বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ২৬ / ১২৪ · ২,৫০১২,৬০০ / ১২,৪২১

২,৫০১.
সিন্ধু বিজেতা প্রথম মুসলিম সেনাপতি ছিলেন-
  1. মুহাম্মদ বিন কাসিম
  2. মাহমুদ গজনভী
  3. আলাউদ্দিন খিলজি
  4. মুহাম্মদ ঘুরি
ব্যাখ্যা
সিন্ধু বিজয়:
- আরবদের সিন্ধু বিজয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানদের আগমনের সূচনালগ্ন ধরা হয়।
- এ ঐতিহাসিক ঘটনার প্রধান কুশীলব ছিলেন আরব সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ও সিন্ধুর তৎকালীন রাজা দাহির।
- প্রথম সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি ছিলেন মুহাম্মদ বিন কাসিম।
- খলিফা প্রথম ওয়ালিদের সময় মুসলমানগণ সিন্ধু অভিযান করে।

উল্লেখ্য
- খলিফার অনুমতি নিয়ে ইরাকের গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এই অভিযান পাঠান।
- সিন্ধু বিজয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের বিস্তার সাধন এবং অর্থ সম্পদ লাভ।
- মুহম্মদ বিন কাসিম এক শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে সিন্ধুদেশ আক্রমণ করেন।
- তিনি দাইবুল, নীরুন, সিওয়ান ও সিসাম দখল করে আরও উত্তরে অগ্রসর হন।
- সিন্ধুরাজ দাহির রাওয়ার দুর্গ রক্ষার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু তিনি যুদ্ধে নিহত হন।
- রাওয়ার দখলের পর মুহম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুর রাজধানী আলোর জয় করেন।
- এরপর মুলতানও মুসলমানদের দখলে আসে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি,  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫০২.
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল জ্বালানি হচ্ছে -
  1. ফার্নেস তেল
  2. ডিজেল
  3. কয়লা
  4. পারমাণবিক পদার্থ
ব্যাখ্যা
• রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে:
- রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩২০ মেগাওয়াট।
- রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার রামপালে অবস্থিত একটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)
- প্রকল্প ব্যয় - ১৬,০০০ কোটি টাকা।

→ তথ্যসূত্র: বিদ্যুৎ বিভাগ।
২,৫০৩.
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ কোন তফসিলে আলোচিত হয়েছে?
  1. ক) পঞ্চম তফসিল
  2. খ) সপ্তম তফসিল
  3. গ) চতুর্থ তফসিল
  4. ঘ) ষষ্ঠ তফসিল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।

প্রথম তফসিল
অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।

দ্বিতীয় তফসিল
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।

তৃতীয় তফসিল
শপথ ও ঘোষণা।

চতুর্থ তফসিল
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

পঞ্চম তফসিল
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।

ষষ্ঠ তফসিল
স্বাধীনতার ঘোষণা।

সপ্তম তফসিল
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
২,৫০৪.
ঢাকা কলকাতা ট্রেন সার্ভিসের নাম-
  1. ক) বন্ধু
  2. খ) একতা
  3. গ) মৈত্রী
  4. ঘ) পদ্মা
ব্যাখ্যা
ঢাকা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিসের নাম ''মৈত্রী এক্সপ্রেস'' এবং খুলনা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিসের নাম ''বন্ধন এক্সপ্রেস''।
Source: railway.gov.bd
২,৫০৫.
বীরপ্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সেতারা বেগম কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
  1. সেক্টর ১
  2. সেক্টর ২
  3. সেক্টর ৩
  4. সেক্টর ৪
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,৫০৬.
বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় কার শাসনামালে?
  1. পঞ্চম জর্জ
  2. লর্ড কর্ণওয়ালিস
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ রদ:
- লর্ড চার্লস হার্ডিঞ্জ  ১৯১১ সালের ২৫ আগস্ট গোপনে এক বার্তায় ভারতের প্রশাসনে নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করেন।
- রাজা পঞ্চম জর্জ, গভর্নর জেনারেলের লর্ড চার্লস হার্ডিঞ্জ ১৯১১ সালে তার রাজ্য অভিষেকে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা করেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদের কার্যকর হয়- ২০ জানুয়ারি, ১৯১২ সালে।
- দুই বাংলা রচিত হয় ১৯১২ সালের ১ এপ্রিল।
- বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা করেন- রাজা পঞ্চম জর্জ।
- বঙ্গভঙ্গ রদে করেন- লর্ড হার্ডিঞ্জ।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গভঙ্গ করেন- লর্ড কার্জন।
- ১৯০৫ সালে ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়।
- বঙ্গভঙ্গ ফলে নতুন প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয় - উত্তর পূর্বাঞ্চল ও আসাম প্রদেশ।
- বঙ্গভঙ্গ বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলনের  নেতৃত্ব দেন   অরবিন্দ ঘোষ।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
২,৫০৭.
বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ স্থাপিত হয়-
  1. মহাখালীতে
  2. গাজীপুরে
  3. রাঙামাটিতে
  4. সিলেটে
ব্যাখ্যা

• বর্তমানে বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথা:
- রাঙ্গামাটি (বেতবুনিয়া)
- গাজীপুর (তালিবাবাদ)
- মহাখালী ও
- সিলেট
• বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন করেন।
• এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।

২,৫০৮.
২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে নিচের কোন সংস্থাটি?
  1. UNICEF
  2. UNAID
  3. UNESCO
  4. UNCTAD
ব্যাখ্যা

• ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে 'UNESCO'.

• আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস:
- ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

• UNESCO:
- UNESCO-এর পূর্ণরূপ: The United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization.
- এটি হলো জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা।
- ১৯৪৫ সালের ১৬ নভেম্বর UNESCO এর সংবিধান স্বাক্ষরিত হয়।
- কার্যকর হয় ১৯৪৬ সালের ৪ নভেম্বর।
- সদরদপ্তর: প্যারিস, ফ্রান্স।
- বর্তমান মহাপরিচালক: আদ্রে আজুলে (ফ্রান্স)।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৪টি।
- বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা প্রকাশ করে ইউনেস্কো।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ২৭ অক্টোবর ইউনেস্কোতে যোগ দেয়।
- বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ঘোষণা করে ইউনেস্কো।
- বাংলাদেশের পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে ইউনেস্কো।

উৎস: UNESCO ওয়েবসাইট।

২,৫০৯.
পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে থাকেন কে?
  1. ইউপি সংরক্ষিত মহিলা সদস্যবৃন্দ
  2. জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ
  3. উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান
  4. জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান
ব্যাখ্যা
নির্বাচন দুই ভাবে হয়ে থাকে। যথা: প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা এবং পরোক্ষ ব্যবস্থা।
প্রত্যক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় জনগণ বা ভোটাররা তাদের ভোটের মাধ্যমে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচিত করে।
বাংলাদেশে এরূপ নির্বাচনের মধ্যে রয়েছে:
- জাতীয় সংসদ নির্বাচন
- ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
- উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
- সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচন প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় জনগণ বা ভোটাররা তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে প্রথমে নির্বাচকমণ্ডলী তৈরি করে এবং নির্বাচকমণ্ডলীরা পরবর্তীতে তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে।
বাংলাদেশে এরূপ নির্বাচন হলো:
- জেলা পরিষদ নির্বাচন
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
- সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন প্রভৃতি।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট জেলার সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে জেলা পরিষদের সদস্যদের নির্বাচন করে থাকে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৫১০.
'নেজামে ইসলাম পার্টি' এর নেতা কে ছিলেন?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
  3. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  4. মওলানা আতাহার আলী
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল 'যুক্তফ্রন্ট' নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। যথা:
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি: শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি: মওলানা আতাহার আলী।
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল: হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র- এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার- আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী- আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প - সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২,৫১১.
বাংলাদেশের 'শ্বেতস্বর্ণ' বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) ইলিশ মাছ
  2. খ) চিংড়ি মাছ
  3. গ) পাট
  4. ঘ) ধান
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের একমাত্র মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহে অবস্থিত।
- ফিশারিজ গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুরে অবস্থিত।
- সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র কক্সবাজারে অবস্থিত।
- চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র বাগেরহাটে অবস্থিত।
- গলদা চিংড়ি চাষ হয় স্বাদু পানিতে আর বাগদা চিংড়ি চাষ হয় লোনা পানিতে। বাগদা চিংড়ি বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয় ১৯৭৬ সালে।
- বাংলাদেশের চিংড়ি সম্পদকে White Gold বলা হয় আর হিমায়িত খাদ্যকে Thurst sector বলা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাগেরহাট জেলার ওয়েবসাইট।
২,৫১২.
নিম্নের কোন পর্যটক সোনারগাঁও ভ্রমণ করেছিলেন?
  1. মার্কো পোলো
  2. হিউয়েন সাং
  3. ফা-হিয়েন
  4. ইবনে বতুতা
ব্যাখ্যা
ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।

⇒ ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
- সেখান থেকে সরাসরি তিনি কামারু (কামরূপ) পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে রওনা হন।
- সাদকাঁও থেকে কামারু তাঁর বর্ণনায় এক মাসের পথ। এরপর সেখানে তিনি সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর খানকায় সাক্ষাৎ করেন। দরবেশের খানকায় তিন দিন অবস্থানের পর তিনি আন-নহর উল-আয্রাক (নীল নদী অর্থে) নদীর তীরবর্তী হবঙ্ক শহর অভিমুখে রওনা হন।
- এই নদীপথে ১৫ দিন নৌকায় ভ্রমণের পর তিনি সুনুরকাঁও (সোনারগাঁ) শহরে পৌঁছেন (১৪ আগস্ট ১৩৪৬)।
- সোনারগাঁ থেকে একটি চীনা জাহাজে করে তিনি জাভার উদ্দেশে রওনা হন।

অন্যদিকে,
- মার্কো পোলো, হিউয়েন সাং, ফা-হিয়েন সোনারগাঁও ভ্রমণ করেননি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫১৩.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয় ১৯৭১ সালের কোন তারিখে?
  1. ক) ১৬ ডিসেম্বর
  2. খ) ২৬ মার্চ
  3. গ) ৭ মার্চ
  4. ঘ) ২ মার্চ
ব্যাখ্যা
• প্রথম জতীয় পতাকা উত্তোলন:
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের পশ্চিম গেটে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয়।
- সেদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব। সেই পতাকার মাঝখানে হলুদ বৃত্ত ছিল। আর বৃত্তের মধ্যে ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র।
- সেই থেকে প্রতি বছর ২ মার্চ জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস পালন করা হয়।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চে তার বাসভবনে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।
- ১৯৭২ সালে শিবনারায়ণ দাশের ডিজাইন করা পতাকা থেকে মানচিত্রটি বাদ দেওয়া হয়। 
- পতাকার মাপ, রং ও তার ব্যাখ্যাসহ একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয় পটুয়া কামরুল হাসানকে। 
- কামরুল হাসান আমাদের জাতীয় পতাকার যে রূপ দিয়েছিলেন সেটিই বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের প্রতীক।
-  বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।
 
উৎস: বিডিনিউজ 
২,৫১৪.
কোন মুঘল সম্রাটের সময়ে দিল্লির জামে মসজিদ নির্মিত হয়?
  1. শাহজাহান
  2. আকবর
  3. হুমায়ুন
  4. বাবর
ব্যাখ্যা

মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত। 

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫১৫.
গতবছর পরীক্ষামূলকভাবে দেশে ৫জি সেবা চালু হয়-
  1. ক) ১০ নভেম্বর
  2. খ) ১২ ডিসেম্বর
  3. গ) ২০ নভেম্বর
  4. ঘ) ২০ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

- ১২ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তিতে প্রবেশ করে বাংলাদেশ।
- রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক দেশের ছয়টি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভ-জি সেবা চালু করেছে।
- বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে ফাইভ-জি সেবা চালু হয়েছে।

২,৫১৬.
বাগেরহাটের 'মিঠাপুকুর' কে খনন করেন?
  1. ক) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. খ) সুলতান নুসরত শাহ
  3. গ) সম্রাট হুমায়ুন
  4. ঘ) সুজাউদ্দিন
ব্যাখ্যা
বঙ্গেশ্বর নসরৎ শাহের খলিফাতাবাদ টাকশাল সম্ভবতঃ বাগেরহাট শহরের মিঠাপুকুরের নিকটে অবস্থিত ছিল। মিঠাপুকুর পাড়ে সে আমলের একটি মসজিদ আছে। ধারণা করা হয় যে বাগেরহাটের মিঠাপুকুর খনন করেন নুসরৎ শাহ।
২,৫১৭.
পানিপথের ৩য় যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়?
  1. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৭৩১ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

পানিপথের ৩য় যুদ্ধ:
- ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের ৩য় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে আফগান শাসক আহমদ শাহ আবদালির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় মারাঠাশক্তি।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে আফগান শাসক আহমদ শাহ আবদালির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় মারাঠাশক্তি।
- অষ্টাদশ শতকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোর মধ্যে ভয়াবহতম ছিল এই যুদ্ধ।
- দু’পক্ষের প্রায় সত্তর হাজার সৈন্য প্রাণ হারিয়েছিলন।
- বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেও আফগান বাহিনীর হাতে পরাজিত হয়েছিল পেশওয়া শক্তি।
- পরে মারাঠাদের ওপর বীভৎস হত্যালীলা চালিয়েছিল আফগান সৈন্যরা। 
- এই যুদ্ধে পরাজিত হলে মারাঠা সাম্রাজ্য তছনছ হয়ে যায়।

• পানিপথের ১ম যুদ্ধ: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
• পানিপথের ২য় যুদ্ধ: ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২,৫১৮.
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন এম মনসুর আলী। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৫১৯.
সম্রাট অশোক কোন সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন?
  1. গুপ্ত সাম্রাজ্য
  2. মৌর্য সাম্রাজ্য
  3. কুষাণ সাম্রাজ্য
  4. মগধ সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা

• সম্রাট অশোক:
- সম্রাট অশোক ভারতের মৌর্য সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক ছিলেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩ অব্দে তিনি সিংহাসনে বসেন। এর তের বছর পর খ্রিস্টপূর্ব ২৬১ অব্দে অশোক পার্শ্ববর্তী কলিঙ্গ রাজ্য আক্রমণ করেন।
- ভয়াবহ কলিঙ্গ যুদ্ধে সাধারণ মানুষসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়।
- এ ভয়াবহতা সম্রাট অশোকের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এতে করে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধ পরিহার করে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির নীতি গ্রহণ করেন।
-তিনি ঘোষণা করেন 'সব মানুষই আমার সন্তান'।
- সম্রাট অশোক খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৩২ অব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, স্নাতক শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫২০.
আইয়ুব খান বিরোধী 'ঘেরাও কর্মসূচি' কে ঘোষণা করেন? 
  1. তোফায়েল আহমেদ
  2. শেখ মুজিবুর রহমান 
  3. মওলানা ভাসানী 
  4. সিরাজুল আলম খান 
ব্যাখ্যা

• মওলানা ভাসানী:
- ১৯৬৮ সালের ডিসেম্বরে পল্টন ময়দানে জনসভা করে গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করেছিলেন ন্যাপের সভাপতি মওলানা ভাসানী।
- পরে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ (ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি) স্বতন্ত্রভাবে গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণা দিলে অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ভাসানী সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদে যোগ না দিয়ে ঘেরাও আন্দোলন চালাতে থাকেন।
- তার সঙ্গে ছিল পিকিংপন্থী বলে পরিচিত বামপন্থী দলগুলো এবং শ্রমিক ফেডারেশন ও কৃষক সমিতি। 
- মস্কোপন্থী দলগুলো ক্রমে আওয়ামী লীগের সমর্থনে গিয়ে আন্দোলনে যুক্ত থাকে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে মাওলানা ভাসানী বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামীদের মুক্তি দাবি করেন। ৮ মার্চ (১৯৬৯) পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে সেখানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে সাক্ষাত করে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে একমত হন।
- ২৬শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান কর্তৃক আহুত গোলটেবিল বৈঠক প্রত্যাখান করে শ্রমজীবীদের 'ঘেরাও কর্মসূচী' পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

তথ্যসূত্র:
i) The Daily Star Bangla,.
ii) বণিক বার্তা।

২,৫২১.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভায় স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. এম. এ. জি. ওসমানী
  4. লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন। 
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। 
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান। 
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ মন্ত্রণালয়: এম. মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব, 
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫২২.
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. ক) শাহারিয়ার কবির
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহীম
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক ছিলেন জাহানারা ইমাম। 

• জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪)  শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর শৈশবকালে মুসলিম পরিবারের মেয়েদের নিকট আধুনিক শিক্ষালাভের দ্বার উন্মুক্ত ছিল না।
- তবে তিনি তাঁর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পিতা আবদুল আলীর তত্ত্বাবধানে রক্ষণশীলতার বাইরে এসে আধুনিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

২,৫২৩.
মাতৃত্বকালীন কয় মাসের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ৮ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ৯ মাস
  4. ১০ মাস
ব্যাখ্যা

মাতৃত্বকালীন ছুটি:
- বাংলাদেশ সরকার ১১ জানুয়ারি ২০১১ গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত নারী কর্মীদের জন্য ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি ঘোষণা করে।
- এটি ৯ জানুয়ারি ২০১১ সাল থেকে কার্যকর হয়।
- মাতৃত্বজনিত ছুটি বৃদ্ধির ফলে মায়েরা তাদের সন্তানদের বুকের দুধ পান করাতে সমর্থ হবেন এবং এর ফলে নবজাতক শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যা দূর হবে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

২,৫২৪.
How many people died in Great Bengal famine of 1770?
  1. One-fifth
  2. One-fourth
  3. One-third
  4. About half
  5. None of these
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রণয়ন করলে দেওয়ানি চলে যায় কোম্পানির হাতে।
- প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে নবাবের হাতে।
- যার ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয় ।
- এর ফল হিসেবে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয় ৷
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৫২৫.
শিখা অনির্বাণ কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা সেনানিবাস
  2. চট্টগ্রাম সেনানিবাস
  3. কুমিল্লা সেনানিবাস
  4. রাজশাহী সেনানিবাস
ব্যাখ্যা
শিখা অনির্বাণ:
- শিখা অনির্বান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ।
- যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সৈনিকদের স্মৃতিকে জাতির জীবনে চির উজ্জ্বল রাখার উদ্দেশ্যে এই স্মৃতিস্তম্ভে সার্বক্ষনিক ভাবে শিখা প্রজ্জ্বলন করে রাখা হয়।
- ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় এটি স্থাপিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৫২৬.
কোনটির ফলে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান
  4. ৭০-এর সাধারণ নির্বাচন
ব্যাখ্যা
আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন:
- ১৯৬৯ সালে গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রভাব: ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
- এর পূর্বে তিনি 'ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা' তুলে নেন।
- জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয় ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে।
- গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ববাংলার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনার বিকাশ ঘটে।

উল্লেখ্য,
⇒ ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন ও পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।
- ইস্কান্দার মির্জা জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।
- এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট মির্জাকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- এর পরের দিন আইয়ুব খান এক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা পাকাপাকি করার জন্য ১৩ জন জেনারেলকে বরখাস্ত করেন এবং নিজেকে ভূষিত করেন ফিল্ড মার্শাল উপাধিতে।
- তা ছাড়া রাজধানী করাচি থেকে প্রথমে স্থানাস্তর করেন রাওয়ালপিন্ডিতে, পরে ইসলামাবাদে।
- জেনারেল আইয়ুব ১৯৫৯ সালে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে নতুন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৮-১৯৬৯ প্রায় ১০ বছর আইয়ুব খানের সামরিক শাসন স্থায়ী হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫২৭.
বর্তমান শহীদ মিনারের নকশা ও পরিকল্পনা করেছেন কে?
  1. হামিদুর রহমান
  2. আবুল হাশিম
  3. নিতুন কুন্ডু
  4. নভেরা আহমেদ 
ব্যাখ্যা

• শহীদ মিনার: 
- বর্তমান শহীদ মিনারের নকশা ও পরিকল্পনা শিল্পী হামিদুর রহমানের। 
- ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারিতে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে।
- পুলিশ শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে দেয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের প্রতিবাদে ঢাকা শহরে ২৩ ফেব্রুয়ারি হরতাল পালিত হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফুলার রোডে একজন কিশোর নিহত হয়।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় হরতাল পালিত হয়।
- ডা. সাঈদ হায়দারের নকশা অনুসারে রাতে মেডিকেল কলেজের গেইটের সামনে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয় এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি তা উদ্বোধন করা হয়।
- ১৯৬৩ সালে অস্থায়ী শহীদ মিনারের স্থলে শিল্পী হামিদুর রহমানের নকশা ও পরিকল্পনায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে দেয়।
- ১৯৭২ সালে পূর্বের নকশা অনুযায়ী বর্তমান শহীদ মিনারটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৫২৮.
তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ক) প্রফেসর আবুল কাশেম
  2. খ) অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া
  3. গ) কাজী মোতাহার হোসেন
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং
- এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- এ ঐতিহাসিক পুস্তিকায় সন্নিবেশিত নিবন্ধগুলোতে এদের লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ ও অধ্যাপক আবুল কাশেম বাংলাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
- তাঁরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিও তুলে ধরেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,৫২৯.
‘ব্ল্যাক হোল ট্র্যাজেডি’ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৫৫ সালে
  2. ১৭৫৬ সালে
  3. ১৭৫৭ সালে
  4. ১৭৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

অন্ধকূপ হত্যা (ব্ল্যাক হোল ট্র্যাজেডি):
- অন্ধকূপ হত্যা ১৭৫৬ সালের ২০ জুন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব কর্তৃক ১৭৫৬ সালে জুন মাসে কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

 
⇒ নবাব কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।
- হলওয়েল, জন জেফেনিয়াহ বহুল আলোচিত অন্ধকূপ হত্যা কাহিনীর রচয়িতা।
- উনিশ শতকের প্রথম দিকের অধিকাংশ ইংরেজ ইতিহাসবিদ এ কাহিনী বিশ্বাস করেন এবং অন্ধকূপ হত্যার ঘটনাকে প্রাচ্যদেশীয় শাসকদের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার জঘন্য নিদর্শনরূপে গণ্য করেন।
- কিন্তু পরবর্তীকালের ইতিহাসবিদগণ হলওয়েলের কাহিনীর সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ার মতো প্রমাণ আবিষ্কার করেন।
- সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নবাবের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতেই ঘটেছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৩০.
মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান কে?
  1. শশাঙ্ক
  2. দেবপাল
  3. ধর্মপাল
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মাৎস্যন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন। 
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ। লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান গোপাল।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৩১.
তমুদ্দুন মজলিস কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৭ সাল
  2. ১৯৪৯ সাল
  3. ১৯৪৮ সাল
  4. ১৯৪৩ সাল
ব্যাখ্যা

• তমুদ্দিন মজলিশ:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দুন মজলিস গঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দিন মজলিশ।
- তমুদ্দুন মজলিস ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে।
- যেখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
-  ভাষা আন্দোলনে তমুদ্দিন মজলিশ সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল পত্র, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা।

২,৫৩২.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য কতজন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ৫ জন
  2. খ) ৭ জন
  3. গ) ২ জন
  4. ঘ) ৬ জন
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়-
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৮ জন,
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন,
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন।

তার মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী 'বীরপ্রতীক' খেতাব পেয়েছেন।
- ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম ও
- তারামন বিবি।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও ডয়েচভেলে রিপোর্ট।
২,৫৩৩.
ঢাকা কত সালে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয়?
  1. ১৮৬৪ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৭২ সালে
  4. ১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি (পৌরসভা) গঠিত হয় এবং ১৯৬০ সালে এটিকে টাউন কমিটিতে রূপান্তর করা হয়।
- ১৯৭২ সালে টাউন কমিটি বিলুপ্ত করে পৌরসভায় রূপান্তর করা হয় এবং ১৯৮৩ সালে একে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়।
- ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে সিটি কর্পোরেশন রূপান্তর করা হয়।

- ১৯৯৪ সালে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচনে মোহাম্মদ হানিফ মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি ২০০২ সালের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।
- ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে ভেঙে ২টি পৃথক সিটিকর্পোরেশন করা হয়।
সেগুলো হচ্ছে -
১. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও
২. ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

তথ্যসূত্র:- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
২,৫৩৪.
কতজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ভাষণ দেন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা

- ৩১ জানুয়ারি ১৯৭৪ সালে যুগোস্লাভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসেফ টিটো জাতীয় সংসদে কোন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথম ভাষণ দেন।
- ১৮ জুন ১৯৭৪ সালে ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিভি গিরি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ভাষণ দেন।
- ২০১৩ সালে ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ভাষণ দেন।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এ পর্যন্ত এই ৩ জন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বক্তৃতা করেন।
উৎসঃ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

২,৫৩৫.
জাতীয় সৃতিসৌধের স্থপতি মাইনুল হোসেন কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) ২০১১ সালে
  2. খ) ২০১২ সালে
  3. গ) ২০১৩ সালে
  4. ঘ) ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা
স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন (জন্মঃ ৫ মে, ১৯৫২ এবং মৃত্যুঃ ১০ নভেম্বর, ২০১৪) বাংলাদেশের প্রখ্যাত স্থপতি। তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের স্থপতি।
ব্যাখ্যা যাচাইঃ প্রথম আলো, বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
২,৫৩৬.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় কবে?
  1. ১১ ফেব্রুয়ারি , ১৯৪৮
  2. ২২ জানুয়ারি, ১৯৫০
  3. ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
  4. ৩০ জানুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক মনোনীত হন কাজী গোলাম মাহবুব।
২০শে ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকায় পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

২,৫৩৭.
বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হন কে?
  1. ক) নবাব সুজাউদ্দৌলা
  2. খ) সম্রাট শাহ আলম
  3. গ) মীর কাশিম
  4. ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
বাংলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বিহারের বক্সার নামক স্থানে ইংরেজদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

বাংলার নবাব মীর কাশিম, মুঘল সম্রাট শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সম্মিলিত বাহিনী মেজর মনরো'র নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর নিকট পরাজয় বরণ করে।

বক্সারের যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার নামমাত্র টিকে থাকা স্বাধীনতাও পুরোপুরি বিনষ্ট হয় এবং ভারতে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ আরও সুগম হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৫৩৮.
বাংলাদেশের সমরাস্ত্র কারখানা কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (বিওএফ):
- বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান।
- এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার অদূরে গাজীপুর জেলার চতর মৌজার ৩০৩.১৪ একর জমির উপর অবস্থিত।
- চীনের কারিগরী সহযোগিতায় কারখানাটি ১৯৭০ সালের ০৬ এপ্রিলে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৭ সালে কারখানাটি নিয়মিত উৎপাদনের জন্য চালু হয়।
- দেশের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানিকরণ এ প্রতিষ্ঠানের মূল কর্মপরিধি।

তথ্যসূত্র - প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
২,৫৩৯.
তমুদ্দিন মজলিশ কবে ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে পুস্তিকা প্রকাশ করে?
  1. ১৯৪৮ সাল
  2. ১৯৪৭ সাল
  3. ১৯৪৬ সাল
  4. ১৯৪৯ সাল
ব্যাখ্যা

তমুদ্দিন মজলিশ:
-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তমুদ্দিন মজলিশ মূলত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ।
- তমুদ্দিন মজলিসের লক্ষ ছিল, কুসংস্কার দুর করে যুক্তিবাদের উপর সত্য সুন্দর ও মানবীয় মুল্যবোধ ভিত্তিক শিল্প ও সাহিত্যের মাধ্যমের দেশ ও সমাজ কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
- তমদ্দুন মজলিশের বাংলা মুখপত্র ছিল সাপ্তাহিক সৈনিক
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

বি.দ্র.  -অনেক বইতে তমুদ্দিন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় উল্লেখ আছে, অপশনে ২ রা সেপ্টেম্বর থাকলে তা সঠিক উত্তর বলে গণ্য হবে।
         - অনেক সময় অপশনে সাহিত্য ও সংস্কৃতি দুটোই থাকলে সঠিক উত্তর হবে- সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- এ বিষয় আরো বিস্তারিত তথ্য লাইভ এসসিকিউ এর তথ্যকল্পদ্রুম বাটনে দেখুন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৫৪০.
নিচের কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিলো?
  1. ক) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
  2. খ) বঙ্গভঙ্গ রদ
  3. গ) সিমলা ডেপুটেশন
  4. ঘ) সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ
ব্যাখ্যা
১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর ভারতীয় মুসলমানদের ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগা খানের নেতৃত্বে সিমলায় বড়লাট লর্ড মিন্টোর সাথে সাক্ষাত করেন।
তারা মুসলমানদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া বড়লাটের নিকট পেশ করে। এটিই সিমলা ডেপুটেশন নামে পরিচিত।
অন্যদিকে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করা হয় ১৯১১ সালে।
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় ১৯১৯ সালে।
সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ ঘোষিত হয় ১৯৩২ সালে।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
২,৫৪১.
মহামুনি বিহার কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বগুড়া
  2. কুমিল্লা
  3. চট্টগ্রাম
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

মহামুনি বিহার:
- মহামুনি বিহার চট্টগ্রামের রাউজানে অবস্থিত।
- রাউজান উপজেলার ২০০ বছরের ঐতিহাসিক প্রাচীন নিদর্শন মহামুনি বিহার।
- 'চাইঙ্গা ঠাকুর' নামের এক বৌদ্ধ ধর্মগুরু এই বিহারে ১৮০৫ মতান্তরে ১৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে মহামানব গৌতম বুদ্ধের মূর্তি স্থাপন করেন।
- এ কারণে গৌতম বুদ্ধের নামে এ বিহারের নামকরণ করা হয় মহামুনি মন্দির।
- এই মন্দিরটির কারণে মহামুনি গ্রাম ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র তীর্থস্থানে পরিণত হয়।
- এ মন্দিরকে কেন্দ্র করে মং সার্কেল রাজা ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে মহামুনি মন্দির চত্বরে মেলার প্রবর্তন করেন, যা চৈত্র মাসের শেষ দিন থেকে শুরু হয়।

তথ্যসুত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট ও দৈনিক সমকাল, ১৪ এপ্রিল ২০১৮।

২,৫৪২.
ষাট গম্বুজ মসজিদ কোন শতাব্দীতে নির্মিত হয়?
  1. ১৩শ
  2. ১৪শ
  3. ১৫শ
  4. ১৬শ
ব্যাখ্যা

ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করা হয়। সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। খানজাহান বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়। তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী এতে সুস্পষ্ট।
- মসজিদের নাম ষাট গম্বুজ হলেও এর গম্বুজের সংখ্যা আসলে ৭৭টি। মিনারের চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে এর মোট গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টিতে।
- মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই।

⇒ এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত। বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।

উল্লেখ্য, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য:
- বাংলাদেশের তিনটি স্থান ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান করে নিয়েছে:
১. নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার (১৯৮৫ সালে),
২. বাগেরহাট জেলার ষাটগম্বুজ মসজিদ (১৯৮৫ সালে),
৩. সুন্দরবন (১৯৯৭ সালে)।

উল্লেখ্য,
- সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য,
- পাহাড়পুরের সোমপুর বৌদ্ধবিহার ইউনেস্কো ঘোষিত ৩২২তম বিশ্ব ঐতিহ্য,
- ষাটগম্বুজ মসজিদ ইউনেস্কো ঘোষিত ৩২১তম বিশ্ব ঐতিহ্য।

উৎস: i) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
ii)  প্রথম আলো।

২,৫৪৩.
বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন -
  1. ঈসা খান
  2. শায়েস্তা খান
  3. শেরশাহ
  4. ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- বারো ভূঁইয়া বাংলার স্থানীয় প্রধান ও জমিদার, যাঁরা আকবর ও জাহাঙ্গীর এর রাজত্বকালে মুগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
- বারো-ভূঁইয়া শব্দটির অর্থ বারোজন ভূঁইয়া।
-  প্রকৃতপক্ষে বাংলায় আফগান শাসনামল ও মুগল শক্তির উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে এদেশের বিভিন্ন এলাকা বহু সামরিক প্রধান, ভূঁইয়া এবং জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- তারা কখনও যৌথভাবে এবং বেশিরভাগ সময় পৃথকভাবে মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন এবং স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন শাসকরূপে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা শাসন করেছিলেন।
- ঈসা খান সরাইলের জমিদার, ভাটি অঞ্চলের শাসক এবং বারো ভূঁইয়াদের নেতা।

আকবরনামা’য় প্রাপ্ত ভাটিতে মুগলদের যুদ্ধবিগ্রহের বিবরণ অনুযায়ী ভূঁইয়াদের তালিকা:
(১) ঈসা খান মসনদ-ই-আলা,
(২) ইবরাহিম নরল,
(৩) করিমদাদ মুসাজাই,
(৪) মজলিস দিলওয়ার,
(৫) মজলিস প্রতাপ,
(৬) কেদার রায়,
(৭) শের খান,
(৮) বাহাদুর গাজী,
(৯) তিলা গাজী,
(১০) চাঁদ গাজী,
(১১) সুলতান গাজী,
(১২) সেলিম গাজী,
(১৩) কাসিম গাজী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৫৪৪.
সাধারণত হস্তক্ষেপ না করা এবং অনাক্রমণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন -
  1. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. লর্ড ক্যানিং
  4. উইলিয়াম বেন্টিংক
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৮ -৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিংক মাদ্রাজের গভর্নর হিসেবে ১৮০৩ সালে প্রথম ভারতে আসেন।
- ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা পরে তাঁর পদবিকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে পুনরাখ্যায়িত করা হয়।

⇒ ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেলে উন্নীত করা হয়।
- ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।
- কোর্ট অব ডাইরেক্টরস (Court of Directors) বেন্টিঙ্ককে সমর্থন করেছিলেন।
- কারণ তিনি শান্তি, শৃঙ্খলা ও মিতব্যয়িতার ধ্বজাধারী ছিলেন।
- ভারতে তাঁর প্রশাসন শান্তিপূর্ণ কার্যাবলির জন্য বিশিষ্টতা অর্জন করেছিল। 

উল্লেখ্য,
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক সাধারণত হস্তক্ষেপ না করা এবং অনাক্রমণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
- ১৮৩১ সালে মহিশূরে অনেকদিন যাবৎ চলতে থাকা কুশাসন ঐ রাজ্যটিকে ব্রিটিশ প্রশাসনে আনতে তাঁকে বাধ্য করে।
- বেন্টিঙ্ক উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং সেখানে রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।
- সতীদাহ নিবারণ ও ঠগী দমন হলো বেন্টিঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- তিনি সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করেন।

অন্যদিকে,
- ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল, প্রথমে ফোর্ট উইলিয়ম-এর গভর্নর এবং পরে গভর্নর জেনারেল।
- ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
- স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৪৫.
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ শক্তির উৎস-
  1. খনিজ তেল
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. পাহাড়ী নদী
  4. ওপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে বিদ্যুৎ শক্তির উৎস — খনিজ তেল,প্রাকৃতিক গ্যাস,পাহাড়ী নদী।
---------------------
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করা হয়।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

প্রাকৃতিক গ্যাস: বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস। বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে।
খনিজ তেল: বিশেষ করে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চালানো হয়।
পাহাড়ী নদী: কাপ্তাই হ্রদে হাইড্রোইলেকট্রিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনে অবদান রাখে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণীর নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে যা নিচে দেওয়া হলো:
• পানি বিদ্যুৎ
• সোলার পিভি ব্যবহার করে সৌর বিদ্যুৎ
• বায়ু বিদ্যুৎ
• পৌর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ
• গোবর এবং পোল্ট্রি বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস
• বাতাসের গতি
• ধানের তুষ এবং ইক্ষুর ছোবড়া, বর্জ্য, শিল্প প্রক্রিয়ার অব্যবহৃত তাপ থেকে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি উৎপাদন।

আবার,
নিউক্লীয় বিক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

উৎস: নবায়নযোগ্য-জ্বালানির-সম্ভাবনা, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পত্রিকা রিপোর্ট।
২,৫৪৬.
গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ কে ছিলেন?
  1. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  2. শ্রীগুপ্ত
  3. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  4. সমুদ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টীয় তিন শতকের শেষ এবং চার শতকের প্রথমদিকে সম্ভবত প্রথম চন্দ্রগুপ্ত অথবা সমুদ্রগুপ্তের মাধ্যমে বাংলায় গুপ্ত শাসন সম্প্রসারিত হয়।
- শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ।
- এল্যানের মতে, পাটলীপুত্র (মগধের অভ্যন্তরে) নগরের অদূরে শ্রীগুপ্তের রাজত্ব ছিল।
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রথম কুমারগুপ্তের সময় (৪৩২-৪৪৮ খ্রি.) থেকে উত্তর বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে গড়ে ওঠে।
- এটির নাম ছিল তখন ‘পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তি’।
- হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৪৭.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে সমগ্র দেশে আশ্রয়ণ প্রকল্প শুরু করেন -
  1. ১৯৯৭ সালে
  2. ১৯৯৮ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
আশ্রয়ণ প্রকল্প:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন নোয়াখালী বর্তমান লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা গ্রামে ভূমিহীন-গৃহহীন, অসহায় ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমের যাত্রা শুরু করেন।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা সারাদেশের গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শুরু করেন 'আশ্রয়ণ প্রকল্প'।
- ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে সমগ্র দেশে শুরু করেন আশ্রয়ণ প্রকল্প।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
 ১। ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন।
২। প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা।
৩। আয়বর্ধক কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৫৪৮.
কোন বিদেশী পত্রিকা বঙ্গবন্ধুকে 'রাজনীতির কবি' (Poet of Politics) উপাধি দিয়েছিলেন?
  1. নিউজ উইকস
  2. দি ইকোনমিস্ট
  3. টাইম
  4. গার্ডিয়ান
ব্যাখ্যা
• Poet of Politics:
- রাজনীতির কবি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’।
- তিনি শুধু বাঙালির বঙ্গবন্ধু নয়, বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিক 'বিশ্ববন্ধু' উপাধিতেও বিশ্বনন্দিত।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা।
- ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সাংবাদিক লোরেন জেঙ্কিন্স সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকস পত্রিকায় তার প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' বা Poet of Politics বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
- সকল শ্রেণী ও আদর্শের অনুসারীদের একতাবদ্ধ করার জন্য সম্ভবত তাঁর 'স্টাইল' সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল।
- এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণকে এক অনবদ্য কবিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে মহাকবি হিসেবে ভূষিত করার অবারিত যুক্তি রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- নিউজউইকস যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন।
- ১৯৩৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
ii) ১৫ আগস্ট ২০১৮, দৈনিক জনকণ্ঠ।
২,৫৪৯.
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয় -
  1. ক) ২০০৮ সালে
  2. খ) ২০০৯ সালে
  3. গ) ২০১০ সালে
  4. ঘ) ২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
• ২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
২,৫৫০.
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ - পুস্তিকাটি সম্পাদনা করেন -
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) কাজী মোতাহার হোসেন
  3. গ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  4. ঘ) দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয়।
- এই পুস্তিকার নিবন্ধন সমূহের লেখক ছিলেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন,
- অধ্যাপক আবুল কাশেম এবং
- আবুল মনসুর আহমদ।
- ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত পুস্তিকা প্রকাশ করে। 
- এই পুস্তিকায় বাংলা ভাষাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা এবং পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে ধরা হয়।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৫৫১.
মুজিব নগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) কুষ্টিয়া
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) চুয়াডাঙ্গা
  4. ঘ) যশোর
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- মেহেরপুর জেলায় মুজিব নগর অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগর সরকার গঠিত হয় -  ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,৫৫২.
প্রাচীন বাংলার গৌড় রাজ্য বর্তমানে অবস্থান কোথায়?
  1. কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ
  2. পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ
  3. ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
  4. চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৫৩.
'জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন' এর সভাপতি কে?
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  2. আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া
  3. মীর মুগ্ধ
  4. জেনারেল ওয়াকার-উজ- জামান
ব্যাখ্যা
• জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন:
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে।
- আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে তাদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হবে।
- একইসঙ্গে আন্দোলনে আহত চিকিৎসধীন ছাত্র জনতার চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আলাদা স্পেশালাইজড ডেডিকেটেড কেয়ার ইউনিট তৈরি করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও শহিদ পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য গঠন করা হয়েছে 'জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন'।
- প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ফাউন্ডেশনের সভাপতি।
- ফাউন্ডেশনের সাত সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কাজী ওয়াকার আহমদ (কোষাধ্যক্ষ), তথ্য উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম (দপ্তর সম্পাদক) এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, নুরজাহান বেগম ও সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস মুর্শিদ (কার্যনির্বাহী সদস্য)।
- এ ফাউন্ডেশনে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

উৎস: তথ্য অধিদফতর
২,৫৫৪.
ভারত শাসন আইন-১৯৩৫ - এ কী ধরনের সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়?
  1. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
  2. কেন্দ্র শাসিত সরকার
  3. ব্রিটিশ শাসিত সরকার
  4. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার 
ব্যাখ্যা

• ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ভারত শাসনে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার পদ্ধতি এবং প্রদেশে স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন ছিল ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- এ আইনে স্থির হয় যে, বৃটিশ ভারতের প্রদেশসমূহ ও দেশীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটা যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হবে।
- যুক্তরাষ্ট্রের শাসনভার গভর্নর জেনারেল ও তাঁর মন্ত্রীসভার হাতে ন্যস্ত থাকবে।
- মন্ত্রীগণ আইন সভার মধ্য থেকে গভর্নর জেনারেল কর্তৃক নিয়োজিত হবেন এবং তাঁরা আইন সভার নিকট দায়ী থাকবেন।

- ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের আইনে কেন্দ্রে একটা দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠনের ব্যবস্থা ছিল।
- উচ্চ কক্ষটি রাষ্ট্রসভা এবং নিম্নকক্ষ ফেডারেল পরিষদ নামে অভিহিত হবে স্থির হয়।
- মোট এগারটি গভর্নর শাসিত প্রদেশের মধ্যে ছয়টিতে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইন সভা এবং অবশিষ্ট পাঁচটিতে এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তিত হয়।
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ অনুযায়ী কেন্দ্রের ন্যায় বিভিন্ন প্রদেশেও মুসলিম ও অনুন্নত শ্রেণির জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা হয়।

- এ আইনে প্রদেশগুলোতে দ্বৈত শাসনের পরিবর্তে স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
- নতুন আইন অনুযায়ী প্রদেশের শাসন ব্যবস্থার প্রধান হবেন একজন গভর্নর।
- জনগণের নির্বাচনে গঠিত হবে একটি আইন সভা।
- ঐ আইন সভার সদস্যদের মধ্য থেকে গভর্নরকে পরামর্শ দান ও সাহায্যের জন্য একটি মন্ত্রীসভা গঠিত হবে।
- আইন-শৃংখলা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গভর্নরের এখতিয়ারে থাকবে।
- মন্ত্রীগণ তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকবেন প্রাদেশিক আইন সভার নিকট।
- গভর্নরকে বিশেষ ক্ষমতাও দেয়া হয়।
- সে ক্ষমতা বলে তিনি ইচ্ছা করলে আইনসভা ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দিতে পারবেন। তাছাড়া যেকোন অর্ডিন্যান্স বা জরুরী আইন প্রণয়নের ক্ষমতাও তাঁর ছিল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৫৫.
কোন ইংরেজ লর্ড সর্ব প্রথম বিচার কার্য ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেশীয়দের ওপর ন্যস্ত করেন?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. লর্ড বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা
বিচার ব্যবস্থা:

- কর্নওয়ালিসের সময় বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করা হয়, একে ফৌজদারি ও দেওয়ানি এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের ফলে সদর নিজামত আদালত মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।
- বাংলা বিহার এ উড়িষ্যাকে মোট ১২টি বিভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি বিভাগে একটি ভ্রাম্যমান কোর্ট স্থাপন করা হয়।
- এই আদালতের প্রত্যেকটিতে দুজন ইংরেজ বিচারক এবং আইন ব্যাখ্যার জন্য কাযি ও মুফতি নিযুক্ত করা হয়।
- লর্ড বেন্টিঙ্ক সর্ব প্রথম বিচার কার্য ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেশীয়দের ওপর ন্যস্ত করেন।
- তিনি ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সর্বপ্রথম জুড়ি ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন এবং ভারতীয়দের জুরির সদস্য নিযুক্ত করা হয়। 

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৫৬.
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি-
  1. জিন্নাতুনেছা তাহমিদা
  2. নাজমুন আরা সুলতানা
  3. ডা. সুসানে গীতি
  4. নাজনীন আক্তার পান্না
ব্যাখ্যা

• সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।
• ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী মেজর জেনারেল হোন ডা. সুসানে গীতি।
• ড. জিন্নাতুনেছা তাহমিদা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের প্রথম মহিলা চেয়ারম্যান ছিলেন।

২,৫৫৭.
প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল কতসালে উপমহাদেশে ক্রিপস কমিশন প্রেরণ করেন?
  1. ক) ১৯৪১
  2. খ) ১৯৪২
  3. গ) ১৯৪৩
  4. ঘ) ১৯৪৪
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বৃটিশ সরকারের পক্ষ থেকে স্যার স্টাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বে ১৯৪২ সালে ‘ক্রিপস কমিশন’ উপমহাদেশে আসে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান মিত্র পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদান করলে জাপানি আক্রমনের বিরুদ্ধে এ দেশীয় সাহায্য সহযোগীতা লাভের জন্য চার্চিল এ কমিশনকে ভারতে প্রেরণ করে।
উৎস - বাংলাপিডিয়া।
২,৫৫৮.
পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার জন্য নির্মিত সেনানিবাস-
  1. ক) পদ্মা সেনানিবাস
  2. খ) শেখ রাসেল সেনানিবাস
  3. গ) জাজিরা সেনানিবাস
  4. ঘ) বঙ্গবন্ধু সেনানিবাস
ব্যাখ্যা
- পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার জন্য যে সেনানিবাস প্রতিষ্ঠিত হয় - শেখ রাসেল সেনানিবাস।
- ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড এই সেনানিবাসে অবস্থান করবে।
- শরীয়তপুরের জাজিরায় উদ্বোধন হলো শেখ রাসেল সেনানিবাস।
- ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী এই সেনানিবাসের উদ্বোধন করেন।

তথ্যসূত্র:- দৈনিক জনকণ্ঠ।
২,৫৫৯.
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমানের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে কবে বাংলাদেশে আনা হয়?
  1. ২৪ জুন, ২০০৬
  2. ২৫ জুন, ২০০৬
  3. ২৩ জুন, ২০০৬
  4. ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান:
- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্ম ২৯শে অক্টোবর ১৯৪১, ঢাকার পৈত্রিক নিবাসে।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের অন্যতম।
- পেশায় ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট।
- ১৯৭১ সালে নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন।
- এনিয়ে তিনি কয়েকজন দেশপ্রেমিক বাঙালি অফিসারের সাথে আলোচনা করেন।
- পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান (কল সাইন ব্লু-বার্ড-১৬৬) ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন।
- অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদত বরণ করেন।
- পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে মশরুর বিমান ঘাটির ৪র্থ শ্রেণীর কবরস্তানে অত্যন্ত অমর্যাদার সাথে দাফন করে।
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২,৫৬০.
Where is the first medical park of Bangladesh located?
  1. Munshiganj
  2. Gazipur
  3. Dhaka
  4. Narayanganj
ব্যাখ্যা
ঔষধ পার্ক:

- দেশের প্রথম ঔষধ পার্ক মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অবস্থিত।
- এখানকার কারখানায় উৎপাদিত ওষুধ দিয়েই দেশের বাজারে চাহিদা পূর্ণ করে রপ্তানিও করে ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।
- রাজধানীর অদূরে মেঘনা নদীর পার ঘেঁষে গড়ে ওঠা মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে দেশের প্রথম ওষুধ শিল্প পার্ক।
- ঢাকা থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরত্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে উপজেলার বাউশিয়া মৌজায় ২০০ একর জমির ওপর বাস্তবায়ন হচ্ছে প্রকল্পটি।
- ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে ২০০৮ সালে সরকার এই শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়।
- পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয় এপিআই শিল্প পার্কটির।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৭ এপ্রিল, ২০১৮।
২,৫৬১.
স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন কে?
  1. তোফায়েল আহমেদ
  2. শাহজাহান সিরাজ
  3. সিরাজুল আলম খান
  4. কাদের সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৫৬২.
তমদ্দুন মজলিসের সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. অধ্যাপক আবুল করিম
  2. অধ্যাপক আবদুল মতিন
  3. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  4. ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম পুস্তিকা প্রকাশিত হয়।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক মনোনিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

অধ্যাপক আবুল কাশেম:
- আবুল কাশেম শিক্ষাবিদ, ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ, লেখক।
- তিনি ১৯৪৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ১৯৪৫ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। 
- আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তিনি ছিলেন এর সাধারণ সম্পাদক।
- এই সংগঠনের মাধ্যমেই সর্বপ্রথম তিনি বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদানের দাবি উত্থাপন করেন।

উৎস: ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৫৬৩.
রামসাগর দিঘী কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) ঠাকুরগাঁও
  2. খ) পঞ্চগড়
  3. গ) নীলফামারী
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
• রামসাগর দীঘি:
রামসাগর দীঘি দিনাজপুরে অবস্থিত। 
- বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন সমূহের মধ্যে দিনাজপুরের রামসাগর অন্যতম।
- দিনাজপুরের বিখ্যাত রাজা রামনাথ আলীবর্দীখানের সময়ে ১৭৫০থেকে ১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে দীঘিটি খনন করেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
২,৫৬৪.
Who was awarded the 'Bangladesh Independence Award' for the contribution in the Liberation War?
  1. William A. S. Ouderland
  2. Indira Gandhi
  3. Pranab Mukherjee
  4. Nikolai Podgorny
ব্যাখ্যা
 বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ সরকার তিন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করে।
- এর মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে 'বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা' প্রদান করা হয় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী 'শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে'।
- ২৫ জুলাই ২০১১ তারিখে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল।
- এই পুরস্কার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার সহযোগী হিসাবে এবং এই জাতীয় জটিল আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিচালনা করার দক্ষতার স্বীকৃতি দেয়।
- এছাড়া ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখার্জি সহ মোট ১৫ জনকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয় ৩১২ জন ব্যক্তি ও ১০টি সংগঠনকে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
২,৫৬৫.
জাতীয় স্মৃতিসৌধের উচ্চতা কত?
  1. ক) ৪৬.৫ মি
  2. খ) ৪৬ মি
  3. গ) ৪৫.৫ মি
  4. ঘ) ৪৫ মি
ব্যাখ্যা
- সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ 'সম্মিলিত প্রয়াস' নামে পরিচিত। এটির স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন।
- ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। তবে মূল সৌধের নির্মাণ শুরু হয় ১৯৭৮ সালে।
- এতে সাতটি ফলক রয়েছে যা বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট (১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১) কে নির্দেশ করে।
- স্মৃতিসৌধের সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৫০ ফুট/ ৪৫.৭২ মিটার (প্রায় ৪৬ মিটার)।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ডিসেম্বর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া, ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট এবং দৈনিক প্রথম আলো)
২,৫৬৬.
সাত জন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য নন কে?
  1. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  2. মোস্তফা কামাল
  3. মোহাম্মদ রুহুল আমিন
  4. হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
• ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন ছিলেন নৌবাহিনীর সদস্য।

• মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে কে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি প্রদান করেন।
- এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নো বাহিনীর একজন করে।

• বীরশ্রেষ্ঠদের কর্মস্থল:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
২,৫৬৭.
ছয় দফা দিবস পালিত হয় কবে?
  1. ৭ জুন
  2. ১১ জুন
  3. ১৬ জুন
  4. ২৫ জুন
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালন করা হয়।

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৫৬৮.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জেড ব্রিগেড ফোর্সের সদর দপ্তর কোথায় ছিল?
  1. তেলঢালা
  2. আগরতলা
  3. ত্রিপুরা
  4. হেজামারা
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স (Brigade Forces): 

• মুক্তিযুদ্ধে ১১ টি সেক্টর ও অনেকগুলো সাব সেক্টর ছিল।
• মে ও জুন মাসে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে বিভক্ত করা হয়।
• ফোর্সের নামকরণ করা হয় অধিনায়কদের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে।

• জেড ফোর্স 
- গঠন: ৭ জুলাই ১৯৭১);
- অধিনায়ক : মেজর জিয়াউর রহমান;
- সদর দপ্তর: তেলঢালা; ভারত
- এটাই ছিল তৎকালীন স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রথম একটি সম্পূর্ণ ব্রিগেড। 

এস ফোর্স:
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

কে ফোর্স:
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৬৯.
নিচের কোন রাজনৈতিক দলটি যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত ছিলো না?
  1. ক) কৃষক শ্রমিক পার্টি
  2. খ) নেজামে ইসলাম
  3. গ) খেলাফত রাব্বানী
  4. ঘ) গণতন্ত্রী দল
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলার চারটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট নামে নির্বাচনি জোট গঠিত হয়।

যুক্তফ্রন্টের দলগুলো হলো:

- আওয়ামী মুসলিম লীগ
- কৃষক শ্রমিক পার্টি
- নেজামে ইসলাম
- গণতন্ত্রী দল।

- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিলো নৌকা। যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।

- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জোট ২৩৭টি ‍মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে।
- আবুল হাশিম নেতৃত্বাধীন খেলাফত রাব্বানী পার্টি যুক্তফ্রন্ট জোটের অন্তর্ভুক্ত ছিলো না।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
২,৫৭০.
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের মুক্তিযুদ্ধে প্রাপ্ত খেতাব বাতিলের প্রজ্ঞাপন কবে জারি করা হয়?
  1. ৬ জুন, ২০২১
  2. ১০ জুন, ২০২১
  3. ২৬ জুন, ২০২১
  4. ২৮ জুন, ২০২১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে প্রাপ্ত খেতাব বাতিল:
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন:
• লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫),  
• লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০),
• লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং
• নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
২,৫৭১.
বঙ্গবন্ধু কত সালে প্রথম ছয়দফা উত্থাপন করেন?
  1. ক) ১৯৬৫ সালের ২৩ মার্চ
  2. খ) ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ
  3. গ) ১৯৬৮ সালের ২৩ জুন
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহীত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন।
- ৭ জুন ছয়দফা দিবস পালিত হয়। ছয়দফা দাবী কে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৫৭২.
বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের কতটি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করে?
  1. ১৩৫টি
  2. ১৩৪টি
  3. ১৩০টি
  4. ১২৭টি
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর শাসনামল:
- বঙ্গবন্ধু সরকার বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিয়েছেন।
- মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করায় ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আস্তরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় বঙ্গবন্ধু সরকার প্রথম দিকে মার্কিন সাহায্য গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।
- তবে বঙ্গবন্ধু সরকার দেশের স্বার্থে পুঁজিবাদী ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
- তারপরও বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩০টি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করে
- এ ছাড়া জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ ও ইসলামি সম্মেলন সংস্থার সদস্যপদসহ ১৪টি আস্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্যপদ লাভ করে।



উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম - ১০ম শ্রেণি।
২,৫৭৩.
বর্তমানে বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ১৭৩ জন
  2. ১৭৪ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ১৭৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,৫৭৪.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন নিচের কোনটি?
  1. ক) তমদ্দুন মজলিশ
  2. খ) রাষ্ট্রভাষা পরিষদ
  3. গ) রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  4. ঘ) সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:

- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- পরবর্তীতে ২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিশ' নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৭৫.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ কে?
  1. আসাদউজ্জামান
  2. মতিউর
  3. রুস্তম
  4. সার্জেন্ট জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- আসাদউজ্জামান বা শহীদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ  সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহামেদ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
২,৫৭৬.
বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়? 
  1. ১৯৩৭
  2. ১৯৭২
  3. ১৯১০
  4. ১৯২১
ব্যাখ্যা

• বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি:
- বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- এটি পূর্ববঙ্গের প্রথম জাদুঘর হিসেবে পরিচিত।
- প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন দিঘাপতিয়া রাজ পরিবারের বংশধর শরৎকুমার রায়, আইনজীবী ও ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় এবং ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ববিদ রামপ্রসাদ চন্দ্র।
- প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার ঐতিহ্য ও নিদর্শন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা।
- এটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম জাদুঘর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, 
- বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম পরিচালনা করত, যার মধ্যে বার্ষিক প্রতিবেদন, মনোগ্রাফ, শিলালিপি ও সংস্কৃত পান্ডুলিপি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- তবে প্রতিষ্ঠাতাদের মৃত্যুর পর এবং ১৯৪৭ সালে দেশের বিভাজনের পর সোসাইটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে কমে যায়।
- অবশেষে ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।
- যদিও বরেন্দ্র জাদুঘর আজও গবেষণার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গৌরবের প্রতীক হিসেবে টিকে আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৫৭৭.
জনগণের ভোটে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-১৯৭৮: 
- বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে।
- এই নির্বাচনে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- এর পূর্বে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন।
- গণভোটে জয়লাভের এক বছর পরই দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে জিয়াউর রহমান তাঁর ক্ষমতা শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন।
- ৩ জুন, ১৯৭৮ নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল (অবঃ) এম এ জি ওসমানীকে পরাজিত করে জিয়াউর রহমানরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- নির্বাচনে জিয়াউর রহমান ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৩৩ হাজার ৬ শত ৭ ভোট এবং ওসমানী ৪৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ২ শত ভোট পায়। 
- ১২ জুন ১৯৭৮ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৭৮.
শরীফ শিক্ষা কমিশন কত তারিখ গঠন করা হয়?
  1. ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৫৮
  2. ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৫৯
  3. ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৬০
  4. ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৬১
ব্যাখ্যা
শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬২:
- ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৫৮  সালে আইয়ুব খান পাকিস্তানের শিক্ষা সচিব এস. এম. শরীফকে চেয়ারম্যান করে মোট ১১ সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট দেয় যে "অবৈতনিক শিক্ষার ধারণা বস্তুত অবাস্তব কল্পনা মাত্র"।
- এর ফলে ছাত্ররা গণতান্ত্রিক শিক্ষার দাবিতে শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় যা শিক্ষা আন্দোলন নামে পরিচিত।

• শরীফ কমিশন এর সুপারিশ সমূহ:
- শিক্ষাখাতে ব্যয়কে শিল্পে মূলধন বিনিয়োগের দৃষ্টিতে দেখার সুপারিশ করে কমিশন শিক্ষা সস্তায় পাওয়া সম্ভব নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করে অবৈতনিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সরকারী অর্থের পরিবর্তে জনগণের অর্থ বিনিয়োগের জোর দেয়া হয়।
- ৬ষ্ঠ শ্রেণী হতে ডিগ্রী পর্যন্ত ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক ভাষা করা।
- এস.এস.সি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণদের জন্য পরবর্তী শিক্ষার দ্বার রুদ্ধকরণ।
- দু বছরের ডিগ্রি কোর্সকে তিন বছরে বৃদ্ধি করার এক অবৈজ্ঞানিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
- বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য বিভাগে পাঠ্যসূচির অবৈজ্ঞানিক সুলভ ও স্কুলসমূহের কারিকুলাম অযৌক্তিকভাবে রদবদলের এক ভৌতিক সুপারিশ করে।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ছাত্র-শিক্ষকদের কার্যকলাপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখার প্রস্তাব ।
 - শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম করাতে ১৫ ঘণ্টা কাজের বিধান রাখা হয়েছিল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও বাংলাপিডিয়া।
২,৫৭৯.
সুন্দরবনের পশ্চিমে কোন নদী অবস্থিত?
  1. ক) রায়মঙ্গল
  2. খ) মাতামুহুরী
  3. গ) পশুর
  4. ঘ) বলেশ্বর
ব্যাখ্যা
রায়মঙ্গল নদী: 

- ইছামতি-কালিন্দী-রায়মঙ্গল মূলত একই নদী, বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন নামে পরিচিত। ইহা
- একটি জোয়ারে মোহনার নদী। ইছামতি নদী সাতক্ষীরা জেলার পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে কালিন্দী নামে প্রবাহিত হয়ে আরও দক্ষিণে সুন্দরবনের ভিতর প্রবেশের পর রায়মঙ্গল নাম ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- সুন্দরবনের পশ্চিমে রায়মঙ্গল নদী অবস্থিত।
- মোহনায় রায়মঙ্গল নদীর মুখ ফানেলের মতো। একসময় এই পথে স্টিমার সার্ভিস কলকাতা থেকে বরিশাল হয়ে বাংলাদেশের অন্যান্য বন্দরে চলাচল করতো।
- রায়মঙ্গল জোয়ারভাটা দ্বারা প্রভাবিত নদী এবং এর পানি লবণাক্ত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,৫৮০.
‘চুড়িহাট্টা মসজিদ’ কে নির্মাণ করেন?
  1. কাসিম খান জুয়িনী
  2. মীর জুমলা
  3. শাহ সুজা
  4. শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা

- চুড়িহাট্টা মসজিদটি নির্মাণ করেন শাহ সুজা।
- শাহ সুজা ছিলেন সম্রাট শাহজাহান ও সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের দ্বিতীয় পুত্র।
- শাহ সুজার নিযুক্তির সময় ঢাকা সুবাহ-বাংলার রাজধানী ছিল।
- কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি রাজধানী রাজমহলে স্থানান্তরিত করেন ।
- সুজা বড় নির্মাতা ছিলেন। ঢাকার প্রাচীন মুগল দালানগুলি তাঁর সময়েই নির্মিত হয়।
- দালানগুলি হলো বড় কাটরা, ঈদগাহ, হোসেনী দালান এবং চুড়িহাট্টা মসজিদ। চকবাজারের একটু দক্ষিণে বুড়িগঙ্গার তীরে ১৬৬৪ সালে বড় কাটরা তৈরি করা হয় ।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৮১.
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ইংরেজি ভাষার প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘জঁ ক্যা ১৯৭১’ এর পরিচালক কে?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. নাসির উদ্দিন ইউসুফ
  3. ফাখরুল আরেফিন খান
  4. মোরশেদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ইংরেজি চলচ্চিত্র:
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত প্রথম ইংরেজি ভাষার বাংলাদেশি চলচ্চিত্র: ‘জঁ ক্যা ১৯৭১’ (Jean Kay 1971)।
- এর পরিচালক: ফাখরুল আরেফিন খান।
- ঘটনার পটভূমি: ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর।
- মূল চরিত্র: ফ্রান্সের এক তরুণ জঁ ক্যা (Jean Kay)
- এটি সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
- ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ফ্রান্সের এক তরুণ, জঁ ক্যা, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (PIA) একটি বিমান ছিনতাই করেন।
- তার একমাত্র দাবি ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২০ টন ওষুধ পাঠানো।
- এই সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রতীক জঁ ক্যা-কে কেন্দ্র করেই ছবির কাহিনি গড়ে উঠেছে।

উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও প্রথম আলো।

২,৫৮২.
মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯২০ সালে
  4. ১৯২৫ সালে
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘঠিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৮৩.
'আওয়ামী মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ক) ২৫ জুন, ১৯৪৯
  2. খ) ২৩ জুন, ১৯৪৯
  3. গ) ২১ জুন, ১৯৪৯
  4. ঘ) ২৭ জুন, ১৯৪৯
ব্যাখ্যা
- ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজগার্ডেনে এক কর্মী সম্মেলনে পূর্ব বাংলার বাঙালি প্রগতিশীল নেতা ও কর্মী ঢাকায় মিলিত হয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' গঠন করেন।
- নবগঠিত এই দলের সভাপতি নির্বাচিত হন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক।
- যুগ্ম সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১৯৫৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

উৎসঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
২,৫৮৪.
“Urdu and Urdu alone shall be the state language of Pakistan” — উক্তিটি কে প্রদান করেন?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. মোহাম্মদ আলী
ব্যাখ্যা

“Urdu and Urdu alone shall be the state language of Pakistan” — উক্তিটি কে প্রদান করেন : মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ:

- পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯ মার্চ ১৯৪৮ পূর্ববাংলা সফরে আসেন।
- ভাষার প্রশ্নে তিনি স্বৈরাচারী মনোভাব প্রদর্শন করেন।
- ২১ মার্চ ১৯৪৮ ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় তিনি ঘোষণা করেন যে পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনো ভাষা নয়।
- এই ঘোষণার প্রতিবাদে জনসভার কিছু অংশ থেকে মৃদু ‘নো’, ‘নো’ ধ্বনি শোনা যায়।
- ২৪ মার্চ ১৯৪৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি পুনরায় ঘোষণা করেন যে, ( “Urdu and Urdu alone shall be the state language of Pakistan”) পাকিস্তানের সরকারি ভাষা অবশ্যই উর্দু হবে।
- এ বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে উপস্থিত গ্রাজুয়েটরা ‘না’, ‘না’ ধ্বনি উচ্চারণ করেন।
- ২৪ মার্চ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল জিন্নাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে একটি স্মারকলিপি পেশ করে।
- স্মারকলিপিতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
- জিন্নাহর ঘোষণায় পূর্ববাংলার মানুষের মনে পাকিস্তান সরকারের প্রতি সন্দেহ ও অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়।
- ফলে ভাষা আন্দোলন ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- তবে জিন্নাহর জনপ্রিয়তা ও সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধাবোধের কারণে ভাষা আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে।
- এমনকি তমাদ্দুন মজলিশ আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।
- তবুও ভাষার প্রশ্নে ছাত্রদের মনে ক্ষোভ অব্যাহত থাকে।
- ছাত্ররা ১৯৪৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১১ মার্চ ভাষা দিবস পালন করতেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৮৫.
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী কোন দেশের সেনাপতি ছিলেন?
  1. আরব সেনাপতি
  2. তুর্কি সেনাপতি
  3. ভারতীয় সেনাপতি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খিলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি দ্বাদশ শতাব্দীতে ভারতবর্ষে আসেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
-  বাংলা জয় করেন ১৩ শতকে।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলার ইতিহাস; সুলতানি আমল: আব্দুল করিম।
২,৫৮৬.
ভবন নির্মাণের সময় কি মেনে চলা বাধ্যতামূলক?
  1. ক) বিল্ডিং অধ্যাদেশ
  2. খ) বিল্ডিং কোড
  3. গ) ভবন অননিয়ম
  4. ঘ) ভবন আইন
ব্যাখ্যা

বিল্ডিং কোড যেকোনো দেশের ইমারত নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান; যা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হলে ভবনের নির্মাণ ও ব্যবহারের সময় জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না বলে আশা করা হয়।
বাংলাদেশে ১৯৯৩ সালে প্রথম ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং কোড ১৯৯৩’ প্রণীত হয়। তার আগে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান আমলে 'বিল্ডিং কন্সট্রাকশন অ্যাক্ট' প্রণীত হয়েছিল।
পরবর্তীতে, ২০০৬ সালে ১৯৫২ সালের বিল্ডিং কন্সট্রাকশন অ্যাক্টকে যুগোযোপযোগী করার জন্য সংশোধন করে এর আইনগত ভিত্তি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ বিল্ডিং কোড ২০০৬: মোট দশটি ভাগে বিভক্ত কোডটির -
- প্রথম ভাগে ইতিহাস ও উদ্দেশ্য,
- দ্বিতীয় ভাগে কোডটি বাস্তবায়নের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাঠামো, পারমিট ও পরিদর্শন,
- তৃতীয়ভাগে নগর-পরিকল্পনা ও স্থাপত্য ডিজাইনসহ ভবনের শ্রেণিবিন্যাস,
- চতুর্থ ভাগে অগ্নি নির্বাপন ও প্রতিরোধ,
- পঞ্চম ভাগে সুপারিশকৃত বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস,
- ষষ্ঠভাগে স্ট্রাকচারাল ডিজাইন,
- সপ্তম ভাগে কন্সট্রাকশন,
- অষ্টমভাগে গ্যাস-বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক-শব্দ-পানি ও পয়ের ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা,
- নবম ভাগে পুনর্নিমাণ ও সংস্কার এবং
- দশমভাগে সাইন বা চিহ্ন বিষয়টি যুক্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, জটিলতা বিবেচনায় নগর-পরিকল্পনার অংশটিকে দ্বিতীয়ভাগে অবাস্তবায়নযোগ্য মনে করে বাদ দেয়া হয়েছে।
উৎসঃ প্রথম আলো ও বিডিনিউজ আর্কাইভ।

২,৫৮৭.
ভারতবর্ষের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয় কোনটিকে?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
সিপাহী বিদ্রোহ:
- পলাশী যুদ্ধের একশ বছর পর ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহীদের নেতৃত্বে যে ব্যাপক সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকভাবে চরম শোষণ, সামাজিকভাবে হেয় করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সর্বোপরি ভারতীয় সৈনিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ- এসবই মহাবিদ্রোহ বা প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমি রচনা করেছে।
- বিদ্রোহের আগুন প্রথম জ্বলে উঠে পশ্চিম বঙ্গের ব্যারাকপুরে।
- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গলপান্ডে নামে এক সিপাহী।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র।
- বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয়।
- বিদ্রোহীরা দিল্লি দখল করে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতবর্ষের বাদশা বলে ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য,
- ইংরেজ গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং সিপাহী জনতার এই বিদ্রোহ নিষ্ঠুর এবং অত্যন্ত কঠোর হাতে দমন করে।
- এই সংগ্রামের সঙ্গে জড়িতদের বেশির ভাগ হয় যুদ্ধে শহিদ হন অথবা তাঁদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।
- মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে (ইয়াঙ্গুন, মায়ানমার) নির্বাসিত করা হয়।
- এভাবে নিষ্ঠুর নির্যাতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৮৮.
বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করা হয় কত সালে?
  1. ১৯০১সালে
  2. ১৯০৩সালে
  3. ১৯০৫সালে
  4. ১৯১১সালে
ব্যাখ্যা
♦ বঙ্গভঙ্গ 
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
- এটি ভারতীয় উপমহাদেশের জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- এ বঙ্গভঙ্গকে পূর্ববাংলার মুসলমান সম্প্রদায় আশীর্বাদ বলে স্বাগত জানায়।
- কিন্তু হিন্দু জনগণ বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতারা এটিকে কোনভাবেই মেনে নেয় নি।
- তারা নানারকম ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তাদের এ আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করে।
- ফলে তাদের এ চাপের মুখে পড়ে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- এবং পুনরায় পূর্ববঙ্গকে পশ্চিমবঙ্গের সাথে একত্রিত করা হয়। এটিই মূলত বঙ্গভঙ্গ রদ।
♦ বঙ্গভঙ্গ রদ
- ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর সম্রাট পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত অভিষেক অনুষ্ঠানে বঙ্গভঙ্গ রদের কথা ঘোষণা করেন।
- এবং পূর্ববঙ্গকে পশ্চিমবঙ্গের সাথে পুনরায় এক করেন।
♦ বঙ্গভঙ্গ রদের ফলাফল
- বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু – মুসলমানদের সম্প্রতি নষ্ট হয়। সাম্প্রদায়িকতা ও স্বাতন্ত্র্যবোধ প্রসার লাভ করে।
- ধর্মকেন্দ্রিক জাতীয়তার বীজ অঙ্কুরিত হয়।
- মুসলমানদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
- তারা বুঝতে পারে যে আপস নয় বরং সংগ্রামের পথেই উন্নতি ও স্বাধীনতার পথে তাদেরকে আগাতে হবে।
- অর্থাৎ মুসলমানগণ তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণে আরও তৎপর হয়ে উঠতে থাকে।

উৎস- বাংলাপিডিয়া। 
২,৫৮৯.
লাহোর প্রস্তাবে কোন তত্ত্বের রাজনৈতিক রূপ প্রকাশ পায়?
  1. সাম্যবাদ তত্ত্ব
  2. দ্বি-জাতি তত্ত্ব
  3. ধর্মনিরপেক্ষতা তত্ত্ব
  4. একজাতি তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• লাহোর প্রস্তাব:
- লাহোর প্রস্তাব ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে নির্দেশ করে।
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাধারণ অধিবেশনে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
- অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেছিলেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, এবং চৌধুরী খালিকুজ্জামানসহ অন্যান্য মুসলিম নেতৃবৃন্দ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।

- লাহোর প্রস্তাব মূলত জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের রাজনৈতিক রূপ।
- দ্বি-জাতি তত্ত্ব অনুযায়ী ভারতবর্ষে দু’টি পৃথক জনগোষ্ঠী রয়েছে—হিন্দু ও মুসলমান।
- জিন্নাহর মতে, মুসলমানদের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, আশা-আকাঙ্ক্ষা হিন্দুদের থেকে ভিন্ন।
- এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত হয় যে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলে যেখানে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেসব অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করা হবে।
- ২৪ মার্চ ১৯৪০ লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়।
- এর মাধ্যমে ভারতীয় মুসলমানদের পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়।
- পরে ১৯৪৬ সালের এপ্রিল মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে প্রস্তাবটি সংশোধিত হয়।
- একাধিক রাষ্ট্রের (States) পরিবর্তে কেবল একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবের মাধ্যমে মুসলিম লীগের নেতৃত্বে মুসলমানরা তাদের জন্য স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দান করেন, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালে ভারত-বিভাজনের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী

২,৫৯০.
জেনারেল এরশাদ কার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন?
  1. বিচারপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস
  2. বিচারপতি শাহাবুদ্দীন
  3. বিচারপতি আবদুস সাত্তার
  4. বিচারপতি এ.এফ.এম. আহসানউদ্দিন
ব্যাখ্যা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতিষ্ঠা:
- এরশাদ বিরোধী আন্দোলন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়৷
- সারাদেশে আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করলে সরকার ২৭ নভেম্বর ১৯৯০ জরুরি অবস্থা জারি ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- তবে দমনমূলক ব্যবস্থায় আন্দোলন দমানো সম্ভব হয়নি। বরং বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ জনগণ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
- জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করে জনগণ রাস্তায় নেমে এরশাদের পদত্যাগ দাবি করে।
- সামরিক বাহিনী এরশাদকে সমর্থন প্রত্যাহার করলে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন।
• ৩ ডিসেম্বর ১৯৯০: এরশাদ একই দিনে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেন। আন্দোলনরত দলগুলো এরশাদের এই ঘোষণাকে অপকৌশল হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে।
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৯০: এরশাদ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
• ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০: উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমেদ পদত্যাগ করেন।
- তিন-জোটের মনোনীত প্রার্থী, প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদকে উপ-রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হয়।
- এরশাদ জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে বিচারপতি শাহাবুদ্দীনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
- এর মাধ্যমে এরশাদের শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়৷
- এটি দেশের প্রথম অসামরিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের উদাহরণ।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৯১.
Khulna was included in how many sectors in the liberation war?
  1. ক) Sector 5
  2. খ) Sector 6
  3. গ) Sector 9
  4. ঘ) Sector 8
ব্যাখ্যা
-১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। 
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- ৮ নং সেক্টর  এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
- এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে।
- সেক্টরের সৈন্যদের মধ্যে ৩০০০ ছিল নিয়মিত বাহিনী এবং ২৫০০০ গেরিলা সৈন্য।  

উৎস: বাংলাপিডিয়া,  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৯২.
ভারতবর্ষে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

সতীদাহ প্রথা: 
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন: লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক।
- গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন: রামমোহন রায়।
- আইন পাসের বছর: ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দ।
- আইন: "রেগুলেশন XVII"।
- আইনের বিষয়বস্তু: হিন্দু বিধবা নারীদের জীবন্ত দাহ বা সতীদাহ প্রথা বেআইনি ঘোষণা।
- লর্ড বেন্টিঙ্কের দৃষ্টিভঙ্গি: মানবহিতৈষী সংস্কারপন্থী।
- প্রভাব: সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ ও সমাজে সংস্কার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৫৯৩.
১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলনের কয় দফা দাবি ছিল?
  1. ২১ দফা
  2. ২৩ দফা
  3. ২২ দফা
  4. ১৪ দফা
ব্যাখ্যা
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে ২২ টি দফা ছিল।

৬২-র শিক্ষা আন্দোলন:

- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরীফ কমিশনের শিক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
- ৬২-র শিক্ষা কমিশন পশ্চিম পাকিস্তানিদের পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বৃদ্ধি করে।
- ১৯৬১ সালের শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
- গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলন দমনে আইয়ুব সরকার গ্রেপ্তার নির্যাতন চালালে ছাত্র গণআন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
- ১০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলে ছাত্ররা ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক দেয়। 
- ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত এবং কয়েক শত আহত হয়।
- তারপর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস পালিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৯৪.
মুহাম্মদ ঘুরী ও পৃথ্বীরাজ চৌহানের মধ্যে ২য় তরাইনের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ৭১৬
  2. ৭১২
  3. ১১৯০
  4. ১১৯২
ব্যাখ্যা
• তরাইনের ২য় যুদ্ধ:
তরাইনের ২য় যুদ্ধ ১১৯২ সালে বর্তমান হরিয়ানার থানেশ্বরের নিকটে তরাইন নামক শহরের নিকটে সংঘটিত হয়।
- এই স্থান দিল্লি থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
- মুহম্মদ ঘুরির নেতৃত্বাধীন ঘুরি বাহিনী ও পৃথ্বীরাজ চৌহানের নেতৃত্বে চৌহান রাজপুত বাহিনীর মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী, পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত করেছিলেন এবং এই বিজয় দিল্লি সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করে।
- তিনি ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং দেশে তিনি 'মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা' হিসাবেও পরিচিত।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৯৫.
The Ministry of Liberation War Affairs has been established in -
  1. ক) 23 October, 2000
  2. খ) 23 October, 2001
  3. গ) 23 October, 2002
  4. ঘ) 23 October, 2003
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:
- ২৩ অক্টোবর, ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ/সংগঠনসমূহ:
• বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট,
• জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল,
• বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,
• জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ,
• মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর,
• স্বাধীনতা স্তম্ভ কমপ্লেক্স,
• মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স,
• মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
২,৫৯৬.
কোন সম্রাটের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. সম্রাট হুমায়ূন
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট বাবর
ব্যাখ্যা

- প্রথম দিকে বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান।
- বারোভূঁইয়াদের দমন করার জন্য সম্রাট আকবর বিশেষ মনোযোগ দেন।
- এজন্য তিনি ১৫৮৩ সালে শাহবাজ খান, ১৫৮৫ সালে সাদিক খান, ১৫৮৬ সালে উজির খান ও ১৫৯৪ সালে রাজা মানসিংহকে বাংলার সুবাদার করে পাঠান।
- তাঁরা ঈসা খান ও অন্যান্য জমিদারের সাথে বহুবার যুদ্ধ করেন।
- কিন্তু বারোভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খানকে সম্পূর্ণ পরাজিত করা সম্ভব হয়নি।
- তিনি সম্রাট আকবরের আনুগত্য স্বীকারের বিনিময়ে নিজের আধিপত্য বজায় রাখেন।
-১৫৯৯ সালে ঈসা খানের মৃত্যু হলে বারোভূঁইয়াদের নেতা হন তাঁর পুত্র মুসা খান।
- এদিকে ১৬০১ সালে মানসিংহকে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলায় পাঠানো হয়। এবার মানসিংহ কিছুটা সফল হন।
- ১৬০৩ সালে মুসা খান এক নৌযুদ্ধে মানসিংহের হাতে পরাজিত হন।
- কিন্তু চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করার আগে সম্রাট আকবরের অসুস্থতার খবর আসে।
- সম্রাটের ডাকে মানসিংহ আগ্রায় ফিরে যান।
- সম্রাট আকবরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সেলিম 'জাহাঙ্গীর' নাম ধারণ করে ১৬০৫ সালে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি মানসিংহকে আবার বাংলায় প্রেরণ করেন।
- এক বছর পর ১৬০৬ সালে কুতুব উদ্দিন কোকাকে বাংলার প্রাদেশিক শাসক বা সুবাদার নিয়োগ করা হয়।
- কুতুব উদ্দিন শের আফকুনের হাতে প্রাণ হারান।
- তাঁর পরবর্তী সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খান এক বছর পর মারা যান।
- এর পর ইসলাম খান ১৬০৮ সালে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
- বারোভূঁইয়াদের মোকাবিলা করার জন্য ইসলাম খান শক্তিশালী নৌবহর গড়ে তোলেন।
- মুসা খানের সাথে প্রথম সংঘর্ষ বাধে ১৬০৯ সালে করতোয়া নদীর পূর্বতীরে যাত্রাপুরে।
- সেখানে মুসা খানের দুর্গ ছিল। যুদ্ধে মুসা খান ও অন্যান্য জমিদার শেষ পর্যন্ত পিছু হটেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় থেকে ঢাকা হয় বাংলার রাজধানী।
- সম্রাটের নাম অনুসারে ঢাকার নাম রাখা হয় 'জাহাঙ্গীরনগর'। 
- বাংলার বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালের কৃতিত্বপূর্ণ কাজ।
- আর এ কৃতিত্বের দাবিদার সুবাদার ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ সালে)।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

২,৫৯৭.
কুমিল্লার ময়নামতিতে সন্ধান পাওয়া প্রাচীন নিদর্শন কোনটি?
  1. নালন্দা বিহার
  2. সোমপুর বিহার
  3. শালবন বিহার
  4. জগদল বিহার
ব্যাখ্যা
সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান।
- সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
২,৫৯৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা আঞ্চলিক বাহিনী কোনটি?
  1. ক) কাদেরিয়া বাহিনী
  2. খ) বাতেন বাহিনী
  3. গ) হেমায়েত বাহিনী
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী

নিয়মিত বাহিনী (Mukhti Fouz সংক্ষেপে M.F.) এবং অনিয়মিত বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাগণের (Freedom fighter = F.F.) পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় কিছু সাহসী স্বাধীনতাকামী ব্যক্তির নেতৃত্বে দেশের অভ্যন্তরেই বিশেষ বাহিনী গড়ে ওঠে। এসব বাহিনীকে 'আঞ্চলিক বাহিনী' বলা হয় ।

- এসব আঞ্চলিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় লক্ষাধিক।
- এছাড়াও তাদের সাথে ছিল স্বেচ্ছাসেবক; তাদের সংখ্যাও ছিল তিন থেকে চার লক্ষের মতো। 

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক বাহিনী হলো -

১. কাদেরিয়া বাহিনী
২. হেমায়েত বাহিনী
৩. আফসার বাহিনী
৪. আকবর বাহিনী
৫. বাতেন বাহিনী 
৬. হালিম বাহিনী
৭. জিয়া বাহিনী
৮. রফিক মীর্জা বাহিনী


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২,৫৯৯.
ঐতিহাসিক ‘ছয়দফা’ কে কিসের সঙ্গে তুলনা করা হয়?
  1. ক) বিল অব রাইটস
  2. খ) মাগনাকাটা
  3. গ) পিটিশন অব রাইটস
  4. ঘ) মূখ্য আইন
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ‘ছয়দফা’ দাবী কে ‘ম্যাগনাকর্টা’ বা ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বলা হয়।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ‘ছয়দফা’ দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন।
- ৭ জুন ‘ছয়দফা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬০০.
'কর্ণসুবর্ণ' কোন জনপদের রাজধানী শহর ছিল?
  1. সমতট
  2. গৌড়
  3. বঙ্গ
  4. হরিকেল
ব্যাখ্যা

গৌড়:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।