বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১২১ / ১২৪ · ১২,০০১১২,১০০ / ১২,৪২১

১২,০০১.
১৯৬৬ সালে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ‘ছয় দফা’ দাবি কোথায় উথ্থাপন করা হয়?
  1. করাচীতে
  2. লাহোরে
  3. ঢাকায়
  4. ইসলামাবাদে
ব্যাখ্যা
• ঐতিহাসিক ছয়দফা: 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।

• দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

 উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১২,০০২.
বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি দূতগণ কার কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি
  2. খ) প্রধানমন্ত্রী
  3. গ) স্পীকার
  4. ঘ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতগণ মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট পরিচয়পত্র (Credentials) পেশ করেন।
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি হলেন রাষ্ট্রপতি।
- তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
 
সূত্র: রাষ্ট্রপতির কার্যালয়
১২,০০৩.
“Shalban Vihara’’ is an architectural work of which dynasty?
  1. Deva
  2. Chandra
  3. Pala
  4. Rarh
ব্যাখ্যা

• শালবন বিহার:
- শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম।
-কুমিল্লা শহর হতে প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা কোটবাড়ী এলাকায় অবস্থিত।
- খ্রিস্টীয় ৭ম হতে ৮ম শতক পর্যন্ত দেব বংশের শাসন আমলে চতুর্থ রাজা ভবদেব শালবন রাজার প্রাসাদ (শালবন বিহার) নির্মাণ করেন। 
- বর্গাকার বিহারটির চার বাহুতে সর্বমোট ১১৫টি ভিক্ষু কক্ষ, মধ্যভাগে ১টি বৌদ্ধ মন্দির এবং মূল মন্দিরের চারপাশে ছোট ছোট ১০টি মন্দির এবং ১২টি স্তূপের ধ্বংসাবশেষ উন্মোচিত হয়েছে। 
-এখানে কয়েক দফা প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পোড়ামাটির ফলক, ব্রোঞ্জের মূর্তি, নকশাকৃত ইট ও মুদ্রাসহ বিভিন্ন প্রত্নবস্তু আবিষ্কৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
-  তিববতীয় সূত্র থেকে জানা যায় পাল বংশের রাজা ধর্মপাল ভাগলপুরের নিকটে ‘বিক্রমশীলা মহাবিহার’ ও নওগাঁ নির্মাণ করেন। 

তথ্যসূত্র: প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত ঘোষিত পুরাকীর্তির তালিকা, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

১২,০০৪.
ইউনেস্কো কবে ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ৩০ অক্টোবর, ২০১৫
  2. ৩০ অক্টোবর, ২০১৬
  3. ৩০ অক্টোবর, ২০১৭
  4. ৩০ অক্টোবর, ২০১৮
ব্যাখ্যা
৭ মার্চ : ঐতিহাসিক দলিল
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণে সকল বাঙ্গালিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে তালিকাভুক্ত করে।

- ২০২১ সাল থেকে ৭ মার্চ 'ঐতিহাসিক দিবস' হিসাবে পালিত হচ্ছে।
- এই ভাষণের জন্যই ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন দ্য নিউজ উইক বঙ্গবন্ধুকে 'পোয়েট অব পলিটিক্স' বা রাজনীতির কবি হিসাবে অভিহিত করে।
- এই ভাষণের ৪ টি মূল বিষয় ছিল। যথা-
১. সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
২. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
৩. পুলিশ ও সেনাবাহিনী কর্তৃক নিরীহ ও নিরস্ত্র লোকদের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। 

তথ্যসূত্র-পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
১২,০০৫.
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতবার জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে ? 
  1. ৩ বার 
  2. ৪ বার 
  3. ৫ বার 
  4. ৬ বার 
ব্যাখ্যা
- সাধারণভাবে বলা যায় জরুরি অবস্থা বলতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থে কোনো আকস্মিক সংকটকালীন অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য কতিপয় মৌলিক অধিকারের উপর বাধানিষেধ আরোপ করা বোঝায়।
- ১৯৭৩ সালে ২য় সংশোধনীর মাধ্যমে জরুরী অবস্থার বিধান সংযুক্ত করা হয় । 
- এ সংবিধানের ১৪১(ক), ১৪১(খ) ও ১৪১(গ) অনুচ্ছেদের আওতায় দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থা (সর্বাধিক ১২০ দিনের জন্য) ঘোষিত হতে পারে। 
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫ বার জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে।

১. ১৯৭৪ সালের ২৮শে ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা মোকাবেলা করার জন্য জরুরী অবস্থা জারি করেন ।
২. জিয়াউর রহমান খুন হলে উপ-রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি হয়ে  ১৯৮১ সালের ৩০শে মে জরুরী অবস্থা জারি করেন।
৩. ১৯৮৭ সালের ২৭শে নভেম্বর জেনারেল এরশাদ জরুরী অবস্থা জারি করেন।
৪. ১৯৯০ সালের ২৭শে নভেম্বর জেনারেল এরশাদ জরুরী অবস্থা জারি করেন। 
৫. ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ জরুরী অবস্থা জারি করেন। এই দিনটি ১/১১ নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,০০৬.
বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার আয়োজিত দশদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের থিম কী?
  1. মুজিব চিরন্তন
  2. মহানায়ক স্মরণে
  3. চিরঞ্জীব মুজিব
  4. মুজিব অম্লান
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার গত ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ২০২১ দশদিনব্যাপী উৎযাপন কর্মসূচি গ্রহণ করে।
- দশদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের থিম ছিলো ‘মুজিব চিরন্তন’।
- এসব অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিবসে সার্কভুক্ত তিনটি দেশের প্রধানমন্ত্রী (শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও ভারত) এবং দুইটি দেশের প্রেসিডেন্ট (মালদ্বীপ ও নেপাল) উপস্থিত ছিলো।
- এর মধ্যে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্রোগ্রামে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক)
১২,০০৭.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রীসভা কবে গঠিত হয়?
  1. ক) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ১ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১০ই এপ্রিল তারিখে।
- ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল এই সরকারের মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত এ সরকারে
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপরাষ্ট্রপতি,
- তাজউদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী,
- এম মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া পান।
- এম এ জি ওসমানী প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পান।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১২,০০৮.
অপারেশন জ্যাপকট পরিচালিত হয়?
  1. ক) ১০ জুন
  2. খ) ১৭ জুলাই
  3. গ) ১০ অক্টোবর
  4. ঘ) ১৫ আগস্ট
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ কমান্ডোরা এক যোগে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর এবং চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরে হামলা চালায়। এতে পাকিস্তানি বাহিনীর ২৬ টি জাহাজ ও গানভোট ডুবে যায়। নৌ কমান্ডোদের প্রথম পরিচালিত এ অপারেশনের নাম দেওয়া হয় 'অপারেশন জ্যাকপট'। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১২,০০৯.
বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর কে ছিলেন?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড কার্জন
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা

• বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
-ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি।
- বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন অনেক বড় হওয়ার কারণে ১৮৫৩ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত এর সীমানা পুনর্বিন্যাসের অনেক প্রস্তাব ব্রিটিশ সরকারি মহলে উপস্থাপন করা হয়।
- প্রকৃতপক্ষে ১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
- ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন।
- এবং ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়।
- এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ যার রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।
- হিন্দুদের তীব্র আন্দোলনের মুখে, রাজা পঞ্চম জর্জ ১৯১১ সালে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

১২,০১০.
প্রাচীন বাংলার কবি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত কাব্য থেকে কার জীবনকথা জানা যায়?
  1. দেবপাল
  2. ধর্মপাল
  3. রামপাল
  4. মহীপাল
ব্যাখ্যা
রামপাল: 
- বরেন্দ্র যখন কৈবর্তদের দখলে, তখন পাল বংশের শেষ প্রতাপশালী শাসক রাজা রামপাল (১০৮২-১১২৪ খ্রিষ্টাব্দ) পাল সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- প্রাচীন বাংলার কবি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত 'রামচরিত' কাব্য থেকে রামপালের জীবনকথা জানা যায়।
- রামপাল রাজ্যভার গ্রহণ করেই বরেন্দ্র উদ্ধার করতে সচেষ্ট হন।
- রামপালকে সৈন্য, অস্ত্র আর অর্থ দিয়ে সাহায্যে এগিয়ে আসেন উচ্ছল, ঢেক্করি, মগধ, রাঢ় দেশসহ চৌদ্দটি রাজ্যের রাজা।
- যুদ্ধে কৈবর্ত্যরা পরাজিত হলে রামপাল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মালদহের কাছাকাছি 'রামাবতী' নামে নতুন রাজধানী স্থাপন করেন।
- পরবর্তী পাল রাজাদের শাসনকালে রামাবতীই সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল।
- পিতৃভূমি বরেন্দ্রে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর তিনি মগধ, উড়িষ্যা ও কামরূপের ওপর দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২,০১১.
অস্থায়ী প্রবাসী সরকারের সচিবালয় ছিলো কোথায়?
  1. ক) ১২ নং হরনাথ রোড
  2. খ) ৮ নং থিয়েটার রোড
  3. গ) ২৫ নং সার্কাস এভিনিউ
  4. ঘ) ১০ নং ডালহৌসি স্কয়ার
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের অস্থায়ী সচিবালয় স্থাপন করা হয় কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে। বর্তমানে জায়গাটির নাম শেক্সপীয়ার সারণি।
- ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রবাসী সরকার ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর প্রবাসী সরকারের আট সদস্যের একটি অগ্রগামী প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসে।
(তথ্যসূত্রঃ বিবিসি বাংলা এবং বিডিনিউজ)
১২,০১২.
মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশকে ৪টি সামরিক জোনে বিভক্ত করেন কত তারিখে?
  1. ৮ এপ্রিল, ১৯৭১
  2.  ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3.  ১১ এপ্রিল, ১৯৭১
  4.  ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী:
- যে জনযুদ্ধ এনেছে বাংলাদেশের পতাকা, সেই জনযুদ্ধের দাবিদার এদেশের সাত কোটি বাঙালি।
- এই সশস্ত্র যুদ্ধ একটি নির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
- পরিকল্পিত এই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ বাংলাদেশ সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ৪টি যুদ্ধঅঞ্চলে বিভক্ত করেন। এই ৪টি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন:
ক) চট্টগ্রাম অঞ্চল: মেজর জিয়াউর রহমান,
খ) কুমিল্লা অঞ্চল: মেজর খালেদ মোশাররফ,
গ) সিলেট অঞ্চল: মেজর কে এম সফিউল্লাহ,
ঘ) দক্ষিণ পশ্চিম: অঞ্চল মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১২,০১৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ১নং সেক্টরের সর্বশেষ সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর রফিকুল ইসলাম
  2. মেজর জয়নাল আবেদীন
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
ব্যাখ্যা

- ১নং সেক্টর  চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। 
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- এই সেক্টরের পাঁচটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে: 

- ঋষিমুখ (ক্যাপ্টেন শামসুল ইসলাম);
- শ্রীনগর (ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান এবং পরে ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান);
- মনুঘাট (ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান);
- তবলছড়ি (সুবেদার আলী হোসেন);
- এবং ডিমাগিরী (জনৈক সুবেদার)।

- এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার। এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,০১৪.
নিচের কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিলো?
  1. কাগমারী সম্মেলন
  2. আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
  3. যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  4. নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলন
ব্যাখ্যা
- নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলন ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সহ আরো অনেকে এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে।
অন্যদিকে,
- আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন।
- যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ
- কাগমারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১২,০১৫.
ভাষা আন্দোলনে আব্দুস সালাম শহীদ হন-
  1. ক) ২১ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ১১ মার্চ
  3. গ) ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' স্লোগান দিয়ে মিছিল করতে থাকলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
ছাত্র-ছাত্রীও পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে সমবেত হয়ে গণপরিষদের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়।
পুলিশের গুলিতে আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বার ঘটনাস্থলে শহীদ হন। আব্দুস সালাম ঐদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ই এপ্রিল শহীদ হন।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,০১৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুর জেলা কত নং সেক্টরে ছিল?
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

সেক্টরগুলো:
- ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ২ নং সেক্টর,
- হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ: ৩ নং সেক্টর,
- সিলেট জেলার অংশবিশেষ: ৪ নং সেক্টর,
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ: ৫ নং সেক্টর,
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ: ৭ নং সেক্টর,
- কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ৮ নং সেক্টর,
- পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ: ৯ নং সেক্টর,
- সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন: ১০ নং সেক্টর,
- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল: ১১ নং সেক্টর।

উৎস: ২৬ মার্চ ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
১২,০১৭.
কনফুসিয়াস কোন দেশের দার্শনিক ছিলেন?
  1. ক) ইরান
  2. খ) জাপান
  3. গ) চীন
  4. ঘ) ভারত
ব্যাখ্যা
কুনফুসিয়াস চীনের বিখ্যাত দার্শনিক ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক। তার প্রচারিত মতবাদ খ্রিস্টপূর্ব ২০৬ অব্দে ধর্মে পরিণত হয়। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৫৫১ অব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং খ্রিস্টপূর্ব ৪৭৯ অব্দে মারা যান।
(সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
১২,০১৮.
'ওরা ১১ জন' চলচ্চিত্রটি কোন প্রেক্ষাপটে নির্মিত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ওরা ১১ জন:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র 'ওরা ১১ জন'।
- পরিচালক: চাষী নজরুল ইসলাম।
- প্রযোজক: মাসুদ পারভেজ সোহেল।

⇒ এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, হাসান ইমাম, এ টি এম শামসুজ্জামান, খলিল উল্লাহ প্রমুখ। সিনেমায় অভিনয় করা ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার ১০ জনই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে আছেন খসরু, মুরাদ, হেলাল, নান্টু। ছবির নামটি প্রতীকী।

উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং ১৯৬৮-৬৯ সালে ছাত্ররা ১১ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন করে। এখান থেকে ছবির নামকরণ হয়েছে ‘ওরা ১১ জন'।

উৎস: প্রথম আলো।
১২,০১৯.
নিচের কোন সালটি অধিবর্ষ ( Leap Year)?
  1. ক) ২০০৬
  2. খ) ২০১৬
  3. গ) ২০২৬
  4. ঘ) ২০২১
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

অধিবর্ষ বের করার নিয়মঃ

শর্ত-১ঃ সালটি যদি ৪ দিয়ে নিঃশেষে বিভাজ্য হয় এবং ১০০ দিয়ে না হয় তাহলে অধিবর্ষ। যেমন, ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ ।

অথবা, শর্ত-২ঃ সালটি যদি ৪, ১০০ এবং ৪০০ সবগুলো দিয়েই নিঃশেষে বিভাজ্য হয় তাহলে অধিবর্ষ। যেমন, ১৬০০, ২০০০ এবং ২৪০০।

শর্ত-২ মানতে না পারায় কিছু সাল অধিবর্ষ নয়। যেমন- ১৭০০, ১৮০০, ১৯০০, ২১০০, ২২০০, ২৩০০ ইত্যাদি।
আমরা ছোটবেলা থেকেই জানি, শুধু ৪ দিয়ে নিঃশেষে বিভাজ্য হলেই কোন সাল অধিবর্ষ হয়। আসলে শুধু ৪ নয়, অধিবর্ষের সাথে ১০০ এবং ৪০০ সংখ্যাগুলোও জড়িত।

এখন আমরা এর “Behind the scene” জানবোঃ
আমরা সবাই জানি ৩৬৫ দিনে এক বছর ধরা হলেও, আরো ৫ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট ১২ সেকেন্ড অবশিষ্ট থেকে যায়। এই অতিরিক্ত সময় যোগ হয়ে হয়ে ৪ বছর পর পর ফেব্রুয়ারি মাসের সাথে এক দিন যোগ হয়ে ২৯ দিন হয়।
এই ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট ১২ সেকেন্ডকে যদি দশমিকে প্রকাশ করি তা হয় ৩৬৫.২৪২৫ দিন।
অর্থাৎ, ৩৬৫.২৪২৫ = ৩৬৫ + (১/৪) – (১/১০০) + (১/৪০০) ।
তাই দেখা গেছে যে, চার বছর পর পর লিপ-ইয়ার ধরলে প্রতি চারশ বছরে ৩ দিন (প্রায় ৭২ ঘন্টা) সময় বেশি ধরা হয়ে যায়। এই সমস্যার সমাধানের জন্য যেসব বছর ১০০ দ্বারা বিভাজ্য, কিন্তু ৪০০ দ্বারা নয় তাদের লিপ-ইয়ার বা অধিবর্ষের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়।
উৎসঃ নাসা, মাইক্রোসফট, ব্রিটানিকা ইত্যাদি।

১২,০২০.
বৃহত্তর রংপুর জেলা মুক্তিযুদ্ধে কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. চার নম্বর
  2. ছয় নম্বর
  3. আট নম্বর
  4. নয় নম্বর
ব্যাখ্যা
সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ৬ নং সেক্টর গঠিত হয়েছিল।
প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
১২,০২১.
রাজা রামমোহন রায় 'ব্রাহ্মসমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ক) ১৮১৮
  2. খ) ১৮২১
  3. গ) ১৮২৮
  4. ঘ) ১৮২৯
ব্যাখ্যা
বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০২২.
গেরিলা চলচ্চিত্রের পটভূমি কোন উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত?
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. নিষিদ্ধ লোবান
  3. জাহান্নাম হইতে বিদায়
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা

গেরিলা চলচ্চিত্র:
- গেরিলা ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র।
- নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে চলচ্চিত্রটি।
- যৌথভাবে চিত্রনাট্য রচনা করেছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও এবাদুর রহমান।
- এটি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার' পেয়েছে।

উল্লেখ্য,
- নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাংলা স্বাধীনতার বীরমুক্তিযোদ্ধা।
- তিনি নাট্য নির্দেশক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংগঠক।
- ১৯৫০ সালের ১৫ এপ্রিল নাসিরউদ্দিন ইউসুফ জন্মগ্রহন করেন।
- তার বিভিন্ন চলচ্চিত্রের মধ্যে একাত্তরের যীশু, গেরিলা ও আলফার উল্লেখযোগ্য।
- রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক (২০২০) সহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরষ্কার-সম্মাননা পেয়েছে।

উৎস:  প্রথম আলো।

১২,০২৩.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে জুলিও কুরি শান্তি পদক এর জন্য মনোনীত হন?
  1. ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর
  2. ১৯৭৩ সালের ২৩ মে
  3. ১৯৭২ সালের ২৩ মে
  4. ১৯৭৩ সালের ১০ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
জুলিও কুরি শান্তি পদক ও বঙ্গবন্ধু  
- বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৫০ সাল থেকে মানবতার কল্যাণে ও শান্তির সপক্ষে বিশেষ অবদানের জন্য বরণীয় ব্যক্তি ও সংগঠনকে শান্তি পদকে ভূষিত করে আসছে।
- ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি ১৯৫৮ সালে মৃত্যুবরণ করলে বিশ্বশান্তি পরিষদ তাদের শান্তি পদকের নাম ১৯৫৯ সাল থেকে রাখে ‘জোলিও ক্যুরি শান্তি পদক’। 
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্তিয়াগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্য মনোনীত করা হয়। 
- ১৯৭৩ সালের ২৩ মে তাঁকে জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করা হয়েছিল। 
- সেই দিন বিশ্ব শান্তি পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বলেন ‘শেখ মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধু নন, আজ থেকে তিনি বিশ্ববন্ধুও বটে’।

- বঙ্গবন্ধুর আগে যারা ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক লাভ করেছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-
. কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো,
. ভিয়েতনামের হো চি মিন,
. ফিলিস্তিনের ইয়াসির আরাফাত,
. চিলির সালভেদর আলেন্দে,
. দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা,
. কবি ও রাজনীতিবিদ পাবলো নেরুদা,
. আমেরিকার মার্টিন লুথার কিং
. ভারতের জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, মাদার তেরেসা,সহ প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো। দৈনিক ইত্তেফাক।
১২,০২৪.
Which of the following pictures was depicted in the first postage stamp of Bangladesh after the Liberation war in 1971?
  1. Water Lily flower
  2. Jackfruit
  3. Royal Bengal Tiger
  4. Martyr Monument
  5. None of these
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- ১৯৫৭ সালে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহিদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহিদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহিদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- শহিদ মিনার প্রথম নির্মিত হয় ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি।
- শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উচ্চ ও ৬ ফুট চওড়া।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।

⇒ স্বাধীনতার পর প্রকৃতির প্রথম ডাকটিকেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এর ছবি ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২,০২৫.
আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  3. মনসুর আলী
  4. অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বলতে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে বোঝানো হয়।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী বৈদ্যনাথতলায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে গণপরিষদ সদস্য অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- ঘোষণার মাধ্যমে নবগঠিত আইন পরিষদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য,
- মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ।
- মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত ও উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশপ্রধান মাহবুব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে আনসার, পুলিশ ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত ১২ সদস্যের একটি যৌথ দল।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১২,০২৬.
‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় -
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯৯ সালে
  3. ২০০৯ সালে
  4. ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
• শেখ মুজিব আমার পিতা:
- প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার লেখা বই ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’।
- শেখ হাসিনার ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ বইটি প্রথম বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালে কলকাতা বইমেলায়। 
- কলকাতার বইমেলা উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- কলকাতার প্রকাশনা সংস্থা ‘সাহিত্যম প্রকাশনালয়’ মেলায় বইটি প্রকাশ করে।

তথ্যসূত্র: ঢাকা টাইমস (৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭)।
১২,০২৭.
মীর জুমলা কোন সালে পুনরায় ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন?
  1. ১৬১০ সালে
  2. ১৬৫০ সালে
  3. ১৬৬০ সালে
  4. ১৭১৭ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৬১০ সালের ১৬ জুলাই সুবাদার ইসলাম খান চিশতী সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন এবং নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর।
- এই নাম সম্রাট জীবিত থাকা পর্যন্ত বহাল ছিল।
-এরপর ১৬৫০ সালে সুবাদার শাহ সুজা পুনরায় বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহলে নিয়ে যান।
-কিন্তু ১৬৬০ সালে মীর জুমলা পুনরায় ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন যা ১৭১৭ সাল পর্যন্ত বজায় ছিল।
-১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- পরবর্তী ১৯০৫ থেকে ১৯১১ এবং ১৯৪৭ সাল থেকে ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে ছিলো।
-১৯৭১ সাল থেকে ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী।

উৎস: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।

১২,০২৮.
কত তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় মিত্রঃবাহিনী বাংলাদেশ ত্যাগ করে?
  1. ১২ মার্চ, ১৯৭২
  2. ৫ মার্চ, ১৯৭২
  3. ১৮ মার্চ, ১৯৭২
  4. ২৮ মার্চ, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
ভারতীয় মিত্রবাহিনীর বাংলাদেশ ত্যাগ:
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগে ভারতে কিছুক্ষণের যাত্রাবিরতি নিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ওই সময় তিনি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কবে বাংলাদেশ ত্যাগ করবে তা জানতে চান।  
- ইন্দিরা গান্ধী কথা দিয়েছিলেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে সব সৈন্য ফিরিয়ে আনা হবে।
- এরপর স্বাধীনতার তিন মাসের মধ্যে ১৯৭২ সালের ১২ মার্চে ভারতীয় সৈন্যদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
- ১৯৭২ সালের এই দিনে তাদের বিদায়ী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলা ট্রিবিউন। [লিঙ্ক]
১২,০২৯.
'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচিটি মূলত কোন আন্দোলনের অংশ ছিল?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. কোটা সংস্কার আন্দোলন
  3. ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন
  4. নিরাপদ সড়ক আন্দোলন
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্লকেড:
- কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
- ৫ জুন, ২০২৪ তারিখে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করার পর আবার এই আন্দোলন শুরু হয়।
- এটি বাতিলের দাবিতে ৭ জুলাই, ২০২৪ তারিখে সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
- শাহবাগ মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্ধারিত হওয়া এই কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘বাংলা ব্লকেড’।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সে সময় কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার। পরে ২০২১ সালে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করলে গত ৫ জুন এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ফিরে আসে কোটা ব্যবস্থা।
- সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
 
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.

১২,০৩০.
স্বাধীন বাংলাদেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয় কবে? 
  1. ৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  2. ৪ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. ৪ আগস্ট, ১৯৭২
  4. ৪ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী রাষ্ট্র:
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান (পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে) এবং দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ২৫ মে ১৯৭২।
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ৪ এপ্রিল, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ১৫ মে, ১৯৭২।
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়- ইরাক।
- ইরাক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়- ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।

উৎস: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।

১২,০৩১.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি কত তারিখে সরকারিভাবে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  2. ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি
  3. ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর
  4. ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

জাতীয় পতাকা:
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- আয়তাকার এই পতাকার অনুপাত হচ্ছে অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

⇒ ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পতাকা উত্তোলন করেন সে পতাকার আদলে মুজিবনগর সরকার জাতীয় পতাকার নমুনা নির্ধারণ করেন।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।
- তিনি একজন ছাত্রনেতা ও স্বভাব আঁকিয়ে ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১১৬ নং কক্ষে রাত এগারটার পর পুরো পতাকার নকশা সম্পন্ন করেন।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১২,০৩২.
ইলিয়াস শাহ নিচের কোন উপাধি ধারণ করেন?
  1. শাহ-ই-বাঙ্গালা
  2. শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান
  3. হুসেন শাহ
  4. ক ওখ উভয়ই
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সুলতানি আমল:
- ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- এভাবে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা হয়।
- তবে সমগ্র বাংলার এক বৃহদাংশ অধিকার করে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করার মাধ্যমে সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন বলে ধরা হয়।
- ইলিয়াস শাহ 'শাহ-ই-বাঙ্গালা' ও 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' উপাধি ধারণ করেন।
- স্বাধীন সুলতানি আমলের অপর অন্যতম উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ।  

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১২,০৩৩.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিখ্যাত ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫৬ সালে
  2. খ) ১৯৬৬ সালে
  3. গ) ১৯৬৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয়দফা ঘোষণা
- ৬ দফা আন্দোলন বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা।
- পাক-ভারত যুদ্ধ সমাপ্ত হলে ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে নিখিল পাকিস্তান জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লাগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা ঘোষণা করেন।
- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসনসহ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবি সম্বলিত 'ছয় দফা কর্মসূচি' সম্মেলনে পেশ করার চেষ্টা করেন।
- যা ঐতিহাসিক ছয় দফা নামে পরিচিত।
- ‘বাঙালির দাবি ছয় দফা, বাঁচার দাবি ছয় দফা' প্রভৃতি স্লোগানে মূখরিত হয় পূর্ব পাকিস্তান।
- ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটি ‘আমাদের বাঁচার দাবি ছয় দফা' নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- ১৯ মার্চে কাউন্সিল অধিবেশনে ‘ছয় দফা কর্মসূচি' অনুমোদন লাভ করে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,০৩৪.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. খ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. গ) এ কে ফজলুল হক
  4. ঘ) খাজা নাজিমউদ্দিন
ব্যাখ্যা
১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে রয়েছে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ভিকারউল মুলক, নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী, আগা খান প্রমুখ।
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। এর ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১২,০৩৫.
সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী কোনটি?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. কর্ণফুলী
  4. গড়াই
ব্যাখ্যা
⇒ সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম: পদ্মা।
- জেলার সংখ্যা: ১২টি।

⇒ সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম: মেঘনা।
- উপজেলার সংখ্যা: ৩৬টি।

⇒ সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত বিভাগের নাম: ঢাকা।
- নদীর সংখ্যা: ২২২টি।

⇒ সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত জেলার নাম: সুনামগঞ্জ।
- নদীর সংখ্যা: ৯৭টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।
১২,০৩৬.
বঙ্গ নামটি প্রাচীনকালের কোন গ্রন্থে পাওয়া যায়?
  1. ঐতরেয় আরণ্যক
  2. মহাভারত
  3. রামায়ণ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
→ ঐতরেয় আরণ্যক, মহাভারত, রামায়ণ সবগুলো গ্রন্থে বঙ্গ নামটি পাওয়া য়ায়।

• বঙ্গ জনপদ:

- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- মহাভারত, রামায়ণ ও হরিবংশেও রয়েছে বঙ্গ প্রসঙ্গ।
- মহাকবি কালীদাসের রঘুবংশ কাব্যে আছে বঙ্গের অবস্থান ও সীমানা সম্পর্কিত।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলেছেন।
- আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির 'গঙ্গরিডাই'। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল।
- কারণ এ দেশের প্রাচীন রাজাগণ সারাদেশে চওড়া 'আল' নির্মাণ করতেন।
- সেজন্যে 'বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্বদ্যালয়।
১২,০৩৭.
বাংলার কোন সুলতানের শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হয়?
  1. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  2. নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ
  3. আলাউদ্দিন হােসেন শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
• সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান। 
• তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হুসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। 
• তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন। 
• তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত। 
• তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 
• তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন। 
• তাঁর সমাধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাঁরই প্রতিষ্ঠিত ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত। 
---------------------
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ: কৃতিত্ব- 

অত্যুজ্জ্বল রাজত্বকাল: মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসে হোসেন শাহের রাজত্বকাল অত্যুজ্জ্বল ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। তার শাসনামলে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।

সামরিক বিজয়: হুসেন শাহ কামরূপ ও কামতা জয় করেন। ঊড়িষ্যা এবং ত্রিপুরার কিছু অংশ তার শাসনাধীন আসে। এছাড়া তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।

প্রশাসন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ:
তিনি বাংলার রাজনীতি হাবসি দাসদের প্রভাবমুক্ত করেন এবং প্রশাসন ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেন।

শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা:
ক্ষমতাগ্রহণের পর তিনি রাজ্যের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।

দিল্লীর আক্রমণ প্রতিহত:
দিল্লীর লোদী সাম্রাজ্যের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য তিনি রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।

হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি:
তিনি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রতি স্থাপনের জন্য প্রচেষ্টা চালান, যা তৎকালীন সমাজজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

সাহিত্যানুরাগী:
হুসেন শাহ সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার শাসনামলে বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটে। তার সময়ের বিখ্যাত কবিদের মধ্যে ছিলেন রূপ গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, এবং পরাগল খান।

তথ্যসূত্র:
- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
- বাংলাপিডিয়া।
১২,০৩৮.
'শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস' মূলত কোন সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড স্মরণে পালন করা হয়?
  1. ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে
  2. ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে
  3. ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে
  4. ১৯৬৯ সালের নভেম্বর মাসে
ব্যাখ্যা
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস:
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ১৪ ডিসেম্বর 'শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস' পালন করা হয়।
- বুদ্ধিজীবী হত্যা ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।
- ১৪ ডিসেম্বরকে বুদ্ধিজীবীদের নিধনযজ্ঞের দিন হিসেবে স্মরণ করা হলেও মূলত ১০ ডিসেম্বর ইতিহাসের এ ঘৃণ্যতম অপকর্মের সূচনা হয়।
- মূলত ১০ ডিসেম্বর থেকেই রাতের আঁধারে তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের বাসা থেকে চোখ বেঁধে রায়েরবাজার ও মিরপুর বধ্যভূমিতে নিয়ে গুলি ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
- বাঙালি বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানি, আইনজীবী, শিল্পী, দার্শনিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদগণ এই সুপরিকল্পিত নিধনযজ্ঞের শিকার হন। 
- পাকিস্তানি সামরিক শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশনা ও মদদে একশ্রেণীর দালালরা এই হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে।
 
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১২,০৩৯.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং তফসিলে সংযুক্ত করা হয়?
  1. ক) ৪র্থ
  2. খ) ৫ম
  3. গ) ৬ষ্ঠ
  4. ঘ) ৭ম
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
-  স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৭ম তফসিলে ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযুক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের ৭(খ) অনুচ্ছেদ একটি মৌলিক কাঠামো রূপে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দান করেছে ।
 
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১২,০৪০.
মুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রথম স্মারক ভাস্কর্য-
  1. ক) জাগ্রত চৌরঙ্গী
  2. খ) জাগ্রত একাত্তর
  3. গ) রাজু ভাস্কর্য
  4. ঘ) অপরাজেয় বাংলা
ব্যাখ্যা

জাগ্রত চৌরঙ্গী
- জয়দেবপুর চান্দনা চৌরাস্তা, গাজীপুর-এ অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রথম স্মারক ভাস্কর্য হলো জাগ্রত চৌরঙ্গী।
- মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ১৯৭১ সালে ১৯ শে মার্চ গাজীপুরে সংঘটিত প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামের চেতনার আলোকে ও শহীদ হুরমত আলীসহ অন্যান্য শহীদদের স্মরনে নির্মিত হয় জাগ্রত চৌরঙ্গী। - ভাস্কর্যটির উচ্চতা মাটি থেকে ১০০ (একশত) ফুট। দুপাশে ১৬ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১১ নং সেক্টরের ১০৭ জন এবং ৩নং সেক্টরের ১০০ জন শহীদ সৈনিকের নাম খোদাই করা রয়েছে।
- ভাস্কর্যটি ১৯৭৩ সালে নির্মাণ করেন শিল্পী আব্দুর রাজ্জাক।

তথ্যসূত্র:- গাজীপুর সদর উপজেলার ওয়েবসাইট।

১২,০৪১.
গৌড়ের নাম 'জান্নাতাবাদ' কে রাখেন?
  1. শেরশাহ
  2. জাহাঙ্গীর
  3. আকবর
  4. হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
- মুঘল সম্রাট বাবর ও তাঁর পুত্র হুমায়ুন হুসেন শাহি যুগের শেষ দিক থেকেই চেষ্টা করেছিলেন বাংলাকে মুঘল অধিকারে নিয়ে আসতে।
- কিন্তু আফগানদের কারণে মুঘলদের এ উদ্দেশ্য প্রথম দিকে সফল হয়নি।
- আফগান নেতা শের খান শূরের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন সম্রাট হুমায়ুন।
- সমগ্র ভারতের অধিপতি হওয়ার স্বপ্ন ছিল শের খানের তাই গোপনে তিনি নিজের শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকেন।
- এ লক্ষ্যে অল্প সময়ের মধ্যে শের খান শক্তিশালী চুনার দুর্গ ও বিহার অধিকার করেন।
- তিনি ১৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দে দুইবার বাংলার রাজধানী গৌড় আক্রমণ করেন।
- এর পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লির মুঘল সম্রাট হুমায়ুন শের খানের পিছু ধাওয়া করে বাংলার রাজধানী গৌড় অধিকার করে নেন।
- গৌড়ের চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে হুমায়ুন এর নামকরণ করেন 'জান্নাতবাদ'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১২,০৪২.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সময়কাল ছিল কত দিন?
  1. ৬০ দিন
  2. ৫৬ দিন
  3. ৫০ দিন
  4. ৬৫ দিন
ব্যাখ্যা

- মাত্র ৫৬ দিন যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার বহাল ছিল।

যুক্তফ্রন্ট: 

- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট ১৪ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ও বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিলে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
-  অবশেষে কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ সরকার ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২ (ক) ধারা বলে ১৯৫৪ সালের ৩০শে মে যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল করে পূর্ব বাংলায় গভর্নরের শাসন জারি করে।
- এ শাসন ১৯৫৫ সালের ২রা জুন পর্যন্ত বহাল থাকে।
- মাত্র ৫৬ দিনের শাসনের পর যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান হয়।
- মাত্র চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন হয়।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে।
- যুক্তফ্রন্টের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।

১২,০৪৩.
প্রতাপাদিত্য, চাঁদ রায়, কেদার রায় প্রমুখ কে ছিলেন?
  1. রাজপুত
  2. বাংলার সুলতান
  3. বাংলার জমিদার
  4. বাংলার নবাব
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- বাংলার স্থানীয় প্রধান ও জমিদার, যাঁরা আকবর ও জাহাঙ্গীর এর রাজত্বকালে মুগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
- বারো-ভূঁইয়া শব্দটির অর্থ বারোজন ভূঁইয়া। 
- বারো ভূঁইয়া শব্দটি নির্ভুলভাবে বারোজন ভূঁইয়া বা প্রধানকে বোঝায় না; বহু সংখ্যক বুঝাতে এ শব্দটি ব্যবহূত হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে বাংলায় আফগান শাসনামল ও মুগল শক্তির উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে এদেশের বিভিন্ন এলাকা বহু সামরিক প্রধান, ভূঁইয়া এবং জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- তারা কখনও যৌথভাবে এবং বেশিরভাগ সময় পৃথকভাবে মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন এবং স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন শাসকরূপে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা শাসন করেছিলেন। 
- সমগ্র বাংলাকে বিবেচনায় নিলে ভূঁইয়াদের সংখ্যা বারোর চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
- আকবরের বিরুদ্ধে লড়াইরত ঈসা খান তাঁর রাজত্বকালেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং তাঁর পুত্র  মুসা খান তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে জাহাঙ্গীরের আমলে নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
- আকবরের রাজত্বকালে চাঁদ রায় ও কেদার রায় ছিলেন বিক্রমপুর ও শ্রীপুরের জমিদার। 
- যশোহরের জমিদার প্রতাপাদিত্য নিহত হন ইসলাম খানের সময়ে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া।
১২,০৪৪.
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গেরিলা বাহিনী ক্র্যাক প্লাটুন কোন সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেয়?
  1. ২ নং সেক্টর
  2. ৩ নং সেক্টর
  3. ১১ নং সেক্টর
  4. ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ২নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশারফের উদ্যোগে এই গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলা হয়।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক সমকাল)
১২,০৪৫.
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নাটক-
  1. সুবচন নির্বাসনে
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. কবর
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• কাছাকাছি উত্তর হিসেবে অপশন (ঘ) নেওয়া হয়েছে।

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়:

- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধবিষয়ক কাব্যনাট্য।
- এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

অন্যদিকে,
- ‘সুবচন নির্বাসনে’ - আবদুল্লাহ আল মামুনের একটি বিখ্যাত নাটক। নাটকের পটভূমি দেশের একটি মধ্যবিত্ত পরিবার।
- ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ - পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।

সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক মূলত একজন লেখক ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৫ সালে ২৭ ডিসেম্বর; কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যনাট্যগুলো হলো:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,০৪৬.
মানচিত্রখচিত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার নকশাকার ছিলেন -
  1. কামরুল হাসান
  2. মোস্তফা মনোয়ার
  3. জয়নুল আবেদিন
  4. শিব নারায়ণ দাস
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- আয়তাকার এই পতাকার অনুপাত হচ্ছে অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

⇒ ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পতাকা উত্তোলন করেন সে পতাকার আদলে মুজিবনগর সরকার জাতীয় পতাকার নমুনা নির্ধারণ করেন।
- শিবনারায়ণ দাস মানচিত্রখচিত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।
- তিনি একজন ছাত্রনেতা ও স্বভাব আঁকিয়ে ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১১৬ নং কক্ষে রাত এগারটার পর পুরো পতাকার নকশা সম্পন্ন করেন।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীতে, ১৯৭২ সালে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে কামরুল হাসান এই পতাকার নকশার মানচিত্রটি বাদ দিয়ে বর্তমান রূপ দেন।

উৎস: i) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
ii)  প্রথম আলো।
১২,০৪৭.
বঙ্গবন্ধু কর্তৃক 'ছয় দফা' ঘোষিত হয় কত তারিখ?
  1. ক) ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
  2. খ) ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
  3. গ) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  4. ঘ) ৩ জানুয়ারি, ১৯৬৮
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ছয় দফা দাবী কে বাঙালির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয়। 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী ঘোষণা করেন। 
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয়। 
- একই বছরের ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন। 
- ৭ জুন ছয় দফা দিবস পালিত হয়। 

ছয় দফা দফাগুলো হলো- 
১। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, 
২। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা, 
৩। মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা, 
৪। রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা, 
৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং 
৬। আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৪৮.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার কত নং দফায় লাহোর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ আছে?
  1. ৬ নং
  2. ১৯ নং
  3. ৮ নং
  4. ২১ নং
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।

⇒ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ছিল নিম্নরূপ:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা,
২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল। সুতরাং এই ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয় যার প্রেরণা ছিল ভাষা আন্দোলন। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,০৪৯.
কোন বিদেশী পত্রিকা বঙ্গবন্ধুকে 'রাজনীতির কবি' (Poet of Politics) উপাধি দিয়েছিলেন?
  1. নিউজ উইকস
  2. দি ইকোনমিস্ট
  3. টাইম
  4. গার্ডিয়ান
ব্যাখ্যা
Poet of Politics:
- রাজনীতির কবি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা।
- ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সাংবাদিক লোরেন জেঙ্কিন্স সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকস পত্রিকায় তার প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' বা Poet of Politics বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
- সকল শ্রেণী ও আদর্শের অনুসারীদের একতাবদ্ধ করার জন্য সম্ভবত তাঁর 'স্টাইল' সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল।

উল্লেখ্য,
- নিউজউইকস যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন।
- ১৯৩৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
ii) দৈনিক জনকণ্ঠ।
১২,০৫০.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুসারে, বাংলাদেশের রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৩০৫৪ কিলোমিটার
  2. ৩১৫৪ কিলোমিটার
  3. ৩২৫৪ কিলোমিটার
  4. ৩৩৫৪ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ রেলওয়ে:
- যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলওয়ে একটি পরিবেশ বান্ধব, নিরাপদ এবং সুলভে মালামাল পরিবহণের নির্ভরশীল মাধ্যম। 
- বাংলাদেশে প্রধানত তিন ধরনের রেলপথ রয়েছে। যথা:
১) মিটারগেজ রেলপথ  ২) ব্রডগেজ রেলপথ  ৩) ডুয়েলগেজ রেলপথ

• অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫:
- জাতীয় মহাসড়ক: ৪২৯৪ কিলোমিটার।
- আঞ্চলিক মহাসড়ক: ৫০৪০ কিলোমিটার।
- রেলপথ: ৩২৫৪ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া  ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫। 

১২,০৫১.
মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান কে?
  1. শশাঙ্ক
  2. গোপাল
  3. ধর্মপাল
  4. অশোক
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মাৎস্যন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ। লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান গোপাল।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,০৫২.
তৎকালীন পাকিস্তানের কোন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল?
  1. জেনারেল আইয়ুব খান
  2. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  3. খাজা নাজিমউদ্দীন
  4. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান:
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে শহরে ও গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। 
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠে যা ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- আইয়ুব খানের পতনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের দুই অংশের মানুষ প্রথমবার একসাথে আন্দোলনে নামে।
- আইয়ুব খানের পতনের মধ্যে দিয়ে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
- পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এই আন্দোলন ছিল সবচেয়ে বড় আন্দোলন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্ট পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে খাজা নাজিমউদ্দীন পূর্ব বাংলার (পূর্বপাকিস্তান) মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন। 
- ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জিন্নাহ ইন্তেকাল করলে তিনি ১৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল পদে অধিষ্ঠিত হন।
- ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ জেনারেল আইয়ুব খান জেনারেল ইয়াহিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,০৫৩.
বঙ্গভঙ্গ হয় কত সালে?
  1. ১৭৫৭
  2. ১৮৫৭
  3. ১৯৪৭
  4. ১৯০৫
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ :
- বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৭৬৫ সাল থেকে বিহার ও উড়িষ্যা সমন্বয়ে গঠিত বাংলা ব্রিটিশ ভারতের একটি একক প্রদেশ হিসেবে বেশ বড় আকার ধারণ করেছিল।
- এর ফলে প্রদেশটির প্রশাসনকার্য পরিচালনা দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে এবং এজন্য এটিকে বিভক্ত করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
- বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাবসমূহ ১৯০৩ সালে প্রথম বিবেচনা করা হয়।
- কার্জনের প্রারম্ভিক কর্ম-পরিকল্পনা প্রশাসনিক কার্যকারিতার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।
- বঙ্গভঙ্গ, লর্ড কার্জন (১৮৯৮-১৯০৫) ভাইসরয় থাকাকালীন সময়ে ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর কার্যকর হয়। 
- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ'।
- ঢাকায় এ নতুন প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয়।
- পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ’ প্রদেশ। এর রাজধানী হয় কলিকাতা । 

- বঙ্গভঙ্গের পর নবগঠিত ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের' গভর্নর নিযুক্ত হন এনডু ফ্রেজার।
- নবাব স্যার সলিমুল্লাহ্ বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে পূর্ববঙ্গের মুসলমান জনগণকে সংগঠিত করেন। 

- ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে।
- রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লী দরবারে এ ঘোষণা দেন।  

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং
           ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১২,০৫৪.
'প্রাথমিক শিক্ষার উপবৃত্তি প্রকল্প' এর অধীনে ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর মাসিক উপবৃত্তির পরিমাণ কত?
  1. ২৫০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3. ১৫০ টাকা
  4. ৩০০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রাথমিকে উপবৃত্তি:
- দারিদ্রপীড়িত শিশুদের স্কুল গমন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৯৩ সালে শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচী (FFE) গ্রহণ করে।
- (FFE) কর্মসূচীর সাফল্য বিবেচনায় সরকার ১৯৯৯ সালে পৌর এলাকা বাদে অবশিষ্ট ৭৩% এলাকার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পভুক্ত করে ছাত্র-ছাত্রীকে মাসিক ২৫.০০ টাকা হারে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প চালু করা হয়।
- উভয় প্রকল্পের সুফল বিবেচনায় ২০০২ সালে প্রকল্প দুইটি একীভূত করে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প (২০০২-২০০৭) চালু করা হয়।
- পরবর্তীতে এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় যা ২০০৮ সালে শেষ হয়।
- প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প (২য় পর্যায়) ২০০৯ সালে চালু হয়ে জুন ২০১৫ সালে সমাপ্তির পর প্রকল্পের ৩য় পর্যায়ের কার্যক্রম জুলাই ২০১৫ থেকে শুরু হয়ে জুন ২০২১-এ সমাপ্ত হয়।
- নির্দিষ্ট দারিদ্র্য ম্যাপের সীমারেখা আবদ্ধ না রেখে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প (৩য় পর্যায়)-এ সরকার সমগ্র দেশকে প্রকল্প এলাকা ঘোষণা করেন।

⇒ সুবিধাভোগী প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসিক নিম্নোক্ত হারে উপবৃত্তি প্রাপ্য হবে:
• প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি: প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসিক ৭৫ (পঁচাত্তর) টাকা হারে উপবৃত্তির অর্থ প্রাপ্য হবে।
• প্রথম-পঞ্চম শ্রেণি: কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) টাকা, দুইজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ৩০০ (তিনশত) টাকা হারে উপবৃত্তির অর্থ প্রাপ্য হবে।
• ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণি: যে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি চালু রয়েছে সে সকল বিদ্যালয়ে কোন পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ২০০ (দুইশত) টাকা, দুইজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ৪০০ (চারশত) টাকা হারে উপবৃত্তির অর্থ প্রাপ্য হবে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। [link]

১২,০৫৫.
সরকারি গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা কতজন?
  1. ৮৩৬ জন
  2. ৮৩৭ জন
  3. ৮৩৮ জন
  4. ৮৩৯ জন
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর শহীদদের গেজেট:
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এ শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করেছে।
- সরকারি এ গেজেট অনুযায়ী, ওই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন৷
- সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ২ আগস্ট পর্যন্ত শহীদের সংখ্যা ছিল ৮৪৪ জন।
- ৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে ৮ জনের নাম বাদ দিয়ে আরেকটি গেজেট করেছে মন্ত্রণালয়। এই গেজেট অনুযায়ী, শহীদের সংখ্যা এখন ৮৩৬ জন।

উল্লেখ্য:
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ তহবিল করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রথম আলো।

১২,০৫৬.
শরীফ শিক্ষা কমিশন কত তারিখ গঠন করা হয়?
  1. ক) ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৫৮
  2. খ) ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৬২
  3. গ) ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৬০
  4. ঘ) ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৫৭
ব্যাখ্যা
শরীফ কমিশন গঠনের পটভূমি:
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলন দেশে শিক্ষা উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক সুপারিশ প্রণয়ন করেন। পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলন দেশে শিক্ষা উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সুপারিশ করেন। তদুপরি প্রাদেশিক পর্যায়ে শিক্ষা উন্নয়নের প্রচেষ্টা চলে। সমগ্র পাকিস্তানের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। এ উপলব্ধির ফলশ্রুতিতে জাতীয় শিক্ষার সুসঘবদ্ধ ও সুষম উন্নয়নের নিশ্চয়তা বিধানার্থে ও ঔপনিবেশিক আমলে প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পূর্ণগঠনের যথাযোগ্য পন্থা সুপারিশ করার জন্য ১৯৫৮ সালে ৩০ শে ডিসেম্বর জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। এস.এম শরীফকে এ জাতীয় শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। তাঁর নামানুসারে এ কমিশন শরীফ কমিশন নামেও পরিচিত।

১৯৫৯ সালের ৫ই জানুয়ারী পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আয়ুব খান কমিশন উদ্ভোধন করেন। 
এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর কমিশন অবিলম্বে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ শুরু করেন। শিক্ষার বিভিন্ন স্তর ও বিভিন্ন পদ্ধতির সকল দিক সম্পর্কেও একটি সর্বাত্মক প্রশ্নমালা ব্যাপকভাবে পাকিস্তানের সর্বত্র বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিশেষের নিকট প্রেরণ করা হয় এবং সংবাদপত্র মারফতও প্রচারিত হয়। 

বহু সংখ্যক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিনিধি উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং বিশিষ্ট প্রতিনিধি স্থানীয় ব্যক্তি তাঁদের মূল্যবান নির্দেশ দ্বারা কমিশনকে রিপোর্ট প্রণয়নে সাহায্য করেছেন। এ কমিশন ১৯৫৯ সালে রিপোর্ট পেশ করেন।

তবে শিক্ষা সম্পর্কে শরীফ কমিশনের প্রতিবেদন ১৯৬২ সালের সবার সামনে প্রকাশিত হলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। ভাষা আন্দোলনের বিয়োগান্তক স্মৃতি যখন এদেশবাসীর মনে তখনও উজ্জ্বল-ঠিক তখন 'উর্দুকে জনগণের ভাষায় পরিণত করার প্রস্তাব, আরবি এবং পরে রোমান বর্ণমালায় বা হরফে লিপিবদ্ধ করার প্রস্তাব বাঙালি জনগণ মেনে নিতে পারেনি। ছাত্র-শিক্ষক- বুদ্ধিজীবী-তথা সমগ্র বাঙালি জনগণই শরীফ কমিশনের সুপারিশ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।

শরীফ কমিশন এর সদস্যবৃন্দ:
১০ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিশনের সভাপতি ছিলেন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও তৎকালীন পাকিস্তানের শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরীফ।
৪ জন বাঙালি শিক্ষাবিদ সদস্য হিসাবে যুক্ত ছিলেন; তারা হলেনঃ
১. ড. মোমতাজউদ্দিন আহমেদ (উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়),
২. আবদুল হক (সদস্য, ঢাকা মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড),
৩. অধ্যাপক আতোয়ার হোসেন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং
৪. ড. এম এ রশীদ (অধ্যক্ষ, ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ)।

• শরীফ কমিশন এর সুপারিশ সমূহ:

» শিক্ষাখাতে ব্যয়কে শিল্পে মূলধন বিনিয়োগের দৃষ্টিতে দেখার সুপারিশ করে কমিশন শিক্ষা সস্তায় পাওয়া সম্ভব নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করে অবৈতনিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সরকারী অর্থের পরিবর্তে জনগণের অর্থ বিনিয়োগের জোর দেয়া হয়।
» ৬ষ্ঠ শ্রেণী হতে ডিগ্রী পর্যন্ত ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক ভাষা করা।
» এস.এস.সি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণদের জন্য পরবর্তী শিক্ষার দ্বার রুদ্ধকরণ।
» দু বছরের ডিগ্রি কোর্সকে তিন বছরে বৃদ্ধি করার এক অবৈজ্ঞানিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
» বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য বিভাগে পাঠ্যসূচির অবৈজ্ঞানিক সুলভ ও স্কুলসমূহের কারিকুলাম অযৌক্তিকভাবে রদবদলের এক ভৌতিক সুপারিশ করে।
»  বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ছাত্র-শিক্ষকদের কার্যকলাপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখার প্রস্তাব ।
» শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম করাতে ১৫ ঘণ্টা কাজের বিধান রাখা হয়েছিল।

SOURCE: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোজাম্মেল হক; শিক্ষার ইতিহাস - ২, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১২,০৫৭.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন কে?
  1. সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি 
  2. জালালউদ্দিন মাসুন জানি
  3. বখতিয়ার খলজি
  4. মুহম্মদ শিরাণ খলজি
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজি:

• বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন তুর্কি বীর ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজি। 
• তেরো শতকের শুরুতে তিনি বাংলার উত্তর ও উত্তর- পশ্চিমাংশে সেন শাসনের অবসান ঘটান। 
• এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ পর্যন্ত। 
• খলজি যখন নদীয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন তখন তাঁর সাথে ছিল মাত্র ১৭ কিংবা ১৮ জন অশ্বারোহী। 
• ১২০৪ সাল নদীয়া জয়ের তারিখ হিসেবে স্বীকৃত।  
• ইতিহাসে তিনি বখতিয়ার খলজি নামেই বেশি পরিচিত। 
• তিনি ছিলেন জাতিতে তুর্কি, বংশে খলজি এবং বৃত্তিতে ভাগ্যান্বেষী সৈনিক।
• ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে জীবিকার অন্বেষণে গজনিতে আসেন। 
 
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১২,০৫৮.
পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত -
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) পটুয়াখালী
  3. গ) ঘোড়াশাল
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
- দেশের দ্বিতীয় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র - পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্ৰ।
- অবস্থান - পায়রা, পটুয়াখালী।
- পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে।
- ২০১৪ সালে এই সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছিল।
- নির্মাণের কাজ করেছে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড।
- আড়াইশো কোটি ডলার ব্যয়ে এই কেন্দ্র নির্মাণের সিংহভাগ অর্থায়ন করেছে চীন।
- এরপর ২০১৬ সালের অক্টোবরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- ধানখালী গ্রামের ১,০০০ একর জমির উপর নির্মিত হয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।
- উৎপাদন ক্ষমতা- ১৩২০ মেগাওয়াট।
- ২১ মার্চ, ২০২২ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।

অন্যদিকে -
- দিনাজপুর জেলাধীন পার্বতীপুর উপজেলার অন্তগত ভবানীপুরে বড়পুকুরিয়ায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত। 

উৎস: পায়রা-১৩২০-মেঃওঃ-তাপ-বিদ্যুৎ-কেন্দ্র - nwpgcl, portal.gov.bd.
১২,০৫৯.
নিচের কোন বীরশ্রেষ্ঠ সেনাবাহিনীর সদস্য নন?
  1. নূর মোহাম্মদ শেখ
  2. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  3. হামিদুর রহমান
  4. মোস্তফা কামাল
ব্যাখ্যা
• ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ইপিআর এ কর্মরত ছিলেন।

• বীরশ্রেষ্ঠ ও তাদের কর্মস্থল:

- ইপিআর এর ২ জন সদস্য বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি পেয়েছেন।
- তারা হলেন ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ এবং ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ।
- সবথেকে বেশি বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত হয়েছে সেনাবাহিনীর ৩ জন সদস্য।
- তারা হলেন সিপাহী মোস্তফা কামাল, সিপাহী হামিদুর রহমান এবং ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বিমান বাহিনীর একমাত্র বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।
- ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন নৌবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত বীরশ্রেষ্ঠ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১২,০৬০.
When did Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman return to Bangladesh from imprisonment in Pakistan?
  1. 8 January 1972
  2. 9 January 1972
  3. 10 January 1972
  4. 11 January 1972
  5. 12 January 1972
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস:
- ১০ জানুয়ারি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।
- পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে।
 
উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষনে, বঙ্গবন্ধু যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে অনুসারে স্বাধীন বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, সমতাভিত্তিক এবং মানবিক রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে মান্যবর রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সবাইকে এক যোগে কাজ করবার আহ্বান জানান।
 
অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়। 
- বঙ্গবন্ধু ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন গমন করেন।
- ৯ জানুয়ারি টেলিফোনে ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে অভিনন্দন জানান এবং অনুরোধ করেন ঢাকার পথে যেন তিনি দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন। 
- সেখান থেকে দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় আসেন।
- ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের  স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। 
 
উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২,০৬১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) ৬ নং
  2. খ) ৭ নং
  3. গ) ৮ নং
  4. ঘ) ৯ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ৮নং সেক্টর কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর (আংশিক), নড়াইল, যশোর, খুলনা (উত্তরাংশ), বাগেরহাট (উত্তরাংশ), মাগুরা, মেহেরপুর নিয়ে গঠিত হয়।
১২,০৬২.
কত সালে সুবাহদার ইসলাম খান ঢাকাকে রাজধানী ঘোষণা করেন?
  1. ১৬০২ সালে 
  2. ১৬০৮ সালে 
  3. ১৬১০ সালে 
  4. ১৬১২ সালে 
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতি:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতিকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত করেন।
- সুবাহদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকাকে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং এর নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর।

উল্লেখ্য,
- ইসলাম খান চিশতি পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য বাংলার মুগল সুবাহদার ছিলেন।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি। সম্রাট  জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত পূর্বসূরিগণ যেখানে ব্যর্থ হয়েছিলেন সেখানে চট্টগ্রাম ছাড়া সমগ্র বাংলা জয় করে মুগলদের নিয়ন্ত্রণে আনার সাফল্য লাভ করায় বাংলার সুবাহদার হিসেবে ইসলাম খান খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- জাহাঙ্গীরের অধিনস্ত প্রথম কয়েকজন সুবাহদার বাংলা জয়ে সাফল্য অর্জণে ব্যর্থ হলে তরুণ ও উদ্যমী ইসলাম খানকে তিনি বাংলা জয়ের জন্য নির্বাচিত করেন ও সুবাহদার হিসেবে ১৬০৮ সালে বাংলায় প্রেরণ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১২,০৬৩.
পদ্মা বহুমুখী সেতু কোন কোন জেলাকে সংযুক্ত করে?
  1. ক) মাওয়া-জাজিরা
  2. খ) মুন্সিগঞ্জ-শরীয়তপুর
  3. গ) ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ
  4. ঘ) মুন্সিগঞ্জ-ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

এক নজরে পদ্মা সেতু :

অফিসিয়াল নাম : পদ্মা বহুমুখী সেতু (Padma Multipurpose Bridge)
সেতুর ধরন : দ্বিতল (ওপরে সড়ক এবং নিচে রেলপথ)
প্রত্যক্ষভাবে জড়িত স্থান/জেলা/উপজেলা ৩টি- ১. মাওয়া, লৌহজং উপজেলা, মুন্সিগঞ্জ জেলা, ২. শিবচর উপজেলা, মাদারীপুর জেলা ও ৩. জাজিরা উপজেলা, শরীয়তপুর জেলা।
সংযোগস্থল :  মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মাওয়া ও শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলা।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : ৪ জুলাই ২০০১।
নির্মাণকাজ উদ্বোধন : ১২ ডিসেম্বর ২০১৫।

দৈর্ঘ্য : ৬.১৫ কি.মি. (২০,১৭৭.১৭ ফুট)।
প্রস্থ : ১৮.১০ মি. (৫৯.৩৮ ফুট)
সংযোগ সড়কসহ সেতুর মোট দৈর্ঘ্য : ৯.৩০ কি.মি.
লেন : ৪টি 
সেতুর আয়ুষ্কাল : ১০০ বছর 
ভূমিকম্পের সহনীয় মাত্রা : রিখটার স্কেল ৯ 
স্প্যান : ৪১টি
পিলার বা পিয়ার : ৪২টি

১২,০৬৪.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম কোথায় উত্তোলন করা হয়?
  1. পল্টন ময়দানে
  2. বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে
  3. রেইসকোর্স ময়দানে
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন:

- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের পশ্চিম গেটে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয়।
- সেদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব।
- সেই পতাকার মাঝখানে হলুদ বৃত্ত ছিল এবং বৃত্তের মধ্যে ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র।
- সেই থেকে প্রতি বছর ২ মার্চ জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস পালন করা হয়।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চে তার বাসভবনে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।
- বাংলাদেশের বাহিরে কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে প্রথম উত্তোলন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানের বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার নকশা হচ্ছে সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ রং দ্বারা বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক এবং বৃত্তের লাল রং দ্বারা উদীয়মান সূর্য এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের প্রতীক বোঝায়।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬ (৫:৩)।
 
উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
১২,০৬৫.
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
  1. ৫নং সেক্টর
  2. ৬নং সেক্টর
  3. ৭নং সেক্টর
  4. ৮নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১২,০৬৬.
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে নিচের কোন স্কিমটি দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসরত স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ?
  1. প্রবাস
  2. প্রগতি
  3. সুরক্ষা
  4. সমতা
ব্যাখ্যা
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি (স্কিম):
- ১৮ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো নাগরিক ৬০ বছর বয়সে না পৌঁছানো পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করে অবসর জীবনের সময় পেনশন সুবিধা পেতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
- ১৭ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- সরকার মোট ৬টি স্কিমের কথা ঘোষণা করেছে। 
- আপাতত চালু হয়েছে ৪টি স্কিম।

৪টি স্কিম:
• প্রবাস: 
- এটি শুধু বিদেশে কর্মরত বা অবস্থানকারী বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য।
- এর মাসিক চাঁদার হার ধরা হয়েছে ৫ হাজার, সাড়ে ৭ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে।
• প্রগতি:
- এই স্কিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য।
• সুরক্ষা:
- এই স্কিমটা স্বনির্ভর ব্যক্তির জন্য।
- অর্থাৎ কেউ কোথাও চাকরি করছেন না কিন্তু নিজে উপার্জন করতে পারেন, তারা সুরক্ষা স্কিমে অংশ নিতে পারবেন।
- এর আওতায় পড়েন ফ্রিল্যান্সার, কৃষক, শ্রমিক ইত্যাদি পেশার লোকজন।
সমতা:
- এই স্কিমে চাঁদার হার একটিই: এক হাজার টাকা।
- তবে এক্ষেত্রে প্রতিমাসে ব্যক্তি দেবে পাঁচশ টাকা আর বাকি পাঁচশো দেবে সরকার।
- মূলত দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসরত স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই স্কিম।

উৎস: ১৭ আগস্ট, ২০২৩, প্রথম আলো।
১২,০৬৭.
ভারতীয় উপমহাদেশে ক্রিপস মিশন আগমন করেন কত সালে?
  1. ১৯৪২ সালে
  2. ১৯৩২ সালে
  3. ১৯৪১ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
• ক্রিপস মিশন: 
ক্রিপস মিশন ১৯৪২ সালের ২৩ মার্চ ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ভারতে প্রেরিত একটি মিশন।
- এ মিশনের মাধ্যমে ভারতকে নতুন কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- শ্রমিক দলের একজন চরমপন্থি সদস্য ও সে সময়ের হাউস অব কমন্স-এর নেতা ক্রিপস ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের একজন প্রবল সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- দুটি বিষয়ের ওপর বিবেচনা করে ক্রিপস মিশন প্রণোদিত হয়।
- প্রথমত, ১৯৪০ সালের অক্টোবরে গান্ধী কর্তৃক সত্যাগ্রহ আন্দোলনের আহবান, যার উদ্দেশ্য ছিল ভারতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ব্রিটিশদের যুদ্ধ তৎপরতাকে বিঘ্নিত করা এবং ব্রিটিশদের স্বার্থে এর সমাপ্তি টানা।
- দ্বিতীয়ত, যুদ্ধে জাপানিদের হাতে সিঙ্গাপুর (১৯৪২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি), রেঙ্গুন (৮ মার্চ) ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের (২৩ মার্চ) পতন সমগ্র ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কাঠামোকে হুমকির সামনে ফেলে দিয়েছিল।
- এরকম সংকটময় পরিস্থিতিতে ব্রিটিশগন উপলব্ধি করেছিল যে, ভারতীয়দের সমর্থন পেতে হলে কিছু কাজ করতে হবে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১২,০৬৮.
মুজিব নগর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. কামরুজ্জামান
  4. এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার: 
- মুজিব নগর সরকার বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার ও প্রবাসী সরকার নামে ও পরিচিত।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১০৭১ সালে মুজিব নগর সরকার বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন।

• মুজিব নগর সরকারের মন্ত্রিসভা :
-বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান: রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক 
-সৈয়দ নজুল ইসলাম - উপ- রাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- তাজউদ্দিন আহমেদ- প্রধানমন্ত্রী , অন্যান্য দপ্তর:  প্রতিরক্ষা, তথ্য, যোগাযোগ, পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, শ্রম, সমাজকল্যাণ ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়।
-এম মনসুর আলী- অর্থমন্ত্রী। অন্যান্য দপ্তর : পরিবহণ, খাদ্য , বস্ত্র ,বাণিজ্যও শিল্প।
- এ এইচ কামরুজ্জামান- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য দপ্তর- সরবরাহ, কৃষি, ত্রাণ  ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় ।
- খন্দকার মোশতাক-  মন্ত্রী -পররাষ্ট্র , আইন ও সংসদ বিষয়ক  মন্ত্রণালয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ।
১২,০৬৯.
উপমহাদেশে শিক্ষা বিস্তারের জন্য উডের ডেসপ্যাস কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫০ সালে
  2. ১৮৫৪ সালে
  3. ১৮৫৭ সালে
  4. ১৮৫৯ সালে
ব্যাখ্যা

উডের ডেসপ্যাস: 
- ইংরেজ আমলের শিক্ষা ক্ষেত্রের একটি দলিল হল উডের শিক্ষা ডেসপ্যাস।
- ১৮৫৪ সালে এ উপমহাদেশে শিক্ষা বিস্তারের জন্য এই ডেসপ্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- এই ডেসপ্যাসের সুবাদে ১৮৫৫ সালে এদেশে ৫টি বিভাগে শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এ শিক্ষা বিভাগের প্রধান ছিলেন জন শিক্ষা পরিচালক, ইংরেজিতে বলা হতো Director of Public Instruction (DPI)।
- এ পদটি ১৯৮০ সন পর্যন্ত বাংলাদেশেও চলে আসছিল।
- এর অধীনে ছিলেন কিছু পরিদর্শক।
- এ ডেসপ্যাসে প্রাথমিক শিক্ষার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়।
- ফলে পরবর্তীতে বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এর পাশাপাশি শিক্ষা প্রশিক্ষণের জন্য ১৮৫৭ সালে ঢাকায় এবং ১৮৬৯ সালে চট্টগ্রামে নরমাল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় যা বর্তমানে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ নামে পরিচিত।

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১২,০৭০.
জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা) এর কার্যক্রম শুরু হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৫
  2. খ) ১৯৮৪
  3. গ) ২০১৩
  4. ঘ) ২০১৪
ব্যাখ্যা
জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা)
⇨ জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা) কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শীর্ষস্থানীয় একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ।
⇨ কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভাগ/ দপ্তরের প্রথম শ্রেণীর/সমমান পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দানের মাধ্যমে কৃষিতে মানব সম্পদ উন্নয়নে নাটা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। 
⇨ অবস্থান:- জয়দেবপুর, গাজীপুর, বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট  এর পার্শে। 

ইতিহাস:- 
• ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ জাইকার সহায়তা প্রকল্প হিসাবে কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সার্ডি) প্রতিষ্ঠিত হয়।
• ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ  কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট(সার্ডি) ডিএইর অন্তর্ভুক্ত হয়।
• ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ০৩ এপ্রিল  কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট(সার্ডি) বিলুপ্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থা  হিসাবে জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি(নাটা) এর সরকারী আদেশ জারী করা হয়।
২০১৪ এর জুন মাসে মহাপরিচালক নিয়োগের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়

তথ্যসূত্র:- জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির ওয়েবসাইট।
১২,০৭১.
অতীশ দীপঙ্কর বর্তমান বাংলাদেশের কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. মুন্সিগঞ্জ
  3. টাঙ্গাইল
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
• অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান:
- অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (৯৮০-১০৫৩) বৌদ্ধ পন্ডিত, ধর্মগুরু ও দার্শনিক।
- দশম-একাদশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি পন্ডিত দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ৯৮০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে এক রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা কল্যাণশ্রী এবং মাতা প্রভাবতী দেবী। তাঁর বাল্যনাম ছিল চন্দ্রগর্ভ।
- মায়ের নিকট এবং স্থানীয় বজ্রাসন বিহারে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি বিখ্যাত বৌদ্ধ গুরু জেতারির নিকট বৌদ্ধধর্ম ও শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।
- এ উদ্দেশ্যে তিনি পশ্চিম ভারতের কৃষ্ণগিরি বিহারে গিয়ে রাহুল গুপ্তের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন, বৌদ্ধশাস্ত্রের আধ্যাত্মিক গুহ্যবিদ্যায় শিক্ষালাভ করে 'গুহ্যজ্ঞানবজ্র' উপাধিতে ভূষিত হন।
- মগধের ওদন্তপুরী বিহারে মহাসাংঘিক আচার্য শীলরক্ষিতের নিকট দীক্ষা গ্রহণের পর তাঁর নতুন নামকরণ হয় 'দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান'।
- একত্রিশ বছর বয়সে তিনি আচার্য ধর্মরক্ষিত কর্তৃক সর্বশ্রেষ্ঠ ভিক্ষুদের শ্রেণিভুক্ত হন।
- পরে দীপঙ্কর মগধের তৎকালীন শ্রেষ্ঠ আচার্যদের নিকট কিছুকাল শিক্ষালাভ করে শূন্য থেকে জগতের উৎপত্তি এ তত্ত্ব (শূন্যবাদ) প্রচার করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,০৭২.
বাংলায় পাল বংশের সূত্রপাত করেন কে?
  1. ক) শশাঙ্ক
  2. খ) হেমন্ত সেন
  3. গ) গোপাল
  4. ঘ) সমুদ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ হলো পালবংশ। ৭৫০ সালে গোপাল এই রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। গোপাল ৭৫০ সাল থেকে ৭৮১ সাল পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন। গোপালের মৃত্যুর পর তার সুযোগ্যপুত্র ও পাল বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন। পাল রাজারা বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ছিলেন। পালবংশ প্রায় চারশ বছর বাংলা শাসন করে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১২,০৭৩.
বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন কে?
  1. ঈশা খাঁ
  2. বখতিয়ার খিলজি
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ 
  4. শেরশাহ
ব্যাখ্যা

সোনারগাঁও:
- সোনারগাঁও বাংলার প্রাচীন রাজধানী।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ কর্তৃক ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বাংলার প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।
- আর তখন থেকেই শুরু হয় সোনারগাঁয়ের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের।

• রাজধানী সোনারগাঁও:
- আনুমানিক তেরো শতকের সত্তুরের দশকে রাজা দনুজ রায়ের (দশরথদেব দনুজমাধব) অধীনে সোনারগাঁও স্বাধীন বঙ্গরাজ্যের রাজধানীতে পরিণত হয়। তখন থেকে পূর্ববঙ্গে স্বাধীন হিন্দু রাজত্বের অবসানের (১৩০২) পূর্ব পর্যন্ত সোনারগাঁ বঙ্গরাজ্যের রাজধানী ছিল।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।

- ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে লখনৌতির সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের হাতে ফখরুদ্দীনের রাজবংশের পতনের পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ চৌদ্দ বছর সোনারগাঁও সমগ্র পূর্ববঙ্গ ও দক্ষিণপূর্ব বঙ্গের সুলতানি শাসনের রাজধানীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিল।
- সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ও সিকান্দর শাহের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গ প্রদেশের রাজধানী।
- পূর্ববঙ্গে গিয়াসুদ্দীন আযম শাহের স্বাধীন শাসনামলে তাঁর রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।
- ঈসা খান (ঈশা খাঁ) প্রতিষ্ঠিত ভাটি রাজ্যের রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।
- ঈশা খাঁ ১৫৮১-৮২ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে ভাটি অঞ্চলের অধিপতি হিসেবে ঘোষণা দেন এবং নিজেই ‘মসনদ-ঈ-আলা উপাধি’ গ্রহণ করেন। সূত্র অনুযায়ী, এ সময় তিনি তাঁর প্রশাসনিক কেন্দ্র সরাইল থেকে সোনারগাঁও-এ স্থানান্তর করেন।

- মুগল সুবাদার ইসলাম খানের নিকট ঈশা খাঁর পুত্র মুসা খান মসনদ-ই-আলার পতনের পর সোনারগাঁয়ের রাজনৈতিক প্রাধান্য লোপ পায় এবং মুগলদের বাংলা সুবাহ একটি প্রশাসনিক কেন্দ্রে পর্যবসিত হয়।
- ঢাকায় মুগল রাজধানী প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সোনারগাঁও নগরীর দ্রুত অবক্ষয় ঘটে।

- উল্লেখ্য যে, বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন কে?
- অপশনে শুধু ঈশা খাঁ উল্লেখ থাকলে এটিই উত্তর হবে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,০৭৪.
মুক্তিযুদ্ধের ওপর রচিত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ এর রচয়িতা কে?
  1. ক) নোয়েল কাউয়ার্ড
  2. খ) বব ডিলান
  3. গ) জর্জ হ্যারিসন
  4. ঘ) এলেন গিন্সবার্গ
ব্যাখ্যা
সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড:
- সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড - বিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের কবি এলেন গিন্সবার্গ রচিত একটি কবিতা যা থেকে পরে গান করা হয়েছিল।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে যশোর রোডে সীমান্তের ওপারে শরণার্থী শিবির ঘুরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তা নিয়ে তিনি লিখেন বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।

- এই কবিতার লাইন সংখ্যা ১৫২ টি। এই দীর্ঘ কবিতার সাথে সুর দিয়ে এটিকে গানে রূপ দিয়েছিলেন তিনি।
- আমেরিকায় ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে কনসার্ট করেছিলেন। এভাবেই বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন গিন্সবার্গ।
- এই কবিতার বাংলা ভাষান্তর করেন খান মোহাম্মদ ফারাবি।     

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।
১২,০৭৫.
কোন পত্রিকাটি ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতা করে?
  1. ক) সৈনিক
  2. খ) আজাদ
  3. গ) মর্নিং নিউজ
  4. ঘ) ইত্তেফাক
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনে সংবাদপত্রের ভূমিকা ছিলো অসামান্য। সৈনিক, ইত্তেফাক, আজাদ, সংবাদ, অগত্যা, পাকিস্তান অবজারভার প্রভৃতি পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের সমর্থনে জোরালো ভূমিকা পালন করে।
অন্যদিকে মর্নিং নিউজ পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকেই তথ্য বিকৃতি করে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং দৈনিক ইনকিলাব)
১২,০৭৬.
পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসনের রূপরেখা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়-
  1. ক) প্রাদেশিক পরিষদে
  2. খ) গণপরিষদে
  3. গ) জাতীয় পরিষদে
  4. ঘ) বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮ - ১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহীত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।

ছয়টি দফা হলো-

১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১২,০৭৭.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মাওলানা আতাহার আলী
  4. আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,০৭৮.
কোন বইটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা নয়?
  1. ক) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  2. খ) আমার দেখা নয়াচীন
  3. গ) কারাগারের রোজনামচা
  4. ঘ) রাজবন্দীর জবানবন্দী
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজবন্দী হিসেবে কারাগারে থাকার সময় তিনটি বই রচনা করেন। 
- এই বইগুলোতে কেবল একজন রাজনীতিকের দৃষ্টিভঙ্গিই নয়, লেখকের দায়বোধও ফুটে উঠেছে।
- রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শিল্পের সুষমা- এটিই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিন বইয়ের একমাত্রিক ব্যঞ্জনা।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী, প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- এটি লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও।
- বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে। 
- বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বই কারাগারের রোজনামচা (২০১৭)।
- এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন শেখ রেহানা। 
- তাঁর তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন (২০২০)।
- এটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
- সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত। 

উৎস: প্রথম আলো।
১৪ আগস্ট ২০২০।
১২,০৭৯.
বাংলায় প্রবর্তিত 'দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা' কে বিলুপ্ত করেছিলেন?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. লর্ড কর্ণওয়ালিস
ব্যাখ্যা

• দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। 
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,০৮০.
মুজিবনগর সরকার কোথায় গঠন করা হয়?
  1. মেহেরপুর
  2. ত্রিপুরা
  3. আগরতলা
  4. তামাবিল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) গঠন:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কর্তৃক গণহত্যা শুরু হলে বিচ্ছিন্নভাবে বাঙালিরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- এ সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায়।
- শপথ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,০৮১.
কত শতকে 'বঙ্গ ও গৌড়' দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে?
  1. ৬ষ্ঠ
  2. ৭ম 
  3. ৮ম 
  4. ৯ম 
ব্যাখ্যা

গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন:
- ষষ্ঠ শতকের প্রথমার্ধেই ভারতের বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। এ সুযোগে 'বঙ্গ ও গৌড়' নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি ছিল প্রাচীন 'বঙ্গরাষ্ট্র' এবং দ্বিতীয় স্বাধীন রাষ্ট্রের নাম গৌড়রাজ্য।

⇒ স্বাধীন বঙ্গরাষ্ট্র:
- স্বাধীন বঙ্গরাষ্ট্রের প্রাচীন রাজারা তামার পাতে খোদাই করে বিভিন্ন ঘোষণা বা রাজকীয় নির্দেশ জারি করতেন। এগুলোকে বলা হতো তাম্র শাসন। স্বাধীন বঙ্গরাষ্ট্রের যুগে এরূপ সাতটি তাম্র শাসন পাওয়া গেছে। এসব থেকে জানা যায় যে, গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচার দেব নামে তিনজন রাজা স্বাধীন বঙ্গরাজ্য শাসন করেছেন। উল্লিখিত তিন রাজা ৫২৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রাজত্ব করেছিল। এক সময় বঙ্গ রাষ্ট্রের পতন ঘটে। ধারণা করা হয়, দাক্ষিণাত্যের চালুক্য বংশের রাজা কীর্তি বর্মণের হাতে স্বাধীন বঙ্গরাজ্যের পতন ঘটেছিল। তবে কারো কারো মতে স্বাধীন গৌড় রাজ্যের উত্থান ঘটলে বঙ্গরাজ্যের পতন ঘটে। 

⇒ স্বাধীন গৌড়রাজ্য:
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটলে পরবর্তী গুপ্তবংশ নামে পরিচিত গুপ্ত উপাধি নেয়া রাজাগণ বাংলা, পশ্চিম বাংলার উত্তরাংশ ও মগধে ক্ষমতা বিস্তার করেছিলেন। বিভিন্ন কারণে গুপ্ত বংশের রাজারা দুর্বল হয়ে পড়লে এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে মগধে শশাঙ্ক নামক এক খ্যাতিমান শাসক গৌড় রাজ্যের ক্ষমতা দখল করেন। প্রাথমিক যুগে শশাঙ্ক ছিলেন গুপ্ত রাজ মহাসেন গুপ্তের একজন মহাসামন্ত। ৬০৬ খ্রিস্টাব্দের আগে কোন এক সময় তিনি গৌড়ের স্বাধীন নরপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি কর্ণসুবর্ণে রাজধানী স্থাপন করেন। প্রাথমিক সময়ে স্বাধীন গৌড় রাষ্ট্রের রাজা শশাঙ্ক দণ্ডভুক্তি রাজ্য, উড়িষ্যার উৎকল ও কঙ্গোগ রাজ্য এবং বিহারের মগধ রাজ্য জয় করে তার রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন। পশ্চিমে তার রাজ্য বারানসী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। কামরূপ রাজারাও শশাঙ্কের হাতে পরাজিত হন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,০৮২.
বাঙালির জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. ছয়দফা আন্দোলন
  2. শিক্ষা আন্দোলন
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

সংগ্রাম:
- বাঙালির জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

উল্লেখ্য:
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সালে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,০৮৩.
১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক 'ছয়দফা কর্মসূচির' প্রথম দফা-
  1. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  2. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
  3. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক 'ছয়দফা কর্মসূচি' পেশ করেন।
- এ কর্মসূচিকে তিনি 'পূর্ব পাকিস্তানের বাঁচার দাবি' বলে অভিহিত করেন।
- বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয়দফা দাবি সংক্রান্ত পুস্তিকাটির নাম 'ছয়দফা: আমাদের বাঁচার দাবি।'
• বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ নামে পরিচিত বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ১৯৬৬ সালের ছয় দফার দফা গুলো হলো:
- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
- কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১২,০৮৪.
পলাশীর প্রান্তরে নবাবের পক্ষে প্রাণপণ দেশ প্রেমিকের মত যুদ্ধ করেন কে?
  1. রায়দুর্লভ
  2. মীরজাফর
  3. মোহন লাল
  4. ইয়ার লতিফ
ব্যাখ্যা
পলাশীর যুদ্ধ:
- বিশ্বাসঘাতকতা, জালিয়াতি, স্বার্থপরতা ও দেশদ্রোহিতার নিকৃষ্ট এক উদাহরণ সৃষ্টির উপলক্ষ হয়ে এসেছিল পলাশী যুদ্ধ।
- বাংলার ইতিহাসে এখনও নেতিবাচক কোনো অধ্যায় বলতে এই পলাশী যুদ্ধকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- ক্লাইভ নবাবের বিরুদ্ধে সন্ধি ভঙ্গের মিথ্যা অজুহাতে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
- নবাব আগে থেকেই ইংরেজদের দুরভিসন্ধি এবং তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।
- এ কারণে তিনি ৫০টি কামানসহ ৫০ হাজার পদাতিক ও ১৮ হাজার অশ্বারোহী সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করেন।
- নবাব তার বাহিনী মুর্শিদাবাদের ২৩ মাইল দক্ষিণে ভাগীরথী নদীর তীরে মোতায়েনের আদেশ দেন।
- অন্যদিকে ক্লাইভ ৮টি কামানসহ ১০০০ জন ইউরোপীয় ও ২০০০ জন দেশীয় সৈন্যসহ পলাশীর আমবাগানে অবস্থান গ্রহণ করে।
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে বাংলার ইতিহাস নতুন করে লিখতে হয়েছিল।
- বিশেষত এই লড়াই যতটা না যুদ্ধ ছিল তার থেকে অনেকাংশেই নবাবের ভাগ্য পরীক্ষা হয় যুদ্ধক্ষেত্রে।
- মীর মদন ও মোহন লাল নবাবের পক্ষে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন।
- কিন্তু সেনাপতি মীরজাফর ও রায়দুর্লভ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সেনাদল নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকেন।
- মীরমদন যুদ্ধ ক্ষেত্রে গোলার আঘাতে শহীদ হন।
- এদিকে মোহনলালের বীর বিক্রমে লড়াই ধীরে ধীরে ইংরেজদের বিপক্ষে চলে যায়।
- এ সময় মীরজাফরের কুপরামর্শে যুদ্ধ বন্ধ করে দেয়া হয়।

অপরদিকে,
- রায়দুর্লভ , মীরজাফর নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকা করে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র,  এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,০৮৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন কে?
  1. মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী
  2. মোনায়েম খান
  3. মেজর জেনারেল খাদিম রাজা
  4. আব্দুল মোত্তালিব মালিক
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।
তবে ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ জেনারেল টিক্কা খান কে সরিয়ে ডা. আব্দুল মোত্তালিব মালিক কে গর্ভনর করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।
১৪ ডিসেম্বর এই মন্ত্রিসভা পদত্যাগে বাধ্য হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী, পৃষ্ঠা-২৪)
১২,০৮৬.
তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের নাম কী?
  1. ফরায়েজি আন্দোলন
  2. সন্ন্যাসী আন্দোলন
  3. তাহরিক-ই-মুহম্মদীয়া
  4. সিপাহী বিপ্লব
ব্যাখ্যা

তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন তাহরিক ই মুহম্মদীয়া।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে যখন ওয়াহাবি আন্দোলনের (তাহরিক ই মুহম্মদীয়া) জোয়ার চলছে, তখন পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের নেতৃত্বে এই আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তিতুমীর হজ করার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।এই যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,০৮৭.
ঢাকার প্রথম মুঘল সুবাদার ছিলেন -
  1. শাহ সুজা
  2. মীর জুমলা
  3. শায়েস্তা খান
  4. ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
⇒ ঢাকার প্রথম মুঘল সুবাদার ইসলাম খান এই খাল খনন করেন।

জাহাঙ্গীরনগর:

- মুঘল সুবাদার ইসলাম খান চিশতি বারোভূঁইয়াদের দমন করে।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- তৎকালীন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে তিনি ঢাকার নাম রাখেন 'জাহাঙ্গীরনগর'।
- ইসলাম খান চিশতি ১৬১১ সালে বারোভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে সমগ্র বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে নিয়ে আসেন।
- ধোলাই খাল পুরান ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক এলাকা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,০৮৮.
আসাদ গেট কোন স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়?
  1. ক) ৫২ -এর ভাষা আন্দোলন
  2. খ) ৭১ -এর মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ৬৯ -এর গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) ৬৬ -এর ছয়দফা
ব্যাখ্যা
- শহীদ আসাদ উনিশশত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
- এভাবে ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে হয় ‘আসাদ এভিনিউ’।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,০৮৯.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  2. সিকান্দার শাহ
  3. রুকনউদ্দীন বারবক শাহ
  4. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন।
- স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৬ সালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১২,০৯০.
বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত করা হয় কত তারিখ?
  1. ১৫ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  2. ১৬ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  3. ১৭ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  4. ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০৯১.
কোন সেক্টরে তারামন বিবি যুদ্ধ করেছিলেন?
  1. ২ নং
  2. ৭ নং
  3. ৫ নং
  4. ১১ নং
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মহিলা ২ জন‌।
- একজন ডা. সেতারা বেগম এবং অপরজন তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে কর্নেল তাহেরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন এবং পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেন।
- তিনি ১ ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর নিজ জেলা ছিল কুড়িগ্রাম।

১২,০৯২.
ধর্মপালের রাজত্বের সময়সীমা কত?
  1. ক) ৭৫০-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ
  2. খ) ৮২১-৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ
  3. গ) ৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ঘ) ৮৬৬-৯২০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• গোপালের মৃত্যুর পর ধর্মপাল  (৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলার সিংহাসনে বসেন। পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। বাংলা ও বিহারব্যাপী তার শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল।
• পরবর্তীতে তিনি বারাণসী ও প্রয়োগ জয় করে গঙ্গা-যমুনার মধ্যবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেন। ধর্মপাল প্রায় ৪০ বছর (৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ) অব্দি রাজত্ব করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,০৯৩.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে -
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ মার্চ, ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর থেকে জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করা হয়।
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী করা হয় মুজিবনগরকে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১২,০৯৪.
ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রথম দফা কোনটি?
  1. ক) বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  2. খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা
  3. গ) মুদ্রা ও অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা
  4. ঘ) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলের নেতারা একটি সম্মেলনের আহবান করেন যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- ৬ দফা দাবিগুলো হলো যথাক্রমে- 
১। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা,
২। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
৩। মুদ্রা ও অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা, 
৪। রাজস্ব, কর বা শুল্ক সংক্রান্ত ক্ষমতা, 
৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং 
৬। আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা। 

- এই ৬ দফার মধ্যে ৩ টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩ টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক দাবি ছিল।
- বঙ্গবন্ধু এই ৬ দফা কে “আমাদের বাঁচার দাবি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। 
- ঐতিহাসিক এই ৬ দফাকে ‘ম্যাগনাকার্টা’র সাথে তুলনা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,০৯৫.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে বীর বিক্রম খেতাব পাওয়া ইউ কে চিং কোন সম্প্রদায়ের?
  1. ক) চাকমা
  2. খ) মারমা
  3. গ) মুরং
  4. ঘ) মণিপুরী
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালে তিনি রংপুর ইপিআর উইংয়ের অধীন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন। প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর তিনি পাটগ্রাম এলাকায় অবস্থান নেন। পরে ৬ নম্বর সেক্টরের অধীন সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- বীর বিক্রম খেতাধারী ইউকে চিং মারমা বৃহত্তর রংপুরে যুদ্ধ করেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশারের অধীনে।
- ৮নং হবে না কারণ ৮নং হচ্ছে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর অঞ্চল নিয়ে।

সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২ এবং বাংলাদেশ গেজেট-এক্সট্রা অর্ডিনারি,মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়।

১২,০৯৬.
কে চূড়ান্তভাবে বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে ঢাকা অধিকার করেন?
  1. মানসিংহ
  2. মীর জুমলা
  3. ইসলাম খান
  4. শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
বাংলায় মোগল শাসন: 
- সম্রাট আকবরের সময় ১৫৭৬ সালে পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলার অনেকটা অংশ মোগলদের অধিকারে আসে।
- বাংলার পূর্বাংশ অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশ অংশ সহজে মোগলরা দখল করতে পারে নি।
- বারোভূঁইয়া নামে পরিচিত পূর্ববাংলার জমিদাররা একযোগে মোগল আক্রমণ প্রতিহত করেন।
- আকবরের সেনাপতি মানসিংহ কয়েকবার চেষ্টা করেও বারোভূঁইয়াদের নেতা ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারে নি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে ১৬১০ সালে মোগল সুবেদার ইসলাম খান চিশতি চূড়ান্তভাবে বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে ঢাকা অধিকার করেন এবং তৎকালীন দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের নাম অনুসারে জাহাঙ্গীরনগর নামকরণ করেন।
- এভাবেই বাংলায় মোগল অধিকার সম্পন্ন হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২,০৯৭.
কেন্দ্রীয় শহিদমিনারের স্থপতি কে?
  1. ক) হামিদুর রহমান
  2. খ) শামিম শিকদার
  3. গ) মাইনুল হোসেন
  4. ঘ) কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশাকার/স্থপতি হলেন হামিদুর রহমান।
- ১৯৫৬ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশে হামিদুর রহমানের নকশায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
- ১৯৬৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।
১২,০৯৮.
Anand Vihar was built during the reign of which dynasty?
  1. Bormo Dynasty
  2. Paul Dynasty
  3. Deb Dynasty
  4. Chandra Dynasty
ব্যাখ্যা
দেব বংশ:
- অষ্টম শতকের মাঝামাঝি একই অঞ্চলে দেব বংশের উদ্ভব হয়।
- দেববংশের চারজন রাজার নাম পাওয়া যায়। এরা হলেন-
• শ্রী শান্তিদেব,
• শ্রী বীরদেব,
• শ্রী আনন্দদেব,
• শ্রী ভবদেব।
- শক্তিশালী দেব রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ।
- তাঁদের রাজধানী ছিল দেবপর্বতে।
- কুমিল্লার নিকট ময়নামতির দক্ষিণে ছিল এই দেবপর্বত।
- সমগ্র সমতট অঞ্চল জুড়ে দেবরাজাদের রাজত্ব ছিল।
- দেবরাজা আনন্দের রাজধানীতে 'আনন্দ বিহার' বলে একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করা হয়।
- আনুমানিক ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দেবরাজাদের শাসন চালু থাকে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,০৯৯.
’ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামক ভয়াবহ দূর্ভিক্ষ কত সালে ঘটে?
  1. ক) বাংলা ১৭০৬ সালে
  2. খ) বাংলা ১১৭৬ সালে
  3. গ) বাংলা ১৩৭৬ সালে
  4. ঘ) ইংরেজি ১৮৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
• ’ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’:
- রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রণয়ন করলে দেওয়ানি চলে যায় কোম্পানির হাতে আর প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে নবাবের হাতে।
- যার ফলে বাংলায় এক অভূতপর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
- এর ফল হিসেবে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,১০০.
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ এর প্রেক্ষাপট কী ছিল?
  1. বৈষম্য নিরসন
  2. কোটা সংস্কার
  3. ভিন্নমত দমন
  4. নিরাপদ সড়ক
ব্যাখ্যা

- ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের (জুলাই বিপ্লব) প্রেক্ষাপট ছিল সরকারি চাকরিতে ৩০% কোটা (মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য) পুনর্বহালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ।
- এটি জুন মাসে শুরু হয়ে জুলাইতে সহিংসতায় পরিণত হয়, যা পরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটায়।
- অন্যান্য বিকল্পগুলো (বৈষম্য নিরসন, ভিন্নমত দমন, নিরাপদ সড়ক) এর সাথে সরাসরি যুক্ত নয়,
- যদিও আন্দোলনের পরে বৈষম্যের বিষয় উঠে আসে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন: 
- ০১ জুলাই ২০২৪: কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সুরাহার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'র পক্ষ থেকে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
- জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৪০০ জনে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।[লিঙ্ক]