বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১২৩ / ১২৪ · ১২,২০১১২,৩০০ / ১২,৪২১

১২,২০১.
বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপন করেছিলেন -
  1. ক) প্রাদেশিক পরিষদের সম্মেলনে
  2. খ) আওয়ামীলীগের সম্মেলনে
  3. গ) বিরোধী দলসমূহের সম্মেলনে
  4. ঘ) জাতীয় পরিষদের সম্মেলনে
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং
- ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।
পরবর্তীতে, বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপনের জের ধরে গ্রেপ্তার হন।
- ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফা দাবী এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবীতে হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়।
- এর ফলশ্রুতিতে ৭ জুনকে ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া

১২,২০২.
কাকে বাংলার আকবর বলা হতো?
  1. ক) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ্
  2. খ) রুকনউদদিন নুসরত শাহ্
  3. গ) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ্
  4. ঘ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ্
ব্যাখ্যা
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহ্ ছিলেন হুসেন‌ শাহী বংশের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শাসক।
- তাঁর রাজত্ব কাল ছিল ২৬ বছর (১৪৯৩-১৫১৯)।
- তিনি গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।
- তাঁর শাসনকালকে বলা হয় মুসলমান শাসনের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ।
- তাঁকে বলা হতো 'বাংলার আকবর'।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,২০৩.
কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ১নং
  2. ২নং
  3. ৩ নং
  4. ৪ নং
ব্যাখ্যা
• ২ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশবিশেষ।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর খালেদ মোশাররফ এবং মেজর এ.টি.এম হায়দার।

অন্যদিকে,
• ১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর জিয়াউর রহমান এবং মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ৩ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা।
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২০৪.
অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন কে?
  1. মোনায়েম খান
  2. টিক্কা খান
  3. আলী জিন্নাহ
  4. গোলাম মুহাম্মদ
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চ লাইট:
- বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণার পর থেকে শুধু সেনাবাহিনী ছাড়া সর্বত্র আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- অবস্থার গভীরতা উপলব্ধি করে ইয়াহিয়া খান ১৫ মার্চ ঢাকায় আসেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন। 
- বঙ্গবন্ধু আলোচনায় রাজি হলেও অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন নি। 
- ১৬ মার্চ থেকে মুজিব-ইয়াহিয়া আলোচনা শুরু হয়।  
- একদিকে আলোচনা শুরু হয় অন্যদিকে ১৭ মার্চ (তবে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি অনুসারে, ১৮ মার্চ) টিক্কা খান এবং রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চ লাইট' বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করে। 
- ১৯ মার্চ পাকিস্তানি সৈন্যরা জয়দেবপুরে নিরীহ বাঙালিদের ওপর হামলা চালায়। 
- এরপর ২২ মার্চ জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকায় আসেন এবং আলোচনায় অংশ নেন।
- কিন্তু আলোচনা অসমাপ্ত রেখে ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনা কর্তৃক নিরস্ত্র বাঙালিদের নির্বিচারে গণহত্যা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করে।
- পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষের উপর হামলা করে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালায়। 
- পাকিস্তানিরা বাঙালিদের হত্যার এই অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন সার্চ লাইট'।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২০৫.
প্রথম এশীয় মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় -
  1. ইরাক
  2. সৌদিআরব
  3. মালদ্বীপ
  4. মালয়েশিয়া
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক:
- পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসার পর থেকে জাতির জনকের নেতৃত্বে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্থাপন এবং ক্রমান্বয়ে তা দৃঢ়তর হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশ আমাদের সমর্থন জানালেও আরব দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব, জর্দান, মরক্কো, লিবিয়া পাকিস্তানকে সমর্থন করে গেছে।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।

অন্যদিকে -
- ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২৮ মার্চ, ১৯৭৩।
- মিশর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩।
- জর্ডান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৬ অক্টোবর ১৯৭৩। 
- কুয়েত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৪ নভেম্বর ১৯৭৩।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪।
- সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৬ আগস্ট, ১৯৭৫।

উৎস: i) বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন)।
         ii) বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান)।
১২,২০৬.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার কয়টি ছিলো?
  1. ৭টি
  2. ২১টি
  3. ৬টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ছিলো ২১ টি

যুক্তফ্রন্ট:

- যুক্তফ্রন্ট চারটি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
- এ চারটি দল হলো আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রণ্ট ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।
- এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
- নির্বাচনে ৩০৯টি আসনের ২২৩টি আসনে জয় লাভ করে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।
- ৩ এপ্রিল, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হয় এবং ৩০ মে, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করেন পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- মাত্র ৫৬ দিন যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২০৭.
বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' কবে ঘোষিত হয়?
  1. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. ২ মার্চ, ১৯৭১
  4. ৩ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।

- ১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ, ডাকসু সহ-সভাপতি আ. স. ম. আব্দুর রব এবং ডাকসু সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মাখন এক বৈঠকে বসে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন। 

- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। 

- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।

- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- এদিনের এ ছাত্র-গণ জমায়েতে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।   

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১২,২০৮.
আলীনগর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কার কার মধ্যেকার?
  1. ক) নওয়াব সিরাজউদ্দৌলা ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট
  2. খ) মীর কাসিম ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট
  3. গ) মীর কাসিম ও ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
  4. ঘ) নওয়াব সিরাজউদ্দৌলা ও ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
ব্যাখ্যা
আলীনগর চুক্তি ১৭৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলার নওয়াব  সিরাজউদ্দৌলা ও ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
- নওয়াব কলকাতার ইংরেজ বসতি অধিকার করেন (১৮-২০ জুন ১৭৫৬) এবং ইংরেজরা তাঁর প্রকৃত ক্ষতিসমূহের প্রতিবিধান করতে অস্বীকার করলে তিনি তাদের কলকাতা শহর থেকে বিতাড়িত করেন।
- তিনি এ শহরের নতুন নামকরণ করেন আলীনগর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,২০৯.
পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয় কোন সালে?
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৮ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন:
- ১৯৫৮ সালের ৭ইঅক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- তিনি দেশের সংবিধান বাতিল করেন, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদ ভেঙে দেন এবং মন্ত্রিসভা বাতিল করেন।
- রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
- প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- এর কিছুদিনের মধ্যে ২৭শে অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২,২১০.
স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত হয় কত সালে?
  1. ১৯০৩ সালে
  2. ১৯০৪ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৯০৬ সালে
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলন:
- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন।
- এটি গান্ধী পুর্ব আন্দোলনসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সফল আন্দোলন বিবেচনা করা হয়।
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করে যা 'বঙ্গভঙ্গ' নামে পরিচিত। কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন। পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এই আন্দোলনের মূল বিষয় ছিলো ইংরেজদের সবকিছু বয়কট ও স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার।
- বাংলার সর্বত্র স্বদেশী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি। যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,২১১.
মহাস্থানগড় কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. করতোয়া
  2. আত্রাই
  3. কপোতাক্ষ
  4. মধুমতি
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- পূর্বে মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বগুড়া শহর হতে ১৫ কিঃমিঃ দূরে পুণ্ড্রবর্ধনের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গনগরী।
- সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দুর্গ নগরী ইটের বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত যা উত্তর দক্ষিনে ১৫২৫ মিঃদীর্ঘ এবং পূর্ব পশ্চিমে ১৩৭০মিঃ প্রশস্থ ও চতুপার্শ্বস্থ সমতল ভূমি হতে ৫মিঃ উঁচু।
- কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত এবং পাল শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সমান্ত রাজাগণের রাজধানী ছিল।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হয়েন সাঙ ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে (৬৩৯-৬৪৫) পুন্ড্রনগর পরিদর্শন করেন।

তথ্যসূত্র - বগুড়া জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১২,২১২.
মীর কাশিম কোথায় রাজধানী স্থানান্তর করেন ?
  1. কলকাতা
  2. পাটনায়
  3. সোনারগাঁও
  4. মুঙ্গেরে
ব্যাখ্যা
- প্রশাসনকে ইংরেজ প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য তিনি মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন।

• মীর কাশিম ও বক্সারের যুদ্ধ:
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজরা মীর জাফরের জামাতা মীর কাশিমকে বাংলার মসনদে অধিষ্ঠিত করেন।
- অবশ্য তিনিও কোম্পানিকে অনেক সুবিধাদানের শর্ত সাপেক্ষে ক্ষমতা লাভ করেন।
- মীর কাশিম মীর জাফরের মতো অপদার্থ, অযোগ্য ও হীন চরিত্রের ছিলেন না।
- তিনি একজন সুদক্ষ শাসক, দূরদর্শী রাজনীতিবিদ এবং স্বাধীনচেতা মানুষ ছিলেন।
- জনসাধারণের কল্যাণের প্রতি তিনি সচেতন ছিলেন।
- তাই তিনি ইংরেজদের সাথে সম্মানজনক উপায়ে বাংলার স্বার্থ রক্ষা করে আর্থিক ও সামরিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে চেয়েছিলেন, যা হীন চরিত্রের অধিকারী।
- প্রশাসনকে ইংরেজ প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য তিনি মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন।
- ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে বিহারের বক্সার নামক স্থানে মীর কাশিমের ও ইংরেজদের সাথে যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং ইংরেজ বাহিনীর মেজর মনরোর হাতে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২১৩.
'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৮৫৭  খ্রিস্টাব্দে 
  4. ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে 
ব্যাখ্যা
• নওয়াব আব্দুল লতিফ:
- কর্মজীবনে তাঁর কৃতিত্বের জন্য সরকার তাঁকে প্রথমে খান বাহাদুর পরে নওয়াব এবং নওয়াব বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে ‘মুসলমান ছাত্রদের পক্ষে ইংরেজি শিক্ষার সুফল’ শীর্ষক এক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় কোলকাতা মাদরাসায় এ্যাংলো পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়।
- তাঁর প্রচেষ্টায় হিন্দু কলেজ প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তর করা হলে মুসলমান ছাত্ররা সেখানে পড়ালেখার সুযোগ পায়।
- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২১৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বন্ধ করতে কতবার জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়?
  1. এক বার
  2. দুই বার
  3. তিন বার
  4. চার বার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান:
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। 
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন বার ই ভেটো দেয়।
- এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১২,২১৫.
ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি গঠিত হয় কখন?
  1. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময়
  2. পয়ষট্টি সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
  3. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে
  4. সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে
ব্যাখ্যা
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় ১৯৬৯ সালের ৮ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের বিরোধীদলগুলোর সমন্বয়ে ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি (ডাক) গঠিত হয়।

এই জোটে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, মোজাফফর ন্যাপসহ আটটি রাজনৈতিক দল যুক্ত ছিলো।
পাকিস্তানে ফেডারেল পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমান, খান আবদুল ওয়ালী খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবিতে এই জোট গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছিলো।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১২,২১৬.
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের আয়তন কত?
  1. ১২০ কিঃমিঃ
  2. ১২৫ কিঃমিঃ
  3. ১৫৫ কিঃমিঃ
  4. ১৭০ কিঃমিঃ
ব্যাখ্যা
দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত:
- পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত।
- ইংরেজ ক্যাপ্টেন মি. হেরাম কক্স (Captain Hiram Coxs)-এর নামানুসারে এ জায়গার নামকরণ হয় কক্সবাজার।
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার।
- সমুদ্রের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠা সংরক্ষিত বনভূমি সমৃদ্ধ ৯৬ কিলোমিটার পাহাড়ের সারি এখানকার অন্যতম বিরল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বলে বিবেচিত।
- সমুদ্র সৈকতের পথ ধরে ১০-১২ কিলোমিটার দক্ষিণে গেলে হিমছড়ি পিকনিক স্পট।
- এখানকার ঝর্ণা, ঝাউবন, পাহাড় আর বনানীর সৌন্দর্য্য চিত্তাকর্ষক। কক্সবাজারের সন্নিকটেই বৌদ্ধ তীর্থস্থান রামু।
- কক্সবাজারের উত্তর-পশ্চিমে সমুদ্র মাঝে রয়েছে মহেশখালী দ্বীপ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,২১৭.
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয় -
  1. ২২ জুন, ২০২২
  2. ২৫ জুন, ২০২২
  3. ২২ জুলাই, ২০২২
  4. ২৫ জুলাই, ২০২২
ব্যাখ্যা
পদ্মা সেতু:
- পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতু একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু।
- এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু।
- সেতুটি মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, লৌহজংকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
- এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত উত্তর-পুর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়ন করে AECOM।
- মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার।
- সেতুতে মোট পাইল রয়েছে ২৭২টি।
- পদ্মা সেতু তৈরি করা হয়েছে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় করে।
- পদ্মা সেতুর মোট স্প্যান ৪১টি।
- পদ্মা সেতুর মোট পিলার রয়েছে ৪২টি।
- পদ্মা সেতুর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স ১৮.৩০ মিটার।
- ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে প্রথম স্প্যান বসানো হয়।
- ১০ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে শেষ স্প্যান বসানো হয়।
- ২৫ জুন, ২০২২ তারিখে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উৎস: i) জুন ২৫, ২০২২, The Daily Star বাংলা।
         ii) সেতু বিভাগ ওয়েবসাইট।
১২,২১৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র দেশকে কতটি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল?
  1. ৯ টি
  2. ১১ টি
  3. ১০ টি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
 
• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
 
• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
 
• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
 
• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।
 
• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।
 
• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
 
• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
 
• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
 
• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।
 
• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।
 
• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১২,২১৯.
কখন লাহোর প্রস্তাব পেশ করা হয়?
  1. কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে
  2. পিপলস পার্টির বার্ষিক অধিবেশনে
  3. মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না।
- তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
- এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২২০.
ছয় দফা কর্মসূচি কোন সালে ঘোষণা করা হয়?
  1. ১৯৭০
  2. ১৯৬৬
  3. ১৯৬৭
  4. ১৯৬৫
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
- ৭ জুন ছয় দফা দিবস।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন। 
- ৬ দফা বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২২১.
আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন -
  1. ১৯৬২ সালের ৮ মার্চ
  2. ১৯৬২ সালের ৮ জুলাই
  3. ১৯৬২ সালের ৮ আগস্ট
  4. ১৯৬২ সালের ৮ জুন
ব্যাখ্যা
১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।

সামরিক শাসন প্রত্যাহার:

- পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সড়িয়ে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
- ১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।
- ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২২২.
বাংলাদেশ প্রথম লোহার খনি আবিস্কৃত হয় কোন জেলায়?
  1. দিনাজপুর
  2. রংপুর
  3. কুড়িগ্রাম
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রথম লোহার খনি:
- দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় দেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান মিলেছে।
- উপজেলার ইসবপুর গ্রামে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) এ খনির সন্ধান পেয়েছে।
- জিএসবি জানিয়েছে, খনিটিতে উন্নত মানের লোহার আকরিক (ম্যাগনেটাইট) রয়েছে।
- লোহার পাশাপাশি খনিটিতে মূল্যবান কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে বলে জানান জিএসবি কর্মকর্তারা।
- ভূগর্ভের ১ হাজার ৩০০ ফুট থেকে ১ হাজার ৬৫০ ফুটের মধ্যে লোহার একটি স্তর পাওয়া গেছে।
- খনিটির আয়তন প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার।
- খনিতে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন টন লোহাসহ মূল্যবান পদার্থ রয়েছে।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম লোহার খনি।

উৎস: ১৮ জুন ২০১৯, প্রথম আলো।
১২,২২৩.
সম্রাট আকবরের উল্লেখযোগ্য অবদান নয় কোনটি?
  1. জিজিয়া কর রহিত
  2. বাংলা সন প্রবর্তন
  3. সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা
  4. ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তাঁর আদেশে প্রাচীন বর্ষপঞ্জি সংস্কার করে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

অন্যদিকে,
- ধর্মপাল সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২২৪.
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত কাদের সাথে বিশেষ পন্থায় মৈত্রীসূত্রে আবদ্ধ হন?
  1. বাকাটক ও নাগদের সাথে
  2. লিচ্ছবি ও শকদের সাথে
  3. নাগ ও হুণদের সাথে
  4. লিচ্ছবি ও নাগ বংশের সাথে
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত:
- সমুদ্রগুপ্তের উত্তরাধিকারী হিসাবে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত এক বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করেন।
- পশ্চিম ভারত থেকে শকদের বিতাড়ন তার মুখ্য সামরিক কৃতিত্ব।
- এ কারণে তিনি 'শকারি' উপাধি গ্রহণ করেন।
- অন্যান্য দিকে তিনি সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ এবং দৃঢ় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তিনি নাগ ও বাকাটক বংশীয় রাজাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন।
- মহাকবি কালিদাসসহ অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি তাঁর সভা অলঙ্কৃত করেছিলেন।
- শৌর্য-বীর্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক উন্নতির পরিচয় বহন করে তাঁর রাজত্বকাল।
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তই সম্ভবত কিংবদন্তীর বিক্রমাদিত্য। তাঁর রাজত্বকালে চৈনিক পর্যটক ফা-হিয়েন ভারত সফর করেন।
- ফা-হিয়েনের বিবরণে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময়কার আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনচিত্রের অনেকটাই বিধৃত হয়ে আছে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২২৫.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  3. গ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে। এ সরকারের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী এম মনসুর আলী এবং পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১২,২২৬.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন কে?
  1. ক) শাজাহান সিরাজ
  2. খ) নূরে আলম সিদ্দিকী
  3. গ) আ.স.ম আব্দুর রব
  4. ঘ) ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ ঢাকায় পল্টন ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এই ইশতেহার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়। একই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক উপাধি দেওয়া হয়। অধ্যাপক ইউসুফ আলী ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া]
১২,২২৭.
সোমপুর বিহার কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) বগুড়া
  2. খ) নওগাঁ
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) কুমিল্রা
ব্যাখ্যা
- পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ধর্মপাল বৌদ্ধধর্মের প্রসারে নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে ‘সোমপুর বিহার’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- এখনো পর্যন্ত সোমপুর বিহার ভারতবর্ষে আবিষ্কৃত বৌদ্ধবিহারসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় হিসেবে স্বীকৃত।
- এটিকে ইউনেস্কো ১৯৮৫ সালে বিশ্ব ঐহিত্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১২,২২৮.
'আমার দেখা নয়া চীন' বইটি কার লেখা?
  1. ক) শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
আমার দেখা নয়াচীন:
- আমার দেখা নয়াচীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৫২ সালের রাজনৈতিক জীবনের প্রথমদিকে গণচীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা একটি ডায়েরির পুস্তকি রূপ।
- তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি ১৯৫২ সালের ১ থেকে ১২ অক্টোবর শান্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
- শান্তি সম্মেলনের ১১ দিনসহ মোট ২৫ দিন তিনি চীনে অবস্থান করেন।
- ‘আমার দেখা নয়া চীন’ মূলত চীনে অবস্থানকালে তার নিজের দেখা ভ্রমণ বৃত্তান্তের লিখিত ভাষ্যরূপ।
- এটি শেখ মুজিবর রহমান রচিত তৃতীয় গ্রন্থ 
- 'আমার দেখা নয়াচীন' বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়'।
- একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
- বইটি প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি।
- বইটির ভূমিকা লিখেছেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা ও বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উৎস: ১৪ আগস্ট ২০২০, যুগান্তর।
১২,২২৯.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে কোন পাকিস্তানী শাসকের পতন হয়?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. আইয়ুব খান
  3. জুলফিকার আলী ভূট্টো
  4. ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:

- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- এ আন্দোলনের ফলে আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৩০.
ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী কোথায় রাজধানী স্থাপন করেছিলেন?
  1. ক) লখনৌতে
  2. খ) গৌড়ে
  3. গ) নদীয়াতে
  4. ঘ) মধ্য প্রদেশ
ব্যাখ্যা
- ১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি কর্তৃক নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজি বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দস্ত-ই-মার্গ) এলাকার বাসিন্দা ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়র্ভুক্ত ছিলেন। 
- বখতিয়ার খলজী স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে তিনি গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৩১.
কোন সুলতানের রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. সিকান্দার শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. ইখতিয়ার উদ্দিন গাজী শাহ
ব্যাখ্যা

- শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়। এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয় এবং সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে শাহ-ই-বাঙ্গালাহ বলা হয়।
- ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’’ এবং ‘সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে বাংলার প্রথম প্রকৃত স্বাধীন সুলতান হিসেবে অভিহিত করা হয়

তথ্যসূত্র:- ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,২৩২.
ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. রবার্ট ক্লাইভ 
  3. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

লর্ড ক্যানিং:
- ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং।
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল এবং ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ভারতে প্রথম ভাইসরয় ছিলেন। 
- তাঁর প্রশাসনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।

উল্লেখ্য,
- লর্ড ক্যানিং ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।
- এর আগে মুদ্রা হিসেবে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা ব্যবহৃত হতো।
- লর্ড ক্যানিং উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন।
- ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।

অন্যদিকে,
- ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
iii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।

১২,২৩৩.
সর্বপ্রথম কার গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. পাণিনির
  2. কৌটিল্যের
  3. ব্যাৎসায়নের
  4. হর্ষবর্ধনের
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৩৪.
আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা হিসেবে পাকিস্তানি শাসকগণ কোনটি গঠন করে?
  1. ক) রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  2. খ) পূর্ববাংলা ভাষা কমিটি
  3. গ) সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ
  4. ঘ) পূর্ববাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি
ব্যাখ্যা
আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে আকরাম খানকে সভাপতি করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ‘পূর্ববাংলা ভাষা কমিটি’ গঠন করে। এই কমিটি গঠনের প্রতিবাদ জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ আবদুল মতিনকে আহব্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
১২,২৩৫.
৬ দফা আনুষ্ঠানিকভাবে কত তারিখে ঘোষণা করা হয়?
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  2. খ) ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬
  3. গ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
  4. ঘ) ২৯ অক্টোবর, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন।
- এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
- ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
- আর এটি ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা - রুহুল কুদ্দুস । তিনি একজন সি এস পি কর্মকর্তা। 

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।
১২,২৩৬.
ভাষা আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে কোন চেতনার উন্মেষ ঘটেছিলো?
  1. সাম্প্রদায়িক চেতনা
  2. বাঙালি জাতীয়তাবাদ
  3. ইসলামী জাতীয়তাবাদ
  4. বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- ভাষা আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে নিজস্ব জাতীয়তাবোধ তথা বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।

- এই জাতীয়তাবোধের ভিত্তি ছিলো বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্যের সূচনা হয় তা পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিসংগ্রামের মুখ্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিলো।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
১২,২৩৭.
ভারত স্বাধীনতা লাভ করে -
  1. ক) ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট
  2. খ) ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট
  3. গ) ১৯৪৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ১৯৪৮ সালের ১৪ আগস্ট
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘ভারতীয় স্বাধীনতা আইন’ পাস হয়।
- এই আইন বলে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- পাকিস্তান ছিল এক অস্বাভাবিক রাষ্ট্র। 
- বিশাল ভারতবর্ষের পূর্ব ও পশ্চিম দুই প্রান্তে প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার ব্যবধানে দুই ভিন্ন ভূখন্ড নিয়ে পাকিস্তান গঠিত হয়।
- স্বাধীনতা লাভের সময় পাকিস্তানকে ৫টি প্রদেশে বিভক্ত করা হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া,  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৩৮.
বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের নাম কী?
  1. আহসান এইচ মনসুরের
  2. মোস্তাকুর রহমান
  3. সালাউদ্দিন আহমেদ
  4. আব্দুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা

→ বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর- মোস্তাকুর রহমান  ।
- তিনি বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হন।

মোস্তাকুর রহমান
• মোস্তাকুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন।
• পরে আইসিএমএবি থেকে হিসাববিজ্ঞানে এফসিএমএ উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।
• তিনি একজন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী, তৈরি পোশাক ও আবাসন খাতে কাজ করেন।
• ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে আর্থিক খাতে সুশাসন নিয়ে কাজ করছেন।
• করপোরেট ফিন্যান্স, রপ্তানি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ।
• বিজিএমইএ, রিহ্যাব, আটাব ও ঢাকা চেম্বারের সদস্য।
• এসব সংগঠনের বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন।
• চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং প্রথম আলো।।

১২,২৩৯.
যুক্তফ্রন্ট গঠিত পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় শেখ মুজিবুর রহমান কোন মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন?
  1. শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়
  2. কৃষি ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
  3. আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
  4. কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:
• ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে যুক্তফ্রন্ট পূর্ববাংলা প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠন করে।
• মন্ত্রিসভার সদস্য ছিল ১৪ জন যেখানে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কৃষি ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী। কিন্তু, ১৯৫৪ সালের ৩০ মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় পাকিস্তানের কুচক্রী গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পন্থায় এ মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে গভর্নরের শাসন জারি করেন।

 উল্লেখ্য,
• ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তানের চারটি বিরোধীদলের সমন্বয়ে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামের রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্টের শরীক দলসমূহ হলো:
• আওয়ামী মুসলিম লীগ -নেতৃত্বাধীন ব্যক্তি মওলানা ভাসানী।
•  কৃষক শ্রমিক পার্টি -নেতৃত্বাধীন ব্যক্তি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
• নেজামে ইসলাম পার্টি -নেতৃত্বাধীন ব্যক্তি মওলানা আতাহার আলী।
•  গণতন্ত্রী দল -নেতৃত্বাধীন ব্যক্তি হাজী দানেশ।
• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের দাবি ছিল ২১ দফা ও প্রতীক ছিল নৌকা। অপরদিকে মুসলিম লীগের প্রতীক ছিল হারিকেন।
• নির্বাচনের ফলাফল: নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি এবং ৭২টি অসলিম আসনের মধ্যে ১৩টি অর্থাৎ মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২৩৬টি) আসনে জয়লাভ করেন।
• ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আর আওয়ামী মুসলীম লীগ এককভাবে পায় ১৪৩টি আসন।
• ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল ১৫টি।

সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৪০.
’কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. জাপানে
  2. কানাডায়
  3. যুক্তরাষ্ট্রে
  4. জার্মানিতে
ব্যাখ্যা

‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- পণ্ডিত রবিশঙ্কর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য–বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন।
- এতে অংশ নিয়েছিলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর, ওস্তাদ আলী আকবর খান, ওস্তাদ আল্লা রাখা।
- পশ্চিমের তারকাদের মধ্যে জর্জ হ্যারিসন ছাড়া ছিলেন রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, লিওন রাসেল, বিলি প্রেস্টন প্রমুখ।
- ৪০ থেকে ৫০ হাজার দর্শনার্থীর এ অনুষ্ঠান থেকে সংগৃহীত হয়েছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ দশমিক ৫০ ডলার।

উৎস: প্রথম আলো।

১২,২৪১.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ এর কথক ছিলেন-
  1. ক) কামাল লোহানী
  2. খ) আলী জাকের
  3. গ) এম আর আখতার মুকুল
  4. ঘ) বেলাল আহমেদ
ব্যাখ্যা
চরমপত্র হলো একটি কথিকা যা ১৯৭১ সালের ২৫ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো। এটির পরিচালক, লেখক ও কথক ছিলেন এম আর আখতার মুকুল। ঢাকাইয়া ভাষায় তার এ অনুষ্ঠানটি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
(সূত্র: দৈনিক ভোরের কাগজ)
১২,২৪২.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. মীর নেসার আলী
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন: 
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ। 
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
 ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২,২৪৩.
‘পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি’ কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৮ সাল
  2. ১৯৪৯ সাল
  3. ১৯৫০ সাল
  4. ১৯৫১ সাল
ব্যাখ্যা

→ ১৯৪৮ সালের পর বাংলা ভাষা আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়লেও পাকিস্তানের শাসক শ্রেণির বাংলা ভাষা বিরোধী ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। বাংলা ভাষাকে সমূলে উৎপাটন করাই ছিল এ প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য।

→ এ জন্য আরবি হরফে বাংলা লেখার আজগুবি এক প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয় তারা। এ কাজে বাংলাভাষী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান দালালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৪৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর করাচীতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব উত্থাপন করেন তৎকালীন পাক শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান। 

→ ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর প্রতিবাদ করেন। আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়। 

→ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিবাদ জানায়। ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কমিটি গঠিত হয়,যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
 ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১২,২৪৪.
'২১ দফা দাবি' কোন জোটের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল?
  1. মুসলিম লীগ
  2. বিএনপি
  3. আওয়ামী লীগ
  4. যুক্তফ্রন্ট
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্টের:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি এবং
৪. হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- আওয়ামী মুসলিম লীগের নির্বাচনী কর্মসূচির ৪২ দফার প্রধান প্রধান দাবি নিয়ে।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

নোট: [বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র ১ম ও ২য় খন্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র অধিক গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,২৪৫.
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বিকল্প চেয়ারম্যান কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. বানিজ্যমন্ত্রী
  3. পরিকল্পনা মন্ত্রী
  4. অর্থমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
একনেক (ECNEC):
- ECNEC এর পূর্ণরূপ হলো: Executive Committee of the National Economic Council.
- ECNEC প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮২ সালে।
- এর প্রথম সভাপতি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। 
- ১৯৯১ সালে পর প্রধানমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতিত্ব শুরু করেন।
- ECNEC এর সভাপতি প্রধানমন্ত্রী
- এবং তার অনুপস্থিতিতে সভাপতি অর্থমন্ত্রী ।
- এর সদস্য- মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীগণ।

উৎস: পরিকল্পনা বিভাগ।
১২,২৪৬.
১৯৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) নূরুল আমিন
  2. খ) লিয়াকত আলী খান
  3. গ) খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. ঘ) চৌধুরী খালিকুজ্জামান
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- তিনি ১৯৪৮-১৯৫৩ সময়ে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
- তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দিন।
- গভর্নর ছিলেন গোলাম মুহাম্মদ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
১২,২৪৭.
কোন রাজবংশের শাসনকালে 'আনন্দ বিহার' নির্মিত হয়?
  1. দেব বংশ
  2. পাল বংশ
  3. সেন বংশ
  4. চন্দ্রবংশ
ব্যাখ্যা
দেব বংশ:
- অষ্টম শতকের মাঝামাঝি একই অঞ্চলে দেব বংশের উদ্ভব হয়।
- দেববংশের চারজন রাজার নাম পাওয়া যায়। এরা হলেন-
• শ্রী শান্তিদেব,
• শ্রী বীরদেব,
• শ্রী আনন্দদেব,
• শ্রী ভবদেব।
- শক্তিশালী দেব রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ।
- তাঁদের রাজধানী ছিল দেবপর্বতে।
- কুমিল্লার নিকট ময়নামতির দক্ষিণে ছিল এই দেবপর্বত।
- সমগ্র সমতট অঞ্চল জুড়ে দেবরাজাদের রাজত্ব ছিল।
- দেবরাজা আনন্দের রাজধানীতে 'আনন্দ বিহার' বলে একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করা হয়।
- আনুমানিক ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দেবরাজাদের শাসন চালু থাকে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৪৮.
বাংলার প্রাচীন রাজধানী-
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. সোনারগাঁও
  3. দেবগিরি
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
• সোনারগাঁও - বাংলার প্রাচীন রাজধানী।
- ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- সোনারগাঁও-এর আরেকটি নাম ছিল পানামা নগর।

অন্যদিকে, 
- মুহম্মদ বিন তুঘলক এর সময়কালে দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন।
- মুর্শিদাবাদ একটি বাংলা,বিহার, উড়িষ্যার প্রাক্তন রাজধানী।

উৎস : ইতিহাস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৪৯.
'কৈলাশটিলা' গ্যাসক্ষেত্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিলেট
  3. খাগড়াছড়ি
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
• কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র: এটি সিলেট জেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র। পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি ১৯৬২ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। এর মোট অনুমিত মজুত ৩.৬৫ টিসিএফ যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুত ২.৫২ টিসিএফ গ্যাস। কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাসের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কনডেনসেটও উৎপাদিত হয়ে থাকে। ১৯৮৩ সাল থেকে এই গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

• হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র: এটি ১৯৬৩ সালে আবিষ্কৃত দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র। এটি ১১ কিমি দীর্ঘ এবং ৪.৫ কিমি প্রশস্ত। প্রায় ৩০ শতাংশ সচ্ছিদ্রতাবিশিষ্ট হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র একটি উন্নতমানের গ্যাসাধার হিসেবে খ্যাত। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম একটি গ্যাস উৎপাদনক্ষেত্র। আজ পর্যন্ত এই গ্যাসক্ষেত্রে ১০টি কূপ খনন করা হয়েছে।

• বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র: এটি কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত। ১৯৬৯ সালে শেল অয়েল কোম্পানি এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। ১৯৮৪ সালে এখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৯৩ সালে এর উৎপাদন সর্বোচ্চে পৌঁছে (দৈনিক ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস)। তখন থেকে এই গ্যাসক্ষেত্রের চাপ ও উৎপাদনে দ্রুত পতন ঘটে। ২০০০ সালের শেষদিকে এখান থেকে প্রতিদিন মাত্র ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রটি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাবে।

• সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র: এটি খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের জাতীয় তেল কোম্পানি ও.জি.ডি.সি এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। খননকৃত ৪টি কূপের মধ্যে ৩নং ও ৪নং কূপে কোন গ্যাস পাওয়া যায় নি। এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে কোন গ্যাস উত্তোলিত হয় নি।

• কুতুবদিয়া গ্যাসক্ষেত্র: এটি চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৯২ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিয়ন অয়েল কোম্পানি ১৯৭৬ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। যদিও গ্যাসক্ষেত্রটি ছোট আকৃতির, তবুও এর উন্নয়নে এখন পর্যন্ত কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় নি।

• বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র: এটি নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত। পেট্রোবাংলা ১৯৭৭ সালে এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রটি একটি ছোট আকৃতির গ্যাসক্ষেত্র এবং এর উন্নয়নে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি। এখানে খননকৃত দুটি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে একটি শুষ্ক পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১২,২৫০.
উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন কে?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. শের শাহ
  3. শায়েস্তা খান
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
শেরশাহ:
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।
- শের খান ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরজগড়ের যুদ্ধে মাহমুদ শাহ ও জালাল খানের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের খান বাংলা আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করেন।
- কিন্তু মুগল সম্রাট হুমায়ুন বাংলা অভিমুখে অগ্রসর হলে শের খান বাংলা ত্যাগ করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং বাংলা পুনর্দখল করে খিজির খানকে এর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তী বছর পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত ও ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।

উল্লেখ্য,
- শেরশাহ উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন।

এছাড়াও,
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন।
- গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৫১.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন কে?
  1. মুহম্মদ ঘুরী
  2. বখতিয়ার খলজী
  3. ইলতুৎমিশ
  4. আলাউদ্দিন খলজী
ব্যাখ্যা

বখতিয়ার খলজী:
- বখতিয়ার খলজী ১২০৫ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে নদীয়া জয় করেন এবং বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী।
- তিনি তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- তাঁর আদি নিবাস ছিল উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দস্ত-ই-মার্গ) অঞ্চল।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে তিনি ঝাড়খন্ডের দুর্গম অরণ্যাঞ্চল অতিক্রম করে সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনের অবকাশকালীন রাজধানী নদীয়া আক্রমণ ও জয় করেন।
- নদীয়া জয়ের পর তিনি স্বল্প সময় সেখানে অবস্থান করেন।
- ৬০১ হিজরি (১২০৫ খ্রিস্টাব্দে) তিনি বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন।
- গৌড় জয়ের পর তিনি সেখানে লখনৌতি নামে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- গৌড়ের পূর্ব নাম ছিল লক্ষণাবতী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি) ও বাংলাপিডিয়া।

১২,২৫২.
বাংলাদেশ এবং ভারতের সীমানা নির্ধারণকারী নদী কোনটি?
  1. বিষখালী নদী
  2. কপোতাক্ষ নদ
  3. হাড়িয়াভাঙ্গা নদী
  4. পশুর নদী
ব্যাখ্যা

হাড়িয়াভাঙ্গা নদী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাতক্ষীরা জেলায় সুন্দরবনের মধ্যদিয়ে হাড়িয়াভাঙ্গা নদী প্রবাহিত।
- হাড়িয়াভাঙ্গা নদী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমানা চিহ্নিতকারী একটি নদী।
- হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- পশুর নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও বাগেরহাট জেলার একটি নদী। 
- কপোতাক্ষ নদের উৎপত্তি মাথাভাঙ্গা নদী থেকে।
-বিষখালী নদী (Bishkhali River) কীর্তনখোলা ও নলছিটি নদীরই একটি বর্ধিত শাখা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,২৫৩.
জাতীয় ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস-
  1. ক) ১৮ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ২৮ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ১৮ জানুয়ারি
  4. ঘ) ২৮ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি প্রতিষ্ঠা হয়।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সচেতন করে তুলতেই বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি তার প্রতিষ্ঠা দিবসকে ডায়াবেটিক সচেতনতা দিবস হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেয়।
-  বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে এই রোগ এখন মহামারী রূপ নিচ্ছে। দেশে বর্তমানে ৮৪ লাখেরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

 উৎস : যুগান্তর
১২,২৫৪.
Bangladesh Economic Zones Authority প্রতিষ্ঠিত হয়-
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৬ সালে
ব্যাখ্যা

- Bangladesh Economic Zones Authority (BEZA) ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর গঠিত হয়।
- এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- সংস্থাটির কাজ হলো দেশের সম্ভাবনাময় স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিবন্ধন প্রদান করা।
- সরকার বেজার অধীনে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দিয়েছে।
- এর মধ্যে সর্ববৃহৎ হলো চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলা জুড়ে বিস্তৃত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর।
উৎসঃ বেজার ওয়েবসাইট

১২,২৫৫.
‘বলাকা’ ভাস্কর্যের স্থপতি কে?
  1. ক) শামীম শিকদার
  2. খ) মৃণাল হক
  3. গ) নভেরা আহমেদ
  4. ঘ) নিতুন কুণ্ড
ব্যাখ্যা
রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত ‘বলাকা’ ভাস্কর্যের স্থপতি মৃণাল হক।
তার অন্যান্য ভাস্কর্যের মধ্যে রয়েছে:
- সুপ্রিমকোর্টের বহুল আলোচিত ‘লেডি জাস্টিস’
- বাংলা মটরের ‘রাজসিক বিহার’
- প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামনে ‘রত্নদ্বীপ’
- নৌবাহিনী সদরদপ্তরের সামনে ‘অতলান্তিকে বসতি’
- গুলশানের ‘সেলিব্রেটি গ্যালারী’
- ইস্কাটনের ‘কোতোয়াল’
- পরীবাগের ‘জননী ও গর্বিত বর্ণামালা’ প্রভৃতি।
তিনি গত ২২ আগস্ট ২০২০ মৃত্যুবরণ করেন।
(সূত্র: বিডিনিউজ২৪)
১২,২৫৬.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমেদ
  2. খ) আ স ম আব্দুর রব
  3. গ) অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী
  4. ঘ) বিচারপতি আবু সায়্যিদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

এর আগে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৮ এপ্রিল এই সরকারের সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১২,২৫৭.
মানব সম্পদ উন্নয়নের উদ্দেশ্য কী?
  1. দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদ বৃদ্ধি করা
  2. কর্মক্ষম জনশক্তিকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি জ্ঞানে উন্নত করা
  3. কেবল চাকরির ব্যবস্থা করা
  4. শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা

মানব সম্পদ উন্নয়ন:
- মানব সম্পদ উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য উপাদান।
- মানব সম্পদ ছাড়া অন্যান্য উন্নয়ন উপাদান অর্থহীন হয়ে পড়ে।
- উদ্দেশ্য: কর্মক্ষম জনশক্তিকে উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি জ্ঞানে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সমৃদ্ধ করা।
- উৎপাদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের কর্মদক্ষতা ও সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করা হলো মানব সম্পদ উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

• মানব সম্পদ উন্নয়ন উপায়:
- শিক্ষা,
- প্রশিক্ষণ,
- আধুনিক প্রযুক্তি ও
- স্বাস্থ্যসেবা। 

উৎস: i) শিক্ষা এবং উন্নয়ন, স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) অর্থনীতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,২৫৮.
‘জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (NAPD)’ কোন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান?
  1. অর্থ মন্ত্রণালয়
  2. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
  3. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
  4. শিক্ষা মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

National Academy for Planning and Development (NAPD):
- জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি জাতীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান।
- এটি সরকারি, আধাসরকারী ও স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- নভেম্বর ১৯৮০ সালে "Development of the Planning Machinery in Bangladesh (Creation of Institutional facilities for training in Planning and Development)" শিরনামে প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
- ১৯৮৪ সালে একাডেমি ৩/এ, নীলক্ষেত, ঢাকায় অবস্থিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয়।
- সেই সঙ্গে একাডেমি সরকারের রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হয়।
- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ০৬ জানুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখের সিদ্ধান্ত মোতাবেক একাডেমির বোর্ড অব গভর্নরসকে বডি কার্পোরেটে রূপান্তর করা হয়।
- তখন থেকে একাডেমি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তাদের ২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম করার জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে।
- ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে 'সরকারি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান অধ্যাদেশ-১৯৬১' এর আওতায় একাডেমিকে একটি ইন্সটিটিউট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- একই সঙ্গে উক্ত অধ্যাদেশ কার্যকরের আদেশ জারি করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১২,২৫৯.
বাংলায় সেন বংশের শাসনকাল কত ছিল?
  1. ৮০ বছর
  2. ১০০ বছর
  3. ১৫০ বছর
  4. ২০০ বছর
ব্যাখ্যা

বাংলায় সেন বংশের শাসন:
- বাংলার ইতিহাসে সেন রাজাদের উত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি অধ্যায়।
- ১০৭০ থেকে ১২৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ বছর সেনরা বাংলায় রাজত্ব করে। 
- পালদের পতনের পর বাংলায় সেন রাজবংশের উত্থান ঘটে।
- সেন রাজবংশ তাদের শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা নিজেদের দখলে আনে।
- ১০৭০ থেকে ১২৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হেমন্ত সেন, বিজয় সেন, বল্লাল সেন, লক্ষ্মণ সেন, বিশ্বরূপ সেন, কেশব সেন রাজ্য পরিচালনা করেন।

⇒ বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন।
- সামন্ত সেন কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেওয়া হয় সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেনকে।
- এই বংশের শেষ রাজা ছিলেন লক্ষ্মণ সেন।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী নদীয়া আক্রমণ করলে তিনি প্রতিরোধ না করে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর পালিয়ে আসেন।
- এই অঞ্চলে তিনি আরো ২/৩ বছর রাজত্ব করেন।

⇒ ১২০২ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন। সে সময় সেনদের অস্থায়ী রাজধানী ছিল নদীয়ায়। নদীয়ায় আক্রমণ করা হলে লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গে পালিয়ে যান। এরপর লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যু হলে সেনরা দুর্বল হতে শুরু করে। সামন্ত বিদ্রোহের ফলে বাংলায় সেনদের পতন ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,২৬০.
বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইন কবে পাস হয়ে?
  1. ক) ২৯ মার্চ, ২০০৯
  2. খ) ২২ মার্চ, ২০০৯
  3. গ) ২৭ মার্চ, ২০০৯
  4. ঘ) ২১ মার্চ, ২০০৯
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ তথ্য অধিকার আইন:

- ২৯ মার্চ, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক তথ্য অধিকার আইন পাশ হয়।
- ৫ এপ্রিল, ২০০৯ এই আইনটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে।
- ৬ এপ্রিল, ২০০৯ আইনটি বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়।
- আইনটি ধারা ৮, ২৪ এবং ২৫ ব্যতিত অন্যান্য ধারা ২০ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে কার্যকর এবং ৮, ২৪ এবং ২৫ ধারা ১লা জুলাই, ২০০৯ তারিখ থেকে কার্যকর হয়।
- তথ্য অধিকার আইন অনুসারে, তথ্য অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ গেজেট ও বাংলাদেশ তথ্য অধিকার আইন। 
১২,২৬১.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত চরমপত্র এর পাঠক ছিলেন কে?
  1. ক) আবদুল মান্নান
  2. খ) কামাল লোহানী
  3. গ) এম আর আখতার মুকুল
  4. ঘ) বেলাল আহমেদ
ব্যাখ্যা
চরমপত্র হলো একটি কথিকা যা ১৯৭১ সালের ২৫ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো। এটির পরিচালক, লেখক ও কথক ছিলেন এম আর আখতার মুকুল।
ঢাকাইয়া ভাষায় তার এ অনুষ্ঠানটি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিলো।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র)
১২,২৬২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার জীবনে মোট কত বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে?
  1. ক) ১২ বছর
  2. খ) ১৪ বছর
  3. গ) ১০ বছর
  4. ঘ) ৮ বছর
ব্যাখ্যা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাভোগ করেছেন।
- এর মধ্যে স্কুলের ছাত্র অবস্থায় ব্রিটিশ আমলে সাত দিন কারা ভোগ করেন। বাকি ৪ হাজার ৬৭৫ দিন তিনি কারাভোগ করেন পাকিস্তান সরকারের আমলে।

অর্থাৎ,
বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের প্রায় ১৩ বছরের মত (৪৬৮২/৩৬৫ = ১২.৮ বছর) কারাগারে ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৮ সালে প্রথম কারাগারে যান (বন্ধুকে রক্ষার জন্য মারামারি করে; ৭দিন জেলে ছিলেন)।
- এরপর ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি পাঁচ দিন কারাগারে ছিলেন (রাজনৈতিক কারণে প্রথম)।
-  ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির পর বঙ্গবন্ধু ১১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন। এ সময়ে টানা ১ হাজার ১৫৩ দিন (সবচেয়ে দীর্ঘসময়) তাঁকে কারাগারে কাটাতে হয়।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও প্রথম আলো আর্কাইভ

এখানে ১২ কাছাকাছি উত্তর হওয়ায় একে আমরা উত্তর হিসেবে বিবেচনা করলাম।

১২,২৬৩.
প্রাচীন গৌড় নগরীর অংশবিশেষ বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কুষ্টিয়া 
  2. বগুড়া
  3. কুমিল্লা 
  4. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা

• প্রাচীন গৌড় নগরীর অংশবিশেষ - চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

• প্রাচীন গৌড় নগরী:
- ধারণা করা হয় যে, গুড় উৎপাদনের কেন্দ্র বলে গৌড় নগর ও দেশের নামের উদ্ভব হয়। আর হয়ত এই গৌড় নগরকে ঘিরেই পরে গৌড় জনপদ গড়ে উঠেছিল। 
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই  গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- গৌড় বাংলার এককালীন রাজধানী এবং অধুনা ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি নগর যার অবস্থান বর্তমান ভারত-বাংলাদশে সীমান্তর্বতী অঞ্চল। এটি লক্ষণাবতী বা লখনৌত  নামেও পরিচিত।

- প্রাচীন এই দূর্গনগরীর অধকিাংশ পড়ছে র্বতমান ভারতরে পশ্চমিবঙ্গ রাজ্যের মালদা জেলায় এবং কিছু অংশ পড়েছে বাংলাদশেরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। 
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি গ্রহণ করে গর্ববোধ করতেন।

- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কর্ণসুবর্ণ দেশ ও গৌড়দেশ অভিন্ন।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল - কর্ণসুবর্ণ। 

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, (HSC Programme), বাংলাদেশ ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,২৬৪.
বাংলাদেশের ফুসফুস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় নিচের কোনটি?
  1. ক) চট্টগ্রামের পাহাড়সমূহকে
  2. খ) মধুপুরের বনভূমিকে
  3. গ) বঙ্গোপসাগরকে
  4. ঘ) সুন্দরবনকে
ব্যাখ্যা
- বিশ্ব মানচিত্রে এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অবস্থান।
- আজকের যে বাংলাদেশ তার দক্ষিণ সীমান্তে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি।
- দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে মায়ানমার (বার্মা)।
- বাকি তিন দিকের সীমানা ঘিরে রেখেছে ভারত।
- বাংলাদেশের উত্তর সীমার অদূরে রয়েছে হিমালয় পর্বত।
- উত্তর সীমায় আরো রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, অরুণাচল ও আসাম রাজ্য ।
- ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ।
- দেশটি অবস্থানগত দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত।
- দেশটির তিন দিকে স্থল আর এক দিকে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি একে অপরূপ সৌন্দর্য দান করেছে।
- ম্যানগ্রোভ বন নামে পরিচিতি সুন্দরবন, বিভিন্ন নদ-নদী, পাহাড় পর্বত বাংলাদেশকে এক পৃথক পরিচিতি প্রদান করেছে।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
১২,২৬৫.
পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায় কোথায় ?
  1. ক) মহাস্থানগড়ে
  2. খ) ওয়ারী - বটেশ্বরে
  3. গ) শালবন বিহারে
  4. ঘ) সোনারগাঁ তে
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড় (পুণ্ড্রনগর)
প্রায় ২৪০০ বছর আগে বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে গড়ে ওঠে মহাস্থানগড়।
- নগরটি ছিল ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ। তাই দুর্গপ্রাচীর ও পরিখা দ্বারা সেটি ছিল সুরক্ষিত।
- কালের পরিক্রমায় পুণ্ড্রনগর ধ্বংস হয়ে মাটির নিচে চাপা পড়ে ঢিবি ও জঙ্গলে পরিণত হয়।
- প্রত্নতাত্ত্বিক আলেক্সান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে মহাস্থানগড়ে জরিপ করে অনুমান করেন, এখানকার মাটির নিচে লুকিয়ে আছে বিখ্যাত পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ।
- শুরু হয় খননকাজ। আবিষ্কৃত হতে থাকে নগরের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, অলংকার, মুদ্রা, পোড়ামাটির শিল্পকর্ম, লিপি ইত্যাদি।
- এটি ছিল একটি সমৃদ্ধ নগর এবং পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী।
- পুণ্ড্রনগরের সঙ্গে বাণিজ্যের কারণে ভারত উপমহাদেশের অনেক নগর-বন্দরের যোগাযোগও ছিল। ফলে বহু বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক লেনদেনও ঘটেছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১২,২৬৬.
ডা. মিলন কোন আন্দোলনের সময় শহীদ হয়েছিলেন?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- ডা. মিলন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় শহীদ হয়েছিলেন।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০ সালে ছাত্র-জনতা-পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়েছিল।
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে ঢাকার জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন মারা যান।
- এ সময় তার গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিলো 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক'।
- এ আন্দোলনে প্রাণ হারান নূর হোসেন, সেলিম, দেলোয়ার, তাজুল, ডা. মিলন, নূরুল হুদা, বাবুল, ফাত্তাহসহ অনেকে।
- নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭।
১২,২৬৭.
'আমি সব সময় অখন্ড বাংলার পক্ষপাতী' উক্তিটি কার?
  1. ক) ফজলুল হকের
  2. খ) নাজিমুদ্দিনের
  3. গ) সোহরাওয়ার্দীর
  4. ঘ) খান ভাসানীর
ব্যাখ্যা

- 'আমি সব সময় অখন্ড বাংলার পক্ষপাতী' উক্তিটি করেছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাগ এবং এর পাশাপাশি বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু এবং সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলসহ অনেক কংগ্রেস নেতাও ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগের সিদ্ধান্তকে মেনে নেন।
- বাঙালি জাতির এ দুঃসময়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও অবিভক্ত বাংলার সে সময়ের মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব আবুল হাশিম ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা প্রদেশকে বিভক্তির বিরোধিতা করেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১২,২৬৮.
দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলাকে কতটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করেন?
  1. চারটি
  2. তিনটি 
  3. দুইটি 
  4. পাচঁটি
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ):
- দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক বিদ্রোহপ্রবণ বাংলাকে দিল্লির অধীনে রাখার জন্য বাংলাকে তিনটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করেন।
- ইউনিটগুলো হলো:  লাখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁ।

- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হয়।
- বাহরাম খানের বর্মরক্ষক ছিলেন 'ফখরা' নামের একজন রাজকর্মচারী।
- প্রভুর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং 'ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন।
- এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের।
- দিল্লির সুলতান মুহম্মদ-বিন-তুঘলকের পক্ষে এ সময় বাংলার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। 
- তাই সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতার সূচনা হলেও ধীরে ধীরে স্বাধীন অংশের সীমা বিস্তৃত হতে থাকে।
- পরবর্তী দুই'শ বছর এ স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারেনি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১২,২৬৯.
৬ দফার কত নং দফাটি পররাষ্ট্র সংক্রান্ত?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) দ্বিতীয়
  3. গ) চতুর্থ
  4. ঘ) তৃতীয়
ব্যাখ্যা
⇨ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৬ ফেবু্রয়ারি ঐতিহাসিক মুক্তির বাণী তথা ‘ছয় দফা’ কর্মসূচি পেশ করেন।
আওয়ামী লীগের ছয় দফা ছিল ঐতিহাসিক দাবি।
⇨ এ ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালিদের অধিকারের সনদ যার মধ্যে বাঙালিদের জীবনের দাবি নিহিত ছিল। নিম্নে ছয় দফা কর্মসূচি উল্লেখ করা হল:- 

১। শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি: ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা হবে। সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির, সর্বদলীয় ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকদের ভোটে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভা গঠিত হবে। 

২। পররাষ্ট্র সংক্রান্ত: বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ছাড়া সকল বিষয় অঙ্গরাষ্ট্র বা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে। বৈদেশির সম্পর্ক প্রতিরক্ষা বিষয় ন্যস্ত থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।

৩। অর্থ ও মুদ্রা: দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করার ব্যবস্থা থাকবে। এ রকম
ব্যবস্থা চালু সম্ভব না হলে দুই অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে, তবে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চলের মুদ্রা অন্য অঞ্চলে পাচার না হতে পারে।

৪। শুল্ক সম্বন্ধীয়: সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিবার্হের জন্য আদায়কৃত অর্থের একটা অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে।

৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা: বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্য সম্পর্কে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর সরকার আলাদা আলোচনা বা সম্পর্ক করতে পারবে।

৬। আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা: আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলো আধা-সামরিক বাহিনী বা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করতে পারবে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৭০.
নিচের কোনটির মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানদের মধ্যে পৃথক রাজনীতির উদ্ভব ঘটে?
  1. ইলবার্ট আইন
  2. মর্লি ও মিন্টোর সংস্কার
  3. রাওলাট আইন
  4. চেমসফোর্ড -মন্টেগু সংস্কার
ব্যাখ্যা
- মর্লি ও মিন্টোর সংস্কার চিন্তাগুলো ১৯০৯ সালের ইন্ডিয়া অ্যাক্টে বাস্তবায়িত হয়েছিল।
- জন মর্লি ও লর্ড মিন্টোর নামানুসারেই এই সংস্কারের নামকরণ হয় মর্লি-মিন্টো সংস্কার।
- ইন্ডিয়া অ্যাক্টের প্রধান দিকগুলোর মধ্যে ছিল মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ এবং
- সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইন্ডিয়ার পরিষদে একজন করে ভারতীয়ের অন্তর্ভুক্তি।
- এই সংস্কারের আদৌ কোনও প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের উদ্দেশ্য ছিল না।
- প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যে যাত্রা শুরুই ছিল এর উদ্দেশ্য।
- এ সংস্কারের সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য ছিল মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক নির্বাচকমন্ডলী গঠন।
- সংস্কারের এ ব্যবস্থা থেকেই মুসলমানদের মধ্যে পৃথক রাজনীতির উদ্ভব ঘটে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১২,২৭১.
বাংলাদেশের বিজ্ঞান জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকার শাহবাগে
  2. খ) ঢাকার ইসলামপুরে
  3. গ) ঢাকার আগারগাঁয়ে
  4. ঘ) সোনারগাঁয়ে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বিজ্ঞান জাদুঘর ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত। 
- জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। 
- তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার ২৬ এপ্রিল, ১৯৬৫ সালে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর আত্মপ্রকাশ করে। 
- প্রতিষ্ঠানটি অনানুষ্ঠানিক বিজ্ঞান শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
 
উৎস : বিজ্ঞান জাদুঘর ওয়েবসাইট
 
 
১২,২৭২.
“ইন্ডিয়া এ্যাক্ট” আইন পাস করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. লর্ড নর্থ
  4. উইলিয়াম পিট
ব্যাখ্যা
• ইন্ডিয়া এ্যাক্ট (১৭৮৪ খ্রি:):
 - রেগুলেটিং এ্যাক্ট-এর ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট একটি আইন পাস করেন যা ইতিহাসে ‘পিট এর ইন্ডিয়া এ্যাক্ট’ নামে পরিচিত।
- এ আইন দ্বারা পার্লামেন্ট উপমহাদেশ শাসনের সকল ক্ষমতা গ্রহণ করে।

- এ আইনের বলে ব্রিটিশ সরকারের নিযুক্ত ৬ জন এবং ইংল্যান্ডের মন্ত্রী সভার ১ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত ‘বোর্ড অফ কন্ট্রোল’ এর উপর উপমহাদেশ শাসন ও পর্যবেক্ষণের ভার অর্পিত হয়। গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা বাড়ানো হয়। সুপ্রীম কোর্টের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়।
- এছাড়া, কোম্পানির তিনজন ডাইরেক্টর নিয়ে একটি ‘সিক্রেট কমিটি’ও গঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৭৩.
বক্সারের যুদ্ধ কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. ঝাড়খন্ড
  2. বিহার
  3. লখনৌ
  4. উড়িষ্যা
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় বিহারে।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়। মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১২,২৭৪.
ছয় দফা অনুযায়ী কর ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা ছিল কার হাতে?
  1. কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে
  2. আঞ্চলিক সরকারের হাতে
  3. উভয় সরকারের হাতে
  4. বিশেষ কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

• ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলীয় নেতাদের একটি সম্মেলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন।
• ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নামে 'আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা-কর্মসূচি' শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়। 
• বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ছয় দফাতে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবি।  
• ছয় দফা কর্মসূচির ৪র্থ দফা অনুসারে- আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া হবে।

• ছয় দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৭৫.
নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা কে ছিলেন?
  1. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  2. মওলানা আতাহার আলী
  3. শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল 'যুক্তফ্রন্ট' নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। যথা:
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি মওলানা আতাহার আলী।
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র- এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার- আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী- আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প - সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১২,২৭৬.
আসাদ গেটের পটভূমির সাথে জড়িত সন-
  1. ১৯৪৭
  2. ১৯৫২
  3. ১৯৬৯
  4. ১৯৭১
ব্যাখ্যা
শহীদ আসাদ:
- শহীদ আসাদ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- তাই ২০ জানুয়ারি 'শহীদ আসাদ দিবস' পালিত হয়।
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান-এর নিহত আসাদের জন্য ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে হয় ‘আসাদ এভিনিউ’।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১২,২৭৭.
শহিদ শেখ রাসেলের জন্মতারিখ কোনটি?
  1. ১৮ অক্টোবর ১৯৬৫
  2. ১৭ অক্টোবর ১৯৬৫
  3. ১৭ অক্টোবর ১৯৬৬
  4. ১৮ অক্টোবর ১৯৬৪
ব্যাখ্যা
শেখ রাসেল দিবস:

- শেখ রাসেল দিবস পালিত হয় ১৮ অক্টোবর।
- ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে শেখ রাসেল জন্মগ্রহণ করেন।
- নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেখ রাসেল দিবস উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো।
- ২০২১ সাল থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ রাসেলের জন্মদিন ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে হত্যা করা হয় শিশু রাসেলকেও।
- ১১ বছর বয়সেই নিভে যায় শেখ রাসেলের জীবনপ্রদীপ।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ১৮ অক্টোবর, ২০২২।
১২,২৭৮.
বর্তমানে বাংলাদেশে ইউনেস্কোর স্বীকৃত ‘অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ এর সংখ্যা কতটি?  [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

• ইউনেসকোর 'অপরিমেয়/বিমূর্ত/অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য:
- ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ আর সৃষ্টিশীলতাকে লালন করার প্রত্যয়ে ইউনেস্কো ঘোষিত সংস্কৃতি বিষয়ক বিভিন্ন কনভেনশনের আলোকে বিএনসিইউ’র সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়।
- সম্প্রতি বাংলাদেশের শতাব্দীপ্রাচীন টাঙ্গাইল শাড়ি বয়নশিল্প ইউনেসকোর 'অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের' (ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ) তালিকায় স্থান পেয়েছে। ]
- ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ (মঙ্গলবার ) ভারতের নয়াদিল্লিতে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা-ইউনেস্কো তাদের ২০০৩ কনভেনশনের চলমান ২০তম আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়, যা এই কনভেনশনের অধীনে বাংলাদেশের জন্য ষষ্ঠ স্বীকৃতি।
- দীর্ঘদিন ধরে বাঙালির নন্দনচর্চা, ঐতিহ্য ও সামাজিক বুননে বিশেষ স্থান দখল করে থাকা
 - টাঙ্গাইলের শাড়ি তার সূক্ষ্ম, দীপ্তিময় নকশা ও অপূর্ব কারুকাজের জন্য বিশ্বে পরিচিত। 

উল্লেখ্য,
 - বর্তমানে দেশে ৬টি ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে।
- এগুলো হলো:
 ১) বাউলগান (২০০৮), 
২) জামদানি বুননশিল্প (২০১৩), 
৩) মঙ্গল শোভাযাত্রা (২০১৬), 
৪) শীতলপাটি বুননশিল্পের (২০১৭) ও 
৫) ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’ (২০২৩)।
৬) টাঙ্গাইল শাড়ি বয়নশিল্প (২০২৫)


তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। (Link) 

১২,২৭৯.
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র কোন সালে প্রবর্তিত হয়? 
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

• পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র বিল:
- পাকিস্তান সৃষ্টির দীর্ঘ ৯ বছর পর শাসনতন্ত্র বিশেষজ্ঞগণ এ শাসনতন্ত্রটি প্রণয়ন করেছিলেন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- মোট ১০৫ পৃষ্ঠার এ শাসনতন্ত্রে একটি প্রস্তাবনা, ১৩টি অংশ, ২৩৪টি বিধিএবং ৬টি তালিকা সন্নিবেশিত ছিল।
- এ শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছাড়াও প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,২৮০.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন কে?
  1. সিরাজুল আলম খান
  2. আব্দুল কুদ্দুস মাখন
  3. শাহজাহান সিরাজ
  4. আ.স.ম আব্দুর রব
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রদের পক্ষে পতাকাটি উত্তোলন করেছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।

সূত্র - দৈনিক প্রথম আলো ও দৈনিক কালের কন্ঠ।
১২,২৮১.
নিচের কোনটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন?
  1. আকরাম খান শিক্ষা কমিশন
  2. ফজলে রাব্বী শিক্ষা কমিশন
  3. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
  4. শরিফ শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা
কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন -১৯৭২:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।
- দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞানী কুদরত-ই-খুদা-কে প্রধান করে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন ১৯৭২ সালে গঠন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে, এবং ঐসব মতামত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাছাই করে প্রণীত রিপোর্টে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করে।
- কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

তথ্যসূত্র - শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২৮২.
নিচের কোন পত্রিকা পাক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ বিষয়ে ‘ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. ডেইলি টেলিগ্রাফ
  2. নিউইয়র্ক টাইমস
  3. ডেইলি নিউজ
  4. উইকস ট্রিবিউন
ব্যাখ্যা
পাক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইটে’র সময় ব্রিটেনের ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার সাংবাদিক সাইমন ড্রিং ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গোপনে অবস্থান করে পাক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
- পরবর্তীতে ৩০শে মার্চ ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় তিনি ‘ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সর্বপ্রথম পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের খবর বহির্বিশ্বে প্রচার করেন।
- এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে বহির্বিশ্ব প্রথম পূর্ব পাকিস্তানে পাক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে জানতে পারে।
- সায়মন ড্রিং গত ১৬ জুলাই ২০২১ রোমানিয়ার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট।
১২,২৮৩.
Who is the director of the documentary 'A State is Born'?
  1. Jahir Raihan
  2. Tanvir Mokammel
  3. Chashi Najrul Islam
  4. Alamgir Kabir
  5. None of these
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক এবং গল্পকার।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ ‘সূর্যগ্রহণ’ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনও আসেনি’ মুক্তি পায়।
- তাঁর লিখিত বইগুলো হচ্ছে—‘শেষ বিকেলের মেয়ে’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘বরফ গলা নদী’ ও ‘আর কত দিন’।
- তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা।
- তিনি ১৯৬৪ সালে ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে ‘কাঁচের দেয়াল’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র বিভাগে নিগার পুরস্কার, ১৯৭২ সালে গল্প সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি প্রদত্ত বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭১, মরণোত্তর), ১৯৭৭ সালে শিল্পকলায় (চলচ্চিত্র) অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (মরণোত্তর)সহ আরো অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

‘এ স্টেট ইজ বর্ন’ (৩৫ মিমি/সাদাকালো/ইংরেজি/২০ মিনিট ৪০ সেকেন্ড):
- চিত্রনাট্য, প্রযোজনা ও পরিচালনা: জহির রায়হান,
- ধারা বর্ণনা রচনা ও পাঠ: আলমগীর কবির,
- চিত্রগ্রহণ– অরুণ রায়, সম্পাদনা: দেবব্রত সেনগুপ্ত।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ৮ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
        iii) ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল।
১২,২৮৪.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের মূলমন্ত্র প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ছিল।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা। 
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,২৮৫.
'মাৎস্যন্যায়' বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) নতুন শাসকের আবির্ভাব
  2. খ) নতুন রাজ্যের জন্ম সময়কাল
  3. গ) অরাজক পরিস্থিতি
  4. ঘ) শান্তি প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায় বলতে এক অরাজক পরিস্থিতিকে বোঝায়।  

- মাৎস্যন্যায়  রাজা শশাঙ্ক এর মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের অব্যবহিত পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়ম্’ বলে উল্লেখ করা হয়।
- শশাঙ্কের (৬০০-৬২৫ খ্রি) মৃত্যুর পর বঙ্গে (গৌড়-বাংলায়) বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়।
- হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর (৬৪৬/ ৬৪৭ খ্রিস্টাব্দ) পর তাঁর সাম্রাজ্যেও নৈরাজ্য ও সংশয় দেখা দিলে, মন্ত্রীরা বলপূর্বক রাজ্য দখল করে নেয়।
- আনুমানিক ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এক শতক কালেরও বেশি সময় ধরে গৌড়ের ইতিহাস অস্পষ্ট ছিলো। 
- শশাঙ্কের রাজত্বের পরবর্তী শতকে বাংলায় শাসন খুব অল্পই স্থিতিশীল ছিল।
- দেশটি অনেক ছোট ছোট রাজ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং তাদের পারস্পরিক যুদ্ধবিগ্রহের ফলে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়।
- আইন-শৃঙ্খলা বিধানে সক্ষম কোন শক্তির অনুপস্থিতির ফলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাই মাৎস্যন্যায়ম্।
- সে সময়ে দৈহিক শক্তির প্রাধান্যে দেশ জুড়ে চলছিল অবাধ্য শক্তির উত্তেজনা।
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল এ বিশৃঙ্খল অবস্থায় রাজ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং মাৎস্যন্যায়মের অবসান ঘটান।

সূত্র: ৩৪ পৃষ্ঠা, বাংলাদেশের ইতিহাস এবং বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৮৬.
মুক্তিবাহিনীর প্রথম গোলন্দাজ ইউনিট কোনটি?
  1. কাদেরিয়া বাহিনী
  2. ক্র্যাক প্লাটুন
  3. মুজিব ব্যাটারি
  4. হেমায়েত বাহিনী
ব্যাখ্যা
মুজিব ব্যাটারি
- পাকিস্তান বাহিনী থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়া গোলন্দাজ কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের নিয়ে গড়ে উঠে মুজিব ব্যাটারি।
- এটি মুক্তিবাহিনীর প্রথম গোলন্দাজ ইউনিট।
- প্রথমে নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন আজিজ পাশা, পরে ক্যাপ্টেন আনোয়ারুল আলম।
- এই বাহিনী ২নং সেক্টরের অধীন ছিল।
- এই বাহিনীর ৬টি কামান ছিল।

এছাড়া,
- বীর উত্তম বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে টাঙ্গাইলে গড়ে উঠে কাদেরিয়া বাহিনী।
- হেমায়েত বাহিনীর প্রধান ছিলেন হেমায়েত উদ্দিন বীর বিক্রম।
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ঢাকায় গেরিলা আক্রমণকারী একদল তরুণ যাদের পরিচালনা করতেন ২নং সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। বাংলাপিডিয়া।
১২,২৮৭.
যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক ২১-দফার প্রথম দাবিটি কী ছিলো?
  1. পাটশিল্পকে জাতীয়করণ করা।
  2. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ঘোষণা করা।
  3. ভাষা শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহিদ মিনার নির্মাণ করা।
  4. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা প্রতিষ্ঠা করা।
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্টের -২১ দফা ছিল নির্বাচনী ইশতেহার ।
 নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

- প্রধান দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা;
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ করা:
৩. পাটশিল্পকে জাতীয়করণ করা।
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রর্বতন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহিদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,২৮৮.
লর্ড ক্যানিং চালু করেন-
  1. ডাকটিকেট
  2. ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা
  3. পাঁচশালা বন্দোবস্ত
  4. কাগজী মুদ্র
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং:
-ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
- তিনি কম্পানির কাছ থেকে শাসনবার ইংল্যান্ডের রানির নিকট হস্তান্তর করেন।
- তিনি ইন্ডিগো কমিশন গঠন করেন ১৮৬০ সালে।
- পুলিশ প্রশাসন চালু করেন ১৮৬১ সালে।
- কাগজী মুদ্রা চালু করেন ১৮৬১ সালে।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
- ফৌজধারি কার্য-বিধি প্রকাশ করেন।

লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রি: স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তন করা হয় ।
- স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ডালহৌসি সর্বপ্রথম সাঁতারা রাজ্য দখল করেন
- স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করেন-মহারানি ভিক্টোরিয়া।
- ডাকটিকেট প্রচলন করেন।
- প্রথম টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপন করেন।

উৎস:
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া
১২,২৮৯.
উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন কে?
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড হার্ডিঞ্জ
ব্যাখ্যা

লর্ড ক্যানিং:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- চার্লস উড শিক্ষা বিষয়ে ১৮৫৪ সালে যে সুপরিশমালা পেশ করেন তা কার্যকর করা হয় তার সময়ে।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- ভারতে তাঁর কর্তব্যপালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৫৯ সালে তাঁকে 'আর্ল' (Earl) মর্যাদায় উন্নীত করা হয়।
- ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে,
-  লর্ড মিন্টো ১৮০৭ থেকে ১৮১৩ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল।
- পুরো নাম গিলবার্ট ইলিয়ট, প্রথম আর্ল অব মিন্টো। 
- তিনি ভারতের রেল ব্যবস্থা প্রবর্তন ও গঙ্গা খাল খননের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,২৯০.
এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা কে ?
  1. ক) লর্ড মাইন্টব্যাটন
  2. খ) স্যার পি জে হার্টজ
  3. গ) স্যার উইলিয়াম জোন্স
  4. ঘ) লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি ১৯৫২ সালের ৩ জানুয়ারি ‘এশিয়াটিক সোসাইটি অব পাকিস্তান’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশ স্বাধীনের পর এটি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি নামধারণ করে।
- এশিয়ার মানুষ ও প্রকৃতি বিষয়ে গবেষণার লক্ষ্যে বাংলাদেশে এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এ সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
- এটির অবস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের পাশে।
- বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় জ্ঞানকোষ ‘বাংলাপিডিয়া’ এশিয়াটিক সোসাইটির উদ্যোগে ২০০৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ১৭৮৪ সালে কলকাতায় সর্বপ্রথম ইংরেজ বিচারপতি উইলিয়াম জোন্সের উদ্যোগে কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটি স্থাপিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া
১২,২৯১.
বখতিয়ার খিলজি বাংলা জয় করেন কত সালে? 
  1. ১২০৬ সালে
  2. ১২০৪ সালে
  3. ১২০৩ সালে
  4. ১২০১ সালে 
ব্যাখ্যা

বখতিয়ার খিলজি:
- ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ-বিন- বখতিয়ার খিলজি নদীয়া জয় করে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজি সমগ্র নদীয়া জয় করেন।
- তিনি জাতিতে তুর্কিদের খিলজি সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- তবে তিনি আফগানিস্তানের গরমিশ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।
- ভারতবর্ষে ভাগ্যের অন্বেষণে এসে শেষ পর্যন্ত অযোধ্যার শাসক মালিক হুশাম উদ্দিনের রাজ্যের পূর্ব সীমান্তে সীমান্তরক্ষীর কাজ পান।

উল্লেখ্য
- তিনি গৌড় বা লক্ষণাবতী (লখনৌতি) জয় করে সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন।
- তার শাসন কেন্দ্র ছিল লক্ষণা বতীতে।
- বখতিয়ার খলজির শাসনামলে বাংলায় যথেষ্ট সংখ্যক মসজিদ, মাদ্রাসা এবং খানকাহ (অতিথিশালা) তৈরি করা হয়।
- ১২০৬ সালে তিনি তিব্বত অভিযানে বের হয়ে ব্যর্থ হন, দিনাজপুরের দেবকোটে ফিরে আসার পর এখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,২৯২.
বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কোন জনপদ গড়ে উঠে?
  1. পুণ্ড্র
  2. বরেন্দ্র
  3. বঙ্গ 
  4. তাম্রলিপ্তি
ব্যাখ্যা

বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি অতি প্রাচীন জনপদ। 
- বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- অনুমান করা হয়, এখানে বঙ্গ বলে একটি জাতি বাস করতো। তাই জনপদটি পরিচিত 'বঙ্গ' নামে।
 প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়-একটি বিক্রমপুর ও আরেকটি নাব্য। ধারণা করা হয়, ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালির নিচু জলাভূমি এ নব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- বঙ্গ রাজ্যে পাঁচজন রাজার নাম পাওয়া যায়। তারা হলেন: ধর্মাদীপ্ত, দ্বাদশাদীপ্ত, সুধন্যাদীপ্ত, গোপচন্দ্র এবং সমাচার দেব।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১২,২৯৩.
১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কয়টি আসনে জয় লাভ করে?
  1. ৩০৬টি
  2. ৩০৭টি
  3. ৩০৮টি
  4. ৩০৯টি
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় নির্বাচন:
- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
- এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পূর্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত মুজিবনগর সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করেন।
- নয় মাসের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। 
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারন আসন ও ১৫টি সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ২টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ১টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা ৬টি আসনে জয়লাভ করেন।
- বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয় 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২৯৪.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা কোন সন ছিল? 
  1. ১৩৫৭
  2. ১৩৫৮
  3. ১৩৫৯
  4. ১৩৬১
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন।
- এবং সেই দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,২৯৫.
Language Martyr Abdus Salam died on-
  1. 21 February 1952
  2. 7 March 1952
  3. 22 March 1952
  4. 7 April 1952
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহস্পতিবার।
- সকালেই সারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাকা পুলিশ কর্ডন করে ফেলে।
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ নেতারা রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান করছিল।
- নেতৃবৃন্দের নির্দেশ সংবলিত চিরকুট জাহানারা লাইজু এবং নিজাম (গাজীউল হকের ছোট ভাই) নামের ২জন বালক ও বালিকা ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেন।
- নেতৃবৃন্দের নির্দেশ অনুসারে দু'জন করে লোক জমায়েত হতে হতে সভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এ সময় শামছুল আলম ১৪৪ ধারা না ভাঙার পক্ষে অভিমত দেন।
- কিছুক্ষণ পর শহীদুল্লাহ কায়সার (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ) এবং তোয়াহা সভাস্থলে উপস্থিত হয়ে সত্যাগ্রহের আকারে ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে অভিমত দেন। বেলা ১১টায় আমতলায় সভা শুরু হয়। 
- সমাবেশ সামছুল হক, কাজী গোলাম মাহবুব, খালেক নেওয়াজ খান প্রমুখ বক্তব্য দিয়ে ১৪৪ ধারা ভাঙার বিপক্ষে মত ব্যক্ত করেন। - কিন্তু আবদুল মতিনের নেতৃত্বে সাধারণ ছাত্র সমাজ ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন।
- এখানে গাজীউল হক, আবদুল মতিন প্রমুখ ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
- সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ১০/১০ জনের একটি করে দল বেরিয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করবে। 
- ঢাকা মেডিকেলে সমবেত ছাতদের ওপর পুলিশ আকস্মিকভাবে গুলিবর্ষণ করে।
- সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রট।
- পুলিশের গুলিতে আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন, আবদুল জব্বার ঘটনাস্থলে নিহত হন।
- আবদুস সালাম গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ এপ্রিল মেডিকেল কলেজে মারা যান।

উৎস: ইতিহাস-৩, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৯৬.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯৬
  2. ১৯৯৮
  3. ২০০০
  4. ২০০৮
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর:
- ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ঢাকার সেগুনবাগিচায় একটি পুরানো দ্বিতল বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দেশের প্রথম জাদুঘর 'মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর' প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মিত নিজস্ব ভবনে 'মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর' স্থানান্তর করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জাদুঘর হলো ‘শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা’। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত যা ১৯৭৬ সালে স্থাপিত হয়।

উৎস:
- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবসাইট।
১২,২৯৭.
জৈন ধর্মের প্রবর্তক কে?
  1. ক) বাল ঠাকরে
  2. খ) মহাবীর
  3. গ) কৌশল্যা
  4. ঘ) গৌতমবুদ্ধ
ব্যাখ্যা
জৈন ধর্মের উদ্ভব প্রাচীন ভারতে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে। মহাবীর হলেন জৈন ধর্মের প্রবর্তক। তার আসল নাম বর্ধমান। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৫৪০ অব্দে জন্মগ্রহণ এবং খ্রিস্টপূর্ব ৪৬৮ অব্দে মারা যান বলে অনুমান করা হয়।
তবে কিছু ঐতিহাসিকের মতে জৈন ধর্মের প্রবর্তক খষভদেব বা আদিনাথ। তাদের মতে জৈন ধর্মের প্রচারক সংখ্যা ২৩ জন এবং এদের মধ্যে মহাবীর হলেন সর্বশেষ প্রচারক।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস ১মপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১২,২৯৮.
স্বাধীনতার প্রথম ডাকটিকিটে কোন ছবি ছিল?
  1. জাতীয় স্মৃতিসৌধ
  2. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
  3. লালবাগের কেল্লা
  4. ষাট গম্বুজ মসজিদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার প্রথম ডাকটিকিট:

- ২৯ জুলাই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাময়িক সরকার ৮টি ডাকটিকিটের একটি সেট আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্য প্রকাশ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ এর পর প্রথম স্মারক ডাকটিকিট ২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৭২, প্রকাশিত হয়।
- প্রথম প্রকাশিত ডাকটিকিটে ছিল ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি।
- তারপর বাংলাদেশ ডাকবিভাগ অবিরাম নির্দিষ্ট স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে চলছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা, উত্তরাধিকার ও সংস্কৃতির উপর।
- বাংলাদেশ ডাকবিভাগ ৭৩২ প্রকার ডাকটিকিট এবং ২৮টি সুভ্যেনির প্রকাশ করেছে।

তথ্যসূত্র - ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
১২,২৯৯.
বাংলাদেশের প্রাচীন জাতি কোনটি?
  1. আর্য
  2. মোঙ্গল
  3. পুণ্ড্র
  4. দ্রাবিড়
ব্যাখ্যা
প্রাচীনকালে আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠীর যে চারটি শাখা বাঙলায় বাস করতো তারা হলো- অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নেগ্রিটো ও ভোটচীনীয়।
বাংলাদেশের আদি অধিবাসীদের মধ্যে প্রাচীনতম হলো অস্ট্রিক।
তারপর যথাক্রমে দ্রাবিড়, মোঙ্গল বা ভোটচীনীয়, আর্য বা নর্ডিক।
উপরের অপশন বিবেচনায় উত্তর হবে দ্রাবিড়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১২,৩০০.
কে সর্বপ্রথম স্বাধীন সুলতানী আমলের সূচনা করেছিলেন?
  1. ক) আলাউদ্দিন খলজি
  2. খ) মুহম্মদ ঘোরি
  3. গ) শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ
  4. ঘ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
ব্যাখ্যা
সুলতানী শাসন:

- ১২০৬ থেকে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগীয় ভারতে পাঁচটি রাজবংশ শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করে।
- এই পাঁচটি রাজবংশের অন্যতম হলো দিল্লির তথাকথিত দাস বংশ। তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১১৯২ খ্রি.) জয়লাভকারী মুইজউদ্দিন মুহম্মদ বিন সাম ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র, তৎকালীন ঘুর রাজ্যের শাসনকর্তা এবং উত্তরাধিকারী গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ তরাইনের যুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি এবং মুহাম্মদ ঘোরির আস্থাভাজন কুতুবউদ্দিন আইবেককে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে সনদ ও 'সুলতান' উপাধি প্রদান করেন। - ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের নেতৃত্বে ভারতে স্বাধীন সুলতানদের শাসনের সূচনা হয়।
- কুতুবউদ্দিন আইবেক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ ইসলামের ইতিহাসে তথাকথিত ‘দাস বংশ' নামে সমধিক পরিচিত।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।