বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ২৯ / ১২৪ · ২,৮০১২,৯০০ / ১২,৪২১

২,৮০১.
আসাদুজ্জামান আসাদ কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শহীদ হন?
  1. ৫২ এর ভাষা আন্দোলন
  2. ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন
  3. ৬৬ এর ছয় দফা আন্দোলন
  4. ৬৯ এর গণ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
গণঅভ্যুত্থান:
- ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ শহীদ হন।
- তিনি ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে শহীদ হন।
- এইজন্য বাংলাদেশে ২০ জানুয়ারিকে শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

উলেক্ষ্য,
⇒ বাঙালি জাতির রাজনৈতিক বিকাশের ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের গুরুত্ব অসামান্য।
• এ গণআন্দোলনের ফলেই অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী আইয়ুব-মোনায়েম খানের পতন ত্বরান্বিত হয়। আইয়ুব-মোনায়েম খান নিক্ষিপ্ত হয় ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে।
• পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি পূর্ব বাংলার সংগ্রামী ছাত্র জনতা পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর পুলিশী নির্যাতন, দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের করে।
•  মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে নিহত হন মতিউর রহমান।
• আসাদুজ্জামান আসাদ শহীদ হবার পর সংঘটিত এ ঘটনায় ছাত্র জনতা আরও রুদ্ররোষে ফেটে পড়ে, সারাদেশে আন্দোলনের আগুন জ্বলে ওঠে, শুরু হয় গণঅভ্যুত্থান।

 সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৮০২.
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন -
  1. সভাপতি
  2. সাধারণ সম্পাদক
  3. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
  4. সহ-সভাপতি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ  বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দলের অন্যতম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে আওয়ামী লীগ মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নতুন এই দলের নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, আতাউর রহমান খান, শওকত হোসেন ও আলী আহমদ খানকে সহ-সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক, শেখ মুজিবুর রহমানকে (যিনি তখন কারাবন্দি ছিলেন), খোন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ.কে রফিকুল হোসেনকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে আওয়ামী লীগ গঠিত হয়।
- জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দল ছিল।
- ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবরের তৃতীয় কাউন্সিল সভায় ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হিসেবে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়।
- দলটি কল্যাণমূলক অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, যুবক ও মহিলাদের মধ্যে এই দলের অঙ্গ-সংগঠন রয়েছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,৮০৩.
২০০০ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে প্রথমবারের মতো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে কয়টি দেশ?
  1. ১৮৮টি
  2. ১৮৯টি
  3. ১৯০টি
  4. ১৯১টি
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস:

- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো বাংলাদেশের বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভাষার জন্য আত্মত্যাগকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষনা করে।
- প্রতিবছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- ২০০০ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি এ বিশেষ দিবসটিকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে প্রথমবারের মতো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে।
- ইউনেস্কোর পর জাতিসংঘও ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক ইনকিলাব, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭।
২,৮০৪.
লর্ড লিটন কত সালে 'আমর্স অ্যাক্ট' প্রবর্তন করেন?
  1. ১৮৭৬ সালে
  2. ১৮৭৮ সালে
  3. ১৮৮০ সালে
  4. ১৮৮২ সালে
ব্যাখ্যা

- লর্ড লিটন ১৮৭৮ সালে 'আমর্স অ্যাক্ট' প্রবর্তন করেন।

• লর্ড লিটন:

- তিনি  ছিলেন বাংলার গভর্নর (১৯২২-১৯২৭) এবং স্বল্প সময়ের জন্য ভারতের অস্থায়ী ভাইসরয়।
- লর্ড লিটন একটি কঠিন সময়ে বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন।
- তখন উপনিবেশিক সরকার ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন বাস্তবায়ন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল।
- অপরপক্ষে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল উক্ত অগ্রহণযোগ্য আইনটি অকার্যকর করতে। 
- গভর্নর জেনারেল হিসেবে তার কার্যকাল কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছিল, তবুও তিনি সে সময় ভারতের রাজনীতিতে কিছু নতুন ধারণা প্রবর্তন করেছিলেন।

» লর্ড লিটন কর্তৃক গৃহীত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল নিম্নরূপ:

১. দেশীয় সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act), মার্চ ১৮৭৮:
- এই আইন কার্যকর হওয়ার পর লিটন ভারতীয়দের মধ্যে অত্যন্ত অজনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
- এই আইনের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল যেন তিনি যে কোনো দেশীয় ভাষার সংবাদপত্রের মুদ্রক ও প্রকাশককে এমন একটি চুক্তিতে বাধ্য করতে পারেন, যেখানে তারা সরকারের বিরুদ্ধে বা রানির প্রজাদের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে পারে এমন কিছু প্রকাশ না করার অঙ্গীকার করবে।

২. অস্ত্র আইন (Arms Act), ১৮৭৮:
- এই আইনের মাধ্যমে বৈধ অনুমতি ব্যতীত অস্ত্র রাখা, বহন করা বা অস্ত্রের ব্যবসা করা অপরাধ বলে গণ্য করা হয়।
- এর শাস্তি হিসেবে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং প্রয়োজনে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছিল।
- আইনের সবচেয়ে নিন্দনীয় দিক ছিল এর বর্ণবৈষম্য- ইউরোপীয়, অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণিকে এই আইনের আওতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: i) Department of History, Raj Narain College Website. (Link)
ii) বাংলাপিডিয়া।

২,৮০৫.
অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করে কোন বাহিনী?
  1. ক) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী
  2. খ) বিমান বাহিনী
  3. গ) যৌথ বাহিনী
  4. ঘ) মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত।
- এইদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২৬টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয়।
- মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অপারেশন জ্যাকপটে অংশ নেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২,৮০৬.
বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন -
  1. ক) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. খ) এন্ড্রু ফ্রেজার
  3. গ) ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. ঘ) লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়। স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার নতুন প্রদেশের লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত হন। 
- পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা। এ প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন এন্ড্রু ফ্রেজার। 
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮০৭.
জহির রায়হান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র কোনটি?
  1. হুলিয়া
  2. ওরা ১১ জন
  3. ধীরে বহে মেঘনা
  4. স্টপ জেনোসাইড
ব্যাখ্যা
Stop Genocide:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র স্টপ জেনোসাইড।
- প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেন জহির রায়হান।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়।
- মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া স্টক ফুটেজ ও নিউজ রিলের ছবির ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় স্টপ জেনোসাইড।
- একজন চলচ্চিত্র-নির্মাতা হিসেবে জহির রায়হান দুনিয়ার মানুষকে বাংলাদেশে চলতে থাকা গণহত্যার খবর জানান দেওয়ার এক বড় দায়িত্ব কাঁধে নেন।
- বিভিন্ন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে লেনিনের একটি বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় ছবিটি।
- ২০ মিনিটের এই ছবিতে বাংলাদেশের মানুষ আছে, এর প্রকৃতি আছে, আছে পাকিস্তানিদের অত্যাচার, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগের দৃশ্য।

অন্যদিকে,
- "হুলিয়া" চলচ্চিত্রটি মূলত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা তানভীর মোকাম্মেল পরিচালনা করেছেন।
- চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ওরা ১১ জন স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র।
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় নির্মিত 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রের নির্মাতা আলমগীর কবির। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
২,৮০৮.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় -
  1. ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে
  2. খ) ২৭ জানুয়ারি, ১৯৪৯ সালে
  3. গ) ৩১ মার্চ, ১৯৫১ সালে
  4. ঘ) ২১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:
৩১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। 
– কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
– রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়– ১ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
– দ্বিতীয় বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়-  ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামছুল আলম।

তথ্যসূত্র: - ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC Programme, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮০৯.
মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়-
  1. ক) ২৬ মার্চ
  2. খ) ৪ এপ্রিল
  3. গ) ১০ এপ্রিল
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়। ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন। সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮১০.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ সংবলিত বই 'ভাইয়েরা আমার' এর নামকরণ করেন কে?
  1. শেখ হাসিনা
  2. নজরুল ইসলাম
  3. শেখ রেহানা
  4. কাদের সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা
ভাইয়েরা আমার:

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২০০টি ভাষণ সংবলিত বই 'ভাইয়েরা আমার'।
- ১২ জুন, ২০২৩ সালে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- বইটির ভূমিকা ও নামকরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- ভাষণসমগ্রটির সংগ্রহ, সংকলন ও সম্পাদনা করেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম।
- বইটি প্রকাশ করে জিনিয়াস পাবলিকেশন।
- বইটিতে প্রতিটি ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাইলাইট করে আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে।
- এ ছাড়া সূচিতে ভাষণের বিষয়বস্তু, সাল ও তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ১২ জুন, ২০২৩।
২,৮১১.
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে "Memory of World Register" এ স্থান দিয়েছে -
  1. UNESCO
  2. UNICEF
  3. UNDP
  4. UNFPA
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের টালবাহানার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন।
- ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইনটারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করে।

⇒ ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি উত্থাপন করেন।
- এগুলো হলো:
১। চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার করা।
২। সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
৩। গণহত্যার তদন্ত করা।
৪। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

উল্লেখ্য,
- ২০১৭ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক '৭ই মার্চের ভাষণ' কে 'বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা, ইউনেস্কো (UNESCO)।
- ভাষণটি ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য ‘Memory of the World International Heritage Register'- এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
- এ পর্যন্ত এসব স্বীকৃতির মধ্যে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকেই প্রথম পাণ্ডুলিপিবিহীন এবং অলিখিত ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮১২.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' নাটকটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) বঙ্গভঙ্গ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক।
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' ও 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজুদ্দীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় অন্য রাজবন্দি বামপন্থী লেখক রণেশ দাশগুপ্ত মুনীর চৌধুরীকে নাটক লিখতে বলেন।
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত Bury The Dead নাটকের অনুসরণে ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ‘কবর' নাটকটি রচিত হয়েছে।
- রাজবন্দিরা এই নাটকটি জেলেই মঞ্চস্থ করেন। 
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক। 
- কবর মুনীর চৌধুরীর একাঙ্ক বিশিষ্ট নাটক। বাংলা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে মুনীর চৌধুরীকে আটক করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮১৩.
স্বাধীন বাংলা বেতারের অনুষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. চরমপত্র
  2. জল্লাদের দরবার
  3. মীর জাফরের রোজনামচা
  4. মুক্তির গান
ব্যাখ্যা

⇒ 'মুক্তির গান' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- বস্তুত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল:
• 'চরমপত্র',
• 'জল্লাদের দরবার',
• মীর জাফরের রোজনামচা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রিপোর্ট।

২,৮১৪.
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মুসলিম আসন ছিল কতটি?
  1. ৯টি
  2. ১৬৭টি
  3. ২২৩টি
  4. ২৩৭টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকার:
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনে জনগণ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে।
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসসিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আর মুসলিম লীগ মাত্র ১টি আসন লাভ করে। বাকি আসন অন্যরা পায়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক সরকার গঠনের রায় লাভ করে।
- জনগণই যে 'সকল ক্ষমতার উৎস'-এই নির্বাচন তা প্রমাণ করে।
- জনগণ এ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে প্রত্যাখ্যান করে এবং পূর্ববাংলায় এর শাসনের অবসান ঘটায়।

⇒ নির্বাচনের ফলাফল:
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে (আওয়ামী লীগ এককভাবে ১৪৩টি) জয়ী হয় এবং প্রদত্ত ভোটের ৬৪% লাভ করে।
- সরকারি দল মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন যা প্রদত্ত ভোটের ২৭% মাত্র।
- বাকি ৫টি মুসলিম আসনের ৪টি পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং ১টি পায় খেলাফত-ই-রব্বানী পার্টি।
- এছাড়া মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনের সবকটিই যুক্তফ্রন্ট লাভ করে।
- নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮১৫.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন কে?
  1. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  2. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
  3. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  4. আব্দুস সাত্তার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন।
- প্রায় তিন মাসের মতো ক্ষমতায় ছিলেন মোশতাক।
- মোশতাকের স্বল্পকালীন শাসনকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনে।
- ক্ষমতা দখল করে পাঁচ দিনের মাথায় মোশতাক স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

২,৮১৬.
ইস্কান্দার মির্জা কোন সরকার উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন?
  1. টিক্কা খান
  2. মালিক ফিরোজ খান
  3. গোলাম মোহাম্মদ
  4. ওমরাও খান
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি:
- ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্থানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন। সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮১৭.
পাল শাসন আমলের ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি ‘জগদ্দল বিহার’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) বগুড়া
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) নওগাঁ
  4. ঘ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা

পাল শাসনামলের ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি 'জগদ্দল বিহার' রাজা রামপাল কর্তৃক নির্মিত।
এটি নওগাঁ জেলায় অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- শালবন বিহার (সর্বপ্রাচীন) কুমিল্লার ময়নামতিতে অবস্থিত।
- বাসু বিহার অবস্থিত বগুড়ার শিবগঞ্জে।
- উয়ারী বটেশ্বর অবস্থিত নরসিংদীতে।

সূত্রঃ http://www.archaeology.gov.bd

২,৮১৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৯ টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১৪ টি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে। ১১ এপ্রিল তা পুর্নগঠন করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১ টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৮১৯.
শায়েস্তা খানকে বাংলার সুবেদার হিসেবে নিয়োগ দেন কে?
  1. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

শায়েস্তা খান:
- ইরানি বংশোদ্ভূত শায়েস্তা খান মোগল আমলে বাংলার একজন বিখ্যাত সুবাদার ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু তালিব। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে শায়েস্তা খান নাম দেন।
- শায়েস্তা খান সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা ছিলেন।
- ১৬৬৩ সালে বাংলার সুবাদার মীর জুমলার মৃত্যু হলে ১৬৬৪ সালে আওরঙ্গজেব তাঁকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত করেন।

⇒ শায়েস্তা খানকে বাংলার সুবেদার হিসেবে নিয়োগ দেন সম্রাট আওরঙ্গজেব।
- সিংহাসনে আরোহণের পর আওরঙ্গজেব তাঁকে উচ্চতর পদমর্যাদা দান করেন এবং উত্তরাধিকার যুদ্ধে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ আমীর-উল-উমারা (আমীরদের বা অভিজাতদের প্রধান) উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- শায়েস্তা খান ৬৩ বছর বয়সে প্রথম বাংলায় আসেন।
- দুই দফায় ২২ বছর তিনি বাংলা শাসন করেন। প্রথমে ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ সাল এবং দ্বিতীয় বার ১৬৮০ থেকে ১৬৮৮ সাল পর্যন্ত যা ছিল মুঘল আমলে বাংলার দীর্ঘতম শাসনকাল। 
- তাঁর ছয়জন দক্ষ পুত্র শাসনকাজে তাঁকে সহায়তা করেছেন। 

⇒ শায়েস্তা খানের বিজয়াভিযানের মধ্যে চট্টগ্রাম বিজয় উল্লেখযোগ্য।
- ১৪৫৯ সালে আরকান রাজ চট্টগ্রামকে বাংলার সুলতানদের নিকট থেকে দখল করে নিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম পুনর্দখলের উদ্দেশ্য শায়েস্তা খান সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। তাঁর সেনাবাহিনী সন্দ্বীপ দখল করে চট্টগ্রামের দিকে মনোনিবেশ করেন। এ সময় চট্টগ্রামের মগ-রাজা ও স্থানীয় পর্তুগিজদের মধ্যে বিবাদ বাঁধে। চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গীরা তখন নোয়াখালিতে এসে আশ্রয় নেয়। শায়েস্তা খান ফিরিঙ্গী নেতাকে নিজ দলভুক্ত করেন। ১৬৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ফিরিঙ্গীদের ৪০টি রণতরী সহ ইবনে হুসাইনের নেতৃত্বে বিশাল নৌবাহিনীসহ চট্টগ্রামে আক্রমণ করে। সম্মিলিত বাহিনীর মুকাবিলায় আরাকান বাহিনী পরাজিত হয়।

উল্লেখ্য,
- তাঁর শাসনামলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত।
- তিনি লালবাগ কেল্লা, শায়েস্তা খান মসজিদ, ছোট কাটরা, সাত গম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন।
- ১৬৯৪ সালে তিনি ৯৪ বছর বয়সে মারা যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮২০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মেহেরপুর জেলা কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ৬ নং সেক্টর
  2. ৭ নং সেক্টর
  3. ৮ নং সেক্টর
  4. ৯ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়। মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
- এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।
- ঢাকা শহর ২নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
(সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
২,৮২১.
ভারতবর্ষে প্রথম আদমশুমারি হয় কোন ব্রিটিশ শাসকের শাসনামলে?
  1. লর্ড রিপন
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড মেয়ো
  4. লর্ড মিন্টো
ব্যাখ্যা
• লর্ড মেয়ো:
- মেয়ো, লর্ড (১৮২২-১৮৭২)  ১৮৬৯ থেকে ১৮৭২ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- লর্ড মেয়োর শাসনামলে ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি চালু হয় ১৮৭০ সালে। 
 
অন্যদিকে,
• লর্ড রিপনকে ভারতীয় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের জনক বলা হয়।
• ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় লর্ড জন ক্যানিং ১৮৬১ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।
• লর্ড মিন্টো " মর্লিমিন্টো সংস্কার আইওন প্রবর্তন হবে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮২২.
১৯৬২ সালের শাসনতন্ত্রটি প্রবর্তন করেন কে? 
  1. ইস্কান্দার মির্জা 
  2. আইয়ুব খান
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. শেখ মুজিবুর রহমান 
ব্যাখ্যা
১৯৬২ সালের শাসনতন্ত্র:

• ১৯৬২ সালের শাসনতন্ত্র হল পাকিস্তানের দ্বিতীয় শাসনতন্ত্র। 
• ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ প্রথম শাসনতন্ত্র প্রণীত হয়। 
• ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা আইয়ুব খানের চাপের কারণে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারী করেন। 
• সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র বাতিল ঘোষণা করেন। 
• তিনি ১৯৬০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়ন সংস্থা গঠন করেন। 
• ১৯৬২ সালের ১লা মার্চ তারিখে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুব খান পাকিস্তানের জন্য শাসনতন্ত্র ঘোষণা করেন। 
• এটিই পাকিস্তানের ইতিহাসে ৬২-এর শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮২৩.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) এ.এইচ. এম কামারুজ্জামান
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
২,৮২৪.
বাংলাদেশের কোন নারী মুক্তিযোদ্ধা 'মুক্তিবেটি' নামে পরিচিত?
  1. কাঁকন বিবি
  2. সিতারা বেগম
  3. তারামন বিবি
  4. রাবেয়া খাতুন 
ব্যাখ্যা

• কাঁকন বিবি:
- নারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি খাসিয়া সম্প্রদায়ের।
- তিনি 'মুক্তিবেটি' নামে পরিচিত
- তার জন্ম ১৯৪৮ সালে সুনামগঞ্জ জেলার এক খাসিয়া পরিবারে। 
- পরবর্তীতে তিনি ইসলামধর্ম গ্রহণ করে প্রথমে একজন বাঙালি এবং পরে একজন পাকিস্তানিকে বিয়ে করেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৫ নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করেন। 
- এক পর্যায়ে তিনি পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
- কাঁকন বিবি কে ১৯৯৭ সালে মৌখিক ভাবে বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হলেও তার গেজেট প্রকাশিত হয়নি।
- ২০১৮ সালের ২১শে মার্চ তিনি মারা যান।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং পত্রিকা রিপোর্ট

২,৮২৫.
'ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ' কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. রাজশাহী
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ: 
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সর্বাধিক বিখ্যাত দুর্গ হলো ফোর্ট উইলিয়াম।
- ফোর্ট উইলিয়ামের মাধ্যমেই ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের ঘাঁটি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- বিখ্যাত এই দুর্গটি কলকাতায় অবস্থিত।
- ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় নিদর্শন এই দুর্গ।

উল্লেখ্য,
- স্যার চার্লস আইয়ার এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- তাঁর উত্তরসূরি জন বিয়ার্ড ১৭০১ সালে ফোর্ট উইলিয়ামের উত্তর-পূর্বাংশের দুর্গপ্রাচীর সংযোজন করেন।
- ১৭০২ সালে তিনি দুর্গের মধ্যভাগে বাণিজ্যকুঠি বা 'গভর্নমেন্ট হাউস' নির্মাণ শুরু করেন, যা ১৭০৬ সালে শেষ হয়।
- এরপর ইংল্যান্ডের রাজার সম্মানে দুর্গটির নামকরণ করা হয় ফোর্ট উইলিয়াম।

উৎস: ২ এপ্রিল, ২০১৪, কালের কন্ঠ।
২,৮২৬.
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয় কোন দাবিতে?
  1. দ্রব্যমূল্য হ্রাস
  2. তত্ত্বাবধায়ক সরকার
  3. সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার
  4. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের রায়ের বিরুদ্ধে 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' এর মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হয়।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান: 
- ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয় সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে, এর পরে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালের জুনে পুরনো ৫৬% কোটা পুনর্বহাল করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভ থেকেই শুরু হয় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডার দিয়ে আন্দোলন দমন করতে গেলে জনরোষ আরও তীব্র হয়। আন্দোলনকারীরা “জুলাই বিপ্লব” নামে একটি গণজাগরণ শুরু করে, যার চূড়ান্ত রূপ ছিল “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচি। ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয় এবং শেখ হাসিনার সরকার পদত্যাগ করে।

উল্লেখ্য, 
- এই অভ্যুত্থানের ফলে বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যার প্রধান হন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

সূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট। 

২,৮২৭.
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে কোথায় নির্বাসিত করা হয়?
  1. ক) রেঙ্গুন (বার্মা)
  2. খ) শ্রীলংকা
  3. গ) মালদ্বীপ
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করা হয়।

• দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ:

- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোগল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।

- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়। 


- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮২৮.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘চরমপত্র’ সিরিজের উপস্থাপক ছিলেন কে?
  1. এম.আর. আখতার মুকুল
  2. আবদুল মান্নান 
  3. আবদুল জব্বার
  4. আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র :
-স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
-১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ফলে এটি অচল হয়ে যায়।
-২৫ মে তারিখ কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং একই দিনে সেখানে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে।
-স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন - আবদুল মান্নান ।
- এম.আর আখতার মুকুল, এর উপস্থাপক ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৮২৯.
বঙ্গভঙ্গ রদের সময় ভারতের ভাইসরয় ছিলেন-
  1. ক) কার্জন
  2. খ) মাউন্টব্যাটেন
  3. গ) হার্ডিঞ্জ
  4. ঘ) পঞ্চম জর্জ
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এ বিভক্তির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাকে 'পূর্ববাংলা ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি প্রদেশে পরিণত করা হয়। কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের সময় ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৩০.
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়া কী নামে পরিচিত?
  1. কুমিল্লা গ্রেড
  2. ঝিনাইদহ গ্রেড
  3. মেহেরপুর গ্রেড
  4. কুষ্টিয়া গ্রেড
ব্যাখ্যা
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল:
- বাংলাদেশের স্থানীয় জাতের কালো ছাগল বা ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটকে অন্যতম সেরা জাতের ছাগল বলা হয়।
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল মাংস এবং চামড়ার জন্য বিখ্যাত।
- বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এবং ঝিনাইদহ জেলায় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়।
- বিশ্ববাজারে এই প্রজাতির ছাগলের চামড়া কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত।
- সুস্বাদু মাংসের জন্য বিশ্ববাজারে এর চাহিদা অনেক।
- বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের চামড়াজাত পণ্য তৈরির জন্য ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়া ব্যবহার করে।
- ২০০৭ সালে এফএও বিশ্বের ১০০টি জাতের ছাগলের ওপরে গবেষণা চালিয়ে 'ব্ল্যাক বেঙ্গল'কে বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উল্লেখ্য,
- ২০১৮ সালে ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের জেনোম সিকোয়েন্সিং বা পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করেছে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের একটি দল।
- সম্প্রতি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল জিআই স্বীকৃতি লাভ করে।

উৎস: ১৮ নভেম্বর ২০২০, বিবিসি বাংলা।
২,৮৩১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশ হলো -
  1. ভারত
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সারা বিশ্ব ও পরাশক্তিসমূহ দুভাগে ভাগ হয়েছিল।
- একভাগের নেতৃত্বে পাকিস্তান, চীন, আমেরিকা ও মুসলিম দেশসমূহ, অন্যদিকে ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং জোট নিরপেক্ষ দেশসমূহ।
- সৌদি আরব, ইরান, ইরাক প্রভৃতি দেশসমূহ এবং ওআইসি বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যার প্রতিবাদ করেনি বরং পাকিস্তানকে সমর্থন করতে বিশ্বের মুসলমানদের আহ্বান জানিয়েছে।
- সোভিয়েত বলয়ভুক্ত দেশসমূহ সরাসরি বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে।
- চিন পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে।
- বাংলাদেশের ঘটনায় ব্রিটেন সরকারিভাবে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে এবং ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের জন্য ব্রিটিশ সরকার আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতায় অংশগ্রহণ করে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন সরকার বঙ্গোপসাগর অভিমুখে সপ্তম নৌবহর প্রেরণ করে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে সমগ্র দুনিয়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল।
- মূলত সংঘাতটি ছিল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে।
- এ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, তুরস্ক, ইরান, শ্রীলংকা, সৌদি আরব।
- জর্ডান, তুরস্ক, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফ্রান্স সে সময় পাকিস্তানি বিমানবাহিনীকে বিমান সহায়তা দিয়েছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
ii) যুগান্তর।
২,৮৩২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ৩২ টি
  3. গ) ৫২ টি
  4. ঘ) ৬৪ টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। এই সেক্টরগুলোকে আবার ৬৪ টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
-  যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৩৩.
দশসালা বন্দোবস্তকে চিরস্থায়ী ঘোষণা করা হয় কোন সালে?
  1. ১৭৯০ সালে
  2. ১৭৯১ সালে
  3. ১৭৯৩ সালে
  4. ১৭৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

দশসালা বন্দোবস্তো:
- ইংরেজ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
- এমতাবস্থায় লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংসকে কোম্পানির গভর্নর জেনারেল করে পাঠানো হয়।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান।
- অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত করেন।
- তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশকে গভর্নর জেনারেল নিয়োগ করা হয়।
- 'দশসালা বন্দোবস্ত' করেন লর্ড কর্নওয়ালিশ।
- ১৭৯০ সালে তিনি 'দশসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।
- কর্নওয়াশি ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ 'দশসালা বন্দোবস্ত'কে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলে ঘোষণা করেন।

অপরদিকে,
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- পাঁচসালা বন্দোবস্তের মূল লক্ষ্য ছিল রাজস্ব আদায় করা।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৩৪.
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন কত তারিখে শুরু হয়?
  1. ৭ এপ্রিল ১৯৭২
  2. ১০ এপ্রিল ১৯৭২
  3. ৭ এপ্রিল ১৯৭৩
  4. ১০ এপ্রিল ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী:
- দেশে স্বাধীনতার পর ৩০০ আসনে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ।
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল।
- ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ অধিবেশনে ভাষণ দেন।
- দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা জাতীয় সংসদের ৫০ বছর পূর্ণ হয় ২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল। 
- সেই উপলক্ষে ২০২৩ সালের ৭ এপ্রিল জাতীয় সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন হয়।

উৎস: ৭ এপ্রিল, ২০২৩, দৈনিক ইত্তেফাক।
২,৮৩৫.
কোন নবাব বর্গি নামে পরিচিত মারাঠি দস্যুদের অত্যাচার দমনে ভূমিকা রাখেন?
  1. ক) সরফরাজ খান
  2. খ) আলিবর্দি খান
  3. গ) সুজাউদ্দীন খান
  4. ঘ) মুর্শিদকুলী খান
ব্যাখ্যা
১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে গিরিয়ার যুদ্ধে আলীবর্দী সরফরাজকে পরাজিত করে মুঘলদের অনুমোদন ছাড়াই বাংলার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ১৭৪০ সালের নভেম্বরে মুঘল সম্রাট তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করেন। তার সময়ে বর্গি নামে পরিচিত মারাঠি দস্যুরা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ করে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। আলিবর্দি খান ১৭৪২ থেকে ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১০ বছর এদের প্রতিরোধ করে দেশছাড়া করতে সক্ষম হন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
২,৮৩৬.
দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি কে?
  1. আব্দুল ওয়াহাব মিয়া
  2. মো. মোজাম্মেল হোসেন
  3. সৈয়দ মাহমুদ হোসেন
  4. এবিএম খায়রুল হক
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি।
- ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ দেশের ২২তম প্রধান ‍বিচারপতি হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে,
- ২১তম প্রধান বিচারপতি : এস কে সিনহা
- ২০তম প্রধান বিচারপতি : মো. মোজাম্মেল হোসেন
- ১৯তম প্রধান বিচারপতি : এবিএম খায়রুল হক।
(সূত্রঃ সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো)
২,৮৩৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন কে?
  1. রিচার্ড নিক্সন
  2. থমাস জেফারসন
  3. জন অ্যাডামস
  4. আব্রাহাম লিংকন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট: রিচার্ড নিক্সন,
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (Secretary of State: উইলিয়াম পিয়ার্স রজার্স,
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা: হেনরি কিসিঞ্জার,
- জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি: জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ,
- পাকিস্তানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত: জোসেফ এস. ফারল্যান্ড,
- ঢাকায় নিযুক্ত কনসাল জেনারেল: আর্চার কে. ব্লাড,
- ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত: কেনেথ বি. কিটিং।

উৎস: U.S. Department of State (.gov) ওয়েবসাইট।
২,৮৩৮.
When did Pakistan officially recognize Bangladesh as an independent state? 
  1. 1971
  2. 1972
  3. 1974
  4. 1975
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশকে পাকিস্তানের স্বীকৃতি:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১৫০টি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে।
- বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান এবং ভারত। উভয় দেশই বাংলাদেশকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে স্বীকৃতি দিয়েছিল। অপরদিকে সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি দেয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- একই বছর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য পদ পায়।

⇒ নানা বাধা-বিপত্তির পরও দেখা যায় স্বাধীন হবার মাত্র চার বছরেরও কম সময়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হয়েছিল আর শতাধিক দেশের স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল।
- ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যসহ সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া নেদাল্যান্ডস এবং জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- বিজয়ের পর পরই ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

২,৮৩৯.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ কে?
  1. মনু মিয়া
  2. ড. শামসুজ্জোহা
  3. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  4. আসাদউজ্জামান
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- আসাদউজ্জামান বা শহীদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ  সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহামেদ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

উল্লেখ্য,
মনু মিয়া ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহীদ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
২,৮৪০.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় 'বাতেন বাহিনী' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করেন?
  1. টাঙ্গাইল
  2. কুমিল্লা
  3. সিলেট
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

২,৮৪১.
লাহােরে অনুষ্ঠিত OIC শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কবে যােগদান করেন?
  1. ২০-২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  2. ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  3. ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  4. ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
• OIC:
- ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা OIC
- OIC এর পূর্ণরুপ - The Organisation of Islamic Cooperation
- এটি ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোতে অনুষ্ঠিত রাবাত সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
- OIC এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৭টি।
---------------
১৯৭৪ সালের ২২ - ২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (OIC) দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনে বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ (৩২-তম) লাভ করে।

• ওআইসি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু:
- ১৯৭৪ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ওআইসি মহাসচিবের কাছ থেকে একটি বার্তা এলো বঙ্গবন্ধুর জন্য। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ারি বুমেদিন তাঁর বিশেষ বিমান পাঠিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকে লাহোরে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
- বিমানে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুতেফলিকার নেতৃত্বে আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি দল রয়েছে। দলে কুয়েতের আমিরের বিশেষ দূত হিসেবে আছেন কুয়েতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চান।

- ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রতিনিধিদল ঢাকা এলো ২২ ফেব্রুয়ারি। বঙ্গবন্ধু আলোচনায় জানালেন, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে লাহোর সম্মেলনে যোগদান সম্ভব নয়। আলাপ-আলোচনার পর প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের সঙ্গে ঐকমত্যে উপনীত হলো যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একই সময়ে একযোগে পারস্পরিক স্বীকৃতি দেবে এবং লাহোর ও ঢাকা থেকে এ ঘোষণা একসঙ্গে প্রচার করা হবে—এটাও সিদ্ধান্ত হলো। ২৩ ফেব্রুয়ারি ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল লাহোর যাবে।

- পরবর্তীতে, ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং বঙ্গবন্ধু ২৩ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে যোগ দিতে লাহোর যান।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ওআইসি সম্মেলনে ভাষণ প্রদান করেন।

উৎস: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং ওআইসি ওয়েবসাইট।
২,৮৪২.
বাংলাদেশের সুন্দরবন বিস্তৃত জেলা কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৬ টি
  4. ৪ টি
ব্যাখ্যা
এক নজরে সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যবলী
- একক বন হিসাবে সুন্দরবন বাংলাদেশের বৃহত্তম বন।
- এই বনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের আয়তনের প্রায় ৪.২% এবং সমগ্র বনভূমির প্রায় ৪৪%।
- ১৮৭৫ সালে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এ বনভূমির প্রায় ৩২,৪০০ হেক্টর এলাকাকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কো (UNESCO) পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম World Heritage হিসেবে ঘোষণা করে।
- তার আগে ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবন রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
- বাংলাদেশের সুন্দরবন বিস্তৃত ৩টি জেলায় বা সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি। যথা- খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট।
- ১৪ ফেব্রুয়ারিকে 'সুন্দরবন দিবস' পালন করা হয়।
- দুবলার চর ও হিরণ পয়েন্ট সুন্দরবনে অবস্থিত।|
- ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সুন্দরবন ৯নং সেক্টরের অধীনে ছিলো। 

[সুন্দরবন কয়টি জেলায় অবস্থিত? ৩টি নাকি ৫টি! আমরা তথ্যকল্পদ্রুমের পোস্টের মাধ্যমে এই প্রশ্ন নিয়ে যে কনফিউশন রয়েছে; সেটি তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছি।
বিস্তারিত দেখুন -  তথ্যকল্পদ্রুমের পোস্ট নং- ০২৩] (লিংক)। 

সূত্র- বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
২,৮৪৩.
তেঁতুলিয়া কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. পঞ্চগড়
  2. জয়পুরহাট
  3. দিনাজপুর
  4. লালমনিরহাট
ব্যাখ্যা
- তেঁতুলিয়া উপজেলা (পঞ্চগড় জেলা) আয়তন: ১৮৯.১০ বর্গ কিমি।
- অবস্থান: ২৬°২৪´ থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°২১´ থেকে ৮৮°৩৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
- সীমানা: উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে পঞ্চগড় সদর উপজেলা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তর সীমান্তে তেঁতুলিয়া উপজেলা অবস্থিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,৮৪৪.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে পূর্ব বাংলার নামকরণ 'বাংলাদেশ' করেন?
  1. ২ ডিসেম্বর ১৯৬৯
  2. ৩ ডিসেম্বর ১৯৬৯
  3. ৪ ডিসেম্বর ১৯৬৯
  4. ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
পূর্ব বাংলার নামকরণ:

- ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি ৬ দফাসহ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
২২ ফেব্রুয়ারি জনগণের অব্যাহত চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য আসামিকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
- ১৯৬৯ সালের
৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’।
- তিনি বলেন, “একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। … একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। … জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম ‘পূর্ব পাকিস্তানে’র পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৮৪৫.
ঢাকায় ছোট কাটারা নির্মাণ করেন-
  1. ইসলাম খান
  2. শাহ সুজা
  3. মীর জুমলা
  4. শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
• সুবেদার শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
- তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল।
- তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।
- পরিবিবি ছিল শায়েস্তা খানের মেয়ে। তার আসল না ম ইরান দুখ্‌ত।
-তাঁর আমলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৪৬.
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এর সমাধি কোথায়?
  1. ক) নড়াইল
  2. খ) যশোর
  3. গ) রাঙামাটি
  4. ঘ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্ম ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬, যশোর জেলার অর্ন্তঃগত নড়াইল মহকুমার মহিষখোলা গ্রামে।
- ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯, তদানিন্তন ইপিআর-এ সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর গঠন হলে তাঁর উপর ন্যস্ত হয় ৮নং সেক্টরের দায়িত্ব।
- তিনি নিয়োগ পান বয়রা সাব-সেক্টরে।
- এই সাব-সেক্টরের অধীনে গোয়ালহাটি, ছুটিপুর ঘাট, ছুটিপুর সেনাক্যাম্প, বরনী আক্রমণে অংশ নেন এবং বীরত্ব প্রদর্শন করেন।
- বরনীতে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার জীবন রক্ষা করেন।
- ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১, সুতিপুর প্রতিরক্ষা অবস্থানের সামনে ষ্ট্যান্ডিং পেট্রোলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ নস্যাৎ করে দেন প্রায় একাই।
- আহত অবস্থায় অধীনস্থ সৈনিকদের নিরাপদে পিছনে পাঠিয়ে দেন এবং শত্রুর মোকাবেলা অব্যাহত রাখার সময় শাহাদাত বরণ করেন।
- পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্র যশোরের কাশীপুরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

উৎস:- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৪৭.
'সবুজ ছাতা' কিসের প্রতীক?
  1. প্রাথমিক শিক্ষা
  2. বৃক্ষরোপন
  3. বিশ্ব ভ্রমণ
  4. স্বাস্থ্য সেবা
ব্যাখ্যা
সবুজ ছাতা:

- সবুজ ছাতা  স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রের একটি প্রতীক।
- যেখানে বিশেষ করে পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান করা হয়।
- যৌন সম্পর্কবাহিত রোগসহ অন্যান্য সাধারণ স্বাস্থ্য সেবারও ব্যবস্থা এখানে আছে।
- জনগণের স্বার্থসংশি­ষ্ট বার্তা বহনের জন্য প্রতীকসমূহ কখনও কখনও খুবই প্রয়োজনীয় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- শিক্ষার নিম্নহারসম্পন্ন একটি দেশে জনগণের মাঝে স্বাস্থ্যবার্তা আগাম পৌঁছে দেওয়ার জন্য এর ব্যবহার খুবই ফলপ্রসূ।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮ সালে সবুজ ছাতা প্রতীকের প্রচলন করে।
- স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে এটি শুরু হয়।
- সাধারণত বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এ ধরনের প্রচেষ্টা নেওয়া হয় এবং এক্ষেত্রেও এনজিও-র অংশগ্রহণের ফলে এই প্রতীকটির জনপ্রিয়করণ সহজ হয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,৮৪৮.
লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করেন কে?
  1. সম্রাট আজম শাহ
  2. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  3. নবাব শায়েস্তা
  4. সম্রাট শাহ জাহান
ব্যাখ্যা

• লালবাগ কেল্লার ইতিহাসঃ
- লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৭৮ সালে। 
- তৎকালীন মুঘল সম্রাট আজম শাহ এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। 
- যদিও আজম শাহ খুব কম সময়ের জন্যেই মুঘল সম্রাট হিসেবে ছিলেন। 
- তবুও তার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তার এই অসাধারণ কাজটি শুরু করেন।
- উল্লেখ্য আজম শাহ ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এর পুত্র আর সম্রাট শাহ জাহানের নাতি, 
- এই দুর্গ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছরের মাথায় তার বাবার ডাকে তাকে দিল্লিতে চলে যেতে হয় ।
- সম্রাট আজম শাহ চলে যাওয়ার পর দুর্গ নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। 
- তখন এই দুর্গ নির্মাণের কাজ আদৌ সম্পূর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।
- তৎকালীন নবাব শায়েস্তা খাঁ পুনরায় লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করে দেন কাজ থেমে যাওয়ার প্রায় এক বছর পরে। 
- পুরো উদ্যমে আবার কাজ চলতে থাকে দুর্গ নির্মাণের।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,৮৪৯.
হিন্দু বিধবা বিবাহের পক্ষে সর্বপ্রথম আন্দোলন করেন কে?
  1. দাদাভাই নওরোজী
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. নারায়নচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দু বিধবা বিবাহের পক্ষে সর্বপ্রথম আন্দোলন করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কোলকাতায় সংস্কৃতি কলেজে অধ্যয়নকালে তার অগাধ পান্ডিত্য ও মেধার স্বীকৃতি স্বরুপ শিক্ষক মন্ডলী তাঁকে বিদ্যাসাগর উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাগরের অমরকীর্তি হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন।
- ১৮২৯ সালে প্রণীত সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইনের ফলে হিন্দু বিধবারা সহমরণ থেকে মুক্তি পেলেও বিধবা বিবাহের রীতি না থাকায় বিধবারা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়।
- ১৮৫৫ সালের ৪ঠা অক্টোবর তিনি হিন্দু সমাজের বিভিন্ন স্তরের ৯৮৭ জনের স্বাক্ষরিত একখানা স্মারকলিপি ভারত সরকারের নিকট পেশ করেন।
- লর্ড ডার্লহৌসীর সহায়তায় ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই বিধবা বিবাহ আইন পাস হলেও তা বাস্তবায়ন সহজ হয়নি।
- ১৮৭০ সালের ১১ই আগষ্ট নিজ পুত্র নারায়নচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের বিয়ের মাধ্যমে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

উল্লেখ্য,
- বহুবিবাহ এবং বাল্য বিবাহ রোধেও তিনি প্রয়াস চালান।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৫০.
বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য কোনটি?
  1. সমতট
  2. বঙ্গ
  3. গৌড়
  4. পুন্ড্র
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৫১.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় টংক আন্দোলন সংঘটিত করেছিলো?
  1. ক) মণিপুরী
  2. খ) সাঁওতাল
  3. গ) হাজং
  4. ঘ) ওরাঁও
ব্যাখ্যা

- টঙ্ক প্রথা হলো টাকার পরিবর্তে ধানের মাধ্যমে খাজনা আদায়৷
- বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাজং সম্প্রদায়ের মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত ছিলো। ধানের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধে কৃষকদেরকে কয়েকগুণ বেশি খাজনা প্রদান করতে হতো। তাই হাজং কৃষকরা এই প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে।
- কমরেড মনি সিংহ টঙ্ক আন্দোলনে কৃষকদের নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হলে টঙ্ক প্রথা উচ্ছেদ হয় এবং টঙ্ক আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
(তথ্যসূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং দৈনিক ইত্তেফাক)

২,৮৫২.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্টপতি ছিলেন-
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) মাওলানা ভাষানী
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন এম মনসুর আলী। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৮৫৩.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কত জনকে ‘বীরউত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ৬৮ জন
  2. ১৬৮ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ৪২৬ জন
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বিভিন্ন খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর এই খেতাব প্রদান করা হয়।

• খেতাব:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- আর ডা. সেতারা বেগম ২ নং সেক্টরেযুদ্ধ করেন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২,৮৫৪.
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. চট্টগ্রাম
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম:
- চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ বলা হয়। 

⇒ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর দিয়ে।
- যার কারণে চট্টগ্রামে গড়ে উঠেছে প্রচুর শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
- এর মাধ্যমে ত্বরান্বিত হয়েছে হয়েছে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।
- এই অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারনেই চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীর মর্যাদা লাভ করেছে।

উল্লেখ্য,
- চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং এর মধ্য দিয়েই সঞ্চালিত হয় দেশের অর্থনৈতিক জীবনীশক্তি।
- দেশের সর্বমোট রপ্তানী বাণিজ্যের প্রায় ৭৫ ভাগ সংঘটিত হয় চট্টগ্রামের উপর দিয়ে। অন্যদিকে আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ হার ৮০ ভাগ। রাজস্ব আয়েও চট্টগ্রামের ভুমিকা অপরিসীম।
- আমাদের মোট রাজস্ব আয়ের শতকরা ৬০ ভাগ আসে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,৮৫৫.
কার প্রচেষ্টায় কোলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়?
  1. হাজী মুহম্মদ মহসীন
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. সৈয়দ আমির আলি
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
- নওয়াব আবদুল লতিফ এর প্রচেষ্টায় কোলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়।

• নওয়াব আবদুল লতিফ:
- আবদুল লতিফ ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কোলকাতা মাদ্রাসায় ইংরেজি শিক্ষা লাভ করেন।
- শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি প্রথমে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল এবং পরে কোলকাতা মাদ্রাসায় অধ্যাপনা করেন।
- ১৮৪৯ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের পদে যোগদান করেন।
- ১৮৭৭ সালে তাকে কোলকাতা প্রেসিডেন্সির ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত করা হয়।
- ১৮৮৪ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। কর্মজীবনে কৃতিত্বের জন্য সরকার তাঁকে প্রথমে খান বাহাদুর ও পরে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করে।
- তিনি বাঙালি মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের কল্যাণের জন্য প্রচেষ্টা চালান।
-  তাঁর প্রচেষ্টায় কোলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়।
-  তাঁর প্রচেষ্টায় হিন্দু কলেজ প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তর করা হলে মুসলমান ছাত্ররা সেখানে পড়ালেখা করার সুযোগ পায়।
- আবদুল লতিফের উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হচ্ছে ১৮৬৩ সালে কোলকাতায় প্রতিষ্ঠিত মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
২,৮৫৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৮ টি
  2. খ) ৯ টি 
  3. গ) ১০ টি 
  4. ঘ) ১১ টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে সংগঠিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনায় অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের সমগ্র ভূখণ্ডকে ১১টি যুদ্ধক্ষেত্র বা সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় কাদেরিয়া বাহিনী, হেমায়েত বাহিনী, আকবর বাহিনী, কুদ্দুস বাহিনী, আফসার বাহিনী প্রভৃতি।
- ভারতে আলাদাভাবে গঠিত হয় মুজিব বাহিনী।
-ভারত সরকার বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৫৭.
দেশের সর্বশেষ স্থাপিত সরকারি ইপিজেড কোনটি?
  1. ক) উত্তরা ইপিজেড
  2. খ) কর্ণফুলী ইপিজেড
  3. গ) মংলা ইপিজেড
  4. ঘ) ঈশ্বরদী ইপিজেড
ব্যাখ্যা
- দেশের সর্বশেষ ইপিজেড হলো কর্ণফুলী ইপিজেড।
- এটি ২০০৬ সালে ২০৯.০৬ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- এর অবস্থান উত্তর পতেঙ্গা, চট্রগ্রাম। 

- বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীনে দেশে বর্তমানে ৮টি সরকারি ইপিজেড চালু রয়েছে।
এগুলো হলো:-
- চট্টগ্রাম ইপিজেড (প্রথম ও বৃহত্তম)
- ঢাকা ইপিজেড (দ্বিতীয়)
- মংলা ইপিজেড
- কুমিল্লা ইপিজেড
- ঈশ্বরদী ইপিজেড
- উত্তরা ইপিজেড (কৃষিভিত্তিক)
- আদমজী ইপিজেড
- কর্ণফুলী ইপিজেড (সর্বশেষ)।

তথ্যসূত্র:- BEPZA ওয়েবসাইট।
২,৮৫৮.
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে কে স্বাক্ষর করেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. শেখ হাসিনা
  3. জিয়াউর রহমান
  4. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
ব্যাখ্যা
ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তি:
- ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শান্তি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ ২৫ বছর মেয়াদী একটি মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান।
- ইন্দিরা গান্ধীর বাংলাদেশ সফরের সময় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটিতে মোট ১২টি ধারা ছিল।
- বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তির লক্ষ্য ছিল পঁচিশ বছরব্যাপী মৈত্রী, শান্তি ও সহযোগিতা বৃদ্ধি।
- ১৯৯৭ সালের ১৯ মার্চ চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
- অতঃপর আর এ চুক্তির নবায়ন করা হয় নি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮৫৯.
সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক উপাধি কি?
  1. ক) বীর প্রতীক
  2. খ) বীর বিক্রম
  3. গ) বীর উত্তম
  4. ঘ) বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
→ বীরশ্রেষ্ঠ,
→ বীরউত্তম,
→ বীরবিক্রম এবং
→ বীরপ্রতীক।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ।
→ সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি পান ৭ জন,
→ দ্বিতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরউত্তম’ পান ৬৮ জন,
→ তৃতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরবিক্রম’ পান ১৭৫ জন এবং
→  চতুর্থ বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরপ্রতীক’ পান ৪২৬ জন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,৮৬০.
আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বাংলা সাহিত্যে কী কারণে খ্যাতিমান?
  1. ক) শাসনকর্তা হিসেবে
  2. খ) বাংলা ভাষার স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য
  3. গ) অনুবাদের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য
  4. ঘ) সালতানাৎ প্রতিষ্ঠার জন্য
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহের শাসনাধীনে দেশে নিরবচ্ছিন্ন শান্তি বিরাজ করছিল। সমকালীন কবি বিজয়গুপ্ত তাঁকে নৃপতিতিলক, জগৎভূষণ ও কৃষ্ণ-অবতার বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর অধীনস্থ প্রাদেশিক শাসনকর্তা পরাগল খান ও ছুটি খান মহাভারতের বাংলা অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর এবং শ্রীকর নন্দীর পৃষ্ঠপোষকতা করেন। বৈষ্ণব কাব্যসমূহে হোসেন শাহের উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, শ্রী চৈতন্যএর প্রতি তিনি খুবই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং তাঁকে তিনি ঈশ্বরের অবতার বলে মনে করতেন। শ্রী চৈতন্যের ধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে হোসেন শাহ সার্বিক সুবিধা প্রদান করেছেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,৮৬১.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- তাজউদ্দিন আহমেদ। 

মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এটিই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। 
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- পরে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়।

সরকার গঠন:
• রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
• উপরাষ্ট্রপতি বা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম
• প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমেদ
• স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী: এ এইচ এম কামরুজ্জামান
• অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী: এম মনসুর আলী
• পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৬২.
তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ৮
  2. খ) ৯
  3. গ) ১০
  4. ঘ) ১১
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের বীর উত্তম। 
- ১৯৯৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর পরিবেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেয়া হয়।

সূত্র:  কুড়িগ্রাম জেলার ওয়েবসাইট
২,৮৬৩.
বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন কত তারিখে?
  1. ক) ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
  2. খ) ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
  3. গ) ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
  4. ঘ) ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ১৩৬তম সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করেন।
- একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বাংলায় ভাষণ প্রদান করে। বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের কেবল ২৯তম অধিবেশনেই অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সভাপতিত্ব করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
২,৮৬৪.
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি:
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন। সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

সূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৬৫.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে খেতাব প্রাপ্ত বিদেশি মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন?
  1. পোল্যান্ড
  2. জার্মানি
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,৮৬৬.
পলাশী যুদ্ধে পরাজয়ের ফলাফল নয় নিচের কোনটি?
  1. বাংলার স্বাধীন নবাবি শাসনের অবসান হয়
  2. মুঘল সম্রাটদের ক্ষমতা সুসংহত হয়
  3. বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা হয়
  4. ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনের পথ প্রশস্ত হয়
ব্যাখ্যা
- সিরাজউদ্দৌলার পলাশী যুদ্ধে পরাজয়ের ফলাফল নয়: মুঘল সম্রাটদের ক্ষমতা সুসংহত হয়।

পলাশী যুদ্ধের ফলাফল:

- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।  
- এ যুদ্ধের পর ইংরেজ শক্তির স্বার্থে এদেশের আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক পরিবর্তন সংঘটিত হতে থাকে।
- পলাশী যুদ্ধের সুদূর প্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা।
- এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভুলুন্ঠিত হয়।
- পলাশীর যুদ্ধ একটি খন্ডযুদ্ধ হলেও বাংলা তথা উপমহাদেশের রাজনীতিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম ও সুদূর প্রসারী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৬৭.
সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে ন্যূনতম কত শতাংশ ভোট না পড়লে পুনরায় ভোটগ্রহণ করার বিধান করার সুপারিশ করা হয়েছে?
  1. ৪৫ শতাংশ
  2. ৪০ শতাংশ
  3. ৫০ শতাংশ
  4. ৪২ শতাংশ
ব্যাখ্যা

নির্বাচন ব্যবস্থা: 
(ক) নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাতিল করা এবং ইভিএম ক্রয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করা।
(খ) নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা।
(গ) জাতীয় নির্বাচনে কোনো আসনে মোট ভোটারের ৪০ শতাংশ ভোট না পড়লে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান করা।
(ঘ) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন বন্ধ, রাজনৈতিক দলগুলোকে সৎ, যোগ্য এবং ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দেওয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নির্বাচনে 'না-ভোটে'র বিধান প্রবর্তন করা। নির্বাচনে না-ভোট বিজয়ী হলে সেই নির্বাচন বাতিল করা এবং পুনর্নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাতিলকৃত নির্বাচনের কোনো প্রার্থী নতুন নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারার বিধান করা।

উৎস: নির্বাচন সংস্কার কমিশন। [লিঙ্ক]

২,৮৬৮.
হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন -
  1. মাদার বক্স
  2. করিম শাহ
  3. দুদু মিয়া
  4. চেরাগ আলী শাহ
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিল একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৬৯.
বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীর নাম কী?
  1. শেখ রহিমাতুন্নেছা
  2. শেখ নভেরা বেগম
  3. শেখ সায়েরা খাতুন
  4. শেখ ফজিলাতুন্নেছা
ব্যাখ্যা
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা।
- তিনি ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল রেণু। বাবার নাম শেখ জহুরুল হক ও মায়ের নাম হোসনে আরা বেগম।
- ১ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তিনি জাতির পিতার হত্যাকারীদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাৎ বরণ করেন। 

উৎস: বাংলাদেশ বিষয়াবলী।
২,৮৭০.
স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন? 
  1. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. লর্ড কর্নওয়ালিশ
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

লর্ড মাউন্টব্যাটেন:
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় ছিলেন।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- এই পদে আসীন থাকাকালে (১৯৪৭-এর আগস্ট থেকে ১৯৪৮-এর জুন পর্যন্ত) তিনি ভারতীয় রাজন্যবর্গকে হয় ভারতীয় ইউনিয়ন, না হয় পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হতে উদ্বুদ্ধ করেন।
- ভাইসরয় হিসেবে তাঁর কার্যকাল সংক্ষিপ্ত হলেও এই সময়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
-সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উপমহাদেশের বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।
- স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। এই পদে আসীন থাকাকালে (১৯৪৭-এর আগস্ট থেকে ১৯৪৮-এর জুন পর্যন্ত)  তিনি ভারতীয় রাজন্যবর্গকে হয় ভারতীয় ইউনিয়ন, না হয় পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হতে উদ্বুদ্ধ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। এবং Britannica.

২,৮৭১.
‘মৌলিক গণতন্ত্র’ ব্যবস্থায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে মোট ভোটারের সংখ্যা কত ছিল? 
  1. ৪০ হাজার
  2. ৬০ হাজার
  3. ৭০ হাজার
  4. ৮০ হাজার
ব্যাখ্যা

• আইয়ুব খান:
- উচ্চ বিলাসী আইয়ুব খান সামরিক শাসন যাত্রার ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর নিজে প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন।

⇒ ক্ষমতাদখলের পর আইয়ুব খান কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন করেন। অতঃপর তিনি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
- ১৯৫৯ সালে 'পোডো' (PODO) এবং 'এবডো' (EBDO) নামক দুটি আদেশ জারি করে রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ ও নির্বাচনে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেন।
- ১৯৫৯ সালের অক্টোবর মাসে আইয়ুব খান 'মৌলিক গণতন্ত্র' নামে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেন।
- এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের দুই অঞ্চল থেকে ৪০ হাজার করে ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য নির্বাচন করা হয়।
- আইয়ুব খান ৪টি স্তর বিশিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন।
- তাঁর প্রশাসনিক কাঠামোর সর্ব নিম্নস্তর ছিল ইউনিয়ন কাউন্সিল।
- মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্যরা ছিলেন ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য।
- এরাই জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচনে ভোট দানের ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

উল্লেখ্য,
- শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে।
- কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৮৭২.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. মে. জে. জিয়াউর রহমান
  2. মে. জে. সফিউল্লা
  3. লে. জে. এইচ. এম. এরশাদ
  4. জে. আতাউল গণি ওসমানি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সেনাপতি ছিলেন জে. আতাউল গণি ওসমানি।

জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী:

- জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর জেনারেল পদে উন্নীত হন।
- তাঁর পদোন্নতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৮৭৩.
জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস কবে?
  1. ক) ১৯ জুন
  2. খ) ২০ জানুয়ারি
  3. গ) ২ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ২২ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
• জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস:
- দেশের জনসাধারণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর আলােকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।
- ২ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস।
- ২০১৮ সালে এ দিনটিকে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।
- এরপর থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ।
২,৮৭৪.
১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খান বিরোধী জোট কোনটি?
  1. ক) ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি
  2. খ) কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি
  3. গ) ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট
  4. ঘ) বিরোধী ঐক্য জোট
ব্যাখ্যা

কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি:
১৯৬৫ সালের ২রা জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খান বিরােধী একক প্রার্থী দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কাউন্সিল মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি দল মিলে একটি জোট বা COP (Combined Opposition Party) গঠন করে।
-মােহাম্মদ আলী জিন্নাহর বােন ফাতেমা জিন্নাহকে কপ-এর পক্ষে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করা হয় ।
-নির্বাচনে আইয়ুব খান জয়ী হন।
-প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয়। সেখানেও আইয়ুব খানের কনভেনশন মুসলিম লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ সংস্করণ)।
২,৮৭৫.
কাকে বাংলার নারী নবজাগরণের পথিকৃৎ বলা হয়?
  1. ফিরোজা বেগম
  2. বেগম রোকেয়া
  3. নুরজাহান বেগম
  4. নবাব ফয়জুন্নেসা
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়াকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
বিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি নারীশিক্ষা বিশেষত মুসলিম নারীদের শিক্ষা প্রসারে নিরলস পরিশ্রম করেন। নিজের উদ্যোগে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। সরকারের নিকট নারী শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন দাবী-দাওয়া পেশ করেন।

তিনি ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩২ সালে কলকাতায় মারা যান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
২,৮৭৬.
মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চে কার অবস্থান রয়েছে?
  1. মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড
  2. মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
  3. শিক্ষা মন্ত্রণালয়
  4. জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি
ব্যাখ্যা

⇒ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান।

মাধ্যমিক শিক্ষা:
- মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার শীর্ষে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে একাধিক সংস্থা।
- কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা সম্বন্ধীয় যাবতীয় কর্মকা- পরিচালিত হয়ে থাকে।
- এসব বিভিন্নমুখী দায়িত্ব পালন করে থাকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চার ধরনের বিশেষীকৃত সংস্থা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৭৭.
প্রাচীন বাংলার জনপদ ’সমতট’ বর্তমান কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত?
  1. ঢাকা
  2. বগুড়া
  3. কুমিল্লা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

সমতট:
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান। 
সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট।
কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে। শালবন বিহার এদের অন্যতম।
বর্তমানে কুমিল্লা ও নোয়াখালি প্রাচীন সমতট জনপদের অন্তর্গত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

২,৮৭৮.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
  4. ১৩
ব্যাখ্যা
সেক্টর ও সাব সেক্টরসমূহ:

- ১১ টি সেক্টরের অধিনে ৬৪ টি সাবসেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে ১নং সেক্টর গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম। 
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে ২নং সেক্টর গঠিত। আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে ৩নং সেক্টর গঠিত হয়।
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে ৪নং সেক্টর গঠিত।
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে ৫নং সেক্টর গঠিত।
- ৬ নং সেক্টর  সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- ৭ নং সেক্টর  রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- ১০ নং সেক্টর  নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- ১১ নং সেক্টর  টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,৮৭৯.
'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' কত বঙ্গাব্দে হয়?
  1. ক) ১৭৭৬
  2. খ) ১৭৭০
  3. গ) ১১৭৬
  4. ঘ) ১১৭০
ব্যাখ্যা
- রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রণয়ন করলে দেওয়ানি চলে যায় কোম্পানির হাতে আর প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে নবাবের হাতে।
- ফলে বাংলায় এক অভূতপর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
- এর ফল হিসেবে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- এ দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২,৮৮০.
মার্কিন নিউজউইক ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' উপাধি দেয়-
  1. ক) ১৭ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ৫ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১০ জুন, ১৯৭১
  4. ঘ) ১০ আগস্ট, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- মার্কিন নিউজউইক ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' বা 'Poet of Politics' উপাধি দেন ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে।
২,৮৮১.
চৈনিক পরিব্রাজক ফা-হিয়েন যার সময়ে বাংলায় আসেন -
  1. হর্ষবর্ধন
  2. আলাউদ্দিন হুসেইন শাহ
  3. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  4. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
ফা-হিয়েন:
- ফা-হিয়েন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন ও তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন।
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তাঁর বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।
- তিনি পঞ্চম শতকের সূচনায় বাংলায় আসেন।
- তিনি তাঁর ভ্রমণের অধিকাংশ সময়ই মধ্য ভারত বা মগধ পরিভ্রমণ অতিবাহিত করেন।
- তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল সে সময়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুক)।

উল্লেখ্য,
⇒ ফা-হিয়েন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের (৩৮০-৪১৩খ্রি.) সময় বাংলায় আসেন।
- চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
- ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে।
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২,৮৮২.
'বাওয়ালি' কারা?
  1. ভাওয়াল অঞ্চলের বাসিন্দা
  2. সুন্দরবনের গোলপাতা সংগ্রহকারী
  3. সুন্দরবনের মধু সংগ্রহকারী
  4. বাউল সম্প্রদায়
ব্যাখ্যা
বাওয়ালি:
- সুন্দরবন থেকে যাঁরা গোলপাতা সংগ্রহ করেন, তাঁদের বলা হয় বাওয়ালি।
- বাওয়ালি সুন্দরবনের কাঠকাটা শ্রমিকশ্রেণি।
- কাঠ কাটার সময় হিংস্র জন্তুর আক্রমণ ও অন্যান্য দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা বাউলদের সাহায্য নেয় বলে তাদের নাম হয়েছে বাওয়ালি।
- নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস বাওয়ালিরা গোলপাতা কাটে।
- এগুলি ঘর ছাওয়া এবং পাটি বোনাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত চলে গোলপাতা আহরণের মৌসুম।

অন্যদিকে,
- যাঁরা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করেন, তাঁদের বলা হয় মৌয়াল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮৮৩.
কলকাতা শহরের গোড়াপত্তন করেন কে?
  1. ক) রবার্ট ক্লাইভ
  2. খ) আল বুকার্ক
  3. গ) জব চার্নব
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন হকিন্স
ব্যাখ্যা
১৬৯০ সালে জব চার্নব নামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন কর্মচারি ভাগীরথী নদীর তীরের কোলকাতা, গোবিন্দপুর এবং সুতানটি নামে তিনটি গ্রামের জমিদারি লাভের মাধ্যমে কলকাতা শহরের গোড়াপত্তন করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৮৮৪.
'তমুদ্দিন মজলিস' কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল?
  1. কামরুদ্দীন আহমদ
  2. আবুল কালাম
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিস:
 - 'তমদ্দুন মজলিস' ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র।
উল্লেখ্য - তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠার তারিখ নিয়ে তথ্যকল্পদ্রুমের ৭নং পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 
২,৮৮৫.
রাখাইনের পূর্ব নাম কী?
  1. রেঙ্গুন
  2. আরাকান
  3. কাচিন
  4. শান
ব্যাখ্যা
- মিয়ানমার এর মতে রোহিঙ্গাদের আদি নিবাস বাংলাদেশে।
- তাঁরা বাংলাদেশ ভূখণ্ড থেকে গিয়ে মিয়ানমারের রাখাইনে (পূর্ব নাম আরাকান) বসতি গেড়েছে।
- মিয়ানমারের সরকার এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী বিষয়টিকে সেভাবেই দেখে।
- কিন্তু বাংলাদেশ মনে করে রোহিঙ্গারা কয়েকশ বছর ধরে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে বসবাস করছে এবং তাদের আদি নিবাসের সাথে বাংলাদেশ ভূখন্ডের কোন সম্পর্ক নেই।

উৎস: বিবিসি নিউজ বাংলা। [লিঙ্ক]
২,৮৮৬.
'জগদ্দল বিহার' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) কুমিল্লায়
  2. খ) নওগাঁয়
  3. গ) নরসিংদী
  4. ঘ) বগুড়ায়
ব্যাখ্যা
- জগদ্দল বিহার নওগা জেলার ধামুরহাট উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি নির্মাণ করেন পাল রাজা রামপাল।
- একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দীতে এই বিহার নির্মিত হয় বলো ধারণা করা হয়।

(তথ্যসূত্রঃ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
২,৮৮৭.
ঢাকার নাম জাহাঙ্গীর নগর রাখেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. সুবেদার ইসলাম খান
  3. ইব্রাহীম খান
  4. মীর জুমলা
ব্যাখ্যা
জাহাঙ্গীর:

- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে ইসলাম খান বারো ভূঁইয়াদের দমন করে সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৬১০ সালে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকা শহরের গোড়পত্তন করেন।
- তিনি ঢাকার ‘ধোলাই খাল’ খনন করেন এবং ঢাকার নামকরণ করেন জাহাঙ্গীর নগর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী।
২,৮৮৮.
'চিলেকোঠার সেপাই' কোন সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষাআন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ছয়দফা
ব্যাখ্যা
• চিলেকোঠার সেপাই:
- 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- এটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে একজন সাধারণ মানুষের যোগ দিতে সক্ষম হওয়ার এক গল্প চিলেকোঠার সেপাই।
- রাজনীতির নানা ঘটনা পরম্পরা উঠে এসেছে এই উপন্যাসে।
- সেখানে চিত্রিত হয়েছে, একদল কিভাবে দিনের পর দিন ধরে বিনির্মাণ করে চলেছেন ঊনসত্তর।

এছাড়াও,
- শামসুর রাহমানের 'আসাদের শার্ট।
- আল মাহমুদের 'ঊনসত্তরের ছড়া'।
- ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস ওঙ্কার।
- আহমদ ছফার দ্বিতীয় উপন্যাস 'ওঙ্কার' (১৯৭৫)।
- এ উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ বর্ণিত হয়েছে একজন কথকের উক্তিতে।
- ৩৮ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট উপন্যাসটি উঠে এসেছে '৬৯ এর পাকিস্তান আমলের সমাজচিত্রের ক্যানভাস ও সামাজিক অসংগতি এবং মনস্তাত্ত্বিক খেলা।
- আহমদ ছফার এ উপন্যাসে সমকালীন উত্তাপই শুধু নয় সমকালের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার শৈল্পিক সাধনাও প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: i) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
ii) দৈনিক জনকণ্ঠ।
২,৮৮৯.
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কোন শহর থেকে বাংলায় আসেন?
  1. ক) ইস্তাম্বুল
  2. খ) কাবুল
  3. গ) বাগদাদ
  4. ঘ) মক্কা
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:

- তিনি মক্কা থেকে বাংলাদেশে আসেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি জনপ্রিয় সুলতান ছিলেন এবং তাঁর খ্যাতি বাংলাদেশের জনস্মৃতিতে বহুকাল ছিল। 
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- মুজাফফর শাহের কুশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে প্রধান প্রধান অমাত্য ও সৈন্যরা তাঁকে হত্যা করে সবাই মিলিত হয়ে হোসেন শাহকে সুলতান মনোনীত করেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ ‘আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের ‘গোপাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
-  তিনি হাবশিদের প্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য তাদের পরিবর্তে সৈয়দ, আফগান, মোঙ্গল ও হিন্দুদেরকে উচ্চ রাজ পদে নিযুক্ত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন। 
- তিনি রাজধানী দিনাজপুর জেলার একডালায় নিয়ে আসেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ সমগ্র উত্তর বিহার এবং দক্ষিণ বিহারের কিছু অংশ দখল করেছিলেন। তিনি ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে কামতা রাজ্য আক্রমণ করে দখল করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৯০.
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. শেখ হাসিনা
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. আবুল মাল আব্দুল মুহিত
  4. প্রকৌশলী মো. আবু নোমান হাওলাদার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস (Bangladesh Bureau of Statistics-BBS)  সরকারি পরিসংখ্যানের প্রধান উৎস।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এই বিভাগ সকল প্রকার পরিসংখ্যানগত উপাত্ত সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং প্রকাশনার দায়িত্বপ্রাপ্ত।
- সরকারিভাবে ১৯৭৪ সালের আগস্ট মাসে এই বিভাগ সৃষ্টি করা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ২৬ আগস্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন চারটি পরিসংখ্যান সংস্থাকে এক করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
-  বিবিএস-এর প্রধান কাজ দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, নীতি নির্ধারণ প্রভৃতির জন্য অর্থনৈতিক খাতসমূহের উপাত্ত সংগ্রহ, সম্পাদনা, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ করা এবং সকল প্রকার পরিসংখ্যান কর্মসূচি, যেমন- আদমশুমারি, কৃষিশুমারি, শিল্প কারখানা শুমারি, স্থাপনা শুমারি পরিচালনা করা। 

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
২,৮৯১.
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) ঝিনাইদহ
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
• মেহেরপুরের মুজিবনগরের পুরাতন নাম বৈদ্যনাথতলার ভবের পাড়া।
• ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের রাজধানী ছিল।
• এখানে একটি স্মৃতিসৌধ রয়েছে, যা মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ নামে পরিচিত।
• এ সৌধের স্থপতি তানভীর কবির।

এছাড়াও 

- মুজিবনগর সরকার (যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার নামেও পরিচিত) মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জনগনের রায়ে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল এই সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (বর্তমান মুজিবনগর) শপথ গ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে।
- প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে।
- শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মেহেরপুরের ভবের পাড়া বৈদ্যনাথতলার 'মুজিবনগর নামকরণ করেন তাজউদ্দিন আহমেদ।
- প্রবাসী সরকার গঠিত হয় ১৯৭০ সালের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে।
- শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তৎকালীন মেহেরপুরের সাব-ডিভিশন অফিসার তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮৯২.
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. যশোর
  2. কুষ্টিয়া
  3. মেহেরপুর
  4. চুয়াডাঙ্গা
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর:
- মুজিবনগর মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত।
- এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- এর পূর্বনাম বৈদ্যনাথতলা।
- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের রাজধানী ছিল এখানে।
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী ছিল মুজিবনগর।
- মুজিবনগরের আম্রকাননে ১৭ এপ্রিল সরকারের মন্ত্রী পরিষদ শপথ নিয়েছিল।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মুজিবনগর।
- এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২,৮৯৩.
'পূর্ববাংলা ভাষা কমিটি'র সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. নুরুল হক ভূঁইয়া
  3. আকরাম খাঁ
  4. আবুল হাশেম 
ব্যাখ্যা

পূর্ব বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি:
- ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার ভাষা কমিটির  সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কবি গোলাম মোস্তফা। 

⇒ ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত সময়কে ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতি পর্ব বলা যায়। এই সময়ে আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার জনগণের আন্দোলনের মুখে প্রাদেশিক সরকার ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বাংলা ভাষা সংস্কারের জন্য মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁকে সভাপতি এবং কবি গোলাম মোস্তফাকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি সংস্কার কমিটি গঠন করে।
- দেড় বছর ব্যাপক আলাপ আলোচনার পর কমিটি সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করে।
- এই রিপোর্টে বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ ও বর্ণমালার প্রচুর সংস্কারের পরামর্শ দেয়া হয়।
- নতুন ভাষার নামকরণ হয় 'সহজ বাংলা'।
- কমিটি রোমান বা উর্দু হরফে বাংলা লেখার প্রশ্নকে কমপক্ষে বিশ বছরের জন্য স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়।
- এ সময়ের মধ্যে উর্দু ভাষাকেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানায়।
- এই রিপোর্টটি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পছন্দ হয়নি বলেই তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৯৪.
দিল্লী থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন কে?
  1. ক) সম্রাট আকবর
  2. খ) সুলতান ইলিয়াস শাহ
  3. গ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) মুহম্মদ বিন তুগলক
ব্যাখ্যা
রাজ্য শাসনের প্রত্যক্ষ অসুবিধা দূর করার জন্য মুহম্মদ বিন তুগলক ১৩২৬ - ২৭ খ্রিষ্টাব্দে সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজধানী দিল্লী থেকে দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন। তবে নানাবিধ কারনে তিনি আবার রাজধানী দেবগিরি থেকে দিল্লীতে আনেন।
মুহম্মদ বিন তুগলক সোনা ও রূপার মুদ্রার পরিবর্তে প্রতীকী তামার মুদ্রা প্রচলন করে মুদ্রামান নির্ধারণ করে দেন। তবে এ পরিকল্পনাও পরিত্যাগ করতে হয় । কেননা তাম্র মুদ্রা জাল হতে শুরু করে।
উৎস - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
২,৮৯৫.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৮১ সালে
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ১৯৭৮: 
- গণভোটে জয়লাভের এক বছর পরই দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে জিয়াউর রহমান তাঁর ক্ষমতা শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন।
- ৩ জুন, ১৯৭৮ নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল (অবঃ) এম এ জি ওসমানীকে পরাজিত করে জিয়াউর রহমানরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- নির্বাচনে জিয়াউর রহমান ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৩৩ হাজার ৬ শত ৭ ভোট এবং ওসমানী ৪৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ২ শত ভোট পায়। 
- ১২ জুন ১৯৭৮ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৯৬.
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান কে? 
  1. শাফকাত হোসেন 
  2. জগজিৎ সিং অরোরা
  3. আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
  4. স্যাম মানেকশ
ব্যাখ্যা

যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। 

পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।
- ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল এ কে নিয়াজিকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। 
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়। 
- শেষপর্যন্ত জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের যে স্থানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী এবং প্রথম আলো পত্রিকা।

২,৮৯৭.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে কত জন মুক্তিযোদ্ধার খেতাব বহাল রয়েছে?
  1. ৬৭২ জন
  2. ৬৭৪ জন
  3. ৬৭৬ জন
  4. ৬৭৮ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৯৮.
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ আনুষ্ঠানিকভাবে কবে ঘোষিত হয়?
  1. ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭২
  2. ১৫ই ডিসেম্বর, ১৯৭৩
  3. ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭৩
  4. ২৬শে মার্চ, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়.
- সেগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ পদমর্যাদার খেতাব: বীরশ্রেষ্ঠ,
- উচ্চ পদমর্যাদার খেতাব: বীর উত্তম,
- প্রশংসনীয় পদমর্যাদার খেতাব: বীর বিক্রম,
- বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্রের খেতাব: বীর প্রতীক।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাবের জন্য নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ পূর্বের ৪৩ জনসহ মোট ৫৪৬ জন মুক্তিযোদ্ধা খেতাবের জন্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খেতাব তালিকায় স্বাক্ষর করেন।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৯৯২ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে বীরত্বসূচক খেতাব প্রাপ্তদের পদক ও রিবন প্রদান করা হয়।
- ২০০১ সালের ৭ মার্চ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক পুরস্কার এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮৯৯.
পিপিপি এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. ক) প্রাইভেট প্রাকটিস অন ফিজিক্স
  2. খ) প্রাইভেট প্রাকটিশনার অন পাবলিক হেলথ
  3. গ) পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ
  4. ঘ) প্রাইভেট প্র্যাকটিস প্রসিকিউটার
ব্যাখ্যা

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ
- পিপিপি এর পূর্ণরূপ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ।
- পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ হলো একটি সরকারি ও বেসরকারি খাত মধ্যকার একটি দীর্ঘমেয়াদী সংস্থান।
- সাধারণত এতে সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবা বেসরকারি মূলধন অর্থায়ন এবং তারপর পিপিপি চুক্তির সময় করদাতা অথবা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় জড়িত থাকে।
- সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব একাধিক দেশে বাস্তবায়িত হয়েছে ও প্রাথমিকভাবে অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- স্কুল, হাসপাতাল, পরিবহন ব্যবস্থা এবং পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণ, সজ্জা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাদের নিযুক্ত করা হয়েছে।
- দেশের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবা সৃষ্টি/প্রদান করার লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার গ্রহণ করার পরপরই জননেত্রী পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

উৎস: পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ, pppa.gov.bd.

২,৯০০.
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে 'যৌথ কমান্ড' গঠন করা হয় কবে?
  1. ২০ নভেম্বর, ১৯৭১ সালে
  2. ২১ নভেম্বর, ১৯৭১ সালে
  3. ২২ নভেম্বর, ১৯৭১ সালে
  4. ২৩ নভেম্বর, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়:
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য সহযোগিতা করে।
- ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে 'যৌথ কমান্ড' গঠন করে।
- ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে।
- যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।