বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১৮ / ১২৪ · ১,৭০১১,৮০০ / ১২,৪২১

১,৭০১.
রাজাকার বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হয়েছিলো কে?
  1. মতিউর রহমান নিজামী
  2. গোলাম আযম
  3. মোঃ ইউসুফ
  4. ফজলুল কাদের চৌধুরী
ব্যাখ্যা
রাজাকার বাহিনী:
- লেফট্যানেন্ট জেনারেল টিক্কা খান ১৯৭১ সালের জুন মাসে 'পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স ১৯৭১' জারি করেন।
- তার পূর্বেই ১৯৭১ এর মে মাসে মওলানা এ.কে.এম ইউসুফ ৯৬ জন জামায়াত কর্মীর সমন্বয়ে খুলনায় আনসার ক্যাম্পে 'রাজাকার বাহিনী' গঠন করেন। 
- পরবর্তীকালে অর্ডিন্যান্সে এই নাম গ্রহণ করা হয়। 
- ইসলামী ছাত্র সংঘের প্রধান মোঃ ইউসুফ রাজাকার বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন।
- রাজাকার বাহিনী পাকিস্তান রক্ষার সংগ্রামের চাইতে লুটপাট, ছিনতাই, নারী ধর্ষণ এসব কাজে মগ্ন থেকেছে। 
- মুক্তিযোদ্ধার সন্ধান দেওয়া, হানাদার বাহিনীকে তাদের বাড়িঘর চিনিয়ে দেওয়া, গ্রাম থেকে গরু, ছাগল, মুরগি ধরে এনে পাকিস্তানী বাহিনীর ক্যাম্পে সরবরাহ করা, গ্রাম থেকে যুবতী নারী ধরে এনে আর্মি ক্যাম্পে সরবরাহ করা ইত্যাদি অপকর্মে রাজাকারদের নিয়োজিত রাখা হয়েছে।
এছাড়া,
- মতিউর রহমান নিজামী আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন।
- গোলাম আযম, ফজলুল কাদের চৌধুরী আল শামস বাহিনীর নেতা ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০২.
কোন ঘটনার ফলে ভারতের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে?
  1. ক) নীল বিদ্রোহ
  2. খ) বঙ্গভঙ্গ
  3. গ) সিপাহি বিদ্রোহ
  4. ঘ) কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৭০৩.
Who was the Finance Minister of Akbar's Ministry?
  1. Man Singh
  2. Tansen
  3. Todormol
  4. Abul Fozol
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবরের শাসনকাল:
- সম্রাট আকবর ভারতে মোগল শাসন বিস্তার ও সুদৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
- এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে তার রাজপুত নীতি, ভূমি ব্যবস্থা তথা মনসবদারী প্রথা ইত্যাদি।
- ভারতে মোগল রাজ্য বিস্তারের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল রাজপুত জাতি।
- জাতিগতভাবে রাজপুতরা ছিল বীর ও স্বজাত্যবোধে সচেতন যোদ্ধা।
- তিনি রাজা টোডরমল, রাজা বিহারী মল, ভগবান দাস এবং মানসিংহকে প্রশাসনের উচ্চ পদে নিযুক্ত করেন।
- তিনি কবি পণ্ডিত ও চিত্রশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকবরের রাজপুত নীতি মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।
- সম্রাট আকবরের ভূমি শাসন ব্যবস্থা অনন্য কৃতিত্বের দাবীদার।
- রাজা টোডরমল সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০৪.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোহাম্মদ হামিদুর রহমান কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ২ নং সেক্টর
  2. খ) ৩ নং সেক্টর
  3. গ) ৪ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৭ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনীর আক্রমণের মুখে সিপাহি মোহাম্মদ হামিদুর রহমান সেনানিবাস ত্যাগ করে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। পরে তিনি বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ধলই নামক স্থানে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এ জেলা ৪ নং সেক্টরের অধীন ছিল। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
১,৭০৫.
পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে কোথায় ?
  1. ক) লাহোরে
  2. খ) ঢাকায়
  3. গ) করাচিতে
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

- পাকিস্তান গণপরিষদ পাকিস্তান রাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালে গঠিত হয়।
- গণপরিষদের প্রথম বৈঠক বসে ১৯৪৭ সালের ১০ আগস্ট করাচিতে।
- ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট ১৯৪৭-এর শর্তানুযায়ী দুটি গণপরিষদের একটি স্থাপিত হয় ভারতে এবং অপরটি পাকিস্তানে।
- ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তান গণপরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন।
-ভারতের স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী গণপরিষদের দুটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ছিল: দেশের সংবিধান প্রণয়ন এবং তা কার্যকর করার পূর্ব পর্যন্ত একটি ফেডারেল আইনসভা (সংসদ) হিসেবে কাজ করা।

সোর্স: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রফেসর মোঃ মজাম্মেল হক) এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭০৬.
কোথায় থেকে বাংলাপিডিয়া প্রকাশিত হয়?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বাংলা একাডেমি
  3. এশিয়াটিক সোসাইটি
  4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

বাংলাপিডিয়া:
- বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ।
-  বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক বাংলাপিডিয়া প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির উদ্যোগে ২০০৩ সালে প্রথম প্রকাশ করা হয়।
- এরপর ২০১২ সালে এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- ১৪৫০ জন পণ্ডিত বাংলাদেশের প্রাচীন থেকে বর্তমান - পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এতে সংযোজন করেছেন।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৭০৭.
কাগমারী সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. রেসকোর্সে
  2. সন্তোষে
  3. বুড়িচং
  4. ছাগলনাইয়া
ব্যাখ্যা
কাগমারী সম্মেলন:
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয় কাগমারি সম্মেলন।
- টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রধান অতিথি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- মাওলানা ভাসানী পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের 'আসসালামুআলাইকুম' বলে সর্বপ্রথম পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘন্টা বাজিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া। 
১,৭০৮.
প্রতাপ আদিত্য কে ছিলেন?
  1. বাংলার বারো ভূঁইয়াদের একজন
  2. রাজপুত রাজা
  3. বাংলার শাসক
  4. মোগল সেনাপতি
ব্যাখ্যা
• বারো ভুঁইয়া:
বাংলার স্থানীয় প্রধান ও জমিদার, যাঁরা আকবর ও জাহাঙ্গীর এর রাজত্বকালে মুগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

বাংলার ইতিহাসে ষোড়শ শতক থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলায় যেসব বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি এবং শক্তিশালী সৈন্য ও নৌ-বহর নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তারাই বাংলার ইতিহাসে 'বারো ভুঁইয়া' নামে পরিচিত। 

- যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য বারো ভুঁইয়াদের মধ্যে সর্বাধিক সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ছিলেন।
- ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতাপের ক্ষমতা ও খ্যাতি পুরো ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল।

- বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন সোনার গাঁয়ের জমিদার ঈসা খাঁ।
- তার মৃত্যুর পর মোগলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ স্তিমিত হয়ে যায়।

আকবরনামা’য় প্রাপ্ত ভাটিতে মুগলদের যুদ্ধবিগ্রহের বিবরণ অনুযায়ী ভূঁইয়াদের নিম্নলিখিত তালিকা প্রস্ত্তত করা যেতে পারে:
(১) ঈসা খান মসনদ-ই-আলা, (২) ইবরাহিম নরল, (৩) করিমদাদ মুসাজাই, (৪) মজলিস দিলওয়ার, (৫) মজলিস প্রতাপ, (৬) কেদার রায়, (৭) শের খান, (৮) বাহাদুর গাজী, (৯) তিলা গাজী, (১০) চাঁদ গাজী, (১১) সুলতান গাজী, (১২) সেলিম গাজী, (১৩) কাসিম গাজী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৭০৯.
সম্প্রতি কোন মোবাইল অপারেটর বাণিজ্যিকভাবে ৫-জি সেবা চালু করেছে? [সেপ্টেম্বর-২০২৫]
  1. বাংলালিংক
  2. গ্রামীণফোন 
  3. টেলিটক
  4. এয়ারটেল
ব্যাখ্যা

৫-জি সেবা:
- ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ দেশের দুই শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি বাণিজ্যিকভাবে ৫-জি সেবা চালু করেছে।
- প্রথম পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের সাতটি জায়গায় রবির ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে।
পর্যায়ক্রমে দেশের বাকি অঞ্চলে এই সেবা চালু হবে।
-অন্যদিকে, গ্রামীণফোন রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর বিভিন্ন জায়গায় তারা ফাইভ-জি চালু করেছে।
-পর্যায়ক্রমে টাওয়ার নামে পরিচিত বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশনগুলো (বিটিএস) ফাইভ-জির আওতায় আনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে আশির দশকের শেষ দিকে এসে প্রথম প্রজন্মের, অর্থাৎ ওয়ান-জি প্রযুক্তি আসে সিটিসেলের মাধ্যমে।
-এরপর ১৯৯৬ সালে আসে টু-জি প্রযুক্তি। এর প্রায় ১৭ বছর পর চালু হয় থ্রি-জি।
-অন্যদিকে ফোর-জি চালু হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
-সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটক ২০২১ সালে দেশে প্রথম ফাইভ-জির পরীক্ষা করেছিল।

উৎস: প্রথম আলো [লিংক]

১,৭১০.
‘চরমপত্র’ সিরিজের পরিকল্পনা করেন কে?
  1. এম আর আখতার মুকুল
  2. আবদুল মান্নান 
  3. গাজি মাজহারুল ইসলাম
  4. আব্দুল জব্বার
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- বস্ত্তত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের দুটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল 'চরমপত্র' এবং 'জল্লাদের দরবার'।
- 'জল্লাদের দরবার' অনুষ্ঠানে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র এবং পাশবিক আচরণকে 'কেল্লা ফতেহ খান' চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছিল। '
- চরমপত্র' সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদের সদস্য আবদুল মান্নান এবং এর স্ক্রিপ্ট লেখা ও উপস্থাপনা করেন এম আর আখতার মুকুল। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৭১১.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান স্মৃথি রক্ষার্থে নির্মিত হয়-
  1. অপরাজেয় বাংলা
  2. আসাদ গেট
  3. মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ
  4. শিখা চিরন্তন
ব্যাখ্যা
• শহীদ আসাদ:
- শহীদ আসাদ (১৯৪২-১৯৬৯) উনিশশত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- আসাদ ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ)-এর ঢাকা হল শাখার সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সংগঠক।
- আসাদের মৃত্যুতে ঊনসত্তরের গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
- এভাবে 'আইয়ুব গেট' হয়ে যায় 'আসাদ গেট', 'আইয়ুব এভিনিউ' নামান্তরিত হয়ে হয় 'আসাদ এভিনিউ'।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৭১২.
বাংলাদেশে কোন জেলায় আর্সেনিক দুষণীয় মাত্রায় পাওয়া গিয়েছে?
  1. কিশোরগঞ্জ
  2. চাঁদপুর
  3. সুনামগঞ্জ
  4. নীলফামারী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে, গাঙ্গেয় পললভূমির ভূগর্ভস্থ জলস্তর জনগণের জন্য পানি সরবরাহে ব্যবহূত হচ্ছে। 
- প্রাকৃতিকভাবে এ পানিতে আর্সেনিক দূষণ ঘটছে, যা লক্ষলক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।
- বাংলাদেশে আর্সেনিক দুষণীয় মাত্রায় পাওয়া গেছে এমন এলাকাসমূহ প্রধানত দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল (লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর) দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল (কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর) এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় অংশে (নবাবগঞ্জ) সীমাবদ্ধ, যা গঙ্গা ব-দ্বীপ সমভূমির অন্তর্ভুক্ত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১,৭১৩.
ভাষা আন্দোলনের ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. বর্ধমান হাউজ
  2. বাংলা একাডেমি
  3. বাংলা মঞ্চ
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা:
ভাষা আন্দোলনের ফলে ১৯৫৫-তে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড (বাংলা ভাষায় পাঠ্য পুস্তুক রচনার উদ্দেশ্যে) ও বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত (বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে) হয়।

বাংলা একাডেমী: 
- বাংলা একাডেমী  বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ সালে ঢাকার বর্ধমান হাউজে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫২ সালের  ভাষা আন্দোলন এবং এ দেশের মুসলিম মধ্যবিত্তের জাগরণ ও আত্মপরিচয় বিকাশের প্রেরণায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়।
- ১৯৫৩ সালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়।
- যুক্তফ্রন্ট পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করে, কিন্তু অল্পদিনেই তাদের পতন হওয়ায় সে প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
- দ্বিতীয়বার যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউজে (স্থাপিত ১৯০৬) বাংলা একাডেমীর উদ্বোধন করেন।
- এভাবে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাস্তব রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭১৪.
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' কোন কমিশনের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়?
  1. শরিফ শিক্ষা কমিশন
  2. আকরাম খান শিক্ষা কমিশন
  3. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
  4. জাতীয় শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল 'শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট'।
- এই কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ।
- এই কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- কমিশন রিপোর্ট দাখিল করেছিল আট মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট ১৯৫৯।
- ১৯৬০ সালের প্রথম দিকে শরিফ কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- ১৯৬২ সালে সামরিক আইন প্রত্যাহার হওয়ায় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।
- আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে ১৪৪ ধারার মধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। 
- বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে, এ শিক্ষা আন্দোলন নিঃসন্দেহে ইতিহাসের বাঁক ফেরানো ঘটনা।
- বস্তুত এ আন্দোলনের পর থেকে ছাত্রসমাজ কখনো চুপচাপ থাকেনি।
- তারা বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করেছে এবং সরকারবিরোধী চেতনাকে বেগবান করেছে।

উৎস: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, প্রথম আলো।
১,৭১৫.
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করেন কোন শতাব্দীতে?
  1. ক) একাদশ
  2. খ) দ্বাদশ
  3. গ) ত্রয়োদশ
  4. ঘ) চতুর্দশ
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খিলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি দ্বাদশ শতাব্দীতে ভারতবর্ষে আসেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
-  বাংলা জয় করেন ১৩ শতকে।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলার ইতিহাস; সুলতানি আমল: আব্দুল করিম।
১,৭১৬.
অপারেশন জ্যাকপট কী?
  1. ক) ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী পরিচালিত অভিযান
  2. খ) বঙ্গোপসাগরে মার্কিন সামরিক টাস্কফোর্স
  3. গ) মুক্তিবাহিনীর নৌকমান্ডোরা পরিচালিত অভিযান
  4. ঘ) ভারতের স্বর্ণমন্দিরে পরিচালিত অভিযান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত। এদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২৬টি নৌযান ধ্বংস হয়। মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এ অপারেশনে অংশ নেয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১,৭১৭.
ঐতিহাসিক ছয় দফার সর্বশেষ দফা কি ছিল?
  1. ক) বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  2. খ) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  3. গ) রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  4. ঘ) আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন। এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
• ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
৬ দফার দাবিসমূহ
প্রস্তাব - এক : শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি
প্রস্তাব - দুই : কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
প্রস্তাব - তিন : মুদ্রা ও অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
প্রস্তাব - চার : রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
প্রস্তাব - পাঁচ : বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
প্রস্তাব - ছয় : আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক । 
১,৭১৮.
কত সালে ওলন্দাজ বণিকরা ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে?
  1. ১৬০২ সালে
  2. ১৬০৫ সালে
  3. ১৬২২ সালে
  4. ১৬৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

ওলন্দাজ বা ডাচ:
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- প্রাচ্য বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক 'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া বালেশ্বর, কাশিমবাজার এবং বরানগরেও তাদের কুঠি ছিল।
- প্রথমে ওলন্দাজগণ ইংরেজদের সাথে রেশমী সূতা, সুতি কাপড় চাল, ডাল সোরা ও তামাক এদেশ থেকে রপ্তানি করত এবং অন্যদেশ থেকে এদেশে মসলা আমদানি করত।
- ইংরেজদের সাথে তাদের যে বাণিজ্য চুক্তি হয় তা দু'বছরের মধ্যে ভেঙ্গে গিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
- অন্যদিকে বাংলার শাসনকর্তাদের সাথেও তাদের প্রবল বিরোধ দেখা দেয়।
- এ বিরোধ বেশি বেড়ে গেলে ইংরেজগণ ওলন্দাজ কুঠিগুলো দখল করে ফেলে।
- আর এভাবে ওলন্দাজদের বাণিজ্যিক সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁরা উপমহাদেশ ছেড়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় চলে যায়।
- সেখানে তাঁরা উপনিবেশ স্থাপন করে।
- ফলে এদেশে ইংরেজদের শক্তি বেড়ে যায়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭১৯.
৭ই মার্চের ভাষণে কোন দাবিটি ছিলো না-
  1. ক) চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার
  2. খ) গণহত্যার তদন্ত করা
  3. গ) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের টালবাহানার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভা সমাবেশে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। এ ভাষণে তিনি চারটি দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলোঃ চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার, সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, গণহত্যার তদন্ত করা এবং নির্বাচত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড এ অন্তর্ভুক্ত করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
১,৭২০.
স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রভাবে রচিত প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) রক্তাক্ত বাংলা
  2. খ) আবার তোরা মানুষ হ
  3. গ) একাত্তরের যীশু
  4. ঘ) আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা
রক্তাক্ত বাংলা- ১৯৭২ সাল
আবার তোরা মানুষ হ- ১৯৭৩ সাল
একাত্তরের যীশু- ১৯৯৩
এবং আগুনের পরশমণি- ১৯৯৫ সাল।
সূত্রঃ প্রথম আলো।
১,৭২১.
কাকে প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ান বলা হয়?
  1. সমুদ্রগুপ্ত
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. হর্ষবর্ধন
ব্যাখ্যা
সমুদ্রগুপ্ত:
- সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।
- চন্দ্রগুপ্তের মৃত্যুর পর সমুদ্রগুপ্ত পাটালিপুত্রের সিংহাসনে বসেন।
- তাঁকে প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ান বলা হয়।
- তার রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা জয় করা হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২২.
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ৯টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ১২টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা:
- ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- ১০ই এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- এসব সেক্টরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনাসদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ যোগদান করেন।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল।
- এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
- ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে যোদ্ধাগণ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সামরিক ছাউনি বা আস্তানায় হামলা চালায়।
- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭২৩.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'OIC' এর কততম সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) পঞ্চম সম্মেলন
  2. খ) চতুর্থ সম্মেলন
  3. গ) তৃতীয় সম্মেলন
  4. ঘ) দ্বিতীয় সম্মেলন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত 'OIC' এর দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য পদ লাভ করে।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

• ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা OIC:
- OIC (The Organisation of Islamic Cooperation) হলো মুসলিম দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক জোট যা ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোতে অনুষ্ঠিত রাবাত সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
- ইসরাইল কর্তৃক আল আকসা মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে OIC গঠিত হয়।
- OIC এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৭টি।
- দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দুটি দেশ গায়ানা ও সুরিনাম OIC সদস্য।
- ইউরোপ মহাদেশের আলবেনিয়া OIC সদস্য।
- OIC এর সদরদপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত।
- OIC এর বর্তমান মহাসচিব, এইচ.ই. হিসেইন ইব্রাহিম তাহা (১২ তম)।
- মহাসচিবের মেয়াদ-৫ বছর।
- শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়-তিন বছর পর পর।
- প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়- রাবাত, মরক্কো (১৯৬৯ সালে)।
- অফিসিয়াল ভাষা- তিনটি (আরবি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ।

উৎস: OIC ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
১,৭২৪.
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২ জানুয়ারি, ১৯৭২
  2. ৩ জানুয়ারি, ১৯৭২
  3. ৪ জানুয়ারি, ১৯৭২
  4. ৫ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স:
- ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্সের যাত্রা শুরু হয়।
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- সরকারের দেওয়া বিমানবাহিনীর একটি ডিসি-৩ এয়ারক্রাফটের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ যাত্রা।
- বিশ্বব্যাপী ভ্রমণবিলাসী সম্মানিত যাত্রীগণের এ প্রত্যাশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ০৬টি ব্রান্ড নিউ বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং ৩ টি ড্যাশ ৮-৪০০ সহ বিমানের বহরে উড়োজাহাজ সংখ্যা ২১ টি। 

উল্লেখ্য,
- ৪ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

 উৎস: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ওয়েবসাইট।
১,৭২৫.
নিচের কোন জনপদ মুসলিম যুগে 'লক্ষ্মণাবতী' নামে পরিচিত ছিল?
  1. গৌড়
  2. রাঢ়
  3. বঙ্গ
  4. সমতট
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২৬.
কোন আন্দোলনভিত্তিক ঐক্য বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে?
  1. সিপাহি বিদ্রোহ
  2. বঙ্গভঙ্গ রদ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে।

পাকিস্তানের প্রতি আগে যে মােহ ছিল তা দ্রুত কেটে যেতে থাকে। নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তােলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে।

ভাষাকেন্দ্রিক এই ঐক্যই জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি

১,৭২৭.
বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  2. খ) চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট
  3. গ) আগারগাঁও
  4. ঘ) বিজয় সরণী
ব্যাখ্যা
- ১০ জানুয়ারি ২০২২ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি 'টুঙ্গিপাড়া: হৃদয়ে পিতৃভূমি' শিরোনামে একটি পোস্টার প্রকাশ করে। 
- ৬ জানুয়ারি ২০২২ রাজধানীর বিজয় সরণীতে ‘বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর মিরপুর সেনানিবাসে প্রতিষ্ঠিত হয়। যা পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে ঢাকার বিজয় স্মরণী রোডের পাশে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে এর নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর।

উৎস: বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো রিপোর্ট।
১,৭২৮.
নিচের কোন শাসক 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. হেমন্ত সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. লক্ষণ সেন
  4. মল্লিক সেন
ব্যাখ্যা

কৌলিন্য প্রথা ও বল্লাল সেন:
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, কৌলিন্য প্রথার সাথে বল্লাল সেনের সম্পর্কের তেমন কোনো যুক্তিযুক্ত ভিত্তি নেই।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন।
- ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭২৯.
পূর্ববঙ্গ জমিদারি দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন কবে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৫৯ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০: 
- এই আইনের আওতায় সরকার দেশের একমাত্র জমিদারে পরিণত হয় এবং সরকার পর্যায়ক্রমে জমিতে সকল খাজনা-আদায়ি স্বার্থ অধিগ্রহণ করে।
- ১৯৫১ ইং সনের ১৬ মে, এই আইন পাস এর মাধ্যমে এদেশ থেকে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে।
- এই আইনে ১৫২টি ধারা রয়েছে।
- এগুলি পাঁচটি অংশ ও উনিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ জমিদারি বিলোপ ও প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা উচ্ছেদ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৩০.
মুগল আমলে প্রদেশ শাসনের জন্য কোন দু'টি সমপর্যায় পদের বিধান ছিল?
  1. ক) সুবাদারী ও নবাবী
  2. খ) নবাবী ও দিউয়ানি
  3. গ) নিযামত ও নবাবী
  4. ঘ) সুবাদারী ও দিউয়ানি
ব্যাখ্যা
মুগল শাসনতন্ত্রে প্রদেশ শাসনের জন্য দু'টি সমপর্যায়ের পদের বিধান ছিল। 
একটি সুবাদারী, আরেকটি দিউয়ানি। 
সুবাদার ও দিউয়ান উভয় ব্যক্তিই সরাসরি দিল্লির সম্রাটের নিকট ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহি করতে বাধ্য ছিলেন। 
তাঁরা একে অপরকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতেন, কিন্তু একে অন্যকে তাঁর অধীন করতে পারতেন না। 
 
সুবাদারের দায়িত্ব ছিল বিচার, প্রতিরক্ষা ও সাধারণ প্রশাসন পরিচালনা, আর দিউয়ানের দায়িত্ব ছিল মূলত রাজস্ব (খাজনা) শাসন। 
তাই দিওয়ানী লাভের অর্থ রাজস্ব আদায়ের কর্তৃত্ব লাভ করা। 
 
কোনো প্রাদেশিক শাসনকর্তা যেন স্বেচ্ছাচারী ও স্বাধীনতাকামী হয়ে না পড়ে সে উদ্দেশ্যেই এ ক্ষমতা বিভাজনের ব্যবস্থা ছিল । প্রশাসনিক দক্ষতা অর্জনও ছিল এই ব্যবস্থার আর এক লক্ষ্য। 
 
উৎস : ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৭৩১.
উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করেন কে?
  1. আলাউদ্দিন খিলজি
  2. শাহ সুজা 
  3. শেরশাহ
  4. মীর জুমলা 
ব্যাখ্যা

• শেরশাহ:
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
-  তাঁর প্রকৃত নাম ফরিদ। 
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।

উল্লেখ্য,
- ডাক ব্যবস্থার উন্নতির জন্য তিনি ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন।
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন। 
- গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- পথচারীদের সুবিধার জন্য রাস্তার উভয় পার্শ্বে বৃক্ষরোপণ ও সরাইখানা স্থাপন করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৭৩২.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে মোট কতজনকে বীরউত্তম খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ৬৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৬৯ জন
  4. ৭০ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭৩৩.
কোন সুলতানের শাসনামলকে বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়?
  1. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  2. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. সুলতান সিকান্দর শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বাংলায় হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি আরাকান ও চট্টগ্রাম দখল করেন।
- তার সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হতো।
- তিনি বাংলাকে রাজদরবারের ভাষা হিসেবে স্থান দেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- তাকে নৃপতি তিলক, জগৎভূষণ, কৃষ্ণাবতার বলা হতো।
- তার শাসনামলকে বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়

উল্লেখ্য,
⇒ তিনি অনেক জনকল্যাণমূলক কাজও করেন।
- তিনি গরিব-দুঃখীদের জন্যে দেশে অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন ও পানির কূপ খনন করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- তিনি বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যদেবকে সম্মান করতেন এবং তাঁকে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারে সুবিধা দিয়েছিলেন।
- তার সময়ে বিজয়গুপ্ত পদ্মপুরাণ বা মনসা মঙ্গল, বিপ্রদাস মনসা বিজয় এবং যশোরাজ খান শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্য রচনা করেন।
- মালাধর বসু শ্রীমদ্ভাগবত বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন।
- তিনি শ্রীকৃষ্ণ বিজয় নামে আর একটি কাব্যও রচনা করেন।
- তাঁর রাজত্বকালে গৌড়ের 'ছোট সোনা' মসজিদ নির্মিত হয়।
- দীর্ঘ ২৬ বছর রাজত্ব করার পর আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৩৪.
'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কমিটি গঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫০ সালে
  3. ১৯৫১ সালে
  4. ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর প্রতিবাদ করেন।
- আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিবাদ জানায়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কমিটি গঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গণপরিষদ কর্তৃক পঠিত মূলনীতি কমিটির সুপারিশে বলা হয়, উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।
- দেশজুড়ে প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ চলতে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,৭৩৫.
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা কর্মসূচি কত সালে উত্থাপিত হয়?
  1. ১৯৬৮ সালে
  2. ১৯৬৯ সালে
  3. ১৯৭০ সালে
  4. ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির বাস্তবায়ন এবং প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি সংগ্রাম পরিষদ।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংগঠন ও সুসংবদ্ধকরণ এবং নেতৃত্ব প্রদানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
-  ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ, বিশেষত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (DUCSU) আট জন ছাত্রনেতা সম্মিলিতভাবে গঠন করেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। 
- ৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য,
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই উনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
১,৭৩৬.
'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর' কোথায় অবস্থিত?
  1. পটুয়াখালী
  2. গজারিয়া
  3. আড়াইহাজার
  4. মিরসরাই
ব্যাখ্যা

- চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলা এবং ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর'।
- এর আয়তন প্রায় ৩০ হাজার একর।
- এখানে প্রায় ১৫ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হবে।
- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বা বেজা এটি বাস্তবায়ন করছে।
উৎসঃ বেজা ওয়েবসাইট।

১,৭৩৭.
বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম - 
  1. বঙ্গ
  2. পুন্ড্র
  3. বরেন্দ্র
  4. গঙ্গারিডাই
ব্যাখ্যা

বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম- 'পুন্ড্র'। 
-------------
'পুন্ড্র' জনপদ:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- এটি বাংলার প্রাচীনতম জনপদ।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
প্রাচীন বাংলার আরো জনপদ সমূহ হচ্ছে:
- বঙ্গ,
- বরেন্দ্র,
- সমতট,
- হরিকেল,
- রাঢ়,
- চন্দ্রদ্বীপ,
- তাম্রলিপ্ত,
- গঙ্গারিডাই,
- গৌড় প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি, বাংলাপিডিয়া।

১,৭৩৮.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক 'কী চাহ শঙ্খচিল'-এর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. নাসির উদ্দীন ইউসুফ
  3. মমতাজউদদীন আহমদ
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
মমতাজউদদীন আহমদ:
- এক অঙ্কের নাটক রচনায় তিনি ছিলেন পথিকৃৎ।
- মমতাজউদদীন আহমদের নাটক লেখার যাত্রা শুরু হয় ১৯৬০ সালে।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তার লেখা প্রথম নাটক 'বিবাহ'।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি লিখেছিলেন “স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা” নাটকটি।
- স্বাধীনতার এক যুগ পরে এসে তিনি রচনা করলেন তার বিখ্যাত নাটক "সাতঘাটের কানাকড়ি"।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা। 
- তার হাতে জন্ম নিলো "ক্ষত বিক্ষত", "রঙ্গপঞ্চাদশ", "প্রেম বিবাহ সুটকেশ", "জমিদার দর্পণ", "হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার" এর মতো অসাধারণ সব নাটক।
- টেলিভিশনে নাট্যকার হিসেবে মমতাজউদদীন আহমদের যাত্রা শুরু হয় ‘দখিনের জানালা’ নাটকটি দিয়ে। 
- চার্লি চ্যাপলিন-ভাঁড় নয় ভবঘুরে নয়, আমার ভিতরে আমি, জগতের যত মহাকাব্য, লাল সালু ও সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, মহানামা কাব্যের গদ্যরূপ, সাহসী অথচ সাহস্য, নেকাবী এবং অন্যগণ, জন্তুর ভিতর মানুষ' এর মতো বিশাল গদ্য ভাণ্ডার ছিল অসামান্য।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তিনি লিখেছিলেন 'একুশ আমার বাংলা আমার', লিখেছিলেন শিশু সাহিত্য ও কিশোর রচনা, সরস রচনা।
- তার স্বাধীনতার সংগ্রাম নাটক 'বর্ণচোরা'।

উৎস: ১০ জানুয়ারি ২০২১, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
১,৭৩৯.
দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত ছিল কোন জনপদ?
  1. বঙ্গ
  2. হরিকেল
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা
তাম্রলিপ্ত:
- হরিকেলের উত্তরে ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার (প্রাচীন যুগে মিধুনাপুর নামে পরিচিত) তমলুক শহরই ছিল প্রাচীন তাম্রলিপ্তি নগরস্থল।
- বর্তমান শহরটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রূপনারায়ণের তীরে অবস্থিত।

⇒ সমুদ্র উপকূলবর্তী এ এলাকা ছিল খুব নিচু ও আর্দ্র।
- নৌ চলাচলের জন্য জায়গাটি ছিল খুবই উওম।
- প্রাচীনকালে তাম্রলিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং তাম্রলিপ্তি শহরকে ‘তান-মো-লি-তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- সাত শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১,৭৪০.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এর অন্যতম আয়োজক রবি শঙ্কর কোন দেশের অধিবাসী?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ভারত
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের মুখে যুদ্ধ বিরতি ঘটিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে বাধাগ্রস্ত করতে জাতিসংঘে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
- তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের অনেক সদস্য, বিভিন্ন সংবাদপত্র, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা পালন করে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
 
উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
         ii) ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১, প্রথম আলো।
১,৭৪১.
কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে 'এগারো দফা' প্রণীত হয়?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  3. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:

- উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে 'এগারো দফা' প্রণীত হয়।
- ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষনা করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ।
- ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে মওলানা ভাসানী বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে 'ঘেরাও কর্মসূচি' নামে নতুন এক আন্দোলনের ডাক দেন।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৪২.
প্রখ্যাত সুফিসাধক খান জাহান আলী এর উপাধি কী ছিলো?
  1. ক) আল ফাজিল
  2. খ) উলুগ খান
  3. গ) খান-ই-জাহান
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
খান জাহান ছিলেন একজন প্রখ্যাত সুফিসাধক এবং বৃহত্তর যশোর ও খুলনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত এলাকার আঞ্চলিক শাসক।
- তিনি খান জাহান আলী নামে সমধিক পরিচিত।
- তাঁর উপাধি ছিল ‘উলুগ খান’ ও ‘খান-ই-আযম’।
- তিনি পনেরো শতকের প্রথমার্ধে খলিফাতাবাদে (বাগেরহাটে) শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
- এ সময়ে পরবর্তী ইলিয়াসশাহী বংশের  নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ (১৪৩৫-১৪৫৯) গৌড়ের সুলতান ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৭৪৩.
দুর্যোগের আগাম বার্তা জানার টোল ফ্রি নম্বর কত?
  1. ১০৯
  2. ১০৬
  3. ১০৯০
  4. ৯৯৯
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের আগাম বার্তা জানার টোল ফ্রি নম্বর
- দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুর্যোগের আগাম বার্তা জানার টোল ফ্রি নম্বর হচ্ছে ১০৯০।
- যে-কোনো মোবাইল ফোন হতে ১০৯০ নম্বরে ডায়াল করে ১ ডায়াল করলে সমূদ্রগামী জেলেদের জন্য আবহাওয়া বার্তা;
- ২ ডায়াল করলে নদী বন্দরসমূহের জন্য সতর্ক সংকেত;
- ৩ ডায়াল করলে দৈনন্দিন আবহাওয়া বার্তা;
- ৪ ডায়াল করলে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত;
- ৫ ডায়াল করলে দেশের বন্যা তথা বিভিন্ন নদ/নদীর পানি হ্রাস-বৃদ্ধির অবস্থায় সম্পর্কিত তথ্য অবহিত হওয়া যাবে।

উৎস- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৭৪৪.
বঙ্গভঙ্গের সময় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশের রাজধানী ছিলো কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. কলকাতা
  3. আসাম
  4. উড়িষ্যা
ব্যাখ্যা
 • বঙ্গভঙ্গ
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
- পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৭৪৫.
BIRDEM এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) ডা. নুরুল ইসলাম
  2. খ) ডা. মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ
  3. গ) ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ
  4. ঘ) ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
- BIRDEM (Bangladesh Institute of Research and Rehabilitation in Diabetes, Endocrine and Metabolic Disorders) এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
- বারডেম ১৯৮০ সালে ঢাকার শাহবাগে সরকার প্রদত্ত জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
(তথ্যসূত্র: বারডেম ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া)
১,৭৪৬.
বাংলাদেশের প্রাচীনতম জনপদ কোনটি?
  1. মহাস্থানগড়
  2. পাহাড়পুর
  3. ময়নামতি
  4. উয়ারীবটেশ্বর
ব্যাখ্যা
❐ বাংলাদেশের প্রাচীনতম জনপদ হলো পুণ্ড্র এবং এর রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়।

পুণ্ড্র জনপদ:

- পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাচীনতম।
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের (আনুমানিক) মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপিতে উল্লিখিত পুদনগল (পুণ্ড্র নগর) এবং বগুড়া যে অভিন্ন তা একাধিক উৎস থেকে প্রমাণ করা যায়। প্রাচীন এই জনপদের সীমানা চিহ্নিত করে ড. নীহাররঞ্জন রায় লিখেছেন, "পুণ্ড্রবর্ধনের কেন্দ্র বা হৃদয়স্থানের একটি নতুন নাম পাইতেছি দশম শতক হইতে; এ নাম বরেন্দ্র অথবা বরেন্দ্রী।" অর্থাৎ এই প্রাচীন জনপদটি ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে দুটো ভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। কতিপয় লিপি প্রমাণে এ কথা বলা যায় যে, বরেন্দ্র পুণ্ড্রবর্ধনেরই অংশবিশেষ। মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিকরা বরেন্দ্রিকে বলতেন বরীন্দ্র।

⇒ বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ। প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর। এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

⇒ মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গেছে। সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল। ১৮৭৯ সালে প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার কানিংহ্যাম। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান। ২০১৬ সালে এটিকে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে -
• পাহাড়পুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার। পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।

• ময়নামতি:
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান। সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।

• উয়ারী বটেশ্বর:
- বাংলাদেশের রাজাধানী ঢাকা থেকে ৭০-৭৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নরসিংদীর জেলার বেলাব উপজেলায় অবস্থিত দুটি গ্রামের নাম উয়ারী ও বটেশ্বর। এই দুটি প্রাচীন গ্রামে প্রাপ্ত প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনার বিচারে, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নিদর্শন হিসাবে উয়ারী-বটেশ্বরকে উল্লেখ করা হয়। আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন প্রত্নস্থান নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর। এ পর্যন্ত ৫০টি প্রত্নস্থান উৎখননের পর মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম।
১,৭৪৭.
When did Chittagong Hill Tracts Accord signed?
  1. ক) 1995
  2. খ) 1996
  3. গ) 1999
  4. ঘ) 1997
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি:

- এই চুক্তি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের প্রাক্কালে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পাহাড়ি জনগণের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পরিচিতির স্বীকৃতি সম্পর্কিত কতিপয় দাবি পেশ করেন।
- ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে।
- পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে যোগ হয় শান্তি বাহিনী নামে একটি সামরিক শাখা।
- ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে শান্তি বাহিনী সামরিক দিক থেকে অধিকতর সংগঠিত হয়।
- ১৯৭৭ সালে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া বহরের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
- ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে একটি আইন পাশ করে সরকার রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান তিনটি জেলায় স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠন করে।
- পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তিচুক্তি পাহাড়ি জনগণের বিশেষ অবস্থান ও মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৭৪৮.
ঐতিহাসিক ছয় দফার পঞ্চম দফা কী বিষয়ক ছিল?
  1. বাণিজ্য বিষয়ক
  2. প্রতিরক্ষা বিষয়ক
  3. শুল্কনীতি বিষয়ক
  4. প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৪৯.
কার নেতৃত্বে মন্ত্রী মিশন ভারতে এসেছিলো?
  1. সিরিল র‌্যাডক্লিফ
  2. স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস
  3. পেথিক লরেন্স
  4. এ. ভি. আলক্সান্ডার
ব্যাখ্যা
- ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনার জন্যে ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার তৎকালীন ভারত সচিব পেথিক লরেন্স কে প্রধান করে তিন সদস্যের ক্যাবিনেট বা মন্ত্রী মিশন ভারতে পাঠায়।
- এর অপর দুই সদস্য হলেন স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস এবং এ. ভি. আলেকজান্ডার।
- এই মিশন ভারতকে তিনটি ভাগে ভাগ করে এবং তিন স্তর বিশিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা করে।
- মুসলিম লীগ শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা মেনে নিলেও কংগ্রেসের অসহযোগিতায় মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা সফল হয়নি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৭৫০.
ইরানের কবি হাফিজের সাথে কার যোগাযোগ ছিল?
  1. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্
  2. সিকান্দর শাহ
  3. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  4. জালালুদ্দিন মোহাম্মদ শাহ
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ:
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ ১৩৯০-৯১ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
বাংলার ইতিহাসে তাঁর রাজত্বকাল নানা কারণে প্রসিদ্ধি লাভ করে।
খ্যাতি ও সাফল্যের বিচারে তিনি ইলিয়াস শাহী বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুলতান ছিলেন।
তিনি ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবেও প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিজে বিদ্বান ছিলেন।
তিনি বিদ্বান, কবি ও সাহিত্যিকদের সমাদর ও শ্রদ্ধা করতেন।
তিনি ফার্সি ভাষায় কবিতা লিখতেন।
ইরানের কবি হাফিজের সাথে গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ এর যোগাযোগ ছিল। 
তিনি হাফিজকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানান।
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
তাঁর রাজত্বকালেই প্রথম বাঙালি মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর কাব্য 'ইউসুফ জোলেখা' রচনা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫১.
দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় মুক্তিযুদ্ধের সময় নিম্নের কোনটি পাঠ করে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে উঠেন?
  1. ক) বিবিসি
  2. খ) সংবাদ পরিক্রমা
  3. গ) বজ্রকণ্ঠ
  4. ঘ) চরমপত্র
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি পুরোটা সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খবর প্রচার করে পেছেন।
- এদিকে দেশে অবরুদ্ধ থেকেও অনেক বাঙালি সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে খবর পাঠিয়েছে। এজন্য তাদের শত্রুর হাতে চরম মূল্যও দিতে হয়।
- একাত্তরের শহিদ নিজামউদ্দিন ও নাজমুল হক এরকমই দুজন সাংবাদিক।
- এছাড়া আকাশবাণী, বিবিসি, ভোয়া প্রভৃতি বেতারকেন্দ্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল।
- আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রতি রাতে প্রচারিত 'সংবাদ পরিক্রমা' খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল।
- 'সংবাদ পরিক্রমা' পাঠ করে দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে উঠেন
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'বজ্রকন্ঠ' ও 'চরমপত্রসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান শ্রোতাদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি। 
১,৭৫২.
ভারতের প্রথম রেলপথ ব্যবস্থা কার আমলে স্থাপিত হয়েছিল?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  3. লর্ড মিন্টো
  4. লর্ড ডাফরিন
ব্যাখ্যা

লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ডালহৌসী কঠোরতার সাথে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রসারের পথ আরও প্রশস্ত করে তোলেন।
- তিনি গভর্নর জেনারেলের কাজের চাপ কমানোর লক্ষ্যে বাংলার জন্য একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর (ছোট লাট) নিযুক্ত করেন।
 
• তিনি বিধবা বিবাহ আইন পাস করে হিন্দু বিধবা বিয়েকে আইনসঙ্গত করেন। এ বিষয়ে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ডালহৌসীকে সাহায্য করেন। ডালহৌসী এমন একটি আইন পাস করান যাতে এদেশীয়গণ ধর্মান্তরিত হলেও তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ করতে পারে।
- তিনি পূর্তবিভাগের প্রতিষ্ঠিত গঙ্গা খাল খনন ও জল সেচ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেন।
- তিনি রাজপথ ও সড়কগুলোর উন্নয়ন করেন। তাঁরই সময়ে কলকাতা হতে পেশোয়ার পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড পুনরায় চালু হয়।
- এদেশীয় রেলপথ ব্যবস্থার জনক ছিলেন ডালহৌসী। তাঁর সময়ে বোম্বাই হতে টানা পর্যন্ত রেললাইন চালু হয় (১৮৫৩ খ্রি:)।
- ডালহৌসি ডাক বিভাগের সংস্কার, কলকাতা হতে আগ্রা পর্যন্ত প্রথম টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা ও পেনী পোস্টকার্ড ব্যবস্থা চালু করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১,৭৫৩.
'আমার সোনার বাংলা' রবীন্দ্র সংগীতের প্রথম কত পঙক্তি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃত?
  1. ক) ৮
  2. খ) ১০
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ১৪
ব্যাখ্যা

- 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি' এই গানটির প্রথম ১০ চরন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত।
- এটি প্রথম ১৯০৫ (১৩১২) সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এই গানের সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এবং এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব রয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৭৫৪.
বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কবে পাশ করা হয়?
  1. ১৯৮৯
  2. ১৯৯০ 
  3. ১৯৯২
  4. ১৯৯৩
ব্যাখ্যা

• বাধ্যতামুলক প্রাথমিক শিক্ষা:
- দেশের সকল শিশুকে একটি ন্যূনতম স্তর পর্যন্ত শিক্ষিত করে তোলাই সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য।
- এই লক্ষ্য অর্জনের প্রধান উপায় হচ্ছে বাধ্যতামুলক প্রাথমিক শিক্ষা।
- এ অবস্থায় আইনের মাধ্যমে সকল শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়।
- এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বলা হয়।
- ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন সংসদে পাশ করা হয়
- এবং ১৯৯২ সালে প্রতি জেলায় একটি করে থানায় পরীক্ষামূলক ভাবে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়।
- ১৯৯৩ সালে সারাদেশে তা সম্প্রসারণ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৫৫.
স্বাধীন গৌড়রাজ্য বিস্তৃত ছিল -
  1. ক) বাংলার উত্তর, উত্তর পশ্চিমাংশ ও মগধ
  2. খ) সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গ
  3. গ) বাংলার উত্তর,পূর্ব বঙ্গ
  4. ঘ) তিব্বত ও দাক্ষিণাত্য
ব্যাখ্যা

- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে গৌড়ের পরবর্তী গুপ্তবংশীয় রাজাগণ দুর্বল হয়ে পড়েন। এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে সামন্তরাজা শশাঙ্ক ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের গোড়ার দিকে গৌড় অঞ্চলে ক্ষমতা দখল করে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৫৬.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনা করেন কে?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) আবদুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান।
১৯৭৩ সালে প্রথম বাংলা একাডেমীর মাধ্যমে দলিলপত্রাদি সংগ্রহের কাজ শুরু হয় এবং এরশাদের সময়ে ১৯৮২ সালে এসব দলিলপত্রাদি খণ্ডাকারে প্রকাশ করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১,৭৫৭.
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কবে শপথ গ্রহণ করে? 
  1. ৫ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৮ আগস্ট, ২০২৪
  4. ১০ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান।
- এরপর ৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গবন্ধু ভবনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন।
- এই সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মনোনীত করা হয়।
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার  ৮ আগস্ট, ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করেন।
- অন্যান্য উপদেষ্টা একই দিনে শপথ গ্রহণ করেন।
- সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীতে শিক্ষার্থী, অর্থনীতিবিদ, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।
- এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে দায়িত্ব পালনকারী প্রশাসন। 

- এই সরকার গঠনের জন্য আইনগত ভিত্তি ছিল সংসদ ভেঙে যাওয়া;
- এবং দেশের বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবিধানের ‘প্রয়োজনীয়তা নীতি’ অনুসরণ করা।

- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল:
• রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার করা,
• অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা,
• জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ডের বিচার করা,
• ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা।

উৎস:
জাতীয় তথ্য বাতায়ন; 
প্রথম আলো পত্রিকা। 

১,৭৫৮.
'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচির সময় শিক্ষার্থীরা কোন দাবিতে একত্রিত হয়েছিল?
  1. শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি
  2. শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বৃদ্ধি
  3. শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা
  4. কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্লকেড:
- কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
- ৫ জুন, ২০২৪ তারিখে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করার পর আবার এই আন্দোলন শুরু হয়।
- এটি বাতিলের দাবিতে ৭ জুলাই, ২০২৪ তারিখে সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
- শাহবাগ মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্ধারিত হওয়া এই কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘বাংলা ব্লকেড’।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সে সময় কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার। পরে ২০২১ সালে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করলে গত ৫ জুন এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ফিরে আসে কোটা ব্যবস্থা।
- সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
 
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.
১,৭৫৯.
ঐতিহাসিক ‘কাগমারি সম্মেলন’ এর নেতৃত্ব দেন-
  1. ক) স্যার সলিমুল্লাহ
  2. খ) শহীদ তিতুমীর
  3. গ) মওলানা ভাসানী
  4. ঘ) সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
টাঙ্গাইল জেলার কাগমারিতে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন। ৭ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিল অধিবেশনে মূল আলোচ্যসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি। কিন্তু সিয়াটো ও সেন্টোর সামরিক চুক্তির প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করলে সম্মেলনে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রণ্ট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর একুশ দফা প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল জোটনিরপেক্ষ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। সোহরাওয়ার্দীর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বক্তব্য আওয়ামী লীগের বামপন্থি নেতৃবৃন্দ সমর্থন করেন নি। এঁদের পুরোধা ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি (সম্মেলনেরও সভাপতি) মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। আওয়ামী লীগের আইনসভার সদস্য ও নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কাউন্সিল অধিবেশনে মওলানা ভাসানী সোহরাওয়ার্দীর অনুসৃত সামরিক জোটের সমালোচনা করেন। ওই ভাষণে মওলানা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন। সোহরাওয়ার্দী সামরিক জোটের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেন। তিনি পাকিস্তান স্বাক্ষরিত সামরিক চুক্তি এবং কেন্দ্র কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানে আরোপিত অর্থনৈতিক নীতিমালার পক্ষেও রায় দেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১,৭৬০.
'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল' গানটির সুর করেছেন কে?
  1. গোবিন্দ হালদার
  2. ফজলে খোদা
  3. আপেল মাহমুদ
  4. সমর দাস
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গানগুলো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা যুগিয়েছে।


স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান:
⇒ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর - কথা ও সুর: আপেল মাহমুদ, কণ্ঠ: রথীন্দ্রনাথ রায়।
⇒ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার, সুরকার: সমর দাস, সমবেত কণ্ঠে গাওয়া।
⇒ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার, সুরকার ও কণ্ঠ: আপেল মাহমুদ।
⇒ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার, সুরকার: আপেল মাহমুদ, কণ্ঠ: স্বপ্না রায়।
⇒ সালাম সালাম হাজার সালাম - গীতিকার: ফজলে খোদা, সুরকার ও কণ্ঠ: আব্দুল জব্বার।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

১,৭৬১.
ভাষা আন্দোলন নির্ভর উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নেকড়ে অরণ্য
  2. খ) জীবন ক্ষুদা
  3. গ) আরেক ফালগুণ
  4. ঘ) আনন্দের মৃত্যু
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন। প্রকাশকাল - ১৯৬৮ সাল। এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালন নিয়ে লেখা। পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো’ যা প্রণিধানযোগ্য। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৬২.
১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্ত ছিলেন না -
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  3. গ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. ঘ) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্ত ছিলেন না - নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।

• যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় - ৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ সালে।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।

- দলগুলো ছিল -
→ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
→ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
→ মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং
→ হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৬৩.
সংবিধান সংস্কার কমিশন উচ্চ কক্ষের জন্য কয়টি আসনের সুপাারিশ করেছেন?
  1. ১০৫ 
  2. ১১০ 
  3. ১০০ 
  4. ৪০০ 
ব্যাখ্যা

- উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন, নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন;

• উচ্চকক্ষ
- উচ্চকক্ষ মোট ১০৫ (একশো পাঁচ) জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে;
- এর মধ্যে ১০০ জন সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত হবেন।
- রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation-PR) পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের মনোনয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ (একশো) জন প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে।
- এই ১০০ (একশো) জন প্রার্থীর মধ্যে কমপক্ষে ৫ জন আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবে।
- অবশিষ্ট ৫টি আসন পূরণের জন্য রাষ্ট্রপতি নাগরিকদের মধ্য থেকে (যারা কোনো কক্ষেরই সদস্য ও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন) প্রার্থী মনোনীত করবেন।
- কোনো রাজনৈতিক দলকে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের যোগ্য হতে হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১% নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও,
- উচ্চকক্ষের স্পিকার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।
- উচ্চকক্ষের একজন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন যিনি সরকার দলীয় সদস্য ব্যতিত উচ্চকক্ষের অন্য সকল সদস্যের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন।[লিঙ্ক]

১,৭৬৪.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফায় কয়টি ভাষা সংক্রান্ত দফা ছিল?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
একুশ দফা:
- ১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পূর্ববাংলায় মুসলিম লীগ শাসনের অবসানকল্পে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রণ্ট নামে এক নির্বাচনী মোর্চা গঠিত হয়।
- এই মোর্চা গঠনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন কৃষক-শ্রমিক পার্টির সভাপতি এ.কে ফজলুল হক, আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- যুক্তফ্রণ্টের পক্ষ থেকে ২১টি প্রতিশ্রুতি সম্বলিত যে নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করা হয় তা-ই ২১-দফা নামে পরিচিত। এই ২১ দফার মধ্যে ভাষা সংক্রান্ত দফা ছিল ৫টি: ১, ১০, ১৬, ১৭, ১৮ নং দফা।  

এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হল:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা
১০. শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যকার বৈষম্য বিলোপ করে সকল বিদ্যালয়কে সরকারি সাহায্যপুষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে;
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭৬৫.
'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন' প্রণয়ন করা হয় -
  1. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭
  2. ৮ মার্চ, ১৯৮৭
  3. ২৬ মার্চ, ১৯৮৭
  4. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৭
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭:
- ১৯৪৭ সালে ভারত বর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম আঘাতটাই আসে বাংলা ভাষার ওপর।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেই স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়েছিল, যা অঙ্কুরিত হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরিপূর্ণতা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- স্বাধীনতার পরপর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রয়োগের জন্য একাধিক পরিপত্র জারি করা হয়।
- সর্বোপরি ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষার প্রচলন আইন সংসদ কর্তৃক পাশ হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রণয়ন করা হয়।
- ঐ আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখিত হবে।
- এই ধারা মোতাবেক কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন তা হলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হবে।’

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,৭৬৬.
OMS-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Open Market System
  2. Online Market Sale
  3. Open Market Sale
  4. Online Market Share
ব্যাখ্যা
OMS:
- OMS এর পূর্ণরূপ: Open Market Sale.
- Public Food Distribution System (PFDS) এর আওতায় খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।
- খাদ্যশস্যের বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা রোধ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে মূল্য সহায়তা (Price Support) দেয়া এবং বাজার দর স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।
- এর মধ্যে নগদ সহায়তায় (Monetised) আকারে ওপেন মার্কেট সেল (OMS) সহায়তা দিয়ে থাকে।

কার্যক্রমের আওতা:
ক) খোলা বাজারে চাল/আটা/গম বিক্রির এলাকা/আওতা, শুরুর সময় ও মূল্য খাদ্য বিভাগ, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারণ হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে মহাপরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর ওএমএস এর আওতায় চাল/আটা/গম বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
খ) ওএমএস কার্যক্রমে সাপ্তাহিক বিক্রয়ের দিন, বন্ধের দিন ও দৈনন্দিন বিক্রয় পরিমাণ মহাপরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর নির্ধারণ করবেন।
গ) সরকার প্রয়োজনবোধে খাদ্যশস্যের মূল্য, বিতরণের পরিমাণ, ডিলার সংখ্যা, সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং এ কার্যক্রমের আওতা/পরিধি ইত্যাদি_হাস/বৃদ্ধিসহ এ নীতিমালার যে কোন অংশ সংশোধন/সংযোজন/বিয়োজন করতে পারবে।

উৎস: খাদ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১,৭৬৭.
শিক্ষাদানের প্রথম ধাপ কোনটি?
  1. পাঠ পরিকল্পনা
  2. প্রশ্নোত্তর
  3. পর্যালোচনা
  4. মূল্যায়ন
ব্যাখ্যা

পাঠ পরিকল্পনা:
- শিক্ষাদানের প্রথম ধাপ হলো পাঠ পরিকল্পনা।
- এতে শিক্ষক পাঠের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু, শিখন কৌশল ও সময় বণ্টন নির্ধারণ করেন।
- পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর পূর্ব জ্ঞান, আগ্রহ ও শ্রেণির পরিবেশ বিবেচনা করা হয়।
- এটি শিক্ষককে আত্মবিশ্বাস দেয় এবং পাঠকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- প্রশ্নোত্তর, পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন সবই পাঠ পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ।
- ভালো পরিকল্পনা থাকলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

তথ্যসূত্র - শিক্ষাদানের নীতিমালা এবং শিক্ষাদানের পদ্ধতি, বাংলাদেশের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৬৮.
Which is the first point of historical six-point movement?
  1. The federating units or the provinces shall deal with all affairs except foreign relations and defence
  2. The federating units or provinces shall reserve the rights to levy taxes
  3. There shall be a parliamentary government formed by a legislature elected on the basis of universal adult franchise
  4. Separate accounts shall be maintained for the foreign exchange earnings of the two wings
  5. There shall be two separate but easily convertible currencies for the two wings of Pakistan
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।
 
• দফা গুলো হলো:
১ম দফা:
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির। সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সকল প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটে জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভাগুলো গঠিত হবে।
২য় দফা:
- যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের হাতে থাকবে দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়। অবশিষ্ট সকল বিষয় প্রদেশের হাতে থাকবে।
৩য় দফা:
- দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে অথবা দেশের দুই অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে। তবে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চলের মুদ্রা ও মূলধন অন্য অঞ্চলে পাচার হতে না পারে।
৪র্থ দফা:
- সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে তবে কেন্দ্রিয় সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য আদায় কৃত অর্থের একটি অংশ কেন্দ্রিয় সরকার পাবে।
৫ম দফা:
- বৈদেশিক বাণিজ্যি ও বৈদেশিক মুদ্রার উপর প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা থাকবে। সকল প্রকার বৈদেশিক চুক্তি ও সহযোগিতার ব্যাপারে প্রাদেশিক সরকার দায়িত্ব পালন করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা যুক্তিযুক্ত হারে উভয় সরকার কর্তৃক মেটানো হবে।
৬ষ্ঠ দফা:
- আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক সরকারগুলো স্বীয় কর্তৃত্বাধীন আধা সামরিক বাহিনী (প্যারা মিলিশিয়া) গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।
 
 উৎস: পৌরনীতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 
১,৭৬৯.
জালিওয়ানয়ালাবাগ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) হরিয়ানায়
  2. খ) লুধিয়ানায়
  3. গ) অমৃতসরে
  4. ঘ) জম্বুতে
ব্যাখ্যা
- ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের অমৃতসরে রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক সভায় ইংরেজ বাহিনীর গুলিবর্ষণে বহু নিরীহ লোক মারা যায়।
- এই হত্যাকাণ্ড 'জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড' নামে পরিচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত নাইট উপাধি (১৯১৫ সালে প্রদত্ত) ত্যাগ করেন। 
- ব্রিটিশ একজন সেনা কর্মকর্তা পাঞ্জাবের অমৃতসরের বিক্ষোভরত নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল সেদিন।
- জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড বলে পরিচিত ঐ ঘটনার সূচনা অমৃতসরের একটি সমাবেশ থেকে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা, বাংলাপিডিয়া। 
১,৭৭০.
বাংলাদেশে প্রথম ইপিজেড কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. সাভার
  2. চট্টগ্রাম
  3. মংলা
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মোট ইপিজেডের সংখ্যা ৯।
- সরকারি ইপিজেড ৮টি এবং বেসরকারি ১টি।
- বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড হচ্ছে চট্টগ্রাম ইপিজেড
- ১৯৮৩ সালে এটি যাত্রা শুরু করে।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইপিজেড ঢাকা ইপিজেড, ঢাকার সাভারে এর অবস্থান।
- বাংলাদেশের একমাত্র কৃষিভিত্তিক ইপিজেড উত্তরা ইপিজেড। এটি নীলফামারীতে অবস্থিত।
- মংলা ইপিজেড বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
- আদমজী ইপিজেড নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত।
- কর্ণফুলী ইপিজেডের অবস্থান পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।

উৎস: বেজা ওয়েবসাইট।
১,৭৭১.
কোন শাসকের উপাধি ‘গৌড়েশ্বর’?
  1. ক) হেমন্ত সেন
  2. খ) ধর্মপাল
  3. গ) লক্ষণ সেন
  4. ঘ) গোপাল
ব্যাখ্যা
লক্ষণ সেন
• ৬০ বছর বয়সে লক্ষণ সেন বাংলার শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
• তিনি কামরূপ, কলিঙ্গ ও কাশি জয় করেন। তিনি গৌড় জয় করেন।
• সমগ্র বাংলায় নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করার পর লক্ষণ সেন ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি গ্রহণ করেন।
• তাঁর নামানুসারে গৌড়ের রাজধানী লক্ষণাবতী নেওয়া হয়।
• গোপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র ধর্মপাল বাংলার নৃপতি হন। পাল সাম্রাজ্য এবং প্রতিপত্তি বিস্তারে ধর্মপালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি ‘বিক্রমশীলদেব’ উপাধি গ্রহণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ , বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭২.
‘লেট দেয়ার বি লাইট’ এর পরিচালক কে ছিলেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. জহির রায়হান
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. আলমগীর কবির
ব্যাখ্যা
Let there be light
- ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ এর পরিচালক জহির রায়হান। 
- ১৯৬৯ সালে ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ নির্মাণের ঘোষণা দেন চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান।
- ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ছবির মহরতে তিনি বলেছিলেন, এটি তাঁর স্বপ্নের সিনেমা।
- ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও সংস্কৃতির নামে বিশ্বজুড়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার মানুষের আর্তনাদ তুলে ধরতে ১৯৭০ সালের আগস্টের দিকে দৃশ্যধারণে হাত দেন নির্মাতা।
- সিনেমার চিত্রগ্রহণও করেছেন জহির রায়হান।
- ছবিটির শুটিংয়ের মাঝে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদাররা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বাঙালিদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে।
- সিনেমার কাজে বিরতি টেনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে এপ্রিল মাসে ঢাকা ছেড়েছেন জহির রায়হান।
- একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চারটি প্রামাণ্যচিত্র প্রযোজনা করেন তিনি।
- এর ভেতর ‘স্টপ জেনোসাইড’ ও ‘আ স্টেট ইজ বর্ন’-এর পরিচালকও ছিলেন তিনি।
- স্বাধীনতার পর ঢাকায় ফেরেন জহির রায়হান।
- মিরপুরে বড় ভাই শহীদুল্লা কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন এই নির্মাতা।
- স্বপ্নের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ সিনেমাটি শেষ করে যেতে পারেননি জহির রায়হান।

উৎস: প্রথম আলো (২৬ মার্চ ২০২৪)
১,৭৭৩.
কৈবর্ত বিদ্রোহের সময় পাল বংশের রাজা কে ছিলেন?
  1. রামপাল
  2. দ্বিতীয় মহীপাল
  3. ধর্মপাল
  4. গোপাল
ব্যাখ্যা

কৈবর্ত বিদ্রোহ: 
- এটি বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামেও পরিচিত।
- বাংলাদেশ ও ভারতের প্রথম সফল জনবিদ্রোহ।
- এ সময় পাল বংশের রাজা ছিলেন দ্বিতীয় মহীপাল, যাঁর রাজত্বকাল ধারণা করা হয় ১০৭৫ সাল থেকে ১০৮০ সালের মধ্যে।
- বিদ্রোহের নেতা: দিব্যক বা দিব্য (সম্ভবত প্রথমে পালদের রাজকর্মচারী বা সামন্ত)।
- বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারী: কৈবর্ত নামে জেলে সম্প্রদায় ও তৎকালীন সামন্তদের একটি বড় অংশ।
- উদ্দেশ্য: বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্তদের স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম রাজ্য প্রতিষ্ঠা।
- ফলাফল: সৈন্য ও সামরিক সফলতার মাধ্যমে কৈবর্তরা স্বল্পস্থায়ীভাবে বরেন্দ্রে রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
- পরাজয় ও সমাপ্তি: মহীপালের ভাই রামপাল, সামন্তদের সাহায্যে কৈবর্ত শাসক ভীমকে পরাজিত ও হত্যা করে ১০৮২ খ্রিষ্টাব্দে বরেন্দ্রে পাল শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

১,৭৭৪.
ওয়ার্ম আপ কয়ভাগে বিভক্ত?
  1. ৩ ভাগে
  2. ২ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
ওয়ার্ম আপ:

- ব্যায়াম করার আগে শরীর গরম করে নিতে হয়। খেলাধুলার পরিভাষায় শরীর গরম করাকে 'ওয়ার্ম আপ' বলে।
- শরীর গরম হলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো কর্মক্ষম হয়ে ওঠে, ফলে আহত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
- ওয়ার্ম আপ ৪ ভাগে বিভক্ত।
- ওয়ার্ম আপ করার নিয়ম-
(১) ওয়ার্ম আপের প্রথম ধাপ হলো স্ট্রেচিং। 
(২) স্ট্রেচিং শেষে জগিং (আস্তে আস্তে দৌড়)।
(৩) জগিং এর শেষদিকে ক্রমান্বয়ে দৌড়ের গতি বাড়াতে হবে।
(৪) ব্যায়াম। 

তথ্যসূত্র - শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, ৬ষ্ঠ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৫.
উপমহাদেশে পুলিশ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কে? 
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  3. লর্ড মিন্টো
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
• লর্ড ক্যানিং:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন।
-  ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- ভারতে তাঁর কর্তব্যপালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৫৯ সালে তাঁকে 'আর্ল' (Earl) মর্যাদায় উন্নীত করা হয়।
- ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৭৭৬.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনাকারী দল কোনটি?
  1. ক) মুজিব বাহিনী
  2. খ) মুজিব ব্যাটারি
  3. গ) ক্র‍্যাক প্লাটুন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ক্র্যাক প্লাটুন

ক্র্যাক প্লাটুন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনাকারী দল। 

এই দলটি গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ, বীর উত্তম এবং এটিএম হায়দার, বীর উত্তম। এটি ২ নং সেক্টরের অধীন একটি স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ বলে পরিচিত। 

সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নির্দেশনা ছিলো হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে বিদেশী সাংবাদিক ও অতিথিরা থাকাকালীন ঢাকা শহরের পরিস্থিতি যে শান্ত নয় এবং এখানে যুদ্ধ চলছে তা বোঝানোর জন্য শহরের আশে-পাশে কিছু গ্রেনেড ও গুলি ছুড়তে হবে; কিন্তু দু:সাহসী এই তরুণেরা ঢাকায় এসে ৯ জুন তারিখে সরাসরি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গ্রেনেড হামলা করে এবং বেশ কয়েকজনকে হত্যা করে যা ছিলো অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ ও অচিন্তনীয় কাজ। 

সন্ধ্যায় বিবিসির খবর থেকে খালেদ মোশাররফ এই অপারেশনের কথা জানতে পেরে বলেন, 

'দিজ অল আর ক্র্যাক পিপল! বললাম, ঢাকার বাইরে বিস্ফোরণ ঘটাতে আর ওরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এসেছে।' 

তিনিই প্রথম এই দলটিকে "ক্র্যাক" আখ্যা দেন; যা থেকে পরবর্তীতে এই প্লাটুনটি "ক্র্যাক প্লাটুন" নামে পরিচিত হয়।


তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও দৈনিক প্রথম আলো।
১,৭৭৭.
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংবাদ পাঠিকা 'অপরাজিতা' কোন চ্যানেলে সংবাদ পাঠ করেন?
  1. সময় টিভি
  2. চ্যানেল ২৪
  3. ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি
  4. একাত্তর টিভি
ব্যাখ্যা
- দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংবাদ পাঠ করলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপরাজিতা।
- ১৯ জুলাই ২০২৩ তারিখে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল 'চ্যানেল ২৪' এর সন্ধ্যা ৭টার বুলেটিনে যুক্ত হয়ে সংবাদ উপস্থাপন করে অপরাজিতা।
- সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে সংবাদ সঞ্চালনা করা হচ্ছে।
- চলতি বছরের এপ্রিলে ‘ফেদা’ নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দিয়ে সংবাদ পাঠ করায় কুয়েত নিউজ।
- গত ৯ জুলাই ভারতের একটি বেসরকারি টেলিভিশন, ওড়িশা টেলিভিশন লিমিটেড (ওটিভি) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দিয়ে সংবাদ পাঠ করায়।
- যার নাম ছিল লিসা।

উৎস: ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি।  [লিঙ্ক]
১,৭৭৮.
'তমদ্দুন মজলিস' কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল?
  1. আবুল কালাম
  2. আবুল কাশেম
  3. আবুল আহমদ
  4. আবুল হাসেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিস:
 - 'তমদ্দুন মজলিস' ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র।
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র।
উল্লেখ্য - তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠার তারিখ নিয়ে তথ্যকল্পদ্রুমের ৭নং পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 
১,৭৭৯.
বেঙ্গল ফাউন্ডেশন কি?
  1. ক) আর্ট গ্যালারি
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধাদের সংগঠন
  4. ঘ) একটি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
It was more than three decades ago that Bengal Foundation embarked upon its journey to project a culturally rich Bangladesh. Born out of the Chairman and Founder Abul Khair’s personal regard for the arts, instilled in him by his uncle and National Professor Abdur Razzaq, the Foundation presently runs several programmes on music, art, literature, crafts, cinema, and architecture. [সূত্র: bengalfoundation.org]
১,৭৮০.
দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৯৪ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ১৯৯৮ সালে
ব্যাখ্যা
কমিউনিটি ক্লিনিক:
- কমিউনিটি ক্লিনিক হলো একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কার্যক্রম যা Community Based Health Care (CBHC) অপারেশনাল প্ল্যান এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং সরকারের সাফল্যের এক উজ্জল দৃষ্টান্ত যা দেশে-বিদেশে নন্দিত।
- এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ জনগণ নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক হতে সমন্বিত স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টি সেবা পাচ্ছেন।
- এটি জনগন ও সরকারের যৌথ প্রয়াসে বাস্তবায়িত একটি কার্যক্রম।
- ১৯৯৬ সালে গ্রামীণ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
- মূলত জনগণের অংশগ্রহণে গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা পৌঁছে দেওয়াই ছিল লক্ষ্য।
- জনমূখী এ কার্যক্রম ১৯৯৬ সালে গৃহীত হয় যার বাস্তবায়ন শুরু হয় ১৯৯৮ সালে।
- কমিউনিটি ক্লিনিকে বর্তমানে ২৭ প্রকার ঔষধ এবং ২ প্রকার পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- মে, ২০২৫-এ স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক আছে ১৩,৯২৬টি।
- এসব ক্লিনিক থেকে দৈনিক ছয়-সাত লাখ মানুষ সেবা নেন।

উৎস: i) কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাষ্ট ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
১,৭৮১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয় কবে?
  1. ক) ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  2. খ) ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  3. গ) ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  4. ঘ) ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা
• ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ গভীর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ব্যারাক হোস্টেলের ১২নং গেটের সামনে মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের সম্মিলিত শ্রমে নির্মিত হয়েছিল প্রথম শহীদ মিনার। এই শহীদ মিনারের নকশাকার ছিলেন ডা. বদরুল আলম।

সূত্র: সরকারি ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া এবং বোর্ড বই।

• তবে অনেক ভাষা সৈনিকদের মতে, প্রথম শহীদ মিনার হয়েছিল রাজশাহীতে। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ দিবাগত রাতে রাজশাহী কলেজ ছাত্রাবাস সংলগ্ন এলাকায় এটি তৈরি হয়। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের ছয় দশক পরও প্রথম শহীদ মিনারের রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বীকৃতি পায়নি রাজশাহীবাসী।

উৎস: মানবজমিন পত্রিকা।

[যেহেতু এই তথ্যের রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি নাই, তাছাড়া প্রশ্নকর্তা বোর্ড বই অনুসারে প্রশ্নটি করেছেন তাই আমরা সঠিক উত্তর হিসেবে ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ কে ধরে নিচ্ছি। মূল পরীক্ষায় আপনারা আপনাদের বিবেচনা থেকে উত্তর করবেন।]
১,৭৮২.
'তানসেন' কোন রাজদরবারের সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. আলাউদ্দিন খিলজী
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা
তানসেন মুঘল সম্রাট আকবরের রাজদরবারের সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন।

তানসেন:

- তানসেন ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ।
- তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের রাজদরবারের সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন।
- তিনি শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
- তিনি মুঘল বাদশাহ আকবরের রাজদরবারের নবরত্নের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
- তিনি দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) Britannica.
১,৭৮৩.
ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ইতালি
  2. খ) গ্রিস
  3. গ) তুরস্ক
  4. ঘ) মিশর
ব্যাখ্যা
হোমারের মহাকাব্যে বর্ণিত ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী বর্তমান তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হেসারলিক নামক স্থানে অবস্থিত। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক ফ্র্যাঙ্ক কালভার্ট এবং জার্মান প্রত্নতাত্ত্বিক হেনরিক শ্লিম্যানের প্রচেষ্টায় ট্রয় নগরীর সন্ধান লাভ সম্ভব হয়। গ্রিকদের দ্বারা ট্রয় নগরী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
(সূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম এবং ব্রিটানিকা)
১,৭৮৪.
স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য ডা. সেতারা বেগমকে কোন খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) বীরশ্রেষ্ঠ
  2. খ) বীর-উত্তম
  3. গ) বীর-বিক্রম
  4. ঘ) বীরপ্রতিক
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছিল।
- এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে।
- এর নাম ছিল ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’।
- এখানে ডা. জাফরউল্লাহ, ডা. মোবিন, ডা. আখতার, ডা. সিতারা বেগমসহ আরও অনেক চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী ও সেবিকা নিয়োজিত ছিলেন।
- এটি প্রথমে স্থাপিত হয় সীমান্তসংলগ্ন ভারতের সোনামুড়ায়।
- পরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তা স্থানান্তর করা হয় আগরতলার কাছাকাছি বিশ্রামগঞ্জে।
- ডা. সিতারা বেগম বাংলাদেশ হাসপাতালে অসাধ্য সাধনের মতো সব কাজ করতেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব পেয়েছেন, তাঁদের একজন ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং অন্যজন তারামন বিবি। 

উৎস: প্রথম আলো, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০।
১,৭৮৫.
৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম শহীদ কে?
  1. ক) আব্দুস সালাম
  2. খ) আব্দুল জব্বার
  3. গ) আবুল বরকত
  4. ঘ) রফিক উদ্দিন
ব্যাখ্যা
শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ রফিক

- বায়ান্নোর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ রফিক

- তিনি মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার পারিল গ্রামের উত্তর পাড়ায় ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম আব্দুল লতিফ এবং মাতার নাম রাফিজা খাতুন।
- বাবুবাজার-বাদামতলীর একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক ছিলেন জনাব আব্দুল লতিফ।
- রফিক জগন্নাথ কলেজের (মতান্তরে মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের) ছাত্র ছিলেন।
- পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে রফিক তার পিতার কাজে সাহায্য করতেন।
- একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলনত ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
- বিকেল সাড়ে তিনটার পর মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশ ছাত্রদেরকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে রফিক ঘটনাস্থলেই সাথে সাথে মারা যান।
- তাঁকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,৭৮৬.
আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় কবে?
  1. ২১ মার্চ, ১৯৬৬ সালে
  2. ২২ মার্চ, ১৯৬৬ সালে
  3. ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে
  4. ২৪ মার্চ, ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যা
মুক্তির সনদ:
- বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে খ্যাত 'ছয় দফা' উত্থাপন করা হয় লাহোরে।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দলের এক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
- ওই কনভেনশনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন।
- ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৮৭.
নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়-
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৩ সালে
  3. গ) ১৯৫৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। দলগুলো ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজাম- ই-ইসলামী এবং বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাসানী ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা) এবং প্রথম আলো।
১,৭৮৮.
“স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” - এর সদস্য নন- 
  1. নুরে আলম সিদ্দিকী
  2. শাহজাহান সিরাজ
  3. আ. স. ম. আব্দুর রব 
  4. তোফায়েল আহমেদ
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১ মার্চ “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয় ।
 “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” - এর সদস্যগণ হলেন - 

১. নুরে আলম সিদ্দিকী (সভাপতি, ছাত্রলীগ)
২. শাজাহান সিরাজ (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ )
৩. আ. স. ম. আব্দুর রব (সহ-সভাপতি, ডাকসু)
৪. আব্দুল কুদ্দুস মাখন (সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু)

 এই ৪ ছাত্র নেতাকে মুক্তিযুদ্ধের ৪ খলিফা বলা হত । 
- ২৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর মুক্তি উপলক্ষে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে রেসকোর্স ময়দানের সংবর্ধনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন তদানীন্তন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ। 

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৮৯.
‘৩ জুন পরিকল্পনা’ কী সংক্রান্ত?
  1. ক) বাংলা প্রদেশ বিভক্ত করার পরিকল্পনা
  2. খ) বাংলাদেশ স্বাধীন করার পরিকল্পনা
  3. গ) ভারত বিভক্ত করার পরিকল্পনা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
৩ জুন পরিকল্পনা

- স্বাধীন সার্বভৌম 'বাংলা রাষ্ট্র' গঠনের প্রস্তাব এবং এর ভবিষ্যৎ সংবিধানের রূপরেখা প্রকাশিত হলে 'হিন্দু মহাসভা’, কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়াশীল ও ধর্মান্ধ অবাঙালি নেতাগণ এর বিরোধিতা শুরু করেন।
- এসব সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ নেতাগণ ভারত বিভক্তির সাথে সাথে বাংলা এবং পাঞ্জাবের বিভক্তিরও দাবি জানান।
- ১৯৪৭ সালের জুন মাসে মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে মি. জিন্নাহর প্ররোচনায় অবাঙালি মুসলিম লীগ নেতাদের সমর্থনে ভারত বিভক্তি সংক্রান্ত মাউন্টব্যাটেনের '৩ জুন পরিকল্পনা' গৃহীত হয়।

- বাংলা প্রদেশের অধিবাসী হয়েও খাজা নাজিমুদ্দিন এবং মওলানা আকরাম খান সেদিন জিন্নাহকেই সমর্থন করেছিলেন, অখণ্ড বাংলাকে নয়।
- তবে আবুল হাশিমসহ ৭ জন প্রতিনিধি এ সিদ্ধান্তের জোরালো প্রতিবাদ করেছিলেন।
- এর ফলে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারত বিভক্ত হয় এবং এর পাশাপাশি বাংলা বিভক্ত হয়ে পূর্ব অংশ 'পাকিস্তানের' সাথে এবং পশ্চিম অংশ ভারতের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,৭৯০.
বাংলাদেশের আদি অধিবাসীদের মধ্যে প্রাচীনতম-
  1. ক) দ্রাবিড়
  2. খ) মোঙ্গলীয়
  3. গ) অস্ট্রিক
  4. ঘ) নেগ্রিটো
ব্যাখ্যা
• প্রাচীনকালে আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠীর যে চারটি শাখা বাঙলায় বাস করতো তারা হলোঃ
- অস্ট্রিক, 
- দ্রাবিড়, 
- নেগ্রিটো ও
- ভোটচীনীয়।

• সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয় অনুসারে -
এ অঞ্চলে প্রথম অস্ট্রিক জনগোষ্ঠীর লোকরা আসে এবং সেটি সম্ভবত পাঁচ-ছয় হাজার বছর পূর্বে ইন্দোচীন থেকে।

• সরকারি সাইট শিক্ষক বাতায়ন (teachers.gov.bd) অনুসারে -
এ অঞ্চলে প্রথম আসে নিগ্রপ্রতিম খর্বাকায় মানুষ, যাদেরকে নেগ্রিটো বলা হয়।

• বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে - 
বাংলার প্রাচীনতম বং জনগোষ্ঠীর পরবর্তী নেগ্রিটো জনগোষ্ঠীর পরে  বাংলায় অস্ট্রোলয়েডদের আগমন ঘটে বলে অনুমিত হয়। 

তাই আমরা অধিক গ্রহনযোগ্য উত্তর হিসেবে নেগ্রিটো গ্রহণ করছি।
১,৭৯১.
তৎকালীন পাকিস্তানে প্রথম সারাদেশে সামরিক শাসন জারি করেন কে?
  1. আইয়ুব খান
  2. ফিরোজ খান নুন
  3. ইস্কান্দার মীর্জা
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

• পাকিস্তান শাসনতন্ত্র: 
- পাকিস্তানে ১৯৪৭ হতে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ নয় বছর কোন সংবিধান ছিলো না।
-  ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানের দ্বিতীয় গণপরিষদ একটি সংবিধান প্রণয়ন করে।
- এই সংবিধান  মাত্র আড়াই বছর টিকে ছিলো।
-  রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা সারাদেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- তিনি ১৯৫৬ সালের সংবিধান কেবল স্থগিতই করেননি, তা বাতিল করে দেন।
- এবং বরখাস্ত করেন ফিরোজ খান নুনের সরকারসহ সকল প্রাদেশিক সরকারকে।

উৎস: পৌরনীতি, ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৯২.
What was the sector number of Dhaka in 1971?
  1. 2
  2. 4
  3. 7
  4. 11
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল: ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও -বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
- চট্টগ্রাম: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা: ২ নং সেক্টর,
- রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী: ৭ নং সেক্টর,
- মুজিবনগর: ৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন: ৯ নং সেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৭৯৩.
কোন মুঘল সুবেদার চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন?
  1. ইসলাম খাঁ
  2. শায়েস্তা খান
  3. শাহবাজ খান
  4. হোসেন কুলি বেগ
ব্যাখ্যা
সুবেদার শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
-তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৪.
'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার গ্রাম' - জাতির পিতা কবে এই ঘােষণা দেন?
  1. ২৬ মার্চ ১৯৭১
  2. ৭ মার্চ ১৯৭১
  3. ৩ মার্চ ১৯৭১
  4. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহব্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন - “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান ৪টি দাবি উপস্থাপন করেন। যথা:
১.চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার,
২.সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া,
৩. গণহত্যার তদন্তকরা এবং
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৯৫.
ছয় দফা দিবস কত তারিখ পালিত হয়?
  1. ৬ ফেব্রুয়ারি
  2. ২৩ মার্চ
  3. ৭ জুন
  4. ২৭ আগস্ট
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ৭ জুন ছয় দফা দিবস।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত। 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৯৬.
নানকার বিদ্রোহ প্রধানত কোন অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ময়মনসিংহ
  2. রাজশাহী
  3. সিলেট
  4. পার্বত্য চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

নানকার বিদ্রোহ:
- নানকার বিদ্রোহ সিলেটে সংঘটিত হয়েছিল।

⇒ 'নানকার বিদ্রোহ' সিলেট অঞ্চলের একটি কৃষক-আন্দোলন, যা ১৮ আগস্ট ১৯৪৯ সালে সংঘটিত হয়।
- জমিদারের ভূমিদাসদের একটি প্রথাকে 'নানকার প্রথা' বলা হতো।
- বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ১৯৫০ সালে জমিদারপ্রথা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

⇒ বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাসে বিশেষ করে অধিকারহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব গৌরবমণ্ডিত আন্দোলন-বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো 'নানকার বিদ্রোহ'। 
- ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আমলে সামন্তবাদী ব্যবস্থার সবচেয়ে নিকৃষ্টতম শোষণ পদ্ধতি ছিল নানকার প্রথা।
- নানকার প্রজারা জমিদারের দেওয়া বাড়ি ও সামান্য কৃষি জমি ভোগ করত; কিন্তু ওই জমি ও বাড়ির ওপর তাদের কোনো মালিকানা ছিল না।
- নানকার প্রজারা বিনা মজুরিতে জমিদারের বাড়িতে কাজ করত।
- চুন থেকে পান খসলেই তাদের ওপর চলত অকথ্য নির্যাতন।
- মূলত সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার রেঙ্গা পরগনাসমেত এই অঞ্চলে এই সামন্তপ্রথাটি প্রচলিত ছিল। সামন্ত ভূমালিকদের সিলেট অঞ্চলে মিরাশদার এবং বড় মিরাশদারকে জমিদার বলা হতো। 
- ১৯২২ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক সমিতির সহযোগিতায় বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বড়লেখা, কুলাউড়া, বালাগঞ্জ, ধর্মপাশা থানায় দানা বাঁধতে থাকল নানকার আন্দোলন।
- কমরেড অজয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে চলতে থাকে নানকার কৃষকসহ সব নির্যাতিত জনগণকে সংগঠিত করার কাজ। 
- সে সময় অজয় ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে কাজ করেছেন শিশির ভট্টাচার্য্য, ললিত পাল, জোয়াদ উল্ল্যা, আব্দুস সোবহান ও শৈলেন্দ্র ভট্টাচার্যসহ আরো কয়েক জন। তাদের নেতৃত্বে নানকার কৃষক ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে জমিদারের বিরুদ্ধে। বন্ধ হয়ে যায় খাজনা দেওয়া, এমনকি জমিদারদের হাট-বাজারের কেনাকাটা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় জমিদার ও তার লোকজনকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

উৎস: i) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১,৭৯৭.
বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ- 
  1. ছয়দফা
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান 
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

⇒ ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ।
- দীর্ঘ দু'শো বছর ইংরেজ শাসন ও শোষণের পর ভারত ও পাকিস্তান নামের দু'টি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বাংলা অঞ্চল দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
- কলকাতাসহ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল ভারতের অধীনে এবং ঢাকাসহ পূর্ব বাংলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রটি বেশি দিন পর্যন্ত অখন্ড থাকতে পারেনি।
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত হয়।
- পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬.৪০% মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যালঘিষ্ট মাত্র ৩.২৭% জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল।
- জনসংখ্যার দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য এ অঞ্চলের জনমনে প্রবল অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
- ফলে শুলুথেকেই স্বাধিকারের প্রশ্নে এই অঞ্চলের জনগণকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়।
- সূচিত হয় ভাষা আন্দোলন। 

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৯৮.
বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে -
  1. ৮ আগস্ট, ১৯৭২
  2. ১০ আগস্ট, ১৯৭২
  3. ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
  4. ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৮ আগস্ট জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করে।
- ১০ আগস্ট, ১৯৭২ সালে চীন বাংলাদেশের সদস্যপদের বিরুদ্ধে ভেটো প্রদান করে।
- স্থায়ী সদস্য হওয়ার পর এটি ছিল চীনের প্রথম ভেটো।

⇒ ১৯৭২ সালের ১৭ অক্টোবর জাতিসংঘে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা লাভ করে।
- বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সাল।
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস্য।
- বাংলাদেশকে প্রথম জাতিসংঘ সংস্থায় সদস্যরূপে স্বাগত জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
- ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১,৭৯৯.
বাংলাদেশের ‘জাতীয় গ্রন্থাগার‘ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) শাহবাগে
  2. খ) গুলিস্তানে
  3. গ) আগারগাঁও
  4. ঘ) উত্তরায়
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জাতীয় গ্রন্থাগার ঢাকার শেরে বাংলা নগরে আগারগাঁও এ অবস্থিত। 
- ১৯৭২ সালে পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডের একটি পরিত্যক্ত ভবনে জাতীয় গ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু হয়। 
- ১৯৭৯ সালে সেখান থেকে সেন্ট্রাল রোডের ভাড়া বাড়িতে এবং ১৯৮৫ সালের ১ নভেম্বর শেরে বাংলা নগরে নিজস্ব ভবনে জাতীয় গ্রন্থাগার স্থানান্তরিত হয়।
 শাহবাগে গণগ্রন্থাগার এবং গুলিস্তানে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র অবস্থিত।

(সূত্রঃ আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
১,৮০০.
সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন আইন কত সালে পাশ হয়?
  1. ১৯৮৬
  2. ১৯৮৭
  3. ১৯৮৮
  4. ১৯৮৯
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা প্রচলন আইন:

- ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রণয়ন করা হয়।
- ঐ আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখিত হইবে। - এই ধারা মোতাবেক কোনো কর্মস্হলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন তাহা হইলে উহা বেআইনি ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে।’

তথ্যসূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২।