বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৩৪ / ১২৪ · ৩,৩০১৩,৪০০ / ১২,৪২১

৩,৩০১.
’একলাখি মসজিদ’ কার শাসনামলে আমলে নির্মিত হয়?
  1. সুলতান জালালউদ্দীন মুহম্মদ শাহ
  2. সুলতান ইলিয়াস শাহ 
  3. সুলতান নাসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ
  4. সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
ব্যাখ্যা

- সুলতান জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহ-এর শাসনকালে নির্মিত হয় 'এক লাখি মসজিদ'। 
- এর নির্মাণকাল ১৪১৮-১৪২৩ সাল।
- পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার পান্ডুয়ায় অবস্থিত। 
- প্রবাদ আছে যে, তখনকার দিনে এক লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।তাই এটি 'এক লাখি মসজিদ' নামে পরিচিত হয়েছে।
- এ মসজিদ আসলে একটি কবর। এ সমাধিসৌধে সুলতান এবং তাঁর স্ত্রী-পুত্রদের সমাহিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- বড় সোনা মসজিদের আর এক নাম 'বারোদুয়ারী মসজিদ'।
- এতে বৃহৎ বারোটি দরজা ছিল। এ মসজিদে সোনালি রঙের গিলটি করা কারুকার্য ছিল। সম্ভবত এজন্যই এটি সোনা মসজিদ নামে অভিহিত হতো। এ মসজিদটি গৌড়ের বৃহত্তম মসজিদ।
- আসাম বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য হুসেন শাহ এ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। ১৫২৭ সালে নসরত শাহ এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩০২.
তমুদ্দিন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ১৬ আগস্ট ১৯৪৭
  2. ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭
  3. ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮
  4. ১ জানুয়ারি ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৩,৩০৩.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন চট্টগ্রাম অঞ্চল কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ১নং
  2. খ) ২নং
  3. গ) ১১নং
  4. ঘ) ১০নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী সেক্টর হল ১০নং সেক্টর।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং  সেক্টরের অধিনে।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- মুজিব নগর কত ৮নং সেক্টরের অধিনে ছিল।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধিনে ছিল।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩,৩০৪.
১৯৭১ সালে মুক্তিবাহিনীর "এস ফোর্স" এর দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. কর্নেল জিয়াউর রহমান
  2. কর্নেল খালেদ মোশাররফ
  3. কর্নেল কে. এম সফিউল্লাহ
  4. উপরের কেউ নন
ব্যাখ্যা
- এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী:
- যে জনযুদ্ধ এনেছে বাংলাদেশের পতাকা, সেই জনযুদ্ধের দাবিদার এদেশের সাত কোটি বাঙালি।
- এই সশস্ত্র যুদ্ধ একটি নির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
- পরিকল্পিত এই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ বাংলাদেশ সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ৪টি যুদ্ধঅঞ্চলে বিভক্ত করেন।

- এই ৪টি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন:
ক) চট্টগ্রাম অঞ্চল: মেজর জিয়াউর রহমান,
খ) কুমিল্লা অঞ্চল: মেজর খালেদ মোশাররফ,
গ) সিলেট অঞ্চল: মেজর কে এম সফিউল্লাহ,
ঘ) দক্ষিণ পশ্চিম: অঞ্চল মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে বিভক্ত করে রাজশাহী অঞ্চলে মেজর নাজমুল হক,
- দিনাজপুর অঞ্চলে মেজর নওয়াজেস উদ্দিন এবং,
- খুলনা অঞ্চলে মেজর জলিলকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
- ৭ই জুলাই ১৯৭১ যুদ্ধের কৌশলগত কারণে সরকার নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনায় 'জেড ফোর্স' ব্রিগেড গঠন করেন।
- এই জেড ফোর্সের অধিনায়ক হলেন লেঃ কর্নেল জিয়াউর রহমান।
- একই ভাবে সেপ্টেম্বর মাসে 'এস ফোর্স' এবং ১৪ই অক্টোবর 'কে ফোর্স' গঠন করা হয়।
- কে ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল খালেদ মোশাররফ।
- এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৩,৩০৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুর এবং নোয়াখালি কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ২ নং সেক্টর
  2. ৩ নং সেক্টর
  3. ৪ নং সেক্টর
  4. ৬ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে ২ নং সেক্টর গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
- এই সেক্টরে ছয়টি সাব-সেক্টর ছিল।
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।

অন্যদিকে,
- চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর।
- ঢাকা-২ নং সেক্টর।
- রাজশাহী-৭ নং সেক্টর।
- মুজিব নগর-৮ নং সেক্টর।
- সুন্দরবন-৯ নং সেক্টর।

সূত্র: ঢাকা বিভাগের ওয়েবসাইট।
৩,৩০৬.
কতটি বিষয়ের উপর ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে গণভোটের প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৮টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

গণভোটে হ্যাঁ অথবা না:
- ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে মূলত ৪টি প্রধান বিষয়ের ওপর প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে।
- যা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের সাথে সম্পর্কিত এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এটি ঘোষণা করেছেন: 

১. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

উৎস: গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫।[লিঙ্ক]

৩,৩০৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কতটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩০৮.
একুশের চেতনা নিয়ে নির্মিত প্রথম সিনেমা-
  1. জীবন থেকে নেয়া
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. আবার তোরা মানুষ হ
  4. প্রভাত ফেরী
ব্যাখ্যা

• প্রথম চলচ্চিত্র:
- একুশের চেতনা নিয়ে নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘জীবন থেকে নেয়া’।
- সিনেমাটি পরিচালনা করেন জহির রায়হান।
- এতে অভিনয় করেন রাজ্জাক, সুচন্দা, আনোয়ার হোসেন, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান ও রওশন জামিল।
- এ ছবির চিত্রগ্রাহক আফজাল চৌধুরী।
- চলচ্চিত্রের গানগুলোয় সুরারোপ করেন খান আতাউর রহমান।

⇒ ‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমার পরিবেশক আনিস ফিল্ম। মুক্তি পায় ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল। এই চলচ্চিত্রে এক গৃহকর্ত্রীর স্বেচ্ছাচারী ভূমিকার মাধ্যমে পাকিস্তানি স্বৈরতন্ত্রকে তুলে ধরা হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।

৩,৩০৯.
অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ গভর্নর ছিলেন-
  1. ক) স্যার জন হাবার্ট
  2. খ) লর্ড মাউন্ট ব্যাটন
  3. গ) স্যার এফ বারোজ
  4. ঘ) ব্যামফিল্ড ফুলার
ব্যাখ্যা

অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ গভর্নর ছিলেন স্যার ফ্রেডেরিক জন বারোজ।
তিনি ১৯৪৬-১৯৪৭ মেয়াদে বাংলার শেষ গভর্নর ছিলেন।
অন্যদিকে ব্যামফিল্ড ফুলার ছিলেন পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর।

(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস বই)

৩,৩১০.
সংবিধান সংস্কার কমিশন এর সুপারিশ অনুসারে, সংসদের উচ্চকক্ষের আসন সংখ্যা হবে-
  1. ১০০টি
  2. ৪০০টি
  3. ১০৫টি
  4. ৫০৫টি
ব্যাখ্যা

 সংবিধান সংস্কার কমিশন: 
- গঠিত হয়- ৬ অক্টোবর, ২০২৪
- কমিশনের প্রধান- অধ্যাপক আলী রীয়াজ
- মোট সদস্য- ৯ জন

• উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ:
- সাংবিধানিক নাম: জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ (People's Republic of Bangladesh),
- নাগরিকত্ব: বাংলাদেশি,
- মূলনীতি: ৪টি (সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র),
- সংসদ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন; উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন),
- মেয়াদ: ৪ বছর (সরকারের মেয়াদ, সংসদের মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ),
- সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স: ২১ বছর।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন

৩,৩১১.
বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তাকারী দেশ কোনটি?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. ফ্রান্স
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. জাপান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা:
- ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ হলো ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত একটি ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বর্ধিত জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।
- বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান ১০০ বছরের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই পরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডস সরকার বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
- বন্যা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের অনুমোদন পায়।
- ডেল্টা প্ল্যানে ছয়টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন।

উল্লেখ্য,
- এ মহাপরিকল্পনার প্রথম ধাপ ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।
- এ সময়ে ৮০টি প্রকল্পের আওতায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিনিয়োগের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

উৎস: পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।
৩,৩১২.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’-এর অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. প্রতাপ শঙ্কর হাজরা
  2. আলী ইমাম
  3. শাহজাহান আলম
  4. জাকারিয়া পিন্টু
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের একটি ফুটবল দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত অর্জন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ফুটবল খেলায় অংশ নেয়।
- এই দলটি ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’ নামে পরিচিত ছিল।
- পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধকালীন প্রথম ফুটবল দল এটি।
- মূল পরিকল্পনাটা ছিলো শামসুল হকের।
- জুন মাসে কলকাতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি এবং যারা সারা ভারতজুড়ে খেলে সমর্থন আদায় করবে আমাদের স্বাধীন বাংলার স্বীকৃতির জন্য।
- তার সাহায্যে এগিয়ে এলেন সমিতির প্রথম সেক্রেটারি লুতফর রহমান, কোচ আলী ইমাম ও ইস্ট এন্ড ক্লাবের সাবেক ফুটবলার সাঈদুর রহমান প্যাটেল।
- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু।
- আর সহ-অধিনায়ক ছিলেন প্রতাপ শংকর হাজরা।
- কোচ ও ম্যানেজার ছিলেন যথাক্রমে ননি বসাক ও তানভীর মাজহারুল তান্না। 
- ম্যাচ খেলা থেকে অর্জিত পাঁচ লাখ ভারতীয় রুপি ক্রীড়া সমিতি জমা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ফান্ডে।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে যারা ছিলেন: 
- জাকারিয়া পিন্টু (অধিনায়ক), প্রতাপ শঙ্কর হাজরা (সহ-অধিনায়ক), আলী ইমাম, মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অমলেশ সেন, আইনুল হক, নিহার কান্তি দাস, শেখ আশরাফ আলী, বিমল কর, শাহজাহান আলম, মনসুর আলী লালু, কাজী সালাউদ্দিন, এনায়েতুর রহমান, সুভাষ সাহা, কে এম নওশেরুজ্জামান, ফজলে সাদাইন খোকন, আবুল হাকিম, তসলিমউদ্দিন শেখ, আমিনুল ইসলাম, আবদুল মমিন জোয়ারদার, মনিরুজ্জামান পেয়ারা, সাত্তার, প্রাণ গোবিন্দ কুন্ডু, মুজিবর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) খন্দকার নুরুন্নবী, লুৎফর রহমান, সাইদুর রহমান প্যাটেল, অনিরুদ্ধ চ্যাটার্জি, সনজিব কুমার দে, মাহমাদুর রশিদ, দেওয়ান মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন, নিহার কান্তি দাস।

উৎস: ২৬ মার্চ ২০২২, সময় নিউজ।
৩,৩১৩.
মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বরগুনা
  2. বরিশাল
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
নৌকা জাদুঘর:

- সাগর উপকূলীয় জেলা বরগুনায় উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘর।
- মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে নির্মিত এ জাদুঘরের নাম রাখা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর’।
- দেশ বিদেশের বাহারি নকশার একশ’টি নৌকার অনুকৃতি নিয়ে এ জাদুঘরের যাত্রা শুরু। 
- শহরের প্রাণকেন্দ্রে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন ৭৮ শতাংশ জমি জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর।
- বিশাল নৌকার আদলে তৈরি এ জাদুঘরটির দৈর্ঘ্য ১৬৫ ফুট এবং প্রস্থ ৩০ ফুট।
- এ জাদুঘরে থাকবে নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক পাঠাগার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশু বিনোদন কেন্দ্র এবং ফুট কোটসহ নানা আয়োজন।

তথ্যসূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০।
৩,৩১৪.
বাংলার মধ্যযুগের ইতিহাসে কার শাসনকালকে ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. শেরশাহ সূরি
ব্যাখ্যা

• হুসেন শাহিবংশ:
- হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন সৈয়দ হুসেন।
- সুলতান হয়ে তিনি 'আলাউদ্দিন হুসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- এভাবেই বাংলায় 'হুসেন শাহি বংশ' নামে এক নতুন বংশের শাসনপর্ব শুরু হয়।
- বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে হুসেন শাহি আমল (১৪৯৩-১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) ছিল নানা কারণেতাৎপর্যপূর্ণ।
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের প্রধান সুলতান।
-  একজন শাসক হিসেবে হোসেন শাহ নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়াও শাসন ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং জনকল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে তিনি উদ্যম, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।
- হুসেন শাহের হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি স্থাপনের প্রচেষ্টা তৎকালীন সমাজ জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল। তারশাসনকালেই আবির্ভাব ঘটে বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক, ভক্তি আন্দোলনের নেতা, মানবতাবাদী শ্রীচৈতন্য দেবের। 
-  এ যুগের প্রখ্যাত কবি ও লেখকদের মধ্যে রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস, পরাগল খান ও যশোরাজ খান উল্লেখযোগ্য ছিলেন। 
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহ আরবি ও ফার্সি ভাষারও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- সকল ধর্মের মানুষের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা ও ভক্তিছিল আলাউদ্দিন হুসেন শাহের। তাঁর রাজত্বকালে বাংলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু মসজিদ নির্মিত হয়েছিল।
- তাঁর ২৬ বছরের শাসনকালে বাংলায় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলার বিশেষ উন্নতি সাধিত হয়েছিল। এজন্য তাঁর শাসনকালকে অনেকেই বাংলার মধ্যযুগের ইতিহাসে 'স্বর্ণযুগ' বলে আখ্যাত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম, শ্রেণি। 

৩,৩১৫.
আহসান মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. নওয়াব খাজা আহসানউল্লাহ
  2. নওয়াব খাজা আব্দুল গণি
  3. নওয়াব খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. নওয়াব আলীবর্দী খান
ব্যাখ্যা

আহসান মঞ্জিল:
- আহসান মঞ্জিল পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
- এটি পূর্বে ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ।
- বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- এর প্রতিষ্ঠাতা নওয়াব আবদুল গণি। তিনি তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ'র নামানুসারে এর নামকরণ করেন।
- এর নির্মাণকাল ১৮৫৯-১৮৭২ সাল।
- নওয়াব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি নতুন করে নির্মাণ করান।
- ১৯০৬ সালে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়।
- এই প্রাসাদের ছাদের উপর সুন্দর একটি গম্বুজ আছে। এক সময় এই গম্বুজের চূড়াটি ছিল ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৩১৬.
বাংলাদেশে প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে এর দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) ২০ কিলোমিটার
  2. খ) ৩৫ কিলোমিটার
  3. গ) ৫৫ কিলোমিটার
  4. ঘ) ৭৫ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে হলো ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে।
গত ১৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী এটির উদ্বোধন করেন। এটির দৈর্ঘ্য ৫৫ কিলোমিটার। মহাসড়কটিতে চারটি লেন এবং দুটি সার্ভিস লেন রয়েছে।
এই এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ঢাকা থেকে মাওয়া যেতে সময় লাগবে ২৭ মিনিট এবং ভাঙ্গা যেতে ৫৫ মিনিট।
(সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট)

৩,৩১৭.
কোন ঘটনা নিয়ে 'কবর' নাটকটি লেখা হয়েছিল?
  1. দেশ বিভাগ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. শিক্ষা আন্দোলন
  4. গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
'কবর' নাটক: 
- বাংলাদেশের নাটকের ইতিহাসে মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘কবর’ নাটকটি স্মরণীয় নাম।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে 'কবর' নাটকটি লেখা হয়েছিল। 
- কারাগারের ভেতরে বসে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই নাটকটি লেখা এবং মঞ্চস্থ করা হয়েছিল।
- 'কবর' নাটকটি লেখা হয়েছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে, কারারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে।
- রাতে কারাগারের বাতি নিভিয়ে দেয়া হলে লণ্ঠনের আলোয় সেই নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল ঢাকা কারাগারে।
- নাটকটি মুনীর চৌধুরী লেখা শেষ করেছিলেন ১৯৫৩ সালের ১৭ জানুয়ারি আর জেলখানায় অভিনীত হয়েছিল ২১ ফেব্রুয়ারি।

উৎস: বিবিসি বাংলা (১৭ জানুয়ারি ২০২৩)
৩,৩১৮.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য শুরু হয় কোথায়?
  1. লাহোর সুপ্রিম কোর্ট
  2. করাচি সুপ্রিম কোর্ট
  3. ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  4. চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।
- তবে এটি 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবেই বেশি পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৩,৩১৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সেনার সংখ্যা—
  1. ক) ৯০ হাজার
  2. খ) ৮১ হাজার
  3. গ) ৮৩ হাজার
  4. ঘ) ৯৩ হাজার
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত যুদ্ধে অংশ নিতে ধাপে ধাপে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন।
- একাত্তরের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সামনে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে শত্রুদের মোকাবিলা করার জন্য যার যা আছে, তা-ই নিয়ে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলেন তিনি।
- বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
- তাঁর এই ভাষণের পর সারা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে।
- ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
- ওই রাতেই গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু।
- শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
- ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল এ এ কে নিয়াজিকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। 
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়। 
- শেষপর্যন্ত জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের যে স্থানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। 

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
          ii) ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, প্রথম আলো।
৩,৩২০.
বঙ্গবন্ধু কত সালে ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন?
  1. ক) ১৯৬৪ সালে
  2. খ) ১৯৬৫ সালে
  3. গ) ১৯৬৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন। একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন। ৭ জুন ছয়দফা দিবস পালিত হয়। ছয়দফা দাবী কে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।
(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৩,৩২১.
বাংলায় ‘ছিয়াত্তরের মনন্তর’ এর সময় কাল -
  1. ক) ১৭৭০ খ্রিঃ
  2. খ) ১৭৬০ খ্রিঃ
  3. গ) ১৭৬৫ খ্রিঃ
  4. ঘ) ১৭৫৬ খ্রিঃ
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
• ১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে
• খাদ্যের অভাবে মােট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ ( ১ কোটি ) মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
• তখন দিল্লীর সম্রাট ছিলেন শাহ আলম।
• জন কার্টিয়ার ১৭৬৯ থেকে ১৭৭২ সাল পর্যন্ত বাংলার ফোর্ট উইলিয়ম কাউন্সিলের গভর্নর ছিলেন।
• বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ১৭৬৯-৭০ সালের মহাদুর্ভিক্ষের দ্বারা জন কার্টিয়ারের শাসনকাল সমালোচনার মুখে পড়ে।
• নায়েব দীউয়ান ও নায়েব নাজিম সৈয়দ মুহম্মদ রেজা খান আসন্ন দুর্ভিক্ষ সম্পর্কে বারবার জন কার্টিয়ারকে অবহিত করা সত্ত্বেও তিনি তার সতর্কবাণীকে তেমন গুরুত্ব দেন নি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩২২.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ছিল-
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  3. গ) এএইচএম কামরুজ্জামান
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।

মুজিবনগর সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ
(তার অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিলো - প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী)
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়ত
৩,৩২৩.
ভারত কখন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ক) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে
  2. খ) ৮ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে
  3. গ) ৯ ডিসেম্বর, ১৯৯১
  4. ঘ) ১১ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৬ ডিসেম্বর প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। একইদিন দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ ভুটান এবং দ্বিতীয় দেশ ভারত।
অন্যদিকে,
- তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেনেগাল ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো এবং নিউইয়র্ক টাইমস।
৩,৩২৪.
লাহোর প্রস্তাবে কতটি মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিলো?
  1. ক) একটি
  2. খ) দুইটি
  3. গ) তিনটি
  4. ঘ) একাধিক
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাধারণ সভায় শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

তার প্রস্তাবে বলা হয়,

ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব এলাকাসমূহের মতো যে সকল অঞ্চলে মুসলমানগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ, সে সব অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (স্টেটস) গঠন করতে হবে যার মধ্যে গঠনকারী এককগুলি হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।

২৪শে মার্চ লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে একাধিক রাষ্ট্রের (স্টেটস) পরিবর্তে কেবল একটি রাষ্ট্র (স্টেট) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৩২৫.
বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ:
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করলেও সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয়। তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়। এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
 
উল্লেখ্য,
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন। লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভ করেন। ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই- সিরাজ আফীফ ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ" এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।
 
উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩২৬.
'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন কে?
  1. মিশুক মুনীর
  2. তারেক মাসুদ
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. এনামুল কবির
ব্যাখ্যা
মাটির ময়না:

- মাটির ময়না বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি বাংলাদেশী ফিচার চলচ্চিত্র।
- এটি ২০০২ সালে বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায়।
- 'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনা করেছেন তারেক মাসুদ।
- ছবিটি প্রযোজনা করেছেন ক্যাথরিন মাসুদ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৩২৭.
ধর্মপাল কোন ধর্মাবলম্বী ছিলেন?
  1. হিন্দু
  2. বৌদ্ধ
  3. জৈন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ধর্মপাল:
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন ধর্মপাল।
- ধর্মপাল বাংলার পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা।
- পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পুত্র ও উত্তরাধিকারী ধর্মপাল পালদের উদীয়মান প্রতিপত্তির যুগের সূচনা করেন।
- পাল শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গোপালের হাত ধরে।
- গোপাল রাজ্য প্রতিষ্ঠার সূচনা করলেও পাল সাম্রাজ্যকে সুসংহত করেন গোপালের পুত্র ধর্মপাল।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
- বিক্রমশীল বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের কৃতিত্ব তাঁর।
- নয় শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত সমগ্র ভারতে এটি ছিল বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র।
- এছাড়া পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারও ধর্মপালের আরেক কীর্তি।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩২৮.
'ছয় দফা' কোথায় উত্থাপন করা হয়?
  1. ঢাকায়
  2. লাহোরে
  3. করাচি
  4. রাওয়ালপিন্ডি
ব্যাখ্যা
মুক্তির সনদ:

- বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে খ্যাত 'ছয় দফা' কোথায় উত্থাপন করা হয় লাহোরে।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দলের এক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ওই কনভেনশনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন।
- ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩২৯.
লালবাগ শাহী মসজিদটি কে নিমার্ণ করেন?
  1. ক) শায়েস্তা খান
  2. খ) যুবরাজ মোহাম্মদ আযম
  3. গ) ইসলাম খান
  4. ঘ) মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা
সুবাদার শাহজাদা আজম বেশ কিছু ইমারত তৈরি করেছিলেন। বুড়িগঙ্গার তীরঘেঁষে তিনি এক বিশাল কাটারা তৈরি করেছিলেন।
তাঁর আমলেই 'লালবাগের শাহি মসজিদ' তৈরি হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৩০.
বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে অগ্রদূত কে ছিলেন?
  1. ক) আবদুল লতিফ
  2. খ) হাজী শরিয়তুল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ আমীর আলী
  4. ঘ) দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ আমীর আলী উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী।
- তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন। 
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।
- বাংলা তথা ভারতে তিনিই প্রথম মুসলমান  নেতা, যিনি বিশ্বাস করতেন মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন। 
- আকর্ষণের জন্য নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন।
- তিনি ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানান।
- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুসলিম লীগের  সভাপতি নির্বাচিত হন।
- সৈয়দ আমীর আলী নারী অধিকারের বিষয়েও সচেতন ছিলেন। 
- বাঙালি মুসলিম রেনেসাঁসের অগ্রদূত সৈয়দ আমীর আলী ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়।
৩,৩৩১.
সিপাহী বিদ্রোহ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৫৭ সালে
  2. ১৮৫৭ সালে
  3. ১৭৮৯ সালে
  4. ১৮৭৯ সালে
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ ১৮৫৭ সালে সংঘটিত হয়। 

সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
পরোক্ষ কারণ:
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।

প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৩২.
মুঘল আমলে প্রদেশকে কী বলা হতো?
  1. সুবাহ 
  2. পরগনা
  3. সরকার
  4. মহল
ব্যাখ্যা

মুঘল আমলে প্রদেশ:
- মুঘল আমলে প্রদেশকে সুবাহ বলা হতো। 

• সুবিশাল ভারতকে শাসন করার জন্য আকবর তার সাম্রাজ্যকে ১৫৮২ খ্রি. ১৫টি সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত করেন এবং সুবার শাসক হিসেবে ১ (এক) জন সুবাদার নিয়োগ করেন। 
- সুবাদার ছাড়াও প্রদেশের এ শাসনকার্যে একজন দিওয়ান, আমিল, ফৌজদার, কাজি ইত্যাদি পদের রাজকর্মচারি ছিলেন।
- শাসনকার্যের সুবিধার জন্য প্রত্যেক সুবাকে কতগুলো সরকার ও প্রত্যেক সরকারকে কতগুলো পরগনায় বিভক্ত করেছিলেন।

উল্লেখ্য
- ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহৎ ও জৌলুশময় সাম্রাজ্যের একটি হচ্ছে মুঘল আমল। এর বিস্তৃতি ছিল বর্তমান আফগানিস্তান থেকে শুরু করে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে।
- ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল রাজত্বের সূচনা হয়েছিল জহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবরের হাত ধরে, যিনি মূলত বর্তমান উজবেকিস্তান থেকে আফগানিস্তান, এরপর ভারতবর্ষে আসেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BBC.

৩,৩৩৩.
মুজিবনগর সরকারের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) এম. মনসুর আলী
  3. গ) এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।
• এই সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ:

- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; 
- উপরাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম; 
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ; 
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী: এম মনসুর আলী; 
- স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী: এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান;
- পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমেদ; 

- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী; 
- চিফ অব স্টাফ: কর্নেল (অব.) আব্দুর রব;
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও বিমান বাহিনীর প্রধান: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৩৩৪.
ঐতিহাসিক ছয় দফার ষষ্ঠ দফার বিষয়বস্তু কী ছিল?
  1. আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
  2. বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  3. রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  4. মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৩৫.
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি অবস্থিত-
  1. সারদায়
  2. বাইতুল ইজ্জতে
  3. সুজানগরে
  4. ডুলাহাজরায়
ব্যাখ্যা
বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড স্কুল চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত।
উৎসঃ বিজিবি ওয়েবসাইট।
৩,৩৩৬.
'যারা কাজ করে তাদেরই ভুল হতে পারে, যারা কাজ করে না তাদের ভুলও হয় না'- উক্তিটি কে করেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'যারা কাজ করে তাদেরই ভুল হতে পারে, যারা কাজ করে না তাদের ভুলও হয় না।" - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

• অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও।
- আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।
-------------------
• অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে উদ্ধার করা বঙ্গবন্ধুর কিছু অমর বাণী:
- 'অন্ধ কুসংস্কার ও অলৌকিক বিশ্বাসও বাঙালির দুঃখের আর একটি কারণ' (পৃ: ৪৮)।
- 'নেতারা যদি নেতৃত্ব দিতে ভুল করে, জনগণকে তার খেসারত দিতে হয়' (পৃ: ৭৯)।
- 'আমার যদি কোনো ভুল হয় বা অন্যায় করে ফেলি, তা স্বীকার করতে আমার কোনোদিন কষ্ট হয় নাই' (পৃ: ৮০)।
- 'যে দেশের বিচার ও ইনসাফ মিথ্যার উপর নির্ভরশীল সেদেশের মানুষ সত্যিকারের ইনসাফ পেতে পারে কি না সন্দেহ!' (পৃ: ১৯০)।
- 'আমি মানুষকে মানুষ হিসাবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিষ্টান বলে কিছু নাই। সকলেই মানুষ' (পৃ: ১৯১)।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৩,৩৩৭.
নীল বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল কোন সালে?
  1. ১৮৫৯
  2. ১৮৫৬
  3. ১৮৫৮
  4. ১৮৬৮
ব্যাখ্যা

• নীল বিদ্রোহ:

- ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ নীলকরদের সীমাহীন অত্যাচার শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে নীল চাষিরা যে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাই ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে খ্যাত।
- এর নেতৃত্ব দিয়েছিল স্থানীয় পর্যায়ের সাধারণ কৃষকরা।
- বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নেতা স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ সংগ্রাম পরিচালিত করে। এ আন্দোলনে যশোর অঞ্চলের কৃষকদের নেতৃত্ব দেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই। হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার এবং নদীয়ায় মেঘনা সর্দার।
- এই নেতৃত্ব এতটাই শক্তিশালী এবং সুসংহত ছিল যে শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে সরকার 'ইন্ডিগো কমিশন' বা 'নীল কমিশন' গঠন করে।
- এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নীলচাষ করা, না করা কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয় এবং ‘ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট' বাতিল করা হয়।
- ফলে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৩৮.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাসের লেখক কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস:

- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক ।
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হান এর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৩৯.
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের কততম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন?
  1. তৃতীয় কাউন্সিল
  2. চতুর্থ কাউন্সিল
  3. ষষ্ঠ কাউন্সিল
  4. দ্বিতীয় কাউন্সিল
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
এর প্রথম কমিটি:
- সভাপতি : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
- যুগ্ম সম্পাদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি টানা চারবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৬ সালের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৫ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগের তৃতীয় সম্মেলনে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট)
৩,৩৪০.
Which port city in ancient Bengal has been discovered in Ptolemy's world map?
  1. ক) Satgaon
  2. খ) Tamralipi
  3. গ) Chittagong
  4. ঘ) Sonargaon
ব্যাখ্যা
• গ্রিক পন্ডিত টলেমির মানচিত্রে বাংলায় তমলিটিস নামে একটি বন্দরনগরীর উল্লেখ পাওয়া যায়, যেটি প্রাচীন বাংলার তাম্রলিপ্তি বা তাম্রলিপ্ত বন্দরেরই অন্য নাম বলে মনে করা হয়।
- বন্দরটির অবস্থান নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মোটামুটিভাবে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনিপুর জেলায় বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী রূপনারান নদীর মোহনায় অবস্থিত তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- এছাড়া স্বরস্বতী নদীর মোহনায় অবস্থিত সপ্তগ্রাম বা সাতগাঁও এবং কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর প্রাচীন ও মধ্যযুগেই বহির্বিশ্বে বেশ পরিচিত ছিল।
- সুলতানি আমলে বাংলা ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা ও চীনা পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় তাঁরা চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে নদীপথে সোনারগাঁও বন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন।
- মুগল আমলে ঢাকায় রাজধানী স্থাপিত হলে বাংলার প্রধান অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর হিসেবে সোনারগাঁও গুরুত্ব হারায়।

তথ্যউৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৪১.
Which township was mentioned in the ''Aitareya Upanishad''?
  1. Harikel
  2. Gour
  3. Samatat
  4. Bango
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৪২.
কয়টি দলের সমন্বয়ে ১৯৬৯ সালে 'গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে:
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মূল কারণ ছিল আগরতলা মামলা দায়ের ও নেতাদের নির্বিচারে গ্রেফতার, ছাত্রদের ওপর পুলিশী নির্যাতন।
- আর এ অভ্যুত্থানের পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল পূর্ববাংলার ছাত্র সমাজ।
- আইয়ুব খানের হীন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষে ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের দুই গ্রুপ মিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি তোফায়েল আহমদকে সভাপতি করে একটি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে এগার দফাভিত্তিক এক দাবিনামা প্রস্তুত করা হয়। এরমধ্যে ছয় দফাকেও সংযুক্ত করা হয়। এর সাথে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও রাজবন্দিদের মুক্তিদানসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া এবং বন্দি ছাত্রদের মুক্তি প্রদান এবং ছাত্রদের শিক্ষা সংক্রান্ত কতগুলো দাবি উত্থাপিত হয়।
- একই সময়ে ৮ জানুয়ারি তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানের ৮টি রাজনৈতিক দল মিলে 'গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ' (ডাক) নামক মোর্চা গঠন করে এবং ৮ দফা দাবি উত্থাপন করে যাতে ৬ দফা ও ১১ দফার সমর্থন পাওয়া যায়।
- এরপর থেকে 'ডাক' ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যৌথ প্রচেষ্টায় পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।
- 'ডাক'-এর আহ্বানে ১৪ জানুয়ারি সমগ্র পাকিস্তানে পূর্ণ হরতাল পালিত হয়।
- ১৭ জানুয়ারি 'ডাক' ও 'ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে সারা দেশে দাবি দিবস পালিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৪৩.
১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয় কোন ব্রিগেড ফোর্স?
  1. এস ফোর্স
  2. কে ফোর্স
  3. জেড ফোর্স
  4. এন ফোর্স
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৪৪.
কততম কান চলচ্চিত্র উৎসবে মাটির ময়না চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী হয়?
  1. ৫৪তম
  2. ৫৫তম
  3. ৫৬তম
  4. ৫৭তম
ব্যাখ্যা
মাটির ময়না:

- মাটির ময়না বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি বাংলাদেশী ফিচার চলচ্চিত্র।
- এটি ২০০২ সালে বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায়।
- 'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনা করেছেন তারেক মাসুদ।
- চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে মাসুদের ছেলেবেলার অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে।
- এই চলচ্চিত্রের মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নুরুল ইসলাম বাবলু, রাসেল ফরাজী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, রোকেয়া প্রাচী, শোয়েব ইসলাম এবং লামিসা আর রিমঝিম।
- ২০০২ সালের ১৫ মে ৫৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সময় নিউজ, ১৩ এপ্রিল ২০২২।
৩,৩৪৫.
বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  2. বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  3. বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী
  4. বিচারপতি লতিফুর রহমান
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- বিএনপি সরকারের পদত্যাগের পর ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে যোগ হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি।
- ১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
- এর চারদিন পর সংবিধান অনুযায়ী ১০ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- তারা হলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক মো. শামসুল হক, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, শেগুফতা বখত চৌধুরী, এ জেড এম নাছিরুদ্দিন, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহমান খান।
- এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার মোট ৮৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
- অবশেষে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন প্রথম সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৪৬.
কোন সম্রাট ইংরেজদের বঙ্গদেশে কুঠি নির্মানের অনুমতি দেয়?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান:
- মুগল সম্রাট শাহজাহান।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুত্র শাহজাহান ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জাহাঙ্গীরের উত্তরাধিকারী হিসেবে ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন ।
- দাদা আকবরের মতো তিনিও তার সাম্রাজ্য প্রসারিত করতে আগ্রহী ছিলেন।
- ১৬৫৮ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পুত্র আওরঙ্গজেব তাকে বন্দী করেন এবং বন্দী অবস্থায় ১৬৬৬ সালে আগ্রা দূর্গে তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য,
- তার রাজত্বের সময়কালের মুঘল স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ ছিল।
- তিনি পৃথিবীর স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ সমাধিসৌধ 'আগ্রার তাজমহল' নির্মাণ করেন।
- তিনি কেবল তাজমহলই নয়, আগ্রায় মতি মসজিদ, দিল্লিতে লাল কেল্লা ও জামে মসজিদও নির্মাণ করেন; শাহজাহানাবাদ নামে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করেন।
- তিনি ইংরেজদের বঙ্গদেশে কুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৪৭.
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন কে?
  1. জেনারেল আইয়ুব খান
  2. মালিক ফিরোজ খান
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. জুলফিকার আলী ভূট্টো
ব্যাখ্যা

• সামরিক শাসন জারি:
- ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্থানে সর্ব প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থায় একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন। সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৩৪৮.
মুক্তিবাহিনীর 'চিফ অব স্টাফ' কে ছিলেন?
  1. এ কে খন্দকার
  2. এম এ জি ওসমানী
  3. খালেদ মোশাররফ
  4. লে. কর্নেল (অব.) আব্দুর রব
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।

কর্নেল এম এ রব:
- মুক্তিযুদ্ধে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুর রব ছিলেন নেতৃস্থানীয় ভূমিকায়।
- তার খেতাবের সনদ নম্বর ০১। মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অবিস্মরণীয়।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবদুর রব যুদ্ধে যোগ দেন।
- সিলেট অঞ্চলে ৪ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে দুর্ধর্ষ সব যুদ্ধের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন এম এ রব।
- মুজিবনগর সরকার তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ ও সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে  নিয়োগ দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধের পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুর রবকে মেজর জেনারেল পদ দেওয়া হয় এবং বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিলেট-২০ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুর রব।
- ১৯৭৫ সালের ১৪ নভেম্বর শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

অন্যদিকে,
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।
- ২নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন খালেদ মোশারফ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি, জানুয়ারি ১, ২০২২ ডেইলি স্টার।
৩,৩৪৯.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় -
  1. ক) ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ
  2. খ) ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ
  3. গ) ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি
  4. ঘ) ১৯৫০ সালের ৩১ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৫০ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

অন্যদিকে, 
⇨ ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
⇨ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
⇨ ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
⇨ কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
⇨ এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৫০.
মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের কোন ফোর্সের নেতৃত্বে ছিলেন?
  1. কে ফোর্স
  2. জেড ফোর্স
  3. এস ফোর্স
  4. এম ফোর্স
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের বিগ্রেড ফোর্স 
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রথম ব্রিগেড গঠন করা হয় ৭ই জুলাই ১৯৭১।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বিগ্রেড ফোর্স ছিল তিনটি - জেড ফোর্স, কে ফোর্স, এস ফোর্স।
- ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩টি ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে গঠন করা হয় এই ব্রিগেড।

কে এম সফিউল্লাহ:
- কে এম সফিউল্লাহর জন্ম ১৯৩৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে।
- সফিউল্লাহ ছিলেন জয়দেবপুরে দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের দ্বিতীয় প্রধান।
- ১৯৭১ সালে  তাঁর নেতৃত্বেই ওই রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যরা বিদ্রোহ করে।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে সফিউল্লাহ ছিলেন ৩ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন।  
- পরে তিনটি নিয়মিত আর্মি ব্রিগেড গঠিত হলে ‘এস’ ফোর্সের নেতৃত্বে আসেন সফিউল্লাহ।
- মেজর কে এম সফিউল্লাহর নামানুসারে অক্টোম্বর ৭১ সনে গঠিত হয় এই বিগ্রেড যার নাম করা হয় এস ফোর্স।
- এই ফোর্সের অন্তর্ভুক্ত ছিল ২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।
- এস ফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সমূহ ছিল ধর্মগড় আক্রমন, মনোহরদী অবরোধ, কলাছড়া অপারেশন, বামুটিয়া অপারেশন, আশুগঞ্জ অপারেশন, মুকুন্দপুর যুদ্ধ, আখাউড়া যুদ্ধ ইত্যাদি।
- মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাব পান।

উল্লেখ্য,
- ১৯৩৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জন্ম নেওয়া কে এম সফিউল্লাহ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে মালয়েশিয়া, কানাডা, সুইডেন, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
- বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]
৩,৩৫১.
আনুষ্ঠানিকভাবে কত তারিখে ৬ দফা ঘোষণা করা হয়?
  1. ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  2. ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  3. ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
  4. ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা ঘোষণা:

• ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন।
• এটাই ইতিহাসে 'ছয় দফা কর্মসূচি' নামে পরিচিত।
• ৬ দফা উত্থাপন করা হয় মোট ৩বার। 
• প্রথমবার ৫-৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে লাহোরের বিরোধী দলীয় সম্মেলনে।
• দ্বিতীয়বার ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে অনানুষ্ঠানিকভাবে।
• তৃতীয়বার ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয় লাহোরে।
• বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা পূর্ব পাকিস্তানের ম্যাগনাকার্টা বলা হয়- ৬ দফাকে।
• ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা রুহুল কুদ্দুস। তিনি একজন সি এস পি কর্মকর্তা ছিলেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া। 
৩,৩৫২.
সমুদ্রগুপ্তের ইতিহাসের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. সুসুনিয়া লিপি
  2. এলাহাবাদ প্রশস্তি লিপি
  3. গয়ালিপি
  4. এরণ লিপি
ব্যাখ্যা
সমুদ্রগুপ্ত:
- সমুদ্রগুপ্ত সম্ভাব্য ৩৩৫ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ৩৮০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে তাঁর মৃত্যু হয়।
- প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে রাজ্য বিজেতারূপে যে সকল সম্রাট খ্যাতি লাভ করেছেন, সমুদ্রগুপ্ত তাঁদের মধ্যে প্রথম সারিতে স্থান পেয়েছেন।
- উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত গাঙ্গেয় উপত্যকার স্থানীয় একটি রাজ্যকে তিনি সর্বভারতীয় এক সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
- প্রাচীন ভারতের তৃতীয় সাম্রাজ্যবাদী পুরুষ হিসাবে সমুদ্রগুপ্ত বিখ্যাত।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয় সম্পর্কে হরিষেণ রচিত এলাহাবাদ প্রশস্তিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
- এলাহাবাদ প্রশস্তি লিপি সমুদ্রগুপ্তের ইতিহাসের প্রধান উৎস।
- আর্যাবর্তের সকল রাজাকে পরাজিত করে তিনি 'সর্বরাজোচ্ছেত্তা' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সমুদ্রগুপ্তের সাম্রাজ্য ছিল প্রভুত্ব ও স্বায়ত্ত্বশাসনের এক অপূর্ব সমন্বয়।
- দিগ্বিজয় সম্পন্ন করে তিনি 'অশ্বমেধযজ্ঞ' অনুষ্ঠান করেন এবং এই যজ্ঞের স্মৃতিরক্ষায় স্বর্ণমুদ্রা প্রচলন করেন।
- তিনি ছিলেন প্রচন্ড সাম্রাজ্যবাদী।
- ড. স্মিথ সম্ভবত এ কারণেই সমুদ্রগুপ্তকে 'ভারতীয় নেপোলিয়ন' আখ্যা দিয়েছেন।
- ভারতের জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, আসমুদ্রহিমাচল বিস্তৃত ভারতভূমিকে এক শাসনে আবদ্ধ করাই ছিল সমুদ্রগুপ্তের লক্ষ।
- কুষাণ সাম্রাজ্যের পতনের পর ভারতের রাজনীতিতে যে শক্তিশূন্যতা দেখা দেয় গুপ্ত সাম্রাজ্য তা দূর করে।
- সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন সাধুব্যক্তিদের আশাস্বরূপ, আর অসাধুদের জন্য প্রলয়। হরিষেণ সমুদ্রগুপ্তকে মানুষের আকৃতিতে দেবতা তুল্য 'অচিন্ত্যপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৫৩.
ছয় দফা আন্দোলনের ৫ম দফাটি কী ছিল?
  1. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  2. বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  3. আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
  4. মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- আওয়ামী লীগ এ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ইতিহাসে তা ‘ঐতিহাসিক ছয়দফা আন্দোলন' নামে অভিহিত হয়ে আছে।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকাটা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত। 

• দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা। 
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৫৪.
বঙ্গভঙ্গের ফলে নতুন প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় কোথায়?
  1. ক) কলকাতা
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) আসাম
  4. ঘ) দিল্লী
ব্যাখ্যা
- বঙ্গভঙ্গ বিশ শতকের গোড়ার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন অনেক বড় হওয়ায় ১৮৫৩ থেকে ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এর সীমানা পুনর্বিন্যাসের জন্য বৃটিশ সরকারী মহলে অনেক প্রস্তাব আসে।
- শেষ পর্যন্ত মূলত প্রশাসনিক কারণে লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন একটা প্রদেশ সৃষ্টি করেন।
- পূর্ববঙ্গ ও আসাম নতুন প্রদেশের রাজধানী ছিল ঢাকা। 
- পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা এতে খুশী হলেও বাংলার বর্ণ হিন্দুরা এর বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলে।
- তাদের চাপে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে রাজা পঞ্চম জর্জ বঙ্গভঙ্গ বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।


উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৫৫.
সর্বকনিষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম লালু কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ৫ নং
  2. খ) ৬ নং
  3. গ) ৯ নং
  4. ঘ) ১১ নং
ব্যাখ্যা

সর্বকনিষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম লালু ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন ।

-লালু নামে পরিচিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে। 

-তিনি বাংলাদেশে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা।

-তিনি ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:molwa.gov.bd( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)

৩,৩৫৬.
’আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির প্রথম সুরকার কে? 
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আবদুল লতিফ
  3. প্রিন্স মাহমুদ
  4. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ।
- সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে।
- 'রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার।

৩,৩৫৭.
বাঙালি মুসলমানদের মাঝে ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারে কোন মনীষী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
  1. ক) নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ
  2. খ) হাজী মুহাম্মাদ মুহসীন
  3. গ) নওয়াব আবদুল লতিফ
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
বাংলার মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ও ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারে নওয়াব আব্দুল লতিফ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
এ বিষয়ে তিনি সরকারের নিকট মুসলমানদের পক্ষে বিভিন্ন দাবী দাওয়া পেশ করেন। তার প্রচেষ্টায় মুহসিন ফান্ডের অর্থ কেবল মুসলমান ছাত্রদের জন্যে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তিনি ১৮৬৩ সালে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি গঠন করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৩৫৮.
কোন মুঘল সুবেদার লালবাগ কেল্লা নির্মাণ করেন?
  1. মীর মানস
  2. শাহ সুজা
  3. শায়েস্তা খান
  4. ইসমাইল খান
ব্যাখ্যা

লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লা পুরাতন ঢাকার লালবাগে অবস্থিত।
- সতের শতকে ১৬৭৮ সালে সুবাদার আজম শাহ এটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মাঝে এর কাজ বন্ধ হয়ে গেলে ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খান পুনরায় এর কাজ শুরু করে এটি নির্মাণ করেন।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে শায়েস্তা খানের কন্যা 'ইরান দুখত রহমত বানুর' সমাধি অবস্থিত। 
- ইরান দুখত 'পরীবিবি' নামে পরিচিত।
- ১৯১০ সালে লালবাগ কেল্লা প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এর আদি নাম কেল্লা আওরঙ্গবাদ। লালবাগে অবস্থিত হওয়ায় পরে এর নামকরণ করা হয় লালবাগ কেল্লা।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৩,৩৫৯.
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫৫১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৭১ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ: 
- পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে।
- মুঘল সম্রাট আকবর এবং দিল্লির হিন্দু রাজা হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য (হেমু)-র মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- বৈরাম খানের নেতৃত্বে মুঘল বাহিনী হেমুর বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করে ভারতে মুঘল শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সুদৃঢ় করে। 

উল্লেক্য,
- ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে সম্রাট বাবর ভারতবর্ষে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। সম্রাট বাবরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র হুমায়ুন সিংহাসনে বসেন। সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন তাঁর ১৩ বছর বয়সী পুত্র আকবর। সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরোহণের সময় মোগল সাম্রাজ্য ছোট হয়ে কেবল কাবুল, কান্দাহার ও পাঞ্জাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সম্রাট আকবর তাঁর অভিভাবক বৈরাম খাঁর পরামর্শে রাজ্য শাসন করছিলেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৬০.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কবে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ক) ৪ জানুয়ারি ১৯৭২
  2. খ) ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
  3. গ) ৪ এপ্রিল ১৯৭২
  4. ঘ) ৪ জুলাই ১৯৭২
ব্যাখ্যা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

বাংলাদেশকে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি:
- ভুটান (প্রথম দেশ) : ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
- ভারত (দ্বিতীয় দেশ) : ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
- পূর্ব জার্মানি : ১১ জানুয়ারি ১৯৭২
- সোভিয়েত ইউনিয়ন : ২৫ জানুয়ারি ১৯৭২
- মালয়েশিয়া : ৩১ জানুয়ারি ১৯৭২
- সেনেগাল : ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
- যুক্তরাজ্য : ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
- ইরাক : ৮ জুলাই ১৯৭২
- ইন্দোনেশিয়া : ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
- জাপান : ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
- পাকিস্তান : ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
- চীন : ৩১ আগস্ট ১৯৭৫।

(তথ্যসূত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিস্ট দেশগুলোর সরকারি ওয়েবসাইট, নিউইয়র্ক টাইমস ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা)
৩,৩৬১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. সংগ্রাম
  3. স্বাধীন বাংলা
  4. জয় বাংলা
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পত্র-পত্রিকা প্রকাশ করা হয়।
- গণমাধ্যম হিসেবে মূল্যবান অবদান রেখেছে এসব পত্র-পত্রিকা। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় 'সাপ্তাহিক জয়বাংলা'।
- আব্দুল মান্নান এম.এন.এ. ছিলেন এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি।
- জিল্লুর রহমান এম.এন.এ. ছিলেন প্রধান সম্পাদক।
- ১১ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর এটি প্রকাশিত হয়।

এছাড়াও,
- বহির্বিশ্বে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার 'Bangladesh' নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করে।
- গেরিলা আক্রমণ ও সম্মুখ সমরসহ মুক্তিযোদ্ধাদের নানা ধরনের তৎপরতার খবরের পাশাপাশি এই পত্রিকাগুলোতে থাকতো বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম ও নির্দেশাবলী, রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দের বিবৃতি ও তৎপরতা, প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন ও আন্দোলনের খবর এবং বাঙালি কুটনীতিকদের কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৬২.
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা কত সালে প্রবর্তন করা হয়?
  1. ১৭৯৩
  2. ১৭৬৫
  3. ১৭৭২
  4. ১৭৮৯
ব্যাখ্যা

দ্বৈত শাসন ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এর ফল হিসেবে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয় ৷
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩৬৩.
পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়-
  1. ২ মার্চ ১৯৭১ সালে
  2. ৩ মার্চ ১৯৭১ সালে
  3. ৭ মার্চ ১৯৭১ সালে
  4. ৬ মার্চ ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা

- ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ।
- ঐদিনই বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেন ডাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।

৩,৩৬৪.
জুলাই ঘোষণাপত্রে কয়টি দফা রয়েছে?
  1. ২২টি
  2. ২৪টি
  3. ২৬টি
  4. ২৮টি
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- ৫ই আগস্ট, ২০২৫, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে '৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
- ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা।
- ঘোষণাপত্রে মোট ২৮টি দফা রয়েছে, যার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র- জুলাই ঘোষণাপত্র।

৩,৩৬৫.
বাংলাদেশ নৌ বাহিনী আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে -
  1. ক) ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে
  2. খ) ১৯৭১ সালের মে মাসে
  3. গ) ১৯৭১ সালের জুন মাসে
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নৌ-বাহিনী:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জন্ম হয়।
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে ঐতিহাসিক সেক্টর কমান্ডারদের কনফারেন্সের ঘোষণা মোতাবেক বাংলাদেশ নৌ বাহিনী আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
- উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাঙ্গালী অফিসার ও নাবিকগণ পশ্চিম পাকিস্তান ত্যাগ করে দেশে এসে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী গঠন করেন।
- ভারত থেকে প্রাপ্ত 'পদ্মা' ও 'পলাশ' নামের ছোট দুটি গানবোট এবং ৪৯ জন নাবিক নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী।
- জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সমস্ত নাবিকগণ শত্রুর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ ও গেরিলা যুদ্ধে লিপ্ত হন।
- পাশাপাশি ' অপারেশন জ্যাকপট' নামে নির্ভীক ডুবুরীদল সমুদ্র ও নদী বন্দর সমূহে বিধংসী আক্রমণ পরিচালনা করেন।
- এতে হানাদার বাহিনীর ২৬ টি জাহাজ ধ্বংস হয় ও সমুদ্র পথ কার্যতঃ অচল হয়ে পড়ে।
- নৌ বাহিনীর অপারেশনের মধ্যে হিরণ পয়েন্টের মাইন আক্রমণ (১০ নভেম্বর ৭১), মার্কিন ও ব্রিটিশ নৌযান ধ্বংস (১২ নভেম্বর ৭১), চালনা বন্দরে নৌ হামলা (২২ নভেম্বর ৭১), চট্টগ্রাম নৌ অভিযান (০৫ ডিসেম্বর ৭১), পাকিস্তান নৌ ঘাঁটি পিএনএস তিতুমীর অভিযান (১০ ডিসেম্বর ৭১) উল্লেখযোগ্য।
- মহান মুক্তিযুদ্ধে নৌ বাহিনীর দুঃসাহসিক অভিযানে শক্রপক্ষ নৌ পথে দিশেহারা হয়ে পড়ে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বহুসংখ্যক নৌ সদস্য শাহাদৎ বরণ করেন। তাঁদের বীরত্ব ও আত্নত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ শহীদ রুহুল আমিন, ইআরএ-১, কে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রদান করা হয়। এ
- ছাড়া ০৫ জনকে বীর উত্তম, ০৮ জনকে বীর বিক্রম এবং ০৭ জনকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়।
- জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে নৌ বাহিনীর ভূমিকাকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,৩৬৬.
মুক্তিযুদ্ধের কোন সেক্টর কেবল নৌ কমান্ডো দ্বারা গঠিত হয়েছিল?
  1. ক) ১১ নং সেক্টর
  2. খ) ১ নং সেক্টর
  3. গ) ১০ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৯ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে। ১১ এপ্রিল তা পুনর্গঠন করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী
৩,৩৬৭.
'ছয় দফা' কোন তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল?
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে
  2. খ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে
  3. গ) ২৬ মার্চ, ১৯৬৬ সালে
  4. ঘ) ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৬৮.
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে কতটি দফা ছিল?
  1. ক) ১৫টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ২২টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:

- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে ২২ টি দফা ছিল।
- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরীফ কমিশনের শিক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে ছাত্র আন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে।
- ১৯৬২ সালে সালে শিক্ষা আন্দোলন হয়।
- এই আন্দোলন পশ্চিম পাকিস্তানিদের পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ পূর্ব-পাকিস্তানে অসন্তোষ বৃদ্ধি করে।
- ১৯৬১ সালের শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
- গণতন্ত্র পূনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলন দমনে আইয়ুব সরকার গ্রেপ্তার নির্যাতন চালালে ছাত্র গণআন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
- ১০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলে ছাত্ররা ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক দেয়। ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত এবং কয়েক শত আহত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৩,৩৬৯.
কুসুম্বা মসজিদটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) নওগাঁ
  3. গ) নাটোর
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
কুসুম্বা মসজিদ আত্রাই নদীর পশ্চিমতীরস্থ নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার অন্তর্গত কুসুম্বা গ্রামের নাম অনুসারে পরিচিত। বাংলায় আফগানদের শাসন আমলে শূর বংশের শেষ দিকের শাসক গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহ-এর রাজত্বকালে জনৈক সুলায়মান মসজিদটি নির্মাণ করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৩,৩৭০.
ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন হয় -
  1. ক) ব্রিটিশ আমলে
  2. খ) সুলতানি আমলে
  3. গ) স্বাধীন নবাবী আমলে
  4. ঘ) মুঘল আমলে
ব্যাখ্যা
• মুঘল আমল:
 - বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারন করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করে মুঘল আমলে
- আকবর নামা গ্রন্থে ঢাকা একটি থানা (সামরিক ফাঁড়ি) হিসেবে এবং আইন-ই- আকবরী গ্রন্থে সরকার বাজুহার একটি পরগনা হিসেবে ঢাকা বাজু উল্লিখিত হয়েছে।
- ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করে জাহাঙ্গীরনগর।
- প্রশাসনিকভাবে জাহাঙ্গীরনগর নামকরণ হলেও সাধারণ মানুষের মুখে ঢাকা নামটিই থেকে যায়। সকল বিদেশী পর্যটক এবং বিদেশী কোম্পানির কর্মকর্তারাও তাদের বিবরণ এবং চিঠিপত্রে ঢাকা নামটি ব্যবহার করেন।
- ঢাকার সমৃদ্ধি ও স্থাপত্য সমূহ মূলত মুঘল যুগেই শুরু হয়।

উৎস:- ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট ও মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই।
৩,৩৭১.
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচী পালিত হয় কবে?
  1. ৬ জুলাই, ২০২৪
  2. ৭ জুলাই, ২০২৪
  3. ৮ জুলাই, ২০২৪
  4. ৯ জুলাই, ২০২৪
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্লকেড:
- কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
- ৫ জুন, ২০২৪ তারিখে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করার পর আবার এই আন্দোলন শুরু হয়।
- এটি বাতিলের দাবিতে ৭ জুলাই, ২০২৪ তারিখে সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শাহবাগ মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্ধারিত হওয়া এই কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘বাংলা ব্লকেড’।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সে সময় কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার। পরে ২০২১ সালে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করলে গত ৫ জুন এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ফিরে আসে কোটা ব্যবস্থা।
- সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
 
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.

৩,৩৭২.
বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রাপ্তদের মধ্যে নিচের কোন জন সাবেক ই. পি. আর. সদস্য?
  1. ক) মোস্তফা কামাল
  2. খ) রুহুল আমিন
  3. গ) মুন্সি আব্দুর রউফ
  4. ঘ) হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন কে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করেন।
বাহিনী অনুসারে বীরশ্রেষ্ঠবৃন্দ:
- সেনাবাহিনীর : তিনজন
- সাবেক ই. পি. আর : দুইজন
- বিমানবাহিনীর : একজন
- নোবাহিনীর : একজন।
বীরশ্রেষ্ঠবৃন্দ:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।

(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
৩,৩৭৩.
স্যাটেলাইট অধিকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান কত?
  1. ক) ৫৫তম
  2. খ) ৫৬তম
  3. গ) ৫৭তম
  4. ঘ) ৫৮তম
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট – ১: 
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট - ১ নির্মাণ করেছে বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থেলেস এলেনিয়া স্পেস। 
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গায়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার রঙের নকশার ওপর ইংরেজিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু ১। 
- বাংলাদেশ সরকারের একটি মনোগ্রামও রয়েছে এতে।
-  বাংলাদেশ সময় ১১ মে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ তারিখ শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট – ১ মহাকাশে পাঠানো হয়।
-  ফ্যালকন ৯ রকেটের নতুন সংস্করণ ব্লক ফাইভ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে যাত্রা করে নিজস্ব কক্ষপথে।
-  রকেট উৎক্ষেপণের আধা ঘণ্টাখানেক পর স্যাটেলাইটটি কাঙ্ক্ষিত জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে পৌঁছায়।
- এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ ও ডেটা কমিউনিকেশন সেবা পাওয়া যাবে।
- এর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম স্যাটেলাইট সদস্য দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো বাংলাদেশ। 
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা।

উৎস: portal.gov.bd.
৩,৩৭৪.
হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা

→ হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন লর্ড ডালহৌসি।

সামাজিক সংস্কার:
- সংস্কারপন্থী বাঙালি নেতা ও শিক্ষিত শ্রেণির উদারবাদীদের সহযোগিতায় ইংরেজ শাসকরা সামাজিক ধর্মীয় অনেক অমানবিক প্রথা কুসংস্কার দূর করতে সক্ষম হন।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, রাজা রামমোহন রায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো উদারপন্থী হিন্দু নেতৃবর্গ এবং সদর নিজামত আদালতের জজদের অকুণ্ঠ সমর্থনে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে সতীদাহ প্রথা রহিত করতে সক্ষম হন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো বিধবাকে স্বামীর সঙ্গে মরতে বাধ্য করলে তা আইনত দণ্ডনীয় বলে আইন জারি করা হয়।
- লর্ড এলেনবরা-এর সময়ে ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে দাস প্রথা উচ্ছেদ করা হয়।
- লর্ড ডালহৌসি পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করে বিধবা বিবাহের প্রচলন করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৭৫.
হরিকেল জনপদ বিস্তৃত ছিল -
  1. ঢাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত
  2. কুমিল্লা থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত
  3. সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত
  4. নোয়াখালী থেকে ঢাকা চট্টগ্রাম পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
হরিকেল:
- এই জনপদ সম্পর্কে প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ বিস্তৃত ছিল: সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৭৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন কে?
  1. মিয়া গোলাম সামাদ
  2. মোনায়েম খান
  3. আব্দুল মোত্তালিব মালিক
  4. আমির আব্দুল্লাহ নিয়াজী
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান। তবে ১৭ সেপ্টেম্বর টিক্কা খান কে সরিয়ে ডা. আব্দুল মোত্তালিব মালিক কে গর্ভনর করা হয়।
- একই সময়ে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর এই মন্ত্রিসভা পদত্যাগে বাধ্য হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৩,৩৭৭.
ভারতীয় উপমহাদেশে 'খিলাফত আন্দোলন' সূচিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯১৪ সালে
  2. খ) ১৯১১ সালে
  3. গ) ১৯২৪ সালে
  4. ঘ) ১৯১৯ সালে
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন (১৯১৯-১৯২৪) 
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন। 
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের পরাজয় এবং সেভার্স চুক্তির (আগস্ট ১০, ১৯২০) অধীনে তুরস্কের ভূখন্ড ইউরোপীয় শক্তিগুলির মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হওয়ায় ইসলামের পবিত্র স্থানসমূহের ওপর খলিফার অভিভাবকত্ব নিয়ে ভারতে আশংকা দেখা দেয়। 
- এ কারণে তুর্কি খিলাফত রক্ষা এবং গ্রেট ব্রিটেন ও ইউরোপীয় শক্তিগুলির তুরস্ক সাম্রাজ্যকে বাঁচানোর জন্য ১৯১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খিলাফত আন্দোলন শুরু হয়।
- আলী ভ্রাতৃদ্বয় মুহম্মদ আলী ও শওকত আলী,  আবুল কালাম আজাদ, ড. এম.এ আনসারী ও হসরত মোহানীর নেতৃত্বে এ আন্দোলন সূচিত হয়। 
- উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি শহরে খিলাফত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রাদেশিক শাখার বিধানসহ বোম্বাই শহরে একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটি গঠিত হয়। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,৩৭৮.
কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১১ দফা প্রণীত হয়?
  1. ক) বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  2. খ) বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  3. গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবী ঘোষণা করা হয়। এই এগারো দফার মধ্যে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী, ছয়দফা, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার এবং পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত ছিলো। যার কারণে এগারো দফা পূর্ব বাংলার আপামর জনসাধারণের সমর্থন লাভ করে।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৩,৩৭৯.
সেন বংশের কোন রাজা কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন?
  1. লক্ষণ সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. বিজয় সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

• সেন বংশ: 
- সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হেমন্ত সেন। 
- বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের শেষের দিকে সেন বংশের শাসনের সূচনা হয়।
- সেন বংশের শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হেমন্ত সেন হলেও বিজয় সেনের সময়েই বাংলাদেশে সেন বংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- সেন বংশের অন্যতম শাসক বল্লাল সেন যিনি কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন বলে মনে করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় অনেকটা অস্বীকার করা হয়েছে।
- সেন বংশের সর্বশেষ শাসক লক্ষ্মণ সেন ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজির আক্রমণে নদীয়া ত্যাগ করেন এবং বাংলায় সেন বংশের শাসনের পতন হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৮০.
'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালনা করে কোন বাহিনী?
  1. গেরিলা বাহিনী
  2. নৌ বাহিনী
  3. মিত্র বাহিনী
  4. বিমান বাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
৩,৩৮১.
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কারণ নয় কোনটি?
  1. আন্তর্জাতিক খাদ্য সহায়তা পেতে ব্যর্থতা
  2. বার্ষিক খাদ্যশস্য উৎপাদন হ্রাস পাওয়া
  3. সরকারি অব্যবস্থাপনা 
  4. চোরাচালান ও মজুদদারি
ব্যাখ্যা

১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের কারণ:
- ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের পেছনে বেশ কয়েকটি কার্যকারণ রয়েছে।
- প্রথমত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যা: ১৯৭৪ সালে ভয়াবহ বন্যা হয়, যেখানে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যমুনা নদী ছয়বার ভেঙে পড়ে।
- প্রচুর ফসল নষ্ট হয় এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়, ফলে কৃষিকাজে নিয়োজিত দিনমজুররা কাজ হারান।
- কিন্তু, অমর্ত্য সেনের Poverty and Famine গ্রন্থ ও তৎকালই খাদ্যশস্যের উৎপাদনের তথ্য অনুসারে,
- ১৯৭৪ সালে দেশে মোট খাদ্যশস্যের উৎপাদন এবং মাথাপিছু খাদ্যশস্যের প্রাপ্যতা ১৯৭২ বা ১৯৭৩ সালের চেয়ে বেশি ছিল,যা বার্ষিক খাদ্যশস্য উৎপাদন হ্রাস পাওয়াকে দুর্ভিক্ষের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে।

-  দুর্ভিক্ষ অর্থনীতি (Famine Economics): ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে চালের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়, যা নিম্নবিত্তের জন্য খাদ্য দুষ্প্রাপ্য করে তোলে। চালের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়, তবে চোরাচালান ও মজুদদারির ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হয়। অমর্ত্য সেনের ‘অধিকার তত্ত্ব’ (Entitlement Theory) অনুযায়ী, দুর্ভিক্ষ খাদ্যের অভাবে নয়, বরং মানুষের তা কেনার সামর্থ্যের অভাবে ঘটে।

- বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক সাহায্যের অভাব: ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের কারণে খাদ্য ও জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। বাংলাদেশ সরকার তখন আর্থিক সংকটে ছিল এবং পর্যাপ্ত খাদ্য আমদানি করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে খাদ্যসহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, কারণ বাংলাদেশ কিউবার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রেখেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের Public Law 480 (পিএল ৪৮০) অনুসারে, এটি তাদের নীতির পরিপন্থী ছিল। খাদ্যসহায়তা এক বছর দেরিতে আসে, যখন দুর্ভিক্ষ এরই মধ্যে তার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

- ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ একাধিক কারণের সম্মিলিত ফল, যার মধ্যে রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা, বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছিল। যদিও মতাদর্শগত সংঘাত (যেমন, যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্কজনিত সমস্যা) কিছুটা ভূমিকা রেখেছিল, মূলত দুর্নীতি, বাজারে খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে না পারা এবং কার্যকর নীতি গ্রহণের ব্যর্থতার কারণেই এ দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়।

উৎস: বনিক বার্তা ও Poverty and Famines: An Essay on Entitlement and Deprivation, AMARTYA SEN.

৩,৩৮২.
'The State Acquisition and Tenancy Act' কোন সালে প্রণয়ন করা হয়?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫০ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950: 
- 'রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ (১৯৫১ সনের ২৮নং আইন' যা ১৯৫০ সালে প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইনে পূর্ববাংলায় জমিতে খাজনা সংগ্রাহক ও অন্যান্য স্বার্থধারীদের তালুক অধিগ্রহণের বিধান, তালুকে প্রজাদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত আরও অন্যান্য বিষয়ের আইনগত সম্পর্ক সংজ্ঞায়িত করার বিধান রয়েছে।
- আইনটি পাশের আগে এদেশের কৃষিসংক্রান্ত আইন বলতে প্রধানত ছিল ১৭৯৩ সালের বঙ্গীয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবিধান ও বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫। 
- দেশ বিভাগের পর পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিল প্রণয়ন করে ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চ তা প্রকাশ করা হয়।
- তারপর এই বিলটিকে আইন পরিষদের বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়।
- এই পরিপ্রেক্ষিতে বিলটি পাস হওয়ার পর ১৬ মে ১৯৫১ সালে বিলে প্রয়োজনীয় অনুমোদনমূলক সম্মতি পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য,
- এই আইনের আওতায় সরকার দেশের একমাত্র জমিদারে পরিণত হয় এবং সরকার পর্যায়ক্রমে জমিতে সকল খাজনা-আদায়ি স্বার্থ অধিগ্রহণ করে।
- এই আইনের ৩ নং ধারা বলবৎ হওয়ায় জমির সকল মালিক সরকারের প্রত্যক্ষ প্রজায় পরিণত হয়।
- এই আইনবলে সরকার হাটবাজার, ফেরি ও মাছ উৎপাদনমূলক জলভাগের মালিক ও ব্যবস্থাপক হয়।
- এই আইনে ১৫২টি ধারা রয়েছে।
- এগুলি পাঁচটি অংশ ও উনিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত।

উৎস: ভূমি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৩,৩৮৩.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে ব্যবহৃত মানচিত্রের রঙ কী?
  1. লাল
  2. সবুজ
  3. সাদা
  4. হলুদ 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজাইনার - নিত্যানন্দ সাহা (এনএন সাহা)।
- এই মনোগ্রামে রয়েছে লাল বৃত্তের মাঝখানে হলুদ রংঙের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপরে লেখা ’গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’, নিচে লেখা ’সরকার’ এবং বৃত্তের দুপাশে রয়েছে ২ টি করে মোট ৪ টি তারকা।

উৎস: - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,৩৮৪.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন- ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠিত হয় কবে?
  1. ১৬ জুন, ১৯৭২
  2. ২৬ জুন , ১৯৭২
  3. ১৬ জুলাই, ১৯৭২
  4. ২৬ জুলাই, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম - কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন (১৯৭২) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন'।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে, এবং ঐসব মতামত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাছাই করে প্রণীত রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করে।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৮৫.
ফা-হিয়েন কোন ধর্মের তীর্থযাত্রী ছিলেন?
  1. হিন্দু ধর্ম
  2. শৈব ধর্ম
  3. বৌদ্ধ ধর্ম
  4. খ্রিস্ট ধর্ম
ব্যাখ্যা

• ফা-হিয়েন:
- ফা-হিয়েন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন ও তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন।
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তাঁর বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।
- তিনি তাঁর ভ্রমণের অধিকাংশ সময়ই মধ্য ভারত বা মগধ পরিভ্রমণ অতিবাহিত করেন।
- তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল সে সময়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুক)।
উল্লেখ্য,
- চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
- ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে।
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৮৬.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রধান ছিলেন কে?
  1. আব্দুস সাত্তার
  2. মনজুর কাদের
  3. এস এ রহমান
  4. মুকসুমুল হাকিম
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলায় আসামী করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
এই মামলার বিচারের জন্যে গঠিত ট্রাইব্যুনাল:
- প্রধান বিচারপতি : এস এ রহমান
- সদস্য : এম আর খান
- মুকসুমুল হাকিম।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি:
- মনজুর কাদের
- অ্যাডভোকেট জেনারেল টি. এইচ. খান।
বাদী পক্ষের আইনজীবী:
- আবদুস সালাম খান
- স্যার টমাস উইলিয়াম।
- এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
- এর ফলে ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
৩,৩৮৭.
বাংলাদেশের খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত বীর বিক্রম একমাত্র মুক্তিযোদ্ধার নাম কী?
  1. ইউ কে চিং
  2. আশুতোষ চাকমা
  3. মং প্রু
  4. অংশু চাকমা
ব্যাখ্যা
ইউ কে চিং মারমা:
- ইউ কে চিং মারমা ১৯৩৭ সালে বান্দরবানে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৫২ সাল থেকে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে কর্মরত ছিলেন।
- আদিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে একমাত্র তিনি খেতাব লাভ করেন।
- সম্মুখ যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে মুক্তিযুদ্ধের তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীর বিক্রম’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ ইপিআরের নায়েক হিসেবে রংপুর জেলার হাতিবান্ধা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন ইউ কে চিং।
- সেখান থেকে মেজর বাশারের নেতৃত্বে ৯ বাঙালি ইপিআর সৈনিক নিয়ে পাটগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ করেন।
- তিনি কর্মরত বিহারি ও দুই পাঞ্জাবিকে হত্যা করেন। 
- অপারেশন চালান রংপুর, লালমনিরহাট, পাখিউড়া, কাউয়াহাট, বাগভাণ্ডার, হাতিবান্দা, চৌধুরীহাট, ভূরুঙ্গামারী, জয়মনিরহাট, রায়গঞ্জ, নাগেশ্বরী, তিস্তা নদী, কুলাঘাট প্রভৃতি স্থানে।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘দি বাংলাদেশ গেজেট-এক্সট্রা অর্ডিনারি পাবলিশড বাই অথরিটি’ বইয়ের ক্রমিক নম্বর ১০০-তে তার ‘বীর বিক্রম’ প্রাপ্তির উল্লেখ আছে। 

উল্লেখ্য,
- ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: ২৬ জুলাই,২০১৪, bdnews24.com
৩,৩৮৮.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র প্রথম কোথা থেকে প্রচার শুরু করে?
  1. ক) কুষ্টিয়া
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) বেনাপোল
  4. ঘ) কালুরঘাট
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
পরবর্তীতে, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্থায়ী সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর স্বাধীন দেশের বেতার কেন্দ্র হিসেবে এর নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ বেতার’। বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসে এবং সেদিন থেকেই স্বাধীন দেশের রেডিও হিসেবে বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কাজ শুরু হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৮৯.
হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. ঢাকা
  3. গৌড়
  4. লক্ষ্মনাবতী
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন:

- হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬) মুগল সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানী গৌড়ের নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।
- হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৯০.
পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে কত সালে?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি:

- পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ১৯৭৪ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি।
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত ও ভূটান বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়
- ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যসহ সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া নেদাল্যান্ডস এবং জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশকে।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ২৬ মার্চ ২০২১।
৩,৩৯১.
বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের প্রধান কারণ কী?
  1. আদর-যত্নের অভাব
  2. দারিদ্র্য
  3. মাতাপিতার বিবাহবিচ্ছেদ
  4. চিত্তবিনোদনের অভাব
ব্যাখ্যা

• কিশোর অপরাধের ধারণা:
- সাধারণভাবে রাষ্ট্র বা সমাজ স্বীকৃত নয় এমন কাজকে অপরাধ বলে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ।

- বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়।
- পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়স ৭ থেকে ১৮ বছর।
- আর জাপানে এ বয়সসীমা ১৪ থেকে ২০ বছর। কিশোর বয়সে এরা রাষ্ট্র ও সামজের আইন ও নিয়ম ভাঙে বলেই তারা কিশোর অপরাধী।

• কিশোর অপরাধের কারণ:
- বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য।
- বাড়ির বাইরে বা কর্মস্থলে অতি ব্যস্ততার কারণে মাতাপিতার পক্ষে তাঁদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় বা মনোযোগ দিতে না পারা, 
- আদর-যত্নের অভাব, 
- মাতাপিতার অকালমৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদ, 
- অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের কারণেও অনেক কিশোর ধীরে ধীরে অপরাধী হয়ে ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৩৯২.
মুক্তিযুদ্ধে ডা. সিতারা বেগম কোন সেক্টরের ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’-এ চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ২ নং সেক্টর
  3. ৫ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে মোট ৬৭৬ বীর যোদ্ধাকে বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে।
- তাদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন। একজন হলেন ডা. সেতারা বেগম এবং অন্যজন তারামন বিবি; যাদের ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিত্সাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে। নাম ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’। ডা. সিতারা বেগম বাংলাদেশ হাসপাতালে অসাধ্য সাধনের মতো সব কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধে এ মহীয়সী নারীর সাহসী আবদানের জন্য তাঁকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭২ সালে জেনারেল ওসমানী চিঠি দিয়ে তাঁকে বীর প্রতীক খেতাব পাওয়ার কথা জানান। তারপর তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়।

অন্যদিকে,
- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- কাঁকন বিবি ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বীরযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও গুপ্তচর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিপক্ষে মুক্তিবাহিনীর হয়ে ৫ নং সেক্টরের গুপ্তচরের কাজ করেন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

৩,৩৯৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে 'ভেটো' প্রদান করে কোন দেশ?
  1. ভারত
  2. ফ্রান্স
  3. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. চীন
ব্যাখ্যা
সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভূমিকা:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে অধুনালুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।
- পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান।
- তিনি ইয়াহিয়াকে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন।
- সোভিয়েত পত্রপত্রিকা, প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের কাহিনি ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
- জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব সোভিয়েত ইউনিয়ন 'ভেটো' (বিরোধিতা করা) প্রদান করে বাতিল করে দেয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে কিউবা, যুগোস্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানিসহ তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন জানায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,৩৯৪.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী কে ছিলেন?
  1. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। 
- তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

সূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৯৫.
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।”-গানটির রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা

 “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।”
- এই কবিতাটি রচনা করেছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে ছাত্রমিছিলে গুলি চালানোর প্রেক্ষাপটেই রচিত হয়েছিল কবিতাটি।
- এটি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ও মোহাম্মদ সুলতান কর্তৃক প্রকাশিত “একুশে ফেব্রুয়ারি” সংকলনে 'একুশের গান' হিসেবে ছাপা হয় ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে।
- এটি প্রথমে সুর করেন - আবদুল লতিফ এবং বর্তমানে যে সুরে গাওয়া হয়, তা করেছেন - আলতাফ মাহমুদ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৯৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. অ্যালেক্সি কেসিগিনি
  2. নিকোলাই পদগর্নি
  3. এনলাই কিসিন
  4. আন্দ্রে গোমিসিন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্ব:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন রিচার্ড নিক্সন,
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এডওয়ার্ড হিথ,
- ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও রাষ্ট্রপতি ছিলেন ভিভি গিরি।
- রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন  আলেক্সি কোসিগিন,
- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন নিকোলাই পদগর্নি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও সংগ্রামের নোটবুক।
৩,৩৯৭.
বাংলাদেশে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি চালু হয় কোন সালে?
  1. ১৯৯৩ সাল
  2. ১৯৯০ সাল
  3. ১৯৯১ সাল
  4. ১৯৯৪ সাল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি চালু হয়-  ১৯৯৩ সালে ।

খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচির সূচনা

- ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশের শিক্ষা খাত গভীর সংকটে ছিল।
- দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার এবং লিঙ্গবৈষম্যের কারণে লাখ লাখ শিশু, বিশেষ করে মেয়েরা, স্কুলের বাইরে থেকে যেত।
- এ বঞ্চনা বাল্যবিবাহ, উচ্চ জন্মহার এবং নারীর অশিক্ষার এক দুষ্টচক্রকে স্থায়ী করে তোলে, যা জাতীয় উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

- ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকার ‘ফুড ফর এডুকেশন’ কর্মসূচি চালু করে, যা পরে নগদ সহায়তা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। 
- এই কর্মসূচির মূলনীতি ছিল দরিদ্র পরিবারগুলোকে খাদ্যশস্য বা নগদ অর্থ দেওয়ার শর্তে তাদের মেয়েসন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো। এ উদ্যোগ দরিদ্র পরিবারের জন্য শিক্ষার খরচ কমিয়ে দেয় এবং মেয়েসন্তানদের শিক্ষা গ্রহণে শক্তিশালী উৎসাহ সৃষ্টি করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং প্রথম আলো।

৩,৩৯৮.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কত তারিখে গঠিত হয়?
  1. ১ অক্টোবর, ১৯৪৭
  2. ২ মার্চ, ১৯৪৮
  3. ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা

• ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:
- ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। 
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ২৮ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

- ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের বৈঠক বসে।
- এই বৈঠকে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখ নেতা ১৪৪ ধারা অমান্য করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পক্ষে জোরালো মত দেন।
- অবশেষে সভায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় (বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চত্বর) ছাত্রদের সভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
------------------
অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়– ১ অক্টোবর, ১৯৪৭। এর আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
- দ্বিতীয় বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় - ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামছুল আলম।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক, স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (১ম খন্ড), ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC Programme, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৯৯.
'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' স্লোগানটি প্রথম উঠে আসে কখন?
  1. ১৯ মার্চ ১৯৫০
  2. ১১ মার্চ ১৯৪৮
  3. ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন:
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহ্বানে ১১ই মার্চ ১৯৪৮ ধর্মঘট পালিত হয়।
- আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ।
- ১১ই মার্চ ১৯৪৮ 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' স্লোগানসহ মিছিল করার সময় পুলিশের লাঠিচার্জে করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদ, কাজী গোলাম মাহবুবসহ অনেকেই গ্রেফতার হন।
- ফলে ১৩-১৫ই মার্চ আবার ধর্মঘট পালিত হয়।
- ১৫ই মার্চ মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
- ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হয়।
- কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন।
- এবং বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪০০.
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা'-কে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় কোথায়?
  1. ক) মুজিবনগরে
  2. খ) ঢাকার পল্টনে
  3. গ) আগরতলায়
  4. ঘ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলাকে বিভক্ত করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করে যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’- সঙ্গীতটি রচনা করেন।
- বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
- এ গানটি ১৯৭১ সালের ৩রা জানুয়ারি ঢাকায় এক বিশাল জনসভায় এবং পরে ৩রা মার্চ ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ আয়োজিত জনসভায় পুনরায় গাওয়া হয়।
- মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার এই গানকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত প্রচার হতো। 
- স্বাধীনতার পরে সাংবিধানিকভাবে ( অনুচ্ছেদ ৪.১)-এ ‘আমার সোনার বাংলা’ গণপ্রজাতন্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতরূপে ঘোষিত হয়। 
- এই গানের প্রথম ১০ লাইন কণ্ঠসঙ্গীত এবং প্রথম ৪ লাইন যন্ত্রসঙ্গীত হিসেবে পরিবেশনের বিধান রাখা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।