বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৩০ / ১২৪ · ২,৯০১৩,০০০ / ১২,৪২১

২,৯০১.
নবাব সিরাজউদ্দৌলা বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন কত সালে?
  1. ১৭৫৫ সালে
  2. ১৭৫৬ সালে
  3. ১৭৫৭ সালে
  4. ১৭৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

সিরাজউদ্দৌলা:
- সিরাজউদ্দৌলা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন ১৭৫৬ সালে।
- আলীবর্দী খানের কোনো পুত্র ছিল না।
- তার তিন কন্যা আমেনা, ময়মুনা ও ঘষেটি ।
- ময়মুনা ও আমেনার দুই পুত্র ছিল।
- কিন্তু ঘষেটি বেগমের কোনো পুত্র ছিল না।
- আলীবর্দী খান আমেনার পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন।
- এ কারণে তাঁকেই তাঁর জীবিতকালে বাংলার নবাব পদে মনোনীত করে যান।
- আলীবর্দী খান দৌহিত্য ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।
- সিরাজ ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- তাঁর পিতার নাম মির্জা মুহম্মদ হাসিম মইনুদ্দীন খান।
- ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯০২.
১৯৩৭ সালের নির্বাচনে ফজলুল হকের নিকট পরাজিত হন মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা -
  1. ক) মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খ) খাজা নাজিম উদ্দিন
  3. গ) শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. ঘ) মাওলানা আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা
১৯৩৭ সালের নির্বাচনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এই নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরাট সাফল্য লাভ করে। যদিও পাঞ্জাব এবং সিন্ধুতে তাদের এত সাফল্য অর্জিত হয়নি । বাংলায় তাদের এ সাফল্যের কারণ ছিল—
ক. মুসলিম লীগের প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ।
খ. নির্বাচনী প্রচারণার জন্য নিজস্ব তহবিল ।
গ. দৈনিক আজাদ ও স্টার অব ইন্ডিয়ার মতো জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোর মুসলিম লীগের পক্ষে প্রচারণা । এবং
ঘ. শিক্ষিত সচেতন মুসলিম বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র সমাজের মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মুসলিম লীগকে সমর্থন দান,
ঙ. সোহরাওয়ার্দীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ইত্যাদি ।

তবে নির্বাচনে মুসলিম লীগের এ সাফল্য কিছুটা হলেও ম্লান হয়েছিল দলের প্রভাবশালী নেতা খাজা নাজিম উদ্দিনের নিজ জমিদারি পটুয়াখালীতে শোচনীয় পরাজয় । কৃষক-প্রজা পার্টির এ. কে. ফজলুল হক তাঁকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। নাজিম উদ্দিনের এ পরাজয় ফজলুল হকের গ্রাম বাংলায় বিপুল জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে। কৃষক-প্রজা পার্টির প্রতিনিধিগণও সাধারণ মানুষের আস্থা লাভ করেছিল। তাদের ঘোষিত ‘ডাল-ভাত' কর্মসূচি ছিল মূলত দরিদ্র জনগোষ্ঠীরই কর্মসূচি। এ নির্বাচনে আরেকটি লক্ষণীয় ব্যাপার হলো মুসলিম রাজনীতিতে অভিজাত শ্রেণীর প্রভাব হ্রাস এবং শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রতিষ্ঠা লাভ ।
 
উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, ইতিহাস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৯০৩.
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব কোন সংস্থার?
  1. BRTA
  2. BIWTA
  3. BRTC
  4. BSEC
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA): 
- BIWTA বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পরিচালনা করে। 
- অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ৩১ অক্টোবর, ১৯৫৮ সালে East Pakistan Inland Water Transport Authority Ordinance 1958 জারি করে।
- ৪ নভেম্বর, ১৯৫৮ সালে সরকার একটি তিন সদস্যের কর্তৃপক্ষ গঠন করে, যা East Pakistan Inland Water Transport Authority (EPIWTA) নামে পরিচিত।
- BIWTA ১৯৫৮ সালের ওই অধ্যাদেশের মাধ্যমে EPIWTA-এর উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- BIWTA-কে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও জলপথের উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশে প্রায় ২৪,০০০ কিমি দীর্ঘ নদী, খাল এবং স্রোতধারা রয়েছে, যা দেশের মোট ভূমির প্রায় ৭% কভার করে।
- বর্ষাকালে ৫,৯৬৮ কিমি এবং শুষ্ক মৌসুমে ৩,৮৬৫ কিমি নৌযান চলাচলযোগ্য।
- ৫০% আর্টেরিয়াল পণ্য পরিবহন এবং ২৫% যাত্রী পরিবহন এই খাতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
- বর্ষাকালে নৌপরিবহন নেটওয়ার্কের ব্যাপক প্রসার ঘটে।
- BIWTA বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পরিচালনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: BIWTA ওয়েবসাইট। 

২,৯০৪.
১৯৬২ সালের শিক্ষা কমিশনের নাম কী ছিল?
  1. জিন্নাহ কমিশন 
  2. নূরুল হুদা কমিশন
  3. কুদরত-ই-খুদা কমিশন
  4. শরিফ কমিশন
ব্যাখ্যা

১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরিফ কমিশনের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে ছাত্র আন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে।
- এ প্রতিবেদনের সুপারিশে ছাত্রদের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
ফলে কঠোর আন্দোলন শুরু হয়।
- এ আন্দোলন 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' নামে পরিচিত।
- ১৫ই আগস্ট থেকে ১০ই সেপ্টেম্বর প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৭ই সেপ্টেম্বর হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত এবং কয়েকশ' আহত হয়।
- এ আন্দোলনের ফলে শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত হয়।
- এই আন্দোলনের ফলে ছাত্ররা আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

২,৯০৫.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১টি
  2. খ) ১৯টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ৬৪টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি।
২,৯০৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালনা করে-
  1. যৌথ বাহিনী
  2. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী
  3. বাংলাদেশ নৌবাহিনী
  4. বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।

- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট ১৯৭১ সালে।
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর - চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১। 
২,৯০৭.
২১ দফার প্রথম দফা কোনটি?
  1. ক) একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা
  2. খ) পূর্ব বাংলাকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান
  3. গ) জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ
  4. ঘ) বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে একুশ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- একুশ দফা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।
- ২১ দফার প্রথম দফা ছিলো বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
- ২১ দফার মধ্যে ভাষা সংক্রান্ত দফা ৫ টি যথা - ১,১০,১৬,১৭,১৮ । 

এছাড়া অন্যান্য দাবীর মধ্যে ছিলো:
- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
- বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত করা
- অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন প্রভৃতি।

উৎস- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৯০৮.
খিলাফত আন্দোলনের যুগপৎ কোন আন্দোলনটি সংঘটিত হয়?
  1. ক) স্বদেশী আন্দোলন
  2. খ) অসহযোগ আন্দোলন
  3. গ) ভারত ছাড় আন্দোলন
  4. ঘ) আলীগড় আন্দোলন
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খেলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ খেলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
একই সময়ে চেমসফোর্ড-মন্টেগু সংস্কার আইন, রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড প্রভৃতি ইস্যুতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন পরিচালিত হয়।
এ দুটি আন্দোলন তখন সমগ্র ভারতবর্ষে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের খেলাফত বিলুপ্ত করলে খেলাফত আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৯০৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ২ নং
  2. ৪ নং
  3. ৫ নং
  4. ১ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

তন্মধ্যে,
- চট্টগ্রাম: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা: ২ নং সেক্টর,
- রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী: ৭ নং সেক্টর,
- মুজিবনগর: ৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন: ৯ নং সেক্টর।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল: ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও -বঙ্গোপসাগর)।

উল্লেখ্য,
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৯১০.
আগরতলা মামলার রাজসাক্ষী কতজন ছিল?
  1. ০৯ জন
  2. ১১ জন
  3. ১৭ জন
  4. ২৭ জন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:

- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১১.
'অপারেশন কিলো ফ্লাইট' পরিচালনা করে -
  1. মুক্তিবাহিনী
  2. নৌ বাহিনী
  3. বিমান বাহিনী
  4. মিত্র বাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন কিলো ফ্লাইট:

- অপারেশন কিলো ফ্লাইট নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস।
- ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অপারেশনগুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম।
- এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা।
- ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

তথ্যসুত্র - ডেইলি স্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২।
২,৯১২.
ইলিয়াস শাহ কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. জর্ডান
  2. ইরাক
  3. ইরান
  4. আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন। 
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন। 
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে। 
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন।
- পরে আলী মুবারক বাংলাদেশে চলে আসেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই লখনৌতির শাসনকর্তা কদর খানের প্রধান সেনাপতি হন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাও দখল করেন।
- এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯১৩.
নাচোল বিদ্রোহ বাংলাদেশের কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
  1. নাটোর
  2. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  3. লালমনিরহাট
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
নাচোল বিদ্রোহ: 
- নাচোল বিদ্রোহ বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সংঘটিত হয়েছিল।
- এটি ১৯৪৯-৫০ সালে সাঁওতাল কৃষকদের জমি ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম হিসেবে পরিচিত।
- নাচোল বিদ্রোহ তেভাগা, নানকার এবং টঙ্ক আন্দোলনের মতো একটি কৃষক বিদ্রোহ, এটি মূলত কমিউনিস্ট পার্টির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- বিদ্রোহের প্রধান কারণ ছিল সাঁওতাল কৃষকদের জমির অধিকার না থাকা এবং জোতদারদের দ্বারা শোষণ।
- সাঁওতাল চাষিরা ফসল উৎপাদনের পরও জমির ওপর মালিকানা পেত না এবং তাদের উৎপাদিত ফসলের বড় অংশ জোতদারদের দিতে হতো।
- এই শোষণের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা খাজনা বন্ধ করে দেন এবং ফসলের বৃহত্তর ভাগ দাবির জন্য আন্দোলনে নামেন। বিদ্রোহ চলাকালে সংঘর্ষ, পুলিশ নিহত, এবং জোতদারদের ঘরবাড়ি লুটের ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য: 
- নাচোল উপজেলার জমিদারদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল কৃষকদের বিদ্রোহের নেত্রীর নাম ইলা মিত্র।
- ইলা মিত্রসহ নেতারা বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পুলিশ বিদ্রোহ দমন করতে কঠোর পদক্ষেপ নিলেও পরবর্তীতে ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন সাঁওতালদের জমির অধিকার স্বীকৃতি দেয়।  

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,৯১৪.
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমানের পদবী কী ছিল?
  1. ক) সিপাহী
  2. খ) ফ্লাইট ক্যাপ্টেন
  3. গ) ল্যান্স নায়েক
  4. ঘ) উপরের কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ গণ-
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
২,৯১৫.
১৯৭১ সালের কত তারিখে নিউ ইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজন করা হয়?
  1. ২৫শে মার্চ
  2. ২৬শে জুন
  3. ২৪শে জুলাই
  4. ১লা আগস্ট
ব্যাখ্যা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশেঃ
- বিশ্বখ্যাত ভারতীয় সেতরাবাধক রবিশঙ্কর এবং তার বন্ধু ছিলেন গিটারবাধক জর্জ হ্যারিসন। 
- উভয়ে মিলে ১লা আগস্ট ১৯৭১ তারিখে নিউ ইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি বেনিফিট কনসার্ট আয়োজন করেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে ও শরণার্থীদের সাহায্যে তহবিল সংগ্রহ ছিল এই কনসার্টের উদ্দেশ্য।
- সংগীতানুষ্ঠানটি কনসার্ট ফর বাংলাদেশে নামে পরিচিত।
- কনসার্টে সংগৃহীত অর্থ - ইউনিসেফ এর মাধ্যমে শরণার্থীদের জন্যে দিয়ে দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৯১৬.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক কী ছিল?
  1. হারিকেন
  2. নৌকা
  3. কোদাল
  4. বই
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:

- যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল মূলত ৪টি।
• আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী)।
• কৃষক প্রজাপার্টি (এ. কে. ফজলুল হক)।
• নেজামে-ই-ইসলাম (মাওলানা আতাহার আলী)।
• গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ)।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্টের প্রধান অফিস সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রোডে।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৯১৭.
'মহেশখালী দ্বীপ' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ভোলা
  3. নোয়াখালী
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
মহেশখালী:
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী।
- ১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহেশখালী দ্বীপ সৃষ্টি হয়।
- কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা মহেশখালী।
- এর আয়তন ৩৬২.১৮ বর্গ কিমি।
- ১৯৮৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসন মহেশখালী থানাকে উপজেলায় রুপান্তরিত করে।
- আদিনাথ মন্দির, মৈনাক পর্বত, সোনাদিয়া দ্বীপ, রাখাইনদের কেয়াং সহ বেশ কিছু দর্শণীয় স্থান রয়েছে মহেশখালীতে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,৯১৮.
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম আসেন-
  1. ক) ইংরেজরা
  2. খ) ওলন্দাজরা
  3. গ) ফরাসিরা
  4. ঘ) পর্তুগিজরা
ব্যাখ্যা
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
- পনেরো শতকের শুরু থেকেই তারা বাণিজ্যের জন্য দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা শুরু করে।
- ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে ভাস্কো ডা গামার কালিকটে পৌঁছার কয়েক দশক পরে বাংলায় পর্তুগিজদের আগমন ঘটে।
- পনেরো শতকের শেষ দিক হতেই এশিয়া থেকে মসলা আহরণের উদ্দেশ্যে ভেনিস ও আরব বণিকদের এড়িয়ে বিকল্প পথ অনুসরণের ফলেই এদেশে পর্তুগিজদের অনুপ্রবেশ ঘটে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২,৯১৯.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য-প্রস্থের অনুপাত কোনটি?
  1. ৮ : ৫
  2. ১০ : ৬
  3. ১১ : ৮
  4. ১১ : ৭
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- আয়তাকার এই পতাকার অনুপাত হচ্ছে অনুপাত: ১০ : ৬ (৫ : ৩)।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

⇒ ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পতাকা উত্তোলন করেন সে পতাকার আদলে মুজিবনগর সরকার জাতীয় পতাকার নমুনা নির্ধারণ করেন।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।
- তিনি একজন ছাত্রনেতা ও স্বভাব আঁকিয়ে ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১১৬ নং কক্ষে রাত এগারটার পর পুরো পতাকার নকশা সম্পন্ন করেন।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।

উল্লেখ্য
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে উত্তোলিত হয়েছিল।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন হয় কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- সংবিধানের ৪নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।

উৎস: i) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
ii) ২ মার্চ, ২০২২, প্রথম আলো।
২,৯২০.
কোন ভাষা শহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন?
  1. আব্দুল জব্বার
  2. আবুল বরকত
  3. শফিউর রহমান
  4. রফিক উদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

• ভাষা শহীদ আবুল বরকত (১৯২৭-১৯৫২) 
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৩ জুন (মতান্তরে ১৬ জুন) মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর থানার বাবলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর ডাক নাম আবাই।
- তাঁর পিতার নাম সামসুজ্জোহা এবং মাতা হাসিনা বিবি। 
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় আসেন।
- ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন এবং এম.এ শেষ পর্বে ভর্তি হন।

• ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার (১৯১৯-১৯৫২):
- ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার ১০শে অক্টোবর ১৯১৯ইং বা বাংলা ২৬শে আশ্বিন ১৩২৬ বঙ্গাব্দ ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতার নাম হাছেন আলী এবং মাতার নাম সাফাতুন নেছা। 
- তিনি ধোপাঘাট কৃষিবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন এবং পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে লেখাপড়া শেষ করেন।

• ভাষা শহীদ শফিউর রহমান (১৯১৮-১৯৫২)
- ২৪শে জানুয়ারী ১৯১৮ সালে কোননগর, হুগলী, চব্বিশ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গে ভাষা শহীদ শফিউর রহমান জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম মৌলবী মাহবুবুর রহমান।
- শফিউর রহমান কলকাতা গভর্ণমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজ থেকে আই.কম. পাশ করেন। তারপর চব্বিশ পরগণার সিভিল সাপ্লাই অফিসে কেরানির চাকুরি গ্রহণ করেন। 

• ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ,  (১৯২৬-১৯৫২)
- ১৯২৬ সালের ৩০ অক্টোবর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার পারিল গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে বায়রা স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন।
- মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে অধ্যয়নকালে তিনি পড়াশুনা বন্ধ করে ঢাকায় চলে আসেন এবং পিতার মুদ্রণশিল্প ব্যবসায়ে নিয়োজিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং bdnews24.

২,৯২১.
BARD-এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. মোহাম্মদ আইউব খান
  2. আব্দুল্লাহ হামিদ খান
  3. আখতার হামিদ খান
  4. আলতাফ হামিদ খান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (BARD):
- বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ী এলাকায় অবস্থিত।
- বার্ড ১৯৫৯ সালের ২৭ মে পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
- বার্ড স্থানীয় সরকার, পল্লী ‍উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- BARD এর প্রতিষ্ঠাতা আখতার হামিদ খান।
- ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে বার্ড পরিচালিত হয়।
- মহাপরিচালক একাডেমির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যাকে একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও নয় জন পরিচালক সহায়তা প্রদান করে থাকে। 
- পল্লী উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বার্ড ১৯৮৬ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৯২২.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে কোন শাসকের পতন ঘটে? 
  1. টিক্কা খান
  2. আইয়ুব খান
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. জুলফিকার আলি ভুট্টো
ব্যাখ্যা

• ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- আসাদউজ্জামান বা শহীদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ  সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহামেদ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া। 

২,৯২৩.
বর্তমান শহিদ মিনার উদ্বোধন করা হয় কবে?
  1. ১৯৬১ সালে
  2. ১৯৬২ সালে
  3. ১৯৬৩ সালে
  4. ১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
শহিদ মিনার:
- শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহিদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহিদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহিদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহিদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
২,৯২৪.
খান জাহান আলী কোন আমলে বাংলায় আসেন?
  1. ক) সেন
  2. খ) মুঘল
  3. গ) পাল
  4. ঘ) সুলতানি
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর - সুলতানি আমলে।

• খান জাহান আলী:

- খান জাহান ছিলেন একজন প্রখ্যাত সুফিসাধক।
- বৃহত্তর যশোর ও খুলনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত এলাকার আঞ্চলিক শাসক।
- তিনি খান জাহান আলী নামে সমধিক পরিচিত।
- তাঁর উপাধি ছিল ‘উলুগ খান’ ও ‘খান-ই-আযম’।
- তিনি পনেরো শতকের প্রথমার্ধে খলিফাতাবাদে (বাগেরহাটে) শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
- ষাট গম্বুজ মসজিদটি নির্মাণ করেন খান জাহান আলী।
- এ সময়ে পরবর্তী ইলিয়াসশাহী বংশের  নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ (১৪৩৫-১৪৫৯) গৌড়ের সুলতান ছিলেন।
- ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত ষাট গম্বুজ মসজিদ, এটি বৃহত্তম মসজিদটি সুলতানি আমলে নির্মিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৯২৫.
During Liberation war, Barisal was under sector number -
  1. Sector 3
  2. Sector 4
  3. Sector 6
  4. Sector 9
  5. Sector 11
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
 
সেক্টরগুলো:
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম,
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ,
- ৩নং সেক্টর: কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ, 
- ৪ নং সেক্টর: মৌলভীবাজার ও সিলেটের পূর্বাংশ, 
- ৫নং সেক্টর: সিলেট ও সুনামগঞ্জ, 
- ৬নং সেক্টর: রংপুর, দিনাজপুর,
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা,
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর,
- ৯নং সেক্টর: খুলনা, বরিশাল,
- ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ।
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৯২৬.
বাংলায় বংশানুক্রমিক শাসনের সূচনা হয়-
  1. ক) পাল বংশের মাধ্যমে
  2. খ) সেন বংশের মাধ্যমে
  3. গ) গুপ্ত বংশের মাধ্যমে
  4. ঘ) মৌর্য বংশের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
পাল বংশের মাধ্যমে বাংলায় বংশানুক্রমিক শাসনের সূত্রপাত হয়। গোপাল প্রতিষ্ঠিত এ বংশের শাসন চলে নানা ধরনের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে আঠারো পুরুষ ধরে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২,৯২৭.
নিচের কোনটি 'বাংলার মুক্তির সনদ' নামে পরিচিত?
  1. ক) ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ
  2. খ) লাহোর প্রস্তাব
  3. গ) ৬ দফা
  4. ঘ) স্বাধীনতার ঘোষণা
ব্যাখ্যা
'ছয় দফা':
৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা‘ ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত। - পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
 - 'বাংলার মুক্তি সনদ' নামে পরিচিত- ৬ দফা। 1 ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালন করা হয়।

ক্রমানুযায়ী দফা গুলো হলো:-
• প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
• দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
• তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
• চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
• পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা ।
• ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৯২৮.
ইউনেস্কো কবে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে?
  1. ক) ১৯৯২ সালে
  2. খ) ১৯৯৭ সালে
  3. গ) ১৯৯৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সভায় ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
- এর ফলে ২০০০ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
(তথ্যসূত্র: ইউনেস্কো ওয়েবসাইট)
২,৯২৯.
মুক্তিযুদ্ধে হেমায়েত বাহিনী গঠন করা হয় কোন জেলায়?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. বরিশাল
  4. টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
২,৯৩০.
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর- ২ এর অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. মেজর খালেদ মোশাররফ
  2. মেজর কে এম শফিউল্লাহ
  3. মেজর সি আর দত্ত
  4. মেজর জলিল
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,৯৩১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন জায়গার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর?
  1. মেহেরপুর
  2. চন্দ্রনাথ
  3. বৈদ্যনাথতলা
  4. স্বরূপকাঠি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
→ মুক্তিযুদ্ধের সময় বৈদ্যনাথতলা নামকরণ করা হয় মুজিবনগর

• মুজিব নগর:

- ২০০০ সালের ২৪ফেব্রুয়ারির তথ্য মতে;
- মুজিবনগর উপজেলা মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত।
- তখন আয়তনে সবচেয়ে ছোট উপজেলা ছিল।
- এর নামকরণের সঠিক ইতিহাস জানা নেই।
- তবে ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধের সময়প্রসিদ্ধ বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের হেডকোয়াটার্স স্থাপিত হয়।
- এবং ১৭ এপ্রিল এস্থলেই অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রি পরিষদ শপথ গ্রহণ করে।
- শেখ মুজিবুর রহমানকে অস্থায়ী সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।
- ফলে শেখ মুজিবুর রহমান এর নামের সাথে মিল রেখে এ স্থানের নামকরণ করা হয় মুজিবনগর।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৯৩২.
কবি বিজয়গুপ্ত আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে কোন উপাধি প্রদান করেন?
  1. নৃপতিতিলক
  2. জগৎভূষণ
  3. কৃষ্ণ-অবতার
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এর শাসনামলে বাংলা: 
- হোসেন শাহ (১৪৯৪-১৫১৯) বাংলার হোসেনশাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি নেতৃস্থানীয় আমীরদের দ্বারা সুলতান নির্বাচিত হন।
- তিনি 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহের শাসনাধীনে দেশে নিরবচ্ছিন্ন শান্তি বিরাজ করছিল।
- সমকালীন কবি বিজয়গুপ্ত তাঁকে নৃপতিতিলক, জগৎভূষণ ও কৃষ্ণ-অবতার বলে উল্লেখ করেছেন।
- হিন্দুদের প্রতি তিনি সহনশীল ও উদারনীতি পোষণ করতেন।
- হিন্দুরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- রূপ গোস্বামী ছিলেন সাকার মালিক, সনাতন গোস্বামী ছিলেন দবির-ই-খাস, জগাই ও মাধাই ছিলেন নবদ্বীপের কোতোয়াল, গোপীনাথ বসু ছিলেন তাঁর মন্ত্রী, মুকুন্দদাস ব্যক্তিগত চিকিৎসক, কেশব খান ছত্রী ছিলেন তাঁর দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান এবং অনুপ ছিলেন টাকশালের দায়িত্বে নিয়োজিত।
- তাঁর অধীনস্থ প্রাদেশিক শাসনকর্তা পরাগল খান ও ছুটি খান মহাভারতের বাংলা অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর এবং শ্রীকর নন্দীর পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- বৈষ্ণব কাব্যসমূহে হোসেন শাহের উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে।
- এতে বলা হয়েছে যে, শ্রী চৈতন্যএর প্রতি তিনি খুবই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং তাঁকে তিনি ঈশ্বরের অবতার বলে মনে করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৯৩৩.
জাতির জনক বঙ্গবুন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মুতিবিজড়িত বেকার হোস্টেলের কত নম্বর কক্ষকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে?
  1. ক) ২৩
  2. খ) ২২
  3. গ) ২১
  4. ঘ) ২৪
ব্যাখ্যা
১৯১০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই বেকার হোস্টেল। এটি সরকারি ছাত্রাবাস। বঙ্গবন্ধু কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ডিগ্রি পড়ার সময় এই বেকার হোস্টেলে ছিলেন ১৯৪২ থেকে ৪৭ সাল পর্যন্ত। উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি ১৯৪২ সালে ভর্তি হয়েছিলেন এ কলেজে। ছিলেন ২৪ নম্বর কক্ষে। সেদিনকার এই ইসলামিয়া কলেজের নাম পরিবর্তন করে এখন নামকরণ করা হয়েছে মৌলানা আজাদ কলেজ। ১৯৪৬ সালে বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৪৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই ইসলামিয়া কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে স্নাতক হয়েছিলেন।
সূত্রঃ প্রথম আলো।
২,৯৩৪.
How many accused were in 'Agartala Conspiracy Case' including Bangabandhu?
  1. ক) 36
  2. খ) 35
  3. গ) 34
  4. ঘ) 32
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
• ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
• বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
• মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
• ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
• এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৯৩৫.
ডা. শামসুল আলম মিলন কোন আন্দোলনে শহীদ হন?
  1. ক) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে
  4. ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা ও সরকারের নিঃশর্ত পদত্যাগের দাবি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলে এরশাদ সরকার বিচলিত বোধ করে বটে; কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকার মানসে স্বৈরাচারী মনোভাব প্রদর্শন করে।
- স্বৈরাচারী এরশাদ যত দিন ক্ষমতায় (১৯৮২-৯০) ছিলেন সেই পুরো সময়টাই দেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রাম চলেছে। ১৯৯০ সালে এই আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানের রূপ পায়।
১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশনের (বি.এম.এ)-এর নেতা ডা. শামসুল আলম মিলন আঁততায়ীর গুলিতে নিহত হলে সারা দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। 
- পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সরকার দেশে জরুরি অবস্থা ও কারফিউ জারি করে। কিন্তু এতে জনগণের বিক্ষোভ ও আন্দোলন দমন করা আর সম্ভবপর হয়নি।
 
উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কালের কণ্ঠ। 
২,৯৩৬.
ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রথম দফা ছিল -
  1. ক) স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা চালু
  2. খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা
  4. ঘ) বৈদেশিক বাণিজ্য
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন।
- এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
- ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
- আর এটি ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা - রুহুল কুদ্দুস । তিনি একজন সি এস পি কর্মকর্তা। 

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।
২,৯৩৭.
মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা দল 'ক্র্যাক প্লাটুন' দলটি গঠন করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন -
  1. ক) মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
  2. খ) মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. গ) মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
  4. ঘ) মেজর মীর শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ক্র্যাক প্লাটুন দলটি গঠন করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন ২নং সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশাররফ, বীরউত্তম এবং এটিএম হায়দার বীরউত্তম।
- এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ২নং সেক্টরের অধীন একটি স্বতন্ত্র গেরিলা দল ছিল যারা আসলে গণবাহিনীর অংশ বলে পরিচিত।

 - ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকা শহরে ছোটো বড় মিলিয়ে মোট ৮২টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ।
২,৯৩৮.
কোন স্থানে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে?
  1. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
  2. ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে
  3. পল্টন ময়দানে
  4. চন্দ্রিমা উদ্যানে
ব্যাখ্যা
• আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান বা বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পণ করে।
- রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের পক্ষে আত্মসমর্পণ করেন জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী।
- আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ৯৩ হাজার সৈন্য উপস্থিত ছিলেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৩৯.
বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান কত বছরের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে?
  1. ৫০ বছর
  2. ৮০ বছর
  3. ১০০ বছর
  4. ১২০ বছর
ব্যাখ্যা
 বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান:
- ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান ১০০ বছরের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে
- এই পরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডস সরকার বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
- ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে এই পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- ডেল্টা প্ল্যানে ছয়টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পনি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ।
- ২০২০ সালের ১ জুলাই ১২ সদস্যের এই কাউন্সিল গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রীকে ডেল্টা কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
- ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য এই মহাপরিকল্পনার প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০৩০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে ৮০টি প্রকল্প।

উৎস: পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।
২,৯৪০.
অপারেশন জ্যাকপট সম্পর্কে কোন উক্তিটি সত্য নয়?
  1. ক) এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল নৌ-বন্দরগুলোকে অকেজো করে দেওয়া।
  2. খ) বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে একযোগে মোংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে।
  3. গ) নৌ-কমান্ডোদের নির্দেশ দেওয়া হতো স্বাধীন বাংলা বেতারের গানের মাধ্যমে।
  4. ঘ) প্রথম সংকেত ছিল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এর গান: "আমার পুতুল আজকে প্রথম যাবে শ্বশুরবাড়ি।"
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট (Operation Jackpot)

১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে মুক্তিযুদ্ধের ১০ নং সেক্টরের নৌবাহিনীর মুক্তিসেনারা যে অভিযান পরিচালনা করেন তার সাংকেতিক নাম দেওয়া হয় 'অপারেশন জ্যাকপট (Operation Jackpot)'। Jackpot শব্দের অর্থ হলো ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত'। যতক্ষণ জীবন থাকে ততক্ষণ অভিযান চালাতে হবে বলা হয়েছে, তাই এর নাম দেয়া হয়েছে  Operation Jackpot।

এটি ছিল একটি আত্মঘাতী অপারেশন। তাতে করে বাংলাদেশে পণ্য কিংবা সামরিক সরঞ্জামবাহী জাহাজ প্রেরণ অনিরাপদ হয়ে উঠবে। 

এই অপারেশন ১৯৭১-এর ১৫ আগস্ট রাত ১২টার পর অর্থাৎ ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্র বন্দর এবং দেশের অভ্যন্তরে চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরে একই সময়ে পরিচালিত হয়। এই গেরিলা অপারেশনে পাকিস্তানি বাহিনীর অনেকগুলো অস্ত্র ও রসদবাহী জাহাজ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনীকে সাহায্যকারী অনেকগুলো বিদেশি জাহাজও থাকায় এই অপারেশন বাংলাদেশের যুদ্ধ এবং যোদ্ধাদেরকে সারা বিশ্বে পরিচিতি পাইয়ে দেয়। সারা বিশ্ব বুঝতে পারে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই লড়ছে। 

টিম লিডারদের অপারেশন পরিচালনার জন্য শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিশেষ গোপনীয় পদ্ধতি। টিম কমান্ডারদের বলা হয়েছিল যে, 

- দুটি বাংলা গানকে সতর্ক সঙ্কেত হিসেবে ব্যবহার করা হবে। 
- গান দুটি প্রচার করা হবে কলকাতা আকাশবাণীর পক্ষ থেকে পূর্বাঞ্চলীয় শ্রোতাদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানে। 
- সকাল ৬-৬:৩০ মিনিট অথবা রাত ১০:৩০-১১টা। গান দুটি ও তাদের সঙ্কেত হলো:

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৯৪১.
বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন -
  1. নাসির উদ্দিন মাহমুদ
  2. ফকরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. সুলতান সিকান্দার শাহ
  4. নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ
ব্যাখ্যা
তুর্কি শাসন:
- ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
- বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ।
- এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
- বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
- দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
- দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪২.
‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. মন্বন্তর
  4. প্রেম
ব্যাখ্যা
রাইফেল রোটি আওরাত:
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। 
-  মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস এটি। 
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

নোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 

- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,৯৪৩.
নিম্নের কোন মসজিদটি সুলতানি আমলের নিদর্শন নয়?
  1. ছোট সোনা মসজিদ
  2. সাত গম্বুজ মসজিদ
  3. কুসুম্বা মসজিদ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাত গম্বুজ মসজিদ সুলতানি আমলের নিদর্শন নয়। এটি মুঘল আমলের নিদর্শন। 

• ছোট সোনা মসজিদ:

- ছোট সোনা মসজিদ 'সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন' বলে আখ্যায়িত।
- মধ্যযুগের সুলতানি আমলের গৌড়নগরীর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ।
- মসজিদটিকে বলা হতো ‘গৌড়ের রত্ন’।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রধানতম নিদর্শন হচ্ছে ছোট সোনামসজিদ।
- মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯) নির্মিত হয় সোনামসজিদ।

কুসুম্বা মসজিদ:
- নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান।
- মসজিদটি ধরে রেখেছে সুলতানি আমলের অনন্য নিদর্শন।
- এর মিহরাবের ওপর সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহর নাম লিপিবদ্ধ করা।
- ধারণা করা হয়, তাঁর শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত।

অন্যদিকে,
• সাত গম্বুজ মসজিদ:
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত।
- এটি মুঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ।
- এই মসজিদটি চারটি মিনারসহ সাতটি গম্বুজের কারনে মসজিদের নাম হয়েছে 'সাত গম্বুজ মসজিদ'।
- এর নির্মাতা মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান।
- ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এটি নির্মাণ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৯৪৪.
‘জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড' কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) মাদ্রাজ
  3. গ) পাঞ্জাব
  4. ঘ) উড়িষ্যা
ব্যাখ্যা
- ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের অমৃতসরে রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক সভায় ইংরেজ বাহিনীর গুলিবর্ষণে বহু নিরীহ লোক মারা যায়।
- এই হত্যাকাণ্ড 'জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড' নামে পরিচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত নাইট উপাধি (১৯১৫ সালে প্রদত্ত) ত্যাগ করেন। 
- ব্রিটিশ একজন সেনা কর্মকর্তা পাঞ্জাবের অমৃতসরের বিক্ষোভরত নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল সেদিন।
- জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড বলে পরিচিত ঐ ঘটনার সূচনা অমৃতসরের একটি সমাবেশ থেকে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা, বাংলাপিডিয়া। 
২,৯৪৫.
যুক্তফ্রন্টের 'একুশ দফা' প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ‘একুশ দফা’ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- একুশ দফা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমদ।
- একুশ দফার প্রথম দাবীটি ছিলো বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
এছাড়া অন্যান্য দাবীর মধ্যে ছিলো:
- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন
- বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত করা
- অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

২,৯৪৬.
'বৈদেশিক বাণিজ্য' ঐতিহাসিক ছয় দফার কততম দফায় অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) দ্বিতীয় দফা
  2. খ) তৃতীয় দফা
  3. গ) পঞ্চম দফা
  4. ঘ) ষষ্ঠ দফা
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শােষণ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘােষণা করেন।

• দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২,৯৪৭.
পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে -
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:

- ১৯৪৭ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে।
- এরপর আরবিতে বাংলা শিক্ষা দেয়া শুরু হয়।
- চালু হয় এ ধরনের অনেকগুলো শিক্ষাকেন্দ্র।
- সেখানে বয়স্ক ছাত্রদের বিনামূল্যে আরবি হরফের বই দেওয়া হতে থাকে।
- পূর্ববাংলার জনগণ কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানিদের অসাধু উদ্দেশ্য বুঝতে পারে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। ফলে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত সৃষ্টি হতে থাকে।
- প্রথমে এগিয়ে আসে পূর্বপাকিস্তান মুসলিম লীগের 'ভাষা কমিটি'।
- এই কমিটির বক্তব্য ছিল, পূর্ববাংলার মানুষকে অশিক্ষিত বানানোর জন্যই শাসকদের এই ষড়যন্ত্র।
- প্রবল নিন্দা জানায় 'পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ'। প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪৮.
'এগারো দফা' প্রণীত হয় কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে?
  1. শিক্ষা আন্দোলন
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে 'এগারো দফা' প্রণীত হয়।
- ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ।
- ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে মওলানা ভাসানী বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে 'ঘেরাও কর্মসূচি' নামে নতুন এক আন্দোলনের ডাক দেন।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেয়ার সাথে কোন ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট ?
  1. কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
  2. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
  3. বঙ্গভঙ্গ
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল রাউলাট অ্যাক্ট-এর বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে এক জনসমাবেশে ভারতীয়দের ওপর ব্রিটিশ পুলিশ আকস্মিকভাবে গুলি চালিয়ে অসহায় ব্যক্তিদের হত্যা করে। 
- এই হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে 'জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড' নামে পরিচিত। 
- ইংরেজের এই অত্যাচারী মূর্তি দেখে রবীন্দ্রনাথ ভাইসরয়কে এক পত্র লিখে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন। 
- প্রত্যাখ্যান পত্রে তিনি লর্ড চেমসফোর্ডকে লিখেছিলেন- 'আমার এই প্রতিবাদ আমার আতঙ্কিত দেশবাসীর মৌনযন্ত্রণার অভিব্যক্তি।'

- যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক উপাধি 'নাইট'।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম বাঙালি হিসেবে ‘নাইট’ খেতাব পেয়েছিলেন। 
- ব্রিটিশ সরকার ৩রা জুন, ১৯১৫ সালে তাঁকে 'নাইটহুড' বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
২,৯৫০.
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. চন্দ্রপাল
  2. ধর্মপাল
  3. সমুদ্রপাল
  4. গোপাল 
ব্যাখ্যা

- গোপাল প্রতিষ্ঠিত রাজবংশের নাম পাল বংশ।
- গোপালের পিতার নাম বপ্যট।
- পিতামহ ছিলেন দয়িতবিষ্ণু।
- গোপালের সিংহাসনে আরোহণের মধ্য দিয়ে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পাল রাজত্বের শুরু হয়।
- পাল বংশের রাজাগণ একটানা চার'শ বছর শাসন করেন। 
- গোপাল সিংহাসনে আরোহণ করে রাজ্য বিস্তারে মনোযোগ দেন।
- তিনি বাংলার উত্তর এবং পশ্চিমের বিরাট অংশই রাজ্যভুক্ত করেন।
- ইতিহাস গবেষকগণের অনেকেই মনে করেন, গোপাল ৭৫০ থেকে ৭৮১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

২,৯৫১.
মুঘল সম্রাট আকবরের সময়ের স্থাপত্য কোনটি?
  1. দিওয়ান-ই-আম
  2. দীন-পানাহ ভবন
  3. বুলন্দ দরওয়াজা
  4. বাদশাহী মসজিদ
ব্যাখ্যা
মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত।

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫২.
বাংলার প্রথম রাজা ছিলেন-
  1. ক) গোপাল
  2. খ) বল্লাল
  3. গ) ধর্মপাল
  4. ঘ) শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
- বাংলার প্রথম রাজা ছিলেন শশাঙ্ক
- শশাঙ্ক ৬০৬ সালে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। 
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল।
- পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল।
- নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বিহারের প্রতিষ্ঠাতা রাজা ধর্মপাল। 
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক বল্লাল সেন।
২,৯৫৩.
ঐতিহাসিক ছয়দফায় কয়টি পৃথক মুদ্রা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয়দফার তৃতীয় দফা
- মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক - এ বিষয়ক বিকল্পসহ দুটি প্রস্তাব করা হয়:
ক)
- সহজ ও অবাধ বিনিময়যোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য প্রচলন করতে হবে।
- এজন্য দুই প্রদেশে দুইটি পৃথক স্টেট ব্যাংক থাকবে এবং মুদ্রা ও ব্যাংক পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে।
খ)
- একটি কেন্দ্রিয় ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই প্রদেশে দুটি রিজার্ভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং দুই প্রদেশের জন্য অভিন্ন মুদ্রা প্রচলন করতে হবে।
- তবে এ ক্ষেত্রে সংবিধানে এমন বিধান থাকতে হবে যাতে এক প্রদেশের মুদ্রা অন্য প্রদেশে পাচার না হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫৪.
ভাষা আন্দোলনে প্রথম শহিদ -
  1. শফিউর রহমান
  2. আব্দুস সালাম
  3. আবুল বরকত
  4. রফিকউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন
- ভাষা আন্দোলন বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে সংগঠিত গণআন্দোলন।
- ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত এবং ১৯৫২ সালে এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮) শুধুমাত্র উর্দুকে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণার প্রতিবাদে বাঙালী ছাত্ররা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
- ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জড়ো হতে শুরু করে।
- ২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ আরও অনেকে।
- ২০০০ সালে তাদের রাষ্ট্রীয় একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে। 

- ভাষা আন্দোলনে প্রথম শহিদ রফিকউদ্দিন আহমেদ।
- বরকত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
- রফিক ছিলেন বাদামতলী কমার্শিয়াল প্রেসের মালিকের ছেলে।
- তারা তিনজন নিহত হন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে।
- পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে মারা যান রিকশাচালক সালাম এবং হাইকোর্টের কর্মচারী শফিউর রহমান।
- ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রাণ হারানোর তালিকায় আরো দুটি নাম পাওয়া যায়- অহিউল্লাহ ও আবদুল আউয়াল।
- এ ছাড়া সালাউদ্দীন নামেও একজন ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ হন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: i) দৈনিক ইত্তেফাক।
ii) প্রথম আলো।
২,৯৫৫.
দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর কোনটি?
  1. ক) বেনাপোল, যশোর
  2. খ) বুড়িমারী, লালমনিরহাট
  3. গ) হিলি, দিনাজপুর
  4. ঘ) তেতুলিয়া, পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট:
- বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া উপজেলার ১নং বাংলাবান্ধা ইউনিয়নে অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের একমাত্র স্থল বন্দর যার মাধ্যমে চারটি দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভূটান)মধ্যে পণ্য আদান-প্রদানের সুবিধা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীর তীরে এ বন্দরটি অবস্থিত।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন প্রায় ১০ একর জায়গার উপর স্থলবন্দরটি অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৯৫৬.
বঙ্গ ও গৌড় দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে কত শতকে?
  1. সপ্তম শতকে
  2. ষষ্ঠ শতকে
  3. দশম শতকে
  4. পঞ্চম শতকে
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠ শতকে বঙ্গ ও গৌড় দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। 

⇒ ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
⇒ সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে। 
⇒ এর একটি হচ্ছে স্বাধীন ‘বঙ্গ রাষ্ট্র’, অপরটি ‘গৌড় রাজ্য।
⇒ গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশ পর্যন্ত এর বিস্তৃতি ছিল।
⇒ স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের রাজারা তামার পাতে খোদাই করা রাজ নির্দেশ জারি করতেন। এগুলোকে তাম্রশাসন বলা হতো।
⇒ এ রকম ৭টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে। স্বাধীন বঙ্গরাজ্যে চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নামের তিনজন রাজার নাম জানা যায়।
⇒ তারা ৫২৫ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন। সম্ভবত চন্দ্ৰগুপ্ত একাই ৩৩ বছর শাসন করেছেন বলে জানা যায়।
⇒ বঙ্গের রাজাগণ ‘মহাধিরাজ’ উপাধি ধারণ করতেন।
⇒ ৬ষ্ঠ শতাব্দীর শেষের দিকে দাক্ষিণাত্যের চাণক্য রাজ বংশের রাজা কীর্তি বর্মণ দ্বারা বাংলা আক্রান্ত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
২,৯৫৭.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. এম. মনসুর আলী
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী  সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন।
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
২,৯৫৮.
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নিচের কোনটি?
  1. ক) জাতীয় কল্যাণ
  2. খ) রাজনৈতিক চেতনা ও শিক্ষার প্রসার
  3. গ) নির্বাচনে অংশগ্রহণ
  4. ঘ) সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন
ব্যাখ্যা
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা আবদ্ধ, স্বার্থের ভিত্তিতেই তারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ হোন। 
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান লক্ষ্য অর্থাৎ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী গঠিত হয় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে। 
- স্বার্থ আদায় কিংবা স্বার্থ রক্ষার জন্য বহুমুখী, ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী গঠিত হয় না, এমনকি জাতীয় কল্যাণের জন্য কোনো মহান উদ্দেশ্যও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর থাকে না।

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর আরো কিছু বৈশিষ্ট্য -
- এরা নির্দলীয় বা অরাজনৈতিক সংগঠন
- সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী, সুসংগঠিত। 
- রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না। 
- কাজ কর্ম সাধারণত গোপন  বা অপ্রকাশ্য।

তথ্যসূত্রঃ  পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৯৫৯.
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত মোট আসন সংখ্যা কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আসন বন্টন:
- আইনগত কাঠামো আদেশ অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ৩১৩টি নির্ধারণ করা হয়।
• সাধারণ আসন সংখ্যা ৩০০টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা - ১৩টি।


⇒ পূর্ব পাকিস্তানে মোট আসন সংখ্যা - ১৬৯টি।
• সাধারণ আসন সংখ্যা - ১৬২টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা - ৭টি।

⇒ পশ্চিম পাকিস্তানে মোট আসন সংখ্যা - ১৪৪টি।
• সাধারণ আসন সংখ্যা - ১৩৮টি।
• নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা - ৬টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৬০.
জুলাই বিপ্লবের সময় “দোহযাত্রা” কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. সরকারের পতন দাবি
  2.  রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রতিবাদ 
  3. কোটা পুনর্বহালের দাবি
  4. শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো
ব্যাখ্যা

জুলাই বিপ্লবের সময় -“দোহযাত্রা” কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল -রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রতিবাদ।
------------------------------------------------------------------- 
• “দোহযাত্রা” কর্মসূচি:
- ৫ জুন ২০২৪ তারিখে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
- এই রায়ের পর থেকেই সারাদেশে শিক্ষার্থীরা “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” গড়ে তোলে।
- ১ জুলাই ২০২৪ থেকে এই আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়; 
- যার মূল দাবি ছিল - “সকলের জন্য সমান সুযোগ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা।”

- ২০২৪ সালের ২ আগস্ট জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাজধানীসহ সারাদেশে ‘দ্রোহযাত্রা’ নামে একটি গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
- শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে স্বীকৃতিদান সরূপ ২ আগস্ট শিক্ষক ও নাগরিক সমাজ যোগ দেয় “দ্রোহযাত্রা” কর্মসূচিতে। 
- এই কর্মসূচীর মূল উদ্দেশ্য ছিল: রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রতিবাদ।

- ছাত্র-জনতার ওপর দমন–পীড়ন ও হত্যার প্রতিবাদ এবং আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত হয় এ কর্মসূচি।
- পরবর্তীতে এই কর্মসূচি অসহযোগ আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে।
- এই কর্মসূচির কেন্দ্রীয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও প্রেসক্লাব এলাকায়।
- এই কর্মসূচিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
- কর্মসূচির ফলে আন্দোলন একটি ঐতিহাসিক মোড় নেয়; 
- এবং ওই দিন থেকেই আন্দোলন ছাত্র আন্দোলন থেকে পরিণত হয় জাতীয় নাগরিক আন্দোলনে।

- ৩ আগস্ট সারাদেশে কালো ব্যাজ ও নীরব অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
- ৪ আগস্ট  দেশজুড়ে চলমান আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
- সেদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ছাত্র–জনতা ব্যাপক বিক্ষোভ ও মিছিল করে।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কারফিউ জারি করে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
- তবে রাতের দিকেই আন্দোলনকারীরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘেরাও করে নেয়, যা সরকারের পতনের পূর্বমুহূর্ত তৈরি করে।
- অবশেষে, আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন এবং দেশত্যাগ করেন। 

উৎস:
প্রথম আলো পত্রিকা;
The Daily Star (July–August 2024) - “Timeline of July Movement.”

২,৯৬১.
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. রাজা রামমোহন
  2. রাজা দেবজ্যোতি
  3. লক্ষণ সেন
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
ঢাকেশ্বরী মন্দির: 
- বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত ঢাকেশ্বরী একটি মন্দির। 
- এই মন্দিরটি বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হিসেবে পরিচিত। 
- ঢাকার পুরোনো ইতিহাস ঐতিহ্য এবং সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় নিদর্শন হলো ঢাকার শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির। 
- ধারণা করা হয়, সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেন ১২শ শতাব্দীতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। 
- তবে সেই সময়কার নির্মাণশৈলীর সঙ্গে এর স্থাপত্যকলার মিল পাওয়া যায় না বলেও অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন। 
- এটি ঢাকার আদি ও প্রথম মন্দির। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৯৬২.
পালবংশের রাজারা কত বছর রাজত্ব করেন?
  1. ৪০ বছর
  2. ১০০ বছর
  3. ২৪০ বছর
  4. ৪০০ বছর
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশ:
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে।
- এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।

⇒ গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

⇒ গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সময় উত্তর ভারতের আধিপত্য নিয়ে গুর্জর প্রতিহার, রাষ্ট্রকুট ও পালবংশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ধর্মপালের পর রাজা হলেন তাঁর পুত্র দেবপাল।
- তাঁর শাসনামলে পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়।

⇒ দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।
- প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।

⇒ দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
- রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন।
- তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৬৩.
পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণে অস্থায়ী সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কে?
  1. এম. এ. জি. ওসমানী
  2. এ .কে. খন্দকার
  3. কর্নেল আবু তাহের
  4. ব্রিগেডিয়ার মীর শওকত আলী
ব্যাখ্যা
পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণ: 
- সময়: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- স্থান: ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে।
- পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ ভারতীয় ইস্টার্ন কামান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- নিয়াজী পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৬৪.
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম উপাচার্য কে ছিলেন?
  1. ক) ড. এস ডি চৌধুরী
  2. খ) ড. কাজী ফজলুর রহিম
  3. গ) ড. ওসমান গণি
  4. ঘ) অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের কৃষি বিষয়ক একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এটি ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত।
- দেশের কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়৷ কৃষিবিজ্ঞানের সকল শাখা এর আওতাভূক্ত। 
-কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম উপাচার্য ছিলেন ড. ওসমান গণি। 
উৎস:  বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট
২,৯৬৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) তিন নম্বর সেক্টর
  2. খ) দুই নম্বর সেক্টর
  3. গ) চার নম্বর সেক্টর
  4. ঘ) এক নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২,৯৬৬.
'অপরাজেয় বাংলা' ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন কে?
  1. নিতুন কুণ্ডু
  2. নভেরা আহমেদ
  3. সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ
  4. হামিদুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় বাংলা:

- অপরাজেয় বাংলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণে নিবেদিত একটি ভাস্কর্য যা তিনজন মুক্তিযোদ্ধাকে চিত্রায়ণ করেছে।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত।
- অপরাজেয় বাংলা নির্মাণ করেন মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ।
- এর নাম দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী।
- ১৯৭৩ সালে ভাস্কর্যটি তৈরি করা শুরু হয়।
- ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে অপরাজেয় বাংলা উদ্বোধন করা হয়।
- ৬ ফুট বেদির উপর নির্মিত এর উচ্চতা ১২ ফুট, প্রস্থ ৮ ফুট ও ব্যাস ৬ ফুট।
- এই ভাস্কর্যটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
- বেদিতে দাঁড়ানো তিন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিচ্ছবি যেন অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে দেশে সাম্য প্রতিষ্ঠার গান গাইছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
২,৯৬৭.
'তমদ্দুন মজলিশ' এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) হাজী শরিয়তউল্লাহ
  2. খ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  3. গ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  4. ঘ) তিতুমীর
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি। এটি ছিলো ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংগঠন।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।

- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
২,৯৬৮.
'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক' স্লোগানটি কোন আন্দোলনের সাথে জড়িত?
  1. জুলাই গণ অভ্যুত্থান
  2. নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  3. উনসত্তেরর গণ অভ্যুত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক' স্লোগানটি  নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সাথে জড়িত।
- এই আন্দোলনের সময় নূর হোসেনের গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিলো 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক'।
- ১৯৯০ সালে ছাত্র-জনতা-পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়েছিল।
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে ঢাকার জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন মারা যান।
- নূর হোসেন মারা যান: ১০ নভেম্বর, ১৯৮৭ সাল।
- এই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে প্রাণ হারান নুর হোসেন, সেলিম, দেলোয়ার, তাজুল, ডা. মিলন, নূরুল হুদা, বাবুল, ফাত্তাহসহ অনেকে।
- নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো।
২,৯৬৯.
ডেনমার্কের অধিবাসীরা উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য কোনটি গঠন করেছিল?
  1. দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
  2. ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
  3. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দিনেমার:
- ডেনমার্কের অধিবাসীদের দিনেমার বলা হয়।
- ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে দিনেমারগণ উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুরে ও কলকাতার শ্রীরামপুরে তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।

অন্যদিকে,
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক ‘ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস,প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৭০.
কোন আমলে বাংলা গজল ও সুফী সাহিত্য সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ইলিয়াস শাহী
  2. খ) হোসেন শাহী
  3. গ) মোগল
  4. ঘ) সুলতানি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরঃ মোগল আমলে/যুগে।

ব্যাখ্যাঃ মোগল যুগে শাসকবর্গের ভাষা ছিল ফারসি। তাছাড়া সরকারি কাজে ফারসি ভাষা চালু করার ফলে বাংলায় ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়। সরকারি চাকরি লাভের আশায় হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকেরা ফারসি ভাষা শিখতেন। এসব ফারসি ভাষা জানা কর্মচারীদের 'মুন্সী' বলা হতো।
নবাব সুবাহদার ও মুসলিম অভিজাত শ্রেণী ফারসি ভাষা উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। ফারসি একটি সমৃদ্ধ ভাষা। বাংলা সাহিত্যে এ ভাষার প্রভাব বেশ করা যায়। ফারসির প্রভাবে বাংলা ভাষার ঐশ্বর্য বৃদ্ধি পায়।
ফারসি সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও লেখার অনুকরণে বাংলা সাহিত্য উজ্জ্বল হয়ে উঠে। ক্রমে বাংলা কবিতায় ফারসি শব্দের ব্যবহার বাড়তে থাকে। ফারসির অনুকরণে বাংলায় গজল ও সূফী সাহিত্যের সৃষ্টি হয়।

হিন্দু কবিদের রচনায় সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাব সুস্পষ্ট হলেও তারাও ফারসি সাহিত্যের প্রভাব এড়াতে পারতেন না। বৈষ্ণব পদাবলীতে ফারসি সাহিত্যের প্রভাব লক্ষণীয়। মোগল যুগে বাংলায় বাউল গানের সৃষ্টি হয়। এসময় কবিগান, মর্সিয়া গানও রচিত হয়।

উৎসঃ এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [Click here to get pdf file]

বিশেষ নোটঃ বিভিন্ন গাইড বইয়ে এই প্রশ্নের উত্তর ''হোসেন শাহী'' আমল দেওয়া আছে। কিন্তু এর পক্ষে কোন রেফারেন্স পাওয়া যায়নি।

২,৯৭১.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ শুরু হয় কত সালে?
  1. ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৬২ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৬৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০):
• বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ চলে।
• আন্দোলনকারী ফকির-সন্ন্যাসীগণ ছিলেন মাদারিয়া সুফি তরিকার অনুসারী।
• নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীদের সাহায্য চান।
• বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
• সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
• তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
• ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। -১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
• তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে ফকির।
• মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
• মজনু শাহর মত্যুর পর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ।ণ
• ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চুড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৭২.
হুসায়েনী দালান কে নির্মাণ করেন?
  1. ক) ঈসা খান
  2. খ) শায়েস্তা খান
  3. গ) মুর্শীদকুলী খান
  4. ঘ) মীর কাসেম
ব্যাখ্যা
সুবেদার শায়েস্তা খান:

- শায়েস্তা খান হুসায়েনী দালান নির্মাণ করেন।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল। তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগদের বিতাড়ন ও চট্টগ্রাম জয় শায়েস্তা খানের সুবাদারির কৃতিত্বপূর্ণ কাজ।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
- তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৭৩.
নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এ নিচের কোন শিল্পী অংশগ্রহণ করেননি?
  1. বব ডিলান
  2. জন লেনন
  3. এরিক ক্ল্যাপটন
  4. রিঙ্গো স্টার
ব্যাখ্যা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ: 
- নিউ ইয়র্কে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এ বিখ্যাত পপ শিল্পীদের মধ্যে জন লেনন অংশগ্রহণ করেননি।
- এ কনসার্টের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন সাবেক বিটলস তারকা জর্জ হ্যারিসন,
- তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজুড়ে জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
- রবি শঙ্করের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, রিঙ্গো স্টারসহ অনেক খ্যাতিমান শিল্পী কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন।
- যদিও জন লেননের অংশগ্রহণের কথা ছিল, তিনি শেষ মুহূর্তে কনসার্ট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।
- এই আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বব্যাপী সহানুভূতি ও অর্থ সংগ্রহে বিশেষ অবদান রাখে।  

সূত্র: BBC রিপোর্ট। 

২,৯৭৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় একমাত্র নৌ সেক্টর ছিল কোনটি?
  1. ৮নং
  2. ৯নং
  3. ১০নং
  4. ১১নং
ব্যাখ্যা
নৌ সেক্টর:
- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে ১০নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর।
- দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২,৯৭৫.
চানক্য কার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন?
  1. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  2. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  3. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  4. সমুদ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• চাণক্য:
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।
- তিনি প্রাচীন তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রনীতির অধ্যাপক ছিলেন। 
- তিনি মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উত্থানে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেন। 
- তিনিই তরুণ চন্দ্রগুপ্তকে শিক্ষা দিয়েছিলেন।
- চাণক্য চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও তাঁর পুত্র বিন্দুসারের রাজ-উপদেষ্টার কাজ করেছিলেন। 
- চাণক্যকে কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত নামেও অভিহিত করা হয়। 
- তিনি প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্রবিজ্ঞান গ্রন্থ অর্থশাস্ত্র-এর রচয়িতা। 
- তাঁকেই ভারতের প্রথম অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মনে করা হয়।

• চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।

অন্যদিকে, 
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তকে বলা হয় গুপ্ত বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। 

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
         ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৭৬.
'ছাতক পাহাড়' কোথায় অবস্থিত?
  1. সুনামগঞ্জ 
  2. সিলেট
  3. ময়মনসিংহ
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ
- অবস্থান: সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা
-  উচ্চতা: সাধারণত ৬০-৯০ মিটার, তবে কিছু স্থানে ২৪৪ মিটার পর্যন্ত
- সিলেটের জেলার পাহাড়িয়া অঞ্চল শহরের উত্তর-পূর্ব দিকে ১৮৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- স্থানীয় নাম: টিলা (উচ্চতা ৩০-৯০ মিটার)
- উদাহরণ: ছাতক পাহাড়, সুনামগঞ্জ।
- ছাতক পাহাড়  ৪০ বর্গকিমি এলাকা জুড়ে অবস্থিত।
- এ টিলাগুলো মূলত খাসিয়া, জয়ন্তিয়া, গারো ও লুসাই পাহাড়ের বিচ্ছিন্ন অংশবিশেষ।
- এদের ঢাল খাড়া ও উপরিভাগ অসমান।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৭৭.
ভাস্কো ডা গামা কালিকট বন্দরে এসেছিলেন-
  1. ক) ১৪৮৬
  2. খ) ১৪৮৮
  3. গ) ১৪৯২
  4. ঘ) ১৪৯৮
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ, জাতি ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে। পনেরো শতকের শুরু থেকেই তারা বাণিজ্যের জন্য দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা শুরু করে। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে ভাস্কো ডা গামার কালিকটে পৌঁছার কয়েক দশক পরে বাংলায় পর্তুগিজদের আগমন ঘটে। পনেরো শতকের শেষ দিক হতেই এশিয়া থেকে মসলা আহরণের উদ্দেশ্যে ভেনিস ও আরব বণিকদের এড়িয়ে বিকল্প পথ অনুসরণের ফলেই এদেশে পর্তুগিজদের অনুপ্রবেশ ঘটে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২,৯৭৮.
নির্বাচন কমিশনের স্থায়িত্বকাল কত বছর?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- এটি সাংবিধানিকভাবে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনারসহ মোট পাঁচজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- নির্বাচন কমিশনারগণকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।
- নির্বাচন কমিশনের সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতির কাজ করেন।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ তাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।
- নির্বাচন কমিশন সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশনাবলি এবং দেশের নির্বাচনি আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।
- নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচন সমূহ,
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
• জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
• সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।
• জেলা পরিষদ নির্বাচন।
• উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
• পৌরসভা নির্বাচন।
• ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
২,৯৭৯.
‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা বইটির লেখক কে? 
  1. জেনারেল ওসমান গনি
  2. জিয়াউর রহমান
  3. এ কে খন্দকার
  4. আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

- এ কে খন্দকারের লেখা ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের আলোচিত একটি গ্রন্থ।
- এ কে খন্দকার ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যের কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন।
- মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান (ডেপুটি চিফ অব স্টাফ) এ কে খন্দকার বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন।
- আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে নির্বাচিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণ: 

- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়।
- ঐ দিন বিকাল ৪ টা ১৯ মিনিটে পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ ভারতীয় ইস্টার্ন কামান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- নিয়াজী পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।

উৎস: ¡)বাংলাদেশের ইতিহাস ওবিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
¡¡)প্রথম আলো পত্রিকা।

২,৯৮০.
পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে প্রাচীনতম কোনটি?
  1. গৌড়
  2. পুণ্ড্র 
  3. তাম্রলিপ্ত
  4. বঙ্গ
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র জনপদ:
- পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে প্রাচীনতম।
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের (আনুমানিক) মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপিতে উল্লিখিত পুদনগল (পুণ্ড্র নগর) এবং বগুড়া যে অভিন্ন তা একাধিক উৎস থেকে প্রমাণ করা যায়। প্রাচীন এই জনপদের সীমানা চিহ্নিত করে ড. নীহাররঞ্জন রায় লিখেছেন, "পুণ্ড্রবর্ধনের কেন্দ্র বা হৃদয়স্থানের একটি নতুন নাম পাইতেছি দশম শতক হইতে; এ নাম বরেন্দ্র অথবা বরেন্দ্রী।" অর্থাৎ এই প্রাচীন জনপদটি ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে দুটো ভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। কতিপয় লিপি প্রমাণে এ কথা বলা যায় যে, বরেন্দ্র পুণ্ড্রবর্ধনেরই অংশবিশেষ। মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিকরা বরেন্দ্রিকে বলতেন বরীন্দ্র।

⇒ বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ। প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর। এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম।

২,৯৮১.
কোন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করে?
  1. ক) পিটিআই (PTI)
  2. খ) নেপ (NAPE)
  3. গ) এনসিটিবি (NCTB)
  4. ঘ) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE)
ব্যাখ্যা
NCTB- National Curriculum and Textbook Board.
২,৯৮২.
Which of the following is the highest award given to the living freedom fighters?
  1. ক) Bir Shrestho
  2. খ) Bir Uttam
  3. গ) Bir Bikram
  4. ঘ) Bir Protik
ব্যাখ্যা
১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত। যথা-
১. বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন (মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
২. বীর উত্তম ৬৮ জন (মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব এবং জীবিতদের মধ্যে সর্বোচ্চ খেতাব),
৩. বীর বিক্রম ১৭৫ জন (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব) এবং
৪. বীর প্রতীক ৪২৬ জন (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
 
========
 
- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত সর্বমোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
- দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী এই খেতাব বাতিল করা হয়েছে।

খেতাব বাতিল হওয়া চার খুনি হলেন-
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীরউত্তম, গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নুর চৌধুরী (বীরবিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীরপ্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) ও নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীরপ্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৯৮৩.
বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন মূলত কোন শক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল?
  1. মোগল শাসক
  2. ফরাসি বনিক 
  3. ব্রিটিশ শক্তি
  4. মারাঠা আক্রমণকারী
ব্যাখ্যা

ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন ছিল  ব্রিটিশশক্তি বিরোধী আন্দোলন।
- পলাশি যুদ্ধের অল্প বছর পর থেকে এই আন্দোলনের শুরু।
- নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীদের সাহায্য চান।
- এই ডাকে সাড়া দিয়ে ফকির-সন্ন্যাসীরা নবাবের পক্ষে যুদ্ধ করে।
- যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মীর কাশিম পালিয়ে গেলেও ফকির-সন্ন্যাসীরা তাদের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে।
-  বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
- আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
- ১৭৬০ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ সালে মজনু শাহ উত্তর বাংলায় ইংরেজবিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭-১৭৮৬ সাল পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় ইংরেজদের সঙ্গে মজনু শাহ বহু সংঘর্ষে লিপ্ত হন।
- তাঁর যুদ্ধকৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি অর্থাৎ অতর্কিত আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
- ইংরেজদের পক্ষে তাঁকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা কখনোই সম্ভব হয়নি।
- তিনি ১৭৮৭ সালে মৃত্যুবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবান শাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন। ১৮০০ সালে তাঁরা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন।
- অপরদিকে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী পাঠক ১৭৮৭ সালে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৮৪.
প্রাচীন বাংলায় স্বাধীন জনপদ ছিল-
  1. গৌড়
  2. পুণ্ড্র
  3. রাঢ়
  4. বরেন্দ্র
ব্যাখ্যা
গৌড় রাজ্য:
- প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজ্য গৌড় রাজ্য।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৩০ অব্দে মালদহ অঞ্চলে ভোজ বংশীয় গৌড় নামক জনৈক ব্যক্তি যে রাজ্যের পত্তন করেছিলেন কালক্রমে তাই গৌড় রাজ্য নামে পরিচিত হয়।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৮৫.
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়রের নাম কী?
  1. আনিসুল হক
  2. মোহাম্মদ হানিফ
  3. সাঈদ খোকন
  4. সাদেক হোসেন খোকা
ব্যাখ্যা
ঢাকা সিটি করপোরেশনের ইতিহাস:
- ১৮৬৪ সালের ১ আগষ্ট ঢাকা পৌরসভা স্থাপিত হয়।
- ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা নগরীকে ৫০টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে ঢাকা পৌরসভা গঠন করা হয়।
- ১৯৭৭ সালের ৩১ অক্টোবর কমিশনারদের মাধ্যমে ঢাকা পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত।
- ১৯৭৮ সালে ঢাকা পৌরসভাকে ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয় পৌরসভার চেয়ারম্যান ঢাকা মিউিনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মেয়র নামে অবিহিত হয়।
- ১৯৯০ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নাম পরিবর্তন করে ঢাকা সিটি করপোরেশন নামকরণ করা হয়।
- প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালে এবং ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হানিফ। নগরবাসীর সেবা সহজলভ্য করার বৃহত্তর স্বার্থে ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর স্থানীয় সরকার
- সংশোধনী বিল ২০১১ অনুসারে সরকার ঢাকা সিটি করপোরেশনকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
- এ আইন অনুযায়ী ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
- এর ফলে ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নামে পৃথক দুইটি সিটি কর্পোরেশন যাত্রা শুরু করে।

তথ্যসূত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ওয়েবসাইট।
২,৯৮৬.
সি.আর. দাস ফর্মুলা নামে খ্যাত-
  1. বেঙ্গল প্যাক্ট
  2. গণ আন্দোলন
  3. বয়কট কর্মসূচি
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি (ডিসেম্বর, ১৯২৩ সাল) :

- উপমহাদেশের রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলমান সমস্যা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন স্বরাজ দলের নেতা চিত্তরঞ্জন দাস।
- ফলে বাংলায় হিন্দু-মুসলমান সমস্যা দূর করার জন্য তিনি যে চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন, ইতিহাসে তা বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি নামে খ্যাত।
- তাঁর এই প্রচেষ্টা হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের পথ প্রশন্ত করেছিল।
- ১৯২৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- সি.আর. দাস ফর্মুলা নামে খ্যাত বাংলা চুক্তি বা বেঙ্গল প্যাক্ট।
-  এটি সম্পাদনা করতে যেসব মুসলমান নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন আব্দুল করিম, আকরম খাঁ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী। এ ছাড়া, স্যার আব্দুর রহিম, এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সমঝোতা চুক্তি সম্পাদনে সহযোগিতা ও এতে স্বাক্ষর প্রদান করেন।
- অপরদিকে বাংলার কংগ্রেস নেতা সুভাষচন্দ্র বসু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
২,৯৮৭.
মাৎস্যন্যায় কোন শাসন আমলে দেখা দেয়?
  1. সেন শাসন আমলে
  2. পাল তাম্র শাসন আমলে
  3. গুপ্ত শাসন আমলে
  4. মোঘল শাসন আমলে
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায়:
- 'মাৎস্যন্যায়' বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে।
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছে।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল, দেবপাল, মহিপাল নামে অনেক পাল রাজারা বাংলা শাসন করেছেন।
- মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি 'মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পাল বংশের শাসন শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৮৮.
স্বাধীনতা সংগ্রামের একমাত্র নৌ-সেক্টর কোনটি?
  1. ক) ১ নম্বর সেক্টর
  2. খ) ১০ নম্বর সেক্টর
  3. গ) ৩ নম্বর সেক্টর
  4. ঘ) ৫ নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।

(তথ্যসূত্রঃ স্বাধীনতার দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড এবং বাংলাপিডিয়া)
২,৯৮৯.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনের বক্তা ছিলেন-
  1. ক) কৈলাশ সত্যাথী
  2. খ) ড. জ্যাঁ তিরোল
  3. গ) কাজিও ইশিগুয়ো
  4. ঘ) আবদুল রাজ্জাক গুরনাহ
ব্যাখ্যা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯ নভেম্বর, ২০২২ সালে।
- সমাবর্তনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর জনাব মোঃ আবদুল হামিদ সভাপতিত্ব করেন।
- সমাবর্তনে বক্তা ছিলেন- নোবেল বিজয়ী ফরাসী অর্থনীতিবিদ- অধ্যাপক ড. জ্যাঁ তিরোল

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৯৯০.
‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি’ শীর্ষক ইশতেহার প্রচার হয় কত তারিখে?
  1. ক) ১ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ৩ মার্চ, ১৯৭১
  3. গ) ৫ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং তার পরদিন সারা প্রদেশে হরতাল ডাকেন। সকল সরকারি কর্মকান্ড প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ৩ মার্চ, ১৯৭১ পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভায় ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি’ শীর্ষক ইশতেহার প্রচার করে।
সূত্র : বাংলাপিডিয়া
২,৯৯১.
ছয় দফা কর্মসূচির কোন দফা রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা সম্পর্কে?
  1. ষষ্ঠ দফা
  2. পঞ্চম দফা
  3. চতুর্থ দফা
  4. তৃতীয় দফা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
• ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলীয় নেতাদের একটি সম্মেলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন।
• ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নামে 'আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা-কর্মসূচি' শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।
• বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ছয় দফাতে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবি।
• ছয় দফা কর্মসূচির ৪র্থ দফা অনুসারে- আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া হবে।

• ছয় দফা গুলো হলো: 
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৯২.
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মোট কতজনকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়?
  1. ক) ১১ জন
  2. খ) ১২ জন
  3. গ) ১৪ জন
  4. ঘ) ১৫ জন
ব্যাখ্যা

- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়৷
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা ও জওয়ান এই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন৷ - ২ অক্টোবর, ১৯৯৬: হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তাঁর রিসেপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
- ১৯ নভেম্বর ২০০৯: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৷ ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোট ১২ আসামিরই মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট।

২,৯৯৩.
কত দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে?
  1. ৬ দিন
  2. ২৩ দিন
  3. ৪৮ দিন
  4. ৫৬ দিন
ব্যাখ্যা
৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে।

যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:

• মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরেবাংলা এ কে ফজলুল।
• বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
• শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
• কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

⇒ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল:
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও ছুটি পালন, শহীদ মিনার নির্মাণ, বর্ধমান হাউসকে বাংলা একাডেমিতে রূপান্তর করা হবে।
- সে সময় 'নিউ ইয়র্ক টাইমস্' পত্রিকার সংবাদদাতা কালাহানকে দেওয়া ফজলুল হকের তথাকথিত সাক্ষাৎকার কেন্দ্রীয় সরকারকে বিচলিত করে তোলে।
- পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ফজলুল হক পূর্ববাংলার স্বাধীনতা ঘোষণার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
- মুখ্যমন্ত্রী ফজলুল হক নানা চেষ্টা করেও কেন্দ্রীয় সরকারকে বোঝাতে ব্যর্থ হন।
- কেন্দ্রীয় সরকার '৫৪ সালের ৩০মে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২(ক) ধারা বলে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বরখাস্ত এবং পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন ঘোষণা করেন।
- এভাবে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে।

উল্লেখ্য,
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারী করেন।
- পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি ছিল ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।
- মুসলিম লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রে মাত্র চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে।
- যুক্তফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি।
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৯৯৪.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কয়টি আসন লাভ করে?
  1. ১৬৭টি
  2. ২২৩টি
  3. ৩০৯টি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৯৫.
তমুদ্দিন মজলিস সংগঠনটি কিসের সাথে জড়িত?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) স্বাধীনতা সংগ্রাম
  3. গ) সংস্কৃতি আন্দোলন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি। এটি ছিলো ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংগঠন।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
২,৯৯৬.
'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয় -
  1. ক) ১ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ৩ মার্চ, ১৯৭১
  3. গ) ২ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১ মার্চ “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয় । “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” - এর সদস্যগণ হলেন -
১. নুরে আলম সিদ্দিকী (সভাপতি, ছাত্রলীগ)
২. শাজাহান সিরাজ (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ)
৩. আ. স. ম. আব্দুর রব (সহ-সভাপতি, ডাকসু)
৪. আব্দুল কুদ্দুস মাখন (সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু)
• এই ৪ ছাত্র নেতাকে মুক্তিযুদ্ধের ৪ খলিফা বলা হত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম - দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৯৯৭.
প্রাচীন বাংলার ক্ষত্রিয় গোত্রের পেশা মূলত কী ছিল?
  1. ক) অধ্যাপনা করা
  2. খ) যুদ্ধ করা
  3. গ) ব্যবসা বানিজ্য করা
  4. ঘ) মাছ ধরা
ব্যাখ্যা

প্রাচীন বাংলার ৪ টি গোত্রের পেশা নিম্নরুপ: 

1. ব্রাহ্মণ- অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ করা- এগুলাে ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কর্ম । তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতাে।
2. ক্ষত্রিয়- ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা।
3. বৈশ্য- ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ।
4. শূদ্র- সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছােটখাটো কাজ করত।

বর্ণপ্রথা
- বর্ণপ্রথা উপমহাদেশে আর্যীকরণের পর সামাজিক শ্রেণিসমূহকে বিন্যস্ত করেছিল।
- তাত্ত্বিকভাবে এ বিন্যাসে শ্রেষ্ঠত্বের ক্রম নির্ধারিত হতো সংশ্লিলষ্ট বিভিন্ন বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিবর্গ তাঁদের চরিত্রে ও কর্মে যে সব গুণাগুণের প্রকাশ ঘটাতেন তার ওপর ভিত্তি করে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, 

- ব্রাহ্মণরা ছিলেন ‘সত্ত্বা’র রক্ষক, এবং সে হিসেবে তাদের পবিত্রতম বলে গণ্য করা হতো। ।
- পবিত্রতার এ মাত্রা ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যদের গুণাগুণের প্রতীক, যথাক্রমে ‘রজ’ ও ‘তম’-এর ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী বলে বিবেচিত হতো।
- সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচু স্তরে থাকা শুদ্রদের এ রকম কোনো গুণই ছিল না বলে মনে করা হতো। 

তথ্যসূত্র:  নীহাররঞ্জন রায়, বাঙালির ইতিহাস : আদি পর্ব, (১ম সংস্করণ)

২,৯৯৮.
আরবি হরফে বাংলা লেখার অপচেষ্টা করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৪৬ সালে
  2. ১৯৪৭ সালে
  3. ১৯৪৮ সালে
  4. ১৯৪৯ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:

- ১৯৪৭ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে।
- এরপর আরবিতে বাংলা শিক্ষা দেয়া শুরু হয়।
- চালু হয় এ ধরনের অনেকগুলো শিক্ষাকেন্দ্র।
- সেখানে বয়স্ক ছাত্রদের বিনামূল্যে আরবি হরফের বই দেওয়া হতে থাকে।
- পূর্ববাংলার জনগণ কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানিদের অসাধু উদ্দেশ্য বুঝতে পারে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। ফলে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত সৃষ্টি হতে থাকে।
- প্রথমে এগিয়ে আসে পূর্বপাকিস্তান মুসলিম লীগের 'ভাষা কমিটি'।
- এই কমিটির বক্তব্য ছিল, পূর্ববাংলার মানুষকে অশিক্ষিত বানানোর জন্যই শাসকদের এই ষড়যন্ত্র।
- প্রবল নিন্দা জানায় 'পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ'। প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৯৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'অপারেশন কিলো ফ্লাইট' পরিচালনা করে কোন বাহিনী? 
  1. নৌবাহিনী
  2. সেনাবাহিনী
  3. বিমান বাহিনী
  4. গেরিলা বাহিনী
ব্যাখ্যা

অপারেশন কিলো ফ্লাইট:
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর বিমান উইংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান ছিল।
- এটি মূলত একটি দুঃসাহসিক বিমান হামলা যা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। 
- কিলো ফ্লাইট ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমান গঠনের সাংকেতিক নাম। 
- এই অপারেশনের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর তেল ডিপো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সরবরাহ লাইন ধ্বংস করা, সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়ানো। 
- ১৯৭১ এর সেপ্টেম্বর এর মাঝামাঝি ভারত সরকার অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারকে একটি স্বাধীন বিমান বাহিনী গঠনের জন্য আমেরিকায় তৈরী ১টি পুরানো ডিসি-৩ বিমান, কানাডার তৈরী ১টি অটার বিমান এবং ফ্রান্সের তৈরী ১টি এ্যালুয়েট-৩ হেলিকপ্টার দেয়।
- এর সাথে ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে একটি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরিত্যক্ত রানওয়ে ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
- ২৮ সেপ্টেম্বর মুক্তিবাহিনীর ডিপুটি চিফ অফ স্টাফ এ কে খন্দকারের নেতৃত্বে ৯ জন পাইলট ও ৪৭ জন গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের সমন্বয়ে যাত্রা শুরু হয় মুক্তিবাহিনীর এয়ার উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর।
- বিমান বাহিনী প্রধান হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

⇒ এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা। ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

⇒ এই ফ্লাইট, ঢাকা, চট্টগ্রাম, লালমনিরহাট এলাকায় মোট ৫০টি অভিযান সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করে।
- এদের মধ্যে মোগলহাটে (১৫ অক্টোবর ৭১), লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁয়ে (১৬ অক্টোবর ৭১), চৌগাছায় (২১ নভেম্বর ৭১), গোদনাইল ও পতেঙ্গায় (৩ ডিসেম্বর ৭১), সিলেটে (৪ ডিসেম্বর ৭১), জামালপুরে (৫ ডিসেম্বর ৭১), মেঘনা নদীতে (৬ ডিসেম্বর ৭১), সিলেটে (৭ ডিসেম্বর ৭১) এবং নরসিংদীতে (১১ ডিসেম্বর ৭১) বিমান হামলা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) The Daily Star বাংলা।

৩,০০০.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে অভিযুক্ত করা হয় কত তারিখে?
  1. ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  2. ২৮ জানুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  3. ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  4. ২৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”।
- তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

সূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।