমারত নির্মাণে উৎসাহিত হন।
- তিনিই এই ইমারতের নাম রাখেন হোসেনী দালান।
- ইমারতটি সম্ভবত একটি ছোট্ট স্থাপনা ছিল।
- পরবর্তীকালে ১৮০৭ ও ১৮১০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্যোগে ইমারতটির সংস্কার করা হয় এবং ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের পর এর কিছু অংশ নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৪৭৯.
কররানিদের বাংলার রাজধানী ছিল -
  1. ক) তাণ্ডায়
  2. খ) সোনারগাঁও
  3. গ) কর্ণসুবর্ণ
  4. ঘ) পাটালিপুত্র
ব্যাখ্যা
- কররারিদের বাংলার রাজধানী ছিল তাণ্ডায়।
- সর্দার তাজ খান কররানি বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন (১৫৬৪ খ্রি.)।
- তাজ খান কররাণী ও সুলায়মান খান কররাণী শের শাহের সেনাপতি ছিলেন।
- দাউদ কররাণী ছিলেন বাংলায় শেষ আফগান শাসক।
- কর্ণসুবর্ণ বাংলার গৌড় রাজ্যের প্রথম স্বাধীন শাসক শশাঙ্ক-এর রাজধানী।
- সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানী ছিল প্রথমে সোনারগাঁও (১৩৩৮-১৩৫২ খ্রি.)।
- পরে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় গৌড়ে (১৪৫০-১৫৬৫ খ্রি.)।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো। এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিলো কর্ণসুবর্ণ।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৮০.
তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের নাম কী?
  1. ফরায়েজি আন্দোলন
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. নীল বিদ্রোহ
  4. তাহরিক-ই মুহম্মদীয়া
ব্যাখ্যা

তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের নাম তাহরিক-ই মুহম্মদীয়া।
- তিতুমীরের প্রকৃত নাম মীর নিসার আলী।
- তিনি চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের আন্দোলন শক্তিশালী রূপ লাভ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত ছিল।
- তিতুমীর হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা শরিফে যান।
- তিনি ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে হজ শেষে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাঁটি স্থাপন করেন।
- তিনি ইতিহাসখ্যাত বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সরকার তিতুমীর দমনে এক বিশাল ও সুশিক্ষিত সেনাবাহিনী প্রেরণ করে।
- মেজর স্কটের নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনী নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।
এই যুদ্ধে তিতুমীর নিহত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৮১.
সুবাদার ইসলাম খান ‘বারোভূঁইয়া’দের দমন করে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কোন সম্রাটের রাজত্বকালে?
  1. ক) সম্রাট আকবর
  2. খ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. গ) সম্রাট হুমায়ুন
  4. ঘ) সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর বাংলায় কররানি (আফগান) শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুঘল শাসনের সূত্রপাত করলেও ‘বারোভূঁইয়া’দের বাধার মুখে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে সুবাদার ইসলাম খান ‘বারোভূঁইয়া’দের দমন করে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৩,৪৮২.
আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ কোনটি?
  1. পুরাণ
  2. মহাভারত
  3. বেদ
  4. রামায়ণ
ব্যাখ্যা
- আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হলো বেদ। 

আর্য: 
- আর্যদের আদিনিবাস ছিল ইউরাল পর্বতের দক্ষিণে বর্তমান মধ্য এশিয়া - ইরানে।
- ভারতবর্ষে আর্যদের আগমন ঘটেছিল খ্রিষ্টপূর্ব ২০০ অব্দে।
- আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ। আর্য পুরোহিতগণ বেদের রচয়িতা।
- বেদের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দের মধ্যে বেদের শ্লোকসমূহ রচিত হয়।
- ব্রাহ্মণদের মুখ থেকে বেদের শ্লোক শুনে অনুসারীরা পূণ্য লাভ করতো বিধায় বেদ শ্রুতি নামেও পরিচিত। পরবর্তীতে এগুলো লিখিত রূপ লাভ করে।
- বেদ রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়।
- ধর্মগ্রন্থের পাশাপাশি বেদের সাহিত্যগুণও ছিলো। এটিকে আর্য সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন বিবেচনা করা হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া। 
৩,৪৮৩.
প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে কোন জনপদটি পরিচিত ছিল?
  1. চন্দ্রদ্বীপ 
  2. বঙ্গ 
  3. তাম্রলিপ্ত
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা

• জনপদ: 
- তাম্রলিপ্ত জনপদ প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে খুবই খ্যাতি অর্জন করেছিল।
- তাম্রলিপ্ত (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার তমলুক),
- চন্দ্রদ্বীপ (বর্তমান বরিশাল জেলার অন্তর্গত),
- বঙ্গাল (বাখেরগঞ্জ ও খুলনা জেলার সমুদ্র লাগোয়া অঞ্চল) উল্লেখযোগ্য।
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৪৮৪.
‘মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন’ কত সাল পাস হয়?
  1. ১৯০৭ সালে 
  2. ১৯০৯ সালে 
  3. ১৯১১ সালে 
  4. ১৯১৩ সালে 
ব্যাখ্যা

• ‘মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন’:
- ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রবর্তনের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৯ সালে ‘ইন্ডিয়া অ্যাক্ট’ পাস করে যা ‘মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন’ নামেই অধিক পরিচিত।
- এই আইনে প্রথম মুসলমানদের জন্যে পৃথক নির্বাচনের বিধান রাখা হয়।
- সাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্বের দাবি স্বীকার করে এ আইনে মুসলিম সম্প্রদায়কে পৃথকভাবে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের (পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা) অধিকার দেয়া হয়। 
- এর মাধ্যমে আইন সভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলেও প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল না। 
- তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করায় স্বভাবতই তারা খুশী হয়, যদিও কংগ্রেস এতে ক্ষুব্ধ ছিল
কংগ্রেসের নরমপন্থীরাও সন্তুষ্ট ছিল না ।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের সংস্কার আইন ভারতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়।
- আইন সভার নির্বাচিত সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন না। তাছাড়া তাদেরকে কোন ক্ষমতাও দেয়া হয়নি। 
- কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন সভাগুলোতে তারা সব সময়ই সংখ্যালঘু ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এ সংস্কার আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রতিনিধিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের কোন ইচ্ছাই ইংরেজদের ছিল না।
 
উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৪৮৫.
হরিকেল জনপদের বিস্তার কোন এলাকায় ছিল?
  1. ময়নামতি থেকে কর্ণসুবর্ণ
  2. সিলেট থেকে চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী থেকে খুলনা
  4. কুমিল্লা থেকে বরিশাল
ব্যাখ্যা
হরিকেল:
- সপ্তম শতকের লেখকরা হরিকেল নামে অপর একটি জনপদের বর্ণনা করেছেন।
- এ জনপদের অবস্থান ছিল বাংলার পূর্ব প্রান্তে।
- আধুনিক সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই জনপদ বিস্তৃত ছিল।

অন্যদিকে,
- হরিকেলের দক্ষিণে অবস্থিত ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ।
- বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র।
- সপ্তম শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৮৬.
এ কে খন্দকার মুক্তিযুদ্ধে কোন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন?
  1. সেক্টর কমান্ডার
  2. চিফ অব এয়ার স্টাফ
  3. স্কোয়াড্রন লীডার
  4. ডেপুটি চিফ অব স্টাফ
ব্যাখ্যা

এ কে খন্দকার:
- এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম খন্দকার যিনি এ. কে. খন্দকার নামে পরিচিত
- তারঁ জন্ম: জানুয়ারি ১, ১৯৩০ সাল।
- তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন। 
- মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে তিনি কঠোর মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে বিজয়ের দিকে পরিচালিত প্রচেষ্টাগুলোর সমন্বয়সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান নিযুক্ত হন এবং তাঁর যোগ্যতম পরিচালনায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিমান বাহিনী পুনর্গঠনে সক্ষম হন।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশাত্মবোধ ও সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের জন্য এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারকে ‘বীর উত্তম’খেতাবে ভূষিত করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,৪৮৭.
কাকে মহীশূরের বাঘ বলা হয়?
  1. ক) টিপু সুলতান
  2. খ) বাল গঙ্গাধর তিলক
  3. গ) দাদাভাই নওরোজী
  4. ঘ) আবদুল গাফফার খান
ব্যাখ্যা
টিপু সুলতান ভারতের মহীশূর অঞ্চলের (বর্তমান কর্নাটক) শাসক ছিলেন। তাকে মহীশূরের বাঘ বলা হয়।

তিনি ১৭৮২ সাল থেকে ১৭৯৯ সাল পর্যন্ত মহীশূরের শাসক ছিলেন। ১৭৯৯ সালে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি লর্ড ওয়েলেসলি নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর নিকট পরাজিত ও নিহত হন।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস ও বিবিসি বাংলা)
৩,৪৮৮.
Who is the director of the documentary 'A State is Born'?
  1. ক) Jahir Raihan
  2. খ) Tanvir Mokammel
  3. গ) Chashi Najrul Islam
  4. ঘ) Alamgir Kabir
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণয চিত্র:

- জহির রায়হান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র,
• স্টপ জেনোসাইড।
• এ স্টেট ইজ বর্ন।

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'স্মৃতি ৭১' এর পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল।
- মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র,
• আগামী ও - সূচনা।
- তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র,
• মুক্তির গান ও মুক্তির কথা।

তথ্যসূত্র - সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৩,৪৮৯.
১৯৫৮ সালে প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন কে?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. ফিরোজ খান
  3. টিক্কা খান
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন
→ ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করেন।
→ তিনি দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
→ তিনি দেশের সংবিধান বাতিল করেন।
→ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদ ভেঙে দেন।
→ মন্ত্রিসভা বাতিল করেন।
→ রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
→ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে।
→ মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
→ এর কিছুদিনের মধ্যে ২৭শে অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩,৪৯০.
ঐতিহাসিক ছয় দফা কিসের সাথে তুলনা করা হয়?
  1. বিল অব রাইটস
  2. ম্যাগনাকার্টা
  3. পিটিশন অব রাইটস
  4. মূখ্য আইন
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয়দফা: 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনাকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা রুহুল কুদ্দুস।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।

উল্লেখ্য,
- প্রতিবছর ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা পালিত হয়।
- ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন আওয়ামী লীগের ডাকে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় হরতাল চলাকালে পুলিশ ও ইপিআর নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালায়।
- এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, মুজিবুল হকসহ অনেকে শহীদ হন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii)  ৭ জুন ২০২৩, প্রথম আলো।
৩,৪৯১.
What type of research institution NIPORT is?
  1. ক) Population Research
  2. খ) River Research
  3. গ) Salinity Research
  4. ঘ) Jute Research
ব্যাখ্যা
NIPORT (নিপোর্ট): 

- National Institute of Population Research and Training বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- এটি ১৯৭৭ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয় যা ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।
- নিপোর্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা- কর্মচারিদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।

তথ্যসূত্র - NIPORT অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৩,৪৯২.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন কে?
  1. খাজা নাজিমুদ্দিন
  2. ফিরোজ খান নুন
  3. মোঃ নূরুল আমীন
  4. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন সময় পূর্ব বাংলার গভর্ণর ছিলেন ফিরোজ খান নুন।
- ১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে খাজা নাজিমুদ্দিনের একটি উক্তি থেকে নতুন করে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়।
- ২৭ জানুয়ারি নাজিমুদ্দিন ঘোষণা দেন, 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু'।
- পূর্ববাংলা আইন পরিষদের অধিবেশনে ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় ভাষা প্রশ্নে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
- এই অধিবেশনের সরকারি কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করা হয়।
- পরিস্থিতির লক্ষ করে সরকারি দল রাষ্ট্রভাষা বাংলা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে।
- কিন্তু এই বিলের ওপর এক সংশোধনী প্রস্তাবে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য কেন্দ্রের নিকট সুপারিশ করা হয়।
- এরপর বিধান সভা ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুলতবী করা হয়।
- কিন্তু গভর্নর ফিরোজ খান নুনের এক ঘোষণায় ২৪ ফেব্রুয়ারি অধিবেশনের অবসান ঘটে।
- দৈনিক আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন এসব ঘটনার প্রতিবাদে আইনসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
- অনুরূপভাবে 'নওবেলাল' সম্পাদক মাহমুদ আলী মুসলিম লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।
- আন্দোলনের কেন্দ্রভূমি ঢাকার ছাত্র-জনতা এসব ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসএইচএল উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৯৩.
বাংলার নববর্ষ পহেলা বৈশাখ কে চালু করেছিলেন?
  1. সম্রাট বাবর
  2. শায়েস্তা খান 
  3. সম্রাট আকবর
  4. ইলিয়াস শাহ 
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মুঘল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন। এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়। খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তাঁর আদেশে প্রাচীন বর্ষপঞ্জি সংস্কার করে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

এছাড়াও,
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন। আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড। ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৯৪.
ঢাকা (কমলাপুর) রেল স্টেশনের স্থপতি কে?
  1. এফ আর খান
  2. লুই আইকান
  3. বব বুই
  4. মাজহারুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কমলাপুর রেলস্টেশন:
- কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশনও।
- এর অবস্থান ঢাকার মতিঝিলে।
- এটি ঢাকার সঙ্গে দেশের অন্য জায়গার মধ্যে যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল।
- এ স্টেশনের স্থাপত্যশৈলী অনন্য।
- কমলাপুর রেলস্টেশনের স্থপতি ছিলেন দুই মার্কিন নাগরিক।
- তারা ছিলেন ড্যানিয়েল বার্নহ্যাম এবং বব বুই।

উৎস: i) ২২ ডিসেম্বর ২০২০, প্রথম আলো।
         ii) ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, প্রথম আলো।
৩,৪৯৫.
'কুসুম্বা মসজিদ' কোন শাসনামলের স্থাপত্য নিদর্শন?
  1. সেন
  2. মুঘল
  3. সুলতানি
  4. ইংরেজ
ব্যাখ্যা
কুসুম্বা মসজিদ:
- নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান।
- মসজিদটি ধরে রেখেছে সুলতানি আমলের অনন্য নিদর্শন।
- এর মিহরাবের ওপর সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহর নাম লিপিবদ্ধ করা।
- ধারণা করা হয়, তাঁর শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত।
- এটি চারকোনাবিশিষ্ট। কালো ও ধূসর রঙের পাথর আর পোড়ামাটির ইটে গড়া এই মসজিদ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের ৫ টাকার নোটে কুসুম্বা মসজিদের ছবি ছাপানো আছে।

উৎস: প্রথম আলো।
৩,৪৯৬.
বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয় কবে?
  1. ১৮৫৩ সালে
  2. ১৮৫৭ সালে
  3. ১৯০৩ সালে
  4. ১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ:
- বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজদের ভাগ কর ও শাসন কর (Divide and Rule)-এর আকাঙ্ক্ষা বরাবরই ছিল। এখানে অভিজাত হিন্দুদের প্রতি বঞ্চিত মুসলমানের মধ্যে যে অবিশ্বাস ছিল সেটাকে কাজে লাগিয়ে বঙ্গভঙ্গ উদ্যোগ নেয় ইংরেজ শাসকেরা। হিন্দুদের বড়ো অংশ বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে এবং মুসলমানদের বড়ো অংশ বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করে। এই প্রচেষ্টা বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক অস্বস্তি ও অবিশ্বাসকে রাজনৈতিকভাবে সামনে নিয়ে আসে।

⇒ ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি।
- বঙ্গভঙ্গের এই পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।
- বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন অনেক বড় হওয়ার কারণে ১৮৫৩ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত এর সীমানা পুনর্বিন্যাসের অনেক প্রস্তাব ব্রিটিশ সরকারি মহলে উপস্থাপন করা হয়।
- প্রকৃতপক্ষে ১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
- ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন এবং ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। সে বছর অক্টোবরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
- এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম- ১০ম শ্রেণি। 

৩,৪৯৭.
ওলন্দাজরা কোন দেশের নাগরিক?
  1. ক) পর্তুগাল
  2. খ) হল্যান্ড
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা
ওলন্দাজ
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- প্রাচ্য বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক ‘ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। 
- প্রথমে ওলন্দাজগণ ইংরেজদের সাথে রেশমী সূতা, সুতি কাপড় চাল, ডাল সোরা ও তামাক এদেশ থেকে রপ্তানি করত এবং অন্যদেশ থেকে এদেশে মসলা আমদানি করত।
- ইংরেজদের সাথে তাদের যে বাণিজ্য চুক্তি হয় তা দু'বছরের মধ্যে ভেঙ্গে গিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
- ইংরেজগণ ওলন্দাজ কুঠিগুলো দখল করে ফেলে।
- এভাবে ওলন্দাজদের বাণিজ্যিক সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৪৯৮.
কৈবর্ত বিদ্রোহের নায়ক কে ছিলেন?
  1. ভারিয়ানকুন্নাথু
  2. জাতবর্মা
  3. আরাম শাহ
  4. দিব্যোক
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় মহীপালের সময় বাংলার উত্তরাংশের বরেন্দ্র এলাকার সামন্তবর্গ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
- ইতিহাসে এ বিদ্রোহ 'কৈবর্ত বিদ্রোহ' নামে পরিচিত।
- এ বিদ্রোহের নেতা ছিলেন কৈবর্ত বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের নেতা দিব্যোক বা দিব্য।
- বাংলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত এ বিদ্রোহে দ্বিতীয় মহীপালকে হত্যা করে বরেন্দ্র দখল করে নেয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৩,৪৯৯.
”গম্ভীরা নাচ” বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের ঐতিহ্য?
  1. রংপুর
  2. সিলেট
  3. রাজশাহী
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

- গম্ভীরানাচ:
- গম্ভীরা পূজা ও উৎসব এবং  গম্ভীরা গানএ পরিবেশিত হয়।
- অবিভক্ত বাংলার মালদহ জেলায় এ নাচের ব্যাপক প্রচলন ছিল।
- বর্তমানে এর প্রভাব হ্রাস পেয়েছে। রাজশাহী জেলায় মুসলিম সমাজের পৃষ্ঠপোষকতায় গম্ভীরা নাচগানের বিস্তর রূপান্তর ঘটেছে।
- দুজন নট নানা-নাতির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সমকালীন সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, নৈতিকতা ইত্যাদি সংক্রান্ত সমস্যা নৃত্যগীতের মাধ্যমে তুলে ধরে।
- এতে গদ্যেপদ্যে সংলাপও থাকে। আসরে দোহাররা ধুয়া গায়, বাদ্যকাররা বাদ্য বাজায়।
 - হারমোনিয়াম,  বাঁশি, ঢোল, জুড়ি এর প্রধান বাদ্যযন্ত্র।
- সংলাপ, নাচ-গান ও বাদ্য সহযোগে গম্ভীরানাচ লোকনাট্যের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
- দোহাররা যখন ধুয়া গায় তখন নানা-নাতি উভয়ে সরল ভঙ্গিতে হাত-পা নেড়ে ও কোমর দুলিয়ে নাচে। 
- নাতির পায়ে থাকে ঘুঙুর। এ নাচে তেমন কোনো বৈচিত্র্য নেই, তবে মালদহের গম্ভীরানাচে মুখোশের ব্যবহার আছ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৫০০.
সত্তরের নির্বাচনে কার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়?
  1. বিচারপতি শাহাবুদ্দীন
  2. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
  3. বিচারপতি আবু সায়েম
  4. এম এন হুদা
ব্যাখ্যা
সত্তরের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা: 
- ১৯৬৯ সালের ২রা জুলাই ইয়াহিয়া খানের ঘোষণা অনুযায়ী পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
- এ নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক কাজ ছিল একটি সর্বজনীন ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা।
- এ তালিকার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩,১২,১৪,৯৩৫ জন এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ২,৫২,০৬,২৬৩ জন।
- এ ভোটার তালিকায় ভিন্ন জাতিসত্তার নৃগোষ্ঠী অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।